ব্যাখ্যা
যেমন :
তুমি চলে যাও।
সময় চলে যায়।
তুমি বসে পড়।
সাইরেন বেজে উঠল।
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১ / ৪ · ১–১০০ / ৩৮৯
• যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ - এগিয়ে চলা।
-------------------------------
• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন
- মরে যাওয়া,
- কমে আসা,
- এগিয়ে চলা,
- হেসে ওঠা,
- উঠে পড়া,
- পেয়ে বসা, ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন-
গরম করা, গান করা, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা, বৃদ্ধি পাওয়া ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২২ সালের সংস্করণ।
• যৌগিক ক্রিয়া:
যৌগিক ক্রিয়ার গঠন বিধি অসমাপিকা ক্রিয়ার পরে যা, পড়, দেখ, লাগ্, ফেল্, আস্, উঠ, দে, লহ্, থাক্, প্রভৃতি ধাতু থেকে সমাপিকা ক্রিয়া গঠিত হয়ে উভয়ে মিলিতভাবে যৌগিক ক্রিয়া তৈরি করে, এসব যৌগিক ক্রিয়া বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।
যেমন-
যা-ধাতু:
- সমাপ্তি অর্থে: বৃষ্টি থেমে গেল।
- অবিরাম অর্থে: গায়ক গেয়ে যাচ্ছেন।
- ক্রমশ অর্থে: চা জুড়িয়ে যাচ্ছে।
- সম্ভাবনা অর্থে: এখন যাওয়া যেতে পারে।
পড়্-ধাতু:
- সমাপ্তি অর্থে: এখন শুয়ে পড়।
- ব্যাপ্তি অর্থে: কথাটা ছড়িয়ে পড়েছে।
- আকস্মিকতা অর্থে: এখনই তুফান এসে পড়বে।
- ক্রমশ অর্থে: কেমন যেন মনমরা হয়ে পড়েছি।
যেমন:
- ঘটনাটা শুনে রাখ।
- তিনি বলতে লাগলেন।
- সাইরেন বেজে উঠল।
আস্-ধাতু:
- সম্ভাবনা অর্থে: আজ বিকেলে বৃষ্টি আসতে পারে।
- অভ্যস্ততা অর্থে: আমরা এ কাজই করে আসছি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।
অর্থ্যাৎ, "সে বসে পড়ল।"- বাক্যটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।
অন্যদিকে,
নামক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধবন্যাত্নক শব্দের শেষে -আ বা -আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন- পাখিটা ছটছটাচ্ছে।
সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়ায়টি সম্পন্ন করে।
যেমন:
- সে লিখছে, সে মাঠে খেলছে।
সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন-
গরম করা, গান করা, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা, বৃদ্ধি পাওয়া ইত্যাদি।
যেমন- সে ধীরে গান করে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
• যৌগিক ক্রিয়া:
একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। যেমন-
ক. তাগিদ দেওয়া অর্থে- ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল।
খ. নিরন্তরতা অর্থে- ঘটনাটা শুনে রাখ৷
গ. কার্যসমাপ্তি অর্থে- তিনি বলতে লাগলেন।
ঘ. আকস্মিকতা অর্থে- সাইরেন বেজে উঠল।
ঙ. অভ্যস্ততা অর্থে- শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে।
চ. অনুমোদন অর্থে- এখন যেতে পার।
অন্যদিকে,
----------------------
• মিশ্র ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়, ধর্, মার্, প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে।
যেমন-
ক. বিশেষ্যের উত্তর (পরে): আমরা তাজমহল দর্শন করলাম। এখন গোল্লায় যাও৷
খ. বিশেষণের উত্তর (পরে): তোমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম।
গ. ধ্বনাত্মক অব্যয়ের উত্তর (পরে): মাথা ঝিম ঝিম্ করছে। ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
- যে ক্রিয়ার কর্মপদ আছে তাই সকর্মক ক্রিয়া। ক্রিয়ার সাথে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই ক্রিয়ার কর্মপদ। কর্মপদযুক্ত ক্রিয়াই সর্কমক ক্রিয়া।
- যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া। যেমনঃ ছেলেটি হাসে। কী ‘হাসে’ বা ‘কাকে হাসে’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না। কাজেই ‘হাসে’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।
- প্রয়োগ বৈশিষ্ট্যে সকর্মক ক্রিয়াও অকর্মক হতে পারে।
যেমনঃ
অকর্মক: সে পড়ছে। সকর্মক: সে বই পড়ছে।
অকর্মক: আমি রাতে খাব না। সকর্মক: আমি রাতে ভাত খাব না।
অকর্মক: আমি চোখে দেখি না। সকর্মক: আকাশে চাঁদ দেখি না।
অকর্মক: ছেলেটা কানে শোনে না। সকর্মক: ছেলেটা কথা শোনে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী
বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার।
- নাম-বিশেষ্য
- জাতি-বিশেষ্য
- বস্ত-বিশেষ্য
- সমষ্টি-বিশেষ্য
- গুণ-বিশেষ্য
- ক্রিয়া-বিশেষ্য
ক্রিয়া-বিশেষ্যঃ যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
যেমন,
- পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
অকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া। যেমনঃ ছেলেটি হাসে। কী ‘হাসে’ বা ‘কাকে হাসে’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না।
- কাজেই ‘হাসে’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।
- প্রয়োগ বৈশিষ্ট্যে সকর্মক ক্রিয়াও অকর্মক হতে পারে।
যেমন:
অকর্মক: সে পড়ছে।
সকর্মক: সে বই পড়ছে।
অকর্মক: আমি রাতে খাব না।
সকর্মক: আমি রাতে ভাত খাব না।
অকর্মক: আমি চোখে দেখি না।
সকর্মক: আকাশে চাঁদ দেখি না।
অকর্মক: ছেলেটা কানে শোনে না।
সকর্মক: ছেলেটা কথা শোনে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• জাদুকর জাদু দেখায়- প্রযোজক ক্রিয়ার উদাহরণ।
• প্রযোজক ক্রিয়া:
- প্রযোজক ক্রিয়া হলো সেই ক্রিয়া যা একজনের প্রযোজনায় বা চালনায় অন্য কর্তৃক সম্পন্ন হয়।
- সংস্কৃত ব্যাকরণে এই ক্রিয়াকে ণিজন্ত ক্রিয়াও বলা হয়।
- জাদুকর জাদু দেখায়- এই বাক্যে ‘জাদু দেখায়’ প্রযোজক ক্রিয়া।
- কারণ জাদুকর নিজে জাদু হয় না, বরং দর্শককে জাদু দেখায়।
- প্রযোজক কর্তা হলো যে ব্যক্তি ক্রিয়াটি প্রযোজনা করছে।
- আর প্রযোজ্য কর্তা হলো যার মাধ্যমে ক্রিয়াটি সম্পন্ন হচ্ছে।
- উদাহরণস্বরূপ- জাদুকর জাদু দেখায়- এই বাক্যে-
- প্রযোজক কর্তা: জাদুকর;
- প্রযোজ্য কর্তা: দর্শককে (অপ্রকাশিত/উহ্য);
- প্রযোজক ক্রিয়া: জাদু দেখায়।
--------------------------------------------------
অন্যদিকে,
• নদী বহে- অকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ।
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
• 'আমরা জাদুঘর দর্শন করলাম'- মিশ্র ক্রিয়ার উদাহরণ।
- মিশ্র ক্রিয়া হলো এমন ক্রিয়া যা বিশেষ্য, বিশেষণ অথবা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে ‘কর’, ‘হ’, ‘দে’, ‘পা’, ‘গাও’, ‘কাট্’ প্রভৃতি ধাতু বা মূল ক্রিয়ার সংযোগে সৃষ্টি হয়।
• বাতাস হু-হু করে বইছে- যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।
- যৌগিক ক্রিয়া বলতে সেই ক্রিয়াকে বোঝায়, যা একটি অসমাপিকা ক্রিয়া এবং একটি সমাপিকা ক্রিয়ার মিলনে গঠিত হয় এবং একসঙ্গে একটি সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে।
উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ);
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
• টুকু
-টুকু নির্দেশক দিয়ে কোনো কিছুর সামান্য অংশ বা অল্প পরিমাণ বোঝায়। বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে নির্দেশকটি ব্যবহৃত হয়। এর রূপভেদ: -টু বা -টুক।
যেমন
- সাবানটুকু, হাসিটুকু, শরবতটুকু, এতটুকু, সময়টুকু, একটু, আধটু, যতটুক, ততটুক ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• -টা,-টি
⇒ বিশেষ্য,সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে -টা,-টি নির্দেশক বসে। এর দুটি রূপান্তর: -টো ও-টে। যেমন - বাড়িটা, ছেলেটা।
• -খানা,-খানি
⇒ বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে-খানা, -খানি নির্দেশক বসে। যেমন : ব্যাপারখানা, ভাবখানা।
• -জন
⇒ শুধু মানুষের বেলায়-জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়। যেমন : বিজ্ঞজন, লোকজন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।
সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- গরম করা, গান করা, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
যৌগিক ক্রিয়া:
- সমাপিকা ক্রিয়ার সাথে অসমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
• প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন :
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন;
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
[এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।]
অন্যদিকে,
• সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে লিখছে। ছেলেরা মাঠে খেলছে। এখানে লিখছে ও খেলছে - এগুলো সরল ক্রিয়া।
• নামক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে -আ বা -আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় ‘চমকানো’।
• যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চল।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
যৌগিক ক্রিয়া:
- সমাপিকা ক্রিয়ার সাথে অসমাপিকা ক্রিয়া যক্ত হয়।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো।
অন্যদিকে,
সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন-
- ছেলেরা মাঠে খেলছে।
প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
নাম ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ' বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে - 'আনো' প্রত্যয় যুক্ত্য করে হয় 'চমকানো'; আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
• প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন :
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন; রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায় এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।
অন্যদিকে,
• সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে লিখছে। ছেলেরা মাঠে খেলছে। এখানে লিখছে ও খেলছে - এগুলো সরল ক্রিয়া।
• নামক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে -আ বা -আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় ‘চমকানো’।
• যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চল।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।
সমাপিকা ক্রিয়ার গঠনঃ
সমাপিকা ক্রিয়া সকর্মক, অকর্মক ও দ্বিকর্মক হতে পারে।
ধাতুর সঙ্গে বর্তমান, অতীত বা ভবিষ্যৎ কালের বিভক্তি যুক্ত হয়ে সমাপিকা ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন -
- মনোয়ার বই পড়ে। (এখানে, ক্রিয়া - সকর্মক; কাল - বর্তমান)
- রবিন সারাদিন খেলেছিল। (এখানে, ক্রিয়া - অকর্মক; কাল অতীত)
- আমি তোমাকে একটি কলম উপহার দেব। (এখানে, ক্রিয়া - দ্বিকর্মক; কাল - ভবিষ্যৎ)
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ।
ক্রিয়া পদঃ যে পদ দিয়ে কোন কাজ করা বোঝায়, তাকে ক্রিয়া পদ বলে।
অর্থাৎ, বাক্যের অন্তর্গত যে পদ দ্বারা কোন কাজ সম্পাদন করা বা কোন কাজ সংঘটন হওয়াকে বোঝায়, তাকে ক্রিয়া পদ বলে।
ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে পুরুষ ও কাল অনুযায়ী ক্রিয়াবিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়। যেমন, ‘পড়্’ একটি ধাতু। এর সঙ্গে উত্তম পুরুষ ও সাধারণ বর্তমান কাল অনুযায়ী ‘ই’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত হয় ‘পড়ি’ ক্রিয়াপদটি। আবার মধ্যম পুরুষের জন্য হবে ‘পড়ো’। নাম পুরুষের জন্য হবে ‘পড়ে’। আবার উত্তম পুরুষের জন্য ঘটমান বর্তমান কালের জন্য হবে ‘পড়ছি’। সাধারণ অতীত কালের জন্য হবে ‘পড়েছি’।
ক্রিয়া পদ বাক্যের অপরিহার্য অঙ্গ। শুধু ক্রিয়াপদ নিয়ে একটি বাক্য গঠিত হতে পারে। কিন্তু ক্রিয়া পদ ছাড়া কোন বাক্য গঠিত হতে পারে না। তবে মাঝে মাঝে অনেক বাক্যের ক্রিয়াপদটি উহ্য থাকে। যেমন- ‘রমেশ আমার ভাই (হয়)।’ এই বাক্যে ‘হয়’ ক্রিয়াটি উহ্য থাকে, এটি না লিখলেও সবাই বুঝতে পারে। আর তাই এটি লেখাও হয় না।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
যে ক্রিয়াবিশেষণ দ্বারা কোনো কাজ কোথায় বা কোন স্থানে সংঘটিত হচ্ছে বুঝায় তাকে স্থানজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন :
- আমার সামনে দাঁড়াও।
- এখানে বসো। কল্যাণী গাজীপুর থাকে।
- চশমাটা কোথায় রেখেছি বলতে পারছি না।
- মামুন আমেরিকা থাকে।
উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
• সাধু ও চলিত ভাষায় ক্রিয়া পদের কতিপয় রূপ:
যেমন:
সাধু - চলিত:
→ হইল - হল/হলো,
→ আসিয়া- এসে,
→ করিলেন- করলেন,
→ দেন নাই- দেননি,
→ পার হইয়া- পেরিয়ে,
→ পড়িল- পড়ল/পড়লো।
→ করিয়া- করে
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
ক্রিয়াপদ:
ক্রিয়ামূল অর্থাৎ ধাতুর সঙ্গে কাল সময় ও পুরুষ জ্ঞাপক (ক্রিয়া) বিভক্তিযোগে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।
ক. পুরুষভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য দেখা যায়।
যেমন:
- আমি যাই।
- তুমি যাও।
- আপনি যান।
- সে যায়। তিনি যান। (সাধারণ ভবিষ্যৎ কালে নাম পুরুষ ও মধ্যম পুরুষের রূপ অভিন্ন।)
খ. বচনভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় না।
যেমন:
- আমি (বা আমরা) যাই।
- তুমি (বা তোমরা) যাও।
- সে (বা তারা) যায়।
গ. সাধারণ, সম্ভ্রমাত্মক, তুচ্ছার্থকভেদে মধ্যম ও নাম পুরুষের ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় হয়ে থাকে (উত্তম পুরুষের হয় না)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
• ‘আজকাল সৎ মানুষের চেয়ে ধনী মানুষের মূল্য বেশি’- বাক্যে ‘আজকাল’ কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ পদের দৃষ্টান্ত
⇒ ক্রিয়া বিশেষণ: যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।
ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।
• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
- যথাসময়ে সে হাজির হয় ।
• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়।
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।
• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- আমি কি যাব?
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- মরে যাওয়া,
- কমে আসা,
- এগিয়ে চলা,
- হেসে ওঠা,
- উঠে পড়া,
- পেয়ে বসা,
- সরে দাঁড়ানো,
- বেঁধে দেওয়া,
- বুঝে নেওয়া।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।
সমাপিকা ক্রিয়া:
-যে-ক্রিয়াতে বক্তব্য বা বাক্য শেষ হয়ে যায়, আর কিছু বলার বাকি থাকে না, বাক্যের অর্থগত পূর্ণতা সৃষ্টি হয়, তাকে ‘সমাপিকা ক্রিয়া' বলে।
যেমন-
-ছাত্রেরা বই পড়ছে।
-খোকা ভাত খেয়েছে।
-সূর্য পূর্বদিকে ওঠে।
তাই বলা যায়, বাক্যে সমাপিকা ক্রিয়াপদ মূলত শেষে বসে।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• সংযোগ ক্রিয়া - কথা দেওয়া, দোষ দেওয়া, মন দেওয়া।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
ক্রিয়াবাচক শব্দের দ্বিরুক্তি:
- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: ডেকে ডেকে হয়রান হয়ে গেছি।
- বিশেষণ রূপে: রোগী বুঝি যায় যায়। তোমার নেই নেই ভাব আর গেলো না।
- স্বলপকাল স্থায়ী বোঝাতে: দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে গেলো।
- ক্রিয়া বিশেষণ বোঝাতে: দেখে দেখে যেও। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কিভাবে?
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
ক্রিয়ার ভাবকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমনঃ
নির্দেশক ভাব - রবিন দোকানে গিয়েছে।
অনুজ্ঞা ভাব -অন্ধকে ভিক্ষা দিন।
শর্তসাপেক্ষ ভাব - যদি মানা কর, করব না।
আকাঙ্ক্ষাবাচক ভাব - যা হয় হোক।
উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ
মিশ্র ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়, ধর্, মার্, প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে।
যেমন:
ক. বিশেষ্যের উত্তর (পরে): আমরা তাজমহল দর্শন করলাম। এখন গোল্লায় যাও।
খ. বিশেষণের উত্তর (পরে): তোমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম।
গ. ধ্বনাত্মক অব্যয়ের উত্তর (পরে): মাথা ঝিম ঝিম্ করছে। ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।
- বাক্যের ক্রিয়া ও কর্ম পদ একই ধাতু থেকে গঠিত হলে ঐ কর্মপদকে সমধাতুজ কর্ম বা ধাত্বর্থক কর্মপদ বলে।
- সমধাতুজ কর্মপদ অকর্মক ক্রিয়াকে সকর্মক করে।
যেমনঃ
- ''আর কত খেলা খেলবে” —বাক্যে কর্মপদ 'খেলা' এবং ক্রিয়াপদ 'খেলবে' একই ধাতু 'খেল' থেকে গঠিত হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
সঠিক উত্তর: খ) ক্রমান্বয়তা।
------------------
• ‘উঠ্’ ধাতুর অর্থ:
‘উঠ্’ ধাতুটি এখানে ‘হয়ে উঠছে’ রূপে একটি ক্রমান্বয়ী বা ধীরে ধীরে ঘটমান প্রক্রিয়া বোঝাচ্ছে। এটি কোনো অবস্থার দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হওয়া বা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ার অর্থ প্রকাশ করে। "ঋণের বোঝা ভারী হয়ে উঠছে" - এই ক্ষেত্রে, ঋণের বোঝা ক্রমশ ভারী হচ্ছে, যা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া- ক্রমান্বয়তা বোঝাচ্ছে।
"উঠ্" ধাতুর বিভিন্ন ব্যবহার:
• অভ্যাস অর্থে - শুধু শুধু তিনি রেগে উঠেন।
• আকস্মিকতা অর্থে - সে হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠল।
• সম্ভাবনা অর্থে - আমার আর থাকা হয়ে উঠল না।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
• তুমি কাল যেও।- বাক্যটি ক্রিয়ার অনুজ্ঞা ভাব প্রকাশ করে।
-----------------
• ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বা প্রকার বলে।
ক্রিয়ার ভাব বা ধরন চার প্রকার।
১. নির্দেশক ভাব,
২. অনুজ্ঞা ভাব,
৩. সাপেক্ষ ভাব,
৪. আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব।
• নির্দেশক ভাব:
সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
ক. সাধারণ নির্দেশক:
- আমরা বই পড়ি।
- তারা বাড়ি যাবে।
খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায়;
- আপনি কি আসবেন?
-সে কি গিয়েছিল?
• অনুজ্ঞা ভাব:
আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব হয়।
যেমন-
ক. আদেশাত্মক
- বর্তমান কালে: চুপ কর।
- ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।
খ. নিষেধাত্বক
- বর্তমান কালে; অন্যায় কাজ করো না।
- ভবিষ্যৎ কালে, মিথ্যা বলবে না।
লা, অনুরোধসূচক-
- বর্তমান কালে: ছাতাটা দিন তো ভাই।
- ভবিষ্যৎ কালে। আপনারা আসবেন।
ঘ. উপদেশাত্মক
- বর্তমানে কালে: মন দিয়ে পড়।
- ভবিষ্যৎ কালে: স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।
• সাপেক্ষ ভাব।
একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীলক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন-
ক. সম্ভাবনায়: তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে। যদি সে পড়ত তবে পাশ করতো।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।
• আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব:
আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
প্রযমন:
-সে যাক।
- যা হয় হোক।
-সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।
- তার মঙ্গল হোক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন-
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।