উত্তর
ব্যাখ্যা
- এটি সুয়েজ খালের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত।
- শহরটি ১৮৫৯ সালে একটি নিম্ন বালুকাময় পটভূমিতে ভূমধ্যসাগরকে মনজালা (বুসায়রাত আল-মানজিলাহ) থেকে পৃথক করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
উৎস: ব্রিটানিকা।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৩ / ৬ · ২০১–৩০০ / ৫৩৭
• সুন্দরবন:
- সুন্দরবন হচ্ছে বাংলাদেশের ফুসফুস।
- সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হচ্ছে সুন্দরি।
- এছাড়া, সুন্দরবন অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ প্রজাতির মধ্যে রয়েছে—
- গড়ান, গেওয়া, পশুর, ধুন্দুল, কেওড়া, বাইন, ওড়া, হেন্দাল ও কাঁকড়া প্রভৃতি।
- সুন্দরবনের বনসম্পদকে কেন্দ্র করে কয়েকটি শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে।
- এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো খুলনার নিউজপ্রিন্ট মিল এবং হার্ডবোর্ড মিল।
- হার্ডবোর্ড মিল এর কাঁচামাল হিসেবে সুন্দরী বৃক্ষ ব্যবহৃত হয়।
- খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলের প্রধান কাঁচামাল হলো সুন্দরবনের গেওয়া কাঠ।
- এটি নিউজপ্রিন্ট তৈরির জন্য উপযুক্ত কারণ এর ফাইবারের গঠন ও গুণমান কাগজের শক্তি এবং সহনশীলতা নিশ্চিত করে।
- যদিও পরবর্তীতে আখের ছোবড়া ও অন্যান্য বিকল্প কাঁচামালের ব্যবহার চেষ্টা করা হয়েছে;
- তবুও গেওয়া কাঠ মূল কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
উৎস:
১. বন অধিদপ্তর;
২. জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
- সাধারণত পার্বত্য অঞ্চলে প্রবাহিত নদীর স্রোতের বেগ প্রবল থাকে।
- এই অবস্থায় ক্ষয় ও বহন উভয় প্রক্রিয়া কার্যকর থাকলেও ক্ষয় কার্যের প্রাধান্য থাকে এবং নদী খাত 'V' অক্ষরের ন্যায় হয়।
• 'V' আকৃতির উপত্যকা সৃষ্টি প্রক্রিয়া:
- পার্বত্য অঞ্চলে নদীর স্রোতের গতিবেগ বেশি।
- তলদেশের ক্ষয় পার্শ্বক্ষয়ের চেয়ে বেশি।
- নদী উপত্যকার মধ্যভাগ ক্রমশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ইংরেজি 'V' অক্ষরের মতো আকৃতি ধারণ করে।
- পরে পার্শ্বক্ষয় বৃদ্ধি পেলে উপত্যকা প্রশস্ত হতে থাকে।
তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রান্তিক হ্রদ:
- প্রান্তিক হ্রদ বান্দরবান জেলায় অবস্থিত।
- প্রায় ২৫ একর জায়গাজুড়ে সৃষ্ট কৃত্রিম জলাশয় 'প্রান্তিক লেক'।
- এ লেকের চারিপাশ নানা প্রজাতির গাছগাছালিতে ভরপুর।
- এটি বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের পাশে হলুদিয়া নামক স্থানে অবস্থিত।
- লেকটিতে উন্মুক্ত মাটির মঞ্চ, পিকনিক স্পট, বিশ্রামাগার এবং একটি উঁচু গোল ঘর ইত্যাদি স্থাপনা রয়েছে।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
নিঝুম দ্বীপ:
- নিঝুম দ্বীপ নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার অন্তর্গত।
- এর আয়তন ৯১ বর্গ কিলোমিটার।
- এটি বঙ্গোপসাগরের বুকে মেঘনা নদীর মোহনায় জেগে ওঠা এই চর হাতিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে দুই কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।
- দ্বীপের তিন দিকে সাগর অন্যদিকে মেঘনার মোহনা।
- ২০০১ সালের ৮ এপ্রিল দ্বীপটিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে সরকার।
উল্লেখ্য,
- নিঝুম দ্বীপ সামুদ্রিক এলাকা মূলত বিপন্ন প্রজাতির ইরাবতী ডলফিন, চিত্রা হরিণ, হ্যামারহেড হাঙ্গর, সামুদ্রিক কচ্ছপ এবং মূল্যবান ইলিশ মাছের প্রজনন ও বিচরণ ক্ষেত্র রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- বর্তমানে চিত্রা হরিণ নিঝুম দ্বীপের প্রধান বন্য প্রাণী। নিঝুম দ্বীপে একরপ্রতি চিত্রল হরিণের ঘনত্ব সুন্দরবনের চেয়ে তিন গুণ বেশি।
- ন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে রয়েছে এশীয় উদবিলাই, মেছোবাঘ ইত্যাদি।
- বিভিন্ন প্রজাতির পাখির মধ্যে রয়েছে নিশি বক, দেশি কানিবক, গো বক, দেশি পানকৌড়ি, ধূসর বক, কাদাখোঁচা, বালিহাঁস, কালো হাঁস ইত্যাদি।
- সরীসৃপের মধ্যে রয়েছে দেশি গুইসাপ ও নানা জাতের সামুদ্রিক কচ্ছপ। সামুদ্রিক কচ্ছপের গুরুত্বপূর্ণ প্রজননস্থল এই নিঝুম দ্বীপ।
উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ক্রান্তিয় আদ্র পাতাঝরা বন (শাল বন):
অবস্থান: এ বন মূলত গাজীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলায় অবস্থিত। তাছাড়া দেশের উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর, রংপুর, নওগাঁ, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলায় অল্প কিছু শাল বন রয়েছে।
পরিমাণ: প্রায় ১,২০,০০০ হেক্টর যা দেশের আয়তনের ০.৮১% এবং বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত বনভূমির ৭.৫%।
উদ্ভিদ প্রজাতি: এ বনের মূল প্রজাতি শাল যা অনেকেই গজারী বলে জানেন। শুষ্ক মৌসুমে (ফেব্রুয়ারি-মার্চ) শাল গাছের পাতা ঝরে যায় বলে একে পত্রঝরা বনও বলা হয়। এ ছাড়া রয়েছে হরিতকি, বহেরা, কড়ই, শিমুল, অর্জুন ইত্যাদি প্রজাতির বৃক্ষ।
বন্যপ্রাণী: এ বনের উল্লেখযোগ্য বন্যপ্রাণীর মধ্যে রয়েছে মেছোবাঘ, বনবিড়াল, বানর, শিয়াল, বেজি, হনুমান, সজারু, ঈগল, কাঠবিড়ালী, সাপ, ধলাকোমর শামা, লাল বন মুরগী, সবুজঠোঁট মালকোয়া, তিলা-নাগঈগল.
সূত্র: বন অধিদপ্তর
===========================
বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুসারে -
বাংলাদেশে মোট শালবন এলাকা প্রায় ১,২১,০০০ হেক্টর অর্থাৎ দেশের বনভূমির শতকরা প্রায় ৩২ ভাগ। মোটামুটি ব্যাপক হলেও শালবন দেশের মাত্র কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো। বেশির ভাগ বনাঞ্চল রয়েছে গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায়। এ বনাঞ্চল ভাওয়ালের গড় ও মধুপুরের গড় নামে পরিচিত। বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলের শালবন এলাকা সবচেয়ে বড়, ব্রহ্মপুত্র এবং যমুনা নদীর মাঝে উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত এ বনভূমির দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৬ কিমি এবং চওড়া ৮ থেকে ২৪ কিমি। ‘মধুপুর গড়’ নামেই এটি সুপরিচিত।
এছাড়া কুমিাল্লা জেলায় এবং দেশের উত্তর অঞ্চলের দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, রংপুর এবং রাজশাহী জেলাতেও বিক্ষিপ্তভাবে শালবন বিদ্যমান।
==========================
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় অনুসারে -
• মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি: ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার বনভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
এ বনভূমির প্রধান বৃক্ষ গজারী হওয়ায় এটি গজারী বৃক্ষের বনভূমি হিসেবে পরিচিত।
এর আয়তন প্রায় ৮৭৫ বর্গকিলোমিটার।
• রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের বনভূমি: রংপুর ও দিনাজপুর জেলার প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি
অবস্থিত। এখানকার প্রধান বৃক্ষ শাল। এজন্য এটি শাল বৃক্ষের বনভূমি হিসেবে পরিচিত। এ বনভূমির আয়তন প্রায় ৩৯ বর্গকিলোমিটার।
=========================
আমরা বাংলাপিডিয়া ও বন অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে সঠিক উত্তর হিসেবে মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি ধরে নিয়েছি।
উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বইয়ে ভুল থাকতে পারে।
পঞ্চম আদমশুমারি ও গৃহগণনা ২০১১ সাল অনুযায়ী,
জনসংখ্যায় ও আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম ইউনিয়ন - হাজীপুর, (দৌলতখান, ভোলা)।
জনসংখ্যায় বৃহত্তম ইউনিয়ন - ধামসানী, (সাভার, ঢাকা)। আয়তনে বৃহত্তম ইউনিয়ন সাজেক, (বাঘাইছড়ি, রাঙ্গামাটি)।
পৃথিবীর আহ্নিক গতি:
- পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে একবার আবর্তন করতে যা সময় নেয়, তাকে আহ্নিক গতি (Rotation) বলা হয়।
- নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে একবার আবর্তন করতে পৃথিবী সময় নেয় ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড। একে সৌরদিন বলা হয়।
• আহ্নিক গতির কারণে পৃথিবীতে নানা পরিবর্তন ঘটে, যেমন-
- দিবা-রাত্রি সংঘটন
- জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি
- সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি
- বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টি
- তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি
- সময় নির্ধারণ
- উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের প্রভাব
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী।
ধান (Rice):
- বাংলাদেশের খাদ্য-শস্যের মধ্যে ধানই প্রধান। এ দেশে আউশ, আমন, বোরো প্রভৃতি ধরনের ধান চাষ হয়।
- বাংলাদেশের রংপুর, কুমিল্লা, সিলেট, যশোর, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী, বরিশাল, ময়মনসিংহ, বগুড়া, দিনাজপুর, ঢাকা, নোয়াখালী প্রভৃতি অঞ্চলে ধান চাষ বেশি হয়।
- তবে রংপুরে আমন ধান ও সিলেটে বোরো ধান ভালো হয়।
- ধান চাষের জন্য ১৬° থেকে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রয়োজন এবং ১০০ থেকে ২০০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপ্রবণ এলাকায় ধানের ফলন ভালো হয়।
- নদী অববাহিকায় পলিমাটি ধান চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী।
- এজন্য বাংলাদেশের সর্বত্রই ধান জন্মে।
তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
শিল্প উন্নয়নে বনভূমির গুরুত্ব:
- কাগজ শিল্প: রাঙ্গামাটি জেলার কর্ণফুলী কাগজের কল স্থানীয় বাঁশ সম্পদের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত কাগজ ও মন্ড তৈরির কারখানাটি সিলেটের সাবাই ঘাসকে কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করে।
- নিউজপ্রিন্ট কারখানা: সুন্দরবনের গেওয়া কাঠের উপর ভিত্তি করে খুলনার নিউজপ্রিন্ট কারখানাটি গড়ে উঠেছে।
- দিয়াশলাই শিল্প: সুন্দরবনের গেওয়া কাঠের উপর নির্ভর করে দিয়াশলাই শিল্প গড়ে উঠেছে। এছাড়া কদম ও শিমুল গাছের কাঠ এই শিল্পে ব্যবহৃত হয়।
- রেয়ন শিল্প: চট্টগ্রামের চন্দ্রঘোনার রেয়ন কারখানাটি স্থানীয় বনভূমির নরম কাঠ ও বাঁশের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
চুনাপাথর:
- চুনাপাথর এক প্রকার পাললিক শিলা।
- প্রধান উপাদান: ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO₃)।
- খনিজ রূপ: ক্যালসাইট, কখনো ম্যাগনেসিয়াম কার্বোনেট সহ বা ব্যতীত।
- বাংলাদেশে মজুতের ধরন: ভূ-পৃষ্ঠীয় ও ভূগর্ভস্থ উভয়।
- ভূ-পৃষ্ঠীয় মজুত (Surface): সেন্ট মার্টিনস দ্বীপ (কক্সবাজার)।
- ভূ-পৃষ্ঠীয়/স্বল্পগভীর মজুত: ভাঙ্গেরঘাট–লালঘাট–টাকেরঘাট (সুনামগঞ্জ)।
- ভূগর্ভস্থ মজুত (Sub-surface): জয়পুরহাট জেলা।
- সর্বপ্রথম আবিষ্কার: ১৯৫৭ সাল।
- প্রথম আবিষ্কারের স্থান: সেন্ট মার্টিন দ্বীপ।
- সিমেন্ট তৈরির প্রধান কাঁচামাল।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
ইক্ষু (Sugarcane):
- চিনি ও গুড় উৎপাদনের জন্য ইক্ষু বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ফসল।
- ইক্ষু চাষের জন্য সমতলভূমি প্রয়োজন।
- রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, পাবনা, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, ঢাকা, যশোর ও ময়মনসিংহ ইক্ষু চাষের প্রধান অঞ্চল (চিত্র ১১.২)।
- ইক্ষু উৎপাদনের জন্য ১৯° থেকে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং কমপক্ষে ১৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন।
- বেলে দোআঁশ ও কর্দমময় দোআঁশ মাটিতে ইক্ষু চাষ ভালো হয়।
তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
বাংলাদেশের মোট গ্যাসক্ষেত্র - ২৭টি। সর্বশেষ আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র - ভোলা নর্থ।
বাংলাদেশের আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মধ্যে -
উৎপাদনরত - ২০টি
উৎপাদনে যায় নি - ২টি
উৎপাদন স্থগিত রয়েছে - ৫টি
প্রাথমিক মজুদকৃত গ্যাস - এর পরিমানের হিসাবে দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র "বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্র" হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। এই গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৮১ সালে আবিষ্কৃত হয়।
বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্রের প্রাথমিক মজুদকৃত গ্যাস - এর পরিমাণ - ৮,৩৫০.০ বিলিয়ন ঘনফুট।
দ্বিতীয় স্থানে থাকা 'তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রের' প্রাথমিক মজুদকৃত গ্যাসের পরিমাণ - ৮,১৪৮.৯ বিলিয়ন ঘনফুট।
উল্লেখ্য, উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুদ - এর হিসাবে দেশের সবচেয়ে বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র - তিতাস গ্যাস ক্ষেত্র।
উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ - ৬,৩৬৭.০ বিলিয়ন ঘনফুট।
অন্যদিকে, বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্রের উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ - ৫,৭৫৪.০ বিলিয়ন ঘনফুট।
দুটি গ্যাস ক্ষেত্রেরই বর্তমানে ২৬টি করে কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে।
উৎসঃ অর্থনৈতিক সমীক্ষা - ২০২০।
বায়ু যত বেশি উষ্ণ হবে তত বেশি জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট উষ্ণতায় যতটুকু পরিমাণ জলীয়বাষ্প বায়ুতে থাকলে বায়ু এর চেয়ে বেশি জলীয়বাষ্প আর ধারণ করতে পারে না সেই অবস্থায় ঐ বায়ুকে বলা হয় সম্পৃক্ত বা পরিপৃক্ত বায়ু।
এই সম্পৃক্ত বায়ু যখন শীতল হতে থাকে তখন তা আর অধিক পরিমাণে জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে না। এ পরিস্থিতিতে জলীয়বাষ্পের কিছু অংশ পানিতে পরিণত হয় এবং এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ঘনীভবন।
বায়ু যে উষ্ণতায় জলীয়বাষ্পরূপে ঘনীভূত হয় তাকে বলা হয় শিশিরাঙ্ক। তাপমাত্রা ০° সেলসিয়াস বা হিমাঙ্কের নিচে নেমে গেলে তখন ঘনীভূত জলীয়বাষ্প কঠিন আকার ধারণ করে তুষার ও বরফরূপে ভূ-পৃষ্ঠে পতিত হয়।
তবে হিমাঙ্ক শিশিরাঙ্কের উপরে থাকলে ঘণীভবন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৃষ্টি, কুয়াশা ও শিশিরে পরিণত হয়।
সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
- জাতিসংঘ তার সতর্কীকরণে বলেছে পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়লে তাতে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি অংশ প্লাবিত হবে এবং প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে।
- আনুমানিক ৩ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।
- ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ-এর তথ্য অনুসারে ২০৩০ সালের পর নদীর প্রবাহ নাটকীয়ভাবে কমে যাবে।
- ফলে এশিয়ায় পানির স্বল্পতা দেখা দেবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
- উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাবে ঘন ঘন বন্যা, ঝড়, অনাবৃষ্টি এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে।
- যা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে অনুভূত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
- চিহুয়ান উষ্ণ ও শুষ্ক মরুভূমি।
• উষ্ণ ও শুষ্ক মরুভূমি:
- আমেরিকার চিহুয়ান, সোনোরান, মোজাভি ও গ্রেট বেসিন মূলত এই প্রকারের মরুভূমি।
- এসব মরুভূমি সারা বছরই খুব উষ্ণ ও শুষ্ক থাকে।
- গ্রীষ্মকালে খুব গরম হয় এবং শীতকালে সামান্য বৃষ্টিপাত হয়।
- এখানে গড় তাপমাত্রা ২০-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বোচ্চ ৪৩-৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং কখনো সর্বনিম্ন ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এ নেমে আসে।
- এ ধরনের মরুভূমিতে সর্বোচ্চ ২৮ সেমি বৃষ্টিপাত হয়।
- মাটি সাধারণত পাথুরে হয়ে থাকে। এ মরুভূমিতে গাছপালা খুব কম।
- প্রাণিকূলের মধ্যে ক্যাঙ্গারু, ইঁদুর, পোকামাকড়, সরীসৃপ জাতীয় কিছু প্রাণি দেখতে পাওয়া যায়।
উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
- চিহুয়ান উষ্ণ ও শুষ্ক মরুভূমি।
• উষ্ণ ও শুষ্ক মরুভূমি:
- আমেরিকার চিহুয়ান, সোনোরান, মোজাভি ও গ্রেট বেসিন মূলত এই প্রকারের মরুভূমি।
- এসব মরুভূমি সারা বছরই খুব উষ্ণ ও শুষ্ক থাকে।
- গ্রীষ্মকালে খুব গরম হয় এবং শীতকালে সামান্য বৃষ্টিপাত হয়।
- এখানে গড় তাপমাত্রা ২০-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বোচ্চ ৪৩-৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং কখনো সর্বনিম্ন ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এ নেমে আসে।
- এ ধরনের মরুভূমিতে সর্বোচ্চ ২৮ সেমি বৃষ্টিপাত হয়।
- মাটি সাধারণত পাথুরে হয়ে থাকে। এ মরুভূমিতে গাছপালা খুব কম।
- প্রাণিকূলের মধ্যে ক্যাঙ্গারু, ইঁদুর, পোকামাকড়, সরীসৃপ জাতীয় কিছু প্রাণি দেখতে পাওয়া যায়।
উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
কঠিন শিলা
- বাংলাদেশে রয়েছে প্রিক্যাম্ব্রিয়ান যুগীয় গ্রানোডায়োরাইট, কোয়ার্জ ডায়োরাইট, নিস প্রভৃতি কঠিন শিলার বিশাল মজুত।
- জি.এস.বি দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়া নামক স্থানে ভূ-পৃষ্ঠের ১৩২ মিটার থেকে ১৬০ মিটার গভীরতায় এ সকল কঠিন শিলার মজুত আবিষ্কার করে।
- এ শিলাসমূহের বিশুদ্ধ অবস্থায় আর.কিউ.ডি (Rock Quality Designation) ৬০ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- উত্তর কোরিয়া সরকারের সহায়তায় এ খনির উন্নয়ন কাজ পরিচালিত হচ্ছে।
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো।
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড:
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground) খাদ আকৃতির সামুদ্রিক অববাহিকা বা গিরিখাত যা বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত।
- এটি সুন্দরবনের দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের গভীরে অবস্থিত যা গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের একটি অংশ।
- এটি গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত।
- এর আয়তন: ১,৭৩৮ বর্গ কিলোমিটার।
- এই গিরিখাতটির গড় গভীরতা প্রায় ১২০০ মিটার।
- এটি ডলফিন, তিমি, হাঙ্গর, সামুদ্রিক কচ্ছপ এবং বিপন্ন সামুদ্রিক প্রজাতির প্রজনন ও বিচরণ ক্ষেত্র।
• সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডকে ২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবর মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া (MPA) বা সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া।
উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া ২টি। যথা: সোয়াচ অব নো-গ্রাউন্ড মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়া ও সেন্টমার্টিন মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়া।
উৎস: i) বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
ii) IUCN ওয়েবসাইট।
iii) The Daily Star Bangla.
চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারন্য:
- চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বাংলাদেশের একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য।
- এটি চুনতি অভয়ারণ্য নামেও পরিচিত।
- চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য চট্টগ্রাম জেলার লোহাগড়া ও বাঁশখালি উপজেলা এবং কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায় অবস্থিত।
- এর আয়তন ৭,৭৬৪ হেক্টর।
• বনের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও বিপন্ন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য ১৯৮৬ সালে এই অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বন্য এশীয় হাতির যাতায়াতের একটি সংযোগপথ বা করিডোর হিসেবে এই অভয়ারণ্যের গুরুত্ব অপরিসীম।
- এই অভয়ারণ্য তার বিশালাকায় শতবর্ষী মাদার গর্জন গাছের জন্য সুপরিচিত যা এই বনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
• জীববৈচিত্র্য:
- বন্য এশীয় হাতি এই বনের অন্যতম আকর্ষণ এবং এরা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বনের মধ্য দিয়েই চলাচল করে।
- এই বনে ১২০০ প্রজাতির উদ্ভিদ দেখা যায়। যার মধ্যে ৪৫ প্রজাতির উচু গাছও রয়েছে।
- বড় প্রজাতির গাছের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: গর্জন, রাকতান, জাম, উরি আম, চাপালিশ, শিমুল, কড়ই প্রভৃতি। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ভেষজ উদ্ভিদ এবং লতাগুল্ম এ বনে পাওয়া যায়।
- জীবজন্তুর মধ্যে ২ প্রজাতির উভচর, ২ প্রজাতির সরীসৃপ, ২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী এবং প্রায় ১১ ধরনের পাখি বর্তমানে বেশি দেখতে পাওয়া যায়।
- বন্য প্রানীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: হাতি, কয়েক ধরনের বিড়াল, দেশি বন শুকর, হনুমান প্রভৃতি এবং পাখির মধ্যে আছে: কাঠঠোকরা, ছোট বসন্তবৌরি, বনস্পতি, বড় কুবো, আবাবিল, তিলা ঘুঘু, ফিঙে, ময়না, ভাত শালিক প্রভৃতি। এছাড়াও বেশ কিছু জলজ প্রানীও এই বনে পাওয়া যায়।
উৎস: বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ ওয়েবসাইট।
সুন্দরবন:
- সুন্দরবন হলো বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত একটি প্রশস্ত বনভূমি।
- যা বিশ্বের প্রাকৃতিক বিস্ময়াবলীর অন্যতম।
- প্রায় ১০,০০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের পৃথিবীর বৃহত্তম নিরবিচ্ছিন্ন জোয়ারধৌত ম্যানগ্রোভ বন।
- সুন্দরবন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলা।
- এটি ভারতের পশ্চিম বঙ্গ রাজ্যের চব্বিশ পরগণা জেলায় অবস্থিত।
- দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা: সুন্দরবনের একটি বড় অংশ এই জেলায় পড়ে, এবং এখানেই সুন্দরবন জাতীয় উদ্যান অবস্থিত।
- উত্তর চব্বিশ পরগনা: এই জেলার কিছু অংশও সুন্দরবনের অন্তর্ভুক্ত।
- সমগ্র সুন্দরবনের প্রায় ৬,০১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশে স্থিত।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
বাংলাদেশের কৃষিজ সম্পদ:
- বাংলাদেশ কৃষিপ্রধাণ দেশ।
কৃষিজ পণ্যের শ্রেণীবিভাগ:
বাংলাদেশের কৃষিজ পণ্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. খাদ্যশস্য:
- ধান,
- ডাল,
- গম,
- তেলবীজ,
- সবজি,
- ফলমূল।
২. অর্থকরী ফসল:
যেসব ফসল সরাসরি বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে চাষ করা হয় তাদের অর্থকরী ফসল বলা হয়।
- পাট (বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল),
- চা,
- ইক্ষু ,
- তামাক,
- ফুল।
উল্লেখ্য,
- পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল।
- ধান বা চাল বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য।
তথ্যসূত্র -
১. বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ( নবম দশম শ্রেণি),
২. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প:
- গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জি-কে প্রজেক্ট) গঙ্গা নদীর দক্ষিণ তীরের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে (বাংলাদেশের ভূখন্ডে) সেচের জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক গৃহীত একটি প্রকল্প।
- কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ এবং মাগুরা জেলার ১,৯৭,৫০০ হেক্টর জমি এ সেচ কার্যক্রমের আওতাভুক্ত।
- এর মধ্যে ১,৪২,০০০ হেক্টর জমি সেচযোগ্য।
- উল্লিখিত চারটি জেলার সর্বমোট ১৩টি উপজেলায় এ কার্যক্রম বিস্তৃত।
- উপজেলাগুলি হলো - কুষ্টিয়া সদর, কুমারখালী, খোকসা, মিরপুর, ভেড়ামারা, চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা, ঝিনাইদহ সদর, হরিণাকুন্ড, শৈলকূপা, মাগুরা সদর, শ্রীপুর এবং দৌলতপুর।
- প্রকল্পের ভৌগোলিক সীমারেখা উত্তরে গঙ্গা ও গড়াই নদী, পূর্বে গড়াই-মধুমতি, দক্ষিণে নবগঙ্গা এবং পশ্চিমে মাথাভাঙ্গা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এ প্রকল্পের বিশেষত্ব হলো, গঙ্গা নদী থেকে পাম্পের সাহায্যে পানি তুলে সংযোগ খাল ও নালার মাধ্যমে কৃষি জমিতে পানি সরবরাহ
উল্লেখ্য,
- সমগ্র প্রকল্প এলাকাটি দুটি অঞ্চলে বিভক্ত, কুষ্টিয়া অঞ্চল এবং যশোর অঞ্চল।
- পর্ব-১ এর আওতাভুক্ত এলাকা ৮৫,০২০ হেক্টর যার মধ্যে ৪৮,৭০০ হেক্টর ভূমি সেচযোগ্য।
- পর্ব-২ এর আওতাভুক্ত এলাকা ১,১৭,৮১৪ হেক্টর যার মধ্যে ৯৩,৩০০ হেক্টর ভূমি সেচযোগ্য।
- প্রকল্পটির আওতায় সর্বমোট সেচযোগ্য ভূমির পরিমাণ ১,৪২,০০০ হেক্টর।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
প্যাটাগোনিয়ান মরুভূমি (Patagonian Desert):
- প্যাটাগোনিয়ান মরুভূমি, যা প্যাটাগোনিয়ান স্টেপ (Patagonian Steppe) নামেও পরিচিত,
- এটি আর্জেন্টিনার বৃহত্তম মরুভূমি।
- আয়তনের দিক থেকে এটি পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম মরুভূমি।
- এই মরুভূমিটি দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত।
- এর সিংহভাগ অংশ আর্জেন্টিনায় অবস্থিত এবং কিছু অংশ চিলিতে পড়েছে।
• বিভিন্ন দেশের কয়েকটি বিখ্যাত মরুভূমি:
- সাহারা মরুভূমি: আফ্রিকা (১১টি দেশ জুড়ে)
- আরবীয়ান মরুভূমি: এশিয়া (আরব উপদ্বীপ)
- গোবি মরুভূমি: এশিয়া (মঙ্গোলিয়া, চীন)
- গ্রেট ভিক্টোরিয়া মরুভূমি: অস্ট্রেলিয়া
- কালাহারি মরুভূমি: আফ্রিকা (নামিবিয়া, বতসোয়ানা, দক্ষিণ আফ্রিকা)।
উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
ম্যানগ্রোভ বন:
-ম্যানগ্রোভ বলতে সাধারণভাবে জোয়ারভাটায় প্লাবিত বিস্তীর্ণ জলাভূমিকে বোঝায়।
- ম্যানগ্রোভ বন জোয়ারভাটায় বিধৌত লবণাক্ত সমতলভূমি।
- বাংলাদেশের সুন্দরবন এরকম সমুদ্রের লোনা পানির জোয়ার ভাটায় প্লাবিত ম্যানগ্রোভ বন।
-এ আন্তপ্লাবিত জলাভূমি বিভিন্ন স্তরের পারষ্পরিক নির্ভরশীল উপাদানসমূহ যেমন- পানি প্রবাহ, পলি, পুষ্টি উপাদান, জৈব পদার্থ এবং জীবজন্তুর সমন্বয়ে গঠিত।
অন্যদিকে,
- পার্বত্য বন বলতে সাধারণত বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বনভূমিকে বোঝায়।
- মধুপুর বন হলো মধুপুর শালবনের একটি অংশ, যা টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলায় বিস্তৃত।
- শালবন এক ধরনের বনভূমি যেখানে শালগাছ মুখ্য উদ্ভিদ প্রজাতি।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
আগ্নেয়গিরির শ্রেণিবিভাগ:
পৃথিবীর আগ্নেয়গিরিসমূহকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
ক. সক্রিয় আগ্নেয়গিরি
খ. সুপ্ত আগ্নেয়গিরি
গ. মৃত আগ্নেয়গিরি
ক. সক্রিয় আগ্নেয়গিরি:
- যেসব আগ্নেয়গিরি থেকে এখনও অগ্ন্যুৎপাত হয়।
- যেমন: স্ট্রম্বলী আগ্নেয়গিরি।
খ. সুপ্ত আগ্নেয়গিরি:
- বহু বছর অগ্ন্যুৎপাত না হলেও যে কোনো সময়ে অগ্ন্যুৎপাত হবার সম্ভাবনা থাকে।
- যেমন: জাপানের ফুজিয়ামা আগ্নেয়গিরি।
গ. মৃত আগ্নেয়গিরি:
- পুনরায় অগ্ন্যুৎপাত হবার সম্ভাবনা নেই।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা:
- বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA/ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
- এ-পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
- পরিবেশ অধিদপ্তর ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে।
- ৩৮ বছরের সেন্ট মার্টিন দ্বীপে প্রবাল প্রজাতি ১৪১টি থেকে কমে ৪০টিতে নেমেছে।
অন্যদিকে,
- সোনাদিয়া দ্বীপ, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, মারজাত বাওড়, এবং সুন্দরবনকে ১৯৯৯ সালে ঘোষণা করে।
- জাফলং-ডাউকি নদী ২০১৫ সালে।
উৎস:পরিবেশ অধিদপ্তর।
মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই) হচ্ছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন একটি সরকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠান-এর প্রধান নির্বাহী হচ্ছেন মহাপরিচালক।
- এর উদ্দেশ্য যথাযথ এবং টেকসই ভূমি ও মৃত্তিকা (বাংলাদেশের প্রধান সম্পদ) ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ বান্ধব কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে খাদ্যে সয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং সকলের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।
- ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে ১৯৮৩ সালে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট নামে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করে।
- এর প্রধান কার্যালয়, মৃত্তিকা ভবন, কৃষি খামার সড়ক, ফার্মগেট, ঢাকা।
• লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান:
- মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান।
- ১৯২৫ সালে বনায়ন করে সৃষ্ট বনরাজি এখন ঘন প্রাকৃতিক বনের আকার ধারণ করেছে।
- লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশে অবশিষ্ট চিরহরিৎ বনের একটি উল্লেখযোগ্য নমুনা।
- এটি একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল।
- এর আয়তন ১২৫০ হেক্টর।
- বাংলাদেশের ২৫টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও ১৯টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে এটি অন্যতম।
- বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে এই বনকে 'জাতীয় উদ্যান' হিসেবে ঘোষণা করে।
- বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের জন্য এ বন বিখ্যাত।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলের চিরহরিৎ বর্ষাবন বা রেইন ফরেষ্টের মতো এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- সূর্যের আলোর জন্য প্রতিযোগিতা করে এ বনের গাছপালা খুব উঁচু হয়ে থাকে, এবং অনেক ওপরে ডালপালা ছড়িয়ে চাঁদোয়ার মত সৃষ্টি করে।
- এই বন এতই ঘন যে মাটিতে সূর্যের আলো পড়েনা বললেই চলে।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ক্রান্তীয় পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমি:
- ক্রান্তীয় পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো শীতকালে গাছের পাতা ঝরে যাওয়া।
- তবে গ্রীষ্মকালে গাছগুলোতে আবার নতুন কচি পাতা গজায়।
- প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমির অবস্থান দেখতে পাওয়া যায়।
- পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমিকে প্রধানত দুইটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি এবং রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের বনভূমি।
ক. মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি:
- ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার বনভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- এ বনভূমির প্রধান বৃক্ষ গজারী হওয়ায় এটি গজারী বৃক্ষের বনভূমি হিসেবে পরিচিত।
- এর আয়তন প্রায় ৮৭৫ বর্গকিলোমিটার।
খ. রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের বনভূমি:
- রংপুর ও দিনাজপুর জেলার প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি অবস্থিত।
- এখানকার প্রধান বৃক্ষ শাল। এজন্য এটি শাল বৃক্ষের বনভূমি হিসেবে পরিচিত।
- এ বনভূমির আয়তন প্রায় ৩৯ বর্গকিলোমিটার।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
মহেশখালী:
- বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ।
- মহেশখালী উপজেলা কক্সবাজার জেলার চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক এলাকা।
- এটি কক্সবাজার জেলার 'ভাটি আঁচল দ্বীপ' হিসেবে বিবেচিত।
- বিশেষ করে, প্রায় ২০০ বছর আগে এটি মহেশ খালি নামে পরিচিতি পায়।
- বৌদ্ধ সেন মহেশ্বরের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছিল ।
- মহেশখালী একটি দ্বীপ যা বেশ পাহাড়ি এবং ম্যানগ্রোভ বনে ঘেরা।
- এই দ্বীপটি লবণ উৎপাদনের জন্যও বিখ্যাত।
- আদিনাথ মন্দির দ্বীপের একটি বিখ্যাত তীর্থস্থান যেখানে প্রতি বছর হাজার হাজার হিন্দু ভক্ত সমাগম করেন।
- দ্বীপটি উপকূলীয় সমুদ্র সৈকতের পাশে বনভূমি পাহাড় এবং ম্যানগ্রোভ গাছ দ্বারা বেষ্টিত।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
• V-20:
- Vulnerable Twenty (V20) হলো একটি আন্তর্জাতিক ফোরাম, যা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে একত্রিত করে।
- এটি ২০১৫ সালের অক্টোবরে পেরুর লিমা তে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি মূলত এই দেশের অর্থমন্ত্রীদের জন্য সহযোগিতামূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।
- এর উদ্ভাবক সংস্থা হলো- Climate Vulnerable Forum (CVF)।
- এতে প্রাথমিকভাবে ২০টি দেশ যুক্ত ছিল যারা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
- প্রথম ২০টি দেশ হলো: আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, বার্বাডোস, ভুটান, কোস্টা রিকা, ইথিওপিয়া, ঘানা, কেনিয়া, কিরিবাতি, মালদ্বীপ, মাদাগাস্কার, নেপাল, ফিলিপাইন, রুয়ান্ডা, সেন্ট লুসিয়া, দক্ষিণ সুদান, পূর্ব তিমুর, টুভালু, তানজানিয়া, ভিয়েতনাম।
- ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এর সদস্য সংখ্যা ৭০টি দেশ।
- V20 গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো বিশ্বের প্রায় ২০% জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে এবং বৈশ্বিক নির্গমনের প্রায় ৫% উৎপন্ন করে।
- এটি জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) এর Climate Vulnerable Forum-এর সাথে সরাসরি যুক্ত।
- বাংলাদেশ ২০২০–২০২২ সালে এই গ্রুপের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছে।
উৎস: V20 অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
'নিউক্লীয় শক্তি' নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস নয়।
নবায়নযোগ্য শক্তি:
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায়।
- এই শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না।
- বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস যেমন: সূর্যের আলো ও তাপ, বায়ু প্রবাহ, জলপ্রবাহ, জৈব শক্তি (জৈবভর), ভূ-তাপ, সমুদ্র তরঙ্গ, সমুদ্র-তাপ, জোয়ার-ভাটা, শহুরে আবর্জনা, হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
• অনবায়নযোগ্য শক্তি:
- অনবায়নযোগ্য শক্তি (Non-renewable Energy) হলো যে সম্পদ প্রকৃতিতে প্রাকৃতিকভাবে নবায়ন হয় না এমনকি মানুষ ও নবায়ন করতে পারে না।
- যেমন: প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, নিউক্লীয় শক্তি, খনিজ তেল ইত্যাদি।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- মারজাত বাওড়, গুলশানবারিধারা লেক, বালু নদী প্রতিবেশগত সংকাটাপন্ন এলাকা।
• প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা:
• ভূপ্রাকৃতিক অনুকূল অবস্থার কারণে বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ।
- কিন্তু অপরিণামদর্শী কর্মকান্ডের ফলে দেশের প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নানান ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন।
- বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA/ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
• এ-পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
- সুন্দরবন: সুন্দরবন রিজার্ভ ফরেস্টের চতুর্দিকে ১০ কিমি বিস্তৃত এলাকা।
- কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকত: গ্রাম, কৃষিজমি, পাহাড়, জঙ্গল, বনভূমি, সমুদ্রসৈকত, খাড়ি, বালিয়াড়ি, ম্যানগ্রোভ ও উপকূলীয় জলাভূমিসহ উপকূলীয় এলাকা
- সেন্টমার্টিন দ্বীপ: বালিয়াড়ি, পাথরময় জোয়ার-ভাটা অঞ্চল, উপকূলীয় জলাভূমি ও কোরালসহ সামুদ্রিক দ্বীপ।
- সোনাদিয়া দ্বীপ: ম্যানগ্রোভ, খাড়ি ও বালিয়াড়িসহ উপকূলীয় দ্বীপ।
- হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, মারজাত বাওড়, গুলশানবারিধারা লেক, বুড়িগঙ্গা নদী, তুরাগ নদী, বালু নদী, শীতলক্ষ্যা নদী, জাফলং-ডাউকি নদী।
উৎস: পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
• সুন্দরবন:
- সুন্দরবন বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন।
- সুন্দরবন দুটি বন বিভাগে বিভক্ত: সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ ও সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ।
- বাংলাদেশ অংশে সুন্দরবনের মোট আয়তন ৬০১৭ বর্গ কি.মি.।
- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সালে UNESCO সুন্দরবনের ৩টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যকে ৭৯৮তম World Heritage Site হিসেবে ঘোষণা করে।
- সুন্দরবনের জলভাগ জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ হওয়ায় ১৯৯২ সনের ২১ মে থেকে এটি Ramsar Site হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
- টাঙ্গুয়ার হাওর ১০ জুলাই, ২০০০ সালে রামসার সাইটের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
উৎস: বন সংরক্ষণ দপ্তর ও রামসার সাইট।
- পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী এ পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন
এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
• বাংলাদেশের ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা:
- অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে।
- এর ফলে দেশের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কোনো কোনো প্রতিবেশের উৎপাদনশীলতাও কমে গিয়েছে।
- দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক - বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA/ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
- এ পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
• এলাকাগুলো:
- সুন্দরবন, কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকত, সেন্টমাটিন দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, মারজাত বাওড়, গুলশান-বারিধারা লেক, বুড়িগঙ্গা নদী, তুরাগ নদী, বালু নদী, শীতলক্ষ্যা নদী, জাফলং-ডাউকি নদী।
উৎস: পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
কক্সবাজার শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার পশ্চিমে সাগরের মাঝে অবস্থিত একটি দ্বীপ মহেশখালী। মহেশখালী বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়িয়া দ্বীপ হিসেবে পরিচিত।
মহেশখালীতে রয়েছে হিন্দুদের তীর্থস্থান বিখ্যাত আদিনাথ মন্দির। পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এ মন্দির সারা বিশ্বের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি পবিত্র স্থান।
প্রায় ৬০০ বছরের পুরনো এ প্রাচীন সভ্যতা দেখে যে কেউ মুগ্ধ হবেন।
উৎসঃ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
সাহারা মরুভূমি:
- প্রায় ৯,২০০,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- সাহারা মরুভূমিকে বিশ্বের বৃহত্তম উষ্ণ (গরম) মরুভূমি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- আয়তনের দিক থেকে এটি তৃতীয় বৃহত্তম মরুভূমি,
- শুধুমাত্র অ্যান্টার্কটিকা ও আর্কটিকের মেরু মরুভূমির পরেই অবস্থান।
- এবং এটি আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় ৩১% অংশ দখল করে রেখেছে।
- সাহারা মরুভূমি উত্তর আফ্রিকার ১১টি দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত।
- এই দেশগুলো হলো: আলজেরিয়া, মিশর, লিবিয়া, সুদান, মরক্কো, তিউনিশিয়া, চাঁদ, মালি, নাইজার, মরিতানিয়া, পশ্চিম সাহারা।
উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
আর্সেনিক (Arsenic):
- আর্সেনিক দূষণ একটি Global Problem.
- তাইওয়ানে প্রথম শনাক্তকরণ হয়।
- পৃথিবীর সকল মহাদেশের ৫০ টির মতো দেশে ভূগর্ভস্থ বা ভূউপরিস্থ পানিতে উচ্চমাত্রার আর্সেনিক শনাক্ত করা হয়েছে।
- বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দে চাঁপাই নবাবগঞ্জ উপজেলার বড়ঘরিয়া মৌজায় কয়েকটি কূপে পরীক্ষা চালিয়ে সর্বপ্রথম ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি লক্ষ্য করে।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর মতে, পানিতে নির্ধারিত মান অনুযায়ী ০.০১ পিপিএম আর্সেনিকের মাত্রা গ্রহণযোগ্য।
- তবে যখন কোন এলাকার পানিতে ০.০১ পিপিএম এর চেয়ে বেশি পরিমাণ আর্সেনিক থাকে তখন সেই এলাকার পানিকে আর্সেনিক দূষণযুক্ত বলে।
উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আর্সেনিক দূষণের মাত্রা বেশি।
- এবং উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে এ দূষণের মাত্রা কম।
- সর্বোচ্চ দূষণযুক্ত জেলাগুলো হচ্ছে চাঁদপুর (৯০%), মুন্সিগঞ্জ (৮৩%), গোপালগঞ্জ (৭৯%), মাদারীপুর (৬৯%), নোয়াখালী (৬৯%), সাতক্ষীরা (৬৭%), কুমিল্লা (৬৫%), ফরিদপুর (৬৫%), শরিয়তপুর (৬৫%), মেহেরপুর (৬০%) ও বাগেরহাট (৬০%)।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বিএড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জি-কে প্রজেক্ট):
- গঙ্গা কপতাক্ষ সেচ প্রকল্প কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলায় অবস্থিত।
- এটি বাংলাদেশে প্রথম সেচ প্রকল্প।
- এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ তীরের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে (বাংলাদেশের ভূখন্ডে) সেচের জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক গৃহীত একটি প্রকল্প।
- কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ এবং মাগুরা জেলার ১,৯৭,৫০০ হেক্টর জমি এ সেচ কার্যক্রমের আওতাভুক্ত।
- ১৯৬৯ সালে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
হাকালুকি হাওর:
- বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ হাওর হাকালুকি হাওর। এটি বাংলাদেশের এবং এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি।
- এটি মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলায় অবস্থিত।
- হাকালুকি হাওরের আয়তন ১৮১.১৫ বর্গ কিমি।
- হাওরটি ৫টি উপজেলা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে বিস্তৃত। হাওরের ৪০% বড়লেখা, ৩০% কুলাউড়া, ১৫% ফেঞ্চুগঞ্জ, ১০% গোলাপগঞ্জ এবং ৫% বিয়ানীবাজার উপজেলার অন্তর্গত।
• হাকালুকি হাওরের বিশাল জলরাশির মূল প্রবাহ হলো জুরী এবং পানাই নদী। এই জলরাশি হাওরের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত কুশিয়ারা নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়। বর্ষাকালে হাওর সংলগ্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে বিশাল রূপ ধারন করে, এই সময় পানির গভীরতা হয় ২-৬ মিটার।
- হাকালুকি হাওরে প্রায় ২৩৮টি বিল রয়েছে। প্রায় সারাবছরই বিলগুলিতে পানি থাকে।
- হাকালুকি হাওরের বিলগুলিতে বিভিন্ন জাতের বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। তবে এক সময়ের অন্যতম আকর্ষণীয় Swamp Forest অর্থাৎ জলময় নিম্নভূমির বনাঞ্চল এখন আর তেমন নেই।
- জীববিজ্ঞানীদের মতে, হাকালুকি হাওরে ১৫০ প্রজাতির মিঠা পানির মাছ, ১২০ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ, ২০ প্রজাতির সরীসৃপ বিলুপ্ত প্রায়। এখানে প্রতি বছর শীতকালে প্রায় ২০০ বিরল প্রজাতির অতিথি পাখির সমাগম ঘটে।
উল্লেখ্য,
- হাকালুকি হাওরকে ১৯৯৯ সালে 'পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা' (ECA) ঘোষণা করা হয়।
উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
- বাংলাদেশের বরিশাল জেলায় সিলিকা পাওয়া যায়নি।
সিলিকা বালু বা কাঁচ বালু:
- সিলিকা বালু বা কাঁচ বালু প্রধানত কাচ প্রস্তুতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও রং, অগ্নিচুল্লির ইপ্টক এবং বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য তৈরিতে সিলিকা বালু ব্যবহৃত হয়।
- খনি ও খনিজ সম্পদ বিধিমালা, ২০১২-এর বিধি ২ (২৫) অনুযায়ী যে সমস্ত বালুতে ৯০% এর অধিক সিলিকন-ডাই-অক্সাইড (SiO2) রয়েছে সে বালুকে ‘‘সিলিকা বালু” বলা হয়। বাংলাদেশের হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট এবং কুমিল্লা জেলায় সিলিকা বালু পাওয়া পায়।
সূত্র: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।