বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ইউরোপীয়দের আগমন ও ব্রিটিশ শাসনামল

মোট প্রশ্ন১,৩১৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ইউরোপীয়দের আগমন ও ব্রিটিশ শাসনামল

PrepBank · পাতা / ১৪ · ৮০১৯০০ / ১,৩১৫

৮০১.
মন্ত্রী মিশনের সদস্য সংখ্যা ছিলো কতজন?
  1. ক) দুইজন
  2. খ) তিনজন
  3. গ) পাঁচজন
  4. ঘ) সাতজন
সঠিক উত্তর:
খ) তিনজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তিনজন
ব্যাখ্যা
ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা বিষয়ে আলোচনার জন্যে ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ সরকার তৎকালীন ভারত সচিব পেথিক লরেন্স কে প্রধান করে তিন সদস্যের ক্যাবিনেট বা মন্ত্রী মিশন ভারতে পাঠায়।
এর অপর দুই সদস্য হলেন স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস এবং এ. ভি. আলেকজান্ডার।
এই মিশন ভারতকে তিনটি ভাগে ভাগ করে এবং তিন স্তর বিশিষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা করে।
মুসলিমলীগ শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনা মেনে নিলেও কংগ্রেসের অসহযোগিতায় মন্ত্রী মিশন পরিকল্পনা সফল হয়নি।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৮০২.
উপমহাদেশে কত সাল থেকে ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৮৬১ সাল
  2. ১৮৬৩ সাল
  3. ১৯২২ সাল
  4. ১৯৪৭ সাল
সঠিক উত্তর:
১৯২২ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২২ সাল
ব্যাখ্যা
উপমহাদেশে সিভিল সার্ভিস
- ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার মূল প্রতিষ্ঠান ছিল সিভিল সার্ভিস।
- ১৮৬১ সালের আইনবলে প্রতিষ্ঠিত হয় ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস (আইসিএস)।

- সিভিল সার্ভিসে অধিক সংখ্যক ভারতীয়ের যোগদানের সুবিধার্থে গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় লর্ড লীটন ১৮৭৯ সালে একটি বিধিবদ্ধ সিভিল সার্ভিস ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯২২ সাল থেকে ভারতীয় সিভিল সার্ভিসের পরীক্ষাগুলো  যুগপৎ ইংল্যান্ড ও ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়া শুরু হয়।

- ব্রিটিশ রাজত্বের সময়, ওয়ারেন হেস্টিংস সিভিল সার্ভিসের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। 
- চার্লস কর্নওয়ালিস এটিকে সংস্কার, আধুনিকীকরণ এবং যুক্তিযুক্ত করেছিলেন। তাই, চার্লস কর্নওয়ালিসকে 'ভারতে সিভিল সার্ভিসের জনক' বলা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া। 
৮০৩.
বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয় কোন স্থানে?
  1. দিল্লি
  2. পাটনা
  3. কানপুর
  4. বিহার
সঠিক উত্তর:
বিহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহার
ব্যাখ্যা

বক্সারের যুদ্ধ:
- বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয় বিহারে।
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে সংঘটিত এ যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করে। 
- বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম পুনরায় ইংরেজ শিবিরে আশ্রয় নেন। সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান এবং অযোধ্যা ইংরেজ বাহিনীর পদানত হয়। মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন এবং এরপর তাঁর সম্পর্কে আর কিছু জানা যায় নি।
- বক্সার ছিল একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ।
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়। 

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৮০৪.
দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রাথমিক ধারণা কে দেন?
  1. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  2. মাওলানা মওদুদী
  3. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  4. আল্লামা ইকবাল
সঠিক উত্তর:
স্যার সৈয়দ আহমদ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যার সৈয়দ আহমদ খান
ব্যাখ্যা

দ্বিজাতি তত্ত্ব:
- দ্বিজাতি তত্ত্ব (Two-Nation Theory) হলো এমন একটি রাজনৈতিক ও আদর্শিক মতবাদ যা ১৯৪৭ সালের ভারত বিভক্তির মূল কারণ।
- এই তত্ত্ব অনুসারে, ভারতীয় উপমহাদেশের হিন্দু ও মুসলমানরা কেবল দুটি ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষই নয়, বরং তারা দুটি আলাদা জাতি। তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, রীতিনীতি এবং জীবনধারা সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায়, একটি একক রাষ্ট্রে তারা একত্রে বসবাস করতে পারে না।
- এই তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত বিভাজিত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

মুসলমানদের একটি জাতি হিসেবে আত্মপরিচয়ের সন্ধানে উদ্বুদ্ধ করতে স্যার সৈয়দ আহমদ খান (১৮১৭-১৯৮) প্রথম এ ধারণার উন্মেষ ঘটান। তিনি ভারতের মুসলমানদের কংগ্রেস দলের তথাকথিত জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের স্রোতে গা ভাসাতে নিরূৎসাহিত করতেন। তিনি প্রচার করেন যে, ভারতীয় মুসলিম তাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় একটি জাতি গঠন করবে এবং স্বশাসনের জন্য কংগ্রেস কর্তৃক পরিচালিত আন্দোলনের সঙ্গে মুসলমানদের জোটবদ্ধ হওয়া উচিৎ হবে না। তাঁর এ ধারণা উপনিবেশিক শাসকদের সমর্থন লাভ করে।

⇒ যদিও স্যার সৈয়দ আহমদ খান দ্বিজাতি তত্ত্ব-এর ভিত্তি স্থাপন করেন, তবুও এই তত্ত্বের প্রধান প্রবক্তা ছিলেন নিখিল ভারত মুসলিম লীগের নেতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ। 
- স্যার সৈয়দ আহমদ খান এর প্রাথমিক ধারণা দেন, আল্লামা ইকবাল এটিকে শক্তিশালী করেন এবং মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮০৫.
ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসে প্রথম ভারতীয় হিসেবে যোগদান করেন -
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সত্যেন্দ্রনাথ বসু
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
উপমহাদেশে সিভিল সার্ভিস
- ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার মূল প্রতিষ্ঠান ছিল সিভিল সার্ভিস।
- ব্রিটিশ রাজত্বের সময়, ওয়ারেন হেস্টিংস সিভিল সার্ভিসের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। 
- চার্লস কর্নওয়ালিস এটিকে সংস্কার, আধুনিকীকরণ এবং যুক্তিযুক্ত করেছিলেন। তাই, চার্লস কর্নওয়ালিসকে 'ভারতে সিভিল সার্ভিসের জনক' বলা হয়।
- ১৮৬১ সালের আইনবলে প্রতিষ্ঠিত হয় ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস (আইসিএস)।

- ১৮৬৩ সালে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম ভারতীয় হিসেবে আইসিএস সদস্য হন।
- সিভিল সার্ভিসে অধিক সংখ্যক ভারতীয়ের যোগদানের সুবিধার্থে গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় লর্ড লীটন ১৮৭৯ সালে একটি বিধিবদ্ধ সিভিল সার্ভিস ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৮০৬.
সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময়ে ইংরেজরা কোথায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে?
  1. হুগলি
  2. সুরাট
  3. মাদ্রাজ
  4. মুম্বাই
সঠিক উত্তর:
সুরাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুরাট
ব্যাখ্যা

ইংরেজদের আগমন ও ক্ষমতা বিস্তার:
- পর্তুগিজ ও ওলন্দাজ বণিকদের বাণিজ্যিক সাফল্য ও এদেশের বিপুল ধন-সম্পদের বর্ণনা ইংরেজ বণিকদের মনে এদেশে বাণিজ্য করার আগ্রহ সৃষ্টি করে।
- ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ইংল্যান্ডের রানী এলিজাবেথের কাছ থেকে ১৫ বছর মেয়াদী সনদ নিয়ে এদেশে বাণিজ্য করতে আসে। 
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময়ে তারা ১৬১২ খ্রিস্টাব্দে মুম্বাইয়ের নিকট সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৬১৫ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ রাজদূত স্যার টমাস রো সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে এসে ইংরেজদের বাণিজ্যের জন্য কিছু সুবিধা আদায় করেন।
- পর্তুগিজরা বাংলা থেকে বিতাড়িত হলে ইংরেজগণ বালেশ্বরে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে এবং করমণ্ডল উপকূলে কিছু জমি নিয়ে একটি দুর্গ নির্মাণ করে এবং এ দুর্গই পরে মাদ্রাজ শহরে পরিণত হয়।
- ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দে জলপথে ইংরেজগণ হুগলিতে আসে এবং বাংলার সুবেদার শাহ সুজার অনুমতি নিয়ে ১৬৫১ খ্রিস্টাব্দে সেখানে বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ করে।

⇒ ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস ১৬৬৮ খ্রিস্টাব্দে কোম্পানিকে মুম্বাই ইজারা দেন।
- ১৬৯০ খ্রিস্টাব্দে জব চার্নক ভাগীরথী নদীর তীরে ১২০০ টাকার বিনিময়ে কলকাতা, সূতানটি ও গোবিন্দপুর এ তিনটি গ্রামের জমিদারী স্বত্ব কিনে নেন।
- পরবর্তীকালে উপমহাদেশের ভাগ্য নির্ধারণকারী দুর্গ ফোর্ট উইলিয়াম এখানেই নির্মিত হয়।
- ১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট ফররুখশিয়ারের অনুমতি নিয়ে ইংরেজগণ বাংলা, মাদ্রাজ ও মুম্বাইয়ে বিনা শুল্কে অবাধ বাণিজ্য করতে থাকে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮০৭.
“The Spirit of Islam” গ্রন্থটি রচনা করেছেন কে?
  1. ক) নওয়াব আবদুল লতিফ
  2. খ) সৈয়দ আমির আলি
  3. গ) রাজা রামমোহন রায়
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ আমির আলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ আমির আলি
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আমির আলি
- ঊনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে যিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন তিনি হলেন সৈয়দ আমির আলি।
- তিনি পাশ্চাত্য শিক্ষার মাধ্যমে বাঙালি মুসলমানদের সামাজিক ও বৈষয়িক উন্নতি করতে ও পাশাপাশি রাজনৈতিক ভাবেও সচেতন করতে চেয়েছেন।
- সৈয়দ আমির আলি ১৮৪৯ সালে হুগলির এক মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৮৭৩ সালে লন্ডনের লিংকন্স ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে দেশে ফেরেন।
- পরে ১৮৯০ সালে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন।
- ১৯০৯ সালে তিনি লন্ডনে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য হন।

- তিনি ১৮৭৭ সালে কোলকাতায় “সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাাসোসিয়েশন” নামে একটি সমিতি গঠন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত দুইটি গ্রন্থ ‘The Spirit of Islam” এবং “A Short History of the Saracens” -এ ইসলাম ধর্মের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা ও ইসলামের অতীত গৌরবের কথা তুলে ধরা হয়েছে। 
- তিনি ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠাকে স্বাগত জানান এবং ১৯১২ সালে মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- তিনি নারী অধিকারের বিষয়েও সচেতন ছিলেন। আধুনিক ভারতের উন্নতির জন্য হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের একযোগে কাজ করা প্রয়োজন বলে তিনি বিশ্বাস করতেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮০৮.
নিচের কার উপাধি ছিলো ‘ফুয়েরার’?
  1. বেনিতো মুসোলিনী
  2. এডলফ হিটলার
  3. ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কো
  4. ফ্রাঁসোয়া দুভেলিয়ে
সঠিক উত্তর:
এডলফ হিটলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এডলফ হিটলার
ব্যাখ্যা
- ফুয়েরার বা নেতা/পথ প্রদর্শক হলো হিটলারের উপাধি ।
- অস্ট্রীয় বংশোদ্ভূত জার্মান রাজনীতিবিদ যিনি ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। 
- হিটলার ১৯৩৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত জার্মানির চ্যান্সেলর এবং ১৯৩৪ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত সে দেশের ফুয়েরার ছিলেন।
- তার গোপন পুলিশ বাহিনীর নাম গেস্টাপো ।
- তার আত্নজীবনী হলো Mein Kampf ।
- ’যুদ্ধই জীবন,যুদ্ধই সার্ব্জনীন’  তার বিখ্যাত উক্তি।
উৎস: ব্রিটানিকা
৮০৯.
সাঁওতাল বিদ্রোহ কত সালে সংঘটিত হয়?
  1. ক) ১৮২৪ সালে
  2. খ) ১৮৪২ সালে
  3. গ) ১৮৫৫ সালে
  4. ঘ) ১৮৯০ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৮৫৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৮৫৫ সালে
ব্যাখ্যা
- সাঁওতাল বিদ্রোহ ছিলো জমিদার, মহাজন ও পুলিশের বিরুদ্ধে একটি সশস্ত্র বিদ্রোহ।
- ১৮১১, ১৮২০ ও ১৮৩১ সালে কয়েক দফায় সাঁওতালরা বিদ্রোহ করলেও সবচেয়ে ভয়াবহ ও সংগঠিত সাঁওতাল বিদ্রোহ সংঘটিত হয় ১৮৫৫-৫৬ সালে।
- রাজমহলের পার্বত্য এলাকায় সংঘটিত এই বিদ্রোহ দমনে ইংরেজ সরকার কয়েক দফা অভিযান পরিচালনা করে।
- সিধু ও কানু নামের দুই ভাই এই বিদ্রোহে নেতৃত্বে দেন।
- কিন্তু ব্রিটিশ সরকার অত্যন্ত কঠোরভাবে এই বিদ্রোহ দমন করে। বিদ্রোহে জড়িতদের অধিকাংশকে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়। বন্দিদের জোরপূর্বক রেলশ্রমিক বানানো হয়।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৮১০.
কত সালে দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটে?
  1. ১৭৭২ সালে
  2. ১৭৯৩ সালে
  3. ১৭৫০ সালে
  4. ১৭১৮ সালে।
সঠিক উত্তর:
১৭৭২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৭২ সালে
ব্যাখ্যা
• দ্বৈত শাসন :
- দিল্লি কর্তৃক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে দেওয়ানি বা খাজনা ও কর আদায়ের ক্ষমতা প্রদানে সৃষ্টি হয় দ্বৈত শাসনের।
- কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা, নবাব পরিণত হন ক্ষমতাহীন শাসকে। 
- ফলে বাংলায় এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়, যার চরম মাসুল দিতে হয় এদেশের সাধারণ জনগোষ্ঠীকে।
- ১৭৭০ সালে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) গ্রীষ্মকালে দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, যা ইতিহাসে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত। 
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয়।
- নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় তিনি সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হন। সারা দেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
-  ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটান।

উুৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৮১১.
শ্রীরামপুর মিশন প্রেস কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. লর্ড ওয়েলেসলি
  3. লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. উইলিয়াম হান্টার
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা
শ্রীরামপুর মিশন প্রেস:
- শ্রীরামপুর মিশন ছিল ভারতের প্রথম নিজস্ব প্রচারক সংঘ।
- মিশন হুগলি জেলার দুটি স্থান থেকে বাংলায় যীশুর বাণী প্রচার শুরু করে। 
- ১৮০০ সালের ১০ই জানুয়ারি উইলিয়াম কেরি এবং ভ্রাতৃবৃন্দ এই মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।
- সেই বছরই মার্চ মাসে উইলিয়াম কেরি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস নামে ছাপাখানাটি খোলেন।
- এই মাসেই পঞ্চানন কর্মকারের সহযোগিতায় প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ মথী রচিত মঙ্গল সমাচার ছাপা হয় মিশন প্রেস থেকে।
- বাংলা গদ্য চর্চায় যে সকল প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে খ্রিষ্টান মিশনারীগণ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘শ্রীরামপুর মিশন' সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। 
- বাংলায় বাইবেল আনুবাদ করে প্রদেশে খ্রিষ্টধর্ম প্রচারে ব্রতী হয়েছিলেন উইলিয়াম কেরি।
- শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে পরবর্তীকালে রামায়ণ, মহাভারত, পাঠ্যপুস্তক ইত্যাদি বহু গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল।
- ১৮১৮ খ্রিষ্টাব্দে এই মিশন থেকে 'দিগদর্শন' ও 'সমাচার দর্পণ' নামক পত্রিকা দুটি প্রকাশিত হয়। 
- ১৮০০-১৮৩২ সালের মধ্যে শ্রীরামপুর প্রেস থেকে ৪৫টি ভাষায় ২,১২,০০০ বই ছাপা হয়।
- ১৮৪৫ সালে শ্রীরামপুর মিশন বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু এ প্রেস ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত চালু ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮১২.
মীরকাশিম ইংরেজদের হাতে চূড়ান্তভাবে পরাজিত হন -
  1. ক) গিরিয়ার যুদ্ধে
  2. খ) কাটোযার যুদ্ধে
  3. গ) মুঙ্গেরের যুদ্ধে
  4. ঘ) বক্সারের যুদ্ধে
সঠিক উত্তর:
ঘ) বক্সারের যুদ্ধে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বক্সারের যুদ্ধে
ব্যাখ্যা
- ১৭৬৪ সালে বিহারের বক্সার নামক স্থানে বাংলার নবাব মীর কাশিম, মুঘল সম্রাট শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলার সম্মিলিত বাহিনীর সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ সংঘটিত হয় যা বক্সারের যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- বক্সারের যুদ্ধে ঈংরেজদের নেতৃত্ব দেন মেজর মনরো।
- এই যুদ্ধে ইংরেজদের নিকট মীর কাশিমের সম্মিলিত বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।
- বক্সারের যুদ্ধকে পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজদের নিকট হারানো বাংলার স্বাধীনতাকে পুনরুদ্ধারের শেষ প্রচেষ্টা বিবেচনা করা হয়।
- এই যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে বাংলার নামমাত্র টিকে থাকা স্বাধীনতা পুরোপুরি বিনষ্ট হয়। অন্যদিকে, ভারতে ইংরেজদের সাম্রাজ্য বিস্তারের পথ আরও সুগম হয়।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৮১৩.
বাংলার প্রথম রাজা শশাঙ্কের রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. ক) শ্রীহট্ট
  2. খ) মালদহ
  3. গ) কর্ণসুবর্ণ
  4. ঘ) সোনারগাঁও
সঠিক উত্তর:
গ) কর্ণসুবর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কর্ণসুবর্ণ
ব্যাখ্যা
শশাঙ্ক ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা। তিনি নিজেকে গৌড়েশ্বর পরিচয় দিতেন। শশাঙ্ক একজন সুশাসক ছিলেন। তার রাজধানী ছিল মুর্শিদাবাদের নিকটবর্তী কর্ণসুবর্ণ। তার আমলে তাম্রলিপ্ত বন্দর গুরুত্ব লাভ করে। বিখ্যাত চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং শৈব ধর্মের অনুসারী রাজা শশাঙ্ককে বৌদ্ধ ধর্মের নিগ্রহকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা - নবম-দশম শ্রেণি
৮১৪.
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
  1. লর্ড ক্যানিং
  2. লর্ড ক্লাইভ
  3. লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
সঠিক উত্তর:
লর্ড ক্যানিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা

• লর্ড ক্যানিং, 

- লর্ড ক্যানিং, (১৮১২-১৮৬২)  ১৮৫৬ থেকে ১৮৬২ সাল পর্যন্ত ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
- ১৮৫৮ সালের ১ নভেম্বর থেকে ভারতে প্রথম ভাইসরয়। 
- বিখ্যাত রাজনীতিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব জর্জ ক্যানিংয়ের তৃতীয় পুত্র চার্লস জন ক্যানিং ১৮১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন এবং পাটনী, ইটন ও অক্সফোর্ডের ক্রাইস্ট চার্চে শিক্ষা লাভ করেন।

- তাঁর প্রশাসনের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লব-এর শুরু।
- লর্ড ক্যানিং বিদ্রোহটি দমন করেন এবং এ ঘটনার পর ১৮৫৮ সালে পার্লামেন্টারি আইন পাস হয়।
- রানী প্রকাশ্য ঘোষণা দ্বারা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এর শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারতের শাসনভার নিজ হাতে গ্রহণ করেন।
- যারা এ অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে তাদেরকে যদিও তিনি শাস্তি প্রদান করেন, তবুও তিনি যতদূর সম্ভব ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বাছবিচারহীন প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ পরিহার করেন, এবং এভাবে তিনি ‘ক্ষমাশীল ক্যানিং’ এর উপাধি অর্জন করেন।

- তিনি ইঙ্গ-ভারতীয় সেনাবাহিনীকে পুনর্গঠিত করেন।
- আয়কর প্রবর্তন, শতকরা দশভাগ হারে সমশুল্ক আরোপ ও বিনিমেয় কাগজের মুদ্রার প্রচলন দ্বারা আর্থিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করেন।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত এর মাধ্যমে বাংলার চাষীদের যে দুর্দশা ছিল তার কিছুটা দূর করে প্রজাদের অধিক নিরাপত্তা প্রদানের উদ্দেশ্যে ১৮৫৯ সালে বাংলায় খাজনা আইন পাস হয়।

- লর্ড ক্যানিং-এর প্রশাসনের শেষদিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ১৮৬১ সালে ভারতীয় কাউন্সিল আইন পাস যার দ্বারা বেসরকারি ভারতীয় সদস্যগণ ভাইসরয়ের আইনসভায় মনোনীত হতে পারতেন।

- ১৮৫৭ সালের যুদ্ধের সময়কার গুরুভার ও কঠিন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ক্লান্ত ক্যানিং অবসর গ্রহণ করে ১৮৬২ সালের ১৮ মার্চ ভগ্নস্বাস্থ্যে ভারত ত্যাগ করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮১৫.
১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের প্রধান দিক কী ছিল?
  1. এককেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন
  2. প্রদেশগুলোতে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা
  3. কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের কার্যাদি সুস্পষ্টভাবে নির্দিষ্ট করা
  4. দেশরক্ষা বিভাগ প্রাদেশিক সরকারের হাতে ন্যস্ত করা
সঠিক উত্তর:
কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের কার্যাদি সুস্পষ্টভাবে নির্দিষ্ট করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের কার্যাদি সুস্পষ্টভাবে নির্দিষ্ট করা
ব্যাখ্যা

ভারত শাসন আইন: 
• মার্লি-মিন্টো সংস্কার আইন ভারতীয়দের আশা আকাঙ্খা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়।
- লক্ষ্মৌ চুক্তির মাধ্যমে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ শাসনতান্ত্রিক সংস্কারের লক্ষ্যে এক যৌথ প্রস্তাব সরকারের নিকট পেশ করে।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ভারতবাসীর সহযোগিতার পুরস্কারস্বরূপ ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে ভারত সচিব মন্টেগু ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কমন্সসভায় ঘোষণা করেন যে, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত থেকে ভারতবাসী যাতে প্রশাসনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অংশ গ্রহণ গ্রহণের সুযোগ পেয়ে ক্রমশঃ স্বায়ত্তশাসনের উপযুক্ত হয়ে উঠতে পারে, সরকার সে নীতিরই পক্ষপাতি।
- তবে তিনি ভারতকে ডিমিনিয়নের মর্যাদা দেয়ার দাবি বাতিল করে দেন।
- এরপর মন্টেগু ও ভারতের বড়লাট চেমসফোর্ড একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত করেন।
- এর ভিত্তিতেই ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার বা ভারত শাসন আইন পাস করা হয়।
- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ভারত শাসন আইনের প্রধান দিক ছিল, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের কার্যাদি যথাসম্ভব সুস্পষ্টভাবে নির্দিষ্ট করা।
- কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে দেশরক্ষা, আইন শৃঙ্খলা, পররাষ্ট্র, অর্থ ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য, রেল ও ডাক প্রভৃতি সর্বভারতীয় বিষয়গুলো ন্যস্ত করা হয়।
- প্রদেশের হাতে বিচার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জেল, সেচ, স্থানীয় সরকার প্রভৃতির দায়িত্ব রাখা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

৮১৬.
কোন দেশের অধিবাসীদের ওলন্দাজ বলা হয়?
  1. হল্যান্ড
  2. ইংল্যান্ড
  3. পর্তুগাল
  4. ডেনমার্ক
সঠিক উত্তর:
হল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হল্যান্ড
ব্যাখ্যা
বাংলায় ইউরোপীয়দের আগমন:

- পর্তুগীজরা ভারতীয় উপমহাদেশের কালিকট বন্দরে প্রথম আসে।
- পর্তুগীজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন, তিনি ভাস্কো-ডা-গামা। ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দের ২৭ মে।
- তার এ উপমহাদেশে আগমন ব্যবসায়-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে পর্তুগীজরা কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি অঞ্চলে কুঠি স্থাপন এবং ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে শুল্কঘাটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে।
- পর্তুগীজরা প্রথম আগত ইউরোপীয়ান বাণিজ্যিক দল।
- হল্যান্ডের অধিবাসীদের ওলন্দাজ বা ডাচ বলা হয়।
- তারা ‘ডাচ ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে বাণিজ্যের উদ্দেশে ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে উপমহাদেশে আসে।
- ১৭৫৯ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজরা বিদরার যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। ফলে ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে শেষ পর্যন্ত সকল বাণিজ্যকেন্দ্র গুটিয়ে তারা এদেশ ত্যাগে বাধ্য হয়।
- ওলন্দাজদের মতোই দিনেমার বা ডেনমার্কের অধিবাসী একদল বণিক বাণিজ্য করার জন্য ‘ডেনিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠন করে।
- এদেশে লাভজনক ব্যবসা করতে ব্যর্থ হয়ে ১৮৪৫ খ্রিস্টাব্দে বাণিজ্যিক সফলতা ছাড়াই দিনেমাররা এদেশ ত্যাগ করের

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১৭.
কোন ঘটনার পর ব্রিটিশ সরকার সরাসরি ভারতের শাসনভার গ্রহণ করে?
  1. পলাশীর যুদ্ধ
  2. বক্সারের যুদ্ধ
  3. সিপাহী বিদ্রোহ
  4. বঙ্গভঙ্গ
সঠিক উত্তর:
সিপাহী বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিপাহী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা

- ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৮৫৮ সালে ব্রিটিশ রাজ সরাসরি ভারতের শাসনভার গ্রহণ করে।  

সিপাহী বিদ্রোহ:
- ব্রিটিশ সরকার সরাসরি ভারতের শাসনভার গ্রহণ করে ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর। 

- ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে ‘মঙ্গল পান্ডে' নামক একজন সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৮১৮.
বাংলাদেশের কোন নেতা কলকাতা করপোরেশনের মেয়র ছিলেন?
  1. ক) মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. খ) শের-এ বাংলা এ কে ফজলুল হক
  3. গ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. ঘ) এদের কেউই নন
সঠিক উত্তর:
খ) শের-এ বাংলা এ কে ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শের-এ বাংলা এ কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
- শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি কলকাতার মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন ১৯৩৫ সালে।
- অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩) এবং পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪) ছিলেন।
- তিনি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী (১৯৫৫) এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের পদ (১৯৫৬-১৯৫৮) সহ বহু উঁচু রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- লোকপ্রিয়ভাবে ‘শেরে বাংলা’ বা হক সাহেব রূপে পরিচিত আবুল কাশেম ফজলুল হক বাকেরগঞ্জ জেলার দক্ষিণাঞ্চলের বর্ধিষ্ণু গ্রাম সাটুরিয়ায় ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৮১৯.
তেভাগা আন্দোলনের সাথে নিচের কোন নামটি জড়িত?
  1. হাজী দানেশ
  2. ইলা মিত্র
  3. অমল সেন
  4. বর্ণিত সবাই
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবাই
ব্যাখ্যা
তেভাগা আন্দোলন:
- তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন ইলা মিত্র
- তেভাগা আন্দোলন বাংলায় সংঘটিত বর্গাচাষীদের একটি কৃষক আন্দোলন।
- ১৯৪০ থেকে ১৯৫০ সালে এই আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- তেভাগা আন্দোলন যখন স্তিমিত হওয়ার পথে তখন নাচোলের রাণী ইলা মিত্র এই আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করেন।
- এই আন্দোলনের আরেকজন নেতা হলেন হাজী দানেশ
- কৃষকদের অধিকার আদায়ে তেভাগা আন্দোলনে অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করেন নড়াইলের অমল সেন
- তেভাগা আন্দোলনের দাবী ছিলো বর্গাচাষীরা তাদের উৎপন্ন ফসলের এক ভাগ দিবে মালিকপক্ষকে এবং দুই ভাগ পাবে তারা।
- রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, চব্বিশ পরগণা প্রভৃতি জেলায় তেভাগা আন্দোলন সংঘটিত হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
        ii) ১৮ জানুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো।
৮২০.
নীল বিদ্রোহের সাথে কার নাম জড়িত?
  1. তিতুমীর
  2. মঙ্গলপাণ্ডে
  3. নবীন মাধব
  4. মজনু শাহ্‌
সঠিক উত্তর:
নবীন মাধব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবীন মাধব
ব্যাখ্যা
নীল বিদ্রোহ:

- ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ নীলকরদের সীমাহীন অত্যাচার শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে নীল চাষিরা যে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে তাই ইতিহাসে নীল বিদ্রোহ নামে খ্যাত।
- এর নেতৃত্ব দিয়েছিল স্থানীয় পর্যায়ের সাধারণ কৃষকরা।
- বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন নেতা স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ সংগ্রাম পরিচালিত করে। এ আন্দোলনে যশোর অঞ্চলের কৃষকদের নেতৃত্ব দেন নবীন মাধব ও বেণী মাধব নামে দুই ভাই। হুগলিতে নেতৃত্ব দেন বৈদ্যনাথ ও বিশ্বনাথ সর্দার এবং নদীয়ায় মেঘনা সর্দার।
- এই নেতৃত্ব এতটাই শক্তিশালী এবং সুসংহত ছিল যে শেষ পর্যন্ত ইংরেজরা নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়।
- ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে সরকার 'ইন্ডিগো কমিশন' বা 'নীল কমিশন' গঠন করে।
- এই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে নীলচাষ করা, না করা কৃষকদের ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেয়া হয় এবং ‘ইন্ডিগো কন্ট্রাক্টস অ্যাক্ট' বাতিল করা হয়।
- ফলে নীল বিদ্রোহের অবসান ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২১.
ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন কোন শতকে সংঘটিত হয়?
  1. ক) ষোল শতকে
  2. খ) সতের শতকে
  3. গ) আঠারো শতকে
  4. ঘ) উনিশ শতকে
সঠিক উত্তর:
গ) আঠারো শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আঠারো শতকে
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন:

- আঠারো শতকে ১৭৬০ সাল থেকে ১৮০০ সালের মধ্যে এই আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলনে সন্ন্যাসীদের নেতৃত্ব দেন ভবানী পাঠক।
- অন্যদিকে ফকিরদের নেতৃত্বে ছিলেন মজনু শাহ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮২২.
যশোর অঞ্চলে নীল বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন কে?
  1. বৈদ্যনাথ ও বিশ্বনাথ সর্দার
  2. নবীন মাধব ও বেণী মাধব
  3. মেঘনা সর্দার
  4. মঙ্গল পাণ্ডে
সঠিক উত্তর:
নবীন মাধব ও বেণী মাধব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবীন মাধব ও বেণী মাধব
ব্যাখ্যা

নীল বিদ্রোহ:
- সূচনা: ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দ।
- কারণ: ইংরেজ নীলকরদের সীমাহীন অত্যাচার, শোষণ ও বঞ্চনা।
- নেতৃত্ব: স্থানীয় সাধারণ কৃষকরা।
- যশোর অঞ্চলে নেতৃত্ব: নবীন মাধব ও বেণী মাধব।
- হুগলিতে নেতা: বৈদ্যনাথ সর্দার ও বিশ্বনাথ সর্দার।
- নদীয়ায় নেতা: মেঘনা সর্দার।
- নেতৃত্বের প্রভাব: এতটাই শক্তিশালী যে ইংরেজরা নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়।
- ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে গঠন: ‘ইন্ডিগো কমিশন’ (নীল কমিশন)।
- কমিশনের সুপারিশ: নীলচাষ করা বা না করা কৃষকের ইচ্ছার উপর নির্ভর করবে।
- আইন সংশোধন: ‘ইন্ডিগো কন্ট্রাক্টস অ্যাক্ট’ বাতিল।
- ফলাফল: নীল বিদ্রোহের অবসান। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮২৩.
সমুদ্রপথে প্রথম উপমহাদেশে আগত পর্তুগিজ নাবিক কে ছিলেন?
  1. বার্তোলোমিউ ডায়াজ
  2. ভাস্কো দা গামা
  3. আলবুকার্ক
  4. কলম্বাস
সঠিক উত্তর:
ভাস্কো দা গামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাস্কো দা গামা
ব্যাখ্যা
পর্তুগিজ: 
- পর্তুগিজদের মধ্যে প্রথম সমুদ্রপথে এদেশে আসেন, ভাস্কো-ডা-গামা।

- তিনি ১৪৯৮ সালের ২৭শে মে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন।

উল্লেখ্য,
- সপ্তম শতক থেকে এ অঞ্চলের সঙ্গে আরব বণিকদের ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল একচেটিয়া।
- তারা বাণিজ্য করত মূলত সমুদ্রপথে।
- ১৪৫৩ সালে কনস্টান্টিনোপল তুর্কিরা দখল করে নেয়।
- ফলে ভারতীয় উপমহাদেশের সাথে জলপথে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮২৪.
উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেছিলেন কে? 
  1. লর্ড লিটন
  2. লর্ড ক্যানিং
  3. লর্ড ডালহৌসি
  4. লর্ড হার্ডিঞ্জ
সঠিক উত্তর:
লর্ড ক্যানিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা

লর্ড ক্যানিং:
- ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় ছিলেন।
- ১৮৬১ সালে উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা চালু করেন।
- ১৮৬১ সালে পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করেন।
- চার্লস উড শিক্ষা বিষয়ে ১৮৫৪ সালে যে সুপরিশমালা পেশ করেন তা কার্যকর করা হয় তার সময়ে।
- উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন লর্ড ক্যানিং (১৮৬১ সালে)।
- ভারতে তাঁর কর্তব্যপালনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৮৫৯ সালে তাঁকে 'আর্ল' (Earl) মর্যাদায় উন্নীত করা হয়।
- ১৮৫৭ সালে কলকাতা, বোম্বে ও মাদ্রাজে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে,
-  লর্ড মিন্টো ১৮০৭ থেকে ১৮১৩ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল।
- পুরো নাম গিলবার্ট ইলিয়ট, প্রথম আর্ল অব মিন্টো। 
- তিনি ভারতের রেল ব্যবস্থা প্রবর্তন ও গঙ্গা খাল খননের জন্য প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছিলেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৮২৫.
ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় ছিলেন -
  1. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  2. লর্ড ওয়াভেল
  3. লর্ড লিটন
  4. লর্ড ক্যানিং
সঠিক উত্তর:
লর্ড মাউন্টব্যাটেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড মাউন্টব্যাটেন
ব্যাখ্যা
লর্ড মাউন্টব্যাটেন:
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় ছিলেন।
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় ছিলেন।
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।
- এই পদে আসীন থাকাকালে (১৯৪৭-এর আগস্ট থেকে ১৯৪৮-এর জুন পর্যন্ত) তিনি ভারতীয় রাজন্যবর্গকে হয় ভারতীয় ইউনিয়ন, না হয় পাকিস্তানের সঙ্গে একীভূত হতে উদ্বুদ্ধ করেন।

⇒ ভাইসরয় হিসেবে তাঁর কার্যকাল সংক্ষিপ্ত হলেও এই সময়ে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
- সেসব সিদ্ধান্তের মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য হচ্ছে উপমহাদেশের বিভক্তি এবং ভারত ও পাকিস্তানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর।
- স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন। এই পদে আসীন থাকাকালে (১৯৪৭-এর আগস্ট থেকে ১৯৪৮-এর জুন পর্যন্ত) তিনি ভারতীয় রাজন্যবর্গকে হয় ভারতীয় ইউনিয়ন, না হয় পাকিস্তানের সঙ্গে একীভূত হতে উদ্বুদ্ধ করেন।

উল্লেখ্য,
- তিনি ১৯৭৯ সালের ২৭ আগস্ট আয়ারল্যান্ডের অদূরে ডোনেগাল বে-তে তাঁর নৌযানে এক বিস্ফোরণে নিহত হন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) Britannica.
৮২৬.
রাজা রামমোহন রায় কে ’রাজা’ উপাধি দিয়েছেলেন কে?
  1. সম্রাট দ্বিতীয় আকবর
  2. সম্রাট বাবর
  3. সম্রাট হুমায়ুন
  4. রাজা পঞ্চম জর্জ
সঠিক উত্তর:
সম্রাট দ্বিতীয় আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট দ্বিতীয় আকবর
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায়:
- রাজা রামমোহন রায় পশ্চিম বাংলার রাধানগর গ্রামে এক রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণের অগ্রদূত ছিলেন।
-  তিনি হিন্দি ও তাঁর মাতৃভাষা বাংলা ছাড়াও  যেমন সংস্কৃত, আরবি ও ফারসিতে উল্লেখযোগ্য ব্যুৎপত্তি লাভ করেন।
- একেশ্বরবাদ বানী প্রচারে রামমোহন রায় আত্মীয় সভা গঠন করেন ।
- ১৮২২ সালে  অ্যাংলো হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- সম্রাট দ্বিতীয় আকবর রাজা রামমোহন রায়কে রাজা উপাধি দেন।
- ১৮২৫ সালে বেদান্ত কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা, গঙ্গা সাগরে সন্তান বিসর্জন, শিশুকন্যা হত্যার প্রতিবাদ করেন।
- তার প্রচেষ্টায় ৪ ডিসেম্বর ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত করেন।
- তাকে ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত বলা হয়।
- ব্রাহ্ম সমাজ নামের পরিবর্তে ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করা হয় ১৮৪৩ সালে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮২৭.
স্বত্ব বিলোপ নীতির প্রবর্তক- 
  1. লর্ড ক্যানিং
  2. লর্ড ওয়েলেসলি
  3. লর্ড ডালহৌসি
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা
স্বত্ববিলোপ নীতি:
- প্রাচীন হিন্দু রীতির উচ্ছেদ ঘটিয়ে বৃটিশ শক্তির উপর নির্ভরশীল দেশীয় রাজ্যগুলো কুক্ষিগত করার জন্য যে নতুন নীতি উদ্ভাবিত হয়েছিল তাই স্বত্ব বিলোপ নীতি নামে পরিচিত।
- এ নীতির অর্থ হলো এই যে, ইংরেজ আশ্রিত ও অনুগৃহীত কোনো দেশীয় রাজ্যের রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে তাঁর রাজ্য বৃটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হবে;
- কোনো পালিত পুত্রের অধিকার স্বীকার করা হবে না।
- স্বত্ব বিলোপনীতি প্রবর্তন করেন লর্ড ডালহৌসি।

এছাড়াও,
- রেললাইন প্রচলন করেন।
- বিধবা বিবাহ আইন প্রণয়ন।

অন্যদিকে,
- লর্ড ক্যানিং: কাগজী মুদ্রার প্রচলন।
- লর্ড ওয়েলেসলি: অধীনতা মূলক  মিত্রা নীতির প্রবর্তন।
- ওয়ারেন হেস্টিংস:  দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার বিলোপ সাধন।
- পাঁচশালা ভূমির বন্দোবস্ত।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২৮.
খিলাফত আন্দোলনের যুগপৎ কোন আন্দোলনটি সংঘটিত হয়?
  1. ক) স্বদেশী আন্দোলন
  2. খ) অসহযোগ আন্দোলন
  3. গ) ভারত ছাড় আন্দোলন
  4. ঘ) আলীগড় আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
খ) অসহযোগ আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তির অধীনে ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের খেলাফত অটোমান সাম্রাজ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলে এর বিরুদ্ধে ভারতীয়রা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা খেলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত। মাওলানা মুহাম্মদ আলী, মাওলানা শওকত আলী, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ খেলাফত আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।

একই সময়ে (১৯২০ সালের ১ আগস্ট থেকে) চেমসফোর্ড-মন্টেগু সংস্কার আইন, রাওলাট আইন, জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড প্রভৃতি ইস্যুতে গান্ধীর ডাকে কংগ্রেসের নেতৃত্বে দেশব্যাপী অসহযোগ আন্দোলন পরিচালিত হয়। এই আন্দোলন ছিলো একটি শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী আন্দোলন।

এ দুটি আন্দোলন তখন সমগ্র ভারতবর্ষে ব্যাপক সাড়া ফেলে। চৌরিচৌরা বিক্ষোভকারীদের দ্বরা ২৫ জন পুলিশ সদস্যদের পুড়িয়ে মারা হলে মহাত্মা গান্ধী ১৯২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অসহযোগ আন্দোলন স্থগিত করে দেন। অন্যদিকে, ১৯২৪ সালে কামাল আতাতুর্ক তুরস্কের খেলাফত বিলুপ্ত করলে খেলাফত আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৮২৯.
বাংলা কত সনে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর ঘটে?
  1. ১৭৭০ সনে
  2. ১৭৭৬ সনে
  3. ১১৭০ সনে
  4. ১১৭৬ সনে
সঠিক উত্তর:
১১৭৬ সনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১৭৬ সনে
ব্যাখ্যা
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) গ্রীষ্মকালে দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
- যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- কোম্পানির মুর্শিদাবাদের প্রতিনিধি রিচার্ড বেচারের ভাষায় ‘দেশের কয়েকটি অংশে যে জীবিত মানুষ মৃত মানুষকে ভক্ষণ করিতেছে তাহা গুজব নয়, অতিসত্য।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ মৃত্যু বরণ করে।
- ইংরেজ সরকার বাংলার জনগণকে এই বিপর্যয় থেকে রক্ষার জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
- বরং ১৭৬৫-৭০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাৎসরিক রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ যা ছিল, দুর্ভিক্ষের বছরও রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ প্রায় তার কাছাকাছি ছিল। ফলে চরম শোষণ নির্যাতনে বাংলার মানুষ হত দরিদ্র ও অসহায় হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩০.
ফরায়েজি আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ছিলো -
  1. চব্বিশ পরগনা
  2. হুগলী
  3. ফরিদপুর
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
ফরিদপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরিদপুর
ব্যাখ্যা
ফরায়েজি আন্দোলন
- উনিশ শতকের প্রথমদিকে হাজী শরীয়তউল্লাহ ফরায়েজি আন্দোলন শুরু করেন।
- ফরায়েজি আন্দোলন ছিলো একটি ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের কেন্দ্র ছিলো বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল। 
- ১৮৪০ সালে শরীয়তউল্লাহর মৃত্যুর পর তার পুত্র মুহাম্মদ মুহসিন উদ্দিন ওরফে দুদু মিয়া এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।
- দুদু মিয়া ফরায়েজি আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেন।
- ১৮৬২ সালে দুদু মিয়ার মৃত্যুর পর সুযোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৮৩১.
কোন বিদেশী বণিকরা চট্টগ্রামের নাম রাখেন 'পোর্টো গ্র্যান্ডে'?
  1. পর্তুগিজরা
  2. ওলন্দাজরা
  3. ফরাসিরা
  4. ইংরেজরা
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজরা
ব্যাখ্যা
চট্টগ্রাম:
- চট্টগ্রাম বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর ও বাণিজ্যিক রাজধানী।[
- এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বঙ্গোপসাগরের মধ্যবর্তী কর্ণফুলী নদীর তীরে চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- ইউরোপীয়দের মধ্যে পর্তুগিজরাই প্রথম চট্টগ্রামে আগমন করে।
- পর্তুগিজরা প্রথমে জন দ্য সিলভিরার নেতৃত্বে ১৫১৭ সালে এবং পরে আলফন্সো দ্য মিলোর নেতৃত্বে ১৫২৭ সালে চট্টগ্রাম দখলের ব্যর্থ চেষ্টা করে। 
- তারা বাংলার সুলতান মাহমুদ শাহকে সাহায্য করার বিনিময়ে তার কাছ থেকে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়েরও অধিকার লাভ করে। 
- এটিকে পর্তুগিজরা পোর্টো গ্র্যান্ডে নামকরণ করেন।
- জোয়াও ডি ব্যারোস ১৫৫২ সালে 'বাংলা রাজ্যের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং ধনী শহর' হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন। 
- সাতগাঁও বন্দরের নামকরণ হয় ‘পোর্টো পেকুইনে’।
- ১৬৬৫-৬৬ সালে বাংলার মুগল সুবাহদার শায়েস্তা খান চট্টগ্রাম অভিযান করে অতর্কিত আক্রমণে বন্দরটি দখল করে নেন।
- চট্টগ্রাম ১৭৬০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উৎস: Britannica.
৮৩২.
সিপাহী বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ কী ছিল?
  1. স্বত্ববিলোপ নীতি
  2. উচ্চ ভূমি রাজস্ব
  3. এনফিল্ড রাইফেলের টোটা
  4. সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
এনফিল্ড রাইফেলের টোটা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এনফিল্ড রাইফেলের টোটা
ব্যাখ্যা

- এনফিল্ড রাইফেলের টোটায় গরু ও শূকরের চর্বি মেশানোর গুজব সিপাহীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে, যা বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল।

সিপাহী বিদ্রোহ:
- এটি ছিল ব্রিটিশ শাসন অবসানকল্পে ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা ‘স্বাধীনতা লড়াই'।
- ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে ‘মঙ্গল পান্ডে' নামক একজন সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।
- এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।

উল্লেখ্য, 
এ সংগ্রামের কারণকে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ এ দু শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।
• পরোক্ষ কারণ:
- রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও সামরিক অসন্তোষ।

• প্রত্যক্ষ কারণ:
- ১৮৫৬ সালে সেনাবাহিনীতে ‘এনফিল্ড রাইফেল' প্রচলন করা হয়।
- এতে ব্যবহৃত কার্তুজ দাঁতে কেটে ভরতে হতো।
- গুজব রটে যে, এ কার্তুজে শুকর ও গরুর চর্বি মেশানো আছে।
- এটি ধর্মনাশের একটি পরিকল্পিত ও সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র বলে ভারতের হিন্দু-মুসলমান সিপাহীদের মধ্যে দারুন বিক্ষোভের সূচনা করে।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৩৩.
ভারত ছাড় আন্দোলনের সূচনা হয় কত সালে?
  1. ১৯৪২ সালে
  2. ১৯৪৩ সালে
  3. ১৯৪৪ সালে
  4. ১৯৪৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪২ সালে
ব্যাখ্যা

ভারত ছাড় আন্দোলন:
- ১৯৪২ সাল ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে শ্বেতাঙ্গ-বিরোধী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ প্রথম স্বতঃস্ফূর্ত ব্যাপক আন্দোলন ভারত ছাড় আন্দোলন।
- ইংরেজ সরকার কোনোভাবেই ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে রাজি ছিল না।
- সরকার এই আন্দোলন দমনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিল।
- ঐ দিনই মধ্য রাতে কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ গান্ধীজি, আবুল কালাম আজাদ, জওহরলাল নেহরুসহ অনেকে গ্রেফতার হন।
- কংগ্রেসকে বেআইনি ঘোষণা করা হয় এবং এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় সব নেতা কারাগারে বন্দি হন।
- নেতৃবৃন্দের গ্রেফতারের কারণে অহিংস আন্দোলন ভয়াবহ সহিংস আন্দোলনে পরিণত হয়।
- ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির (বোম্বাইর) অধিবেশনে বিখ্যাত ভারত ছাড় আন্দোলনের প্রস্তাব পাস হয় এবং পরপরই যতদূর সম্ভব ব্যাপকভাবে অহিংস পথে গান্ধীর নেতৃত্বে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৮৩৪.
স্বদেশী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. বিদেশি শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়
  2. বিলেতি শিক্ষা গ্রহন করা হয়
  3. বিলেতি পণ্য বর্জন
  4. হিন্দু-মুসলমানের হাজার বছরের সম্পর্কের উন্নতি ঘটে
সঠিক উত্তর:
বিলেতি পণ্য বর্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিলেতি পণ্য বর্জন
ব্যাখ্যা

স্বদেশী আন্দোলন:
- ব্রিটিশ সরকারের বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন ব্যর্থ হবার পর বিপ্লবী তৎপরতার মাধ্যমে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, তাকেই স্বদেশি আন্দোলন বলা হয়।
- এ আন্দোলনের মূল কর্মসূচি ছিল দুইটি-বয়কট ও স্বদেশী।
- 'বয়কট' আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিলেতি পণ্য বর্জন।
- বয়কট শুধু বিলেতি পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বিলেতি শিক্ষা বর্জনও কর্মসূচিতে যুক্ত হয়।
- এই আন্দোলনের আরেকটি ইতিবাচক দিক হচ্ছে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। 
- এর ফলে দেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা স্থাপনের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
- বাংলার ধনী ব্যক্তিরা কলকারখানা স্থাপন করতে থাকেন।

• স্বদেশি আন্দোলনের অন্যতম দিক হচ্ছে, এই আন্দোলনের কারণে হিন্দু-মুসলমানের হাজার বছরের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
- বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে ভাঙন শুরু হয় স্বদেশি আন্দোলনের মাধ্যমে তা আরো তিক্ত হয়। 
- ফলে সম্পর্কের এই ভাঙন এতদঞ্চলের রাজনীতি, সমাজ ও জাতীয় কর্মকাণ্ডের সকল ক্ষেত্রে সর্বাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে থাকে,
- যা শেষ হয় ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের মধ্য দিয়ে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৩৫.
নীল কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন কে?
  1. ক) রেভারেন্ড জে. সেল
  2. খ) ডব্লিউ এফ. ফারগুসন
  3. গ) ডব্লিউ এস. সিটনকার
  4. ঘ) চন্দ্রমোহন চ্যাটার্জী
সঠিক উত্তর:
গ) ডব্লিউ এস. সিটনকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ডব্লিউ এস. সিটনকার
ব্যাখ্যা
নীল বিদ্রোহের ফলে ব্রিটিশ সরকার ১৮৬০ সালের ৩১শে মার্চ নীল কমিশন গঠন করে। নীল কমিশনের সদস্যরা হলেন:
ডব্লিউ এস. সিটনকার - চেয়ারম্যান
রেভারেন্ড জে. সেল - মিশনারী প্রতিনিধি
ডব্লিউ এফ. ফারগুসন - নীলকরদের প্রতিনিধি
আর টেম্পল - সরকারি প্রতিনিধি
চন্দ্রমোহন চ্যাটার্জী - জমিদারদের প্রতিনিধি।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৮৩৬.
পলাশী যুদ্ধের ফলাফল কি ছিল?
  1. কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠা
  2. ভারতবর্ষের পরাধীনতার সূত্রপাত
  3. মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা
  4. ক ও খ উভয়
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়
ব্যাখ্যা
পলাশী যুদ্ধ:

- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- পলাশীর যুদ্ধে ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে যুদ্ধ করেন।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে।
- জেতার সবধরণের সুযোগ সুবিধা এবং এদের প্রাণপাত লড়াইয়ের পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- সিরাজউদ্দৌলা ২২ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন।
- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- পলাশী যুদ্ধের ফলে ইংরেজ বা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়। অপরদিকে ফরাসিরা এদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।
- পলাশী যুদ্ধের সুদূর প্রসারী পরিণতি ছিল সমগ্র উপমহাদেশে কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠা। এ ভাবেই এ যুদ্ধে বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩৭.
কত সালে লবণ সত্যাগ্রহ শুরু হয়?
  1. ১৯২৯ সালে
  2. ১৯৩০ সালে
  3. ১৯৩১ সালে
  4. ১৯৩২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৩০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৩০ সালে
ব্যাখ্যা
লবণ সত্যাগ্রহ:
- ১৯৩০ সালের ১২ মার্চ ডান্ডি পদযাত্রা বা লবণ সত্যাগ্রহ শুরু হয়।
- এই সত্যাগ্রহ ছিল ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- লবণ পদযাত্রা ঔপনিবেশিক ভারতে ব্রিটিশদের একচেটিয়া লবণ নীতির বিরুদ্ধে একটি অহিংস কর প্রদান-বিরোধী প্রতিবাদ আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মাধ্যমেই আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা হয়।
- এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন মহাত্মা গান্ধী।

উৎস: Britannica.
৮৩৮.
‘দানবীর’ বা ‘বাংলার হাতেম তাই’ হিসেবে পরিচিত?
  1. ক) সৈয়দ আহমদ খান
  2. খ) রাজা রামমোহন রায়
  3. গ) মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানি
  4. ঘ) হাজী মোহাম্মদ মহসীন
সঠিক উত্তর:
ঘ) হাজী মোহাম্মদ মহসীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হাজী মোহাম্মদ মহসীন
ব্যাখ্যা
হাজী মোহাম্মদ মহসীন একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম, চিরকুমার ও মহান জনহিতৈষী ব্যক্তি। তিনি দানশীলতার জন্য দানবীর বা বাংলার হাতেম তাই নামে পরিচিত ছিলেন। ১৭৬৯-৭০ সালের সরকারি দলিল অনুযায়ী তৎকালীন দুর্ভিক্ষের সময় তিনি অনেক লঙ্গরখানা স্থাপন করেন এবং সরকারি তহবিলে অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। ১৮০৬ সালে তিনি ‘মহসিন ফান্ড’ নামক তহবিল গঠন করেন। সূত্র- বাংলাপিডিয়া
৮৩৯.
জিন্নাহ প্রদত্ত দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তি কী ছিলো?
  1. ক) জাতিতাত্ত্বিক গঠন
  2. খ) ভাষা
  3. গ) ধর্ম
  4. ঘ) আঞ্চলিকতা
সঠিক উত্তর:
গ) ধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ধর্ম
ব্যাখ্যা
বিশ শতকের চল্লিশের দশকে মুহম্মদ আলী জিন্নাহ হিন্দু-মুসলিম পৃথক জাতিসত্ত্বা সম্পর্কিত দ্বি-জাতি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। তার দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তি ছিলো ধর্ম।

জিন্নাহ প্রদত্ত দ্বি-জাতি তত্ত্বের আলোকেই লাহোর প্রস্তাব ও দিল্লি প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়। জিন্নাহ’র পূর্বে স্যার সৈয়দ আহমদ খান এবং আল্লামা ইকবাল মুসলিম জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে ধারণা দিয়েছিলেন।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৮৪০.
ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের জন্য দায়ী কোনটি?
  1. নিয়ামক আইন
  2. ভারত শাসন আইন
  3. এলাহাবাদ চুক্তি
  4. দ্বৈত শাসন নীতি
সঠিক উত্তর:
দ্বৈত শাসন নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বৈত শাসন নীতি
ব্যাখ্যা
দ্বৈত শাসন ও ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- দ্বৈতশাসন অনুসারে রাজস্ব প্রশাসন ও দেশ রক্ষার ভার থাকে কোম্পানির হাতে এবং নিয়ামত বা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পিত হয় নবাবের হাতে।
- দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে।
- অবাধ লুণ্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়ে যায়।
- নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হন।
- সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।

⇒ এর ফল হিসেবে ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয় ৷

⇒ এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৪১.
লর্ড ক্লাইভ আত্মহত্যা করে-
  1. ১৭৫৭ সালে
  2. ১৭৭৪ সালে
  3. ১৭৬৬ সালে
  4. ১৭৭৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৭৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৭৪ সালে
ব্যাখ্যা
রবার্ট ক্লাইভ:

- উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট ক্লাইভ।
- উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের ইতিহাসে রবার্ট ক্লাইভের স্থান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
- তরুণ বয়সে মাদ্রাজে (বর্তমান চেন্নাই) ঈস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরী গ্রহণ করে স্বীয় কর্ম প্রচেষ্টার দ্বারা উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছেন।
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে রবার্ট ক্লাইভ সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষর করলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করে দ্বৈত শাসন প্রবর্তন করে।
- রবার্ট ক্লাইভের চারিত্রিক দোষ থাকা সত্বেও উপমহাদেশে ইংরেজ শক্তির গোড়াপত্তনে তাঁর অবদান অস্বীকার করা যায় না।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে তিনি বাংলা জয় করেন। তৃতীয় পর্যায়ে তিনি নবাব ও সম্রাটকে নিয়ন্ত্রণ করে সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হন এবং ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।
- পলাশীর যুদ্ধের ১০ বছর পর ১৭৬৭ সালে ক্লাইভ ইংল্যান্ড ফিরে যান। কিন্তু ভারতে রেখে অপরাজনীতির এক জঘন্য ইতিহাস।
- তার দুর্নীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে ১৭৭২ সালে ইংল্যান্ডের পার্লামেন্ট তার দুর্নীতির তদন্ত শুরু করতে বাধ্য হয়। এতে একে একে তার দুর্নীতির তথ্য বেরুতে থাকে।
- অপমানের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে ১৭৭৪ সালের ২২ নভেম্বর আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
৮৪২.
উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা প্রচলন করেন কে?
  1. লর্ড ক্যানিং
  2. লর্ড লিটন
  3. লর্ড মিন্টো
  4. লর্ড হার্ডিঞ্জ
সঠিক উত্তর:
লর্ড ক্যানিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা
লর্ড ক্যানিং:
- ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় ছিলেন।
- ১৮৬১ সালে উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা চালু করেন।
- ১৮৬১ সালে পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করেন।
- চার্লস উড শিক্ষা বিষয়ে ১৮৫৪ সালে যে সুপরিশমালা পেশ করেন তা কার্যকর করা হয় তার সময়ে।
- উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন লর্ড ক্যানিং (১৮৬১ সালে)।
- ভারতে তাঁর কর্তব্যপালনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৮৫৯ সালে তাঁকে 'আর্ল' (Earl) মর্যাদায় উন্নীত করা হয়।
- ১৮৫৭ সালে কলকাতা, বোম্বে ও মাদ্রাজে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে,
-  লর্ড মিন্টো ১৮০৭ থেকে ১৮১৩ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল।
- পুরো নাম গিলবার্ট ইলিয়ট, প্রথম আর্ল অব মিন্টো। 
- তিনি ভারতের রেল ব্যবস্থা প্রবর্তন ও গঙ্গা খাল খননের জন্য প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮৪৩.
এলাহাবাদ অধিবেশনে ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি উত্থাপন করেন কে? 
  1. চৌধুরী রহমত আলী
  2. আল্লামা ইকবাল
  3. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  4. শেরে বাংলা ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
আল্লামা ইকবাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল্লামা ইকবাল
ব্যাখ্যা

লাহোর প্রস্তাব (১৯৪০): 
- ১৯৪০ সালের ২৪ মার্চ মুসলিম লীগের লাহোরে অনুষ্ঠিত সপ্তবিংশতিতম অধিবেশনে গৃহীত মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলসমূহ নিয়ে একাধিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিকে লাহোর প্রস্তাব নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে। 
- এই প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে মুসলিম লীগ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় অগ্রসর হয় এবং ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের জন্ম হয়।

পটভূমি
- ভারতীয় উপমাহদেশে মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি ১৯৩০ সালে মুসলিম লীগের এলাহাবাদ অধিবেশনে কবি আল্লামা ইকবাল  উত্থাপন করেছিলেন।
- এরপর ১৯৩৩ সালে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র চৌধুরী রহমত আলী ভারতের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের নিয়ে 'পাকিস্তান' নামে একটি রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব দেন।
- ১৯৩৭ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর জিন্নাহর নেতৃত্বাধীন মুসলিম লীগ পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চিন্তা-ভাবনা শুরু করেন।
- বিশেষ করে মুসলিম লীগের লক্ষ্মৌ অধিবেশন (১৯৩৭)-এর পর থেকে জিন্নাহ সক্রিয় হয়ে উঠেন।
- ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কংগ্রেস-লীগ রাজনীতিতে ব্রিটিশদের নিয়ে বিভেদ বেড়ে যায়।
- চারদিকে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, অত্যাচার নিপীড়নের অভিযোগ বাড়তে থাকে। বস্তুত ১৯৩৭ সাল থেকেই মুসলিম লীগের দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে মুসলমানদের জন্য পৃথক পাকিস্তান দাবির পথ ক্রমশ প্রশস্ত হতে থাকে।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৪৪.
ক্যাবিনেট মিশন কবে ভারতে এসেছিলো?
  1. ক) ১৯৪২ সালে
  2. খ) ১৯৪৩ সালে
  3. গ) ১৯৪৫ সালে
  4. ঘ) ১৯৪৬ সালে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৪৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৪৬ সালে
ব্যাখ্যা
ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা বিষয়ে আলোচনার জন্যে ১৯৪৬ সালের ২৪ মার্চ ব্রিটিশ সরকার তিন সদস্যের ক্যাবিনেট বা মন্ত্রী মিশন ভারতে পাঠায়।

ক্যাবিনেট মিশনের প্রধান ছিলেন তৎকালীন ভারত সচিব পেথিক লরেন্স। অপর দুই সদস্য হলেন স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস এবং এ. ভি. আলেকজান্ডার।

ক্যাবিনেট মিশন ভারতকে তিনটি ভাগে ভাগ করে এবং তিন স্তর বিশিষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা করে। মুসলিমলীগ শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনা মেনে নিলেও কংগ্রেসের অসহযোগিতায় মন্ত্রী মিশন পরিকল্পনা সফল হয়নি।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৮৪৫.
সিপাহী বিদ্রোহ সংগঠিত হওয়ার জন্য দায়ী কোন অস্ত্র?
  1. ক) LSAT Rifle
  2. খ) T48 Rifle
  3. গ) Enfield Rifle
  4. ঘ) Metford Rifle
সঠিক উত্তর:
গ) Enfield Rifle
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Enfield Rifle
ব্যাখ্যা
- ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ কোন একক কারণে হয়নি। 
- ১৭৫৭ সালের পলাশী যুদ্ধের পরে কোম্পানির একশ বছরের অত্যাচার, শোষণ ও বঞ্চনার প্রতিবাদ হল সিপাহী বিদ্রোহ। 
 
প্রত্যক্ষ কারণ/তাৎক্ষণিক কারণ : 
বিভিন্ন কারণে সিপাহী বিদ্রোহ সংগঠিত হয়, নিম্নে সেগুলো আলোচনা করা হল :
- কোম্পানি সামরিক বাহিনীতে ‘Enfield Rifle' নামক এক প্রকার নতুন অস্ত্রের প্রচলন শুরু করে, যার কার্তুজ দাঁত দিয়ে কাটতে হয়। 
- গুজব রটে যে, এ কার্তুজে শুকর ও গরুর চর্বি মিশ্রিত আছে যা যথাক্রমে মুসলমান ও হিন্দু উভয় সম্প্রদায়ে ধর্মীয়ভাবে নিষিদ্ধ।
- এ ঘটনা সিপাহীদের বিদ্রোহী করে তোলে এবং ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহ শুরু হয় যা মূলত ইংরেজদের প্রতি একশ বছর ধরে জমে থাকা ক্ষোভের বহি:প্রকাশ।
 
 উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৮৪৬.
১৯০৫ সালে নতুন গঠিত প্রদেশ ‘পূর্ব বাংলা ও আসাম’-এর রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. কলকাতা
  2. ঢাকা
  3. চট্টগ্রাম
  4. শিলং
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা

বঙ্গভঙ্গ:
- ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর লর্ড কার্জনের সময়ে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করা হয় যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- বঙ্গভঙ্গ অবিভক্ত বাংলায় তথা সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা প্রদান করা হয় এবং ১৫ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হয়।

- ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং আসাম নিয়ে গঠিত হয় 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' প্রদেশ। এ প্রদেশের রাজধানী স্থাপিত হয় ঢাকায়।
- পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ। এ প্রদেশের রাজধানী হয় কলকাতা।
- কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুদের তীব্র বিরোধিতা এবং সহিংস আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
- লর্ড হার্ডিঞ্জের সময় ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৪৭.
বাংলায় দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা চালু করেন কে?
  1. লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. লর্ড ওয়েলেসলি
  3. লর্ড হেস্টিংস
  4. লর্ড ক্লাইভ
সঠিক উত্তর:
লর্ড ক্লাইভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ক্লাইভ
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলায় দ্বৈতশাসন চালু করেন-  লর্ড ক্লাইভ।

• বাংলায় দ্বৈতশাসন:

- সরাসরি রাজস্ব আদায় করা কোম্পানির জন্য বিপদজনক হয়ে দেখা দেয়।
- কেননা সরাসরি কোম্পানি রাজস্ব গ্রহণ করলে বাংলায় বাণিজ্যরত অন্যান্য ইউরোপীয় বণিকদের সাথে তাদের সংঘর্ষ ছিল অনিবার্য। 
- বাণিজ্যিক শুল্ক আদায় ছিল দিউয়ানির কর্মকাণ্ডের অন্তর্গত।
- অন্য সব ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো এদেশীয় সরকারকে শুল্ক দিতে রাজী থাকলেও ইংরেজদের শুল্ক দেয়ার কথা নয়।
- ফলে লর্ড ক্লাইভ কৌশলে দিউয়ানির সমস্ত শাসনভার নামমাত্র দিয়েছিলেন নবাবের উপর।
- আর কোম্পানির কাছে রাখা হয় কেন্দ্রিয়ভাবে তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা।
- নবাবের ভাতা এবং শাসনকাজের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থকড়ি বরাদ্দ রেখেছিল।
- উদ্বৃত্ত প্রায় সব অর্থ কোম্পানি গ্রহণ করতো।
- তাদের গৃহীত এ ব্যবস্থার ফলে দায়দায়িত্ব কাগজে কলমে না নিয়েও প্রকৃত ক্ষমতা চলে যায় কোম্পানির হাতে।
- এক্ষেত্রে নবাব প্রায় ক্ষমতাহীন থেকেও প্রায় সব দায়-দায়িত্ব পালন করতে থাকে।
- আর কোম্পানি কাগজে কলমে কোনো ক্ষমতা না রেখেও পুরো শাসন ক্ষমতা নিজের হাতে নিয়ে যায় এই দ্বৈতশাসন নীতির মধ্য দিয়ে।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৪৮.
সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য সেন রাজা-
  1. ক) হেমন্ত সেন
  2. খ) বল্লাল সেন
  3. গ) লক্ষণ সেন
  4. ঘ) বিজয় সেন
সঠিক উত্তর:
গ) লক্ষণ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লক্ষণ সেন
ব্যাখ্যা
পাল বংশের পতনের পর একাদশ শতকের মধ্যভাগে হেমন্ত সেন বাংলায় সেন বংশের সূচনা করেন। ১০৬১ সাল থেকে ১২০৪ সাল পর্যন্ত সেন বংশ বাংলা শাসন করে। হেমন্ত সেনের (১০৬১-১০৯৮) পর তারপুত্র বিজয় সেন (১০৯৮-১১৬০), বিজয় সেনের পর তার পুত্র বল্লাল সেন (১১৬০-১১৭৮) এবং বল্লাল সেনের পর তার পুত্র লক্ষণ সেন (১১৭৮-১২০৪) বাংলা শাসন করেন। ১২০৪ সালে তুর্কি বীর ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত করেন। সেন বংশ দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক থেকে বাংলায় আসেন। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৮৪৯.
লাহোর প্রস্তাবে মুসলমানদের জন্য কী ধরনের রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়েছিল?
  1. একক ফেডারেল রাষ্ট্র
  2. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনযুক্ত একক রাষ্ট্র
  3. স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ 
  4. ব্রিটিশ শাসনের অধীন রাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ 
ব্যাখ্যা

- ১৯৩৭ সালের সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশসমূহে  মুসলিম লীগের পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণের জন্য মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪০ সালে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সাধারণ অধিবেশন আহবান করেন।

- মুসলিম লীগের কর্মীদের একটি ক্ষুদ্র দল নিয়ে হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী ১৯৪০ সালের ১৯ মার্চ লাহোরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

- অধিবেশনে যোগদানের জন্য বাংলার মুসলিম লীগ দলের নেতৃত্ব দেন এ.কে ফজলুল হক এবং তাঁরা ২২ মার্চ লাহোরে পৌঁছেন।
- জিন্নাহ তাঁর দুঘণ্টারও অধিক সময়ব্যাপী বক্তৃতায় কংগ্রেস ও জাতীয়তাবাদী মুসলমানদের সমালোচনা করেন এবং দ্বি-জাতি তত্ত্ব ও মুসলমানদের স্বতন্ত্র আবাসভূমি দাবি করার পেছনের যুক্তিসমূহ তুলে ধরেন।
- তাঁর যুক্তিসমূহ সাধারণ মুসলিম জনতার মন জয় করে।
- পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী সিকান্দার হায়াত খান লাহোর প্রস্তাবের প্রারম্ভিক খসড়া তৈরি করেন, যা আলোচনা ও সংশোধনের জন্য নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সাবজেক্ট কমিটি সমীপে পেশ করা হয়।
- সাবজেক্ট কমিটি এ প্রস্তাবটিতে আমূল সংশোধন আনয়নের পর ২৩ মার্চ সাধারণ অধিবেশনে ফজলুল হক সেটি উত্থাপন করেন এবং চৌধুরী খালিকুজ্জামান ও অন্যান্য মুসলিম নেতৃবৃন্দ তা সমর্থন করেন।

-
প্রস্তাবটি ছিল নিম্নরূপ:

- ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব এলাকাসমূহের মতো যে সকল অঞ্চলে মুসলমানগণ সংখ্যাগরিষ্ঠ, সে সব অঞ্চলে ‘স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ’ (স্টেটস্) গঠন করতে হবে যার মধ্যে গঠনকারী এককগুলি হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম।


উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮৫০.
নিচের কোনটি লর্ড ডালহৌসীর অবদান?
  1. ক) স্বত্ববিলোপ নীতি
  2. খ) ইন্ডিয়ান পেনাল কোড
  3. গ) রবিবার সরকারি অফিসের সাপ্তাহিক ছুটি ঘোষণা
  4. ঘ) কলকাতায় সুপ্রিম কোর্ট স্থাপন
সঠিক উত্তর:
ক) স্বত্ববিলোপ নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্বত্ববিলোপ নীতি
ব্যাখ্যা
লর্ড ডালহৌসী (১৮৪৮ -১৮৫৬)
• ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড হার্ডিঞ্জের পর মাত্র ৩৬ বৎসর বয়সে লর্ড ডালহৌসী এ উপমহাদেশে আসেন।
• ইংল্যান্ড কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত যত সাম্রাজ্যবাদী শাসক এ উপমহাদেশে প্রেরণ করেছেন তার মধ্যে লর্ড ডালহৌসী ছিলেন ঘোর সাম্রাজ্যবাদী।

তার অবদান সমূহ
স্বত্ববিলোপ নীতি ছিল একটি সাম্রাজ্যবাদী নীতি। লর্ড ডালহৌসি এই সাম্রাজ্যবাদী নীতিটি প্রবর্তন করেন।
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় ১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই লর্ড ডালহৌসি বিধবা বিবাহ আইন পাস করেন।
• ১৮৫০ সালে গ্রেট ইন্ডিয়ান পেনিনসুলার রেলওয়ে নামক কোম্পানি মুম্বাই থেকে থানা পর্যন্ত ৩৩ কিমি দীর্ঘ রেললাইন স্থাপন করতে থাকে। লাইনটি উদ্বোধন করা হয় ১৬ এপ্রিল ১৮৫৩ সালে। এটিই ছিল ব্রিটিশ ভারতে রেলওয়ের প্রথম যাত্রা। ইস্ট ইন্ডিয়া রেলওয়ে কোম্পানি কর্তৃক নির্মিত হাওড়া থেকে হুগলি পর্যন্ত ৩৮ কিমি রেললাইনের উদ্বোধন হয় ১৮৫৪ সালে এবং এর মাধ্যমে চালু হয় বাংলার প্রথম রেললাইন। তাঁরই সময়ে কলকাতা হতে পেশোয়ার পর্যন্ত গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড পুনরায় চালু হয়। 
• কলকাতা হতে আগ্রা পর্যন্ত প্রথম টেলিগ্রাফ ব্যবস্থা ও পেনী পোস্টকার্ড ব্যবস্থা চালু করেন।
• তিনি বনভূমি সংরক্ষণ নীতি প্রবর্তন করেন।

অন্যদিকে,
• বেন্টিঙ্ক লর্ড মেকলের সহায়তায় আইন কমিশন গঠন করে ‘ইন্ডিয়ান পেনাল কোড’ তৈরি করেন ।
• ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭৪ সালে কলকাতায় সুপ্রিম কোর্ট স্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ তথা ভারতীয় উপমহাদেশের ভূখণ্ডে এটিই প্রথম সুপ্রিম কোর্ট।
• লর্ড হার্ডিঞ্জ রবিবার সরকারি অফিসের সাপ্তাহিক ছুটি ঘোষণা করেন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫১.
কোন ঘটনার ফলে অসহযোগ আন্দোলন স্থগিত করা হয়?
  1. জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড
  2. চৌরিচৌরা সহিংসতা
  3. খিলাফত আন্দোলনের সমাপ্তি
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
চৌরিচৌরা সহিংসতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৌরিচৌরা সহিংসতা
ব্যাখ্যা

গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন:
- ব্রিটিশ শাসনামলে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী যিনি মহাত্মা গান্ধী নামে পরিচিত মুসলিমদের খেলাফত আন্দোলনের সাথে একাত্ম হয়ে ঘোষণা করেছিলেন অসহযোগ আন্দোলনের।
- ১৯২০ সাল থেকে ১৯২২ সাল পর্যন্ত চলেছিল সে আন্দোলন।
- গান্ধীজি ছাড়াও এই আন্দোলনে যারা প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন মতিলাল নেহেরু, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, রাজেন্দ্র প্রসাদ, চক্রবর্তী রাজাগোপালচারী প্রমূখ। তাছাড়া নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস (IAS) পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

⇒ অসহযোগ আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল ব্রিটিশদের প্রণয়ন করা রাওলাট আইন থেকে যেটি ভারতীয়দের কাছে কালো আইন নামে পরিচিত। ১৯১৯ সালের ১০ই মার্চ পাস করা হয়েছিল রাওলাট আইন। রাষ্ট্রদ্রোহী কার্যকলাপের সাথে জড়িত কোনো ব্যক্তিকে বিনা বিচারে কারারুদ্ধ বা বন্দি করার জন্য সরকারকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল সে আইনে। এর অর্থ ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে কেউ চক্রান্ত করছে এমন সন্দেহ হলেই তাকে বিনা বিচারে দুই বছর পর্যন্ত জেলে বন্দি করে রাখা যাবে।
- ১৯২০ সালে জাতীয় কংগ্রেসের কলকাতার অধিবেশনে গান্ধীজি অসহযোগ আন্দোলনের প্রস্তাব পেশ করেন এবং তা গৃহীত হয়। 

⇒ অসহযোগ আন্দোলনের উদ্দেশ্য  –
- ব্রিটিশদের দমনমূলক আইনগুলির বিরোধিতা করা। বিশেষ করে রাওলাট আইনকে বিরোধিতা করা ও বর্জন করা।
- ব্রিটিশদের অমানবিক জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা।
- খিলাফত সমস্যার সমাধানের দাবি জানানো।
- এক বছরের মধ্যে স্বরাজ বা স্বাধীনতা অর্জন করা প্রভৃতি।

উল্লেখ্য,
- অসহযোগ আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে ১৯২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ৪ তারিখের চৌরিচৌরার একটি ঘটনার মধ্য দিয়ে।
- অসহযোগ আন্দোলন যখন গণআন্দোলনে রূপান্তরের দিকে এগিয়ে চলেছিল তখন উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর জেলার চৌরিচৌরা ঘটনার পর ১১ই ফেব্রুয়ারি ১৯২২ সালে গান্ধীজি অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়। কারণ এই ঘটনায় ক্ষুদ্ধ জনতা চৌরিচৌরা থানা আক্রমণ করেন এবং এই ঘটনায় ২২ জন পুলিশ নিহত হন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) BBC.

৮৫২.
কার উদ্যোগে আজাদ হিন্দ ফোর্স গঠিত হয়েছিলো?
  1. ক) বারীন্দ্রকুমার ঘোষ
  2. খ) সুভাষচন্দ্র বসু
  3. গ) সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল
  4. ঘ) ঋষি অরবিন্দ
সঠিক উত্তর:
খ) সুভাষচন্দ্র বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুভাষচন্দ্র বসু
ব্যাখ্যা
- আজাদ হিন্দ ফোর্স হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে গঠিত একটি ভারতীয় সশ্বস্ত্র স্বাধীনতাকামী সামরিক বাহিনী।
- এই বাহিনী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তিকে সমর্থন প্রদান করে। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, রাসবিহারী বসু প্রমুখের উদ্যোগে আজাদ হিন্দ ফোর্স গঠিত হয়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানি বাহিনীর সাথে এই বাহিনী ভারতের পূর্বাঞ্চলে লড়াই করে।
- কিন্তু বিশ্বযুদ্ধে জাপানের ব্যর্থতার পর সুভাষ বসু অন্তর্ধান হয়ে যান। তার শেষ পরিণতি সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং আমি সুভাষ বলছি : প্রথম খণ্ড)
৮৫৩.
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্বে ছিলেন কে?
  1. সুভাষ চন্দ্র বসু
  2. রঘুনাথ সর্দার
  3. চিত্তরঞ্জন দাশ
  4. মঙ্গল পান্ডে
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল পান্ডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল পান্ডে
ব্যাখ্যা

• সিপাহী বিদ্রোহ: 
- সিপাহী বিদ্রোহের আগুন প্রথম জ্বলে উঠে পশ্চিম বঙ্গের ব্যারাকপুরে।
- ১৮৫৭খ্রিস্টাব্দের ২৯ মার্চ বন্দুকের গুলি ছুড়ে বিদ্রোহের সূচনা করেন মঙ্গল পান্ডে নামে এক সিপাহী।
- দ্রুত এই বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে মিরাট, কানপুর পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার, বাংলাসহ ভারতের প্রায় সর্বত্র।
- বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী এই বিদ্রোহে শামিল হয়।
- বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত। 
- হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বদ্ধমূল ধারণা ছিল; সমুদ্র পাড়ি দিলে ধর্ম নষ্ট হয়।
- সে ক্ষেত্রে হিন্দু সিপাহিদেরকে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ভারতের বাইরে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল।
- তাছাড়া হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের সিপাহিদের ব্যবহারের জন্য 'এনফিল্ড' রাইফেলের প্রচলন করা হয়।
- এই রাইফেলের টোটা দাঁত দিয়ে কেটে বন্দুকে প্রবেশ করাতে হতো।
- সৈন্যদের মধ্যে ব্যাপকভাবে এ গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, এই টোটায় গরু ও শূকরের চর্বি মিশ্রিত আছে।
- ফলে দুই ধর্মের সৈন্যরা ধর্মনাশের কথা ভেবে বিদ্রোহী হয়ে উঠে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৫৪.
অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি কে গ্রহণ করেন?
  1. ওয়ারেন হেস্টিংস
  2. লর্ড ওয়েলেসলি
  3. লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. লর্ড ক্লাইভ
সঠিক উত্তর:
লর্ড ওয়েলেসলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ওয়েলেসলি
ব্যাখ্যা

অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি:
- জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে পরিবর্তন করেন এবং অধীনতামূলক মিত্রতার নীতি গ্রহণ করেন।
- এই নীতি অনুযায়ী ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণবর্হিভূত দেশীয় রাজ্যগুলোকে ব্রিটিশদের অধীনে ও নিরাপত্তায় থেকে রাজ্য শাসনে অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতা প্রদান করা হতো।
- এই নীতির মাধ্যমে হায়দ্রাবাদ ও মারাঠারাজ্য কোম্পানির অধীনে আসে।
- টিপু সুলতান এই নীতিগ্রহণে অস্বীকার করলে চতুর্থ মহীশূর যুদ্ধে তিনি ব্রিটিশদের নিকট পরাজিত ও নিহত হন।

⇒ নীতির মূলবিন্দু:
• নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা: এই নীতির আওতায় ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণবর্হিভূত দেশীয় রাজ্যগুলোকে ব্রিটিশদের অধীনে থাকার জন্য অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতা প্রদান করা হতো। অর্থাৎ, তারা নিজেদের রাজ্য শাসনে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারতেন, তবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নিরাপত্তার আওতায়।
• রাজ্যগুলোর অধীনে আসা: এই নীতির মাধ্যমে হায়দ্রাবাদ ও মারাঠা রাজ্যগুলো কোম্পানির অধীনে আসে।
• টিপু সুলতানের প্রতিক্রিয়া: টিপু সুলতান এই নীতি গ্রহণে অস্বীকার করেন, যার ফলস্বরূপ চতুর্থ মহীশূর যুদ্ধে তিনি ব্রিটিশদের কাছে পরাজিত ও নিহত হন।

⇒ লর্ড ওয়েলেসলির ভূমিকা:
• শাসনকাল: লর্ড ওয়েলেসলি ১৭৯৮ থেকে ১৮০৫ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
• নীতির উদ্দেশ্য: তিনি ভারত থেকে ফরাসি প্রভাব দূর করে ব্রিটিশদেরকে উপমহাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত করতে চেয়েছিলেন।
• শিক্ষা সংস্কার: অসামরিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
• সাম্রাজ্যের শক্তি: তাঁর শাসনামল শেষ হওয়ার পরও ওয়েলেসলি ব্রিটিশদের ভারতে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে যান।

উল্লেখ্য,
- ওয়ারেন হেস্টিংস অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির সূচনা করেন। আর এই নীতি নিপুণতার সাথে ব্যাপকভাবে কার্যকর করেন লর্ড ওয়েলেসলি।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৫৫.
কত সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ করা হয়?
  1. ১৯৪৮ সালে
  2. ১৯৫০ সালে
  3. ১৯৫৩ সালে
  4. ১৯৫৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫০ সালে
ব্যাখ্যা
পূর্ববঙ্গে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ: 
- পূর্ববঙ্গে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ করা হয় ১৯৫০ সালে, তখন "পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০" কার্যকর হয়।
- ১৯৩৯ সালে ফ্রান্সিস ফ্লাউড-কে চেয়ারম্যান করে ভূমি রাজস্ব কমিশন নিয়োগ দেওয়া হয়।
- রাজস্ব আয়কারী সকল সম্পত্তি সরকার কর্তৃক হুকুমদখলের সুপারিশসহ এই কমিশন ১৯৪০ সালে তার প্রতিবেদন পেশ করে।
- দেশ বিভাগের পর পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব বিল প্রণয়ন করে ১৯৪৮ সালের ৩১ মার্চ তা প্রকাশ করা হয়।
- এই কমিশনের সুপারিশমালার ওপর ভিত্তি করেই পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ পাশ হয়।
- এই আইনের মাধ্যমে সরকার জমিদারদের সমস্ত জমির মালিকানা অধিগ্রহণ করে এবং কৃষকদের সরাসরি জমির মালিকানা প্রদান করে।
- ফলে জমিদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের খাজনা আদায়ের অধিকার বিলুপ্ত হয় এবং সরকার একমাত্র জমিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- চাষিরা সরাসরি সরকারের প্রজা হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং জমিদারি ব্যবস্থার অবসান ঘটে।
- এছাড়া, জমির সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে কৃষকদের জমির অধিকার সুরক্ষিত করা হয়। জমিদারি প্রথা বিলোপের ফলে ভূমি সংস্কারের একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
৮৫৬.
'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' বাংলা কত সালে ঘটেছিল?
  1. ১১৭০ বঙ্গাব্দ
  2. ১১৭২ বঙ্গাব্দ
  3. ১১৭৫ বঙ্গাব্দ
  4. ১১৭৬ বঙ্গাব্দ
সঠিক উত্তর:
১১৭৬ বঙ্গাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১৭৬ বঙ্গাব্দ
ব্যাখ্যা

দ্বৈত শাসন ও ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- দ্বৈতশাসন অনুসারে রাজস্ব প্রশাসন ও দেশ রক্ষার ভার থাকে কোম্পানির হাতে এবং নিয়ামত বা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পিত হয় নবাবের হাতে।
- দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে।
- অবাধ লুণ্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়ে যায়।
- নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হন।
- সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।

⇒ এর ফল হিসেবে ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয়৷
-  এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৫৭.
ভারত বা পাকিস্তানে যোগদান ইস্যুতে সিলেটে গণভোট অনুষ্ঠিত হয় -
  1. ১৯৪৭ সালের ৩ জুলাই
  2. ১৯৪৭ সালের ৬ ও ৭ জুলাই
  3. ১৯৪৭ সালের ৫ জুলাই
  4. ১৯৪৭ সালের ১২ আগস্ট
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালের ৬ ও ৭ জুলাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালের ৬ ও ৭ জুলাই
ব্যাখ্যা

- ১৯৪৭ সালের ৩ জুলাই সরকারি ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ৬ ও ৭ জুলাই সিলেটে গণভোটের তারিখ নির্ধারিত হয়।
- সিলেট পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত পূর্ববাংলায় যোগদান করবে, নাকি ভারতের অন্তর্ভুক্ত আসাম প্রদেশে থাকবে তা নির্ধারণের জন্যই গণভোটের ব্যবস্থা করা হয়।
- গণভোট পরিচালনার জন্য এইচ.সি স্টর্ককে রেফারেন্ডাম কমিশনার নিযুক্ত করা হয়।
- ২৩৯টি কেন্দ্রের জন্য নিযুক্ত করা হয় ৪৭৮ জন প্রিজাইডিং অফিসার ও ১৪৩৪ জন পুলিং অফিসার।

গণভোটের ফলাফল ছিল নিম্নরূপ-
মোট ভোট ছিল- ৫৪৬৮১৫
পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত পূর্ববাংলায় যোগদানের পক্ষে ভোট পড়ে- ২৩৯৬১৯
ভারতের অন্তর্ভুক্ত আসাম প্রদেশে যোগদানের পক্ষে ভোট পড়ে- ১৮৪০৪১

সুতরাং সিলেটবাসী বিপুল ভোটাধিক্যে পূর্ববঙ্গের সাথে অন্তর্ভুক্তির পক্ষে রায় দেয়।
- ৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই’র ভারত স্বাধীনতা আইনের ধারা ৩ অনুযায়ী গণভোট সংক্রান্ত কার্যক্রমের বৈধতা দেওয়া হয়।
- ১৯৪৭ সালের ১২ আগস্ট প্রকাশিত র‍্যাডক্লিফ রোয়েদাদ অনুযায়ী করিমগঞ্জের কয়েকটি থানা ও পার্শ্ববর্তী অধিকাংশ মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল আসামের অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৮৫৮.
বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা হয়-
  1. ৮ ডিসেম্বর, ১৯১১ সালে
  2. ১২ ডিসেম্বর, ১৯১১ সালে
  3. ১৫ ডিসেম্বর, ১৯১১ সালে
  4. ২০ ডিসেম্বর, ১৯১১ সালে
সঠিক উত্তর:
১২ ডিসেম্বর, ১৯১১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ ডিসেম্বর, ১৯১১ সালে
ব্যাখ্যা
• বঙ্গভঙ্গ রদ:
- রাজা পঞ্চম জর্জ, গভর্নর জেনারেলের লর্ড চার্লস হার্ডিঞ্জ ১২ ডিসেম্বর, ১৯১১ সালে তার রাজ্য অভিষেকে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা করেন।
- বঙ্গভঙ্গ রদের কার্যকর হয়- ২০ জানুয়ারি, ১৯১২ সালে।
- বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা করেন- রাজা পঞ্চম জর্জ।
- বঙ্গভঙ্গ রদে করেন- লর্ড হার্ডিঞ্জ।

উল্লেখ্য,
- বঙ্গভঙ্গ করেন-লর্ড কার্জন।
- ১৯০৫ সালে ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয়।
- বঙ্গভঙ্গ ফলে নতুন প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা।
- নতুন প্রদেশ সৃষ্টি হয় উত্তর পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়  ও বাংলাপিডিয়া।
৮৫৯.
বিশ শতকের গোড়ার দিকে উত্তপ্ত বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনকে প্রশমিত করার পদক্ষেপ কোনটি?
  1. ক) মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন
  2. খ) চার্টার অ্যাক্ট
  3. গ) চেমসফোর্ট-মন্টেগু সংস্কার আইন
  4. ঘ) রেগুলেটিং অ্যাক্ট
সঠিক উত্তর:
ক) মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন
ব্যাখ্যা
- বিশ শতকের প্রথমদিকে উত্তপ্ত বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনকে প্রশমিত করার জন্য মর্লি-মিন্টো সংস্কার ছিল একটা কৌশলগত পদক্ষেপ। 
- ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রবর্তনের লক্ষ্যে ব্রিটিশ সরকার ১৯০৯ সালে ইন্ডিয়া অ্যাক্ট পাস করে যা মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন নামে পরিচিত।
- এর মাধ্যমে আইন সভার সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হলেও প্রতিনিধিদের প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচনের ব্যবস্থা ছিল না। 
- তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করায় স্বভাবতই তারা খুশী হয়, যদিও কংগ্রেস এতে ক্ষুব্ধ ছিল
কংগ্রেসের নরমপন্থীরাও সন্তুষ্ট ছিল না ।
- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দের সংস্কার আইন ভারতে দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়।
- আইন সভার নির্বাচিত সদস্যগণ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হতেন না। তাছাড়া তাদেরকে কোন ক্ষমতাও দেয়া হয়নি। 
- কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইন সভাগুলোতে তারা সব সময়ই সংখ্যালঘু ছিলেন। প্রকৃতপক্ষে এ সংস্কার আইনের মাধ্যমে ভারতে প্রতিনিধিমূলক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের কোন ইচ্ছাই ইংরেজদের ছিল না।
 
উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৮৬০.
ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে প্রথম বাণিজ্য কেন্দ্র কোথায় প্রতিষ্ঠা করে?
  1. কারিকলে
  2. সুরাটে
  3. মাদ্রাজে
  4. পাটনায়
সঠিক উত্তর:
সুরাটে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুরাটে
ব্যাখ্যা

ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- উপমহাদেশে ফরাসিদের আগমন সবার শেষে।
- ১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি মন্ত্রী কোলবার্টের পৃষ্ঠপোষকতায় 'ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠিত হয় এবং ভারতবর্ষে বাণিজ্য শুরু করে।
- প্রথমে তারা মুম্বাইয়ের সুরাটে ও পরে পন্ডিচেরীতে কুঠি স্থাপন করে।
- অল্পদিনের মধ্যেই তারা বাংলার চন্দননগরে আরও একটি কুঠি স্থাপন করে। এছাড়া কারিকল, মসলিপট্টম, কাশিমবাজার এবং বালেশ্বরেও তাদের কুঠি ছিল।
- ফরাসিরা উপমহাদেশে প্রায় একশ বছর বাণিজ্য করে।
- ইংরেজগণ ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ফরাসিদের চন্দননগর এবং ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পন্ডিচেরী কুঠি দখল করে নেয়।
- স্বদেশে ইংরেজ ও ফরাসিদের মধ্যে বিবাদের জের হিসেবে এখানেও বিবাদ চলতে থাকে। কিন্তু ইংরেজগণ উন্নততর সামরিক শক্তি ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উপমহাদেশের রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করে নেয়।
- পরপর তিনটি কর্ণাটক যুদ্ধে ফরাসিরা পরাজিত হলে ফরাসিদের সাম্রাজ্য ও বাণিজ্য বিস্তার সফল হয়নি।
- এর ফলস্বরূপ ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে উপমহাদেশ থেকে বিদায় নিতে হয়।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৬১.
ইংরেজদের সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপনের অনুমতি দেন কে?
  1. সম্রাট আকবর
  2. সম্রাট হুমায়ূন
  3. সম্রাট শাহজান
  4. সম্রাট জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা

ইংরেজ:
- সমুদ্রপথে ইউরোপীয় বণিকদের সাফল্য প্রাচ্যের ধনসম্পদের প্রাচুর্য, ইংরেজ বণিকদেরকেও বাংলায় ব্যবসা-বাণিজ্যে উৎসাহিত করে। - এই উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডের একদল বণিক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নামে একটি বণিক সংঘ গড়ে তোলে।
- বণিক সংঘটি ১৬০০ সালে রানি এলিজাবেথের কাছ থেকে ১৫ বছর মেয়াদি প্রাচ্যে একচেটিয়া বাণিজ্য করার সনদপত্র লাভ করে।
- এই সনদপত্র নিয়ে কোম্পানির প্রতিনিধি বাণিজ্যিক সুবিধা লাভের আশায় আকবরের দরবারে হাজির হন।
- এরপর ক্যাপ্টেন হকিস ১৬০৮ সালে রাজা প্রথম জেমসের সুপারিশপত্র নিয়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।তাঁর অনুমতি নিয়ে ১৬১২ সালে সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপিত হয়।
- পরবর্তীকালে ১৬১৫ সালে প্রথম জেমসের দূত হয়ে জাহাঙ্গীরের দরবারে আসেন স্যার টমাস রো।
- সম্রাটেরকাছ থেকে তিনি ইংরেজদের জন্য বাণিজ্যিক সুবিধা আদায় করে নেন।
- কোম্পানি সুরাট, আগ্রা,আহমেদাবাদ প্রভৃতি স্থানে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে তাদের ভিত্তিমজবুত করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৮৬২.
বাংলাদেশে ফরায়েজী আন্দোলনের প্রবক্তা কে?
  1. দুদু মিয়া
  2. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  3. সৈয়দ আহমদ খান
  4. মজনু শাহ
সঠিক উত্তর:
হাজী শরীয়তউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজী শরীয়তউল্লাহ
ব্যাখ্যা

ফরায়েজী আন্দোলন:
- ফরায়েজী আন্দোলন ছিল উনিশ শতকে বাংলায় সংঘটিত একটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলন।
- প্রাথমিক পর্যায়ে এ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ধর্ম সংস্কার, কিন্তু পরবর্তী সময়ে এই আন্দোলনে আর্থ-সামাজিক সংস্কারের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
- এ আন্দোলনের প্রবক্তা হাজী শরীয়তউল্লাহ। 
- হাজী শরীয়তউল্লাহ বাংলায় ব্রিটিশ শাসনকে মুসলমানদের আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য ক্ষতিকর বলে বিবেচনা করতেন।
- হাজী শরীয়তউল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি। তিনি ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন। জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে শরিয়ত উল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
- ফরায়েজী আন্দোলন অসামান্য দ্রুততার সঙ্গে ঢাকা, ফরিদপুর, বাকেরগঞ্জ (বর্তমান বরিশাল), ময়মনসিংহ, ত্রিপুরা (বর্তমান কুমিল্লা), চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলাসমূহে এবং আসাম প্রদেশে বিস্তারলাভ করে। 
-  হিন্দু জমিদার ও ইউরোপীয় নীলকরদের সঙ্গে অবিরাম সংঘর্ষের ফলে আন্দোলনটি ক্রমান্বয়ে আর্থ-সামাজিক রূপ পরিগ্রহ করে। 

⇒ ১৮৪০ সালে হাজী শরীয়তউল্লাহর মৃত্যুর পর তার একমাত্র পুত্র মুহসীনউদ্দীন ওরফে দুদু মিয়াকে ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা ঘোষণা করা হয়। 
- তিনি ফরায়েজী আন্দোলনকে একটি সুবিন্যস্ত ও শক্তিশালী সাংগঠনিক রূপ দেন।
- ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের সময় দুদু মিয়াকে বন্দী করা হয়।
- ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মুক্তি পান।
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজী আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ঊনিশ শতকের শেষ প্রান্তে ফরায়েজী আন্দোলন স্তিমিত হয়ে যায়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৬৩.
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে কোন চুক্তির মাধ্যমে?
  1. মুর্শিদাবাদ চুক্তি
  2. এলাহাবাদ চুক্তি
  3. পাঞ্জাব চুক্তি
  4. আলীনগর চুক্তি
সঠিক উত্তর:
এলাহাবাদ চুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এলাহাবাদ চুক্তি
ব্যাখ্যা
⇒ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে এলাহাবাদ চুক্তির মাধ্যমে।

কোম্পানির দেওয়ানি লাভ:
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে দেওয়ানি লাভের পর প্রকৃতপক্ষে ইংরেজরাই বাংলার সত্যিকার শাসকরূপে আত্মপ্রকাশ করে।
- এ সময়ে ইংরেজ কোম্পানি মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলার রাজস্ব আদায়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব লাভে সক্ষম হয়।
- মুঘল শাসন আমলে বাংলার দেওয়ানের পদ এবং সুবেদারের পদ ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির ওপর ন্যস্ত ছিল। মুর্শিদ কুলি খান এই নিয়ম ভেঙ্গে দুটি পদ একাই দখল করে নেন।
- এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সম্রাট কোম্পানিকে বাৎসরিক উপঢৌকনের বদলে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ানি গ্রহণের অনুরোধ করেন। তখন কোম্পানি বিষয়টি অগ্রাহ্য করে।
- দেওয়ানি শর্ত সম্পর্কিত দুটি চুক্তি করা হয়।
- একটি দিল্লির সম্রাট শাহ আলমের সঙ্গে এলাহাবাদ চুক্তি।
- অপর চুক্তিটি হয় মীর জাফরের নাবালক পুত্র নবাব নাজিম-উদ-দ্দৌলার সঙ্গে।
- এই দুটি চুক্তির ফলে যে দেওয়ানি লাভ করা হয় তাতে এ অঞ্চলে কোম্পানির ক্ষমতা একচেটিয়া বৃদ্ধি পায়। ফলে সমস্ত ক্ষমতা চলে যায় কোম্পানির হাতে।
- দেওয়ানি লাভ কোম্পানির শুধু রাজনৈতিক নয় অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বিশাল বিজয়।
- সম্রাট ও নবাব উভয়েই ক্ষমতাহীন শাসকে পরিণত হন। প্রকৃতপক্ষে তারা হয়ে যান কোম্পানির পেনশনভোগী কর্মচারী।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬৪.
ইলবার্ট বিলের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন—
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড লিটন
  3. লর্ড রিপন
  4. লর্ড কার্জন
সঠিক উত্তর:
লর্ড রিপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড রিপন
ব্যাখ্যা

- লর্ড রিপনের শাসনামলে এই সংস্কারমূলক বিলটি প্রণীত হয়।

ইলবার্ট বিল: 
- ইলবার্ট বিল ১৮৮৩ সালে লর্ড রিপনের শাসনামলে উত্থাপিত হয়।
- তিনি ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় হিসেবে উদারপন্থী চিন্তাধারার জন্য পরিচিত ছিলেন।
- ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয়দের বিচার করার ক্ষমতা প্রদান করে বিচার বিভাগে সমতা আনয়নের উদ্দেশ্যে এই বিলটি উত্থাপন করা হয়।
- বিলটি উত্থাপন করেন লর্ড রিপনের আইনমন্ত্রী সি. পি. ইলবার্ট। তবে বিলটি ইউরোপীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়, যারা ভারতীয় বিচারকদের অধীনে বিচার হতে রাজি ছিল না।
- অবশেষে ইউরোপীয়দের চাপে লর্ড রিপন বিলটি সংশোধন করে জুরি ব্যবস্থার শর্তে পাস করেন।
- এই বিতর্ক ভারতীয় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি করে এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ভিত গড়ে তোলে।
- পরবর্তীতে এটি ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (১৮৮৩) ও ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস (১৮৮৫) প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৮৬৫.
পঞ্চাশের মম্বন্তর হয়েছিলো কত সালে?
  1. ১৮৫০
  2. ১৯৪৩
  3. ১৯৪৭
  4. ১৯৭৪
সঠিক উত্তর:
১৯৪৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৩
ব্যাখ্যা

⇒ পঞ্চাশের মম্বন্তর হয়েছিলো ১৯৪৩ সালে।

পঞ্চাশের মন্বন্তর:
- দুর্ভিক্ষ, ১৯৪৩ সাধারণত পঞ্চাশের মন্বন্তর (বাংলা ১৩৫০ সালে) হিসেবে পরিচিত গুরুতর দুর্যোগ।
- এতে প্রদেশের প্রায় সাত লক্ষ পরিবারের অথবা ৩৮ লক্ষ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ও সামাজিক মর্যাদার লক্ষণীয় অবনতি ঘটে।
- ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৬ সালব্যাপী দুর্ভিক্ষে এবং এর ফলে সৃষ্ট মহামারিতে ৩৫ থেকে ৩৮ লক্ষ লোক মারা যায়।
- এ উপমহাদেশের যে কোনো অংশে ১৭৭০ সালের পর যেসব দুর্ভিক্ষ আঘাত হানে তার মধ্যে এটি ছিল চরমতম।
- বিশেষত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ক্রমবর্ধমান খাদ্যশস্যের মূল্য এ সময়ে আরও বেড়ে যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৮৬৬.
বাঙালি মুসলিম নারী সমাজের নবজাগরণের অগ্রদূত বলা হয় কাকে?
  1. ক) নূরজাহান বেগম
  2. খ) বেগম রোকেয়া
  3. গ) নবাব ফয়জুন্নেসা
  4. ঘ) আনোয়ারা বেগম
সঠিক উত্তর:
খ) বেগম রোকেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা
বেগম রোকেয়াকে বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয়।
বিশ শতকের প্রথমার্ধে তিনি নারীশিক্ষা বিশেষত মুসলিম নারীদের মধ্যে শিক্ষার প্রসারে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। এছাড়া তিনি নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং সরকারের নিকট নারীদের উন্নয়নে বিভিন্ন দাবী দাওয়া পেশ করেন।
বেগম রোকেয়া ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৩২ সালে কলকাতায় মারা যান।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৮৬৭.
ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা কে চালু করেন?
  1. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  2. লর্ড রিপন
  3. লর্ড ক্যানিং
  4. লর্ড কার্জন
সঠিক উত্তর:
লর্ড ক্যানিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা

লর্ড ক্যানিং:
- ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল এবং প্রথম ভাইসরয় লর্ড জন ক্যানিং।
- লর্ড ক্যানিং ১৮৫৬ থেকে ১৮৬২ সাল পর্যন্ত ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
- ১৮৫৮ সালের ১ নভেম্বর থেকে ভারতে প্রথম ভাইসরয় ছিলেন।
- তাঁর প্রশাসনের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লব-এর শুরু।
- লর্ড ক্যানিং বিদ্রোহটি দমন করেন এবং এ ঘটনার পর ১৮৫৮ সালে পার্লামেন্টারি আইন পাস হয়।
- লর্ড ক্যানিং ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা প্রচলন করেন।
- এর আগে মুদ্রা হিসেবে স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা ব্যবহৃত হতো।
- লর্ড ক্যানিং উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন।
- ১৮৬১ সালে লর্ড ক্যানিং পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
          ii) বাংলাপিডিয়া।

৮৬৮.
দ্বৈত শাসন প্রবর্তন করেন -
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড বেন্টিক
  3. রবার্ট ক্লাইভ
  4. লর্ড ডালহৌসি
সঠিক উত্তর:
রবার্ট ক্লাইভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবার্ট ক্লাইভ
ব্যাখ্যা

দ্বৈত শাসন:
- রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈত শাসন প্রবর্তন করেন।
- রবার্ট ক্লাইভ দেওয়ানি সনদের নামে বাংলার সম্পদ লুণ্ঠনের একচেটিয়া ক্ষমতা লাভ করে।
- দিল্লি কর্তৃক বিদেশি বণিক কোম্পানিকে এই অভাবিত ক্ষমতা প্রদানে সৃষ্টি হয় দ্বৈত শাসনের।
- অর্থাৎ যাতে করে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা, নবাব পরিণত হন ক্ষমতাহীন শাসকে।
- অথচ নবাবের দায়িত্ব থেকে যায় ষোলআনা। ফলে বাংলায় এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়।
- সারাদেশে শুরু হয় সীমাহীন বিশৃঙ্খলা।
- ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটান।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৬৯.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে কোন কলেজ থেকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেওয়া হয়?
  1. ক) প্রেসিডেন্সি কলেজ
  2. খ) সংস্কৃত কলেজ
  3. গ) হিন্দু কলেজ
  4. ঘ) ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
সঠিক উত্তর:
খ) সংস্কৃত কলেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সংস্কৃত কলেজ
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কে ১৮৩৯ সালে কলকাতা'র সংস্কৃত কলেজ থেকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেওয়া হয়।
তিনি এই কলেজেরই ছাত্র ছিলেন। অসাধারণ মেধার কারণে তাকে এই উপাধি দেওয়া হয়। সংস্কৃত কলেজের ছয়টি বিভাগের ছয়জন প্রতিথযশা অধ্যাপক ঈশ্বরচন্দ্রের বিদ্যাসাগর উপাধি সংক্রান্ত প্রশংসাপত্রে স্বাক্ষর করেন।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া, বিসিসি বাংলা এবং আনন্দবাজার পত্রিকা)
৮৭০.
‘ফোর্ট উইলিয়ম দুর্গ’ নির্মাণ করে কোন দেশের বাণিজ্যিক কোম্পানি?
  1. ক) ফরাসি
  2. খ) ডেনমার্ক
  3. গ) ইংল্যান্ড
  4. ঘ) হল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
গ) ইংল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইংল্যান্ড
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়ম কলকাতায় প্রাচ্যে ব্রিটিশরাজের সামরিক শক্তির সবচেয়ে বড় নিদর্শন। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭০০ সালে এই দুর্গটি স্থাপন করে। ইংল্যান্ডের রাজার সম্মানে দুর্গটির নামকরণ হয় - ফোর্ট উইলিয়াম।
ব্রিটেনের রানী প্রথম এলিজাবেথের নিকট থেকে প্রাপ্ত সনদের মাধ্যমে ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
১৬১২ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে। ১৬৩৩ সালে বাংলায় প্রথম হরিহরপুরে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশী যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয় এবং ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া]
৮৭১.
'তেভাগা আন্দোলন' বাংলার কয়টি জেলায় ছড়িয়ে পড়ে?
  1. ক) ১৭টি
  2. খ) ১৮টি
  3. গ) ১৬টি
  4. ঘ) ১৯টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯টি
ব্যাখ্যা
তেভাগা আন্দোলন
• ১৯৪৬-৪৭ সালে ভূমিমালিক এবং ভাগচাষিদের মধ্যে উৎপাদিত শস্য সমান দুই ভাগ করার পদ্ধতির বিরুদ্ধে বর্গাদাররা প্রবল আন্দোলন গড়ে তোলে যা তেভাগা আন্দোলন হিসেবে পরিচিত।
• কৃষি উৎপাদনের দুই-তৃতীয়াংশের দাবিতে সংগঠিত বর্গাচাষিদের আন্দোলন। তেভাগা শব্দের আভিধানিক অর্থ ফসলের তিন অংশ।
• তেভাগা আন্দোলন বাংলার ১৯টি জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনটি তীব্র আকার ধারণ করে দিনাজপুর, রংপুর, জলপাইগুড়ি, খুলনা, ময়মনসিংহ, যশোর এবং চবিবশ পরগনা জেলায়।
• এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ এবং ইলা মিত্র।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৮৭২.
ভারতীয় উপমহাদেশে পুলিশি ব্যবস্থা চালু করেন কে?
  1. লর্ড ক্যানিং
  2. লর্ড কার্জন
  3. লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
সঠিক উত্তর:
লর্ড ক্যানিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা
• লর্ড ক্যানিং:
- লর্ড ক্যানিং ১৮৫৬ থেকে ১৮৬২ সাল পর্যন্ত ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল।
- বিখ্যাত রাজনীতিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব জর্জ ক্যানিংয়ের তৃতীয় পুত্র চার্লস জন ক্যানিং।
- তাঁর সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লব-এর শুরু।
- লর্ড ক্যানিং বিদ্রোহটি দমন করেন।
- এবং এ ঘটনার পর ১৮৫৮ সালে পার্লামেন্টারি আইন পাস হয়।
- ১৮৬১ সালে ভারতীয় পুলিশ আইন পাসের মাধ্যমে লর্ড ক্যানিং ভারত উপমহাদেশে প্রথম পুলিশ ব্যবস্থা চালু করেন ।

উল্লেখ্য,
- ১৭৯৩ সালে 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' ব্যবস্থার প্রবর্তক হলেন লর্ড কর্নওয়ালিস । 
- লর্ড কার্জন: লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন।
- লর্ড কর্ণওয়ালিস: চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রশাসনিক ও বিচার ব্যবস্থার রূপকার।
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন: ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন।
- দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত লর্ড ক্লাইভ । 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮৭৩.
Who appoints the Hunter Commission?
  1. Lord Lytton
  2. Lord Ripon
  3. Lord Mayo
  4. Lord Minto
  5. Lord Mountbatten
সঠিক উত্তর:
Lord Ripon
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Lord Ripon
ব্যাখ্যা
হান্টার কমিশন:
- ১৮৫৪ সালে উডের ডেসপ্যাচে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উন্নতির জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
- কিন্তু এই ডেসপ্যাচের ভাবধারা কে অবহেলা করে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উপর গুরুত্ব না দিয়ে শুধু উচ্চশিক্ষা ও সরকারি স্কুল কলেজগুলিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতি একেবারেই হয় না।
- তাই সরকার প্রথমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নতি সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করেন।
 
 হান্টার কমিশন গঠন:
- এই পরিস্থিতিতে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড রিপন ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দের ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০ জন সদস্য নিয়ে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন।
- এটি প্রথম "ভারতীয় শিক্ষা কমিশন” নামে পরিচিত।
- এই কমিশন স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টারের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল বলে একে "হান্টার কমিশন” বলা হয়।
- স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টার ছিলেন এই কমিশনের সভাপতি।
- অন্যান্য সদস্যরা হলেন আনন্দমোহন বসু, কে.টি. তেলাং, ভূদেব মুখোপাধ্যায়, স্যার সৈয়দ আহমদ খান প্রমুখ।
- প্রাথমিক শিক্ষা ও নিরক্ষরতা বিষয়ে এই কমিশনকে বিশেষভাবে বিচার করার কথা বলা হয়।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮৭৪.
'আন্টাঘর ময়দান' হিসেবে নিচের কোনটি পরিচিত?
  1. আহসান মঞ্জিল
  2. লালবাগ কেল্লা
  3. বাহাদুর শাহ পার্ক
  4. সাতগম্বুজ মসজিদ
সঠিক উত্তর:
বাহাদুর শাহ পার্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাহাদুর শাহ পার্ক
ব্যাখ্যা
বাহাদুর শাহ পার্ক:
- বাহাদুর শাহ পার্ক বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে অবস্থিত।
- ১৮৫৮ সালে রানি ভিক্টোরিয়ার নামানুসারে এই স্থানের নামকরণ হয় ‘ভিক্টোরিয়া পার্ক’।
- পার্কটি 'আন্টাঘর ময়দান' নামে পরিচিত ছিল।
- ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর এক প্রহসনমূলক বিচারে ইংরেজ শাসকেরা ফাঁসি দেয় অসংখ্য বিপ্লবী সিপাহিকে।
- তারপর জনগণকে ভয় দেখাতে সিপাহিদের লাশ এনে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এই ময়দানের বিভিন্ন গাছের ডালে।
- ১৯৫৭ সালে (মতান্তরে ১৯৬১) সিপাহি বিদ্রোহের শতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে পার্কের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাহাদুর শাহ পার্ক।
- সিপাহী বিদ্রোহ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইংরেজ শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ এর শাসন পুনরায় আনার জন্য।
- তাই তাঁর নামানুসারে এর নতুন নামকরণ করা হয় ‘বাহাদুর শাহ পার্ক’।

 উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮৭৫.
’সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন’ কে গঠন করেন?
  1. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  2. নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ
  3. সৈয়দ আমীর আলী
  4. হাজী মুহাম্মদ মুহসীন
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমীর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমীর আলী
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আমীর আলী:
- সৈয়দ আমীর আলী জন্মগ্রহণ করেন আসামে। 
- তিনি কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি নিযুক্ত হয়েছিলেন।
- ১৯০৯ সালে লন্ডনে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য পদ লাভ করেন।
- ১৮৭৭ সালে সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন গঠন করেন।
- এটি ১৯২৪ সাল পর্যন্ত কার্যকর ছিল।

⇒ এছাড়াও,
- তিনি ব্রিটিশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি স্থাপনের অন্যতম উদ্যোক্তা।
- ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে ১৯২৮ সালে সিআইই উপাধি পান।
- ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য আন্দোলনের শুরু হয় তার মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন গঠন করার পর থেকে।

উল্লেখ্য,
- নওয়াব আব্দুল লতিফ মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- কলকাতায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখেন।
- নীল কমিশন গঠনে তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮৭৬.
তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলনের নাম কী?
  1. সিপাহী বিপ্লব
  2. তাহরিক ই মুহম্মদীয়া
  3. সন্ন্যাসী আন্দোলন
  4. ফরায়েজি আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
তাহরিক ই মুহম্মদীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাহরিক ই মুহম্মদীয়া
ব্যাখ্যা

তিতুমীর:
- তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলন তাহরিক ই মুহম্মদীয়া।
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- উত্তর ভারত ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে যখন ওয়াহাবি আন্দোলনের (তাহরিক ই মুহম্মদীয়া) জোয়ার চলছে, তখন পশ্চিম বঙ্গের বারাসাত অঞ্চলে তিতুমীরের নেতৃত্বে এই আন্দোলন প্রবল আকার ধারণ করে।
- ওয়াহাবি আন্দোলন ছিল উত্তর ভারতের সৈয়দ আহমদ শহীদের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত।
- তিতুমীর হজ করার জন্য মক্কা শরিফ যান এবং ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে দেশে ফিরে আসেন।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিতুমীর তাঁর প্রধান ঘাটি স্থাপন করেন। নির্মাণ করেন ইতিহাস খ্যাত তাঁর বাঁশের কেল্লা।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে তিতুমীরের বিরুদ্ধে ইংরেজ সরকার এক বিশাল সুশিক্ষিত সেনা বাহিনী প্রেরণ করে। মেজর স্কটের নেতৃত্বে এই বাহিনী তিতুমীরের নারিকেলবাড়িয়ার বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে।এই যুদ্ধে তিনি নিহত হন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৭৭.
কোনটি সিপাহী বিদ্রোহের ফলাফল?
  1. ক) জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ
  2. খ) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান
  3. গ) কলকাতা থেকে দিল্লিতে রাজধানী স্থানান্তর
  4. ঘ) ভারতকে ডোমিনিয়নের মর্যাদা প্রদান
সঠিক উত্তর:
খ) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান
ব্যাখ্যা
- সিপাহি বিদ্রোহ ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম। ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে মঙ্গলপাণ্ডে নামে এক সিপাহী কর্তৃক গুলি বর্ষণের মাধ্যমে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে।
- পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
- তবে এ বিদ্রোহের ফলে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে। ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার সরাসরি তার হাতে নিয়ে নেয়।
- এর ফলে সর্বশেষ গর্ভনর জেনারেল লর্ড ক্যানিং প্রথম ভাইসরয় হিসেবে নিযুক্ত হন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৮৭৮.
স্বদেশী আন্দোলনের নেতৃত্বদান করেন কে?
  1. বলভভাই প্যাটেল
  2. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. অরবিন্দ ঘোষ
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
স্বদেশী আন্দোলন
- স্বদেশী আন্দোলন ছিলো একটি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন। এটি গান্ধীপূর্ব আন্দোলনসমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সফল আন্দোলন বিবেচনা করা হয়।
- বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতার অংশ হিসেবে ১৯০৫ সালে স্বদেশী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।

- স্বদেশী আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।
- এই আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিলেতি পণ্য বর্জন। পরে বিলেতি শিক্ষা বর্জনও এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এই আন্দোলনের মূল বিষয় ছিলো ইংরেজদের সবকিছু বয়কট ও স্বদেশী পণ্যের ব্যবহার।
- আমাদের জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি' গানটি রবীন্দ্রনাথ ঐ সময় রচনা করেন। 

-  মুসলমানরা বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ছিলো, তাই তারা স্বদেশী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়নি।
- যার কারণে স্বদেশী আন্দোলনের ফলে বাংলার হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের অবনতি হয়। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭৯.
নাচোল বিদ্রোহের নেত্রীর নাম কী?
  1. কাদম্বিনী
  2. ইলা মিত্র
  3. লক্ষ্মীরাণী
  4. বেগম রোকেয়া
সঠিক উত্তর:
ইলা মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলা মিত্র
ব্যাখ্যা
নাচোল বিদ্রোহ:
- নাচোল উপজেলার জমিদারদের বিরুদ্ধে সাঁওতাল কৃষকদের বিদ্রোহের নেত্রীর নাম ইলা মিত্র।
⇒ কিংবদন্তিতুল্য কৃষক নেত্রী ইলা মিত্রের নেতৃত্বে ১৯৪৯-৫০ সালে বৃহত্তর রাজশাহী জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহকুমার অন্তর্গত নাচোল উপজেলার জমিদারদের বিরুদ্ধে সাঁওতাল কৃষকদের বিদ্রোহ সংঘটিত হয় যা ইতিহাসে নাচোল বিদ্রোহ নামে পরিচিত।
• ১৯৪৯-৫০ সালে বৃহত্তর রাজশাহী জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহকুমার অন্তর্গত নাচোল উপজেলার সাঁওতাল কৃষকদের বিদ্রোহ।
•  সে সময়কার তেভাগা, নানকার এবং টঙ্ক আন্দোলনের মতোই নাচোল বিদ্রোহটিও সংগঠিত করেন কম্যুনিস্ট পার্টির কর্মীরা।
• তাঁরা বাংলায় সমাজ বিপ্লব সাধনের লক্ষ্যে নাচোলের সাঁওতাল কৃষকদের বৈপ্লবিক সংঘটনার একটি কৌশলগত জনগোষ্ঠি হিসেবে চিহ্নিত করেন।

উল্লেখ্য,
• ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর এবং ১৯৫০ সালের প্রথমার্ধে নাচোল উপজেলার ঘাসুরা, চন্ডীপুর, কেন্দুয়া, রাউতারা, জগদাই, ধারোল, শ্যামপুরা এবং নাপিত পাড়ার মতো গ্রামের চাষিরা তাদের জোতদারদের খাজনা দেওয়া বন্ধ করে দেয়।
• তাদের দাবি ছিল, প্রথা অনুযায়ী তিন আড়ি ধানের পরিবর্তে তাদেরকে শ্রম-ভাড়া বাবদ কুড়ি আড়িতে সাত আড়ি ধান প্রদানে জোতদারদের সম্মত হতে হবে এবং আধিয়ারদের মতো জমি চাষের জন্য তাদেরকে উৎপাদিত ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ দিতে হবে। এ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ঘটে।
• বহু পুলিশ নিহত হয় এবং জোতদারদের ঘরবাড়ি লুট হয়। জমিদার ও জোতদারগণ পুলিশের সহায়তায় পাশবিক অত্যাচারের পন্থা গ্রহণ করে।এতে আন্দোলন আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে।
• কৃষক সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যে  ইলা মিত্র, অনিমেষ লাহিড়ী, আজহার শেখ, বৃন্দাবন সাহা এবং আরও প্রায় কুড়িজন সংগ্রামী ব্যক্তি ছিলেন। তাঁদের সকলকেই গ্রেফতার করা হয় এবং বিচার করে দীর্ঘমেয়াদি দন্ড প্রদান করা হয়।
• পরবর্তীকালে ইলা মিত্রসহ অনেকে রাজনৈতিক কারণে মুক্তি লাভ করেন। 
• ১৯৫০ সালের  পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনএর আওতায় সাঁওতাল চাষিদের জমির ওপর অধিকার দেওয়া হয় এবং তারা অন্যান্য সাধারণ চাষিদের মতো প্রচলিত হারে নগদে খাজনা পরিশোধের অধিকার লাভ করে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৮৮০.
ডিরোজিও কোন আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন? 
  1. ফরায়েজি আন্দোলন
  2. ব্রাহ্মসমাজ আন্দোলন 
  3. ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলন
  4. ওয়াহাবি আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলন
ব্যাখ্যা

ডিরোজিও ও ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট:
- হেনরি লুই ডিরোজিও ১৮০৯ সালের ১৮ই এপ্রিল কোলকাতা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ছিলেন পর্তুগিজ এবং মা ছিলেন বাঙালি।
- ডিরোজিও ইংরেজি শিক্ষার স্কুল ডেভিড ড্রামন্ডের ধর্মতলা একাডেমিতে পড়ালেখা শুরু করেন।
- এই শিক্ষকের আদর্শ ডিরোজিওকে তাঁর শিশুকাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রভাবিত করে রেখেছিল।
- বাঙালি যুব সমাজের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টিকারী 'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা।
- বয়সে তরুণ হলেও তিনি ইতিহাস, ইংরেজি, সাহিত্য, দর্শন শাস্ত্রে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।
- ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের সদস্যরা এ দেশবাসীকে বারবার এ কথাই বোঝাতে চেয়েছে যে, তারা ব্রিটিশ কর্তৃক শাসিত ও শোষিত হচ্ছে। এ কারণে এই তরুণরা ভারতবাসীর স্বার্থবিরোধী সব কাজের ঘোর বিরোধিতা করেছে। যেমন- প্রেস আইন, মরিশাসে ভারতীয় শ্রমিক রপ্তানি,  ভারতবাসীর স্বার্থের প্রতি উদাসীন ১৮৩৩ সালের চার্টার আইন এদের দ্বারা তীব্রভাবে সমালোচিত হয়েছে।
- তরুণ সমাজের পুরোনো ধ্যান-ধারণা পাল্টে দিতে ডিরোজিও কর্তৃক ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত একাডেমি অ্যাসোসিয়েশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
-  ১৮৩০ সালে ডিরোজিওর অনুপ্রেরণায় হিন্দু কলেজের ছাত্ররা 'পার্থেনন' নামে একটি ইংরেজি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করে।
- এতে সমাজ, ধর্ম, বিভিন্ন কুসংস্কারের বিরুদ্ধে নিন্দাসূচক সমালোচনা প্রকাশিত হতে থাকলে কলেজ কর্তৃপক্ষ এটি বন্ধ করে দেয়।
- তিনি ১৮৩১ সালে 'হিসপাবাস' নামক একটি পত্রিকা সম্পাদনা এবং 'ইস্ট ইন্ডিয়া' নামে একটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলা পিডিয়া। 

৮৮১.
অবিভক্ত বাংলায় কার সময়ে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়?
  1. লর্ড রিপন
  2. লর্ড লিটন
  3. লর্ড মেয়ো
  4. লর্ড ক্যানিং
সঠিক উত্তর:
লর্ড মেয়ো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড মেয়ো
ব্যাখ্যা

অবিভক্ত বাংলায় প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৮৭২ সালে লর্ড মেয়ো-এর শাসনামলে।

লর্ড মেয়ো:
- লর্ড মেয়ো ১৮৬৯ - ৭২ সাল পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় এবং গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
- তিনি মেয়ো-র পঞ্চম আর্ল-এর পুত্র।
- পিতার উত্তরাধিকারী ষষ্ঠ আর্ল ভারতে আসেন লর্ড মেয়ো হিসেবে এবং তাঁর অব্যবহিত পূর্বসূরিদের অনুসৃত অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি অব্যাহত রাখেন। 

⇒ সম্ভবত তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার সংস্কার।
- তিনি লবণ কর ও আয়কর বৃদ্ধি করেছিলেন।
- তিনি প্রশাসনে ব্যয় সংকোচন ঘটান এবং প্রাদেশিক সরকারগুলিকে পাঁচ বছরের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থবরাদ্দ করার ব্যবস্থা করে অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেন। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যথেষ্ট উন্নত হয়।
- তাঁর শাসনামলেই ভারতবর্ষের প্রথম আদমশুমারি শুরু হয়।
- তিনি দেশে পরিসংখ্যান জরিপের ব্যবস্থা করেন এবং কৃষি ও বাণিজ্য বিভাগ সৃষ্টি করেন।
- দেশীয় রাজন্যবর্গ ও প্রধানদের সন্তান-সন্ততির লেখাপড়ার জন্য তিনি আজমীরে মেয়ো কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আন্দামান সফরে গিয়ে তিনি জনৈক পাঠান কয়েদির ছুরিকাঘাতে নিহত হন।

উল্লেখ্য,
- লর্ড মেয়ো ভারতবর্ষে পরিসংখ্যান জরিপ চালু করেন এবং তার শাসনামলেই ১৮৭২ সালে উপমহাদেশের প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮৮২.
প্রশাসনিক উদ্দেশ্যে বাংলা প্রদেশকে দুইভাগে বিভক্ত করেন -
  1. লর্ড বেন্টিক
  2. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  3. লর্ড ক্লাইভ
  4. লর্ড কার্জন
সঠিক উত্তর:
লর্ড কার্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড কার্জন
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ ও নতুন প্রদেশ সৃষ্টি:
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ করে দুটি প্রদেশ করা হয়।
- প্রধানত প্রশাসনিক প্রয়োজন এবং সেই সাথে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে বিশাল আয়তনের বাংলা প্রদেশকে বিভক্ত করেন।

⇒ পূর্ব বঙ্গের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগের সাথে জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা, মালদাহ ও আসামকে যুক্ত করে পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশ নামে একটি নতুন প্রদেশ সৃষ্টি করা হয়। নতুন প্রদেশের আয়তন দাঁড়ায় ১০৬,৫৪০ বর্গমাইল। জনসংখ্যা ৩ কোটি ১০ লক্ষ। এর মধ্যে ১ কোটি ৮০ লক্ষ ছিল মুসলমান। নতুন প্রদেশের রাজধানী করা হয় ঢাকা এবং অনুসঙ্গী সদর দপ্তর চট্টগ্রামে।

⇒ পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে আরেকটি প্রদেশ হয়। এর নামকরণ করা হয় বাংলা প্রদেশ। বাংলা প্রদেশের রাজধানী করা হয় কলকাতা।

উল্লেখ্য,
- নতুন প্রদেশে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় তারা কার্জনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানায়।
- অন্যদিকে উচ্চ বর্ণের হিন্দুরা এর তীব্র বিরোধিতা করে।
- কংগ্রেস এর বিরুদ্ধে একটি তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে।
- শেষ পর্যন্ত সরকার ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করে ।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮৩.
১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লব কার নেতৃত্বে শুরু হয়?
  1. বাহাদুর শাহ জাফর
  2. ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাই
  3. মঙ্গল পাণ্ডে
  4. টিপু সুলতান
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল পাণ্ডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল পাণ্ডে
ব্যাখ্যা

সিপাহি বিপ্লব: 
- ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লবের সূচনা করেন মঙ্গল পাণ্ডে।
- ২৯ মার্চ ১৮৫৭ সালে ব্যারাকপুর সেনানিবাসে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর একজন ভারতীয় সিপাহি হিসেবে তিনি প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করেন।
- বিদ্রোহের মূল কারণ ছিল এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজ, যা গরু ও শুকরের চর্বি দিয়ে তৈরিকৃত বলে ধারণা করা হতো এবং
- এটি ধর্মীয়ভাবে হিন্দু ও মুসলমান সিপাহিদের জন্য আপত্তিকর ছিল।
- বিদ্রোহ দ্রুত মিরাট, দিল্লি ও ভারতের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
- বাহাদুর শাহ জাফর বিদ্রোহীদের মনোনীত নেতা হন।
- নানাসাহেব, তাতিয়া টোপি, ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাই প্রমুখ নেতারা এই বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
- চট্টগ্রাম, ঢাকা, সিলেটসহ বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলেও বিদ্রোহের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
- ব্রিটিশ সেনারা কঠোরভাবে বিদ্রোহ দমন করে এবং বহু বিদ্রোহীকে মৃত্যুদণ্ড ও নির্বাসনে পাঠানো হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।  

৮৮৪.
দুদু মিয়া কোন আন্দলনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন?
  1. তেভাগা আন্দোলন
  2. স্বদেশী আন্দোলন
  3. ফরায়েজী আন্দোলন
  4. ওয়াহাবী আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ফরায়েজী আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরায়েজী আন্দোলন
ব্যাখ্যা

• দুদু মিয়া :
- দুদু মিয়া (১৮১৯-১৮৬২)  হাজী শরীয়তউল্লাহর একমাত্র পুত্র।
- তিনি ১৮১৯ সালে মাদারীপুর জেলার শ্যামাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম মুহসীনউদ্দীন, ‘দুদু মিয়া’ ছিল তাঁর ডাক নাম।
- ১৮৪০ সালে পিতার মৃত্যুর পর দুদু মিয়া ফরায়েজী আন্দোলন এর নেতৃত্ব লাভ করেন।
- পিতার আর্থ-সামাজিক নীতি অনুসরণ করে দুদু মিয়া মানব কল্যাণে সমতা ও ভ্রাতৃত্বের ঘোষণা দেন এবং শ্রমের ওপর জমির মালিকানা নিহিত এ মতবাদ প্রচার করেন। 
- তিনি ঘোষণা করেন ‘জমির মালিকানা কৃষকের’। 
- তাঁর এ ঘোষণা নির্যাতিত কৃষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের কৃষকরা ফরায়েজী আন্দোলনের সমর্থনে তাঁর চারপাশে ভিড় জমাতে থাকে। 
- দুদু মিয়াকে ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লব এর পর সরকার বন্দি করে।
- ১৮৬১ সালে মুক্তির পূর্বপর্যন্ত কলকাতার নিকটবর্তী আলীপুর জেলে তাঁকে আটক রাখা হয়। 
- ১৮৬২ সালে ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮৮৫.
কার প্রচেষ্টায় কলকাতা মাদ্রাসায় অ্যাংলো-পার্সিয়ান বিভাগ খোলা হয়?
  1. নওয়াব আবদুল লতিফ
  2. হেনরি লুই ডিরোজিও
  3. হাজী শরীয়তুল্লাহ
  4. সৈয়দ আমীর আলি
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা
• নওয়াব আবদুল লতিফ:
 - নওয়াব আবদুল লতিফ বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষার বিস্তারের গুরুত্ব বুঝতে পারেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় কলকাতা মাদ্রাসায় অ্যাংলো-পার্সিয়ান বিভাগ খোলা হয়। সেখানে উর্দু এবং বাংলা শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়।
- তাঁর প্রচেষ্টায় হিন্দু কলেজ প্রেসিডেন্সি কলেজে রূপান্তর করা হয়।
- আবদুল লতিফের প্রচেষ্টার কারণে ১৮৭৩ সালে মহসীন ফান্ডের টাকা শুধু বাংলার মুসলমানদের শিক্ষায় ব্যয় হবে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- আব্দুল লতিফের উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব হচ্ছে ১৮৬৩ সালে কলকাতার মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি বা মুসলিম সাহিত্য-সমাজ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৮৬.
বাংলায় 'পাঁচসালা বন্দোবস্ত' চালু করেন কে?
  1. ওয়ারেন হেস্টিংস
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. রবার্ট ক্লাইভ
  4. লর্ড ওয়েলেসলি
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা

• পাঁচসালা বন্দোবস্ত:

- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের আগে ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস রাজস্ব আদায়ের জন্য পাঁচসালা বন্দোবস্ত চালু করেন
- জমি বন্দোবস্তের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকায় জমিদাররা অর্থ আদায়ের জন্য কৃষকদের প্রতি চরম নির্যাতন মূলক ব্যবস্থা নিতো।
- অথচ কৃষকের বা জমির উন্নয়নের প্রতি তাদের কোনো লক্ষ ছিল না।
- এ অবস্থায় হেস্টিংস জমিদারদের সঙ্গে এক সালা বন্দোবস্ত চালু করেন।
- ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে কর্নওয়ালিস দশসালা বন্দোবস্ত চালু করেন। 

তথ্যসূত্র:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৮৭.
পলাশী যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে ভারতে - 
  1. বাংলার স্বাধীন নবাবি শাসনের পুনর্জাগরণ হয়
  2. বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনা হয়
  3. মুঘল সম্রাটদের ক্ষমতা সুসংহত হয়
  4. ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শাসনের পথ প্রশস্ত হয়
সঠিক উত্তর:
বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনা হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনা হয়
ব্যাখ্যা
পলাশী যুদ্ধ:
→ ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের কারণে বাংলায় ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত
হয়।
→ স্বাধীনচেতা মীর কাশিম ইংরেজদের অনুগত না হয়ে স্বাধীনভাবে দেশ পরিচালনার জন্য একের পর এক পদক্ষেপ গ্রহণ
করে। যার ফলে শেষ পর্যন্ত ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দে বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
→ এই যুদ্ধে বাংলার নবাব একা পরাজিত হননি তাঁর সাথে তার মিত্র দিল্লির সম্রাট শাহ আলম অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলাও পরাজিত হন। এই তিন শক্তির এক সঙ্গে পরাজয়ের কারণে ইংরেজদের মর্যাদা ও শক্তি বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের পথ সুনিশ্চিত হয়। যার পরিণতিতে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি একশবছর অর্থাৎ ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই উপমহাদেশ শাসন করতে সক্ষম হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮৮.
বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে কে পরাজিত হন?
  1. মীর কাশিম
  2. নবাব সিরাজউদ্দৌলা
  3. মীর জাফর
  4. আলী বর্দি খান
সঠিক উত্তর:
মীর কাশিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর কাশিম
ব্যাখ্যা

• বক্সারের যুদ্ধ:
- বক্সারের যুদ্ধে মীর কাসিম পরাজিত হন।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৬০ সালের ২০ অক্টোবর মীর জাফরকে সরিয়ে দিয়ে তার জামাতা মীর কাসিমকে মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করেছিল।
- মীর কাসিম নবাব হয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে চেষ্টা করে।
- ১৭৬৩ সালের ৭ জুলাই নবাব বাহিনীর সাথে ইংরেজদের ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়। 
- পরপর কাটোয়া, ঘেরিয়া, মুর্শিদাবাদ, সুটি, উদয়নালা ও মুঙ্গেরে নবাব বাহিনীর সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ হয়েছিল।
- নবাব তখন পরাজিত হয়ে পাটনায় পালিয়ে গিয়েছিলেন।
- এরপর অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা এবং মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাহায্য নিয়ে তিনি বাংলাকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন। 
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে দু'পক্ষে প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়।
- তাদের সম্মিলিত বাহিনী বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৮৯.
ইংরেজরা উপমহাদেশে তাদের প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে কোথায়?
  1. কালিকট
  2. সুরাট
  3. হুগলি
  4. আগ্রা
সঠিক উত্তর:
সুরাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুরাট
ব্যাখ্যা

• ইংরেজ:
- ইংল্যান্ডের একদল বণিক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নামে একটি বণিক সংঘ গড়ে তোলে।
- বণিক সংঘটি ১৬০০ সালে রানি এলিজাবেথের কাছ থেকে ১৫ বছর মেয়াদি প্রাচ্যে একচেটিয়া বাণিজ্য করার সনদপত্র লাভ করে।
- এই সনদপত্র নিয়ে কোম্পানির প্রতিনিধি বাণিজ্যিক সুবিধা লাভের আশায় আকবরের দরবারে হাজির হন।
- এরপর ক্যাপ্টেন হকিন্স ১৬০৮ সালে রাজা প্রথম জেমসের সুপারিশপত্র নিয়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
- তাঁর অনুমতি নিয়ে ১৬১২ সালে সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপিত হয়।
- পরবর্তীকালে ১৬১৫ সালে প্রথম জেমসের দূত হয়ে জাহাঙ্গীরের দরবারে আসেন স্যার টমাস রো।
- সম্রাটের কাছ থেকে তিনি ইংরেজদের জন্য বাণিজ্যিক সুবিধা আদায় করে নেন।
- কোম্পানি সুরাট, আগ্রা, আহমেদাবাদ প্রভৃতি স্থানে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে তাদের ভিত্তি মজবুত করে।
- কোম্পানি দ্বিতীয় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে মসলিপট্টমে।
- এরপর বাংলার বালাসোরে আরেকটি বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- তাদের শক্তি ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকলে তারা করমণ্ডল (মাদ্রাজ শহর) উপকূলে একটি দুর্গ নির্মাণ করতে সক্ষম হয়।
- বাংলার সুবাদার শাহ সুজার অনুমোদন লাভ করে তারা ১৬৫৮ সালে হুগলিতে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- এভাবে কোম্পানি কাশিমবাজার, ঢাকা, মালদহেও বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম - ১০ম শ্রেণি।

৮৯০.
কত তারিখ ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম’ প্রদেশের সৃষ্টি হয়?
  1. ক) ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর
  2. খ) ১৯০৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর
  3. গ) ১৯০৫ সালের ১৫ অক্টোবর
  4. ঘ) ১৯০৫ সালের ৩০ আগস্ট
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ
• ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর লর্ড কার্জনের সময়ে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করা হয় যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
• বঙ্গভঙ্গ অবিভক্ত বাংলায় তথা সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা প্রদান করা হয় এবং ১৫ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হয়।
• ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং আসাম নিয়ে গঠিত হয় 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' প্রদেশ। এ প্রদেশের রাজধানী স্থাপিত হয় ঢাকায়।
• পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ। এ প্রদেশের রাজধানী হয় কলকাতা।
• কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুদের তীব্র বিরোধিতা এবং সহিংস আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
• লর্ড হার্ডিঞ্জের সময় ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৯১.
র‍্যাডক্লিফ সীমারেখা নির্ধারিত হয় -
  1. ক) ১৯১১ সালে
  2. খ) ১৯৩৭ সালে
  3. গ) ১৯৪০ সালে
  4. ঘ) ১৯৪৭ সালে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৪৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৪৭ সালে
ব্যাখ্যা
র‍্যাডক্লিফ সীমারেখা 
- র‌্যাডক্লিফ লাইন হল ভারত ও পাকিস্তানের সীমারেখা।
- র‌্যাডক্লিফ লাইন ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারতকে দুটি স্বাধীন দেশ ভারত ও পাকিস্তানে বিভক্ত করে।
- র‌্যাডক্লিফ লাইনের নামকরণ করা হয়েছিল এর স্থপতি স্যার সিরিল র‌্যাডক্লিফের নামে।
- তিনটি ভারতীয় রাজ্য এবং দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পাকিস্তানের সাথে একটি সীমানা ভাগ করে নেয়।
- ১৭ই আগস্ট ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজন সংক্রান্ত সীমানা নির্ধারণ রেখার অন্তিম পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়৷ 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮৯২.
বক্সারের যুদ্ধে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পক্ষে কে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন? 
  1. রবার্ট ক্লাইভ
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. মেজর হেক্টর মুনরো
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস
সঠিক উত্তর:
মেজর হেক্টর মুনরো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেজর হেক্টর মুনরো
ব্যাখ্যা

বক্সারের যুদ্ধ:
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৬০ সালের ২০ অক্টোবর মীর জাফরকে সরিয়ে দিয়ে তার জামাতা মীর কাসিমকে মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করেছিল।
 - তার মাত্র চার বছরের রাজত্বকাল ১৭৬০ থেকে শুরু হয়ে ১৭৬৪ খ্রিষ্টাব্দে শেষ হয়েছিল।
 
⇒ মীর কাসিম নবাব হয়ে স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে বদ্ধপরিকর হয়েছিলেন। ইংরেজদের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণের বিরুদ্ধে তিনি রুখে দাঁড়াতে চেষ্টা করেন।
- নবাব মীর কাসিমের সাথে ইংরেজদের বিরোধ চরমে উঠলে তা পাটনায় সংঘর্ষের রূপ নেয়।
- এরপর ১৭৬৩ সালের ৭ জুলাই নবাব বাহিনীর সাথে ইংরেজদের ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়।
 - পরপর কাটোয়া, ঘেরিয়া, মুর্শিদাবাদ, সুটি, উদয়নালা ও মুঙ্গেরে নবাব বাহিনীর সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ হয়েছিল। নবাব তখন পরাজিত হয়ে পাটনায় পালিয়ে গিয়েছিলেন।
 - এরপর অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা এবং মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাহায্য নিয়ে তিনি বাংলাকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন।
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে দু'পক্ষে প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়।
- মেজর হেক্টর মুনরোর নেতৃত্বে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী এবং মীর কাসিম, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা-এর সম্মিলিত সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াই হয়েছিল।
- তাদের সম্মিলিত বাহিনী বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়।
- নিদারুণ দুঃখকষ্ট ও দারিদ্র ভোগ করে ১৭৭৭ সালের ৬ জুন জন্মভূমি থেকে অনেক দূরে শাজাহানাবাদের এক অখ্যাত পল্লীতে মৃত্যুবরণ করেছিলেন মীর কাসিম।
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।

৮৯৩.
ব্রিটিশ আমলে বাংলাদেশে যেসব আন্দোলন হয়েছিল তার মধ্যে কোনটি প্রধান?
  1. ক) কোরাইশী আন্দোলন
  2. খ) হাসেমী আন্দোলন
  3. গ) সৈয়দ আন্দোলন
  4. ঘ) ফরায়েজী আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফরায়েজী আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফরায়েজী আন্দোলন
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ আমলে বাংলাদেশে যেসব আন্দোলন হয়েছিল তার মধ্যে প্রধান হচ্ছে - ফরায়েজী আন্দোলন।

ফরায়েজী আন্দোলন:
- ফরায়েজী আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপদান করেন দুদু মিয়া।
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরিয়াত উল্লাহ বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহর এই সংস্কার আন্দোলনের নামই ফরায়েজি আন্দোলন।

- ফরায়েজি শব্দটি আরবি ‘ফরজ’ (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে। যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি।
-  শরিয়ত উল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।

- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে শরিয়ত উল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। 
- ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
- ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর যোগ্যপুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া।

- তিনি ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে দুদু মিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯৪.
ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ কত সালে শুরু হয়েছিল?
  1. ১৭৬০ সালে
  2. ১৭৬৬ সালে
  3. ১৭৭৩ সালে
  4. ১৭৮৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৬০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৬০ সালে
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ।
- ইংরেজ সরকার তীর্থস্থান দর্শনের উপর করারোপ করে, ভিক্ষা ও মুষ্টি সংগ্রহকে বেআইনি ঘোষণা করে।
- তাছাড়া তাদেরকে ডাকাত-দস্যু বলে আখ্যায়িত করতে থাকে।
- ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে ফকির সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনে অবতীর্ণ হয়।
- বিদ্রোহী ফকির দলের নেতার নাম ছিল মজনু শাহ।
- আর সন্ন্যাসীদের নেতার নাম ছিল ভবানী পাঠক।
- তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কুঠি, জমিদারদের কাছারি ও নায়েব-গোমস্তার বাড়ি।

⇒ ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।

- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
- এই সব অঞ্চলে ইংরেজদের সঙ্গে বিদ্রোহী ফকির-সন্ন্যাসীদের বহু সংঘর্ষ সংঘটিত হয়।
- এ সব সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা অনেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুঠ করে ।
- ফকির মজনু শাহ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- এই নেতারা কয়েক বছর ইংরেজ প্রশাসনকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯৫.
রেঙ্গুনে নির্বাসিত করা হয় কাকে?
  1. ক) শাহ আলম
  2. খ) টিপু সুলতান
  3. গ) দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
  4. ঘ) মীর কাশিম
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
ব্যাখ্যা
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ ব্যর্থ হলে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে মিয়ানমারের রেঙ্গুনে নির্বাসন দেওয়া হয়। সেখানেই ১৮৬২ সালে তার ‍মৃত্যু হয়। সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ছিলেন শেষ মুঘল সম্রাট। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং রোর বাংলা)
৮৯৬.
নিচের কোন সনে বাংলায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হয়?
  1. ১১৭০ বঙ্গাব্দ
  2. ১৩৪৩ বঙ্গাব্দ
  3. ১৩৫০ বঙ্গাব্দ
  4. ১২৭৬ বঙ্গাব্দ
সঠিক উত্তর:
১৩৫০ বঙ্গাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩৫০ বঙ্গাব্দ
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৩ সালে বাংলায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হয় যা পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত। বাংলা ১৩৫০ সালে এই দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হওয়ায় একে পঞ্চাশের মন্বন্তর বলা হয়।
- এই দুর্ভিক্ষে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ মারা যায়।
- এ দুর্ভিক্ষকে কেন্দ্র করে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
- ১১৭৬ বঙ্গাব্দে (১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ) বাংলায় সংঘটিত দুর্ভিক্ষ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৮৯৭.
উপমহাদেশে প্রথম ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহ -
  1. সিপাহী বিদ্রোহ
  2. ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  3. ফরায়েজি আন্দোলন
  4. স্বদেশী আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ (১৭৬০-১৮০০)

• বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল প্রথম ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহ।
• ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ চলে।
• আন্দোলনকারী ফকির-সন্ন্যাসীগণ ছিলেন মাদারিয়া সুফি তরিকার অনুসারী।
• নবাব মীর কাশিম ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধে ফকির-সন্ন্যাসীদের সাহায্য চান।
• বিদ্রোহী ফকির দলের নেতার নাম ছিল মজনু শাহ।
• সন্ন্যাসীদের নেতার নাম ছিল ভবানী পাঠক।
• তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কুঠি, জমিদারদের কাছারি ও নায়েব-গোমস্তার বাড়ি।
• ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
• ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন। -১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
• তবে এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে ফকির।
• মজনু শাহর যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি, অর্থাৎ অতর্কিতে আক্রমণ করে নিরাপদে সরে যাওয়া।
• মজনু শাহর মত্যুর পর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ।ণ
• ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চুড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম - ১০ম শ্রেণি এবং ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯৮.
বাংলার চুঁচুড়া ও বাকুঁড়ায় বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ করে কারা?
  1. ওলন্দাজরা
  2. ফরাসিরা
  3. ইংরেজরা
  4. পর্তুগিজরা
সঠিক উত্তর:
ওলন্দাজরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওলন্দাজরা
ব্যাখ্যা
• ওলন্দাজ বা ডাচ:
- হল্যান্ডের অধিবাসীদের ওলন্দাজ বা ডাচ বলা হয়।
- ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজরা জলপথে উপমহাদেশে আসে।
- প্রাচ্য বাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে হল্যান্ডের একদল বণিক ‘ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ গঠন করে।
- তারা কালিকট, নাগাপট্টম, বাংলার চুঁচুড়া ও বাঁকুড়ায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- এছাড়া বালেশ্বর, কাশিমবাজার এবং বরানগরেও তাদের কুঠি ছিল।
- প্রথমে ওলন্দাজগণ ইংরেজদের সাথে রেশমী সূতা, সুতি কাপড় চাল, ডাল সোরা ও তামাক এদেশ থেকে রপ্তানি করত এবং অন্যদেশ থেকে এদেশে মসলা আমদানি 
- এ বিরোধ বেশি বেড়ে গেলে ইংরেজগণ ওলন্দাজ কুঠিগুলো দখল করে ফেলে।
- বর্তমান ইন্দোনেশিয়া ওলন্দাজদের কাছ থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে। 

সূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯৯.
ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ ছিল -
  1. ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  2. নাচোল বিদ্রোহ
  3. টঙ্ক বিদ্রোহ
  4. সিপাহী বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ।

⇒ ইংরেজ সরকার তীর্থস্থান দর্শনের উপর করারোপ করে, ভিক্ষা ও মুষ্টি সংগ্রহকে বেআইনি ঘোষণা করে। তাছাড়া তাদেরকে ডাকাত-দস্যু বলে আখ্যায়িত করতে থাকে। ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে ফকির সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনে অবতীর্ণ হয়।
- বিদ্রোহী ফকির দলের নেতার নাম ছিল মজনু শাহ। আর সন্ন্যাসীদের নেতার নাম ছিল ভবানী পাঠক।
- তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কুঠি, জমিদারদের কাছারি ও নায়েব-গোমস্তার বাড়ি।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে। ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন। ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
- এই সব অঞ্চলে ইংরেজদের সঙ্গে বিদ্রোহী ফকির-সন্ন্যাসীদের বহু সংঘর্ষ সংঘটিত হয়।
- ফকির মজনু শাহ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

অন্যদিকে,
- নাচোল বিদ্রোহ (১৯৪৯-১৯৫০) ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ), চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলায় একটি কৃষক বিদ্রোহ।
- টঙ্ক আন্দোলন ১৯৪৬-৫০ সালে উত্তর ময়মনসিংহে কৃষকদের দ্বারা পরিচালিত একটি আন্দোলন। 
- সিপাহি বিদ্রোহ ১৮৫৭ সালের ১০ মে মিরাট শহরে শুরু হওয়া ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাবাহিনীর সিপাহিদের একটি বিদ্রোহ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০০.
কোন দেশের বাণিজ্যিক কোম্পানি ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মাণ করে?
  1. ফ্রান্স
  2. পর্তুগাল
  3. নেদারল্যান্ডস
  4. ইংল্যান্ড 
সঠিক উত্তর:
ইংল্যান্ড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংল্যান্ড 
ব্যাখ্যা

ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ: 
- ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের সর্বাধিক বিখ্যাত দুর্গ হলো ফোর্ট উইলিয়াম।
- ফোর্ট উইলিয়ামের মাধ্যমেই ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের ঘাঁটি নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- বিখ্যাত এই দুর্গটি কলকাতায় অবস্থিত।
- ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের একটি বড় নিদর্শন এই দুর্গ।

উল্লেখ্য,
- স্যার চার্লস আইয়ার এই দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন।
- তাঁর উত্তরসূরি জন বিয়ার্ড ১৭০১ সালে ফোর্ট উইলিয়ামের উত্তর-পূর্বাংশের দুর্গপ্রাচীর সংযোজন করেন।
- ১৭০২ সালে তিনি দুর্গের মধ্যভাগে বাণিজ্যকুঠি বা 'গভর্নমেন্ট হাউস' নির্মাণ শুরু করেন, যা ১৭০৬ সালে শেষ হয়।
- এরপর ইংল্যান্ডের রাজার সম্মানে দুর্গটির নামকরণ করা হয় ফোর্ট উইলিয়াম।

⇒ ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস ১৬৬৮ খ্রিস্টাব্দে কোম্পানিকে মুম্বাই ইজারা দেন।
- ১৬৯০ খ্রিস্টাব্দে জব চার্নক ভাগীরথী নদীর তীরে ১২০০ টাকার বিনিময়ে কলকাতা, সূতানটি ও গোবিন্দপুর এ তিনটি গ্রামের জমিদারী স্বত্ব কিনে নেন।
- পরবর্তীকালে উপমহাদেশের ভাগ্য নির্ধারণকারী দুর্গ ফোর্ট উইলিয়াম এখানেই নির্মিত হয়।
- ১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট ফররুখশিয়ারের অনুমতি নিয়ে ইংরেজগণ বাংলা, মাদ্রাজ ও মুম্বাইয়ে বিনা শুল্কে অবাধ বাণিজ্য করতে থাকে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।