বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মধ্য যুগের গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ

মোট প্রশ্ন১,৩০২এই পাতা৮৬প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মধ্য যুগের গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ

PrepBank · পাতা ১৩ / ১৩ · ১,২০১১,২৮৬ / ১,৩০২

১,২০১.
'সিকান্দারনামা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আব্দুল হাকিম
  2. দৌলত কাজী
  3. আলাওল
  4. শাহ মুহম্মদ সগীর
সঠিক উত্তর:
আলাওল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাওল
ব্যাখ্যা

• আলাওল:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- আরাকান রাজসভা তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল।
- 'পদ্মাবতী' তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।

• তাঁর বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম:
- পদ্মাবতী,
- হপ্তপয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২০২.
মধ্যযুগের অনুবাদ সাহিত্যের প্রথম সূত্রপাত করেন কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  3. কৃত্তিবাস ওঝা
  4. চন্দ্রাবতী
সঠিক উত্তর:
কৃত্তিবাস ওঝা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃত্তিবাস ওঝা
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের অনুবাদ সাহিত্যের প্রথম সূত্রপাত করেন - কৃত্তিবাস ওঝা। এবং রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদক কৃত্তিবাস ওঝা।

উল্লেখ্য,
- রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক ছিলেন চন্দ্রাবতী ।
- 'মহাভারত' এর প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন - কবীন্দ্র পরমেশ্বর।

কৃত্তিবাস ওঝা:
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক।
- তাঁর রচিত রামায়ণের অন্য নাম 'শ্রীরাম পাঞ্চালী'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২০৩.
‘রামায়ণ’ এর মূল রচয়িতা বাল্মীকির ছদ্মনাম কি?
  1. ক) রত্নাকর
  2. খ) কস্যচিৎ
  3. গ) বানভট্ট
  4. ঘ) কালকূট
সঠিক উত্তর:
ক) রত্নাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রত্নাকর
ব্যাখ্যা
‘রামায়ণ’ এর মূল রচয়িতা বাল্মীকির ছদ্মনাম ‘রত্নাকর’। তিনি আগে এই নামে দস্যুবৃত্তি করতেন। ‘বাল্মীক’ শব্দের অর্থ ‘উইপোকার ঢিবি’।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
১,২০৪.
‘নদের চাঁদ’ কোন পালার চরিত্র?
  1. মহুয়া
  2. চন্দ্রাবতী
  3. মলুয়া
  4. কমলা
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
ব্যাখ্যা
• ‘নদের চাঁদ’ - 'মহুয়া' পালার চরিত্র। 

⇒ মৈমনসিংহ গীতিকা:
- এটি ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে- মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে। যথা: মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, কমলা, দস্যু কেনারামের পালা, রূপবতী, কঙ্ক ও লীলা, কাজলরেখা, দেওয়ান ভাবনা ও দেওয়ানা মদিনা। 

⇒ 'মহুয়া' পালা:
• 'মহুয়া' পালার রচয়িতা দ্বিজ কানাই।
- মধ্যযুগের কবি দ্বিজ কানাই পূর্ব ময়মনসিংহ অঞ্চলের অধিবাসী। 
- 'মহুয়া' পালার রচনায় তাঁর যে উদার নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ পেয়েছে তাঁর মূলে তাঁর ব্যক্তিজীবনের সংস্কারমুক্ত মানবিক বোধ সক্রিয় বলে ধারনা করা হয়। 

মহুয়া পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

অন্যদিকে,
- ‘মলুয়া’ চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা।
- ‘কমলা’ দ্বিজ ঈশান প্রণীত পালা।
- ‘চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র’ নয়নচাঁদ ঘোষ প্রণীত পালা।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২০৫.
বাংলা পুঁথি সাহিত্যের উদাহরণ কোনটি? 
  1. নূরনামা
  2. আমীর হামজা
  3. গুপি চন্দ্রের সন্ন্যাস
  4. মহুয়া
সঠিক উত্তর:
আমীর হামজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমীর হামজা
ব্যাখ্যা

• 'আমীর হামজা':
- 'আমীর হামজা' মধ্যযুগের দোভাষী পুথিসাহিত্যের একটি জনপ্রিয় কাব্য।
- এতে বীর যোদ্ধা আমীর হামজার যুদ্ধজয়ের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। মোট ৭০টি পর্বে এ বিশাল কাব্য সমাপ্ত হয়।
- এর প্রথম অংশ গরিবুল্লাহ রচনা করেন আঠারো শতকের মধ্যভাগে, বাকি অংশ তাঁর শিষ্য সৈয়দ হামজা ১৭৯৪ সালে সমাপ্ত করেন।
- কাব্যের কেন্দ্রীয় চরিত্র আমীর হামজা হযরত মুহাম্মদ (স.) -এর পিতৃব্য ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ইরানের অধিপতি নওশেরোয়ানের বিরোধ ও যুদ্ধ কাব্যের প্রধান বিষয়বস্তু।

------------------------
• শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ:
- শাহ গরীবুল্লাহ (আনু. ১৬৭০-১৭৭০) দোভাষী পুথি রচয়িতা। পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার হাফেজপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর নামে প্রচলিত এ যাবৎ পাঁচখানি কাব্যের সন্ধান পাওয়া যায়।
- সেগুলি হলো: ইউসুফ জোলায়খা, জঙ্গনামা, সোনাভান, সত্যপীরের কথা এবং আমীর হামজা (১ম খণ্ড)।
- কিন্তু এ কাব্যগুলি বটতলার পুথি প্রকাশকদের দ্বারা নানা ব্যক্তির নামে প্রকাশিত হয়েছে।

অন্যদিকে, 
• 'নূরনামা' একটি অনুবাদ কাব্য। এটি সতেরো শতকের বিশিষ্ট কবি আবদুল হাকিম রচিত একটি বিখ্যাত ও জনপ্রিয় মধ্যযুগীয় কাব্যগ্রন্থ, যা মূলত ফার্সি ‘নূরনামা’র ভাবানুবাদ। এই কাব্যে মহান আল্লাহতায়ালা আপন আলো থেকে বিশ্ব সৃষ্টির বর্ণনা ও আধ্যাত্মিক বিষয় ফুটে উঠেছে। 

• 'গুপি চন্দ্রের সন্ন্যাস' নাথ সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত একটু গ্রন্থ। শুকুর মাহমুদের রচিত কাব্যের নাম গুপিচন্দ্রের সন্নাস (১৭০৫)। কাব্যটি বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। গুপিচন্দ্রের সন্ন্যাসে বৌদ্ধ, নাথ ও সুফি ভাবধারার মিলনে এক মিশ্র তত্ত্বজ্ঞানের কথা বর্ণিত হয়েছে। এদিক থেকে কাব্যটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। এতে চর্যাগীতির গভীর প্রভাব লক্ষণীয়।

• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়। মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। এদের মধ্যে 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। 'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই। নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা। এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২০৬.
‘চৈতন্য-মঙ্গল’ জীবনীগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. লোচন দাস
  2. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
  3. বৃন্দাবন দাস
  4. মুরারি গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
লোচন দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোচন দাস
ব্যাখ্যা
• শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'৷
 
শ্রীচৈতন্যদেব:
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র।
- কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত।
- ১৫৩৩ সালে পুরীতে মারা যান।
- তাঁর পিতা জগন্নাথ মিশ্র সিলেট জেলার দক্ষিন গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।
- প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র।
- কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত।
- তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ থেকে রূপান্তরিত এক ধর্মবেত্তা, যিনি তাঁর স্বকীয় ভক্তির মাধ্যমে বাংলা ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।
- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,২০৭.
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ-আধুনিক যুগের মেলবন্ধনের প্রতীক বলা হয় কাকে?
  1. ঈশ্বর চন্দ্র গুপ্তকে 
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তীকে
  3. মধূসূদন দত্তকে 
  4. ভারত চন্দ্র রায় গুণাকরকে
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বর চন্দ্র গুপ্তকে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বর চন্দ্র গুপ্তকে 
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ-আধুনিক যুগের মেলবন্ধনের প্রতীক বলা হয়- ঈশ্বর চন্দ্র গুপ্তকে। 
-----------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক।
- ১৮১২ সালে পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী কবি হিসেবে পরিচিত।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন যুগসন্ধিক্ষণের কবি (১৭৬১ – ১৮৬০)।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর নামক সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন।
- সাংবাদিকতার মাধ্যমে তিনি সমাজের অবিচার, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অত্যাচার ও অন্যায়কর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। 
- ‘সংবাদ প্রভাকর’ ছাড়াও ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যেসব পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন—
- সংবাদ রত্নাবলী,
- পাষণ্ডপীড়ন। 
-------------------------------- 
মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সন্ধিক্ষণের কবি:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সন্ধিক্ষণের কবি হিসেবে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বিশেষভাবে পরিচিত।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁকে ‘খাঁটি বাঙালি কবি’ বলে অভিহিত করেছেন।
- ১৮০১–১৮৬১- এই মধ্যবর্তী প্রায় ষাট বছর ছিল রূপান্তরের কাল। 
- এই সময় আধুনিকতার দিকে কেবল অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা চলেছে।
- এই সময়েই ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সাহিত্যিক আবির্ভাব ঘটে। 

- মধ্যযুগের শেষ প্রতিনিধি ভারতচন্দ্র রায় এবং আধুনিক যুগের প্রথম পুরুষ মাইকেল মধুসূদন দত্ত—এই দুই যুগান্তকারী ব্যক্তিত্বের মধ্যবর্তী সময়ে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অবস্থান।
- তাঁর কাব্যে মধ্যযুগের বৈশিষ্ট্য ও আধুনিক যুগের সূচনালক্ষণ একসঙ্গে বিদ্যমান থাকায় তাঁকে যথার্থভাবেই যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়।
- তাঁর রচনায় মধ্যযুগের সাহিত্যরীতি ও বিষয়বস্তু যেমন ছিল, তেমনি আধুনিক যুগের প্রভাবও ছিল স্পষ্ট।
- তিনি ছিলেন দুই যুগের মেলবন্ধনের প্রতীক।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

১,২০৮.
'কিতাব পড়িতে যার নাহিক অভ্যাস। সে সবে কহিল মোতে মনে হাবিশাষ।' উক্তিটি কার?
  1. মুকন্দরাম চক্রবর্তী
  2. আবদুল হাকিম
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. সৈয়দ সুলতান
সঠিক উত্তর:
আবদুল হাকিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল হাকিম
ব্যাখ্যা

• কবি আবদুল হাকিম রচিত 'নূরনামা' কাব্যের অন্তর্গত 'বঙ্গবাণী' কবিতার চরণ-
'কিতাব পড়িতে যার নাহিক অভ্যাস। সে সবে কহিল মোতে মনে হাবিশাষ। তে কাজে নিবেদি বাংলা করিয়া রচন। নিজ পরিশ্রম তোষি আমি সর্বজন।'
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

১,২০৯.
রাজা শিবসিংহ বিদ্যাপতিকে কোন উপাধি দিয়েছিলেন?
  1. কঙ্কণকবি 
  2. কবি কণ্ঠহার
  3. কবি কণ্ঠমণি
  4. কাব্যস্বর
সঠিক উত্তর:
কবি কণ্ঠহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবি কণ্ঠহার
ব্যাখ্যা

বিদ্যাপতি:
- বিদ্যাপতি (১৩৭৪–১৪৬০) ছিলেন প্রখ্যাত বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তিনি মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- বিদ্যাপতি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের প্রখ্যাত কবি এবং বৈষ্ণব পদাবলির জনক।
- তিনি মিথিলার রাজা শিবসিংহের সভাকবি ছিলেন। 
- রাজা তাঁকে ‘কবি কণ্ঠহার’ উপাধি প্রদান করেছিলেন।
- বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষার প্রবর্তক এবং মৈথিলি কোকিল হিসেবে খ্যাত।
- এছাড়া তাঁকে অভিনব জয়দেব হিসেবেও সম্বোধন করা হয়।

- বিদ্যাপতি মৈথিলী, অবহট্ঠ এবং সংস্কৃত ভাষায় বহু গ্রন্থ ও পদ রচনা করেছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো ব্রজবুলিতে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা ভিত্তিক বৈষ্ণব পদাবলি।
- মৈথিলী ভাষার এই পদসঙ্গীত পরে বঙ্গদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় ভাষা ও কীর্তন গায়কদের প্রভাবে ব্রজবুলি নামে পরিচিত হয়।
- এতে প্রধানত বাংলা ও মৈথিলীর মিশ্রণ, সঙ্গে কিছু হিন্দি শব্দও আছে।
- উনিশ শতক পর্যন্ত এই ভাষায় বৈষ্ণব পদ রচিত হয়।
- এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলীও এ ভাষায় রচনা করেছেন।
- চৈতন্যদেব নিজে বিদ্যাপতির পদ শুনতেন, যার কারণে পদগুলোর মর্যাদা ও বিস্তার বৃদ্ধি পায়।

- বিদ্যাপতি আখ্যায়িকা, ইতিহাস, ভূগোল, ধর্ম ও ন্যায়শাস্ত্র সম্পর্কিত গ্রন্থও রচনা করেছেন।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো:
- পুরুষপরীক্ষা (নীতিশিক্ষা),
- লিখনাবলী (পত্র লেখার রীতি),
- কীর্ত্তিলতা (ইতিহাস),
- ভূ-পরিক্রমা (ভূগোল),
- দানবাক্যাবলী,
- দুর্গাভক্তিতরঙ্গিণী,
- শৈবসর্বস্বসার,
- বিভাগসার,
- গঙ্গাবাক্যাবলী,
- কীর্তিপতাকা ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,২১০.
'কড়চা' কী?
  1. ক) বৃন্দাবন দাসের জীবনীগ্রন্থ।
  2. খ) চৈতন্যদেবের জীবনীগ্রন্থকে।
  3. গ) প্রাচীন বাংলার লিখিত হরফ।
  4. ঘ) ব্যাকরণ গ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
খ) চৈতন্যদেবের জীবনীগ্রন্থকে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চৈতন্যদেবের জীবনীগ্রন্থকে।
ব্যাখ্যা
চৈতন্যদেবের (১৪৮৬-১৫৩৩) জীবন ও লীলাবিষয়ক এ কাব্যধারা মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- চৈতন্যচরিতকাব্য প্রথম রচিত হয় সংস্কৃত ভাষায়।

- বাংলা চরিতকাব্যগুলির মধ্যে বৃন্দাবন দাসের 'চৈতন্যভাগবত' (১৫৪৬-১৫৫০) প্রথম রচনা। এটি চৈতন্যমঙ্গল নামেও পরিচিত।
- গোবিন্দদাসের কড়চা এ সময়ের অপর একখানি চৈতন্যচরিত জীবনী কাব্য

- এরপর চৈতন্যমঙ্গল নামে চৈতন্যের জীবনীকাব্য রচনা করেন জয়ানন্দ ও লোচনদাস।
- লোচনদাসের কাব্যে (১৫৬০-৬৬/৭৫) চৈতন্যের মাতৃমমতামন্ডিত বাল্যলীলা এবং অতিরঞ্জনমুক্ত মানবীয় রূপটি প্রধানভাবে চিত্রিত হয়েছে। এখানেই এর বিশেষত্ব।

- চৈতন্যজীবনীগুলির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্যচরিতামৃত' (১৬১৫)।
- এতে চৈতন্যের শেষজীবনের কথা বর্ণিত হয়েছে। গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের এটি আকর গ্রন্থ।

- চৈতন্যজীবনী অবলম্বনে রচিত আরেকখানি চরিতকাব্য হলো চূড়ামণিদাসের গৌরাঙ্গবিজয়।
- গ্রন্থটি তিনখন্ডে সম্পূর্ণ বলে জানা গেলেও কেবল প্রথম খন্ডের অংশবিশেষ পাওয়া গেছে এবং এটি খ্রিস্টীয় ষোড়শ শতকে রচিত বলে মনে করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২১১.
'আমারি বধূয়া আন বাড়ি যায় আমারি আঙিনা দিয়া।' কোন কবির রচনা?
  1. ক) গোবিন্দদাস
  2. খ) মুকন্দরাম
  3. গ) দ্বিজ চন্ডীদাস
  4. ঘ) জ্ঞানদাস
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিজ চন্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিজ চন্ডীদাস
ব্যাখ্যা
- চণ্ডীদাস বৈষ্ণব কবি ছিলেন। 
 চন্ডীদাসের বিখ্যাত উক্তিঃ
- 'সই, কেমনে ধরিব হিয়া?
আমার বঁধূয়া আন বাড়ি যায়
আমার আঙিনা দিয়া।'


[উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ]
১,২১২.
‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয় কাকে?
  1. মালাধর বসু
  2. বিদ্যাপতি
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর
  4. রামপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন  পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২১৩.
সংস্কৃত ভাষায় রচিত 'রামায়ণ' মহাকাব্যটির রচয়িতা কে?
  1. কৃত্তিবাস ওঝা
  2. কাশীরাম দাস
  3. চন্দ্রাবতী
  4. বাল্মীকি
সঠিক উত্তর:
বাল্মীকি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাল্মীকি
ব্যাখ্যা

রামায়ণ:
- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন - কৃত্তিবাস ওঝা।
- রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য। সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন বাল্মীকি।
- গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস বাংলায় ''রামায়ণ'' অনুবাদ করেন।

কৃত্তিবাস ওঝা:
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঞ্চালী'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- কৃত্তিবাসী রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২১৪.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয় -
  1. ১৯০৭ সালে
  2. ১৯০৯ সালে
  3. ১৯১৬ সালে
  4. ১৯১৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ সালে
ব্যাখ্যা
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য।
- রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- এ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে।
- রাধা ও কৃষ্ণের প্রেম নিয়ে এই কাব্যটি রচিত হয়েছে।
- এটি ১৩ খণ্ডে বিভক্ত।
- বড়ু চণ্ডীদাসের প্রধান পরিচয় শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,২১৫.
হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের অনুবাদ করেছেন কে?
  1. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  2. আলাওল
  3. আবদুল হাকিম
  4. সৈয়দ সুলতান
সঠিক উত্তর:
আলাওল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাওল
ব্যাখ্যা
‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের অনুবাদ।

• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।  প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে। 

উৎস:
- লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২১৬.
শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত 'ইউসুফ-জোলেখা' কোন ভাষার কাব্যের বঙ্গানুবাদ?
  1. আরবি কাব্য
  2. ফরাসি কাব্য
  3. হিন্দি কাব্য
  4. পারস্য কাব্য
সঠিক উত্তর:
পারস্য কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারস্য কাব্য
ব্যাখ্যা
ইউসুফ-জোলেখা কাব্য:
- 'ইউসুফ-জোলেখা' শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য। তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জোলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন। সগীর বাইবেল পড়েন নি। তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।
- পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জোলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। যেমন- ইউসুফ জোলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। তবে এই কাব্য শাহ মুহাম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,২১৭.
কার জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়?
  1. গোবিন্দদাস
  2. লোচন দাস
  3. শ্রীচৈতন্যদেব
  4. বৃন্দাবন দাস
সঠিক উত্তর:
শ্রীচৈতন্যদেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীচৈতন্যদেব
ব্যাখ্যা
শ্রীচৈতন্যদেব:
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত।
- তাঁর পিতা জগন্নাথ মিশ্র সিলেট জেলার দক্ষিন গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ থেকে রূপান্তরিত এক ধর্মবেত্তা, যিনি তাঁর স্বকীয় ভক্তির মাধ্যমে বাংলা ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।
- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২১৮.
মধ্যযুগের শেষ কবি কে?
  1. আলাওল
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত 
  3. আব্দুল হাকিম
  4. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গলকাব্য রচনা করেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের 'শেষ বড় কবি' বলা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।
১,২১৯.
'চাচা কাহিনী' গল্পগ্রন্থে কাদের জীবনের গল্প ফুটে উঠেছে?
  1. ছোট শিশুদের
  2. ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের
  3. বয়স্ক শিক্ষকদের
  4. প্রবাসী বাঙালি তরুণ ছাত্রদের
সঠিক উত্তর:
প্রবাসী বাঙালি তরুণ ছাত্রদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবাসী বাঙালি তরুণ ছাত্রদের
ব্যাখ্যা

'চাচা কাহিনী' গল্পগ্রন্থ:
- সৈয়দ মুজতবা আলীর বিখ্যাত গল্পগ্রন্থগুলির মধ্যে প্রধানতম। প্রায় প্রতিটি গল্পই বিদেশের পটভূমিকা রচিত।
- বিদেশে বিশেষ করে বার্লিন প্রবাসী বাঙালী তরুণ বয়স্ক ছাত্রদের নিয়েই রচিত। অনেক গল্প স্বয়ং লেখক যৌবনে বার্লিন প্রবাসী ছাত্র ছিলেন। সে সময়কার নানা কাহিনী গল্পাকারে পরিবেশন করেচেন চাচা কাহিনীতে।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর কলমে খাঁটি দেশী যাদু সেরা বিদেশী পলিশে সারাক্ষণ ঝকঝক করছে। চাচা কাহিনীর মতো এমন বিশুদ্ধ উপাদেয় আন্তর্জাতিক রসিকতা বাংলা ভাষায় অন্তত আগে কখনও পড়া যায়নি।

সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- চাকরিসূত্রে পিতার কর্মস্থল পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের পর মুজতবা আলী শেষপর্যন্ত শান্তিনিকেতন-এ ভর্তি হন এবং পাঁচ বছর অধ্যয়ন করে ১৯২৬ সালে তিনি স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২২০.
বাংলা ভাষায় অদ্বিতীয় ও সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী রচনা করেন কে?
  1. বৃদ্ধাবন দাস
  2. মুরারি গুপ্ত
  3. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
  4. গোবিন্দ দাস
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণদাস কবিরাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণদাস কবিরাজ
ব্যাখ্যা
• চৈতন্যদেবের জীবনীকাব্য:
- বাংলা ভাষায় রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীকাব্য বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্যভাগবত'।
- তাঁর কাব্য প্রথমত 'চৈতন্যামঙ্গল' নামে পরিচিত ছিল।
- পরে এ কাব্যে ভাগবতের প্রভাব ও লীলা পর্যায় দেখে এর নাম চৈতন্যভাগবত রাখা হয়।
- কাব্যটির রচনাকাল সম্ভবত ১৫৪৮ সাল।

• চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী।
- 'মুরারি গুপ্তের কড়চা' নামে পরিচিত তাঁর কাব্যের প্রকৃত নাম, শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম।
- এটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত হয়েছিলো।

চৈতন্যদেবের বাংলা জীবনী:
• বাংলায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত ‘চৈতন্য-ভাগবত’।
• বাংলায় চৈত্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ- লোচন দাস রচিত ‘চৈতন্য-চরিতামৃত’।
• বাংলা ভাষায় অদ্বিতীয় ও সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী- কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত ‘চৈতন্য-চরিতামৃত’।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২২১.
'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্যটি কোন ভাষা থেকে অনুবাদ করা হয়েছে?
  1. আরবি
  2. সংস্কৃত
  3. উর্দু
  4. ফারসি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা

ইউসুফ-জোলেখা:
- এটি একটি কাহিনি কাব্যগ্রন্থ। ইউসুফ-জোলেখা কাহিনি কাব্যের রচয়িতা শাহ মুহম্মদ সগীর।
- 'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্য  ফারসি ভাষা থেকে অনুবাদ করা হয়। 
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে (১৩৮৯-১৪০৯ খ্রিষ্টাব্দ) এ গ্রন্থ রচিত হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- সে-বিচারে কাব্যটি পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকের রচনা এবং শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে গণ্য।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে।
- ইরানের কবি ফেরদৌসিও (মৃত্যু ১০২৫ খ্রিষ্টাব্দ) এই নামে কাব্য রচনা করেছেন।
- এটি মূলত অনুবাদ কাব্য বা রোমান্টিক প্রণোয়োপাখ্যানের নিদর্শন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,২২২.
ফকির গরীবুল্লাহ রচিত মধ্যযুগীয় পীরসাহিত্যের গ্রন্থ কোনটি?
  1. সােনাভান 
  2. আমীর হামজা
  3. সত্যপীরের পুঁথি
  4. জঙ্গনামা
সঠিক উত্তর:
সত্যপীরের পুঁথি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যপীরের পুঁথি
ব্যাখ্যা

সত্যপীরের পাঁচালি/সত্যপীরের পুঁথি মধ্যযুগীয় পীরসাহিত্যের একখানা গ্রন্থ। এতে সত্যপীরের মহিমা কীর্তিত হয়েছে।
- মধ্যযুগে একাধিক কবি বিভিন্ন শিরোনামে এই পাঁচালি কাব্য রচনা করেছেন। যেমন: সত্যপীরের পাঁচালি, সত্যপীরের কথা,  সত্যনারায়ণের পাঁচালি ইত্যাদি।
- কবিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:  কবি কংক, শেখ ফয়জুল্লাহ, রামেশ্বর ভট্টাচার্য, রামানন্দ, শাহ্ গরীবুল্লাহ, ভারতচন্দ্র প্রমুখ।

-------------------------
• ফকির গরীবুল্লাহ:
- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

মিশ্র ভাষারীতিতে ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ), (আমীর হামজা বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের দোভাষী পুথিসাহিত্যের একটি জনপ্রিয় কাব্যগ্রন্থ।)
- জঙ্গনামা, (এটি মূলত হযরত মুহাম্মদ (স.) এবং কারবালার যুদ্ধের মতো মুসলিম ঐতিহ্যের বীরত্বপূর্ণ কাহিনী অবলম্বনে রচিত কাব্য।)
- সােনাভান ও (সোনাভান মূলত মধ্যযুগীয় বাংলা পুঁথি সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক চরিত্র।)
- সত্যপীরের পুঁথি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২২৩.
আরাকান রাজসভার কবি ছিলেন -
  1. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  2. শমসের আলী
  3. মরদন
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• আরাকান রাজসভার কবিগণ:
- দৌলত কাজী, 
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর,
- মরদন,
- আবদুল করিম খন্দকার,
- শমসের আলী ইত্যাদি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি- হুমায়ুন আজাদ।
১,২২৪.
‘ইউসুফ-জুলেখা’ কী ধরনের কাব্য?
  1. কাহিনিকাব্য
  2. গীতিকাব্য
  3. পালাকাব্য
  4. সংগীতকাব্য
সঠিক উত্তর:
কাহিনিকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহিনিকাব্য
ব্যাখ্যা

- পনের শতকের উল্লেখযোগ্য কবি শাহ মুহম্মদ সগীর ছিলেন - রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের আদিকবি।
- ইউসুফ-জুলেখা তার রচিত একটি কাহিনি কাব্য
- টি তিনি পারস্যের ফারসি ভাষার কবি জামী রচিত ''ইউসুফ ওয়া জুলায়খা'' থেকে অনুবাদ করেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের রাজত্বকালে এ গ্রন্থে রচিত হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- সে বিচারে এ কাব্যটি পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকের রচনা।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১,২২৫.
চন্দ্রাবতী কে ছিলেন?
  1. প্রথম বাঙালি নারী ঔপন্যাসিক
  2. প্রথম বাঙালি নারী প্রশাসক
  3. বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি নারী কবি
  4. বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী নাট্যকার
সঠিক উত্তর:
বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি নারী কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি নারী কবি
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি নারী কবি চন্দ্রাবতী ।
• চন্দ্রাবতী:

- মহিলা কবি চন্দ্রাবতী কিশোরগঞ্জ জেলার অধিবাসী ছিলেন।
- ড. দীনেশচন্দ্র সেনের মতে, তিনি ১৫৫০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
 - তাঁর পিতা ছিলেন 'মনসামঙ্গল' রচয়িতা কবি দ্বিজ বংশীদাস।
- কবি চন্দ্রাবতী নিজের জীবনে প্রেমের করুণ পরিণতির জন্য নিজেই লোককাব্যের নায়িকা হিসেবে পরিচিতা।
- চন্দ্রাবতীর বাল্যসখা জয়ানন্দের সঙ্গে প্রণয় সম্পর্কের ফলে বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়।
- এমন সময় জয়ানন্দ এক মুসলমান মেয়ের রূপে মুগ্ধ হয়ে তাকে বিয়ে করে ফেলে।
- কিছুদিন পর অনুতপ্ত হয়ে জয়ানন্দ চন্দ্রাবতীর কাছে ফিরে আসে এবং প্রত্যাখ্যাত হয়ে নদীতে প্রাণ বিসর্জন দেয়।
- জীবনের গভীর বেদনা ভুলে থাকার জন্য তিনি ফুলেশ্বরী নদীর তীরে শিবমন্দিরে উপাসনায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন।
- পিতার আদেশে চন্দ্রাবতী রামায়ণ রচনায় হস্তক্ষেপ করে জীবনের বেদনা ভুলতে চেয়েছিলেন।
- কিন্তু তা সমাপ্ত করার পূর্বেই তাঁর জীবন প্রদীপ নির্বাপিত হয়।
 - তিনি কয়েকটি ক্ষুদ্র গাথাও রচনা করেছিলেন।
- ময়মনসিংহ গীতিকায় সে সব সংগৃহীত হয়েছে।
- চন্দ্রাবতীর রামায়ণের কোন পুঁথি পাওয়া যায় নি।
 - লোককাহিনি সংগ্রাহক চন্দ্রকুমার দে কর্তৃক তা মহিলাকণ্ঠ থেকে সংগৃহীত হয়ে পূর্ববঙ্গ গীতিকায় উদ্ধৃত হয়েছে।
- আনুমানিক ষোল শতকের শেষে অথবা সতের শতকের প্রথমে চন্দ্রাবতী রামায়ণ রচনা করেছিলেন।
- তিনি গীতিকার একটা অংশমাত্র রচনা করেন এবং তাও আংশিক ভাবে সংগহীত হয়েছে।
- কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণ রচনা ছাড়াও ময়মনসিংহ গীতিকার মলুয়া ও দস্যু কেনারামের পালা গীতিকা দুটি রচনা করেছিলেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,২২৬.
মধ্যযুগের কোন লেখক 'দ্বিতীয় বিদ্যাপতি' খ্যাত?
  1. গোবিন্দদাস
  2. দৌলত কাজী
  3. জয়দেব
  4. গোবিন্দচন্দ্র দাস
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা

গোবিন্দদাস:
- তিনি মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলার নিকটবর্তী তেলিয়াবুধুরি গ্রামে, অনুমানিক ১৫৩৫ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব পদকর্তা।
- রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পালাগানের ভূমিকা রূপে গৌরাঙ্গের জীবনেও অনুরূপ ঘটনার অনুবর্তন হয়েছিল তা স্মরণ করে রচিত গৌরলীলার পদকেই বলে গৌরচন্দ্রিকা।
- গৌরচন্দ্রিকার শ্রেষ্ঠ পদকর্তা গোবিন্দ দাস।
- গোবিন্দদাস 'দ্বিতীয় বিদ্যাপতি' খ্যাত। কবি বল্লভদাস অভিধা দিয়েছিলেন গোবিন্দের কবিত্বগুণ, গোবিন্দ দ্বিতীয় বিদ্যাপতি।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম 'সংগীতমাধব'।
- গোবিন্দদাসকে বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য বলা হয়। গোবিন্দদাসকে শ্রীজীব গোস্বামী 'কবিরাজ' ও 'কবিন্দ্র' উপাধি দেন।
- আনুমানিক ১৬১৩ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২২৭.
‘জঙ্গনামা’ কাব্য কোন ধর্মীয় ঐতিহ্যের উপর ভিত্তি করে রচিত?
  1. মুসলিম
  2. খ্রিস্টান
  3. বৌদ্ধ
  4. হিন্দু
সঠিক উত্তর:
মুসলিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুসলিম
ব্যাখ্যা
জঙ্গনামা:
- জঙ্গনামা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা।
- বিশেষত হযরত মুহম্মাদ (স.) ও তাঁর স্বজনদের যুদ্ধই এ শ্রেণীর কাব্যের মূল বিষয়।
- যেসব যুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে।

ফকির গরীবুল্লাহ:
- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- জঙ্গনামা,
- সােনাভান ও
- সত্যপীরের পুঁথি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২২৮.
জীবনী সাহিত্যের ধারা গড়ে ওঠে কাকে কেন্দ্র করে?
  1. শ্রীচৈতন্যদেব
  2. কাহ্নপা
  3. বিদ্যাপতি
  4. রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব
সঠিক উত্তর:
শ্রীচৈতন্যদেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীচৈতন্যদেব
ব্যাখ্যা
• শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷

• চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী।
- 'মুরারি গুপ্তের কড়চা' নামে পরিচিত তাঁর কাব্যের প্রকৃত নাম, শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম।
- এটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত হয়েছিলো।

চৈতন্যদেবের বাংলা জীবনী:
• বাংলায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত ‘চৈতন্য-ভাগবত’।
• বাংলায় চৈত্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ- লোচন দাস রচিত ‘চৈতন্য-চরিতামৃত’।
• বাংলা ভাষায় অদ্বিতীয় ও সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী- কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত ‘চৈতন্য-চরিতামৃত’।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২২৯.
কে গ্রামে গ্রামে ঘুরে মুসলমান কবিদের পুঁথি সংগ্রহ করেছেন?
  1. ক) চন্দ্রকুমার দে
  2. খ) আবদুল করিম
  3. গ) দীনেশ্চন্দ্র সেন
  4. ঘ) আবদুল হাকিম
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল করিম
ব্যাখ্যা
আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (১৮৭১-১৯৫৩) গ্রামে গ্রামে ঘুরে মুসলমান কবিদের পুঁথি সংগ্রহ করেছেন। 
- তিনি চট্টগ্রামের অধিবাসী ছিলেন। 
-  বৃহত্তর চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার সুচক্রদন্ডী গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯২০-২১ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ তাঁর রচিত বাংলা পুঁথির তালিকা বাঙালা প্রাচীন পুথির বিবরণ শিরোনামে দুখন্ডে প্রকাশ করে।
- তাঁর সংগৃহীত পুঁথির বেশির ভাগ মুসলমান কবিদের লেখা এবং ঐগুলি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত পান্ডুলিপিগুলির একটি সুবিন্যস্ত তালিকা পুঁথি পরিচিতি শিরোনামে প্রকাশ করেছে।
- হিন্দু কবিদের লেখা অবশিষ্ট পুঁথিগুলি রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরকে দেওয়া হয়। 

- নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে ‘সাহিত্যসাগর’ উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে এবং চট্টল ধর্মমন্ডলী তাঁকে ‘সাহিত্য বিশারদ’ উপাধিতে ভূষিত করে।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৩০.
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য -
  1. নূরনামা
  2. লাইলি মজনু
  3. জয়নবের চৌতিশা
  4. ইউসুফ জুলেখা
সঠিক উত্তর:
ইউসুফ জুলেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউসুফ জুলেখা
ব্যাখ্যা
'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্য:
- ইউসুফ-জোলেখা’ শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। সগীর বাইবেল পড়েননি। তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।
- পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জুলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। ইউসুফ জুলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। তবে এই কাব্য শাহ মুহাম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

অন্যদিকে,
- আব্দুল হাকিম রচিত কাব্য - নূরনামা।
- ‘লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান।
- পনেরো শতকের কবি শেখ ফয়জুল্লাহর 'জয়নবের চৌতিশা' একটি শোককাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৩১.
'মানিকচন্দ্র রাজার গান' কে প্রকাশ করেছেন?
  1. দীনেশ্চন্দ্র সেন
  2. জর্জ গ্রীয়ার্সন
  3. চন্দ্রকুমার দে
  4. গোবিন্দ চন্দ্র দাস
সঠিক উত্তর:
জর্জ গ্রীয়ার্সন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জর্জ গ্রীয়ার্সন
ব্যাখ্যা
• নাথগীতিকা:
- স্যার জর্জ গ্রীয়ার্সন ১৮৭৮ সালে রংপুর জেলার মুসলমান কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে 'মাণিকচন্দ্র রাজার গান' নামে প্রকাশ করেন।
- এইগুলো এক শ্রেণির ঐতিহাসিক রচনা।
- ইতিহাসের কোন বিস্মৃত যুগে এই গীতিকার নায়ক রাজা গোপীচাঁদ বা গোবিন্দচন্দ্র মায়ের নির্দেশে তরুণ যৌবনে দুই নবপরিণীতা বধূ প্রাসাদে রেখে সন্ন্যাস অবলম্বন করেছিলেন এই কাহিনি কেন্দ্র করেই নাথগীতিকার উদ্ভব।
- নাথসম্প্রদায়ভুক্ত গুরুবাদী যোগিগণ তাঁদের গুরুর অলৌকিক মহিমাকীর্তন প্রসঙ্গে এই গীতিকা দেশবিদেশে প্রচার করেছেন।
- নাথগীতিকার দুটি বিভাগ: প্রথমটি তরুণ রাজপুত্র গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাসের কাহিনি। এ সম্পর্কিত গীতিকা 'গোরক্ষবিজয়', 'মীনচেতন' নামে পরিচিত।
- অপর শ্রেণির গীতিকাগুলো 'মাণিক রাজার গান', 'গোবিন্দচন্দ্রের গীত', 'ময়নামতীর গান', 'গোবিন্দচন্দ্রের গান', 'গোপীচাঁদের সন্ন্যাস', 'গোপীচাঁদের পাঁচালী' ইত্যাদি নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,২৩২.
‘সত্যনারায়ণের পাঁচালী’ গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. সৈয়দ সুলতান
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. ফকির গরীবুল্লাহ্‌
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ। তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- ‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘সত্যনারায়ণের পাঁচালী’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,২৩৩.
শ্রীচৈতন্যদেবের প্রকৃত নাম কী?
  1. নিমাই চক্রবর্তী
  2. বিশ্বম্ভর মিশ্র
  3. গৌরাঙ্গ
  4. বিশ্বম্ভর সেন
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
বিশ্বম্ভর মিশ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বম্ভর মিশ্র
ব্যাখ্যা
শ্রীচৈতন্যদেব:
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত।
- তাঁর পিতা জগন্নাথ মিশ্র সিলেট জেলার দক্ষিন গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।
- প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত। তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ থেকে রূপান্তরিত এক ধর্মবেত্তা, যিনি তাঁর স্বকীয় ভক্তির মাধ্যমে বাংলা ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৩৪.
অন্ধকার যুগের সাহিত্য নয় কোনটি?
  1. সেক শুভোদয়া
  2. নিরঞ্জনের রুষ্মা
  3. শূণ্যপূরাণ
  4. মধুমালতী
সঠিক উত্তর:
মধুমালতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধুমালতী
ব্যাখ্যা
অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল, 
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'।
- সেক শুভোদয়া

অন্যদিকে,
- মধ্যযুগের রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার সাহিত্যকর্ম - মধুমালতী

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৩৫.
'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য রচনা করেন কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. দৌলত উজির বাহরাম খান
  3. ফকির গরিবুল্লাহ
  4. দৌলত কাজী
সঠিক উত্তর:
দৌলত কাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য:
- কবি দৌলত কাজী 'সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী' কাব্য রচনা করেন।
- রোসাঙ্গের অধিপতি শ্রীসুধর্মার (রাজত্বকাল ১৬২২-৩৮ খ্রিষ্টাব্দ) প্রধান আমাত্য আশরফ খানের আদেশে দৌলত কাজী এ কাব্য রচনা আরম্ভ করেন কিন্তু শেষ করার আগেই তিনি মারা যান।
- পরে উজির সোলায়মানের আদেশে ১৬৫৯ খ্রিষ্টাব্দে কবি আলাওল কাব্যের শেষাংশ রচনা করেন।

দৌলত কাজী:
- তিনি আনুমানিক ১৬০০ থেকে ১৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সুলতানপুর গ্রাম, রাউজান, চট্টগ্রাম জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত মধ্যযুগের বিশিষ্ট কবি ছিলেন। তিনি বাংলা, সংস্কৃত, হিন্দি ও ব্রজবুলি ভাষায় জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী'। এই গ্রন্থের মূল হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসৎ' নামক কাব্য ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৩৬.
"জ্ঞানপ্রদীপ" গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. জ্ঞানদাস
  2. গুণরাজ খান
  3. মুকুন্দ চক্রবর্তী
  4. সৈয়দ সুলতান
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ সুলতান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ সুলতান
ব্যাখ্যা
সৈয়দ সুলতান:
- তাঁর বাসস্থান ছিল চট্টগ্রামের চক্রশালা চাকলার অধীন পটিয়া গ্রাম।
- মক্তুল হুসেন কাব্যের রচয়িতা মুহম্মদ খান ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- নবীবংশ,
- জ্ঞানপ্রদীপ,
- জ্ঞানচৌতিশা,
- শব—ই—মিরাজ,
- ওফাত—উ—রসুল,
- জয়কুম রাজার লড়াই ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৩৭.
'নূরনামা' কোন জাতীয় গ্রন্থ?
  1. গদ্যগ্রন্থ
  2. মর্সিয়া সাহিত্য
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - আবদুল হাকিম।
- নূরনামা ফারসি নীতিকাব্য নূরনামাহ্ অবলম্বনে রচিত।

• ‘যেসব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী।
সেসব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।’- বাংলা ভাষার প্রতি এরূপ শ্রদ্ধাপূর্ণ বক্তব্যের জন্য কবির নূরনামা কাব্য বিশেষভাবে প্রশংসিত।

• আব্দুল হাকিম:

- তিনি সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি ছিলেন।
- নোয়াখালী জেলার বাবুপুর (মতান্তরে সন্দ্বীপের সুধারাম) ছিল কবির আবাসভূমি।
- তাঁর পিতা শাহ্ রাজ্জাক ছিলেন একজন পন্ডিত ব্যক্তি এবং তাঁর পীর ছিলেন সাহাবুদ্দীন।
- আবদুল হাকিম  আরবি,  ফারসি ও  সংস্কৃত ভাষায় বিশেষ ব্যুৎপন্ন ছিলেন।
- হাদীস, আল-কুরআন, ফেকাহ প্রভৃতি শাস্ত্র এবং  রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণ সম্পর্কেও তাঁর গভীর পান্ডিত্য ছিল।
- আব্দুল হাকিমের ৫টি কাব্য পাওয়া যায়।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো: 
- ইউসুফ জোলেখা,
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
- হানিফার লড়াই।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলাপিডিয়া।
১,২৩৮.
রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদক - 
  1. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  2. কাশীরাম দাস
  3. চন্দ্রাবতী 
  4.  কৃত্তিবাস ওঝা
সঠিক উত্তর:
 কৃত্তিবাস ওঝা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 কৃত্তিবাস ওঝা
ব্যাখ্যা

রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন কৃত্তিবাস ওঝা।
- রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য। সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন বাল্মীকি। 
- কৃত্তিবাসী রামায়ণে রামচন্দ্র আরাধ্য অবতার তুলসীচন্দনে লিপ্ত বিগ্রহ। কৃত্তিবাসের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতে গিয়ে ড. দীনেশ সেন মন্তব্য করেছেন, 'গৌড়েশ্বর ধন্য যিনি কবিকে রামায়ণ অনুবাদের ভার দিয়া বঙ্গদেশের শ্রেষ্ঠ হিতসাধন করিয়াছিলেন।' যুগপ্রভাবে সংস্কৃত আদর্শের মহাকাব্যিক শিল্পকলা ক্রমশ শিথিল হয়ে অজস্র কাহিনিতে রূপান্তরিত হয়েছে। 

------------------
• কৃত্তিবাস ওঝা:
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঞ্চালী'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- কৃত্তিবাসী রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়।

অন্যদিকে, 
- মহাভারত প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন- কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক- কাশীরাম দাস।
- চন্দ্রাবতী রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম  এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৩৯.
'হপ্তপয়কর' কাব্যটি কে রচনা করেছেন?
  1. দৌলত কাজী
  2. সৈয়দ আলাওল
  3. শাহ মুহম্মদ সগীর
  4. কোরেশী মাগন ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলাওল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলাওল
ব্যাখ্যা

হপ্তপয়কর:
- 'হপ্তপয়কর' সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কোনো এক সময়ের রচনা। সম্ভবত ১৬৬৫ এর রচনাকাল।
- আরাকান রাজসভায় সৈয়দ আলাওল এই কাব্য রচনা করেন।
- প্রসিদ্ধ কবি নিজামির পারসি ভাষায় বর্তমান কাব্য রচনা করেন।
- রাজপুত্র বহরাম সাতরাত্রি ধরে তাঁর সাতজন পরির কাছে যে সাতটি গল্প শোনেন তার সংকলন।
- পারসি ও বাংলা সাহিত্যের সম্পর্কের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উৎস:
১।বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,২৪০.
মহাভারত এর রচয়িতা কে?
  1. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  2. শ্রীকর নন্দী
  3. কাশীরাম দাস
  4. কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন
ব্যাখ্যা
মহাভারত  কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাসদেব রচিত সংস্কৃত মহাকাব্য।
- চন্দ্রবংশীয় কুরু-পান্ডবদের ভ্রাতৃবিদ্বেষ ও যুদ্ধ এর মূল উপজীব্য।

- মহাভারতের প্রথম বাংলা অনুবাদক = কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- ছুটি খানের পৃষ্ঠপোষকতায় মহাভারতের অনুবাদ করেন = শ্রীকর নন্দী ।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক = কাশীরাম দাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৪১.
বাংলা ভাষায় প্রথম একক গ্রন্থ কোন লেখকের?
  1. রামাই পণ্ডিত
  2. শ্রী চৈতন্যদেব
  3. বড়ু চণ্ডীদাস
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বড়ু চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বড়ু চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৪২.
মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের রচয়িতা কে? 
  1. চণ্ডীদাস
  2. দীন চণ্ডীদাস
  3. বড়ু চণ্ডীদাস
  4. দ্বীজ চণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
বড়ু চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বড়ু চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য: 
- মধ্যযুগের বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'। 
- মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস। 
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান। 
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম থেকে এই পুথি আবিষ্কার করেন। 
- বসন্তরঞ্জন বিদ্বদ্বল্লভ এর মতে চণ্ডীদাসের জন্ম ১৩৩৯ এবং মৃত্যু ১৩৯৯ খ্রিস্টাব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৪৩.
রামপ্রাসাদের গান শুনে কে অভিভূত হয়েছিলেন?
  1. ক) নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ
  2. খ) নবাব সিরাজউদৌলা
  3. গ) নবাব আলিবর্দি খাঁ
  4. ঘ) নবাব মীর কাশিম
সঠিক উত্তর:
খ) নবাব সিরাজউদৌলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নবাব সিরাজউদৌলা
ব্যাখ্যা
রামপ্রসাদ সেন:
- তিনি শাক্ত পদাবলীর আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি।
- তার গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।
- তাঁর রচিত শ্যামা সঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিন'শ।
- শাক্ত সঙ্গীত/শ্যামা সঙ্গীত রচনা করে বিখ্যাত হয়েছিলেন- রামপ্রসাদ সেন।
- বিখ্যাত গান "মনরে কৃষি কাজ জান না এমন মানবজমিন রইল পতিত আবাদ করলে ফলতো সোনা"। 
- তার গান শুনে বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদৌলা অভিভূত হয়েছিলেন। 
- রামপ্রসাদ সেনকে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র 'কবিরঞ্জন' উপাধি দিয়েছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১,২৪৪.
মধ্যযুগের অনুবাদ সাহিত্য রচনায় কোন মুসলিম শাসকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে?
  1. ক) মুর্শিদ কুলি খাঁ
  2. খ) নৃপতি নেজাম শাহ্ সুর
  3. গ) নাসিরুদ্দীন শাহ
  4. ঘ) আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
ব্যাখ্যা

- আলাউদ্দিন হােসেন শাহের পৃষ্ঠপােষকতায় বরিশালের কবি বিজয়গুপ্ত 'পদ্মপুরাণ' রচনা করেন।
- তাঁর সেনাপতি পরাগল খানের পষ্ঠপােষকতায় কবীন্দ্র পরমেশ্বর বাংলায় সর্বপ্রথম 'মহাভারত' অনুবাদ করেন।
- পরাগল খানের পুত্র ছুটি খানের উৎসাহে শ্রীকর নন্দী মহাভারতের ‘অশ্বমেধ পর্ব' বাংলায় অনুবাদ করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,২৪৫.
কোনটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার সাহিত্য?
  1. নিরঞ্জনের রুষ্মা
  2. সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী
  3. সেক শুভোদয়া
  4. শূণ্যপূরাণ
সঠিক উত্তর:
সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী
ব্যাখ্যা

রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল, 
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'।
- সেক শুভোদয়া।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩। বাংলাপিডিয়া।

১,২৪৬.
বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বকথা রয়েছে নিচের কোন গ্রন্থে?
  1. গীতগোবিন্দম্
  2. শূন্যপুরাণ
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. ভাগবত 
সঠিক উত্তর:
শূন্যপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্যপুরাণ
ব্যাখ্যা

• 'শূন্যপুরাণ':
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'ধর্মপূজার শাস্ত্রগ্রন্থ'- 'শূন্যপুরাণ'।
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি। তে বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বকথা রয়েছে।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
-গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন। 'নিরঞ্জনের উষ্মা' শূন্যপুরাণের  অন্তর্গত একটি কবিতা।

অন্যদিকে, 
• গীতগোবিন্দম্: জয়দেবের বিখ্যাত রচনা 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। এটি একটি সংস্কৃত গীতিকাব্য। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা এর মুখ্য বিষয়।
• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য: মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
• 'ভাগবত' পুরাণ বিষ্ণুভক্তি বা বৈষ্ণবধর্মকেন্দ্রিক। বিশেষত ভগবান কৃষ্ণের লীলা, গোপীগণ ও ভক্তির মাহাত্ম্য এখানে বিশদভাবে বর্ণিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৪৭.
কবি বিজয় গুপ্ত রচিত মনসামঙ্গল কাব্যের নাম কী?
  1. ক) মনসামঙ্গল কাব্য
  2. খ) মনসা বিজয়
  3. গ) অভয়া মঙ্গল
  4. ঘ) পদ্মাপুরাণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) পদ্মাপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পদ্মাপুরাণ
ব্যাখ্যা

বিজয় গুপ্ত রচিত মনসা মঙ্গলকাব্যের নাম পদ্মাপুরাণ।
 দেবীর মাহাত্ম্য ও পূজা প্রচার এ কাব্যের প্রধান উপজীব্য। কবির ভাষায় এ কাব্য পাঠ করলে দরিদ্রের ধনলাভ ও সন্তানহীনের সন্তানলাভ হয় এবং রোগীর রোগমুক্তি ও বন্দির বন্ধনমুক্তি ঘটে।
মনসা ও চাঁদ সদাগর কাব্যের দুই প্রধান চরিত্র। মনসা অত্যাচারী সামন্তদের প্রতিনিধি, আর চাঁদ সওদাগর প্রতিবাদী বিদ্রোহী চরিত্র। মনসা নানা কৌশল অবলম্বন ও ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করে শিবভক্ত চাঁদ সওদাগরের পূজা আদায় করেন। ‘কাজির সহিত যুদ্ধ’ পালায় কাজির দুই পুত্র হাসান ও হোসেন রাখাল বালকদের পূজার মনসাঘট ও বেদী ধ্বংস করলে দেবী ক্ষুব্ধ হয়ে কাজির নগর আক্রমণ ও নগরবাসীকে পর্যুদস্ত করেন। কাজি মনসাকে পূজা দিয়ে কুলে-ধনে-জনে রক্ষা পান। এ কাহিনীর দ্বারা কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, তখন মুসলিম সমাজেও মনসাদেবীর প্রভাব ছিল।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

১,২৪৮.
শাহ মুহম্মদ সগীর কোন শতকের কবি?
  1. চৌদ্দ শতকের
  2. পনের শতকের
  3. ষোল শতকের
  4. সতেরো শতকের
সঠিক উত্তর:
পনের শতকের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পনের শতকের
ব্যাখ্যা
• শাহ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্য বা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি - শাহ্ মুহম্মদ সগীর।

শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম ইউসুফ-জোলেখা। এটি একটি রোমান্টিক প্রনয়োপাখ্যান। ইউসুফ-জোলেখা কাব্যগ্রন্থের রচনাকাল অনুসারে এটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য এবং শাহ মুহম্মদ সগীর এই ধারার প্রথম কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়িা।
১,২৪৯.
মালিক মুহম্মদ জায়সীর হিন্দি কাব্যের বঙ্গানুবান কাব্য কোনটি?
  1. চন্দ্রাবতী 
  2. পদ্মাবতী
  3. মধুমালতি
  4. মৃগাবতী 
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা

• ‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর ‘পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ।

- অযোধ্যার কবি জায়সী ১৫৪০ সালে 'পদুমাবত' কাব্য রচনা করেছিলেন। আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকানরাজ সাদ উমাদার বা থদোমিন্তারের আমলে (১৬৪৫-৫২) মাগন ঠাকুরের আদেশে পদ্মাবতী কাব্য রচনা করেন। পদ্মাবতী হিন্দি পদুমাবতের স্বাধীন অনুবাদ।

- কাহিনি রূপায়ণ, চরিত্রচিত্রণ, প্রকাশভঙ্গি প্রয়োগ ইত্যাদি ক্ষেত্রে মধ্যযুগের প্রতিভাশালী কবিগণ যে কৃতিত্ব দেখিয়ে মৌলিকতার মত মর্যাদা লাভ করেছেন সেদিক থেকে আলাওলের স্থান সর্বোচ্চে। এ প্রসঙ্গে কবি বলেছেন, 'স্থানে স্থানে প্রকাশিলঁ নিজ মন উক্তি।' একটি অধ্যাত্মরসের কাব্যকে মানবরসের কাব্যে রূপান্তরিত করতে গিয়ে কবি আলাওল আনন্দ ও সৌন্দর্য উপভোগের দিকে বেশি দৃষ্টি দিয়েছিলেন।

- পদ্মাবতী প্রেমমূলক ঐতিহাসিক কাব্য। তবে প্রেমের স্বরূপই এখানে বেশি, ইতিহাস এখানে গৌণ।

কাহিনি সংক্ষেপ- 
পদ্মাবতী চিতোরের রানী পদ্মিনীর কাহিনি নিয়ে রচিত। পদ্মাবতীর স্বামীর নাম রত্নসেন। পদ্মাবতী অপূর্ব সুন্দরী। চিতোরের রাজসভায় রাঘবচেতন নামে এক ব্রাহ্মণ পণ্ডিত লাঞ্ছনার প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য দিল্লির সম্রাট আলাউদ্দীনের নিকট পদ্মাবতীর অনুপম রূপের প্রশংসা করে তাঁকে হরণ করতে প্ররোচিত করেন। আলাউদ্দীন রত্নসেনের নিকট পদ্মাবতী সম্বন্ধে অনুরূপ প্রস্তাব করে প্রত্যাখ্যাত হন এবং প্রতিশোধ গ্রহণের উদ্দেশ্যে চিতোর আক্রমণ করেন। যুদ্ধে রত্নসেন বন্দী হলেও বিশ্বস্ত অনুচরদের সহায়তায় মুক্তি পেতে সক্ষম হন। পরে রাজা দেওপালের সঙ্গে রত্নসেনের যুদ্ধ বাঁধে। সে যুদ্ধে দেওপাল নিহত এবং রত্নসেন আহত হন। এ সুযোগে আলাউদ্দীন পুনরায় চিতোর আক্রমণ করেন। ইতোমধ্যে রত্নসেনের মৃত্যু ঘটলে পদ্মাবতী সহমৃতা হন। আলাউদ্দীন বিজয়ীবেশে চিতোর পৌঁছে তাঁদের জ্বলন্ত চিতা দেখতে পেলেন । তখন চিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সুলতান দিল্লি ফিরে এলেন।

অন্যদিকে, 
-------------------
• 'চন্দ্রাবতী' কাব্য:
- 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের একমাত্র রচয়িতা কেরেশী মাগন ঠাকুর ৷ এর একটি খণ্ডিত পুথি পাওয়া গেছে।
- কাব্যের রচনাকাল নিয়ে সংশয় আছে। তবে মাগন আরাকান রাজ্যের মন্ত্রী ও আলাওলের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন৷ তাই কাব্যটি সতের শতকের
- 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের প্রাচীন উৎস জানা যায় না। মনে হয় এটা কবির স্বাধীন কল্পনা।

• 'মধুমালতী' কাব্য:
- মুহম্মদ কবীর মধ্যযুগীয় প্রণয়োপাখ্যান রচিয়তা। ১৫৮৮ সালে 'মধুমালতী' নামে রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য রচনা করেন।
-  হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্‌ বা সাধনের কাব্যের অনুসরণে তাঁর 'মধুমালতী' কাব্য রচনা করেন। রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলুভ রোম্যান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
-  মধুমালতী কাব্যের কাহিনি উৎস 'ভারতীয় উপাখ্যান।

• 'মৃগাবতী' কাব্য:
মধ্যযুগের অন্যান্য অনেক কাব্যের মত 'মৃগাবতী' অন্য ভাষা থেকে অনুবাদ বা রূপান্তর। হিন্দীতে কুতবন ‘মৃগাবতী' করেছিলেন। ১৪৯৪ খ্রীষ্টাব্দে হোসেন শাহ শৰ্কী জৌনপুর থেকে পালিয়ে গৌড়ে আশ্রয় নেন। তখন আলাউদ্দিন হোসেন শাহ গৌড়েশ্বর, কুতবন হোসেন শাহ শর্কীর সভাকবি ছিলেন। তিনিও হোসেন শাহ শকীর সঙ্গে পালিয়ে আসেন। হোসেন শাহ শৰ্কীকে ভাগলপুরের কাছে 'কোলভ' এ থাকার ব্যবস্থা করা হয়।
সম্ভবতঃ এখানে বসেই কুতবন হিন্দীতে 'মৃগাবতী' কাব্যখানি রচনা করেন। ধারণা করা হয় কুতবনের হিন্দি ‘মৃগাবতী'র বঙ্গানুবান করেন মুহম্মদ মুকীম।  

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং 'মৃগাবতী' কাব্য। 

১,২৫০.
'হপ্তপয়কর' কাব্যটি রচনা করেন কে?
  1. কবি কঙ্ক
  2. আবদুল হাকিম
  3. আলাওল
  4. শাহ মুহম্মদ সগীর
সঠিক উত্তর:
আলাওল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাওল
ব্যাখ্যা
'হপ্তপয়কর' কাব্য:
- 'হপ্তপয়কর' সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কোনো এক সময়ের রচনা। এটি আলাওল রচিত কাব্য।
- আরাকান রাজসভায় আলাওল এই কাব্য রচনা করেন। সম্ভবত ১৬৬৫ এর রচনাকাল।
- প্রসিদ্ধ কবি নিজামির পারসি ভাষায় বর্তমান কাব্য রচনা করেন।
- রাজপুত্র বহরাম সাতরাত্রি ধরে তাঁর সাতজন পরির কাছে যে সাতটি গল্প শোনেন তার সংকলন।
- পারসি ও বাংলা সাহিত্যের সম্পর্কের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

আলাওল:
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- তাঁর আনুমানিক জন্ম ১৬০৭ সালে।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজ্জিত ছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৫১.
'বিদ্যাসুন্দর' কাব্যের আদি কবি কে?
  1. কবি কঙ্ক
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. ঘনরাম চক্রবর্তী
  4. কবিকঙ্কণ
সঠিক উত্তর:
কবি কঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবি কঙ্ক
ব্যাখ্যা
কবি কঙ্ক:
- 'কালিকামঙ্গল' বা 'বিদ্যাসুন্দর' কাব্যের আদি কবি।
- কিশোরগঞ্জের রাজ্যেশ্বর নদীর তীরবর্তী বিপ্র গ্রামে ব্রাহ্মণ ঘরে তাঁর জন্ম। পিতা গুণরাজ, মাতা গুণবতী।
- তিনি কোন সময় বর্তমান ছিলেন, এব্যাপারে নিশ্চিত করে বলা যায় না। গবেষকগণ মনে করেন, তিনি চৈতন্যদেবের সমসামায়িক। সুকুমার সেনের মতে কবি কঙ্ক আরও পরের কবি।
- শৈশবে পিতৃমাতৃহীন নিরাশ্রয় কঙ্ক, মুরারি ও কৌশল্যা নামধেয় এক চণ্ডাল দম্পতির ঘরে পালিত হন। তারাই কঙ্ক নাম রাখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৫২.
বাংলা ভাষায় মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি ছিলেন -
  1. শ্রীকর নন্দী
  2. কাশীরাম দাস
  3. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  4. কালিদাস
সঠিক উত্তর:
কবীন্দ্র পরমেশ্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবীন্দ্র পরমেশ্বর
ব্যাখ্যা
• কবীন্দ্র পরমেশ্বর ও পরাগলী মহাভারত:
- বাংলা ভাষায় মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি ছিলেন ‘পরাগলী মহাভারতের' লেখক — কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- গৌড়েশ্বর সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহের (১৪৯৩-১৫১৮) সেনাপতি লস্কর পরাগল খানের উৎসাহে কবি এ কাব্য রচনা করেছিলেন বলে কাব্যটি পরাগলী মহাভারত নামে খ্যাত।
- বাংলা ভাষা সাহিত্যের পুনরভ্যূদয়ের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক হুসেন শাহ চট্টগ্রাম জয় করে সেখানে পরাগল খাঁকে শাসনকর্তা নিয়োগ করেন।
- পরাগল খাঁ মহাভারতের কৌতূহলোদ্দীপক যুদ্ধকাহিনি শুনে মুগ্ধ হন এবং তা সংক্ষিপ্ত আকারে একদিনে শোনার উপযোগী করে রচনা করার জন্য সভাকবি কবীন্দ্র পরমেশ্বরকে নির্দেশ দেন।
- মূল মহাভারত কাব্যের সাহিত্য-রস আস্বাদনের আগ্রহের চেয়ে যুদ্ধকাহিনির উত্তেজক উপাদান প্রেরণা দান করেছিল বলে ধারণা করা হয়।
- মহাভারত মুখ্যত রাজবংশের ইতিহাস বলে শাসকদের কাছে তা উপভোগ্য হওয়ার অধিকারী ছিল।
- পরাগল খাঁর এই নির্দেশে কবি খুব সংক্ষেপে মহাভারত অনুবাদ করেন।

• অন্যদিকে:
- শ্রীকর নন্দীর মহাভারতকে বলা হয় ‘ছুটিখানি মহাভারত’।
- 'মহাভারত' এর শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কাশীরাম দাস। তার কাব্যের নাম 'ভারত পাঁচালী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া।
১,২৫৩.
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কত শতকের কবি?
  1. সতের শতক
  2. পনের শতক
  3. আঠার শতক
  4. ষোলো শতক
সঠিক উত্তর:
আঠার শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঠার শতক
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
- তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘সত্যনারায়ণের পাঁচালী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
১,২৫৪.
মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি হলেন -
  1. শুকুর মাহমুদ
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ
  3. আমির হামজা
  4. ফকির গরীবুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনী নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি হলেন - শেখ ফয়জুল্লাহ। তাঁর রচিত গ্রন্থের নাম জয়নালের চৌতিশা এটি ১৫৭০ সালে প্রকাশিত হয়।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন- রাধারমণ গোপ।
- রাধারমণ গোপ রচিত গ্রন্থ হলো: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৫৫.
“আমারি বধূয়া আন বাড়ি যায়
আমারি আঙিনা দিয়া”
-কোন কবির রচনা?
  1. ক) বড়ু চণ্ডীদাস
  2. খ) জ্ঞানদাস
  3. গ) দ্বিজ বংশীদাস
  4. ঘ) চণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা চণ্ডীদাস।
চণ্ডীদাস বৈষ্ণব কবি ছিলেন। তার জন্ম কোন সময় তা সুনিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে তিনি বাশুলি দেবীর ভক্ত ছিলেন এবং বড়ু চণ্ডীদাস থেকে পৃথক ছিলেন একথা নিশ্চিত।
সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৫৬.
দৌলত উজির বাহরাম খাঁ রচিত কাব্য কোনটি?
  1. সতীময়না ও লোর চন্দ্রানী
  2. পদ্মাবতী
  3. জঙ্গনামা
  4. ইউসুফ-জোলেখা
সঠিক উত্তর:
জঙ্গনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জঙ্গনামা
ব্যাখ্যা

- দৌলত উজির বাহরাম খান রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ জঙ্গনামা।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন চট্টগ্রামে।
- তার রচিত দ্বিতীয় রচিত কাব্যগ্রন্থ লায়লী মজনু।
- তিনি এটি রচনা করেছেন, ফারসি কবি আবদুর রাহমান জামির লায়লী মজনু অবলম্বনে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

১,২৫৭.
দৌলত কাজীর অসমাপ্ত গ্রন্থ 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী' সমাপ্ত করেন -
  1. আলাওল
  2. আবদুল হাকিম
  3. দৌলত উজির বাহরাম খান
  4. সৈয়দ সুলতান
সঠিক উত্তর:
আলাওল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাওল
ব্যাখ্যা
আলাওল:
- তিনি (আনুমানিক) ১৬০৭ সালে জোবরা গ্রাম, হাটহাজারি, চট্টগ্রাম;  মতান্তরে ফতেহাবাদ পরগনা, ফরিদপুর এ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি ও পণ্ডিত। বাংলা, সংস্কৃত, পারসি ও আরবি ভাষা জানতেন।
- আলাওল মগরাজের সেনাবাহিনীতে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন।
- আরাকানে আলাওলকে কাব্য রচনায় উৎসাহিত করেন - কোরেশী মাগন ঠাকুর।
- এ পর্যন্ত আলাওলের ৭টি গ্রন্থের সন্ধান পাওয়া যায়। গ্রন্থগুলো হলো:
→ পদ্মাবতী,
→ সয়ফুলমূলক বদিউজ্জামাল,
→ হপ্তপয়কর,
→ সিকান্দরনামা,
→ তোহ্ফা‌ বা তত্ত্বোপদেশ,
→ রাগতালনামা,
দৌলত কাজীর অসমাপ্ত গ্রন্থ 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী'
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর হিন্দিকাব্য 'পদুমাবৎ' অবলম্বনে আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা - পদ্মাবতী।
- ১৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৫৮.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের কবি ছিলেন-
  1. বসন্তরঞ্জন রায়
  2. বড়ু চণ্ডীদাস
  3. কানাহরি দত্ত 
  4. জ্ঞানদাস
সঠিক উত্তর:
বড়ু চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বড়ু চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কারের সময় গ্রন্থের প্রথম পৃষ্ঠায় এর কোনো নাম পাওয়া যায়নি। সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় এর নাম দেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। একে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভও বলা হয়।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায়নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায়নি।
- কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু। মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।

এ কাব্যের প্রধান তিনটি চরিত্র:
- কৃষ্ণ,
- রাধা,
- বড়ায়ি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

১,২৫৯.
'কবিরঞ্জন' মধ্য যুগের কোন কবির উপাধি?
  1. চণ্ডীদাস 
  2. গোবিন্দ দাস 
  3. বিদ্যাপতি
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা

 • বিদ্যাপতি:
-  বিদ্যাপতি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। তাঁর পিতার নাম গণপতি ঠাকুর।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায় ও রাজপণ্ডিত।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় 'কীর্তিলতা' নামে ঐতিহাসিক কাব্য লিখেছিলেন।

উল্লেখ্য,
- রামপ্রসাদের উপাধি ছিল 'কবিরঞ্জন'। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এই উপাধি দিয়েছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,২৬০.
কোনটি অন্ধকার যুগের সাহিত্যকর্ম নয়?
  1. সেক শুভোদয়া
  2. শূণ্যপূরাণ
  3. প্রাকৃতপৈঙ্গল
  4. সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
সঠিক উত্তর:
সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
ব্যাখ্যা
অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'।
- সেক শুভোদয়া

তাছাড়া,
- 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্য - সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৬১.
রামনিধি গুপ্ত কোন টপ্পার অনুকরণে বাংলা টপ্পা রচনা করেন?
  1. আরবি টপ্পার
  2. হিন্দি টপ্পার
  3. ফারসি টপ্পার
  4. সংস্কৃত টপ্পার
সঠিক উত্তর:
হিন্দি টপ্পার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দি টপ্পার
ব্যাখ্যা
• রামনিধি গুপ্ত:
• নিধুগুপ্ত (১৭৪১-১৮৩৯) সঙ্গীতশিল্পী ও গানের জনক। তাঁর প্রকৃত নাম ‘রামনিধি গুপ্ত’, কিন্তু সঙ্গীতজগতে তিনি ‘নিধু গুপ্ত’ নামেই পরিচিত। কেউ কেউ তাঁকে ‘নিধুবাবু’ বলেও ডাকতেন। পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চাপ্তায় মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।

• নিধু গুপ্ত বাংলা ভাষায় টপ্পাগীতি রচনা ও সুরারোপ করে নিজেই তা গাইতেন। ক্রমে তাঁর গানের সমঝদার জোটে এবং কলকাতার নগরসমাজে তিনি অল্পদিনেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

• নিধু গুপ্ত হিন্দি টপ্পার অনুকরণে বাংলা টপ্পা রচনা করেন, তবে তাতে তাঁর স্বকীয়তা ফুটে উঠেছে। তিনি বিভিন্ন রাগের মিশ্রণ ঘটিয়ে সুরের মধ্যে বৈচিত্র্য এনেছেন। 

• ১৮৩২ সালে 'গীতরত্ন' নামে তাঁর গানের একটি সংকলন প্রকাশিত হয়; তাতে ৯৬টি গান স্থান পায়। তাঁর পুত্র জয়গোপাল গুপ্ত ১৮৫৬ সালে এর দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ করেন; তাতে আরও সাতটি গান সংযুক্ত হয়। গীতরত্নের গানগুলির মধ্যে চারটি ভক্তিভাব ও একটি স্বদেশচেতনার গান ছাড়া বাকি ৯৮টি প্রেমবিষয়ক গান।

• দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বাঙ্গালীর গানে (১৯০৫) নিধু গুপ্তের ৪৫০টি এবং সঙ্গীতরাগকল্পদ্রুম নামক সংকলনে ১৫০টি গান মুদ্রিত হয়েছে।

তাঁর কয়েকটি জনপ্রিয় টপ্পা গান হলো:
• ‘নানান দেশের নানান ভাষা / বিনে স্বদেশী ভাষা মিটে কি আশা।'

• ‘মনোপুর হোতে আমার হারায়েছে মন’, ‘কত ভালবাসি তারে সই, কেমনে বুঝাব’, কেমনে রহিব ঘরে মন মানে না’, ‘এমন সুখের নিশি কেন পোহাইল’ ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,২৬২.
বাংলা সাহিত্যের কোন নিদর্শনটি গোয়াল ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়?
  1. চর্যাপদ
  2. মঙ্গলকাব্য
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. রামায়ণ
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুঁথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি।

- আবিষ্কর্তা ও সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় প্রাচীন বৈষ্ণব লেখকদের ইঙ্গিত অনুসরণ করে গ্রন্থের নামকরণ করেন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
- এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে কৃষ্ণ, রাধা, বড়াই।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,২৬৩.
ইউসুফ-জোলেখা কাব্যটি কার রাজত্বকালে রচিত?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহের 
  2. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের
  3. শাহ সুজা খানের 
  4. জালালউদ্দিন মুহম্মদ শাহের 
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের
ব্যাখ্যা
• ইউসুফ-জোলেখা কাব্য:
- 'ইউসুফ-জোলেখা' শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য। তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জোলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ। 

- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।

- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন। সগীর বাইবেল পড়েন নি। তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।

- পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জোলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। যেমন- ইউসুফ জোলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। তবে এই কাব্য শাহ মুহাম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,২৬৪.
আরাকান রাজসভার কবিগণ কোন ধারার বাংলা কাব্য রচনা করেছিলেন?
  1. চর্যাপদ
  2. মঙ্গলকাব্য
  3. বৈষ্ণব পদাবলি
  4. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা
আরাকান রাজসভার কবিগণ রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার বাংলা কাব্য রচনা করেছিলেন।

- বাংলা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানগুলোর একটা অংশ আরাকান রাজসভার কবিগণের দ্বারা সৃষ্টি হয়েছিল।
- কবি দৌলত কাজী, কোরেশী মাগন ঠাকুর ও আলাওলের মত প্রতিভাশালী কবি আরাকান রাজসভার পৃষ্ঠপোষকতায় রোমান্টিক কাব্য রচনা করেছিলেন।
- দৌলত কাজীর সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী, কোরেশী মাগন ঠাকুরের চন্দ্রাবতী এবং আলাওলের পদ্মাবতী ও সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল বাংলা সাহিত্যের রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য কাব্য।
- আরাকান রাজসভার কবিগণের বিস্ময়কর প্রতিভা মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের গতানুগতিকতা অতিক্রম করে মানবীয় ভাবধারায় সমৃদ্ধ করেছে।

• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

• এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন-
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর, প্রমুখ।

• 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩। বাংলাপিডিয়া।
১,২৬৫.
জীবনীকাব্য রচনার জন্য বিখ্যাত : 
  1. ফকির গরীবুল্লাহ
  2. নরহরি চক্রবর্তী
  3. বিপ্রদাস পিপিলাই
  4. বৃন্দাবন দাস
সঠিক উত্তর:
বৃন্দাবন দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃন্দাবন দাস
ব্যাখ্যা
• বৃন্দাবন দাস ও জীবনীকাব্য:
- বাংলা সাহিত্যে জীবনীকাব্য রচনার জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন বৃন্দাবন দাস। 
- বাংলা ভাষায় রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীকাব্য বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্যভাগবত'।
- তাঁর কাব্য প্রথমত 'চৈতন্যামঙ্গল' নামে পরিচিত ছিল।
- পরে এ কাব্যে ভাগবতের প্রভাব ও লীলা পর্যায় দেখে এর নাম চৈতন্যভাগবত রাখা হয়।
- কাব্যটির রচনাকাল সম্ভবত ১৫৪৮ সাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৬৬.
উইলিয়াম কেরি রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. লিপিমালা
  2. তোতা ইতিহাস
  3. কথোপকথন
  4. প্রবোধচন্দ্রিকা
সঠিক উত্তর:
কথোপকথন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কথোপকথন
ব্যাখ্যা

• উইলিয়াম কেরি রচিত গ্রন্থ- কথোপকথন, ইতিহাসমালা।
• চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত গ্রন্থ তোতা ইতিহাস।
• রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ লিপিমালা এবং
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ- বত্রিশ সিংহাসন, হিতোপদেশ, রাজাবলি, প্রবোধচন্দ্রিকা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,২৬৭.
'মৈথিল কোকিল’ বলতে কাকে বাঝায়?
  1. ক) চন্ডীদাস
  2. খ) বিদ্যাপতি
  3. গ) জ্ঞানদাস
  4. ঘ) দ্বিজবংশী
সঠিক উত্তর:
খ) বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
‘মৈথিল কোকিল' বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বােঝায়। কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১,২৬৮.
'সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল' অনুবাদ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. দোনাগাজী চৌধুরী
  2. সাবিরিদ খান
  3. মুহম্মদ কবীর
  4. নওয়াজিস খান
সঠিক উত্তর:
দোনাগাজী চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোনাগাজী চৌধুরী
ব্যাখ্যা
⇒ দোনাগাজী চৌধুরী:
- দোনাগাজী চৌধুরী মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি। 
- দোনাগাজীর প্রধান পরিচয় রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের কবি হিসেবে।
- তাঁর রচিত ‘সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল’ দীর্ঘ আখ্যানমূলক প্রেমকাব্য।
- এর মূল উৎস আরবি আলেফ-লায়লা ওয়া লায়লা গ্রন্থ।
- ফারসি ও তুর্কি ভাষায় এ কাহিনি অনুলিখিত হয়েছে।
- ভারতের কবি মহফিল ফারসিতে এবং গাওয়াসি দাকিনি উর্দুতে সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল রচনা করেন।
- দোনাগাজী ফারসির অনুসরণে বাংলা ভাষায় তাঁর কাব্য রচনা করেন বলে ধারণা করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৬৯.
আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' একটি- 
  1. মৌলিক কাব্য
  2. অনুবাদ কাব্য
  3. উপন্যাস
  4. মহাকাব্য
সঠিক উত্তর:
অনুবাদ কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুবাদ কাব্য
ব্যাখ্যা

• ‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

আলাওল:
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ।

• আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা,
- সয়ফুল্মুলুক বদিউজ্জামাল
- সতীময়না,
- রাগতালনামা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৭০.
“খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়” গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) লালন শাহ
  2. খ) পাঞ্জু শাহ
  3. গ) সিরাজ শাহ
  4. ঘ) দুদ্দু শাহ
সঠিক উত্তর:
ক) লালন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লালন শাহ
ব্যাখ্যা
এটি বাউল পদাবলীর অন্তর্গত। বাউল সম্রাট লালনের একটি গান। লালনের গান 'লালন গীতি’ বা ‘লালন সংগীত' নামে পরিচিত। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথও লালনের গানে প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং এ গান সংগ্রহ ও প্রকাশ করেন। মূলত রবীন্দ্রনাথের প্রচেষ্টায়ই লালন সংগীত মানুষের কাছে পরিচিতি পায়।
উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১,২৭১.
ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কোন কাব্যের উৎস আরবি ও ইরানি সাহিত্য নয়?
  1. ইউসুফ জোলেখা
  2. সোনাভান
  3. আমীর হামজা
  4. জঙ্গনামা
সঠিক উত্তর:
সোনাভান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনাভান
ব্যাখ্যা

সোনাভান কাব্যের উৎস ভারতীয় সাহিত্য।

ফকির গরীবুল্লাহ:

- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- গরীবুল্লাহর প্রথম কাব্যখানি শুদ্ধ বাংলা ভাষায় রচিত। 
- তিনি একাধারে সাধক ও কবি ছিলেন।
- ইউসুফ জোলেখা, জঙ্গনামা ও আমীর হামজা কাব্যের উৎস আরবি ও ইরানি সাহিত্য।
- আর সোনাভান ও সত্যপীরের পুঁথি কাব্যের উৎস ভারতীয় সাহিত্য।

• ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- জঙ্গনামা,
- সােনাভান ও
- সত্যপীরের পুঁথি।

উৎস: ১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
         ২) বাংলাপিডিয়া।
         ৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৭২.
আলাওলের কোন গ্রন্থটি নিজামী গঞ্জভীর ফারসি গ্রন্থ অনুসরণে রচিত?
  1. তোহ্ফা‌
  2. সিকান্দরনামা
  3. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
  4. সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
সঠিক উত্তর:
সিকান্দরনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিকান্দরনামা
ব্যাখ্যা
• আলাওল: 
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- ‘পদ্মাবতী’ তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। 

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- পদ্মাবতী (মালিক মুহম্মদ জায়সীকৃত হিন্দি পদুমাবত থেকে রচিত),
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী (সাধনকৃত 'মৈনাসত' থেকে),
- হপ্তপয়কর (নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি 'হফত্ পয়কর' থেকে),
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল (গাওয়াসীকৃত ফারসি সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল থেকে) ও
- সিকান্দরনামা (নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি সিকান্দরনামা অনুসরণে)।

নীতিকাব্য:
- তোহফা (ইউসুফ গদাকৃত ফারসি তুহুফ-ই-নসাঈহ থেকে)

সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য:
- রাগতালনামা (মৌলিক গ্রন্থ)।

এ ছাড়াও বৈষ্ণবপদের অনুরূপ তাঁর কিছু গীতিকবিতা আছে।
- রাগতালনামা ও গীতিকবিতাগুলি তাঁর মৌলিক রচনা, অন্যগুলি অনুবাদমূলক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৭৩.
'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. দৌলত কাজী
  2. আলাওল
  3. আব্দুল হাকিম
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
আব্দুল হাকিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল হাকিম
ব্যাখ্যা

• 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থ:
- নূরনামা ফারসি নীতিকাব্য নূরনামাহ্ অবলম্বনে রচিত।

• ‘যেসব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী। 
সেসব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।’- বাংলা ভাষার প্রতি এরূপ শ্রদ্ধাপূর্ণ বক্তব্যের জন্য কবির নূরনামা কাব্য বিশেষভাবে প্রশংসিত। 

• আবদুল হাকিম: 

- আবদুল হাকিম মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি।
- নোয়াখালী জেলার বাবুপুর (মতান্তরে সন্দ্বীপের সুধারাম) ছিল কবির আবাসভূমি।
- আবদুল হাকিম  আরবি,  ফারসি ও  সংস্কৃত ভাষায় বিশেষ ব্যুৎপন্ন ছিলেন।
- আবদুল হাকিম প্রধানত প্রণয়োপাখ্যানের কবি ছিলেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:   
- ইউসুফ-জুলেখা,  
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলক এবং
- হানিফার লড়াই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

১,২৭৪.
‘পদ্মাবতী’ কাব্যের নায়ক ও নায়িকা কে?
  1. অসীম ও পদ্মাবতী
  2. সাধন ও পদ্মাবতী
  3. মরদান ও পদ্মাবতী
  4. রত্নসেন ও পদ্মাবতী
সঠিক উত্তর:
রত্নসেন ও পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রত্নসেন ও পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
'পদ্মাবতী' নাটক:
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য। ১৬৫২ খ্রিস্টাব্দে আরাকান অমাত্যসভার কবি আলাওল প্রধানমন্ত্রী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে হিন্দিপদুমাবৎ কাব্য অবলম্বনে এটি রচনা করেন। এর রচয়িতা ছিলেন মালিক মোহাম্মদ জায়সী।
- পদ্মাবতী দুটি পর্বে বিভক্ত। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রাণী পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।
- হিন্দি কাব্যে সুফিবাদের প্রতিফলন আছে, কিন্তু বাংলায় তা লৌকিক প্রেমকাব্যে পরিণত হয়েছে। লোককাহিনী ও ইতিহাসের মিশ্র পটভূমিতে রচিত এ কাব্যে প্রেম, অভিযাত্রা, যুদ্ধ-বিগ্রহ ও মিলন-বিরহের সমন্বয়ে মধ্যযুগীয় রোম্যান্টিক কাব্যের রসাস্বাদন করা যায়। - এ কাব্যে আলাওলের কবিত্বশক্তির পাশাপাশি ভাষাজ্ঞান ও পান্ডিত্যের পরিচয় পাওয়া যায়। শিল্প ও ভাষার উৎকর্ষের জন্য পদ্মাবতী মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য কাব্যের মর্যাদা লাভ করেছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,২৭৫.
শাক্ত পদাবলির প্রধান পদকর্তা কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. চণ্ডীদাস
  3. রামপ্রসাদ সেন
  4. লালন শাহ
সঠিক উত্তর:
রামপ্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা

শাক্ত পদাবলি:
- শাক্ত পদাবলি বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা, যা অষ্টাদশ শতাব্দী ও পরবর্তী সময়ে রচিত।
- এটি শক্তির আরাধ্যা দেবী—দুর্গা বা কালী—কে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে।
- বৈষ্ণব পদাবলির মতো এখানে শৃঙ্গার রস নয়; বরং প্রধান রস হলো বৎসল্য এবং প্রতিবৎসল্য।
- শাক্ত দেবীর দশ রূপের মধ্যে শ্রেষ্ঠ রূপ হলো কালী।
- শাক্ত পদাবলির মোট ১২টি পর্যায় রয়েছে।
- শাক্ত পদাবলি মধ্যযুগের সর্বশেষ সাহিত্য সৃষ্টির নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।

- এই ধারার প্রধান পদকর্তা রামপ্রসাদ সেন।
- রামপ্রসাদ সেন  বাংলা ভক্তিগীতির, বিশেষত শ্যামাসঙ্গীতের শ্রেষ্ঠ রূপকার, সাধককবি, গায়ক। 
- তিনি ভক্তের আকুতি পর্যায়ে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছেন এবং তাঁর প্রায় ৩০০টি পদ রয়েছে।
- তাঁর কাব্যপ্রভুত্বে মুগ্ধ হয়ে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘কবিরঞ্জন’ উপাধি প্রদান করেছিলেন।

- শাক্ত পদাবলির দুটি প্রধান রূপ হলো—
• উমা বা পার্বতী বা বিজয়া, যা উমাসংগীত বা আগমনী নামে পরিচিত।
- এবং এর প্রধান রস হলো বৎসল্য। 

• কালী বা শ্যামা, যা মাতৃরূপী শক্তি কালী বা শ্যামাকে কেন্দ্র করে রচিত।
- এবং এর প্রধান রস প্রতিবৎসল্য বা মাতৃভক্তি।
----------------------------
অন্যদিকে,
- বিদ্যাপতি – বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি।
- চণ্ডীদাস – বাংলা পদাবলির জনক এবং চৈতন্য পূর্ববর্তী জনপ্রিয় কবি।
- লালন শাহ – বাউল পদাবলির সর্বাধিক প্রভাবশালী সাধক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১,২৭৬.
'সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই'- চরণটির রচয়িতা-
  1. ক) মুকুন্দ দাস
  2. খ) বৃন্দাবন দাস
  3. গ) চণ্ডীদাস
  4. ঘ) গোবিন্দ দাস
সঠিক উত্তর:
গ) চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
চন্ডীদাস (আনু.১৪শ শতক) মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রসিদ্ধ কবি।
- এ নামে চারজন কবির পরিচয় পাওয়া যায়; তাঁরা হলেন: বড়ু চন্ডীদাস, দ্বিজ চন্ডীদাস, দীন চন্ডীদাস ও চন্ডীদাস।
- তবে এঁদের মধ্যে বড়ু চন্ডীদাসকে মোটামুটিভাবে চিহ্নিত করা গেছে।
- তাঁর জন্ম পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার নান্নুর গ্রামে (মতান্তরে ছাতনা-বাঁকুড়া)।
- তাঁর পিতা দুর্গাদাস বাগচী ছিলেন বরেন্দ্র শ্রেণীর ব্রাহ্মণ।

বড়ু চন্ডীদাসের প্রধান পরিচয়  শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে।
- বসন্তরঞ্জন বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া থেকে এ কাব্যের  পুথি আবিষ্কার করে ১৯১৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- তাতে তিনি চন্ডীদাসের জন্ম ১৩৩৯ এবং মৃত্যু ১৩৯৯ খ্রিস্টাব্দ বলে উল্লেখ করেন।
- এ কাব্যের ভাব ও ভাষা বিচারে চন্ডীদাসকে চৈতন্য-পূর্ববর্তী, সম্ভবত চৌদ্দ শতকের প্রথমার্ধের লোক বলে মনে করা হয়।
- চন্ডীদাসের নামযুক্ত পদসমূহ দীর্ঘকাল বাংলার ঘরে ঘরে গীত হয়েছে।
- তিনিই বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি।
- তাঁর বিখ্যাত উক্তি ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’ বাঙালির দর্শনচিন্তা এবং মানবতাবোধের অপূর্ব নিদর্শন।
- চন্ডীদাসের নামাঙ্কিত পদের সংখ্যা ন্যূনাধিক এগারশ।


উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,২৭৭.
'গীতগোবিন্দ' কাব্যের রচয়িতা জয়দেব কার সভাকবি ছিলেন?
  1. শশাঙ্কদেবের 
  2. লক্ষ্মণ সেনের 
  3. যশোবর্মনের 
  4. হর্ষবর্ধনের
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্মণ সেনের 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্মণ সেনের 
ব্যাখ্যা
জয়দেব:
- জয়দেব (বার’শ শতক) সংস্কৃত ভাষার কবি।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অজয়নদের তীরবর্তী কেন্দুবিল্ব বা কেঁদুলি গ্রামে তাঁর জন্ম। কেউ কেউ তাঁকে মিথিলা বা উড়িষ্যার অধিবাসী বলেও মনে করেন।
- জয়দেব ছিলেন বাংলার শেষ হিন্দু রাজা লক্ষ্মণ সেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের অন্যতম।
- বাঙ্গালি কবি জয়দেবকে - বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। 
- ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে 'গীতগোবিন্দম্‌' রচিত। 

- পঞ্চরত্নের অপর চারজন কবি হলেন:
১. গোবর্ধন আচার্য,
২. শরণ,
৩. নধোয়ী ও
৪. উমাপতিধর।
- কারও কারও মতে তিনি কিছুকাল উৎকলরাজেরও সভাপণ্ডিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৭৮.
'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের কবি নন কে?
  1. দ্বিজ রামদেব
  2. মুক্তারাম সেন
  3. দাশরথি রায়
  4. ভবানীশঙ্কর দাস
সঠিক উত্তর:
দাশরথি রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাশরথি রায়
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের কবি নন- দাশরথি রায়।
- তিনি ছিলেন স্বভাবকবি ও পাঁচালিকার। ‘দাশু রায়’ নামেও তিনি পরিচিত ছিলেন। 

----------------------------
• 'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:

- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৭৯.
রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য কোনটি?
  1. মধুমালতী
  2. লায়লী মজনু
  3. ইউসুফ-জোলেখা
  4. পদ্মাবতী
সঠিক উত্তর:
ইউসুফ-জোলেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউসুফ-জোলেখা
ব্যাখ্যা
• 'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্য:
- 'ইউসুফ-জোলেখা' শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন। সগীর বাইবেল পড়েন নি। তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।
- পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জুলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। যেমন- ইউসুফ-জোলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। তবে এই কাব্য শাহ মুহাম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

অন্যদিকে, 
• 'লায়লী মজনু' দৌলত উজির বাহরাম খান রচিত। 
• 'মধু মালতী' মুহম্মদ কবির অনুবাদ গ্রন্থ। 
• 'পদ্মাবতী' আলাওল রচিত অনুবাদ কাব্য।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়িা।
১,২৮০.
'পদ্মাপুরাণ' কাব্যের রচয়িতা-
  1. সহদেব চক্রবর্তী
  2. নারায়ণ দেব
  3. নিত্যানন্দ চক্রবর্তী
  4. নরসিংহ বসু
সঠিক উত্তর:
নারায়ণ দেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারায়ণ দেব
ব্যাখ্যা
• নারায়ণ দেব:
- মনসামঙ্গলের অন্যতম শ্রেষ্ঠকবি নারায়ণ দেব কিশোরগঞ্জ জেলার বোরগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ড. আশুতোষ ভট্টাচার্যের মতে, নারায়ণ দেব পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে আবির্ভূত হয়েছিলেন।
- কবি নারায়ণ দেবের উপাধি ছিল 'সুকবি বল্লভ'।
- তাঁর কাব্যের নাম 'পদ্মাপুরাণ'।

- কাব্যটি তিন খণ্ডে বিভক্ত।
- প্রথম খণ্ড কবির আত্মপরিচয় ও দেববন্দনা, দ্বিতীয় খণ্ডে পৌরাণিক কাহিনি এবং তৃতীয় খণ্ডে চাঁদ সদাগরের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
- ধর্মমঙ্গল কাব্য রচনা করেন - নরসিংহ বসু।
- শীতলামঙ্গল কাব্যের আদি কবি - নিত্যানন্দ চক্রবর্তী।
- ধর্মমঙ্গল কাব্য রচনা করেন - সহদেব চক্রবর্তী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৮১.
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কত শতকের কবি?
  1. সতেরো
  2. পনেরো
  3. আঠারো
  4. ষোলো
সঠিক উত্তর:
আঠারো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঠারো
ব্যাখ্যা

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
- তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘সত্যনারায়ণের পাঁচালী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৮২.
‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’ - পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. সেক শুভোদয়া
  2. ইউসুফ জুলেখা
  3. পদ্মাবতী
  4. লাইলি মজনু
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
পদ্মাবতী:
- এটি একটি ইতিহাসমিশ্রিত রোমান্টিক প্রেমকাব্য।
- পদ্মাবতী আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- নাগরিক শিক্ষা, বৈদগ্ধ্য রূপ ও অভিপ্রায় তাঁর এ কাব্যের ভাব-ভাষা-রুচিতে প্রভাব বিস্তার করেছে।
- ‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’ পঙক্তিটি আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' কাব্যে রূপ বর্ণনা খন্ডে লেখা আছে। 

আলাওল:

- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- কাব্যিক আবেগের সঙ্গে বৌদ্ধিক চেতনার মিশ্রণ থাকায় আলাওলকে ‘পন্ডিতকবি’ বলা হয়।
- এখন পর্যন্ত আলাওলের ৭ টি কাব্যের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দিকাব্য 'পদুমাবৎ' অবলম্বনে আলাওল 'পদ্মাবতী' গ্রন্থটি অনুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৮৩.
"শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" কোন রসপ্রধান কাব্য?
  1. করুণ রস 
  2. শান্ত রস
  3. বীর রস
  4. শৃঙ্গার রস
সঠিক উত্তর:
শৃঙ্গার রস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শৃঙ্গার রস
ব্যাখ্যা

• "শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" কাব্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভপশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।

- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি। কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি। কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতণ্ডতা, রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে।

- এতে গীতিরসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়। কাব্যটি শৃঙ্গাররসপ্রধান এবং ঝুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত। এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা।

১,২৮৪.
'তোমার লাগিয়া কলঙ্কের হার গলায় পরিতে সুখ।' পঙ্‌ক্তিটি মধ্যযুগের কোন কবির রচনা?
  1. বিদ্যাপতি 
  2. চণ্ডীদাস
  3. ভারতচন্দ্র রায়
  4. গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা

• চণ্ডীদাস:
- বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কবি চণ্ডীদাস। তাঁর রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলি যুগ যুগ ধরে বাঙালির হৃদয়কে সীমাহীন রসমাধুর্যে পরিপূর্ণ করে তুলেছে। 

- বাংলা সাহিত্যে একাধিক চণ্ডীদাস নিয়ে জটিল চণ্ডীদাস সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এর যথার্থ সমাধান নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে যত মতানৈক্যই থাকুক না কেন চৈতন্য পূর্ববর্তী পদাবলির চণ্ডীদাসের বিস্ময়কর প্রতিভা সম্পর্কে কোনও মতবিরোধের অবকাশ নেই। চণ্ডীদাসের আবির্ভাবের স্থান ও কাল নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তের এখনও অভাব রয়েছে। সম্ভবত তিনি চৌদ্দ শতকের শেষভাগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

- চণ্ডীদাসের বিস্ময়কর প্রতিভার পরিচায়ক আশ্চর্য সুন্দর পদগুলোতে অপূর্ব ভাবতন্ময় কৃষ্ণপ্রেম- সাধিকা শ্রীরাধার যে মনোমুগ্ধকর চিত্র রূপায়িত হয়ে উঠেছে তা কয়েক শতাব্দী ধরে বাঙালির রসপিপাসু মনের পরিতৃপ্তি সাধন করে যাচ্ছে। তাঁর পদাবলির 'অনাবৃত প্রাণের নিরাভরণ আনন্দ-বেদনায় মেদুর মুহূর্তগুলো পাঠকের মনে যে প্রশান্তি, স্নিগ্ধতা ও প্রাপ্তির আনন্দঘন উপলব্ধি সৃষ্টি করে' তার মূল্য অপরিসীম।

- শিক্ষিত বাঙালি বৈষ্ণব সাহিত্যের রস ও আনন্দের সংবাদ পেয়েছে চণ্ডীদাসের পদাবলি থেকে। কবি রাধার মনের বিচিত্র অনুভূতিকে আশ্চর্য সুন্দর ভাষায় রূপদান করে বাঙালির চিরদিনের সমাদর লাভের উপযোগী করে গেছেন। তাঁর পদাবলিতে রাধাকৃষ্ণের প্রেমানুভূতির রূপকের মাধ্যমে সে ধর্মীয় চেতনা প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি এর রূপকের বাইরে একটা সর্বজনীন ও সার্বভূমিক আবেদন বিদ্যমান।

- চন্ডীদাসের নামযুক্ত পদসমূহ দীর্ঘকাল বাংলার ঘরে ঘরে গীত হয়েছে। তিনিই বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি। তাঁর বিখ্যাত উক্তি ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’ বাঙালির দর্শনচিন্তা এবং মানবতাবোধের অপূর্ব নিদর্শন। চন্ডীদাসের নামাঙ্কিত পদের সংখ্যা ন্যূনাধিক এগারশ।

চণ্ডীদাসের কতগুলো পঙ্‌ক্তি প্রবাদের মতো-
১. কলঙ্কের ডালি মাথায় করিয়া আনল ভেজাই ঘরে। 
২. তোমার লাগিয়া কলঙ্কের হার গলায় পরিতে সুখ। 
৩. চোরের মা যেন পোয়ের লাগিয়া ফুকরি কাঁদিতে নারে।
৪. গড়ন ভাঙিতে সই আছে কত খল। ভাঙিয়া গড়িতে পারে সে বড় বিরল॥ 
৫. বিধিরে কি দিব দোষ করম আপনা। সুজনে করিনু প্রেম হইল কুজনা॥
৬. ঘর হইতে আঙিনা বিদেশ।
৭. পিরীতি আঠা ননদী কাঁটা পড়শী হৈল ফাঁসী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

১,২৮৫.
'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?' - পঙক্তিটি কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
⇒ অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়। 
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য তিনখণ্ডে বিভক্ত: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল ও মানসিংহ- ভবানন্দ খণ্ড। 
 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি:
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো-
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন',
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে',

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৮৬.
নিচের কোনটি নাথ সাহিত্যের দৃষ্টান্ত?
  1. গোপীচন্দ্রের সন্যাস
  2. গোরক্ষবিজয়
  3. ময়নামতির গান
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

নাথ সাহিত্য:
- নাথ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যধারা।
- এটি নাথ ধর্মের আধ্যাত্মিকতা ও দেহের ওপর আত্মার জয়ের বিষয়কে তুলে ধরে।
- নাথ ধর্ম কৌদ্ধ ও শৈব ধর্মের মিশ্রণে সৃষ্টি হয় এবং এর আদি নাথ হলো শিব।
- দশম–একাদশ শতকে নাথ আচার্যদের আবির্ভাবের সঙ্গে নাথ সাহিত্যের বিকাশ ঘটে। 

- নাথ সাহিত্য প্রথম রংপুরে আবিষ্কার হয়।
- ১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দে জর্জ গ্রিয়ারসন স্থানীয় গায়কের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন।
- এবং পরবর্তীতে এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে ‘মানিকরাজার গান’ নামে প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৭–১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে নীলফামারীর ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বেশ্বর ভট্টাচার্য তিনজন যোগীর কাছ থেকে সম্পূর্ণ গান ও কাহিনি সংগ্রহ করেন।
- ১৯২২–১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রাথমিক খণ্ডগুলো প্রকাশিত হয়।

- নাথ সাহিত্যের প্রধান রচয়িতা ছিলেন শেখ ফয়জুল্লাহ।
- এছাড়াও গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস রচনাও নাথ সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

- নাথ সাহিত্য দুই প্রকারে বিভক্ত—
- মীননাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি;
- এবং রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস। 

• কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য হলো:
- 'গোরাক্ষ বিজয়' এর রচয়িতা শেখ ফয়জুল্লাহ।
- 'গোপীচন্দ্রের সন্যাস' এর রচয়িতা শুকুর মাহমুদ।
- 'মীনচেতন' এর রচয়িতা শ্যামাদাস সেন।
- 'ময়নামতির গান' এর রচয়িতা ভবানী দাস।
- 'গোর্খবিজয়' এর রচয়িতা ভীমসেন রায়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।