বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাণিবিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,২২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাণিবিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ১৪ / ২৩ · ১,৩০১১,৪০০ / ২,২২৭

১,৩০১.
অরীয় প্রতিসাম্য প্রাণী কোনটি?
  1. অ্যামিবা
  2. ভলভক্স
  3. সমুদ্র তারা
  4. যকৃত কৃমি
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র তারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র তারা
ব্যাখ্যা
প্রতিসাম্য: 
- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে। 
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- 

ক. গোলীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)। 

খ. অরীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)। 

গ. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য: 
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa)। 

ঘ. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য: 
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)। 

ঙ. অপ্রতিসাম্য: 
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩০২.
মানুষের শরীরে মেলানিনের পরিমাণ যত বেশি হয় ত্বক তত -
  1. ক) সাদা হয়
  2. খ) কালো হয়
  3. গ) পুরো হয়
  4. ঘ) পাতলা হয়।
সঠিক উত্তর:
খ) কালো হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কালো হয়
ব্যাখ্যা
মেলানিন নামক এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ, যা মেলানোসাইট নামক কোষ থেকে তৈরী হয়,যার কারণে মানুষ বা অন্যান্য প্রাণীর চামড়া, চুল ও চোখের মণি, পাখির পালক কালো হয়।
মেলানিনের অনুপস্থিতিতে চামড়ায় কোন রঞ্জক পদার্থ থাকে না, ফলে চামড়া সাদা হয়।
১,৩০৩.
রক্তে কোন লাইপোপ্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকা ক্ষতিকর? 
  1. BDL
  2. LDL 
  3. HDL
  4. IDL
সঠিক উত্তর:
LDL 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
LDL 
ব্যাখ্যা

কোলেস্টেরল: 
- কোলেস্টরল এক ধরনের চর্বিজাতীয়, তৈলাক্ত স্টেরয়েড যা কোষের ঝিল্লি বা (সেল মেমব্রেনে)-এ পাওয়া যায় এবং যা সব প্রাণীর রক্তে পরিবাহিত হয়। 
- কোলেস্টেরল এক ধরনের কঠিন বা অসম্পৃক্ত অ্যালকোহল। 
- রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, হার্ট এ্যাটাক ইত্যাদি রোগের আশংকা বেড়ে যায়। 
- যকৃৎ এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে। 
- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে। 
- স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম। 
যথা- উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein- HDL) এবং নিম্ন ঘনত্ববিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein- LDL)। 
- রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩০৪.
নিচের কোন হরমোনকে 'Fight or Flight' হরমোন বলা হয়?
  1. কর্টিসল
  2. অক্সিটোসিন
  3. অ্যাড্রেনালিন
  4. ইনসুলিন
সঠিক উত্তর:
অ্যাড্রেনালিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাড্রেনালিন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) অ্যাড্রেনালিন

'Fight or Flight' হলো শরীরের একটি জরুরি প্রতিক্রিয়া (emergency response), যা বিপদের সময় (যেমন: হঠাৎ কোনো হুমকি বা ভয়ের মুখোমুখি হলে) শরীরকে তাৎক্ষণিকভাবে লড়াই করার বা পালানোর জন্য প্রস্তুত করে। এই প্রতিক্রিয়ার জন্য সবচেয়ে দায়ী হরমোন হলো অ্যাড্রেনালিন (Adrenaline), যাকে ইংরেজিতে Epinephrine-ও বলা হয়।

অ্যাড্রেনালিন যেভাবে কাজ করে-
যখন মস্তিষ্ক বিপদ অনুভব করে, তখন অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি (কিডনির উপরে থাকা ছোট গ্রন্থি) থেকে অ্যাড্রেনালিন খুব দ্রুত রক্তে ছেড়ে দেয়।
এটি মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে শরীরে নিচের পরিবর্তনগুলো ঘটায়:
⋅ হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায় (heart rate increases)। 
⋅ রক্তচাপ বাড়ে। 
⋅ ফুসফুসে বাতাসের প্রবাহ বাড়ে → শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয়। 
⋅ রক্তে শর্করা (গ্লুকোজ) ও চর্বি থেকে দ্রুত শক্তি উৎপন্ন হয়। 
⋅ পেশিতে রক্তপ্রবাহ বাড়ে (যাতে লড়াই বা দৌড়ানোর জন্য শক্তি পাওয়া যায়)। 
⋅ চোখের পিউপিল বড় হয় → দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হয়। 
⋅ হজম প্রক্রিয়া ও অন্যান্য অ-জরুরি কাজ থেমে যায় (যাতে শক্তি বাঁচে)। 


এই সব পরিবর্তন একসাথে ঘটে বলে আমরা হঠাৎ "এনার্জি বুস্ট" অনুভব করি — যেমন ভয় পেলে হাত-পা কাঁপা, হৃৎপিণ্ড দ্রুত চলা ইত্যাদি। এজন্যই অ্যাড্রেনালিনকে "Fight or Flight" হরমোন বলা হয়।

উৎস: জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩০৫.
কোন ক্লোনিং পদ্ধতিতে রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়? 
  1. সেল ক্লোনিং
  2. জীব ক্লোনিং
  3. জিন ক্লোনিং
  4. প্রাকৃতিক ক্লোনিং
সঠিক উত্তর:
জিন ক্লোনিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিন ক্লোনিং
ব্যাখ্যা
ক্লোনিং পদ্ধতি: 
- প্রাকৃতিক ক্লোন বলতে একটি জীব অথবা এক দল জীবকে বুঝানো হয়, যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ প্রজননের দ্বারা। এগুলোর প্রকৃতি হয় পুরোপুরি তার মাতৃজীবের মত। 
- একটি কোষ বা একগুচ্ছ কোষ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপত্তি হয় এবং সেগুলোর প্রকৃতি মাতৃকোষের মতো হয়, তখন তাকেও ক্লোন বলে। 
- প্রকৃতিতে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশির ভাগ প্রোটোজোয়া এবং ইস্ট ছত্রাক ক্লোনিং পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করে। 
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে তিন ধরনের ক্লোনিং করা হয়। 
যথা- 
১। জিন ক্লোনিং: একই জিনের অসংখ্য নকল তৈরি করাকে জিন ক্লোনিং বলে। জিন ক্লোনিং রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ টেকনোলজির সাহায্যে ঘটানো হয়। 
২। সেল ক্লোনিং: একই কোষের অসংখ্য হুবহু একই রকমের কোষ সৃষ্টি করাকে সেল ক্লোনিং বলে। 
৩। জীব ক্লোনিং: দুটির পরিবর্তে একটিমাত্র জীব থেকে জিনগত হুবহু এক বা একাধিক জীব তৈরির পদ্ধতিকে জীব ক্লোনিং বলে। 
- ডলি নামক ভেড়া হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী, যা একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিম্বাণু থেকে যে প্রাণী সৃষ্টি হয়, তা হুবহু তার মাতার মতো হয়। 
- এই ক্লোনিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঁদুর, খরগোস, গরু ও শকুর এমনকি বানর পর্যন্ত ক্লোন করা হয়েছে। 
- সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে বলে রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং। যেমন- ‘ডলি’ নামক ভেড়া তার উদাহরণ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩০৬.
DNA এর ডাবল হেলিক্স স্ট্রাকচার কে আবিষ্কার করেন?
  1. ক) মেরি কুরি ও পিয়েরে কুরি
  2. খ) রবার্ট ব্রাউন
  3. গ) ওয়াটসন ও ক্রিক
  4. ঘ) রবার্ট হুক
সঠিক উত্তর:
গ) ওয়াটসন ও ক্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ওয়াটসন ও ক্রিক
ব্যাখ্যা
- ডি এন এ এর পূর্ণরূপ হল ডিঅক্সি রাইবো নিউক্লিক এসিড।
- নিউক্লিয়াসের  ক্রোমোজোমে এর অবস্থান।
- ১৯৫৩ সালে জেমস ওয়াটসন এবং ফ্রানসিস ক্রিক ডি এন এ অনুর গঠন বের করতে সক্ষম হয়েছিলো।
- এই আবিস্কারের জন্য তাদেরকে ১৯৬২ সালে নোবেল পুরষ্কার দেয়া হয়।
- ডি এন এর গঠন ডাবল হেলিক্স ধরনের যার প্রতি প্যাঁচের দৈর্ঘ্য ৩৪ আর্মস্ট্রং এবং ব্যাস হলো ২০ আর্মস্ট্রং।

উৎস: একাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান বই।
১,৩০৭.
মানুষের হৃদপিন্ড কয় প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট?
  1. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
মানব হৃদপিন্ড:
- মানুষের হৃদপিণ্ড ৪ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট।
- দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয়।
- ডান অলিন্দ ও ডান নিলয়ের সংযোগস্থলে থাকে ট্রাইকাসপিড কপাটিকা এবং বাম আলিন্দ ও বাম নিলয়ের সংযোগস্থলে থাকে ডাইকাসপিড কপাটিকা।
- আর হৃদপিণ্ডের প্রাচীরের স্তর ৩টি।
যথা- এপিকার্ডিয়াম, মায়োকার্ডিয়াম ও এন্ডোকার্ডিয়াম।
- হৃদপিণ্ডের বাইরের আবরণকে পেরিকার্ডিয়াম বলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১,৩০৮.
নিচের কোনটি অস্থির বৈশিষ্ট্য?
  1. কোষগুলো গোলাকৃতির
  2. নিরেট অস্থিতে হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র থাকে
  3. বাইরের আবরণকে পেরিকনড্রিয়াম বলে
  4. স্থিতিস্থাপক
সঠিক উত্তর:
নিরেট অস্থিতে হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরেট অস্থিতে হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র থাকে
ব্যাখ্যা


অস্থির বৈশিষ্ট্য:
- এক ধরনের অনমনীয়, কঠিন এবং ভঙ্গুর কঙ্কাল যোজক কলা
-  স্থিতিস্থাপক নয়।
- ম্যাট্রিক্স কঠিন। এতে অস্টিওব্লাস্ট ও অষ্টিওক্লাস্ট নামক অস্থিকোষ থাকে।
-  কোষগুলো মাকড়সার জালের মতো।
- বাইরের আবরণকে পেরিঅস্টিয়াম বলে।
- এদের মজ্জাগহ্বর থাকে।
- নিরেট অস্থিতে হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র থাকে।

তরুণাস্থির বৈশিষ্ট্য:
- অর্ধকঠিন এক ধরনের নমনীয় যোজক কলা।
- স্থিতিস্থাপক।
- ম্যাট্রিক্সকে কনড্রিন বলে। এটা কঠিন নয়। ম্যাট্রিক্সে কনডিওসাইট নামক কোষ থাকে।
- কোষগুলো গোলাকৃতির।
- বাইরের আবরণকে পেরিকনড্রিয়াম বলে।
- এদের কোন ফাঁকা স্থান বা মজ্জাগহ্বর থাকে না।
- কোষে হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র থাকে না।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচ এস সি, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩০৯.
পানিতে দ্রবীভূত ভিটামিন কোনগুলো?
  1. A ও D
  2. B ও C
  3. D ও E
  4. K ও E
সঠিক উত্তর:
B ও C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
B ও C
ব্যাখ্যা

পানিতে দ্রবীভূত ভিটামিনগুলো হচ্ছে B ও C

ভিটামিন শোষণ:
• চর্বিতে দ্রবীভূত ভিটামিন।
- চর্বিতে দ্রবীভূত ভিটামিন গুলো হচ্ছে A, D, E, K।
- এগুলো ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাইয়ে শোষিত হয়।
- সাধারণ পিত্তলবণ এ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।

• পানিতে দ্রবীভূত ভিটামিন:
- পানিতে দ্রবীভূত ভিটামিন C ও কয়েক প্রকার B ভিটামিন।
- ব্যাপন ও সক্রিয় শোষণ প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্রান্ত্রের ইলিয়াম অংশে শোষিত হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।

১,৩১০.
পিত্তরস তৈরি করে-
  1. ক) যকৃৎ
  2. খ) পিটুইটারি গ্রন্থি
  3. গ) অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি
  4. ঘ) গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি
সঠিক উত্তর:
ক) যকৃৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যকৃৎ
ব্যাখ্যা
যকৃৎ:
- মধ্যচ্ছদার নিচে উদরগহ্বরের উপরে পাকস্থলীর ডান পাশে যকৃৎ অবস্থিত।
- এটি মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি।
- প্রকৃতপক্ষে চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে যকৃৎ গঠিত।
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়।

যকৃতের কাজ:
- যকৃৎ পিত্তরস তৈরি করে।
- যকৃৎ উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজদেহে গ্লাইকোজেনরূপে সঞ্চয় করে রাখে।
- রক্তে কখনো গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে যকৃতের সঞ্চিত গ্লাইকোজেনের কিছুটা অংশ গ্লুকোজে পরিণত হয় এবং রক্তস্রোতে মিশে যায়। এভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩১১.
কোন খাদ্য উপাদান মানবদেহে অল্প পরিমাণে প্রয়োজন যাদের অণুখাদ্য বলা হয়? 
  1. ফ্যাট 
  2. প্রোটিন 
  3. শর্করা 
  4. ভিটামিন 
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন 
ব্যাখ্যা

খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্যের যেসব জৈব ও অজৈব উপাদান দেহের বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করে তাদের খাদ্য উপাদান বা Nutrients বলে।
- দেহের বিভিন্ন চাহিদা পূরণের জন্য ভিন্ন ভিন্ন খাদ্য উপাদান প্রয়োজন হয়। 
- খাদ্য উপাদান ৬ টি। 
 যথা- 
১। আমিষ বা প্রোটিন, 
২। শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট, 
৩। স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাট, 
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ, 
৫। খনিজ লবণ বা মিনারেল এবং 
৬। পানি। 

- আমিষ, শর্করা ও স্নেহ পদার্থকে খাদ্যের প্রধান বা মূল উপাদান (Macro nutrients) বলা হয়। কারণ, এ উপাদানগুলো মানবদেহে অধিক পরিমাণে প্রয়োজন হয়। 
- ভিটামিন ও খনিজ লবণকে সহায়ক খাদ্য উপাদান বা অণুখাদ্য (Micro Nutrients) বলা হয়। কারণ, এ খাদ্য উপাদানগুলো মানবদেহে অতি অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হয়। 
- যেকোনো খাদ্য উপদানই প্রয়োজনের তুলনায় কম বা বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে শারীরিক জটিলতা ও অসুস্থতা দেখা দেয়। 
- খাদ্য উপাদান পানি জীবনধারণের অত্যবশ্যকীয় উপাদান কারণ দেহের ৭০ শতাংশই পানি। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩১২.
বাংলাদেশ কোন প্রাণিভৌগলিক অঞ্চলে অবস্থিত?
  1. ক) ওরিয়েন্টাল
  2. খ) নিওট্রপিক্যাল
  3. গ) নিআর্কটিক
  4. ঘ) প্যালিআর্কটিক
সঠিক উত্তর:
ক) ওরিয়েন্টাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ওরিয়েন্টাল
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গপুর, ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদি এলাকাসমূহ ওরিয়েন্টাল প্রাণিভৌগলিক অঞ্চলে অবস্থিত।
- দক্ষিণ আমেরিকা ও অধিকাংশ মধ্য আমেরিকা এলাকা নিওট্রপিক্যাল প্রাণিভৌগলিক অঞ্চলে অবস্থিত।
- উত্তর আমেরিকার অধিকাংশ, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড নিআর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত।
- সম্পূর্ণ ইউরোপ, আফ্রিকার উত্তরাংশ ইত্যাদি এলাকা প্যালিআর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৩১৩.
অবস্থান, গঠন এবং কাজের ভিত্তিতে পেশী টিস্যু-
  1. ক) ২ ধরনের
  2. খ) ৩ ধরনের
  3. গ) ৪ ধরনের
  4. ঘ) ৫ ধরনের
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ ধরনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ ধরনের
ব্যাখ্যা

• অবস্থান, গঠন এবং কাজের ভিত্তিতে পেশী টিস্যু ৩ ধরনের। যথাঃ
- ঐচ্ছিক পেশি,
- অনৈচ্ছিক পেশি এবং
- হৃদপেশি।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩১৪.
কোনটি প্রাণীকোষে অনুপস্থিত?
  1. ক) মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. খ) প্লাস্টিড
  3. গ) লাইসোজোম
  4. ঘ) নিউক্লিয়াস
  5. ঙ) ক্রোমাটিন তন্তু
সঠিক উত্তর:
খ) প্লাস্টিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্লাস্টিড
ব্যাখ্যা
কোষপ্রাচীর ও প্লাস্টিড উদ্ভিদকোষে থাকে কিন্তু প্রাণীকোষে থাকে না।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই।
১,৩১৫.
কোন প্রাণীতে হিমোসিল নামক দেহগহ্বর থাকে?
  1. তেলাপোকা
  2. ব্যাঙ
  3. হাইড্রা
  4. মাছ
সঠিক উত্তর:
তেলাপোকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেলাপোকা
ব্যাখ্যা
Arthropoda পর্ব: 
- এরা সন্ধিপদী প্রাণী। 
- এদের প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ১২,৫৭,০৪০। 
- ১৮৪৫ সালে Siebold এ পর্বের নামকরণ করেন। 

Arthropoda পর্বের বৈশিষ্ট্য:  
- এ পর্বের নামকরণ দুটি গ্রিক শব্দ Arthros সন্ধিযুক্ত ও Podos = পদ হতে গৃহীত হয়েছে। 
১। আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের দেহে তিন ততোধিক জোড়া সন্ধিযুক্ত পার্শ্বীয় পা বা উপাঙ্গ থাকে (সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ এ পর্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য)। 
২। এরা ত্রিস্তরী, দ্বিপার্শ্বীয়ভাবে প্রতিসম, দেহ ট্যাগমায় বিভক্ত। 
৩। দেহ পুরু কিউটিকলযুক্ত কাইটিন আবরণ দ্বারা আবৃত ও বাহ্যিকভাবে খণ্ডায়িত। 
৪। মাথায় এন্টেনা ও একজোড়া পুঞ্জাক্ষি থাকে। 
৫। এই পর্বের প্রাণীতে হিমোসিল নামক দেহগহ্বর থাকে, যে সিলোম বক্ত দ্বারা পূর্ণ থাকে তাকে হিমোসিল (hemocoel) বলে। 
৬। রক্তসংবহনতন্ত্র মুক্ত ধরদের। 
৭। মালপিজিয়ান নালিকার মাধ্যমে রেচন ক্রিয়া সম্পন্ন করে। 
উদাহরণ: Oxya chinensis (ঘাস ফড়ি), Periplaneta americana (তেলাপোকা), Penaeus monodon (বাগদা চিংড়ি), Papilio xuthus (প্রজাপতি) ইত্যাদি। 


উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
১,৩১৬.
নিচের কোনটিকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়?
  1. ক) পিঁপড়া
  2. খ) শুশুক
  3. গ) লিমুলাস
  4. ঘ) উটপাখি
সঠিক উত্তর:
গ) লিমুলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লিমুলাস
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম:
কতগুলাে জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনােরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনাে পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমগােত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে।
লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণি, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ।

অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলােবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ।

প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আথ্রোপোডাগুলাে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

সূত্র: নব জীবনের সুচনা, বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩১৭.
জিনের যে ভিন্ন ভিন্ন রূপ অভিব্যক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তাকে কী বলা হয়?
  1. অ্যালিল
  2. জেনোটাইপ
  3. ক্রোমোজোম
  4. নিউক্লিওটাইড
সঠিক উত্তর:
অ্যালিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালিল
ব্যাখ্যা
অভিব্যক্তি (Evolution): 
- জীব সৃষ্টির মূলেই রয়েছে জৈব অভিব্যক্তি বা Evolution. 
- ল্যাটিন শব্দ 'Evolveri' থেকে Evolution শব্দটি এসেছে। 
- ইংরেজ দার্শনিক এবং শিক্ষাবিদ হার্বার্ট স্পেনসার (Herbert Spencer) প্রথম ইভোলিউশন কথাটি ব্যবহার করেন। 
- এক সময় বলা হতো, যে ধীর, অবিরাম এবং চলমান পরিবর্তন দিয়ে কোনো সরলতর নিম্নশ্রেণির জীব থেকে জটিল এবং উন্নততর নতুন প্রজাতির বা জীবের উদ্ভব ঘটে, তাকে বিবর্তন বা অভিব্যক্তি বা ইভোলিউশন বলে। 
- তবে জৈব অভিব্যক্তির সব সময় ধীর গতিতে ঘটে না, পরিবেশের কারণে অনেক সময় দ্রুত ঘটতে দেখা গেছে। শুধু তা-ই নয়, জৈব অভিব্যক্তির কারণে জটিল জীব সরলতর রূপ নিয়েছে তারও উদাহরণ আছে। 
- মেক্সিকান কেভ ফিশ পানির উপরের স্তর থেকে সরে গিয়ে গভীর পানিতে অন্ধকার গুহায় বাস করতে শুরু করার কারণে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। কাজেই এখন ইভোলিউশনের সংজ্ঞা জিনের অ্যালিলের মাধ্যমে দেওয়া হয় (একটি নির্দিষ্ট জিন একাধিকভাবে থাকতে পারে, তখন সেই জিনটির ভিন্ন ভিন্ন রূপকে তার অ্যালিল বলা হয়)। 
- কার্টিস-বার্নস (1989) প্রদত্ত আধুনিক সংজ্ঞা অনুসারে, ইভোলিউশন বা জৈব অভিব্যক্তি হলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে নির্দিষ্ট এলাকায় এক কিংবা কাছাকাছি প্রজাতির অ্যালিল ফ্রিকোয়েন্সির পরিবর্তন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩১৮.
নিচের কোনটি পৌষ্টিকনালির অংশ নয়?
  1. মুখগহ্বর
  2. গলবিল
  3. পাকস্থলী
  4. প্লিহা
সঠিক উত্তর:
প্লিহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লিহা
ব্যাখ্যা
পৌষ্টিকনালি:
- মুখগহ্বর থেকে পায়ুপথ পর্যন্ত বিস্তৃত এই নালিপথ কোথাও সরু আবার কোথাও প্রশস্ত।
- এর প্রধান অংশগুলো নিম্নরূপ:
• মুখ, 
• মুখগহ্বর, 
• দাঁত, 
• গলবিল, 
• অন্ননালি, 
• পাকস্থলী, 
• অন্ত্র,
• পায়ু। 

অন্যদিকে, 
- প্লিহা হলো রেটিকুলোএন্ডোথেলিয়াল তন্ত্রের অংশ

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩১৯.
দুইটি বা ততোধিক নিউরন বা স্নায়ুকোষের সংযোগস্থলকে কি বলে?
  1. ক) টেলোডেনড্রিয়া
  2. খ) ডেনড্রাইট
  3. গ) অ্যাক্সন
  4. ঘ) সিন্যাপস
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিন্যাপস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিন্যাপস
ব্যাখ্যা
দুইটি বা ততোধিক নিউরনের সংযোগস্থলকে বলে সিন্যাপস, যেখানে এদের সংকেত বিনিময় হয়। মূলত একটি নিউরনের অ্যাক্সন এবং অপর একটি নিউরনের ডেনড্রাইটের মিলনস্থলকে সিন্যাপস বলে। সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১,৩২০.
একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের যকৃতের ওজন প্রায় -
  1. ০.৫-১.০ কেজি
  2. ২.০-৩.০ কেজি
  3. ১.৫-২.০ কেজি
  4. ৪.০-৫.০ কেজি
সঠিক উত্তর:
১.৫-২.০ কেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১.৫-২.০ কেজি
ব্যাখ্যা
যকৃত (Liver): 
- মানুষের মধ্যচ্ছদার ঠিক নিচে পাকস্থলির ডানদিকে বিস্তৃত গাঢ় লালচে বর্ণের ত্রিকোণাকার ও পিত্তরস নিঃসরণকারী গ্রন্থিকে যকৃত বলা হয়। 
- যকৃতের বেশির ভাগ অংশ দেহের ডানদিকে অবস্থিত। 
- যকৃত মানবদেহের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ গ্রন্থি। 
- একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের যকৃতের ওজন প্রায় ১.৫-২.০ কেজি। 
- এটি চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে বিভক্ত। 
- ডান খণ্ডটি অপেক্ষাকৃত বড় এবং এই খণ্ডের নিচে পেয়ালার মতো পিত্তরস ধারণকারী একটি থলে থাকে, একে পিত্তথলি বলে। 
- পিত্তথলি ৭-৮ সে.মি. লম্বা। পিত্তথলি থেকে পিত্ত ডিওডেনামে উন্মুক্ত হয়। 
- পিত্তরস হলদে সবুজ বর্ণের একটি ক্ষার জাতীয় তরল পদার্থ। 
- পিত্তরসে শতকরা ৮০% পানি ও ২০% অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান থাকে। 

কাজ: 
- যকৃত থেকে ক্ষরণকৃত পিত্তরসে, খাদ্য পরিপাকে সাহায্যকারী কোন এনজাইম না থাকায় খাদ্য পরিপাকে এদের প্রত্যক্ষ কোন ভূমিকা নেই। 
- তবে এরা শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন প্রভৃতি খাদ্যকে পরিপাকের পর রক্তস্রোতে পরিবাহিতকরণে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩২১.
হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় কোনটি?
  1. এনজিওপ্লাস্টি
  2. রেডিও আইসোটোপ
  3. এমআরআই
  4. উপরের সবকয়টি
সঠিক উত্তর:
এনজিওপ্লাস্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এনজিওপ্লাস্টি
ব্যাখ্যা
• হৃদরোগের চিকিৎসায়  "এনজিওপ্লাস্টি" ব্যবহৃত হয়।

• এনজিওপ্লাস্টি:

- এনজিও (Angio) শব্দের অর্থ হল রক্তনালী এবং প্লাস্টি (Plasty) শব্দের অর্থ হল ঢিলা করে দেওয়া।
- এই পদ্ধতিতে হৃৎপিন্ডের রক্তনালীর মধ্যের চর্বি জমে সরু হয়ে যাওয়া পথ প্রশস্থ বা ঢিলা করে দেওয়া হয়।
- যে পথে এনজিওগ্রাম করা হয়েছিল সেই একই পথে ক্যাথেটারের সংগে বেলুন প্রবেশ করানো হয়।
- তারপর ওই বেলুন ফুলিয়ে করনারী ধমনীর সরু অংশকে প্রশস্থ করা হয়।
- এতে করে ধমনীর ভেতরের রক্তের প্রবাহ স্বাভাবিক হয়।
- ধমনীর এই প্রশস্থতা ধরে রাখতে রিং বসানো হয়।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• এমআরআই:
- এমআরআই যন্ত্রে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের কোনো স্থানের বা অঙ্গের বিস্তৃত প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়।

• রেডিও আইসোটোপ:
- রেডিও আইসোটোপ ব্যবহৃত হয় গলগণ্ড রোগ নির্ণয়ে।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ব্রিটানিকা।
১,৩২২.
বহিঃশ্বসন কোথায় ঘটে? 
  1. পাকস্থলীতে
  2. রক্তনালিতে
  3. কোষের অভ্যন্তরে
  4. ফুসফুসের অ্যালভিওলাসে
সঠিক উত্তর:
ফুসফুসের অ্যালভিওলাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুসফুসের অ্যালভিওলাসে
ব্যাখ্যা
শ্বসন: 
- যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় প্রাণী বিরামহীনভাবে পরিবেশ থেকে অক্সিজেন (O2) গ্রহণ করে, সে অক্সিজেনের সাহায্যে কোষ মধ্যস্থ সরল খাদ্যকে জারিত করে খাদ্যস্থিত স্থিতিশক্তিকে গতিশক্তিতে রূপান্তর করে এবং এতে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডকে (CO2) দেহ হতে ত্যাগ করে তাকে শ্বসন (Respiration) বলে।
- শ্বসনের দুইটি পর্যায় থাকে। 
যথা- ১। বহিঃশ্বসন (External respiration) ও ২। অন্তঃশ্বসন (Internall respiration) । 
- ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের বায়ুর সাথে ফুসফুসীয় রক্ত জালিকার মধ্যে প্রশ্বাস ও নিশ্বাসের সময় যে গ্যাসীয় আদান প্রদান হয় তাকে বহিঃশ্বসন বলে। 
- অপরদিকে রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন (O2) দেহের কলাকোষে প্রবেশ করে কোষস্থ খাদ্যের সাথে বিক্রিয়া করে শক্তি, কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) ও পানি উৎপাদন করার প্রক্রিয়াকে অন্তঃশ্বসন বলে। 
- এতে নিম্নের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে- 

- যে সকল অঙ্গ সম্বিলিতভাবে দেহ ও প্রকৃতির মধ্যে শ্বসন গ্যাস (O2 ও CO2) বিনিময় প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে তাদের সমষ্টিকে শ্বসনতন্ত্র বলে। 
- শ্বসনতন্ত্র রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং বিপাকে সৃষ্ট গ্যাসীয় বর্জ্য অপসারণ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩২৩.
Master gland বলা যা কোনটিকে?
  1. অগ্ন্যাশয়
  2. যকৃত
  3. অ্যাড্রিনাল
  4. পিটুইটারী
সঠিক উত্তর:
পিটুইটারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিটুইটারী
ব্যাখ্যা

• Master gland (মাস্টার গ্রন্থি):
- মানবদেহের যে গ্রন্থিটি শরীরের অন্যান্য অন্তঃস্রাবী গ্রন্থিগুলোর কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে Master gland বলা হয়।
- এটি বিভিন্ন হরমোন নিঃসরণ করে অন্যান্য গ্রন্থিকে উদ্দীপিত বা নিয়ন্ত্রিত করে।
- দেহের বৃদ্ধি, বিপাক, প্রজনন ও হরমোনীয় সমন্বয়ে এই গ্রন্থিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
- এজন্য একে অন্তঃস্রাবী তন্ত্রের “নিয়ন্ত্রক গ্রন্থি” বলা হয়।

• অগ্ন্যাশয় (Pancreas):
- অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন নিঃসরণ করে।
- এটি মূলত রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
- এটি Master gland নয়।

• যকৃত (Liver):
- যকৃত দেহের বিপাকীয় কাজ, পিত্তরস উৎপাদন ও বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশনে সাহায্য করে।
- এটি হরমোন নিয়ন্ত্রণকারী প্রধান গ্রন্থি নয়।
- তাই একে Master gland বলা হয় না।

• অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি (Adrenal gland):
- অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি অ্যাড্রিনালিন, কর্টিসল ইত্যাদি হরমোন নিঃসরণ করে।
- এটি দেহের স্ট্রেস ও জরুরি অবস্থায় কাজ করে।
- কিন্তু এটি অন্য গ্রন্থিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে না।

• পিটুইটারী গ্রন্থি (Pituitary gland):
- পিটুইটারী গ্রন্থি শরীরের প্রায় সব অন্তঃস্রাবী গ্রন্থির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে।
- এটি থাইরয়েড, অ্যাড্রিনাল, গনাড ইত্যাদি গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে।
- এই কারণেই একে Master gland বলা হয়।

সঠিক উত্তর: ঘ) পিটুইটারী। 

সূত্র - sciencedirect journal.

১,৩২৪.
মানুষের রক্তের pH মান সাধারণত কত?
  1. ৭.৩–৭.৪
  2. ৬.৫–৭.০
  3. ৫.৮–৬.০ 
  4. ৮.৫–৮.৯
সঠিক উত্তর:
৭.৩–৭.৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭.৩–৭.৪
ব্যাখ্যা

রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা। 
- রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। 
- রক্ত সামান্য ক্ষারীয়, এর pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪ । 
- সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬°-৩৮° সেলসিয়াস। 
- অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত। 
- একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে যা শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 

রক্তের উপাদান: 
- মানব দেহের রক্ত প্রধানত রক্তরস ও রক্ত কণিকা নিয়ে গঠিত। 
- স্থিতি অবস্থায় কিছুক্ষণ রাখলে রক্ত দুই স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। 
- উপরের হালকা হলুদ বর্ণের প্রায় ৫৫% যে অংশ থাকে তাকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে এবং নিচের গাঢ়তর বাকি ৪৫% অংশকে রক্ত কণিকা (Blood corpuscles) বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে রক্ত কণিকাগুলো রক্তরসে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতিতে রক্ত লাল দেখায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩২৫.
মানুষের দেহে কয় জোড়া লালাগ্রন্থি আছে?
  1. ক) ২ জোড়া
  2. খ) ৩ জোড়া
  3. গ) ৪ জোড়া
  4. ঘ) ৫ জোড়া
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ জোড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ জোড়া
ব্যাখ্যা
মানুষের দেহে তিন জোড়া লালাগ্রন্থি রয়েছে।

- এদের মধ্যে দুই কানের সামনে ও নিচে এক জোড়া, চোয়ালের নিচে এবং চিবুকের নিচে এক জোড়া করে মোট দুই জোড়া, এই তিন জোড়া লালাগ্রন্থি রয়েছে। 
- লালা হল এটি আর্দ্র রাখার জন্য মুখের মধ্যে প্রকাশ করা হয় এবং এনজাইম আছে যা খাদ্য ভেঙ্গে শুরু হয় ।
- এছাড়া মুখ ও গলার সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে লালা ।
- জিভের নীচে, মুখের পাশে (গালে এলাকায়) শুধু কানের সামনে, দাঁত ও নরম তালু বরাবর উপরের চোয়ালের এলাকায়, পাশাপাশি জাহাড়ের নীচে থাকা বিভিন্ন ধরনের লালা গ্রন্থির স্তবক রয়েছে ।
- উচ্চ পরিপাক নালীর শ্লেষ্মা (টিস্যু আস্তরণের) এবং শ্বাসনালী অংশ মধ্যে লালা গ্রন্থি ছোট ক্লাস্টার উপস্থিত হয় ।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৩২৬.
অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে কোন অবস্থা দেখা দেয়? 
  1. থ্রম্বোসাইটোসিস
  2. লিউকোসাইটোসিস
  3. পারপুরা 
  4. পলিসাইথেমিয়া
সঠিক উত্তর:
পারপুরা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারপুরা 
ব্যাখ্যা

- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে যে অস্বাভাবিক অবস্থা দেখা দেয়, তা হলো থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া (Thrombocytopenia), যার একটি উদাহরণ হলো রক্তক্ষরণজনিত রোগ পারপুরা (Purpura)

- মানুষের রক্ত লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতির কারণে লাল রঙের হয়। 
- রক্তের বিভিন্ন উপাদানের ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা তৈরি হয়। 
যেমন-
- রক্তের বিভিন্ন অস্বাভাবিক অবস্থা নিম্নে দেওয়া হলো- 
১। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে অ্যানিমিয়া হয়। 

২। লিউকেমিয়া: 
- শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে গেলে, একে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলা হয়। 

৩। পলিসাইথেমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পেলে একে পলিসাইথেমিয়া বলে। 

৪। লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা ২০,০০০-৩০,০০০ হলে একে লিউকোসাইটোসিস বলা হয়। নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এটি হতে পারে। 

৫। পারপুরা: 
- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে পারপুরা হয়। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা দেখা দিতে পারে। 

৬। থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে গেলে একে থ্রম্বোসাইটোসিস বলা হয়। 
- রক্তনালির অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাধাকে থ্রম্বোসিস বলা হয়। 
- হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্ত নালিতে রক্ত জমাট বাধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

৭। থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া হলো বংশগত রক্তের রোগ, যা সাধারণত শিশু অবস্থায় শনাক্ত হয়। এ রোগে হিমোগ্লোবিনের গঠনগত ত্রুটির কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়। 
- এই রোগীকে সাধারণত প্রতি ৩ মাস অন্তর রক্ত সঞ্চালন করতে হয়, তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে রক্তশূন্যতার হার কমতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩২৭.
কোনটি গঠনমূলক খাদ্য উপাদান?
  1. রাফেজ
  2. ভিটামিন
  3. আমিষ
  4. খনিজ লবণ
সঠিক উত্তর:
আমিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমিষ
ব্যাখ্যা

খাদ্যের প্রধান উপাদানগুলোর মধ্যে আমিষ (Protein)-কে দেহ গঠনকারী বা গঠনমূলক উপাদান বলা হয়। কারণ এটি শরীরের কোষ গঠন, টিস্যু মেরামত, পেশি তৈরি এবং বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।
- অন্যদিকে, ভিটামিন ও খনিজ লবণ মূলত দেহ সংরক্ষক উপাদান (Protective foods)।
- রাফেজ হজমে সহায়তা করে।

• খাদ্য উপাদান:
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে।
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়।
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়।

যথা:
১। আমিষ: আমিষ দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পুরণ করে।
২। শর্করা: শর্করা দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে।
৩। স্নেহ: স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে।

এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন।
যেমন:
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ: ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়।
৫। খনিজ লবণ: খনিজ লবণ দেহের বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়।
৬। পানি: দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে।
- খাদ্য উপাদানের বাইরে আরও একটি উপাদান রয়েছে, যেটি কোনো পুষ্টি না জোগালেও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান।
৭। রাফেজ: রাফেজ বা খাদ্য আঁশ (Fibre) পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩২৮.
প্রতিটি বৃক্ক স্বচ্ছ ও পাতলা কোন ধরনের ঝিল্লী দ্বারা আবৃত থাকে?
  1. ক) প্লুরা
  2. খ) পেরিটোনিয়াম
  3. গ) মধ্যচ্ছদা
  4. ঘ) পেরিকার্ডিয়াম
সঠিক উত্তর:
খ) পেরিটোনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পেরিটোনিয়াম
ব্যাখ্যা
বৃক্ক:
- বৃক্ক মেরুদণ্ডী প্রাণীদের প্রধান রেচন অঙ্গ। 
- মানুষের উদরগহ্বরের পশ্চাৎ মেরুদণ্ডের উভয় পাশে একটি করে মোট দুটি বৃক্ক থাকে।
- পূর্ণাঙ্গ মানুষের প্রতিটি বৃক্ক প্রায় ১১-১২ সে.মি. লম্বা, ৫-৬ সে.মি. প্রস্থ এবং ৩ সে.মি. পুরু হয়।
- সজীব অবস্থায় বৃক্কের রং খয়েরি লাল।
- আকৃতিতে অনেকটা শীম বীজের মত।
- এর বাইরের দিক উত্তল এবং ভেতরের দিক অবতল। 
- অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাম (hilum) বলে।
- এর ভেতর দিয়ে ইউরেটার ও রেনাল শিরা বের হয় এবং রেনাল ধমনী ও স্নায়ু বৃক্কে প্রবেশ করে। 
- সমগ্র বৃক্ক স্বচ্ছ ও পাতলা পেরিটোনিয়াম ঝিল্লী দ্বারা আবৃত থাকে।  

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৩২৯.
শ্রেণিবিন্যাসের জনক কে?
  1. ক) এরিস্টটল
  2. খ) লুই পাস্তুর
  3. গ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
  4. ঘ) উইলিয়াম হার্ভে
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
ব্যাখ্যা

- প্রাণিদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিনাস করা হয়। এদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বিভিন্ন স্তর বা ধাপে সাজানো হয়। জীবজগৎকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে।

- শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয় ক্যারোলাস লিনিয়াসকে।

উৎস: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান বই

১,৩৩০.
Mpox (monkeypox) কী?
  1. ভাইরাসজনিত রোগ
  2. ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ
  3. ছত্রাকজনিত রোগ
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ভাইরাসজনিত রোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাইরাসজনিত রোগ
ব্যাখ্যা
Monkeypox:
- মাঙ্কিপক্স একটি ভাইরাসজনিত প্রাণীজাত (জুনোটিক) রোগ।
- মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে অর্থোপক্স ভাইরাস।
- এ জাতির ভাইরাসের মধ্যে রয়েছে গুটিবসন্ত ও কাউপক্স।
- এ জন্য মাঙ্কিপক্সের সাথে গুটিবসন্ত বা স্মলপক্সের মিল দেখা যায়।
- আবার মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের রয়েছে দু’টো ক্লেড বা উপজাতি।
- দুটি ভিন্ন ক্লেড বিদ্যমান: ক্লেড-১ এবং ক্লেড-২।
- একটি হচ্ছে মধ্য আফ্রিকা ক্লেড-এ উপজাতির মাঙ্কিপক্সে মৃত্যুহার ১০% পর্যন্ত হতে পারে।
- আরেকটি হচ্ছে পশ্চিম আফ্রিকা ক্লেড-এ উপজাতির মাঙ্কিপক্সে মৃত্যু তেমন হয়নি।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৮ সালে ডেনমার্কের একটি বিজ্ঞানাগারে এক বানরের দেহে সর্বপ্রথম এ রোগ শনাক্ত হয় বলে একে মাঙ্কিপক্স বলা হয়।
- এ নামটি বদল করে নতুন বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়ার জন্য বিশ্বস্বাস্থ্যসংস্থা উদ্যোগ নিয়েছে।
- কারণ এ নাম থেকে মনে হতে পারে বানরই এ রোগের জন্য দায়ী, যা সঠিক নয়।
- এ রোগটির প্রাদুর্ভাব ১৯৭০ সাল থেকে প্রধানত মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার ১১টি দেশে দেখা যায়।
- ২০২২-২৩ সালে ক্লেড IIb নামে পরিচিত একটি স্ট্রেন দ্বারা mpox-এর একটি বিশ্বব্যাপী প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল।
- আফ্রিকা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলছে ২০২৪ সালের শুরু থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত সাড়ে ১৪ হাজারেরও বেশি মানুষ এমপক্সে আক্রান্ত হয়েছে আর এতে ৪৫০’রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

⇒ লক্ষণ:
- এর সাধারণ লক্ষণগুলি হলো ত্বকের ফুসকুড়ি বা মিউকোসাল ক্ষত যা জ্বর, মাথাব্যথা, পেশী ব্যথা, পিঠে ব্যথা, কম শক্তি এবং ফোলা লিম্ফ নোড সহ ২-৪ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।
- Mpox সংক্রামক, দূষিত পদার্থ বা সংক্রামিত প্রাণীর সাথে শারীরিক যোগাযোগের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ হতে পারে।

⇒ প্রতিকার:
- গুটিবসন্তের জন্য উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন এবং থেরাপিউটিকস এবং কিছু দেশে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত কিছু পরিস্থিতিতে mpox- এর জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
- Mpox আছে এমন কারো সাথে শারীরিক যোগাযোগ এড়িয়ে Mpox প্রতিরোধ করা যেতে পারে।
- টিকা ঝুঁকিপূর্ণ লোকেদের সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।

উৎস: World Health Organization.
১,৩৩১.
'হিমোগ্লোবিন' কোন জাতীয় পদার্থ?
  1. প্রোটিন
  2. কার্বোহাইড্রেট
  3. ভিটামিন
  4. ফ্যাট
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন
ব্যাখ্যা
• হিমোগ্লোবিন:
- হিমোগ্লোবিন আমিষ/প্রোটিন জাতীয় পদার্থ।
- হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির জন্য রক্তের রং লাল হয়।
- হিমোগ্লোবিনের কাজ ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে কলায় পরিবহন করা এবং কলা থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে ফুসফুসে পরিবহন করা।

উৎস: জীববিজ্ঞান-দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
১,৩৩২.
জীববৈচিত্র্যকে কয়টি স্তরে ভাগ করা যায়?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা
জীববৈচিত্র্যকে তিন ভাগে বা স্তরে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity), ২। বংশগতীয় বৈচিত্র্য (Genetical diversity) এবং ৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity)।

প্রজাতিগত বৈচিত্র্য:
- এক প্রজাতির সাথে অন্য প্রজাতির বিভিন্ন বিষয়ের ভিন্নতাই হলো প্রজাতিগত বৈচিত্র্য।
- সাধারণভাবে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলতে পৃথিবীতে বিরাজমান জীবসমূহের মোট প্রজাতির সংখ্যাকেই বোঝায়। যেমন- বাঘের সাথে হরিণের আকার, স্বভাব, হিংস্রতা, সংখ্যা, বৃদ্ধির ধরন ইত্যাদি ভিন্ন হয়।

বংশগতীয় বৈচিত্র্য:
- এ বৈচিত্র্যতার কারণ হচ্ছে জিনের মাধ্যমেই জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বংশানুক্রমে সঞ্চালিত হয়।
- প্রাণিদেহের প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের জন্য আলাদা আলাদা জীন দায়ী।
- বিভিন্ন কারণে এ জীনের গঠন ও বিন্যাসের পরিবর্তন হয়ে জীবের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটায় এবং নতুন প্রজাতির উদ্ভব হয়। এ বংশানুক্রমিক প্রক্রিয়ায় জীবের মধ্যে যে বৈচিত্র্য ঘটে তাকেই বংশগতীয় বৈচিত্র্য বলা হয়।

বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য:
- একটি বাস্তুতন্ত্রের ভৌত উপাদান ও জৈবিক উপাদানগুলোর মধ্যে কোন প্রকার পরিবর্তন দেখা দিলে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে।
- এ পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য সেখানে বসবাসরত জীবের মধ্যেও পরিবর্তন সাধিত হয়।
- এ পরিবর্তনের জন্য যে জীববৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকেই বলা হয় বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য।
যেমন- একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে যে সব উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসতি গড়ে উঠে তা নদীর বাস্তুতন্ত্র থেকে ভিন্নতর।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৩৩.
কোন গ্রুপের রক্তে a ও b উভয় ধরনের এন্টিবডি থাকে?
  1. গ্রুপ O
  2. গ্রুপ AB
  3. গ্রুপ B
  4. গ্রুপ A
সঠিক উত্তর:
গ্রুপ O
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রুপ O
ব্যাখ্যা
• রক্তের গ্রুপ:
- বিভিন্ন ব্যক্তির লোহিত রক্ত কণিকায় A এবং B নামক দুই ধরনের অ্যান্টিজেন (antigens) থাকে এবং রক্তরসে a ও b দু'ধরনের অ্যান্টিবডি (antibody) থাকে।
- এই অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে মানুষের রক্তকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করা যায়, একে ব্লাড গ্রুপ বলে।
- বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার 1901 সালে মানুষের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করে তা A, B, AB এবং O- এ চারটি গ্রুপের নামকরণ করেন।
- সাধারণত একজন মানুষের রক্তের গ্রুপ আজীবন একই রকম থাকে।
- রক্তে বিভিন্ন অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির উপস্থিতির ভিত্তিতে ব্লাড গ্রুপকে এভাবে বর্ণনা করা যায়।
যেমন-
• গ্রুপ A:
এ শ্রেণির রক্তে A অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টি-B অ্যান্টিবডি (সংক্ষেপে b অ্যান্টিবডি) থাকে।

• গ্রুপ B:
এশ্রেণির রক্তে B অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টি-A অ্যান্টিবডি (সংক্ষেপে a অ্যান্টিবডি) থাকে।

• গ্রুপ AB:
এই শ্রেণির রক্তে A ও B অ্যান্টিজেন থাকে এবং কোনো অ্যান্টিবডি থাকে না।

• গ্রুপ O:
এ শ্রেণির রক্তে কোনো অ্যান্টিজেন থাকে না কিন্তু a ও b অ্যান্টিবডি থাকে।

উল্লেখ্য,
- O গ্রুপের রক্তবিশিষ্ট ব্যক্তি সব গ্রুপের রক্তের ব্যক্তিকে রক্ত দিতে পারে, এদের বলা হয় সর্বজনীন রক্তদাতা (universal donor)।
- AB রক্তধারী ব্যক্তি যেকোনো ব্যক্তির রক্ত গ্রহণ করতে পারে, তাই তাকে সর্বজনীন রক্তগ্রহীতা (universal recipient) বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৩৪.
নিচের কোনটি প্রাণী শ্রেণীবিন্যাসের ধাপ নয়?
  1. ক) শ্রেণি
  2. খ) গোত্র
  3. গ) দল
  4. ঘ) প্রজাতি
সঠিক উত্তর:
গ) দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দল
ব্যাখ্যা
বর্তমানে প্রাণী শ্রেণিবিন্যাসে সাতটি ধাপ ব্যবহার করা হয়। যথা-
1. Kingdom (রাজ্য)
2. Phylum (পর্ব)
3. Class (শ্রেণি)
4. Order (বর্গ)
5. Family (গোত্র)
6. Genus (গণ)
7. Species (প্রজাতি)

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৩৫.
হৃৎপিণ্ডের সবচেয়ে বাইরের স্তর কোনটি?
  1. এন্ডোকার্ডিয়াম
  2. মায়োকার্ডিয়াম
  3. এপিকার্ডিয়াম
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
এপিকার্ডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এপিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ডের আবরণ: 
- হৃৎপিণ্ড একটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত। 
- এর বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল ও ভেতরেরটিকে ভিসেরাল বলে। 
- স্তর দুটির মাঝে তরল পদার্থপূর্ণ পেরিকার্ডিয়াম গহ্বর থাকে যা হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। 
- পেরিকার্ডিয়াল হৃৎপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে। 
- হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। 
- হৃৎপিণ্ডকে সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে।

হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর: 
- হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। 
- এসব পেশীকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি বলে। 
- পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট। যেমন- 

ক. এপিকার্ডিয়াম (Epicardium): 
- এটি হৃৎপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি। 
- এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে। 

খ. মায়োকার্ডিয়াম (Myocardium): 
- মায়োকার্ডিয়াম হৃৎপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। 
- স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃৎপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। 

গ. এন্ডোকার্ডিয়াম (Endocardium): 
- এটি হৃৎপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃৎকপাটিকাসমূহ সৃষ্টি করে তা ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃৎপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৩৬.
প্রোটিন সংশ্লেষণ করা কোনটির প্রধান কাজ? 
  1. নিউক্লিয়াস
  2. ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. রাইবোসোম
  4. মাইটোকন্ড্রিয়া
সঠিক উত্তর:
রাইবোসোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইবোসোম
ব্যাখ্যা
রাইবোসোম: 
- সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় বিরাজমান অথবা অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে অবস্থিত যে দানাদার কণায় প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটে তাকে বলা হয় রাইবোসোম। 
- প্যালাডে ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে রাইবোসোম আবিষ্কার করেন। 
- রাইবোসোম অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং প্রায় গোলাকার। 
- এটি উদ্ভিদ এবং প্রাণী উভয় কোষেই উপস্থিত থাকে। 
- সাধারণত অমসৃণ অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার উভয় দিকে এরা সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে। 
- রাইবোসোম এর প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ করা এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থের বিপাক সাধন করা। 
- এজন্য রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়। 
- এটি আমিষ সংশ্লেষণের স্থান নির্ধারণ করে, প্রোটিনের পলিপেপটাইড চেইন সংযোজন করে এবং এ সকল কাজে প্রয়োজনীয় এনজাইম সরবরাহ করে। 

অন্যদিকে, 
- ক্লোরোপ্লাস্টকে উদ্ভিদের রান্নাঘর বলা হয়। 
- মাইটোকনড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বলা। হয়। 
- নিউক্লিয়াসকে কোষের মস্তিষ্ক বা প্রাণশক্তি বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৩৭.
মায়োটম পেশী থাকে কোথায়? 
  1. Urochordata
  2. Cephalochordata
  3. Vertebrata
  4. Cyclostomata
সঠিক উত্তর:
Cephalochordata
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Cephalochordata
ব্যাখ্যা

মায়োটম পেশী (Myotome):
- মায়োটম হলো ভ্রূণীয় মেসোডার্ম থেকে উৎপন্ন খণ্ডিত পেশী।
- এটি দেহের পার্শ্বদেশে V বা W আকৃতির পেশীখণ্ড হিসেবে সাজানো থাকে।
- মায়োটম মূলত দেহের চলন ও সাঁতারে সাহায্য করে। - এই পেশী সাধারণত কর্ডেট প্রাণীদের দেহে খণ্ডিত আকারে দেখা যায়।
- মায়োটম পেশী নটোকর্ডের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে।

Cephalochordata-তে মায়োটম পেশী:
- Cephalochordata পর্বের প্রাণী যেমন Amphioxus (Branchiostoma)-এ মায়োটম পেশী অত্যন্ত সুস্পষ্ট।
- এদের দেহে সারাজীবন খণ্ডিত মায়োটম পেশী বিদ্যমান থাকে।
- মায়োটম পেশীর সাহায্যে এরা দক্ষভাবে সাঁতার কাটতে পারে।
- Cephalochordata-কে মায়োটম পেশীর আদর্শ উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়।

অন্যান্য অপশনের সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ:
- Urochordata-তে লার্ভা অবস্থায় কিছু পেশী দেখা গেলেও পূর্ণাঙ্গ মায়োটম সুস্পষ্ট নয়।
- Vertebrata-তে মায়োটম ভ্রূণীয় অবস্থায় থাকলেও পরিণত অবস্থায় তা পরিবর্তিত হয়।
- Cyclostomata-তে মায়োটম আংশিকভাবে দেখা গেলেও Cephalochordata-এর মতো স্পষ্ট নয়।

সুতরাং, মায়োটম পেশী প্রধানত ও স্পষ্টভাবে পাওয়া যায় Cephalochordata পর্বে।

সঠিক উত্তর: খ) Cephalochordata.

সূত্র - sciencedirect journal.

১,৩৩৮.
জেরোফথ্যালমিয়া নামক রোগ কোন ভিটামিনের অভাবে হয়? 
  1. ভিটামিন 'এ'
  2. ভিটামিন 'বি'
  3. ভিটামিন 'সি'
  4. ভিটামিন 'ডি'
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন 'এ'
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন 'এ'
ব্যাখ্যা

রাতকানা (Night Blindness): 
- ভিটামিন 'এ'-এর অভাবে চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জেরোফথ্যালমিয়া (Xerophthalmia) নামক রোগ হয়
অর্থাৎ, এই রোগের সর্বনিম্ন মাত্রা রাতকানা রোগ হয়। 
- ভিটামিন 'এ'-এর অভাব পূরণ না হলে রোগটির মাত্রা ও তীব্রতা বাড়তে থাকে। 
- জেরোফথ্যালমিয়ার সাত থেকে আটটি মাত্রা রয়েছে, যার সর্বনিম্ন মাত্রা হচ্ছে রাতকানা। 
- সাধারণত দুই থেকে পাঁচ বছরের শিশুদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা দেয়। 
- এতে চোখের সংবেদী 'রড' কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, স্বল্প আলোতে ভালো দেখতে পায় না, চোখে সবকিছু ঝাপসা দেখা যায়। 
- রোগটা বেড়ে গেলে কর্নিয়া ঘোলাটে হয়ে যায়। 
- রাতকানা দশা থেকে শুরু করে চতুর্থ বা পঞ্চম মাত্রার জেরোফথ্যালমিয়া ভিটামিন 'এ'-সহ কিছু ওষুধ প্রয়োগে ভালো হয়, কিন্তু রোগ চূড়ান্ত মাত্রায় বা তার কাছাকাছি পৌঁছে গেলে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার ছাড়া আর তেমন কিছু করার থাকে না। 
- এই রোগ প্রতিরোধের জন্য ভিটামিন 'এ' সমৃদ্ধ খাদ্য যেমন: মাছের যকৃতের তেল, কলিজা, সবুজ শাকসবজি, রঙিন ফল (পাকা আম, কলা ইত্যাদি) ও সবজি (মিষ্টি কুমড়া, গাজর ইত্যাদি) এবং মলা-ঢেলা মাছ খাওয়া উচিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৩৯.
মাইটোসিস ঘটে কোনটিতে?
  1. ক) স্নায়ুকোষ
  2. খ) লোহিত রক্তকণিকা
  3. গ) অনুচক্রিকা
  4. ঘ) দেহকোষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেহকোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেহকোষ
ব্যাখ্যা
মাইটোসিস ঘটে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অংশের ভাজক টিস্যু এবং প্রাণীর দেহকোষে৷ প্রাণীর স্নায়ুকোষ, পরিণত স্তন্যপায়ীদের লোহিত রক্তকণিকা ও অনুচক্রিকা এবং উদ্ভিদের স্থায়ী টিস্যুর কোষে মাইটোসিস কোষ বিভাজন ঘটে না৷
উৎসঃ অষ্টম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৩৪০.
পানিবাহিত রোগ নয় কোনটি?
  1. ডায়রিয়া
  2. টাইফয়েড
  3. ম্যালেরিয়া
  4. আমাশয়
সঠিক উত্তর:
ম্যালেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যালেরিয়া
ব্যাখ্যা
পানিবাহিত রোগ:

• যে সব রোগ দূষিত পানির মাধ্যমে সংক্রমিত হয় বা ছড়ায় তাদেরকে পানিবাহিত রোগ বলে।
• পানিবাহিত অনুজীবসমূহ মূলত দেহের পাকস্থলিতে আশ্রয় গ্রহণ করে। পরবর্তীতে সেখান থেকে অভীষ্ট অঙ্গে বা অন্ত্রে স্থানান্তরিত হয়।
• পানিবাহিত রোগসমূহের মধ্যে - ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, কলেরা, পোলিও, হেপাটাইটিস বি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

• ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণুবাহী মশা হলো- অ্যানোফিলিস।

• ভেক্টর বাহিত রোগ:
- মশাঃ ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়াসিস।
- মাছি:  উদরাময়, আমাশয়, ক্রিমি সংক্রমণ, কালাজ্বর, চ্যাগাস ডিজিস, স্লিপিং সিকনেস, চোখের কৃমি (deer fly)।

অন্যদিকে, 
- যে সকল রোগ হাঁচি-কাশি বা কথাবার্তা বলার সময় বায়ুতে জীবাণু ছড়ানোর মাধ্যমে হয় সেগুলোকে বায়ুবাহিত রোগ বলে। 
- যেমন: সোয়াইন ফ্লু, হাম, গুটিবসন্ত, যক্ষা এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৪১.
শরীরের কোষে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য কোন রক্তকণিকা দায়ী?
  1. নিউট্রোফিল
  2. প্লাজমা
  3. এরিথ্রোসাইট
  4. থ্রম্বোসাইট
সঠিক উত্তর:
এরিথ্রোসাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরিথ্রোসাইট
ব্যাখ্যা

এরিথ্রোসাইট (লোহিত রক্তকণিকা) এর প্রধান কাজ হলো ফুসফুস থেকে সারা শরীরে অক্সিজেন পরিবহন করা। 

এরিথ্রোসাইট (লোহিত রক্ত কণিকা): 
- এরিথ্রোসাইট বা লোহিত রক্তকণিকা হলো মানবদেহের অন্যতম প্রধান রক্তকণিকা, যা রক্তের মোট আয়তনের প্রায় ৪৫% দখল করে।
- এর প্রধান কাজ হলো হিমোগ্লোবিন নামক লৌহযুক্ত প্রোটিনের সাহায্যে ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে শরীরের বিভিন্ন কোষে পৌঁছে দেওয়া।
- লোহিত রক্ত কণিকার আয়ু ১২০ দিন।
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়।
- লোহিত রক্তকণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।

উল্লেখ্য-
- নিউট্রোফিল: এক ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা (White Blood Cells) যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- প্লাজমা: রক্তের তরল অংশ যা হরমোন, প্রোটিন, এবং পুষ্টির মতো উপাদান পরিবহন করে।
- থ্রম্বোসাইট: থ্রম্বোসাইট হলো অণুচক্রিকার (Platelets) অপর নাম যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৪২.
‘ইবোলা’ ভাইরাস-এর উৎপত্তিস্থল কোথায় ?
  1. ক) সিয়েরালিওন
  2. খ) কঙ্গো
  3. গ) লিবিয়া
  4. ঘ) ইথিওপিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) কঙ্গো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কঙ্গো
ব্যাখ্যা
ইবোলা ভাইরাস হচ্ছে ইবোলাভাইরাস গণের পাঁচটি ভাইরাসের মধ্যে অন্যতম একটি।
এই ভাইরাস ইবোলা ভাইরাস ডিজিজ বা ইবোলা হিমোরেজিক ডিজিজ করে এবং ২০১৩-২০১৫ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় মহামারী সৃষ্টি করে। যা প্রায় ২৮, ৬১৬ জনকে আক্রান্ত করে এবং ১১, ৩১০ জনের নিশ্চিত মৃত্যু হয়।

ইবোলা ভাইরাস প্রথম দেখা দেয় গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে
১,৩৪৩.
কোনটি শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে?
  1. আমিষ
  2. ভিটামিন
  3. খনিজ লবণ
  4. স্নেহ
সঠিক উত্তর:
আমিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমিষ
ব্যাখ্যা

◉ শরীরে নাইট্রোজেন (Nitrogen) সরবরাহ করে মূলত আমিষ (Protein)।
- কার্বোহাইড্রেট ও স্নেহে নাইট্রোজেন থাকে না, আর ভিটামিন/খনিজ লবণ নাইট্রোজেনের উৎস নয়।

আমিষ (Protein): 
– আমিষ বা প্রোটিন-জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত। 
– আমিষে শতকরা 16 ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
– আমিষে সামান্য পরিমাণে সালফার, ফসফরাস এবং আয়রনও থকে। 
– নাইট্রোজেন এবং শেষোক্ত উপাদানগুলোর উপস্থিতির কারণে আমিষের গুরুত্ব শর্করা ও স্নেহ পদার্থ থেকে আলাদা। শুধু আমিষজাতীয় খাদ্যই শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টিবিজ্ঞানে আমিষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

আমিষের উৎস: 
– মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, শিমের বীচি, শুঁটকি মাছ, চিনাবাদাম ইত্যাদি থেকে আমিষ পাওয়া যায়। 
– উৎস অনুযায়ী আমিষ দুই ধরনের। 
যথা- প্রাণিজ আমিষ এবং উদ্ভিজ্জ আমিষ। 

প্রাণিজ আমিষ: 
– মাছ, মাংস, ডিম, পনির, ছানা, কলিজা বা যকৃৎ ইত্যাদি প্রাণিজ আমিষ। এসব খাদ্যে দেহের প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়। 

উদ্ভিজ্জ আমিষ: 
– ডাল, চিনাবাদাম, শিমের বীচি ইত্যাদি উদ্ভিজ্জ আমিষ। একসময় ধারণা করা হতো এগুলো প্রাণিজ আমিষের তুলনায় কম পুষ্টিকর, কারণ উদ্ভিজ্জ আমিষে প্রয়োজনীয় সবকয়টি অ্যামাইনো এসিড থাকে না। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে উদ্ভিজ্জ আমিষ প্রাণিজ আমিষের মতোই সকল অ্যামাইনো এসিড পর্যাপ্ত পরিমাণে ধারণ করে। 
– অনেক সময়, দুই বা ততোধিক উদ্ভিজ্জ আমিষ একত্রে রান্না করা যায়। কিন্তু এতে অ্যামাইনো এসিডের অনুপাতের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় না।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৪৪.
প্রোটিস্টার কোষের ক্রোমাটিন পদার্থে কী থাকে?
  1. Protein
  2. DNA
  3. RNA
  4. সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

প্রোটিস্টা (Protista): 
প্রোটিস্টা (Protista) জগতের বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নে দেওয়া হলো- 
- এরা এককোষী বা বহুকোষী, একক বা কলোনিয়াল (দলবদ্ধ) বা ফিলামেন্টাস এবং সুগঠিত নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট। 
- কোষে ক্রোমাটিন বস্তু নিউক্লিয়ার পর্দা দ্বারা পরিবৃত্ত থাকে। 
- ক্রোমাটিন বস্তুতে DNA, RNA এবং প্রোটিন থাকে। 
- কোষে সকল ধরনের অঙ্গাণু থাকে। 
- খাদ্যগ্রহণ শোষণ বা ফটোসিনথেটিক পদ্ধতিতে ঘটে। 
- মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অযৌন প্রজনন ঘটে এবং কনজুগেশনের মাধ্যমে অর্থাৎ জৈবনিকভাবে ভিন্ন কিন্তু গঠনগতভাবে এক, এরূপ দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন প্রজনন ঘটে। 
- কোনো ভ্রুণ গঠিত হয় না। 
উদাহরণ: অ্যামিবা, প্যারামেসিয়াম, এককোষী ও বহুকোষী শৈবাল ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৪৫.
যদি একটি খাবারের মধ্যে ২০ গ্রাম চর্বি থাকে, তাহলে এটি মোট ক্যালরিতে কতটুকু যুক্ত হবে?
  1. ১২০ ক্যালরি
  2. ১৬০ ক্যালরি
  3. ১৮০ ক্যালরি
  4. ২০০ ক্যালরি
সঠিক উত্তর:
১৮০ ক্যালরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০ ক্যালরি
ব্যাখ্যা
তৈল ও চর্বি: 
- তৈল ও চর্বিকে একত্রে লিপিড বলে। 
- তৈল ও চর্বি হল গ্লিসারল বা গ্লিসারিন এর উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের এস্টার। 

তৈল ও চর্বির পার্থক্য: 
- সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হল কঠিন চর্বি এবং অসম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হল তৈল। 
- তৈলের গলনাঙ্ক 20° C এর কম হয়, কিন্তু চর্বির গলনাঙ্ক 20° C এর অধিক হয়। 
- তৈল উদ্ভিদদেহে কিন্তু চর্বি প্রাণিদেহে উৎপন্ন হয়। 

তৈল ও চর্বির গুরুত্ব: 
(১) খাদ্যরূপে তৈল ও চর্বি থেকে আমরা শক্তি থাকি। 

১ গ্রাম তৈল বা চর্বি = ৯ ক্যালরি খাদ্যমান। 

∴ ২০ গ্রাম তৈল বা চর্বি = (৯ × ২০) ক্যালরি
= ১৮০ ক্যালরি

(২) তৈল ও চর্বির ক্ষারীয় বিশ্লেষণে সাবান ও উৎপন্ন হয়। 
(৩) রং, বার্নিশ ও প্রসাধনী তৈরিতে তৈল চর্বি ব্যবহৃত হয়। 

(৪) তৈলকে নিকেল উপস্থিতিতে হাইড্রোজেনেশন বা হাইড্রোজেন সংযোজন দ্বারা চর্বিতে পরিণত করা যায়। 
যেমন, সয়াবিন তৈলকে হাইড্রোজেনেশন করে মার্জারিন নামক চর্বি তৈরি করা হয়। 
(৫) পরিপাকতন্ত্রে চর্বির তুলনায় তৈল সহজে হজম হয় এবং তৈলে কলেস্টেরল কম থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (হাজারী নাগ)।
১,৩৪৬.
মানবদেহে অটোসোম সংখ্যা- 
  1. ৪৩ টি
  2. ৪২ টি
  3. ৪৪ টি
  4. ৪৬ টি
সঠিক উত্তর:
৪৪ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৪ টি
ব্যাখ্যা

মানুষের দেহে অটোসোমের সংখ্যা ২২ জোড়া অর্থাৎ ৪৪ টি।

• ক্রোমোজোম:

- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম।
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু।
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি।
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন।
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে।
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া বা ৪৪টি ক্রোমোসোমকে বলা হয় অটোসোম।
- অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই।
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোসোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম।
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৪৭.
মানবদেহের মোট ক্রোমোসোমের সংখ্যা কত?
  1. ২২ 
  2. ২৩ 
  3. ৪৪ 
  4. ৪৬ 
সঠিক উত্তর:
৪৬ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৬ 
ব্যাখ্যা

সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে ক্রোমোসোমের ভূমিকা: 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোসোম থাকে। 
- এই ২৩ জোড়া ক্রোমোসোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোসোমকে বলা হয় অটোসোম। 
- অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। 
- অপর এক জোড়া ক্রোমোসোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোসোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম। 
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম। 
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়। 
- স্ত্রীলোকের ডিপ্লয়েড কোষে দুটি লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোমই 'X' ক্রোমোসোম, অর্থাৎ XX । 
- অন্যদিকে, পুরুষের ক্ষেত্রে দুটি লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোমের একটি 'X' ক্রোমোসোম এবং অপরটি 'Y' ক্রোমোসোম অর্থাৎ XY । 
- 'X' ক্রোমোসোম বহনকারী শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করলে, দুটি 'XX' ক্রোমোসোমের আবির্ভাব ঘটে এবং সন্তানটি কন্যা হবে। 
- অন্যদিকে 'Y' ক্রোমোসোম বহনকারী শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করলে, 'XY' ক্রোমোসোমের আবির্ভাব ঘটে এবং সন্তানটি পুত্র হবে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৪৮.
ক্রোমােজোমে অবস্থিত জিনের রাসায়নিক রূপ-
  1. ক) DNA
  2. খ) RNA
  3. গ) নিউক্লিক এসিড
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ক) DNA
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) DNA
ব্যাখ্যা

- নিউক্লিক এসিড ২ ধরনের। যথা - DNA এবং RNA।
- ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান DNA।
- DNA হলো ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনের রাসায়নিক রূপ।
- DNA এর পূর্ণনাম- Deoxyribonucleic acid.
- ইংরেজ বিজ্ঞানী ক্রিক ১৯৫৩ সালে DNA অণুর ডাবল হেলিক্সের বর্ণনা দেন।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

১,৩৪৯.
ব্যাঙের হৃৎপিণ্ডের কয়টি প্রকোষ্ঠ থাকে?
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা
- ক্যাটল ফিস এবং অক্টোপাসের হৃৎপিণ্ড আছে ৩টি করে। 
- ব্যাঙের হৃৎপিণ্ড ৩ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড ৪ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট। 
- তেলাপোকার হৃৎপিণ্ড ১৩ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৫০.
লাইপেজ স্নেহজাতীয় খাদ্যকে ভেঙে কোন সরল উপাদানগুলোতে পরিণত করে?
  1. পেপটাইড ও পেপটোন
  2. গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ
  3. অ্যামিনো অ্যাসিড ও মনোস্যাকারাইড
  4. ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল
সঠিক উত্তর:
ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল
ব্যাখ্যা

লাইপেজ স্নেহজাতীয় খাদ্যকে ভেঙে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে।

লাইপেজ:
- লাইপেজ হলো একটি পাচক এনজাইম যা স্নেহ জাতীয় খাদ্য বা ফ্যাট পরিপাকে সহায়তা করে।
- লাইপেজ (Lipase) হলো এক ধরনের হাইড্রোলাইটিক এনজাইম, যা স্নেহ পদার্থের (ফ্যাট) অণুগুলোকে ফ্যাটি অ্যাসিড (Fatty acid) ও গ্লিসারলে (Glycerol) পরিণত করে।
- স্নেহ জাতীয় খাদ্য পরিপাকের জন্য পিত্তরসের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পিত্তরস ফ্যাটকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভেঙে ইমালসিফাই (Emulsify) করে, যা লাইপেজ এনজাইমের কার্যকারিতা বাড়িয়ে তোলে।
- এই পরিপাক প্রক্রিয়াটি প্রধানত ক্ষুদ্রান্ত্রে সম্পন্ন হয়, যেখানে স্নেহ কণাগুলো সম্পূর্ণরূপে বিশ্লেষিত হয়।
- জমা হওয়া ফ্যাটি অ্যাসিড এবং গ্লিসারল পরবর্তীতে অন্ত্রের লসিকাতন্ত্র (Lymphatic system) এবং রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে শোষিত হয়।
- লাইপেজের অভাবে ফ্যাট হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে, যার ফলে স্বাস্থ্যগত জটিলতা যেমন ডায়রিয়া বা ভিটামিনের অভাব হতে পারে।
- অগ্ন্যাশয়ে অ্যামাইলেজ, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন এবং লাইপেজ এনজাইম তৈরি হয়।
- এই এনজাইমগুলো ডিওডেনামে এসে খাদ্যের সঙ্গে মিশে।
- ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন আমিষ খাদ্য হজমে সাহায্য করে।
- লাইপেজ স্নেহ খাদ্য হজমে সাহায্য করে।
- অ্যামাইলেজ শর্করা জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে।

উৎস: 
১। বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২। প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১,৩৫১.
যে সব অণুজীব রোগ সৃষ্টি করে তাদের বলা হয়-
  1. ক) টক্সিন
  2. খ) প্যাথোজেনিক
  3. গ) প্রিয়ন
  4. ঘ) জীবাণু
সঠিক উত্তর:
খ) প্যাথোজেনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্যাথোজেনিক
ব্যাখ্যা
জীববিজ্ঞানে ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে আদি এবং ব্যাপকতর অর্থে রােগ সংক্রামক জীবাণু হচ্ছে এমন যেকোন কিছু যা রােগ উৎপন্ন করতে পারে। এর পশ্চিমা পরিভাষা প্যাথােজেন।

Oxford Dictionary অনুসারে,
Pathogenic = (of a bacterium, virus, or other microorganism) causing disease.

১৮৮০ সালে সাধারণত রােগ সংক্রমণ সংঘটক (এজেন্ট) যেমন : ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, প্রিয়ন, এমনকি অন্য কিছু অণুজীবকে বােঝাতেও এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
এক কথায়, যেসব অণুজীব রোগ সৃষ্টি করে তাদের বলা হয় প্যাথজেনিক।

অন্যদিকে,
- 'প্রিয়ন' হলো ভাইরাসের মতোই একপ্রকার সংক্রামক সত্ত্বা যা PrP (Prion Protein) নামক প্রোটিন বা আমিষ দিয়ে তৈরি ।
- টক্সিন হলো বিষাক্ত পদার্থ।
- জীবাণু হলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুজীব যারা রোগ সৃষ্টি করতেও পারে, নাও পারে।
১,৩৫২.
কোন খনিজ উপাদান পেশি সংকোচনে ভূমিকা রাখে? 
  1. আয়রন
  2. পটাসিয়াম
  3. আয়োডিন
  4. ম্যাগনেসিয়াম
সঠিক উত্তর:
পটাসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটাসিয়াম
ব্যাখ্যা
- 'পটাসিয়াম' খনিজটি পেশি সংকোচনে ভূমিকা রাখে। 

খনিজ লবণ: 

- গলগণ্ড, রক্তাস্বল্পতা খনিজ লবণের অভাবে দেহে এ রোগ সৃষ্টি হয়। 
- দেহ কোষ ও দেহের তরল উপাদানের জন্য (যেমন- রক্ত, এনজাইম, হরমোন ইত্যাদি) খনিজ লবণ খুবই দরকারি। 
- খনিজ লবণ দেহ গঠন, দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ (যেমন- পেশি সংকোচন, স্নায়ু উত্তেজনা) নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। 
- হাড়, এনজাইম ও হরমোন গঠনের জন্য এটি একটি অপরিহার্য উপাদান। 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে সরাসরি খনিজ লবণ শোষণ করে। 
- আমাদের দেহের ওজনের ১% পরিমাণ লবণ থাকে। 
- এ উপাদানগুলো হলো ফসফরাস, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, সালফার, সোডিয়াম, ক্লোরিন ও ম্যাগনেসিয়াম। 
- এছাড়া লোহা, আয়োডিন, দস্তা, তামা ইত্যাদি খনিজ লবণ আমাদের দেহের জন্য অতি সামান্য পরিমাণে থাকে। 
- আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড রোগ হয়। গলগণ্ড রোধে আয়োডিনযুক্ত লবণ খাওয়া উচিত। 


উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,৩৫৩.
নিচের কোনটি ফাইটোহরমোন নয় ?
  1. ক) অক্সিন
  2. খ) সাইটোকাইনিন
  3. গ) পেপসিন
  4. ঘ) জিবেরেলিন
সঠিক উত্তর:
গ) পেপসিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পেপসিন
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদ হরমোনকে ফাইটোহরমোন বলে।
অক্সিন, জিবেরেলিন, সাইটোকাইনিন এরা ফাইটোহরমোন।
উৎসঃ জীব বিজ্ঞান-নবম দশম শ্রেণী

১,৩৫৪.
স্নায়ুকোষের কত শতাংশ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা ক্ষয় হতে শুরু করে?
  1. ২৫%
  2. ৫০%
  3. ৭৫%
  4. ১০০%
সঠিক উত্তর:
২৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫%
ব্যাখ্যা

স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৫৫.
কার্ডিওলজি চিকিৎসাবিজ্ঞানের কোন শাখা?
  1. মস্তিষ্ক সম্পর্কিত
  2. কিডনি সম্পর্কিত
  3. হৃদযন্ত্র সম্পর্কিত
  4. ফুসফুস সম্পর্কিত
সঠিক উত্তর:
হৃদযন্ত্র সম্পর্কিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৃদযন্ত্র সম্পর্কিত
ব্যাখ্যা

কার্ডিওলজি (Cardiology) হল চিকিৎসাবিজ্ঞানের সেই শাখা, যা হৃদযন্ত্র (Heart) এবং রক্ত সংবহনতন্ত্র (Circulatory System) নিয়ে গবেষণা ও চিকিৎসার সাথে সম্পর্কিত।

কার্ডিওলজির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ:
- হৃদযন্ত্রের গঠন ও কার্যপ্রণালী বিশ্লেষণ, 
- হৃদরোগের কারণ ও প্রতিরোধ, 
- হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন ব্যাধি, যেমন হার্ট অ্যাটাক, ব্লকেজ ও উচ্চ রক্তচাপ নির্ণয় ও চিকিৎসা। 

কার্ডিওলজির কিছু প্রধান রোগ:
- হৃদরোগ (Heart Disease), 
- উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension), 
- হার্ট অ্যাটাক (Myocardial Infarction), 
- অ্যারিথমিয়া (Arrhythmia) – অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, 
- কার্ডিওমায়োপ্যাথি (Cardiomyopathy) – হৃদপেশির দুর্বলতা। 

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
ক) মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র নিয়ে গবেষণা করা হয় 'নিউরোলজি (Neurology)' শাখায়।
খ) কিডনির চিকিৎসা 'নেফ্রোলজি (Nephrology)' শাখার অন্তর্ভুক্ত।
ঘ) ফুসফুস ও শ্বাসযন্ত্রের রোগ নিয়ে গবেষণা করা হয় 'পালমোনোলজি (Pulmonology)' শাখায়।

উৎস:
১) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) Accessible Dictionary by Bangla Academy. 

১,৩৫৬.
আমিষ জাতীয় খাদ্যের পরিপাক কোথায় শুরু হয়? 
  1. মুখগহ্বরে 
  2. পাকস্থলিতে 
  3.  বৃহদান্ত্রে 
  4. খাদ্যনালিতে 
সঠিক উত্তর:
পাকস্থলিতে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাকস্থলিতে 
ব্যাখ্যা

পরিপাকতন্ত্রে খাদ্যদ্রব্যের পরিপাক ও পরিশোষণ: 
- দৈনন্দিন জীবনে মানুষ যে সব আমিষ জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করে তন্মধ্যে দুধ, মাছ, মাংস, ডিম ও ডাল উল্লেখযোগ্য। 
- এ সকল খাদ্য পরিপাকে যে সকল সাহায্যকারী এনজাইম ভূমিকা রাখে তা হলো- 
১. পাচক রস: পেপসিনোজেন ও জিলেটিনেজ। 
২. অগ্ন্যাশয় রস: ট্রিপসিনোজেন, কার্বক্সিপেপটাইডেজ- এ. বি ইলাস্টেজ, কোলাজিনেজ প্রভৃতি। 
৩. আন্ত্রিক রস: অ্যামাইনোপেপটাইডেজ, ট্রাইপেপটাইডেজ ও প্রোলিডেজ। 

- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের পরিপাক পাকস্থলিতে শুরু হয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রে শেষ হয়। 
- মুখবিবরের লালা রসে আমিষ পরিপাককারী এনজাইম না থাকায় মুখবিবরে আমিষের কোনো পরিপাক হয় না। 
- কেবলমাত্র খাদ্য চিবানোর ফলে লালারস মিলে খাদ্যকে পিচ্ছিল ও নরম করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৫৭.
সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ কোন খনিজ উপাদানের ভালো উৎস?
  1. সোডিয়াম
  2. আয়োডিন
  3. ফসফরাস
  4. ক্যালসিয়াম
সঠিক উত্তর:
আয়োডিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়োডিন
ব্যাখ্যা
খনিজ লবণ (Mineral salts): 
- দেহকোষ ও দেহের তরল অংশের জন্য খনিজ লবণ অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। 
- মানুষের শরীরে ক্যালসিয়াম, লৌহ, সালফার, দস্তা, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, আয়োডিন ইত্যাদি থাকে। 
- এ উপাদানগুলো কখনো মৌলিক উপাদানরূপে মানবদেহে অবস্থান করে না, এগুলো খাদ্য ও মানবদেহে বিভিন্ন পরিমাণে অন্য পদার্থের সাথে মিলিত হয়ে নানা জৈব এবং অজৈব যৌগের লবণ তৈরি করে। 
- খনিজ লবণ দেহ গঠন ও দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- হাড়, দাঁত, পেশি, এনজাইম এবং হরমোন গঠনের জন্য খনিজ লবণ একটি অপরিহার্য উপাদান। 
- স্নায়ুর উদ্দীপনা, পেশি সংকোচন, দেহকোষে পানির সাম্যতা বজায় রাখা, অম্ল ও ক্ষারের সমতাবিধান, এসব কাজে খনিজ লবণের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। 

- দুধ, দই, ছানা, পনির, ছোট মাছ (মলা-ঢেলা), নানা রকম ডাল, সবুজ শাকসবজি, ঢেঁড়স, লাল শাক, কচু শাক ইত্যাদি ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস। 
- কলিজা, সবুজ শাকসবজি, মাংস, ডিমের কুসুম, কচু শাক ইত্যাদিতে লৌহ থাকে। 
- দুধ, মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল থেকে ফসফরাস পাওয়া যায়। 
- খাবার লবণ, চিপস, নোনতা খাবার, পনির, বাদাম, আচার ইত্যাদিতে সোডিয়াম থাকে। 
- মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল, কলা, আলু, আপেল ইত্যাদিতে পটাশিয়াম থাকে। 
- আয়োডিনের উৎস হলো সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ, মাংস এবং শেওলা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৫৮.
পানিবাহিত রোগ নয় কোনটি?
  1. কলেরা
  2. টাইফয়েড
  3. চর্মরোগ
  4. আমাশয়
সঠিক উত্তর:
চর্মরোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্মরোগ
ব্যাখ্যা
পানিবাহিত রোগ: 
- পানিবাহিত রোগ হলো সেইসব রোগ যা দূষিত পানি পান, ব্যবহার বা খাবারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
- এই রোগগুলো সাধারণত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, প্রোটোজোয়া ও অন্যান্য প্যাথোজেনের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। 
- পানিবাহিত রোগ এর মধ্যে অন্যতম হলো- কলেরা, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস-এ, ডায়রিয়া ও আমাশয় ইত্যাদি। 
- পানিবাহিত রোগের কারণগুলো হচ্ছে - 
• অপরিষ্কার পানি পান করা। 
• দূষিত পানিতে রান্না/ফল ধোয়া। 
• সঠিক স্যানিটেশন না থাকা। 
• অপরিচ্ছন্ন নালা/ব্রিজের পানি ব্যবহার। 

অন্যদিকে, 
- চর্মরোগ (Skin disease) পানির মাধ্যমে নয়, সাধারণত ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস, ভাইরাস বা অ্যালার্জি ইত্যাদি কারণে হয়ে থাকে। কিছু চর্মরোগ ছোঁয়াচে হলেও পানিবাহিত নয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান এবং WHO-Waterborne Diseases.
১,৩৫৯.
মানবদেহে রক্তের গ্রুপ নির্ধারণ করে কোন উপাদান?
  1. হিমোগ্লোবিন
  2. প্লাজমা
  3. ইরিথ্রোসাইট ও লিউকোসাইট
  4. এন্টিজেন ও এন্টিবডি
সঠিক উত্তর:
এন্টিজেন ও এন্টিবডি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এন্টিজেন ও এন্টিবডি
ব্যাখ্যা

◉ মানবদেহের রক্তের গ্রুপ নির্ধারণ করে লোহিত রক্তকণিকার (RBC) গায়ে থাকা বিশেষ প্রোটিন উপাদান, যাকে এন্টিজেন (Antigen) বলা হয়। এছাড়া, প্লাজমাতে উপস্থিত এন্টিবডি (Antibody) ও রক্তের গ্রুপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

রক্তের গ্রুপ (Blood group):
- মানুষের লোহিত রক্ত কণিকায় 'A' এবং 'B' নামক দু'ধরনের অ্যান্টিজেন (Antigen) এবং রক্ত রসে 'a' ও 'b' দু'ধরনের অ্যান্টিবডি (Antibodies) থাকে।
- অ্যান্টিজেন এক প্রকারের পদার্থ যা কোন জীবদেহে প্রবেশ করানোর ফলে ঐ জীবদেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় এবং অ্যান্টিবডি হলো এক প্রকারের পদার্থ যা জীবদেহে রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে।
- অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে মানুষের রক্তকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করা হয় যাকে রক্তের গ্রুপ বলে।
- বিজ্ঞানী কার্লল্যান্ড স্টেইনার ১৯০১ সালে মানুষের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করে তা 'A', 'B', 'O' এবং ‘AB' এ চারটি গ্রুপের নামকরণ করেন।
- আজীবন মানুষের রক্তের গ্রুপ একই রকম থাকে যা পরিবর্তন হয় না।
- অতএব রক্তে বিভিন্ন অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে রক্তের গ্রুপকে চিহ্নিত করা যায়।

উৎস:
১। জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা। 

১,৩৬০.
কোনটি কমে গেলে পারকিনসন রোগ হতে পারে?
  1. ক) রক্ত চলাচল
  2. খ) ডোপামিন
  3. গ) শ্বেত রক্তকণিকা
  4. ঘ) প্রজেস্টোরন
সঠিক উত্তর:
খ) ডোপামিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ডোপামিন
ব্যাখ্যা
মস্তিষ্ক থেকে ক্ষরিত হরমোন ডোপামিন শরীরের পেশির নড়াচড়ায় সাহায্য করে। পারকিনসন রোগাক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। ডোপামিন ছাড়া ঐ স্নায়ু কোষগুলা পেশি কোষগুলোতে সংবেদন পাঠাতে পারে না। ফলে মাংসপেশি তার কার্যকারিতা হারায়। এ রোগ সাধারণত ৫০ বছর বয়সের পরে হয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৬১.
খাদ্য হজম প্রক্রিয়ায় অন্ত্রের ক্রমসংকোচন নিচের কোন পেশি নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. ক) ঐচ্ছিক
  2. খ) বিশেষ ধরনের ঐচ্ছিক
  3. গ) অনৈচ্ছিক
  4. ঘ) বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক
সঠিক উত্তর:
গ) অনৈচ্ছিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অনৈচ্ছিক
ব্যাখ্যা
অনৈচ্ছিক পেশী প্রধানত দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গদির সঞ্চালনে অংশ নেয়। যেমন খাদ্য হজম প্রক্রিয়ায় অন্ত্রের ক্রমসংকোচন।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৬২.
শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ-
  1. ক) নাসিকা
  2. খ) ফুসফুস
  3. গ) ব্রংকাস
  4. ঘ) স্বরযন্ত্র
সঠিক উত্তর:
খ) ফুসফুস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফুসফুস
ব্যাখ্যা
শ্বসনতন্ত্র:
- ফুসফুস হচ্ছে শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ।
- যে সকল অঙ্গ শ্বসনকার্য চালানোর কাজে অংশ নেয় তাদের একসাথে শ্বসনতন্ত্র বলে।
- নাসিকা, গলবিল, স্বরযন্ত্র, শ্বাসনালি, ব্রংকাস, ফুসফুস ও মধ্যচ্ছদা এগুলো নিয়ে শ্বসনতন্ত্র গঠিত।
- ফুসফুস শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ।
- এটি দুই খণ্ডে বিভক্ত এবং প্লুরা নাম পর্দা দ্বারা আবৃত। বাতাসের সঙ্গে অক্সিজেন ফুসফুসে প্রবেশ করে। পরে তা রক্তের মাধ্যমে পরিবহন হয়ে দেহের সব অঙ্গে পৌঁছায়।

• শ্বসনতন্ত্রের কাজসমূহ,
- শ্বসন গ্যাসের বিনিময়: শ্বাসক্রিয়ার সময় পরিবেশের O2 রক্তে মিশে এবং রক্ত থেকে CO2 পরিবেশে বের হয়।
- শক্তি উৎপাদন: শ্বসনতন্ত্রের মাধ্যমে গ্রহণ করা CO2 কোষীয় শ্বসনে ব্যবহৃত হয়ে শক্তি উৎপন্ন করে।
- পানি সাম্যতা: নিঃশ্বাসের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০০-৬০০ মিলিলিটার পানি দেহ থেকে বের হয়ে যায়। এতে দেহের পানির সাম্যতা বজায় রাখতে সহায়তা হয়।
- তাপ নিয়ন্ত্রণ: নিঃশ্বাসের সময় CO2 এর সাথে দেহের কিছু তাপ নির্গত হয়ে দেহের তাপমাত্রা বজায় থাকে।
- এসিড ও ক্ষারের সাম্যতা: নিঃশ্বাস বায়ুর মাধ্যমে দেহের বাইরে বের হওয়ায় pH নিয়ন্ত্রণে সহায়তা হয়।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৬৩.
কোন কোষ বিভাজনটি হ্রাসমূলক বিভাজন নামেও পরিচিত?
  1. ক) মাইটোসিস 
  2. খ) মিয়োসিস
  3. গ) অ্যামাইটোসিস
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) মিয়োসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মিয়োসিস
ব্যাখ্যা

মিয়োসিস কোষ বিভাজনকে হ্রাসমূলক বিভাজনও বলা হয়। 

মিয়োসিস কোষ বিভাজনে একটি মাতৃ কোষ থেকে চারটি অপত্য কোষ পাওয়া যায়, যেগুলোর প্রতিটি মাতৃ কোষই অর্ধেকসংখ্যক ক্রোমোজম ধারণ করে। সেজন্য, এর আরেক নাম হ্রাসমূলক বিভাজন।
যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি কোষ বিভাজিত হয়ে মাতৃকোষের অর্ধেক ক্রোমোসোম সম্পন্ন চারটি অপত্য কোষ তৈরি করে তাকে মিয়োসিস কোষ বিভাজন বলে।
ডিপ্লয়েড জীবে জনন মাতৃকোষ , পরাগধানী, গর্ভাশয়, ডিম্বাশয়, শুক্রাশয় এবং হ্যাপ্লয়েড জীবে জাইগোটে মিয়োসিস ঘটে।

মিয়োসিসের বৈশিষ্ট্যসমূহ-
১. নিউক্লিয়াস দু’বার ও ক্রোমোসোম একবার বিভাজিত হয়
২. জনন মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসে মায়োসিস ঘটে
৩. একটি নিউক্লিয়াস থেকে চারটি অপত্য নিউক্লিয়াসের জš§ হয়
৪. সমসংস্থ বা হোমোলগাস ক্রোমোসোমগুলো জোড়ায় জোড়ায় মিলিত হয়ে বাইভ্যালেন্ট বা দ্বিযোজী ক্রোমোসোমের সৃষ্টি হয়
৫. অপত্য নিউক্লিয়াসের ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃ-নিউক্লিয়াসের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক হয়
৬. কায়াজমা সৃষ্টি ও ক্রসিং-ওভারের ফলে নন্-সিস্টার ক্রোমাটিডগুলোর মধ্যে অংশের বিনিময় ঘটে
৭. মায়োসিসের ফলে নিউক্লিয়াসে নতুন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের আবির্ভাব ঘটে

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

১,৩৬৪.
শক্তি উৎপাদক খাদ্য -
  1. ক) আমিষ
  2. খ) খনিজ লবণ
  3. গ) শর্করা
  4. ঘ) ভিটামিন
সঠিক উত্তর:
গ) শর্করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শর্করা
ব্যাখ্যা
খাদ্যের উপাদান ছয়টি - শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি। 
শর্করা, আমিষ ও স্নেহ হচ্ছে দেহ পরিপোষক খাদ্য।
খাদ্যের স্নেহ ও শর্করাকে বলা হয় শক্তি উৎপাদক খাদ্য।
আমিষ যুক্ত খাদ্যকে বলা হয় দেহ গঠনের খাদ্য।
খাদ্যের উপাদান দুই ধরনের -
(১) মুখ্য উপাদান ( শর্করা, আমিষ ও স্নেহ )
(২) সহায়ক উপাদান ( ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি )

[সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই]
১,৩৬৫.
মানবদেহের বৃদ্ধিজনিত হরমোন দেহের কোন গ্রন্থিতে উৎপন্ন হয়? 
  1. এড্রেনাল
  2. থাইরয়েড
  3. থাইমাস
  4. পিটুইটারি
সঠিক উত্তর:
পিটুইটারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিটুইটারি
ব্যাখ্যা
- মানুষের বৃদ্ধি হরমোন (Human Growth Hormone, HGH) সাধারণভাবে সোমাটোট্রপিন (Somatotrophin) নামে পরিচিত। 
- এটি এক ধরনের পেপটাইড হরমোন যা প্রায় ২০০টি অ্যামিনো এসিডের সমন্বয়ে গঠিত। 
- মানবদেহের বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত এ হরমোন শরীরে স্বাভাবিকভাবেই উৎপন্ন হয়। 
- মানবদেহের মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থিতে এই হরমোন উৎপন্ন হয়। 
-  বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩০ বছর বয়সের পরে বৃদ্ধি হরমোনের ক্ষরণ কমে যায়। 
- পরবর্তী প্রতি ১০ বছরে ক্ষরণ প্রায় ১৪% হারে হ্রাস পায়। 
- বৃদ্ধি হরমোন যত কমবে, শরীরে ততই বয়সের ছাপ বাড়বে। 
- এ সময় দেহে বৃদ্ধি হরমোন প্রয়োগ করলে বয়সের ছাপ মিলিয়ে যাবে কিংবা ছাপ পড়ার গতি কমে যাবে। 
 
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৬৬.
নিউক্লিয়াস গঠনের ভিত্তিতে কোষ কয় ধরনের হয়ে থাকে?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
সঠিক উত্তর:
ক) দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দুই
ব্যাখ্যা

নিউক্লিয়াস গঠনের ভিত্তিতে কোষ দুই ধরনের হয়ে থাকে। যথা- আদি কোষ এবং প্রকৃত কোষ।

যেসব কোষে আদর্শ এবং সংগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না, কোষে পর্দাঘেরা কোষ অঙ্গাণু থাকে না, ক্রোমোজোম গঠিত হয় না, তাদের আদি কোষ বা প্রোক্যারিওটিক কোষ বলে। ব্যাকটেরিয়া নীলাভ সবুজ শৈবাল ইত্যাদি প্রোক্যারিওটিক কোষের উদাহরণ।
যেসব কোষে নিউক্লিয়াসকে সংগঠিত (নিউক্লিয় পর্দা, নিউক্লিওপ্লাজম, নিউক্লিওলাস এবং নিউক্লিয় জালক উপস্থিত) এবং নিউক্লিয় পর্দা বেষ্টিত, ক্রোমোজোম ক্ষারীয় প্রোটিনযুক্ত , কোষে পর্দাঘেরা একাধিক কোষ অঙ্গাণু থাকে, তাদের আদর্শ ইউক্যারিওটিক কোষ বলে। উন্নত উদ্ভিদ ও প্রাণী কোষের প্রকৃত উদাহরণ।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান 

১,৩৬৭.
স্নায়ুটিস্যুর একক হচ্ছে -
  1. ডেনড্রন
  2. অ্যাক্সন
  3. কোষদেহ
  4. স্নায়ুকোষ
সঠিক উত্তর:
স্নায়ুকোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্নায়ুকোষ
ব্যাখ্যা
স্নায়ুটিস্যু বা নার্ভটিস্যু: 
- প্রাণী দেহের যে টিস্যু উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করতে পারে তাকে স্নায়ুটিস্যু বা নার্ভটিস্যু বলে। 
- স্নায়ুটিস্যুর একক হচ্ছে স্নায়ুকোষ বা নিউরন। 
- মস্তিষ্ক অসংখ্য স্নায়ুকোষ বা নিউরন দিয়ে তৈরি। 
- প্রতিটি নিউরন তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। 
যথা- 
(ক) কোষদেহ, 
(খ) ডেনড্রন এবং 
(গ) অ্যাক্সন। 

স্নায়ুটিস্যুর কাজ: 
- দেহের বিভিন্ন ইন্দ্রিয় ও সংবেদন গ্রহণকারী অঙ্গ থেকে গৃহীত উদ্দীপনা মস্তিষ্কে প্রেরণ করে। 
- দেহের কার্যকর অংশ এ উদ্দীপনায় সাড়া দেয়। 
যেমন- মশা কামড়ালে এ অনুভূতি মস্তিষ্কে পাঠায়। মস্তিষ্ক হাতকে এ কথা জানায় তখন হাত মশা মারার চেষ্টা করে। 
- উদ্দীপনা বা ঘটনাকে স্মৃতিতে ধারণ করে। 
- দেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১,৩৬৮.
ভ্রূণের হৃৎপিণ্ড গঠিত হয় কততম সপ্তাহে?
  1. ৪র্থ
  2. ৬ষ্ঠ
  3. ৫ম
  4. ৮ম
সঠিক উত্তর:
৪র্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪র্থ
ব্যাখ্যা
৪র্থ তম সপ্তাহে ভ্রূণের হৃৎপিণ্ড গঠিত হয়।

• ভ্রূণ ও ফিটাসের বিকাশ 
- ১ম সপ্তাহ - নিষেক ও ক্লিভেজ; ৪–৫ দিনে ব্লাস্টোসিস্ট উৎপত্তি; কোষ >১০০; ৬–৯ দিনে ইমপ্লান্টেশন।
- ২য় সপ্তাহ - তিনটি অঙ্কুর স্তর (এক্টোডার্ম, এন্ডোডার্ম, মেসোডার্ম) গঠিত হয়।
- ৩য় সপ্তাহ - মাসিক বন্ধ হয় (প্রথম লক্ষণ); মেরুদণ্ড, মস্তিষ্ক ও সুষুমা স্নায়ুর উৎপত্তি; ভ্রূণের দৈর্ঘ্য ২ মিমি।
- ৪র্থ সপ্তাহ - হৃৎপিণ্ড, রক্তনালি, রক্ত গঠন শুরু; আমবিলিক্যাল কর্ড গঠিত; ভ্রূণ ৫ মিমি।
- ৫ম সপ্তাহ - মস্তিষ্ক দ্রুত বৃদ্ধি পায়; লিম্ব বাড (limb bud) তৈরি হয়।
- ৬ষ্ঠ সপ্তাহ - চোখ ও কান গঠনের সূচনা।
- ৭ম সপ্তাহ - মুখমণ্ডল গঠিত হয়; চোখে রঙ দেখা যায়।
- ১২তম সপ্তাহ - অঙ্গ, পেশি, হাড়, হাত-পায়ের আঙুল পরিপূর্ণ; জনন অঙ্গ সুগঠিত; দৈর্ঘ্য ১০ সেমি।
- ২০তম সপ্তাহ - ভ্রূ ও চোখের পাতা (lashes) গঠিত; আঙুলের রেখা দৃশ্যমান।
- ২৪তম সপ্তাহ - চোখের পাতা খুলতে পারে।
- ২৬তম সপ্তাহ - অপ্রাপ্তকালীন জন্ম হলেও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা থাকে।
- ২৮তম সপ্তাহ - নড়াচড়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি; স্পর্শ ও অতিশব্দ অনুভব করে; মূত্র ত্যাগ করে; দৈর্ঘ্য ৩৭ সেমি।
- ৩০তম সপ্তাহ - মাথা নিচের দিকে চলে আসে – জন্মের জন্য প্রস্তুত। 
- ৩৮তম সপ্তাহ - সাধারণত ৯ মাসের শিশুর জন্ম হয় (পূর্ণাঙ্গ গর্ভকাল)।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
১,৩৬৯.
আমাদের দেহকোষ রক্ত হতে কী গ্রহণ করে?
  1. ইউরিয়া
  2. অক্সিজেন
  3. গ্লুকোজ
  4. খ ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
খ ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• আমাদের দেহকোষ রক্ত হতে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ গ্রহণ করে।

- আমাদের দেহে সকল কাজের জন্য অক্সিজেন দরকার।
- অক্সিজেন না হলে জীবকোষ বাঁচতে পারে না।
- রক্তের লোহিত রক্ত কণিকায় অবস্থিত হিমোগ্লোবিন ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে।
- অক্সিহিমোগ্লোবিন রূপে প্রতিটি কোষে বহন করে।
- দেহকোষ রক্ত হতে অক্সিজেন ও খাদ্যসার (গ্লুকোজ, অ্যামাইনো এসিড, ফ্যাটিএসিড) গ্রহণ করে।

• রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা।
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্ত কণিকার সমন্বয়ে রক্ত গঠিত হয়।
- মানুষ ও অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণিদেহের রক্ত লাল রঙের হয়।
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রং লাল হয়।
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১,৩৭০.
বিশ্বের সবচেয়ে ছোট পাখি কোনটি?
  1. চড়ুই
  2. বাবুই
  3. হাউক
  4. হার্মিং বার্ড
সঠিক উত্তর:
হার্মিং বার্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হার্মিং বার্ড
ব্যাখ্যা
• বিশ্বের সবচেয়ে ছোট পাখি হলো হামিংবার্ড (Bee Hummingbird) I
• বৈজ্ঞানিক নাম: Mellisuga helenae
• আকার: মাত্র ৫-৬ সেমি (প্রায় একটি মৌমাছির সমান)
• ওজন: প্রায় ১.৬ গ্রাম
• বসবাস: কিউবা এবং পাশের কিছু দ্বীপে পাওয়া যায়
• বিশেষত্ব: এটি এত ছোট যে অনেক সময় মৌমাছির সঙ্গে ভুল হয়, এবং এটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৮০ বার ডানা ঝাপটাতে পারে!
* তাই এটি পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট পাখি হিসেবে পরিচিত।

উল্লেখ,
- বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাখি হলো দক্ষিণ আফ্রিকান উটপাখি (Common Ostrich)।
- বিশ্বের দ্রুততম পাখি হলো পেরেগ্রিন ফ্যালকন (Peregrine Falcon)।

উৎস: Guinness World Records ওয়েবসাইট।
১,৩৭১.
যেসকল অনুজীব রোগ সৃষ্টি করতে পারে তাদেরকে কী বলে?
  1. টক্সিন
  2. জীবাণু
  3. প্যাথজেনিক
  4. হোস্ট
সঠিক উত্তর:
প্যাথজেনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যাথজেনিক
ব্যাখ্যা
• প্যাথজেনিক:
- প্যাথজেনিক শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ "pathos" (রোগ) এবং "gen" (উৎপাদন করা) থেকে, যার অর্থ "রোগ সৃষ্টিকারী"।
- এই ধরনের অনুজীব বিভিন্ন জীবের (হোস্টের) দেহে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটিয়ে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করতে পারে।
যেমন:
- ব্যাকটেরিয়া: টিউবারকুলোসিস (যক্ষ্মা), কলেরা। 
- ভাইরাস: ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেঙ্গু। 
- ছত্রাক: দাদ, কান্ডিডিয়াসিস। 
- প্রোটোজোয়া: ম্যালেরিয়া, অ্যামিবিক ডায়রিয়া। 

অন্যান্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
- টক্সিন (Toxin): এটি জীবাণু বা অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান দ্বারা নিঃসৃত বিষাক্ত পদার্থ, যা দেহের ক্ষতি করে। যেমন: ব্যাকটেরিয়ার উৎপন্ন বটুলিনাম টক্সিন।
- জীবাণু (Germ/Microbe): এটি সাধারণভাবে সকল অনুজীবকে বোঝায়, তবে সব জীবাণুই রোগ সৃষ্টি করে না।
- হোস্ট (Host): এটি সেই জীবকে বোঝায় যার দেহে প্যাথজেনিক অনুজীব প্রবেশ করে এবং রোগ সৃষ্টি করে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৩৭২.
অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে কোন ধমনি?
  1. জনন
  2. মেসেন্টেরিক
  3. ইলিয়াক
  4. সিলিয়াক
সঠিক উত্তর:
মেসেন্টেরিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেসেন্টেরিক
ব্যাখ্যা
সাবক্লেভিয়াল ধমনি: 
- দেহের প্রতিপাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত বহন করে। 
যেমন- 
• ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে। 
• বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে। 
মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
• জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে। 
• সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত বহন করে। 
• ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে। 
• সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে। 
• ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
• আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত বহন করে। 
• থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত বহন করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৭৩.
নিম্নের কোন রোগের ফলে হৃদপিন্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
  1. ডেঙ্গু
  2. বাতজ্বর
  3. জন্ডিস
  4. নিউমোনিয়া
সঠিক উত্তর:
বাতজ্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাতজ্বর
ব্যাখ্যা
বাতজ্বর: 
- স্ট্রেপটোকক্কাস নামক অণুজীবের সংক্রমণে সৃষ্ট রোগ।
- এর ফলে শ্বাসনালীর প্রদাহ, ফুসকুড়িযুক্ত সংক্রামক জ্বর, টনসিলের প্রদাহ ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়।
- সাধারণত শিশুকালেই এই রোগের আক্রমণ শুরু হয় এবং দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিশেষ করে হৃদপিন্ড আক্রান্ত হয়।
- হৃদপিন্ড পুরোপুরি আক্রান্ত না হলেও হৃদপেশি ও হৃদপিন্ডের কপাটিকা অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- ফলে হৃদপিন্ড যথাযথ ভাবে রক্ত পাম্প করতে সক্ষম হয় না এবং দেহে রক্ত প্রবাহের পরিমাণ কমে যায়।
এছাড়া,
স্ট্রোকের ফলে মস্তিষ্ক, জন্ডিসের ফলে যকৃত এবং নিউমোনিয়ার ফলে ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী, NCTB।
১,৩৭৪.
স্বাভাবিক প্রজনন সহায়তা ও বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে -
  1. ভিটামিন এ
  2. ভিটামিন বি
  3. ভিটামিন ডি
  4. ভিটামিন ই
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন ই
ব্যাখ্যা
ভিটামিন ই (Vitamin E):
- ভিটামিন ই এর রাসায়নিক নাম টোকোফেরল।
- এটি তাপ ও অম্লে বিনষ্ট হয় না। তবে ক্ষারে সামান্য নষ্ট হয়।

ভিটামিন ই এর উৎস:
- সব ধরনের উদ্ভিজ্জ তেল, যেমন- নারিকেল তেল, সরিষার তেল, চালের কুঁড়ার তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি ভিটামিন ই এর ভালো উৎস।
- শস্যদানার ভ্রূণ, বাদাম, গোটা শস্য, শাক-সবজি, মাখন ইত্যাদিতে কিছু পরিমাণে ভিটামিন ই থাকে।
- ডিমের কুসুম, দুধ ও যকৃতেও ভিটামিন ই পাওয়া যায়।

ভিটামিন ই এর কাজ:
১। ভিটামিন এ রক্তের লোহিত কণার জারণসহ অবাঞ্ছিত জারণ রোধ করে।
২। জননাঙ্গের বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক ক্ষমতা বজায় রাখে ।
৩। নারী ও পুরুষের বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধ করে।
৪। নারী ও পুরুষের স্বাভাবিক প্রজননে সহায়তা করে।
৫। অকাল বার্ধক্য রোধ করে।
৬। ভ্রূণের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

ভিটামিন ই এর অভাবজনিত অবস্থা:
১। নারী ও পুরুষের সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা লোপ পায় এবং বন্ধ্যাত্ব দেখা দেয়।
২। ভ্রূণের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
৩। গর্ভপাত হতে পারে।
৪। অকাল বার্ধক্য দেখা দেয়।

তথ্যসূত্র - গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৭৫.
কোন ধরনের কোষে নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত?
  1. লোহিত রক্ত কণিকা
  2. স্নায়ু কোষ
  3. শুক্রাণু
  4. শ্বেত রক্তকণিকা
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্ত কণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্ত কণিকা
ব্যাখ্যা

লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত থাকার ফলে এটি সর্বাধিক পরিমাণ হিমোগ্লোবিন ধারণ করে এবং অক্সিজেন পরিবহনের জন্য যথেষ্ট স্থান পায়।
- হিমোগ্লোবিন হলো একটি লৌহযুক্ত প্রোটিন, যা অক্সিজেন অণুকে আবদ্ধ করে এবং RBC-কে লাল রঙ দেয়।

• লোহিত রক্ত কণিকা:
- লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন।
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়।
- লোহিত রক্ত কণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন (O2) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।
- নিউক্লিয়াসের পাশাপাশি এতে মাইটোকন্ড্রিয়াও অনুপস্থিত থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৭৬.
নিচের কোনটি রক্তের ধর্ম নয়?
  1. ক) স্বচ্ছ
  2. খ) অস্বচ্ছ
  3. গ) লবণাক্ত
  4. ঘ) তরল
সঠিক উত্তর:
ক) স্বচ্ছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্বচ্ছ
ব্যাখ্যা

প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরণের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, লবণাক্ত ও ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে (মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%)
রক্তের উপাদানগুলো হচ্ছে রক্তরস (৫৫%) এবং রক্তকণিকা(৪৫%)।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম ও দশম শ্রেণি। পৃষ্ঠা ৪২।

১,৩৭৭.
একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে যে পরিমাণ রক্ত থাকে তা দেহের মোট ওজনের শতকরা কত?
  1. ক) প্রায় ৬%
  2. খ) প্রায় ১০%
  3. গ) প্রায় ১২%
  4. ঘ) প্রায় ৮%
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রায় ৮%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রায় ৮%
ব্যাখ্যা
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু।
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের।
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৩৭৮.
যক্ষ্মা রোগের জীবাণুর নাম- 
  1. Escherichia coli
  2. Mycobacterium tuberculosis
  3. Staphylococcus aureus
  4. Plasmodium vivax
সঠিক উত্তর:
Mycobacterium tuberculosis
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Mycobacterium tuberculosis
ব্যাখ্যা

• যক্ষ্মা রোগের জীবাণুর নাম হচ্ছে Mycobacterium tuberculosis. 

- যক্ষ্মা  Mycobacterium tuberculosis নামের জীবাণুঘটিত দীর্ঘস্থায়ী এক সংক্রামক ব্যাধি।
- এ রোগ TB নামেও পরিচিত। যক্ষ্মা একটি প্রাচীন রোগ।
- সম্ভবত পঞ্চম শতকের প্রথম দিক থেকেই এটি মারাত্মক রোগ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
- যক্ষ্মা জীবাণুর বিভিন্ন জাত গৃহপালিত পশু ও বন্যপ্রাণীদের মধ্যেও সংক্রমণ ঘটায়।
- এ রোগ সচরাচর ফুসফুসের ক্ষতি করে, কিন্তু শ্বাসতন্ত্র, অস্থি ও অস্থিসন্ধি, ত্বক, লসিকাগ্রন্থি, অন্ত্র, কিডনি এবং স্নায়ুতন্ত্রও আক্রমণ করে।
- শ্বাসগ্রহণের সময় জীবাণু ফুসফুসে প্রবেশ করলেই সাধারণত সংক্রমণ ঘটে। 
- দূষিত খাদ্যগ্রহণেও সংক্রমণ ঘটতে পারে।
- যক্ষ্মাগ্রস্ত ব্যক্তির হাঁচি ও কাশি থেকে নির্গত কফ বা থুথুর কণাগুলি অন্যের শরীরে ও বাতাসে জীবাণু ছড়ায়।
- এসব জীবাণু বাতাসে, শুষ্ক কফ ও থুথুতে এবং ধূলাবালিতে দীর্ঘকাল সক্রিয় থাকে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।

১,৩৭৯.
কোন মশা ফাইলেরিয়া রোগের জীবাণু বহন করে? 
  1. কিউলেক্স
  2. অ্যানোফিলিস
  3. এডিস
  4. অ্যাডালিস
সঠিক উত্তর:
কিউলেক্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিউলেক্স
ব্যাখ্যা
• ফাইলেরিয়া রোগের জীবাণু বহন করে কিউলেক্স মশা।
- যখন কিউলেক্স মশা কোনো আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ায়, তখন সেই ফাইলেরিয়া জীবাণু মশার শরীরে প্রবেশ করে।
- পরবর্তীতে সেই মশা অন্য কাউকে কামড়ালে জীবাণু দেহে প্রবেশ করে এবং রোগ সৃষ্টি করে।

অন্যদিকে,
- ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা ভাইরাস ইত্যাদির বাহক এডিস মশা।
- ম্যালেরিয়ার বাহক অ্যানোফিলিস মশা।

উৎস: ব্রিটানিকা ও World Health Organization (WHO)।
১,৩৮০.
একই বৈশিষ্ট্যের জন্য ক্রোমোজোমে অবস্থানরত জিনের ভিন্ন ভিন্ন রূপকে কী বলা হয়?
  1. অ্যালিল
  2. লোকাস
  3. জিনোটাইপ
  4. ফিনোটাইপ
সঠিক উত্তর:
অ্যালিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালিল
ব্যাখ্যা

◉ একটি জিনের ভিন্ন ভিন্ন রূপকে অ্যালিল বলা হয়। এগুলো একই লোকাসে (chromosome-এর নির্দিষ্ট অবস্থান) অবস্থান করে এবং কোনো বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা সৃষ্টি করতে পারে। যেমন: মটরশুঁটির ফুলের রঙের জন্য একটি অ্যালিল বেগুনি রঙের, আরেকটি অ্যালিল সাদা রঙের হতে পারে।

জিন: 
- জিন (Gene) W. L. Johannsen (গ্রিক genes = born) ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে জিন শব্দটি ব্যবহার করেন।
- ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে মেন্ডেল এর অনুমানকৃত জীবের বৈশিষ্ট্য নির্ধারক বস্তুটি হলো এলিমেন্টিস বা ফ্যাক্টর যা পরবর্তীকালে জিন নামে অভিহিত হয়। 
- জিন হচ্ছে বংশগতির মৌলিক একক এবং এরা বংশ পরম্পরায় সঞ্চারিত হয়ে বংশগতিধারা অব্যাহত রাখে। 
- জিন হচ্ছে পলিপেপটাইড সংশ্লেষের জন্য সংকেত প্রদানকারী DNA অণুর অংশ বিশেষ। 

লোকাস: 
- ক্রোমোসোমে একটি জিনের অবস্থানকে লোকাস বলে। 

অ্যালিল: 
- ক্রোমোসোমের একই লোকাসে অবস্থানকারী জিনগুলোকে পরস্পরের অ্যালিল বলা হয়। 

অ্যালিলোমর্ফ: 
- জিনগুলোর একত্রে অবস্থান করাকে অ্যালিলোমর্ফ বলে। 

জিনোটাইপ: 
- জীবদেহের দৃশ্যমান অথবা সুপ্ত বেশিষ্ট্যগুলোর নিয়ন্ত্রক জিনসমূহের গঠনকে জিনোটাইপ বলে। 

ফিনোটাইপ: 
- জীবদেহের দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যসমূহকে ফিনোটাইপ বলে। 
- ফিনোটাইপ প্রকৃতপক্ষে জিনোটাইপের জিনসমূহের বাহ্যিক প্রকাশ। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৮১.
মানবদেহে শ্বসন প্রক্রিয়ায় গ্যাসীয় বিনিময় হচ্ছে -
  1. অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড বিনিময়
  2. অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন বিনিময়
  3. নাইট্রোজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড বিনিময়
  4. অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন বিনিময়
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড বিনিময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড বিনিময়
ব্যাখ্যা

• গ্যাসীয় বিনিময়:
- গ্যাসীয় বিনিময় বলতে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড বিনিময়কে বুঝায়।
- এটি মূলত বায়ু ও ফুসফুসের রক্তনালির ভিতরে ঘটে।
- সব ধরনের গ্যাসীয় বিনিময়ের মূলে রয়েছে ব্যাপন প্রক্রিয়া।
- গ্যাসীয় বিনিময়কে দুটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়, অক্সিজেন শোষণ ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ।

• অক্সিজেন শোষণ:
- ফুসফুসের বায়ুথলি বা অ্যালভিওলি ও রক্তের চাপের পার্থক্যের জন্য অক্সিজেন ব্যাপন প্রক্রিয়ায় রক্তে প্রবেশ করে।
- ফুসফুস থেকে ধমনির রক্তে অক্সিজেন প্রবেশ করার পর রক্তে অক্সিজেন দুভাবে পরিবাহিত হয়। সামান্য পরিমাণ অক্সিজেন রক্তরসে দ্রবীভূত হয়ে পরিবাহিত হয়।
- বেশির ভাগ অক্সিজেনই হিমোগ্লোবিনের লৌহ অংশের সাথে হালকা বন্ধনের মাধ্যমে অক্সিহিমোগ্লোবিন নামে একটি অস্থায়ী যৌগ গঠন করে। অক্সিহিমোগ্লোবিন থেকে অক্সিজেন সহজে বিচ্ছিন্ন হতে পারে।

হিমোগ্লোবিন + অক্সিজেন  →  অক্সিহিমোগ্লোবিন (অস্থায়ী যৌগ)
অক্সিহিমোগ্লোবিন  →  মুক্ত অক্সিজেন + হিমোগ্লোবিন

- রক্ত কৈশিকনালিতে পৌঁছার পর অক্সিজেন পৃথক হয়ে প্রথমে লোহিত রক্তকণিকার আবরণ ও পরে কৈশিকনালির প্রাচীর ভেদ করে লসিকাতে প্রবেশ করে। অবশেষে লসিকা থেকে কোষ আবরণ ভেদ করে কোষে পৌঁছে।

• কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহণ:
- খাদ্য জারণ প্রক্রিয়ায় কোষে কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি করে।
- এই কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রথমে কোষ আবরণ ভেদ করে আন্তঃকোষীয় তরল ও লসিকাতে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে কৈশিকনালির প্রাচীর ভেদ করে রক্তরসে প্রবেশ করে।
- কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রধানত সোডিয়াম বাইকার্বোনেট (NaHCO3) রূপে রক্তরসের মাধ্যমে এবং পটাশিয়াম বাই কার্বোনেট (KHCO3) রূপে লোহিত রক্তকণিকা দিয়ে পরিবাহিত হয়ে ফুসফুসে আসে, সেখানে কৈশিকনালি ও বায়ুথলি ভেদ করে দেহের বাইরে নির্গত হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।

১,৩৮২.
কোন রক্তকোষ জীবাণু ধ্বংস করে দেহের প্রকৃতিগত আত্মরক্ষায় অংশ নেয়? 
  1. অণুচক্রিকা
  2. প্লাজমা
  3. শ্বেত রক্তকোষ
  4. লোহিত রক্তকোষ
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্তকোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্তকোষ
ব্যাখ্যা

রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লালবর্ণের তরল যোজক টিস্যু। 
- ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়। 
- উষ্ণ রক্তবাহী প্রাণীর দেহে রক্ত তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে। 
- রক্তের উপাদান দুটি। যথা- রক্তরস (55%) এবং রক্তকোষ (45%)। 

রক্তরস: 
- রক্তরস (Plasma) রক্তের তরল অংশ, এর রং ঈষৎ হলুদাভ। 
- রক্তরসের প্রায় 91-92% অংশ পানি এবং ৪-9% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 
- এসব রক্তরসের ভিতর বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন এবং বর্জ্য পদার্থ থাকে। 

রক্তকোষ: 
- রক্তকোষ তিন ধরনের। 
যথা- লোহিত রক্তকোষ (Erythrocyte বা Red blood cells বা RBC), শ্বেত রক্তকোষ (Leukocyte বা white blood cells বা WBC) এবং অণুচক্রিকা (Thrombocytes বা Blood platelet)। 
- লোহিত রক্তকোষ হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে, যার জন্য রক্ত লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- শ্বেত রক্তকোষ জীবাণু ধ্বংস করে দেহের প্রকৃতিগত আত্মরক্ষায় অংশ নেয়। 
- মানবদেহে বেশ কয়েক ধরনের শ্বেত রক্তকোষ থাকে। 
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধায় অংশ নেয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৮৩.
প্রোটিনের মূল উপাদান কোনটি?
  1. ক) হাইড্রোজেন
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) অক্সিজেন
  4. ঘ) কার্বন
সঠিক উত্তর:
খ) নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন দ্বারা গঠিত।
আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
সালফার, ফসফরাস ও আয়রন সামান্য পরিমাণে থাকে।
শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই দেহে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টি বিজ্ঞানে আমিষ একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১,৩৮৪.
নিচের কোন প্রাণীটি আর্থ্রোপোডার উদাহরণ? 
  1. জেলি ফিস
  2. আরশোলা
  3. সরীসৃপ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
আরশোলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরশোলা
ব্যাখ্যা
Arthropoda (আর্থ্রোপোডা): 
- আর্থ্রোপোডা (গ্রিক, arthron = joint, সন্ধি + pous, podos = foot, পা) পর্বটি প্রাণিজগতে সর্ব বৃহৎ পর্ব। 
- এদের পা দেখলেই বোঝা যায়, এরা কয়েকটি ভিন্ন অংশ যুক্ত হয়ে গঠিত হয়েছে, তাই এদের সন্ধিপদী নাম করা হয়েছে। 
- এরা পাহাড়, পর্বত, সমুদ্রের তলদেশ, মরুভূমির বালুকাময় স্থানসহ সর্বত্র বাস করে। 

বৈশিষ্ট্য: 
- সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ বর্তমান। প্রতিটি খণ্ডে সাধারণত একজোড়া উপাঙ্গ থাকে। 
- দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম, ত্রিস্তরী, খণ্ডায়িত দেহ। 
- উন্মুক্ত সংবহনতন্ত্র যা পৃষ্ঠীয় সংকোচনশীল হৃদপিণ্ড, ধমনীসমূহ এবং হিমোসিল নিয়ে গঠিত। 
- দেহ প্রাচীর ফুলকা, ট্রাকিয়া বা পুস্তক ফুসফুস দ্বারা শ্বাসকার্য সম্পাদিত হয়। 
- কক্সাল, এন্টেনাল, ম্যালপিজিয়ান নালিকা দ্বারা রেচন সম্পাদিত হয়। 
- স্ত্রী-পুরুষ আলাদা সাধারণত অন্তঃনিষেক সম্পন্ন হয় এবং প্রায় ক্ষেত্রেই মেটামরফোসিস বিদ্যমান। 
- পৌষ্টিকতন্ত্র সম্পূর্ণ, উপাঙ্গ পরিবর্তিত হয়ে মুখোপাঙ্গ গঠিত যা বিভিন্ন প্রকার খাদ্য গ্রহণের জন্য অভিযোজিত। 
উদাহরণ: Periplaneta americana (আরশোলা), Penaeus monodon (বাগদা চিংড়ি), Carcinus maenas (কাঁকড়া)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৮৫.
প্রতিটি লোবিউলে কত সংখ্যক অ্যালভিওলি থাকে?
  1. ২০-৩০টি
  2. ৪০-৫০টি
  3. ৫০-৮০টি
  4. ৮০-১০০টি
সঠিক উত্তর:
৫০-৮০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫০-৮০টি
ব্যাখ্যা
অ্যালভিওলাস (Alveolus): 
- ফুসফুসের গঠনগত ও কার্যগত একক হলো অ্যালভিওলাস। 
- অ্যালভিওলাসগুলো ক্ষুদ্র বুদবুদ সদৃশ বায়ুকুঠুরী বিশেষ। 
- ডান ফুসফুসে ১০টি ও বাম ফুসফুসে ৮টি লোবিউল থাকে। 
- প্রতিটি লোবিউলে ৫০-৮০টি অ্যালভিওলি থাকে। 
- অ্যালভিওলাসের প্রাচীর চ্যাপ্টাকৃতির স্কোয়ামাস এপিথেলিয়াল কোষ দ্বারা গঠিত। 
- এতে কোলাজেন ও ইলাস্টিন তন্তু থাকে। 
- ফলে শ্বসনের সময় সংকোচন ও প্রসারণ সহজ হয়। 
- এছাড়া অ্যালভিওলার বায়ু ও প্রাচীরের কৈশিক জালিকার রক্তের মধ্যে যে গ্যাসীয় বিনিময় সম্পাদিত হয় তার মধ্যবর্তী বিভেদক পর্দাকে শ্বাসপর্দা বলে। 
- শ্বাসপর্দাটি দুটি কোষীয় স্তর ও দুটি ভিত্তিপর্দা নিয়ে গঠিত। 
- এদের মধ্যে একটি এপিথেলিয় আবরণী ও অপরটি এন্ডোথেলিয় আবরণী। 
- বায়ু ও রক্তের মধ্যবর্তী স্থানে এই মিহিপর্দার উপস্থিতি গ্যাসীয় বিনিময়কে সহজ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৩৮৬.
মানব মস্তিষ্কের কোন অংশ ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. সেরিব্রাম
  2. সেরিবেলাম
  3. মেডুলা
  4. থ্যালামাস
সঠিক উত্তর:
সেরিবেলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেরিবেলাম
ব্যাখ্যা

• সেরিবেলাম (Cerebellum) হলো মস্তিষ্কের এমন একটি অংশ যা শরীরের ভারসাম্য, অঙ্গভঙ্গি ও পেশির সমন্বয় নিয়ন্ত্রণ করে।

- এটি মস্তিষ্কের পেছনের অংশে অবস্থিত এবং ব্রেইনস্টেমকে ঘিরে থাকে।
- আমাদের শরীরের বিভিন্ন সংবেদী অঙ্গ, যেমন; কান, চোখ, পেশি ইত্যাদি থেকে প্রাপ্ত তথ্য সেরিবেলাম খুব দ্রুত বিশ্লেষণ করে।
- এর ফলে শরীরের প্রতিটি নড়াচড়া যথাযথভাবে, মসৃণভাবে এবং ভারসাম্যপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
- সেরিবেলাম ক্ষতিগ্রস্ত হলে চলাফেরায় অসামঞ্জস্য, দুলে যাওয়া, হাত কাঁপা এবং শরীরের ভারসাম্য হারানো দেখা দেয়।

অন্যদিকে,
- সেরিব্রাম: চিন্তা, স্মৃতি, ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- মেডুলা: শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃৎস্পন্দণের মতো অনৈচ্ছিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- থ্যালামাস: ইন্দ্রিয় সংকেত মস্তিষ্কে প্রেরণ করে।

তথ্যসূত্র:
- NCTB জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
- Britannica [লিংক]।

১,৩৮৭.
দুধের প্রোটিনের নাম কী?
  1. ক) পেপসিন
  2. খ) রেনিন
  3. গ) কেসিন
  4. ঘ) ল্যাকটোজ
সঠিক উত্তর:
গ) কেসিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কেসিন
ব্যাখ্যা
• দুধ একটি আদর্শ খাবার।
• এতে সুষম খাদ্যের ৬ টি উপাদানই বিদ্যমান।
• দুধে যে শর্করা থাকে তাকে  বলে।
• এতে যে প্রোটিন থাকে তাকে কেসিন বলে।
• দুধকে জমাট বাঁধায় রেনিন।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৩৮৮.
দুধের প্রোটিনের প্রধান উপাদান কী? 
  1. গ্লুকোজ 
  2. কেজিন 
  3. এলবুমিন 
  4. গ্লোবিউনিন 
সঠিক উত্তর:
কেজিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেজিন 
ব্যাখ্যা

দুধ: 
- দুধ হচ্ছে লিপিড, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ভিটামিন এবং পানিতে দ্রবীভূত অথবা বিক্ষিপ্ত বিভিন্ন অজৈব এবং জৈব লবণের মিশ্রণ। 
- দুধ একটি কলয়েড বা ইমালশন।
- স্তন্যপায়ী স্ত্রী প্রাণীর দেহে এটি তৈরি হয় যা তাদের নবজাতক শিশুর খাদ্যের প্রধান উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- দুধের প্রধান উপাদানগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো- 
১. চর্বি (Lipids): 
- দুধের মধ্যে চর্বি অদ্রবণীয় সূক্ষ্ম কণারূপে বিদ্যমান থাকে। চর্বির পরিমাণ দ্বারা দুধের গুণগতমান নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। উচ্চ চর্বি বিশিষ্ট দুধ অধিক ক্রিম বহন করে ও মসৃণ হয় এবং বেশি মাখন ও পনির উৎপন্ন করে। এটি শক্তির একটি উৎকৃষ্ট উৎস হিসেবে কাজ করে। 

২. প্রোটিন (Protein): 
- দুধে উচ্চমান সম্পন্ন প্রোটিন বিদ্যমান। সাধারণত প্রতি লিটার দুধে 30-35g প্রোটিন উপস্থিত থাকে। দুধে উপস্থিত 76-86% প্রোটিনই কেজিন (Casein) দ্বারা গঠিত। প্রধানত চার প্রকার কেজিন দুধের মধ্যে পাওয়া যায়। যেমন: αS1, αS2, β এবং K-কেজিন। এর সাথে অল্প পরিমাণ অ্যালবুমিন ও গ্লোবিউনিন বিদ্যমান যা বিভিন্ন অসুখের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। 

৩. কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate): 
- দুধে বিদ্যমান প্রধান শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট হচ্ছে ল্যাকটোজ। এক অণু গ্লুকোজ এবং এক অণু গ্ল্যাক্টোজ এর সমন্বয়ে ল্যাকটোজ তৈরি হয়। এটি দুধের মিষ্টতা বাড়ায়। দুধের মধ্যে প্রায় 4.8% ল্যাকটোজ বিদ্যমান যা দুধের 40% ক্যালরি উৎপন্ন করে। 

8. খনিজ লবণ (Minerals): 
- দুধে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস অধিক পরিমাণে বিদ্যমান। এছাড়া অল্প পরিমাণে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্লোরাইড, সাইট্রেট প্রভৃতি বিদ্যমান থাকে। ক্যালসিয়াম হাড়ের বৃদ্ধি সাধন ও ক্ষয়পূরণ করে। দাঁতের জন্য ক্যালসিয়াম খুবই প্রয়োজন। 

৫. ভিটামিন (Vitamins): 
- দুধ ভিটামিনের এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডার। দুধের মধ্যে ভিটামিন A, B6, B12, C, D, K, F আছে। এছাড়াও থায়ামিন, নায়াসিন, রিবোফ্লাবিন, প্যান্টোথ্যানিক এসিড প্রভৃতি উপাদান বিদ্যমান। 

৬. পানি (Water): 
- দুধে পানির পরিমাণ গড়ে ৪7%। পানিতে দ্রবণীয় বিভিন্ন খাদ্য উপাদান দ্রবীভূত থাকে। এদের মধ্যে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ও সি উল্লেখযোগ্য। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৮৯.
মানবদেহে বিলিরুবিন উৎপন্ন হয় কোন অঙ্গটিতে?
  1. হৃদপিন্ডে
  2. কোলনে
  3. পিত্তথলিতে
  4. যকৃতে
সঠিক উত্তর:
যকৃতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যকৃতে
ব্যাখ্যা
• বিলিরুবিন উৎপন্ন হয় যকৃতে। 

- বিলিরুবিন এক ধরণের হলুদ রঙের পদার্থ, যেটা রক্তে উপস্থিত লাল রক্ত কনিকার ১২০ দিনের চক্র পূরণ হলে ভেঙ্গে তৈরি হয়।
- বিলিরুবিনে বিলি থাকে, যেটা লিভারে তৈরি পাচক তরল পদার্থ এবং এটি গলব্লাডারে থাকে।
- এটা খাবারকে হজম করতে এবং মল তৈরি হতে সাহায্য করে। 
- জন্ডিস হবার মূল কারণ হল রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা অধিক পরিমাণে বেড়ে যাওয়া।
- যদি কোন কারণে বিলিরুবিন বিলির সাথে মিশতে না পারে কিংবা যখন লাল রক্ত কনিকা সামান্য থেকে কম পরিমাণে ভাঙতে শুরু করে, তখন রক্তে বিলিরুবিনের স্তর দ্রুত বাড়তে থাকে। আর এই ভাবে এটা দেহের অন্য অঙ্গে পৌঁছে সেখানে হলুদাভাবের সৃষ্টি করে।

সূত্র: University of California Website
১,৩৯০.
গর্ভাবস্থায় জরায়ু ও ভ্রূণের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে কোন হরমোন?
  1. থাইরক্সিন 
  2. অ্যাড্রেনালিন 
  3. অ্যান্ড্রোজেন 
  4. প্রোজেস্টেরন
সঠিক উত্তর:
প্রোজেস্টেরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোজেস্টেরন
ব্যাখ্যা

- গর্ভাবস্থায় জরায়ু ও ভ্রূণের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে প্রোজেস্টেরন হরমোন সহায়তা করে। 

মানব প্রজননে হরমোনের ভূমিকা:  

- হরমোন এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ যা নালিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়।
- হরমোন নির্দিষ্ট অথচ স্বল্প মাত্রায় নিঃসৃত হয়ে নানাবিধ শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি বা কম নিঃসৃত হলে দেহের বিভিন্ন কাজের ব্যাঘাত ঘটে এবং দেহে নানা রকম অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। 
- মানব দেহে প্রজনন সংক্রান্ত হরমোনগুলো হলো-
১। শুক্রাশয় এর অনাল গ্রন্থি: 
- এ অনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের নাম- টেস্টোস্টেরণ এবং অ্যান্ড্রোজেন। 
- এ হরমোন শুক্রাণু উৎপাদন করে। দাঁড়ি ও গোফ গজায়। গলার স্বর বদলায়। 

২। পিটুইটারী গ্রন্থি: 
- এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) বৃদ্ধি উদ্ধীপক হরমোন এবং (খ) উৎপাদক হরমোন। 
- এ হরমোন জনন গ্রন্থির বৃদ্ধি, ক্ষরণ ও কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। মাতৃদেহের স্তন দুগ্ধ ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। জরায়ুর সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে। 

৩। থাইরয়েড গ্রন্থি: 
- এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- থাইরক্সিন হরমোন। 
- এ হরমোন দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি করে। যৌন লক্ষণ প্রকাশ ও বিপাকে সহায়তা করে। 

৪। অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি: 
- এ গুন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- অ্যাড্রানালিন হরমোন। 
- এ হরমোন যৌন অঙ্গের বৃদ্ধি করে। যৌন লক্ষণ প্রকাশে সহায়তা করে। 

৫। ডিম্বাশয় এর অনাল গ্রন্থি: 
- এ অনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) ইস্ট্রোজেন, (খ) প্রোজেস্টেরন এবং (গ) রিলাক্সিন। 
- এ হরমোন নারী সুলভ লক্ষণগুলো সৃষ্টি করে। ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ করে। গর্ভাবস্থায় জরায়ু, ভ্রূণ ও অমরা ইত্যাদির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। ডিম্বাণু উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। 

৬। অমরা গ্রন্থি: 
- অমরা থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) গোনাডোট্রপিক এবং (খ) প্রোজেস্টেরন। 
- এ হরমোন ডিম্বাশয়ের অনাল গ্রন্থিকে উত্তেজিত করে। স্তন গ্রন্থির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৯১.
DNA ভাইরাসঘটিত রোগ কোনটি? 
  1. রুবেলা
  2. ভেরিওলা
  3. মাম্পস
  4. ইনফ্লুয়েঞ্জা বি
সঠিক উত্তর:
ভেরিওলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেরিওলা
ব্যাখ্যা
DNA ভাইরাসঘটিত রোগ: 
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়। 
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- হার্পিস সিমপ্লেক্স (মানব), Tipula irridescent, Rabbitpox, Vaccinia (bovine), ভেরিওলা (মানব), Pustular dermatitis (Sheep), এডেনা গ্রুপ, প্যাপিলোমা (মানব), পলিওমা, ΦX174 কলিফাজ, Cauliflower mosaic ও Adenoassociaed ইত্যাদি। 

RNA ভাইরাসঘটিত রোগ: 
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়। 
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- ইনফ্লুয়েঞ্জা বি (মানব), পোলিও (মানব), রুবেলা (মানব), পীতজ্বর (মানব), ডেঙ্গু (মানব), Encephalitis (Human), Leukemia (cat), মাম্পস (মানব), Measles (Human), Cold (Human), Newcastle disease (fowl), Rous sarcoma (bird), Rabies (dog), Potato yellow dwarf, Vesicular stomatitis (cattle), Tobacco mosaic, Sugarcane mosaic, fd (Pseudomonas), Cucumber mosaic, f2, fr1, R17কলিফাজ ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান) এবং ভাইরাসতত্ত্ব পরিচয় (আহমেদ মাতীন)।
১,৩৯২.
রক্ত সংবহন তন্ত্রের প্রধান অঙ্গ কোনটি?
  1. ফুসফুস
  2. কৈশিক জালিকা
  3. হৃদপিণ্ড
  4. রক্তবাহিকা
সঠিক উত্তর:
হৃদপিণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৃদপিণ্ড
ব্যাখ্যা
হৃদপিন্ড:
- রক্ত সংবহন তন্ত্রের প্রধান অঙ্গ হৃদপিন্ড।
- এটা পাম্পের মতো কাজ করে, ফলে রক্ত সংবহনতন্ত্রে রক্ত প্রবাহ সচল থাকে।
- হৃদপিন্ড বক্ষ গহ্বরে দুই ফুসফুসের মাঝখানে একই বাম দিকে অবস্থিত।
- মানব হৃদপিন্ড সম্পূর্ণভাবে চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত।
- এর উপরের প্রকোষ্ঠ দুটি বাম ও ডান অলিন্দ এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটি বাম ও ডান নিলয় নামে পরিচিত।
- নিলয় অলিন্দের তুলনায় আকারে বড়, প্রাচীর পুরু ও পেশিবহুল।
- প্রকোষ্ঠ বিভক্ত থাকলেও গোটা হৃদপিন্ড একটি একক হিসাবে কাজ করে এবং পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।
- হৃদপিন্ড এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৯৩.
নিচের মধ্যে কোনটি বাতাসের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়?
  1. টাইফয়েড
  2. পোলিও
  3. জন্ডিস
  4. বসন্ত
সঠিক উত্তর:
বসন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসন্ত
ব্যাখ্যা

•  বসন্ত বায়ুবাহিত রোগ।
- বাতাসের মাধ্যমে সংক্রমণ সাধারণত সেই রোগের জন্য হয় যা শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে পরিবেশে ছড়িয়ে থাকা ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করে। প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে টাইফয়েড, পোলিও, এবং জন্ডিস সাধারণত খাদ্য বা পানি দ্বারা সংক্রমিত হয়। অন্যদিকে, বসন্ত বা হালকা জ্বর ও চর্মরোগের সাথে যুক্ত রোগটি প্রধানত শ্বাসনালি বা বাতাসের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। অর্থাৎ, আক্রান্ত ব্যক্তির কাশির ফোঁটা বা শ্বাস-প্রশ্বাসে থাকা জীবাণু অন্য ব্যক্তির দেহে প্রবেশ করলে তারাও আক্রান্ত হতে পারে। তাই বাতাসের মাধ্যমে সংক্রমিত রোগের উদাহরণ হিসেবে “বসন্ত” সঠিক উত্তর।
 
• বায়ুবাহিত রোগ:
- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হপিং কফ, নিউমোনিয়া, সাধারণ ঠান্ডা জ্বর, বসন্ত, হাম ইত্যাদি।
- প্রতিরোধ: যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হপিং কফ এবং হামের টিকা নেয়া। এই জাতীয় রুগী থেকে দূরে থাকা। পরিবারের কেউ অসুস্থ্য হলে আলাদা রেখে চিকিৎসা করা।

• সংক্রামক রোগ:
- রোগের জীবাণু যখন পরোক্ষভাবে বাতাস, পানি, মশা-মাছি, কীট-পতঙ্গ, জীব-জন্তু ইত্যাদি দ্বারা অথবা সরাসরি পরস্পরের সংস্পর্শে এক দেহ থেকে অন্য দেহে খুব সহজেই বিস্তার লাভ করে তখন তাদেরকে সংক্রামক রোগ বলা হয়।

• পানিবাহিত রোগ:
- জন্ডিস, পোলিও, ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, রক্ত আমাশা (ডিসেন্ট্রি) বিভিন্ন ধরনের কৃমি রোগ ইত্যাদি।
- প্রতিরোধ: পানি ফুটিয়ে পান করা, টিউবওয়েলের পানি পান করা, ব্যক্তিগত পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, খাওয়ার আগে হাত ধোয়া, যেখানে সেখানে মলমূত্র পরিত্যাগ না করা, জুতা স্যান্ডেল পায়ে চলাফেরা করা, পোলিও রোগের টিকা নেয়া।

উৎস: পরিবেশ শিক্ষা-বিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৯৪.
কর্টিসল হরমোনকে সাধারণত কী নামে ডাকা হয়?
  1. বৃদ্ধি হরমোন
  2. স্ট্রেস হরমোন
  3. ইনসুলিন
  4. থাইরক্সিন
সঠিক উত্তর:
স্ট্রেস হরমোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ট্রেস হরমোন
ব্যাখ্যা

কর্টিসল হরমোনকে সাধারণত "স্ট্রেস হরমোন" বলা হয়। 
কারণ এটি শরীরের মানসিক ও শারীরিক চাপের (stress) প্রতি প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে।
এটি অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় এবং চাপপূর্ণ পরিস্থিতিতে শরীরকে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। 

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল
ক) বৃদ্ধি হরমোন: এটি সোমাটোট্রপিন হরমোন নামেও পরিচিত এবং শরীরের বৃদ্ধি ও বিকাশে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
গ) ইনসুলিন: এটি একটি পেপটাইড হরমোন যা অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
ঘ) থাইরক্সিন: এটি থাইরয়েড গ্রন্থি দ্বারা উৎপাদিত একটি হরমোন যা শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া (metabolism) নিয়ন্ত্রণ করে। 

১,৩৯৫.
পানিতে উপস্থিত বিয়োজন যোগ্য ও বিয়োজন অযোগ্য দূষক পদার্থসমূহকে জারণের জন্যে প্রয়োজনীয় মোট অক্সিজেনের চাহিদাকে কী বলে?
  1. ক) COD
  2. খ) WOD
  3. গ) BOD
  4. ঘ) TOD
সঠিক উত্তর:
ক) COD
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) COD
ব্যাখ্যা

প্রাণ রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (Biological/Biochemical Oxygen Demand - BOD):
পানিতে উপস্থিত অনুজীব কর্তৃক জৈব ও অজৈব পদার্থকে বিয়োজিত করতে প্রয়োজনীয় দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণকে প্রাণ রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা বা বায়োলজিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড BOD বলে।
পানির উৎকর্ষতা নির্ধারণে BOD নির্দেশক রূপে কাজ করে।

রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (Chemical Oxygen Demand - COD):
পানির মধ্যে কিছু অপচনশীল বা জৈব বিয়োজনের অযোগ্য (nonbiodegradable) বস্তু থাকে যাদের বিয়োজন ব্যাকটেরিয়া বা জীবণু দ্বারা সম্পন্ন হয় না।
এগুলিকে বিয়োজনের জন্য শক্তিশালী জারক পদার্থ যেমন K2Cr2O7 (যা অক্সিজেন সরবরাহ করে) প্রয়োজন হয়। এরা দূষক পদার্থকে জারিত করে। পানিতে উপস্থিত বিয়োজন যোগ্য ও বিয়োজন অযোগ্য দূষক পদার্থসমূহকে জারণের জন্যে প্রয়োজনীয় মোট অক্সিজেনের চাহিদাকে রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (COD) বলে।

উল্লেখ্য যে,
কোন নমুনার COD এর মান BOD এর মান অপেক্ষা বেশি হয়। কেননা COD নির্ণয়ের ক্ষেত্রে জৈব ভাঙ্গনযোগ্য বা বিয়োজন যোগ্য এবং বিয়োজন অযোগ্য এই উভয় প্রকার জৈব বস্তুই জারিত হয়। পানিতে COD এর মান বৃদ্ধির অর্থ হলো দূষণের হার বৃদ্ধি।

উৎসঃ পরিবেশ রসায়ন, রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৯৬.
মানুষের হৃৎপিণ্ডের ওজন কত?
  1. ক) প্রায় ৩০০ গ্রাম
  2. খ) প্রায় ২০০ গ্রাম
  3. গ) প্রায় ১০০ গ্রাম
  4. ঘ) প্রায় ৪০০ গ্রাম
সঠিক উত্তর:
ক) প্রায় ৩০০ গ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রায় ৩০০ গ্রাম
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ড
- পেশিবহুল ত্রিকোণাকার, ফাঁপা, চার প্রকোষ্ঠযুক্ত পাম্পের মতো যন্ত্র যার সংকোচন ও প্রসারণের ফলে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালিত হয় তাকে হৃৎপিণ্ড বলে।
- রক্তকে রক্তবাহিকার ভেতর দিয়ে সঞ্চালনের জন্য হৃৎপিণ্ড মানবদেহের পাম্প যন্ত্ররূপে কাজ করে।
- একটি হৃৎপিণ্ডের ওজন প্রায় ৩০০ গ্রাম, তবে স্ত্রীলোকের ক্ষেত্রে তা পুরুষের তুলনায় ১/৩ অংশ কম হয়।
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষ গহ্বরের মধ্যচ্ছদার উপরে ও দুই ফুসফুসের মাঝ বরাবর অঞ্চলে বাম দিক ঘেঁষে তির্যকভাবে অবস্থিত।
- এটি দেখতে লালচে রংয়ের ও ত্রিকোণাকার।
- এর সম্মুখভাব স্টার্নামের দিকে পচাৎভাগ মেরুদণ্ডের দিকে এবং নিম্নভাগ ডায়াফ্রামের উপরে থাকে।
- হৃৎপিণ্ডটি ডান দিকের দ্বিতীয় কশেরুকা থেকে বাম দিকের পঞ্চম কশেরুকা পর্যন্ত তির্যকভাবে অবস্থান করে।
- হৃৎপিণ্ডে প্রশস্ত সম্মুখভাগ অলিন্দ দ্বারা ও পশ্চাতের মোচাকার অংশটি নিলয় দ্বারা গঠিত।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৯৭.
মানবদেহের দীর্ঘতম হাড় কোনটি?
  1. হিউমেরাস
  2. ফিমার
  3. টিবিয়া
  4. রেডিয়াস
সঠিক উত্তর:
ফিমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিমার
ব্যাখ্যা
• ফিমার (Femur):
- নিম্নবাহুর প্রথম অস্থিকে ফিমার বলা হয়।

• এটি মানবদেহের সবচেয়ে দীর্ঘ এবং শক্তিশালী হাড়। ।
- এর ঊর্ধ্বপ্রান্তে একটি গোল হেড (মস্তক), নেক (গ্রীবা) এবং ছোট ও বড় ট্রোক্যান্টার অবস্থিত।
- দেহটি শক্ত ও নলাকার। এর পশ্চাত্তল একটি অমসৃণ আলযুক্ত।
- নিম্নপ্রান্ত দুটি কন্ডাইলবিশিষ্ট। দুই কন্ডাইলের মাঝখানে থাকে আন্তঃকন্ডাইলার ছিদ্র, প্যাটেলার সংযোগী তল এবং দুপাশে একটি করে এপিকন্ডাইল নামে সামান্য উঁচু জায়গা।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
১,৩৯৮.
স্নায়ুটিস্যুর অংশ নয় কোনটি?
  1. অ্যাক্সন
  2. নেফ্রন
  3. ডেনড্রাইট
  4. সাইন্যাপস
সঠিক উত্তর:
নেফ্রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেফ্রন
ব্যাখ্যা
স্নায়ু টিস্যু: 
- স্নায়ু তন্ত্রের গাঠনিক একক নিউরন। 
- এটি ভ্রূণীয় এক্টোডার্ম থেকে তৈরী হয়। 
- নিউরন বিভিন্ন ধরনের বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনা ও স্নায়ু তাড়না গ্রহণ করতে পারে এবং দেহের অভ্যন্তরে তা পরিবহন করতে পারে। 
- একটি পরিণত নিউরনের তিনটি অংশ থাকে। 
যথা- কোষদেহ, ডেনড্রাইট এবং অ্যাক্সন। 
- পর পর দুইটি নিউরনের প্রথমটার অ্যাক্সন এবং পরেরটার ডেনড্রাইটের মধ্যে একটি স্নায়ু সন্ধি গঠিত হয়। একে সাইন্যাপস বা সিনাপস্‌ বলা হয়। 
- সিনাপস্‌ এর মধ্য দিয়েই একটা নিউরন থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনে প্রবাহিত হয়। স্নায়ু তন্ত্রে এরা অবস্থান করে। 
- প্রাণীর স্নায়ু তন্ত্রে অসংখ্য নিউরন থাকে। 

অন্যদিকে, 
- নেফ্রন হলো বৃক্কের গাঠনিক একক। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৯৯.
যেসব রক্তনালী কার্বন ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে হৃদপিন্ডে নিয়ে আসে তাকে কী বলে?
  1. ক) ভেইন
  2. খ) আর্টারি
  3. গ) ক্যাপিলারি
  4. ঘ) নার্ভ
সঠিক উত্তর:
ক) ভেইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভেইন
ব্যাখ্যা
- যে সব রক্তনালীর মাধ্যমে রক্ত হৃদপিন্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বাহিত হয়, তাকে ধমনি বা আর্টারি বলে।
- যে সব রক্তনালীর মাধ্যমে সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে হৃদপিন্ডে বহন করে নিয়ে আসে, তাকে শিরা বা ভেইন বলে। 

সূত্র:  বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 
১,৪০০.
ডিএনএ অণুর ডাবল হেলিক্স কাঠামোর জনক কে?
  1. ওয়াটসন ও ক্রিক
  2. আলফ্রেড হার্শে
  3. চার্লস ডারউইন
  4. গ্রেগর মেন্ডেল
সঠিক উত্তর:
ওয়াটসন ও ক্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়াটসন ও ক্রিক
ব্যাখ্যা
• ডিএনএ অণুর ডাবল হেলিক্স কাঠামো:
- ইংরেজ বিজ্ঞানী ক্রিক এবং মার্কিন বিজ্ঞানী ওয়াটসন ১৯৫৩ সালে ডিএনএ অণুর ডাবল হেলিক্স কাঠামোর বর্ণনা দেন।
- এই ডিএনএ অণুর ডাবল হেলিক্স কাঠামো আবিষ্কারের জন্য তারা নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন।
- ডিএনএ হলো একটি নিউক্লিক এসিড যা জীবদেহের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণের জিনগত নির্দেশ ধারণ করে।
- ডিএনএ অণুর দ্বি-হেলিক্স কাঠামো প্রথম আবিষ্কার করেন জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক।
- এজন্য জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিককে ডিএনএ অণুর ডাবল হেলিক্স কাঠামোর জনকও বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।