বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধ্বনিতত্ত্ব

মোট প্রশ্ন৬,৩২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধ্বনিতত্ত্ব

PrepBank · পাতা / ৬৩ · ২০১৩০০ / ৬,৩২৭

২০১.
’ফাল্গুন > ফাগুন’-এখানে কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. অভিশ্রুতি
  2. ব্যঞ্জন বিকৃতি:
  3. অন্তর্হতি
  4. ব্যঞ্জনচ্যুতি
সঠিক উত্তর:
অন্তর্হতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্তর্হতি
ব্যাখ্যা
• অন্তর্হতি:
- অন্তর্হতি পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন-
- ফাল্গুন>ফাগুন,
- ফলাহার > ফলার,
- আলাহিদা >আলাদা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন- কবাট>কপাট, ধোবা>ধোপা, ধাইমা> দাইমা ইত্যাদি।
 
• ব্যঞ্জনচ্যুতি:
পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন: বউদিদি >বউদি, বড় দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

• অভিশ্রুতি :
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন-  বলিয়া>বলে, হাটুয়া > হাউটা > হেটো, মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
২০২.
বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাযুক্ত বর্ণ কয়টি?
  1. ৩২
  2. ৪০
  3. ১০
সঠিক উত্তর:
৪০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪০
ব্যাখ্যা
- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ সংখ্যা ৫০টি।
- যার ১১টি স্বরবর্ণ এবং ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ।
- স্বরবর্ণের ৬টি বর্ণের মধ্যে টি পূর্ণমাত্রার, ১টি অর্ধমাত্রার এবং ৪টি মাত্রাহীন বর্ণ রয়েছে।
- ব্যঞ্জনবর্ণের ৩৯টি বর্ণের মধ্যে ২৬টি পূর্ণমাত্রার, ৭টি অর্ধমাত্রার এবং ৬টি মাত্রাহীন বর্ণ রয়েছে।
- বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণমাত্রার বর্ণ ৩২টি অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮টি এবং মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি।
- সুতরাং মাত্রাযুক্ত বর্ণ ৩২+৮=৪০ টি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২০৩.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. মহেশ 
  2. পবিত্র 
  3. প্রত্যুষ 
  4. ষোড়শ
সঠিক উত্তর:
ষোড়শ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষোড়শ
ব্যাখ্যা

নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
নিচে কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- আ + পদ = আস্পদ,
- পর + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক + দশ = একাদশ,
- হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- মহেশ = মহা + ঈশ;
-  প্রত্যুষ = প্রতি + ঊষ ;
- পবিত্র = পো + ইত্র।
- শব্দগুলো স্বরসন্ধির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২০৪.
'অহর্নিশ' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অহঃ + নিশা
  2. অহর + নিশ
  3. অহঃ + নিশ
  4. অহ + নিশ
সঠিক উত্তর:
অহঃ + নিশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অহঃ + নিশা
ব্যাখ্যা
বিসর্গ সন্ধি:
- সংস্কৃত সন্ধির নিয়মে পদের অন্তস্থিত র্‌ ও স্‌ অনেক ক্ষেত্রে অঘোষ উষ্মধ্বনি অর্থাৎ হ ধ্বনিরূপে উচ্চারিত হয় এবং তা বিসর্গ (ঃ) রূপে লেখা হয়।
- র্‌ ও স্‌ বিসর্গ ব্যঞ্জনধ্বনিমালার অন্তর্গত।
- সে কারণে বিসর্গ সন্ধি ব্যঞ্জনসন্ধির অন্তর্গত।
- বস্তুত বিসর্গ র্‌ এবং স্‌ এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
- বিসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১. র্‌ - জাত বিসর্গ ও 
২. স্‌ - জাত বিসর্গ।
- বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্‌ ও স্‌ - এর সাথে স্বরধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।

কয়েকটি বিশেষ বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ:
- বাচঃ + পতি = বাচস্পতি,
- ভাঃ + কর = ভাস্কর,
- অহঃ + নিশা = অহর্নিশ,
- অহঃ + অহ = অহরহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০৫.
'মৃন্ময়' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. মৃন্‌ + ময়
  2. মৃৎ + ময়
  3. মৃন্‌ + অয়
  4. মৃ + ময়
সঠিক উত্তর:
মৃৎ + ময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃৎ + ময়
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম: 
- আগে ৎ বা দ্‌ এবং পরে ৎ + ন/ম্ থাকলে ৎ বা দ্‌ স্থানে ন্ দ্ + ন হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে ন্ন কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে ন্ম হয়।
- কিন্তু, দ্-এর পর ল্ থাকলে ৎ/দ্ সন্ধিতে ল্ দ্ + ম হয় এবং ল্ পরের ল-এর ৎ+ সঙ্গে মিলে ল্ল হয়।
যেমন:
- উৎ + নতি = উন্নতি,
- তদ্‌ + নিমিত্ত = তন্নিমিত্ত,
- মৃৎ + ময় = মৃন্ময়,
- তদ্‌ + মধ্যে = তন্মধ্যে,
- উৎ + লিখিত = উল্লিখিত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২০৬.
'একচ্ছত্র' কোন নিয়মে ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. স্বর + স্বর
  2. স্বর + ব্যঞ্জন
  3. ব্যঞ্জন + স্বর
  4. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
স্বর + ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর + ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• 'একচ্ছত্র'- 'স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি' নিয়মে গঠিত ব্যঞ্জনসন্ধি।

• ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।
ব্যঞ্জনসন্ধি সাধারণত চার নিয়মে হয়, 
১. স্বর+ব্যঞ্জন,
২. ব্যঞ্জন + স্বর,
৩. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন,
৪. নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি।
--------------------
• 'স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি' নিয়ম: 
যেমন,
• অ + ছ = চ্ছ; এক + ছত্র = একচ্ছত্র,
• আ + ছ = চ্ছ; কথা + ছলে = কথাচ্ছলে,
• ই + ছ = চ্ছ; পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।
এখানে পূর্ববর্তী স্বরের প্রভাবে পরবর্তী ছ- এর জায়গায় 'চ্ছ' হয়েছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০৭.
নিচের কোন শব্দে 'অ' বর্ণের উচ্চারণ [ও] এর মতো নয়?
  1. অনাথ
  2. পক্ষ
  3. অদ্য
  4. মন
সঠিক উত্তর:
অনাথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনাথ
ব্যাখ্যা
• 'অ' বর্ণের উচ্চারণ [ও] এর মতো নয় - কথা [কথা]।

'অ' বর্ণের উচ্চারণ:
- স্বরবর্ণ  অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।
- সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।
- অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা], অনাথ [অনাথ্]।
- অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোখো], অদ্য [ওদো], মন [মোন্]।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২০৮.
কোনটি ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ?
  1. লাফ > ফাল
  2. বড় দাদা > বড়দা
  3. জানালা > জান্লা
  4. মুক্তা > মুকুতা
সঠিক উত্তর:
লাফ > ফাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাফ > ফাল
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ: লাফ > ফাল।
---------------------
ধ্বনি বিপর্যয়:
- শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন
- ইংরেজি বাক্স > বাংলা বাস্ক,
- জাপানি রিক্সা বাংলা রিস্কা 
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল।

অন্যদিকে,
. সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ এর উদাহরণ: জানালা > জান্লা ।
. ব্যঞ্জনচ্যুতি এর উদাহরণ: বউদিদি> বউদি, বড় দাদা >বড়দা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই (২০১৮ সালের সংস্কারণ)।
২০৯.
'শাঁখারি' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. শাঁখ + আরি
  2. শাঁখা + আরি
  3. শাঁখা + অরি
  4. শাঁখ +অরি
সঠিক উত্তর:
শাঁখা + আরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাঁখা + আরি
ব্যাখ্যা
• 'শাঁখারি' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ শাঁখা + আরি।
• সূত্র:
- সন্ধিতে দুটি সন্নিহিত স্বরের একটির লোপ হয়। যেমন-
- অ+ এ = এ (অ লোপ), যেমন শত + এক = শতেক। এরূপ কতেক।
- আ + আ = আ (একটি আ লোপ)। যেমন শাঁখা + আরি =শাঁখারি। এরূপ রূপা + আলি = রূপালি।
- আ+ উ = উ (আ লোপ)। যেমন- মিথ্যা + উক = মিথ্যুক। এরূপ হিংসুক, নিন্দুক ইত্যাদি।
- ই + এ = ই (এ লোপ)। যেমন কুড়ি + এক = কুড়িক। এরূপ ধনিক, গুটিক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২১০.
'প্রিয়ংবদা' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্রিয়ন্‌ + বদা
  2. প্রিয়ম্‌ + বদা
  3. প্রিয়ং + বদা
  4. প্রিয় + অংবদা
সঠিক উত্তর:
প্রিয়ম্‌ + বদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রিয়ম্‌ + বদা
ব্যাখ্যা
• 'প্রিয়ংবদা' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ - প্রিয়ম্‌ + বদা

ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
- এদিক থেকে ব্যঞ্জন সন্ধিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি,
২. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি,
৩. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি।

• ম্-এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে, ম্ স্থলে অনুস্বার (ং) হয়।
যেমন -
- সম্ + যম = সংযম,
- সম্ + বাদ = সংবাদ,
- সম্ + রক্ষণ = সংরক্ষণ,
- সম্ + লাপ = সংলাপ
- সম্ + শয় = সংশয়
- সম্ + সার = সংসার,
- সম্ + হার = সংহার,
- প্রিয়ম্‌ + বদা = প্রিয়ংবদা
এরূপ - বারংবার, কিংবা, সংবরণ, সংযোগ, সংযোজন, সংশোধন, সর্বংসহা, স্বয়ংবরা।

ব্যতিক্রম: সম্রাট (সম্ + রাট)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২১১.
ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ যা অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলোকে কী বলা হয়?
  1. কারবর্ণ
  2. ফলা
  3. রেফ
  4. সংখ্যাবর্ণ
সঠিক উত্তর:
ফলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফলা
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলোকে ফলা বলে। 

• ফলা:

ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলোকে ফলা বলে।
বাংলা বর্ণমালায় ফলা বর্ণ ৬টি।
যেমন:
- ন-ফলা,
- ব-ফলা,
- ম-ফলা,
- য-ফলা,
- র- ফলা,
- ল-ফলা।

• রেফ:
র-এর একটি অনুবর্ণ রেফ (‘)।

বর্ণসংক্ষেপ:
যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময়ে বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়ােজন হয়। এগুলাে বর্ণসংক্ষেপ।

• কারবর্ণ:
- স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে 'কার' বলে। 
- স্বরবর্ণের মােট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে, এগুলাের নাম কারবর্ণ।
এগুলো হলো: [ া, ি, ী, ু, ূ, ৃ, ে, ৈ, ে-া, ৈ-া ]
- কারবর্ণের স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই। এগুলাে ব্যঞ্জনবর্ণের আগে, পরে, উপরে, নিচে বা উভয় দিকে যুক্ত হয়।
- কোনাে ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ বা হসৃচিহ্ন না থাকলে ব্যঞ্জনটির সঙ্গে একটি অ আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।
- 'অ' স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ নেই। 
- তাই 'অ' একটি নিলীন বর্ণ। 

সংখ্যাবর্ণ:
বাংলা ভাষায় সংখ্যা নির্দেশের জন্য দশটি সংখ্যাবর্ণ রয়েছে। 
যথা- ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ০

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
২১২.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অভি + ঈষ্ট = অভীষ্ট
  2. প্রতি + ইতি = প্রতীতি
  3. অতী + ইত = অতীত
  4. অতী + ইন্দ্র = অতীন্দ্র
সঠিক উত্তর:
প্রতি + ইতি = প্রতীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতি + ইতি = প্রতীতি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ- প্রতি + ইতি = প্রতীতি। 

• স্বরসন্ধির নিয়ম:
প্রথম পদের শেষের হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির যোগে দীর্ঘ-ঈ হয়।বানানে তা দীর্ঘ-ঈ-কার হয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

যেমন:
সূত্র: ই + ই = ঈ:
- অতি + ইত = অতীত,
- অভি + ইষ্ট = অভীষ্ট,
- প্রতি + ইতি = প্রতীতি,
- অতি + ইন্দ্র = অতীন্দ্র।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
২১৩.
বাংলা ভাষায় মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনির সংখ্যা কতটি?
  1. ৩৭টি
  2. ৩২টি
  3. ২৯টি
  4. ৩০টি
সঠিক উত্তর:
৩০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০টি
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষায় মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি

• বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।
- এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।

• মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।

• মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি: [প্], [ফ্], [], [ভ্], [ত্], [থ্], [দ], [ধ], [ট্‌], [ঠ], [ড্‌], [ট্‌], [চ্], [ছ], [জ], ঝা, [ক্], [খ্], [গ], [ঘ], [ম্], [], [], [স], [শ], [হ্], [ল্], [র্], [ড় ], [ঢ় ]।
- এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হয়েছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

২১৪.
'সন্ধি' ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. ক) রূপতত্ত্ব
  2. খ) ধ্বনিতত্ত্ব
  3. গ) অর্থতত্ত্ব
  4. ঘ) বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
খ) ধ্বনিতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়:
- প্রত্যেক ভাষারই চারটি মৌলিক অংশ থাকে।
যেমন-
১. ধ্বনি (Sound), 
২. শব্দ (Word), 
৩. বাক্য (Sentence) এবং 
৪. অর্থ (Meaning)। 

- সব ভাষারই ব্যাকরণে প্রধানত নিম্নলিখিত চারটি বিষয়ের আলোচনা করা হয়।
১. ধ্বনিতত্ত্ব (Phonology), 
২. শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব (Morphology), 
৩. বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম (Syntax) এবং 
৪. অর্থতত্ত্ব (Semantics) । 
- এ ছাড়া অভিধানতত্ত্ব (Lexicography), ছন্দ ও অলংকার প্রভৃতিও ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়। 

ধ্বনিতত্ত্ব
- মানুষের বাক-প্রত্যঙ্গ অর্থাৎ কণ্ঠনালী, মুখবিবর, জিহ্বা, আল-জিহ্বা, কোমল তালু, শক্ত তালু, দাঁত, মাড়ি, চোয়াল, ঠোঁট ইত্যাদির সাহায্যে উচ্চারিত আওয়াজকে ‘ধ্বনি’ বলা হয়।
- বাক-প্রত্যঙ্গজাত ধ্বনির সূক্ষ্মতম মৌলিক অংশ বা একককে (Unit) ধ্বনিমূল (phoneme) বলা হয়।
- বাক-প্রত্যঙ্গজাত প্রত্যেকটি ধ্বনি এককের জন্য প্রত্যেক ভাষারই লেখার সময় এক একটি প্রতীক বা চিহ্ন (Symbol) ব্যবহৃত হয়।
- ধ্বনির উচ্চারণপ্রণালী, উচ্চারণের স্থান, ধ্বনির প্রতীক বা বর্ণের বিন্যাস, ধ্বনিসংযোগ বা সন্ধি, ধ্বনির পরিবর্তন ও লোপ, ণত্ব ও ষত্ব বিধান ইত্যাদি বাংলা ব্যাকরণে ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। 

উৎস
: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৫.
ধ্বনি নির্দেশক প্রতীক কোনটি? 
  1. বর্ণ 
  2. শব্দ
  3. বাক্য 
  4. ফলা 
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
বর্ণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণ 
ব্যাখ্যা

• ধ্বনি নির্দেশক প্রতীক বা চিহ্নকে - বর্ণ বলে।
- ভাষা লিখে প্রকাশ করার সাংকেতিক চিহ্ন সমূহকে বর্ণ বলে।
- বর্ণ হলো ধ্বনির দৃশ্যগ্রাহ্য রূপ।

উল্লেখ্য, 
- শব্দের ক্ষুদ্রতম অংশকে - ধ্বনি বলে।
- ধ্বনি হলো - শ্রুতিগ্রাহ্য রূপ।
- বাগ্‌যন্ত্রের স্বল্পতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছকে অক্ষর বলে।
- ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২১৬.
‘ঋ, র, ষ’ এর পরে মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়- এই নিয়ম অনুসারে গঠিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. অরণ্য
  2. ঘৃণা
  3. নারায়ণ
  4. চূর্ণ
সঠিক উত্তর:
নারায়ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারায়ণ
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান:
- যে রীতি অনুসারে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের বানানে ‘ন’ (দন্ত্য-ন) স্থানে ‘ণ’ (মূর্ধন্য-ণ) ব্যবহৃত হয়, তাকে ণ-ত্ববিধান বলে।
অর্থাৎ, তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
যেমন- ঋণ, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ ইত্যাদি।
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন -এর ব্যবহার আছে, তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।

• ণ-ত্ব-বিধানের নিয়ম:
১. ঋ, র, ষ- এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, ঘৃণা, অরণ্য, বর্ণ, চূর্ণ, পাষাণ, কৃষাণ ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে সংযুক্ত আকারে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য ‘ণ’ যুক্ত হয়। যেমন-কণ্টক, ঘণ্টান, অকুণ্ঠ, কাণ্ড, খণ্ড ইত্যাদি।

৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য় ব হ ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়।
যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তারপরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প্ + অ + ণ্), লক্ষণ (ক্ + ষ্ + অ + ন্)। এরূপ- তর্পণ, বর্ষণ, সমর্পণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

৪. পরি, প্র, নির-এ তিনটি উপসর্গের পর ণ-ত্ব বিধি অনুসারে ন-ধ্বনি লিখতে মূর্ধন্য ণ হয়। যেমন- পরিণত, পরিবহণ, প্রমাণ, প্রবণ, পরিণয়, প্রণত। ব্যতিক্রম: পরিনির্বাণ, নির্নিমেষ, প্রনষ্ট, পরিবহন বানানও শুদ্ধ।

৫. উত্তর, পর, পার, রবীন্দ্র, চন্দ্র, নার শব্দের পরে ‘অয়ন’/‘আয়ন’ প্রত্যয় হলে দন্ত্য ন পাল্টে মূর্ধন্য ণ হয়।
যেমন- উত্তর + অয়ন = উত্তরায়ণ, পর + অয়ন = পরায়ণ, রবীন্দ্র + অয়ন = রবীন্দ্রায়ণ, চন্দ্র + অয়ন = চন্দ্রায়ণ, নর + অয়ন = নারায়ণ ইত্যাদি।

• ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
• সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না, এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন' হয়।
যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।

• ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো ণ হয় না, ন হয়।
যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন ইত্যাদি।

• বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ণ লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৭.
ধ্বনি বিপর্যয় এর উদাহরণ কোনটি?
  1. বাক্‌স > বাস্‌ক
  2. মুড়া > মুড়ো
  3. মোজা > মুজো
  4. দেশি > দিশি
সঠিক উত্তর:
বাক্‌স > বাস্‌ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্‌স > বাস্‌ক
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি বিপর্যয়: শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
- এতে দুটি বর্ণের মধ্যে জায়গা পরিবর্তন হয়।
যেমন:
- পিশাচ ˃ পিচাশ,
- লাফ ˃ ফাল,
- বাক্‌স > বাস্‌ক,
- রিকসা্‌ > রিস্‌কা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২১৮.
"ধাইমা > দাইমা" - এটি কোন প্রকার ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. অন্তর্হতি
  2. ব্যঞ্জনবিকৃতি
  3. অভিশ্রুতি
  4. বিষমীভবন
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জনবিকৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জনবিকৃতি
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জনবিকৃতি:
- শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।

যেমন:
- কবাট > কপাট,
- ধােবা > ধােপা,
- ধাইমা > দাইমা,
- শাক > শাগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২১৯.
'জ, ঝ, শ' কোন ধরনের ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ?
  1. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  2. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  3. তালব্য ব্যঞ্জন
  4. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
তালব্য ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালব্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। যেমন: চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।


অন্যদিকে,
• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনিগুলো হলো- ক, খ, গ, ঘ, ঙ।

• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত। পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২২০.
প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে, কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. নিস্পৃহ
  2. শ্রদ্ধাস্পদেষু
  3. বিষ্ফোরণ 
  4. স্পষ্ট
সঠিক উত্তর:
বিষ্ফোরণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ফোরণ 
ব্যাখ্যা

• ষ-ত্ব বিধান:
- সংস্কৃত ভাষায় মূর্ধন্য ষ ব্যবহারের নিয়ম আছে।
- সেই কারণে বাংলা ভাষায় যেসব অবিকৃত সংস্কৃত শব্দ ব্যবহৃত হয়, সেগুলোর বানানেও মূর্ধন্য ষ-এর ব্যবহার প্রচলিত।
- অবিকৃত সংস্কৃত শব্দে কোন নিয়মে মূর্ধন্য ষ লেখা হবে—এই বিধানকেই ষ-ত্ব বিধান বলা হয়।

- বাংলা ভাষায় মূর্ধন্য ষ-এর জন্য আলাদা কোনো বিশেষ উচ্চারণ নেই।
- তাই খাঁটি বাংলা শব্দ ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য ষ ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।
------------------------- 
উল্লেখ্য, 
- যেসব ক্ষেত্রে ‘ষ’-এর ব্যবহার হয় না—
১. খাঁটি বাংলা শব্দ এবং ক্রিয়াপদে কখনোই ‘ষ’ হয় না। যেমন—করিস, দিস্‌, যাস ইত্যাদি।
২. বিদেশি শব্দে কখনোই ‘ষ’ হয় না। যেমন—পোশাক, জিনিস, অফিস, স্টেশন ইত্যাদি।
৩. ‘স্পৃহ’ বা ‘স্পন্দ’ ধাতুর ‘স’ কখনো ‘ষ’ হয় না। যেমন—নিস্পৃহ, নিস্পন্দ ইত্যাদি।
৪. ‘স্ফুট’ ও ‘স্ফুর’ ধাতুর ‘স’ কখনো ‘ষ’ হয় না। যেমন—বিস্ফোরণ, পরিস্ফুট ইত্যাদি।
৫. চ-বর্গীয় বর্ণ অর্থাৎ তালব্য বর্ণ এবং ত-বর্গীয় বর্ণ অর্থাৎ দন্ত্য বর্ণের সঙ্গে কখনোই ‘ষ’ যুক্ত হয় না। যেমন—নিশ্ছিদ্র, বিস্তর, দুস্থ ইত্যাদি।৬. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স, ষ হয়।
যেমন - শ্রদ্ধাস্পদেষু, শ্রদ্ধাভাজনেষু ইত্যাদি।
- কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে 'স' হয়।
যেমন - শ্রদ্ধাস্পদাসু।
৭. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়।
যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

উৎস: 
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; 
বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২১.
"উড্ডীন" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. উদ্‌ + ডীন
  2. উৎ + ডীন
  3. উদ্‌ + ড্ডীন
  4. উৎ + ড্ডয়ন
সঠিক উত্তর:
উৎ + ডীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎ + ডীন
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনির সন্ধি:

যেমন:
উৎ + চারণ = উচ্চারণ, 
বিপদ্ + চয় = বিপচ্চয়, 
যাবৎ + জীবন = যাবজ্জীবন, 
বিপদ্ + জনক = বিপজ্জনক, 
উৎ + ডীন = উড্ডীন
উৎ + লিখিত = উল্লিখিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২২২.
অদ্রীশ শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ হবে কোনটি?
  1. ক) অদ্রি + ঈশ
  2. খ) অদ্রী + ইশ
  3. গ) অদ্রি + ইশ
  4. ঘ) অদ্রী + ঈশ
সঠিক উত্তর:
ক) অদ্রি + ঈশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অদ্রি + ঈশ
ব্যাখ্যা

ই/ঈ এরপরে ই/ঈ থাকলে উভয়ে মিলে ঈ হয় এবং তা ই/ঈ-র আগের ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
১) ই+ই = ঈ
অতি+ইত = অতীত
গিরি+ইন্দ্র= গিরীন্দ্র
অতি+ইব= অতীব
প্রতি+ইত= প্রতীত
রবি+ইন্দ্র = রবীন্দ্র
২) ই+ঈ = ঈ
পরি+ঈক্ষা = পরীক্ষা
প্রতি+ঈক্ষা= প্রতীক্ষা
৩) ঈ+ই = ঈ
সতী+ইন্দ্র = সতীন্দ্র
মহী+ইন্দ্র = মহীন্দ্র
৪) ঈ+ঈ = ঈ
সতী+ঈশ = সতীশ
ক্ষিতী+ঈশ= ক্ষিতীশ
শ্রী+ঈশ = শ্রীশ
পৃথ্বী+ঈশ = পৃথ্বীশ
দিল্লী+ঈশ্বর = দিল্লীশ্বর
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২২৩.
'বনৌষধি' শব্দটি সন্ধির কোন সুত্রানুসারে সিদ্ধ হয়?
  1. অ/আ+উ/ঊ = ও
  2. অ/আ+এ/ঐ = ঐ
  3. অ/আ+ও/ঔ = ঔ
  4. ঔ+ অন্য স্বর = আবৃ+স্বর
সঠিক উত্তর:
অ/আ+ও/ঔ = ঔ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ/আ+ও/ঔ = ঔ
ব্যাখ্যা
স্বরসন্ধি স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

স্বরসন্ধি গঠনের সুত্র সমূহ:

- সূত্র ১: অ/আ+অ/আ = আ।
যেমন – উত্তর+অধিকার = উত্তরাধিকার, আশা+অতীত = আশাতীত

- সূত্র-২: ই/ঈইঈ = ঈ।
যেমন – অতি+ইন্দ্রিয় = অতীন্দ্রিয়, পরি+ঈক্ষা = পরীক্ষা

- সূত্র-৩: উ/উ+উ/ঊ = উ।
যেমন – মরু+উদ্যান = মরূদ্যান

- সূত্র-৪: অ/আ+ই/ঈ = এ।
যেমন – শুভ+ইচ্ছা = শুভেচ্ছা

- সূত্র-৫: অ/আ+উ/ঊ = ও।
যেমন – সূর্য+উদয় = সূর্যোদয়

- সূত্র-৬: অ/আ+ঋ = অর্।
যেমন – মহা+ঋষি = মহর্ষি।

- সূত্র-৭: অ/আ+ঋত = আর্।
যেমন – শীত+ঋত = শীতার্ত

- সূত্র-৮: অ/আ+এ/ঐ = ঐ।
যেমন – জন+এক = জনৈক

- সূত্র-৯: অ/আ+ও/ঔ = ঔ।
যেমন – বন+ওষধি = বনৌষধি


- সূত্র-১০: ই/ঈ+অন্য স্বর = য+স্বর।
যেমন – প্রতি+এক = প্রত্যেক

- সূত্র-১১: উ/উ+অন্য স্বর = বু+স্বর।
যেমন – সু+অল্প = স্বল্প

- সূত্র-১২: ঋ+অন্য স্বর = রূস্বর।
যেমন - পিতৃ+আলয় = পিত্রালয়।

- সূত্র-১৩: এ + অন্য ঘর = অ+স্বর।
যেমন – শে+অন = শয়ন

- সূত্র-১৪: ঐ+ অন্য স্বর = আয়ু+স্বর।
যেমন – নৈ+অক = নায়ক

- সূত্র-১৫: ও+ অন্য স্বর = অবৃ+স্বর।
যেমন – গাে+আদি = গবাদি

- সূত্র-১৬: ঔ+ অন্য স্বর = আবৃ+স্বর।
যেমন – নৌ+ইক = নাবিক

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২২৪.
নিচের কোনটি বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. সম্‌ + চয় = সঞ্চয়
  2. সম্‌ + তাপ = সন্তাপ
  3. সম্‌ + যম = সংযম
  4. সম্‌ + কার = সংস্কার
সঠিক উত্তর:
সম্‌ + কার = সংস্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্‌ + কার = সংস্কার
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়মানুসারে,
- ম্ - এর পর যে কোনো বর্গীয় ধ্বনি থাকলে ম্ ধ্বনিটি সেই বর্গের নাসিক্য ধ্বনি হয়।
যেমন -
- ম্ + ক্ = ঙ + ক্‌ ⇒ শম্ + কা =শঙ্কা।
- ম্ + চ্ = ঞ + চ্  ⇒ সম্ + চয় = সঞ্চয়
- ম্ + ত্ = ন্ + ত্  ⇒ সম্ + তাপ = সন্তাপ

- ম্ - এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে, ম্ স্থলে অনুস্বার (ং) হয়।
যেমন -
- সম্ + যম = সংযম,
- সম্ + লাপ = সংলাপ,
- সম্ + হার = সংহার,
- সম্ + বাদ = সংবাদ,
- সম্ + শয় = সংশয়,
- সম্+ রক্ষণ = সংরক্ষণ,
- সম্ + সার = সংসার।

বিশেষ নিয়মে সাধিত কতগুলো ব্যঞ্জনসান্ধি:
- উৎ + স্থান = উত্থান,
- সম্‌ + কার = সংস্কার,
- উৎ + স্থাপন = উত্থাপন,
- সম্‌ + কৃত = সংস্কৃত,
- পরি + কার = পরিষ্কার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২২৫.
কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি শুদ্ধ?
  1. গঙ্গা + উর্মি = গঙ্গোর্মি
  2. ভূ + ঊর্ধ্ব = ভূর্ধ্ব
  3. নদ + অম্বু = নদ্যম্বু
  4. প্রতী+ ইক্ষা = প্রতীক্ষা
সঠিক উত্তর:
ভূ + ঊর্ধ্ব = ভূর্ধ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূ + ঊর্ধ্ব = ভূর্ধ্ব
ব্যাখ্যা
• সূত্র: উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঊ-কার হয়; এই নিয়মে গঠিত। 
যেমন:
- মরু + উদ্যান = মরূদ্যান। 
- বধূ + উৎসব = বধূৎসব।
- ভূ+ ঊর্ধ্ব = ভূর্ধ্ব।

অন্যদিকে,
• সূত্র: ই/ঈ এরপরে ই/ঈ থাকলে উভয়ে মিলে ঈ হয় এবং তা ই/ঈ-র আগের ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
সুতরাং, ই+ঈ = ঈ;
- পরি+ঈক্ষা = পরীক্ষা।
- প্রতি+ঈক্ষা= প্রতীক্ষা।

• সূত্র: ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে 'য' বা য-ফলা হয়। 
যেমন:
- অতি + অন্ত = অত্যন্ত,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ,
- নদী + অম্বু = নদ্যম্বু।

• সূত্র: অ-কার কিংবা আ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ও-কার হয়।
সুতরাং, আ + ঊ = ও ;
- গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২২৬.
কোনটি নিলীন বর্ণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
'অ' নিলীন বর্ণ:
- ‘অ' কোনো বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হলে দেখা যায় না।
- কারণ ‘অ’-এর কোনো সংক্ষিপ্ত রূপ নেই।
- কিন্তু 'অ' ছাড়া বাকি স্বরধ্বনিগুলোর সংক্ষিপ্ত রূপ আছে বলে সেগুলো কোনো বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হলে দেখা যায়।
যেমন:
- কর = কর্ + অ (‘অ') দেখা যায় না।
- করা = কর্ + আ (‘আ’ দেখা যায়।
- অর্থাৎ ‘অ’ অন্য বর্ণের সঙ্গে লুকিয়ে থাকতে পারে বা নিঃশেষে লীন হয়ে থাকতে পারে বলে নিলীন বর্ণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২৭.
পিতৃ + আলয় =পিত্রালয় - কোন সূত্রে সিদ্ধ?
  1. ক) ই/ঈ + ই/ঈ =ঈ
  2. খ) অ/আ + ই/ঈ =এ
  3. গ) ঋ+অন্য স্বর = র্‌ + স্বর
  4. ঘ) উ/ঊ + অন্য স্বর =ব্‌ + স্বর
সঠিক উত্তর:
গ) ঋ+অন্য স্বর = র্‌ + স্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঋ+অন্য স্বর = র্‌ + স্বর
ব্যাখ্যা
• সূত্র: ঋ+অন্য স্বর = র্‌ + স্বর।
যেমন- পিতৃ+আলয় = পিত্রালয়

স্বরসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
- স্বরসন্ধি গঠনের সুত্র সমূহ:

• অ/আ+অ/আ = আ। যেমন- উত্তর+অধিকার = উত্তরাধিকার, আশা+অতীত = আশাতীত।
• ই/ঈ + ই/ঈ = ঈ। যেমন- অতি+ইন্দ্রিয় = অতীন্দ্রিয়, পরি+ঈক্ষা = পরীক্ষা।
• উ/উ + উ/ঊ = উ। যেমন- মরু+উদ্যান = মরূদ্যান।
• উ/ঊ + অন্য স্বর =ব্‌ + স্বর। যেমন- সু+অল্প = স্বল্প।
• অ/আ + ই/ঈ = এ। যেমন- শুভ+ইচ্ছা = শুভেচ্ছা
• অ/আ+ঋ = অর্। যেমন- মহা+ঋষি = মহর্ষি।
• ঐ+ অন্য স্বর = আয়্‌+স্বর। যেমন- নৈ+অক = নায়ক।
• ও + অন্য স্বর = অব্‌+স্বর। যেমন- গাে+আদি = গবাদি
• ঔ + অন্য স্বর = আব্‌+স্বর। যেমন- নৌ+ইক = নাবিক

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২২৮.
নিচের কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. ক) কবি + য = কাব্য
  2. খ) সম + য = সাম্য
  3. গ) মধুর + য = মাধুর্য
  4. ঘ) সভা + য = সভ্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) সভা + য = সভ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সভা + য = সভ্য
ব্যাখ্যা
‘য’ প্রত্যয় যুক্ত হলে প্রাতিপাদিকের অন্তে স্থিত অ, আ, ই, এবং ঈ - এর লোপ হয়।
যথা - সম্ + য = সাম্য, কবি + য = কাব্য, মধুর + য = মাধুর্য্য।
কিন্তু, সভা + য = সভ্য (সাভ্য নয়) এটি ব্যতিক্রম।
উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী
২২৯.
'মনীষা' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মনস্‌ + ইষা
  2. মন্‌ + ঈষা
  3. মনঃ + ঈষা
  4. মনস্ + ঈষা
সঠিক উত্তর:
মনস্ + ঈষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনস্ + ঈষা
ব্যাখ্যা
• কতগুলো সন্ধি নিপাতনে সিদ্ধ হয়:
- আ+ চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোম্পদ,
- বন্ + পতি = বনস্পতি,  
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
- তৎ+ কর = তস্কর,
- পর্ + পর = পরস্পর,
- মনস্ + ঈষা = মনীষা,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ, 
- এক্ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩০.
এ, ও কোন ধরণের স্বরধ্বনি?
  1. ক) নিম্ন মধ্য স্বরধ্বনি
  2. খ) উচ্চ স্বরধ্বনি
  3. গ) উচ্চ মধ্য স্বরধ্বনি
  4. ঘ) নিম্ন স্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর:
গ) উচ্চ মধ্য স্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উচ্চ মধ্য স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত :
- উচ্চ স্বরধ্বনি:- ই, উ
- উচ্চ মধ্য স্বরধ্বনি:-এ ,ও
- নিম্ন মধ্য স্বরধ্বনি:- অ্যা, অ
- নিম্ন স্বরধ্বনি:- আ

- উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ উপরে ওঠে
- নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।


[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ]
 
২৩১.
কোন দুটি ঘোষ ব্যঞ্জন?
  1. ফ, ত
  2. স, ট
  3. ছ, শ
  4. ম, দ
সঠিক উত্তর:
ম, দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম, দ
ব্যাখ্যা
ঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি।
যথা-
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অন্যদিকে,
অঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে অঘোষ ব্যঞ্জন বলা হয়।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৩২.
‘অতীন্দ্র’ শব্দের শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অতী + ইন্দ্র
  2. অতি + ইন্দ্র
  3. অতী + ঈন্দ্র
  4. অতিন + ইন্দ্র
সঠিক উত্তর:
অতি + ইন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতি + ইন্দ্র
ব্যাখ্যা
স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
• সূত্র: ই + ই = ঈ:
- অতি + ইত = অতীত,
- অভি + ইষ্ট= অভীষ্ট,
- প্রতি + ইতি = প্রতীতি,
- অতি + ইন্দ্র = অতীন্দ্র।

• সূত্র: ই + ঈ = ঈ:
- গিরি + ঈশ = গিরীশ,
- অধি+ ঈশ্বর = অধীশ্বর,
- ক্ষিতি + ঈশ = ক্ষিতীশ,
- অভি + ঈপ্সা = অভীপ্সা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৩৩.
বাংলা বর্নমালায় মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা কয়টি?
  1. ক) ৭
  2. খ) ৮
  3. গ) ১১
  4. ঘ) ১০
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০
ব্যাখ্যা
বাংলা বর্ণমালায় বর্ণসংখ্যা  ৫০টি-( স্বরবর্ণ ১১ টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯ টি) - ৫০টি। 
- তন্মধ্যে মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি
- অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮ টি এবং
- পূর্ণমাত্রার বর্ণ ৩২ টি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৩৪.
কোনটি সন্ধিজাত শব্দ?
  1. ক) উন্মনা
  2. খ) দখিনা হাওয়া
  3. গ) মিনতি
  4. ঘ) ফাল্গুন
সঠিক উত্তর:
ক) উন্মনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উন্মনা
ব্যাখ্যা
উন্মনা শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ হচ্ছে - উৎ+মনস্।
আবার এটি বহুব্রীহি সমাসেরও উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
২৩৫.
কোন দু’টি স্বরের মিলিত ধ্বনিতে 'ঐ' ধ্বনির সৃষ্টি হয়?
  1. ও এবং ই
  2. এ এবং ই
  3. অ এবং ই
  4. উ এবং ই
সঠিক উত্তর:
ও এবং ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ও এবং ই
ব্যাখ্যা

দ্বিস্বরধ্বনি:
- পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।
যেমন - লাউ শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্‌] তৈরি হয়েছে।

• দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
[আই্‌]: তাই, নাই। 
[এই্‌]: সেই, নেই। 
[আও্‌]: যাও, দাও। 
[আএ্‌]: খায়, যায়। 

- বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে, যথা: ঐ এবং ঔ। 
- ঐ-এর মধ্যে দুটি ধ্বনি আছে, একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি ই]।
- ঔ-এর মধ্যে রয়েছে একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [উ্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।

২৩৬.
'অধিকতর'- এর সঠিক উচ্চারণ -
  1. অধিকোতরো
  2. ওধিকতর
  3. ওধিকোতরো
  4. অধিকতরও
সঠিক উত্তর:
ওধিকোতরো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওধিকোতরো
ব্যাখ্যা
• ‘অধিকতর’ একটি তৎসম শব্দ, এবং বাংলা ব্যাকরণের শুদ্ধ উচ্চারণরীতি অনুযায়ী, যখন ‘তর’ (তৎসম বিশেষণসূচক প্রত্যয়) শব্দের শেষে যুক্ত হয়, তখন অনেক সময় তা ‘তোরো’ রূপে উচ্চারিত হয়।

• অধিকতর → এর সঠিক উচ্চারণ হয়: ওধিকোতরো।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৩৭.
"অন্তরঙ্গ" শব্দটি কোন সন্ধির নিয়মে গঠিত?
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. বিসর্গসন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
সঠিক উত্তর:
বিসর্গসন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিসর্গসন্ধি
ব্যাখ্যা

 • "অন্তরঙ্গ" শব্দটি বিসর্গসন্ধির নিয়মে গঠিত।

• সন্ধির নিয়ম:
- অন্তঃ, পুনঃ, প্রাতঃ (অন্তর্, পুনর্, প্রাতর্) ইত্যাদির পর স্বরধ্বনি থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গ র হয়ে পরবর্তী স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
অন্তঃ + অঙ্গ = অন্তরঙ্গ,
পুনঃ +অধিকার = পুনরধিকার,
প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ,
অন্তঃ + আত্মা = অন্তরাত্মা,
অন্তঃ + ইত = অন্তরিত,
অন্তঃ + ইন্দ্রিয় = অন্তরিন্দ্রিয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৩৮.
কোনটি অপিনিহিতির উদাহরণ?
  1. মারি > মাইর
  2. বিলাতি > বিলিতি
  3. বলিয়া > বলে
  4. হাটুয়া > হেটো
সঠিক উত্তর:
মারি > মাইর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মারি > মাইর
ব্যাখ্যা

অপিনিহিতি:
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।

যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
স্বরসঙ্গতি:
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন -
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।

অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন-
করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে 'কইরিয়া' কিংবা বিপর্যয়ের ফলে 'কইরা' থেকে অভিশ্রুতিজাত 'করে'।
এরূপ -
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৩৯.
'ষড়যন্ত্র' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ-
  1. ক) ষড় + যন্ত্র
  2. খ) ষ + যন্ত্র
  3. গ) ষড় + অন্ত্র
  4. ঘ) ষট্ + যন্ত্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) ষট্ + যন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ষট্ + যন্ত্র
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জন ধ্বনি সমূহের যে কোনো বর্গের অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনির পর যে কোনো বর্গের ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ তালব্য ধ্বনি, ( য> জ), ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ ধ্বনি ( ব), ঘোষ কম্পনজাত দন্তমূলীয় ধ্বনি ( র) কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনি ( ব) থাকলে প্রথম অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি অল্পপ্রাণরূপে উচ্চারিত হয়।
যথাঃ
ক্ + দ = গ্ + দ        বাক্ + দান = বাগদান
ট্ + য = ড্ + য         ষট্ + যন্ত্র = ষড়যন্ত্র
ত্ + ঘ = দ্ + ঘ         উৎ + ঘাটন = উদঘাটন
ত্ + য = দ্ + য         উৎ + যোগ =উদ্যোগ
ত্ + র = দ্ + র         তৎ + রূপ = তদ্রূপ

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
২৪০.
কোনটি সম্প্রকর্ষ এর উদাহরণ?
  1. আজি > আইজ
  2. দি্‌শ > দিশা
  3. আজি > আজ
  4. বউদিদি > বউদি
সঠিক উত্তর:
আজি > আজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজি > আজ
ব্যাখ্যা
• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন - বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।
- অন্ত্যস্বর লোপ: আশা > আশ, আজি > আজ, চারি > চার (বাংলা), সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ।

• স্বরলোপ বস্তুত স্বরাগমের বিপরীত প্রক্রিয়া।

অন্যদিকে, 
- আজি > আইজ = অপিনিহিতির উদাহরণ।
- দি্‌শ > দিশা = অন্ত্যস্বরাগমের উদাহরণ।
- বউদিদি > বউদি = ব্যঞ্জনচ্যুতির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪১.
কোনটিকে পার্শ্বিক ধ্বনি বলা হয়?
  1. ল 
সঠিক উত্তর:
ল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল 
ব্যাখ্যা

• ল - পার্শ্বিক ধ্বনি। 

পার্শ্বিক ধ্বনি:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস জিভের পিছনের এক বা দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়; দুপাশ দিয়ে বায়ু নিঃসৃত হয় বলে একে পার্শ্বিক ধ্বনি বলে।
বাংলা পার্শ্বিক ধ্বনি মাত্র – ১টি। 'ল' পার্শ্বিক ধ্বনি।
যেমন -
- তাল, দল, শাল প্রভৃতি শব্দে 'ল' পার্শ্বিক ধ্বনি।
- পার্শ্বিক ধ্বনি সাধারণত ঘােষ হয়ে থাকে।

• ক থেকে ম পর্যন্ত পাঁচটি বর্গের মোট ২৫টি বর্ণ - স্পর্শ ধ্বনি।

অন্যদিকে,
ঙ, ঞ, , ন, ম -  নাসিক্য ধ্বনি,
য - তালব্য ধ্বনি,
- কম্পনজাত ধ্বনি,
শ, ষ, - উষ্ম / শিশধ্বনি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৪২.
নিচের কোন বানানটি তে তাড়নজাত ধ্বনি ব্যবহার করা হয়নি?
  1. ক) গাঢ়
  2. খ) রায়
  3. গ) বড়
  4. ঘ) রূঢ়ি
সঠিক উত্তর:
খ) রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রায়
ব্যাখ্যা
ড় ও ঢ় কে তাড়নজাত ধ্বনি বলে। বড়, রাঢ় ও গাঢ় শব্দে তাড়নজাত ধ্বনি ব্যবহার করা হয়েছে। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪৩.
'মহেশ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মহা + ঈশ
  2. মহাঃ + ঈশ
  3. মহা + ইশ
  4. মহাঃ + ইশ
সঠিক উত্তর:
মহা + ঈশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহা + ঈশ
ব্যাখ্যা
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন—
- শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা।
- যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট। 
- পরম + ঈশ = পরমেশ। 
- মহা + ঈশ = মহেশ।

এরূপ –পূর্ণেন্দু, শ্রবণেন্দ্রিয়, স্বেচ্ছা, নরেশ, রমেশ, নরেন্দ্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪৪.
অন্ত্যস্বর লোপ পেয়েছে নিচের কোন উদাহরণে?
  1. অগুরু > অগ্রু
  2. সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ
  3. সুবর্ণ > স্বৰ্ণ
  4. অলাবু > লাবু > লাউ
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ
ব্যাখ্যা

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ: 
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ। যেমন- বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি ।
ক. আদিস্বরলোপ (Aphesis ): যেমন- অলাবু > লাবু > লাউ, উদ্ধার > উধার > ধার।
খ. মধ্যস্বর লোপ (Syncope): অগুরু > অগ্রু, সুবর্ণ > স্বৰ্ণ।
গ. অন্ত্যস্বর লোপ (Apocope): আশা > আশ, আজি > আজ, চারি > চার (বাংলা), সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ। (স্বরলোপ বস্তুত স্বরাগমের বিপরীত প্রক্রিয়া।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৪৫.
অপিনিহিতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. সাধু > সাউধ
  2. বিলাতি > বিলিতি
  3. সত্য > সইত্য
  4. রাখিয়া > রাইখ্যা
সঠিক উত্তর:
বিলাতি > বিলিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিলাতি > বিলিতি
ব্যাখ্যা
• অপিনিহিতি (Apenthesis):
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য,
- সত্য > সইত্য,
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

• স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony):
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন:
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৪৬.
নিচের কোনটি মধ্য স্বরাগম পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. সত্য > সত্যি
  2. দিশ্ > দিশা
  3. গ্রাম > গেরাম
  4. স্কুল > ইস্কুল
সঠিক উত্তর:
গ্রাম > গেরাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রাম > গেরাম
ব্যাখ্যা
মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে।
- একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
- অ - রত্ন > রতন; ধর্ম > ধরম; স্বপ্ন > স্বপন; হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
- ই - প্রীতি > পিরীতি; ক্লিপ > কিলিপ; ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
- উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক; ভ্রু > ভুরু; শুক্রবার >শুক্কুরবার ইত্যাদি।
- এ - গ্রাম > গেরাম; প্রেক > পেরেক; স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
- ও - শ্লোক > শোলক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'স্কুল > ইস্কুল' আদি স্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।
- 'দিশ্ > দিশা' অন্ত্যস্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।
- 'সত্য > সত্যি' অন্ত্যস্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪৭.
ভাষার মূল উপাদান কী?
  1. শব্দ
  2. ধ্বনি
  3. বাক্য
  4. বর্ণ
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি
ব্যাখ্যা
• ভাষা:
- মানুষ তার মনের ভাব অন্যের কাছে প্রকাশ করার জন্য কণ্ঠধ্বনি এবং হাত, পা, চোখ ইত্যাদি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাহায্যে ইঙ্গিত করে থাকে।
- কণ্ঠধ্বনি বলতে মুখগহ্বর, কণ্ঠ, নাক ইত্যাদির সাহায্যে উচ্চারিত বোধগম্য ধ্বনি বা ধ্বনি সমষ্টিকে বোঝায়।
- এই ধ্বনিই ভাষার মূল উপাদান।
- এই ধ্বনির সাহায্যে ভাষার সৃষ্টি হয়।
- আবার ধ্বনির সৃষ্টি হয় বাগ্যন্ত্রের দ্বারা।
- গলনালি, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিহ্বা, তালু, দাঁত, নাক ইত্যাদি বাক্ প্রত্যঙ্গকে এক কথায় বলে বাগ্‌যন্ত্র।
- এই বাগযন্ত্রের দ্বারা উচ্চারিত অর্থবোধক ধ্বনির সাহায্যে মানুষের ভাব প্রকাশের মাধ্যমকে ভাষা বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪৮.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?  
  1. পোষাক
  2. সুষমা
  3. প্রতিষেধক
  4. অনুষঙ্গ
সঠিক উত্তর:
পোষাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোষাক
ব্যাখ্যা

 বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে 'ষ' ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।
যেমন:
- কিশমিশ, নাশতা, পোশাক, স্টিমার, বেহেস্ত, শখ, শয়তান, শরবত, শরম, শহর, শামিয়ানা, শার্ট, শৌখিন।

অন্যদিকে,
• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন,
- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।

২৪৯.
বিষমীভবন হলো - 
  1. দুটি স্বরধ্বনি একই রকম হওয়া
  2. স্বরধ্বনির প্রভাবে ব্যঞ্জনধ্বনির পরিবর্তন
  3. দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তন
  4. দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি একই রকম হওয়া
সঠিক উত্তর:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তন
ব্যাখ্যা

• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন - 
শরীর > শরীল, 
লাল > নাল, 
লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সমীভবন:
উচ্চারণের সময় পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি একই রকম হয়ে যাওয়াকে বলে সমীভবন।
যেমন- 
জন্ম > জম্ম,
কাঁদনা > কান্না,
স্বর্ণ > সন্ন ইত্যাদি।

স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বরসঙ্গতি বলে।
যেমন,
– দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলাে ইত্যাদি।

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জন ধ্বনিতে পরিণত হওয়াকে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
উদাহরণ: কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৫০.
অর্ধস্বরধ্বনি নয় কোনটি?
  1. ই্‌
  2. আ্‌ 
  3. উ্‌
  4. ও্‌
সঠিক উত্তর:
আ্‌ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আ্‌ 
ব্যাখ্যা

• অর্ধস্বরধ্বনি নয়- আ। 

• অর্ধস্বরধ্বনি:

বাংলা ভাষায় যেসব স্বরধ্বনি পুরোপুরি উচ্চারিত হয় না তাদেরকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে। বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চার টি যথা: [ই্‌], [উ্‌], [এ্‌], এবং [ও্‌]।

উল্লেখ্য, 
• মৌলিক স্বরধ্বনি:
যে স্বরধ্বনিকে আর বিশ্লেষণ করা যায় না, তাকে মৌলিক স্বর বলে। বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ৭টি। যথা: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।

• অনুনাসিক স্বরধ্বনি:
মৌলিক স্বরধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে বায়ু শুধু মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে। এ সময়ে কোমল তালু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে। কিন্তু ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে কোমল তালু খানিকটা নিচে নেমে গেলে কিছুটা বায়ু নাক দিয়েও বের হয়। এর ফলে ধ্বনিগুলো অনুনাসিক হয়ে যায়। স্বরধ্বনির এই অনুনাসিকতা বোঝাতে বাংলা স্বরবর্ণের উপরে চন্দ্রবিন্দু (ঁ) ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

অনুনাসিক স্বরধ্বনি ৭টি: [ইঁ], [এঁ], [অ্যাঁ], [আঁ], [অঁ], [ওঁ], [উঁ]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

২৫১.
যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে কী বলে?
  1. প্রগত সমীভবন
  2. পরাগত সমীভবন
  3. অন্যোন্য সমীভবন
  4. বিষমীভবন 
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
অন্যোন্য সমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্যোন্য সমীভবন
ব্যাখ্যা

• সমীভবন (Assimilation):
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন। যেমন- জন্ম > জন্ম, কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

• প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতো হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব   > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ  ইত্যাদি।

• পরাগত সমীভবন:
পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হয়, একে বলে পরাগত সমীভবন।
যেমন:
- তৎ + জন্য > তজ্জন্য,
- তৎ + হিত > তদ্ধিত,
- উৎ + মুখ > উন্মুখ ইত্যাদি।

• অন্যোন্য সমীভবন:
যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অন্যোন্য সমীভবন।
যেমন:
- সত্য > সচ্চ,
- বিদ্যা > বিজ্জা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৫২.
‘বাড়ি' শব্দের 'ড়' কোন ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ?
  1. পার্শ্বিক ব্যঞ্জন
  2. নাসিক্য ব্যঞ্জন
  3. তাড়িত ব্যঞ্জন
  4. কম্পিত ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
তাড়িত ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাড়িত ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
তাড়িত ব্যঞ্জন:
- যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অথার্ৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতো করে একবার ছুঁয়ে যায় তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:
- বাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের , ঢ় তাড়িত ব্যঞ্জনের উদাহরণ।

অন্যদিকে:
নাসিক্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখের মধ্যে প্রথমে বাধা পায় এবং নাক ও মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়, সেসব ধ্বনিকে নাসিক্য ব্যঞ্জন বলে।
- মা, নতুন, হাঙর প্রভৃতি শব্দের ম, ন, ঙ নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি।

পার্শ্বিক ব্যঞ্জন:

- যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা দন্তমূল স্পর্শ করে এবং ফুসফুস থেকে আসা বাতাস জিভের দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তাকে পার্শ্বিক ব্যঞ্জন বলে।
- লাল শব্দে 'ল' পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

কম্পিত ব্যঞ্জন:
- বযে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
- কর, ভার, হার প্রভৃতি শব্দের র কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৫৩.
কোনটি অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ?
  1. ল্ট
  2. ন্ধ
  3. শ্চ
  4. ষ্ট 
সঠিক উত্তর:
ন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্ধ
ব্যাখ্যা

• ন্ধ - অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ।

যুক্তবর্ণ:
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- জ, ব্দ, ম্ফ, ল্ক, ল্গ, ল্ট, ল্ড, ল্প, ল্ফ, শ্চ, ষ্ট ইত্যাদি।

অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- দ্ধ (দ+ধ), ন্ধ (ন্+ধ), ব্ধ (ব্+ধ), ভ্র (ভ্+র), ষ্ণ (ষ্‌ + ণ) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।

২৫৪.
'তিরোধান' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) তিরো + ধান
  2. খ) তিরঃ + ধান
  3. গ) তির + আধান
  4. ঘ) তির + ধান
সঠিক উত্তর:
খ) তিরঃ + ধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তিরঃ + ধান
ব্যাখ্যা
'তিরােধান' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = 'তিরঃ + ধান'।  
এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ। 

বিসর্গ সন্ধিতে কখনো কখনো বিসর্গ ও হয়ে যায়:
মনঃ+যােগ = মনােযােগ,
তিরঃ+ধান = তিরােধান,
তপঃ+বন = তপোবন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৫৫.
'যায়' শব্দে কোন দ্বিস্বরধ্বনি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আই্‌ 
  2. আএ্‌
  3. অএ্‌
  4. ওই্‌
সঠিক উত্তর:
আএ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আএ্‌
ব্যাখ্যা

• 'যায়' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [এ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আএ্‌] তৈরি হয়েছে। 

-----------------
• দ্বিস্বরধ্বনি:
পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়। যেমন 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্‌] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
[আই্‌]: তাই, নাই।
[এই্‌]: সেই, নেই।
[আও্‌]: যাও, দাও।
[আএ্‌]: খায়, যায়।
[উই্‌]: দুই, রুই।
[অএ্‌]: নয়, হয়।
[ওউ্‌]: মৌ, বউ।
[ওই্‌]: কৈ, দই।
[এউ্‌]: কেউ, ঘেউ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২৫৬.
'গ্রীষ্ম' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) গ্রিশ্‌সো
  2. খ) গ্রিশ্‌শোঁ
  3. গ) গ্রিসশো
  4. ঘ) গ্রিষশোঁ
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রিশ্‌শোঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রিশ্‌শোঁ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'গ্রীষ্ম' এর সঠিক উচ্চারণ- 'গ্রিশ্‌শোঁ'। 

• 'গ্রীষ্ম' বলতে বোঝায়- ঋতুবিশেষ, গরমকাল। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২৫৭.
বাংলা ভাষার নাসিক্য ধ্বনি/বর্ণগুলো উচ্চারণ রীতি অনুযায়ী কোন শ্রেণীভুক্ত?
  1. অল্পপ্রাণ ধ্বনি
  2. মহাপ্রাণ ধ্বনি
  3. অঘোষ ধ্বনি
  4. ঘোষ ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
ঘোষ ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘোষ ধ্বনি
ব্যাখ্যা

ঙ, ঞ, ণ, ন, ম --এই ৫টি বর্ণ উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী নাসিক্য ধ্বনি/বর্ণ
এবং এগুলো উচ্চারন রীতি অনুযায়ী ঘোষ বর্ণ/ধ্বনি।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই।

২৫৮.
নিচের কোন দুটি তালব্য বর্ণ?
  1. ফ, ভ
  2. ল, স
  3. ত, ধ
  4. জ, ঝ
সঠিক উত্তর:
জ, ঝ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ, ঝ
ব্যাখ্যা

তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভে ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে:
ফ, ভ - ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন। 
ল, স - দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন।
ত, ধ - দন্ত্য ব্যঞ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২৫৯.
নিম্নের কোন শব্দে 'দুঃ-(দুর্‌/দুস্‌)' উপসর্গটি 'অধিক' অর্থে দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে?
  1. ক) দুঃশাসন
  2. খ) দুর্মূল্য
  3. গ) দুষ্প্রাপ্য
  4. ঘ) দুর্দিন
সঠিক উত্তর:
খ) দুর্মূল্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দুর্মূল্য
ব্যাখ্যা
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে। ‘পরিচালক’ শব্দের ‘পরি অংশ একটি উপসর্গ।
- নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন করা উপসর্গের কাজ। 
উদাহরণ -
দুঃশাসন = দুঃ + শাসন,   'মন্দ' অর্থে দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে।
দুর্মূল্য = দুর্‌ + মূল্য,  'অধিক' অর্থে দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে।
দুষ্প্রাপ্য = দুস্‌ + প্রাপ্য   'অল্প' অর্থে দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে।
দুর্দিন = দুর্‌ + দিন 'মন্দ' অর্থে দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২৬০.
কোন বানানে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. স্পষ্ট
  2. ঋষি
  3. কোষ
  4. উৎকৃষ্ট
সঠিক উত্তর:
কোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোষ
ব্যাখ্যা
ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়।
যেমন:
- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।

২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়।
যেমন:
- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়
যেমন -
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ, পাষাণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৬১.
'প, ফ, ব, ভ' — এই ধ্বনিগুলো উচ্চারণস্থান অনুযায়ী কোন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত?
  1. দন্ত স্পৃষ্ট
  2. কণ্ঠ স্পৃষ্ট
  3. ওষ্ঠ স্পৃষ্ট
  4. তালু স্পৃষ্ট
সঠিক উত্তর:
ওষ্ঠ স্পৃষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওষ্ঠ স্পৃষ্ট
ব্যাখ্যা

স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্‌প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
• মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

২৬২.
বিসর্গ সন্ধি সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. সংসার
  2. দিগন্ত
  3. শিরশ্ছেদ
  4. কালোত্তীর্ণ
সঠিক উত্তর:
শিরশ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিরশ্ছেদ
ব্যাখ্যা

• বিসর্গ সন্ধি:
পূর্বপদের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকলে এবং পরপদের প্রথমে চ্ বা ছ্‌ থাকলে বিসর্গ পরিবর্তিত হয়ে শ্, ট্‌ বা ঠ্‌ থাকলে ষ্‌; ত থাকলে স্ হয় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জনে তা যুক্ত হয়।

যেমন:
- নিঃ + চয় = নিশ্চয়,
- দুঃ + চিন্তা = দুশ্চিন্তা,
- নিঃ + ছিদ্র = নিশ্ছিদ্র,
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ।

অন্যদিকে,
-----------------
 ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি:
ক, চ, ট, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্, জ্, ড্ (ড়), দ্, ব্ হয়। পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন:
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত,
- ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত,
- ষট্ + আনন = ষড়ানন। 

ব্যঞ্জনে + ব্যঞ্জনে = ব্যঞ্জনসন্ধি:
ম্-এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে, ম্ স্থলে অনুস্বার  হয়। যেমন- সম্ + সার = সংসার, সম্ + গ্রাম = সংগ্রাম। 

স্বরসন্ধি:
প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হ্রস্ব-উ ধ্বনি বা দীর্ঘ-উ ধ্বনির যোগে ও-ধ্বনি হয়। বানানে তা ও-কারের রূপ নিয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়। যেমন: কাল + উত্তীর্ণ = কালোত্তীর্ণ, মান + উত্তীর্ণ = মানোত্তীর্ণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৬৩.
'মাছুয়া > মেছো' - এটি কিসের উদাহরণ?
  1. স্বরসঙ্গতি
  2. সম্প্রকর্ষ
  3. অভিশ্রুতি
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
ব্যাখ্যা
অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
 যেমন:
- করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে ‘কইরিয়া’ কিংবা বিপর্যয়ের ফলে ‘কইরা' থেকে অভিশ্রুতিজাত ‘করে'।
এরূপ –
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি ৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৬৪.
নিচের কোনটি বিষমীভবন (Dissimilation) ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ক) ধপ + ধপ > ধপাধপ
  2. খ) পিশাচ > পিচাশ
  3. গ) শরীর > শরীল
  4. ঘ) কাঁদনা > কান্না
সঠিক উত্তর:
গ) শরীর > শরীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শরীর > শরীল
ব্যাখ্যা
• বিষমীভবন (Dissimilation): দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন – শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• অসমীকরণ (Dissimilation): একই ঘরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন – ধপ + ধপ > ধপাধপ, টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি। 

• ধ্বনি বিপর্যয়: শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। যেমন – ইংরেজি বাক্স > বাংলা বাস্ক, জাপানি রিক্সা » বাংলা রিস্কা ইত্যাদি। অনুরুপ – পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।

• সমীভবন: শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন: জন্ম > জম্ম, কাঁদনা > কান্না

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
২৬৫.
নিচের কোন শব্দে মূর্ধন্য ‘ষ’ হবে?
  1. পোস্ট
  2. মাস্টার
  3. উৎকৃস্ট
  4. পুরস্কার
সঠিক উত্তর:
উৎকৃস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎকৃস্ট
ব্যাখ্যা

• মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার: 
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়ােজন হয় না।
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়ােগ রয়েছে।
- যে-সব তৎসম শব্দে ‘ষ’ রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে।
- তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য ষ’-এর ব্যবহারের নিয়মকে ষত্ব বিধান বলে। 

• ঋ এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়।
যেমন- দৃষ্টি, সৃষ্টি, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি। 

• র- ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে ষ' হয়। 
​যথা: পরিষ্কার। কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়। যথা: পুরস্কার

• আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'ষ' হয় না। 
​যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই (২০১৯ সংস্করণ)।

২৬৬.
'ভয়ার্ত' - শব্দটি সন্ধির কোন নিয়মে গঠিত?
  1. স্বর
  2. ব্যঞ্জন
  3. বিসর্গ
  4. নিপাতনে সিদ্ধ
সঠিক উত্তর:
স্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর
ব্যাখ্যা

• 'ভয়ার্ত' শব্দটি স্বরসন্ধিতে গঠিত। 
- এর সন্ধিবিচ্ছেদ - ভয় + ঋত = ভয়ার্ত।

সন্ধির নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর 'ঋত'-শব্দ থাকলে (অ, আ+ঋ) উভয় মিলে 'আর' হয় এবং বানানে পূর্ববর্তী বর্ণে আ ও পরবর্তী বর্ণে রেফ লেখা হয়।

যেমন:
- শীত + ঋত = শীতার্ত, 
- তৃষ্ণা + ঋত = তৃষ্ণার্ত,
- ভয় + ঋত = ভয়ার্ত

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৬৭.
'পরিচ্ছন্ন' শব্দটি কোন সন্ধির নিয়মে গঠিত?
  1. ব্যঞ্জনসন্ধি
  2. স্বরসন্ধি
  3. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
  4. বিসর্গসন্ধি
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জনসন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জনসন্ধি
ব্যাখ্যা
• স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি = ব্যঞ্জনসন্ধি:
পূর্বপদের শেষে যদি স্বরধ্বনি থাকে এবং পরপদের প্রথম ধ্বনি ছু হয় তবে দুয়ের সন্ধিতে ছ-ধ্বনি চ্ছ হয়ে যায়। স্বরধ্বনি চ্ছ-এর সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- প্র + ছদ = প্রচ্ছদ,
- বৃক্ষ + ছায়া = বৃক্ষচ্ছায়া,
- মুখ + ছবি = মুখচ্ছবি,
- এক + ছত্র = একচ্ছত্র।
- আ + ছন্ন = আচ্ছন্ন,
- আ + ছাদন আচ্ছাদন,
- কথা + ছলে = কথাচ্ছলে,
- পরি + ছেদ = পরিচ্ছেদ,
- বি + ছেদ = বিচ্ছেদ।
- পরি + ছন্ন = পরিচ্ছন্ন,
- বি + ছিন্ন = বিচ্ছিন্ন।
- তরু + ছায়া = তরুচ্ছায়া ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৬৮.
'গবাদি' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) গ+আদি
  2. খ) গো+অদি
  3. গ) গো+আদি
  4. ঘ) গঃ+আদি
সঠিক উত্তর:
গ) গো+আদি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গো+আদি
ব্যাখ্যা
এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়। যেমনঃ গো+ আদি = গবাদি, পো + ইত্র = পবিত্র৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
২৬৯.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ?
  1. শীতার্ত
  2. বনৌষধি
  3. বিশ্বামিত্র
  4. নাবিক
সঠিক উত্তর:
বিশ্বামিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বামিত্র
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ সংস্কৃত ব্যঞ্জনসন্ধি:
সংস্কৃত ব্যঞ্জনসন্ধির ক্ষেত্রে এমন কতকগুলো ব্যঞ্জনসন্ধি আছে যেগুলো কোনো নিয়মের মধ্যে পড়ে না। এসব সন্ধিকে 'নিপাতনে সিদ্ধ' সন্ধি বলে।

যেমন:
• তদ্ + কর = তস্কর;
• এক + দশ = একাদশ।
• দিব্‌ + লোক = দ্যুলোক।
• ষট্ + দশ = ষোড়শ।
• হরি + চন্দ্র= হরিশ্চন্দ্র।
• বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি।
• গো + পদ = গোষ্পদ।
• আ + পদ = আস্পদ।
• পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি।
• পশ্চাৎ + অর্ধ = পশ্চার্ধ।
• বাক্ + ঈশ্বরী = বাগেশ্বরী।
• বিশ্ব+ মিত্র = বিশ্বামিত্র ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
স্বরসন্ধির উদাহরণ হলো:
• বন + ওষধি = বনৌষধি।
•  নৌ + ইক = নাবিক।
• শীত + ঋত = শীতার্ত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৭০.
'নিরবধি' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নির + বধি
  2. নিঃ + অবধি
  3. নিরঃ + অবধি
  4. নির + অবধি
সঠিক উত্তর:
নিঃ + অবধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিঃ + অবধি
ব্যাখ্যা
• সন্ধির নিয়ম: 
- সন্ধিবদ্ধ শব্দে র থাকলে র-এর পরিবর্তে ( ঃ) হয়।
যেমন: 
- নিঃ + আকার - নিরাকার।
- দুঃ + আচার - দুরাচার।
- নিঃ + অবধি - নিরবধি।
- নিঃ + অক্ষর - নিরক্ষর।
- দুঃ + অবস্থা - দুরবস্থা।
- চতুঃ + অঙ্গ - চতুরঙ্গ।
- অহঃ + অহ - অহরহ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৭১.
'গঞ্জ' শব্দের যুক্তবর্ণে কোন দুটি বর্ণ যুক্ত আছে?
  1. ক) ঞ্‌ + চ
  2. খ) ঞ্‌ + জ
  3. গ) জ্‌ + ঞ
  4. ঘ) চ্‌ + ঞ্‌
সঠিক উত্তর:
খ) ঞ্‌ + জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঞ্‌ + জ
ব্যাখ্যা
• 'রঞ্জন' শব্দের যুক্তবর্ণ 'ঞ্জ' = ঞ্‌ + জ। 
উদাহরণ: অঞ্জন, গঞ্জনা, গঞ্জ, কুঞ্জ ইত্যাদি। 
অন্যদিকে, 
জ্‌ + ঞ = জ্ঞ । উদাহরণ: বিজ্ঞান। 
ঞ্‌ + চ্‌ = ঞ্চ । উদাহরণ: অঞ্চল। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭২.
কোন শব্দের বানানে ‘মূর্ধন্য-ষ’ এর ব্যবহার শুদ্ধ?
  1. অগ্নিষাৎ
  2. ধূলিষাৎ
  3. ভবিষ্যৎ
  4. ভূমিষাৎ
সঠিক উত্তর:
ভবিষ্যৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা
• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কলুষ, ভূষণ, দ্বেষ, ঔষধ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৭৩.
'মহৌষধি' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মহা + ওষধি
  2. মহা + ঔষধি
  3. মহঃ + ওষধি
  4. মহঃ + ঔষধি
সঠিক উত্তর:
মহা + ওষধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহা + ওষধি
ব্যাখ্যা
• 'মহৌষধি' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ 'মহা + ওষধি'।
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়; ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন-
- অ + ও = ঔ;  বন + ওষধি = বনৌষধি।
- আ + ও = ঔ;  মহা + ওষধি = মহৌষধি।
- অ + ঔ = ঔ;  পরম + ঔষধ = পরমৌষধ।
- আ + ঔ = ঔ;  মহা + ঔষধ = মহৌষধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭৪.
'আটমেসে > আটাসে' কোন ধরনের পরিবর্তন?
  1. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. বিষমীভবন
  3. সম্প্রকর্ষ
  4. অভিশ্রুতি
সঠিক উত্তর:
সম্প্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রকর্ষ
ব্যাখ্যা

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।
যেমন:
- আটমেসে > আটাসে,
- কুটুম্ব > কুটুম,
- জানালা > জান্না ইত্যাদি।

 স্বরলোপ তিন প্রকার:
যেমন
ক. আদিস্বরলোপ (Aphesis): অলাবু > লাবু > লাউ, উদ্ধার > উধার > ধার।
খ. মধ্যস্বর লোপ (Syncope): অগুরু > অশ্রু, সুবর্ণ > স্বর্ণ।
গ. অন্ত্যস্বর লোপ (Apocope): আশা > আশ, আজি > আজ, চারি > চার (বাংলা), সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৭৫.
'নিশ্চল'-এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) নি + চল
  2. খ) নিঃ + অল
  3. গ) নিঃ + চল
  4. ঘ) নি + অল
সঠিক উত্তর:
গ) নিঃ + চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিঃ + চল
ব্যাখ্যা
• 'নিশ্চল'-এর সন্ধি বিচ্ছেদ এর নিয়ম:  
- আগে বিসর্গ ও পরে চ্ বা ছ্ থাকলে বিসর্গ স্থানে শ্ হয়। শ্ পরের বর্ণে যুক্ত হয়।
যেমন:
- দুঃ + চরিত্র = দুশ্চরিত্র,  
- নিঃ + চয় = নিশ্চয়,
- নিঃ + চল = নিশ্চল,
- নিঃ + চিহ্ন = নিশ্চিহ্ন,
- নিঃ + চুপ = নিশ্চুপ,
- দুঃ + চিন্তা = দুশ্চিন্তা,
- দুঃ + চেষ্টা = দুশ্চেষ্টা,
- নভঃ + চর = নভশ্চর,
- মনঃ + চক্ষু = মনশ্চক্ষু,
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
২৭৬.
ধ্বনি সৃষ্টিকারী বায়ুপ্রবাহের উৎস -
  1. নাসিকা
  2. ফুসফুস
  3. শ্বাসনালি
  4. স্বরযন্ত্র
সঠিক উত্তর:
ফুসফুস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুসফুস
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি সৃষ্টিকারী বায়ুপ্রবাহের উৎস - ফুসফুস

বাগ্‌যন্ত্র: 
- ধ্বনি উচ্চারণ করতে যেসব প্রত্যঙ্গ কাজে লাগে, সেগুলােকে একত্রে বাগ্‌যন্ত্র বলে।
- মানবদেহের উপরিভাগে অবস্থিত ফুসফুস থেকে শুরু করে ঠোঁট পর্যন্ত ধ্বনি উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রত্যঙ্গই বাগ্‌যন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত। 

ফুসফুস:
- ধ্বনি সৃষ্টিকারী বায়ুপ্রবাহের উৎস ফুসফুস।
- ফুসফুস শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করে।
- মূলত শ্বাস ত্যাগের মাধ্যমে ধ্বনি উৎপন্ন হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৭৭.
`গবেষণা‘ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) গব + এষণা
  2. খ) গো + এষণা
  3. গ) গো + ঘণা
  4. ঘ) গ + বেষণা
সঠিক উত্তর:
খ) গো + এষণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গো + এষণা
ব্যাখ্যা
`গবেষণা‘ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - গো + এষণা। 

শব্দের শুরুতে অব্ উচ্চরণ থাকলে ও-কার হয়।
যেমন :
- গবেষণা = গো + এষণা
- লবণ = লো + অন
- পবন = পো + অন
- পবিত্র = পো + ইত্র

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই (২০১৯)।
২৭৮.
যুগ্ম স্বরধ্বনির প্রতীক-
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• বাংলা বর্ণমালায় ঐ এবং ঔ হচ্ছে দ্বিস্বর বা যুগ্ম স্বরধ্বনির প্রতীক। যেমন-
- অ + ই = ঐ (অই) এবং
- অ + উ = ঔ (অউ)।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২৭৯.
'হিতাহিত' শব্দটি স্বরসন্ধির কোন নিয়মে গঠিত হয়েছে?
  1. ক) আ + অ = আ
  2. খ) অ + আ = আ
  3. গ) অ + অ = আ
  4. ঘ) আ + আ = আ
সঠিক উত্তর:
গ) অ + অ = আ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অ + অ = আ
ব্যাখ্যা
স্বরসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনের নাম স্বরসন্ধি।
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয় মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
অ + অ = আ ⇒ নর + অধম = নরাধম । এরূপ-হিতাহিত (হিত + অহিত), হিমাচল, হস্তান্তর, প্রণাধিক ইত্যাদি।   
• অ + আ = আ ⇒ হিম + আলয় = হিমালয়। এরূপ-সিংহাসন, দেবালয়, রত্নাকর ইত্যাদি।
• আ + অ = আ ⇒ যথা + অর্থ = যথার্থ। এরূপ-মহার্ঘ, আশাতীত, কথামৃত ইত্যাদি। 
• আ + আ = আ  ⇒ বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়। এরূপ- মহাশয়, সদানন্দ, কারাগার ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮০.
'ঞ্চ' যুক্ত বর্ণে কোন দুটি বর্ণ রয়েছে?
  1. ঞ্ +ঝ
  2. ঞ্‌ + জ
  3. ঞ্ + চ
  4. ঞ্ + ছ
সঠিক উত্তর:
ঞ্ + চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঞ্ + চ
ব্যাখ্যা
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
যেমন: 
- ঞ্ + চ = ঞ্চ।

- গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ হলো:
- ঞ্ + জ = ঞ্জ
- ষ্ + ণ = ষ্ণ
- হ্ + ম = হ্ম
- ঞ্ + ছ = ঞ্ছ
- ক্ + ষ্ + ম = ক্ষ্ম

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।
২৮১.
স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ষ' এর ব্যবহার হয়েছে কোন শব্দে?
  1. কৃষক
  2. স্পষ্ট
  3. ভবিষ্যৎ
  4. তোষণ
সঠিক উত্তর:
তোষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোষণ
ব্যাখ্যা

• কতোগুলো শব্দে স্বভাবতই ষ হয়।
যেমন-
আষাঢ়, ঊষা, ঊষর, ঔষধ, ঔষধি, কলুষ, কোষ, তোষণ, দ্বেষ, পাষণ্ড, পাষাণ, পোষণ, পৌষ, ভাষা, ভাষ্য, ভাষণ, ভূষণ, মানুষ, রোষ, শোষণ।
--------------- 
অন্যদিকে, 
• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, দৃষ্টি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

২৮২.
কোনটি 'জ্যামিতি' শব্দের উচ্চারণ?
  1. জামিতি
  2. জেমিতি
  3. জ্যামিতি
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জ্যামিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্যামিতি
ব্যাখ্যা
• বানান: জ্যামিতি।
- শুদ্ধ উচ্চারণ: জ্যামিতি
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি ও প্রত্যয়: জ্যা + মিতি।
- অর্থ: গণিত শাস্ত্রের যে শাখায় রেখা, ক্ষেত্র, আকার পরিমাপ প্রভৃতি বিষয় চর্চা করা হয়।

 উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৮৩.
কোন ধ্বনিটি কখনো শব্দের সামনে আসে না?
  1. ক) ষ
  2. খ) য
  3. গ) ণ
  4. ঘ) ঝ
সঠিক উত্তর:
গ) ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ণ
ব্যাখ্যা
ঙ, ঞ, ং, ণ - এ চারটি বর্ণের দ্যোতিত ধ্বনি কখনো শব্দের প্রথমে আসে না, শব্দের মধ্যে কিংবা শেষে আসে। সুতরাং এসব ধ্বনির প্রতীক বর্ণও শব্দের আদিতে ব্যবহৃত হয় না, শব্দের মধ্যে বা অন্তে ব্যবহৃত হয়। যেমন সংঘ, ব্যাংক, ক্ষণ ভূঞা ইত্যাদি। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
২৮৪.
'রত্নাকর' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ-
  1. ক) রত্না + কর
  2. খ) রত্ন + কর
  3. গ) রত্না + আকার
  4. ঘ) রত্ন + আকর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রত্ন + আকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রত্ন + আকর
ব্যাখ্যা
১. অ-কার কিংবা আকারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন
অ + অ = আ      নর+ অধম = নরাধম। এরূপ-হিমাচল, প্রাণাধিক, হস্তান্তর, হিতাহিত ইত্যাদি।
অ + আ = আ     হিম + আলয় = হিমালয়। এরূপ - দেবালয়, রত্নাকর, সিংহাসন ইত্যাদি।
আ + অ = আ     যথা + অর্থ = যথার্থ। এরূপ — আশাতীত, কথামৃত, মহার্ঘ ইত্যাদি।
আ + আ = আ    বিদ্যা+ আলয় = বিদ্যালয়। এরূপ- কারাগার, মহাশয়, সদানন্দ ইত্যাদি।


[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ,  নবম-  দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ]
২৮৫.
ত- বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কী হবে?
  1. ক) ন হবে না।
  2. খ) সবসময় 'ণ' হবে।
  3. গ) কখনো 'ণ' হয়না।
  4. ঘ) ক ও খ
সঠিক উত্তর:
গ) কখনো 'ণ' হয়না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কখনো 'ণ' হয়না।
ব্যাখ্যা
প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
ত- বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয়না, ন হয়। 
যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৮৬.
নিচের কোন ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি হয়?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

মহাপ্রাণ ধ্বনি:
- সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলোকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন:
- ফ, ভ, , ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অল্পপ্রাণ ধ্বনি:
- সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন:
- প, ব, ত, দ, স, ট, , , চ, , শ, ক, গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৮৭.
তালব্য ধ্বনি নয় কোনটি?
  1. ছ 
  2. ঝ 
  3. ঞ 
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• ঘ - তালব্য ধ্বনি নয়। এটি কণ্ঠ ধ্বনি।
-------------
বাংলা বর্ণমালায় (ক - ম) পর্যন্ত এই ২৫টি বর্ণকে একত্রে স্পর্শ ধ্বনি বলা হয়।

এরমধ্যে,
ক - বর্গীয় (ক, খ, গ, ঘ, ঙ) - এই ৫টি কণ্ঠ ধ্বনি,
চ - বর্গীয় (চ, ছ, জ, ঝ, ঞ) - ৫টি তালব্য ধ্বনি,
ট - বর্গীয়( ট, ঠ, ড, ঢ, ণ) - এই ৫টি মূর্ধন্য ধ্বনি,
ত - বর্গীয় (ত, থ, দ, ধ, ন) - পাঁচটি দন্ত ধ্বনি এবং
প - বর্গীয় (প, ফ, ব, ভ, ম) - এই ৫টি ওষ্ঠ্য ধ্বনি।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।

২৮৮.
‘অন্যান্য = অন্য + অন্য’ কোন সন্ধির উদাহরণ?
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি
সঠিক উত্তর:
স্বরসন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরসন্ধি
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণির (২০১৯ সংস্করণ) বই এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা  (সৌমিত্র শেখর) এর বই অনুসারে,
অন্যান্য= অন্য + অন্য = নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি।

• ভাষা শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ) অনুসারে,অন্যান্য= অন্য + অন্য = স্বরসন্ধি।

• তবে,
অন্যান্য (অ+অ=আ) - নিয়ম অনুসারে স্বরসন্ধি হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (সৌমিত্র শেখর), ভাষা শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।

২৮৯.
'প্রাদুর্ভাব' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্রাদু + ভাব 
  2. প্রাদুঃ + ভাব 
  3. প্রাদুঃ+ ভাবঃ
  4. প্রাদু + ভাবঃ
সঠিক উত্তর:
প্রাদুঃ + ভাব 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাদুঃ + ভাব 
ব্যাখ্যা

'প্রাদুর্ভাব' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ- প্রাদুঃ + ভাব।
- এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।

বিসর্গ সন্ধি :
- বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্ ও স্-এর সাথে স্বরধ্বনির কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।
- বিসর্গ সন্ধি দুইভাবে সাধিত হয়। যথা:
- ১. বিসর্গ + স্বর এবং
- ২. বিসর্গ + ব্যঞ্জন।

• অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ, আ, বর্গীয় ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ নাসিক্যধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে 'র' হয়। যেমন -
- নিঃ + আকার = নিরাকার,
- আশীঃ বাদ = আশীর্বাদ,
- দুঃ + যোগ = দুর্যোগ ইত্যাদি।

এরূপ - নিরাকরণ, জ্যোতির্ময়, নির্জন, বহির্গত, দুর্লোভ, দুরন্ত ইত্যাদি।

ব্যতিক্রম: ই কিংবা উ ধ্বনির পরের বিসর্গের সঙ্গে 'র' এর সন্ধি হলে বিসর্গের লোপ হয় ও বিসর্গের পূর্ববর্তী হ্রস্ব স্বর দীর্ঘ হয়। যেমন -
- নিঃ + রব = নীরব,
- নিঃ + রস = নীরস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৯০.
কোন বানানটি শুদ্ধ নিয়মে গঠিত?
  1. ক) বর্ন
  2. খ) ভীষন
  3. গ) বর্ননা
  4. ঘ) ভাষণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাষণ
ব্যাখ্যা
-  ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। তাই 'ভাষণ' বানানটি শুদ্ধ নিয়মে গঠিত।
- অন্যান্য অপশনের বানানে নিয়ম অনুযায়ী 'ণ' বসলে শুদ্ধ হতো।

• ণ-ত্ব বিধান:
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
- বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয় না।
- বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৯১.
ঠোট ও নাকের ছিদ্রের সাহায্যে উচ্চারিত হয় কোন ধ্বনিটি?
  1. ক) ক
  2. খ) চ
  3. গ) হ
  4. ঘ) ম
সঠিক উত্তর:
ঘ) ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ম
ব্যাখ্যা
ঠোট ও নাকের ছিদ্রের সাহায্যে উচ্চারিত হয় 'ম' ধ্বনিটি। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯২.
ঔ বর্ণের উচ্চারণ?
  1. ওই
  2. অই
  3. আউ
  4. ওউ
সঠিক উত্তর:
ওউ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওউ
ব্যাখ্যা
• 'ঔ' বর্ণের উচ্চারণ হবে: 'ওউ্‌'। 

• 'ঔ' বর্ণের উচ্চারণ সম্পর্কিত কিছু শব্দ: 
- ঔষধ এর উচ্চারণ: ওউ্‌শধ্‌।
- মৌমাছি এর উচ্চারণ: মোউ্‌মাছি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
২৯৩.
'জন + এক = জনৈক' - কোন প্রকার সন্ধির উদাহরণ?
  1. স্বর
  2. ব্যঞ্জন
  3. বিসর্গ
  4. নিপাতনে সিদ্ধ
সঠিক উত্তর:
স্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়। ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা, 
- সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়,
- মহা + ঋষি = মহর্ষি,
- শীত + ঋত = শীতার্ত,
- জন + এক = জনৈক,
- বন + ওষধি = বনৌষধি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৯৪.
'অঙ্ক' শব্দের যুক্তবর্ণটির রূপ কী?
  1. ক) ঙ্ + গ
  2. খ) ঙ্ +ক
  3. গ) ক্ + ঙ
  4. ঘ) গ্ + ঙ
সঠিক উত্তর:
খ) ঙ্ +ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঙ্ +ক
ব্যাখ্যা
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
'ঙ্ক' যুক্তবর্ণটির এর সঠিক রূপ হলো: ঙ্ + ক = ঙ্ক

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
ঙ্ + গ = ঙ্গ
ণ্ + ড = ণ্ড
ত্ + র = ত্র
ত্ + থ = ত্থ
ট্ + ট = ট্ট
 
[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ]
২৯৫.
'ক্ষত্রিয়' শব্দের- 'ক্ষ' যুক্তব্যঞ্জনে কোন কোন বর্ণ আছে?
  1. ক) ক + ম
  2. খ) হ + ম
  3. গ) ষ + ণ
  4. ঘ) ক + ষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক + ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক + ষ
ব্যাখ্যা
ক্ষত্রিয়' শব্দের- 'ক্ষ' যুক্তব্যঞ্জনে ক+ষ আছে। ক্ষ-সহযােগে গঠিত কয়েকটি শব্দ পরীক্ষা, ক্ষত্রিয়, অক্ষয়, দীক্ষিত ইত্যাদি। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২৯৬.
'দ্রবণ' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ করলে পাওয়া যায়-
  1. ক) দ্র + অন
  2. খ) দ্রো + অন
  3. গ) দ্র + ওন
  4. ঘ) দ্রো + বন
সঠিক উত্তর:
খ) দ্রো + অন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্রো + অন
ব্যাখ্যা
এ, ঐ, ও, ঔ - কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্‌ ও আব্‌ হয়। যেমন -

• এ + অ = অর্ + অ
নে + অন = নয়ন। শে + অন = শয়ন।

• ঐ + অ = আয়্ + অ
নৈ + অক = নায়ক। গৈ + অক = গায়ক ৷

• ও + অ = অব্ + অ
পো + অন = পবন। লো + অন = লবণ।
একইভাবে, দ্রো + অন = দ্রবণ।

• ঔ + অ = আব্ + অ
পৌ + অক = পাবক । =

• ও + আ = অব্ + আ
গো + আদি = গবাদি ।

• ও + এ = অব্ + এ
গো + এষণা = গবেষণা।

• ও + ই = অব্ + ই
পো + ইত্র = পবিত্র।

• ঔ + ই = আব্ + ই
নৌ + ইক = নাবিক ।

• ঔ + উ = আব্ + উ
ভৌ + উক = ভাবুক


সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি। (২০১৯ সংস্করণ)।
২৯৭.
 ‘তদ্রুপ’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. তৎ + রূপ
  2. তদ + রূপ
  3. তৎ + রুপ
  4. তদ + রুপ
সঠিক উত্তর:
তৎ + রূপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎ + রূপ
ব্যাখ্যা

 • ‘তদ্রুপ’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ - তৎ + রূপ = তদ্রুপ।

এরুপ কিছু সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে:
- উৎ + ঘাটন = উদ্ঘাটন।
- উৎ + যোগ = উদ্যোগ। 
- উৎ + বন্ধন = উদ্বন্ধন। 
- তৎ + মধ্যে = তন্মধ্যে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৮ সংস্করণ)।

২৯৮.
মূর্ধন্য 'ষ' এর শুদ্ধ ব্যবহার ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. সংষ্কার
  2. সংষ্ক্রিয়া    
  3. সুষুপ্ত
  4. সংষ্কৃতি 
সঠিক উত্তর:
সুষুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুষুপ্ত
ব্যাখ্যা

• সুষুপ্ত শব্দে ‘ষ’ ধ্বনির শুদ্ধ ব্যবহার ঘটেছে।

অন্যদিকে, 
• 'সংষ্কার' এর শুদ্ধরূপ-  সংস্কার।
• 'সংষ্ক্রিয়া' এর শুদ্ধরূপ- সংস্ক্রিয়া।
• 'সংষ্কৃতি' এর শুদ্ধরূপ- সংস্কৃতি।

-----------------------
• 'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:

- 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
- ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
- অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

- ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ" হয়। যেমন-অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম > বিষম ইত্যাদি।
- তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।

- কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কলুষ, ভূষণ, দ্বেষ, ঔষধ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ষড়যন্ত্র, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৯৯.
জিভের সামনের অংশের সাহায্যে উচ্চারিত স্বরধ্বনি গুলোকে কী বলে?
  1. ক) নিম্ন-স্বরধ্বনি
  2. খ) অগ্র-স্বরধ্বনি
  3. গ) জিভ- স্বরধ্বনি
  4. ঘ) সম্মুখ-স্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর:
ঘ) সম্মুখ-স্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সম্মুখ-স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
জিভের সামনের অংশের সাহায্যে উচ্চারিত স্বরধ্বনি গুলোকে সম্মুখ-স্বরধ্বনি বলে।
যেমন, ই, ঈ, এ এবং অ্যা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩০০.
কোনটি সঠিক?
  1. ক) সম + তান্ = সন্তান
  2. খ) সম্ + তন্ = সন্তান
  3. গ) সম্ + তান = সন্তান
  4. ঘ) সন + তান = সন্তান
সঠিক উত্তর:
গ) সম্ + তান = সন্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সম্ + তান = সন্তান
ব্যাখ্যা
• সন্ধির ক্ষেত্রে  ম্ এর পর যে কোনো বর্গীয় ধ্বনি থাকলে ম্ ধ্বনিটি সেই বর্গের নাসিক্য ধ্বনি হয়।

যেমন
- শম্ + কা =শঙ্কা, 
- সম্ + চয় = সঞ্চয়, 
- সম্ + তান = সন্তান, 
- সম্ + তাপ = সন্তাপ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।