বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ক্রিয়া পদ

মোট প্রশ্ন৩৮৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ক্রিয়া পদ

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৩৮৯

১০১.
ভাব প্রকাশের দিক থেকে ক্রিয়া কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া:
- বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কি ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তালে ক্রিয়া পদ বলে।

ভাব প্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া ২ প্রকার।

সমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ায় দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয় তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন: ভালো কোরে পড়াশোনা করবে।

অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ায় দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয় না তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন: ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১০২.
সাধারণ বাক্যের অংশ নয় কোনটি?
  1. কর্তা
  2. কর্ম
  3. ক্রিয়া
  4. ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবােধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- বাক্য দিয়ে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়।
- সাধারণ বাক্যের প্রধান তিনটি অংশ: কর্তা, কর্ম ও ক্রিয়া।
- বাক্যের ক্রিয়াকে যে চালায়, সে হলাে কর্তা। যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে বলে কর্ম।
- আর বাক্যের মধ্যে যে অংশ দিয়ে কোনাে কিছু করা, ঘটা বা হওয়া বােঝায় তাকে বলে ক্রিয়া।
- যেমন- “সজল ও লতা বই পড়ে।” – এটি একটি বাক্য।
- বাক্যে ‘সজল ও লতা’ হলাে কর্তা, ‘বই’ হলাে কর্ম এবং ‘পড়ে’ হলাে ক্রিয়া। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১০৩.
”খুব যে বলেছিলেন আসবেন!” - বাক্যটিতে কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
  3. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যেরমধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও 'কি', 'যে', 'বা','না', 'তো' প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন
- আমি কি যাব?
- খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

উল্লেখ্য,
- যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১০৪.
কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. মন দেওয়া
  2. উদয় হওয়া
  3. কমে আসা
  4. পকেট মারা
সঠিক উত্তর:
কমে আসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমে আসা
ব্যাখ্যা

• যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সংযোগ ক্রিয়া: 
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন - 
মন দেওয়া, উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া, পকেট মারা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ ও ২০১৯)।

১০৫.
“নানী নাতি কে চাঁদ দেখাচ্ছেন” এ বাক্যে কোনটি প্রযোজ্য কর্তা?
  1. ক) নানী
  2. খ) চাঁদ
  3. গ) নাতি
  4. ঘ) দেখাচ্ছে
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) নাতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নাতি
ব্যাখ্যা

প্রযোজক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। (সংস্কৃত ব্যাকরণে এটি ণিজন্ত ক্রিয়া বলা হয়)।
যেমনঃ তিনি ছেলেকে পড়াচ্ছেন।

প্রযোজক কর্তা : যে ক্রিয়া প্রযোজন করে, তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
প্রযোজ্য কর্তা : যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।
যেমন : নানী নাতিকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
বাক্যে ‘নানী’ প্রযোজক কর্তা, ‘নাতি’ প্রযোজ্য কর্তা, ‘চাঁদ দেখাচ্ছেন’ প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

১০৬.
ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব প্রকাশ পেয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. বৃষ্টি আসে আসুক।
  2. যা হয় হোক।
  3. সে একটু হাসুক।
  4. স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।
সঠিক উত্তর:
স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞা ভাব:
আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব হয়।
যেমন:
ক. আদেশাত্মক-
বর্তমান কালে: চুপ কর।
ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।

খ. নিষেধাত্মক-
বর্তমান কালে: অন্যায় কাজ করো না।
ভবিষ্যৎ কালে: মিথ্যা বলবে না।

গ. অনুরোধসূচক-
বর্তমান কালে: ছাতাটা দিন তো ভাই।
ভবিষ্যৎ কালে: আপনারা আসবেন।

ঘ. উপদেশাত্মক-
বর্তমানে কালে: মন দিয়ে পড়।
ভবিষ্যৎ কালে: স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

অন্যদিকে, 
-----------------
• আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব:
আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন:
- সে যাক।
- যা হয় হোক।
- সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০৭.
"পাভেল তাঁর ছোটভাইকে বই দিলেন।" এই বাক্যে 'দিলেন' কোন প্রকার ক্রিয়া?
  1. অকর্মক ক্রিয়া
  2. সকর্মক ক্রিয়া
  3. দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
দ্বিকর্মক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিকর্মক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
- "পাভেল তার ছোটভাইকে বই দিলেন।" এই বাক্যে 'দিলেন' দ্বিকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ।
- এই বাক্যে 'দিলেন' একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। 'কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম ('বই'), আর 'কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম ('তার ছোটভাইকে')

বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার:
১. অকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
- যেমন: সে ঘুমায়।
- এই বাক্যে কোনো কর্ম নেই।

২. সকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন- সে বই পড়ছে।
এই বাক্যে 'পড়ছে' হলো সকর্মক ক্রিয়া। 'বই' হলো 'পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম।

৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
- যেমন- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
- এই বাক্যে 'দিলেন' একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। 'কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম ('বই'), আর 'কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম ('ছাত্রকে')।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
১০৮.
প্রশ্ন জিজ্ঞাসায় ক্রিয়ার কোন ভাব হয়?
  1. সাপেক্ষ ভাব
  2. আকাঙ্ক্ষা ভাব
  3. নির্দেশক ভাব
  4. অনুজ্ঞা ভাব
সঠিক উত্তর:
নির্দেশক ভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দেশক ভাব
ব্যাখ্যা
• নির্দেশক ভাব:
- সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
ক. সাধারণ নির্দেশক: আমরা বই পড়ি। তারা বাড়ি যাবে।
খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায়: আপনি কি আসবেন? সে কি গিয়েছিল?

অন্যদিকে, 
অনুজ্ঞা ভাব:
- আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব
হয়।
যেমন-
ক. আদেশাত্মক-
• বর্তমান কালে: চুপ কর।
• ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।

আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব:
- যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন:
- সে যাক।
- যা হয় হোক।
- সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।

সাপেক্ষ ভাব:
- একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলে।
যথা:
- যদি সে পড়ত, তবে পাস করত।
- আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০৯.
'ঘটনাটা শুনে রাখ'- এখানে 'শুনে রাখ' কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) প্রযোজক ক্রিয়া
  2. খ) মিশ্র ক্রিয়া
  3. গ) যৌগিক ক্রিয়া
  4. ঘ) সমাপিকা ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
'ঘটনাটা শুনে রাখ'- এখানে 'শুনে রাখ'- যৌগিক ক্রিয়া উদাহরণ।

যৌগিক ক্রিয়া:
একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: তাগিদ দেয়া অর্থে- ঘটনাটা শুনে রাখ,
কার্যসমাপ্তি অর্থে- ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল। 
প্রযোজক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অপরজন কর্তৃক সম্পাদিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া বলে।
যেমন:
'মা শিশুকে গোসল করাচ্ছেন'- বাক্যটিতে 'করাচ্ছেন' প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া, 'মা' প্রযোজক কর্তা এবং 'শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা।
মিশ্র ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়্, ধর্, প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থ প্রকাশ করলে, তাকে মিশ্র ক্রিয়া বলে।
যেমন–
বিশেষ্যের (পরে) : আমরা তাজমহল দর্শন করলাম। 

সমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন – ভালাে করে পড়াশােনা করবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি। 
১১০.
কোনটি প্রযোজক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. হাফিজ চিঠি লিখছে। 
  2. মা নুসরাতকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
  3. হাসিব স্কুলে যায়।
  4. সাইরেন বেজে উঠল।
সঠিক উত্তর:
মা নুসরাতকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মা নুসরাতকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
ব্যাখ্যা
প্রযোজক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া অন্যের দ্বারা চালিত হয়, তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
মা খোকাকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
সাপুড়ে সাপ খেলায়।
মা নুসরাতকে চাঁদ দেখাচ্ছেন

অন্যদিকে,
- সাইরেন বেজে উঠল। - যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।
- হাফিজ চিঠি লিখছে। - সমকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ।
- হাসিব স্কুলে যায়। - সমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১১১.
কোন বাক্যটির ক্রিয়া অকর্মক?
  1. নাছরিন খেলা করছে।
  2. শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
  3. বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন।
  4. মেয়েটি হাসে।
সঠিক উত্তর:
মেয়েটি হাসে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেয়েটি হাসে।
ব্যাখ্যা
অকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া।
- অকর্মক ক্রিয়ার ক্রিয়া পদটিকে 'কী' বা 'কাকে' দিয়ে প্রশ্ন করলে কোন উত্তর পাওয়া না।
যেমন:
- মেয়েটি হাসে।
এখানে, 'কী হাসে' বা 'কাকে হাসে' প্রশ্ন করলে কোন উত্তর হয় না। কাজেই 'হাসে' ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
সকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- নাছরিন খেলা করছে।
এই বাক্যে 'করছে' হলো সকর্মক ক্রিয়া। 'খেলা' হলো 'করছে' ক্রিয়ার কর্ম।

দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
- বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১২.
নিচের কোনটি অকর্মক ক্রিয়া?
  1. ক) আমি খাই।
  2. খ) করিম করিমাকে ভালোবাসে। 
  3. গ) তারা ফুটবল খেলে।
  4. ঘ) সে গান করে।
সঠিক উত্তর:
ক) আমি খাই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আমি খাই।
ব্যাখ্যা
আমি খাই - এ বাক্যের ‘খাই’ ক্রিয়ার কোনো কর্মপদ নেই। বাকি বাক্যগুলো কর্মপদ আছে।  

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১১৩.
”টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।”- বাক্যে ”টিপ টিপ” কোন ধরনের ক্রিয়া বিশেষণ?
  1. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
  2. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষ
  3. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ”টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।”- বাক্যে ”টিপ টিপ” ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।

• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কোনো ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

উল্লেখ্য,
- যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। 
• ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১১৪.
কোন বাক্যটির ক্রিয়া সকর্মক?
  1. ক) শিশুটি কাঁদে
  2. খ) মাসুদ সারাদিন খেলেছিল
  3. গ) চুপ করে থাক
  4. ঘ) আকাশে চাঁদ দেখা যায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) আকাশে চাঁদ দেখা যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আকাশে চাঁদ দেখা যায়
ব্যাখ্যা

সকর্মক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়ার কর্মপদ আছে তা-ই সকর্মক ক্রিয়া। ক্রিয়ার সাথে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই কর্মপদ।
কর্মপদযুক্ত ক্রিয়াই সকর্মক ক্রিয়া।
যেমন:
- বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন।

অকর্মক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা-ই অকর্মক ক্রিয়া।
যেমন: মেয়েটি হাসে।
‘কী হাসে’ বা ‘কাকে হাসে’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর পাওয়া যায় না। এজন্য ‘হাসে’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।

প্রশ্নের বাক্যগুলোর মধ্যে শুধু "আকাশে চাঁদ দেখা যায়" বাক্যের ক্রিয়াপদটি সকর্মক।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

১১৫.
'সরে দাঁড়ানো' - কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. সরল ক্রিয়া
  2. নাম ক্রিয়া
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

যৌগিক ক্রিয়া:
- সমাপিকা ক্রিয়ার সাথে অসমাপিকা ক্রিয়া যক্ত হয়।

​যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো

​অন্যদিকে,
​সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন-
- ছেলেরা মাঠে খেলছে।

প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।

নাম ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ' বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে - 'আনো' প্রত্যয় যুক্ত্য করে হয় 'চমকানো'; আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১১৬.
করেছে, করেছো, করেছেন- বাংলা ক্রিয়ার এ’ তিনটি রূপ কেন ব্যবহৃত হয়?
  1. লিঙ্গভেদের কারণে
  2. মর্যাদাভেদের কারণে
  3. কারকবিভক্তির কারণে
  4. সমাসের কারণে
সঠিক উত্তর:
মর্যাদাভেদের কারণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মর্যাদাভেদের কারণে
ব্যাখ্যা
• করেছে, করেছো, করেছেন- বাংলা ক্রিয়ার এ’ তিনটি রূপ মর্যাদাভেদের কারণে ব্যবহৃত হয়।

ক্রিয়াপদ:
- ক্রিয়ামূল অর্থাৎ ধাতুর সঙ্গে কাল সময় ও পুরুষ জ্ঞাপক (ক্রিয়া) বিভক্তিযোগে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।
- সাধারণ, সম্ভ্রমাত্মক, তুচ্ছার্থকভেদে অর্থাৎ মর্যাদাভেদে মধ্যম ও নাম পুরুষের ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয়ে থাকে (উত্তম পুরুষে হয় না)।
যেমন -
পুরুষ .................. সাধারণ .............. সম্ভ্রমাত্মক ........... তুচ্ছার্থক / ঘনিষ্ঠার্থক
উত্তম পুরুষ ....... আমি করি ........ ------------ ......... ------------
মধ্যম পুরুষ ....... তুমি করেছো ... তিনি করেছেন ....... তুই কর।
নাম পুরুষ ........... সে করেছে ...... তিনি করেছেন ...... এটা করেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১৭.
নিচের কোনটি নামক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।
  2. সাঁতার কাটা স্বাস্থ্যের জন্য ভাল।
  3. তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন
  4. ছেলেরা মাঠে খেলছে
সঠিক উত্তর:
জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।
ব্যাখ্যা

• নামক্রিয়া: 
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে-আ বা-আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে। যেমন: বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় চমকানো: আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়; বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে-আ যুক্ত হয়ে হয় কমা: বাজারে সবজির দাম কমছে না; 
- ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো: জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।

অন্যদিকে,
• সরল ক্রিয়া: একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে। যেমন সে লিখছে। ছেলেরা মাঠে খেলছে। এখানে লিখছে ও খেলছে - এগুলো সরল ক্রিয়া।

• প্রযোজক ক্রিয়া: কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। যেমন- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন; রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায় এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

• সংযোগ ক্রিয়া: বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়। করা ক্রিয়া যোগে: গান করা, গরম করা, ঠনঠন করা, ব্যাট করা; কাটা ক্রিয়া যোগে: সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা; হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া; দেওয়া ক্রিয়া যোগে: কথা দেওয়া, মন দেওয়া, দোষ দেওয়া; ধরা ক্রিয়া যোগে: ভাঙন ধরা, মরচে ধরা, ক্যাচ ধরা; পাওয়া ক্রিয়া যোগে: লজ্জা পাওয়া, কষ্ট পাওয়া, বৃদ্ধি পাওয়া; খাওয়া ক্রিয়া যোগে: আছাড় খাওয়া, মার খাওয়া, ডিগবাজি খাওয়া; মারা ক্রিয়া যোগে: উঁকি মারা, পকেট মারা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।

১১৮.
"বিষয়টা জেনে রাখো।" - এ বাক্যে কোন ক্রিয়া রয়েছে?
  1. প্রযোজক
  2. মিশ্র
  3. যৌগিক
  4. সরল 
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা

• "বিষয়টা জেনে রাখো।"- এখানে 'জেনে রাখো'- যৌগিক ক্রিয়া।

যৌগিক ক্রিয়া:
একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- তাগিদ দেয়া অর্থে: ঘটনাটা শুনে রাখ।
- কার্যসমাপ্তি অর্থে: ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১১৯.
বাক্যে ব্যবহৃত একই ক্রিয়া থেকে উৎপন্ন কর্মকে বলে-
  1. অকর্মক ক্রিয়া
  2. সমধাতুজ ক্রিয়া
  3. মিশ্র ক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
সমধাতুজ ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমধাতুজ ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

বাক্যে ব্যবহৃত একই ক্রিয়া থেকে উৎপন্ন কর্মকে সমধাতুজ ক্রিয়া বলা হয়। যেমন-
- আর মায়াকান্না কেঁদো না গো বাপু।
- বেশ এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
- এমন সুখের মরণ কে মরতে পারে? ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

১২০.
"বাজারে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।" - এখানে 'গিয়ে কোন ক্রিয়া?
  1. প্রযোজক
  2. দ্বিকর্মক
  3. অসমাপিকা
  4. সমাপিকা
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা
ব্যাখ্যা

• অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয় না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।

যেমন:
আমি বাড়ি গিয়ে .......
সে বই নিয়ে

এখানে 'গিয়ে', 'নিয়ে' ক্রিয়ার দ্বারা কথা শেষ হয় নি। বাক্যের অর্থ অসম্পূর্ণ রয়েছে। বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করার জন্য আরও ক্রিয়া চাই।
যেমন:
আমি বাড়ি গিয়ে খাব।
বাজারে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। (এখানে 'গিয়ে অসমাপিকা ক্রিয়া)

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১২১.
দ্বিকর্মক ক্রিয়ার বস্তুবাচক কর্মপদটিকে কী বলে?
  1. গৌণ কর্ম
  2. উদ্দেশ্য কর্ম
  3. মুখ্য কর্ম
  4. সমধাতুজ কর্ম
সঠিক উত্তর:
মুখ্য কর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুখ্য কর্ম
ব্যাখ্যা

• বাক্যে দুইটি কর্ম থাকলে বস্তুবাচক কর্মটিকে প্রধান বা মুখ্য কর্ম ও ব্যক্তিবাচক কর্মটিকে গৌণ কর্ম বলে।

দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
[এই বাক্যে 'দিলেন' একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। 'কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম ('বই'), আর 'কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম ('ছাত্রকে')।]

অন্যদিকে,
সমধাতুজ কর্ম:
- বাক্যের ক্রিয়া ও কর্মপদ একই ধাতু থেকে গঠিত হলে ঐ কর্মপদকে সমধাতুজ কর্ম বা ধাতুর্থক কর্মপদ বলে।
যেমন -
→ আর কত খেলা খেলবে।
মূল 'খেল' ধাতু থেকে ক্রিয়াপদ 'খেলবে' এবং কর্মপদ 'খেলা' উভয়ই গঠিত হয়েছে। তাই 'খেলা' পদটি সমধাতুজ বা ধাতুর্থক কর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১২২.
নিচের কোনটি ভূত অসমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. গান করলে তার মন ভালো হয়।
  2. ভালো করে পড়াশোনা করবে
  3. আঁখি নাচ করে আনন্দ পায়।
  4. ইলমি নাচ শিখতে রাজশাহী যায়।
সঠিক উত্তর:
আঁখি নাচ করে আনন্দ পায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঁখি নাচ করে আনন্দ পায়।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া:
বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
যেমন -
রাজীব খেলছে
বৃষ্টি হতে পারে

- ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন -
পড় + ই = পড়ি, পড় + এ = পড়ে, পড় + ছে = পড়ছে, পড় + বে = পড়বে।
- পক্ষ (পুরুষ) এবং কাল ভেদে ক্রিয়ার রূপভেদ হয়।
যেমন -
পক্ষভেদ: আমি পড়ি, আমরা পড়ি, তুমি পড়ো, তোমরা পড়ো, সে পড়ে, তারা পড়ে।
কালভেদ: আমি পড়ি, আমি পড়ছি, আমি পড়েছি, আমি পড়েছিলাম, আমি পড়ছিলাম, আমি পড়ব।

• ভাবপ্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া দুই প্রকার:

১. সমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন - ভালো করে পড়াশোনা করবে

২. অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে ।
যেমন - ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে।

- অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের: ১. ভূত অসমাপিকা, ২. ভাবী অসমাপিকা এবং ৩. শর্ত অসমাপিকা
যথা:
ভূত অসমাপিকা: আঁখি নাচ করে আনন্দ পায়
ভাবী অসমাপিকা: ইলমি নাচ শিখতে রাজশাহী যায়।
শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালো হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১২৩.
ছেলেরা মাঠে খেলছে। - বাক্যে কোন ক্রিয়ার প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. সরল ক্রিয়া
  2. যৌগিক ক্রিয়া
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. নাম ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
সরল ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন-
- ছেলেরা মাঠে খেলছে।

অন্যদিকে,
যৌগিক ক্রিয়া:
- সমাপিকা ক্রিয়ার সাথে অসমাপিকা ক্রিয়া যক্ত হয়।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো।

প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।

নাম ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ' বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে - 'আনো' প্রত্যয় যুক্ত্য করে হয় 'চমকানো'; আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১২৪.
বেশ ঘুম ঘুমিয়েছি - কোন কর্মের উদাহরণ?
  1. ক) সমধাতুজ
  2. খ) মুখ্য
  3. গ) গৌণ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) সমধাতুজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সমধাতুজ
ব্যাখ্যা
• বেশ ঘুম ঘুমিয়েছি -সমধাতুজ কর্মের উদাহরণ।
- কারণে এখানে ক্রিয়া ও কর্মপদ  একই ধাতু থেকে এসেছে।
• বাক্যের ক্রিয়া ও কর্মপদ একই ধাতু থেকে গঠিত হলে ঐ কর্মপদকে সমধাতুজ কর্ম বা ধাত্বর্থক কর্মপদ বলে।
- যেমন- আর কত খেলা খেলবে।
- মূল 'খেল' ধাতু থেকে ক্রিয়াপদ 'খেলবে' এবং কর্মপদ 'খেলা' উভয়ই গঠিত হয়েছে।
- তাই 'খেলা' পদটি সমধাতুজ বা ধাত্বৰ্থক কর্ম।
- সমধাতুজ কর্মপদ অকর্মক ক্রিয়াকে সকর্মক করে।
যেমন-
- এমন সুখের মরণ কে মরতে পারে?
- বেশ এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
- আর মায়াকান্না কেঁদো না গো বাপু।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
১২৫.
‘শন শন করে বাতাস বইছে।’- এ বাক্যে ‘শন শন’ কী ধরণের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ক) কালবাচক
  2. খ) স্থানবাচক
  3. গ) নেতিবাচক
  4. ঘ) ভাবজ্ঞাপক
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাবজ্ঞাপক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাবজ্ঞাপক
ব্যাখ্যা
• যে ক্রিয়াবিশেষণ দ্বারা কোন কাজ কীভাবে বা কেমন করে সংঘটিত হচ্ছে বুঝায় তাকে ধরনবাচক বা ভাবজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
য়েমন :
- শন শন করে বাতাস বইছে।
- টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে।
- লেখাটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
- অর্পনা দ্রুত লিখতে পারে।

অন্যদিকে,
• কালবাচক: যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে তাদেরকে কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন:
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

• স্থানবাচক: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
মিলেমিশে সামনে এগিয়ে যায়।

• নেতিবাচক: যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ না, নি, নেই ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায় তাকে নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে। এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পেছনে বসে।
যেমন:
সে এখন যাবে না।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১২৬.
নিচের কোনটি মিশ্র ক্রিয়ার উদাহরণ নয়?
  1. ক) আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।
  2. খ) এখন গোল্লায় যাও।
  3. গ) এখন যেতে পার।
  4. ঘ) ঝম্‌ ঝম্‌ করে বৃষ্টি পড়ছে।
সঠিক উত্তর:
গ) এখন যেতে পার।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এখন যেতে পার।
ব্যাখ্যা
এখন যেতে পার- মিশ্র ক্রিয়ার উদাহরণ নয়। 
এটি  যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ। 

মিশ্র ক্রিয়া
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়্, ধর্, প্রভৃতি ধাতুযোগে
গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থ প্রকাশ করলে, তাকে মিশ্র ক্রিয়া বলে।
যেমন–
বিশেষ্যের (পরে) : আমরা তাজমহল দর্শন করলাম; এখন গোল্লায় যাও। 
ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের পরে : ঝম্‌ ঝম্‌ করে বৃষ্টি পড়ছে।  

যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে একটি সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। 
যেমন:  এখন যেতে পার। 


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
১২৭.
'মা শিশুটিকে খাওয়াচ্ছেন' বাক্যটিতে 'খাওয়াচ্ছেন' কোন ক্রিয়াপদের উদাহরণ?
  1. ক) প্রযোজক ক্রিয়া
  2. খ) দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  3. গ) যৌগিক ক্রিয়া
  4. ঘ) অকর্মক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ক) প্রযোজক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রযোজক ক্রিয়া: 
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া বলে।
যেমন: 'মা শিশুকে খাওয়াচ্ছেন'- বাক্যটিতে 'খাওয়াচ্ছেন' প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া, 'মা' প্রযোজক কর্তা এবং 'শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)। 
১২৮.
নিচের কোন বাক্যে প্রযোজক ক্রিয়া আছে?
  1. ক) বাবা ছেলেকে পড়াচ্ছেন।
  2. খ) বাবা ছেলের জন্য বই এনেছেন।
  3. গ) শিক্ষক ছাত্রদের বেতাচ্ছেন। 
  4. ঘ) মা শিশুকে গান শোনাচ্ছেন।
সঠিক উত্তর:
ক) বাবা ছেলেকে পড়াচ্ছেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাবা ছেলেকে পড়াচ্ছেন।
ব্যাখ্যা
যে ক্রিয়া একজনের (কর্তার) প্রযোজনায় বা চালনায় অন্যের দ্বারা অনুষ্ঠিত হয় তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন : 
মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। 
শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন। 
সাপুড়ে সাপ খেলায়

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১২৯.
'গান করা' কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. সংযোগ ক্রিয়া
  2. যৌগিক ক্রিয়া
  3. নাম ক্রিয়া
  4. সরল ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
সংযোগ ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংযোগ ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়। করা ক্রিয়া যোগে: গান করা, গরম করা, ঠনঠন করা, ব্যাট করা; কাটা ক্রিয়া যোগে: সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা; হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া; দেওয়া ক্রিয়া যোগে: কথা দেওয়া, মন দেওয়া, দোষ দেওয়া; ধরা ক্রিয়া যোগে: ভাঙন ধরা, মরচে ধরা, ক্যাচ ধরা; পাওয়া ক্রিয়া যোগে: লজ্জা পাওয়া, কষ্ট পাওয়া, বৃদ্ধি পাওয়া; খাওয়া ক্রিয়া যোগে: আছাড় খাওয়া, মার খাওয়া, ডিগবাজি খাওয়া; মারা ক্রিয়া যোগে: উঁকি মারা, পকেট মারা।

• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।

১৩০.
যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ নিম্নের কোনটি?
  1. ক) ছেলেরা মাঠে খেলছে।
  2. খ) মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছে।
  3. গ) তোমার সাঁতার কাটা শেখা উচিত।
  4. ঘ) এগিয়ে চলতে হবে।
সঠিক উত্তর:
ঘ) এগিয়ে চলতে হবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এগিয়ে চলতে হবে।
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন - মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।
'এগিয়ে চলতে হবে' তাই যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ। 

ছেলেরা মাঠে খেলছে = সরল ক্রিয়া
মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছে = প্রযোজক ক্রিয়া 
তোমার  সাঁতার কাটা শেখা উচিত = সংযোগ ক্রিয়া 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩১.
নিচের কোন বাক্যটি অনুজ্ঞা ভাব প্রকাশ করে?
  1. তারা বাড়ি যাবে।
  2. বৃষ্টি আসে আসুক।
  3. ভালো করে পড়লে সফল হবে।
  4. অন্যায় কাজ করো না।
সঠিক উত্তর:
অন্যায় কাজ করো না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্যায় কাজ করো না।
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বা প্রকার বলে।

- ক্রিয়ার ভাব বা ধরন চার প্রকার।
১. নির্দেশক ভাব,
২. অনুজ্ঞা ভাব,
৩. সাপেক্ষ ভাব,
৪. আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব।

⇒ নির্দেশক ভাব: সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
ক. সাধারণ নির্দেশক:
- আমরা বই পড়ি।
- তারা বাড়ি যাবে।

খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায়:
- আপনি কি আসবেন?
- সে কি গিয়েছিল?

⇒ অনুজ্ঞা ভাব: আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব
হয়।
যেমন-
ক. আদেশাত্মক-
• বর্তমান কালে: চুপ কর।
• ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।

খ. নিষেধাত্মক-
• বর্তমান কালে: অন্যায় কাজ করো না।
• ভবিষ্যৎ কালে: মিথ্যা বলবে না।

গ. অনুরোধসূচক-
• বর্তমান কালে: ছাতাটা দিন তো ভাই।
• ভবিষ্যৎ কালে: আপনারা আসবেন।

ঘ. উপদেশাত্মক-
• বর্তমানে কালে: মন দিয়ে পড়।
• ভবিষ্যৎ কালে: স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

⇒ সাপেক্ষ ভাব: একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়। যেমন-
ক. সম্ভাবনায়: তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে। যদি সে পড়ত তবে পাশ করত।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।

⇒ আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব: আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন:
- সে যাক।
- যা হয় হোক।
- সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।
- তার মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩২.
ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে গঠিত হয়-
  1. নামপদ
  2. ক্রিয়াপদ
  3. বিশেষ্য পদ
  4. বিশেষণ পদ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াপদ
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ামুল বা ধাতুর সাথে বিভক্তি যুক্ত হয়ে গঠিত হয় - ক্রিয়াপদ।

• ক্রিয়া:
- বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
 
• ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন -
পড়্‌ + ই = পড়ি,
পড়্‌ + এ = পড়ে,
পড়্‌ + ছে = পড়ছে,
পড়্‌ + বে = পড়বে 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩৩.
'এখন বৃষ্টি হলে ফসলের ক্ষতি হবে।' -বাক্যে অসমাপিকা ক্রিয়াটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. কার্যপরম্পরতা বোঝাতে
  2. সম্ভাব্যতা অর্থে
  3. সাপেক্ষতা বোঝাতে
  4. বিধিনিষেধ বোঝাতে
সঠিক উত্তর:
সম্ভাব্যতা অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্ভাব্যতা অর্থে
ব্যাখ্যা
'ইলে' > 'লে' বিভক্তিযুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার কয়েকটি ব্যবহার-
• বিধিনিষেধ বোঝাতে- এখানে ময়লা ফেললে শাস্তি হবে 
• প্রতিফল বোঝাতে- ইট মারলে পিটুনি খেতেই হয়।
• সাপেক্ষতা বোঝাতে --তুমি গেলে আমিও যাব। 
• সম্ভাব্যতা অর্থে - 'এখন বৃষ্টি হলে ফসলের ক্ষতি হবে।'
- প্রশ্ন বা বিস্ময় জ্ঞাপনে -- একবার 'মরলে' কি কেউ ফেরে?
- বিধিনির্দেশ অর্থে- এখানে প্রচারপত্র লাগালে ফৌজদারিতে সোপর্দ হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ। 
১৩৪.
নিচের কোনটিতে অকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ রয়েছে?
  1. সে গান গাইছে
  2. বাবা আমাকে বই দিলেন
  3. মেয়েটি হাসে
  4. সে কবিতা লিখছে
সঠিক উত্তর:
মেয়েটি হাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেয়েটি হাসে
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া:
বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া
বলে।
যেমন -
পাভেল খেলছে
বৃষ্টি হতে পারে

- ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন -
পড় + ই = পড়ি, পড় + এ = পড়ে, পড় + ছে = পড়ছে, পড় + বে = পড়বে।
- পক্ষ (পুরুষ) এবং কাল ভেদে ক্রিয়ার রূপভেদ হয়।
যেমন -
পক্ষভেদ: আমি পড়ি, আমরা পড়ি, তুমি পড়ো, তোমরা পড়ো, সে পড়ে, তারা পড়ে।
কালভেদ: আমি পড়ি, আমি পড়ছি, আমি পড়েছি, আমি পড়েছিলাম, আমি পড়ছিলাম, আমি পড়ব।

• বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার:
১. অকর্মক ক্রিয়া,
২. সকর্মক ক্রিয়া,
৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া।

• অকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন - মেয়েটি হাসে
এই বাক্যে কোনো কৰ্ম নেই।

অন্যদিকে,
সে গান গাইছে, সে কবিতা লিখছে - সকর্মক ক্রিয়া।
বাবা আমাকে বই দিলেন - দ্বিকর্মক ক্রিয়া। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩৫.
ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে -আ বা আনাে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে কোন ক্রিয়া গঠিত হয়?
  1. ক) প্রযোজক ক্রিয়া
  2. খ) সংযোগ ক্রিয়া
  3. গ) যৌগিক ক্রিয়া
  4. ঘ) নাম ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাম ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাম ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ প্রকার। 
- সরল ক্রিয়া 
- প্রযোজক ক্রিয়া 
- নাম ক্রিয়া
- সংযোগ ক্রিয়া
- যৌগিক ক্রিয়া

নমিক্রিয়া: বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে -আ বা আনাে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন – বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে অনাে যুক্ত হয়ে হয় চমকানাে আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়;
- বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে -আ যুক্ত হয়ে হয় কম: বাজারে সবজির দাম কমছে না;
- ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে আনাে যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো: জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩৬.
ভাব প্রকাশের সম্পূর্ণতা অনুসারে ক্রিয়াকে ২ ভাগে ভাগ করা হয়। সেগুলো হলো -
  1. ক) সর্মক ক্রিয়া ও অকর্মক ক্রিয়া
  2. খ) যৌগিক ক্রিয়া ও মিশ্র ক্রিয়া
  3. গ) মৌলিক ক্রিয়া ও যৌগিক ক্রিয়া
  4. ঘ) সমাপিকা ক্রিয়া ও অসমাপিকা ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) সমাপিকা ক্রিয়া ও অসমাপিকা ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সমাপিকা ক্রিয়া ও অসমাপিকা ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
ভাব প্রকাশের সম্পূর্ণতা অনুসারে ক্রিয়াকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
সমাপিকা ক্রিয়া 
অসমাপিকা ক্রিয়া
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১৩৭.
'সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।' বাক্যে 'শিখতে' শব্দটি কোন ধরনের ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. সমাপিকা ক্রিয়া
  2. অকর্মক ক্রিয়া
  3. সকর্মক ক্রিয়া
  4. অসমাপিকা ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- ভালাে করে পড়াশােনা করলে ভালাে ফল হবে।

অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের:
- ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
- ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
- শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালাে হয়।

অন্যদিকে:
সমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- ভালাে করে পড়াশােনা করবে।

অকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে ঘুমায়।
- এই বাক্যে কোনো কৰ্ম নেই ৷

সকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে ৷
যেমন:
- সে বই পড়ছে।
- এই বাক্যে ‘পড়ছে’ হলো সকর্মক ক্রিয়া।
- ‘বই’ হলো ‘পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩৮.
'মাথা ঝিম ঝিম্ করছে' এটি কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) যৌগিক ক্রিয়া
  2. খ) নামধাতুর ক্রিয়া
  3. গ) মিশ্র ক্রিয়া
  4. ঘ) ণিজন্ত ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) মিশ্র ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মিশ্র ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• মিশ্র ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ঋনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে ক, হ, দে, পা, যা, কাট, গা, ছাড়, ধ, মার প্রভৃতি ধাতুযােগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে। যেমন
বিশেষ্যের পরে:
- আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।
- ছেলেটি গােল্লায় গেছে। (এখন গোল্লায় যাও)

বিশেষণের পরে: তােমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম।

ধনাত্মক অব্যয়ের পরে:

- মাথা ঝিম ঝিম্ করছে।
- ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৯.
‘কথা দেওয়া’- এখানে ‘দেওয়া’ কোন ধরনের ক্রিয়া পদের উদাহরণ?
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. সংযোগ ক্রিয়া
  3. সরল ক্রিয়া
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সংযোগ ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংযোগ ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ রকম। যথা:

• সরল ক্রিয়া:
একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে লিখছে।
- ছেলেরা মাঠে খেলছে।
[এখানে ‘লিখছে’ ও ‘খেলছে’ এগুলো সরল ক্রিয়া।]

• প্রযোজক ক্রিয়া:
কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
[এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।]

• নামক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে আ বা আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বাজারে সবজির দাম কমছে না; (বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে আ যুক্ত হয়ে হয় কমা)।
-  জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়; (ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে -আনো যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো)।

• সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
• করা ক্রিয়া যোগে: গান করা, গরম করা, ঠনঠন করা, ব্যাট করা।
• কাটা ক্রিয়া যোগে: সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা।
• হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া;
• দেওয়া ক্রিয়া যোগে: কথা দেওয়া, মন দেওয়া, দোষ দেওয়া ইত্যাদি।

• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১৪০.
অসমাপিকা ক্রিয়ার সাথে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে কোন ধরনের ক্রিয়া গঠন করে?
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. নামক্রিয়া
  3. সংযোগ ক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া:
- বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
যেমন: 
• রাজীব খেলছে;
• বৃষ্টি হতে পারে।

গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া ৫ প্রকার।
যথা, 
১. সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন:
সে লিখছে; ছেলেরা মাঠে খেলছে।  

২. প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। 
যেমন:
তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন; রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়। 

৩. নামক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে আ বা আলো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে। 
যেমন:
চমকানো, চমকায়, কমা, ছটফটানো (আ বা আনো প্রত্যয় যোগে)।  

৪. সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
গান করা, গরম করা, সাঁতার কাটা, বিপদ কাটা, মরচে ধরা, ক্যাচ ধরা। 

৫. যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সাথে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যৌগিক ক্রিয়া গঠন করে।   
যেমন:
উঠে পড়া, বেঁধে দেওয়া, বলে ফেলা, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো।    

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১৪১.
মেট্রোরেল অতি দ্রুত চলে। এ বাক্যে ‘অতি’ কোন পদ?
  1. ক) বিশেষণ
  2. খ) বিশেষণের বিশেষণ
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ঘ) ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
এ বাক্যে দ্রুত ক্রিয়া বিশেষণ আর দ্রুতকে অতি শব্দ বিশেষিত করেছে বলে অতি ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ব্যবহারিক বাংলা ব্যাকরণ।
১৪২.
গঠন বিবেচনায় ক্রিয়াপদের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. ক) নাম ক্রিয়া
  2. খ) সংযোগ ক্রিয়া
  3. গ) যৌগিক ক্রিয়া
  4. ঘ) মৌলিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) মৌলিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মৌলিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
গঠন বিবেচনায় ক্রিয়াপদ ৫ প্রকার।
যথা - 
- সরল ক্রিয়া
- প্রযোজক ক্রিয়া
- নাম ক্রিয়া
- সংযোগ ক্রিয়া
- যৌগিক ক্রিয়া

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪৩.
'এখানে প্রচারপত্র লাগালে ফৌজদারিতে সোপর্দ হবে' বাক্যে 'লাগালে' শব্দের ব্যবহার কী বোঝাতে করা হয়েছে?
  1. সম্ভাব্যতা
  2. বিধিনির্দেশ
  3. সাপেক্ষতা
  4. প্রশ্ন বা বিস্ময়
সঠিক উত্তর:
বিধিনির্দেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিধিনির্দেশ
ব্যাখ্যা
'ইলে' > 'লে' বিভক্তিযুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার কয়েকটি ব্যবহার-
• বিধিনিষেধ বোঝাতে- এখানে ময়লা ফেললে শাস্তি হবে 
• প্রতিফল বোঝাতে- ইট মারলে পিটুনি খেতেই হয়।
• সাপেক্ষতা বোঝাতে --তুমি গেলে আমিও যাব। 
• সম্ভাব্যতা অর্থে - 'এখন বৃষ্টি হলে ফসলের ক্ষতি হবে।'
- প্রশ্ন বা বিস্ময় জ্ঞাপনে -- একবার 'মরলে' কি কেউ ফেরে?
- বিধিনির্দেশ অর্থে- এখানে প্রচারপত্র লাগালে ফৌজদারিতে সোপর্দ হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ। 
১৪৪.
বর্তমান কাল কত প্রকার?
  1. ক) তিন প্রকার
  2. খ) চার প্রকার
  3. গ) পাঁচ প্রকার
  4. ঘ) দুই প্রকার
সঠিক উত্তর:
খ) চার প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চার প্রকার
ব্যাখ্যা

- বর্তমানে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে বর্তমান কাল বলে। 
- বর্তমান কাল চার প্রকার 
- সাধারণ বর্তমান
- ঘটমান বর্তমান
- পুরাঘটিত বর্তমান
- অনুজ্ঞা বর্তমান

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১]

১৪৫.
'এখানে ময়লা ফেললে শাস্তি হবে' বাক্যে 'ফেললে' শব্দের ব্যবহার কী বোঝাতে করা হয়েছে?
  1. সাপেক্ষতা
  2. বিধিনিষেধ
  3. সম্ভাব্যতা
  4. প্রতিফল
সঠিক উত্তর:
বিধিনিষেধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিধিনিষেধ
ব্যাখ্যা
'ইলে' > 'লে' বিভক্তিযুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার কয়েকটি ব্যবহার-
• বিধিনিষেধ বোঝাতে- এখানে ময়লা ফেললে শাস্তি হবে।
• প্রতিফল বোঝাতে- ইট মারলে পিটুনি খেতেই হয়।
• সাপেক্ষতা বোঝাতে --তুমি গেলে আমিও যাব। 
• সম্ভাব্যতা অর্থে - 'এখন বৃষ্টি হলে ফসলের ক্ষতি হবে।'
- প্রশ্ন বা বিস্ময় জ্ঞাপনে -- একবার 'মরলে' কি কেউ ফেরে?
- বিধিনির্দেশ অর্থে- এখানে প্রচারপত্র লাগালে ফৌজদারিতে সোপর্দ হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ। 
১৪৬.
ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে পুরুষ অনুযায়ী কী যোগ করে ক্রিয়াপদ গঠন করতে হয়?
  1. কেবল ধাতু
  2. উপসর্গ
  3. কালসূচক ক্রিয়াবিভক্তি
  4. অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
কালসূচক ক্রিয়াবিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালসূচক ক্রিয়াবিভক্তি
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া পদ:
বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
- যে পদের দ্বারা কোনো কার্য সম্পাদন করা বোঝায় তাকে ক্রিয়াপদ বলে৷

ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে পুরুষ অনুযায়ী কালসূচক ক্রিয়াবিভক্তি যোগ করে ক্রিয়াপদ গঠন করতে হয়।
- ক্রিয়াপদ বাক্যগঠনের অপরিহার্য অঙ্গ।
- ক্রিয়াপদ ভিন্ন কোন মনোভাবই সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায় না৷
- তবে কখনো কখনো বাক্যে ক্রিয়াপদ উহ্য বা অনুক্ত থাকতে পারে৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪৭.
কোনটিতে প্রযোজক ক্রিয়া আছে?
  1. ক) তিনি ছেলেকে পড়াচ্ছেন
  2. খ) তুমি কোন কাননের ফুল
  3. গ) একি কথা শুনলাম
  4. ঘ) তোমাকে অনেকবার বলেছি
সঠিক উত্তর:
ক) তিনি ছেলেকে পড়াচ্ছেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তিনি ছেলেকে পড়াচ্ছেন
ব্যাখ্যা

প্রযোজক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। (সংস্কৃত ব্যাকরণে এটি ণিজন্ত ক্রিয়া বলা হয়)।
যেমনঃ তিনি ছেলেকে পড়াচ্ছেন।

প্রযোজক কর্তা : যে ক্রিয়া প্রযোজন করে, তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।

প্রযোজ্য কর্তা : যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।
যেমন : মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
বাক্যে ‘মা’ প্রযোজক কর্তা, ‘শিশুকে’ প্রযোজ্য কর্তা, ‘চাঁদ দেখাচ্ছেন’ প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

১৪৮.
”রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়”- বাক্যে ”খাওয়ায়” কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. সরল ক্রিয়া
  3. যৌগিক ক্রিয়া
  4. সংযোগ ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
প্রযোজক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন;
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায় ।

- এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১৪৯.
একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে একটি ক্রিয়াপদ গঠিত হলে, তাকে বলে-
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. সমকর্মক ক্রিয়া
  3. যৌগিক ক্রিয়া
  4. সমাপিকা ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে যে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে পাস করে গেল।
- সাইরেন বেজে উঠল।

অন্যদিকে,
প্রযোজক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। (সংস্কৃত ব্যাকরণে এটি ণিজন্ত ক্রিয়া বলা হয়)।
যেমন: মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।

সকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে বই পড়ছে।
[এই বাক্যে পড়ছে’ হলাে সকর্মক ক্রিয়া। বই’ হলাে ‘পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম।]

সমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে ৷
যেমন – ভালো করে পড়াশোনা করবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১ ও ২০১৯) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৫০.
'এখন গোল্লায় যাও।' বাক্যেটিতে ক্রিয়াপদটি-
  1. যৌগিক ক্রিয়া
  2. মিশ্র ক্রিয়া
  3. দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  4. নামধাতু
সঠিক উত্তর:
মিশ্র ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশ্র ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়্, ধর্, মার্ প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে। যেমন-
• আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।
• এখন গোল্লায় যাও।
• তোমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম।
• মাথা ঝিম্ ঝিম্ করছে।
• ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫১.
বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. পাঁচ
  2. চার
  3. তিন
  4. দুই
সঠিক উত্তর:
তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন
ব্যাখ্যা
⇒ ক্রিয়া:
বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।

বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার। 
যথা:
১. অকর্মক ক্রিয়া: বাক্যে ক্রিয়ার কোনাে কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে ঘুমায়। এই বাক্যে কোনাে কর্ম নেই।

২. সকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে বই পড়ছে।
[এই বাক্যে পড়ছে’ হলাে সকর্মক ক্রিয়া। বই’ হলাে ‘পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম।]

৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
[এই বাক্যে ‘দিলেন একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। কী দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (বই), আর কাকে দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (ছাত্রকে)।]

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫২.
কোনটি সকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) সামি ঘুমায়।
  2. খ) ইকবাল ভাত খাচ্ছে।
  3. গ) রাতুল খেলে।
  4. ঘ) জাহিদ যাবে।
সঠিক উত্তর:
খ) ইকবাল ভাত খাচ্ছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইকবাল ভাত খাচ্ছে।
ব্যাখ্যা
• বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার:

• সকর্মক ক্রিয়া:

- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে ৷
যেমন সে বই পড়ছে। ইকবাল ভাত খাচ্ছে। বাক্যগুলোতে ‘পড়ছে’ ও 'খাচ্ছে' হলো সকর্মক ক্রিয়া। 'বই' ও 'ভাত' ক্রিয়ার কর্ম।

• অকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন – সামি ঘুমায়, রাতুল খেলে, জাহিদ যাবে। কারণ এই বাক্যগুলোতে কোনো কৰ্ম নেই ৷

এছাড়াও,
• দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে ।
যেমন – শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন। এই বাক্যে ‘দিলেন’ একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া।
‘কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (‘বই’), আর ‘কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (‘ছাত্রকে’)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
১৫৩.
'সাইরেন বেজে উঠল।' - বাক্যটিতে কোন ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে?
  1. নাম ক্রিয়া
  2. সরল ক্রিয়া
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে যে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
- সে পাস করে গেল।
- সাইরেন বেজে উঠল

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৫৪.
কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার দৃষ্টান্ত?
  1. মন দেওয়া
  2. মরচে ধরা
  3. মরে যাওয়া
  4. মার খাওয়া
সঠিক উত্তর:
মরে যাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরে যাওয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন - মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- মন দেওয়া, মরচে ধরা, মার খাওয়া = সংযোগ ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫৫.
’সাইরেন বেজে উঠল’ - বাক্যের যৌগিক ক্রিয়াটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে ?
  1. ক) কার্যসমাপ্তি অর্থে
  2. খ) আকস্মিকতা অর্থে
  3. গ)  নিরন্তরতা অর্থে
  4. ঘ) অনুমোদন অর্থে
সঠিক উত্তর:
খ) আকস্মিকতা অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আকস্মিকতা অর্থে
ব্যাখ্যা
 • ’সাইরেন বেজে উঠল’ আকস্মিকতা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• তাছাড়া--
- নিরন্তরতা অর্থে : তিনি বলতে লাগলেন।
- কার্যসমাপ্তি অর্থে : ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল।
- অভ্যস্ততা অর্থে : শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে।
- অনুমোদন অর্থে : এখন যেতে পার।
• এগুলো সব হলো যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।

 উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
১৫৬.
মিশ্র ক্রিয়ার ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. ক) বিশেষ্যের সাথে বসে
  2. খ) বিশেষণের সাথে বসে
  3. গ) ধ্বন্যাত্নক অব্যয়ের সাথে বসে
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বন্যাত্নক অব্যয়ের ফলে কর, হ, দে, পট, খা, গা, ছাড়, ধর, মার প্রভৃতি ধাতু যোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ যে অর্থ প্রকাশ করে তাকে মিশ্রক্রিয়া বলে।
সুতরাং মিশ্র ক্রিয়ার ক্ষেত্রে  বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বন্যাত্নক অব্যয় সবগুলো সঠিক।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
১৫৭.
কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার দৃষ্টান্ত?
  1. দোষ দেওয়া
  2. মন দেওয়া
  3. এগিয়ে চলা
  4. মার খাওয়া
সঠিক উত্তর:
এগিয়ে চলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এগিয়ে চলা
ব্যাখ্যা
• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন - মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- মন দেওয়া, দোষ দেওয়া, মার খাওয়া - সংযোগ ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫৮.
কোন বাক্যটির ক্রিয়া সকর্মক?
  1. মাখন রায় গানে মজেছে।
  2. মা ভাত রান্না করছেন।
  3. আমি টিফিনে খেয়েছি।
  4. সৌরভ পড়ে।
সঠিক উত্তর:
মা ভাত রান্না করছেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মা ভাত রান্না করছেন।
ব্যাখ্যা
সকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া পদের কর্ম থাকে তাকে সকর্মক ক্রিয়া বলে। বাক্যের ক্রিয়াকে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই কর্মপদ। কর্মযুক্ত ক্রিয়াই সকর্মক ক্রিয়া।
যেমন:
মা ভাত রান্না করছেন।
- এ বাক্যে ক্রিয়াপদ হচ্ছে 'রান্না করছেন'। প্রশ্ন: কী রান্না করছেন? উত্তর: ভাত।
- অতএব 'রান্না করছেন' ক্রিয়া পদটির কর্ম হচ্ছে 'ভাত'। 'রান্না করছেন' সকর্মক ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
অকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তাকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
সৌরভ পড়ে।
- সৌরভ কী পড়ে? – এ প্রশ্নের উত্তর নেই। অর্থাৎ এ বাক্যে 'পড়ে' ক্রিয়াপদের কোনো কর্ম নেই। তাই 'পড়ে' অকর্মক ক্রিয়া।
অনুরূপ,
মাখন রায় গানে মজেছে।
আমি টিফিনে খেয়েছি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৫৯.
বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সাথে কোন পদের সম্পর্ককে কারক বলে?
  1. ক) বিশেষণ পদের
  2. খ) অব্যয় পদের
  3. গ) নাম পদের
  4. ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ পদের
সঠিক উত্তর:
গ) নাম পদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নাম পদের
ব্যাখ্যা
কারক শব্দটির অর্থ - যা ক্রিয়া সম্পাদন করে।
বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
১৬০.
একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে কোন ক্রিয়াপদ গঠিত হয়?
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. সরল ক্রিয়া
  3. সংযোগ ক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে যে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তামিম সময়মতো স্টেশনে পৌঁছে গেল।
- সাইরেন বেজে উঠল।
- সে আমার কথা শুনে হেসে উঠল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৬১.
কোন বাক্যে সকর্মক ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. মাখন রায় গান গাচ্ছে।
  2. আমি টিফিনে খেয়েছি।
  3. মাখন রায় গানে মজেছে।
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
মাখন রায় গান গাচ্ছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাখন রায় গান গাচ্ছে।
ব্যাখ্যা
সকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া পদের কর্ম থাকে তাকে সকর্মক ক্রিয়া বলে। বাক্যের ক্রিয়াকে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই কর্মপদ। কর্মযুক্ত ক্রিয়াই সকর্মক ক্রিয়া।

যেমন:
- মা ভাত রান্না করছেন।
- এ বাক্যে ক্রিয়াপদ হচ্ছে 'রান্না করছেন'। প্রশ্ন: কী রান্না করছেন? উত্তর: ভাত।
- অতএব 'রান্না করছেন' ক্রিয়া পদটির কর্ম হচ্ছে 'ভাত'। 'রান্না করছেন' সকর্মক ক্রিয়া।

এরূপ:
- আমি টিফিন খেয়েছি।
- মাখন রায় গান গাচ্ছে।

অন্যদিকে,
অকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তাকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
সৌরভ পড়ে।
- সৌরভ কী পড়ে? – এ প্রশ্নের উত্তর নেই। অর্থাৎ এ বাক্যে 'পড়ে' ক্রিয়াপদের কোনো কর্ম নেই। তাই 'পড়ে' অকর্মক ক্রিয়া।

অনুরূপ,
মাখন রায় গানে মজেছে।
আমি টিফিনে খেয়েছি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৬২.
কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. কথা দেওয়া
  2. দোষ দেওয়া
  3. সরে দাঁড়ানো
  4. মন দেওয়া
সঠিক উত্তর:
সরে দাঁড়ানো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরে দাঁড়ানো
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সংযোগ ক্রিয়া - কথা দেওয়া, দোষ দেওয়া, মন দেওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬৩.
'এখন যেতে পার।' এখানে 'যেতে পার' কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. মিশ্র ক্রিয়া
  2. প্রযোজক ক্রিয়া
  3. দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

​• যৌগিক ক্রিয়া:
একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন :
- ঘটনাটা শুনে রাখ।
- তিনি বলতে লাগলেন।
- সাইরেন বেজে উঠল।

আরো কিছু যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ:
- নিরন্তরতা অর্থে : তিনি বলতে লাগলেন।
- কার্যসমাপ্তি অর্থে : ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল।
- অভ্যস্ততা অর্থে : শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে।
- অনুমোদন অর্থে : এখন যেতে পার।
- এগুলো সব হলো যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৬৪.
অকর্মক ক্রিয়ার প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. মেয়েটি গান গাচ্ছে।
  2. ছেলেটি কথা শোনে।
  3. রহিম বই পড়ে।
  4. আমি টিফিনে খেয়েছি।
সঠিক উত্তর:
আমি টিফিনে খেয়েছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি টিফিনে খেয়েছি।
ব্যাখ্যা
অকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম থাকে না, তাকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
স্বপন লিখছে।
কাঞ্চন পড়ছে।

মি টিফিনে খেয়েছি


অন্যদিকে,
সকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম থাকে, তাকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
স্বপন চিঠি লিখছে।
কাঞ্চন বই পড়ছে।
রহিম বই পড়ে।
ছেলেটি কথা শোনে।
মেয়েটি গান গাচ্ছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৬৫.
অসমাপিকা ক্রিয়া কয় ধরনের?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
সঠিক উত্তর:
খ) তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তিন
ব্যাখ্যা
অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন – ভালাে করে পড়াশােনা করলে ভালাে ফল হবে।
এখানে 'ভালাে করে পড়াশােনা করলে' বললে ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয় না। তাই এটি অসমাপিকা ক্রিয়া।

একইভাবে, 'যত্ন করলে রত্ম মিলে'- এখানে 'করলে' অসমাপিকা ক্রিয়া।

অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের:
১. ভূত অসমাপিকা,
২. ভাবী অসমাপিকা এবং
৩. শর্ত অসমাপিকা।
যথা:

ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালাে হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)
১৬৬.
নিচের কোন বাক্যে ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
  2. সে গল্প শুনে মজা পায়।
  3. তুমি গান শিখলে ভালো করবে।
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সে গল্প শুনে মজা পায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে গল্প শুনে মজা পায়।
ব্যাখ্যা
অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের।
১. ভূত অসমাপিকা;
২. ভাবী অসমাপিকা;
৩. শর্ত অসমাপিকা।

যথা:
ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়। সে গল্প শুনে মজা পায়।
ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালাে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬৭.
'মানুষ হও' কাব্যটিতে রয়েছে
  1. অনুনয়
  2. আদেশ
  3. অনুরোধ
  4. উপদেশ
সঠিক উত্তর:
উপদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপদেশ
ব্যাখ্যা
• উপদেশ অর্থে অনুজ্ঞার উদাহরণ - মানুষ হও।

- আদেশ, অনুমতি, অনুরােধ, উপদেশ, প্রার্থনা ইত্যাদির ভাব বােঝাতে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয় তাকে বলে অনুজ্ঞা।
- আর যে ক্রিয়াপদে বর্তমান কালের অনুজ্ঞা প্রকাশ পায় তাকে বর্তমান অনুজ্ঞা বলে।
- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে অ, ও, উন, এন যুক্ত হয়।

যেমন:
- সম্ভাবনায় - ভাল করে পড়লে পাস করবে।
- উপদেশ - মানুষ হও।
- প্রার্থনায় - সুখী হও।
- অনুরোধে - কাল দেখা করো।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৮.
নিচের কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. মন দেওয়া
  2. বৃদ্ধি পাওয়া
  3. এগিয়ে চলা
  4. গান করা
সঠিক উত্তর:
এগিয়ে চলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এগিয়ে চলা
ব্যাখ্যা
• যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ = এগিয়ে চলা।
-------------------------------
• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন
- মরে যাওয়া,
- কমে আসা,
- এগিয়ে চলা,
- হেসে ওঠা,
- উঠে পড়া,
- পেয়ে বসা, ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- মন দেওয়া, বৃদ্ধি পাওয়া, গান করা, সংযোগ ক্রিয়ার উদাহরণ।

উল্লেখ্য,
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১৬৯.
কোন বাক্যটি প্রযোজক ক্রিয়া দ্বারা গঠিত?
  1. ক) মাথা ঝিম ঝিম করছে।
  2. খ) আকাশে চাঁদ উঠেছে।
  3. গ) মা শিশুকে গোসল করাচ্ছেন।
  4. ঘ) এ নদীতে প্রচুর মাছ আছে।
সঠিক উত্তর:
গ) মা শিশুকে গোসল করাচ্ছেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মা শিশুকে গোসল করাচ্ছেন।
ব্যাখ্যা

যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অপরজন কর্তৃক সম্পাদিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- 'মা শিশুকে গোসল করাচ্ছেন'- বাক্যটিতে 'করাচ্ছেন' প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া, 'মা' প্রযোজক কর্তা এবং 'শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি

১৭০.
কী ভেদে বাংলায় ক্রিয়ার রূপের কোনো পরিবর্তন হয় না?
  1. ক) বচনভেদে
  2. খ) পুরুষভেদে
  3. গ) অর্থভেদে
  4. ঘ) প্রয়োগভেদে
সঠিক উত্তর:
ক) বচনভেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বচনভেদে
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াপদ: ক্রিয়ামূল অর্থাৎ ধাতুর সঙ্গে কাল সময় ও পুরুষ জ্ঞাপক (ক্রিয়া) বিভক্তিযোগে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।
ক. পুরুষভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য দেখা যায়। যেমন: আমি যাই। তুমি যাও। আপনি যান। সে যায়। তিনি যান। (সাধারণ ভবিষ্যৎ কালে নাম পুরুষ ও মধ্যম পুরুষের রূপ অভিন্ন।)
খ. বচনভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় না। যেমন: আমি (বা আমরা) যাই। তুমি (বা তোমরা) যাও। সে (বা তারা) যায়।
গ. সাধারণ, সম্ভ্রমাত্মক, তুচ্ছার্থকভেদে মধ্যম ও নাম পুরুষের ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় হয়ে থাকে (উত্তম পুরুষের হয় না)।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

১৭১.
কোন বাক্যটি প্রযোজক ক্রিয়া দ্বারা গঠিত?
  1. ক) মাথা ঝিমঝিম করছে
  2. খ) তোমার পরিশ্রমের ফল এসেছে
  3. গ) মা শিশুটিকে হাসান
  4. ঘ) শিশুটি কাঁদে
সঠিক উত্তর:
গ) মা শিশুটিকে হাসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মা শিশুটিকে হাসান
ব্যাখ্যা
- অপশনে উল্লেখিত বাক্যগুলোর মধ্যে 'মা শিশুটিকে হাসান' হলো প্রযোজক ক্রিয়া দ্বারা গঠিত শব্দ।

প্রযোজক ক্রিয়া:

যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। (সংস্কৃত ব্যাকরণে এটি ণিজন্ত ক্রিয়া বলা হয়)। যেমনঃ তিনি ছেলেকে পড়াচ্ছেন।

প্রযোজক কর্তা : যে ক্রিয়া প্রযোজন করে, তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
প্রযোজ্য কর্তা : যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।
যেমন : মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। বাক্যে ‘মা’ প্রযোজক কর্তা, ‘শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা, ‘চাঁদ দেখাচ্ছেন' প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি 
১৭২.
কোন বাক্যে প্রযোজক ক্রিয়ার উদাহরণ আছে?
  1. মণি চিঠি লিখছে।
  2. সে পাস করে গেল।
  3. সাইরেন বেজে উঠল।
  4. সাপুড়ে সাপ খেলায়।
সঠিক উত্তর:
সাপুড়ে সাপ খেলায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপুড়ে সাপ খেলায়।
ব্যাখ্যা
প্রযোজক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া অন্যের দ্বারা চালিত হয়, তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- মা খোকাকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
- সাপুড়ে সাপ খেলায়

অন্যদিকে,
যৌগিক ক্রিয়া:
- একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে যে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে পাস করে গেল।
- সাইরেন বেজে উঠল।

সকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম থাকে, তাকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- মণি চিঠি লিখছে।
- কাঞ্চন বই পড়ছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৭৩.
"শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে।" - এখানে 'হয়ে থাকে' কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. মিশ্র ক্রিয়া
  2. যৌগিক ক্রিয়া
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. দ্বিকর্মক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

​• যৌগিক ক্রিয়া:
একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন :
- ঘটনাটা শুনে রাখ। (এখানে, 'শুনে রাখ' যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।)

• শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে।
এখানে, বাক্যে —
"হয়ে থাকে" একসাথে সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলে যৌগিক ক্রিয়া তৈরি করেছে

আরো কিছু যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ:
- নিরন্তরতা অর্থে : তিনি বলতে লাগলেন।
- কার্যসমাপ্তি অর্থে : ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল।
- অভ্যস্ততা অর্থে : শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে।
- অনুমোদন অর্থে : এখন যেতে পার।
- এগুলো সব হলো যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৭৪.
নিচের কোনটি নামপদ নয়?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) ক্রিয়া
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) অব্যয়
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
পদ প্রধানত দুই প্রকার। যথাঃ ক্রিয়াপদ ও নামপদ। বাক্যে ক্রিয়া পদ ব্যতীত বাকি সব পদই নাম পদ (যেমনঃ বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয়)।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৭৫.
ভাব প্রকাশের দিক থেকে ক্রিয়া কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
ব্যাখ্যা

ক্রিয়া:
- বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কি ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তালে ক্রিয়া পদ বলে।
- ভাব প্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া ২ প্রকার।

সমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ায় দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয় তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন: ভালো কোরে পড়াশোনা করবে।

অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ায় দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয় না তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন: ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।

১৭৬.
ক্রিয়ার রূপ পরিবর্তিত হয়-
  1. পক্ষভেদে
  2. বচন ভেদে
  3. কালভেদে
  4. ক + গ
সঠিক উত্তর:
ক + গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক + গ
ব্যাখ্যা
বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
যেমন-
- রাজীব খেলছে।
- বৃষ্টি হতে পারে

• পক্ষ (পুরুষ) এবং কাল ভেদে ক্রিয়ার রূপভেদ হয়। যেমন-
- পক্ষভেদ: আমি পড়ি, আমরা পড়ি, তুমি পড়ো, তোমরা পড়ো, সে পড়ে, তারা পড়ে।
- কালভেদ: আমি পড়ি, আমি পড়ছি, আমি পড়েছি, আমি পড়েছিলাম, আমি পড়ছিলাম, আমি পড়ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
১৭৭.
নিচের কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ নয়?
  1. এগিয়ে চলা
  2. বেঁধে দেওয়া
  3. করে তোলা
  4. মন দেওয়া
সঠিক উত্তর:
মন দেওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন দেওয়া
ব্যাখ্যা

• 'মন দেওয়া' সংযোগ ক্রিয়ার উদাহরণ।

• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন
- মরে যাওয়া,
- কমে আসা,
- এগিয়ে চলা,
- হেসে ওঠা,
- উঠে পড়া,
- পেয়ে বসা,
- সরে দাঁড়ানো,
- বেঁধে দেওয়া,
- বুঝে নেওয়া,
- বলে ফেলা,
- করে তোলা,
- চেপে রাখা ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

১৭৮.
'বৃষ্টি আসে আসুক' - বাক্যটি কোন ভাবের ক্রিয়া?
  1. অনুজ্ঞা ভাব
  2. নির্দেশক ভাব
  3. সাপেক্ষ ভাব
  4. আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব
সঠিক উত্তর:
আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব
ব্যাখ্যা
• 'বৃষ্টি আসে আসুক' - বাক্যটি 'আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব' প্রকাশ করে। 
------------------ 
• ক্রিয়ার ভাব:

- ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বলে।
- ক্রিয়ার ভাব ৪ প্রকার।
যথা -

নির্দেশক ভাব:
- সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
যথা:
- তারা বাড়ি যাবে।

অনুজ্ঞা ভাব:
- আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়া পদের অনুজ্ঞা ভাব হয়।
যথা:
- চুপ করো, মিথ্যা বলবে না, ডেকে দেয় পাষণ্ড!

সাপেক্ষ ভাব:
- একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলে।
যথা:
- যদি সে পড়ত, তবে পাস করত।
- আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।

আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব:
- যে ক্রিয়াপদের বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যথা:
- সে যাক, বৃষ্টি আসে আসুক, তার মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭৯.
কাজটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে-এখানে ভালোভাবে কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ক) ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. খ) কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. গ) স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. ঘ) পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক) ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
কাজটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে-এখানে ভালোভাবে ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।

• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
যে ক্রিয়াবিশেষণ দ্বারা কোন কাজ কীভাবে বা কেমন করে সংঘটিত হচ্ছে বুঝায় তাকে ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
য়েমন :
টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে।
লেখাটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
অর্পনা দ্রুত লিখতে পারে।

অন্যদিকে,
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে তাদেরকে কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন:
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
মিলেমিশে সামনে এগিয়ে যায়।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও 
'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। 
যেমন: কি: আমি কি যাব? 
যে: খুব যে বলেছিলেন আসবেন !

নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ না, নি, নেই ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায় তাকে নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পেছনে বসে।
যেমন:
সে এখন যাবে না

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৮০.
নিচের কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. উদয় হওয়া
  2. সরে দাঁড়ানো
  3. ঠনঠন করা
  4. রাজি হওয়া
সঠিক উত্তর:
সরে দাঁড়ানো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরে দাঁড়ানো
ব্যাখ্যা
• যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
 • সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন - 
- হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, ঠনঠন করা, রাজি হওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৮১.
পড়া শেষে খেলতে যাবো- এই বাক্যে কোন লক্ষণ প্রকাশিত?
  1. ক) স্পৃহা
  2. খ) আসক্তি
  3. গ) অভ্যাস
  4. ঘ) অভিপ্রায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) অভিপ্রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অভিপ্রায়
ব্যাখ্যা

‘ইতে’> ‘তে’ বিভক্তিযুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহারে ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা বা অভিপ্রায় অর্থ প্রকাশ সূচক বাক্য হলো ''পড়া শেষে খেলতে যাবো'', “আমি এখন যেতে চাই” ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮২.
ঝম্‌ ঝম্‌ করে বৃষ্টি পড়ছে। বাক্যে 'বৃষ্টি পড়ছে' কোন ক্রিয়ার অন্তর্গত?
  1. ক) মিশ্র ক্রিয়া
  2. খ) যৌগিক ক্রিয়া
  3. গ) নামধাতুর ক্রিয়া
  4. ঘ) প্রযোজক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ক) মিশ্র ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মিশ্র ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
মিশ্র ক্রিয়া
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়্, ধর্, প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থ প্রকাশ করলে, তাকে মিশ্র ক্রিয়া বলে।

যেমন–

বিশেষ্যের (পরে) : আমরা তাজমহল দর্শন করলাম; এখন গোল্লায় যাও। 
ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের পরে : ঝম্‌ ঝম্‌ করে বৃষ্টি পড়ছে।  

এছাড়াও-

যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে একটি সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। 
যেমন:
নিরন্তরতা অর্থে: তিনি বলতে লাগলেন।
অনুমোদন অর্থে: এখন যেতে পার। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮৩.
’সরে দাঁড়ানো’ কোন ধরনের ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. সরল ক্রিয়া
  2. প্রযোজক ক্রিয়া
  3. নামক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন
- মরে যাওয়া,
- কমে আসা,
- এগিয়ে চলা,
- হেসে ওঠা, উঠে
- পড়া, পেয়ে বসা,
- সরে দাঁড়ানো,
- বেঁধে দেওয়া, বু
- ঝে নেওয়া,
- বলে ফেলা,
- করে তোলা,
- চেপে রাখা, ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন
- সে লিখছে। ছেলেরা মাঠে খেলছে। এখানে লিখছে ও
খেলছে - এগুলো সরল ক্রিয়া।

• প্রযোজক ক্রিয়া:

কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন; রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায় এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

• নামক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে -আ বা -আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় চমকানো: আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়;
- বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে -আ যুক্ত হয়ে হয় কমা: বাজারে সবজির দাম কমছে না;
- ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে -আনো যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো: জবাই করা মুরগি উঠানেছটফটায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১৮৪.
'সে গান করে আনন্দ পায়।'- নিম্নরেখ শব্দটি কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া
  2. সমাপিকা ক্রিয়া
  3. ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া
  4. শর্ত অসমাপিকা ক্রিয়া
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• 'সে গান করে আনন্দ পায়।'- নিম্নরেখ শব্দটি ভূত অসমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ। 
-------------- 
ভাবপ্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া দুই প্রকার:

⇒ সমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন – ভালাে করে পড়াশােনা করবে।

⇒ অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন – ভালাে করে পড়াশােনা করলে ভালাে ফল হবে।

অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের:
- ভূত অসমাপিকা
- ভাবী অসমাপিকা
- শর্ত অসমাপিকা
যথা:
ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালো হয় ৷

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৮৫.
'তিনি বিশ্বাস অর্জন করেছেন।' এখানে 'অর্জন করা'কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. সরল ক্রিয়া
  2. প্রযোজক ক্রিয়া
  3. যৌগিক ক্রিয়া
  4. মিশ্র ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
মিশ্র ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশ্র ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• 'তিনি বিশ্বাস অর্জন করেছেন।' এখানে 'অর্জন করা' এটি একটি মিশ্র ক্রিয়া।
- ক্রিয়াটি [কর্] ধাতুযোগে গঠিত।

মিশ্র ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়, ধর্, মার্, প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে।

যেমন:
দর্শন করা,
প্রীত হওয়া,
গান গাওয়া।
অনুরূপ - অর্জন করা

অন্যদিকে,
• যৌগিক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া একটি অসমাপিকা ও একটি সমাপিকা ক্রিয়া মিলে গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, সরে দাঁড়ানাে ইত্যাদি।
প্রশ্নোক্ত বাক্যটিতে কোন অসমাপিকা না থাকায় যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ হিসেবে গণ্য হবেনা।

• প্রযোজক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন : মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম ও দশম শ্রেণি ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১৮৬.
নিচের কোন বাক্যে কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. তুমি কবে লন্ডন যাচ্ছ?
  2. মেয়ে দুটি ছাদের ওপরে হাঁটছে।
  3. সব বস্তিতেই এখন টিউবওয়েল বসেছে।
  4. ভোর না হতেই পাখির ডাক শোনা গেল।
সঠিক উত্তর:
ভোর না হতেই পাখির ডাক শোনা গেল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভোর না হতেই পাখির ডাক শোনা গেল।
ব্যাখ্যা
⇒ ক্রিয়া বিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।
- ভোর না হতেই পাখির ডাক শোনা গেল।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 
- সব বস্তিতেই এখন টিউবওয়েল বসেছে।
- মেয়ে দুটি ছাদের ওপরে হাঁটছে।
- তুমি কবে লন্ডন যাচ্ছ?

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। 
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। 
যেমন:
- আমি কি যাব? 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
১৮৭.
'এখন শুয়ে পড়।'- এখানে 'শুয়ে পড়' কোন ধরনের ক্রিয়া? 
  1. মিশ্র ক্রিয়া
  2. প্রযোজক ক্রিয়া
  3. সমধাতুজ ক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• যৌগিক ক্রিয়া:
যৌগিক ক্রিয়ার গঠন বিধি অসমাপিকা ক্রিয়ার পরে যা, পড়, দেখ, লাগ্‌, ফেল্, আস্, উঠ, দে, লহ্, থাক্, প্রভৃতি ধাতু থেকে সমাপিকা ক্রিয়া গঠিত হয়ে উভয়ে মিলিতভাবে যৌগিক ক্রিয়া তৈরি করে, এসব যৌগিক ক্রিয়া বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।

যেমন-
 যা-ধাতু:
-  সমাপ্তি অর্থে: বৃষ্টি থেমে গেল।
-  অবিরাম অর্থে: গায়ক গেয়ে যাচ্ছেন।
- ক্রমশ অর্থে: চা জুড়িয়ে যাচ্ছে।
- সম্ভাবনা অর্থে: এখন যাওয়া যেতে পারে।

পড়্‌-ধাতু:
- সমাপ্তি অর্থে: এখন শুয়ে পড়।
- ব্যাপ্তি অর্থে: কথাটা ছড়িয়ে পড়েছে।
- আকস্মিকতা অর্থে: এখনই তুফান এসে পড়বে।
- ক্রমশ অর্থে: কেমন যেন মনমরা হয়ে পড়েছি।
যেমন:
- ঘটনাটা শুনে রাখ।
- তিনি বলতে লাগলেন।
- সাইরেন বেজে উঠল।

আস্-ধাতু: 
- সম্ভাবনা অর্থে: আজ বিকেলে বৃষ্টি আসতে পারে।
- অভ্যস্ততা অর্থে: আমরা এ কাজই করে আসছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৮৮.
সে বই পড়ছে। - বাক্যে 'পড়ছে' কোন ক্রিয়া?
  1. সকর্মক ক্রিয়া
  2. অকর্মক ক্রিয়া
  3. দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
সকর্মক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সকর্মক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
সকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে ৷
যেমন:
- সে বই পড়ছে।
- এই বাক্যে 'পড়ছে' হলো সকর্মক ক্রিয়া।
- 'বই' হলো ‘পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম।

অন্যদিকে:
অকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে ঘুমায়।
- এই বাক্যে কোনো কৰ্ম নেই ৷

দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে ।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন। এই বাক্যে ‘দিলেন’ একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া।
- 'কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (‘বই’), আর 'কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (‘ছাত্রকে’)।

প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
- এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৮৯.
'মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়' - বাক্যটিতে কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া বিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়।  
• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন: 
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 
- তাকে কোথাও খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।
---------------------
অন্যদিকে,
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

⇒ কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন: 
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!
- বা: কখনাে বা দেখা হবে।
- না: একটু ঘুরে আসুন না, ভালাে লাগবে।
- তাে: মরি তাে মরব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯০.
নিচের কোনটি সংযোগ ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. বিদ্যুৎ চমকায়
  2. গান করা
  3. মাঠে খেলছে
  4. কমে আসা
সঠিক উত্তর:
গান করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গান করা
ব্যাখ্যা
সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- গরম করা, গান করা, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
যৌগিক ক্রিয়া:
- সমাপিকা ক্রিয়ার সাথে অসমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো।
 
সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন-
- ছেলেরা মাঠে খেলছে।
 
নাম ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ' বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে - 'আনো' প্রত্যয় যুক্ত্য করে হয় 'চমকানো'; আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯১.
নিচের কোন বাক্যে পদাণু ক্রিয়াবিশেষণের ব্যবহার ঘটেছে?
  1. যথাসময়ে সে হাজির হয়।
  2. ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।
  3. তাকে কোথাও খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।
  4. কখনাে বা দেখা হবে।
সঠিক উত্তর:
কখনাে বা দেখা হবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কখনাে বা দেখা হবে।
ব্যাখ্যা
• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!
- বা: কখনাে বা দেখা হবে।
- না: একটু ঘুরে আসুন না, ভালাে লাগবে।
- তাে: মরি তাে মরব।

অন্যদিকে,
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

⇒ কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন: 
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন: 
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 
- তাকে কোথাও খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯২.
'আমি ভাত খেয়ে স্কুলে যাব' এখানে 'যাব' কোন ক্রিয়া?
  1. ক) প্রযোজক ক্রিয়া
  2. খ) সমাপিকা ক্রিয়া
  3. গ) অসমাপিকা ক্রিয়া
  4. ঘ) যৌগিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) সমাপিকা ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সমাপিকা ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের পরিসমাপ্তি ঘটে না, বক্তার কথা অসম্পূর্ণ থেকে যায়, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন- আমি ভাত খেয়ে---। এখানে ‘খেয়ে’ ক্রিয়াপদ দ্বারা কথা শেষ হয়নি; কথা সম্পূর্ণ করতে আরো শব্দের প্রয়োজন।
- বাক্য দুটি সম্পূর্ণ করলে দাঁড়াবে- আমি ভাত খেয়ে স্কুলে যাব। এখানে ‘খেয়ে' অসমাপিকা ক্রিয়া এবং 'যাব' সমাপিকা ক্রিয়া

 উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৯৩.
অসমাপিকা ক্রিয়া কোনটি?
  1. ভালো করে পড়াশোনা করবে
  2. এ বছর বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে
  3. প্রভাতে সূর্য উঠলে অন্ধকার দূর হয়।
  4. আমরা বিকেলে খেলতে যাই।
সঠিক উত্তর:
আমরা বিকেলে খেলতে যাই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমরা বিকেলে খেলতে যাই।
ব্যাখ্যা

• ভাবপ্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া দুই প্রকার।
যথা:
সমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- ভালো করে পড়াশোনা করবে
- এ বছর বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
- প্রভাতে সূর্য উঠলে অন্ধকার দূর হয়

অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে।
- আমরা বিকেলে খেলতে যাই।

• অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের। যথা:
১. ভূত অসমাপিকা,
২. ভাবী অসমাপিকা এবং
৩. শর্ত অসমাপিকা।
যথা:
- ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
- ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
- শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালো হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।

১৯৪.
'গান করলে তার মন ভালো হয়' কোন ধরনের অসমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) ভূত অসমাপিকা
  2. খ) শর্ত অসমাপিকা
  3. গ) ভাবী অসমাপিকা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) শর্ত অসমাপিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শর্ত অসমাপিকা
ব্যাখ্যা
- 'গান করলে তার মন ভালো হয়' শর্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ।

• অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের:
১. ভূত অসমাপিকা,
২. ভাবী অসমাপিকা এবং
৩. শর্ত অসমাপিকা।

• অসমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ:
ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালো হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯৫.
নিচের কোন বাক্যে সকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ পাওয়া যায়?
  1. সে ঘুমায়।
  2. সে চিঠি পড়ছে।
  3. সে খাটে শোয়।
  4. সে দৌড়ায়।
সঠিক উত্তর:
সে চিঠি পড়ছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে চিঠি পড়ছে।
ব্যাখ্যা

• "সে চিঠি পড়ছে।" - সকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ।
অপশনের অন্যগুলো - অকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ।

বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার। 
যথা:
১. অকর্মক ক্রিয়া: 
বাক্যে ক্রিয়ার কোনাে কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে ঘুমায়।
- সে মাটিতে শোয়।
- সে ভালো দৌড়ায়।
[এই বাক্যেগুলোতে কোনাে কর্ম নেই।]
 
২. সকর্মক ক্রিয়া: 
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে বই পড়ছে।
- বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন।

৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া: 
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তপু দীপুকে বলটি দিল।
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
[এই বাক্যে ‘দিলেন একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। কী দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (বই), আর কাকে দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (ছাত্রকে)।]
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

১৯৬.
গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া কয় প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
৫ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ প্রকার। 
যথা, 
- সরল ক্রিয়া, 
- প্রযোজক ক্রিয়া, 
- নাম ক্রিয়া, 
- সংযোগ ক্রিয়া, 
- যৌগিক ক্রিয়া। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।
১৯৭.
নিচের কোন বাক্যেটি সমাপিকা ক্রিয়া নির্দেশ করে?
  1. ভালো কোরে পড়াশোনা করবে।
  2. সে গান করে আনন্দ পায়।
  3. গান করলে তার মন ভালো হয়।
  4. সে গান শিখতে রাজশাহী যাবে।
সঠিক উত্তর:
ভালো কোরে পড়াশোনা করবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভালো কোরে পড়াশোনা করবে।
ব্যাখ্যা
⇒ ক্রিয়া:
বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কি ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তালে ক্রিয়া পদ বলে।

ভাব প্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া ২ প্রকার।
⇒ সমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়ায় দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয় তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- ভালো কোরে পড়াশোনা করবে

⇒ অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়ায় দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয় না তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল পাবে।

অসমাপিকা ক্রিয়া ৩ প্রকারের। যথা-
• ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া: সে গান করে আনন্দ পায়।
• শর্ত অসমাপিকা ক্রিয়া: গান করলে তার মন ভালো হয় ।
• ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া: সে গান শিখতে রাজশাহী যাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১৯৮.
"আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার কষ্ট হতো না" - বাক্যটি কোন ভাবের ক্রিয়া?
  1. সাপেক্ষ ভাব
  2. নির্দেশক ভাব
  3. অনুজ্ঞা ভাব
  4. অনির্দেশক ভাব
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ ভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ ভাব
ব্যাখ্যা
• "আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার কষ্ট হতো না" - বাক্যটি সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া। 
-------------------- 
ক্রিয়ার ভাব:
- ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বলে।
- ক্রিয়ার ভাব ৪ প্রকার।
যথা -

নির্দেশক ভাব:
- সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
যথা:
- তারা বাড়ি যাবে।

অনুজ্ঞা ভাব:
- আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়া পদের অনুজ্ঞা ভাব হয়।
যথা:
- চুপ করো, মিথ্যা বলবে না, ডেকে দেয় পাষণ্ড!

সাপেক্ষ ভাব:
- একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলে।
যথা:
- যদি সে পড়ত, তবে পাস করত।
- আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।

আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব:
- যে ক্রিয়াপদের বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যথা:
- সে যাক, বৃষ্টি আসে আসুক, তার মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
১৯৯.
ভাব প্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
ব্যাখ্যা

• ভাব প্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া ২ প্রকার।

সমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ায় দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয় তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন: ভালো কোরে পড়াশোনা করবে।

অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ায় দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয় না তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন: ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।

২০০.
ভূত অসমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ কোনটি? 
  1. খেয়ে সে বাড়ি গেল। 
  2. সে খেলতে বলল। 
  3. পরিশ্রম করলে ফল ভালো হবে। 
  4. কোনটি নয়। 
সঠিক উত্তর:
খেয়ে সে বাড়ি গেল। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খেয়ে সে বাড়ি গেল। 
ব্যাখ্যা

• ভূত অসমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ- খেয়ে সে বাড়ি গেল। 
----------------------- 
• ভাব প্রকাশের ধরন, বাক্যে কাজের উপস্থিতি ও গঠনগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ক্রিয়াকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়।
- ভাবপ্রকাশের দিক থেকে ক্রিয়া প্রধানত দুই প্রকার—

১. সমাপিকা ক্রিয়া—
- সমাপিকা ক্রিয়া হলো সেই ক্রিয়াপদ, যার মাধ্যমে বাক্যের ভাব সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ পায় এবং বাক্যটি শেষ বা পূর্ণতা লাভ করে। 
- উদাহরণ:
- আমরা সিনেমা দেখলাম (এখানে দেখলাম সমাপিকা ক্রিয়া)।

২. অসমাপিকা ক্রিয়া— 
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের পরিসমাপ্তি ঘটে না, বরং কথা অসম্পূর্ণ থেকে যায়, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
- যেমন :
- আমি ভাত খেয়ে...,
- সে নিয়মিত পড়াশোনা করতে করতে...,
- সকালে সূর্য উঠলে...।
--------------------------------- 
• অসমাপিকা ক্রিয়ার প্রকারভেদ:

- অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ভাগে বিভক্ত—
- ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া;
- ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া; 
- শর্ত অসমাপিকা ক্রিয়া। 

ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়াগুলো বাক্যের ভাব অসম্পূর্ণ রাখে এবং যখন সেই ক্রিয়াগুলো অতীতকাল নির্দেশ করে, তখন সেগুলোকে ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া বলা হয়।
- ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া হলো এমন অসমাপিকা ক্রিয়া, যা বাক্যে অতীতকাল নির্দেশ করে;
- কিন্তু নিজে একা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করতে পারে না। 
- এগুলো পরবর্তী সমাপিকা ক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল হয়ে বাক্যের পূর্ণ অর্থ তৈরি করে। 

- যেমন: 
- খেয়ে সে বাড়ি গেল—এখানে খেয়ে অতীতের কাজ বোঝাচ্ছে, কিন্তু বাক্য শেষ করেছে গেল সমাপিকা ক্রিয়া। 
- আবার দেখে আমি মুগ্ধ হলাম—এখানে দেখে অতীতকে নির্দেশ করছে, কিন্তু বাক্যের অর্থ মুগ্ধ হলাম ক্রিয়ার মাধ্যমে পূর্ণ হয়। 
- পড়ে সে ঘুমিয়ে পড়ল বা কাজটি করতে আমার দেরি হয়ে গেল—এগুলোতে পড়ে ও করতে ক্রিয়াগুলো অতীতের কাজ বোঝাচ্ছে, কিন্তু বাক্যের সম্পূর্ণ অর্থ প্রদানের জন্য সমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। 
----------------------------- 
অন্যদিকে,
• ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া:
- • ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া হলো এমন ক্রিয়া, যা ভবিষ্যতে হতে পারে এমন কোনো কাজ বা সম্ভাবনার কথা বোঝায়, কিন্তু নিজে একা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করতে পারে না।
- এই ধরনের ক্রিয়া অন্য একটি সমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে তবেই বাক্যের পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে।
- উদাহরণ- 
- সে খেলতে বলল—এখানে খেলতে হলো ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া, যা বলল সমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে অর্থ পূর্ণ করছে।

• শর্ত অসমাপিকা ক্রিয়া:
- শর্ত অসমাপিকা ক্রিয়া হলো এমন অসমাপিকা ক্রিয়া, যা বাক্যে কোনো শর্ত বা আবশ্যকতা নির্দেশ করে, কিন্তু একা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করতে পারে না।
- এই ধরনের ক্রিয়াগুলো অন্য কোনো সমাপিকা ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে বাক্যের পূর্ণ অর্থ তৈরি করে।
- যেমন: 
- পরিশ্রম করলে ফল ভালো হবে—এখানে করলে শর্ত বোঝাচ্ছে, এবং মনোযোগ দিলে তুমি পাস করবে—এখানে দিলে শর্তসূচক।

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম- দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।