বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মধ্য যুগের গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ

মোট প্রশ্ন১,৩০২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মধ্য যুগের গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ

PrepBank · পাতা ১১ / ১৩ · ১,০০১১,১০০ / ১,৩০২

১,০০১.
"তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।"
- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন সাহিত্যকর্মের অন্তর্গত?
  1. ক) দেনাপাওনা
  2. খ) শেষের কবিতা
  3. গ) শেষ লেখা
  4. ঘ) গুপ্ত প্রেম
সঠিক উত্তর:
খ) শেষের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা
'তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।'
- উদ্ধৃতাংশটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের অন্তর্গত। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ''শেষের কবিতা'' শেষ হয় কাব্যসুরে বিদায়ের ধ্বনি কানে নিয়ে, যেখানে বলা হয়েছে- 
''হে ঐশ্বর্যবান,
তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান-
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।
হে বন্ধু, বিদায়''

'শেষের কবিতা' উপন্যাস 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' একটি উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে।
যেমন:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।

• এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র -
অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ।

- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,০০২.
নিচের কোনটি নাট্য-গীতিকাব্য?
  1. সেক শুভোদয়া
  2. নিরঞ্জনের উষ্মা
  3. চর্যাপদ
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থের গঠন:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন মূলত একটি যাত্রার পালা ছিল বলে মনে করা হয়। কাব্যটি সংস্কৃত গীতগোবিন্দের অনুরূপ গীতি এবং সংলাপবহুল নাট্যলক্ষণাক্রান্ত রচনা বলে তা নাট্যগীতিকাব্য হিসেবেও আখ্যাত হয়েছে। এ কাব্যে নাট্যরসাশ্রয়ী ঘটনা ও সংলাপ থাকলেও তা বর্ণনামূলক কাব্যের মর্যাদার অধিকারী। কোথাও কবি নিজে কাহিনির মধ্যে উপস্থিত থেকে সংলাপের সঙ্গে বর্ণনা যোগ করেছেন, আবার কোথাও সংস্কৃত শ্লোকের সাহায্যে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। গীতিসংলাপমূলক এই আখ্যানকাব্যে নাটকীয়তা বিদ্যমান।

--------------------
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
• ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কারের সময় গ্রন্থের প্রথম পৃষ্ঠায় এর কোনো নাম পাওয়া যায়নি। সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় এর নাম দেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। একে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভও বলা হয়।
• ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
• পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায়নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায়নি।
• কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু। মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।

• এ কাব্যের প্রধন তিনটি চরিত্র:
- কৃষ্ণ,
- রাধা,
- বড়ায়ি।

অন্যদিকে, 
• চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
• ‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ মূলত শূন্যপুরাণ নামক কাব্যগ্রন্থের অংশবিশেষ একটি কবিতা।
• অশুদ্ধ বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় মিশ্রিত একটি গ্রন্থ হল-সেক শুভোদয়া। এটি সংস্কৃত গদ্যপদ্যে লেখা চম্পুকাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
১,০০৩.
'কারবালা' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. খ) শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ
  3. গ) আবদুল হাকিম
  4. ঘ) সৈয়দ সুলতান
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল হাকিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল হাকিম
ব্যাখ্যা
আবদুল হাকিম: 
- আবদুল হাকিম ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রামের সন্দীপের ভুলুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবদুল হাকিম সতেরো শতেকের একজন কবি। 
- তিনি ৮ টি গ্রন্থ রচনা করেছেন।
যথা: 
• লালমতি সয়ফুল মুলুক, 
• নূরনামা, 
• কারবালা
• ইউসুফ জোলেখা, 
• নসীহৎনামা, 
• শহরনামা, 
• শিহাবউদ্দিননামা এবং 
• চারি মোকামভেদ। 

- আবদুল হাকিমের ‘নূরনামা’ কাব্যের বিখ্যাত উক্তি: 
"যে সবে বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় না জানি"। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (মাহবুবুল আলম), বাংলা সাহিত্যের কথা (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ) এবং লাল নীল দীপাবলি।
১,০০৪.
চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা কোনটি?
  1. মহুয়া পালা
  2. মলুয়া পালা
  3. দস্যু কেনারাম পালা
  4. খ ও গ
সঠিক উত্তর:
খ ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ ও গ
ব্যাখ্যা
• ‘দস্যু কেনারাম পালা’ ও ‘মলুয়া’ চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা।

-------------------
• চন্দ্রাবতী:
- চন্দ্রাবতী হলেন মধ্যযুগের তিনজন প্রধান মহিলাকবির একজন।
- তার পিতা মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাস।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে রামায়ণ রচনা করেন 'চন্দ্রাবতী'।
- চন্দ্রাবতীকে মহিলা রামায়ণকার বলা হয়৷
- দীনেশচন্দ্র সেনের মতে কবি চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী’ উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন।

চন্দ্রাবতী রচিত কাব্য:
- রামায়ণ,
- মলুয়া,
- দস্যু কেনারামের পালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'মহুয়া' পালার রচয়িতা দ্বিজ কানাই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০০৫.
ড. সুকুমার সেন নিচের কোন মঙ্গলকাব্যেকে ‘উপকথা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) অন্নদামঙ্গল
  3. গ) ধর্মমঙ্গল
  4. ঘ) চন্ডীমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
গ) ধর্মমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• ড. সুকুমার সেন ধর্মমঙ্গল কাব্যকে ‘উপকথা’ বা ‘কেরামতি কাহিনি’ বলে উল্লেখ্য করেছেন।

• এছাড়া তিনি বলেন-
- বাংলা সাহিত্যে যদি মহাকাব্য বলিয়া যদি কিছু থাকে তবে তাহা ধর্মমঙ্গল ।
- ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূর ভট্ট। 
- এই কাব্যে প্রায় বিশ জন কবি ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।
- ধর্মমঙ্গল  ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যসূচক কাব্যধারা।
- ধর্মমঙ্গলের প্রচলিত কাহিনী লাউসেনের সংগ্রামী জীবনের কথা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
১,০০৬.
চৈতন্য-চরিতামৃত গ্রন্থটি কে রচনা করেছিলেন?
  1. বৃন্দাবনদাস
  2. লোচনদাস
  3. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
  4. জয়ানন্দ
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণদাস কবিরাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণদাস কবিরাজ
ব্যাখ্যা

চৈতন্যদেবের জীবন ও তার সাহিত্য:
- চৈতন্যদেব ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দে নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- এবং ১৫৩৩ খ্রিষ্টাব্দে পুরীতে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর নামানুসারে একটি সাহিত্য যুগ সৃষ্টি হয়, যা চৈতন্য যুগ নামে পরিচিত।
- এই যুগ চলেছিল ১৫০০ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।

- চৈতন্যদেব ও তাঁর শিষ্যদের জীবনকাহিনি অবলম্বন করে যে সাহিত্যধারা সৃষ্টি হয়েছিল, তাকে জীবনীকাব্য বলা হয়।
- এই জীবনীকাব্যের মধ্যে বাংলায় প্রথম কাব্য হলো- বৃন্দাবনদাসের ‘শ্রীচৈতন্য-ভাগবত’। 
- এরপর লোচনদাসের ‘চৈতন্যমঙ্গল’; 
- জয়ানন্দের ‘চৈতন্যমঙ্গল’;
- এবং কৃষ্ণদাস কবিরাজের ‘চৈতন্য-চরিতামৃত’ রচিত হয়।
- বিশেষ করে ‘চৈতন্য-চরিতামৃত’ মনন, দর্শন, তত্ত্বজ্ঞান ও রসবোধের সমন্বয়ের জন্য বৈষ্ণব সমাজে উপনিষদের মর্যাদা পেয়েছে।

- চৈতন্যদেব জীবিতকালে তাঁর পাশে যারা ছিলেন, তাদেরকে ষড়গোস্বামী বলা হয়।
- এদের মধ্যে রূপ গোস্বামী, জীব গোস্বামী, সনাতন গোস্বামী, গোপালহট্ট, রঘুনাথ দাস অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
- এছাড়া, চৈতন্যদেবের জীবনকাহিনি অবলম্বন করে যে দৃষ্টি ও অভিজ্ঞতা সাহিত্য হিসেবে রচিত হয়েছে, তাকে কড়চা বা দিনলিপি বলা হয়।- মূল কড়চাগুলো হলো:
- জীবনীকাব্য (জীবনকাহিনি),
- কড়চা (দিনলিপি),
- এবং ষড়গোস্বামীদের উপস্থিতি।
- এগুলো বৈষ্ণব সাহিত্য ও চৈতন্যদেবের জীবনচর্চার কেন্দ্রবিন্দু।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০০৭.
‘শেষ বড় কবি’ বলা হয় কাকে?
  1. জ্ঞানদাস
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. বিদ্যাপতি
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
- তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের 'শেষ বড়' কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘সত্যনারায়ণের পাঁচালী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০০৮.
মর্সিয়া সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কাব্য কোনটি?
  1. জয়নবের চৌতিশা
  2. মক্তুল হোসেন
  3. আমীর হামজা
  4. কাশিমের লড়াই
সঠিক উত্তর:
মক্তুল হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মক্তুল হোসেন
ব্যাখ্যা
• মুহম্মদ খান রচিত 'মক্তুল হোসেন' কাব্যটি মর্সিয়া সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'মক্তুল হোসেন' কাব্য সম্পর্কে ড. আহমদ শরীফ মন্তব্য করেছেন, 'মুহম্মদ খানের 'মক্তুল হোসেন' কাব্যটি বিপুল কলেবর। কারবালা সম্বন্ধীয় গ্রন্থগুলির মধ্যে শ্রেষ্ঠও বটে।'

• মুহম্মদ খান ও 'মক্তুল হোসেন' কাব্য:

মুহম্মদ খান 'মজুল হোসেন' কাব্য রচনা করে যথেষ্ট খ্যাতি লাভ করেছিলেন। এই কাব্যটি ফারসি 'মজুল হোসেন' কাব্যের ভাবানুবাদ। তবে এতে কবির নিজের ভাবনা চিন্তা ও কল্পনা প্রাধান্য লাভ করেছিল। মুহম্মদ খান চট্টগ্রামের অধিবাসী ছিলেন। ১৬৪৫ সালে 'মজুল হোসেন কাব্য' রচিত হয়। কবির বৃদ্ধাবস্থায় এটি রচিত। কবি সতের শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত জীবিত ছিলেন বলে মনে করা হয়। কাব্যটিতে কবি প্রতিভার উৎকর্ষের পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে। 

অন্যদিকে, 
-------------------
• শেখ ফয়জুল্লাহকে মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি বলা হয়। তাঁর রচিত কাব্য 'জয়নবের চৌতিশা'। এটি মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ। এটি কারবালার কাহিনি নিয়ে রচিত।

• ইংরেজ আমলেও বাংলা সাহিত্যে মর্সিয়া কাব্যের ধারাটি অনুসৃত হয়েছিল। ফকির গরীবুল্লাহ মর্সিয়া সাহিত্যধারার 'জঙ্গনামা' কাব্য রচনা করেছিলেন। পুঁথি সাহিত্যের ভাষায় এই কাব্যটি রচিত। তাঁর অন্যান্য কাব্যের নাম: সোনাভান, আমীর হামজা, ইউসুফ জোলেখা, জঙ্গনামা ও সত্যপীর।

• আঠার শতকের কবি শেখ সেরবাজ চৌধুরী 'কাশিমের লড়াই' কাব্য রচনা করেছিলেন। মহররমের একটি ক্ষুদ্র বিবরণী এ কাব্যে স্থান পেয়েছে। বিষয়বস্তু গতানুগতিক এবং তাতে কোন নতুনত্ব নেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
১,০০৯.
‘সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু আনলে পুড়িয়া গেল।’ মধ্যযুগের কোন কবির রচনা?
  1. বিদ্যাপতি
  2. জ্ঞানদাস
  3. গোবিন্দদাস
  4. চণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
• 'সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু আনলে পুড়িয়া গেল।' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা- জ্ঞানদাস।

-----------------------
• 'জ্ঞানদাস':
- জ্ঞানদাস ছিলেন চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি।
- জ্ঞানদাস বাংলা ও ব্রজবুলি ভাষায়, রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় ২শ(মতান্তরে চারশ) পদ লেখেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।

• বিরহের মর্মস্পর্শী আর্তি ফুটে উঠেছে জ্ঞানদাসের কবিতায়:
রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।।

• তাঁর আরো একটি বিখ্যাত পদ:
সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু আনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়-সাগরে সিনান করিতে সকলি গরল ভেল।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,০১০.
ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড কোন ভাষায় পূর্ণাঙ্গ বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন?
  1. ইংরেজি ভাষায়
  2. পর্তুগিজ ভাষায়
  3. বাংলা ভাষায়
  4. গ্রিক ভাষায়
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি ভাষায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি ভাষায়
ব্যাখ্যা
• অ্যা গ্রামার অব দ্য বেঙ্গল লেঙ্গুয়েজ:
- ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড রচিত 'অ্যা গ্রামার অফ দ্যা বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি হুগলি থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ।

--------------------------
• ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড:
- ১৭৫১ সালের ২৫ মে লন্ডনের এক উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে হ্যালহেডের জন্ম।
- তিনি প্রাচ্যবিদ ও বৈয়াকরণিক ছিলেন।
- তিনিই প্রথম বৈয়াকরণিক যিনি বাংলা ব্যাকরণ রচনায় উদাহরণ ব্যবহার করে বাংলা পাঠ ও বাংলা লিপি ব্যবহার করেন।
- এর আগে পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা রোমান অক্ষরে অতি সাধারণভাবে বাংলা ব্যাকরণ ও অভিধান রচনার চেষ্টা করেন। কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হ্যালহেডই প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,০১১.
"জয়নবের চৌতিশা" কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. নাথ সাহিত্য
  2. লোকসাহিত্য
  3. মঙ্গলকাব্য
  4. মর্সিয়া সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
মর্সিয়া সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মর্সিয়া সাহিত্য
ব্যাখ্যা
মর্সিয়া সাহিত্য:
- পারস্যের কবিদের দ্বারা মর্সিয়া সাহিত্যের প্রসার ঘটে।
- বাংলা সাহিত্যের মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম কবি শেখ ফয়জুল্লাহ।
- বাংলা সাহিত্যে মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম কাব্য জয়নবের চৌতিশা এটি ১৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
-  রাধারমণ গোপ মর্সিয়া সাহিত্যের হিন্দু কবি।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম 'ইমামগণের কেচ্ছা ও অফৎনামা'।
- দৌলত উজির বাহরাম খাঁ কারবালার করুণ কাহিনি নিয়ে 'জঙ্গনামা' নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাব্য লেখেন। এটি ১৭২৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,০১২.
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী কোন মঙ্গলকাব্য ধারার উল্লেখযোগ্য কবি?
  1. ধর্ম মঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা

 • মুকুন্দরাম চক্রবর্তী চণ্ডীমঙ্গল কাব্য ধারার কবি ছিলেন। 
​​- চণ্ডীমঙ্গল ধারার কবি: মানিকদত্ত, দ্বিজ মাধব, দ্বিজরাম দেব, মুক্তরাম সেনও। 

​অন্যদিকে,
- ​মনসা মঙ্গল কাব্য ধারার কবি: কানাহরি দত্ত, নারায়ণদেব, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ।
- ‘ধর্মমঙ্গল’ ধারার কবি: ময়ূর ভট্ট, আদিরূপরাম, খেলারাম চক্রবর্তী, শ্যাম পণ্ডিত, ঘনরাম চক্রবর্তী, নরসিংহ বসু। 
​- 'অন্নদা মঙ্গল’ ধারার কবি: ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০১৩.
শ্রীচৈতন্যদেব কেন বিখ্যাত?
  1. ক) বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক
  2. খ) সভাকবি
  3. গ) কাব্যস্রষ্টা হিসেবে
  4. ঘ) অনুবাদক
সঠিক উত্তর:
ক) বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক
ব্যাখ্যা
শ্রীচৈতন্যদেব বৈষ্ণব ধর্মের প্রবরতক।তিনি নিজ্র কোনো গ্রন্থ রচনা করেন নি কিন্তু তাকে ঘিরে রচিত হয়েছে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের বৈষ্ণব সাহিত্য।
তার বিখ্যাত উক্তি - মুচি হয়ে শুচি হয় যদি কৃষ্ণ ভজে। তার প্রকৃত নাম ছিলো বিশ্বম্ভর।
উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা
১,০১৪.
'রূপের পাথারে আঁখি ডুবিয়া রহিল, যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল।' - উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. জ্ঞানদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. বড়ু চন্ডীদাস
  4. কাশীরাম দাস
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
জ্ঞানদাস একমাত্র কবি যিনি বাংলা ও ব্রজবুলি দুই ভাষা মিলিয়ে পদ রচনা করেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ 'মাথুর' ও মুরলীশিক্ষা। জ্ঞানদাস চন্ডীদাসের ভাবশিষ্য ছিলেন। তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উক্তি-
''সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু, অনলে পুড়িয়া গেল। অমিয়-সাগরে সিনান করিতে, সকলি গরল ভেল।''
'রূপের পাথারে আঁখি ডুবিয়া রহিল, যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল।',
'রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর, প্রতি অঙ্গ লাগি কাঁদে প্রতি অঙ্গ মোর।'

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,০১৫.
চম্পুকাব্য কোন যুগের সাহিত্য?
  1. ক) প্রাচীন যুগের
  2. খ) অন্ধকার যুগের
  3. গ) মধ্যযুগের
  4. ঘ) বর্তমান যুগের
সঠিক উত্তর:
খ) অন্ধকার যুগের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অন্ধকার যুগের
ব্যাখ্যা
চম্পুকাব্য অন্ধকার যুগের সাহিত্য।

গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে। 
- শূন্যপুরাণ চম্পুকাব্যের নিদর্শন। 
- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম 'শূন্যপুরাণ'।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০১৬.
বাংলা সাহিত্যে জীবনীকাব্য রচনার জন্য বিখ্যাত -
  1. কাশীরাম দাস
  2. বৃন্দাবন দাস
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. আলাওল
সঠিক উত্তর:
বৃন্দাবন দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃন্দাবন দাস
ব্যাখ্যা

বৃন্দাবন দাস ও জীবনীকাব্য:
- বাংলা সাহিত্যে জীবনীকাব্য রচনার জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন বৃন্দাবন দাস। 
- বাংলা ভাষায় রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীকাব্য বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্যভাগবত'।
- তাঁর কাব্য প্রথমত 'চৈতন্যামঙ্গল' নামে পরিচিত ছিল।
- পরে এ কাব্যে ভাগবতের প্রভাব ও লীলা পর্যায় দেখে এর নাম চৈতন্যভাগবত রাখা হয়।
- কাব্যটির রচনাকাল সম্ভবত ১৫৪৮ সাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,০১৭.
নাথ সাহিত্যের আদি ও প্রধান কবি কে?
  1. দৌলত উজির বাহারাম খান
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ
  3. মীননাথ
  4. শ্যামদাস সেন
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
•  নাথ সাহিত্যের আদি ও প্রধান কবি শেখ ফয়জুল্লাহ। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ - গোরক্ষ বিজয়।

• নাথ সাহিত্য:

- শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য নামে পরিচিত।
-  নাথ ধর্মের সাধনতত্ত্ব ও প্রাসঙ্গিক গল্প কাহিনি অবলম্বনে রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য।

• নাথ সাহিত্য দুইভাগে বিভক্ত:
১. মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষ নাথের কাহিনি।
২. রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
- এই দুই কাহিনি অবলম্বনেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে।

• শেখ ফয়জুল্লাহ:
- শেখ ফয়জুল্লাহ (১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ। তার গ্রন্থের নাম জয়নবের চৌতিশা (১৫৭০)।

• কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য:
- গোরক্ষ বিজয় - শেখ ফয়জুল্লাহ।
- গোপীচন্দ্রের সন্যাস - শুকুর মুহম্মদ।
- মীনচেতন - শ্যামাদাস সেন।
- ময়নামতির গান - ভবানী দাস।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২.  বাংলাপিডিয়া।
১,০১৮.
‘গোরক্ষবিজয়’ কাহিনির রচয়িতা কে?
  1. বিজয় গুপ্ত
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. বড়ু চণ্ডীদাস
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
নাথসাহিত্য:
- নাথসাহিত্য নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনি ভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো শেখ ফয়জুল্লাহর ‘গোরক্ষবিজয়’।
- রাজা মাণিকচন্দ্রের গান, ময়নামতীর গান বা গোপীচন্দ্রের গান একই ধারার কাহিনি।
- ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানে গার্হস্থ্য জীবনের আধারে যোগজীবনের নির্দেশিকা স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০১৯.
কোথা থেকে প্রথম 'শূন্যপুরাণ' প্রকাশিত হয়?
  1. শ্রীরামপুর মিশন
  2. মুসলিম সাহিত্য সমাজ
  3. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
  4. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
ব্যাখ্যা
শূন্যপুরাণ:
- 'শূন্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ এবং অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- ‘শূন্যপুরাণ’ বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- কারো মতে গ্রন্থটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০২০.
কবি আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' কোন ধরনের কাব্য?
  1. ইতিহাসাশ্রিত যুদ্ধকাব্য
  2. ইতিহাসাশ্রিত রোমান্টিক প্রেমকাব্য
  3. ইতিহাসাশ্রিত পৌরাণিক মহাকাব্য
  4. পৌরাণিক ও অলৌকিক রোমান্টিক প্রেমকাব্য
সঠিক উত্তর:
ইতিহাসাশ্রিত রোমান্টিক প্রেমকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতিহাসাশ্রিত রোমান্টিক প্রেমকাব্য
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী' হচ্ছে ইতিহাসাশ্রিত রোমান্টিক প্রেমকাব্য। 

---------------------
• 'পদ্মাবতী' কাব্য:

- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' কাব্যের অনুবাদ। অনুবাদ হলেও কবি এখানে অনেক মৌলিকতা দেখিয়েছেন।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ খদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে 'পদ্মাবতী' কাব্য রচনা করেন।

• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।
- প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং
- দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

---------------
• আলাওল রচিত উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
- সিকান্দার নামা,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কর,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল,
- রাগতালনামা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০২১.
নিচের কে মধ্যযুগের কবি নয়?
  1. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  2. জ্ঞানদাস
  3. গোবিন্দ দাস
  4. বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা

বিদ্যাপতি, জ্ঞানদাস ও গোবিন্দ দাস মধ্যযুগের কবি হলেও গোবিন্দচন্দ্র দাশ আধুনিক যুগের কবি।
উল্লেখ্য, বিদ্যাপতি, জ্ঞানদাস ও গোবিন্দ দাস - বৈষ্ণব পদাবলির কবি।
- গোবিন্দচন্দ্র দাস গাজীপুরের ভাওয়ালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে স্বভাব কবি বলা হয়।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো :
- প্রেম ও ফুল
- কুঙ্কুম
- মগের মুল্লুক
- ফুলরেণু
- বৈজয়ন্তী
- শোক সান্ত্বনা

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১,০২২.
রবীন্দ্রনাথ কার কাব্যকে ‘রাজকন্ঠের মণিমালা’র সাথে তুলনা করেছেন?
  1. ক) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. খ) ভারতচন্দ্র রায়গুনাকর
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঘ) চন্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
খ) ভারতচন্দ্র রায়গুনাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভারতচন্দ্র রায়গুনাকর
ব্যাখ্যা

অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
তিনি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি।
তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গল কাব্য রচনা করেন।
তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যের সমাপ্তি ঘটে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার অন্নদামঙ্গল কাব্যকে তুলনা করেছেন 'রাজকন্ঠের মণিমালা'র সাথে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,০২৩.
'মধুমালতী' - গ্রন্থটি মধ্যযুগের কোন ধারার সাহিত্য?
  1. মর্সিয়া সাহিত্য
  2. জীবনী সাহিত্য
  3. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  4. বৈষ্ণব পদাবলি
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা

'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:

- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন-
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর, প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০২৪.
আলাওল কোন রাজসভার কবি ছিলেন?
  1. ক) লক্ষণ সেনের রাজসভা
  2. খ) আরাকান রাজসভা
  3. গ) সম্রাট আকবরের রাজসভা
  4. ঘ) সম্রাট শাহজাহানের রাজসভা
সঠিক উত্তর:
খ) আরাকান রাজসভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আরাকান রাজসভা
ব্যাখ্যা

- মধ্যযুগের সবচেয়ে উল্লেখযােগ্য মুসলমান কবি ছিলেন আলাওল।
- আরাকান রাজসভার তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল।
- কবি আলাওলের সাহিত্যকর্ম গুলো হলোঃ
- পদ্মাবতী,
- সপ্ত পয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,০২৫.
মঙ্গলযুগ তথা মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. কবি কঙ্ক
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- মঙ্গলযুগ তথা মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি ১৭১২ সালে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার পাণ্ডুয়া গ্রামে জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি।
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গলকাব্য রচনা করেন।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)।
১,০২৬.
কোনটি আলাওল রচিত সাহিত্যকর্ম নয়?
  1. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
  2. নূরনামা
  3. সিকান্দারনামা
  4. তোহফা
সঠিক উত্তর:
নূরনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নূরনামা
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আলাওল রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম:
- পদ্মাবতী,
- সপ্তপয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'নূরনামা’ আবদুল হাকিম রচিত কাব্যগ্রন্থ।

আলাওল:

- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- আরাকান রাজসভা তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল।
- পদ্মাবতী তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০২৭.
'তে কাজে নিবেদি বাংলা করিয়া রচন।
 নিজ পরিশ্রম তোষি আমি সর্বজন।' উক্তিটি কোন কবির?
  1. আবদুল কাদির
  2. আবদুল হাকিম
  3. আলাওল
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
আবদুল হাকিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল হাকিম
ব্যাখ্যা

• কবি আবদুল হাকিমের 'নূরনামা' কাব্যের অন্তর্গত 'বঙ্গবাণী' কবিতার চরণ-
''কিতাব পড়িতে যার নাহিক অভ্যাস।
সে সবে কহিল মোতে মনে হাবিলাষ।।
তে কাজে নিবেদি বাংলা করিয়া রচন।
নিজ পরিশ্রম তোষি আমি সর্বজন।।''

• বঙ্গবাণী:
​• ‘বঙ্গবাণী' কবিতাটি কবি আবদুল হাকিমের নূরনামা কাব্য থেকে সংকলন করা হয়েছে।
- ‘বঙ্গবাণী' কবিতাটি সতের শতকে রচিত।
- মধ্যযুগীয় পরিবেশে বঙ্গভাষী এবং বঙ্গভাষার প্রতি এমন বলিষ্ট বাণীবদ্ধ কবিতার নিদর্শন দুর্লভ।

---------------
আব্দুল হাকিম:
- আব্দুল হাকিম সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি।
- তিনি ১৬২০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
- হানি-ফার লড়াই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০২৮.
আলাওলের 'তোহফা' কোন ধরনের রচনা?
  1. আত্মাজীবনী
  2. প্রণয়কাব্য
  3. নীতিকাব্য
  4. জঙ্গনামা
সঠিক উত্তর:
নীতিকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীতিকাব্য
ব্যাখ্যা

 • 'তোহফা' কাব্য:
- 'তোহফা' গ্রন্থটি কবি আলাওলের পঞ্চম রচনা। এই কাব্য বিখ্যাত সুফী সাধক শেখ ইউসুফ গদা দেহলভীর 'তোহফাতুন নেসায়েহ্' নামক ফারসি গ্রন্থের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৬৪ সালে এ কাব্য সমাপ্ত করেন। তখন নিজের অবস্থা সম্পর্কে কবি বলেছেন:মুই আলাওল হীনদৈববশ অনুদিনবিধি বিড়ম্বিল বৃদ্ধকাল।ইসলাম ধর্ম সম্বন্ধীয় তত্ত্বোপদেশপূর্ণ এ গ্রন্থটি শ্রীমন্ত সোলেমানের নির্দেশে রচিত হয়েছিল।
- তোহফা গ্রন্থটি কাব্যাকারে রচিত হলেও ধর্মীয় নীতিকথাই এতে রূপ লাভ করেছে।
- ধর্মীয় তত্ত্বমূলক ও নৈতিক উপদেশাত্মক কাব্য তোহফা পঁয়তাল্লিশ অধ্যায়ে বিভক্ত এবং এর বিভিন্ন অধ্যায়ে মুসলমানদের ধর্ম আচার-আচরণ কর্তব্য ইত্যাদি বিষয় বর্ণিত হয়েছে।
- তৌহিদ, ইমান, এল্ম, শাস্ত্রব্যবস্থা, এবাদত, বিবাহ ইত্যাদি ধর্মীয় সামাজিক ও দৈনন্দিন জীবনের পালনীয় কর্তব্য সম্পর্কে পয়ার ছন্দে রূপ দিয়ে আলাওল মুসলমানদের জন্য অবশ্যপাঠ্য গ্রন্থ হিসেবে এর মর্যাদা দিয়েছেন।

আলাওল: 
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- ‘পদ্মাবতী’ তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। 

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সিকান্দার নামা,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কর,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল, 
- রাগতালনামা,

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০২৯.
'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই'- কে বলেছেন?
  1. বিবেকানন্দ
  2. পরমহংস
  3. বিদ্যাপতি
  4. চন্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
চন্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্ডীদাস
ব্যাখ্যা

• সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই' বলেছেন- 'চণ্ডীদাস'।

• চন্ডীদাসের বিখ্যাত উক্তি:
- 'শুনহ মানুষ ভাই, সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।'
- 'সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম।',
- 'সখি কেমনে ধরিব হিয়া, আমার বধূয়া আনবাড়ী যায় আমার আঙিনা দিয়া।'

• চন্ডীদাস:
- চন্ডীদাস মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রসিদ্ধ কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।
- চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।
- এ নামে চারজন কবির পরিচয় পাওয়া যায়; তাঁরা হলেন: বড়ু চন্ডীদাস, দ্বিজ চন্ডীদাস, দীন চন্ডীদাস ও চন্ডীদাস।
- চণ্ডীদাস বৈষ্ণব কবি ছিলেন।
- তিনি চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন এবং জাতিতে ছিলেন ব্রাহ্মণ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০৩০.
'চন্দ্রাবতী' মনসামঙ্গল কাব্যের কোন কবির কন্যা?
  1. বিপ্রদাস পিপলাই
  2. দ্বিজ বংশীদাস
  3. দ্বিজ ঈশান 
  4. দ্বিজ মাধব 
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ বংশীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা

• চন্দ্রাবতী:
- মহিলা কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণ রচনা করে পুরাতন বাংলা সাহিত্যর ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে গৌরব অর্জন করেন।
- মধ্যযুগের তিনজন প্রধান নারী কবির একজন চন্দ্রাবতী। অপর দুইজন চণ্ডীদাস অনুরাগী রামী ও চৈতন্যের কৃপাপাত্রী মাধবী।
- চন্দ্রাবতী ছিলেন মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা। তাঁদের নিবাস ছিল বৃহত্তর ময়মনসিংহের  কিশোরগঞ্জ জেলার অন্তর্গত পাঠবাড়ী বা পাতুয়ারী গ্রামে।
- দীনেশচন্দ্র সেনের মতে কবি চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী’ উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- তিনি পিতার আদেশে 'রামায়ণ' অনুবাদে হাত দেন। কিন্তু তা সমাপ্ত করার পূর্বে মারা যান।
- তাঁর রচনার বৈশিষ্ট্য ষোড়শ শতাব্দীর সামাজিক অর্থনৈতিক অবস্থা প্রতিফলিত করা।

চন্দ্রাবতী রচিত কাব্যগুলো হলো:
- মালুয়া
- দস্যু কেনারামের পালা
- রামায়ণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০৩১.
শেখ ফয়জুল্লাহর রচিত মর্সিয়া সাহিত্যের নাম কী?
  1. আফৎনামা
  2. মুক্তল হোসেন
  3. ইমামগণের কেচ্ছা
  4. জয়নাবের চৌতিশা
সঠিক উত্তর:
জয়নাবের চৌতিশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়নাবের চৌতিশা
ব্যাখ্যা
মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ। তার গ্রন্থের নাম জয়নাবের চৌতিশা (১৫৭০)।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন রাধারমণ গোপ৷ তাঁর গ্রন্থ: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।
- 'মুক্তল হোসেন' হলো মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৩২.
মধ্যযুগের কবি নন কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. জয়নন্দী
  3. জ্ঞান দাস
  4. সৈয়দ হামজা
সঠিক উত্তর:
জয়নন্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়নন্দী
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের কবি:
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ের মোট চব্বিশ জন পদকর্তার পরিচয় পাওয়া যায়।
- গানের মাঝে ও শেষে তাঁরা ভণিতা দিয়েছেন।
- তবে কারও কারও গুরুর ভণিতা আছে।
- নামের শেষে গৌরবসূচক ‘পা’ যোগ করা হয়েছে।
- চর্যার চব্বিশ জন পদকর্তা হলেন : লুই, কুক্কুরী, বিরুআ, গুণ্ডরী, চাটিল, ভুসুকু, কাহ্ন, কামলি, ডোম্বী, শান্তি, মহিত্তা, বীণা, সরহ, সবর, আজদেব, ঢেণ্ঢণ, দারিক, ভাদে, তাড়ক, কঙ্কণ, জয়নন্দী, ধাম, তন্ত্রী ও লাড়ীডোম্বী।
- লাড়ীডোম্বীপার কোন পদ পাওয়া যায় নি।
- জয়নন্দী ৪৬ নম্বর পদের রচয়িতা।

​অন্যদিকে,
- বিদ্যাপতি, জ্ঞানদাস ও  সৈয়দ হামজা মধ্যযুগের কবি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০৩৩.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য' কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল?
  1. মেদিনীপুর
  2. বাঁকুড়া জেলা
  3. বর্ধমান জেলা
  4. ফরিদগঞ্জ জেলা
সঠিক উত্তর:
বাঁকুড়া জেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁকুড়া জেলা
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কারের সময় গ্রন্থের প্রথম পৃষ্ঠায় এর কোনো নাম পাওয়া যায়নি। সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় এর নাম দেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। একে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভও বলা হয়।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায়নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায়নি।
- কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- এ কাব্যের প্রধন তিনটি চরিত্র- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি। 

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো-
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৩৪.
'নবীবংশ' পুস্তকের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ
  3. ফকির গরীবুল্লাহ
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ সুলতান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ সুলতান
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ সুলতান (আনু. ১৫৫০-১৬৪৮):
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তিনি একাধিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর নবীবংশ, জ্ঞানপ্রদীপ, জ্ঞানচৌতিশা ও জয়কুম রাজার লড়াই উল্লেখযোগ্য।
- কবির সর্ববৃহৎ ও শ্রেষ্ঠ রচনা নবীবংশ কাব্য।
- ফারসি কাসাসুল আম্বিয়া অনুসরণে এটি রচিত।
- এতে সৃষ্টির সূচনা থেকে হযরত মুহাম্মাদ (স.) পর্যন্ত সকল নবী-রসুলের কর্ম ও ধর্মজীবনের বিস্তৃত বর্ণনা আছে।
- এছাড়া বিভিন্ন পৌরাণিক দেবদেবীকেও নবীদের ধারাভুক্ত করা হয়েছে। তবে ইসলামের গৌরব ও মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠা ও প্রচারই এতে প্রাধান্য পেয়েছে। বিষয়-বৈচিত্র্য ও বিশালতার বিচারে নবীবংশ মহাকাব্যের সমতুল্য।
- নবীবংশের দ্বিতীয় খন্ড রসুলচরিত একখানা পৃথক গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৩৫.
'গোরক্ষবিজয়' কোন ধারার সাহিত্য?
  1. লোকসাহিত্য
  2. মর্সিয়া সাহিত্য
  3. নাথসাহিত্য
  4. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
সঠিক উত্তর:
নাথসাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাথসাহিত্য
ব্যাখ্যা

নাথসাহিত্য:
- নাথসাহিত্য নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনি ভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা। 
- এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো শেখ ফয়জুল্লাহর ‘গোরক্ষবিজয়’।
- রাজা মাণিকচন্দ্রের গান, ময়নামতীর গান বা গোপীচন্দ্রের গান একই ধারার কাহিনি।
- ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানে গার্হস্থ্য জীবনের আধারে যোগজীবনের নির্দেশিকা স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০৩৬.
"শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" কাব্যের শেষ খণ্ড কোনটি?
  1. তাম্বুল খণ্ড
  2. ভারখণ্ড
  3. হার খণ্ড
  4. বিরহ খণ্ড
সঠিক উত্তর:
বিরহ খণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরহ খণ্ড
ব্যাখ্যা

• "শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" কাব্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভপশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।

- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি। কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি। কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতণ্ডতা, রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে।

- এতে গীতিরসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়। কাব্যটি শৃঙ্গাররসপ্রধান এবং ঝুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত। এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা।

১,০৩৭.
"নানান দেশের নানান ভাষা।
বিনে স্বদেশীয় ভাষা
পুরে কি আশা।।" পঙক্তিটি কোন জাতীয় সঙ্গীত? 
  1. ক) চারণ সঙ্গীত
  2. খ) টপ্পাগান
  3. গ) শ্যামাসঙ্গীত
  4. ঘ) পাঁচালী গান
সঠিক উত্তর:
খ) টপ্পাগান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) টপ্পাগান
ব্যাখ্যা
বিখ্যাত টপ্পাগান-
"নানান দেশের নানান ভাষা।
বিনে স্বদেশীয় ভাষা
পুরে কি আশা।।" -এর রচয়িতা নিধু বাবু বা রামনিধি গুপ্ত (১৭৪১-১৮৩৯)

কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল।
- হিন্দি টপ্পাগান এর আদর্শ। 
- বাংলা  টপ্পাগানের জনক ছিলেন  নিধু বাবু বা রামনিধি গুপ্ত ।
- তাঁর টপ্পাগানের সংকলনের নাম গীতরত্ন (১৮৩২)। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৩৮.
চন্দ্রাবতী কোন শতকের কবি?
  1. পনেরো
  2. ষোলো
  3. সতেরো
  4. আঠারো
সঠিক উত্তর:
ষোলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষোলো
ব্যাখ্যা
• চন্দ্রাবতী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের ষোলো শতকের একজন উল্লেখযোগ্য নারী কবি।

• চন্দ্রাবতী:
- মহিলা কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণ রচনা করে পুরাতন বাংলা সাহিত্যর ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে গৌরব অর্জন করেন।
- মধ্যযুগের তিনজন প্রধান নারী কবির একজন চন্দ্রাবতী।
- অপর দুইজন চণ্ডীদাস অনুরাগী রামী ও চৈতন্যের কৃপাপাত্রী মাধবী।
- চন্দ্রাবতীর পিতা ছিলেন মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাস।
- তিনি পিতার আদেশে 'রামায়ণ' অনুবাদে হাত দেন। কিন্তু তা সমাপ্ত করার পূর্বে মারা যান।
- তাঁর রচনার বৈশিষ্ট্য ষোড়শ শতাব্দীর সামাজিক অর্থনৈতিক অবস্থা প্রতিফলিত করা।

• চন্দ্রাবতী রচিত কাব্যগুলো হলো:
- মালুয়া
- দস্যু কেনারামের পালা
- রামায়ণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা: ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৩৯.
'ছুটিখানী মহাভারত' রচনা করেন কে? 
  1. শ্রীকর নন্দী
  2. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  3. কাশীরাম দাস
  4. কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
সঠিক উত্তর:
শ্রীকর নন্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকর নন্দী
ব্যাখ্যা

'ছুটিখানী মহাভারত' রচনা করেন- শ্রীকর নন্দী। 
------------------------
• মহাভারত:
- মহাভারত প্রাচীন ভারতের অন্যতম প্রধান এবং বিশ্বের দীর্ঘতম সংস্কৃত মহাকাব্য।
- এর রচয়িতা মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস।
- এর মূল কাহিনী হলো কুরু বংশের দুই ভাই পাণ্ডব ও কৌরবদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই এবং কুরুক্ষেত্রের ১৮ দিনের যুদ্ধ।
- মহাকাব্যের মূল উপজীব্য হলো ‘ধর্ম’ বা ন্যায়ের জয় এবং ‘অধর্ম’ বা অন্যায়ের পরাজয়।
- এটি ১ লক্ষেরও বেশি শ্লোকবিশিষ্ট বিশাল কাব্য এবং হিন্দুধর্মের ইতিহাস ও জ্ঞানভাণ্ডার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
- মহাভারত কেবল যুদ্ধকাহিনী নয়, বরং মানব জীবনের কর্তব্য, প্রেম, ঘৃণা, ত্যাগ ও আদর্শের জটিল আখ্যান।

- মহাভারতের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন কবীন্দ্র পরমেশ্বর। 
- তিনি পরাগলী খাঁর উৎসাহে এটি অনুবাদ করেন।
- তিনি অনুবাদকৃত গ্রন্থের নাম দেন বিজয়পান্ডবকথা অথবা ভারতপাঁচালী।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক হিসেবে পরিচিত কাশীরাম দাস।

ছুটিখানী মহাভারত:
- ছুটিখানী মহাভারত এর রচয়িতা শ্রীকর নন্দী।

- এটি ১৫১৮–১৫২০ খ্রিস্টাব্দে রচিত এবং মূলত সংস্কৃত মহাভারতের অশ্বমেধপর্বকে বিস্তৃত আকারে বাংলা ভাষায় উপস্থাপন করেছে। কবি শ্রীকর নন্দী ছুটিখান কর্তৃক নির্দেশিত রচনার মাধ্যমে অশ্বমেধযজ্ঞের অনুষ্ঠান, অর্জুনের দিগ্বিজয় যাত্রা, বিভিন্ন দেশের রাজাদের সঙ্গে যুদ্ধ এবং যুদ্ধের কলাকৌশলকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। ছুটিখানী মহাভারত একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ কাব্য, যা পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত। 

উৎস:
বাংলাপিডিয়া; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০৪০.
গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে কোন কাব্যটি রচিত হয়েছে?
  1. লায়লী-মজনু 
  2. পদ্মাবতী
  3. ইউসুফ-জোলেখা
  4. গুলে বকাওলী
সঠিক উত্তর:
ইউসুফ-জোলেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউসুফ-জোলেখা
ব্যাখ্যা

• ইউসুফ-জোলেখা:
- ইউসুফ-জোলেখা মধ্যযুগের পুঁথি লেখকদের রচিত বাংলা সাহিত্যের একটি প্রণয়-কাব্য। বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর। তিনি গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে ইউসুফ-জোলেখা কাব্য রচনা করেন। সে-বিচারে কাব্যটি পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকের রচনা এবং শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে গণ্য।

- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। ইরানের কবি ফেরদৌসিও (মৃত্যু ১০২৫ খ্রিষ্টাব্দ) এই নামে কাব্য রচনা করেছেন।
তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছ থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।

- তৈমুস বাদশার কন্যা জোলেখার আজিজের সঙ্গে বিয়ে হয়। ক্রীতদাস ইউসুফের (নবি) প্রতি প্রেমাসক্ত হয়ে জোলেখা তাকে আকর্ষণ করে। নানা ঘটনায় ইউসুফ মিশরের অধিপতি হয় এবং তার মনেরও পরিবর্তন ঘটে। ধর্মান্তরের মধ্য দিয়ে ইউসুফ-জোলেখার মিলন হয়। সুফিরা ইউসুফকে পরমাত্মা জোলেখাকে জীবাত্মার প্রতীক বিবেচনা করেন। শাহ মুহম্মদ সগীরও তাই করেছেন। তবে বর্ণনায় প্রেমের আবহটি প্রধান হয়েছে।

- সগীর ছাড়া একই কাহিনি নিয়ে আবদুল হাকিম, গরীবুল্লাহ, ফকির মুহম্মদ প্রমুখ কাব্য লিখেছেন। তবে এ কাব্য শাহ মুহম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

অন্যদিকে, 
• বাংলায় 'লায়লী-মজনু' কাব্যটি মধ্যযুগের কবি দৌলত উজির বাহরাম খান আনুমানিক ১৫৬০-১৫৭৫ খ্রিস্টাবাদের মধ্যে রচনা করেন, যা পারস্য কবি জামীর রচনার ভাবানুবাদ এবং এর উৎস আরব্য লোকগাথা।

• বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত 'পদ্মাবতী' কাব্যটি আরাকানের রাজা থদো-মিন্তের রাজত্বকালে (১৬৪৮ খ্রিস্টাব্দে) কবি আলাওল রচনা করেন, যদিও এর মূল হিন্দি কাব্য 'পদুমাবৎ' লিখেছিলেন মালিক মুহম্মদ জায়সী (১৫৪০ খ্রি.)। 

• বাংলা রোমান্টিক প্রণয়কাব্যের ধারায় 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। গদ্যে ও পদ্যে গুলে বকাওলী প্রেমকাহিনি বাংলায় পরিবেশিত হয়েছে এবং বিশ শতকেও সাহিত্যরূপ লাভ করায় এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা প্রমাণিত। বাংলা ভাষা ছাড়া হিন্দি ফারসি উর্দু ইত্যাদি ভাষায়ও এ কাব্য রচিত হয়েছিল। বাংলায় গুলে বকাওলী কাব্যের রচয়িতা হিসেবে নওয়াজিস খান খ্যাতিমান। কবি কাব্যে যে আত্মপরিচয় দান করেছেন তাতে তাঁর বংশলতিকার পরিচয় পাওয়া যায়। তাঁর এক পূর্বপুরুষ ছিলিম খান গৌড় থেকে চট্টগ্রাম এসে ছিলিমপুর গ্রামের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কবি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার অন্তর্গত সুখছড়ি গ্রামে বসবাস করতেন বলে জানা যায়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১,০৪১.
সৈয়দ সুলতানের 'জ্ঞানপ্রদীপ' কোন ধরেনর রচনা?
  1. মর্সিয়া সাহিত্য
  2. সুফিচর্যা জাতীয় গ্রন্থ
  3. অনুবাদ সাহিত্য
  4. লোকসাহিত্য
সঠিক উত্তর:
সুফিচর্যা জাতীয় গ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিচর্যা জাতীয় গ্রন্থ
ব্যাখ্যা

সৈয়দ সুলতান:
- তাঁর বাসস্থান ছিল চট্টগ্রামের চক্রশালা চাকলার অধীন পটিয়া গ্রাম।
- মক্তুল হুসেন কাব্যের রচয়িতা মুহম্মদ খান ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।

• 'জ্ঞানপ্রদীপ' একটি সুফিতত্ত্ব ও আধ্যাত্মিক জ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ।
- এর রচয়িতা- 'সৈয়দ সুলতান'।
- এই কাব্য সম্পর্কে ড. মুহম্মদ এনামুল হক মন্তব্য করেছেন- "ইহা একখানি যোগ-কলন্দর শ্রেণির গ্রন্থ। তবে ইহা কবির পরিণত বয়সের রচনা।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- নবীবংশ,
- জ্ঞানপ্রদীপ,
- জ্ঞানচৌতিশা,
- শব—ই—মিরাজ,
- ওফাত—উ—রসুল,
- জয়কুম রাজার লড়াই ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০৪২.
'গীতরত্ন' নামে গানের সংকলন করেন কে?
  1. রামপ্রসাদ সেন
  2. রামনিধি গুপ্ত
  3. মানিক দত্ত
  4. গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
ব্যাখ্যা
টপ্পা সঙ্গীত:
- কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল।
- হিন্দি টপ্পাগান এর আদর্শ তবে বাংলা টপ্পা সর্বতোভাবে পাঞ্জাবি টপ্পার অনুকরণ নয়।
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত।

রামনিধি গুপ্ত:

- সঙ্গীতশিল্পী ও গানের জনক। তাঁর প্রকৃত নাম ‘রামনিধি গুপ্ত’, কিন্তু সঙ্গীতজগতে তিনি ‘নিধু গুপ্ত’ নামেই পরিচিত।
- কেউ কেউ তাঁকে ‘নিধুবাবু’ বলেও ডাকতেন। পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চাপ্তায় মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম ‘গীতরত্ন’ (১৮৩২)।
- ১৮৩২ সালে 'গীতরত্ন' নামে তাঁর গানের একটি সংকলন প্রকাশিত হয়; তাতে ৯৬টি গান স্থান পায়।

তাঁর রচিত টপ্পা সংগীতের বিখ্যাত পঙক্তি,
''নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা, পুরে কি আশা?''

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৪৩.
বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার হিসেবে পরিচিত ছিলেন -
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. বিদ্যাপতি
  3. রামনিধি গুপ্ত
  4. শ্রী চৈতন্য
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
বিদ্যাপতি: 
• বিদ্যাপতি ছিলেন মিথিলার রাজসভার একজন বিখ্যাত কবি, যিনি চতুর্দশ শতকে তাঁর সৃষ্টিশীলতা দিয়ে সকলকে মুগ্ধ করেছিলেন। মিথিলার রাজা শিবসিংহ তাঁর রচনায় এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, বিদ্যাপতিকে ‘কবিকণ্ঠহার’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

• ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে বিদ্যাপতিকে বোঝায়। যেমন কোকিল তার সুমধুর গান দিয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, তেমনই বিদ্যাপতি মৈথিলি ভাষায় পদাবলি ও গীতিকবিতা রচনা করে সবার হৃদয় জয় করেন। এই কারণে তাঁকে মৈথিল কোকিল নামে অভিহিত করা হয়।

• বিদ্যাপতি একজন বৈষ্ণব কবি ছিলেন এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনাগুলোর মধ্যে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলিগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,০৪৪.
‘গুণরাজ খান’ মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের কোন কবির উপাধি?
  1. রামপ্রসাদ সেন
  2. মালাধর বসু
  3. দ্বিজ বংশীদাস
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
মালাধর বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালাধর বসু
ব্যাখ্যা
⇒ মালাধর বসু:
• তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
• পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কুলীনগ্রামে এক কায়স্থ বংশে তাঁর জন্ম।
• তিনি ছিলেন গৌড়েশ্বর হুসেন শাহের মন্ত্রী এবং তাঁরই সহায়তায় রূপ গোস্বামী ও সনাতন গোস্বামী উক্ত রাজসভায় নিয়োগ লাভ করেন।
• মালাধরের একমাত্র কাব্য শ্রীকৃষ্ণবিজয়ের রচনাকাল ১৩৯৫-১৪০২ শতাব্দ (১৪৭৩-১৪৮০ খ্রি)।
• কবিত্বগুণের সম্মাননাস্বরূপ মালাধর বসু গৌড়েশ্বরের নিকট থেকে ‘গুণরাজ খান’ উপাধি লাভ করেন।
• সুলতান শামসউদ্দীন ইউসুফ শাহ (১৪৭৪-৮০) কবিকে এই উপাধি প্রদানের মাধ্যমে কাব্যরচনায় উৎসাহিত করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৪৫.
'কুলীনকুলসর্বস্ব নাটকের রচয়িতা কে?
  1. দ্বীনবন্ধু মিত্র
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. তারাচরণ শিকদার
  4. রামনারায়ণ তর্করত্ন
সঠিক উত্তর:
রামনারায়ণ তর্করত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামনারায়ণ তর্করত্ন
ব্যাখ্যা
কুলীনকুলসর্বস্ব নাটক:
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- সমকালীন সমাজব্যবস্থার কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলো নাটকে রূপায়িত করতে গিয়ে আঙ্গিকগত দিক থেকে তাঁর চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করা সম্ভব হয় নি।
- ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
- এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করেছিল।

রামনারায়ণ তর্করত্ন:
- তিনি একজন নাট্যকার।
- ১৮২২ সালের ২৬ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার হরিনাভি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- বাংলা মৌলিক নাটক রচয়িতা হিসেবেই রামনারায়ণের মুখ্য পরিচয়।

রামনারায়ণ তর্করত্ন যেসকল নাটক অনুবাদ করেন:
- অভিজ্ঞান শকুন্তলা,
- রত্নাবলী,
- মালতীমাধব,
- বেণীসংহার।

রামনারায়ণ তর্করত্ন রচিত নাটক:
- রুক্ষ্মিণীহরণ,
- কংসবধ,
- ধর্মবিজয়।

রামনারায়ণ তর্করত্ন রচিত প্রহসন:
- যেমন কর্ম তেমন ফল,
- উভয় সংকট,
- চক্ষুদান।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
১,০৪৬.
কবি দ্বিজ বংশীদাস শাস্ত্রীয় পাণ্ডিত্যের পাশাপাশি আর কী হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন?
  1. চিত্রশিল্পী
  2. সুকণ্ঠ গায়ক
  3. সমাজ সংস্কারক
  4. চিকিৎসক
সঠিক উত্তর:
সুকণ্ঠ গায়ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকণ্ঠ গায়ক
ব্যাখ্যা

দ্বিজ বংশীদাস:
- মনসামঙ্গল গ্রন্থটি মধ্যযুগ এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি দ্বিজ বংশীদাস রচিত।
- দ্বিজ বংশীদাস পদ্মাপুরাণ বা মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম কবি ছিলেন।
- তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার পাতুয়ারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাব্যে ‘মঘ-ফিরিঙ্গি’, ‘বন্দুক-পলিতা’ প্রভৃতি শব্দের ব্যবহার দেখে অনেকে মনে করেন, কবি সতেরো শতকে আবির্ভূত হন।
- দ্বিজ বংশীদাস সংস্কৃত, পুরাণ, আগম ও তন্ত্রাদি শাস্ত্রে পন্ডিত ছিলেন। সুকণ্ঠ গায়ক হিসেবেও তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
- বংশীদাস কবি চন্দ্রাবতীর পিতা। কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণের অনুবাদে পিতা বংশীদাসরে পরিচয় তুলে ধরেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০৪৭.
বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন-
  1. ময়নামতির গান
  2. দোহাকোষ
  3. গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস
  4. নিরঞ্জনের রুষ্মা
সঠিক উত্তর:
নিরঞ্জনের রুষ্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরঞ্জনের রুষ্মা
ব্যাখ্যা

- বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন হচ্ছে নিরঞ্জনের রুষ্মা।
- প্রাচীন যুগের সাহিত্য নিদর্শন চর্যাপদ বা দোহাকোষ।
- শুকুর মহম্মদের 'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' ও ভবানী দাসের 'ময়নামতির গান' নাথ সাহিত্য তথা মধ্যযুগের সাহিত্য নিদর্শন।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,০৪৮.
'মহাভারত' এর মূল রচয়িতা কে?
  1. কাশীরাম দাস
  2. কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব
  3. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  4. ভূদেব মখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব
ব্যাখ্যা
মহাভারত:
- মহাভারত সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য।
- মূল রচয়িতা কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব। প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- তিনি পরাগল খাঁর উৎসাহে প্রথম অনুবাদ করেছিলেন বলে এর নাম পরাগলী মহাভারত।
- অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন বিজয়পাণ্ডবকথা অথবা ভারতপাঁচালী।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কাশীরাম দাস।
- মহাভারতের আদি, সভা, বন, ও বিরাট পর্ব রচনার পর কাশীরাম দাস ইহলোক ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৪৯.
‘দোহা - কোশ’ গ্রন্থটি লিখেছেন কে?
  1. ক) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. খ) বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  3. গ) প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  4. ঘ) রাহুল সাংকৃত্যায়ন
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাহুল সাংকৃত্যায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাহুল সাংকৃত্যায়ন
ব্যাখ্যা

রাহুল সাংকৃত্যায়ন নেপাল - তিব্বতে প্রাপ্ত তালপাতার পুথিতে আরো কয়েকজন নতুন কবির চর্যাগীতি পেয়ে 'দোহা - কোশ'(১৯৫৭) গ্রন্থে সংযোজন করেছেন।

১৯০৭ সালে পণ্ডিত মহামহোপাধ্যায় হরপ্রাসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে আবিষ্কার করে নিয়ে আসেন কয়েকটি অপরিচিত বই।
বইগুলোর একটি - চর্যাপদ। এর সাথে আরো দুটি বই হচ্ছে - ডাকার্ণব ও দোহাকোষ।
এই তিনটি গ্রন্থকে মিলিয়ে একসাথে হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় ১৯১৬ সালে ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা’ নামে প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য, চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন। এর অন্য নাম - চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চিয় বা চর্য্যাশ্চর্য্যবিনিশ্চয়
বিজয়চন্দ্র ১৯২০ সালে চর্যাপদের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন।
১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যার তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর।

১,০৫০.
কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে রচিত সাহিত্য ই হলো-
  1. ক) জঙ্গনামা
  2. খ) পুথিসাহিত্য
  3. গ) মর্সিয়া সাহিত্য
  4. ঘ) মৈমনসিংহ-গীতিকা
সঠিক উত্তর:
গ) মর্সিয়া সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মর্সিয়া সাহিত্য
ব্যাখ্যা
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ। তার গ্রন্থের নাম জয়নালের চৌতিশা (১৫৭০)।
- 'মুক্তল হােসেন' হলো মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
১,০৫১.
কার নির্দেশে কৃত্তিবাস বাংলায় ''রামায়ণ'' অনুবাদ করেন?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. রাজা প্রতাপাদিত্য
  3. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
  4. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
ব্যাখ্যা
রামায়ণ:
- সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন বাল্মীকি । রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদক কৃত্তিবাস ওঝা।
- মধ্যযুগের অনুবাদ সাহিত্যের প্রথম সূত্রপাত করেন কৃত্তিবাস ওঝা।
- গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস বাংলায় ''রামায়ণ'' অনুবাদ করেন।
- রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক ছিলেন চন্দ্রাবতী।

কৃত্তিবাস ওঝা:
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক।
- তাঁর রচিত রামায়ণের অন্য নাম 'শ্রীরাম পাঞ্চালী'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৫২.
'জঙ্গনামা' কাব্যধারার কবি নন কে?
  1. মুহম্মদ খান
  2. ওয়াহিদ আলী 
  3. নওয়াজিস খান 
  4. ফকির গরিবুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
নওয়াজিস খান 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াজিস খান 
ব্যাখ্যা

• 'জঙ্গনামা' কাব্যধারার কবি নন- নওয়াজিস খান।  
• নওয়াজিস খান মধ্যযুগীয় রোম্যান্টিক কাব্যধারার কবি। তাঁর রচিত কাব্য 'গুলে বকাওলী'। 

-----------------
• জঙ্গনামা:

জঙ্গনামা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য। ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা। বিশেষত  হযরত মুহম্মাদ (স.) ও তাঁর স্বজনদের যুদ্ধই এ শ্রেণির কাব্যের মূল বিষয়। যেসব যুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে। তাই আরবি-ফারসি সাহিত্যে যেমন, বাংলা সাহিত্যেও তেমনি ‘জঙ্গনামা’ বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।

জঙ্গনামা শ্রেণির কাব্যধারার উল্লেখযোগ্য কবি ও কাব্যের নাম হলো:  
- শেখ ফয়জুল্লাহ (ষাল’শ শতক, জয়নবের চৌতিশা),  
- দৌলত উজির বাহরাম খান (ষোল’শ শতক, জঙ্গনামা),
- মুহম্মদ খান (সতের’শ শতক, মকতুল হোসেন),
- শেরবাজ (আঠার’শ শতক, কাশিমের লড়াই ও ফাতিমার সুরতনামা),
- হেয়াত মামুদ (আঠার’শ শতক, জারি-জঙ্গনামা),
- জাফর (আঠার’শ শতক, শহীদ-ই-কারবালা ও সখিনার বিলাপ),
- হামিদ (আঠার’শ শতক, সংগ্রাম হুসেন),
- ফকির গরিবুল্লাহ (আঠার’শ শতক, জঙ্গনামা  ও সোনাভান),
- মুহম্মদ হামিদুল্লাহ খান (উনিশ’শ শতকের প্রথমার্ধ, গুলজার-ই-সাহাদৎ),
- ওয়াহিদ আলী (উনিশ’শ শতকের প্রথমার্ধ, বড় জঙ্গনামা),
- জনাব আলী (উনিশ’শ শতক, শহিদ-ই-কারবালা),
- মুহম্মদ মুনসি (উনিশ’শ শতক, শহিদ-ই-কারবালা),
- মুহম্মদ ইসহাকউদ্দীন (বিশ শতকের প্রথমার্ধ,
- দাস্তান শহিদ-ই-কারবালা), কাজী আমীনুল হক (বিশ শতকের প্রথমার্ধ, জঙ্গে কারবালা) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১,০৫৩.
মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি কে?
  1. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  2. শ্রীকর নন্দী
  3. কাশীরাম দাস
  4. কৃত্তিবাস ওঝা
সঠিক উত্তর:
কবীন্দ্র পরমেশ্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবীন্দ্র পরমেশ্বর
ব্যাখ্যা

• কবীন্দ্র পরমেশ্বর:
- 'পরাগলী মহাভারত' খ্যাত গ্রন্থের লেখক কবীন্দ্র পরমেশ্বর। তিনি মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি।
- নবাব হুসেন শাহ্‌ (১৪৯৩-১৫১৮) চট্টগ্রাম শাসনের জন্য পরাগল খাঁ নামক এক লস্কর নিযুক্ত করেন।
- যুদ্ধপ্রিয় 'পরাগল খাঁ' মহাভারতের যুদ্ধকাহিনি শুনে গ্রন্থটি অনুবাদের জন্য পরমেশ্বর দাসকে নির্দেশ দেন।
- তাই কবীন্দ্র পরমেশ্বর এর অনুবাদকৃত মহাভারতকে 'পরাগলী মহাভারত' বলা হয়।
- কবীন্দ্র তাঁর রচিত মহাভারতের নাম দিয়েছেন ‘ভারত পাঁচালী’।

অন্যদিকে, 
- শ্রীকর নন্দীর মহাভারতকে বলা হয় 'ছুটিখানি মহাভারত'।
- 'মহাভারত' এর শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কাশীরাম দাস। তার কাব্যের নাম 'ভারত পাঁচালী। 
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক ও বাংলা রামায়ণের আদি কবি “কৃত্তিবাস ওঝা"।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,০৫৪.
আমি অপার হয়ে বসে আছি
ও হে দয়াময়, পারে লয়ে যাও আমায়।। - এই গানটির রচয়িতা কে?
  1. কুমারেশ চন্দ্র দে
  2. রজনীকান্ত সেন
  3. লালন শাহ্
  4. শাহ আবদুল করিম
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ্
ব্যাখ্যা
লালন শাহ্:
- তিনি বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা, গায়ক ছিলেন।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রণ করেন।
- এ তথ্যটি পাওয়া যায় তাঁর মৃত্যুর দুসপ্তাহ পরে হিতকরী (১৮৯০) পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদ-নিবন্ধে।

লালন ফকিরের উল্লেখযোগ্য কয়েটি গান:
• খাঁচার ভিতর অচিন পাখি
কেমনে আসে যায়।।

আমি অপার হয়ে বসে আছি
ও হে দয়াময়,
পারে লয়ে যাও আমায়।।

• জাত গেল জাত গেল বলে
একি আজব কারখানা
সত্য কাজে কেউ নয় রাজি
সবি দেখি তা না-না-না।।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,০৫৫.
প্রথম বাঙালি নারী কবি কে?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. কামিনী রায়
  3.  স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. বেগম রোকেয়া
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা

• মহিলা কবি হিসেবে- 'চন্দ্রাবতী':
- চন্দ্রাবতী রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক।
- মহিলা রামায়ণকার বলা হয় চন্দ্রাবতীকে।

- তিনি মধ্যযুগের প্রথম নারী কবি হিসেবে স্বীকৃত।
- চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জের পাতোয়ারি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- চন্দ্রাবতী ছিলেন মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা।
- লৌকিক, মানবিক ও কিছু মৌলিক উপাদান সংযোগের ফলে তাঁর রচিত রামায়ণ বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছিল।
- চন্দ্রাবতীর রচিত কাব্যগুলো হলো মালুয়া, দস্যু কেনারামের পালা, রামায়ণ ইত্যাদি।
------------------ 
• পালাগান হিসেবে- 'চন্দ্রাবতী' :
- চন্দ্রাবতীকে নিয়ে মৈমনসিংহ-গীতিকায় নয়ানচাঁদ ঘোষ নামে একজন কবির পালা রয়েছে।
- এই পালাটি বিভিন্ন নামে পরিচিত - ‘জয়-চন্দ্রাবতী’, 'চন্দ্রাবতী চরিত', 'চন্দ্রাবতী উপাখ্যান'।
- উল্লেখ্য,
চন্দ্রাবতী, মহুয়া, মলুয়া, কমলা, দেওয়ান মদিনা, দেওয়ান ভাবনা, রূপবতী, দস্যু কেনারামের পালা, ভেলুয়া ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য লৌকিক আখ্যানমূলক পালাগান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০৫৬.
শাহ মুহম্মদ সগীর কোন সুলতানের সভাকবি ছিলেন? 
  1. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ্
  2. গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ্
  3. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্
  4. বরবক শাহ্
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ্
ব্যাখ্যা

শাহ মুহম্মদ সগীর:
- শাহ মুহম্মদ সগীর মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতনামা কবি।
- আনুমানিক ১৪-এর শেষে থকে ১৫  শতকের মধ্যে তাঁর জন্ম।
- তিনি গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সভাকবি ছিলেন।
- তাঁর রচিত  ইউসুফ-জুলেখা কাব্যে গৌড় সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের (১৩৮৯-১৪১০) স্তুতি আছে।
- তিনি সম্ভবত সুলতানের সভাকবি ছিলেন এবং তাঁরই নির্দেশে এ কাব্য রচনা করেন।
- এ থেকে তাঁর আবির্ভাব কাল চৌদ্দ শতকের শেষভাগ থেকে পঞ্চদশ শতকের প্রথমভাগ বলে অনুমান করা হয়। 
- মুহম্মদ সগীরই প্রথম বাংলা ভাষার মাধ্যমে আরবি-ফারসি সাহিত্যের বিষয় এদেশের পাঠকের কাছে তুলে ধরেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১,০৫৭.
কবি আলাওলের সর্বাধিক পরিচিত কাব্য কোনটি?
  1. সিকান্দরনামা
  2. পদ্মাবতী
  3. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
  4. রাগতালনামা
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ/ পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
• আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে। 

• আলাওল: 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। 
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ।

• তার রচিত কাব্য:
- পদ্মাবতী ,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী ,
- সপ্তপয়কর,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল ও
- সিকান্দরনামা।

নীতিকাব্য:
- তোহফা, 

সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য: 
- রাগতালনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,০৫৮.
'আপন ঘরে বোঝাই সোনা, পরে করে লেনা দেনা।' গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) করিম শাহ
  2. খ) আব্দুল হাকিম
  3. গ) লালন শাহ
  4. ঘ) আলাউদ্দিন খাঁ
সঠিক উত্তর:
গ) লালন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লালন শাহ
ব্যাখ্যা
বাউল গান লোকগীতির একটি বিশেষ অংশ। বাউল গান মূলত বাউল সম্প্রদায়ের গান। শ্রেষ্ঠ বাউল গান রচয়িতা লালন শাহ। তাকে বাউল সম্রাট বলা হয়। তার রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গান- 'কেউ মালায় কেউ তসবি গলায়, তাইতে যে জাত ভিন্ন বলায়।', 'জাত গেল জাত গেল বলে একি আজব কারখানা', 'আপন ঘরে বোঝাই সোনা, পরে করে লেনা দেনা।', 'খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়।', 'আমি অপার হয়ে বসে আছি।', 'তিন পাগলে হলো মেলা নদে এসে।', 'এসব দেখি কানার হাট বাজার।', 'মিলন হবে কত দিনে.....।' উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,০৫৯.
‘চৈতন্য-ভাগবত' জীবনীগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বৃন্দাবন দাস
  2. গোবিন্দদাস
  3. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
  4. বৃত্তিবাস ওঝা
সঠিক উত্তর:
বৃন্দাবন দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃন্দাবন দাস
ব্যাখ্যা
শ্রী চৈতন্যদেব:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য শ্রী চৈতন্যদেব ধর্ম প্রচারকের প্রভাব অপরিসীম।
- তিনি বাংলা সাহিত্য একটি পঙক্তি না লিখলেও তাঁর নামে একটি যুগের সৃষ্টি হয়েছে যার নাম শ্রী চৈতন্যদেব।
- তাঁকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে মধ্যযুগের ‘বৈষ্ণব সাহিত্য’।
- ‘বৈষ্ণব সাহিত্য’ তিন প্রকার যথা: জীবনীকাব্য, বৈষ্ণব শাস্ত্র ও পদাবলী
- বাংলায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থের নাম বৃন্দাবন দাস রচিত ‘চৈতন্য-ভাগবত'।
- বাংলা সাহিত্য ১৫০০ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে চৈতন্যযুগ বলে।
- শ্রীচৈতন্যর পিতৃদত্ত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র, ডাক নাম নিমাই।
- চৈতন্যদেব জন্ম ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দ এবং মৃত্য ১৫৩৩ খ্রিষ্টাব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৬০.
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার কবি নন কে?
  1. ক) আমির হামজা
  2. খ) শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. গ) দৌলত উজির বাহিরাম খান
  4. ঘ) আব্দুল হাকিম
সঠিক উত্তর:
ক) আমির হামজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আমির হামজা
ব্যাখ্যা
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার কবি - শাহ মুহাম্মদ সগীর, দৌলত উজির বাহরাম খান, আলাওল, কোরেশী মাগন ঠাকুর, আব্দুল হাকিম। আমির হামজা ফকির গরীবুল্লাহ রচিত জঙ্গনামা শ্রেণির কাব্য।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৬১.
রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান সাহিত্য ধারার কবি নন কে?
  1. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  2. দৌলত কাজী
  3. আবদুল হাকিম
  4. রামপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
রামপ্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা

• রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান সাহিত্য ধারার কবি নন - রামপ্রসাদ সেন।
• তিনি শক্ত পদাবলীরএকজন বিখ্যাত কবি।
 
'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান':
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন- শাহ মুহম্মদ সগীর, সৈয়দ সুলতান, আবদুল হাকিম, আলাওল, কোরেশী মাগন ঠাকুর, দৌলত কাজী প্রমুখ।

- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

১,০৬২.
'বড়ায়ি' বিখ্যাত চরিত্রটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- এটি একটি বৈষ্ণব কাব্য। এই কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
- রচনাকাল সঠিকভাবে নির্ণীত না হলেও প্রাকচৈতন্য যুগের (খ্রিস্টীয় ১৪শ শতক) মনে করা হয়।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- এটি মধ্যযুগের বাংলা ভাষায় রচিত কোনো লেখকের প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৩ খন্ডের কাব্য। মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮ টি পদে এটি বিন্যস্ত।

এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- রাধা,
- কৃষ্ণ এবং
- বড়ায়ি

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৬৩.
ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, ‘সেক শুভোদয়া’ কোন শতাব্দীর রচনা?
  1. একাদশ শতাব্দী
  2. দ্বাদশ শতাব্দী
  3. ত্রয়োদশ শতাব্দী
  4. চতুর্দশ শতাব্দী
সঠিক উত্তর:
ত্রয়োদশ শতাব্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রয়োদশ শতাব্দী
ব্যাখ্যা

সেক শুভোদয়া:
- 'সেক শুভোদয়া' এর রচয়িতা হলেন হলায়ূধ মিশ্র।
- অশুদ্ধ বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় মিশ্রিত একটি গ্রন্থ হল- সেক শুভোদয়া।
- এটি সংস্কৃত গদ্য-পদ্যে লেখা চম্পুকাব্য।
- অনেকে একে রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি হলায়ূধ মিশ্রের রচনা বলে মনে করেন।
- ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, সেক শুভোদয়া খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর একেবারের গোড়ার দিকের রচনা।
- গদ্য ও পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫টি অধ্যায় আছে।
- এই গ্রন্থটিতে বেশকিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রচুর ভুল সংস্কৃত ব্যবহারও আছে। তাই ড.সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় একে 'dog sanskirt' বলেছেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

১,০৬৪.
'আলাওল' কোন যুগের কবি?
  1. ক) প্রাচীন যুগ
  2. খ) মধ্যযুগ
  3. গ) আধুনিক যুগ
  4. ঘ) স্বর্ণযুগ
সঠিক উত্তর:
খ) মধ্যযুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মধ্যযুগ
ব্যাখ্যা
• আলাওল: 
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- ‘পদ্মাবতী’ তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজ্জিত ছিলেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমুহ:
- সিকান্দার নামা,
- তোহ্ফা,
- সপ্তপয়কর,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান,
- রাগতালনামা,
- সতীময়ান-লোর-চন্দ্রাণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৬৫.
'সিকান্দারনামা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আব্দুল হাকিম
  2. দৌলত কাজী
  3. আলাওল
  4. শুকুর মহাম্মদ
সঠিক উত্তর:
আলাওল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাওল
ব্যাখ্যা
• আলাওল:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- আরাকান রাজসভা তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল।
- 'পদ্মাবতী' তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।

• তাঁর বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম:
- পদ্মাবতী,
- হপ্তপয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৬৬.
'লাইলী মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ- 
  1. তুরস্ক
  2. ইরান 
  3. ভারত 
  4. আরব
সঠিক উত্তর:
ইরান 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরান 
ব্যাখ্যা

'লায়লী মজনু' কাব্য:
- 'লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান।
- 'লায়লী মজনু' কাব্যের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে। যেমন আহমদ শরীফের মতে (১৫৪৩-১৫৫৩) সালে রচিত এবং শহীদুল্লাহর মতে
১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- এটি পারস্য তথা ইরানি কবি জামির 'লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ।
- 'লাইলী মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ-ইরান।
- আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে এই কাব্যে।
- এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০৬৭.
'দ্বিতীয় বিদ্যাপতি' নামে খ্যাত ছিলেন কে?
  1. গোবিন্দদাস
  2. দৌলত কাজী
  3. বিজয় গুপ্ত
  4. জ্ঞানদাস
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
গোবিন্দদাস: 
- গোবিন্দদাস ছিলেন বৈষ্ণব পদকর্তা। 
- তিনি ছিলেন চৈতন্যত্তোরকালে খ্যাতি অর্জনকারী কবিদের একজন। 
- গোবিন্দদাস 'দ্বিতীয় বিদ্যাপতি' নামে খ্যাত একজন কবি। 
- তার কাব্যগুরু ছিলেন মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ৷ 
- তার রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম 'সংগীতমাধব'। 
- তিনি পূর্বরাগ, অভিসার, মান, কলহস্তরিতা, বাসকসজ্জা, মাথুর প্রভৃতি পর্যায়ের পদকর্তা। 
- অভিসার পদ পর্যায়ে গােবিন্দদাস শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। 
- সমালােচকের মতে অভিসার পর্যায়ে তিনি রাজাধিরাজ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১,০৬৮.
'অসমাপিকা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. আহমদ শরীফ
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ।

তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান কবিতা:
- রাখী,
- কালের শাসন,
- কামনা পঞ্চবিংশতি,
- নূতনা রাধা,
- লিপি,
- জার্নাল,
- ক্রীডো ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- যৌবন জ্বালা,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমনকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,০৬৯.
মহাকবি আলাওল রচিত মৌলিক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) রাগতালনামা
  2. খ) তোহফা
  3. গ) সিকান্দরনামা
  4. ঘ) সপ্তপয়কর
সঠিক উত্তর:
ক) রাগতালনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রাগতালনামা
ব্যাখ্যা
আলাওল (আনু. ১৬০৭-১৬৮০) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- মহাকবি আলাওলের সমসাময়িক আরাকানের রাজা ছিলেন রাজা সুধর্মা।
- আলাওল মধ্যযুগের সর্বাধিক গ্রন্থপ্রণেতা। তাঁর মোট কাব্যসংখ্যা সাত।

সেগুলির মধ্যে আখ্যানকাব্য হচ্ছে
- পদ্মাবতী (মালিক মুহম্মদ জায়সীকৃত হিন্দি পদুমাবত থেকে রচিত),
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী (সাধনকৃত 'মৈনাসত' থেকে),
- সপ্তপয়কর (নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি 'হফত্ পয়কর' থেকে),
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল (গাওয়াসীকৃত ফারসি সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল থেকে) ও
- সিকান্দরনামা (নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি সিকান্দরনামা অনুসরণে)

নীতিকাব্য
- তোহফা (ইউসুফ গদাকৃত ফারসি তুহুফ-ই-নসাঈহ থেকে)

সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য
- রাগতালনামা (মৌলিক গ্রন্থ)।

এ ছাড়াও বৈষ্ণবপদের অনুরূপ তাঁর কিছু গীতিকবিতা আছে।
- রাগতালনামা ও গীতিকবিতাগুলি তাঁর মৌলিক রচনা, অন্যগুলি অনুবাদমূলক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৭০.
'সিকান্দরনামা' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. দৌলত কাজী
  2. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. আলাওল
  4. আবদুল হাকিম
সঠিক উত্তর:
আলাওল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাওল
ব্যাখ্যা
• 'সিকান্দরনামা' গ্রন্থটির রচয়িতা - আলাওল
- এটি ১৬৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি নিজামি সমরখন্দের ফারসি কাব্য 'ইস্‌কান্দার নামা'র সরল অনুবাদ।

আলাওল:
- তিনি (আনুমানিক) ১৬০৭ সালে জোবরা গ্রাম, হাটহাজারি, চট্টগ্রাম;  মতান্তরে ফতেহাবাদ পরগনা, ফরিদপুর এ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি ও পণ্ডিত। বাংলা, সংস্কৃত, পারসি ও আরবি ভাষা জানতেন।
- আলাওল মগরাজের সেনাবাহিনীতে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন।
- আরাকানে আলাওলকে কাব্য রচনায় উৎসাহিত করেন - কোরেশী মাগন ঠাকুর।

এ পর্যন্ত আলাওলের ৭টি গ্রন্থের সন্ধান পাওয়া যায়। গ্রন্থগুলো হলো:
• পদ্মাবতী,
• সয়ফুলমূলক বদিউজ্জামাল,
• হপ্তপয়কর,
সিকান্দরনামা,
• তোহ্ফা‌ বা তত্ত্বোপদেশ,
• রাগতালনামা,
• দৌলত কাজীর অসমাপ্ত গ্রন্থ 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী'।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর হিন্দিকাব্য 'পদুমাবৎ' অবলম্বনে আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা - পদ্মাবতী।
- ১৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৭১.
মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা নয় কোনটি?
  1. কালিকামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
কালিকামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালিকামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা নয় - কালিকামঙ্গল। 

• একটি মঙ্গলকাব্যে সাধারণত - ৫ টি অংশ থাকে।
যথা:
- বন্দনা,
- আত্মপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখণ্ড,
- শ্রুতিফল।

• মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩ টি।
যথা:
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- অন্নদামঙ্গল।

মঙ্গলকাব্য:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য / উপ্যনাস মঙ্গলকাব্য হচ্ছে দেবদেবীর মাহাত্ন্য নির্ভর কাব্য।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন - মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৭২.
জয়দেবের রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কোন ধরনের রচনা?
  1. মহাকাব্য
  2. গীতিকাব্য
  3. নাট্যকাব্য
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
গীতিকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতিকাব্য
ব্যাখ্যা
• ‘গীতগোবিন্দম্’ গীতিকাব্য:
- জয়দেবের বিখ্যাত রচনা ‘গীতগোবিন্দম্’ কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন।
- এটি একটি সংস্কৃত গীতিকাব্য।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা এর মুখ্য বিষয়।
- ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে এটি রচিত।
- বর্ণিত বিষয়ের তত্ত্বনির্দেশক বারোটি ভিন্ন ভিন্ন নামে সর্গগুলির নামকরণ করা হয়েছে।
- কাব্যের নায়ক-নায়িকা রাধা-কৃষ্ণ হলেও তাঁদের প্রতীকে জীবাত্মা-পরমাত্মার সম্পর্ক এবং নর-নারীর চিরন্তন প্রেমই এর মূল বক্তব্য।
- রাগমূলক গীতসমূহ এ কাব্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। পরবর্তীকালের বাংলা পদাবলি সাহিত্যে এর গভীর প্রভাব পড়েছে।
- বৈষ্ণব সম্প্রদায় ও সাহিত্য-রসিকদের নিকট গীতগোবিন্দম্ এক সময় পরম শ্রদ্ধার বিষয় ছিল।
- গীতগোবিন্দম্-এর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে চরণশেষে অন্তমিল অনুসৃত হয়েছে, যা সংস্কৃত সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রায়শই দুর্লভ।

-------------
• জয়দেব:
- জয়দেব (বার’শ শতক) বাঙালি কবি। তবে তাঁর সাহিত্য ভাষা ছিল সংস্কৃত।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অজয়নদের তীরবর্তী কেন্দুবিল্ব বা কেঁদুলি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- কেউ কেউ তাঁকে মিথিলা বা উড়িষ্যার অধিবাসী বলেও মনে করেন।
- জয়দেব ছিলেন লক্ষ্মণসেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের অন্যতম।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,০৭৩.
হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পীরিতি লাগি থির নাহি বান্ধে’ - উক্তিটি কোন কবির?
  1. ক) জ্ঞানদাস
  2. খ) গোবিন্দদাস
  3. গ) চন্ডীদাস
  4. ঘ) লোচনদাস
সঠিক উত্তর:
ক) জ্ঞানদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
‘হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পীরিতি লাগি থির নাহি বান্ধে’ - উক্তিটি মধ্যযুগের কবি জ্ঞানদাসের। 

- বৈষ্ণব কবিতার চার মহাকবি বিদ্যাপতি, চন্ডীদাস, গোবিন্দদাস, জ্ঞানদাস।
- তাঁদের মধ্যে বিদ্যাপতি ও গোবিন্দদাস লিখেছেন ব্রজবুলি ভাষায়, আর চন্ডীদাস ও জ্ঞানদাস লিখেছেন
   খাঁটি বাংলা ভাষায়।
- জ্ঞানদাস একমাত্র কবি যিনি বাংলা ও ব্রজবুলি দুই ভাষা মিলিয়ে পদ রচনা করেছেন।
- জ্ঞানদাসের একটি উল্লেখযোগ্য কবিতা : 
- রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর
  প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।
  হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে
  পরাণ পীরিতি লাগি থির নাহি বান্ধে।


উৎস : লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
১,০৭৪.
'গোপীচাঁদের সন্ন্যাস' কে রচনা করেছেন?
  1. ভবানী দাস
  2. শুকুর মহম্মদ
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. ফকির গরীবুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
শুকুর মহম্মদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুকুর মহম্মদ
ব্যাখ্যা
• নাথসাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত 'গোপীচাঁদের সন্ন্যাস' কাব্যের রচয়িতা শুকুর মহম্মদ।

- নাথসাহিত্য নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- ১৮৭৮ সালে জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন মানিকচন্দ্র রাজার গান নামে এটি প্রথম প্রকাশ করেন।
- পরবর্তিকালে উত্তর ও পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন স্থান থেকে ময়নামতীর গান, গোপীচন্দ্রের গান, গোপীচাঁদের সন্ন্যাস ইত্যাদি ভিভিন্ন নামৌকই কাহিনি ভিত্তিক পুঁথি আবিষ্কৃত হয়েছে।
- গোপীচন্দ্রের কাহিনী বাংলাদেশে ময়নামতীর গান, গোবিন্দচন্দ্রগীত এবং গোপীচাঁদের সন্ন্যাস এ তিন নামে প্রচলিত।
- এ কাহিনীর তিনজন কবি হলেন দুর্লভ মল্লিক, ভবানী দাস ও শুকুর মহম্মদ।
- শুকুর মহম্মদের কাব্যের নাম 'গোপীচাঁদের সন্ন্যাস'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৭৫.
কাকে অভিনব জয়দেব বলা হয়?
  1. চণ্ডীদাস
  2. শ্রীচৈতন্য
  3. বিদ্যাপতি
  4. আলাওল
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি: 
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি বাঙালি না হয়েও অথবা বাংলায় কবিতা রচনা না করেও “বাঙালি বৈষ্ণবের গুরুস্থানীয়, রসিক বাঙালির শ্রদ্ধেয় কবি, বৈষ্ণব সহজিয়া সাধকদের নবরসিকের অন্যতম।'
- ‘মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত এই বিস্ময়কর প্রতিভাশালী কবি একাধারে কবি, শিক্ষক, কাহিনিকার, ঐতিহাসিক, ভূবৃত্তান্ত- লেখক ও স্মার্ট নিবন্ধকার হিসেবে ধর্মকর্মের ব্যবস্থাদাতা ও আইনের প্রামাণ্য গ্রন্থের লেখক ছিলেন।
- তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল: নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায়, রাজপণ্ডিত ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
১,০৭৬.
'সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু অনলে পুড়িয়া গেল।'- বিখ্যাত পদটি কার রচনা?
  1. জ্ঞানদাস
  2. চণ্ডীদাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. গোবিন্দদাস 
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা

• জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস ছিলেন চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি।
- জ্ঞানদাস বাংলা ও ব্রজবুলি ভাষায়, রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় ২শ (মতান্তরে চারশ) পদ লেখেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।

বিরহের মর্মস্পর্শী আর্তি ফুটে উঠেছে জ্ঞানদাসের কবিতায়:
রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।।

তাঁর আরো একটি বিখ্যাত পদ:
সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু অনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়-সাগরে সিনান করিতে সকলি গরল ভেল।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,০৭৭.
পদসঙ্গীত ধারার রূপকার ছিলেন- 
  1. রামনিধি গুপ্ত 
  2. গোবিন্দদাস 
  3. বিদ্যাপতি
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা

• বিদ্যাপতি:
- বিদ্যাপতি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর।
- বাঙালী কবি না হয়েও বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
- বিদ্যাপতি মৈথিলী, অবহষ্ঠ ও সংস্কৃত ভাষায় বহু গ্রন্থ ও পদ রচনা করেন। শৈব বংশে জন্ম বলে তিনি বহু শৈবসঙ্গীতও রচনা করেন। কিন্তু ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ-বিষয়ক পদগুলিই তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি। সুমধুর এই বৈষ্ণব পদাবলির জন্যই তিনি বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে আছেন।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।

তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল:
- নব কবিশেখর,
- কবিরঞ্জন,
- কবিকণ্ঠহার,
- পণ্ডিত ঠাকুর,
- সদুপাধ্যায় ও রাজপণ্ডিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,০৭৮.
‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’ পঙক্তিটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) চন্দ্রাবতী
  2. খ) পদ্মাবতী
  3. গ) লাইলি মজনু
  4. ঘ) ইউসুফ জুলেখা
সঠিক উত্তর:
খ) পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’ পঙক্তিটি আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' কাব্যে রূপ বর্ণনা খন্ডে লেখা আছে। 
- পদ্মাবতী - মহাকবি আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্যে
- পদ্মাবতী মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- ১৬৫২ খ্রিস্টাব্দে আরাকান অমাত্যসভার কবি  আলাওল প্রধানমন্ত্রী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে হিন্দিপদুমাবৎ কাব্য অবলম্বনে এটি রচনা করেন।
- এর মূল রচয়িতা ছিলেন মালিক মোহাম্মদ জায়সী।

"সুচারু সুরস অতি রাতুল অধর।
লাজে বিম্ব বান্ধুলি গমন বনান্তর।।
মাণিক্য প্রবাল অতি নীরস কর্কশ।
অধরের অমিয় স্রবে এই মহারস।।
রক্ত উৎপল লাজে জলান্তরে বৈসে।
তাম্বুল রাতুল হৈল অধর পরশে।।"
(পদ্মাবতীর রুপবর্ণনা অংশ থেকে)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৭৯.
'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বাংলায় অনুবাদ করেন কে?
  1. মুহম্মদ আলী
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ
  3. শাহ বারিদ খান
  4. নওয়াজিস খান
সঠিক উত্তর:
নওয়াজিস খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াজিস খান
ব্যাখ্যা

গুলে বকাওলী:
- ইজ্জতুল্লা নামক এক বাঙালি লেখক রচিত পারসি গ্রন্থ গুলে বকাওলী'।
- ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে রচিত 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থটি রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য।
- সতের শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বঙ্গানুবাদ করেন।
- এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী ও উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০৮০.
শ্রীচৈতন্যদেবের প্রকৃত নাম কী ছিল?
  1. কৃষ্ণচৈতন্য
  2. গৌরাঙ্গ চন্দ্র
  3. বিশ্বম্ভর মিশ্র
  4. নিমাই পণ্ডিত
সঠিক উত্তর:
বিশ্বম্ভর মিশ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বম্ভর মিশ্র
ব্যাখ্যা
শ্রীচৈতন্যদেব:
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত। 
- তাঁর পিতা জগন্নাথ মিশ্র সিলেট জেলার দক্ষিন গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।
১৫৩৩ সালে পুরীতে মারা যান।
- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৮১.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের দ্বিতীয় খণ্ড কোনটি?
  1. বংশীখণ্ড
  2. তাম্বুলখণ্ড
  3. জন্মখণ্ড
  4. রাধাবিরহ
সঠিক উত্তর:
তাম্বুলখণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাম্বুলখণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি।
- কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।

• এটি মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।
খণ্ডগুলি হলো:
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড (রাধাবিরহ)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৮২.
‘কবীন্দ্র’ মধ্যযুগের কোন কবির উপাধি?
  1. রামপ্রসাদ সেন
  2. গোবিন্দদাস
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর
  4. মালধর বসু
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
⇒ গোবিন্দদাস: 
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস। তিনি দ্বিতীয় বিদ্যাপতি নামেও খ্যাত।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন।     

গোবিন্দদাস রচিত পদেও অংশ বিশেষ:
ঢল ঢল কাঁচা অঙ্গের লাবণি,
আবনী বহিয়া যায়।
ঈষত হাসির তরঙ্গ-হিলোলে
মদন মুরছা পায়।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৮৩.
মর্সিয়া সাহিত্য রচয়িতাদের মধ্যে হিন্দু কবি ছিলেন -
  1. জয়দেব
  2. রাধারমণ গোপ
  3. রামনিধি গুপ্ত
  4. রামরাম বসু
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ গোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ গোপ
ব্যাখ্যা
• মর্সিয়া সাহিত্য:
কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।

- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তার গ্রন্থের নাম জয়নাবের চৌতিশা (১৫৭০)। 

- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন রাধারমণ গোপ৷
- তাঁর গ্রন্থ: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।
- 'মুক্তল হোসেন' হলো মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।  

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১,০৮৪.
বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত কয়টি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়।
যথা:

আদি যুগ:
প্রাক্-তুর্কি আক্রমণ যুগ (৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত বিস্তৃতি ছিল। চর্যাপদ ছিল আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।

মধ্যযুগ :
বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের বিস্তার চার শতাব্দী ধরে।
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে তিনটি ভাগ যথাক্রমে:
- ১২০১-১৫০০ - প্রাকচৈতন্য যুগ;
- ১৫০১-১৬০০ চৈতন্য যুগ;
- ১৬০১-১৮০০ চৈতন্য পরবর্তী যুগ।

এছাড়া ১২০১-১৩৫০ সাল পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলা হয়।

আধুনিক যুগ:
১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ। এই কলেজের পাঠ্যপুস্তক রচনার মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে আধুনিক যুগে।
- আখ্যনকাব্য, মহাকাব্য, নাটক-প্রহসন, গীতিকাব্য এবং সংবাদপত্র- সাময়িকপত্রের পথ ধরে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে এসে বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
১,০৮৫.
কে জঙ্গনামা শ্রেণির কাব্যধারার কবি নন?
  1. ফকির গরিবুল্লাহ
  2. দৌলত উজির বাহরাম খান
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. আলাওল
সঠিক উত্তর:
আলাওল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাওল
ব্যাখ্যা
‘জঙ্গনামা’:
- জঙ্গনামা  মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ বা তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা। অর্থ্যাৎ ‘জঙ্গনামা’ কাব্যের বিষয় যুদ্ধ-বিগ্রহ।
- বিশেষত  হযরত মুহম্মাদ (স.) ও তাঁর স্বজনদের যুদ্ধই এ শ্রেণীর কাব্যের মূল বিষয়। যেসব যুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে।
- তাই আরবি-ফারসি সাহিত্যে যেমন, বাংলা সাহিত্যেও তেমনি ‘জঙ্গনামা’ বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।

জঙ্গনামা শ্রেণির কাব্যধারার উল্লেখযোগ্য কবি ও কাব্যের নাম হলো: 
- শেখ ফয়জুল্লাহ, (জয়নবের চৌতিশা), 
- দৌলত উজির বাহরাম খান (জঙ্গনামা),
- মুহম্মদ খান (মকতুল হোসেন), 
- শেরবাজ (কাশিমের লড়াই ও ফাতিমার সুরতনামা), 
- হেয়াত মামুদ (জারি-জঙ্গনামা),
- জাফর (শহীদ-ই-কারবালা ও সখিনার বিলাপ),
- হামিদ (সংগ্রাম হুসেন), 
- ফকির গরিবুল্লাহ (জঙ্গনামা ও সোনাভান), 
- মুহম্মদ হামিদুল্লাহ খান (গুলজার-ই-সাহাদৎ) এবং
- ওয়াহিদ আলী (বড় জঙ্গনামা)।

অন্যদিকে,
আলাওল (আনু. ১৬০৭-১৬৮০) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,০৮৬.
‘মনসাবিজয়’ কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. বিজয়গুপ্ত
  2. বিপ্রদাস পিপিলাই
  3. দ্বিজ বংশীদাস
  4. কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ
সঠিক উত্তর:
বিপ্রদাস পিপিলাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপ্রদাস পিপিলাই
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) বিপ্রদাস পিপিলাই

• মনসাবিজয়:
- মধ্যযুগের 'মনসাবিজয়' কাব্যটি রচনা করেছেন - 'বিপ্রদাস পিপিলাই'।
- বিজয়গুপ্তের প্রায় সমসাময়িক কবি বিপ্রদাস পিপিলাই।
- তিনি বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গল (পদ্মপুরাণ) রচনার প্রায় এক বৎসর পরে তাঁর 'মনসাবিজয়' কাব্য রচনা করেন।
- মনসামঙ্গলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি 'দ্বিজ বংশীদাস'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০৮৭.
ফারসি ভাষায় 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থ রচনা করেছেন-
  1. মুহাম্মদ মুকীম 
  2. নওয়াজিস খান 
  3. শেখ ইজ্জতুল্লাহ্
  4. আবদুল হাকিম 
সঠিক উত্তর:
শেখ ইজ্জতুল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ইজ্জতুল্লাহ্
ব্যাখ্যা

• গুলে বকাওলী':
- শেখ ইজ্জতুল্লাহ্ নামে জনৈক বাঙালি লেখক ১৭২২ সালে ফারসি ভাষায় 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। এ গ্রন্থটি হিন্দি থেকে ভাষান্তরিত।

- গদ্যে রচিত এ গ্রন্থের কাহিনি নওয়াজিস খান কাব্যে রূপ দিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়। ঘটনা রূপায়ণের বৈশিষ্ট্য বিচার করলে নওয়াজিস খানকে মনে হয় ইজ্জতুল্লাহ্‌র অনুসারী। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে কবি নওয়াজিস খান কাব্যটি ফারসি থেকে অনুবাদ করেছিলেন। কাব্যের কাহিনি প্রেমমূলক।

গ্রন্থের কাহিনি সংক্ষেপ-
শর্কিস্তানের রাজপুত্র তাজুলমুলুক পিতার অন্ধত্ব দূর করার জন্য পরীরাজকন্যা বকাওলীর উদ্যানের বকাওলী ফুলের সন্ধানে যায় । বহু দুঃখকষ্ট ও বাধাবিপত্তির শেষে ফুল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। সেখানে রাজকন্যা বকাওলীর নিদ্রিতাবস্থায় তাজুলমুলুক অঙ্গুরীয় বিনিময় করে এবং প্রেমপত্র লিখে রেখে দেশে ফিরে আসে। বকাওলী তাজুলের প্রতি প্রেমাসক্ত হয়ে তার অনুসন্ধানে বহির্গত হয় এবং বহু দুঃখ অতিক্রমের পর তার সঙ্গে মিলনে সক্ষম হয়। এই মূলকাহিনির সঙ্গে আরও উপকাহিনির সংযোজন ঘটেছে। কাহিনিটি অলৌকিকতায় পরিপূর্ণ বলে তাতে রোমান্সের বৈশিষ্ট্য প্রকাশমান।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

১,০৮৮.
'আমার পরিচয়' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) রফিক আজাদ
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
'আমার পরিচয়' কবিতাটির রচয়িতা- 'সৈয়দ শামসুল হক'  

• সৈয়দ শামসুল হক
- একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক।
- কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, অনুবাদ তথা সাহিত্যের সকল শাখায় সাবলীল পদচারণার জন্য তাঁকে 'সব্যসাচী' লেখক বলা হয়।
- তিনি মাত্র ২৯ বছর বয়সে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেছিলেন।

আমার পরিচয়- কবিতা 
- সৈয়দ শামসুল হক

আমি জন্মেছি বাংলায়
আমি বাংলায় কথা বলি।
আমি বাংলার আলপথ দিয়ে, হাজার বছর চলি।
চলি পলিমাটি কোমলে আমার চলার চিহ্ন ফেলে।
তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?

আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে
আমি তো এসেছি সওদাগরের ডিঙার বহর থেকে।
আমি তো এসেছি কৈবর্তের বিদ্রোহী গ্রাম থেকে
আমি তো এসেছি পালযুগ নামে চিত্রকলার থেকে।

এসেছি বাঙালি পাহাড়পুরের বৌদ্ধবিহার থেকে
এসেছি বাঙালি জোড়বাংলার মন্দির বেদি থেকে।
এসেছি বাঙালি বরেন্দ্রভূমে সোনা মসজিদ থেকে
এসেছি বাঙালি আউল-বাউল মাটির দেউল থেকে।(সংকলিত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৮৯.
পুঁথি সাহিত্যে প্রাচীনতম লেখক কে?
  1. ভারত চন্দ্র রায় 
  2. কাজী দৌলত 
  3. আবদুল হাকিম 
  4. ফকির গরীবুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ফকির গরীবুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফকির গরীবুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• পুঁথি সাহিত্যের প্রাচীনতম লেখক - ফকির গরীবুল্লাহ।
------------------
• পুঁথি সাহিত্য:
- পুঁথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত। হুগলির বালিয়া-হাফেজপুরের কবি ফকির গরীবুল্লাহ (আনু. ১৬৮০-১৭৭০) আমীর হামজা রচনা করে এ কাব্যধারার সূত্রপাত করেন।
---------------------
- দোভাষী পুঁথি বা পুঁথি সাহিত্যর প্রাচীনতম, আদি, শ্রেষ্ঠ ও সার্থক কবি ফকির গরীবুল্লাহ।
- ফকির গরীবুল্লাহ না থাকলে উত্তর হবে সৈয়দ হামজা।
- মর্সিয়া‌ সাহিত্যের আদি কবি শেখ ফয়জুল্লাহ।
-------------------
• পুঁথি সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ফকির গরীবুল্লাহ্‌।
- তিনি ’আমীর হামজা’ কাব্য রচনা করেন।

• ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্য-
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- সােনাভান,
- জঙ্গনামা,
- সত্যপীরের পুঁথি ও
- ইউসুফ জোলেখা। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১,০৯০.
'জয়নবের চৌতিশা' গ্রন্থটি কোন ধারার সাহিত্য?
  1. বৈষ্ণব পদাবলী
  2. দোভাষী পুঁথি
  3. নাথ সাহিত্য
  4. মর্সিয়া সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
মর্সিয়া সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মর্সিয়া সাহিত্য
ব্যাখ্যা

'মর্সিয়া' সাহিত্য: 
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনী নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি হলেন - শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তার রচিত গ্রন্থের নাম 'জয়নবের চৌতিশা' এটি ১৫৭০ সালে প্রকাশিত হয়। 
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন- রাধারমণ গোপ। 
- রাধারমণ গোপ রচিত গ্রন্থ হলো: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০৯১.
মর্সিয়া সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত কোনটি?
  1. ক) ইউসুফ জোলেখা
  2. খ) মক্তুল হোসেন
  3. গ) গুলে বকাওলী
  4. ঘ) গোরাক্ষবিজয়ের কাহিনি
সঠিক উত্তর:
খ) মক্তুল হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মক্তুল হোসেন
ব্যাখ্যা
কারবালা-কেন্দ্রিক কাব্যের অপর নাম মর্সিয়া সাহিত্য। 
- আরবি ‘মর্সিয়া’ শব্দের অর্থ শোক।
- শোকবিষয়ক রচনাকে মর্সিয়া সাহিত্য বা শোককাব্য বলা হয়। 
- বাংলায় এ কাব্যধারা মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত প্রচলিত ছিল।

- মুহম্মদ খান রচিত 'মক্তুল হোসেন' (হোসেন নিধন) মর্সিয়া সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত।
- এটি ফরাসি 'মক্তুল হোসেন' কাব্যের ভাবানুবাদ। 
- ইমাম হোসেন নিহত হলে কি অবস্থা হয়েছিল তাঁর বর্ণনা দিয়েছেন এ কাব্যে।

- গোরাক্ষবিজয়ের কাহিনি - নাথসাহিত্য।
- ইউসুফ জোলেখা এবং গুলে বকাওলী - রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৯২.
'পরাগলী মহাভারত' খ্যাত গ্রন্থের অনুবাদকের নাম কী?
  1. সঞ্চয়
  2. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  3. শ্রীকর নন্দী
  4. কাশীরাম দাস
সঠিক উত্তর:
কবীন্দ্র পরমেশ্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবীন্দ্র পরমেশ্বর
ব্যাখ্যা
• 'পরাগলী মহাভারত:
- 'পরাগলী মহাভারত' খ্যাত গ্রন্থের লেখক কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- তিনি মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি।
- নবাব হুসেন শাহ্‌ (১৪৯৩-১৫১৮) চট্টগ্রাম শাসনের জন্য পরাগল খাঁ নামক এক লস্কর নিযুক্ত করেন।
- যুদ্ধপ্রিয় পরাগল খাঁ মহাভারতের যুদ্ধকাহিনি শুনে গ্রন্থটি অনুবাদের জন্য পরমেশ্বর দাসকে নির্দেশ দেন।
- তাই কবীন্দ্র পরমেশ্বর এর অনুবাদকৃত মহাভারতকে 'পরাগলী মহাভারত' বলা হয়।
- কবীন্দ্র তাঁর রচিত মহাভারতের নাম দিয়েছেন ‘ভারত পাঁচালী’।

অন্যদিকে,
• 'ছুটি খাঁনী' মহাভারত:
- চট্টগ্রামের শাসনকর্তা পরাগল খান মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র ছুটি খাঁ সভাসদ শ্রীকর নন্দীকে মহাভারত অনুবাদের নির্দেশ দেন।
- ছুটিখানের আদেশে জৈমিনি মহাভারতের ওপর নির্ভর করে কেবল ‘অশ্বমেধ পর্বের’ অংশ নিয়ে শ্রীকর নন্দী 'ভারত পাঁচালী' রচনা করেন।
- শ্রীকর নন্দী রচিত ভারত পাঁচালী 'ছুটি খাঁনী' মহাভারত নামেও পরিচিত।
- কেউ কেউ বলে পরাগলী মহাভারতের অসম্পূর্ন অংশ সম্পূর্ণ করেছেন শ্রীকর নন্দী।

•  ‘মহাভারত' কাব্যের মূল রচয়িতা হচ্ছেন কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।
•  মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকের নাম কাশীরাম দাস। ‘মহাভারত' কাব্যগ্রন্থটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,০৯৩.
কে প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’ এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন?
  1. ক) জ্ঞানদাস
  2. খ) চণ্ডীদাস
  3. গ) কবি কঙ্ক
  4. ঘ) বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর:
ক) জ্ঞানদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
 জ্ঞানদাস:
• জ্ঞানদাস  চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
•  জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন। তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
• তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ। 
• পদরচনায় তিনি  বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন। 

- বিরহের মর্মস্পর্শী আর্তি ফুটে উঠেছে তাঁর কবিতায়-
'রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর' 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
১,০৯৪.
"শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" কাব্যে মোট কতটি সংস্কৃত শ্লোক আছে?
  1. ১৬১টি
  2. ১৬৭টি
  3. ১৬৬টি
  4. ১৬৯টি
সঠিক উত্তর:
১৬১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬১টি
ব্যাখ্যা

"শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" কাব্য:
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি। কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু। এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।
- কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতণ্ডতা, রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে।
- এতে গীতিরসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়। কাব্যটি শৃঙ্গাররসপ্রধান এবং ঝুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত। এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে খণ্ডিতপদসহ মোট পদের সংখ্যা ৪১৮টি। পুঁথিতে সংস্কৃত শ্লোক আছে ১৬১টি।
- পুঁথির পাতার সংখ্যা ২২৬, অতএব পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪৫২; এর মধ্যে মাঝের মোট ৪৫ পৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি। ৪৫ পৃষ্ঠা বাদ গেলে পুঁথির প্রাপ্ত পৃষ্ঠার সংখ্যা ৪০৭।
- পুঁথির লিপি তিন হাতের লেখা। ৪১৮টি পদের মধ্যে কবির ভণিতা আছে ৪০৯টি।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য মোট তের খণ্ডে বিভক্ত। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যেের খণ্ডগুলো হলো-
- জন্মখণ্ড, 
- তাম্বুলখণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড, 
- ভারখণ্ড, 
- ছত্রখণ্ড, 
- বৃন্দাবনখণ্ড,
- কালিয়দমনখণ্ড, 
- যমুনাখণ্ড, 
- হারখণ্ড, 
- বাণখণ্ড,
- বংশীখণ্ড ও 
- রাধাবিরহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

১,০৯৫.
কোনটি চন্দ্রাবতীর রচিত কাব্য?
  1. মহুয়া
  2. দস্যু কেনারামের পালা
  3. কমলা
  4. দেওয়ানা মদিনা
সঠিক উত্তর:
দস্যু কেনারামের পালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দস্যু কেনারামের পালা
ব্যাখ্যা
চন্দ্রাবতী:
- চন্দ্রাবতী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের ষোলো শতকের একজন উল্লেখযোগ্য নারী কবি।
- মহিলা কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণ রচনা করে পুরাতন বাংলা সাহিত্যর ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে গৌরব অর্জন করেন।
- মধ্যযুগের তিনজন প্রধান নারী কবির একজন চন্দ্রাবতী।
- অপর দুইজন চণ্ডীদাস অনুরাগী রামী ও চৈতন্যের কৃপাপাত্রী মাধবী।
- চন্দ্রাবতীর পিতা ছিলেন মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাস।
- তিনি পিতার আদেশে 'রামায়ণ' অনুবাদে হাত দেন। কিন্তু তা সমাপ্ত করার পূর্বে মারা যান।
- তাঁর রচনার বৈশিষ্ট্য ষোড়শ শতাব্দীর সামাজিক অর্থনৈতিক অবস্থা প্রতিফলিত করা।

• চন্দ্রাবতী রচিত কাব্যগুলো হলো:
- মলুয়া
- দস্যু কেনারামের পালা
- রামায়ণ।

অন্যদিকে,
- মহুয়া-দ্বিজ কানাই,
- কমলা- দ্বিজ ঈশান,
- দেওয়ানা মদিনা- মনসুর বয়াতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা: ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৯৬.
আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' কাব্যগ্রন্থের মূল রচয়িতা কে?
  1. ক) কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাসদেব
  2. খ) রত্নাকর
  3. গ) মালিক মুহম্মদ জায়সির
  4. ঘ) চন্দ্রাবতী
সঠিক উত্তর:
গ) মালিক মুহম্মদ জায়সির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মালিক মুহম্মদ জায়সির
ব্যাখ্যা
- পদ্মাবতী কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা আলাওল।
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- পদ্মাবতী তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।

- তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ সমুহ -
- সিকান্দার নামা
- তোহফা
- সপ্ত পয়কর
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

প্রশ্নে উল্লেখিত অন্য অপশন গুলোর মধ্যে -
রত্নাকর - হচ্ছে বাল্মীকির ছন্দনাম, তিনি রামায়ণ এর মূল রচয়িতা। 
কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাসদেব - মহাভারত এর মূল রচয়িতা।
চন্দ্রাবতী - রামায়নের প্রথম মহিলা অনুবাদক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৯৭.
বাংলা টপ্পাগান প্রবর্তন করেন কে?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. রামপ্রসাদ সেন
  3. ভক্তপ্রসাদ সেন
  4. দাশরথি রায়
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• বাংলা টপ্পাগানের প্রবর্তক রামনিধি গুপ্ত।

• টপ্পা গান:
- কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল।

• রামনিধি গুপ্ত:

- রামনিধি গুপ্তর ডাক নাম নিধু (বাবু)।
- তিনি বাংলা টপ্পাগানের প্রবর্তক।
- ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টপ্পা শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা:

নানান দেশের নানান ভাষা
বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা?

- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম 'গীতরত্ন' (১৮৩২)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৯৮.
বাংলার ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয় কাকে?
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. চণ্ডীদাস
  3. আলাওল
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীদাস:
- চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন।
- চণ্ডীদাসকে বাংলার ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।
- তিনি ‘শুনহ মানুষ ভাই/ সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই' বলে জাত-পাতযুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বাণী কাব্যে ধারণ করেছেন বলে তাকে মানবতার কবি বলা হয়। তাছাড়া ব্যক্তিজীবনেও তিনি জাত-সংস্কারের ঊর্ধ্বে ছিলেন।
- চণ্ডীদাস সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মন্তব্য করেছেন “চণ্ডীদাস সহজ ভাষায় সহজ ভাবের কবি-এই গুণে তিনি বঙ্গীয় প্রাচীন কবিদের মধ্যে প্রধান কবি”।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।

অন্যদিকে,
• মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
• আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
• চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১,০৯৯.
ভয় কি মরণে থাকিতে সন্তানে
মাতঙ্গী মেতেছে আজ সমর রঙ্গে।' গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) চন্ডীদাস
  2. খ) মুকুন্দদাস
  3. গ) ব্রজেন দাস
  4. ঘ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
খ) মুকুন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুকুন্দদাস
ব্যাখ্যা
চারণকবি মুকুন্দদাস (১৮৭৮ - ১৯৩৪):
- জন্ম গ্রহণ করেন অধুনা বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের বানারি গ্রামে।
- ১৯০২ - ১৯০৩ মধ্যে তাঁর রচিত শতাধিক গান “সাধন সংগীত” নামে প্রকাশিত হয়। সেই কাব্যগ্রন্থের গানে তিনি “মুকুন্দ” ভণিতা দিয়েছিলেন।
-  ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জনের বাংলাকে ভাগ করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময়কালে মুকুন্দদাস স্বদেশী যাত্রার মাধ্যমে ব্রিটিশ বিরোধী ভাবনাকে প্রচার করেন এবং চারণকবি মুকুন্দাস নামে খ্যাত হন। সেই  কারণে তিনি ব্রিটিশ সরকারের চক্ষ্মুশূল হয়ে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে কারাবরণ করেন।
- তার সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে - গান গেয়েই তিনি ব্রিটিশ সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন।

মুকুন্দদাসের কয়েকটি বিখ্যাত গানঃ
- ‘হাসি হাসি পরব ফাঁসি/দেখবে জগৎ বাসী/একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি।’ (বিপ্লবী ক্ষুদিরামের ফাঁসির পর রচিত)
- 'ছেড়ে দেও কাঁচের চুড়ি বঙ্গনারী' (স্বদেশী আন্দোলন বিশেষ করে বিদেশী পন্য বর্জনের সময়)
- ‘ভয় কি মরণে থাকিতে সন্তানে
মাতঙ্গী মেতেছে আজ সমর রঙ্গে।'

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা-কবিতা ব্লগ।
১,১০০.
'যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী।
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।।' - কবিতাংশটি
কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. নূরনামা
  2. নসিহতনামা
  3. মধুমালতী
  4. ইউসুফ-জুলেখা
সঠিক উত্তর:
নূরনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নূরনামা
ব্যাখ্যা
• যে সব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী। সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।'
- কবিতাংশটির আবদুল হাকিম রচিত 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'বঙ্গবানী' কবিতার অংশ বিশেষ।

-------------------
• আব্দুল হাকিম:
- তিনি সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি ছিলেন।
- নোয়াখালী জেলার বাবুপুর (মতান্তরে সন্দ্বীপের সুধারাম) ছিল কবির আবাসভূমি।
- তাঁর পিতা শাহ্ রাজ্জাক ছিলেন একজন পন্ডিত ব্যক্তি এবং তাঁর পীর ছিলেন সাহাবুদ্দীন।
- আবদুল হাকিম আরবি, ফারসি ও সংস্কৃত ভাষায় বিশেষ ব্যুৎপন্ন ছিলেন।
- হাদীস, আল-কুরআন, ফেকাহ প্রভৃতি শাস্ত্র এবং রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণ সম্পর্কেও তাঁর গভীর পান্ডিত্য ছিল।
- আব্দুল হাকিমের ৫টি কাব্য পাওয়া যায়।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
- হানি-ফার লড়াই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।