বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধ্বনিতত্ত্ব

মোট প্রশ্ন৬,৩২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধ্বনিতত্ত্ব

PrepBank · পাতা / ৬৩ · ১০০ / ৬,৩২৭

.
কোন দুইটিকে অন্তঃস্থ বর্ণ বলা হয়?
  1. য এবং র
  2. ন এবং ম
  3. শ এবং হ
  4. য এবং স
সঠিক উত্তর:
য এবং র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
য এবং র
ব্যাখ্যা
য, ব, র, ল বর্ণগুলোকে অন্তঃস্থ ধ্বনি বা অন্তঃস্থ বর্ণ বলে।

অন্তঃস্থ ধ্বনি:
- যেসব ধ্বনিগুলো স্পর্শধ্বনি ও উষ্ণধ্বনির অন্তর্বর্তী স্থানে অর্থাৎ মাঝে অবস্থিত থাকে, তাদেরকে অন্তঃস্থ ধ্বনি বলে।
যেমন- য, র, ল, ব।

উল্লেখ্য,
অন্তঃস্থ 'ব' এখন আর বর্ণমালায় নেই এবং শব্দে স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয় না। তবে ব্যাকরণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে, বিশেষত সন্ধিতে এর প্রয়োগ দেখা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।
.
‘সন্ধান’ শব্দটির সন্ধি-বিচ্ছেদ নিচের কোনটি?
  1. সন্ + দান
  2. সন্ধ + আন
  3. সম্ + ধান
  4. সম্ + দান
সঠিক উত্তর:
সম্ + ধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্ + ধান
ব্যাখ্যা
• সন্ধির নিয়ম: 
ম্‌ এর পর যে কোন বর্গীয় ধ্বনি থাকলে ম্‌ ধ্বনি টি সেই বর্গের নাসক্য ধ্বনি হয়। 

যেমন:
- সম্+ ধি= সন্ধি,
- সম্+ চয়= সঞ্চয়,
- সম্ + ধান = সন্ধান,
- সম্+তাপ= সন্তাপ,
- কিম+ভূত= কিম্ভূত,
- সম্+সার= সংসার,
- সম্+বাদ= সংবাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
এক প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা ধ্বনি সমষ্টিকে বলে-
  1. বর্ণ
  2. অক্ষর
  3. শব্দ
  4. বাক্য
সঠিক উত্তর:
অক্ষর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষর
ব্যাখ্যা
অক্ষর (Syllable):
- বাগযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা শব্দাংশের নাম অক্ষর (Syllable)।  
- অক্ষর দু প্রকার। 
যথা: মুক্তাক্ষর ও বদ্ধাক্ষর।
---------------
মুক্তাক্ষর:
যখন একটি অক্ষরে একটিই বর্ণ থাকে, তখন তাকে মুক্তাক্ষর বলে।
অযুগ্ন বা মুক্ত স্বরান্ত ধ্বনিকে মুক্তাক্ষর বলে। একে স্বরান্ত অক্ষরও বলা হয়।
যেমন: ‘ভালোবাসো যদি বলিবে না কেন?’
এখানে (ভা) (লো) (বা) (সো) (য) (দি) (ব) (লি) (বে) (না) (কে) (ন) এই সবগুলোই (১২টি) মুক্তাক্ষর। 

- মুক্তাক্ষর U চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়।
- মুক্তাক্ষর উচ্চারণের শেষে মুখ খোলা থাকে, ফলে অক্ষর উচ্চারণ করে ও তাকে প্রয়োজন মতো প্রলম্বিত করা চলে। 
যেমন: অপরিচিত। 

বদ্ধাক্ষর:
ব্যঞ্জনধ্বনি বা অর্ধস্বরধ্বনির মাধ্যমে যে সব অক্ষরের সমাপ্তি ঘটে তাকে বদ্ধাক্ষর বলে।
বদ্ধ অর্থ্যাৎ যুগ্মাস্বরান্ত বা ব্যঞ্জনান্ত ধ্বনিকে বদ্ধাক্ষর বলে। 
যেমন : 'সোম বার দিনরাত হরতাল।
এখানে (সোম্) (বার্) (দিন্) (রাত) (হর্) (তাল্) এই সবগুলোই (৬টি) বদ্ধাক্ষর। 

বদ্ধাক্ষর ( - ) চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়। 

উৎস: বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
.
নিচের কোনটি অঘােষ ব্যঞ্জন?
  1. ক) ন, র
  2. খ) ঢ, ড়
  3. গ) শ, হ
  4. ঘ) ঢ়, জ
সঠিক উত্তর:
গ) শ, হ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শ, হ
ব্যাখ্যা
ধ্বনির কম্পমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা
যায়: ঘােষ ও অঘােষ।

⇒ ঘােষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ।

⇒ অঘােষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, , ক, খ,

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি।


উল্লেখ্য, মাধ্যমিক ব্যাকরণ ২০১৯ সংস্করণ অনুসারে,
'হ' ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি।
.
অনুনাসিক স্বরধ্বনি কোনটি?
  1. [ই]
  2. [অ্যা]
  3. [উ]
  4. [অ্যাঁ]
সঠিক উত্তর:
[অ্যাঁ]
উত্তর
সঠিক উত্তর:
[অ্যাঁ]
ব্যাখ্যা
অনুনাসিক স্বরধ্বনি:
- মৌলিক স্বরধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে বায়ু শুধু মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে। এ সময়ে কোমল তালু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে। কিন্তু ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে কোমল তালু খানিকটা নিচে নেমে গেলে কিছুটা বায়ু নাক দিয়েও বের হয়।

অনুনাসিক ষ্বরধ্বনি:
- [ইঁ], [এঁ], [অ্যাঁ], [আঁ], [অঁ], [ওঁ], [উঁ]।

মৌলিক স্বরধ্বনি:
- [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
.
নিচের কোন শব্দটিতে ণ-ত্ব বিধি অনুযায়ী ণ হবার কথা?
  1. ক) পর্ন
  2. খ) কর্নার
  3. গ) কর্নেল
  4. ঘ) নির্গমন
সঠিক উত্তর:
ঘ) নির্গমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নির্গমন
ব্যাখ্যা

ণ-ত্ব বিধি অনুসারে নির্গমন শব্দে ণ হওয়ার কথা থাকলেও বাংলা একাডেমির অভিধানে নির্গমন বানানে ‘ন’ দেওয়া আছে।
-----------
পর্ন, কর্নার, কর্নেল বিদেশি শব্দ বলে ন হয়েছে।

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।

.
"আদ্যন্ত" এর সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. আদ্য + অন্ত
  2. আদি + অন্ত
  3. আদ + অন্ত
  4. আদ্যি + অন্ত
সঠিক উত্তর:
আদি + অন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদি + অন্ত
ব্যাখ্যা
সূত্র:
ই বা ঈ ধ্বনির পর যদি অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে ই/ঈ এর জায়গায় 'য' হয়।
যেমন: 
- অতি + অধিক = অত্যধিক,
- আদি + অন্ত = আদ্যন্ত,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- অতি + আচার = অত্যাচার,
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
‘কাঞ্চন’ শব্দের যুক্তবর্ণটি কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ঙ্ + চ
  2. ঞ্ + ছ
  3. ঞ্ + ঝ
  4. ঞ্ + চ
সঠিক উত্তর:
ঞ্ + চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঞ্ + চ
ব্যাখ্যা
• ‘কাঞ্চন’ শব্দের যুক্তবর্ণটি ‘ঞ ও চ’ বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত।

• যুক্তবর্ণ:

একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ, ন্ড, ম্ফ, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ঋ, ণ্ঠ, ড্ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, জ, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ফ, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ব্ধ (ব্ +ধ),
ক্ত (ক্ + ত),
গু (গ্ + উ)
ক্ম (ক্ + ম),
ক্ষ (ক্ + ষ),
ক্ষ্ম (ক্ + ষ্ + ম),
ক্স (ক্ + স),
ণ্ড (ণ্ + ড),
গ্ধ (গ্ + ধ),
ঙ্গ (ঙ্ + গ),
জ্ঞ (জ্ + ঞ),
ঞ্চ (ঞ্ + চ),
ঞ্জ (ঞ্ + জ),
ষ্ণ (ষ্ + ণ),
হু (হ্ + উ),
হৃ (হ্ + ঋ),
হ্ন (হ্ + ন),
হ্ম (হ্ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
.
বাংলায় যৌগিক স্বরজ্ঞাপক বর্ণ কয়টি? 
  1. ১টি 
  2. ২টি 
  3. ৩টি 
  4. ৫টি  
সঠিক উত্তর:
২টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি 
ব্যাখ্যা

• বাংলা বর্ণমালায় মোট দুটি যৌগিক স্বরজ্ঞাপক বর্ণ পাওয়া যায়। 

• যৌগিক স্বর:
- যখন পাশাপাশি দুটো স্বরধ্বনি দ্রুত উচ্চারিত হয়ে একটিমাত্র মিলিত ধ্বনি সৃষ্টি করে, তাকে যৌগিক স্বর বা দ্বিস্বর বলা হয়।
- এই সংযুক্ত ধ্বনি তৈরি হয় দুইটি স্বর একসঙ্গে উচ্চারণের ফলে। 
- উদাহরণ:
• অ + ই → অই (কৈশোর)।
• অ + উ → অউ (ছাউনি)।
• অ + এ → অয় (ময়না)।
• অ + ও → অও (হও, লও)
- বাংলা ভাষায় এ ধরনের যৌগিক স্বরধ্বনি প্রায় পঁচিশটি আছে।
- তবে বাংলা বর্ণমালায় শুধুমাত্র দুটি স্বরবর্ণই যৌগিক স্বরজ্ঞাপক, তা হলো — ঐ এবং ঔ।
- উদাহরণ: কৈ, বৌ।
- অন্যান্য যৌগিক স্বরের আলাদা কোনো বর্ণচিহ্ন নেই। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

১০.
‘লাফ > ফাল’ এ কী ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. অসমীকরণ
  2. বিষমীভবন
  3. সমীভবন
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন,
– ইংরেজি বাক্স > বাংলা বাস্ক, জাপানি রিক্সা > বাংলা রিস্কা ইত্যাদি।
অনুরুপ,
পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
'বনৌষধি' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বনো + ওষধি
  2. বন + ঔষধ
  3. বন + ওষধি
  4. বনা + ওষধি
সঠিক উত্তর:
বন + ওষধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন + ওষধি
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়। ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- বন + ওষধি = বনৌষধি,
- মহা + ঔষধ = মহৌষধ,
- মহা + ওষধি = মহৌষধি,
- পরম + ঔষধ = পরমৌষধ,
- বন + ঔষধ = বনৌষধ,
- গঙ্গা + ওঘ = গঙ্গৌঘ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১২.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্রতী + ইতি = প্রতীতি
  2. ক্ষিতী + ঈশ = ক্ষিতীশ
  3. শচী + ইন্দ্র = শচীন্দ্র
  4. যোগি + ইন্দ্র = যোগীন্দ্র
সঠিক উত্তর:
শচী + ইন্দ্র = শচীন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শচী + ইন্দ্র = শচীন্দ্র
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ- শচী + ইন্দ্র = শচীন্দ্র। 

• স্বরসন্ধির নিয়ম:

প্রথম পদের শেষের হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির যোগে দীর্ঘ-ঈ হয়।
বানানে তা দীর্ঘ-ঈ-কার হয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

• সূত্র: ই + ই = ঈ:
- অতি + ইত = অতীত,
- অভি + ইষ্ট = অভীষ্ট,
- প্রতি + ইতি = প্রতীতি,
- অতি + ইন্দ্র = অতীন্দ্র।

• সূত্র: ই + ঈ = ঈ:
- গিরি + ঈশ = গিরীশ,
- অধি+ ঈশ্বর = অধীশ্বর,
- ক্ষিতি + ঈশ = ক্ষিতীশ,
- অভি + ঈপ্সা = অভীপ্সা।

• সূত্র: ঈ + ই = ঈ:
- শচী + ইন্দ্র = শচীন্দ্র,
- যোগী + ইন্দ্র = যোগীন্দ্র,
- সুধী + ইন্দ্র = সুধীন্দ্র,
- ফণী + ইন্দ্র = ফণীন্দ্র।

• সূত্র: ঈ + ঈ = ঈ:
- সতী + ঈশ = সতীশ,
- শ্রী+ ঈশ = শ্রীশ,
- মহী + ঈশ্বর = মহীশ্বর,
- ফণী + ঈশ্বর = ফণীশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. শাঃ + অঙ্গ = শারঙ্গ
  2. গৈ + ইন্দ্ৰ = গবেন্দ্র
  3. স্ব + ঈর = স্বৈর
  4. সীম্ + অন্ত = সীমন্ত
সঠিক উত্তর:
স্ব + ঈর = স্বৈর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ব + ঈর = স্বৈর
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ: স্ব + ঈর = স্বৈর।

• স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

• নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ:
- কুল + অটা = কুলটা,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়,
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড,
- স্ব + ঈর = স্বৈর,
- গো + ইন্দ্ৰ = গবেন্দ্র,
- গো + ঈশ্বর = গবেশ্বর,
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড,
- রক্ত + ওষ্ঠ = রক্তোষ্ঠ,
- সীমন + অত = সীমন্ত,
- শার + অঙ্গ = শারঙ্গ,
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪.
কোনটি অন্তঃস্থ ধ্বনি নয়?
  1. ক) ষ
  2. খ) র
  3. গ) ল
  4. ঘ) ব
সঠিক উত্তর:
ক) ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ষ
ব্যাখ্যা
অন্তঃস্থ ধ্বনিঃ স্পর্শ বা উষ্ম ধ্বনির অন্তরে অর্থাৎ মাঝে আছে বলে য র ল ব - এ ধ্বনিগুলোকে অন্তঃস্থ ধ্বনি বলে।
শ, ষ, স এগুলো উষ্ম ধ্বনি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১৫.
নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) অতি + ইত = অতীত
  2. খ) পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা
  3. গ) সতি + ইন্দ্র = সতীন্দ্র
  4. ঘ) সতী + ঈশ = সতীশ
সঠিক উত্তর:
গ) সতি + ইন্দ্র = সতীন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সতি + ইন্দ্র = সতীন্দ্র
ব্যাখ্যা
ই-কার কিংবা ঈ - কারের পর ই - কার কিংবা ঈ - কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ - কার হয়; দীর্ঘ ঈ - কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
সতীন্দ্র এর সঠিক সন্ধিরূপ হচ্ছে সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র। অন্য ৩টি সঠিক।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৬.
কোন শব্দটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির নিয়মে গঠিত?
  1. তদবধি
  2. প্রেষণ
  3. ষড়ানন
  4. ণিজন্ত
সঠিক উত্তর:
প্রেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেষণ
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ:
- সার + অঙ্গ = সারঙ্গ,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + এষণ = প্রেষণ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়মে গঠিত:
ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত।
ষট্ + আনন = ষড়ানন।
তৎ + অবধি = তদবধি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭.
'ভ্রূ > ভুরু' শব্দে ধ্বনির কোন ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. আদি স্বরাগম
  2. অন্ত্য স্বরাগম
  3. মধ্য স্বরাগম
  4. স্বরসঙ্গতি 
সঠিক উত্তর:
মধ্য স্বরাগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্য স্বরাগম
ব্যাখ্যা

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
অ - রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই - প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি।
এ - গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও - শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৮.
বাংলা ভাষায় কোন স্বরধ্বনি উচ্চারণকালে জিহ্বা উচ্চ অবস্থানে থাকে?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষায় 'উ' স্বরধ্বনিটি উচ্চারণকালে জিহ্বা উচ্চ অবস্থানে থাকে। 

• স্বরধ্বনির উচ্চারণ বিধি:
- উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে ভাগ করা হয়।

উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত। 
যথা -
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - ই, উ।
২. উচ্চ -মধ্য স্বরধ্বনি - এ, ও।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - অ্যা, অ।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - আ।

আবার, জিভের সম্মুখ - পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি - ই, এ, অ্যা।
২. মধ্য স্বরধ্বনি: আ।
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: অ, ও, উ।

বিশেষ তথ্য:

- ই এবং ঈ-ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বা এগিয়ে আসে এবং উচ্চে অগ্রতালুর কঠিনাংশের কাছাকাছি পৌছে।
- ই, ঈ এ (অ) ধ্বনির উচ্চারণে জিহবা এগিয়ে সম্মুখভাগে দাঁতের দিকে আসে বলে এগুলোকে বলা হয় সম্মুখ ধ্বনি।

- উ এবং ঊ-ধ্বনি উচ্চারণে জিহ্বা পিছিয়ে আসে এবং পশ্চাৎ তালুর কোমল অংশের কাছাকাছি ওঠে।
- উ, ঊ ও অ-ধ্বনির উচ্চারণে জিহবা পিছিয়ে আসে বলে এগুলোকে পশ্চাৎ স্বরধ্বনি বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৯.
নতুন পোষাক পড়ে সালমান পোষ্ট অফিসে গেল। - বাক্যটির নিম্নরেখ পদে মূর্ধন্য 'ষ' এর ব্যবহার -
  1. দুটোই অশুদ্ধ
  2. দুটোই শুদ্ধ
  3. প্রথমটি অশুদ্ধ, দ্বিতীয়টি শুদ্ধ
  4. প্রথমটি শুদ্ধ, দ্বিতীয়টি অশুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
দুটোই অশুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুটোই অশুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• নতুন পোষাক পড়ে সালমান পোষ্ট অফিসে গেল। - বাক্যটির নিম্নরেখ পদে মূর্ধন্য 'ষ' দুটোই অশুদ্ধ।

• আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'ষ' হয় না।
যেমন - জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

ষ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে।
- যেসব তৎসম শব্দে 'ষ' রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে।
- তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য 'ষ'-এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২০.
'মিলামিশা > মেলামেশা' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. প্রগত স্বরসঙ্গতি
  2. মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
  3. চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি
  4. অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি
সঠিক উত্তর:
চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
স্বরসঙ্গতি:
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
- পাঁচধরনের স্বরসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়।
যেমন:
- প্রগত,
- পরাগত,
- মধ্যগত,
- অন্যোন্য,
- চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি।

চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি:
- গিলা > গেলা,
- মিলামিশা > মেলামেশা,
- মিঠা > মিঠে,
- ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।
- পূর্বস্বর উ-কার হলে পরবর্তী স্বর ও-কার হয়।
 যেমন:
- মুড়া > মুড়ো,
- চুলা > চুলো ইত্যাদি।
বিশেষ নিয়মে:
- উড়ুনি > উড়নি,
- এখনি > এখুনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
২১.
ব্যঞ্জন ধ্বনির সংক্ষিপ্ত রূপকে বলা হয়-
  1. রেফ
  2. হসন্ত
  3. কার
  4. ফলা
সঠিক উত্তর:
ফলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফলা
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় ব্যঞ্জনধ্বনির সংক্ষিপ্ত রূপকে ফলা বলা হয়। 

• ফলা:
- যখন কোনো স্বরবর্ণ বা ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে যুক্ত হতে গিয়ে ব্যঞ্জনবর্ণের মূল আকৃতি ছোট হয়ে যায়, তখন সেই সংক্ষিপ্ত রূপটিই ফলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণে মোট ছয় ধরনের ফলা রয়েছে :
- ন-ফলা, ব-ফলা, ম-ফলা, য-ফলা, র-ফলা এবং ল-ফলা।
- ফলার ব্যবহার:
• ন/ণ-ফলা: কৃষ্ণ;
• ব-ফলা: বিশ্ব, সম্বল;
• ম-ফলা: আত্মা;
• য-ফলা: বিদ্যালয়;
• র-ফলা: প্রথম, শ্রেণি।

অন্যদিকে, 
• র-এর একটি বিশেষ অনুবর্ণ হলো রেফ, যা সাধারণত যুক্তব্যঞ্জনের শুরুতে ব্যবহৃত হয়, 
- যেমন বর্ণ, কর্ম ইত্যাদি।
• হসন্ত বাংলা লিপির একটি বিশেষ চিহ্ন ( ‌্ ),
- এটি ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে যুক্ত স্বরধ্বনি অপসারণ করে ব্যঞ্জনটির উচ্চারণকে সংক্ষিপ্তভাবে প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়।
• বাংলা ব্যাকরণে ‘কার’ বলতে স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে বোঝানো হয়।
- এগুলো ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তার উচ্চারণে পরিবর্তন আনে। যেমন— আ-কার, ই-কার ইত্যাদি।
------------------------------
উল্লেখ্য, 
• ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপকে বলা হয় অনুবর্ণ। 
- অনুবর্ণ তিন ধরনের হয় : ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।

• বর্ণসংক্ষেপ হলো সেই রূপ যা যুক্তবর্ণ গঠনের সুবিধার্থে বর্ণের আকার সংক্ষিপ্ত করে তৈরি হয়।
- বাংলা ভাষায় ভ, দ, ন, ম, ষ, স প্রভৃতি বর্ণ প্রায়ই এইভাবে সংক্ষেপিত রূপে ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়া ৎ বর্ণটি ত-এর একটি সংক্ষিপ্ত রূপ হলেও বাংলা বর্ণমালায় এটি স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২২.
‘কথাচ্ছলে’ শব্দের শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. কথাঃ + ছলে
  2. কথা + ছলে
  3. কথা + চ্ছলে
  4. কথার + ছলে
সঠিক উত্তর:
কথা + ছলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কথা + ছলে
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
- এদিক থেকে ব্যঞ্জন সন্ধিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি,
২. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি,
৩. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি।

• স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরধ্বনির পর ছ থাকলে উক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিটি দ্বিত্ব (চ্ছ) হয়।
যথা-
• অ + ছ = চ্ছ; মুখ + ছবি = মুখচ্ছবি।
• আ + ছ = চ্ছ; কথা + ছলে = কথাচ্ছলে।
• ই + ছ = চ্ছ; পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।

এরূপ - একচ্ছত্র, বিচ্ছেদ, পরিচ্ছেদ, বিচ্ছিন্ন, অঙ্গচ্ছেদ, আলোকচ্ছটা, প্রতিচ্ছবি, প্রচ্ছদ, আচ্ছাদন, বৃক্ষচ্ছায়া, স্বচ্ছন্দে, অনুচ্ছেদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩.
'বহিষ্কৃত' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বহিঃ + ইস্কৃত
  2. বহিঃ + কৃত
  3. বহিঃ + ষ্কৃত
  4. বহি + কৃত
সঠিক উত্তর:
বহিঃ + কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহিঃ + কৃত
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশু ধ্বনি (ষ) হয়।

যেমন:
- নমঃ + কার = নমস্কার,
- পদঃ + খলন = পদস্খলন,
- নিঃ + কর = নিষ্কর, 
- দুঃ + কর = দুষ্কর,
- বহিঃ + কৃত = বহিষ্কৃত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪.
'তদবধি' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. তদ্‌ + অবধি 
  2. তৎ + অবধি 
  3. তধ্ + অবধি 
  4. তদ্‌ + বধি 
সঠিক উত্তর:
তৎ + অবধি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎ + অবধি 
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম (ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি):
ক, চ, ট, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্‌, জ্, ড্ (ড়), দ্‌, ব্‌ হয়। পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত।
- ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত।
- ষট্ + আনন = ষড়ানন।
- তৎ + অবধি = তদবধি।
- সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৫.
'ধ্বনি দিয়ে আট বাঁধা শব্দই ভাষার ইট' -- এ ''ইট'' কে বাংলা ভাষায় কি বলে?
  1. ক) কথা
  2. খ) ব্যাকরন
  3. গ) বর্ণ
  4. ঘ) বাক্য
সঠিক উত্তর:
ক) কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কথা
ব্যাখ্যা
ভাষার মূল উপাদান হলাে ধ্বনি। এক-এক রকম ধ্বনিসমষ্টি নিয়ে এক-একটি ভাষা এবং নানা দেশের নানা ধ্বনিমূলের সমষ্টি নানান ভাষা।
যেমন—বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মান, রাশিয়া ইত্যাদি নানা দেশে নানান ভাষা প্রচলিত।
বাংলা ভাষায় সাধারণত তিন শ্রেণির ধ্বনির উপস্থিতি লক্ষ করা যায় : স্বরধ্বনি, অর্ধ-স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, "কোনাে ভাষার উচ্চারিত শব্দকে (word-কে) বিশ্লেষণ করিলে, আমরা কতকগুলি ধ্বনি (sound) পাই।"
ড. হুমায়ুন আজাদ বলেছেন, "প্রতিটি মানব-ভাষায় থাকে একগুচ্ছ ধ্বনি, সাধারণত বারােটির বেশি ও ষাটটির কম। কোনাে ভাষায়ই নেই অসংখ্য বা বিপুল সংখ্যক ধ্বনি। ওই মুষ্টিমেয় ধ্বনির বিভিন্ন বিন্যাসে গড়ে ওঠে ভাষার বিপুল পরিমাণ শব্দ। প্রতিটি ভাষার নিজস্ব ধ্বনিরাশির প্রত্যেকটির যেমন থাকে তাৎপর্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য, তেমনি ওই ধ্বনিরাশি পরস্পরের সঙ্গে সহাবস্থান করে সুশৃঙ্খল ধ্বনিতাত্ত্বিক নিয়মকানুন মেনে। অর্থাৎ প্রত্যেক ভাষার রয়েছে ধ্বনিশৃঙ্খলা বা ধ্বনিসংগঠন।"

কোঠাবাড়ির প্রধান মসলা ইট, তার পরে চুন সুরকির নানা বাঁধন।
ধ্বনি দিয়ে আঁট বাঁধা শব্দই ভাষার ইট, বাংলায় তাকে বলি "কথা"।
নানারকম শব্দচিহ্নের গ্রন্থি দিয়ে কথাগুলােকে গেঁথে গেঁথে হয় ভাষা।

মাটির তাল নিয়ে চাকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে কুমাের গড়ে তােলে হাঁড়ি কুঁড়ি, নানা খেলনা, নানা মূর্তি। মানুষ সেই রকম গলার আওয়াজটাকে ঠোঁটে, দাঁতে, জিভে টাকরায়, নাকের ছিদ্রে ঘুরিয়ে ধ্বনির পুঞ্জ গড়ে তুলেছে। মানুষের মনের ঝোঁক হৃদয়ের আবেগ সেই গুলােকে ঠেলা দিয়ে দিয়ে নানা আকার দিচ্ছে। এভাবেই নানা ধ্বনির সমন্বয়ে কথার সৃষ্টি।
দোয়েল কোকিলরাও ধ্বনি দিয়ে ভাব প্রকাশ করে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা।

২৬.
ধ্বনি উৎপাদনের মূল উৎস কোনটি?
  1. ফুসফুস
  2. কণ্ঠনালী
  3. নাসিকা
  4. মুখ
সঠিক উত্তর:
ফুসফুস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুসফুস
ব্যাখ্যা
ধ্বনি:
- ভাষার ক্ষুদ্রতম একক ধ্বনি। কোনো ভাষার উচ্চারিত শব্দকে সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করলে তার যে অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম অংশ পাওয়া যায়, তা-ই ধ্বনি। মানুষের বাগ্‌যন্ত্রের সহায়তায় উচ্চারিত ধ্বনি থেকেই ভাষার সৃষ্টি।
- ধ্বনি নির্গত হয় মুখ দিয়ে। ধ্বনি উৎপাদনে মুখ, নাসিকা, কণ্ঠ প্রভৃতি বাক্-প্রত্যঙ্গ ব্যবহৃত হলেও ধ্বনি উৎপাদনের মূল উৎস হলো ফুসফুস। ফুসফুসের সাহায্যে আমরা শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করি। ফুসফুস থেকে বাতাস বেরিয়ে আসার সময় বিভিন্ন বাক্-প্রত্যঙ্গের সংস্পর্শে আসে।
- ফুসফুস থেকে বাতাস স্বরযন্ত্রের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় মুখের বিভিন্ন জায়গায় ঘষা খায়। এই ঘর্ষণের ফলে মুখে নানা ধরনের ধ্বনির সৃষ্টি হয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
২৭.
'চ, ছ, জ' কোন ধরনের ব্যঞ্জন?
  1. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
  2. তালব্য ব্যঞ্জন
  3. দন্ত্য ব্যঞ্জন
  4. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
তালব্য ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালব্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা

• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভে ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

২৮.
উচ্চারণস্থান অনুসারে ওষ্ঠ্য ধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• ওষ্ঠ্য ধ্বনি:
যে ধ্বনির উচ্চারণে দুটি ঠোঁট পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বাতাসের নির্গম-পথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে ওষ্ঠ্য (bilabials) ধ্বনি বলা হয়। প্, ফ্, ব্‌ , ভ্‌ , ম্ হলো ওষ্ঠ্য ধ্বনি।

যেমন:
- তাপ,
- লাফ,
- ডাব,
- সভা,
- নাম।

অন্যদিকে, 
• দন্তমূলীয় ধ্বনি:
জিভের ডগা ওপরের পাটি দাঁতের মূলকে স্পর্শ করে বাতাসের নির্গম-পথে বাধা সৃষ্টি করলে দন্তমূলীয় (alveolar) ধ্বনিগুলো উচ্চারিত হয়।

- ন, র, ল দন্তমূলীয় ধ্বনি।
যেমন: মান, বার, লাল। দন্ত্য-ন ধ্বনি উচ্চারণে কোনোক্রমেই দাঁতের স্পর্শ নেই। 'কান' শব্দ উচ্চারণ করলেই তা বুঝতে পারি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৯.
নাসিক্য ব্যঞ্জন টি চিহ্নিত করুন।
  1. ক) স
  2. খ) ম
  3. গ) হ
  4. ঘ) শ
সঠিক উত্তর:
খ) ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ম
ব্যাখ্যা

নাসিক্য ব্যঞ্জনঃ
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখের মধ্যে প্রথমে বাধা পায় এবং নাক ও মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়, সেসব ধ্বনিকে নাসিক্য ব্যঞ্জন বলে। মা, নতুন, হাঙর প্রভৃতি শব্দের ম, ন, ও ঙ নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি।

উষ্ম ব্যঞ্জনঃ
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাকপ্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে,
সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে। সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।


উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী

৩০.
‘ন্ধ' শব্দের যুক্তাক্ষরটি কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে?
  1. ন্‌ + থ
  2. ন্‌ + ব
  3. ন্ + ধ
  4. ন্‌ + ক
সঠিক উত্তর:
ন্ + ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্ + ধ
ব্যাখ্যা
• ‘ন্ধ' শব্দের যুক্তাক্ষরটি "ন্ + ধ" বর্ণের সমন্বয়ে। 

শব্দ গঠন:
- বন্ধন,
- বন্ধ,
- অন্ধকার,
- প্রবন্ধ।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ:
- ঙ্ + গ = ঙ্গ,
- ন্ + ধ = ন্ধ,
- হ্ + উ = হু,
- হ্ + ঋ = হৃ,
- হ্ + ন = হ্ন,
- হ্ + ম = হ্ম,
- ণ্ + ড = ণ্ড ইত্যাদি 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩১.
'মুরগ > মুরোগ > মোরগ' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অভিশ্রুতি 
  2. বিপ্রকর্ষ 
  3. আদি স্বরাগম 
  4. সম্প্রকর্ষ 
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ 
ব্যাখ্যা

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
• অ - রত্ন > রতন; ধর্ম > ধরম; স্বপ্ন > স্বপন; হর্ষ > হরষ; বস্তি > বসতি ইত্যাদি।
• ই - প্রীতি > পিরীতি; ক্লিপ > কিলিপ; ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
• উ- মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক; ভ্রু > ভুরু; শুক্রবার > শুকুরবার ইত্যাদি।
• এ - গ্রাম > গেরাম; প্রেক> পেরেক; স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
• ও - শ্লোক > শোলক, মুরগ > মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি

অন্যদিকে, 
• অভিশ্রুতি:
অপিনিহিতির প্রভাবজাত ই কিংবা উ-ধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সঙ্গে মিলে শব্দের পরিবর্তন ঘটালে তাকে অভিশ্রুতি বলে। বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষায় যেমন অপিনিহিতির প্রাচুর্য, পশ্চিমবঙ্গের আঞ্চলিক কথ্যভাষা ও মান্যচলিত ভাষায় তেমনি অনেক অভিশ্রুতি শব্দ লক্ষ করা যায়।
যেমন: মানিয়া > মাইন্যা > মেনে। 

• আদি স্বরাগম:
ধ্বনি পরিবর্তনের ফলে মূল শব্দের আদিতে স্বরধ্বনির আগমন ঘটাকে আদি স্বরাগম বলে।
যেমন- স্কুল > ইস্কুল, স্ত্রী > ইস্ত্রী। 

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন- বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩২.
পূর্বধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে, তাকে কী বলে?
  1. অপিনিহিতি
  2. অন্যোন্য সমীভবন
  3. পরাগত সমীভবন
  4. প্রগত সমীভবন
সঠিক উত্তর:
প্রগত সমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রগত সমীভবন
ব্যাখ্যা
প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তনকে প্রগত সমীভবন বলে।

যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক।

অন্যদিকে,
পরাগত সমীভবন:
- পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন কে পরাগত সমীভবন বলে।

যেমন:
- তৎ + জন্য > তজ্জন্য,
- তৎ + হিত >তদ্ধিত।

অন্যোন্য সমীভবন:
- যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অনন্যান্য সমীভবন।

যেমন:
- সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ।
- সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

অপিনিহিতি:
- পরে উচ্চারিত হওয়া ‘ই/উ’ আগে উচ্চারিত হওয়াকে অপিনিহিতি বলে।

যেমন:
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩৩.
'আ' কখনো অ্যা এর মতো উচ্চারিত হয়, যেমন-
  1. ক) কাতুকুতু
  2. খ) জ্ঞান
  3. গ) একা
  4. ঘ) রাত
সঠিক উত্তর:
খ) জ্ঞান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জ্ঞান
ব্যাখ্যা
- [আ] জ্ঞ এর সঙ্গে থাকলে অ্যা এর মতো উচ্চারিত হয়।
যেমন: জ্ঞান [গ্যাঁন], জ্ঞাত [গ্যাঁতো], জ্ঞাপন [গ্যাঁপন্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি। (সংস্করণ-২০২১)
৩৪.
'অন্যমনা' শব্দে কয়টি অক্ষর রয়েছে?
  1. দুইটি
  2. তিনটি 
  3. চারটি
  4. পাঁচটি 
সঠিক উত্তর:
চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারটি
ব্যাখ্যা

• 'অন্যমনা' শব্দের উচ্চারণ হলো: ওন্‌নোমোনা।
- উচ্চারণে অক্ষর বিভাজন:
- অন্যমনা শব্দটিকে অক্ষর হিসেবে ভাগ করলে চারটি অক্ষর হয়। যথা: অ + ন্য + ম + না = ৪ অক্ষর।

---------------------
• অক্ষর:

এর ইংরেজি নাম syllable. অল্প প্রয়াসে যে ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ একবারে উচ্চারিত হয় তাকে অক্ষর বলে। তাই একে শব্দাংশ ও বলা হয়।
অক্ষর মূলত দুই প্রকার।
যথা-
- মুক্তাক্ষর: টানা যাবে না (যেমন- ক/লা)
- বদ্ধাক্ষর: টানা যাবে (যেমন- দিন, রাত)
যেমন: 'বিশ্ববিদ্যালয়' শব্দে ৫টি অক্ষর রয়েছে (বি + শ্ব  + বি + দ্যা  + লয়)।

উৎস: বাংলা একাডেমি,  আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৫.
‘ক্ম’ যুক্তবর্ণটি কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ক্ + ন
  2. ক্ + স
  3. ক্ + ম
  4. ক্ + ণ
সঠিক উত্তর:
ক্ + ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ + ম
ব্যাখ্যা
• ‘ক্ম’ যুক্তবর্ণটি ক্ ও ম বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত।

--------------------
• যুক্তবর্ণ:

একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ, ন্ড, ম্ফ, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ঋ, ণ্ঠ, ড্ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, জ, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ফ, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ব্ধ (ব্ +ধ),
ক্ত (ক্ + ত),
ক্ম (ক্ + ম),
ক্ষ (ক্ + ষ),
ক্ষ্ম (ক্ + ষ্ + ম),
ক্স (ক্ + স),
ণ্ড (ণ্ + ড),
গ্ধ (গ্ + ধ),
ঙ্গ (ঙ্ + গ),
জ্ঞ (জ্ + ঞ),
ঞ্চ (ঞ্ + চ),
ঞ্জ (ঞ্ + জ),
ষ্ণ (ষ্ + ণ),
হু (হ্ + উ),
হৃ (হ্ + ঋ),
হ্ন (হ্ + ন),
হ্ম (হ্ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৬.
"আশির" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. আশি + র
  2. আশি + ইর
  3. আ + শির
  4. আশি + এর
সঠিক উত্তর:
আশি + এর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আশি + এর
ব্যাখ্যা
• "আশির" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ - আশি + এর।

স্বরসন্ধি:

- স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনি মিলে যে সন্ধি হয় তাকে স্বরসন্ধি বলে।
- সন্ধিতে দুটি সন্নিহিত স্বরের একটির লোপ হয়।
যেমন-
অ + এ = এ (অ লোপ):
যেমন: শত + এক = শতেক। এরূপ – কতেক। 

আ + আ = আ (আ লোপ):
যেমন – শাঁখা + আরি = শাঁখারি। এরূপ রূপা + আলি = রূপালি।

আ + উ = উ (আ লোপ):
যেমন – মিথ্যা + উক = মিথ্যুক। এরূপ – হিংসুক, নিন্দুক ইত্যাদি।

ই + এ = ই (এ লোপ):
যেমন- কুড়ি + এক = কুড়িক। এরূপ – ধনিক, গুটিক ইত্যাদি।
- আশি + এর = আশির (এ লোপ)। এরূপ নদীর (নদী +এর)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৭.
নিচের কোন গুচ্ছের সবকটিই ঘোষ ব্যঞ্জন?
  1. প, ফ, স
  2. ব, ভ, ম
  3. ট, ঠ, শ
  4. ক, খ, চ
সঠিক উত্তর:
ব, ভ, ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব, ভ, ম
ব্যাখ্যা

ঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি।
যথা-
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অন্যদিকে,
অঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে অঘোষ ব্যঞ্জন বলা হয়।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৩৮.
'ধনুষ্টঙ্কার' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ -
  1. ধনু + টঙ্কার
  2. ধনুঃ + ষ্টঙ্কার
  3. ধনুষঃ + টঙ্কার
  4. ধনুঃ + টঙ্কার
সঠিক উত্তর:
ধনুঃ + টঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধনুঃ + টঙ্কার
ব্যাখ্যা
• 'ধনুষ্টঙ্কার' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ - 'ধনুঃ + টঙ্কার'।

• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
বিসর্গের পর অঘােষ অল্পপ্রাণ কিংবা মহাপ্রাণ তালব্য ব্যঞ্জন থাকলে বিসর্গের স্থলে তালব্য শিশ ধ্বনি হয়, অঘােষ অল্পপ্রাণ কিংবা অঘােষ মহাপ্রাণ মূর্ধন্য ব্যঞ্জন থাকলে বিসর্গ স্থলে মূর্ধন্য শিশ ধ্বনি হয়, অঘােষ অল্পপ্রাণ কিংবা অঘােষ মহাপ্রাণ দন্ত্য ব্যঞ্জনের স্থলে দন্ত্য শিশ ধ্বনি হয়।
যেমন:
• সূত্র- ( ঃ + চ / ছ = শ + চ / ছ):
- নিঃ + চয় = নিশ্চয়।
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ।

• সূত্র- (ঃ + ট / ঠ = ষ + ট/ ঠ):
- ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার।
- নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর।

• সূত্র- (ঃ + ত / থ = স + ত / থ):
- দুঃ +তর = দুস্তর।
- দুঃ +থ = দুস্থ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
৩৯.
কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনি যুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. নানা
  2. কাকা
  3. চাচা
  4. দাদা
সঠিক উত্তর:
কাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাকা
ব্যাখ্যা

উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়:
- ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন,
- দন্ত্য ব্যঞ্জন,
- দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন,
- মূর্ধন্য ব্যঞ্জন,
- তালব্য ব্যঞ্জন,
- কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন,
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন।

• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন: 
দত্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্যার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• দন্ত্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে। তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ, দন্ত্যধ্বনির উদাহরণ।

• দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দণ্ডমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• তাবল্য ব্যঞ্জন: 
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে স্বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন- 
কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে। হাতি শব্দের হ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ এবং ২০১৯ সংস্করণ)।

৪০.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ঠাণ্ডা
  2. কণ্টক
  3. ঝাণ্ডা
  4. গুণ্ডা
সঠিক উত্তর:
কণ্টক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণ্টক
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - কণ্টক

মূর্ধন্য-ণ ও দন্ত্য-ন এর ব্যবহার:
- অতৎসম শব্দের বানানে ণ ব্যবহার করা হবে না।
যেমন:
- ইরান, কান, কোরান, গভর্নর, গুনতি, গোনা, ঝরনা, ধরন, পরান, রানি, সোনা, হর্ন।

- তৎসম শব্দে ট, ঠ, ড, ঢ-য়ের পূর্বে যুক্ত নাসিক্যবর্ণ ণ হয়।
যেমন:
- কণ্টক, প্রচণ্ড, লুণ্ঠন।

- কিন্তু অতৎসম শব্দের ক্ষেত্রে ট ঠ ড ঢ-য়ের আগে কেবল ন হবে।
যেমন:
- গুন্ডা, ঝান্ডা, ঠান্ডা, ডান্ডা, লন্ঠন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪১.
নিচের কোনটি মধ্যস্বরাগমের উদাহরণ?
  1. স্কুল > ইস্কুল
  2. রত্ন > রতন
  3. সত্য > সত্যি
  4. মারি > মাইর
সঠিক উত্তর:
রত্ন > রতন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রত্ন > রতন
ব্যাখ্যা
মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।

যেমন -
অ – রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন স্বপন, হর্ষ > হরষ, ইত্যাদি।
ই - প্রীতি » পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ – মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক » তুরুক, > ভুরু ইত্যাদি।
এ – গ্রাম > গেরাম, প্রেক > পেরেক, স্রেফ » সেরেফ ইত্যাদি।
ও - শ্লোক » শশালােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।
-------------------
আদি স্বরাগম:
শব্দের শুরুতে নতুন স্বরধ্বনির আগমন।
যেমন: স্কুল > ইস্কুল, স্টেশন > ইস্টিশন।

অন্ত্যস্বরাগম:
শব্দের শেষে নতুন স্বরধ্বনির আগমন।
যেমন: দিশ্ > দিশা, সত্য > সত্যি

অপিনিহিতি: 
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন-
- মারি > মাইর
- আজি > আইজ, 
- সাধু > সাউধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪২.
ণত্ব বিধান বাংলা বানানে কোন শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. ক) সংস্কৃত
  2. খ) বিদেশি শব্দ
  3. গ) দেশি শব্দ
  4. ঘ) তদ্ভব শব্দ
সঠিক উত্তর:
ক) সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
• তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের বানানে ণ- এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
- বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে ণ-ত্ব বিধান নেই।
- সমাসবদ্ধ শব্দের বানানেও ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
৪৩.
নিচের কোনটি মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি নয়?
  1. ক) [ফ্]
  2. খ) [ত্]
  3. গ) [হ্]
  4. ঘ) [ণ্]
সঠিক উত্তর:
ঘ) [ণ্]
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) [ণ্]
ব্যাখ্যা
মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০ টি।
এরমধ্যে আছে - [ফ্], [ত্], [হ্], [ঙ্]।
এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হচ্ছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
৪৪.
প্রগত সমীভবন এর উদাহরণ নিম্নের কোনটি?
  1. ক) কর্তা > কত্তা
  2. খ) তুলা > তুলাে
  3. গ) রাজ্য > রাজ্জ
  4. ঘ) কুৎসিত >কুচ্ছিত
সঠিক উত্তর:
গ) রাজ্য > রাজ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাজ্য > রাজ্জ
ব্যাখ্যা
সমীভবন (Assimilation) :

- শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করলে, তাকে বলা হয় সমীভবন।
- যেমন- জন্ম >জম্ম, কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।
সমীভবন তিন রীতিতে হয়, যথা-
• প্রগত সমীভবন (Progressive) : পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন। যেমন- পক্ব > পক্ক, চন্দন > চন্নন, গলদা > গল্লা, পদ্ম >পদ্দ, লগ্ন >লগৃগ, চক্র> চর, রাজ্য > রাজ্জ, স্বর্ণ >সন্ন ইত্যাদি।

• পরাগত সমীভবন (Regressive) : পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হলে তাকে পরাগত সমীভবন বলে।
যেমন- কাদনা > কান্না, কর্ম >কম্ম, কর্তা > কত্তা, ধর্ম > ধম্ম, করতাল > কত্তাল, পাঁচসের >পাশূসের, ডাকঘর > ডাগৃঘর, তৎ + জন্য >তজ্জন্য, তৎ + হিত > তদ্ধিত, উৎ + মুখ >উন্মুখ ইত্যাদি।

• অন্যোন্য সমীভবন: সমীভবন (Mutual) : যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অন্যোন্য সমীভবন,
যেমন- বৎসর > বচ্ছর, মহােৎসব >মােচ্ছব, চিকিৎসা > চিকিচ্ছা, বিশ্রি >বিচ্ছিরি, কুৎসিত >কুচ্ছিত, সত্য > সচ্চ, বিদ্যা > বিজ্জা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫.
'তন্মধ্যে' শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. তধ্‌ + মধ্যে 
  2. তন + মধ্যে 
  3. তদ্‌ + মধ্যে 
  4. তৎ + মধ্যে 
সঠিক উত্তর:
তৎ + মধ্যে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎ + মধ্যে 
ব্যাখ্যা

 • ব্যঞ্জন সন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

• (ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন) নিয়মে গঠিত ব্যঞ্জন সন্ধি।
- চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র;
- বিপদ্ + জনক = বিপজ্জনক;
- উৎ + লাস = উল্লাস;
- বাক্ + দান = বাগ্‌দান;
- তৎ + মধ্যে = তন্মধ্যে;
- শম্ + কা = শঙ্কা;
- সম্ + চয় = সঞ্চয়;
- সম্ + তাপ = সন্তাপ;
- সম্ + মান = সম্মান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৬.
'প্রতিচ্ছবি' কোন নিয়মে ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. স্বর + স্বর
  2. ব্যঞ্জন + স্বর
  3. স্বর + ব্যঞ্জন
  4. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
স্বর + ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর + ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
- এদিক থেকে ব্যঞ্জন সন্ধিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি,
২. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি,
৩. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি।

স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরধ্বনির পর ছ থাকলে উক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিটি দ্বিত্ব (চ্ছ) হয়।
যথা-
- অ + ছ = চ্ছ; মুখ + ছবি = মুখচ্ছবি।
- আ + ছ = চ্ছ; কথা + ছলে = কথাচ্ছলে।
- ই + ছ = চ্ছ; প্রতি + ছবি = প্রতিচ্ছবি
এরূপ - একচ্ছত্র, বিচ্ছেদ, পরিচ্ছেদ, বিচ্ছিন্ন, অঙ্গচ্ছেদ, আলোকচ্ছটা, পরিচ্ছদ, প্রচ্ছদ, আচ্ছাদন, বৃক্ষচ্ছায়া, স্বচ্ছন্দে, অনুচ্ছেদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৭.
নিচের কোন দুটি বর্ণ ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন?
  1. ক) ব, ভ
  2. খ) দ, ধ
  3. গ) ড, ঢ
  4. ঘ) জ, ঝ
সঠিক উত্তর:
ক) ব, ভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ব, ভ
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনিকে ওষ্ঠ স্পৃষ্ট, দন্ত স্পৃষ্ট, মূর্ধা স্পৃষ্ট, তালু স্পৃষ্ট এবং কণ্ঠ স্পৃষ্ট – এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ
২. দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ
৩. মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ
৪. তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ
৫. কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৮.
কোনটি অন্তর্হতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. শরীর > শরীল 
  2. ফাল্গুন > ফাগুন
  3. পিশাচ > পিচাশ 
  4. পাকা > পাক্কা
সঠিক উত্তর:
ফাল্গুন > ফাগুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফাল্গুন > ফাগুন
ব্যাখ্যা

• অন্তর্হতি:
- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।

যেমন:
- ফাল্গুন > ফাগুন,
- ফলাহার > ফলার,
- আলাহিদা > আলাদা।

অন্যদিকে,
বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন- লাল > নাল, শরীর > শরীল ইত্যাদি। 

• ধ্বনি বিপর্যয়: 
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন: পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল। 

দ্বিত্ব ব্যঞ্জন:
কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বলে। 
যেমন: পাকা > পাক্কা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৯.
সন্ধি বিচ্ছেদ করুন : ‘স্বাগত’
  1. ক) সু + আগত
  2. খ) স্ব + আগত
  3. গ) স্বা + গত
  4. ঘ) স্বা + আগত
সঠিক উত্তর:
ক) সু + আগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সু + আগত
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম: 
উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
যেমন-
অনু + এষণ = অন্বেষণ,
সু + অল্প = স্বল্প
তনু + ঈ = তন্বী,
অনু + ইত = অন্বিত,
সু + আগত = স্বাগত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫০.
'ভ্রূ' যুক্তবর্ণটি কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ভ্‌ + ঋ + ঊ
  2. ভ্‌ + র্‌ + ঋ
  3. ভ্‌ + র + উ
  4. ভ + ঊ + ঋ
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটি নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• 'ভ্রূ' হলো অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণের উদাহরণ।
- এটির গঠিত হয়েছে (ভ্‌ + র্‌ + ঊ ) বর্ণযোগে।

• একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না।
যেমন:
- এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।
- ক্ + ত = ক্ত,
- ক্ + ম = ক্ম,
- ক্ + র = ক্র,
- ক্ + ষ = ক্ষ,
- ক্ + স = ক্স,
- ক্‌ + ষ্‌ + ম = ক্ষ্ম,
-ষ্‌ + ণ = ষ্ণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২২)।
৫১.
‘সংস্কৃত’ শব্দের শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সং + কৃত
  2. সম্ + র্কত
  3. সন্ + কৃত
  4. সম্ + কৃত
সঠিক উত্তর:
সম্ + কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্ + কৃত
ব্যাখ্যা
• কতগুলো সন্ধি বিশেষ নিয়মে সাধিত হয়।
• বিশেষ নিয়মে সাধিত কিছু ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ হলো:
- সম্ + কৃত = সংস্কৃত,
- সম্ + কার = সংস্কার,
- উৎ + স্থাপন = উত্থাপন,
- উৎ + স্থান = উত্থান।
এরূপ : পরিস্কৃত, সংস্কৃতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫২.
'উচ্ছৃঙ্খল' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. উধ্‌ + শৃঙ্খল
  2. উত + শৃঙ্খল
  3. উদ্‌ + শৃঙ্খল
  4. উৎ + শৃঙ্খল
সঠিক উত্তর:
উৎ + শৃঙ্খল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎ + শৃঙ্খল
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি নিয়মে গঠিত সন্ধি:
ৎ বা দ্ এবং পরে হ থাকলে দুইয়ে মিলে দ্ধ হয় এবং শ্ থাকলে দুইয়ে মিলে চ্ছ হয়।
যেমন:
- উৎ + হার = উদ্ধার,
- উৎ + হৃত = উদ্ধৃত,
- পদ্ + হতি = পদ্ধতি,
- তদ্ + হিত = তদ্ধিত,
- উৎ + শ্বাস = উচ্ছ্বাস,
- উৎ + শৃঙ্খল = উচ্ছৃঙ্খল ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫৩.
বাংলা ভাষায় মৌলিক ধ্বনি কতটি?
  1. ৩৭টি
  2. ৩৫টি
  3. ৩২টি
  4. ৩৯টি
সঠিক উত্তর:
৩৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৭টি
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি ভাষার ক্ষুদ্রতম একক।
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।

• এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
- স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।

• মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি:
[ই], [এ), [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]; 

• মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি:
[প্], [ফ], [ব], ভিা, [ত্], [থ], [দ], [ধ], [ট], [ঠ], [ড], [ঢ়], [চ], [ছ], [জ], [ব],[ক], [খ], [গা,[ঘ], [ম], [ন], [ঙ], [স্], [শ], [হা, [ল], [র], [ড়], [ঢ়।।
- এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৫৪.
'মুখচ্ছবি' কোন নিয়মে ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. স্বর + স্বর
  2. স্বর + ব্যঞ্জন
  3. ব্যঞ্জন + স্বর
  4. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
স্বর + ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর + ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
- এদিক থেকে ব্যঞ্জন সন্ধিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি,
২. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি,
৩. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি।

স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরধ্বনির পর ছ থাকলে উক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিটি দ্বিত্ব (চ্ছ) হয়।
যথা-
অ + ছ = চ্ছ; মুখ + ছবি = মুখচ্ছবি
আ + ছ = চ্ছ; কথা + ছলে = কথাচ্ছলে।
ই + ছ = চ্ছ; পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।
এরূপ - একচ্ছত্র, বিচ্ছেদ, পরিচ্ছেদ, বিচ্ছিন্ন, অঙ্গচ্ছেদ, আলোকচ্ছটা, প্রতিচ্ছবি, প্রচ্ছদ, আচ্ছাদন, বৃক্ষচ্ছায়া, স্বচ্ছন্দে, অনুচ্ছেদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৫.
বাংলা সন্ধি কত প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই
ব্যাখ্যা
- খাঁটি বাংলা শব্দের সন্ধি দুই রকম।
যথা-
• স্বরসন্ধি,
• ব্যঞ্জন সন্ধি।

- তৎসম শব্দের সন্ধি তিন প্রকার।
যথা-
• স্বরসন্ধি,
• ব্যঞ্জন সন্ধি এবং
• বিসর্গ সন্ধি।

- নিপাতনে সিদ্ধ হচ্ছে সন্ধির সাধারণ নিয়ম না মেনে যে সব সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ বা নিয়ম বহির্ভূত সন্ধি বলে।
যেমন-
• গো + + পদ = গোষ্পদ।
- এখানে নিয়ম অনুযায়ী ষ আসতে পারে না কিন্তু এখানে এসেছে। তাই এটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী এবং ভাষান-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৫৬.
'ঐতিহ্য' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) ওইতিহ্‌হ
  2. খ) ওই্‌তিজজো
  3. গ) ঐতিজ্‌ঝো
  4. ঘ) ওই্‌তিজ্‌ঝো
সঠিক উত্তর:
ঘ) ওই্‌তিজ্‌ঝো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ওই্‌তিজ্‌ঝো
ব্যাখ্যা
ঐতিহ্য (ওই্‌তিজ্‌ঝো) 
- [স. ইতিহ+য্‌] 
- বিশেষ্য 
অর্থ - পরম্পরাগত কথা, পুরুষানুক্রমিক ধারা, কিংবদন্তি, বিশ্রুতি।  

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫৭.
'পিণাক' শব্দের 'ণ' বসেছে কোন নিয়মে?
  1. স্বভাবতই 'ণ' বসেছে
  2. ম এবং ক এ মাঝে 'ণ' বসে
  3. 'ক' এর পূর্বে 'ণ' বসে
  4. ম-এর পরে 'ণ' বসে
সঠিক উত্তর:
স্বভাবতই 'ণ' বসেছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বভাবতই 'ণ' বসেছে
ব্যাখ্যা
• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।

• ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়।
যেমন:
- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়।
যেমন:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৮.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী 'ল' কেমন ধ্বনি?
  1. দন্ত্য
  2. মূর্ধন্য
  3. তালব্য
  4. কন্ঠ্য
সঠিক উত্তর:
দন্ত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দন্ত্য
ব্যাখ্যা


[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি সংস্করণ ২০১৯]
৫৯.
চ ছ জ ঝ বর্ণসমূহ উচ্চারণস্থান অনুযায়ী কোন ধরণের বর্ণ?
  1. দন্ত্য বর্ণ
  2. তালব্য বর্ণ
  3. ওষ্ঠ্য বর্ণ  
  4. কন্ঠ্য বর্ণ
সঠিক উত্তর:
তালব্য বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালব্য বর্ণ
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনধ্বনির বর্ণসমূহ            উচ্চারণস্থান অনুযায়ী নাম
ক খ গ ঘ ঙ                             কন্ঠ্য বা জিহ্বামূলীয় বর্ণ
চ ছ জ ঝ ঞ শ য                     তালব্য বর্ণ
ট ঠ ড ঢ ণ ষ র ড় ঢ়                 মূর্ধন্য বা পশ্চাৎ দন্তমূলীয় বর্ণ
ত থ দ ধ ন ল স                       দন্ত্য বর্ণ
প ফ ব ভ ম                             ওষ্ঠ্য বর্ণ  

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ -সংস্করণ]
৬০.
কোনটি দন্ত্য ব্যঞ্জন?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত,, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
 
অন্যদিকে,
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন - নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের , র, , দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।
৬১.
লাল → নাল কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ? 
  1. বিষমীভবন
  2. ধ্বনি বিপর্যয়
  3. ব্যঞ্জনবিকৃতি
  4. অন্তর্হতি 
সঠিক উত্তর:
বিষমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষমীভবন
ব্যাখ্যা

লাল → নাল বিষমীভবন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ। 
--------------------------
• বিষমীভবন:
- শব্দের ভেতরে পাশাপাশি থাকা দুটি সমবর্ণ বা একই ব্যঞ্জনধ্বনির মধ্যে একটি ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে ভিন্ন ধ্বনিতে রূপ নিলে তাকে বিষমীভবন বলা হয়।
- এটি মূলত সমীভবন-এর বিপরীত ধ্বনিপ্রক্রিয়া।
- এখানে একই ধ্বনিকে একই রাখার বদলে উচ্চারণের সুবিধার জন্য একটি ধ্বনি ভিন্ন রূপ ধারণ করে।
- যেমন—
- শরীর → শরীল শব্দে পাশাপাশি থাকা ‘র’ ধ্বনির একটি পরিবর্তিত হয়ে ‘ল’ হয়েছে;
- লাল → নাল শব্দে একটি ‘ল’ ধ্বনি ‘ন’-এ রূপান্তরিত হয়েছে;
- আবার লাঙ্গল → নাঙ্গল শব্দে ‘ল’ ধ্বনির পরিবর্তন ঘটেছে। 
---------------------------
অন্যদিকে,
• ধ্বনি বিপর্যয়:
- ধ্বনি বিপর্যয় হলো এমন ধ্বনিগত পরিবর্তন, যেখানে উচ্চারণের সময় শব্দের আগের ধ্বনি পিছিয়ে যায় এবং পরের ধ্বনি সামনে চলে আসে। - ফলে ধ্বনির স্বাভাবিক ক্রম উল্টে যায়।
- যেমন—
- রিক্সা → রিস্কা, 
- তলোয়ার → তরোয়াল,
- নকশা → নশকা,
- লাফ → ফাল।

• ব্যঞ্জনবিকৃতি: 
- ব্যঞ্জনবিকৃতি বলতে বোঝায়—শব্দের ভেতরে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি রূপান্তরিত হয়ে ভিন্ন ব্যঞ্জনে পরিণত হওয়া।
- এতে ধ্বনিটি লোপ পায় না, বরং তার ধ্বনিগত রূপ বদলে যায়।
- যেমন—
- কবাট → কপাট,
- ধাইমা → দাইমা।

• অন্তর্হতি:
- অন্তর্হতি বলতে বোঝায়—শব্দের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি সম্পূর্ণভাবে লোপ পাওয়া।
- এই প্রক্রিয়ায় শব্দটি সংক্ষিপ্ত ও সহজ উচ্চারণযোগ্য হয়ে ওঠে।
- যেমন—
- আলাহিদা → আলাদা,  
- ফাল্গুন → ফাগুন,
- ফলাহার → ফলার। 

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; 
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৬২.
নিচের কোন বানানটি ণ-ত্ব বিধান অনুসারে শুদ্ধ নয়?
  1. প্রাহ্ণ
  2. উত্তরায়ণ
  3. দুর্ণীতি
  4. পরিণয়
সঠিক উত্তর:
দুর্ণীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্ণীতি
ব্যাখ্যা
• 'দুর্ণীতি' বানানটি ণ-ত্ব বিধান অনুসারে শুদ্ধ নয়।
• শুদ্ধবানান- দুর্নীতি।

• সূত্র:
-  সমাসবদ্ধ শব্দে ণ-ত্ব বিধান খাটে না।
- যেমন: ত্রিনয়ন, দুর্নাম, পরান্ন, নিষ্পন্ন, অহর্নিশ, ক্ষুন্নিবৃত্তি।

অন্যদিকে,
'প্রাহ্ণ', উত্তরায়ণ ও পরিণয়  ণ-ত্ব বিধান অনুসারে সঠিক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬৩.
'শ্রীশ' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. শ্রীঃ + ঈশ
  2. শ্রী + ইশ
  3. শ্রী + ঈশ
  4. শ্রী + শ
সঠিক উত্তর:
শ্রী + ঈশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রী + ঈশ
ব্যাখ্যা
'শ্রীশ' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ - শ্রী + ঈশ
- এটি একটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।

ই, ঈ ধ্বনির সন্ধি:

- অতি + ইত = অতীত, 
- পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা, 
- শচী + ইন্দ্র = শচীন্দ্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৬৪.
'অ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ হয়েছে কোন শব্দে?
  1. কথা
  2. অদ্য
  3. পক্ষ
  4. অণু
সঠিক উত্তর:
কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কথা
ব্যাখ্যা

• 'অ' বর্ণের উচ্চারণ:
অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]। সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।

যেমন:
অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা], অনাথ [অনাথ্]।
• অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোক্কো], অদ্য [ওদো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৬৫.
কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) পরি + কার = পরিষ্কার
  2. খ) বিপদ + জাল = বিপজ্জাল
  3. গ) সু + অল্প = স্বল্প
  4. ঘ) ভাব + উক = ভাবুক
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাব + উক = ভাবুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাব + উক = ভাবুক
ব্যাখ্যা
ভাব + উক = ভাবুক এটি সঠিক নয়। এর শুদ্ধরূপ হলো- ভৌ + উক = ভাবুক। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৬৬.
'লবণ' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোন সূত্রানুসারে হয়?
  1. এ + অ
  2. ঐ + অ
  3. ও + অ
  4. ঔ + অ
সঠিক উত্তর:
ও + অ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ও + অ
ব্যাখ্যা
এ, ঐ, ও, ঐ - কারের প এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয়, এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্‌ ও আব্‌ হয়। 
যেমন- 
ও + অ = অব্‌ + আ ; লো + অন= লবণ, পো+অন= পবন
এ + অ = এয়্‌ + অ; নে+ অন= নয়ন। 
ঐ + অ = আয়্‌ + অ; নৈ+ অক= নায়ক।
ও + অ = আব্‌+ অ; গো+ আদি = গবাদি
ঔ + অ = আব্‌+আ; পৌ + অক = পাবক

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭.
নিচের কোনটির সন্ধি বিচ্ছেদ সঠিক নয়?
  1. তিরঃ+ধান = তিরোধান
  2. অধঃ+পতন = অধপতন
  3. বয়ঃ+সন্ধি = বয়ঃসন্ধি
  4. পুরঃ+কার = পুরস্কার
সঠিক উত্তর:
অধঃ+পতন = অধপতন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধঃ+পতন = অধপতন
ব্যাখ্যা
বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়:
১. বিসর্গ বিদ্যমান থাকে: মনঃ+কষ্ট = মনঃকষ্ট, অধঃ+পতন = অধঃপতন, বয়ঃ+সন্ধি = বয়ঃসন্ধি
২. বিসর্গ ‘ও’ হয়ে যায়: মনঃ+যোগ = মনোযোগ, তিরঃ+ধান = তিরোধান, তপঃ+বন = তপোবন 
৩. বিসর্গ ‘র্’ হয়ে যায়: নিঃ+আকার = নিরাকার, পুনঃ+মিলন = পুনর্মিলন, আশীঃ+বাদ = আশীর্বাদ 
৪. বিসর্গ শ/ষ্/স্ হয়: নিঃ+চয় = নিশ্চয়, দুঃ+কর = দুষ্কর, পুরঃ+কার = পুরস্কার
৫. কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়: নিঃ+রব = নীরব, নিঃ+রস = নীরস, নিঃ+রোগ = নীরোগ।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি।
৬৮.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি নয়?
  1. মস্যাধার
  2. অন্যান্য
  3. মার্তণ্ড
  4. কুলটা
সঠিক উত্তর:
মস্যাধার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মস্যাধার
ব্যাখ্যা
'মস্যাধার'- নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি নয়। 
মস্যাধার শব্দটির সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ হলো 'মসী+আধার=মস্যাধার'।

'মস্যাধার' শব্দটির সন্ধির নিয়ম
ই-কার বা ঈ-কারের পর ই বা ঈ ভিন্ন অন্য কোনো স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে 'য' বা য-ফলা হয়, য-ফলা পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়। 
[ ঈ + আ = য্‌ + আ]
যেমন,
মসী+আধার=মস্যাধার।

 • নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি 
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
গো+ইন্দ্র = গবেন্দ্র 
গো+অক্ষ = গবাক্ষ
প্র+এষণ = প্রেষণ
কুল+অটা = কুলটা
পর+পর = পরস্পর

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬৯.
'অ, আ' ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক-এর পর ষ-এর প্রয়োগ হলে তা কী হয়?
  1. 'স' হয়
  2. বিকৃত হয়
  3. অবিকৃত থাকে
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অবিকৃত থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবিকৃত থাকে
ব্যাখ্যা

• অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে ষ-এর প্রয়োগ হলে তা - 'ষ' ই হয়; অর্থ্যাৎ তা অবিকৃত থাকে।
যেমন,
— ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়।
যেমন,
— অভিষেক, সুষুপ্ত, অনুষঙ্গ, প্রতিষেধক, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭০.
নিচের কোনটি অপিনিহিতির উদাহরণ?
  1. জন্ম > জম্ম
  2. আজি > আইজ
  3. ডেস্ক > ডেক্স
  4. অলাবু > লাবু > লাউ
সঠিক উত্তর:
আজি > আইজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজি > আইজ
ব্যাখ্যা

- আজি > আইজ অপিনিহিতির উদাহরণ।

অপিনিহিতি:
- অপিনিহিতি ঘটে তখন, যখন শব্দে থাকা ‘ই-কার’ বা ‘উ-কার’ তার মূল অবস্থানের আগে উচ্চারিত হয়।
- উদাহরণস্বরূপ:
• সত্য → সইত্য,
• চারি → চাইর,
• রাখিয়া → রাইখ্যা।
- এখানে ‘ই’ বা ‘উ’ ধ্বনির অগ্রসরণ লক্ষ্য করা যায়।

অন্যদিকে,
• জন্ম → জম্ম - সমীভবন এর উদাহরণ।
- সমীভবন – শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমান হয়ে যায়।
- উদাহরণ: কাদনা → কান্না।

• ডেস্ক → ডেক্স - ধ্বনি বিপর্যয় এর উদাহরণ।
- ধ্বনি বিপর্যয় – শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন।
- উদাহরণ: পিশাচ → পিচাশ,
- বাক্স → বাসক,
- লাফ → ফাল,
- রিক্সা → রিসকা,
- লোকসান → লোসকান।

• অলাবু → লাবু → লাউ - আদিস্বরলোপ এর উদাহরণ।

উল্লেখ্য, 
- আদিস্বরলোপ সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ এর প্রকার।
- সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ - যা মূলত দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, মধ্য বা অন্ত্যবর্তী স্বরধ্বনি বাদ দেওয়া।
- সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ ৩ প্রকার :
আদিস্বরলোপ :  উদ্ধার → উধার → ধার।
• মধ্যবর লোপ : অগুরু → অণু, সুবর্ণ → স্বর্ণ।
• অন্ত্যস্বর লোপ :
- আশা → আশ,
- আজি → আজ,
- চারি → চার। 

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১);
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ।

৭১.
জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি কত প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন
ব্যাখ্যা

• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন প্রকার।
যথা:
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি,
২. মধ্য স্বরধ্বনি ও
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

• সম্মুখ স্বরধ্বনি: সম্মুখ স্বর‌ধ্বনির উচ্চারণের সময় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
- যেমন: [ই], [এ], [অ্যা] ইত্যাদি সম্মুখ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

• মধ্য স্বরধ্বনি: মধ্য স্বরধ্বনি হচ্ছে [আ]।

• পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: পশ্চাৎ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়। [অ], [ও], [উ] ইত্যাদি পশ্চাৎ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৭২.
কম্পনজাত ধ্বনি কোনটি?
  1. ক) র
  2. খ) ড়
  3. গ) ঢ়
  4. ঘ) ঞ
সঠিক উত্তর:
ক) র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) র
ব্যাখ্যা

‘র’ একটি কম্পনজাত ধ্বনি। উচ্চারণের সময় কম্পন সৃষ্টি হয় বলে এমন নামকরণ করা হয়েছে।
উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

৭৩.
নিচের কোনটি ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ নয়?
  1. দিগন্ত
  2. পরিচ্ছদ
  3. পদ্ধতি
  4. গবেষণা
সঠিক উত্তর:
গবেষণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গবেষণা
ব্যাখ্যা

• স্বরধ্বনির সাথে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে। যেমনঃ
- গো + এষণা = গবেষণা।
• স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ব্যঞ্জন সন্ধি হয়। যেমনঃ
- দিগন্ত = দিক্ + অন্ত,
- পরিচ্ছদ = পরি্ +ছদ,
- পদ্ধতি = পদ্ + হতি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।

৭৪.
কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. ক) কুল+অটা= কুলটা
  2. খ) গো+অক্ষ= গবাক্ষ
  3. গ) শুদ্ধ+ওদন= শুদ্ধোদন
  4. ঘ) অন্য+অন্য= অন্যান্য
  5. ঙ) প্রতি+এক= প্রত্যেক
সঠিক উত্তর:
ঙ) প্রতি+এক= প্রত্যেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ) প্রতি+এক= প্রত্যেক
ব্যাখ্যা
প্রথম চারটি অপশন নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি। প্রতি+এক=প্রত্যেক এটি ই/ঈ কার ভিন্ন অন্য স্বর ধ্বনি থাকলে ই/ঈ কার স্থলে য বা য ফলা হয়, নিয়মে গঠিত স্বরসন্ধি। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৭৫.
কোন শব্দে মূর্ধন্য-ণ এর ব্যবহার অশুদ্ধ?
  1. ঝরণা
  2. ঘর্ষণ
  3. দূষণ
  4. ক্ষৌণি
সঠিক উত্তর:
ঝরণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝরণা
ব্যাখ্যা
• 'ঝরণা' শব্দে মূর্ধন্য-ণ এর ব্যবহার অশুদ্ধ।

নিয়ম:

- বাংলা শব্দের বানানে দন্ত্য-ন এর পরিবর্তে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহার হওয়ার কিছু নিয়ম রয়েছে। সাধারণভাবে ‘র, ষ, ক্ষ’ এই তিনটি অক্ষরের পর মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
- এখারে র অর্থ: র, ঋ, রেফ্, র-ফলা, ঋ-কার। উদাহরণ- কারণ, ঋণ, কর্ণ, তৃণ ইত্যাদি।
- ষ: ষণ্ড, ঘর্ষণ, বিষ্ণু, ভূষণ, দূষণ ইত্যাদি।
- ক্ষ: ক্ষণ, ক্ষীণ, ক্ষুণ্ন, ক্ষৌণি ইত্যাদি।

মূর্ধন্য-ণ ও দন্ত্য-ন এর ব্যবহার:
- অতৎসম শব্দের বানানে ণ ব্যবহার করা হবে না।
যেমন:
অঘ্রান, ইরান, কান, কোরান, গভর্নর, গুনতি, গোনা, ঝরনা, পরান, রানি, সোনা।

উৎস: বাংলা লেখার নিয়মকানুন, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৬.
'ষড়ানন' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) ষট + নন
  2. খ) ষড় + আনন
  3. গ) ষট্ + আনন
  4. ঘ) ষড় + নন
সঠিক উত্তর:
গ) ষট্ + আনন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ষট্ + আনন
ব্যাখ্যা
উল্লেখিত প্রশ্নে সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে ষট্ + আনন = ষড়ানন।

• ক্, চ্, ট্, ত্, প্ এর পর স্বরধ্বনি থাকলে এর পর যথাক্রমে- গ্, জ্, ড্ (ড়), দ্, ব্, বসে।

যেমন-
- ষট্+আনন = ষড়ানন
- তৎ+অবধি = তদবধি ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭.
'এ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. একটি
  2. এলো
  3. খেলা
  4. দেশ
সঠিক উত্তর:
খেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খেলা
ব্যাখ্যা

এ এর উচ্চারণ:
- এ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম:
- [এ] এবং
- [অ্যা]।
- সাধারণ উচ্চারণ [এ],
- কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে এ কখনো কখনো [অ্যা] উচ্চারিত হয়।

উল্লেখ্য,
- এ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: একটি [এক্টি], দেশ [দেশ], এলো [এলো]।
- এ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ: একটা [অ্যাক্টা], বেলা [ব্যালা], খেলা [খ্যালা], মেলা[ম্যালা]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৬ সংস্করণ)।

৭৮.
"তপোবন" শব্দটি কোন সন্ধিতে গঠিত?
  1. স্বর
  2. ব্যঞ্জন
  3. বিসর্গ
  4. নিপাতনে সিদ্ধ
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ
ব্যাখ্যা

বিসর্গ সন্ধি:
- অ-কারের পরস্থিত স-জাত বিসর্গের পর ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি, নাসিক্য ধ্বনি কিংবা অন্তঃস্থ য, অন্তঃস্থ ব, র, ল, হ থাকলে, অ-কার ও স-জাত বিসর্গ স্থলে ও-কার হয়।

যেমন:
- ততঃ + অধিক= ততোধিক,
- তিরঃ + ধান = তিরোধান,
- মনঃ + রম = মনোরম,
- মনঃ + যোগ = মনোযোগ,
- মনঃ + তাপ = মনস্তাপ,
- তপঃ + বন = তপোবন ইত্যাদি।
 
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি অভিধান।

৭৯.
'বলিয়া > বলে' - এটি কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ব্যঞ্জন বিচ্যুতি
  2. অভিশ্রুতি
  3. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  4. অন্তর্হতি
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
ব্যাখ্যা

অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদানুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।

যেমন:
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- মাছুুয়া > মেছো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮০.
অন্বেষণ—এর সন্ধি বিচ্ছেদ নির্ণয় করুন৷
  1. ক) অন্ব + এষন
  2. খ) অন্ব + এষণ
  3. গ) অনু + এষন
  4. ঘ) অনু + এষণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনু + এষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনু + এষণ
ব্যাখ্যা
উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার ও ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।

যেমন - উ + ঈ = ব + ঈ (তনু + ঈ = তন্বী)

উ + এ = ব + এ (অনু + এষণ = অন্বেষণ)
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বই।
৮১.
"ঋ, ট, ঠ, ড" বর্ণগুলোর উচ্চারণস্থান কোনটি?
  1. মূর্ধা
  2. জিহ্বামূল
  3. দন্তমূল
  4. তালু
সঠিক উত্তর:
মূর্ধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূর্ধা
ব্যাখ্যা
মূর্ধন্যধ্বনি:
যেসব ধ্বনির উচ্চারণস্থান মূর্ধা বা তালুর অগ্রভাগ, তাদের মূর্ধন্যধ্বনি বলে। 
- ঋ, ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, র, ড়, ঢ়, ষ মূর্ধন্যধ্বনি।
 
অন্যদিকে,
কণ্ঠ্যধ্বনি:
যেসব ধ্বনির উচ্চারণস্থান কণ্ঠনালির উপরিভাগ বা জিহ্বামূল, তাদের কণ্ঠ্যধ্বনি বলে। 
- অ, আ, ক, খ, গ, ঘ, ঙ, হ কণ্ঠ্যধ্বনি।
 
তালব্যধ্বনি:
যেসব ধ্বনির উচ্চারণস্থান তালু, তাদের তালব্যধ্বনি বলে। 
- ই, ঈ, চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, য়, শ তালব্যধ্বনি।

দন্ত্যধ্বনি:
যেসব ধ্বনির উচ্চারণস্থান দন্তমূল, তাদের দন্ত্যধ্বনি বলে। 
- ত, থ, দ, ধ, ন, ল, স দন্ত্যধ্বনি।
 
উত্তর: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৮২.
কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ আছে কোন শব্দে?
  1. ক) সালাম
  2. খ) লাল
  3. গ) রাত
  4. ঘ) কাকা
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাকা
ব্যাখ্যা
• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। যেমন: কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক, খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যান্য অপশন:
• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
৮৩.
সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সৎ + আশয় = সদাশয়
  2. দু + কর = দুষ্কর
  3. অহ + অহ = অহরহ
  4. সং + সার = সংসার
সঠিক উত্তর:
সৎ + আশয় = সদাশয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৎ + আশয় = সদাশয়
ব্যাখ্যা
• 'সদাশয়' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ- 'সৎ + আশয়'।

অন্যদিকে,
- 'দুষ্কর' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = দুঃ + কর।
- 'অহরহ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = অহঃ + অহ।
- 'সংসার' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = সম্‌ + সার। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৪.
নিচের কোনটি মৌলিক স্বরধ্বনি?
  1. ঈ 
  2. ঊ 
  3. ঋ 
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• মৌলিকতা অনুযায়ী, স্বরধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা
১. মৌলিক স্বরধ্বনি
২. যৌগিক স্বরধ্বনি

• মৌলিক স্বরধ্বনি:
যে স্বরধ্বনিকে আর বিশ্লেষণ করা যায় না, তাকে মৌলিক স্বর বলে। বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ৭টি।
যেমন: ই, এ, অ্যা, আ, অ, ও, উ।
- বাংলা বর্ণমালায় ‘অ্যা’ ধ্বনিজ্ঞাপক কোনাে বর্ণ নেই।

• যৌগিক স্বরধ্বনি:
একাধিক স্বরধ্বনি মিলে যে ধ্বনি সৃষ্টি হয় তাকে যৌগিক স্বরধ্বনি বা দ্বিস্বরধ্বনি বলে। বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনি মোট ২৫টি। এর মধ্যে মাত্র ২টি যৌগিক স্বরধ্বনির নিজস্ব বর্ণ আছে।
যথা:
- ও + ই্ = ঐ,
- ও + উ্ = ঔ।
- বাকি ২৩টি যৌগিক স্বরধ্বনির নিজস্ব বর্ণ বা প্রতীক নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৮৫.
'নমস্কার' এর সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. নবঃ + কার
  2. নমসঃ + কার
  3. নম + কার
  4. নমঃ + কার
সঠিক উত্তর:
নমঃ + কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নমঃ + কার
ব্যাখ্যা
• 'নমস্কার' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - নমঃ + কার।
- এটি একটি বিসর্গ সন্ধি।

- অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশু ধ্বনি (ষ) হয়।
 যেমন: 
- নমঃ + কার = নমস্কার।
- পদঃ + খলন = পদস্খলন।
- নিঃ + কর = নিষ্কর।
- দুঃ + কর = দুষ্কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৬.
বাংলা ভাষায় মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনির সংখ্যা কতটি?
  1. ২৭টি
  2. ১১টি
  3. ৩০টি
  4. ২৯টি
সঠিক উত্তর:
৩০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০টি
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি ভাষার ক্ষুদ্রতম একক।
বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।
এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।

• মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি:
[ই], [এ), [অ্যা], [আ], [অ], [ও], {উ};

• মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি:
[প্], [ফ], [ব], ভিা,[ত্], [থ], [দি], [ধ], টি], ঠি), [ড], [ঢ়], [চ], [ছ], [জ], [ব],
[ক], [খ], [গা,ঘি], [ম], নি], ঙি], [স্], [শ], [হা, লি], রি], ড়ি], [ঢ়।। এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ২০২৫-সংস্করণ।
৮৭.
'পশু + অধম' - এর সঠিক সন্ধি কোনটি?
  1. পশ্বধর্ম
  2. পশুধম
  3. পশ্বধম
  4. পশ্বাধম
সঠিক উত্তর:
পশ্বধম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশ্বধম
ব্যাখ্যা
• উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।

যেমন-
- অনু + এষণ = অন্বেষণ,
- সু + অল্প = স্বল্প
- তনু + ঈ = তন্বী,
- অনু + ইত = অন্বিত,
- সু + আগত = স্বাগত,
- পশু + অধম = পশ্বধম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৮.
শ, ষ, স, হ এই চারটি ধ্বনিকে কি বলা হয় ?
  1. ক) অন্তঃস্থ ধ্বনি
  2. খ) নাসিক্য ধ্বনি
  3. গ) উষ্মধ্বনি
  4. ঘ) পরাশ্রয়ী বর্ণ
সঠিক উত্তর:
গ) উষ্মধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উষ্মধ্বনি
ব্যাখ্যা

উষ্মধ্বনিঃ শ, ষ, স, হ এ চারটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণের সময় আমরা শ্বাস যতক্ষণ খুশি রাখতে পারি। এগুলােকে বলা হয় উষ্মধ্বনি বা শিশধ্বনি। এ বর্ণগুলোকে বলা হয় উষ্মবর্ণ।
শ ষ স - এ তিনটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অঘােষ অল্পপ্রাণ, আর 'হ' ঘােষ মহাপ্রাণ ধ্বনি। (রেফারেন্সঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ)

৮৯.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ নয়?
  1. হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র
  2. প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ
  3. পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি
  4. আ + পদ = আস্পদ
সঠিক উত্তর:
প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ
ব্যাখ্যা

• প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ, এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।

নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:

- কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

নিচে কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- আ + পদ = আস্পদ,
- পর + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক + দশ = একাদশ,
- হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯০.
'ৎ' কোনটির রূপভেদ?
  1. ক) ত্‌
  2. খ) ত
  3. গ) ত্ত
  4. ঘ) ট্‌
সঠিক উত্তর:
ক) ত্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ত্‌
ব্যাখ্যা
খণ্ড—ত (ৎ)-কে স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে ধরা হয় না।
এটি ‘ত' বর্ণের হস-চিহ্ন যুক্ত (ত্‌)-এর রূপভেদ মাত্র। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

তবে মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি অনুসারে 'ৎ' ‘ত’ এর বর্ণসংক্ষেপ বা [ত্‌]। তাই 'ৎ' দ্বারা সম্পূর্ন ‘ত’ কে প্রকাশ করবে না।
৯১.
'মহোৎসব' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মহ + উতসব
  2. মহো + উৎসব
  3. মহঃ + উৎসব
  4. মহা + উৎসব
সঠিক উত্তর:
মহা + উৎসব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহা + উৎসব
ব্যাখ্যা
• 'মহোৎসব' = মহা + উৎসব স্বরসন্ধির উদাহরণ।

সূত্র:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয় মিলে ও-কার হয়;ও-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়।
যেমন -
- অ + উ = ও [সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়]
- আ + উ = ও [যথা + উচিত = যথোচিত]
- অ + ঊ = ও [গৃহ + ঊর্ধ = গৃ্হোর্ধ্ব]
- আ + ঊ = ও [গঙগা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি]
এরূপ - নীলোৎপল, চলোর্মি, নবোঢ়া, ফলোদয়, পরোপকার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯২.
কোনটি নাসিক্য ধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি - ম।

নাসিক্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখের মধ্যে প্রথমে বাধা পায় এবং নাক ও মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়, সেসব ধ্বনিকে নাসিক্য ব্যঞ্জন বলে।
- মা, নতুন, হাঙর প্রভৃতি শব্দের ম, ন, ঙ নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি।

অন্যদিকে,
শ, ষ, স, হ - এ চারটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণের সময় আমরা শ্বাস যতক্ষণ খুশি রাখতে পারি। এগুলোকে বলা হয় উষ্মধ্বনি বা শিশধ্বনি।

- কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনি।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৯৩.
নিচের কোন শব্দের বানানে মূর্ধন্য 'ণ' এর ব্যবহার হয়েছে?
  1. যত্ন
  2. চিহ্ন
  3. কৃষ্ণ
  4. অন্ন
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণ
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণ - শব্দের বানানে মূর্ধন্য 'ণ' এর ব্যবহার হয়েছে।
- 'ষ্ণ' যুক্তবানানে (ষ + ণ) রয়েছে।

ণ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার আছে। তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
- ঋ, র, ষ - এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।

অন্যদিকে,
- 'চিহ্ন' শব্দের 'হ্ন' যুক্তবর্ণে ( হ্‌ + ন) রয়েছে।
- 'অন্ন' শব্দের 'ন্ন' যুক্তবর্ণে ( ন্‌ + ন) রয়েছে।
- 'যত্ন' শব্দের 'ত্ন' যুক্তবর্ণে ( ত্‌ + ন) রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৪.
'তস্কর' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. তৎ + কর
  2. তশ্‌ + কর
  3. তঃ + কর
  4. তস্‌ + কার
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
তৎ + কর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎ + কর
ব্যাখ্যা

নিপাতনে সিদ্ধ সংস্কৃত ব্যঞ্জনসন্ধি:
সংস্কৃত ব্যঞ্জনসন্ধির ক্ষেত্রে এমন কতকগুলো ব্যঞ্জনসন্ধি আছে যেগুলো কোনো নিয়মের মধ্যে পড়ে না।
এসব সন্ধিকে 'নিপাতনে সিদ্ধ' সন্ধি বলে।
যেমন:
- তৎ + কর = তস্কর,
- এক + দশ = একাদশ,
- দিব্‌ + লোক = দ্যুলোক,
 - ষট্ + দশ = ষোড়শ, হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র,
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোস্পদ,
 - আ + পদ = আপদ,
- পতৎ+ অঞ্জলি = পতঞ্জলি,
- পশ্চাৎ + অর্ধ = পশ্চার্ধ,
- বাক্ + ঈশ্বরী = বাগেশ্বরী,
- বিশ্ব + মিত্র = বিশ্বামিত্র।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৯৫.
কোন উষ্ম ব্যঞ্জনের উচ্চারণস্থান দন্তমূলীয়?
  1. হ 


  2. ম 
সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

• উষ্ম ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্‌প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলোকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।
উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলোকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ) এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলোর মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতো আওয়াজ হয়।

অন্যদিকে, 
• 'ম' (ম) এর উচ্চারণ স্থান হলো ওষ্ঠ (ঠোঁট)। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৯৬.
স্বভাবতই 'মূর্ধন্য-ষ' ব্যবহৃত হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. মুমূর্ষু
  2. উৎকৃষ্ট
  3. ঔষধ
  4. নষ্ট
সঠিক উত্তর:
ঔষধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঔষধ
ব্যাখ্যা
• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'মূর্ধন্য-ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কলুষ, ভূষণ, দ্বেষ, ঔষধ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৭.
'জ্ঞ' -যুক্তবর্ণটির সঠিক বিশ্লেষণ কোনটি?
  1. ক) জ্ + গ
  2. খ) জ্ + ঞ
  3. গ) জ্ + ণ
  4. ঘ) জ্ + জ
সঠিক উত্তর:
খ) জ্ + ঞ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জ্ + ঞ
ব্যাখ্যা
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
'জ্ঞ' যুক্তবর্ণটির এর সঠিক রূপ হলো: জ্ঞ = জ্ + ঞ

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
ক্ + র = ক্র
ক্ + ষ = ক্ষ
ক্ + স = ক্স
গ্ + উ = গু
গ্ + ধ = গ্ধ
ঙ্ + ক = ঙ্ক
ঙ্ + গ = ঙ্গ
ঞ্ + জ = ঞ্জ

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ]
৯৮.
'সদ্যোজাত' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ-
  1. সদ্‌ + জাত
  2. সদ্যঃ + জাত
  3. সদ্য + জাত
  4. সদ্যো + জাত
সঠিক উত্তর:
সদ্যঃ + জাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সদ্যঃ + জাত
ব্যাখ্যা
• 'সদ্যোজাত' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ- 'সদ্যঃ + জাত'।

- অ-কারের পরস্থিত স-জাত বিসর্গের পর ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি, নাসিক্য ধ্বনি কিংবা অন্তঃস্থ য, অন্তঃস্থ ব, র, ল, হ থাকলে অ-কার ও স-জাত বিসর্গ স্থলে ও-কার হয়।
- যেমন, 
• সদ্যঃ + জাত = সদ্যোজাত,
• তিরঃ + ধান = তিরোধান,
• মনঃ‌ + রম = মনোরম,
• মনঃ + হর = মনোহর,
• তপঃ + বন = তপোবন ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ। 
৯৯.
কোনটি সঠিক যুক্তবর্ণ?
  1. ত্ + ত = ত্ব
  2. ঙ্‌ + ক = ঙ্ক
  3. ত্‌ + উ = ত্থ
  4. ঞ্‌ + গ = ঙ্গ
সঠিক উত্তর:
ঙ্‌ + ক = ঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ্‌ + ক = ঙ্ক
ব্যাখ্যা

• সঠিক যুক্তবর্ণ - ঙ্‌ + ক = ঙ্ক

অন্যদিকে, 
অশুদ্ধের শুদ্ধরূপ:
- ত্ + ত = ত্ত,
- ত্‌ + থ = ত্থ,
- ঙ্‌ + গ = ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১০০.
বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরজ্ঞাপক বর্ণ কয়টি?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা

• বাংলা বর্ণমালায় মোট দুটি যৌগিক স্বরজ্ঞাপক বর্ণ পাওয়া যায়।

♦যৌগিক স্বর:
- যখন পাশাপাশি দুটো স্বরধ্বনি দ্রুত উচ্চারিত হয়ে একটিমাত্র মিলিত ধ্বনি সৃষ্টি করে, তাকে যৌগিক স্বর বা দ্বিস্বর বলা হয়।
- এই সংযুক্ত ধ্বনি তৈরি হয় দুইটি স্বর একসঙ্গে উচ্চারণের ফলে।
- উদাহরণ:
• অ + ই → অই (কৈশোর)।
• অ + উ → অউ (ছাউনি)।
• অ + এ → অয় (ময়না)।
• অ + ও → অও (হও, লও)
- বাংলা ভাষায় এ ধরনের যৌগিক স্বরধ্বনি প্রায় পঁচিশটি আছে।
- তবে বাংলা বর্ণমালায় শুধুমাত্র দুটি স্বরবর্ণই যৌগিক স্বরজ্ঞাপক, তা হলো— ঐ এবং ঔ।
- উদাহরণ: কৈ, বৌ।
- অন্যান্য যৌগিক স্বরের আলাদা কোনো বর্ণচিহ্ন নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।