উত্তর
ব্যাখ্যা
- গ্রথিত শব্দটি প্রত্যয়জাত শব্দ।
- শব্দটি নিপাতনে সিদ্ধ হয়েছে
√গন্থ + ক্ত = গ্রথিত
উৎসঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এইচএসসি, বাংলা দ্বিতীয় পত্রPrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ২২ / ২৭ · ২,১০১–২,২০০ / ২,৬৯১
- গ্রথিত শব্দটি প্রত্যয়জাত শব্দ।
- শব্দটি নিপাতনে সিদ্ধ হয়েছে
√গন্থ + ক্ত = গ্রথিত
উৎসঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এইচএসসি, বাংলা দ্বিতীয় পত্র• বানান শুদ্ধিকরণ:
• অশুদ্ধ বানান - 'পরিস্কার';
- শব্দের শুদ্ধ বানান - 'পরিষ্কার';
- "পরিস্কার” বানানটি ভুল কারণ এখানে ‘র’-এর পরে ষ’-ফলা যুক্ত হবে (ষ্ক)।
- বাংলা ব্যাকরণের যুক্তবর্ণের নিয়ম অনুযায়ী, ‘র’-এর পরে যুক্তাক্ষর হলে সেখানে মূর্ধন্য-ষ (‘ষ’-ফলা) বসে।
- যেমন: পুরস্কার, তিরস্কার।
-----------------------------------------
অন্যদিকে,
• আবিষ্কার, পুরস্কার, দুষ্কৃতকারী- শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
শুদ্ধ বানান- দ্বিধাদ্বন্দ্ব।
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- সংকোচ,
- সংশয়,
- কুণ্ঠা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'গভর্ণর' - অশুদ্ধ বানান।
এখানে 'গভর্ণর' বিদেশি শব্দ। তাই এর শুদ্ধ বানান হবে- 'গভর্নর'।
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
অতৎসম শব্দের বানানে 'ণ' ব্যবহার করা হবে না।
যেমন,
- অঘ্রান, ঝরনা, গভর্নর, হর্ন।
• অপশনের অন্যান্য শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অশুদ্ধ বানান- নিস্পাপ।
• শুদ্ধ বানান- নিষ্পাপ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- শব্দটি বিশেষণ পদ।
-----------------
বানানের নিয়ম:
• বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার = বহিষ্কার)।
• তবে স্ক / স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায় : অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি।
• অন্যদিকে ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি। (স্প / স্ত / স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ / নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• অশুদ্ধ বানান - হীন্যম্মনতা।
- শুদ্ধ বানান - 'হীনম্মন্যতা'
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
শব্দের অর্থ:
- নিজের সম্বন্ধে হীন ধারণা পোষণ।
অন্যদিকে,
• শুদ্ধ বানান - প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
• শুদ্ধ বানান - কঙ্কাল।
• শুদ্ধ বানান - ভদ্রোচিত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান - আনুষঙ্গিক।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- সংশ্লিষ্ট, প্রাসঙ্গিক।
- গৌণ, অপ্রধান।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান: গৃহস্থ।
- এটি বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- সংসার ধর্ম পালন করে এমন,
- গৃহী।
অন্যদিকে,
• প্রশস্ত, অভ্যস্ত ও ব্যস্ত বানানগুলো শুদ্ধ।
• এরূপ কিছু শুদ্ধ শব্দ- ঠোঁটস্থ, মুখস্থ, দ্বারস্থ, অস্ত, কণ্ঠস্থ, গ্রস্ত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
উ/ঊ এরপরে উ/ঊ থাকলে উভয়ে মিলে ঊ হয় এবং তা উ/ঊ-র আগের ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
মৃত্যু +উত্তীর্ণ = মৃত্যূত্তীর্ণ
মরু+উদ্যান = মরূদ্যান
বহু+ঊর্ধ্ব = বহূর্ধ্ব
বধূ+উৎসব = বধূৎসব
ভূ+ঊর্ধ্ব = ভূর্ধ্ব
• শুদ্ধ বানান - সদ্যোজাত।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- এইমাত্র জন্মলাভ করেছে এমন।
- নবজাত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অশুদ্ধ বানান - তিরষ্কার।
• শুদ্ধ বানান: তিরস্কার (বিশেষ্য),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
• বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
'র- ধ্বনি'র পরে যদি অ, আ স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'স' হবে।
যেমন: পুরস্কার, তিরস্কার ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
আবিষ্কার, পরিষ্কার ও পুরস্কার শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
শুদ্ধ বাক্য: আজ আমার কনিষ্ঠা বোনের বাগদান অনুষ্ঠান।
তাছাড়া,
অশুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতিশীল / উন্নয়নশীল দেশ।
অশুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
শুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।
অশুদ্ধ বাক্য: তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
শুদ্ধ বাক্য: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• শুদ্ধ বানান: বিশৃঙ্খল।
- শব্দটি বিশেষণ পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- অরাজক,
- নিয়মহীন।
- বিপর্যস্ত।
- উচ্ছৃঙ্খল।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• বানান শুদ্ধিকরণ:
• অশুদ্ধ বানান - 'অভ্যন্তরীন';
- শব্দের শুদ্ধ বানান - 'অভ্যন্তরীণ';
- অভ্যন্তরীণ একটি বিশেষণ পদ।
- এর অর্থ হলো ভেতরের বা অন্তর্গত।
- এটি কোনো বস্তু বা ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ বৈশিষ্ট্য বা অবস্থান প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়।
-----------------------------------------
অন্যদিকে,
• দৃষ্টিকোণ, চক্ষুষ্মান, কনকাঞ্জলি- শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
দরিদ্র্য শব্দটি নিঃসন্দেহে ভুল।
দারিদ্র্য এবং দারিদ্র -
বাংলা একাডেমির ব্যবহারিক অভিধানে এভাবে দেয়া আছে,
- দারিদ্র ⇒ দারিদ্র্য
- দারিদ্র্য, দারিদ্র (বিশেষ্য)
১ নির্ধনতা; দরিদ্র অবস্থা; দরিদ্রতা।
২ অভাব (চিন্তার দারিদ্র্য)।
৩ দৈন্য; দীনতা।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) দরিদ্র+য (ষ্যঞ্), অ(অণ্)}
অর্থাৎ, দারিদ্র এবং দারিদ্র্য দুইটাই অভিধানে আছে এবং দুইটাই শুদ্ধ। তবে, আধুনিক অভিধানে কেবল "দারিদ্র্য" রাখা হয়েছে। আবার কয়েকজন স্কলারের বইতে "্য" (য - ফলা) ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট শুদ্ধ বানানগুলো নিম্নরূপঃ
দরিদ্র (বিশেষণ)
দারিদ্র্য (বিশেষ্য)
দারিদ্র (বিশেষ্য)
দরিদ্রতা (বিশেষ্য)
এই প্রশ্নটা অনেক চাকরির পরীক্ষায় ইতোমধ্যে এসেছে। সমস্যা হচ্ছে, দারিদ্র এবং দারিদ্র্য দুইটাই একসাথে আছে এমন প্রশ্নও আছে।
যেহেতু, ব্যবহারিক অভিধানে দারিদ্র ⇒ দারিদ্র্য তে ফরোয়ার্ড করা হয়েছে এবং আধুনিক অভিধানে শুধু "দারিদ্র্য"কেই রাখা হয়েছে, পাশপাশি স্কলাররাও অনেকেই "্য" (য - ফলা) এর পক্ষে, তাই দুইটার মধ্যে 'দারিদ্র্য' কে বেস্ট এন্সার হিসেবে নেয়া যায়।
অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধ রূপ:
- তপ্ত ভাতে নুন জুটেনা, পান্তা ভাতে ঘি।
- ভাত ছড়ালে কাকের অভাব হয় না
- যার লাঠি, তার মাটি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
• শুদ্ধ বানান - কিম্ভূত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- কীরূপ,
- কীরকম,
- অদ্ভুত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান: স্বায়ত্তীকরণ।
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
- এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- নিজ অধিকারে আনয়ন।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান: নির্দ্বিধচিত্ত।
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
দ্বিধাহীন চিত্ত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান- জাজ্বল্যমান।
- শব্দটি বিশেষণ পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- অতিশয় উজ্জ্বল,
- সুস্পষ্ট।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বাক্য: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
এমনকিছু অশুদ্ধ ও শুদ্ধ বাক্য হলো-
• অশুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষী দিব না।
• শুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষ্য দিব না।
অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।
• অশুদ্ধ বাক্য: আমি সন্তোষ হলাম।
- শুদ্ধ বাক্য: আমি সন্তুষ্ট হলাম।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• শুদ্ধ বানান- জিজীবিষা।
- এটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত।
অর্থ:
- বেঁচে থাকার ইচ্ছা।
অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো-
• শুদ্ধ বানান- জিজীবিষু।
- এটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত।
অর্থ: বেঁচে থাকতে ইচ্ছুক।
• শুদ্ধ বানান- জিগমিষা।
- এটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত।
অর্থ: গমনের ইচ্ছা।
• শুদ্ধ বানান- জিগীষা।
- এটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত।
অর্থ: জয়লাভ করার ইচ্ছা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'হীনম্মন্যতা' বানানটি সঠিক।
অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: মধ্যাকর্ষণ।
- শুদ্ধ: মাধ্যাকর্ষণ।
- অশুদ্ধ: কার্য্যালয়।
- শুদ্ধ: কার্যালয়।
- অশুদ্ধ: প্রনয়িণী।
- শুদ্ধ: প্রণয়িনী।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
প্রশ্ন: নিচের কোন বানানটি সঠিক?
সমাধান:
- প্রদত্ত শব্দগুলোর মধ্যে সঠিক বানানটি হলো- কিংকর্তব্যবিমূঢ়।
- কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর অর্থ: কর্তব্য স্থির করিতে অক্ষম এমন, হতবুদ্ধি।
অন্যদিকে,
- নৌর্ঋত এর সঠিক বানান হলো - নৈর্ঋত।
- প্রণয়িণি এর সঠিক বানান হলো - প্রণয়িনী।
- পুঙ্খানুপূঙ্খ এর সঠিক বানান হলো - পুঙ্খানুপুঙ্খ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- সঠিক বানান = ত্রিবেণি
অর্থ:
- গঙ্গা যমুনা ও সরস্বতী নদীত্রয়ের সংগমস্থল, প্রয়াগ।।
অন্যদিকে,
• অশুদ্ধ = চণ্ডালিক;
• শুদ্ধ = চণ্ডালিকা;
• অশুদ্ধ = বিদ্যান;
• শুদ্ধ = বিদ্বান;
• অশুদ্ধ = উৎকর্ষতা;
• শুদ্ধ = উৎকর্ষ;
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি ঘটেছে ‘তরুছায়া' শব্দে।
- শুদ্ধ রূপ- তরুচ্ছায়া।
--------------------------
• সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি:
শুদ্ধ - অশুদ্ধ:
- অনটন - অনাটন,
- অদ্যাবধি - অদ্যবধি,
- বাগীশ্বরী - বাগেশ্বরী,
- বক্ষ-উপরি - বক্ষোপরি,
- বিপদুদ্ধার - বিপদোদ্ধার,
- দুরদৃষ্ট - দুরাদৃষ্ট,
- মুখচ্ছবি - মুখছবি,
- উপর্যুক্ত - উপরোক্ত,
- উপর্যুপরি - উপর্যপরি ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• অপশনে কোনো শুদ্ধ বাক্য নেই। তাই সঠিক উত্তর - কোনোটিই নয়।
অশুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাতী নষ্ট।
শুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাঁতি নষ্ট।
অশুদ্ধ বাক্য: গৃহস্থের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারবো না।
শুদ্ধ বাক্য: ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।
অশুদ্ধ বাক্য: সব মাছগুলোর দাম কত।
শুদ্ধ বাক্য: মাছগুলোর দাম কত।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• উল্লেখিত বাক্যের শুদ্ধ রূপ: দৈন্য সর্বদা মহত্ত্বের পরিচায়ক নয়।
অন্যদিকে,
- দৈন্যতা সর্বদা মহত্বের পরিচায়ক নয়। - এ বাক্যে দৈন্য শব্দে তা-প্রত্যয়ের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে এবং মহত্ত্ব বানান অশুদ্ধ।
- দৈন্য সর্বদা মহত্বের পরিচায়ক নয়। - এ বাক্যে ‘মহত্বের’ বানানটি অশুদ্ধ। শুদ্ধ বানান হবে মহত্ত্বের।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
শুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ: আগত শনিবারে তারা যাবে।
শুদ্ধ: আগামী শনিবারে তারা যাবে।
অশুদ্ধ বাক্য: সব মাছগুলোর দাম কত।
শুদ্ধ বাক্য: মাছগুলোর দাম কত।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• অশুদ্ধ বাক্য: বৃক্ষটি সমূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে।
এই বাক্যে মূল সমস্যা বাহুল্যদোষ এবং অনাবশ্যক শব্দ প্রয়োগ।
- শুদ্ধ বাক্য:
"সমূলসহ উৎপাঠিত" অংশে ভুল শব্দচয়ন আছে।এখানে বাক্যটি হবে- বৃক্ষটি মূলসহ/সমূলে উৎপাঠিত হইয়াছে।
ভুল অপশন:
ক) সমূলসহ = ভুল। "সমূল" মানেই "মূলসহ", তাই "সমূলসহ" বাহুল্য।
খ) সমুলে উৎপাটন = ভুল। বানান ভুল রয়েছে।
গ) সমুলসহ = ভুল। বানান ভুল রয়েছে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
শুদ্ধ বানান- ভাগীরথী।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
শব্দটি বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- পুরাণমতে সূর্যবংশের নৃপতি ভগীরথ কঠোর তপস্যা করে গঙ্গাকে স্বর্গ থেকে মর্ত্যে অবতরণ করান বলে) গঙ্গানদীর অন্য নাম,
- গঙ্গার শাখা নদীবিশেষ।
অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ- নিশীথিনী, শারীরিক, সমীচীন।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান
• শুদ্ধ বানান - অচিন্তনীয়।
অন্যদিকে,
- পিপিলিকা → পিপীলিকা,
- প্রতিযোগীতা → প্রতিযোগিতা,
- বিবাদমান → বিবদমান।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান = ‘রৌদ্রকরোজ্জ্বল’।
- এই শব্দে জ্জ্ব (জ + জ + ব-ফলা) যুক্ত রূপ ব্যবহৃত হয়েছে।
- শব্দটি রৌদ্র + করোজ্জ্বল—এই দুই অংশের সন্ধির মাধ্যমে গঠিত।
- ব্যাকরণগত দিক থেকে এটি একটি বিশেষণ পদ।
- উৎসগতভাবে এটি সংস্কৃত শব্দ।
- শব্দটির প্রকৃতি–প্রত্যয় বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়: রৌদ্র + কর + উজ্জ্বল।
- ‘রৌদ্রকরোজ্জ্বল’ শব্দটির অর্থ হলো—সূর্যের আলোয় উদ্ভাসিত বা উজ্জ্বল।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'মহত্ব'- বানানটি অশুদ্ধ।
• সঠিক বানান- 'মহত্ত্ব'।
• 'মহত্ত্ব' শব্দের অর্থ- উদারতা, প্রকর্ষ।
অন্যদিকে,
- মহাত্মা- অতি মহৎ।
- মাহাত্ম্য - মহানুভবতা, মহিমা, গৌরব।
- মর্মস্পর্শী - মর্মকে স্পর্শ বা আকুল করে এমন।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'আকাঙ্ক্ষা' - শুদ্ধ বানান।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান: মনঃকষ্ট।
• মনঃকষ্ট একটি বিশেষ্য পদ, যা সংস্কৃত শব্দ থেকে উদ্ভূত।
- এর গঠন: মনস্ + √কষ্ + ত।
-অর্থ হলো মনের দুঃখ বা মনোবেদনা, এটি মানুষের অন্তর্গত মানসিক যন্ত্রণাকে বোঝায়।
• আরও কিছু শুদ্ধ বানান :
• শুদ্ধ বানান: আত্মসমর্পণ।
- আত্মসমর্পণ একটি ক্রিয়া, যার অর্থ হলো নিজের সমস্ত ক্ষমতা বা ইচ্ছা সমর্পণ করা।
- এটি সাধারণত সম্মান বা কর্তৃত্বের প্রতি নিজের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে।
• শুদ্ধ বানান: অভ্যন্তরীণ।
- অভ্যন্তরীণ একটি বিশেষণ, যার অর্থ হলো ভেতরের বা অন্তর্গত।
- এটি কোনো বস্তু বা ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ বৈশিষ্ট্য বা অবস্থান প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়।
• শুদ্ধ বানান: বিবেকবোধ।
- বিবেকবোধ একটি বিশেষ্য, যা ন্যায় ও অ-ন্যায় চিনতে সক্ষম হওয়ার ক্ষমতাকে বোঝায়।
- এটি মানুষের নৈতিক বোধ বা অন্তর্দৃষ্টি প্রকাশ করে।
• শুদ্ধ বানান: দ্বন্দ্ব।
- দ্বন্দ্ব একটি বিশেষ্য, যার অর্থ হলো বিরোধ বা সংঘাত।
- এটি সাধারণত মানুষের মধ্যে মতবিরোধ, লড়াই বা মতানৈক্যের পরিস্থিতি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
• শুদ্ধ বানান: ঈর্ষা।
- ঈর্ষা একটি বিশেষ্য।
- অর্থ: অন্যের সাফল্য বা সুখ দেখে মনের অসন্তোষ বা অপ্রসন্নতা।
• শুদ্ধ বানান: তৎপরতা।
- তৎপরতা একটি বিশেষ্য।
- অর্থ: কোনো কাজ সম্পাদনে সক্রিয়তা বা সতর্ক মনোভাব।
• শুদ্ধ বানান: সম্প্রীতি।
- সম্প্রীতি একটি বিশেষ্য।
- অর্থ: মানুষ বা সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্য ও মৈত্রী।
• শুদ্ধ বানান: প্রজ্ঞা।
- প্রজ্ঞা একটি বিশেষ্য।
- অর্থ: গভীর জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা।
• শুদ্ধ বানান: দুঃস্বপ্ন।
- দুঃস্বপ্ন একটি বিশেষ্য।
- অর্থ: খারাপ বা ভয়ঙ্কর স্বপ্ন, যা মানসিক কষ্ট সৃষ্টি করে।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।