উত্তর
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান- উদ্গিরন।
• শুদ্ধরূপ- উদ্গিরণ।
অর্থ:
- বমন।
- ঢেকুর।
- নিঃসারণ, নির্গমন (লাভা উদ্গিরণ)।
অন্যদিকে,
উদ্বাস্তু, উদ্ঘট্টন ও উদ্গ্রীব শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১৯ / ২৭ · ১,৮০১–১,৯০০ / ২,৬৯১
• অশুদ্ধ বানান- উদ্গিরন।
• শুদ্ধরূপ- উদ্গিরণ।
অর্থ:
- বমন।
- ঢেকুর।
- নিঃসারণ, নির্গমন (লাভা উদ্গিরণ)।
অন্যদিকে,
উদ্বাস্তু, উদ্ঘট্টন ও উদ্গ্রীব শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• বাংলা বাক্যে বাহুল্যদোষ হয় তখনই, যখন বাক্যে অনর্থক, অপ্রয়োজনীয়, পুনরুক্ত বা অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহৃত হয়, যার ফলে বাক্যটি ভারাক্রান্ত, অপরিষ্কার বা অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ হয়ে পড়ে।
• সারা দেশব্যাপী দিবসটি উদ্যাপন করা হবে:
- ‘উদ্যাপন’ বানান শুদ্ধ।
তবে ‘সারা দেশব্যাপী’ অশুদ্ধ, কারণ ‘সারা’ এবং ‘দেশব্যাপী’র দ্বৈত ব্যবহার অপ্রয়োজনীয়।
অর্থ্যাৎ, বাক্যটি শুদ্ধ নয়।
শুদ্ধ বাক্য: সারা দেশে দিবসটি উদ্যাপন করা হবে।
সুতরাং, বাক্যটিতে বাহুল্যজনিত - ভুল রয়েছে।
উৎস:
- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
- ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• শুদ্ধ বাক্য- আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভবপর।
-------------------------------
• নিয়ম:
• বহুবচনের অপ্রপ্রয়োগজনিত ভুল:
- বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এরা ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়।
- বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে একবার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুবচন অপ্রয়োজনীয়।
- তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুবচক পদ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ পদের সঙ্গে গুলি/গুলো ইত্যাদি যুক্ত হবে না।
- যেমন:
- অশুদ্ধ- আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।
- শুদ্ধ- আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভবপর।
--------------------------
• কিছু বাক্যশুদ্ধি:
অশুদ্ধ- ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।
শুদ্ধ- ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল।
অশুদ্ধ- সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
শুদ্ধ- সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।
অশুদ্ধ- অনেক ছাত্রছাত্রীরা ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না।
শুদ্ধ- অনেক ছাত্রছাত্রী ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না।
অশুদ্ধ- অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
শুদ্ধ- অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মকে ণ-ত্ব বিধান বলে।
• ‘ণ’ - এর ভুল প্রয়োগ ঘটেছে- পিণ্ডারি শব্দে।
• 'পিণ্ডারি' শব্দটির সঠিক বানান - পিন্ডারি।
• 'পিন্ডারি' অর্থ- মহারাষ্ট্রীয় অশ্বারোহী দস্যুদল, বর্গি।
• 'পিন্ডারি' মারাঠি শব্দ। বিদেশি শব্দে ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম খাটে না।
অন্যদিকে,
----------------
• আপণ-
→ আপণ একটি পুরনো তদ্ভব শব্দ, যার অর্থ: নিজের মালিকানাধীন বা দোকান।
→ যদিও অনেকেই আপন ভাবেন, আসলে আপণ বানানটিও অভিধানসম্মতভাবে স্বীকৃত।
→ উদাহরণ: “আপণ প্রতিষ্ঠানে সে কর্মরত।”
• বিপণি-
→ শুদ্ধ বানান: বিপণি (অর্থ: দোকান)
→ ‘ণ’ ব্যবহারে ভুল নেই।
• নিপুণ-
→ শুদ্ধ বানান: নিপুণ (অর্থ: দক্ষ/কুশলী)
→ সঠিক প্রয়োগ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯); বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'নিষ্প্রাণ' বানানটি শুদ্ধ।
অন্যান্য অপশন,
• 'ঈর্ষাপরায়ন' এর শুদ্ধ বানান- 'ঈর্ষাপরায়ণ'।
• 'আদ্যক্ষর' এর শুদ্ধ বানানটি হচ্ছে আদ্যাক্ষর।
• 'প্রোজ্বলিত' এর শুদ্ধ বানান - প্রজ্বলিত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান- সৌজন্য।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- সুজনের ভাব বা আচরণ,
- সদাচরণ,
- ভদ্রতা,
- শিষ্টাচার।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অশুদ্ধ বানান - অনুদীত।
- শুদ্ধ বানান - অনূদিত।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
শব্দের অর্থ:
- অনুবাদ করা হয়েছে এমন, ভাষান্তরিত।
অন্যদিকে,
- শুচিস্মিতা, অধোগতি এবং সংকীর্ণমনা - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'পীড়াপীড়ি' - শুদ্ধ বানান।
• 'পীড়াপীড়ি' শব্দের অর্থ:
- বারবার অনুরোধ-উপরোধ বা চাপ প্রয়োগ।
আরো কিছু শুদ্ধ বানান:
• অপকর্শ এর শুদ্ধ বানান - অপকর্ষ।
• অন্যমনষ্ক এর শুদ্ধ বানান - অন্যমনস্ক।
• অন্যপুর্বা এর শুদ্ধ বানান - অন্যপূর্বা।
• জাজ্জ্বল্যমান এর শুদ্ধ বানান - জাজ্বল্যমান।
• প্রোজ্বলিত এর শুদ্ধ বানান - প্রজ্বলিত।
• শ্বাশত এর শুদ্ধ বানান - শাশ্বত।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান - সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
শব্দের অর্থ:
- অতিশয় সূক্ষ্ম; অতি ক্ষুদ্র।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান- উচ্ছোষিত।
- শব্দটি বিশেষণ পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- সম্পূর্ণরূপে শোষিত, শুষ্কীকৃত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান - মধুসূদন।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- মধু নামক অসুরকে বধকারী বিষ্ণু।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান, 'দুরাকাঙ্ক্ষা'।
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = দুর্ঃ + আ + √ কাঙ্ক্ষ্ + অ + আ।
অর্থ:
- দুর্লভ বস্তু লাভ করার আশা।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ: জ্বরাজীর্ণ।
শুদ্ধ: জরাজীর্ণ।
অশুদ্ধ: বিবাদমান।
শুদ্ধ: বিবদমান।
অশুদ্ধ: প্রতিদ্বন্দ্বীতা
শুদ্ধ: প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অশুদ্ধ বাক্য: 'অধ্যায়নই ছাত্রদের তপস্যা'।
শুদ্ধ বাক্য: 'অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।'
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ: অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার।
শুদ্ধ: অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার।
• অশুদ্ধ বাক্য: তার সৌজন্যতায় মুগ্ধ হয়েছি।
শুদ্ধ বাক্য: তার সৌজন্যে মুগ্ধ হয়েছি।
• অশুদ্ধ বাক্য: সে কৌতূক করার কৌতুহল সম্বরণ করিতে পারিল না।
শুদ্ধ বাক্য: সে কৌতুক করার কৌতূহল সংবরণ করিতে পারিল না।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
বাক্যটির প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ বিশ্লেষণ:
- “ভয়ানক” শব্দটি সাধারণত নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয় (যেমন ভয়ানক দুর্ঘটনা)।
এখানে,
ইতিবাচক অর্থে “ভয়ানক” ব্যবহার করা অনুচিত।
সঠিক বাক্যটি হবে - “ছেলেটি খুব চমৎকার গান গায়।”
সঠিক উত্তর: ক) শব্দের অপপ্রয়োগ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• বিদেশি বা অতৎসম বানানে ণ হবে না। তার বদলে হবে ন।
যেমন:
- অঘ্রান, কান, গুনতি, ঝরনা, ইরান, কুরান ইত্যাদি।
• তৎসম শব্দের বানানে ণ-ত্ব বিধানের শুদ্ধতা রক্ষা করতে হবে।
যেমন:
- মাণিক্য, গণ, লবণ, বেণু, কঙ্কণ, কল্যাণ, শোণিত, মণি ইত্যাদি।
উৎস: প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, বাংলা একাডেমি অভিধান।
• অশুদ্ধ বানান- অধিকারীত্ব ।
- শুদ্ধ বানান- অধিকারিত্ব।
• অধিকারিত্ব-
- পদ: বিশেষ্য।
- বিশেষ্যের প্রকার: ভাববাচক / গুণবাচক বিশেষ্য।
- প্রকৃতি–প্রত্যয়:
- প্রকৃতি: অধিকার; প্রত্যয়: ত্ব (তদ্ধিত প্রত্যয়)।
- অর্থ:
• অধিকারের অবস্থা;
• মালিকানা;
• আইনি দাবি বা স্বীকৃত অধিকার।
----------------------------
• নিয়ম:
- কোনো শব্দের শেষে যদি দীর্ঘ ঈ-কার থাকে এবং শব্দটি যদি ‘ইন’ ভাগান্ত হয়, তবে সেই শব্দের পরে ত্ব / তা / নি ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হলে শব্দের শেষের দীর্ঘ ঈ-কার পরিবর্তিত হয়ে হ্রস্ব ই-কার হয়ে যায়।
- এটি বাংলা বানানরীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম।
- উদাহরণ—
• অধিকারী → অধিকারিণী,
• অধিকারী → অধিকারিত্ব,
• বিলাসী → বিলাসিনী,
• অপক্ষপাতী → অপক্ষপাতিত্ব,
• মনোযোগী → মনোযোগিতা।
- এখানে প্রতিটি ক্ষেত্রে মূল শব্দের শেষে দীর্ঘ ঈ-কার থাকলেও প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার সময় তা হ্রস্ব ই-কারে রূপান্তরিত হয়েছে।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
• বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
- তৎসম শব্দগুলো সংস্কৃতের যথাযথ বানানে লিখতে হবে।
তবে, যে-সব বানানে মূল সংস্কৃত ই-কার ও ঈ- কার এবং উ-কার ও উ-কার উভয়ই শুদ্ধ হিসেবে গ্রহণ করেছে, সে বানানগুলোতে শুধু ই-কার এবং উ- কার ব্যবহৃত হবে।
যেমন:
- সংস্কৃতে পদবী ও পদবি দুটোই শুদ্ধ বানান। এক্ষেত্রে বাংলায় 'পদবি' গৃহীত হবে।
- সংস্কৃতে ঊষা ও উষা দুটোই শুদ্ধ বানান। এক্ষেত্রে 'উষা' গৃহীত হবে।
এ-রকম আরো উদাহরণ: কিংবদন্তি, শ্রেণি, খঞ্জনি, চিৎকার, ধমনি, ধূলি, পঞ্জি, ভঙ্গি, মঞ্জুরি, মসি, লহরি, সরণি, সূচি, উর্ণা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, লাইভ এমসিকিউ লেকচার; ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে শুদ্ধ বানান - অর্জন।
প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
- রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
যেমন,
- অর্জ্জন, ঊর্দ্ধ, কর্ম্ম, মূর্চ্ছা ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে-অর্জন, ঊর্ধ্ব, কর্ম, মূর্ছা ইত্যাদি হবে।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণের কিংবা বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল:
বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তন করে এ ধরনের ভুল করা হয়। যেমন : আবশ্যক শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বদলে -ঈয় প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয়।
অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো-
• অশুদ্ধ : অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
• শুদ্ধ বাক্য: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
• অশুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
• শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
• অশুদ্ধ: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দিহান।
• শুদ্ধ বাক্য: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
উল্লিখিত প্রশ্নের সকল অপশন অশুদ্ধ বাক্য। এখানে, কোনো শুদ্ধ বাক্য না থাকায় উত্তর - কোনোটিই নয় গ্রহণ করা হয়েছে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• বানান শুদ্ধি:
- 'দৈন্যতা' শব্দটি মূলত বাহুল্য দোষে দুষ্ট।
- 'দীন' বা 'দৈন' শব্দের সাথে 'য' প্রত্যয় (দীন+য = দৈন্য) যোগ করে বিশেষ্য পদ তৈরি হয়েছে।
- এটি অভাব বা দরিদ্র অবস্থাকে বোঝায়। এর সাথে পুনরায় 'তা' প্রত্যয় যোগ করে 'দৈন্যতা' (দৈন্য+তা) শব্দ তৈরি করা হলে একই অর্থের পুনরাবৃত্তি ঘটে। তাই 'দৈন্যতা শব্দটি ব্যাকরণগতভাবে অশুদ্ধ।
- এর সঠিক রূপ- দৈন্য বা দীনতা।
উৎস:
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান;
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
• সঠিক উত্তর - সবগুলোই। উপরিউক্ত অপশনে সবগুলো বাক্যই অশুদ্ধ।
অশুদ্ধ বাক্য: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
শুদ্ধ বাক্য: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।
অশুদ্ধ বাক্য: এটা অপক্ক হাতের লেখা।
শুদ্ধ বাক্য: এটা কাঁচা হাতের লেখা।
অশুদ্ধ বাক্য: সকল আলেমগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
শুদ্ধ বাক্য: সকল আলেম সভায় উপস্থিত ছিলেন।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• শুদ্ধ বাক্য: যুক্তি খণ্ডিত হয়েছে, তবে মুক্তি মেলেনি।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: ইহার আবশ্যক নেই।
শুদ্ধ বাক্য: ইহার আবশ্যকতা নেই।
অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।
অশুদ্ধ বাক্য: বিধি লঙ্ঘন হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
অতৎসম শব্দের বানানে 'ণ' ব্যবহার করা হবে না।
যেমন- অঘ্রান, ঝরনা, গভর্নর, হর্ন।
এখানে, 'গভর্ণর' বিদেশি শব্দ। তাই এর শুদ্ধ বানান হবে- 'গভর্নর'।
অন্যদিকে,
• বিদেশি শব্দের বানানে মুর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয়না।
যেমন- পোশাক, মাস্টার।
• ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন - ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
• - পরি, প্র, নির- এই তিনটি উপসর্গের পর ণত্ব বিধি অনুসারে ন-ধ্বনি মূর্ধন্য ণ হয়।
যেমন- প্রণয়, প্রণাম।
সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
- ‘আকাঙ্খা’ বানানটি অশুদ্ধ।
- এর শুদ্ধ রূপ হলো ‘আকাঙ্ক্ষা’।
- ‘আকাঙ্ক্ষা’ একটি বিশেষ্য পদ এবং সংস্কৃত উৎসজাত শব্দ।
- ‘আকাঙ্ক্ষা’ শব্দটির সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো আঙ্ক্ষ (আঙ+কাঙ্ক্ষা) বা সংস্কৃত নিয়ম অনুযায়ী অ + কাঙ্ক্ষ + অ (আ+কাঙ্ক্ষ+অ)।
- এটি মূলত একটি কৃদন্ত পদ, যা 'আ' (আঙ) উপসর্গের সাথে 'কাঙ্ক্ষ' ধাতুর যোগে গঠিত হয়েছে।
- আকাঙ্ক্ষা শব্দের অর্থ হলো তীব্র ইচ্ছা, কামনা, বাসনা, সাধ, অভিলাষ বা প্রত্যাশা।
----------------------
অন্যদিকে,
- উচ্ছ্বাস, মূর্ছা, ঈদৃশ- শব্দগুলোর বানান সঠিক।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান
• শুদ্ধ বানান - উদ্ভূত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- এটি একয়ও সংস্কৃত শব্দ।
শব্দের অর্থ:
- উৎপন্ন, জাত, সৃষ্ট।
- প্রকাশিত, উদিত, উদ্গত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অশুদ্ধ বাক্য: আলস্যতা ভালো গুণ নয়।
• শুদ্ধরূপ: অলসতা ভালো গুণ নয়।
বাক্যে প্রদত্ত ‘অলস্যতা’ শব্দে তা-প্রত্যয়ের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।
• নিয়ম:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।
এরূপ কিছু অশুদ্ধ মব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
• অধৈর্যতা - অধৈর্য, ধীরতা।
• আলস্যতা - আলস্য, অলসতা।
• ঐক্যতা - ঐক্য, একতা।
• দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা।
• কার্পণ্যতা - কার্পন্য, কৃপণতা।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
সঠিক বানানগুচ্ছ হলো - শুশ্রূষা; বিকেন্দ্রীকরণ।
---------------
• অভ্যুথান - অভ্যুত্থান;
• বিদ্ব্যান - বিদ্বান।
- 'নিরিক্ষন' এর শুদ্ধ বানানটি হচ্ছে নিরীক্ষণ।
ক) সত্তেও, সত্তা:
- সত্তেও — শুদ্ধ নয়; শুদ্ধ হবে: সত্ত্বেও
- সত্তা শুদ্ধ হলেও একটি ভুল থাকায় পুরো গুচ্ছটি অশুদ্ধ।
খ) অভ্যুথান, বিদ্ব্যান:
- অভ্যুথান — শুদ্ধ হবে - অভ্যুত্থান;
- বিদ্ব্যান — শুদ্ধ হবে বিদ্বান;
→ এখানে, দুটোই ভুল।
ঘ) বস্তুত, নিরিক্ষন:
- বস্তুত — শুদ্ধ।
- নিরিক্ষন — শুদ্ধ হবে - নিরীক্ষণ;
→ একটি ভুল থাকায় অশুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• সঠিক বানানটি হলো - শুশ্রূষা।
- এর অর্থ হলো - পরিচর্যা, সেবা।
অন্য অপশনের শুদ্ধ বানান:
বিশেষতঃ - বিশেষত;
বুভূক্ষু - বুভুক্ষু;
ব্যাঙ্গ- ব্যঙ্গ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।