• 'গামার' ক্রান্তীয় পতনশীল বনভূমির বৃক্ষ নয়।
---------------------------
• ক্রান্তীয় পতনশীল বনভূমি বা শালবন:
- এ ধরনের বন মূলত ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল অঞ্চলের মধুপুর গড়, গাজীপুরের ভাওয়াল গড়, কুমিল্লার লালমাই এবং রংপুর-দিনাজপুরের বরেন্দ্রভূমি এলাকায় বিস্তৃত।
- এ বনের প্রধান গাছ হলো শাল, যা অনেকেই গজারি নামে চেনে।
- শুষ্ক মৌসুমে বা শীতের শুরুতে (ফেব্রুয়ারি–মার্চ) শাল গাছের পাতা ঝরে যাওয়ার কারণে এ বনকে পতনশীল বা Deciduous Forest বলা হয়।
- শাল ছাড়াও এখানে হরিতকি, ছাতিম, কড়ই, কদম, বহেরা, কাঁঠাল, কৃষ্ণচূড়া, শিমুল ও অর্জুনের মতো বিভিন্ন বৃক্ষ জন্মে।
- শাল গাছকে বৈদ্যুতিক খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- শিমুল দিয়াশলাই কারখানায় ব্যবহৃত হয়।
- ছাতিম টেক্সটাইল মিলে ব্যবহৃত হয়।
- এ বনে বসবাসকারী উল্লেখযোগ্য প্রাণীর মধ্যে আছে-
- মেছোবাঘ, বনরুই (এক ধরনের স্তন্যপায়ী), বানর ও শিয়াল ইত্যাদি।
--------------------------
অন্যদিকে,
- গামার হচ্ছে- ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমি বা পাহাড়ি বনের বৃক্ষ।
• ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমি বা পাহাড়ি বন:
- এই ধরনের বনভূমি প্রধানত পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় পুরো অঞ্চলজুড়ে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে বিস্তৃত।
- এসব এলাকায় অতিবৃষ্টিপাতের কারণে চিরহরিৎ বন গড়ে উঠেছে।
- এ বনভূমির মোট আয়তন প্রায় ১০,৩০০ বর্গকিলোমিটার।
- এখানে দীর্ঘকায় চিরসবুজ বৃক্ষের মধ্যে গর্জন, চাপালিশ, তেলসুর, গামার, বইলাম ও চান্দুল উল্লেখযোগ্য।
- মাঝারি উচ্চতার গাছের মধ্যে অর্জুন, জারুল, কুসুম, হরগজ ও বহেরা প্রধান।
- এছাড়া এ বনাঞ্চলে বেত ও নানা প্রজাতির বাঁশঝোপ জন্মে।
- এসব বনে চিতাবাঘ, হাতি, হরিণ, বানর, বনবিড়াল, সজারু, খরগোশ, সাপ ও বেজির মতো বন্যপ্রাণী দেখা যায়।
উৎস:
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি;
অর্থনৈতিক ভূগোল, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।