বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাণিবিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,২২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাণিবিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ১৫ / ২৩ · ১,৪০১১,৫০০ / ২,২২৭

১,৪০১.
ইনসুলিন কে আবিষ্কার করেন?
  1. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
  2. গেরহার্ড ডোমাক
  3. অ্যাড ওয়ার্ড জেনার
  4. ফ্রেডরিক গ্র্যান্ট বেন্টিং
সঠিক উত্তর:
ফ্রেডরিক গ্র্যান্ট বেন্টিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্রেডরিক গ্র্যান্ট বেন্টিং
ব্যাখ্যা
ইনসুলিন:

- ইনসুলিন আবিষ্কার করেন ফ্রেডরিক গ্র্যান্ট বেন্টিং (Frederick G. Banting)।
- তিনি একজন কানাডিয়ান চিকিৎসক, চিকিৎসাবিজ্ঞানী এবং ইনসুলিনের আবিষ্কারক।
- তিনি বিজ্ঞানী Charles H. Best এবং রোমানিয়ান ফিজিওলজিস্ট Nicolas C. Paulescu এর সঙ্গে ১৯২১ সালে ইনসুলিন আবিষ্কার করেছিলেন।
- ইনসুলিন: ইনসুলিন একটি হরমোন।
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of Langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে।
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪০২.
মানুষের প্রতিটি বৃক্কে নেফ্রনের সংখ্যা কত?
  1. ক) ২-৪ লাখ
  2. খ) ৬-৮ লাখ
  3. গ) ১০-১২ লাখ
  4. ঘ) ১২-১৪ লাখ
সঠিক উত্তর:
গ) ১০-১২ লাখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১০-১২ লাখ
ব্যাখ্যা
মানুষের বৃক্ক:

- বৃক্কের গাঠনিক বা কার্যিক এককে নেফ্রন বলে।
- মানুষের প্রতিটি বৃক্কে ১০-১২ লাখ নেফ্রন থাকে।
- বৃক্ক মানুষের দেহে এবং রক্তে পানির ভারসাম্য রক্ষা করে।
- রক্তে লবণের পরিমান নিয়ন্ত্রণ করে।
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- একটি পরিণত বৃক্কের দৈর্ঘ্য ১০-১২ সেন্টিমিটার,প্রস্থ ৫-৬ সেন্টিমিটার এবং স্থুলত্ব ৩ সেন্টিমিটার।
- পুরুষ মানুষের প্রতিটি বৃক্কের ওজন ১৫০-১৭০ গ্রাম এবং প্রতিটি মহিলা মানুষের বৃক্কের ওজন ১৩০-১৫০ গ্রাম।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
১,৪০৩.
মানুষের শরীরে কত ধরনের অ্যাামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে? 
  1. ক) ১২ ধরনের
  2. খ) ১৫ ধরনের
  3. গ) ১৮ ধরনের
  4. ঘ) ২০ ধরনের
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২০ ধরনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২০ ধরনের
ব্যাখ্যা
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন- এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক।

উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার:
১. প্রাণিজ আমিষ  ও
২. উদ্ভিজ আমিষ।

• প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি।

• উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি,বাদাম ইত্যাদি।

- ২০ টি অ্যামাইনো এসিডের মধ্যে ৮ টি অ্যামাইনো এসিডকে (লাইসিন, ট্রিপেটোফ্যান, মিথিওনিন, ভ্যালিন, লিউসিন, আইসোলিউসিন, ফিনাইল অ্যালানিন ও থ্রিওনাইনকে) অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড বলা হয়। এই ৮ টি অ্যামাইনো এসিড ছাড়া অন্য সবগুলো অ্যামাইনো এসিড আমাদের শরীরে সংশ্লেষ করতে পারে। প্রাণিজ প্রোটিনে এই অপরিহার্য আটটি অ্যামাইনো এসিড বেশি থাকে বলে এর পুষ্টিমূল্য বেশি।

- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়। অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাদ্যে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড থাকে না বলে এদের পুষ্টিমূল্য কম।

- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। দেহকোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪০৪.
নিচের কোনটি পরিপাকতন্ত্রের অংশ?
  1. ক) রেকটাম
  2. খ) ব্রঙ্কাস
  3. গ) ইউরেটর
  4. ঘ) মস্তিস্ক
সঠিক উত্তর:
ক) রেকটাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রেকটাম
ব্যাখ্যা
রেকটাম অথবা, মলাশয় পরিপাকতন্ত্রের অংশ। সাথে মুখছিদ্র, পাকস্থলী, ইলিয়াম, পায়ুছিদ্র ইত্যাদি পরিপাকতন্ত্রের অংশ।

-যে শারীরিক প্রক্রিয়ায় জটিল খাদ্যবস্তু শোষণের উপযোগী কিংবা হজম হয়ে বা ভেঙে ক্ষুদ্র সাধারণ কণা হয়, তাকে পরিপাক ক্রিয়া বলে।
- পরিপাক সংশ্লিষ্ট যত ধাপ বা অংশ আছে, সব মিলেই পরিপাক্তন্ত্র গঠিত হয়। 

- পরিপাকতন্ত্রের কাজ—
১. খাদ্য গ্রহণ
২. খাদ্য পরিপাক
৩. বিভিন্ন পাচক রস নিঃসরণ
৪. পানি, ভিটামিন, খনিজ লবণ এবং পরিপাককৃত
৫. খাদ্যাংশ শোষণ
৬. অপ্রয়োজনীয় খাদ্যাংশ মল হিসাবে ত্যাগ
৭. শরীরের পানি, গ্লুুকোজ, এসিড-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা
৮. পরোক্ষভাবে রক্ত উৎপাদনে সহায়তা করে

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৪০৫.
প্রথম শ্রেণির খাদক কোনটি?
  1. ক) ময়ূর
  2. খ) বাঘ
  3. গ) হরিণ
  4. ঘ) শিয়াল
সঠিক উত্তর:
গ) হরিণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হরিণ
ব্যাখ্যা
খাদক (Consumer):
- কোনো প্রাণীই পরিবেশের জড় পদার্থ থেকে খাদ্য তৈরি করতে পারে না।
- তারা খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সবুজ উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল।
- তাই এদের বলা হয় পরভোজী জীব।

প্রথম শ্রেণির খাদক
- যেসব প্রাণী সরাসরি উদ্ভিদ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে, তাদেরকে বলা হয় তৃণভোজী প্রাণী। এদের অপর নাম প্রথম শ্রেণির খাদক।
যেমন- ঘাস ফড়িং, মুরগি, গরু, ছাগল, হরিণ ইত্যাদি প্রথম শ্রেণির খাদক।

দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক:
- যেসব প্রাণী তৃণভোজী প্রাণীদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে তাদের বলা হয় গৌণ খাদক বা দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক।
- এরা এক ধরনের মাংসাশী প্রাণী।
যেমন- শিয়াল, বাঘ ইত্যাদি দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক।

তৃতীয় শ্রেণির খাদক:
- যেসব প্রাণী পৌণ খাদকদের খেয়ে বাঁচে তারাও মাংসাশী প্রাণী (carnivorous)।
- এদের বলা যায় তৃতীয় শ্রেণির বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ খাদক।
যেমন- সাপ, ময়ূর, ইত্যাদি তৃতীয় শ্রেণির খাদক।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪০৬.
মানুষের ত্বকের জন্য আদর্শ pH মান কত? 
  1. 3.5
  2. 4.0
  3. 5.5
  4. 7.0
সঠিক উত্তর:
5.5
উত্তর
সঠিক উত্তর:
5.5
ব্যাখ্যা

প্রসাধনী: 
- বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনীর মধ্যে pH মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। 
- শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH মান 5.5 । 
- ত্বকের pH মান 5.5 থেকে 6.5 এর মধ্যে থাকলে ত্বক বিভিন্ন এলার্জেন ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমনকে প্রতিরোধ করতে পারে। 
- ত্বকের pH মান আদর্শ সীমার চেয়ে বেশি বা কম হলে ত্বকের কোমলতা ও সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়। 
- মানুষের মাথার চুলে রয়েছে সেবাম (Sebum) নামক এক প্রকার প্রাকৃতিক তেল, এর pH মান হলো 5.0 । 
- চুলের পরিচর্যায় যে কোনো প্রকার স্যাম্পুর pH মান 5.5 এর কাছাকাছি থাকাই উচিত। 
- চুলের pH মান 6 এর উপর গেলে চুল মসৃণতা হারিয়ে ফেলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪০৭.
নিচের কোনটি বাস্তুতন্ত্রের বিযোজক?
  1. ছত্রাক
  2. ব্যাঙ
  3. কচ্ছপ
  4. সবুজ উদ্ভিদ
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
ব্যাখ্যা
বাস্তুতন্ত্র: 
- কোনো একটি পরিবেশের অজীব এবং জীব উপাদানসমূহের মধ্যে পারস্পরিক ক্রিয়া, আদান-প্রদান ইত্যাদির মাধ্যমে পরিবেশে যে তন্ত্র গড়ে উঠে, তাই বাস্তুতন্ত্র নামে পরিচিত। 
- বাস্তুতন্ত্রের সকল উপাদানের মধ্যে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া চলছে।  

বাস্তুতন্ত্রের উপাদান: 
- অজীব এবং জীব এই দুটি প্রধান উপাদান নিয়ে বাস্তুতন্ত্র গঠিত। 
১। অজীব উপাদান: 
- বাস্তুতন্ত্রের প্রাণহীন সব উপাদান অজীব উপাদান নামে পরিচিত। 
- এই অজীব উপাদান আবার দুই ধরনের। 
(ক) অজৈব বা ভৌত উপাদান: অজৈব উপাদানের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার খনিজ লবণ, মাটি, আলো, পানি, বায়ু, তাপ, আর্দ্রতা ইত্যাদি। 
(খ) জৈব উপাদান: সকল জীবের মৃত ও গলিত দেহাবশেষ জৈব উপাদান নামে পরিচিত। 
- পরিবেশের জীব উপাদানের বেঁচে থাকার জন্য এসব অজৈব ও জৈব উপাদান অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। 

২। জীব উপাদান: 
- পরিবেশের সকল জীবন্ত অংশই বাস্তুতন্ত্রের জীব উপাদান। 
- বাস্তুতন্ত্রের সকল জীব ও অজীব উপাদানের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। 
- বাস্তুতন্ত্রকে কার্যকরী রাখার জন্য এ সকল জীব যে ধরনের ভূমিকা রাখে, তার উপর ভিত্তি করে এসব জীব উপাদানকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
(ক) উৎপাদক: 
- সবুজ উদ্ভিদ যারা নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে, তারা উৎপাদক নামে পরিচিত। 
- যারা উৎপাদক তারা সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। 
- যার উপর বাস্তুতন্ত্রের অন্যান্য সকল প্রাণী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। 

(খ) খাদক বা ভক্ষক: 
- যে সকল প্রাণী উদ্ভিদ থেকে পাওয়া জৈব পদার্থ খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে বা অন্য কোনো প্রাণী খেয়ে জীবন ধারণ করে, তারাই খাদক বা ভক্ষক নামে পরিচিত। 
- বাস্তুতন্ত্রে তিন ধরনের খাদক রয়েছে। 
প্রথম স্তরের খাদক: 
- যে সকল প্রাণী উদ্ভিদভোজী তারা প্রথম স্তরের খাদক, এরা তৃণভোজী নামেও পরিচিত। 
- তৃণভোজী প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে ছোট কীটপতঙ্গ থেকে শুরু করে অনেক বড় প্রাণী। 
যেমন- গরু, ছাগল ইত্যাদি। 

দ্বিতীয় স্তরের খাদক: 
- যারা প্রথম স্তরের খাদকদেরকে খেয়ে বাঁচে, তারাই দ্বিতীয় স্তরের খাদক, এরা মাংসাশী বলেও পরিচিত। 
যেমন- পাখি, ব্যাঙ, মানুষ ইত্যাদি। 

তৃতীয় স্তরের খাদক বা সর্বোচ্চ খাদক: 
- যারা দ্বিতীয় স্তরের খাদকদের খায়, তারাই তৃতীয় স্তরের খাদক বা সর্বোচ্চ খাদক। 
যেমন- কচ্ছপ, বক, ব্যাঙ, মানুষ ইত্যাদি। 
- এদের মধ্যে কোনো কোনো প্রাণী আবার একাধিক স্তরের খাবার খায়, এদেরকে বলা হয় সর্বভুক। 

(গ) বিযোজক: 
- এরা পচনকারী নামেও পরিচিত। 
- পরিবেশে কিছু অণুজীব আছে, বিশেষ করে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক যারা মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহের উপর ক্রিয়া করে এবং বিযোজিত হয়। 
- এসময় মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, ফলে মৃতদেহ ক্রমশ বিযোজিত হয়ে নানা রকম জৈব ও অজৈব দ্রব্যাদিতে রূপান্তরিত হয়। 
- এসব দ্রব্যের কিছুটা ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক নিজেদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। 
- মৃতদেহ থেকে তৈরি বাকি খাদ্য পরিবেশের মাটি ও বায়ুতে জমা হয়, যা উদ্ভিদ পুনরায় ব্যবহার করে। 
- এভাবে প্রকৃতিতে অজীব ও জীব উপাদানের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া হয়ে বাস্তুসংস্থান সচল থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,৪০৮.
মা ও নবজাতককে টিটানাস থেকে সুরক্ষিত রাখতে কোন টিকা প্রয়োজন?
  1. Tetanus toxoid
  2. Measles vaccine
  3. Zero dose
  4. Bacillus Calmette Guerin
সঠিক উত্তর:
Tetanus toxoid
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Tetanus toxoid
ব্যাখ্যা

• মা ও নবজাতককে টিটানাস থেকে সুরক্ষিত রাখতে Tetanus toxoid টিকা প্রয়োজন। গর্ভাবস্থায় এই টিকা দেওয়া হলে মা তার শরীরে টিটানাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে, যা প্লাসেন্টার মাধ্যমে নবজাতকেও সঞ্চারিত হয়। ফলে শিশুটি জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস ধরে টিটানাস থেকে সুরক্ষিত থাকে। এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ নবজাতক টিটানাস একটি প্রাণঘাতী সংক্রমণ এবং এটি প্রধানত নোংরা বা অপরিষ্কার কেটে বা জন্মকালীন সংক্রমণের মাধ্যমে ছড়ায়। অন্য টিকাগুলি যেমন Measles vaccine, BCG বা Zero dose টিটানাস প্রতিরোধে কার্যকর নয়। তাই মা ও শিশু দুজনকেই সুরক্ষিত রাখতে Tetanus toxoid অপরিহার্য।

• ভ্যাকসিনেশন:
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expended Programe on Immounization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী বিভিন্ন রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম ইত্যাদির ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪০৯.
শ্বাসনালীর ভেতরে আবৃত প্রদাহকে কী বলে?
  1. ক) নিউমোনিয়া
  2. খ) যক্ষ্মা
  3. গ) গলগণ্ড
  4. ঘ) ব্রঙ্কাইটিস
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্রঙ্কাইটিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্রঙ্কাইটিস
ব্যাখ্যা
শ্বাসনালীর ভেতরে আবৃত প্রদাহকে ব্রঙ্কাইটিস বলে। 

 শ্বসনতন্ত্রের প্রদাহজনিত সমস্যাগুলোর মধ্যে ব্রঙ্কাইটিস অন্যতম। দেখা যায়,শিশু এবং পুরুষদের মধ্যে ব্রঙ্কাইটিস বেশি হয়। শ্বাসনালির ভেতরে আবৃত ঝিল্লিতে এক ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণ থেকেই ব্রংকাইটিস হয়। এটি শ্বাসনালির মিউকাস আবরণীর প্রদাহ। তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী— এই দুই ধরনের ব্রংকাইটিস হতে দেখা যায়।

কারণঃ ধূমপান ব্রঙ্কাইটিসের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। অামাদের শ্বাসনালীতে চুলের মতো দেখতে কিছু স্ট্রাকচার থাকে, যার নাম সিলিয়া। ধূলাবালি,বিভিন্ন ক্ষতিকারক পদার্থ যা ফুসফুসে গিয়ে ক্ষতি করতে পারে তাদের ফুসফুসে যেতে বাধা দেয়াই এদের কাজ। ধূমপানের ফলে এসব সিলিয়া তাদের কার্যকারিতা হারায়। যার কারণে খুব সহজেই ব্রঙ্কাইটিস ডেভেলপ করতে পারে। এছাড়া যানবাহনের কালো ধোঁয়া, ধূলাবালি,বায়ু দূষণ এগুলো ব্রঙ্কাইটিসের কারণ হিসেবে বিবেচিত।

লক্ষণসমূহঃ ব্রঙ্কাইটিসের সাধারণ লক্ষণগুলো হলো কাশি,শ্বাসকষ্ট, হালকা কাঁপুনিসহ জ্বর,সর্দি, নাসাবদ্ধতা, মাথাব্যথা ইত্যাদি।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,৪১০.
মানুষের শরীরে লোহিত রক্তকণিকা উৎপন্ন হয় কোথায় থেকে? 
  1. লিভার
  2. অস্থিমজ্জা
  3. ফুসফুস
  4. হার্ট
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জা
ব্যাখ্যা

লোহিত রক্তকণিকা: 
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা দ্বি-অবতল এবং চাকতি আকৃতির।
- এতে হিমোগ্লোবিন নামে রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে দেখতে লাল বর্ণের হয়।
- এজন্য এদেরকে Red Blood Cell বা RBC বলে।
- অন্যভাবে বলা যায়, লোহিত কণিকা প্রকৃতপক্ষে হিমোগ্লোবিন ভর্তি চ্যাপ্টা আকৃতির ভাসমান ব্যাগ।
- এ কারণে লোহিত কণিকা অধিক পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহন করতে পারে।
- লোহিত কণিকাগুলোর বিভাজন হয় না।
- এ কণিকাগুলো সর্বক্ষণই অস্থিমজ্জার ভিতরে উৎপন্ন হতে থাকে এবং উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে চলে আসে।
- মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন।

অন্যদিকে,
- স্তন্যপায়ী প্রাণীদের লোহিত রক্তকণিকাগুলো উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে আসার পূর্বে নিউক্লিয়াসবিহীন হয়ে যায়।
- অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর ক্ষেত্রে এরকম ঘটে না অর্থাৎ এদের লোহিত কণিকাগুলোতে নিউক্লিয়াস থাকে।
- লোহিত কণিকা প্লীহা (Spleen) তে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৪১১.
খাদ্য সংগ্রহের সময় বাসায় ফেরার পথে কোন প্রাণী ফেরোমন নিঃসৃত করে? 
  1. পাখি 
  2. মাছি 
  3. পিপঁড়া 
  4. মশা 
সঠিক উত্তর:
পিপঁড়া 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিপঁড়া 
ব্যাখ্যা

সমন্বয়: 
- বিভিন্ন অঙ্গ তন্ত্রের পারস্পরিক সহযোগিতামূলক কাজের মাধ্যমে দেহের সকল কর্মকান্ড সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে সমন্বয় বলা হয়। 
- উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে বিভিন্ন আচরণ প্রকাশ করা প্রতিটি প্রাণীর মৌলিক বৈশিষ্ট্য। 
- হাঁটা চলা, উঠা বসা, কথা বলা, চিন্তা করা, পড়া মুখস্থ করায় বিভিন্ন অঙ্গ অংশ নেয়। এ অঙ্গগুলোকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য একটি সমন্বয় ব্যবস্থার প্রয়োজন। 
- প্রাণীর প্রয়োজনীয় সমন্বয় ব্যবস্থা স্নায়ুতন্ত্র ও হরমোন দ্বারা প্রভাবিত হয়। 

হরমোনাল প্রভাব: 
- হরমোনের কারণে প্রাণী তার কার্যকলাপ অর্থাৎ আচরণের পরিবর্তন করে থাকে। 
- হরমোন দেহের নালিবিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। নালিবিহীন গ্রন্থিগুলো একে অপরকে নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নালিবিহীন গ্রন্থিগুলোর কার্যকলাপ আবার স্নায়ুতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে। 
- সমন্বয় সাধনে প্রাণী হরমোন ব্যবহার করে। 
যেমন- পিপঁড়া খাদ্যের খোঁজ নেয় এবং খাদ্য উৎস থেকে বাসায় আসার পথে এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত করে, একে ফেরোমন বলে। এর উপর নির্ভর করে অন্য পিপঁড়াগুলোও খাদ্য উৎসে যায় এবং খাদ্য সংগ্রহ করে বাসায় ফিরে আসে। এ ফেরোমন হরমোনের কারণে পিপঁড়াদের এক সারিতে চলতে দেখা যায়। 
- কোন কোন পতঙ্গ ফেরোমন দিয়ে তার স্বপ্রজাতির সঙ্গীকে খুঁজে নেয়। 
- শস্য ক্ষেতে অনিষ্টকারী পোকা দমনে বা ধ্বংসে ফেরোমন ব্যবহার করা হয়। 
- ফেরোমনের কারণে আকৃষ্ট হয়ে অনিষ্টকারী পোকা ফাঁদে ও পানিতে ডুবে মারা যায়, এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪১২.
রক্তের রঙ লাল হওয়ার প্রধান কারণ কী? 
  1. প্লাজমা
  2. শ্বেত রক্ত কণিকা
  3. লোহিত রক্ত কণিকা
  4. রক্তের অজৈব লবণ
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্ত কণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্ত কণিকা
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা। 
- রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। 
- রক্ত সামান্য ক্ষারীয়, রক্তের pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪ । 
- সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬০-৩৮০ সেলসিয়াস। 
- অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত। 
- একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 

রক্তের উপাদান: 
- মানব দেহের রক্ত প্রধানত রক্তরস ও রক্ত কণিকা নিয়ে গঠিত। 
- স্থিতি অবস্থায় কিছুক্ষণ রাখলে রক্ত দুই স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। 
- উপরের হালকা হলুদ বর্ণের প্রায় ৫৫% যে অংশ থাকে তাকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে এবং নিচের গাঢ়তর বাঁকি ৪৫% অংশকে রক্ত কণিকা (Blood corpuscles) বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে রক্ত কণিকাগুলো রক্ত রসে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতিতে রক্ত লাল দেখায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪১৩.
কোন রক্তকণিকা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে ব্লাড ক্যান্সার হয়?
  1. ক) অণুচক্রিকা
  2. খ) লোহিত কণিকা
  3. গ) শ্বেতকণিকা
  4. ঘ) লোহিত ও শ্বেতকণিকা
সঠিক উত্তর:
গ) শ্বেতকণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শ্বেতকণিকা
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন বয়সের মানব দেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে লোহিত কণিকার সংখ্যা হচ্ছে:
- ভ্রূণ দেহে: ৮০-৯০ লাখ,
- শিশুর দেহে: ৬০-৭০ লাখ,
- পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ দেহে: ৪.৫ - ৫.৫ লাখ এবং
- পূর্ণ বয়স্ক নারীর দেহে: ৪ - ৫ লাখ।

মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। যেমন-
১. অ্যানিমিয়া: লোহিত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায় অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কমে যায়।
২. পলিসাইথিমিয়া: লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়।
৩. লিউকোসাইটোসিস: শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ১ ঘন মি.লি. রক্তে ২০,০০০- ৩০,০০০ হয়।
৪. লিউকেমিয়া: নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা, প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক হারে বেড়ে ১ ঘন মি.লি. রক্তে ৫০,০০০ - ১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে।

উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র বই (উন্মুক্ত)।

১,৪১৪.
ডায়বেটিস রোগ সম্পর্কে যে তথ্যটি সত্য নয় সেটি হলো -
  1. চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে এই রোগ হয়
  2. এই রোগ হলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়
  3. এই রোগ মানবদেহের কিডনি বিনষ্ট করে
  4. ইনসুলিন নামক একটি হরমোনের অভাবে এই রোগ হয়
সঠিক উত্তর:
চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে এই রোগ হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে এই রোগ হয়
ব্যাখ্যা

[অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত ইনসুলিন হরমোনের অভাব হলে প্রোটিন, শর্করা ও স্নেহজাতীয় খাবারের বিপাক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, ফলে রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়, একে ডায়াবেটিস রোগ বলা হয়। চিনি জাতীয় খাবারের সাথে এ রোগের সম্পর্ক নেই। ডায়াবেটিস হলে হৃৎপিণ্ড, কিডনি, চোখ ইত্যাদি অঙ্গের স্বাভাবিক কাজে বাধা সৃষ্টি হয়।] 

ডায়বেটিস: 
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না। 
- যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উল্লেখ্য যে, 
- চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে ডায়াবেটিস রোগ হয় এ তথ্যটি সত্য নয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৪১৫.
প্রথম ক্লোন করা স্তন্যপায়ী প্রাণী কোনটি?
  1. ছাগল
  2. গরু
  3. ভেড়া
  4. বিড়াল
সঠিক উত্তর:
ভেড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেড়া
ব্যাখ্যা

◉ বিশ্বের প্রথম ক্লোন করা স্তন্যপায়ী প্রাণী হলো ভেড়া "ডলি" (Dolly the sheep). ডলিকে ১৯৯৬ সালে স্কটল্যান্ডের Roslin Institute-এ বিজ্ঞানীরা সফলভাবে ক্লোন করেন।

​ক্লোনিং:
- প্রাকৃতিক ক্লোন হলো একটি জীব অথবা একদল জীব যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ জননের দ্বারা।
- এদের ধরন হয় মাতৃ জীবের ন্যায়।
- একটি কোষ বা কোষগুচ্ছ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপন্ন হয় এবং তাদের প্রকৃতি মাতৃকোষের ন্যায় হয়, তাকেও ক্লোন বলে।
- প্রাকৃতিকভাবে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশিরভাগ প্রোটোজোয়া এবং ঈস্ট, ছত্রাক ক্লোনিং এর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্ষেত্রে প্রয়োজনবোধে কোনো বিশেষ জিনের সংখ্যাবৃদ্ধি করে তার প্রতিলিপি তৈরি করা হয়।
- কোনো কোনো কোষকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় আবাদ মাধ্যমে রেখে বিভাজন ঘটিয়ে এতে উৎপন্ন করা হয় একগুচ্ছ একই ধরনের কোষ।
- আবার কোনো অণুজীব উদ্ভিদ কিংবা প্রাণীর অনুরূপ অনেক জীব উৎপাদন করাকে ক্লোনিং বলে। 

​- সম্প্রতি জিন প্রযুক্তির দ্বারা সম্ভব হয়েছে একই প্রাণীর দেহকোষ থেকে সম্পূর্ণ নিউক্লিয়াসকে বের করে সে প্রাণীর নিষেককৃত ডিম্বাণুতে ইনজেকট করে নিউক্লিয়াস স্থাপন করা।
- ডিম্বাণুতে দেহকোষের নিউক্লিয়াস স্থাপন করার পূর্বে নিষেককৃত ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াসকে অপসারণ করা হয়। এ ডিম্বাণু থেকে যে প্রাণী সৃষ্টি হয় তা হুবহু তার মাতার ন্যায় হয়।
- ডলি নামক ভেড়া হলো পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী যা একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে।
- এ ক্লোনিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো ইঁদুর, খরগোস, গরু ও শূকর এমনকি বানর পর্যন্ত ক্লোন করা হয়েছে।
- ইঁদুর, ডলি নামক ভেড়া, বানর, প্রভৃতি ক্লোনিংয়ের পর বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি এখন মানুষের উপর।
- এ প্রক্রিয়াটি কিন্তু মোটেই দূরূহ নয়, তাই ইতিমধ্যে বিভিন্ন উন্নত দেশে মানুষের ক্লোন করার প্রক্রিয়া আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৪১৬.
নিচের কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম নয়?
  1. চিত্রা হরিণ
  2. রাজ কাঁকড়া
  3. স্ফোনোডন
  4. প্লাটিপাস
সঠিক উত্তর:
চিত্রা হরিণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিত্রা হরিণ
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক  প্রাণীর জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ। 
- ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

অন্যদিকে, 
- চিত্রা হরিণ কোনো জীবন্ত জীবাশ্ম নয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। [২০১৯ সংস্করণ]
১,৪১৭.
চোখের কোন অংশে সবচেয়ে ভালো প্রতিবিম্ব গঠিত হয়?
  1. ক) কর্নিয়া
  2. খ) লেন্স
  3. গ) রেটিনা
  4. ঘ) স্ক্লেরা
সঠিক উত্তর:
গ) রেটিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রেটিনা
ব্যাখ্যা
• চোখের রেটিনা অংশে বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।
রেটিনা: চক্ষু গোলকের সবচেয়ে ভেতরের স্তর রেটিনা।
- এ স্তরটি আলোক সংবেদী। এতে আলোক সংবেদী কোষ থাকে।
- আলোক সংবেদী কোষগুলো রড ও কোণ কোষ নিয়ে গঠিত।
- চোখে রড কোষের সংখ্যা প্রায় সত্তর লক্ষ।
- কোণ কোষগুলো উজ্জ্বল আলোতে রঙিন বস্তু দর্শনের জন্য উপযোগী।
- রড কোষগুলো অনুজ্জ্বল আলোতে দর্শনের উপযোগী।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪১৮.
নিচের কোন পদার্থটি হাড় ও দাঁত মজবুত করে?
  1. আয়োডিন
  2. আয়রন
  3. জিঙ্ক
  4. ক্যালসিয়াম
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম:

- ক্যালসিয়াম প্রাণীদের হাড় এবং দাতের একটি প্রধান উপাদান।
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুইভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। অস্থি এবং দাতে ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে।
- হাড় ও দাতের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতি প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ।
- দেহে পরিমাণের দিক দিয়ে খনিজ লবণগুলোর মধ্যে ক্যালসিয়ামের পরপরই ফসফরাসের স্থান।
- ক্যালসিয়ামের মত হাড় এবং দাত গঠন করা ফসফরাসের প্রধান কাজ।
- ফসফরাসের অভাবে রিকেটস, অস্থিক্ষয়তা, দন্তক্ষয় এসব রোগ দেখা দেয়।
 
তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১,৪১৯.
Which of the following vitamins plays a key role in blood clotting?
  1. Vitamin A
  2. Vitamin C
  3. Vitamin D
  4. Vitamin E
  5. Vitamin K
সঠিক উত্তর:
Vitamin K
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Vitamin K
ব্যাখ্যা

• রক্ত জমাট বাঁধার জন্য ভিটামিন K অপরিহার্য। এটি যকৃতে প্রথম্বিন (Prothrombin) নামক প্রোটিন তৈরিতে সাহায্য করে যা রক্ত জমাট বাঁধতে মূল ভূমিকা পালন করে।

ভিটামিন কে (Vitamin K): 

- ভিটামিন কে-এর রাসায়নিক নাম ফাইলোকুইনন বা ন্যাপথোকুইনন। 
- এটি তাপ, আর্দ্রতা ও বায়ুর সংস্পর্শে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। 

ভিটামিন কে -এর উৎস: 
- সবুজ শাক সবজি, ডিমের কুসুম, দুধ, যকৃত, মাংস, মাছ, লেটুস পাতা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মটরশুঁটি ইত্যাদিতে ভিটামিন কে পাওয়ার যায়। 

ভিটামিন কে-এর কাজ: 
১. কোনো কারণে রক্তক্ষরণ হলে রক্ত জমাট বাঁধতে ভিটামিন কে সাহায্য করে। রক্ত জমাটকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন প্রোথ্রম্বিনের সক্রিয়করণে ভিটামিন কে কাজ করে। 
২. পিত্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। 
৩. যকৃতের স্বাভাবিক কার্যকলাপ বজায় রাখে। 

ভিটামিন কে-এর অভাবজনিত অবস্থা: 
- এর অভাবে রক্ত জমাট বাঁধা ব্যাহত হয়। 
- ফলে, সামান্য কাটা ছেঁড়ায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪২০.
প্রাণীর ক্ষেত্রে নামকরণের আন্তর্জাতিক নীতিমালাকে বলা হয়-
  1. ICZN
  2. IZCN
  3. ICBN
  4. ICAN
সঠিক উত্তর:
ICZN
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ICZN
ব্যাখ্যা
• প্রাণীর ক্ষেত্রে নামকরণের আন্তর্জাতিক নীতিমালাকে বলা হয় 'International code of Zoological Nomenclature', সংক্ষেপে ICZN.

• জীবের নামকরণ (Nomenclature):

- সুইডিস বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস সর্বপ্রথম নামকরণের একটি প্রথা প্রবর্তন করেন এটি দ্বিপদ নামকরণ প্রথা (Binomial Nomenclature System) নামে পরিচিত।
- উদ্ভিদ প্রজাতির (শৈবাল ও ছত্রাক সহ) নামকরণ করা হয়ে থাকে ICBN (International Code of Botanical Nomenclature) বর্তমানে ICN (International Code of Botanical Nomenclature for Algae, Fungi & Plants) -এর নীতিমালা অনুযায়ী।
- প্রাণী প্রজাতির নামকরণ করা হয় ICZN (International Code on Zoological Nomenclature)- এর নীতিমালা অনুযায়ী।

• নামকরণের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নীতিমালা নিম্নরূপ:
১. নামকরণের ভাষা হবে ল্যাটিন।
২. প্রতিটি জীব-প্রজাতির নামের দু'টি অংশ থাকবে, প্রথম অংশ হলো গণ নাম এবং দ্বিতীয় অংশ হলো প্রজাতিক পদ।
৩. একই দ্বিপদ নাম কোন দু'টি প্রজাতির জন্য প্রযোজ্য হবে না, একটি দ্বিপদ নাম কেবল মাত্র একটি প্রজাতির জন্যই সুনির্দিষ্ট।
৪. গণ নামের প্রথম অক্ষর বড় হাতের হবে, প্রজাতিক পদ ছোট অক্ষরে হবে ।
৫. ছাপানো হলে দ্বিপদ নাম ইটালিক বা মোটা অক্ষরে হবে। হাতে লিখলে দ্বিপদ নামের নিচে দু'অংশে দু'টি টানা দাগ দিতে হবে; যেমন- Homo sapiens বা Homo sapiens.
৬. দ্বিপদ নামের শেষে নাম প্রদানকারীর নাম উল্লেখ করতে হয়, যেমন- Mangifera indica L., L. হলো লিনিয়াসের সংক্ষিপ্ত রূপ। এ নামটি লিনিয়াস দিয়েছিলেন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪২১.
পটাসিয়ামের ভালো খাদ্য উৎস কোনটি?
  1. স্যুপ ও সরবত
  2. ডাবের পানি
  3. খাবার লবণ
  4. সামুদ্রিক মাছ
সঠিক উত্তর:
ডাবের পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাবের পানি
ব্যাখ্যা
খনিজ উপাদান: 
- খনিজ উপাদানসমূহ দেহের বৃদ্ধি, শরীরবৃত্তীয় বিভিন্ন ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ, সুস্থতা ও সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- দেহ গঠনে এসব অজৈব খনিজ পদার্থের অংশগ্রহণ দেহ ওজনের প্রায় ৪% হয়ে থাকে। 
- বিভিন্ন প্রকারের খনিজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো- ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রণ (লৌহ), আয়োডিন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, জিঙ্ক (দস্তা), ক্লোরিন, কপার (তামা) ইত্যাদি। 

পটাসিয়াম (k): 
১। খেজুর, পালং শাক, গাজর, বিট, ডাবের পানি, ফল (আম, কলা) ইত্যাদি পটাসিয়ামের ভালো খাদ্য উৎস। 
২। পটাসিয়াম দেহে পানির ভারসাম্য রক্ষা করে। কোষের ভেতরে পানির চাপ, অম্ল ও ক্ষারের সমতা রক্ষা করে। পেশি ও স্নায়ুর উদ্দীপনা স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে। হৃৎপিন্ডের স্পন্দন স্বাভাবিক রাখে। 
৩। পটাসিয়ামের অভাবে দেহের পানির সমতা বিনষ্ট হয়। হৃদস্পন্দন অনিয়ন্ত্রিত হয়। মাংসপেশির দুর্বলতা দেখা দেয়। 

সোডিয়াম (Na): 
১। খাবার লবণ, পনির, লবণাক্ত খাদ্য, সামুদ্রিক মাছ ইত্যাদি সোডিয়ামের ভালো উৎস। 
২। সোডিয়াম পটাসিয়ামের মতোই দেহে পানি, অম্ল ও ক্ষারের ক্ষমতা রক্ষা করে। হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। স্নায়ুর ও পেশির উদ্দীপনা স্বাভাবিক রাখে বা নিয়ন্ত্রণ করে। 
৩। সোডিয়ামের অভাবে দেহে পানিশূন্যতা দেখা দেয়, রক্তচাপ কমে যায়, খিঁচুনি ও শ্বাসকষ্ট হয়। অরুচি, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা হয়। 

ক্লোরিন (CI): 
১। খাবার লবণ, দুধ, ডিম ও মাংসে ক্লোরিন পাওয়া যায়। 
২। দেহে পানি, অম্ল ও ক্ষারের সমতা রক্ষা করে। পরিপাক ও হজম প্রভাবিত করে। 
৩। ক্লোরিনের অভাবে বমি ও ক্লান্তি দেখা দেয়। 

জিংক (Zn) বা দস্তা: 
১। ডিম, দুধ, মাংস, সামুদ্রিক মাছ, যকৃত, বাদাম ইত্যাদিতে জিংক (Zink) পাওয়া যায়। 
২। জিংক প্রতিটি প্রাণিকোষে থাকে। এটি প্রজনন ক্ষমতা রক্ষা করে। এনজাইমের কাজে সহায়তা করে। অস্থি ও মস্তিষ্ক গঠনে ভূমিকা রাখে। 
৩। জিংকের অভাবে শিশুর বর্ধন ও মস্তিষ্কের গঠন ব্যাহত হয়। ক্ষুধা কমে যায়। প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পায়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪২২.
স্নেহজাতীয় খাবার পরিপাকে সাহয্য করে নিচের কোনটি?
  1. ইনসুলিন
  2. পিত্তরস
  3. বিলিরুবিন
  4. গ্লুকাগন
সঠিক উত্তর:
পিত্তরস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিত্তরস
ব্যাখ্যা
- মানুষের মধ্যচ্ছদার ঠিক নিচে পাকস্থলির ডানদিকে বিস্তৃত গাঢ় লালচে বর্ণের ত্রিকোণাকার ও পিত্তরস নিঃসরণকারী গ্রন্থিকে যকৃত বলা হয়। যকৃতের বেশির ভাগ অংশ দেহের ডানদিকে অবস্থিত।
- যকৃত মানবদেহের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ গ্রন্থি। একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের যকৃতের ওজন প্রায় ১.৫-২.০ কেজি। এটি চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে বিভক্ত।
- ডান খণ্ডটি অপেক্ষাকৃত বড় এবং এই খণ্ডের নিচে পেয়ালার মতো পিত্তরস ধারণকারী একটি থলে থাকে, একে পিত্তথলি বলে। পিত্তথলি ৭-৮ সে.মি. লম্বা। পিত্তথলি থেকে পিত্ত ডিওডেনামে উন্মুক্ত হয়।
- পিত্তরস হলদে সবুজ বর্ণের একটি ক্ষার জাতীয় তরল পদার্থ। এতে শতকরা ৮০% পানি ও ২০% অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান থাকে।
- পিত্তরস খাদ্যের অম্লভাব প্রশমিত করে এবং ক্ষারীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে৷
- পিত্তরস স্নেহ জাতীয় খাবার পরিপাক করে থাকে।

সুত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিদ্যা এবং মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই।
১,৪২৩.
কোনটি তরল যোজক টিস্যুর উদাহরণ?
  1. ক) রক্ত
  2. খ) হরমোন
  3. গ) রেজিন
  4. ঘ) মিউসিলেজ
সঠিক উত্তর:
ক) রক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রক্ত
ব্যাখ্যা
তরল যোজক টিস্যু : তরল যোজক টিস্যুর মাতৃকা তরল। মাতৃকায় বিভিন্ন ধরনের জৈব পদার্থ কলয়েড এবং দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।

কাজ : তরল যোজক টিস্যুর প্রধান কাজ দেহের ভেতরে বিভিন্ন দ্রব্যাদি পরিবহন করা, রোগ প্রতিরোধ এবং রক্ত জমাট বাঁধায় বিশেষ ভূমিকা রাখা।

প্রকারভেদ- এরা দু’প্রকারের হয়। যথা- ১. রক্ত এবং ২. লসিকা।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৪২৪.
মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কত ডিগ্রী?
  1. ৯৭.২
  2. ৯৪.৮
  3. ৯৬.৪
  4. ৯৮.৪
সঠিক উত্তর:
৯৮.৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৮.৪
ব্যাখ্যা
মানবদেহের তাপমাত্রা: 
- যে থার্মোমিটারের সাহায্যে শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয় তাকে ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার বলে। 
- এই থার্মোমিটারে ফারেনহাইট স্কেল ব্যবহার করা হয়। 
- ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটারে ৯৫-১১০° ফারেনহাইট পর্যন্ত দাগ কাটা থাকে। 
- মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৪° ফারেনহাইট বা ৩৬.৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
১,৪২৫.
নিম্নের কোনটি বহিঃকঙ্কালের উদাহরণ?
  1. করোটি
  2. নখ
  3. উরু অস্থি
  4. মেরুদণ্ড
সঠিক উত্তর:
নখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নখ
ব্যাখ্যা

• নখ: বহিঃকঙ্কালের উদাহরণ।
- নখ দেহের বাইরের অংশে অবস্থিত কঙ্কালীয় গঠন, তাই এটি বহিঃকঙ্কাল।

• মানব কঙ্কালের সাধারণ পরিচিতি:
- আমাদের দেহের গঠন কাঠামো হলো কঙ্কাল।
- অস্থি, এবং তরুণাস্থি দ্বারা গঠিত যে তন্ত্র দেহের মূল কাঠামো গঠন করে তাকে কঙ্কালতন্ত্র বলে।
- কঙ্কালতন্ত্র দেহের অভ্যন্তরীণ কোমল অঙ্গসমূহকে সুরক্ষা দেয়।
- এটি দেহের ভার বহন করে।
- পেশি সংযোজনের জন্য উপযুক্ত স্থান সৃষ্টি করে।
- মানবদেহের কঙ্কালতন্ত্র মোট 206টি অস্থি নিয়ে গঠিত।

• কঙ্কালতন্ত্রের শ্রেণিবিভাগ:
- মানবদেহের কঙ্কালতন্ত্র সাধারণত দুই ভাগে বিভক্ত।
যথা- বহিঃকঙ্কাল (Exoskeleton) এবং অন্তঃকঙ্কাল (Endoskeleton).

• বহিঃকঙ্কাল (Exoskeleton):
- কঙ্কালের যে অংশগুলো দেহের বাইরে অবস্থান করে সেগুলো বহিঃকঙ্কাল।
উদাহরণ: নখ, চুল, লোম।

• অন্তঃকঙ্কাল (Endoskeleton):
- কঙ্কালের যে অংশগুলো বাইরে থেকে দেখা যায় না সেগুলো অন্তঃকঙ্কাল।
- অস্থি এবং তরুণাস্থি নিয়ে অন্তঃকঙ্কাল গঠিত।
- করোটি, মেরুদণ্ড, পাঁজর ইত্যাদি অন্তঃকঙ্কালের অন্তর্ভুক্ত।

• কঙ্কালতন্ত্রের কাজ:
- কাঠামো দান: দেহকে নির্দিষ্ট আকার প্রদান করে।
- সংরক্ষণ: করোটি মস্তিষ্ককে, বক্ষপিঞ্জর হৃদপিণ্ড ও ফুসফুসকে রক্ষা করে।
- নড়াচড়া: অস্থি ও পেশির সমন্বয়ে চলাচল সম্ভব হয়।
- রক্তকণিকা উৎপাদন: অস্থিমজ্জায় রক্তকণিকা তৈরি হয়।
- খনিজ সঞ্চয়: ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ফসফরাস ইত্যাদি খনিজ সঞ্চিত থাকে।
- ভারবহন: দেহের সব অঙ্গ কঙ্কালের উপর নির্ভরশীল।
 
• অন্যান্য অপশন:
- করোটি → অন্তঃকঙ্কালের অংশ, যা মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দেয়।
- উরু অস্থি → অন্তঃকঙ্কালের দীর্ঘ অস্থি, চলাচলে সহায়ক।
- মেরুদণ্ড → অন্তঃকঙ্কালের অক্ষীয় অংশ, দেহকে সোজা রাখতে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪২৬.
মানুষের ব্যাক্তিত্ব ও সমাজিক আচরণের প্রকাশ ঘটায় -
  1. ক) সেরেব্রাম
  2. খ) থ্যালামাস
  3. গ) সেরেবেলাম
  4. ঘ) হাইপোথ্যালামাস
সঠিক উত্তর:
খ) থ্যালামাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) থ্যালামাস
ব্যাখ্যা
সেরেব্রাম (অগ্রমস্তিষ্ক): 
- সংবেদী অঙ্গ থেকে আসা অনুভূতি গ্রহণ ও বিশ্লেষণ করে।
- চিন্তা, বুদ্ধি, ইচ্ছাশক্তি, উদ্ভাবনীশক্তি প্রভৃতি উন্নত মানসিক বোধের নিয়ন্ত্রণ করে।
- বিভিন্ন সহজাত প্রবৃত্তির নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
- বাকশক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে। 
- দেহের সব ঐচ্ছিক পেশির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। 

থ্যালামাস (অগ্রমস্তিষ্ক): 
- এটি সংজ্ঞাবহ স্নাউর রিলে স্টেশন হিসেবে কাজ করে।
- চাপ, স্পর্শ, যন্ত্রণা প্রভৃতি স্থূল অনুভূতির কেন্দ্র, আবেগের কেন্দ্র ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গের নিয়ন্ত্রক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- মানুষের ব্যাক্তিত্ব ও সমাজিক আচরণের প্রকাশ ঘটায়। 
- ঘুম্নত মানুষকে হঠাৎ জাগিয়ে তোলা ও পরিবেশ সম্বন্ধে সতর্ক করে তোলে।

হাইপোথ্যালামাস (অগ্রমস্তিষ্ক): 
- স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুকেন্দ্রের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- দেহতাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ঘাম, ঘুম, রাগ, পীড়ন, ভালোবাসা, ঘৃণা, উদ্বেগ প্রভৃতির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। 

সেরেবেলাম (পশ্চাৎমস্তিষ্ক): 
- ঐচ্ছিক চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করে।
- ঐচ্ছিক পেশির পেশিটান নিয়ন্ত্রণ করে।
- দেহের ভারসাম্য ও দেহভঙ্গি বজায় রাখে।
- চলাফেরার দিক নির্ধারণ করে।
  
সূত্র: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজি আজমল ও গাজী আসমত।
১,৪২৭.
ভিটামিন ‘ডি’ তৈরি হওয়ার শেষ ধাপ দেহের কোন অঙ্গে ঘটে?
  1. ত্বক
  2. কিডনি
  3. লিভার
  4. অন্ত্র 
সঠিক উত্তর:
কিডনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিডনি
ব্যাখ্যা

রিকেটস (Rickets) রোগ: 
- রিকেটস (Rickets) রোগ কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নয়, ভিটামিন 'ডি' এর অভাবে এ রোগ হয়। 
- অন্ত্রে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণ, দাঁত ও হাড় গঠন প্রভৃতি শারীরবৃত্তীয় কাজে এই ভিটামিন প্রয়োজন। 
- দুধ, মাখন, ডিম, কডলিভার তেল ও হাঙ্গরের তেলে প্রচুর ভিটামিন 'ডি' পাওয়া যায়। 
- সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকে জমা থাকা কোলেস্টেরল থেকেও এটি তৈরি হয়, তবে সেক্ষেত্রে ভিটামিন ডি তৈরির শেষ ধাপটি কিডনিতে সংঘটিত হয়
- দেহের হাড়গুলো দুর্বল হওয়া, গিঁট ফুলে যাওয়া, হাড়গুলো বিশেষ করে পায়ের হাড় বেঁকে যাওয়া ইত্যাদি এ রোগের লক্ষণ। এছাড়া এই রোগে অনেক সময় দেহের কাঠামো ঠিক থাকে না, হাড়গুলো ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং বক্ষদেশ সরু হয়ে যায়। 

- শিশুদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন 'ডি' সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে। 
- চোখ এবং জননাঙ্গ ঢেকে রেখে নবজাতককে কিছুক্ষণ রোদে রাখা ভালো, এতে সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে শরীরে কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন 'ডি' তৈরি হয়। 
- নিয়মিতভাবে সারা শরীর সারা দিন কালো বা গাঢ় রঙের কাপড়ে ঢেকে রাখলে কিংবা দীর্ঘদিন ধরে ঘরের বাইরে না বের হলে ত্বক পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় না এবং এ কারণে ভিটামিন 'ডি'-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৪২৮.
Embryology হলো-
  1. ক) অণুজীব বিষয়ক বিদ্যা
  2. খ) ভ্রুণ সম্পর্কিত বিদ্যা
  3. গ) বিবর্তন সম্পর্কিত বিদ্যা
  4. ঘ) ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যা
সঠিক উত্তর:
খ) ভ্রুণ সম্পর্কিত বিদ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভ্রুণ সম্পর্কিত বিদ্যা
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যাঃ
ভ্রুণ সম্পর্কিত বিদ্যাকে Embryology বলা হয়।
অন্যদিকে,
Microbiology – অণুজীব বিষয়ক বিদ্যা,
Evolution – বিবর্তন সম্পর্কিত বিদ্যা এবং
Mycology – ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যা।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম ও দশম শ্রেণি।

১,৪২৯.
ডিএনএ (DNA) কী?
  1. ক) নিওক্লিওপ্লাজম
  2. খ) ক্রোমোজোম
  3. গ) নিউক্লিক এসিড
  4. ঘ) এনজাইম
সঠিক উত্তর:
গ) নিউক্লিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিউক্লিক এসিড
ব্যাখ্যা

- জিনের রাসায়নিক গঠন উপাদান ডিএনএ।
- ডি-অক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিডের সংক্ষিপ্ত রূপ ডিএনএ।
- নিউক্লিক এসিড দুই ধরনের। যথাঃ ডিএনএ ও আরএনএ।
- DNA তে চার ধরনের নাইট্রোজেন বেস থাকে।
যথাঃ
১. অ্যাডেনিন,
২. গুয়ানিন,
৩. সাইটোসিন ও
৪. থাইমিন।

১,৪৩০.
কোন জাতীয় পদার্থে ক্যালরির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে?
  1. তেল বা চর্বি
  2. আমিষ
  3. খনিজ
  4. ভিটামিন
সঠিক উত্তর:
তেল বা চর্বি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেল বা চর্বি
ব্যাখ্যা
ক্যালরি: 
- ১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১° সেলসিয়াস বাড়াতে প্রয়োজনীয় তাপ হচ্ছে ১ ক্যালরি। 
- ১০০০ ক্যালরি = ১ কিলোক্যালরি। 
- শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহ জাতীয় খাদ্য উপাদান থেকে দেহে তাপ উৎপন্ন হয়। 
- এই তাপ আমাদের দেহের ভিতরে খাদ্যের পরিপাক, বিপাক, শ্বাসকার্য, রক্তসঞ্চালন ইত্যাদি কাজে সাহায্য করে। 
- শারীরিক পরিশ্রমে শক্তি ব্যয় হয়। খাদ্যে শক্তি সঞ্চিত থাকে। আমরা খাবার থেকেই শক্তি পাই। 
- খাদ্যের তাপশক্তি মাপার একক হলো কিলোক্যালরি। 
- যেসব খাদ্যে শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহ পদার্থ থাকে, সেসব খাদ্য থেকে বেশি ক্যালরি পাওয়া যায়। 
- যেসব খাদ্যে পানি ও সেলুলোজের পরিমাণ বেশি থাকে, সেসব খাদ্যে ক্যালরির পরিমাণ কম থাকে। 
- তেল বা চর্বি জাতীয় পদার্থে ক্যালরির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে। 

নিচে কয়েকটি উচ্চ ও নিম্ন ক্যালরিযুক্ত খাদ্যের তালিকা দেখানো হলো: 


উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,৪৩১.
প্রাণিজগতে সর্ববৃহৎ পর্ব কোনটি? 
  1. Arthropoda 
  2. Protozoa 
  3. Chordata 
  4. Mollusca 
সঠিক উত্তর:
Arthropoda 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Arthropoda 
ব্যাখ্যা

Arthropoda (আর্থ্রোপোডা): 
- আর্থ্রোপোডা (গ্রিক, arthron = joint, সন্ধি + pous, podos = foot, পা) পর্বটি প্রাণিজগতে সর্ব বৃহৎ পর্ব। 
- এদের পা দেখলেই বোঝা যায়, এরা কয়েকটি ভিন্ন অংশ যুক্ত হয়ে গঠিত হয়েছে, তাই এদের সন্ধিপদী নাম করা হয়েছে। 
- এরা পাহাড়, পর্বত, সমুদ্রের তলদেশ, মরুভূমির বালুকাময় স্থানসহ সর্বত্র বাস করে।

বৈশিষ্ট্য: 
- সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ বর্তমান। প্রতিটি খণ্ডে সাধারণত একজোড়া উপাঙ্গ থাকে। 
- দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম, ত্রিস্তরী, খণ্ডায়িত দেহ। 
- উন্মুক্ত সংবহনতন্ত্র যা পৃষ্ঠীয় সংকোচনশীল হৃদপিণ্ড, ধমনীসমূহ এবং হিমোসিল নিয়ে গঠিত। 
- দেহ প্রাচীর ফুলকা, ট্রাকিয়া বা পুস্তক ফুসফুস দ্বারা শ্বাসকার্য সম্পাদিত হয়। 
- কক্সাল, এন্টেনাল, ম্যালপিজিয়ান নালিকা দ্বারা রেচন সম্পাদিত হয়। 
- স্ত্রী-পুরুষ আলাদা সাধারণত অন্তঃনিষেক সম্পন্ন হয় এবং প্রায় ক্ষেত্রেই মেটামরফোসিস বিদ্যমান। 
- পৌষ্টিকতন্ত্র সম্পূর্ণ, উপাঙ্গ পরিবর্তিত হয়ে মুখোপাঙ্গ গঠিত যা বিভিন্ন প্রকার খাদ্য গ্রহণের জন্য অভিযোজিত। 
উদাহরণ: Periplaneta americana (আরশোলা), Penaeus monodon (বাগদা চিংড়ি), Carcinus maenas (কাঁকড়া)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৩২.
মানুষের রক্তে লোহিত কণিকা কোথায় সঞ্চিত থাকে?
  1. হৃদপিণ্ডে
  2. প্লীহাতে
  3. অস্থিমজ্জায়
  4. পিত্তথলিতে
সঠিক উত্তর:
প্লীহাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লীহাতে
ব্যাখ্যা

• লোহিত রক্তকণিকা:
- লোহিত রক্তকণিকার আয়ু ১২০ দিন।
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়।
- লোহিত রক্তকণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন (O2) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১,৪৩৩.
সরল প্রোটিন কোনটি?
  1. পেপটোন
  2. লাইপোপ্রোটিন
  3. গ্লোবিউলিন
  4. গ্লাইকোপ্রোটিন
সঠিক উত্তর:
গ্লোবিউলিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লোবিউলিন
ব্যাখ্যা
প্রোটিন বা আমিষ: 
- দেহ গঠনে প্রোটিনের প্রয়োজনীয়তা সর্বাধিক। 
- মানবদেহের মাংসপেশি, অস্থি, রক্ত ইত্যাদি গঠনের প্রধান উপাদান প্রোটিন। 
- প্রোটিনকে ভাঙলে বা সম্পূর্ণরূপে আর্দ্র বিশ্লেষিত করলে কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) ও নাইট্রোজেন (N) মৌল পাওয়া যায়, তবে কোনো কোনো প্রোটিনে সালফার, ফসফরাস ও লৌহের সামান্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। 
- তবে প্রোটিনের মূল গঠন উপাদান হলো কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন, এ চারটি মৌল মিলিত হয়ে প্রথমে এ্যামাইনো এসিড এবং পরে এ্যামাইনো এসিডগুলো পেপটাইট বন্ধনী দিয়ে সংযুক্ত হয়ে প্রোটিন অণু গঠিত হয়। 
অর্থাৎ, প্রোটিন হলো এ্যামাইনো এসিডের পলিমার। 

প্রোটিনের শ্রেণিবিভাগ: 
- প্রোটিনে এ্যামাইনো এসিড ও অন্যান্য উপাদানের উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে প্রোটিনকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা: 
১। সরল প্রোটিন: 
- যেসব প্রোটিনকে আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে শুধুমাত্র এ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায় অর্থাৎ এ্যামাইনো এসিড ছাড়া অন্য কোনো উপাদান পাওয়া যায় না তাদের সরল প্রোটিন বলে। 
যেমন- এলবুমিন, গ্লোবিউলিন, গ্লুটেনিন, প্রোলামিন, হিস্টোন ইত্যাদি। 

২। যৌগিক প্রোটিন: 
- যেসব প্রোটিনকে আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে এ্যামাইনো এসিড ছাড়াও অন্যান্য অপ্রোটিন উপাদান পাওয়া যায় তাদের যৌগিক প্রোটিন বলে। 
যেমন- ফসফোপ্রোটিন, লাইপোপ্রোটিন, নিউক্লিওপ্রোটিন, গ্লাইকোপ্রোটিন ইত্যাদি। 
- প্রোটিনের সাথে সংযুক্ত অপ্রোটিন অংশের নামানুসারে এদের নামকরণ করা হয়। 
উদাহরণ স্বরূপ- প্রোটিনের সাথে ফসফেট যুক্ত থাকে বলে ফসফোপ্রোটিন। প্রোটিনের সাথে নিউক্লিয়িক এসিড যুক্ত থাকলে নিউক্লিওপ্রোটিন। এভাবে লিপিড যুক্ত থাকলে লাইপোপ্রোটিন ইত্যাদি। এদের সংযুক্ত প্রোটিনও বলা হয়ে থাকে। 

৩। উদ্ভুত প্রোটিন: 
- সরল ও যৌগিক প্রোটিনের সমন্বয়ে গঠিত প্রোটিনকে উদ্ভুত প্রোটিন বলে। 
যেমন- পেপটাইডসমূহ, পেপটোন, প্রোটিওজ ইত্যাদি। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৩৪.
পালমোনারি শিরা কী ধরনের রক্ত পরিবহন করে? 
  1. নাইট্রোজেনযুক্ত
  2. অক্সিজেনযুক্ত
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত
  4. দূষিত রক্ত
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেনযুক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেনযুক্ত
ব্যাখ্যা
শিরা: 
- যে সব রক্তনালীর মাধ্যমে সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে হৃৎপিণ্ডে বহন করে নিয়ে আসে, তাদের শিরা বলে। 
- ব্যতিক্রম পালমোনারি শিরাটি ফুসফুস থেকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত হৃৎপিণ্ডে নিয়ে আসে এবং Umbilical Vein মাতৃদেহ থেকে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত ভ্রূণে নিয়ে আসে। 
- শিরার প্রাচীর ধমনির মতো ৩টি স্তরে গঠিত হলেও প্রাচীর বেশ পাতলা ও গহ্বর বড়। 
- শিরায় কপাটিকা থাকায় শিরা দিয়ে রক্ত ধীরে ধীরে একমুখে প্রবাহিত হয়। 
- ধমনি প্রান্তের কৌশিক জালিকাগুলো ক্রমশ একত্রিত হয়ে প্রথমে সূক্ষ্ম শিরা বা উপশিরা গঠন করে। 
- উপশিরাগুলো পরস্পর মিলিত হয়ে পরে শিরা গঠন করে। 
- কতগুলো শিরা মিলে মহাশিরা গঠন করে, এভাবে শিরা কৈশিক জালিকা থেকে শুরু হয় এবং হৃৎপিণ্ডে শেষ হয়। 

ধমনি: 
- যে সব রক্তনালির মাধ্যমে রক্ত হৃদপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বাহিত হয়, তাকে ধমনি বা আর্টারি (Artory) বলে। 
- ধমনির প্রাচীর পুরু এবং তিনটি স্তরে গঠিত, এদের গহ্বর (Lumen) ছোট। 
- ধমনিতে কোনো কপাটিকা থাকে না, ফলে ধমনি দিয়ে রক্ত বেগে প্রবাহিত হয়। 
- ধমনির স্পন্দন আছে। 
- ধমনি দেহের বিভিন্ন অংশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়, এদের শাখা ধমনি (Arteriol) বলে। এগুলো ক্রমশ শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে অবশেষে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম কৈশিক জালিকায় শেষ হয়। এভাবে ধমনি হৃদপিণ্ড থেকে শুরু হয়ে কৈশিক জালিকায় শেষ হয়। 
- ধমনির মাধ্যমে হৃদপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অংশ অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পরিবাহিত হয়। 
- তবে ব্যতিক্রম হলো পালমোনারি ধমনি যা কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) যুক্ত রক্ত হৃদপিণ্ড থেকে ফুসফুসে নিয়ে আসে এবং Umbilical artery CO2 যুক্ত রক্ত ভ্রূণ থেকে মাতৃদেহে নিয়ে আসে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৩৫.
HIV ভাইরাস প্রধানত কোন রক্ত কণিকাকে আক্রমণ করে?  
  1. প্লেটলেট 
  2. লোহিত কণিকা 
  3. B-লিম্ফোসাইট 
  4. T-লিম্ফোসাইট
সঠিক উত্তর:
T-লিম্ফোসাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
T-লিম্ফোসাইট
ব্যাখ্যা

এইডস রোগ: 
- এইডস (AIDS) একটি সংক্রামক রোগ যা সারা বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। 
- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় এই রোগ চিহ্নিত হয়, এবং তখন থেকেই এটি একটি মরণব্যাধি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। 
- আফ্রিকার দেশগুলোতে এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। 
- প্রাকৃতিকভাবে মানুষের শরীরে রোগজীবাণু প্রতিরোধের ক্ষমতা থাকে, যা ইমিউনিটি হিসেবে পরিচিত। 
-  HIV (Human Immuno Deficiency Virus) ভাইরাসটি AIDS রোগ সৃষ্টি করে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে ফেলে। 
- HIV ভাইরাস যখন শরীরে প্রবেশ করে, তখন এটি রক্তের T-লিম্ফোসাইট (শ্বেত রক্তকণিকা) আক্রমণ করে, ফলে শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে যায়। 
- HIV সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত শরীরে কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না, তবে এই সময়েই আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের মধ্যে রোগটি ছড়াতে পারে। 
- এইডস সংক্রমিত হয় প্রধানত যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে, তবে মায়ের বুকের দুধ বা রক্ত সঞ্চালন বা ড্রাগ ব্যবহারকারীদের সিরিঞ্জ ব্যবহারের মাধ্যমে এটিতে সংক্রমণ হতে পারে। 
- AIDS প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল HIV সংক্রমণের উপায় সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৪৩৬.
ভয় পেলে কোন হরমন নিঃসৃত হয়?
  1. অ্যাড্রেনালিন
  2. পিটুইটারি
  3. অক্সিটোসিন
  4. থাইরক্সিন
সঠিক উত্তর:
অ্যাড্রেনালিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাড্রেনালিন
ব্যাখ্যা
• ভয় পেলে গায়ের লোম খাড়া হয় অ্যাড্রেনালিন হরমোনের প্রভাবে।

- অ্যাড্রেনালিন হরমোন নিঃসৃত হয় অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে।
- থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরক্সিন হরমোন মানুষের বৃদ্ধি এবং বিকাশে ভূমিকা রাখে। 
- মানবদেহের প্রধান হরমোন উৎপাদনকারী গ্রন্থির নাম হচ্ছে পিটুইটারি গ্রন্থি। 
- পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে ডোপামিন, গ্রোথ হরমোন, অক্সিটোসিন, ভ্যাসোপ্রেসিন নামক হরমোন নিঃসরণ ঘটে যা মানবদেহের অনেক জরুরী কাজ যেমন বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রন, বৃক্কের কাজ নিয়ন্ত্রন, জরায়ুর সংকোচন ইত্যাদি করতে উদ্দীপনা জাগায় ।

উৎস- অক্সফোর্ড এবং নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই।
১,৪৩৭.
হৃৎপিণ্ডের সংকোচনকে কী বলা হয়? 
  1. শিরা 
  2. সিস্টোল 
  3. অক্সিজেনেশন 
  4. ডায়াস্টোল 
সঠিক উত্তর:
সিস্টোল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিস্টোল 
ব্যাখ্যা

হৃৎপিণ্ড(Heart): 
- মানুষের রক্ত সংবহনতন্ত্র হচ্ছে হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা নিয়ে গঠিত। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড অবিরাম সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে ধমনি ও শিরার মাধ্যমে রক্ত সংবহন করে। 
- হৃৎপিণ্ড পাম্পের মতো নির্দিষ্ট তালে ও ছন্দে সংকুচিত এবং প্রসারিত হয়ে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়। 
- হৃৎপিণ্ডের স্বতঃস্ফূর্ত সংকোচনকে সিস্টোল (systole) বলে এবং স্বতঃস্ফূর্ত প্রসারণকে ডায়াস্টোল (diastole) বলে। 
- অলিন্দে যখন সিস্টোল হয়, নিলয় তখন ডায়াস্টোল অবস্থায় থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৪৩৮.
নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে বলে-
  1. ক) সাইটোকাইনেসিস
  2. খ) ক্যারিওকাইনেসিস
  3. গ) সেন্ট্রোকাইনেসিস
  4. ঘ) নিউক্লিয়কাইনেসিস
সঠিক উত্তর:
খ) ক্যারিওকাইনেসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্যারিওকাইনেসিস
ব্যাখ্যা
সাইটোপ্লাজমের বিভাজনকে সাইটোকাইনেসিস এবং নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে ক্যারিওকাইনেসিস বলে৷
উৎসঃ অষ্টম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৪৩৯.
Which is the chemical name of 'vitamin C'?
  1. Ascorbic acid
  2. Tartaric acid
  3. Citric acid
  4. Amino Acid
  5. Folic acid
সঠিক উত্তর:
Ascorbic acid
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Ascorbic acid
ব্যাখ্যা
ভিটামিন 'সি':
- ভিটামিন 'সি' এর রাসায়নিক নাম হচ্ছে 'অ্যাসকরবিক’ এসিড।
- ভিটামিন 'সি' কে স্কার্ভি প্রতিরোধক ভিটামিন ও বলা হয়।
- বিশুদ্ধ এসকরবিক এসিড সাদা, দানাদার, সহজেই পানিতে দ্রবীভূত হয়।
- এ ভিটামিন খুবই অস্থিতিশীল তাপ, আলো, বাতাস, ক্ষার ও ধাতবের সংস্পর্শে তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়।
- পানিতে দ্রবনীয় বলে শাকসবজি পানিতে ভিজিয়ে রেখে দিলে বা সিদ্ধ করে পানি ফেলে দিলে শতকরা ৬০-৭০ ভাগ পর্যন্ত ভিটামিন 'সি' নষ্ট হয়।
- তরকারি চুলায় বসিয়ে রাখলে বা বারে বারে গরম করলেও ভিটামিন 'সি' নষ্ট হয়।
- সবজি ও ফলে সামান্য চিনি মেশালে ভিটামিন 'সি' অনেকটা বেড়ে যায়।
- কচুশাক, মুলাশাক, সজিনাপাতা, ধনেপাতা, লাল শাক, খেসারি শাক, বথুয়া শাক, পালং শাক, লাউ শাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো ইত্যাদিতে ভিটামিন 'সি' পাওয়া যায়। তবে আমলকিতে সবচেয়ে বেশি ভিটামিন 'সি' রয়েছে।
- ভিটামিন 'সি' এর অভাবে স্কার্ভি নামক রোগ হয়। এতে দাঁতের মাড়ি ফুলে যায়, দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত ক্ষরণ হয়।
- শিশুদের হাঁটুর জয়েন্টে ব্যাথা হয় ও ফুলে যায় এবং রক্ত স্বল্পতা দেখা দেয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,৪৪০.
একটি আদর্শ খাদ্য পিরামিডের শীর্ষে রয়েছে -
  1. ক) স্নেহ
  2. খ) শর্করা
  3. গ) আমিষ
  4. ঘ) ভিটামিন
সঠিক উত্তর:
ক) স্নেহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্নেহ
ব্যাখ্যা
আদর্শ খাদ্য পিরামিড
- যে কোনো একটি সুষম খাদ্য তালিকায় শর্করার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে।
- শর্করাকে নিচু স্তরেরেখে পর্যায়ক্রমে পরিমাণগত দিক বিবেচনা করে শাকসবজি, ফল-মূল, আমিষ, স্নেহ ও চর্বি জাতীয় খাদ্যকে সাজালে যে কাল্পনিক পিরামিড তৈরি হয় তাকে আদর্শ খাদ্য পিরামিড বলে।
- পিরামিডের শীর্ষে রয়েছে স্নেহ বা চর্বি জাতীয় খাদ্য আর সর্ব নিম্নস্তরে রয়েছে শর্করা।



উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৪৪১.
একজন সুস্থ মানুষের রক্তে অক্সিজেনের সম্পৃক্ততা কত শতাংশ থাকা উচিৎ?
  1. ক) ৯৭ - ১০০%
  2. খ) ৯০ - ৯৫%
  3. গ) ৮৫ - ৯৫%
  4. ঘ) ৮৮ - ১০০%
সঠিক উত্তর:
ক) ৯৭ - ১০০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৯৭ - ১০০%
ব্যাখ্যা
একজন সুস্থ মানুষের শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ৯৭ থেকে ১০০ শতাংশ থাকা উচিত।
যদি অক্সিজেন মাত্রা ৯২ শতাংশের নিচে নেমে যায় তবে মস্তিষ্কে ও অন্যান্য অঙ্গে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়।

শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় 'হাইপোক্সিয়া' বলা হয়। 
অক্সিজেনের মাত্রা ক্রমাগত কমতে থাকলে হৃৎপিণ্ড, যকৃৎ, কিডনি ইত্যাদি বিকল হতে শুরু করে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে কথাবার্তা অসংলগ্ন হতে শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে ‘সাইলেন্ট হাইপোক্সিয়া’ হয়। অর্থাৎ, অক্সিজেনের মাত্রা কম, কিন্তু শ্বাসকষ্ট না হওয়ায় তিনি তা উপলব্ধি করতে পারেন না। ফলে চিকিৎসা পেতে অনেক দেরি হয়ে যায়। কোভিড-১৯–এ আক্রান্ত কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এ ঘটনা ঘটেছে। একে বলে ‘হ্যাপি হাইপোক্সিয়া’। 

সূত্র: প্রথম আলো 
১,৪৪২.
কোন দুটি হরমোন অগ্ন্যাশয়ে তৈরি হয়?
  1. ইনসুলিন এবং গ্লুকাগন
  2. পেপসিন এবং গ্লুকাগন
  3. অ্যামাইলেজ এবং লাইপেজ
  4. ট্রিপসিন এবং স্যালিভারি এমাইলেজ
সঠিক উত্তর:
ইনসুলিন এবং গ্লুকাগন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইনসুলিন এবং গ্লুকাগন
ব্যাখ্যা
- 'ইনসুলিন এবং গ্লুকাগন' এই দুটি হরমোন অগ্ন্যাশয়ে তৈরি হয়। 

অগ্ন্যাশয়: 

- অগ্ন্যাশয় পাকস্থলির পেছনে এবং ডিওডেনামের দু'বাহুর মধ্যে প্রায় আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্র গ্রন্থি। 
- অগ্ন্যাশয়নালি পিত্তনালির সাথে মিলিত হয়ে যকৃত অগ্ন্যাশয়নালি গঠন করে ডিওডেনামে উন্মুক্ত হয়। 
- অগ্ন্যাশয়ে নালীযুক্ত ও নালিবিহীন উভয় প্রকার গ্রন্থি থাকে বলে একে মিশ্র গ্রন্থি বলা হয়। 
- নালিযুক্ত গ্রন্থির নিঃসৃত রসকে অগ্ন্যাশয় রস এবং নালিবিহীন গ্রন্থি থেকে ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন তৈরি হয়। 
- অগ্ন্যাশয় রসে থাকে ট্রিপসিন, অ্যামাইলেজ ও লাইপেজ নামক উৎসেচক। 
- অগ্ন্যাশয় রস খাদ্য পরিপাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, খাদ্যের পরিপাকে অম্ল ক্ষারের সাম্যতা, পানির সাম্যতা দেহ তাপ প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে, ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 

অন্যদিকে, 
- অ্যামাইলেজ এবং লাইপেজ হলো অগ্ন্যাশয়ের উৎসেচক, হরমোন নয়। 
- ট্রিপসিন এবং স্যালিভারি এমাইলেজ: ট্রিপসিন অগ্ন্যাশয়ে তৈরি হলেও, স্যালিভারি এমাইলেজ মুখগহ্বরে তৈরি হয়। 
- পেপসিন এবং গ্লুকাগন: পেপসিন পাকস্থলীতে তৈরি হয় এবং গ্লুকাগন অগ্ন্যাশয়ে তৈরি হয়, তবে এভাবে মিলিতভাবে এটি সঠিক নয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৪৩.
একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য দৈনিক কত লিটার তরল প্রয়োজন?
  1. ক) ১.৬ লিটার
  2. খ) ০.৬ লিটার
  3. গ) ০.৫ লিটার
  4. ঘ) ০.২৫ লিটার
সঠিক উত্তর:
ক) ১.৬ লিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১.৬ লিটার
ব্যাখ্যা

একজন গর্ভবর্তী মা দৈনিক ১.৬ লিটার তরল পান করা উচিত।
সোর্সঃ tommys.org

১,৪৪৪.
পানির জীব হয়েও বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়-
  1. ক) পটকা মাছ ও ডলফিন
  2. খ) হাঙ্গর ও তিমি
  3. গ) তিমি ও ডলফিন
  4. ঘ) জেলী ফিস ও হাঙ্গর
সঠিক উত্তর:
গ) তিমি ও ডলফিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তিমি ও ডলফিন
ব্যাখ্যা
- Whales and dolphins are mammals and breathe air into their lungs, just like we do.
- They cannot breathe underwater like fish can as they do not have gills. They breathe through nostrils, called a blowhole, located right on top of their heads.
 
- This allows them to take breaths by exposing just the top of their heads to the air while they are swimming or resting under the water.
- After each breath, the blowhole is sealed tightly by strong muscles that surround it, so that water cannot get into the whale or dolphin’s lungs.

Source: uk.whales.org

- ডলফিন (শুশুক) ও তিমি সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণি। কিন্তু নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য এগুলো মানুষের মতই বাতাস ব্যবহার করে।
- পানিতে এই প্রাণিগুলো নিঃশ্বাস নিতে পারে না, কারণ এগুলোর ফুলকা নেই।
১,৪৪৫.
ফুসফুসের আবরণী পর্দার নাম -
  1. ক) অ্যালভিওলাস
  2. খ) পেরিঅস্টিয়াম
  3. গ) প্লুরা
  4. ঘ) মেনিনজিস
সঠিক উত্তর:
গ) প্লুরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্লুরা
ব্যাখ্যা
• ফুসফুসের আবরণী পর্দার নাম - প্লুরা;
• ফুসফুসের গঠনগত ও কার্যগত একক হলো - অ্যালভিওলাস;
• হৃদপিন্ডের আবরণী পর্দার নাম - পেরিকার্ডিয়াম;
• অস্থির আবরণীর নাম - পেরিঅস্টিয়াম;
• মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম -  মেনিনজিস;
• খুলির হাড়ে থাকা আবরণ হলো পেরিক্রেনিয়াম;
• বৃক্কের আবরণকে বলা হয় - ক্যাপসুল।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১,৪৪৬.
কোন রোগের ভাইরাসে নিউক্লিয়িক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে?
  1. Rabies
  2. Harpes simplex
  3. Mumps 
  4. Influenza B
সঠিক উত্তর:
Harpes simplex
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Harpes simplex
ব্যাখ্যা

DNA ভাইরাসঘটিত রোগ: 
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়। 
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- Harpes simplex (Human), Tipula Iridescent, Rabbitpox, Vaccinia (bovine), Variola (Human), Pustular dermatitis (Sheep), এডেনা গ্রুপ, প্যাপিলোমা (মানব), পলিওমা, ΦX174 কলিফাজ, Cauliflower mosaic, Adenoassociaed ইত্যাদি। 

RNA ভাইরাসঘটিত রোগ: 
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়। 
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- Influenza B (Human), পোলিও (মানব), Rubella (Human), পীতজ্বর (মানব), ডেঙ্গু (মানব), Encephalitis (Human), Leukemia (cat), Mumps (Human), Measles (Human), Cold (Human), Newcastle disease (fowl), Rous sarcoma (bird), Rabies (dog), Potato yellow dwarf, Vesicular stomatitis (cattle), Tobacco mosaic, Sugarcane mosaic, filamentous bacteriophage fd (Pseudomonas), Cucumber mosaic, f2, fr1, R17কলিফাজ ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান) এবং ভাইরাসতত্ত্ব পরিচয় (আহমেদ মাতীন)।

১,৪৪৭.
Which vitamin deficiency is the cause of Rickets disease?
  1. Vitamin A
  2. Vitamin C
  3. Vitamin D
  4. Vitamin E
  5. Vitamin K
সঠিক উত্তর:
Vitamin D
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Vitamin D
ব্যাখ্যা
• ভিটামিন ডি: 
- একমাত্র প্রাণিজ উৎস থেকেই ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। 
- ভিটামিন ডি সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্যে মানুষের ত্বকে সংশ্লেষিত হয়। 
- ডিমের কুসুম, দুধ এবং মাখন ভিটামিন ডি- এর প্রধান উৎস। 
- বাধাঁকপি, যকৃৎ এবং তেলসমৃদ্ধ মাছে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। 

- ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে, যা হাড় তৈরির কাজে লাগে। 
- ভিটামিন ডি -এর অভাবে শিশুদের রিকেটস রোগ হয়। 
- দৈনিক চাহিদা থেকে বেশি পরিমাণে ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে শরীরের ক্ষতি হয়। এর ফলে অধিক ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষিত হওয়ায় রক্তে এদের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। যে কারণে বৃক্ক (কিডনি), হৃৎপিন্ড, ধমনি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম জমা হতে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৪৮.
নিম্নের কোন খাদ্যে ভিটামিন 'ডি' পাওয়া যায়?
  1. বাঁধাকপি
  2. মুগডাল
  3. আটা
  4. মাছের তেল
সঠিক উত্তর:
মাছের তেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাছের তেল
ব্যাখ্যা
- 'মাছের তেলের' মধ্যে ভিটামিন 'ডি' পাওয়া যায়। 

খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন: 

- স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ভিটামিনের পরিমাণ খুব কম হলেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। 
- দেহের বৃদ্ধির জন্য এবং সুস্থ থাকার জন্য ভিটামিন আবশ্যক। 
- সুষম খাদ্যে বিভিন্ন প্রকার উপাদান থাকে। 
- ভিটামিনকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা - 
(ক) চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন:  ভিটামিন ‘এ’, ‘ডি’, ‘ই’ এবং ‘কে’। 
(খ) পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন: ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স ও ‘সি’। 


উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৪৯.
হাইড্রা কোন পর্বের প্রাণী?
  1. ক) আর্থোপোডা
  2. খ) নিডারিয়া
  3. গ) পরিফেরা
  4. ঘ) একাইনোডার্মাটা
সঠিক উত্তর:
খ) নিডারিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নিডারিয়া
ব্যাখ্যা

নিডারিয়াঃ এই পর্ব ইতােপূর্বে সিলেন্টারেটা নামে পরিচিত ছিল।
পৃথিবীর প্রায় সকল অঞ্চলে এই পর্বের প্রাণী দেখা যায়। এদের অধিকাংশ প্রজাতি সামুদ্রিক।
দেহ দুটি ভ্রণীয় কোষন্তর দ্বারা গঠিত। দেহের বাইরের দিকের স্তরটি এক্টাডার্ম এবং ভিতরের স্তরটি এন্ডাডার্ম।
দেহ গহ্বরকে সিলেন্টেরন বলে। এটা একাধারে পরিপাক ও সংবহনে অংশ নেয়।
এক্টোডার্মে নিডােব্লাস্ট নামে এক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কোষ থাকে। এই কোষগুলো শিকার ধরা, আত্মরক্ষা, চলন ইত্যাদি কাজে অংশ নেয়।
উদাহরণঃ Hydra, Obelia

১,৪৫০.
ভিটামিন B12 এর রাসায়নিক নাম কী?
  1. থায়ামিন
  2. নায়াসিন
  3. রিবোফ্লাভিন
  4. কোবালামিন
সঠিক উত্তর:
কোবালামিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোবালামিন
ব্যাখ্যা

ভিটামিন B12:
- ভিটামিন B12, যা কোবালামিন নামে পরিচিত, একটি পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন।
- কোবালামিন নামটি এসেছে কারণ এই ভিটামিনের অণুতে কোবাল্ট নামক একটি খনিজ পদার্থ থাকে, যা এর কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য।
- এটি নতুন লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। এর অভাবে পার্নিসাস এ্যনিমিয়া (রক্তস্বল্পতা) হয়, যেখানে লোহিত রক্তকণিকা অস্বাভাবিকভাবে বড় হয় এবং তাদের সংখ্য কমে যায়।
- এটি স্নায়ু কোষের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং স্নায়ুতন্ত্রের আবরণ (myelin sheath) গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এর অভাবে স্নায়বিক দুর্বলতা, হাত-পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরা বা অসাড়তা এবং স্মৃতিশক্তি হ্রাস পেতে পারে।
- এটি শরীরের প্রতিটি কোষে ডিএনএ সংশ্লেষণ এবং নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- সাধারণত প্রাণিজ উৎসে পাওয়া যায়, যেমন: যকৃত, মাছ, মাংস, ডিম, এবং দুগ্ধজাত পণ্য।

উল্লেখ্য-
- থায়ামিন: এটি ভিটামিন B1 এর রাসায়নিক নাম।
- নায়াসিন: এটি ভিটামিন B5 এর রাসায়নিক নাম।
- রিবোফ্লাভিন: এটি ভিটামিন B2 এর রাসায়নিক নাম।

উৎস:
১। গার্হস্থ্য বিজ্ঞান-২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা।

১,৪৫১.
রক্ত মানবদেহের মোট ওজনের কত শতাংশ? 
  1. ৮%
  2. ৫%
  3. ১০%
  4. ১২%
সঠিক উত্তর:
৮%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮%
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা। 
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা। 
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১ - ৯২% পানি এবং ৮ -৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রঙ লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- তবে কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৫২.
একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির দেহের ওজনের কত শতাংশ পানি?
  1. ৫৫ শতাংশ
  2. ৬০ শতাংশ
  3. ৭০ শতাংশ
  4. ৯০ শতাংশ
সঠিক উত্তর:
৭০ শতাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭০ শতাংশ
ব্যাখ্যা
পানি:
- পরিমাণের দিক থেকে দেহের প্রধান গঠন উপাদান পানি। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির দেহের ওজনের প্রায় ৭০% পানি। দেহের প্রতিটি কোষেই পানি থাকে। দেহে মোট পানির ৫০% থাকে কোষের মধ্যে। অবশিষ্ট পানি কোষের বাইরে দুই কোষের মধ্যবর্তী স্থান, রক্ত, লসিকা, কলারস ইত্যাদিতে অবস্থান করে। পানি ছাড়া বেঁচে থাকা অসম্ভব।

⇒ উৎস: বিশুদ্ধ খাবার পানি, ডাবের পানি, দুধ, বিভিন্ন রসালো ফল, শাক সবজি পানির প্রাকৃতিক উৎস। প্রস্তুতকৃত বা রন্ধনকৃত খাবারের মধ্যে স্যুপ, সরবত, চা, ঘোল, লাচ্ছি, ফলের রস ইত্যাদি পানীয় জাতীয় খাদ্য।

⇒ কাজ:
১। পানি খাদ্য পরিপাক ও শোষণে সহাযতা করে।
২। পুষ্টি উপাদানসমূহ দেহের এক অংশ হতে অন্য অংশে বহন করে নিয়ে যায়।
দেহের বিভিন্ন জৈব ও অজৈব উপাদান পানিতে দ্রবীভূত হয়ে বিপাক ক্রিয়ায় অংশ নেয়।
৩। ৪। বিপাক ক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে দেহ হতে বের করে দেয়।
৫। দেহ হতে ঘাম নিঃসরণ করে দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
৬। রক্তের তারল্য বজায় রাখে।
৭। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
৮। দেহ তরতাজা ও সজীব রাখে।

⇒ অভাবজনিত অবস্থা:
১ । কোনো কারণে দেহ হতে প্রচুর পানি বের হয়ে গেলে (বমি, ডায়রিয়া, কলেরা, ঘাম) দেহে পানিশূন্যতা দেখা দেয়।
২। পানিশূন্যতায় ঠোঁট শুকিয়ে যায়, গলা শুকিয়ে যায়, ত্বক ঢিলা হয়ে কুঁচকে আসে ইত্যাদি।
৩। দেহের পরিপাক, শোষণ ও বিপাক ব্যাহত হয়।
৪। কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়।
৫। রক্তের তারল্য কমে যায়।
৬। মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যায়।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৫৩.
অ্যালভিওলাই মানবদেহের কোন অঙ্গের অংশ?
  1. স্নায়ুতন্ত্র
  2. শ্বসনতন্ত্র
  3. পরিপাকতন্ত্র
  4. রেচনতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
শ্বসনতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বসনতন্ত্র
ব্যাখ্যা
• শ্বসনতন্ত্র (Respiratory system):
- নাসারন্ধ্র, গলবিল, ল্যারিংস, ট্রাকিয়া, ব্রঙ্কাস, ব্রঙ্কিওল, অ্যালভিওলাই এবং একজোড়া ফুসফুস নিয়ে মানুষের শ্বসনতন্ত্র গঠিত।
- এই তন্ত্র পরিবেশ থেকে গৃহীত অক্সিজেনের সাহায্যে মানুষের দেহের সঞ্চিত খাদ্য থেকে জারণ প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপাদন করে।
- এ শক্তি দেহের দৈনন্দিন কাজে সহায়তা করে।

অন্যদিকে,
- মুখছিদ্র, মুখগহ্বর, গলবিল, অন্ননালি, পাকস্থলী, ডিওডেনাম, ইলিয়াম, রেকটাম বা মলাশয় এবং পায়ুছিদ্র ইত্যাদি নিয়ে পরিপাকতন্ত্র  গঠিত।
- একজোড়া বৃক্ক, একজোড়া ইউরেটার, একটি মূত্রথলি এবং একটি মূত্রনালি (ইউরেথ্রা) নিয়ে মানুষের রেচন তন্ত্র গঠিত।
- মস্তিষ্ক, সুষুম্নাকাণ্ড এবং করোটিক স্নায়ু নিয়ে স্নায়ুতন্ত্র গঠিত।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৫৪.
জন্মের কত দিনের মধ্যে শিশুকে পোলিও ভ্যাকসিন (OPV-0) দিতে হয়?
  1. ৪৫ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ৩০ দিন
সঠিক উত্তর:
৩০ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ দিন
ব্যাখ্যা

• টিকা দেওয়া বা ভ্যাকসিনেশন (Vaccination):
- ইমিউনিটি অর্জনের জন্য দেহের মধ্যে টিকা বা ভ্যাকসিন দেওয়ার পদ্ধতিতে টিকাকরণ বা ভ্যাকসিনেশন বলে।
- টিকা রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের রোগ সৃষ্টির ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেহে প্রবেশ করিয়ে ইমিউনিটি গড়ে তোলা হয়। এই পদ্ধতিতে সক্রিয় অনাক্রমীকরণের মাধ্যমে ইমিউনোলজিক্যাল মেমোরির (immunological memory) সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে রোগ সংক্রামক জীবাণু শরীরে প্রবশে করলে দেহ দ্রুততার সঙ্গে প্রবিষ্ট জীবাণুকে ধ্বংস করে।
- প্রকৃতপক্ষে, দেহে প্রবিষ্ট ভ্যাকসিনের বিরুদ্ধে অ্যান্টিজেন নির্দিষ্ট T ও B-লিম্ফোসাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং মেমোরি সেল উৎপন্ন ভ্যাকসিনেশন প্রধানত অণুজীবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও বিভিন্ন বিষ (toxins), যেমন-সাপের বিষ (snake venoun), মাকড়সার বিষ প্রভৃতির বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা হয়।
- জীবাণু বা পরজীবীর আক্রমণে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেলে ভ্যাকসিনেশন আর কোনো কাজে আসে না। 

• পোলিও:
পোলিও (Poliomyelitis) একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যা Poliovirus দ্বারা সৃষ্ট। এটি মূলত শিশুদের বেশি আক্রান্ত করে এবং স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমণ করে স্থায়ী পক্ষাঘাত ঘটাতে পারে।
- পোলিও প্রতিরোধে ব্যবহৃত টিকাকে পোলিও ভ্যাকসিন বলা হয়। এটি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে।

 • পোলিও টিকার প্রকারভেদ: 
১। OPV (Oral Polio Vaccine):
- মুখে খাওয়ানো টিকা।
- জীবিত কিন্তু দুর্বল ভাইরাস থাকে।
- বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত। 
- জন্মের একমাস বা ৩০ দিনের মধ্যে শিশুকে পোলিও ভ্যাকসিন (OPV-0) দিতে হয়। যা দ্রুত সুরক্ষার জন্য নিয়মিত টিকাদান তালিকার অংশ হিসেবে ৬, ১০ ও ১৪ সপ্তাহে দেওয়া ডোজের আগে দেওয়া হয়। 

২। IPV (Inactivated Polio Vaccine):
- ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়।
- মৃত ভাইরাস ব্যবহার করা হয়।
- এটি পোলিও ভাইরাসের কারণে হওয়া পক্ষাঘাত প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর।
- সাধারণত শিশুদের পোলিও টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ডোজ হিসেবে ২ মাস বয়সে দেওয়া হয়।



উৎস: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৫৫.
কোন কোষে নিউক্লিয়াস থাকে না?
  1. শুক্রাণু
  2. ডিম্বাণু
  3. লোহিত রক্তকণিকা
  4. হৃদকোষ
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্তকণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্তকণিকা
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিয়াস: 
- নিউক্লিয়াস (Nucleus) হল কোষের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, যা ডিএনএ ধারণ করে এবং কোষীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে।
- তবে কিছু বিশেষ কোষে নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত থাকে।
- লোহিত রক্তকণিকা (Red Blood Cell - RBC) – মানুষের পরিণত লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না।
- জন্মের সময় নিউক্লিয়াস থাকলেও পরিপক্ব হওয়ার সময় এটি হারিয়ে যায়, যাতে রক্তে বেশি হিমোগ্লোবিন ধরে রাখতে পারে এবং অক্সিজেন পরিবহন আরও কার্যকর হয়।
- এর ফলে RBC নমনীয় হয়ে ছোট রক্তনালীগুলোর মধ্য দিয়ে সহজে প্রবাহিত হতে পারে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
১,৪৫৬.
মানুষের প্রধান খাদ্য কোনটি?
  1. ক) প্রোটিন
  2. খ) শর্করা
  3. গ) ভিটামিন
  4. ঘ) পানি
সঠিক উত্তর:
খ) শর্করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শর্করা
ব্যাখ্যা
- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট হলাে-মানবদেহের কর্মশক্তি ও তাপশক্তির প্রধান উৎস। মানুষের প্রধান খাদ্য শর্করা।
- কার্বন, হাইড্রোজেন, ও অক্সিজেন নিয়ে শর্করার যৌগ গঠিত হয়।
- এটি মিষ্টি স্বাদযুক্ত এবং গন্ধ ও বর্ণহীন।

উৎসঃ সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৪৫৭.
ভিটামিন বি-২ এর অন্য নাম কোনটি?
  1. ক) ফলিক এসিড
  2. খ) নায়াসিন
  3. গ) রিবোফ্লাভিন
  4. ঘ) থায়ামিন
সঠিক উত্তর:
গ) রিবোফ্লাভিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রিবোফ্লাভিন
ব্যাখ্যা
- ভিটামিন বি-২ এর রাসায়নিক নাম রিবোফ্লাভিন
- এটি তাপে নষ্ট হয় না।
- তাই রান্না করলেও রিবোফ্লাভিনের পুষ্টিগুণ বজায় থাকে।

অপরদিকে,
- ভিটামিন বি-৯ এর অন্য নাম ফ্লিক এসিড।
- ভিটামিন -৩ এর রাসায়নিক নাম নায়াসিন।
- এটি তাপ, অম্ল, ক্ষার বা অক্সিজেনে নষ্ট হয় না।
- নায়াসিনকে পেলেগ্রা প্রতিরোধক ভিটামিন বলা হয়।
- ভিটামিন ব-১ এর রাসায়নিক নাম থায়ামিন।
- থায়ামিন পানি, উচ্চ তাপ ও ক্ষারে নষ্ট হয়।

সূত্র: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৫৮.
বিবর্তন নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে, সেটার নাম কী?
  1. Evolution
  2. Embryology
  3. Mycology
  4. Microbiology
সঠিক উত্তর:
Evolution
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Evolution
ব্যাখ্যা
– বিবর্তন সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয়- Evolution.

অন্যদিকে,
- ভ্রুণ সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Embryology,
- অণুজীব বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় Microbiology,
- ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Mycology.

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৫৯.
সামুদ্রিক পর্বের প্রাণীরা কোন পর্বের অন্তর্গত?
  1. Nematoda
  2. Echinodermata
  3. Mollusca
  4. Platyhelminthes
সঠিক উত্তর:
Echinodermata
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Echinodermata
ব্যাখ্যা
• সামুদ্রিক পর্বের প্রাণীরা একাইনোডার্মাটা পর্বের অন্তর্গত।

• Echinodermata পর্বের প্রাণী:
- এরা কণ্টকত্বকী প্রাণী।
- এদের প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ৭,৫৫০।
- Echinodermata শব্দটি গ্রিক শব্দ Echinus (কণ্টক) এবং Derma (ত্বক)-এ দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত।
- ১৭৩৪ সালে Jacob Kline এর নামকরণ করেন।

• Echinodermata পর্বের বৈশিষ্ট্য:
- পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর দেহ পঞ্চঅরীয় প্রতিসম অথবা পাঁচটি সমভাগে বিভাজ্য।
- এদের দেহ কণ্টকময়, স্পাইন ও পেডিসিলারি নামক বহিঃকঙ্কালযুক্ত।
- এই পর্বে পানি সংবহনতন্ত্রের সাহায্যে চলন ও শ্বসনক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
- মস্তক অনুপস্থিত।
- দেহে সুস্পষ্ট মৌখিক তল (oral) ও বিমৌখিক তল (aboral) বিদ্যমান।
- এ পর্বের সকল প্রাণীই সামুদ্রিক।
- রেচনতন্ত্র নেই।

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২. জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
১,৪৬০.
দর্শন, শ্রবণ, ঘ্রাণ, চিন্তা-চেতনা, স্মৃতি, জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক ও পেশি চালনার ক্রিয়াকেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) লঘুমস্তিষ্কে
  2. খ) গুরুমস্তিষ্কে
  3. গ) মধ্যমস্তিষ্কে
  4. ঘ) পশ্চাৎমস্তিষ্কে
সঠিক উত্তর:
খ) গুরুমস্তিষ্কে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গুরুমস্তিষ্কে
ব্যাখ্যা

মস্তিষ্কের প্রধান অংশ হলো গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম৷ এটি ডান ও বাম খণ্ডে বিভক্ত৷
দর্শন, শ্রবণ, ঘ্রাণ, চিন্তা-চেতনা, স্মৃতি, জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক ও পেশি চালনার ক্রিয়াকেন্দ্র গুরুমস্তিষ্কে অবস্থিত৷

উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি

১,৪৬১.
হৃদপিণ্ডের স্তর নয়?
  1. এন্ডোকার্ডিয়াম
  2. মায়োকার্ডিয়াম
  3. এপিকার্ডিয়াম
  4. পেরিকার্ডিয়াম
সঠিক উত্তর:
পেরিকার্ডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা
• পেরিকার্ডিয়াম হৃদপিণ্ডের স্তর নয়। 

• হৃদপিণ্ডের গঠন:

- হৃদপিণ্ড বক্ষ গহ্বরের বাম দিকে দু'ফুসফুসের মাঝখানে অবস্থিত একটি ত্রিকোণাকার ফাঁপা অঙ্গ।
- এটি হৃদপেশি নামক এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত।
- এটি পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।
- হৃদপিণ্ডের প্রাচীরে তিনটি স্তর থাকে।
যথা -
• বহিঃস্তর বা এপিকার্ডিয়াম:
- বহিঃস্তর মূলত যোজক কলা দ্বারা গঠিত।
- এতে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি থাকে।
- এটি আবরণী কলা দিয়ে আবৃত থাকে।

• মধ্যস্তর মায়োকার্ডিয়াম:
- এটি বহিঃস্তর এবং অন্তঃস্তরের মাঝখানে অবস্থান করে।
- এটি দৃঢ় অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত।

• অন্তঃস্তর এন্ডোকার্ডিয়াম:
- এটি সব থেকে ভেতরের স্তর। হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলো অন্তঃস্তর দিয়ে আবৃত থাকে।
- অন্তঃস্তরটি হৃদপিণ্ডের কপাটিকাগুলোকেও আবৃত করে রাখে।
- হৃদপিণ্ডের ভেতরের স্তর ফাঁপা এবং চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী,
১,৪৬২.
কোন গ্রুপের রক্তে কোনো ধরনের অ্যান্টিবডি থাকে না? 
  1. 'O' গ্রুপ
  2. 'AB' গ্রুপ
  3. 'A' গ্রুপ
  4. 'B' গ্রুপ
সঠিক উত্তর:
'AB' গ্রুপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
'AB' গ্রুপ
ব্যাখ্যা
- 'AB' গ্রুপের রক্তে কোনো ধরনের অ্যান্টিবডি থাকে না।  

রক্তের গ্রুপ (Blood group): 
- মানুষের লোহিত রক্ত কণিকায় 'A' এবং 'B' নামক দু'ধরনের অ্যান্টিজেন (Antigen) এবং রক্ত রসে 'a' ও 'b' দু'ধরনের অ্যান্টিবডি (Antibodies) থাকে। 
- অ্যান্টিজেন এক প্রকারের পদার্থ যা কোন জীবদেহে প্রবেশ করানোর ফলে ঐ জীবদেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় এবং অ্যান্টিবডি হলো এক প্রকারের পদার্থ যা জীবদেহে রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে। 
- অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে মানুষের রক্তকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করা হয় যাকে রক্তের গ্রুপ বলে। 
- বিজ্ঞানী কার্লল্যান্ড স্টেইনার ১৯০১ সালে মানুষের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করে তা 'A', 'B', 'O' এবং ‘AB' এ চারটি গ্রুপের নামকরণ করেন। 
- আজীবন মানুষের রক্তের গ্রুপ একই রকম থাকে যা পরিবর্তন হয় না। 
- অতএব রক্তে বিভিন্ন অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে রক্তের গ্রুপকে চিহ্নিত করা যায়। 
- নিম্নের ছকে রক্তের গ্রুপের অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেনের উপস্থিতি দেখানো হলো- 


উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৬৩.
'শামখোল' হলো এক ধরনের-
  1. ক) মাছ
  2. খ) পাখি
  3. গ) পতঙ্গ
  4. ঘ) জলজ উদ্ভিদ
সঠিক উত্তর:
খ) পাখি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পাখি
ব্যাখ্যা

- শামখোল এক ধরনের বড় পাখি। এরা লম্বায় প্রায় ৬৮ সেমি.। এদের ডানা সাদা। তবে ডানা ও লেজের প্রান্ত কালো।
- এদের ইংরেজি নাম Asian Openbill। বৈজ্ঞানিক নাম Anastomus oscitans।
- পুরুষ ও স্ত্রী শামখোল পাখি দেখতে অভিন্ন। -এদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া, স্তন্যপায়ী প্রাণী।
উৎসঃ যুগান্তর পত্রিকা

১,৪৬৪.
শ্বেত রক্তকণিকাকে প্রধানত কতভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
ক) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২
ব্যাখ্যা
শ্বেত রক্তকণিকা:

- গঠনগতভাবে এবং সাইটোপ্লাজমে দানার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি অনুসারে শ্বেত কণিকাকে প্রধানত দু'ভাগে ভাগ করা যায়। - যথা-
• অ্যাগ্রানুলোসাইট বা দানাবিহীন।
• গ্রানুলোসাইট বা দানাযুক্ত।

- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে। ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে।
- এই রক্তকণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে।
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে। শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৬৫.
কচুশাক বিশেষভাবে মূল্যবান যে উপাদানের জন্য তা হলো-
  1. ভিটামিন 'এ'
  2. ভিটামিন 'সি'
  3. লৌহ
  4. ক্যালসিয়াম
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
খনিজ উপাদান: 
- ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎসের তালিকায় কচু শাক দেয়া আছে। তবে, কচু শাক লৌহেরও ভাল উৎস। 
- কিন্তু লৌহ এবং ক্যালসিয়াম একসাথে দেয়া হলে ক্যালসিয়াম প্রধান উৎস হিসেবে জীববিজ্ঞান বইতে সরাসরি বলা আছে তাই এটাকেই উত্তর হিসেবে নেয়া হল। 
- লৌহ/আয়রনের উদ্ভিজ্জ উৎস: ফুলকপির পাতা, নটোশাক, নিম পাতা, ডুমুর, কাঁচা কলা, ভুট্টা, গম, বাদাম ইত্যাদি৷
- ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস: ডাল, তিল, গাজর, ফুলকপি, পালংশাক, কচুশাক, লাল শাক, বাধাকপি ইত্যাদি৷

- যদিও, এখানে লিস্টে নাম দেয়া হয়নি। তবে, কচু শাক লৌহের ভাল উৎস কোন সন্দেহ নেই। যাইহোক, দুইটা রেফারেন্সেরই দিক থেকে চিন্তা করলে ক্যালসিয়ামকে বাদ দেয়া যাচ্ছে না।

উৎস: বিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৬৬.
এন্টোমলজি কোন বিষয়ের বিজ্ঞান?
  1. ক) মাছ
  2. খ) কীটপতঙ্গ
  3. গ) পিপড়া
  4. ঘ) শামুক
সঠিক উত্তর:
খ) কীটপতঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কীটপতঙ্গ
ব্যাখ্যা
কীটতত্ত্ব (Entomology): কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষিত, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,৪৬৭.
প্রজাতিগত বৈচিত্র্য কী বোঝায়?
  1. বংশগত বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন
  2. পৃথিবীতে জীবের মোট প্রজাতির সংখ্যা
  3. পৃথিবীর সকল জীবের আকার ও আচরণ
  4. বাস্তুতন্ত্রের মধ্যে পরিবেশগত পরিবর্তন
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীতে জীবের মোট প্রজাতির সংখ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীতে জীবের মোট প্রজাতির সংখ্যা
ব্যাখ্যা
জীববৈচিত্র্য (Biodiversity): 
- পৃথিবীর পরিবেশ জীব ও জড় উপাদান নিয়ে গঠিত, এখানে রয়েছে বিচিত্র ধরনের জীব ও অজস্র জড় পদার্থ। 
- প্রতিটি প্রজাতি স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং স্বকীয় বৈশিষ্ট্য দিয়ে যে কোনো একটি প্রজাতি অন্য সব প্রজাতি হতে ভিন্ন ও শনাক্তকরণযোগ্য। 
- জীববৈচিত্র্যকে তিন ভাগে বা স্তরে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity): 
- এক প্রজাতির সাথে অন্য প্রজাতির বিভিন্ন বিষয়ের ভিন্নতাই হলো প্রজাতিগত বৈচিত্র্য। 
- সাধারণভাবে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলতে পৃথিবীতে বিরাজমান জীবসমূহের মোট প্রজাতির সংখ্যাকেই বোঝায়। 
যেমন- বাঘের সাথে হরিণের আকার, স্বভাব, হিংস্রতা, সংখ্যা, বৃদ্ধির ধরন ইত্যাদি ভিন্ন হয়। 

২। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity): 
- বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য একটি বাস্তুতন্ত্রের ভৌত উপাদান ও জৈবিক উপাদানগুলোর মধ্যে কোন প্রকার পরিবর্তন দেখা দিলে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে। 
- এ পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য সেখানে বসবাসরত জীবের মধ্যেও পরিবর্তন সাধিত হয়। 
- এ পরিবর্তনের জন্য যে জীববৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকেই বলা হয় বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য। 
যেমন- একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে যে সব উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসতি গড়ে উঠে তা নদীর বাস্তুতন্ত্র থেকে ভিন্নতর। 

৩। বংশগতীয় বৈচিত্র্য (Genetical diversity): 
- এ পৃথিবীতে একই প্রজাতিভুক্ত সদস্যদের মধ্যেও অনেক বিষয়ে পার্থক্য দেখা যায়, এ পার্থক্যগুলো তৈরি হয় তাদের জিন সংগঠনের সামান্য বৈচিত্র্যের কারণে। 
- এ বৈচিত্র্যতার কারণ হচ্ছে জিনের মাধ্যমেই জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বংশানুক্রমে সঞ্চালিত হয়। 
- প্রাণিদেহের প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের জন্য আলাদা আলাদা জীন দায়ী। 
- বিভিন্ন কারণে এ জীনের গঠন ও বিন্যাসের পরিবর্তন হয়ে জীবের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটায় এবং নতুন প্রজাতির উদ্ভব হয়। 
- এ বংশানুক্রমিক প্রক্রিয়ায় জীবের মধ্যে যে বৈচিত্র্য ঘটে তাকেই বংশগতীয় বৈচিত্র্য বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৬৮.
কোন প্রাণীকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয়?
  1. ঘোড়া
  2. বলগা হরিণ
  3. উট
  4. খেচর
সঠিক উত্তর:
উট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উট
ব্যাখ্যা
- উট প্রাণীকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয়। 
- উট মরুজীবনের জন্য চমৎকারভাবে অভিযোজিত। 
- এদের প্রশস্ত পদ বালির উপর চলাচলের জন্য যেমন উপযুক্ত, তেমনি নাসারন্ধ্র সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার ক্ষমতা এবং সংবদ্ধ করার উপযোগী। 
- দুই সারি চোখের পাপড়ি মরুভূমিতে বসবাসের জন্য খুবই সহায়ক। 
- আর এসব উপযোগিতার কারণে উট মরুভূমিতে সহজেই মালামাল বহন করতে পারে। 

উৎস: dw.com
১,৪৬৯.
দুটি নিউরনের সংযোগস্থলকে বলা হয়-
  1. ক) অ্যাক্সন
  2. খ) ডেনড্রন
  3. গ) সিন্যাপস
  4. ঘ) ডেনড্রাইট
সঠিক উত্তর:
গ) সিন্যাপস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সিন্যাপস
ব্যাখ্যা
সিন্যাপস (Synapse):
- দুটি নিউরনের সংযোগস্থলকে অথবা একটি নিউরন ও একটি ইফেক্টরের (যেমন পেশি অথবা গ্রন্থি) সংযোগস্থলকে সিন্যাপস বলে। 
- সিন্যাপস এর মাধ্যমে উত্তেজনা বা তথ্য এক নিউরন থেকে অন্য নিউরনে প্রেরিত হয়।
- এগুলোর মাধ্যমেই প্রান্তীয় স্নায়ু দ্বারা গৃহীত উদ্দীপনা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে প্রেরিত হয়বং কেন্দ্রের নিদের্শাবলি প্রান্তের সুনির্দিষ্ট অঙ্গে পৌছায়।
- কেন্দ্ৰীয় স্নায়ুতন্ত্রের সকল উচ্চতর কার্যাবলি যেমন- সমন্বয়, শিক্ষণ, স্মৃতি ইত্যাদি সবকিছুই সম্ভব হয় কেবল সিন্যাপসের জন্য।
- স্নায়ুতন্ত্রে সিন্যাপস অসংখ্য এবং ধারণা করা হয় এর সংখ্যা প্রায় ১০%।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৭০.
নিচের কোনটি জিনবাহিত রোগ?
  1. বেরিবেরি 
  2. হিমোফিলিয়া
  3. স্ট্রোক
  4. এইডস 
সঠিক উত্তর:
হিমোফিলিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমোফিলিয়া
ব্যাখ্যা

• হিমোফিলিয়া একটি জিনবাহিত রোগ (genetic disorder)। 

• হিমোফিলিয়া (Hemophilia):
- হিমোফিলিয়া (Hemophilia) হলো একটি জিনগত রক্তক্ষরণজনিত রোগ।
-  এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে রক্ত জমাট বাঁধার জন্য দায়ী প্রোটিনের ঘাটতি থাকে।
-  এর ফলে সামান্য আঘাতেও রক্তক্ষরণ বন্ধ হতে দেরি হয় বা বন্ধ হয় না।
-  এটি এক্স লিঙ্কড ডিজঅর্ডার বা এক্স ক্রোমোসোম বাহিত রোগ, যা সাধারণত ছেলেদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। 
-  কারন যেহেতু এটি কেবল এক্স ক্রমোসোম এর মাধ্যমে বাহিত হয় এবং ছেলেদের মধ্যে একটি এক্স ক্রোমোসোম থাকে তাই সেটি আক্রান্ত থাকলে ছেলেদের মধ্যে রোগটি হয়। কিন্তু মেয়েদের মধ্যে দুটি এক্স ক্রোমোসোম থাকে বিধায় একটি এক্স আক্রান্ত থাকলেও মেয়েদের মাঝে রোগ প্রকট না হয়ে মেয়েরা বাহক ও হতে পারে। 

• হিমোফিলিয়া দুইরকমের হয়ে থাকে। এগুলো হলো- 
- Hemophilia A: রক্ত জমাট বাঁধার Factor VIII এর অভাবে এটি হয়।
- Hemophilia B: রক্ত জমাট বাঁধার Factor IX এর অভাবে এটি হয়। 

• হিমোফিলিয়া রোগের লক্ষন:
- সহজে রক্তপাত হওয়া।
- হাড়-জোড়ায় রক্ত জমা হওয়া।
- দাঁতের চিকিৎসা বা কাটা লাগলে দীর্ঘ সময় রক্ত পড়া।
- মস্তিষ্কে রক্তপাত মারাত্মক হতে পারে।

• প্রতিকার/চিকিৎসা:
→ ক্লটিং ফ্যাক্টর প্রতিস্থাপন থেরাপি:
নিয়মিতভাবে রক্তে জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় Factor VIII বা Factor IX ইনজেকশন দেওয়া হয়।
→ জিন থেরাপি (Gene Therapy):
- সাম্প্রতিক গবেষণায় জিন থেরাপি ব্যবহার করে দেহে ঘাটতিপূর্ণ জিন প্রতিস্থাপন করার চেষ্টা চলছে।
- এটি ভবিষ্যতে স্থায়ী প্রতিকারের সম্ভাবনা তৈরি করছে।

অন্যদিকে,
 • স্ট্রোক (Stroke): এটি মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হলে ঘটে। এটি জিনবাহিত নয়, বরং জীবনধারা ও শারীরিক সমস্যার সাথে সম্পর্কিত।
 • বেরিবেরি (Beriberi): এটি ভিটামিন-B1 (থায়ামিন) এর অভাবে হয়। এটি পুষ্টিজনিত রোগ, জিনবাহিত নয়।
 • এইডস (AIDS):  এটি এইচআইভি ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট সংক্রামক রোগ। জিনবাহিত নয়।

তথ্যসূত্র: 
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি; গাজী আজমল।
- ব্রিটানিকা। 

১,৪৭১.
মানুষের রক্তে লোহিত রক্ত কণিকা কোথায় সঞ্চিত থাকে? 
  1. বৃক্কে
  2. প্লীহায়
  3. হৃৎযন্ত্রে
  4. ফুসফুসে
সঠিক উত্তর:
প্লীহায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লীহায়
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্ত কণিকা: 
- লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন। 
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়। 
- লোহিত রক্ত কণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়। 
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৭২.
GMO -এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Genetically Manipulated Object
  2. General Modified Organism
  3. Genetically Modified Organism
  4. Gene Managed Organism
সঠিক উত্তর:
Genetically Modified Organism
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Genetically Modified Organism
ব্যাখ্যা

- GMO-এর পূর্ণরূপ হলো Genetically Modified Organism. এটি দিয়ে এমন কোনো জীব বোঝানো হয় যার জিনকে জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে পরিবর্তন বা পরিবর্তিত করা হয়েছে।

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (Genetic engineering): 
- একটি জীব থেকে একটি নির্দিষ্ট জিন বহনকারী ডিএনএ খণ্ড পৃথক করে ভিন্ন একটি জীবে স্থানান্তরের কৌশল হচ্ছে জিন প্রকৌশল (Genetic engineering)। 
অর্থাৎ, কাঙ্ক্ষিত নতুন একটি বৈশিষ্ট্য সৃষ্টির জন্য কোনো জীবের ডিএনএর পরিবর্তন ঘটানোকে জিন প্রকৌশল বলে। 
- এই জিন যে কৌশলগুলোর মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়, তাদের একত্রে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ কৌশল বলে। এই কৌশল অবলম্বন করে একটি ডিএনএ অণুর কাঙ্ক্ষিত অংশ কেটে আলাদা করে অন্য একটি ডিএনএ অনুতে প্রতিস্থাপন করার ফলে যে নতুন ডিএনএ অণুর সৃষ্টি হয়, তাকে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ বলে। 
- রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ তৈরির প্রক্রিয়াকে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তি বা জিন ক্লোনিং বলা হয়। 
- জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে উৎপন্ন নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের কোনো কোনোটিকে বলা হয় GMO (Genetically Modified Organism) আর কোনোটিকে বলে ট্রান্সজেনিক (Transgenic)। জিএমও এবং ট্রান্সজেনিক জীব এক নয়। 
- আধুনিক জীবপ্রযুক্তি বা জিন কৌশলের মাধ্যমে জিন স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য অল্প সময়ে সুচারুভাবে স্থানান্তর করা সম্ভব হয় বলে সংশ্লিষ্ট উদ্ভাবক বা উদ্যোক্তাগণের নিকট প্রচলিত প্রজননের তুলনায় এ প্রযুক্তিটি অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৪৭৩.
মানুষের করোটিক স্নায়ুর সংখ্যা কত? 
  1. ১০ জোড়া
  2. ১২ জোড়া
  3. ১৬ জোড়া 
  4. ২৩ জোড়া
সঠিক উত্তর:
১২ জোড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ জোড়া
ব্যাখ্যা

করোটিক স্নায়ু: 
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে। 
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া। 
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে। 
- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে। 
যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু। 
- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে। 
যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু। 
- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে। 
যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৭৪.
T2 ভাইরাস কোনটিকে আক্রমণ করে?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) মাছি
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের পরজীবিতা সাধারণত সুনির্দিষ্ট অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রকারের ভাইরাস কোনো সুনির্দিষ্ট জীবদেহে পরজীবী হয়।
প্রকৃতপক্ষে কোনো ভাইরাসের প্রোটিন আবরণটিই নির্ণয় করে তার আক্রমণের সুনির্দিষ্টতা।

- ফায ভাইরাস কেবল ব্যাকটেরিয়া কোষেই আক্রমণ করে।
- ফায ভাইরাসের মধ্যে T2- ব্যাকটেরিওফায E. coli ব্যাকটেরিয়াকেই আক্রমণ করে।
- TMV ভাইরাস কেবল তামাক গাছকেই আক্রমণ করে।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৪৭৫.
ক্রিটিনিজমে কোন হরমোনের ঘাটতি শিশুর বিকাশে সমস্যা সৃষ্টি করে? 
  1. অক্সিটোসিন
  2. ইনসুলিন
  3. থাইরয়েড
  4. অ্যাড্রেনালিন
সঠিক উত্তর:
থাইরয়েড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থাইরয়েড
ব্যাখ্যা
- বুদ্ধি প্রতিবন্ধীতার সাথে সম্পর্কিত কিছু রোগ রয়েছে যা দেখে সহজে শনাক্ত করা যায়। 
যেমন- 
ক) মাইক্রোসেফালি: 
- মাথার আকৃতি অস্বাভাবিক ছোট, এরা গুরুতর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হয়। 

খ) হাইড্রোসেফালি: 
- মাথার ভিতরে তরল পদার্থ জমে থাকে, ফলে মাথার আকৃতি অস্বাভাবিক বড় হয়। 

গ) ডাউন সিনড্রোম: 
- মুখোমন্ডল গোলাকার, তীর্যক চোখ, চোখের পাতা পুরু হয়। জন্মের সময় শিশু দুর্বল ও শিথিল থাকে। হাত, পা ও ঘাড় খাটো হয়। উপুর হওয়া, বসা, হাঁটা দেরি হয়। 

ঘ) ক্রিটিনিজম: 
- শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বিলম্ব হয়। শিশুর দেহে থাইরয়েড হরমোন উৎপাদন কম হয়। ফলে শিশু খুব ধীরে বেড়ে ওঠে, কপাল ছোট, মুখমন্ডল ও হাত-পা ফোলা ইত্যাদি। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৭৬.
নিচের কোনটিকে মাস্টার গ্ল্যান্ড/প্রভু গ্রন্থি বলা হয়?
  1. থাইরয়েড গ্রন্থি
  2. অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি
  3. অগ্ন্যাশয়
  4. পিটুইটারি গ্রন্থি
সঠিক উত্তর:
পিটুইটারি গ্রন্থি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিটুইটারি গ্রন্থি
ব্যাখ্যা

পিটুইটারি গ্রন্থিকে প্রভু গ্রন্থি বা Master Gland বলা হয়।

পিটুইটারি গ্রন্থি:
- পিটুইটারি গ্রন্থি হলো মানব মস্তিষ্কের নিচে অবস্থিত একটি ক্ষুদ্র, লালচে-ধূসর রঙের মটর-সদৃশ অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি।
- এটি অন্তঃক্ষরাতন্ত্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যার ওজন মাত্র ০.৫ গ্রাম।
- পিটুইটারি গ্রন্থিকে হরমোন সৃষ্টিকারী প্রধান গ্রন্থি বা নিয়ামক গ্রন্থি (Principal/Master gland) বলে।
- এটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হরমোন নিঃসরণ করে এবং অন্যান্য অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির (যেমন থাইরয়েড, অ্যাড্রেনাল ও প্রজনন গ্রন্থি) কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে।
- এটি হাইপোথ্যালামাসের সাথে সংযুক্ত থাকে।

প্রধান অংশ ও হরমোনসমূহ:
- পিটুইটারি গ্রন্থিকে প্রধানত দুইটি অংশে ভাগ করা হয়।
যথা:
১। অগ্র পিটুইটারি (Anterior Pituitary/Adenohypophysis):
- দেহের বৃদ্ধি, বিপাক এবং অন্যান্য গ্রন্থির কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে।
- এর প্রধান হরমোনগুলো হলো:
- গ্রোথ হরমোন (GH): দেহের সামগ্রিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে।
- থাইরয়েড-স্টিমুলেটিং হরমোন (TSH): থাইরয়েড গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে।
- অ্যাড্রেনোকর্টিকোট্রপিক হরমোন (ACTH): অ্যাড্রেনাল গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে।
- ফলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোন (FSH) এবং লিউটিনাইজিং হরমোন (LH): এ দুটি হরমোনকে একত্রে গোনাডোট্রপিক হরমোন (GTH) বলা হয়, যা প্রজনন অঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে।
- প্রোল্যাকটিন (Prolactin): দুগ্ধ উৎপাদনে সহায়তা করে।
- মেলানোসাইট স্টিমুলেটিং হরমোন (MSH): ত্বক ও চুলের বর্ণ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

২। পশ্চাৎ পিটুইটারি (Posterior Pituitary/Neurohypophysis):
- এই অংশটি নিজে কোনো হরমোন তৈরি করে না, বরং হাইপোথ্যালামাস থেকে আসা দুটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন সংরক্ষণ করে ও প্রয়োজনে নিঃসরণ করে।
• হরমোন দুটি হলো:
- ভ্যাসোপ্রেসিন (Vasopressin): এটি অ্যান্টিডিউরেটিক হরমোন (ADH) নামেও পরিচিত, যা কিডনির মাধ্যমে মূত্র নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- অক্সিটোসিন (Oxytocin): এটি সন্তান প্রসবকালে জরায়ুর সংকোচন ঘটানো এবং দুগ্ধ নিঃসরণে সাহায্য করে।

অন্যান্য অপশন:
থাইরয়েড গ্রন্থি: এটি থাইরক্সিন হরমোন নিঃসরণ করে, যা বিপাক (Metabolism) নিয়ন্ত্রণ করে। এটি নিজে মাস্টার গ্ল্যান্ড নয়, বরং এটি পিটুইটারি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি: এটি কিডনির উপরে অবস্থিত এবং স্ট্রেস হরমোন (যেমন অ্যাড্রেনালিন, করটিসল) নিঃসরণ করে। এটিও পিটুইটারি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
অগ্ন্যাশয়: এটি একটি মিশ্র গ্রন্থি। এটি ইনসুলিন ও গ্লুকাগন (রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী) হরমোন এবং পাচক এনজাইম নিঃসরণ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ২য় পত্র, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল, গাজী আসমত।

১,৪৭৭.
নিচের কোনটিকে গুরুমস্তিস্ক বলা হয়?
  1. ক) সেরিবেলাম
  2. খ) সেরিব্রাম
  3. গ) পনস
  4. ঘ) মেডুলা অবলংগাটা
সঠিক উত্তর:
খ) সেরিব্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সেরিব্রাম
ব্যাখ্যা
মস্তিস্কের সেরিব্রামকে গুরুমস্তিস্কও বলা হয়। 

- আমাদের সকল চিন্তা-ভাবনা এবং কার্যক্রম পরিচালিত হয় মস্তিষ্ক থেকে।
- অসংখ্য নিউরন এবং হরমোনের সমন্বয়ের মাধ্যমে এই কাজগুলো সম্পন্ন হয়।
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সামনের অংশ স্ফীত হয়ে করোটিকা বা খুলির মধ্যে মস্তিষ্ক গঠন করে।
- করোটিকার ভেতরে মেনিনজেস নামক পর্দা দ্বারা মস্তিষ্ক আবৃত থাকে।
- এটি তিনটি অংশে বিভক্ত থাকে।  
যথা-
(১) অগ্রমস্তিষ্ক(Forebrain or Prosencephalon)
(২) মধ্যমস্তিষ্ক(Midbrain or Mesencephalon)
(৩) পশ্চাৎমস্তিষ্ক(Hindbrain or Rhombencephalon)    

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৪৭৮.
গর্ভাবস্থায় একমাত্র কোন অ্যান্টিবডি প্ল্যাসেন্টা পেরিয়ে ভ্রূণের দেহে পৌঁছাতে পারে? 
  1. IgA
  2. IgM
  3. IgG
  4. IgE
সঠিক উত্তর:
IgG
উত্তর
সঠিক উত্তর:
IgG
ব্যাখ্যা
অ্যান্টিবডি: 
- দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্র (immune system) থেকে উৎপন্ন এক ধরনের দ্রবণীয় গ্লাইকোপ্রোটিন যা রোগ-ব্যাধি সৃষ্টিকারী নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকে (যেমন-ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া) ধ্বংস করে তাকে অ্যান্টিবডি বলে। 
- প্রত্যেকটি অ্যান্টিবডি হচ্ছে ইমিউনোগ্লোবিউলিন (সংক্ষেপে Ig) নামে বিশেষ ধরনের একেকটি প্রোটিন অণু। 
- শ্বেত রক্তকণিকার অন্যতম প্রধান কণিকা লিম্ফোসাইট। লিম্ফোসাইট দু'ধরনের: (১) T-কোষ ও (২) B-কোষ। 
- B-লিম্ফোসাইট কয়েক উপধরনে বিভক্ত যার একটি হচ্ছে প্লাজমা B-কোষ, সংক্ষেপে প্লাজমাকোষ নামে পরিচিত। 
- প্লাজমাকোষ থেকে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়। 
- প্রয়োজনে প্রত্যেক প্লাজমাকোষ প্রতি সেকেন্ডে কয়েক হাজার অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করতে পারে। 
- মানুষের দেহে প্রায় ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ধরনের অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হতে পারে। 

অ্যান্টিবডির প্রকারভেদ: 
- অ্যান্টিবডির গড়নে যে ভারী শৃঙ্খল রয়েছে তাতে অ্যামিনো এসিডের ক্রমের (sequence) ভিত্তিতে ভারী শৃঙ্খল ৫ ধরনের: γ-(gamma), α-(alpha), μ-(mu), €-(epsilon) এবং δ-(delta)। 
- এ পাঁচ ধরনের ভারী শৃঙ্খলবিশিষ্ট অ্যান্টিবডিগুলো নিচে বর্ণিত ৫টি শ্রেণিতে বিভক্ত। 
যেমন- 
১। ইমিউনোগ্লোবিউলিন A (IgA): 
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১৫% হচ্ছে IgA । 
- এ ধরনের অ্যান্টিবডি মিউকাস ঝিল্লিতে আবৃত থাকে, যেমন-পরিপাক, জনন ও শ্বসনতন্ত্রে বিস্তৃত হয় এবং সেখানে রোগ সৃষ্টিকারী অনুজীর ও অণুকণাকে প্রশমিত করে। 
- মায়ের দুধেও IgA পাওয়া যায় এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুদেছে স্থানান্তরিত হয়। 

২।  ইমিউনোগ্লোবিউলিন D (IgD): 
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১%-এরও কম হচ্ছে IgD । 
- রক্ত, লসিকা ও লিফোসাইট B-কোষে এ lg পাওয়া যায়। 
- এর কাজ অজ্ঞাত হলেও বিজ্ঞানিদের ধারণা, IgD B-কোষকে সক্রিয়করণে ভূমিকা পালন করে। 

৩। ইমিউনোগ্লোবিউলিন E (IgE): 
- দেহের মোট ।g-র মধ্যে প্রায় ০.১% হচ্ছে IgE । 
- এটি দুর্লভ Ig । 
- B-কোষ, মাস্টকোষ ও বেসোফিলে এ Ig পাওয়া যায়। 
- হিস্টামিন ক্ষরণকে উদ্দীপ্ত করে এটি প্রদাহ সাড়া সক্রিয় করে। 
- বিভিন্ন অ্যালার্জিক সাড়া দানে (যেমন-সন্ধিবাতে) এ অ্যান্টিবডির ভূমিকা বেশ নেতিবাচক প্রমাণিত হয়েছে। 

৪। ইমিউনোগ্লোবিউলিন G (IgG): 
- দেহের মোট ইমিউনোগ্লোবিউলিনের (Ig) 75% IgG । 
- রক্ত, লসিকা, অন্ত্র ও টিস্যু তরলে এ Ig বিস্তৃত থাকে। 
- কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমিক সক্রিয় করে এবং অনেক বিষাক্ত পদার্থকে প্রশমিত করে। 
- IgG ই একমাত্র অ্যান্টিবডি যা গর্ভাবস্থায় অমরা অতিক্রম করে মায়ের অর্জিত প্রতিরক্ষাকে ভ্রূণদেহে বাহিত করে। 

৫। ইমিউনোগ্লোবিউলিন M (IgM): 
- দেহের মোট IG-এর ৫-১০% IgM । 
- ABO ব্লাড গ্রুপের রক্তকণিকার অ্যান্টিবডি এ ধরনের। 
- IgM পাওয়া যায় রক্ত ও লসিকায়। 
- এটি কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমকে সক্রিয় করে এবং বহিরাগত কোষকে পরস্পরের সঙ্গে আসঞ্জিত করে দেয়। 
- অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া ও কিছু ভাইরাসের বিরুদ্ধে স্পেসিফিক ইমিউন সাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে IgG & IgM একত্রে কাজ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
১,৪৭৯.
সেলুলোজ উপস্থিত কোন ফলে?
  1. ক) বেল
  2. খ) আখের রস
  3. গ) আঙুর
  4. ঘ) খেজুর
সঠিক উত্তর:
ক) বেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বেল
ব্যাখ্যা

শ্বেতসার বা স্টার্চ: ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। এছাড়া আলু, রাঙা আলু বা কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়।
গ্লুকোজ: এটি চিনির তুলনায় মিষ্টি কম। এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর, খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়।
সুক্রোজ: আখের রস, চিনি, গুড়, মিছরি এর উৎস।
সেলুলােজঃ বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনাে ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলােজ থাকে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

১,৪৮০.
স্ট্রোক এর লক্ষণসমূহ হলো-
  1. চোখে ঝাপসা দেখা ও কথা বলতে সমস্যা অনুভব করা
  2. হঠাৎ দুর্বলতা অনুভব হওয়া বা শরীরের কোন অংশ অবশ হয়ে যাওয়া
  3. হঠাৎ তন্দ্রাচ্ছন্নতা হওয়া বা চলতে ফিরতে সমস্যা অনুভব করা
  4. উপরের সবগুলো বা যে কোন একটি
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো বা যে কোন একটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো বা যে কোন একটি
ব্যাখ্যা
স্ট্রোক:
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণকে চলতি কথায় স্ট্রোক (Stroke) বলা হয়।
- স্ট্রোক একটি স্নায়বিক রোগ।

স্ট্রোকের কারণ:
- সাধারণত ধমনিগাত্র শক্ত হয়ে যাওয়া ও উচ্চ রক্ত চাপজনিত কারণে মস্তিষ্কে রক্ষক্ষরণ হতে পারে।
- অনেক সময় অত্যধিক স্নায়ুবিক চাপ, যেমন- উত্তেজনা বা অধিক পরিশ্রমের কারণে এরূপ রক্তক্ষরণ হয়।
- নির্গত রক্ত জমাট বেঁধে মস্তিষ্কের ক্ষতি সাধন করে, রক্ত মস্তিষ্কের গহ্বরে ও মাথার খুলিতে ঢুকে গেলে রোগীর মৃত্যুও ঘটতে পারে।

লক্ষণ:
- প্রচন্ড মাথা ব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা ও কথা বলতে সমস্যা অনুভব করা, কয়েক মিনিটের মধ্যে রোগী সংজ্ঞা হারিয়ে যাওয়া, মাংস পেশি শিথিল হয়ে যাওয়া, শ্বসন ও নাড়ির স্পন্দন কমে যাওয়া, মুখমন্ডল লালবর্ণ ধারণ করা ইত্যাদি।

প্রতিরোধের উপায়:
- ধূমপান চিরতরে পরিহার করা।
- উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা।
- দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা, সুষম খাবার, পরিমিত ঘুম এবং ব্যায়াম করা।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৮১.
স্নেহ পদার্থ কোন ভিটামিনটির শোষণে সাহায্য করে?
  1. থায়ামিন
  2. রেটিনোয়িক এসিড
  3. এসকরবিক এসিড
  4. বায়োটিন
সঠিক উত্তর:
রেটিনোয়িক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেটিনোয়িক এসিড
ব্যাখ্যা
ভিটামিন- এ (রেটিনোয়িক এসিড), ভিটামিন- ডি (কোলিক্যালসিফেরল), ভিটামিন- ই (টকোফেরল) এবং ভিটামিন- কে স্নেহজাতীয় পদার্থে দ্রবণীয়।
তাই পরিপাক যন্ত্রে স্নেহ পদার্থ এই চারটি ভিটামিনের শোষনে সাহায্য করে। 
সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
১,৪৮২.
কোন গ্রন্থি কঠিন মানসিক ও শারিরীক চাপ থেকে পরিত্রানে সাহায্য করে?
  1. অ্যাডরেনাল গ্রন্থি
  2. থাইরয়েড গ্রন্থি
  3. পিটুইটারি গ্রন্থি
  4. থাইমাস গ্রন্থি
সঠিক উত্তর:
অ্যাডরেনাল গ্রন্থি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাডরেনাল গ্রন্থি
ব্যাখ্যা
অ্যাডরেনাল বা সুপ্ৰারেনাল গ্রন্থি (Adrenal gland): অ্যাডরেনাল গ্রন্থি কিডনির উপরে অবস্থিত। অ্যাডরেনাল গ্রন্থি দেহের অত্যাবশ্যকীয় বিপাকীয় কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
এই গ্রন্থি মূলত কঠিন মানসিক ও শারীরিক চাপ থেকে পরিত্রাণে সাহায্য করে। অ্যাডরেনালিন (adrenalin) এই গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমােনগুলাের একটি।
সোর্স: নৱম-দশম শ্রেণি, জীববিজ্ঞান
১,৪৮৩.
বিএমআই -এর মতে কোনটি মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তরের মান?
  1. ক) ৩০ - ৩৪.৯
  2. খ) ২৫ - ২৯.৯
  3. গ) ৩৫.০-৩৯.৯
  4. ঘ) ১৮.৫ - ২৪.৯
সঠিক উত্তর:
গ) ৩৫.০-৩৯.৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৩৫.০-৩৯.৯
ব্যাখ্যা
বিএমআই (Body Mass Index)
- বিএমআই (Body Mass Index) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে।
- শরীরের সুস্থতা ও স্থূলতার মান নির্ণয়ে এটি খুবই উপযোগী।
   বিএমআই = দেহের ওজন (কেজি)/দেহের উচ্চতা (মিটার)২ 

বিএমআই মান ⇒ করণীয়
• ১৮.৫ -এর নিচে ⇒ শরীরের ওজন কম। পরিমিত খাদ্যগ্রহণে ওজন বাড়াতে হবে।
• ১৮.৫-২৪.৯ ⇒ এটি সুস্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ মান
• ২৫.০-২৯.৯ ⇒ শরীরের ওজন অতিরিক্ত। ব্যায়াম করে অতিরিক্ত ওজন কমানো প্রয়োজন।
• ৩০.০-৩৪.৯ ⇒ মোটা হওয়ার প্রথম স্তর। বেছে খাদ্যগ্রহণ ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন।
৩৫.০-৩৯.৯ ⇒ মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তর। পরিমিত খাদ্য গ্রহন ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন।
• ৪০.০ -এর উপরে ⇒ অতিরিক্ত মোটাত্ব।মৃত্যুঝুঁকির আশঙ্কা। ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৮৪.
'ডলফিন' কী ধরণের প্রাণী?
  1. সরীসৃপ
  2. স্তন্যপায়ী
  3. উভচর
  4. ব্লাটোডিয়ানস
সঠিক উত্তর:
স্তন্যপায়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্তন্যপায়ী
ব্যাখ্যা
- Whales and dolphins are mammals and breathe air into their lungs, just like we do.
- They cannot breathe underwater like fish can as they do not have gills. They breathe through nostrils, called a blowhole, located right on top of their heads.
 
- This allows them to take breaths by exposing just the top of their heads to the air while they are swimming or resting under the water.
- After each breath, the blowhole is sealed tightly by strong muscles that surround it, so that water cannot get into the whale or dolphin’s lungs.

Source: uk.whales.org

- ডলফিন (শুশুক) ও তিমি সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী। কিন্তু নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য এগুলো মানুষের মতই বাতাস ব্যবহার করে।
- পানিতে এই প্রাণীগুলো নিঃশ্বাস নিতে পারে না, কারণ এগুলোর ফুলকা নেই।
১,৪৮৫.
পাকস্থলির প্রাচীরকে হাইড্রোক্লোরিক এসিডের ক্ষতিকর ভূমিকা থেকে রক্ষা করে কোনটি? 
  1. ট্রিপসিন
  2. মিউসিন
  3. পেপসিন
  4. টায়ালিন
সঠিক উত্তর:
মিউসিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিউসিন
ব্যাখ্যা
পাকস্থলি: 
- বক্ষ গহ্বরের ডায়াফ্রামের নীচে উদরের উপরের অংশে প্রায় ২৫ সে. মি. লম্বা ও ১৫ সে.মি. চওড়া বাঁকানো থলির মত অংশই পাকস্থলি। 
- একে কয়েকটি অংশে ভাগ করা যায়। 
যেমন- কার্ডিয়া, ফার্নডাস ও ছোট-বড় বাঁক, পাইরোলাস ও গ্রাসনালি। 
- পাকস্থলির প্রত্যেক অংশের মিউকোসা স্তরে প্রায় ৪০ মিলিয়ন (৪ কোটি) গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থাকে। 
- এই গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় দু'লিটার গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরিত হয়। 
- খাদ্যদ্রব্যকে সাময়িকভাবে জমা রাখে এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 
- হাইড্রোক্লোরিক এসিড জীবানুনাশক হিসেবে কাজ করে। 
- 'মিউসিন' পাকস্থলির প্রাচীরকে হাইড্রোক্লোরিক এসিডের ক্ষতিকর ভূমিকা থেকে রক্ষা করে। 
- গ্যাস্ট্রিক রসের এনজাইমগুলো হাইড্রোক্লোরিক এসিডের উপস্থিতিতে আমিষ ও স্নেহজাতীয় খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৮৬.
কোন প্রজাতি প্রাকৃতিক ক্লোনিং মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে? 
  1. ব্যাকটেরিয়া 
  2. শৈবাল
  3. প্রোটোজোয়া
  4. সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

ক্লোনিং পদ্ধতি: 
- প্রাকৃতিক ক্লোন বলতে একটি জীব অথবা এক দল জীবকে বুঝানো হয়, যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ প্রজননের দ্বারা। এগুলোর প্রকৃতি হয় পুরোপুরি তার মাতৃজীবের মত।
- একটি কোষ বা একগুচ্ছ কোষ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপত্তি হয় এবং সেগুলোর প্রকৃতি মাতৃকোষের মতো হয়, তখন তাকেও ক্লোন বলে। 
- প্রকৃতিতে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশির ভাগ প্রোটোজোয়া এবং ইস্ট ছত্রাক ক্লোনিং পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করে। 
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে তিন ধরনের ক্লোনিং করা হয়। 
যথা- 
১। জিন ক্লোনিং: একই জিনের অসংখ্য নকল তৈরি করাকে জিন ক্লোনিং বলে। জিন ক্লোনিং রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ টেকনোলজির সাহায্যে ঘটানো হয়।
২। সেল ক্লোনিং: একই কোষের অসংখ্য হুবহু একই রকমের কোষ সৃষ্টি করাকে সেল ক্লোনিং বলে। 
৩। জীব ক্লোনিং: দুটির পরিবর্তে একটিমাত্র জীব থেকে জিনগত হুবহু এক বা একাধিক জীব তৈরির পদ্ধতিকে জীব ক্লোনিং বলে। 
- ডলি নামক ভেড়া হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী, যা একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিম্বাণু থেকে যে প্রাণী সৃষ্টি হয়, তা হুবহু তার মাতার মতো হয়। 
- এই ক্লোনিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঁদুর, খরগোস, গরু ও শকুর এমনকি বানর পর্যন্ত ক্লোন করা হয়েছে। 
- সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে বলে রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং। যেমন- ‘ডলি’ নামক ভেড়া তার উদাহরণ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৪৮৭.
নিচের কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম? 
  1. পিঁপড়া
  2. লিমুলাস
  3. তেলাপোকা
  4. ম্যানিস
সঠিক উত্তর:
লিমুলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিমুলাস
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলাে জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনােরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনাে পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমগােত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী হচ্ছে জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলােবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আথ্রোপোডাগুলাে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৮৮.
'Adult Cell' ক্লোন করে কোন দেশে একটি ভেড়ার জন্ম হয়েছে -
  1. ক) যুক্তরাজ্যে
  2. খ) যুক্তরাষ্ট্রে
  3. গ) অস্ট্রোলিয়ায়
  4. ঘ) ফ্রান্সে
সঠিক উত্তর:
ক) যুক্তরাজ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যুক্তরাজ্যে
ব্যাখ্যা
- কোনো জীব থেকে সম্পূর্ণ অযৌন প্রক্রিয়ায় হুবহু নতুন জীব সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে ক্লোনিং বলে।
- ড. ইয়ান উইলমুট প্রথম ক্লোন পদ্ধতিতে একটি ভেড়ার জন্ম দেন।
- সর্বপ্রথম যুক্তরাজ্যে Adult Cell ক্লোন করে যে ভেড়ার জন্ম দেওয়া হয়েছিল তার নাম ডলি।
- ডব্লিউ.এইচ.ও (WHO) বর্তমানে মানব শিশুর ক্লোন নিষিদ্ধ করেছে।
১,৪৮৯.
মানবদেহে কত জোড়া 'অটোজোম' থাকে?
  1. ১ জোড়া
  2. ২৩ জোড়া
  3. ২২ জোড়া
  4. ৪৬ জোড়া
সঠিক উত্তর:
২২ জোড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২ জোড়া
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর : গ) ২২ জোড়া

• ক্রোমোজোম:
 
- ক্রোমোজোম হলো কোষের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত ডিএনএ (DNA) ও প্রোটিন দ্বারা গঠিত সুতার মতো বংশগতির বাহক, যা কোষ বিভাজনের সময় দৃশ্যমান হয়।
- এগুলো জিনের ধারক হিসেবে জীবের সমস্ত বংশগতীয় বৈশিষ্ট্য (যেমন- চোখের রং, উচ্চতা) এক প্রজন্মে থেকে অন্য প্রজন্মে সঞ্চারিত করে, তাই একে বংশগতির ভৌতভিত্তি বলা হয়। 
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি। 
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। 
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম। 
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। 
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। 
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। 
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।  

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৯০.
তেলাপোকার হৃৎপিণ্ড কত প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট?
  1. ৩ প্রকোষ্ঠ
  2. ৪ প্রকোষ্ঠ
  3. ৮ প্রকোষ্ঠ
  4. ১৩ প্রকোষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
১৩ প্রকোষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩ প্রকোষ্ঠ
ব্যাখ্যা
• তেলাপোকার হৃৎপিণ্ড ১৩ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট। এটি একটি নলাকার হৃৎপিণ্ড, যা পিঠের দিকে থাকে এবং প্রতিটি প্রকোষ্ঠে রক্ত প্রবাহিত হয়।

- ক্যাটল ফিস ও অক্টোপাসের হৃৎপিণ্ড আছে ৩টি করে।
- ব্যাঙের হৃৎপিণ্ড ৩ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট।
- মানুষের হৃৎপিণ্ড ৪ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট। উপরের দিকে দুটি অলিন্দ এবং নিচের দিকে দুটি নিলয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৯১.
রেচনতন্ত্রের মাধ্যমে শতকরা কত ভাগ রেচন পদার্থ নিষ্কাশিত হয়?
  1. ৫০ ভাগ
  2. ৬০ ভাগ
  3. ৭০ ভাগ
  4. ৮০ ভাগ
সঠিক উত্তর:
৮০ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮০ ভাগ
ব্যাখ্যা
মানুষের রেচন প্রক্রিয়া: 
- রেচন মানবদেহের একটি জৈবিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে দেহে বিপাক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থগুলো নিষ্কাশিত হয়। 
- দেহের এ সকল বর্জ্য পদার্থগুলো শরীরে কোন কারণে জমতে থাকলে নানা রকমের অসুখ দেখা দেয়, পরবর্তীতে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। 
- রেচন প্রক্রিয়ায় দেহের বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশিত হয়ে দেহ থেকে বের করে দিয়ে দেহের শারীরবৃত্তীয় ভারসাম্য রক্ষা করে। 
- শরীরের অতিরিক্ত পানি, লবণ, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও জৈব পদার্থগুলো সাধারণত রেচনের মাধ্যমে বাইরে বের করে দেওয়া হয়। 
- রেচন পদার্থ নিষ্কাশনের জন্য মানবদেহে সুনির্দিষ্ট অঙ্গ রয়েছে। 
- যে সব অঙ্গ রেচন কাজে অংশ গ্রহণ করে তাদেরকে রেচন অঙ্গ বলা হয়। এটি রেচনতন্ত্র নামে পরিচিত। 
- রেচনতন্ত্রের মাধ্যমে শতকরা ৮০% রেচন পদার্থ নিষ্কাশিত হয়। বাকি ২০% রেচন পদার্থ বিভিন্ন ক্রিয়াকর্মে উৎপন্ন ও বিভিন্ন অঙ্গের মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয়। 
- মানবদেহের রেচন অঙ্গের নাম বৃক্ক। 
- আর বৃক্কের একক হলো নেফ্রন। 

রেচন পদার্থ: 

- রেচন পদার্থ বলতে মূলত নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থকে বোঝায়। 
- রেচন পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে আসে। 
যেমন- নাইট্রোজেনঘটিত যৌগ অ্যামোনিয়া, ইউরিক অ্যাসিড, ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন, কার্বন ডাইঅক্সাইড, পিত্ত রঞ্জক, বিভিন্ন ধরনের লবণ এবং ঘাম ও পানি বিপাকীয় বর্জ্য পদার্থ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৯২.
কোন রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়?
  1. এইডস
  2. কলেরা
  3. বসন্ত
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বসন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসন্ত
ব্যাখ্যা

ভাইরাসের উপকারিতা:
- বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়
- ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়।
- ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
- ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে।
- কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে।
- জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা - ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান।
- লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৯৩.
খাদ্য হজম প্রক্রিয়ায় অন্ত্রের ক্রমসংকোচন- কোন ধরনের পেশীর উদাহরণ?
  1. ক) হৃদপেশী
  2. খ) অনৈচ্ছিক পেশী
  3. গ) ঐচ্ছিক পেশী
  4. ঘ) কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
খ) অনৈচ্ছিক পেশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অনৈচ্ছিক পেশী
ব্যাখ্যা

খাদ্য হজম প্রক্রিয়ায় অন্ত্রের ক্রমসংকোচন হল অনৈচ্ছিক পেশী
কারণ, এ ধরনের পেশীর সংকোচন এবং প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়। এ পেশীর কোষগুলো দেখতে মাকু আকৃতির। এদের গায়ে আড়াআড়ি দাগ থাকে না। মেরুদণ্ডী প্রাণীর রক্তনালীতে, পৌষ্টিকনালী ইত্যাদিতে অনৈচ্ছিক পেশী থাকে।
ঐচ্ছিক পেশী- এ ধরনের পেশী প্রাণী নিজেদের ইচ্ছামতো সংকোচন এবং প্রসারণ করতে পারে। যেমন- হাত ও পায়ের পেশী।
হৃদপেশী- এ ধরনের পেশী মেরুদণ্ডী প্রাণীদের হৃদপিণ্ডের এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশী। এ টিস্যুর কোষগুলো দেখতে নলাকৃতি ও আড়াআড়ি দাগযুক্ত। যেমন- হৃদপিণ্ডের পেশী।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

১,৪৯৪.
সামাজিক আচরণ প্রদর্শনকারী প্রাণি কোনটি?
  1. কুকুর
  2. বাবুই পাখি
  3. ব্যাঙ
  4. মৌমাছি
সঠিক উত্তর:
মৌমাছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌমাছি
ব্যাখ্যা

• সামাজিক আচরণ প্রদর্শনকারী প্রাণী হলো এমন প্রাণী যারা দলবদ্ধভাবে বসবাস করে, নিজেদের মধ্যে সংযোগ ও সহযোগিতা করে এবং দলগত কাজ করে। এই ধরনের প্রাণীর মধ্যে একে অপরের সাথে যোগাযোগ, খাদ্য সংগ্রহ, শিকার করা বা শত্রু থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সাধারণ। উপরের উদাহরণগুলোতে ব্যাঙ মূলত একা থাকে এবং সামাজিকতা খুব কম দেখায়। বাবুই পাখি কিছুটা দলবদ্ধ হয়, কিন্তু সামাজিক আচরণ সীমিত। কুকুর মানুষের সাথে এবং নিজেদের মধ্যে সামাজিক আচরণ দেখায়, তবে মৌমাছি সম্পূর্ণ সামাজিক প্রাণী হিসেবে পরিচিত। মৌমাছি ছত্রাকের মতো কাঠামো তৈরি, খাদ্য সংগ্রহ, সন্তান পালন এবং রানী মৌমাছির নেতৃত্বের মাধ্যমে সম্পূর্ণ সামাজিক জীবন পরিচালনা করে।
- তাই সঠিক উত্তর হলো ঘ) মৌমাছি।

 
• মৌমাছির সামাজিক আচরণ (Social Behavior of Honey Bee):
- মৌমাছি সামাজিক প্রাণী। একেকটি বড় পরিবার গড়ে বা বসতবদ্ধ হয়ে মৌচাকে বাস করে।
- প্রত্যেকটি কলোনিতে মৌমাছির ৩টি সম্প্রদায়ভুক্ত সদস্যরা সম্মিলিতভাবে সামাজিক উন্নয়নে নিরলস কাজ করে চলে।
- একটি মাত্র রাণীর নেতৃত্বে কয়েকশ ড্রোন (পুরুষ মৌমাছি) এবং ৬০-৮০ হাজার কর্মী মৌমাছি (বন্ধ্যা স্ত্রী মৌমাছি) সুশৃঙ্খলভাবে সামাজিক দায়িত্ব পালন করে।
- এই মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা মৌমাছি গোষ্ঠীর সকল মৌলিক চাহিদা মিটিয়ে প্রাণিজগতে অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
- মৌমাছিরা দৃঢ় সমাজবদ্ধ জীব হিসেবে বাস করে এবং একে সমাজবদ্ধ প্রাণীর আদর্শ উদাহরণ বলা হয়।

সুতরাং, সামাজিক আচরণ প্রদর্শনকারী প্রাণী হল মৌমাছি।  
সঠিক উত্তর: ঘ) মৌমাছি। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল এবং গাজী আসমত। 

১,৪৯৫.
নিচের কোনটি এককোষী প্রাণী? 
  1. মাছ 
  2. ব্যাঙ 
  3. হাইড্রা 
  4. অ্যান্টামিবা 
সঠিক উত্তর:
অ্যান্টামিবা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যান্টামিবা 
ব্যাখ্যা
কোষের ভিত্তিতে: 
- কোষের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। এককোষী প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ একটি মাত্র কোষ নিয়ে গঠিত তাদেরকে এককোষী প্রাণী বলে। 
যেমন- অ্যান্টামিবা (Entamoeba histolytica)। 

২। বহুকোষী প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে বহুকোষী প্রাণী বলে। 
যেমন- হাইড্রা (Hydra vulgaris)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৯৬.
মনেরা কিংডম এর অন্তর্ভুক্ত প্রাণী কোনটি?
  1. ক) ব্যাকটেরিয়া
  2. খ) এমিবা
  3. গ) ব্যাঙ
  4. ঘ) গরু
সঠিক উত্তর:
ক) ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়া এবং নীলাভ সবুজ শৈবাল- এগুলো মনেরা কিংডম এর অন্তর্ভুক্ত প্রাণী।

মনেরা রাজ্যের বৈশিষ্ট্য-
১. এরা একের পর এক কোষ লম্বালম্বিভাবে যুক্ত হয়ে ফিলামেন্ট গঠন করে।
২. কোষে ক্রোমাটিন বস্তু থাকে; কিন্তু নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নেই।
৩. এদের কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা নেই; কিন্তু রাইবোসোম আছে।
৪. কোষ বিভাজন দ্বি-বিভাজন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়।
৫. এরা সাধারণত শোষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য গ্রহণ করে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

১,৪৯৭.
অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড নয় কোনটি?
  1. লাইসিন
  2. ট্রিপেটোফ্যান
  3. গ্লাইসিন
  4. ভ্যালিন
সঠিক উত্তর:
গ্লাইসিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লাইসিন
ব্যাখ্যা
• অ্যামাইনো এসিড:
- ২০ টি অ্যামাইনো এসিডের মধ্যে ৮ টি অ্যামাইনো এসিডকে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড বলা হয়।
- যেমন- লাইসিন, ট্রিপেটোফ্যান, মিথিওনিন, ভ্যালিন (Valine), লিউসিন, আইসোলিউসিন, ফিনাইল অ্যালানিন ও থ্রিওনাইন।
- এই ৮ টি অ্যামাইনো এসিড ছাড়া অন্য সবগুলো অ্যামাইনো এসিড আমাদের শরীরে সংশ্লেষ করতে পারে।
- প্রাণিজ প্রোটিনে এই অপরিহার্য আটটি অ্যামাইনো এসিড বেশি থাকে বলে এর পুষ্টিমূল্য বেশি।
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়।
- অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাদ্যে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড থাকে না বলে এদের পুষ্টিমূল্য কম।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৯৮.
কাজের ভিত্তিতে প্রকৃত কোষ কয় ধরনের?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
ক) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২
ব্যাখ্যা
কাজের ভিত্তিতে প্রকৃত কোষ ২ ধরনের। যথা- দেহকোষ এবং জননকোষ (যেযন- শুক্রাণু এবং ডিম্বাণু)।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৯৯.
কোন রক্ত কণিকা অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ?
  1. অণুচক্রিকা
  2. শ্বেত রক্ত কণিকা
  3. ফাইব্রিনোজেন 
  4. লোহিত রক্ত কণিকা
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্ত কণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্ত কণিকা
ব্যাখ্যা

রক্ত (Blood): 
- রক্ত একটি অস্বচ্ছ তরল পদার্থ। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়। 
- রক্ত হৃদপিণ্ড, শিরা, উপশিরা, ধমনি, শাখা ধমনি ও কৈশিকনালি পথে আবর্তিত হয়। 
- এটি ক্ষারধর্মী, লবণাক্ত স্বাদযুক্ত পদার্থ। 
- সাধারণত হাড়ের লাল অস্থিমজ্জাতে (Bone marrow) রক্ত কণিকার জন্ম। 

রক্তের উপাদান (Blood Corpuscles): 
- রক্ত এক প্রকার লাল তরল যোজক কলা। 
- ইহা (ক) রক্তরস ও (খ) রক্ত কণিকার সমন্বয়ে গঠিত। 

(ক) রক্তরস (Plasma): 
- রক্তের বর্ণহীন তরল অংশকে রক্তরস বলে। 
- রক্তের শতকরা ৫৫ ভাগই রক্তরস। 
- রক্তরসের প্রধান উপাদান পানি, বাকি অংশে কিছু আমিষ, জৈব যৌগ ও সামান্য অজৈব লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। এর মধ্যে যে পদার্থগুলো থাকে তা হলো- আমিষ (অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন এবং ফাইব্রিনোজেন), গাড়ুকোজ, চর্বি কণা, খনিজ লবণ, ভিটামিন, হরমোন, অ্যান্টিবডি এবং বর্জ্য পদার্থ (কার্বন ডাইঅক্সাইড, ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ইত্যাদি)। 
- এছাড়া সোডিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম বাইকার্বনেট ও অ্যামাইনো অ্যাসিড সামান্য পরিমাণে থাকে। 

(খ) রক্ত কণিকা: 
- মানবদেহে তিন প্রকার রক্ত কণিকা দেখা যায়। 
যথা- ১। লোহিত রক্ত কণিকা, ২। শ্বেত রক্ত কণিকা এবং ৩। অণুচক্রিকা। 

লোহিত রক্ত কণিকা (R.B.C): 
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- লোহিত রক্ত কণিকা শ্বাসকার্যে অক্সিজেন (O2) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির দেহে এর সংখ্যা প্রায় ৫০ লক্ষ। পুরুষের তুলনায় মহিলাদের রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণ কম। তুলনামূলকভাবে শিশুদের দেহে এর পরিমাণ বেশি থাকে। 
- জীবনের প্রতি মুহুর্তে লোহিত রক্ত কণিকা ধ্বংস হয়, আবার সমপরিমাণে উপন্ন হয়। 
- হিমোগ্লোবিন এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ। লোহিত রক্ত কণিকায় এর উপস্থিতির কারণে রক্ত লাল দেখায়। রক্তে উপযুক্ত পরিমাণে হিমোগ্লোবিন না থাকলে রক্ত স্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা (Anemia) দেখা দেয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫০০.
মানুষের মৃত্যু হয় যদি রক্ত সঞ্চালন—
  1. ক) ৩ মিনিট বন্ধ থাকে
  2. খ) ৪ মিনিট বন্ধ থাকে
  3. গ) ৫ মিনিট বন্ধ থাকে
  4. ঘ) ৬ মিনিট বন্ধ থাকে
সঠিক উত্তর:
গ) ৫ মিনিট বন্ধ থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৫ মিনিট বন্ধ থাকে
ব্যাখ্যা
রক্ত সঞ্চালন:
- মানবদেহে রক্ত সংবহনতন্ত্রের প্রধান অংশগুলো হলো হৃদপিন্ড এবং রক্তনালী।
- ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা এ তিন ধরনের রক্তবাহী নালীগুলো প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে হৃদপিন্ডের সাথে যুক্ত থেকে রক্ত সঞ্চালনে অংশ নেয়। 
- মানুষের হৃদপিন্ড অবিরাম সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে ধমনি ও শিরার মাধ্যমে রক্ত পরিবহন করে।
- হৃদপিন্ডের স্বতঃস্ফুর্ত সংকোচনকে সিস্টোল (Systole) এবং স্বতঃস্ফুর্ত প্রসারণকে ডায়াস্টোল (Diastole) বলে। 
- হৃদপেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হয় তখন তা আর সঠিকভাবে সংকোচন ঘটাতে পারে না এবং হৃদপিণ্ডের স্পন্দন থেমে যায় ও ফলে মস্তিষ্ক বিনষ্ট হয় এবং দেহের বিভিন্ন অঞ্চলে রক্ত প্রেরণে অক্ষম হয়।
- এক্ষেত্রে পাঁচ মিনিটের মধ্যে স্পন্দন শুরু না হলে মস্তিষ্ক বিনষ্ট ও রোগীর মৃত্যু ঘটে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশনজনিত হার্ট অ্যাটাক থেকে রোগীর মৃত্যু ঘটে।
- ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশন শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যে যদি কার্ডিওপালমোনারি সঞ্চালন করা সম্ভব হয় তবে রোগী মৃত্যুর কবল থেকে রক্ষা পেতে পারে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।