বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

গদ্য সাহিত্যের বিকাশ (গল্প, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদি)

মোট প্রশ্ন৭৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

গদ্য সাহিত্যের বিকাশ (গল্প, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদি)

PrepBank · পাতা / · ৫০১৬০০ / ৭৩৭

৫০১.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক কোনটি?
  1. ক) সুচন নির্বাসনে
  2. খ) রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. গ) নুরলদীনের সারা জীবন
  4. ঘ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা
• 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল রচিত মুক্তযুদ্ধের কাব্যনাটক।
- বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

অন্যদিকে, 
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের পটভূমিকায় মুনীর চৌধুরীর লেখা মৌলিক নাটক - রক্তাক্ত প্রান্তর
রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের পটভূমিকায় সৈয়দ সামসুল হক রচিত নাটক - নুরুলদীনের সারা জীবন 
আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক - সুবচন নির্বাসনে 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৫০২.
কোনটি তিনটি ত্রয়ী উপন্যাস নয়?
  1. ক) আনন্দমঠ - দেবী চৌধুরাণী - সীতারাম
  2. খ) ধাত্রীদেবতা – গণদেবতা - পঞ্চগ্রাম
  3. গ) চৌরসন্ধি – জলাঙ্গী - পতঙ্গ পিঞ্জর
  4. ঘ) ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান - পদ্মা মেঘনা যমুনা - সংকর সংকীর্তন
সঠিক উত্তর:
গ) চৌরসন্ধি – জলাঙ্গী - পতঙ্গ পিঞ্জর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চৌরসন্ধি – জলাঙ্গী - পতঙ্গ পিঞ্জর
ব্যাখ্যা
আনন্দমঠ - দেবী চৌধুরাণী - সীতারাম হলো বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাস। ধাত্রীদেবতা – গণদেবতা - পঞ্চগ্রাম হলো তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাস। ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান - পদ্মা মেঘনা যমুনা - সংকর সংকীর্তন হলো আবু জাফর শামসুদ্দিন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস। অন্যদিকে শওকত ওসমান রচিত চৌরসন্ধি - জলাঙ্গী - পতঙ্গ পিঞ্জর ত্রয়ী উপন্যাস নয়। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
৫০৩.
জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) মাল্যদান
  2. খ) কবিতার কথা
  3. গ) সতীর্থ
  4. ঘ) বোবা কাহিনী
সঠিক উত্তর:
গ) সতীর্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সতীর্থ
ব্যাখ্যা
'সতীর্থ' উপন্যাসের রচয়িতা রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ। 
- তিনি মূলত কবি হলেও উপন্যাস এবং প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেছেন। 

তাঁর দুইটি উপন্যাস- 
- মাল্যবান (১৯৭৩)
- সতীর্থ (১৯৭৪) 
- জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'কবিতার কথা'
এর বিখ্যাত উক্তি - 'সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি' 

'বোবা কাহিনী' - পল্লিকবি জসীমউদ্দীন রচিত একমাত্র উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫০৪.
'স্বর্ণলতা' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
  4. ভূদেব মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

'স্বর্ণলতা' উপন্যাস:
- আজ থেকে একশো তেরো বছর আগে অর্থাৎ ইংরাজী ১৮৭৪ সালের ২৮শে এপ্রিল (বাং ১২৮১ সাল) তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের 'স্বর্ণলতা' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- যে সময়ে ইংরাজী উপন্যাস সাহিত্য, বাংলা উপন্যাসের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করেছিল-সেই সমরে তারকনাথ গ্রামবাংলার মধ্যবিত্ত পরিবারের সুখন্দুঃখের এক নিখত চিত্র এই 'স্বর্ণ'লতা' উপন্যাসের মাধ্যমে তুলে ধরেন। বাঙালি পাঠক-পাঠিকাদের কাছে 'স্বর্ণলতা' অত্যন্ত সমাদর
লাভ করে।

তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়:

- তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম ১৮৪৩ সালের ৩১শে অক্টোবর, নদীয়া জেলার অন্তগত বাগআঁচড়া গ্রামেবর্তমান যশোহর জেলা)।
- তাঁর পিতা মহানন্দ গঙ্গোপাধ্যায় অত্যন্ত ধার্মিক ও উদারচেতা ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর ইংরাজী শিক্ষার প্রতি যথেষ্ট অনুরাগ ছিল।
- তাই তারকনাথের যখন মাত্র দশ বৎসর বয়েস তখন তাঁকে লেখাপড়া শেখানোর জন্য কলকাতায় পাঠিয়ে দেন।
- তাঁর বাসায় থেকে তিনি লন্ডন মিশনারী সোসাইটির স্কুলে পড়াশুনা করেন।
- ১৮৬৩ সালের ফিসেশ্বর মাসে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ' হয়ে ১৪ টাকা বৃত্তিলাভ করেন।

উৎস: 'স্বর্ণলতা' উপন্যাস।

৫০৫.
'তোতা ইতিহাস' কার রচনা?
  1. ক) রামরাম বসু
  2. খ) রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়
  3. গ) চণ্ডীচরণ মুন্‌শী
  4. ঘ) গোলকনাথ শর্মা
সঠিক উত্তর:
গ) চণ্ডীচরণ মুন্‌শী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চণ্ডীচরণ মুন্‌শী
ব্যাখ্যা
⇒ চণ্ডীচরণ মুনশী ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙ্গালি লেখক এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাঙ্গলা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক।
- তাঁর রচিত একটি উপাখ্যান 'তোতা ইতিহাস'
- এটি ফরাসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত। 
- যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৫০৬.
'তোতা ইতিহাস' গল্পগ্রন্থটি চণ্ডীচরণ মুনশী কোন সাহিত্য থেকে অনুবাদ করেন?
  1. আরবি 
  2. ফারসি
  3. ইরানী 
  4. ফরাসি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা

• 'তোতা ইতিহাস':
- চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত গ্রন্থ 'তোতা ইতিহাস' একটি গল্পগ্রন্থ। যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে। এটি ফারসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত।

-----------------
• চণ্ডীচরণ মুনশী:
- চণ্ডীচরণ মুনশী অষ্টাদশ শতাব্দীতে আবির্ভূত ব্রিটিশ ভারতের একজন।
- তিনি ছিলেন বাঙ্গালী লেখক। তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাঙালা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫০৭.
কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে রঙ্গালয় স্থাপন করেন কে?
  1. প্রসন্নকুমার ঠাকুর
  2. হেরাসিম লেবেডফ
  3. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  4. হরচন্দ্র ঘোষ 
সঠিক উত্তর:
হেরাসিম লেবেডফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেরাসিম লেবেডফ
ব্যাখ্যা

বাংলা নাটকের বিকাশ:
- আঠারো শতকের শেষদিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়। কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।

- বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে। হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন। তিনি 'The Disguise' এবং 'Love is the best Doctor' নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান। এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।

- ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।
- বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৫০৮.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বন্দী শিবির থেকে
  2. খ) জাহান্নাম হইতে বিদায়
  3. গ) জাগ্রত বাংলাদেশ
  4. ঘ) নিহত নক্ষত্র
সঠিক উত্তর:
গ) জাগ্রত বাংলাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জাগ্রত বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা রচিত 'জাগ্রত বাংলাদেশ' (১৯৭১) স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম গ্রন্থ। বন্দী শিবির থেকে শামসুর রাহমানের রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ, জাহান্নাম হইতে বিদায় শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ও নিহত নক্ষত্র আহমদ ছফা গল্প সংগ্রহ। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৫০৯.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে বলা হয়- 
  1. যুগসন্ধির কবি
  2. অবক্ষয় যুগের কবি 
  3. গুপ্ত কবি 
  4. উপরের সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

• যুগসন্ধির কাল:
- ১২০১-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়টাকে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ হিসেবে ধরা হয়।
- আর ১৮০১ খ্রিস্টাব্দ - বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।

- এর মধ্যে ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই শত বছরের সময়কে বাংলা সাহিত্যের 'যুগসন্ধির কাল' বলা হয়। মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের সূচনালগ্নের এই শত বছরে চলেছে একটি নীরব প্রস্তুতি। এই প্রস্তুরি প্রধান পুরোহিত ছিলেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে 'যুগসন্ধির কাল' বা 'যুগসন্ধিক্ষণ' বা 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়ে থাকে।

- মধ্যযুগের শেষ প্রতিনিধি ভারতচন্দ্র এবং আধুনিক যুগের প্রথম পুরুষ মাইকেল মধুসূদন, এই দুই মনীষীর মধ্যবর্তীকালে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের আবির্ভাব।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তে মধ্যে মধ্যযুগের কাব্য বৈশিষ্ট্য ও আধুনিক যুগের সূচনা বৈশিষ্ট্য সমানভাবে লক্ষ্য করা যায় বলে তাঁকে যুগসন্ধির কবি বা 'অবক্ষয় যুগ' এর কবি বলা হয়। তাকে 'গুপ্ত কবি' ও বলা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৫১০.
বাংলা গদ্যকে পাঠ্যপুস্তকের গণ্ডি থেকে মুক্ত করার কৃতিত্ব কার?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গোলোকনাথ শর্মা 
  4. হরপ্রসাদ রায়
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা

• রাজা রামমোহন রায়:
বাংলা গদ্যকে পাঠ্যপুস্তকের গণ্ডি থেকে মুক্ত করার কৃতিত্ব যুগপুরুষ রাজা রামমোহন রায়-এর (১৭৭৪-১৮৩৩)। উনিশ শতকের নবজাগরণের অগ্রনায়ক ছিলেন তিনি। তাঁর উদ্যোগ ও চর্চায় বাংলা গদ্য এ সংস্কার আন্দোলনেরমাধ্যম হয়ে ওঠে ৷ সমাজ ও ধর্ম বিষয়ে প্রাণবন্ত তর্ক বিতর্কের লিখিত গদ্যরূপ বিভিন্ন পত্রিকায় ও পুস্তিকায় প্রকাশিত হয়। এ ভাবেই বাংলা গদ্য বিকাশধারার পথ খুঁজে পায়। আলোচনা “বিতর্ক ও মীমাংসা' এবং ধর্মতত্ত্বের বাহন হিসেবে বাংলা গদ্যের অমিত সম্ভাবনাকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রামমোহন রায়।

 রামমোহন রায় রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হল:
- 'বেদান্ত গ্রন্থ' (১৮১৫),
- 'বেদান্ত সার' (১৮১৫), 
- 'গোস্বামীর সহিত বিচার' (১৮১৮), 
- সহমরণ বিষয়ক, 
- প্রবর্তক নির্বর্তক সম্বাদ। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক সাহিত্য প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৫১১.
নেমেসিস নাটকের মূল উপজীব্য বিষয়
  1. ক) গ্রাম বাংলা দুর্ভিক্ষ
  2. খ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কাহিনী
  3. গ) সামাজিক অবিচার ও লাঞ্ছনা
  4. ঘ) নির্যাতন ও শোষণ
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কাহিনী
ব্যাখ্যা
• এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক নেমেসিস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে এটি।

- নাটকটির রচয়িতা - নুরুল মোমেন।
- গ্রিক দেবী নেমেসিস এর নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। নেমেসিস প্রতিহিংসা ও নিয়তির দেবী।

নুরুল মোমেনের অন্যান্য নাটক হলো :
- রূপান্তর
- যদি এমন হতো
- নয়া খান্দান
- আলোছায়া
- শতকরা আশি
- আইনের অন্তরালে যেমন ইচ্ছা তেমন

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫১২.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ- 
  1. রাজাবলী
  2. হিতোপদেশ
  3. বেদান্তচন্দ্রিকা
  4. বত্রিশ সিংহাসন
সঠিক উত্তর:
বত্রিশ সিংহাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বত্রিশ সিংহাসন
ব্যাখ্যা

• বত্রিশ সিংহাসন:
- এটি মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- ‘বত্রিশ সিংহাসন' (১৮০২) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার অনূদিত কাহিনি সংকলন।
- বাংলা গদ্যের আদিপর্বের ইতিহাসে এই রচনাটি উল্লেখযোগ্য।

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।

৫১৩.
বাংলা গদ্যে ‘অনতিলক্ষ্য ছন্দঃস্রোত’ সৃষ্টি করেন কে?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. চণ্ডীচরণ মুন্শী
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তিনি বাংলা গদ্যে যতি বা বিরামচিহ্নের প্রবর্তন করেন।
- বাংলা গদ্য প্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য তিনি ‘উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ’ ও ‘অনতিলক্ষ্য ছন্দঃস্রোত’ সৃষ্টি করেন।
- তিনি বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন।
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন।
- বাংলা গদ্যকে তিনি সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন বলেই বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫১৪.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের পণ্ডিত ছিলেন না কে?
  1. গোলকনাথ শর্মা
  2. তারিণীচরণ মিত্র
  3. চণ্ডীচরণ মুন্‌শী
  4. রামরাম বসু
সঠিক উত্তর:
গোলকনাথ শর্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলকনাথ শর্মা
ব্যাখ্যা

• গোলকনাথ শর্মা ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের শিক্ষক না হয়েও মিশনারিদের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন।
- তার রচিত হিতোপদেশ গ্রন্থটি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:

- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- মৃত্যুঞ্জয়‌ বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলােচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৫১৫.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগের প্রথম প্রধান কে ছিলেন?
  1. রামরাম বসু
  2. চণ্ডীচরণ মুন্‌শী
  3. উইলিয়াম কেরি
  4. গোলকনাথ শর্মা
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রথম প্রধান ছিলেন : উইলিয়াম কেরি। 

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। 
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়াম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।
-----------------------
 • উইলিয়াম কেরি:  
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি ।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে এই বিদেশির অবদান সর্বাধিক ।
- তিনি "ইতিহাসমালা ও কথোপকথন" নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন ।
- 'ইতিহাসমালা' বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ ।
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন ।
---------------------
অন্যদিকে,
রামরাম বসু , গোলকনাথ শর্মা,  চণ্ডীচরণ মুন্‌শী - ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ) এবং বাংলাপিডিয়া। 
৫১৬.
একক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক কোনটি?
  1. ক) রক্তকরবী
  2. খ) এখনও ক্রীতদাস
  3. গ) রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. ঘ) কোকিলারা
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোকিলারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোকিলারা
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত একক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক 'কোকিলারা'।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে।  

নাট্যকার আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত অন্যান্য নাটক - 
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

- রক্তকরবী রবীন্দ্রনাথের একটি সাংকেতিক নাটক৷
- নাট্যকার মামুনুর রশীদ রচিত 'ওরা কদম আলী' নাটকে এক বোবা চরিত্রের মাধ্যমে গরিব ও মেহনতি মানুষের ব্যক্তিক প্রতিবাদ প্রকাশ পেয়েছে। 
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের পটভূমিকায় মুনীর চৌধুরীর লেখা মৌলিক নাটক রক্তাক্ত প্রান্তর।
- নুরুল মোমেন রচিত এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক 'নেমেসিস'। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে এটি। নাটকটির রচয়িতা - ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫১৭.
কোন উপন্যাসে চাকমা সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ আছে?
  1. ক) কবি
  2. খ) কর্ণফুলী
  3. গ) অরণ্যবহ্নি
  4. ঘ) হাঁসুলীবাঁকের উপকথা
সঠিক উত্তর:
খ) কর্ণফুলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা
• সাহিত্যিক আলাউদ্দিন আল আজাদের বিখ্যাত উপন্যাস 'কর্ণফুলী'।
- তাঁর 'কর্ণফুলী' উপন্যাস পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস।
- উপন্যাসে চাকমা উপজাতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 
- আদিবাসী রাঙ্গামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবন যাপন ও প্রণয় এ উপন্যাসে বর্ণিত।
- উপজাতীয় জীবন কাহিনী নিয়ে রচিত চাকমাদের জীবন সংগ্রামের চিত্র এ উপন্যাসের উপজীব্য।
- এতে চাকমা ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।

অন্যদিকে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের-
'কবি' উপন্যাসে - 'ডোম' সম্প্রদায়ের কথা বলা হয়েছে।
'অরণ্যবহ্নি' উপন্যাসে - সাঁওতাল বিদ্রোহের কথা বলা হয়েছে।
'হাঁসুলীবাঁকের উপকথা' উপন্যাসে - 'কাহার' সম্প্রদায়ের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫১৮.
'মায়াবী প্রহর' নাটকটি কার রচনা?
  1. ক) সেলিম আল দীন
  2. খ) দীনবন্ধু মিত্র
  3. গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. ঘ) আবদুল্লাহ আল মামুন
সঠিক উত্তর:
গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
'মায়াবী প্রহর' নাটকটির রচয়িতা আলাউদ্দিন আল আজাদ। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এটি তাঁর একটি অত্যন্ত জীবনঘনিষ্ঠ নাটক
 
• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- নরকে লাল গোলাপ
- মরক্কোর জাদুঘর,
- সংবাদ শেষাংশ,
- ধন্যবাদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ,
- মানচিত্র,
- লেলিহান পান্ডুলিপি,
- নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ,
- সূর্য জ্বালার স্বপ্ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫১৯.
সুশৃঙ্খল গদ্যের পথিকৃৎরূপে পরিচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) লিপিমালা
  2. খ) হিতোপদেশ
  3. গ) রাজাবলি
  4. ঘ) কথোপকথন
সঠিক উত্তর:
ঘ) কথোপকথন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কথোপকথন
ব্যাখ্যা
• কথোপকথন: 
- উইলিয়াম কেরিকে বাংলা গদ্যের পথিকৃৎ বলা হয়।
- তিনি সুশৃঙ্খল গদ্যের পথিকৃৎরূপে বিদেশী ব্যবহারের ও শিক্ষার উপযোগ করে ১৮০১ সালে ‘ কথোপকথন’ গ্রন্থটি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশ করেন।
- ‘কথোপকথন’ গ্রন্থটি ছিল ‍দ্বিভাষিক- এক পৃষ্ঠায় বাংলা, অপর পৃষ্ঠায় ইংরেজি।
- বাংলা ভাষার কথ্যরীতির প্রথম নিদর্শন এই গ্রন্থে বিধৃত।

• প্রায় দেড়শ ইতিহাসশ্রিত গল্প অবলম্বনে ১৮১২ সালে উইলিয়াম কেরি রচিত দ্বিতীয় গ্রন্থ ‘ইতিহাসমালা। এ দেশের  সাহিত্যের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি প্রথ গল্পসংগ্রহ হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ স্থান পাওয়ার যোগ্য। সংগৃহীত গল্পগুলোর অধিকাংশই ব্যঙ্গ প্রধান।

• ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন। 'কথোপকথন' গদ্যপুস্তুকগুলোর মধ্যে অন্যতম।

অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
- রামরাম বসু রচিত: লিপিমালা।
- গোলোকনাথ শর্মা রচিত: হিতোপদেশ।
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: রাজাবলি, বত্রিশ সিংহাসন।
- চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত: তোতা ইতিহাস।
- হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫২০.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের 'ভ্রান্তিবিলাস' কোন নাটকের গদ্য অনুবাদ ? 
  1. এ মিড সামার নাইটস্ ড্রিম
  2. কমেডি অব এররস
  3. ম্যাকবেথ
  4. মার্চেন্ট অব ভেনিস
সঠিক উত্তর:
কমেডি অব এররস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমেডি অব এররস
ব্যাখ্যা

শেকসপিয়ার রচিত কমেডি অব এররস এর অনুবাদ ভ্রান্তিবিলাস।
----------------------------------------
• ভ্রান্তিবিলাস:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভ্রান্তিবিলাস গ্রন্থটি ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- ভ্রান্তিবিলাস উইলিয়াম শেক্সপিয়রের নাটক The Comedy of Errors অবলম্বনে রচিত একটি গদ্য অনুবাদ। 
- বিদ্যাসাগর তাঁর নিজস্ব লিখার আদলে এই নাটকটি অনুবাদ করেন।
- নাটকটি মূলত ভুল বোঝাবুঝি, দ্বৈত চরিত্র এবং হাস্যরসাত্মক ঘটনার উপর ভিত্তি করে নির্মিত।
- গল্পে দুই যমজ ভাই এবং তাদের ভৃত্যদের মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তি দেখানো হয়েছে।
- সবশেষে এই ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়ে মিলনান্তক পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে নাটকটির সমাপ্তি ঘটে।
--------------------------------------------------
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন একজন প্রখ্যাত ভারতীয় শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক এবং লেখক।
- তিনি বাংলা গদ্যের অন্যতম রূপকার হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছদ্মনাম ছিল কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উপাধি ছিল  আধুনিক বাংলা গদ্যর জনক।
- মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি সংস্কৃত  কলেজ থেকে ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য ১৮৩৯ সালে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য অনুবাদ:
- বেতাল পঞ্চবিংশতি: সংস্কৃত থেকে অনুবাদ।
- শকুন্তলা: কালিদাসের সংস্কৃত নাটকের অনুবাদ।
- সীতার বনবাস: বাল্মীকির রামায়ণ থেকে নেওয়া অংশ।
- ভ্রান্তিবিলাস: উইলিয়াম শেক্সপিয়রের 'The Comedy of Errors' নাটকের অনুবাদ।
- কথামালা: ঈশপের গল্পের অনুবাদ।
- অখ্যানমঞ্জরী: সংস্কৃত নীতিগল্পের অনুবাদ।
- বোধোদয়: শিশুদের উপযোগী পাঠ্যপুস্তকের অনুবাদ, ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

৫২১.
“চেহারায় চতুরঙ্গ” কোন শ্রেণীর রচনা?
  1. ক) কাব্য
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) রূপকথা
সঠিক উত্তর:
খ) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ হলোঃ লোক লোকান্তর, কালের কলস, মায়াবী পর্দা দুলে উঠে, সোনালী কাবিন, বখতিয়ারের ঘোড়া, পাখির কাছে ফুলের কাছে, প্রেমের কবিতা, আরব্য রজনীর রাজহাঁস, দোয়েল ও দয়িতা ইত্যাদি।
উপন্যাসঃ ডাহুকী, কবি ও কোলাহল, উপমহাদেশ, আগুনের মেয়ে, কাবিলের বোন, চেহারায় চতুরঙ্গ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা
৫২২.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. লর্ড মেকলে
  2. লর্ড ওয়েলেসলী
  3. লর্ড কার্জন
  4. লর্ড কর্নওয়ালিস
সঠিক উত্তর:
লর্ড ওয়েলেসলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ওয়েলেসলী
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয়‌ বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলােচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫২৩.
'তোতা ইতিহাস' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. গোলকনাথ শর্মা
  2. চণ্ডীচরণ মুনশী
  3. তারিণীচরণ মিত্র
  4. রামরাম বসু
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীচরণ মুনশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীচরণ মুনশী
ব্যাখ্যা

• চণ্ডীচরণ মুনশী ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের বাংলা বিভাগের অন্যতম অধ্যাপক। 'তোতা ইতিহাস' একটি উপাখ্যানগ্রন্থ যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন। ১৮০৪ খ্রিষ্টাব্দে চণ্ডীচরণ মুনশী মূল ফার্সি থেকে বাঙালায ভাষায় গ্রন্থটি অনুবাদ করেন। পরবর্তী বৎসর অর্থাৎ ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে তা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 

----------------------
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগ চালু হয় ১৮০১ সালে এবং এর দায়িত্ব দেয়া হয় উইলিয়াম কেরিকে।
পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলোচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫২৪.
'নরকে লাল গোলাপ' মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) স্মৃতিচারণ
সঠিক উত্তর:
খ) নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নাটক
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত ‘নরকে লাল গোলাপ’ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক একটি নাটক। অনুরূপ তার আরেকটি নাটক হলো নিঃশব্দ যাত্রা। সৈয়দ শামসুল হক রচিত পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আরেকটি বিখ্যাত কাব্যনাট্য। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
৫২৫.
বাংলা গদ্যের নবযাত্রা শুরু হয়েছিল কোন শতকে?
  1. উনিশ শতকের শুরুতে
  2. আঠারো শতকের শেষ দিকে
  3. বিশ শতকের শুরুতে
  4. উনিশ শতকের মাঝামাঝি
সঠিক উত্তর:
উনিশ শতকের শুরুতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উনিশ শতকের শুরুতে
ব্যাখ্যা
- ইংরেজ শাসনের সূত্রপাতে বাংলা গদ্যের ধারাবাহিক চর্চার পূর্বে পুরানো গদ্য যে নিতান্ত অবহেলার ব্যাপার ছিল না তা উক্ত মন্তব্য থেকে সহজেই অনুধাবন করা যায়। 
- আর সে পটভূমিকায় ড. আনিসুজ্জামান বলেছেন, 'তিন শ বছরের সচল ধারা ফেলে রেখে নতুন অভিভাবকতায় এভাবে বাংলা গদ্যের নবযাত্রা শুরু হয়েছিল উনিশ শতকের শুরুতে।  এ যাত্রার অনেক বিত্ত সংগৃহীত হয়েছিল সন্দেহ নেই, কিন্তু ঘরের অনেকদিনের সঞ্চয়ও হারিয়ে গিয়েছিল।
- ড. গোলাম মুরশিদ প্রাথমিক পর্যায়ের বাংলা গদ্য নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন তাঁর 'আঠারো শতকের গদ্য: ইতিহাস ও সংকলন' গ্রন্থে। তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বেশ আগে থেকে বাংলা গদ্যের চর্চা শুরু হয়েছিল বলে উল্লেখ করেছেন।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫২৬.
‘ঢোঁড়াই চরিত মানস’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন সেন
  2. সতীনাথ ভাদুড়ী
  3. সমরেশ বসু
  4. সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
সতীনাথ ভাদুড়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সতীনাথ ভাদুড়ী
ব্যাখ্যা
সতীনাথ ভাদুড়ী (১৯০৬-১৯৫০) রচিত ঢোড়াই চরিতমানস উপন্যাসটি দুই খন্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খন্ড ১৯৪৯, দ্বিতীয় খন্ড ১৯৫১ সালে।
- বিহারের শহর জিরানিয়া, তার থেকে কিছু দূরে তাৎমাটুলিদের জীবন নিয়ে লেখা হয়েছে উপন্যাসটি।

- ভারত ছাড় আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত ‘জাগরী’ নামে তার আরেকটি বিখ্যাত উপন্যাস রয়েছে।
- তার সাহিত্যিক ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত।

উৎস : ঢোঁড়াই চরিতমানস উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৫২৭.
কোনটি ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত নয়?
  1. ক) নরকে লাল গোলাপ‌
  2. খ) আর্তনাদ
  3. গ) কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি
  4. ঘ) আরেক ফাল্গুন
সঠিক উত্তর:
ক) নরকে লাল গোলাপ‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নরকে লাল গোলাপ‌
ব্যাখ্যা

'নরকে লাল গোলাপ‌' - আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ - মাহবুব উল আলম চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনের উপর প্রথম কবিতা।
আরেক ফাল্গুন’ - জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনের উপর প্রথম উপন্যাস।
‘আর্তনাদ’ - শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনের উপর ছোটগল্প।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৫২৮.
'আধ্যাত্মিকা' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'আধ্যাত্মিকা' উপন্যাসের লেখক - প্যারীচাঁদ মিত্র।

প্যারীচাঁদ মিত্র:

- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছদ্মনাম “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায়,
- জাত থাকার কি উপায়,
- আধ্যাত্মিকা। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫২৯.
ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন -
  1. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. হেনরি লুই ডিরোজিও
  4. জোশুয়া মার্শম্যান
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুই ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুই ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
• ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন - 'হেনরি লুই ডিরোজিও'। 
============
• হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

ইয়ং বেঙ্গল নিয়ে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- ইয়ং বেঙ্গলদের নিয়ে মদুসূদন দত্তের বিখ্যাত প্রহসন: ‘একেই কি বলে সভ্যতা’।  
- হেনরি ডিরোজিওর অনুসারীরা ছিলেন: মুক্তচিন্তক গোষ্ঠী। 
- হেনরি ডিরোজিও ১৮২৮ সালে ‘অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন’ নামে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ‘ইয়ং বেঙ্গল’ ডিরোজিও প্রভাবিত ছাত্রগোষ্ঠী ছিলেন:
কৃষ্ণমোহ্ন বন্দ্যোপাধ্যায়, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, রামগোপাল ঘোষ, রামতনু লাহিড়ী, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, প্যারীচাঁদ মিত্র, এবং তারাচাঁদ চক্রবর্তী।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫৩০.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. ক) শাশ্বতবঙ্গ
  2. খ) নদীবক্ষে
  3. গ) প্রাচ্য ও প্রতীচ্য
  4. ঘ) গুলদাস্তা
সঠিক উত্তর:
খ) নদীবক্ষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নদীবক্ষে
ব্যাখ্যা
'নদীবক্ষে' কাজী আবদুল ওদুদ রচিত উপন্যাস। 'শাশ্বতবঙ্গ' তাঁর রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধ সংকলন। প্রাচ্য ও প্রতীচ্য এস ওয়াজেদ আলী রচিত প্রবন্ধ এবং তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৩১.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. লর্ড ওয়েলেসলী
  3. জর্জ গ্রিয়ার্সন
  4. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
সঠিক উত্তর:
লর্ড ওয়েলেসলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ওয়েলেসলী
ব্যাখ্যা

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।

​উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৩২.
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত পালামৌ ভ্রমণকাহিনী কোন দেশ ভ্রমণের প্রেক্ষাপটে রচিত?
  1. ক) ভারত
  2. খ) তুরস্ক
  3. গ) সিরিয়া
  4. ঘ) ইতালি
সঠিক উত্তর:
ক) ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভারত
ব্যাখ্যা

সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত পালামৌ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভ্রমণ কাহিনী৷
পালামৌ ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের একটি জেলা৷
এই জেলা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তার পালামৌ গ্রন্থে তুলে ধরেছেন।
এটি প্রথমে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
(সূত্রঃ পালামৌ : সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)

৫৩৩.
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রচিত কোন উপন্যাসে মুসলমান সমাজের বেদনাঘন চিত্র অঙ্কিত হয়েছে?
  1. ক) আনোয়ারা
  2. খ) আবদুল্লাহ
  3. গ) বিষাদ সিন্ধু
  4. ঘ) জোহরা
সঠিক উত্তর:
ঘ) জোহরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জোহরা
ব্যাখ্যা
'জোহরা'(১৯১৭) উপন্যাসের রচয়িতা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
- তিনি তাঁর জোহরা উপন্যাসের মধ্য দিয়ে মুসলমান সমাজের বেদনাঘন চিত্র অঙ্কন করেছেন। 
- জোহরা উপন্যাসে সে আমলের মুসলমান সমাজের অন্যায় অনাচার রূপ দিয়েছেন।
- কন্যার মতামত অগ্রাহ্য করে আত্মীইয় স্বজনেরা বিয়ে দিতে গিয়ে মেয়েদের জীবনে যে দুর্ভোগের সৃষ্টি করে তা-ই এ উপন্যাসের উপজীব্য। 
- তিনি  বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

• মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যা:
- জোহরা,
- দরাফখান গাজী,
- রঙ্গিলাবাঈ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্ব দর্শন,
- প্রেমহার,
- জাতীয় ফোয়ারা,
- ইসলাম সংগীত,
- হযরত মুহম্মদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৩৪.
’উজানে মৃত্যু’ নাটকের লেখক কে?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. মামুনুর রশীদ
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা

'উজানে মৃত্যু' নাটকের রচয়িতা - সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৩৫.
মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটক রচিত হয় কোন সনে?
  1. ১৯৫২
  2. ১৯৫৩
  3. ১৯৬১
  4. ১৯৬৯
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩
ব্যাখ্যা
• ‘কবর’ নাটক:
-  ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক 'কবর'।
- নাটকটি লেখক জেলে থাকা অবস্থায় রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে জেলের রাজবন্দিদের দ্বারা নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।
- নাটকটি ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত 'Bury The Dead' (১৯৩৬) নাটকের অনুসরণে এদেশীয় ঘটনা কেন্দ্র করে 'কবর' নাটক লেখা হয়েছে।
- 'কবর' নাটকে মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে শহরে কারফিউ দিয়ে লাশ গুম করতে গভীর রাতে কবরস্থানে নিয়ে যায়। পুলিশ ইন্সপেক্টর হাফিজ এবং নেতা (নাটকে তার নাম নেই) যৌথভাবে এ দায়িত্ব নেয়। কিন্তু লাশগুলো ছিন্নভিন্ন দেখে তারা ধর্মীয় প্রথা অনুসারে কবরস্থ না করে একত্র মাটিচাপা দেবার সিদ্ধান্ত হয়। এতে বাধা দেয় গোর-খোদক। কবরস্থানে আশ্রয় নেয়া আরেক স্বজনহারা পাগল মুর্দা ফকিরও প্রতিবাদ জানায়। বলে: এ লাশগুলো আন্দোলনকারীর। এরা এভাবে কবরে যাবে না। লাশগুলোও তখন উঠে দাঁড়ায় এবং বলে: আমরা কবরে যাবো না। এসব দেখে মদ্যপ ইন্সপেক্টর ও নেতা ভয় পেয়ে যায়।
- 'কবর' একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম বাংলা নাটক।

• মুনীর চৌধুরী:
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- তিনি শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৩৬.
ড. সুকুমার সেন বাংলা গদ্যরীতির কয়টি স্তর নির্দেশ করেছেন?
  1. দুটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারটি
ব্যাখ্যা
ড. সুকুমার সেন বাংলা গদ্যরীতির চারটি স্তর নির্দেশ করেছেন।

সে স্তরগুলোর পরিধি:
- প্রথম স্তর: সূচনা - ষোল শতক থেকে ১৮০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
- দ্বিতীয় স্তর: উন্মেষ - ১৮০০ (শ্রীরামপুর মিশন) থেকে ১৮৪৭ সালের (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের) পূর্ব পর্যন্ত ।
- তৃতীয় স্তর: অভ্যুদয় - ১৮৪৭ (বিদ্যাসাগর) থেকে ১৮৬৫ সালের (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের) পূর্ব পর্যন্ত
- চতুর্থ স্তর: পরিণতি - ১৮৬৫ (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৩৭.
কোনটি সেলিম আল দীনের নাটক নয়?
  1. স্বর্ণবোয়াল
  2. কীর্তনখোলা
  3. বনপাংশুল
  4. আমলার মামলা
সঠিক উত্তর:
আমলার মামলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমলার মামলা
ব্যাখ্যা

• সেলিম আল দীন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার ও গবেষক।
• তিনি ফেনী জেলার সোনাগাজী থানার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তিনি অন্যান্যদের সাথে 'ঢাকা থিয়েটার' ও 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার' গড়ে তোলেন।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত কয়েকটি নাটকঃ
- কেরামতমঙ্গল,
- স্বর্ণবোয়াল,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- সর্ব বিষয়ক গ্রন্থ ও অন্যান্য নাটক,
- মোনতাসির ফ্যান্টাসী,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- বাসন,
- যৈবতী কন্যার মন,
- কীর্তনখোলা,
- চাকা,
- হরগজ,
- প্রাচ্য,
- নিমজ্জন,
- ধাবমান,
- পুত্র,
- বনপাংশুল ইত্যাদি।
- আমলার মামলা শওকত ওসমানের নাটক।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।

৫৩৮.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত দার্শনিক নিবন্ধ কোনটি?
  1. হিতোপদেশ
  2. প্রবোধচন্দ্রিকা
  3. রাজাবলি
  4. বেদান্তচন্দ্রিকা
সঠিক উত্তর:
প্রবোধচন্দ্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবোধচন্দ্রিকা
ব্যাখ্যা

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা। তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা ৫টি । যথা: বত্রিশ সিংহাসন, রাজাবলী, হিতোপদেশ, বেদান্তচন্দ্রিকা, প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• সংস্কৃত 'পঞ্চতন্ত্র' থেকে অনূদিত 'হিতোপদেশ' গ্রন্থের ভাষা সংস্কৃতানুগ।

• কিংবদন্তি ও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে রচিত 'রাজাবলি' গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠু রূপ নিয়েছে। আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

• 'বেদান্তচন্দ্রিকা' গ্রন্থের নামপত্রে মৃত্যুঞ্জয়ের নামোল্লেখ না থাকলেও তা তাঁর নিজের রচনা বলে অনুমিত। এর মধ্যে বহু সংস্কৃত গ্রন্থের এবং বেদান্ত সূত্র-ভাষ্যাদির অংশবিশেষ অনূদিত হওয়ায় তাকে স্বাধীন রচনা বলে মনে করা যায় না।

• 'প্রবোধচন্দ্রিকা' ১৮১৩ সালে রচিত হলেও প্রকাশিত হয়েছিল মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর। গ্রন্থটি মূলত দার্শনিক নিবন্ধ। সংস্কৃত বিদ্যাভাণ্ডারের পরিচয় দেওয়ার জন্যই গ্রন্থটি রচিত। এতে কথ্য সাধু ও সংস্কৃত রীতির ভাষা অনুসৃত হয়েছে। সংস্কৃতরীতির প্রয়োগে দোষত্রুটি থাকলেও বিষয়বস্তু ও রচনাপদ্ধতিতে একটা সুষম রূপ ফুটে উঠেছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া। 

৫৩৯.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাসের অংশ নয়-
  1. ধাত্রীদেবতা
  2. রসকলি
  3. গণদেবতা
  4. পঞ্চগ্রাম
সঠিক উত্তর:
রসকলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রসকলি
ব্যাখ্যা

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রয়ী উপন্যাসঃ
- ধাত্রীদেবতা,
- গণদেবতা ও
- পঞ্চগ্রাম।
• তাঁর রচিত গল্পঃ
- রসকলি,
- ডাকহরকরা,
- বেদেনী ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত নাটকঃ
- পথের ডাক,
- দ্বীপান্তর ও
- দুই পুরুষ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৫৪০.
বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক-
  1. নীলদর্পণ
  2. জমিদার দর্পণ
  3. কবর
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা
• নীলদর্পণ নাটক:
• ‘নীলদর্পণ‘ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদন্ডে দন্ডিত হন। বঙ্কিমচন্দ্র নীলদর্পণকে আঙ্কল টমস কেবিন-এর সঙ্গে তুলনা করেন। নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
• এটিই বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক। ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

----------------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
• দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩) নাট্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
• দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• ‘নীলদর্পণ‘ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।

• 'নবীন তপস্বিনী' (১৮৬৩) দীনবন্ধু মিত্রের দ্বিতীয় নাটক। এতে যে দুটি ভিন্ন কাহিনি স্থান পেয়েছে তা পরিপূর্ণভাবে মিশ্রিত হয় নি। 'তে গ্রাম্যতা ও রুচিবিকল্পতা থাকলেও তা গুরুত্বপূর্ণ রচনা।

• 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' (১৮৬৬) বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লিখিত একটি প্রহসন। নামের মাধ্যমেই এর পরিচয় প্রকাশমান।

• দীনবন্ধু মিত্রের 'লীলাবতী' (১৮৬৭) নাটকটি রচনা হিসেবে সার্থকতা লাভ করতে পারেনি।

• 'কমলে কামিনী' (১৮৮৩) তাঁর শেষ রচনা। রোম্যান্টিক প্রণয়চিত্র হিসেবে এর গুরুত্ব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৪১.
বুদ্ধদেব বসুর নাটক নয় কোনটি?
  1. ক) পুনর্মিলন
  2. খ) মায়া মালঞ্চ
  3. গ) কালসন্ধ্যা
  4. ঘ) তপস্বী ও তরঙ্গিনী
  5. ঙ) গোত্রান্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ) গোত্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ) গোত্রান্তর
ব্যাখ্যা
বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটকগুলো হলো পুনর্মিলন, তপস্বী ও তরঙ্গিনী, কলকাতার ইলেক্ট্রা, কালসন্ধ্যা, মালঞ্চ ও প্রথম পার্থ। গোত্রান্তর নাটকটির রচয়িতা বিজন ভট্টাচার্য। তার আরেকটি বিখ্যাত নাটক হলো নবান্ন। (সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর)
৫৪২.
সংস্কৃত 'পঞ্চতন্ত্র' থেকে অনূদিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. তোতা ইতিহাস
  2. রাজাবলি 
  3. হিতোপদেশ
  4. লিপিমালা
সঠিক উত্তর:
হিতোপদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিতোপদেশ
ব্যাখ্যা

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- উইলিয়াম কেরির অধীনস্থ প্রধান পণ্ডিত মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (১৭৬২-১৮১৯) বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২), রাজাবলি (১৮০৮), হিতোপদেশ (১৮০৮), বেদান্তচন্দ্রিকা (১৮১৭) ও প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)-এই পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।

- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার শুধু অধ্যাপক পণ্ডিতই ছিলেন না, তিনি সে যুগের বহু জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তাঁর শাস্ত্রজ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের খ্যাতি সে আমলে প্রবাদ বাক্যের মত ছড়িয়ে পড়েছিল। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ লেখক মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।

- তিনি ছিলেন ভাষাবিদ ও ভাষাশিল্পী। প্রয়োজনানুসারী ভাষারীতির প্রবর্তনে তিনি যুগোপযোগী সার্থকতা অর্জন করেছিলেন। তাঁর বাক্যগঠনে ত্রুটি থাকলেও বাক্যের প্রাঞ্জলতা ও গাল্পিক কৌতূহল অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

- সংস্কৃত 'পঞ্চতন্ত্র' থেকে অনূদিত 'হিতোপদেশ' গ্রন্থের ভাষা সংস্কৃতানুগ। কিংবদন্তি ও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে রচিত 'রাজাবলি' গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠু রূপ নিয়েছে। আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

- 'বেদান্তচন্দ্রিকা' গ্রন্থের নামপত্রে মৃত্যুঞ্জয়ের নামোল্লেখ না থাকলেও তা তাঁর নিজের রচনা বলে অনুমিত। এর মধ্যে বহু সংস্কৃত গ্রন্থের এবং বেদান্ত সূত্র-ভাষ্যাদির অংশবিশেষ অনূদিত হওয়ায় তাকে স্বাধীন রচনা বলে মনে করা যায় না। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৪৩.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত সংস্কৃত বিদ্যাভাণ্ডারের পরিচয় মূলক দার্শনিক নিবন্ধ কোনটি?
  1. লিপিমালা
  2. প্রবোধচন্দ্রিকা
  3. নীতিকথা
  4. রাজাবলি
সঠিক উত্তর:
প্রবোধচন্দ্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবোধচন্দ্রিকা
ব্যাখ্যা
• 'প্রবোধচন্দ্রিকা':
- 'প্রবোধচন্দ্রিকা' ১৮১৩ সালে রচিত হলেও প্রকাশিত হয়েছিল মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর।
- গ্রন্থটি মূলত দার্শনিক নিবন্ধ। সংস্কৃত বিদ্যাভাণ্ডারের পরিচয় দেওয়ার জন্যই গ্রন্থটি রচিত।
- এতে কথ্য সাধু ও সংস্কৃত রীতির ভাষা অনুসৃত হয়েছে। মৃত্যুঞ্জয়ের গদ্যে সংস্কৃতরীতির প্রয়োগ দোষত্রুটি থাকলেও বিষয়বস্তু ও রচনাপদ্ধতিতে একটা সুষম রূপ ফুটে উঠেছিল।

অন্যদিকে,
‘নীতিকথা’ মুনশী তারিণীচরণ মিত্র রচিত গ্রন্থ।
'লিপিমালা' রচনা করেছেন- রামরাম বসু।  

• কিংবদন্তিও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে রচিত ‘রাজাবলি’ গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠরূপ নিয়েছে। আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

----------------------------
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পণ্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।
- মৃত্যুঞ্জয়ের কৃতিত্ব সম্পর্কে প্রমথ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন- ‘তিনি একদিকে যেমন সাধু ভাষার আদি লেখক, অপরদিকে তিনি তেমনি চলিত ভাষারও আদর্শ লেখক।’

• তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলি,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৫৪৪.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের কোন পণ্ডিত সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন?
  1. গোলকনাথ শর্মা
  2. তারিণীচরণ মিত্র
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. রামরাম বসু
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয়‌ বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলােচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৪৫.
মুনীর চৌধুরীর 'রক্তাক্ত প্রান্তর' কোন শ্রেনীর নাটক?
  1. ক) পৌরাণিক
  2. খ) সামাজিক
  3. গ) ঐতিহাসিক
  4. ঘ) রূপক
সঠিক উত্তর:
গ) ঐতিহাসিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঐতিহাসিক
ব্যাখ্যা

রক্তাক্ত প্রান্তর মুনীর চৌধুরী রচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটক।
- ইতিহাস থেকে তিনি কাহিনি গ্রহণ করেননি, গ্রহণ করেছেন কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থ থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫৪৬.
'কীর্তিবিলাস' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  3. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

'কীর্তিবিলাস' নাটক:
- 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এর রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত। এটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়।
- সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে 'কীর্তিবিলাস' নাটকটি রচিত।
- বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ এর বৈশিষ্ট্য।
- পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে।
- কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫৪৭.
বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা কোনটি?
  1. শর্মিষ্ঠা 
  2. ভদ্রার্জুন
  3. কৃষ্ণকুমারী 
  4. কীর্তিবিলাস
সঠিক উত্তর:
কীর্তিবিলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কীর্তিবিলাস
ব্যাখ্যা

• 'কীর্তিবিলাস' নাটক:
- 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এর রচয়িতা যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত। এটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়।
- সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে 'কীর্তিবিলাস' নাটকটি রচিত।
- বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ এর বৈশিষ্ট্য।
- পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে। কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

অন্যদিকে,
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক 'শর্মিষ্ঠা'। এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক ও সার্থক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার। 

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক 'কৃষ্ণকুমারী'। এর রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত। এই নাটকের কাহিনী উইলিয়াম টডের 'রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগ্রহীত।

• ১৮৫২ সালে তারাচরণ শিকদারের 'ভদ্রার্জুন' নামক নাটক প্রকাশিত হয়। 'ভদ্রার্জুন' ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৪৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর রচিত কোন নাটকটি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করেছেন?
  1. তাসের দেশ
  2. বসন্ত
  3. কালের যাত্রা
  4. মুক্তধারা
সঠিক উত্তর:
তাসের দেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাসের দেশ
ব্যাখ্যা
• তাসের দেশ:
- ‘তাসের দেশ' (১৯৩৩) রূপক নাট্য।
- রবীন্দ্রনাথের নিজেরই ‘এক আষাঢ়ে গল্প' নামক গল্পের কাহিনি এই নাটকের ভিত্তিভূমি।
- রাজপুত্র এবং সদাগর পুত্র এক অপরিচিত দ্বীপে এসে পৌঁছেছেন, যে দ্বীপের জীবন শাসিত হয় যান্ত্রিক নিয়মানুবর্তিতায়, যুক্তি ও হৃদয়হীন শাসনতন্ত্রের আনুগত্যে।
- রাজপুত্র এবং সদাগর এই নিয়মবন্দি জীবনের মধ্যে আনলেন বিদ্রোহ।
- এই নাটকটি উৎসর্গ করা হয় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে।
- এই রূপক নাটক লিখে উপনিবেশ শাসিত ভারতীয়দের জড়ত্ব ঘোচানোর জন্য একজন সে-রকম মুক্তিদূত রূপী রাজপুত্রের আগমনকে কামনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

অন্যদিকে,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘কালের যাত্রা’ নাটকটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করেন।
- কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেছেন তাঁর 'বসন্ত' নাটকটি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৪৯.
কোন যুগের পূর্বে সাহিত্যগুণসমৃদ্ধ কোন গদ্যরচনার অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় না?
  1. অন্ধকার যুগ
  2. আধুনিক যুগ
  3. প্রাচীন যুগ
  4. মধ্য যুগ
সঠিক উত্তর:
আধুনিক যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধুনিক যুগ
ব্যাখ্যা
বাংলা গদ্যের উৎপত্তি:
- বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের পূর্বে সাহিত্যগুণসমৃদ্ধ কোন গদ্যরচনার অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় না।
- দৈনন্দিন জীবনে বাঙালির কথাবার্তায় চিরদিন গদ্যরীতি ব্যবহৃত হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত সাহিত্যে তার অনুপ্রবেশ ঘটে নি এবং এর লিখিত রূপ চিঠিপত্র, দলিলদস্তাবেজ, বৈষ্ণব কড়চা ও বিদেশি খ্রিষ্টানকর্তৃক লিখিত ধর্মবিষয়ক গ্রন্থের সঙ্কীর্ণ সীমানায় আবদ্ধ ছিল।
- ১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
- ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে নিতান্ত প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে ভাষাগত দিক থেকে গদ্যের উৎকর্ষসাধন মোটেই সম্ভবপর হয় নি।
- ইতস্তত বিক্ষিপ্ত কিছুসংখ্যক দৃষ্টান্ত অন্যত্র দৃষ্টিগোচর হলেও বাণিজ্যসম্ভারের পশ্চাতে খ্রিষ্টধর্মের পসার সাজিয়ে আগত পর্তুগিজ পাদ্রিদের হাতেই বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহারের সূত্রপাত হয়।

• ড. সুকুমার সেন বাংলা গদ্যরীতির চারটি স্তর নির্দেশ করেছেন। সে স্তরগুলোর পরিধি:
- প্রথম স্তর: সূচনা - ষোল শতক থেকে ১৮০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
- দ্বিতীয় স্তর: উন্মেষ - ১৮০০ (শ্রীরামপুর মিশন) থেকে ১৮৪৭ সালের (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের) পূর্ব পর্যন্ত ।
- তৃতীয় স্তর: অভ্যুদয় - ১৮৪৭ (বিদ্যাসাগর) থেকে ১৮৬৫ সালের (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের) পূর্ব পর্যন্ত
- চতুর্থ স্তর: পরিণতি - ১৮৬৫ (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৫০.
আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসের প্রকাশ কাল -
  1. ১৯৮১ সাল
  2. ১৯৭১ সাল
  3. ১৯৮৩ সাল
  4. ১৯৭৩ সাল
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সাল
ব্যাখ্যা

- আনোয়ার পাশা ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক।
- তাঁর সাহিত্যকর্মে গভীর দেশাত্মবোধ, মননশীলতা এবং প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনার পরিচয় পাওয়া যায়।
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস
- উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত। 
-  মুক্তিযুদ্ধের প্রথম উপন্যাস এটি। 
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি প্রচলিত অর্থের চরিত্র নির্ভর উপন্যাস নয়।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, কালের কণ্ঠ ]

৫৫১.
কবি আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) আগুনের মেয়ে
  2. খ) শেষ বিকেলের মেয়ে
  3. গ) ধান কন্যা
  4. ঘ) কাশবণের কণ্যা
সঠিক উত্তর:
ক) আগুনের মেয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আগুনের মেয়ে
ব্যাখ্যা
কবি আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস 'আগুনের মেয়ে'। 
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস
- ডাহুকী
- উপমহাদেশ( মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক)
- আগুনের মেয়ে
- চেহারার চতুরঙ্গ
- কাবিলের বোন

অন্যদিকে, 
'কাশবনের কন্যা' বা 'The Girl in the Reeds' শামসুদ্দীন আবুল কালামের উপন্যাস।
'ধান কন্যা' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত উপন্যাস। 
'শেষ বিকেলের মেয়ে' জহির রায়হান রচিত উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৫২.
সংস্কৃত 'পঞ্চতন্ত্র' থেকে  মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের অনুদিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. প্রবোধচন্দ্রিকা
  2. হিতোপদেশ
  3. রাজাবলি
  4. বেদান্তচন্দ্রিকা
সঠিক উত্তর:
হিতোপদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিতোপদেশ
ব্যাখ্যা

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- উইলিয়াম কেরির অধীনস্থ প্রধান পণ্ডিত মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (১৭৬২-১৮১৯) বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২), রাজাবলি (১৮০৮), হিতোপদেশ (১৮০৮), বেদান্তচন্দ্রিকা (১৮১৭) ও প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)-এই পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।

- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার শুধু অধ্যাপক পণ্ডিতই ছিলেন না, তিনি সে যুগের বহু জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তাঁর শাস্ত্রজ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের খ্যাতি সে আমলে প্রবাদ বাক্যের মত ছড়িয়ে পড়েছিল। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ লেখক মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
- তিনি ছিলেন ভাষাবিদ ও ভাষাশিল্পী। প্রয়োজনানুসারী ভাষারীতির প্রবর্তনে তিনি যুগোপযোগী সার্থকতা অর্জন করেছিলেন। তাঁর বাক্যগঠনে ত্রুটি থাকলেও বাক্যের প্রাঞ্জলতা ও গাল্পিক কৌতূহল অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

- সংস্কৃত 'পঞ্চতন্ত্র' থেকে অনূদিত 'হিতোপদেশ' গ্রন্থের ভাষা সংস্কৃতানুগ।

- কিংবদন্তি ও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে রচিত 'রাজাবলি' গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠু রূপ নিয়েছে। আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

- 'প্রবোধচন্দ্রিকা' ১৮১৩ সালে রচিত হলেও প্রকাশিত হয়েছিল মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর ১৮৩৩ সালে। গ্রন্থটি মূলত দার্শনিক নিবন্ধ। সংস্কৃত বিদ্যাভাণ্ডারের পরিচয় দেওয়ার জন্যই গ্রন্থটি রচিত। এতে কথ্য সাধু ও সংস্কৃত রীতির ভাষা অনুসৃত হয়েছে।

- 'বেদান্তচন্দ্রিকা' গ্রন্থের নামপত্রে মৃত্যুঞ্জয়ের নামোল্লেখ না থাকলেও তা তাঁর নিজের রচনা বলে অনুমিত। এর মধ্যে বহু সংস্কৃত গ্রন্থের এবং বেদান্ত সূত্র-ভাষ্যাদির অংশবিশেষ অনূদিত হওয়ায় তাকে স্বাধীন রচনা বলে মনে করা যায় না।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৫৩.
বাংলা সাহিত্যে ‘নটগুরু’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন-
  1. গিরিশচন্দ্র সেন
  2. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  3. মনোমোহন বসু
  4. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
• গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- বাংলা নাটকের সমৃদ্ধসাধনে গিরিশচন্দ্র ঘোষের (১৮৪৪-১৯১২) অবদান অপরিসীম।
- যশস্বী অভিনেতা এবং প্রতিভাশালী নাট্যকারের যুগ্নবৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়ে তিনি পচাঁত্তরখানি সমাপ্ত ও চারখানি অসমাপ্ত নাটক প্রহসন রচনা করেন। এতে বাংলা নাটকের ইতিহাস যথেষ্ট সমৃদ্ধশালী হয়ে ওঠে এবং তিনি সে সময়কার সর্বাপেক্ষা প্রভাবশালী ও খ্যাতিসম্পন্ন নাট্যকার হিসেবে গৌরবময় আসন অলংকৃত করতে সক্ষম হন।

• গিরিশচন্দ্রের প্রধান ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠা ছিল ‘নটগুরু’ হিসেবে।

• গিরিশচন্দ্র ঘোষের নাটকে তাঁর নিজের প্রবর্তিত ‘গৈরিশ ছন্দের’ ব্যবহার হয়েছে। এতে তিনি যথেষ্ট সার্থকতা অর্জন করেন। অভিনয়ে উপযোগী ভাষাসৃষ্টির উদ্দেশ্য এর পশ্চাতে কার্যকরী ছিল।

তাঁর গৈরিশ ছন্দের নমুনা:
যবে ধনু ধরি করে,
ঘোর সিংহনাদে প্রবেশ করেছি রণে-
যক্ষ রক্ষ গন্ধর্ব কিন্নর আদি চরাচর
কে কবে হয়েছে স্থির?
যদি যায় প্রাণ মাতঃ করগো কল্যাণ
সেই দর্পে সেই শরাসন করে
সেই রণক্ষেত্রে আনন্দ যথায় মম
হইব ধরণীশায়ী অনন্ত শয্যায়।

গিরিশচন্দ্র ঘোষের অনুবর্তী নাট্যকারগণের ওপর এই ছন্দের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। পরবর্তীকালের ভক্তিমূলক পৌরাণিক নাটকের ক্ষেত্রেও তাঁর প্রভাব অনস্বীকার্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৫৪.
‘কিত্তনখােলা’ নাটকটির বিষয়-
  1. যন্ত্রণাদগ্ধ শহরজীবন
  2. স্নিগ্ধ-শ্যামল প্রকৃতির রূপ
  3. লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি
  4. দেশবিভাগজনিত জীবন যন্ত্রণা
সঠিক উত্তর:
লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা

সেলিম আল দীন নাট্য সাহিত্যে নিয়ে এলেন ভিন্ন ও নিজস্ব এক ধারা। বাংলার জনপদের প্রান্তিক জনমানসে মিশে থাকা জীবনাচরণ ছিল তাঁর সাহিত্যকর্মের প্রধান অনুষঙ্গ। তিনি তাঁর সাহিত্যকর্মে লোকজ ভাবধারাকে অক্ষত রাখতে পরম শান্তির আশ্রয় লাভ করেছেন মধ্যযুগের আখ্যানসমূহের ছায়াতলে।

সেলিম আল দীন নাট্য সাহিত্যে নিয়ে এলেন ভিন্ন ও নিজস্ব এক ধারা। বাংলার জনপদের প্রান্তিক জনমানসে মিশে থাকা জীবনাচরণ ছিল তাঁর সাহিত্যকর্মের প্রধান অনুষঙ্গ। তিনি তাঁর সাহিত্যকর্মে লোকজ ভাবধারাকে অক্ষত রাখতে পরম শান্তির আশ্রয় লাভ করেছেন মধ্যযুগের আখ্যানসমূহের ছায়াতলে।

তার জীবনঘনিষ্ঠ নাট্যকর্ম তাঁর ‘কিত্তনখোলা’। ‘কিত্তনখোলা’ রচনার মধ্য দিয়ে সেলিম আল দীন বাংলা-নাট্যশিল্পকে নতুন রূপ দান করেন। মূলত, এ নাটকের মাধ্যমেই পাশ্চাত্য নাট্যরীতি পরিহারপূর্বক প্রাচ্যীয় রীতির প্রবর্তন শুরু হয়। ‘কিত্তনখোলা’ হয়ে ওঠেছে বাঙালির প্রান্তিক জনমানুষের প্রথাগত জীবনে স্থিত সাংস্কৃতিক আচার-আচরণের ইতিবৃত্ত

লেখকের ভাষায় - কিত্তনখোলা পর্বে আমি মানিকগঞ্জের লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি এবং এর অপূর্ব নিসর্গের সাথে পরিচিত হই। 

উৎসঃ গ্রাম থিয়েটার পত্রিকা, সেলিম আল দীন রচনা সমগ্র 

৫৫৫.
'বনশ্রী' উপনাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. গ) নবীনচন্দ্র সেন
  4. ঘ) মামুনুর রশিদ
সঠিক উত্তর:
খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
প্রেমেন্দ্র মিত্র কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক ছিলেন। প্রেমেন্দ্র মিত্র কল্লোল (১৯২৩) পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন। পরে মুরলীধর বসুর সহযোগিতায় কালিকলম (১৯২৬) পত্রিকা সম্পাদনা করেন। প্রেমেন্দ্র মিত্র সাহিত্য সৃষ্টির ক্ষেত্রে যৌথভাবে রচনা করেন বিসর্পিল ও বনশ্রী নামে দুটি উপন্যাস। অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত ও বুদ্ধদেব বসু তাঁর এ সৃষ্টিকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। উপন্যাস- পাঁক, কুয়াশা, মিছিল, উপনয়ন, আগামীকাল, প্রতিশোধ, প্রতিধ্বনি ফেরে, অন্য এক নাম, পা বাড়ালেই রাস্তা, পতাকা যারে দাও, স্তব্ধ প্রহর, মনুদ্বাদশ, যিনি বিধাতা, সেই যে শহর রাজোলি। উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৫৬.
'পুত্র' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. সেলিম আল দীন
  2. সেলিনা হোসেন
  3. সুফিয়া কামাল
  4. শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
- সেলিম আল দীন 'পুত্র' হারানাে এক দম্পতির অবিশ্রান্ত বিলাপ ও স্মৃতি মন্থরতা এ নাটকে রূপায়িত করেছেন।
- মাইটাল সিরাজ ও তার স্ত্রী যমুনা পারের আবছা । তাদের পুত্র মানিক আমগাছে গলায় ফাস দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল। নিয়মানুসারে ধর্মীয় কৃত্যহীন লাশ মাটিতে পুঁতে আমগাছটি কেটে ফেলা হয়। এ ঘটনার দুবছর পর এক শীতের রাতে উষ্ণতা পেতে এক দম্পতি আমগাছটির শিকড় দিয়ে আগুন জ্বালায়। এক দিকে পুড়ে নিঃশেষ হয়ে আসতে থাকে আম গাছটির শিকড়, অন্য দিকে মা-বাবার অন্তরে পুত্র হারানাের যন্ত্রণা যেন দ্বিগুণ যন্ত্রণায় জ্বলতে থাকে। মৃতপুত্রের অপূরণীয় সব উচ্ছাস আকাঙ্ক্ষাকে স্মরণ করতে করতে এক সময় গাছের শিকড়কেও পুত্র ভাবতে থাকে তারা। নাটকের শেষাংশে দেখা যায়, নতুন সন্তানের তীব্র কামনায় স্ত্রী আবছা স্বামীকে তালাক দিয়ে ফিরে যায় ফেলে আসা যমুনার তীরে।

উৎস:- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৫৭.
'সংশপ্তক' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শামসুর রাহমান
  4. শহীদুল্লাহ কায়সার
সঠিক উত্তর:
শহীদুল্লাহ কায়সার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদুল্লাহ কায়সার
ব্যাখ্যা

- শহীদুল্লা কায়সার একজন বাঙালি লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল 'আবু নঈম মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ'।
- তিনি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সংশপ্তক' তাঁর রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
- তাঁর 'সারেং বৌ' উপন্যাসে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে।
- তাঁর রচিত স্মৃতিকথা- রাজবন্দীর রোজনামচা।
- ভ্রমণবৃত্তান্ত- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার

৫৫৮.
রামরাম বসু রচিত গদ্যপুস্তক কোনটি?
  1. রাজাবলি
  2. হিতোপদেশ
  3. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
  4. বত্রিশ সিংহাসন
সঠিক উত্তর:
রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
ব্যাখ্যা
• রামরাম বসু ও 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থ :
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'
- এটি ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাঙালি রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ হলো 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'।
- রামরাম বসু, উইলিয়াম কেরিকে বাংলা ভাষা শেখান ( ১৭৯৩ থেকে ১৭৯৬ পর্যন্ত)।
- তাই তিনি কেরি সাহেবের মুন্‌সি নামে পরিচিত ছিলেন।

রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ:
- রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র।
- লিপিমালা।

অন্যদিকে,
- রাজাবলি, হিতোপদেশ ও বত্রিশ সিংহাসন মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গদ্যপুস্তক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৫৯.
'লালসালু' উপন্যাসের প্রকাশকাল-
  1. ক) ১৯৪৮
  2. খ) ১৯৫৪
  3. গ) ১৯৬৪
  4. ঘ) ১৯৪৪
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৪৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৪৮
ব্যাখ্যা
'লালসালু' উপন্যাসের রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা এবং এটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়। চাঁদের অমাবস্যা, কাঁদো নদী কাঁদো উপন্যাস দুটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত মনোসমীক্ষণমূলক উপন্যাস। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫৬০.
বাংলা সাহিত্যে 'নটগুরু' হিসেবে প্রতিষ্ঠালাভ করেছেন-
  1. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  3. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  4. দীনবন্ধু মিত্র 
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা

• গিরিশচন্দ্র ঘোষের প্রধান ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠা ছিল 'নটগুরু' হিসেবে। রঙ্গমঞ্চের অভিনয় ধারা অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য তিনি নাট্যকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। অভিনয়-সাফল্য তাঁর নাট্যরচনা প্রতিভাকে উদ্দীপ্ত করে তুলেছিল।

• গিরিশচন্দ্র তাঁর নাটক রচনায় সাহিত্যের প্রয়োজনের চেয়ে মঞ্চের স্বার্থকেই প্রাধান্য দিয়েছিলেন। তাই শেষ বয়সে আক্ষেপ করে বলেছিলেন, 'একখানি নাটকও তিনি নিজের ইচ্ছামত লিখে যেতে পারেন নি।' এই আক্ষেপে নটের কাছে নাট্যকারের পরাভবই ব্যক্ত হয়েছে। গিরিশচন্দ্র ছিলেন প্রথমে নট ও মঞ্চাধ্যক্ষ, পরে নাট্যকার।

• গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো:
- আগমনী,
- অভিমন্যুবধ,
- সীতার বনবাস,
- সীতাহরণ,
- পাণ্ডবের অজ্ঞাতবাস,
- প্রফুল্ল,
- জনা,
- বলিদান,
- সিরাজদ্দৌলা,
- মীরকাশিম,
- ছত্রপতি শিবাজী,
- শঙ্করাচার্য,
- বিল্বমঙ্গল ঠাকুর।

• তাঁর রচিত প্রহসন:
- যামিনী চন্দ্রমাহীনা,
- গোপন চুম্বন,
- ভোটমঙ্গল,
- বেল্লিক বাজার ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• রামনারায়ণ তর্করত্ন 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক রচনার করে 'নাটুকে নারায়ণ' নামে খ্যাতি লাভ করেছিলেন।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবিগুরু হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছিলেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।  

৫৬১.
'নীল-দর্পণ' নাটকটি কোন ইংরেজি সাহিত্যের সাথে তুলনা করা হয়?
  1. Taming of the Shrew
  2. Apple of Discord
  3. Uncle Tom's Cabin
  4. You never can tell
সঠিক উত্তর:
Uncle Tom's Cabin
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Uncle Tom's Cabin
ব্যাখ্যা
নীলচাষ ও  নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাত আচরণমূলক নাটক নীলদর্পণ (১৮৬০) এর রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র।
- অনেকেই এই নাটকটিকে Uncle Tom's Cabin এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। 
- নাটকটির ঘটনা, বিষয়চিন্তা, রচনাস্থান, প্রকাশস্থান, মুদ্রনালয়, প্রথম মঞ্চায়ন সবই বাংলাদেশে।
- প্রথম প্রকাশের সময়  ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে তা প্রকাশিত হয়। 
- নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: গোলক বসু, নবীন মাধব, রাইচরন, তোরাপ, সাবিত্রী, সরলতা, ক্ষেত্রমণি ইত্যাদি।

তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নবীন তপস্বিনী (১৮৬৩),
- বিয়ে পাগলা বুড়ো (১৮৬৬),
- সধবার একাদশী (১৮৬৬),
- লীলাবতী (১৮৬৭),
- জামাই বারিক (১৮৭২),
- কমলে কামিনী (১৮৭৩) প্রভৃতি।

সামাজিক নাটক:
- সধবার একাদশী
- লীলাবতী 

প্রহসন:
- বিয়ে পাগলা বুড়ো
- জামাই বারিক

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৫৬২.
চণ্ডীচরণ মুনশী কোন প্রতিষ্ঠানে বাঙালা ভাষার অধ্যাপক ছিলেন?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. সংস্কৃত কলেজ
  3. প্রেসিডেন্সি কলেজ
  4. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
সঠিক উত্তর:
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীচরণ মুনশী:
চণ্ডীচরণ মুনশী অষ্টাদশ শতাব্দীতে আবির্ভূত ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙ্গালী লেখক এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাঙালা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

- তাঁর রচিত গ্রন্থ 'তোতা ইতিহাস' একটি উপাখ্যান যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে।
- এটি ফারসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৬৩.
'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কি ধরনের রচনা?
  1. ক) ছোটগল্প
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) কাব্যনাটক
  4. ঘ) পত্রোপন্যা
সঠিক উত্তর:
গ) কাব্যনাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাব্যনাটক
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ শামসুল হক একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক।
- কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, অনুবাদ তথা সাহিত্যের সকল শাখায় সাবলীল পদচারণার জন্য তাঁকে 'সব্যসাচী' লেখক বলা হয়।
- তিনি মাত্র ২৯ বছর বয়সে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেছিলেন।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্যঃ
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যনাট্যঃ
- গণনায়ক,
- নুরুলদীনের সারাজীবন (ফকির বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত),
- এখানে এখন,
- বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৫৬৪.
“আরো দুটি মৃত্যু” - কার রচিত গল্প?
  1. ক) সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী
  2. খ) হাসান হাফিজুর রহমান
  3. গ) হাসান আজিজুল হক
  4. ঘ) সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
খ) হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
হাসান হাফিজুর রহমান অমর হয়ে আছেন ভাষা আন্দোলনের পর প্রথম প্রকাশিত সাহিত্য সংকলন “একুশে ফেব্রুয়ারী” ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র ( ১৯৮২-৮৩) সম্পাদনা করে। তার রচিত কবিতাঃ আর্ত শব্দাবলী, বিমুখ প্রান্তর, অন্তিম শরের মত, শোকার্ত তরবারী ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৬৫.
'নবনাটক' নাট্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্রে
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  4. মনোমোহন বসু 
সঠিক উত্তর:
রামনারায়ণ তর্করত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামনারায়ণ তর্করত্ন
ব্যাখ্যা

• 'নবনাটক':
- সমকালীন সামাজিক দুর্নীতির প্রতি কটাক্ষপাত করে যে সমস্ত নাটক সে সময়ে রচিত হয়েছিল তাদের মধ্যে রামনারায়ণ তর্করত্নের 'নবনাটক' (১৮৬৬) শ্রেষ্ঠ। তাঁর সমস্ত নাটকের মধ্যে একেই পূর্ণ নাট্যমর্যাদা দেওয়া যেতে পারে।

- ‘বহুবিবাহ প্রভৃতি কুপ্রথা বিষয়ক 'নবনাটক' এই নামকরণের মাধ্যমেই নাটকটির পরিচয় ফুটে উঠেছে। এই নাটকটিও পুরস্কার প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে পর-নির্দেশিত বিষয়ে রচিত। জোড়াসাঁকো নাট্যশালার পক্ষ থেকে গণেন্দ্রনাথ ঠাকুর এ পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন।

- রামনারায়ণ এই নাটক রচনায় বিশেষ কৃতিত্ব প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। অবশ্য 'নবনাটক’ প্রকাশের আগেই মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও দীনবন্ধু মিত্রের নাটক প্রকাশিত হয়েছিল। রামনারায়ণ তাঁদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। নাটকের ভাষা-বিন্যাস ও পরিণতিতে দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণের' প্রভাব লক্ষ করা চলে। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৬৬.
‘দত্তা’ উপন্যাসটি কি নামে নাট্যায়িত হয়?
  1. ক) ষোড়শী
  2. খ) বিজয়া
  3. গ) রমা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) বিজয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিজয়া
ব্যাখ্যা
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাসঃ দেনা পাওনা (১৯২৩): ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলার নারীদের প্রতি অবিচার ও পণপ্রথার কদর্যরূপ দর্শিত হয়েছে। জীবনানন্দ ও ষোড়শী উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র। উপন্যাসটি “ষোড়শী” নামে নাট্যায়িত হয়। দত্তা (১৯১৮): উপন্যাসটি “বিজয়া” নামে নাট্যায়িত হয়। বনমালী, রাসবিহারী, বিজয়া, নরেন্দ্র ইত্যাদি প্রধান চরিত্র। পল্লী সমাজ (১৯১৬): রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম ইত্যাদি প্রধান চরিত্র। উপন্যাসটি “রমা” নামে নাট্যায়িত হয়।
৫৬৭.
কোনটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত এবং ঢাকায় মঞ্চস্থ প্রথম নাটক?
  1. সাজাহান
  2. নীলদর্পণ
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. শেষ নবাব
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা
• দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে ১৮৩০ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধের সময় দীনবন্ধু কাছাড়ে সফলভাবে ডাক বিভাগ পরিচালনা করেন, যার জন্য সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। 

• 'নীলদর্পণ' নাটক: 
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ।
- এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- তাই এটিকে বাংলাদেশের নাটক বলা হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৫৬৮.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের মৃত্যুর পর প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. রাজাবলি
  2. হিতোপদেশ
  3. প্রবোধচন্দ্রিকা
  4. পঞ্চতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
প্রবোধচন্দ্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবোধচন্দ্রিকা
ব্যাখ্যা

• 'প্রবোধচন্দ্রিকা' ১৮১৩ সালে রচিত হলেও প্রকাশিত হয়েছিল মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর ১৮৩৩ সালে। গ্রন্থটি মূলত দার্শনিক নিবন্ধ। সংস্কৃত বিদ্যাভাণ্ডারের পরিচয় দেওয়ার জন্যই গ্রন্থটি রচিত। এতে কথ্য সাধু ও সংস্কৃত রীতির ভাষা অনুসৃত হয়েছে।

------------------
•  মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- উইলিয়াম কেরির অধীনস্থ প্রধান পণ্ডিত মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (১৭৬২-১৮১৯) বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২), রাজাবলি (১৮০৮), হিতোপদেশ (১৮০৮), বেদান্তচন্দ্রিকা (১৮১৭) ও প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)-এই পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।

- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার শুধু অধ্যাপক পণ্ডিতই ছিলেন না, তিনি সে যুগের বহু জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তাঁর শাস্ত্রজ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের খ্যাতি সে আমলে প্রবাদ বাক্যের মত ছড়িয়ে পড়েছিল। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ লেখক মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।

- তিনি ছিলেন ভাষাবিদ ও ভাষাশিল্পী। প্রয়োজনানুসারী ভাষারীতির প্রবর্তনে তিনি যুগোপযোগী সার্থকতা অর্জন করেছিলেন। তাঁর বাক্যগঠনে ত্রুটি থাকলেও বাক্যের প্রাঞ্জলতা ও গাল্পিক কৌতূহল অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

- সংস্কৃত 'পঞ্চতন্ত্র' থেকে অনূদিত 'হিতোপদেশ' গ্রন্থের ভাষা সংস্কৃতানুগ। কিংবদন্তি ও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে রচিত 'রাজাবলি' গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠু রূপ নিয়েছে। আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

- 'বেদান্তচন্দ্রিকা' গ্রন্থের নামপত্রে মৃত্যুঞ্জয়ের নামোল্লেখ না থাকলেও তা তাঁর নিজের রচনা বলে অনুমিত। এর মধ্যে বহু সংস্কৃত গ্রন্থের এবং বেদান্ত সূত্র-ভাষ্যাদির অংশবিশেষ অনূদিত হওয়ায় তাকে স্বাধীন রচনা বলে মনে করা যায় না। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৬৯.
'কীর্তিবিলাস' নাটক রচনা করেন?
  1. যোগেনমণ্ডল
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  4. তারাচরণ শিকদার
সঠিক উত্তর:
যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
'কীর্তিবিলাস' নাটক:
- 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- নাটকটির রচয়িতা যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত। এটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়।
- সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে 'কীর্তিবিলাস' নাটকটি রচিত।
- বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ এর বৈশিষ্ট্য।
- পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে।
- কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৭০.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'পদ্মাবতী' একটি-
  1. ট্র‍্যাজেডি নাটক
  2. রাজনৈতিক নাটক
  3. রূপক নাটক
  4. সার্থক কমেডি নাটক
সঠিক উত্তর:
সার্থক কমেডি নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সার্থক কমেডি নাটক
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক কমেডি নাটক - 'পদ্মাবতী'।

• 'পদ্মাবতী' নাটক:
- 'পদ্মাবতী' নাটকটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম কমেডি ধাচের নাটক এবং এতে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করা হয়। ১৮৬০ সালে এটি প্রকাশিত হয়।
- মাইকেল মধুসূদন নাটকটি গ্রীক পুরাণের প্রসিদ্ধ গল্প "Apple of Discord" এর ছায়া অবলম্বন করে রচনা করেন।

- এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার বরেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহারে এই সফলতা তাঁকে ভীষণভাবে উৎসাহিত করে এবং এই ছন্দে একই বছর তিনি রচনা করেন তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- পদ্মাবতী,
- ইন্দ্রনীল,
- শচী,
- মুরজা,
- রতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।
৫৭১.
বাংলা গদ্য সাহিত্যের আদি (প্রথম) পর্বের রচনা কোনটি?
  1. প্রভাবতী সম্ভাষণ
  2. বত্রিশ সিংহাসন
  3. চর্যাপদ
  4. বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
বত্রিশ সিংহাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বত্রিশ সিংহাসন
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ: 
- বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ শুরু হয়েছে ১৮০০ সাল থেকে।
- ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান হচ্ছে বর্তমান যুগ।
- ১৮০০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়টুকু ছিলো প্রথম পর্যায়।
- ১৮৬০ সাল থেকে আধুনিক যুগের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়।
- আধুনিক যুগের প্রথম পর্যায়ে বাংলা গদ্যের চর্চা শুরু হয়।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে ইংরেজি সাহিত্যের প্রভাবে সমৃদ্ধ বাংলা সাহিত্য রচিত হয়।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, নারীমুক্তি ইত্যাদি আধুনিক যুগের সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য হলেও মানবতাবাদ প্রধান।
---------------------- 
• বত্রিশ সিংহাসন:

বত্রিশ সিংহাসন হলো মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ, যা ১৮০২ সালে প্রকাশিত হয়। এটি একটি কাহিনি সংকলন যা বাংলা গদ্যের আদিপর্বের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য।

অন্যদিকে,
• বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য - প্রভাবতী সম্ভাষণ।
- প্রকাশিত হয় ১৮৯২ খ্রিষ্টাব্দে।

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- ধারণা করা হয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী কোন এক সময়ে চর্যাপদ রচিত হয়েছিল।
- ড. শহীদুল্লাহর মতে - ৬৫০ থেকে ১২০০ সালের মধ্যে রচিত।

• ''বঙ্গভাষা ও সাহিত্য'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ যা দীনেশচন্দ্র সেনগুপ্ত রচনা করেন ১৮৯৬ সালে।

সুতরাং,
দেখা যাচ্ছে যে - বাংলা গদ্য সাহিত্যের আদিপর্বের রচনা - বত্রিশ সিংহাসন।
------------------------------ 
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার: 
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ছিলেন একজন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ ও লেখক। উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে ১৮০১ সালের ৪ মে তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন। এছাড়াও, তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবেও কাজ করেছেন। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের উল্লেখযোগ্য রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
• বত্রিশ সিংহাসন, 
• রাজাবলী, 
• হিতোপদেশ, 
• বেদান্তচন্দ্রিকা, 
• প্রবোধচন্দ্রিকা।

উৎস: 
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 
- বাংলাপিডিয়া।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৭২.
'যৈবতী কন্যার মন' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) সেলিম আল দীন
  2. খ) মামুনুর রশীদ
  3. গ) মুনীর চৌধুরী
  4. ঘ) বিজন ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
ক) সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
'যৈবতী কন্যার মন' (১৯৯২) সেলিম আল দীন রচিত নাটক।
- সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ।

তাঁর অন্যান্য নাটক ও নাট্যগ্রন্থ-
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য নাটক (১৯৭৩),
- বাসন (১৯৮২),
- কেরামতমঙ্গল (১৯৮৮),
- কীর্তন খোলা (১৯৮৩),
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি (১৯৮৫),
- চাকা (১৯৯০),
- বনপাংশুল (১৯৯১),
- হরগজ (১৯৯২),
- একটি মারমা রূপকথা (১৯৯৫),
- হাতহদাই (১৯৯৭) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৭৩.
মুসলিম নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক-
  1. বসন্তকুমারী
  2. আবু হোসেন
  3. পদ্মাবতী
  4. মালতী মাধব
সঠিক উত্তর:
বসন্তকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসন্তকুমারী
ব্যাখ্যা
• ‘বসন্তকুমারী’ নাটক:
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে ‘বসন্তকুমারী’ নাটক (১৮৭৩) উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকটিকে মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক হিসেবে নির্দেশ করা যায়।
- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র’ পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের মৃত্যু- এই কাহিনি অবলম্বনে ‘বসন্তকুমারী নাটক রচিত।
- নাটকটির অপর নাম ‘বৃদ্ধস্য তরূণী ভার্যা’।
- ‘জমীদার দর্পণ’ (১৮৭৩) মীর মশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় নাটক।

------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- তিনি ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' (১৮৩১) ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'-র (১৮৬৩) মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- মীর মশাররফ হোসেন 'আজীজননেহার' (১৮৭৪) ও 'হিতকরী' (১৮৯০) নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ হোসেন 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- বাংলা সাহিত্যে মুসলমান রচিত প্রথম উপন্যাস 'রত্নবতী' ও নাটক 'বসন্তকুমারী' তাঁর রচনা।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাস।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রত্নবতী,
- বিষাদ-সিন্ধু,
- উদাসীন পথিকের মনের কথা।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমিদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

অন্যদিকে,
- জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক ‘অশ্রুমতী’ এবং অনুবাদ নাটক ‘মালতী-মাধব’।
- গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত গীতিনাট্য ‘আবু হোসেন’।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক ‘পদ্মাবতী’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৭৪.
ইয়ংবেঙ্গল গোষ্ঠীর মুখপত্র কোনটি?
  1. ক) জ্ঞানান্বেষণ
  2. খ) জ্ঞানাঙ্কুর
  3. গ) সংবাদ প্রভাকর
  4. ঘ) বঙ্গদূত
সঠিক উত্তর:
ক) জ্ঞানান্বেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জ্ঞানান্বেষণ
ব্যাখ্যা

ডিরোজিও ছিলেন ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের প্রবক্তা।
- ইংরেজি ভাবধারাপুষ্ট ডিরোজিওর বাঙালি শিষ্যরাই ইয়ং বেঙ্গল নামে পরিচিত।
- ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের মুখপাত্র হিসেবে জ্ঞানান্বেষণ (১৮৩১)পত্রিকা দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হতো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।

৫৭৫.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাট্যকার -
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. রামায়ণ তর্করত্ন
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
বাংলা সাহিত্যে মাইকেল মধুসূদন দত্তের (১৮২৪-৭৩) সগৌরব আবির্ভাব ঘটেছিল নাট্যরচনার সূত্র ধরে। বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাট্যকার হিসেবে মাইকেল বাংলা মধুসূদন দত্তের স্থান সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

- তাঁর প্রথম নাটক 'শর্মিষ্ঠা' (১৮৫৯) বাংলা নাটকে প্রাণসঞ্চার করতে সক্ষম হয়।
- এই নাটকের পূর্বেকার বাংলা নাটকে কৌতুকরসের বাহুল্য, রচনার গুরুভার ইত্যাদি ত্রুটি বিদ্যমান ছিল।

উল্লেখ্য,
সংস্কৃত আলঙ্কারিকদের বিধিনিষেধ থেকে মুক্তি, কাহিনিতে নিরবচ্ছিন্ন গতি, নাট্যরীতিতে পাশ্চাত্য আদর্শ গ্রহণ ইত্যাদির ফলে বাংলা নাটক তাঁর হাতেই ভাবীকালের পথের সন্ধান পেয়ে সার্থকতর সৃষ্টির পর্যায়ে উন্নীত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৭৬.
'আনোয়ারা' উপন্যাসটি কার?
  1. নজিবর রহমান
  2. মীর মশাররফ
  3. হুমায়ুন আহমেদ
  4. মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
নজিবর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা

মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন রচিত উপন্যাসঃ
- আনোয়ারা,
- প্রেমের সমাধি,
- গরিবের মেয়ে,
- মেহেরুন্নেছা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৫৭৭.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হয় কত সালে?
  1. ১৮০০ সালে
  2. ১৮০১ সালে
  3. ১৮০২ সালে
  4. ১৮০৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮০১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০১ সালে
ব্যাখ্যা
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলি কর্তৃক ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ৪ঠা মে কলেজের প্রতিষ্ঠা দিবস হলেও ২৪শে নভেম্বর থেকে কলেজের কাজ শুরু হয়েছিল।
- দেশীয় ভাষা শিক্ষা দিয়ে সিবিলিয়ানদের উপযুক্ত করে তোলার জন্যই ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠা।
- এই কলেজে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্রীরামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক বাংলায় অভিজ্ঞ উইলিয়াম কেরি।
- তিনি তাঁর অধীনস্ত দু জন পণ্ডিত এবং ছয় জন সহকারী পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। তাঁদের প্রচেষ্টার ফলাফল দিয়েই বাংলা গদ্যের অনুশীলনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা নিরূপণ করা হয়।

• ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো হলো:
• কেরি রচিত : কথোপকথন (১৮০১); ইতিহাসমালা (১৮১২) ।
•  রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১); লিপিমালা (১৮০২) ।
• গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ (১৮০২)।

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত:
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২);
-  হিতোপদেশ (১৮০৮);
- রাজাবলি (১৮০৮);
- প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)।

• তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট (১৮০৩)।
 রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫)।

• চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস (১৮০৫)।
• হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা (১৮১৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৭৮.
বাংলা গদ্যের প্রাচীনতম নিদর্শনের পরবর্তী প্রচেষ্টার নিদর্শন কোনটি?
  1. দোম আন্তনিও রচিত 'ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ' গ্রন্থ
  2. ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড রচিত ' A Grammar of the Bengal Language' গ্রন্থ
  3. মানোএল দা আসসুম্পসাঁও রচিত 'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' গ্রন্থ
  4. মানোএল দা আসসুম্পসাঁও রচিত 'ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগোল্লা ই পোরতুগিজ' গ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
দোম আন্তনিও রচিত 'ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ' গ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোম আন্তনিও রচিত 'ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ' গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
•‘ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ’ গ্রন্থ:
- বাংলা গদ্যের প্রাচীনতম নিদর্শনের পরবর্তী প্রচেষ্টার নিদর্শনস্বরূপ সর্বাগ্রে উল্লেখ করা যায় সতের শতকের শেষভাগে ঢাকার ভূষণার জমিদারপুত্র দোম আন্তনিও নামক একজন দেশীয় পাদ্রি রচিত 'ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ' গ্রন্থটির কথা।
- ভূষণার জমিদারপুত্র ১৬৬৩ সালে মগ দস্যুদের দ্বারা অপহৃত হয়ে আরাকানে নীত হন।
- একজন পাদ্রি তাঁকে উদ্ধার করে রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করেন।
- পরে তিনি নিজেই একজন পাদ্রি হিসেবে খ্যাত হন।
- শোনা যায়, তাঁর প্রচেষ্টায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রায় ত্রিশ হাজার লোক খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হয়েছিল।
- ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ গ্রন্থে একজন ব্রাহ্মণ ও একজন রোমান-ক্যাথলিকের মধ্যে ধর্মবিচারচ্ছলে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে খ্রিস্ট ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিপাদন করাই ছিল উদ্দেশ্য।
- গ্রন্থটি পর্তুগালের রাজধানী লিসবন নগরে ১৭৪৩ সালে রোমান অক্ষরে মুদ্রিত হয়।
- সাধুভাষার ছাঁদে গ্রন্থটি লিখিত এবং এতে ফারসি শব্দের বাহুল্য বর্জন করার চেষ্টা আছে।
- গ্রন্থের ভাষায় তৎসম শব্দের আধিক্য পরিলক্ষিত না হলেও রচনা সহজবোধ্য হয় নি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৭৯.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত নন কে?
  1. তারিণীচরণ মিত্র
  2. রাজীবলােচন
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. হরপ্রসাদ রায়
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত নন - মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:

- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয়‌ বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলােচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৮০.
বাংলা সাহিত্যে 'দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব' ধারার প্রচলন করেন -
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. শামসুদ্দিন আবুল কালাম
  3. সেলিম আল দীন
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন
- ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট তৎকালীন নোয়াখালী (বর্তমান ফেনী) জেলার সোনাগাজী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন রবীন্দ্রোত্তরকালের বাংলা নাটকের প্রধান পুরুষ সেলিম আল দীন। 
- ১৯৮৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তার উদ্যোগেই খোলা হয় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ। 
- তিনি ১৯৮১-৮২ সালে দেশব্যাপী গড়ে তোলেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার।
- ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তিনি মর্ত্যলোকের মায়া ত্যাগ করে চলে যান অনন্তলোকে।

- সেলিম আল দীন ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব’ নামে এক নতুন নাট্যরীতির প্রচলন করেন।
- পাশ্চাত্য শিল্পের সব বিভাজনকে বাঙালির সহস্র বছরের নন্দনতত্ত্বের আলোকে অস্বীকার করে তিনি এই নবতর শিল্পরীতি প্রবর্তন করেন।
- এছাড়াও তিনি ফিউশন তত্ত্ব’র প্রবক্তা এবং নিউ এথনিক থিয়েটারের উদ্ভাবনকারী। 

উল্লেখযোগ্য নাটক : 
- জণ্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- মুনতাসির, শকুন্তলা,
- কিত্তনখোলা,
- কেরামত মঙ্গল,
- হাতহদাই,
- যৈবতী কন্যার মন,
- চাকা,
- হরগজ,
- বনপাংশুল,
- প্রাচ্য,
- নিমজ্জন,
- ধাবমান,
- স্বর্ণবোয়াল ইত্যাদি।

উৎস : ১. যুগান্তর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৫৮১.
সংস্কৃত 'পঞ্চতন্ত্র' থেকে অনূদিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
  2. হিতোপদেশ
  3. বেদান্তচন্দ্রিকা
  4. লিপিমালা 
সঠিক উত্তর:
হিতোপদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিতোপদেশ
ব্যাখ্যা

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- উইলিয়াম কেরির অধীনস্থ প্রধান পণ্ডিত মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (১৭৬২-১৮১৯) বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২), রাজাবলি (১৮০৮), হিতোপদেশ (১৮০৮), বেদান্তচন্দ্রিকা (১৮১৭) ও প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)-এই পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।

- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার শুধু অধ্যাপক পণ্ডিতই ছিলেন না, তিনি সে যুগের বহু জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তাঁর শাস্ত্রজ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের খ্যাতি সে আমলে প্রবাদ বাক্যের মত ছড়িয়ে পড়েছিল। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ লেখক মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।

- তিনি ছিলেন ভাষাবিদ ও ভাষাশিল্পী। প্রয়োজনানুসারী ভাষারীতির প্রবর্তনে তিনি যুগোপযোগী সার্থকতা অর্জন করেছিলেন। তাঁর বাক্যগঠনে ত্রুটি থাকলেও বাক্যের প্রাঞ্জলতা ও গাল্পিক কৌতূহল অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

- সংস্কৃত 'পঞ্চতন্ত্র' থেকে অনূদিত 'হিতোপদেশ' গ্রন্থের ভাষা সংস্কৃতানুগ। কিংবদন্তি ও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে রচিত 'রাজাবলি' গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠু রূপ নিয়েছে। আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

- 'বেদান্তচন্দ্রিকা' গ্রন্থের নামপত্রে মৃত্যুঞ্জয়ের নামোল্লেখ না থাকলেও তা তাঁর নিজের রচনা বলে অনুমিত। এর মধ্যে বহু সংস্কৃত গ্রন্থের এবং বেদান্ত সূত্র-ভাষ্যাদির অংশবিশেষ অনূদিত হওয়ায় তাকে স্বাধীন রচনা বলে মনে করা যায় না। 

অন্যদিকে, 
• রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র ও লিপিমালা  রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৮২.
‘ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ’ গ্রন্থটি কে রচনা করেছিলেন?
  1. ভূষণার জমিদার মোহনলাল
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. দোম আন্তনিও
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
দোম আন্তনিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোম আন্তনিও
ব্যাখ্যা
• ‘ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ’ গ্রন্থ:
বাংলা গদ্যের প্রাচীনতম নিদর্শনের পরবর্তী প্রচেষ্টার নিদর্শনস্বরূপ সর্বাগ্রে উল্লেখ করা যায় সতের শতকের শেষভাগে ঢাকার ভূষণার জমিদারপুত্র দোম আন্তনিও নামক একজন দেশীয় পাদ্রি রচিত 'ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ'।

- ‘ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ’ গ্রন্থে একজন ব্রাহ্মণ ও একজন রোমান-ক্যাথলিকের মধ্যে ধর্মবিচারচ্ছলে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে খ্রিষ্ট ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিপাদন করাই ছিল উদ্দেশ্য।
- গ্রন্থটি ১৭৩৫ সালে রচিত হয় এবং পর্তুগালের রাজধানী লিসবন নগরে ১৭৪৩ সালে রোমান অক্ষরে মুদ্রিত হয়।
- সাধুভাষার ছাঁদে গ্রন্থটি লিখিত এবং এতে ফারসি শব্দের বাহুল্য বর্জন করার চেষ্টা আছে।
- গ্রন্থের ভাষায় তৎসম শব্দের আধিক্য পরিলক্ষিত না হলেও রচনা সহজবোধ্য হয়নি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং ‘ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ’ গ্রন্থ।
৫৮৩.
‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি কোন হরফে রচিত?
  1. ফারসি
  2. রোমান
  3. বাংলা
  4. হিন্দি
সঠিক উত্তর:
রোমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান
ব্যাখ্যা
• ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থ:
• রোমান ক্যাথলিক পর্তুগিজ পাদ্রি মানোএল দা আসসুম্পসাঁও কর্তৃক ১৭৩৪ সালে রচিত এবং ১৭৪৩ সালে লিসবনে রোমান হরফে মুদ্রিত ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

• গ্রন্থটি ঢাকার ভাওয়াল অঞ্চলের নাগরী নামক স্থানে লিখিত। এই গ্রন্থের বাঁ দিকের পৃষ্ঠায় বাংলা ভাষায় এবং ডান দিকের পৃষ্ঠায় পর্তুগিজভাষায় গুরু ও শিষ্যের কথোপকথনের মাধ্যমে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা এবং খ্রিষ্টানদের আচার-অনুষ্ঠানের কথা আলোচিত হয়েছে।

• মূল পর্তুগিজ অংশ মানোএল দা আসসুম্পসাঁও-এর লেখা; তিনি সম্ভবত কোন দেশীয় খ্রিষ্টান দ্বারা বাংলা ভাষায় অনুবাদ করিয়েছিলেন। গ্রন্থাকার ঢাকার ভাওয়াল অঞ্চলের পাদ্রি হিসেবে ধর্মপ্রচারে রত ছিলেন এবং সে অঞ্চলে থাকাকালীন গ্রন্থটি রচিত বলে তাতে স্থানীয় উপভাষার প্রভাব আছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৮৪.
'নবান্ন' নাটকের পটভূমি কী?
  1. ক) দেশ ভাগ
  2. খ) মন্বন্তর
  3. গ) স্বাধীন বাংলার গ্রামীন জীবন
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
খ) মন্বন্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মন্বন্তর
ব্যাখ্যা
'নবান্ন' (১৯৪৪) নাটকটির রচয়িতা বিজন ভট্টাচার্য।
- নাটকটি পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক। 

বিজন ভট্টাচার্য নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত ছিলেন৷
তিনি 'নবান্ন' (১৯৪৪) নাটকটি রচনা করে প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেন।
তার রচিত অন্যান্য নাটক-
- জনপদ
- কলঙ্ক
- মরাচাঁদ
- অবরোধ
- গোত্রান্তর

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৮৫.
ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?  
  1. ১৯২১ সালে
  2. ১৯২৬ সালে 
  3. ১৯২৭ সালে 
  4. ১৯২৯ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯২৬ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৬ সালে 
ব্যাখ্যা

মুসলিম সাহিত্য-সমাজ:
• মুসলিম সাহিত্য-সমাজ ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল শিক্ষক ও ছাত্রের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি মুসলিম সাহিত্য-সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।

• সংগঠনটির পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন, মুসলিম হলের ছাত্র এ.এফ.এম আবদুল হক, ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ছাত্র আবদুল কাদির প্রমুখের ওপর। তারাই ছিলেন প্রথম কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য।

• নেপথ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করতেন ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক কাজী আবদুল ওদুদ ও যুক্তিবিদ্যার অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদীর।

এছাড়াও-
• মুসলিম সাহিত্য-সমাজের বার্ষিক মুখপত্র শিখা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাসে।
• শিখার মোট পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল।
• প্রথম সংখ্যা আবুল হুসেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংখ্যা কাজী মোতাহার হোসেন, চতুর্থ সংখ্যা মোহাম্মদ আবদুর রশিদ এবং পঞ্চম সংখ্যা আবুল ফজল সম্পাদনা করেন।
• শিখার মুখবাণী ছিল -‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’।

• মুসলিম সাহিত্য-সমাজের প্রধান লেখকরা হলেন-
- আবুল হুসেন,
- মোতাহের হোসেন চৌধুরী,
- কাজী আবদুল ওদুদ,
- আবদুল কাদির,
- আবুল ফজল,
- আনোয়ারুল কাদির প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫৮৬.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের রূপকথার সংকলন টি কয়টি খন্ডে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
গ) ৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪
ব্যাখ্যা
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের সংগৃহীত জনপ্রিয় রূপকথার সংকলনটি চারটি খন্ড প্রকাশিত হয়। এগুলো হলো- ঠাকুরমার ঝুলি, ঠাকুরদাদার ঝুলি, ঠানদিদির থলে, দাদামশায়ের থলে। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫৮৭.
বিয়োগান্তক নাটক 'কীর্তিবিলাস' রচনা করেন কে?
  1. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  2. পঞ্চানন চক্রবর্তী
  3. গোপাল দাস
  4. তারিণীচরণ মিত্র
সঠিক উত্তর:
যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
'কীর্তিবিলাস' নাটক:
- 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা। এর রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত। এটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়।
- সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে 'কীর্তিবিলাস' নাটকটি রচিত।
- বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ এর বৈশিষ্ট্য।
- পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে।
- কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৮৮.
“Tree without roots” উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. বেগম রোকেয়া
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. জহির রায়হান
  4. আবূ ইসহাক
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা

কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ এর জন্ম ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে। 
- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়। এ সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা ভোরের আলো সম্পাদনা করেন।

তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস
- লালসালু (১৯৪৮)
- চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪)
- কাঁদো নদী কাঁদো (১৯৬৮)

> ১৯৪৮ সালে রচিত এবং প্রকাশিত লালসালু উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের ধ্রুপদী সৃষ্টিকর্ম হিসেবে বিবেচিত। এর পটভূমি ১৯৪০ কিংবা ১৯৫০ দশকের বাংলাদেশের গ্রামসমাজ হলেও এর প্রভাব বা বিস্তার কালোত্তীর্ণ। মূলত গ্রামীণ সমাজের সাধারণ মানুষের সরলতাকে কেন্দ্র করে ধর্মকে ব্যবসার উপাদানরূপে ব্যবহারের একটি নগ্ন চিত্র উপন্যাসটির মূল বিষয়।

> লালসালু উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ করেন অ্যান-মারি-থিবো, জেফ্রি ডিবিয়ান, কায়সার সাঈদ এবং মালিক খৈয়াম। তবে ওয়ালীউল্লাহ নিজে এতে সম্প্রসারণের কাজ করেন। ১৯৬৭ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের Chatto অ্যান্ড Windus লিমিটেড থেকে Tree Without Roots শিরোনামে প্রকাশিত হয়।পরবর্তীতে উপন্যাসটি জার্মান ও চেক ভাষাসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

উৎস:  সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ); বাংলাপিডিয়া

৫৮৯.
দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন নয় কোনটি?
  1. সধবার একাদশী
  2. এর উপায় কি
  3. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  4. জামাই বারিক
সঠিক উত্তর:
এর উপায় কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এর উপায় কি
ব্যাখ্যা
• দীনবন্ধু মিত্র: 
- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।

দীনবন্ধু মিত্রের কাব্যগ্রন্থ -
- দ্বাদশ কবিতা ও
- সুরধুনী কাব্য।

দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
-  সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

অন্যদিকে,
- 'এর উপায় কি?' মীর মশাররফ হোসেন রচিত একমাত্র প্রহসন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৯০.
‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. প্রসন্নকুমার ঠাকুর
  2. হরিচরণ ঘোষাল
  3. রাজা নবকৃষ্ণ দেব
  4. রাজা রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর:
প্রসন্নকুমার ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রসন্নকুমার ঠাকুর
ব্যাখ্যা
বাংলা নাটকের উৎস ও বিকাশ:
- আঠারো শতকের শেষদিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়।
- কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।
- বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে।
- হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন।
- তিনি 'The Disguise' এবং 'Love is the best Doctor' নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান। এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।
- ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।
- বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৯১.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক কোনটি?
  1. ক) নরকে লাল গোলাপ
  2. খ) কী চাহ শঙ্খচিল
  3. গ) বর্ণচোর
  4. ঘ) বকুলপুরের স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
ক) নরকে লাল গোলাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নরকে লাল গোলাপ
ব্যাখ্যা
'নরকে লাল গোলাপ' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।

• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- মায়াবী প্রহর,
- মরক্কোর জাদুঘর,
- সংবাদ শেষাংশ,
- ধন্যবাদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ,
- মানচিত্র,
- লেলিহান পান্ডুলিপি,
- নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ,
- সূর্য জ্বালার স্বপ্ন ইত্যাদি।

অন্যদিকে
- 'বর্ণচোর', ‘বকুলপুরের স্বাধীনতা’ ও ‘কী চাহ শঙ্খচিল’- মমতাজ উদ্দিন আহমদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৯২.
“আলোছায়া” নাটকটি কে রচনা করেন?
  1. ক) নবীনচন্দ্র সেন
  2. খ) নীলিমা ইব্রাহিম
  3. গ) নুরুল মোমেন
  4. ঘ) শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
গ) নুরুল মোমেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নুরুল মোমেন
ব্যাখ্যা
- নুরুল মোমেন "আলোছায়া" নামক কমেডি নাটকটি রচনা করেন।
- এটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উল্লেখ্যযোগ্য চরিত্র: হাম্মাদ জামিল, জাহানারা, সুলতান।

নুরুল মোমেন
- জন্ম ফরিদপুর (তৎকালীন যশোর) জেলার আলফাডাঙ্গায় ২৫ নভেম্বর ১৯০৬।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- তিনি রম্যসাহিত্য রচয়িতা হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন।
- তিনি সিতারা-ই–ইমতিয়াজ ও ১৯৭৮ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
- সামাজিক সংকটের পটভূমিকায় অন্তর্দ্বন্দমূলক নাট্যচরিত্র নির্মাণ করে খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর উল্লেখ্যযোগ্য কিছু নাটক-
 » রূপান্তর,
 » নেমেসিস,
 » যদি এমন হতো,
 » আইনের অন্তরালে,
 » যেমন ইচ্ছা তেমন,
 » আলছায়া।

তাঁর রচিত রম্যগ্রন্থগুলো হলো
 » বহুরূপ,
 » নরসুন্দর,
 » হিংটিং ছট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫৯৩.
সেলিম আল দীন রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. ক) বাসন
  2. খ) শকুন্তলা
  3. গ) দ্যাশের মানুষ
  4. ঘ) বনপাংশুল
সঠিক উত্তর:
গ) দ্যাশের মানুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দ্যাশের মানুষ
ব্যাখ্যা
'হাতহদাই' হলো সেলিম আল দীন রচিত একটি নাটক। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য নাটক হলো- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, কেরামতমঙ্গল, মোনতাসির, শকুন্তলা, বাসন, কীর্তনখোলা, যৈবতী কন্যার মন, চাকা, হরগজ, প্রাচ্য, নিমজ্জন, ধাবমান, স্বর্ণবোয়াল, পুত্র, বনপাংশুল ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫৯৪.
'দি ডিসগাইজ' নাটকের বাংলা অনুবাদক কে?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. হেরাসিম লেবেডেফ
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. লুই ডিরোজিও
সঠিক উত্তর:
হেরাসিম লেবেডেফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেরাসিম লেবেডেফ
ব্যাখ্যা
• 'দি ডিসগাইজ' নাটকের বাংলা অনুবাদ করেছেন- 'হেরাসিম লেবেডেফ'। 

• বাংলা নাটকের উৎস ও বিকাশ: 
- আঠারো শতকের শেষদিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়। কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারে নি।
- বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে।
- হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন।
- তিনি “The Disguise” এবং “Love is the best Doctor” নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান।
- এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।
- ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।
- বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৯৫.
'৬৯ এর পটভূমিতে লেখা আহমদ ছফা রচিত উপন্যাসের নাম কী?
  1. ক) জল্লাদ সময়
  2. খ) গাভী বৃত্তান্ত
  3. গ) ওঙ্কার
  4. ঘ) নিহত নক্ষত্র
সঠিক উত্তর:
গ) ওঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ওঙ্কার
ব্যাখ্যা
'৬৯ এর পটভূমিতে লেখা আহমদ ছফা রচিত উপন্যাসের নাম 'ওঙ্কার'।
- এ উপন্যাসের নায়ক আবু নাসের।
-------------------
আহমদ ছফা (১৯৪৩-২০০১):
- ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন  চট্টগ্রাম জেলার  চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম।
- ষাটের দশকে তাঁর সাহিত্য-জীবনের সূচনা হয়। সৃষ্টিধর্মী লেখক হিসেবে তিনি গল্প,  উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, সমালোচনা, অনুবাদ,  শিশুসাহিত্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব দেখান। তিনি বিভিন্ন সময়ে সাহিত্য-সাময়িকপত্র সম্পাদনা করেন। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী (১৯৬৭),
- উদ্ধার (১৯৭৫),
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন (১৯৮৯),
- অলাতচক্র (১৯৯০),
- ওঙ্কার (১৯৯৩),
- গাভীবৃত্তান্ত (১৯৯৪),
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী (১৯৯৬),
- পুষ্পবৃক্ষ ও বিহঙ্গপুরাণ (১৯৯৬) 

তাঁর গল্পগ্রন্থ:
নক্ষত্র (১৯৬৯)


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৯৬.
'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা' নাটকটি রচনা করেন-
  1. আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. মমতাজউদ্দীন আহমদ
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
মমতাজউদ্দীন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মমতাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা' নাটক:
- 'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা' মমতাজউদ্দীন আহমদ রচিত একটি নাটক।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত শতবর্ষের নাটক নামক গ্রন্থ থেকে 'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা' নাটিকাটি সংকলিত ও সম্পাদিত হয়েছে।
- নাটিকাটি স্বদেশচেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার শিক্ষা দেয়।
- নাট্যকার এখানে আমাদের দেশের পুলিশ সদস্যদের মানবতাবোধ এবং দেশাত্মবোধ অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় প্রকাশ করেছেন।
- একজন দারোগা, দুইজন পুলিশ সদস্য এবং একজন বিপ্লবীকে নিয়ে রচিত এ নাটকের প্রতিটি চরিত্রই আপন মহিমায় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

মমতাজউদ্দীন আহমদ:
- মমতাজউদ্দীন আহমদ ১৮ই জানুয়ারি ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত নাট্যকার ও অভিনেতা হিসেবে খ্যাতিমান। বাংলাদেশের নাট্যশিল্প আন্দোলনের তিনি পুরোধা পুরুষ।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদকসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন।
- ২০১৯ সালের ২রা জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা,
- পালা,
- বকুলপুরের স্বাধীনতা,
- সাত ঘাটের কানাকড়ি।

গবেষণা ও প্রবন্ধ:
- বাংলাদেশের নাটকের ইতিবৃত্ত,
- বাংলাদেশের থিয়েটারের ইতিবৃত্ত,
- প্রসঙ্গ বাংলাদেশ,
- প্রসঙ্গ বঙ্গবন্ধু ইত্যাদি। 

অভিসম্বন্ধ: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৯৭.
বাংলা গদ্যরীতিকে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন কে?
  1. রামমোহন রায়
  2. রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. উইলিয়াম কেরি
সঠিক উত্তর:
রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা

রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলা গদ্যরীতিকে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন রাজা রামমোহন রায় (১৭৭৪-১৮৩৩)। তাঁর বলিষ্ঠ হাতে বাংলা গদ্য বিচার-বিশ্লেষণে উচ্চতর চিন্তাধারার প্রকাশের বাহন হিসেবে অপরিসীম গুরুত্ব লাভ করে।

ধর্মের বিষয় আলোচনায় রামমোহন রায় যে গদ্যরীতি অবলম্বন করেছিলেন তার জন্য তিনি তৎকালীন রচনারীতি থেকে বিশেষ কোন সাহায্য লাভ করতে পারেন নি। তাই তাঁর ভাষা তিনি নিজেই তৈরি করে নিয়েছিলেন। ধর্মের বাদানুবাদে ব্যবহৃত বলে তাঁর ভাষা বিবৃতিসর্বস্ব ও প্রচারধর্মী। পরমতখণ্ডন ও আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য শাস্ত্রের আলোচনা উদ্ধৃতি ও অনুবাদ করতে গিয়ে ভাষায় শিল্পরূপ ফুটিয়ে তোলা সম্ভবপর হয় নি। তাঁর রচনা যুক্তিনিষ্ঠ বলে তাতে বুদ্ধির দীপ্তি আছে, কিন্তু সাহিত্যগুণ প্রকাশ পায় নি। তাঁর কোন কোন রচনায় পণ্ডিতি-বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। সে ক্ষেত্রে তাঁর গদ্যরীতি মূলত সংস্কৃত গদ্যরীতির আদর্শে গঠিত। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

৫৯৮.
'পদ্মরাগ' কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) আত্মজীবনী
সঠিক উত্তর:
ক) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উপন্যাস
ব্যাখ্যা

বেগম রোকেয়া (৯ ই ডিসেম্বর, ১৮৮০-৯ই ডিসেম্বর, ১৯৩২) : মুসলিম নারীজাগরণের অগ্রদূত৷
গ্রন্থ:
মতিচুর
অবরোধবাসিনী
Sultana's Dream

উপন্যাস:
পদ্মরাগ


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৫৯৯.
'মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়' - গ্রন্থের রচয়িতা প্যারীচাঁদ মিত্র।

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছদ্মনাম “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়,
- আধ্যাত্মিকা। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬০০.
'চৌচির' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) আবুল হোসেন
  2. খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
গ) আবুল ফজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
চৌচির, প্রদীপ ও পতঙ্গ, রাঙ্গা প্রভাত ও জীবন পথের যাত্রী উপন্যাসগুলোর রচয়িতা আবুল ফজল। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।