উত্তর
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'পুঙ্খানুপুঙ্খ' - বানানটি শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ২১ / ২৭ · ২,০০১–২,১০০ / ২,৬৯১
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'পুঙ্খানুপুঙ্খ' - বানানটি শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অশুদ্ধ বানান - সায়ত্ত্বশাসন।
- শুদ্ধ বানান - স্বায়ত্তশাসন।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- স্বশাসিত রাষ্ট্র (একনায়ক-শাসিত নয়)।
অন্যদিকে,
- সর্বস্বান্ত,
- মুমূর্ষু,
- শুশ্রূষা।
শব্দগুলো বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• কোনো শব্দের শেষে যদি ঈ-কার থাকে, সেই শব্দের সঙ্গে জগৎ, বাচক, বিদ্যা, সভা, ত্ব, তা, নী, ণী, পরিষদ, তত্ত্ব ইত্যাদি যুক্ত হয়ে যদি নতুন শব্দ গঠন করে, তবে পূর্ববর্তী শব্দের ঈ-কার নবগঠিত শব্দে সাধারণত ই-কারে পরিণত হয়। যেমন-
- প্রাণী + বিদ্যা = প্রাণিবিদ্যা,
- প্রাণী + বাচক = প্রাণিবাচক,
- মন্ত্রী + পরিষদ = মন্ত্রিপরিষদ,
- মন্ত্রী + সভা = মন্ত্রিসভা,
- কৃতী + ত্ব = কৃতিত্ব,
- প্রতিদ্বন্দ্বী + তা = প্রতিদ্বন্দ্বিতা,
- অধিকারী + ণী = অধিকারিণী ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
• সঠিক বানান - প্রতীতি।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- উপলব্ধি; জ্ঞান।
- বিশ্বাস, প্রত্যয়।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
- সঠিক বানানটি হলো ছান্দসিক।
- ছান্দসিক মানে হলো ছন্দজ্ঞানী, ছন্দ সম্পর্কে জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান - ভবিষ্যদ্বাণী।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- ভবিষ্যতে কী ঘটবে সে বিষয় উক্তি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• বানানের নিয়ম অনুসারে 'মালীনী' শব্দটি অশুদ্ধ।
- শুদ্ধ বানান: মালিনী।
-----------------
• নিয়ম:
তৎসম শব্দে ইন্-প্রত্যয়ান্ত শব্দের সঙ্গে ত, ‘ত্ব’, নী ও ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে ই-কার হবে।
যেমন:
কৃতী - কৃতিত্ব,
যোগী - যোগিনী,
মালী - মালিনী,
একাকী- একাকিনী,
দায়ী - দায়িত্ব,
প্রতিযোগী - প্রতিযোগিতা,
মন্ত্রী - মন্ত্রিত্ব,
সহযোগী - সহযোগিতা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
- প্রদত্ত প্রশ্নের অপশনে শুদ্ধ বানানটি হচ্ছে ভুজ।
-পীপিলীকা শব্দের শুদ্ধ বানান পিপীলিকা।
- অভিজাত্য শব্দের শুদ্ধ বানান আভিজাত্য।
- বানিজ্য শব্দের শুদ্ধ বানান বাণিজ্য।
উৎসঃ;ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
• শুদ্ধ বাক্য: একটা গোপনীয় কথা বলি।
তাছাড়া,
অশুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাতী নষ্ট।
শুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাঁতি নষ্ট।
অশুদ্ধ বাক্য: সূর্য উদয় হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: সূর্য উদিত হয়েছে।
অশুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতিশীল / উন্নয়নশীল দেশ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'অন্তঃসত্ত্বা' — শুদ্ধ বানান।
অন্যদিকে,
• 'বিভিষীকা' এর সঠিক বানান - 'বিভীষিকা'।
• 'প্রোজ্বলিত' এর শুদ্ধ বানান - প্রজ্বলিত।
• 'অন্যপুর্বা' এর শুদ্ধ বানান - অন্যপূর্বা।
উৎস: বাংলা বানান অভিধান, বাংলা একাডেমি।
• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে- 'বন্যায় গ্রামের মানুষের চরম দুরাবস্থা তৈরি হয়েছে।'- এই বাক্যে।
- শুদ্ধ রূপ- 'বন্যায় গ্রামের মানুষের চরম দুরবস্থা তৈরি হয়েছে।'
-----------------------------
• প্রত্যয়ের ভুল প্রয়োগজনিত- শুদ্ধ–অশুদ্ধ রূপ:
অশুদ্ধ: রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য।
শুদ্ধ: রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য।
অশুদ্ধ: সৌজন্যতার জন্য অর্থের প্রয়োজন হয় না।
শুদ্ধ: সৌজন্যের / সৌজন্যবোধের জন্য অর্থের প্রয়োজন হয় না।
অশুদ্ধ: দুর্বলতবশত সে আসতে পারেনি।
শুদ্ধ: দুর্বলতাবশত সে আসতে পারেনি।
অশুদ্ধ: ইহার আবশ্যক নেই।
শুদ্ধ: ইহার আবশ্যকতা নেই।
অশুদ্ধ: তাহার সৌন্দর্যতাবোধ আমাকে অভিভূত করেছে।
শুদ্ধ: তার সৌন্দর্যবোধ আমাকে অভিভূত করেছে।
অশুদ্ধ: ছেলেটি অহর্নিশি তার মাকে জ্বালাতন করে।
শুদ্ধ: ছেলেটি অহর্নিশ তার মাকে জ্বালাতন করে।
অশুদ্ধ: তার সাংঘাতিক আনন্দ হলো।
শুদ্ধ: তার অপরিসীম আনন্দ হলো।
অশুদ্ধ: মহাসমারোহে প্রধান অতিথিকে সুস্বাগত জানানো হল।
শুদ্ধ: মহাসমারোহে প্রধান অতিথিকে স্বাগত জানানো হল।
অশুদ্ধ: মিছিল করার জন্য সবাই একত্রিত হলো।
শুদ্ধ: মিছিল করার জন্য সবাই একত্র হলো।
অশুদ্ধ: সৌজন্যতা বজায় রাখা উচিত।
শুদ্ধ: সৌজন্য বজায় রাখা উচিত।
অশুদ্ধ: ঘটনাটি প্রমাণ হয়েছে।
শুদ্ধ: ঘটনাটি প্রমাণিত হয়েছে।
অশুদ্ধ: বাহুল্যতা পরিহার করা উচিত।
শুদ্ধ: বাহুল্য পরিহার করা উচিত।
অশুদ্ধ: মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠতর সন্তান।
শুদ্ধ: মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান।
অশুদ্ধ: ঐক্যতার ভিত্তিতে কাজটি সম্পাদিত হয়েছে।
শুদ্ধ: ঐক্যের ভিত্তিতে কাজটি সম্পাদিত হয়েছে।
অশুদ্ধ: সে সমৃদ্ধশালী পরিবারের সন্তান।
শুদ্ধ: সে সমৃদ্ধ পরিবারের সন্তান।
অশুদ্ধ: লোকটির পোশাকে দারিদ্র্যতার ছাপ স্পষ্ট।
শুদ্ধ: লোকটির পোশাকে দারিদ্র্যের ছাপ স্পষ্ট।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• অশুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
• শুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।
⇒ সূত্র:
বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এর ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে একবার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা ইত্যাদি যুক্ত হবে না।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• দুরাবস্থার শব্দটির বানান অশুদ্ধ।
• এর শুদ্ধরূপ হবে দুরবস্থা।
• এটি সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ।
• এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।
• এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ- দুঃ +অবস্থা = দুরবস্থা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
- শুদ্ধ বানান - অর্জন।
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
যেমন:
- অর্জ্জন, ঊর্দ্ধ, কার্ত্তিক, কর্ম্ম, মূর্চ্ছ্ কার্য্য ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে- অর্জন, ঊর্ধ্ব, কার্তিক, কর্ম, মূর্ছা, কার্য ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• জন্মাষ্টমী বানানের শুদ্ধ প্রয়োগ।
অন্যদিকে,
- অধীনস্থ শব্দটিতে অপ-প্রয়োগ ঘটেছে। এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে অধীন।
- মহাত্ম' শব্দটিতে প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে। এর শুদ্ধ হবে মহত্ত্ব।
- 'ঐক্যতা' শব্দটিতে 'তা' প্রত্যয়ের ভুল প্রয়োগ হয়েছে। শব্দটির সঠিক বানান হবে ঐক্য বা একতা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিকবাংলা অভিধান এবং বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানান রীতি।
• শুদ্ধ বানান - অভিভূত।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- বিহ্বল, ভাবাবিষ্ট, পরাভূত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান: স্বতঃস্ফূর্ত।
- শব্দটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
আপনা থেকে প্রকাশিত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• ক্ষমা একটি মহৎ গুণ।- বাক্যটি শুদ্ধ।
অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ বাক্য: আজকাল বিদ্বান মেয়ের অভাব নেই।
- শুদ্ধ বাক্য: আজকাল বিদুষী মেয়ের অভাব নেই।
- অশুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্তশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
- শুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
- অশুদ্ধ বাক্য: বৃক্ষটি সমূলে উৎপাঠিত হয়েছে।
- শুদ্ধ বাক্য: বৃক্ষটি সমূলে উৎপাটিত হয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
সঠিক উত্তর হলো: ঘ) বানান ও বচনের।
ব্যাখ্যা:
বাক্যটি হলো: “সত্যকে স্বীকার করতে অনেক ব্যক্তিরাই চায়না।” এই বাক্যে দুটি প্রধান ভুল রয়েছে: বানান এবং বচন (number) সংক্রান্ত।
বানানের ভুল:
বাক্যে “চায়না” লেখা হয়েছে, যা ভুল। বাংলা বানানের প্রমিত রূপে সঠিক শব্দটি হলো “চায় না”।
“চায়না” একটি অপ্রমিত রূপ, যা কথ্য ভাষায় ব্যবহৃত হলেও আনুষ্ঠানিক লেখায় গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলা একাডেমির প্রমিত বানান নিয়ম অনুসারে ক্রিয়াপদ ‘চাওয়া’ এর নেতিবাচক রূপে ‘চায় না’ লেখা হয়। উদাহরণ: “সে যেতে চায় না।”
বচনের ভুল:
বাক্যে “অনেক ব্যক্তিরাই” ব্যবহৃত হয়েছে, যা বচনের দিক থেকে ভুল।
"অনেক" শব্দটি ইতিমধ্যে বহুবচন বোঝায়। তাই আবার "রা" (বহুবচন চিহ্ন) যোগ করার দরকার নেই। এক্ষেত্রে "ই" (বলক) যোগ করলে হবে: অনেক ব্যক্তিই। অথবা "অনেক" ছাড়া হবে: ব্যক্তিরাই।
বাক্যটির সঠিক রূপ হবে: “সত্যকে স্বীকার করতে অনেক ব্যক্তিই চায় না।”
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
অশুদ্ধ বাক্য: মহারাজা সভাগৃহে প্রবেশ করিলেন।
শুদ্ধ বাক্য: মহারাজ সভাগৃহে প্রবেশ করিলেন।
অন্যদিকে:
- আমি অহর্নিশ সে কথাই ভেবেছি।
- সভায় অনেক ছাত্র এসেছিল।
- আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
উপরিউক্ত বাক্যগুলো শুদ্ধ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'গ্রামীণ' বানানটি শুদ্ধ।
গ্রামীণ শব্দের অর্থ = গ্রামজাত, গ্রাম্য।
অন্যান্য বানানের শুদ্ধরূপ:
- ঝরনা = ফোয়ার; নির্ঝর।
- জগৎ = বিশ্ব; ত্রিভুবন; পৃথিবী; ভুবন।
- কল্যাণ = মঙ্গল; শুভ।
• মনমোহন বানানটি অশুদ্ধ।
• 'মনোমোহন' শুদ্ধ বানান ।
অর্থ: মনকে মোহিত করে এমন; মনোহর চিত্তাকর্ষক।
স্ত্রী. মনোমোহিনী/মনোমোহিনি ।।
অন্যদিকে,
- শ্রদ্ধাঞ্জলি, মনঃক্ষুণ্ন, দুর্নীতি বানানগুলো শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান - 'অন্তর্জগৎ'
শব্দের অর্থ:
- মনোজগৎ, ভাবলোক, চিন্তারাজ্য।
অন্যদিকে,
- গোধুলি → গোধূলি,
- প্রোজ্জল →প্রোজ্জ্বল,
- বুদ্ধিজীবি → বুদ্ধিজীবী।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'রুপবান' - অশুদ্ধ বানান।
এর শুদ্ধ বানান- 'রূপবান'।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
বাংলা ভাষায় কতগুলো শব্দ ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ্য, বিশেষণ ও ক্রিয়া জাতীয় এই পদগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বিশেষ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে।
বাক্যে মাথা শব্দটি বিভিন্ন অর্থে প্রয়োগ হতে পারে। যেমন:
মস্তক - তার মাথায় অনেক চুল।
সংযোগস্থল - রাস্তার চৌমাথায় আমাদের বাড়ি।
প্রধান - তিনি গাঁয়ের মাথা।
প্রণাম - ও আমার দেশের মাটি। তোমার প’রে ঠেকাই মাথা।
পরিশ্রমে - শ্রমিকরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রোজগার করে।
বুঝতে পারা - অঙ্কটি আমার মাথায় ঢুকছে না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
• 'গীতাঞ্জলি' একখানা কাব্যগ্রন্থ। শুদ্ধবাক্য।
অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: অধ্যাপনাই ছাত্রদের তপস্যা।
- শুদ্ধ: অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।
- অশুদ্ধ: অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার।
- শুদ্ধ: অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার।
- অশুদ্ধ: অতিলোভে তাতী নষ্ট।
- শুদ্ধ : অতিলোভে তাঁতি নষ্ট।
- অশুদ্ধ: অতিশয় দুঃখিত হলাম।
- অশুদ্ধ: আমি সন্তোষ হলাম।
- শুদ্ধ: আমি সন্তুষ্ট হলাম।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
ঘ) তে প্রদত্ত বাক্যটি শুদ্ধ।
বাক্যগুলো নিম্নরূপে লিখলে শুদ্ধ হবে :
- দশের লাঠি একের বোঝা
- বৃক্ষটি মূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে
- তুমি নির্দোষ নও
• শুদ্ধ বাক্য: রাঙ্গামাটি পার্বত্য এলাকা।
⇒ বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণের কিংবা বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল:
বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তন করে এ ধরনের ভুল করা হয়। যেমন : আবশ্যক শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বদলে -ঈয় প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয়।
অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো-
• অশুদ্ধ : অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
• শুদ্ধ বাক্য: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
• অশুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
• শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
• অশুদ্ধ: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দিহান।
• শুদ্ধ বাক্য: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• শুদ্ধ বাক্য: জেবিন সুকেশা ও সুহাসিনী।
অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ বাক্য: তুমি নির্দোষী নও।
- শুদ্ধ বাক্য: তুমি নির্দোষ নও।
- অশুদ্ধ বাক্য: এটা অপক্ক হাতের লেখা।
- শুদ্ধ বাক্য: এটা কাঁচা হাতের লেখা।
- অশুদ্ধ: নতুন নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।
- শুদ্ধ : নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
কর্তৃবাচ্যে বিশেষ্য ও করা ক্রিয়ার রূপ থাকলে কর্মবাচ্যে বিশেষণ ও হওয়া ক্রিয়ার রূপ হবে। অন্যথায় বাচ্যজনিত ভুল সংঘটিত হয়।
উল্লেখিত বাক্যটির শুদ্ধরূপঃ
- যুক্তি খণ্ডিত হয়েছে, তবে মুক্তি মেলে নি।
এরূপ আরো কয়েকটি উদাহরণ -
অশুদ্ধ ----------------------শুদ্ধ
- আমি অপমান হয়েছি -- আমি অপমানিত হয়েছি।
- বিধি লঙ্ঘন হয়েছে -- বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।
- এ কথা প্রমাণ হয়েছে -- এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।
উৎসঃ ভাষা শিক্ষা বই, ড. হায়াৎ মামুদ।
বাক্যটি: "অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার"।
ভুল চিহ্নিতকরণ:
১. বাহুল্য দোষ:
"প্রতি ঘরে ঘরে" - এখানে অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি হয়েছে।
"প্রতি ঘরে" বা "ঘরে ঘরে" যেকোনো একটি যথেষ্ট।
দুটোই ব্যবহারে অর্থের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।
২. বিভক্তিজনিত দোষ:
"ঘরে ঘরে" - এটি দ্বিরুক্তি (একই শব্দের পুনরাবৃত্তি)।
তবে "ঘরে ঘরে" বাংলায় গ্রহণযোগ্য দ্বিরুক্তি, এতে দোষ নেই।
- এখানে বিভক্তিজনিত ভুল নেই।
৩. গুরুচণ্ডালী দোষ:
এই বাক্যে বিভিন্ন ভাষারীতির মিশ্রণ নেই। তাই গুরুচণ্ডালী দোষ নেই।
সঠিক উত্তর: ক) বাহুল্য দোষ।
শুদ্ধ বাক্য:
"অন্নাভাবে প্রতি ঘরে হাহাকার" অথবা "অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার"।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
• বিসর্গ ( ঃ ) :
শব্দের শেষে বিসর্গ ( ঃ ) থাকবে না।
যেমন:
ইতস্তত, কার্যত, ক্রমশ, পুনঃপুন, প্রথমত, প্রধানত, প্রয়াত, প্রায়শ, ফলত, বস্তুত, মূলত।
- এছাড়া নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে শব্দমধ্যস্থ বিসর্গ-বর্জিত রূপ গৃহীত হবে।
যেমন:
দুস্থ, নিস্তব্ধ, নিস্পৃহ, নিশ্বাস।
উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।
বানানগুলোর শুদ্ধ রূপ-
নির্নিমেষ
পরায়ন
প্রণয়ন
প্রণোদন
উৎস: অভিগম্য অভিধান, বাংলা একাডেমি
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে, শুদ্ধ বানান- 'মধ্যাহ্ন'।
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
তৎসম শব্দে 'অপর, পরা, পূর্ব, প্রা' ইত্যাদি উপসর্গের সঙ্গে 'অহ্ন' প্রত্যয় যুক্ত হলে 'অহ্ন' শব্দের 'দন্ত- ন' পরিবর্তিত হয়ে 'মূর্ধন্য- ণ' হয়।
যেমন- অপরাহ্ণ, পরাহ্ণ, প্রাহ্ণ, পূর্বাহ্ণ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।