বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের ইতিহাস ও সমসাময়িক ঘটনা

মোট প্রশ্ন৪৯৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের ইতিহাস ও সমসাময়িক ঘটনা

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৪৯৬

২০১.
স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সামরিক আইন জারি করা হয় -
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৫ সালে
  3. ১৯৮১ সালে
  4. ১৯৯০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসন:
- ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারকে নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন খন্দকার মোশতাক আহমদ।
- ক্ষমতা দখল করার পাঁচ দিন পর স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সামরিক আইন জারি করেন মোশতাক আহমদ।
- মোশতাক আহমদ পরবর্তি প্রায় তিন মাসের মতো ক্ষমতায় ছিলেন।
- মোশতাক আহমদের ৩ মাসের শাসনকালে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভয়াবহ বিপর্যয় বয়ে আনে।
- মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমস্ত অর্জন মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয় এবং পাকিস্তানের ভাবধারার পুনঃপ্রতিষ্ঠা শুরু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।
২০২.
নূর হোসেন কোন আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান
  3. নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন
  4. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
সঠিক উত্তর:
নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন
ব্যাখ্যা

→ নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে জড়িত ছিলেন নূর হোসেন।

নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন:
- স্বাধীন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অধিকার আন্দোলনের উজ্জ্বলতম অধ্যায় নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান।
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা
করেন।
- তার ক্ষমতা দখলের পর থেকেই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
- টানা ৯ বছর আন্দোলনের পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের দুর্বার আন্দোলনেই পতন ঘটে স্বৈরশাসক এরশাদের।
- অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এরশাদ।
- সেই আন্দোলনের সময় গণতন্ত্রের দাবিতে বুকে-পিঠে শ্লোগান লিখে রাস্তায় নামা এক তরুণ নুর হোসেন পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর নূর হোসেন শহিদ হয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র - বিবিসি বাংলা৷

২০৩.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামের ডিজাইনার কে?
  1. এন এস সাহা
  2. নিত্যানন্দ সাহা
  3. কামরুল হাসান
  4. মাইনুল হোসেন
সঠিক উত্তর:
নিত্যানন্দ সাহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যানন্দ সাহা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম
- লাল বৃত্তের মাঝখানে হলুদ রংঙের মানচিত্র।
- বৃত্তের উপরে  লেখা ’গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’, নিচে  লেখা ’সরকার’ এবং বৃত্তের দুপাশে ২ টি করে মোট ৪ টি তারকা।
- ডিজাইনার - নিত্যানন্দ সাহা (এনএন সাহা)

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকের ডিজাইনার - কামরুল হাসান।
- জাতীয় প্রতীকের কেন্দ্রে রয়েছে পানিতে ভাসমান একটি শাপলা ফুল, তার উপর ৩ টি পরস্পর সংযুক্ত পাট পত্রক এবং তার দুপাশে ২ টি করে তারকা।  
- সৈয়দ মাইনুল হোসেন জাতীয় স্মৃতিসৌধের ডিজাইনার।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২০৪.
ছাত্র-নাগরিক হত্যার প্রতিবাদে ঘোষিত ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় কবে? 
  1. ১৬ জুলাই, ২০২৪ সালে
  2. ১৮ জুলাই, ২০২৪ সালে
  3. ৩১ জুলাই, ২০২৪ সালে
  4. ১ আগস্ট, ২০২৪ সালে
সঠিক উত্তর:
৩১ জুলাই, ২০২৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩১ জুলাই, ২০২৪ সালে
ব্যাখ্যা

• 'মার্চ ফর জাস্টিস' কর্মসূচি:
- বাংলাদেশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি- কোটা সংস্কার আন্দোলনের সহিংসতায় অনেক শিক্ষার্থীর প্রাণহানি হয়েছে।
- এমতাবস্থায় আন্দোলন দমনের জন্য সাধারণ ছাত্র ও আন্দোলনের সমন্বয়ক এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে গণগ্রেপ্তার চালানো হয়েছে।
- যা রীতিমতো দেশের সংবিধান বিরোধী ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে দাবি করা হয়েছে।
- আর এরই প্রতিবাদে ছাত্ররা তাদের কর্মসূচি 'মার্চ ফর জাস্টিস' পালন করেছে।

⇒ ৩০ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচী পালন করার ঘোষণা দিয়েছে।
- ৩১ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচী পালন করেছে।
- ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো।

২০৫.
জুলাই সনদ কবে স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ১৬ অক্টোবর, ২০২৫
  2. ১৭ অক্টোবর, ২০২৫
  3. ১৮ অক্টোবর, ২০২৫
  4. ১৯ অক্টোবর, ২০১৫
সঠিক উত্তর:
১৭ অক্টোবর, ২০২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ অক্টোবর, ২০২৫
ব্যাখ্যা

জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫:
- ১৭ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে।

১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের জাঁতাকলে পিষ্ট বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এক অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানের সূচনা হয়।
- এর ফলে ৫ই আগস্ট, ২০২৪ তারিখে তৎকালীন ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার কিছু দোসর দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান এবং দীর্ঘকালীন দমনমূলক ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে।
- জনগণের বিজয়ের ফল হিসেবে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।

⇒ জুলাই জাতীয় সনদে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপিত হয়েছে।
- এরই মধ্যে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ১৭টি বিষয়ে ৩২টি রাজনৈতিক দল ও জোটের পূর্ণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে ৮৪ দফার জুলাই জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন; বাকি ৬৭টি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কেউ কেউ বিরোধিতা করেছে এবং দিয়েছে নোট অব ডিসেন্ট।

উৎস: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ওয়েবসাইট।

২০৬.
ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয় কখন?
  1. ক) ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫
  2. খ) ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯
  3. গ) ১২ নভেম্বর ১৯৯৬
  4. ঘ) ১৭ ডিসেম্বর ১৯৯৯
সঠিক উত্তর:
গ) ১২ নভেম্বর ১৯৯৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১২ নভেম্বর ১৯৯৬
ব্যাখ্যা
- ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মুশতাক আহমেদ কুখ্যাত ইমডেমনিটি অধ্যাদেশ গেজেট আকারে প্রকাশ করেন।
- এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে ১৫ আগস্টের বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়। তাদের বিচারের আওতায় আনা যাবে না মর্মে ঘোষণা দেয় হয়।
- ১৯৭৯ সালের ৫ এপ্রিল জাতীয় সংসদে গৃহিত সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে জিয়াউর রহমান সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে সাংবিধানিক বৈধতা প্রদান করে।
- পরবর্তীতে, ১২ নভেম্বর ১৯৯৬ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে। যার ফলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার করা সম্ভব হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
২০৭.
বাকশাল সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) তাজউদ্দিন আহমেদ
  3. গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) এম মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
ঘ) এম মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারী সকল রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে একক জাতীয় দল হিসেবে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ বা বাকশাল গঠিত হয়৷ একইসাথে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু হয়। এতে রাষ্ট্রপতি হন বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী হন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী। বাকশালের সভাপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী৷
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
২০৮.
১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে কে ক্ষমতাচ্যুত হন?
  1. বেগম খালেদা জিয়া
  2. হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ 
  3. শেখ হাসিনা
  4. জিয়াউর রহমান
সঠিক উত্তর:
হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ 
ব্যাখ্যা

১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে ক্ষমতাচ্যুত হন- জেনারেল হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ ।

• ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান:
- স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হন।
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদ বাংলাদেশের দ্বিতীয়বার সামরিক শাসন শুরু করেন।
- এরশাদের শাসনকালে দেশ আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে দুর্যোগপূর্ণ অবস্থার মধ্যে থাকে।
- এরশাদের সামরিক শাসনের অবসানের জন্য দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম চলতে থাকে।
- বহু মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রাণ দেন।
- ১৯৯০ সালের ডিসেম্বর মাসে সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের সফল গণঅভ্যুত্থানে সামরিক শাসন অবসান ঘটে।
- গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ ঘটে নি; এরশাদের শাসনের প্রথম থেকেই বিরোধী কার্যক্রম চলতে থাকে।
- ১৯৮২ সালের শেষ থেকে ছাত্র সমাজ সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে।
- শিক্ষানীতি বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বুদ্ধিজীবীরা সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
- ১৯৮৩ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দলীয় জোট ও বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট গঠিত হয়।
- বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনও আন্দোলনে অংশ নেন।
- ১৯৮৭ সালে সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন প্রবল হলেও এরশাদ ক্ষমতায় থাকেন।
- ১৯৯০ সালের শুরু থেকে রাজনৈতিক দলগুলো মিছিল, মিটিং ও হরতাল চালায়।
- সারাদেশের ছাত্র, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠন আন্দোলনে সক্রিয় থাকে।
- ছাত্র সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য আন্দোলনকে শক্তিশালী করে।
- ১৯ নভেম্বর ১৯৯০ সালে সরকার পতনের লক্ষ্যে ৮, ৭ ও ৫ দলীয় জোট যৌথ ঘোষণা প্রদান করে।
- ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হন। এরশাদের ক্ষমতা ত্যাগের মধ্যে দিয়ে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

২০৯.
'জুলাই জাতীয় সনদ' স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কয়টি দলের নেতা অংশ নেন?
  1. ২০টি
  2. ২২টি
  3. ২৫টি 
  4. ২৮টি
সঠিক উত্তর:
২৫টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫টি 
ব্যাখ্যা

• জুলাই জাতীয় সনদ:
- জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ২৫টি রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
- ১৭ অক্টোবর, ২০২৫ (শুক্রবার) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে জুলাই সনদ সই হয়।
- প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং যে ২৫টি দলের নেতারা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে, সেই দলগুলো হলো:

১। লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)
২। খেলাফত মজলিস
৩। রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন
৪। আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)
৪। নাগরিক ঐক্য
৬। জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)
৭। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)
৮। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
৯। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
১০। গণসংহতি আন্দোলন
১১। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)
১২। গণ অধিকার পরিষদ (জিওপি)
১৩। বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি
১৪। জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট / জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপার)
১৫। জাতীয় পার্টি / বাংলাদেশ এলডিপি (১২ দলীয় জোট)
১৬। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
১৭। গণফোরাম
১৮। জাকের পার্টি
১৯। জাতীয় গণফ্রন্ট
২০। বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি
২১। বাংলাদেশ লেবার পার্টি
২২। ভাসানী জনশক্তি পার্টি
২৩। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ
২৪। ইসলামী ঐক্যজোট
২৫। আমজনতার দল

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। (Link)

২১০.
সরকারি গেজেটভুক্ত বর্তমানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা কত জন?
  1. ৮৩২ জন
  2. ৮৩৬ জন
  3. ৮৩৮ জন
  4. ৮৪৪ জন
সঠিক উত্তর:
৮৩৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮৩৬ জন
ব্যাখ্যা

জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ২০২৪–এর শহীদদের গেজেট:
- জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ২০২৪–এ শহীদদের গেজেট অনুসারে, জুলাই  গণঅভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৬।

⇒ "জুলাই যোদ্ধা" অর্থ জুলাই গণ অভ্যুত্থান চলাকালে তৎকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা উক্ত সময়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের আক্রমণে আহত ছাত্র-জনতা।
- এছাড়া "জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ" অর্থ "তৎকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা উক্ত সময়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের আক্রমণে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি।"

উল্লেখ্য,
- ৮৩৪ জনের নাম শহীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গেজেট প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। পরে সেখানে যুক্ত করা হয় আরও ১০ জনের নাম।
- গত ৩০শে জুন, ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত সরকারি গেজেট অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ছিল ৮৪৪ জন।
- তবে সরাসরি জুলাই আন্দোলনে যুক্ত না থাকা এবং চারজনের নাম গেজেটে দুইবার উল্লেখ থাকায় গত ৩রা অগাস্ট, ২০২৫ তারিখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই তালিকা থেকে আটজনের নাম বাতিল করে।
- মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী শহীদের সংখ্যা ৮৩৬ জন।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ii) বিবিসি।

২১১.
প্রথম সাধারণ নির্বাচন ১৯৭৩-এ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ মোট আসন ছিল কতটি?
  1. ৩০০ টি
  2. ৩১০ টি
  3. ৩১৫ টি
  4. ৩৩০ টি
সঠিক উত্তর:
৩১৫ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩১৫ টি
ব্যাখ্যা

প্রথম সাধারণ নির্বাচন :
- ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। 
- বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর গণপরিষদ ভেঙ্গে দেয়া হয়।
- জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ মোট আসন ৩১৫টি।
- এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩০৮, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ১টি, বাংলাদেশ জাতীয়লীগ ১টি এবং স্বতন্ত্র সদস্যরা ৫টি আসনে জয়লাভ করেন। 
- নির্বাচনে রাজনৈতিক দল সমূহের প্রার্থী ছিল ১,০৮৯ জন ও স্বতন্ত্র ছিল ১২০ জন।
- অর্থাৎ মোট প্রার্থী ছিল ১,২০৯ জন।
- নারী প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল মোট ১৫ জন।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১২.
নিচের কোন জন একই সাথে বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক খেতাব লাভ করেন?
  1. ক) কর্ণেল শাফায়াত জামিল
  2. খ) ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন মমতাজ
  3. গ) সার্জেন্ট জহুরুল হক
  4. ঘ) সার্জেন্ট গোলাম মোস্তফা
  5. ঙ) হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
ঘ) সার্জেন্ট গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সার্জেন্ট গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্যে একই সাথে বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক খেতাব লাভ করেন সার্জেন্ট গোলাম মোস্তফা। মুক্তিযুদ্ধে তিনি ১১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের আলফা কোম্পানিতে নিয়োজিত ছিলেন। উনার বাড়ি ঢাকার দোহার থানায়।তিনি ১০ অক্টোবর ২০১৯ মারা যান। (সূত্রঃ দৈনিক সমকাল)
২১৩.
সেনাবাহিনী কতজন সদস্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীর উত্তম’ পদক প্রাপ্ত হয়েছেন?
  1. ৬৮ জন
  2. ৫০ জন
  3. ৪৯ জন
  4. ৫১ জন
সঠিক উত্তর:
৪৯ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৯ জন
ব্যাখ্যা

১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন
- বীর উত্তম - ৬৮ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৬ জন

তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম) [সেনাবাহিনী]
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)

∴ বর্তমানে (২০২১) মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন

এবার আমাদের প্রশ্নে আসা যাক,
বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীর উত্তম’ পদক প্রাপ্ত -
সেনাবাহিনী - ৪৮ [লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিমকে বাদ দিয়ে]
নৌ বাহিনী - ৮
বিমান বাহিনী - ৬
গণবাহিনী - ৫

এছাড়া, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে শহীদ হন কর্ণেল জামিল। তিনি ২০০৯ সালে বীর উত্তম উপাধি পান।
অর্থাৎ, শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীর উত্তম’ পদকপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী থেকে - ৪৮ জন
এবং কর্ণেল জামিলসহ ‘বীর উত্তম’ পদকপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী থেকে - ৪৯ জন।

তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।

২১৪.
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন -
  1. ওবায়দুল হাসান
  2. সৈয়দ রেফাত আহমেদ
  3. আবু মোস্তফা কামাল
  4. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
সঠিক উত্তর:
আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ছিলেন। 

⇒ বিচার বিভাগ:
- বাংলাদেশের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ স্বাধীন হয় ১ নভেম্বর ২০০৭ সালে।
- ২০০০ সালের ২৮ মে মাসে উচ্চ আদালতে প্রথমবারের মতো নিয়োগ পান নারী বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা।
- হাইকোর্টের ব্রেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি।
- প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি।
- বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির বয়সসীমা দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ হতে পরবর্তী ৫ বছর।
-  সংবিধানের প্রণয়নকালে বিচারপতিদের চাকরির বয়সসীমা ছিল ৬২ বছর।
- দেশে সাইবার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় ২৮ জানুয়ারি ২০১৩ সালে।
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম।
- বাংলাদেশের বর্তমান ২৫তম প্রধান বিচারপতি হলেন সৈয়দ রেফাত আহমেদ
 
উল্লেখ্য, 
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৪ (১) অনুচ্ছেদ অনুসারে, সুপ্রীম কোর্ট দুটি বিভাগ নিয়ে গঠিত:
১. আপীল বিভাগ
২. হাইকোর্ট বিভাগ

আপীল বিভাগের এখতিয়ার
১. আপীল শুনানি: সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগের রায়, আদেশ বা দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল শুনানির এখতিয়ার আপীল বিভাগের রয়েছে।
- বিশেষ ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ যদি সার্টিফিকেট প্রদান করে যে মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ আইন বা সংবিধান ব্যাখ্যার প্রশ্নে জড়িত, তখন আপীল করা যাবে।
২. পরোয়ানা জারি: ১০৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে, আপীল বিভাগ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আদেশ বা রিট জারি করতে পারে।
৩. পুনর্বিবেচনার ক্ষমতা: ১০৫ অনুচ্ছেদে বর্ণিত, আপীল বিভাগ তার রায় বা আদেশ পুনর্বিবেচনার এখতিয়ার রাখে।
৪. উপদেষ্টামূলক ক্ষমতা: ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি আইনি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে আপীল বিভাগের মতামত চাইতে পারেন।
৫. বিধি প্রণয়ন ক্ষমতা: সুপ্রীম কোর্ট রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে আদালতের রীতি ও পদ্ধতি নির্ধারণে বিধি প্রণয়ন করতে পারে।

হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার
১. আদি এখতিয়ার: সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৌলিক অধিকার রক্ষায় হাইকোর্ট বিভাগ রিট জারি করতে পারে।
- কোম্পানি আইন, ১৯৯৪; বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৮৬৯ ইত্যাদির অধীনে আদি এখতিয়ার প্রয়োগ করা হয়।
২. আপীল শুনানি: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮; দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর অধীনে আপীল শুনানির ক্ষমতা রাখে।
৩. পুনঃনিরীক্ষণের ক্ষমতা: অধস্তন আদালতের রায় বা আদেশ পুনঃপরীক্ষার এখতিয়ার রয়েছে।
৪. তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা: সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে, হাইকোর্ট বিভাগ অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম তদারকি করতে পারে।
৫. মামলা স্থানান্তর: সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে, হাইকোর্ট বিভাগ তার অধীনস্থ আদালত থেকে মামলা সরাসরি স্থানান্তর করতে পারে।

তথ্যসূত্র: সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট, বাংলাদেশ সংবিধান ও বিবিসি বাংলা নিউজ। [লিঙ্ক] 

২১৫.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট -
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) মুহম্মদ উল্লাহ
  3. গ) আবু সাঈদ চৌধুরী
  4. ঘ) শেখ মুজিবুর রহমান
সঠিক উত্তর:
ঘ) শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তিনি বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি (তাঁর অনুপস্থিতি ২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে ১১ জানুয়ারি ১৯৭২ পর্যন্ত)।

এছাড়াও,
- স্বাধীন দেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ প্রথম বাজেট উপস্থাপন করেন।
- তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৭২ সালের ৩০ জুন একই সঙ্গে ১৯৭১-৭২ ও ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেছিলেন।
- তাজউদ্দীন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট দিয়েছিলেন; সেই বাজেটের আকার ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা।

উৎস: দৈনিক ইত্তেফাক ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২১৬.
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রথম প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা-  
  1. ড. মুহাম্মদ ইউনূস 
  2. সারজিস আলম
  3. মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ 
  4. নাহিদ ইসলাম 
সঠিক উত্তর:
মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ 
ব্যাখ্যা

• জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন: 
- জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে।
- এটি একটি অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক সংস্থা। 
- এই সংস্থা শহীদদের পরিবারকে সহায়তা এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে।
- ফাউন্ডেশন ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সমাজসেবা অধিদপ্তরের অনুমোদন পায়;
- এবং ১২ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।

- ফাউন্ডেশনটির প্রধান উপদেষ্টা ও সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস;
- ফাউন্ডেশনটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলম, এবং 
- প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধকে নির্বাচিত করা হয়। 
- ফাউন্ডেশনটির কার্যালয় ঢাকায় অবস্থিত।
- প্রাথমিক তহবিল হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ১০০ কোটি টাকা অনুদান প্রাপ্ত হয়।
------------------------------------------------- 
উল্লেখ্য,
- জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রথম প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ। 
- তিনি ২১ অক্টোবর ২০২৪ থেকে ৮ মে ২০২৫ পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন।
- পরে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কামাল আকবর নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হন।

উৎস: July Shaheed Smrity Foundation Website. 

২১৭.
দেশের প্রথম 'জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. রংপুর
  3. নারায়ণগঞ্জ
  4. কুমিল্লা
সঠিক উত্তর:
নারায়ণগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারায়ণগঞ্জ
ব্যাখ্যা

জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ:
- জুলাই অভ্যুত্থানের স্মরণে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে জেলা পর্যায়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
- জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ-এর নকশাকার আব্দুল হালিম চঞ্চল
- ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬ ফুট ব্যাসের এই স্তম্ভে রয়েছে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের স্লোগান, কবিতা ও গ্রাফিতি।
- দেশের প্রথম 'জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ' নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত।

উল্লেখ্য:
- আগ্রাসন বিরোধী আট স্তম্ভ শহীদ আবরার ফাহাদের স্মরণে নির্মিত একটি প্রতীকী স্থাপনা যার নকশাকার হলেন স্থপতি নাজমুল হক নাঈম।
- 'অদম্য ২৪' স্মৃতিস্তম্ভটির নকশা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাঈদ হোসেন, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে নির্মিত এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত।
- শহীদ আবু সাঈদ-কে নিয়ে অঙ্কিত শিল্পকর্ম 'উন্নত মম শির' -এর শিল্পী শহীদ কবির।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।

২১৮.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ১দফা ঘোষণা হয় কত তারিখে?
  1. ৩১ জুলাই
  2. ২ আগস্ট
  3. ৩ আগস্ট
  4. ৪ আগস্ট
সঠিক উত্তর:
৩ আগস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ আগস্ট
ব্যাখ্যা
• ৩ আগস্ট ২০২৪ :
- কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ঘোষণা করেন যে তাদের সরকারের সাথে আলোচনার কোন পরিকল্পনা নেই এবং হাসিনার পদত্যাগ এবং ‘সবার কাছে গ্রহণযোগ্য’ একজন ব্যক্তির নেতৃত্বে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের দাবিতে লংমার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- হাসিনা আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ছাত্ররা তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
- বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে, প্রধান সমন্বয়কদের একজন নাহিদ ইসলাম শহিদ মিনারে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করেন, যেখানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার পদত্যাগের জন্য একক দাবি ঘোষণা করে এবং আহ্বান জানায়। 

উল্লেখ্য,
• জুলাই গণঅভ্যুত্থান/ জুলাই বিপ্লব:
-জুলাই গণঅভ্যুত্থান/ জুলাই বিপ্লব নামে পরিচিত ছাত্র-জনতার আন্দোলন হচ্ছে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক গণঅভ্যুত্থান যা ২০২৪ সালের ৫ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অগণিত প্রাণ বিসর্জন দেয়ার মধ্য দিয়ে বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।
- ঐতিহাসিক এই বিপ্লবের বিজয়ের ধারার সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবির আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
- এটি পরে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে আরো প্রবল হয়ে উঠেছিল যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চূড়ান্ত রূপ লাভ করে শেখ হাসিনার পদত্যাগের মাধ্যমে।

উৎস: বাসস।
২১৯.
‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ কবে গঠিত হয়? 
  1. ৩০ জুন, ২০২৪
  2. ১ জুলাই, ২০২৪
  3. ১০ জুলাই, ২০২৪
  4. ১৫ জুলাই, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
১ জুলাই, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ জুলাই, ২০২৪
ব্যাখ্যা

• বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন:
- বাংলাদেশে গণআন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটানোর ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে শিক্ষার্থীদের সংগঠন 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন'।
- সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই, ২০২৪ তারিখে গঠিত হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

⇒ সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের ২০১৮ সালের প্রজ্ঞাপন ৫ জুন, ২০২৪ হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করলে তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে অসন্তোষের শুরু হয়।
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ১ জুলাই, ২০২৪ থেকে তাদের আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- শুরুতে এ আন্দোলন অহিংস ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেপরোয়া হলে ১৫ জুলাই, ২০২৪ আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়, যার শেষ পরিণতি ঘটে ৫ আগস্ট, ২০২৪ পতন ঘটে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী সরকার শেখ হাসিনার।

তথ্যসূত্র:
i) BBC.
ii) প্রথম আলো।

২২০.
জুলাই আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. পীরগাছা
  2. বদরগঞ্জ
  3. তারাগঞ্জ
  4. পীরগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
পীরগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পীরগঞ্জ
ব্যাখ্যা

শহীদ আবু সাঈদ:
- জুলাই আন্দোলনে আবু সাইদ ১৬ জুলাই, ২০২৪ তারিখে শহীদ হয়েছিলেন।
⇒ রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা বাবনপুর গ্রামের মোঃ মকবুল হোসেন এর ঘরে জন্ম নেয় আবু সাঈদ।
- ২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে।
- আবু সাঈদ এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেন।
- কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র আবু সাঈদের পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
- এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার হন বহু মানুষ, যাতে আরও গতিশীল হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন।
- ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান হাসিনা।

উৎস: i) বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) দৈনিক ইনকিলাব।

২২১.
বাংলাদেশে প্রথম জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল কবে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে জরুরি অবস্থাঃ
- জরুরি অবস্থা বলতে বোঝায় রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থে সংকটকালীন অবস্থায় মৌলিক অধিকারে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ।
- জরুরি অবস্থা সংবিধানে যুক্ত হয় ১৯৭৩ সালের দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে।
- জরুরি অবস্থার সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ ১৪১(ক), ১৪১(খ), ১৪১(গ)।
- জরুরি অবস্থার মেয়াদ সর্বাধিক ১২০ দিন।
- বাংলাদেশে মোট ৫ বার জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে।
- ১ম বার জারি হয় ১৯৭৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর, শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে খাদ্য সংকট, দুর্ভিক্ষ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জারি করা হয়েছিল। এর ফলে দেশজুড়ে বাকস্বাধীনতা সীমিত করা হয়েছিল এবং সংবাদপত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। 
- ২য় বার ১৯৮১ সালের ৩০ মে, জারি করেন রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার; কারণ-জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড পরবর্তী পরিস্থিতি।
- ৩য় বার ১৯৮৭ সালের ২৭ নভেম্বর, জারি করেন জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ; কারণ-রাজনৈতিক অস্থিরতা।
- ৪র্থ বার ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর, জারি করেন জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ (দ্বিতীয়বার); কারণ-সরকারবিরোধী আন্দোলন।
- ৫ম বার  ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি, জারি করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা ইয়াজউদ্দীন আহম্মেদ; কারণ- রাজনৈতিক সংকট (১/১১ নামে পরিচিত)।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এস.এস.এইচ.এল., বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২২.
জুলাই ঘোষণাপত্রের কোন অনুচ্ছেদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের 'জাতীয় বীর' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে?
  1. ২৪ নং
  2. ২৬ নং
  3. ২৭ নং
  4. ২৮ নং
সঠিক উত্তর:
২৪ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪ নং
ব্যাখ্যা

জুলাই ঘোষণাপত্রের অনুচ্ছেদ ২৪-এ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের 'জাতীয় বীর' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

জুলাই ঘোষণাপত্র:

-  ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ হলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের একটি দলিল যার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
- ৫ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ঐতিহাসিক এই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
-  এই ঘোষণাপত্রে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের পাশাপাশি ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

⇒ জুলাই ঘোষণাপত্রে ২৮টি ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 
- ২৮ দফা এ ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশের জনগণ এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে যে, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।

উল্লেখ্য,
- জুলাই ঘোষণাপত্রের ২৪ নং ধারায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের 'জাতীয় বীর' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
- ২৪ নম্বর দফায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সব আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

অন্যদিকে, 
- ২৬ নং ধারা: সেহেতু বাংলাদেশের জনগণ এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছে যে একটি পরিবেশ ও জলবায়ুসহিষ্ণু অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন কৌশলের মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার সংরক্ষিত হবে।
- জুলাই ঘোষণাপত্রের ২৭ নং ধারায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতির কথা উল্লেখ আছে। ২৭ নং ধারা:  বাংলাদেশের জনগণ এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে যে ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।
- ২৮ নং ধারা: ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানে বিজয়ী বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে এই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা হলো।

উৎস: i) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।
ii) প্রথম আলো।

২২৩.
বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী প্রথম অনারব মুসলিম দেশ কোনটি?
  1. ক) সেনেগাল
  2. খ) মালয়েশিয়া
  3. গ) মালদ্বীপ
  4. ঘ) পাকিস্তান
সঠিক উত্তর:
ক) সেনেগাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সেনেগাল
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিবের ভাষ্যমতে বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রথম স্বীকৃতি দেয় ভুটান।
- একইদিন দ্বিতীয় দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ভারত।
- তৃতীয় দেশ হিসেবে পূর্ব জার্মানি ১১ জানুয়ারি ১৯৭২ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- প্রথম আফ্রিকান/মুসলিম/অনারব মুসলিম দেশ হিসেবে সেনেগাল ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
(সূত্রঃ ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট ওয়েবসাইট, কালের কণ্ঠ এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন)
২২৪.
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৭৬ সালে
  2. ১৯৭৭ সালে
  3. ১৯৭৮ সালে
  4. ১৯৭৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৮ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি):
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে গঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তম হল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
- তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী শরিক দল সমন্বয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন।
- ঢাকার রমনা গ্রীনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
- বিএনপি'র দলীয় সংবিধান অনুযায়ী তাদের রাজনীতির মূলনীতি হল- সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র (অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার অর্থে)।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৫.
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর হত্যাকাণ্ডের শিকার হননি কে?
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খালেদ মোশাররফ
  3. এম মনসুর আলী
  4. এ এইচ এম কামারুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
খালেদ মোশাররফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খালেদ মোশাররফ
ব্যাখ্যা

- খালেদ মোশাররফ ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর হত্যাকাণ্ডের শিকার হননি। 

জেল হত্যা দিবস:
-১৯৭৫ সালের নভেম্বরে সামরিক অভ্যুত্থান, জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ড, পাল্টা সামরিক অভ্যুত্থান—এ রকম একের পর এক ঘটনা ঘটে।
- ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগের চারজন নেতা- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে হত্যা করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, 
- তাদের এই হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি স্মরণার্থে ৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- কতিপয় সেনা কর্মকর্তা পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে আটক এই চার নেতাকে গুলি করে এবং বেয়নেট দিয়ে বিদ্ধ করে হত্যা করে।

সূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রথম আলো।

২২৬.
শহীদ আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন?
  1. বাংলা 
  2. ইংরেজি
  3. রাষ্ট্রবিজ্ঞান 
  4. পদার্থবিজ্ঞান
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি
ব্যাখ্যা

শহীদ আবু সাঈদ:
- রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা বাবনপুর গ্রামের মোঃ মকবুল হোসেন এর ঘরে জন্ম নেয় আবু সাঈদ।
- ২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।
- ১৬ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তিনি রংপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে।
- আবু সাঈদ এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেন।
- কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র আবু সাঈদের পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
- এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার হন বহু মানুষ, যাতে আরও গতিশীল হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন।
- ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান হাসিনা।

উৎস: i) বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) দৈনিক ইনকিলাব।

২২৭.
সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে কত সালে এরশাদ সরকার ক্ষমতা দখল করে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ১৯৮০ সালে
  2. ১৯৮১ সালে
  3. ১৯৮২ সালে
  4. ১৯৮৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮২ সালে
ব্যাখ্যা

জেনারেল এরশাদ:
- রক্তপাতহীন এক সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
- তিনি তখন সেনাবাহিনীর প্রধান। রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেই তিনি দেশে সামরিক আইন জারি করেন।

⇒ ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ দেশে সামরিক শাসন জারি করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
- তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে সরিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা হাতে নেন জেনারেল এরশাদ। 
- তিনি সামরিক ফরমান জারি করার পর রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ, জাতীয় সংসদ ও মন্ত্রিসভা বাতিল করেন এবং স্থগিত করেন সংবিধানের কার্যকারিতা।
- জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে থাকেন। নানা অপতৎপরতার মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখার প্রচেষ্টা চালাতে থাকেন।
- কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই জেনারেল এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়।
- বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠন জোটবদ্ধ হয়ে আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যায়। 
- ধীরে ধীরে এরশাদবিরোধী আন্দোলন গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
- গণআন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর জেনারেল এরশাদ দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন।
- প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে জেনারেল এরশাদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। 

উৎস: i) প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)।
ii) প্রথম আলো।

২২৮.
In which year was Bangladesh Primary Education Act enacted?
  1. in 1973
  2. in 1974
  3. in 1990
  4. in 1991
  5. in 1992
সঠিক উত্তর:
in 1990
উত্তর
সঠিক উত্তর:
in 1990
ব্যাখ্যা
প্রাথমিক শিক্ষা:
- স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করে।
- ১ জানুয়ারী, ১৯৯৩ থেকে সারাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন কার্যকর হয়।
- ১৯৭৪ সালে কুদরাত-এ-খুদা প্রণীত ‘বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন' ১৯৮৩ সালের মধ্যে প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে সর্বজনীন, বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষার সুপারিশ করে।
- ১৯৮১ সালে পৃথক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস হয়
- অন্যদিকে এ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণের জন্য প্রথমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ২১ আগস্ট, ১৯৯০ ইং ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কোস/সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- পরবর্তীতে ৩১ নভেম্বর, ১৯৯২ ইং তারিখে এর নামকরণ করা হয় ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিট'।
- তার পূর্বে ১ জানুয়ারি, ১৯৯২ সালে প্রাথমিকভাবে ৬৮ টি উপজেলায় এই আইন চালু হয়।

উৎস: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
২২৯.
জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন কে?
  1. নাহিদ ইসলাম
  2. আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
  3. ড. মুহাম্মদ ইউনূস
  4. আসিফ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
ব্যাখ্যা

জুলাই ঘোষণাপত্র:
- জুলাই ঘোষণাপত্র হলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের একটি দলিল, যার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
- ৫ই আগস্ট, ২০২৫, রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে '৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন' শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
- ঘোষণাপত্রের মূল বিষয়বস্তু হলো, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের নিরন্তর সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা।
- ঘোষণাপত্রে মোট ২৮টি দফা রয়েছে, যার মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাগুলোকে স্পষ্ট করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র- জুলাই ঘোষণাপত্র।

২৩০.
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তিতে জনসংহতি সমিতির পক্ষে স্বাক্ষর করেন কে?
  1. ক) মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা
  2. খ) সাচিং প্রু জেরি
  3. গ) মনির স্বপন দেওয়ান
  4. ঘ) জোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা
সঠিক উত্তর:
ঘ) জোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা
ব্যাখ্যা
- ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং জনসংহতি সমিতির পক্ষে জোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) স্বাক্ষর করেন।
- এই চুক্তির ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি স্থাপনের পথ সুগম হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বিবিসি বাংলা)
২৩১.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান (মুগ্ধ) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন?
  1. রাষ্ট্রবিজ্ঞান
  2. গনিত
  3. ইংরেজি
  4. অর্থনীতি
সঠিক উত্তর:
গনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গনিত
ব্যাখ্যা

• মীর মাহফুজুর রহমান (মুগ্ধ):
- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত ডিসিপ্লিনের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন মীর মাহফুজুর রহমান (মুগ্ধ)।
- ২০২৩ সালের মার্চে স্নাতক শেষ করে তিনি খুলনা ছেড়ে ঢাকায় চলে যান।
- ১৮ জুলাই ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।
- মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি আন্দোলনরত ক্লান্ত-শ্রান্ত শিক্ষার্থী-জনতাকে ‘ভাই, পানি লাগবে? পানি?’ বলছিলেন। 

উৎস: প্রথম আলো।

২৩২.
জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী কতটি  সংস্কার কমিশন গঠিত হয়েছে? [জানুয়ারি,২০২৬]
  1. ১০টি
  2. ১১টি
  3. ৮টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১টি
ব্যাখ্যা

- জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ১১টি  সংস্কার কমিশন গঠিত হয়েছে।

• সংস্কার কমিশন: 

১. নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন,
২. বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন,
৩. দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার ,
৪. পুলিশ সংস্কার কমিশন,
৫. জনপ্রশাসন সংস্কার,
৬. সংবিধান সংস্কার কমিশন,
৭. নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন,
১০. স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশন,
১১. স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন। 

উৎস: প্রধান ‍উপদেষ্টার কার্যালয় ওয়েবসাইট।[লিঙ্ক]

২৩৩.
বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন কে?
  1. এ.এস.এম. সায়েম
  2. হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
  3. আবদুস সাত্তার
  4. খন্দকার মোশতাক আহমদ
সঠিক উত্তর:
খন্দকার মোশতাক আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খন্দকার মোশতাক আহমদ
ব্যাখ্যা

→ বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন খন্দকার মোশতাক আহমদ।

বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসন:
- ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারকে হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নেন।
- প্রায় তিন মাসের মতো ক্ষমতায় ছিলেন মোশতাক।
- মোশতাকের স্বল্পকালীন শাসনকাল বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনে।
- ক্ষমতা দখল করে পাঁচ দিনের মাথায় মোশতাক স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সামরিক আইন জারি করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।

২৩৪.
'দ্য আর্ট অব ট্রায়াম্ফ' কী?
  1. জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সচিত্র দলিল
  2. জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জন্য নির্মিত জাদুঘর
  3. জুলাই গণঅভ্যুত্থানর জন্য নির্মিত একটি ভাস্কর্য
  4. জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি বা দেয়ালচিত্র
সঠিক উত্তর:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি বা দেয়ালচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি বা দেয়ালচিত্র
ব্যাখ্যা

দ্য আর্ট অব ট্রায়াম্ফ':
- জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানী ঢাকার দেয়ালে শিক্ষার্থীদের আঁকা বর্ণিল ও বৈচিত্র্যময় গ্রাফিতি চিত্রের একটি সংকলন 'দ্য আর্ট অব ট্রায়াম্ফ।
- বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রখ্যাত প্রাণিবিজ্ঞানী, প্রাইমেটোলজিস্ট ও নৃতত্ত্ববিদ জেন গুডঅলকে ‘দ্য আর্ট অব ট্রায়াম্ফ’ আর্টবুক উপহার দিয়েছেন।

- প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২৪ সেপ্টেম্বর কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে বাংলাদেশে গত জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানী ঢাকার দেয়ালে শিক্ষার্থীদের আঁকা বর্ণিল ও বৈচিত্র্যময় গ্রাফিতি চিত্রের একটি সংকলন 'দ্য আর্ট অব ট্রায়াম্ফ' উপহার প্রদান করেন।

উৎস: পত্রিকার রিপোার্ট। [লিঙ্ক]

২৩৫.
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট কতবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়? (নভেম্বর, ২০২৫)
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন
ব্যাখ্যা

⇒ গণভোট:
- বাংলাদেশে ৩ বার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৯৭৭, ১৯৮৫ ও ১৯৯১ সালে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
- এর মধ্যে ২ বার অনুষ্ঠিত হয় প্রশাসনিক গণভোট।
- এবং ১ বার অনুষ্ঠিত হয় সাংবিধানিক গণভোট।

⇒ প্রথম গণভোট:
- প্রশাসনিক গণভোট হয় ১৯৭৭ সালে।
- প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসন কার্যের বৈধতা দান।
- ফলাফল ৯৮.৮০% 'হ্যাঁ' ভোট।

⇒ দ্বিতীয় গণভোট:
- প্রশাসনিক গণভোট ১৯৮৫ সালে।
- হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সমর্থন যাচাইয়ের লক্ষ্যে হ্যাঁ-না ভোট।
- ফলাফল ৯৪.১৪% হ্যাঁ ভোট।

⇒ তৃতীয় গণভোট:
- সাংবিধানিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়- ১৯৯১ সালে।
- এটি সর্বশেষ গনভোট।
- সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী আইন প্রস্তাব।
- ফলাফল ৮৪.৩৮% হ্যাঁ ভোট।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩৬.
মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বের জন্য কয়জনকে সর্বোচ্চ সম্মান 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাব দেয়া হয়?
  1. ক) ৯ জন
  2. খ) ৭ জন
  3. গ) ৮ জন
  4. ঘ) ১০ জন
সঠিক উত্তর:
খ) ৭ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৭ জন
ব্যাখ্যা
১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বে নির্বাচিত সকল মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়:বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,বীর উত্তম - ৬৮ জন,বীর বিক্রম- ১৭৫ জন,বীর প্রতীক- ৪২৬ জন। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
২৩৭.
জুলাই সনদ ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করা হয় কবে?[ আগস্ট, ২০২৫]
  1. ৪ ই আগস্ট, ২০২৫
  2. ৫ ই আগস্ট, ২০২৫
  3. ৬ ই আগস্ট,২০২৫
  4. ৭ ই আগস্ট, ২০২৫
সঠিক উত্তর:
৫ ই আগস্ট, ২০২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ ই আগস্ট, ২০২৫
ব্যাখ্যা

জুলাই সনদ ঘোষণাপত্র:
- তারিখ : ৫ ই আগস্ট ২০২৫ সাল।
- স্থান: রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ।
- প্রধান ব্যক্তিত্ব: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
- অনুষ্ঠানের নাম:‘৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন’।
- উদ্দেশ্য: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উদযাপন।
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া।
- আয়োজক: সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
- মূল কার্যক্রম: অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
- বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও ছাত্র-জনতা উপস্থিত ছিলেন।
- জুলাই ঘোষণাপত্র হলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের একটি দলিল।

​উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা।[ লিঙ্ক]

২৩৮.
রাষ্ট্রপতি পদের জন্য প্রথম সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় কবে?
  1. ১৯৭৭ সালে
  2. ১৯৭৮ সালে
  3. ১৯৭৯ সালে
  4. ১৯৮০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৮ সালে
ব্যাখ্যা

১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন:
- ১৯৭৮ সালের ৩ জুন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এটিই ছিল রাষ্ট্রপতি পদের জন্য প্রথম সরাসরি নির্বাচন।
- এর আগে সংসদ দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল।
- সরাসরি ভোটের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জিয়াউর রহমান বিজয়ী হয়েছিলেন।
- তিনি জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের ব্যানারে অংশ নিয়ে ৭৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।
- তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমএজি ওসমানী গণতান্ত্রিক ঐক্যজোটের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।
- জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি।
- তিনি ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ থেকে ৩০ মে ১৯৮১ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে ছিলেন।

তথ্যসূত্র - পত্রিকার রিপোর্ট।

২৩৯.
জুলাই জাতীয় সনদে কতটি সংস্কার প্রস্তাব উল্লেখ রয়েছে?
  1. ২৮টি
  2. ৩০টি
  3. ৮৪টি 
  4. ৯০টি 
সঠিক উত্তর:
৮৪টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮৪টি 
ব্যাখ্যা

• জুলাই জাতীয় সনদ:
- ১৭ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে।
- জুলাই জাতীয় সনদকে চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে জনগণের ত্যাগ ও রক্তদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রণীত নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
- এই সনদ বাস্তবায়নে মোট সাত দফা অঙ্গীকার করা হয়েছে।

- জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ২৪টি রাজনৈতিক দলের ৪৮ জন প্রতিনিধি আনুষ্ঠানিকভাবে ওই সনদে সই করেন।
- এরপর সই করেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ কমিশনের সদস্যরা। 
- সাত দফা অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতে প্রণীত ৪০ পৃষ্ঠার এই সনদের তিনটি ভাগের মধ্যে প্রথম ভাগে পটভূমি, দ্বিতীয় ভাগে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব ও তৃতীয় ভাগে সনদ বাস্তবায়নের সাত দফা অঙ্গীকার রয়েছে।

 এই সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৭টি বিষয়কে ‘সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে সংস্কার’ এবং বাকি ৩৭টি বিষয়কে ‘আইন বা অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ঐকমত্য কমিশন। জুলাই সনদের পটভূমি ব্যাখ্যা করে সংস্কারযজ্ঞ নিয়ে ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রমসহ সংস্কারের ৮৪ দফা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো কী অঙ্গীকার করছে, তা উল্লেখ করার পর স্বাক্ষরের জায়গা রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, 
- জুলাই ঘোষণাপত্রে ২৮টি ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) কালের কন্ঠ।

২৪০.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সংবিধানে কী নামে অভিহিত করা হয়েছে?
  1. ক) স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধ
  2. খ) জাতীয় স্বাধীনতার ঐতিহাসিক যুদ্ধ
  3. গ) জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রাম
  4. ঘ) মুক্তিসংগ্রাম
সঠিক উত্তর:
গ) জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রাম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের প্রস্তাবনার শুরুতেই বলা হয়েছে: 'আমরা, বাংলাদেশের জনগণ, ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষনা করিয়া জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি;'।
- উল্লেখ্য, সামরিক শাসনকালে (১৯৭৫ - ১৯৯১) সংবিধানের এই অংশটুকু পরিবর্তন করা হয়েছিলো।
- ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে 'জাতীয় স্বাধীনতার ঐতিহাসিক যুদ্ধ' এর পরিবর্তে বাহাত্তরের সংবিধানের সাথে মিল রেখে 'জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রাম' প্রতিস্থাপিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
২৪১.
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালে মোট কতজন নারীকে খেতাব প্রদান করা হয়?
  1. ২ জন
  2. ৪ জন
  3. ৬ জন
  4. ৮ জন
সঠিক উত্তর:
২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- ৬ জুন ২০২১ তারিখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীর বিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীর প্রতীক : ৪২৪ জন।

মহিলা বীরপ্রতীক:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২ জন মহিলাকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তাঁরা হলেন- ডা. সেতারা বেগম ও তারামন বিবি।
- তারামন বিবি ও ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে যথাক্রমে ১১ ও ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
২৪২.
মেজর জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন- 
  1. বিচারপতি সাহাবুদ্দিন
  2. আবদুস সাত্তার 
  3. খন্দকার মুশতাক
  4. জেনারেল এরশাদ
সঠিক উত্তর:
আবদুস সাত্তার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুস সাত্তার 
ব্যাখ্যা

মেজর জিয়াউর রহমান শাসানামাল:
- সাত্তার সরকার (১৯৮১-১৯৮২)  জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর উপ-রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
- তিনি পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
- সামরিক বাহিনীর চাপে সাত্তারের সরকার প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী এবং তিন বাহিনীর প্রধানকে সদস্য করে একটি ‘জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল’ গঠন করে।
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদ সামরিক আইন জারি, সংবিধান স্থগিত, সাত্তার সরকারকে বরখাস্ত, সংসদ বাতিল এবং প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে আবির্ভূত হন।
-নৌ এবং বিমান বাহিনী প্রধানদ্বয় এরশাদের ডেপুটি নিযুক্ত হন।
- এরশাদ সামরিক আইনে পরবর্তী ৪ বছর দেশ শাসন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২৪৩.
কুমিল্লা সেনানিবাসে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য -
  1. ক) অনির্বাণ জেড
  2. খ) শিখা অনির্বাণ
  3. গ) বিজয় গাঁথা
  4. ঘ) রক্ত সোপান
সঠিক উত্তর:
ক) অনির্বাণ জেড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অনির্বাণ জেড
ব্যাখ্যা
সেনানিবাস গুলোতে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ও স্থাপনা:
- ঢাকা সেনানিবাস - বিজয় কেতন, শিখা অনির্বাণ, জাহাঙ্গীর গেট, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
- রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাস - রক্ত সোপান
- কুমিল্লা সেনানিবাস - অনির্বাণ জেড
- রংপুর সেনানিবাস - বিজয় গাঁথা।

উৎস:
বিবিসি।
২৪৪.
জাতীয় সংসদে বাংলা ভাষাকে জীবনের সর্বস্তরে ব্যবহারের জন্য কত সালে আইন পাস হয়েছে?
  1. ১৯৭৫ সালে 
  2. ১৯৭৮ সালে 
  3. ১৯৮২ সালে 
  4. ১৯৮৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮৭ সালে
ব্যাখ্যা

জাতীয় সংসদে বাংলা ভাষাকে জীবনের সর্বস্তরে ব্যবহারের জন্য ১৯৮৭ সালে আইন পাস হয়েছে।

বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭:
- ১৯৪৭ সালে ভারত বর্ষ ভাগ হয়ে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর প্রথম আঘাতটাই আসে বাংলা ভাষার ওপর।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনেই স্বাধীনতার বীজ বপন করা হয়েছিল, যা অঙ্কুরিত হয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পরিপূর্ণতা লাভ করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়।
- স্বাধীনতার পরপর সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রয়োগের জন্য একাধিক পরিপত্র জারি করা হয়।
- সর্বোপরি ১৯৮৭ সালে বাংলা ভাষার প্রচলন আইন সংসদ কর্তৃক পাশ হয়। 

উল্লেখ্য,
- ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ ‘বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭’ প্রণয়ন করা হয়।
- ঐ আইনের ৩(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই আইন প্রবর্তনের পর বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারি অফিস-আদালত, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র, আইন-আদালতের সওয়াল-জবাব এবং অন্যান্য আইনানুগ কার্যাবলি অবশ্যই বাংলায় লিখিত হবে।
- এই ধারা মোতাবেক কোনো কর্মস্থলে যদি কোনো ব্যক্তি বাংলা ভাষা ব্যতীত অন্য কোনো ভাষায় আবেদন বা আপিল করেন তা হলে তা বেআইনি ও অকার্যকর বলিয়া গণ্য হবে।’

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২৪৫.
কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রথম শহিদ আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হয় কবে?
  1. ১৬ জুলাই, ২০২৪
  2. ১৭ জুলাই, ২০২৪
  3. ১৮ জুলাই, ২০২৪
  4. ১৯ জুলাই, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
১৬ জুলাই, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬ জুলাই, ২০২৪
ব্যাখ্যা
শহীদ আবু সাঈদ:
- রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা বাবনপুর গ্রামের মোঃ মকবুল হোসেন এর ঘরে জন্ম নেয় আবু সাঈদ।
- ২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।
- ১৬ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তিনি রংপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে।
- আবু সাঈদ এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেন।
- কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র আবু সাঈদের পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
- এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার হন বহু মানুষ, যাতে আরও গতিশীল হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন।
- ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান হাসিনা।

উৎস: i) বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) প্রথম আলো।
২৪৬.
বাংলাদেশে সর্বপ্রথম জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয় কোন সালে? 
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা:
- জরুরি অবস্থা বলতে বোঝায় রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থে সংকটকালীন অবস্থায় মৌলিক অধিকারে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ।
- জরুরি অবস্থা সংবিধানে যুক্ত হয় ১৯৭৩ সালের দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে।
- জরুরি অবস্থার সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ ১৪১(ক), ১৪১(খ), ১৪১(গ)।
- জরুরি অবস্থার মেয়াদ সর্বাধিক ১২০ দিন।
- বাংলাদেশে মোট ৫ বার জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে।
- ১ম বার জারি হয় ১৯৭৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর, শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে খাদ্য সংকট, দুর্ভিক্ষ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জারি করা হয়েছিল। এর ফলে দেশজুড়ে বাকস্বাধীনতা সীমিত করা হয়েছিল এবং সংবাদপত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। 
- ২য় বার ১৯৮১ সালের ৩০ মে, জারি করেন রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার; কারণ-জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড পরবর্তী পরিস্থিতি।
- ৩য় বার ১৯৮৭ সালের ২৭ নভেম্বর, জারি করেন জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ; কারণ-রাজনৈতিক অস্থিরতা।
- ৪র্থ বার ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর, জারি করেন জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ (দ্বিতীয়বার); কারণ-সরকারবিরোধী আন্দোলন।
- ৫ম বার  ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি, জারি করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা ইয়াজউদ্দীন আহম্মেদ; কারণ- রাজনৈতিক সংকট (১/১১ নামে পরিচিত)।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এস.এস.এইচ.এল., বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২৪৭.
সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, একটি নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য মোট জেলার কত শতাংশে দলের সক্রিয় কার্যালয় থাকা বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করা হয়েছে?
  1. ২০% 
  2. ৫% 
  3. ১০% 
  4. ১৫% 
সঠিক উত্তর:
১০% 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০% 
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন: 
- নতুন দল নিবন্ধনের শর্ত শিথিলের লক্ষ্যে ১০% জেলা এবং ৫% উপজেলা/থানায় দলের অফিস থাকা লাগবে।
- এবং ন্যূনতম ৫,০০০ সদস্য থাকার বিধান করা।
- দলের সদস্যদের চাঁদা ন্যূনতম ১০০ টাকা ও কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে অনুদান হিসেবে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা নেওয়ার বিধান করা।
- এ অনুদান ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে গ্রহণের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যাক্স রিটার্নে প্রদর্শনের বিধান করা।
- দলের লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র, শিক্ষক ও শ্রমিক সংগঠন, ভাতৃপ্রতিম বা যে কোনো নামেই হউক না কেন, না থাকার বিধান করা।
- দলের, যে কোনো নামেই হউক না কেন, বিদেশি শাখা না থাকার বিধান করা।
- দলের সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের জন্য দলের তিন বছরের সদস্য পদ থাকা বাধ্যতামূলক করা।
- প্রতি ৫ বছর পর পর দলের নিবন্ধন নবায়ন বাধ্যতামূলক করা।
- পর পর দুটি নির্বাচনে অংশ না নিলে দলের নিবন্ধন বাতিলের বিধান বাতিল করা।

উৎস:  নির্বাচন সংস্কার কমিশন।

২৪৮.
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন চলাকালে আবু সাঈদ কত তারিখে শহীদ হয়েছিলেন?
  1. ৮ জুলাই, ২০২৪
  2. ১৪ জুলাই, ২০২৪
  3. ১৬ জুলাই, ২০২৪
  4. ২৪ জুলাই, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
১৬ জুলাই, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬ জুলাই, ২০২৪
ব্যাখ্যা
শহীদ আবু সাঈদ:
- রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা বাবনপুর গ্রামের মোঃ মকবুল হোসেন এর ঘরে জন্ম নেয় আবু সাঈদ।
- ২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।
- ১৬ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তিনি রংপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে।
- আবু সাঈদ এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেন।
- কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র আবু সাঈদের পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
- এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার হন বহু মানুষ, যাতে আরও গতিশীল হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন।
- ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান হাসিনা।

উৎস: i) বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) দৈনিক ইনকিলাব।
২৪৯.
স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ছাত্র গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয় কত সালে?
  1. ২০১৮ সাল
  2. ১৯৯৬ সাল
  3. ২০২৪ সাল
  4. ১৯৯০ সাল
সঠিক উত্তর:
১৯৯০ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯০ সাল
ব্যাখ্যা

• ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান:
- স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হন।
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদ বাংলাদেশের দ্বিতীয়বার সামরিক শাসন শুরু করেন।
- এরশাদের শাসনকালে দেশ আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে দুর্যোগপূর্ণ অবস্থার মধ্যে থাকে।
- এরশাদের সামরিক শাসনের অবসানের জন্য দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম চলতে থাকে।
- বহু মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রাণ দেন।
- ১৯৯০ সালের ডিসেম্বর মাসে সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের সফল গণঅভ্যুত্থানে সামরিক শাসন অবসান ঘটে।
- গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ ঘটে নি; এরশাদের শাসনের প্রথম থেকেই বিরোধী কার্যক্রম চলতে থাকে।
- ১৯৮২ সালের শেষ থেকে ছাত্র সমাজ সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে।
- শিক্ষানীতি বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বুদ্ধিজীবীরা সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
- ১৯৮৩ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দলীয় জোট ও বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট গঠিত হয়।
- বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনও আন্দোলনে অংশ নেন।
- ১৯৮৭ সালে সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন প্রবল হলেও এরশাদ ক্ষমতায় থাকেন।
- ১৯৯০ সালের শুরু থেকে রাজনৈতিক দলগুলো মিছিল, মিটিং ও হরতাল চালায়।
- সারাদেশের ছাত্র, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠন আন্দোলনে সক্রিয় থাকে।
- ছাত্র সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য আন্দোলনকে শক্তিশালী করে।
- ১৯ নভেম্বর ১৯৯০ সালে সরকার পতনের লক্ষ্যে ৮, ৭ ও ৫ দলীয় জোট যৌথ ঘোষণা প্রদান করে।
- ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হন। এরশাদের ক্ষমতা ত্যাগের মধ্যে দিয়ে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

২৫০.
কে সর্বপ্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন?
  1. জিয়াউর রহমান
  2. হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
  3. কাজী মুহাম্মদ শফিউল্লাহ
  4. খন্দকার মোশতাক আহমদ
সঠিক উত্তর:
খন্দকার মোশতাক আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খন্দকার মোশতাক আহমদ
ব্যাখ্যা
⇒ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন খন্দকার মোশতাক আহমদ।

বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসন:
- ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের পর খন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নেন।
- প্রায় তিন মাসের মতো ক্ষমতায় ছিলেন মোশতাক।
- মোশতাকের স্বল্পকালীন শাসনকাল বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভয়াবহ বিপর্যয় বয়ে আনে।
- মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমস্ত অর্জন মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয় এবং পাকিস্তানের ভাবধারার পুনঃপ্রতিষ্ঠা শুরু হয়।
- ক্ষমতা দখল করে পাঁচ দিনের মাথায় মোশতাক স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সামরিক আইন জারি করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।
২৫১.
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে মুনসুন অভ্যুত্থান (Monsoon Revolution) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন কে?
  1. ড. মুহাম্মদ ইউনূস
  2. অ্যান্তোনিও গুতেরেস
  3. ওয়াকার-উজ-জামান
  4. বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংগঠন
সঠিক উত্তর:
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
ব্যাখ্যা
মুনসুন অভ্যুত্থান (Monsoon Revolution):
- ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে মুনসুন অভ্যুত্থান (Monsoon Revolution) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে ২০২৪ সালের এই অভ্যুত্থানকে মুনসুন অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানকে ‘মনসুন অভ্যুত্থান’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, আগামীতে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষকে মুক্তি ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিতে তারুণ্যের এই অভ্যুত্থান প্রেরণা জুগিয়ে যাবে।

উল্লেখ্য,
- সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই, ২০২৪ আন্দোলনে নামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
- শুরুতে এ আন্দোলন অহিংস ছিল কিন্তু পরবর্তীকালে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেপরোয়া হলে ১৫ জুলাই, ২০২৪ আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়।
- অতঃপর শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন প্রবল আকার ধারণ করে যার শেষ পরিণতি ঘটে ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মাধ্যমে।
- ৫ আগস্ট, ২০২৪ পতন ঘটে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী সরকার শেখ হাসিনার।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।
২৫২.
বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর প্রথম সামরিক আইন ঘোষণাকারী কে ছিলেন?
  1. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  2.  হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ
  3. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
  4. আব্দুস সাত্তার
সঠিক উত্তর:
খন্দকার মোশতাক আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খন্দকার মোশতাক আহমেদ
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসন:
- ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারকে হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নেন।
- প্রায় তিন মাসের মতো ক্ষমতায় ছিলেন মোশতাক।
- মোশতাকের স্বল্পকালীন শাসনকাল বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনে।
- ক্ষমতা দখল করে পাঁচ দিনের মাথায় মোশতাক স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সামরিক আইন জারি করেন।
- যারা সামরিক অভ্যুত্থান সংগঠিত করেছিলেন তারা বঙ্গভবনে থেকে 'ক্ষমতা পরিচালনা' করতে থাকেন।
- ফলে সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং ৩ নভেম্বর (১৯৭৫) সেনাবাহিনীর একটি অংশ বিদ্রোহ করে।
- তারা ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফকে সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করে ও তৎকালীন সেনা প্রধান জিয়াউর রহমানকে অন্তরীণ করে।
- ৫ নভেম্বর খন্দকার মুশতাক পদত্যাগ করলে প্রধান বিচারপতি এ.এস.এম সায়েম রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি ও এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫৩.
স্বাধীনতার পর জাপান কবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়?
  1. ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২
  2. ৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২
  3. ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২
  4. ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশকে জাপানের স্বীকৃতি:
- স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি জাপান স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করে। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করার পর প্রথম যে কয়টি দেশ স্বীকৃতি দিয়েছে, জাপান তার মধ্যে অন্যতম।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর আত্মসমপর্ণের মাধ্যমে নয় মাস ব্যাপী রক্তক্ষয়ী মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে।
- বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের। বাংলাদেশের বিজয় অর্জনে জাপানিপত্র-পত্রিকায় শিরোনাম করল 'Pakistanis Ink Surrender Papers'.
- ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি জাপান এয়ার লাইন্সের একটি বিরাট বিমান নানা সাহায্য সামগ্রী নিয়ে ঢাকা পৌঁছায়। জাপানের জনগণ ও স্কুলের ছেলেমেয়েরা জাপান রেডক্রসের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের জন্য এই সাহায্য দান করেন। জাপানি স্কুল শিশুরা তাদের টিফিনের অর্থ বাঁচিয়ে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশিদের পাশে দাঁড়িয়েছিল।
- ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি জাপান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
-  স্বীকৃতি দান প্রসঙ্গে হায়াকাওয়া বলেন, জাপান স্বাধীন বাংলাদেশকে দ্রুত স্বীকৃতি দিয়েছিল। সিদ্ধান্তটি ছিল অতি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর জাপান কূটনীতির ক্ষেত্রে এই প্রথম স্বতস্ফূর্তভাবে একটা উদ্যোগ নিল।
- ১৯৭২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি: জাপান বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। জাপান বাংলাদেশে দূতাবাসের কার্যক্রম চালু করে। তাকাশি ওয়ামাদা বাংলাদেশে নিযুক্ত প্রথম জাপানি রাষ্টদূত।

উৎস: i) সংগ্রামের নোটবুক।
ii) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

২৫৪.
‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ’ (বাকশাল) গঠিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৭৩-এর ২৩ ফেব্রুয়ারি
  2. খ) ১৯৭৪-এর ২২ ফেব্রুয়ারি
  3. গ) ১৯৭৪-এর ২৫ ফেব্রুয়ারি
  4. ঘ) ১৯৭৫-এর ২৪ ফেব্রুয়ারি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৭৫-এর ২৪ ফেব্রুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৭৫-এর ২৪ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
১৯৭৫-এর ২৪ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অন্যান্য রাজনৈতিক দল ভেঙ্গে দিয়ে ‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ’ (বাকশাল) নামে একটি জাতীয় রাজনৈতিক দল গঠন করেন। এই দলের চেয়ারম্যান হলেন বঙ্গবন্ধু এবং সাধারণ সম্পাদক হলেন এম. মনসুর আলী। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
২৫৫.
বাংলাদেশের প্রথম সংসদীয় গণতন্ত্র কোন সালে প্রবর্তন করা হয়?
  1. ক) ১৯৭২
  2. খ) ১৯৭১
  3. গ) ১৯৯১
  4. ঘ) ১৯৭৫
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭২
ব্যাখ্যা
- স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময় নির্বাহী প্রধান পদের পরিবর্তন হয়েছে।
- মুজিবনগর সরকারের সময় সরকার প্রধান ছিল রাষ্ট্রপতি।
- স্বাধীনতা অর্জনের পরেই ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- পরবর্তীতে সামরিক শাসকগণ আবার রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা চালু করেন।
- কিন্তু অবশেষে ১৯৯১ সালে পুনরায় সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন হয়।
- এ ব্যবস্থায় সরকারের কেন্দ্রবিন্দু হলেন প্রধানমন্ত্রী।

উৎস: এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৬.
নূর হোসেন কোন আন্দোলনে শহিদ হন?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  3. নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন
  4. ৭১ এর অসহযোগ আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• শহীদ নূর হোসেন:
- নূর হোসেন নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহিদ হন।
 
- ১৯৯০ সালের ৬ই ডিসেম্বর এক তীব্র গণআন্দোলনের মুখে বাংলাদেশে জেনারেল এরশাদের নয় বছরের শাসনের অবসান ঘটে। 
- কিন্তু তারও তিন বছর আগে আরেকটি গণআন্দোলন তিনি নিষ্ঠুরভাবে দমন করেছিলেন।
- সেই আন্দোলনের সময় গণতন্ত্রের দাবিতে বুকে-পিঠে শ্লোগান লিখে রাস্তায় নামা এক তরুণ নূর হোসেন পুলিশের গুলিতে নিহত হন। 
- ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর নূর হোসেন শহীদ হন।
- নূর হোসেনের লেখা শ্লোগান বুকে 'স্বৈরাচার নীপাত যাক' এবং পিঠে 'গণতন্ত্র মুক্তি পাক'।

উৎস: ৬ ডিসেম্বর ২০২০, বিবিসি বাংলা।
২৫৭.
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে মোট কতজনকে বীরউত্তম খেতাব প্রদান করা হয়?
  1. ৬৬ জন
  2. ৬৭ জন
  3. ৬৮ জন
  4. ৬৯ জন
সঠিক উত্তর:
৬৮ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৮ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

মহিলা বীরপ্রতীক:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২ জন মহিলাকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তাঁরা হলেন- ডা. সেতারা বেগম ও তারামন বিবি।
- তারামন বিবি ও ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে যথাক্রমে ১১ ও ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
২৫৮.
স্বাধীনতার পর প্রথম ডাকটিকিটে কোন ছবি ছিল?
  1. সোনা মসজিদ
  2. জাতীয় স্মৃতিসৌধ
  3. কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার
  4. লালবাগ কেল্লা
সঠিক উত্তর:
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার পর প্রথম ডাকটিকিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ছবি ছিল।

বাংলাদেশের ডাকটিকিট:
- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের ২৯ জুলাই।
- ১৯৭১ সালের ২৯ জুলাই বাংলাদেশ নামে প্রথম ৮টি ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়।
- এই ৮টি ডাকটিকিট স্বাধীনতাযুদ্ধে বাংলাদেশের প্রতি বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। 
- ডাকটিকিটগুলোর নকশা করেছিলেন প্রবাসী বাঙালি বিমান মল্লিক।

⇒ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রকাশিত প্রথম ডাকটিকিটে ছিল ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ছবি।
- মুক্তিযুদ্ধ শেষে প্রথম স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশিত হয় ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২ তারিখে।
- প্রথম ডাকটিকিটটি ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র সম্বলিত গাঢ় লাল, নীল ও বেগুনী রঙের।
- ১০ পয়সা মূল্যের এই ডাকটিকিটের বার্তা হলো আমাদের ভূখণ্ড এবং দেশের পরিচয় বিশ্বকে জানানো।
- আর ডাকটিকিটে বাংলাদেশের মাঝ বরারর যাওয়া কর্কটক্রান্তি রেখা দেয়া হয়েছে।
- তারপর বাংলাদেশ ডাকবিভাগ অবিরাম নির্দিষ্ট স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে চলছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনা, উত্তরাধিকার ও সংস্কৃতির উপর।

উল্লেখ্য,
- ২৯ জুলাই জাতীয় ডাকটিকিট দিবস। ২০১৫ সালের ২৯ জুলাই থেকে বাংলাদেশে 'জাতীয় ডাকটিকিট দিবস' পালিত হয়ে আসছে।

উৎস: i) ডাক অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।
ii) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
২৫৯.
স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহন করেন?
  1. ক) ১০ জানুয়ারী, ১৯৭২
  2. খ) ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২
  3. গ) ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২
  4. ঘ) ১৩ জানুয়ারি, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
গ) ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। 

- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের কয়েকদিনের মধ্যেই মুজিবনগর প্রশাসনের সিনিয়র
আমলাবৃন্দ ঢাকায় এসে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করেন।
- ২২ ডিসেম্বর মুজিবনগর সরকারের সদস্যবৃন্দ ঢাকায় আসেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তিলাভের পর লন্ডন-দিল্লি হয়ে ১০-০১-৭২ তারিখে বঙ্গবন্ধু ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন।
- ঢাকায় ফেরার পরদিন (১১.১.৭২ তারিখ রাতে) বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের ‘অন্তবর্তীকালীন শাসনতন্ত্র আদেশ, ১৯৭২’ জারি করেন।
- এই আদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু প্রধান বিচারপতির কাছে প্রথমে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং পরে পদত্যাগ করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- এভাবেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের সরকার প্রধানের দায়িত্ব লাভ করেন।
- তখন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।
- প্রধান বিচারপতি মনোনীত হন বিচারপতি আবু সাদাত মোঃ সায়েম।
- ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ১২ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬০.
মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে বহির্বিশ্বকে বিভ্রান্ত করার জন্য গঠিত মালিক মন্ত্রীসভার সদস্য সংখ্যা কত ছিল?
  1. ক) ১৫
  2. খ) ১২
  3. গ) ১০
  4. ঘ) ১৩
সঠিক উত্তর:
গ) ১০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১০
ব্যাখ্যা
মালিক মন্ত্রীসভার সদস্য সংখ্যা - ১০ জন ছিল।

- তা নিম্নে দেওয়া হল:
- ড. আব্দুল মোতালেব মালিক (পূর্ব পাকিস্তান) - "স্বাস্থ্য, শ্রম, পরিবার পরিকল্পনা, যোগাযোগ"
- সর্দার আব্দুর রশীদ - স্বরাষ্ট্র এবং কাশ্মীর বিষয়ক, রাজ্য এবং সীমান্ত অঞ্চল" 
-. জনাব আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুদ্দিন (পূর্ব পাকিস্তান)" - "শিল্প এবং প্রাকৃতিক সম্পদ"।
- নওয়াব মুজাফফ্ফর আলী কিষবিলাস -অর্থ।
 - জনাব মোহাম্মদ সামসুল হক - শিক্ষা এবং বিজ্ঞান গবেষ…
- নওয়াবজাদা মোহাম্মদ শের আলী খান - তথ্য এবং জাতীয় বিষয়ক।
- জনাব ইহসানুল হক - বাণিজ্য।
- জনাব মাহমুদ আব্দুল্লাহ হারূন - কৃষি এবং কর…
- জনাব এলভিন রবার্ট কর্ণেলিয়াস - আইন।
- ড: গোলাম ওয়াহিদ চৌধুরী - যোগাযোগ।

উৎস:songramernotebook.com
২৬১.
স্বাধীন বাংলাদেশে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৭৩ সালে
  2. ১৯৭৪ সালে
  3. ১৯৭৫ সালে
  4. ১৯৭৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসন:
- ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারকে হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নেন।
- প্রায় তিন মাসের মতো ক্ষমতায় ছিলেন মোশতাক।
- মোশতাকের স্বল্পকালীন শাসনকাল বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনে।
- ক্ষমতা দখল করে পাঁচ দিনের মাথায় মোশতাক স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সামরিক আইন জারি করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।

২৬২.
বাংলাদেশ গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন কে?
  1. শাহ আবদুল হামিদ
  2. মোহাম্মদ উল্ল্যাহ
  3. আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ
  4. মোহাম্মদ বায়তুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ
ব্যাখ্যা
- ১৯৭২ সালের ২২শে মার্চ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সায়িদ চৌধুরী সংবিধান রচনার উদ্দেশ্যে ‘বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ জারি করেন। ৭ এপ্রিল এটির সংশোধনী আদেশ জারি করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল ৪১৪ জন সদস্যের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে। এতে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ।
- ১০ ও ১১ই এপ্রিল এই অধিবেশনের মোট দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই অধিবেশনে গণপরিষদের কার্যপ্রণালি বিধি প্রণীত হয়।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
২৬৩.
'৩৬ ডেইজ অব জুলাই: স্যালুটিং দ্য ব্রেভহার্টস' হচ্ছে -
  1. জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে প্রদর্শনী
  2. জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে চলচ্চিত্র
  3. জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বই
  4. জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে গান
সঠিক উত্তর:
জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে প্রদর্শনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে প্রদর্শনী
ব্যাখ্যা
৩৬ ডেইজ অব জুলাই: স্যালুটিং দ্য ব্রেভহার্টস:
- দেশের শীর্ষ ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার সাহস, দৃঢ়তা ও ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজধানী ফার্মগেটে প্রদর্শনী আয়োজন করেছে।

উল্লেখ্য, 
- প্রদর্শনীতে ২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত আলোকচিত্র, স্লোগান, গ্রাফিতি ও সংবাদ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
- "৩৬ ডেইজ অব জুলাই: স্যালুটিং দ্য ব্রেভহার্টস" প্রদর্শনী শুরু হয়েছে ১-৭ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত, ডেইলি স্টার সেন্টারে।
- এটি ছাত্র-জনতার সাহসিকতা ও ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আয়োজিত।
- আলোচনায় মিলান কুন্ডেরার "বিস্মৃতির বিরুদ্ধে স্মৃতির লড়াই" উদ্ধৃত করা হয়।

উৎস: ডেইলি স্টার বাংলা নিউজ ও প্রথম আলো নিউজ।
২৬৪.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান (মুগ্ধ) কত তারিখে শহীদ হন?
  1. ১৩ জুলাই ২০২৪
  2. ১ আগস্ট ২০২৪
  3. ১৮ জুলাই ২০২৪
  4. ২৬ জুলাই ২০২৪
সঠিক উত্তর:
১৮ জুলাই ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮ জুলাই ২০২৪
ব্যাখ্যা

• মীর মাহফুজুর রহমান (মুগ্ধ):
- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত ডিসিপ্লিনের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন মীর মাহফুজুর রহমান (মুগ্ধ)।
- ২০২৩ সালের মার্চে স্নাতক শেষ করে তিনি খুলনা ছেড়ে ঢাকায় চলে যান।
- ১৮ জুলাই ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।
- মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি আন্দোলনরত ক্লান্ত-শ্রান্ত শিক্ষার্থী-জনতাকে ‘ভাই, পানি লাগবে? পানি?’ বলছিলেন। 

উৎস: প্রথম আলো।

২৬৫.
'জুলাই অভ্যুত্থান' - এ গেজেটভুক্ত শহীদ কত জন?
  1. ৮২৪ জন
  2. ৮৩৪ জন
  3. ৮৬৪ জন
  4. ৮৫৬ জন
সঠিক উত্তর:
৮৩৪ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮৩৪ জন
ব্যাখ্যা
• জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ২০২৪–এ শহীদদের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে সরকার।
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এটি প্রকাশ করেছে।
- সেখানে গেজেট প্রকাশের তারিখ লেখা হয়েছে ১৫ জানুয়ারি, ২০২৪।
- সরকারি গেজেট অনুযায়ী, গণ–অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৪ জন।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
২৬৬.
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কত তারিখে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে?
  1. ৬ আগস্ট, ২০২৪
  2. ৭ আগস্ট, ২০২৪
  3. ৮ আগস্ট, ২০২৪
  4. ৯ আগস্ট, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
৮ আগস্ট, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ আগস্ট, ২০২৪
ব্যাখ্যা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার:
- ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে।
- নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে আগস্ট, ২০২৪ সালে দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে।
- এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

⇒ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
- শপথ গ্রহণের স্থান: বঙ্গভবন।

উৎস: প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ওয়েবসাইট।

২৬৭.
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৮১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
ব্যাখ্যা

প্রাথমিক শিক্ষা:
- স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭৩ সালে সরকার প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করে।

⇒ ১ জানুয়ারী, ১৯৯৩ থেকে সারাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন কার্যকর হয়।
- ১৯৭৪ সালে কুদরাত-এ-খুদা প্রণীত ‘বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন' ১৯৮৩ সালের মধ্যে প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে সর্বজনীন, বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষার সুপারিশ করে।
- ১৯৮১ সালে পৃথক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস হয়।
- অন্যদিকে এ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণের জন্য প্রথমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ২১ আগস্ট, ১৯৯০ ইং ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কোস/সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- পরবর্তীতে ৩১ নভেম্বর, ১৯৯২ ইং তারিখে এর নামকরণ করা হয় ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিট'।
- তার পূর্বে ১ জানুয়ারি, ১৯৯২ সালে প্রাথমিকভাবে ৬৮ টি উপজেলায় এই আইন চালু হয়।

উৎস: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

২৬৮.
জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
  1. আবু সাঈদ চৌধুরী
  2. মোহাম্মদউল্লাহ
  3. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
  4. জিয়াউর রহমান
সঠিক উত্তর:
জিয়াউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা
১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন:
- ১৯৭৮ সালের ৩ জুন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এটিই ছিল রাষ্ট্রপতি পদের জন্য প্রথম সরাসরি নির্বাচন।
- সরাসরি ভোটের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন জিয়াউর রহমান।
- তিনি জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের ব্যানারে অংশ নিয়ে ৭৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।
- তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন এমএজি ওসমানী। 
- তিনি ২২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও যুগান্তর পত্রিকার রিপোর্ট।
২৬৯.
স্বাধীন বাংলাদেশে সংবিধান রচনার জন্য 'বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ জারি করেন কে?
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. শেখ মুজিবুর রহমান
  3. আবু সাঈদ চৌধুরী
  4. আতাউর রহমান খান
সঠিক উত্তর:
আবু সাঈদ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু সাঈদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ:
- স্বাধীন বাংলাদেশে সংবিধান রচনার জন্য তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ 'বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ জারি করেন।
- এ আদেশ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকরী বলে ধরে নেয়া হয়।
- এ আদেশ বলে ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গণপরিষদ গঠন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল।
- গণপরিষদের প্রথম স্পিকার ছিলেন শাহ আবদুল হামিদ এবং ডেপুটি স্পিকার ছিলেন মোহাম্মদ উল্লাহ।
- গণপরিষদের সদস্যদের মধ্য থেকে ৩৪ জন নিয়ে বাংলাদেশের সংবিধান রচনা কমিটি গঠিত হয়।
- কমিটির সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
- সংবিধান কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।
- ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন খসড়া সংবিধান বিল আকারে উত্থাপন করেন।
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ (বিজয় দিবস) থেকে কার্যকর হয়।
- ৪ নভেম্বরকে বাংলাদেশের সংবিধান দিবস বলা হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭০.
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালিত হয় কবে?
  1. ১৬ জুলাই
  2. ১৯ জুলাই
  3. ৫ আগস্ট
  4. ১০ আগস্ট
সঠিক উত্তর:
৫ আগস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ আগস্ট
ব্যাখ্যা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস:
- ৫ আগস্ট 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস' হিসেবে পালিত হয়।
- বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ৫ আগস্টকে 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস' ও ১৬ই জুলাইকে 'জুলাই শহীদ দিবস' হিসেবে ঘোষণা করেছে।
- ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন ৫ আগস্টকে 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস' ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
- গণ-আন্দোলন চলাকালে রংপুরে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদের নিহত হওয়ার দিন ১৬ জুলাইকে 'জুলাই শহীদ দিবস' ঘোষণা করা হয়েছে।
- ২৫ জুন, ২০২৫ তারিখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য:
- ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস 'ক' শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে।
- ১৬ই জুলাইকে 'জুলাই শহীদ দিবস' 'খ' শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র - মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।

২৭১.
”জুলাই ঘোষণাপত্র” পাঠ করেন কে?
  1. আসিফ নজরুল ইসলাম
  2. সাহবুদ্দিন আহমেদ
  3. অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
  4. নাহিদ ইসলাম
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
ব্যাখ্যা

• জুলাই ঘোষণাপত্র:
- ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ হলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের একটি দলিল যার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
- অন্যদিকে জুলাই জাতীয় সনদ হলো রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে ঐকমত্যের একটি রাজনৈতিক দলিল।
- অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ৫ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে র ‘৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেছেন।

⇒ জুলাই ঘোষণাপত্রে ২৮টি ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- জুলাই ঘোষণাপত্রের ২৪ নং ধারায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের 'জাতীয় বীর' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
- ২৪ নং ধারা: সেহেতু বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

উৎস: প্রথম আলো।

২৭২.
বাংলাদেশের নিজস্ব মুদ্রা হিসেবে কোন দুইটি নোট প্রথম চালু হয়?
  1. ১ টাকা ও ১০০ টাকা
  2. ১০ টাকা ও ৫০ টাকা
  3. ৫০ টাকা ও ১০০ টাকা
  4. ১০০ টাকা ও ৫০০ টাকা
সঠিক উত্তর:
১ টাকা ও ১০০ টাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ টাকা ও ১০০ টাকা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের নিজস্ব মুদ্রা:
- ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ প্রথমবারের মতো স্বাধীন বাংলাদেশের নিজস্ব ১ ও ১০০ টাকার ব্যাংক নোটের প্রচলন হয়।
- স্বাধীন বাংলাদেশের মুদ্রার নাম রাখা হয় টাকা। বিশ্বের কয়েকটি দেশের মুদ্রার নাম একই ধরনের। তবে বাংলাদেশের মুদ্রা হিসেবে টাকা নামটি স্বতন্ত্র।
- ৪ মার্চ ১৯৭২ তারিখে প্রকাশিত দুটি ব্যাংক নোট ভারতের সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস থেকে ছাপানো হয়। ১ টাকার ও ১০০ টাকার নোট।
- ১ টাকার নকশায় বাংলাদেশের মানচিত্র ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ কথাটি স্থান পায় এবং তাতে স্বাক্ষর করেছিলেন সে সময়ের অর্থসচিব কে এ জামান।
- ১০০ টাকার নকশায় দেখা যায় বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি এবং তাতে লেখা থাকে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১০০ টাকার ব্যাংক নোটটি বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রথম গভর্নর এ এন হামিদ উল্ল্যাহ্ স্বাক্ষরিত।
- ৪ মার্চ ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো পালিত হয়েছে 'টাকা দিবস'।

তথ্যসুত্র - বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট ও দৈনিক প্রথম আলো, ০৪ মার্চ, ২০২১।
২৭৩.
১৯৭২ সালের ১২ই জানুয়ারি 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান' কার নিকট প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন?
  1. বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
  2. বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
  3. বিচারপতি আব্দুস সাত্তার
  4. তাজউদ্দিন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
♣ বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন:  
- ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি দেশে ফেরার আগে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানি বাহিনীর বিশেষ বিমানে লন্ডন নিয়ে যাওয়া হয়।
- অতঃপর ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানে দিল্লি হয়ে তিনি ঢাকায় আসেন।   
- ঢাকায় মহান নেতাকে জানানো হয় অভূতপূর্ব অভিনন্দন। 

- মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে গঠিত বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পরদিনই ১৯৭২ সালের ১১ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিসভায় দীর্ঘ আলোচনার পর ‘অস্থায়ী সংবিধান আদেশ' জারির মাধ্যমে দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।

- ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি পদে ইস্তফা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হন। নতুন রাষ্ট্রপতি হন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।

ঘটনাপ্রবাহ:
বঙ্গবন্ধু প্রথমে রাষ্ট্রপতি পদে ইস্তফা দেন। নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে শপথ করান প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম। এরপর রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী বঙ্গবন্ধু ও তাঁর মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। এর আগে তাজউদ্দীন আহমদ নতুন রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্র গ্রহণকালে তাজউদ্দীন আহমদ ও তাঁর সহকর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন নতুন রাষ্ট্রপতি। এরপর তিনি বঙ্গবন্ধুকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান এবং তাঁকে জাতির জনক হিসেবে অভিহিত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট। [লিঙ্ক]
২৭৪.
বাংলাদেশের প্রথম নিজস্ব স্যাটেলাইট কোনটি?
  1. ক) বিডি স্যাটেলাইট-১
  2. খ) বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১
  3. গ) চন্দ্রতরী
  4. ঘ) বাংলাস্যাট-১
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম নিজস্ব স্যাটেলাইট হলো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। ২০১৮ সালের ১১ মে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানভেরাল থেকে মার্কিন কোম্পানি স্পেসএক্স এর ফ্যালকন-৯ রকেটে করে এটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এটির নির্মাতা ফ্রান্সের থ্যালেস এলিনিয়া। এটির কক্ষপথ হলো ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা।
বাংলাদেশ বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে।
(সূত্র: বিবিসি বাংলা)
২৭৫.
‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ এর আহ্বায়ক কে?
  1. এবাদুর রহমান
  2. মো. মাহফুজ আলম
  3. মো. নাহিদ ইসলাম
  4. সারজিস আলম
সঠিক উত্তর:
এবাদুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এবাদুর রহমান
ব্যাখ্যা
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর: 
- গণভবনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’–এর কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
- কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে থাকবেন শিক্ষক ও লেখক এবাদুর রহমান।
- আর যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. মাহফুজ আলম।
- গত ১৬ বছরে বাংলাদেশে যে নিপীড়নের স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে, সেগুলো জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে।
- এর পাশাপাশি এই জাদুঘরে ছাত্র-জনতার বিজয়ের স্মৃতিচিহ্নও সংরক্ষণ করা হবে।
- জাদুঘরে ‘আয়নাঘর’-এর একটি রেপ্লিকা তৈরির কথাও ভাবা হচ্ছে। স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের পাশাপাশি গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবেও এই জাদুঘরকে প্রতিষ্ঠা করা হবে।
- এই জাদুঘর শুধু বাংলাদেশের মানুষের জন্য নয়, সারা বিশ্বের মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

উৎস: প্রথম আলো (২ নভেম্বর ২০২৪)
২৭৬.
‘শহীদ মীর মুগ্ধ তোরণ’ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি
সঠিক উত্তর:
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
• শহীদ মীর মুগ্ধ তোরণ:
- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের প্রথম নামকরণ করা হয়েছিল ‘বিজয় তোরণ’।
- গত বছরের ৩০ জুন ওই নামে নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনও করা হয়।
- ৫ আগস্টের পর নির্মাণাধীন ওই ফটকের নাম ‘শহীদ মীর মুগ্ধ তোরণ’ রাখেন শিক্ষার্থীরা।
- লাল রং দিয়ে দেয়ালে তাঁরা নামটি লিখেও রাখেন।
- সেই নামেই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক গতকাল রোববার দুপুরে উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় নিহত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমানের (মুগ্ধ) স্মৃতি রক্ষার্থে ‘শহীদ মীর মুগ্ধ তোরণ’ নামকরণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত ডিসিপ্লিনের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন মীর মাহফুজুর রহমান (মুগ্ধ)।
- গত বছরের মার্চে স্নাতক শেষ করে তিনি খুলনা ছেড়ে ঢাকায় চলে যান।
- ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।
- মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি আন্দোলনরত ক্লান্ত-শ্রান্ত শিক্ষার্থী-জনতাকে ‘ভাই, পানি লাগবে? পানি?’ বলছিলেন।

উৎস: প্রথম আলো।
২৭৭.
ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে কবে সাংবিধানিক বৈধতা প্রদান করা হয়?
  1. ক) ১৯৭৫ সালে
  2. খ) ১৯৭৯ সালে
  3. গ) ১৯৮০ সালে
  4. ঘ) ১৯৮৬ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৭৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৭৯ সালে
ব্যাখ্যা
- ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মুশতাক আহমেদ কুখ্যাত ইমডেমনিটি অধ্যাদেশ গেজেট আকারে প্রকাশ করেন।
- এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে ১৫ আগস্টের বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়। তাদের বিচারের আওতায় আনা যাবে না মর্মে ঘোষণা দেয় হয়।
- ১৯৭৯ সালের ৫ এপ্রিল জাতীয় সংসদে গৃহিত সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে জিয়াউর রহমান সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে সাংবিধানিক বৈধতা প্রদান করে।
- পরবর্তীতে, ১২ নভেম্বর ১৯৯৬ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে। যার ফলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার করা সম্ভব হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
২৭৮.
জুলাই ঘোষণাপত্রে মোট কয়টি ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে?
  1. ২৪টি
  2. ২৬টি
  3. ২৮টি
  4. ৩০টি
সঠিক উত্তর:
২৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৮টি
ব্যাখ্যা

জুলাই ঘোষণাপত্র:
-  ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ হলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের একটি দলিল যার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
- অন্যদিকে জুলাই জাতীয় সনদ হলো রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে ঐকমত্যের একটি রাজনৈতিক দলিল।
- অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ৫ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে র ‘৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেছেন।

⇒ জুলাই ঘোষণাপত্রে ২৮টি ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 
- ২৮ দফা এ ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশের জনগণ এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে যে, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।

উৎস: প্রথম আলো।

২৭৯.
কোন বীরশ্রেষ্ঠের দেহাবশেষ বাংলাদেশে এনে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়?
  1. ক) সিপাহী মোস্তফা কামাল
  2. খ) ল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ
  3. গ) ল্যান্স নায়েক নূর মােহাম্মদ শেখ
  4. ঘ) সিপাহী হামিদুর রহমান
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিপাহী হামিদুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিপাহী হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা

মিরপুরে অবস্থিত বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে ২ জন বীরশ্রেষ্ঠকে বর্তমানে সমাহিত করা হয়েছে।
তারা হলেন -
১. বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেনেন্ট মতিউর রহমান
২. বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান।

বীরশ্রেষ্ট সিপাহী হামিদুর রহমানঃ
- বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের জন্ম ২রা ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩, ঝিনাইদহ জেলা শহরের অদুরে কালিগঞ্জের খদ্দখালিশপুর গ্রামে।
- বীরশ্রেষ্ট সিপাহী হামিদুর রহমান ১৯৭১ সনে আনসার বাহিনীতে অল্প সময়ের জন্য চাকুরী করেন এবং ২ ফেব্রুয়ারী ১৯৭১ খ্রি: তৎকালীন সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে ঐতিহ্যবাহী ১ ইষ্ট বেংগল রেজিমেন্টে যোগদান করেন। সাহসী এ সৈনিক মাতৃভূমির স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন অপারেশনে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেন।
- ১৯৭১ সনের অক্টোবর মাসের শেষ দিকে মৌলভীবাজার জেলাস্থ কমলগঞ্জ উপজেলার চা বাগান বিস্তৃত ধলই সীমান্ত চৌকিতে হানাদার পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বাহিনীকে পরাস্থ করার উদ্দেশ্যে সহযোদ্ধাসহ তিনি সশস্ত্র আক্রমন চালান। ধলই সীমান্তে শত্রু সেনা চৌকির সন্মুখ যুদ্ধে অমিত সাহসে চৌকির ৫০ গজের মধ্যে পৌছেঁ যান এবং বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে উক্ত সীমান্ত চৌকি ও সংলগ্ন এলাকা মুক্ত করেন এবং সেখানেই শত্রু সেনার বুলেট বিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।
- বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানকে প্রতিবেশী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কমলপুর জেলাধীন আমবাসা গ্রামে সমাধিস্থ করা হয়েছিল।
- সুদীর্ঘ ৩৬ বছর পর তাঁর দেহাবশেষ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় এবং ১১ ডিসেম্বর ২০০৭ তারিখে ঢাকার মিরপুরস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

অন্যদিকে,
- বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ২০শে আগস্ট ১৯৭১ সালে শহীদ হন। তাকে প্রথমে পাকিস্তানের করাচির মাসরুর বিমান বেসের চতুর্থ শ্রেণীর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
- শাহাদতের ৩৫ বছর পর ২৪শে জুন ২০০৬ মতিউরের দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে দেশে এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।

উৎসঃ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২৮০.
’স্বাধীনতা তোরণ’ কোথায় অবস্থিত?
  1. আগারগাঁও
  2. প্রগতি সরণি
  3. পলাশীর মোর
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
প্রগতি সরণি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রগতি সরণি
ব্যাখ্যা

 ‘স্বাধীনতা তোরণ':
- অবস্থান: প্রগতি সরণি, বাড্ডা, ঢাকা।

- ঢাকার প্রগতি সরণিতে, বাড্ডা বৌদ্ধ মন্দিরের সামনে অবস্থিত,
- যা সম্প্রতি উদ্বোধন করা হয়েছে ফ্যাসিবাদবিরোধী জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিতে।
- সময়: ৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে। 
- উদ্দেশ্য: জুলাই আন্দোলনের (ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন) স্মৃতি ধারণ করা।
- উদ্বোধক: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) প্রশাসক।  

অন্যদিকে,
- আগারগাঁওয়ে 'মুক্তি তোরণ' নামে আরেকটি তোরণও উদ্বোধন করা হয়েছে। 

উৎস: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা নিউজ।

২৮১.
মর্যাদা অনুসারে তৃতীয় বীরত্বসূচক খেতাব কোনটি?
  1. ক) বীর প্রতীক
  2. খ) বীর উত্তম
  3. গ) বীর বিক্রম
  4. ঘ) বীর শ্রেষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
গ) বীর বিক্রম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বীর বিক্রম
ব্যাখ্যা
খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের একটি প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি  এম এ জি ওসমানী মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করেন।
- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত।
- যথা:
• ১ম উপাধি: বীরশ্রেষ্ঠ, ৭ জন,
• ২য় উপাধি: বীর উত্তম, ৬৮ জন,
• ৩য় উপাধি: বীর বিক্রম, ১৭৫ জন এবং
• ৪র্থ উপাধি: বীর প্রতীক, ৪২৬ জন।
- মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট যোদ্ধার সংখ্যা ৬৭৬ জন।
- কিন্তু ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
- যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
         ii) ৬ জুন, ২০২১, প্রথম আলো।
২৮২.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার দেয়ালে শিক্ষার্থীদের আঁকা গ্রাফিতি চিত্র নিয়ে সংকলিত গ্রন্থের নাম কী?
  1. Memory of July
  2. Art of July
  3. Memory of Gen Z
  4. Art of Triumph
সঠিক উত্তর:
Art of Triumph
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Art of Triumph
ব্যাখ্যা

Art of Triumph:
- জুলাইয়ে শুরু হওয়া ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে গত ৫ আগস্ট।
- ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- জুলাই-আগস্টে অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর বিভিন্ন দেয়ালে নানা ধরনের গ্রাফিতি আঁকা হয়।
- তরুণ বিপ্লবীদের আঁকা এমন গ্রাফিতি সশরীরে গিয়ে দেখলেন প্রধান উপদেষ্টা।
- জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার দেয়ালে শিক্ষার্থীদের আঁকা গ্রাফিতি চিত্র নিয়ে সংকলিত গ্রন্থের নাম Art of Triumph।

এছাড়াও,
- প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে বাংলাদেশে গত জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানী ঢাকার দেয়ালে শিক্ষার্থীদের আঁকা বর্ণিল ও বৈচিত্র্যময় গ্রাফিতি চিত্রের একটি সংকলন 'দ্য আর্ট অব ট্রায়াম্ফ' উপহার প্রদান করেন।
- এছাড়াও, মুহাম্মদ ইউনূস প্রখ্যাত প্রাণিবিজ্ঞানী, প্রাইমেটোলজিস্ট ও নৃতত্ত্ববিদ জেন গুডঅলকে 'দ্য আর্ট অব ট্রায়াম্ফ' আর্টবুক উপহার দিয়েছেন। 

উৎস: প্রথম আলো ও  বাংলা ট্রিবিউন পত্রিকা রিপোর্ট।

২৮৩.
‘জুলাই ৩৬ গেট’ কোথায় উদ্বোধন করা হয়েছে?
  1. পূর্বাচলে
  2. সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে
  3. খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে
  4. রংপুরে
সঠিক উত্তর:
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে
ব্যাখ্যা

• জুলাই ৩৬ গেইট:
- সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে  জুলাই বিপ্লবের স্মৃতি অম্লান রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ‘জুলাই ৩৬ গেইট’ উদ্বোধন করা হয়েছে।
- ২৪ এর জুলাইয়ের শহীদ ও আহত বীর সন্তানদের প্রতি সম্মান জানিয়ে গেইটটির নাম ‘জুলাই ৩৬’ রাখা হয়েছে।
- নামটির প্রতিটি অংশে নিহিত আছে স্মৃতি ও প্রতিজ্ঞা।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস, আঞ্চলিক অফিস, সিলেট।

২৮৪.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার ছিলেন কে?
  1. এ.কে.এম. নূরুল ইসলাম
  2. কে.এম. নুরুল হুদা
  3. এম. ইদ্রিস
  4. চৌধুরী এ.টি.এম. মাসুদ
সঠিক উত্তর:
এম. ইদ্রিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম. ইদ্রিস
ব্যাখ্যা

প্রথম জাতীয় নির্বাচন:
- ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ সংসদ নির্বাচন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন।
- ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার ছিলেন এম. ইদ্রিস।
- ৩১৫টি আসনের মধ্যে ৩০০টি সাধারন আসন ও ১৫টি সংরক্ষিত মহিলা আসন।
- ১৪টি রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহণ করে।
- ৩১৫টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩০৮টি আসনে জয়লাভ করেন।

তথ্যসূত্র - নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট, পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

২৮৫.
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহিদ আবু সাইদ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন?
  1. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
  2. জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
  3. মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
  4. হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

জুলাই অভ্যুত্থান:
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহিদ- আবু সাইদ।
- ১৬ জুলাই ২০২৪ সালে তিনি শহিদ হন।
- আবু সাঈদ ২০০১ সালে রংপুরের জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন।
- তার বাবা-মা, মকবুল হোসেন ও মনোয়ারা বেগম।
- আবু সাইদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বায়ক ছিলেন।
- ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

২৮৬.
সপ্তম জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম কার্যক্রম কোনটি ছিল?
  1. গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি
  2. পাবর্ত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি
  3. ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল
  4. বর্নিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্নিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্নিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ:
- ‘ইনডেমনিটি’ শব্দের অর্থ হচ্ছে শাস্তি এড়ানোর ব্যবস্থা।
- ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ হলো সেই অধ্যাদেশ, যে অধ্যাদেশের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের শাস্তি এড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনি ব্যবস্থা থেকে শাস্তি এড়ানোর জন্য বাংলাদেশে ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছিল, যা দেশের ইতিহাসে ডার্কেস্ট ল’ বা সবচেয়ে কালো আইন নামে পরিচিত।
- ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ এ ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি অধ্যাদেশ জারি করেন।
- বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরে খন্দকার মোশতাক হন দেশের রাষ্ট্রপতি।
- বঙ্গবন্ধুর খুনি ও তাদের দোসররা নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধানের হত্যাকে আইনসিদ্ধ করতে চেয়েছিল।
- তাই তখন খুনিদের ‘প্রয়োজনে’ জারি করা হয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ।
- খন্দকার মোশতাক আহমেদ কর্তৃক ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর একটি অধ্যাদেশের আকারে এ আইনটি প্রণীত হয়; যা ১৯৭৫ সালের অধ্যাদেশ নম্বর ৫০ নামে অভিহিত ছিল।
- ১৯৭৯ সালে সংসদ কর্তৃক ওই ইনডেমনিটি অনুমোদন করা হয়।
- ১৯৭৯ সালের ৯ জুলাই সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর পর সংশোধিত আইনে এ আইনটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- ফলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া একেবারে বন্ধ হয়ে যায়।

উল্লেখ্য,
- পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর সপ্তম জাতীয় সংসদে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ নামক ইতিহাসের কালো আইনটি বাতিল করা হয়।
- এর ফলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ সুগম হয় এবং ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হাইকোর্ট কর্তৃক সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। 

এছাড়াও,
- ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারতের নয়াদিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা নদীর পানি বন্টন বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। 
- ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয়েছিল ‘পার্বত্য চট্রগ্রাম শান্তি চুক্তি’।

উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
         ii) ১২ নভেম্বর ২০২১, যুগান্তর।
২৮৭.
গণ-অভ্যুত্থানে জেনারেল এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হন -
  1. ৩ ডিসেম্বর, ১৯৯০
  2. ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯০
  3. ১১ ডিসেম্বর, ১৯৯০
  4. ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৯০
সঠিক উত্তর:
৬ ডিসেম্বর, ১৯৯০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ ডিসেম্বর, ১৯৯০
ব্যাখ্যা
এরশাদ সরকারের সামরিক শাসনের পতন:
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- টানা ৯ বছর আন্দোলনের পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের দুর্বার আন্দোলনেই পতন ঘটে স্বৈরশাসক এরশাদের।
- ধারাবাহিক আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর শিক্ষার্থী জেহাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।
- ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর স্বৈরাচারবিরোধী মিছিলে হামলা চালায় নতুন বাংলা ছাত্র সমাজের ক্যাডাররা।
- সে হামলায় নিহত হন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম মহাসচিব ডা. শামসুল আলম খান মিলন।
- এর পর সারাদেশের শহর-বন্দর, এমনকি গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন।
- অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এরশাদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বিবিসি বাংলা।
২৮৮.
বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে নিহত সেনাসদস্য -
  1. সৈয়দ মাহবুবুল হক
  2. নঈম খান
  3. আবুল কালাম
  4. মকবুল হোসেন
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মাহবুবুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মাহবুবুল হক
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু হত্যা:
- বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে নিহত হয় দুই সেনাসদস্য - কর্নেল জামিলউদ্দিন আহমেদ ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হক
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা করে।
- বঙ্গবন্ধু ছাড়াও সেই রাতে তাঁর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, বঙ্গবন্ধুর ফোন পেয়ে তাঁর জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা কর্নেল জামিলউদ্দিন আহমেদ, এসবির কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হককে হত্যা করা হয়।
- ওই কালরাতেই বিপথগামী সেনাসদস্যদের আরেকটি দল বঙ্গবন্ধুর ভাগনে যুবলীগের নেতা শেখ ফজলুল হক মনির বাসায় হামলা চালিয়ে তাঁকে এবং তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনিকে হত্যা করে।
- এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও তাঁর কন্যা বেবি, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং এক আত্মীয় আবদুল নঈম খানকেও হত্যা করা হয়।
- ওই সময় বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থান করায় বেঁচে যান।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ১৫ আগস্ট ২০২২।
২৮৯.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ আবু সাঈদ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন?
  1. রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
  4. জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
শহিদ আবু সাঈদ:
- আবু সাঈদকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
- ২০০১ সালে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা বাবনপুর গ্রামের মোঃ মকবুল হোসেন এর ঘরে জন্ম নেয় আবু সাঈদ।
- আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।
- ২০২৪ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনে ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন আবু সাঈদ।

তথ্যসূত্র - পত্রিকা রিপোর্ট।
২৯০.
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সরকারি গেজেটভুক্ত শহীদের সংখ্যা কত?
  1. ৮৩৬
  2. ৮৪৬
  3. ৮৫২
  4. ৮৬০
সঠিক উত্তর:
৮৩৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮৩৬
ব্যাখ্যা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সরকারি গেজেটভুক্ত শহীদ:
- জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ২০২৪–এ শহীদদের গেজেট অনুসারে, জুলাই  গণঅভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৬।

⇒ "জুলাই যোদ্ধা" অর্থ জুলাই গণ অভ্যুত্থান চলাকালে তৎকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা উক্ত সময়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের আক্রমণে আহত ছাত্র-জনতা।
- এছাড়া "জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ" অর্থ "তৎকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা উক্ত সময়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের আক্রমণে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি।"

উল্লেখ্য,
- ৮৩৪ জনের নাম শহীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গেজেট প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। পরে সেখানে যুক্ত করা হয় আরও ১০ জনের নাম।
- গত ৩০শে জুন, ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত সরকারি গেজেট অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ছিল ৮৪৪ জন।
- তবে সরাসরি জুলাই আন্দোলনে যুক্ত না থাকা এবং চারজনের নাম গেজেটে দুইবার উল্লেখ থাকায় গত ৩রা অগাস্ট, ২০২৫ তারিখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই তালিকা থেকে আটজনের নাম বাতিল করে।
- মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী শহীদের সংখ্যা ৮৩৬ জন।

এছাড়াও,
- জুলাই  গণঅভ্যুত্থানে  ৬ থেকে ৬০ বছর বয়সী ১০ জনের নাম শহীদ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। 
- শহীদ ১০ জন নারীর মধ্যে ৭ জন ঢাকায়, ২ জন নারায়ণগঞ্জে ও ১ জন সাভারে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৭ জনই গুলিবিদ্ধ হন নিজ বাসার বারান্দা ও ছাদে। ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন সড়কে।
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ প্রথম নারী নাঈমা সুলতানা। 

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ii) বিবিসি।
iii) প্রথম আলো।

২৯১.
মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানসূচক সর্বোচ্চ খেতাব কি?
  1. ক) বীরবিক্রম
  2. খ) বীরশ্রেষ্ঠ
  3. গ) বীরপ্রতীক
  4. ঘ) বীরউত্তম
সঠিক উত্তর:
খ) বীরশ্রেষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বীরশ্রেষ্ঠ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসিকতার জন্যে ৭ জন শহীদ কে সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ প্রদান করা হয়। এদের মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে ৩ জন (সিপাহী হামিদুর রহমান, সিপাহী মোস্তফা কামাল এবং ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর), ইপিআর থেকে ২ জন (ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এবং ল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ) এবং বিমানবাহিনী (ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান) ও নৌবাহিনী (ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমিন) থেকে একজন করে। এদের মধ্যে সবার আগে মারা যান ল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ (৮ এপ্রিল) এবং সবার শেষে মারা যান ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (১৪ ডিসেম্বর)।
(সূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়)
২৯২.
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান কে? (ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)
  1. সৈয়দ রেফাত আহমেদ
  2. ওবায়দুল হাসান
  3. হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী
  4. মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন
ব্যাখ্যা
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার:
- ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে।
- অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়: ৮ আগস্ট, ২০২৪ সালে।
- এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনুস।
- অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান: রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
- শপথ গ্রহণের স্থান: বঙ্গভবন।
- মোট উপদেষ্টা: ২১ জন।
- নারী উপদেষ্টা: ৪ জন।

তথ্যসূত্র - মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও পত্রিকা রিপোর্ট।
২৯৩.
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হয়-
  1. ক) ১৯৯৬ সালে
  2. খ) ২০২০ সালে
  3. গ) ২০২১ সালে
  4. ঘ) ২০২২ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ২০২১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২০২১ সালে
ব্যাখ্যা
- ২০২১ সালে বাংলাদেশর স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে সুবর্ণজয়্তী উদযাপিত হচ্ছে।
- ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ বাংলাদেশ স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলো। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ হানাদার মুক্ত হয়।
- ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ২৫ বছর পূর্তিতে রজতজয়ন্তী পালিত হয়।
(তথ্যসূত্রঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং বাংলাপিডিয়া)
২৯৪.
প্রথম কোন যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়?
  1. মুহাম্মদ কামারুজ্জামান
  2. মতিউর রহমান নিজামী
  3. কাদের মোল্লা
  4. গোলাম আযম
সঠিক উত্তর:
কাদের মোল্লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাদের মোল্লা
ব্যাখ্যা
যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া:

- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরপরই শুরু হয়েছিল যুদ্ধের সময় খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও নির্যাতনকারী তথা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া।
- এ বিচারে ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডসহ ৭৫২ জনের সাজাও হয়েছিল।
- ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তন এবং তার পর দালাল আইন বাতিল হওয়ায় তাদের অধিকাংশই রেহাই পেয়ে যায়।
- স্বাধীনতার ৪২ বছর পর একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লাকে ফাঁসিতে ঝুলানোর মধ্য দিয়ে প্রথম কোনো যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলো।

তথ্যসূত্র - কালের কন্ঠ, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৩।
২৯৫.
জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন কত তারিখে কার্যক্রম শুরু করে?
  1. ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  2. ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  3. ১৫সেপ্টেম্বর ২০২৪
  4. ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
সঠিক উত্তর:
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪
ব্যাখ্যা
• জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন:
-জুলাই বিপ্লবে আহত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে সহায়তা করার জন্য জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
-জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে-১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ।
-সংগঠনটির লক্ষ -
• ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে স্বল্পমেয়াদি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।
•  জুলাই বিপ্লবে  জীবন উৎসর্গকারী ব্যক্তিদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা।

তথ্যসূত্র: জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন এবং প্রথম আলো {লিংক}
২৯৬.
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ- এর পদবী কি ছিল?
  1. ক) সিপাহী
  2. খ) লেফটেন্যান্ট
  3. গ) ক্যাপ্টেন
  4. ঘ) ল্যান্স নায়েক
সঠিক উত্তর:
ঘ) ল্যান্স নায়েক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ল্যান্স নায়েক
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বিজিবি (তৎকালীন ইপিআর) বাহিনীর দু’জনকে সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। তাঁরা হলেন-
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এবং
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ।
উৎসঃ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।
২৯৭.
‘উন্নত মম শির’ শিল্পকর্মটি কাকে নিয়ে অঙ্কিত?
  1. শহীদ মীর মুগ্ধ
  2. শহীদ আবরার ফাহাদ
  3. শহীদ ওসমান হাদি
  4. শহীদ আবু সাঈদ
সঠিক উত্তর:
শহীদ আবু সাঈদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদ আবু সাঈদ
ব্যাখ্যা

উন্নত মম শির:
- ‘উন্নত মম শির’ শিল্পকর্মটি শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে অঙ্কিত।

• এটি বাংলাদেশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের সাহস ও অটল মনোভাবকে চিত্রিত করে।
- এর শিল্পী: শহীদ কবির।
- নামটি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত লাইন "বল বীর বল উন্নত মম শির" থেকে অনুপ্রাণিত।

উল্লেখ্য,
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই, ২০২৪ তারিখে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনের সড়কে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন আবু সাঈদ।
- ভ্যুত্থানের পরে সারা দেশে শিক্ষার্থীরা যেসব গ্রাফিতি করেন, তাতে আরও অনেক শহীদের প্রতিকৃতির সঙ্গে দুই বাহু প্রসারিত আবু সাঈদ উঠে এসেছিলেন মৃত্যুঞ্জয়ী হয়ে।

উৎস: প্রথম আলো।

২৯৮.
বঙ্গবন্ধু কবে 'অস্থায়ী সংবিধান আদেশ' জারি করেন? 
  1. ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২ 
  2. ১১ জানুয়ারি, ১৯৭১
  3. ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  4. ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
১১ জানুয়ারি, ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ জানুয়ারি, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা: 
 
• ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। 
• ১৯৭২ সালের ১১ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু 'অস্থায়ী সংবিধান আদেশ' জারি করেন। 
• এর মাধ্যমে তিনি দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। 
• ১২ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের নিকট প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। 
• একই দিনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।
• সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর গভীর আস্থার পরিচয় বহন করে। 
• ১৯৭২ সালের ১২ই জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার পরিচালিত হয়। 
• এই সরকার মাত্র তিন বছর সাত মাস তিন দিন দায়িত্ব পালনের সুযোগ পায়। 
• এই স্বল্পতম সময়ে তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ থেকে দেশকে গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের মাধ্যমে বহির্বিশ্বে সম্মানজনক ভাবমূর্তি নির্মাণে অনন্যসাধারণ অবদান রাখেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২৯৯.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. ক) সূর্যদীঘল বাড়ি
  2. খ) ধীরে বহে মেঘনা
  3. গ) তিতাস একটি নদীর নাম
  4. ঘ) হাজার বছর ধরে
সঠিক উত্তর:
খ) ধীরে বহে মেঘনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধীরে বহে মেঘনা
ব্যাখ্যা
অপশনসমূহের মধ্যে ‘ধীরে বহে মেঘনা’ হলো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র। এর পরিচালক আলমগীর কবির। এটি ১৯৭৩ সালে মুক্তি পায়। তিতাস একটি নদীর নাম (১৯৭৩), সূর্যদীঘল বাড়ি (১৯৭৯) এবং হাজার বছর ধরে (২০০৫) চলচ্চিত্রের পরিচালক যথাক্রমে ঋতিৃক ঘটক, নিয়ামত আলী শাকের এবং কোহিনুর আক্তার সুচন্দা।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বিডিনিউজ২৪)
৩০০.
বাংলাদেশ প্রথম কোন সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে?
  1. কমনওয়েলথ
  2. জাতিসংঘ
  3. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
  4. ওআইসি
সঠিক উত্তর:
কমনওয়েলথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমনওয়েলথ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ প্রথম কমনওয়েলথ-এর সদস্যপদ লাভ করে।

কমনওয়েলথ (Commonwealth):
- কমনওয়েলথ মূলত ব্রিটেনের সাবেক উপনিবেশিক দেশগুলোর একটি রাজনৈতিক জোট।
- এক সময় যে সকল অঞ্চল বা জনপদগুলো ব্রিটিশ উপনিবেশ হিসেবে শাসিত হয়ে পরবর্তীতে ব্রিটিশ শাসন ও শোষণের হাত থেকে মুক্ত হয়ে বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেসব রাষ্টের প্রতিষ্ঠান হচ্ছে কমনওয়েলথ।
- বাংলাদেশ‌ ৩৪তম দেশ হিসেবে কমনওয়েলথের সদস্য পদ লাভ করে ১৮ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে ।
- বাংলাদেশ এর ৩২তম সদস্য দেশ হিসেবে যোগ দেয়।

অন্যদিকে,
জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৮ আগস্ট জাতিসংঘের সদস্যপদের জন্য আবেদন করে।
- বাংলাদেশের জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ সাল। 
- বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬ তম সদস্য।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা:
- WHO জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
- ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সদস্যপদ লাভের মাধ্যমে জাতিসংঘ পরিবারের সাথে যুক্ত হয়।

OIC:
- এটি একটি ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা।
- এটি মুসলিম দেশগুলোর একটি রাজনৈতিক জোট।
- বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ২২-২৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত ওআইসির দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য পদ লাভ করে।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।