বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

গদ্য সাহিত্যের বিকাশ (গল্প, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদি)

মোট প্রশ্ন৭৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

গদ্য সাহিত্যের বিকাশ (গল্প, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদি)

PrepBank · পাতা / · ৪০১৫০০ / ৭৩৭

৪০১.
'নবান্ন' নাটকের বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) পঞ্চাশের মন্বন্তর
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ) স্বাধীন বাংলার গ্রামীণ জীবন
  4. ঘ) দেশ ভাগ
সঠিক উত্তর:
ক) পঞ্চাশের মন্বন্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পঞ্চাশের মন্বন্তর
ব্যাখ্যা
• বিজন ভট্টাচার্য রচিত নবান্ন' একটি নাটক।
- 'নবান্ন' নাটকের বিষয়বস্তু পঞ্চাশের মন্বন্তর।

• বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত ছিলেন। এই আন্দোলনকে 'থার্ড থিয়েটার' নামেও অভিহিত করা হয়।
- তাঁর পিতা ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক।
- তিনি নাটক রচনায় মার্কসবাদকে প্রাধান্য দেন।
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।
- কলকাতার আশুতোষ কলেজ ও রিপন কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি জাতীয় আন্দোলনে যোগ দেন এবং মহিষবাথানে লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন।
- নবনাট্য আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক বিজন ভট্টাচার্য গণজীবনের সংগ্রাম ও দুঃখ-দুর্দশা, শোষণ-বঞ্চনা, প্রগতিশীল চিন্তা ও সমাজবোধ নিয়ে নাটক রচনা করে এবং এ ক্ষেত্রে তিনি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার পটভূমিকায় তিনি রচনা করেন জীয়নকন্যা নাটক। এছাড়া তাঁর আরও দুটি নাটক হলো মরাচাঁদ ও কলঙ্ক।

• 'নবান্ন' নাটকের বিষয়বস্তু:
- নবান্ন পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় অবদান রাখেন।
- পঞ্চাশের মন্বন্তর, সমকালীন জাতীয় আন্দোলন, মেহনতি মানুষের চাহিদা ইত্যাদি প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ কৃষক সমাজের দুঃখ-দুর্দশা, তাদের সংগ্রাম, সফলতা- ব্যর্থতা নাটকের মূল সুর।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক:
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪০২.
বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ কোনটি?
  1. ইতিহাসমালা
  2. কথোপকথন
  3. প্রবোধচন্দ্রিকা
  4. লিপিমালা
সঠিক উত্তর:
ইতিহাসমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতিহাসমালা
ব্যাখ্যা
'ইতিহাসমালা':
- 'ইতিহাসমালা' (১৮১২) উইলিয়াম কেরি সঙ্কলিত বিভিন্ন বিষয়ের ১৫০টি গল্পের সংগ্রহ।
- বাংলা ভাষায় এবং আধুনিক ভারতীয় সাহিত্যের এটি প্রথম গল্পসংগ্রহ। গল্পগুলি বাংলাদেশের নানা অঞ্চলে প্রচলিত ছিল।

উইলিয়াম কেরী:

- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে তাঁর অবদান সর্বাধিক।
- তিনি 'ইতিহাসমালা' ও 'কথোপকথন' নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

তাছাড়া,
- ‘লিপিমালা’ রামরাম বসু রচিত গদ্যগ্রন্থ।
- ‘প্রবোধচন্দ্রিকা’ মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
৪০৩.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের মৃত্যুর পর প্রকাশিত গদ্যরীতির গ্রন্থ কোনটি?
  1. প্রবোধচন্দ্রিকা
  2. পঞ্চতন্ত্র
  3. রাজাবলি
  4. বত্রিশ সিংহাসন
সঠিক উত্তর:
প্রবোধচন্দ্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবোধচন্দ্রিকা
ব্যাখ্যা

'প্রবোধচন্দ্রিকা':
- 'প্রবোধচন্দ্রিকা' ১৮১৩ সালে রচিত হলেও প্রকাশিত হয়েছিল মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর ১৮৩৩ সালে। 
- গ্রন্থটি মূলত দার্শনিক নিবন্ধ। সংস্কৃত বিদ্যাভাণ্ডারের পরিচয় দেওয়ার জন্যই গ্রন্থটি রচিত। 
- এতে কথ্য সাধু ও সংস্কৃত রীতির ভাষা অনুসৃত হয়েছে।

----------------------
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
উইলিয়াম কেরির অধীনস্থ প্রধান পণ্ডিত মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (১৭৬২-১৮১৯) বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২), রাজাবলি (১৮০৮), হিতোপদেশ (১৮০৮), বেদান্তচন্দ্রিকা (১৮১৭) ও প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)-এই পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।

- সংস্কৃত 'পঞ্চতন্ত্র' থেকে অনূদিত 'হিতোপদেশ' গ্রন্থের ভাষা সংস্কৃতানুগ। 

- কিংবদন্তি ও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে রচিত 'রাজাবলি' গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠু রূপ নিয়েছে। আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

- 'বেদান্তচন্দ্রিকা' গ্রন্থের নামপত্রে মৃত্যুঞ্জয়ের নামোল্লেখ না থাকলেও তা তাঁর নিজের রচনা বলে অনুমিত। এর মধ্যে বহু সংস্কৃত গ্রন্থের এবং বেদান্ত সূত্র-ভাষ্যাদির অংশবিশেষ অনূদিত হওয়ায় তাকে স্বাধীন রচনা বলে মনে করা যায় না।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৪০৪.
'চাঁদের পাহাড়' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  2. খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'চাঁদের পাহাড়'।
- এই উপন্যাসে আফ্রিকা মহাদেশের কাহিনী বর্ণিত আছে।
- এটি বাংলা রোমাঞ্চকর একটি ৎউপন্যাস।
- 'শঙ্কর' নামক ভারতবর্ষের সাধারণ এক তরুণের আফ্রিকা মহাদেশ জয় করার কাহিনী এতে বর্ণিত আছে।
• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- দৃষ্টিপ্রদীপ,
- আরণ্যক,
- বিপিনের সংসার,
- অশনিসংকেত,
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনীঃ
- অভিযাত্রিক,
- বনে পাহাড়ে,
- হে অরণ্য কথা কও ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পঃ
- মেঘমল্লার,
- মৌরিফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল,
- পুঁইমাচা ইত্যাদি

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৪০৫.
বাংলা গদ্যে প্রাঞ্জল ভাষারীতি প্রথম প্রয়োগ ঘটান-
  1. হরপ্রসাদ রায়
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
⇒ রাজা রামমোহন রায়:
• যে যুগে বাংলা গদ্যে প্রাঞ্জলতা ছিল একান্ত দুর্লভ, তখন রাজা রামমোহন রায় গদ্যে প্রাঞ্জল ভাষারীতি ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
• বাংলা গদ্যরীতিকে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন রাজা রামমোহন রায় (১৭৭৪-১৮৩৩)।
• তাঁর বলিষ্ঠ হাতে বাংলা গদ্য বিচার-বিশ্লেষণে উচ্চতর চিন্তাধারার প্রকাশের বাহন হিসেবে অপরিসীম গুরুত্ব লাভ করে।
• রাজা রামমোহন রায় বাংলা রচনায় যে গদ্যরীতি ব্যবহার করেছেন তাতে বিশেষ কোন প্রকার রীতির প্রতি তিনি দৃষ্টিপাত করেন নি। তাই বলা যায়, তাঁর গদ্যরীতি সাহিত্যরসমণ্ডিত না হলেও তাতে উপযোগিতা থাকায় অপরিসীম গুরুত্ব লাভ করে।

• কবি ঈশ্বর গুপ্ত তাঁর ভাষারীতির সমালোচনা করতে গিয়ে মন্তব্য করেছেন-

‘দেওয়ানজি জলের ন্যায় সহজ ভাষা লিখিতেন, তাহাতে কোন বিচার ও বিবাদঘটিত বিষয় লেখায় মনের অভিপ্রায় ও ভাব সকল অতি সহজে স্পষ্টরূপে প্রকাশ পাইত, এ জন্যে পাঠকেরা অনায়াসেই হৃদয়ঙ্গম করিতেন, কিন্তু সে লেখায় শব্দের বিশেষ পারিপাট্য ও তাদৃশ মিষ্টতা ছিল না’।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪০৬.
'মায়া মালঞ্চ' - নাটকটি কার রচনা?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু
  4. ঘ) সেলিম আল দীন
সঠিক উত্তর:
গ) বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
তপস্বী ও তরঙ্গিনী, মায়া মালঞ্চ বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক ৷ Source: LiveMCQ Lecture
৪০৭.
বাংলা গদ্যে রচিত প্রথম আত্মজীবনী কোনটি?
  1. ক) আত্মচরিতঃ
  2. খ) জীবন কথা
  3. গ) আমার কণ্ঠস্বর
  4. ঘ) তৃণাঙ্কুর
সঠিক উত্তর:
ক) আত্মচরিতঃ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আত্মচরিতঃ
ব্যাখ্যা
বাংলা গদ্যে প্রথম আত্মজীবনী রচনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তার আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিতঃ। বাংলা সাহিত্যে গদ্যরীতির প্রবর্তকও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। জীবন কথা, আমার কণ্ঠস্বর ও তৃণাঙ্কুর যথাক্রমে কবি জসীম উদদীন, কবি নির্মলেন্দু গুণ এবং বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত আত্মজীবনী। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
৪০৮.
'ছন্দ সমীক্ষণ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল মান্নান সৈয়দ
  2. খ) আব্দুল্লাহ আল মামুন
  3. গ) আব্দুল কাদির
  4. ঘ) আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ
সঠিক উত্তর:
গ) আব্দুল কাদির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আব্দুল কাদির
ব্যাখ্যা
বাংলা ছন্দ বিষয়ক গ্রন্থ- 'ছন্দ সমীক্ষণ' এর রচয়িতা আব্দুল কাদির। দিলরুবা ও উত্তর বসন্ত কাব্যের রচয়িতাও তিনি। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৪০৯.
‘মতিলাল’ নিচের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  2. আধ্যাত্মিকা
  3. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
  4. আলালের ঘরের দুলাল
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা
 আলালের ঘরের দুলাল:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম  “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায়,
- জাত থাকার কি উপায়,
- আধ্যাত্মিকা। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৪১০.
'সূর্যদীঘল বাড়ি' উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৫০
  2. ১৯৫২
  3. ১৯৫৫
  4. ১৯৫৭
সঠিক উত্তর:
১৯৫৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৫
ব্যাখ্যা
আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ী' প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে এর রচনাশৈলীও বিষয়বস্ত্ত পাঠকদের আকৃষ্ট করে।
- স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্ত্ত।
- দুর্ভিক্ষ-পীড়িত জয়গুন অন্নের সন্ধানে প্রথমে গ্রাম ছেড়ে শহরে যায়, কিন্তু নগরজীবনের নিঃস্ব, তিক্ত ও পঙ্কিল অবস্থায় টিকতে না পেরে আবার স্বগ্রামে ফিরে আসে। কিন্তু সমাজপতিদের ধর্মান্ধতা ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রতিকারহীন নির্যাতন ও দুর্দশার মধ্যে পড়ে। লেখক দেখিয়েছেন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও গ্রামের শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক পরিবর্তন আনতে পারেনি। দুর্ভোগ বেড়েছে।

- উপন্যাসের চরিত্র: জয়গুণ, হাস্য, মায়মুন, শফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোড়ল গদু।
- সূর্য দীঘল বাড়ীর চলচ্চিত্রায়ন এবং একাধিক বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়।

আবু ইসহাকের অন্যান্য রচনা- 
- পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬)
- জাল  (১৯৮৮)
- হারেম (১৯৬২) ও
- মহাপাত্র (১৯৬৩)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪১১.
কাকে যুগ সন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. ঈশ্বরগুপ্ত দাস
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• যুগ সন্ধিক্ষণের কবি - 'ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত'।

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯): কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়।
- ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলার কারণ:
- ১৮০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ সূচিত হলেও বাংলা কাব্যসাহিত্যে ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত প্রকৃত অর্থে আধুনিকতা আরম্ভ হয় নি।
- এই ষাট বছর (১৮০১-১৮৬১) কাব্যে আধুনিকতায় পৌছার চেষ্টা চলেছে মাত্র।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের জীবৎকাল ১৮১২ থেকে ১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দ।
- তিনি বড় হয়েছেন কলকাতার নাগরিক পরিবেশে।
- সাংবাদিকতার পাশাপাশি কবিতাচর্চায় তিনি এ সময় মধ্যযুগের দেবদেবীর কথা বা কাহিনি নির্ভর কাব্যরচনা বর্জন করে ব্যক্তি অভিজ্ঞতায় ছোট ছোট কবিতা লেখা শুরু করেন।
- তপ্সে মাছের মতো সামান্য প্রাণীও তাঁর কাব্যের বিষয়বস্তু হয়।
- তাঁর কবিতায় সমাজসচেতনতা বিশেষ করে মাতৃভূমির প্রতি দরদ অর্থাৎ দেশাত্মবোধ স্পষ্ট দেখা যায়।
- আবার কবিওয়ালাদের কাব্য ঢঙ, পয়ার ও ত্রিপদীর ব্যবহারও তাঁর কবিতায় ব্যাপকভাবে লক্ষযোগ্য।
- আসলে মধ্যযুগের শেষ প্রতিনিধি ভারতচন্দ্র এবং আধুনিক যুগের প্রথম পুরুষ মাইকেল মধুসূদন- এই দুই মনীষীর মধ্যবর্তীকালে ঈশ্বর গুপ্তের আবির্ভাব।
- তাঁর মধ্যে মধ্যযুগের কাব্য- বৈশিষ্ট্য ও আধুনিক যুগের সূচনা-বৈশিষ্ট্য দেখে তাকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪১২.
‘মহাপতঙ্গ’ ছোটগল্পটি কার লেখা?
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) আবু ইসহাক
  3. গ) মোজাম্মেল হক
  4. ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
খ) আবু ইসহাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
মহাপতঙ্গ ও হারেম আবু ইসহাক রচিত গল্প।
এছাড়াও তাঁর রচিত আরেকটি উল্লেখযোগ্য ছোট গল্প ‘জোঁক’।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪১৩.
নিচের কোনটি মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত দার্শনিক নিবন্ধ?
  1. প্রবোধচন্দ্রিকা
  2. হিতোপদেশ
  3. বত্রিশ সিংহাসন
  4. রাজাবলি
সঠিক উত্তর:
প্রবোধচন্দ্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবোধচন্দ্রিকা
ব্যাখ্যা

• 'প্রবোধচন্দ্রিকা' গ্রন্থ:
- 'প্রবোধচন্দ্রিকা' ১৮১৩ সালে রচিত হলেও প্রকাশিত হয়েছিল মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর ১৮৩৩ সালে।
- গ্রন্থটি মূলত দার্শনিক নিবন্ধ। সংস্কৃত বিদ্যাভাণ্ডারের পরিচয় দেওয়ার জন্যই গ্রন্থটি রচিত।
- এতে কথ্য সাধু ও সংস্কৃত রীতির ভাষা অনুসৃত হয়েছে। মৃত্যুঞ্জয়ের গদ্যে সংস্কৃতরীতির প্রয়োগ দোষত্রুটি থাকলেও বিষয়বস্তু ও রচনাপদ্ধতিতে একটা সুষম রূপ ফুটে উঠেছিল।

----------------------------
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক। উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পণ্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পণ্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।
- মৃত্যুঞ্জয়ের কৃতিত্ব সম্পর্কে প্রমথ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন- ‘তিনি একদিকে যেমন সাধু ভাষার আদি লেখক, অপরদিকে তিনি তেমনি চলিত ভাষারও আদর্শ লেখক।’

• তাঁর  রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২),
- রাজাবলি (১৮০৮),
- হিতোপদেশ (১৮০৮),
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৪১৪.
মুনীর চৌধুরীর রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক কোনটি?
  1. রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. দণ্ডকারণ্য
  3. নষ্ট ছেলে
  4. মানুষ
সঠিক উত্তর:
নষ্ট ছেলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নষ্ট ছেলে
ব্যাখ্যা
তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৬২): পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এর মূল উপজীব্য। এতে তিনি যুদ্ধবিরোধী মনোভাব প্রকাশ করেন। নাটকটির জন্য তিনি ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান।
- চিঠি (১৯৬৬)
- কবর (রচনাকাল: ১৯৫৩, প্রকাশকাল: ১৯৬৬) পূর্ববাংলার প্রথম প্রতিবাদী নাটক। নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন।
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য (১৯৬৯):
- মানুষ (১৯৪৭): ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- নষ্ট ছেলে (১৯৫০): রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক। 
- রাজার জন্মদিন (১৯৪৬)
- চিঠি (১৯৬৬)
- দণ্ডকারণ্য মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক। 'দণ্ড', 'দণ্ডধর', 'দণ্ডকারণ্য' নামে তিনটি নাটক একত্রিত করে ১৯৬৬ সালে 'দণ্ডকারণ্য' নামে প্রকাশিত হয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টিকারী উপকরণ এক চোর দণদ বা লাঠির সাহায্যে চুরি করে নিয়ে গেলে সংসারে শান্তি আসে। এই সন্দেহ এবং লাঠির ব্যবহার নিয়ে হাস্যরসাত্নক নাটক দণ্ড।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না (১৯৬৯): জর্জ বার্নার্ড শর You never can tell-এর বাংলা অনুবাদ।
- রূপার কৌটা (১৯৬৯): জন গলজ্‌ওয়র্দির The Silver Box-এর বাংলা অনুবাদ।
- মুখরা রমণী বশীকরণ (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের Taming of the Shrew-এর বাংলা অনুবাদ।

উৎস:- উচ্চমাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪১৫.
আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাস নয়-
  1. ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
  2. পদ্মা মেঘনা যমুনা
  3. কড়ি দিয়ে কিনলাম
  4. সংকর সংকীর্তন
সঠিক উত্তর:
কড়ি দিয়ে কিনলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কড়ি দিয়ে কিনলাম
ব্যাখ্যা

• আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাসঃ
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।
• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী,
- প্রপঞ্চ ইত্যাদি।
• অপরদিকে, বিমল মিত্রের ত্রয়ী উপন্যাস হলোঃ
- সাহেব বিবি গোলাম,
- কড়ি দিয়ে কিনলাম ও
- একক দশক শতক।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।

৪১৬.
'বেণের মেয়ে'- উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সোমেন চন্দ
  2. খ) সৈয়দ আলী আহসান
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর:
ঘ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
'বেণের মেয়ে' উপন্যাসটির রচয়িতা - হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ চর্যাপদ নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন। তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ১৩২৩ বঙ্গাব্দে 'হাজার বছর পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে চর্যাপদ সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বাল্মীকির জয় 
- মেঘদূত
- কাঞ্চন মালা (উপন্যাস)
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস)
- প্রাচীন বাংলার গৌরব 
- বৌদ্ধধর্ম

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৪১৭.
'নেমেসিস' নাটকে নূরুল মোমেন কোন বিষয়কে তুলে ধরেছেন?
  1. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
  2. ঊনপঞ্চাশের মন্বন্তর
  3. বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন
  4. একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
'নেমেসিস' নাটক:
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক। এক চরিত্র বিশিষ্ট এমন নাটক বাংলা সাহিত্যে কম বলে ‘নেমেসিস’ উল্লেখযোগ্য।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম- সুরজিত নন্দী।

--------------------
• নুরুল মোমেন:
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়। তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'।

• নুরুল মোমেন এর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রূপলেখা,
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৪১৮.
‘তিস্তাপারে বৃত্তান্ত’ উপন্যাসের লেখক কে?
  1. দেবেশ রায়
  2. সমরেশ বসু
  3. শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
  4. হরিশংকর জলদাস
সঠিক উত্তর:
দেবেশ রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেবেশ রায়
ব্যাখ্যা

দেবেশ রায় (১৯৩৬-২০২০) বাংলা কথাসাহিত্যের সেই বিস্ময় যিনি নিজস্ব ঘরানা-বাহিরানায় সমাজবিশ্ব আর ব্যক্তিমানুষকে আশ্চর্য নৈপুণ্যে গভীর সংবেদনে তরঙ্গায়িত করেন। তাঁর সমগ্র কথাসাহিত্য সেই দূরপাল্লার নৌবহর।
- দূরবিনের দুই দিক দিয়ে তিনি ক্রমান্বয়ে দেখে গিয়েছেন দেশকাল, প্রান্ত প্রান্তিক, ভণ্ড ধ্বস্ত অথচ প্রতিরোধী বাস্তবতা। ইতিহাস পুরাণের প্রেক্ষিতে ব্যক্তিমানুষের উত্থান তাঁর প্রিয় বিষয়। এখানেই তিনি স্বতন্ত্র, সমুজ্জ্বল।
- তিস্তাপারের মানুষের জীবনচিত্র নিয়ে দেবেশ রায় রচনা করেন বিখ্যাত উপন্যাস ‘তিস্তাপারের বৃত্তান্ত’। এটি ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস : দৈনিক প্রথম আলো ও আনন্দবাজার পত্রিকা রিপোর্ট।

৪১৯.
অবাঙালি কর্তৃক রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. আলালের ঘরের দুলাল
  2. ফুলমণি ও করুণার বিবরণ
  3. করুণা
  4. কুহেলিকা
সঠিক উত্তর:
ফুলমণি ও করুণার বিবরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুলমণি ও করুণার বিবরণ
ব্যাখ্যা
• অবাঙালি কর্তৃক রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস - 'ফুলমণি ও করুণার বিবরণ'।

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ:
- হ্যানা ক্যাথারিন ম্যালেন্স একজন খ্রিস্টান বিদেশিনী। জন্মগ্রহণ করেছেন কলকাতায়। ভবানীপুর মিশন স্কুলের ছেলেমেয়েদের বাংলা শেখাতেন। তিনি বাংলা সাহিত্যের উপন্যাস রচনায় প্রাথমিক চেষ্টা করেছিলেন।

'ফুলমণি ও করুণার বিবরণ' (১৮৫২) তাঁর উপন্যাস রচনার প্রাথমিক চেষ্টা। এটি The Last day of the week অবলম্বনে রচিত। খ্রিস্ট ধর্মের মাহাত্ম প্রচারের জন্য এ গ্রন্থ রচনা করেছেন। খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করায় ফুলমণির সুখ এবং যথার্থ খ্রিস্ট ধর্মাচরণ না করায় করুণার দুঃখ ভোগ, পরে মেম সাহেবের ঈশ্বর প্রেরিত সুপরামর্শে করুণার সুমতি ও সুখের সুদর্শন এ গ্রন্থের মূল কাহিনী।

অন্যদিকে,
• "আলালের ঘরের দুলাল" (১৮৫৭) বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে সেটা ছিল এক বাঙালির রচনা (প্যারীচাঁদ মিত্র, টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে)।
 
• ‘করুণা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা প্রথম উপন্যাস, কিন্তু গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস নয়।

• 'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।

উৎস:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত — সুকুমার সেন।
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা — ড. সৌমিত্র শেখর।
- লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
৪২০.
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে রচিত নাটক-
  1. বিষাদসিন্ধু
  2. রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. মহাশ্মশান
  4. দণ্ডকারণ্য
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা
• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক:
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।

প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- ইব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা,
- হিরণবালা ইত্যাদি।

----------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

অন্যদিকে,
• বিষাদসিন্ধু:
- মীর মশাররফ হোসেনের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস বিষাদসিন্ধু।
- কারবালার বিয়োগান্তক ঘটনাই এর মূল উপজীব্য।
- এর প্রধান চরিত্র হচ্ছে এজিদ।

• 'মহাশ্মশান' মহাকাব্য:
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান' ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ(১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যটি তিনটি খণ্ড রচিত।
- প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ বিদ্যমান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪২১.
নিচের কোনটি নাটক?
  1. ক) স্বপ্নদর্শন
  2. খ) চোরাবালি
  3. গ) নবান্ন
  4. ঘ) অভিযাত্রিক
সঠিক উত্তর:
গ) নবান্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নবান্ন
ব্যাখ্যা
'নবান্ন' নাটকের রচয়িতা বিজন ভট্টাচার্য। তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক- জনপদ, মরাচাঁদ, কলঙ্ক, অবরোধ, গোত্রান্তর। স্বপ্নদর্শন কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বিহারীলাল চক্রবর্তী। অভিযাত্রিক ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। চোরাবালি কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বিষ্ণু দে।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৪২২.
'কথোপকথন' গ্রন্থটি কোন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. শ্রীরামপুর মিশন
  2. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  3. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. বাংলা একাডেমি
সঠিক উত্তর:
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
ব্যাখ্যা
'কথোপকথন' গ্রন্থ:
- 'কথোপকথন' গ্রন্থের রচয়িতা- 'উইলিয়াম কেরী'।
- কথোপকথন বাংলা ভাষায় মুদ্রিত এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত দ্বিতীয় গ্রন্থ ।
- একাধিক মানুষের মুখের সাধারণ কথা বা কথোকথন বা ডায়লগ এ গ্রন্থের উপজীব্য। এ গ্রন্থের ঐতিহাসিক মূল্য প্রচুর।

উইলিয়াম কেরি রচিত গ্রন্থ:
- কথোপকথন,
- ইতিহাসমালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪২৩.
কৃষক পরিবারকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) আলতাচক্র
  2. খ) নদীবক্ষে
  3. গ) কাবিলের বোন
  4. ঘ) আয়না
সঠিক উত্তর:
খ) নদীবক্ষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নদীবক্ষে
ব্যাখ্যা
কৃষক পরিবারকে কেন্দ্র করে কাজী আবদুল ওদুদ রচিত উপন্যাস 'নদীবক্ষে'। 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯১৮ সালে। 
- এটি যতটুকু উপন্যাস তার চেয়ে বেশি সমাজচিত্র। 
- গ্রামীণ সমাজের কলহ, বিবাদ, দ্বন্দ্ব আবার মিলনের কথা চারটি কৃষক পরিবারকে কেন্দ্র করে এই গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। 
উপন্যাসের চরিত্র: জমির শেখ, ইরফান মণ্ডল, লালু, মতি প্রমুখ। 

'আলতাচক্র' আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাস। 
'কাবিলের বোন' কবি আল মাহমুদের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাস। 
'আয়না' আবুল মনসুর আহমদ রচিত গল্পগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪২৪.
'অশনি সংকেত' –উপন্যাসটির পটভূমি কোনটি?
  1. ক) '৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ
  2. খ) ভাষা আন্দোলন
  3. গ) দুর্ভিক্ষ
  4. ঘ) সামাজিক ব্যাধি
সঠিক উত্তর:
গ) দুর্ভিক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দুর্ভিক্ষ
ব্যাখ্যা

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'অশনি সংকেত' -এর পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ। আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি। এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে। তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক 'মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত।
তার রচিত অন্যান্য উপন্যাস-
- পথের পাঁচালী (১৯২৯),
- অপরাজিত (১৯৩১),
- দৃষ্টি প্রদীপ (১৯৩৫),
- আরণ্যক (১৯৩৮),
- আদর্শ হিন্দু হােটেল (১৯৪০),
- দেবযান (১৯৪৪),
- ইছামতী (১৯৪৯),
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৪২৫.
বাংলাভাষায় প্রথম বিয়োগান্তক বা ট্র্যাজেডি নাটক -
  1. ক) কৃষ্ণকুমারী
  2. খ) কীর্তিবিলাস
  3. গ) কাঠঠোকরা
  4. ঘ) শর্মিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
খ) কীর্তিবিলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কীর্তিবিলাস
ব্যাখ্যা
বাংলাভাষায় প্রথম ট্র্যাজেডি নাটক যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত রচিত ‘কীর্তিবিলাস’। তবে, প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি নাটক মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘কৃষ্ণকুমারী’। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৪২৬.
কোনটি বিজন ভট্টাচার্যের নাটক নয়?
  1. ক) গোত্রান্তর
  2. খ) জনপদ
  3. গ) দণ্ডকারণ্য
  4. ঘ) নবান্ন
সঠিক উত্তর:
গ) দণ্ডকারণ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দণ্ডকারণ্য
ব্যাখ্যা

• গণনাট্য সংঘের অন্যতম অভিনেতা এবং 'নবনাট্য' আন্দোলন'র প্রবক্তা বিজন ভট্টাচার্য।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটকঃ
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর ইত্যাদি।
• 'দণ্ডকারণ্য' নাটকের রচয়িতা মুনীর চৌধুরী।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪২৭.
‘নবান্ন’ কোন ধরনের সাহিত্য কর্ম?
  1. ক) কবিতা
  2. খ) নাটক
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
খ) নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নাটক
ব্যাখ্যা
১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ অনাহার, অপুষ্টি ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়, তারই নাট্যরূপ বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক - ‘নবান্ন’। এটি ১৯৪৩ সালে ধারাবাহিকভাবে ‘অরণি’ পত্রিকায় প্রকাশিত এবং ১৯৪৪ সালে গ্রন্থাকারে হয়। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৪২৮.
বাংলা গদ্যরীতিতে লেখা এবং বাংলা হরফে ছাপা প্রথম মৌলিক গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. রামরাম বসু
  4. রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর:
রামরাম বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
উনিশ শতকে বাংলা গদ্যরীতিতে লেখা এবং বাংলা হরফে ছাপা প্রথম মৌলিক গ্রন্থ রামরাম বসুর ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ (১৮০১) প্রকাশিত হয়।

• রামরাম বসু:

- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ  — 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'।
- এটি ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- রামরাম বসু, উইলিয়াম কেরিকে বাংলা ভাষা শেখান ( ১৭৯৩ থেকে ১৭৯৬ পর্যন্ত)।
- তাই তিনি কেরি সাহেবের মুন্‌সি নামে পরিচিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪২৯.
‘অতসী মামী’ একটি -
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
গ) ছোটগল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
‘অতসী মামী’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি ছোট গল্প। এটি তাঁর প্রথম গল্প।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৪৩০.
'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' এর প্রতিষ্ঠাকাল-
  1. ক) ১৯ জানুয়ারি ১৯২৭
  2. খ) ২৬ মার্চ ১৯২৬
  3. গ) ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৯২৬
  4. ঘ) ১৯ জানুয়ারি ১৯২৬
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯ জানুয়ারি ১৯২৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯ জানুয়ারি ১৯২৬
ব্যাখ্যা

- মুসলিম সাহিত্য-সমাজ  ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল শিক্ষক ও ছাত্রের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি মুসলিম সাহিত্য-সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।

- সংগঠনটির পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন, মুসলিম হলের ছাত্র এ.এফ.এম আবদুল হক, ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ছাত্র আবদুল কাদির প্রমুখের ওপর। তারাই ছিলেন প্রথম কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য।
- নেপথ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করতেন ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক কাজী আবদুল ওদুদ ও যুক্তিবিদ্যার অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদীর।
এছাড়াও- 
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপাত্র শিখা পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন আবুল হোসেন।
- এই পত্রিকার স্লোগান ছিলো - 'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৩১.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে?
  1. শ্রীকান্ত
  2. চরিত্রহীন
  3. পল্লীসমাজ
  4. গৃহদাহ
সঠিক উত্তর:
গৃহদাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৃহদাহ
ব্যাখ্যা
- শরৎচন্দ্রের 'গৃহদাহ' উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। 
- এই উপন্যাসের নায়িকা অচলা। 
- মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ-বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়। 

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'। 
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: 
- দেনা-পাওনা, 
- বড়দিদি, 
- বিরাজবৌ, 
- পন্ডিতমশাই, 
- পরিণীতা, 
- চন্দ্রনাথ, 
- দেবদাস, 
- চরিত্রহীন, 
- গৃহদাহ, 
- পথের দাবী, 
- শেষ প্রশ্ন, 
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৪৩২.
মধুসূদন দত্তের পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কবি কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  2. কায়কোবাদ
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

ব্যাখ্যা:
মধুসূদন দত্ত (১৮২৪-১৮৭৩) বাংলা সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি, যিনি বিশেষত তাঁর ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ এবং আধুনিক বাংলা সনেটের জন্য বিখ্যাত। তিনি বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার সূচনা করেন। তাঁর পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কবি কে ছিলেন, তা নির্ধারণ করতে আমাদের সময়কাল এবং সাহিত্যে অবদান বিবেচনা করতে হবে।

অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:

ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১):
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মধুসূদন দত্তের — পরবর্তী কালের কবি। তিনি জন্মগ্রহণ করেন মধুসূদনের মৃত্যুর কাছাকাছি সময়ে এবং তাঁর সাহিত্যকর্ম মধুসূদনের পরে বিকশিত হয়। তাই তিনি মধুসূদনের পূর্ববর্তী কবি হতে পারেন না।

খ) কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১):
কায়কোবাদ একজন উল্লেখযোগ্য কবি, যিনি তাঁর — ‘মহাশ্মশান কাব্য’ এর জন্য পরিচিত। কিন্তু তিনি মধুসূদনের — পরবর্তী সময়ে সাহিত্যকর্ম শুরু করেন। তাঁর জন্মও মধুসূদনের সক্রিয় সাহিত্যজীবনের পরে। সুতরাং, তিনি পূর্ববর্তী কবি নন।

গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯):
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন মধুসূদন দত্তের — পূর্ববর্তী এবং সমসাময়িক কালের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি ও সাংবাদিক। তিনি ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে এবং তাঁর সামাজিক ও ব্যঙ্গাত্মক কবিতার জন্য বিখ্যাত। তিনি বাংলা সাহিত্যে মধুসূদনের আগে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন এবং তাঁর কাজ মধুসূদনের সময়ে প্রভাব বিস্তার করেছিল। তাই তিনি মধুসূদনের পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কবি হিসেবে বিবেচিত হন।

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পর্কিত আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি, সাংবাদিক।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিলো তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

ঘ) ইসমাইল হোসেন সিরাজী (১৮৮০-১৯৩১):
ইসমাইল হোসেন সিরাজী মধুসূদনের — পরবর্তী কালের কবি। তিনি তাঁর জাতীয়তাবাদী ও মুসলিম সাহিত্যের জন্য পরিচিত। তাঁর জন্ম ও সাহিত্যকর্ম মধুসূদনের মৃত্যুর পরে শুরু হয়, তাই তিনি পূর্ববর্তী কবি হতে পারেন না।

তাই বলা চলে, মধুসূদন দত্তের পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কবি হলেন — ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (ড. সুকুমার সেন), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৪৩৩.
'নিশুতি রাতের গাথা' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. আব্দুল ওদুদ
  2. আনোয়ার পাশা
  3. ইব্রাহিম খাঁ
  4. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
সঠিক উত্তর:
আনোয়ার পাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা

• আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাসঃ
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৪৩৪.
"কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ" গ্রন্থটি কোন হরফে মুদ্রিত?
  1. সংস্কৃত
  2. বাংলা
  3. রোমান
  4. হিন্দি
সঠিক উত্তর:
রোমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান
ব্যাখ্যা
"কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ" গ্রন্থ:
• রোমান ক্যাথলিক পর্তুগিজ পাদরি মানোএল দা আসসুম্পসাঁও কর্তৃক ১৭৩৪ সালে রচিত এবং ১৭৪৩ সালে লিসবনে রোমান হরফে মুদ্রিত 'কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ' গ্রন্থটি বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

•  গ্রন্থটি ঢাকার ভাওয়াল অঞ্চলের নাগরী (বর্তমান গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানার একটি গ্রাম) নামক স্থানে লিখিত। এই গ্রন্থের বাঁ দিকের পৃষ্ঠায় বাংলা ভাষায় এবং ডান দিকের পৃষ্ঠায় পর্তুগিজ ভাষায় গুরু ও শিষ্যের কথোপকথনের মাধ্যমে খ্রিস্টধর্মের মহিমা এবং খ্রিস্টানদের আচার-অনুষ্ঠানের কথা আলোচিত হয়েছে।

• মূল পর্তুগিজ অংশ মানোএল দা আসসুম্পসাঁও-এর লেখা; তিনি সম্ভবত কোন দেশীয় খ্রিস্টান দ্বারা বাংলা ভাষায় অনুবাদ করিয়েছিলেন। খ্রিস্টীয় ধর্মশাস্ত্রকে কৃপা বা দয়ার শাস্ত্র মনে করে এর অর্থ রহস্য উদঘাটন করার চেষ্টা আলোচ্য গ্রন্থে পরিদৃষ্ট হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪৩৫.
'হায় পার্বতী' আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত-
  1. ক) নাটক
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) প্রবন্ধগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
গ) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত উপন্যাস- মানব তোমার সারা জীবন, হায় পার্বতী ও খলনায়ক। তিনি নাট্যসংগঠন থিয়েটার- এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক- সুবচন নির্বাসনে, এখনো দুঃসময়, চারদিকে যুদ্ধ, এখনও ক্রীতদাস, কোকিলারা ইত্যাদি। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৪৩৬.
'বাঁধনহারা' উপন্যাসের কয়টি পত্র রয়েছে?
  1. ক) ১১
  2. খ) ১৩
  3. গ) ১৮
  4. ঘ) ২২
সঠিক উত্তর:
গ) ১৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৮
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস বাঁধনহারা। এতে ১৮টি পত্র রয়েছে। নজরুল গ্রন্থটি উৎসর্গ করেন কবির প্রিয় বন্ধু নলিনীকান্ত সরকারকে। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৪৩৭.
কোনটি প্রমথ চৌধুরী রচিত চলিত রীতির প্রথম গদ্যরচনা?
  1. বীরবলের হালখাতা
  2. কথপোকথন
  3. লিপিমালা
  4. হিতোপদেশ
সঠিক উত্তর:
বীরবলের হালখাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরবলের হালখাতা
ব্যাখ্যা
• ‘বীরবলের হালখাতা’:
- ‘বীরবলের হালখাতা’ তাঁর রচিত প্রথম চলিত রীতির গদ্য রচনা।
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।

---------------------------
• প্রমথ চৌধুরী:

- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল’।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি মাসিক ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।

• তেল নুন লকড়ি - প্রমথ চৌধুরীর একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
• প্রমথ চৌধুরী প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত ও
- আহুতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৩৮.
‘যত বড় ক্ষতি ততো বড় লাভ
এই তো জগতের নিয়ম’ - এ উক্তিটি কার ?
  1. ক) সুজাউদ্দৌলা
  2. খ) নজীবদ্দৌলা
  3. গ) জোহরা বেগম
  4. ঘ) ইব্রাহিম কার্দি
সঠিক উত্তর:
খ) নজীবদ্দৌলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নজীবদ্দৌলা
ব্যাখ্যা
‘যত বড় ক্ষতি ততো বড় লাভ এই তো জগতের নিয়ম’ উক্তিটি রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের চরিত্র নজীবদ্দৌলার।

- রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৫৯) সালে পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের পটভূমিকায় লেখা মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক।
- পানি পথের তৃতীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৭৬১ সালে।
- এর মূল চেতনায় আছে যুদ্ধবিরোধী এবং সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের উর্ধ্বে নরনারীর প্রেম।
- রক্তাক্ত প্রান্তরের কাহিনি কায়কোবাদের ‘মহাশ্মশান’ গ্রন্থ থেকে ১৯০৫ সালে নেওয়া হয়।
রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের চরিত্র সমূহ : 
- ইব্রাহিম কার্দি
- জোহরা বেগম
- নজীবদ্দৌলা
- আহমদ শাহ আব্দালি।
- মুনীর চৌধুরী রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের জন্য বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৩৯.
‘বিয়ে পাগলা বুড়ো’ প্রহসনটির রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
• বিয়ে পাগলা বুড়ো:
- এটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি প্রহসন।
- 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' মূলত এক ধরনের হাস্যরসাত্মক নাটক।
- বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন যে এই নাটক কোনো "জীবিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করিয়া লিখিত হইয়াছিল"।
- ১৮৭২ সালে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নসিরাম,
- রতা,
- রাজীব,
- রাজমণি,
- কেশব,
- বৈকুণ্ঠ ইত্যাদি।

-------------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
• দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩) নাট্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
• দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• ‘নীলদর্পণ‘ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
• 'নবীন তপস্বিনী' (১৮৬৩) দীনবন্ধু মিত্রের দ্বিতীয় নাটক। এতে যে দুটি ভিন্ন কাহিনি স্থান পেয়েছে তা পরিপূর্ণভাবে মিশ্রিত হয় নি। 'তে গ্রাম্যতা ও রুচিবিকল্পতা থাকলেও তা গুরুত্বপূর্ণ রচনা।
• 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' (১৮৬৬) বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লিখিত একটি প্রহসন। নামের মাধ্যমেই এর পরিচয় প্রকাশমান।
• দীনবন্ধু মিত্রের 'লীলাবতী' (১৮৬৭) নাটকটি রচনা হিসেবে সার্থকতা লাভ করতে পারে নি।
• 'কমলে কামিনী' (১৮৮৩) তাঁর শেষ রচনা। রোম্যান্টিক প্রণয়চিত্র হিসেবে এর গুরুত্ব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৪০.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্যিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) মহাশ্মশান
  2. খ) সত্যাসত্য
  3. গ) রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. ঘ) মেঘনাধবধ কাব্য
সঠিক উত্তর:
খ) সত্যাসত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সত্যাসত্য
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্যিক উপন্যাস 'সত্যাসত্য'। 
- এর রচয়িতা অন্নদাশঙ্কর রায়। 
- 'সত্যাসত্য' উপন্যাসটি ছয় খন্ডে প্রকাশিত।
তাঁর সত্যাসত্য ছয়টি নামে প্রকাশিত হয় যথাক্রমে-
- যার যেথা দেশ (১৯৩২),
- অজ্ঞাতবাস (১৯৩৩),
- কলঙ্কবতী (১৯৩৪),
- দুঃখমোচন (১৯৩৬),
- মর্ত্যের স্বর্গ (১৯৪০),
- অপসরণ (১৯৪২)। 

- ছয় খন্ডে রচিত সত্যাসত্য বাংলায় মননশীল উপন্যাস রচনায় এক স্বতন্ত্র ধারা তৈরি করে।
- এ উপন্যাসের বিশাল পরিসরে রূপায়িত হয়েছে আধুনিক যুগের জটিল জীবন-সমস্যা, সামাজিক, দার্শনিক, রাজনৈতিক মতবাদ ও তত্ত্ব, দাম্পত্য সম্পর্কের আধুনিক ধারণা এবং দেশ-কালের বৃহত্তর আবহ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৪১.
'রূপান্তর' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) নুরুল মোমেন
  2. খ) ইমদাদুল হক
  3. গ) মুনীর চৌধুরী
  4. ঘ) সেলিম আল দীন
সঠিক উত্তর:
ক) নুরুল মোমেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নুরুল মোমেন
ব্যাখ্যা
রূপান্তর' নাটকের রচয়িতা নুরুল মোমেন। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক- নেমেসিস, যদি এমন হতো, নয়া খান্দান, আলোছায়া, শতকরা আশি, আইনের অন্তরালে, যেমন ইচ্ছা তেমন, হ-য-ব-র-ল ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪৪২.
'কীর্তিবিলাস' নাটকটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৫১ সালে
  2. ১৮৬০ সালে
  3. ১৮৩৯ সালে
  4. ১৮৫২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৫২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫২ সালে
ব্যাখ্যা

'কীর্তিবিলাস' নাটক:
- 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এর রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত। এটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়।
- সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে 'কীর্তিবিলাস' নাটকটি রচিত।
- বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ এর বৈশিষ্ট্য।
- পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে।
- কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪৪৩.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে সবচেয়ে বেশি সাহিত্য রচনা করেছেন কে?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. রামরাম বসু
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. চণ্ডীচরণ মুন্শী
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা

- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮০০ খ্রিস্টাব্দের মে মাসের ৪ তারিখ।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয় - মৃত্যঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের।
তার রচিত গ্রন্থগুলো হলো -
- বত্রিশ সিংহাসন,
- হিতোপদেশ,
- রাজাবলি,
- প্রবোধচন্দ্রিকা,
- বেদান্তচন্দ্রিকা।

ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো হলো:

• উইলিয়াম কেরি রচিত: কথোপকথন (১৮০১); ইতিহাসমালা (১৮১২)।
• রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১); লিপিমালা (১৮০২)।
• গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ (১৮০২)।
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২); হিতোপদেশ (১৮০৮); রাজাবলি (১৮০৮); প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)।
• তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট (১৮০৩)।
• রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫)।
• চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস (১৮০৫)। 
• হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা (১৮১৫)।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪৪৪.
'তরঙ্গভঙ্গ' - সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একটি -
  1. ক) নাটক
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) কাব্য
সঠিক উত্তর:
ক) নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নাটক
ব্যাখ্যা
'তরঙ্গভঙ্গ' - সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একটি - নাটক

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি 'ভরের আলো' নামের হাটে লেখা পত্রিকা সম্পাদন করেন।

তাঁর রচনা সমূহ:
উপন্যাস:
- লালসালু
- চাঁদের আমাবস্যা
- কাঁদো নদী কাঁদো
- দি আগলি এশিয়ান

গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প

নাটক:
- বহিপীর
- তরঙ্গভঙ্গ
- সুড়ঙ্গ
- উজানে মৃত্যু

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৪৪৫.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ লেখক কে ছিলেন?
  1. তারিণীচরণ মিত্র
  2. গোলকনাথ শর্মা
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. চণ্ডীচরণ মুনশী
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ: 
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন: 
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয়‌ বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলােচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি। 
------------------------------ 
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- উইলিয়াম কেরির অধীনস্থ প্রধান পণ্ডিত ছিলেন মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২), রাজাবলি (১৮০৮), হিতোপদেশ (১৮০৮), বেদান্তচন্দ্রিকা(১৮১৭) ও প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)—এই পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার শুধু অধ্যাপক পণ্ডিতই ছিলেন না, তিনি সে যুগের বহু জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।
- তাঁর শাস্ত্রজ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের খ্যাতি সে আমলে প্রবাদ বাক্যের মত ছড়িয়ে পড়েছিল।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ লেখক মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
- তিনি ছিলেন ভাষাবিদ ও ভাষাশিল্পী।

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার এর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- বত্রিশ সিংহাসন,
- হিতোপদেশ,
- রাজাবলি,
- প্রবোধচন্দ্রিকা,
- বেদান্তচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৪৬.
‘অচলা' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. চোখের বালি
  2. গৃহদাহ
  3. চতুষ্কোণ
  4. মৃত্যু-ক্ষুধা
সঠিক উত্তর:
গৃহদাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৃহদাহ
ব্যাখ্যা
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘গৃহদাহ’ (১৯২০) ।
- ত্রিভুজ প্রেমের এই উপন্যাসের নায়িকা অচলা। সুরেশ এবং মহিমের প্রতি তার দোলাচল মানসিকতা ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব তুলে ধরা হয়েছে।
তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- চরিত্রহীন,
- শ্রীকান্ত,
- পরিণীতা,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পল্লীসমাজ,
- দেবদাস,
- দত্তা,
- বড়দিদি,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- বামুনের মেয়ে,
- শেষ প্রশ্ন,
- দেনাপাওনা,
- পথের দাবী,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

উৎস : গৃহদাহ উপন্যাস ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৪৪৭.
“আনন্দের মৃত্যু” - গল্পের রচয়িতা কে?
  1. ক) সেলিনা হোসেন
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) হাসান হাফিজুর রহমান
  4. ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হক রচিত গল্পঃ তাস, শীত বিকেল, আনন্দের মৃত্যু, জলেশ্বরীর গল্পগুলো ইত্যাদি। তার উপন্যাসঃ সীমানা ছাড়িয়ে, অনুপম দিন, এক মহিলার ছবি, নীল দংশন, খেলারাম খেলে যা, বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৪৮.
মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক-
  1. এর উপায় কি
  2. টালা অভিনয়
  3. জমিদার দর্পণ
  4. বসন্তকুমারী
সঠিক উত্তর:
বসন্তকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসন্তকুমারী
ব্যাখ্যা
• 'বসন্তকুমারী নাটক':
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে 'বসন্তকুমারী নাটক' (১৮৭৩) উল্লেখযোগ্য। এই নাটকটিকে মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক হিসেবে নির্দেশ করা যায়।

- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র, পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের মৃত্যু-এই কাহিনি অবলম্বনে 'বসন্তকুমারী' নাটক রচিত।

- নাটকটির অপর নাম 'বৃদ্ধস্য তরুণী ভার্যা'- কাহিনির তাৎপর্য প্রকাশক। মানুষের দেহাশ্রিত কামনাবাসনার যে বিচিত্র অভিব্যক্তি আধুনিক বাংলা সাহিত্যে রূপ পরিগ্রহ করেছে 'বসন্তকুমারী' নাটকে তা প্রকাশের মাধ্যমে মীর মশাররফ হোসেন মুসলমান সাহিত্যিকগণের মধ্যে পথিকৃৎ হয়ে রয়েছেন।

- কাহিনি গ্রন্থনের সুসংবদ্ধতা, সংলাপের বিচিত্র চাতুরী এবং সর্বাঙ্গীন প্রাণবন্ত ভাবপরিমণ্ডল এই সমস্ত বৈশিষ্ট্যের জন্য নাটকটির স্বাতন্ত্র্য বিবেচ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৪৪৯.
'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসের রচয়িতা -
  1. আবু ইসহাক
  2. আনিস চৌধুরী
  3. শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
আবু ইসহাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
আবু ইসহাক একজন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
 তিনি ১৯২৬ সালের ১ নভম্বরজন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন সূর্য দীঘল বাড়ী (১৯৫৫)।
- আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬); এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস 'জাল'। এটি গোয়েন্দা কাহিনী নির্ভর উপন্যাস।

 - কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- তাঁর স্মৃতিচারণমূলক রচনা 'স্মৃতিবিচিত্রা' প্রকাশিত হয় ২০০১ সালে।

তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ দুটি
- হারেম (১৯৬২) ও
- মহাপতঙ্গ  (১৯৬৩)।

তিনি ‘বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ (মনণোত্তর, ২০০৪) লাভ করেন।  

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া ]


 
৪৫০.
কত সালে বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৮৩১ সালে
  2. ১৮৫৯ সালে
  3. ১৮৫২ সালে
  4. ১৭৯৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৯৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৯৫ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলা নাটকের উৎস ও বিকাশ:
- আঠারো শতকের শেষদিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়।
- কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।
- বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে।
- হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন।
- তিনি 'The Disguise' এবং 'Love is the best Doctor' নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান।
- এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।
- ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।
- বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪৫১.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কোন উপন্যাসটি 'বসুন্ধরা' নামে চলচ্চিত্রায়িত হয়?
  1. ক) কর্ণফুলী
  2. খ) তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
  3. গ) ক্ষুধা ও আশা
  4. ঘ) বিশৃঙ্খলা
সঠিক উত্তর:
খ) তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদের বিখ্যাত উপন্যাস 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র'।
- 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র 'বসুন্ধরা' 
- ১৯৭৭ সালে এটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কায় পায়। 

তাঁর অন্যান্য উপন্যাস হলো :
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন
- কর্ণফুলী
- ক্ষুধা ও আশা
- খসড়া কাগজ
- স্বপ্নশিলা
- বিশৃঙ্খলা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৫২.
'জোহরা' চরিত্র কোন নাটকের?
  1. রক্তকরবী
  2. বিবাহ বিভ্রাট
  3. দণ্ডকারণ্য
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

• অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত নাটক 'রক্তাক্ত প্রান্তর'।
• এই নাটকের চরিত্রঃ
- জোহরা
- জরিনা
- হিরণ বালা
- ইব্রাহীম কার্দি
উৎসঃ রক্তাক্ত প্রান্তর, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।

৪৫৩.
দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম নাটক-
  1. নবীন তপস্বিনী
  2. নীলদর্পণ
  3. লীলাবতী
  4. জামাই বারিক
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা

• 'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম নাটক বেনামীতে মুদ্রিত 'নীলদর্পণ' (১৮৬০)। এদেশে নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের চিত্র এতে অঙ্কিত হয়েছে।

- নাটকটিতে নাট্যকারের প্রত্যক্ষ স্বজাতি-প্রেম এবং বিদেশী শাসকের প্রজাপীড়নের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। নাটকটির নাম ছিল 'নীলদর্পণম নাটকম' এবং বিজ্ঞপ্তিটি ছিল: ‘নীলকর-বিষধর-দংশনকাতর-প্রজা নিকর-ক্ষেমঙ্করেণ কেনাচৎ পথিকেনাভি প্রণীতম।' নাটকে নাট্যকারের নাম ছিল না।

- অনুমান করা হয় এটি ইংরেজি অনুবাদ করেছিলেন মাইকেল মধুসূদন এবং অনুবাদের প্রকাশক হিসেবে নাম থাকায় পাদ্রী রেভারেন্ড লং রাজদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন।

- নীলকরেরা কি ধরনের অত্যাচার করত সে সম্পর্কে যোগেশচন্দ্র বাগল লিখেছেন, 'নীলকর কর্তৃক টাকা দাদন দিয়ে উৎকৃষ্ট জমিতে নীল চাষে চাষীকে প্ররোচনা, আশানুরূপ ফসল না হলে পর বছর নীল উৎপাদনে তাকে বাধ্য করান, নীল চাষের জন্য দশ বছরের চুক্তি, পুরুষানুক্রমে নীলকরের আজ্ঞাবহ প্ৰজায় পরিণতি, নীলকরদের জমিদারী তালুকদারী ক্রয়, প্রজাবৃন্দদের দ্বারা বেগার খাটান, চুক্তি ভঙ্গকারী চাষিদের নীলকুঠিতে কয়েদ করে রাখা ইত্যাদি অত্যাচার ও নিপীড়নের চিত্র ফুটে উঠেছে।
 
- বাস্তব চিত্র রূপায়ণের ফলে সে আমলে নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রবল আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। 

অন্যদিকে, 
• ‘নবীন তপস্বিনী' (১৮৬৩) দীনবন্ধু মিত্রের দ্বিতীয় নাটক।
• দীনবন্ধু মিত্রের ‘লীলাবতী’ (১৮৬৭) নাটকটি রচনা হিসেবে সার্থকতা লাভ করতে পারে নি।
• ‘জামাই বারিক' (১৮৭২) প্রহসনটি সামাজিক বিষয়াবলম্বনে রচিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম। 

৪৫৪.
‘কীর্তিবিলাস’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
'কীর্তিবিলাস' নাটক: 
- 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এর রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত। এটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়।
- সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে 'কীর্তিবিলাস' নাটকটি রচিত।
- বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ এর বৈশিষ্ট্য।
- পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে।
- কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪৫৫.
‘ব্রাহ্মণ রোমান ক্যাথলিক সংবাদ' নামক মুদ্রিত গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. উইলিয়াম কেরী
  2. হেনরী লুই
  3. দোম অ্যান্তোনিও
  4. হেনরী পিটস
সঠিক উত্তর:
দোম অ্যান্তোনিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোম অ্যান্তোনিও
ব্যাখ্যা
• দোম আন্তোনিও (১৭শ-১৮শ শতক): 
- বাংলা গদ্যরীতির প্রথম লেখক ও বাংলায় খ্রিস্টধর্মের প্রচারক।
- আনুমানিক ১৬৪৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন যশোর-ফরিদপুর অঞ্চলের  ভূষণা রাজ্যের রাজ পরিবারের সদস্য।
- আন্তোনিও 'ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক' সম্বাদ নামে ১২০ পৃষ্ঠার একটি গ্রন্থ রচনা করেন, যা বাংলা সাধু গদ্যরীতির আদি নিদর্শন হিসেবে খ্যাত।
- ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে গ্রন্থটি সুরেন্দ্রনাথ সেনের সম্পাদনায়  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।  
৪৫৬.
“পায়ের আওয়ায পাওয়া যায়” কি ধরনের রচনা?
  1. ক) ছােটগল্প
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) কাব্যনাটক
  4. ঘ) পত্রোপন্যাস
সঠিক উত্তর:
গ) কাব্যনাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাব্যনাটক
ব্যাখ্যা

সৈয়দ শামসুল হক একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক।
- কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, অনুবাদ তথা সাহিত্যের সকল শাখায় সাবলীল পদচারণার জন্য তাঁকে 'সব্যসাচী' লেখক বলা হয়।

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসঃ
- নিষিদ্ধ লোবান ও
- নীল দংশন।

তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্যঃ
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- এক মহিলার ছবি,
- অনুমপ দিন, ত্রাহী,
- দেয়ালের দেশ,
- খেলারাম খেলে যা,
- তুমি সেই তরবারী।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যনাট্যঃ
- গণনায়ক,
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন,
- বাংলার মাটি বাংলার জল।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৪৫৭.
'উপনয়ন' উপন্যাসটির ঔপন্যাসিক কে?
  1. ক) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  2. খ) নবীনচন্দ্র সেন
  3. গ) প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা

প্রেমেন্দ্র মিত্র:
মূলত সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
প্রথমা (১৯৩২),
সম্রাট (১৯৪০),
ফেরারী ফৌজ (১৯৪৮),
সাগর থেকে ফেরা (১৯৫৬),
হরিণ চিতা চিল (১৯৫৯),
কখনাে মেঘ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
পাক (১৯২৬),
মিছিল (১৯৩৩),
উপনয়ন (১৯৩৪),
আগামীকাল (১৯৩৪),
প্রতিশােধ (১৯৪১),
কুয়াশা,
প্রতিধ্বনি ফেরে,
মনুদ্বাদশ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
পঞ্চশর (১৯২৯),
বেনামী বন্দর (১৯৩০)
পুতুল ও প্রতিমা (১৯৩২),
মৃত্তিকা (১৯৩২),
অফুরন্ত (১৯৩৫),
ধূলিধূসর (১৯৪৩),
মহানগর (১৯৪৩),
জলপায়রা (১৯৫৭) ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৪৫৮.
আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত একক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক কোনটি?
  1. ক) কোকিলারা
  2. খ) এখনও ক্রীতদাস
  3. গ) ক্রীতদাসের হাসি
  4. ঘ) সুবচন নির্বসনে
সঠিক উত্তর:
ক) কোকিলারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কোকিলারা
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত একক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক 'কোকিলারা'।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে।  

নাট্যকার আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত অন্যান্য নাটক - 
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৫৯.
নাট্যকাব্য মূলত-
  1. নাটক
  2. কাব্য
  3. সংলাপ
  4. দৃশ্যকাব্য
সঠিক উত্তর:
কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্য
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
- নাট্যকাব্য মূলত কাব্য, তবে এতে নাটকের মতো চরিত্র ও সংলাপ থাকে।
- পক্ষান্তরে কাব্যনাট্য মূলত নাটক, কিন্তু সংলাপগুলো হয় কবিতার মতো।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৪৬০.
‘রাজাবলি’ গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালয়ঙ্কার
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত
  4. রামরাম বসু
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালয়ঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালয়ঙ্কার
ব্যাখ্যা

'রাজাবলি':
- কিংবদন্তি ও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত 'রাজাবলি' (১৮০৮) গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠু রূপ নিয়েছে।
- আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪৬১.
‘ইছামতী’ উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ উপন্যাস ইছামতী। এটি ১৯৫০ সালে প্রকাশিত হয়। এটি রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করে।
ইছামতী নদীর তীরবর্তী গ্রামের মানুষের জীবনকথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
প্রধান চরিত্র হলো :
- ভবানী বাঁড়ুয্যে
- তিলু
- বিলু
- নীলু

লেখকের অন্যান্য উপন্যাস :
- পথের পাঁচালী
- অপরাজিত
- দৃষ্টি প্রদীপ
- আরণ্যক
- আদর্শ হিন্দু হোটেল
- দেবযান
- অশনি সংকেত

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৪৬২.
‘ছোট বকুলপুরের যাত্রী’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু ইসহাক
  2. খ) প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
খ) প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্প ‘ছোট বকুলপুরের যাত্রী’ (১৯৪৯ তাঁর রচিত অন্যান্য গল্প হল: প্রাগৈতিহাসিক, পরিস্থিতি, মিহি ও মোটা কাহিনী, সরীসৃপ। তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসঃ পদ্মা নদীর মাঝি, জননী, পুতুল নাচের ইতিকথা, দিবারাত্রির কাব্য, শহরবাসের ইতিকথা, চিহ্ন ইত্যাদি। রেফারেন্সঃ বাংলা প্রথম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই।
৪৬৩.
'শাহের বানু' - গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
  2. খ) শওকত আলী
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ক) শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
'শাহের বানু' - গল্পগ্রন্থটি 'শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম' রচিত রচনা। 

শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
- শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে ১৯২৬ সালের আগস্ট মাসে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গল্পগ্রন্থের নাম - 
- অনেক দিনের আশা, 
- ঢেউ, 
- পথ জানা নাই, 
- দুই হৃদয়ের তীর, 
- শাহের বানু, 
- পুঁই ডালিমের কাব্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর। 
৪৬৪.
রামনারায়ণ তর্করত্নের অভিনয় সাফল্য নাটক কোনটি?
  1. রামের বনবাস
  2. কুলীনকুলসর্বস্ব
  3. রাবণবধ
  4. ধ্রুবচরিত্র
সঠিক উত্তর:
কুলীনকুলসর্বস্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুলীনকুলসর্বস্ব
ব্যাখ্যা
• 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক:
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক 'কুলীনকুলসর্বস্ব' (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- সমকালীন সমাজব্যবস্থার কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলো নাটকে রূপায়িত করতে গিয়ে আঙ্গিকগত দিক থেকে তাঁর চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করা সম্ভব হয়নি।
- 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
- এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি 'নাটুকে নারায়ণ' নামে খ্যাতি লাভ করেছিল।

অন্যদিকে, 
• গিরিশচন্দ্র ঘোষ পৌরাণিক ও ভক্তিমূলক নাটকগুলোর মধ্যে- 'রাবণবধ', 'রামের বনবাস', 'অভিমন্যুবধ', 'ধ্রুবচরিত্র', 'পাণ্ডবগৌরব', 'জনা', 'বুদ্ধদেব', 'চৈতন্যলীলা', 'বিল্বমঙ্গল' প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৪৬৫.
‘নূরজাহান, সাজাহান ও চন্দ্রগুপ্ত’ নাটকগুচ্ছের রচয়িতা কে-
  1. সেলিম আল দীন
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য।
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধন ধান্য পুষ্পভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ঐতিহাসিক নাটকগুলো হলো:
- তারাবাঈ,
- প্রতাপ-সিংহ,
- দুর্গাদাস,
- নূরজাহান,
- মেবার পতন,
- সাজাহান,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- সিংহলবিজয় ইত্যাদি।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটকগুলো হলো:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৬৬.
'এর উপায় কি' প্রহসনের রচিয়তা কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
♦ 'এর উপায় কি' প্রহসন:
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত একমাত্র প্রহসন।
- উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোক যে স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদ ও পতিতাবৃত্তিতে আকৃষ্ট হয়ে নানা ধরনের অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল-লেখক এই প্রহসনে সে রকম একটি ঘটনাই তুলে ধরেছেন।
- স্বামী রাধাকান্ত, স্ত্রী মুক্তকেশী, রক্ষিতা নয়নতারা, ইয়ার মদন প্রমুখ এর উল্লেখযোগ্য চরিত্র।
- এই প্রহসনে মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা'র প্রভাব রয়েছে।

-------------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেনের জন্ম ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায়।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯)।
- তাঁর অমর কীর্তি ‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাসে কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক কাহিনি বিবৃত হয়েছে।

এছাড়াও তাঁর অন্যান্য নাটক হলো-
- বসন্তকুমারী,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- জমীদার দর্পণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪৬৭.
শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত মহাকাব্যিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) চন্দ্রভানের কন্যা
  2. খ) কবে পোহাবে বিভাবরী
  3. গ) সংশপ্তক
  4. ঘ) সারেং বউ
সঠিক উত্তর:
গ) সংশপ্তক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সংশপ্তক
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যাবহতি পূর্ববর্তী কাল থেকে বায়ান্নর ভাষা আন্দলনের পূর্বকাল অবধি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক রুপান্তরকে ঘিরে শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত মহাকাব্যিক উপন্যাস সংশপ্তক।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৪৬৮.
নিচের কোনটি ভিন্ন ধরনের রচনা?
  1. অন্য ঘরে অন্য স্বর
  2. খোঁয়ারি
  3. খোয়াবনামা
  4. দোজখের ওম
সঠিক উত্তর:
খোয়াবনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খোয়াবনামা
ব্যাখ্যা

- অন্য ঘরে অন্য স্বর, খোঁয়ারি, দোজখের ওম - আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের গল্পগ্রন্থ।
- পক্ষান্তরে খোয়াবনামা আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের উপন্যাস।
- চিলেকোঠার সেপাই - নামে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের আরেকটি উপন্যাস রয়েছে।
- পক্ষান্তরে দুধভাতে উৎপাত নামে আরেকটি গল্পগ্রন্থ রয়েছে।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৪৬৯.
'কাঁকরমণি' শওকত ওসমান রচিত-
  1. ক) নাটক
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) প্রবন্ধগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
ক) নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নাটক
ব্যাখ্যা
'কাঁকরমণি' শওকত ওসমান রচিত- নাটক। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য নাটক হলো- আমলার মামলা, পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা, তস্কর ও লস্কর, বাগদাদের কবি ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪৭০.
'বেদের মেয়ে' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জসীমউদদীন
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) তারাপদ সিকদার
  4. ঘ) দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
ক) জসীমউদদীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জসীমউদদীন
ব্যাখ্যা
'বেদের মেয়ে' নাটকটির রচয়িতা পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীন।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে। 

•জসীমউদ্‌দীন রচিত অন্যান্য নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা, 
- পল্লীবধূ, 
- গ্রামের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৭১.
“অনেক সূর্যের আশা” - উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) রাবেয়া খাতুন
  2. খ) সরদার জয়েনউদ্দিন
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু
  4. ঘ) সুফিয়া কামাল
  5. ঙ) আহমদ ছফা
সঠিক উত্তর:
খ) সরদার জয়েনউদ্দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সরদার জয়েনউদ্দিন
ব্যাখ্যা
উপমহাদেশে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে লেখা সরদার জয়েনউদ্দিনের উপন্যাস - “অনেক সূর্যের আশা”। তার রচিত অন্যান্য উপন্যাস - আদিগন্ত, পান্নামতি, নীলরঙ রক্ত (নীল বিদ্রোহের পটভূমি), বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ, কদম আলীর বাড়ি ইত্যাদি। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৪৭২.
‘মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং’ গদ্য গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. গোলোকনাথ শর্মা
  2. রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়
  3. তারিণীচরণ মিত্র
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
• ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ কর্মচারীদের দেশীয় ভাষায় শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
• এই কলেজে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্রিরামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক উইলিয়াম কেরি। তিনি তাঁরা অধীনস্ত দু-জন পণ্ডিত এবং ছয় জন সহকারী পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন।
• তাঁদের এই প্রচেষ্টার ফলাফল দিয়েই বাংলা গদ্যের অনুশীলনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা নিরূপণ করা হয়।

ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো হলো:
• কেরি রচিত: কথোপকথন; ইতিহাসমালা (১৮১২)।
• রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র; লিপিমালা (১৮০২)।
• গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ (১৮০২)।
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: বত্রিশ সিংহাসন; হিতোপদেশ; রাজাবলি; প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)।
• তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট।
• রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং।
• চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস।
• হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪৭৩.
আনোয়ার পাশা, কামাল পাশা ও কাফেলা নাটকগুলোর রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) আসকার ইবনে শাইখ
  3. গ) ইব্রাহীম খাঁ
  4. ঘ) শাহাদাৎ হোসেন
  5. ঙ) মামুনর রশীদ
সঠিক উত্তর:
গ) ইব্রাহীম খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইব্রাহীম খাঁ
ব্যাখ্যা
আনোয়ার পাশা, কামাল পাশা ও কাফেলা নাটকগুলো ইব্রাহিম খাঁ রচিত। তস্কর-লস্কর ও আনারকলি যথাক্রমে শওকত ওসমান ও শাহাদাৎ হোসেনের নাটক। বিদ্রোহী পদ্মা ও এপার-ওপার হলো আসকার ইবনে শাইখের নাটক৷ ওরা কদম আলী, এখানে নোঙর, সময়-অসময় নাটকগুলো মামুনুর রশীদের। (সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর)
৪৭৪.
‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’ নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. মামুনুর রশীদ
  2. সেলিম আল দীন
  3. মুনির চৌধুরী
  4. মমতাজউদ্দিন আহমদ
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা

‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’ নাটকটির রচয়িতা বাংলাদেশের অন্যতম নাট্যকার সেলিম আল দীন
- এই নাটকে বিশ শতকের আশির দশকের স্বৈরশাসকের কবল থেকেদেশের কিছুই যে রক্ষিত হচ্ছিলো না, সেই চিত্র ফুটে উঠেছে।

সেলিম আল দীন ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকসমূহ
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন (১৯৭৫)
- সংবাদ কার্টুন (১৯৭২)
- বাসন (১৯৮৫)
- মুনতাসির ফ্যান্টাসী( ১৯৭৬ )
- শকুন্তলা(১৯৭৮)
- কীত্তনখোলা (১৯৮০)
- কেরামতমঙ্গল (১৯৮৬)
- যৈবতী কন্যার মন (১৯৯৩)
- চাকা (১৯৯১)
- হরগজ (১৯৯২)
- প্রাচ্য (২০০০)
- হাতহদাই (১৯৯৭)- নিমজ্জন (২০০২)
- ধাবমান
- স্বর্ণবোয়াল (২০০৭)
- পুত্র (২০০৮)
 -বনপাংশুল(২০০৩) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

৪৭৫.
'সীমানা ছাড়িয়ে' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) আনিস চৌধুরী
  4. ঘ) দাউদ হায়দার
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

সৈয়দ শামসুল হক রচিত গল্পঃ তাস, শীত বিকেল, আনন্দের মৃত্যু, জলেশ্বরীর গল্পগুলো ইত্যাদি।
তার উপন্যাসঃ সীমানা ছাড়িয়ে, অনুপম দিন, এক মহিলার ছবি, নীল দংশন, খেলারাম খেলে যা, বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৪৭৬.
'উত্তরাধিকার', 'কালবেলা', 'কালপুরুষ' - ত্রয়ী উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. নবীনচন্দ্র দাশ
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সমরেশ মজুমদার
সঠিক উত্তর:
সমরেশ মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমরেশ মজুমদার
ব্যাখ্যা
'উত্তরাধিকার', 'কালবেলা', 'কালপুরুষ' - ত্রয়ী উপন্যাসের রচয়িতা সমরেশ মজুমদার।

সমরেশ মজুমদার (জন্ম: ১০ মার্চ ১৯৪২):
- বিখ্যাত ভারতীয় বাঙালি ঔপন্যাসিক।
- সমরেশ মজুমদারের প্রথম উপন্যাস “দৌড়” ছাপা হয়েছিলো দেশেই ১৯৭৫ সালে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলির মধ্যে
- সাতকাহন,
- তেরো পার্বণ,
- স্বপ্নের বাজার,
- উজান,
- গঙ্গা,
- ভিক্টোরিয়ার বাগান,
- আট কুঠুরি নয় দরজা,
- অনুরাগ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

- তার ট্রিলজি 'উত্তরাধিকার, কালবেলা, কালপুরুষ' বাংলা সাহিত্য জগতে তাকে বিশেষ খ্যাতির অধিকারী করেছে।

আরও কিছু লেখকের ত্রয়ী উপন্যাস: 
⇒ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 'আনন্দমঠ', 'দেবী চৌধুরানী' ও 'সীতারাম'
⇒ নবীনচন্দ্র সেন:  'রৈবতক', 'কুরুক্ষেত্র' ও 'প্রভাস'
⇒ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 'পথের পাঁচালি;, 'অপরাজিত' ও 'কাজল'
⇒ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: 'পুতুল নাচের ইতিকথা', 'সহরবাসের ইতিকথা' ও 'ইতিকথার পরের কথা'
⇒ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় : 'সেই সময়', 'প্রথম আলো' ও 'পূর্ব-পশ্চিম'

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৭৭.
'নামহীন গোত্রহীন' হাসান আজিজুল হক রচিত-
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
গ) গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'নামহীন গোত্রহীন' হাসান আজিজুল হক রচিত- গল্পগ্রন্থ। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য গল্পগ্রন্থ- আত্মজা ও একটি করবী গাছ, জীবন ঘষে আগুন, পাতালে হাসপাতালে, সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য, আমরা অপেক্ষা করছি, রাঢ়বঙ্গের গল্প, রোদে যাবো ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪৭৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত উপন্যাস কোনটি? 
  1. চার অধ্যায়
  2. গোরা
  3. ঘরে বাইরে
  4. চতুরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
ঘরে বাইরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘরে বাইরে
ব্যাখ্যা
'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস। 
- ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। 
- 'ঘরে বাইরে' রাজনৈতিক ও সামাজিক উপন্যাস, এটি স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৮৬১ সালের ৭ মে কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী। 
- এছাড়াও প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক হিসেবেও তিনি পরিচিত। 
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। 
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। 
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান। 
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন। 
- তিনি ইংরেজ প্রদত্ত ১৯১৫ সালে ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন। 
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৭৯.
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীদের কাছে জনপ্রিয় উদ্দীপক "বন্দে মাতরম্‌" গানটি কোন উপন্যাসে প্রথম পাওয়া যায়?
  1. ক) বিষবৃক্ষ
  2. খ) আনন্দমঠ
  3. গ) গোড়া
  4. ঘ) দেবী চৌধুরানী
সঠিক উত্তর:
খ) আনন্দমঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আনন্দমঠ
ব্যাখ্যা
ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস 'আনন্দমঠ'(১৮৮২)। 
- উপন্যাসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে স্বদেশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি।
- এ গ্রন্থে রচিত গান "বন্দে মাতরম্‌" পরবর্তীতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীদের অত্যন্ত প্রিয় ও উদ্দীপক স্লোগান হিসেবে গৃহীত হয়।

 বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস
- দুর্গেশনন্দিনী
- কপালকুণ্ডলা
- মৃণালিনী
- বিষবৃক্ষ
- ইন্দিরা
- যুগলাঙ্গুরীয়
- চন্দ্রশেখর
- রাধারানী
- রজনী
- কৃষ্ণকান্তের উইল
- রাজসিংহ
- আনন্দমঠ
- দেবী চৌধুরানী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৮০.
রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. রাজাবলি
  2. তোতা ইতিহাস
  3. বেদান্তচন্দ্রিকা
  4. লিপিমালা
সঠিক উত্তর:
লিপিমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিপিমালা
ব্যাখ্যা
• 'লিপিমালা':
- রামরাম বসু রচিত দ্বিতীয় গ্রন্থ 'লিপিমালা' ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ছাত্রদের চলিত ভাষা ও দেশীয় লোকের বৈষয়িক ব্যবহারের পরিচয়দানের জন্য পত্রাকারে লিখিত প্রবন্ধ।

- গ্রন্থের রচনারীতি সহজ সরল ও মৌখিক রীতির কাছাকাছি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। তার রচনাশৈলী সাধুভাষার অনুগত হলেও তা কথ্যরীতির অনুসারী ছিল। মৌলিক লেখক হিসেবে রামরাম বসুর স্বতন্ত্র পরিচয় বিদ্যমান।

----------------
• রামরাম বসু:
- রামরাম বসু (১৭৫৭-১৮১৩) ছিলেন উইলিয়াম কেরির সহযোগী পাঠ্যপুস্তক রচনাকারীদের অন্যতম অগ্রণী। আ জীবন ছিল বৈচিত্র্যধর্মী।

- প্রথমে তিনি ফারসি-নবিস মুনশী এবং পরে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের সহকারী পণ্ডিত ছিলেন। তিনি খ্রিস্টধর্মের প্রতি বাহ্যিক অনুরাগ দেখিয়ে পাদ্রিদের বিভ্রান্ত করলেও খ্রিস্টধর্ম প্রচারে প্রভূত সাহায্য করেছেন, কিন্তু নিজের ধর্ম পরিত্যাগ করেন নি। নৈতিক অধঃপতনের জন্য বিতাড়িত হলেও উইলিয়াম কেরি তাঁর বদান্যতা দয়াধর্ম শাস্ত্রীয় বিচারবুদ্ধির বারংবার প্রশংসা করেছেন এবং ধর্মপ্রচারে ও গ্রন্থরচনায় বিশেষ সাহায্য নিয়েছেন।

- রামরাম বসুর গদ্যগ্রন্থ দুটি-  রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১) ও লিপিমালা (১৮০২)।

- ফারসি-নবিস মুনশী বলে সেকালের চলতি রীতিতে বাংলা গদ্যপদ্য রচনায় তাঁর অবিসংবাদিত দক্ষতা ছিল। বাঙালি রচিত এবং বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত প্রথম একটানা দীর্ঘ মৌলিক রচনা 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থে রাজা প্রতাপাদিত্য সম্পর্কে জ্ঞাত কাহিনিগুলো স্থান পেয়েছে।

অন্যদিকে, 
• চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত গ্রন্থ 'তোতা ইতিহাস' একটি উপাখ্যান যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।
• ‘রাজাবলি’ ও ‘বেদান্তচন্দ্রিকা’ মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ। 
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৪৮১.
আমার দেখা নয়াচীন - ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা কে?
  1. ক) নির্মলেন্দু গুণ
  2. খ) শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) হুমায়ূন আহমেদ
  4. ঘ) অধ্যাপক আনিসুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
খ) শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
“আমার দেখা নয়াচীন” জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর চীন ভ্রমণের উপর লেখা গ্রন্থ। এটি তার প্রকাশিত তৃতীয় গ্রন্থ। ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২০ বাংলা একাডেমি এটি প্রকাশ করে। ১৯৫২ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে নয়া চীন যান বঙ্গবন্ধু। তার এ সফরের অভিজ্ঞতাই এ গ্রন্থে বর্ণনা করা হয়েছে। (সূত্রঃ আমার দেখা নয়াচীন : বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান)
৪৮২.
বাংলা টপ্পা গানের প্রবর্তক কে?
  1. এন্টনি ফিরিঙ্গি
  2. দাশরথি রায়
  3. রামরাম বসু
  4. রামনিধি গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• টপ্পা সঙ্গীত:
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধুবাবু।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্থানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম - গীতরত্ন (১৮৩২)।

- তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা-
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৮৩.
'বেদান্তগ্রন্থ' - গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. রামমোহন রায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা

বেদান্তগ্রন্থ: 
‘বেদান্তগ্রন্থ’ (১৮১৫) রামমোহন রায় কর্তৃক ব্রহ্মসূত্রের অনুবাদ ও টীকা।
- বাংলাগদ্যের ইতিহাসে গ্রন্থটির ঐতিহাসিক মূল্য অসামান্য।
- পৌত্তলিকতা যে হিন্দু ধর্মের মুখ্য ব্যাপার নয়, ব্রহ্মই একমাত্র তত্ত্ব ও উপাস্য তা প্রমাণের উদ্দেশ্যেই এই গ্রন্থ তিনি রচনা করেন।
- এই গ্রন্থ অবলম্বন করে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে প্রবল বাকবিতর্ক হয়।

রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন।
- তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৪৮৪.
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯১৬ সালে
  2. ১৮৫৮ সালে
  3. ১৮৯৪ সালে
  4. ১৯০৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৫৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৮ সালে
ব্যাখ্যা

'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- আলালের ঘরের দুলাল বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম  “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৮৫.
The Taming of The Shrew- নাটকটি বাংলা অনুবাদ করেন কে?
  1. নুরুল মোমেন
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

শেক্সপিয়রের The Taming of The Shrew বাংলাতে অনুবাদ করেন মুনীর চৌধুরী ।
এটি বাংলায় মুখরা রমণী বশীকরণ নামে প্রকাশ করেন ।
তিনি The Silver box (রূপার কৌটা) নাটকটি অনুবাদ করেন |
কেউ কিছু বলতে পারে না তার অনূদিত আরেকটি নাটক |

তার বিখ্যাত ঐতিহাসিক নাটক রক্তাক্ত প্রান্তর( পানিপথের যুদ্ধ নিয়ে রচিত) |
ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত নাটক কবর |
তিনি এটি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় রচনা করেন |

উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর)

৪৮৬.
বাংলা সাহিত্যে গদ্য প্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য ‘উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ’ সৃষ্টি করেন কে?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. চণ্ডীচরণ মুন্শী
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।
- বাংলা গদ্য প্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য তিনি ‘উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ’ ও ‘অনতিলক্ষ্য ছন্দঃস্রোত’ সৃষ্টি করেন।
- তিনি বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন।
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন।
- বাংলা গদ্যকে তিনি সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন বলেই বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরই বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের ‘প্রথম শিল্পী’ বলে অভিহিত করেছেন।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গদ্যগ্রন্থের নাম হলো:
• 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' (হিন্দি বৈতালপৈচ্চিসির বঙ্গানুবাদ ১৮৪৭)।
• 'শকুন্তলা' (কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তলম নাটকের উপাখ্যান ভাগের বঙ্গানুবাদ, ১৮৫৪)।
• 'সীতার বনবাস’ (ভবভূতির উত্তররাম চরিত নাটকের প্রথম অঙ্কের ও রামায়ণের উত্তর কাণ্ডের বঙ্গানুবাদ, ১৮৬০)।
• ‘ভ্রান্তিবিলাস' (শেক্সপিয়ারের Comedy of Errors-এর বঙ্গানুবাদ, ১৮৬৯)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪৮৭.
সুশৃঙ্খল গদ্যের পথিকৃৎরূপে বিদেশীদের ব্যবহারের ও শিক্ষার উপযোগী গ্রন্থ কোনটি?
  1. কথোপকথন
  2. রাজাবলি
  3. তোতা ইতিহাস
  4. বত্রিশ সিংহাসন
সঠিক উত্তর:
কথোপকথন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কথোপকথন
ব্যাখ্যা

• 'কথোপকথন':
- উইলিয়াম কেরি সুশৃঙ্খল গদ্যের পথিকৃৎরূপে বিদেশীর ব্যবহারের ও শিক্ষার উপযোগী করে ১৮০১ সালে 'কথোপকথন' গ্রন্থটি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশ করেন।
- গ্রন্থে গৃহীত কথোপকথনগুলো সে আমলের কলকাতা-শ্রীরামপুর অঞ্চলের সকল স্তরের স্ত্রীপুরুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, সামাজিক রীতিনীতি, ধর্ম ও আচারব্যবহার নিয়ে রচিত।

- এই গ্রন্থে চাকর ভাড়াকরণ, সাহেবের হুকুম, সাহেব ও মুনশীর পরামর্শ, ভোজনের কথা, যাত্রা, পরিচয়, ভূমির কথা, মহাজন, আসামি, বাগান করার হুকুম, ভদ্রলোকে ভদ্রলোকে কথাবার্তা, প্রাচীনে প্রাচীনে কথাবার্তা, সুপারিশ, মজুরের কথাবার্তা, খাতক মহাজনি, ঘটকালি, হাটের বিষয়, স্ত্রীলোকের হাট করা, জেলেদের কথাবার্তা, ভিক্ষুকের কথা, কাজের চেষ্টার কথা, কোন্দল বা ঝগড়া, স্ত্রীলোকে স্ত্রীলোকে কথাবার্তা, 'মাইয়া কন্দল', জমিদার রায়তের কথা ইত্যাদি বিষয়াবলম্বনে কথোপকথন রচিত হয়েছে।

- উইলিয়াম কেরি সহজ ও বাস্তব ভঙ্গিতে বক্তব্য পরিবেশন করেছেন। গ্রন্থের কোথাও অবিমিশ্র সাধু আবার কোথাও কথ্য ভাষাশ্রিত রচনারীতি স্থান পেয়েছে।

- বাংলা ভাষার কথ্যরীতির প্রথম নিদর্শন এই গ্রন্থে বিধৃত। সে যুগের সামাজিক ও ব্যবহারিক রীতিনীতির বিশেষ পরিচয় হিসেবেও এগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

- কথোপকথন গ্রন্থটি ছিল দ্বিভাষিক এক পৃষ্ঠায় বাংলা, অপর পৃষ্ঠায় ইংরেজি।

অন্যদিকে, 
• 'রাজাবলি': কিংবদন্তি ও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত 'রাজাবলি' (১৮০৮) গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠু রূপ নিয়েছে।
আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

• 'তোতা ইতিহাস' উপাখ্যান: চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত গ্রন্থ 'তোতা ইতিহাস' একটি উপাখ্যান যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।
এটি প্রকাশিত হয় ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে। এটি ফারসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত।

• বত্রিশ সিংহাসন: এটি মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। 'বত্রিশ সিংহাসন' (১৮০২) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার অনূদিত কাহিনি সংকলন।বাংলা গদ্যের আদিপর্বের ইতিহাসে এই রচনাটি উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৪৮৮.
মহাকাব্যিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) সংশপ্তক
  2. খ) গায়ত্রী সন্ধা
  3. গ) আগুন পাখি
  4. ঘ) জাহান্নাম হইতে বিদায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) জাহান্নাম হইতে বিদায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জাহান্নাম হইতে বিদায়
ব্যাখ্যা

যে উপন্যাসের ব্যাপ্তি ও পরিধি মহাকাব্যের মতো বিশাল ও ব্যাপক, যে উপন্যাসে ভাষা ও দ্বন্দ্বে মহাকাব্যের ব্যঞ্জনা থাকে তাকে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলে।
যেমন :
- সেলিনা হোসেনের গায়ত্রী সন্ধ্যা 
- মীর মশাররফ হোসেনের বিষাদ-সিন্ধু
- শহীদুল্লাহ কায়সারের সংশপ্তক
- হাসান আজিজুল হকের আগুন পাখি
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের চিলে কোঠার সেপাই
 
জাহান্নাম হইতে বিদায় শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস : সাহিত্য বিষয়ক সাময়িকী। 

৪৮৯.
তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) পূর্বাশা
  2. খ) নবশক্তি
  3. গ) মোহম্মদী
  4. ঘ) ত্রিপুরা
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) মোহম্মদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মোহম্মদী
ব্যাখ্যা
তিতাস একটি নদীর নাম - উপন্যাসটি মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায় প্রকাশিত হয় বাংলা ১৩৫২ সাল মোতাবেক ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে, তা ১৯৫৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এর চারটি খন্ড। ১৯৭৩ সালে এই উপন্যাস অবলম্বনে পরিচালক ঋত্বিক ঘটক চলচ্চিত্র নির্মান করেন। লেখকের অন্যান্য উপন্যাস- নয়া বসত, রামধনু, সাদা হাওয়া। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৯০.
বাঙালি রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. রাজাবলি
  2. হিতোপদেশ
  3. প্রবোধচন্দ্রিকা
  4. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
সঠিক উত্তর:
রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
ব্যাখ্যা
'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র':
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'।
- এটি ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাঙালি রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ হলো 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'।

অন্যদিকে,
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ - রাজাবলি, হিতোপদেশ এবং প্রবোধচন্দ্রিকা।

রামরাম বসু:
- তিনি ছিলেন ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের শিক্ষক। 
- কেরী সাহেবের মুন্শি‌ হিসাবে খ্যাত ছিলেন রামরাম বসু।

রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ:
- রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র।
- লিপিমালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৯১.
নাটক ও প্রহসনে পার্থক্য -
  1. উপাখ্যান
  2. ব্যঙ্গ বিদ্রপ
  3. সংলাপ
  4. চরিত্র
সঠিক উত্তর:
ব্যঙ্গ বিদ্রপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঙ্গ বিদ্রপ
ব্যাখ্যা
• নাটক অর্থ: সংলাপের আকারে রচিত এবং অভিনয়ের ‍উপযোগী দৃশ্যকাব্য।
• প্রহসন অর্থ: হাস্য রসাত্মক নাটক ও ব্যঙ্গ বিদ্রুপ নাটক।

⇒ প্রহসন:
প্রহসন হাস্যরসপ্রধান স্বল্পদৈর্ঘ্য নাট্যধর্মী রচনা। এতে হাস্য ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের আবরণে সমাজের অনৈতিকতা, অনাচার, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও রক্ষণশীলতা এবং প্রাত্যহিক জীবনের ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ তুলে ধরা হয়। পূর্ণাঙ্গ নাটকের মতো প্রহসনে বিষয়বস্ত্তর বিস্তার ও জটিলতা, রচয়িতার গভীর জীবনবোধ, চরিত্রের সমগ্রতা এবং কাহিনীর পারম্পর্যপূর্ণ অগ্রগমন অনুপস্থিত। বরং নকশাধর্মী কাহিনীর মাধ্যমে ঘটনা ও বিষয়বস্ত্তর অতিকথন, টাইপ চরিত্রের সংযোগ এবং হাসি ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ সহযোগে খন্ডজীবনের একটি উপভোগ্য নাট্যরূপায়ণই এর প্রধান বৈশিষ্ট্য। 

⇒ নাটক:
মঞ্চে অভিনেতা অভিনেত্রীদের সাহায্যে মানবজীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ বেদনা যখন সংলাপের আশ্রয়ে দর্শকের সামনে উপস্থিত করা হয়, তখন তা হয় নাটক। মঞ্চে অভিনেতা-অভিনেত্রী কর্তৃক অভিনীত হবে এ উদ্দেশ্য নিয়েই নাট্যকার নাটক রচনা করেন। 'নাটক' শব্দটির মধ্যেই রয়েছে এ সত্যের ইঙ্গিত।

তাই বলা যায়, নাটক ও প্রহসনে পার্থক্য হলো ব্যঙ্গবিদ্রূপ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলাপিডিয়া এবং উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯২.
’বাকের ভাই’ চরিত্রটি হুমায়ূন আহমেদের কোন নাটকে পাওয়া যায়?
  1. ক) আজ রবিবার
  2. খ) নক্ষত্রের রাত
  3. গ) কোথাও কেউ নেই
  4. ঘ) এইসব দিনরাত্রি
সঠিক উত্তর:
গ) কোথাও কেউ নেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কোথাও কেউ নেই
ব্যাখ্যা
আশির দশকে বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটক ও ধারাবাহিক নাটকের ইতিহাসে হুমায়ূন আহমেদ আলোড়ন সৃষ্টি করেন।
• হুমায়ূনের প্রথম টেলিভিশন নাটক প্রথম প্রহর (১৯৮৩, পরিচালনা- নওয়াজেস আলী খান)।
• তাঁর প্রথম ধারাবাহিক নাটক এইসব দিনরাত্রি বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়।

এ ছাড়া অন্যান্য জনপ্রিয় ধারাবাহিকের মধ্যে আছে:
- বহুব্রীহি (কমেডি),
- অয়োময় (সামাজিক-ঐতিহাসিক),
- কোথাও কেউ নেই (নাগরিক জীবনভিত্তিক),
- আজ রবিবার (পারিবারিক-সামাজিক),
- নক্ষত্রের রাত (আধুনিক জীবনসমস্যা) এবং অসংখ্য একক ও ধারাবাহিক নাটক।

কোথাও কেউ নেই নাটকের ’বাকের ভাই’ চরিত্রটি প্রবল  জনপ্রিয়তা লাভ করে । একটি নাটক ও তার চরিত্র কতটা বস্ত্তনিষ্ঠ ও জীবনধর্মী হলে দর্শক এ ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে পারে, তা একমাত্র হুমায়ূন আহমেদের নাটকেই প্রতীয়মান হয়ে ওঠে।

• তাঁর কল্পনাশক্তি এক একটি চরিত্রকে পাঠকের অন্তরে ঠাঁই করে দেয়। হিমু, মিসির আলি, শুভ্র, বাকের ভাই - এরা এই শ্রেণির চরিত্র। এদের মধ্যে আছে প্রগাঢ় মানবিক মূল্যবোধ ও বৈশিষ্ট্য। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
 
৪৯৩.
ভাষার প্রথম মৌলিক নাটক 'ভদ্রার্জুন' কত সালে রচিত হয়?
  1.  ১৭৫২ সালে 
  2.  ১৮৫২ সালে 
  3.  ১৮৫৪ সালে 
  4.  ১৮৫৫ সালে 
সঠিক উত্তর:
 ১৮৫২ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ১৮৫২ সালে 
ব্যাখ্যা

• 'ভদ্রার্জুন' নাটক:
- ১৮৫২ সালে রচিত তারাচাঁদ শিকদারের 'ভদ্রার্জুন' কেই বাংলা ভাষার প্রথম মৌলিক নাটক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
- ‘ভদ্রার্জুন' ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।
- ‘ভদ্রার্জুন' নাটকের কাহিনি অর্জুন কর্তৃক সুভদ্রাহরণ। মহাভারত থেকে কাহিনি সংগ্রহ করা হলেও বাঙালি সমাজের বাস্তব পরিবেশ এতে অঙ্কিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৪৯৪.
বাংলা ভাষার প্রথম মৌলিক নাটক - 
  1. চারুমুখ চিত্তহারা 
  2. কংসবধ 
  3. ভদ্রার্জুন
  4. চক্ষুদান 
সঠিক উত্তর:
ভদ্রার্জুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভদ্রার্জুন
ব্যাখ্যা

• 'ভদ্রার্জুন' নাটক:
- ১৮৫২ সালে রচিত তারাচাঁদ শিকদারের 'ভদ্রার্জুন' কেই বাংলা ভাষার প্রথম মৌলিক নাটক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
- ‘ভদ্রার্জুন' ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।
- ‘ভদ্রার্জুন' নাটকের কাহিনি অর্জুন কর্তৃক সুভদ্রাহরণ। মহাভারত থেকে কাহিনি সংগ্রহ করা হলেও বাঙালি সমাজের বাস্তব পরিবেশ এতে অঙ্কিত হয়েছে।

অন্যদিকে, 
• কংসবধ ও চক্ষুদান রামনারায়ণ তর্করত্ন রচিত নাটক। 
• 'চারুমুখ চিত্তহারা' হরচন্দ্র ঘোষের অনুবাদ নাটক। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৪৯৫.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস-
  1. গাভী বিত্তান্ত
  2. সূর্য তুমি সাথী
  3. ওঙ্কার
  4. নিহত নক্ষত্র
সঠিক উত্তর:
ওঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওঙ্কার
ব্যাখ্যা

• আহমদ ছফা প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থী সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক ছিলেন।
• তাঁর প্রথাবিরোধী, নির্মোহ, অকপট দৃষ্টিভঙ্গীর জন্য বুদ্ধিজীবী মহল বিশেষ আলোচিত ছিলেন।
• তাঁর উনসত্তরের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস- ওঙ্কার।
• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- সূর্য তুমি সাথী,
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন,
- মরণবিলাস,
- গাভী বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৪৯৬.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের গদ্যরীতিতে রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ইতিহাসমালা
  2. লিপিমালা
  3. রাজাবলি
  4. তোতা ইতিহাস
সঠিক উত্তর:
রাজাবলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজাবলি
ব্যাখ্যা

• 'রাজাবলি':
- কিংবদন্তি ও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত 'রাজাবলি' (১৮০৮) গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠু রূপ নিয়েছে।
- আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- উইলিয়াম কেরি রচিত গ্রন্থ- ইতিহাসমালা (১৮১২)। 
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ- লিপিমালা (১৮০২)। 
- চণ্ডীচরণ মুর্শী রচিত গ্রন্থ- তোতা ইতিহাস (১৮০৫)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

৪৯৭.
'শ্রীরামপুর মিশন' কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৮০২ সালে
  2. ১৮১৫ সালে
  3. ১৮০০ সালে
  4. ১৮১০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮০০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০০ সালে
ব্যাখ্যা

শ্রীরামপুর মিশন:
- শ্রীরামপুর মিশন (১৮০০-১৮৪৫) ভারতের প্রথম নিজস্ব প্রচারক সংঘ।
- ১৮০০ সালের ১০ জানুয়ারী উইলিয়াম কেরি ও ভ্রাতৃবৃন্দ এ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।
- মিশন হুগলি জেলার দুটি স্থান থেকে বাংলায় যীশুর বাণী প্রচার শুরু করে।
- উইলিয়াম কেরি ‘ব্যাপটিস্ট মিশনারি সোসাইটি’র প্রতিনিধি হিসেবে ১৭৯৩ সালে বাংলায় আসেন খ্রিস্টধর্ম প্রচার করতে।

উইলিয়াম কেরি:
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে এই বিদেশের অবদান সর্বাধিক।
- তিনি ইতিহাসমালা ও কথোপকথন নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- ইতিহাসমালা বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ।
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

উইলিয়াম কেরি রচিত গ্রন্থ,
- কথোপকথন,
- ইতিহাসমালা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৪৯৮.
সৈয়দ মুজতবা আলী’র উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) পঞ্চতন্ত্র
  2. খ) অবিশ্বাস্য
  3. গ) চাচা কাহিনী
  4. ঘ) জলে-ডাঙায়
সঠিক উত্তর:
খ) অবিশ্বাস্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অবিশ্বাস্য
ব্যাখ্যা
বার্লিন প্রবাসী বাঙালী তরুণ ছাত্রদের নিয়ে রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ 'চাচা কাহিনী' রচনা করেন সৈয়দ মুজতবা আলী। তার রচিত বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে ভ্রমণকাহিনীঃ দেশে-বিদেশে (১৯৪৯), জলে-ডাঙায় (১৯৬০); উপন্যাসঃ অবিশ্বাস্য, শবনম; রম্যরচনাঃ পঞ্চতন্ত্র উল্লেখযোগ্য।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৪৯৯.
তেভাগা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত সেলিনা হোসেনের উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি
  2. খ) পোকা মাকড়ের ঘরবসতি
  3. গ) যাপিত জীবন
  4. ঘ) কাঁটাতারে প্রজাপতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাঁটাতারে প্রজাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাঁটাতারে প্রজাপতি
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নারী ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেনের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসঃ জলোচ্ছ্বাস, হাঙর নদী গ্রেনেড (মুক্তিযুদ্ধের সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত), যাপিত জীবন (৪৭ থেকে ৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঘটনা অবলম্বনে রচিত), পোকামাকড়ের ঘরবসতি (শাহ পরীর দ্বীপের মানুষদের নিয়ে লেখা) ইত্যাদি। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৫০০.
কত সালে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন?
  1. ১৮০০ সালে
  2. ১৮০২ সালে
  3. ১৮০১ সালে
  4. ১৮০৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮০১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০১ সালে
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয়‌ বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলােচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।