বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ: প্রকৃতি ও সম্পদ বণ্টনের প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ

মোট প্রশ্ন৫৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ: প্রকৃতি ও সম্পদ বণ্টনের প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ৫৩৭

.
রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের আয়তন কত?
  1. ১৫৯৫হেক্টর
  2. ১৬৯৫ হেক্টর
  3. ১৭৯৫ হেক্টর
  4. ১৮৯৫ হেক্টর
ব্যাখ্যা
• রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য:
- সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় এ অভয়ারণ্যের অবস্থান।
- রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে এটির আরো সম্প্রসারণ করা হয়।
- বর্তমানে এই অভয়ারণ্যের আয়তন ১৭৯৫ হেক্টর।
- এটি একটি শুকনো ও চিরহরিৎ বন এবং সুন্দরবনের পর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বনভূমি।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।[লিঙ্ক]
.
দেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) হাতিয়া
  2. খ) গোয়াইনঘাট
  3. গ) কলমাকান্দা
  4. ঘ) টেকনাফ
ব্যাখ্যা
- রাতারগুল হলো দেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট বা জলাভূমির বন। এটি সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত।
- এ বনের আয়তন প্রায় ২০৫ হেক্টর।
- এ বনের প্রধান বৃক্ষের মধ্যে হিজল, করচ, বরুন ও পিটালী উল্লেখযোগ্য।
- এ বনের বৃক্ষ বছরের প্রায় অর্ধেক সময় আংশিক জলমগ্ন থাকে।
(সূত্র: বন বিভাগ ওয়েবসাইট)
.
নিম্নে উল্লেখিত ভূমিরূপসমূহের মধ্যে কোনটি হিমবাহের ক্ষয় কার্যের দ্বারা গঠিত?
  1. ক) পার্শ্ব গিরিখাত
  2. খ) ভি-আকৃতির উপত্যকা
  3. গ) কঠিন শিলাস্তর
  4. ঘ) ইউ-আকৃতির উপত্যকা
ব্যাখ্যা

হিমবাহের ক্ষয় সাধনের ফলে অনেক নতুন নতুন ভূমির সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন প্রকার হিমবাহের
বিভিন্ন ধরনের ক্ষয় সাধনের ফলে নিম্নোক্ত ক্ষয়জাত ভূমিরূপের সৃস্টি করে :
১) হৈমবাহিক উপত্যকা (ইউক আকৃতির উপত্যকা - Glaciated Valley)
২) ঝুৃলন্ত উপত্যকা
৩) সার্ক বা কোরি
৪) এরিটি ও পিরামিডীয় শৃঙ্গ
৫) নুনাট্যাক
৬) রসে মতানো
৭) হিমসিড়ি ও প্যাটার্নস্টার হ্রদ
৮) শৈলময় পর্বত ও অনিয়মিত প্রস্তরখন্ড
৯) ক্রিভাসেস
১০) ঢিবি ও পুচ্ছ
১১) দানবীর সিঁড়ি
১২) ফিয়র্ড
১৩) কর্তিত স্পার
সুত্রঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ্যবই।

.
'শালগাছ' নিচের কোনটিতে ব্যবহৃত হয়?
  1. নৌকা ও রেলের স্লিপার তৈরিতে
  2. বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি নির্মাণে
  3. নৌকার ছিদ্র বন্ধ করতে
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
শালবন:
- শাল একটি বহুবর্ষজীবী পর্ণমোচীজাতীয় উদ্ভিদ।
- শালবন এক ধরনের বনভূমি যেখানে শালগাছ মুখ্য উদ্ভিদ প্রজাতি।
- বনের শ্রেণীবিন্যাসে শালবনকে গ্রীষ্মমন্ডলীয় আর্দ্র পত্রঝরা বনাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- শালগাছের উচ্চতা হয় ২৫ মিটার পর্যন্ত এবং পর্ণমোচীজাতীয় উদ্ভিদ হওয়ায় শীতকালে বেশির ভাগ গাছের পাতা ঝরে যায়।
- তারপর বসন্তে পাতা ও ফুলের সমারোহে ভরে ওঠে শালবন।
- গড়ন ও আকৃতির কারণে শালগাছের পাতা আলাদাভাবেই চেনা যায়।

⇒ ভারতেই এই শ্রেণীর বনভূমি প্রায় ১৩০ লক্ষ হেক্টর জায়গা দখল করে আছে।
- বাংলাদেশ এবং নেপালে রয়েছে মোট ১০ লক্ষ হেক্টরের বেশি স্থান জুড়ে এ ধরনের বনভূমি।

⇒ বাংলাদেশে মোট শালবন এলাকা প্রায় ১,২১,০০০ হেক্টর অর্থাৎ দেশের বনভূমির শতকরা প্রায় ৩২ ভাগ।
- শালবন দেশের মাত্র কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো।
- বেশির ভাগ বনাঞ্চল রয়েছে গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায়।
- এ ছাড়া কুমিল্লা জেলায় এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, রংপুর ও রাজশাহী জেলাতেও বিক্ষিপ্তভাবে শালবন দেখা যায়।
- এ বনাঞ্চল ভাওয়ালের গড় ও মধুপুরের গড় নামে পরিচিত।
- ‘মধুপুর গড়’ নামেই এটি সুপরিচিত।

⇒ ভাল জাতের শালকাঠ বাড়িঘর তৈরি, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি, নৌকা ও রেলের স্লিপার তৈরি এবং অন্যান্য নির্মাণ কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
- শালগাছের কাণ্ড ‘শাল দামার’, ‘রাল’ বা ‘ধুম’ নামে পরিচিত এক ধরনের সুগন্ধি আঠার উৎস।
- এই আঠা নৌকার ছিদ্র বন্ধ করতে, কার্বন পেপার, টাইপ করার যন্ত্রের ফিতা, বার্নিশ এবং রং তৈরির উপাদান হিসেবে কাজে লাগে।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
বাংলাদেশের কোন পাহাড়কে 'পাহাড়ের রানী' বলা হয়?
  1. তাজিংডং
  2. হিমছড়ি
  3. গারো
  4. চিম্বুক
ব্যাখ্যা
• চিম্বুক পাহাড়:
- চিম্বুক পাহাড় অবস্থিত বান্দরবান জেলায়।
- বাংলার দার্জিলিং খ্যাত চিম্বুকের পরিচিত অনেক পুরনো। পাহাড়ের এই দৃশ্যটি অতি চমৎকার। এ পাহাড় থেকে সূর্যাস্ত এবং সূর্যোদয়ের দৃশ্য যেকোনো পর্যটককে মুগ্ধ করবে।
- এটিকে কালাপাহাড়ও বলা হয়।
- এটিকে বাংলাদেশের পাহাড়ের রানী বলা হয়।

উৎস: বান্দরবান জেলার ওয়েবসাইট।
.
সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত কারণে বাংলাদেশে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী কী পরিমাণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে?
  1. ১৭ মিলিয়ন
  2. ৭০ মিলিয়ন
  3. ৩০ মিলিয়ন
  4. ৩০০ মিলিয়ন
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তন :
• কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা এলাকায় দীর্ঘ মেয়াদে গড় আবহাওয়ার পরিবর্তনকে জলবায়ুর পরিবর্তন বলে। 

♣ জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের উপর প্রভাব:  
• যে হারে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই হারে যদি সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় তাহলে প্রায় ১৫% স্থলভাগ হারানোর সম্ভাবনা আছে।
• এক্ষেত্রে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ৩০ মিলিয়ন (৩কোটি) মানুষ ও নানা প্রজাতির জীবজন্তু, সম্পদ প্রভৃতি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে ।

উৎস:
ভূগোল ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
First oil reserve was discovered in Bangladesh in -
  1. 1974
  2. 1978
  3. 1984
  4. 1986
  5. 1988
ব্যাখ্যা
হরিপুর খনিজ তেল ক্ষেত্র:
- বাংলাদেশের দুটি খনিজ তেল ক্ষেত্র রয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রথম খনিজ তেলক্ষেত্রটি হরিপুর তেলক্ষেত্র।
- এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৬ সালে সিলেটের হরিপুরে।
- ১৯৮৭ সালে তেলক্ষেত্রটি থেকে তেল উৎপাদন শুরু হয়।
- ১৯৯৪ সাল থেকে তেল উৎপাদনে স্থগিত হয়ে যায়।
- ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত এই সাত বছরে তেলক্ষেত্রটি থেকে মোট প্রায় ৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ২০২৩ সালে সিলেট গ্যাসক্ষেত্রের ১০ নম্বর কূপ খনন করে প্রথম স্তরে তেলের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- পরীক্ষামূলকভাবে প্রতি ঘণ্টায় ৩৫ ব্যারেল (১৫৯ লিটার) তেলের প্রবাহ পাওয়া গেছে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) ২৬ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো।
iii) বাংলাপিডিয়া।
.
বাংলাদেশের কোথায় চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গেছে?
  1. দিনাজপুর
  2. রাঙামাটি
  3. সুনামগঞ্জ
  4. নেত্রকোনা
ব্যাখ্যা

চিনামাটি:
- নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুর ও এর আশপাশের এলাকায় রয়েছে চিনামাটির খনি।
- খনিজের নাম: চিনামাটি (Kaolin/China Clay)।
- ব্যবহার: সিরামিক শিল্পের প্রধান কাঁচামাল।
- মজুদের পরিমাণ: প্রায় ২৪ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন।
- তথ্য প্রদানকারী সংস্থা: খনিজ সম্পদ ব্যুরো।
- গুরুত্ব: তখনকার হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় ৩০০ বছরের চাহিদা পূরণে সক্ষম।
- আহরণ: খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর অনুমতি নিয়ে বেসরকারি কোম্পানি।
- শ্রমিক: প্রতিদিন হাজার হাজার শ্রমিক খননকাজে নিয়োজিত।
- উত্তোলিত চিনামাটি সিরামিক শিল্পের কারখানায় পাঠানো হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

.
খুলনা ও পটুয়াখালী অঞ্চল কোন ধরনের প্লাবন সমভূমি?
  1. ক) পাদদেশীয় সমভূমি
  2. খ) স্রোতজ সমভূমি
  3. গ) ব-দ্বীপ সমভূমি
  4. ঘ) উপকূলীয় সমভূমি
ব্যাখ্যা

সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো-
রংপুর ও দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি।
ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা, কুমিল্লা নোয়াখালী ও সিলেট অঞ্চলের বন্যা প্রবণ প্লাবন সমভূমি।
ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা ও ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে ব-দ্বীপ সমভূমি।
নোয়াখালী ও ফেনী নদীর নিম্নভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত চট্টগ্রামের উপকূলীয় সমভূমি।
খুলনা ও পটুয়াখালী অঞ্চল এবং বরগুনা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে স্রোতজ সমভূমি।
সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১০.
আগ্নেয় শিলার প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. আগুন
  2. ম্যাগমা
  3. লবণ
  4. খনিজ
ব্যাখ্যা
• আগ্নেয় শিলা:
- আগ্নেয় শিলার প্রধান উপাদান ম্যাগমা।
- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময় উত্তপ্ত গলিত পদার্থ ভূ-অভ্যন্তরের গভীর তলদেশ থেকে (প্রায় ২০০ কি.মি.) ভূ-ত্বকের অভ্যন্তরেই জমাটবদ্ধ হয় যা ম্যাগমা নামে পরিচিত।
- এই ম্যাগমা যখন ভূ-ত্বকের গভীর থেকে ফাঁটল বরাবর সজোরে ভূ-পৃষ্ঠে উঠে এসে প্রবাহিত হয় তখন তাকে লাভা বলে।

• আগ্নেয় শিলা সৃষ্টির প্রথমে পৃথিবী উত্তপ্ত গ্যাসীয়পিন্ড ছিল। এই গ্যাসপিন্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়। পরে আরো তাপ বিকিরণ করে উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে। এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।

• অভ্যন্তরে উত্তপ্ত ম্যাগমা শীতল ও কেলাসিত হয়ে আগ্নেয় শিলা গঠিত হয়।
- অগ্নিময় অবস্থা থেকে এই শিলার সৃষ্টি বলে একে আগ্নেয় শিলা বলা হয়।
- আগ্নেয় শিলা পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ের শিলা বলে একে প্রাথমিক শিলাও বলা হয়।
- এ শিলায় কোনো স্তর নেই, তাই এই শিলার অপর নাম অস্তরীভূত শিলা।
- এই শিলায় কোনো জীবাশ্ম নেই।

- আগ্নেয়গিরি বা ভূমিকম্পের ফলে অনেক সময় ভূ-ত্বকের দুর্বল অংশে ফাটলের সৃষ্টি হয়।
- তখন পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে উত্তপ্ত গলিত লাভা নির্গত হয়ে আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি করে।
- এভাবে ব্যাসল্ট ও গ্রানাইট শিলার সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
এফসিডিআই প্রকল্পের উদ্দেশ্য কী?
  1. পানি নিষ্কাশন
  2. সেচ প্রকল্প
  3. বন্যা নিয়ন্ত্রণ
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
এফসিডিআই প্রকল্প:
- FCDIP-এর পূর্ণরপ: Flood Control, Drainage and Irrigation Projects.
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প (Flood Control, Drainage and Irrigation Projects) অনুচ্চ ভূ-সংস্থানের কারণে একটি স্বাভাবিক বৎসরে বাংলাদেশের ভৌগোলিক এলাকার কমপক্ষে ২০% এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে থাকে।
- ১৯৯৮ সালের মতো মারাত্মক পর্যায়ে গেলে বন্যা কবলিত এলাকার পরিমাণ প্রায় ৭০% এ গিয়ে পৌঁছতে পারে।
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পসমূহ বন্যার তীব্রতা হ্রাসকরণে অথবা বন্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বন্যার পানি নিষ্কাশনের উপায় হিসেবে ব্যবহূত হয়, যেগুলো শস্য উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুকূল অবস্থার সৃষ্টি করে।
- Bangladesh Water and Power Development Boards Order, 1972 (P. O. No. 59 of 1972) - এর অধীন প্রতিষ্ঠিত Bangladesh Water Development Board সংক্রান্ত বিধানাবলী রহিত করিয়া পানি সম্পদের উন্নয়ন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করা হয়।
- এই আইন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড আইন, ২০০০ নামে পরিচিত।

এফসিডিআই প্রকল্পের উদ্দেশ্য -
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ,
- পানি নিষ্কাশন ও
- সেচ প্রকল্প।

উৎস: বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর।
১২.
বর্তমানে বাংলাদেশে কয়টি কয়লা ক্ষেত্র বিদ্যমান? [আগস্ট - ২০২৫]
  1. ৪টি
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

◉ বাংলাদেশে মোট ৫টি কয়লা ক্ষেত্র বিদ্যমান: বড়পুকুরিয়া, দীঘিপাড়া, ফুলবাড়ি, খালাশপীর ও জামালগঞ্জ। 

কয়লা ক্ষেত্র:

- বাংলাদেশে আবিস্কৃত মোট কয়লা ক্ষেত্র ৫টি।
- ১৯৬২ সালে জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জে দেশের সর্বপ্রথম কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।
- দেশে একমাত্র দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলিত হচ্ছে।
- গভীরতা বেশি হওয়ায় জামালগঞ্জ খনি থেকে এখনো কয়লা উত্তোলন শুরু হয়নি।

দেশের কয়লা খনিসমূহ হলো:
• ফুলবাড়ী: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৮৯।
• খালাসপীর: রংপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: বি.এইচ.পি মিনারেলস, ১৯৯৭।
• জামালগঞ্জ: আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জয়পুরহাট, জিএসবি, ১৯৬২।
• বড়পুকুরিয়া: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৮৫।
• দীঘিপাড়া: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৯৫।

সূত্র: খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।

১৩.
বাংলাদেশে উন্নতমানের কয়লার সন্ধান পাওয়া গেছে—
  1. ক) জামালগঞ্জে
  2. খ) জকিগঞ্জে
  3. গ) রানীগঞ্জে
  4. ঘ) টেকেরহাটে
ব্যাখ্যা
- দেশের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে বেশি গভীরতার কয়লাখনি জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জে অবস্থিত। 
- এক কিলোমিটার গভীরতায় এই খনির অবস্থান।
- এখানে কয়লার মজুত প্রায় ১০০ কোটি মেট্রিক টন।
 
উৎস : প্রথম আলো 
১৪.
অবস্থান অনুসারে 'চলনবিল' সাম্প্রতিককালের কোন প্লাবন সমভূমিতে অবস্থিত?
  1. ব-দ্বীপ
  2. সিলেট অববাহিকা
  3. গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনার প্লাবন সমভূমি
  4. পাদদেশীয় পলল সমভূমি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:
- ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলো হলো:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ি এলাকা এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির অন্তর্ভুক্ত।
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চলটি পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা প্রভৃতি নদ-নদী ও এদের উপনদী, শাখানদী বাহিত পলিমাটি দ্বারা গঠিত।
- বাংলাদেশের বৃহত্তম এ এলাকার নদীগুলো প্রায়ই গতি পরিবর্তনের কারণে নতুন নতুন পললভূমি গঠিত হতে দেখা যায়।
- এ সমভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার।

⇒ দেশের সমগ্র সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চলটি একই ধরনের নয় বলে একে আবার নিম্নলিখিত কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে আলোচনা করা যায়। যথা:
ক) কুমিল্লার বা ত্রিপুরার সমভূমি,
খ) পাদদেশীয় পলল সমভূমি,
গ) সিলেট অববাহিকা,
ঘ) গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনার প্লাবন সমভূমি,
ঙ) ব-দ্বীপ। 

গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনার প্লাবন সমভূমি:
- বৃহত্তর ঢাকা, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের অংশ বিশেষ নিয়ে এ প্লাবন সমভূমি গঠিত।
- এই অঞ্চলেও বেশ কিছু বিল ও হাওড় আছে।
- বাংলাদেশের বৃহত্তম বিল 'চলনবিল' এই এলাকাতে অবস্থিত।
- এ অঞ্চলের অধিকাংশ স্থানই বর্ষার সময় পানিতে প্লাবিত হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
নিম্নের কোনটি কারিগরি আপদ?
  1. অগ্নিকান্ড
  2. নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা
  3. ভবনধ্বস
  4. শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা
ব্যাখ্যা
‘আপদ (Hazard):
- আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা যা প্রাকৃতিক, মানব সৃষ্ট বা কারিগরি ক্রটির কারণে ঘটতে পারে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- এর ফলস্বরূপ বিপর্যয় সংঘটনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপদ ও হুমকির মধ্যে নিপতিত করে।
- দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদির প্রাথমিক এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অবকাঠামোর উপর যার পুনঃনির্মাণ খুব ব্যয়বহুল কাজ।
- সব চরম ঘটনাই হচ্ছে আপদ।

উল্লেখ্য,
- প্রাকৃতিক আপদ: ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, বজ্রঝড়, টর্ণেডো, বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি, খরা, নদী ভাঙ্গন ইত্যাদি।
- মানবসৃষ্ট আপদ: ভবনধ্বস, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি।
- কারিগরি আপদ: বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ড, শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা, পারমানবিক দুর্ঘটনা ইত্যাদি।

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২।
১৬.
আমাদের দেশের প্রথম সামুদ্রিক গ্যাসক্ষেত্র কোনটি?
  1. কামতা গ্যাসক্ষেত্র
  2. সেমুতাং গ্যাসক্ষেত্র
  3. রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্র
  4. সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র
ব্যাখ্যা

- সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র বাংলাদেশের প্রথম সামুদ্রিক গ্যাসক্ষেত্র। 
- এটি ১৯৯৬ সালে পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি কর্তৃক আবিস্কৃত হয়।

• গ্যাসক্ষেত্র:

- প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়েছিলো ১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে।
- প্রথম গ্যাস উত্তোলন শুরু হয় ১৯৫৭ সালে। 
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্র হলো তিতাস গ্যাসক্ষেত্র।
- বাংলাদেশের প্রথম সামুদ্রিক গ্যাসক্ষেত্র সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র।
- দেশে বর্তমানে আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের সংখ্যা ২৯টি।
- সর্বশেষ ভোলার ইলিশা -১ দেশের ২৯তম গ্যাসক্ষেত্র।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো।

১৭.
বাংলাদেশের বৃহত্তম জলাভূমি কোনটি?
  1. হাইল
  2. চলনবিল
  3. হাকালুকি হাওর
  4. টাঙ্গুয়ার হাওর
ব্যাখ্যা

হাকালুকি হাওড়:
- হাকালুকি হাওড় মূলত মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত। 
- ভারতের আসাম সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের পূর্ব অংশে অবস্থিত একটি জলাভূমি হল হাকালুকি হাওড়। 
- এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম এবং এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ জলাভূমি।
- হাকালুকি হাওরের আয়তন ১৮১.১৫ বর্গ কিমি।
- হাওরটি ৫টি উপজেলা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে বিস্তৃত।
- হাওরের ৪০% বড়লেখা, ৩০% কুলাউড়া, ১৫% ফেঞ্চুগঞ্জ, ১০% গোলাপগঞ্জ এবং ৫% বিয়ানীবাজার উপজেলার অন্তর্গত।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।

১৮.
বাংলাদেশের কোথায় ইউরেনিয়ামের সন্ধান পাওয়া গেছে?
  1. ক) দিনাজপুর
  2. খ) চট্টগ্রাম
  3. গ) নেত্রকোনা
  4. ঘ) মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের হারাগাছা পাহাড়ে ইউরেনিয়ামের সন্ধান পাওয়া গেছে।
আশির দশকে বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশন ইউরেনিয়াম প্রাপ্তির বিষয়ে নিশ্চিত হলেও তা এখনো উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি।
(সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক)
১৯.
বাংলাদেশের চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গেছে-
  1. ক) রানীগঞ্জে
  2. খ) বিজয়পুরে
  3. গ) টেকেরহাটে
  4. ঘ) বাগালীবাজারে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভূ-পৃষ্ঠে অথবা অন্তর্ভূ-পৃষ্ঠে (subsurface) চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
নেত্রকোনা জেলার বিজয়পুর ও গোপালপুরে, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায়, চট্টগ্রাম জেলার হাইটগাঁও ও সাতকানিয়া উপজেলার বাইতুল ইজ্জতে চীনামাটির মজুত রয়েছে।
এ ছাড়া দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়া, বড়পুকুরিয়া ও দীঘিপাড়া এবং নওগাঁ জেলার পত্নীতলাতে ভূ-পৃষ্ঠের নিকটে চীনামাটি মজুতের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
২০.
ভূ-ত্বক গঠন করে -
  1. ক) শিলা
  2. খ) খনিজ
  3. গ) খনিজ ও শিলা
  4. ঘ) পাথর
ব্যাখ্যা
ভূ-ত্বকের গঠন
• পৃথিবীর উপরিভাগের শক্ত আবরণ ভূ-ত্বক বিভিন্ন ধরনের খনিজ শিলা দ্বারা গঠিত।
• ভূ-ত্বক অশ্মমন্ডলেরই উপরিভাগ যার মধ্যে অক্সিজেন ও সিলিকনের পরিমাণ বেশি।
• আজ পর্যন্ত আবিষ্কৃত মোট ১০৫টি মৌলিক উপাদানের মধ্যে ২০টি উপাদান ভূ-ত্বকের প্রায় শতকরা ৯৯.৫ অংশ দখল করে আছে। ভূ • ত্বকের গভীরতা সর্বত্র সমান নয়। তবে এর গড় গভীরতা ২০ কিলোমিটার।
• গ্রানাইট স্তরের গড় গভীরতা ৮ কিলোমিটার। ভূ-ত্বক গঠনকারী শিলারাশির ঘনত্ব ২.৭৫ থেকে ৩.০ পর্যন্ত।
• ভূ-ত্বক বা অশ্মমন্ডলের উপরিভাগেই পৃথিবীর বাহ্যিক দিকগুলো দেখা যায়। যেমন - সমভূমি, মালভূমি, পাহাড়, পর্বত, নদী, হ্রদ, সাগর, মহাসাগর ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১.
পার্বত্য এলাকায় নদীর পানি হঠাৎ খাড়া ঢালে নিচে পতিত হলে তাকে কী বলে?
  1. ক) খরস্রোত
  2. খ) হিমবাহ গলিত পানি
  3. গ) জলপ্রপাত
  4. ঘ) গিরিখাত
ব্যাখ্যা
- পার্বত্য এলাকায় নদীর পানি হঠাৎ খাড়া ঢালে নিচে পতিত হলে তাকে জলপ্রপাত বলা হয়।

• জলপ্রপাত:
- মাধবকুন্ড জলপ্রপাতটি বাংলাদেশের বৃহত্তম জলপ্রপাত।
- প্রায় ২০০ ফুট উঁচু টিলা হতে পাহাড়ি ঝর্নার পতিত জলরাশি পর্যটকের জন্য আকর্ষণীয়।
- এ জলপ্রপাতের নিকটেই খাসিয়া নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস।
- মাধবকুন্ড জলপ্রপাতটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থ স্থান।

এছাড়াও,
- শৈলপ্রপাত জলপ্রপাত বান্দরবানে অবস্থিত।
- হামহাম জলপ্রপাত মৌলভীবাজারে অবস্থিত।
- হিমছড়ি জলপ্রপাত কক্সবাজারে অবস্থিত।

উৎস: সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট এবং ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি।
২২.
বাংলাদেশে শীতকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কত?
  1. ক) ১৭° সেলসিয়াস
  2. খ) ১৭.৭° সেলসিয়াস
  3. গ) ১৮° সেলসিয়াস
  4. ঘ) ১১° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
আমাদের দেশে শীতকালে তাপমাত্রা সবচেয়ে কম থাকে। এ সময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১° সেলসিয়াস। জানুয়ারি শীতলতম মাস এবং এ মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭° সেলসিয়াস।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৩.
প্লাইস্টোসিন যুগের সর্ববৃহৎ উঁচুভূমি কোনটি?
  1. বরেন্দ্রভূমি
  2. মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়
  3. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ
  4. লালমাই পাহাড়
ব্যাখ্যা
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
→ আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
→ এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর। দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত। প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

 • নিম্নে এসব উচ্চভূমির বর্ণনা:
ক) বরেন্দ্রভূমি:
→ বরেন্দ্রভূমি রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
→  এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার। প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।
এটি প্লাইস্টোসিন যুগের সর্ববৃহৎ উঁচুভূমি।
→ বর্তমানে বরেন্দ্র বহুমুখী সেচ প্রকল্প এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ অঞ্চলটিকে কৃষিকাজের জন্য বিশেষ উপযোগী করা হয়েছে।

খ) মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়:
→ টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধুপুর এবং গাজীপুর জেলার ভাওয়ালের গড় নিয়ে এলাকাটি গঠিত।
→ এটি প্লাইস্টোসিন যুগের দ্বিতীয় বৃহত্তম উঁচুভূমি।
→  সমভূমি থেকে এর গড় উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার এবং আয়তন ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
→ এখানকার মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য তেমন উপযোগী নয়।
→ এটি দেশের গজারী বৃক্ষের কেন্দ্র হিসাব পরিচিত।

গ) লালমাই পাহাড়:
 → কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত।
→ এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার।
→ এ পাহাড়ের মাটি লাল এবং নুড়ি, বালি ইত্যাদি দ্বারা গঠিত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪.
ইউনেস্কো সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য স্বীকৃতি দেয় -
  1. ক) ৭ জানুয়ারি, ১৯৯৫
  2. খ) ২ নভেম্বর, ১৯৯৬
  3. গ) ২৮ অক্টোবর, ১৯৯৭
  4. ঘ) ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৭
ব্যাখ্যা
• সুন্দরবন:
- সুন্দরবন বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন।
- সুন্দরবন দুটি বন বিভাগে বিভক্ত: সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ ও সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ।
- বাংলাদেশ অংশে সুন্দরবনের মোট আয়তন ৬০১৭ বর্গ কি.মি.।
- সমগ্র সুন্দরবন খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে বিস্তৃত।

- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সালে UNESCO সুন্দরবনের ৩টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যকে ৭৯৮তম World Heritage Site হিসেবে ঘোষণা করে।
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৯ সনে নীলকমলে World Heritage Site-এর নামফলক উন্মোচন করেন।
- সুন্দরবনের জলভাগ জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ হওয়ায় ১৯৯২ সনের ২১ মে থেকে এটি Ramsar Site হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
- টাঙ্গুয়ার হাওর ১০ জুলাই, ২০০০ সালে রামসার সাইটের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বন সংরক্ষণ দপ্তর ও রামসার সাইট।
২৫.
বাংলাদেশের কোথায় ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি রয়েছে?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. টাঙ্গাইল 
  3. বান্দরবান
  4. সিলেট 
ব্যাখ্যা

  • ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি: 
- বাংলাদেশের প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি রয়েছে। 
• এ বনভূমিকে দুই অংশে ভাগ করা হয়েছে-
(ক)ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি;
(খ)দিনাজপুর ও রংপুর জেলায় বরেন্দ্র বনভূমি অবস্থিত।

- শীতকালে এ বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায়।
- গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।

• ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত। পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

২৬.
বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপের নাম কী?
  1. মহেশখালী
  2. হাতিয়া
  3. সন্দীপ
  4. সেন্টমার্টিন
ব্যাখ্যা
• সেন্টমার্টিন দ্বীপ: 
- সেন্ট মার্টিন্‌স দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবালদ্বীপ।
- এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং 
- মায়ানমার-এর উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। 
- প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে। 
- ৯২°১৮´ ও ৯২°২১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এবং ২০°৩৪´ ও ২০°৩৯´ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে দ্বীপটির অবস্থান। 

টেকনাফ উপজেলা ওয়েবসাইট অনুসারে, 
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন ১৭ বর্গ কিলোমিটার। 

 কক্সবাজার জেলা ওয়েবসাইট অনুসারে, 
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার ও উত্তর-দক্ষিণে লম্বা।

- সেন্টমার্টিন দ্বীপ সম্পর্কে সময় নিউজের রিপোর্টে বলা হয়েছে -
- সেন্টমার্টিন দ্বীপ ৭.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার। 

দৈনিক প্রথম আলো রিপোর্টে বলা হয়েছে -
- সরকারি তথ্যে দ্বীপের আয়তন ১৩ বর্গকিলোমিটার উল্লেখ রয়েছে।
- তবে গবেষণায় বলা হয়েছে ৮ বর্গকিলোমিটার।

⇒ উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে,
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন ৮ বর্গ কিলোমিটার।
- পরীক্ষায় যদি ৮ বর্গ কিলোমিটার না থাকে তখন ১৭ বর্গ কিলোমিটার বা ১৩ বর্গ কিলোমিটার উত্তর করবেন, অথবা অপশন বিবেচনায় উত্তর করবেন।

সূত্র: টেকনাফ উপজেলা ওয়েবসাইট,  কক্সবাজার জেলা ওয়েবসাইট, সময় নিউজ ও দৈনিক প্রথম আলো রিপোর্ট।
২৭.
বাংলাদেশের কোথায় প্লাইস্টোসিন কালের সোপান দেখা যায়?
  1. বরিশাল
  2. কুষ্টিয়া
  3. টাঙ্গাইল
  4. রাঙামাটি
ব্যাখ্যা
ভূ-প্রকৃতির ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায় যথা:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
- প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং 
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
• এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
• দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি,মধ্যভাগের টাঙ্গাইলের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত। 


 উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮.
বাংলাদেশের সুন্দরবনের আয়তন দেশের মোট আয়তনের কত শতাংশ?
  1. ৩.৮%
  2. ৪.২%
  3. ৪.৮%
  4. ৫.৩%
ব্যাখ্যা

সুন্দরবন:
- সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি ।
- এ বনের অধিকাংশ এলাকা জোয়ার ভাটার কারণে দিনে দু'বার লোনা পানি দ্বারা বিধৌত হয় বলে একে ম্যানগ্রোভ বন বলা হয়।
- ম্যানগ্রোভ বন হলো উপকূলীয় বন।
- সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০০০০ বর্গ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার যা দেশের আয়তনের ৪.২%, সমগ্র বনভূমির প্রায় ৪৪% এবং বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত বনভূমির ৩৮.১২%, এর মধ্যে ৬৯% স্থলভাগ ও ৩১% জলভাগ।
- এর অন্য নাম বাদাবন।

⇒ সুন্দরবন সংলগ্ন জেলা ৩টি।
- সেগুলো হলো বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা।
- তন্মধ্যে খুলনা জেলাস্থ সুন্দরবনের আয়তন ২০৭২.২৪ বর্গ কিলোমিটার।

⇒ সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হলো সুন্দরী।
- সুন্দরী গাছের নাম থেকেই এই বনের নাম হয়েছে সুন্দরবন।
- সুন্দরবনের অন্যান্য গাছের মধ্যে গরান, গেওয়া, কেওড়া, ধুন্দল, গোলপাতা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
- বন্যপ্রাণীসমূহের মধ্যে: রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, বানর ইত্যাদি।

⇒ ১৮৭৮ সালে সমগ্র সুন্দরবন এলাকাকে সংরক্ষিত বন হিসাবে ঘোষণা দেয়া হয়।
- ইউনেস্কো ৭ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সালে সুন্দরবনকে ৭৯৮তম 'World Heritage site' বা বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

উৎস: i) বনবিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।

২৯.
পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কত?
  1. ক) ২৯,১৩৫ ফুট
  2. খ) ২৯,০৩২ ফুট
  3. গ) ২৮,৪০৯ ফুট
  4. ঘ) ২৮,৪১৯ ফুট
ব্যাখ্যা
- মাউন্ট এভারেস্ট বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ।
- এই শৃঙ্গটি হিমালয়ের মহালঙ্গুর হিমাল পর্বতমালায় অবস্থিত।
- সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে এর উচ্চতা ৮,৮৪৯ মিটার (২৯,০৩২ ফুট)।
- চীন ও নেপালের আন্তর্জাতিক সীমান্ত এভারেস্ট পর্বতের শীর্ষবিন্দু দিয়ে গেছে।
- এভারেস্ট বিজয়ী ১ম বাংলাদেশি মুসা ইব্রাহিম। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩০.
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালের সময়সীমা হলো-
  1. ক) আষাঢ় -শ্রাবণ
  2. খ) ফাল্গুন -জ্যৈষ্ঠ
  3. গ) চৈত্র- বৈশাখ
  4. ঘ) ভাদ্র - আশ্বিন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মার্চ থেকে মে মাস (ফাল্গুন-জ্যৈষ্ঠ) পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল। এ সময় সূর্য কর্কটক্রান্তির উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে এ ঋতুতে তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৩১.
ইউরেনিয়াম আকরিক পাওয়া যায় বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে?
  1. ক) কক্সবাজার
  2. খ) দিনাজপুর
  3. গ) পঞ্চগড়
  4. ঘ) বরগুনা
ব্যাখ্যা
• ইউরেনিয়াম আকরিক (Uranium Ore): 
- কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া হতে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলের মাটিতে ইউরেনিয়াম আকরিক পাওয়া যায়। 
- এছাড়া মৌলভীবাজার জেলার হাড়গাছা পাহাড়ে ইউরেনিয়াম আকরিক পাওয়া গেছে। 
- এটি প্রধানত পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি ও পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইউরেনিয়াম আকরিক কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

• চীনামাটি (China Clay):
- দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়া, নেত্রকোনা জেলার বিজয়পুর, শেরপুর জেলার ভুরুংগা, চট্টগ্রাম জেলার হাইটগাও, কাঞ্চপুর ও এলাহাবাদ এবং নওগাঁ জেলার পত্নীতলায় চীনামটি পাওয়া গেছে।
- চীনামাটি প্রধানত তৈজসপত্র, বৈদ্যুতিক ইনস্যুলেটর, স্যানিটারি জিনিসপত্র, বাসনপত্র, কাগজ প্রভৃতি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

• নুড়িপাথর (Gravel):
- পঞ্চগড় জেলার পঞ্চগড় ও তেঁতুলিয়া, লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম এবং সিলেট জেলার ভোলাগঞ্জ ও পিরানগঞ্জে নুড়িপাথর পাওয়া যায়। নুড়িপাথর রাস্তাঘাট, পুল, কালভার্ট, রেলপথ ও গৃহনির্মাণে ব্যবহৃত হয়।

• গন্ধক (Sulphur): কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া দ্বীপে গন্ধক পাওয়া গেছে। সাধারণত দিয়াশলাইয়ের বারুদ, সালফিউরিক এসিড, আতশবাজি, বিস্ফোরক, কীটনাশক প্রভৃতি তৈরিতে গন্ধক ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২.
যমুনা এবং পদ্মা নদীর মিলনস্থল -
  1. ক) চাঁদপুর
  2. খ) ভৈরববাজার
  3. গ) আজমিরীগঞ্জ
  4. ঘ) গোয়ালন্দ
ব্যাখ্যা
যমুনা (Jamuna) 
• ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা যমুনা নদী নামে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে। এটি গোয়ালন্দের নিকট পদ্মার সাথে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পূর্বদিকে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়েছে। এটি বাংলাদেশের অন্যতম নদী।
• যমুনার প্রধান উপনদী হলো ধরলা, তিস্তা, করতোয়া ও আত্রাই।
• এছাড়া যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা।  
• মেঘনা ভৈরববাজারের দক্ষিণে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রবাহিত হয়েছে এবং চাঁদপুরের কাছে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
• পদ্মা + মেঘনা = চাঁদপুর,
• সুরমা + কুশিয়ারা = আজমিরীগঞ্জ (কালনী নাম),
• পুরাতন ব্রহ্মপুত্র + মেঘনা = ভৈরববাজার,
• যমুনা + বাঙ্গালী = বগুড়া,
• রুপসা + ভৈরব = খুলনা।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩.
বাংলাদেশে ইউরিয়া সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল- 
  1. পেট্রোলিয়াম
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. কয়লা
  4. জ্বালানি তেল
ব্যাখ্যা

ইউরিয়া সার উৎপাদনের জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস (মিথেন) প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
------------------------ 
• ইউরিয়া সার:
- বাংলাদেশে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (BCIC) এর অধীনে কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি সার কারখানা রয়েছে।
- এই কারখানাগুলো দেশের কৃষিক্ষেত্রের জন্য ইউরিয়া এবং অন্যান্য সার উৎপাদন করে।
- ১৯৬১ সালে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে বাংলাদেশের প্রথম ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপিত হয়। 
- এর নাম ছিল ন্যাচারাল গ্যাস ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড।
- এই কারখানায় ইউরিয়া এবং অ্যামোনিয়াম সালফেট সার উৎপাদন করা হতো।

- বাংলাদেশে ইউরিয়া সার তৈরির মূল কাঁচামাল হলো প্রাকৃতিক গ্যাস (মিথেন, CH₄)।
- মিথেন থেকে হাইড্রোজেন নেওয়া হয় এবং নাইট্রোজেনের সঙ্গে মিশিয়ে অ্যামোনিয়া (NH₃) তৈরি করা হয়, যার সঙ্গে কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂) উৎপন্ন হয়।
- পরে এই অ্যামোনিয়াকে Haber-Bosch প্রক্রিয়া ব্যবহার করে উচ্চ চাপে ইউরিয়া সারে রূপান্তর করা হয়।
- বাংলাদেশের বিভিন্ন ইউরিয়া সার কারখানা —যেমন যমুনা, শাহজালাল, আশুগঞ্জ, ঘোড়াশাল, পলাশ ফার্টিলাইজার পাবলিক লিমিটেড এবং চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড —এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সার উৎপাদন করে।
- উৎপাদিত ইউরিয়া সার দেশের কৃষিক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

৩৪.
সেন্টমার্টিন দ্বীপটি বঙ্গোপসাগরের কোন মোহনার কাছাকাছি অবস্থিত?
  1. পদ্মা নদীর মোহনা
  2. নাফ নদীর মোহনা
  3. মেঘনা নদীর মোহনা
  4. কর্ণফুলী নদীর মোহনা
ব্যাখ্যা

- সেন্টমার্টিন দ্বীপটি বঙ্গোপসাগরের নাফ নদীর মোহনার কাছাকাছি অবস্থিত।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ: 
- সেন্ট মার্টিন দ্বীপ স্থানীয়ভাবে নারিকেল জিঞ্জিরা বা দারুচিনি দ্বীপ নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশের একটি অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক এবং দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ।
- এটি পর্যটকদের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। নিচে এর মূল তথ্যগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
- অবস্থান: বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত, কক্সবাজার-টেকনাফ উপদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে।
- এটি বাংলাদেশের দক্ষিণতম সীমান্তবর্তী দ্বীপ।
- আয়তন: মাত্র ৮ বর্গকিলোমিটার (কখনও কখনও ৮.৭ বর্গকিলোমিটার বলা হয়), যা জোয়ারের সময় আংশিকভাবে পানিতে ডুবে যায়।
- নামকরণের ইতিহাস: ১৮শ শতাব্দীতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক কর্মকর্তা আলেকজান্ডার মার্টিনের নামে নামকরণ করা হয়। স্থানীয়ভাবে 
- এর নাম নারিকেল জিঞ্জিরা (নারিকেলের দ্বীপ) কারণ এখানে প্রচুর নারিকেল গাছ রয়েছে।
- প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য: সাদা বালুকাময় সৈকত, নীল জল, প্রবাল প্রাচীর (কোরাল রিফ), নারিকেলের বন এবং বিভিন্ন সামুদ্রিক জীবন। এখানে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য অত্যন্ত মনোরম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো পত্রিকা। 

৩৫.
ল্যানোস ও প্যাম্পাস তৃণভূমি কোথায় দেখা যায়?
  1. ক) উত্তর আমেরিকা
  2. খ) পূর্ব ইউরোপ
  3. গ) অস্ট্রেলিয়া
  4. ঘ) দক্ষিণ আমেরিকা
ব্যাখ্যা
ল্যানোস ও প্যাম্পাস হলো দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত দুটো তৃণভূমির নাম।

তৃণভূমি হলো ঘাস দ্বারা আচ্ছাদিত সুবিস্তৃত ভূমি। সাধারণত স্বল্প বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে তৃণভূমি গড়ে উঠে।

পৃথিবীর বিখ্যাত কিছু তৃণভূমি:
- প্রেইরি (উত্তর আমেরিকা)
- সাভানা (আফ্রিকা)
- স্তেপ (পূর্ব ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া) প্রভৃতি।

(তথ্যসূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ও ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট)
৩৬.
কোনটি ক্রান্তীয় পতনশীল বনভূমির বৃক্ষ নয়?
  1. কড়ই
  2. হরিতকি
  3. গামার 
  4. ছাতিম
ব্যাখ্যা

• 'গামার' ক্রান্তীয় পতনশীল বনভূমির বৃক্ষ নয়।
---------------------------  
• ক্রান্তীয় পতনশীল বনভূমি বা শালবন:
- এ ধরনের বন মূলত ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল অঞ্চলের মধুপুর গড়, গাজীপুরের ভাওয়াল গড়, কুমিল্লার লালমাই এবং রংপুর-দিনাজপুরের বরেন্দ্রভূমি এলাকায় বিস্তৃত।
- এ বনের প্রধান গাছ হলো শাল, যা অনেকেই গজারি নামে চেনে।
- শুষ্ক মৌসুমে বা শীতের শুরুতে (ফেব্রুয়ারি–মার্চ) শাল গাছের পাতা ঝরে যাওয়ার কারণে এ বনকে পতনশীল বা Deciduous Forest বলা হয়।
- শাল ছাড়াও এখানে হরিতকি, ছাতিম, কড়ই, কদম, বহেরা, কাঁঠাল, কৃষ্ণচূড়া, শিমুল ও অর্জুনের মতো বিভিন্ন বৃক্ষ জন্মে।
- শাল গাছকে বৈদ্যুতিক খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- শিমুল দিয়াশলাই কারখানায় ব্যবহৃত হয়।
- ছাতিম টেক্সটাইল মিলে ব্যবহৃত হয়।

- এ বনে বসবাসকারী উল্লেখযোগ্য প্রাণীর মধ্যে আছে- 
- মেছোবাঘ, বনরুই (এক ধরনের স্তন্যপায়ী), বানর ও শিয়াল ইত্যাদি।
-------------------------- 
অন্যদিকে, 
- গামার হচ্ছে- ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমি বা পাহাড়ি বনের বৃক্ষ।

ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমি বা পাহাড়ি বন:
- এই ধরনের বনভূমি প্রধানত পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় পুরো অঞ্চলজুড়ে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে বিস্তৃত।
- এসব এলাকায় অতিবৃষ্টিপাতের কারণে চিরহরিৎ বন গড়ে উঠেছে।
- এ বনভূমির মোট আয়তন প্রায় ১০,৩০০ বর্গকিলোমিটার।
- এখানে দীর্ঘকায় চিরসবুজ বৃক্ষের মধ্যে গর্জন, চাপালিশ, তেলসুর, গামার, বইলাম ও চান্দুল উল্লেখযোগ্য।
- মাঝারি উচ্চতার গাছের মধ্যে অর্জুন, জারুল, কুসুম, হরগজ ও বহেরা প্রধান।
- এছাড়া এ বনাঞ্চলে বেত ও নানা প্রজাতির বাঁশঝোপ জন্মে।
- এসব বনে চিতাবাঘ, হাতি, হরিণ, বানর, বনবিড়াল, সজারু, খরগোশ, সাপ ও বেজির মতো বন্যপ্রাণী দেখা যায়।

উৎস:
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি; 
অর্থনৈতিক ভূগোল, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩৭.
দেশের মোট ভূমির কত শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন?
  1. ১৭
  2. ২৫
  3. ২৭
  4. ৩৫
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বনজ সম্পদ:
- বনভূমি থেকে যে সকল সম্পদ পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।
- যে কোনো দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
- কিন্তু ২০১৩-২০১৪ সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ শতকরা প্রায় ১৭ ভাগ।
- মাটির গুণাগুণ ও জলবায়ুর তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
- যথা :
১. ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
২. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
৩. স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮.
জয়পুরহাটে নিচের কোন খনিজটি পাওয়া যায়?
  1. প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. কয়লা
  3. চীনা মাটি
  4. খনিজ তেল
ব্যাখ্যা
কয়লা ক্ষেত্র:
- বাংলাদেশে আবিস্কৃত মোট কয়লা ক্ষেত্র ৫টি।
- ১৯৬২ সালে জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জে দেশের সর্বপ্রথম কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।
- গভীরতা বেশি হওয়ায় জামালগঞ্জ খনি থেকে এখনো কয়লা উত্তোলন শুরু হয়নি।
- দেশে একমাত্র দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলিত হচ্ছে।

দেশের কয়লা খনিসমূহ হলো:
• বড়পুকুরিয়া: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৮৫।
• দীঘিপাড়া: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৯৫।
• ফুলবাড়ী: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৮৯।
• খালাসপীর: রংপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: বি.এইচ.পি মিনারেলস, ১৯৯৭।
• জামালগঞ্জ: আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জয়পুরহাট, জিএসবি, ১৯৬২।

উৎস: খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।
৩৯.
নিচের কোনটি দ্বিতীয় পর্যায়ের ভূমিরূপ?
  1. মহীসোপান
  2. ড্রামলিন
  3. ব-দ্বীপ
  4. গিরিখাত
ব্যাখ্যা
• দ্বিতীয় পর্যায়ের ভূমিরূপ:
→ মহাদেশীয় ভূ-ভাগ ও মহাসাগরের তলদেশে পরবর্তী পর্যায়ে যে প্রধান ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়েছে তাকে দ্বিতীয় পর্যায়ের ভূমিরূপ বলে। যেমন- পর্বত, মালভূমি, সমভূমি, মহীসোপান, মহীঢাল, গভীর সমুদ্রের সমভূমি এবং গভীর সমুদ্রখাত।
→ ভূ-পৃষ্ঠের বন্ধুরতা বলতে মূলত দ্বিতীয় পর্যায়ের ভূমিরূপকেই বুঝায়।

উল্লেখ্য,
- প্রথম পর্যায়ের ভূমিরূপ – (First order relief)- উদা, মহাদেশ ও মহাসাগর।
- দ্বিতীয় পর্যায়ের ভূমিরূপ – (Second order relief) – উদা: পর্বত, মালভূমি, সমভূমি।
- তৃতীয় পর্যায়ের ভূমিরূপ- (Third order relief)- উদা: গিরিখাত, প্লাবনভূমি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ১ম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০.
নিরক্ষরেখার উপর সূর্য কিভাবে কিরণ দেয়?
  1. ক) উল্টোভাবে
  2. খ) লম্বভাবে
  3. গ) তির্যকভাবে
  4. ঘ) সোজাসুজি
ব্যাখ্যা
সূর্যকিরণের মাত্রা অক্ষাংশভেদে বিভিন্ন রকম হয়। নিরক্ষরেখার উপর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়। নিরক্ষরেখা থেকে যতই উত্তর বা দক্ষিণে যাওয়া যায়, সূর্যকিরণ তির্যকভাবে পড়তে থাকে। এর ফলে নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণ উভয় মেরুর দিকে তাপমাত্রা ক্রমশ কমতে থাকে৷
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি
৪১.
মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ময়মনসিংহ
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) রংপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ এর কিছু গবেষণা কেন্দ্র এবং তাদের অবস্থান:
মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র - ময়মনসিংহ।
আলু গবেষণা ইনস্টিটিউট - রংপুর।
তাঁত গবেষণা বোর্ড - নরসিংদী।
পাট গবেষণা কেন্দ্র - ঢাকা।
তুলা গবেষণা ইনস্টিটিউট - যশোর।
মসলা গবেষণা কেন্দ্র - বগুড়া।
নদী গবেষণা কেন্দ্র - ফরিদপুর।
রাবার গবেষণা বোর্ড - কক্সবাজার।
ডাল গবেষণা কেন্দ্র - ঈশ্বরদী, পাবনা।
রেশম গবেষণা কেন্দ্র - রাজশাহী।
ছাগল গবেষণা ইনস্টিটিউট - সিলেট।
হাঁস-মুরগী গবেষণা ইনস্টিটিউট - নারায়ণগঞ্জ।
কলা গবেষণা ইনস্টিটিউট - রামপাল, বাগেরহাট।
চামড়া গবেষণা ইনস্টিটিউট - হাজারীবাগ, ঢাকা।
বন গবেষণা কেন্দ্র - চট্টগ্রাম।
ইলিশ মাছ ও নদীর মাছ গবেষণা কেন্দ্র - চাঁদপুর।
ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট - জয়দেবপুর, গাজীপুর।
চা গবেষণা কেন্দ্র - শ্রীমঙ্গল, সিলেট।
তামাক গবেষণা ইনস্টিটিউট - রংপুর।
গম গবেষণা কেন্দ্র - দিনাজপুর।
আম গবেষণা কেন্দ্র - চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪২.
কীভাবে নবায়যোগ্য সম্পদ বৃদ্ধি করা যায়?
  1. উত্তর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে
  2. সংরক্ষণের মাধ্যমে
  3. কর্তব্যপরায়ণ হয়ে
  4. জীবনাচরণের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
• সম্পদ সংরক্ষণর উপায়:
→ সম্পদ সংক্ষেণের অর্থ প্রাকৃতিক সম্পদের এমন ব্যবহার, যাতে ঐ সম্পদ যথাসম্ভব অধিকসংখ্যক লোকের দীর্ঘ সময়ব্যাপী সর্বাধিক মঙ্গল নিশ্চিত করতে সহায়ক হয়।
→ সংরক্ষণ ধারণার অপর নাম জীবনাচরণ। শিক্ষা, মানবিক বৃত্তি, সত্যাচরণ, ন্যায়বিধান, সত্যানুসন্ধান, কর্তব্যপরায়ণতা বা প্রকৃতির প্রতি ভলোবাসার অপর নাম সংরক্ষণ।
→ অর্থনীতিবিদদের মতে, সম্পদ অসীম নয়, সসীম। তাই সম্পদ ব্যবহারের উত্তর ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি।
→ উত্তর ব্যবস্তপনার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য সম্পদের বৃদ্ধি সম্ভবপর। পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনাই উত্তর ব্যবস্থাপনা।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৩.
Which of the following district of Bangladesh does not have the expansion of 'Sal Forest'?
  1. Tangail
  2. Jamalpur
  3. Cumilla
  4. Rangamati
  5. Dinajpur
ব্যাখ্যা
শালবন:
- শাল একটি বহুবর্ষজীবী পর্ণমোচীজাতীয় উদ্ভিদ।
- শালবন এক ধরনের বনভূমি যেখানে শালগাছ মুখ্য উদ্ভিদ প্রজাতি।
- বনের শ্রেণীবিন্যাসে শালবনকে গ্রীষ্মমন্ডলীয় আর্দ্র পত্রঝরা বনাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- শালগাছের উচ্চতা হয় ২৫ মিটার পর্যন্ত এবং পর্ণমোচীজাতীয় উদ্ভিদ হওয়ায় শীতকালে বেশির ভাগ গাছের পাতা ঝরে যায়।
- তারপর বসন্তে পাতা ও ফুলের সমারোহে ভরে ওঠে শালবন।
- গড়ন ও আকৃতির কারণে শালগাছের পাতা আলাদাভাবেই চেনা যায়। 

⇒ ভারতেই এই শ্রেণীর বনভূমি প্রায় ১৩০ লক্ষ হেক্টর জায়গা দখল করে আছে।
- বাংলাদেশ এবং নেপালে রয়েছে মোট ১০ লক্ষ হেক্টরের বেশি স্থান জুড়ে এ ধরনের বনভূমি।

⇒ বাংলাদেশে মোট শালবন এলাকা প্রায় ১,২১,০০০ হেক্টর অর্থাৎ দেশের বনভূমির শতকরা প্রায় ৩২ ভাগ।
- শালবন দেশের মাত্র কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো।
- বেশির ভাগ বনাঞ্চল রয়েছে গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায়।
- এ ছাড়া কুমিল্লা জেলায় এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, জামালপুর, রংপুর ও রাজশাহী জেলাতেও বিক্ষিপ্তভাবে শালবন দেখা যায়।
- এ বনাঞ্চল ভাওয়ালের গড় ও মধুপুরের গড় নামে পরিচিত।
- ‘মধুপুর গড়’ নামেই এটি সুপরিচিত।

⇒ ভাল জাতের শালকাঠ বাড়িঘর তৈরি, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি, নৌকা ও রেলের স্লিপার তৈরি এবং অন্যান্য নির্মাণ কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
- শালগাছের কাণ্ড ‘শাল দামার’, ‘রাল’ বা ‘ধুম’ নামে পরিচিত এক ধরনের সুগন্ধি আঠার উৎস।
- এই আঠা নৌকার ছিদ্র বন্ধ করতে, কার্বন পেপার, টাইপ করার যন্ত্রের ফিতা, বার্নিশ এবং রং তৈরির উপাদান হিসেবে কাজে লাগে।

উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাপিডিয়া। 
৪৪.
বাংলাদেশের সর্বাধিক আর্সেনিক দূষণপ্রবণ জেলা -
  1. চাঁদপুর
  2. কুষ্টিয়া
  3. বরিশাল
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা
আর্সেনিক:
- ধূসর আভাযুক্ত সাদা রংবিশিষ্ট ভঙ্গুর প্রকৃতির একটি অর্ধধাতু বা উপধাতু হচ্ছে আর্সেনিক (Arsenic)।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা হলো ০.০১ মিলিগ্রাম। তবে বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ দেশের মাত্রা নির্ধারণ করে থাকে।
- বাংলাদেশে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা ০.০৫ মিলিগ্রাম।

উল্লেখ্য,
- চাঁদপুর জেলা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আর্সেনিক দূষণপ্রবণ জেলা।
- ১৯৯৩ সালে চাপাইনবাবগঞ্জে দেশে প্রথম নলকূপের পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি চিহ্নিত হয়।

উৎস: i) ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
ii) কালের কন্ঠ।

৪৫.
কত সালে সেন্টমার্টিনকে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ ঘোষণা করা হয়েছে?
  1. ১৯৯৭ সালে
  2. ১৯৯৮ সালে
  3. ১৯৯৯ সালে
  4. ২০০০ সালে
ব্যাখ্যা
সেন্ট মার্টিন মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া:
- সমুদ্র সম্পদের টেকসই আহরণের লক্ষে বঙ্গোপসাগরের ১ হাজার ৭৪৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকাকে ২০২২ সালে ‘সেন্ট মার্টিন মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া’ ঘোষণা করেছে সরকার।

⇒ বৈশ্বিকভাবে হুমকির মুখে থাকা প্রবাল, গোলাপী ডলফিন, হাঙ্গর, রে মাছ, সামুদ্রিক কাছিম, সামুদ্রিক পাখি, সামুদ্রিক ঘাস, সামুদ্রিক জীব বৈচিত্র্য এবং এদের আবাসস্থল সংরক্ষণ; সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের টেকসই আহরণের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকার মানোন্নয়ন; ব্লু ইকোনমি সমৃদ্ধকরণ ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি-১৪) অর্জনের লক্ষ্যে এই সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমার সীমান্তের কাছে সাগরের বুকে ৮ দশমিক ৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ছোট্ট প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিন।
- এ দ্বীপ সামুদ্রিক কাছিমের প্রজনন ক্ষেত্র। এছাড়া এখানে ৬৮ প্রজাতির প্রবাল, ১৫১ প্রজাতির শৈবাল, ১৯১ প্রজাতির মোলাস্ট বা কড়ি জাতীয় প্রাণী, ৪০ প্রজাতির কাঁকড়া, ২৩৪ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, পাঁচ প্রজাতির ডলফিন, চার প্রজাতির উভচর প্রাণী, ২৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ১২০ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ১৭৫ প্রজাতির উদ্ভিদ, দুই প্রজাতির বাদুড়সহ নানা প্রজাতির প্রাণীর বসবাস ছিল এককালে।

এছাড়াও,
- জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিনের ৫৯০ হেক্টর এলাকাকে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ ঘোষণা করেছিল সরকার।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলা ট্রিবিউন।
৪৬.
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে কী ধরনের কয়লা পাওয়া যায়?
  1. লিগনাইট
  2. বিটুমিনাস
  3. পীট
  4. অ্যানথ্রাসাইট
ব্যাখ্যা

বড়পুকুরিয়া কয়লা ক্ষেত্র: 
- ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) কর্তৃক বড়পুকুরিয়া কয়লা ক্ষেত্র আবিষ্কার করা হয়।
- এটি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত।
- এর আয়তন ৬.৬৮ বর্গ কিলোমিটার।
- এই বেসিনে কয়লার মোট মজুদ ৩৯০ মিলিয়ন মেট্রিক টন।
- এখানে বিটুমিনাস কয়লা পাওয়া যায়। 

• বিটুমিনাস কয়লার মূল উপাদান হচ্ছে-
- ফিক্সড কার্বন-৪৮.৪০%,
- এ্যাশ- ১২.৪০%, 
- ভোলাটাইল মেটার-২৯.২০%, 
- মোট ময়েশ্চার-১০%, 
- ক্ষতিকারক উপাদান সালফারের পরিমাণ-০.৫৩% এবং 
- তাপ দহন ক্ষমতা-১১,০৪০ বিটিউ পার পাউন্ড। 

উৎস: বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড (বিসিএমসিএল) ওয়েবসাইট।

৪৭.
পৃথিবীর গভীরতম হ্রদ কোনটি?
  1. মানস সরোবর
  2. কাস্পিয়ান সাগর
  3. ডেড সী
  4. বৈকাল
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর বৃহত্তম লবণাক্ত পানির হ্রদ হলো কাস্পিয়ান সাগর।
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম হ্রদও। 
- এটি মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত।
- সুপিরিয়র বিশ্বের বৃহত্তর স্বাদুপানির হ্রদ যা উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত।
- লেক আসাই পৃথিবীর সবচেয়ে লবণাক্ত হ্রদ যা আফ্রিকার জিবুতিতে অবস্থিত।
- বৈকাল পৃথিবীর গভীরতম ও প্রাচীনতম হ্রদ যা রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে অবস্থিত।
- ভিক্টোরিয়া আফ্রিকার বৃহত্তম ও পৃথিবীর ৩য় বৃহত্তম হ্রদ। নীলনদের উৎপত্তি এই হ্রদ থেকে।

সূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৪৮.
ব্লু ইকোনমি কোনটির সাথে সম্পর্কিত?
  1. নীল আকাশ
  2. সমুদ্র
  3. পাহাড়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
Blue economy:
- সুনীল অর্থনীতি বা Blue economy হচ্ছে সমুদ্রের সম্পদনির্ভর অর্থনীতি।
- সমুদ্রের বিশাল জলরাশি ও এর তলদেশের বিভিন্ন প্রকার সম্পদকে কাজে লাগানোর অর্থনীতি।

⇒ বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমির চ্যালেঞ্জ:
- পর্যাপ্ত নীতিমালার ও সঠিক কর্মপরিকল্পনার অভাব।
- দক্ষ জনশক্তির অভাব।
- প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব।
- সম্পদের পরিমাণ ও মূল্য সম্পর্কে সঠিক তথ্যের অভাব।
- মেরিন রিসোর্সভিত্তিক পর্যাপ্ত গবেষণা না হওয়া।
- ব্লু-ইকোনমি সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক যোগাযোগের অভাব।
- সমুদ্রে গমন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য গবেষণা জাহাজ না থাকা।

উৎস: i) United Nation ওয়েবসাইট।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৯.
বাংলাদেশে বর্তমানে কয়টি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা রয়েছে? (সেপ্টেম্বর, ২০২৪)
  1. ৯টি
  2. ১১টি
  3. ১৩টি
  4. ২১টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা:
- অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে।
- এর ফলে দেশের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কোনো কোনো প্রতিবেশের উৎপাদনশীলতাও কমে গিয়েছে।
- দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA/ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

⇒ এ-পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
- এলাকাগুলো: সুন্দরবন, কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকত, সেন্টমাটিন দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, মারজাত বাওড়, গুলশান-বারিধারা লেক, বুড়িগঙ্গা নদী, তুরাগ নদী, বালু নদী, শীতলক্ষ্যা নদী, জাফলং-ডাউকি নদী।

উৎস: পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট। 
৫০.
East London কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ক) ইংল্যান্ড
  2. খ) দক্ষিণ আফ্রিকা
  3. গ) ফ্রান্স
  4. ঘ) জার্মানি
ব্যাখ্যা
East London is a city on the Indian Ocean, in South Africa’s Eastern Cape.

Source: britannica.com
৫১.
বাংলাদেশের আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চল কোনটি?
  1. উত্তর-পূর্বাঞ্চল
  2. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
  3. দক্ষিণাঞ্চল
  4. পশ্চিমাঞ্চল
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- বন্যা বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী বন্যাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং নগর বন্যা।

⇒ আকস্মিক বন্যা:
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমী আকস্মিক বৃষ্টিপাত বা পাহাড়ি ঢলের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয়, তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তথা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ প্রভৃতি জেলায় আকস্মিক বন্যা হতে দেখা দেয়।
- বোরো মৌসুমে এ ধরনের বন্যা হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) The Daily Star বাংলা।
৫২.
বাংলাদেশের কোথায় ইউরেনিয়ামের সন্ধান পাওয়া গেছে?
  1. ক) চন্দ্রনাথ পাহাড়ে
  2. খ) আলুটিলা পাহাড়ে
  3. গ) লালমাই পাহাড়ে
  4. ঘ) কুলাউড়া পাহাড়ে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার হারাগাছা পাহাড়ে ইউরেনিয়ামের সন্ধান পাওয়া গেছে।
উৎসঃ মৌলভীবাজার জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।
৫৩.
নিচের কোনটি পর্বত মধ্যবর্তী মালভূমি?
  1. স্পেনের মেসেটা মালভূমি
  2. তিব্বত মালভূমি
  3. ভারতের দাক্ষিণাত্যের মালভূমি
  4. আফ্রিকার দক্ষিণ মালভূমি
ব্যাখ্যা

পর্বত মধ্যবর্তী মালভূমি:
- ভঙ্গিল পর্বত গঠিত হবার সময় পর্বত দ্বারা বেষ্টিত নিম্নস্থান সমূহ উঁচু হয়ে যে মালভূমির সৃষ্টি করে তাই পর্বত মধ্যবর্তী মালভূমি।
- এ ধরনের মালভূমির উচ্চতা সাধারণত ৩০০০-৫০০০ মিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
- উৎপত্তি: সংকোচনজনিত চাপের ফলে ভঙ্গিল পর্বতের মাঝে এ ধরণের মালভূমি সৃষ্টি হয়।
- এছাড়া পাত সঞ্চালন এবং ভূ-আলোড়নের সময় কখনও কখনও ভূ-পৃষ্ঠের ভঙ্গিল পর্বত শ্রেণী তাদের মধ্যবর্তী অপেক্ষাকৃত নিম্ন স্থানসমূহকে ওপরে তুলে আনে এবং মালভূমিতে পরিণত করে। এভাবে গঠিত মালভূমি পর্বত বেষ্টিত থাকে বলে একে পর্বতবেষ্টিত মালভূমি বলে।
- উদাহরণ: তিব্বতের মালভূমি।
- উত্তরে কুনলুন ও দক্ষিনে হিমালয় পর্বতের মধ্যবর্তী অঞ্চল জুড়ে তিব্বত মালভূমি অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর বৃহত্তম ও উচ্চতম মালভূমি। তিব্বত মালভূমির গড় উচ্চতা ৪০০০ মিটারের বেশি।
- এছাড়া এশিয়ার আল তিতাগ ও তিয়েনশান পর্বতমালার মধ্যে তারিম মালভূমি,
- এলবুর্জ ও জাগ্রোস পর্বত শ্রেণীর মধ্যে ইরানের মালভূমি পর্বত।

অপরদিকে,
- আগ্নেয়জাত মালভূমি: ভারতের দাক্ষিণাত্যের মালভূমি।
- ক্ষয়জাত মালভূমি: দক্ষিণ ভারতের মালভূমি, সৌদি আরবের মালভূমি, সাইবেরিয়ার পূর্ব মালভূমি, আফ্রিকার দক্ষিন মালভূমি ক্ষয়জাত মালভূমি।
- চ্যুতি বিশিষ্ট মালভূমি: স্পেনের মেসেটা মালভূমি।

উৎস: প্রাকৃতিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৪.
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালের সময়সীমা হলো-
  1. ক) ফেব্রুয়ারী-মে
  2. খ) মার্চ-এপ্রিল
  3. গ) মার্চ-মে
  4. ঘ) মার্চ-জুলাই
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মার্চ থেকে মে মাস (ফাল্গুন-জ্যৈষ্ঠ) পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল। এ সময় সূর্য কর্কটক্রান্তির উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে এ ঋতুতে তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৫৫.
বাংলাদেশে কত সালে প্রথম জিআইএস প্রযুক্তি চালু হয়?
  1. ১৯৯০ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
ব্যাখ্যা
• জিআইএস (GIS):
- এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Geographic information systems.
- Geographical Information System (GIS) বা ভৌগোলিক তথ্য পদ্ধতি হলো ভৌগোলিক তথ্য সংরক্ষণ এবং বিশ্লেষণ ব্যবস্থা।
- সাধারণ অর্থে জিআইএস বলতে স্থানিক ও অস্থানিক উপাত্ত সংগ্রহ করে কম্পিউটার প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য সমন্বয় করে তা মানচিত্রে উপস্থাপন করাকে বুঝায়। অর্থাৎ জিআইএস হলো কম্পিউটারের মাধ্যমে কোনো তথ্য ধারণ করে ভূ-পৃষ্ঠের কোনো অবস্থানের চিত্র বর্ণনা করা।
==============
 → ১৯৬৪ সালে কানাডিয়ান — The Canadian Geographic Information System (CGIS)' এর মাধ্যমে জিআইএস এর ব্যবহার শুরু হয়।  → সত্তরের দশকে নগর পরিকল্পনায় প্রথম কম্পিউটারভিত্তিক জিআইএস ব্যবহার করা হয়।
 → ১৯৮০ সালের পর জিআইএস এর ব্যাপক প্রসার ঘটে।
 → বাংলাদেশে ১৯৯১ সালে প্রথম জিআইএস এর ব্যবহার শুরু হয়।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬.
বাংলাদেশের কোথায় প্লাইস্টোসিনকালের সোপান দেখা যায়?
  1. বরিশাল
  2. যশোর
  3. কুষ্টিয়া
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা

প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

ক) বরেন্দ্রভূমি:
- বরেন্দ্রভূমি রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার।
- প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের সর্ববৃহৎ উঁচুভূমি।
- বর্তমানে বরেন্দ্র বহুমুখী সেচ প্রকল্প এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ অঞ্চলটিকে কৃষিকাজের জন্য বিশেষ উপযোগী করা হয়েছে।

খ) মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়:
- টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধুপুর এবং গাজীপুর জেলার ভাওয়ালের গড় নিয়ে এলাকাটি গঠিত।
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের দ্বিতীয় বৃহত্তম উঁচুভূমি।
- সমভূমি থেকে এর গড় উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার এবং আয়তন ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
- এখানকার মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য তেমন উপযোগী নয়। এটি দেশের গজারী বৃক্ষের কেন্দ্র হিসাব পরিচিত।

গ) লালমাই পাহাড়:
- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত।
- এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার।
- এ পাহাড়ের মাটি লাল এবং নুড়ি, বালি ইত্যাদি দ্বারা গঠিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৭.
বাংলাদেশের কোন জেলায় সর্বপ্রথম ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়?
  1. বাগেরহাট
  2. চাঁপাইনবাবগঞ্জ  
  3. চাঁদপুর
  4. ফরিদপুর 
ব্যাখ্যা

-  চাঁপাইনবাবগঞ্জ সর্বপ্রথম ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

আর্সেনিক (Arsenic):
- আর্সেনিক দূষণ একটি Global Problem.
- তাইওয়ানে প্রথম শনাক্তকরণ হয়।
- পৃথিবীর সকল মহাদেশের ৫০ টির মতো দেশে ভূগর্ভস্থ বা ভূউপরিস্থ পানিতে উচ্চমাত্রার আর্সেনিক শনাক্ত করা হয়েছে।
- বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দে চাঁপাই নবাবগঞ্জ উপজেলার বড়ঘরিয়া মৌজায় কয়েকটি কূপে পরীক্ষা চালিয়ে সর্বপ্রথম ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি লক্ষ্য করে।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর মতে, পানিতে নির্ধারিত মান অনুযায়ী ০.০১ পিপিএম আর্সেনিকের মাত্রা গ্রহণযোগ্য। 
- তবে যখন কোন এলাকার পানিতে ০.০১ পিপিএম এর চেয়ে বেশি পরিমাণ আর্সেনিক থাকে তখন সেই এলাকার পানিকে আর্সেনিক দূষণযুক্ত বলে।
- বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আর্সেনিক দূষণের মাত্রা বেশি।
- এবং উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে এ দূষণের মাত্রা কম।
- সর্বোচ্চ দূষণযুক্ত জেলাগুলো হচ্ছে চাঁদপুর (৯০%), মুন্সিগঞ্জ (৮৩%), গোপালগঞ্জ (৭৯%), মাদারীপুর (৬৯%), নোয়াখালী (৬৯%), সাতক্ষীরা (৬৭%), কুমিল্লা (৬৫%), ফরিদপুর (৬৫%), শরিয়তপুর (৬৫%), মেহেরপুর (৬০%) ও বাগেরহাট (৬০%)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বিএড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮.
মানুষের শ্রবণ যন্ত্রের স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা কত?
  1. ক) ১-৭৫ ডেসিবল
  2. খ) ৭৫-১০০ ডেসিবল
  3. গ) ১০০-১৩০ ডেসিবল
  4. ঘ) ১৩০-১৫০ ডেসিবল
ব্যাখ্যা
• শব্দ দূষণ (Sound Pollution):
- শব্দ দূষণ অনুযায়ী আমাদের শ্রবণযন্ত্রের স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা ১-৭৫ ডেসিবল এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। উক্ত মাত্রার উপরের শব্দ মানুষের জন্য ক্ষতিকর।
- সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতায় ঊর্ধ্বে সৃষ্ট যে কোনো শব্দ যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটায় তাই হলো শব্দ দূষণ।

 
  তথ্যসূত্র: ভূগোল (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯.
‘টেংরাগিরি বনাঞ্চল’ কোথায় অবস্থিত?
  1. সিলেট
  2. রাজশাহী
  3. বান্দরবান
  4. বরগুনা
ব্যাখ্যা

• ‘টেংরাগিরি বনাঞ্চল’ :
- বরগুনার তালতলী উপজেলা থেকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকত পর্যন্ত বিস্তৃত এই বন।
- বন বিভাগের খাতায় ‘টেংরাগিরি বনাঞ্চল’ হলেও স্থানীয়ভাবে এটি ‘ফাতরার বন’ নামে পরিচিত।
- ১৯৬৭ সালে এই নামকরণ করা হয়।
- তখনকার হিসাব অনুযায়ী, বরগুনার বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে চোখজুড়ানো এই বনের আয়তন ১৩ হাজার ৬৪৪ একর।
- ১৯২৭ সালের জরিপ অনুযায়ী, ১৯৬০ সালের ১২ জুলাই তৎকালীন সরকার এটিকে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘোষণা করে।
- লবণাক্ত ও মিষ্টি মাটির অপূর্ব মিশ্রণের কারণে এই বনে গেওয়া, জাম, ধুন্দল, কেওড়া, সুন্দরী, বাইন, করমচা, বলই কেওয়া, গরানগাছের - সমারোহ। এখানে বসত গড়েছে হাজারো প্রজাতির প্রাণী।
- অনাবিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য হওয়ায় এখানে গড়ে উঠেছে সোনাকাটা ইকোপার্ক পর্যটনকেন্দ্র।
- কিন্তু একের পর এক গাছের মৃত্যু প্রকৃতি ও মানুষের এসব আয়োজনকে ভন্ডুল করতে বসেছে।

উৎস: প্রথম আলো এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৬০.
'ভিসুভিয়াস' আগ্নেয়গিরি হচ্ছে -
  1. ক) সক্রিয়
  2. খ) সুপ্ত
  3. গ) নিষ্ক্রিয়
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
আগ্নেয়গিরি:
- যে আগ্নেয়গিরি থেকে মাঝে মাঝে বা সব সময় অগ্নুৎপাত হয় তাকে সক্রিয় বা জীবন্ত আগ্নেয়গিরি বলে।
যেমন:
• ইতালির ভিসুভিয়াস।
• হাওয়াই দ্বীপের মাওনালেয়া ও মাওনাকেয়া।
• কোটোপ্যাক্সি ইত্যাদি।  

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬১.
বাংলাদেশে প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করা হয়েছিল কোথায়?
  1. বাখরাবাদ
  2. হরিপুর
  3. রশিদপুর
  4. তিতাস
ব্যাখ্যা

• প্রাকৃতিক গ্যাস
- বাংলাদেশের খনিজ সম্পদের মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাসই গুরুত্বপূর্ণ।
- ১৯৫৫ সালে বার্মা ওয়েল কোম্পানি সিলেটের হরিপুর এলাকায় দেশের প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে।
- ১৯৫৭ সাল থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হয়।

- বর্তমানে দেশে মোট ২৯টি গ্যাস ক্ষেত্র রয়েছে।
- বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে, যেমন- বিবিয়ানা, তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, রশিদপুর ইত্যাদি।
- এর মধ্যে ভোলার ইলিশা-১ কূপটি দেশের সর্বশেষ (২৯তম) গ্যাসক্ষেত্র।
- বাংলাদেশের অন্যান্য খনিজ সম্পদের মধ্যে কয়লা, চুনাপাথর, কঠিন শিলা, গন্ধক ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উৎস: এস এস সি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়  এবং পেট্রোবাংলা।

৬২.
চামড়া পাকা করা ও রং তৈরির কাজে কোন বৃক্ষের ছাল ব্যবহার করা হয়? 
  1. গেওয়া
  2. গরান 
  3. সুন্দরি
  4. গোলপাতা 
ব্যাখ্যা

বৃক্ষ:
- সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম জোয়ারধৌত বনভূমি।
- এই অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ প্রজাতির মধ্যে রয়েছে গড়ান, গেওয়া, সুন্দরী ও গোলপাতা।

- গড়ান গাছের ছালের কষ চামড়া পাকা করা (tanning) ও রং তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়।
- গরান বৃক্ষের ছালের কষ জাল রং করতেও ব্যবহার করা হয়। 
- গড়ানের ছাল থেকে এক ধরনের কালো বা গাঢ় রঙের রঞ্জক পাওয়া যায়, যা চামড়াকে শক্ত ও টেকসই করে তোলে।
- গড়ান একটি ম্যানগ্রোভ জাতীয় উদ্ভিদ;
- তবে দুঃখজনকভাবে এটি আইইউসিএন-এর তালিকায় বাংলাদেশের বিপন্ন প্রজাতির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে,
• গেওয়া কাঠ নিউজপ্রিন্ট ও দিয়াশলাই কারখানায় ব্যবহার করা হয়। 
• সুন্দরি বড় বড় খুঁটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
• গোলপাতা ঘরের ছাউনিতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস:
১. বন অধিদপ্তর;
২. জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

৬৩.
'ভেঙ্গী ভ্যালী' কোথায় অবস্থিত?
  1. বান্দরবান
  2. খাগড়াছড়ি
  3. রাঙামাটি
  4. মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা
- কাপ্তাই থেকে প্লাবিত উপত্যকা বা ভ্যালি ভেঙ্গি ভ্যালি নামে পরিচিত।
- এটি রাঙামাটি জেলার কাপ্তাইয়ে অবস্থিত।

অন্যদিকে,
- হালদা ভ্যালি : খাগড়াছড়ি।
- সাজেক ভ্যালি : রাঙামাটি।
- বালিশিরা ভ্যালি : মৌলভীবাজার।
- সাঙ্গু ভ্যালি - চট্টগ্রাম।
- নাপিত খালি ভ্যালি - কক্সবাজার।

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক পত্রিকা।
৬৪.
৩১ জুলাই ২০১৫ তারিখে ছিটমহল বিনিময় কার্যকর করার মাধ্যমে বাংলাদেশের কতটি “ছিটমহল” ভারতের ভৌগোলিক সীমায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে?
  1. ক) ৫১টি
  2. খ) ৫৭ টি
  3. গ) ১০৯ টি
  4. ঘ) ১১১ টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থল সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই দুই দেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় হয়। ফলে বাংলাদেশের মোট ভূখণ্ডে ১০০৪১.২৫ একর ভূমি যোগ হয়। এর ফলে বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে ভারতের ১১১টি ছিটমহল এবং ভারতের ভূখন্ডের ভিতর বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল যুক্ত হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি
৬৫.
'বেলেপাথর' রূপান্তরিত হয়ে কোন শিলায় পরিণত হয়?
  1. চুনাপাথর
  2. মার্বেল
  3. স্লেট
  4. কোয়ার্টজাইট
ব্যাখ্যা

রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rocks):
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা যখন প্রচণ্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- ভূআন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প, রাসায়নিক ক্রিয়া কিংবা ভূগর্ভস্থ তাপ আগ্নেয় ও পাললিক শিলাকে রূপান্তরিত করে।

যেমন: 
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট,
- কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট,
- গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস;
- কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

৬৬.
বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল কোনটি?
  1. চা
  2. ইক্ষু
  3. পাট
  4. গম
ব্যাখ্যা

পাট (Jute):
- পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল। 
​- বাংলাদেশে সাধারণত দুই প্রকার পাট চাষ হয়, দেশি এবং তোষা পাট। 
​- রংপুর, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, কুমিল্লা, যশোর, ঢাকা, কুষ্টিয়া, জামালপুর, টাঙ্গাইল, পাবনা প্রভৃতি জেলায় পাট চাষ ভালো হয়।
- পাট উষ্ণ অঞ্চলের ফসল।
​- পাট চাষের জন্য অধিক তাপমাত্রা (২০ থেকে ৩৫° সেলসিয়াস) এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের (১৫০ থেকে ২৫০ সেন্টিমিটার) প্রয়োজন হয়।
- নদীর অববাহিকায় পলিযুক্ত দোআঁশ মাটি পাট চাষের জন্য বিশেষ সহায়ক।

​তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৭.
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সরকার দেশের কতটি এলাকাকে সংরক্ষিত ঘোষণা করেছে? [মে, ২০২৫]
  1. ৪১টি
  2. ৪৪টি
  3. ৪৭টি
  4. ৫৪টি
ব্যাখ্যা
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা:
- দেশের বন্যপ্রাণি সংরক্ষনে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করে সরকার সারা দেশে সর্বমোট ৫৪টি সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করেছে।

উল্লেখ্য,
- ৫৪টি সংরক্ষিত এলাকায় স্থানীয় জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে সহব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।
- সংরক্ষিত এলাকাগুলোতে সরকার, স্থানীয় জনগণ এবং আইইউসিএনের মতো বিভিন্ন সংস্থার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাঘ, ঘড়িয়াল, ডলফিন, শকুন ইত্যাদি প্রজাতি সংরক্ষণে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে।
- সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে।

উৎস: i) বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট। [link]
ii) প্রথম আলো।
৬৮.
নীলগিরি-নীলাচল কোথায় অবস্থিত?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. বান্দরবান
  3. রাঙামাটি
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
- নীলগিরি ও নীলাচল বান্দরবানে অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ এখানকার প্রধান আকর্ষণ।
- এই হ্রদের চারদিকে সবুজ ঘেরা পাহাড়, নীলাভ পানি এবং হ্রদের ধারে ছোট ছোট টিলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের কাছে অনাবিল আনন্দ উপভোগের এক মোহনীয় স্থানে রূপান্তরিত করেছে।
- এখানে বৌদ্ধ বিহার ও চাকমা রাজার রাজবাড়ি অন্যতম দর্শনীয় স্থান।
- খাগড়াছড়ির বনভূমি, পাহাড় ও প্রাকৃতিক ঝরনা।
- বান্দরবানের মেঘলা, শৈলপ্রপাত, নীলগিরি ও নীলাচল ইত্যাদি পর্যটন স্পট অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৬৯.
আগ্নেয় ও পাললিক শিলা রূপান্তরিত হয়ে  নিম্নোক্ত কোন শিলা সৃষ্টি হয়?
  1. আদি শিলা
  2. স্তরীভূত শিলা
  3. অস্তরীভূত শিলা 
  4. রূপান্তরিত শিলা
ব্যাখ্যা

রূপান্তরিত শিলা:
- ভূ-আন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্পসহ অন্যান্য রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে আগ্নেয় ও পাললিক শিলা অত্যধিক তাপ ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে এক নতুন ধরনের শিলার সৃষ্টি করে, যাকে রূপান্তরিত শিলা বলা হয়।
যেমন-কাঁদা রূপান্তরিত হয়ে স্লেট, গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিসে পরিণত হয়। 

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭০.
মংলা সমুদ্র বন্দরটি কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. ক) শ্যালা নদী
  2. খ) পশুর নদী
  3. গ) মাথাভাঙ্গা নদী
  4. ঘ) হাড়িয়াভাঙ্গা নদী
ব্যাখ্যা

মংলা বন্দর বাংলাদেশের দ্বিতীয় আন্তর্জাাতিক সমুদ্র বন্দর।
১৯৫০ সালে ১১ ডিসেম্বর বৃটিশ বাণিজ্যিক জাহাজ ''The City of Lyons'' সুন্দরবনের মধ্যে পশুর নদীর জয়মনিগোল নামক স্থানে নোঙ্গর করে ।
এটাই ছিল মংলা বন্দর প্রতিষ্ঠার শুভ সুচনা।

উৎসঃ মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ।

৭১.
বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান খনিজ সম্পদ কোনটি?
  1. চুনাপাথর
  2. কাঁচবালি
  3. কয়লা
  4. খনিজ লবণ
ব্যাখ্যা

◉ বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান খনিজ সম্পদ কয়লা।

• কয়লা: 
-  ১৯৫৯ সালে ভূ-পৃষ্ঠের অত্যধিক গভীরতায় সর্বপ্রথম কয়লা আবিষ্কৃত হয়।
-  বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জি.এস.বি)-এর অব্যাহত প্রচেষ্টায় ৪টি কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।
- পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার যৌথ কোম্পানি বি.এইচ.পি-মিনারেলস আরও একটি কয়লাখনি আবিষ্কার করলে দেশে কয়লাখনির মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৫টিতে। 
- আবিষ্কৃত সকল কয়লাখনিই দেশের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। 
- উত্তরপশ্চিমাঞ্চলেকয়লা প্রধান খনিজ সম্পদ। 
- যথা: জামালগঞ্জ, বড়পুকুরিয়া,খালাশপীর,দীঘিপাড়া,ফুলবাড়ী তে অবস্থিত কয়লার খনিগুলো।

• চুনাপাথর:
-  ১৯৬০-এর দশকের প্রথমভাগে দেশের উত্তর-পূর্বভাগে অবস্থিত টাকেরঘাট এলাকায় ইয়োসিনযুগীয় চুনাপাথরের একটি ক্ষুদ্র মজুত থেকে চুনাপাথর আহরণ করে তা একটি সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে সরবরাহ করা হয়।
- নওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলায় চুনাপথর খনি রয়েছে।

• কাচাঁবালি:
-  বাংলাদেশে কাচবালির উল্লেখযোগ্য মজুত রয়েছে।
- বাংলাদেশের উপকূলীয় বলয় ও উপকূলীয় দ্বীপসমূহে সৈকত বালির মজুত চিহ্নিত করা হয়েছে।

• খনিজ লবণ: 
- বাংলাদেশে সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে বিশেষত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং খুলনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে সমুদ্রের লোনা পানি বাষ্পীভবন বা সৌর পদ্ধতিতে আটকে রেখে লবণ উৎপাদন করা হয়।
- যা প্রধান খনিজ সম্পদ নয়।

∴ সুতরাং সঠিক উত্তর কয়লা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭২.
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ২০৫০ সাল নাগাদ দেশের কত শতাংশ ভূমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে?
  1. ১৩ শতাংশ
  2. ১৭ শতাংশ
  3. ২১ শতাংশ
  4. ২২ শতাংশ
ব্যাখ্যা

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ:
- জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের জিডিপির দুই শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ২১০০ সাল নাগাদ এই হার বৃদ্ধি হবে নয় শতাংশ।
- সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ২০৫০ সাল নাগাদ দেশের ১৭ শতাংশ ভূমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং একই সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে দেশের মোট উৎপাদনের ৩০ শতাংশ হ্রাস পাবে।
- লবণাক্ততা ও বন্যার ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে উপকূলীয় অঞ্চল।
- তাছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালে বাংলাদেশে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৪ লাখ এবং ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় দুই কোটির বেশি মানুষ তাদের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে স্থানচ্যুত হতে পারে।
- জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ এবং তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
- শুধু গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বছরে গড় ক্ষতির পরিমাণ ইতোমধ্যে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার (মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির ০.৭ শতাংশ)।
- ২০৫০ সালের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে এবং এর ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের জনজীবন আরও বিপর্যন্ত হতে পারে।
- তাছাড়া, সুন্দরবনের ৪০ শতাংশ অঞ্চল আগামী কয়েক দশকের মধ্যে বিলীন হবে।

উৎস: Transparency International Bangladesh ওয়েবসাইট।

৭৩.
'Rijuk Falls' is located in -
  1. ক) Khagrachari
  2. খ) Sitakund
  3. গ) Bandarban
  4. ঘ) Rangamati
ব্যাখ্যা
- ঋজুক ঝর্ণা (Rijuk Falls) বান্দরবানে অবস্থিত।

• বান্দরবানে অবস্থিত কয়েকটি ঝর্ণা:

- ট্রিপল ঝর্ণা (Triple Falls),
- জাদিপাই ঝর্ণা (Jadipai Falls),
- চিংড়ি ঝর্ণা (Shrimp Fountain), 
- জোড়া ঝর্ণা বা যমজ ঝর্ণা (Twin Falls or Double Falls), 
- রূপমুহুরী ঝর্ণা (Rupmuhuri Falls),
- বাকলাই ঝর্ণা (Baklai Falls),
- কুমারী ঝর্ণা (Kumari Falls), 
- দামতুয়া ঝর্ণা(Damtuya Falls), 
- রেনিক্ষ্যং ঝর্ণা (Renikkhyng Falls), 
- শৈলপ্রপাত (Shaoilo Propat), 
- তিনাপ সাইতার (Tinap Saitar), 
- নাফাখুম (Nafakhum),

উৎস: বান্দরবান জেলা ওয়েবসাইট।
৭৪.
সুয়েজ খালকে জাতীয়করণ করা হয় কত সালে?
  1. ক) ১৮৫৬ সালে
  2. খ) ১৮৫৯ সালে
  3. গ) ১৮৬৯ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা
- সুয়েজ খাল একটি কৃত্রিম সামুদ্রিক খাল যা লোহিত সাগরকে ভূমধ্যসাগরের সাথে যুক্ত করেছে।
- ফরাসি প্রকৌশলী ফার্দিনান্দ দ্য লেসেপ্সের উদ্যোগে ১৮৫৯ সালে সুযেজ খালের খননকার্য শুরু হয়। ১৮৬৯ সালের ১৭ নভেম্বর খালটি নৌ চলাচলের জন্যে উন্মুক্ত‍ করে দেওয়া হয়।
- শুরুতে খালটি ফ্রান্স ও মিশরের জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হতো। পরবর্তীতে মিশর তার ৪৪ ভাগ শেয়ার ব্রিটেনের নিকট বিক্রি করে দেয়।
- ১৯৫৬ সালের ২৬ জুলাই মিশরের গামাল আবদেল নাসের সরকার সুয়েজ খালকে জাতীয়করণ করেন।
- এর ফলে ইসরাইল, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের সাথে মিশরের যুদ্ধ বেধে যায় যা ‘দ্বিতীয় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ’ বা ‘সুয়েজ যুদ্ধ’ নামে পরিচিত।
- বর্তমানে সুয়েজ খাল মিশর সরকারের অধীন ‘সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি কোম্পানি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।
- আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসারে সুয়েজ খাল সবদেশের জন্যে সকল ধরনের বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজ চলাচলের চন্যে উন্মুক্ত থাকবে।

তথ্যসূত্র:- সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষ ওয়েবসাইট।
৭৫.
বাংলাদেশের জলবায়ু কী ধরনের?
  1. ক) ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় জলবায়ু
  2. খ) ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু
  3. গ) উপক্রান্তীয় জলবায়ু
  4. ঘ) ক্রান্তীয় জলবায়ু
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ু সাধারণত সমভাবাপন্ন। দেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করায় এখানে ক্রান্তীয় জলবায়ু বিরাজ করে। কিন্তু মৌসুমি বায়ুর প্রভাব এ দেশের জলবায়ুর উপর এত বেশি যে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু নামে পরিচিত। উষ্ণ ও আদ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক শীতকাল বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৭৬.
সমুদ্র সমতল হতে অতি উচ্চ বিস্তীর্ণ ভূমিকে বলা হয়-
  1. ক) সমভূমি
  2. খ) পর্বত
  3. গ) মালভূমি
  4. ঘ) চ্যুতি
ব্যাখ্যা
পর্বত থেকে নিচু কিন্তু সমভূমি থেকে উঁচু খাড়া ঢালযুক্ত ঢেউ খেলানো বিস্তীর্ণ সমতলভূমিকে মালভূমি বলে।।
মালভূমির উচ্চতা শত মিটার থেকে কয়েক হাজার মিটার পর্যন্ত হতে পারে। পৃথিবীর বৃহত্তম মালভূমির উচ্চতা ৪,২৭০ থেকে ৫,১৯০ মিটার। যেমন- পামির মালভূমি। পামির মালভূমিকে পৃথিবীর ছাদ বলা হয়।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৭.
পাতাঝরা বা পর্ণমোচী বৃক্ষের উদাহরণ কোনটি?
  1. গর্জন
  2. চাপালিশ
  3. তেলসুর
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

​বনভূমির প্রকারভেদ:
​মৃত্তিকার গুণাগুণ এবং জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বাংলাদেশের বনভূমিসমূহকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমি;
২. ক্রান্তীয় পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমি এবং
৩. স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন।

​ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমি:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার অংশবিশেষ, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার পাহাড়ি অঞ্চলে এ বনভূমি অবস্থিত।
​- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বৃক্ষ এবং অপেক্ষাকৃত কম বৃষ্টিযুক্ত অঞ্চলে পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমি অবস্থিত।
​- চিরহরিৎ বৃক্ষসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো চাপালিশ, তেলসুর, ময়না প্রভৃতি।
​- আর পাতাঝরা বা পর্ণমোচী বৃক্ষের মধ্যে গর্জন, শিমুল, কড়ই, জারুল, সেগুন উল্লেখযোগ্য।
​- ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমির মোট আয়তন প্রায় ১৫,৩২৬ বর্গ কিলোমিটার।

​তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৮.
In Bangladesh, Which is the highest source of producing energy?
  1. ক) Oil
  2. খ) Gas
  3. গ) Coal
  4. ঘ) Diesel
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের জ্বালানি উৎস: 
গ্যাস - ৫১.৩৫%
ফার্নেস অয়েল - 27.86%
কয়লা - ৮.০১% 
ডিজেল – ৫.৮৫%
 বিদ্যুৎ আমদানি – ৫. 26%
জলবিদ্যুৎ – ১.০৪%
নবায়নযোগ্য জ্বালানি - ১.০৪%

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২২।
৭৯.
প্লবতা বেশি -
  1. ক) পুকুরের পানির
  2. খ) সমুদ্রের পানির
  3. গ) নদীর পানির
  4. ঘ) সুইমিংপুলের পানির
ব্যাখ্যা
- নদীর পানি অপেক্ষা সমুদ্রের পানিতে প্লবতা বেশি হওয়ায় সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটা সহজ।
- প্লবতা প্রবাহীর ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে (সমানুপাতিক)। 
- নদীর পানির তুলনায় সমুদ্রের পানির ঘনত্ব কিছু বেশি। 
- তাই সাঁতার কাটার সময় নদীর পানির তুলনায় সমুদ্রের পানিতে বেশি উর্ধ্বমুখী বল পাওয়া যায়। 
- এ কারণে নদীর পানি অপেক্ষা সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটা সহজ।
 
উৎস : কালের কণ্ঠ 
৮০.
দেশের প্রথম সংরক্ষিত সামুদ্রিক এলাকা হিসেবে কত সালে ‘দ্য সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড সংরক্ষিত সামুদ্রিক এলাকা’ প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ২০১২ সালে
  2. ২০১৩ সালে
  3. ২০১৪ সালে
  4. ২০১৬ সালে
ব্যাখ্যা

সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড:
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground) খাদ আকৃতির সামুদ্রিক অববাহিকা বা গিরিখাত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত।
- এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত।
- গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের প্রস্থ ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার, তলদেশ তুলনামূলকভাবে সমতল এবং পার্শ্ব দেয়াল প্রায় ১২ ডিগ্রি হেলানো।
- মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে যে, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড অবক্ষেপপূর্ণ ঘোলাটে স্রোত এনে বেঙ্গল ফ্যানে ফেলছে।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের অধিকাংশ পলল গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সঙ্গমস্থলে উদ্ভূত।
- এগুলো যথাক্রমে হিমালয়ের দক্ষিণ ও উত্তর দিক থেকে আসছে।
- বর্তমান অবস্থায় স্বল্প পরিমাণের ঘোলাটে স্রোত আর বালি সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের মাধ্যমে মহীসোপান থেকে গভীর সমুদ্রে পলল পরিবহণের প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

উল্লেখ্য,
- দেশের প্রথম সংরক্ষিত সামুদ্রিক এলাকা হিসেবে সরকার ২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবর ‘দ্য সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড সংরক্ষিত সামুদ্রিক এলাকা’ প্রতিষ্ঠা করে।
- এটি তিমি, ডলফিন, সামুদ্রিক কচ্ছপ, হাঙর ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে।
- বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর আওতায় বঙ্গোপসাগরের সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড এবং সামুদ্রিক মত্স্যসম্পদ অধ্যাদেশ ১৯৮৩-এর আওতায় বঙ্গোপসাগরের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলকে দেশের প্রধান দুটি সংরক্ষিত সামুদ্রিক এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যার বিস্তৃত জলসীমার পরিমাণ ২৪৩ হাজার ৬০০ হেক্টর (২ হাজার ৪৩৬ বর্গকিলোমিটার), যা দেশের মোট সামুদ্রিক জলসীমার প্রায় ২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বণিক বার্তা।

৮১.
Where is kamta gas field located?
  1. Khagrachari
  2. Noakhali
  3. Gazipur
  4. Brahmanbaria
  5. Sylhet
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন গ্যাস ক্ষেত্র ও তাদের ভৌগোলিক অবস্থান: 
কামতা - গাজীপুর,
বাঙ্গুরা - কুমিল্লা,
বিয়ানীবাজার - সিলেট,
রশিদপুর - মৌলভীবাজার,
বিবিয়ানা - হবিগঞ্জ,
মেঘনা - ব্রাহ্মনবাড়িয়া,
তিতাস - ব্রাহ্মনবাড়িয়া,
সুন্দলপুর - নোয়াখালী,
ছাতক - সুনামগঞ্জ,
সেমুতাং - খাগড়াছরি।

উৎস: বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস্ কোম্পানী লিমিটেড ওয়েবসাইট।
৮২.
কোন কোন উপজেলা নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওর অবস্থিত?
  1. ক) তাহিরপুর এবং ধর্মপাশা
  2. খ) জামালগঞ্জ এবং তাহিরপুর
  3. গ) জগন্নাথপুর এবং ধর্মপাশা
  4. ঘ) দিরাই এবং জামালগঞ্জ
ব্যাখ্যা
টাঙ্গুয়ার হাওর (Tanguar Haor)  
• টাঙ্গুয়ার হাওর বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রুপ জলমহালগুলোর অন্যতম। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা এবং তাহিরপুর উপজেলাস্থিত জীববৈচিত্রে সমৃদ্ধ মিঠা পানির এ হাওর বাংলাদেশের ২য় রামসার এলাকা।
• এ হাওরটিতে ছোটবড় ১২০টি বিল রয়েছে। ৪৬টি গ্রামসহ পুরো হাওর এলাকার আয়তন প্রায় ১০০ বর্গ কিমি, এর মধ্যে ২৮০২.৩৬ হেক্টর জলাভূমি রয়েছে।
• কেবল সুনামগঞ্জ নয়, গোটা বাংলাদেশেই হাওরটি শীতের অতিথি পাখিদের ‘স্বর্গরাজ্য’ হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর এখানে প্রায় ২০০ প্রজাতির অতিথি পাখির আগমন ঘটে।
• টাঙ্গুয়ার হাওরকে ২০০০ সালের ১০ জুলাই ১০৩১তম রামসার সাইট ঘোষণা করা হয়।

তথ্যসূত্র:- সুনামগঞ্জ জেলা ওয়েবসাইট এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৩.
দেশের বাণিজ্যিক জ্বালানির সবচেয়ে বড় অংশ কোন খনিজ দ্বারা পূরণ করা হয়?
  1. কয়লা
  2. খনিজ তেল
  3. চুনাপাথর
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যাখ্যা

খনিজ সম্পদ: 
​- বিশ্বের যে কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে খনিজ সম্পদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। 
​- বাংলাদেশ খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ না হলেও যেটুকু খনিজ সম্পদ রয়েছে তা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
​- খনিজ সম্পদসমূহের মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ তেল, কয়লা, কঠিন শিলা, চুনাপাথর, নুড়িপাথর প্রভৃতি।
​- দেশের মোট বাণিজ্যিক জ্বালানি ব্যবহারের শতকরা ৭১ ভাগ পূরণ করে প্রাকৃতিক গ্যাস।
​- খনিজ তেল পরিশোধন করে ডিজেল, কেরোসিন প্রভৃতিতে রূপান্তর করে ব্যবহার করা হয়। 
​- প্রাপ্ত খনিজ সম্পদগুলো বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যেমন- চুনাপাথর সিমেন্ট শিল্পে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
​- এছাড়া কৃষি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে খনিজ সম্পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

​তথ্যসূত্র: লাইভ এমসিকিউ লেকচার, ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৪.
বাংলাদেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত? 
  1. কাপ্তাই
  2. আশুগঞ্জ
  3. ঘোড়াশাল
  4. ভেড়ামারা
ব্যাখ্যা

পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র:
- কর্ণফুলি পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
- এটি রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় কর্ণফুলী নদীর ওপর অবস্থিত। 
- এটি চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৫০–৬৫ কিলোমিটার দূরে।
- এই কেন্দ্রটি ১৯৬২ সালে চালু হয়।
- বাঁধটির দৈর্ঘ্য ৬৭০.৬ মিটার এবং উচ্চতা ৪৫.৭ মিটার।
- বাঁধের পাশে ১৬টি জলকপাট এবং ৭৪৫ ফুট দীর্ঘ একটি স্পীলওয়ে রয়েছে, যা পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয়।
- এই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের সবচেয়ে বড় এবং একমাত্র প্রধান জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হিসেবে পরিচিত। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

৮৫.
'বালিশিরা ভেলী' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) বান্দরবান
  2. খ) রাঙামাটি
  3. গ) মৌলভীবাজার 
  4. ঘ) খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের ভেলী বা উপত্যকাসমূহ:
- বালিশিরা ভেলী: মৌলভীবাজার 
- হালদা ভেলী: খাগড়াছড়ি
- ভেঙ্গী ভেলী: রাঙামাটি
- সাজেক ভেলী: রাঙামাটি 

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮৬.
বেগমগঞ্জে গ্যাসের সন্ধানে প্রথম কূপ খনন করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৭৪ সালে
  2. ১৯৭৬ সালে
  3. ১৯৭৮ সালে
  4. ১৯৮০ সালে
ব্যাখ্যা
- নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ১৯৭৬ সালে প্রথম গ্যাসের সন্ধানে প্রথম কূপ খনন করা হয়।
- এরপর ১৯৭৮ সালে দ্বিতীয় আরেকটি কূপ খনন করা হয়।
- দুটি কূপের কোনোটিতে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যায়নি।
- পরে ২০১৩ সালে তৃতীয় আরেকটি কূপের খনন শেষে সেখানে কাঙ্ক্ষিত গ্যাস পাওয়া যায়। পরে ওই কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু করা হয়।
- ওই কূপ থেকে বর্তমানে প্রতিদিন ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

সূত্র- প্রথম আলো।
৮৭.
নিচের কোনটি অর্থকরী ফসল নয়?
  1. ক) ইক্ষু
  2. খ) ভুট্টা
  3. গ) তুলা
  4. ঘ) ফুল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের কৃষিজ ফসলকে প্রধান দু’টি ভাগে ভাগ করা হয়। যথা :
১. খাদ্যশস্য (ধান, গম, ডাল, তেলবীজ, আলু, ভুট্টা, সবজি ও ফলমূল)।
২. অর্থকরী ফসল (পাট, চা, ইক্ষু, তুলা, তামাক ও ফুল)।

তন্মধ্যে বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য ধান এবং প্রধান অর্থকরী ফসল পাট। 

উৎস: এস.এস.সি. ভূগোল ও পরিবেশ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৮৮.
কোনটি নবায়নযােগ্য সম্পদ?
  1. প্রাকৃতিক কয়লা
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. ইউরেনিয়াম
  4. সূর্যের আলাে
ব্যাখ্যা

নবায়নযােগ্য শক্তি (Renewable Energy):
- যে জ্বালানি পুন: পুন ব্যবহার করলে সাধারণত ফুরােয় না এমনকি অদূর ভবিষ্যতেও ঘাটতির সম্ভাবনা থাকে না, তাকে নবায়নযােগ্য জ্বালানি বলা হয়।
যেমন: সূর্যের আলাে, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা, সমুদ্রের ঢেউ, বায়ু, নদীর বহমান পানি, পৃথিবীর গভীরের উত্তপ্ত ম্যাগমা।

অনবায়নযােগ্য শক্তি (Non-Renewable Energy):
অনবায়নযােগ্য মানে হলাে, যে শক্তি একবার ব্যবহার করা হলে তা থেকে পুনরায় শক্তি উৎপন্ন করা যায় না। এটি হলো মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ, যা পুনরায় উৎপন্ন করা যায় না।
যেমন: তেল, গ্যাস, কয়লা, ইউরেনিয়াম।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৯.
চামড়া পাকা করার জন্য চামড়া শিল্পে কী ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) সুন্দরবনের গরান ও বাবুল গাছের বাকল
  2. খ) সুন্দরবনের গোলপাতা
  3. গ) সুন্দরবনের গেওয়া গাছের পাতা
  4. ঘ) গর্জন, সেগুন ও চাপালিশ গাছের বাকল
ব্যাখ্যা
• চামড়া শিল্প:
সুন্দরবনের গরান ও বাবুল গাছের বাকল চামড়া পাকা করার জন্য চামড়া শিল্পে ব্যবহৃত হয়।
এছাড়াও -
বাঘ, হরিণ, গুইসাপ, অজগর সাপ প্রভৃতি প্রাণীর চামড়াও শিল্পের কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে -
• কাগজ শিল্প:
- রাঙ্গামাটি জেলার কর্ণফুলী কাগজের কল স্থানীয় বাঁশ সম্পদের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত কাগজ ও মন্ড তৈরির কারখানাটি সিলেটের সাবাই ঘাসকে কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করে।

• নিউজপ্রিন্ট কারখানা:
- সুন্দরবনের গেওয়া কাঠের উপর ভিত্তি করে খুলনার নিউজপ্রিন্ট কারখানাটি গড়ে উঠেছে।

• দিয়াশলাই শিল্প :

- সুন্দরবনের গেওয়া কাঠের উপর নির্ভর করে দিয়াশলাই শিল্প গড়ে উঠেছে। এছাড়া কদম ও শিমুল গাছের কাঠ এই শিল্পে ব্যবহৃত হয়।

• রেয়ন শিল্প:

- চট্টগ্রামের চন্দ্রঘোনার রেয়ন কারখানাটি স্থানীয় বনভূমির নরম কাঠ ও বাঁশের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০.
নিম্নের কোন দেশে ম্যানগ্রোভ বনভূমি রয়েছে?
  1. ভারত
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. ব্রাজিল
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
বিশ্বের শীর্ষ বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন:
1. সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ: বাংলাদেশে অবস্থিত।
2. পিচাভারম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট: ভারতের তামিলনাড়ুতে অবস্থিত।
3. ফ্লোরিডা ম্যানগ্রোভ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত।
4. বাহিয়া ম্যানগ্রোভ: উত্তর-পূর্ব ব্রাজিলে অবস্থিত।
5. গোদাবরী-কৃষ্ণ ম্যানগ্রোভ: অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষ্ণ-গুন্দুর জেলায় অবস্থিত।

উৎস: i) UNESCO ওয়েবসাইট।
ii) বনবিভাগ ওয়েবসাইট।
৯১.
নিচের কোন জেলায় টারশিয়ারি যুগের পাহাড় আছে?
  1. কুমিল্লা
  2. মৌলভীবাজার
  3. রাজশাহী
  4. বগুড়া
ব্যাখ্যা
টারশিয়ারি যুগের পাহাড় আছে -মৌলভীবাজার।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- প্রায় ৭০ মিলিয়ন বছর পূর্বে টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এ পাহাড়গুলো গঠিত হয়েছে বলে এগুলোকে টারশিয়ারি যুগের পাহাড় বলা হয়।
- এ পাহাড়গুলো বেলেপাথর, শ্লেট জাতীয় প্রস্তর এবং কর্দম দ্বারা গঠিত।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে মনে করা হয়।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ের অবস্থান:
- রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান এবং চট্টগ্রাম জেলার অংশবিশেষে, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত ছোট-বড় পাহাড়গুলো নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। 

এছাড়াও - 
- কুমিল্লা, রাজশাহী এবং বগুড়ায় আছে প্লাইস্টোসিনকালের পাহাড়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২.
নবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ কোনটি?
  1. কয়লা
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. সৌরশক্তি
  4. খনিজ তেল
ব্যাখ্যা
- সৌরশক্তি হলো প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া শক্তি যা অবিরামভাবে পাওয়া যায় এবং নিঃশেষ হয় না, এটি নবায়নযোগ্য শক্তি।

নবায়নযোগ্য শক্তি:
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায়।
- এই শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না।
- বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস যেমন: সূর্যের আলো ও তাপ, বায়ু প্রবাহ, জলপ্রবাহ, জৈব শক্তি (জৈবভর), ভূ-তাপ, সমুদ্র তরঙ্গ, সমুদ্র-তাপ, জোয়ার-ভাটা, শহুরে আবর্জনা, হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।

অনবায়নযোগ্য শক্তি:
- অনবায়নযোগ্য শক্তি (Non-renewable Energy) হলো যে সম্পদ প্রকৃতিতে প্রাকৃতিকভাবে নবায়ন হয় না এমনকি মানুষ ও নবায়ন করতে পারে না।
- যেমন: প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, নিউক্লীয় শক্তি, খনিজ তেল ইত্যাদি।

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩.
'আমাজন বনভূমি' কোন ধরণের বনভূমি?
  1. উপক্রান্তীয় ঘনবর্ধন বনাঞ্চল
  2. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি
  3. ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল
  4. গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘনবর্ধন বনাঞ্চল
ব্যাখ্যা
আমাজন বন:
- দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত আমাজন বন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বনাঞ্চল।
- আমাজন পৃথিবীর বৃহত্তম রেইন ফরেস্ট।
- এটি মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘনবর্ধন বনাঞ্চল।
- এর আয়তন প্রায় ২.৬ মিলিয়ন বর্গ মাইল।
- এটি ৯ টি দেশ যথা: ব্রাজিল, বলিভিয়া, পেরু, ইকুয়েডর, কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা, গায়ানা, সুরিনাম ও ফ্রে গায়ানা জুড়ে বিস্তৃত।
- আমাজন বনকে বলা হয় পৃথিবীর ফুসফুস।

তথ্যসূত্র - WWF ওয়েবসাইট ও Worldatlas.com
৯৪.
বাংলাদেশের বড়পুকুরিয়া কয়লা ক্ষেত্রটি কোন বছরে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ১৯৬৫ সালে
  2. ১৯৭৫ সালে
  3. ১৯৮৫ সালে
  4. ১৯৮৮ সালে
ব্যাখ্যা

বড়পুকুরিয়া কয়লা ক্ষেত্র: 
- বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) কর্তৃক ১৯৮৫ সালে বড়পুকুরিয়া কয়লা ক্ষেত্র আবিষ্কার করা হয়।
- এটি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত।
- এর আয়তন ৬.৬৮ বর্গ কিলোমিটার।
- এই বেসিনে কয়লার মোট মজুদ ৩৯০ মিলিয়ন মেট্রিক টন।
- এখানে বিটুমিনাস কয়লা পাওয়া যায়। 

• বিটুমিনাস কয়লার মূল উপাদান হচ্ছে-
- ফিক্সড কার্বন-৪৮.৪০%,
- এ্যাশ- ১২.৪০%, 
- ভোলাটাইল মেটার-২৯.২০%, 
- মোট ময়েশ্চার-১০%, 
- ক্ষতিকারক উপাদান সালফারের পরিমাণ-০.৫৩% এবং 
- তাপ দহন ক্ষমতা-১১,০৪০ বিটিউ পার পাউন্ড। 

উৎস: বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড (বিসিএমসিএল) ওয়েবসাইট।

৯৫.
তিতাস গ্যাস ক্ষেত্র কোথায় আবিষ্কৃত হয়?
  1. হবিগঞ্জ
  2. সিলেট
  3. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা

তিতাস গ্যাসক্ষেত্র: 
- তিতাস গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হয় ১৯৬২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীর তীরে। 
- প্রতিষ্ঠা: ২০ নভেম্বর ১৯৬৪।
- প্রতিষ্ঠানের নাম: তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি।
- প্রথম পাইপলাইন: ১৪ ইঞ্চি ব্যাস, ৫৮ মাইল দীর্ঘ তিতাস-ডেমরা।
- পাইপলাইন নির্মাণকারী: তৎকালীন শিল্প উন্নয়ন সংস্থা।
- বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু: ২৮ এপ্রিল ১৯৬৮।
- প্রথম গ্যাস সরবরাহ: সিদ্ধিরগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
- মাতৃ কর্পোরেশন: বাংলাদেশ তৈল, গ্যাস ও খনিজ কর্পোরেশন (পেট্রোবাংলা)।
- প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
- অধিভূক্ত এলাকা: বৃহত্তর ঢাকা ও বৃহত্তর ময়মনসিংহ।

উৎস: তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি, ওয়েবসাইট।

৯৬.
ব্রাজিল স্রোত কোনদিকে প্রবাহিত হয়?
  1. ঘড়ির কাঁটার দিকে
  2. ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে
  3. ঘূর্ণন আকারে 
  4. চক্রাকারে
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর আবর্তন (Rotation of the Earth):
- আহ্নিক গতির কারণে পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ঘুরছে। পৃথিবীর এইরূপ আর্বতনের সাথে সাথে সাগর মহাসাগরের পানিরাশিও পশ্চিম হতে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে সমুদ্র স্রোতের সৃষ্টি হয়।

- আবর্তন গতির ফলে সৃষ্ট সমুদ্র স্রোত ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয। যেমন: উত্তর গোলার্ধে উপসাগরীয় স্রোত ও ক্যানারি স্রোতের প্রবাহ ঘড়ির কাঁটার দিকে অর্থাৎ ডান দিক ঘুরে প্রবাহিত হয়।
- একইভাবে দক্ষিণ গোলার্ধে ব্রাজিল স্রোত ও পশ্চিমা বায়ুপ্রবাহজনিত স্রোত ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে ঘুরে প্রবাহিত হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭.
বাংলাদেশের জ্বালানি তেল শোধনাগারটি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) চন্দ্রঘোনা
  2. খ) নারায়ণগঞ্জ
  3. গ) চট্টগ্রাম
  4. ঘ) পার্বতীপুর
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার হলো ইস্টার্ণ রিফাইনারি লিমিটেড।
- এটি চট্টগ্রামে অবস্থিত।
- এটি ১৯৬৮ সালের ৭ মে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে। এর বার্ষিক পরিশোধন ক্ষমতা ১৫ লক্ষ টন।
- বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এটির শতভাগ শেয়ারের মালিক।

(তথ্যসূত্রঃ বিপিসি ও ইআরএল ওয়েবসাইট)
৯৮.
বাংলাদেশের শীতলতম মাসের গড় তাপমাত্রা কত?
  1. ক) ২১.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস
  2. খ) ১৭.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস
  3. গ) ১৮.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস
  4. ঘ) ২০ ডিগ্রী সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার এবং গড় তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
• বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ হিসেবে পরিচিত। তবে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং বায়ুপ্রবাহের উপর ভিত্তি করে তিনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ঋতু দেখা যায়। এগুলো হলো - গ্রীষ্মকাল, বষার্কাল এবং শীতকাল।  
• এপ্রিল মাসে গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং এটি বছরের উষ্ণতম মাস।
• জানুয়ারি শীতলতম মাস। এ মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯.
কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড়ের ভূপ্রকৃতি কোন ধরনের?
  1. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়
  2. প্লাইস্টোসিনকালের সোপান
  3. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি
  4. ব-দ্বীপ (Delta)
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:
- ভূপ্রকৃতির ভিত্তিতে বাংলাদেশকে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
১। টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
২। প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
৩। সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি

⇒ প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ: আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এ অঞ্চলের অন্তর্গত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব সোপান গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। 

⇒ লালমাই পাহাড়: কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত।
 • এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার।

সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১০০.
ভিসুভিয়াস আগ্নেয় পর্বত কোথায় অবস্থিত?
  1. ইতালিতে
  2. যুক্তরাষ্ট্রে
  3. জার্মানিতে
  4. মেক্সিকো
ব্যাখ্যা
আগ্নেয় পর্বত:
- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত লাভা, দীর্ঘকাল ধরে একই জায়গায় সঞ্চিত হয়ে আগ্নেয় পর্বতের সৃষ্টি করে। যেমন- ইতালির ভিসুভিয়াস।

এছাড়াও -
আগ্নেয় হ্রদ: 
→ মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে বৃষ্টির পানি জমে হ্রদের সৃষ্টি করে। যেমন- আলাস্কার মাউন্ট আতাকামা, নিকারাগুয়ার কোসেগায়েনা, অ্যারিজোনা ও নেভাদার আগ্নেয় হ্রদ উল্লেখযোগ্য।

আগ্নেয় দ্বীপ:
 → সমুদ্র তলদেশে অগ্ন্যুৎপাতের সময় নির্গত লাভা সঞ্চিত হয়ে দ্বীপের সৃষ্টি করে। যেমন- প্রশান্ত মহাসাগরের
হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ পৃথিবীর বৃহত্তম আগ্নেয় দ্বীপ।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।