বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ: প্রকৃতি ও সম্পদ বণ্টনের প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ

মোট প্রশ্ন৫৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ: প্রকৃতি ও সম্পদ বণ্টনের প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৫৩৭

১০১.
বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র কয়টি?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্ৰ:
- বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি।
- সেগুলো হলো:
i) রাঙামাটির বেতবুনিয়া (১৯৭৫),
ii) গাজীপুরের তালিবাবাগ (১৯৮২),
iii) ঢাকার মহাখালী (১৯৯৫), ও
 iv) সিলেট (১৯৯৭)।
- ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ জুন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাঙামাটির বেতবুনিয়া (১৯৭৫) ভূ-উপগ্রহটি কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেছিলেন।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১০২.
নিচের কোনটি বঙ্গোপসাগরের দ্বীপ নয়? 
  1. আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ
  2. লাক্ষাদ্বীপ
  3. কোকো আইল্যান্ড
  4. জম্বুদ্বীপ
সঠিক উত্তর:
লাক্ষাদ্বীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাক্ষাদ্বীপ
ব্যাখ্যা

লাক্ষাদ্বীপ বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত নয়; এটি ভারতের পশ্চিম দিকে আরব সাগরে অবস্থিত একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। 
-------------------------- 
বঙ্গোপসাগর:
- বঙ্গোপসাগর হলো বাংলাদেশের উপকূলবর্তী উপসাগর।
- এটি ভারত মহাসাগরে অবস্থিত।
- বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের উত্তরে, ভারতের পূর্ব উপকূল ও শ্রীলঙ্কার পূর্ব উপকূলের পশ্চিমে এবং মায়ানমার উপদ্বীপের পূর্বে অবস্থিত।
- বঙ্গোপসাগর প্রায় ৫° থেকে ২২° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮০° থেকে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে বিস্তৃত।
- বঙ্গোপসাগর পশ্চিমে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা, মহানদী, গোধাবরী, কৃষ্ণা ও কাবেরি নদী দ্বারা উপকূল সংযুক্ত।
- বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ সীমা শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ দন্দ্রা চূড়া থেকে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, মায়ানমার ও ইন্দোনেশিয়া। 
- বঙ্গোপসাগরের প্রস্থ প্রায় ১,০০০ মাইল (১,৬০০ কিমি), গড় গভীরতা প্রায় ২,৬০০ মিটার এবং সর্বোচ্চ গভীরতা প্রায় ৪,৬৯৪ মিটার।

- বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৫৭২টি দ্বীপ অন্তর্ভুক্ত। 
- এর মধ্যে আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ভারতের অধীনে এবং ৩৭টি দ্বীপে মানুষের বসবাস রয়েছে।
- কোকো দ্বীপপুঞ্জ (Coco Islands) হলো বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত মিয়ানমারের অন্তর্গত একটি দ্বীপসমষ্টি। 
জম্বুদ্বীপ হলো বঙ্গোপসাগরের একটি নির্জন দ্বীপ, যা পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের কাছাকাছি অবস্থিত এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ।

- বাংলাদেশের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল (২২.২২ কিমি)। 
- এবং অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল (৩৭০.৪০ কিমি)।
- এছাড়া ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপান অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত।

- বঙ্গোপসাগরের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড। 
- এটি বঙ্গোপসাগরের একটি খাদ।
- এর অর্থ- যার কোনো তল নেই। 
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডকে গঙ্গাখাত ও বলা হয়। 
- এটি মহীসোপানকে কৌণিকভাবে অতিক্রম করা খাদ আকৃতির গভীর অববাহিকা। বঙ্গোপসাগরের এই অংশ সুন্দরবনের দুবলার চর থেকে প্রায় ৩০ কিমি দূরে।

উৎস: Britannica ও বাংলাপিডিয়া।

১০৩.
বাংলাদেশে প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হয় কবে?
  1. ক) ১৯৫৭ সালে
  2. খ) ১৯৫৫ সালে
  3. গ) ১৯৫৪ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৬ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৫ সালে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হয় ১৯৫৫ সালে।

গ্যাসক্ষেত্র:
- ১৯৫৯ সালে ছাতক গ্যাসক্ষেত্র থেকে সর্বপ্রথম শিল্পখাতে গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়।
- দেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্রগুলির মধ্যে একটি এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস উৎপাদনকারী ক্ষেত্র।
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অবস্থিত এই গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৬২ সালে পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি আবিষ্কার করে।
- সিলেট গ্যাসক্ষেত্র  সিলেট শহরের ২০ কিমি উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। পাকিস্তান পেট্রোলিয়াম লিমিটেড (পিপিএল) ১৯৫৫ সালে গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কার করে।
- ছাতক গ্যাসক্ষেত্র  সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত এই গ্যাসক্ষেত্রটি পাকিস্তান পেট্রোলিয়াম লিমিটেড কর্তৃক ১৯৫৯ সালে আবিষ্কৃত হয়।
- হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র ১৯৬৩ সালে আবিষ্কৃত দেশের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র।
- বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্র কুমিল্লা জেলায় অবস্থিত। ১৯৬৯ সালে শেল অয়েল কোম্পানি এই গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কার করে

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১০৪.
খার দুং পাস কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) কোরিয়ায়
  2. খ) পাকিস্তানে
  3. গ) ভারতে
  4. ঘ) চীনে
সঠিক উত্তর:
গ) ভারতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভারতে
ব্যাখ্যা
- ১৮,৩৭৫ ফুট উঁচুতে অবস্থিত, খার দুং লা বিশ্বের সবচেয়ে উঁচুতে মোটরচালিত রাস্তা। 
- ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য, জম্মু ও কাশ্মীরের লাদাখ অঞ্চলে এর অবস্থান। 
- উত্তরে কারাকোরাম রেঞ্জের মধ্যে এটি একটি উঁচু পর্বতের পাস।
- খারদুং লা, তিব্বতি ভাষায়, লা মানে পাস।
- পাসটি পর্বতকে ঘিরে রাস্তাগুলি উপস্থাপন করে।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
১০৫.
হালদা ভেলী কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) খাগড়াছড়ি
  2. খ) বান্দরবান
  3. গ) রাঙামাটি
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
ক) খাগড়াছড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের ভেলী বা উপত্যকাসমূহ:
- হালদা ভেলী : খাগড়াছড়ি
- ভেঙ্গী ভেলী : কাপ্তাই (রাঙামাটি)
- সাজেক ভেলী : রাঙামাটি
- সাঙ্গু ভেলী : চট্টগ্রাম
- নাপিত খালী ভেলী : কক্সবাজার
- বালিশিরা ভেলী : মৌলভীবাজার।
(সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক পত্রিকা)
১০৬.
বাংলাদেশের কোন দ্বীপে টারশয়িারি যুগের পাহাড় রয়েছে?
  1. মহশেখালী
  2. নিঝুম দ্বীপ
  3. কুতুবদয়িা
  4. সন্দ্বীপ
সঠিক উত্তর:
মহশেখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহশেখালী
ব্যাখ্যা
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
 →
টারশয়িারি যুগরে পাহাড় রয়ছে মহশেখালীতে।
 → বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
 → টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের উৎপত্তি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় হিসেবে পরিচিত।
→  আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বের সময়কে টারশিয়ারি যুগ বলা হয়।
→ এ পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কদর্ম দ্বারা গঠিত।
 → রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়সমূহ টারশিয়ারি যুগের অন্তর্ভুক্ত।
 → এ পাহাড়সমূহ আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
 → টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়।
 → এগুলো হলো: দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৭.
In which year did the fire occur in the Magurchara gas field?
  1. 1997
  2. 2005
  3. 1998
  4. 2003
  5. 2007
সঠিক উত্তর:
1997
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1997
ব্যাখ্যা
মাগুড়ছড়া গ্যাস ক্ষেত্রে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে ১৯৯৭ সালে।
বাংলাদেশের গ্যাস ফিল্ড দুর্ঘটনা:

- এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ২ টি গ্যাস ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা হয়।
১. মাগুরছড়া:
- এটি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জে অবস্থিত।
- ১৯৯৭ সালের ১৪ জুন এই গ্যাস ক্ষেত্রে আগুন লাগে।
- এই গ্যাস ক্ষেত্রের খননের সাথে জড়িত ছিলো মার্কিন কোম্পানি অক্সিডেন্টাল।

২. টেংরাটিলা:
- এটি সুনামগঞ্জের দুয়ারাবাজারে অবস্থিত।
- ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি প্রথম দফা এবং ২৪ জুন দ্বিতীয় দফা এখানে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।
- এই গ্যাস ক্ষেত্রের খন কাজের দায়িত্বে ছিলো কানাডিয়ান কোম্পানী নাইকো।

উৎস: প্রথম আলো ও BGFCL.
১০৮.
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা -
  1. ০.১ মিলিগ্রাম
  2. ০.০১ মিলিগ্রাম
  3. ০.০৩ মিলিগ্রাম
  4. ০.৩ মিলিগ্রাম
সঠিক উত্তর:
০.০১ মিলিগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.০১ মিলিগ্রাম
ব্যাখ্যা
আর্সেনিক:
- ধূসর আভাযুক্ত সাদা রংবিশিষ্ট ভঙ্গুর প্রকৃতির একটি অর্ধধাতু বা উপধাতু হচ্ছে আর্সেনিক (Arsenic)।
- প্রকৃতিতে আর্সেনিক বিভিন্ন যৌগ আকারে পাওয়া যায়।
- ৩৩ আণবিক সংখ্যাবিশিষ্ট আর্সেনিকের আণবিক ভর ৭৪.৯২।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত আর্সেনিক একটি নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়।

উল্লেখ্য,
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা হলো ০.০১ মিলিগ্রাম।
- তবে বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ দেশের মাত্রা নির্ধারণ করে থাকে।
- বাংলাদেশে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা ০.০৫ মিলিগ্রাম।
- চাঁদপুর জেলা দেশের মধ্যে সবচেয়ে আর্সেনিক দূষণপ্রবণ জেলা।
- ১৯৯৩ সালে চাপাইনবাবগঞ্জে দেশে প্রথম নলকূপের পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি চিহ্নিত হয়।

উৎস: ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
১০৯.
মেঘনা নদীর উপনদী নয় কোনটি?
  1. ক) শীতলক্ষ্যা
  2. খ) চিত্রা
  3. গ) ডাকাতিয়া
  4. ঘ) গোমতি
সঠিক উত্তর:
খ) চিত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চিত্রা
ব্যাখ্যা
• মেঘনা:
- আসামের 'বরাক' নদী নাগা-মনিপুর পাহাড়ের দক্ষিণ থেকে উৎপত্তি লাভ করে দুইটি শাখায় বিভক্ত হয়ে সিলেট জেলায় প্রবেশ করেছে।
- শাখা দুইটি সুরমা ও কুশিয়ারা নামে বিভক্ত হয়েছে।
- মূলত সুরমা ও কুশিয়ারার মিলিত স্রোতধারাই মেঘনা নদী।
- সুরমা নামক শাখাটি প্রথমে খাসিয়া ও জয়ন্তিয়া পাহাড়ের নিকট দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ছাতক ও সুনামগঞ্জের নিকট দিয়ে অগ্রসর হয়ে দক্ষিণে হবিগঞ্জ জেলার উত্তর সীমানায় পৌছে কুশিয়ারার সাথে মিলিত হয়েছে।
- মেঘনা ভৈরববাজারের নিকট এসে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের সাথে যুক্ত হয়েছে।
⇒ মেঘনা নদীর উপনদীগুলো হলো- শীতলক্ষ্যা, গোমতি, ডাকাতিয়া, ধলেশ্বরী, ব্রহ্মপুত্র।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১০.
সমূদ্র উপকূল রেখা থেকে তলদেশ ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে কী বলে?
  1. ক) মহীসোপান
  2. খ) মহীঢাল
  3. গ) নিমজ্জিত শৈলশিলা
  4. ঘ) সমুদ্রখাত
সঠিক উত্তর:
ক) মহীসোপান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মহীসোপান
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর মহাদেশসমূহের চারিদিকে স্থলভাগের কিছু অংশ অল্প ঢালু হয়ে সমুদ্রের মধ্যে নেমে গেছে।
- এরূপ সমূদ্রের উপকূল রেখা থেকে তলদেশ ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে ‘মহীসোপান’ বলে।
- মহীসোপানের সমুদ্রের পানির সর্বোচ্চ গভীরতা ১৫০ মিটার।
- মহীসোপান ১° কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে। 
- মহীসোপানের গড় প্রশস্ততা ৭০ কিলোমিটার।
- ইউরোপের উত্তর-পশ্চিমে পৃথিবীর বৃহত্তম মহীসোপান অবস্থিত।

উৎস: মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ।
১১১.
কত সালে পরিবেশ অধিদপ্তর টাঙ্গুয়ার হাওরকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে?
  1. ১৯৯০ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ১৯৯৯ সালে
  4. ২০০০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
- পরিবেশ অধিদপ্তর ১৯৯৯ সালে টাঙ্গুয়ার হাওরকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে। 

প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা:
- দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA/ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
- এ-পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
- এলাকাগুলো: সুন্দরবন, কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকত, সেন্টমাটিন দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, মারজাত বাওড়, গুলশান-বারিধারা লেক, বুড়িগঙ্গা নদী, তুরাগ নদী, বালু নদী, শীতলক্ষ্যা নদী, জাফলং-ডাউকি নদী।

উল্লেখ্য,
- পরিবেশ অধিদপ্তর ১৯৯৯ সালে টাঙ্গুয়ার হাওরকে ইকোলজিকাল ক্রিটিকাল এরিয়া(ইসিএ) বা বিপন্ন প্রতিবেশ এলাকা ঘোষণা করে এবং ২০০০ সালের ২০ জানুয়ারি ইউনেস্কো কর্তৃক আন্তর্জাতিক 'রামসার সাইট' ঘোষণা করা হয়।

সূত্র: পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো।
১১২.
বাংলাদেশের কোন জেলায় সিলিকা বালি পাওয়ার যায় না?
  1. হবিগঞ্জ
  2. কুমিল্লা
  3. সিলেট
  4. বরিশাল
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের বরিশাল জেলায় সিলিকা পাওয়া যায়নি।

সিলিকা বালু বা কাঁচ বালু:
- সিলিকা বালু বা কাঁচ বালু প্রধানত কাচ প্রস্তুতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও রং, অগ্নিচুল্লির ইপ্টক এবং বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য তৈরিতে সিলিকা বালু ব্যবহৃত হয়।

- খনি ও খনিজ সম্পদ বিধিমালা, ২০১২-এর বিধি ২ (২৫) অনুযায়ী যে সমস্ত বালুতে ৯০% এর অধিক সিলিকন-ডাই-অক্সাইড (SiO2) রয়েছে সে বালুকে ‘‘সিলিকা বালু” বলা হয়। বাংলাদেশের হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট এবং কুমিল্লা জেলায় সিলিকা বালু পাওয়া পায়।

সূত্র: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৩.
জোয়ার-ভাটার প্রধান কারণ কী?
  1. ক) সূর্যের আকর্ষণ
  2. খ) পৃথিবীর আবর্তন
  3. গ) বায়ুপ্রবাহ
  4. ঘ) চাঁদের আকর্ষণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) চাঁদের আকর্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চাঁদের আকর্ষণ
ব্যাখ্যা
প্রধানত দুটি কারণে জোয়ার ভাটার সৃষ্টি হয়। একটি চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব এবং অন্যটি পৃথিবীর আবর্তনের ফলে উৎপন্ন কেন্দ্রাতিগ শক্তি। মহাকর্ষ সূত্র অনুযায়ী মহাকাশে বিভিন্ন গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র প্রভৃতি প্রতিটি জ্যোতিষ্ক পরস্পরকে আকর্ষণ করে। তাই এর প্রভাবে সূর্য ও চাঁদ পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। কিন্তু পৃথিবীর উপর সূর্য অপেক্ষা চাঁদের আকর্ষণ বল বেশি হয়। কারণ সূর্য চন্দ্র অপেক্ষা ২ কোটি ৬০ লক্ষ গুণ বড় হলেও পৃথিবী সূর্য হতে গড়ে ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কিন্তু পৃথিবী থেকে চন্দ্রের গড় দূরত্ব মাত্র ৩৮.৪ লক্ষ কিলোমিটার। এ কারণেই পৃথিবীর ওপর সূর্যের আকর্ষণ শক্তি চন্দ্র অপেক্ষা অনেক কম। ফলে জোয়ার-ভাটার ব্যাপারে সূর্য অপেক্ষা চন্দ্রের প্রভাব বেশি।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১১৪.
মৌমাছির চাষ বিষয়ক বিদ্যা-
  1. ক) সেরিকালচার
  2. খ) পিসিকালচার
  3. গ) এপিকালচার
  4. ঘ) এভিকালচার
সঠিক উত্তর:
গ) এপিকালচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এপিকালচার
ব্যাখ্যা
মৌমাছির পালন বিষয়ক বিদ্যা - এপিকালচার

অন্যদিকে-----
রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলে-সেরিকালচার।
মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যা - পিসিকালচার।
চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যা - প্রণকালচার।
মৌমাছির চাষ - এপিকালচার।
রেশমের চাষ - সেরিকালচার।
উদ্যানবিদ্যা - হর্টিকালচার।
পাখিপালন বিদ্যা - এভিকালচার।
সামুদ্রিক মৎস পালনবিদ্যা - মেরিকালচার।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১১৫.
বাংলাদেশের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান কোন জেলায়?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) মৌলভীবাজার
  3. গ) সুনামগঞ্জ
  4. ঘ) হবিগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
খ) মৌলভীবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা
• লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। এটির আয়তন প্রায় ১২৫০ হেক্টর।
- ১৯৯৬ সালে এটিকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়।
- এখানে গ্রীষ্মমন্ডলীয় চিরহরিৎ ও মিশ্র চিরহরিৎ বনভূমি দেখা যায়।
- উল্লেখযোগ্য পশুপাখি - খাটাস , বনমোরগ , উল্লুক , মেছোবাঘ বন বিড়ালসহ বিভিন্ন জীবজন্তু।
- এর আশেপাশে খাসিয়া ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।

সূত্র: বন বিভাগ ও মৌলভীবাজার জেলার ওয়েবসাইট।
১১৬.
বাংলাদেশে কালবৈশাখির ঝড় কখন হয়?
  1. ক) মৌসুমী বায়ু ঋতুতে
  2. খ) শীতকালে
  3. গ) মৌসুমী বায়ু ঋতুর পরবর্তী সময়ে
  4. ঘ) প্রাক-মৌসুমী বায়ু ঋতুতে
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রাক-মৌসুমী বায়ু ঋতুতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রাক-মৌসুমী বায়ু ঋতুতে
ব্যাখ্যা
বায়ু প্রবাহের দিক পরিবর্তন, তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের জলবায়ু ভিত্তিক ঋতুকে চারটি ভাগে ভাগ করা যায়।
এই ঋতুগুলো হলোঃ
(১) শুষ্ক শীতকাল,
(২) প্রাক-মৌসুমী উষ্ণ গ্রীষ্মকাল,
(৩) গ্রীষ্মকালীন মৌসুমী বর্ষাকাল, এবং
(৪) শরৎকাল।
- এর মধ্যে 'প্রাক-মৌসুমী উষ্ণ গ্রীষ্মকাল' এর সময়ে কালবৈশাখী ঝড় হয়।

সুত্রঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বই।
১১৭.
নিম্নের কোনটি বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল নয়?
  1. ফেনী
  2. দিনাজপুর
  3. কুষ্টিয়া
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
ফেনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেনী
ব্যাখ্যা
ফেনী বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল নয়।

খরা:

- সাধারণত খরা বলতে কোনো এলাকায় দীর্ঘসময় ধরে ভূমিতে পানির অনুপস্থিতিকে বুঝায়।
- অর্থাৎ কোনো এলাকা বৃষ্টিহীন অবস্থায় থাকলে বা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে।
- এর ফলে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় এবং পানির স্তর নিচে নেমে যায়।
- এরূপ অবস্থাকে খরা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাসমূহে খরার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
- বিগত অর্ধ শতকের ১৯৭৩, ১৯৭৫, ১৯৭৮, ১৯৭৯, ১৯৮১, ১৯৮২, ১৯৮৯, ১৯৯২, ১৯৯৪, ১৯৯৫ এবং ২০১৬ সালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অধিক মাত্রায় খরা দেখা দেয়।

⇒ বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল:
- অতি তীব্র: রাজশাহী ও চাপাইনবাবগঞ্জ,
- তীব্র: দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর জেলা এবং টাঙ্গাইল জেলার অংশবিশেষ,
- মাঝারি: রংপুর ও বরিশাল জেলা এবং দিনাজপুর, কুষ্টিয়া ও যশোর জেলার অংশবিশেষ,
- সামান্য: তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনার পললভূমি এলাকা।

খরার কারণ:
১. সময়মতো বৃষ্টিপাতের অভাব;
২. পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা;
৩. অপরিকল্পিতভাবে বনভূমি উজাড়;
৪. নদীর উজানে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ;
৫. এল নিনো ও লা নিনোর প্রভাব প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৮.
দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের অপর নাম - 
  1. সোনাদিয়া
  2. সন্দ্বীপ
  3. কুতুবদিয়া
  4. পূর্বাশা দ্বীপ
সঠিক উত্তর:
পূর্বাশা দ্বীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বাশা দ্বীপ
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ:
- এই দ্বীপের অপর নাম পূর্বাশা দ্বীপ।
- দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার অন্তর্ভূক্ত বঙ্গোপসাগরের অগভীর সামুদ্রিক মহীসোপান এলাকায় জেগে ওঠা একটি উপকূলবর্তী দ্বীপ।
- বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা এবং পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগণা জেলার বশীরহাট থানার মধ্যকার হাড়িয়াভাঙ্গা নদী দ্বারা চিহ্নিত সীমান্ত রেখা বরাবর দক্ষিণে হাড়িয়াভাঙ্গা মোহনায় অগভীর সমুদ্রে এ ক্ষুদ্র দ্বীপটি গড়ে উঠেছে।
- দ্বীপটির আকৃতি প্রায় গোলাকার এবং ভাটার সময় সমুদ্রের পানি নেমে গেলে এটিকে দেখতে অনেকটা অর্ধচন্দ্রাকৃতির মতো মনে হয়।
- দক্ষিণ তালপট্টির সরাসরি উত্তরে বাংলাদেশের মূল ভূখন্ড তালপট্টি এবং দক্ষিণে উন্মুক্ত বঙ্গোপসাগর।
- দ্বীপটির বর্তমান আয়তন প্রায় ১০ বর্গ কিলোমিটার।
- জোয়ারভাটার উঠানামায় দ্বীপটির জেগে থাকা ভূ-ভাগের আয়তন প্রায় ৭ বর্গ কিমি থেকে ১৪ বর্গ কিমি পর্যন্ত হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে।
- ১৯৭০ সালের নভেম্বরে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় গাঙ্গেয় বদ্বীপাঞ্চলের দক্ষিণ ভাগে আঘাত হানার ঠিক পর পরই দ্বীপটি প্রথম দৃষ্টিগোচর হয়।

সূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১১৯.
কুমিল্লার লালমাই পাহাড় কোন ভূতাত্ত্বিক যুগের ভূমিরূপ-
  1. ক) প্লাইস্টোসিন যুগের
  2. খ) টারশিয়ারি যুগের
  3. গ) মায়োসিন যুগের
  4. ঘ) ডেবোনিয়ান যুগের
সঠিক উত্তর:
ক) প্লাইস্টোসিন যুগের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্লাইস্টোসিন যুগের
ব্যাখ্যা
আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে। এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর। দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত। প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত লালমাই পাহাড়টির বিস্তৃত। এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার। এ পাহাড়ের মাটি লাল এবং নুড়ি, বালি ইত্যাদি দ্বারা গঠিত। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১২০.
কোনটি নবায়নযােগ্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত?
  1. তেল
  2. গ্যাস
  3. ইউরেনিয়াম
  4. বায়ু
সঠিক উত্তর:
বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ু
ব্যাখ্যা
নবায়নযােগ্য সম্পদ:
- যে জ্বালানি পুনঃপুন ব্যবহার করলে সাধারণত ফুরােয় না এমনকি অদূর ভবিষ্যতেও ঘাটতির সম্ভাবনা থাকে না, তাকে নবায়নযােগ্য জ্বালানি বলা হয়।
যেমন: সূর্যের আলাে, নদীর বহমান পানি, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা, সমুদ্রের ঢেউ, বায়ু, পৃথিবীর গভীরের উত্তপ্ত ম্যাগমা।

অনবায়নযােগ্য সম্পদ:
- অনবায়নযােগ্য মানে হলাে, যে শক্তি একবার ব্যবহার করা হলে তা থেকে পুনরায় শক্তি উৎপন্ন করা যায় না।
- এটি হলো মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ, যা পুনরায় উৎপন্ন করা যায় না।
যেমন - তেলগ্যাস, কয়লা, ইউরেনিয়াম

সূত্র:- পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২১.
বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. খুলনা
  2. বাগেরহাট
  3. সুনামগঞ্জ
  4. সিলেট
সঠিক উত্তর:
সুনামগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনামগঞ্জ
ব্যাখ্যা

রামসার সাইট:
- রামসার কনভেনশন রামসার চুক্তি হলো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি, যা ১৯৭১ সালে ইরানের রামসার শহরে স্বাক্ষরিত হয়।
- এর উদ্দেশ্য হলো জলাভূমি (wetlands) সংরক্ষণ এবং সারা বিশ্বে এসব এলাকার টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা।
- বাংলাদেশ ১৯৯২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রামসার সনদ কার্যকর করে।
- বাংলাদেশের ২টি স্থান রামসার সাইট  হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।
- রামসার সাইট ২টি হলো: সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর।
- বাংলাদেশের প্রথম রামসার সাইট সুন্দরবন।
- ১৯৯২ সালের ২১ মে সুন্দরবনকে রামসার সাইট (রামসার কনভেনশন কর্তৃক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জলাভূমি) হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- বাংলাদেশের দ্বিতীয় 'রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওর।
- এটি সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।
- ২০০০ সালের ২৯ জানুয়ারি টাঙ্গুয়ার হাওরকে সুন্দরবনের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় 'রামসার সাইট' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

উৎস: Ramsar Convention ওয়েবসাইট।

১২২.
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড কোথায় অবস্থিত?
  1. আরব সাগরে
  2. বঙ্গোপসাগরে
  3. ভূমধ্যসাগরে
  4. দক্ষিণ চীন সাগরে
সঠিক উত্তর:
বঙ্গোপসাগরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গোপসাগরে
ব্যাখ্যা

- বঙ্গোপসাগরে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড  অবস্থিত। 

সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড: 

- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড খাদ আকৃতির সামুদ্রিক অববাহিকা বা গিরিখাত, যা বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানকে কৌণিকভাবে অতিক্রম করেছে।
- এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত। গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত।
- পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের আরও কিছু বদ্বীপমুখী খাদ দেখতে পাওয়া যায়, যেমন সিন্ধু নদীর মোহনার অদূরে সিন্ধু খাদ, মিসিসিপি বদ্বীপের পশ্চিম পাশে মিসিসিপি খাদ।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের প্রস্থ ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার, তলদেশ তুলনামূলকভাবে সমতল এবং পার্শ্ব দেয়াল প্রায় ১২ ডিগ্রি হেলানো।
- মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
- ধারণা করা হয়, বঙ্গোপসাগরের নিচে কান্দা ও উপ-বদ্বীপ উপত্যকার আকারে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড সাগর অভিমুখে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার সম্প্রসারিত হয়ে আছে।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের দিকে মুখ করে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের মোহনার কাছে বালুচর ও শৈলশিরার অবস্থিতি এই ইঙ্গিতই বহন করে যে, এই খাদ দিয়েই পলল বঙ্গোপসাগরের গভীরতর অংশে বাহিত হয়।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে যে, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড অবক্ষেপপূর্ণ ঘোলাটে স্রোত এনে বেঙ্গল ফ্যানে ফেলছে।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের অধিকাংশ পলল গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সঙ্গমস্থলে উদ্ভূত।
-এগুলো যথাক্রমে হিমালয়ের দক্ষিণ ও উত্তর দিক থেকে আসছে।
- বর্তমান অবস্থায় স্বল্প পরিমাণের ঘোলাটে স্রোত আর বালি সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের মাধ্যমে মহীসোপান থেকে গভীর সমুদ্রে পলল পরিবহণের প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১২৩.
কোনটি থেকে নিস উৎপন্ন হয়?
  1. ক) চুনাপাথর
  2. খ) গ্রানাইট
  3. গ) বেলেপাথর
  4. ঘ) কয়লা
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রানাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রানাইট
ব্যাখ্যা

- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা যখন প্রচণ্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর রুপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টাজাইট,
- কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট,
- গ্রানাইট রূপান্তরিত হলে নিস এবং
- কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১২৪.
জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলন কপ-২৮ কোন শহরে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. দুবাই
  2. মস্কো
  3. হাভানা
  4. প্যারিস
সঠিক উত্তর:
দুবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুবাই
ব্যাখ্যা
জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলন বা কপ-২৮:
- ৩০ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে ২৮তম জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলন বা কপ-২৮ অনুষ্ঠিত হবে।
- স্থান: দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত।
- সর্বশেষ সম্মেলন কপ-২৭ অনুষ্ঠিত হয়েছে শারম আল শেখ, মিশর।
- কপ-২৭ সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত গরিব দেশগুলোকে ক্ষতিপুরণ দিতে ঐতিহাসিক 'লস অ্যান্ড ড্যামেজ' চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র - UNFCCC ওয়েবসাইট।
১২৫.
কোন বায়ু প্রবাহিত হতে শুরু হলে বর্ষাকাল আরম্ভ হয়?
  1. ক) পশ্চিমা বায়ু
  2. খ) মৌসুমি বায়ু
  3. গ) অয়ন বায়ু
  4. ঘ) মেরু বায়ু
সঠিক উত্তর:
খ) মৌসুমি বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে জুন থেকে অক্টোবর মাস (জ্যৈষ্ঠ-কার্তিক) পর্যন্ত বর্ষাকাল। অর্থ্যাৎ, গ্রীষ্ম ও শীতের মাঝামাঝি বৃষ্টিবহুল সময়কে বর্ষাকাল বা বর্ষা ঋতু বলে।
জুন মাসের প্রথম দিকে, দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে মৌসুমি বায়ুর আগমনের সঙ্গে সঙ্গে বর্ষাকাল শুরু হয়। এই মৌসুমি বায়ু ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে আসার সময় প্রচুর জলীয়বাষ্প সমৃদ্ধ থাকে। এ জলীয়বাষ্প শৈলোৎক্ষেপ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। বছরের মোট বৃষ্টিপাতের ৮০ ভাগ বর্ষাকালে হয়ে থাকে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী উত্তর গোলার্ধে ডান দিক থেকে বেঁকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুতে পরিণত হয়।
রেফারেন্সঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম দশম শ্রেণী বোর্ড বই।

১২৬.
বাংলাদেশের বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি কোনটি?
  1. হাকালুকি হাওর
  2. টাঙ্গুয়ার হাওর
  3. চলনবিল
  4. নিকলী হাওর
সঠিক উত্তর:
হাকালুকি হাওর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাকালুকি হাওর
ব্যাখ্যা

হাকালুকি হাওর:
- বাংলাদেশের বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি হাকালুকি হাওর।
- এটি বাংলাদেশের এবং এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি।
- এটি মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলায় অবস্থিত।
- হাকালুকি হাওরের আয়তন ১৮১.১৫ বর্গ কিমি।
- হাওরটি ৫টি উপজেলা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে বিস্তৃত।
- হাওরের ৪০% বড়লেখা, ৩০% কুলাউড়া, ১৫% ফেঞ্চুগঞ্জ, ১০% গোলাপগঞ্জ এবং ৫% বিয়ানীবাজার উপজেলার অন্তর্গত।

⇒ হাকালুকি হাওরের বিশাল জলরাশির মূল প্রবাহ হলো জুরী এবং পানাই নদী।
- এই জলরাশি হাওরের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত কুশিয়ারা নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- বর্ষাকালে হাওর সংলগ্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে বিশাল রূপ ধারন করে, এই সময় পানির গভীরতা হয় ২-৬ মিটার।

⇒ হাকালুকি হাওরে প্রায় ২৩৮টি বিল রয়েছে। প্রায় সারাবছরই বিলগুলিতে পানি থাকে।
- হাকালুকি হাওরের বিলগুলিতে বিভিন্ন জাতের বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। তবে এক সময়ের অন্যতম আকর্ষণীয় Swamp Forest অর্থাৎ জলময় নিম্নভূমির বনাঞ্চল এখন আর তেমন নেই।
- জীববিজ্ঞানীদের মতে, হাকালুকি হাওরে ১৫০ প্রজাতির মিঠা পানির মাছ, ১২০ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ, ২০ প্রজাতির সরীসৃপ বিলুপ্ত প্রায়। এখানে প্রতি বছর শীতকালে প্রায় ২০০ বিরল প্রজাতির অতিথি পাখির সমাগম ঘটে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১২৭.
তাজিন ডং (বিজয়) কোন অঞ্চলের পাহাড়?
  1. ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের
  2. খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের
  3. গ) দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের
  4. ঘ) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের
সঠিক উত্তর:
ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের
ব্যাখ্যা
• ভূ-প্রকৃতির ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১। টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ, 
২। প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
৩। সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- এ পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কদম দ্বারা গঠিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়সমূহ টারশিয়ারি যুগের অন্তভুর্ক্ত।
- এ পাহাড়সমূহ আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়।
  এগুলো হলো:
ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ,
খ) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

• ক. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- তবে পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে পাহাড়গুলোর উচ্চতা ক্রমশ বেশি।
⇒ সাম্প্রতিককালে আবিস্কৃত তাজিন ডং (বিজয়) পর্বতশৃঙ্গটি দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ যার উচ্চতা ১,২৩১ মিটার।
- এটি আবিস্কৃত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ছিল কিওক্রাডং।
- এর উচ্চতা ১,২৩০ মিটার। এ অঞ্চলের পাহাড়সমূহ কৃষিকাজের জন্য উপযোগী নয়।
- তবে স্থানীয় অধিবাসীগণ সীমিত পরিসরে জুম পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে থাকেন।

খ. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানকার পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত।
- এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।
- এ পার্বত্য অঞ্চলে অধিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ের ঢালে প্রচুর চা উৎপন্ন হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৮.
বাংলাদেশের পাহাড়ি বনভূমি প্রধানত কোন অঞ্চলে অবস্থিত?
  1. সুন্দরবন
  2. খুলনা
  3. পার্বত্য চট্টগ্রাম
  4. বরিশাল 
সঠিক উত্তর:
পার্বত্য চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পার্বত্য চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমি বা পাহাড়ি বন: 
- ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমি বা পাহাড়ি বন প্রধানত পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সিলেট-মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত।
- এই বনভূমি অতিবৃষ্টির কারণে গড়ে উঠেছে।
- এর মোট আয়তন ১৩,৭৭,০০০ হেক্টর, যা বাংলাদেশের মোট আয়তনের প্রায় ৯.৩৩%।

- পাহাড়ি বনভূমিতে প্রধান গাছের মধ্যে রয়েছে—
- গর্জন, ময়না, তেলসুর, চাপালিশ, গামার, জারুল, কড়ই, সেগুন ও চম্পা।
- এছাড়া এখানে প্রচুর বাঁশ ও বেত জন্মায়।
- চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাজারীখীল বনপ্রাণী অভয়ারণ্য অঞ্চলে বিরল প্রজাতির বৈলাম বৃক্ষ দেখা যায়। 
- বৈলাম ১০০ মিটার উচ্চতায় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বৃক্ষ হিসেবে পরিচিত।

- বনের শিল্প ও ব্যবহারিক গুরুত্ব অনুযায়ী, গর্জন ও জারুল রেলের স্লিপার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- গামার ও চাপালিশ আসবাবপত্র ও নৌকা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

- বনাঞ্চলের উল্লেখযোগ্য প্রাণীর মধ্যে রয়েছে—
- হাতি, চিতাবাঘ, সাম্বর ও মায়া হরিণ, বন শুকর, হনুমান, বানর, উল্লুক, সজারু, বনরুই, ধনেশ, ময়ূর, শকুন, অজগর, টিয়া ও ময়না।

উৎস:
১. বন অধিদপ্তর;
২. বাংলাপিডিয়া। 

১২৯.
ওয়ারপো (WARPO) কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৮৫ সালে 
  2. ১৯৯০ সালে 
  3. ১৯৯২ সালে 
  4. ১৯৯৫ সালে  
সঠিক উত্তর:
১৯৯২ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯২ সালে 
ব্যাখ্যা

ওয়ারপো (WARPO):
- ওয়ারপো হলো বাংলাদেশের একটি স্বশাসিত সরকারি সংস্থা।
- এর পূর্ণরূপ- Water Resources Planning Organization (পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা)।
- এটি দেশের পানি সম্পদকে সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের কাজ করে থাকে।
- এর মূল লক্ষ্য টেকসই উন্নয়ন ও ন্যায্য ব্যবহার নিশ্চিত করা।
- এটি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়-এর অধীনে কাজ করে।
- সংস্থাটি ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি জাতীয় পানি নীতি ১৯৯৯ ও বাংলাদেশ পানি আইন ২০১৩-এর আওতায় দেশের সর্বোচ্চ পরিকল্পনাকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করে।
- এই সংস্থার সদর দপ্তর ৭২ গ্রিন রোড, ঢাকায় অবস্থিত। 

উল্লেখ্য,
• ওয়ারপোর প্রধান কাজগুলো হলো:
- জাতীয় পানি সম্পদ পরিকল্পনা (NWRP) প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা।
- বাংলাদেশ পানি আইন-এর সমন্বয় ও বাস্তবায়ন করা।
- সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা (IWRM)-এর জন্য কাজ করা।
- জাতীয় পানি সম্পদ ডেটাবেস ও জ্ঞানভাণ্ডার তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ করা।
- পানি খাতের বিভিন্ন প্রকল্পের অনুমোদন ও পর্যবেক্ষণ করা।
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নীতি ও প্রবিধান বাস্তবায়ন করা 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৩০.
বাংলাদেশে আবিষ্কৃত মোট কয়লা ক্ষেত্র রয়েছে কয়টি?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৯টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা

• কয়লা ক্ষেত্র:
- বাংলাদেশে আবিস্কৃত মোট কয়লাক্ষেত্র ৫টি।
- দেশে একমাত্র দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলিত হচ্ছে।
- ১৯৬২ সালে জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জে দেশের সর্বপ্রথম কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।
- গভীরতা বেশি হওয়ায় জামালগঞ্জ খনি থেকে এখনো কয়লা উত্তোলন শুরু হয়নি।

দেশের কয়লা খনিসমূহ হলো:
• ফুলবাড়ী: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৮৯।
• জামালগঞ্জ: জয়পুরহাট, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন:  জিএসবি, ১৯৬২।
• বড়পুকুরিয়া: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৮৫।
• খালাসপীর: রংপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: বি.এইচ.পি মিনারেলস, ১৯৯৭।
• দীঘিপাড়া: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৯৫।

উৎস: খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।

১৩১.
ভূপ্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশ কয় ভাগে বিভক্ত?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূপ্রকৃতির প্রভাব অপরিসীম।
- বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব-দ্বীপ।
- বাংলাদেশের প্রায় সমগ্র অঞ্চল এক বিস্তীর্ণ সমভূমি।
- বাংলাদেশে সামান্য পরিমাণে উচ্চভূমি রয়েছে।
- ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
১. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ। 
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩২.
ম্যাগমা বা গলিত শিলা ভূ-পৃষ্ঠে অথবা ভূগর্ভে ঠান্ডা হয়ে কঠিন রূপ লাভ করলে তাকে বলা হয়-
  1. ক) স্তরীভূত শিলা
  2. খ) আগ্নেয় শিলা
  3. গ) পাললিক শিলা
  4. ঘ) রূপান্তরিত শিলা
সঠিক উত্তর:
খ) আগ্নেয় শিলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আগ্নেয় শিলা
ব্যাখ্যা
ম্যাগমা বা গলিত শিলা ভূ-পৃষ্ঠে অথবা ভূগর্ভে ঠান্ডা হয়ে কঠিন রূপ লাভ করলে তাকে আগ্নেয় শিলা বলা হয়। গ্রানাইট, পেগমাটাইট, গ্রানোডায়োরাইট, টোনালাইট, ডায়োরাইট, ডলেরাইট, গ্যাব্রো প্রভৃতি বাংলাদেশের কয়েকটি আগ্নেয় শিলার উদাহরণ। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩৩.
পদ্মাসেতুর দৈর্ঘ্য কত কিলোমিটার?
  1. ক) ৪.৮
  2. খ) ৫.০৩
  3. গ) ৬.১৫
  4. ঘ) ৬.৮
সঠিক উত্তর:
গ) ৬.১৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬.১৫
ব্যাখ্যা
পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিমি বা ৬১৫০ মিটার। এর স্প্যান সংখ্যা ৪১ টি। প্রতিটির দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার।
উৎসঃ প্রথম আলো আর্কাইভ।
১৩৪.
ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলার উচুঁ ভূমি-
  1. মধুপুর গড়
  2. ভাওয়ালের গড়
  3. বরেন্দ্রভূমি
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মধুপুর গড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধুপুর গড়
ব্যাখ্যা
মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়: 
- টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার উচুঁ ভূমি মধুপুর গড়।
- গাজীপুর জেলায় ভাওয়ালের গড় অবস্থিত।
- এর আয়তন প্রায় ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
- সমভূমি থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার।
- মাটির রং লালচে ও ধূসর।

উল্লেখ্য,
- প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ: আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকালবলে।
- উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এ অঞ্চলের অন্তর্গত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব সোপান গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩৫.
পৃথিবীর দীর্ঘতম অখন্ডিত সমুদ্র সৈকতের দৈঘ্য কত?
  1. ক) ৮৫ কি.মি.
  2. খ) ১৪৫ কি.মি.
  3. গ) ১২৫ কি.মি.
  4. ঘ) ১২০ কি.মি.
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১২০ কি.মি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১২০ কি.মি.
ব্যাখ্যা
• কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য ১২০ কি.মি.
• কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতটি পৃথিবীর দীর্ঘতম অখন্ডিত সমুদ্র সৈকত। 
• কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্হিত একটি পর্যটন শহর।
• এটি চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত। কক্সবাজার তার নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যের জন্য বিখ্যাত।
• এখানে রয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক বালুময় সমুদ্র সৈকত যা কক্সবাজার শহর থেকে বদরমোকাম পর্যন্ত একটানা ১২০ কি.মি. পর্যন্ত বিস্তৃত।
• এখানে রয়েছে বাংলাদেশের বৃহত্তম সামুদ্রিক মৎস্য বন্দর এবং সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশান।

তথ্যসূত্র: কক্সবাজার জেলা ও বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ওয়েবসাইট।
১৩৬.
বাংলাদেশে চীনামাটির সন্ধান মজুদ রয়েছে কোন জেলায়?
  1. নেত্রকোণা
  2. শেরপুর
  3. দিনাজপুর 
  4. উপরের সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো 
ব্যাখ্যা

- নেত্রকোণা শেরপুর এবং দিনাজপুরে চিনামাটির মজুদ রয়েছে।

• চীনামাটি  বাংলাদেশে চীনামাটির উল্লেখযোগ্য মজুত রয়েছে।
- ১৯৫৭ সালে ময়মনসিংহ জেলার দুর্গাপুর থানার অন্তর্গত (দুর্গাপুর বর্তমানে নেত্রকোনা জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা) ভেদিকুরা নামক স্থানে প্রথম চীনামাটির সন্ধান লাভ করে।
- ভূ-পৃষ্ঠের উপরে বা ভূ-পৃষ্ঠের সামান্য নিচে নেত্রকোণা জেলার বিজয়পুর (২৫ লক্ষ ৭ হাজার টন),
- জি.এস.বি ১৯৯০ সালে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার ভূরাঙ্গা এলাকায় চীনামাটির মজুত আবিষ্কার করে।
- শেরপুর জেলার ভুরুংগা (১৩ হাজার টন) ও চট্টগ্রাম জেলার হাইটগাঁও, কাঞ্চপুর, এলাহাবাদ (১৮ হাজার টন)।
- এবং ভূ-পৃষ্ঠের অভ্যন্তরে দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়ায় (১ কোটি ৫০ লক্ষ টন) চীনামাটির মজুত আবিষ্কৃত হয়েছে।
- চীনামাটি বলতে মূলত কেয়োলিন কাদা মণিক দিয়ে গঠিত সিরামিক শিল্পে ব্যবহার্য উন্নতমানের কাদাকে বোঝানো হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১৩৭.
ভূ-অভ্যন্তরের স্তর কতটি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
• ভূ-অভ্যন্তরের স্তরসমূহ:
- পৃথিবীর ভূ-অভ্যন্তর তিনটি স্তরে বিন্যস্ত।
- প্রথম স্তর হচ্ছে অশ্মমন্ডল, যা সিলিকা ও এ্যালুমিনিয়াম দ্বারা গঠিত এবং এর ৭০০ কি.মি. পর্যন্তগভীর।
- এর পরের স্তর হচ্ছে গুরুমন্ডল, যা সিলিকা, ম্যাগনেসিয়াম, লোহা, কার্বন ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ দ্বারা গঠিত। যার গভীরতা প্রায় ৭০০-২৯০০ কি.মি. ।
- তৃতীয় স্তর হচ্ছে কেন্দ্রমন্ডল, যা প্রায় ২৯০০ থেকে ৬৩৭৯ কি.মি বিস্তৃত এবং লোহা, নিকেল, পারদ ও সিসা দ্বারা গঠিত। তবে প্রধান উপাদান হলো নিকেল ও লোহা।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৮.
নিচের কোন জেলায় টারশিয়ারি যুগের পাহাড় আছে?
  1. ক) কুমিল্লা
  2. খ) রাজশাহী
  3. গ) খাগড়াছড়ি
  4. ঘ) বগুড়া
সঠিক উত্তর:
গ) খাগড়াছড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক শ্রেণিবিভাগ:
- অবস্থান, ভূমির গঠন ও ভূ-তাত্ত্বিক সময়কাল অনুসারে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে প্রধানত তিনটি বৃহৎ শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। যথা-
১. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- প্রায় ৭০ মিলিয়ন বছর পূর্বে টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এ পাহাড়গুলো গঠিত হয়েছে বলে এগুলোকে টারশিয়ারি যুগের পাহাড় বলা হয়।
- এ পাহাড়গুলো বেলেপাথর, শ্লেট জাতীয় প্রস্তর এবং কর্দম দ্বারা গঠিত।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে মনে করা হয়।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ের অবস্থান:
- রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান এবং চট্টগ্রাম জেলার অংশবিশেষে, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত ছোট-বড় পাহাড়গুলো নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। 

এছাড়াও - 
- কুমিল্লা, রাজশাহী এবং বগুড়ায় আছে প্লাইস্টোসিনকালের পাহাড়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৯.
মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. জয়পুরহাট
  2. বগুড়া
  3. দিনাজপুর
  4. রংপুর
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুর
ব্যাখ্যা

মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি দিনাজপুর জেলায় অবস্থিত।

কঠিন শিলা (Hard Rock):
- পাললিক শিলা থেকে পৃথক এবং সাধারণভাবে শক্ত, ঘন, কেলাসিত আগ্নেয় অথবা রূপান্তরিত শিলাকে কঠিন শিলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরের মধ্যপাড়ায় কঠিন শিলার খনি পাওয়া গিয়েছে।
- আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৭৪।
- গভীরতা: ১২৮ মিটার।
- মজুদ: ১৭১ মেট্রিক টন।

সূত্র: খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো।

১৪০.
বাংলাদেশের প্রথম খনিজ তেলক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়-
  1. ক) জকিগঞ্জে
  2. খ) হরিপুরে
  3. গ) মনতলায়
  4. ঘ) বরকলে
সঠিক উত্তর:
খ) হরিপুরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হরিপুরে
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের দুটি খনিজ তেলক্ষেত্র রয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রথম খনিজ তেলক্ষেত্রটি হরিপুর তেলক্ষেত্র। এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৬ সালে সিলেটের হরিপুরে। ১৯৮৭ সালে তেলক্ষেত্রটি থেকে তেল উৎপাদন শুরু হয় এবং ১৯৯৪ সাল থেকে তেল উৎপাদনে স্থগিত হয়ে যায়।

উৎস: সিলেট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।

১৪১.
বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয় স্তরে?
  1. ট্রপোবিরতিতে
  2. স্ট্রাটোবিরতিতে
  3. মেসোবিরতিতে
  4. আয়নমন্ডলে
সঠিক উত্তর:
আয়নমন্ডলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়নমন্ডলে
ব্যাখ্যা

তাপমণ্ডল:
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে ৮০ কিলোমিটার ঊর্ধ্বসীমা থেকে অর্থাৎ মেসোবিরতি থেকে তাপমন্ডলের শুরু।
- এ স্তরের উপরের সীমা ৫০০ কি.মি পর্যন্ত।
- এখানে বায়ুমন্ডল অত্যন্ত হালকা এবং বায়ুচাপ ক্ষীণ।
- তাপমন্ডলের ১০০ থেকে ৩০০ কি.মি উচ্চতায় অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন পরমাণু অত্যন্ত ছোট তরঙ্গমাপের সৌরশক্তি শোষণ
করায় উষ্ণতা প্রায় ১০০০০ সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
- তাপমন্ডলে আয়নিত এ অংশ আয়নমন্ডল নামে পরিচিত। 
- আয়নমন্ডল মূলত মেসোমন্ডলের ঊর্ধ্বাংশ থেকে তাপমন্ডলের নিম্নাংশ (৫০ থেকে ১০০ কিলোমিটার) পর্যন্ত সম্প্রসারিত।
- আয়নমন্ডলে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে ভূ-পৃষ্ঠে ফিরে আসে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪২.
বাংলাদেশে জি. কে. প্রকল্প একটি -
  1. নদী নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প
  2. জলবিদ্যুৎ প্রকল্প
  3. সেচ প্রকল্প
  4. জল পরিবহণ প্রকল্প
সঠিক উত্তর:
সেচ প্রকল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেচ প্রকল্প
ব্যাখ্যা
জি. কে. প্রকল্প:
- বাংলাদেশে জি. কে. প্রকল্প একটি সেচ প্রকল্প।
- গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জি. কে. সেচ প্রকল্প) বাংলাদেশের একটি অন্যতম বৃহৎ সেচ প্রকল্প।

⇒ উক্ত প্রকল্প কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ এবং মাগুরা এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত।
- জি.কে সেচ প্রকল্পের এর আওতায় চুয়াডাঙ্গা জেলায় খরিফ-২ এ সেচযোগ্য জমির পরিমান ৯০৯৩ হেক্টর লক্ষমাত্রার বিপরীতে ৯০০২ হেক্টরে ও রবি মৌসুমে সেচযোগ্য জমির পরিমান ৭৭৪২ হেক্টর লক্ষমাত্রার বিপরীতে ৬০১৮ হেক্টরে সেচ প্রদান করা হয়েছে এবং খরিফ-১ এ সেচযোগ্য জমির পরিমান ৮৪২ হেক্টর লক্ষমাত্রা অর্জনে নিবিড় মনিটরিং অব্যাহত আছে।
- ফলে তৎসংলগ্ন এলাকার জনগনের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, প্রকল্প এলাকায় দারিদ্রসীমা হ্রাসকরণ সাম্প্রতিক অর্জিত সাফল্যের অন্যতম।
- অত্র বিভাগের আওতাধীন "৬৪টি জেলার অভ্যন্তরস্থ ছোটনদী, খাল এবং জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্প (১ম পর্যায়) (১ম সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৯৪.৬১০ কিঃমিঃ নদ-নদী, খাল, জলাশয় পুনঃখননের কাজ সমাপ্ত হয়েছে।
- এছাড়াও “ভৈরব নদ পুনঃখনন প্রকল্প (২য় পর্যায়)" এর আওতায় চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলায় ২৫.৪০০ কিঃমিঃ এর মধ্যে ১৭.৪০০ কিঃমিঃ পুনঃখনন করা হয়েছে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৪৩.
'মাধবকুন্ড' জলপ্রপাত কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. সিলেট
  2. রাঙামাটি
  3. মৌলভীবাজার
  4. বান্দরবান
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা

মাধবকুন্ড জলপ্রপাত:
- মৌলভীবাজার জেলার বড়লখো উপজলোয় মাধবকুন্ড জলপ্রপাতটি বাংলাদেশের বৃহত্তম জলপ্রপাত।
- প্রায় ২০০ ফুট উঁচু টিলা হতে পাহাড়ি ঝর্নার পতিত জলরাশি পর্যটকের জন্য নয়নাভিরাম।
- জলাধারের উৎস উঁচু পাহাড়ের ঝর্ণাধারা  আর রাশি রাশি জল। সে এক অপূর্ব দৃশ্য।
- জলপ্রপাত ও আশেপাশের সৌন্দর্য উপভোগ করতে রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার।
- জলপ্রপাতের নিকটেই খাসিয়া নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস।
- জলপ্রপাতের চতুর্দিকে বিশাল বনভূমি অবস্থিত।
- মাধবকুন্ড ইকোপার্কে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ পর্যটকের সমাগম ঘটে।
- তাছাড়া এ মাধবকুন্ড জলপ্রপাত সংলগ্ন কুন্ডে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের চৈত্রমাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে বারুনী স্নান হয় এবং মেলা বসে।
- হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এটি একটি তীর্থ স্থান।

উৎস: মৌলভীবাজার জেলা, ওয়েবসাইট।

১৪৪.
কোনটি নবায়নযােগ্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত?
  1. তেল
  2. গ্যাস
  3. সমুদ্রের ঢেউ
  4. ইউরেনিয়াম
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের ঢেউ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের ঢেউ
ব্যাখ্যা
অনবায়নযােগ্য সম্পদ:
- অনবায়নযােগ্য মানে হলাে, যে শক্তি একবার ব্যবহার করা হলে তা থেকে পুনরায় শক্তি উৎপন্ন করা যায় না।
- এটি হলো মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ, যা পুনরায় উৎপন্ন করা যায় না।
যেমন - তেল, গ্যাস, কয়লা, ইউরেনিয়াম

নবায়নযােগ্য সম্পদ:

- যে জ্বালানি পুনঃপুন ব্যবহার করলে সাধারণত ফুরােয় না এমনকি অদূর ভবিষ্যতেও ঘাটতির সম্ভাবনা থাকে না, তাকে নবায়নযােগ্য জ্বালানি বলা হয়।
যেমন: সূর্যের আলাে, নদীর বহমান পানি, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা, সমুদ্রের ঢেউ, বায়ু, পৃথিবীর গভীরের উত্তপ্ত ম্যাগমা।

সূত্র:- পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৫.
'মাধবকুন্ড জলপ্রপাত' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. হবিগঞ্জ
  2. সিলেট
  3. সুনামগঞ্জ
  4. মৌলভীবাজার
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা

মাধবকুন্ড জলপ্রপাত:
- মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজলোয় মাধবকুন্ড জলপ্রপাতটি অবস্থিত।
- বাংলাদেশের বৃহত্তম জলপ্রপাত।
- প্রায় ২০০ ফুট উঁচু টিলা হতে পাহাড়ি ঝর্নার পতিত জলরাশি পর্যটকের জন্য নয়নাভিরাম।
- জলাধারের উৎস উঁচু পাহাড়ের ঝর্ণাধারা  আর রাশি রাশি জল। সে এক অপূর্ব দৃশ্য।
- জলপ্রপাত ও আশেপাশের সৌন্দর্য উপভোগ করতে রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার।
- জলপ্রপাতের নিকটেই খাসিয়া নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস।
- জলপ্রপাতের চতুর্দিকে বিশাল বনভূমি অবস্থিত।
- মাধবকুন্ড ইকোপার্কে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ পর্যটকের সমাগম ঘটে।
- তাছাড়া এ মাধবকুন্ড জলপ্রপাত সংলগ্ন কুন্ডে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের চৈত্রমাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে বারুনী স্নান হয় এবং মেলা বসে।
- হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এটি একটি তীর্থ স্থান।

উৎস: মৌলভীবাজার জেলা, ওয়েবসাইট।

১৪৬.
গ্রানাইট কোন ধরনের শিলা?
  1. রূপান্তরিত
  2. আগ্নেয়
  3. পাললিক
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আগ্নেয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগ্নেয়
ব্যাখ্যা

রূপান্তরিত শিলা:
- অনেক সময় প্রচন্ড তাপ ও চাপের জন্য রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় আগ্নেয় ও পাললিক শিলা নতুন এক ধরনের শিলায় রূপান্তরিত হয় এবং আগের তুলনায় কঠিন ও কেলাসিত হয়, এই শিলাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- পূর্বের রূপ ও অবস্থার পরিবর্তন হয় বলে একে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- রূপান্তরিত শিলা মূলত আগ্নেয় ও পাললিক শিলার পরিবর্তিত রূপ।
- যেমন- চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট, গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে, কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।
- রূপান্তরিত শিলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
- কারণ এটি আগ্নেয় শিলার সাথে একত্রে ভূ-ভাগের শতকরা প্রায় ৮৫ ভাগ গঠন করেছে।
- ভূ-ত্বাত্তিক সময় ব্যাপী মহাদেশের যে সঞ্চারণ এবং উত্থান-পতন হয়েছে এ শিলা থেকে তা জানা যায়।
- এ শিলা সূদুর অতীতকালের প্লেট সঞ্চারণের সাক্ষ্য বহন করে।
- রূপান্তরিত শিলা মার্বেল পাথর, শ্লেট, গার্নেট ইত্যাদির মত মূল্যবান খনিজ সম্পদ ধারণ করে।

• রূপান্তরিত শিলার বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১। রূপান্তরিত শিলা স্ফটিক যুক্ত;
২। এই শিলা অত্যন্ত কঠিন;
৩। এই শিলায় জীবাশ্ম নেই;
৪। কোনো কোনো রূপান্তরিত শিলায় ঢেউ খেলানো স্তর দেখা যায়।

⇒ রূপান্তরিত শিলার প্রকারভেদ:
ক. আগ্নেয়শিলা প্রচন্ড তাপে ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে আগ্নেয়শিলা থেকে রূপান্তরিত শিলা তৈরি হয়।
- যেমন: গ্রানাইট থেকে নিস (Gneiss) তৈরি হয়।
খ. পাললিক শিলা প্রচন্ড তাপে ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে, পাললিক শিলা থেকে রূপান্তরিত শিলা তৈরি হয়।
- যেমন: বেলেপাথর থেকে কোয়ার্টজাইট (Quartzite) তৈরি হয়।

অন্যদিকে,
• পাললিক শিলা: কংগ্লোমারেট, ব্রেকসিয়া, গ্রেওয়েক, বেলেপাথর, কাদাপাথর, কোয়ার্টজ, ডলোমাইট, ক্যালসাইট, জিপসাম, কয়লা, চুনাপাথর ইত্যাদি পাললিক শিলার উদাহরণ।

• আগ্নেয় শিলা: গ্রানাইট।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৭.
বাংলাদেশের প্রায় সমগ্র অঞ্চল এক বিস্তীর্ণ-
  1. ক) সমভূমি
  2. খ) উচ্চভূমি
  3. গ) মালভূমি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) সমভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সমভূমি
ব্যাখ্যা
স্থায়ী বসবাসের জন্য সমভূমিই আদর্শ। বাংলাদেশের প্রায় সমগ্র অঞ্চল এক বিস্তীর্ণ সমভূমি। বাংলাদেশে সামান্য পরিমাণে উচ্চভূমি রয়েছে।
১৪৮.
সম্প্রতি UNHCR প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জলবায়ু সংকটের কারণে গত এক দশকে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা কত? [ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. ১০ কোটি
  2. ১৫ কোটি
  3. ২৫ কোটি
  4. ২৮ কোটি
সঠিক উত্তর:
২৫ কোটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫ কোটি
ব্যাখ্যা

এক দশকে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা:
- সম্প্রতি UNHCR প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জলবায়ু সংকটের কারণে গত এক দশকে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২৫ কোটি।

⇒ জলবায়ু সংকটের কারণে মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়া নিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা UNHCR। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ বছর ২৫ কোটি হিসাবে প্রতিদিন বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ।
- ‘নো স্কেপ-২: দ্য ওয়ে ফরওয়ার্ড’ বা ‘পালানোর পথ নেই-২: আগামীর দিশা’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যা, ঝড়, খরা ও তীব্র তাপমাত্রার মতো আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনা ও সংঘাত বাড়ছে। পাশাপাশি ধীরে ধীরে আঘাত হানা বিভিন্ন দুর্যোগ, যেমন বন উজাড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বাস্তুসংস্থান ধ্বংস, খাবার ও পানির নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলছে।
- সংঘাত ও জলবায়ুর কারণে মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে—এমন দেশের সংখ্যা ২০০৯ সাল থেকে তিন গুণ হয়েছে বলে জানিয়েছে UNHCR।
- ২০৪০ সাল নাগাদ চরম জলবায়ু বিপর্যয়ের মুখে পড়া দেশের সংখ্যা ৩ থেকে বেড়ে ৬৫–তে পৌঁছাতে পারে। আর ২০৫০ সাল নাগাদ গাম্বিয়া, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, সেনেগাল ও মালির ১৫টি শরণার্থীশিবির বছরে প্রায় ২০০ দিন বিপর্যয়কর তাপমাত্রার মুখে পড়তে পারে।

উৎস: প্রথম আলো। [link]

১৪৯.
'হালদা ভ্যালি' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) রাঙামাটি
  2. খ) কক্সবাজার
  3. গ) মৌলভীবাজার
  4. ঘ) খাগড়াছড়ি
সঠিক উত্তর:
ঘ) খাগড়াছড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা
হালদা ভ্যালি অবস্থিত - খাগড়াছড়ি।

অন্যদিকে,
- হালদা ভ্যালি - খাগড়াছড়ি।
- সাজেক ভ্যালি - রাঙামাটি।
- বালিশিরা ভ্যালি - মৌলভীবাজার।
- সাঙ্গু ভ্যালি - চট্টগ্রাম।
- ভেঙ্গি ভ্যালি - রাঙামাটি।
- নাপিত খালি ভ্যালি - কক্সবাজার।

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক পত্রিকা।
১৫০.
বাংলাদেশের ছয় ঋতুর সঠিক অনুক্রম কোনটি?
  1. ক) গ্রীষ্ম, বর্ষা, বসন্ত, হেমন্ত, শীত ও শরৎ
  2. খ) বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত ও গ্রীষ্ম
  3. গ) শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত, গ্রীষ্ম ও বর্ষা
  4. ঘ) গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত
সঠিক উত্তর:
ঘ) গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এদেশে ঋতুর আবির্ভাব ঘটে এবং সেগুলি পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়। ভৌগোলিক অবস্থানের দরুণ এখানকার জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ।
- যদিও বাংলাদেশের জলবায়ু প্রধানত উপক্রান্তীয় মৌসুমি প্রকৃতির তথা উষ্ণ ও আর্দ্র, তথাপি প্রচলিত বাংলা বর্ষপঞ্জিতে বছরকে ছয়টি ঋতুতে বিভক্ত করা হয়েছে।
- যথা: গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত। প্রতি দু মাস অন্তর ঋতু বদল হয়।
উল্লেখ্য যে, সব সময় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ঋতুপরিবর্তন সীমাবদ্ধ থাকে না, কখনও কখনও কোনো কোনো ঋতুর শুরু ও শেষ কিংবা ব্যাপ্তিতে পরিবর্তন ঘটে।
- প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশে সুস্পষ্ট তিনটি ঋতু বিদ্যমান: মার্চ মাস থেকে মে মাস (ফাল্গুন-চৈত্র থেকে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ) পর্যন্ত বিরাজমান প্রাক মৌসুমি গ্রীষ্মকাল, জুন থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যভাগ (জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় থেকে আশ্বিন-কার্তিক) পর্যন্ত বিরাজমান মৌসুমি বায়ুসৃষ্ট বর্ষাকাল এবং মধ্য-অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষভাগ (কার্তিক-অগ্রহায়ন থেকে মাঘ-ফাল্গুন) পর্যন্ত বিরাজমান শুষ্ক শীতকাল। 

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

১৫১.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিল কোনটি?
  1. ক) চলন বিল
  2. খ) বাইক্কা বিল
  3. গ) আড়িয়াল বিল
  4. ঘ) ভবদহ বিল
সঠিক উত্তর:
ক) চলন বিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চলন বিল
ব্যাখ্যা
• চলন বিল:
⇒ চলন বিল (Chalan Beel) বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিল এবং সমৃদ্ধতম জলাভূমিগুলির একটি।
- বিলটি সংলগ্ন তিনটি জেলা রাজশাহী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ-এর অংশবিশেষ জুড়ে অবস্থান করছে।
- এটি সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ ও পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলা দুটির অধিকাংশ স্থান জুড়ে বিস্তৃত।
- এটি নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলা ও গুমনী নদীর উত্তর পাড়ের মধ্যে অবস্থিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১৫২.
নিচের কোনটি পাদদেশীয় মালভূমি?
  1. ক) এন্টার্কটিকা
  2. খ) ভারতীয় উপদ্বীপ
  3. গ) গ্রিনল্যান্ড
  4. ঘ) কলোরাডো
সঠিক উত্তর:
ঘ) কলোরাডো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কলোরাডো
ব্যাখ্যা
পর্বত থেকে নিচু কিন্তু সমভূমি থেকে উঁচু খাড়া ঢালযুক্ত ঢেউ খেলানো বিস্তৃর্ণ সমতলভূমিকে মালভূমি বলে। অবস্থানের ভিত্তিতে মালভূমি তিন প্রকার। যথাঃ পর্বতমধ্যবর্তী মালভূমি, পাদদেশীয় মালভূমি এবং মহাদেশীয় মালভূমি।
এদের মধ্যে উচ্চ পর্বত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে এর পাদদেশে তলানি জমে যে মালভূমির সৃষ্টি করে তাকে পাদদেশীয় মালভূমি বলে৷ দক্ষিণ আমেরিকার পাতাগোনিয়া এবং উত্তর আমেরিকার কলোরাডো মালভূমি হলো পাদদেশীয় মালভূমি।
অন্যদিকে তিব্বত, তারিম, বলিভিয়া ও মেক্সিকো হলো পর্বতমধ্যবর্তী মালভূমি। ভারতীয় উপদ্বীপ, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, গ্রিনল্যান্ড, সৌদি আরব, এন্টার্কটিকা প্রভৃতি হলো মহাদেশীয় মালভূমি।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী
১৫৩.
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭৩ সালে
  2. ১৯৭৬ সালে
  3. ১৯৭৮ সালে
  4. ১৯৮২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮২ সালে
ব্যাখ্যা

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান:
- ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি গাজীপুর জেলার গাজীপুর সদর ও শ্রীপুর উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত।
- এর মোট আয়তন ৫০২২ হেঃ।
- এটি ঢাকা বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষন বিভাগের অধীনে পরিচালিত হয়। 

• প্রাণিবৈচিত্র্য:
- ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে একসময় বাঘ, কালোচিতা, চিতাবাঘ, মেঘলা চিতা, হাতি, ময়ূর, মায়া হরিণ ও সম্বর হরিণ দেখা যেত। ১৯৮৫ সালে এ বনে খেঁকশিয়াল, গন্ধগোকুল, বেজি, কাঠবিড়ালী, গুই সাপ আর কয়েক প্রজাতির সাপ দেখা গেছে। একটি হিসাব অনুযায়ী, ভাওয়াল গড়ে ৬৪ প্রজাতির প্রাণী রয়েছে যার মধ্যে ৬ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ১০ প্রজাতির উভচর ও ৩৯ প্রজাতির পাখি রয়েছে। বনবিভাগ এ বনে অজগর, ময়ূর, হরিণ ও মেছোবাঘ ছেড়েছে। এছাড়া ২০১২ সালে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে ১৬টি তক্ষক ছাড়া হয়।

• উদ্ভিদ:
- ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান মূলত ক্রান্তীয় পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমি। এ বনে ২২১ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে যার মধ্যে ২৪ প্রজাতির লতা, ২৭ প্রজাতির তৃণ, ৩ প্রজাতির পামজাতীয় বৃক্ষ, ১০৫ প্রজাতির ঔষধি, ১৯ প্রজাতির গুল্ম, ৪৩ প্রজাতির বৃক্ষ। শাল (Shorea robusta) এ উদ্যানের প্রধান বৃক্ষ। অন্যান্য বৃক্ষের মধ্যে কাঁঠাল, আজুলি, কুম্ভী, গান্ধী গজারি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া এ বনে কৃত্রিমভাবে ইউক্যালিপটাস আর রাবারের বনায়ন করা হয়েছে।

উৎস: বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

১৫৪.
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ কী দ্বারা গঠিত?
  1. চুনাপাথর, মার্বেল ও গ্রানাইট
  2. বেলেপাথর, শেল ও কদম
  3. মাটি, পাথর ও শিলা
  4. চুনাপাথর, শেল ও বেলেপাথর
সঠিক উত্তর:
বেলেপাথর, শেল ও কদম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেলেপাথর, শেল ও কদম
ব্যাখ্যা
• ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
এগুলো হলো:
→ টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ;
→ প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ;
→ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
• এ পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কদম দ্বারা গঠিত।
• রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়সমূহ টারশিয়ারি যুগের অন্তভুর্ক্ত।
• এ পাহাড়সমূহ আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো:
ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ;
খ) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৫.
ল্যাকোলিথ পর্বত শ্রেণির উদাহরণ হচ্ছে -
  1. যুক্তরাষ্ট্রের হেনরী পর্বত
  2. পূর্ব আফ্রিকার কিলিমানজারো
  3. দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্রের হেনরী পর্বত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্রের হেনরী পর্বত
ব্যাখ্যা
পর্বত:
- সমুদ্র সমতল থেকে অন্তত ১,০০০ মিটার-এর অধিক উঁচু, সুবিস্তৃত, খাড়া ঢালবিশিষ্ট শিলাস্তূপকে পর্বত বলে।
- অপর দিকে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬০০ থেকে ১,০০০ মিটার উঁচু, স্বল্প বিস্তৃত শিলাস্তূপকে পাহাড় বলে।
- পর্বতের ভূ-প্রকৃতি বন্ধুর, ঢাল খুব খাড়া এবং সাধারণত চূড়া বিশিষ্ট হয়।
- কোনো কোনো পর্বত বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করে, যেমন- পূর্ব আফ্রিকার কিলিমানজারো।
- আবার কিছু পর্বত অনেকগুলো পৃথক শৃঙ্গসহ ব্যাপক এলাকা জুড়ে অবস্থান করে, যেমন- হিমালয় পর্বতমালা।

• পর্বতের প্রকারভেদ:
- উৎপত্তিগত বৈশিষ্ট্য ও গঠন প্রকৃতির ভিত্তিতে পর্বত প্রধানত চার প্রকার। যথা:
(ক) ভঙ্গিল পর্বত,
(খ) আগ্নেয় পর্বত,
( গ) চ্যুতি-স্তূপ পর্বত এবং
(ঘ) ল্যাকোলিথ পর্বত।

ল্যাকোলিথ পর্বত:
- ভূ-অভ্যন্তর থেকে গলিত শিলা বা ম্যাগমা বিভিন্ন উপায়ে ভূ-পৃষ্ঠে বের হয়ে আসার চেষ্টা করে।
- কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে ম্যাগমাসমূহ বাঁধা পেয়ে ভূ-পৃষ্ঠের বাইরে না এসে ভূ-ত্বকের নিচে জমাট বেঁধে উর্ধ্বমুখী চাপের কারণে স্ফীত হয়ে ভূ-ত্বকের অংশবিশেষ গম্বুজ আকার ধারণ করে।
- এভাবে সৃষ্ট শৃঙ্গবিহীন সামান্য খাড়া ঢাল বিশিষ্ট ও স্বল্প অঞ্চল ব্যাপী বিস্তৃত এই পর্বতকে ল্যাকোলিথ পর্বত বলে।
- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের হেনরী পর্বত এর উদাহরণ।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৬.
বাংলাদেশের প্রথম প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন শুরু হয় কোন সালে?
  1. ১৯৫৫ সালে 
  2. ১৯৫৭ সালে 
  3. ১৯৬২ সালে 
  4. ১৯৯৮ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯৫৭ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৭ সালে 
ব্যাখ্যা

প্রাকৃতিক গ্যাস:
- বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ।
- এটি ভূ-পৃষ্ঠের বিভিন্ন গভীরতায় শিলাস্তরে সঞ্চিত পেট্রোলিয়াম খনিজ তেলের উপরে উচ্চ চাপে গ্যাসীয় হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ হিসেবে পাওয়া যায়।
- মূলত, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাসে ৯৫–৯৯% মিথেন থাকে।

- বাংলাদেশে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৩০টি প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে।
- এর মধ্যে সর্বশেষ আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রটি জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জে অবস্থিত।
- প্রাকৃতিক গ্যাস এর মধ্যে দুটি (সাঙ্গু ও কুতুবদিয়া) উপকূলীয় অঞ্চলে, বঙ্গোপসাগরের কাছাকাছি অবস্থিত।
- বাকিগুলি দেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত।

- বাংলাদেশে প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হয় ১৯৫৫ সালে, সিলেটের হরিপুরে।
- এরপর ১৯৫৭ সালে এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে দেশের প্রথম গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়
- ১৯৬২ সালে পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি তিতাস গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে।
- তিতাস গ্যাসক্ষেত্র মজুদের দিক থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র।
- দেশের সর্বোচ্চ দৈনিক গ্যাস উত্তোলন করা হয় বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে।
- এছাড়া, সমুদ্র এলাকার প্রথম গ্যাসক্ষেত্র হলো সাঙ্গু। 

উৎস:
রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; 
প্রথম আলো পত্রিকা। 

১৫৭.
বাংলাদেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট কোনটি?
  1. রাতারগুল
  2. টাঙ্গুয়ার হাওর
  3. শালবন
  4. সুন্দরবন
সঠিক উত্তর:
রাতারগুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাতারগুল
ব্যাখ্যা

• রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট:
- বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন বা সোয়াম্প ফরেস্ট হলো রাতারগুল জলাবন বা রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট।
- এটি সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত।
- এই বনের আয়তন ৩,৩২৫.৬১ একর।
- বনের ৫০৪ একরকে ১৯৭৩ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- সুন্দর বিশাল এ বনের তুলনা চলে একমাত্র আমাজনের সঙ্গে। আমাজনের মতো এখানকার গাছ বছরে ৪ থেকে ৭ মাস পানির নিচে থাকে।
- এই বন মূলত প্রাকৃতিক বন হলেও পরবর্তিতে বাংলাদেশ বন বিভাগ, বেত, কদম, হিজল, মুর্তাসহ নানা জাতের জলসহিষ্ণু গাছ লাগিয়েছে।
- এছাড়া জলমগ্ন এই বনে রয়েছে হিজল, করচ আর বরুণ গাছ, আছে পিঠালি, অর্জুন, ছাতিম, গুটি জাম, আছে বট গাছও।
- এই বনে সাপের আবাস অনেক বেশি।
- এছাড়া রয়েছে বানর, গুঁইসাপ, সাদা বক, কানা বক, মাছরাঙ্গা, টিয়া, বুলবুলি, পানকৌড়ি, ঢুপি, ঘুঘু, চিল এবং বাজপাখি।

উল্লেখ্য,
- সারা পৃথিবীতে স্বাদুপানির জলাবন আছে মাত্র ২২টি।
- ভারতীয় উপমহাদেশে আছে দুটি।
- একটি শ্রীলংকায়, আরেকটি বাংলাদেশের রাতারগুল।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৫৮.
বাংলাদেশের প্রথম সেচ প্রকল্প কোনটি?
  1. তিস্তা সেচ প্রকল্প
  2. গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প
  3. কাপ্তাই সেচ প্রকল্প
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প
ব্যাখ্যা

গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জি-কে প্রজেক্ট):
- কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলায় অবস্থিত গঙ্গা কপতাক্ষ সেচ প্রকল্প।
- এটি বাংলাদেশে প্রথম সেচ প্রকল্প।
- এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ তীরের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে (বাংলাদেশের ভূখন্ডে) সেচের জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক গৃহীত একটি প্রকল্প।
- কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ এবং মাগুরা জেলার ১,৯৭,৫০০ হেক্টর জমি এ সেচ কার্যক্রমের আওতাভুক্ত।
- ১৯৬৯ সালে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৫৯.
বাংলাদেশের একমাত্র উষ্ণ পানির ঝরর্ণা কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) হিমছড়ি
  2. খ) রিসাং
  3. গ) সীতাকুণ্ড
  4. ঘ) শুভলং
সঠিক উত্তর:
গ) সীতাকুণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সীতাকুণ্ড
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের একমাত্র উষ্ণ পানির ঝরণা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের একমাত্র শীতল পানির ঝরনা কক্সবাজার হিমছড়িতে অবস্থিত।
- শুভলং ঝরণা রাঙ্গামাটির বরকলে অবস্থিত।
- রিসাং ঝরণা খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
- শৈলপ্রপাত ঝরণা বান্দরবানে অবস্থিত।
- তৈদুছড়া ঝরনা খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
উৎসঃ সংশ্লিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইট।

১৬০.
কোন নদী বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র
  1. সাঙ্গু নদী
  2. পদ্মা নদী
  3. হালদা নদী
  4. কর্নফুলী নদী
সঠিক উত্তর:
হালদা নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হালদা নদী
ব্যাখ্যা
হালদা নদী:
- হালদা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি নদী।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বাটনাতলী পাহাড় হতে উৎপন্ন হয়ে এটি ফটিকছড়ির মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় প্রবেশ করেছে।
- এটি কালুরঘাটের নিকটে কর্ণফুলী নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
- এর মোট দৈর্ঘ্য ৮১ কিলোমিটার।
- এটি দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র।
- হালদা বিশ্বের একমাত্র জোয়ার-ভাটার নদী, যেখান থেকে রুইজাতীয় মাছের (রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউশ) নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়।
- হালদা নদীর প্রজনন সময় হচ্ছে এপ্রিল, মে, জুন এই তিন মাস।
- অমাবস্যা, পূর্ণিমা তিথিতে এখানে রুইজাতীয় মাছ নিষিক্ত ডিম ছাড়ে।
- হালদা হচ্ছে বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক জিন ব্যাংক।

উৎস: i) ২৪ জানুয়ারি ২০২০, সমকাল।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৬১.
বাংলাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক চা বাগান কোনটি?
  1. জাফলং 
  2. মাধবপুর 
  3. মালনীছড়া 
  4. মৌলভীবাজার 
সঠিক উত্তর:
মালনীছড়া 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালনীছড়া 
ব্যাখ্যা

চা বাগান:
- চা বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধান অর্থকরী ফসল।
- চা চাষের জন্য প্রয়োজন—
• উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু (১৬°–১৭° সে. তাপমাত্রা),
• ২৫০ সে.মি. বার্ষিক বৃষ্টিপাত এবং
• আবাদি এলাকায় ৪০% ছায়া।
- চা বাগানে চায়ের চারা সমান্তরালভাবে এবং ছায়াদানকারী গাছের সঙ্গে রোপণ করা হয়।
- পাহাড়ি এলাকা ও প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেট অঞ্চল চা চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী।

 - বাংলাদেশে চা চাষের ইতিহাস ১৮৪০ সালে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে শুরু হয়। 
- এখানে প্রথম চা তৈরি ও পান করা হয়।
- বাণিজ্যিকভাবে চা চাষ শুরু হয় ১৮৫৪ (মতান্তরে ১৮৫৭) সালে সিলেটের মালনীছড়া চা বাগানে।
- মালনীছড়া বাংলাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক চা বাগান;
- এবং উপমহাদেশের প্রাচীনতম চা বাগান।
- উত্তরবঙ্গে চা চাষ প্রথম শুরু হয় পঞ্চগড়ে। 
- পঞ্চগড়ে সম্প্রতি অর্গানিক চা উৎপাদনও শুরু হয়েছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১৬২.
ভূ-ত্বকের সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al) সমৃদ্ধ স্তরটির অপর নাম-
  1. ক) সিমা স্তর
  2. খ) নিফে স্তর
  3. গ) সিয়াল স্তর
  4. ঘ) মোহবিচ্ছেদ স্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সিয়াল স্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সিয়াল স্তর
ব্যাখ্যা
মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের প্রধান গাঠনিক উপাদান সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al) হওয়ায় এই স্তরকে সিয়াল স্তর (Sial) বলা হয়। অপরদিকে, মহাসাগরীয় ভূ-ত্বকের প্রধান গাঠনিক উপাদান সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg) হওয়ায় এই স্তরকে সিমা স্তর (Sima) নামে অভিহিত করা হয়। ভূ-কম্পন তরঙ্গ থেকে বুঝা যায় যে, কেন্দ্রমন্ডলের বাইরের অংশ অপেক্ষাকৃত তরলাকারে রয়েছে (২,২৭০ কি.মি. পুরু)। লোহা ও নিকেল সমৃদ্ধ এই মন্ডলের গাঠনিক উপাদানের মধ্যে পারদ ও সিসা উল্লেখযোগ্য। নিকেল (Ni) ও লোহার(Fe) প্রাধান্য থাকায় এই স্তরটির নিফে (Nife) স্তর নামে অভিহিত করা হয়। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং ভূগোল ও পরবিশে এসএসসি পোগ্রাম (উন্মুক্ত)।
১৬৩.
নিচের কোনটি পাললিক শিলা?
  1. ক) কোয়ার্টজাইট
  2. খ) ডলোরাইট
  3. গ) ব্যাসল্ট
  4. ঘ) বেলেপাথর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বেলেপাথর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বেলেপাথর
ব্যাখ্যা
- ভূত্বক গঠিনকারী উপাদানসমূহ শিলা নামে পরিচিত। গঠন অনুসারে শিলা তিন প্রকার। যথাঃ
- আগ্নেয় শিলা
- পাললিক শিলা ও
- রূপান্তরিত শিলা।
- এদের মধ্যে পলি সঞ্চিত হয়ে গঠিত শিলা পাললিক শিলা নামে পরিচিত।
পাললিক শিলার মধ্যে রয়েছে:
- বেলেপাথর
- চুনাপাথর
- কাঁদাপাথর
- কয়লা
- কেওলিন
- শেল প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
- ডলোরাইট : অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা
- ব্যাসল্ট : বহিঃজ আগ্নেয় শিলা
- কোয়ার্টজাইট : রূপান্তরিত শিলা।
(সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১৬৪.
কোন শিলা মানুষের দৈনন্দিন কাজে বেশি ব্যবহৃত হয়?
  1. আগ্নেয়
  2. খনিজ
  3. রূপান্তরিত
  4. পাললিক
সঠিক উত্তর:
পাললিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাললিক
ব্যাখ্যা
• পাললিক শিলা:
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তাই পাললিক শিলা। পলল বা তলানি থেকে গঠিত হয় বলে এরূপ শিলাকে পাললিক শিলা বলে। এ শিলায় পলি সাধারণত স্তরে সঞ্চিত হয়।
- পাললিক শিলা ভূ-ত্বকের মোট আয়তনের শতকরা ৫ ভাগ। তবে মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের উন্মুক্ত অংশের প্রায় ৭৫ ভাগই পাললিক শিলায় গঠিত।
- স্তরীভূত, জীবাশ্ম বিশিষ্ট, অকেলাসিত, তরঙ্গচিহ্ন ও কোমলতা এর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- পাললিক শিলা তিন প্রকার।
- মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পাললিক শিলা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৫.
দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. আর্কটিক সার্কেল
  2. গ্রীষ্মাংশ রেখা
  3. কর্কটক্রান্তি রেখা
  4. মকরক্রান্তি রেখা
সঠিক উত্তর:
মকরক্রান্তি রেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মকরক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা

• মকরক্রান্তি রেখা:
- দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।

• কর্কটক্রান্তি রেখা:
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।

• আন্তর্জাতিক তারিখরেখা:
- ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত যা প্রশান্ত মহসাগরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- ১৮৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে 'দ্রাঘিমা ও সময়' সম্পর্কিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ১৮০° দ্রাঘিমারেখাকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা হিসেবে স্থির করা হয়।

• নিরক্ষরেখা:
- পৃথিবীকে উত্তর-দক্ষিণে সমভাবে দুইভাগে বিভক্তকারী বৃত্তাকার রেখাটি নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা নামে অভিহিত।
- এটি সর্ববৃহৎ অক্ষাংশ রেখা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৬.
টারশিয়ারি যুগের অন্তর্ভুক্ত পাহাড় আছে কোন অঞ্চলে?
  1. ক) চট্টগ্রাম
  2. খ) রাজশাহী
  3. গ) রংপুর
  4. ঘ) খুলনা
সঠিক উত্তর:
ক) চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়সমূহ টারশিয়ারি যুগের অন্তভুর্ক্ত।

• ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
এগুলো হলো:
১।টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
২।প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
৩।সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

১। টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
• এ পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কদম দ্বারা গঠিত।
• রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়সমূহ টারশিয়ারি যুগের অন্তভুর্ক্ত।
• এ পাহাড়সমূহ আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো: ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ খ) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

২। প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
• আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
• এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
• দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
• প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

৩। সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ি এলাকা এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির অন্তভুর্ক্ত।
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চলটি পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা প্রভৃতি নদ-নদী ও এদের উপনদী, শাখানদী বাহিত পলিমাটি দ্বারা গঠিত।
• এই অঞ্চলের মোট আয়তন ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার। বাংলাদেশের বৃহত্তম এ এলাকার নদীগুলো প্রায়ই গতি পরিবর্তনের কারণে নতুন নতুন পললভূমি গঠিত হতে দেখা যায়।
• এ সমভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার।
• প্লাবন সমভূমি পলি দ্বারা গঠিত বলে এ অঞ্চলের মাটির উর্বরতা তুলনামূলকভাবে অন্য এলাকার চেয়ে অনেক বেশি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৭.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ গ্যাস ক্ষেত্র?
  1. বাখরাবাদ
  2. হরিপুর
  3. তিতাস
  4. হবিগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
তিতাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিতাস
ব্যাখ্যা
গ্যাসক্ষেত্র:
- উত্তোলনযোগ্য, প্রমাণিত ও সম্ভাব্য (2P) গ্যাসের মজুদের পরিমাণের হিসাবে দেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র তিতাস।
- এর উত্তোলনের পরিমাণ ৬৩৬৭ বিলিয়ন ঘনফুট।
- এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা।
- এর উত্তোলনের পরিমাণ ৫৮১৮.৩ বিলিয়ন ঘনফুট।
- এটি হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।

অন্যদিকে,
- প্রাথমিক মজুদের পরিমাণের হিসাবে বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা।
- প্রাথমিক মোট মজুদ পরিমাণ – ৮৩৫০.০ বিলিয়ন ঘনফুট।
- এটি হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।

এছাড়া,
- দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র তিতাস।
- এর পরিমাণ ৮১৪৮.৯ বিলিয়ন ঘনফুট।

⇒ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- দেশের উৎপাদনরত ২০টি গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদনরত কূপের সংখ্যা ১০৯টি।
- এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কূপ রয়েছে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের; ২৬টি।
- দ্বিতীয় তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৩টি।
- ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমদানিকৃত আরএলএনজিসহ গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ মোট প্রায় ১,০০২.৬ বিলিয়ন ঘনফুট এবং গ্যাস ব্যবহারের পরিমাণ ৯৩২.৪ বিলিয়ন ঘনফুট।

⇒ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের হিসাব মতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রাকৃতিক গ্যাস সর্বোচ্চ ব্যবহারের কয়েকটি খাত হচ্ছে –
- বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার – ৩৮৯.৪ বিলিয়ন ঘনফুট (৪২.০০%)। [ব্যবহারের দিক থেকে এই খাতে সবচেয়ে বেশি গ্যাস ব্যবহৃত হয়।]
- শিল্পখাতে ব্যবহার – ১৭৮.৮ বিলিয়ন ঘনফুট (১৯.০০%) [দ্বিতীয়]
- ক্যাপটিভ – ১৬৪.৩ বিলিয়ন ঘনফুট (১৮%) [তৃতীয়]
- গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার – ১০০.৬ বিলিয়ন ঘনফুট। (১১.০০%)।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।
১৬৮.
বাংলাদেশের প্রথম গ্যাসক্ষেত্র কোথায় আবিস্কৃত হয়েছিলো?
  1. সিলেটের জকিগঞ্জে
  2. সিলেটের বিয়ানীবাজার
  3. সিলেটের হরিপুরে
  4. সিলেটের কৈলাসটিলা
সঠিক উত্তর:
সিলেটের হরিপুরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেটের হরিপুরে
ব্যাখ্যা
হরিপুর গ্যাসক্ষেত্র:
- বাংলাদেশের প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়েছিলো সিলেটের হরিপুরে।
- ১৯৫৫ সালে সর্বপ্রথম এখানে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।
- ১৯৫৭ সালে প্রথম গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়।
- হরিপুর গ্যাসক্ষেত্রের ৭ ও ৯ নম্বর কূপ থেকে বর্তমানে গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য
- হরিপুর গ্যাসক্ষেত্রে নতুন একটি গ্যাসকূপের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- কূপটিতে প্রায় ৪৩ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুত আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- এলএনজির আমদানি মূল্য হিসেবে এই গ্যাসের দাম প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।
- জুন, ২০২৩ থেকে হরিপুর গ্যাস ক্ষেত্রের ১০ নম্বর কূপে অনুসন্ধান শুরু হয়।
- কূপটি থেকে প্রতিদিন ১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা যাবে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
         ii) ২৬ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো।
১৬৯.
বড়পুকুরিয়া কয়লা ক্ষেত্রের আবিষ্কারক প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. বি.এইচ.পি মিনারেলস
  2. চাইনিজ কোম্পানি CMC
  3. এম/এস ওয়ার্ডেল আর্মস্ট্রং কোম্পানি
  4. বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি)
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি)
ব্যাখ্যা

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি:
- দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি বাংলাদেশের একমাত্র সক্রিয় ভূগর্ভস্থ কয়লা খনি।
- এটি ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) কর্তৃক আবিষ্কৃত হয়। 
- এটি ২০০৫ সালে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন শুরু করে।
- এই খনি দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে জ্বালানির সরবরাহ দেয়।

- এই কয়লা খনির- 
• বিস্তৃতি: ৬.৬৮ বর্গকিলোমিটার;
• মোট কয়লা মজুদ: ৩৯০ মিলিয়ন মেট্রিক টন;
• উপরিভাগ: বারিন্ড ক্লে স্তর (মধুপুর ক্লে) দ্বারা আবৃত;
• কয়লার মান: উচ্চ-উদ্ভাবনী বিটুমিনাস থেকে সাব-বিটুমিনাস শ্রেণী;
• প্রধান উপাদান: ফিক্সড কার্বন ৪৮.৪০%, এ্যাশ ১২.৪০%, ভোলাটাইল মেটার ২৯.২০%, মোট ময়েশ্চার ১০%, সালফার ০.৫৩%;
• তাপ দহন ক্ষমতা: ১১,০৪০ বিটিউ/পাউন্ড;
• খনি উন্নয়নে প্রাথমিক সমীক্ষা পরিচালনা: এম/এস ওয়ার্ডেল আর্মস্ট্রং কোম্পানি;
• খনি উন্নয়নের চুক্তি: ১৯৯৪ সালে চাইনিজ কোম্পানি CMC-এর সাথে। 
---------------------------- 
কয়লা ক্ষেত্র:
- বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মোট ৫টি প্রধান কয়লা ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে, যা দেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত।
- এদের মধ্যে একমাত্র সচল খনি হলো দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়া, যেখান থেকে বর্তমানে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে।
- ১৯৬২ সালে জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জে দেশের সর্বপ্রথম কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।
- গভীরতা বেশি হওয়ায় জামালগঞ্জ খনি থেকে এখনো কয়লা উত্তোলন শুরু হয়নি।

বাংলাদেশের কয়লা ক্ষেত্রগুলো:
• জামালগঞ্জ – এই কয়লা ক্ষেত্রটি জয়পুরহাট অবস্থিত। 
- এই কয়লা ক্ষেত্রটি ১৯৬২ সালে জিএসবি কর্তৃক আবিষ্কৃত হয়। (দেশের প্রথম কয়লা ক্ষেত্র, গভীরতার কারণে এখনও উত্তোলন শুরু হয়নি)। 
• ফুলবাড়ী – এই কয়লা ক্ষেত্রটি দিনাজপুর অবস্থিত। 
- এই কয়লা ক্ষেত্রটির আবিষ্কারক: জিএসবি, ১৯৮৯।

• দীঘিপাড়া – এই কয়লা ক্ষেত্রটি দিনাজপুর অবস্থিত। 
- এই কয়লা ক্ষেত্রটি ১৯৯৫ সালে জিএসবি কর্তৃক আবিষ্কৃত হয়। 

• খালাসপীর–
- এই কয়লা ক্ষেত্রটি রংপুর অবস্থিত। 
- এই কয়লা ক্ষেত্রটি ১৯৯৭ সালে বি.এইচ.পি মিনারেলস কর্তৃক আবিষ্কৃত হয়। 

উৎস:
১) খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (Bangladesh Geological Survey & Mineral Development Bureau) ওয়েবসাইট;
২) বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (BCMCL) ওয়েবসাইট;
৩) প্রথম আলো

১৭০.
আঙ্গেয়গিরির ভিতরে যে পদার্থ থাকে তাকে কী বলে?
  1. ক) লাভা
  2. খ) ম্যাগমা
  3. গ) গ্রীবা
  4. ঘ) স্তূপ
সঠিক উত্তর:
খ) ম্যাগমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ম্যাগমা
ব্যাখ্যা
আগ্নেয়গিরি (Volcano):
- ভূ-গর্ভস্থ তাপ ও চাপের পরিবর্তনের ফলে ভূ-অভ্যন্তরস্থ উত্তপ্ত, ও গলিত বিভিন্ন পদার্থ, যেমন: উষ্ণ বাষ্প, গলিত শিলা, কাঁদা, ধাতু, ভষ্ম ইত্যাদি প্রবলবেগে ভূ-ত্বকের নিচের অংশে চাপ প্রয়োগ করে।
- এমতাবস্থায়, ভূ-ত্বকের দুর্বল স্থান বা ফাটলসমূহের ভিতর দিয়ে উক্ত পদার্থগুলো উৎক্ষিপ্ত হয়ে বহু দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
- ভূ-পৃষ্ঠের ঐ ছিদ্র পথ বা ফাটলের চারপাশে উক্ত পদার্থগুলো জমাট বেঁধে ক্রমশ উঁচু পর্বতের ন্যায় ভূমিরূপ গঠন করে।
- এইরূপ পর্বতকে আগ্নেয়গিরি বলা হয়।
- আগ্নেয়গিরি থেকে যে পদার্থগুলো বাইরে উৎক্ষিপ্ত হয়ে বেরিয়ে আসে,তাকে লাভা (Lava) বলে।
- বাইরে উৎক্ষিপ্ত হয়ে বেরিয়ে আসার পূর্ব পর্যন্ত এই পদার্থগুলো ম্যাগমা (Magma) নামে পরিচিত।
- আগ্নেয়গিরির অভ্যন্তরে বিশাল এলাকা জুড়ে ম্যাগমা অর্থাৎ উত্তপ্ত ও গলিত শিলা, কাঁদা, ভষ্ম ও বাষ্প জমাকৃত হয়ে থাকে, যাকে ম্যাগমা চেম্বার বলা হয়।
- লাভা বের হবার মুখটিকে জ্বালামুখ (Crater) বলা হয়।
- যে পথে লাভা বের হয় সেটিকে আগ্নেয় গ্রীবা (Vent) বলা হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭১.
সুন্দরবনের শতকরা কত অংশ বাংলাদেশের মধ্যে রয়েছে?
  1. ক) ৫৮%
  2. খ) ৫৫%
  3. গ) ৬২%
  4. ঘ) ৭৫%
সঠিক উত্তর:
গ) ৬২%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬২%
ব্যাখ্যা
- সুন্দরবন বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানগ্রোভ বন।
- সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি।
- সুন্দরবনের মোট আয়তনের প্রায় ৬২ ভাগ বা ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার যা বাংলাদেশের অংশে পড়েছে।
- সুন্দরবনের বাকি অংশ ভারতে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় সুন্দরবন অবস্থিত।
- সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হলো সুন্দরী।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি ।
১৭২.
মানচিত্রে ক্ষুদ্রতম অংশ মাপার জন্য কোন মাপনি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) সাধারণ মাপনি
  2. খ) মৌজা স্কেল
  3. গ) রেখা মাপনি
  4. ঘ) কৰ্ণ মাপনি
সঠিক উত্তর:
গ) রেখা মাপনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রেখা মাপনি
ব্যাখ্যা
মানচিত্রে ক্ষুদ্রতম অংশ মাপার জন্য রেখা মাপনি ব্যবহৃত হয়।

• মানচিত্র:
-  সমগ্র পৃথিবী অথবা পৃথিবীর কোনো অংশকে কাগজে দেখানোই মানচিত্র।
- স্কেল অনুসারে মানচিত্র চার প্রকার।
- যথা:
১. মৌজা মানচিত্র,
২. ভূ-সংস্থানিক মানচিত্র, 
৩. দেওয়াল মানচিত্র,
৪. ভূ-চিত্রাবলী,

১. মৌজা মানচিত্র:
- মৌজা বা Cadastral শব্দটির আভিধানিক অর্থ সম্পত্তি নথিভুক্ত করা।
- সম্পত্তির মালিকানার হিসাব রাখার জন্য যে মানচিত্র তৈরি করা হয় তাকে মৌজা মানচিত্র বলে।
- এ ধরনের মানচিত্র সাধারণত গ্রামে ব্যবহৃত হয়।
- মৌজা মানচিত্র একটি, দুইটি বা তিনটি গ্রাম নিয়ে হতে পারে।
- আবার একটি গ্রামের অংশবিশেষ নিয়েও হতে পারে।
- এই মানচিত্রের স্কেল সাধারণত ১৬ = ১ মাইল থেকে ৩২ = ১ মাইল পর্যন্ত হয়।

২. ভূ-সংস্থানিক মানচিত্র:
- ভূ-সংস্থানিক মানচিত্রে ভূমির বন্ধুরতা, বনভূমি, নদ-নদী, শহর, বন্দর, ঘর-বাড়ি, ভূমির ব্যবহার, পরিবহন প্রভৃতি দেখানো হয়।
- এ ধরনের মানচিত্রে প্রতীক বিন্দু এবং বিভিন্ন রং দিয়ে দেখানো হয়।
- ভূ-সংস্থানিক মানচিত্রের সুবিধা হলো কোনো এলাকা সম্পর্কে একসঙ্গে সবকিছু জানা যায়।
- এ ধরনের মানচিত্রের স্কেল ১=১ মাইল থেকে ১৪" = ১ মাইল পর্যন্ত হতে পারে।।

৩. দেওয়াল মানচিত্র :
- সমগ্র পৃথিবী, মহাদেশ বা দেশের তথ্যাদি বড় কাগজে সহজে উপস্থাপনের জন্য দেওয়াল মানচিত্র ব্যবহার করা হয়।
- দেওয়াল মানচিত্র বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ বা অফিসের দেওয়ালে অথবা বাড়ির দেওয়ালে লাগানো হয়।
- এ ধরনের মানচিত্রে সাধারণত ১ = ৩০০ মাইল পর্যন্ত দেখানো হয়ে থাকে।

৪. ভূ-চিত্রাবলী :
- ভূ-প্রকৃতি, জলবায়ু, উদ্ভিজ্জ, কৃষিজ, খনিজ, শিল্প, শহর, যোগাযোগ ইত্যাদি বিষয়ে তথ্যাদি বিভিন্ন রং ও চিহ্নের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
- একে মানচিত্রের সংকলন গ্রন্থ বলা হয়ে থাকে।
- ভূ-চিত্রাবলী সবচেয়ে ছোট স্কেলে অঙ্কন করা হয়।
- এ মানচিত্রের স্কেল সাধারণত ১: ১,০০,০০০ বা ১: ১০,০০,০০০ হিসেবে দেখানো হয়।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রথম আলো পত্রিকা। 
১৭৩.
বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন-
  1. সুন্দরবন
  2. টাঙ্গুয়ার হাওর
  3. হাকালুকি হাওর
  4. রাতারগুল জলাবন
সঠিক উত্তর:
রাতারগুল জলাবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাতারগুল জলাবন
ব্যাখ্যা
রাতারগুল জলাবন: 
- রাতারগুল জলাবন বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন।
- যা সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত।
- বনের আয়তন ৩,৩২৫.৬১ একর,
- আর এর মধ্যে ৫০৪ একর বনকে ১৯৭৩ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- সারা পৃথিবীতে স্বাদুপানির জলাবন আছে মাত্র ২২টি।
- ভারতীয় উপমহাদেশে আছে দুটি।
- একটি শ্রীলংকায়, আরেকটি বাংলাদেশের রাতারগুল।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।  
১৭৪.
’জাদিপাই ঝর্ণা’ কোথায় অবস্থিত?
  1. রাঙামাটি
  2. বান্দরবান
  3. মৌলভীবাজার
  4. কক্সবাজার
সঠিক উত্তর:
বান্দরবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বান্দরবান
ব্যাখ্যা
জাদিপাই ঝর্ণা:
- জাদিপাই ঝর্ণাকে বলা হয় ঝর্ণার রানি। বাংলাদেশের আকর্ষণীয় ঝর্ণাগুলোর একটি জাদিপাই ঝর্ণা।
- আকৃতিতে দেশের সবচেয়ে বড় না হলেও গঠন আর অবস্থানের ভিত্তিতে এ ঝর্ণা অনন্য, অপরূপা। উঁচু পাহাড় আর চার দিকে সবুজের সমারোহ। 
- কেওক্রাডং, জংছিয়া ও জাদিপাই তিন পাহাড়ি ঝিরি একসঙ্গে মিলিত হয়ে জাদিপাই ঝর্ণার সৃষ্টি হয়েছে।
- প্রায় ২০০ ফুট উপর থেকে কালো পাথর বেয়ে স্বচ্ছ পানির ধারা নিচে নেমে আসে। ঝর্ণাটি পরে মিলিত হয়েছে সাঙ্গু নদীর সঙ্গে।
- জাদিপাই ঝর্ণাটি অবস্থান হচ্ছে - বান্দরবান জেলায়।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৭৫.
Which is the first sea shore gas field in Bangladesh?
  1. Bakhrabad
  2. Sangu
  3. Semutang
  4. Srikail
  5. None
সঠিক উত্তর:
Sangu
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Sangu
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম সামুদ্রিক গ্যাসক্ষেত্র হলো সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র।

সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র:
- বাংলাদেশের সমুদ্রবক্ষে একমাত্র উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্র সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র।
- এটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিঃশেষ ও পরিত্যক্ত হয় ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর।
- সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৯৬ সালে ব্রিটিশ তেল কোম্পানি কেয়ার্ন এনার্জি কর্তৃক আবিষ্কৃত হয়।
- কোম্পানিটি ১৯৯৮ সালে সেখান থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু করে।
- ২০০৭-০৮ সালে সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদনে ধস নামে।
 
উল্লেখ্য,
-  পেট্রোবাংলার এমআইএস রিপোর্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রায় ৪৮৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হয়।
 
উৎস: ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, প্রথম আলো।
১৭৬.
কেন্দ্রমণ্ডলে কোন দুটি উপাদানের আধিক্য বিদ্যমান?
  1. ক) সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম
  2. খ) ম্যাগনেসিয়াম ও সিলিকন
  3. গ) সিলিকন ও লোহা
  4. ঘ) লোহা ও নিকেল
সঠিক উত্তর:
ঘ) লোহা ও নিকেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লোহা ও নিকেল
ব্যাখ্যা
- কেন্দ্রমণ্ডল ভূ-অভ্যন্তরের সবচেয়ে ভেতরের স্তর। এই স্তরের পুরত্ব প্রায় ৩,৪৮৬ কিলোমিটার।
- কেন্দ্রমণ্ডলের উপাদান সমূহের মধ্যে লোহা ও নিকেল প্রধান।
- অন্যান্য উপাদানের মধ্যে পারদ ও সীসা উল্লেখযোগ্য।
(সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১৭৭.
‘সাভানা তৃণভূমি’ নিচের কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ক) দক্ষিণ আফ্রিকা
  2. খ) দক্ষিণ সুদান
  3. গ) ইথিওপিয়া
  4. ঘ) ক + খ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক + খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক + খ
ব্যাখ্যা

সাভানা হলো আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দক্ষিণে অবস্থিত একটি বিস্তৃত তৃণভূমি। এটির আয়তন প্রায় ৫০ লক্ষ বর্গমাইল।
এটি সাহারা মরুভূমি ও কালাহারি মরুভূমির মধ্যবর্তী স্থানে সুদান, দক্ষিণ সুদান, কেনিয়া, তাঞ্জানিয়া, বতসোয়ানা, জিম্বাবুয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা প্রভৃতি দেশজুড়ে বিস্তৃত।
সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফি ওয়েবসাইট।

১৭৮.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. কুমিল্লা
  2. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  3. সিলেট
  4. হবিগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্যাখ্যা

তিতাস গ্যাসক্ষেত্র:

- গ্যাসক্ষেত্রটিতে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ ৭.৫৮২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।
- ১৯৬২ সালে পাকিস্তান শেলওয়েল কোম্পানি তিতাস গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। ১৯৬৮ সাল থেকে ক্ষেত্রটি থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলিত হচ্ছে।
- এটি দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র যা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরে অবস্থিত।
- তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের মাধ্যমে তিতাস ক্ষেত্রের গ্যাস ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নরসিংদী, নেত্রকোনা, ও কিশোরগঞ্জ জেলায় গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য,
-  বর্তমানে সবচেয়ে বেশি গ্যাস উত্তোলিত হচ্ছে সিলেটের বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে।

উৎস: বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি এবং পেট্রোবাংলা ওয়েবসাইট।

১৭৯.
ভূমিকম্প সংঘটন বিন্দুর সরাসরি উপরে ভূপৃষ্ঠের বিন্দুকে বলা হয়-
  1. এপিসেন্টার
  2. এনডোসেন্টার
  3. মিডপয়েন্ট
  4. পিকপয়েন্ট
সঠিক উত্তর:
এপিসেন্টার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এপিসেন্টার
ব্যাখ্যা

- কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র এপিসেন্টার (Epicentre) বলে।

ভূমিকম্প:

- ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিকম্প বলে।
- একটি শান্ত পুকুরে টিল ছুড়লে যেভাবে ঢেউ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে তেমনি পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেখানে তরঙ্গ শক্তি উৎপত্তি হয়  সেখানে থেকে মুক্ত শক্তি টেউয়ের মত শিলায় তরঙ্গের সৃষ্টি করে এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে কেন্দ্র (Centre বা Focus) বলে।
- কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র এপিসেন্টার (Epicentre) বলে।
- ভূমিকম্পের উৎপত্তির কেন্দ্র হতে দূরত্ব বৃদ্ধির সাথে ভূ-কম্পন শক্তি হ্রাস পায়।
- ভূমিকম্পের কেন্দ্র ভূ-অভ্যন্তরের প্রায় ১৬-২০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত হয়ে থাকে।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে ভূমিকম্প পরিমাপ করা হয় তাকে বলা হয় সিসমোগ্রাফ।

উল্লেখ্য, 
- সম্প্রতি বাংলাদেশে ভূমিকম্প হয়েছে ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫।
- ভূমিকম্প সংঘটনের সময়: ১৮ ঘন্টা ৪৩ মিনিট ৩১ সেকেন্ড (বি.এস.টি) (২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫)
- উৎপত্তিস্থল: অক্ষাংশঃ ২২.০৭° উত্তর, দ্রাঘিমাঃ ৯২.৫১° পূর্ব (রুমা, বান্দরবান)
- উৎপত্তিস্থল হতে দূরত্ব: ২৮৯ কি.মি. (ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র, ঢাকা হতে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে)
- ভূমিকম্পের মাত্রা: ৩.৯ রিখটার স্কেল
- ভূমিকম্পের শ্রেণী: মৃদু

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং আবহাওয়া অফিস।

১৮০.
’Mount Kinabalu’ কোন দেশের পর্বতমালা?
  1. ইন্দোনেশিয়া
  2. মালয়েশিয়া
  3. জাপান
  4. গ্রিনল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
মালয়েশিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালয়েশিয়া
ব্যাখ্যা
• Mount Kinabalu:
- মাউন্ট কিনাবালু হল পূর্ব মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যের বোর্নিও দ্বীপের একটি উল্লেখযোগ্য পর্বত।
- এটি ক্রোকার রেঞ্জের সর্বোচ্চ শিখর এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৩,৪৩৮ ফুট উচ্চতায় মালয়েশিয়ার সর্বোচ্চ পর্বত।
- মাউন্ট কিনাবালু টপোগ্রাফিক বিশিষ্টতার দিক থেকে বিশ্বের ২০তম পর্বত।
- মাউন্ট কিনাবালু একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হওয়ায় কিনাবালু পার্ক হিসেবে সুরক্ষিত ও সংরক্ষিত।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
১৮১.
নিচের কোন সংগঠনটি পরিবেশ রক্ষার কাজ করে?
  1. বাপা
  2. ব্র্যাক
  3. আশা
  4. জাগো ফাউন্ডেশন
সঠিক উত্তর:
বাপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাপা
ব্যাখ্যা
বাপা:
- বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।
- বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষার জন্য দেশব্যাপী, ঐক্যবদ্ধ এবং শক্তিশালী নাগরিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য ২০০০ সালে Bangladesh Poribesh Andolon (BAPA) চালু করা হয়েছিল।
- বাংলাদেশের পরিবেশ দ্রুত নষ্ট হচ্ছে।
- শহুরে বাতাসের মান হ্রাস পাচ্ছে।
- ভূ-পৃষ্ঠের জলাশয়গুলি দূষিত, সীমাবদ্ধ এবং অবক্ষয়িত হচ্ছে।
- উধাও হয়ে যাচ্ছে বন ও খোলা জায়গা।
- কোলাহল বাড়ছে।
- বিলুপ্ত হচ্ছে জীববৈচিত্র্য।
- এই অবক্ষয়ের প্রক্রিয়াগুলোকে ধীরগতি ও বিপরীতমুখী করা না হলে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক অগ্রগতি ধীরে ধীরে ব্যাহত হবে এবং বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।
- বাংলাদেশের পরিবেশ-পন্থী শক্তিরা বাংলাদেশের পরিবেশগত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে এবং ভবিষ্যতের জন্য করণীয় নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ পরিবেশ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে (ICBEN) একত্রিত হয়।
- ICBEN ২০০০ এর সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে, BAPA গঠিত হয়।

উৎস: বাপা ওয়েবসাইট।
১৮২.
বাংলাদেশের সুন্দরবনের বনাঞ্চলের আয়তন দেশের মোট আয়তনের শতকরা কত ভাগ?
  1. ২.০৫ ভাগ
  2. ৪.০৭ ভাগ
  3. ৬.০৩ ভাগ
  4. ৮.০৫ ভাগ
সঠিক উত্তর:
৪.০৭ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪.০৭ ভাগ
ব্যাখ্যা
ম্যানগ্রোভ:
- ম্যানগ্রোভ (Mangrove) বলতে সাধারণভাবে জোয়ারভাটায় প্লাবিত বিস্তির্ণ জলাভূমিকে বোঝায়।
- এ বনের অধিকাংশ এলাকা জোয়ার ভাটার কারণে দিনে দু'বার লোনা পানি দ্বারা বিধৌত হয় বলে একে ম্যানগ্রোভ বন বলা হয়।
- ম্যানগ্রোভ বন হলো উপকূলীয় বন।
- এই বন সুন্দরবন নামে সমধিক পরিচিত।

⇒ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ম্যানগ্রোভ বন সৃষ্টি হয়েছে।
- সুন্দরবন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন।
- সুন্দরবনের ৬২ শতাংশ খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলায় এবং বাকী অংশ পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগণা জেলায় অবস্থিত।
- এ বনাঞ্চলের আয়তন প্রায় ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার যা বাংলাদেশের মোট আয়তনের শতকরা ৪.০৭ ভাগ।
- এ বনের গাছপালা লোনা পানি সহনশীল এবং বৃক্ষসমূহের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম।
- সুন্দরবনের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১৬৫১ থেকে ১৭৭৮ মি.মি.।
- এ বনের মাটিতে অতিরিক্ত লবণ ও পচা জৈব পদার্থ থাকায় অক্সিজেনের অভাব ঘটে বলে গাছপালা শ্বাসমূল তৈরী করে।
- বৃক্ষসমূহ চিরহরিৎ।
- ম্যানগ্রোভ বনের প্রধান প্রধান বৃক্ষ হলো: সুন্দরী, ধুন্দুল, গরান, বাইন, কেওড়া, পশুর, গোলপাতা, হেন্তাল ইত্যাদি।
- বন্যপ্রাণীসমূহের মধ্যে: রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, বানর ইত্যাদি।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) কৃষি শিক্ষা ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৩.
বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা -
  1. ১৭টি
  2. ১৩টি
  3. ১৯টি
  4. ২১টি
সঠিক উত্তর:
১৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯টি
ব্যাখ্যা
উপকূলীয় জেলা:
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিমি.।
- উপকূলীয় জেলা ১৯টি।
- জেলাগুলো হলো: কক্সবাজার, বাগেরহাট, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, ফেনী, গোপালগঞ্জ, যশোর, ঝালকাঠি, খুলনা, লক্ষীপুর, নড়াইল, নোয়াখালী, পিরোজপুর, সাতক্ষীরা, শরীয়তপুর ও পটুয়াখালী।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৮৪.
সেন্টমার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয় -
  1. ১৯৯৭ সালে
  2. ১৯৯৯ সালে
  3. ২০০১ সালে
  4. ২০০২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা:
- অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে।
- এর ফলে দেশের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কোনো কোনো প্রতিবেশের উৎপাদনশীলতাও কমে গিয়েছে।
- দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA/ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
- এ-পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
- এলাকাগুলো: সুন্দরবন, কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকত, সেন্টমাটিন দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, মারজাত বাওড়, গুলশান-বারিধারা লেক, বুড়িগঙ্গা নদী, তুরাগ নদী, বালু নদী, শীতলক্ষ্যা নদী, জাফলং-ডাউকি নদী।

উল্লেখ্য,
- সেন্ট মার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা হয় ১৯৯৯ সালে।
- পরিবেশ অধিদপ্তর এই ঘোষণা করে।

উৎস: i) পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।
১৮৫.
উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়গুলোকে স্থানীয়ভাবে কী নামে ডাকা হয়?
  1. গিরিশৃঙ্গ
  2. টিলা
  3. পর্বত
  4. ঢিবি
সঠিক উত্তর:
টিলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টিলা
ব্যাখ্যা
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ আসামের লুসাই ও মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয়।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- এ যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা:
ক. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এবং
খ. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

⇒ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- সাম্প্রতিককালে আবিস্কৃত তাজিনডং (বিজয়) পর্বতশৃঙ্গটি দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ যার উচ্চতা ১,২৩১ মিটার।
- এটি আবিস্কৃত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ছিল কিওক্রাডং (উচ্চতা ১,২৩০ মিটার)।

⇒ উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানকার পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত।
- এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।

উৎস:
i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮৬.
নিচের কোনটি ভঙ্গিল পর্বত? 
  1. কিলিমানজারো
  2. ভিসুভিয়াস পর্বত 
  3. ব্ল‍্যাক ফরেস্ট 
  4. হিমালয় পর্বত 
সঠিক উত্তর:
হিমালয় পর্বত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমালয় পর্বত 
ব্যাখ্যা

ভঙ্গিল পর্বত:
 - ভঙ্গ বা ভাঁজ থেকে ভঙ্গিল শব্দটির উৎপত্তি।
- কোমল পাললিক - শিলায় ভাঁজ পড়ে যে পর্বত গঠিত হয়েছে তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে।
- এশিয়ার হিমালয়, ইউরোপের আল্পস, উত্তর আমেরিকার রকি এবং দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বত ভঙ্গিল পর্বতের উদাহরণ।

• চ্যুতি-স্তূপ পর্বত:
- ভারতের বিন্ধ্যা ও সাতপুরা পর্বত, জার্মানির ব্ল‍্যাক ফরেস্ট, পাকিস্তানের লবণ পর্বত চ্যূতি-স্তূপ পর্বতের উদাহরণ।

• আগ্নেয় পর্বত: 
-  আগ্নেয় পর্বতের উদাহরণ হলো- ইতালির ভিসুভিয়াস, কেনিয়ার কিলিমানজারো, জাপানের ফুজিয়ামা এবং ফিলিপাইনের পিনাটুবো পর্বত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ,নবম-দশম শ্রেণি

১৮৭.
বাংলাদেশের প্রথম গ্যাস আবিষ্কৃত হয় কোথায়? 
  1. ভোলা 
  2. হরিপুর
  3. কৈলাসটিলা
  4. বাখরাবাদ
সঠিক উত্তর:
হরিপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরিপুর
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্র:
- বাংলাদেশে প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয় ১৯৫৫ সালে সিলেট জেলার হরিপুরে।
- এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রথম গ্যাস উত্তোলন শুরু হয় ১৯৫৭ সালে।
- ২৮তম গ্যাসক্ষেত্র জকিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র, সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলায়।
- সর্বশেষ গ্যাসক্ষেত্র ভোলার ইলিশা-১।
- এটি অনুসন্ধান করে, (বাপেক্স)।
- এটি দেশের ২৯তম গ্যাসক্ষেত্র।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৮৮.
‘Tidal Forest’ হলো-
  1. ক) মিঠাপানির জলাবন
  2. খ) পাহাড়ের সংরক্ষিত বন
  3. গ) জোয়ারধৌত বন
  4. ঘ) শাল গাছের বন
সঠিক উত্তর:
গ) জোয়ারধৌত বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জোয়ারধৌত বন
ব্যাখ্যা
জোয়ারধৌত বন(Tidal forest) জোয়ারভাটার প্রভাবের আওতাভুক্ত বনভূমি। বাংলাদেশে সুন্দরবনকে জোয়ারভাটার প্লাবিত বন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সূত্র- বাংলাপিডিয়া।
১৮৯.
নাফ নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে কোন উপজেলার মধ্য দিয়ে?
  1. ক) কুতুবদিয়া
  2. খ) পেকুয়া
  3. গ) রামু
  4. ঘ) উখিয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) উখিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উখিয়া
ব্যাখ্যা
• নাফ দেশের সর্বদক্ষিণে মায়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যকার সীমান্তরেখা বরাবর প্রবাহিত ৬২ কিমি দীর্ঘ একটি নদী।
• নাফ মায়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় পর্বত শ্রেণী থেকে উৎসারিত হয়ে কক্সবাজার জেলাধীন উখিয়া উপজেলার পালংখালির কাছ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। অতঃপর দক্ষিণদিকে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
• ১.৬১ কিমি থেকে ৩.২২ কিমি প্রস্থ বিশিষ্ট এ নদী জোয়ারভাটা প্রবণ।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১৯০.
 নিম্নের কোনটি মিঠাপানির জলমগ্ন বনভূমি?
  1. সুন্দরবন
  2. রাতারগুল
  3. শালবন
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
রাতারগুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাতারগুল
ব্যাখ্যা

 জলাবন বা জলমগ্ন বনভূমি:
- বাংলাদেশের মিঠাপানির একমাত্র জলাবন বা জলমগ্ন বনভূমি বা সোয়াম্প ফরেস্ট হলো রাতারগুল বনভূমি।
- এটি সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত। রাতারগুলকে বাংলার আমাজন বলা হয়।
- রাতারগুলের মোট আয়তন প্রায় ২০৫ হেক্টর। এই বনের উদ্ভিদের মধ্যে হিজল, করচ, বরুন ও মুর্তা উল্লেখযোগ্য।
- শীতকাল ব্যতীত বছরের অন্যান্য সময় এ বন পানিতে নিমজ্জিত থাকে। মুর্তা বা রাতা উদ্ভিদের আধিক্যের জন্যে এই বন রাতারগুল নামে পরিচিত।

অন্যদিকে,
- সুন্দরবন হলো প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বা স্রোতজ বনভূমি। প্যারাবন হলো সৃজিত ম্যানগ্রোভ বনভূমি। শালবন একটি পত্রপতনশীল বনভূমি।

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বন বিভাগ ওয়েবসাইট। 

১৯১.
রকি কোন জাতীয় পর্বত?
  1. ক) আগ্নেয় পর্বত
  2. খ) ভঙ্গিল পর্বত
  3. গ) ল্যাকোলিথ পর্বত
  4. ঘ) স্তূপ পর্বত
সঠিক উত্তর:
খ) ভঙ্গিল পর্বত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভঙ্গিল পর্বত
ব্যাখ্যা
উত্তর আমেরিকার রকি, এশিয়ার হিমালয়, ইউরোপের আল্পস, দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালা ইত্যাদি হলো ভঙ্গিল পর্বতের উদাহরণ। কোমল পাললিক শিলায় ভাঁজ পড়ে ভঙ্গিল পর্বত গঠিত হয়েছে।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী
১৯২.
নিচের কোনটি অর্থকরী ফসল?
  1. ক) ধান
  2. খ) ভুট্টা
  3. গ) ইক্ষু
  4. ঘ) আলু
সঠিক উত্তর:
গ) ইক্ষু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইক্ষু
ব্যাখ্যা
যেসব ফসল সরাসরি বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে চাষ করা হয় তাদের অর্থকরী ফসল বলে।
বাংলাদেশের অর্থকরী ফসলগুলো হলোঃ পাট, চা, ইক্ষু, তুলা, রাবার, তামাক, ফুল ইত্যাদি।
অন্যদিকে ধান, গম, ভুট্টা, তেলবীজ, আলু, সবজী, ফলমূল ইত্যাদি হলো খাদ্যশস্য।
(সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১৯৩.
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র কবে নির্মিত হয়?
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৫৮ সালে
  3. ১৯৫৯ সালে
  4. ১৯৬২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৬২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬২ সালে
ব্যাখ্যা
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র:
- কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পানি শক্তি দ্বারা পরিচালিত।
- কর্ণফুলী নদীর নির্ধারিত স্থানে বাধ দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ করে সঞ্চিত পানির বিরাট জলধারা সৃষ্টি এবং সঞ্চিত পানি সুড়ঙ্গ সদৃশ্য পথে ধাবিত করে জলের তোড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী যন্ত্র সক্রিয় করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
- রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় এ প্রকল্পটির অবস্থান।
- ১৯৫৬ সালে এ বাধের নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
- ১৯৬২ সালে কাপ্তাই বাধের নির্মাণ কাজ শেষ হয় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়।
- ইন্টারন্যাশানাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানী এবং ইউতাহ ইন্টারন্যাশানাল ইনকর্পোরেট ৬৭০.৬ মিটার দীর্ঘ এবং ৪৫.৭ মিটার উচু এই বাধটি তৈরী করে।  
- প্রাথমিক পর্যায়ে ২টি ইউনিটের উৎপাদন ছিল ৮০ মেগাওয়াট।
- প্রকল্পের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ধারায় ২৩০ মেগাওয়াট।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৯৪.
উৎপত্তিগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে পর্বতকে কত ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ক) ৩ ভাগে
  2. খ) ৪ ভাগে
  3. গ) ৫ ভাগে
  4. ঘ) ৬ ভাগে
সঠিক উত্তর:
খ) ৪ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪ ভাগে
ব্যাখ্যা
পর্বত:
- উৎপত্তিগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে পর্বতকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়-
১. ভঙ্গিল পর্বত।
২. আগ্নেয় পর্বত।
৩. চ্যুতি-স্তূপ পর্বত।
৪. উত্থিত ক্ষয়জাত পর্বত ।

• ভঙ্গিল পর্বত- পাললিক শিলাস্তর আনুভূমিক আলোড়ন বা মহাদেশীয় পর্বতের সংকোচনের ফলে কুঞ্চিত হয়ে ঢেউয়ের আকারে যে পর্বত সৃষ্টি হয় তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে।
- চার ধরনের পর্বতের মধ্যে ভঙ্গিল পর্বত সর্বাধিক বিস্তৃত।
- ভঙ্গিল পর্বত সাধারণত পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত।

• আগ্নেয় পর্বত- ভূ-অভ্যন্তরস্থ ক্রিয়াকলাপের জন্য ম্যাগমা লাভা হিসাবে উদগিরিত চারদিকে সঞ্চিত হয়। পরবর্তীতে জমে ঠান্ডা হয়ে যে শিলাস্তূপের সৃষ্টি করে তাকে আগ্নেয় পর্বত বলে।
- লাভার প্রকৃতির ওপর আগ্নেয় পর্বতের বিস্তৃতি ও আকৃতি নির্ভর করে।

চ্যুতি-স্তূপ পর্বত- ভূ-আলোড়নের ফলে শিলাস্তরের সংকোচন ও প্রসারণে ভূ-ত্বক অনেক সময় খাড়াভাবে ফেঁটে যায়। যে রেখা বরাবর ফাঁটল সৃষ্টি হয় তাকে চ্যুতি রেখা বলে। দুটি ফাঁটলের মাঝের অংশ অনেক সময় উপরে ওঠে যায় বা নিচে বসে যায়। চ্যুতি বরাবর এই ধরনের পর্বতকে চ্যুতি-স্তুপ পর্বত বলে।

• উত্থিত ক্ষয়জাত পর্বত- ভূ-পৃষ্ঠের নরম শিলাসমূহ বিভিন্ন প্রকার প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত ও অপসারিত হলে কঠিন শিলাসমূহ উঁচু হয়ে পর্বতের ন্যায় অবস্থান করে। একে উত্থিত ক্ষয়জাত পর্বত বলে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচ.এস.সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।




১৯৫.
কোনটি রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ?
  1. গ্রানাইট
  2. মার্বেল
  3. চুনাপাথর
  4. বেলেপাথর
সঠিক উত্তর:
মার্বেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মার্বেল
ব্যাখ্যা
• রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rocks):
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা যখন প্রচণ্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- ভূআন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প, রাসায়নিক ক্রিয়া কিংবা ভূগর্ভস্থ তাপ আগ্নেয় ও পাললিক শিলাকে রূপান্তরিত করে।
যেমন: 
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট,
- কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট,
- গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস;
- কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

এছাড়াও,
• আগ্নেয় শিলা (Igneous Rocks):

- জন্মের প্রথমে পৃথিবী একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড ছিল। এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়।
- পরে আরও তাপ বিকিরণ করে এর উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে।
- এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।

যেমন: ব্যাসন্ট,রায়োলাইট, অ্যান্ডিসাইট, গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ,।

• পাললিক শিলা (Sedimentary Rocks):
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠিত হয়েছে তাকে পাললিক শিলা বলে।
যেমন:
- বেলেপাথর, কয়লা, শেল, চুনাপাথর, কাদাপাথর ও কেওলিন পাললিক শিলার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
১৯৬.
বাংলাদেশের অধিকাংশ স্থানই এক বিস্তীর্ণ-
  1. ক) প্লাবন সমভূমি
  2. খ) ক্ষয়ীভূত সমভূমি
  3. গ) অস্তরীভূত সমভূমি
  4. ঘ) পার্বত্যভূমি
সঠিক উত্তর:
ক) প্লাবন সমভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্লাবন সমভূমি
ব্যাখ্যা
কয়েকটি জেলা ব্যতীত মােটামুটি সমগ্র বাংলাদেশই পদ্মা, যমুনা, মেঘনা প্রভৃতি নদীবিধৌত প্লাবন সমভূমি। প্লাবন সমভূমির মধ্যে অনেক ধরনের সঞ্চয়জাত ভূমিরুপ দেখা যায়।
১৯৭.
সেন্টমার্টিন কত সালে 'বাংলাদেশের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা' হিসেবে ঘোষিত হয়?
  1. ১৯৯৯ সালে
  2. ২০০০ সালে
  3. ২০০২ সালে
  4. ২০২৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
সেন্টমার্টিন 'বাংলাদেশের ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা':
- দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত। 
- পরিবেশ অধিদপ্তর ১৯৯৯ সালে সেন্টমার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে।
- ৪ জানুয়ারি, ২০২৩ বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী সেন্ট মার্টিন দ্বীপসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের ১ হাজার ৭৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে পরিবেশ মন্ত্রণালয়। 

উল্লেখ্য,
⇒ বাংলাদেশের ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা:

- অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে।
- এর ফলে দেশের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কোনো কোনো প্রতিবেশের উৎপাদনশীলতাও কমে গিয়েছে।
- দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA/ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
- এ-পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
- এলাকাগুলো: সুন্দরবন, কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকত, সেন্টমাটিন দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, মারজাত বাওড়, গুলশান-বারিধারা লেক, বুড়িগঙ্গা নদী, তুরাগ নদী, বালু নদী, শীতলক্ষ্যা নদী, জাফলং-ডাউকি নদী।

উৎস: i) পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।
১৯৮.
কোনটি জীবভূগোলের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা
  2. খ) উদ্ভিদ ও জীবজন্তু
  3. গ) অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ
  4. ঘ) শহরের ক্রমবিকাশ
সঠিক উত্তর:
খ) উদ্ভিদ ও জীবজন্তু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উদ্ভিদ ও জীবজন্তু
ব্যাখ্যা
জীবভূগােল (Biogeography) : পৃথিবীপৃষ্ঠের প্রাণিজগৎ এবং উদ্ভিদের বণ্টন নিয়ে জীবভূগােল আলােচনা করে। (রেফারেন্স - www.britannica.com)
১৯৯.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের ঘোষিত 'প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা' নয়?
  1. জাফলং-ডাউকি নদী
  2. শীতলক্ষ্যা নদী
  3. লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
  4. সোনাদিয়া দ্বীপ
সঠিক উত্তর:
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা:
- অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে।
- এর ফলে দেশের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কোনো কোনো প্রতিবেশের উৎপাদনশীলতাও কমে গিয়েছে।
- দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA/ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
- এ-পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
- এলাকাগুলো: সুন্দরবন, কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকত, সেন্টমাটিন দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, মারজাত বাওড়, গুলশান-বারিধারা লেক, বুড়িগঙ্গা নদী, তুরাগ নদী, বালু নদী, শীতলক্ষ্যা নদী, জাফলং-ডাউকি নদী। 

উৎস: পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট। [link]
২০০.
আল্পস পর্বত কোন শ্রেণির পর্বত?
  1. ভঙ্গিল পর্বত
  2. আগ্নেয় পর্বত
  3. চ্যুতি-স্তূপ পর্বত
  4. ক্ষয়জাত পর্বত
সঠিক উত্তর:
ভঙ্গিল পর্বত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভঙ্গিল পর্বত
ব্যাখ্যা
• ভঙ্গিল পর্বত:
 → স্তরীভূত পাললিক শিলা পার্শ্ব ভাঁজ পড়ে যে পর্বত গঠিত হয়েছে, তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে।
 → এশিয়ার হিমালয়, ইউরোপের আল্পস, উত্তর আমেরিকার রকি, দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বত ভঙ্গিল পর্বতের উদাহরণ।
 → সমুদ্র তলদেশের বিশাল অবনমিত স্থানে দীর্ঘকাল ধরে বিপুল পরিমাণ পলি এসে জমা হয়। উপরের পলির চাপে অবনমিত স্থান আরও নিচে নেমে যায়। পরবর্তী
পর্যায়ে পার্শ্ববর্তী সুদৃঢ় ভূমিখন্ডের প্রবল পার্শ্বচাপের কারণে উর্ধ্বভাঁজ ও নিম্ন ভাঁজের সৃষ্টি হয়।
বিস্তৃত এলাকা জুড়ে এ সমস্ত উর্ধ্ব ও অধঃভাঁজ সংবলিত ভূমিরূপ মিলেই ভঙ্গিল পর্বত গঠিত হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ (নবম-দশম শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।