• শ্বেত রক্তকণিকা (Leucocytes):
- শ্বেত রক্তকণিকার বৈজ্ঞানিক নাম leucocytes.
- পূর্ণাঙ্গ মানুষের প্রতি ঘন মি. লি. রক্তে প্রায় ৬০০০টি বিভিন্ন ধরনের শ্বেত কণিকা থাকে।
- শ্বেতকণিকা আকারে লোহিত কণিকা অপেক্ষা বড়।
- এদের নিউক্লিয়াস আছে।
- রক্তে লোহিত ও শ্বেত কণিকার অনুপাত সাধারণত ৫০০:১।
- শ্বেত কণিকা লোহিত অস্থিমজ্জা, প্লীহা ও লসিকা গ্রন্থি ইত্যাদি হতে উৎপন্ন হয়।
• সাইটোপ্লাজমের গঠনের ভিত্তিতে শ্বেত কণিকাকে প্রধানত দু ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১। দানাদার শ্বেত কণিকা (Granulocyte):
- নিউক্লিয়াসের বৈশিষ্ট্য, গঠন ও রঞ্জকধারণ ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে দানাদার শ্বেত কণিকাসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
ক) নিউট্রোফিল (Neutrophil):
- কোষের দানাগুলো সূক্ষ্ম ও বেগুনি রঙের। কোষসমূহ আকারে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র।
- পরিণত কোষে নিউক্লিয়াস ২-৭ টি ক্ষুদ্র খণ্ডে বিভক্ত হয়ে যায়।
খ) ইওসিনোফিল (Eosinophil):
- কোষগুলো গোলাকার, সাধারণত নিউক্লিয়াস ২ খণ্ডে বিভক্ত, সাইটোপ্লাজমে অপেক্ষাকৃত বড় দানা থাকে।
গ) বেসোফিল (Basophil):
- কোষগুলো গোলাকার, সাইটোপ্লাজমের দানাগুলো ক্ষারধর্মী রঞ্জক দ্বারা রঞ্জিত হয় এবং স্থূল ধরনের।
- বেসোফিল হেপারিন উপাদান ধারণ করে।
২। অদানাদার শ্বেতকণিকা (Agranulocyte):
- আকার ও আকৃতির ওপর ভিত্তি করে অদানাদার শ্বেত কণিকাকে আবার ২ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
ক) মনোসাইট:
- এদের সাইটোপ্লাজম দানাবিহীন।
- কোষগুলো মোটামুটি গোলাকার।
- আকৃতিতে সর্ববৃহৎ।
খ) লিম্ফোসাইট:
- লিম্ফোসাইটের সাইটোপ্লাজমে কোনো দানা থাকে না।
- লিম্ফোসাইট আবার দুই প্রকার।
• বড় লিম্ফোসাইট এবং
• ছোট লিম্ফোসাইট।
শ্বেত কণিকার কাজ:
- শ্বেত কণিকা অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে।
যথা:
১। ফ্যাগোসাইটোসিস (Phagocytosis) প্রক্রিয়ায় এরা ক্ষণপদের সাহায্যে রোগ-জীবাণুকে ভক্ষণ করে ধ্বংস করে।
২। লিম্ফোসাইট তৈরি করে রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে, এজন্য এদেরকে দেহের আণুবীক্ষণিক সৈনিক বলে।
৩। বেসোফিল নিঃসৃত হেপারিন রক্তনালির ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে রক্তপ্রবাহ অব্যাহত রাখে।
৪। এন্টিবডি তৈরি করে জীবাণু ধ্বংস করে।
৫। হিস্টামিনের মাধ্যমে এলার্জিক বিক্রিয়া হয়।
উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।