বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ক্রিয়া পদ

মোট প্রশ্ন৩৮৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ক্রিয়া পদ

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ৩৮৯

.
নিচের কোন বাক্যে যৌগিক ক্রিয়া নেই?
  1. ক) সময় চলে যায়। 
  2. খ) তুমি লুকিয়ে থাক। 
  3. গ) সাইরেন বেজে উঠল।
  4. ঘ) আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।
ব্যাখ্যা
একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন : 
তুমি চলে যাও। 
সময় চলে যায়
তুমি বসে পড়। 
সাইরেন বেজে উঠল

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
.
নিচের কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. গরম করা
  2. উদয় হওয়া
  3. এগিয়ে চলা
  4. ঠনঠন করা
সঠিক উত্তর:
এগিয়ে চলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এগিয়ে চলা
ব্যাখ্যা

• যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ - এগিয়ে চলা।
-------------------------------
• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন
- মরে যাওয়া,
- কমে আসা,
- এগিয়ে চলা,
- হেসে ওঠা,
- উঠে পড়া,
- পেয়ে বসা, ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন-
গরম করা, গান করা, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা, বৃদ্ধি পাওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২২ সালের সংস্করণ।

.
'আজ বিকেলে বৃষ্টি আসতে পারে।'- এখানে 'আসতে পারে' কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. মিশ্র
  2. প্রযোজক
  3. যৌগিক
  4. সমধাতুজ
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা

• যৌগিক ক্রিয়া:
যৌগিক ক্রিয়ার গঠন বিধি অসমাপিকা ক্রিয়ার পরে যা, পড়, দেখ, লাগ্‌, ফেল্, আস্, উঠ, দে, লহ্, থাক্, প্রভৃতি ধাতু থেকে সমাপিকা ক্রিয়া গঠিত হয়ে উভয়ে মিলিতভাবে যৌগিক ক্রিয়া তৈরি করে, এসব যৌগিক ক্রিয়া বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।

যেমন-
 যা-ধাতু:
-  সমাপ্তি অর্থে: বৃষ্টি থেমে গেল।
-  অবিরাম অর্থে: গায়ক গেয়ে যাচ্ছেন।
- ক্রমশ অর্থে: চা জুড়িয়ে যাচ্ছে।
- সম্ভাবনা অর্থে: এখন যাওয়া যেতে পারে।

পড়্‌-ধাতু:
- সমাপ্তি অর্থে: এখন শুয়ে পড়।
- ব্যাপ্তি অর্থে: কথাটা ছড়িয়ে পড়েছে।
- আকস্মিকতা অর্থে: এখনই তুফান এসে পড়বে।
- ক্রমশ অর্থে: কেমন যেন মনমরা হয়ে পড়েছি।
যেমন:
- ঘটনাটা শুনে রাখ।
- তিনি বলতে লাগলেন।
- সাইরেন বেজে উঠল।

আস্-ধাতু: 
- সম্ভাবনা অর্থে: আজ বিকেলে বৃষ্টি আসতে পারে।
- অভ্যস্ততা অর্থে: আমরা এ কাজই করে আসছি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
'সাপুড়ে সাপ খেলায়' এ বাক্যে ‘খেলায়’ কোন ক্রিয়া?
  1. ক) দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  2. খ) অসমাপিকা ক্রিয়া
  3. গ) সমাপিকা ক্রিয়া
  4. ঘ) প্রযোজক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রযোজক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অপরজন কর্তৃক সম্পাদিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া বলে।
প্রযোজক ক্রিয়া: যে ক্রিয়া প্রযোজনা করে, তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
প্রযোজ্য কর্তা: যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।

যেমন:

মা (প্রযোজক কর্তা) শিশুকে (প্রযোজ্য কর্তা) চাঁদ দেখাচ্ছে(প্রযোজক ক্রিয়া)।
সাপুড়ে সাপ খেলায়।
মা শিশুটিকে হাসান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'বৃষ্টিতে ভিজলে সর্দি হবে'- এই বাক্যে অসমাপিকা ক্রিয়াটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিরস্তরতা
  2. সমকাল
  3. সমাপ্তি
  4. পরিণতি
সঠিক উত্তর:
পরিণতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিণতি
ব্যাখ্যা
• 'বৃষ্টিতে ভিজলে সর্দি হবে'- বাক্যে পরিণতি বোঝাতে ''ইলে > লে'' বিভক্তিযুক্ত  অসমাপিকা ক্রিয়াটি ব্যবহৃত হয়েছে।  
-------------------------
• সমাপিকা ক্রিয়া: 
যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন – ভালাে করে পড়াশােনা করবে।

• অসমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন - ভালাে করে পড়াশােনা করলে ভালাে ফল হবে।
----------------------------
অন্যদিকে,
• ‘ইলে’ > ‘লে’ বিভক্তি যুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার: 
কার্যপরম্পরা বোঝাতে: চারটা বাজলে স্কুল ছুটি হবে৷
সম্ভাব্যতা অর্থে: এখন বৃষ্টি হলে ফসলের ক্ষতি হবে৷
সাপেক্ষতা বোঝাতে: তিনি গেলে কাজ হবে৷
পরিণতি বোঝাতে:  বৃষ্টিতে ভিজলে সর্দি হবে৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ আছে কোন বাক্যে?
  1. সে মাঠে খেলছে
  2. পাখিটা ছটছটাচ্ছে
  3. সে ধীরে গান করে
  4. সে বসে পড়ল
সঠিক উত্তর:
সে বসে পড়ল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে বসে পড়ল
ব্যাখ্যা

যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অর্থ্যাৎ, "সে বসে পড়ল।"- বাক্যটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।

অন্যদিকে,
নামক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধবন্যাত্নক শব্দের শেষে -আ বা -আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন- পাখিটা ছটছটাচ্ছে।

সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়ায়টি সম্পন্ন করে।
যেমন:
- সে লিখছে, সে মাঠে খেলছে।

সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন-
গরম করা, গান করা, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা, বৃদ্ধি পাওয়া ইত্যাদি।
যেমন- সে ধীরে গান করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।

.
যৌগিক ক্রিয়া রয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।
  2. এখন গোল্লায় যাও৷
  3. শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে।
  4. মাথা ঝিম ঝিম্ করছে। 
সঠিক উত্তর:
শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে।
ব্যাখ্যা

• যৌগিক ক্রিয়া:
একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। যেমন-
ক. তাগিদ দেওয়া অর্থে- ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল।
খ. নিরন্তরতা অর্থে- ঘটনাটা শুনে রাখ৷
গ. কার্যসমাপ্তি অর্থে- তিনি বলতে লাগলেন।
ঘ. আকস্মিকতা অর্থে- সাইরেন বেজে উঠল।
ঙ. অভ্যস্ততা অর্থে- শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে।
চ. অনুমোদন অর্থে- এখন যেতে পার।

অন্যদিকে, 
----------------------
• মিশ্র ক্রিয়া: 
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়, ধর্, মার্, প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে।
যেমন-
ক. বিশেষ্যের উত্তর (পরে): আমরা তাজমহল দর্শন করলাম। এখন গোল্লায় যাও৷
খ. বিশেষণের উত্তর (পরে): তোমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম।
গ. ধ্বনাত্মক অব্যয়ের উত্তর (পরে): মাথা ঝিম ঝিম্ করছে। ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

.
নিচের কোনটিতে 'সম্ভাবনা' অর্থে অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে?
  1. ক) এখানে ময়লা ফেললে শাস্তি হবে
  2. খ) আজ রোদ উঠলেও উঠতে পারে
  3. গ) তুমি গেলে আমিও যাব
  4. ঘ) ইট মারলে পিটুনি খেতেই হয়
সঠিক উত্তর:
খ) আজ রোদ উঠলেও উঠতে পারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আজ রোদ উঠলেও উঠতে পারে
ব্যাখ্যা
আজ রোদ উঠলেও উঠতে পারে- বাক্যে 'সম্ভাবনা' অর্থে অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে।

অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের পরিসমাপ্তি ঘটে না, বক্তার কথা অসম্পূর্ণ থেকে যায়, তাঁকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে। 

'ইলে' > 'লে' বিভক্তিযুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার কয়েকটি ব্যবহার-
• বিধিনিষেধ বোঝাতে- এখানে ময়লা ফেললে শাস্তি হবে 
• প্রতিফল বোঝাতে- ইট মারলে পিটুনি খেতেই হয়।
• সাপেক্ষতা বোঝাতে --তুমি গেলে আমিও যাব। 
• সম্ভাব্যতা অর্থে -- আজ রোদ উঠলেও উঠতে পারে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
.
"উদয় হওয়া" এটি কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. সংযোগ ক্রিয়া
  2. নাম ক্রিয়া
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
সংযোগ ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংযোগ ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।

যেমন:
- গরম করা, গান করা, মার খাওয়া, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।
১০.
নিচের কোন বাক্যটিতে অসমাপিকা ক্রিয়া নেই?
  1. ভালো করে পড়াশোনা করলে।
  2. ভালো করে পড়াশোনা করবে।
  3. প্রভাতে সূর্য উঠলে।
  4. আমরা হাত-মুখ ধুয়ে।
সঠিক উত্তর:
ভালো করে পড়াশোনা করবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভালো করে পড়াশোনা করবে।
ব্যাখ্যা
- ”ভালো করে পড়াশোনা করবে।” এটি একটি সমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ।
- এ বাক্যে কোন অসমাপিকা ক্রিয়া নেই।

• সমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- ভালো করে পড়াশোনা করবে।
-  ছেলেরা খেলা করছে।
- এ বছর বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

অন্যদিকে,
- ভালো করে পড়াশোনা করলে।
- প্রভাতে সূর্য উঠলে।
- আমরা হাত-মুখ ধুয়ে। এ বাক্যগুলো অসমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫, এবং ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১১.
”মা শিশু কে চাঁদ দেখাচ্ছেন”- বাক্যে ”দেখাচ্ছেন” কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. সংযোগ ক্রিয়া
  2. যৌগিক ক্রিয়া
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. নামক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
প্রযোজক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন
- মা শিশু কে চাঁদ দেখাচ্ছেন;

- এখানে ’দেখাচ্ছেন' প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১২.
‘ছেলেরা মাঠে খেলছে।’- বাক্যে ‘খেলছে’ কোন ধরনের ক্রিয়া পদ?
  1. সরল ক্রিয়া
  2. প্রযোজক ক্রিয়া
  3. সংযোগ ক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
সরল ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ রকম। এগুলো হলো:

• সরল ক্রিয়া:

একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে লিখছে।
- ছেলেরা মাঠে খেলছে।
[এখানে ‘লিখছে’ ও ‘খেলছে’ এগুলো সরল ক্রিয়া।]

• প্রযোজক ক্রিয়া:
কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
[এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।]

• নামক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে আ বা আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বাজারে সবজির দাম কমছে না; (বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে আ যুক্ত হয়ে হয় কমা)।
-  জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়; (ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে -আনো যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো)।

• সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
• করা ক্রিয়া যোগে: গান করা, গরম করা, ঠনঠন করা, ব্যাট করা।
• কাটা ক্রিয়া যোগে: সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা।
• হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া;
• দেওয়া ক্রিয়া যোগে: কথা দেওয়া, মন দেওয়া, দোষ দেওয়া ইত্যাদি।

• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩.
'তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।'- বাক্যটিতে কোন ধরণের ক্রিয়াবিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. খ) স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. গ) ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. ঘ) পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
খ) স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
 ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন -
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন -
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
যথাসময়ে সে হাজির হয়।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন -
মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়
তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

 নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বােঝায়।
এগুলাে সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন -
সে এখন যাবে না।
তিনি বেড়াতে যাননি।
এমন কথা আমার জানা নেই।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও ‘কি’, ‘যে, বা',না’, ‘তাে  প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন -
কি: আমি কি যাব?
যে: খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

[উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০২১]

 
১৪.
নিচের কোনটি সকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) সে ঘুমায়
  2. খ) আমি চোখে দেখি না
  3. গ) ছেলেটি হাসে
  4. ঘ) আমি রাতে ভাত খাব না
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমি রাতে ভাত খাব না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমি রাতে ভাত খাব না
ব্যাখ্যা

- যে ক্রিয়ার কর্মপদ আছে তাই সকর্মক ক্রিয়া। ক্রিয়ার সাথে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই ক্রিয়ার কর্মপদ। কর্মপদযুক্ত ক্রিয়াই সর্কমক ক্রিয়া।
- যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া। যেমনঃ ছেলেটি হাসে। কী ‘হাসে’ বা ‘কাকে হাসে’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না। কাজেই ‘হাসে’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।
- প্রয়োগ বৈশিষ্ট্যে সকর্মক ক্রিয়াও অকর্মক হতে পারে।

যেমনঃ
অকর্মক: সে পড়ছে। সকর্মক: সে বই পড়ছে। 
অকর্মক: আমি রাতে খাব না। সকর্মক: আমি রাতে ভাত খাব না।
অকর্মক: আমি চোখে দেখি না। সকর্মক: আকাশে চাঁদ দেখি না।
অকর্মক: ছেলেটা কানে শোনে না। সকর্মক: ছেলেটা কথা শোনে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী

১৫.
বাক্যের অপরিহার্য শব্দ কোনটি?
  1. নামপদ
  2. ক্রিয়াপদ
  3. কর্মপদ
  4. কর্তৃপদ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াপদ
ব্যাখ্যা
• বাক্য গঠনের অপরিহার্য অঙ্গ - ক্রিয়াপদ।

• ক্রিয়াপদ:
- যে পদের দ্বারা কোন কার্য সম্পাদন করা বোঝায় তাকে ক্রিয়াপদ বলে।
- ক্রিয়াপদ বাক্য গঠনের অপরিহার্য অঙ্গ।
- ক্রিয়াপদ ভিন্ন কোনো মনোভাবই সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায় না।
- তবে কখনো কখনো বাক্যে ক্রিয়াপদ উহ্য বা অনুক্ত থাকতে পারে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬.
একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তবে তাকে কি বলে?
  1. ক) দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  2. খ) যৌগিক ক্রিয়া
  3. গ) মিশ্র ক্রিয়া
  4. ঘ) প্রযোজক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। যেমন-
তাগিত দেওয়া অর্থে : ঘটনাটা শুনে রাখ।
নিরন্তরতা অর্থে : তিনি বলতে লাগলেন।
কার্যসমাপ্তি অর্থে : ছেলে মেয়েরা শুয়ে পড়ল।
আকস্মিকতা অর্থে : সাইরেন বেজে উঠল।
অভ্যস্ততা অর্থে : শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে।
অনুমোদন অর্থে : এখন যেতে পার।
সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
১৭.
কোনটি সংযোগ ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. কমে আসা
  2. এগিয়ে চলা
  3. উদয় হওয়া
  4. বুঝে নেওয়া
সঠিক উত্তর:
উদয় হওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদয় হওয়া
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ প্রকার।
যথা:
- সরল ক্রিয়া,
- প্রযোজক ক্রিয়া,
- নাম ক্রিয়া,
- সংযোগ ক্রিয়া,
- যৌগিক ক্রিয়া।

 • সংযোগ ক্রিয়া: 
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন - 
- হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া।

• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন,
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৮.
কিসের ভেদে ক্রিয়ার রূপের কোন পার্থক্য হয় না?
  1. ক) বচনভেদে
  2. খ) প্রয়োগভেদে
  3. গ) অর্থভেদে
  4. ঘ) বর্ণনাভেদে
সঠিক উত্তর:
ক) বচনভেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বচনভেদে
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াপদ: ক্রিয়ামূল অর্থাৎ ধাতুর সঙ্গে কাল সময় ও পুরুষ জ্ঞাপক (ক্রিয়া) বিভক্তিযোগে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।

ক. পুরুষভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য দেখা যায়।
যেমন:
- আমি যাই।
- তুমি যাও।
- আপনি যান।
- সে যায়। তিনি যান। (সাধারণ ভবিষ্যৎ কালে নাম পুরুষ ও মধ্যম পুরুষের রূপ অভিন্ন।)

খ. বচনভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় না।
যেমন:
- আমি (বা আমরা) যাই।
- তুমি (বা তোমরা) যাও।
- সে (বা তারা) যায়।

গ. সাধারণ, সম্ভ্রমাত্মক, তুচ্ছার্থকভেদে মধ্যম ও নাম পুরুষের ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় হয়ে থাকে (উত্তম পুরুষের হয় না)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।
১৯.
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো কাজের নাম বোঝায়, তাকে কোন ধরনের বিশেষ্য বলে ?
  1. ক) বস্তু-বিশেষ্য
  2. খ) সমষ্টি-বিশেষ্য
  3. গ) গুণ-বিশেষ্য
  4. ঘ) ক্রিয়া-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রিয়া-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রিয়া-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার।
- নাম-বিশেষ্য
- জাতি-বিশেষ্য
- বস্ত-বিশেষ্য
- সমষ্টি-বিশেষ্য
- গুণ-বিশেষ্য
- ক্রিয়া-বিশেষ্য

ক্রিয়া-বিশেষ্যঃ যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
যেমন,
- পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

২০.
অকর্মক ক্রিয়া রয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. সে ঘুমায়।
  2. আমি রোজ রাত দশটায় খাই।
  3. সে বই পড়ছে।
  4. তপু দীপুকে বলটি দিল।
সঠিক উত্তর:
সে ঘুমায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে ঘুমায়।
ব্যাখ্যা
• ‘সে ঘুমায়।’- বাক্যে ‘ঘুমায়’ অকর্মক ক্রিয়াপদ।

-------------------
• ক্রিয়া পদ:

বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
 
বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার। 
যথা:
১. অকর্মক ক্রিয়া: বাক্যে ক্রিয়ার কোনাে কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে ঘুমায়। 
- সে মাটিতে শোয়।
- সে ভালো দৌড়ায়।
[এই বাক্যেগুলোতে কোনাে কর্ম নেই।]
 
২. সকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে বই পড়ছে।
- আমি রোজ রাত দশটায় খাই।
[এই বাক্যে পড়ছে’ হলাে সকর্মক ক্রিয়া। বই’ হলাে ‘পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম।]

ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদের বই (২২৮ পৃষ্টা) অনুসারে,
সকর্মক ক্রিয়ায় কর্মপদ অকথিত থাকতে পারে। যেমন, 'আমি রোজ রাত দশটায় খাই।' এখানে 'কী' খাই বলা হয়নি, কিন্তু বলা সম্ভব ছিলো। এই সম্ভাবনাই সকর্মকের লক্ষণ।

৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তপু দীপুকে বলটি দিল।
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
[এই বাক্যে ‘দিলেন একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। কী দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (বই), আর কাকে দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (ছাত্রকে)।]
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
২১.
‘মাথা ঝিমঝিম্ করছে‘ -বাক্য়টি কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) নাম ধাতুর ক্রিয়া
  2. খ) যৌগিক ক্রিয়া
  3. গ) মিশ্র ক্রিয়া
  4. ঘ) নিজন্ত ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) মিশ্র ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মিশ্র ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• ‘ মাথা ঝিমঝিম্ করছে‘ - বাক্যটি মিশ্র ক্রিয়ার উদাহরণ।
- কারণ এখানে ধ্বন্যাত্মক অব্যয় ( ঝিমঝিম্ )  + ধাতু ( কর্ ‘) যুক্ত হয়ে মিশ্র ক্রিয়া গঠিত হয়েছে।
•মিশ্র ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়্, ধর্, প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থ প্রকাশ করলে, তাকে মিশ্র ক্রিয়া বলে।
- যেমন–
- বিশেষ্যের (পরে) : আমরা তাজমহল দর্শন করলাম। 
- বিশেষণের (পরে) : তোমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম।
- ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের (পরে) : মাথা ঝিমঝিম্ করছে।
• যৌগিক ক্রিয়া-একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। 
• নিজন্ত ক্রিয়া-- কর্তার যে ক্রিয়া অন্যকে দিয়ে করানো হয়, তাকে প্রযোজক বা নিজন্ত ক্রিয়া বলে।
- যেমন—মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
২২.
'পেয়ে বসা' কোন ধরনের ক্রিয়া পদের উদাহরণ?
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. সংযোগ ক্রিয়া
  3. যৌগিক ক্রিয়া
  4. সরল ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই (২০২১ সংস্করণ)।
২৩.
কোন বাক্যে অকর্মক ক্রিয়া আছে?
  1. আমি রাতে খাব না।
  2. আকাশে চাঁদ দেখি না।
  3. ছেলেটা কথা শোনে।
  4. সে বই পড়ছে। 
সঠিক উত্তর:
আমি রাতে খাব না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি রাতে খাব না।
ব্যাখ্যা

অকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া। যেমনঃ ছেলেটি হাসে। কী ‘হাসে’ বা ‘কাকে হাসে’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না।
- কাজেই ‘হাসে’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।
- প্রয়োগ বৈশিষ্ট্যে সকর্মক ক্রিয়াও অকর্মক হতে পারে।

যেমন:
অকর্মক: সে পড়ছে।
সকর্মক: সে বই পড়ছে। 
 
অকর্মক: আমি রাতে খাব না।
সকর্মক: আমি রাতে ভাত খাব না।
 
অকর্মক: আমি চোখে দেখি না।
সকর্মক: আকাশে চাঁদ দেখি না।
 
অকর্মক: ছেলেটা কানে শোনে না।
সকর্মক: ছেলেটা কথা শোনে।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৪.
কোনটি সকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. সালমা ঘুমায়।
  2. হাসিব বলছে।
  3. নাছরিন খেলা করছে।
  4. সুমাইয়া লিখছে।
সঠিক উত্তর:
নাছরিন খেলা করছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাছরিন খেলা করছে।
ব্যাখ্যা
• বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার।
যথা:
১. সকর্মক ক্রিয়া,
২. অকর্মক ক্রিয়া,
৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া।

সকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- নাছরিন খেলা করছে।
এই বাক্যে 'করছে' হলো সকর্মক ক্রিয়া। 'খেলা' হলো 'করছে' ক্রিয়ার কর্ম।

অকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- সুমাইয়া লিখছে। 
- হাসিব বলছে।
- সালমা ঘুমায়।
উপর্যুক্ত বাক্যগুলোতে কোনো কর্ম নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৫.
মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে। উল্লিখিত অংশটুকু কোন পদ?
  1. ক্রিয়া বিশেষণ
  2. সর্বনাম
  3. বিশেষণ
  4. অব্যয়
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া বিশেষণ: যে শব্দ ক্রিয়া পদকে বিশেষিত করে তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
যেমন -
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০২১)।
২৬.
নিচের কোনটি প্রযোজক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. নদী বহে। 
  2. আমরা জাদুঘর দর্শন করলাম।
  3. জাদুকর জাদু দেখায়।
  4. বাতাস হু-হু করে বইছে। 
সঠিক উত্তর:
জাদুকর জাদু দেখায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাদুকর জাদু দেখায়।
ব্যাখ্যা

জাদুকর জাদু দেখায়- প্রযোজক ক্রিয়ার উদাহরণ। 

প্রযোজক ক্রিয়া:
- প্রযোজক ক্রিয়া হলো সেই ক্রিয়া যা একজনের প্রযোজনায় বা চালনায় অন্য কর্তৃক সম্পন্ন হয়।
- সংস্কৃত ব্যাকরণে এই ক্রিয়াকে ণিজন্ত ক্রিয়াও বলা হয়।
- জাদুকর জাদু দেখায়- এই বাক্যে ‘জাদু দেখায়’ প্রযোজক ক্রিয়া।
- কারণ জাদুকর নিজে জাদু হয় না, বরং দর্শককে জাদু দেখায়।
- প্রযোজক কর্তা হলো যে ব্যক্তি ক্রিয়াটি প্রযোজনা করছে।
- আর প্রযোজ্য কর্তা হলো যার মাধ্যমে ক্রিয়াটি সম্পন্ন হচ্ছে।
- উদাহরণস্বরূপ- জাদুকর জাদু দেখায়- এই বাক্যে-
- প্রযোজক কর্তা: জাদুকর;
- প্রযোজ্য কর্তা: দর্শককে (অপ্রকাশিত/উহ্য);
- প্রযোজক ক্রিয়া: জাদু দেখায়। 
--------------------------------------------------
অন্যদিকে,
• নদী বহে- অকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ। 
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।

• 'আমরা জাদুঘর দর্শন করলাম'- মিশ্র ক্রিয়ার উদাহরণ। 
- মিশ্র ক্রিয়া হলো এমন ক্রিয়া যা বিশেষ্য, বিশেষণ অথবা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে ‘কর’, ‘হ’, ‘দে’, ‘পা’, ‘গাও’, ‘কাট্’ প্রভৃতি ধাতু বা মূল ক্রিয়ার সংযোগে সৃষ্টি হয়।

• বাতাস হু-হু করে বইছে- যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।
- যৌগিক ক্রিয়া বলতে সেই ক্রিয়াকে বোঝায়, যা একটি অসমাপিকা ক্রিয়া এবং একটি সমাপিকা ক্রিয়ার মিলনে গঠিত হয় এবং একসঙ্গে একটি সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ);
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৭.
লেখাটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।- এ বাক্যে ‘ভালোভাবে’ কী ধরণের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ক) ধরণবাচক
  2. খ) কালবাচক
  3. গ) স্থানবাচক
  4. ঘ) নেতিবাচক
সঠিক উত্তর:
ক) ধরণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধরণবাচক
ব্যাখ্যা
• যে ক্রিয়াবিশেষণ দ্বারা কোন কাজ কীভাবে বা কেমন করে সংঘটিত হচ্ছে বুঝায় তাকে ধরনবাচক বা ভাবজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
য়েমন :
টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে।
লেখাটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
অর্পনা দ্রুত লিখতে পারে।

অন্যদিকে,
কালবাচক: যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে তাদেরকে কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন:
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

স্থানবাচক: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
মিলেমিশে সামনে এগিয়ে যায়।

নেতিবাচক: যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ না, নি, নেই ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায় তাকে নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে। এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পেছনে বসে।
যেমন:
সে এখন যাবে না

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৮.
আকাঙক্ষা ভাব প্রকাশ পেয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে।
  2. বৃষ্টি আসে আসুক।
  3. ভালো করে পড়লে সফল হবে।
  4. তারা বাড়ি যাবে।
সঠিক উত্তর:
বৃষ্টি আসে আসুক।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃষ্টি আসে আসুক।
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বা প্রকার বলে।

- ক্রিয়ার ভাব বা ধরন চার প্রকার।
১. নির্দেশক ভাব,
২. অনুজ্ঞা ভাব,
৩. সাপেক্ষ ভাব,
৪. আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব।

• নির্দেশক ভাব:
সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
ক. সাধারণ নির্দেশক: তারা বাড়ি যাবে।
খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায়: আপনি কি আসবেন? 

• অনুজ্ঞা ভাব:
আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব
হয়। যেমন:
ক. আদেশাত্মক-
• বর্তমান কালে: চুপ কর।
• ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।

খ. নিষেধাত্মক-
• বর্তমান কালে: অন্যায় কাজ করো না।
• ভবিষ্যৎ কালে: মিথ্যা বলবে না।

গ. অনুরোধসূচক-
• বর্তমান কালে: ছাতাটা দিন তো ভাই।
• ভবিষ্যৎ কালে: আপনারা আসবেন।

ঘ. উপদেশাত্মক-
• বর্তমানে কালে: মন দিয়ে পড় ।
• ভবিষ্যৎ কালে: স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

• সাপেক্ষ ভাব:
একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়। যেমন:
ক. সম্ভাবনায়: তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।

• আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব:
আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন:
- সে যাক।
- যা হয় হোক।
- সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৯.
“যথাসময়ে সবাই উপস্থিত হয়েছে।”- বাক্যে ‘যথাসময়ে’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• “যথাসময়ে সবাই উপস্থিত হয়েছে”- বাক্যে ‘যথাসময়ে’ কালবাচক ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ।

--------------------
• ক্রিয়া বিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।


ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। 
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। 
যেমন:
- আমি কি যাব? 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩০.
‘কর’ ধাতুর পুরাঘটিত অতীত কালের প্রযোজক ক্রিয়ার উদাহরণ কোনটি?
  1. করেছিলে
  2. করতে
  3. করিয়েছিলাম
  4. করলাম
সঠিক উত্তর:
করিয়েছিলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করিয়েছিলাম
ব্যাখ্যা
• পুরাঘটিত অতীত কাল: 
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীতকাল বলে।
যেমন
- খবরটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।

• প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া: 
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া বলে।

যেমন:
''আমি আরিফকে দিয়ে কাজটি করিয়েছিলাম।" 
- বাক্যটি পুরাঘটিত অতীত কালের উদাহরণ। 
- 'করিয়েছিলাম' প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া,
- 'করিয়েছিলাম' ক্রিয়াটি কর ধাতু থেকে উৎপন্ন।
- 'আমি' প্রযোজক কর্তা এবং
- 'আরিফকে' প্রযোজ্য কর্তা।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩১.
কোন বাক্যে ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!
  2. টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
  3. মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
  4. যথাসময়ে সে হাজির হয়।
সঠিক উত্তর:
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
ব্যাখ্যা
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।

যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।

অন্যদিকে,
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।

যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩২.
নিচের কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. এগিয়ে চলা
  2. গরম করা
  3. গান করা
  4. ঠনঠন করা
সঠিক উত্তর:
এগিয়ে চলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এগিয়ে চলা
ব্যাখ্যা
• 'এগিয়ে চলা'- যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।  

গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ প্রকার। 
- সরল ক্রিয়া 
- প্রযোজক ক্রিয়া 
- নাম ক্রিয়া
- সংযোগ ক্রিয়া
- যৌগিক ক্রিয়া

যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: এগিয়ে চলা, মরে যাওয়া, কমে আসা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে ইত্যাদি।

সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন- গরম করা, গান করা, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা ইত্যাদি। 

সরল ক্রিয়া
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়ায়টি সম্পন্ন করে।
যেমন: সে লিখছে, ছেলেরা মাঠে খেলছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৩.
"লামিসা পাস করে গেল।" - বাক্যে কোন ক্রিয়ার উদাহরণ আছে?
  1. সংযোগ ক্রিয়া
  2. যৌগিক ক্রিয়া
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. দ্বিকর্মক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে যে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- লামিসা পাস করে গেল।
- সাইরেন বেজে উঠল।

অন্যদিকে,
প্রযোজক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া অন্যের দ্বারা চালিত হয়, তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মা খোকাকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।

দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন: শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।

সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন: গরম করা, গান করা, মার খাওয়া, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩৪.
'কাটিতে কাটিতে ধান এলো বরষা' বাক্যে 'কাটিতে কাটিতে' অসমাপিকা ক্রিয়াটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) সামর্থ্য অর্থে
  2. খ) নিরন্তরতা অর্থে
  3. গ) পরিণতি অর্থে
  4. ঘ) আবশ্যকতা অর্থে
সঠিক উত্তর:
খ) নিরন্তরতা অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নিরন্তরতা অর্থে
ব্যাখ্যা
'কাটিতে কাটিতে ধান এলো বরষা' বাক্যে 'কাটিতে কাটিতে' ক্রিয়াটি 'নিরন্তরতা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

তাছাড়া,
অন্যান্য অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার- 
সামর্থ্য অর্থে: খোকা এখন হাঁটতে পারে।
পরিণতি অর্থে: বৃষ্টিতে ভিজলে সর্দি হবে।
আবশ্যকতা অর্থে: এখন ট্রেন ধরতে হবে। 

 উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৫.
ক্রিয়ার ভাব কত প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. ছয়
সঠিক উত্তর:
চার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ার ভাব:
ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বলে।

ক্রিয়ার ভাব — ৪ প্রকার।
যথা -
১. নির্দেশক ভাব (Indicative Mood),
২. অনুজ্ঞা ভাব (Imperative Mood),
৩. সাপেক্ষ ভাব (Subjunctive Mood),
৪. আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব (Optative Mood)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)
৩৬.
‘লোকটি ধীরে হাঁটে।’- বাক্যে ‘ধীরে’ কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া বিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
[এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।]

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়।
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- আমি কি যাব?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৭.
সামান্য অংশ বা অল্প পরিমাণ বোঝাতে কোন নির্দেশক ব্যবহৃত হয়?
  1. টা
  2. খানি
  3. জন
  4. টুকু
সঠিক উত্তর:
টুকু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টুকু
ব্যাখ্যা

• টুকু
-টুকু নির্দেশক দিয়ে কোনো কিছুর সামান্য অংশ বা অল্প পরিমাণ বোঝায়। বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে নির্দেশকটি ব্যবহৃত হয়। এর রূপভেদ: -টু বা -টুক।
যেমন
- সাবানটুকু, হাসিটুকু, শরবতটুকু, এতটুকু, সময়টুকু, একটু, আধটু, যতটুক, ততটুক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• -টা,-টি
⇒ বিশেষ্য,সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে -টা,-টি নির্দেশক বসে। এর দুটি রূপান্তর: -টো ও-টে। যেমন - বাড়িটা, ছেলেটা।

• -খানা,-খানি
⇒ বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে-খানা, -খানি নির্দেশক বসে। যেমন : ব্যাপারখানা, ভাবখানা।

• -জন
⇒ শুধু মানুষের বেলায়-জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়। যেমন : বিজ্ঞজন, লোকজন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

৩৮.
"আমি বাড়ি গিয়ে খাব।" - বাক্যের "গিয়ে" কোন ক্রিয়াপদ?
  1. অসমাপিকা
  2. প্রযোজক
  3. সকর্মক
  4. সমাপিকা
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা
ব্যাখ্যা
অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয় না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- আমি বাড়ি গিয়ে .......
- সে বই নিয়ে ...
• এখানে 'গিয়ে', 'নিয়ে' ক্রিয়ার দ্বারা কথা শেষ হয় নি। বাক্যের অর্থ অসম্পূর্ণ রয়েছে। বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করার জন্য আরও ক্রিয়া চাই।

যেমন:
- আমি বাড়ি গিয়ে খাব।
- সে বই নিয়ে পড়তে বসেছে।
• সুতরাং, 'গিয়ে', 'নিয়ে' হচ্ছে অসমাপিকা ক্রিয়া। আর 'খাব', 'বসেছে' এগুলো সমাপিকা ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩৯.
'সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল'। বাক্যটিতে কোন ধরনের ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) অসমাপিকা ক্রিয়া
  2. খ) যৌগিক ক্রিয়া
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ঘ) সমাপিকা ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন - মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।
'সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল' তাই যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৪০.
কোন বাক্যটিতে সমধাতুজ কর্ম আছে? 
  1. সে ঘুমিয়ে আছে।
  2. সে যে চাল চেলেছে তাতে ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না।
  3. সে গভীর চিন্তায় মগ্ন।
  4. সে বই পড়ছে।
সঠিক উত্তর:
সে যে চাল চেলেছে তাতে ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে যে চাল চেলেছে তাতে ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না।
ব্যাখ্যা
সমধাতুজ কর্ম:
- বাক্যের ক্রিয়া ও কর্ম পদ একই ধাতু থেকে গঠিত হলে ঐ কর্মপদকে সমধাতুজ কর্ম বা ধাত্বর্থক কর্মপদ বলে।

যেমন:
- 'আমি বেশ এক ঘুম ঘুমিয়েছি'- বাক্যে কর্মপদ ঘুম এবং ক্রিয়াপদ ঘুমিয়েছি একই ধাতু ঘুম্‌ থেকে গঠিত হয়েছে।
অনুরূপ,
- সে যে চাল চেলেছে তাতে তাকে ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া আর কিছু বলা যায় না।

অন্যদিকে,
অন্যান্য বাক্যে সমধাতুজ কর্ম নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪১.
নিচের কোনটি সকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) মেয়েটি হাসে
  2. খ) ছেলেরা খেলা করছে
  3. গ) সে যায়
  4. ঘ) রাজু পড়ে
সঠিক উত্তর:
খ) ছেলেরা খেলা করছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ছেলেরা খেলা করছে
ব্যাখ্যা
সে রোজ সেখানে যায়- বাক্যটি অর্কমক ক্রিয়ার উদাহরণ। 

সকর্মক ক্রিয়া
- যে ক্রিয়ার কর্মপদ আছে তাই সকর্মক ক্রিয়া।
- ক্রিয়ার সাথে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই ক্রিয়ার কর্মপদ।
- কর্মপদযুক্ত ক্রিয়াই সর্কমক ক্রিয়া।

অকর্মক ক্রিয়া
- যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া।
- যেমনঃ সে রোজ সেখানে যায়। কী ‘যায়’ বা ‘কাকে যায়’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না। কাজেই ‘যায়’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৪২.
কর্তা অন্যকে দিয়ে করালে বোঝালে কোন ক্রিয়া হয়?
  1. ক) সরল ক্রিয়া
  2. খ) প্রযোজক ক্রিয়া
  3. গ) নাম ক্ৰিয়া
  4. ঘ) যৌগিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) প্রযোজক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
⇒ প্রযোজক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অপরজন কর্তৃক সম্পাদিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।

• প্রযোজক ক্রিয়া: যে ক্রিয়া প্রযোজনা করে, তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
• প্রযোজ্য কর্তা: যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।

যেমন:
- মা (প্রযোজক কর্তা) শিশুকে (প্রযোজ্য কর্তা) চাঁদ দেখাচ্ছে(প্রযোজক ক্রিয়া)।
- সাপুড়ে সাপ খেলায়।
- মা শিশুটিকে হাসান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৩.
কোনটি সংযোগ ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ঠনঠন করা
  2. এগিয়ে চলা
  3. সরে দাঁড়ানো
  4. মরে যাওয়া
সঠিক উত্তর:
ঠনঠন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠনঠন করা
ব্যাখ্যা

সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- গরম করা, গান করা, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
যৌগিক ক্রিয়া:
- সমাপিকা ক্রিয়ার সাথে অসমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪৪.
‘শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে’ - এখানে কী অর্থে যৌগিক ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিরন্তর
  2. কার্যসমাপ্তি
  3. অভ্যস্ততা
  4. অনুমোদন
  5. তাগিদ দেয়া
সঠিক উত্তর:
অভ্যস্ততা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভ্যস্ততা
ব্যাখ্যা
একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া পাশাপাশি বসে যদি কোন বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
অর্থাৎ, একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলে যদি তাদের সাধারণ অর্থ প্রকাশ না করে কোন বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। যেমনঃ
- ঘটনাটা শুনে রাখ। (শোনার বদলে তাগিদ দেয়া অর্থ বুঝিয়েছে)
- তিনি বলতে লাগলেন। (বলার অর্থ সম্প্রসারণ করে নিরন্তর বলা বুঝিয়েছে)
- ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল। (শোওয়ার পাশাপাশি দিনের কার্যসমাপ্তিও বোঝাচ্ছে)
- সাইরেন বেজে উঠল। (আকস্মিক সাইরেন বাজার কথা বলা হচ্ছে)
- শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে। (অভ্যস্ততা অর্থে, ধীরে ধীরে সংস্কারমুক্ত হয় বোঝাচ্ছে)
- এখন যেতে পার। (যাওয়ার বদলে অনুমোদন অর্থে)
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৫.
‘যত্ন করলে রত্ন মিলে'- এখানে 'করলে' কোন ক্রিয়ার উদাহরণ-
  1. ক) অসমাপিকা
  2. খ) অনুক্ত
  3. গ) দ্বিকর্ম
  4. ঘ) সমাপিকা
সঠিক উত্তর:
ক) অসমাপিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অসমাপিকা
ব্যাখ্যা
⇒ অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- যত্ন করলে রত্ন মিলে।
এখানে 'যত্ন করলে' বললে ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয় না। তাই এটি অসমাপিকা ক্রিয়া।

• একইভাবে, 'যত্ন করলে রত্ন মিলে'- এখানে 'করলে' অসমাপিকা ক্রিয়া।

অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের:
১. ভূত অসমাপিকা,
২. ভাবী অসমাপিকা এবং
৩. শর্ত অসমাপিকা।
যথা:
• ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
• ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহি যায়।
• শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালাে হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৪৬.
নিচের কোন বাক্যেটিতে অসমাপিকা ক্রিয়া নেই?
  1. ক) সে গান করে আনন্দ পায় ।
  2. খ) রাতের বেলা আকাশে চাঁদ ওঠে।
  3. গ) ভালো করে পড়াশোনা করবে।
  4. ঘ) পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে।
সঠিক উত্তর:
খ) রাতের বেলা আকাশে চাঁদ ওঠে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাতের বেলা আকাশে চাঁদ ওঠে।
ব্যাখ্যা
• 'রাতের  বেলা আকাশে চাঁদ ওঠে।' - বাক্যেটিতে অসমাপিকা ক্রিয়া নেই। 
------------------- 
ভাবপ্রকাশের দিক থেকে ক্রিয়া দুই প্রকার:
- সমাপিকা ক্রিয়া,
- অসামাপিকা ক্রিয়া।

১. সমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন – ভালাে করে পড়াশােনা করবে

২. অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন - ভালাে করে পড়াশােনা করলে ভালাে ফল হবে।

অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের:
১. ভূত অসমাপিকা, ২. ভাবী অসমাপিকা এবং ৩. শর্ত অসমাপিকা।
যথা:
ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায় ।
শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালাে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৭.
'টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।'- এখানে 'টিপ টিপ' কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. ক্রিয়াবিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. যোজক
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।

অনেক সময়ে বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে '-এ', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি এবং '-ভাবে', '-বশত', '-মতো' ইত্যাদি শব্দাংশ যুক্ত হয়ে ক্রিয়াবিশেষণ তৈরি হয়। যেমন ততক্ষণে, দ্রুতগতিতে, শান্তভাবে, ভ্রান্তিবশত, আচ্ছামতো ইত্যাদি।

ক্রিয়াবিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনো ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন-
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

২. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন-
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

৩. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন-
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

৪. নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। এগুলো সাধারণত
ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন-
- সে এখন যাবে না
- তিনি বেড়াতে যাননি
- এমন কথা আমার জানা নেই

৫. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও 'কি', 'যে', 'বা','না', 'তো' প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। যেমন- 
-  আমি কি যাব?
-  খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৪৮.
'বাবা আমাকে একটি কলম দিয়েছেন' কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. সকর্মক ক্রিয়া
  2. অকর্মক ক্রিয়া
  3. দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
দ্বিকর্মক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিকর্মক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
দ্বিকর্মক ক্রিয়া: যে ক্রিয়ার দুটি কর্মপদ থাকে তাকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে। দ্বিকর্মক ক্রিয়ার বস্তুবাচক কর্মপদটি মুখ্য বা প্রধান কর্ম এবং ব্যক্তিবাচক কর্ম পদটিকে গৌণ কর্ম পদ বলে।
যেমন- 'বাবা আমাকে একটি কলম দিয়েছেন'। এখানে 'কলম' (বস্তু) মুখ্য বা প্রধান কর্ম আর 'আমাকে' (ব্যক্তি) গৌণ কর্ম পদ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯.
নিচের কোনটিতে নামক্রিয়া আছে?
  1. ক) আমরা তাজমহল দর্শন করলাম। 
  2. খ) তোমাকে দেখে প্রীত হলাম। 
  3. গ) শিশুটি কলম বাঁকাচ্ছে।
  4. ঘ) মাথা ঝিমঝিম করছে। 
সঠিক উত্তর:
গ) শিশুটি কলম বাঁকাচ্ছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শিশুটি কলম বাঁকাচ্ছে।
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বনাত্মক অব্যয়ের শেষে আ-প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন : 
বিশেষ্যের পরে : শিক্ষক ছাত্রকে বেতাচ্ছেন
বিশেষণের পরে : শিশুটি কলম বাঁকাচ্ছে
ধ্বনাত্মক অব্যয়ের পরে : ছেলেটি ঝিমাচ্ছে

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৫০.
Q. 01 - 16:Choose the correct answer.
১) সাধুভাষা থেকে চলিত বাংলায় লিখতে কোন পদযুগলের পরিবর্তন ঘটে?
  1. ক) বিশেষ্য ও বিশেষণ
  2. খ) বিশেষণ ও ক্রিয়া
  3. গ) বিশেষ্য ও সর্বনাম
  4. ঘ) সর্বনাম ও ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) সর্বনাম ও ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সর্বনাম ও ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
- সাধু ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।
- চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।
সুতরাং, এই দুটি পদের ভিন্নতার জন্যই সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য নির্ণয় করা যায়।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯ ]
৫১.
নিচের কোনটিতে মিশ্র ক্রিয়া আছে?
  1. ক) শিক্ষক ছাত্রকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
  2. খ) ছেলেটি ঝিমাচ্ছে
  3. গ) মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
  4. ঘ) আমর মাথা ভনভন করছে।
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমর মাথা ভনভন করছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমর মাথা ভনভন করছে।
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে র্ক, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়্, র্ধ, র্মা প্রভৃতি ধাতুযোগ যে ক্রিয়া সৃষ্টি হয় তাকে মিশ্র ক্রিয়া বলে।
যেমন : 
বিশেষ্যের পর: আমরা তাজমহল দর্শন করলাম। 
বিশেষণের পর: তোমাকে দেখে প্রীত হলাম। 
ধ্বনাত্মক অব্যয়ের পর: মাথা ঝিমঝিম করছে

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৫২.
একটি বাক্যের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অংশ কোনটি?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াপদ:
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে পুরুষ অনুযায়ী কালসূচক ক্রিয়াবিভক্তি যোগ করে ক্রিয়াপদ গঠন করতে হয়।
- ক্রিয়াপদ একটি বাক্যের অপরিহার্য অংশ, এটা ছাড়া মনের ভাব সম্পূর্ণরুপে প্রকাশ করা যায় না।
তবে, কখনো কখনো বাক্যে ক্রিয়াপদ উহ্য থাকতে পারে৷ যেমন- ইনি আমার ভাই (হন)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৩.
‘গান করা’ - কী ধরনের ক্রিয়া?
  1. যৌগিক
  2. সংযোগ
  3. নাম
  4. সরল
সঠিক উত্তর:
সংযোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংযোগ
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি শব্দ যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া হয় তাকে সংযোগ ক্রিয়া বলে।
যেমন :
- গরম করা, ঠনঠন করা, সাঁতার কাটা, বড়ো হওয়া, পকেট মারা ইত্যাদি।
- নবম-দশম শ্রেণির পুরনো ব্যাকরণের মিশ্র ক্রিয়াই হলো নতুন ব্যাকরণে সংযোগ ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০২১ সংস্করণ)
৫৪.
'রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।' এখানে 'খাওয়ায়' কোন ক্রিয়া?
  1. যৌগিক ক্রিয়া
  2. সরল ক্রিয়া
  3. নামক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
প্রযোজক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
 যেমন :
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন;
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
[এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।]

অন্যদিকে,
• সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
 যেমন:
- সে লিখছে। ছেলেরা মাঠে খেলছে। এখানে লিখছে ও খেলছে - এগুলো সরল ক্রিয়া।

• নামক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে -আ বা -আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
 যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় ‘চমকানো’।

• যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৫৫.
আদেশ অর্থে অনুজ্ঞার উদাহরণ কোনটি?
  1. মন দিয়ে পড়।
  2. মিথ্যা বলবে না।
  3. ছাতাটা দিন তো ভাই।
  4. চুপ কর।
সঠিক উত্তর:
চুপ কর।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুপ কর।
ব্যাখ্যা
⇒ অনুজ্ঞা ভাব: আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব
হয়।
যেমন-
ক. আদেশাত্মক-
• বর্তমান কালে: চুপ কর।
• ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।

খ. নিষেধাত্মক-
• বর্তমান কালে: অন্যায় কাজ করো না।
• ভবিষ্যৎ কালে: মিথ্যা বলবে না।

গ. অনুরোধসূচক-
• বর্তমান কালে: ছাতাটা দিন তো ভাই।
• ভবিষ্যৎ কালে: আপনারা আসবেন।

ঘ. উপদেশাত্মক-
• বর্তমানে কালে: মন দিয়ে পড়।
• ভবিষ্যৎ কালে: স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৬.
বাক্যের আবশ্যিক পদ কোনটি?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিষেষণ
  3. গ) ক্রিয়া
  4. ঘ) অব্যয়
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যকরণের নিয়ম অনুসারে ক্রিয়াপদ ভিন্ন কোন বাংলা বাক্য গঠিত হয় না। প্রকাশ না থাকলেও উহ্য অবস্থায় ক্রিয়াপদ বাক্যে থাকে বলে একে আবশ্যিক পদ বলে।
যেমন: রাম ও রহিম বন্ধু। এখানে ‘হয়’ উহ্য।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৭.
কোন বাক্যে ক্রিয়া অনুক্ত?
  1. খুব শীত লাগছে।
  2. মনটা ভাল নেই আমার।
  3. করিম স্কুলে যায়।
  4. আজ প্রচণ্ড গরম।
সঠিক উত্তর:
আজ প্রচণ্ড গরম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজ প্রচণ্ড গরম।
ব্যাখ্যা
আজ প্রচণ্ড গরম। - বাক্যে ক্রিয়া অনুক্ত।

অনুক্ত ক্রিয়াপদ:
- ক্রিয়াপদ বাক্যগঠনের অপরিহার্য অঙ্গ।
- ক্রিয়াপদ ভিন্ন কোনো মনোভাবই সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায় না।
- তবে কখনো কখনো বাক্যে ক্রিয়াপদ উহ্য বা অনুক্ত থাকতে পারে।
যেমন -
→ ইনি আমার ভাই = ইনি আমার ভাই (হন)।
আজ প্রচণ্ড গরম = আজ প্রচণ্ড গরম (অনুভূত হচ্ছে)।
→ তোমার মা কেমন? = তোমার মা কেমন (আছেন)?
- বাক্যে সাধারণত 'হ্' এবং 'আছ' ধাতু গঠিত ক্রিয়াপদ উহ্য থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৮.
'বুঝে নেওয়া' - এটি কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ​সরল ক্রিয়া
  2. যৌগিক ক্রিয়া
  3. নাম ক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

যৌগিক ক্রিয়া:
- সমাপিকা ক্রিয়ার সাথে অসমাপিকা ক্রিয়া যক্ত হয়।

​যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো।

​অন্যদিকে,
​সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন-
- ছেলেরা মাঠে খেলছে।

প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।

নাম ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ' বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে - 'আনো' প্রত্যয় যুক্ত্য করে হয় 'চমকানো'; আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫৯.
ধ্বন্যাত্মক নামক্রিয়ার উদাহরণ আছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. সাইরেন বেজে উঠলো।
  2. জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।
  3. আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।
  4. ঝম ঝম করে বৃষ্টি পড়ছে।
সঠিক উত্তর:
জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।
ব্যাখ্যা
নামক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে -আ বা আনাে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে অনাে যুক্ত হয়ে হয় চমকানাে: আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।
- বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে -আ যুক্ত হয়ে হয় কমা: বাজারে সবজির দাম কমছে না।
- ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে আনাে যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো: জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।

অন্য অপশনে,
'সাইরেন বেজে উঠলো'- যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ। 
'আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।', ঝম ঝম করে বৃষ্টি পড়ছে।'- মিশ্র ক্রিয়ায়র উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬০.
একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে যে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়, তাকে কী বলে?
  1. অসমাপিকা ক্রিয়া
  2. প্রযোজক ক্রিয়া
  3. যৌগিক ক্রিয়া
  4. অকর্মক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে যে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
সে পাস করে গেল।
সাইরেন বেজে উঠল।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৬১.
'মা শিশুকে খাওয়াচ্ছেন'- এখানে 'খাওয়াচ্ছেন' কোন ধরনের ক্রিয়াপদের উদাহরণ?
  1. ক) ণিজন্ত
  2. খ) সমাপিকা
  3. গ) অসমাপিকা
  4. ঘ) যৌগিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ক) ণিজন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ণিজন্ত
ব্যাখ্যা
• প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- 'মা শিশুকে খাওয়াচ্ছেন'।

• বাক্যটিতে 'খাওয়াচ্ছেন' প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া, 'মা' প্রযোজক কর্তা এবং 'শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০০১৯ সংস্করণ।
৬২.
যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তাকে কোন ক্রিয়া বলে?
  1. অকর্মক ক্রিয়া
  2. অসমাপিকা ক্রিয়া
  3. সকর্মক ক্রিয়া
  4. দ্বিকৰ্মক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
অকর্মক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অকর্মক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
অকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনাে কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে ঘুমায়। এই বাক্যে কোনাে কর্ম নেই।

অন্যদিকে,
সকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে বই পড়ছে।
[এই বাক্যে পড়ছে’ হলাে সকর্মক ক্রিয়া। বই’ হলাে ‘পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম।]

দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
[এই বাক্যে ‘দিলেন একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। কী দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (বই), আর কাকে দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (ছাত্রকে)।]

অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- ভালাে করে পড়াশােনা করলে ভালাে ফল হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬৩.
অন্যকে দিয়ে করা বোঝালে কোন ক্রিয়া হয়?
  1. যৌগিক ক্রিয়া
  2. সরল ক্রিয়া
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. নাম ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
প্রযোজক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
 যেমন :
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন; রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায় এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
• সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
 যেমন:
- সে লিখছে। ছেলেরা মাঠে খেলছে। এখানে লিখছে ও খেলছে - এগুলো সরল ক্রিয়া।

• নামক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে -আ বা -আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
 যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় ‘চমকানো’।

• যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

৬৪.
কোনটি কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. কখনো বা দেখা হবে।
  2. ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।
  3. তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
  4. যথাসময়ে সে হাজির হয়।
সঠিক উত্তর:
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবিশেষণ:
- যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
- নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
লোকটি ধীরে হাঁটে।
মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

- অনেক সময়ে বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে '-এ', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি এবং '-ভাবে', '-বশত', '-মতো' ইত্যাদি শব্দাংশ যুক্ত হয়ে ক্রিয়াবিশেষণ তৈরি হয়।
যেমন - ততক্ষণে, দ্রুতগতিতে, শান্তভাবে, ভ্রান্তিবশত, আচ্ছামতো ইত্যাদি।

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন -
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
যথাসময়ে সে হাজির হয়।

অন্যদিকে,
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ - কখনো বা দেখা হবে। 
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ - ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।
• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ - তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৫.
নিচের কোনটি ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ক) আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি
  2. খ) মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়
  3. গ) টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে
  4. ঘ) সে এখন যাবে না
সঠিক উত্তর:
গ) টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে
ব্যাখ্যা
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন - টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন -আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন -মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়

 নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বােঝায়।
এগুলাে সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন -সে এখন যাবে না

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও ‘কি’, ‘যে, বা',না’, ‘তাে  প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন - কি: আমি কি যাব?

[উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০২১]
৬৬.
নিচের কোনটি সকর্মক ক্রিয়া?
  1. ক) আমি খাই।
  2. খ) সে ঘুমায়।
  3. গ) সে ফুটবল খেলে।
  4. ঘ) কামাল পড়ছে।
সঠিক উত্তর:
গ) সে ফুটবল খেলে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সে ফুটবল খেলে।
ব্যাখ্যা
সে ফুটবল খেলে- সকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ। 
এখানে ক্রিয়ার সাথে 'কী' বা 'কাকে প্রশ্ন' করলে উত্তর পাওয়া যায়, তাই ক্রিয়ার কর্মপদ আছে। 

সকর্মক ক্রিয়া
- যে ক্রিয়ার কর্মপদ আছে তাই সকর্মক ক্রিয়া।
- ক্রিয়ার সাথে 'কী' বা 'কাকে প্রশ্ন' করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই ক্রিয়ার কর্মপদ। 
- কর্মপদযুক্ত ক্রিয়াই সর্কমক ক্রিয়া। 

অকর্মক ক্রিয়া
যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া। 
যেমন: সে রোজ সেখানে যায়। 
কী ‘যায়’ বা ‘কাকে যায়’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না। কাজেই ‘যায়’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।
৬৭.
'শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।' - বাক্যে 'দিলেন' কোন ক্রিয়া?
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. অকর্মক ক্রিয়া
  3. দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
দ্বিকর্মক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিকর্মক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন। এই বাক্যে ‘দিলেন’ একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া।
- 'কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (‘বই’), আর 'কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (‘ছাত্রকে’)।

অন্যদিকে:
অকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে ঘুমায়।
- এই বাক্যে কোনো কৰ্ম নেই ৷

প্রযোজক ক্রিয়া:

- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
- এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৮.
টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে- এ বাক্যে ‘টিপটিপ’ কী ধরণের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ক) ধরণবাচক
  2. খ) কালবাচক
  3. গ) স্থানবাচক
  4. ঘ) নেতিবাচক
সঠিক উত্তর:
ক) ধরণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধরণবাচক
ব্যাখ্যা
• যে ক্রিয়াবিশেষণ দ্বারা কোন কাজ কীভাবে বা কেমন করে সংঘটিত হচ্ছে বুঝায় তাকে ধরনবাচক বা ভাবজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
য়েমন :
টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে।
লেখাটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
অর্পনা দ্রুত লিখতে পারে।

অন্যদিকে,
কালবাচক: যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে তাদেরকে কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন:
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

স্থানবাচক: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
মিলেমিশে সামনে এগিয়ে যায়।

নেতিবাচক: যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ না, নি, নেই ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায় তাকে নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে। এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পেছনে বসে।
যেমন:
সে এখন যাবে না।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৯.
রবিন সারাদিন খেলেছিল। - বাক্যের ক্রিয়া কোন ধরনের?
  1. সকর্মক
  2. অকর্মক
  3. দ্বিকর্মক
  4. অসমাপিকা
সঠিক উত্তর:
অকর্মক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অকর্মক
ব্যাখ্যা

সমাপিকা ক্রিয়ার গঠনঃ
সমাপিকা ক্রিয়া সকর্মক, অকর্মক ও দ্বিকর্মক হতে পারে।
ধাতুর সঙ্গে বর্তমান, অতীত বা ভবিষ্যৎ কালের বিভক্তি যুক্ত হয়ে সমাপিকা ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন -
- মনোয়ার বই পড়ে। (এখানে, ক্রিয়া - সকর্মক; কাল - বর্তমান)
- রবিন সারাদিন খেলেছিল। (এখানে, ক্রিয়া - অকর্মক; কাল অতীত)
- আমি তোমাকে একটি কলম উপহার দেব। (এখানে, ক্রিয়া - দ্বিকর্মক; কাল - ভবিষ্যৎ)

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ।

৭০.
বাংলা ব্যাকরণের নিয়মানুসারে কোন পদ ছাড়া বাক্য গঠন করা যায় না?
  1. ক) বিশেষ্য পদ
  2. খ) ক্রিয়া পদ
  3. গ) বিশেষণ পদ
  4. ঘ) সর্বনাম পদ
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রিয়া পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রিয়া পদ
ব্যাখ্যা

ক্রিয়া পদঃ যে পদ দিয়ে কোন কাজ করা বোঝায়, তাকে ক্রিয়া পদ বলে।
অর্থাৎ, বাক্যের অন্তর্গত যে পদ দ্বারা কোন কাজ সম্পাদন করা বা কোন কাজ সংঘটন হওয়াকে বোঝায়, তাকে ক্রিয়া পদ বলে।

ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে পুরুষ ও কাল অনুযায়ী ক্রিয়াবিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়। যেমন, ‘পড়্’ একটি ধাতু। এর সঙ্গে উত্তম পুরুষ ও সাধারণ বর্তমান কাল অনুযায়ী ‘ই’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত হয় ‘পড়ি’ ক্রিয়াপদটি। আবার মধ্যম পুরুষের জন্য হবে ‘পড়ো’। নাম পুরুষের জন্য হবে ‘পড়ে’। আবার উত্তম পুরুষের জন্য ঘটমান বর্তমান কালের জন্য হবে ‘পড়ছি’। সাধারণ অতীত কালের জন্য হবে ‘পড়েছি’।

ক্রিয়া পদ বাক্যের অপরিহার্য অঙ্গ। শুধু ক্রিয়াপদ নিয়ে একটি বাক্য গঠিত হতে পারে। কিন্তু ক্রিয়া পদ ছাড়া কোন বাক্য গঠিত হতে পারে না। তবে মাঝে মাঝে অনেক বাক্যের ক্রিয়াপদটি উহ্য থাকে। যেমন- ‘রমেশ আমার ভাই (হয়)।’ এই বাক্যে ‘হয়’ ক্রিয়াটি উহ্য থাকে, এটি না লিখলেও সবাই বুঝতে পারে। আর তাই এটি লেখাও হয় না।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭১.
কল্যাণী গাজীপুর থাকে। এখানে গাজীপুর কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা

যে ক্রিয়াবিশেষণ দ্বারা কোনো কাজ কোথায় বা কোন স্থানে সংঘটিত হচ্ছে বুঝায় তাকে স্থানজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন :
- আমার সামনে দাঁড়াও।
- এখানে বসো। কল্যাণী গাজীপুর থাকে।
- চশমাটা কোথায় রেখেছি বলতে পারছি না।
- মামুন আমেরিকা থাকে।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

৭২.
নিচের কোনটি সাধু রীতির ক্রিয়াপদ?
  1. করলেন
  2. হইল
  3. পেরিয়ে
  4. পড়লো
সঠিক উত্তর:
হইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হইল
ব্যাখ্যা

• সাধু ও চলিত ভাষায় ক্রিয়া পদের কতিপয় রূপ:

যেমন:
সাধু     -   চলিত:
হইল - হল/হলো,
→ আসিয়া- এসে,
→ করিলেন- করলেন,
→ দেন নাই- দেননি,
→ পার হইয়া- পেরিয়ে,
→ পড়িল- পড়ল/পড়লো। 
→ করিয়া- করে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৭৩.
কিসের ভেদে ক্রিয়ার রূপের কোনো পার্থক্য হয় না?
  1. অর্থভেদে
  2. বচনভেদে
  3. বর্ণনাভেদে
  4. কালভেদে
সঠিক উত্তর:
বচনভেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বচনভেদে
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াপদ:
ক্রিয়ামূল অর্থাৎ ধাতুর সঙ্গে কাল সময় ও পুরুষ জ্ঞাপক (ক্রিয়া) বিভক্তিযোগে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।

ক. পুরুষভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য দেখা যায়।
যেমন:
- আমি যাই।
- তুমি যাও।
- আপনি যান।
- সে যায়। তিনি যান। (সাধারণ ভবিষ্যৎ কালে নাম পুরুষ ও মধ্যম পুরুষের রূপ অভিন্ন।)

খ. বচনভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় না।
যেমন:
- আমি (বা আমরা) যাই।
- তুমি (বা তোমরা) যাও।
- সে (বা তারা) যায়।

গ. সাধারণ, সম্ভ্রমাত্মক, তুচ্ছার্থকভেদে মধ্যম ও নাম পুরুষের ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় হয়ে থাকে (উত্তম পুরুষের হয় না)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৭৪.
'যত্ন করলে রত্ন মিলে'- এ বাক্যে 'করলে' কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. সমাপিকা
  2. দ্বিকর্মক
  3. অসমাপিকা
  4. অকর্মক
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা
ব্যাখ্যা
• 'যত্ন করলে রত্ন মিলে'- এ বাক্যে 'করলে' অসমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ
----------------------- 
অসমাপিকা ক্রিয়া: 

- যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- যত্ন করলে রত্ন মিলে।
এখানে 'করলে' বললে ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয় না। তাই এটি অসমাপিকা ক্রিয়া।

অর্থাৎ,
বাক্যটি সম্পূর্ণ হতে হলে 'করলে' ক্রিয়ার পর আরও কিছু যোগ করতে হয়। 'যত্ন করলে' বললে বাক্যটি অসম্পূর্ণ থাকে এবং পূর্ণ অর্থ প্রকাশ পায় না। তাই এখানে 'করলে' একটি অসমাপিকা ক্রিয়া।
------------------------- 
অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের:
১. ভূত অসমাপিকা,
২. ভাবী অসমাপিকা এবং
৩. শর্ত অসমাপিকা।
যথা: 
• ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
• ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহি যায়।
• শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালাে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি-নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৫.
‘আজকাল সৎ মানুষের চেয়ে ধনী মানুষের মূল্য বেশি’- বাক্যে ‘আজকাল’ কোন পদের দৃষ্টান্ত?
  1. বিশেষণ
  2. আবেগ
  3. সর্বনাম
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• ‘আজকাল সৎ মানুষের চেয়ে ধনী মানুষের মূল্য বেশি’- বাক্যে ‘আজকাল’ কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ পদের দৃষ্টান্ত

⇒ ক্রিয়া বিশেষণ: যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন:
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
- যথাসময়ে সে হাজির হয় ।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। 
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। 
যেমন:
- আমি কি যাব? 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৭৬.
‘হেসে ওঠা’ কোন ধরনের ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. সংযোগ ক্রিয়া
  2. যৌগিক ক্রিয়া
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. মৌলিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
- মরে যাওয়া, 
- কমে আসা, 
- এগিয়ে চলা,
- হেসে ওঠা, 
- উঠে পড়া, 
- পেয়ে বসা,
- সরে দাঁড়ানো, 
- বেঁধে দেওয়া,
- বুঝে নেওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।

৭৭.
ক্রিয়ার রূপভেদ হয় -
  1. বচন ভেদে
  2. পক্ষ ভেদে
  3. কাল ভেদে
  4. খ ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
খ ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া:
বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া
বলে।
যেমন -
- সেজান খেলছে।
- বৃষ্টি হতে পারে।

- ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন -
পড় + ই = পড়ি, পড় + এ = পড়ে, পড় + ছে = পড়ছে, পড় + বে = পড়বে।
- পক্ষ (পুরুষ) এবং কাল ভেদে ক্রিয়ার রূপভেদ হয়।
যেমন -
- পক্ষভেদ: আমি পড়ি, আমরা পড়ি, তুমি পড়ো, তোমরা পড়ো, সে পড়ে, তারা পড়ে।
- কালভেদ: আমি পড়ি, আমি পড়ছি, আমি পড়েছি, আমি পড়েছিলাম, আমি পড়ছিলাম, আমি পড়ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৮.
ক্রিয়াপদ থেকে ক্রিয়া বিভক্তি বাদ দিলে যা থাকে তা হলো-
  1. ক) প্রত্যয়
  2. খ) শব্দ
  3. গ) ধাতু
  4. ঘ) উক্তি
সঠিক উত্তর:
গ) ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ধাতু
ব্যাখ্যা
• ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
- ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওযা যায়।
- ক্রিয়াপদ এর দুটি অংশ- ধাতু বা ক্রিয়ামূল, ক্রিয়া বিভক্তি।
- ক্রিয়াপদ থেকে ক্রিয়া বিভক্তি বাদ দিলে যা থাকে তাই ধাতু।
- যেমন: ‘করে’ একটি ক্রিয়াপদ। এতে দুটো অংশ রয়েছে : কর্ +এ (এখানে 'কর্' ধাতু এবং ‘এ’ বিভক্তি)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণী।
৭৯.
'দ্রুতগতিতে' কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• দ্রুতগতিতে (ক্রিয়া বিশেষণ পদ),
- দ্রুত সংস্কৃত শব্দ + গতিতে বাংলা শব্দ।
অর্থ:
- শ্রীঘ্র,
- ‍তাড়াতাড়ি।

-----------------------
• ক্রিয়া বিশেষণ:
 যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।

- অনেক সময়ে বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে '-এ', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি এবং '-ভাবে', '-বশত', '-মতো' ইত্যাদি শব্দাংশ যুক্ত হয়ে ক্রিয়াবিশেষণ তৈরি হয়।
যেমন - ততক্ষণে, দ্রুতগতিতে, শান্তভাবে, ভ্রান্তিবশত, আচ্ছামতো ইত্যাদি।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়।
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।
- তিনি বেড়াতে যাননি।
- এমন কথা আমার জানা নেই।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- আমি কি যাব?
- খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
- কখনো বা দেখা হবে।
- একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে।
- মরি তো মরব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮০.
ক্রিয়ামূলের সঙ্গে যেসব লগ্নক যুক্ত হয়ে ক্রিয়ার কাল ও পক্ষ নির্দেশ করে সেগুলোকে কী বলে?
  1. ক) ক্রিয়ামূল
  2. খ) ক্রিয়াবিভক্তি
  3. গ) প্রকৃতি
  4. ঘ) প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রিয়াবিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রিয়াবিভক্তি
ব্যাখ্যা
ক্রিয়ার দুইটি অংশ:
- প্রথম অংশ ধাতু বা ক্রিয়ামূল এবং
- দ্বিতীয় অংশ ক্রিয়াবিভক্তি।
ক্রিয়ামূলের সঙ্গে যেসব লগ্নক যুক্ত হয়ে ক্রিয়ার কাল ও পক্ষ নির্দেশিত হয়, সেগুলােকে ক্রিয়াবিভক্তি বলে।
যেমন -
- পড়ছি (পড় + ছি) - ক্রিয়ার এই রূপটি থেকে বােঝা যায় যে, এই ক্রিয়ার কর্তা বক্তা পক্ষের এবং এটা দিয়ে ঘটমান বর্তমান কালের পড়া ক্রিয়াকে বােঝায়।
- পড়বেন (পড়ু + বেন) - ক্রিয়ার এই রূপটি থেকে বােঝা যায় যে, এই ক্রিয়ার কর্তা শ্রোতা পক্ষের এবং এটা দিয়ে সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের পড়া ক্রিয়াকে বােঝায়। - পড়ছিল (পড়ু + ছিল) - ক্রিয়ার এই রূপটি থেকে বােঝা যায় যে, এই ক্রিয়ার কর্তা অন্য পক্ষের এবং এটা দিয়ে সাধারণ অতীত কালের পড়া ক্রিয়াকে বােঝায়। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৮১.
বাক্যে সমাপিকা ক্রিয়াপদ কোথায় বসে?
  1. ক) শেষে
  2. খ) প্রথমে
  3. গ) কর্মের আগে
  4. ঘ) অব্যয় পদের পরে
সঠিক উত্তর:
ক) শেষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শেষে
ব্যাখ্যা

সমাপিকা ক্রিয়া:
-যে-ক্রিয়াতে বক্তব্য বা বাক্য শেষ হয়ে যায়, আর কিছু বলার বাকি থাকে না, বাক্যের অর্থগত পূর্ণতা সৃষ্টি হয়, তাকে ‘সমাপিকা ক্রিয়া' বলে।
যেমন-
-ছাত্রেরা বই পড়ছে।
-খোকা ভাত খেয়েছে।
-সূর্য পূর্বদিকে ওঠে।


তাই বলা যায়, বাক্যে সমাপিকা ক্রিয়াপদ মূলত শেষে বসে।


উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮২.
কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. মন দেওয়া
  2. দোষ দেওয়া
  3. বুঝে নেওয়া
  4. কথা দেওয়া
সঠিক উত্তর:
বুঝে নেওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুঝে নেওয়া
ব্যাখ্যা

যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সংযোগ ক্রিয়া - কথা দেওয়া, দোষ দেওয়া, মন দেওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৮৩.
নিচের কোনটি দ্বিকর্ম ক্রিয়া নয়?
  1. ক) বাবা আমাকে একটি বই কিনে দিয়েছেন। 
  2. খ) সুজন সখিকে চিঠি লিখবে।
  3. গ) শিক্ষক ছাত্রকে ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন। 
  4. ঘ) আমার একটি উপন্যাস আছে।
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমার একটি উপন্যাস আছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমার একটি উপন্যাস আছে।
ব্যাখ্যা
যে ক্রিয়ার দুটি কর্মপদ আছে তাকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন : 
বাবা আমাকে একটি বই কিনে দিয়েছেন। 
মা তোমাকে চিঠি লিখবেন।
শিক্ষক ছাত্রকে অঙ্ক করাচ্ছেন। 

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৮৪.
শিক্ষক ছাত্রটিকে বেতাচ্ছেন- এখানে 'বেতাচ্ছেন' কীসের উদাহরণ?
  1. যৌগিক ক্রিয়া
  2. সরল ক্রিয়া
  3. মিশ্র ক্রিয়া
  4. নামক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
নামক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নামক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• নামক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বনাত্মক অব্যয়ের শেষে আ-প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন : 
বিশেষ্যের পরে : শিক্ষক ছাত্রকে বেতাচ্ছেন
বিশেষণের পরে : শিশুটি কলম বাঁকাচ্ছে।
ধ্বনাত্মক অব্যয়ের পরে : ছেলেটি ঝিমাচ্ছে।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৮৫.
'কি, যে, বা, না, তো' - প্রভৃতি কোন ধরনের ক্রিয়া বিশেষণ?
  1. ধরনবাচক
  2. স্থানবাচক
  3. কালবাচক
  4. পদাণু
সঠিক উত্তর:
পদাণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদাণু
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
লোকটি ধীরে হাঁটে।
মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।
--------------------------- 
• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও ‘কি’, ‘যে’, ‘বা’, ‘না’, ‘তো’ প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন -
কি: আমি কি যাব?
যে: খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
বা: কখনো বা দেখা হবে।
না: একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে।
তো: মরি তো মরব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৬.
ক্রিয়ার দ্বিরুক্তি যোগে গঠিত বিশেষণের দৃষ্টান্ত হলো -
  1. ক) ডেকে ডেকে
  2. খ) বারে বারে
  3. গ) যায় যায়
  4. ঘ) দেখতে দেখতে
সঠিক উত্তর:
গ) যায় যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যায় যায়
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াবাচক শব্দের দ্বিরুক্তি:
- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: ডেকে ডেকে হয়রান হয়ে গেছি।
- বিশেষণ রূপে: রোগী বুঝি যায় যায়। তোমার নেই নেই ভাব আর গেলো না। 
- স্বলপকাল স্থায়ী বোঝাতে: দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে গেলো।
- ক্রিয়া বিশেষণ বোঝাতে: দেখে দেখে যেও। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে  শুনলে কিভাবে? 
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮৭.
'মনের দুঃখ চেপে রাখা উচিত নয়'- বাক্যে কোন প্রকার ক্রিয়ার ব্যবহার ঘটেছে?
  1. ক) সরল ক্রিয়া
  2. খ) নাম ক্রিয়া
  3. গ) যৌগিক ক্রিয়া
  4. ঘ) সংযোজক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
'মনের দুঃখ চেপে রাখা উচিত নয়'- বাক্যে যৌগিক ক্রিয়ার ব্যবহার ঘটেছে। 

যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন - মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৮৮.
'খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি।' এখানে ‘ঘুম’ কী?
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. সমধাতুজ কর্ম
  3. নামধাতু
  4. যৌগিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
সমধাতুজ কর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমধাতুজ কর্ম
ব্যাখ্যা
• কর্মকারকের প্রকারভেদ:
ক) সকর্মক ক্রিয়ার কর্ম: নাসিমা ফুল তুলছে।
খ) প্রযোজক ক্রিয়ার কর্ম: ছেলেটিকে বিছানায় শোয়াও।
গ) সমধাতুজ কর্ম: খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি।

ঘ) উদ্দেশ্য ও বিধেয়: দ্বিকর্মক ক্রিয়ার দুটি পরস্পর অপেক্ষিত কর্মপদ থাকলে প্রধান কর্মটিকে বলা হয় উদ্দেশ্য কর্ম এবং অপেক্ষিত কর্মটিকে বলা হয় বিধেয় কর্ম।
যেমন -
- দুধকে (উদ্দেশ্য কর্ম) মোরা দুগ্ধ (বিধেয় কর্ম) বলি, হলুদকে (উদ্দেশ্য কর্ম) বলি হরিদ্রা (বিধেয় কর্ম)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৯.
‘সূর্য উঠলে আঁধার দূরীভূত হয়’। এখানে ‘উঠলে’ কোন ক্রিয়াপদ?
  1. সমাপিকা
  2. অসমাপিকা
  3. প্রযোজক
  4. প্রযোজ্য
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা
ব্যাখ্যা
অসমাপিকা ক্রিয়া: 
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের পরিসমাপ্তি ঘটে না, বক্তার কথা অসম্পূর্ণ থেকে যায়, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে৷
যেমন: 
- সূর্য উঠলে….. এই বাক্যে 'উঠলে' দ্বারা কথা শেষ হয় নি৷
- তাই এখানে 'উঠলে' অসমাপিকা ক্রিয়া৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম, শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯০.
রবিন দোকানে গিয়েছে। - এই বাক্যে ক্রিয়ার কোন ধরনের ভাব প্রকাশ পেয়েছে?
  1. ক) অনুজ্ঞা ভাব
  2. খ) শর্তসাপেক্ষ ভাব
  3. গ) নির্দেশক ভাব
  4. ঘ) আকাঙ্ক্ষাবাচক ভাব
সঠিক উত্তর:
গ) নির্দেশক ভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নির্দেশক ভাব
ব্যাখ্যা

ক্রিয়ার ভাবকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমনঃ
নির্দেশক ভাব - রবিন দোকানে গিয়েছে
অনুজ্ঞা ভাব -অন্ধকে ভিক্ষা দিন।
শর্তসাপেক্ষ ভাব - যদি মানা কর, করব না।
আকাঙ্ক্ষাবাচক ভাব - যা হয় হোক।

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ

৯১.
‘সে একটু হাসুক।’ -বাক্যে ক্রিয়ার কোন ভাব প্রকাশ পেয়েছে?
  1. সাপেক্ষ ভাব
  2. অনুজ্ঞা ভাব
  3. নির্দেশক ভাব
  4. আকাঙ্ক্ষা ভাব
সঠিক উত্তর:
আকাঙ্ক্ষা ভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাঙ্ক্ষা ভাব
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বা প্রকার বলে।

- ক্রিয়ার ভাব বা ধরন চার প্রকার।
১. নির্দেশক ভাব,
২. অনুজ্ঞা ভাব,
৩. সাপেক্ষ ভাব,
৪. আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব।

• নির্দেশক ভাব: সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
ক. সাধারণ নির্দেশক: আমরা বই পড়ি। তারা বাড়ি যাবে।
খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায়: আপনি কি আসবেন? সে কি গিয়েছিল?

• অনুজ্ঞা ভাব: আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব
হয়।
যেমন-
ক. আদেশাত্মক-
• বর্তমান কালে: চুপ কর।
• ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।

খ. নিষেধাত্মক-
• বর্তমান কালে: অন্যায় কাজ করো না।
• ভবিষ্যৎ কালে: মিথ্যা বলবে না।

গ. অনুরোধসূচক-
• বর্তমান কালে: ছাতাটা দিন তো ভাই।
• ভবিষ্যৎ কালে: আপনারা আসবেন।

ঘ. উপদেশাত্মক-
• বর্তমানে কালে: মন দিয়ে পড় ।
• ভবিষ্যৎ কালে: স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

• সাপেক্ষ ভাব: একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়। যেমন-
ক. সম্ভাবনায়: তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে। যদি সে পড়ত তবে পাশ করত।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।
তার মঙ্গল হোক।

• আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব: আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন:
- সে যাক।
- যা হয় হোক।
- সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯২.
"তোমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম।" - এ বাক্যে কোন ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে?
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. নাম ক্রিয়া
  3. মিশ্র ক্রিয়া
  4. সংযোগ ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
মিশ্র ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশ্র ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

মিশ্র ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়, ধর্, মার্, প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে।
যেমন:
ক. বিশেষ্যের উত্তর (পরে): আমরা তাজমহল দর্শন করলাম। এখন গোল্লায় যাও।
খ. বিশেষণের উত্তর (পরে): তোমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম।
গ. ধ্বনাত্মক অব্যয়ের উত্তর (পরে): মাথা ঝিম ঝিম্ করছে। ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।

৯৩.
'সাইরেন বেজে উঠল' - বাক্যটিতে কোন ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে?
  1. মিশ্র
  2. যৌগিক
  3. দ্বিকর্মক
  4. অকর্মক
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
→ ঘটনাটা শুনে রাখ।
→ তিনি বলতে লাগলেন।
→ সাইরেন বেজে উঠল।

অন্যদিকে,
মিশ্র ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়্, ধর্, প্রভৃতি ধাতুযোগে
গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থ প্রকাশ করলে, তাকে মিশ্র ক্রিয়া বলে।
যেমন–
বিশেষ্যের (পরে): আমরা তাজমহল দর্শন করলাম; এখন গোল্লায় যাও।
ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের পরে: ঝম্‌ ঝম্‌ করে বৃষ্টি পড়ছে। মাথা ঝিম ঝিম করছে।

দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে ।
যেমন – শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন। এই বাক্যে ‘দিলেন’ একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া।
‘কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (‘বই’), আর ‘কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (‘ছাত্রকে’)।

অকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া। যেমনঃ ছেলেটি হাসে। কী ‘হাসে’ বা ‘কাকে হাসে’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না।
- কাজেই ‘হাসে’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।
- প্রয়োগ বৈশিষ্ট্যে সকর্মক ক্রিয়াও অকর্মক হতে পারে।

যেমন:
অকর্মক: সে পড়ছে।
সকর্মক: সে বই পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১ ও ২০১৯)।
৯৪.
অসমাপিকা ক্রিয়ার প্রকারভেদ নয় কোনটি?
  1. ক) বর্তমান অসমাপিকা ক্রিয়া
  2. খ) ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া
  3. গ) ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া
  4. ঘ) শর্ত অসমাপিকা ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ক) বর্তমান অসমাপিকা ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বর্তমান অসমাপিকা ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন – ভালাে করে পড়াশােনা করলে ভালাে ফল হবে।

অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের:
১. ভূত অসমাপিকা,
২. ভাবী অসমাপিকা এবং
৩. শর্ত অসমাপিকা।
যথা:

ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালাে হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৯৫.
কোন বাক্যটিতে সমধাতুজ কর্ম রয়েছে?
  1. ক) আর কত খেলা খেলবে
  2. খ) আজ খেলা আছে
  3. গ) কাল খেলতে গিয়েছিলাম
  4. ঘ) আমি ঘুম থেকে জেগেছি
সঠিক উত্তর:
ক) আর কত খেলা খেলবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আর কত খেলা খেলবে
ব্যাখ্যা

- বাক্যের ক্রিয়া ও কর্ম পদ একই ধাতু থেকে গঠিত হলে ঐ কর্মপদকে সমধাতুজ কর্ম বা ধাত্বর্থক কর্মপদ বলে।
- সমধাতুজ কর্মপদ অকর্মক ক্রিয়াকে সকর্মক করে।
যেমনঃ
- ''আর কত খেলা খেলবে” —বাক্যে কর্মপদ 'খেলা' এবং ক্রিয়াপদ 'খেলবে' একই ধাতু 'খেল' থেকে গঠিত হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।

৯৬.
"ঋণের বোঝা ভারী হয়ে উঠছে।" - এখানে 'উঠ্‌' ধাতুটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আকস্মিকতা
  2. ক্রমান্বয়তা
  3. সম্ভাবনা
  4. নিরন্তরতা
সঠিক উত্তর:
ক্রমান্বয়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রমান্বয়তা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) ক্রমান্বয়তা।

------------------
• ‘উঠ্‌’ ধাতুর অর্থ:
‘উঠ্‌’ ধাতুটি এখানে ‘হয়ে উঠছে’ রূপে একটি ক্রমান্বয়ী বা ধীরে ধীরে ঘটমান প্রক্রিয়া বোঝাচ্ছে। এটি কোনো অবস্থার দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হওয়া বা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ার অর্থ প্রকাশ করে। "ঋণের বোঝা ভারী হয়ে উঠছে" - এই ক্ষেত্রে, ঋণের বোঝা ক্রমশ ভারী হচ্ছে, যা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া- ক্রমান্বয়তা বোঝাচ্ছে।

"উঠ্‌" ধাতুর বিভিন্ন ব্যবহার:
• অভ্যাস অর্থে - শুধু শুধু তিনি রেগে উঠেন।
• আকস্মিকতা অর্থে - সে হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠল।
• সম্ভাবনা অর্থে - আমার আর থাকা হয়ে উঠল না।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯৭.
"বাড়ি গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।" - এ বাক্যে 'গিয়ে' কোন ধরনের ক্রিয়াপদ?
  1. প্রযোজক
  2. দ্বিকর্মক
  3. অসমাপিকা
  4. সমাপিকা
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা
ব্যাখ্যা
• অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয় না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- আমি বাড়ি গিয়ে .......
- বাড়ি গিয়ে ......
- সে বই নিয়ে ...

• এখানে,
'গিয়ে', 'নিয়ে' ক্রিয়ার দ্বারা কথা শেষ হয় নি। বাক্যের অর্থ অসম্পূর্ণ রয়েছে। বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করার জন্য আরও ক্রিয়া চাই।

• "বাড়ি গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।" - 
এখানে, গিয়ে নিজে সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করছে না, বরং অন্য ক্রিয়ার সাহায্যে বাক্যের অর্থ প্রকাশ করছে।

যেমন:
- আমি বাড়ি গিয়ে খাব।
- সে বই নিয়ে পড়তে বসেছে।
• সুতরাং, 'গিয়ে', 'নিয়ে' হচ্ছে অসমাপিকা ক্রিয়া। আর 'খাব', 'বসেছে' এগুলো সমাপিকা ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি,বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৮.
কোন বাক্যটি ক্রিয়ার অনুজ্ঞা ভাব প্রকাশ করেছে?
  1. তুমি কাল যেও।
  2. তারা বাড়ি যাবে।
  3. ভালো করে পড়লে সফল হবে।
  4. যদি সে পড়ত তবে পাশ করতো।
সঠিক উত্তর:
তুমি কাল যেও।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুমি কাল যেও।
ব্যাখ্যা

তুমি কাল যেও।- বাক্যটি ক্রিয়ার অনুজ্ঞা ভাব প্রকাশ করে। 

-----------------
• ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বা প্রকার বলে।
ক্রিয়ার ভাব বা ধরন চার প্রকার।
১. নির্দেশক ভাব,
২. অনুজ্ঞা ভাব,
৩. সাপেক্ষ ভাব,
৪. আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব।

• নির্দেশক ভাব:
সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
ক. সাধারণ নির্দেশক:
- আমরা বই পড়ি।
- তারা বাড়ি যাবে।

খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায়;
- আপনি কি আসবেন?
-সে কি গিয়েছিল?

• অনুজ্ঞা ভাব:
আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব হয়।
যেমন-
ক. আদেশাত্মক
- বর্তমান কালে: চুপ কর।
- ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।

খ. নিষেধাত্বক
- বর্তমান কালে; অন্যায় কাজ করো না।
- ভবিষ্যৎ কালে, মিথ্যা বলবে না।

লা, অনুরোধসূচক-
- বর্তমান কালে: ছাতাটা দিন তো ভাই।
- ভবিষ্যৎ কালে। আপনারা আসবেন।

ঘ. উপদেশাত্মক
- বর্তমানে কালে: মন দিয়ে পড়।
- ভবিষ্যৎ কালে: স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

• সাপেক্ষ ভাব।
একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীলক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন-
ক. সম্ভাবনায়: তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে। যদি সে পড়ত তবে পাশ করতো। 
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।

• আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব:
আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
প্রযমন:
-সে যাক।
- যা হয় হোক।
-সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।
- তার মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯৯.
উপদেশাত্মক অনুজ্ঞাভাবের উদাহরণ কোনটি?
  1. আমটা খাও
  2. মানুষ হও
  3. কাল দেখা করো
  4. ভালো করে পড়লে পাস করবে
সঠিক উত্তর:
মানুষ হও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষ হও
ব্যাখ্যা
• উপদেশ অর্থে অনুজ্ঞার উদাহরণ - মানুষ হও।

- আদেশ, অনুমতি, অনুরােধ, উপদেশ, প্রার্থনা ইত্যাদির ভাব বােঝাতে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয় তাকে বলে অনুজ্ঞা।
- আর যে ক্রিয়াপদে বর্তমান কালের অনুজ্ঞা প্রকাশ পায় তাকে বর্তমান অনুজ্ঞা বলে।
- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে অ, ও, উন, এন যুক্ত হয়।

যেমন:
- সম্ভাবনায় - ভাল করে পড়লে পাস করবে।
- উপদেশ - মানুষ হও।
- প্রার্থনায় - সুখী হও।
- অনুরোধে - কাল দেখা করো।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০০.
কোন বাক্যে কালবাচক ক্রিয়া বিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) তিনি এখানে এসেছিলেন
  2. খ) ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়
  3. গ) গতকাল তিনি ঘুরে গিয়েছেন
  4. ঘ) একটু ঘুরে আসুন না
সঠিক উত্তর:
গ) গতকাল তিনি ঘুরে গিয়েছেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গতকাল তিনি ঘুরে গিয়েছেন
ব্যাখ্যা

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন-
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি
যথাসময়ে সে হাজির হয়।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।