বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের ইতিহাস ও সমসাময়িক ঘটনা

মোট প্রশ্ন৪৯৬এই পাতা৯৫প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের ইতিহাস ও সমসাময়িক ঘটনা

PrepBank · পাতা / · ৪০১৪৯৫ / ৪৯৬

৪০১.
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করা হয় কবে?
  1. ১৩ ডিসেম্বর, ১৯৭৩
  2. ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭৩
  3. ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭৩
  4. ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭৩
সঠিক উত্তর:
১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭৩
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- ৬ জুন ২০২১ তারিখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীর বিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীর প্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৪০২.
বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানসম্মত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন -
  1. বিচারপতি হাবিবুর রহমান
  2. বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ
  3. বিচারপতি মনসুর আলী
  4. বিচারপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি হাবিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি হাবিবুর রহমান
ব্যাখ্যা

 বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার:
- সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গৃহিত হয়।
- ১৯৯৬ সালে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান বাংলাদেশের সর্ব প্রথম সংবিধানসম্মত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। 
- প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি হাবিবুর রহমান নির্দলীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেন।
- তিনি ১৯৯৬ সালের ১২ জুন জাতীয় সংসদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন।
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সার্ক ফোরাম, কমনওয়েলথসহ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানায়।
- অবশেষে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা মধ্য দিয়ে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০৩.
বঙ্গবন্ধু কবে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ভেঙে দিয়ে 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' (বাকশাল) নামে একটি জাতীয় রাজনৈতিক দল গঠন করেন? 
  1. ২৫ জানুয়ারি, ১৯৭৫
  2. ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৫
  3. ২৬ মার্চ, ১৯৭৫
  4. ২০ জুন, ১৯৭৫ 
সঠিক উত্তর:
২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৫
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' (বাকশাল) গঠন: 

• ১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতির প্রবর্তন করা হয়।
• এ পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি সকল ক্ষমতার অধিকারী হোন। 
• এই ব্যবস্থায় মন্ত্রিপরিষদ ও জাতীয় সংসদের কোনো ক্ষমতা ছিল না। 
• সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সরকার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়। 
• এই সংশোধনী অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন। 
• এই সংশোধনী অনুযায়ী জাতীয় রাজনৈতিক দল গঠনের পর অন্যান্য রাজনৈতিক দল বাতিল ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে। 
• ১৯৭৫ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' (বাকশাল) নামে একটি জাতীয় রাজনৈতিক দল গঠন করেন। 
• এই দলের চেয়ারম্যান হলেন বঙ্গবন্ধু এবং সাধারণ সম্পাদক হলেন এম. মনসুর আলী।
• ১৯৭৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে বাকশাল কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪০৪.
বাংলাদেশে প্রথম গণভোট কোন উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. সংবিধান সংশোধনের জন্য
  2. সংসদীয় ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য
  3. জিয়াউর রহমানের শাসনকার্যের বৈধতা দানের জন্য
  4. স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে
সঠিক উত্তর:
জিয়াউর রহমানের শাসনকার্যের বৈধতা দানের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিয়াউর রহমানের শাসনকার্যের বৈধতা দানের জন্য
ব্যাখ্যা

⇒ গণভোট:
- বাংলাদেশে ৩ বার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৯৭৭, ১৯৮৫ ও ১৯৯১ সালে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
- এর মধ্যে ২ বার অনুষ্ঠিত হয় প্রশাসনিক গণভোট।
- এবং ১ বার অনুষ্ঠিত হয় সাংবিধানিক গণভোট।

⇒ প্রথম গণভোট:
- প্রশাসনিক গণভোট হয় ১৯৭৭ সালে।
- প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসন কার্যের বৈধতা দান।
- ফলাফল ৯৮.৮০% 'হ্যাঁ' ভোট।

⇒ দ্বিতীয় গণভোট:
- প্রশাসনিক গণভোট ১৯৮৫ সালে।
- হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সমর্থন যাচাইয়ের লক্ষ্যে হ্যাঁ-না ভোট।
- ফলাফল ৯৪.১৪% হ্যাঁ ভোট।

⇒ তৃতীয় গণভোট:
- সাংবিধানিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়- ১৯৯১ সালে।
- এটি সর্বশেষ গনভোট।
- সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী আইন প্রস্তাব।
- ফলাফল ৮৪.৩৮% হ্যাঁ ভোট।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০৫.
ভারতের সাথে স্বাক্ষরিত গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ কত বছর?
  1. ক) ২২ বছর
  2. খ) ২৫ বছর
  3. গ) ৩০ বছর
  4. ঘ) ৩৫ বছর
সঠিক উত্তর:
গ) ৩০ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৩০ বছর
ব্যাখ্যা
১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারতের নয়াদিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা নদীর পানি বন্টন বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তির মেয়াদকাল ৩০ বছর। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ৩৫ হাজার কিউসেক পানি প্রাপ্তির বিধান থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি৷
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৪০৬.
সদস্যপদ পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ প্রথম কত সালে জাতিসংঘে আবেদন করে?
  1. ১৭ অক্টোবর, ১৯৭২ সাল
  2. ৮ জুলাই, ১৯৭৩ সাল
  3. ২০ অক্টোবর, ১৯৭৩ সাল
  4. ৮ আগস্ট, ১৯৭২ সাল
সঠিক উত্তর:
৮ আগস্ট, ১৯৭২ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ আগস্ট, ১৯৭২ সাল
ব্যাখ্যা

- স্বাধীনতার পর ৮ আগস্ট, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদের জন্য আবেদন করে।
- ১০ আগস্ট, ১৯৭২ সালে চীন বাংলাদেশের সদস্যপদের বিরুদ্ধে ভেটো প্রদান করে। স্থায়ী সদস্য হওয়ার পর এটি ছিল চীনের প্রথম ভেটো।

- ১৯৭২ সালের ১৭ অক্টোবর জাতিসংঘে পর্যবেক্ষকের মর্যাদা লাভ করে।
- বাংলাদেশের জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ - ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ সাল।
-----------------
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রথম স্থায়ী প্রতিনিধি হলেন এস এ করিম। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের ২৯তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ প্রদান করেন।
- ১৯৮৬ সালে সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।

- বাংলাদেশ ১৯৭৯-১৯৮০ এবং ২০০০-২০০১ মেয়াদে মোট দুইবার নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদ লাভ করেছিলো।
- ১৯৮৮ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে আসছে।

সুত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট

৪০৭.
শহীদ আবু সাঈদ কোন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন?
  1. সমাজবিজ্ঞান
  2. রাষ্ট্রবিজ্ঞান 
  3. ইংরেজি
  4. ইতিহাস
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি
ব্যাখ্যা

শহীদ আবু সাঈদ:
- রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা বাবনপুর গ্রামের মোঃ মকবুল হোসেন এর ঘরে জন্ম নেয় আবু সাঈদ।
- ২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।
- ১৬ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তিনি রংপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে।
- আবু সাঈদ এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেন।
- কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র আবু সাঈদের পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
- এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার হন বহু মানুষ, যাতে আরও গতিশীল হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন।
- ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান হাসিনা।

উৎস: i) বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) দৈনিক ইনকিলাব।

৪০৮.
সর্বশেষ বাংলাদেশে গণভোট অনুষ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৭৫ সালে
  2. ১৯৭৭ সালে
  3. ১৯৮৫ সালে
  4. ১৯৯১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে গণভোটঃ
- এ পর্যন্ত মোট ৩ বার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। 
- ১৯৭৭, ১৯৮৫ ও ১৯৯১ সালে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
- এর মধ্যে প্রশাসনিক গণভোট ২ বার অনুষ্ঠিত হয়।
- এবং সাংবিধানিক গণভোট ১ বার অনুষ্ঠিত হয়।
• প্রথম গণভোটঃ
- প্রশাসনিক গণভোট হয় ১৯৭৭ সালে।
- প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসন কার্যের বৈধতা দান।
- ফলাফল ৯৮.৮০% 'হ্যাঁ' ভোট।
• দ্বিতীয় গণভোটঃ
- প্রশাসনিক গণভোট ১৯৮৫ সালে।
- হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সমর্থন যাচাইয়ের লক্ষ্যে হ্যাঁ-না ভোট।
- ফলাফল ৯৪.১৪% হ্যাঁ ভোট।
• তৃতীয় গণভোটঃ
- সাংবিধানিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়- ১৯৯১ সালে। এটি সর্বশেষ গনভোট।
- সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী আইন প্রস্তাব।
- ফলাফল ৮৪.৩৮% হ্যাঁ ভোট।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০৯.
লেফটেন্যান্ট জেনারেল এরশাদ কত সালে দেশে সামরিক আইন জারি করে?
  1. ১৯৮১ সালে
  2. ১৯৮২ সালে
  3. ১৯৮৩ সালে
  4. ১৯৮৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮২ সালে
ব্যাখ্যা

১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে সামরিক আইন জারি:
- ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর উপ রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
- বিচারপতি সাত্তার নির্বাচিত হওয়ার মাত্র চার মাসের মধ্যে ১৯৮২ সালে ২৪ মার্চ সেনাবাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এরশাদের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে।
- রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাত্তার অপসারিত হন।
- এরশাদ নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে ঘোষণা করেন।
- একই সঙ্গে সংবিধান স্থগিত, জাতীয় সংসদ বাতিল এবং মন্ত্রিপরিষদ ভেঙ্গে দেয়া হয়।
- ১৯৮২ সালে এরশাদ সরকার দেশে সামরিক আইন জারি করেন।
- সামরিক সরকার দেশে সকল প্রকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

⇒ টানা ৯ বছর আন্দোলনের পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের দুর্বার আন্দোলনেই পতন ঘটে স্বৈরশাসক এরশাদের।
- অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এরশাদ।

উৎস: i) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বিবিসি বাংলা।

৪১০.
পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু প্রথম কোন দেশে যান?
  1. ভারত
  2. সুইজারল্যান্ড
  3. ইরান
  4. যুক্তরাজ্য
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধের সমাপ্তির পর পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক চাপের কারণে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি প্রদানে বাধ্য হয়।
- ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু লন্ডন গমন করেন।
- সেখান থেকে ব্রিটিশ রাজকীয় কমেট বিমানে করে তিনি দিল্লিতে কিছু সময় অবস্থান করে ১০ জানুয়ারি ঢাকায় আসেন।
- ১০ জানুয়ারি দিনটিকে বাংলাদেশে ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪১১.
বাংলাদেশে সাংবিধানিকভাবে গঠিত প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কে?
  1. ক) শাহাবুদ্দিন আহমেদ
  2. খ) লতিফুর রহমান
  3. গ) হাবিবুর রহমান
  4. ঘ) ইয়াজউদ্দিন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
গ) হাবিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হাবিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
- ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গৃহিত হয়। এর অধীনে ৩০ মার্চ বিচারপতি হাবিবুর রহমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান।
- ৩ এপ্রিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
- ১৯৯০ সালে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে বাংলাদেশে প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হলেও এর সাংবিধানিক ভিত্তি ছিলো না।
- ফখরুদ্দিন আহমেদ সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন।
- ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাদ দেওয়া হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৪১২.
Who was martyred in the anti-dictatorship movement of the 1990?
  1. Asaduzzaman
  2. Noor Hossain
  3. Alliullah
  4. Shafiur Rahman
  5. Manu Mia
সঠিক উত্তর:
Noor Hossain
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Noor Hossain
ব্যাখ্যা
নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন:
- স্বাধীন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অধিকার আন্দোলনের উজ্জ্বলতম অধ্যায় নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান।
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তার ক্ষমতা দখলের পর থেকেই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
- টানা ৯ বছর আন্দোলনের পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের দুর্বার আন্দোলনেই পতন ঘটে স্বৈরশাসক এরশাদের।
- ধারাবাহিক আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর শিক্ষার্থী জেহাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।
- ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর স্বৈরাচারবিরোধী মিছিলে হামলা চালায় নতুন বাংলা ছাত্র সমাজের ক্যাডাররা।
- সে হামলায় নিহত হন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম মহাসচিব ডা. শামসুল আলম খান মিলন। এর পর সারাদেশের শহর-বন্দর, এমনকি গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন।
- অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এরশাদ।

উল্লেখ্য,
- সেই আন্দোলনের সময় গণতন্ত্রের দাবিতে বুকে-পিঠে শ্লোগান লিখে রাস্তায় নামা এক তরুণ নূর হোসেন পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর নূর হোসেন শহিদ হন।

⇒ নূর হোসেনের লেখা শ্লোগান -
- বুকে 'স্বৈরাচার নীপাত যাক' এবং পিঠে 'গণতন্ত্র মুক্তি পাক'।

উৎস: ৬ ডিসেম্বর ২০২০, বিবিসি বাংলা।
৪১৩.
স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বাংলাদেশে মোট কতজনকে রাষ্ট্রীয় খেতাব দেওয়া হয়েছে?
  1. ক) ৪২৬
  2. খ) ৬৭৬
  3. গ) ৬৭৫
  4. ঘ) ৫৭৬
সঠিক উত্তর:
খ) ৬৭৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৬৭৬
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।
এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।
- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম)
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)।

অর্থ্যাৎ, স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে।
এর মধ্য,
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন
- বীর উত্তম: ৬৭ জন
- বীরবিক্রম : ১৭৪ জন
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো)
৪১৪.
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে 'বাংলা ব্লকেড' কর্মসূচি শুরু হয় কবে?
  1. ০৬ জুলাই ২০২৪
  2. ০২ জুলাই ২০২৪
  3. ০৭ জুলাই ২০২৪
  4. ০৪ জুলাই ২০২৪
সঠিক উত্তর:
০৭ জুলাই ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০৭ জুলাই ২০২৪
ব্যাখ্যা

• বাংলা ব্লকেড ঘোষণা (০৬ জুলাই ২০২৪, শনিবার):
- দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আগের দিনের মতোই বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।
- এ সময় আন্দোলনকারীরা সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, ছাত্রধর্মঘট এবং সারা দেশে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধের ডাক দেন। এর নাম দেওয়া হয় 'বাংলা ব্লকেড'।

• বাংলা ব্লকেড পালিত হয় (০৭ জুলাই ২০২৪, শনিবার)।

উৎস: প্রথম আলো।

৪১৫.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কয়টি আসনে জয় লাভ করে?
  1. ক) ২৯৩টি
  2. খ) ২৮৮টি
  3. গ) ২৯৭টি
  4. ঘ) ২৭৮টি
সঠিক উত্তর:
ক) ২৯৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২৯৩টি
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন
⇨ ১৯৭৩ সালের সংসদ নির্বাচন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
⇨ বিচারপতি এম ইদ্রিস কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা হয়।
⇨ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ তারিখেই বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। 
⇨ এই নির্বাচনে ৩০০টি আসনে মোট ১৪টি রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহণ করে।
⇨ স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ নির্বাচনে ১০৮৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। নির্বাচনে ১৪টি রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহণ করে কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ছিল অজেয়।
⇨ ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৩ টিতেই আওয়ামী লীগ জয় লাভ করে। বিরোধী দলীয় প্রায় সকল প্রার্থীই পরাজিত হয়।  
⇨ সংরক্ষিত ১৫টি নারী আসনেরও সবকটিতে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। 
⇨ কেবল প্রবীণ নেতা আতাউর রহমান খান বাংলাদেশ জাতীয় লীগের প্রার্থী হিসেবে জয় লাভ করেন।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৬.
Who was the first Chief Election Commissioner of Bangladesh?
  1. ATM Masood
  2. KM Nurul Huda
  3. M. Idris
  4. Abu Sayeed Chowdhury
  5. Abdus Sattar
সঠিক উত্তর:
M. Idris
উত্তর
সঠিক উত্তর:
M. Idris
ব্যাখ্যা
প্রথম জাতীয় নির্বাচন:
- ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ সংসদ নির্বাচন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন।
- ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার ছিলেন এম. ইদ্রিস।
- এ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পূর্বে মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত মুজিবনগর সরকার কর্তৃক রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে।
- ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে প্রত্যাবর্তন করেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ গঠনের কার্যক্রম গ্রহণ করেন।
- নয় মাসের প্রচেষ্টায় ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়।
- ৩১৫টি আসনের মধ্যে ৩০০টি সাধারন আসন ও ১৫টি সংরক্ষিত মহিলা আসন।
- ১৪টি রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহণ করে।
- ৩১৫টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩০৮টি আসনে জয়লাভ করেন।

তথ্যসূত্র - নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট, পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৪১৭.
বাংলাদেশের সর্বপ্রথম সংবিধানসম্মত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন -
  1. বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
  2. বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
  3. বিচারপতি মোস্তফা কামাল
  4. বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার:
- বিএনপি সরকারের পদত্যাগের পর ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানে যোগ হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি।
- ১৯৯৬ সালে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান বাংলাদেশের সর্বপ্রথম সংবিধানসম্মত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন
- এর চারদিন পর সংবিধান অনুযায়ী ১০ জন উপদেষ্টাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
- তারা হলেন ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ড. মুহাম্মদ ইউনূস, অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, অধ্যাপক মো. শামসুল হক, অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, শেগুফতা বখত চৌধুরী, এ জেড এম নাছিরুদ্দিন, সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, অধ্যাপক নাজমা চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রহমান খান।
- এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার মোট ৮৬ দিন ক্ষমতায় ছিল।
- তিনি ১৯৯৬ সালের ১২ জুন জাতীয় সংসদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন।
- অবশেষে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা মধ্য দিয়ে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন প্রথম সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৮.
প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় -
  1. পূর্ব-জার্মানি
  2. বেলজিয়াম
  3. পোল্যান্ড
  4. বেলারুশ
সঠিক উত্তর:
পূর্ব-জার্মানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ব-জার্মানি
ব্যাখ্যা
স্বীকৃতি দানকারী দেশ:
- ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৮ জুলাই ১৯৭২ সালে।
- লেবানন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ২৮ মার্চ, ১৯৭৩ সালে।
- ইরান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ সালে।
- এশিয়ার বাইরে প্রথম দেশ বা প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে - ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি স্বীকৃতি দেয় পূর্ব-জার্মানি।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৪ এপ্রিল, ১৯৭২ তারিখে।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে সর্ব প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ভেনিজুয়েলা (২ মে ১৯৭২)।
- প্রথম পশ্চিমা দেশ হিসেবে গ্রেট ব্রিটেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।
- ফ্রান্স বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২।
- ব্রাজিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৫ মে, ১৯৭২।
- আর্জেন্টিনা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ২৫ মে ১৯৭২।

তথ্যসূত্র - পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, বঙ্গভবনের শতবর্ষ (বঙ্গভবন) ও বাংলাদেশের তারিখ (বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান), প্রথম আলো।
৪১৯.
১৯৭২ সালে সর্বপ্রথম কোন দেশটি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করেছিলো?
  1. বার্বাডোস
  2. পূর্ব জার্মানি
  3. পোল্যান্ড
  4. সেনেগাল
সঠিক উত্তর:
পূর্ব জার্মানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ব জার্মানি
ব্যাখ্যা
- ভুটান ও ভারতের পর বিশ্বের তৃতীয় দেশ ও প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি পূর্ব জার্মানি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- একইদিন চতুর্থ দেশ হিসেবে বুলগেরিয়া বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- প্রথম মুসলিম দেশ হিসেবে মালয়েশিয়া ১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি এবং প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেনেগাল ১৯৭২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- প্রথম উত্তর আমেরিকান দেশ হিসেবে বার্বাডোস স্বীকৃতি দেয় ২০ জানুয়ারি ১৯৭২।
- পোল্যান্ড বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১২ জানুয়ারি ১৯৭২।
- ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রথম দেশ হিসেবে ভুটান এবং দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
(তথ্যসূত্রঃ নিউইর্য়ক টাইমস আর্কাইভস, বাংলাদেশ প্রতিদিন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়)
৪২০.
সরকারি চাকরির নিয়োগে কোটার নতুন প্রজ্ঞাপন জারি হয় কত তারিখে?
  1. ২২ জুলাই, ২০২৪
  2. ২৩ জুলাই, ২০২৪
  3. ২০ জুলাই, ২০২৪
  4. ২৫ জুলাই, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
২৩ জুলাই, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ জুলাই, ২০২৪
ব্যাখ্যা
• সরকারি চাকরির নিয়োগে কোটার নতুন প্রজ্ঞাপন ২০২৪ সালের জুলাই মাসের ২৩ তারিখ প্রকাশিত হয়।

নতুন প্রজ্ঞাপনে কোটা ব্যবস্থা যেমন ছিল :
সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান সহ কর্পোরেশনগুলোতেও সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে ৯-২০ গ্রেডের সকল নিয়োগে ৭% কোটা অনুসরণ করা হবে।
- এবং অবশিষ্টাংশ ৯৩% মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে।
৭% কোটার মধ্যে ৫% মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য রাখা হয়েছে এবং ১% প্রতিবন্ধী ও ৩য় লিঙ্গের মানুষদের জন্য এবং ১% ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের জন্য রাখা হয়েছে।
এখানে নারী কোটা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনিদের জন্য কোন কোটা রাখা হয়নি।
নতুন কোটার প্রজ্ঞাপনের অনতিবিলম্বে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে অর্থাৎ চলতি মাসের ২৩ তারিখ হতে কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য:
এখন কোটা সংক্রান্ত পূর্বের সকল আদেশ /পরিপত্র বা যে কোন আইন বাতিল বলে গন্য হবে।

উৎস: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং The daily star.
৪২১.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিচারপতি কে ছিলেন?
  1. বিচারপতি আবু সাইদ চৌধুরী
  2. বিচারপতি আবু সাদাত মোঃ সায়েম
  3. বিচারপতি এন এন সাহা
  4. বিচারপতি আবু ওসমান চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি আবু সাদাত মোঃ সায়েম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি আবু সাদাত মোঃ সায়েম
ব্যাখ্যা
• প্রধান বিচারপতি, বাংলাদেশ:
- সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- প্রধান বিচারপতিকে শপথ পড়ান মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করেই অন্যান্য বিচারপতি দের নিয়োগ দেয়া হয়।
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মো. সায়েম।
- তিনি ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ থেকে ৫ নভেম্বর ১৯৭৫ পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি ছিলেন।
- পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশের ৬ষ্ঠ রাষ্ট্রপতি হন।

উৎস: সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট।
৪২২.
২০২৪ সালের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহিদ কে?
  1. আবু সাঈদ
  2. আবরার
  3. ওয়াসিম আকরাম
  4. আদনান
সঠিক উত্তর:
আবু সাঈদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু সাঈদ
ব্যাখ্যা
ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থান:
- জুলাই বিপ্লব নামে পরিচিত ছাত্র-জনতার আন্দোলন হচ্ছে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক গণঅভ্যুত্থান যা ২০২৪ সালের ৫ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অগণিত প্রাণ বিসর্জন দেয়ার মধ্য দিয়ে বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।
- ঐতিহাসিক এই বিপ্লবের বিজয়ের ধারার সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবির আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
- এটি পরে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে আরো প্রবল হয়ে উঠেছিল যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।
- প্রায় ১৫০০ মানুষকে হত্যার প্রেক্ষিতে বিগত প্রায় পনের বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশকে শাসন করার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহিদ আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই, ২০২৪ তারিখে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের বুলেটে নিহত হন।

অন্যদিকে,
- বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরাম।

উৎস: i) প্রথম আলো। [link]
ii) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।
৪২৩.
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে প্রথম নিহত হন কে?
  1. মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ
  2. আবু সাঈদ
  3. ফয়সাল আহমেদ শান্ত
  4. আবরার ফায়াজ
সঠিক উত্তর:
আবু সাঈদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু সাঈদ
ব্যাখ্যা
• আবু সাঈদ (২০০১ – ১৬ জুলাই ২০২৪)
- আবু সাঈদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি ছিলেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের সক্রিয়কর্মী।
- তিনি এই আন্দোলনের রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সমন্বয়ক ছিলেন।
- ১৬ই জুলাই আন্দোলন চলাকালে একজন পুলিশ সদস্যের গুলিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
----------------------------------------------------

• বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন:
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি আন্দোলন।
- কোটা সংস্কারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলনটিই পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হিসেবে রূপ লাভ করে।
- নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে তখনকার সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে ছাত্র আন্দোলনটি চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে।
- বাংলাদেশে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট তিনবার কোটা সংস্কারের জন্য বড় ধরনের আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ৬ জুলাই সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে পরীক্ষা বর্জন, ছাত্র ধর্মঘট ও সড়ক–মহাসড়ক অবরোধের ডাক দেন।
-  ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরস্ত্র শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে পুলিশ গুলিতে হত্যা করে। 

উৎস: প্রথম আলো।
৪২৪.
সৌদি আরব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় -
  1. ক) ১৯৭৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি
  2. খ) ১৯৭৪ সালের ৪ মার্চ
  3. গ) ১৯৭৪ সালের ১৫ আগস্ট
  4. ঘ) ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট
ব্যাখ্যা

- ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ৮ জুলাই ১৯৭২ সালে।
- এটি মধ্যপ্রাচ্যের স্বীকৃতিদানকারী প্রথম দেশ ছিল।
- অন্যদিকে ইরান ও কাতার বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় যথাক্রমে ১৯৭৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ও ৪ মার্চ।
- সৌদি আরব স্বীকৃতি দেয় ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট।

উৎসঃ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।

৪২৫.
বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি প্রদানকারী উত্তর আমেরিকার দেশ কোনটি? 
  1. কানাডা
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. মেক্সিকো
  4. বার্বাডোস
সঠিক উত্তর:
বার্বাডোস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্বাডোস
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশসমূহ:
• বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে ভুটান।
- ভুটান ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে প্রথম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
- ভুটানের পর একই দিনে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম উত্তর আমেরিকার দেশ হিসেবে বার্বাডোস বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
• বার্বাডোস বাংলাদেশকে ১৯৭২ সালের ২০শে জানুয়ারি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উল্লেখ্য,
• ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে পূর্ব জার্মানি।
• মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে ইরাক।
• এশিয়ার অ-আরব মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া; এরপর মালয়েশিয়া।
• মুসলিম ও আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে সেনেগাল।
• সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে পোল্যান্ড।
• দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে কলম্বিয়া; এরপর ভেনেজুয়েলা।
• বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম ওশেনিয়ান দেশ টোঙ্গা।
• স্বাধীন বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দান করে- ৪ এপ্রিল,১৯৭২ সালে। 

উৎস:
১. Britannica;
২. প্রথম আলো।

৪২৬.
স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ছাত্র গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল-
  1. ১৯৯৬ সালের ৬ ডিসেম্বর
  2. ১৯৯০ সালের ৪ ডিসেম্বর
  3. ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর
  4. ১৯৮৯ সালের ৬ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক বাহিনীর প্রধান হোসাইন মোহাম্মাদ এরশাদ রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন।
- ক্ষমতা দখল করেই সামরিক ফরমান 'এমএলআর ৮২' জারি করেন।
- এতে বলা হয়, যেকোনো ভাবে সামরিক শাসনের বিরোধিতা করলে ৭ বছরের জেল।
- তথাকথিত এই কালো আইনে হাজারো রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার হয়।
- ক্ষমতা দখল করে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তিনি কথা রাখেননি।
- বরং বেসামরিকীকরণ প্রক্রিয়ায় নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করেন।
- স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হন।

 উৎস: THE BUSINESS STANDARD বাংলা ।
৪২৭.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রথম নারী শহীদ- 
  1. সুলতানা রাজিয়া
  2. নাঈমা সুলতানা
  3. রাজিয়া আখতার
  4. ফিরোজা খানম
সঠিক উত্তর:
নাঈমা সুলতানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাঈমা সুলতানা
ব্যাখ্যা

• জুলাই গণঅভ্যুত্থান:
- সম্প্রতি ৮৩৬ জন জুলাই শহীদের নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে।(সেপ্টেম্বর, ২০২৫)
- এর মধ্যে ৬ থেকে ৬০ বছর বয়সী ১০ জন নারীর নাম রয়েছে।
- শহীদ ১০ জন নারীর মধ্যে ৭ জন ঢাকায়, ২ জন নারায়ণগঞ্জে ও ১ জন সাভারে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন।
- প্রথম নারী শহীদ নাঈমা সুলতানা।
- সময়:  ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর উত্তরার বাসার বারান্দায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।

 উৎস: প্রথম আলো।

৪২৮.
গেজেট অনুসারে, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে কতজন শহীদ হয়েছে?
  1. ৮৩৪ জন
  2. ৮৩৬ জন
  3. ৮৩৮ জন
  4. ৮৪৪ জন
সঠিক উত্তর:
৮৩৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮৩৬ জন
ব্যাখ্যা

জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ২০২৪–এর শহীদদের গেজেট:
- জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ২০২৪–এ শহীদদের গেজেট অনুসারে, জুলাই  গণঅভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৬ জন।
- গেজেট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১০ জন নারী শহীদ হয়েছেন। শহীদ ১০ জন নারীর মধ্যে ৭ জন ঢাকায়, ২ জন নারায়ণগঞ্জে ও ১ জন সাভারে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৭ জনই গুলিবিদ্ধ হন নিজ বাসার বারান্দা ও ছাদে। ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন সড়কে।
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এটি প্রকাশ করেছে।
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হরিদাস ঠাকুর স্বাক্ষরিত ওই গেজেটে ‘মেডিকেল কেস আইডি’, শহীদদের নাম, বাবার নাম, বর্তমান ঠিকানা, স্থায়ী ঠিকানা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ প্রথম নারী নাঈমা সুলতানা।
- ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেল পাঁচটার দিকে রাজধানীর উত্তরার বাসার বারান্দায় শুকাতে দেওয়া কাপড় আনতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় সে।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ii) প্রথম আলো।

৪২৯.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধু সর্বপ্রথম কোন দেশ সফর করেন?
  1. যুক্তরাজ্য
  2. ভারত
  3. সুইজারল্যান্ড
  4. ভুটান
সঠিক উত্তর:
ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারত
ব্যাখ্যা
- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধু কোন দেশ হিসেবে সর্বপ্রথম ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ ভারত সফর করেন।
- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধু সর্বপ্রথম ১৯৭৩ সালের ২-১০ আগস্ট কানাডায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কমনওয়েলথ অংশগ্রহণ করেন।
(তথ্যসূত্র: অসমাপ্ত আত্মজীনী এবং দৈনিক যুগান্তর)
৪৩০.
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কনিষ্ঠতম শহীদ কে? 
  1. আবু আহাদ
  2. আব্দুল আহাদ
  3. আবু সাঈদ
  4. আলী আহমেদ 
সঠিক উত্তর:
আব্দুল আহাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল আহাদ
ব্যাখ্যা

• জুলাই আন্দোলনে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ:
- ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ শহীদ আব্দুল আহাদ।

⇒ ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নিহত হয় ৪ বছরের শিশু আব্দুল আহাদ। 
- শহীদ হওয়া সবচেয়ে ছোট শিশুর বয়স ৪ বছর। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগে নিজ বাসার বারান্দায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিল সে। পরদিন ২০ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

⇒ আহাদের মতোই বাসায় থেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে আরও তিন শিশু।
- তারা হলো রাজধানীর মিরপুরে সাফকাত সামির (১০), উত্তরায় নাঈমা সুলতানা (১৫) ও নারায়ণগঞ্জে রিয়া গোপ (৬)।

উল্লেখ্য,
- জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে কমপক্ষে ১৩৩ শিশু শহীদ হয়েছে। তাদের মধ্যে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের শ্রমে নিয়োজিত শিশুরাও রয়েছে। এই শিশুদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়েছিল ১১৭ জন।

এছাড়াও,
- শিশু বলতে ১৮ বছরের কম বয়সীদের বোঝানো হয়েছে। বাংলাদেশের শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী সবাই শিশু।
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেট অনুযায়ী, শহীদের সংখ্যা এখন ৮৩৬ জন।

তথ্যসূত্র:
i) জুলাই আর্কাইভ।
ii) প্রথম আলো।

৪৩১.
বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়-
  1. ক) ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  2. খ) ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩
  3. গ) ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ৭৩তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ৬ জুন ২০২১, গেজেট প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 
- এই গেজেটের কারনে ২০১৫ সালের ১২ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ৪১৬ জন বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পায়।
- কিন্তু ২০২১ সালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমান বীরাঙ্গনার সংখ্যা ৪৩৮ জন করা হয়।

সূত্র: প্রথম আলো।
৪৩২.
বাকশাল গঠিত হয় কবে?
  1. ক) ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৫
  2. খ) ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৫
  3. গ) ৭ জুন ১৯৭৫
  4. ঘ) ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৫
সঠিক উত্তর:
ক) ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৫
ব্যাখ্যা
১৯৭৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারী দেশের সকল রাজনৈতিক দল ভেঙে দিয়ে 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ' বা বাকশাল গঠন করা হয়। এর সভাপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী। এর আগে ২৫ জানুয়ারী জাতীয় সংসদে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেনী)
৪৩৩.
জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন?
  1. জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
  2. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
  3. হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
  4. মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় 
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

জুলাই অভ্যুত্থান:
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহিদ- আবু সাইদ।
- ১৬ জুলাই ২০২৪ সালে তিনি শহিদ হন।
- আবু সাঈদ ২০০১ সালে রংপুরের জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন।
- তার বাবা-মা, মকবুল হোসেন ও মনোয়ারা বেগম।
- আবু সাইদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বায়ক ছিলেন।
- ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।

উৎস: প্রথম আলো।

৪৩৪.
বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য 'বীর প্রতীক' খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশী নাগরিক কে?
  1. গি. রিচার্ড
  2. জর্জ হ্যারিসন
  3. মাইকেল হ্যারিসন
  4. ডব্লিউ. এস. ওডারল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
ডব্লিউ. এস. ওডারল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডব্লিউ. এস. ওডারল্যান্ড
ব্যাখ্যা
ডব্লিউ. এস. ওডারল্যান্ড:
- ডব্লিউ. এস. ওডারল্যান্ড একজন অস্ট্রেলিয়ার ওলন্দাজ নাগরিক।
- তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলাদেশের ‘বীর প্রতীক’ খেতাব লাভ করেন।
- ডব্লিউ. এস. ওডারল্যান্ড মুক্তিযুদ্ধের জন্য এই খেতাব পাওয়া একমাত্র বিদেশি।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ওলন্দাজ বাহিনীর গেরিলা কমান্ডো হিসেবে কাজ করেছিলেন।
- ১৯৭০ সালের শেষের দিকে ঢাকায় বাটা সু কোম্পানির প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেন।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্য, আর্থিক সহায়তা এবং অন্যান্য উপায়ে সাহায্য করতেন।
- ‘বীর প্রতীক’ পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় তার নাম ২ নম্বর সেক্টরের গণবাহিনীর তালিকায় ৩১৭ নম্বরে রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৪৩৫.
যুক্তরাষ্ট্র কত সালে বাংলাদেশকে সর্ব প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে-
  1. ৪ এপ্রিল, ১৯৭২
  2. ১৪ এপ্রিল, ১৯৭২
  3. ৪ এপ্রিল, ১৯৭৪
  4. ১৪ এপ্রিল, ১৯৭৪
সঠিক উত্তর:
৪ এপ্রিল, ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ এপ্রিল, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
• মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ৪ এপ্রিল, ১৯৭২ তারিখে স্বীকৃতি দেয়।

• বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী আরো কিছু উল্লেখযোগ্য রাষ্ট্র:
- ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ প্রথম দেশ হিসেবে ভুটান (পররাষ্ট্র সচিবের ভাষ্যমতে) এবং দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার সেনেগাল।
-আর্জেন্টিনা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে- ২৫ মে ১৯৭২।
- ব্রাজিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে- ১৫ মে, ১৯৭২।
- আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়- ইরাক।
- ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়- ৮ জুলাই ১৯৭২ সালে।

উৎস: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, বঙ্গভবনের শতবর্ষ (বঙ্গভবন) ও বাংলাদেশের তারিখ (বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান), প্রথম আলো।


৪৩৬.
'জুলাই শহীদ দিবস' কত তারিখ?
  1. ১৬ জুলাই
  2. ১৮ জুলাই
  3. ৫ আগস্ট
  4. ৮ আগস্ট
সঠিক উত্তর:
১৬ জুলাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬ জুলাই
ব্যাখ্যা

• জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস:
- ৫ আগস্ট 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস' হিসেবে পালিত হবে।
- বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ৫ আগস্টকে 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস' ও ১৬ই জুলাইকে 'জুলাই শহীদ দিবস' হিসেবে ঘোষণা করেছে।
- ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন ৫ আগস্টকে 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস' ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
- গণ-আন্দোলন চলাকালে রংপুরে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদের নিহত হওয়ার দিন ১৬ জুলাইকে 'জুলাই শহীদ দিবস' ঘোষণা করা হয়েছে।
- ২৫ জুন, ২০২৫ তারিখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য:
- ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস 'ক' শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে।
- ১৬ই জুলাইকে 'জুলাই শহীদ দিবস' 'খ' শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে।

উৎস: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।

৪৩৭.
শরিফ ওসমান হাদির উপর হামলা ও গুলির ঘটনা কবে সংঘটিত হয়?
  1. ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  2. ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  3. ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  4. ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
সঠিক উত্তর:
১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
ব্যাখ্যা

শরিফ ওসমান হাদি:
- শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন বাংলাদেশের একজন তরুণ রাজনৈতিক কর্মী ও লেখক।
- ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- পরবর্তীতে তিনি ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে আধিপত্যবাদ ও পুরনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন।
- তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন।
- ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন।
- গুলি মাথায় লেগে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যু বরণ করেন (বয়স ৩২)।
- তাঁর মৃত্যু দেশব্যাপী বিক্ষোভ, সহিংসতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
- তিনি বাংলাদেশের যুব আন্দোলন ও স্বাধীন চিন্তার একটি প্রতীক হয়ে থাকবেন।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো ও বিবিসি বাংলা পত্রিকার রিপোর্ট।

৪৩৮.
Bhutan recognized Bangladesh on -
  1. ক) 5 December, 1971
  2. খ) 6 December, 1971
  3. গ) 7 December, 1971
  4. ঘ) 8 December, 1971
সঠিক উত্তর:
খ) 6 December, 1971
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) 6 December, 1971
ব্যাখ্যা
- পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক বলেছেন, ভুটানই বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল।
- ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর একটি বেতারবার্তার মাধ্যমে দেশটি বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিল।
- ভারত না ভুটান- কে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল, এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল।
- কারও মতে, ভারত ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
- এর এক দিন পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল ভুটান।
- সব ধরনের বিভ্রান্তি পাশ কাটিয়ে শহীদুল হক বলেন, ভুটান ও ভারত দুই দেশই বাংলাদেশকে ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ তারিখে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
- তবে ভারতের কয়েক ঘণ্টা আগে ভুটান স্বীকৃতি দিয়ে বেতারবার্তা পাঠায়।

উৎস: প্রথম আলো।
০৯ ডিসেম্বর, ২০১৪।
৪৩৯.
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয় কবে?
  1. ৬ আগস্ট, ২০২৪
  2. ৭ আগস্ট, ২০২৪
  3. ৮ আগস্ট, ২০২৪
  4. ৯ আগস্ট, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
৮ আগস্ট, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ আগস্ট, ২০২৪
ব্যাখ্যা
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার:
- ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে।
- অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়: ৮ আগস্ট, ২০২৪ সালে।
- এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনুস।
- অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান: রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
- শপথ গ্রহণের স্থান: বঙ্গভবন।

তথ্যসূত্র - মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও পত্রিকা রিপোর্ট।
৪৪০.
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহিদ আবু সাঈদ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন?
  1. বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
  2. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
  3. জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
  4. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

শহিদ আবু সাঈদ:
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহিদ- আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই, ২০২৪ সালে তিনি শহিদ হন।
- আবু সাঈদ ২০০১ সালে রংপুরের জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন।
- তার বাবা-মা, মকবুল হোসেন ও মনোয়ারা বেগম।
- আবু সাইদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বায়ক ছিলেন।
- ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

৪৪১.
বাংলাদেশে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন কোন সালে ঘটে?
  1. ১৯৯১ সালে
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৯৬ সালে
  4. ২০০১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা

• সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন:
- ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট জাতীয় সংসদে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী গৃহীত হয়। 
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃ প্রবর্তন করা হয়।

- এ লক্ষ্যে ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
- এতে সংশোধনীর পক্ষে রায় পড়লে ১৮ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি সংশোধনী বিলে স্বাক্ষর করেন।

- এর আগে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারী সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪২.
বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা কত ছিল?
  1. ১৩টি
  2. ১৫টি
  3. ১৮টি
  4. ২০টি
সঠিক উত্তর:
১৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫টি
ব্যাখ্যা
প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন:
- স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- সে সময় ৩০০ আসনে সরাসরি নির্বাচন হয়।
- সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা ছিল ১৫টি।
- বিচারপতি এম ইদ্রিস কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা হয়।
- নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি তে জয়লাভ করে।
- বঙ্গবন্ধু সে সময় ঢাকা-১২ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন।
- প্রথম জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন মুহম্মদুল্লাহ।
- ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন বায়তুল্লাহ।
- পরে মুহম্মদুল্লাহ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে আবদুল মালেক উকিল স্পিকার নির্বাচিত হন। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৩.
বাকশালের সাধারণ সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. এম. মনসুর আলী
  4. খন্দকার মোশতাক আহমদ
সঠিক উত্তর:
এম. মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম. মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
বাকশাল:
- বাকশাল ব্যবস্থা ছিল রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা।
- ১৯৭৪ সালে সরকার দেশব্যাপী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে।
- ১৯৭৫ সালে ২৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
- ১৯৭৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশের সকল রাজনৈতিক দল ভেঙে দিয়ে 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ' বা বাকশাল গঠন করা হয়।
- ১৯৭৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে বাকশাল কার্যকর হওয়ার কথা ছিলো।
- এর সভাপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী।
- বাকশাল গঠনের মাধ্যমে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু হয়।
- বাকশালের বিভিন্ন দিক, কার্যক্ষেত্র এবং সম্ভাবনা সবিস্তারে বর্ণনা করে শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর এই উদ্যোগকে ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

উল্লেখ্য,
- সাংগঠনিক ক্ষেত্রে বাকশালের চেয়ারম্যান হিসেবে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমান জাতীয় দলের জন্য ১৫ সদস্যের একটি নির্বাহী কমিটি এবং ১১৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি মনোনীত করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৪৪৪.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে কনিষ্ঠ শহীদ কে?
  1. আবির 
  2. আদর 
  3. আহাদ 
  4. বিনতি
সঠিক উত্তর:
আহাদ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহাদ 
ব্যাখ্যা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ:
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ আব্দুল আহাদ।
- ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নিহত হয় ৪ বছরের শিশু আব্দুল আহাদ। 
- শহীদ আব্দুল আহাদ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামের আবুল হাসান ও মা সুমি আক্তারের পুত্র। 

উল্লেখ্য,
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ এলাকায় ৮ তলার উপর তার বাবা-মায়ের মাঝে বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল আব্দুল আহাদ।
- এ সময় বাসার নিচে ছাত্রলীগ ও পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নিহত হয় আহাদ।
- সে ‘জুলাই সর্বকনিষ্ঠ যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত।

উৎস: i) জুলাই আর্কাইভ।
ii) যুগান্তর।

৪৪৫.
নিম্নের কোন স্লোগান নব্বইয়ের আন্দোলনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল?
  1. শান্তি ও সমৃদ্ধি
  2. একাত্তরের চেতনায় মুক্তি
  3. স্বাধীনতা আমার অধিকার
  4. স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক
সঠিক উত্তর:
স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক
ব্যাখ্যা
নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন:
- স্বাধীন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অধিকার আন্দোলনের উজ্জ্বলতম অধ্যায় নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান।
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তার ক্ষমতা দখলের পর থেকেই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
- টানা ৯ বছর আন্দোলনের পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের দুর্বার আন্দোলনেই পতন ঘটে স্বৈরশাসক এরশাদের।
- ধারাবাহিক আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর শিক্ষার্থী জেহাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।

উল্লেখ্য,
- সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বরের একটি মিছিলে বুকে- ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ এবং পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ স্লোগান লিখে অংশ নিয়েছিলেন নূর হোসেন।
- ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর নূর হোসেন শহিদ হন।

উৎস: প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)।
৪৪৬.
জুলাই গনঅভ্যুত্থানে “বাংলা ব্লকেড” কর্মসূচির ঘোষণা কখন দেয়া হয়েছিল?
  1. ৩ জুলাই, ২০২৪
  2. ৬ জুলাই, ২০২৪ 
  3. ১০ জুলাই, ২০২৪  
  4. ১৬ জুলাই, ২০২৪ 
সঠিক উত্তর:
৬ জুলাই, ২০২৪ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ জুলাই, ২০২৪ 
ব্যাখ্যা

জুলাই গনঅভ্যুত্থানে “বাংলা ব্লকেড” কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়েছিল- ৬ জুলাই,২০২৪। 
----------------------------------------------------  
• “বাংলা ব্লকেড”:
- ৫ জুন ২০২৪ তারিখে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট।
- এই রায়ের পর থেকেই সারাদেশে শিক্ষার্থীরা “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন” গড়ে তোলে।
- ১ জুলাই ২০২৪ থেকে এই আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। 
- আন্দোলনের মূল দাবি ছিল - “সকলের জন্য সমান সুযোগ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা।”
- ৬ জুলাই ছাত্ররা ঘোষণা দেয় “বাংলা ব্লকেড” কর্মসূচির, যার মাধ্যমে সারাদেশে প্রতীকী অবরোধ পালিত হয়।
- এই কর্মসূচির ফলে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক-মহাসড়ক অবরুদ্ধ হয়ে যাতায়াত ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ে।

 - “বাংলা ব্লকেড”- এর মূল উদ্দেশ্য ছিল-
• কোটা ব্যবস্থা সংস্কার বা বাতিল করে মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র পুনর্বহাল,
• সরকারের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি এবং
• আন্দোলনের তীব্রতা বৃদ্ধি করা।

- শিক্ষার্থীরা “বাংলা ব্লকেড” কর্মসূচীর মাধ্যমে চার দফা দাবি জানিয়েছিল: 
• কোটা বৈষম্য দূর করা,
• ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহাল,
• আন্দোলনে হামলার বিচার এবং
• অন্যান্য শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন।

উৎস: বিবিসি নিউজ ও প্রথম আলো পত্রিকা। 

৪৪৭.
গণ-অভ্যুত্থানে জেনারেল এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হন কবে?
  1. ২ ডিসেম্বর, ১৯৯০
  2. ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯০
  3. ৯ ডিসেম্বর, ১৯৯০
  4. ১২ ডিসেম্বর, ১৯৯০
সঠিক উত্তর:
৬ ডিসেম্বর, ১৯৯০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ ডিসেম্বর, ১৯৯০
ব্যাখ্যা

এরশাদ সরকারের সামরিক শাসনের পতন:
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- টানা ৯ বছর আন্দোলনের পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের দুর্বার আন্দোলনেই পতন ঘটে স্বৈরশাসক এরশাদের।
- ধারাবাহিক আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর শিক্ষার্থী জেহাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।
- ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর স্বৈরাচারবিরোধী মিছিলে হামলা চালায় নতুন বাংলা ছাত্র সমাজের ক্যাডাররা।
- সে হামলায় নিহত হন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম মহাসচিব ডা. শামসুল আলম খান মিলন।
- এর পর সারাদেশের শহর-বন্দর, এমনকি গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন।
- অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এরশাদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বিবিসি বাংলা৷

৪৪৮.
কার নেতৃত্বে ১৯৯২ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গণআদালত গঠিত হয়?
  1. ক) জেনারেল এমএজি ওসমানী
  2. খ) জাহানারা ইমাম
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) বিচারপতি আবু সায়িদ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
খ) জাহানারা ইমাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
গোলাম আযম জামায়াতে ইসলামীর আমির নির্বাচিত হলে এর প্রতিবাদে শহিদ জননী খ্যাত জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটির উদ্যোগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্যে জাহানারা ইমামকে চেয়ারম্যান করে ১০ সদস্যের গণআদালত গঠিত হয়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ২৬ মার্চ গণআদালত ১০টি অপরাধে গোলাম আযমকে ‍মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে রায় প্রদান করে এবং সরকাকে রায় বাস্তবায়নের আহবান জানায়।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বিডিনিউজ২৪)
৪৪৯.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আবু সাঈদ শহিদ হয়েছিল- 
  1. ৫ জুলাই, ২০২৪ সালে
  2. ১৬ জুলাই, ২০২৪ সালে
  3. ১৮ জুলাই, ২০২৪ সালে
  4. ১২ জুলাই, ২০২৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৬ জুলাই, ২০২৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬ জুলাই, ২০২৪ সালে
ব্যাখ্যা

জুলাই  গণঅভ্যুত্থান:
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহিদ- আবু সাইদ।
- ১৬ জুলাই ২০২৪ সালে তিনি শহিদ হন।
- আবু সাঈদ ২০০১ সালে রংপুরের জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন।
- তার বাবা-মা , মকবুল হোসেন ও মনোয়ারা বেগম।
- আবু সাইদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বায়ক ছিলেন।
- ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।

উৎস: প্রথম আলো।

৪৫০.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয় -
  1. ২৩ অক্টোবর, ২০০০
  2. ২৩ নভেম্বর, ২০০০
  3. ২৩ অক্টোবর, ২০০১
  4. ২৩ নভেম্বর, ২০০১
সঠিক উত্তর:
২৩ অক্টোবর, ২০০১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ অক্টোবর, ২০০১
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়:
- ২৩ অক্টোবর, ২০০১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ/সংগঠনসমূহ:
• বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট,
• জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল,
• বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ,
• জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ,
• মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর,
• স্বাধীনতা স্তম্ভ কমপ্লেক্স,
• মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স,
• মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
৪৫১.
’বাংলা ব্লকেড' কর্মসূচি কত তারিখে পালন করা হয়?
  1. ৯ জুলাই ২০২৪ সালে
  2. ৬ জুলাই ২০২৪ সালে
  3. ৮ জুলাই ২০২৪ সালে
  4. ৭ জুলাই ২০২৪ সালে
সঠিক উত্তর:
৭ জুলাই ২০২৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ জুলাই ২০২৪ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলা ব্লকেড:
- কোটা সংস্কার ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের জন্য ২০১৮ সালের সরকারি পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
- ৫ জুন, ২০২৪ তারিখে হাইকোর্ট ২০১৮ সালের পরিপত্রের আংশিক অবৈধ ঘোষণা করার পর আবার এই আন্দোলন শুরু হয়।
- এটি বাতিলের দাবিতে ৭ জুলাই, ২০২৪ তারিখে সারা দেশে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধের পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
- শাহবাগ মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নির্ধারিত হওয়া এই কর্মসূচির নাম দিয়েছেন ‘বাংলা ব্লকেড’।

⇒ সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে সে সময় কোটা পদ্ধতি বাতিল করে সরকার। পরে ২০২১ সালে কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাইকোর্টে রিট করলে গত ৫ জুন এক রায়ের মাধ্যমে আবারও ফিরে আসে কোটা ব্যবস্থা।
- সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে ১ জুলাই, ২০২৪ থেকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আন্দোলনে নামে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
 
উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) BBC.

৪৫২.
স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্তির সংখ্যা কত?
  1. ৬৭৬ জন
  2. ৬৮ জন
  3. ৪২৬ জন
  4. ১৭৫জন
সঠিক উত্তর:
৪২৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪২৬ জন
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতাযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা:
- ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়।
- এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানী।
- ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।

⇒ মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত।
- মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক অবদানের জন্য ৬৭৬ জনকে খেতাব প্রদান করা হয়। যথা:
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৮ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং
• বীর প্রতীক ৪২৬ জন।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ii) প্রথম আলো।
৪৫৩.
কোনটি জয়নুল আবেদিনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্রকর্ম?
  1. মুক্তিযোদ্ধা
  2. ম্যাডোনা
  3. ক + খ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযোদ্ধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযোদ্ধা
ব্যাখ্যা
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন
- জয়নুল আবেদিন ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ মহুকুমার কেন্দুয়াতে (বর্তমান নেত্রকোণা) জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৪ সালে জাতীয় অধ্যাপক (বাংলাদেশ) সম্মান লাভ করেন। 
- তিনি ১৯৫৮ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের সবচেয়ে বড় খেতাব হেলাল-ই-ইমতিয়াজ অর্জন করেন এবং ১৯৭১ সালে সেটি বর্জন করেন।
- ১৯৬৮ সালে ঢাকা আর্ট কলেজের ছাত্রদের তরফ থেকে 'শিল্পাচার্য' উপাধি লাভ করেন।
- বাংলাদেশ সংবিধানের মূল সাজসজ্জার পরিকল্পনাকারী ছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। 
-  ১৯৭৬ সালের ২৮ মে ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 
- 'মুক্তিযোদ্ধা' জয়নুল আবেদিনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্রকর্ম।
- ১৯৪৩ সালের ভয়াল দুর্ভিক্ষের পরিপ্রেক্ষিতে জয়নুল আবেদিনের আঁকা স্কেচধর্মী চিত্রকর্ম 'ম্যাডোনা'।
- তাঁর আরো কিছু বিখ্যাত শিল্পকর্ম:
. দুর্ভিক্ষ,
. সংগ্রাম,
. সাঁওতাল রমণী,
. বিদ্রোহী,
. মনপুরা,
. নবান্ন,
. মহিলা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - ডেইলি স্টার।
৪৫৪.
বাংলাদেশের সাংবিধানিক গণভোট কত সালে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৯০ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯৩ সালে
  4. ১৯৯৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা

- ১৯৯১ সালে সাংবিধানিক গণভোট তথা দেশের '৩য় গণভোট' অনুষ্ঠিত হয়।

• বাংলাদেশে গণভোট:
- দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে মোট তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- এর মধ্যে দুটি প্রশাসনিক গণভোট এবং আরেকটি সাংবিধানিক গণভোট।
- প্রথম গণভোট হয়েছিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৭ সালে।
- দ্বিতীয় গণভোট হয় রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৫ সালে।
- সর্বশেষ গণভোট ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

- ১৯৯১ সালে সাংবিধানিক গণভোট তথা দেশের '৩য় গণভোট' অনুষ্ঠিত হয়।

• তৃতীয় গণভোট: 
- গণ আন্দোলনে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদ।
- এর ৩ মাসের মধ্যে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয় বিএনপি। 
- ১৬ বছরের রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা থেকে প্রধানমন্ত্রীশাসিত সংসদীয় পদ্ধতির (পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসি) সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট মধ্যরাতে সর্বসম্মতিক্রমে সংসদে বিল পাস হয়।

উৎস: গণভোট আইন ১৯৯১ এবং  প্রথম আলো ।

৪৫৫.
সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন আইন জারি হয় কবে?
  1. ৮ মার্চ, ১৯৮৬
  2. ৮ মার্চ, ১৯৮৭
  3. ৮ মার্চ, ১৯৮৮
  4. ৮ মার্চ, ১৯৮৯
সঠিক উত্তর:
৮ মার্চ, ১৯৮৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ মার্চ, ১৯৮৭
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রভাষা বাংলা।
- দেশ স্বাধীনের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে বাংলাকে অন্তভু‌র্ক্ত করেন।
- সর্বস্তরে বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত করতে ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ ‘বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭’ প্রণয়ন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ তিন অনুসারে বাংলা ভাষার ব্যবহার আইন দ্বারা বিধিবদ্ধ করার জন্য ১৯৮৭ সালে ‘বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭’ প্রবর্তন করা হয়।
- মাত্র চারটি ধারার সে আইনের ৩(১) ধারায় বলা হয়, ‘বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারী অফিস, আদালত, আধা-সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশের সাথে যোগাযোগ ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র, আইন আদালতের সওয়াল জবাব এবং অন্যান্য আইনানুগত কার্যাবলী অবশ্যই বাংলায় লিখতে হবে।’
- ওই আইনের ৩(২) ধারায় আরও উল্লেখ করা হয়, ‘কোন কর্মস্থলে যদি কোন ব্যক্তি বাংলা ভাষা ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় আবেদন বা আপীল করেন, তাহলে তা বেআইনী ও অকার্যকর বলে গণ্য হবে।’
- সরকারি কর্মকর্তাদের এ আইন অমান্যের জন্য ৩(৩) ধারায় শাস্তির বিধান করা হয়েছে।
- শাস্তি হিসেবে এ আইন আমান্যকারী ব্যক্তি, সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধির অধীনে অসদাচরণ করেছেন বলে গণ্য করে তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধি অনুসারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
- ১৯৮৭ সালের পর থেকে বাংলাদেশের সব আইন, অধ্যাদেশ, বিধিবিধান ও প্রজ্ঞাপন ইত্যাদি বাংলায় প্রণীত হচ্ছে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
         ii) ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, প্রথম আলো। 
৪৫৬.
১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে চালানো গণহত্যাকে স্বীকৃতির দাবিতে সম্প্রতি কোন দেশের পার্লামেন্টে প্রস্তাব আনা হয়েছে?
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) নরওয়ে
  3. গ) জাপান
  4. ঘ) সিয়েরালিওন
সঠিক উত্তর:
ক) যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
• ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে চালানো গণহত্যাকে স্বীকৃতির দাবিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টিভস) একটি প্রস্তাব আনা হয়েছে।
• কংগ্রেসম্যান রো খান্না ও কংগ্রেসম্যান স্টিভ চ্যাবট এ প্রস্তাব তোলেন।
• এ প্রস্তাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে গণহত্যার স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাবে গণহত্যার জন্য পাকিস্তান সরকারকে বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
• এছাড়া ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনাবলী বিবেচনায় নিয়ে বিলে ১৯৭১ এর মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর সহিংসতাকে নিন্দা জানানো হয়।

তথ্যসূত্র:- লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার নভেম্বর ২০২২
৪৫৭.
শহীদ আবু সাঈদ কবে শহীদ হন?
  1. ১৬ জুলাই, ২০২৪
  2. ২৫ জুলাই, ২০২৪
  3. ২৯ জুলাই, ২০২৪
  4. ৫ আগস্ট, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
১৬ জুলাই, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬ জুলাই, ২০২৪
ব্যাখ্যা

শহীদ আবু সাঈদ:
- রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা বাবনপুর গ্রামের মোঃ মকবুল হোসেন এর ঘরে জন্ম নেয় আবু সাঈদ।
- ২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।
- ১৬ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তিনি রংপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে।
- আবু সাঈদ এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেন।
- কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র আবু সাঈদের পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
- এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার হন বহু মানুষ, যাতে আরও গতিশীল হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন।
- ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান হাসিনা।

উৎস: i) বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) দৈনিক ইনকিলাব।

৪৫৮.
বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম দেশ-
  1. অস্ট্রেলিয়া 
  2. নিউজিল্যান্ড 
  3. ভুটান 
  4. সেনেগাল
সঠিক উত্তর:
ভুটান 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুটান 
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশসমূহ:
বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে ভুটান।
- ভুটান ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে প্রথম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
- ভুটানের পর একই দিনে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

উল্লেখ্য, 
• ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে পূর্ব জার্মানি।
• মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে ইরাক।
• এশিয়ার অ-আরব মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া; এরপর মালয়েশিয়া।
• মুসলিম ও আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে সেনেগাল।
• সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে পোল্যান্ড।
• দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে কলম্বিয়া; এরপর ভেনেজুয়েলা।
• বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম ওশেনিয়ান দেশ টোঙ্গা।

উৎস:
দৈনিক ইনকিলাব;
প্রথম আলো।

৪৫৯.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কবে স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দান করে?
  1. ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২
  2. ৮ জুলাই, ১৯৭২
  3. ২ মে, ১৯৭২
  4. ৪ এপ্রিল, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
৪ এপ্রিল, ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ এপ্রিল, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে মোট ১৫০টি দেশ স্বীকৃতি দিয়েছে।
- বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে সর্বপ্রথম স্বীকৃতি দেয় ভুটান এবং ভারত।
- উভয় দেশই বাংলাদেশকে ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
- অপরদিকে সর্বশেষ দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশকে ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট স্বীকৃতি দেয়।

উল্লেখ্য,
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দান করে ৪ এপ্রিল, ১৯৭২।

⇒ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার সেনেগাল।
- এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- এশিয়ার বাইরে প্রথম দেশ হিসেবে ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি স্বীকৃতি দেয় পূর্ব-জার্মানি।
- প্রথম পশ্চিমা দেশ হিসেবে গ্রেট ব্রিটেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।
- প্রথম আরব দেশ হিসেবে ইরাক ৮ জুলাই, ১৯৭২ তারিখে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে সর্ব প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে ভেনিজুয়েলা (২ মে, ১৯৭২)।

এছাড়াও,
- ব্রাজিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে ১৫ মে, ১৯৭২।
- আর্জেন্টিনা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে ২৫ মে ১৯৭২।
- বলিভিয়া বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে ২ আগস্ট, ১৯৭২।

উৎস: i) বাংলাদেশের তারিখ (বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান)।
ii) বঙ্গভবনের শতবর্ষ (বঙ্গভবন)।
ii) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৪৬০.
স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ছাত্র গণঅভ্যুত্থান কবে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ১৯৯৬ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ২০০০ সালে
  4. ১৯৯০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯০ সালে
ব্যাখ্যা

• ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান:
- স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে ৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হন।
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদ বাংলাদেশের দ্বিতীয়বার সামরিক শাসন শুরু করেন।
- এরশাদের শাসনকালে দেশ আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে দুর্যোগপূর্ণ অবস্থার মধ্যে থাকে।
- এরশাদের সামরিক শাসনের অবসানের জন্য দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম চলতে থাকে।
- বহু মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রাণ দেন।
- ১৯৯০ সালের ডিসেম্বর মাসে সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের সফল গণঅভ্যুত্থানে সামরিক শাসন অবসান ঘটে।
- গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ ঘটে নি; এরশাদের শাসনের প্রথম থেকেই বিরোধী কার্যক্রম চলতে থাকে।
- ১৯৮২ সালের শেষ থেকে ছাত্র সমাজ সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে।
- শিক্ষানীতি বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বুদ্ধিজীবীরা সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
- ১৯৮৩ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দলীয় জোট ও বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট গঠিত হয়।
- বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনও আন্দোলনে অংশ নেন।
- ১৯৮৭ সালে সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন প্রবল হলেও এরশাদ ক্ষমতায় থাকেন।
- ১৯৯০ সালের শুরু থেকে রাজনৈতিক দলগুলো মিছিল, মিটিং ও হরতাল চালায়।
- সারাদেশের ছাত্র, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠন আন্দোলনে সক্রিয় থাকে।
- ছাত্র সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য আন্দোলনকে শক্তিশালী করে।
- ১৯ নভেম্বর ১৯৯০ সালে সরকার পতনের লক্ষ্যে ৮, ৭ ও ৫ দলীয় জোট যৌথ ঘোষণা প্রদান করে।
- ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হন। এরশাদের ক্ষমতা ত্যাগের মধ্যে দিয়ে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬১.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার ছিলেন কে?
  1. বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন
  2. বিচারপতি এটিএম মাসুদ
  3. বিচারপতি একেএম নুরুল ইসলাম
  4. বিচারপতি এম ইদ্রিস
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি এম ইদ্রিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি এম ইদ্রিস
ব্যাখ্যা
প্রথম জাতীয় নির্বাচন:
- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ৭ই মার্চ, ১৯৭৩ সালে।
- নির্বাচন কমিশনার: বিচারপতি এম ইদ্রিস।
- মোট আসন: ৩১৫টি।
- সাধারন আসন: ৩০০টি।
- সংরক্ষিত নারী আসন: ১৫টি।
- অংশগ্রহণকারী দল: ১৪টি।
- এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করেন।

তথ্যসূত্র - নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট, পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৪৬২.
মধ্যপ্রাচ্যের ও প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় -
  1. ইরান
  2. ইরাক
  3. মিশর
  4. সৌদি আরব
সঠিক উত্তর:
ইরাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরাক
ব্যাখ্যা

মধ্যপ্রাচ্যের দেশের বাংলাদেশকে স্বীকৃতি:                            
- মধ্যপ্রাচ্যের ও প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ইরাক।
- ১৯৭২ সালের ৮ জুলাই ইরাক বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

অন্যদিকে -
- লেবানন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ২৮ মার্চ, ১৯৭৩।
- মিশর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩।
- জর্ডান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৬ অক্টোবর ১৯৭৩। 
- কুয়েত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ৪ নভেম্বর ১৯৭৩।
- ইরান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪।
- সৌদি আরব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৬ আগস্ট, ১৯৭৫।

উৎস: i) বঙ্গভবনের শতবর্ষ (বঙ্গভবন)।
ii) বাংলাদেশের তারিখ (বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান)।

৪৬৩.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ আবু সাঈদকে নিয়ে অঙ্কিত শিল্পকর্মের নাম কী? 
  1. মুক্তির তোরণ
  2. উন্নত মম শির
  3. অকুতোভয়
  4. দুরন্ত
সঠিক উত্তর:
উন্নত মম শির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উন্নত মম শির
ব্যাখ্যা

- জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ আবু সাঈদকে নিয়ে অঙ্কিত শিল্পকর্মের নাম উন্নত মম শির।

জুলাই গণঅভ্যত্থান: 

- শহীদ আবু সাঈদের রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের কৃতী শিক্ষার্থী।
- ১৬ জুলাই ২০২৪ পুলিশের গুলিতে শহীদ হন।
- স্নাতক ফল শহীদ হওয়ার পর প্রকাশিত হয়।
- দুই হাত প্রসারিত করে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো দৃশ্যটি জুলাই-আগস্টের স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনের উজ্জ্বলতম প্রতীক।
- আন্দোলনের প্রেক্ষাপটছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদবিরোধী রক্তক্ষয়ী আন্দোলন।
- তাকে নিয়ে শিল্পকর্মের নাম‘: উন্নত মম শির ।
- ’শিল্পী শহীদ কবির (দেশের বিশিষ্ট শিল্পী)।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা।[লিঙ্ক]

৪৬৪.
কোন চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় হয়?
  1. বাংলাদেশ ভারত মৈত্রী চুক্তি
  2. স্থলসীমান্ত চুক্তি ১৯৭৪
  3. গঙ্গার পানিবন্টন চুক্তি
  4. তিস্তা চুক্তি
সঠিক উত্তর:
স্থলসীমান্ত চুক্তি ১৯৭৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থলসীমান্ত চুক্তি ১৯৭৪
ব্যাখ্যা
স্থলসীমান্ত চুক্তি ১৯৭৪:
- ১৯৭৪ সালের ১৬ মে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী যথাক্রমে শেখ মুজিবুর রহমান ও ইন্দিরা গান্ধী স্থল সীমান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
- এর উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অমীমাংসিত স্থল সীমানা চূড়ান্ত করা।
- এই চুক্তি অনুযায়ী ভারতের ভেতরে থাকা দক্ষিণ বেরুবাড়ি ভারতের দখলে চলে যায় এবং দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা বাংলাদেশের অধিকারে আসে।
- ছিটমহল দুটি বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় পানবাড়ি মৌজার সঙ্গে যুক্ত করার জন্য তিনবিঘা জমি ভারত বাংলাদেশের অনুকূলে স্থায়ী ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
- চুক্তি সইয়ের পরপরই বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ এটি অনুমোদন করে।

উল্লেখ্য,
- স্থলসীমান্ত চুক্তি ১৯৭৪ আওতায় ২০১৫ সালে ছিটমহল বিনিময় হয়।
- এটি ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি নামে ও পরিচিত।
- ১৯৭৪ সালের বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি এবং ২০১১ সালের প্রটোকল অনুযায়ী ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের ৬৮ বছর পর দুটি দেশের মধ্যেকার সীমান্ত সমস্যার নিষ্পত্তি হয় ২০১৫ সালে।
- বাংলাদেশে ও ভারতের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় হয়েছে ৩১ জুলাই, ২০১৫ তারিখে।

উৎস: i) ৮ জুন ২০১৫, প্রথম আলো।
         ii) ৩১ জুলাই, ২০১৫, বিবিসি বাংলা।
৪৬৫.
কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন?
  1. ক) আনোয়ারুল করিম চৌধুরী
  2. খ) এস এ করিম
  3. গ) ইসমাত জাহান
  4. ঘ) হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ঘ) হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।
(সূত্রঃ জাতিসংঘ ওয়েবসাইট)
৪৬৬.
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এর পূর্ব নাম কী ছিল?
  1. পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
  2. সংস্থাপন মন্ত্রণালয়
  3. সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
  4. প্রশাসন মন্ত্রণালয়
সঠিক উত্তর:
সংস্থাপন মন্ত্রণালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্থাপন মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়:
- সংস্থাপন মন্ত্রণালয় হলো 'জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়' এর পূর্ব নাম।
- ১৯৮২ সালে Martial Law Committee on Reorganizational Set-up সকল সরকারি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর/পরিদপ্তরসহ সকল স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

• রূপকল্প:- দক্ষ ও কার্যকর জনপ্রশাসন।

• অভিলক্ষ্য:- প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি দক্ষ, সেবামুখী, কল্যাণধর্মী ও দায়বদ্ধ জনপ্রশাসন গড়ে তোলা।

উৎস: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৪৬৭.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কত তারিখে ১ দফা দাবি ঘোষিত হয়?
  1. ১ আগস্ট, ২০২৪ 
  2. ৩ আগস্ট, ২০২৪  
  3. ৫ আগস্ট, ২০২৪  
  4. ২ আগস্ট, ২০২৪  
সঠিক উত্তর:
৩ আগস্ট, ২০২৪  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ আগস্ট, ২০২৪  
ব্যাখ্যা

• ৩ আগস্ট ২০২৪ :
- কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ঘোষণা করেন যে তাদের সরকারের সাথে আলোচনার কোন পরিকল্পনা নেই এবং হাসিনার পদত্যাগ এবং ‘সবার কাছে গ্রহণযোগ্য’ একজন ব্যক্তির নেতৃত্বে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের দাবিতে লংমার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- হাসিনা আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ছাত্ররা তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
- বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে, প্রধান সমন্বয়কদের একজন নাহিদ ইসলাম শহিদ মিনারে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করেন, যেখানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার পদত্যাগের জন্য ১ দফা দাবি ঘোষণা করে এবং আহ্বান জানায়। 

উল্লেখ্য,
• জুলাই গণঅভ্যুত্থান/ জুলাই বিপ্লব:
-জুলাই গণঅভ্যুত্থান/ জুলাই বিপ্লব নামে পরিচিত ছাত্র-জনতার আন্দোলন হচ্ছে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক গণঅভ্যুত্থান যা ২০২৪ সালের ৫ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অগণিত প্রাণ বিসর্জন দেয়ার মধ্য দিয়ে বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।
- ঐতিহাসিক এই বিপ্লবের বিজয়ের ধারার সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবির আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
- এটি পরে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে আরো প্রবল হয়ে উঠেছিল যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চূড়ান্ত রূপ লাভ করে শেখ হাসিনার পদত্যাগের মাধ্যমে।

উৎস: বাসস।

৪৬৮.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার ছিলেন কে?
  1. এ.কে.এম. নুরুল ইসলাম
  2. চৌধুরী এ.টি.এম. মাসুদ
  3. কে.এম. নুরুল হুদা
  4. এম. ইদ্রিস
সঠিক উত্তর:
এম. ইদ্রিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম. ইদ্রিস
ব্যাখ্যা

প্রথম জাতীয় নির্বাচন:
- ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ সংসদ নির্বাচন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন।
- ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার ছিলেন এম. ইদ্রিস।
- এ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পূর্বে মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত মুজিবনগর সরকার কর্তৃক রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে।
- নয় মাসের প্রচেষ্টায় ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়।
- ৩১৫টি আসনের মধ্যে ৩০০টি সাধারন আসন ও ১৫টি সংরক্ষিত মহিলা আসন।
- ১৪টি রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহণ করে।
- ৩১৫টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩০৮টি আসনে জয়লাভ করেন।

তথ্যসূত্র - নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট, পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৪৬৯.
গণপরিষদে প্রথম অধিবেশন কখন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৮ মার্চ ১৯৭২
  2. ২৩ মার্চ ১৯৭২
  3. ১০ এপ্রিল ১৯৭২
  4. ১২ এপ্রিল ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
১০ এপ্রিল ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ এপ্রিল ১৯৭২
ব্যাখ্যা
গণপরিষদের অধিবেশন:
- ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- দেশ শত্রুমুক্ত হওয়ার মাত্র ১১৬ দিন পর গণপরিষদের এ প্রথম অধিবেশন বসে।
- এ অধিবেশনে গণপরিষদের স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার নির্বাচিত হয়।
- শাহ আব্দুল হামিদ গণপরিষদের প্রথম স্পীকার নির্বাচিত হন।
- তাঁর মৃত্যুর পর নির্বাচিত হন জনাব মোহাম্মদ উল্লাহ।

⇒ এ অধিবেশনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি গঠন করা হয়।
- এটি হল "সংবিধান কমিটি"।
- এ কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন তৎকালীন আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ড. কামাল হোসেন।
- 'গণপরিষদের ৩৪ জন সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত খসড়া প্রণয়ন কমিটি- যার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ড. কামাল হোসেন'।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭০.
দক্ষিণ আমেরিকার কোন দেশ প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে?
  1. ব্রাজিল
  2. ভেনিজুয়েলা
  3. আর্জেন্টিনা
  4. চিলি
সঠিক উত্তর:
ভেনিজুয়েলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেনিজুয়েলা
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
- ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে সর্বপ্রথম স্বীকৃতি দেয় ভুটান।
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী দ্বিতীয় দেশ  ভারত (৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১)।
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার সেনেগাল।
- এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি স্বীকৃতি দেয় পূর্ব-জার্মানি (১১ জানুয়ারি, ১৯৭২)।
- বাংলাদেশকে ৪ এপ্রিল, ১৯৭২ তারিখে স্বীকৃতি দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। 
- প্রথম আরব দেশ হিসেবে ইরাক ৮ জুলাই, ১৯৭২ তারিখে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- দক্ষিণ আমেরিকার প্রথম স্বীকৃতি দানকারী দেশ- ভেনিজুয়েলা (২ মে, ১৯৭২)।
- সর্বশেষ দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশকে ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: কালের কন্ঠ ও প্রথম আলো। 

৪৭১.
দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের কোন দেশটি সর্বপ্রথম বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে?
  1. চিলি
  2. ব্রাজিল
  3. আর্জেন্টিনা
  4. ভেনিজুয়েলা
সঠিক উত্তর:
ভেনিজুয়েলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেনিজুয়েলা
ব্যাখ্যা
স্বীকৃতি দানকারী আরব দেশ:
- প্রথম আরব দেশ: ইরাক (৮ জুলাই, ১৯৭২)।
- ইরান: ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ সালে।

উল্লেখ্য:
- প্রথম মুসলিম দেশ ও প্রথম আফ্রিকার - সেনেগাল।
- এশিয়ার মুসলিম দেশ: মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া।

- এশিয়ার বাইরে প্রথম দেশ বা প্রথম ইউরোপীয় দেশ: পূর্ব-জার্মানি (১১ জানুয়ারি, ১৯৭২)।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে প্রথম: ভেনিজুয়েলা (২ মে ১৯৭২)।
- ব্রাজিল: ১৫ মে, ১৯৭২।
- আর্জেন্টিনা: ২৫ মে ১৯৭২।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: ৪ এপ্রিল, ১৯৭২ তারিখে।
- ফ্রান্স: ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২।

তথ্যসূত্র - পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, বঙ্গভবনের শতবর্ষ (বঙ্গভবন) ও বাংলাদেশের তারিখ (বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান), প্রথম আলো।
৪৭২.
শহীদ আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের ছাত্র ছিলেন?
  1. সমাজবিজ্ঞান
  2. ইংরেজি
  3. ব্যবসা প্রসাশন
  4. লোক প্রশাসন
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি
ব্যাখ্যা
• শহীদ আবু সাঈদ:
- রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা বাবনপুর গ্রামের মোঃ মকবুল হোসেন এর ঘরে জন্ম নেয় আবু সাঈদ।
- আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে।
- আবু সাঈদ এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেন।
- কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।

উৎস: প্রথম আলো।
৪৭৩.
'জয় বাংলা বাংলার জয়' গানটির সুরকার কে ছিলেন?
  1. ক) আনোয়ার পারভেজ
  2. খ) আমজাদ হোসেন
  3. গ) আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল
  4. ঘ) মাজহারুল আনোয়ার
সঠিক উত্তর:
ক) আনোয়ার পারভেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আনোয়ার পারভেজ
ব্যাখ্যা
জয় বাংলা বাংলার জয়
- 'জয় বাংলা বাংলার জয়' গানটিকেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের রণসংগীত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্রনির্বিশেষে এই গানকে আরাধ্য করেই মুক্তির পথে এগিয়ে যায় সমগ্র বাঙালি।
- এই গান স্বাধীন বাংলা বেতারের সূচনা সংগীত; জাতীয় স্লোগানও বটে।
- এই গানের সুরকার আনোয়ার পারভেজ।
- গানটি লিখেছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার।
- আনোয়ার পারভেজ ২০০৬ সালের ১৭ জুন মারা গেছেন।
- এক সাক্ষাৎকারে গানটির গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, ‘আমার কথার আনোয়ার পারভেজ যে সুরের অলংকার পরিয়ে দিয়েছিলেন, তা মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছে।
- 'জয় বাংলা বাংলার জয়' গানটি মুক্তিযুদ্ধের পুরো নয়টা মাস মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।
- এ গান একটি যুদ্ধ, এ গান একটি স্বপ্ন, এ গান একটি বাস্তবতা।
- এ গানেই দেশের সব চাওয়ার কথা, মুক্তির স্বপ্নের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: প্রথম আলো।
১৬ ডিসেম্বর ২০২০।
৪৭৪.
সর্বশেষ কোন দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করেছে?
  1. পাকিস্তান
  2. সোভিয়েত ইউনিয়ন
  3. চীন
  4. পশ্চিম জার্মানি
সঠিক উত্তর:
চীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চীন
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে মোট ১৫০টি দেশ স্বীকৃতি প্রদান করে। 
- ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে সর্বপ্রথম ভুটান স্বীকৃতি প্রদান করে।
- ভুটান ও ভারত উভয় দেশই বাংলাদেশকে ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বীকৃতি দিয়েছিল। 
- সর্বশেষ দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশকে ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট স্বীকৃতি প্রদান করে। 
 
উল্লেখ্য,
- তৃতীয় দেশ ও প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে পূর্ব জার্মানি ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয়ের পর ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে এবং ২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রদ্বয়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।

অন্যদিকে,
- বুলগেরিয়া ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- পশ্চিম জার্মানি ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- হাঙ্গেরি ১৯৭২ সালের ২৬ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- ফিনল্যান্ড ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
 
উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৪৭৫.
শহীদ নূর হোসেনের বুকে ও পিঠে থাকা শ্লোগান কী ছিল?
  1. বুকে ‘স্বৈরাচার নীপাত যাক’, পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’
  2. বুকে ‘স্বৈরশাসন হটাও’, পিঠে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’
  3. বুকে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’, পিঠে ‘স্বৈরশাসন হটাও’
  4. বুকে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’, পিঠে ‘স্বৈরাচার নীপাত যাক’
সঠিক উত্তর:
বুকে ‘স্বৈরাচার নীপাত যাক’, পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুকে ‘স্বৈরাচার নীপাত যাক’, পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’
ব্যাখ্যা

শহীদ নূর হোসেন:
- শহীদ নূর হোসেন নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে শহীদ হয়েছিলেন।

⇒ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বরের একটি মিছিলে বুকে- ‘স্বৈরাচার নীপাত যাক’ এবং পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ স্লোগান লিখে অংশ নিয়েছিলেন নূর হোসেন।
- মিছিল রাজধানীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ গুলি চালায়। এতে শহীদ হন নূর হোসেন।
- নূর হোসেন ১৯৮৭ সালে তৎকালীন স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের নায়ক।
- স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গণতন্ত্রের জন্য আত্মাহুতি দেয়া ‘শহীদ নূর হোসেন দিবস’ ১০ নভেম্বর।
- শহীদ নূর হোসেনের রক্তদানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন আরও বেগবান হয় এবং অব্যাহত লড়াই-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরশাসকের পতন ঘটে।
- নূর হোসেন শহীদ হওয়ার পর মাস না পেরোতেই ৬ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন এরশাদ। এর তিন মাস পর তিনি জাতীয় সংসদের আরেকটি নির্বাচনের আয়োজন করেন।

উৎস: i) বিবিসি বাংলা।
ii) প্রথম আলো।

৪৭৬.
মুক্তিযুদ্ধে কতজন বিজিবি সদস্যকে সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ পদক প্রদান করা হয়?
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. একজনও নয়
সঠিক উত্তর:
২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে ২ জন বিজিবি সদস্যকে সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ পদক প্রদান করা হয়।

খেতাবপ্রাপ্ত বিজিবি:

- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত প্রান্তরে এক অসামান্য অবদান ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছে বিজিবি (তৎকালীন ইপিআর)।
- একটি আধা সামরিক বাহিনী হয়েও সামান্য সংখ্যক সনাতন অস্ত্রকে সম্বল করে এই বাহিনীর বীর সৈনিকবৃন্দ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

⇒ ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকহানাদার বাহিনী ঢাকার পিলখানাস্থ তৎকালীন ইপিআর সদর আক্রমন করে।
- এ বাহিনীর সদর দপ্তর থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার বার্তা ওয়ারলেস যোগে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দেয়া হয়।
- ফলে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এদেশের সৈনিক ও জনতা।
- প্রথম দিকে ইপিআরের বাঙালি সদস্যগণ রণকৌশলগত কারণে বুড়িগঙ্গা নদীর অপর তীরে জিঞ্জিরায় প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
- পরবর্তীতে এ বাহিনীর ১২ হাজার বাঙালি সৈনিক, সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনী ও মুক্তিকামী মানুষের সাথে সংগঠিত হয়ে বাংলাদেশের ১১টি সেক্টরে ৯ মাস ব্যাপী সশস্ত্র যুদ্ধে নিয়োজিত থাকে।
- এ বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাগণ পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধ, গেরিলা যুদ্ধ ও শত্রুঘাটি নিশ্চিহ্ন করতে আত্মঘাতি আক্রমণসহ অসংখ দুর্ধর্ষ অপারেশন পরিচালনা করে।
- মুক্তিযুদ্ধে এ বাহিনীর সর্বমোট ৮১৭ জন সৈনিক শহীদ হন।
- এদের মধ্যে অপরিসীম বীরত্বের জন্য শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এবং শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ কে সর্ব্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ পদক প্রদান করা হয়।
- এছাড়া ৮ জন ‘বীর উত্তম’, ৩২ জন ‘বীর বিক্রম’ ও ৭৮ জন ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত হন।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ii) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।
৪৭৭.
দেশের প্রথম ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ কোথায় অবস্থিত? 
  1. ঢাকা 
  2. নারায়নগঞ্জ
  3. গাজীপুর
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
নারায়নগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারায়নগঞ্জ
ব্যাখ্যা

দেশের প্রথম জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ:
- দেশের প্রথম 'জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ' নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত।
- নারায়ণগঞ্জে ২১ জন শহীদের নামে নির্মিত হয়েছে দেশের প্রথম 'জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ'।
- ১৪ জুলাই, ২০২৫ তারিখে নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জ এলাকায় স্মৃতিস্তম্ভটি উদ্বোধন করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৫ উপদেষ্টা। তারা হলেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্ট ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
- বৈষম্যের বিরুদ্ধে টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনে, অর্থাৎ ৩৬ জুলাই পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে শহীদ হন ৫৬ জন, আহত হন ৩৭০ জন।
- নিহতদের মধ্যে ২১ জন ছিলেন নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা।
- শহীদদের স্মরণে সরকারি উদ্যোগে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় নির্মিত হয়েছে এই স্মৃতিস্তম্ভ।

উৎস: i) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।[লিঙ্ক]
 ii) প্রেস নারায়নগঞ্জ।[লিঙ্ক]

৪৭৮.
’বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ কত তারিখে শুরু হয়?
  1. ১২ জুন, ২০২৪
  2. ১ জুলাই, ২০২৪
  3. ৫ জুলাই, ২০২৪
  4. ৫ আগষ্ট, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
১ জুলাই, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ জুলাই, ২০২৪
ব্যাখ্যা
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন :
-সরকারি চাকরির সকল প্রকার কোটা বাতিল করে  সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে ৪ অক্টোবর ২০১৮ সালে। ৩০% মুক্তিযুদ্ধ কোটা ফিরে পেতে হাইর্কোটে রিট  করা হলে , হাইকোর্ট কোটা বাতিল প্রজ্ঞাপন স্থগিত করে দেন।  তারই প্রেক্ষিতে ছাত্ররা  বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আন্দোলনের ডাক দেন। যা পরর্বতীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান  রূপে পরিচিতি পায়। 
- ১ জুলাই, ২০২৪ তিন দিনের কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন শুরু হয়। 
- ৬ জুলাই বাংলা ব্লকড কর্মসূচির ডাক দেন এবং ৭-১২ জুলাই তা পালন করেন।
- কিমপ্লিট শাটডাউনের ডাক দেন ১৭ জুলাই, পালিত হয় ১৮-২২ জুলাই।
- মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়- ৪ আগস্ট পালিত হয়- ৫ আগস্ট।

উৎস: প্রথম আলো
৪৭৯.
'ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ, ১৯৭৫' কে জারি করেছিলেন?
  1. তাজউদ্দিন আহমেদ
  2. খন্দকার মোশতাক আহমদ
  3. জেনারেল এরশাদ
  4. জেনারেল জিয়াউর রহমান
সঠিক উত্তর:
খন্দকার মোশতাক আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খন্দকার মোশতাক আহমদ
ব্যাখ্যা
'ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ, ১৯৭৫':
- খন্দকার মোশতাক আহমদ ১৯৭৫ সালের ২০শে আগস্ট 'ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ, ১৯৭৫' জারি করেন।
- এই আদেশ অনুযায়ী শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকারীদের বিচার করা যাবে না।
- 'ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ, ১৯৭৫' নামে ১৯৭৫ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর 'বাংলাদেশ গেজেট'- এ প্রকাশিত হয়।
- ইনডেমনিটি অধ্যাদেশে বলা হয়, '১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট সরকার পরিবর্তনের জন্য যেসব পরিকল্পনা বা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে এবং যারা এর সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি বিধানের জন্য কোনোরূপ আইনের আশ্রয় নেওয়া যাবে না।'

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪৮০.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবে জুলিও কুরি শান্তি পদক এর জন্য মনোনীত হন?
  1. ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর
  2. ১৯৭৩ সালের ২৩ মে
  3. ১৯৭২ সালের ২৩ মে
  4. ১৯৭৩ সালের ১০ অক্টোবর
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর
ব্যাখ্যা
জুলিও কুরি শান্তি পদক ও বঙ্গবন্ধু  
- বিশ্ব শান্তি পরিষদ ১৯৫০ সাল থেকে মানবতার কল্যাণে ও শান্তির সপক্ষে বিশেষ অবদানের জন্য বরণীয় ব্যক্তি ও সংগঠনকে শান্তি পদকে ভূষিত করে আসছে।
- ফরাসি পদার্থবিজ্ঞানী জঁ ফ্রেডেরিক জোলিও ক্যুরি ১৯৫৮ সালে মৃত্যুবরণ করলে বিশ্বশান্তি পরিষদ তাদের শান্তি পদকের নাম ১৯৫৯ সাল থেকে রাখে ‘জোলিও ক্যুরি শান্তি পদক’। 
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্তিয়াগোতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্য মনোনীত করা হয়। 
- ১৯৭৩ সালের ২৩ মে তাঁকে জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করা হয়েছিল। 
- সেই দিন বিশ্ব শান্তি পরিষদের তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বলেন ‘শেখ মুজিব শুধু বঙ্গবন্ধু নন, আজ থেকে তিনি বিশ্ববন্ধুও বটে’।

- বঙ্গবন্ধুর আগে যারা ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদক লাভ করেছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন-
. কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো,
. ভিয়েতনামের হো চি মিন,
. ফিলিস্তিনের ইয়াসির আরাফাত,
. চিলির সালভেদর আলেন্দে,
. দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলা,
. কবি ও রাজনীতিবিদ পাবলো নেরুদা,
. আমেরিকার মার্টিন লুথার কিং
. ভারতের জওহরলাল নেহেরু, ইন্দিরা গান্ধী, মাদার তেরেসা,সহ প্রমুখ।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো। দৈনিক ইত্তেফাক।
৪৮১.
Which of the following pictures was depicted in the first postage stamp of Bangladesh after the Liberation war in 1971?
  1. Water Lily flower
  2. Jackfruit
  3. Royal Bengal Tiger
  4. Martyr Monument
  5. None of these
সঠিক উত্তর:
Martyr Monument
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Martyr Monument
ব্যাখ্যা
কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার:
- শহিদ মিনার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ।
- এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।
- বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেবার পরে ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের কাজ শুরু হয়।
- এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে।
- ১৯৫৭ সালে বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান ও নভেরা আহমেদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সংশোধিত আকারে শহিদ মিনারের নির্মাণ কাজ কাজ শুরু হয়।
- ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহিদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহিদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- শহিদ মিনার প্রথম নির্মিত হয় ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি।
- শহীদ মিনারটি ছিল ১০ ফুট উচ্চ ও ৬ ফুট চওড়া।
- ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে, শহীদ শফিউরের পিতা অনানুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও সেনাবাহিনী মেডিকেলের ছাত্র হোস্টেল ঘিরে ফেলে এবং প্রথম শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে।

⇒ স্বাধীনতার পর প্রকৃতির প্রথম ডাকটিকেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এর ছবি ছিল।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৮২.
'বাংলা ব্লকেড' কর্মসূচিটি মূলত কোন আন্দোলনের অংশ ছিল?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. কোটা সংস্কার আন্দোলন
  3. ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন
  4. নিরাপদ সড়ক আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
কোটা সংস্কার আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোটা সংস্কার আন্দোলন
ব্যাখ্যা

বাংলা ব্লকেড:
- কোটা সংস্কার ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের জন্য ২০১৮ সালের সরকারি পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
- ৫ জুন, ২০২৪ তারিখে হাইকোর্ট ২০১৮ সালের পরিপত্রের আংশিক অবৈধ ঘোষণা করার পর আবার এই আন্দোলন শুরু হয়।
- এটি বাতিলের দাবিতে ৭ জুলাই, ২০২৪ তারিখে সারা দেশে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
- শাহবাগ মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নির্ধারিত হওয়া এই কর্মসূচির নাম দিয়েছেন ‘বাংলা ব্লকেড’।

⇒ সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে সে সময় কোটা পদ্ধতি বাতিল করে সরকার। পরে ২০২১ সালে কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাইকোর্টে রিট করলে গত ৫ জুন এক রায়ের মাধ্যমে আবারও ফিরে আসে কোটা ব্যবস্থা।
- সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে ১ জুলাই, ২০২৪ থেকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আন্দোলনে নামে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
 
উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) BBC.

৪৮৩.
কোন বিদেশী পত্রিকা বঙ্গবন্ধুকে 'রাজনীতির কবি' (Poet of Politics) উপাধি দিয়েছিলেন?
  1. নিউজ উইকস
  2. দি ইকোনমিস্ট
  3. টাইম
  4. গার্ডিয়ান
সঠিক উত্তর:
নিউজ উইকস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউজ উইকস
ব্যাখ্যা
Poet of Politics:
- রাজনীতির কবি ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের একজন স্বপ্নদ্রষ্টা।
- ৫ এপ্রিল, ১৯৭১ সাংবাদিক লোরেন জেঙ্কিন্স সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন নিউজ উইকস পত্রিকায় তার প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'রাজনীতির কবি' বা Poet of Politics বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
- সকল শ্রেণী ও আদর্শের অনুসারীদের একতাবদ্ধ করার জন্য সম্ভবত তাঁর 'স্টাইল' সবচেয়ে বেশি উপযোগী ছিল।

উল্লেখ্য,
- নিউজউইকস যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন।
- ১৯৩৩ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) রাষ্ট্রপতির কার্যালয়।
ii) দৈনিক জনকণ্ঠ।
৪৮৪.
সরকারি গেজেট অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা কতজন?
  1. ৮৩৬ জন
  2. ৮৩৭ জন
  3. ৮৩৮ জন
  4. ৮৩৯ জন
সঠিক উত্তর:
৮৩৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮৩৬ জন
ব্যাখ্যা

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর শহীদদের গেজেট:
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এ শহীদদের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে সরকার।
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এটি প্রকাশ করেছে।
- সরকারি এ গেজেট অনুযায়ী, ওই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৬ জন৷
- সরকারি গেজেট অনুযায়ী, ২ আগস্ট পর্যন্ত শহীদের সংখ্যা ছিল ৮৪৪ জন।
- ৩ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে ৮ জনের নাম বাদ দিয়ে আরেকটি গেজেট করেছে মন্ত্রণালয়। এই গেজেট অনুযায়ী, শহীদের সংখ্যা এখন ৮৩৬ জন।

উল্লেখ্য:
- ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ তহবিল করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও প্রথম আলো।

৪৮৫.
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪ এর প্রেক্ষাপট কী ছিল?
  1. বৈষম্য নিরসন
  2. কোটা সংস্কার
  3. ভিন্নমত দমন
  4. নিরাপদ সড়ক
সঠিক উত্তর:
কোটা সংস্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোটা সংস্কার
ব্যাখ্যা

- ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের (জুলাই বিপ্লব) প্রেক্ষাপট ছিল সরকারি চাকরিতে ৩০% কোটা (মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য) পুনর্বহালের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার প্রতিবাদ।
- এটি জুন মাসে শুরু হয়ে জুলাইতে সহিংসতায় পরিণত হয়, যা পরে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটায়।
- অন্যান্য বিকল্পগুলো (বৈষম্য নিরসন, ভিন্নমত দমন, নিরাপদ সড়ক) এর সাথে সরাসরি যুক্ত নয়,
- যদিও আন্দোলনের পরে বৈষম্যের বিষয় উঠে আসে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন: 
- ০১ জুলাই ২০২৪: কোটা বাতিলের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসমাবেশ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ৪ জুলাইয়ের মধ্যে দাবির বিষয়ে চূড়ান্ত সুরাহার আহ্বান জানানো হয়। এ সময় 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন'র পক্ষ থেকে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
- জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) তথ্যানুসন্ধানী দলের প্রতিবেদনে বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিক্ষোভ-সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১ হাজার ৪০০ জনে।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা।[লিঙ্ক]

৪৮৬.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৯৭ সাল
  2. ১৯৯৯ সাল
  3. ২০০০ সাল
  4. ২০০১ সাল
সঠিক উত্তর:
২০০১ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০১ সাল
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়:
- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয় ২০০১ সালের ২৩ অক্টোবর।
- রেদোয়ান আহমেদ ছিলেন এই মন্ত্রণালয়ের প্রথম মন্ত্রী।
- সর্বপ্রথম বর্তমান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ভবনে ৩ টি কক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরম্ভ হয়।

• এই মন্ত্রণালয়ের অধীন-
- বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট,
- জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল এবং
- বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো।

৪৮৭.
ওআইসির কততম শীর্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অংশগ্রহণ করেন?
  1. ক) তৃতীয়
  2. খ) চতুর্থ
  3. গ) দ্বিতীয়
  4. ঘ) পঞ্চম
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিতীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিতীয়
ব্যাখ্যা

- ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা- OIC (Organization of Islamic Co-operation) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মরক্কোর রাজধানী রাবাতে।
- এর সদরদপ্তর অবস্থিত সৌদি আরবের জেদ্দায়।
- ওআইসির বর্তমান সদস্য দেশ ৫৭ টি।
- বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ২২-২৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত ওআইসির দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য পদ লাভ করে।
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উক্ত সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
উৎসঃ ওআইসি ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।

৪৮৮.
২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় কখন?
  1. ক) ১৯৯৬ খ্রি:
  2. খ) ১৯৯৭ খ্রি:
  3. গ) ১৯৯৯ খ্রি:
  4. ঘ) ২০০০ খ্রি.
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৯৯ খ্রি:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৯৯ খ্রি:
ব্যাখ্যা
১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এই স্বীকৃতি ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে। সূত্র- বোর্ড বইঃনবম-দশম শ্রেণি।
৪৮৯.
প্রথমবারের মতো স্বাধীন বাংলাদেশের নিজস্ব মুদ্রার প্রচলন হয় কবে?
  1. ১ মার্চ, ১৯৭২
  2. ৪ মার্চ, ১৯৭২
  3. ৭ মার্চ, ১৯৭২
  4. ১৩ মার্চ, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
৪ মার্চ, ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ মার্চ, ১৯৭২
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের নিজস্ব মুদ্রা:
- ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ প্রথমবারের মতো স্বাধীন বাংলাদেশের নিজস্ব ১ ও ১০০ টাকার ব্যাংক নোটের প্রচলন হয়।
- স্বাধীন বাংলাদেশের মুদ্রার নাম রাখা হয় টাকা। বিশ্বের কয়েকটি দেশের মুদ্রার নাম একই ধরনের। তবে বাংলাদেশের মুদ্রা হিসেবে টাকা নামটি স্বতন্ত্র।
- ৪ মার্চ ১৯৭২ তারিখে প্রকাশিত দুটি ব্যাংক নোট ভারতের সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস থেকে ছাপানো হয়। ১ টাকার ও ১০০ টাকার নোট।
- ১ টাকার নকশায় বাংলাদেশের মানচিত্র ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ কথাটি স্থান পায় এবং তাতে স্বাক্ষর করেছিলেন সে সময়ের অর্থসচিব কে এ জামান।
- ১০০ টাকার নকশায় দেখা যায় বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি এবং তাতে লেখা থাকে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১০০ টাকার ব্যাংক নোটটি বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রথম গভর্নর এ এন হামিদ উল্ল্যাহ্ স্বাক্ষরিত।
- ৪ মার্চ ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো পালিত হয়েছে 'টাকা দিবস'।

তথ্যসুত্র - বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট ও দৈনিক প্রথম আলো, ০৪ মার্চ, ২০২১।

৪৯০.
১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে এরশাদ সরকারের পতনের পর কে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হন?
  1. শাহাবুদ্দিন আহমেদ
  2. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
  3. আব্দুস সাত্তার
  4. আবদুর রহমান বিশ্বাস
সঠিক উত্তর:
শাহাবুদ্দিন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহাবুদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলাদেশ:
- মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর সরকার দেশের প্রথম সংবিধান গ্রহণ করে। 
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট খন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রপতি হন।
- এ সময় সামরিকবাহিনীতে অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের একটা পর্যায়ে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করেন।
- চট্টগ্রাম সফরকালে সামরিক বাহিনীর একদল অফিসারের হাতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে নিহত হন।
- পরবর্তী এক বছরের মধ্যে রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনা প্রধান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে।
- দীর্ঘ ৯ বছর শাসনের পর ১৯৯০ সালের ডিসেম্বর মাসে এক গণঅভ্যুত্থানে এরশাদ সরকারে পতন ঘটে।
- ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে এরশাদের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হন প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমদ।
- প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন অস্থায়ী সরকারের অধীন ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বি.এন.পি) সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ক্ষমতা গ্রহণ করে এবং ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট জাতীয় সংসদে দ্বাদশ সংশোধনী বিল গৃহীত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার শুরু হয়।

উল্লেখ্য,
- এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠলে ওই বছরের ১৯শে নভেম্বর জোট তিনটি আলাদা সমাবেশ থেকে একযোগে রূপরেখাটি ঘোষণা করে, যার মূল লক্ষ্য হিসেবে – ‘একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে সার্বভৌম সংসদ গঠনের লক্ষ্যে এরশাদের পতন।
- রূপরেখাটি ঘোষণার সতের দিনের মাথায় ওই রূপরেখার ভিত্তিতেই এরশাদ বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে ভাইস প্রেসিডেন্ট নিয়োগ করে তার হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন।
- রূপরেখায় থাকা ঘোষণা অনুযায়ী ১৯৯১ সালের সাতাশে ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে।

উৎস: i) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) BBC.
৪৯১.
প্রথম এশীয় মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় -
  1. ইরাক
  2. সৌদিআরব
  3. মালদ্বীপ
  4. মালয়েশিয়া
সঠিক উত্তর:
মালয়েশিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালয়েশিয়া
ব্যাখ্যা
মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক:
- পাকিস্তানের জেল থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে আসার পর থেকে জাতির জনকের নেতৃত্বে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্থাপন এবং ক্রমান্বয়ে তা দৃঢ়তর হয়।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশ্বের অনেক মুসলিম দেশ আমাদের সমর্থন জানালেও আরব দেশগুলো, বিশেষ করে সৌদি আরব, জর্দান, মরক্কো, লিবিয়া পাকিস্তানকে সমর্থন করে গেছে।
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার সেনেগাল।
- এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২।

অন্যদিকে -
- ইন্দোনেশিয়া বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২।
- লেবানন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ২৮ মার্চ, ১৯৭৩।
- মিশর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩।
- জর্ডান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৬ অক্টোবর ১৯৭৩। 
- কুয়েত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ৪ নভেম্বর ১৯৭৩।
- ইরান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪।
- সৌদি আরব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৬ আগস্ট, ১৯৭৫।

উৎস: i) বঙ্গভবনের শতবর্ষ (বঙ্গভবন)।
         ii) বাংলাদেশের তারিখ (বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান)।
৪৯২.
ডা. মিলন কোন আন্দোলনের সময় শহীদ হয়েছিলেন?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন
ব্যাখ্যা
স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন:
- ডা. মিলন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় শহীদ হয়েছিলেন।
- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯০ সালে ছাত্র-জনতা-পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের আন্দোলনের ফলে স্বৈরাচার এরশাদের পতন হয়েছিল।
- নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর পুলিশের গুলিতে ঢাকার জিরো পয়েন্টে নূর হোসেন মারা যান।
- এ সময় তার গায়ে সাদা রঙ দিয়ে লেখা ছিলো 'স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক'।
- এ আন্দোলনে প্রাণ হারান নূর হোসেন, সেলিম, দেলোয়ার, তাজুল, ডা. মিলন, নূরুল হুদা, বাবুল, ফাত্তাহসহ অনেকে।
- নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক প্রথম আলো, ৬ ডিসেম্বর ২০১৭।
৪৯৩.
নিচের কোনটি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন?
  1. আকরাম খান শিক্ষা কমিশন
  2. ফজলে রাব্বী শিক্ষা কমিশন
  3. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন
  4. শরিফ শিক্ষা কমিশন
সঠিক উত্তর:
কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা
কুদরত ই খুদা শিক্ষা কমিশন -১৯৭২:
- বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের নাম কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন।
- দেশের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ এবং বিজ্ঞানী কুদরত-ই-খুদা-কে প্রধান করে কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন ১৯৭২ সালে গঠন করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কমিশনের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- চেয়ারম্যানের নামানুসারে এই কমিশন কুদরত-ই-খুদা কমিশন নামেও পরিচিতি পায়।
- কমিশন প্রশ্নমালার আকারে শিক্ষিত এলিট শ্রেণীর লোকদের নিকট থেকে মতামত গ্রহণ করে, এবং ঐসব মতামত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই বাছাই করে প্রণীত রিপোর্টে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ করে।
- কমিশন ১৯৭৪ সালের ৩০ মে সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ করে।

তথ্যসূত্র - শিক্ষা মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।
৪৯৪.
১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কয়টি আসনে জয় লাভ করে?
  1. ৩০৬টি
  2. ৩০৭টি
  3. ৩০৮টি
  4. ৩০৯টি
সঠিক উত্তর:
৩০৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০৮টি
ব্যাখ্যা
প্রথম জাতীয় নির্বাচন:
- ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ সংসদ নির্বাচন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন।
- এ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পূর্বে মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত মুজিবনগর সরকার কর্তৃক রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে।
- ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে প্রত্যাবর্তন করেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ গঠনের কার্যক্রম গ্রহণ করেন।
- নয় মাসের প্রচেষ্টায় ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়। 
- ৩১৫টি আসনের মধ্যে ৩০০টি সাধারন আসন ও ১৫টি সংরক্ষিত মহিলা আসন।
- ১৪টি রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহণ করে।
- ৩১৫টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩০৮টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ২টি, বাংলাদেশ জাতীয় লীগ ১টি এবং স্বতন্ত্র সদস্যরা ৬টি আসনে জয়লাভ করেন।
- বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭৩ সালের ১৬ই মার্চ নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয় 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৪৯৫.
কোন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ইয়াহিয়া খানকে গণহত্যা বন্ধ ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহবান জানিয়েছিলেন?
  1. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  2. যুক্তরাজ্য
  3. চীন
  4. সোভিয়েত ইউনিয়ন
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা
সোভিয়েত ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভূমিকা:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের পর সর্বাধিক অবদান রাখে অধুনালুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া)।
- পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে সত্তরের নির্বাচন এবং মুক্তিযুদ্ধ গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, নারী নির্যাতন বন্ধ করার জন্য সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে আহ্বান জানান।
- তিনি ইয়াহিয়াকে বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্যও বলেন।
- সোভিয়েত পত্রপত্রিকা, প্রচার মাধ্যমগুলো বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনের কাহিনি ও মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি প্রচার করে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে সহায়তা করে।
- জাতিসংঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব সোভিয়েত ইউনিয়ন 'ভেটো' (বিরোধিতা করা) প্রদান করে বাতিল করে দেয়।
- সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে কিউবা, যুগোস্লাভিয়া, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া, পূর্ব জার্মানিসহ তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামকে সমর্থন জানায়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।