বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাণিবিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,২২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাণিবিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ১৬ / ২৩ · ১,৫০১১,৬০০ / ২,২২৭

১,৫০১.
পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় জীব কোনটি? 
  1. সিংহ
  2. তিমি
  3. ব্যাকটেরিয়া
  4. হাতি
সঠিক উত্তর:
তিমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিমি
ব্যাখ্যা
পরিবেশের উপাদানের আন্তঃসম্পর্ক এবং পারস্পরিক নির্ভরশীলতা: 
- পরিবেশের সকল অজীব বা জড় উপাদানের সাথে জীব উপাদানসমূহের সবসময়ই পারস্পরিক ক্রিয়া, আদান-প্রদান চলছে। এমনকি জীব পরিবেশে যে উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে, তাদের মধ্যেও চলছে এই ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া। - বেঁচে থাকার জন্য এরা একে অপরের উপর নির্ভরশীল। 
- কোন অঞ্চলের জীব উপাদান ও জড় উপাদানের নির্ভরশীলতার সম্পর্কের নাম বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেম। 
- পৃথিবীতে যত প্রকার জীব আছে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো তিমি, আর ক্ষুদ্রতম হলো ব্যাকটেরিয়া। 
- বড় থেকে ক্ষুদ্র সকল জীবই কিন্তু পরস্পর পরস্পরের সাথে বিভিন্নভাবে সম্পর্কিত। 
- পরিবেশের উদ্ভিদ ও প্রাণীর মধ্যে সম্পর্ক আছে। এদের সাথে আবার বায়ু, মাটি ও পানির যে সম্পর্ক তা একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চলছে। 

- জীব জড়ের উপর নির্ভরশীল, আবার একটি জীব অপর একটি জীবের উপর নির্ভরশীল। 
- পরিবেশ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিষয়টি বুঝা যায় যেমন- উদ্ভিদ খাদ্য তৈরির জন্য সৌরশক্তিকে কাজে লাগায়, যা সালোকসংশ্লেষণ নামে পরিচিত। সালোকসংশ্লেষণ (উদ্ভিদ) এবং শ্বসন (উদ্ভিদ এবং প্রাণী) পদ্ধতি পরিবেশের বিভিন্ন অজীব ও জীবের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রধান দুটি উপায়। 
- উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং পানি ব্যবহার করে গুকোজ এবং অক্সিজেন উৎপন্ন করে। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন অক্সিজেন উদ্ভিদ এবং প্রাণীর শ্বসন প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপাদনে কাজে লাগে। প্রাণীর শ্বসন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইড উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়। এভাবেই সালোকসংশ্লেষণ এবং শ্বসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জীবমণ্ডলের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক সষ্টি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,৫০২.
মানবদেহের সর্বাধিক বৃহৎ গ্রন্থির নাম কী?
  1. থাইরয়েড
  2. ত্বক
  3. যকৃত
  4. নিউরন
সঠিক উত্তর:
যকৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যকৃত
ব্যাখ্যা

• মানবদেহের সর্বাধিক বৃহৎ গ্রন্থি হলো যকৃত। যকৃত শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যা বিভিন্ন ধরনের রসায়নিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। এটি রক্তের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে, প্রোটিন উৎপাদন করে, এবং পাচনতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পিত্ত প্রস্তুত করে। যকৃত শরীরের বিপাক নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং শক্তি সঞ্চয় ও ব্যবহার নিশ্চিত করে। অন্যান্য বিকল্প যেমন থাইরয়েড একটি ছোট গ্রন্থি, ত্বক একটি অঙ্গ, আর নিউরন স্নায়ুতন্ত্রের কোষ, তাই এগুলো বৃহৎ গ্রন্থি হিসেবে বিবেচিত হয় না।

- তাই সঠিক উত্তর হলো গ) যকৃত।

• যকৃত:
- মধ্যচ্ছদার নিচে পাকস্থলীর ডানপাশে গাঢ় বাদামী বর্ণের ত্রিকোণাকার অঙ্গ।
- যকৃতের সাথে কলস আকৃতির পিত্তথলি সংযুক্ত থাকে।
- যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে।
- পিত্তরস ক্ষারীয় গুণসম্পন্ন গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট।
- পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে।
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়।

• যকৃতের কাজ:
- যকৃত পিত্তরস তৈরি করে।
- ক্ষারীয় পিত্তরস পিত্তথলিতে জামা রাখে।
- পিত্তরসে কোন এনজাইম থাকে না, তাই যকৃত উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজ দেহে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত রাখে।
- রক্তে গ্লুকোজের ঘাটতি হলে গ্লুকোজ সরবরাহ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
- পিত্তরস চর্বি জাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে পরিপাকে সহায়তা করে।
- অতিরিক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড যকৃতে আসার পর রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রোজনজনিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫০৩.
ডায়াস্টোলিক চাপ বলতে কী বুঝায়?
  1. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন
  2. হৃৎপিণ্ডের প্রসারন
  3. ফুসফুসের সংকোচন
  4. ফুসফুসের প্রসারন
সঠিক উত্তর:
হৃৎপিণ্ডের প্রসারন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৃৎপিণ্ডের প্রসারন
ব্যাখ্যা
• হৃৎপিণ্ড (Heart):
- মানুষের রক্ত সংবহনতন্ত্র হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা নিয়ে গঠিত।
- হৃৎপিণ্ড ক্রমাগত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে ধমনি ও শিরার মাধ্যমে রক্ত প্রবাহিত করে।
- হৃৎপিণ্ড একটি পাম্পের মতো কাজ করে, যা নির্দিষ্ট তালে ও ছন্দে সংকোচন এবং প্রসারণের মাধ্যমে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়।
- হৃৎপিণ্ড সংকুচিত হলে একে সিস্টোল (systole) এবং প্রসারিত হলে একে ডায়াস্টোল (diastole) বলে।
- অলিন্দে যখন সিস্টোল হয়, তখন নিলয় ডায়াস্টোল অবস্থায় থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫০৪.
রক্তরসে বিদ্যমান জৈব রেচন পদার্থ কোনটি?
  1. ক) ভিটামিন
  2. খ) ইউরিয়া
  3. গ) অ্যালবুমিন
  4. ঘ) অ্যান্টিটক্সিন
সঠিক উত্তর:
খ) ইউরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইউরিয়া
ব্যাখ্যা
- রক্তরসে বিদ্যমান জৈব রেচন পদার্থ হচ্ছে- ইউরিয়া। 

রক্তরস
:
- রক্তের তরল অংশকে প্লাজমা বলে।
- রক্তরসে প্রায় ১০% জৈব ও অজৈব পদার্থ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।

জৈব পদার্থ:
• খাদ্যসার (গ্লুকোজ, অ্যামাইনো এসিড, স্নেহ পদার্থ, ভিটামিন ইত্যাদি)।
• রেচন পদার্থ (ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি)। 
• প্রোটিন (ফিব্রিনোজেন, গ্লোবিউলিন, অ্যালবুমিন ইত্যাদি)।
• প্রতিরক্ষামূলক দ্রব্যাদি (অ্যান্টিটক্সিন)।
এছাড়াও রয়েছে হরমোন, কোলেস্টেরল, বিলিরুবিন ইত্যাদি।

অজৈব পদার্থ
- সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্লোরিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, আয়োডিন, এবং গ্যাসীয় পদার্থ O2, CO2, N2 ইত্যাদি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫০৫.
Rh ফ্যাক্টর কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ক) ১৯২০
  2. খ) ১৯৪০
  3. গ) ১৯৩০
  4. ঘ) ১৯৪৫
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৪০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৪০
ব্যাখ্যা
১৯৪০ সালে কাল ল্যান্ডস্টেইনার এবং উইলার এক ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদনে সক্ষম হন। মানুষের লোহিত রক্ত কণিকার ঝিল্লিতে বানরের লোহিত রক্ত কণিকার ঝিল্লির মত এক প্রকার এন্টিজেন থাকে। এ এন্টিজেনকে রেসাস ফ্যাক্টর বা Rh ফ্যাক্টর বলে।
১,৫০৬.
ভিটামিন B5 কমপ্লেক্স এর অপর নাম কী?
  1. ক) থায়ামিন
  2. খ) নিয়াসিন
  3. গ) ফলিক এসিড
  4. ঘ) প্যান্টোথেনিক এসিড
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্যান্টোথেনিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্যান্টোথেনিক এসিড
ব্যাখ্যা
নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বইয়ে প্রদত্ত তথ্য অনুসারে -
* পানিতে দ্রবণীয় ১২টি ভিটামিন B রয়েছে। ভিটামিনের এই গুচ্ছকে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স বলা হয়।

* কিন্তু Harvard University এবং  National Institute of Health (US) এর তথ্য অনুসারে ভিটামিন B এর সংখ্যা ৮টি।

B1 - Thiamin (থায়ামিন)
B2 - Riboflavin (রিবোফ্লাভিন)
B3 - Niacin/Nicotinamide/Nicotinic acid (নিয়াসিন)
B5 - Pantothenic acid (প্যান্টোথেনিক এসিড)
B6 - Pyridoxine (পাইরিডক্সিন)
B7 - Biotin (বায়োটিন)
B9 - Folate [folic acid] (ফোলেট, ফলিক এসিড)
B12 - Cobalamin (কোবালামিন)

** প্রথমত,
নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বইয়ে ১২টি ভিটামিন B এর কথা বলা হয়েছে, যা ভুল।
প্রকৃতপক্ষে ভিটামিন B - ৮টি; এই ৮টি ভিটামিনকে একত্রে ভিটামিন B complex বলা হয়।

** দ্বিতীয়ত,
নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বইয়ে B5 এর নাম - নিয়াসিন বা নিকোটিনিক এসিড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটিও ভুল।
- ভিটামিন B5 এর নাম হচ্ছে -  Pantothenic acid.
১,৫০৭.
স্তন্যপায়ী প্রাণী নয় কোনটি?
  1. Crocodylus palustris
  2. Balaenoptera musculus
  3. Bos taurus
  4. Loxodonta cyclotis
সঠিক উত্তর:
Crocodylus palustris
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Crocodylus palustris
ব্যাখ্যা
• স্তন্যপায়ী প্রাণী: 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে লোম দ্বারা আবৃত থাকে। 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সন্তান প্রসব করে। 
- শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করে বড় হয়। 
যেমন-
- তিমি, বাদুড়, শুশুক, গরু, হাতি, মানুষ, কুকুর, বানর, ঘোড়া, ইঁদুর, জিরাফ ইত্যাদি।

এখানে,
- তিমির বৈজ্ঞানিক নাম = Balaenoptera musculus.
- গরুর বৈজ্ঞানিক নাম = Bos taurus.
- হাতির বৈজ্ঞানিক নাম = Loxodonta cyclotis.

 • সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী: 
-  এরা বুকে ভর দিয়ে চলে, ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। 
যেমন- সাপ, কুমির, ঘড়িয়াল, কচ্ছপ, টিকটিকি, গিরগিটি, ডাইনোসর প্রভৃতি সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী। 

এখানে,
- কুমিরের বৈজ্ঞানিক নাম = Crocodylus palustris.

অতএব, Crocodylus palustris - স্তন্যপায়ী প্রাণী নয়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৫০৮.
নিচের কোনটি ভাইরাস গঠিত রোগ নয়?
  1. ক) কোভিড-১৯
  2. খ) ডেঙ্গু জ্বর
  3. গ) যক্ষ্মা
  4. ঘ) মাম্পস
সঠিক উত্তর:
গ) যক্ষ্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যক্ষ্মা
ব্যাখ্যা

• ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ভাইরাস জনিত রোগ বলে।
কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাস জনিত রোগ:
- এইডস,
- জন্ডিস,
- কোভিড-১৯
- হার্পিস,
- গুটি বসন্ত,
- জল বসন্ত,
- হাম,
- মাম্পস,
- ইনফ্লুয়েঞ্জা,
- বার্ড ফ্লু,
- সোয়াইন ফ্লু,
- পোলিও,
- জলাতঙ্ক,
- নিপাহ,
- ডেঙ্গু জ্বর,
- ইবোলা,
- জিকা জ্বর ইত্যাদি।

• ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ বলে।
কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ:
- যক্ষ্মা,
- ডিপথেরিয়া,
- হুপিংকাশি,
- ধনুষ্টংকার,
- নিউমোনিয়া,
- মেনিনজাইটিস,
- কলেরা,
- গনোরিয়া,
- সিফিলিস,
- টাইফয়েড,
- আমাশয়,
- প্লেগ,
- কুষ্ঠ ইত্যাদি।

উৎস: National Institutes of Health (US)

১,৫০৯.
নাড়ির স্পন্দন প্রবাহিত হয়-
  1. ক) ধমনীর ভেতর দিয়ে
  2. খ) শিরার ভেতর দিয়ে
  3. গ) স্নায়ুর ভেতর দিয়ে
  4. ঘ) ল্যাকটিয়ারের ভেতর দিয়ে
সঠিক উত্তর:
ক) ধমনীর ভেতর দিয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধমনীর ভেতর দিয়ে
ব্যাখ্যা
• নাড়ির স্পন্দন প্রবাহিত হয় ধমনীর ভেতর দিয়ে
- যেসব রক্তনালির মাধ্যমে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত হৃৎপিন্ডে থেকে সারা দেহে বাহিত হয়, তাকে ধমনী বলে।
- ধমনীর প্রাচীরের মধ্যস্তর পেশিবহুল ও পুরু।
- এর রক্তের গতির দিক সাধারণত হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন দিকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫১০.
নিচের কোনটি রক্তরসের জৈব পদার্থ? 
  1. ক্যালসিয়াম
  2. লেসিথিন
  3. আয়োডিন
  4. সোডিয়াম
সঠিক উত্তর:
লেসিথিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লেসিথিন
ব্যাখ্যা
রক্তরস বা প্লাজমা: 
- রক্তের তরল অংশকে প্লাজমা বলে। 
- রক্তরসের প্রায় ৯০% পানি, বাকি ১০% দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে বিভিন্ন রকমের জৈব এবং অজৈব পদার্থ। 
- অজৈব পদার্থগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থের আয়ন, যেমন- সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্লোরিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, আয়োডিন, O2, CO2, এবং N2, জাতীয় গ্যাসীয় পদার্থ। 
- জৈব পদার্থগুলো হলো- 
১. খাদ্যসার: গ্লুকোজ, অ্যামিনো এসিড, স্নেহপদার্থ, ভিটামিন ইত্যাদি। 
২. রেচন পদার্থ: ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি। 
৩. প্রোটিন: ফাইব্রিনোজেন, গ্লোবিউলিন, অ্যালবুমিন, প্রোথ্রম্বিন ইত্যাদি। 
৪. প্রতিরক্ষামূলক দ্রব্যাদি: অ্যান্টিটক্সিন, অ্যাগ্লুটিনিন ইত্যাদি। 
৫. অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির নিঃসৃত বিভিন্ন হরমোন। 
৬. কোলেস্টেরল, লেসিথিন, বিলিরুবিন ইত্যাদি নানা ধরনের যৌগ। 

রক্তরসের কাজ: 
- রক্তকোষসহ রক্তরসে দ্রবীভূত খাদ্যসার দেহের বিভিন্ন অংশে বাহিত করা। 
- টিস্যু থেকে বর্জ্য পদার্থ নির্গত করে, সেগুলো রেচনের জন্য বৃক্কে পরিবহণ করা। 
- শ্বসনের ফলে কোষের সৃষ্ট CO2 কে বাইকার্বনেট হিসেবে ফুসফুসে পরিবহণ করা। 
- রক্ত জমাট বাঁধার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো পরিবহণ করা। 
- হরমোন, এনজাইম, লিপিড প্রভৃতি দেহের বিভিন্ন অংশে বহন করা। 
- রক্তের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করা। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫১১.
নিচের কোনটি রক্তের গুরুত্বপূর্ণ কাজ?
  1. খাদ্যসার দেহের বিভিন্ন অংশে পরিবহন করা
  2. জারক রস বিতরণ করা
  3. হরমোন নিঃসরণ করা
  4. কোষ বিভাজন নিয়ন্ত্রণ করা
সঠিক উত্তর:
খাদ্যসার দেহের বিভিন্ন অংশে পরিবহন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাদ্যসার দেহের বিভিন্ন অংশে পরিবহন করা
ব্যাখ্যা
• রক্তরসের কাজ:
-
অক্সিজেন পরিবহন করে।
- রক্ত কণিকাসহ রক্তরসে দ্রবীভূত খাদ্যসার দেহের বিভিন্ন অংশে পরিবহন করে।
- বর্জ্য পদার্থ নির্গত করে রেচনের জন্য বৃক্কে পরিবহন করে।
- শ্বসনের ফলে কোষে সৃষ্ট CO₂ কে বাইকার্বনেট হিসেবে ফুসফুসে পরিবহন করে।
- রক্ত জমাট বাঁধার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো পরিবহন করে। 
- হরমোন পরিবহন করা।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫১২.
প্রোটিন সংশ্লেষণ করা কোনটির প্রধান কাজ?
  1. ক) ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. খ) রাইবোসোম
  3. গ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  4. ঘ) নিউক্লিয়াস
সঠিক উত্তর:
খ) রাইবোসোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাইবোসোম
ব্যাখ্যা
রাইবোসোম:
- সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় বিরাজমান অথবা অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে অবস্থিত যে দানাদার কণায় প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটে তাকে বলা হয় রাইবোসোম।
- প্যালাডে ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে রাইবোসোম আবিষ্কার করেন।
- রাইবোসোম অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং প্রায় গোলাকার।
- এটি উদ্ভিদ এবং প্রাণী উভয় কোষেই উপস্থিত থাকে।
- সাধারণত অমসৃণ অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার উভয় দিকে এরা সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে। 
- রাইবোসোম এর প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ করা এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থের বিপাক সাধন করা।
-  এজন্য রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়।
- এটি আমিষ সংশ্লেষণের স্থান নির্ধারণ করে, প্রোটিনের পলিপেপটাইড চেইন সংযোজন করে এবং এ সকল কাজে প্রয়োজনীয় এনজাইম সরবরাহ করে।

অন্যদিকে, 
- ক্লোরোপ্লাস্টকে উদ্ভিদের রান্নাঘর বলা হয়।
- মাইটোকনড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বলা। হয়।
- নিউক্লিয়াসকে কোষের মস্তিষ্ক বা প্রাণশক্তি বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫১৩.
নিচের কোনটি ভুল?
  1. জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাস - র‍্যাবিস ভাইরাস
  2. ডেঙ্গু রোগের ভাইরাস - ফ্ল্যাভি ভাইরাস
  3. গুটিবসন্ত রোগের ভাইরাস - রুবিওলা ভাইরাস
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গুটিবসন্ত রোগের ভাইরাস - রুবিওলা ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুটিবসন্ত রোগের ভাইরাস - রুবিওলা ভাইরাস
ব্যাখ্যা
• ভাইরাস: 
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ বিষ।
- ভাইরাস হলো এক প্রকার অতিক্ষুদ্র অণুজীব যারা জীবিত কোষের ভিতরেই বংশবৃদ্ধি করতে পারে
- উদ্ভিদ, প্রাণী, ব্যাকটেরিয়া , সায়ানোব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক প্রভৃতি জীবদেহের সজীব কোষে ভাইরাস সক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করতে পারে। আবার নিষ্ক্রিয় অবস্থায় বাতাস, মাটি, জল  ইত্যাদি প্রায় সব জড় মাধ্যমে ভাইরাস অবস্থান করে।
- ভাইরাসের আকার সাধারণত ১০ nm থেকে ৩০০ nm পর্যন্ত হয়ে থাকে।
 
• উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রোগের ভাইরাস:
- জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাস - র‍্যাবিস ভাইরাস   
- ডেঙ্গু রোগের ভাইরাস - ফ্ল্যাভি ভাইরাস
- গুটিবসন্ত রোগের ভাইরাস - ভেরিওলা ভাইরাস 
- হাম রোগের ভাইরাস - রুবিওলা ভাইরাস 
 
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫১৪.
বংশগতীয় বৈচিত্র্যের প্রধান কারণ কী? 
  1. পরিবেশগত তাপমাত্রা 
  2. জিনের গঠন ও বিন্যাসের পরিবর্তন 
  3. প্রজাতির মধ্যে ভিন্নতা 
  4. সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
জিনের গঠন ও বিন্যাসের পরিবর্তন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিনের গঠন ও বিন্যাসের পরিবর্তন 
ব্যাখ্যা

জীববৈচিত্র্য (Biodiversity): 
- পৃথিবীর পরিবেশ জীব ও জড় উপাদান নিয়ে গঠিত, এখানে রয়েছে বিচিত্র ধরনের জীব ও অজস্র জড় পদার্থ। 
- এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ লক্ষ প্রজাতির বর্ণনা ও নামকরণ পাওয়া গেছে। এর প্রতিটি প্রজাতি স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডীত এবং স্বকীয় বৈশিষ্ট্য দিয়ে যে কোনো একটি প্রজাতি অন্য সব প্রজাতি হতে ভিন্ন ও শনাক্তকরণযোগ্য। 
যেমন- আনারস একটি প্রজাতি এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য দিয়ে একে অন্যান্য প্রজাতি থেকে আলাদা করা সম্ভব। 
- জীবদের মধ্যে বৈচিত্র্য থাকার কারণেই জীবজগতকে লক্ষ লক্ষ প্রজাতিতে বিভক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আবার একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত সদস্যদের মধ্যেও বৈচিত্র্য থাকে। তাই পৃথিবীতে বিরাজমান জীবসমূহের প্রাচুর্য ও ভিন্নতাই হলো জীববৈচিত্র্য। 

জীববৈচিত্র্যের প্রকারভেদ: 
- জীববৈচিত্র্যকে তিন ভাগে বা স্তরে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য: 
- এক প্রজাতির সাথে অন্য প্রজাতির বিভিন্ন বিষয়ের ভিন্নতাই হলো প্রজাতিগত বৈচিত্র্য। সাধারণভাবে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলতে পৃথিবীতে বিরাজমান জীবসমূহের মোট প্রজাতির সংখ্যাকেই বোঝায়। যেমন- বাঘের সাথে হরিণের আকার, স্বভাব, হিংস্রতা, সংখ্যা, বৃদ্ধির ধরন ইত্যাদি ভিন্ন হয়। 

২। বংশগতীয় বৈচিত্র্য: 
- এ পৃথিবীতে একই প্রজাতিভুক্ত সদস্যদের মধ্যেও অনেক বিষয়ে পার্থক্য দেখা যায়। এ পার্থক্যগুলো তৈরি হয় তাদের জিন সংগঠনের সামান্য বৈচিত্র্যের কারণে। এ বৈচিত্র্যতার কারণ হচ্ছে জিনের মাধ্যমেই জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বংশানুক্রমে সঞ্চালিত হয়। প্রাণিদেহের প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের জন্য আলাদা আলাদা জীন দায়ী। বিভিন্ন কারণে এ জীনের গঠন ও বিন্যাসের পরিবর্তন হয়ে জীবের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটায় এবং নতুন প্রজাতির উদ্ভব হয়। এ বংশানুক্রমিক প্রক্রিয়ায় জীবের মধ্যে যে বৈচিত্র্য ঘটে তাকেই বংশগতীয় বৈচিত্র্য বলা হয়। 

৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য: 
- একটি বাস্তুতন্ত্রের ভৌত উপাদান ও জৈবিক উপাদানগুলোর মধ্যে কোন প্রকার পরিবর্তন দেখা দিলে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে। এ পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য সেখানে বসবাসরত জীবের মধ্যেও পরিবর্তন সাধিত হয়। এ পরিবর্তনের জন্য যে জীববৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকেই বলা হয় বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য। যেমন- একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে যে সব উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসতি গড়ে উঠে তা নদীর বাস্তুতন্ত্র থেকে ভিন্নতর। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫১৫.
খাদ্যাভাসের উপর ভিত্তি করে মাছ কয় প্রকার?
  1. ৩ প্রকার
  2. ৪ প্রকার
  3. ৫ প্রকার
  4. ৬ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
ব্যাখ্যা

খাদ্যাভাসের উপর ভিত্তি করে মাছের প্রকারভেদ:
- খাদ্যাভাসের উপর ভিত্তি করে মাছকে প্রধানত তিন প্রকারে ভাগ করা যায়।  
- যথা:
- শাকাশী (Herbivorous),
- মাংসাশী (Carnivorous) এবং
- সর্বভুক (Omnivorous)।  

শাকাশী মাছ:
- শাকাশী মাছ হলো যারা উদ্ভিদজাত খাবার খেয়ে জীবনধারণ করে।  
- তারা প্রচুর পরিমাণে ফাইটোপ্লাঙ্কটন, জলজ উদ্ভিদ বা শেওলা খায়।  
- যেমন: রুই, কাতলা ইত্যাদি।  

মাংসাশী মাছ:
- মাংসাশী মাছ হলো যারা পুকুরের বা নদীর ছোট ছোট মাছ, পোকামাকড়, জুপ্লাঙ্কটন ও অন্যান্য জলজ প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকে।  
- যেমন: চিতল, বোয়াল ইত্যাদি।  

সর্বভুক মাছ:
- সর্বভুক মাছ হলো যারা উদ্ভিদজাত খাবার এবং প্রাণিজ খাবার দুটোই খায়।  
- যেমন: পাঙ্গাস, তেলাপিয়া ইত্যাদি।  

- সুতরাং, খাদ্যাভাসের উপর ভিত্তি করে মাছের সংখ্যা হলো তিন।  
- সঠিক উত্তর: ক) ৩ প্রকার। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল। 

১,৫১৬.
ম্যালিক এসিড পাওয়া যায়-
  1. আমলকিতে
  2. কমলালেবুতে
  3. তেঁতুলে
  4. আপেলে
সঠিক উত্তর:
আপেলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপেলে
ব্যাখ্যা
- আপেল, আনারসে ম্যালিক এসিড বেশি মাত্রায় পাওয়া যায়।

অন্যদিকে,
- আমলকিতে থাকে এসকরবিক এসিড।
- কমলা, লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড।
- তেঁতুলে থাকে টারটারিক এসিড।

উল্লেখ্য,
- টমেটোতে অক্সালিক এসিড, ম্যালিক এসিড ও সাইট্রিক এসিড পাওয়া যায়।
- স্যালিসাইক্লিক এসিড পাওয়া যায় আঙ্গুর, স্ট্রবেরি, বরই ইত্যাদি ফলে।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
১,৫১৭.
নিচের কোন প্রাণীকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়? 
  1. নিটাম 
  2. প্লাটিপাস 
  3. হাতি 
  4. শিয়াল 
সঠিক উত্তর:
প্লাটিপাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লাটিপাস 
ব্যাখ্যা

জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫১৮.
রক্তের কোন কণিকা মূলত অক্সিজেন পরিবহণের দায়িত্ব পালন করে?
  1. লোহিত রক্তকণিকা
  2. শ্বেত রক্তকণিকা 
  3. অণুচক্রিকা
  4. রক্তরস
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্তকণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্তকণিকা
ব্যাখ্যা

- রক্তের মধ্যে অক্সিজেন পরিবহণকারী রক্তকণিকা হলো লোহিত রক্তকণিকা (RBC)।
- বৃত্তাকার ও উভয় পাশে গর্তের ন্যায়।
- এর প্রধান উপাদান হিমোগ্লোবিন (Hemoglobin), যা অক্সিজেনের সঙ্গে সংযুক্ত হয়। 
- রক্তের কণিকা ৩ ধরণের। 
যথা- 
- লোহিত রক্তকণিকা, 
- শ্বেত রক্তকণিকা এবং 
- অণুচক্রিকা। 

রক্ত কণিকার প্রধাণ কাজ:
- লোহিত রক্তকণিকা: অক্সিজেন পরিবহন করে হিমোগ্লোবিনের মাধ্যমে।
- শ্বেত রক্তকণিকা: যা আমাদের শরীরকে রোগ এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে রক্ষা করে।
- অণুচক্রিকা: রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করা এবং রক্তপাত বন্ধ করা। 

তথ্যসূত্র: NCTB, উচ্চমাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, Britannica 

১,৫১৯.
দেহের বিভিন্ন অঙ্গের আবরণী হিসেবে কাজ করে কোন টিস্যু?
  1. ক) স্নায়ু
  2. খ) এপিথেলিয়াল
  3. গ) যোজক
  4. ঘ) পেশী
সঠিক উত্তর:
খ) এপিথেলিয়াল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এপিথেলিয়াল
ব্যাখ্যা

আবরণী টিস্যু দেহের বিভিন্ন অঙ্গের আবরণী হিসেবে কাজ করে।

আবরণী টিস্যু (Epithelial Tissue):
এই টিস্যু বিভিন্ন অঙ্গের আবরণ হিসেবে কাজ করে। তবে অঙ্গকে আবৃত রাখাই আবরণী। টিস্যুর একমাত্র কাজ নয়।
এই টিস্যুর আরও চারটি কাজ: অঙ্গকে আবৃত রাখা, সেটিকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করা (protection), প্রোটিনসহ বিভিন্ন পদার্থ ক্ষরণ বা নিঃসরণ করা (secretion), বিভিন্ন পদার্থ শোষণ করা (absorption) এবং কোষীয় স্তর পেরিয়ে সুনির্দিষ্ট পদার্থের পরিবহন (transcellular transport)। আবরণী টিস্যুর কোষগুলো ঘন সন্নিবেশিত এবং একটি ভিত্তিপর্দার উপর বিন্যস্ত থাকে।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

১,৫২০.
Which mosquito is the carrier of the Chikungunya virus?
  1. Anopheles
  2. Aedes
  3. Culex
  4. Sand fly
  5. Haemagogus
সঠিক উত্তর:
Aedes
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Aedes
ব্যাখ্যা

• চিকুনগুনিয়া ভাইরাস মূলত সংক্রমিত এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে, এডিস ইজিপ্টি (Aedes aegypti) এবং এডিস অ্যালবোপিকটাস (Aedes albopictus) এই ভাইরাস ছড়ানোর জন্য দায়ী প্রধান দুটি প্রজাতি। এই মশাগুলো ডেঙ্গু এবং জিকা ভাইরাসের সুপরিচিত বাহক হিসেবেও পরিচিত।

• চিকনগুনিয়া:
- চিকুনগুনিয়া এক ধরণের ভাইরাল সংক্রমণ যেটা এডিস নামের একটি মশার কামড়ানোর ফলে হয়।
- এটি চিকনগুনিয়া ভাইরাস (CHIKV) নামক একটি আরএনএ (RNA) ভাইরাসের কারণে হয়।
-এই মশাটি সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়।
- চিকুনগুনিয়া সংক্রামিত মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
- ২০২৩ সালের শেষের দিকে এফডিএ (FDA) চিকনগুনিয়ার জন্য প্রথম টিকা হিসেবে IXCHIQ অনুমোদন করে।

• চিকুনগুনিয়া রোগের লক্ষণসমূহ:
১. প্লাটিলেট কমে যায়। শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, চোখ লাল হওয়া ও চোখ ব্যথা, চোখ থেকে পানি পড়া, অরুচি বা বমি বমি ভাব ইত্যাদি দেখা দেয়।
২. বিভিন্ন স্থানে হামের মতো র‍্যাশ হতে পারে।
৩. গায়ে রক্ত জমে ছিটা ছিটা দাগ থাকতে পারে।

সূত্র- ব্রিটানিকা। [link]

১,৫২১.
হৃৎপিণ্ডের সর্বাধিক পেশিবহুল অংশ কোনটি?
  1. ক) ডান অলিন্দ
  2. খ) ডান নিলয়
  3. গ) বাম অলিন্দ
  4. ঘ) বাম নিলয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাম নিলয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাম নিলয়
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
ডান অলিন্দ হলো হৃৎপিণ্ডের সবচেয়ে কম পেশিবহুল অংশ আর বাম নিলয় হলো সর্বাধিক পেশিবহুল অংশ। ডান অলিন্দ মহাশিরার মাধ্যমে ফুসফুস ছাড়া দেহের অন্য সকল অঙ্গ থেকে অক্সিজেনরিক্ত রক্তগ্রহণ করে। বাম নিলয় মহাধমনির মাধ্যমে ফুসফুস ছাড়া দেহের অন্যান্য অংশে রক্ত পাম্প করে। দেহের প্রায় সমগ্র অংশে রক্ত পাম্প করতে হয় বলে বাম নিলয় হৃৎপিণ্ডের সবচেয়ে পেশিবহুল অংশ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৫২২.
মানব শ্বাসতন্ত্রের প্রথম অংশ কোনটি?
  1. নাসিকা
  2. গলবিল
  3. শ্বাসনালী
  4. ফুসফুস
সঠিক উত্তর:
নাসিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাসিকা
ব্যাখ্যা
মানুষের শ্বাসতন্ত্রের প্রধান অংশসমূহের নাম: 
- দেহের যে অঙ্গগুলো শ্বসন প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে, সেগুলোকে একত্রে শ্বাসতন্ত্র বলে।
- যে সকল অঙ্গগুলো নিয়ে মানব শ্বাসতন্ত্র গঠিত তা হলো- নাসারন্ধ্র ও নাসাপথ (Nasal cavity), গলবিল ও গলনালি (Pharynx), স্বরযন্ত্র (Larynx), শ্বাসনালি (Trachea), বায়ুনালি বা ব্রঙ্কাস (Bronchus), ফুসফুস (Lung) ও মধ্যচ্ছদা (Diaphragm) ।

নাসারন্ধ্র বা নাসাপথ: 
- মানব শ্বাসতন্ত্রের প্রথম অংশের নাম নাসিকা। 
- এটা মুখ গহ্বরে উপরে অবস্থিত একটি ত্রিকোণাকার গহ্বর, এর সাহায্যে কোন বস্তুর সুগন্ধ বা দুর্গন্ধ বোঝা যায়।
- একটি বিশেষ ধরনের স্নায়ু এ অঙ্গকে উদ্দীপিত করে, ফলে গন্ধ পাওয়া যায়।
- একটি পাতলা পর্দা দ্বারা এটি দু'ভাগে বিভক্ত।
- ইহার সম্মুখ ভাগ লোম দ্বারা আবৃত ও পেছনের দিকের অংশ শ্লেষ্মা প্রস্তুতকারী পর্দা দ্বারা আবৃত।
- শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বায়ুতে বিদ্যমান ধূলিকণা, রোগ জীবাণু ও আবর্জনা থাকলে তা এ লোম ও পর্দাতে আটকে যায়।
- ফলে বায়ু ফুসফুসে প্রবেশের পূর্বে অনেকটা নির্মল হয়ে যায়।
- এছাড়া শ্বসনের জন্য গৃহীত বায়ু নাসাপথ দিয়ে যাওয়ার সময় কিছুটা শুষ্ক ও আর্দ্র হয়। এর ফলে হঠাৎ ঠান্ডা বায়ু ফুসফুসে প্রবেশ করে কোন প্রকার ক্ষতি করতে পারে না।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫২৩.
নিচের কোনটি উৎপাদক?
  1. সবুজ উদ্ভিদ
  2. মাটি 
  3. শিকারি পোকা 
  4. ব্যাকটেরিয়া
সঠিক উত্তর:
সবুজ উদ্ভিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজ উদ্ভিদ
ব্যাখ্যা

- সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সূর্যালোক, জল এবং কার্বন ডাই অক্সাইড ব্যবহার করে নিজেদের খাদ্য তৈরি করতে পারে, এই কারণে বাস্তুতন্ত্রে এদেরকে উৎপাদক বা প্রাথমিক উৎপাদক বলা হয়। খাদ্য শৃঙ্খল সবসময় একটি উৎপাদক দিয়েই শুরু হয়। 

ইকোলজি: 

- ইকোলজি হলো এমনই এক বিজ্ঞান যা জৈব ও অজৈব উপাদানসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক, পারস্পরিক মিথস্ত্রিয়া ব্যাখ্যা করে। 
- জীব ও জড় পরিবেশের এই পারস্পরিক আন্তঃসম্পর্ককেই বলা হয় বাস্তুসংস্থান। 
- পরিবেশ ও জীবের এই সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য এবং মানুষ, জীব ও পরিবেশ একে অন্যের জীবনধারণের প্রতিটি স্তরে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। 

বাস্তুসংস্থানের উপাদান: 
- বাস্তুসংস্থানের উপাদান মূলত দুটি। 
যথা- 
ক. সজীব উপাদান: 
- সজীব সম্প্রদায় হলো বাস্তুসংস্থানের জীব উপাদান। 
- সজীব উপাদান আবার তিন প্রকার। 
যথা- 
১. উৎপাদক: সবুজ উদ্ভিদ পরিবেশ থেকে পানি, কার্বন ডাই-অক্সাইড, খনিজ লবণ প্রভৃতি জীব উপাদান গ্রহণ করে সৌরশক্তির মাধ্যমে নিজেদের শর্করা জাতীয় খাদ্য নিজেরা তৈরি করে। এ সবুজ উদ্ভিদই উৎপাদক। 
২. খাদক: ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক কর্তৃক তৈরি খাদ্যের উপর নির্ভরশীল জীবগোষ্ঠিকে বলে খাদক। খাদক তিন প্রকার। যথা- প্রথম স্তরের খাদক, দ্বিতীয় স্তরের খাদক এবং তৃতীয় স্তরের খাদক। 
৩. বিয়োজক: ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক ও খাদকের মৃতদেহ মাটিতে মিশে ব্যাকটেরিয়া, ক্ষুদ্র পোকামাকড় ইত্যাদির দ্বারা বিয়োজক স্তর গড়ে উঠে। পরিশেষে উৎপাদক জীবগোষ্ঠি পুনরায় বিয়োজক স্তর হতে খাদ্য গ্রহণ করে দেহে পুষ্টি জোগায়। 

খ. জড় উপাদান: 
- পরিবেশের সকল অজৈব ও জৈব উপাদান হলো বাস্তুসংস্থানের জড় উপাদান। 
- জড় উপাদান আবার তিন প্রকার। 
যথা- 
১. অজৈব উপাদান: মাটি, পানি, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, খনিজ লবণ ইত্যাদি হচ্ছে বাস্তুসংস্থানের অজৈব উপাদান। 
২. জৈব উপাদান: উদ্ভিদ ও প্রাণির মৃতদেহ হতে তৈরি হিউমাস ও ইউরিয়া হলো মাটির জৈব উপাদান। 
৩. ভৌত উপাদান: আবহাওয়া, জলবায়ু, মাটির গুণাগুণ বাস্তুসংস্থানের ভৌত উপাদান। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫২৪.
মানুষের শরীরে কত ধরনের অ্যাামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে? 
  1. ১২ ধরনের
  2. ১৫ ধরনের
  3. ১৮ ধরনের
  4. ২০ ধরনের
সঠিক উত্তর:
২০ ধরনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০ ধরনের
ব্যাখ্যা
আমিষ: 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। 
- উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার। 
যথা: প্রাণিজ ও উদ্ভিজ। 
- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। 
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি। 
- আর উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি,বাদাম ইত্যাদি। 
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। 
- দেহকোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। 
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। 
- প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫২৫.
গোল কৃমি কোন পর্বের প্রাণী?
  1. অ্যানেলিডা
  2. নেমাটোডা
  3. মলাস্কা
  4. প্লাটিহেলমিনথেস
সঠিক উত্তর:
নেমাটোডা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেমাটোডা
ব্যাখ্যা
প্রাণী জগতের শ্রেণীবিন্যাস:
- সম্পূর্ণ প্রানী জগতকে ৯ টি প্রধান পর্বে ভাগ করা হয়েছে যার মধ্যে প্রথম আটটি অমেরুদন্ডী প্রাণীদের এবং শুধুমাত্র কর্ডাটা পর্ব মেরুদন্ডী প্রাণীদের নিয়ে গঠিত।

নেমাটোডা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য:
- নলাকার দেহ, পুরু ত্বক দ্বারা আবৃত।
- পৌষ্টিকনালী সম্পূর্ণ, শ্বসনতন্ত্র ও সংবহনতন্ত্র অনুপস্থিত।
- দেহ গহ্বর অপ্রকৃত বা স্যুডোসিল । বেশির ভাগ একলিঙ্গী।
উদাহরণ- চোখ কৃমি, গোল কৃমি, ফাইলেরিয়া কৃমি ইত্যাদি।

অ্যানেলিডা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য: 
- দেহ নলাকার ও খন্ডায়িত।
- প্রতিটি খন্ডে সিটা থাকে (জোক ব্যতীত)।
- নেফ্রেডিয়া নামক রেচন অঙ্গ থাকে।
উদাহরণ- কেঁচো, জোক ইত্যাদি। 

প্লাটিহেলমিনথেস পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য: 
- দেহ চ্যাপ্টা। 
- শিখা কোষ (flame cell) নামক রেচন অঙ্গ থাকে। 
উদাহরণ - যকৃত কৃমি, ফিতা কৃমি ইত্যাদি।

মলাস্কা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য: 
- প্রায় সকল প্রাণী সামুদ্রিক।
- দেহ নরম কিন্তু বাইরের দিকে শক্ত খোলসে আবৃত থাকে।
উদাহরণ - শামুক, ঝিনুক ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী, NCTB।
১,৫২৬.
কোনটিকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়? 
  1. মশা
  2. পিঁপড়া
  3. প্লাটিপাস
  4. তেলাপোকা
সঠিক উত্তর:
প্লাটিপাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লাটিপাস
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলাে জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনােরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনাে পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমগােত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী ইত্যাদি হলো জীবন্ত জীবাশ্ম প্রাণী। 
- অন্যদিকে, ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলােবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্ম। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আথ্রোপোডাগুলাে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫২৭.
শিশুর জন্য "ভিটামিন এ" ক্যাপসুল বছরে কতবার দিতে হয়?
  1. বছরে দুইবার
  2. বছরে তিনবার
  3. বছরে একবার
  4. বছরে চারবার
সঠিক উত্তর:
বছরে দুইবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বছরে দুইবার
ব্যাখ্যা
- শিশুর বয়স ৬ সপ্তাহ বা ৪২ দিন পূর্ণ হলেই পেন্টাভ্যালেন্ট (ডিপিটি, হেপাটাইটিস-বি, হিব) ও ওপিভি টিকার প্রথম ডােজ দিতে হবে জন্মের প্রথম বছরেই সবগুলাে টিকা দেয়ার জন্য কমপক্ষে ৪ বার টিকা কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে ।
- শিশুর বয়স ৯ মাস পূর্ণ হয়ে ১০ মাসে পড়লেই হামের টিকা এবং ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দিতে হবে। 
- ১৫ বছর বয়স হলেই সকল মহিলাদের ধনুষ্টংকারের প্রতিষেধক টিটি টিকা দেয়া শুরু করতে হবে এবং সময়সূচি অনুযায়ী ৫ ডােজ টিটি টিকা নেয়া শেষ করতে হবে। 
- ১ - ৫ বছর বয়সী শিশুকে ৬ মাস অন্তর ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে।
- অর্থাৎ বছরে দুইবার শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল দিতে হয়। 

সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।
১,৫২৮.
কোন খাদ্য উপাদানটি আমাদের শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে?
  1. ক) চর্বি
  2. খ) ভিটামিন
  3. গ) আমিষ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) আমিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আমিষ
ব্যাখ্যা
আমিষ বা প্রােটিন-জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত।
আমিষে শতকরা 16 ভাগ নাইট্রোজেন থাকে।
আমিষে সামান্য পরিমাণে সালফার, ফসফরাস এবং আয়রনও থকে।
নাইট্রোজেন এবং শেষােক্ত উপাদানগুলাের উপস্থিতির কারণে আমিষের গুরুত্ব শর্করা ও স্নেহ পদার্থ থেকে আলাদা।
শুধু আমিষজাতীয় খাদ্যই শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টিবিজ্ঞানে আমিষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

[উৎস: মাধ্যমিক জীব বিজ্ঞান]
১,৫২৯.
কার্বন-ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে-
  1. ক) করোনারি ধমনী
  2. খ) পালমোনারি ধমনী
  3. গ) পালমোনারি শিরা
  4. ঘ) ইনমিনেট ধমনী
সঠিক উত্তর:
খ) পালমোনারি ধমনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পালমোনারি ধমনী
ব্যাখ্যা
করোনারি ধমনি : অ্যাওর্টা অ্যাওর্টিক আর্চ গঠনের পূর্বেই ডান ও বাম করোনারি ধমনি উৎপন্ন করে। এরা অক্সিজেন যুক্ত রক্ত হৃদপেশীতে সরবরাহ করে।
ইনমিনেট ধমনি : এটি একটি খাটো ও মোটা ধমনি। এটি অভিন্ন ক্যারোটিড ধমনি ও ডান সাবক্লেভিয়ান ধমনিতে বিভক্ত।
পালমোনারী ধমনি: দেহ থেকে গৃহীত CO2 সমৃদ্ধ রক্ত অক্সিজেনময় হওয়ার জন্য ফুসফুসে বহন করে।
পালমোনারি শিরা: ফুসফুস থেকে অক্সিজেনময় রক্ত দেহে সরবরাহের জন্য হৃদপিন্ডে বহন করে।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৩০.
কোন পর্বের প্রাণীরা সাধারণভাবে স্পঞ্জ নামে পরিচিত?
  1. ক) আর্থোপোডা
  2. খ) নিডারিয়া
  3. গ) পরিফেরা
  4. ঘ) একাইনোডার্মাটা
সঠিক উত্তর:
গ) পরিফেরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পরিফেরা
ব্যাখ্যা

পরিফেরা পর্বের প্রাণীরা সাধারণভাবে স্পঞ্জ নামে পরিচিত। এদের অধিকাংশ প্রজাতি সামুদ্রিক। এরা সাধারণত দলবদ্ধ হয়ে বসবাস করে।
সরলতম বহুকোষী প্রাণী। দেহপ্রাচীর অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত। এই ছিদ্রপথে পানির সাথে অক্সিজেন ও খাদ্যবস্তু প্রবেশ করে।
কোনাে পৃথক সুগঠিত কলা, অঙ্গ ও তন্ত্র থাকে না।
উদাহরণ: Spongilla, Scypha

১,৫৩১.
কচুশাক বিশেষভাবে মূল্যবান যে উপাদানের জন্য তা হল-
  1. ক) ভিটামিন-এ
  2. খ) ভিটামিন-সি
  3. গ) লৌহ
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎসের তালিকায় কচু শাক দেয়া আছে। তবে, কচু শাক লৌহেরও ভাল উৎস। সম্ভবত প্রচলিত উত্তর লৌহ।
কিন্তু, লৌহ এবং ক্যালসিয়াম একসাথে দেয়া হলে সঠিক উত্তর নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

যেহেতু, প্রধান উৎস হিসেবে জীববিজ্ঞান বইতে সরাসরি বলা আছে তাই এটাকেই উত্তর হিসেবে নেয়া হল। পাশপাশি সকল তথ্য দেয়া হল।
--------------------------------
• লৌহ/আয়রনের উদ্ভিজ উৎস: ফুলকপির পাতা, নটোশাক, নিম পাতা, ডুমুর, কাঁচা কলা, ভুট্টা, গম, বাদাম ইত্যাদি৷
• ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ উৎস: ডাল, তিল, গাজর, ফুলকপি, পালংশাক, কচুশাক, লাল শাক, বাধাকপি ইত্যাদি৷

উৎসঃ বিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি
--------------------------------
নিচে নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান বইয়ের (পৃষ্ঠা নং - ৯৪) অংশটি সংযুক্ত করা হল:


যদিও, এখানে লিস্টে নাম দেয়া হয়নি। তবে, কচু শাক লৌহের ভাল উৎস কোন সন্দেহ নেই। যাইহোক, দুইটা রেফারেন্সেরই দিক থেকে চিন্তা করলে ক্যালসিয়ামকে বাদ দেয়া যাচ্ছে না।
১,৫৩২.
মানুষের প্রতিটি কোষে কতটি ক্রোমোজোম থাকে? 
  1. 46
  2. 23
  3. 44
  4. 22
সঠিক উত্তর:
46
উত্তর
সঠিক উত্তর:
46
ব্যাখ্যা

ক্রোমোজোম: 
- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম। 
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু। 
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি। 
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে
- এই ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম। অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। 
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৩৩.
বায়ুদূষণের ফলে বায়ুতে কোন গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে শ্বাসকষ্ট ও অক্সিজেনের ঘাটতিজনিত সমস্যা দেখা যায়?
  1. অক্সিজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. কার্বন মনোক্সাইড
  4. হাইড্রোজেন
সঠিক উত্তর:
কার্বন মনোক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন মনোক্সাইড
ব্যাখ্যা

• কার্বন মনোক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে রক্তে অক্সিজেন পরিবহন ব্যাহত করে, ফলে শ্বাসকষ্ট ও শ্বাসজনিত জটিলতা দেখা দেয়।
 
• বায়ুদূষণের প্রভাব:
- বায়ু দূষিত হলে সেই বায়ুতে ক্ষতিকর গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যা মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
- বায়ুতে কার্বন মনোক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গেলে মানুষের শ্বাসকষ্টজনিত রোগ থেকে শুরু করে ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে।
- এছাড়া শিল্পকারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া বায়ুতে মিশে গিয়ে অম্লীয় বৃষ্টি সৃষ্টি করতে পারে।
- এই অম্লীয় বৃষ্টি শুধু মানুষকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, জলজ প্রাণীকেও ক্ষতি করে।
- এর ফলে বনভূমি ধ্বংস হয়।

• বায়ুদূষণ ও বৈশ্বিক উষ্ণতা:
- বায়ুদূষণের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
- বিজ্ঞানীদের মতে, এভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতা বেড়ে যাবে।
- এর ফলে পৃথিবীর সমুদ্র উপকূলবর্তী নিচু অঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাবে।
- আবার কোনো কোনো অঞ্চলে খরা দেখা দিতে পারে।
- এর ফলে স্থানীয় জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটবে।
- এতে শুধু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, অসংখ্য উদ্ভিদ ও প্রাণী পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
- পরিশেষে সার্বিকভাবে পৃথিবী ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান, ৭ম শ্রেণি।

১,৫৩৪.
দেহের সবচেয়ে কঠিন অংশের নাম কি?
  1. ক) হিউমেরাস
  2. খ) ফিমার
  3. গ) এনামেল
  4. ঘ) রেডিও আলনা
সঠিক উত্তর:
গ) এনামেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এনামেল
ব্যাখ্যা
• দেহের সবচেয়ে কঠিন অংশের নাম এনামেল। মানব শরীরের কঠিনতম কলা।
- যা হাইড্রোক্সিপাটাইট স্ফটিক (ক্যালসিয়াম এবং ফসফেট আয়ন) দ্বারা গঠিত।
- হিউমেরাস লম্বা দেহ, নিকটবর্তী ও দূরবর্তী প্রান্ত নিয়ে গঠিত। এটির উপর দিকে গোলাকার মস্তক বিদ্যমান।
- ফিমার পশ্চাৎপদের প্রথম বড় অস্থি। ইহা দেহের সবচেয়ে লম্বা ও ভারী অস্থি।
- রেডিও আলনা অস্থিটি রেডিয়াস ও আলনা নামক পৃথক অথচ পরস্পরের সাথে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ দুটি অস্থি নিয়ে গঠিত। রেডিয়াস লম্বা এবং মস্তক বর্তমান। অন্যদিকে আলনা লম্বা ও নলাকার।

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৩৫.
শিশুর খাদ্যে নিচের কোনটির ঘাটতির জন্য রক্তাল্পতা বা এ্যানিমিয়া দেখা যায়?
  1. লৌহ
  2. ক্যালসিয়াম
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. গন্ধক
সঠিক উত্তর:
লৌহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লৌহ
ব্যাখ্যা
রক্তাল্পতা বা এ্যানিমিয়া: 
- আয়রন বা লৌহ, লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিনের গঠন উপাদান।
- শিশু ও সন্তান সম্ভবা মায়ের খাদ্যে লৌহের ঘাটতির জন্য রক্তাল্পতা দেখা যায়।
- সাধারণত শিশুদের পেটে কৃমি হলে রক্তাল্পতা দেখা দিতে পারে।
এর লক্ষণগুলো হলো-
• দুর্বলতাবোধ, মাথা, গা ঝিমঝিম করা।
• বুক ধড়ফড় করা।
• মাথা ঘোরানো, অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে উঠা।
• ওজন হ্রাস ও খাওয়ায় অরুচি দেখা দেয়।

প্রতিকার: 
- লৌহ সমৃদ্ধ শাকসবজি, ফল, মাংস, ডিমের কুসুম, যকৃৎ ও বৃক্ক ইত্যাদি বেশি করে খাওয়া।
- প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন করা।
- রোগ কঠিন আকার ধারণ করলে হৃৎপিন্ডের দ্রুত রক্ত সঞ্চালন ও হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
১,৫৩৬.
জীবদেহের অকেজো কোষকে কোন প্রক্রিয়ায় লাইসোসোম ধ্বংস করে?
  1. ক) ফ্যাগোসাইটোসিস
  2. খ) অটোফ্যাগি
  3. গ) অটোলাইসিস
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) অটোলাইসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অটোলাইসিস
ব্যাখ্যা

জীবদেহের অকেজো কোষকে অটোলাইসিস বা, স্ববিগলন প্রক্রিয়ায় লাইসোসোম ধ্বংস করে।
ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় আক্রমণকারী জীবাণুকে লাইসোসোম ধ্বংস করে।
জীবে তীব্র খাদ্য অভাব দেখা দিলে কোষের উপাদান ও অঙ্গানুকে বিগলিত করে অটোফ্যাগি প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করবার মাধ্যমে জীবকে টিকে থাকতে সহায়তা করে লাইসোসোম।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,৫৩৭.
রক্ত প্রধানত কোন দুটি উপাদানে গঠিত?
  1. প্রোটিন ও চর্বি
  2. হিমোগ্লোবিন ও অক্সিজেন
  3. যোজক কলা ও পেশি কলা 
  4. রক্তরস ও রক্তকণিকা
সঠিক উত্তর:
রক্তরস ও রক্তকণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তরস ও রক্তকণিকা
ব্যাখ্যা

রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা।
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্ত কণিকার সমন্বয়ে রক্ত গঠিত হয়।
- মানুষ ও অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণিদেহের রক্ত লাল রঙের হয়।
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রং লাল হয়।
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে।

অন্যদিকে, 
- প্রোটিন ও চর্বি: এগুলো রক্তরসের মধ্যে দ্রবীভূত পুষ্টি উপাদান মাত্র, রক্তের প্রধান গাঠনিক অংশ নয়।
- হিমোগ্লোবিন ও অক্সিজেন: হিমোগ্লোবিন হলো লোহিত রক্তকণিকার একটি উপাদান এবং অক্সিজেন রক্ত দ্বারা পরিবাহিত একটি গ্যাস।
- যোজক কলা ও পেশি কলা: রক্ত নিজেই একটি তরল যোজক কলা; তবে পেশি কলা রক্তের অংশ নয়, এটি শরীরের অন্য একটি টিস্যু তন্ত্র। 

উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৩৮.
পশ্চাৎ মস্তিষ্কের অংশ নয় কোনটি?
  1. মেডুলা অবলংগাটা
  2. সেরেবেলাম
  3. থ্যালামাস
  4. পনস
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
থ্যালামাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থ্যালামাস
ব্যাখ্যা
⇒ 'থ্যালামাস' অগ্রমস্তিষ্কের অংশ।

পশ্চাৎ মস্তিষ্ক:
- এটি মস্তিষ্কের পিছনের অংশ এবং ৩টি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত। যথা-
(ক) সেরেবেলাম,
(খ) মেডুলা অবলংগাটা এবং
(গ) পনস।

• সেরেবেলাম:
- পশ্চাৎ মস্তিষ্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সেরেবেলাম যা সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ারের নিচে অবস্থিত।
- দুটি কুণ্ডলীকৃত সমগোলার্ধ নিয়ে গঠিত যারা ভার্নিস নামে একটি ক্ষুদ্র যোজকের সাহায্যে যুক্ত।
- এটি বাইরের দিকে কর্টেক্স এবং ভেতরের দিকে মেডুলা নিয়ে গঠিত।
- দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে।
- ঐচ্ছিক চলাফেরাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- পেশির টান ও দেহভঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করে।

• মেডুলা অবলংগাটা:
- এটি পনস ও সুষুম্মাকাণ্ডের মধ্যবর্তী অনেকটা ত্রিকোণাকার পুরু গঠন বিশেষ।
- এটি সুষুম্মাকাণ্ড ও মস্তিষ্কের মধ্যে যোগসূত্র সৃষ্টি করে।
- এটি পৌষ্টিক নালির পেরিস্টালসিস, রক্তনালির সংকোচন- শ্লথন, হৃদস্পন্দন, ফুসফুসের সংকোচন-প্রসারণ, লালাগ্রন্থির ক্ষরণ, মলমূত্র ত্যাগ, বমি ইত্যাদি শরীরবৃত্তীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে।

• পনস:
- এটি সেরেবেলামের অঙ্কভাগে মেডুলার সামনের দিকে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি পিণ্ডাকার গঠন।
- এটি সেরেবেলাম ও মেডুলাকে মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশের সাথে সংযুক্ত করে।
- স্বাভাবিক শ্বাসক্রিয়ার হার নিয়ন্ত্রণ করে।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৩৯.
লসিকায় সাধারণত কী অনুপস্থিত থাকে? 
  1. প্রোটিন
  2. শ্বেত রক্ত কণিকা
  3. লোহিত রক্ত কণিকা
  4. অ্যান্টিবডি
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্ত কণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্ত কণিকা
ব্যাখ্যা
লসিকাতন্ত্র: 
- মানব দেহে রক্ত একটি অন্যতম পরিবহন মাধ্যম যার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থ বিভিন্ন কোষ কলায় (Tissue) পৌঁছে এবং বিভিন্ন বিপাকীয় পদার্থ রেচনের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্গে বাহিত হয়। 
- অন্যদিকে দেহের সমস্ত কলা (Tissue) রক্তপূর্ণ কৈশিক জালিকায় বেষ্টিত থাকে। 
- রক্তের কিছু উপাদান কৈশিক জালির প্রাচীর ভেদ করে কোষের চারপাশে অবস্থান করে, এ উপাদানগুলোকে লসিকা (Lymph) বলে। 
- কৈশিক জালিকা ছাড়াও কিছু পরিমাণ কলারস এক ধরনের বদ্ধ নালি দিয়ে গৃহীত ও পরিবাহিত হয়ে পুনরায় রক্তে ফিরে আসে, এ সব নালিকে "লসিকা নালি" (Lymph vessels) বলে। অতএব লসিকা, লসিকানালি ও লসিকাগ্রন্থি সমন্বয়ে গঠিত অন্ত্রকে "লসিকাতন্ত্র” বলে। 

লসিকা: 
- এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে। 
- এতে লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক। 
- লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে। 
যেমন- প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সোডিয়াম, ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি। 
- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৪০.
ক্রোমোসোমে শতকরা কত ভাগ প্রোটিন থাকে?
  1. ক) ৪৫
  2. খ) ৫০
  3. গ) ৫৫
  4. ঘ) ৬৫
সঠিক উত্তর:
গ) ৫৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৫৫
ব্যাখ্যা

প্রোটিন হল ক্রোমোসোমের মূল কাঠামো গঠনকারী রাসয়নিক উপাদান। এ কাঠামোতে নিউক্লিক অ্যাসিডগুলো বিন্যাস্ত থাকে। ক্রোমোজমে প্রোটিনের পরিমাণ শতকরা ৫৫ ভাগ। এছাড়াও ক্রোমোজমে দুই ধরনের প্রোটিন পাওয়া যায়। যথা- হিস্টোন এবং নন-হিস্টোন।
নিউক্লিয়াসের ভেতরে অবস্থিত নিউক্লিওপ্রোটিনে গঠিত যেসব তন্তুর মাধ্যমে জীবের যাবতীয় বৈশিষ্ট্য বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হয় তাকে ক্রোমোজোম বলে। একটি নিউক্লিয়াসে নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। এর প্রধান উপাদান DNA।
ক্রোমোজোমের কাজ-
১. DNA তথা জিন অণু ধারণ করে।
২. প্রজাতির বৈশিষ্ট্যকে বংশপরম্পরায় বহন করে।
৩. প্রাণীর লিঙ্গ নির্ধারণে এর ভূমিকা সর্ববিদিত।
৪. কোষের সংশ্লেষ কাজের সঙ্গে এর পরোক্ষ সম্পর্ক আছে।
৫. জীবের সব বিপাকীয় কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা রয়েছে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,৫৪১.
নিম্নের কোন খাদ্যে ক্যালরির পরিমাণ বেশি?
  1. ক) ঘি
  2. খ) গরুর দুধ
  3. গ) খাসির মাংস
  4. ঘ) ইলিশ মাছ
সঠিক উত্তর:
ক) ঘি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ঘি
ব্যাখ্যা

100 গ্রাম ঘি এ মোট 900 কিলোক্যালরি শক্তি আছে।
অন্যদিকে, 100 গ্রাম গরুর দুধ, খাসির মাংস, ইলিশ মাছ এ শক্তি আছে যথাক্রমে 67 কিলোক্যালরি 194 কিলোক্যালরি এবং 273 কিলোক্যালরি।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫৪২.
ইনসুলিন কোথায় উৎপন্ন হয়?
  1. ক) পিত্তাশয়ে
  2. খ) পাকস্থলীতে
  3. গ) ইন্টারফেরনে
  4. ঘ) অগ্ন্যাশয়ে
সঠিক উত্তর:
ঘ) অগ্ন্যাশয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অগ্ন্যাশয়ে
ব্যাখ্যা
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়। 
- ইনসুলিনের অভাবেই ডায়াবেটিস রোগ হয়।
- অগ্ন্যাশয়ের ইংরেজি হচ্ছে প্যানক্রিয়াস।
- প্যানক্রিয়াস(pancrea) হল মানুষের একটি অংগ যা একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে। পাকস্থলী যেখানে শেষ হয়, ডিওডেনাম সেখানে শুরু হয়। আর ডিওডেনামের পিছনেই এটির অবস্থান।
 
এটা মূলত দুই ধরনের কাজ করে: 
১) খাদ্য হজমের জন্য পাচক রস বা ডাইজেস্টিভ জুস তৈরি করে পাকস্থলীতে সরবরাহ করে।
২) ইন্সুলিন ও গ্লুকাগন নিঃসরণ করে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
 


উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৫৪৩.
জলজ প্রাণীদের বেঁচে থাকার জন্য ১ লিটার পানিতে কমপক্ষে কতটুকু অক্সিজেন থাকা দরকার?
  1. ক) ১০ মিলিগ্রাম
  2. খ) ৫ মিলিগ্রাম
  3. গ) ৮ ডেসিগ্রাম
  4. ঘ) ৪ পিকোগ্রাম
সঠিক উত্তর:
খ) ৫ মিলিগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৫ মিলিগ্রাম
ব্যাখ্যা

কোনো কারণে যদি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে থাকা অক্সিজেন নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে কমে যায়, তাহলে জলজ প্রাণীগুলোর সমস্যা হতে থাকে।
যদি পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন না থাকে, তাহলে মাছসহ অন্যান্য প্রাণী বাঁচতেই পারে না। জলজ প্রাণীদের বেঁচে থাকার জন্য ১ লিটার পানিতে কমপক্ষে ৫ মিলিগ্রাম অক্সিজেন থাকা দরকার।
সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১,৫৪৪.
কোন রাজ্যের জীবগুলোর কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না? 
  1. মনেরা
  2. প্রোটিস্টা
  3. প্লান্টি
  4. ফানজাই
সঠিক উত্তর:
মনেরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনেরা
ব্যাখ্যা
জীবের শ্রেণিকরণ: 
- বিজ্ঞানীগণ পৃথিবীর সমস্ত জীবকে তাদের বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবদ্ধকরণের চেষ্টা করেছেন। 
- ১৯৬৯ খ্রি. বিজ্ঞানী হুইটেকার পঞ্চরাজ্য শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তন করেন। 
- ১৯৭৪ খ্রি. বিজ্ঞানী মাগিউলিস (Margulis) উক্ত শ্রেণিবিন্যাসকে পুনর্বিন্যাস করে জীবজগতের আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তন করেন। 
- আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসটি নিম্নরূপ পাঁচটি রাজ্যে ভাগ করেছেন- 
যেমন-
রাজ্য-১: মনেরা: 
- এ রাজ্যের অধীনে বিন্যস্ত জীবের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- জীবটি এককোষী এবং এর কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না; এরা খুবই ক্ষুদ্র এবং অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া এদের দেখা যায় না। 
উদাহরণ: ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, স্পাইরোগাইরা ইত্যাদি। 

রাজ্য-২: প্রোটিস্টা: 
- এর অধীনে ঐ সকল জীবকে বিন্যস্ত করা হয়, যাদের কোষ সুগঠিত নিউক্লিয়াসযুক্ত, এরা এককোষী বা বহুকোষী ক্লোরোফিল যুক্ত একক বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে। 
উদাহরণ: ইউগ্লেনা, অ্যামিবা ইত্যাদি। 

রাজ্য-৩: ফানজাই বা ছত্রাক: 
- এদের দেহে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে। এরা সাধারণত এককোষী বা বহুকোষী হয়। দেহে ক্লোরোফিল নেই, তাই এরা পরভোজী। 
উদাহরণ- ইস্ট, পেনিসিলিয়াম, মাশরুম ইত্যাদি। 

রাজ্য- ৪: প্লান্টি (উদ্ভিদজগৎ): 
- অধিকাংশ উদ্ভিদ নিজেই নিজের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। এদের দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত। এদের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ দ্বারা নির্মিত। এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও কোষ গহ্বর বিদ্যমান। উদ্ভিদে সবুজ কণিকা বা ক্লোরোফিল থাকে, তাই এরা খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। 
উদাহরণ: আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি। 

রাজ্য-৫: এ্যানিমেলিয়া (প্রাণিজগৎ): 
- এসব জীবের কোষে সেলুলোজ নির্মিত কোষপ্রাচীর থাকে না। সাধারণত এ কোষগুলোতে প্লাস্টিডও থাকে না। তাই খাদ্যের জন্য এরা উদ্ভিদের উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। 
উদাহরণ- মাছ, পাখি, গরু, মানুষ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,৫৪৫.
মানবদেহের প্রধান হরমোন উৎপাদনকারী গ্রন্থির নাম কী?
  1. ক) থাইরয়েড
  2. খ) পিটুইটারি
  3. গ) প্যারাথাইরয়েড
  4. ঘ) থাইমাস
সঠিক উত্তর:
খ) পিটুইটারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পিটুইটারি
ব্যাখ্যা
মানবদেহের প্রধান হরমোন উৎপাদনকারী গ্রন্থির নাম হচ্ছে পিটুইটারি গ্রন্থি।  

- পিটুইটারি গ্রন্থি হলো একটি অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি।
- এই গ্রন্থিটি মস্তিষ্কের পাদদেশে অবস্থিত মটর দানার মতো দেখতে।
- মানব শরীরে পিটুইটারি গ্রন্থির ওজন ০.৫ গ্রাম।
- পিটুইটারি গ্রন্থির ৩টি অংশ আছে। 
যথাঃ– (১) সম্মুখ অংশ (Anterior Lobe) (২) মধ্য অংশ (Intermediate lobe) (৩) পশ্চাৎ অংশ ( Posterior lobe)।

পিটুইটারি গ্রন্থির কাজসমূহ- 
১. বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ।
২. জনন গ্রন্থির বৃদ্ধি, ক্ষরণ ও কার্য নিয়ন্ত্রণ।
৩. মাতৃদেহে দুগ্ধ ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৪৬.
মানুষের অগ্ন্যাশয় রসে কোন ধরনের এনজাইম থাকে?
  1. অ্যামাইলেজ
  2. লাইপেজ
  3. ট্রিপসিন
  4. উপরের সবকয়টি
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকয়টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
অগ্ন্যাশয় (Pancreas): 

• অগ্ন্যাশয় পাকস্থলীর পিছনে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্রগ্রন্থি।
• এটি একাধারে পরিপাকে অংশগ্রহণকারী এনজাইম ও রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন নিঃসৃত করে।
• অগ্ন্যাশয় বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির মতো কাজ করে।
• অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয়রস নিঃসৃত হয়।
• অগ্ন্যাশয়রসে ট্রিপসিন, লাইপেজ ও অ্যামাইলেজ নামক উৎসেচক বা এনজাইম থাকে।
• এসব এনজাইম শর্করা, আমিষ এবং স্নেহজাতীয় খাদ্যের পরিপাকে সহায়তা করে।
• তাছাড়াও অম্ল-ক্ষারের সাম্যতা, পানির সাম্যতা, দেহতাপ প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে।
• অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয়ের একটি অংশ অতি প্রয়োজনীয় কিছু হরমোন, যেমন: গ্লুকাগন ও ইনস্যুলিন নিঃসরণ করে। গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজে এ হরমোন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অপরদিকে, 
- লালা রসে থাকে টায়ালিন ও মলটেজ নামক এনজাইম। 
- পাকস্থলি রসে শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই।
- আন্ত্রিক রসে থাকে অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটেজ নামক এনজাইম। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম- ১০ম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
১,৫৪৭.
স্ফিগমোম্যানোমিটার কিসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ক) রাসায়নিক বিক্রিয়া
  2. খ) নবায়নযোগ্য শক্তি
  3. গ) রক্তচাপ
  4. ঘ) স্নায়ুচাপ
সঠিক উত্তর:
গ) রক্তচাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রক্তচাপ
ব্যাখ্যা
স্ফিগমোম্যানোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে রক্তচাপ মাপা যায়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৫৪৮.
অ্যান্টিবডি (Antibody) কোন শ্রেণীর জৈব অণুর অন্তর্ভুক্ত?
  1. Carbohydrate
  2. Lipid
  3. Protein
  4. Nucleic acid
সঠিক উত্তর:
Protein
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Protein
ব্যাখ্যা

অ্যান্টিবডি হলো বিশেষ ধরনের গ্লাইকোপ্রোটিন, যাকে ইমিউনোগ্লোবুলিন (Immunoglobulin, Ig) বলা হয়।

অ্যান্টিবডি (Antibody): 
- অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের বিপরীত বস্তু বা নিজস্ব বস্তু বা কণিকা বা কোষ অথবা কোষগুচ্ছ। 
- অ্যান্টিবডি প্রধানত অ্যান্টিজেনের সাড়ায় দেহের B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপাদিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ। 
- এরা রক্তের প্লাজমা ও কলারসে বর্তমান থাকে। 
- এরা অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হতে পারে এবং ক্লোনাল নির্বাচন দ্বারা উৎপাদিত হয় এবং দেহের প্রধান সৈনিক বা রক্ষণাবেক্ষণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। 
- অ্যান্টিবডিগুলো অনুপ্রবেশকারী বা বহিরাগত অ্যান্টিজেনকে ভক্ষণ করে, কখনো বিনষ্ট করে, কখনো মেরে ফেলে, কখনো বাইরে নিক্ষেপ করে। 
- অ্যান্টিজেন হচ্ছে non-self আর অ্যান্টিবডি হচ্ছে self বস্তু। 
- দেহের সব অ্যান্টিবডি গামা-গ্লোবিউলিন (γ-globulin) নামে পরিচিত। আর যেহেতু অ্যান্টিবডিসমূহ দেহের সুরক্ষার কাজ করে তাই এদেরকে ইমিউনোগ্লোবিউলিন (Immunoglobulin, সংক্ষেপে-Ig) বলা হয়। 
- এদের আণবিক ওজন ১,৫০,০০০-৯,০০,০০০/- ডাল্টনের মধ্যে সীমিত। 
- প্লাজমা প্রোটিনের প্রায় ২০% ইমিউনোগ্লোবিউলিন। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৪৯.
প্রাণি জগতের বৃহত্তম পর্ব কোনটি?
  1. Arthropoda
  2. Porifera
  3. Annelida
  4. Mollusca
সঠিক উত্তর:
Arthropoda
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Arthropoda
ব্যাখ্যা

• প্রাণিজগতের বৃহত্তম পর্ব হলো Arthropoda (আর্থ্রোপোডা)। 

প্রাণী জগতের শ্রেণীবিন্যাস:
- সম্পূর্ণ প্রানী জগতকে ৯ টি প্রধান পর্বে ভাগ করা হয়েছে যার মধ্যে প্রথম আটটি অমেরুদন্ডী প্রাণীদের এবং শুধুমাত্র কর্ডাটা পর্ব মেরুদন্ডী প্রাণীদের নিয়ে গঠিত।

- প্রাণীজগৎ এ মুুুখ্য পর্ব মোট ৯টি।এগুলো হল:

১.পরিফেরা - (Porifera)
২. নিডারিয়া - (Nidaria)
৩. প্লাটিহেলমিনথেস - (Platyhelminthes)
৪. নেমাটোডা - (Nematoda)
৫. অ্যানেলিডা - (Annelida)
৬. আর্থ্রোপোডা - (Arthropoda)
৭. মলাস্কা - (Mollusca)
৮. একাইনোডারমাটা - (Echinodermata)
৯. কর্ডাটা - (Chordata)    

উৎস: জীববিজ্ঞান-২য় পত্র, গাজী আজমল, গাজী আসমত।

১,৫৫০.
রক্ত সঞ্চালন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন কে?
  1. থিওফ্রাস্টাস
  2. রবার্ট হুক
  3. উইলিয়াম হার্ভে
  4. এরিস্টটল
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম হার্ভে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম হার্ভে
ব্যাখ্যা
রক্ত সঞ্চালন পদ্ধতি (Blood circulatory system):

- রক্ত সঞ্চালন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন উইলিয়াম হার্ভে। 
- ১৬২৮ সালে তিনি রক্তের সঞ্চালন আবিষ্কার করেন।
- ইংল্যান্ডের ফোকস্টোন শহরে ১৫৭৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন উইলিয়াম হার্ভে। 
- ১৬২৮ সালে ৫০ বছর বয়সে হার্ভে প্রকাশ করলেন তাঁর অবিস্মরণীয় গ্রন্থ ‘Exercitatio Anatomica de Moto Cordis er Sanguinis in Animalibus’। 
- শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্তশিরা পথে হৃৎপিণ্ডে আসে এবং হৃৎপিণ্ড থেকে ধমনীর মাধ্যমে বিভিন্ন অংশে সঞ্চালিত হয়, এটা সর্বপ্রথম হার্ভেই বলেছিলেন।


অপরদিকে, 
- গ্রিক বিজ্ঞানী এরিস্টটলকে প্রাণিবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- গ্রিক বিজ্ঞানী থিওফ্রাস্টাসকে উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- কোষবিদ্যার জনক রবার্ট হুক।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা। 
১,৫৫১.
Which bone is the longest and strongest in the human body?
  1. Patella
  2. Pelvis
  3. Rib
  4. Mandible
  5. Femur
সঠিক উত্তর:
Femur
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Femur
ব্যাখ্যা
• ফিমার: 
- মানবদেহে ২০৬ টি অস্থি বিদ্যমান। 
- ফিমার হচ্ছে মানবদেহে সবচেয়ে বড় অস্থি। 
- এটি দেহের সবচেয়ে লম্বা, ভারী ও শক্ত অস্থি। 
- এর ঊর্ধ্ব প্রান্তে একটি গােল মস্তক, গ্রীবা ও ছােট-বড় ট্রোকেল্টার অবস্থিত। 
- নিম্নপ্রান্ত দুটি কল্ডাইল বিশিষ্ট। 
- ফিমারের মস্তক শ্রেণিচক্র অ্যাসিটামুলামের সাথে যুক্ত থাকে। 
- এর প্রান্তে Patella নামক চ্যাপ্টা সিগময়েড় অস্থি থাকে। 
- তারপরে রয়েছে পর্যায়ক্রমে টিবিয়া, ফিবুলা, হিউমেরাস, আলনা, রেডিয়াস। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৫৫২.
মানুষের শরীরে করোটিক নার্ভের মোট সংখ্যা কত?
  1. ২৪ টি
  2. ২৩ টি
  3. ৪৬ টি
  4. ৩১ টি
সঠিক উত্তর:
২৪ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪ টি
ব্যাখ্যা

• মানবদেহে করোটিড নার্ভ (Carotid nerves) মূলত সিম্প্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রের অংশ এবং তারা কারোটিড শিরা ও আর্টারি অঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। এই নার্ভগুলি মূলত রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। সাধারণভাবে, মানুষের শরীরে প্রত্যেক পাশে ১২টি করে করোটিড নার্ভ থাকে, যার মানে মোট ২৪টি হয়। এই নার্ভগুলো উভয় পাশে সমানভাবে থাকে এবং মূলত হরমোন নিঃসরণ ও রক্তচাপ সংক্রান্ত সংকেত পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্রদত্ত অপশন গুলির মধ্যে সঠিক উত্তর হলো ক) ২৪ টি।
 
• করোটিক স্নায়ু:
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে।
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে।

• নিম্নে করোটিক স্নায়ু গুলোর নাম ও কাজ উল্লেখ করা হলো:
- অলফ্যাক্টরি - ঘ্রাণ অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছায়।
- অপটিক - দর্শন অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছায়।
- অকুলোমোটর - অক্ষিগোলকের সঞ্চালন। (মধ্যমস্তিষ্কের অঙ্কীয়দেশে অবস্থান)
- ট্রকলিয়ার - অক্ষিগোলকের সঞ্চালন। (মধ্যমস্তিষ্কের পৃষ্ঠ-পার্শ্বদেশে অবস্থান)
- ট্রাইজেমিনাল - সংশ্লিষ্ট অঙ্গ থেকে সংবেদ মস্তিষ্কে প্রেরণ।
- অ্যাবডুসেন্স - অক্ষিগোলকের সঞ্চালন। (পনস ও মেডুলার সংযোগস্থলের অঙ্কীয়দেশে অবস্থান)
- ফ্যাসিয়াল - স্বাদ গহণ, চর্বন, গ্রীবা সঞ্চালন।
- অডিটরি (অ্যাকাউস্টিক) - শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষা।
- গ্লসোফ্যারিঞ্জিয়াল - স্বাদ গ্রহণ, জিহ্বা ও গলবিলের সঞ্চালন।
- ভেগাস (নিউমোগ্যাস্ট্রিক) - সংশ্লিষ্ট অঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ।
- স্পাইনাল অ্যাক্সেসরি - মাথা ও কাঁধের সঞ্চালন।
- হাইপোগ্লোসাল - জিহ্বার সঞ্চালন।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- মানবদেহে সুষুম্না কাণ্ড থেকে ৩১ জোড়া বা ৬২টি সুষুম্না স্নায়ু উৎপন্ন হয়।
- মানুষের জীবকোষে ক্রোমোজোম আছে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৫৩.
কানের কোন অংশটি দেহের ভারসাম্য রক্ষার কাজ করে? 
  1. ম্যালিয়াস
  2. ককলিয়ার
  3. ইউট্রিকুলাস
  4. ইউস্টেশিয়ান টিউব
সঠিক উত্তর:
ইউট্রিকুলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউট্রিকুলাস
ব্যাখ্যা
সংবেদি অঙ্গ: 
- দেহের চালক হচ্ছে মস্তিষ্ক। 
- মস্তিষ্ককে মগজ বলা হয়, দেহের সব কাজই চলছে মস্তিষ্কের হুকুমে। 
- মস্তিষ্ক থাকে মাথার খুলির মধ্যে, খুলির মাঝখানে বসেই দেহের বাইরের ও ভিতরের কাজকর্ম চালায়। 
- চোখ, কান, নাক, ত্বক ও জিহ্বা বাইরের সকল খবরা-খবর জোগাড় করে মস্তিষ্ককে জানিয়ে দেয়। 

কান বা কর্ণ: 
- কান না থাকলে মানুষ শুনতে পেত না, কারণ কথা বলা শিখতে হয় শুনে শুনে। 
- মাথার দুই পাশে দুটো কান বা কর্ণ আছে। 
- কর্ণ বা কান শুনতে ও দেহের ভারসাম্য রক্ষার প্রধান অঙ্গ হিসেবেও কাজ করে। 
- কান তিনটি অংশে বিভক্ত। 
যথা- 
১। বহিঃকর্ণ: 
- পিনা, কর্ণকুহর ও কর্ণপটহ নিয়ে বহিঃকর্ণ গঠিত। 
(ক) পিনা: 
- এটি কানের বাইরের অংশ, মাংস ও কোমলাস্থি দিয়ে গঠিত। 
- শব্দ কর্ণকুহরে পাঠানো এর প্রধান কাজ। 
(খ) কর্ণকুহর: 
- পিনা একটি নালির সাথে যুক্ত, এ নালিটিকে কর্ণকুহর বলে। 
(গ) কর্ণপটহ: 
- কর্ণকুহর শেষ হয়েছে একটা পর্দায়, এ পর্দাটির নাম কর্ণপটহ বা টিমপেনিক পর্দা। 
- কর্ণপটহ বহিঃকর্ণের শেষ অংশ। 

২। মধ্যকর্ণ: 
- বহিঃকর্ণ ও অন্তঃকর্ণের মাঝখানে মধ্যকর্ণ অবস্থিত। 
- এটা একটা বায়ুপূর্ণ থলি যার মধ্যে ম্যালিয়াস, ইনকাস ও স্টেপিস নামে তিনটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হাড় বা অস্থি রয়েছে। 
- অস্থিসমূহের মাধ্যমে শব্দ তরঙ্গ বা ঢেউ অন্তঃকর্ণে পৌঁছায়। 
- কানের সাথে গলার সংযোগের জন্য ইউস্টেশিয়ান টিউব নামে একটি নল আছে, এ নলটির কাজ হলো কর্ণপটহের বাইরের ও ভেতরের বায়ুর চাপ সমান রাখা। 

৩। অন্তঃকর্ণ: 
- এটি অডিটরি ক্যাপসুল অস্থির মধ্যে অবস্থিত। অন্তঃকর্ণ দুটি প্রধান প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। 
(ক) ইউট্রিকুলাস: 
- অন্তঃকর্ণের এ প্রকোষ্ঠটি তিনটি অর্ধবৃত্তাকার নালি দিয়ে গঠিত। 
- এদের ভিতরে আছে খুব সূক্ষ্ম লোমের মতো স্নায়ু ও রস। 
- নালির ভিতরের এ রস যখন নড়ে বা আন্দোলিত হয়, তখনই স্নায়ুগুলো উদ্দীপ্ত হয়, আর তখনই সে উদ্দীপনা মস্তিষ্কে পৌঁছায়। 
এই অংশ দেহের ভারসাম্য রক্ষার কাজ করে। 

(খ) স্যাকুলাস: 
- অন্তঃকর্ণের এই প্রকোষ্ঠের চেহারা অনেকটা শামুকের মতো প্যাঁচানো নালিকার মতো, একে ককলিয়া বলে। 
- ককলিয়ার ভেতরে শ্রবণ সংবেদি কোষ থাকে। 
- প্যাঁচানো নালিকা এক ধরনের রসে পূর্ণ থাকে। 
- এই অংশ শ্রবণের কাজ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,৫৫৪.
একজন স্বাভাবিক মানুষের দেহে কতটি হাড় থাকে?
  1. ১০৪ টি
  2. ২০০ টি
  3. ২০১টি
  4. ২০৬ টি
সঠিক উত্তর:
২০৬ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০৬ টি
ব্যাখ্যা
• মানুষের কঙ্কালতন্ত্র:
- একজন মানুষের দেহে ২০৬ টুকরা হাড় থাকে।
- মানুষের কঙ্কালতন্ত্রকে প্রধান দুটি অংশে ভাগ করা হয়।
যথা-
১. অক্ষীয় কঙ্কাল।
২. উপাঙ্গীয় কঙ্কাল।

• অক্ষীয় কঙ্কাল:
- কঙ্কালতন্ত্রে অক্ষীয় অস্থির সংখ্যা ৮০টি।
যথা:
- করোটিতে অস্থি সংখ্যা ২২টি
- বক্ষপিঞ্জরে অস্থি সংখ্যা ২৫টি
- মেরুদন্ডে ৩৩টি অস্থি রয়েছে।

• উপাঙ্গীয় কঙ্কাল:
- উপাঙ্গীয় অস্থির সংখ্যা ১২৬টি।
যথা:
- বাহুতে অস্থি সংখ্যা ৬০টি।
- পা এ অস্থি সংখ্যা ৬০টি।
- বক্ষ অস্থি চক্রে অস্থি সংখ্যা ৪টি।
- শ্রেণি অস্থি চক্রে ২টি অস্থি রয়েছে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৫৫.
হৃদপিন্ডের করোনারি রক্তনালির রক্ত জমাট বাঁধলে সেটিকে কি বলে?
  1. লিউকোসাইটোসিস
  2. সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস
  3. করোনারি থ্রম্বোসিস
  4. থ্যালাসেমিয়া
সঠিক উত্তর:
করোনারি থ্রম্বোসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করোনারি থ্রম্বোসিস
ব্যাখ্যা
শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ২০০০০ - ৩০০০০ হয়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে।
রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমান কমে রক্ত শূন্যতা সৃষ্টি হলে তাকে থ্যালাসেমিয়া বলে।
এটি বংশগত।
গুরু মস্তিষ্কের রক্তনালির রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই।
১,৫৫৬.
রক্তের প্লাজমা প্রোটিন কোনটি?
  1. ক) অ্যালবুমিন
  2. খ) ফাইব্রিনোজেন
  3. গ) প্রোথ্রম্বিন
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• রক্তে জৈব পদার্থের ভিতরে প্লাজমা প্রোটিন এর পরিমাণ প্রায় ৭.৫%।
• প্লাজমা প্রোটিন এর মধ্যে অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন, প্রোথ্রম্বিন, ফাইব্রিনোজেন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
• রক্তে বিদ্যমান নাইট্রোজেনঘটিত রেচন পদার্থের মধ্যে রয়েছে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন, জ্যানথিন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৫৫৭.
মানবদেহের প্রতিটি কোষে মোট কতটি ক্রোমোজোম থাকে? 
  1. ২২
  2. ২৩
  3. ৪৬
  4. ৪৪
সঠিক উত্তর:
৪৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৬
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজোম: 
- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম। 
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু। 
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি। 
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬ টি ক্রোমোজোম থাকে। 
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোসোমকে বলা হয় অটোসোম। 
- অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। 
- অপর এক জোড়া বা ২ টি ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোসোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম। 
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। 
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৫৮.
নিচের কোনটিতে বহিঃ নিষেক ঘটে?
  1. ক) মাছ
  2. খ) মানুষ
  3. গ) বিড়াল
  4. ঘ) ডাঙায় বসবাসকারী অধিকাংশ প্রাণীতে
সঠিক উত্তর:
ক) মাছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মাছ
ব্যাখ্যা

বহিঃ নিষেক: যে নিষেক ক্রিয়া প্রাণিদেহের বাইরে সংঘটিত হয় তা বহিঃ নিষেক নামে পরিচিত। এ ধরনের নিষেক সাধারণত পানিতে বাস করে এমন সব প্রাণীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
যেমন: বিভিন্ন ধরনের মাছ, ব্যাঙ প্রভৃতি। তবে এর ব্যতিক্রম রয়েছে, যেমন: হাঙ্গর।
অন্তঃ নিষেক: স্ত্রীদেহের জননাঙ্গে সংঘটিত নিষেক অন্তঃনিষেক নামে পরিচিত। সাধারণত শারীরিক মিলনের মাধ্যমে পুরুষ প্রাণী তার শুক্রাণু স্ত্রী জননাঙ্গে প্রবেশ করিয়ে এ ধরনের নিষেক ঘটায়।
অন্তঃনিষেক ডাঙায় বসবাসকারী অধিকাংশ প্রাণীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

১,৫৫৯.
মানুষের সেক্স ক্রোমোজোম কয়টি?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ১টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ২টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২টি
ব্যাখ্যা

- মানবদেহে ক্রোমোজোম সংখ্যা ৪৬ টি বা ২৩ জোড়া।
- এরমধ্যে ২২ জোড়া বা ৪৪ টি অটোজোম।
- ১ জোড়া বা ২টি সেক্স ক্রোমোজোম।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫৬০.
হেটেরোজাইগাস জিনোটাইপের উদাহরণ কোনটি?
  1. ΤΤ
  2. Tt
  3. tt .
  4. XX
সঠিক উত্তর:
Tt
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Tt
ব্যাখ্যা
হেটারোজাইগাস (Heterozygous) জিনোটাইপ:
- কোন জিনোটাইপে একটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী অ্যালিলদুটি অসমপ্রকৃতির হলে, তাকে হেটারোজাইগাস জিনোটাইপ বলা হয়।
- যেমন T এবং t অর্থাৎ Tt -ধারী জীবটি লম্বা হলেও তা হেটারোজাইগাস। কারণ এর মধ্যে একটি হলো প্রকট জিন এবং অন্যটি হলো প্রচ্ছন্ন জিন। 

অর্থাৎ প্রকট ও প্রচ্ছন্ন জিন পাশাপাশি অবস্থান করলে হেটারজাইগাস জিনোটাইপ তৈরি হয়। 
সুতরাং Tt জিনোটাইপ টি হেটারোজাইগাস প্রকৃতির।  

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
১,৫৬১.
রক্তশূণ্যতা দেখা দেয় কোনটির অভাবে?
  1. লৌহ
  2. ভিটামিন A
  3. ক্যালসিয়াম
  4. আয়োডিন
সঠিক উত্তর:
লৌহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লৌহ
ব্যাখ্যা
• লৌহ বা আয়রণ (Fe):
- রক্তের অন্যতম প্রধান উপাদান লৌহ বা আয়রণ।
- প্রতি ১০০ মিলি রক্তের প্রায় ৫০ মিলি গ্রাম লৌহ থাকে।
- এছাড়া যকৃত, প্লিহা, অস্তিমজ্জায় লৌহ সঞ্চিত থাকে।
- পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির দেহে বিদ্যমান ৩-৪ গ্রাম লৌহের চার ভাগের তিন ভাগই রক্তে থাকে।
- উৎস: কাঁচা কলা, সবুজ শাক, কচু, শুকনো ফল, আপেল, কলা ইত্যাদি লৌহের উদ্ভিজ্জ উৎস। ডিমের কুসুম, কলিজা, মাছ, মাংস ইত্যাদি লৌহের প্রাণিজ উৎস।
- কাজ : লৌহ রক্তের লোহিত কণিকা বা হিমোগ্লোবিন তৈরি করে, রক্তে অক্সিজেন বহন করে।
- অভাবজনিত অবস্থা: লৌহের অভাবে রক্তস্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা বা এনিমিয়া দেখা দেয়।

অন্যদিকে,
- ভিটামিন A  এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
- ক্যালসিয়াম  এর অভাবে শিশুদের রিকেট এবং বয়স্ক মহিলাদের অস্টিওম্যালেশিয়া রোগ হয়।
- আয়োডিন এর অভাবে গলগণ্ড রোগ হবে।

উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৬২.
রক্তশূন্যতার জন্য নিম্নের কোন উপাদানটি দায়ী নয়?
  1. ক) লৌহ
  2. খ) ম্যাগনেসিয়াম
  3. গ) ফলিক এসিড
  4. ঘ) ভিটামিন বি-12
সঠিক উত্তর:
খ) ম্যাগনেসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা
রক্তশূন্যতা হচ্ছে দেহের এমন একটি অবস্থা, যখন বয়স এবং লিঙ্গভেদে রক্তে হিমােগ্লোবিনের ঘনত্ব স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। খাদ্যের মুখ্য উপাদান লৌহ, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন বি-12 ইত্যাদির অভাব ঘটলে এ রােগ দেখা যায়।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৬৩.
আরশোলার হৃদপিন্ড কত প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট?
  1. ৪ প্রকোষ্ঠ
  2. ৮ প্রকোষ্ঠ
  3. ১১ প্রকোষ্ঠ
  4. ১৩ প্রকোষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
১৩ প্রকোষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩ প্রকোষ্ঠ
ব্যাখ্যা
- আরশোলার (cockroach) হৃদপিণ্ড ১৩ টি প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট।
- এটি টিউবুলার আকৃতির এবং পৃষ্ঠদেশে অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- মানুষের হৃদপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট (দুটি আলিন্দ এবং দুটি নিলয়) ।
- বেশিরভাগ মাছের হৃদপিণ্ড দুই প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট (একটি আলিন্দ এবং একটি নিলয়)।
- ব্যাঙের হৃদপিণ্ড তিন প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট (দুটি আলিন্দ এবং একটি নিলয়)।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৫৬৪.
মস্তিষ্ক থেকে কত জোড়া স্নায়ু নির্গত হয়?
  1. ক) ৮ জোড়া
  2. খ) ১০ জোড়া
  3. গ) ১২ জোড়া
  4. ঘ) ১৪ জোড়া
সঠিক উত্তর:
গ) ১২ জোড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১২ জোড়া
ব্যাখ্যা

মানবদেহে করােটিকা স্নায়ুর সংখ্যা ১২ জোড়া বা ২৪ টি।
আর মেরুরজ্জীয় স্নায়ুর সংখ্যা ৩১ জোড়া বা ৬২ টি। 
উৎসঃ জীববিজ্ঞান বাের্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫৬৫.
কোন হেপাটাইটিস ভাইরাস রক্তের মাধ্যমে ছড়ায় না?
  1. Hepatities A
  2. Hepatities B
  3. Hepatities C
  4. Hepatities D
সঠিক উত্তর:
Hepatities A
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Hepatities A
ব্যাখ্যা
• হেপাটাইটিস:
- হেপাটাইটিস লিভার বা যকৃৎ এর একটি প্রদাহ যা হেপাটাইটিসের ৫টি ভাইরাসের ( এ, বি, সি, ডি এবং ই) মাধ্যমে ঘটে।
- দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে হেপাটাইটিসের বিভিন্ন ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে।
- হেপাটাইটিস লিভারের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কময়ে দিতে শুরু করে।
- হেপাটাইটিসের ভাইরাসগুলোর মধ্যে টাইপ-বি এবং সি মারাত্মক রূপ নেয় এবং লিভার সিরোসিস এবং ক্যান্সারের মতো মারাত্মক আকার ধারণ করে।
- প্রাথমিক অবস্থায় তা চিকিৎসা না করলে গুরুতর হয়ে ওঠে এবং লিভার সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

• ভাইরাসের নাম- ধরণ- সংক্রমণের মাধ্যম:
- Hepatities A- RNA - পানি, দূষিত খাবার;
- Hepatities B- DNA- রক্ত, যৌন মাধ্যম;
- Hepatities C- RNA- রক্ত, যৌন মাধ্যম;
- Hepatities D- RNA- রক্ত, যৌন মাধ্যম, লালা;
- Hepatities E- RNA- পানি, দূষিত খাবার।

উৎস: জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র- গাজী আজমল, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৫৬৬.
নিচের কোনটি জন্ম নিয়ন্ত্রণের দীর্ঘমেয়াদী অস্থায়ী পদ্ধতি?
  1. ক) টিউবেকটিম
  2. খ) স্পঞ্জ
  3. গ) আই ইউ ডি
  4. ঘ) ডায়ফ্রাম
সঠিক উত্তর:
গ) আই ইউ ডি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আই ইউ ডি
ব্যাখ্যা
গর্ভনিরোধক পদ্ধতি (Contraceptive methods):
- সন্তানের জন্ম বিভিন্ন উপায়ে রোধ করা সম্ভব।
- বর্তমানে অনেক ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি আছে।
- পরিকল্পিত ও সুস্থ-সুন্দর পরিবার গড়ে তোলার জন্য প্রতিটি দম্পতিকেই জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি সম্পর্কে সকল তথ্য জানতে হবে এবং ভেবে-চিন্তে উপযুক্ত পদ্ধতিটি বেছে নিতে হবে ।
- জন্মনিয়ন্ত্রনের বহুল ব্যবহৃত আধুনিক পদ্ধতিগুলো হলো-


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৬৭.
ইউরিয়া নিম্নের কোথায় তৈরি হয়?
  1. ক) বৃক্কে
  2. খ) যকৃতে
  3. গ) দেহকোষে
  4. ঘ) রেনাল ধমনিতে
সঠিক উত্তর:
খ) যকৃতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যকৃতে
ব্যাখ্যা
অতিরিক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড যকৃতে আসার পর রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রোজনজনিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে।
অন্যদিকে, বৃক্ক রেচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শরীর থেকে নাইট্রোজেনেঘটিত যৌগ অ্যামোনিয়া, ইউরিক অ্যাসিড, ইউরিয়া ইত্যাদি দেহ থেকে বের করে দেয়।
অর্থাৎ, মানবদেহে ইউরিয়া তৈরি হয় যকৃতে আর রক্ত থেকে আলাদা করে বের করে দেয় বৃক্ক।


উৎস: National Library of Medicine, USA.
১,৫৬৮.
কোনটিকে জীবনের ভিত্তি বলা হয়? 
  1. দেহকোষ
  2. জিন
  3. প্রোটোপ্লাজম
  4. ক্রোমোজোম
সঠিক উত্তর:
প্রোটোপ্লাজম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটোপ্লাজম
ব্যাখ্যা
প্রোটোপ্লাজম: 
- কোষপ্রাচীরের অভ্যন্তরে পাতলা পর্দাবেষ্টিত জেলীর ন্যায় থকথকে আধা তরল বস্তুটিকে প্রোটোপ্লাজম বলে। 
- প্রোটোপ্লাজমকে জীবনের ভিত্তি বলা হয়। 
- প্রোটোপ্লাজমের তিনটি অংশ আছে। 
যথা- 
• কোষ ঝিল্লি, 
• সাইটোপ্লাজম ও 
• নিউক্লিয়াস। 

কোষ ঝিল্লি: 
- সম্পূর্ণ প্রোটোপ্লাজমকে ঘিরে যে নরম পর্দা দেখা যায় তাকে কোষ ঝিল্লি বা সেল মেমব্রেন বলে। 
- এটি কোষের ভেতর ও বাইরের মধ্যে পানি, খনিজ পদার্থ ও গ্যাস এর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। 

সাইটোপ্লাজম: 
- প্রোটোপ্লাজম থেকে নিউক্লিয়াসকে বাদ দিলে যে অর্ধতরল অংশটি থাকে, তাকে সাইটোপ্লাজম বলে। 
- এর প্রধান কাজ কোষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঙ্গানুগুলোকে ধারণ করা। 
- কিছু শরীরবৃত্তীয় কাজ এখানে সম্পন্ন হয়। 
যেমন- সালোকসংশ্লেষণ। 

নিউক্লিয়াস: 
- প্রোটোপ্লাজমের মধ্যে ভাসমান গোলাকার ঘন বস্তুটি নিউক্লিয়াস। 
- নিউক্লিয়াস কোষের সকল শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নবীন কোষে এদের অবস্থান কোষের কেন্দ্রে। 
- পরিণত কোষে এদের স্থান পরিবর্তন হতে পারে। 
- এরা গোলাকার তবে কখনও কখনও উপবৃত্তাকার বা নলাকার হতে পারে। 
- কোনো কোনো কোষে নিউক্লিয়াস থাকে না। 
- একটি নিউক্লিয়াস প্রধানত (১) নিউক্লিয়ার মেমব্রেন (২) নিউক্লিওপ্লাজম (৩) ক্রোমাটিন তন্তু ও (৪) নিউক্লিওলাস নিয়ে গঠিত। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,৫৬৯.
ভিটামিন ডি তৈরির চূড়ান্ত ধাপটি সংঘটিত হয়- 
  1. যকৃতে
  2. অন্ত্রে
  3. অস্থিমজ্জায়
  4. কিডনিতে
সঠিক উত্তর:
কিডনিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিডনিতে
ব্যাখ্যা
রিকেটস (Rikets): 
- এটি কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নয়, ভিটামিন 'ডি' এর অভাবে এ রোগ হয়। 
- অন্ত্রে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণ, দাঁত ও হাড় গঠন প্রভৃতি শারীরবৃত্তীয় কাজে এই ভিটামিন প্রয়োজন।
- দুধ, মাখন, ডিম, কডলিভার তেল ও হাঙ্গরের তেলে প্রচুর ভিটামিন 'ডি' পাওয়া যায়।
- সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকে জমা থাকা কোলেস্টেরল থেকেও এটি তৈরি হয়, তবে সেক্ষেত্রে ভিটামিন ডি তৈরির শেষ ধাপটি সংঘটিত হয় কিডনিতে। 

- দেহের হাড়গুলো দুর্বল হওয়া, গিঁট ফুলে যাওয়া, হাড়গুলো বিশেষ করে পায়ের হাড় বেঁকে যাওয়া ইত্যাদি এ রোগের লক্ষণ।
- এছাড়া এই রোগে অনেক সময় দেহের কাঠামো ঠিক থাকে না, হাড়গুলো ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং বক্ষদেশ সরু হয়ে যায়।
- শিশুদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন 'ডি' সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে।
- চোখ এবং জননাঙ্গ ঢেকে রেখে নবজাতককে কিছুক্ষণ রোদে রাখা ভালো।
- এতে সূর্যালোকের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে শরীরে কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন 'ডি' তৈরি হয়।
- নিয়মিতভাবে সারা শরীর সারা দিন কালো বা গাঢ় রঙের কাপড়ে ঢেকে রাখলে কিংবা দীঘদিন ধরে ঘরের বাইরে না বের হলে ত্বক পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় না এবং এ কারণে ভিটামিন 'ডি'-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৭০.
চোখের কোন অংশে রড ও কোন নামে দুই ধরনের কোষ রয়েছে?
  1. ক) স্ক্লেরা
  2. খ) কোরয়েড
  3. গ) রেটিনা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) রেটিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রেটিনা
ব্যাখ্যা

রেটিন হলো চক্ষু লেন্সের পেছনের দিকে অবস্থিত অক্ষিগোলকের ভিতরের পৃষ্টে গোলাপী রঙের ইষদচ্ছ আলোকসংবেদন আবরণ।

রেটিনা রড ও কোণ নামক কতগুলি স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা গঠিত ।
রেটিনার ওপর আলো পড়লে তা স্নায়ুতন্ত্রে এক প্রকার উত্তেজনা সৃষ্টি করে ফলে মস্তিষ্কে দর্শনের অনুভূতি জাগে ।
রেটিনা ক্যামেরার ফিল্মের মতো কাজ করে, ফটোরেসেপ্টরের মাধ্যমে চিত্রটি ক্যাপচার করে।

রেটিনার কাজ হল-
১) বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠন করা ।
২) আলোক গ্রাহক হিসেবে কাজ করে উজ্জ্বল আলোতে দেখতে সাহায্য করে ।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

১,৫৭১.
রক্তশূন্যতার জন্য নিম্নের কোন উপাদানটি দায়ী নয়?
  1. ক) ম্যাগনেসিয়াম
  2. খ) লৌহ
  3. গ) ফলিক এসিড
  4. ঘ) ভিটামিন বি-12
সঠিক উত্তর:
ক) ম্যাগনেসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা
রক্তশূন্যতা হচ্ছে দেহের এমন একটি অবস্থা, যখন বয়স এবং লিঙ্গভেদে রক্তে হিমােগ্লোবিনের ঘনত্ব স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। খাদ্যের মুখ্য উপাদান লৌহ, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন বি-12 ইত্যাদির অভাব ঘটলে এ রােগ দেখা যায়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৭২.
মানবদেহের প্রথম প্রতিরক্ষা স্তরে ভূমিকা রাখে কোনটি?
  1. এন্টিজেন
  2. নিউট্রোফিল
  3. ম্যাক্রোফেজ
  4. লাইসোজাইম এনজাইম 
সঠিক উত্তর:
লাইসোজাইম এনজাইম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাইসোজাইম এনজাইম 
ব্যাখ্যা

মানবদেহের প্রতিরক্ষা:
- রোগ জীবাণু কিংবা পরজীবী আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য মানবদেহে সাধারণভাবে তিন ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা লক্ষ করা যায়।

- প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর: ত্বক, সিলিয়া ও মিউকাস, এসিড, লাইসোজাইম এনজাইম ও রক্ত জমাট।
- দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তর: শ্বেত রক্তকণিকা থেকে উৎপন্ন বিভিন্ন ধরনের ফ্যাগোসাইটিক কোষ (ম্যাক্রোফেজ, নিউট্রোফিল ইত্যাদি), প্রদাহ সৃষ্টিকারী সাড়া ও দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রভৃতি দেহে দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর: ম্যাক্রোফেজ কর্তৃক উৎপাদিত প্রোটিন দু'ভাবে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করে।
- যেমন- ভৌত পদ্ধতি ও ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়া। ম্যাক্রোফেজ কর্তৃক ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু নিধন চারটি পর্যায়ক্রমিক ধাপে সম্পন্ন হয়।
- যথা- কেমোট্যাক্সিস, সংলগ্নীকরণ, গ্রাসকরণ ও হত্যা এবং পরিপাক।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৭৩.
দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালী ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণকারী ক্রোমোজোমের সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ২৩টি
  3. গ) ৪৪টি
  4. ঘ) ৪৬ টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৪৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪৪টি
ব্যাখ্যা
মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬ টি ক্রোমোজোম থাকে। এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম। অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালী ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনো ভূমিকা নেই। সূত্রঃ সাধারণ বিজ্ঞান(উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
১,৫৭৪.
কোন রোগের চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়?
  1. ব্রেইন ক্যন্সার নিরাময়ে
  2. থাইরয়েড গ্রন্থির চিকিৎসায়
  3. গলগণ্ড রোগ নির্ণয়ে
  4. লিউকোমিয়া চিকিৎসায়
সঠিক উত্তর:
থাইরয়েড গ্রন্থির চিকিৎসায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থাইরয়েড গ্রন্থির চিকিৎসায়
ব্যাখ্যা
• থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131 ব্যবহৃত হয়।

- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়।
- আবার নিরাময়ের জন্য কোবাল্ট-60 থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়।
- রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-32 এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়।
- এই রেডিও আইসোটোপ ব্যবহৃত হয় গলগণ্ড রোগ নির্ণয়ে।
- ব্রেইন ক্যন্সার নিরাময়ে ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৭৫.
মানবদেহে শ্বসন প্রক্রিয়ায় নিচের কোনটি উৎপন্ন হয়?
  1. C02
  2. H20
  3. ATP
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• মানব শ্বসন:
অক্সিজেন জীবনধারণের অপরিহার্য উপাদান। কোনো প্রাণীই অক্সিজেন ছাড়া বাঁচতে পারে না। মানবদেহে বাতাসের সাথে অক্সিজেন ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং রক্তের মাধ্যমে দেহের সব অঙ্গে পৌঁছায়। দেহকোষে পরিপাক হওয়া খাদ্যের সাথে অক্সিজেনের বিক্রিয়া ঘটে, ফলে তাপ এবং শক্তি উৎপন্ন হয়। এই তাপ দেহকে উষ্ণ রাখে এবং প্রয়োজনীয় শক্তি যোগায়। অক্সিজেন এবং খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে বিক্রিয়ার ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি উৎপন্ন হয়। রক্ত উপাদানগুলোকে ফুসফুসে নিয়ে যায়। সেখানে অক্সিজেন শোষিত হয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ছেড়ে দেয়। যে প্রক্রিয়া দিয়ে অক্সিজেন গ্রহণ এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড নিষ্কাশন করা হয়, তাকে শ্বাসকার্য বলে। যে জৈবিক প্রক্রিয়া জীবকোষের খাদ্যবস্তুকে বায়ুর অক্সিজেনের সাথে জারিত করে মজুত শক্তিকে ব্যবহারযোগ্য শক্তিতে রূপান্তর এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড নিষ্কাশন করে, তাকে শ্বসন বলে। দেহের ভিতর গ্যাসীয় আদান-প্রদান একবার ফুসফুসে এবং পরে দেহের প্রতিটি কোষে পর্যায়ক্রমে সম্পাদিত হয়। শ্বসনের সরল বিক্রিয়াটি এরকম-

C6H1206 (গ্লুকোজ)  602 (অক্সিজেন)   ⇔   6C02 (কার্বন ডাই-অক্সাইড)  +  6H2O (পানি) +  ATP (শক্তি)

- মানবদেহে শ্বসন প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ ও ৬ অণু অক্সিজেনের বিক্রিয়ায় ৬ অণু কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি এবং ATP বা শক্তি     উৎপন্ন হয়।
- প্রশ্বাসে অক্সিজেন গ্রহণ এবং নিঃশ্বাসে কার্বন ডাই-অক্সাইড দেহ থেকে বের করতেই হয়, তা না হলে আমাদের পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। কারণ তিন-চার মিনিটের বেশি দেহে অক্সিজেনের সরবরাহ বন্ধ থাকলে মৃত্যু অনিবার্য।
- দেহের সচেতন, অচেতন উভয় অবস্থাতেই অবিরাম অক্সিজেন গ্রহণ এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের নির্গমন চলে। আর সাথে সাথে প্রতিনিয়ত দেহরক্ষার নানাবিধ প্রক্রিয়াও চলতে থাকে, যার ফলে প্রাণী বেঁচে থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।

১,৫৭৬.
মানবদেহের নাক, কান এবং শ্বাসনালিতে নিচের কোনটি পাওয়া যায়?
  1. শক্ত হাড়
  2. তরুণাস্থি
  3. টেন্ডন
  4. পেরিটেন্ডিয়াম
সঠিক উত্তর:
তরুণাস্থি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরুণাস্থি
ব্যাখ্যা

• টেন্ডন (Tendon): 
- মাংসপেশির প্রান্তভাগ রজ্জুর ন্যায় শক্ত হয়ে অস্থিগাত্রের সাথে সংযুক্ত থাকে, এ শক্ত প্রান্তকে টেন্ডন বলে। 
- ঘন শ্বেত তন্তুময় যোজক টিস্যু দ্বারা টেন্ডন গঠিত। এসব টিস্যু শাখা-প্রশাখাবিহীন, তরঙ্গিত এবং উজ্জ্বল শ্বেততন্তু দ্বারা গঠিত। 
- এরা গুচ্ছাকারে পরস্পর সমান্তরালভাবে বিস্তৃত থাকে। অনেকগুলো তন্তু একত্রে আঁটি বা বান্ডেল তৈরি করে। এদের স্থিতিস্থাপকতা নেই। 
- আঁটিগুলো একত্রে দলবদ্ধ হয়ে আঁটিগুচ্ছ তৈরি করে। আঁটিগুচ্ছগুলো তন্তুময় টিস্যুগুচ্ছ দ্বারা বেষ্টিত হয়ে অধিকতর বড় আঁটিতে শ্রেণিবদ্ধ হয়, একে পেরিটেন্ডিয়াম বলে। 
- টেন্ডন বেশ শক্ত। পেশি বা অস্থির তুলনায় টেন্ডনের ভেঙ্গে বা ছিঁড়ে যাবার সম্ভাবনা অনেক কম। 
- টেন্ডন দেহ কাঠামো গঠন ও দৃঢ়তাদানে, অস্থিবন্ধনী গঠনে সাহায্য করে এবং চাপটানের বিরুদ্ধে যান্ত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। 

• তরুণাস্থি (Cartilage): 
- দেহের অভ্যন্তরের নমনীয়, নরম ও স্থিতিস্থাপক যোজক কলাকে তরুণাস্থি বা কার্টিলেজ বলে। 
- মানুষের নাক, কান, হিউমেরাস ও ফিমারের মস্তক, বিভিন্ন অস্থিসন্ধি, শ্বাসনালি, আন্তঃকশেরুকা চাকতি ইত্যাদিতে তরুণাস্থি থাকে। 
- তরুনাস্থির ম্যাট্রিক্সকে কনড্রিন (chondrin) বলে। ইহা অর্ধকঠিন, নমনীয় ও স্থিতিস্থাপক। 
- এটি মূলত কন্ড্রোসাইট কোষ এবং কোলাজেন/ইলাস্টিন তন্তু দিয়ে গঠিত।
- এটি পেরিকনড্রিয়াম নামক তন্তুময় ঝিল্লি দ্বারা আবৃত থাকে।
- এতে রক্তনালী বা স্নায়ু থাকে না, তাই পুষ্টির জন্য আশেপাশের তরলের ওপর নির্ভর করে।
- প্রধানত তিন ধরনের তরুণাস্থি পাওয়া যায়: হায়ালিন, ইলাস্টিক এবং ফাইব্রাস

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৭৭.
HIV ভাইরাস কোন রক্ত কোষের ক্ষতিসাধন করে?
  1. প্লাজমা
  2. লোহিত রক্ত কোষ 
  3. শ্বেত রক্ত কোষ
  4. অণুচক্রিকা
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্ত কোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্ত কোষ
ব্যাখ্যা

এইডস (Acquired Immune Deficiency Syndrome বা AIDS):
বর্তমান বিশ্বে এইডস একটি মারাত্মক ঘাতক ব্যাধি হিসেবে পরিচিত। 1981 সালে রোগটি আবিষ্কৃত হয়।
Acquired Immune Deficiency Syndrome-এর শব্দগুলোর আদ্যক্ষর দিয়ে এ রোগটির নামকরণ
করা হয়েছে AIDS।
- UNAIDS কর্তৃক প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় যে সারা বিশ্বে বর্তমানে প্রায় 40.8 মিলিয়ন মানুষ HIV-এ জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত। এর মধ্যে প্রায় 53 শতাংশ হলো নারী।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে HIV/AIDS এর প্রায় সব দেশেই বিস্তার আছে এবং এটি এখনো একটি বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য সমস্যা।
Human Immune Deficiency Virus সংক্ষেপে HIV ভাইরাসের আক্রমণে এইডস হয়।
- HIV ভাইরাস শ্বেত রক্ত কোষের ক্ষতিসাধন করে (CD4 T-লিম্ফোসাইট নামক শ্বেত রক্তকোষ) এবং এ কোষের এন্টিবডি তৈরিসহ রোগ প্রতিরোধ-সংক্রান্ত কাজে বিঘ্ন ঘটায়। ফলে শ্বেত রক্ত কোষের সংখ্যা  ও এন্টিবডির পরিমাণ ক্রমশ কমতে থাকে।
- এই ভাইরাস মানবদেহে সুপ্ত অবস্থায় অনেক দিন থাকতে পারে।
- এই ভাইরাসের আক্রমণে রোগীর দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিনষ্ট হয়ে যায় বলে রোগীর মৃত্যু অনিবার্য হয়ে পড়ে। কারণ এইডস রোগীর রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করার মতো কোনো ঔষধ এখনও আবিষ্কার হয়নি।

• রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লালবর্ণের তরল যোজক টিস্যু। ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহণে অংশ নেয়।
- উষ্ণ রক্তবাহী প্রাণীর দেহে রক্ত তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে।
- রক্তের উপাদান দুটি- রক্তরস (55%) এবং রক্তকোষ (45%)।
- রক্তরস (Plasma) রক্তের তরল অংশ, এর রং ঈষৎ হলুদাভ। এর প্রায় 91-92% অংশ পানি এবং ৪-9% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। এসব রক্তরসের ভিতর বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন এবং বর্জ্য পদার্থ থাকে।
- রক্তকোষ তিন ধরনের, যথা- লোহিত রক্তকোষ (Erythrocyte বা Red blood cells বা RBC), শ্বেত রক্তকোষ (Leukocyte বা white blood cells বা WBC) এবং অণুচক্রিকা (Thrombocytes বা Blood platelet)।
- লোহিত রক্তকোষ হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে, যার জন্য রক্ত লাল হয়। হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে অক্সিজেন পরিবহণ করে।
- শ্বেত রক্তকোষ জীবাণু ধ্বংস করে দেহের প্রকৃতিগত আত্মরক্ষায় অংশ নেয়। মানবদেহে বেশ কয়েক ধরনের শ্বেত রক্তকোষ থাকে।    - অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধায় অংশ নেয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।

১,৫৭৮.
মানবদেহে লসিকার পরিমাণ কোনটি?
  1. ক) ১-২লিটার
  2. খ) ৩-৪লিটার
  3. গ) ৪-৫লিটার
  4. ঘ) ৫-৬লিটার
সঠিক উত্তর:
ক) ১-২লিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১-২লিটার
ব্যাখ্যা
লসিকা:
- এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে।
- এতে লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক।
- লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে।
যেমন- প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সোডিয়াম, ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি।
- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৫৭৯.
তামাকে উপস্থিত সবচেয়ে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ কোনটি?
  1. মিথানল
  2. নিকোটিন
  3. ইথানল
  4. আয়োডিন
সঠিক উত্তর:
নিকোটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকোটিন
ব্যাখ্যা

নিকোটিন হলো তামাকে উপস্থিত সবচেয়ে বিষাক্ত ও ক্ষতিকর পদার্থ।
- এটি একটি শক্তিশালী নিউরোটক্সিন (স্নায়ুবিষ)।
- অত্যন্ত আসক্তিকারক পদার্থ - হেরোইনের চেয়েও বেশি আসক্তি সৃষ্টি করে।
- স্নায়ুতন্ত্রের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে, হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বৃদ্ধি করে
রক্তনালী সংকুচিত করে।
- মাত্র ৫০-৬০ মিলিগ্রাম একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য মারাত্মক হতে পারে।
- হার্টের সমস্যা, ফুসফুসের ক্যান্সার, স্ট্রোক, এবং অন্যান্য শ্বাসনালী রোগ মূলত নিকোটিনসহ তামাকের রাসায়নিক যৌগগুলো দ্বারা ঘটে।

• ধুমপান:
- ধুমপান হচ্ছে তামাক জাতীয় দ্রব্যাদি বিশেষ উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে শ্বাসের সাথে তার ধোঁয়া শরীরে গ্রহণ প্রক্রিয়া।
- ধুমপায়ী যে অবস্থায় জলন্ত সিগারেট বা বিড়ি থেকে উদ্ভুত ধোঁয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে মুখে টেনে সরাসরি ফুসফুসে প্রবেশ করায় তাকে সক্রিয় ধুমপান বলে।
- অপরদিকে ধুমপানের সময় ধোঁয়ার যে অংশ চারপাশের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনৈচ্ছিকভাবে মানুষের দেহে নিশ্বাসের মাধ্যমে প্রবেশ করে তাকে নিষ্ক্রিয় ধুমপান বলে।
- ধুমপানে সৃষ্ট ধোয়াতে প্রায় ৫০০ ধরনের রাসায়নিক পদার্থ থাকে।
- তামাকের মধ্যে ক্ষতিকর উপাদানগুলো হলো নিকোটিন, টার ও কার্বন মনো-অক্সাইড।

• ধুমপানের প্রভাব:
১। সিগারেট বা বিড়ির ধোঁয়ায় বিদ্যমান বিষাক্ত নিকোটিন ও টার ফুসফুসে ক্যান্সার সৃষ্টি করে; কার্বন মনোক্সাইড শ্বাসনালীতে ব্রঙ্কাইটিস সৃষ্টি করে।
২। ধুমপানের ধোঁয়া ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং আয়তন বেড়ে যায়।
৩। ধোয়ার প্রভাবে অ্যালভিওলাসের প্রাচীর ফেটে গিয়ে ফুসফুসে ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি করে ফলে শ্বসনতল কমে গিয়ে গ্যাস বিনিময়ে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করে এ অবস্থাকে এমফাইসিমা বলে।
৪। কার্বন মনোক্সাইড এর বৃদ্ধি ঘটে এবং রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা হ্রাস করে।

উৎস:
১। প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা।

১,৫৮০.
Plasmodium vivax এর জীবনচক্রেমানবদেহে সংঘটিত চক্রটি হলো-
  1. অযৌন চক্র
  2. যৌন চক্র
  3. সুস্থাবস্থা
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
অযৌন চক্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অযৌন চক্র
ব্যাখ্যা

• Plasmodium vivax এর জীবনচক্রেমানবদেহে সংঘটিত চক্রটি হলো- অযৌন চক্র। 

Plasmodium vivax এর জীবনচক্রে মানবদেহে সংঘটিত চক্র:
- Plasmodium vivax নামক ম্যালেরিয়া পরজীবীর জীবনচক্র দুটি পোষকে সম্পন্ন হয়—মানবদেহ ও স্ত্রী এনোফিলিস মশা।
- মানবদেহে এই পরজীবী কেবল অযৌনভাবে বংশবিস্তার করে।
- মানবদেহে প্রবেশের পর স্পোরোজয়াইট প্রথমে যকৃতে (লিভার) প্রবেশ করে এবং সেখানে অযৌন বিভাজনের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায়।
- পরে এটি রক্তের লোহিত কণিকায় (RBC) প্রবেশ করে এবং পুনরায় অযৌন বিভাজনের মাধ্যমে সংখ্যাবৃদ্ধি করে।
- এই অযৌন বিভাজনের ফলেই ম্যালেরিয়ার উপসর্গ যেমন—জ্বর, কাঁপুনি, ঘাম ইত্যাদি দেখা যায়।

যৌন চক্র (Sexual Cycle):
- Plasmodium vivax এর যৌন চক্র মানবদেহে সংঘটিত হয় না।
- যৌন চক্র সম্পন্ন হয় স্ত্রী এনোফিলিস মশার দেহে।
- মানবদেহে তৈরি হওয়া গ্যামেটোসাইট মশার দেহে প্রবেশ করার পর সেখানে যৌন প্রজনন ঘটে।

সুস্থাবস্থা:
- সুস্থাবস্থা মানবদেহে Plasmodium vivax এর জীবনচক্রের কোনো ধাপ নয়।
- এটি পরজীবীর জীবনচক্রের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।

- সুতরাং, Plasmodium vivax এর জীবনচক্রে মানবদেহে যে চক্রটি সংঘটিত হয় তা হলো অযৌন চক্র।
- সঠিক উত্তর: ক) অযৌন চক্র। 

সূত্র - sciencedirect journal.

১,৫৮১.
রিবোফ্লাভিনের অভাবজনিত মূল সমস্যা কোনটি? 
  1. রক্তশূন্যতা দেখা দেয়
  2. ঠোঁটের কোণে ও জিহ্বায় ঘা হয়
  3. ক্ষতস্থান শুকাতে দেরি হয়
  4. অস্থি ও দাঁতের গঠন দুর্বল হয়
সঠিক উত্তর:
ঠোঁটের কোণে ও জিহ্বায় ঘা হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠোঁটের কোণে ও জিহ্বায় ঘা হয়
ব্যাখ্যা
রিবোফ্লাভিন বা ভিটামিন বি উৎস: 
- কমলা ও হলুদ বর্ণের শাকসবজি যেমন- মিষ্টি কুমড়া, পাকা পেঁপে, কুমড়োর ফুল, ডিমের কুসুম, দুধ, বাদাম, যকৃত রিবোফ্লাভিনের ভালো উৎস। 

অভাবজনিত অবস্থা: 
- রিবোফ্লাভিন বা ভিটামিন বি এর অভাবে জিহ্বায়, ঠোঁটের কোণায় ও মুখের ভিতরে ঘা দেখা দেয়। 
- ত্বক খসখসে হয়ে যায়। 
- ভিটামিন বি২ অভাবে মুখে ঘা হতে পারে। 

দৈনিক চাহিদা: 
- প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের দৈনিক ১.৭ মিলিগ্রাম ও নারীর ১.৩ মিলিগ্রাম প্রয়োজন। 
- শিশুদের দৈনিক ০.৮ মিলিগ্রাম এবং কিশোর কিশোরীদের যথাক্রমে ২.০ মিলিগ্রাম ও ১.৩ মিলিগ্রাম প্রয়োজন। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৮২.
কোন খাদ্য উপাদান পানি শোষণ ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে?
  1. রাফেজ
  2. স্নেহ
  3. খনিজ লবণ
  4. পানি
সঠিক উত্তর:
রাফেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাফেজ
ব্যাখ্যা
খাদ্যের উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বে গঠিত। এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। 
- যেহেতু এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- অধিকাংশ খাদ্যে একাধিক খাদ্য উপাদান থাকে। 
- কোনে খাদ্যে যে উপাদানটি বেশি পরিমাণে থাকে, তাকে সেই উপাদানের খাদ্য হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(১) আমিষ: দেহের বৃদ্ধিসাধন এবং ক্ষয়পূরণ করে। 
(২) শর্করা: দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। 
(৩) স্নেহ ও চর্বিজাতীয় খাদ্য: দেহে তাপ এবং শক্তি উৎপাদন করে। 
- এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন। 
যেমন- 
(৪) খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন: রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপন যোগায়। 
(৫) খনিজ লবণ: বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়। 
(৬) পানি: দেহে পানি এবং তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে। 

- খাদ্য উপাদানের বাইরে আরও একটি উপাদান রয়েছে, যেটি কোনো পুষ্টি ন জোগালেও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান। 
(৭) খাদ্য আঁশ (Fibre) বা রাফেজ: রাফেজ পানি শোষণ করে, মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৮৩.
অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে নিচের কোন রোগটি হয়? 
  1. স্কার্ভি
  2. রিকেটস
  3. ডায়াবেটিস
  4. কোয়াশিয়রকর
সঠিক উত্তর:
ডায়াবেটিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়াবেটিস
ব্যাখ্যা
ইনসুলিন: 
- ইনসুলিন একটি হরমোন। 
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে। 
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে। 
- কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়। 
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন। 
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৮৪.
বিবর্তন শব্দটি এসেছে -
  1. ক) Evolveri থেকে
  2. খ) Evolver থেকে
  3. গ) Evolvers থেকে
  4. ঘ) Evolution থেকে
সঠিক উত্তর:
ক) Evolveri থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Evolveri থেকে
ব্যাখ্যা
- সময়ের সাথে কোন জীবের পরিবর্তনের ফলে নতুন কোন প্রজাতি সৃষ্টি হলে তাকে জৈব বিবর্তন বলে। 
- ইংরেজ দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ হার্বার্ট স্পেন্সার প্রথম ইভোলিউশন কথাটি ব্যবহার করেন।
- Evolution অর্থ বিবর্তন বা অভিব্যক্তি। 
 -বিবর্তন শব্দটি এসেছে Evolveri থেকে।

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই
১,৫৮৫.
আপেলে কোন ধরনের শর্করা বিদ্যমান?
  1. ক) গ্লুকোজ
  2. খ) ফ্রুক্টোজ
  3. গ) সুক্রোজ
  4. ঘ) মলটোজ
সঠিক উত্তর:
খ) ফ্রুক্টোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফ্রুক্টোজ
ব্যাখ্যা
আপেলে ফ্রুক্টোজ  ধরনের শর্করা বিদ্যমান।

- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট হলো-মানবদেহের কর্মশক্তি ও তাপশক্তির প্রধান উৎস।
- মানুষের প্রধান খাদ্য শর্করা। কার্বন (C) হাইড্রোজেন (Hz) ও অক্সিজেন (O2) নিয়ে শর্করার যৌগ গঠিত হয়।
- এটি মিষ্টি স্বাদযুক্ত এবং গন্ধ ও বর্ণহীন।

শর্করার উৎস- 
কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা প্রাণি এবং উদ্ভিদ উভয় ধরনের উৎস থেকেই পাওয়া যায়। উদ্ভিদ হতে প্রাপ্ত শর্করাগুলো হলো চিনি, মধু, মিষ্টি ফল (আম, আঙ্গুর, কলা, কাঠাল, খেজুর ইত্যাদি), আখের রস, গুড়, খেজুরের রস, চাল, গম, ভুট্টা, আলু, কচু ইত্যাদি । প্রাণি হতে প্রাপ্ত শর্করার ভালো উৎস হলো- দুধের শর্করা, প্রাণিদেহের যকৃত ও পেশিকোষের শর্করা।

শর্করার প্রকারভেদ- 
গঠন অনুসারে শর্করা তিন প্রকার যথা : এক শর্করা (মনোস্যাকারাইড), দ্বি-শর্করা (ডাইস্যাকারাইড) ও বহু শর্করা (পলিস্যাকারাইড)।
১। এক শর্করা : এক শর্করাগুলো হলো- গ্লুকোজ, ফ্রক্টোজ ও গ্যালাক্টোজ
ক) গগ্লুকোজ-চিনি, মিষ্টি ফল ইত্যাদি
খ) ফ্রুক্টোজ-মধু আঙ্গুর, বেদানা, আপেল, পাকা আম, পাকা কলা ইত্যাদি গ) গ্যালাক্টোজ-দুধের শর্করা ল্যাক্টোজ ভেঙ্গে গ্যালাক্টোজ ও গ্লুকোজ পাওয়া যায়।

২। দ্বি-শর্করা : দ্বি-শর্করাগুলো হলো- সুক্রোজ, মলটোজ ও ল্যাক্টেজ
ক) সুক্রোজ-আখের চিনি, গুড়, খেজুর রস
খ) মলটোজ-চালের শর্করা (দু'টি গ্লুকোজের অণু একত্রে)
গ) ল্যাক্টোজ-দুধের শর্করা।

৩। বহু শর্করা : বহু শর্করাগুলো হলো- শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন ও সেলুলোজ
ক) শ্বেতসার-চাল, গম, আলু, কচু
খ) সেলুলোজ-ফল ও শাক পাতার আঁশ, আঁশযুক্ত ফল, শস্যের খোসা
গ) গ্লাইকোজেন-প্রাণিদেহের যকৃত ও পেশিতে পাওয়া যায়।

সূত্র: ৮ পৃষ্ঠা, বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৮৬.
মানবদেহে কয় স্তরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা আছে? 
  1. দুই স্তর
  2. তিন স্তর
  3. চার স্তর
  4. পাঁচ স্তর
সঠিক উত্তর:
তিন স্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন স্তর
ব্যাখ্যা
ইম্যুনাইজেশন: 
- মানুষের শরীরের সংক্রামক রোগের প্রতিরোধক তৈরি করার প্রক্রিয়াকে ইম্যুনাইজেশন বলে। 
- মানবদেহে রোগজীবাণুর আক্রমণের বিরুদ্ধে তিন স্তরবিশিষ্ট প্রতিরোধব্যবস্থা বিদ্যমান। 
যথা- 
১. প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর: 
- প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রথম স্তর হলো প্যাথোজেনকে (রোগজীবাণুকে) দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা। 
- এই ব্যবস্থায় আছে- (i) ত্বক, (ii) মিউকাস মেমব্রেন, (iii) শ্বসনতন্ত্রের সিলিয়া, (iv) পাকস্থলীর অ্যাসিড এবং (v) চোখের আবরণ ও অশ্রু। 

২. দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তর: 
- প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর অতিক্রম করে কোনো রোগজীবাণু দেহাভ্যন্তরে প্রবেশ করতে গেলে দ্বিতীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত হয়। 
- এই ব্যবস্থায় আছে- (i) ব্যাথাদায়ক সাড়া, (ii) ফ্যাগোসাইটসমূহ, (iii) কমপ্লিমেন্ট, (iv) ইন্টারফেরন এবং (v) ন্যাচারাল কিলার সেল। 

৩. তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর: 
- এই ব্যবস্থায় আছে- (i) লিম্ফোসাইট, (ii) MHC অণু এবং (ii) ক্লোনাল সিলেকশন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১,৫৮৭.
ক্ষুদ্রান্ত্রের কোন অংশে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও লিপিডের পরিপাক ঘটে? 
  1. ইলিয়ামে
  2. মলাশয়ে
  3. জেজুনামে
  4. ডিওডেনামে
সঠিক উত্তর:
ডিওডেনামে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিওডেনামে
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্রান্ত্র: 
- পাকস্থলির পাইলোরাস অংশের পর থেকে ইলিওকোলি পর্যন্ত প্রায় ৬-৭ মিটার লম্বা বিস্তৃত অংশ ক্ষুদ্রান্ত্র। 
- এটি আবার ৩ অংশে বিভক্ত। 
যথা- 
১। ডিওডেনাম, 
২। জেজুনাম ও 
৩। ইলিয়াম। 

- ডিওডেনামে মূলত অগ্ন্যাশয়িক রসের এনজাইমের ক্রিয়া এবং জেজুনাম ও ইলিয়ামে আন্ত্রিক রসের এনজাইমের ক্রিয়ার পরিপাক ঘটে। 
- ডিওডেনামে মূলত কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও লিপিডের পরিপাক ঘটে। 
- অম্লধর্মী পাকমণ্ড পাকস্থলি থেকে ডিওডেনামে প্রবেশ করলে যকৃত থেকে নিঃসৃত ও পিত্তথলিতে সঞ্চিত পিত্তরস নালিপথে ডিওডেনামে প্রবেশ করে ক্ষারীয় মাধ্যম সৃষ্টি করে। 
- অন্যদিকে অগ্ন্যাশয় থেকে রস নিঃসৃত হয়ে পাকমণ্ডের অম্লত্বের প্রশমন ঘটায়। 
- অগ্ন্যাশয় রসের এনজাইমসমূহ এ মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে পরিপাকে অংশ নেয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৮৮.
কতটি অ্যামাইনো এসিড নিয়ে ইনসুলিন গঠিত হয়?
  1. ২১ টি
  2. ৩০ টি
  3. ৫১ টি
  4. ৬২ টি
সঠিক উত্তর:
৫১ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫১ টি
ব্যাখ্যা

ইনসুলিন:
- ইনসুলিন একটি হরমোন।
- ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের ‘আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানস’ এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে।
- কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়।
- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়।
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৮৯.
ভিটামিন সি এর অভাবে কোন রোগ হয়?
  1. স্বার্ভি
  2. রাতকানা
  3. বেরিবেরি
  4. রিকেটস
সঠিক উত্তর:
স্বার্ভি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বার্ভি
ব্যাখ্যা

ভিটামিন সি:
- ভিটামিন সি এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়।
- ভিটামিন সি এর অপর নাম এসকরবিক এসিড।
- ভিটামিন সি মানুষকে রোগ জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে এবং ক্ষতস্থান গুকাতে সাহায্য করে।
- আমলকি, কমলালেবু, লেবু আনারস প্রভৃতি ভিটামিন সি এর উৎস।

অন্যান্য অপশনসমূহ,
ভিটামিন A: রাতকানা (Night Blindness) রোগের জন্য দায়ী।
ভিটামিন B: বিভিন্ন B-ভিটামিনের অভাবে বেরিবেরি, পেলাগ্রা, ওয়ার্নিকি সিনড্রোম ইত্যাদি হতে পারে।
ভিটামিন D: রিকেটস (Rickets) এবং অস্টিওমালাসিয়া (Osteomalacia) রোগের জন্য দায়ী।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫৯০.
রক্তের কোন কণিকা বৃদ্ধি পেলে ব্লাড ক্যান্সার হয়?
  1. লোহিত রক্ত কণিকা
  2. শ্বেত রক্ত কণিকা
  3. অনুচক্রিকা
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্ত কণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্ত কণিকা
ব্যাখ্যা
• লিউকেমিয়া:
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা, প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়।
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক হারে বেড়ে ১ ঘন মি.লি. রক্তে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে।

• শ্বেত রক্তকণিকা বা লিউকোসাইট:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে।
- ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে।
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC এর তুলনায় অনেক কম।
- রক্তের শ্বেত রক্তকণিকা বৃদ্ধি পেলে ব্লাড ক্যান্সার হয়।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৯১.
কোনটির অভাবে রক্ত তঞ্চন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হতে পারে?
  1. ভিটামিন- এ
  2. ভিটামিন- কে
  3. ভিটামিন- ডি
  4. সেলেনিয়াম
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন- কে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন- কে
ব্যাখ্যা

- ভিটামিন- এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হতে পারে।
- ভিটামিন- কে এর অভাবে শরীরে রক্ত তঞ্চন (কোথাও কেটে গেলে রক্ত জমাট বাঁধা) প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হয়।
- ভিটামিন- ডি এর অভাবে রিকেটস ও অস্টিওম্যালাসিয়া রোগ হতে পারে।
- সেলেনিয়ামের অভাবে শিশুদের Kashin-Beck disease হতে পারে।
সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি এবং Encyclopedia Britannica

১,৫৯২.
মানব-ক্লোনিং নিষিদ্ধ করেছে কোন সংস্থা?
  1. ILO
  2. EU
  3. IMF
  4. OECD
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
EU
উত্তর
সঠিক উত্তর:
EU
ব্যাখ্যা
ক্লোনিং:
- প্রাকৃতিক ক্লোন হলো একটি জীব অথবা একদল জীব যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ জননের দ্বারা।
- এদের ধরন হয় মাতৃ জীবের ন্যায়।
- একটি কোষ বা কোষগুচ্ছ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপন্ন হয় এবং তাদের প্রকৃতি মাতৃকোষের ন্যায় হয়, তাকেও ক্লোন বলে।
- প্রাকৃতিকভাবে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশিরভাগ প্রোটোজোয়া এবং ঈস্ট, ছত্রাক ক্লোনিং এর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্ষেত্রে প্রয়োজনবোধে কোনো বিশেষ জিনের সংখ্যাবৃদ্ধি করে তার প্রতিলিপি তৈরি করা হয়।
- কোনো কোনো কোষকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় আবাদ মাধ্যমে রেখে বিভাজন ঘটিয়ে এতে উৎপন্ন করা হয় একগুচ্ছ একই ধরনের কোষ।
- আবার কোনো অণুজীব উদ্ভিদ কিংবা প্রাণীর অনুরূপ অনেক জীব উৎপাদন করাকে ক্লোনিং বলে।

⇒ ১৯৯৬ সালের ৫ জুলাই ক্লোনিং পদ্ধতিতে ডলি নামের এক ভেড়ার জন্ম হয় গবেষণাগারে।
- তবে ১৯৯৬ সালে সফলভাবে প্রথম ক্লোন করা প্রাণীর জন্ম দেওয়া গেলেও ক্লোনিং নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা শুরু করেছিলেন সেই ১৯৫০-এর দশক থেকে।

⇒ পৃথিবীর প্রথম ক্লোন মানব শিশুর জন্ম হয় ২০০২ সালের ২৬ ডিসেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।
- প্রথম ক্লোন মানব শিশুটির নাম দেয়া হয় ইভ।

উল্লেখ্য,
⇒ ক্লোনিং এর মাধ্যমে মানব শিশু জন্মদানের নৈতিক দিক বিবেচনা করে জাতিসংঘ ১২ ডিসেম্বর, ২০০১ সালে সাধারন পরিষদের বৈঠকে একটি বিল উত্থাপন করে।
- সেখানে মানব ক্লোন গবেষণা নিষিদ্ধ করার পক্ষে ৮৪টি দেশ, বিপক্ষে ৩৪টি দেশ এবং ৩৭টি দেশ নিরপেক্ষ ভোট দেয়।
- এভাবে ক্লোনিং নিষিদ্ধ আইন পাশ করা হয়।
- এভাবে ৮ মার্চ, ২০০৫ সালে জাতিসংঘ মানব ক্লোনিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

এছাড়াও,
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) স্পষ্টভাবে মানব ক্লোনিংকে নিষিদ্ধ করে।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নের মৌলিক অধিকারের সনদের অনুচ্ছেদ ৩-এ ইউরোপীয় কাউন্সিলের দ্বারা গৃহীত মানবাধিকার ও বায়োমেডিসিন কনভেনশনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যে, মানুষের প্রজনন ক্লোনিং নিষিদ্ধ।
- যদিও এই সনদ মানব ব্যতীত অন্য ক্লোনিংকে নিষিদ্ধ করে না।

উৎস: i) European Union Agency for Fundamental Rights. [link]
ii) UN ওয়েবসাইট। [link]
১,৫৯৩.
নিচের কোন উপাদান হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে?
  1. সোডিয়াম
  2. ম্যাগনেসিয়াম
  3. ভিটামিন সি
  4. ক্যালসিয়াম
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
- ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে। 
- হাড়ের ক্ষয় কমাতে সাহায্য করে। 
- রক্ত তঞ্চন, পেশী সংকোচন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে। 
- ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস খাদ্যের উৎস: ম্যাকরেল মাছ, স্যামন মাছ, ডিমের সাদা অংশ, সয়া মিল্ক, দুধ, মাশরুম, চিজ, কমলালেবুর রস ইত্যাদি। 

উলেখ্য, 
অপশনে শুধুমাত্র ক্যালসিয়াম উল্লেখ আছে কিন্তু ফসফরাস নেই। তাই সঠিক উত্তর হবে ক্যালসিয়াম। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৯৪.
লোহিত রক্তকণিকার বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. ক) দ্বি-অবতল
  2. খ) নিউক্লিয়াসযুক্ত
  3. গ) হিমগ্লোবিনযুক্ত
  4. ঘ) উৎপত্তিস্থল অস্থিমজ্জা
সঠিক উত্তর:
খ) নিউক্লিয়াসযুক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নিউক্লিয়াসযুক্ত
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্তকণিকা
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা দ্বি-অবতল, চাকতি আকৃতির এবং নিউক্লিয়াসবিহীন
- এতে হিমগ্লোবিন নামক রঞ্জন পদার্থ থাকার কারণে লাল বর্ণের হয়। এজন্য এদের Red Blood Cell বা RBC বলে।
- লোহিত কণিকা প্রকৃতপক্ষে হিমগ্লোবিন ভর্তি ভাসমান ব্যাগ এবং চ্যাপ্টা আকৃতির।
- এ কারণে লোহিত কণিকা তার আকারের পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহনে সক্ষম।
- লোহিত কণিকাগুলোর বিভাজন হয় না।
- এ কণিকাগুলো সার্বক্ষণিক অস্থিমজ্জার ভিতরে উৎপন্ন হয় এবং রক্তরসে চলে আসে।
- মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন।
- অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণির ক্ষেত্রে লোহিত কণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে।
- তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে এখান থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।

- মোটামুটি গড় হিসেবে: বিভিন্ন বয়সের মানব দেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে লোহিত কণিকার সংখ্যা হচ্ছে-
ভ্রূণ দেহে: ৮০-৯০ লাখ,
শিশুর দেহে: ৬০-৭০ লাখ,
পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ দেহে: ৪.৫ - ৫.৫ লাখ এবং
পূর্ণ বয়স্ক নারীর দেহে: ৪ - ৫লাখ

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৫৯৫.
মানুষের মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশের নাম-
  1. সেরেবেলাম
  2. হাইপোথ্যালামাস
  3. থ্যালামাস
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মানুষের মস্তিষ্ক: 

• স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অংশ মস্তিষ্ক।
• প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি।
• মস্তিষ্কের আবরণীর নাম মেনিনজেস।
• একটি পূর্নাঙ্গ স্নায়ু কোষকে নিউরন বলে।
• মস্তিষ্কে প্রায় ১০ বিলিয়ন (১ হাজার কোটি) নিউরন থাকে।

উল্লেখ্য, 
• মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশের নাম সেরেব্রাম।
• এটি মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% গঠন করে এবং মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশকে ঢেকে রাখে।
• দুটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার সমন্বয়ে সেরেব্রাম গঠিত।
• খণ্ডদুটি ভেতরের দিকে কর্পাস ক্যালোসাম নামে চওড়া স্নাযুগুচ্ছ দিয়ে যুক্ত।
• প্রতিটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার ৫টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা- ফ্রন্টাল লোব, প্যারাইটাল লোব, অক্সিপিটাল লোব, টেম্পোরাল লোব ও লিম্বিক লোব।


Image Source: প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি 

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৯৬.
রক্তে শতকরা কত শতাংশ রক্ত কণিকা থাকে?
  1. 50%
  2. 55%
  3. 45%
  4. 40%
সঠিক উত্তর:
45%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
45%
ব্যাখ্যা
রক্তের প্রধান উপাদান গুলো হল রক্ত রস এবং রক্ত কণিকা। সমগ্র রক্তের 55 শতাংশ রক্তরস এবং বাকি 45 শতাংশ রক্তকণিকা
উৎস: নবম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান।
১,৫৯৭.
মানুষের জিহ্বা আসলে কী?
  1. ক) বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি
  2. খ) এক ধরনের অর্ধকঠিন যোজক কলা
  3. গ) রূপান্তরিত অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি
  4. ঘ) কয়েকটি ঐচ্ছিক পেশির সমন্বয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কয়েকটি ঐচ্ছিক পেশির সমন্বয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কয়েকটি ঐচ্ছিক পেশির সমন্বয়
ব্যাখ্যা

জিহ্বা আসলে বেশ কয়েকটি ঐচ্ছিক পেশির সমন্বিত রূপ। হাইপোগ্লোসাল নামক করোটিক স্নায়ু জিহ্বাতে উপস্থিত বেশিরভাগ পেশির সঞ্চালনের জন্য দায়ী।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৫৯৮.
রক্তনালির ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে রক্তপ্রবাহ অব্যাহত রাখে কোনটি?
  1. হিস্টামিন
  2. লিম্ফোসাইট
  3. ফ্যাগোসাইটোসিস
  4. হেপারিন
সঠিক উত্তর:
হেপারিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেপারিন
ব্যাখ্যা
• "হেপারিন" রক্তনালির ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে রক্তপ্রবাহ অব্যাহত রাখে।

• শ্বেত রক্তকণিকা:

- শ্বেত রক্তকণিকার বৈজ্ঞানিক নাম leucocytes.
- পূর্ণাঙ্গ মানুষের প্রতি ঘন মি. লি. রক্তে প্রায় ৬০০০টি বিভিন্ন ধরনের শ্বেত কণিকা থাকে।
- শ্বেতকণিকা আকারে লোহিত কণিকা অপেক্ষা বড়।
- এদের নিউক্লিয়াস আছে।
- রক্তে লোহিত ও শ্বেত কণিকার অনুপাত সাধারণত ৫০০:১।
- শ্বেত কণিকা লোহিত অস্থিমজ্জা, প্লীহা ও লসিকা গ্রন্থি ইত্যাদি হতে উৎপন্ন হয়।

• সাইটোপ্লাজমের গঠনের ভিত্তিতে শ্বেত কণিকাকে প্রধানত দু ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. দানাদার শ্বেত কণিকা
২. অদানাদার শ্বেতকণিকা

•  মানবদেহে শ্বেত কণিকার কাজ:
- ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় এরা ক্ষণপদের সাহায্যে রোগ-জীবাণুকে ভক্ষণ করে ধ্বংস করে।
- লিম্ফোসাইট তৈরি করে রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে, এজন্য এদেরকে দেহের আণুবীক্ষণিক সৈনিক বলে।
- বেসোফিল নিঃসৃত হেপারিন রক্তনালির ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে রক্তপ্রবাহ অব্যাহত রাখে।
- এন্টিবডি তৈরি করে জীবাণু ধ্বংস করে।
- হিস্টামিনের মাধ্যমে এলার্জিক বিক্রিয়া হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১,৫৯৯.
মানুষের মুখবিবরে কোন খাদ্য উপাদানটির পরিপাক ঘটে?
  1. ক) ভিটামিন
  2. খ) স্নেহপদার্থ
  3. গ) প্রোটিন
  4. ঘ) শর্করা
সঠিক উত্তর:
ঘ) শর্করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শর্করা
ব্যাখ্যা
পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকা:
- মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে।
- মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে।
- মূলত তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়। 
যে সকল এনজাইম পরিপাকে অংশ নেয় সেগুলো হচ্ছে:
১. লালা রসে: টায়ালিন ও মলটেজ।
২. পাকস্থলি রসে: শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই।
৩. অগ্ন্যাশয় রসে: অ্যামাইলেজ ও মলটেজ।
৪. আন্ত্রিক রসে: অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটেজ।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬০০.
লোহিত রক্তকোষের প্রধান উৎপাদন স্থান কোনটি? 
  1. প্লীহা 
  2. কিডনি 
  3. লিভার 
  4. অস্থিমজ্জা 
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জা 
ব্যাখ্যা

লোহিত রক্তকোষ: 
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্তকোষ দ্বি-অবতল এবং চাকতি আকৃতির। 
- এতে হিমোগ্লোবিন নামে রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে দেখতে লাল বর্ণের হয়, এজন্য এদেরকে Red Blood Cell বা RBC বলে। 
অন্যভাবে বলা যায়, লোহিত কোষ প্রকৃতপক্ষে হিমোগ্লোবিন ভর্তি চ্যাপ্টা আকৃতির ভাসমান ব্যাগ, এ কারণে লোহিত কোষ অধিক পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহণ করতে পারে। 
- পরিণত লোহিত কোষগুলোর বিভাজন হয় না, এ কোষগুলো সর্বক্ষণই অস্থিমজ্জার ভিতরে উৎপন্ন হতে থাকে এবং উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে চলে আসে। 
- মানুষের লোহিত কোষের গড় আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন। 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীদের লোহিত রক্তকোষগুলো উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে আসার পূর্বে নিউক্লিয়াসবিহীন হয়ে যায়। 
- অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর ক্ষেত্রে এরকম ঘটে না অর্থাৎ এদের লোহিত কোষগুলোতে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- লোহিত কোষ প্লীহা (Spleen) তে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কোষ রক্তরসে সরবরাহ হয়। 
- লোহিত কোষের প্রধান কাজ হলো- 
১. দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা। 
২. নিষ্কাশনের জন্য কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইডকে টিস্যু থেকে ফুসফুসে বহন করা। 
৩. হিমোগ্লোবিনের সাহায্যে রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখার জন্য বাফার হিসেবে কাজ করা। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।