বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধ্বনিতত্ত্ব

মোট প্রশ্ন৬,৩২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধ্বনিতত্ত্ব

PrepBank · পাতা / ৬৩ · ১০১২০০ / ৬,৩২৭

১০১.
অঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• অঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি -

ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘোষ ও অঘোষ।

ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যেমন - ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি।
যেমন - প, ফ, ত, , স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

ধ্বনি সৃষ্টিতে বায়ুর প্রবাহ অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।
 
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - ফ, ভ, , ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১০২.
কোনটি কণ্ঠধ্বনি নয়?
  1. ক) ক
  2. খ) খ
  3. গ) গ
  4. ঘ) প
সঠিক উত্তর:
ঘ) প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প
ব্যাখ্যা
উচ্চারণের স্থান অনুযায়ী ক, খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠধ্বনি। অন্যদিকে প ফ ব ভ ম ওষ্ঠ্যধ্বনি। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১০৩.
‘শিরঃ + ছেদ’ এর সঠিক রূপ কোনটি?
  1. শিরছেদ
  2. শিরশ্ছেদ
  3. শিরষ্ছেদ
  4. শিরস্ছেদ
সঠিক উত্তর:
শিরশ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিরশ্ছেদ
ব্যাখ্যা

বিসর্গ সন্ধি:
- পূর্বপদের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকলে এবং পরপদের প্রথমে চ্ বা ছ্‌ থাকলে বিসর্গ পরিবর্তিত হয়।
- শ্, ট্‌ বা ঠ্‌ থাকলে ষ্‌;
- ত থাকলে স্ হয় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জনে তা যুক্ত হয়।

যেমন:
- নিঃ + ছিদ্র = নিশ্ছিদ্র,
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ,
- চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়,
- ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার,
- মনঃ + তাপ = মনস্তাপ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০৪.
স্বভাবতই মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. কৃপণ
  2. কল্যাণ
  3. বর্ণনা
  4. ঘণ্টা
সঠিক উত্তর:
কল্যাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্যাণ
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড, লুণ্ঠন ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: পুন্য, লাবণ্য, কল্যাণ, আপণ, গৌণ, ভাণ, শাণ, চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০৫.
'জরুরি > জরুলি' - শব্দটিতে ধ্বনি পরিবর্তনের কোন ধরনের নিয়ম প্রযোজ্য?
  1. স্বরলোপ
  2. বিষমীভবন
  3. অতিশ্রুতি
  4. সম্প্রকর্ষ
সঠিক উত্তর:
বিষমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষমীভবন
ব্যাখ্যা
বিষমীভবন:
- দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল,
- জরুরি > জরুলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।
যেমন:
- আটমেসে ˃ আটাসে, কুটুম্ব ˃ কুটুম, জানালা ˃ জান্লা ইত্যাদি।

অভিশ্রতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রতি।
যেমন:
- করিয়া > কইর‌্যা > করে, দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে, গাছুয়া > গাউছা > গেছো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০৬.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ‘ঝ’ হচ্ছে-
  1. মূর্ধা স্পৃষ্ট
  2. তালু স্পৃষ্ট
  3. দন্ত স্পৃষ্ট
  4. ওষ্ঠ স্পৃষ্ট
সঠিক উত্তর:
তালু স্পৃষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালু স্পৃষ্ট
ব্যাখ্যা
⇒ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাপ্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।

- উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়, যথা :
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
• মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
১০৭.
'অপরাহ্ণ' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. অপরান্‌হ
  2. অপোরান্‌হো
  3. অপোরান্নো
  4. অপোরানো
সঠিক উত্তর:
অপোরান্‌হো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপোরান্‌হো
ব্যাখ্যা

• 'অপরাহ্ণ' এর সঠিক উচ্চারণ- 'অপোরান্‌হো'। 

• আরো কিছু সঠিক উচ্চারণ: 
- 'সৌজন্য' এর সঠিক উচ্চারণ- 'শোউজোন্‌নো'।
- 'কাকলি' এর সঠিক উচ্চারণ- (কাকোলি),
- 'প্রণতি' এর সঠিক উচ্চারণ-(প্রোনোতি),
- 'অবগতি' এর সঠিক উচ্চারণ- (অবোগোতি) ইত্যাদি।   

উৎস: ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

১০৮.
'কুজ্ঝটিকা' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ-
  1. কুঃ + ঝটিকা
  2. কুৎ + ঝটিকা
  3. কুৎ + জটিকা
  4. কুজ + ঝটিকা
সঠিক উত্তর:
কুৎ + ঝটিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুৎ + ঝটিকা
ব্যাখ্যা
• 'কুজ্ঝটিকা' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ- কুৎ + ঝটিকা।

• উৎস:
- ত্ ও দ্-এরপর জ্‌ ও ঝ্‌ থাকলে ত্ ও দ্‌ - এর স্থানে জ্‌ হয়।
যেমন -
- ত্ + জ = জ্জ; সৎ + জন = সজ্জন।
- দ্‌ + জ = জ্জ; বিপদ + জাল = বিপজ্জাল।
- ত্‌ + ঝ = জ্ঝ; কুৎ + ঝটিকা = কুজ্ঝটিকা।

এরূপ - উজ্জ্বল, তজ্জন্য, যাবজ্জীবন, জগজ্জীবন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১০৯.
‘অ’ ধ্বনির উচ্চারণ ‘অ’ ছাড়া আর কীরূপ হয়?
  1. ই   
  2. ও    
সঠিক উত্তর:
ও    
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ও    
ব্যাখ্যা

• স্বরবর্ণ  অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।
- সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।

• অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ:
যেমন,  
অনেক [অনেক্], কথা [কথা], অনাথ [অনাথ্]।

• অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ:
যেমন, 
অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোখো], অদ্য [ওদো], মন [মোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১১০.
"ভাবুক" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ভৌ + উক
  2. ভৌঃ + উক
  3. ভাব + ঊক
  4. ভাব + উক
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ভৌ + উক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভৌ + উক
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• ও/ঔ-এর পর ভিন্ন ধ্বনির সন্ধি।

যেমন:
- পো + অন = পবন, 
- লো + অন = লবণ, 
- পো + ইত্র = পবিত্র, 
- ভৌ + উক = ভাবুক,
- গো + এষণা = গবেষণা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১১১.
ধ্বনি সৃষ্টিকারী বায়ুপ্রবাহের উৎস কী?
  1. ক) নাসারন্ধ্র
  2. খ) স্বরযন্ত্র
  3. গ) শ্বাসনালী
  4. ঘ) ফুসফুস
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফুসফুস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফুসফুস
ব্যাখ্যা
বাগযন্ত্র: ধ্বনি উচ্চারণ করতে যেসব প্রত্যঙ্গ কাজে লাগে, সেগুলোকে একত্রে বাগ্‌যন্ত্র বলে।
- মানবদেহের উপরিভাগে অবস্থিত ফুসফুস থেকে শুরু করে ঠোঁট পর্যন্ত ধ্বনি উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রত্যঙ্গই বাগ্‌যন্ত্রের অন্তর্ভূক্ত।
বাগ্‌যন্ত্রের অংশ সমূহ:
১. ফুসফুস 
২. শ্বাসনালী
৩. স্বরযন্ত্র
৪. জিভ
৫. আলজিভ
৬. তালু
৭. মূর্ধা
৮. দন্তমূল ও দন্ত (দাঁত)
৯. ওষ্ঠ
১০. নাসিকা ইত্যাদি।

ফুসফুস 
ধ্বনি সৃষ্টিকারী বায়ুপ্রবাহের উৎস ফুসফুস। 
- ফুসফুস শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করে। 
- মূলত শ্বাস ত্যাগের মাধ্যমে ধ্বনি উৎপন্ন হয়।  

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই (২০২২ সংস্করণ)।
১১২.
'এক্‌ + দশ = একাদশ' কোন সন্ধির উদাহরণ?
  1. ব্যঞ্জনসন্ধি
  2. স্বরসন্ধি
  3. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
  4. বিসর্গসন্ধি
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা
- 'একাদশ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = এক্‌ + দশ।
- এটি নিপাতনে সন্ধি বিচ্ছেদের উদাহরণ। 
 
কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ:
• বন্‌ + পতি = বনস্পতি,
• আ + চর্য = আশ্চর্য,
• গো + পদ = গোষ্পদ,
• পর্‌ + পর = পরস্পর,
• ষট্ + দশ = ষোড়শ,
• এক্‌ + দশ = একাদশ ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১১৩.
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে-
  1. অসমীকরণ 
  2. স্বরসঙ্গতি
  3. বিষমীভবন 
  4. অপিনিহিতি 
সঠিক উত্তর:
স্বরসঙ্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা

• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন- দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• প্রগত স্বরসঙ্গতি:
আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- মুলা > মুলো, শিকা > শিকে, তুলা > তুলো।

• পরাগত স্বরসঙ্গতি:
অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- আখো > আখুয়া > এখো, দেশি > দিশি।

• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি:
আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- বিলাতি > বিলিতি, জিলাপি > জিলিপি।

• অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি:
আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- মোজা > মুজো।

• চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি:
- গিলা > গেলা, মিলামিশা > মেলামেশা, মিঠা > মিঠে, ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।

- পূর্বস্বর উ-কার হলে পরবর্তী স্বর ও-কার হয়। যেমন- মুড়া > মুড়ো, চুলা > চুলো ইত্যাদি।
- বিশেষ নিয়মে - উড়ুনি > উড়নি, এখনি > এখুনি হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১১৪.
প্রগত সমীভবনের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. চক্র > চক্ক
  2. লগ্ন > লগ্গ
  3. পক্ব   > পক্ক
  4. সত্য > সচ্চ
সঠিক উত্তর:
সত্য > সচ্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্য > সচ্চ
ব্যাখ্যা
• সমীভবন (Assimilation):
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন। যেমন- জন্ম > জন্ম, কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

• প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতো হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব   > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ  ইত্যাদি।

• পরাগত সমীভবন:
পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হয়, একে বলে পরাগত সমীভবন।
যেমন:
- তৎ + জন্য > তজ্জন্য,
- তৎ + হিত > তদ্ধিত,
- উৎ + মুখ > উন্মুখ ইত্যাদি।

• অন্যোন্য সমীভবন:
যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অন্যোন্য সমীভবন।
যেমন:
- সত্য > সচ্চ,
- বিদ্যা > বিজ্জা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১১৫.
উচ্চারণের স্থান অনুসারে ওষ্ঠ্য ধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণের স্থান অনুসারে ব্যঞ্জনধ্বনির শ্রেণিবিভাগ:
ফুসফুস থেকে আগত বাতাস বাক্সত্যঙ্গের যে স্থানে বাধা পেয়ে ব্যঞ্জনধ্বনিটি উচ্চারিত হয় সে-স্থানই ওই ব্যঞ্জনের উচ্চারণস্থান। 

উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিসমূহকে কয়েক শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। যথা:
• ওষ্ঠ্য ধ্বনি:
যে ধ্বনির উচ্চারণে দুটি ঠোঁট পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বাতাসের নির্গম-পথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে ওষ্ঠ্য ধ্বনি বলা হয়। 
যেমন- প, ফ, ব, ভ, ম হলো ওষ্ঠ্য ধ্বনি। যেমন- তাপ, লাফ, ডাব, সভা, নাম।

• দন্ত-ধ্বনি:
জিভের ডগা ওপরের পাটি দাঁতের পেছনের অংশকে স্পর্শ করে বায়ুপথে বাধার সৃষ্টি করলে দন্ত ধ্বনি উচ্চারিত হয়। , থ, দ, ধ দন্ত্য ধ্বনি। যেমন: তালা, থালা, দল, ধান।

• দন্তমূলীয় ধ্বনি:
জিভের ডগা ওপরের পাটি দাঁতের মূলকে স্পর্শ করে বাতাসের নির্গম-পথে বাধা সৃষ্টি করলে দন্তমূলীয় ধ্বনিগুলো উচ্চারিত হয়। ন, র,  দন্তমূলীয় ধ্বনি। যেমন: মান, বার, প্রাল। দন্ত্য-ন ধ্বনি উচ্চারণে কোনোক্রমেই দাঁতের স্পর্শ নেই। 'কান' শব্দ উচ্চারণ করলেই তা বুঝতে পারি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
১১৬.
বাংলা ভাষায় মৌলিক ধ্বনির সংখ্যা কতটি?
  1. ১১টি
  2. ৭টি
  3. ৩০টি
  4. ৩৭টি
সঠিক উত্তর:
৩৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৭টি
ব্যাখ্যা
• ভাষার ক্ষুদ্রতম একককে ধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।

• এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা, 
স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।

• মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।

• মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি: [প্], [ফ্], [ব্], [ভ্], [ত্], [থ্], [খ্], [দ্], [ধ্], [ট্], [ঠ্], [ড্], [ঢ্], [চ্], [ছ্], [জ্], [ঝ্], [ক্], [খ্], [গ্], [ঘ্], [ঙ্], [ম্], [ন্], [স্], [শ], [হ্], [ল্], [র্], [ড়্], [ঢ়্] । এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
১১৭.
'পিত্রানুমতি' শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পিত্র + অনুমতি
  2. পিতা + অনুমতি
  3. পিতৃ + অনুমতি
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পিতৃ + অনুমতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিতৃ + অনুমতি
ব্যাখ্যা

• সূত্র:
- প্রথম পদের শেষে ঋ-ধ্বনি এবং দ্বিতীয় পদের প্রথম ঋ ছাড়া অন্য কোনো স্বরধ্বনি থাকলে আগের ঋ-ধ্বনি র হয় এবং বানানে তা র-ফলা হয়ে আগের বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়।
- পরের স্বরধ্বনি সাধারণত উচ্চারণে অপরিবর্তিত থাকে এবং র-ফলার সঙ্গে জুড়ে যায়।

উদাহরণ:
- পিতৃ + অনুমতি = পিত্রনুমতি,
- পিতৃ + অর্থে = পিত্রর্থে।
- পিতৃ + আলয় = পিত্রালয়,
- মাতৃ + আদেশ = মাত্রাদেশ।
- পিতৃ + ইচ্ছা = পিত্রিচ্ছা,
- মাতৃ + ইচ্ছা = মাত্রিচ্ছা।
- মাতৃ + উপদেশ = মাত্রুপদেশ,
- পিতৃ + উপদেশ = পিত্রুপদেশ,
- ভাতৃ + উপদেশ = ভাত্রুপদেশ ইত্যাদি।
- ভাতৃ + এষণা = ভ্রাত্রেষণা।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১১৮.
নিচের কোন বানানে স্বভাবতই মূর্ধণ্য (ণ) হয়?
  1. ক) হরিণ
  2. খ) কারণ
  3. গ) অর্পণ
  4. ঘ) বাণিজ্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাণিজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাণিজ্য
ব্যাখ্যা
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ণ হয়। যেমনঃ বাণিজ্য, লবণ, মণ, বাণ, পণ্য, গুণ, পণ, কল্যাণ ইত্যাদি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১১৯.
'অনুসন্ধিৎসা' শব্দের উচ্চারণ কোনটি?
  1. ওনুশন্‌ধিত্শা‌
  2. ওনুশোন্‌ধিত্শা‌
  3. ওনুশোন্‌ধিত্সা
  4. ওনুসোন্‌ধিতশা
সঠিক উত্তর:
ওনুশোন্‌ধিত্শা‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওনুশোন্‌ধিত্শা‌
ব্যাখ্যা
• বানান: অনুসন্ধিৎসা।
- সঠিক উচ্চারণ: ওনুশোন্‌ধিত্শা‌
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি ও প্রত্যয়: অনু + সম্‌ + √ধা + সন্‌ + আ।
- অর্থ: অনুসন্ধান করার ইচ্ছা।

 অভিসম্বন্ধ: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২০.
ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের অংশ নয় কোনটি?
  1. ফলা
  2. বর্ণসংক্ষেপ
  3. দ্বিস্বর
  4. রেফ
সঠিক উত্তর:
দ্বিস্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিস্বর
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপকে অনুবর্ণ বলে। অনুবর্ণের অংশ নয়- দ্বিস্বর।
- দ্বিস্বর হচ্ছে যৌগিক স্বরধ্বনি চিহ্ন। বাংলা বর্ণমালায় ‘ঐ’ ও ‘ঔ’ যৌগিক স্বরধ্বনি।

-----------------------
• অনুবর্ণ:

ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ। অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।

ফলা:
ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলোকে ফলা বলে। যেমন - ন-ফলা, ব-ফলা, ম-ফলা, য-ফলা, র- ফলা, ল-ফলা।

রেফ:
র-এর একটি অনুবর্ণ রেফ।

বর্ণসংক্ষেপ:
যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময়ে বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়োজন হয়, এগুলোকে বর্ণসংক্ষেপ বলে। যেমন ভ, দ, ন, ম, ষ, স ইত্যাদি। এছাড়া ৎ বর্ণটি ত-এর একটি বর্ণসংক্ষেপ, যা বাংলা বর্ণমালায় স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১২১.
"চ, ছ, জ, ঝ" কোন ধরনের ব্যঞ্জনধ্বনি?
  1. তালু স্পৃষ্ট
  2. ওষ্ঠ স্পৃষ্ট
  3. মূর্ধা স্পষ্ট
  4. কণ্ঠ স্পৃষ্ট
সঠিক উত্তর:
তালু স্পৃষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালু স্পৃষ্ট
ব্যাখ্যা
স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্‌প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।

উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়, যথা:
ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
মূর্ধা স্পষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১২২.
অন্তর্হতি'র উদাহরণ কোনটি?
  1. মাছুয়া > মেছাে
  2. আলাহিদা > আলাদা
  3. বড়দাদা > বড়দা
  4. বউদিদি> বউদি
সঠিক উত্তর:
আলাহিদা > আলাদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাহিদা > আলাদা
ব্যাখ্যা
অন্তর্হতি:
- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন:
- ফাল্গুন > ফাগুন,
- ফলাহার > ফলা,
- আলাহিদা > আলাদা

অন্যদিকে,
- অভিশ্রুতির উদাহরণ - মাছুয়া > মেছাে।
- ব্যঞ্জনচ্যুতির উদাহরণ - বউদিদি> বউদি,  বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২৩.
'শিরোদেশ' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. শির + দেশ
  2. শিরঃ + দেশ
  3. শিরোঃ + দেশ
  4. শিরো + দেশ
সঠিক উত্তর:
শিরঃ + দেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিরঃ + দেশ
ব্যাখ্যা

• বিসর্গ সন্ধিের নিয়ম:
পূর্বপদের শেষে যদি অঃ (=অস্) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি বর্গের ৩য়, ৪র্থ বা ৫ম বর্ণের ধ্বনি (গ/ঘ, জাঝা, ড/ঢ, দ/ধান, ব/ভ/ম) থাকে, কিংবা অন্তঃস্থ বর্ণ (য/র্ল) অথবা হ থাকে তবে সন্ধির ফলে অঃ রূপান্তরিত হয়ে ও-ধ্বনি হয় এবং পূর্ববর্ণে যুক্ত হয়। কিন্তু পূর্বপদের শেষে যদি অঃ (=অস) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি অ থাকে তবে অঃ রূপান্তরিত হয়ে ও হয়ে পূর্ববর্ণে যুক্ত হয় এবং পরের অ-ধ্বনি লোপ পায়।

সন্ধিজাত শব্দগঠন:
- অধঃ + গতি = অধোগতি, 
- মনঃ + গত = মনোগত,
- বয়ঃ + জ্যেষ্ঠ = বয়োজ্যেষ্ঠ,  
- সদ্যঃ + জাত = সদ্যোজাত, 
- ত্রয়ঃ + দশ = ত্রয়োদশ, 
- শিরঃ + দেশ = শিরোদেশ, 
- তিরঃ + ধান = তিরোধান,  
- শিরঃ + ধার্য = শিরোধার্য, 
- মনঃ + নয়ন = মনোনয়ন, 
- মনঃ + নীত = মনোনীত, 
- অধঃ + বদন = অধোবদন, 
- সরঃ + বর = সরোবর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১২৪.
কোন বাংলা পদের সাথে সন্ধি হয় না? 
  1. অব্যয়
  2. বিশেষ্য
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
সন্ধি: 
- 'সন্ধি' শব্দের অর্থ মিলন। 
- সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনের নাম সন্ধি। 
যেমন- আশা + অতীত = আশাতীত। 

সন্ধির কতিপয় উদ্দেশ্য: 
- সন্ধির মাধ্যমে ধ্বনির মিলন হয়। 
- নতুন শব্দ তৈরি করা হয়। 
- উচ্চারণ সহজতর হয়। 

সন্ধির ক্ষেত্রে বর্জনীয়: 
- বাংলা ক্রিয়াপদের সাথে সন্ধি করা যায় না। 
- খাঁটি বাংলা শব্দের সাথে বিসর্গ সন্ধি করা যায় না। 
- খাটি বাংলা শব্দের সাথে তৎসম শব্দের সন্ধি করা যায় না, এতে গুরুচণ্ডালী দোষ হয়। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ।
১২৫.
কোন শব্দে "এ" বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ ঘটেছে?
  1. কেন
  2. যেন
  3. খেলা
  4. কেটলি
সঠিক উত্তর:
কেটলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেটলি
ব্যাখ্যা
এ-এর দু রকম উচ্চারণ হয়:

স্বাভাবিক (এ-এর মতো):
- একটি (এক্‌টি ), কেক (কেক্‌), কেটলি (কেট্লি), মেয়ে (মেয়ে), বেগুন (বেগুন্‌), মেষ (মেশ্)।

সংবৃত বা পরিবর্তিত (অ্যা-এর মতো):
এক (অ্যাক্), খেলা (খ্যালা), বেলা (ব্যালা), কেন (ক্যানো), যেন (য্যানো)।

বর্ণের উচ্চারণ:
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মূল ধ্বনিকে প্রকাশ করার জন্য রয়েছে ৫০টি মূল বর্ণ। এর মধ্যে অধিকাংশ বর্ণের উচ্চারণ মূল ধ্বনির অনুরূপ।
- কয়েকটি বর্ণের একাধিক উচ্চারণ রয়েছে। আবার কয়েকটি ক্ষেত্রে একাধিক বর্ণের উচ্চারণ অভিন্ন।
- ধ্বনিগুলাে দিয়ে শব্দ তৈরি হওয়ার সময়ে পাশের ধ্বনির প্রভাবে বর্ণের উচ্চারণ অনেক সময়ে বদলে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১২৬.
বিষমীভবন কোনটি?
  1. দুটি স্বরধ্বনি একই রকম হওয়া
  2. স্বরধ্বনির প্রভাবে পরিবর্তন
  3. দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি একই রকম হওয়া
  4. দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তন
সঠিক উত্তর:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তন
ব্যাখ্যা

• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
শরীর > শরীল, 
লাল > নাল, 
লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।

অন্য অপশনগুলো:
• সমীভবন:
উচ্চারণের সময় পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি একই রকম হয়ে যাওয়াকে বলে সমীভবন।
যেমন- 
জন্ম > জম্ম,
কাঁদনা > কান্না,
স্বর্ণ > সন্ন ইত্যাদি।

স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বরসঙ্গতি বলে।
যেমন,
– দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলাে ইত্যাদি।

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জন ধ্বনিতে পরিণত হওয়াকে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
উদাহরণ: কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১২৭.
নিচের কোনটি শিস ধ্বনি?
  1. ক) ল
  2. খ) স
  3. গ) ই্
  4. ঘ) ঞ
সঠিক উত্তর:
খ) স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স
ব্যাখ্যা
শ, ষ, স, হ এ চারটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণের সময় আমরা শ্বাস যতক্ষণ খুশি রাখতে পারি। এ বর্ণগুলোকে বলা হয় উষ্মবর্ণ।
শিশ দেয়ার সঙ্গে সাদৃশ্য আছে বলে এগুলােকে শিশধ্বনিও বলা হয়।

নাসিক্য ধ্বনি- ঙ, ঞ, ণ, ন, ম, ং, ঁ এর মধ্যে অনুনাসিক বর্ণ - ঁ ।
অর্ধস্বর বর্ণ - ৪টি। যথা- ই্, উ্, এ্, ও্ ।
পার্শ্বিক বর্ণ - ১টি। যথা- ল।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ। 
১২৮.
বাংলা বর্ণমালা কয়টি?
  1. ৫০টি
  2. ৩৯টি
  3. ১১টি
  4. ১টি
সঠিক উত্তর:
১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১টি
ব্যাখ্যা
• ১১টি স্বরবর্ণ ও ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণের সমন্বয়ে বাংলা বর্ণমালা ১টি।

• ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।

- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯ টি।
- মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি (এ, ঐ, ও, ঔ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ: ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ: ৮টি, এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৯.
'অ' বর্ণের উচ্চারণ কয় রকমের হতে পারে?
  1. এক
  2. দুই
  3. তিন
  4. চার
সঠিক উত্তর:
দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই
ব্যাখ্যা
'অ' বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।

'অ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ:
- অনেক [অনেক্], কথা [কথা], অনাথ [অনাথ্]।

'অ' বর্ণের [ও] উচ্চারণ:
- অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোক্খো‌], অদ্য [ওদ্‌দো], মন [মোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩০.
‘নিরাকার’ এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. নি + আকার
  2. নির + আকার
  3. নিঃ + আকার
  4. নির্‌ + কার
সঠিক উত্তর:
নিঃ + আকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিঃ + আকার
ব্যাখ্যা
'নিরাকার' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - নিঃ + আকার।

• ‘নিরাকার’ শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ এর নিয়ম:  
অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পর পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ, আ, বর্গীয় ঘােষ অল্পপ্রাণ ও ঘােষ মহাপ্রাণ নাসিক্যধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে ‘র’ হয়।
যেমন-
দুঃ + যােগ = দুর্যোগ, 
নিঃ + আকার = নিরাকার,
আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩১.
ন্যূনতম এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) নুনতমো
  2. খ) নুনোতমো
  3. গ) নুন্যতমো
  4. ঘ) নুনোতম
সঠিক উত্তর:
খ) নুনোতমো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নুনোতমো
ব্যাখ্যা
ন্যূনতম (নুনোতমো) 
- [স. ন্যূন+তমট্‌]
- এটি বিশেষণ পদ,
- শব্দটির অর্থ - সর্বনিম্ন

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩২.
"স্বয়ংবরা" শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. স্বয়ং + বরা
  2. স্বম্‌ + বরা
  3. স্বৎ + বরা
  4. স্বয়ম্‌ + বরা
সঠিক উত্তর:
স্বয়ম্‌ + বরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বয়ম্‌ + বরা
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- ম্‌- এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি যথা: য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে ম্‌- স্থলে অনুস্বার (ং) হয়।

যেমন:
- সম্‌ + লাপ = সংলাপ,
- সম্‌ + শয় = সংশয়,
- সম্‌ + হার = সংহার,
- স্বয়ম্‌ + বরা = স্বয়ংবরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩৩.
নিম্নের কোনটি অভিশ্রুতি এর উদাহরণ?
  1. ক) পাকা > পাক্কা
  2. খ) ধাইমা > দাইমা
  3. গ) মাছুয়া > মেছাে
  4. ঘ) বড় দাদা > বড়দা
সঠিক উত্তর:
গ) মাছুয়া > মেছাে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মাছুয়া > মেছাে
ব্যাখ্যা
অভিশ্রুতি (Umlaut) : বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
- যেমন— করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে ‘কইরিয়া’ কিবা বিপর্যয়ের ফলে ‘কইরা’ থেকে অভিশ্রুতিজাত করে।
- এরূপ – শুনিয়া > শুনে, বলিয়া > বলে, হাটুয়া > হাউটা > হেটো, মাছুয়া > মেছাে ইত্যাদি।

 ব্যঞ্জন বিকৃতি : শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
- যেমন- কবাট > কপাট, ধােবা > ধােপা, ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

দ্বিত্ব ব্যঞ্জন (Long Consonant) বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা : কখনাে কখনাে জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে বলে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা।
- যেমন – পাকা > পাক্কা, সকাল > সক্কাল ইত্যাদি।

ব্যঞ্জনচ্যুতি : পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লােপ পায়। এরূপ লােপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
- যেমন- বউদিদি > বউদি, বড় দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩৪.
'চাণক্য' শব্দের 'ণ' বসেছে কোন নিয়মে?
  1. স্বভাবতই 'ণ' বসেছে
  2. ম এবং ক এ মাঝে 'ণ' বসে
  3. 'ক' এর পূর্বে 'ণ' বসে
  4. ম-এর পরে 'ণ' বসে
সঠিক উত্তর:
স্বভাবতই 'ণ' বসেছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বভাবতই 'ণ' বসেছে
ব্যাখ্যা
• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।

• ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়।
যেমন:
- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়।
যেমন:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।
১৩৫.
নিচের কোনটি অস্তঃস্থ ধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• অস্তঃস্থ ধ্বনি:
স্পর্শ বা উষ্ম ধ্বনির অন্তরে অর্থাৎ মাঝে আছে বলে য র ল ব-এ ধ্বনিগুলোকে অন্তঃস্থ ধ্বনি বলা হয় আর বর্ণগুলোকে বলা হয় অন্তঃস্থ বর্ণ।

অন্যদিকে, 
-------------------
ঙ, ঞ, ণ, ন, ম– এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে নাক ও মুখ দিয়ে কিংবা কেবল নাক দিয়ে ফুসফুস-তাড়িত বাতাস বের হয় বলে এদের বলা হয় নাসিক্য ধ্বনি এবং প্রতীকী বর্ণগুলোকে বলা হয় নাসিক্য বর্ণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৩৬.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. সংবাদ 
  2. ষোড়শ
  3. অন্বেষণ 
  4. সংস্কার
সঠিক উত্তর:
ষোড়শ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষোড়শ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- ষোড়শ।

কতগুলো সন্ধি নিপাতনে সিদ্ধ হয়। যেমন:
- আ+ চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- বন্ + পতি = বনস্পতি,
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
- তৎ + কর = তস্কর,
- পর্ + পর = পরস্পর,
- মনস্ + ঈষা = মনীষা,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ
- এক্ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি, ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- সম + বাদ = সংবাদ  একটি ব্যঞ্জনসন্ধি।
- অনু + এষণ = অন্বেষণ একটি স্বর সন্ধি।
- সম্ + কার = সংস্কার একটি বিশেষ নিয়মে সাধিত সন্ধি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

১৩৭.
ব্যতিক্রম শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) ব্যতি + ক্রম
  2. খ) ব্যাতি + ক্রম
  3. গ) বি + ক্রম
  4. ঘ) বি + অতিক্রম
সঠিক উত্তর:
ঘ) বি + অতিক্রম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বি + অতিক্রম
ব্যাখ্যা
সন্ধিবদ্ধ শব্দে য/য-ফলা থাকলে য/য-ফলা = ই-কার/ঈ-কার হয়। যেমন :

মূল শব্দ   -  সন্ধি বিচ্ছেদ
প্রত্যুত্তর  =  প্রতি + উত্তর
অভ্যুত্থান  =  অভি + উত্থান
ব্যতিক্রম  =  বি + অতিক্রম
ইত্যাদি  =  ইতি + আদি
অত্যাচার  =  অতি + আচার
ব্যর্থ  =  বি + অর্থ
অভ্যাস  =  অভি + আস
প্রত্যাশা  =  প্রতি + আশা
যদ্যপি  =  যদি + অপি

উৎস : নবম—দশম শ্রেণির নতুন ব্যাকরণ বই, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ ও হায়াৎ মামুদের ভাষা—শিক্ষা।
১৩৮.
'ক্ষুন্নিবৃত্তি' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি
  2. ক্ষুধা + নিবৃত্তি
  3. ক্ষুধঃ + নিবৃত্তি
  4. ক্ষুন্নি + বৃত্তি
সঠিক উত্তর:
ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- আগে ৎ বা দ্‌ এবং ন্‌ / ম্‌ থাকলে ৎ বা দ্‌ স্থানে 'ন্‌' হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ন' কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ম' হয়। কিন্তু, ৎ / দ্-এর পর ল্ থাকলে ৎ / দ্ সন্ধিতে 'ল্‌' হয় এবং ল্ পরের ল-এর সঙ্গে মিলে 'ল্ল' হয়।

যেমন:
- উৎ + নীত = উন্নীত,
- ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি,
- তদ্‌ + মাত্র = তন্মাত্র,
- উৎ + লাস = উল্লাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩৯.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী নিচের কোনটি তাবল্য ধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
⇒ উচ্চারণস্থান অনুযায়ী বিভাজন:
বাকপ্রত্যঙ্গের ঠিক যে জায়গায় বায়ু বাধা পেয়ে ব্যঞ্জনধ্বনি সৃষ্টি করে সেই জায়গাটি হলাে ঐ ব্যঞ্জনের উচ্চারণস্থান।
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়:
১. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন,
২. দন্ত্য ব্যঞ্জন,
৩. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন,
৪. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন,
৫. তালব্য ব্যঞ্জন,
৬. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন,
৭. কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন।

⇒ মূর্ধন্য ব্যঞ্জন: 
দত্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্যার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ দন্ত্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে। তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দ, ম বা জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দণ্ডমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ তাবল্য ব্যঞ্জন: 
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে স্বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে। হাতি শব্দের হ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ এবং ২০১৯ সংস্করণ)।
১৪০.
'বিচ্ছিন্ন' শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) বিচ + ছিন্ন
  2. খ) বি + ছিন্ন
  3. গ) বিৎ + চ্ছিন্ন
  4. ঘ) বিৎ + ছিন্ন
সঠিক উত্তর:
খ) বি + ছিন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বি + ছিন্ন
ব্যাখ্যা
'বিচ্ছিন্ন' শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ: 'বি + ছিন্ন' 

'বিচ্ছিন্ন' সন্ধির নিয়ম: 
স্বরধ্বনির পর ছ থাকলে উক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিটি দ্বিত্ব ( চ্ছ ) হয়।
যথা- 
- বি + ছিন্ন = বিচ্ছিন্ন,
- এক + ছত্র = একচ্ছত্র,
- কথা + ছলে = কথাচ্ছলে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪১.
"জানালা ˃ জান্‌লা " - এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অভিশ্রতি
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. সম্প্রকর্ষ
  4. ব্যঞ্জন বিকৃতি
সঠিক উত্তর:
সম্প্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।

যেমন:
- আটমেসে > আটাসে,
- কুটুম্ব > কুটুম,
- জানালা > জান্‌লা  ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪২.
আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে তা কোন ধরণের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. ক) অপনিহিত
  2. খ) অন্ত্যস্বরাগম
  3. গ) অসমীকরণ
  4. ঘ) স্বরসঙ্গতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বরসঙ্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony): একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর ঘরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বরসঙ্গতি বলে।
যেমন – দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলাে ইত্যাদি।

⇒ প্রগত (Progressive) : আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়
যেমন- মুলা » মুলাে, শিকা » শিকে, তুলা > তুলল।
⇒ পরাগত (Regressive) : অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে রাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- আখাে> আখুয়া > এখাে, দেশি > দিশি।
⇒ মধ্যগত (Mutual) : আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- বিলাতি > বিলিতি।
⇒ অনন্যান্য (Reciprocal) ; আদ্য ও অন্ত্য দুই সরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অনন্যান্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন – মােজা > মুজো।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪৩.
"স্পর্ধা > আস্পর্ধা" - এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. আদি স্বরলোপ
  2. অপিনিহিতি
  3. আদি স্বরাগম
  4. অন্তর্হতি
সঠিক উত্তর:
আদি স্বরাগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদি স্বরাগম
ব্যাখ্যা
আদি স্বরাগম:
- উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে আদি স্বরাগম বলে।

যেমন:
- স্কুল > ইস্কুল,
- স্টেশন > ইস্টিশন,
- স্পর্ধা > আস্পর্ধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪৪.
'ক্ষ'- এর বিশ্লিষ্ট রূপ-
  1. ক) ক+খ
  2. খ) ক+ঘ
  3. গ) ক+ষ
  4. ঘ) ক+ষ+অ
সঠিক উত্তর:
গ) ক+ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক+ষ
ব্যাখ্যা
হ্+ম= হ্ম। অন্যদিকে ক্+ষ= ক্ষ (ক্ষুধা), ষ্+ণ= ষ্ণ (উষ্ণ) এবং ঞ্+জ= ঞ্জ (গঞ্জ)।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী
১৪৫.
'শ' বর্ণের [শ] উচ্চারণের উদাহরণ কোনটি?
  1. সাধারণ
  2. শত
  3. শৃগাল
  4. শ্রমিক
সঠিক উত্তর:
শত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শত
ব্যাখ্যা

শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
- শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।

উদাহরণ:
- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক্‌], শৃগাল [সৃগাল্‌]।
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
- স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্‌নো]।
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।

১৪৬.
দুটি বাকপ্রত্যঙ্গ পরস্পর সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে উৎপন্ন ধ্বনি -
  1. কম্পিত ব্যঞ্জন
  2. নাসিকা ব্যঞ্জন
  3. উষ্ম ব্যঞ্জন
  4. স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে।
- সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত।
- পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।

- উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়, যথা:
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
• মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
১৪৭.
নিচের কোনটি ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ?
  1. দিক্ + অন্ত = দিগন্ত
  2. পরম + ঔষধ = পরমৌষধ
  3. প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
দিক্ + অন্ত = দিগন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিক্ + অন্ত = দিগন্ত
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জনসন্ধি:
- স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

• ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি:
- ক, চ, ট, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্‌, জ্, ড্ (ড়), দৃ, বৃ হয়। পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন-
- ক্ + অ = গ; দিক্ + অন্ত = দিগন্ত
- চ্ + অ = জ; ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত।
- ট্ + আ = ড়; ষট্ + আনন = ষড়ানন।
- ত্ + অ = দ; তৎ + অবধি = তদবধি।
- প্ + অ = ব; সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত।

অন্যদিকে,
- প্রতি + এক = প্রত্যেক; 
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ; 
- পরম + ঔষধ = পরমৌষধ; 
- এগুলো স্বরসন্ধির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৪৮.
তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন কোনটি?
  1. ছ 
সঠিক উত্তর:
ছ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছ 
ব্যাখ্যা

• স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্‌প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
• মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

১৪৯.
'ণিজন্ত' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ণিঃ + অন্ত
  2. ণিচ্ + অন্ত
  3. ণিজ্‌ + অন্ত
  4. ণিঃ + জন্ত
সঠিক উত্তর:
ণিচ্ + অন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ণিচ্ + অন্ত
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনধ্বনি ও স্বরধ্বনিযোগে গঠিত সন্ধি:
ক, চ, ট, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্‌, জ্, ড্ (ড়্), দ্‌, ব্‌ হয়। পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন-
দিক্ + অন্ত = দিগন্ত।
ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত।
• ষট্ + আনন = ষড়ানন।
• তৎ + অবধি = তদবধি।
• সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫০.
কোন বর্ণগুলোর উচ্চারণ স্থান অগ্র দন্তমূল?
  1. ন, ল, স
  2. ম, ব, প
  3. য, র, ঢ়
  4. শ, য, ঝ
সঠিক উত্তর:
ন, ল, স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন, ল, স
ব্যাখ্যা
ন, ল, স - বর্ণগুলোর উচ্চারণ স্থান অগ্র দন্তমূল।

নিম্নে উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনির বিভাজন দেখানো হলো:
উচ্চারণ স্থান:
জিহ্বামূল = ক খ গ ঘ ঙ। 
অগ্রতালু = ট ঠ ড ঢ ণ ষ র ড় ঢ়।
অগ্র দন্তমূল = ত থ দ ধ ন ল স। 
ওষ্ঠ=  প ফ ব ভ ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯।
১৫১.
অভিশ্রুতির উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. হাটুয়া > হাউটা > হেটো
  2. সাধু > সাহু > সাউ
  3. মাছুয়া > মেছো
  4. শুনিয়া > শুনে
সঠিক উত্তর:
সাধু > সাহু > সাউ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু > সাহু > সাউ
ব্যাখ্যা

• হ-কার লোপ: 
আধুনিক চলিত ভাষায় অনেক সময় দুই স্বরের মাঝামাঝি হ-কারের লোপ হয়।
যেমন:
- পুরোহিত > পুরুত,
- গাহিল > গাইল,
- চাহে > চায়,
- সাধু > সাহু > সাউ,
- আরবি আল্লাহ্ > বাংলা আল্লা,
- ফারসি শাহ্ > বাংলা শা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
-----------------
• অভিশ্রুতি (Umlaut):
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি। যেমন - করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে ‘কইরিয়া’ কিংবা বিপর্যয়ের ফলে ‘কইরা’ থেকে অভিশ্রুতিজাত ‘করে’।
এরূপ-
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৫২.
'স্বয়ংবরা' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. স্বয়ং + বরা
  2. স্বয়ম্‌ + বরা
  3. সঙ + বরা
  4. স্বয়মং + বরা
সঠিক উত্তর:
স্বয়ম্‌ + বরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বয়ম্‌ + বরা
ব্যাখ্যা
• 'স্বয়ংবরা' এর সঠিক  শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ - স্বয়ম্‌ + বরা।

সন্ধির নিয়ম: 
- ম্‌- এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি যথা: য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে ম্‌- স্থলে অনুস্বার (ং) হয়।  
যেমন:
- সম্‌ + সার = সংসার,
- সম্‌ + বাদ = সংবাদ,
- সম্‌ + যম = সংযম,
- সম্‌ + রক্ষন = সংরক্ষণ,
- সম্‌ + লাপ = সংলাপ,
- সম্‌ + শয় = সংশয়,
- সম্‌ + হার = সংহার,
- স্বয়ম্‌ + বরা = স্বয়ংবরা ইত্যাদি। 
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫৩.
'সংহার' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ-
  1. সম্‌ + হার
  2. সং + হার
  3. সন্‌ + হার
  4. সঙ + হার
সঠিক উত্তর:
সম্‌ + হার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্‌ + হার
ব্যাখ্যা
• 'সংহার' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = সম্‌ + হার। 
ব্যাঞ্জনসন্ধির উদাহরণ- 

ব্যঞ্জনধ্বনির পরে শ/স/হ থাকলে পূর্বের ম স্থানে অনুস্বার(ং) হয় 
সংশোধন = সম্‌ + শোধন
সংসার = সম্‌ + সার
সংহার = সম্‌ + হার

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৪.
সংযুক্ত বর্ণের কোন রূপটি শুদ্ধ?
  1. ঞ্‌ + চ = ঞ্ছ
  2. ঞ্‌ + ছ = ঞ্চ
  3. ঞ্‌ + জ = ঞ্জ
  4. ন্‌ + ড = ণ্ড
সঠিক উত্তর:
ঞ্‌ + জ = ঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঞ্‌ + জ = ঞ্জ
ব্যাখ্যা
• সংযুক্ত বর্ণের শুদ্ধ রূপ - ঞ্‌ + জ = ঞ্জ

অন্যদিকে, 
• ঞ্‌ + চ = ঞ্চ।
• ঞ্‌ + ছ = ঞ্ছ।
• ণ্‌ + ড = ণ্ড।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ত্ + ত = ত্ত,
- ভ্‌ + র = ভ্র,
- ত্‌ + থ = ত্থ,
- ঙ্‌ + গ = ঙ্গ,
- হ্‌ + ণ = হ্ণ,
- ষ্‌ + ণ = ষ্ণ,
- হ্‌ + ম = হ্ম।
- ক্‌ + ষ = ক্ষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫৫.
উষ্ম ব্যঞ্জন 'হ' এর উচ্চারণস্থান কোনটি?
  1. ওষ্ঠ
  2. দন্তমূলীয়
  3. তালব্য
  4. কণ্ঠনালীয়
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠনালীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠনালীয়
ব্যাখ্যা

• উষ্ম ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্‌প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলোকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।
উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলোকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ) এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলোর মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতো আওয়াজ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

১৫৬.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অতি + উক্তি = অত্যূক্তি
  2. বন + ওষধি = বনৌষধি
  3. যা + ইচ্ছে + তাই = যাচ্ছেতাই
  4. সদ + এব = সদৈব
সঠিক উত্তর:
বন + ওষধি = বনৌষধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন + ওষধি = বনৌষধি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ - বন + ওষধি = বনৌষধি
- এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
- বাকি অপশনগুলোও স্বরসন্ধির উদাহরণ। 
- যাদের শুদ্ধরূপ -
→ অতি + উক্তি = অত্যুক্তি।
→ যা + ইচ্ছা + তাই = যাচ্ছেতাই।
→ সদা + এব = সদৈব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫৭.
মনোহর শব্দটির সন্ধিবিচ্ছেদ-
  1. মনো + হর
  2. মন + অহর
  3. মন + র
  4. মনঃ + হর
সঠিক উত্তর:
মনঃ + হর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনঃ + হর
ব্যাখ্যা
• 'মনোহর' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হবে 'মনঃ + হর'।
----------------- 
• সন্ধির নিয়ম: 
অ-কারের পরস্থিত স-জাত বিসর্গের পর ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি, নাসিক্য ধ্বনি কিংবা অন্তঃস্থ য, অন্তঃস্থ ব, র, ল, হ থাকলে,
অ-কার ও স-জাত বিসর্গ স্থলে ও-কার হয়। যেমন:
-সদ্যঃ + জাত = সদ্যোজাত,
- তিরঃ + ধান = তিরোধান,
-মনঃ + রম = মনোরম,
- মনঃ + হর  = মনোহর,
- তপঃ + বন = তপোবন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ) ।
১৫৮.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. র্‌ + ক = ক্র 
  2. ক্ + র = ক্র 
  3. ত্‌ + র = ক্র 
  4. ত্‌ + ক = ক্র 
সঠিক উত্তর:
ক্ + র = ক্র 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ + র = ক্র 
ব্যাখ্যা
সঠিক যুক্তবর্ণ হলো: ক্ + র = ক্র 

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণঃ
- ঙ্ + গ = ঙ্গ
- ঙ্ +ক = ঙ্ক
- ত্ + থ = ত্থ
- ঞ্ঝ = ঞ্ + ঝ,
- ক্ষ = ক + ষ,
- হ্ম = হ + ম,
- জ্ঞ = জ + ঞ,
- ষ্ণ = ষ + ণ।

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি সংস্করণ ২০১৯]
১৫৯.
ব্যঞ্জনদ্বিত্ব ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ কোনটি?
  1. চক্র > চক্ক
  2. চাকা > চাক্কা
  3. লগ্ন > লগ্গ
  4. পক্ব > পক্ক
সঠিক উত্তর:
চাকা > চাক্কা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাকা > চাক্কা
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জনদ্বিত্ব:
কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, তাকে ব্যঞ্জনদ্বিত্ব বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বতা বলে।
যেমন:
- সকাল > সক্কাল; 
- চাকা > চাক্কা;
- পাকা > পাক্কা ইত্যাদি।

-----------------
• প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতো হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক;
- পক্ব > পক্ক;
- লগ্ন > লগ্গ;  
- পদ্ম > পদ্দ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৬০.
একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে কী বলে?
  1. সমীভবন
  2. অপিনিহিতি
  3. অসমীকরণ
  4. বিষমীভবন
সঠিক উত্তর:
অসমীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসমীকরণ
ব্যাখ্যা
• অসমীকরণ (Dissimilation):
- একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন: ধপ + ধপ > ধপাধপ, টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বিষমীভবন (Dissimilation):
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন- শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।
• সমীভবন (Assimilation):
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন জন্ম >জম্ম, কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।
• অপিনিহিতি (Apenthesis):
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন: আজি >আইজ, সাধু >সাউধ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য >সইত্য, চারি> চাইর, মারি >মাইর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৬১.
শালা > হালা - ধ্বনি পরিবর্তনের কোন নিয়মে হয়েছে?
  1. ক) ঘোষীভবন
  2. খ) অঘোষীভবন
  3. গ) মহাপ্রাণীভবন
  4. ঘ) অল্পপ্রাণীভবন
সঠিক উত্তর:
ক) ঘোষীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ঘোষীভবন
ব্যাখ্যা
অঘোষধ্বনি ঘোষধ্বনি হিসেবে উচ্চারিত হলে তাকে ঘোষীভবন বলে। 
যেমন : 
কাক > কাগ
শাক > শাগ 
শালা > হালা।
এটি পরাগত সমীভবন বা স্বরসঙ্গতির উদাহরণ নয়। কারণ, সমীভবনে এক ধ্বনিতে রূপ লাভ করে। এগুলো বরং এক ধরনের ব্যঞ্জন বিকৃতি। যে কারণে অনেক গ্রন্থে আলাদা করে এগুলো দেওয়া নেই। 

উৎস : ড. হায়াৎ মামুদ, ভাষা-শিক্ষা
১৬২.
অ, আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ কী হয়?
  1. স 
  2. শ 
  3. ষ 
  4. হ 
সঠিক উত্তর:
ষ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষ 
ব্যাখ্যা

ষ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে।
- তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়।
যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।

২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়।
যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ - ‘ষ’ হয়।
যেমন,
- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়।
যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়।
যেমন- বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।

৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৬৩.
'ফট + ফট > ফটাফট' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত? 
  1. অসমীকরণ
  2. য়-শ্রুতি
  3. স্বরসঙ্গতি
  4. অন্ত্যস্বরাগম
সঠিক উত্তর:
অসমীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসমীকরণ
ব্যাখ্যা

• অসমীকরণ:
একই স্বরধ্বনির পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন:
- টপ + টপ > টপাটপ,
- ধপ + ধপ > ধপাধপ,
- ফট + ফট > ফটাফট ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• য়-শ্রুতি ও ব-শ্রুতি: 
শব্দের মধ্যে পাশাপাশি দুটো স্বরধ্বনি থাকলে যদি এ দুটো স্বর মিলে একটি দ্বি-স্বর (যৌগিক স্বর) না হয়, তবে এ স্বর দুটোর মধ্যে উচ্চারণের সুবিধার জন্য একটি ব্যঞ্জনধ্বনির মতো অন্তঃস্থ 'য়' (Y) বা অন্তঃস্থ 'ব' (W) উচ্চারিত হয়। এই অপ্রধান ব্যঞ্জনধ্বনিটিকে বলা হয় য়-শ্রুতি ও ব-শ্রুতি। যেমন-  মা + আমার = মা (য়) আমার > মায়ামার। যা + আ = যা (ও) য়া = যাওয়া। এরূপ নাওয়া, খাওয়া, দেওয়া ইত্যাদি।

• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন: দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন: দিশ্  > দিশা, পোখত্  > পোক্ত, বেঞ্চ > বেঞ্চি, সত্য  > সত্যি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৬৪.
নিচের অপশনগুলো থেকে ব্যঞ্জন সন্ধি শনাক্ত করুন-
  1. জনৈক
  2. নাবিক
  3. পরিচ্ছেদ
  4. মহর্ষি
সঠিক উত্তর:
পরিচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলন কে স্বরসন্ধি বলে ।
যেমন -
অ / আ + অ / আ = আ ; যেমন - আশা + অতীত = আশাতীত
ই / ঈ+ ই / ঈ = ঈ । যেমন - পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা

ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে - ব্যঞ্জনে , ব্যঞ্জনে - স্বরে ও ব্যঞ্জনে - ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে ।
স্বর - ব্যঞ্জন : পরি + চ্ছেদ = পরিচ্ছেদ
ব্যঞ্জন - স্বর : দিক্ + অন্ত = দিগন্ত
ব্যঞ্জন - ব্যঞ্জন : চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র
-----------
অপশনে,
ক) জনৈক → "জন" + "এক" → জনৈক (এখানে স্বর সন্ধি হয়েছে, ব্যঞ্জন সন্ধি নয়)।
খ) নাবিক → "নৌ + ইক" (এখানে স্বর সন্ধি হয়েছে, ব্যঞ্জন সন্ধি নয়)।
গ) পরিচ্ছেদ → "পরি" + "ছেদ" → পরিচ্ছেদ (ব্যঞ্জন সন্ধি হয়েছে: 'ই' + 'ছ')। কারণ , স্বরে - ব্যঞ্জনে - ব্যঞ্জন সন্ধি হয়।
ঘ) মহর্ষি → "মহা" + "ঋষি" → মহর্ষি (স্বর সন্ধি হয়েছে: 'ই' + 'ঋ')

সুতরাং, সঠিক উত্তর:
গ) পরিচ্ছেদ।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম - দশম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ)
১৬৫.
নিচের কোন সন্ধি রূপটি সঠিক নয়?
  1. ক) বাক্‌ + দান = বাগদান
  2. খ) সম্‌ + হার = সংহার
  3. গ) যজ্‌ + ন = যজ্ঞ
  4. ঘ) পদ্‌ + খলন = পদস্খলন
সঠিক উত্তর:
ঘ) পদ্‌ + খলন = পদস্খলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পদ্‌ + খলন = পদস্খলন
ব্যাখ্যা
উপর্যুক্ত সন্ধিগুলোর মধ্যে বাগদান, সংহার এবং যজ্ঞ এর সন্ধিরূপ সঠিক কিন্তু পদস্খলন শব্দটি বিসর্গ সন্ধিভূক্ত হওয়ায় এর শুদ্ধরুপ পদঃ+খলন = পদস্খলন। এরূপ কয়েকটি বিসর্গ সন্ধি হচ্ছে-নমস্কার, নিষ্কর, দুষ্কর ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১৬৬.
নিচের কোনটিতে ধ্বনি বিপর্যয় ঘটেছে?
  1. ফাল্গুন > ফাগুন
  2. পিশাচ > পিচাশ
  3. পাকা > পাক্কা
  4. লাল > নাল
সঠিক উত্তর:
পিশাচ > পিচাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিশাচ > পিচাশ
ব্যাখ্যা

ধ্বনি বিপর্যয়: 
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন: পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।

---------------------- 
অন্য অপশনে, 
অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্তর্হতি বলে।
যেমন: ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাদিয়া > আলাদা ইত্যাদি। 

দ্বিত্ব ব্যঞ্জন:
কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বলে। 
যেমন: পাকা > পাক্কা। 

বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন- লাল > নাল, শরীর > শরীল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।

১৬৭.
"ক্লিপ > কিলিপ" - শব্দে ধ্বনির কোন ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. আদি স্বরাগম
  2. অন্ত্য স্বরাগম
  3. স্বরসঙ্গতি
  4. মধ্য স্বরাগম
সঠিক উত্তর:
মধ্য স্বরাগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্য স্বরাগম
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
অ - রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই - প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি।
এ - গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও - শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৬৮.
'পরিতুষ্ট' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. পোরিতুশ্‌ট
  2. পরিতুশ্‌টো
  3. পোরিতুশ্‌টো
  4. পোরিতশ্‌টো
সঠিক উত্তর:
পোরিতুশ্‌টো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোরিতুশ্‌টো
ব্যাখ্যা
• 'পরিতুষ্ট' এর সঠিক উচ্চারণ- 'পোরিতুশ্‌টো'। 

• আরো কিছু শব্দের উচ্চারণ: 

- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক], শ্রদ্ধা [স্রোধা]।
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
- স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্নাে]।
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬৯.
কোন শব্দে তাড়িত ব্যঞ্জন আছে?
  1. বাড়ি
  2. হাঙর
  3. ভার
  4. হুঙ্কার
সঠিক উত্তর:
বাড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাড়ি
ব্যাখ্যা
তাড়িত ব্যঞ্জন:
- যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতো করে একবার ছুঁয়ে যায় তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
- বাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ড়, ঢ় তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
নাসিক্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখের মধ্যে প্রথমে বাধা পায় এবং নাক ও মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়, সেসব ধ্বনিকে নাসিক্য ব্যঞ্জন বলে।
- মা, নতুন, হাঙর প্রভৃতি শব্দের ম, ন, ঙ নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি।

উষ্ম ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাম্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
- সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।

কম্পিত ব্যঞ্জন:
- যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
- কর, ভার, হার প্রভৃতি শব্দের র কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৭০.
'ভাবুক' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ভৌ + ঊক
  2. ভৌ + উক
  3. ভাব + উক
  4. ভো + অক
সঠিক উত্তর:
ভৌ + উক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভৌ + উক
ব্যাখ্যা

• 'ভাবুক' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ- 'ভৌ + উক'।
- এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ। 

• সন্ধি বিচ্ছেদ: 
- এ, ঐ, ও, ঔ- কারের পরে এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্‌, আব্‌ হয়। 
যেমন,
- ভৌ + উক = ভাবুক; (সূত্র: ঔ+উ = আব্‌+উ)।
- পৌ + অক = পাবক,
- গো + আদি = গবাদি,
- গো + এষণা = গবেষণা,
- পো + ইত্র = পবিত্র,
- নৌ + ইক = নাবিক ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৭১.
বাংলা স্বরবর্ণের উপরে চন্দ্রবিন্দু ব্যবহার করা হয় কী বোঝাতে?
  1. ঘর্ষণজাত
  2. হ্রস্বস্বর
  3. নাসিক্য
  4. অনুনাসিকতা
সঠিক উত্তর:
অনুনাসিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুনাসিকতা
ব্যাখ্যা
• 'অনুনাসিকতা' বোঝাতে বাংলা স্বরবর্ণের উপরে চন্দ্রবিন্দু ব্যবহার করা হয়।
- বাংলা ভাষায় অনুনাসিক স্বরধ্বনি ৭ টি।

• অনুনাসিক স্বরধ্বনি:
- মৌলিক স্বরধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে বায়ু শুধু মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে।
- এ সময়ে কোমল তালু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে।
- কিন্তু ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে কোমল তালু খানিকটা নিচে নেমে গেলে কিছুটা বায়ু নাক দিয়েও বের হয়।
- এর ফলে ধ্বনিগুলো অনুনাসিক হয়ে যায়।
- স্বরধ্বনির এই অনুনাসিকতা বোঝাতে বাংলা স্বরবর্ণের উপরে চন্দ্রবিন্দু (ঁ) ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

• মৌলিক স্বরধ্বনি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।
• অনুনাসিক ষ্বরধ্বনি: [ইঁ], [এঁ], [অ্যাঁ], [আঁ], [অঁ], [ওঁ], [উঁ]।

অন্যদিকে,
• নাসিক্য ধ্বনি:  
- ধ্বনির উচ্চারণে নাক ও মুখ দিয়ে কিংবা কেবল নাক দিয়ে ফুসফুস তাড়িত বাতাস বের হয় বলে এদের বলা হয় নাসিক্য ধ্বনি এবং প্রতীকি বর্ণগুলোকে বলা হয় নাসিক্য বর্ণ।
- যেমন: ঙ, ঞ, ণ, ন, ম।

• ঘর্ষণজাত: 
দুটি বাগযন্ত্র খুব কাছাকাছি আসে, কিন্তু একসঙ্গে যুক্ত হয় না। ফলে বাতাস বাধা পায় ও সংকীর্ণ পথে বের হওয়ার সময় ঘর্ষণের সৃষ্টি করে বলে এগুলি ঘর্ষণজাত ধ্বনি বা শিস ধ্বনি বলা হয়। 
যেমন : শ, ষ, স, হ।

• হ্রস্বস্বর:
যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণে কম সময় লাগে, তাদেরকে হ্রস্বস্বর বলে।
যেমন: অ, ই, উ, ঋ এই (৪টি হ্রস্বস্বর)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
১৭২.
'ব্রাহ্মণ' শব্দের যুক্তবর্ণে কোন দুটি বর্ণ যুক্ত রয়েছে?
  1. ক) ক + ম
  2. খ) হ + ম
  3. গ) ম + হ
  4. ঘ) ক + ষ
সঠিক উত্তর:
খ) হ + ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হ + ম
ব্যাখ্যা
• একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
যুক্ত হওয়া বর্ণ গুলোকে দেখে কখনো সহজে  চেনা যায়, কখনো যায় না।
যুক্তবর্ণ দুই রকমের হয়:
- স্বচ্ছ,
- অস্বচ্ছ।

'ব্রাহ্মণ' শব্দের যুক্তবর্ণে,
- হ্ম = হ + ম।

• আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ:
- ঙ্ + গ = ঙ্গ,
- ক্ + র = ক্র,
- ঙ্ +ক = ঙ্ক,
- ত্ + থ = ত্থ,
- ঞ্ঝ = ঞ্ + ঝ,
- হ্ম = হ + ম,
- জ্ঞ = জ + ঞ,
- ষ্ণ = ষ + ণ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭৩.
'অভিশ্রুতি' ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ক) শুনিয়া > শুনে
  2. খ) বলিয়া > বলে
  3. গ) ধাইমা > দাইমা
  4. ঘ) মাছুয়া > মেছাে
সঠিক উত্তর:
গ) ধাইমা > দাইমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ধাইমা > দাইমা
ব্যাখ্যা
• 'ধাইমা > দাইমা' ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ। 

অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
- যেমন: করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে ‘কইরিয়া’ কিবা বিপর্যয়ের ফলে ‘কইরা’ থেকে অভিশ্রুতিজাত করে।
- এরূপ: শুনিয়া > শুনে, বলিয়া > বলে, হাটুয়া > হাউটা > হেটো, মাছুয়া > মেছাে ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭৪.
'ত + হ = দ্ধ' এই নিয়মে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. পদ্ধতি
  2. তদ্ধিত
  3. চলচ্ছক্তি
  4. উড্ডীন
সঠিক উত্তর:
তদ্ধিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তদ্ধিত
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনির সন্ধি:

যেমন:
→ ত + ড = ড, উৎ + ডীন = উড্ডীন, 
→ ত + ল = ল্ল, উৎ + লিখিত = উল্লিখিত, 
→ ত + শ = চ্ছ, চলৎ + শক্তি = চলচ্ছক্তি, 
ত + হ = দ্ধ, তৎ + হিত = তদ্ধিত
→ দ + হ = দ্ধ, পদ্‌ + হতি = পদ্ধতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৭৫.
স্বভাবতই 'মূর্ধন্য-ষ' ব্যবহৃত হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ভবিষ্যৎ
  2. চক্ষুষ্মান
  3. ষড়ঋতু
  4. কৃষক
সঠিক উত্তর:
ষড়ঋতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষড়ঋতু
ব্যাখ্যা

• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ" হয়। যেমন- অভিসেক> অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন- বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে স হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৭৬.
কোনটি মূর্ধা স্পষ্ট ব্যঞ্জন?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় দুটি বাক্‌প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত।
যথা:
ফল, থলে, ঠাণ্ডা, ছুরি, খেলা শব্দের ফ, থ, ঠ, ছ, খ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।

উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী এগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব,
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, , ধ।
মূর্ধা স্পষ্ট ব্যঞ্জন:, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ,
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১৭৭.
বাংলা ভাষায় বর্ণমালা কয়টি?
  1. ১১
  2. ৫৯
  3. ৬০
  4. ৫০
সঠিক উত্তর:
৫০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫০
ব্যাখ্যা

[প্রশ্নটিতে ভাষাগত ত্রুটি আছে। প্রশ্নটি হওয়া উচিত ছিলো-  বাংলা ভাষার বর্ণমালায় বর্ণ সংখ্যা কয়টি?]
সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে-  ৫০টি সঠিক উত্তর হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

-----------------------------
• ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।

• বাংলা ভাষার বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯ টি।
• মাত্রাহীন বর্ণ- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ্ ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
• অর্ধমাত্রা বর্ণ- বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮ টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি ( খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।
• পূর্ণমাত্রা বর্ণ- ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৮.
সংযুক্ত বর্ণের কোন গঠনটি শুদ্ধ?
  1. ত্ + ত = ক্ত
  2. ঞ্‌ + ক = ঙ্ক
  3. ত্‌ + র্‌ + উ = ত্রু
  4. ভ্ + ঋ = ভ্র  
সঠিক উত্তর:
ত্‌ + র্‌ + উ = ত্রু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্‌ + র্‌ + উ = ত্রু
ব্যাখ্যা

• সংযুক্ত বর্ণের শুদ্ধরূপ- ত্‌ + র্‌ + উ = ত্রু। 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ত্ + ত = ত্ত,
- ত্‌ + র্‌ + উ = ত্রু
- ক্‌ + ত = ক্ত, 
- ভ্ + র = ভ্র, 
- ত্ + থ = ত্থ,
- ঙ্‌ + গ = ঙ্গ,
- ঙ্‌ + ক = ঙ্ক,
- হ্ + ম = হ্ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১৭৯.
লাল শব্দে 'ল' কী ব্যঞ্জনধ্বনি?
  1. তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনি
  2. কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনি
  3. পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনি
  4. নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি
সঠিক উত্তর:
পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনি
ব্যাখ্যা

পার্শ্বিক ব্যঞ্জন: 
- যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা দন্তমূল স্পর্শ করে এবং ফুসফুস থেকে আসা বাতাস জিভের দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তাকে পার্শ্বিক ব্যঞ্জন বলে।
- লাল শব্দে 'ল' পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• কম্পিত ব্যঞ্জন ধ্বনি:
- যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
- যেমন- রক্ত, কর, ভার, হার প্রভৃতি শব্দের 'র' কম্পিত ব্যঞ্জন ধ্বনির উদাহরণ।

• তাড়িত ব্যঞ্জন ধ্বনি:
- যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতো করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
- বাড়ি, গুড়, আষাঢ়, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের 'ড়', 'ঢ়' তাড়িত ব্যঞ্জনের উদাহরণ।

• নাসিক্য ধ্বনি:  
- ধ্বনির উচ্চারণে নাক ও মুখ দিয়ে কিংবা কেবল নাক দিয়ে ফুসফুস তাড়িত বাতাস বের হয় বলে এদের বলা হয় নাসিক্য ধ্বনি এবং প্রতীকি বর্ণগুলোকে বলা হয় নাসিক্য বর্ণ।
- যেমন: ঙ, ঞ, ণ, ন, ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৫ সংস্করণ)।

১৮০.
ফলা বর্ণ নয় কোনটি?
  1. ম-ফলা
  2. ন -ফলা
  3. ল-ফলা
  4. দ-ফলা
সঠিক উত্তর:
দ-ফলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ-ফলা
ব্যাখ্যা
• ফলাবর্ণ নয়- দ-ফলা।

• অনুবর্ণ:
ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ। অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।

• ফলা: ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলোকে ফলা বলে। যেমন- ন-ফলা, ব-ফলা, ম-ফলা, য-ফলা, র- ফলা, ল-ফলা।

• রেফ: র-এর একটি অনুবর্ণ রেফ।

• বর্ণসংক্ষেপ: যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময়ে বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়োজন হয়। এগুলো বর্ণসংক্ষেপ। যেমন ভ, দ, ন, ম, ষ, স ইত্যাদি। এছাড়া ৎ বর্ণটি ত-এর একটি বর্ণসংক্ষেপ, যা বাংলা বর্ণমালায় স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৮১.
কোনটি বাগযন্ত্রের মধ্যে সবচেয়ে সচল অঙ্গ?
  1. ক) তালু
  2. খ) জিভ
  3. গ) মূর্ধা
  4. ঘ) আলজিভ
সঠিক উত্তর:
খ) জিভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জিভ
ব্যাখ্যা
- বাগযন্ত্রের মধ্যে সবচেয়ে সচল অঙ্গ 'জিভ'

• জিভ
- মুখগহ্বরের নিচের অংশে জিভের অবস্থান।
- বাগযন্ত্রের মধ্যে জিভ সবচেয়ে সচল ও সক্রিয় প্রত্যঙ্গ।
- জিভের উচ্চতা, সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান এবং মুখগহ্বরের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে জিভের স্পর্শের প্রকৃতি অনুযায়ী ধ্বনির বৈচিত্র্য তৈরি হয়।

• প্রদত্ত প্রশ্নের অন্যান্য অপশন:
• আলজিভ
- মুখগহ্বরের কোমল তালুর পিছনে ঝুলন্ত মাংসপিণ্ডের নাম আলজিভ।
- ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে কোমল তালুর সঙ্গে আলজিভ নিচে নেমে এলে বাতাস মুখ দিয়ে পুরোপুরি বের না হয়ে খানিকটা নাক দিয়ে বের হয়। এর ফলে নাসিক্য ধ্বনি তৈরি হয় ।

• তালু
- মুখবিবরের ছাদকে বলা হয় তালু।
- তালুর দুটি অংশ - কোমল তালু ও শক্ত তালু।
- অনুনাসিক স্বরধ্বনি উচ্চারণে কোমল তালু নিচে নামে।
- কোমল তালু ও জিভমূলের স্পর্শে কণ্ঠ্যধ্বনি উচ্চারিত হয়।
- দন্তমূলের শুরু থেকে কোমল তালু পর্যন্ত বিস্তৃত অংশকে বলা হয় শক্ততালু।

• মূর্ধা
- শক্ত তালু ও উপরের পাটির দাঁতের মধ্যবর্তী উত্তল মূর্ধা বলে।
- কোনো কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ মূর্ধাকে স্পর্শ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
১৮২.
'সংহার' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. সম্‌ + হর
  2. সন্‌ + হার
  3. সং + হার
  4. সম্‌ + হার
সঠিক উত্তর:
সম্‌ + হার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্‌ + হার
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- ম্‌- এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি যথা: য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে ম্‌- স্থলে অনুস্বার (ং) হয়।
যেমন:
- সম্‌ + সার = সংসার,
- সম্‌ + বাদ = সংবাদ,
- সম্‌ + যম = সংযম,
- সম্‌ + রক্ষণ = সংরক্ষণ,
- সম্‌ + লাপ = সংলাপ,
- সম্‌ + শয় = সংশয়,
- সম্‌ + হার = সংহার,
- স্বয়ম্‌ + বরা = স্বয়ংবরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮৩.
পূর্ববর্তী ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনিটির পরিবর্তন ঘটলে, তাকে কী বলে?
  1. প্রগত সমীভবন
  2. পরাগত সমীভবন
  3. অন্যোন্য সমীভবন
  4. অপিনিহিতি
সঠিক উত্তর:
প্রগত সমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রগত সমীভবন
ব্যাখ্যা

• প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তনকে প্রগত সমীভবন বলে।

যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক।

অন্যদিকে,
পরাগত সমীভবন:
- পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন কে পরাগত সমীভবন বলে।

যেমন:
- তৎ + জন্য > তজ্জন্য,
- তৎ + হিত >তদ্ধিত।

অন্যোন্য সমীভবন:
- যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অনন্যান্য সমীভবন।

যেমন:
- সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ।
- সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

অপিনিহিতি:
- পরে উচ্চারিত হওয়া ‘ই/উ’ আগে উচ্চারিত হওয়াকে অপিনিহিতি বলে।

যেমন:
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৮৪.
‘গ্রাম > গেরাম’ কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অসমীকরণ
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. সম্প্রকর্ষ
  4. অভিশ্রুতি
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে, একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
অ:
- রত্ন > রতন,
- ধর্ম > ধরম,
- স্বপ্ন > স্বপন,
- হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।

ই:
- প্রীতি > পিরীতি,
- ক্লিপ > কিলিপ,
- ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।

উ:
- মুক্তা > মুকুতা,
- তুর্ক > তুরুক,
- ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি। 

এ:
- গ্রাম > গেরাম,
- প্ৰেক > পেরেক,
- স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।

ও:
- শ্লোক > শােলােক,
- মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮৫.
কোনটি অনুনাসিক স্বরধ্বনি?
  1. [অ্যাঁ]
  2. [আ]
  3. [উ্‌]
  4.  [অ্যা
সঠিক উত্তর:
[অ্যাঁ]
উত্তর
সঠিক উত্তর:
[অ্যাঁ]
ব্যাখ্যা

অনুনাসিক স্বরধ্বনি:
- মৌলিক স্বরধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে বায়ু শুধু মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে। এ সময়ে কোমল তালু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে। কিন্তু ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে কোমল তালু খানিকটা নিচে নেমে গেলে কিছুটা বায়ু নাক দিয়েও বের হয়।

অনুনাসিক স্বরধ্বনি:
- [ইঁ], [এঁ], [অ্যাঁ], [আঁ], [অঁ], [ওঁ], [উঁ]।

অন্যদিকে,
মৌলিক স্বরধ্বনি - [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।
দ্বিস্বরধ্বনি - [ই্‌] এবং [উ্‌]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।

১৮৬.
'অ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. অতি
  2. পক্ষ
  3. অদ্য
  4. অনাথ
সঠিক উত্তর:
অনাথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনাথ
ব্যাখ্যা
'অ' বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।

'অ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ:
- অনেক [অনেক্], কথা [কথা], অনাথ [অনাথ্]।

'অ' বর্ণের [ও] উচ্চারণ:
- অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোক্খো‌], অদ্য [ওদ্‌দো], মন [মোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৮৭.
'প্রান্তর' শব্দের অক্ষর বিন্যাস কোনটি?
  1. প্র + আন + তর্‌
  2. প্রা + ন + ত + র
  3. প্রান্‌ + তর্‌
  4. প্রান্ত + অর্‌
সঠিক উত্তর:
প্রান্‌ + তর্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রান্‌ + তর্‌
ব্যাখ্যা
প্রান্তর:
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অক্ষর বিন্যাস: প্রান্‌ + তর্‌
- প্রকৃতি-প্রত্যয়: প্র + অন্তর।
- অর্থ: মাঠ; জনবসতিহীন বিস্তৃত ভূমি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৮৮.
"উদ্বন্ধন" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. উদ্ + বন্ধন
  2. উধ্‌ + বন্ধন
  3. উৎ + বন্ধন
  4. উদ্ঃ + বন্ধন
সঠিক উত্তর:
উৎ + বন্ধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎ + বন্ধন
ব্যাখ্যা
→ ব্যঞ্জন ধ্বনিসমূহের যে কোনাে বর্গের অঘােষ অল্পপ্রাণ ধ্বনির পর যে কোনাে বর্গের ঘােষ অল্পপ্রাণ ও ঘােষ মহাপ্রাণ ধ্বনি কিংবা ঘােষ অল্পপ্রাণ তালব্য ধ্বনি, (য > জ), ঘােষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ ধ্বনি (ব), ঘােষ কম্পনজাত দন্তমূলীয় ধ্বনি (র) কিংবা ঘােষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ ব্যঞ্জনধ্বনি (ব) থাকলে প্রথম অঘােষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি ঘােষ অল্পপ্রাণরূপে উচ্চারিত হয়।

যথা:
- বাক্ + দান = বাগদান,
- ষট্ + যন্ত্র = ষড়যন্ত্র, 
- উৎ + ঘাটন = উদ্‌ঘাটন, 
- উৎ + যােগ = উদ্যোগ, 
- উৎ + বন্ধন = উদ্বন্ধন
- তৎ + রূপ = তদ্রূপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮৯.
'সন্ন্যাস' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সম্‌ + ন্ন্যাস
  2. সন্‌ + ন্যাস
  3. সমঃ + ন্যাস
  4. সম্‌ + ন্যাস
সঠিক উত্তর:
সম্‌ + ন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্‌ + ন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'সন্ন্যাস' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: 'সম্‌ + ন্যাস'।
- এটি একটি ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ। 

• সন্ধির নিয়ম: 
- ম্‌ এর পর যে কোন বর্গীয় ধ্বনি থাকলে ম্‌ ধ্বনি টি সেই বর্গের নাসক্য ধ্বনি হয়। 
যেমন- 
শম্‌ + কা = শঙ্কা,
সম্‌ + ন্যাস = সন্ন্যাস,
সম্‌ + তাপ = সন্তাপ (ম্‌ + ত্‌ = ন্‌ + ত্‌)। 
সম্‌ + চয় = সঞ্চয় ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯০.
'ক্ষুন্নিবৃত্তি' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1.  ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি
  2.  ক্ষুধা + নিবৃত্তি
  3. ক্ষুৎ + নিবৃত্তি
  4. ক্ষুদ্+ নিবৃত্তি
সঠিক উত্তর:
 ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম:
আগে ৎ, দ্‌, ধ্‌ এবং পরে ন্‌ / ম্‌ থাকলে ৎ, দ্‌ বা ধ্‌ স্থানে ন্‌ হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে ন্ন কিংবা ম এর সঙ্গে মিলে ন্ম হয়।
যেমন:
- উৎ + নতি = উন্নতি;
- ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি;
- রাধ্‌ + না = রান্না;
- তদ্ + মাত্র = তন্মাত্র;
- সৎ + মার্গ = সন্মার্গ;
- মৃৎ + ময় = মৃন্ময়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৯১.
ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) মাছুয়া > মেছাে
  2. খ) আজি > আইজ
  3. গ) কবাট > কপাট
  4. ঘ) সকাল > সক্কাল
সঠিক উত্তর:
গ) কবাট > কপাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কবাট > কপাট
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জন বিকৃতি : শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
- যেমন-
কবাট > কপাট,
ধােবা > ধােপা,
ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
সকাল > সক্কাল = দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
আজি > আইজ = অপিনিহিতি
মাছুয়া > মেছাে = অভিশ্রুতি

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯২.
সন্ধি বিচ্ছেদ করুন - 'অক্ষৌহিণী'
  1. অক্ষ + উহিণী
  2. অক্ষ + ঊহিণী
  3. আক্ষ + উহিণী
  4. আক্ষ + ঊহিণী
সঠিক উত্তর:
অক্ষ + ঊহিণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষ + ঊহিণী
ব্যাখ্যা
স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি: 
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ:
- অন্য + অন্য = অন্যান্য,
- কুল + অটা = কুলটা,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়,
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড,
- স্ব + ঈর = স্বৈর,
- গো + ইন্দ্ৰ = গবেন্দ্র,
- গো + ঈশ্বর = গবেশ্বর,
- অক্ষ + ঊহিণী = অক্ষৌহিণী,
- রক্ত + ওষ্ঠ = রক্তোষ্ঠ,
- সীমন + অত = সীমন্ত,
- শার + অঙ্গ = শারঙ্গ,
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯৩.
সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ নির্ণয় করুন: 'তৃষ্ণার্ত'
  1. তৃষ্ণা + অর্থ
  2. তৃষ্ণঃ + ঋত
  3. তৃষ্ণ + ঋত
  4. তৃষ্ণাঃ + অর্থ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর - কোনোটিই নয়
• 'তৃষ্ণার্ত' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ - তৃষ্ণা + ঋত।

সন্ধির নিয়ম:

- অ-কার কিংবা আ-কারের পর 'ঋত'-শব্দ থাকলে (অ, আ+ঋ) উভয় মিলে 'আর' হয় এবং বানানে পূর্ববর্তী বর্ণে আ ও পরবর্তী বর্ণে রেফ লেখা হয়।
যেমন:
- অ + ঋ = আর, শীত + ঋত = শীতার্ত।
- আ + ঋ = আর, তৃষ্ণা + ঋত = তৃষ্ণার্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৯৪.
বাগ্‌যন্ত্রের অংশ কোনটি?
  1. আলজিভ
  2. পিত্তকোষ
  3. বৃক্ক
  4. যকৃৎ
সঠিক উত্তর:
আলজিভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলজিভ
ব্যাখ্যা
• বাগযন্ত্রের অংশ - আলজিভ

বাগ্‌যন্ত্র:
- ধ্বনি উচ্চারণ করতে যেসব প্রত্যঙ্গ কাজে লাগে, সেগুলোকে একত্রে বাগ্‌যন্ত্র বলে।
- মানবদেহের উপরিভাগে অবস্থিত ফুসফুস থেকে শুরু করে ঠোঁট পর্যন্ত ধ্বনি উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রত্যঙ্গই বাগ্‌যন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।

বাগযন্ত্রের অংশ:
- ফুসফুস,
- শ্বাসনালি,
- স্বরযন্ত্র,
- জিভ,
- আলজিভ,
- তালু,
- মূর্ধা,
- দন্তমূল ও দন্ত,
- ওষ্ঠ,
- নাসিকা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯৫.
শুদ্ধ সন্ধির গঠন কোনটি?
  1. তপোঃ + বন = তপোবন
  2. তিরঃ + ধান = তিরোধান
  3. সদ্যোঃ + জাত = সদ্যোজাত
  4. মনোঃ + রম = মনোরম
সঠিক উত্তর:
তিরঃ + ধান = তিরোধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিরঃ + ধান = তিরোধান
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
অ-কারের পরস্থিত স-জাত বিসর্গের পর ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি, নাসিক্য ধ্বনি কিংবা অন্তঃস্থ য, অন্তঃস্থ ব, র, ল, হ থাকলে অ-কার ও স-জাত বিসর্গ স্থলে ও-কার হয়।
যেমন:
সদ্যঃ + জাত = সদ্যোজাত,
তিরঃ + ধান = তিরোধান,
মনঃ + রম = মনোরম,
মনঃ + হর = মনোহর,
তপঃ + বন = তপোবন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১৯৬.
ধ্বনি নির্দেশক প্রতীক কোনটি?
  1. শব্দ 
  2. বর্ণ
  3. বাক্য 
  4. ভাষা 
সঠিক উত্তর:
বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণ
ব্যাখ্যা

• ধ্বনি নির্দেশক প্রতীক বা চিহ্নকে বর্ণ বলে।
- ভাষা লিখে প্রকাশ করার সাংকেতিক চিহ্ন সমূহকে বর্ণ বলে।
- বর্ণ হলো দৃশ্যগ্রাহ্য রূপ।

অন্যদিকে, 
• শব্দের ক্ষুদ্রতম অংশকে - ধ্বনি বলে। 
-  ধ্বনি হলো- শ্রুতিগ্রাহ্য রূপ।

• বাগযন্ত্রের স্বল্পতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছকে অক্ষর বলে।
যেমন-
- সমাবর্তন শব্দে চারটি অক্ষর আছে।
- সম+আ+√বৃৎ +অন = সমাবর্তন।

----------------
• বর্ণ:
- ভাষার ক্ষুদ্রতম একককে ধ্বনি বলে। 
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।
- ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। 
- এই বর্ণ কানে শােনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে।
- ভাষার সবগুলাে বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২- সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৯৭.
পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে তাকে কী বলে?
  1. অর্ধ-দ্বিস্বরধ্বনি
  2. দ্বিস্বরধ্বনি
  3. মিশ্রধ্বনি
  4. ব্যঞ্জনধ্বনি
সঠিক উত্তর:
দ্বিস্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিস্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
দ্বিস্বরধ্বনি:
- পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।
যেমন:
- 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্] তৈরি হয়েছে।
- দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
- [আই]: তাই, নাই,
- [এই]: সেই, নেই,
- [উই]: দুই, রুই,
- [ওউ]: মৌ, বউ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।
১৯৮.
নিচের কোনটি র্‌ - জাত বিসর্গের উদাহরণ?
  1. নমঃ
  2. পুনঃ
  3. পুরঃ
  4. শিরঃ
সঠিক উত্তর:
পুনঃ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনঃ
ব্যাখ্যা
বিসর্গ সন্ধি:
সংস্কৃত সন্ধির নিয়মে পদের অন্তস্থিত র্‌ ও স্‌ অনেক ক্ষেত্রে অঘোষ উষ্মধ্বনি অর্থাৎ হ ধ্বনিরূপে উচ্চারিত হয় এবং তা বিসর্গ (ঃ) রূপে লেখা হয়।
- র্‌ ও স্‌ বিসর্গ ব্যঞ্জনধ্বনিমালার অন্তর্গত। সে কারণে বিসর্গ সন্ধি ব্যঞ্জনসন্ধির অন্তর্গত।
- বস্তুত বিসর্গ র্‌ এবং স্‌ এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
- বিসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১. র্‌ - জাত বিসর্গ ও 
২. স্‌ - জাত বিসর্গ।

১. র্‌ - জাত বিসর্গ:
র স্থানে যে বিসর্গ হয় তাকে র্‌ - জাত বিসর্গ বলে।
যেমন -
অন্তর - অন্তঃ,
প্রাতর - প্রাতঃ,
পুনর - পুনঃ ইত্যাদি।

২. স্‌ - জাত বিসর্গ:
স স্থানে যে বিসর্গ হয় তাকে স্‌ - জাত বিসর্গ বলে।
যেমন -
নমস্‌ - নমঃ,
পুরস্‌ - পুরঃ,
শিরস্‌ - শিরঃ ইত্যাদি।

বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্‌ ও স্‌ - এর সাথে স্বরধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯৯.
'বিশ্ববিদ্যালয়' শব্দে কয়টি অক্ষর রয়েছে?
  1. ৭টি 
  2. ৬টি 
  3. ৫টি 
  4. ৪টি 
সঠিক উত্তর:
৫টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি 
ব্যাখ্যা

• অক্ষর:
এর ইংরেজি নাম - syllable. অল্প প্রয়াসে যে ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ একবারে উচ্চারিত হয় তাকে অক্ষর বলে। তাই একে শব্দাংশ ও বলা হয়।

অক্ষর মূলত দুই প্রকার।
যথা-
- মুক্তাক্ষর: টানা যাবে (যেমন- ক/লা)
- বদ্ধাক্ষর: টানা যাবে না (যেমন- দিন, রাত)

যেমন: 'বিশ্ববিদ্যালয়' শব্দে ৫টি অক্ষর রয়েছে (বি + শ্ব + বি + দ্যা + লয়)।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২০০.
কোনটি অগ্র দন্তমূলীয় বর্ণের উদাহরণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

অগ্র দন্তমূলীয় বর্ণ:
- ত, থ, দ, ধ, ন, , স।

অন্যদিকে,
জিহ্বামূলীয় বর্ণ:
- ক, খ, গ, ঘ,

অগ্রতালু বা তালব্য বর্ণ বর্ণ:
- চ, ছ, , ঝ, ঞ, , য, য়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।