বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের ইতিহাস ও সমসাময়িক ঘটনা

মোট প্রশ্ন৪৯৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের ইতিহাস ও সমসাময়িক ঘটনা

PrepBank · পাতা / · ৩০১৪০০ / ৪৯৬

৩০১.
জুলাই ঘোষণাপত্রে মোট কতটি ধারা অন্তর্ভুক্ত আছে?
  1. ২৮টি 
  2. ২৬টি 
  3. ২৫টি 
  4. ২৩টি 
সঠিক উত্তর:
২৮টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৮টি 
ব্যাখ্যা

• জুলাই ঘোষণাপত্র:
- ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ হলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের একটি দলিল যার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
- অন্যদিকে জুলাই জাতীয় সনদ হলো রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে ঐকমত্যের একটি রাজনৈতিক দলিল।
- অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ৫ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে র ‘৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেছেন।

⇒ জুলাই ঘোষণাপত্রে ২৮টি ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- জুলাই ঘোষণাপত্রের ২৪ নং ধারায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের 'জাতীয় বীর' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
- ২৪ নং ধারা: সেহেতু বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

উৎস: প্রথম আলো।

৩০২.
ড. মিলন কোন আন্দোলনে শহিদ হয়?
  1. ছয় দফা আন্দোলন
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. শিক্ষা আন্দোলন
  4. নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন
ব্যাখ্যা
স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন:
- ডা. মিলন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় শহিদ হয়েছিলেন।
- ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর, ছাত্র-জনতা-পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর আন্দোলনের ফলে স্বৈরাচারী শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতন ঘটেছিল।
- নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর ঢাকার জিরো পয়েন্টে পুলিশের গুলিতে নূর হোসেন মারা যান। তাঁর গায়ে সাদা রঙ দিয়ে লেখা ছিল "স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক"।
- এই আন্দোলনে প্রাণ হারান নূর হোসেন, সেলিম, দেলোয়ার, তাজুল, ডা. মিলন, নূরুল হুদা, বাবুল, ফাত্তাহসহ অনেক আন্দোলনকারী।
- শেষপর্যন্ত, স্বৈরাচারী শাসক এরশাদকে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য করা হয়।

উৎস:  প্রথম আলো ও বাংলাপিডিয়া।
৩০৩.
’মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচী কত তারিখে পালিত হয়?
  1. ১৫ জুলাই, ২০২৪
  2. ২৮ জুলাই, ২০২৪
  3. ৩১ জুলাই, ২০২৪
  4. ৫ আগস্ট, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
৩১ জুলাই, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩১ জুলাই, ২০২৪
ব্যাখ্যা

জুলাই অভ্যুত্থান:
- বাংলাদেশে গণআন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটানোর ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’।
- সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই, ২০২৪ তারিখে গঠিত হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

⇒ সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের ২০১৮ সালের প্রজ্ঞাপন ৫ জুন, ২০২৪ হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করলে তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে অসন্তোষের শুরু হয়।
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ১ জুলাই, ২০২৪ থেকে তাদের আন্দোলন শুরু হয়।
- শুরুতে এ আন্দোলন অহিংস ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেপরোয়া হলে ১৫ জুলাই, ২০২৪ আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়, যার শেষ পরিণতি ঘটে ৫ আগস্ট, ২০২৪ পতন ঘটে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী সরকার শেখ হাসিনার।

⇒ ৩০ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচী পালন করার ঘোষণা দিয়েছে।
- ৩১ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচী পালন করেছে। ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
- ৫ আগস্ট, ২০২৪ পতন ঘটে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী সরকার শেখ হাসিনার।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।

৩০৪.
বর্তমানে জুলাই শহীদের সংখ্যা কত? (সেপ্টেম্বর, ২০২৫)
  1. ৮৪৪ জন
  2. ৮৪০ জন
  3. ৮৩৬ জন
  4. ৮৩৪ জন
সঠিক উত্তর:
৮৩৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮৩৬ জন
ব্যাখ্যা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪:
- বর্তমানে জুলাই শহীদের সংখ্যা ৮৩৬ জন।
- ১৫ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শহীদদের ৮৩৪ জনের তালিকা প্রথম গেজেট আকারে প্রকাশ করে সরকার।
- পরবর্তীতে আরো ১০ জন যুক্ত করে শহীদদের তালিকা হয় ৮৪৪ জন।
- ৩ আগস্ট, ২০২৫ ৮ জনের নাম বাদ দিয়ে আরেকটি গেজেট করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
- এদের মধ্যে চারজনের নাম গেজেটে দুবার এসেছে। বাকি চারজন সরাসরি জুলাই আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন না।
- আটজন বাদ দেওয়ার পর সংশোধিত তালিকায় বর্তমানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৬ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

৩০৫.
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪ এর প্রেক্ষাপট কী ছিল?
  1. নিরাপদ সড়ক
  2. ভিন্নমত দমন
  3. কোটা সংস্কার
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
কোটা সংস্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোটা সংস্কার
ব্যাখ্যা

- ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের (জুলাই বিপ্লব) প্রেক্ষাপট ছিল সরকারি চাকরিতে ৩০% কোটা (মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য) পুনর্বহালের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার প্রতিবাদ।
- এটি জুন মাসে শুরু হয়ে জুলাইতে সহিংসতায় পরিণত হয়, যা পরে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটায় ।
- অন্যান্য বিকল্পগুলো (বৈষম্য নিরসন, ভিন্নমত দমন, নিরাপদ সড়ক) এর সাথে সরাসরি যুক্ত নয়।
- যদিও আন্দোলনের পরে বৈষম্যের বিষয় উঠে আসে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন:
- ০১ জুলাই ২০২৪: কোটা বাতিলের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসমাবেশ ও
বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয় ৷
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ৪ জুলাইয়ের মধ্যে দাবির বিষয়ে চূড়ান্ত সুরাহার আহ্বান জানানো হয়। এ সময় 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন'র পক্ষ থেকে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
- জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) তথ্যানুসন্ধানী দলের প্রতিবেদনে বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিক্ষোভ-সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১ হাজার ৪০০ জনে।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

৩০৬.
জুলাই জাতীয় সনদে কয়টি প্রস্তাব রয়েছে?
  1. ৮৪টি
  2. ৮৬টি
  3. ৮৮টি
  4. ৯০টি
সঠিক উত্তর:
৮৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮৪টি
ব্যাখ্যা

জুলাই জাতীয় সনদ:
- ছয়টি সংস্কার কমিশনের ৮৪টি প্রস্তাব নিয়ে তৈরি হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ।
- ১৭অক্টোবর, ২০২৫ এ জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হয়।
- এর মধ্যে ৪৮টি প্রস্তাব সংবিধান-সম্পর্কিত।
- সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের জন্যই জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ১৩ নভেম্বর জারি হয়েছে এবং তা নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

৩০৭.
'জুলাই গণঅভ্যুত্থান' - এ গেজেটভুক্ত শহীদের সংখ্যা কত?
  1. ৮৩৪
  2. ৮৬৪
  3. ৮৩৮
  4. ৮৫৪
সঠিক উত্তর:
৮৩৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮৩৪
ব্যাখ্যা
• জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ২০২৪–এ শহীদদের তালিকা:
- জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ২০২৪–এ শহীদদের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
- সেখানে গেজেট প্রকাশের তারিখ লেখা হয়েছে ১৫ জানুয়ারি, ২০২৪।
- সরকারি গেজেট অনুযায়ী, গণ–অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৪ জন।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৩০৮.
বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় কখন?
  1. ৭ মার্চ ১৯৭২
  2. ৭ মার্চ ১৯৭৩
  3. ১৭ এপ্রিল ১৯৭৩
  4. ১০ মার্চ ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
৭ মার্চ ১৯৭৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ মার্চ ১৯৭৩
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন:
- তারিখ: ৭ মার্চ ১৯৭৩।
- উদ্দেশ্য: স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- গণপরিষদের অবসান: বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর গণপরিষদ ভেঙ্গে দেয়া হয়।
- প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল: আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য ১৪টি দল।
- প্রার্থীর সংখ্যা: মোট প্রার্থী: ১,২০৯ জন।
- দলীয় প্রার্থী: ১,০৮৯ জন।
- স্বতন্ত্র প্রার্থী: ১২০ জন।
- নারী প্রার্থী: ১৫ জন।
- নির্বাচনী ফলাফল:
- আওয়ামী লীগ: ৩০৮টি আসন (সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ)।
- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ): ১টি আসন।
- বাংলাদেশ জাতীয় লীগ: ১টি আসন।
- স্বতন্ত্র প্রার্থী: ৫টি আসন।
- জাতীয় সংসদ আসন সংখ্যা (মহিলা সংরক্ষিত আসনসহ): ৩১৫টি।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭৩ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুটি আসন হারায়।
- তবে সেই সময় জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত ১৫টি আসনের সবগুলোই লাভ করে আওয়ামী লীগ।
- এর ফলে সংসদে মোট ৩১৫টি আসনের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আসনসংখ্যা ছিল ৩০৬।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, প্রথম আলো।
৩০৯.
'জুলাই গণঅভ্যুত্থান -২০২৪' এর একদফা ঘোষণা হয় কত তারিখে?
  1. ৩১ জুলাই
  2. ২ আগস্ট
  3. ৩ আগস্ট
  4. ৪ আগস্ট
সঠিক উত্তর:
৩ আগস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ আগস্ট
ব্যাখ্যা
 • ৩ আগস্ট ২০২৪ :
- কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ঘোষণা করেন যে তাদের সরকারের সাথে আলোচনার কোন পরিকল্পনা নেই এবং হাসিনার পদত্যাগ এবং ‘সবার কাছে গ্রহণযোগ্য’ একজন ব্যক্তির নেতৃত্বে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের দাবিতে লংমার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- হাসিনা আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ছাত্ররা তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
- বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে, প্রধান সমন্বয়কদের একজন নাহিদ ইসলাম শহিদ মিনারে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করেন, যেখানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার পদত্যাগের জন্য একক দাবি ঘোষণা করে এবং আহ্বান জানায়।

• জুলাই গণঅভ্যুত্থান/ জুলাই বিপ্লব:
-জুলাই গণঅভ্যুত্থান/ জুলাই বিপ্লব নামে পরিচিত ছাত্র-জনতার আন্দোলন হচ্ছে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক গণঅভ্যুত্থান যা ২০২৪ সালের ৫ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অগণিত প্রাণ বিসর্জন দেয়ার মধ্য দিয়ে বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।
- ঐতিহাসিক এই বিপ্লবের বিজয়ের ধারার সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবির আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
- এটি পরে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে আরো প্রবল হয়ে উঠেছিল যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চূড়ান্ত রূপ লাভ করে শেখ হাসিনার পদত্যাগের মাধ্যমে।

উৎস: বাসস।
৩১০.
স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে কবে 'বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা' প্রদান করা হয়?
  1. ২০০৮ সালে
  2. ২০০৯ সালে
  3. ২০১০ সালে
  4. ২০১১ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১১ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ সরকার তিন ক্যাটাগরিতে সম্মাননা প্রদান করে।
- এর মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মাননা হিসেবে বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা প্রদান করা হয়।
- বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা প্রদান করা হয় ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীকে।
- ২৫ জুলাই ২০১১ তারিখে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হয়েছিল।
- এই পুরস্কার বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার সহযোগী হিসাবে এবং এই জাতীয় জটিল আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিচালনা করার দক্ষতার স্বীকৃতি দেয়।
- এছাড়া ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রনব মুখার্জি সহ মোট ১৫ জনকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
- মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা প্রদান করা হয় ৩১২ জন ব্যক্তি ও ১০টি সংগঠনকে।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৩১১.
সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছিল কত তারিখে?
  1. ৫ জুন
  2. ১ জুলাই
  3. ৫ জুলাই
  4. ১৫ জুলাই
সঠিক উত্তর:
১ জুলাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ জুলাই
ব্যাখ্যা

• জুলাই অভ্যুত্থান:
- বাংলাদেশে গণআন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটানোর ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’।
- সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই, ২০২৪ আন্দোলনে নামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
- শুরুতে এ আন্দোলন অহিংস ছিল।
- কিন্তু পরবর্তীকালে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেপরোয়া হলে ১৫ জুলাই, ২০২৪ আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়।
- অতঃপর শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন প্রবল আকার ধারণ করে।
- সহিংসতার মাত্রা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে।
- যার শেষ পরিণতি ঘটে ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মাধ্যমে।
- ৫ আগস্ট, ২০২৪ পতন ঘটে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী সরকার শেখ হাসিনার। 

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।

৩১২.
প্রথম 'জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ' কোন জেলায় নির্মিত হয়েছে?
  1. ঢাকা 
  2. নারায়ণগঞ্জ
  3. রংপুর 
  4. চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
নারায়ণগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারায়ণগঞ্জ
ব্যাখ্যা

দেশের প্রথম জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ:
- দেশের প্রথম 'জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ' নারায়ণগঞ্জ জেলায় নির্মিত হয়েছে।

⇒ নারায়ণগঞ্জে ২১ জন শহীদের নামে নির্মিত হয়েছে দেশের প্রথম ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’।
- ১৪ জুলাই, ২০২৫ তারিখে নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জ এলাকায় স্মৃতিস্তম্ভটি উদ্বোধন করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৫ উপদেষ্টা। তারা হলেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। 
- বৈষম্যের বিরুদ্ধে টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনে, অর্থাৎ ৩৬ জুলাই পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে শহীদ হন ৫৬ জন, আহত হন ৩৭০ জন।
- নিহতদের মধ্যে ২১ জন ছিলেন নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা।
- শহীদদের স্মরণে সরকারি উদ্যোগে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় নির্মিত হয়েছে এই স্মৃতিস্তম্ভ।

উৎস: i) যুগান্তর।
ii) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।

৩১৩.
দেশের প্রথম 'জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ' কোথায় অবস্থিত?
  1. রংপুর
  2. নারায়ণগঞ্জ
  3. চট্টগ্রাম 
  4. বগুড়া
সঠিক উত্তর:
নারায়ণগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারায়ণগঞ্জ
ব্যাখ্যা

দেশের প্রথম জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ:
- দেশের প্রথম 'জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ' নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত।

⇒ নারায়ণগঞ্জে ২১ জন শহীদের নামে নির্মিত হয়েছে দেশের প্রথম ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’।
- ১৪ জুলাই, ২০২৫ তারিখে নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জ এলাকায় স্মৃতিস্তম্ভটি উদ্বোধন করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৫ উপদেষ্টা। তারা হলেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। 
- বৈষম্যের বিরুদ্ধে টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনে, অর্থাৎ ৩৬ জুলাই পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে শহীদ হন ৫৬ জন, আহত হন ৩৭০ জন।
- নিহতদের মধ্যে ২১ জন ছিলেন নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা।
- শহীদদের স্মরণে সরকারি উদ্যোগে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় নির্মিত হয়েছে এই স্মৃতিস্তম্ভ।

উৎস: i) যুগান্তর।
ii) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।

৩১৪.
'জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর' প্রতিষ্ঠা করা হয় কবে?
  1. ৩০ আগস্ট, ২০২৪
  2. ২৭ অক্টোবর, ২০২৪
  3. ২৩ এপ্রিল, ২০২৫
  4. ৩০ এপ্রিল, ২০২৫
সঠিক উত্তর:
২৩ এপ্রিল, ২০২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ এপ্রিল, ২০২৫
ব্যাখ্যা

জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরঃ 
- ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহিদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চূড়ান্তকরণ, আহতদের চিকিৎসা এবং শহিদের পরিবারবর্গকে সহায়তা প্রদান এর মুল লক্ষ্য।
- ২৭ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখের প্রজ্ঞাপন দ্বারা 'গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেল' গঠন করা হয়।
- সরকার কর্তৃক ২৩ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর' প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- 'জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫' গত ১৭ জুন, ২০২৫ তারিখে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
- ২০ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিধিমালা, ২০২৫ এর প্রজ্ঞাপন গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

উৎস: জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর [লিঙ্ক]।

৩১৫.
সরকারি এ গেজেট অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা কতজন?
  1. ৮৩৪ জন
  2. ৮৩৫ জন
  3. ৮৩৬ জন
  4. ৮৩৮ জন
সঠিক উত্তর:
৮৩৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮৩৬ জন
ব্যাখ্যা

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর শহীদদের গেজেট:
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এ শহীদদের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে সরকার।
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এটি প্রকাশ করেছে।
- সরকারি এ গেজেট অনুযায়ী, ওই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৬ জন।
- সরকারি গেজেট অনুযায়ী, ২ আগস্ট পর্যন্ত শহীদের সংখ্যা ছিল ৮৪৪ জন। ৩ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে ৮ জনের নাম বাদ দিয়ে আরেকটি গেজেট করেছে মন্ত্রণালয়। এই গেজেট অনুযায়ী, শহীদের সংখ্যা এখন ৮৩৬ জন।
উল্লেখ্য,
- ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ তহবিল করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও প্রথম আলো।

৩১৬.
স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নূর হোসেন কত তারিখ শহীদ হয়েছিলেন?
  1. ২ নভেম্বর, ১৯৮৭
  2. ৪ নভেম্বর, ১৯৮৭
  3. ৭ নভেম্বর, ১৯৮৭
  4. ১০ নভেম্বর, ১৯৮৭
সঠিক উত্তর:
১০ নভেম্বর, ১৯৮৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ নভেম্বর, ১৯৮৭
ব্যাখ্যা
নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন:
- স্বাধীন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অধিকার আন্দোলনের উজ্জ্বলতম অধ্যায় নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান।
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তার ক্ষমতা দখলের পর থেকেই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
- টানা ৯ বছর আন্দোলনের পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের দুর্বার আন্দোলনেই পতন ঘটে স্বৈরশাসক এরশাদের।
- ধারাবাহিক আন্দোলনের এক পর্যায়ে শিক্ষার্থী জেহাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।
- সে হামলায় নিহত হন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম মহাসচিব ডা. শামসুল আলম খান মিলন।
- এর পর সারাদেশের শহর-বন্দর, এমনকি গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন।
- অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এরশাদ।

উল্লেখ্য,
- সেই আন্দোলনের সময় গণতন্ত্রের দাবিতে বুকে-পিঠে শ্লোগান লিখে রাস্তায় নামা এক তরুণ নূর হোসেন পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর নূর হোসেন শহিদ হন।

⇒ নূর হোসেনের লেখা শ্লোগান -
- বুকে 'স্বৈরাচার নীপাত যাক' এবং পিঠে 'গণতন্ত্র মুক্তি পাক'।

অন্যদিকে,
- মতিউর এবং আসাদুজ্জামান উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে মারা যান।

তথ্যসূত্র - ৬ ডিসেম্বর ২০২০, বিবিসি বাংলা।
৩১৭.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ হলেন-
  1. আব্দুল আহাদ
  2. শহীদ মুগ্ধ
  3. আবু সাইদ
  4. আবু কাহার
সঠিক উত্তর:
আব্দুল আহাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল আহাদ
ব্যাখ্যা

• জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ:
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ আব্দুল আহাদ।
- ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নিহত হয় ৪ বছরের শিশু আব্দুল আহাদ। 
- শহীদ আব্দুল আহাদ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামের আবুল হাসান ও মা সুমি আক্তারের পুত্র। 

উল্লেখ্য,
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ এলাকায় ৮ তলার উপর তার বাবা-মায়ের মাঝে বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল আব্দুল আহাদ।
- এ সময় বাসার নিচে ছাত্রলীগ ও পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নিহত হয় আহাদ।
- সে ‘জুলাই সর্বকনিষ্ঠ যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত।

উৎস: i) জুলাই আর্কাইভ।
ii) যুগান্তর।

৩১৮.
জেনারেল এম.এ.জি ওসমানী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল কোনটি?
  1. ক) জাতীয় লীগ
  2. খ) জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল
  3. গ) জাতীয় জনতা পার্টি
  4. ঘ) আজাদী লীগ
সঠিক উত্তর:
গ) জাতীয় জনতা পার্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জাতীয় জনতা পার্টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ এবং পরিবর্তী সময়কার রাজনৈতিক দলসমূহ: 
- আতাউর রহমান খান কর্তৃক গঠিত জাতীয় লীগ (১৯৭০),
- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ, ১৯৭২),
- জেনারেল এম.এ.জি ওসমানী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত জাতীয় জনতা পার্টি (১৯৭৬),
- আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশের নেতৃত্বাধীন গণ আজাদী লীগ (১৯৭৬), 
- খোন্দকার মোশতাক আহমদের নেতৃত্বাধীন গঠিত বাংলাদেশ ডেমোক্র্যাটিক লীগ (১৯৭৬)।

উৎস: Live MCQ লেকচার।
৩১৯.
১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ যে 'গণপরিষদ আদেশ' জারি করা হয় তা কখন থেকে কার্যকর বলে উল্লেখ করা হয়েছিল?
  1. ক) ২৪ মার্চ, ১৯৭২
  2. খ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ঘ) ২৬ মার্চ, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৬ মার্চ, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৬ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
গণপরিষদ আদেশ
• গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ জারি করেন। আদেশটি ২৬ মার্চ, ১৯৭১ সাল থেকে কার্যকর হয়।
• এই আদেশ অনুসারে ডিসেম্বর, ১৯৭০ এবং জানুয়ারি, ১৯৭১ সালে নির্বাচিত প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদের সদস্যগণ গণপরিষদের সদস্য বলে বিবেচিত হয়। মৃত্যু এবং আইনে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার ফলে উভয় পরিষদ মিলে সর্বমোট ৪৬৯ জন সদস্যের স্থলে ৪০৪ জন সদস্য নিয়ে গণপরিষদ গঠিত হয়।
• এই গণপরিষদের উপর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জন্য সংবিধান প্রণয়নের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। গণপরিষদ তার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একজন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করে। 

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২০.
কোন সংশোধনীর মাধ্যমে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে সাংবিধানিক বৈধতা দেওয়া হয়েছিলো?
  1. ক) চতুর্থ সংশোধনী
  2. খ) পঞ্চম সংশোধনী
  3. গ) সপ্তম সংশোধনী
  4. ঘ) অষ্টম সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
খ) পঞ্চম সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পঞ্চম সংশোধনী
ব্যাখ্যা

- ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মুশতাক আহমেদ কুখ্যাত ইমডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন।
- এ অধ্যাদেশের মাধ্যমে ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়। তাদের বিচারের আওতায় আনা যাবে না মর্মে ঘোষণা দেয়া হয়।
- ১৯৭৯ সালের ৫ এপ্রিল জাতীয় সংসদে গৃহিত সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে জিয়াউর রহমান সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে সাংবিধানিক বৈধতা প্রদান করে।
- পরবর্তীতে, ১২ নভেম্বর ১৯৯৬ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)

৩২১.
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কবে গঠিত হয়?
  1. ২০২৪ সালের ১২ জুলাই
  2. ২০২৪ সালের ১ জুন
  3. ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই
  4. ২০২৪ সালের ১ জুলাই
সঠিক উত্তর:
২০২৪ সালের ১ জুলাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০২৪ সালের ১ জুলাই
ব্যাখ্যা

জুলাই অভ্যুত্থান:
- বাংলাদেশে গণআন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটানোর ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’।
- সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই, ২০২৪ তারিখে গঠিত হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

⇒ সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের ২০১৮ সালের প্রজ্ঞাপন ৫ জুন, ২০২৪ হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করলে তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে অসন্তোষের শুরু হয়।
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ১ জুলাই, ২০২৪ থেকে তাদের আন্দোলন শুরু হয়।
- শুরুতে এ আন্দোলন অহিংস ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেপরোয়া হলে ১৫ জুলাই, ২০২৪ আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়, যার শেষ পরিণতি ঘটে ৫ আগস্ট, ২০২৪ পতন ঘটে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী সরকার শেখ হাসিনার।

⇒ ৩০ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচী পালন করার ঘোষণা দিয়েছে।
- ৩১ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচী পালন করেছে। ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
- ৫ আগস্ট, ২০২৪ পতন ঘটে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী সরকার শেখ হাসিনার।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।

৩২২.
Who was the speaker of the first national parliament of independent Bangladesh?
  1. Shamsul Huda Chowdhury
  2. Mirza Ghulam Hafiz
  3. Mr Shawkat Ali
  4. Abdul Malek Ukil
  5. Mohammad Mohammadullah
সঠিক উত্তর:
Mohammad Mohammadullah
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Mohammad Mohammadullah
ব্যাখ্যা
প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন:
- স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- সে সময় ৩০০ আসনে সরাসরি নির্বাচন হয়।
- সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা ছিল ১৫টি।
- বিচারপতি এম ইদ্রিস কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা হয়।
- নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি তে জয়লাভ করে।
- বঙ্গবন্ধু সে সময় ঢাকা-১২ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন।
- প্রথম জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন মোহাম্মদ উল্লাহ।
- ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন বায়তুল্লাহ।
- পরে মুহম্মদুল্লাহ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে আবদুল মালেক উকিল স্পিকার নির্বাচিত হন।

উল্লেখ্য,
- ২য় সংসদ নির্বাচন ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ হয়।
- সেবার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা ছিল ৩০টি।
- ঐ সংসদেই প্রথমবারের মতো প্রত্যক্ষ ভোটে একজন নারী সাংসদ সৈয়দা রাজিয়া ফয়েজ খুলনা-১৪ থেকে নির্বাচিত হন।
- প্রথম অধিবেশন বসেছিল ২ এপ্রিল।
- জাতীয় সংসদের প্রতীক শাপলা ফুল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৩.
১৯৮৩ সালে কত দল নিয়ে বিএনপির নেতৃত্বে জোট গঠিত হয়েছিল?
  1. ৯টি
  2. ১৩টি
  3. ৮টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭টি
ব্যাখ্যা
১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান – 
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করে দ্বিতীয়বার সামরিক শাসনের সূচনা করেন।
- এই সামরিক শাসন দীর্ঘ নয় বছর স্থায়ী হয় এবং এরশাদের একনায়কতান্ত্রিক শাসনের ফলে দেশে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে চরম দুরবস্থা সৃষ্টি হয়।
- জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে এবং ধীরে ধীরে সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।

- ১৯৮২ সালের শেষ দিক থেকেই ছাত্র সমাজ এরশাদের প্রস্তাবিত শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন।
- বুদ্ধিজীবী মহলও এই আন্দোলনে সক্রিয় সমর্থন প্রদান করেন।
- এর প্রেক্ষিতে ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দলীয় এবং একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট গঠিত হয়।
- এর মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে।

- ১৯৮৭ সাল নাগাদ আন্দোলনের প্রধান দাবি হয়ে দাঁড়ায় সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা।
- যদিও এরশাদ সরকার তখনও ক্ষমতায় টিকে থাকতে সক্ষম হয়, তবে আন্দোলনের গতি শ্লথ হয়নি।
- ১৯৯০ সালের শুরু থেকেই রাজনৈতিক দলগুলো হরতাল, মিছিল, মিটিংসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যেতে থাকে।
- ছাত্র সমাজ, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনগুলো এই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের মধ্য দিয়ে আন্দোলন আরও ব্যাপক রূপ ধারণ করে।

- শেষ পর্যন্ত ১৯৯০ সালের ১৯ নভেম্বর ‘৮.৭ দল’ এবং ‘৫ দলীয়’ জোট যৌথ ঘোষণা দেয় সামরিক শাসনের পতনের লক্ষ্যে।
- এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলেই ডিসেম্বর ১৯৯০-এ সফল গণঅভ্যুত্থান ঘটে এবং এরশাদের সামরিক শাসনের অবসান হয়।
- ফলে দেশের জনগণ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করে।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৫, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৪.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরকারী গেজেটেড ভুক্ত শহিদের সংখ্যা কত?[ আগস্ট, ২০২৫]
  1. ৮৩০জন
  2. ৮৩৬ জন
  3. ৮২৫ জন
  4. ৮২০ জন
সঠিক উত্তর:
৮৩৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮৩৬ জন
ব্যাখ্যা

জুলাই শহিদ: 
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আটজন শহীদের গেজেট বাতিল করেছে সরকার।
​- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেট অধিশাখা  ৩ আগস্ট তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। 
- বর্তমানে গেজেটড শহীদের সংখ্যা ৮৩৬ জন।
​- পূর্বে এর সংখ্যা ছিল ৮৪৪ জন।

উল্লেখ্য, 
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদের পরিবারকে এককালীন ৩০ লাখ টাকা আর্থিক সহযোগিতা ছাড়াও পরিবারের সদস্যদের পুনর্বাসনে বিভিন্ন কর্মসূচি নিচ্ছে সরকার।

উৎস: দৈনিক ইত্তেফাক[লিঙ্ক]

৩২৫.
স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত ‘চরমপত্র’ এর কথক ছিলেন কে?
  1. ক) কামাল লোহানী
  2. খ) আলী জাকের
  3. গ) আবদুল মান্নান
  4. ঘ) এম আর আখতার মুকুল
সঠিক উত্তর:
ঘ) এম আর আখতার মুকুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এম আর আখতার মুকুল
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে ‘চরমপত্র’ নামের কথিকা অনুষ্ঠানটি ছিলো সর্বাধিক জনপ্রিয়।
এটির পরিচালক, লেখক ও কথক ছিলেন এম আর আখতার মুকুল।
ঢাকাইয়া ভাষায় তার এ অনুষ্ঠানটি মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৩২৬.
জুলাই ঘোষণাপত্রের কত নং ধারায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতির কথা উল্লেখ আছে?
  1. ২৪ নং
  2. ২৫ নং
  3. ২৭ নং
  4. ২৮ নং
সঠিক উত্তর:
২৭ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৭ নং
ব্যাখ্যা

জুলাই ঘোষণাপত্র:
-  ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ হলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের একটি দলিল যার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
- অন্যদিকে জুলাই জাতীয় সনদ হলো রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে ঐকমত্যের একটি রাজনৈতিক দলিল।
- অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ৫ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে র ‘৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেছেন।
- জুলাই ঘোষণাপত্রে ২৮টি ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- জুলাই ঘোষণাপত্রের ২৪ নং ধারায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের 'জাতীয় বীর' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
- জুলাই ঘোষণাপত্রের ২৭ নং ধারায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতির কথা উল্লেখ আছে।

উল্লেখ্য,
- ২৪ নং ধারা: সেহেতু বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।
- ২৫ নং ধারা: সেহেতু বাংলাদেশের জনগণ যুক্তিসংগত সময়ে আয়োজিতব্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে প্রতিশ্রুত প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রত্যাশা, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি, শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।
- ২৬ নং ধারা: সেহেতু বাংলাদেশের জনগণ এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছে যে একটি পরিবেশ ও জলবায়ুসহিষ্ণু অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন কৌশলের মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার সংরক্ষিত হবে।
- ২৮ নং ধারা: ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানে বিজয়ী বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে এই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা হলো।

উৎস: প্রথম আলো।

৩২৭.
সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ গঠিত হয় -
  1. ১ জুন, ২০২৪
  2. ১ জুলাই, ২০২৪
  3. ৫ জুন, ২০২৪
  4. ৫ জুলাই, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
১ জুলাই, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ জুলাই, ২০২৪
ব্যাখ্যা

জুলাই অভ্যুত্থান:
- বাংলাদেশে গণআন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটানোর ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’।
- সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই, ২০২৪ তারিখে গঠিত হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

⇒ সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের ২০১৮ সালের প্রজ্ঞাপন ৫ জুন, ২০২৪ হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করলে তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে অসন্তোষের শুরু হয়।
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ১ জুলাই, ২০২৪ থেকে তাদের আন্দোলন শুরু হয়।
- শুরুতে এ আন্দোলন অহিংস ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেপরোয়া হলে ১৫ জুলাই, ২০২৪ আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়, যার শেষ পরিণতি ঘটে ৫ আগস্ট, ২০২৪ পতন ঘটে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী সরকার শেখ হাসিনার।

⇒ ৩০ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচী পালন করার ঘোষণা দিয়েছে।
- ৩১ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচী পালন করেছে। ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
- ৫ আগস্ট, ২০২৪ পতন ঘটে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী সরকার শেখ হাসিনার।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।

৩২৮.
১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর কত জন মুক্তিযোদ্ধাকে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়?
  1. ৪৩ জন
  2. ৫৪৬ জন
  3. ৬৭২ জন
  4. ৬৭৬ জন
সঠিক উত্তর:
৬৭৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৭৬ জন
ব্যাখ্যা
বীরত্বসূচক খেতাব:
- বীরত্বসূচক খেতাব বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসিকতা প্রদর্শন এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদত্ত খেতাব।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের একটি প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানী মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করেন।
- স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সভায় বীরত্বসূচক খেতাবের নতুন নামকরণ হয়। 
- ১৬ মে, ১৯৭২ মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- সেগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ পদমর্যাদার খেতাব: বীরশ্রেষ্ঠ,
- উচ্চ পদমর্যাদার খেতাব: বীর উত্তম,
- প্রশংসনীয় পদমর্যাদার খেতাব: বীর বিক্রম,
- বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্রের খেতাব: বীর প্রতীক।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ৪৩ জন মুক্তিযোদ্ধাকে বীরত্বসূচক খেতাবের জন্য নির্বাচন করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২৬ মার্চ পূর্বের ৪৩ জনসহ মোট ৫৪৬ জন মুক্তিযোদ্ধা খেতাবের জন্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৭৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খেতাব তালিকায় স্বাক্ষর করেন।
- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বে নির্বাচিত সকল মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়।
- ১৯৯২ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতীয়ভাবে বীরত্বসূচক খেতাব প্রাপ্তদের পদক ও রিবন প্রদান করা হয়।
- ২০০১ সালের ৭ মার্চ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক পুরস্কার এবং সনদপত্র প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য,
-  ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
- যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩২৯.
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস কবে গঠিত হয়?
  1. ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২
  2. ৮ মার্চ ১৯৭২
  3. ৮ এপ্রিল ১৯৭২
  4. ৮ জুন ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
৮ এপ্রিল ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ এপ্রিল ১৯৭২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন:
- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন মূলত বিভিন্ন সরকারি পদ ও চাকরি নিয়োগ দানের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি সাংবিধানিক সংস্থা।
- এই কমিশন গঠিত হয় ৮ এপ্রিল ১৯৭২
- ৮ এপ্রিল সিভিল সার্ভিস দিবস হিসাবে পালিত হয়।
- বর্তমানে মোট ২৬ টি ক্যাডার রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি সাধারণ ও ১২টি পেশাগত/কারিগরি ক্যাডার।
- ১৯৭৭ সালের ২২ ডিসেম্বর এই কমিশনের নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন ওয়েবসাইট।
৩৩০.
জুলাই গণহত্যা সংক্রান্ত অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে কোন সংস্থা?
  1. Human Rights Watch
  2.  Amnesty International
  3. UNDP
  4. OHCHR
সঠিক উত্তর:
OHCHR
উত্তর
সঠিক উত্তর:
OHCHR
ব্যাখ্যা

→ জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) সংস্থাটি বাংলাদেশে সংঘটিত জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়কার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো তদন্তের জন্য একটি তথ্যানুসন্ধানকারী দল পাঠায়। এই দলটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে OHCHR একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

→ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আমন্ত্রণে ওএইচসিএইচআর বাংলাদেশে এসে ওই তদন্ত করেছিলো।

• জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) তদন্ত প্রতিবেদনে  উল্লেখ করা হয়েছে:

→ বাংলাদেশে গত জুলাই-অগাস্টে প্রায় ১৪০০ জনের মতো নিহত হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগের মৃত্যু হয়েছে রাইফেল ও শটগানের গুলিতে। ওই সময় নিরাপত্তা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বয়কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন তখনকার প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

→ জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ রিপোর্ট প্রকাশ করেন।

উৎস: বিবিসি।

৩৩১.
জুলাই জাতীয় সনদে কয়টি প্রস্তাব রয়েছে?
  1. ৭২টি
  2. ৭৮টি
  3. ৮৪টি
  4. ৮৯টি
সঠিক উত্তর:
৮৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮৪টি
ব্যাখ্যা

জুলাই জাতীয় সনদ:
- ছয়টি সংস্কার কমিশনের ৮৪টি প্রস্তাব নিয়ে তৈরি হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ৷
- ১৭অক্টোবর, ২০২৫ এ জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হয়।
- এর মধ্যে ৪৮টি প্রস্তাব সংবিধান-সম্পর্কিত।
- সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের জন্যই জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ১৩ নভেম্বর জারি হয়েছে এবং তা নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

৩৩২.
'উন্নত মম শির' চিত্রকর্মটি জুলাই বিপ্লবের কোন শহীদকে নিয়ে অঙ্কিত?
  1. আবু সাঈদ 
  2. মীর মুগ্ধ
  3. রাকিব হাসান 
  4. ফারহান ফাইয়াজ
সঠিক উত্তর:
আবু সাঈদ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু সাঈদ 
ব্যাখ্যা

উন্নত মম শির:
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ আবু সাঈদকে নিয়ে অঙ্কিত শিল্পকর্মের নাম উন্নত মম শির।

⇒ ইতিহাসের অম্লান তরুণ আবু সাঈদকে নিয়ে এই অনবদ্য চিত্রকলা অঙ্কন করেছেন শিল্পী শহীদ কবির।
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনের সড়কে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন আবু সাঈদ।
- তিনি ২০০১ সালে রংপুরের জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে মকবুল হোসেন ও মনোয়ারা বেগমের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: প্রথম আলো।

৩৩৩.
'নানকার বিদ্রোহ' কোন অঞ্চলের আন্দোলন ছিল?
  1. সিলেট
  2. রংপুর
  3. রাজশাহী
  4. কুমিল্লা
সঠিক উত্তর:
সিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট
ব্যাখ্যা
নানকার বিদ্রোহ:
- 'নানকার বিদ্রোহ' সিলেট অঞ্চলের একটি কৃষক-আন্দোলন, যা ১৮ আগস্ট ১৯৪৯ সালে সংঘটিত হয়।
- জমিদারের ভূমিদাসদের একটি প্রথাকে 'নানকার প্রথা' বলা হতো।
- বিংশ শতাব্দীর বিশের দশকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ১৯৫০ সালে জমিদারপ্রথা বিলুপ্ত করার মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।
- নানকার ছিল এক বর্বর শ্রম শোষণের প্রথা।
- 'নান' ফারসি শব্দ, এর অর্থ রুটি এবং 'কার' অর্থ জোগান বা কাজ করা; অর্থাৎ 'নানকার' শব্দটি দ্বারা বোঝানো হয় সেসব কর্মীকে, যারা খাবারের বিনিময়ে কায়িক শ্রম দান করেন।
- এই নানকার প্রজারা ছিল ভূমিমালিকের হুকুমদাস; প্রজাই নয়, তাদের স্ত্রী-সন্তানরাও বংশানুক্রমে ভূমিমালিকের দাস হতো।

উল্লেখ্য, 
নাচোল বিদ্রোহ: - নাচোল উপজেলার জমিদারদের বিরুদ্ধে সাঁওতাল কৃষকদের বিদ্রোহের নেত্রীর নাম ইলা মিত্র।
-কিংবদন্তিতুল্য কৃষক নেত্রী ইলা মিত্রের নেতৃত্বে ১৯৪৯-৫০ সালে বৃহত্তর রাজশাহী জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহকুমার অন্তর্গত নাচোল উপজেলার জমিদারদের বিরুদ্ধে সাঁওতাল কৃষকদের বিদ্রোহ সংঘটিত হয় যা ইতিহাসে নাচোল বিদ্রোহ নামে পরিচিত। 

নীল বিদ্রোহ: - নীল চাষীদের উপর কোম্পানীর ক্রমাগত অত্যাচারের ফলে নীল চাষিরা ১৮৫৯ সালে বিদ্রোহ করে। ১৮৫৯-৬০ সাল নীল বিদ্রোহের সময়।
-১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সরকার নীল কমিশন গঠন করে এবং কমিশনের সুপারিশে নীল চাষের বিষয়টি কৃষকের ইচ্ছাধীন বলে ঘোষনা করে।

তথ্যসূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক। [লিঙ্ক] ও ইতিহাস, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
৩৩৪.
বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয়-
  1. ক) ২ মার্চ, ১৯৭১
  2. খ) ৭ মার্চ, ১৯৭১
  3. গ) ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  4. ঘ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
ক) ২ মার্চ, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• পতাকা:
- প্রথম পতাকা উত্তোলন ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে তৎকালীন ঢাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছিল।
- গৃহীত হয় ৬ মার্চ।
- সংবিধানের ৪ নং অনুচ্ছেদের জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।
- প্রথম নকশাকার – শিব নারায়ণ দাস (৬ জুন ১৯৭০)
- প্রথম আনুষ্ঠানিক উত্তোলন – ২৩ মার্চ ১৯৭১, বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে এবং একই দিনে সারা বাংলাদেশে।
- বাংলাদেশের বাহিরে প্রথম উত্তোলন – কলকাতাস্থ পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনারে।
- জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত – ১০:৬ (৫:৩)।

উৎস: স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
৩৩৫.
বাংলাদেশে পার্বত্য শান্তিচুক্তি রজত জয়ন্তী পালিত হয়েছে কত সালে?
  1. ২০২১ সালে
  2. ২০২২ সালে
  3. ২০২৩ সালে
  4. ২০২৪ সালে
সঠিক উত্তর:
২০২২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০২২ সালে
ব্যাখ্যা
  ₻ পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি
- পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি, ১৯৯৭ বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি।
- ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- ২০২২ সালে ২ ডিসেম্বর এই চুক্তিটির ২৫ বছর পালন করা হয়েছে।
- ২৫ বছর পূর্তিকে বলা হয় : রজত জয়ন্তী (Silver Jubilee)। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৩৬.
জুলাই গণ–অভ্যুত্থান-২০২৪-এ গেজেটভুক্ত শহীদের সংখ্যা কত?
  1. ৮৩৮জন
  2. ৮৪৪জন
  3. ৮৫৪জন
  4. ৮৩৭জন
সঠিক উত্তর:
৮৪৪জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮৪৪জন
ব্যাখ্যা
• জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ২০২৪–এ শহীদদের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে সরকার।
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এটি প্রকাশ করেছে।
- সরকারি এ গেজেট অনুযায়ী, ওই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৪৪। লিংক
- গেজেটে ‘মেডিকেল কেস আইডি’, শহীদদের নাম, বাবার নাম, বর্তমান ঠিকানা, স্থায়ী ঠিকানা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে কে কোথায় এবং কোন তারিখে শহীদ হন, তা গেজেটে উল্লেখ করা হয়নি।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয় লিংক
৩৩৭.
বাংলাদেশে কত সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংঘটিত হয়?
  1. ১৯৬৯ সালে
  2. ১৯৮৯ সালে
  3. ২০১৭ সালে
  4. ২০২৪ সালে
সঠিক উত্তর:
২০২৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০২৪ সালে
ব্যাখ্যা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন:
- বাংলাদেশে গণআন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটানোর ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে শিক্ষার্থীদের সংগঠন 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন'।
- সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই, ২০২৪ তারিখে গঠিত হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

⇒ সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের ২০১৮ সালের প্রজ্ঞাপন ৫ জুন, ২০২৪ হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করলে তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে অসন্তোষের শুরু হয়।
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ১ জুলাই, ২০২৪ থেকে তাদের আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- শুরুতে এ আন্দোলন অহিংস ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেপরোয়া হলে ১৫ জুলাই, ২০২৪ আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়, যার শেষ পরিণতি ঘটে ৫ আগস্ট, ২০২৪ পতন ঘটে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী সরকার শেখ হাসিনার।

⇒ ৩০ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচী পালন করার ঘোষণা দিয়েছে।
- ৩১ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচী পালন করেছে। ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
- ৫ আগস্ট, ২০২৪ পতন ঘটে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী সরকার শেখ হাসিনার।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।
৩৩৮.
স্বাধীন বাংলাদেশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন স্বীকৃতি দেয়-
  1. ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২ সালে
  2. ২৪ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে
  3. ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২ সালে
  4. ১০ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে
সঠিক উত্তর:
২৪ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা

- ৪ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
- ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২ সালে গ্রেট ব্রিটেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- ২৪ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২ সালে জাপান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২ সালে ফ্রান্স বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ সালে পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।

৩৩৯.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইনার কে?
  1. ক) হামিদুর রহমান
  2. খ) কামরুল হাসান
  3. গ) এ এন সাহা
  4. ঘ) জয়নুল আবেদীন
সঠিক উত্তর:
খ) কামরুল হাসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কামরুল হাসান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইনার কামরুল হাসান। ১৯৭২ সালে কামরুল হাসান সবুজের মাঝে লাল বৃত্তের জাতীয় পতাকার নকশা করেন।

- এর পূর্বে ব্যবহৃত মানচিত্র খচিত পতাকাটি সিরাজুল আলম খানের নির্দেশে ১৯৭০ সালের ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান জহুরুল হক হলের ১১৬ নং কক্ষে আ. স. ম. আবদুর রব, শাজাহান সিরাজ, শিবনারায়ণ দাস প্রমুখ মিলে চূড়ান্ত করেন।

- এই পতাকাটি ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় তৎকালীন ডাকসু ভিপি আ. স. ম. আবদুর রব প্রথম উত্তোলন করেন।
- পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের ২৩শে মার্চ বাংলাদেশের সর্বত্র পাকিস্তানের পতাকা’র পরিবর্তে লাল-সবুজের পতাকা উড়ানো হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৪০.
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে কত তারিখে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে?
  1. ৪ আগস্ট, ২০২৪
  2. ৫ আগস্ট, ২০২৪
  3. ৬ আগস্ট, ২০২৪
  4. ৭ আগস্ট, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
৫ আগস্ট, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ আগস্ট, ২০২৪
ব্যাখ্যা
শেখ হাসিনা সরকারের পতন:
- সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই, ২০২৪ আন্দোলনে নামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
- শুরুতে এ আন্দোলন অহিংস ছিল, কিন্তু পরবর্তীকালে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেপরোয়া হলে ১৫ জুলাই, ২০২৪ আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়।
- অতঃপর শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন প্রবল আকার ধারণ করে, যার শেষ পরিণতি ঘটে ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মাধ্যমে।
- ৫ আগস্ট, ২০২৪ পতন ঘটে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী সরকার শেখ হাসিনার।

উল্লেখ্য,
- ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে।
- নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে আগস্ট, ২০২৪ সালে দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে।
- অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।
৩৪১.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ১ দফার ঘোষক কে ছিলেন?
  1. হান্নান মাসুদ
  2. নাহিদ ইসলাম
  3. আসিফ মাহমুদ
  4. হাসনাত আব্দুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
নাহিদ ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাহিদ ইসলাম
ব্যাখ্যা

• ৩ আগস্ট ২০২৪ :
- কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ঘোষণা করেন যে তাদের সরকারের সাথে আলোচনার কোন পরিকল্পনা নেই এবং হাসিনার পদত্যাগ এবং ‘সবার কাছে গ্রহণযোগ্য’ একজন ব্যক্তির নেতৃত্বে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের দাবিতে লংমার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- হাসিনা আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ছাত্ররা তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
- বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে, প্রধান সমন্বয়কদের একজন নাহিদ ইসলাম শহিদ মিনারে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করেন, যেখানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার পদত্যাগের জন্য একক দাবি ঘোষণা করে এবং আহ্বান জানায়। 

উল্লেখ্য,
• জুলাই গণঅভ্যুত্থান/ জুলাই বিপ্লব:
-জুলাই গণঅভ্যুত্থান/ জুলাই বিপ্লব নামে পরিচিত ছাত্র-জনতার আন্দোলন হচ্ছে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক গণঅভ্যুত্থান যা ২০২৪ সালের ৫ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অগণিত প্রাণ বিসর্জন দেয়ার মধ্য দিয়ে বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।
- ঐতিহাসিক এই বিপ্লবের বিজয়ের ধারার সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবির আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
- এটি পরে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে আরো প্রবল হয়ে উঠেছিল যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চূড়ান্ত রূপ লাভ করে শেখ হাসিনার পদত্যাগের মাধ্যমে।

উৎস: বাসস।

৩৪২.
জুলাই শহীদ স্মৃতি ভবন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় 
  3. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় 
  4. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

জুলাই শহিদ স্মৃতি ভবন:
- জুলাই শহিদ স্মৃতি ভবন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আবাসনের জন্য নবনির্মিত 'জুলাই শহিদ স্মৃতি ভবন' ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ শনিবার উদ্বোধন করা হয়েছে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান প্রধান অতিথি হিসেবে এই ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

উল্লেখ্য:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ১১- তলা বিশিষ্ট 'জুলাই শহিদ স্মৃতি ভবন'-এর ২৫২ টি কক্ষে ১ হাজার ৮জন শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে।

তথ্যসূত্র - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট।

৩৪৩.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদের নাম- 
  1. সাইফী
  2. আহাদ 
  3. শাওন
  4. তৌহিদুল
সঠিক উত্তর:
আহাদ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহাদ 
ব্যাখ্যা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ:
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ আব্দুল আহাদ।
- ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নিহত হয় ৪ বছরের শিশু আব্দুল আহাদ।
- শহীদ আব্দুল আহাদ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামের আবুল হাসান ও মা সুমি আক্তারের পুত্র।
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ এলাকায় ৮ তলার উপর তার বাবা-মায়ের মাঝে বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল আব্দুল আহাদ।
- এ সময় বাসার নিচে ছাত্রলীগ ও পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নিহত হয় আহাদ।
- সে 'জুলাই সর্বকনিষ্ঠ যোদ্ধা' হিসেবে পরিচিত।

উৎস: i) জুলাই আর্কাইভ।
ii) যুগান্তর।

৩৪৪.
নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে কোন শাসকের পতন ঘটে?
  1. জিয়াউর রহমান
  2. সাহাবুদ্দীন আহমদ
  3. হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ
  4. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
সঠিক উত্তর:
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ
ব্যাখ্যা

নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন:
- স্বাধীন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অধিকার আন্দোলনের উজ্জ্বলতম অধ্যায় নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান।
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তার ক্ষমতা দখলের পর থেকেই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
- টানা ৯ বছর আন্দোলনের পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের দুর্বার আন্দোলনেই পতন ঘটে স্বৈরশাসক এরশাদের।
- অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এরশাদ।
- ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর সেই আন্দোলনের সময় গণতন্ত্রের দাবিতে বুকে-পিঠে শ্লোগান লিখে রাস্তায় নামা এক তরুণ নুর হোসেন পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

তথ্যসূত্র - বিবিসি বাংলা।

৩৪৫.
'Remembering Our Heroes' programme was announced on which date?
  1. 24 June 2025
  2. 1 August 2024
  3. 31 July 2024
  4. 16 July 2025
সঠিক উত্তর:
31 July 2024
উত্তর
সঠিক উত্তর:
31 July 2024
ব্যাখ্যা

• 'Remembering Our Heroes: 
- কোটাসংস্কার আন্দোলন ঘিরে গণহত্যা, গণপ্রেপ্তার, হামলা-মামলা, গুম-খুন প্রতিবাদ ও ৯ দফা দাবি আদায়ে 'রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ' (আমাদের নায়কদের স্মরণ) কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন কোটাসংস্কার আন্দোলনকারীরা। 
- বুধবার (৩১ জুলাই, ২০২৪) বৈষম্য-বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সমন্বয়ক রিফাত রশীদ গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আগামীকাল এই কর্মসূচি পালনের কথা জানান।
- এদিন কর্মসূচি পালনের জন্য যা যা করা হবে, তারমধ্যে রয়েছে – নির্যাতনের ভয়ংকর দিন-রাতগুলোর স্মৃতিচারণ; শহীদ ও আহতদের নিয়ে পরিবার এবং সহপাঠীদের স্মৃতিচারণ; চিত্রাঙ্কন/গ্রাফিতি, দেওয়াল লিখন, ফেস্টুন, ডিজিটাল পোট্রের্ট তৈরি প্রভৃতি। 

তথ্যসূত্র: The Business Standard.

৩৪৬.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে মোট কয়টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে?
  1. ১০টি
  2. ১৪টি
  3. ১৭টি
  4. ২১টি
সঠিক উত্তর:
১৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪টি
ব্যাখ্যা
প্রথম জাতীয় নির্বাচন:
- ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ সংসদ নির্বাচন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন।
- ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার ছিলেন এম. ইদ্রিস।
- এ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পূর্বে মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত মুজিবনগর সরকার কর্তৃক রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে।
- ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে প্রত্যাবর্তন করেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ গঠনের কার্যক্রম গ্রহণ করেন।
- নয় মাসের প্রচেষ্টায় ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়।
- ৩১৫টি আসনের মধ্যে ৩০০টি সাধারন আসন ও ১৫টি সংরক্ষিত মহিলা আসন।
- ১৪টি রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহণ করে।
- ৩১৫টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩০৮টি আসনে জয়লাভ করেন।

তথ্যসূত্র - নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট, পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৩৪৭.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ আবু সাঈদকে নিয়ে অঙ্কিত উন্নত মম শির শিল্পকর্মটি অংকন করেন কে?
  1. কৌশিক সরকার
  2. শাহাবুদ্দিন আহমেদ
  3. ঢালী তমাল
  4. শহীদ কবির
সঠিক উত্তর:
শহীদ কবির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদ কবির
ব্যাখ্যা

'উন্নত মম শির':
- ইতিহাসের অম্লান তরুণ আবু সাঈদকে নিয়ে 'উন্নত মম শির' এর শিল্পী চিত্রকলা অঙ্কন করেছেন শিল্পী শহীদ কবির।
- গত জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে এমনই কিছু কালজয়ী দৃশ্য রচনা করেছেন অকুতোভয়, প্রতিবাদী জনতা।
- তেমনই এক ছবি দুই হাত প্রসারিত করে বুক টান করে দাড়ানো এক নির্ভীক প্রতিবাদী তরুণের। গণমানুষ এই তরুণকে আর কোনো দিন ভুলতে পারবে না। তিনি শহীদ আবু সাঈদ।
- ফ্যাসিবাদবিরোধী বিপুল রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের উজ্জ্বলতম প্রতীক।
- তিনি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের কৃতী শিক্ষার্থী।
- স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলন, জুলাই-আগস্টের বিপ্লব বাংলাদেশের একটা ঐতিহাসিক পরিবর্তন। সমাজ ও ইতিহাসে দীর্ঘদিন এর প্রভাব থাকবে। আর আবু সাঈদের প্রতিকৃতি থেকে প্রাণিত এই শিল্পকর্ম বাংলাদেশের যেসব ছাত্রছাত্রী, তরুণ জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে অংশ নিয়েছেন, যাঁরা শহীদ হয়েছেন, যাঁরা আহত হয়েছেন, যাঁরা এখনো চিকিৎসাধীন, সবার প্রতি প্রথম আলোর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা ও সম্মানের স্মারক হয়ে থাকবে।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

৩৪৮.
When was the Family Courts Ordinance issued?
  1. in 1975
  2. in 1977
  3. in 1979
  4. in 1981
  5. in 1985
সঠিক উত্তর:
in 1985
উত্তর
সঠিক উত্তর:
in 1985
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত অর্ডিন্যান্স:
- পারিবারিক আদালত অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৫ পরিবারের প্রতিটি সদস্যের আইনগত সমস্যার বিচার নিষ্পত্তি সম্পর্কিত অধ্যাদেশ।
- ১৯৮৫ সালে এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

⇒ ইসলামী আইন, হিন্দু আইন, দেওয়ানি কার্যবিধি, সাক্ষ্য আইন, অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ প্রভৃতি সমন্বয়ে পারিবারিক আদালতের বিচার্য বিষয়ের আইন সংকলিত হয়েছে।
- এ আইন রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও পার্বত্য এলাকার জেলাসমূহ ছাড়া সারা দেশে প্রযোজ্য।
- এ আইন বলে দেশের সকল মুন্সেফ আদালত পারিবারিক আদালত হিসেবে গণ্য হবে এবং মুন্সেফগণ এ আদালতের বিচারক হবেন।
- পারিবারিক আদালত মূলত পাঁচটি বিষয়ে বিচারকার্য নিষ্পন্ন করে থাকে।
- এগুলি হচ্ছে বিবাহ বিচ্ছেদ, দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধার, মোহরানা, ভরণপোষণ ও অভিভাবকত্ব।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৪৯.
মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় খেতাব কোনটি?
  1. ক) বীর উত্তম
  2. খ) বীর বিক্রম
  3. গ) বীরশ্রেষ্ঠ
  4. ঘ) বীর প্রতীক
সঠিক উত্তর:
গ) বীরশ্রেষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বীরশ্রেষ্ঠ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো বীরশ্রেষ্ঠ, বীরউত্তম, বীরবিক্রম এবং বীরপ্রতীক। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব হলো বীরশ্রেষ্ঠ। সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধি পান ৭ জন, দ্বিতীয় বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরউত্তম’ পান ৬৮ জন, তৃতীয় বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরবিক্রম’ পান ১৭৫ জন এবং চতুর্থ বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরপ্রতীক’ পান ৪২৬ জন।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৩৫০.
শহীদ আবু সাঈদ জুলাই আন্দোলনে কোথায় শহীদ হয়েছিলেন?
  1. ঢাকা 
  2. খুলনা 
  3. রংপুর 
  4. কুষ্টিয়া
সঠিক উত্তর:
রংপুর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রংপুর 
ব্যাখ্যা

শহীদ আবু সাঈদ:
- রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা বাবনপুর গ্রামের মোঃ মকবুল হোসেন এর ঘরে জন্ম নেয় আবু সাঈদ।
- ২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।
- ১৬ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তিনি রংপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে।
- আবু সাঈদ এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেন।
- কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র আবু সাঈদের পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
- এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার হন বহু মানুষ, যাতে আরও গতিশীল হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন।
- ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান হাসিনা।

উৎস: i) বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) দৈনিক ইনকিলাব।

৩৫১.
'জুলাই ঘোষণাপত্ৰ' আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ করা হয় কবে?
  1. ১৬ জুলাই, ২০২৫
  2. ১ আগস্ট, ২০২৫
  3. ৫ আগস্ট, ২০২৫
  4. ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
সঠিক উত্তর:
৫ আগস্ট, ২০২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ আগস্ট, ২০২৫
ব্যাখ্যা

জুলাই ঘোষণাপত্র:
- জুলাই ঘোষণাপত্র হলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের একটি দলিল।
- জুলাই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
- 'জুলাই ঘোষণাপত্ৰ' আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ করা হয়: ৫ই আগস্ট, ২০২৫ সালে।
- স্থান: মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, ঢাকা।
- 'জুলাই ঘোষণাপত্ৰ' পাঠ করেন: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস।

⇒ ঘোষণাপত্রের মূল বিষয়বস্তু: বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের নিরন্তর সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা।
- ঘোষণাপত্রে মোট ২৮টি দফা রয়েছে, যার মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাগুলোকে স্পষ্ট করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র - জুলাই ঘোষণাপত্ৰ ৷

৩৫২.
স্বাধীন দেশ হিসেবে পাকিস্তান কত তারিখে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে?
  1. ১৯৭৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি
  2. ১৯৭৪ সালের ৩১ আগস্ট 
  3. ১৯৭৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি
  4. ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট 
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশকে পাকিস্তানের স্বীকৃতি:
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে মোট ১৫০টি দেশ স্বীকৃতি দিয়েছে।
- বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ তারিখে সর্বপ্রথম স্বীকৃতি দেয় ভুটান এবং ভারত।
- অপরদিকে সর্বশেষ দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশকে ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট স্বীকৃতি দেয়।

⇒ ১৯৭৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- একই বছর বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য পদ পায়।

উল্লেখ্য,
- নানা বাধা-বিপত্তির পরও দেখা যায় স্বাধীন হবার মাত্র চার বছরেরও কম সময়ে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হয়েছিল আর শতাধিক দেশের স্বীকৃতি আদায় করতে সক্ষম হয়েছিল।
- ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাজ্যসহ সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া নেদাল্যান্ডস এবং জাপান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- বিজয়ের পর পরই ১৯৭২ জানুয়ারি মাসেই পূর্ব জার্মানি, বুলগেরিয়া, পোল্যান্ড, মিয়ানমার, নেপাল, সোভিয়েত ইউনিয়ন স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৩৫৩.
আন্তর্জাতিক কোন সংস্থা ২০২৪ সালে বাংলাদেশে সংগঠিত জুলাই গণহত্যার তদন্ত কার্যক্রম করে?
  1. Human Rights Watch
  2. OHCHR
  3. Amnesty International
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
OHCHR
উত্তর
সঠিক উত্তর:
OHCHR
ব্যাখ্যা

জুলাই গণহত্যা:
- জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন (OHCHR) ২০২৪ সালে বাংলাদেশে সংগঠিত জুলাই গণহত্যার তদন্ত কার্যক্রম করে।
- OHCHR : Office of the United Nations High Commissioner for Human Rights।
- এটি জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা যা ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর কাজ হলো মানবাধিকার রক্ষা, লঙ্ঘন পর্যবেক্ষণ, রিপোর্ট তৈরি, আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগে সহায়তা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
- এর সদর দপ্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।

⇒ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আমন্ত্রণে OHCHR স্বাধীনভাবে জুলাই গণহত্যার তদন্ত করেছে।
- ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি, জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। 
- ১ জুলাই - ১৫ আগস্টের ঘটনা বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে ওএইচসিএইচআর। 
- প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের দ্বারা সংগঠিত বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্বিচার গ্রেপ্তার, নির্যাতন এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের মতো ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা উঠে এসেছে। এসব ঘটনায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন গোষ্ঠী, সংগঠন এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা জড়িত ছিল বলে প্রতিবেদনটিতে তুলে ধরা হয়েছে।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) UN ওয়েবসাইট।

৩৫৪.
এরশাদ প্রস্তাবিত কোন নীতির বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন গড়ে ওঠে?
  1. শিক্ষানীতি
  2. স্বাস্থ্যনীতি
  3. শিল্পনীতি
  4. কৃষিনীতি
সঠিক উত্তর:
শিক্ষানীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষানীতি
ব্যাখ্যা
• ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান – 
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করে দ্বিতীয়বার সামরিক শাসনের সূচনা করেন।
- এই সামরিক শাসন দীর্ঘ নয় বছর স্থায়ী হয় এবং এরশাদের একনায়কতান্ত্রিক শাসনের ফলে দেশে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে চরম দুরবস্থা সৃষ্টি হয়।
- জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে এবং ধীরে ধীরে সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।

- ১৯৮২ সালের শেষ দিক থেকেই ছাত্র সমাজ এরশাদের প্রস্তাবিত শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন।
- বুদ্ধিজীবী মহলও এই আন্দোলনে সক্রিয় সমর্থন প্রদান করেন।
- এর প্রেক্ষিতে ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দলীয় এবং একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট গঠিত হয়।
- এর মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে।

- ১৯৮৭ সাল নাগাদ আন্দোলনের প্রধান দাবি হয়ে দাঁড়ায় সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা।
- যদিও এরশাদ সরকার তখনও ক্ষমতায় টিকে থাকতে সক্ষম হয়, তবে আন্দোলনের গতি শ্লথ হয়নি।
- ১৯৯০ সালের শুরু থেকেই রাজনৈতিক দলগুলো হরতাল, মিছিল, মিটিংসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যেতে থাকে।
- ছাত্র সমাজ, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনগুলো এই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের মধ্য দিয়ে আন্দোলন আরও ব্যাপক রূপ ধারণ করে।

- শেষ পর্যন্ত ১৯৯০ সালের ১৯ নভেম্বর ‘৮.৭ দল’ এবং ‘৫ দলীয়’ জোট যৌথ ঘোষণা দেয় সামরিক শাসনের পতনের লক্ষ্যে।
- এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলেই ডিসেম্বর ১৯৯০-এ সফল গণঅভ্যুত্থান ঘটে এবং এরশাদের সামরিক শাসনের অবসান হয়।
- ফলে দেশের জনগণ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করে।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৫, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৫.
গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে কত সালে এরশাদ সরকারের সামরিক শাসনের পতন ঘটে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৯১ সালে
  4. ১৯৯২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯০ সালে
ব্যাখ্যা
এরশাদ সরকারের সামরিক শাসনের পতন:
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- টানা ৯ বছর আন্দোলনের পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের দুর্বার আন্দোলনেই পতন ঘটে স্বৈরশাসক এরশাদের।
- ধারাবাহিক আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর শিক্ষার্থী জেহাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।
- ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর স্বৈরাচারবিরোধী মিছিলে হামলা চালায় নতুন বাংলা ছাত্র সমাজের ক্যাডাররা।
- সে হামলায় নিহত হন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম মহাসচিব ডা. শামসুল আলম খান মিলন।
- এর পর সারাদেশের শহর-বন্দর, এমনকি গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন।
- অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এরশাদ।

উৎস: i) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বিবিসি বাংলা।
৩৫৬.
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়ক কে ছিলেন?
  1. নীলিমা ইব্রাহীম
  2. শাহারিয়ার কবির
  3. জাহানারা ইমাম
  4. রাশেদ খান মেনন
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
• জাহানারা ইমাম (১৯২৯-১৯৯৪)  শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর শৈশবকালে মুসলিম পরিবারের মেয়েদের নিকট আধুনিক শিক্ষালাভের দ্বার উন্মুক্ত ছিল না।
- তবে তিনি তাঁর ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পিতা আবদুল আলীর তত্ত্বাবধানে রক্ষণশীলতার বাইরে এসে আধুনিক শিক্ষা লাভ করেছিলেন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৩৫৭.
মনসুন অভ্যুত্থান কোন দেশের সাথে সম্পর্কিত?
  1. তুরস্ক
  2. বাংলাদেশ
  3. মিশর
  4. ফ্রান্স
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
-  জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে ভাষণে,  ড. মুহাম্মদ ইউনূস ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গনঅভ্যুত্থানকে মনসুন অভ্যুত্থান আখ্যায়িত করেছেন
-  বাংলাদেশের ‘মনসুন অভ্যুত্থান’ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষকে মুক্তি ও ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়াতে প্রেরণা জুগিয়ে যাবে।

উল্লেখ্য :
 
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন
-সরকারি চাকরির সকল প্রকার কোটা বাতিল করে  সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে ৪ অক্টোবর ২০১৮ সালে। ৩০% মুক্তিযুদ্ধ কোটা ফিরে পেতে হাইর্কোটে রিট  করা হলে , হাইকোর্ট কোটা বাতিল প্রজ্ঞাপন স্থগিত করে দেন।  তারই প্রেক্ষিতে ছাত্ররা  বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আন্দোলনের ডাক দেন। যা পরর্বতীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান  রূপে পরিচিতি পায়। 

উৎস: প্রথম আলো
৩৫৮.
চীন কত তারিখে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে?
  1. ১৯৭৫ সালের ১১ জুলাই
  2. ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট
  3. ১৯৭৫ সালের ২২ আগস্ট
  4. ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট
সঠিক উত্তর:
১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে মোট ১৫০টি দেশ স্বীকৃতি প্রদান করে।
- ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে সর্বপ্রথম ভুটান স্বীকৃতি প্রদান করে।
- ভুটান ও ভারত উভয় দেশই বাংলাদেশকে ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বীকৃতি দিয়েছিল।

⇒ সর্বশেষ দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশকে ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট স্বীকৃতি প্রদান করে।

উল্লেখ্য,
- তৃতীয় দেশ ও প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে পূর্ব জার্মানি ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার সেনেগাল।
- এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- প্রথম পশ্চিমা দেশ হিসেবে গ্রেট ব্রিটেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয় ৪ এপ্রিল, ১৯৭২।
- প্রথম আরব দেশ হিসেবে ইরাক ৮ জুলাই, ১৯৭২ তারিখে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে সর্ব প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে ভেনিজুয়েলা (২ মে ১৯৭২)।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৩৫৯.
সংবিধানে চর্তুথ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রবর্তিত হয়-
  1. ক) সংসদীয় পদ্ধতি সরকার
  2. খ) সামরিক সরকার
  3. গ) রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার
  4. ঘ) সমাজতন্ত্র সরকার
সঠিক উত্তর:
গ) রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার
ব্যাখ্যা
১৯৭৫-এর ২৫ জানুয়ারি দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতির প্রবর্তন করা হয়। রাষ্ট্রপতি সকল ক্ষমতার অধিকারী হয়ে পড়েন। এই ব্যবস্থায় মন্ত্রিপরিষদ ও জাতীয় সংসদের কোনো ক্ষমতা ছিল না। সংবিধানের চর্তুথ সংশোধনীর মাধ্যমে সরকার পদ্ধতির পরিবর্তন আনা হয়। এই সংশোধনী অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন। তিনি ইচ্ছানুযায়ী উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং অন্যান্য সরকারি বিভাগের কর্মকর্তা নিয়োগ ও বরখাস্ত করতে পারবেন। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
৩৬০.
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার জন্য প্রণীত অধ্যাদেশের নং কত?
  1.  ৬০ নং 
  2. ৬১ নং 
  3. ৬৩ নং 
  4. ৬৫ নং 
সঠিক উত্তর:
৬৩ নং 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৩ নং 
ব্যাখ্যা

২০২৫ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার উদ্দেশ্যে প্রণীত অধ্যাদেশের সরকারি নং ৬৩।
- এটি “জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ, ২০২৫” নামে পরিচিত।
-----------------------------------------
“জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ”: 
- ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ঘটে।
- ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী শাসকের পতন ঘটে। 
- তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন ছিল স্বৈরাচারী সরকারের উত্থান ও দমন-পীড়নের কেন্দ্র।
- তাই ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে গণভবনকে স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তর করার প্রস্তাবনা দেয়া হয়। 
- ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে সরকার এ প্রস্তাব অনুমোদন করে।
- রাজধানীর তেজগাঁওয়ে গণভবনের ১৭.৬৮ একর জমিতে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ এখনও নির্মাণাধীন অবস্থায় রয়েছে। 

- “জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ” (৬৩ নং) অনুযায়ী এই জাদুঘর তৈরির মূল উদ্দেশ্য—
• আন্দোলনের ইতিহাস, নিদর্শন ও দলিল সংরক্ষিত করা;
• গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংবলিত নিদর্শন ও দলিল সংগ্রহ করে জাতীয় ইতিহাসে প্রামাণিকভাবে সংরক্ষণ করা। 

উৎস: Laws Of Bangladesh.  

৩৬১.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর ভিসি ছিলেন -
  1. ক) বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
  2. খ) ড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন
  3. গ) অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী
  4. ঘ) অধ্যাপক ওসমান গণি
সঠিক উত্তর:
ক) বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিযুক্ত হন। ১৯৭১ সালে জেনেভায় অবস্থানকালে পূর্ব পাকিস্তানে পাকবাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে তিনি উপাচার্য পদে ইস্তফা দেন। মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে জেনেভা থেকে তিনি লন্ডন যান এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে সচেষ্ট হন। স্বাধীনতার পর বিচারপতি চৌধুরী ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন এবং ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। [সূত্র: বাংলাপিডিয়া]
৩৬২.
বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হওয়ার সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন -
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. আবু সাঈদ চৌধুরী
  3. মোহাম্মদউল্লাহ
  4. আবদুস সাত্তার
সঠিক উত্তর:
আবু সাঈদ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু সাঈদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- সংবিধান গৃহীত হওয়ার সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন: আবু সাঈদ চৌধুরী।
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন।
- 'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গণপরিষদে উত্থাপন করেন: এম মনসুর আলী।
- ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় ।
- ১৪ ডিসেম্বর ও ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে গণপরিষদ সদস্যরা সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান, বাংলাদেশের সংবিধান ও বাংলাপিডিয়া।
৩৬৩.
শহীদ আবু সাঈদ কবে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন?
  1. ১৫ জুলাই, ২০২৪
  2. ১৬ জুলাই, ২০২৪
  3. ১৮ জুলাই, ২০২৪
  4. ২০ জুলাই, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
১৬ জুলাই, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬ জুলাই, ২০২৪
ব্যাখ্যা

শহীদ আবু সাঈদ:
- রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা বাবনপুর গ্রামের মোঃ মকবুল হোসেন এর ঘরে জন্ম নেয় আবু সাঈদ।
- ২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।
- ১৬ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তিনি রংপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে।
- আবু সাঈদ এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেন।
- কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র আবু সাঈদের পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
- এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার হন বহু মানুষ, যাতে আরও গতিশীল হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন।
- ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান হাসিনা।

উৎস: i) বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) দৈনিক ইনকিলাব।

৩৬৪.
নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন কে?  
  1. আসাদ 
  2. নূর হোসেন
  3. আবু সাঈদ 
  4. শামসুজ্জোহা 
সঠিক উত্তর:
নূর হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নূর হোসেন
ব্যাখ্যা

⇒ নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন নূর হোসেন। 

• নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন:
- স্বাধীন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অধিকার আন্দোলনের উজ্জ্বলতম অধ্যায় নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান।
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তার ক্ষমতা দখলের পর থেকেই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
- টানা ৯ বছর আন্দোলনের পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের দুর্বার আন্দোলনেই পতন ঘটে স্বৈরশাসক এরশাদের।
- অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এরশাদ।
- সেই আন্দোলনের সময় গণতন্ত্রের দাবিতে বুকে-পিঠে শ্লোগান লিখে রাস্তায় নামা এক তরুণ নুর হোসেন পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর নূর হোসেন শহিদ হন।

অন্যদিকে, 
- আসাদ ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খান বিরোধী গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন।
- আবু সাঈদ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন।
- শামসুজ্জোহা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে ১৮ ফেব্রুয়ারি শহীদ হন।  

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা। 

৩৬৫.
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রথম নারী শহীদ কে ছিলেন?
  1. তহমিনা রহমান
  2. রুবিনা সুলতানা
  3. নাঈমা সুলতানা
  4. শারমিন আক্তার
সঠিক উত্তর:
নাঈমা সুলতানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাঈমা সুলতানা
ব্যাখ্যা
• জুলাই গণঅভ্যুত্থান:
- ৮৪৪ জন জুলাই শহীদের নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে।
- এর মধ্যে ৬ থেকে ৬০ বছর বয়সী ১০ জন নারীর নাম রয়েছে।
- শহীদ ১০ জন নারীর মধ্যে ৭ জন ঢাকায়, ২ জন নারায়ণগঞ্জে ও ১ জন সাভারে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন।
- প্রথম নারী শহীদ নাঈমা সুলতানা।
- সময়:  ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর উত্তরার বাসার বারান্দায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।

 উৎস: প্রথম আলো।[লিঙ্ক]
৩৬৬.
'মার্চ ফর জাস্টিস' কর্মসূচি কবে পালিত হয়?
  1. ২৯ জুলাই, ২০২৪
  2. ৩০ জুলাই, ২০২৪
  3. ৩১ জুলাই, ২০২৪
  4. ১ আগস্ট, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
৩১ জুলাই, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩১ জুলাই, ২০২৪
ব্যাখ্যা
'মার্চ ফর জাস্টিস' কর্মসূচি:
- বাংলাদেশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি- কোটা সংস্কার আন্দোলনের সহিংসতায় অনেক শিক্ষার্থীর প্রাণহানি হয়েছে।
- এমতাবস্থায় আন্দোলন দমনের জন্য সাধারণ ছাত্র ও আন্দোলনের সমন্বয়ক এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে গণগ্রেপ্তার চালানো হয়েছে।
- যা রীতিমতো দেশের সংবিধান বিরোধী ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে দাবি করা হয়েছে।
- আর এরই প্রতিবাদে ছাত্ররা তাদের কর্মসূচি 'মার্চ ফর জাস্টিস' পালন করেছে।

⇒ ৩০ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচী পালন করার ঘোষণা দিয়েছে।
- ৩১ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচী পালন করেছে।
- ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

উৎস: প্রথম আলো।
৩৬৭.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কত তারিখে আবু সাঈদ শহীদ হয়েছিলেন?
  1. ১৫ জুলাই, ২০২৪
  2. ১৬ জুলাই, ২০২৪
  3. ১৭ জুলাই, ২০২৪
  4. ১৮ জুলাই, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
১৬ জুলাই, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬ জুলাই, ২০২৪
ব্যাখ্যা
শহীদ আবু সাঈদ:
- ২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।
- ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১৬ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তিনি রংপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে।
- আবু সাঈদ এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেন।
- কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র আবু সাঈদের পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
- এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার হন বহু মানুষ, যাতে আরও গতিশীল হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন।
- ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান হাসিনা।

উৎস: i) বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) দৈনিক ইনকিলাব।
৩৬৮.
বাংলাদেশ সরকার কত সালে প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
ব্যাখ্যা
প্রাথমিক শিক্ষা:
- স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭৩ সালে সরকার প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করে।
- প্রথম দফায় জাতীয়করণ করা হয় ৩৬০১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

⇒ ১ জানুয়ারী, ১৯৯৩ থেকে সারাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন কার্যকর হয়।
- ১৯৭৪ সালে কুদরাত-এ-খুদা প্রণীত ‘বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন' ১৯৮৩ সালের মধ্যে প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে সর্বজনীন, বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষার সুপারিশ করে।
- ১৯৮১ সালে পৃথক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস হয়।
- অন্যদিকে এ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণের জন্য প্রথমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ২১ আগস্ট, ১৯৯০ ইং ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কোস/সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- পরবর্তীতে ৩১ নভেম্বর, ১৯৯২ ইং তারিখে এর নামকরণ করা হয় ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিট'।
- তার পূর্বে ১ জানুয়ারি, ১৯৯২ সালে প্রাথমিকভাবে ৬৮ টি উপজেলায় এই আইন চালু হয়।

উৎস: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৩৬৯.
স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় কবে?
  1. ১২ এপ্রিল,১৯৭৩
  2. ১৬ মার্চ,১৯৭৩
  3. ৭ মার্চ,১৯৭৩
  4. ৭ মার্চ,১৯৭২
সঠিক উত্তর:
৭ মার্চ,১৯৭৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ মার্চ,১৯৭৩
ব্যাখ্যা
প্রথম নির্বাচন: 
- বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৭৩ সালে।
- নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ঃ ৭ই মার্চ ১৯৭৩ সালে।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনারঃ বিচারপতি এম ইদ্রিস।
- স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের এটিই ছিল সর্বপ্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
- এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয় লাভ করে।
- মোট ৩০০টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৯৩টি আসন লাভ করে।
- এই নির্বাচনের সূত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।
- তিনি ঢাকা-১২ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন।
- মোট আসন: ৩০০।
- সংরক্ষিত মহিলা আসন: ১৫ টি।
- অংশগ্রহণকারী মোট দল: ১৪ টি।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ আর্কাইভ।
৩৭০.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১ দফা ঘোষণা হয় কত তারিখে?
  1. ৩১ জুলাই, ২০২৪
  2. ২ আগস্ট, ২০২৪
  3. ৩ আগস্ট, ২০২৪
  4. ৪ আগস্টই, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
৩ আগস্ট, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ আগস্ট, ২০২৪
ব্যাখ্যা

• ৩ আগস্ট ২০২৪ :
- কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ঘোষণা করেন যে তাদের সরকারের সাথে আলোচনার কোন পরিকল্পনা নেই এবং হাসিনার পদত্যাগ এবং ‘সবার কাছে গ্রহণযোগ্য’ একজন ব্যক্তির নেতৃত্বে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের দাবিতে লংমার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- হাসিনা আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ছাত্ররা তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
- বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে, প্রধান সমন্বয়কদের একজন নাহিদ ইসলাম শহিদ মিনারে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করেন, যেখানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার পদত্যাগের জন্য একক দাবি ঘোষণা করে এবং আহ্বান জানায়। 

উল্লেখ্য,
• জুলাই গণঅভ্যুত্থান:
-জুলাই গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত ছাত্র-জনতার আন্দোলন হচ্ছে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক গণঅভ্যুত্থান যা ২০২৪ সালের ৫ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অগণিত প্রাণ বিসর্জন দেয়ার মধ্য দিয়ে বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।
- ঐতিহাসিক এই বিপ্লবের বিজয়ের ধারার সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবির আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
- এটি পরে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে আরো প্রবল হয়ে উঠেছিল যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চূড়ান্ত রূপ লাভ করে শেখ হাসিনার পদত্যাগের মাধ্যমে।

উৎস: বাসস।

৩৭১.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচনের নির্বাচন কমিশনার ছিলেন কে?
  1. এম. ইদ্রিস
  2. আবদুস সাত্তার
  3. খান এ সবুর
  4. ফজলুর রহমান
সঠিক উত্তর:
এম. ইদ্রিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম. ইদ্রিস
ব্যাখ্যা

প্রথম জাতীয় নির্বাচন:
- ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ সংসদ নির্বাচন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন।
- ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার ছিলেন এম. ইদ্রিস।
- নয় মাসের প্রচেষ্টায় ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়।
- ৩১৫টি আসনের মধ্যে ৩০০টি সাধারন আসন ও ১৫টি সংরক্ষিত মহিলা আসন।
- ১৪টি রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহণ করে।
- ৩১৫টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩০৮টি আসনে জয়লাভ করেন।

তথ্যসূত্র - নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট, পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৩৭২.
বাংলাদেশের নিজস্ব মুদ্রা চালু হয় কত তারিখ?
  1. ২ মার্চ, ১৯৭২
  2. ৪ মার্চ, ১৯৭২
  3. ৬ মার্চ, ১৯৭২
  4. ৮ মার্চ, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
৪ মার্চ, ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ মার্চ, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের নিজস্ব মুদ্রা:
- ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ প্রথমবারের মতো স্বাধীন বাংলাদেশের নিজস্ব ১ ও ১০০ টাকার ব্যাংক নোটের প্রচলন হয়।
- স্বাধীন বাংলাদেশের মুদ্রার নাম রাখা হয় টাকা। বিশ্বের কয়েকটি দেশের মুদ্রার নাম একই ধরনের। তবে বাংলাদেশের মুদ্রা হিসেবে টাকা নামটি স্বতন্ত্র।
- ৪ মার্চ ১৯৭২ তারিখে প্রকাশিত দুটি ব্যাংক নোট ভারতের সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস থেকে ছাপানো হয়। ১ টাকার ও ১০০ টাকার নোট।
- ১ টাকার নকশায় বাংলাদেশের মানচিত্র ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ কথাটি স্থান পায় এবং তাতে স্বাক্ষর করেছিলেন সে সময়ের অর্থসচিব কে এ জামান।
- ১০০ টাকার নকশায় দেখা যায় বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি এবং তাতে লেখা থাকে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১০০ টাকার ব্যাংক নোটটি বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রথম গভর্নর এ এন হামিদ উল্ল্যাহ্ স্বাক্ষরিত।
- ৪ মার্চ ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো পালিত হয়েছে 'টাকা দিবস'।

তথ্যসুত্র - বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট ও দৈনিক প্রথম আলো, ০৪ মার্চ, ২০২১।
৩৭৩.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য কয়জনকে সর্বোচ্চ সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাব দেয়া হয়?
  1. ৯ জন
  2. ৭ জন
  3. ৫ জন
  4. ১০ জন
সঠিক উত্তর:
৭ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের বীরত্ব:
- মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ।

- মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় খেতাব বীরউত্তম।
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।
- সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় খেতাব হলো বীরশ্রেষ্ঠ-৭ জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম- ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম- ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক- ৪২৬ জন।

উল্লেখ্য,
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে।
- বীরশ্রেষ্ঠ: ৭জন
- বীর উত্তম: ৬৭ জন
- বীরবিক্রম: ১৭৪ জন
- বীরপ্রতীক: ৪২৪ জন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো পত্রিকা।
৩৭৪.
পাকিস্তান বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় কত সালে? 
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা
ওআইসি’র লাহোর সম্মেলন ও বাংলাদেশের স্বীকৃতি:
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো শুরুতে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানান।
- তবে দুই বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে তিনি সিদ্ধান্ত বদল করেন।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রতিনিধি দল ওআইসি’র (অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কনফারেন্স) দ্বিতীয় সম্মেলনে যোগ দিতে লাহোর যান।
- লাহোর বিমানবন্দরে শেখ মুজিবকে ২১ বার তোপধ্বনি, গার্ড অব অনার, এবং বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত বাজিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
- মুক্তিযুদ্ধের পর এটি ছিল শেখ মুজিবের প্রথম পাকিস্তান সফর।
- ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ সালে পাকিস্তান বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৭২ সালে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিলে ভুট্টো একাধিক দেশের সাথে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
- তবে ১৯৭৪ সালে মুসলিম দেশগুলোর চাপ এবং যুদ্ধবন্দীদের প্রত্যাবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কারণে ভুট্টো এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।
- লাহোর সম্মেলনে শেখ মুজিবের অংশগ্রহণ এবং পাকিস্তানের স্বীকৃতি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরো সুদৃঢ় করে।

উৎস: বিবিসি বাংলা (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪)
৩৭৫.
গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এরশাদ সরকারের পতন কোন সালে ঘটে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৯১ সালে
  4. ১৯৯২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯০ সালে
ব্যাখ্যা

• এরশাদ সরকারের সামরিক শাসনের পতন:
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- টানা ৯ বছর আন্দোলনের পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের দুর্বার আন্দোলনেই পতন ঘটে স্বৈরশাসক এরশাদের।
- ধারাবাহিক আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর শিক্ষার্থী জেহাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।
- ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর স্বৈরাচারবিরোধী মিছিলে হামলা চালায় নতুন বাংলা ছাত্র সমাজের ক্যাডাররা।
- সে হামলায় নিহত হন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম মহাসচিব ডা. শামসুল আলম খান মিলন।
- এর পর সারাদেশের শহর-বন্দর, এমনকি গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন।
- অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এরশাদ।

তথ্যসূত্র:
i) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বিবিসি বাংলা।

৩৭৬.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আহতদের সরকারিভাবে কী নামে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে?
  1. জুলাই যোদ্ধা
  2. জুলাই সৈনিক
  3. অকুতোভয় বীর
  4. জুলাই কমরেড
সঠিক উত্তর:
জুলাই যোদ্ধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুলাই যোদ্ধা
ব্যাখ্যা
• 'জুলাই যোদ্ধা':
- গত ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ১৪০১ জনকে "জুলাই যোদ্ধা" স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।
- অতি গুরুতর ৪৯৩ জন আহতকে 'ক' শ্রেণিতে এবং গুরুতর আহত ৯০৮ জনকে 'খ' শ্রেণিতে রেখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই তালিকা প্রকাশ করে।
- গেজেটে আহতদের মেডিকেল কেস আইডি, নাম, বাবা-মায়ের নাম ও স্থায়ী ঠিকানা প্রকাশ করা হয়।
- আহতদের ধরন ভেদে 'গ' শ্রেণির তালিকাও প্রকাশ করবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
- এসব তালিকা ধরে গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার এবং আহতদের আর্থিকভাবে সহায়তা করবে সরকার।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও যুগান্তর। 
৩৭৭.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান (মুগ্ধ) কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন?
  1. বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
  2. খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

• মীর মাহফুজুর রহমান (মুগ্ধ):
- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত ডিসিপ্লিনের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন মীর মাহফুজুর রহমান (মুগ্ধ)।
- ২০২৩ সালের মার্চে স্নাতক শেষ করে তিনি খুলনা ছেড়ে ঢাকায় চলে যান।
- ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।
- মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি আন্দোলনরত ক্লান্ত-শ্রান্ত শিক্ষার্থী-জনতাকে ‘ভাই, পানি লাগবে? পানি?’ বলছিলেন।
- মুগ্ধ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২৩ সালে গণিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে এমবিএ করছিলেন।
- মৃত্যুর সময় তার গলায় বিইউপি আইডি কার্ডটি রক্তমাখা অবস্থায় ছিল।

উৎস: প্রথম আলো।

৩৭৮.
কোন সময়ে সর্বপ্রথম প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করা হয়?
  1. ক) ১৯৭৩
  2. খ) ১৯৭৫
  3. গ) ১৯৭৮
  4. ঘ) ১৯৮৫
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭৩
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা উত্তর বাংলদেশে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে দেশের প্রায় ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেন।
সূত্রঃ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
৩৭৯.
আবু সাইদ কত তারিখে শহিদ হন?
  1. ১০ জুলাই ২০২৪
  2. ১৬ জুলাই ২০২৪
  3. ১২ জুলাই ২০২৪
  4. ১৫ জুলাই ২০২৪
সঠিক উত্তর:
১৬ জুলাই ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬ জুলাই ২০২৪
ব্যাখ্যা
-আবু সাঈদ ২০০১ সালে রংপুরের জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে মকবুল হোসেন ও মনোয়ারা বেগমের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবু সাইদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২ ব্যাচের  শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বায়ক ছিলেন।
-  ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহিদ- আবু সাইদ।

উৎস: 
প্রথম আলো
৩৮০.
বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনীতে সর্বপ্রথম মহিলা পুলিশ নিয়োগ করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা
নারী পুলিশ নিয়োগ:
- ১৯৭৪ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনীতে সর্বপ্রথম মহিলা পুলিশ নিয়োগ করা হয়।
- সাদা পোশাকে স্পেশাল ব্রাঞ্চে ১২ জন মহিলা পুলিশ নিয়োগের মাধ্যমে এই যাত্রা শুরু হয়।
- ইউনিফর্মধারী নারী পুলিশের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৬ সালে।
- ১৯৭৮ সালে ঢাকা মহানগর পুলিশে মহিলা পুলিশ নিয়োগ শুরু হয়।
- ১৯৮৬ সালে ষষ্ঠ বিসিএস এর মাধ্যমে ক্যাডার সার্ভিসে ফাতেমা বেগম প্রথম নারী সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন।
- ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ পুলিশে প্রথম পুলিশ সুপার হিসেবে মুন্সিগঞ্জ জেলায় পদায়ন পান রওশন আরা বেগম।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩৮১.
জুলাই ঘোষণাপত্রে কয়টি দফা রয়েছে?
  1. ২০টি
  2. ২২টি
  3. ২৪টি
  4. ২৮টি
সঠিক উত্তর:
২৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৮টি
ব্যাখ্যা

জুলাই ঘোষণাপত্র:
-জুলাই ঘোষণাপত্র হলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের একটি দলিল, যার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
- ৫ই আগস্ট, ২০২৫, রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে '৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন' শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
- ঘোষণাপত্রের মূল বিষয়বস্তু হলো, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের নিরন্তর সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা।
- ঘোষণাপত্রে মোট ২৮টি দফা রয়েছে, যার মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাগুলোকে স্পষ্ট করা হয়েছে।

‘জুলাই ঘোষণাপত্র’-এর গুরুত্বপূর্ণ ২৮টি দফার সারাংশ:
১. ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনা ও গণপ্রতিরোধের ইতিহাস।
২. জাতীয় মুক্তির মূলনীতি - সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার।
৩. ১৯৭২ সালের সংবিধানের দুর্বলতা ও রাজনৈতিক ব্যর্থতা।
৪. বাকশাল ও একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে ৭ নভেম্বর বিপ্লব।
৫. সামরিক স্বৈরতন্ত্রবিরোধী ৯০’র গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্ব।
৬. ১/১১ ষড়যন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হওয়া।
৭. বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের চিত্র ও ক্ষমতার অপব্যবহার।
৮. গণহত্যা, গুম-খুন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এবং প্রতিষ্ঠান ধ্বংস।
৯. বাংলাদেশকে ব্যর্থ ও মাফিয়া রাষ্ট্রে রূপান্তরের অভিযোগ।
১০. দুর্নীতি, ব্যাংক লুট ও পরিবেশবিনাশের চিত্র তুলে ধরা।
১১. জনগণের ওপর দীর্ঘ দমনপীড়নের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক সংগ্রাম।
১২. বিদেশী আধিপত্যবিরোধী আন্দোলন দমন ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন।
১৩. তিনটি প্রহসনের নির্বাচনে ভোটাধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত করা।
১৪. বৈষম্যমূলক নিয়োগ নীতি ও তরুণদের প্রতি নিপীড়নের অভিযোগ।
১৫. নিপীড়নের ফলে জনরোষ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের উত্থান।
১৬. কোটা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনের ওপর বর্বরতা।
১৭. নারী-শিশুসহ এক হাজারের বেশি মানুষ হত্যার অভিযোগ।
১৮. ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের প্রেক্ষাপট।
১৯. গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা।
২০. ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আইনি ভিত্তি।
২১. ফ্যাসিবাদমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ।
২২. সুশাসন, আইনের শাসন ও সাংবিধানিক সংস্কারে জনগণের প্রতিশ্রুতি।
২৩. গুম-খুন, গণহত্যা, মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের ঘোষণা।
২৪. আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা ও শহীদদের জাতীয় বীর ঘোষণা।
২৫. একটি অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণ।
২৬. জলবায়ু ও পরিবেশসহ টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি।
২৭. ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান।
২৮. এই ঘোষণাপত্রকে গণঅভ্যুত্থান বিজয়ের চূড়ান্ত দলিল হিসেবে ঘোষণা।

তথ্যসূত্র- জুলাই ঘোষণাপত্র।
৩৮২.
বাংলাদেশের বাইরে শহীদ হয়েও যিনি দেশপ্রেমের জন্য বীর শ্রেষ্ঠ উপাধি লাভ করেন তিনি হলেন-
  1. ক) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল
  2. খ) মোহাম্মদ হামিদুর রহমান
  3. গ) মোহাম্মদ রুহুল আমিন
  4. ঘ) মতিউর রহমান
সঠিক উত্তর:
ঘ) মতিউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মতিউর রহমান
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ট মতিউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে পাকিস্তানে থাকাকালে তিনি যুদ্ধে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বৈমানিক মতিউর পিআইএ-এর একটি বোয়িং বিমান ছিনতাই করে দেশে আসার পথে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২০ আগস্ট সিন্ধু প্রদেশের মরু অঞ্চলে শহীদ হন। স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রবল আকাংখা সত্ত্বেও শেষপর্যন্ত তা পূরণ না হলেও তাঁর বিমান দখলের চাঞ্চল্যকর ঘটনা পাকিস্তান বিমান বাহিনীর মনোবল ভেঙ্গে দেয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ এই ভূমিকার কথা বিবেচনা করেই তাঁকে বীর শ্রেষ্ঠ খেতাব দেয়া হয়। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
৩৮৩.
”জুলাই ঘোষণাপত্র” কত তারিখে ঘোষনা করা হয়?
  1. ২ই আগস্ট, ২০২৫
  2.  ৩ই আগস্ট, ২০২৫
  3.  ৮ই আগস্ট, ২০২৫
  4.  ৫ই আগস্ট, ২০২৫
সঠিক উত্তর:
 ৫ই আগস্ট, ২০২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ৫ই আগস্ট, ২০২৫
ব্যাখ্যা

জুলাই ঘোষণাপত্র:
-জুলাই ঘোষণাপত্র হলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের একটি দলিল, যার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
- ৫ই আগস্ট, ২০২৫, রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে '৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন' শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
- ঘোষণাপত্রের মূল বিষয়বস্তু হলো, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের নিরন্তর সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা।
- ঘোষণাপত্রে মোট ২৮টি দফা রয়েছে, যার মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাগুলোকে স্পষ্ট করা হয়েছে।

উৎস: জুলাই ঘোষণাপত্র।

৩৮৪.
বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে কবে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়?
  1. ১৯৭২ সালের ১২ই জানুয়ারি
  2. ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ
  3. ১৯৭৩ সালের ১৬ই মার্চ
  4. ১৯৭৩ সালের ১৮ই মার্চ
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালের ১৬ই মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালের ১৬ই মার্চ
ব্যাখ্যা
♣ বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন, ১৯৭৩: 
- স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ।  
- বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর গণপরিষদ ভেঙে দেয়া হয়।
- স্বাধীনতা লাভের স্বল্প সময়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর সরকার সাধারণ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে গণতন্ত্রের পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
- নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে ।
- জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ ৩১৫টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩০৮ আসনে জয়লাভ করেন। 

- বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭৩ সালের ১৬ই মার্চ নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। 

- ১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতির প্রবর্তন করা হয়। 
- সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সরকার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়।
- এই সংশোধনী অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন।
- ১৯৭৫ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অন্যান্য রাজনৈতিক দল ভেঙে দিয়ে ‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' (বাকশাল) নামে একটি জাতীয় রাজনৈতিক দল গঠন করেন। 
- এই দলের চেয়ারম্যান হলেন বঙ্গবন্ধু এবং সাধারণ সম্পাদক হলেন এম. মনসুর আলী। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৮৫.
স্বাধীনতার পর কত সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্বকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন।
- ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরপরই স্যার এ. এফ. রহমানের উদ্যোগে তিন আবাসিক হলে (মুসলিম হল, জগন্নাথ হল ও ঢাকা হল) ছাত্র সংসদ গঠন করা হয়।
- এরই ধারাবাহিকতায় পরে গঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদকে (ডাকসু) তার ঐতিহাসিক ভূমিকার কারণে বাংলাদেশের 'দ্বিতীয় সংসদ' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা দাবি, ১৯৬৯ সালের গণ–অভ্যুত্থান কিংবা নব্বইয়ের এরশাদবিরোধী আন্দোলন—প্রতিটি ঐতিহাসিক সংগ্রামে ডাকসু গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছে এবং ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছে।

⇒ হল ছাত্র সংসদের সাফল্যের পর ১৯২২-২৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (Dacca University Student's Union) গঠিত হয়। প্রত্যেক হল থেকে তিনজন ছাত্র এবং একজন শিক্ষক আর উপাচার্যের মনোনীত একজন শিক্ষক এই নিয়ে সংসদ। শিক্ষকদের মধ্যে একজন সভাপতি হতেন।
- ১৯৪৪-৪৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্র সংসদের নতুন গঠনতন্ত্র অনুমোদন করে। এই গঠনতন্ত্রের অধীনে ১৯৪৫-৪৬ সালে উপাচার্য পিজে হার্টগ পদাধিকারবলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সভাপতি হন।

স্বাধীনতার পর ডাকসুর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালে।
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ডাকসুর সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন থেকে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মাহবুবুর জামান।

উলেখ্য,
- ২০২৫ সালে ৩৮তম ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উৎস: i) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট। 
ii) The Daily Star Bangla.

৩৮৬.
'জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪'-এর কতজন শহিদের নামের গেজেট প্রকাশ করা হয়?
  1. ৮৩৪ জন
  2. ৮৪৮ জন
  3. ৮৫২ জন
  4. ৮৬৬ জন
সঠিক উত্তর:
৮৩৪ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮৩৪ জন
ব্যাখ্যা
জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ২০২৪–এর শহীদদের গেজেট:
- ১৫ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ২০২৪–এ শহীদদের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে সরকার।
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এটি প্রকাশ করেছে।
- সরকারি এ গেজেট অনুযায়ী, ওই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৪।
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হরিদাস ঠাকুর স্বাক্ষরিত ওই গেজেটে ‘মেডিকেল কেস আইডি’, শহীদদের নাম, বাবার নাম, বর্তমান ঠিকানা, স্থায়ী ঠিকানা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ তহবিল করা হচ্ছে। এ তহবিলের আকার হতে পারে দেড় হাজার কোটি টাকার মতো।
- তহবিল থেকে অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারগুলোকে এককালীন অর্থ, মাসিক ভাতা, দেশে-বিদেশে চিকিৎসা খরচ এবং কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ii) প্রথম আলো।
৩৮৭.
সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ সংখ্যা কত? 
  1. ৮৩২ জন 
  2. ৮৩৬ জন
  3. ৮৪৪ জন
  4. ৮৫৬ জন
সঠিক উত্তর:
৮৩৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮৩৬ জন
ব্যাখ্যা

• জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সরকারি গেজেটভুক্ত শহীদ:
- জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ২০২৪–এ শহীদদের গেজেট অনুসারে, জুলাই  গণঅভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৬।

⇒ "জুলাই যোদ্ধা" অর্থ জুলাই গণ অভ্যুত্থান চলাকালে তৎকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা উক্ত সময়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের আক্রমণে আহত ছাত্র-জনতা।
- এছাড়া "জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ" অর্থ "তৎকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা উক্ত সময়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের আক্রমণে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি।"

উল্লেখ্য,
- ৮৩৪ জনের নাম শহীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গেজেট প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। পরে সেখানে যুক্ত করা হয় আরও ১০ জনের নাম।
- গত ৩০শে জুন, ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত সরকারি গেজেট অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ছিল ৮৪৪ জন।
- তবে সরাসরি জুলাই আন্দোলনে যুক্ত না থাকা এবং চারজনের নাম গেজেটে দুইবার উল্লেখ থাকায় গত ৩রা অগাস্ট, ২০২৫ তারিখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই তালিকা থেকে আটজনের নাম বাতিল করে।
- মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী শহীদের সংখ্যা ৮৩৬ জন।

এছাড়াও,
- জুলাই  গণঅভ্যুত্থানে  ৬ থেকে ৬০ বছর বয়সী ১০ জনের নাম শহীদ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। 
- শহীদ ১০ জন নারীর মধ্যে ৭ জন ঢাকায়, ২ জন নারায়ণগঞ্জে ও ১ জন সাভারে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৭ জনই গুলিবিদ্ধ হন নিজ বাসার বারান্দা ও ছাদে। ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন সড়কে।
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ প্রথম নারী নাঈমা সুলতানা। 

তথ্যসূত্র: i) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ii) বিবিসি।
iii) প্রথম আলো।

৩৮৮.
পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন কে?
  1. ক) এম এ জি ওসমানি
  2. খ) এ কে খোন্দকার
  3. গ) আব্দুর রব
  4. ঘ) কে এম শফিউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
খ) এ কে খোন্দকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এ কে খোন্দকার
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ কমান্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে। এদিন লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন। এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন মুক্তিবাহিনীর উপ প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।
(সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৮৯.
জুলাই আন্দোলনে আবু সাইদ কত তারিখে শহীদ হয়েছিলেন?
  1. ১৫ জুলাই, ২০২৪
  2. ১৬ জুলাই, ২০২৪
  3. ১৭ জুলাই, ২০২৪
  4. ১৮ জুলাই, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
১৬ জুলাই, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬ জুলাই, ২০২৪
ব্যাখ্যা

শহীদ আবু সাঈদ:
- জুলাই আন্দোলনে আবু সাইদ ১৬ জুলাই, ২০২৪ তারিখে শহীদ হয়েছিলেন।

⇒ রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা বাবনপুর গ্রামের মোঃ মকবুল হোসেন এর ঘরে জন্ম নেয় আবু সাঈদ।
- ২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে।
- আবু সাঈদ এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেন।
- কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র আবু সাঈদের পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
- এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার হন বহু মানুষ, যাতে আরও গতিশীল হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন।
- ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান হাসিনা।

উৎস: i) বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) দৈনিক ইনকিলাব।

৩৯০.
বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত কতজন 'বীর প্রতীক' মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন?
  1. ১৭৪ জন
  2. ১৭৫ জন
  3. ৪২৪ জন
  4. ৪২৬ জন
সঠিক উত্তর:
৪২৪ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪২৪ জন
ব্যাখ্যা
খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা:
- মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক অবদানের জন্য  ৬৭৬ জনকে খেতাব প্রদান করা হয়।
যথা:
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৮ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং
• বীর প্রতীক ৪২৬ জন।

উল্লেখ্য,
-  ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
- যাঁদের খেতাব বাতিল হলো তাঁরা হলেন লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম, গেজেট নং ২৫),  লে. কর্নেল এস এইচ এম এইচ এম বি নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম, গেজেট নং ৯০), লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক, গেজেট নং ২৬৭) এবং নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক, গেজেট নং ৩২৯)।
- যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৭ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৪ জন,
• বীর প্রতীক ৪২৪ জন।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
         ii) ৬ জুন, ২০২১, প্রথম আলো।
৩৯১.
জুলাই ঘোষণাপত্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের কী নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে?
  1. জাতীয় সৈনিক
  2. জুলাই বীর
  3. জাতীয় বীর
  4. জুলাই সৈনিক
সঠিক উত্তর:
জাতীয় বীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয় বীর
ব্যাখ্যা

জুলাই ঘোষণাপত্র:
-  ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ হলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের একটি দলিল যার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
- অন্যদিকে জুলাই জাতীয় সনদ হলো রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে ঐকমত্যের একটি রাজনৈতিক দলিল।
- অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ৫ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে র ‘৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেছেন।

⇒ জুলাই ঘোষণাপত্রে ২৮টি ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 
- জুলাই ঘোষণাপত্রের ২৪ নং ধারায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের 'জাতীয় বীর' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
- ২৪ নং ধারা: সেহেতু বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

উৎস: প্রথম আলো।

৩৯২.
’লং মার্চ টু ঢাকা’ কত তারিখে পালিত হয়?
  1. ৫ আগস্ট 
  2. ৩ আগস্ট 
  3. ২ আগস্ট 
  4. ৪ আগস্ট 
সঠিক উত্তর:
৫ আগস্ট 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ আগস্ট 
ব্যাখ্যা

 রাজধানী ঢাকাসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অসহযোগ কর্মসূচীর একটি ’লং মার্চ টু ঢাকা’ ।
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কারফিউ প্রত্যাখ্যান করে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, গুলি ও হত্যার প্রতিবাদে ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি একদিন এগিয়ে এনে আজ ৫ আগস্ট করার ঘোষণা দেয়।
- তখনকার সময় সংগঠনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ ফেসবুকে ভিডিও বার্তায় এ কর্মসূচী দেন।

উল্লেখ্য,
• বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পটভূমি:
- ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সাধারণ শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনের ফলে সরকার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিল ঘোষণায় পরিপত্র জারি করে।
- তখন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করেছিলেন, সরকার সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়।
- কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ জুন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবরের কোটা বাতিল–সংক্রান্ত পরিপত্রটি অবৈধ ঘোষণা করেন।
- হাইকোর্টের এ ঘোষণার ফলে নতুনভাবে আবার এই আন্দোলন শুরু হয়।
- আন্দোলনকারীদের মূল দাবি ছিল, কোটার যৌক্তিক সংস্কার।

উৎস: প্রথম আলো, ইনকিলাব।

৩৯৩.
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ‘৩৬ জুলাই ’বলতে কোন তারিখকে বুঝায়? 
  1. ৩ আগস্ট, ২০২৪
  2. ৪ আগস্ট, ২০২৪
  3. ৬ আগস্ট, ২০২৪
  4. ৫ আগস্ট, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
৫ আগস্ট, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ আগস্ট, ২০২৪
ব্যাখ্যা

'৩৬ জুলাই':
- তারিখ: ৫ আগস্ট ২০২৪।
- কর্মসূচি: 'মার্চ টু ঢাকা' আহ্বান জানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

• আন্দোলনের সূচনা:
- উদ্দেশ্য: সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবি।
- প্রথম কেন্দ্র: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
- পরবর্তী বিস্তার: দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।
- ৩১ জুলাইয়ের পর তারা নতুন সময় গণনা শুরু করে।
- সেই অনুযায়ী ৫ আগস্ট হয়ে ওঠে প্রতীকী "৩৬ জুলাই"।

উৎস: প্রথম আলো।

৩৯৪.
বাংলাদেশে মর্যাদা অনুসারে দ্বিতীয় বীরত্বসূচক খেতাব কোনটি?
  1. ক) বীর প্রতীক
  2. খ) বীরশ্রেষ্ঠ
  3. গ) বীর উত্তম
  4. ঘ) বীর বিক্রম
সঠিক উত্তর:
গ) বীর উত্তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বীর উত্তম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে মর্যাদা অনুসারে ২য় বীরত্বসূচক খেতাব বীর উত্তম। ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেছিল। ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠ, ৬৮ জন বীর উত্তম, ১৭৫ জন বীর বিক্রম এবং ৪২৬ জন কে বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করা হয়েছিল। [Source: Banglapedia]
৩৯৫.
মার্চ টু ঢাকা কত তারিখে পালিত হয়?
  1. ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে
  2. ৪ আগস্ট ২০২৪ সালে
  3. ১ আগস্ট ২০২৪ সালে
  4. ৩ আগস্ট ২০২৪ সালে
সঠিক উত্তর:
৫ আগস্ট ২০২৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ আগস্ট ২০২৪ সালে
ব্যাখ্যা
• বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন :
-সরকারি চাকরির সকল প্রকার কোটা বাতিল করে  সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে ৪ অক্টোবর ২০১৮ সালে। ৩০% মুক্তিযুদ্ধ কোটা ফিরে পেতে হাইর্কোটে রিট  করা হলে , হাইকোর্ট কোটা বাতিল প্রজ্ঞাপন স্থগিত করে দেন।  তারই প্রেক্ষিতে ছাত্ররা  বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আন্দোলনের ডাক দেন। যা পরর্বতীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান  রূপে পরিচিতি পায়। 
- ১ জুলাই ২০২৪ তিন দিনের কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন শুরু হয়। 
- ৬ জুলাই বাংলা ব্লকড কর্মসূচির ডাক দেন এবং ৭-১২ জুলাই তা পালন করেন।
- কিমপ্লিট শাটডাউনের ডাক দেন ১৭ জুলাই, পালিত হয় ১৮-২২ জুলাই।
- মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়- ৪ আগস্ট, পালিত হয়- ৫ আগস্ট।

উৎস: প্রথম আলো
৩৯৬.
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৯০ সালে
  2. খ) ১৯৯২ সালে
  3. গ) ১৯৯৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৯ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৯৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৯৬ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৯৬ সালের ২২শে মার্চ সেগুনবাগিচায় বেসরকারি উদ্যোগে দেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়।
সেগুনবাগিচার ভাড়া বাড়ি থেকে ২০১৭ সালের এপ্রিলে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর শেরে বাংলা নগর আগারগাঁওয়ে সরকার প্রদত্ত জমিতে নির্মিত নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর করা হয়।
(সূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ওয়েবসাইট)
৩৯৭.
সংবিধানের কোন সংশোধনীর ভিত্তিতে বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) প্রতিষ্ঠা করা হয়?
  1. ২য় সংশোধনী
  2. ৩য় সংশোধনী
  3. ৪র্থ সংশোধনী
  4. ৫ম সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
৪র্থ সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪র্থ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল):
- বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর ভিত্তিতে ১৯৭৫ সালের ৭ জুন একমাত্র বৈধ রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- বাকশালের বিভিন্ন দিক, কার্যক্ষেত্র এবং সম্ভাবনা সবিস্তারে বর্ণনা করে শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর এই উদ্যোগকে ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
- ১৯৭৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারিভাবে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
- সাংগঠনিক ক্ষেত্রে বাকশালের চেয়ারম্যান হিসেবে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমান জাতীয় দলের জন্য ১৫ সদস্যের একটি নির্বাহী কমিটি এবং ১১৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি মনোনীত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩৯৮.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ কে?
  1. আব্দুল আহাদ 
  2. রিয়া গোপ
  3. রাকিব হাসান
  4. সামিরুর রহমান
সঠিক উত্তর:
আব্দুল আহাদ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল আহাদ 
ব্যাখ্যা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ:
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ আব্দুল আহাদ।
- ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নিহত হয় ৪ বছরের শিশু আব্দুল আহাদ। 
- শহীদ আব্দুল আহাদ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামের আবুল হাসান ও মা সুমি আক্তারের পুত্র। 

উল্লেখ্য,
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ এলাকায় ৮ তলার উপর তার বাবা-মায়ের মাঝে বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল আব্দুল আহাদ।
- এ সময় বাসার নিচে ছাত্রলীগ ও পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নিহত হয় আহাদ।
- সে ‘জুলাই সর্বকনিষ্ঠ যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত।

উৎস: i) জুলাই আর্কাইভ।
ii) যুগান্তর।

৩৯৯.
১৯৯১ সালে কততম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনঃযাত্রা সূচিত হয়?
  1. চতুর্থ
  2. পঞ্চম
  3. ষষ্ঠ
  4. অষ্টম
সঠিক উত্তর:
পঞ্চম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চম
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্রের পুনঃযাত্রা: 
- ১৯৯১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থায় পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনঃযাত্রা সূচিত হয়।
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের কৃতিত্ব অর্জন করে।
- সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন বাংলাদেশের ইতিহাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৫, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০০.
১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় কোন জাতীয় নেতাকে হত্যা করা হয়?
  1. ক) তাজউদ্দিন আহমদ
  2. খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. গ) এএইচএম কামরুজ্জামান
  4. ঘ) উপরের সবাই
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবাই
ব্যাখ্যা

- ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর রাতে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার জাতীয় চার নেতা হলেন:
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- তাজউদ্দীন আহমদ
- এম মনসুর আলী এবং
- এ এইচ এম কামারুজ্জামান।
- এই হত্যাকাণ্ড ইতিাহসে জেলহত্যা নামে পরিচিত।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া ও বিবিসি বাংলা)