বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

গদ্য সাহিত্যের বিকাশ (গল্প, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদি)

মোট প্রশ্ন৭৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

গদ্য সাহিত্যের বিকাশ (গল্প, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদি)

PrepBank · পাতা / · ৬০১৭০০ / ৭৩৭

৬০১.
প্রথম বাংলা নাটক 'কাল্পনিক সংবদল' মঞ্চস্থ হয় -
  1. ক) বেঙ্গলি থিয়েটারে
  2. খ) ওরিয়েন্টাল থিয়েটারে
  3. গ) জোড়াসাঁকো নাট্যশালায়
  4. ঘ) মিনার্ভা থিয়েটারে
সঠিক উত্তর:
ক) বেঙ্গলি থিয়েটারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বেঙ্গলি থিয়েটারে
ব্যাখ্যা
বাংলা নাটকের উৎস ও বিকাশ
- খ্রিস্টপূর্ব কাল থেকেই গ্রিসে নাট্যচর্চার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের শুরু হয়। 
- পেরিক্লিসের গ্রিসে এবং পরবর্তীকালে এলিজাবেথের ইংল্যান্ডে নাট্যচর্চায় ব্যাপক সমৃদ্ধি এসেছিল। 
- ১৭৯৫ সালের ২৭ নভেম্বর কলকাতার 'বেঙ্গলি থিয়েটারে' মঞ্চস্থ হয় প্রথম বাংলা নাটক 'কাল্পনিক সংবদল'
- রুশদেশীয় যুবক হেরাসিম লেবেডফ ইংরেজি নাটক 'দ্য ডিসগাইজ' বাংলায় রূপান্তর করে মঞ্চস্থ করেন। 
- 'দ্য ডিসগাইজ' এর বাংলায় রূপান্তরিত নাম 'কাল্পনিক সংবদল'। 
- নাটকটি বাংলায় রূপান্তর করতে গিয়ে লেবেডফ পণ্ডিত গোলকনাথ দাসের সহায়তা গ্রহণ করেছিলেন।

উৎস: বাংলা প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০২.
বাংলা ভাষায় মুদ্রিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. সেক শুভোদয়া
  2. কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
  3. মিশন সমাচার
  4. মঙ্গল সমাচার
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল সমাচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল সমাচার
ব্যাখ্যা
• ‘মঙ্গল সমাচার’:
- বাংলা গদ্যের অনুশীলনের ক্ষেত্রে প্রথম সার্থকতা লক্ষ করা যায় খ্রিষ্টান মিশনারিদের প্রচেষ্টার মধ্যে। শ্রীরামপুরের মিশনারিদের প্রচেষ্টার সার্থকতার নিদর্শনস্বরূপ ১৮০০ সালে বাইবেলের নিউ টেস্টামেন্টের Gospel of St. Mathews অংশের অনুবাদ ‘মঙ্গল সমাচার’ মথীয়ের রচিত গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- কলকাতায় চার্লস উইকিন্সের নির্দেশানুযায়ী পঞ্চানন কর্মকার মুদ্রণোপযোগী বাংলা অক্ষর তৈরি করেছিলেন বাইবেলের অনুবাদ ‘মঙ্গল সমাচার’ মুদ্রণে তা ব্যবহৃত হয়। এই ভাষার মধ্যেই বাংলা গদ্যের ভবিষ্যৎ মুক্তির সম্ভাবনা নিহিত ছিল। অর্থাৎ গদ্যের ইতিহাস অনুযায়ী ‘মঙ্গল সমাচার’ বাংলা ভাষায় মুদ্রিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ।

অন্যদিকে,
• ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থ:
• রোমান ক্যাথলিক পর্তুগিজ পাদ্রি মানোএল দা আসসুম্পসাঁও কর্তৃক ১৭৩৪ সালে রচিত এবং ১৭৪৩ সালে লিসবনে রোমান হরফে মুদ্রিত ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য। কিন্তু এর লিপি ছিল রোমান।

• উইলিয়াম কেরি রচিত ‘কথোপকথন’ গ্রন্থে বাংলা ভাষার কথ্যরীতির প্রথম নিদর্শন বিধৃত। কথোপকথন গ্রন্থটি ছিল দ্বিভাষিক-এক পৃষ্ঠায় বাংলা, অপর পৃষ্ঠায় ইংরেজি।

• ১৮১২ সালে ‘ইতিহাসমালা’ নামক একটি গ্রন্থ উইলিয়াম কেরি প্রকাশ করেন। এ দেশের সাহিত্যের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি প্রথম গল্পসংগ্রহ হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ স্থান পাওয়র যোগ্য।

[ ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য হলেও এর ভাষা/লিপি ছিল রোমান। এতএব প্রশ্নে চাওয়া বাংলা ভাষায় মুদ্রিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ হিসেবে অপশন (ঘ) ‘মঙ্গল সমাচার’ অধিক গ্রহণযোগ্য।]

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬০৩.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৮০০ সালে
  2. ১৮০১ সালে
  3. ১৮০২ সালে
  4. ১৮০৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮০১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০১ সালে
ব্যাখ্যা
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু, 
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলোচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬০৪.
কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' কাব্যগ্রন্থের অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) কারবালার প্রান্তরে
  2. খ) মুখরা রমনী বশীকরণ
  3. গ) বিষাদসিন্ধু
  4. ঘ) রক্তাক্ত প্রান্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা
- মুনীর চৌধুরী একজন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক।
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর— নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬০৫.
'কুঁচবরণ কন্যা' শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) বিজন ভট্টাচার্য
  2. খ) বন্দে আলী মিয়া
  3. গ) মামুনুর রশিদ
  4. ঘ) মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
খ) বন্দে আলী মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
বন্দে আলী মিয়া ছিলেন মূলত কবি, ঔপন্যাসিক ও শিশুসাহিত্যিক। তিনি কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম- কুঁচবরণ কন্যা, চোর জামাই, মৃগপরী, ডাইনি বউ, রূপকথা। কাব্যগ্রন্থ- অনুরাগ ও ময়নামতির চর।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬০৬.
প্রথম বাংলা রঙ্গমঞ্চ ‘হিন্দু থিয়েটার’ কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৮৬১ সালে
  2. ১৮৩১ সালে
  3. ১৮০১ সালে
  4. ১৮৫২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৩১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৩১ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলা নাটকের উৎস ও বিকাশ:
- আঠারো শতকের শেষদিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়।
- বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে। বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে।
- কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।
- হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন।
- তিনি 'The Disguise' এবং 'Love is the best Doctor' নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান। এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।
- ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬০৭.
আহমদ ছফার উপন্যাস-
  1. পালাবদল
  2. সূর্য তুমি সাথী
  3. অসমাপিকা
  4. পরিত্যক্ত স্বামী
সঠিক উত্তর:
সূর্য তুমি সাথী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্য তুমি সাথী
ব্যাখ্যা

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাসঃ
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার (উনসত্তরের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস),
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন,
- মরণবিলাস,
- গাভী বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ ইত্যাদি।
• অসমাপিকা উপন্যাসের রচয়িতা অন্নদাশঙ্কর রায়।
• পরিত্যক্ত স্বামী উপন্যাসের রচয়িতা আবু জাফর শামসুদ্দীন।
• পালাবদল অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া।

৬০৮.
'কৃষ্ণকুমারী' কী?
  1. ক) একটি উপন্যাস
  2. খ) একটি ছোটগল্প
  3. গ) একটি ট্র‍্যাজেডি নাটক
  4. ঘ) একটি কাব্য
সঠিক উত্তর:
গ) একটি ট্র‍্যাজেডি নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) একটি ট্র‍্যাজেডি নাটক
ব্যাখ্যা

- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক 'কৃষ্ণকুমারী'।
- এর রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- এই নাটকের কাহিনী উইলিয়াম টডের 'রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগ্রহীত।

- এই নাটকের উল্লেখযােগ্য চরিত্রঃ
- কৃষ্ণকুমারী,
- মনিকা,
- ভীম-সিংহ,
- জগৎসিংহ,
- ধনদাস প্রমুখ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬০৯.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. চেহারার চতুরঙ্গ
  2. আগুনের মেয়ে
  3. কাবিলের বোন
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

চেহারার চতুরঙ্গ, আগুনের মেয়ে, কাবিলের বোন তিনটি আল মাহমুদ কর্তৃক রচিত উপন্যাস।
- তার বিখ্যাত উপন্যাস ডাহুকী ও উপমহাদেশ।
- তার প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ সোনালী কাবিন।
- এছাড়াও তিনি লোক লোকান্তর, কালের কলস, বখতিয়ারের ঘোড়া, পাখির কাছে ফুলের কাছে নামক কাব্যগ্রন্থ গুলো রচনা করেন।

সূত্র: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৬১০.
‘অসাধু সিদ্ধার্থ’ উপন্যাস কার লেখা?
  1. শওকত উসমান
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. সমরেশ বসু
  4. জগদীশ গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
জগদীশ গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জগদীশ গুপ্ত
ব্যাখ্যা

মনোবৈকল্য ও মনোবিশ্লেষণ এবং দুঃখময়তার লেখক জগদীশ গুপ্তের বিখ্যাত উপন্যাস অসাধু সিদ্ধার্থ এক সাধুর ভণ্ডামিকে তুলে ধরা হয়েছে।
তাঁর অন্যান্য উপন্যাস হলো :
রোমন্থন
লঘুগুরু
দুলালের দোলা
নিষেদের পটভূমিকায়
কলঙ্কিত তীর্থ

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬১১.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'কবি' উপন্যাসে কোন সম্প্রদায়ের কথা বলা হয়েছে?
  1. ক) ধীবর
  2. খ) কামার
  3. গ) ডোম
  4. ঘ) কুমোর
সঠিক উত্তর:
গ) ডোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ডোম
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'কবি' (১৯৪১)।
- এটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। 
- এই উপন্যাসটি ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের  ''জীবন এতো ছোট ক্যানে? '' - সংলাপটি ক্ল্যাসিক মর্যাদা পেয়েছে। 

- কবি নামে হুমায়ুন আহমেদের একটি জনপ্রিয় উপন্যাস রয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬১২.
ড. সুকুমার সেন বাংলা গদ্যরীতির কয়টি স্তর নির্দেশ করেছেন?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারটি
ব্যাখ্যা
• বাংলা গদ্যের উৎপত্তি:
- বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের পূর্বে সাহিত্যগুণসমৃদ্ধ কোন গদ্যরচনার অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় না।
- দৈনন্দিন জীবনে বাঙালির কথাবার্তায় চিরদিন গদ্যরীতি ব্যবহৃত হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত সাহিত্যে তার অনুপ্রবেশ ঘটেনি এবং এর লিখিত রূপ চিঠিপত্র, দলিলদস্তাবেজ, বৈষ্ণব কড়চা ও বিদেশি খ্রিষ্টানকর্তৃক লিখিত ধর্মবিষয়ক গ্রন্থের সঙ্কীর্ণ সীমানায় আবদ্ধ ছিল।
- ১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
- ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে নিতান্ত প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে ভাষাগত দিক থেকে গদ্যের উৎকর্ষসাধন মোটেই সম্ভবপর হয় নি।
- ইতস্তত বিক্ষিপ্ত কিছুসংখ্যক দৃষ্টান্ত অন্যত্র দৃষ্টিগোচর হলেও বাণিজ্যসম্ভারের পশ্চাতে খ্রিষ্টধর্মের পসার সাজিয়ে আগত পর্তুগিজ পাদ্রিদের হাতেই বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহারের সূত্রপাত হয়।

• ড. সুকুমার সেন বাংলা গদ্যরীতির চারটি স্তর নির্দেশ করেছেন। সে স্তরগুলোর পরিধি:
- প্রথম স্তর: সূচনা - ষোল শতক থেকে ১৮০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
- দ্বিতীয় স্তর: উন্মেষ - ১৮০০ (শ্রীরামপুর মিশন) থেকে ১৮৪৭ সালের (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের) পূর্ব পর্যন্ত ।
- তৃতীয় স্তর: অভ্যুদয় - ১৮৪৭ (বিদ্যাসাগর) থেকে ১৮৬৫ সালের (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের) পূর্ব পর্যন্ত
- চতুর্থ স্তর: পরিণতি - ১৮৬৫ (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬১৩.
দীনবন্ধু মিত্র রচিত কোন প্রহসনে ইয়ংবেঙ্গল দলের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে?
  1. কমলে কামিনী
  2. সধবার একাদশী
  3. নবীন তপস্বিনী
  4. নীলদর্পণ
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা
• ‘সধবার একাদশী’ প্রহসন:
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত ‘সধবার একাদশী’ নামক প্রহসনে তৎকালীন ইয়ংবেঙ্গল দলের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে।
- গ্রন্থটি ১৮৬৬ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়
- প্রহসনটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘একই কি বলে সভ্যতা’ অনুসরণে রচিত।

-------------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
• দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩) নাট্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
• দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• ‘নীলদর্পণ‘ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
• 'নবীন তপস্বিনী' (১৮৬৩) দীনবন্ধু মিত্রের দ্বিতীয় নাটক। এতে যে দুটি ভিন্ন কাহিনি স্থান পেয়েছে তা পরিপূর্ণভাবে মিশ্রিত হয় নি। 'তে গ্রাম্যতা ও রুচিবিকল্পতা থাকলেও তা গুরুত্বপূর্ণ রচনা।
• 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' (১৮৬৬) বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লিখিত একটি প্রহসন। নামের মাধ্যমেই এর পরিচয় প্রকাশমান।
• দীনবন্ধু মিত্রের 'লীলাবতী' (১৮৬৭) নাটকটি রচনা হিসেবে সার্থকতা লাভ করতে পারে নি।
• 'কমলে কামিনী' (১৮৮৩) তাঁর শেষ রচনা। রোম্যান্টিক প্রণয়চিত্র হিসেবে এর গুরুত্ব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৬১৪.
বাইবেল অবলম্বনে লেখা উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) অভিশপ্ত নগরী
  2. খ) আলবেরুনী
  3. গ) সংশপ্তক
  4. ঘ) কোথাও কেউ নেই
সঠিক উত্তর:
ক) অভিশপ্ত নগরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অভিশপ্ত নগরী
ব্যাখ্যা
বাইবেল অবলম্বনে সত্যেন সেন “অভিশপ্ত নগরী” এবং “পাপের সন্তান” নামে দুটি উপন্যাস রচনা করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৬১৫.
দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাস প্রকাশিত হয় –
  1. ক) ১৮৬১ সালে
  2. খ) ১৮৬২ সালে
  3. গ) ১৮৬৩ সালে
  4. ঘ) ১৮৬৫ সালে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৮৬৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৮৬৫ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস হলো দুর্গেশনন্দিনী। এটির রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যা ১৮৬৫ সালে প্রকাশিত হয়। এটি একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ত্রয়ী উপন্যাস হলো আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরাণী এবং সীতারাম। কপালকুন্ডলা ১৮৬৬ সালে প্রকাশিত তার দ্বিতীয় উপন্যাস যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক রোমান্টিক উপন্যাস। Rajmohan's Wife (১৮৬৪) তার প্রথম উপন্যাস যা ইংরেজি ভাষা রচিত। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
৬১৬.
'হাঁসুলী বাঁকের উপকথা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  3. গ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
গ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'হাঁসুলী বাঁকের উপকথা'(১৯৪৭) উপন্যাসের রচয়িতা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
- উপন্যাসে বীরভুমের কাহার সম্প্রদায়ের জীবন, তাদের সংস্কৃতি, ধর্মবিশ্বাস, আচার-আচরণ, লোককথা আন্তরিকতার সাথে তুলে ধরা হয়েছে। 
--------------------
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়(১৮৯৮-১৯৭১):
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ। 
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়। এছাড়া কালিকলম, বঙ্গশ্রী,  শনিবারের চিঠি,  প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। 
- মানবচরিত্রের নানা জটিলতা ও নিগূঢ় রহস্য তাঁর উপন্যাসে জীবন্তভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
- তারাশঙ্কর প্রায় দুশ গ্রন্থ রচনা করেন।

সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- চৈতালী ঘূর্ণি (১৯৩২),
- ধাত্রীদেবতা (১৯৩৯),
- কালিন্দী (১৯৪০),
- গণদেবতা (১৯৪৩),
- পঞ্চগ্রাম (১৯৪৪),
- কবি (১৯৪৪),
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা (১৯৪৭),
- আরোগ্য নিকেতন (১৯৫৩) ইত্যাদি 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬১৭.
‘চক্ষুদান’ প্রহসনটির রচয়িতা কে?
  1. ক) রামনারায়ণ তর্করত্ন
  2. খ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
ক) রামনারায়ণ তর্করত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রামনারায়ণ তর্করত্ন
ব্যাখ্যা
‘চক্ষুদান’ প্রহসনটির রচয়িতা রামনারায়ণ তর্করত্ন। বাংলা মৌলিক নাটক রচয়িতা হিসেবেই রামনারায়ণের মুখ্য পরিচয়। বাংলা ভাষায় প্রথম বিধিবদ্ধ নাটক রচনার জন্য তিনি ‘নাটুকে রামনারায়ণ’ নামে পরিচিত ছিলেন। কুলীনকুলসবর্বস্ব (১৮৫৪) তাঁর প্রথম ও শ্রেষ্ঠ নাটক। [সূত্র: বাংলাপিডিয়া]
৬১৮.
আবুল ফজলের উপন্যাস নয়-
  1. চৌচির
  2. প্রদীপ ও পতঙ্গ
  3. রেখাচিত্র
  4. রাঙ্গা প্রভাত
সঠিক উত্তর:
রেখাচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেখাচিত্র
ব্যাখ্যা

• 'রেখাচিত্র' আবুল ফজলের দিনলিপি।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ এবং
- রাঙ্গা প্রভাত।
• তিনি শিখা পত্রিকার পঞ্চম সংখ্যার সম্পাদনা করেন।
• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থঃ
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬১৯.
“ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের” জয়গান গাওয়া হয়েছে কোন নাটকে?
  1. রক্তকরবী
  2. কালান্তর
  3. প্রায়শ্চিত্ত
  4. চণ্ডালিকা
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
ব্যাখ্যা
• 'রক্তকরবী' নাটক: 
- 'রক্তকরবী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সাংকেতিক নাটক।
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- চরিত্র: নন্দিনী, রঞ্জন। 
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে। 
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

রবীন্দ্রনাথ রচিত অন্যান্য নাটক গুলো:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- তাসের দেশ,
- বৈকুন্ঠের খাতা
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- ডাকঘর,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা,
- নটীর পূজা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬২০.
'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. রামমোহন রায়
  2. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  3. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  4. রামরাম বসু
সঠিক উত্তর:
রামনারায়ণ তর্করত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামনারায়ণ তর্করত্ন
ব্যাখ্যা
'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক:
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
- এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করেছিল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৬২১.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস নয়?
  1. জাহান্নম হইতে বিদায়
  2. রাইফেল রোটি আওরাত
  3. আর্তনাদ
  4. নীল দংশন
সঠিক উত্তর:
আর্তনাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্তনাদ
ব্যাখ্যা
‘আর্তনাদ’ শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক উপন্যাস। এছাড়া, 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক উপন্যাস। রাইফেল রোটি আওরাত আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক উপন্যাস। ‘নীল দংশন’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক উপন্যাস। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর
৬২২.
'কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) সত্যেন সেন
  2. খ) হুমায়ুন কবির
  3. গ) শহীদ কাদরী
  4. ঘ) সোমেন চন্দ
সঠিক উত্তর:
গ) শহীদ কাদরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা
শহীদ কাদরী (১৯৪২-২০১৬) ছিলেন বাংলাদেশী কবি ও লেখক। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ চারটি। ১৯৭৩ সালে বাংলা কবিতায় অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১১ সালে ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে বাংলাদেশের ২য় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক লাভ করেন। তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলো হলো- উত্তরাধিকার, 'তোমাকে অভিবাদন, প্রিয়তমা', কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই, আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও।
৬২৩.
‘কমলে কামিনী' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
• ‘কমলে কামিনী' নাটক:
- ‘কমলে কামিনী' (১৮৭৩) দীনবন্ধু মিত্রের সর্বশেষ নাটক।
- এই নাটকের পটভূমি কাছাড় অঞ্চল। চরিত্রগুলি সবই অভিজাত বংশীয় তবে দুর্বল।
- ২০ শে ডিসেম্বর ১৮৭৩ তারিখে নাটকটি ন্যাশনাল থিয়েটারে সর্বপ্রথম অভিনীত হয়।
- উল্লেখযােগ্য চরিত্র : রাজা, সমরকেতু, শশাঙ্কশেখর, গান্ধারী, সুশীলা, সুরবালা।

-------------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
- দীনবন্ধু মিত্র ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে নদীয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে। তিনি ঈশ্বর গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখেন।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
 - নীলদর্পণ,
 - নবীন তপস্বিনী,
 - লীলাবতী,
 - কমলে কামিনী। 

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬২৪.
নাটকে ‘গৈরিশ ছন্দের’ প্রবর্তন করেন কে?
  1. রামায়ণ তর্করত্ন
  2. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. গিরিশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- বাংলা নাটকের সমৃদ্ধসাধনে গিরিশচন্দ্র ঘোষের (১৮৪৪-১৯১২) অবদান অপরিসীম। যশস্বী অভিনেতা এবং প্রতিভাশালী নাট্যকারের যুগ্নবৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়ে তিনি পচাঁত্তরখানি সমাপ্ত ও চারখানি অসমাপ্ত নাটক প্রহসন রচনা করেন।
- গিরিশচন্দ্রের প্রধান ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠা ছিল ‘নটগুরু’ হিসেবে।
- গিরিশচন্দ্র ঘোষের কোন কোন নাটকে তাঁর নিজের প্রবর্তিত ‘গৈরিশ ছন্দের’ ব্যবহার হয়েছে। এতে তিনি যথেষ্ট সার্থকতা অর্জন করেন। অভিনয়ে উপযোগী ভাষাসৃষ্টির উদ্দেশ্য এর পশ্চাতে কার্যকরী ছিল।
- গিরিশচন্দ্র ঘোষের অনুবর্তী নাট্যকারগণের ওপর এই ছন্দের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। পরবর্তীকালের ভক্তিমূলক পৌরাণিক নাটকের ক্ষেত্রেও তাঁর প্রভাব অনস্বীকার্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬২৫.
বাংলা গদ্যের আদি নিদর্শন কোনটি?
  1. ক) চর্যাপদ
  2. খ) রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
  3. গ) কোচবিহার রাজ্যের লেখা চিঠি
  4. ঘ) নরোত্তম দাসের দেহ কড়চা
সঠিক উত্তর:
গ) কোচবিহার রাজ্যের লেখা চিঠি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কোচবিহার রাজ্যের লেখা চিঠি
ব্যাখ্যা

দৈনন্দিন জীবনে কথাবার্তায় চিরদিন গদ্যরীতি ব্যবহৃত হলেও ঊনবিংশ শতাব্দীর পূর্ব পর্যন্ত সাহিত্যের তার অনুপ্রবেশ ঘটেনি এবং এর লিখিত রূপ চিঠিপত্র, দলিল-দস্তাবেজ, বই, কড়চা ও বিদেশী খ্রিস্টান কর্তৃক লিখিত ধর্ম বিষয়ক গ্রন্থের সংকীর্ণ সীমানায় আবোধ্য ছিল।

১৫৫৫ খ্রিস্টাব্দে আসামের রাজাকে লেখা কোচবিহারের রাজের একটি চিঠি বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)

৬২৬.
হাসান আজিজুল হকের “আগুনপাখি” উপন্যাসটি কোন প্রেক্ষাপট নিয়ে রচিত?
  1. ক) বঙ্গভঙ্গ
  2. খ) দেশ বিভাগ
  3. গ) ভাষা আন্দোলন
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
খ) দেশ বিভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দেশ বিভাগ
ব্যাখ্যা
হাসান আজিজুল হকের “আগুনপাখি” (২০০৬) উপন্যাসটি দেশ বিভাগের পটভূমিতে লেখা। উপন্যাসের কাহিনী বর্ধমান জেলার বাঁকুড়া অঞ্চলের প্রত্যন্ত এক গ্রামের সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারের ও পরিবারের আশেপাশের হিন্দু মুসলমানদের জীবন থেকে নেয়া। লেখকের অন্যান্য উপন্যাসঃ বৃত্তায়ন, শিউলি, সাবিত্রী উপাখ্যান, শামুক ইত্যাদি। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৬২৭.
‘বেদান্তগ্রন্থ’ এর রচিয়তা কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. রামমোহন রায়
  3. রামরাম বসু
  4. গোলকনাথ শর্মা
সঠিক উত্তর:
রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা

• 'বেদান্তগ্রন্থ': 
- ‘বেদান্তগ্রন্থ’ (১৮১৫) রামমোহন রায় কর্তৃক ব্রহ্মসূত্রের অনুবাদ ও টীকা। বাংলাগদ্যের ইতিহাসে গ্রন্থটির ঐতিহাসিক মূল্য অসামান্য।
- পৌত্তলিকতা যে হিন্দু ধর্মের মুখ্য ব্যাপার নয়, ব্রহ্মই একমাত্র তত্ত্ব ও উপাস্য তা প্রমাণের উদ্দেশ্যেই এই গ্রন্থ তিনি রচনা করেন।
- এই গ্রন্থ অবলম্বন করে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে প্রবল বাকবিতর্ক হয়।

----------------------
• রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন।
- তিনি প্রায় ৩০টি গ্রন্থ রচনা করেন।

অন্যদিকে, 
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার এর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: প্রবোধচন্দ্রিকা, বেদান্তচন্দ্রিকা ইত্যাদি।
• রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ- লিপিমালা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৬২৮.
‘কাঁদো নদী কাঁদো’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) আবুল মনসুর আহমেদ
  4. ঘ) আখতরুজ্জামান ইলিয়াস
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাসঃ
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- লালসালু,
- দি আগলি এশিয়ান।

গল্পগ্রন্থঃ
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

নাটকঃ
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র। শেখর

৬২৯.
সুশৃঙ্খল গদ্যের পথিকৃৎরূপে বিদেশীর ব্যবহারের ও শিক্ষার উপযোগী করে রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. লিপিমালা 
  2. কথোপকথন
  3. ইতিহাসমালা
  4. হিতোপদেশ 
সঠিক উত্তর:
কথোপকথন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কথোপকথন
ব্যাখ্যা

• 'কথোপকথন' গ্রন্থ:
- উইলিয়াম কেরি সুশৃঙ্খল গদ্যের পথিকৃৎরূপে বিদেশীর ব্যবহারের ও শিক্ষার উপযোগী করে ১৮০১ সালে 'কথোপকথন' গ্রন্থটি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশ করেন।

- গ্রন্থে গৃহীত কথোপকথনগুলো সে আমলের কলকাতা- শ্রীরামপুর অঞ্চলের সকল স্তরের স্ত্রীপুরুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, সামাজিক রীতিনীতি, ধর্ম ও আচারব্যবহার নিয়ে রচিত।

- এই গ্রন্থে চাকর ভাড়াকরণ, সাহেবের হুকুম, সাহেব ও মুনশীর পরামর্শ, ভোজনের কথা, যাত্রা, পরিচয়, ভূমির কথা, মহাজন, আসামি, বাগান করার হুকুম, ভদ্রলোকে ভদ্রলোকে কথাবার্তা, প্রাচীনে প্রাচীনে কথাবার্তা, সুপারিশ, মজুরের কথাবার্তা, খাতক মহাজনি, ঘটকালি, হাটের বিষয়, স্ত্রীলোকের হাট করা, জেলেদের কথাবার্তা, ভিক্ষুকের কথা, কাজের চেষ্টার কথা, কোন্দল বা ঝগড়া, স্ত্রীলোকে স্ত্রীলোকে কথাবার্তা, 'মাইয়া কন্দল', জমিদার রায়তের কথা ইত্যাদি বিষয়াবলম্বনে কথোপকথন রচিত হয়েছে।

- উইলিয়াম কেরি সহজ ও বাস্তব ভঙ্গিতে বক্তব্য পরিবেশন করেছেন। গ্রন্থের কোথাও অবিমিশ্র সাধু আবার কোথাও কথ্য ভাষাশ্রিত রচনারীতি স্থান পেয়েছে।

- বাংলা ভাষার কথ্যরীতির প্রথম নিদর্শন এই গ্রন্থে বিধৃত। সে যুগের সামাজিক ও ব্যবহারিক রীতিনীতির বিশেষ পরিচয় হিসেবেও এগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কথোপকথন গ্রন্থটি ছিল দ্বিভাষিক– এক পৃষ্ঠায় বাংলা, অপর পৃষ্ঠায় ইংরেজি।

অন্যদিকে, 
---------------------
• রামরাম বসু কর্তৃক রচিত লিপিমালা প্রথম বাংলা পত্র সাহিত্য।
• 'ইতিহাসমালা' (১৮১২) উইলিয়াম কেরি সঙ্কলিত বিভিন্ন বিষয়ের ১৫০টি গল্পের সংগ্রহ। 
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের 'হিতোপদেশ' গ্রন্থটে সংস্কৃত 'পঞ্চতন্ত্র' থেকে অনূদিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

৬৩০.
নিচের কোনটি উপন্যাস নয়?
  1. জলোচ্ছ্বাস
  2. নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি
  3. মেজদিদি
  4. ঘুমকাতুরে ঈশ্বর
সঠিক উত্তর:
মেজদিদি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেজদিদি
ব্যাখ্যা

প্রখ্যাত নারী ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেনের বিখ্যাত উপন্যাস-
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- জলোচ্ছ্বাস,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- আগষ্টের একরাত,
- খুন ও ভালোবাসা,
- কাঁটাতারের প্রজাপতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা, অপেক্ষা,
- গেরিলা ও বীরাঙ্গনা,
- ঘুমকাতুরে ঈশ্বর,
- পূর্ণছবির মগ্নতা,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা,
-কালকেতু ও ফুল্লরা ইত্যাদি।

- অপরদিকে, 'মেজদিদি' হচ্ছে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ

উৎসঃ
লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬৩১.
ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমিকায় লেখা উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) ভূমিপুত্র
  2. খ) মাটির জাহাজ
  3. গ) কাঁটাতারে প্রজাপতি
  4. ঘ) চিলেকোঠার সেপাই
সঠিক উত্তর:
ঘ) চিলেকোঠার সেপাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত প্রথম উপন্যাস - চিলেকোঠার সেপাই।
- এই উপন্যাসের পটভূমি ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৭ সালে।
- খোয়াবনামা - তাঁর রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস।
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল ও দুধভাতে উৎপাত - তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬৩২.
নুরুল মোমেন রচিত কমেডি নাটক কোনটি?
  1. আলোছায়া
  2. নেমেসিস
  3. কেউ কিছু বলতে পারে না
  4. রূপার কৌটা
সঠিক উত্তর:
আলোছায়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলোছায়া
ব্যাখ্যা
⇒ ‘আলোছায়া’ নাটক:
- আলোছায়া’ ১৯৬২ সালে প্রকাশিত একটি কমেডি।
- নাটকটি ভালোমন্দের প্রতীক।
- নাটকের মূল বক্তব্য হচ্ছে- ‘ভালো বা আলোর প্রভাব যার মধ্যে সে-ই স্মরণীয় হয়ে থাকবে, কালো বা ছায়ার প্রাধান্যধারীরা স্মরণযোগ্য হবেন না।’
- নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো: হাম্মাদ, জামিল, জাহানারা, সুলতান, পারভীন।

==============
⇒ নুরুল মোমেন: 
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়। তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত। 
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'। 

• নুরুল মোমেন এর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান, 
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে, 
- শতকরা আশি, 
- রূপলেখা, 
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

অন্যদিকে,
মুনীর চৌধূরী রচিত নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৬৩৩.
যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত রচিত 'কীর্তিবিলাস' হচ্ছে একটি-
  1. হাস্যরসাত্মক নাটক
  2. মধুরান্তিক নাটক
  3. ঐতিহাসিক নাটক
  4. বিয়োগান্ত নাটক
সঠিক উত্তর:
বিয়োগান্ত নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিয়োগান্ত নাটক
ব্যাখ্যা
বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে। যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্তের 'কীর্তিবিলাস', তারাচরণ শিকদারের 'ভদ্রার্জুন' এই বছরেই প্রকাশিত নাটক।

• যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্তের 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্ত নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা। সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে কীর্তিবিলাস নাটকটি রচিত। বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ এর বৈশিষ্ট্য। পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে। কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

• ভদ্রার্জুন ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক। ভদ্রার্জুন নাটকের কাহিনি অর্জুন কর্তৃক সুভদ্রাহরণ। মহাভারত থেকে কাহিনি সংগ্রহ করা হলেও বাঙালি সমাজের বাস্তব পরিবেশ এতে অঙ্কিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৬৩৪.
মামাগো! নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আসাদ চৌধুরী
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
গ) সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
মামাগো! নাটকটির রচয়িতা সুকুমার রায়।

• সুকুমার রায়:
- সুকুমার রায় একজন শিশুসাহিত্যিক।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত  চলচ্চিত্রকার  সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।
- সুকুমার রায়ের প্রধান অবদান শিশু-কিশোর উপযোগী বিচিত্র সাহিত্যকর্ম।
- কবিতা, নাটক, গল্প, ছবি সবকিছুতেই তিনি সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ ও কৌতুকরস সঞ্চার করতে পারতেন।
- তাঁর কাব্যে হাস্যরসের সঙ্গে সমাজচেতনাও প্রতিফলিত হয়েছে। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
- আবোল-তাবোল (১৯২৩),
- হ-য-ব-র-ল (১৯২৪),
- পাগলা দাশু (১৯৪০),
- বহুরূপী (১৯৪৪),
- খাইখাই (১৯৫০),
- অবাক জলপান,
- শব্দকল্পদ্রুম,
- ঝালাপালা ইত্যাদি। 
এছাড়া বাংলা ও ইংরেজিতে রচিত তাঁর কিছু গুরুগম্ভীর প্রবন্ধও রয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৩৫.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত নয় কে?
  1. চণ্ডীচরণ মুনশী
  2. মৃত্যুঞ্জয়‌ বিদ্যালঙ্কার
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. গোলকনাথ শর্মা
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন: উইলিয়াম কেরী, রামরাম বসু, গোলকনাথ শর্মা, মৃত্যুঞ্জয়‌ বিদ্যালঙ্কার, তারিণীচরণ মিত্র, রাজীবলােচন, চণ্ডীচরণ মুনশী, হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৩৬.
'নূরজাহান ও সাজাহান' ঐতিহাসিক নাটকদ্বয় কার রচনা?
  1. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• 'নুরজাহান' নাটক:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত 'নুরজাহান' নাটক ১৩১৪ সাল ১লা চৈত্র শনিবার প্রথম মিনার্ভা থিয়েটারে অভিনীত হয়। গ্রন্থাকারে প্রকাশকালে এর মূল্য ছিল দ্বি টাকা আট আনা। 

- নাটকের উৎসর্গপত্রে লিখা ছিল: বঙ্গসাহিত্যের গুরুহিন্দুর হিন্দুত্বের প্রতিষ্ঠাতা প্রাজ্ঞ, মনীষী, দেশভক্ত, স্বধৰ্ম্মব্রত ভারতের গৌরব বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সি, আই, ই-র পুণ্যস্মৃতি উদ্দেশে এই সুরজাহান নাটক উৎসর্গীকৃত হইল। 

-----------------
• 'সাজাহান' নাটক:
- 'সাজাহান' নাটকের রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয়। 
- নাটকটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়।সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম নাটক রচনা করেন।
- নাটকটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
- 'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকে ছিল।

--------------
তাঁর রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

তাঁর রচিত রোম্যান্টিক পৌরাণিক নাটক:
- চন্দ্রগুপ্ত,
- সিংহল বিজয়।

তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
- নূরজাহান,
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- দুর্গাদাস,
- প্রতাপসিংহ,
- সিংহল বিজয় ইত্যাদি।

উৎস: 'নুরজাহান' নাটক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৩৭.
ড. সুকুমার সেনের মতে, বাংলা গদ্যের উন্মেষ পর্বের সময়কাল কোনটি?
  1. ১৮০০ সাল থেকে ১৯০০ সাল
  2. ১৮০০ থেকে ১৮৪৭ সাল
  3. ১৮৬৫ থেকে বর্তমান কাল
  4. ১৮৪৭ থেকে ১৮৬৫ সাল
সঠিক উত্তর:
১৮০০ থেকে ১৮৪৭ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০০ থেকে ১৮৪৭ সাল
ব্যাখ্যা
বাংলা গদ্যের উৎপত্তি:
- বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের পূর্বে সাহিত্যগুণসমৃদ্ধ কোন গদ্যরচনার অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় না।
- ১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
- ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে নিতান্ত প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে।
- ফলে ভাষাগত দিক থেকে গদ্যের উৎকর্ষসাধন মোটেই সম্ভবপর হয় নি।

• ড. সুকুমার সেন বাংলা গদ্যরীতির চারটি স্তর নির্দেশ করেছেন। 
সে স্তরগুলোর পরিধি:
- প্রথম স্তর: সূচনা - ষোল শতক থেকে ১৮০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
- দ্বিতীয় স্তর: উন্মেষ - ১৮০০ (শ্রীরামপুর মিশন) থেকে ১৮৪৭ সালের (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের) পূর্ব পর্যন্ত ।
- তৃতীয় স্তর: অভ্যুদয় - ১৮৪৭ (বিদ্যাসাগর) থেকে ১৮৬৫ সালের (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের) পূর্ব পর্যন্ত
- চতুর্থ স্তর: পরিণতি - ১৮৬৫ (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬৩৮.
"এই খেদ আমার মনে-
ভালোবেসে মিটল না এ সাধ, কুলাল না এ জীবনে!
হায়- জীবন এত ছোট কেনে?
এ ভুবনে।"
কোন উপন্যাস থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে?
  1. শ্রীকান্ত
  2. পুতুল নাচের ইতিকথা
  3. অপরাজিত
  4. কবি
সঠিক উত্তর:
কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবি
ব্যাখ্যা

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'।
উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ - 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট কেন? এই ভুবনে। '

তাঁর অন্যান্য উপন্যাস হলো :
- চৈতালী ঘূর্ণি
- ধাত্রীদেবতা
- কালিন্দী
- গণদেবতা
- পঞ্চগ্রাম
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা

উৎস : বাংলাপিডিয়া ও কবি উপন্যাস।

৬৩৯.
'পূর্বরাত্রি পূর্বদিন' উপন্যাসের রচয়িতা হলেন-
  1. শওকত ওসমান
  2. সত্যেন সেন
  3. শওকত আলী
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
শওকত আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত আলী
ব্যাখ্যা
শওকত আলী একজন বাঙালি কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিক্ষক।
শওকত আলী ১৯৩৬ সালে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।

 তাঁর রচিত  উপন্যাসঃ
- উত্তরের খেপ
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- পিঙ্গল আকাশ,
- কুলায় কালস্রোত,
- যাত্রা,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- দলিল,
- হিসাবনিকাশ,
- উপরে ছাপ 

তাঁর রচিত গল্প:
- উন্মুল বাসনা 
- লেলিহান স্বাদ 
- শুন হে লক্ষিন্দর 
- বাবা আপনে যান  

তিনি ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে একুশে পদক লাভ করেন। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৪০.
ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক বাংলা নাটক কোনটি?
  1. ক) হিতোপদেশ
  2. খ) লিপিমালা
  3. গ) ভদ্রার্জুন
  4. ঘ) কীর্তিবিলাস
সঠিক উত্তর:
গ) ভদ্রার্জুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভদ্রার্জুন
ব্যাখ্যা
ভদ্রার্জুন
- ১৮৫২ সালে তারাচরণ শিকদারের ‘ভদ্রার্জুন’ নামক দুটি নাটক প্রকাশিত হয়।
-  ‘কীর্তিবিলাস’ হচ্ছে বিয়োগান্ত নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- আর ‘ভদ্রার্জুন’ ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।
- ‘ভদ্রার্জুন’ নাটকের কাহিনি অর্জুন কর্তৃক সুভদ্রাহরণ।
- মহাভারত থেকে কাহিনি সংগ্রহ করা হলেও বাঙালি সমাজের বাস্তব পরিবেশ এতে অঙ্কিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬৪১.
‘কোকিলারা’ নাটকটির রচয়িতা -
  1. মামুনুর রশীদ
  2. সেলিম আল দীন
  3. সাইদ আহমদ
  4. আবদুল্লাহ আল মামুন
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল মামুন (১৯৪২-২০০৮): একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক, অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক।
- আবদুল্লাহ আল মামুন - রচিত ''কোকিলারা'' একটি এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- প্রথম কোকিলা, দ্বিতীয় কোকিলা, তৃতীয় কোকিলা - ইত্যাদি নামে নাটকের চরিত্রগুলো চিত্রিত করা হয়েছে।
তাঁর প্রকাশিত বিখ্যাত নাটকগুলোঃ
- শপথ (১৯৬৪),
- সুবচন নির্বাসনে (১৯৭৪),
- এখনও দুঃসময় (১৯৭৫),
- এবার ধরা দাও (১৯৭৭),
- শাহজাদীর কালো নেকাব (১৯৮৪),
- এখনও ক্রীতদাস (১৯৮৪),
- কোকিলারা (১৯৯০) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসাঃ ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৪২.
পথের দাবী উপন্যাসের পটভূমি কি?
  1. মানবিক সম্পর্কের জটিলতা
  2. প্রেম কাহিনী
  3. নারীর অধিকার
  4. ব্রহ্মদেশে বিপ্লবী আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ব্রহ্মদেশে বিপ্লবী আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রহ্মদেশে বিপ্লবী আন্দোলন
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত পথের দাবী উপন্যাস ১৯২৬ প্রকাশিত হয় ।
- এটি রাজনৈতিক উপন্যাস, যার পটভূমি ব্রহ্মদেশ ।
- এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ।
- এই উপন্যাসে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন দেয়া হয়েছে ।
- এজন্য গ্রন্থটি প্রকাশের সাথে সাথে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয় ।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সারা জাগানো উপন্যাস গুলোর মধ্যে আছে:
- পরিণীতা
- বিরাজ বৌ
- পন্ডিত মশাই
- দেবদাস
- চরিত্রহীন
- গৃহদাহ
- দত্তা ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর)।

৬৪৩.
কোনটি জহির রায়হানের রোমান্টিক উপন্যাস?
  1. ক) শেষ বিকেলের মেয়ে
  2. খ) আরেক ফাল্গুন
  3. গ) বরফ গলা নদী
  4. ঘ) আর কত দিন
সঠিক উত্তর:
ক) শেষ বিকেলের মেয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শেষ বিকেলের মেয়ে
ব্যাখ্যা
শেষ বিকেলের মেয়ে জহির রায়হানের প্রথম উপন্যাস এবং এটি একটি রোমান্টিক উপন্যাস। তার অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো- আরেক ফাল্গুন, বরফ গলা নদী, আর কতদিন, হাজার বছর ধরে, কয়েকটি মৃত্যু, একুশে ফেব্রুয়ারি, তৃষ্ণা ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬৪৪.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রামরাম বসু
  2. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. চণ্ডীচরণ মুন্শী
  4. গোলোকথান শর্মা
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

-------------------------------
• ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো হলো:
• কেরি রচিত : কথোপকথন (১৮০১); ইতিহাসমালা (১৮১২) ।
•  রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০০); লিপিমালা (১৮০২) ।
• গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ (১৮০২)।

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত:
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২);
-  হিতোপদেশ (১৮০৮);
- রাজাবলি (১৮০৮);
- প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩) ।

• তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট (১৮০৩)।
 রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫)।

• চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস (১৮০৫)।
• হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা (১৮১৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৪৫.
'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট-
  1. ক) বিশ্বযুদ্ধ
  2. খ) দেশবিভাগ
  3. গ) দুর্ভিক্ষ
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
সূর্য দীঘল বাড়ি আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে রচিত হয়েছে সূর্যদীঘল বাড়ী উপন্যাস। জয়গুন কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৬৪৬.
নিচের কোনটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস?
  1. আবদুল্লাহ
  2. আনােয়ারা
  3. চাঁদের অমাবস্যা
  4. লালসালু
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
ব্যাখ্যা
- মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসের প্রধান আশ্রয় পাত্র-পাত্রীর মনােজগতের ঘাত-সংঘাত ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া।
- চরিত্রের অন্তর্জগতের জটিল রহস্য উদ্ঘাটনই ঔপন্যাসিকের প্রধান লক্ষ্য। 
- মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসে কাহিনি অবলম্বন মাত্র, প্রকৃত উদ্দেশ্য থাকে মানবমনের জটিল দিকগুলাে সার্থক বিশ্লেষণের মাধ্যমে উপস্থাপন করা।
- বিশ্বসাহিত্যে ফরাসি লেখক গুস্তাভ ফ্লবেয়ার লিখিত ‘মাদাম বােভারি',
- রুশ লেখক দস্তয়ভস্কি লিখিত ‘ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট এবং
- বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের ‘চতুরঙ্গ', সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্-র ‘চাঁদের অমাবস্যা’ ও ‘কাঁদো নদী কাঁদো' মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসের উজ্জ্বল উদাহরণ।
উৎস : একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলা সহপাঠ।
৬৪৭.
কোনটি মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের রচনা নয়?
  1. বেদান্তচন্দ্রিকা
  2. হিতোপদেশ
  3. লিপিমালা
  4. বত্রিশ সিংহাসন
সঠিক উত্তর:
লিপিমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিপিমালা
ব্যাখ্যা
• বেদান্তচন্দ্রিকা, হিতোপদেশ, বত্রিশ সিংহাসন - মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের রচনা।

অন্যদিকে, 
• রামরাম বসুর রচনা - লিপিমালা।

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক। 
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৬৪৮.
নিচের কোনটি নাটক ?
  1. ক) একপয়সার বাশিঁ
  2. খ) বহুবচন
  3. গ) উত্তরণ
  4. ঘ) খাতার শেষপাতা
সঠিক উত্তর:
গ) উত্তরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উত্তরণ
ব্যাখ্যা

আ. ন. ম. বজলুর রশীদ (১৯১১ - ১৯৮৬) একজন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, কবি, ঔপন্যাসিক ছিলেন।
তার রচিত কয়েকটি বিখ্যাত নাটকঃ
- ঝড়ের পাখি
- উত্তরফল্গুনী
- ত্রিমাত্রিক
- রূপান্তর
- উত্তরণ 
- সুর ও ছন্দ ইত্যাদি।

- ‘একপয়সার বাশিঁ’ কবি জসীমউদ্‌দীনের শিশুতোষ গ্রন্থ।

৬৪৯.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ পর্বে রচিত গ্রন্থগুলোর ভাষা, শব্দচয়ন ও ভাবগঠনে কোন সাহিত্যের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়?
  1. ফারসি সাহিত্যের 
  2. সংস্কৃত সাহিত্যের 
  3. হিন্দি সাহিত্যের 
  4. রুশ সাহিত্যের 
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত সাহিত্যের 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত সাহিত্যের 
ব্যাখ্যা

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ পর্বে রচিত গ্রন্থগুলো মূলত বাংলা গদ্যের প্রাথমিক বিকাশে সহায়ক ছিল। এ সময়ের লেখকরা অনুবাদ ও মৌল রচনায় ব্যাপকভাবে সংস্কৃত সাহিত্যকে অনুসরণ করেছেন। ফলে ভাষা, শব্দচয়ন ও ভাবগঠনে সংস্কৃত সাহিত্যের প্রভাব স্পষ্টভাবে লক্ষ করা যায়।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ (১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত) পর্বে (বিশেষত ১৮০১-১৮১৫) বাংলা গদ্যের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে, কিন্তু এই সময়ে রচিত বাংলা গ্রন্থগুলোর অধিকাংশই সংস্কৃত গ্রন্থের অনুবাদ বা সংস্কৃত সাহিত্যের প্রভাবে রচিত হয়েছে। উইলিয়াম কেরির নেতৃত্বে দেশীয় পণ্ডিতরা (যেমন, রামরাম বসু, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, গোলকনাথ শর্মা) এই কাজ করেন। এই গ্রন্থগুলো কলেজের ইংরেজ কর্মচারীদের জন্য পাঠ্যপুস্তক হিসেবে রচিত হয়েছে, যাতে সংস্কৃতের কৃত্রিম গাম্ভীর্য এবং সাধু ভাষার প্রাধান্য লক্ষণীয়।

উদাহরণস্বরূপ:
• হিতোপদেশ (গোলকনাথ শর্মা, ১৮০২; মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, ১৮০৮): সংস্কৃত গ্রন্থের অনুবাদ।
• বত্রিশ সিংহাসন (মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, ১৮০২): সংস্কৃত কথাসাহিত্যের অনুবাদ।
• রাজাবলি (মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, ১৮০৮): সংস্কৃত ইতিহাসের অনুবাদ।
• রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (রামরাম বসু, ১৮০১): এটি বাংলা গদ্যের প্রথম মুদ্রিত জীবনচরিত্র, কিন্তু সংস্কৃত শৈলীতে রচিত এবং ঐতিহাসিক উৎসের ভিত্তিতে (মৌলিক বলে বিবেচিত হলেও, সংস্কৃত প্রভাব প্রধান)।

যদিও কিছু গ্রন্থে পণ্ডিতদের নিজস্ব শৈলী প্রকাশ পেয়েছে (যেমন, কথোপকথন বা লিপিমালা), তবুও অধিকাংশই অনুবাদভিত্তিক। এই পর্ব বাংলা গদ্যকে সংস্কৃতীকরণ করেছে, যা পরবর্তীকালে চলিত ভাষার প্রসারে সাহায্য করেছে।

------------------------
ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন:
• কেরি রচিত: কথোপকথন (১৮০১); ইতিহাসমালা (১৮১২)।
• রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১), লিপিমালা (১৮০২)।
গোলোকনাথ শর্মা রচিত: হিতোপদেশ (১৮০২)।
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২), হিতোপদেশ (১৮০৮), রাজাবলি (১৮০৮), প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)।
• তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট (১৮০৩)।
• রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫)।
• চণ্ডীচরণ মুর্শী রচিত: তোতা ইতিহাস (১৮০৫)।
• হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা (১৮১৫)।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৫০.
আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক নয়-
  1. সুবচন নির্বাসনে
  2. মেরাজ ফকিরের মা
  3. আমলার মামলা
  4. এখনো ক্রীতদাস
সঠিক উত্তর:
আমলার মামলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমলার মামলা
ব্যাখ্যা

• আব্দুল্লাহ আল মামুন একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক ও চলচ্চিত্র পরিচালক।
• আবদুল্লাহ আল মামুন যুদ্ধবিরোধী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ‘শপথ’ নামে নাটক রচনা করেন ১৯৬৪ সালে।
• তাঁর রচিত অন্যান্য নাটকঃ
- নিয়তির পরিহাস,
- বিন্দু বিন্দু রং,
- ঋতুরাজ,
- আয়নায় বন্ধুর মুখ,
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখনও দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- সেনাপতি,
- অরক্ষিত মতিঝিল,
- ক্রসরোড ক্রস ফায়ার,
- এখনও ক্রীতদাস,
- শাহজাদীর কালো নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- আমাদের সন্তানেরা,
- কোকিলারা,
- মাইক মাস্টার,
- মেরাজ ফকিরের মা,
- মেহেরজান আরেকবার ইত্যাদি।

• অন্যদিকে আমলার মামলা শওকত ওসমানের নাটক।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৬৫১.
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র-
  1. ক) তিলক
  2. খ) বাসন্তী
  3. গ) বনমালী
  4. ঘ) তিতাস নদী
সঠিক উত্তর:
ঘ) তিতাস নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তিতাস নদী
ব্যাখ্যা
ধীবর সমাজের নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রামের দুঃখ-দুর্দশার সাধারন কাহিনীকে অবলম্বন করে 'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসটি রচনা করেন অদ্বৈত মল্লবর্মণ। উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনো মানুষ নয় একটি নদী, নাম 'তিতাস'। উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনী রূপ দিয়েছেন। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৬৫২.
'কবি' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) তারাশঙ্কর বন্ধ্যোপাধ্যায়
  3. গ) বিভূতিভূষণ বন্ধ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
খ) তারাশঙ্কর বন্ধ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তারাশঙ্কর বন্ধ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'কবি' উপন্যাসটির রচয়িতা - তারাশঙ্কর বন্ধ্যোপাধ্যায়।

• প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি। বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের মাটি ও মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের জীবনচিত্র, স্বাধীনতা আন্দোলন, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ব্যক্তির মহিমা ও বিদ্রোহ, সামন্ততন্ত্র-ধনতন্ত্রের দ্বন্দ্বে ধনতন্ত্রের বিজয় ইত্যাদি তাঁর উপন্যাসের বিষয়বস্তু।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি
- ধাত্রীদেবতা
- কালিন্দী
- গণদেবতা
- পঞ্চগ্রাম
- কবি
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
- আরোগ্য নিকেতন

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৫৩.
'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) নুরুল মোমেন
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল রচিত মুক্তযুদ্ধের কাব্যনাটক।
- এটি রচিত হয়েছে ১৯৭৫ সালে।
- এটি বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যনাট্য-
- গণনায়ক,
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন,
- বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৫৪.
'জামাই বারিক' প্রহসনের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. বন্দে আলী মিয়া
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'জামাই বারিক':
- ‘জামাই বারিক’ প্রহসনটি সামাজিক বিষয়াবলম্বনে রচিত।
- ১৮৭২ সালে প্রহসনটি প্রকাশিত হয়।
- জামাতা পোষণ পদ্ধতি ব্যঙ্গ করে লিখিত এই নাটকে তিনি যথেষ্ট কৃতিত্ব প্রকাশ করেছেন।

-------------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
• দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩) নাট্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
• দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• ‘নীলদর্পণ‘ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
• 'নবীন তপস্বিনী' (১৮৬৩) দীনবন্ধু মিত্রের দ্বিতীয় নাটক। এতে যে দুটি ভিন্ন কাহিনি স্থান পেয়েছে তা পরিপূর্ণভাবে মিশ্রিত হয় নি। 'তে গ্রাম্যতা ও রুচিবিকল্পতা থাকলেও তা গুরুত্বপূর্ণ রচনা।
• 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' (১৮৬৬) বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লিখিত একটি প্রহসন। নামের মাধ্যমেই এর পরিচয় প্রকাশমান।
• দীনবন্ধু মিত্রের 'লীলাবতী' (১৮৬৭) নাটকটি রচনা হিসেবে সার্থকতা লাভ করতে পারে নি।
• 'কমলে কামিনী' (১৮৮৩) তাঁর শেষ রচনা। রোম্যান্টিক প্রণয়চিত্র হিসেবে এর গুরুত্ব।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৫৫.
বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত প্রথম একটানা দীর্ঘ মৌলিক রচনা কোনটি?
  1. হিতোপদেশ 
  2. লিপিমালা
  3. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
  4. কথোপকথন
সঠিক উত্তর:
রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
ব্যাখ্যা

• রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'। গ্রন্থটি ১৮০১ খ্রিষ্টব্দে রচিত। 
•  বাঙালি রচিত এবং বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত প্রথম একটানা দীর্ঘ মৌলিক রচনা 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থে রাজা প্রতাপাদিত্য সম্পর্কে জ্ঞাত কাহিনিগুলো স্থান পেয়েছে।

অন্যদিকে, 
• দ্বিতীয় গ্রন্থ 'লিপিমালা' ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ছাত্রদের চলিত ভাষা ও দেশীয় লোকের বৈষয়িক ব্যবহারের পরিচয়দানের জন্য পত্রাকারে লিখিত প্রবন্ধ। গ্রন্থের রচনারীতি সহজ সরল ও মৌখিক রীতির কাছাকাছি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। তার রচনাশৈলী সাধুভাষার অনুগত হলেও তা কথ্যরীতির অনুসারী ছিল। 

• গোলোকনাথ শর্মা (মৃত্যু ১৮০৩) ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের শিক্ষক না হয়েও মিশনারিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তাঁর 'হিতোপদেশ' ১৮০১ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পাঠ্যপুস্তকরূপে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়। বইটি সংস্কৃত থেকে অনুবাদ। লেখকের সংস্কৃতজ্ঞানের স্বল্পতার জন্য এর অনুবাদ আক্ষরিক হয় নি। তাই এতে স্বাধীন রচনার সুগম্যতা লক্ষণীয়। গ্রন্থের কোথাও কোথাও কথ্যরীতির অনুসরণের ফলে রচনায় প্রাঞ্জলতা সঞ্চারিত হয়েছে।

'কথোপকথন' গ্রন্থের রচয়িতা- 'উইলিয়াম কেরী'। কথোপকথন বাংলা ভাষায় মুদ্রিত এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত দ্বিতীয় গ্রন্থ। একাধিক মানুষের মুখের সাধারণ কথা বা কথোকথন বা ডায়লগ এ গ্রন্থের উপজীব্য। এ গ্রন্থের ঐতিহাসিক মূল্য প্রচুর।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৫৬.
শেক্সপিয়রের ‘রোমিও জুলিয়েট’ এর কাহিনি অবলম্বনে অনুবাদকৃত নাটক-
  1. মুকুলমুঞ্জরা
  2. হীরার ফুল
  3. ভানুমতী-চিত্তবিলাস
  4. চারুমুখ চিত্তহারা
সঠিক উত্তর:
চারুমুখ চিত্তহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারুমুখ চিত্তহারা
ব্যাখ্যা
• হরচন্দ্র ঘোষের (শেক্সপিয়র রচিত ‘রোমিও জুলিয়েটে’র) অনুবাদকৃত নাটক ‘চারুমুখ চিত্তহারা’।

------------------
• হরচন্দ্র ঘোষ:
- ১৮১৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একজন নাট্যকার, অনুবাদক।
- একবার বেকনের প্রবন্ধ ‘ট্রুথ’-এর বাংলা অনুবাদ করার প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথম পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা নাট্য-সাহিত্যের আদিপর্বের নাট্যকার এবং শেক্সপীয়রের নাটকের প্রথম অনুবাদক।
- তাঁর পুরাণ অবলম্বনে রচিত কৌরববিয়োগ (১৮৫৮) একটি উল্লেখযোগ্য মৌলিক নাটক।
১৮৮৪ সালের ২৪ নভেম্বর হুগলিতে তাঁর মৃত্যু হয়।
- তিনিই সর্বপ্রথম প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য রীতির সংমিশ্রণে আধুনিক নাট্যরীতি প্রবর্তনের চেষ্টা করেন।

• তাঁর রচিত নাটক-
- ভানুমতী-চিত্তবিলাস (১৮৫৩),
- চারুমুখ-চিত্তহরা (১৮৬৪) ও
- রজতগিরিনন্দিনী (১৮৭৪)।
[নাটকত্রয় যথাক্রমে শেক্সপিয়র মার্চেন্ট অফ ভেনিস, রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট এবং দি সিলভার হিল নাটক অবলম্বনে রচিত।]

অন্যদিকে,
গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত রোমান্টিক নাটক ‘মুকুলমুঞ্জরা’ এবং কৌতুক নাটক ‘হীরার ফুল’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৫৭.
'গিনিপিগ' নাটকটি কার রচনা?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. মামুনুর রশীদ
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
মামুনুর রশীদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা
⇒ 'গিনিপিগ' নাটকের রচয়িতা হলেন মামুনুর রশীদ।
- নাটকটি ১৯৮৫ সালে প্রাকাশিত হয়।

⇒ মামুনুর রশীদ:
- মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান৷

• তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৫৮.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের শিক্ষক ছিলেন না কে?
  1. গোলকনাথ শর্মা
  2. রামরাম বসু
  3. চণ্ডীচরণ মুনশী
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ছিলেন - গোলকনাথ শর্মা, রামরাম বসু, চণ্ডীচরণ মুনশী।

অন্যদিকে, 
- "হরপ্রসাদ শাস্ত্রী" ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের শিক্ষক ছিলেন না।

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয়‌ বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলােচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৫৯.
'ফিরোজা বেগম' - উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
'ফিরোজা বেগম' - উপন্যাসটির রচয়িতা - সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী।

• তাঁর গদ্য বঙ্কিমচন্দ্রের মতো সংস্কৃতবহুল, কবিতা মধুসূদনের মতো ক্লাসিক রীতির।

উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ
- উচ্ছ্বাস
- উদ্বোধন
- স্পেনবিজয় কাব্য

উপন্যাস:
- তারা-বাঈ
- রায়নন্দিনী
- ফিরোজা বেগম

প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম
- তুর্কিনারি জীবন
স্পেনীয় মুসলমান সভ্যতা

ভ্রমন কাহিনি:

- তুরস্ক ভ্রমণ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৬৬০.
কত সালে বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয়?
  1. ১৮৫২ সালে
  2. ১৮৫৫ সালে
  3. ১৮৫৬ সালে
  4. ১৮৫৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৫২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫২ সালে
ব্যাখ্যা
- বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে।
- যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্তের 'কীর্তিবিলাস', তারাচরণ শিকদারের 'ভদ্রার্জুন' এই বৎসরে প্রকাশিত নাটক।
- কীর্তিবিলাস বিয়োগান্ত নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা। কীর্তিবিলাসের সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশিত ভদ্রার্জুন ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।
- পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে। কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম। ভদ্রার্জুন নাটকের কাহিনি অর্জুন কর্তৃক সুভদ্রাহরণ।
- মহাভারত থেকে কাহিনি সংগ্রহ করা হলেও বাঙালি সমাজের বাস্তব পরিবেশ এতে অঙ্কিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬৬১.
বাংলা নাট্যের ইতিহাসে ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ কে স্থাপন করেন?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. হেরাসিম লেবেডফ
  3. তারাচরণ শিকদার
  4. প্রসন্নকুমার ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
হেরাসিম লেবেডফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেরাসিম লেবেডফ
ব্যাখ্যা
বাংলা নাটকের উৎস ও বিকাশ:
- আঠারো শতকের শেষদিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়।
- কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।
- বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে।
- হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন।
- তিনি 'The Disguise' এবং 'Love is the best Doctor' নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান। এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।
- ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।
- বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬৬২.
রামনারায়ণ তর্করত্ন কোন নাটক রচনা করে 'নাটুকে নারায়ণ' নামে খ্যাতি লাভ করেছিল?
  1. কুলীনকুলসর্বস্ব
  2. শকুন্তলা
  3. মালতীমাধব
  4. রত্নাবলী
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কুলীনকুলসর্বস্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুলীনকুলসর্বস্ব
ব্যাখ্যা
• 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক:
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক 'কুলীনকুলসর্বস্ব' (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভকরে।
- তাঁর 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন। এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি 'নাটুকে নারায়ণ' নামে খ্যাতি লাভ করেছিল।

সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেন:
- শকুন্তলা,
- মালতীমাধব,
- রত্নাবলী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৬৩.
'পুঁই ডালিমের কাব্য' শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত-
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) প্রবন্ধগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
গ) গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'পুঁই ডালিমের কাব্য' শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত- গল্পগ্রন্থ। তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ- অনেক দিনের আশা, ঢেউ, পথ জানা নেই, দুই হৃদয়ের তীর, শাহের বানু ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬৬৪.
বাংলাদেশের চেতনার প্রবাহরীতির উপন্যাস কে লিখেছেন?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) কায়েস আহমদ
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা কম হলেও তাঁর সাহিত্যকর্ম সমগ্র বাংলা সাহিত্যে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। বিশেষত তাঁর গল্প এবং উপন্যাসে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনের বহির্লোক এবং অন্তর্লোকের যে সূক্ষ্ম ও গভীর রহস্য উদ্ঘাটন করেছেন তার তুলনা বাংলা সাহিত্যে বিরল। কুসংস্কার ও অন্ধ ধর্মবিশ্বাসে আচ্ছন্ন, বিপর্যস্ত, আশাহীন ও মৃতপ্রায় সমাজজীবনের চিত্র যেমন এঁকেছেন, তেমনি মানুষের মনের ভেতরকার লোভ, প্রতারণা, ভীতি, ঈর্ষা প্রভৃতি প্রবৃত্তির ক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া বিজ্ঞানীর মতোই উদ্ঘাটন করেছেন। শুধু উপভোগ্য মজাদার গল্প রচনা তাঁর অভীষ্ট কখনোই ছিল না। তিনি মানব জীবনের মৌলিক সমস্যাগুলিকে পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস লালসালু প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে। এটি বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এ-উপন্যাসে তিনি গ্রাম-বাংলার সমাজ-জীবনের এক ধ্রুপদী জীবনধারাকে তুলে ধরেছেন।
তাঁর অন্য দুটি উপন্যাস চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪) ও কাঁদো নদী কাঁদো (১৯৬৮)-তে চেতনা-প্রবাহ রীতি ও অস্তিত্ববাদের ধারণাকে শিল্পরূপ দিয়েছেন। তাঁর গল্পগ্রন্থ নয়নচারা ও দুই তীর প্রকাশিত হয় যথাক্রমে ১৯৪৬ ও ১৯৬৫ সালে। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ নিরীক্ষামূলক চারখানি নাটকও লিখেছেন। সেগুলি হলো বহিপীর, তরঙ্গভঙ্গ, সুড়ঙ্গ এবং উজানে মৃত্যু।
সুত্রঃ একাডেমিক বই, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

জেনে রাখা ভাল,
আইরিশ ঔপন্যাসিক ও কবি James Joyce তার `Stream of Consciousness’ (চেতনার অন্তঃশীল প্রবাহ) টেকনিকের জন্যে বিখ্যাত। তার রচনাবলির মধ্যে Ulysses (উপন্যাস), Exiles (নাটক), Dubliners (ছোটগল্প) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ এবং ব্রিটানিকা।

আরও জানতে চাইলে,
বাংলা ‘চেতনাপ্রবাহ রীতি’ শব্দটি ইংরেজি Stream of consciousness শব্দবন্ধ থেকে এসেছে। যার অর্থ-জাগ্রত বা সজাগ মনের অবিচ্ছিন্ন চিন্তার প্রবাহ বা সচেতনতা। প্রখ্যাত দার্শনিক উইলিয়াম জেমস্ তাঁর 'Principles of Psychology (1890) গ্রন্থে সর্বপ্রথম এই শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেন। গ্রন্থটিতে তিনি এই শব্দগুচ্ছকে ব্যবহার করেছিলেন একটি বিশেষ অর্থে, চেতন, অবচেতন বা প্রাকচেতন সবটুকু মিলিয়েই ব্যক্তিচেতনার যে নিরবিচ্ছিন্নচিন্তার ধারা, মানব মনের প্রচ্ছন্ন অনুভূতির যে সক্রিয় ধারাবাহিকতা, অবদমিত আবেগ, ইচ্ছা কিংবা উপলব্ধির এক অবিচ্ছিন্ন স্রোতপ্রবাহ -তাই 'Stream of consciousness' বা চেতনাপ্রবাহ রীতি।

ধূর্জটিপ্রসাদ মুখােপাধ্যায় এবং গােপাল হালদারের হাতে বাংলা সাহিত্যে চেতনাপ্রবাহ রীতির যে সার্থক সূত্রপাত ঘটেছিল সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ সেই ধারারই এক যােগ্য উত্তরসূরি। কেননা তাঁর তিনটি উপন্যাসই - ‘লালসালু’ (১৯৬৮), ‘চাঁদের অমাবস্যা’ (১৯৬৪) এবং “কঁদো নদী কাঁদো' (১৯৬৮) ব্যক্তিলােকের নিজস্ব উপলব্ধির সামগ্রিক তাৎপর্য প্রকাশেসচেতন এবং সার্থক । বিশেষভাবে তাঁর শেষ দুটি উপন্যাস ‘চাঁদের অমাবস্যা’ (১৯৬৪), ‘কাঁদো নদী কাঁদো’(১৯৬৮)-তে চরিত্রের চেতন এবং অবচেতনের অতল গভীরে আলােকনিক্ষেপণে সচেষ্ট হয়েছেন লেখক। শুধু উপন্যাসই নয় তার অধিকাংশ ছােটগল্পও আংশিকভাবে চেতনাপ্রবাহরীতির প্রাথমিক পর্যায়ভুক্ত। যা সচরাচর কোন লেখকের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। এছাড়াও রয়েছে নাটক ‘তরঙ্গভঙ্গ’ (১৯৬২)-যেখানে ঘটেছে স্বপ্ন কল্পনার স্বভাবজাত আসা-যাওয়া এবং চরিত্রাবলীর মনােগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সুনিপুণ উদঘাটন।
সুত্রঃ University Library, University of North Bengal.

৬৬৫.
বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় কত সালে?
  1. ১৭৯৫ সালে
  2. ১৭৯৮ সালে
  3. ১৮৯৫ সালে
  4. ১৮৫২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৯৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৯৫ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলা নাটকের বিকাশ:
- আঠারো শতকের শেষদিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়। কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।

- বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে। হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন। তিনি 'The Disguise' এবং 'Love is the best Doctor' নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান। এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।

- ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।
- বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৬৬৬.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা গদ্যপুস্তক প্রণয়নকারী পণ্ডিত -
  1. উইলিয়াম কেরি ও ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. গোলোকনাথ শর্মা ও গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
  3. তারিণীচরণ মিত্র ও চণ্ডীচরণ মুনশী
  4. রামরাম বসু ও রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর:
তারিণীচরণ মিত্র ও চণ্ডীচরণ মুনশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারিণীচরণ মিত্র ও চণ্ডীচরণ মুনশী
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলি কর্তৃক ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ৪ঠা মে কলেজের প্রতিষ্ঠা দিবস হলেও ২৪শে নভেম্বর থেকে কলেজের কাজ শুরু হয়েছিল।
- দেশীয় ভাষা শিক্ষা দিয়ে সিবিলিয়ানদের উপযুক্ত করে তোলার জন্যই ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠা।
- এই কলেজে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্রীরামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক বাংলায় অভিজ্ঞ উইলিয়াম কেরি।
- তিনি তাঁর অধীনস্ত দু জন পণ্ডিত এবং ছয় জন সহকারী পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। তাঁদের প্রচেষ্টার ফলাফল দিয়েই বাংলা গদ্যের অনুশীলনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা নিরূপণ করা হয়।

• ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন:

ফোর্ট উইলিয়ামের ফর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো হলো:
⇒কেরি রচিত : কথোপকথন (১৮০১); ইতিহাসমালা (১৮১২) ।
⇒ রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০০); লিপিমালা (১৮০২) ।
⇒ গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ (১৮০২)।

⇒ মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত:
• বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২);
• হিতোপদেশ (১৮০৮);
• রাজাবলি (১৮০৮);
• প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩) ।

⇒তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট (১৮০৩)।
 রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫)।

⇒চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস (১৮০৫)।
⇒ হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা (১৮১৫)।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 
৬৬৭.
ঢাকায় ছাপাখানা স্থাপন করেন কে?
  1. ক) চার্লস উইলকিন্স
  2. খ) উইলিয়াম কেরি
  3. গ) মার্শম্যান
  4. ঘ) আলেকজান্ডার ফয়েরবাখ
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলেকজান্ডার ফয়েরবাখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলেকজান্ডার ফয়েরবাখ
ব্যাখ্যা

মুদ্রণ শিল্প:
মুদ্রণ শিল্প  প্রযুক্তি হিসেবে সর্বপ্রথম ভারতে চালু করেন পর্তুগিজগণ। প্রথম মুদ্রণযন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় গোয়ায়। এরপর মুদ্রণ প্রযুক্তি বোম্বাইয়ে চালু হয় ১৬৭০ সালে। ইউরোপীয় মিশনারিদের প্রচেষ্টায় ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ছাপাখানা চালু হয়। এই সকল ছাপাখানার অধিকাংশই অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে ও ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে স্থাপিত হতে থাকে। পর্তুগিজ ধর্মপ্রচারকগণ লিসবন থেকে রোমান হরফে বাংলা বই ছাপিয়ে আনেন। সবচেয়ে পুরাতন বাংলা মুদ্রণের নমুনা পাওয়া গেছে ১৬৮২ সালে প্যারিসে মুদ্রিত একটি গ্রন্থে। এসব বাংলা মুদ্রণ ছিল তামার পাতে, তখনও বাংলা অক্ষর ঢালাইয়ের কোন ব্যবস্থা হয়নি। মুদ্রণের জন্য বাংলা অক্ষরের নকশা প্রথম প্রস্ত্তত করেন চার্লস উইলকিন্স। তাঁর ডিজাইনকৃত অক্ষরে ছাপা হয় নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড রচিত A Grammar of the Bengal Language (১৭৭৮) গ্রন্থটি।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তা উইলকিন্স ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে হুগলি জেলার চুঁচুড়ায় একটি ছাপাখানা স্থাপন করেন। প্রথম দফায় উইলকিন্স যে টাইপ নির্মাণ করেন তাকে পরবর্তী সময়ে পঞ্চানন কর্মকার আরও মার্জিত করে উন্নতমানের টাইপ নির্মাণ করেছিলেন। উইলকিন্সের সহকারী পঞ্চানন কর্মকার ছিলেন বাংলা টাইপ খোদাই করতে জানা প্রথম বাঙালি। বাংলা টাইপকে আরও উন্নত করে লাইনো টাইপে উন্নীত করার কৃতিত্ব সুরেশচন্দ্র মজুমদারের। বিশ শতকের গোড়ার দিকে লাইনো-এর বাংলা অক্ষর বিন্যাস মনোটাইপ, ইস্টার্ন টাইপ এবং টাইপ রাইটার-এ বাংলা অক্ষর বিন্যাসে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখে।

- ১৮৪৭-৪৮ সালে রংপুরে প্রথম ছাপাখানা ''বার্তাবহ যন্ত্র'' প্রতিষ্ঠা করা হয় ৷ এটি বাংলাদেশের ভূখন্ডে প্রথম ছাপাখানা।
- সর্বপ্রথম একজন ইংরেজ আলেকজান্ডার ফারবেখ ঢাকায় ছাপাখানা স্থাপন করেন। ছাপাখানাটির নাম ছিল ‘ঢাকা প্রেস’।
- এই ছাপাখানাটিতে অবশ্য বাংলা মুদ্রণের কোন ব্যবস্থা ছিল না। এখান থেকে ঢাকা নিউজ নামে ইংরেজি সংবাদপত্র প্রকাশিত হতো। ১৮৬০ সালে বাংলা প্রেস বা বাংলা যন্ত্র নামে ঢাকায় দ্বিতীয় ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ছাপাখানাটি প্রথমদিকে শুধু বাংলা মুদ্রণের কাজ করত।
- ১৮৬৬ সালে ঢাকায় তিনটি ছাপাখানা ছিল। আর একটি প্রাচীন ছাপাখানা ছিল ফরিদপুরে এবং সেখান থেকে বাংলা অমৃতবাজার পত্রিকা প্রকাশিত হতো।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬৬৮.
নিচের কোনটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক রচিত উপন্যাস নয়?
  1. ক) মেবার রাজ
  2. খ) যুগান্তর
  3. গ) দীপনির্বাণ
  4. ঘ) ছিন্ন মুকুল
সঠিক উত্তর:
খ) যুগান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যুগান্তর
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক রবীন্দ্রনাথের ভগ্নি স্বর্ণকুমারী দেবী। তার উপন্যাসঃ দীপনির্বাণ, মেবার রাজ, ছিন্ন মুকুল, মালতী, হুগলির ইমাম বাড়ি, বিদ্রোহ, বিচিত্রা, মিলনরাত্রি ইত্যাদি। তার রচিত নাটক - বসন্ত উৎসব, বিবাহ উৎসব, দেবকৌতুক, কনে বদল, রাজকন্যা, যুগান্তর, দিব্যকমল ইত্যাদি। তিনি ভারতী পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন (১৮৮৪-১৮৯৪)। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৬৬৯.
'বেদান্তচন্দ্রিকা' কী ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. অনুবাদমূলক গদ্য
সঠিক উত্তর:
অনুবাদমূলক গদ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুবাদমূলক গদ্য
ব্যাখ্যা
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (আনু. ১৭৬২-১৮১৯) সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক। তৎকালীন ওড়িষা প্রদেশের মেদিনীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। নাটোর-রাজের দরবারে লেখাপড়া শিখে তিনি সংস্কৃত পন্ডিতে পরিণত হোন। তিনি উনিশ শতকের প্রথম ভালো বাংলা গদ্য লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।

- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন। পরে ১৮০৫ সালে আবার কেরীর সুপারিশে তিনি বাংলার সঙ্গে সংস্কৃত বিভাগেরও হেড পন্ডিতের দায়িত্ব লাভ করেন। ১৮১৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত তিনি এ কলেজে কাজ করেন। পরে কাজ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।

- অনেকের মতে, তিনি ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আগেকার সবচেয়ে ভালো বাংলা গদ্য লেখক। তাঁর রচনা-রীতি খুব সংস্কৃত-ঘেঁষা হলেও, তিনি বাংলা ভাষার স্বাভাবিক পদক্রম, শব্দাবলীর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক এবং অন্বয় স্থাপনের মধ্য দিয়ে সঠিক এবং সাবলীল বাক্য-কাঠামোর দিক নির্দেশ করেন।

- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে থাকার সময়ে তিনি যেসব গ্রন্থ রচনা করেন, সেগুলি হলো: বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২), হিতোপদেশ (১৮০৮), রাজাবলী (১৮০৮) এবং প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮১৩ সালে লিখিত, কিন্তু ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত)। এছাড়া পরে ১৮১৭ সালে তিনি লেখেন 'বেদান্তচন্দ্রিকা'এসব গদ্য প্রায় সবই অনুবাদমূলক। তা সত্ত্বেও তাঁর রচনা-রীতির কারণে অনেকটা মৌলিক রূপ লাভ করেছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৬৭০.
বাংলা গদ্য সাহিত্যের উৎপত্তিকাল
  1. ষোড়শ শতাব্দী
  2. সপ্তদশ শতাব্দী
  3. অষ্টাদশ শতাব্দী
  4. ঊনবিংশ শতাব্দী
সঠিক উত্তর:
ঊনবিংশ শতাব্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊনবিংশ শতাব্দী
ব্যাখ্যা
• বাংলা গদ্যের উৎপত্তি:
- বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের পূর্বে সাহিত্যগুণসমৃদ্ধ কোন গদ্যরচনার অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় না।
- দৈনন্দিন জীবনে বাঙালির কথাবার্তায় চিরদিন গদ্যরীতি ব্যবহৃত হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত সাহিত্যে তার অনুপ্রবেশ ঘটেনি এবং এর লিখিত রূপ চিঠিপত্র, দলিলদস্তাবেজ, বৈষ্ণব কড়চা ও বিদেশি খ্রিষ্টানকর্তৃক লিখিত ধর্মবিষয়ক গ্রন্থের সঙ্কীর্ণ সীমানায় আবদ্ধ ছিল।
১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে নিতান্ত প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে ভাষাগত দিক থেকে গদ্যের উৎকর্ষসাধন মোটেই সম্ভবপর হয় নি।
- ইতস্তত বিক্ষিপ্ত কিছুসংখ্যক দৃষ্টান্ত অন্যত্র দৃষ্টিগোচর হলেও বাণিজ্যসম্ভারের পশ্চাতে খ্রিষ্টধর্মের পসার সাজিয়ে আগত পর্তুগিজ পাদ্রিদের হাতেই বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহারের সূত্রপাত হয়।

• ড. সুকুমার সেন বাংলা গদ্যরীতির চারটি স্তর নির্দেশ করেছেন। সে স্তরগুলোর পরিধি:
- প্রথম স্তর: সূচনা ষোল শতক থেকে ১৮০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
- দ্বিতীয় স্তর: উন্মেষ - ১৮০০ (শ্রীরামপুর মিশন) থেকে ১৮৪৭ সালের (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের) পূর্ব পর্যন্ত।
- তৃতীয় স্তর: অভ্যুদয় ১৮৪৭ (বিদ্যাসাগর) থেকে ১৮৬৫ সালের (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের) পূর্ব পর্যন্ত
- চতুর্থ স্তর: পরিণতি ১৮৬৫ (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।

সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় বাংলা গদ্যরীতির সূচনা হয় ষোল শতকে তবে উনিশ শতকে বাংলা সাহিত্যে গদ্যরীতির ব্যবহার শুরু হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬৭১.
'স্পেন বিজয় কাব্য' রচনা করেন-
  1. ক) মোজাম্মেল হক
  2. খ) সৈয়দ আলী আহসান
  3. গ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. ঘ) এয়াকুব আলী চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
'স্পেনবিজয় কাব্য'- রচনাটির রচয়িতা- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী।

• তাঁর গদ্য বঙ্কিমচন্দ্রের মতো সংস্কৃতবহুল, কবিতা মধুসূদনের মতো ক্লাসিক রীতির।

উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ
- উচ্ছ্বাস
- উদ্বোধন
- স্পেনবিজয় কাব্য

উপন্যাস:
- তারা-বাঈ
- রায়নন্দিনী
- ফিরোজা বেগম

প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম
- তুর্কিনারি জীবন
- স্পেনীয় মুসলমান সভ্যতা

ভ্রমন কাহিনি:
- তুরস্ক ভ্রমণ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৭২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাকে গদ্যের ‘প্রথম শিল্পী’ বলে অভিহিত করেছেন?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. রামরাম বসু
  4. হরপ্রসাদ রায়
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।
- বিদ্যাসাগর গদ্যরীতির মধ্যে লালিত্যসঞ্চার ও নমনীয়তা আনয়নপূর্বক ভাষারীতি হিসেবে গদ্যের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে গৌরবময় অগ্রগতি সাধন করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার অন্তর্নিহিত ধ্বনিপ্রবাহ অনুধাবন করে বাক্যে স্বাভাবিক শব্দানুবৃত্তির রূপ প্রদান পূর্বক গদ্যরীতিতে পরিমিতিবোধ সৃষ্টি করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরই বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের ‘প্রথম শিল্পী’ বলে অভিহিত করেছেন।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গদ্যগ্রন্থের নাম হলো:
• 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' (হিন্দি বৈতালপৈচ্চিসির বঙ্গানুবাদ ১৮৪৭)।
• 'শকুন্তলা' (কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তলম নাটকের উপাখ্যান ভাগের বঙ্গানুবাদ, ১৮৫৪)।
• 'সীতার বনবাস’ (ভবভূতির উত্তররাম চরিত নাটকের প্রথম অঙ্কের ও রামায়ণের উত্তর কাণ্ডের বঙ্গানুবাদ, ১৮৬০)।
• ‘ভ্রান্তিবিলাস' (শেক্সপিয়ারের Comedy of Errors-এর বঙ্গানুবাদ, ১৮৬৯)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬৭৩.
শ্রীরামপুর মিশন প্রেসটি কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. লর্ড ওয়েলেসলি
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. চার্লস উইলকিন্স
  4. উইলিয়াম হান্টার
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা
• শ্রীরামপুর মিশন প্রেস:
- শ্রীরামপুর মিশন ছিল ভারতের প্রথম নিজস্ব প্রচারক সংঘ।
- মিশন হুগলি জেলার দুটি স্থান থেকে বাংলায় যীশুর বাণী প্রচার শুরু করে। 
- ১৮০০ সালের ১০ই জানুয়ারি উইলিয়াম কেরি এবং ভ্রাতৃবৃন্দ এই মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।
- সেই বছরই মার্চ মাসে উইলিয়াম কেরি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস নামে ছাপাখানাটি খোলেন।
- এই মাসেই পঞ্চানন কর্মকারের সহযোগিতায় প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ মথী রচিত মঙ্গল সমাচার ছাপা হয় মিশন প্রেস থেকে।
- বাংলা গদ্য চর্চায় যে সকল প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে খ্রিষ্টান মিশনারীগণ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘শ্রীরামপুর মিশন' সেগুলোর মধ্যে অন্যতম।

- বাংলায় বাইবেল আনুবাদ করে প্রদেশে খ্রিষ্টধর্ম প্রচারে ব্রতী হয়েছিলেন উইলিয়াম কেরি।
- শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে পরবর্তীকালে রামায়ণ, মহাভারত, পাঠ্যপুস্তক ইত্যাদি বহু গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল।
- ১৮১৮ খ্রিষ্টাব্দে এই মিশন থেকে 'দিগদর্শন' ও 'সমাচার দর্পণ' নামক পত্রিকা দুটি প্রকাশিত হয়। 
- ১৮০০-১৮৩২ সালের মধ্যে শ্রীরামপুর প্রেস থেকে ৪৫টি ভাষায় ২,১২,০০০ বই ছাপা হয়।
- ১৮৪৫ সালে শ্রীরামপুর মিশন বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু এ প্রেস ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত চালু ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৭৪.
‘নাটুকে নারায়ণ’ উপাধি কার?
  1. নারায়ণ দেব
  2. নারায়ণ পণ্ডিত
  3. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় 
  4. রামনারায়ণ তর্করত্ন
সঠিক উত্তর:
রামনারায়ণ তর্করত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামনারায়ণ তর্করত্ন
ব্যাখ্যা

রামনারায়ণ তর্করত্ন:
- তিনি একজন নাট্যকার।
- ১৮২২ সালের ২৬ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার হরিনাভি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- বাংলা মৌলিক নাটক রচয়িতা হিসেবেই রামনারায়ণের মুখ্য পরিচয়।

• 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক সম্পর্কিত তথ্য:
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
- এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল।
- সে কারণে তিনি ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করেছিল।

রামনারায়ণ তর্করত্ন যেসকল নাটক অনুবাদ করেন:
- অভিজ্ঞান শকুন্তলা,
- রত্নাবলী,
- মালতীমাধব,
- বেণীসংহার।

রামনারায়ণ তর্করত্ন রচিত নাটক:
- রুক্ষ্মিণীহরণ,
- কংসবধ,
- ধর্মবিজয়।

উল্লেখ্য,
• ১৮৫২ সালে যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্তের ‘কীর্তিবিলাস’ এবং তারাচরণ শিকদারের ‘ভদ্রার্জুন’ নামক দুটি মৌলিক নাটক প্রকাশিত হয়। ‘কীর্তিবিলাস’ হচ্ছে বিয়োগান্ত নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা। আর ‘ভদ্রার্জুন’ ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক কৃষ্ণকুমারী। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক।
-------------------------
অন্যদিকে,
• 'নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের' ছদ্মনাম 'সুনন্দ'।
- 'টেনিদা' নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের এক অমর সৃষ্টি।

• নারায়ণ দেব:
- নারায়ণ দেব মধ্যযুগের মনসামঙ্গল কাব্যের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় কবি।
- কবি নারায়ণ দেবের উপাধি ছিল 'সুকবি বল্লভ'।
- তাঁর কাব্যের নাম 'পদ্মপুরাণ'।

• হিতোপদেশ গ্রন্থটি নারায়ণ পণ্ডিতের রচনা, যা তিনি পঞ্চতন্ত্রের অনুকরণে রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৬৭৫.
উইলিয়াম কেরি রচিত ব্যঙ্গপ্রধান গল্পসংগ্রহ কোনটি?
  1. হিতোপদেশ
  2. লিপিমালা
  3. ইতিহাসমালা
  4. প্রবোধচন্দ্রিকা
সঠিক উত্তর:
ইতিহাসমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতিহাসমালা
ব্যাখ্যা
• 'ইতিহাসমালা':
- 'ইতিহাসমালা' (১৮১২) উইলিয়াম কেরি সংকলিত বিভিন্ন বিষয়ের ১৫০টি গল্পের সংগ্রহ।
- এ দেশের সাহিত্যের ইতিহাসে এটি প্রথম গল্পসংগ্রহ মর্যাদা লাভ করেছে।
- সংগৃহীত গল্পগুলোর অধিকাংশই ব্যঙ্গপ্রধান।

উল্লেখ্য,
• কথোপকথন উইলিয়াম কেরি রচিত বাংলা ভাষায় মুদ্রিত এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত দ্বিতীয় গ্রন্থ ।
- একাধিক মানুষের মুখের সাধারণ কথা বা কথোকথন বা ডায়লগ এ গ্রন্থের উপজীব্য। 

-----------------------------------
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
• ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ কর্মচারীদের দেশীয় ভাষায় শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
• এই কলেজে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্ররিামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক উইলিয়াম কেরি। তিনি তাঁরা অধীনস্ত দু-জন পণ্ডিত এবং ছয় জন সহকারী পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন।
• তাঁদের এই প্রচেষ্টার ফলাফল দিয়েই বাংলা গদ্যের অনুশীলনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা নিরূপণ করা হয়।

ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো হলো:

• কেরি রচিত: কথোপকথন (১৮০১); ইতিহাসমালা (১৮১২)।
• রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১); লিপিমালা (১৮০২)।
• গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ (১৮০২)।
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২); হিতোপদেশ (১৮০৮); রাজাবলি (১৮০৮); প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)।
• তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট (১৮০৩)।
• রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫)।
• চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস (১৮০৫)। 
• হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা (১৮১৫)।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬৭৬.
‘নীলদর্পণ' নাটকে ‘শ্যামচাঁদ’ হলো-
  1. ক) একটি চরিত্র
  2. খ) কৃষ্ণপক্ষের চাঁদ
  3. গ) চামড়ার তৈরি চাবুক
  4. ঘ) হাতে পাওয়া চাঁদ
সঠিক উত্তর:
গ) চামড়ার তৈরি চাবুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চামড়ার তৈরি চাবুক
ব্যাখ্যা
• বড়ো সাহেব উডের চাবুকের নাম " শ্যামচাঁদ "।
- স্বরপুর গ্রামের অদূরেই ছিলো বেগুনবাড়ির নীলের কুঠি।
- এই নীলকুঠির নীলকররা আশে পাশের গ্রাম গুলিতে কৃষকদের দিয়ে জোর করে নীলচাষ করাতো।
- কেউ নীলচাষ করতে অসম্মত হলে তাদের নীলকুঠিতে ধরে এনে চামড়ার চাবুক "শ্যামচাঁদ" দিয়ে
প্রহার করতো।

উৎস: নীল দর্পণ নাটক।
৬৭৭.
নিচের কোনটি প্রেমেন্দ্র মিত্রের উপন্যাস?
  1. ক) কুয়াশা
  2. খ) আগামীকাল
  3. গ) প্রতিশোধ
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
প্রেমেন্দ্র মিত্র মূলত সাহিত্যিক ও সাংবাদিক ছিলেন। তাঁর রচিত উপন্যাসগুলোর নাম- কুয়াশা, আগামীকাল, প্রতিশোধ, মিছিল, পাঁক, উপনয়ন, প্রতিধ্বনি ইত্যাদি।
কাব্যগ্রন্থ- প্রথমা, সম্রাট, ফেরারী ফৌজ, সাগর থেকে ফেরা, হরিণ চিতা চিল, কখনো মেঘ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৭৮.
পদ্মরাগ' উপন্যাস কে লিখেছেন?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত
  3. জাহানারা ইমাম
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত
ব্যাখ্যা
'পদ্মরাগ' উপন্যাস:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত রচিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
- 'পদ্মরাগ' উৎসর্গ করা হয় রোকেয়ার জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর,
- Sultana’s Dream,
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৬৭৯.
ধীবর সমাজের নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রামের দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে রচিত উপন্যাস-
  1. হাসলী বাঁকের উপকথা
  2. পুতুল নাচের ইতিকথা
  3. তিতাস একটি নদীর নাম
  4. ইতিকথার পরের কথা
সঠিক উত্তর:
তিতাস একটি নদীর নাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিতাস একটি নদীর নাম
ব্যাখ্যা

- তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসটির রচয়িতা অদ্বৈত মল্লবর্মণ।
- উপন্যাসটি ৪ খণ্ডে রচিত।
- এটিতে মৎস্যজীবী মানুষের জীবন কাহিনী বা ধীবর সমাজের নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রামের দুঃখ-দুর্দশার সাধারণ কাহিনীকে তুলে ধরা হয়েছে‌।
- ঋত্বিক ঘটকের পরিচালনায় ১৯৭৩ সালে উপন্যাসটিকে চলচ্চিত্রে রূপায়িত করা হয়।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬৮০.
'চারুমুখ চিত্তহারা' রোমিও জুলিয়েটে'র অনুবাদ নাটকটি কার রচনা?
  1. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  2. হরচন্দ্র ঘোষ
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ 
  4. মনোমোহন বসু 
সঠিক উত্তর:
হরচন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা

• অনুবাদ নাটক বাংলা নাটকের বিকাশের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল। এই ক্ষেত্রে হরচন্দ্র ঘোষের অনুবাদ নাটকের কথা উল্লেখযোগ্য। তাঁর 'ভানুমতী চিত্তবিলাস' (১৮৫২) ও 'চারুমুখ চিত্তহারা' (১৮৬৪) অনুবাদ নাটক। 

 - 'ভানুমতী চিত্তবিলাস' (১৮৫২) যথাক্রমে সেক্সপীয়রের 'মার্চেন্ট অব ভেনিস' এর ভাবানুবাদ। 
- এবং 'চারুমুখ চিত্তহারা' (১৮৬৪) সেক্সপীয়রের 'রোমিও জুলিয়েটে'র ভাবানুবাদ নাটক।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৬৮১.
ডিরোজিও কোন কলেজের শিক্ষক ছিলেন?
  1. হিন্দু কলেজ
  2. বিশপস কলেজ
  3. বেথুন কলেজ
  4. মেট্রোপলিটন কলেজ
সঠিক উত্তর:
হিন্দু কলেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দু কলেজ
ব্যাখ্যা
• হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- ডিরোজিওর পূর্ণ নাম- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৮২.
শরৎচন্দ্রের কোন উপন্যাসটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে নিষিদ্ধ হয়?
  1. ক) পথের দাবী
  2. খ) দেনা পাওনা
  3. গ) গৃহদাহ
  4. ঘ) দত্তা
সঠিক উত্তর:
ক) পথের দাবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পথের দাবী
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ শাসনের সমালোচনা করে লেখা শরৎচন্দ্রের “পথের দাবী” উপন্যাসটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে নিষিদ্ধ হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৬৮৩.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে কবে বাংলা বিভাগ খোলা হয়?
  1. ১৮০০ সালে
  2. ১৮০১ সালে
  3. ১৮০২ সালে
  4. ১৮০৪ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৮০১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০১ সালে
ব্যাখ্যা

• ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগ চালু হয় ১৮০১ সালে এবং এর দায়িত্ব দেয়া হয় উইলিয়াম কেরিকে।

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ: 
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। 
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়াম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।

 • উইলিয়াম কেরী: 
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি ।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে এই বিদেশের অবদান সর্বাধিক ।
- তিনি ইতিহাসমালা ও কথোপকথন নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন ।
- ইতিহাসমালা বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ ।
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ) এবং বাংলাপিডিয়া। 

৬৮৪.
নীলদপর্ণ নাটকটির বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) নীলকরদের অত্যাচার
  2. খ) ভাষা আন্দোলন
  3. গ) অসহযোগ আন্দোলন
  4. ঘ) তেভাগা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ক) নীলকরদের অত্যাচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নীলকরদের অত্যাচার
ব্যাখ্যা

'নীলদর্পণ' (১৮৬০) নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র।
নাটকটিতে তিনি বাংলার কৃষকদের উপর ব্রিটিশ নীলকরদের নিষ্ঠুর অত্যাচারের স্বরূপ ফুটিয়ে তুলেছেন।
উল্লেখযোগ্য চরিত্র - গোলক বসু, নবীন মাধব, রাইচরণ, তোরপ, সাবিত্রী, সরলতা, ক্ষেত্রমণি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬৮৫.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. ক্ষুধা ও আশা
  2. নরকে লাল গোলাপ
  3. নির্জন মেঘ
  4. দুই সৈনিক
সঠিক উত্তর:
দুই সৈনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই সৈনিক
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'দুই সৈনিক' এর রচয়িতা শওকত ওসমান।  
- উপন্যাসটি প্রকাশ হয় ১৯৭৩ সালে। 
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পরবর্তী কোনো দিনের অনুর্ধ্ব পাঁচ ঘন্টার মধ্যে সংঘটিত একটি ঘটনার বাণীস্বরূপ 'দুই সৈনিক' উপন্যাস।
- কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক শওকত ওসমান এর প্রকৃত নাম প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান। 

শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাস - 
- জাহান্নম হইতে বিদায়
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৮৬.
স্বৈরশাসনকে ব্যাঙ্গ করে সেলিম আল দীন রচিত নাটক-
  1. কালবেলা
  2. মাইলপোস্ট
  3. মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
  4. শেষ নবাব
সঠিক উত্তর:
মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
ব্যাখ্যা
⇒ স্বৈরশাসনকে ব্যাঙ্গ করে সেলিম আল দীন রচনা করেন ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’ নাটকটি।
- হাস্যরসের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন সেনা ও স্বৈরশাসকেরা দেশের প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে সঙ্গে শুভবোধ ও সংস্কৃতিকেও ধ্বংস করে৷

⇒ সেলিম আল দীন:
- বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার হলেন সেলিম আল দীন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ।
- তিনি ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

• তাঁর রচিত নাটকগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা, 
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ, নিমজ্জন,
- একটি মারমা রূপকথা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রতিভাবান নাট্যকার সাঈদ আহমদ রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- কালবেলা,
- মাইলপোস্ট,
- শেষ নবাব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬৮৭.
'শ্রীরামপুর মিশন' কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৮১০ সালে
  2. ১৮১৫ সালে
  3. ১৮০২ সালে
  4. ১৮০০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮০০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০০ সালে
ব্যাখ্যা

শ্রীরামপুর মিশন:
- শ্রীরামপুর মিশন (১৮০০-১৮৪৫) ভারতের প্রথম নিজস্ব প্রচারক সংঘ।
- ১৮০০ সালের ১০ জানুয়ারী উইলিয়াম কেরী ও ভ্রাতৃবৃন্দ এ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।
- মিশন হুগলি জেলার দুটি স্থান থেকে বাংলায় যীশুর বাণী প্রচার শুরু করে।
- উইলিয়াম কেরী ‘ব্যাপটিস্ট মিশনারি সোসাইটি’র প্রতিনিধি হিসেবে ১৭৯৩ সালে বাংলায় আসেন খ্রিস্টধর্ম প্রচার করতে।

উইলিয়াম কেরী:
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে এই বিদেশের অবদান সর্বাধিক।
- তিনি ইতিহাসমালা ও কথোপকথন নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- ইতিহাসমালা বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ।
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

উইলিয়াম কেরি রচিত গ্রন্থ,
- কথোপকথন,
- ইতিহাসমালা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৬৮৮.
কোনটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন?
  1. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
  2. সধবার একাদশী
  3. সীতার বনবাস
  4. একেই কি বলে সভ্যতা?
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা
• দীনবন্ধু মিত্র:
- দীনবন্ধু মিত্র ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে নদীয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে। তিনি ঈশ্বর গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখেন।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
 - নীলদর্পণ,
 - নবীন তপস্বিনী,
 - লীলাবতী,
 - কমলে কামিনী। 

অন্যদিকে,
- আগমনী ও সীতার বনবাস গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত নাটক।
- ইয়ংবেঙ্গলদের নিয়ে মধুসূদন দত্তের বিখ্যাত প্রহসন- একেই কি বলে সভ্যতা?
- বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ প্রহসনের রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
 
অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৮৯.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত নন কে?
  1. চণ্ডীচরণ মুনশী
  2. মৃত্যুঞ্জয়‌ বিদ্যালঙ্কার
  3. ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. তারিণীচরণ মিত্র
সঠিক উত্তর:
ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন: উইলিয়াম কেরী, রামরাম বসু, গোলকনাথ শর্মা, মৃত্যুঞ্জয়‌ বিদ্যালঙ্কার, তারিণীচরণ মিত্র, রাজীবলােচন, চণ্ডীচরণ মুনশী, হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৯০.
'ইতিহাসমালা' গ্রন্থটি প্রকাশ করেন-
  1. তারিণীচরণ মিত্র 
  2. রামরাম বসু 
  3. উইলিয়াম কেরি 
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি 
ব্যাখ্যা

• 'ইতিহাসমালা' গ্রন্থ:
- প্রায় দেড়'শ ইতিহাসাশ্রিত গল্প অবলম্বনে ১৮১২ সালে 'ইতিহাসমালা' নামক অন্য একটি গ্রন্থ উইলিয়াম কেরি প্রকাশ করেন। এ দেশের সাহিত্যের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি প্রথম গল্পসংগ্রহ হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ স্থান পাওয়ার যোগ্য।

- সংগৃহীত গল্পগুলোর অধিকাংশই ব্যঙ্গপ্রধান। এতে প্রাচ্য-পাশ্চাত্য উভয় উৎস থেকে গল্প সংগৃহীত হয়েছিল।

- হিতোপদেশ', ‘পঞ্চতন্ত্র' প্রভৃতি প্রাচীন সংস্কৃত গ্রন্থের গল্প থেকে শুরু করে অপেক্ষাকৃত আধুনিক ধনপতি- খুল্লনা-লহনা, রূপ সনাতন গোস্বামির কথা এতে স্থান পেয়েছে। অনুবাদে যে যথেষ্ট পরিমাণ প্রাঞ্জলতা সঞ্চারিত হতে পারে ইতিহাসমালা তার বিশিষ্ট নিদর্শন। সুষম ও প্রাঞ্জল রচনারীতির জন্য ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত সমস্ত গ্রন্থের মধ্যে তা শ্রেষ্ঠস্থানের অধিকারী। এই গ্রন্থের ভাষা ছিল ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রাথমিক যুগের ভাষা অপেক্ষা অনেক উন্নত এবং গদ্য রচনার একটা স্টাইলও এতে পরিলক্ষিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৬৯১.
‘নয়নচারা’ কিসের সংকলন?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কাব্য
  3. গ) রম্যরচনা
  4. ঘ) গল্প
সঠিক উত্তর:
ঘ) গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গল্প
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত গল্পগ্রন্থঃ নয়নচারা, দুই তীর ও অন্যান্য গল্প। নাটকঃ বহিপীর, সুড়ঙ্গ, তরঙ্গভঙ্গ, উজানে মৃত্যু ইত্যাদি। উপন্যাসঃ লালসালু, চাঁদের অমাবস্যা, কাঁদো নদী কাঁদো, দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৯২.
বাংলা মুদ্রাক্ষরের জনক বলা হয় কাকে?
  1. গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
  2. চার্লস উইলকিন্স
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. পঞ্চানন কর্মকার
সঠিক উত্তর:
চার্লস উইলকিন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার্লস উইলকিন্স
ব্যাখ্যা
• বাংলা মুদ্রাক্ষরের জনক বলা হয় - চার্লস উইলকিন্স।

• চার্লস উইলকিন্স (১৭৪৯-১৮৩৬):
- তিনি ছিলেন প্রাচ্য ভাষাবিদ, কলকাতাস্থ এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা-সদস্য এবং বাংলা ও ফারসি মুদ্রাক্ষরের আধুনিক আকৃতির উদ্ভাবক।
- তিনি ছিলেন বাংলা ও ফারসি ভাষায় মুদ্রণের জন্য ছাপাখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে পথিকৃৎ। এর ফলে মুদ্রণ ও পুস্তক প্রকাশের ক্ষেত্রে এক বিপ্লব সাধিত হয়।
- বাংলা বর্ণমালার মুদ্রাক্ষর দ্বারা মুদ্রিত প্রথম বই হলো এন.বি. হ্যালহেডের ‘A Grammar of the Bengali Language' (১৭৭৮)।

উল্লেখ্য, 
• বাংলা লিপির জনক বা প্রথম নকশাকারক চার্লস উইলকিন্স হলেও আধুনিকতার রূপকার পঞ্চানন কর্মকার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৬৯৩.
বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি কোন হরফে মুদ্রিত হয়?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) রোমান
  3. গ) সংস্কৃত
  4. ঘ) পর্তুগিজ
সঠিক উত্তর:
খ) রোমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রোমান
ব্যাখ্যা
⇒ ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থ:
• রোমান ক্যাথলিক পর্তুগিজ পাদ্রী মানোএল দা আসসুম্পসাঁও কর্তৃক ১৭৩৪ সালে রচিত এবং ১৭৪৩ সালে লিসবনে রোমান হরফে মুদ্রিত ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য। কিন্তু এর লিপি ছিল রোমান।

• গ্রন্থটি ঢাকার ভাওয়াল অঞ্চলের নাগরী নামক স্থানে লিখিত। এই গ্রন্থের বাঁ দিকের পৃষ্ঠায় বাংলা ভাষায় এবং ডান দিকের পৃষ্ঠায় পর্তুগিজ ভাষায় গুরু ও শিষ্যের কথোপকথনের মাধ্যমে খ্রিস্টধর্মের মহিমা এবং খ্রিস্টানদের আচার-অনুষ্ঠানের কথা আলোচিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬৯৪.
কোন গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে পরিচিত?
  1. সীতার বনবাস
  2. আলালের ঘরের দুলাল
  3. হুতোম প্যাঁচার নকশা
  4. দুর্গেশনন্দিনী
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা
• আলালের ঘরের দুলাল:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল।'
- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদ মিত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব 'আলালের ঘরের দুলাল', যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।
- রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে।
- এ উপন্যাসে প্যারীচাঁদ মিত্র প্রথমবারের মতো বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত গদ্যরীতির নিয়ম ভেঙ্গে চলিত ভাষারীতি প্রয়োগ করেন।
- সাধারণ মানুষের মুখে ব্যবহৃত কথ্য ভাষা 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

অন্যদিকে,
• 'সীতার বনবাস' (১৯৮১) নাটকটি রচনা করেছেন - গিরিশচন্দ্র ঘোষ। আবার, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুবাদ গ্রন্থ- সীতার বনবাস (১৮৬২)।
• কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা - হুতোম প্যাঁচার নকশা।
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৯৫.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ট্রাজেডি নাটক 'কীর্তিবিলাস' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) তারাচরণ শিকদার
  2. খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. গ) হরপ্রসাদ রায়
  4. ঘ) যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ঘ) যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

১৮৫২ সালে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক 'ভদ্রার্জুন' প্রকাশিত হয়।
নাটকটির রচয়িতা - তারাচরণ শিকদার। এটি একটি কমেডি নাটক।

১৮৫২ সালেই প্রকাশিত হয় প্রথম ট্রাজেডি নাটক। এর নাম - কীর্তিবিলাস
কীর্তিবিলাসের রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত।

১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় - বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি
এর নাম - কৃষ্ণকুমারী। রচয়িতা - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

হরপ্রসাদ রায় রচিত গ্রন্থের নাম - পুরুষপরীক্ষা (১৮১৫)

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

৬৯৬.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত ছিলেন না কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. তারাচরণ শিকদার
  3. রাজীবলোচন
  4. চণ্ডীচরণ মুনশী
সঠিক উত্তর:
তারাচরণ শিকদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাচরণ শিকদার
ব্যাখ্যা
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত ছিলেন না- তারাচরণ শিকদার। 
- তারাচরণ শিকদার একজন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও নাট্যকার। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক ভদ্রার্জুন (১৮৫২) এর রচয়িতা।

--------------------------
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলোচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৯৭.
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক-
  1. রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. ওরা কদমআলী
  3. মহাশ্মশান
  4. পাথর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক- 'রক্তাক্ত প্রান্তর'। 

• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নিয়ে কিছু কথা: 
- মুনীর চৌধুরীর উল্লেখযোগ্য নাটক ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ ১৭৬১ সালের পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- নাটকটি কায়কোবাদের ‘মহাশ্মশান’ কাব্য থেকে অনুপ্রাণিত।
- এই নাটকে তিনি যুদ্ধবিরোধী চেতনা, সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে মানবিক প্রেম এবং যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরেছেন।
- নাটকের মূল বার্তা হলো—যুদ্ধ কখনো প্রকৃত বিজয় আনে না;
- বরং এটি মানবজীবনের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি।
-------------------------------------- 
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক, ভাষাবিজ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবী।
- তিনি তৎকালীন ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জ শহরে ২৭ নভেম্বর ১৯২৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তিনি পাকিস্তান সরকারের হাতে বন্দী হন।
- কারাগারে থাকাকালীনই তাঁর বিখ্যাত নাটক ‘কবর’ (১৯৫৩) রচনা করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী আল-বদর বাহিনী তাঁকে তাঁর বাড়ি থেকে অপহরণ করে এবং সেদিনই তাঁকে হত্যা করা হয়।

• মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য। 
-----------------------
অন্যদিকে, 
- ওরা কদমআলী ও পাথর হচ্ছে মামুনুর রশীদ নির্মিত নাটক।
- মহাশ্মশান হচ্ছে কায়কোবাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৬৯৮.
‘জীবনক্ষুধা’ উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা

আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮-১৯৭৯) সত্যমিথ্যা, জীবনক্ষুধা ও আবে হায়াত উপন্যাস ত্রয়ের রচয়িতা।
- তিনি পাকিস্তান আন্দোলন বিশেষত দেশভাগের পটভূমিতে ‘জীবনক্ষুধা’ উপন্যাস লিখেছেন। হালিম চরিত্রকে কেন্দ্র করে উপন্যাসের কাহিনী আবর্তিত।
তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না, ফুড কনফারেন্স, আসমানী পর্দা ইত্যাদি।

পক্ষান্তরে কাজী নজরুল ইসলাম রচিত মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাসে একদিকে মৃত্যু অন্যদিকে ক্ষুধার জ্বালা দেখানো হয়েছে।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬৯৯.
বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় কত সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল? 
  1. ১৮৩১ সালে
  2. ১৭৯৫ সালে
  3. ১৭৮৫ সালে
  4. ১৮৫২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৯৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৯৫ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলা নাটকের উৎস ও বিকাশ:
- আঠারো শতকের শেষদিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়।
- কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।
- বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে।
- হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন।
- তিনি 'The Disguise' এবং 'Love is the best Doctor' নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান।
- এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।
- ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।
- বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৭০০.
‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
  2. খ) তারাচরণ শিকদার
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) দাউদ হায়দার
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• ‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটক:
‘চন্দ্রগুপ্ত’ (১৯১১) দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত জনপ্রিয় নাটক। গ্রিক-ভারতীয় সম্পর্কের ইতিহাসের একটি বিশেষ মুহূর্তকে এই নাটকের পটভূমি করা হয়েছে। এই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র চাণক্যের মধ্যে কাঠিন্য এবং কোমলতার বিপরীত সমাবেশ, দেশপ্রেমের উদ্দীপ্তি এবং ভাষার আড়ম্বর এই তিনদিক থেকে বাংলা নাটকের ইতিহাসে ‘চন্দ্রগুপ্ত’ বিশেষভাবে আলোচিত হয়।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩) কবি, নাট্যকার, গীতিকার। ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। 
• দ্বিজেন্দ্রলাল কৈশোরেই কাব্যচর্চা শুরু করেন। ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা (১ম ভাগ, ১৮৮২) এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়। ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।

দ্বিজেন্দ্রলালের উলে­খযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
• কাব্য:
- আর্য্যগাথা,
- আলেখ্য,
- ত্রিবেণী।

• নকশা-প্রহসন:
- একঘরে,
- সমাজ-বিভ্রাট ও কল্কি অবতার,
- ত্র্যহস্পর্শ,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- পুনর্জন্ম।

• পৌরাণিক নাটক:
- পাষাণী,
- সীতা,
- ভীষ্ম।

• সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।