বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ইউরোপীয়দের আগমন ও ব্রিটিশ শাসনামল

মোট প্রশ্ন১,৩১৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ইউরোপীয়দের আগমন ও ব্রিটিশ শাসনামল

PrepBank · পাতা / ১৪ · ৭০১৮০০ / ১,৩১৫

৭০১.
কোন ভাইসরয়ের শাসনামলে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা হয়?
  1. লর্ড কর্নওয়ালিশ
  2. লর্ড হেস্টিংস
  3. লর্ড মেয়ো
  4. লর্ড হার্ডিঞ্জ
সঠিক উত্তর:
লর্ড হার্ডিঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড হার্ডিঞ্জ
ব্যাখ্যা

বঙ্গভঙ্গ রদ:
- বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা ১৯১০ সালে লর্ড হার্ডিঞ্জ ভারতের নতুন ভাইসরয় হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। 
- তিনি বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অসন্তোষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা লক্ষ্য করে বঙ্গভঙ্গ রদের বিষয়ে গোপন তৎপরতা শুরু করেন।
- ব্রিটেনের সম্রাট পঞ্চম জর্জ বঙ্গভঙ্গ রদের পক্ষে মত দেন।
- ১৯১১ সালে সম্রাট পঞ্চম জর্জ ও রাণি মেরী ভারত সফরে আসেন।
- ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর সম্রাট পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে অনুষ্ঠিত অভিষেক অনুষ্ঠানে বঙ্গভঙ্গ রদের কথা ঘোষণা করেন।
- এবং পূর্ববঙ্গকে পশ্চিমবঙ্গের সাথে পুনরায় এক করেন।
- এই সফরে সম্রাট পঞ্চম জর্জ আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- ফলে কার্জনের বাংলা বিভক্তির ব্যবস্থা বাতিল হয়।
- ঢাকা চট্টগ্রাম, রাজশাহী, প্রেসিডেন্সি ও বর্ধমানের পাঁচটি বাংলা ভাষাভাষী বিভাগ নিয়ে বাংলা প্রদেশ পুনর্গঠন করা হয়।
- ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা হতে দিল্লিতে স্থানান্তর করা হয়।
- বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা লর্ড হার্ডিঞ্জ ভাইসরয়ের শাসনামলে হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৭০২.
পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয় কোন নদীর তীরে?
  1. ভাগীরথী
  2. যমুনা
  3. গঙ্গা
  4. তিস্তা
সঠিক উত্তর:
ভাগীরথী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাগীরথী
ব্যাখ্যা
পলাশী যুদ্ধ
- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে।
- জেতার সবধরণের সুযোগ সুবিধা এবং এদের প্রাণপাত লড়াইয়ের পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- পলাশী যুদ্ধের ফলে ইংরেজ বা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০৩.
বাংলার সুবাদার শায়েস্তা খান কাদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ থেকে বিতাড়িত করেন?
  1. ইংরেজদের
  2. পর্তুগিজদের
  3. ডাচদের
  4. ফরাসিদের
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজদের
ব্যাখ্যা
- পর্তুগিজদের বিভিন্ন অপকর্ম ও দস্যুতার কারণে বাংলার সুবাদার শায়েস্তা খান তাদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ ঘাঁটি দখল করে বাংলা থেকে বিতাড়ন করেন।

• পর্তুগিজ: 
-পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা ১৪৯৮ সালে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে সমুদ্রপথে ভারতের কালিকট বন্দরে এসে পৌঁছান। 
- উপমহাদেশে তাঁর এ আগমন ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
- ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে বাংলায় প্রথম এসেছিলেন- পর্তুগিজরা।
- ১৫৩৮ সালে তারা চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে বাণিজ্যঘাঁটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে তারা উপমহাদেশের পশ্চিম উপকূলের কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন,
কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি বন্দরে কুঠি স্থাপন করতে সক্ষম হয়।
-পর্তুগিজরা বাংলায় ফিরিঙ্গি নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।
৭০৪.
মুসলিম নারী মুক্তি আন্দোলনের অগ্রদূত কাকে বলা হয়?
  1. ক) বেগম রোকেয়া
  2. খ) বেগম ফয়জুন্নেসা
  3. গ) সুলতানা রাজিয়া
  4. ঘ) মাদার তেরেসা
সঠিক উত্তর:
ক) বেগম রোকেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা
- মুসলিম নারী মুক্তি আন্দোলনের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া
- সমাজ ধর্মের নামে তাদের রাখা হতো পর্দার আড়ালে গৃহবন্দি করে।
- মুসলমান মেয়েদের এই বন্দিদশা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য যিনি আহবান জানান তিনি বেগম রোকেয়া।
- এই মহীয়সী নারীর জন্ম ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে।
- সাহিত্য চর্চার বিষয়বস্তুও ছিল নারী সমাজকে নিয়ে।
- তিনি সমাজের কুসংস্কার, নারী সমাজের অবহেলা বঞ্চনার করুণ চিত্র নিজ চোখে দেখেছেন।
- বেগম রোকেয়ার লিখিত গ্রন্থ অবরোধ বাসিনী, পদ্মরাগ, মতিচুর, সুলতানার স্বপ্ন প্রভৃতিতে সে চিত্র ফুটে উঠেছে।
- ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে তিনি কোলকাতায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল উর্দু প্রাইমারি স্কুল স্থাপন করেন।
- ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে এটি উচ্চ ইংরেজি গার্লস স্কুলে উন্নিত হয়।
- বেগম রোকেয়া নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে কোলকাতায় আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম (মুসলিম মহিলা  সমিতি) প্রতিষ্ঠা করেন।
- নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর নেতৃত্বে সমিতি বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়।
- মুসলমান নারী মুক্তি আন্দোলনের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার মনে নারীর প্রতি সমাজের নানা অত্যাচার ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে ছিল তীব্র বিদ্রোহের সুর।
- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে এই মহীয়সী নারী কোলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০৫.
বক্সারের যুদ্ধ হেক্টর মুনরোর নেতৃত্বে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী এবং _____________ এর সম্মিলিত সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াই হয়েছিল।
  1. সিরাজ-উদ-দৌলা, সুজা-উদ-দৌলা, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম
  2. মীর কাসিম, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা
  3. মীর জাফর, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ এবং সুজা-উদ-দৌলা
  4. মীরজাফর, সিরাজ-উদ-দৌলা এবং মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম
সঠিক উত্তর:
মীর কাসিম, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর কাসিম, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা
ব্যাখ্যা
বক্সারের যুদ্ধ:
- বক্সারের যুদ্ধ নবাব মীর কাসিম ও তাঁর মিত্রশক্তির সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ। 
- পলাশীর যুদ্ধের পর ১৭৬৪ সালে বিহারের বক্সার নামক স্থানে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- মেজর হেক্টর মুনরোর নেতৃত্বে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী এবং মীর কাসিম, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা-এর সম্মিলিত সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াই হয়েছিল।
 
উল্লেখ্য,
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে সংঘটিত এ যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করে।
- এই যুদ্ধের ফলে বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম পুনরায় ইংরেজ শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান এবং অযোধ্যা ইংরেজ বাহিনীর পদানত হয়।
- মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন এবং এরপর তাঁর সম্পর্কে আর কিছু জানা যায় নি।
- বক্সার ছিল একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ।
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) Britannica.
৭০৬.
সিমলা ডেপুটেশনে মুসলমান প্রতিনিধিগণ সাক্ষাৎ করেন কার সাথে? 
  1. লর্ড মর্লি
  2. লর্ড মিন্টো
  3. লর্ড চেমস ফোর্ড
  4. লর্ড কার্জন
সঠিক উত্তর:
লর্ড মিন্টো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড মিন্টো
ব্যাখ্যা
সিমলা ডেপুটেশন
- সিমলা ডেপুটেশন ছিল ভারতীয় মুসলিমদের একটি প্রতিনিধি দল, যা ১৯০৬ সালের ১ অক্টোবর ভাইসরয় লর্ড মিন্টোর সাথে সাক্ষাৎ করে
- এই সাক্ষাতের উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষায় ব্রিটিশ সরকারের সমর্থন আদায় করা।
- ১৮৯২ সালের ভারতীয় কাউন্সিল আইনে মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
- মুসলমান নেতারা উপলব্ধি করেন যে, নতুন শাসনতান্ত্রিক সংস্কারে তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করা জরুরি।
- আলীগড় কলেজের সেক্রেটারি নওয়াব মুহসিন-উল-মুলক এর উদ্যোগে লর্ড মিন্টোর সাথে সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়।
- ১ অক্টোবর, আগা খানের নেতৃত্বে ৩৫ জনের একটি প্রতিনিধি দল লর্ড মিন্টোর সাথে দেখা করে।
- প্রতিনিধিদল মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনের দাবি সহ বিভিন্ন দাবি পেশ করে।
- লর্ড মিন্টো মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনের প্রতি সমর্থন জানান।
- ১৯০৯ সালের মর্লি-মিন্টো সংস্কারে মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচন ও প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করা হয়।
- এ উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের সৃষ্টির দিকে পরিচালিত করে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৭০৭.
ইউরোপীয়দের বণিকদের মধ্যে কাদের 'ফিরিঙ্গি' নামে ডাকা হতো?
  1. ইংরেজদের
  2. ফরাসিদের
  3. দিনেমারদের
  4. পর্তুগিজদের
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজদের
ব্যাখ্যা
ভারতীয় উপমহাদেশে ইউরোপীয়দের আগমন:

- পর্তুগিজ-রা ভারতীয় উপমহাদেশে ইউরোপীয়দের মধ্যে প্রথম এসেছিল। 
- আগমন সাল: ১৪৯৮ সালে।
- বাংলায় আগমন: ১৫১৬ সালে। 
- বাংলায় পর্তুগিজ ব্যবসায়ীদের ফিরিঙ্গি নামে ডাকা হতো।  
- পর্তুগিজ-রা বাংলায় প্রথম কুঠি স্থাপন করে হুগলি-তে ১৫১৭ সালে। 
- তারা বাংলা ত্যাগ করে ১৬৬৬ সালে।
- ভাস্কো দা গামা উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে ইউরোপ থেকে ভারতবর্ষে আসার জলপথ আবিষ্কার করেন। এরপর থেকে বিভিন্ন ইউরোপীয় শক্তি বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষে পাড়ি জমাতে শুরু করে।
- পর্তুগিজদের পর ইংরেজ (ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি-১৬০০ সালে), ওলন্দাজ (ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি-১৬০২ সালে), দিনোমার (ডেনিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি-১৬২০ সালে), ফরাসি (ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি-১৬৬৪ সালে) প্রভৃতি ইউরোপীয় শক্তি ভারতে আগমন করে।
- এদের মধ্যে ভারতীয় উপমহাদেশে সবার শেষে আগমন করে ফরাসিরা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া। 
৭০৮.
ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে প্রথম বাণিজ্য কেন্দ্র কোথায় প্রতিষ্ঠা করে?
  1. পন্ডিচেরী
  2. চন্দননগর
  3. কালিকট
  4. সুরাট
সঠিক উত্তর:
সুরাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুরাট
ব্যাখ্যা

⇒ ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে প্রথম বাণিজ্য কেন্দ্র সুরাটে প্রতিষ্ঠা করে।

ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:

- ভারতীয় উপমহাদেশে সবার শেষে আগমন ঘটে ফরাসিদের।
- ১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে 'ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠিত হয় এবং ভারতবর্ষে বাণিজ্য শুরু করে।
- ফরাসি মন্ত্রী কোলবার্টের পৃষ্ঠপোষকতায় এই কার্যক্রম শুরু হয়।
- ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথমে মুম্বাইয়ের সুরাটে ও পরে পন্ডিচেরীতে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- অল্পদিনের মধ্যেই তারা বাংলার চন্দননগরে আরও একটি কুঠি স্থাপন করে।
- এছাড়া কারিকল, মসলিপট্টম, কাশিমবাজার এবং বালেশ্বরেও তাদের কুঠি ছিল।
- ফরাসিরা ভারতীয় উপমহাদেশে প্রায় একশ বছর বাণিজ্য করে।
- ইংরেজগণ ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ফরাসিদের চন্দননগর এবং ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পন্ডিচেরী কুঠি দখল করে নেয়।
- স্বদেশে ইংরেজ ও ফরাসিদের মধ্যে বিবাদের জের হিসেবে এখানেও বিবাদ চলতে থাকে। কিন্তু ইংরেজগণ উন্নততর সামরিক শক্তি ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উপমহাদেশের রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করে নেয়।
- পরপর তিনটি কর্ণাটক যুদ্ধে ফরাসিরা পরাজিত হলে ফরাসিদের সাম্রাজ্য ও বাণিজ্য বিস্তার সফল হয়নি।
- এর ফলস্বরূপ ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে উপমহাদেশ থেকে বিদায় নিতে হয়।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭০৯.
দ্বৈত শাসনের ফলে কোন দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়?
  1. ছিয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ
  2. উনসত্তরের দুর্ভিক্ষ
  3. সত্তরের দুর্ভিক্ষ
  4. ঊনিশর দুর্ভিক্ষ
সঠিক উত্তর:
ছিয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছিয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ
ব্যাখ্যা
• দ্বৈত শাসন:
- দিল্লি কর্তৃক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে দেওয়ানি বা খাজনা ও কর আদায়ের ক্ষমতা প্রদানে সৃষ্টি হয় দ্বৈত শাসনের।
- এতে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা, নবাব পরিণত হন ক্ষমতাহীন শাসকে।
- অথচ নবাবের দায়িত্ব থেকে যায় ষোলোআনা।
- ফলে বাংলায় এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়, যার চরম মাসুল দিতে হয় এদেশের সাধারণ জনগোষ্ঠীকে।
- ১৭৭০ সালে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) গ্রীষ্মকালে দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
- যা ইতিহাসে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- দ্বৈতশাসন ব্যবস্থায় নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় তিনি সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হন।
- সারা দেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
- এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটান।

উল্লেখ,
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর ইংরেজি -১৭৭০ সাল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।
৭১০.
কোন ঘটনার মধ্যেদিয়ে ভারতে ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে?
  1. ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন
  2. সিপাহি বিদ্রোহ
  3. ফরায়েজি আন্দোলন
  4. নীল বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
সিপাহি বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিপাহি বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা

১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ:
- ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
 - বিদ্রোহের আগুন প্রথমে জ্বলে ওঠে পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে।
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ বন্দুকের গুলি ছুড়ে বিদ্রোহের সূচনা করেন মঙ্গল পাণ্ডে নামে এক সিপাহি।
- দ্রুত এইবিদ্রোহ মিরাট, কানপুর, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ,মধ্য প্রদেশ, বিহার, বাংলাসহ ভারতের প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
- বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা,চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট,কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর,রাজশাহী এই বিদ্রোহে শামিল হয়।
- পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
-তবে এ বিদ্রোহের ফলে ভারতে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে।
- ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার সরাসরি তার হাতে নিয়ে নেয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 

৭১১.
এলাহাবাদ চুক্তি কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়?
  1. মীর কাশিম ও রবার্ট ক্লাইভ
  2. সুজাউদ্দৌলা ও রবার্ট ক্লাইভ
  3. রবার্ট ক্লাইভ ও দ্বিতীয় শাহ আলম
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস ও শাহ আলম
সঠিক উত্তর:
রবার্ট ক্লাইভ ও দ্বিতীয় শাহ আলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবার্ট ক্লাইভ ও দ্বিতীয় শাহ আলম
ব্যাখ্যা

এলাহাবাদ চুক্তি ও বাংলার ক্ষমতা দখল:
- রবার্ট ক্লাইভ ও মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম-এর মধ্যে ১৭৬৫ সালে এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এই চুক্তির ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করেছিল।
- সম্রাট শাহ আলমকে কোম্পানি প্রতি বছর ২৬ লক্ষ টাকা দান করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
- এই চুক্তির ফলে  রাজস্ব আদায় ও দেশ রক্ষার ভার ছিল কোম্পানির উপর, অন্যদিকে নিজামত তথা বিচার ও প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব বর্তায় নবাবের উপর।

⇒ কোম্পানির সরাসরি দিউয়ানির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য যে অর্থ ও লোকবল প্রয়োজন তা যেমন ছিলনা, তেমনি এদেশীয় ভাষা ও আইন কানুন সম্পর্কে কোম্পানির কর্মচারীদের জ্ঞানও ছিল না।
- তাই রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব সরাসরি গ্রহণ তাদের জন্য সম্ভব ছিল না।
- এ সকল দিক চিন্তা করেই তারা দ্বৈত শাসন নীতি প্রবর্তন করা হয়েছিল।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭১২.
কোন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে পূর্ববঙ্গ থেকে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয়েছিলো?
  1. ক) ফ্লাউড কমিশন
  2. খ) হান্টার কমিশন
  3. গ) নাথান কমিশন
  4. ঘ) ইন্ডিগো কমিশন
সঠিক উত্তর:
ক) ফ্লাউড কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ফ্লাউড কমিশন
ব্যাখ্যা
ভূমি রাজস্ব সংক্রান্ত সমস্যাবলির সংস্কারের লক্ষ্যে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক সরকার ১৯৩৮ সালে স্যার ফ্রান্সিস ফ্লাউডকে প্রধান করে ফ্লাউড কমিশন গঠন করে।

এই কমিশন ১৯৪০ সালের ২ মার্চ তার রিপোর্ট পেশ করে। রিপোর্টে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা তথা জমিদারি ব্যবস্থা বাতিল ও ভূমির উপর কৃষকদের অধিকার পুনস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

আন্তরিকতা থাকা সত্ত্বেও ১৯৫০ সালের পূর্বে ফ্লাউড কমিশনের সুপারিশ সমূহ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। ১৯৫০ সালের পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের মাধ্যমে ১৯৫১ সালে জমিদারী প্রথা ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা বাতিল হয়।

অন্যদিকে,

ইন্ডিগো কমিশন (১৮৬০) : নীল বিদ্রোহ
হান্টার কমিশন (১৮৮২) : শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার
নাথান কমিশন (১৯১২) : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৭১৩.
বাংলায় “ঋণ সালিশি আইন” কার আমলে প্রণীত হয়?
  1. ক) এইচ. এস. সোহরাওয়ার্দী
  2. খ) এ. কে. ফজলুল হক
  3. গ) খাজা নাজিম উদ্দিন
  4. ঘ) নুরুল আমিন
সঠিক উত্তর:
খ) এ. কে. ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা

অবিভক্ত বাংলার জাতীয় নেতা আবুল কাশেম ফজলুল হক তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং দূরদর্শিতার জন্য ছিলেন সুপরিচিতি। তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী।

সর্বভারতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ফজলুল হক। তাঁর আপোষহীন ন্যায়নীতি ও অসামান্য বাকপটুতার কারণে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের কাছে তিনি বেশি পরিচিত ছিলেন শেরে বাংলা (বাংলার বাঘ) নামে। সর্বভারতীয় রাজনীতির পাশাপাশি গ্রাম বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

প্রথম মন্ত্রিসভার আমলে (১৯৩৭-১৯৪১) এ কে ফজলুল হক কৃষকদের দুঃখকষ্ট মোচনের জন্য কিছু প্রশংসনীয় কাজ করেছিলেন।

- তিনি ‘Bengal Agricultural Debtors' Act’ (১৯৩৮) কার্যকর করে উচ্চহারে সুদ নেয় এমন মহাজনদের কবল থেকে দরিদ্র কৃষকদের রক্ষা করেন। তিনি বাংলার সব এলাকায় ঋণ সালিশি বোর্ডও স্থাপন করেছিলেন।
- ‘Money Lenders' Act’ (১৯৩৮) এবং ১৯৩৮ সালের ‘Bengal Tenancy (Amendment) Act’ কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটিয়েছিল।
- স্যার ফ্রান্সিস ফ্লাউডিকে সভাপতি করে ১৯৩৮ সালের ৫ নভেম্বর বাংলা সরকার কর্তৃক নিযুক্ত ‘ল্যান্ড রেভেনিউ কমিশন’ ১৯৪০ সালের ২১ মার্চ চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করে। এটি ছিল দেশের ভূমিব্যবস্থা সম্পর্কিত সবচেয়ে মূল্যবান দলিল। ১৯৩৮ সালের আইন দ্বারা ১৮৮৫ সালের প্রজাস্বত্ব আইন সংশোধন করা হয়েছিল এবং এর দ্বারা খাজনা বৃদ্ধির সকল ধারা দশ বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল। এটি রায়তদের উপর প্রথাগতভাবে জমিদারগণ কর্তৃক ধার্যকৃত সব ধরনের আবওয়াব ও সেলামির (কর) বিলোপ সাধন করে। জমিদারকে কোনো হস্তান্তর-ফি না দিয়ে রায়তরা তাদের জমি হস্তান্তর করার অধিকার লাভ করে।
- এ আইন বকেয়া খাজনার সুদের হার ১২.৫০% থেকে ৬.২৫%-এ হ্রাস করে। নদীর ভাঙ্গনে হারানোর ২০ বছরের মধ্যে চারবছরের খাজনা দিয়ে রায়তরা নদী-সিকস্তি (নদীর ভাঙনের ফলে লুপ্ত জমির পুন জেগে ওঠা) জমির মালিকানার অধিকার লাভ করে।
- হক তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার সময় জনগণকে প্রতিশ্রুত ডাল-ভাতের কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত করতে না পারলেও তাঁর মুখ্যমন্ত্রিত্বের প্রথম মেয়াদে কার্যকর রক্ষা বহু আইন কৃষকদের বোঝা কিছুটা লাঘব করতে সাহায্য করেছিল।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং পত্রিকা রিপোর্ট।

৭১৪.
উপমহাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় কার আমলে?
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড মেয়ো
  3. লর্ড রিপন
  4. লর্ড ক্যানিং
সঠিক উত্তর:
লর্ড মেয়ো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড মেয়ো
ব্যাখ্যা
লর্ড মেয়ো: 
- লর্ড মেয়ো ১৮৬৯ থেকে ১৮৭২ সাল পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় এবং গভর্নর জেনারেল।
- তাঁর নাম রাখা হয় রির্চাড সাউথওয়েল বুর্ক। 
- তাঁর শাসনামলেই ভারতবর্ষের প্রথম আদমশুমারি (১৮৭২) শুরু হয়।
- তিনি দেশে পরিসংখ্যান জরিপের ব্যবস্থা করেন এবং কৃষি ও বাণিজ্য বিভাগ সৃষ্টি করেন।

অন্যদিকে, 
- লর্ড ক্যানিং ভারতের ভাইসরয় ছিলেন।
- ১৮৬১ সালে উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা চালু করেন।
- ১৮৬১ সালে পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করেন।
- চার্লস উড শিক্ষা বিষয়ে ১৮৫৪ সালে যে সুপরিশমালা পেশ করেন তা কার্যকর করা হয় তার সময়ে।
- উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন লর্ড ক্যানিং (১৮৬১ সালে)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭১৫.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন-
  1. লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. লর্ড ডালহৌসি
  3. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক
  4. লর্ড ওয়েলেসলি
সঠিক উত্তর:
লর্ড কর্নওয়ালিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা

• চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
• ১৭৯৩ সালের ২২মার্চ লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
• ঐদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর চিরস্থায়ী মালিকানা প্রদান করে যে বন্দোবস্ত করা হয় তা-ই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে পরিচিত।
• চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে কৃষক জমির উপর তাদের অধিকার হারায়। বিপরীতে জমির উপর জমিদারদের স্থায়ী মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
• ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত্ব আইনের ফলশ্রুতিতে জমিদারি প্রথা ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার উচ্ছেদ ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৭১৬.
'ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ'-কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড কর্ণওয়ালিস
  3. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক
  4. লর্ড ওয়েলেসলি
সঠিক উত্তর:
লর্ড ওয়েলেসলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ওয়েলেসলি
ব্যাখ্যা

লর্ড ওয়েলেসলি:
- ১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড ওয়েলেসলি কোম্পানির গভর্নর হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করেন।
- তিনি রাজ্য শাসনের পরিবর্তে রাজ্য বিস্তারের দিকেই বেশি আগ্রহী ছিলেন।
- রাজ্যের শাসন ব্যবস্থায় তাঁর অবদান নিতান্তই সামান্য। সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব থাকা সত্ত্বেও তিনি বেশকিছু সংস্কার করে গেছেন।
- তিনি ইংরেজ অধিকৃত স্থানে জমি জরিপ করার জন্য ড. ফ্রান্সিস বুকাননকে নিযুক্ত করেন।
- ওয়েলেসলি বিচার ব্যবস্থার বেশকিছু সংস্কার করেন।
- লর্ড ওয়েলেসলি ভারতবর্ষে নবাগত ইংরেজ কর্মচারিদের শিক্ষার জন্য কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে একটি কলেজ স্থাপন করেন।

⇒ লর্ড ওয়েলেসলির ভূমিকা:

• শাসনকাল: লর্ড ওয়েলেসলি ১৭৯৮ থেকে ১৮০৫ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
• নীতির উদ্দেশ্য: তিনি ভারত থেকে ফরাসি প্রভাব দূর করে ব্রিটিশদেরকে উপমহাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত করতে চেয়েছিলেন।
• শিক্ষা সংস্কার: অসামরিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য 'ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ' প্রতিষ্ঠা করেন।
• সাম্রাজ্যের শক্তি: তাঁর শাসনামল শেষ হওয়ার পরও ওয়েলেসলি ব্রিটিশদের ভারতে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে যান।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭১৭.
বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রথম রেললাইন স্থাপিত হয় -
  1. ক) ১৮৬৯ সালে
  2. খ) ১৮৫৪ সালে
  3. গ) ১৮৯৯ সালে
  4. ঘ) ১৮৬২ সালে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৮৬২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৮৬২ সালে
ব্যাখ্যা
- ভারতীয় উপমহাদেশে ১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল লর্ড ডালহৌসির সময়ে মুম্বাইয়ে প্রথম রেললাইন স্থাপিত হয়।
- ডালহৌসির সময়েই ১৮৫৪ সালে হাওড়া থেকে হুগলি পর্যন্ত বাংলায় প্রথম রেললাইন স্থাপিত হয়।
- বর্তমান বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ভাইসরয় লর্ড এলগিনের সময়ে ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গা দর্শনা থেকে কুষ্টিয়ার জগতী পর্যন্ত ৫৩ কিলোমিটার প্রথম রেলব্যবস্থা চালু হয়।
- জর্জ স্টিফেনসনের যুগান্তকারী প্রচেষ্টায় ১৮২৫ খ্রিস্টাব্দের ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বের প্রথম ইংল্যান্ডে রেলপথ ব্যবস্থা চালু হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৭১৮.
অবিভক্ত বাংলার সর্বশেষ গভর্নর ছিলেন কে?
  1. ক) স্যার ফ্রেডেরিক বোর্ন
  2. খ) স্যার ব্যামফিল্ড ফোলার
  3. গ) ফ্রেডেরিক বারোজ
  4. ঘ) লর্ড অকল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
গ) ফ্রেডেরিক বারোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফ্রেডেরিক বারোজ
ব্যাখ্যা
অবিভক্ত বাংলার সর্বশেষ গভর্নর ছিলেন স্যার ফ্রেডেরিক জন বারোজ।
তিনি ১৯৪৬-১৯৪৭ মেয়াদে বাংলার শেষ গভর্নর ছিলেন।
অন্যদিকে ব্যামফিল্ড ফুলার ছিলেন পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর।
(সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস)
৭১৯.
জিন্নাহর ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ এর মূলভিত্তি ছিল -
  1. ক) পাকিস্তান জাতীয়তাবাদ
  2. খ) ভারতীয় জাতীয়তাবাদ
  3. গ) বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ
  4. ঘ) লাহোর প্রস্তাব
সঠিক উত্তর:
ঘ) লাহোর প্রস্তাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লাহোর প্রস্তাব
ব্যাখ্যা
জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব
• জাতিতত্ত্বের বিশ্লেষণে একটি জনগোষ্ঠীকে তখনই জাতি বলা যায়, যার ভাষা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, মনন, কৃষ্টি, ধর্ম এমনকি অর্থনীতি একটি একক সত্তায় পরিণতি লাভ করে।
• তবে মুসলিম লীগ সভাপতি এবং পরবর্তীতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ভারতের হিন্দু ও মুসলমান এ দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে দুটি পৃথক জাতি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। এটিই মূলত জিন্নাহর ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ বা 'Two Nations Theory' র মূলকথা।
• জিন্নাহর ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ ছিল ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব বা পাকিস্তান প্রস্তাবের মূলভিত্তি। যদিও লাহোর প্রস্তাবে ‘পাকিস্তান’
কিংবা ‘দ্বিজাতি তত্ত্বের’ কথা উল্লেখ ছিল না।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২০.
বাংলায় চিরস্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা কে প্রবর্তন করেন?
  1. কর্নওয়ালিস
  2. ক্লাইভ
  3. জন মেয়ার
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস
সঠিক উত্তর:
কর্নওয়ালিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা
চিরস্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা:
- বাংলায় চিরস্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন লর্ড কর্নওয়ালিস।

উল্লেখ্য,
- গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস ‘পাঁচসালা বন্দোবস্ত এবং ‘একসালা বন্দোবস্ত' প্রবর্তন করেন।
- কিন্তু এ দুটি বন্দোবস্ত রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হয়নি।
- এমতাবস্থায় গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিশ নানা বিচার-বিশ্লেষণ করে ১৭৯৩ সালে ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এক নতুন প্রথার প্রবর্তন করেন।
- ইতিহাসে এটি ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' নামে পরিচিত।
- এটি ছিল ইংরেজদের একটি সাম্রাজ্যবাদী বিধিব্যবস্থা।
- এর মাধ্যমে ইংরেজরা এদেশে তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন।
- এক্ষেত্রে তারা অনেক সফলতা লাভ করলেও এ ব্যবস্থার ফলে সাধারণ কৃষক এমনকি অনেক সম্ভ্রান্ত বনেদি জমিদার সর্বশান্ত হয়ে পড়ে।
- অন্যদিকে নগদ টাকার মালিক ও পুঁজিপতি মহাজনরা রাতারাতি জমিদারে পরিণত হয়।
- নব সৃষ্ট এ জমিদার শ্রেণী ইংরেজ শাসনের জন্য একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি স্থাপনে সহায়ক শক্তির ভূমিকা পালন করে।
- ১৯৫০ সালে এ ব্যবস্থা উচ্ছেদ করা হয় ।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [link]
৭২১.
উপমহাদেশের প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় কার শাসনামলে?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড মেয়ো
  3. লর্ড রিপন 
  4. লর্ড  ক্যানিং
সঠিক উত্তর:
লর্ড মেয়ো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড মেয়ো
ব্যাখ্যা

• লর্ড মেয়ো:
- লর্ড মেয়ো ১৮৬৯ - ৭২ সাল পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় এবং গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
- তিনি মেয়ো-র পঞ্চম আর্ল-এর পুত্র।
- পিতার উত্তরাধিকারী ষষ্ঠ আর্ল ভারতে আসেন লর্ড মেয়ো হিসেবে এবং তাঁর অব্যবহিত পূর্বসূরিদের অনুসৃত অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি অব্যাহত রাখেন।

উল্লেখ্য,
- ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম আদমশুমারি লর্ড মেয়োর শাসনামলে অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৮৭২ সালে লর্ড মেয়োর উদ্যোগে এই প্রথম অ-সমলয় আদমশুমারি পরিচালিত হয়েছিল।
- তিনি ভারতবর্ষে পরিসংখ্যান জরিপ চালু করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭২২.
হান্টার কমিশন-এর প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. শিক্ষা সংস্কার
  2. দৈনিক ৮ ঘন্টা কর্মঘন্টা নির্ধারণ
  3. রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি
  4. প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
শিক্ষা সংস্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষা সংস্কার
ব্যাখ্যা
হান্টার কমিশন:
- ১৮৫৪ সালে উডের ডেসপ্যাচে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উন্নতির জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
- কিন্তু এই ডেসপ্যাচের ভাবধারা কে অবহেলা করে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উপর গুরুত্ব না দিয়ে শুধু উচ্চশিক্ষা ও সরকারি স্কুল কলেজগুলিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতি একেবারেই হয় না।
- তাই সরকার প্রথমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নতি সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করেন।

⇒ হান্টার কমিশন গঠন:
- এই পরিস্থিতিতে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড রিপন ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দের ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০ জন সদস্য নিয়ে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন।
- এটি প্রথম "ভারতীয় শিক্ষা কমিশন” নামে পরিচিত।
- এই কমিশন স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টারের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল বলে একে "হান্টার কমিশন” বলা হয়।
- স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টার ছিলেন এই কমিশনের সভাপতি।
- অন্যান্য সদস্যরা হলেন আনন্দমোহন বসু, কে.টি. তেলাং, ভূদেব মুখোপাধ্যায়, স্যার সৈয়দ আহমদ খান প্রমুখ।
- প্রাথমিক শিক্ষা ও নিরক্ষরতা বিষয়ে এই কমিশনকে বিশেষভাবে বিচার করার কথা বলা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭২৩.
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কোন সম্রাটের অনুমতি নিয়ে প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে?
  1. আওরঙ্গজেব 
  2. মুর্শিদকুলি খাঁ
  3. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. শাহবাজ খান
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- ব্রিটেনের রানী প্রথম এলিজাবেথের নিকট থেকে প্রাপ্ত সনদের মাধ্যমে ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
- ১৬১২ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৭০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করে।
- ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশী যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয়।
- ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে।
- এরপর ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার নিজে নিয়ে নেয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
          ii) বাংলাপিডিয়া।

৭২৪.
বক্সারের যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর নেতৃত্ব দেন কে? 
  1. লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. রবার্ট ক্লাইভ 
  3. মেজর হেক্টর মুনরো 
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস
সঠিক উত্তর:
মেজর হেক্টর মুনরো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেজর হেক্টর মুনরো 
ব্যাখ্যা

বক্সারের যুদ্ধ:
- বক্সারের যুদ্ধ নবাব মীর কাসিম ও তাঁর মিত্রশক্তির সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ।
- পলাশীর যুদ্ধের পর ১৭৬৪ সালে বিহারের বক্সার নামক স্থানে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- মেজর হেক্টর মুনরোর নেতৃত্বে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী বক্সারের যুদ্ধ পরিচালনা করে। 
- এবং মীর কাসিম, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা-এর সম্মিলিত সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াই হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে সংঘটিত এ যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করে।
- এই যুদ্ধের ফলে বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম পুনরায় ইংরেজ শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান এবং অযোধ্যা ইংরেজ বাহিনীর পদানত হয়।
- মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন এবং এরপর তাঁর সম্পর্কে আর কিছু জানা যায় নি।
- বক্সার ছিল একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ।
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া। 

৭২৫.
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহে সন্ন্যাসীদের নেতার নাম ছিল- 
  1. ভবানী পাঠক 
  2. জুম্মা খান
  3. তিতুমীর
  4. বরকত উল্ল্যা 
সঠিক উত্তর:
ভবানী পাঠক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভবানী পাঠক 
ব্যাখ্যা

ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ।
- ইংরেজ সরকার তীর্থস্থান দর্শনের উপর করারোপ করে, ভিক্ষা ও মুষ্টি - সংগ্রহকে বেআইনি ঘোষণা করে।
- তাছাড়া তাদেরকে ডাকাত-দস্যু বলে আখ্যায়িত করতে থাকে।
- ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে ফকির সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনে অবতীর্ণ হয়।
- বিদ্রোহী ফকির দলের নেতার নাম ছিল মজনু শাহ।
- আর সন্ন্যাসীদের নেতার নাম ছিল ভবানী পাঠক।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
-১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, - ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য,
- ফকির মজনু শাহ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- এই নেতারা কয়েক বছর ইংরেজ প্রশাসনকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।
- সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নেতা ভবানী-পাঠক ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে লেফটেন্যান্ট ব্রেনানের নেতৃত্বে একদল ব্রিটিশ সৈন্যের আক্রমণে দুই সহকারীসহ নিহত হন।
- তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সন্ন্যাসী বিদ্রোহের অবসান ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২৬.
'জমিদারী প্রথা' কত সালে বিলুপ্ত হয়?
  1. ১৯৪৯ সালে
  2. ১৯৪২ সালে
  3. ১৯৫০ সালে
  4. ১৯৫১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫০ সালে
ব্যাখ্যা

জমিদারি প্রথা:
- জমিদারি প্রথার বিলোপ  বিশ শতকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদ।
- কৃষক রাজনীতি ছিল সম্পূর্ণরূপে জমিদারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে।
- অধিকাংশ জমিদার হিন্দু ছিলেন বলে পল্লী অঞ্চলের জনসংখ্যার সিংহভাগ মুসলমান কৃষকসমাজ ছিল প্রবলভাবে জমিদারদের বিরোধী।
- ১৯৩৭ সালে সকল রাজনৈতিক দল অঙ্গীকার করে যে, তারা নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় গেলে জমিদারি প্রথা বিলোপ করা হবে।
- মুসলিম লীগ ও কৃষক প্রজা পার্টি এর কোয়ালিশন সরকার জমিদারি প্রথা সম্পর্কে রিপোর্ট দানের জন্য একটি কমিশন গঠন করে।
- ফ্লাউড কমিশন নামে পরিচিত সে কমিশন চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বাতিলের সুপারিশ করে।
- ১৯৫০ সালে ইস্ট বেঙ্গল স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যাক্ট-এর অধীনে জমিদারি প্রথার বিলোপ ঘটে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭২৭.
Where was the first trade centre of the British East India Company established in India?
  1. Bombay
  2. Calcutta
  3. Surat
  4. Meerut
  5. Delhi
সঠিক উত্তর:
Surat
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Surat
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- ব্রিটেনের রানী প্রথম এলিজাবেথের নিকট থেকে প্রাপ্ত সনদের মাধ্যমে ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
- ১৬১২ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৭০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করে।
- ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশী যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয়।
- ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে।
- এরপর ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার নিজে নিয়ে নেয়।
 
উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৭২৮.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় কত সালে?
  1. ১৭৯০ সালে
  2. ১৭৯১ সালে
  3. ১৭৯৩ সালে
  4. ১৭৯৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৯৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৯৩ সালে
ব্যাখ্যা
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
- নির্দিষ্ট রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর স্থায়ী মালিকানা দান করে যে ভূমি বন্দোবস্ত চালু করা হয় তাকেই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বলা হয়।
- ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত জমিদারদের জমির স্থায়ী মালিকে পরিণত করে এবং জমিদাররা জমির মালিকানা স্বত্ব লাভ করে।
- রাজস্বের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেয়ার ফলে নিয়মিত রাজস্ব প্রদানের বিনিময়ে জমিদার জমিদারী ভোগের চিরস্থায়ী অধিকার লাভ করে।
- এ প্রথা চালু হওয়ার ফলে জমিদারদের প্রশাসনিক ক্ষমতা বিলুপ্ত হয়। সরকার স্বয়ং শান্তি রক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করে।
- নজরানা ও বিক্রয় ফি সমূহ বাতিল করা হয়।
- খাজনা বাকি পড়লে জমিদারদের ভূমির কিছু অংশ বিক্রি করে রাজস্ব আদায় করার ব্যবস্থা ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২৯.
ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম আদমশুমারি পরিচালনা করেন কে?
  1. লর্ড বেন্টিঙ্ক
  2. লর্ড মেয়ো
  3. লর্ড ক্যানিং
  4. লর্ড রিপন
সঠিক উত্তর:
লর্ড মেয়ো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড মেয়ো
ব্যাখ্যা

লর্ড মেয়ো:
- লর্ড মেয়ো ১৮৬৯ থেকে ১৮৭২ সাল পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় এবং গভর্নর জেনারেল।
- সম্ভবত তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার সংস্কার।
- তিনি লবণ কর ও আয়কর বৃদ্ধি করেছিলেন।
- তিনি প্রশাসনে ব্যয় সংকোচন ঘটান এবং প্রাদেশিক সরকারগুলিকে পাঁচ বছরের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থবরাদ্দ করার ব্যবস্থা করে অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেন। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যথেষ্ট উন্নত হয়।
- তাঁর শাসনামলেই ভারতবর্ষের প্রথম আদমশুমারি (১৮৭০) শুরু হয়।
- তিনি দেশে পরিসংখ্যান জরিপের ব্যবস্থা করেন এবং কৃষি ও বাণিজ্য বিভাগ সৃষ্টি করেন।
- দেশীয় রাজন্যবর্গ ও প্রধানদের সন্তান-সন্ততির লেখাপড়ার জন্য তিনি আজমীরে মেয়ো কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আন্দামান সফরে গিয়ে তিনি জনৈক পাঠান কয়েদির ছুরিকাঘাতে নিহত হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭৩০.
অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি কোন ধরনের রাজ্যগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল?
  1. সরাসরি ব্রিটিশ শাসিত রাজ্য
  2. ফরাসি প্রভাবাধীন রাজ্য
  3. ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণবর্হিভূত দেশীয় রাজ্য
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণবর্হিভূত দেশীয় রাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণবর্হিভূত দেশীয় রাজ্য
ব্যাখ্যা

অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি:
- জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে পরিবর্তন করেন এবং অধীনতামূলক মিত্রতার নীতি গ্রহণ করেন।
- এই নীতি অনুযায়ী ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণবর্হিভূত দেশীয় রাজ্যগুলোকে ব্রিটিশদের অধীনে ও নিরাপত্তায় থেকে রাজ্য শাসনে অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতা প্রদান করা হতো।
- এই নীতির মাধ্যমে হায়দ্রাবাদ ও মারাঠারাজ্য কোম্পানির অধীনে আসে।
- টিপু সুলতান এই নীতিগ্রহণে অস্বীকার করলে চতুর্থ মহীশূর যুদ্ধে তিনি ব্রিটিশদের নিকট পরাজিত ও নিহত হন।

⇒ নীতির মূল উদ্দেশ্য:
• নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা: এই নীতির আওতায় ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণবর্হিভূত দেশীয় রাজ্যগুলোকে ব্রিটিশদের অধীনে থাকার জন্য অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতা প্রদান করা হতো। অর্থাৎ, তারা নিজেদের রাজ্য শাসনে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারতেন, তবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নিরাপত্তার আওতায়।
• রাজ্যগুলোর অধীনে আসা: এই নীতির মাধ্যমে হায়দ্রাবাদ ও মারাঠা রাজ্যগুলো কোম্পানির অধীনে আসে।
• টিপু সুলতানের প্রতিক্রিয়া: টিপু সুলতান এই নীতি গ্রহণে অস্বীকার করেন, যার ফলস্বরূপ চতুর্থ মহীশূর যুদ্ধে তিনি ব্রিটিশদের কাছে পরাজিত ও নিহত হন।

⇒ লর্ড ওয়েলেসলির ভূমিকা:
• শাসনকাল: লর্ড ওয়েলেসলি ১৭৯৮ থেকে ১৮০৫ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
• নীতির উদ্দেশ্য: তিনি ভারত থেকে ফরাসি প্রভাব দূর করে ব্রিটিশদেরকে উপমহাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত করতে চেয়েছিলেন।
• শিক্ষা সংস্কার: অসামরিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
• সাম্রাজ্যের শক্তি: তাঁর শাসনামল শেষ হওয়ার পরও ওয়েলেসলি ব্রিটিশদের ভারতে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে যান।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৩১.
বঙ্গভঙ্গ রদ হয় কত সালে?
  1. ১৯১৬ সালে
  2. ১৯১১ সালে
  3. ১৯০৫ সালে
  4. ১৮১১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১১ সালে
ব্যাখ্যা

বঙ্গভঙ্গ রদ:
- বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা ১৯১০ সালে লর্ড হার্ডিঞ্জ ভারতের নতুন ভাইসরয় হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- তিনি বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অসন্তোষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা লক্ষ্য করে বঙ্গভঙ্গ রদের বিষয়ে গোপন তৎপরতা শুরু করেন।
- ব্রিটেনের সম্রাট পঞ্চম জর্জ বঙ্গভঙ্গ রদের পক্ষে মত দেন।
- ১৯১১ সালে সম্রাট পঞ্চম জর্জ ও রাণি মেরী ভারত সফরে আসেন।
- ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর সম্রাট পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে অনুষ্ঠিত অভিষেক অনুষ্ঠানে বঙ্গভঙ্গ রদের কথা ঘোষণা করেন।
- এবং পূর্ববঙ্গকে পশ্চিমবঙ্গের সাথে পুনরায় এক করেন।
- এই সফরে সম্রাট পঞ্চম জর্জ আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- ফলে কার্জনের বাংলা বিভক্তির ব্যবস্থা বাতিল হয়।
- ঢাকা চট্টগ্রাম, রাজশাহী, প্রেসিডেন্সি ও বর্ধমানের পাঁচটি বাংলা ভাষাভাষী বিভাগ নিয়ে বাংলা প্রদেশ পুনর্গঠন করা হয়।
- ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা হতে দিল্লিতে স্থানান্তর করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৩২.
দ্বৈত শাসনের প্রবর্তক কে?
  1. লর্ড লিটন
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. লর্ড ক্লাইভ
  4. লর্ড রিপন
সঠিক উত্তর:
লর্ড ক্লাইভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ক্লাইভ
ব্যাখ্যা
দ্বৈত শাসন:
- রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈত শাসন প্রবর্তন করে।
- রবার্ট ক্লাইভ দেওয়ানি সনদের নামে বাংলার সম্পদ লুণ্ঠনের একচেটিয়া ক্ষমতা লাভ করে।
- দিল্লি কর্তৃক বিদেশি বণিক কোম্পানিকে এই অভাবিত ক্ষমতা প্রদানে সৃষ্টি হয় দ্বৈত শাসনের।
- অর্থাৎ যাতে করে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা, নবাব পরিণত হন ক্ষমতাহীন শাসকে।
- অথচ নবাবের দায়িত্ব থেকে যায় ষোলআনা। ফলে বাংলায় এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়।
- সারাদেশে শুরু হয় সীমাহীন বিশৃঙ্খলা।
- ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৩.
অবিভক্ত বাংলায় কার সময়ে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ক) লর্ড ডানডাস
  2. খ) লর্ড আর্থার জেমস
  3. গ) লর্ড মেয়ো
  4. ঘ) লর্ড ক্যানিং
সঠিক উত্তর:
গ) লর্ড মেয়ো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লর্ড মেয়ো
ব্যাখ্যা
অবিভক্ত বাংলায় প্রথম আনুষ্ঠানিক আদমশুমারি হয় ১৮৭২ সালে লর্ড মেয়োর সময়।
এই আদমশুমারি নানাবিদ কারণে মানসম্মত হয়নি। তবে এই আদমশুমারির মাধ্যমেই বাংলা প্রথম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট রাজ্যরূপে বিবেচিত হয়।
এরপর ১৮৮৯ এবং ১৮৯১ সালে আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তান আমলে ১৯৬১ সালে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বিবিএস)
৭৩৪.
বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয় কত সালে?
  1. ১৭৬৩ সালে
  2. ১৭৬৪ সালে
  3. ১৭৬৫ সালে
  4. ১৭৬২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৬৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৬৪ সালে
ব্যাখ্যা

• মীর কাসিম ও বক্সারের যুদ্ধ:
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৬০ সালের ২০ অক্টোবর মীর জাফরকে সরিয়ে দিয়ে তার জামাতা মীর কাসিমকে মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করেছিল।
- তার মাত্র চার বছরের রাজত্বকাল ১৭৬০ থেকে শুরু হয়ে ১৭৬৪ খ্রিষ্টাব্দে শেষ হয়েছিল।
- মীর কাসিম নবাব হয়ে স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে বদ্ধপরিকর হয়েছিলেন।
- ইংরেজদের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণের বিরুদ্ধে তিনি রুখে দাঁড়াতে চেষ্টা করেন।

- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিনাশুল্কে বাণিজ্য করার অন্যায় অধিকার থেকে ইংরেজ কর্মচারীরা ব্যক্তিগত ফায়দা নিতে থাকে। 
- এর ফলে নবাবের অনেক আর্থিক ক্ষতি হয়েছিল। তিনি ইংরেজ গভর্নরের কাছে এর প্রতিকার দাবি করেছিলেন।
- তবে তারা এর উপযুক্ত সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হওয়ায় মীর কাসিম পরবর্তী সময়ে দেশীয় বণিকদের ওপর থেকেও বাণিজ্য শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। 
- এতে ইংরেজ কোম্পানির কর্মচারীদের অযৌক্তিক সুবিধা পাওয়ার পথ বদ্ধ হলে তারা তা মেনে নিতে পারেনি। 
- নবাব মীর কাসিমের সাথে ইংরেজদের বিরোধ চরমে উঠলে তা পাটনায় সংঘর্ষের রূপ নেয়।
- এরপর ১৭৬৩ সালের ৭ জুলাই নবাব বাহিনীর সাথে ইংরেজদের ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়। 
- পরপর কাটোয়া, ঘেরিয়া, মুর্শিদাবাদ, সুটি, উদয়নালা ও মুঙ্গেরে নবাব বাহিনীর সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ হয়েছিল।
- নবাব তখন পরাজিত হয়ে পাটনায় পালিয়ে গিয়েছিলেন। 
- এরপর অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা এবং মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাহায্য নিয়ে তিনি বাংলাকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন।
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে দু'পক্ষে প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়। 
- তাদের সম্মিলিত বাহিনী বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়। 
- নিদারুণ দুঃখকষ্ট ও দারিদ্র ভোগ করে ১৭৭৭ সালের ৬ জুন জন্মভূমি থেকে অনেক দূরে শাজাহানাবাদের এক অখ্যাত পল্লীতে মৃত্যুবরণ করেছিলেন মীর কাসিম।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৩৫.
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর ছিল কোন শাসনব্যবস্থার পরিণতি?
  1. মারাঠা শাসন
  2. নবাবি শাসন
  3. দ্বৈত শাসন
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
দ্বৈত শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বৈত শাসন
ব্যাখ্যা
- দ্বৈত শাসনের সময় প্রশাসনিক অদক্ষতা ও লোভ দুর্ভিক্ষকে বাড়িয়ে তোলে।

• 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- দিউয়ানি ও দ্বৈত শাসনের চূড়ান্ত পরিণাম ছিল বাংলায় 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের' ধ্বংসলীলা।
- একদিকে দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে।
- অন্যদিকে অবাধ লুণ্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়।
- পরপর দু'বছর অনাবৃষ্টি ও খরার ফলে ১১৭৬ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় এক প্রচণ্ড দুর্ভিক্ষ ও মহামারী দেখা দেয়।
- টাকায় একমণ হতে চাউলের মূল্য বাড়তে বাড়তে টাকায় তিন সেরে এসে দাঁড়ালো।
- খোলাবাজারের খাদ্যশস্য বেশি লাভের আশায় কোম্পানির কর্মচারীরা মজুদ করা শুরু করে।
- খাদ্যের অভাবে মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছিল।

সূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি, ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৬.
ঢাকার শেষ নবাব ছিলেন -
  1. খাজা আতিকুল্লাহ বাহাদুর
  2. খাজা নাজিমুদ্দিন বাহাদুর
  3. খাজা সলিমুল্লাহ বাহাদুর
  4. খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর
সঠিক উত্তর:
খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর
ব্যাখ্যা

নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর:
- তিনি ২৬এপ্রিল, ১৮৯৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ঢাকার পঞ্চম এবং শেষ নবাব।
- তাঁর পিতা ছিলেন নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ বাহাদুর।
- নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুরের শাসনামলেই ঢাকার নবাবপরিবারের সম্পদ ও জৌলুশ কমতে থাকে।
- ১৯৫২ সালে ইস্ট পাকিস্তান এস্টেটঅ্যাকিউজিশন অ্যাক্ট দ্বারা যা চূড়ান্তভাবে বর্জন করতে হয়।
- ২১শে নভেম্বর ১৯৫৮ তারিখে নবাব হাবিবুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ঢাকা বিভাগ ওয়েবসাইট।

৭৩৭.
'ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ' প্রতিষ্ঠা হয় কোন শাসকের আমলে?
  1. লর্ড ওয়েলেসলি
  2. লর্ড ডালহৌসি
  3. ওয়ারেন হেস্টিংস
  4. লর্ড ক্যানিং
সঠিক উত্তর:
লর্ড ওয়েলেসলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ওয়েলেসলি
ব্যাখ্যা
• লর্ড ওয়েলেসলি ভারতবর্ষে নবাগত ইংরেজ কর্মচারিদের শিক্ষার জন্য কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে একটি কলেজ স্থাপন করেন।

• লর্ড ওয়েলেসলি:

- ১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড ওয়েলেসলি কোম্পানির গভর্নর হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করেন।
- অধীনতামূলক মিত্রতানীতি প্রবর্তন করেন লর্ড ওয়েলেসলি।
- এই নীতি অনুযায়ী ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণবর্হিভূত দেশীয় রাজ্যগুলোকে ব্রিটিশদের অধীনে ও নিরাপত্তায় থেকে রাজ্য শাসনে অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতা প্রদান করা হতো। 
- টিপু সুলতান এই নীতিগ্রহণে অস্বীকার করলে চতুর্থ মহীশূর যুদ্ধে তিনি ব্রিটিশদের নিকট পরাজিত ও নিহত হন। 
- তিনি ইংরেজ অধিকৃত স্থানে জমি জরিপ করার জন্য ড. ফ্রান্সিস বুকাননকে নিযুক্ত করেন।
- তিনি এদেশের কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন।  

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৭৩৮.
বেঙ্গল প্যাক্টের মূল উদ্দেশ্য কি ছিল?
  1. ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন
  2. অর্থনৈতিক চুক্তি সম্পাদন করা
  3. হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায়ের ঐক্য 
  4. ভারতের স্বাধীনতা 
সঠিক উত্তর:
হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায়ের ঐক্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায়ের ঐক্য 
ব্যাখ্যা

বেঙ্গল প্যাক্ট:
- ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেঙ্গল প্যাক্ট (১৯২৩) একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস ছিলেন অসাম্প্রদায়িক ও উদার মনের রাজনীতিবিদ।
- তিনি বিশ্বাস করতেন যে ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতবাসীকে মুক্ত ও স্বাধীন করতে হলে হিন্দু-মুসলমান ঐক্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অপরিহার্য।
- এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি স্যার আব্দুর রহিম, স্যার আব্দুল করিম, মাওলানা আকরাম খান, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, মৌলভী মজিবর রহমান প্রমুখ মুসলমান নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
- এর ফলশ্রুতিতে ১৯২৩ সালে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পাদিত হয়, যা বেঙ্গল প্যাক্ট নামে পরিচিত।

- চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল-
- হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা ও সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করা;
- এবং মুসলমান সম্প্রদায়ের পিছিয়ে পড়া অংশকে কিছু সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে সমানভাবে উন্নয়নের পথ সুগম করা।
- এই চুক্তি হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৭৩৯.
বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট নতুন প্রদেশ পূর্ববঙ্গ এবং আসামের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর ছিলেন -
  1. লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস
  2. লর্ড কারমাইকেল
  3. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  4. ব্যামফিল্ড ফুলার
সঠিক উত্তর:
ব্যামফিল্ড ফুলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যামফিল্ড ফুলার
ব্যাখ্যা
ব্যামফিল্ড ফুলার:
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট নতুন প্রদেশ পূর্ববঙ্গ এবং আসামের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর ছিলেন স্যার জোসেফ ব্যামফিল্ড ফুলার।

⇒ তিনি ১৮৮৫ সালে মধ্য প্রদেশের ভূমি জরিপ ও কর নির্ধারণ এবং কৃষিবিষয়ক কমিশনার হিসেবে ভারতীয় সিভিল সার্ভিস-এ তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালে ভাইসরয়ের পরিষদের অতিরিক্ত সদস্য এবং ১৯০১-০২ সাল পর্যন্ত ভারত সরকারের সচিব ছিলেন।
- ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর নতুন প্রদেশ পূর্ববঙ্গ ও আসামের লেফটেন্যান্ট গভর্নরের পদে নিয়োগ লাভের পূর্বে ফুলার আসামের প্রধান কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
- তিনি ভারতে ব্রিটিশ প্রশাসনে সেবা প্রদানের জন্য নাইট উপাধি লাভ করেন।

⇒ বাংলা ও ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫-১৯১১) একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত ছিল বাংলা প্রদেশ বা বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি। কলকাতা ছিল এর রাজধানী। এটি ছিল ব্রিটিশ ভারতের বৃহত্তম প্রদেশ। শাসন কার্যের সুবিধার্থে ব্রিটিশ সরকার বাংলা প্রেসিডেন্সির বিভক্তকরণের কথা চিন্তা করতে থাকে। উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেন স্যার রাম্পফিল্ড ফুলার এবং স্যার এন্ড্রু ফ্রেজার। তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জনও বহুবার বিষয়টি আলোচনা করেন। অতঃপর ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গ সম্পন্ন হয়। সৃষ্টি হয় ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও আসামকে নিয়ে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে' এক নতুন প্রদেশ এবং এর রাজধানী হয় ঢাকা। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪০.
কার প্রচেষ্টায় হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহের প্রচলন হয়?
  1. ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. খ) রাজা রামমোহন রায়
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সমাজ সংস্কারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহ প্রচলন এবং বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধকরণে সংগ্রাম করেন।
তার প্রচেষ্টায় ১৮৫৬ সালে লর্ড ডালহৌসি বিধবা বিবাহ আইন পাস করেন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তার ছেলের বিয়ে দেন একজন বিধবা'র সাথে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৭৪১.
কোন ইংরেজ শাসক 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' প্রবর্তন করেন?
  1.  লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
  3. লর্ড ওয়েলেসলি
  4. লর্ড ডালহৌসি
সঠিক উত্তর:
 লর্ড কর্নওয়ালিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 লর্ড কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা

• চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত  ১৭৯৩ সালে কর্নওয়ালিস প্রশাসন কর্তৃক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সরকার ও বাংলার ভূমি মালিকদের মধ্যে সম্পাদিত একটি স্থায়ী চুক্তি।
- এ চুক্তির আওতায় জমিদার উপনিবেশিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ভূ-সম্পত্তির নিরঙ্কুশ স্বত্বাধিকারী হন।
- এটি ছিল ইংরেজদের একটি সাম্রাজ্যবাদী বিধিব্যবস্থা।
- এর মাধ্যমে ইংরেজরা এদেশে তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন।
- এক্ষেত্রে তারা অনেক সফলতা লাভ করলেও এ ব্যবস্থার ফলে সাধারণ কৃষক এমনকি অনেক সম্ভ্রান্ত বনেদি জমিদার সর্বশান্ত হয়ে পড়ে।
- অন্যদিকে নগদ টাকার মালিক ও পুঁজিপতি মহাজনরা রাতারাতি জমিদারে পরিণত হয়।
- নব সৃষ্ট এ জমিদার শ্রেণী ইংরেজ শাসনের জন্য একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি স্থাপনে সহায়ক শক্তির ভূমিকা পালন করে।
- ১৯৫০ সালে এ ব্যবস্থা উচ্ছেদ করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭৪২.
সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে ইংরেজরা প্রথম কোন স্থানে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে?
  1. হুগলি
  2. মাদ্রাজ
  3. সুরাট
  4. কলকাতা
সঠিক উত্তর:
সুরাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুরাট
ব্যাখ্যা

ইংরেজদের আগমন ও ক্ষমতা বিস্তার:
- পর্তুগিজ ও ওলন্দাজ বণিকদের বাণিজ্যিক সাফল্য ও এদেশের বিপুল ধন-সম্পদের বর্ণনা ইংরেজ বণিকদের মনে এদেশে বাণিজ্য করার আগ্রহ সৃষ্টি করে।
- ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ইংল্যান্ডের রানী এলিজাবেথের কাছ থেকে ১৫ বছর মেয়াদী সনদ নিয়ে এদেশে বাণিজ্য করতে আসে। 
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময়ে তারা ১৬১২ খ্রিস্টাব্দে মুম্বাইয়ের নিকট সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৬১৫ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ রাজদূত স্যার টমাস রো সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে এসে ইংরেজদের বাণিজ্যের জন্য কিছু সুবিধা আদায় করেন।
- পর্তুগিজরা বাংলা থেকে বিতাড়িত হলে ইংরেজগণ বালেশ্বরে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে এবং করমণ্ডল উপকূলে কিছু জমি নিয়ে একটি দুর্গ নির্মাণ করে এবং এ দুর্গই পরে মাদ্রাজ শহরে পরিণত হয়।
- ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দে জলপথে ইংরেজগণ হুগলিতে আসে এবং বাংলার সুবেদার শাহ সুজার অনুমতি নিয়ে ১৬৫১ খ্রিস্টাব্দে সেখানে বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ করে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৪৩.
বঙ্গভঙ্গের সময় ________ ছিলেন ভারতের গভর্নর জেনারেল।
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড ডালহৌসি
  3. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  4. লর্ড ওয়েলেসলি
সঠিক উত্তর:
লর্ড কার্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড কার্জন
ব্যাখ্যা

• বঙ্গভঙ্গের সময় লর্ড কার্জন ছিলেন ভারতের গভর্নর জেনারেল।

• বঙ্গভঙ্গ:
- বঙ্গভঙ্গের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন — লর্ড কার্জন।
- ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- বাংলার মুসলমানরা নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়।
- অপর দিকে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায় হিন্দু সমপ্রদায়ের মধ্যে।
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে তারা বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে। রাজা পঞ্চম জর্জ ভারত সফরে এসে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- বঙ্গভঙ্গ রদে হিন্দু সম্প্রদায় খুশি হয়, অপর দিকে মুসলমান সম্প্রদায় মর্মাহত এবং হতাশ হয়।
- ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।

অন্যদিকে,
• লর্ড ওয়েলেসলি ১৭৯৮ থেকে ১৮০৫ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
• ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বশেষ ভাইসরয় বা রাজপ্রতিনিধি ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন। তাঁর সময় ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছিল।
• লর্ড ডালহৌসি ১৮৪৮ সালে স্বত্ব বিলোপ নীতির (ডকট্রিন অব ল্যাপ্স) প্রবর্তন করেন। তবে ডালহৌসির পূর্বেও ব্রিটিশ ভারতে এই নীতির প্রয়োগ ছিলো। ডালহৌসি এই নীতির সর্বাধিক প্রয়োগ করেন।
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সহায়তায় ১৮৫৬ সালে লর্ড ডালহৌসি বিধবা বিবাহ আইন পাস করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৪৪.
ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মিত হয়-
  1. হুগলি
  2. দিল্লী
  3. সোনারগাঁও
  4. কলকাতায়
সঠিক উত্তর:
কলকাতায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতায়
ব্যাখ্যা
ইংরেজ :
- ইংল্যান্ড রানি এলিজাবেথের অনুমতি নিয়ে সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ১৬০০ সালে ভারত বর্ষে আসে ইংরেজরা ।
- তারা সুরাটে প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন ১৬১২ সালে।
 - সম্রাট শাজাহানের সময় বাংলায় প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন।
 -  কলকাতায় রাজা উইলিয়ামের নাম অনুসারে, ফোর্ট উলিয়াম দুর্গা নির্মাণ করে হয় ১৭০০ সালে।

উৎস : ইতিহাস ও সভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৭৪৫.
পলাশীর যুদ্ধের পর কারা এদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়?
  1. ডাচরা
  2. ফরাসিরা
  3. ইংরেজরা
  4. পর্তুগিজরা 
সঠিক উত্তর:
ফরাসিরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরাসিরা
ব্যাখ্যা

পলাশী যুদ্ধ:
- নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তাই পলাশীর যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- এ যুদ্ধ আট ঘণ্টার মতো স্থায়ী ছিল।
- প্রধান সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোম্পানি কর্তৃক পরাজিত হন।
- এ যুদ্ধের রাজনৈতিক ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী ও ধ্বংসাত্মক।
- এর ফলে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। অপরদিকে ফরাসিরা এদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে। নবাবের পক্ষে সৈন্যসংখ্যা ছিল প্রায় ৬৫ হাজার।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পক্ষে ছিল মাত্র ৩ হাজার।
- জেতার সব ধরণের সুযোগ সুবিধার পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে। ইংরেজরা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়। এ ভাবেই এ যুদ্ধে বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৪৬.
ভারতবর্ষের প্রথম আদমশুমারি কার শাসনামলে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. লর্ড রিপন 
  2. লর্ড মেয়ো 
  3. লর্ড কার্জন 
  4. লর্ড ডালহৌসি
সঠিক উত্তর:
লর্ড মেয়ো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড মেয়ো 
ব্যাখ্যা

লর্ড মেয়ো:
- লর্ড মেয়ো ১৮৬৯ থেকে ১৮৭২ সাল পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় এবং গভর্নর জেনারেল।
- সম্ভবত তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার সংস্কার।
- তিনি লবণ কর ও আয়কর বৃদ্ধি করেছিলেন।
- তিনি প্রশাসনে ব্যয় সংকোচন ঘটান এবং প্রাদেশিক সরকারগুলিকে পাঁচ বছরের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থবরাদ্দ করার ব্যবস্থা করে অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেন। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যথেষ্ট উন্নত হয়।
- তাঁর শাসনামলেই ভারতবর্ষের প্রথম আদমশুমারি শুরু হয়
- তিনি দেশে পরিসংখ্যান জরিপের ব্যবস্থা করেন এবং কৃষি ও বাণিজ্য বিভাগ সৃষ্টি করেন।
- দেশীয় রাজন্যবর্গ ও প্রধানদের সন্তান-সন্ততির লেখাপড়ার জন্য তিনি আজমীরে মেয়ো কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আন্দামান সফরে গিয়ে তিনি জনৈক পাঠান কয়েদির ছুরিকাঘাতে নিহত হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭৪৭.
ব্রিটিশবিরোধী চাকমা বিদ্রোহের নেতা কে?
  1. রোহান বক্স
  2. জোয়ান বক্স
  3. রাস্মিন চাকমা
  4. মঙ্গল পান্ডে
সঠিক উত্তর:
জোয়ান বক্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জোয়ান বক্স
ব্যাখ্যা

• চাকমা বিদ্রোহ (১৭৭৬-১৭৮৯):
- চাকমা বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয় চাকমা রাজা জোয়ান বক্স খান ।
- কারণ চাকমা রাজা জুয়ান বক্স মুদ্রার রাজস্ব দিতে বাধ্য করা হয় ।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে মুদ্রা অর্থনীতি প্রচলনের ব্যবস্থা করায় চাকমা বিদ্রোহ সংঘঠিত হয়।
- সরকারি নথিপত্র থেকে জানা যায় যে, জুয়ান বক্স ও রানু খান সম্পূর্ণ পাহাড়ি এলাকা ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীন করেছিলেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।

৭৪৮.
উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কে পরিচিত?
  1. কর্নওয়ালিস
  2. ওয়াটসন
  3. রবার্ট ক্লাইভ
  4. লর্ড বেন্টিং
সঠিক উত্তর:
রবার্ট ক্লাইভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবার্ট ক্লাইভ
ব্যাখ্যা

রবার্ট ক্লাইভ:
- রবার্ট ক্লাইভ ছিলেন উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা।
- উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের ইতিহাসে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
- তরুণ বয়সে মাদ্রাজে (বর্তমান চেন্নাই) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে তিনি ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হন।
- ১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সঙ্গে এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করে এবং দ্বৈত শাসন প্রবর্তন হয়।
- রবার্ট ক্লাইভের চারিত্রিক দোষ থাকা সত্ত্বেও উপমহাদেশে ইংরেজ শক্তির প্রতিষ্ঠার জন্য তার অবদান অস্বীকার করা যায় না।
- ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্থপতি ও প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে লর্ড ক্লাইভের নাম উপমহাদেশের ইতিহাসে চিরকাল মনে থাকবে।
- প্রথম পর্যায়ে তিনি দাক্ষিণাত্যে কোম্পানিকে রক্ষা করেন।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে তিনি বাংলা জয় করেন, এবং তৃতীয় পর্যায়ে নবাব ও সম্রাটকে নিয়ন্ত্রণ করে সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত হন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৪৯.
কোন যুদ্ধের পর এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
  1. পলাশীর যুদ্ধ
  2. পানিপথের ৩য় যুদ্ধ
  3. বক্সারের যুদ্ধ
  4. প্লাসির যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
বক্সারের যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বক্সারের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

বক্সারের যুদ্ধের পর এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

এলাহাবাদ চুক্তি ও বাংলার ক্ষমতা দখল:

- এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৭৬৫ সালে।
- রবার্ট ক্লাইভ ও মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম-এর মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এই চুক্তির ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করেছিল।
- সম্রাট শাহ আলমকে কোম্পানি প্রতি বছর ২৬ লক্ষ টাকা দান করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
- এই চুক্তির ফলে  রাজস্ব আদায় ও দেশ রক্ষার ভার ছিল কোম্পানির উপর, অন্যদিকে নিজামত তথা বিচার ও প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব বর্তায় নবাবের উপর।

⇒ কোম্পানির সরাসরি দিউয়ানির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য যে অর্থ ও লোকবল প্রয়োজন তা যেমন ছিলনা, তেমনি এদেশীয় ভাষা ও আইন কানুন সম্পর্কে কোম্পানির কর্মচারীদের জ্ঞানও ছিল না।
- তাই রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব সরাসরি গ্রহণ তাদের জন্য সম্ভব ছিল না।
- এ সকল দিক চিন্তা করেই তারা দ্বৈত শাসন নীতি প্রবর্তন করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- বক্সার যুদ্ধের পর কোম্পানির কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা চরমে উঠলে এবং বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশ খারাপ হলে, ইংরেজ সরকার ভীত হয়ে পড়লেন।
- ফলে ইংল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ কোম্পানির দুর্নীতি দমন ও স্বার্থ বৃদ্ধির জন্য পুনরায় ক্লাইভকে লর্ড উপাধি দান করে বাংলায় দ্বিতীয়বার প্রেরণ করেন (১৭৬৫-১৭৬৭ খ্রি.)।
- এদেশে এসেই তিনি মীর কাশিমের মিত্রশক্তি অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা ও দিল্লির সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের প্রতি নজর দেন।
- বক্সার যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ লক্ষ টাকা এবং কারা ও এলাহাবাদ জেলা দু'টি পেয়ে অযোধ্যার নবাবের সাথে মিত্রতা স্থাপন করেন।
- তারপর তিনি দিল্লির দুর্বল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে সন্ধি স্থাপন করেন।
- ক্লাইভ কারা ও এলাহাবাদ জেলা দু'টি ও বাৎসরিক ২৬ লক্ষ টাকা কর প্রদানের বিনিময়ে সম্রাটের নিকট হতে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করলেন (১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে ১২ আগস্ট ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দিউয়ানি সনদ লাভ করে)।
- এর ফলে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইংরেজ উপনিবেশের পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৫০.
পূর্ববঙ্গ থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা পত্রিকা কোনটি?
  1. ক) গ্রামবার্তা প্রকাশিকা
  2. খ) দিগদর্শন
  3. গ) রঙ্গপুর বার্তাবহ
  4. ঘ) ঢাকা প্রকাশ
সঠিক উত্তর:
গ) রঙ্গপুর বার্তাবহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রঙ্গপুর বার্তাবহ
ব্যাখ্যা
পূর্ববঙ্গ অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশ ভূখণ্ড থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র হলো রঙ্গপুর বার্তাবহ।
এটি ছিলো একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা যা ১৮৪৭ সালের আগস্ট মাসে প্রথম প্রকাশিত হয়। এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন গুরুচরণ শর্মা রায়।
১৮৫৭ সালে পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৭৫১.
কত সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে?
  1. ১৭৫৭
  2. ১৮৫৩
  3. ১৮৫৭
  4. ১৮৫৮
সঠিক উত্তর:
১৮৫৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৮
ব্যাখ্যা

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে ১৬১২ সালে।
- কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করে ১৭০০ সালে।
- পলাশী যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয় ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন।
- ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাপিডিয়া।

৭৫২.
কোন যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের গোড়াপত্তন হয়?
  1. ক) পানিপথের
  2. খ) পলাশীর
  3. গ) বক্সারের
  4. ঘ) পূনিয়ার
সঠিক উত্তর:
খ) পলাশীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পলাশীর
ব্যাখ্যা

- নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যুর পর তাঁর দৌহিত্র সিরাজউদ্দৌলা ১৭৫৬ সালের ১০ এপ্রিল বাংলা বিহার উড়িষ্যার নবাবি মসনদে আরোহন করেন।
- ২৩ জুন, ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হলে ইংরেজরা ধীরে ধীরে ভারতবর্ষ শাসন করতে থাকে।
- এই যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের গোড়াপত্তন হয়।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৭৫৩.
নিচের কোনটি সিপাহী বিদ্রোহের ফলাফল?
  1. ক) দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন
  2. খ) ‘স্বত্ব বিলোপ নীতি' বাতিল ঘোষণা
  3. গ) বাংলা প্রেসিডেন্সি গঠন
  4. ঘ) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন
সঠিক উত্তর:
খ) ‘স্বত্ব বিলোপ নীতি' বাতিল ঘোষণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ‘স্বত্ব বিলোপ নীতি' বাতিল ঘোষণা
ব্যাখ্যা
- সিপাহি বিদ্রোহকে বলা হয় ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম।
- ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাস ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। 

ফলাফল ও মূল্যায়ন : 
- সিপাহী বিদ্রোহের ফলাফল সুদূরপ্রসারী। 
- এ বিদ্রোহ সফল না হলেও এটি ভারতে ব্রিটিশ শাসনের মূলে প্রচন্ড আঘাত হানে।
-  ১৮৫৮ সালে বিদ্রোহ শেষে এক ঘোষণা বলে মহারাণী ভিক্টোরিয়া ভারতবর্ষের শাসনভার নিজের হাতে তুলে নেন এবং অবসান হয় একশ বছরের কোম্পানি শাসন। 
- ব্রিটিশ রাজ ‘স্বত্ব বিলোপ নীতি' বাতিল ঘোষণা করে। 
- সামরিক বাহিনীতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়।
-  বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে নির্বাসনে পাঠানো হয়। 
- ভারতবর্ষের বিষয়াবলী দেখাশোনার জন্য ‘ভাইসরয়’ নামক একটি পদ সৃষ্টি করা হয়। এভাবে ইংরেজরা তাদের শাসনকার্যে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫৪.
তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলন কী নামে পরিচিত?
  1. স্বদেশী আন্দোলন
  2. ফরায়েজী আন্দোলন
  3. ওয়াহাবি আন্দোলন
  4. ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
ওয়াহাবি আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়াহাবি আন্দোলন
ব্যাখ্যা
ওয়াহাবি আন্দোলন:
- পূর্ব ও পশ্চিম বাংলায় প্রায় একই সময়ে দুটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের শুরু হয়।
- পূর্ব বাংলার আন্দোলনটি ফরায়েজি আন্দোলন নামে পরিচিত, আর পশ্চিম বাংলার আন্দোলনের নাম ওয়াহাবি বা ‘তারিক-ই- মুহম্মদীয়া'।
- ওয়াহাবি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তিতুমীর।
- ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে এ আন্দোলন শুরু এবং শেষ হয় ১৮৩১ ক্রিস্টাব্দে তিতুমীরের শাহাদাৎ বরণের মধ্য দিয়ে।

⇒ উনিশ শতকে ভারতবর্ষে মুসলমান সমাজের ধর্মীয়, সামাজিক কুসংস্কার দূর করে মুসলিম সম্প্রদায়কে ধর্মীয় অনুশাসন পালনের সঠিক পথ নির্দেশ করাই এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল।
- বাংলার ওয়াহাবিরাও তিতুমীরের নেতৃত্বে একই উদ্দেশ্যে সংগঠিত হয়েছিল।
- তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত 'তাহরিক-ই-মুহম্মদীয়া' আন্দোলন বা ওয়াহাবি আন্দোলন ছিল উত্তর ভারতের সৈয়দ আহমদ শহীদের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত।
- তাঁর এই ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনে বহু মুসলমান, বিশেষ করে চব্বিশ পরগনা এবং নদীয়া জেলার বহু কৃষক, তাঁতী স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দেয়।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিতুমীর তাঁর প্রধান ঘাটি স্থাপন করেন। নির্মাণ করেন ইতিহাস খ্যাত তাঁর বাঁশের কেল্লা।
- গোলাম মাসুমের নেতৃত্বে গড়ে তোলেন সুদক্ষ শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনী।
- ইংরেজ জমিদার, নীলকরদের দ্বারা নির্যাতিত কৃষকরা দলে দলে তিতুমীরের বাহিনীতে যোগ দিলে ধর্ম সংস্কার আন্দোলন একটি ব্যাপক কৃষক আন্দোলনে রূপ নেয়। ফলে কৃষকদের সংঘবদ্ধতা এবং তিতুমীরের শক্তি বৃদ্ধিতে শঙ্কিত হয়ে উঠে শাসক-শোষক, জমিদার শ্রেণি।

⇒ জমিদারদের প্ররোচনায় ইংরেজ সরকার তিতুমীর এবং তার অনুসারীদের দমনের জন্য বারাসাতের ম্যাজিস্ট্রেট আলেকজেন্ডারের নেতৃত্বে একদল সৈন্য পাঠায়। কিন্তু তারা তিতুমীরের বাহিনীর কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। ১৫ জন ইংরেজ সৈন্য নিহত ও বহু আহত হয়। এতে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন বড় লাট লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক। শেষ পর্যন্ত ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে তিতুমীরের বিরুদ্ধে ইংরেজ সরকার এক বিশাল সুশিক্ষিত সেনা বাহিনী প্রেরণ করে। মেজর স্কটের নেতৃত্বে এই বাহিনী তিতুমীরের নারিকেলবাড়িয়ার বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে। ইংরেজদের কামান বন্দুকের সামনে বীরের মতো লড়াই করে পরাজিত হয় তিতুমীরের বাহিনী। তিনি যুদ্ধে নিহত হন। এ ভাবেই পরিসমাপ্তি ঘটে একটি সুসংগঠিত কৃষক আন্দোলনের। 

⇒ মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিতুমীর হজকরার জন্য মক্কা শরিফ যান এবং ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে দেশে ফিরে আসেন। দেশের ফিরে তিনি ধর্মীয় সংস্কার কাজে আত্মনিয়োগ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫৫.
রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সম্বাদ কৌমুদী
  2. জ্ঞানান্বেষণ
  3. বঙ্গদূত
  4. সম্বাদ প্রভাকর
সঠিক উত্তর:
সম্বাদ কৌমুদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্বাদ কৌমুদী
ব্যাখ্যা
-'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন রাজা রামমোহন রায়।
- এটি একটি সাময়িক পত্রিকা৷ যা ১৮২১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি সমাচার দর্পণ পত্রিকার জবাব স্বরূপ প্রকাশিত হয়৷

- সম্বাদ প্রভাকর পত্রিকার সম্পাদক - ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- জ্ঞানান্বেষণ পত্রিকার সম্পাদক - দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।
- বঙ্গদূত পত্রিকার সম্পাদক - নীলমণি হালদার৷
- কল্লোল প্রথম সম্পাদক ছিলেন - দীনেশরঞ্জন দাশ

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার
৭৫৬.
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার হলেন-
  1. ক) সমাজ সংস্কারক
  2. খ) ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী
  3. গ) নীল বিদ্রোহের নেত্রী
  4. ঘ) প্রথম ভারতীয় মহিলা বিচারপতি
সঠিক উত্তর:
খ) ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী
ব্যাখ্যা
- প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার (১৯১১-১৯৩২ খ্রি.) হলেন বাংলার একজন ব্রিটিশবিরোধী নারী বিপ্লবী।
- তিনি মাস্টার দা সূর্যসেনের সহচর ছিলেন।
- প্রীতিলতা ১৯২৭ সালে চট্টগ্রামের খাস্তগীর বালিকা বিদ্যালয় প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক এবং ১৯২৯ সালে ঢাকা থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯৩১ সালে তিনি কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে দর্শনশাস্ত্রে ডিস্টিংশনসহ গ্রাজুয়েশন করেন।
- ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে অবস্থিত ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণে নেতৃত্ব দেন এবং ইংরেজদের নিকট ধরা পড়া এড়াতে সায়ানাইড খেয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৭৫৭.
ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটায় -
  1. স্বদেশী আন্দোলন
  2. খিলাফত আন্দোলন
  3. সিপাহী বিদ্রোহ
  4. ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
সঠিক উত্তর:
সিপাহী বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিপাহী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
• সিপাহী বিদ্রোহ
- ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম সংঘটিত হয় - সিপাহী বিদ্রোহ (১৮৫৭ সালে)।
- পলাশী যুদ্ধের একশ বছর পর ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে প্রধানত সিপাহীদের নেতৃত্বে যে ব্যাপক সশস্ত্র বিদ্রোহ সংঘটিত হয়, তাকেই ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
- এর ফলে ১৮৫৮ সালে 'মহারানীর রাজকীয় ঘোষণা' এবং ১৮৫৮ সালের 'ভারত শাসন আইন' দ্বারা ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটানো হয়।

- ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর সেনানিবাসে মঙ্গল পান্ডে নামে এক সিপাহী সর্বপ্রথম প্রকাশ্যভাবে বিদ্রোহ করে।
- সিপাহী বিদ্রোহের প্রথম শহীদ মঙ্গল পাণ্ডে।
- এরপর মে মাসে মীরাটের সেনা ছাউনিতে সিপাহীরা সরকারী নির্দেশ অমান্য করে এবং কর্নেল ফিনিসকে গুলি করে হত্যা করার পর বিদ্রোহের তীব্রতা বাড়ে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।

- সিপাহী বিদ্রোহের স্মৃতি বিজড়িত স্থান - বাহাদুর শাহ পার্ক।
- সিপাহী বিদ্রোহকালীন গভর্নর জেনারেল ছিলেন - লর্ড ক্যানিং।
- গভর্নর জেনারেলের পরিবর্তে ভাইসরয় নিয়োগ দেওয়া হয়। তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড ক্যানিংকে ভারতের প্রথম ভাইসরয় হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫৮.
নীল চাষকে কৃষকদের ইচ্ছাধীন করার ক্ষেত্রে কোন কমিশনটি সমর্থনযোগ্য?
  1. সায়মন কমিশন
  2. সাদা কমিশন
  3. ইন্ডিগো কমিশন
  4. চেমসফোর্ড কমিশন
সঠিক উত্তর:
ইন্ডিগো কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্ডিগো কমিশন
ব্যাখ্যা
নীল চাষ:

- ১৭৭০ থেকে ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে বাংলায় ইংরেজ আমলে নীল চাষ শুরু হয়।
- ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার ইন্ডিগো কমিশন বা নীল কমিশন গঠন করে।
- বাংলাদেশে নীলের ব্যবসা ছিল একচেটিয়া ইংরেজ বণিকদের।
- ফরিদপুর, ঢাকা, পাবনা, যশোর, রাজশাহী, নদিয়া, মুর্শিদাবাদে ব্যাপক নীল চাষ হতো।
- নীল চাষিরা ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে প্রচণ্ড বিদ্রোহে ফেটে পড়ে। গ্রামে গ্রামে কৃষকরা সংগঠিত এবং ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে।
- যশোরের নীল বিদ্রোহের নেতা ছিলেন নবীন মাধব ও বেনী মাধব নামে দুই ভাই। হুগলীতে নেতৃত্ব দেন বৈদ্যনাথ ও বিশ্বনাথ সর্দার।
- নদীয়ায় ছিলেন মেঘনা সর্দার এবং নদীয়ার চৌগাছায় বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস নামে দুই ভাই।
- নীল চাষ নিয়ে দীনবন্ধু মিত্রের লেখা বিখ্যাত নাটক ‘নীলদর্পণ'।
- ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার ইন্ডিগো কমিশন বা নীল কমিশন গঠন করে। এই কমিশনের সুপারিশের উপর ভিত্তি করে নীল চাষকে কৃষকদের ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।
- ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দে এদেশে নীলচাষ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫৯.
কোন ইউরোপীয় জাতি প্রথম চট্টগ্রামে আগমন করে?
  1. ডাচ
  2. ফরাসি
  3. পর্তুগিজ
  4. ইংরেজ
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা

প্রথম চট্টগ্রামে আগমন:
- ইউরোপীয়দের মধ্যে পর্তুগিজরাই প্রথম চট্টগ্রামে আগমন করে। পর্তুগিজরা এই বন্দর এলাকাকে 'পোর্তো গ্রান্দে দি বেঙ্গলা' বা 'গ্রেট পোর্ট অফ বেঙ্গল' হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। 
- ১৫১৭ সাল থেকে পর্তুগিজরা চট্টগ্রামে আসতে শুরু করে। বাণিজ্যের চেয়ে তাদের মধ্যে জলদস্যুতার বিষয়টি প্রবল ছিল। সুলতান প্রবলভাবে তাদের দমনের চেষ্টা করেন। কিন্তু এ সময় আফগান শাসক শের শাহ বাংলা আক্রমণ করবে শুনে ভীত সন্ত্রস্ত হোসেন শাহ পর্তুগিজদের সহায়তা কামনা করেন। তখন সামরিক সহায়তার বিনিময়ে ১৫৩৭ সালে পর্তুগিজরা চট্টগ্রামে বাণিজ্য কুঠি নির্মান করে। একই সঙ্গে তাদেরকে বন্দর এলাকার শুল্ক আদায়ের অধিকার দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ১৫৩৮ সালে শের শাহ‌-র সেনাপতি চট্টগ্রাম দখল করে।

- ১৫৮১ সাল থেকে ১৬৬৬ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম সম্পূর্ণভাবে আরাকান রাজাদের অধীনে শাসিত হয়। তবে, পর্তুগিজ জলদস্যুদের দৌরাত্ম এ সময় খুবই বৃদ্ধি পায়। বাধ্য হয়ে আরাকান রাজা ১৬০৩ ও ১৬০৭ সালে শক্ত হাতে পর্তুগিজদের দমন করেন। ১৬০৭ সালেই ফরাসি পরিব্রাজক ডি লাভাল চট্টগ্রাম সফর করেন।তবে সে সময় পর্তুগিজ জলদস্যু গঞ্জালেস সন্দীপ দখল করে রাখে। পর্তুগিজ মিশনারি পাদ্রি ম্যানরিক ১৬৩০-১৬৩৪ সময়কালে চট্টগ্রামে উপস্থিতকালে চট্টগ্রাম শাসক আলামেনের প্রশংসা করে যান। ১৬৬৬ সালে চট্টগ্রাম মোগলদের হস্তগত হয়।

- ১৬৬৬ সালে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খানকে চট্টগ্রাম দখলের নির্দেশ দেন। সুবেদারের পুত্র উমেদ খাঁর নেতৃত্বে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় আরাকানীদের পরাজিত করে এবং আরাকানী দূর্গ দখল করে। যথারীতি পর্তুগিজরা আরাকানীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে মোঘলদের পক্ষ নেয়। পরবর্তীতে ১৬৬৬ সালে মুঘলরা পর্তুগিজদের চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করে। 

- চট্টগ্রাম ১৭৬০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) চট্টগ্রাম জেলা ওয়েবসাইট।

৭৬০.
'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' বাংলা কত সালে ঘটেছিল?
  1. ১১৭০ বঙ্গাব্দ
  2. ১১৭২ বঙ্গাব্দ
  3. ১১৭৫ বঙ্গাব্দ
  4. ১১৭৬ বঙ্গাব্দ
সঠিক উত্তর:
১১৭৬ বঙ্গাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১৭৬ বঙ্গাব্দ
ব্যাখ্যা

ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) গ্রীষ্মকালে দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
- যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- কোম্পানির মুর্শিদাবাদের প্রতিনিধি রিচার্ড বেচারের ভাষায় ‘দেশের কয়েকটি অংশে যে জীবিত মানুষ মৃত মানুষকে ভক্ষণ করিতেছে তাহা গুজব নয়, অতিসত্য।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ মৃত্যু বরণ করে।
- ইংরেজ সরকার বাংলার জনগণকে এই বিপর্যয় থেকে রক্ষার জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
- বরং ১৭৬৫-৭০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাৎসরিক রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ যা ছিল, দুর্ভিক্ষের বছরও রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ প্রায় তার কাছাকাছি ছিল। ফলে চরম শোষণ নির্যাতনে বাংলার মানুষ হত দরিদ্র ও অসহায় হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৬১.
ভারতে উচ্চ শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ইংরেজি ভাষা চালু করেন কে?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড বেন্টিঙ্ক
  3. লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. লর্ড হেস্টিংস
সঠিক উত্তর:
লর্ড বেন্টিঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড বেন্টিঙ্ক
ব্যাখ্যা
⇒ ভারতে উচ্চ শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ইংরেজি ভাষা চালু করেন লর্ড বেন্টিঙ্ক।

লর্ড বেন্টিঙ্ক:

- ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড বেন্টিঙ্ক এদেশে গভর্নর জেনারেল হয়ে আসেন।
- প্রথম জীবনে তিনি নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে ওয়াটারলুর যুদ্ধ বিজেতা ডিউক অফ ওয়েলিংটনের সেনা বাহিনীতে ছিলেন।
- তিনি যখন এদেশে গভর্নর জেনারেল হিসেবে আসেন তখন তাঁর এদেশে সামরিক নৈপুণ্য দেখানোর কোনো সুযোগ ছিল না।
- কারণ সে সময়টা ছিল সংস্কারের যুগ। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, বেন্টিঙ্কই প্রথম গভর্নর জেনারেল যিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে এদেশে প্রজাদের কল্যাণ সাধনই শাসকের প্রধান কর্তব্য।
- তাঁর প্রচেষ্টার ফলেই এদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও সভ্যতার অবাধ প্রসারের পথ উন্মুক্ত হয়।
- বেন্টিঙ্কের সমাজ সংস্কার ধর্মীয় গোঁড়ামী ও নিপীড়নের হাত থেকে এদশের জনগণকে রক্ষা করেছিল।
- তাঁর শিক্ষা সংস্কার পরবর্তীকালে এদেশীয়দের মনোজগতে এক বিরাট আলোড়ন ও পরিবর্তন নিয়ে আসে যা এদেশের সমাজ ও সভ্যতার অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করে তুলেছিল।
- তাই আজও লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক উপমাহদেশের ব্রিটিশ যুগের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬২.
কোন আইনের মাধ্যমে বাংলার গভর্নর জেনারেল ভারতের গভর্নর জেনারেলে উন্নীত হন?
  1. ক) রেগুলেটিং অ্যাক্ট
  2. খ) ক্লজেস অ্যাক্ট
  3. গ) পিটের ইন্ডিয়া অ্যাক্ট
  4. ঘ) চার্টার অ্যাক্ট
সঠিক উত্তর:
ঘ) চার্টার অ্যাক্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চার্টার অ্যাক্ট
ব্যাখ্যা
১৮৩৩ সালের চার্টার অ্যাক্টের (সনদ আইন) মাধ্যমে বাংলার গভর্নর জেনারেলকে ভারতের গভর্নর জেনারেল হিসেবে উন্নীত করা হয়।
এর ফলে বাংলার তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৭৬৩.
ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসের গোড়াপত্তন করেন কে?
  1. ওয়েলেসলি
  2. কর্নওয়ালিস
  3. ডালহৌসি 
  4. বেন্টিংক
সঠিক উত্তর:
কর্নওয়ালিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা
• কর্নওয়ালিস:
→ ইংরেজ যুগে ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস নামে যে উচ্চ পদস্থ কর্মচারীরা প্রসিদ্ধ হয়েছিল তার প্রথম পত্তন কর্নওয়ালিস করেছিলেন।
→ তাঁর সময়েই পুলিশ ব্যবস্থার সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন আনায়ন করা হয়।
→ তাই লর্ড কর্নওয়ালিসের শাসনকাল উপমহাদেশের ইতিহাসে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬৪.
একসালা ভূমি ব্যবস্থা চালু করেন কে?
  1. লর্ড ওয়েলেসলি
  2. লর্ড ডালহৌসি
  3. ওয়ারেন হেস্টিংস
  4. লর্ড কর্নওয়ালিস
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা
ওয়ারেন হেস্টিংস: 
- ওয়ারেন হেস্টিংস রাজস্ব আদায়ের জন্য পাঁচসালা বন্দোবস্ত ও একসালা বন্দোবস্ত চালু করেন।

- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের আগে ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস রাজস্ব আদায়ের জন্য পাঁচসালা বন্দোবস্ত চালু করেন।
- জমি বন্দোবস্তের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকায় জমিদাররা অর্থ আদায়ের জন্য কৃষকদের প্রতি চরম নির্যাতন মূলক ব্যবস্থা নিতো।
- অথচ কৃষকের বা জমির উন্নয়নের প্রতি তাদের কোনো লক্ষ ছিল না।
- এ অবস্থায় হেস্টিংস জমিদারদের সঙ্গে একসালা বন্দোবস্ত চালু করেন।

এছড়াও, 
- ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে কর্নওয়ালিস দশসালা বন্দোবস্ত চালু করেন। 

সূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬৫.
ঐতিহাসিক লক্ষ্মৌ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কত সালে?
  1. ১৯২০ সালে
  2. ১৯১৯ সালে
  3. ১৯১৬ সালে
  4. ১৯১৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ সালে
ব্যাখ্যা

- ঐতিহাসিক লক্ষ্মৌ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৯১৬সালে।

• লক্ষ্মৌ চুক্তি: 
- ভারত উপমহাদেশের সাংবিধানিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে ১৯১৬ সালের লক্ষ্মৌ চুক্তি এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
- হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে রাজনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তি রচনা করে এ চুক্তি। 

• নিম্নে লক্ষ্মৌ চুক্তির গুরুত্ব আলোচনা করা হলো:
১. লক্ষ্মৌ চুক্তির স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে হিন্দু মুসলিম রাজনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তি রচিত হয়।
২. এ চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় কংগ্রেসে মুসলমানদের পৃথক নির্বাচনের দাবি মেনে নেয়।
৩. এ চুক্তির ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল।
8. এ চুক্তির ফলে ভারতবর্ষে স্বায়ত্তশাসনের দাবি জোরদার হয়ে ওঠে।
৫. এ চুক্তির ফলে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ সম্মিলিতভাবে ব্রিটিশ সরকারের কাছে স্বায়ত্বশাসনের দাবি জানায়।
৬. মুসলমানদের স্বার্থ বিরোধী বিল পাশ না হওয়ার সম্ভবনা সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৬৬.
বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করেন কে?
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  3. রাজা পঞ্চম জর্জ
  4. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
সঠিক উত্তর:
রাজা পঞ্চম জর্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা পঞ্চম জর্জ
ব্যাখ্যা

বঙ্গভঙ্গ রদ:
- বঙ্গভঙ্গ রদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিলেন রাজা পঞ্চম জর্জ।
- ১৯১১ সালে ব্রিটিশ ভারতের সম্রাট পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে এক দরবারে এই ঘোষণা করেন।
- ব্রিটেনের সম্রাট পঞ্চম জর্জ এবং ভারত সচিব লর্ড ক্রু প্রমুখ বঙ্গভঙ্গ রদের পক্ষে মত দেন।
- ১৯১১ সালে সম্রাট পঞ্চম জর্জ ও রাণি মেরী ভারত সফরে আসেন।
- তাদের সফর উপলক্ষে ১২ ডিসেম্বর দিল্লিতে এক ঐতিহাসিক দরবারের আয়োজন করা হয়।
- সেখানে সম্রাট পঞ্চম জর্জ আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- ফলে কার্জনের বাংলা বিভক্তির ব্যবস্থা বাতিল হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯১০ সালে লর্ড হার্ডিঞ্জ ভারতের নতুন ভাইসরয় হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- তিনি বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অসন্তোষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা লক্ষ্য করে বঙ্গভঙ্গ রদের বিষয়ে গোপন তৎপরতা শুরু করেন।
- লর্ড হার্ডিঞ্জ বঙ্গভঙ্গ রদ করে বাংলা পুনঃএকত্রীকরণের সুপারিশ করেন।
- বঙ্গভঙ্গের ফলে ঢাকা চট্টগ্রাম, রাজশাহী, প্রেসিডেন্সী ও বর্ধমানের পাঁচটি বাংলা ভাষাভাষী বিভাগ নিয়ে বাংলা প্রদেশ পূনর্গঠন করা হয়।
- ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা হতে দিল্লিতে স্থানান্তর করা হয়।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৬৭.
কোন সময়ে টঙ্ক আন্দোলন হয়েছিল?
  1. ১৯৪৫-১৯৪৮ সালে
  2. ১৯৪৬-১৯৫০ সালে
  3. ১৯৫৬-১৯৫৯ সালে
  4. ১৯৪৯-১৯৫৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪৬-১৯৫০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৬-১৯৫০ সালে
ব্যাখ্যা

- ১৯৪৬-১৯৫০ সালে টঙ্ক আন্দোলন হয়েছিল।

• টঙ্ক আন্দোলন:

- ১৯৪৬-১৯৫০ সালে উত্তর ময়মনসিংহে কৃষকদের দ্বারা পরিচালিত একটি আন্দোলন।
- স্থানীয় ভাষায় টঙ্ক শব্দটি জমিতে উৎপাদিত পণ্যের আকারে প্রদেয় খাজনাকে বোঝায়।
- কেন এটাকে টঙ্ক বলা হয় তা স্পষ্ট নয়।
- টঙ্ক দক্ষিণ বাংলার ধান করারির (ধানে পরিশোধ্য খাজনা) মতো। টঙ্ক মূলত মুদ্রা-পূর্বকালের প্রথা।
- কৃষকরা ধানে তাদের খাজনা পরিশোধ করত।

এছাড়াও
- প্রথাগতভাবে টঙ্ক রায়তরা প্রতি ১.২৫ একর জমির জন্য ১০ থেকে ১৫ মন ধান খাজনা দিত।
- টাকার হিসাবে এটি নগদ খাজনা হারের দ্বিগুণেরও বেশি।
- এ জন্য টঙ্ক এলাকার রায়তরা অন্য রায়তদের টাকায় প্রদত্ত খাজনার সঙ্গে ধানে পরিশোধ্য খাজনার ন্যায্য সমন্বয় সাধনের জন্য চাপ দিচ্ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭৬৮.
ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র কোনটি?
  1. ঢাকা প্রকাশ
  2. সংবাদ প্রভাকর
  3. আজাদ
  4. ঢাকা নিউজ
সঠিক উত্তর:
ঢাকা নিউজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা নিউজ
ব্যাখ্যা
ঢাকা নিউজ হলো ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা। এটি ছিলো ইংরেজি ভাষার একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা যা ১৮৫৬ সালের ১৮ এপ্রিল আলেক্সান্ডার ফর্বেসের সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৮৬৯ সালে এর প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।

ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার সম্পাদিত ঢাকা প্রকাশ যা ১৮৬১ সালের ৭ মার্চ প্রথম প্রকাশিত হয়।
সংবাদ প্রভাকর হলো বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৭৬৯.
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে-
  1. ব্যারাকপুর
  2. পাটনায়
  3. হুগলি
  4. চণ্ডিগড়
সঠিক উত্তর:
ব্যারাকপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যারাকপুর
ব্যাখ্যা
- ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে- পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে।

• ১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম (সিপাহী বিদ্রোহ):

- ১৮৫৭ সালের মে মাসে ভারতের মেরঠ শহরে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে সিপাহীরা বিদ্রোহ শুরু করে।
- এই বিদ্রোহের প্রধান কারণ ছিল রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক নিপীড়ন।
- ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ভারতীয় জনগণ তাদের ধর্ম, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা হারিয়ে ফেলেছিল।
- সিপাহীরা নতুন এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজে গরু ও শূকরের চর্বি ব্যবহারের গুজবে ক্ষুব্ধ হয়।
- হিন্দু ও মুসলমান সিপাহীরা একত্রে বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করে।
- বিদ্রোহের আগুন প্রথমে জ্বলে ওঠে পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে।
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ বন্দুকের গুলি ছুড়ে বিদ্রোহের সূচনা করেন মঙ্গল পাণ্ডে নামে এক সিপাহি।
- দ্রুত এইবিদ্রোহ মিরাট, কানপুর,পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ,মধ্য প্রদেশ, বিহার, বাংলাসহ ভারতের প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা দিল্লি দখল করে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে ভারতবর্ষের বাদশা বলে ঘোষণা করে।
- ব্রিটিশরা অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে বিদ্রোহ দমন করে।
- ১৮৫৮ সালের মধ্যে বিদ্রোহ সম্পূর্ণভাবে দমন করা হয়।
- বিদ্রোহ ব্যর্থ হলেও এটি ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
- এই ঘটনার মাধ্যমে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সরকারের শাসন সূচনা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি
৭৭০.
চন্দননগরে কাদের কুঠি ছিলো?
  1. ক) ইংরেজ
  2. খ) ওলন্দাজ
  3. গ) পর্তুগিজ
  4. ঘ) ফরাসি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফরাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফরাসি
ব্যাখ্যা
চন্দননগরে ফরাসিদের বাণিজ্য কুঠি ছিলো। মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খানের নিকট থেকে ফরাসিরা চন্দননগর জায়গাটি ক্রয় করে ১৬৯০ সালে সেখানে একটি শক্তিশালী কুঠি স্থাপন করে। একই স্থানে ১৬৯৬ সালে তারা শক্তিশালী দূর্গ নির্মাণ করে। কিন্তু ইংরেজদের সাথে টিকতে না পেরে ফরাসিরা ভারত থেকে চলে যেতে বাধ্য হয়। (সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৭৭১.
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর সংঘটিত হয় -
  1. ক) ১১৭৬ বঙ্গাব্দ
  2. খ) ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দ
  3. গ) ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ঘ) ক ও গ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও গ
ব্যাখ্যা
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
১১৭৬ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে
• খাদ্যের অভাবে মােট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ ( ১ কোটি ) মৃত্যুমুখে পতিত হয়।
• তখন দিল্লীর সম্রাট ছিলেন শাহ আলম।

• জন কার্টিয়ার ১৭৬৯ থেকে ১৭৭২ সাল পর্যন্ত বাংলার ফোর্ট উইলিয়ম কাউন্সিলের গভর্নর ছিলেন।
• বাংলার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ১৭৬৯-৭০ সালের মহাদুর্ভিক্ষের দ্বারা কার্টিয়ারের শাসনকাল সমালোচনার মুখে পড়ে।
• নায়েব দীউয়ান ও নায়েব নাজিম সৈয়দ মুহম্মদ রেজা খান আসন্ন দুর্ভিক্ষ সম্পর্কে বারবার জন কার্টিয়ারকে অবহিত করা সত্ত্বেও তিনি তার সতর্কবাণীকে তেমন গুরুত্ব দেন নি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৭২.
উপমহাদেশের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
  1. লর্ড মিন্টো
  2. লর্ড কার্জন
  3. লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন
  4. লর্ড ওয়াভেল
সঠিক উত্তর:
লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন
ব্যাখ্যা
• সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল:
১৮৩৩ সালের চার্টার অ্যাক্টের (সনদ আইন) মাধ্যমে বাংলার গভর্নর জেনারেলকে ভারতের গভর্নর জেনারেল হিসেবে উন্নীত করা হয়।
এর ফলে বাংলার তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।

ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল হলেন — লর্ড ক্যানিং।
সিপাহী বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার ভারতের শাসনভার সরাসরি নিজের হাতে ‍তুলে নেয়। এতে গভর্নর জেনারেলের পরিবর্তে ভাইসরয় নিয়োগ প্রদান শুরু হয়।
সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল লর্ড ক্যানিংকে প্রথম ভাইসরয় হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এখানে প্রশ্নের ধরণ অনুসারে, এটা বলা যায় -
প্রশ্নটি লর্ড মাউন্ট ব্যাটেনকে নিয়ে করা হয়েছিলো।
কিন্তু প্রশ্নে ভাষাগত ত্রুটি রয়েছে।

যেহেতু অপশনে লর্ড ক্যানিং নেই, তাই সঠিক উত্তর হিসাবে লর্ড মাউন্ট ব্যাটেনকে ধরা হচ্ছে।
তবে এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হবে - লর্ড ক্যানিং।
-------------------------- 
অন্যদিকে,
- ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বশেষ ভাইসরয় বা রাজপ্রতিনিধি ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন। তাঁর সময় ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছিল।

লর্ড মাউন্টব্যাটেন:
- তিনি ১৯০০ সালের ২৫ জুন ইংল্যান্ডের উইন্ডসর (Windsor)-এ জন্মগ্রহণ করেন।
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯১৩ সালে রাজকীয় নৌবাহিনীতে প্রবেশ করেন।
- ১৯২১ সালে প্রিন্স অব ওয়েলস্-এর সহকারী (aide-de-camp) নিযুক্ত হওয়ার আগে তিনি নৌবাহিনীর বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ১৯৪৩ সালে লর্ড দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মিত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং বার্মা পুনরুদ্ধার করেন।
- ১৯৪৭ সালের মার্চ মাসে তিনি ভারতের ভাইসরয় নিযুক্ত হন এবং একই বছরের মধ্যআগস্ট পর্যন্ত এই পদে আসীন থাকেন।
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন উপমহাদেশের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বই।
৭৭৩.
'সিপাহী বিদ্রোহ' সংঘটিত হয়েছিল কার সময়ে?
  1. লর্ড কর্ণওয়ালিশ
  2. লর্ড মেয়ো
  3. লর্ড কার্জন
  4. লর্ড ক্যানিং
সঠিক উত্তর:
লর্ড ক্যানিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা

লর্ড ক্যানিং:
- লর্ড ক্যানিং ১৮৫৬ থেকে ১৮৬২ সাল পর্যন্ত ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল।
- বিখ্যাত রাজনীতিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব জর্জ ক্যানিংয়ের তৃতীয় পুত্র চার্লস জন ক্যানিং।
- তাঁর সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লব-এর শুরু।
- লর্ড ক্যানিং  সিপাহী বিদ্রোহ দমন করেন।
- এবং এ ঘটনার পর ১৮৫৮ সালে পার্লামেন্টারি আইন পাস হয়।
- রানী প্রকাশ্য ঘোষণা দ্বারা ভারতের শাসনভার নিজ হাতে গ্রহণ করেন।
- লর্ড ক্যানিং 'ক্ষমাশীল ক্যানিং' এর উপাধি পান।

উল্লেখ্য,
- লর্ড কার্জন: লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন।
- লর্ড কর্ণওয়ালিশ: চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রশাসনিক ও বিচার ব্যবস্থার রূপকার।
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন: ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭৭৪.
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে শাসন সংক্রান্ত বিষয়কে কয় ভাগে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ২ ভাগে
  2. খ) ৩ ভাগে
  3. গ) ৪ ভাগে
  4. ঘ) ৫ ভাগে
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ ভাগে
ব্যাখ্যা

• ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে শাসন সংক্রান্ত বিষয়কে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়। যথাঃ
- কেন্দ্রীয় বিষয়,
- প্রাদেশিক বিষয় ও
- যুগ্ম বিষয়।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৭৭৫.
ব্রিটিশ আমলে সংঘটিত কোন বিদ্রোহটি 'কার্পাস বিদ্রোহ' নামে পরিচিত?
  1. ক) চাকমা বিদ্রোহ
  2. খ) মুন্ডা বিদ্রোহ
  3. গ) বারাসাত বিদ্রোহ
  4. ঘ) গারো বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
ক) চাকমা বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চাকমা বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
১৭৭৬ সাল থেকে ১৭৮৭ সাল পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত চাকমাদের বিদ্রোহ কার্পাস বিদ্রোহ নামে পরিচিত।
মোট চারবার চাকমা বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। এসব বিদ্রোহে চাকমা রাজা সের দৌলত এবং তার সেনাপতি রুনু খান নেতৃত্ব দেন।
১৭৮৭ সালে চাকমা রাজা ও ইংরেজদের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি ফলে কার্পাস বিদ্রোহের অবসান হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস : সিরাজুল ইসলাম এবং দৈনিক প্রথম আলো)
৭৭৬.
কোন মোগল সম্রাট পর্তুগিজদের এ দেশ থেকে বিতাড়িত করেন?
  1. জাহাঙ্গীর
  2. সিরাজউদ্দৌলা
  3. শাহজাহান
  4. আওরঙ্গজেব
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
ব্যাখ্যা
→ সম্রাট শাহজাহান পর্তুগিজদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করেন।

• ইউরোপীয় বনিক:
- পর্তুগিজরা কেবল ব্যবসা-বাণিজ্যই করত না।
- তারা এদেশের জমিদার ও প্রতাপশালী বার ভূঁইয়াদের সেনাবাহিনীতে চাকরী করত।
- সম্রাট বা নবাবের আইন অমান্য করে বিনা শুল্কে স্বাধীনভাবে ব্যবসা চালাত।
- এতে তাঁরা মোগল সম্রাটের বিরাগভাজন হন।
- তাঁরা জোর করে এদেশেরই অসহায় বালক-বালিকাদের খ্রিস্টান বানাত।
- এদেশের মানুষকে ধরে নিয়ে দাসদাসীরূপে বিক্রি করতো বিদেশের বাজারে।
- পর্তুগিজ সৈন্যরা জোর করে এদেশের মেয়ে বিয়ে করত।
- অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেলে সম্রাট শাহজাহান পর্তুগিজদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করেন।
- সম্রাটের নির্দেশে কাসিম খান তাদের হুগলী কুঠি থেকে বিতাড়িত করেন।
- বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান তাদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ ঘাঁটি দখল করে উচ্ছেদ করেন।

উল্লেখ্য,
- পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দ্য-গামার উপমহাদেশে আসার পরপরই পর্তুগিজরা এ দেশে আসতে শুরু করে।
- ১৪৮৭ খ্রিস্টাব্দে বার্থলমিউ দিয়াজ,
- আলভারেঞ্জ ক্যাব্রাল ও ১৫০৯ খ্রিস্টাব্দে আলবুকার্ক গোয়াতে আগমন করেন।
- আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি, ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭৭.
কোন গভর্নরের শাসনামলে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা রহিত করা হয়?
  1. ক) রবার্ট ক্লাইভ
  2. খ) লর্ড কার্জন
  3. গ) ডালহৌসি
  4. ঘ) ওয়ারেন হেস্টিংস
সঠিক উত্তর:
ঘ) ওয়ারেন হেস্টিংস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা
দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা
• ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
• দ্বৈতশাসন অনুসারে রাজস্ব প্রশাসন ও দেশ রক্ষার ভার থাকে কোম্পানির হাতে এবং নিয়ামত বা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পিত হয় নবাবের হাতে।
• দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে। অবাধ লুন্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়ে যায়। নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হন। সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
• এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৭৮.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) 1921
  2. খ) 1952
  3. গ) 1915
  4. ঘ) 1972
সঠিক উত্তর:
ক) 1921
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 1921
ব্যাখ্যা
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রাচীনতম, সর্ববৃহৎ এবং উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ১৯২০ সালে ভারতীয় বিধানসভায় গৃহীত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইনবলে ১৯২১ সালের ১ জুলাই আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গঠিত কমিশনের নাম ছিলো নাথান কমিশন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হন স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টজ।
- উপ-মহাদেশীদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাইস চেন্সেলর হলেন স্যার এ. এফ. রহমান।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৭৭৯.
তিতুমীর কোন আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন?
  1. নীল বিদ্রোহ
  2. সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  3. তরিখ-ই-মুহাম্মদিয়া
  4. ফরায়েজি আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
তরিখ-ই-মুহাম্মদিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরিখ-ই-মুহাম্মদিয়া
ব্যাখ্যা

তিতুমীরের সংগ্রাম:
-  নিসার আলী ওরফে তিতুমির চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- উনিশ শতকে ভারতবর্ষে মুসলমান সমাজে এক ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল। 
- বাংলায় তার দুইটি ধারা প্রবাহমান ছিল। যার একটি ওয়াহাবি বা মুহাম্মদিয়া আন্দোলন, অপরটি ফরায়েজি আন্দোলন নামে খ্যাত। 
- উভয় আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ধর্মীয় কুসংস্কার দূর করে মুসলিম সমাজ সংস্কার করা। 
- বাংলার ওয়াহাবিরা তিতুমিরের নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিল। 
- তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত তরিখ-ই-মুহাম্মদিয়া বা ওয়াহাবি আন্দোলন ছিল উত্তর ভারতের সৈয়দ আহয়ত শহীদের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত।

এছাড়াও,
- তিতুমীর ১৮৩১ সালের অক্টোবর মাসে নারকেলবাড়িয়ায় এক দুর্ভেদ্য বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন।
- তিনি তাঁর মুজাহিদ বাহিনীতে বিপুল সংখ্যক মুজাহিদ নিয়োগ করে তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দান করেন।
- অচিরেই মুজাহিদদের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজারে উপনীত হয়।
- সামরিক প্রস্ত্ততি সম্পন্ন করে তিতুমীর নিজেকে ‘বাদশাহ’ বলে ঘোষণা দেন।
- লর্ড উইলিয়ম বেন্টিঙ্ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে ১০০ অশ্বারোহী,
- ৩০০ স্থানীয় পদাতিক, দুটি কামানসহ গোলন্দাজ সৈন্যের এক নিয়মিত বাহিনী তিতুমীরের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন।
- ১৮৩১ সালের ১৪ নভেম্বর ইংরেজ বাহিনী মুজাহিদদের উপর আক্রমণ চালায়।
- মুজাহিদগণ সাবেকি ধরনের স্থানীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আধুনিক অস্ত্র সজ্জিত ইংরেজ বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়ে বাঁশের কেল্লায় আশ্রয় নেয়।
- ইংরেজরা কামানে গোলাবর্ষণ করে কেল্লা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত করে দেয়।
- বহুসংখ্যক অনুসারিসহ তিতুমীর যুদ্ধে শহীদ হন (১৯ নভেম্বর ১৮৩১)। 

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া। 

৭৮০.
নীল বিদ্রোহ সংঘটিত হয় কোন শতকে?
  1. ক) সতের শতক
  2. খ) আঠারো শতক
  3. গ) উনিশ শতক
  4. ঘ) বিশ শতক
সঠিক উত্তর:
গ) উনিশ শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উনিশ শতক
ব্যাখ্যা
- নীল বিদ্রোহ উনিশ শতকে বাংলায় সংঘটিত একটি কৃষক আন্দোলন।
- ১৮৫৯ সালের দিকে নীল বিদ্রোহ প্রচণ্ড আকার ধারণ করে।
- এ আন্দোলনে যশোর অঞ্চলের কৃষকদের নেতৃত্ব দেন নবীন মাধব ও বেণী মাধব নামে দুই ভাই। হুগলিতে নেতৃত্ব দেন বৈদ্যনাথ ও বিশ্বনাথ সর্দার এবং নদীয়ায় মেঘনা সর্দার।
- আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করলে ব্রিটিশ সরকার ১৮৬০ সালে নীল কমিশন গঠন করেন।
- কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে নীল বিদ্রোহ প্রশমিত হয়।
- ১৮৯২ এদেশে নীল চাষ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৭৮১.
কোন ব্রিটিশ ভাইসরয়-এর সময় প্রথম 'ভারতীয় শিক্ষা কমিশন' গঠিত হয়?
  1. লর্ড মিন্টো
  2. লর্ড লিটন
  3. লর্ড রিপন
  4. লর্ড চেমসফোর্ড
সঠিক উত্তর:
লর্ড রিপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড রিপন
ব্যাখ্যা
হান্টার কমিশন:
- ১৮৫৪ সালে উডের ডেসপ্যাচে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উন্নতির জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
- কিন্তু এই ডেসপ্যাচের ভাবধারা কে অবহেলা করে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উপর গুরুত্ব না দিয়ে শুধু উচ্চশিক্ষা ও সরকারি স্কুল কলেজগুলিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতি একেবারেই হয় না।
- তাই সরকার প্রথমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নতি সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করেন।

⇒ হান্টার কমিশন গঠন:
- এই পরিস্থিতিতে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড রিপন ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দের ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০ জন সদস্য নিয়ে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন।
- এটি প্রথম "ভারতীয় শিক্ষা কমিশন” নামে পরিচিত।
- এই কমিশন স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টারের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল বলে একে "হান্টার কমিশন” বলা হয়।
- স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টার ছিলেন এই কমিশনের সভাপতি।
- অন্যান্য সদস্যরা হলেন আনন্দমোহন বসু, কে.টি. তেলাং, ভূদেব মুখোপাধ্যায়, স্যার সৈয়দ আহমদ খান প্রমুখ।
- প্রাথমিক শিক্ষা ও নিরক্ষরতা বিষয়ে এই কমিশনকে বিশেষভাবে বিচার করার কথা বলা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭৮২.
কোন মুঘল সুবাদার বারোভূঁইয়াদের দমন করেন?
  1. শায়েস্তা খান
  2. মীর জুমলা
  3. ইসলাম খান
  4. মির্জা বেগ
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
মুঘল আমলে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের স্বাধীনচেতা জমিদারগণ ‘বারোভূঁইয়া’ নামে পরিচিত।
সম্রাট আকবরের সময় রাজমহলের যুদ্ধে দাউদ কররানী পরাজিত হলেও সমগ্র বাংলা মুঘলদের অধিকারে আসেনি। বারোভূঁইয়ারা স্বাধীনভাবেই তাদের জমিদারি বজায় রাখে।

পরবর্তীতে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময় বাংলার সুবাদার ইসলাম খান ১৬১১ সালে বারোভূঁইয়াদের চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে সমগ্র বাংলা মুঘল শাসনের অধীনে আনেন।

বারোভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন সোনারগাঁও এর জমিদার ঈসা খান এবং তার পুত্র মুসা খান।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৭৮৩.
শেষ মুঘল সম্রাট ছিলেন কে?
  1. দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
  2. সম্রাট ফররুখশিয়র
  3. দ্বিতীয় আলমগীর
  4. দ্বিতীয় শাহ আলম
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ছিলেন সর্বশেষ মুঘল সম্রাট। ১৮৩৭ সালে তিনি দিল্লির সিংহাসনে আরোহন করেন। পিতার ন্যায় দ্বিতীয় বাহাদুর শাহও ছিলেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পেনশনভোগী।

নানাবিদ কারণে বাহাদুর শাহ ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহে সিপাহিদের সমর্থন দান করেন। ফলে সিপাহি বিদ্রোহ ব্যর্থ হলে সম্রাট বাহাদুর শাহকে সপরিবারে রেঙ্গুনে নির্বাসন দেওয়া হয়।
সেখানেই ১৮৬২ সালে তার মৃত্যু হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৭৮৪.
কোনটি লর্ড ক্যানিং এর শাসনামলের ঘটনা ?
  1. কাঠামোবদ্ধ পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা
  2. ভারত উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা
  3. কাগজের মুদ্রার প্রচলন
  4. সবকটি
সঠিক উত্তর:
সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবকটি
ব্যাখ্যা
লর্ড ক্যানিং 
- লর্ড ক্যানিং ভারতের শেষ গভর্ণর জেনারেল এবং প্রথম ভাইসরয় ছিলেন।
- ১৮৬১ সালে লর্ড ক্যানিং উপমহাদেশে প্রথমবারের মত কাঠামোবদ্ধ পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করেন। এই উদ্দেশ্যে লর্ড ক্যানিং ১৮৬০ সালের আগস্ট মাসে এইচ.এম. কোর্টকে চেয়ারম্যান করে একটি পুলিশ কমিশন গঠন করেন।
- একই বছর ( ১৮৬১ খ্রীস্টাব্দ ) তিনি ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস চালু করেন।
- এছাড়াও, ১৮৬১ সালে লর্ড ক্যানিং ভারত উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন।
- তিনি উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা প্রচলন করেন।

তথ্যঃ বাংলাপিডিয়া।
৭৮৫.
ভারতীয় উপমহাদেশে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন কে?
  1. লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. লর্ড ওয়েলেসলি
  3. লর্ড ক্লাইভ
  4. লর্ড ডালহৌসি
সঠিক উত্তর:
লর্ড কর্নওয়ালিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
- ১৭৯৩ সালের ২২ মার্চ লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- ঐদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর চিরস্থায়ী মালিকানা প্রদান করে যে বন্দোবস্ত করা হয় তা-ই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে পরিচিত।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে কৃষক জমির উপর তাদের অধিকার হারায়।
- বিপরীতে জমির উপর জমিদারদের স্থায়ী মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত্ব আইনের ফলশ্রুতিতে জমিদারি প্রথা ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার উচ্ছেদ ঘটে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৮৬.
দ্বৈত শাসনের সময় রাজস্ব প্রশাসন কার হাতে ছিল?
  1. নবাবের
  2. কোম্পানির
  3. সম্রাটের
  4. স্থানীয় জমিদারের
সঠিক উত্তর:
কোম্পানির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোম্পানির
ব্যাখ্যা

দ্বৈত শাসন ও ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে রবার্ট ক্লাইভ বাংলায় দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
-  দ্বৈত শাসনের মূল ধারা:
• রাজস্ব প্রশাসন ও দেশ রক্ষা: কোম্পানির হাতে।
• প্রশাসন ও বিচার বিভাগ: নবাবের হাতে।
- দ্বৈত শাসনের কারণে জনজীবনে অরাজকতা দেখা দেয়।
- অবাধ লুণ্ঠন ও অতিরিক্ত কর আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়।
- নবাব পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হন।
- সারাদেশে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা শুরু হয়।
- এর ফলে ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ (ছিয়াত্তরের মন্বন্তর) ঘটে।
- দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মারা যায়।
- ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৮৭.
পলাশীর যুদ্ধ কোন তারিখে সংঘটিত হয়? 
  1. ২৩ জুন, ১৭৫৭ 
  2. ২৩ জুন, ১৭৫৮
  3. ২৩ জুন, ১৭৬০
  4. ২৩ জুন, ১৭৫৬
সঠিক উত্তর:
২৩ জুন, ১৭৫৭ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ জুন, ১৭৫৭ 
ব্যাখ্যা

পলাশীর যুদ্ধ: 
- সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে আরোহণ করার পর থেকে তাঁকে লড়াই করতে হয়েছে নানা কারণে মনঃক্ষুন্ন ঘরের শত্রু শওকত জং,
- ঘষেটি বেগম দরবারের শত্রু আমাত্য ও বেনিয়া সম্প্রদায় এবং বহিঃশত্রু ইংরেজদের সঙ্গে।
- নবাবের অভ্যন্তরীণ শত্রুদের কাজে লাগিয়ে ইংরেজরা নবাবকে উৎখাতের এক নীল নকশা তৈরি করে।
- পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীর  নেতৃত্ব দেন- রবার্ট ক্লাইভ।
- ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ বাহিনীর সঙ্গে নবাবের বাহিনীর এক যুদ্ধ সংঘঠিত হয়।
- কারণ যুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে প্রধান সেনাপতি মীর জাফরের নেতৃত্বাধীন অধিকাংশ সৈন্য নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে,
- যার ফলে নবাবের পরাজয় ঘটে।
- বন্দী অবস্থায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বাংলার শেষ স্বাধীন নবাবকে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৮৮.
ওলন্দাজরা কত সালে জলপথে উপমহাদেশে আসে?
  1. ১৬০০ সালে 
  2. ১৬১০ সালে 
  3. ১৫৯৯ সালে 
  4. ১৬০২ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৬০২ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬০২ সালে 
ব্যাখ্যা

ওলন্দাজ বা ডাচ:
- হল্যান্ডের অধিবাসীদের ওলন্দাজ বা ডাচ বলা হয়।
- ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজরা জলপথে উপমহাদেশে আসে।
- প্রাচ্য বাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে হল্যান্ডের একদল বণিক 'ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে।
- তারা কালিকট, নাগাপট্টম, বাংলার চুঁচুড়া ও বাঁকুড়ায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- এছাড়া বালেশ্বর, কাশিমবাজার এবং বরানগরেও তাদের কুঠি ছিল।
- প্রথমে ওলন্দাজগণ ইংরেজদের সাথে রেশমী সূতা, সুতি কাপড় চাল, ডাল সোরা ও তামাক এদেশ থেকে রপ্তানি করত এবং অন্যদেশ থেকে এদেশে মসলা আমদানি করত।
- ইংরেজদের সাথে তাদের যে বাণিজ্য চুক্তি হয় তা দু'বছরের মধ্যে ভেঙ্গে গিয়ে বিরোধ দেখা দেয়।
- অন্যদিকে বাংলার শাসনকর্তাদের সাথেও তাদের প্রবল বিরোধ দেখা দেয়।
- এ বিরোধ বেশি বেড়ে গেলে ইংরেজগণ ওলন্দাজ কুঠিগুলো দখল করে ফেলে।
- আর এভাবে ওলন্দাজদের বাণিজ্যিক সুবিধা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং তাঁরা উপমহাদেশ ছেড়ে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় চলে যায়।
সেখানে তাঁরা উপনিবেশ স্থাপন করে।ফলে এদেশে ইংরেজদের শক্তি বেড়ে যায়।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৮৯.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন কে?
  1. কর্নওয়ালিস
  2. হেস্টিংস
  3. ডালহৌসি
  4. ক্লাইভ
সঠিক উত্তর:
কর্নওয়ালিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
- ১৭৯৩ সালের ২২মার্চ লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- ঐদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর চিরস্থায়ী মালিকানা প্রদান করে যে বন্দোবস্ত করা হয় তা-ই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে পরিচিত।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে কৃষক জমির উপর তাদের অধিকার হারায়।
- বিপরীতে জমির উপর জমিদারদের স্থায়ী মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত্ব আইনের ফলশ্রুতিতে জমিদারি প্রথা ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার উচ্ছেদ ঘটে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৯০.
সিপাহি বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে -
  1. ব্যারাকপুরে
  2. মিরাটে
  3. কানপুরে
  4. পাঞ্জাবে
সঠিক উত্তর:
ব্যারাকপুরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যারাকপুরে
ব্যাখ্যা

সিপাহি বিদ্রোহ:
- সিপাহি বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে মঙ্গলপাণ্ডে নামে এক সিপাহী কর্তৃক গুলি বর্ষণের মাধ্যমে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে।
- দ্রুত এই বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে মিরাট, কানপুর, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার, বাংলাসহ ভারতের প্রায় সর্বত্র। বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী এই বিদ্রোহে শামিল হয় ।
- পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
- তবে এ বিদ্রোহের ফলে ভারতে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে।
- ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার সরাসরি তার হাতে নিয়ে নেয়।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৯১.
আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম-সম্পাদক ছিলেন -
  1. ক) আতাউর রহমান খান
  2. খ) শওকত হোসেন
  3. গ) এ.কে রফিকুল হোসেন
  4. ঘ) আলী আহমদ খান
সঠিক উত্তর:
গ) এ.কে রফিকুল হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এ.কে রফিকুল হোসেন
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে.এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একটি অংশের নেতা-কর্মীদের কনভেনশনে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- নতুন এই দলের নামকরণ হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ।
- মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন সভাপতি;
- আতাউর রহমান খান, শওকত হোসেন ও আলী আহমদ খান ছিলেন সহ-সভাপতি,
- শামসুল হক ছিলেন সাধারণ সম্পাদক,
- শেখ মুজিবুর রহমান (তখন কারাবন্দি), খোন্দকার মোশতাক আহমদ ও এ.কে রফিকুল হোসেন ছিলেন যুগ্ম-সম্পাদক, এবং
- ইয়ার মোহাম্মদ খানকে কোষাধ্যক্ষ করে আওয়ামী লীগ গঠিত হয়। 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭৯২.
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল -
  1. ১৫১২ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৫৬২ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা

পানিপথের প্রথম যুদ্ধ:
- সময়কাল: ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দের ২১ এপ্রিল।
- স্থান: বর্তমান ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তরে হরিয়ানা রাজ্য।
- পক্ষ: সম্রাট বাবর বনাম ইব্রাহিম লোদী। 
- বাবরের সেনাবাহিনীতে ছিল ১২,০০০ পদাতিক, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অশ্বারোহী ও গোলন্দাজ। অপরদিকে ইব্রাহিম লোদীর সৈন্যবাহিনীতে ছিল ১,০০,০০০ সৈন্য ও ১০০ হস্তী।
- ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর সর্বপ্রথম এই যুদ্ধে কামানের ব্যবহার করেন।
- সম্রাট বাবর এই যুদ্ধে ভারতবর্ষে প্রথমবারের মতো কামান ও গোলন্দাজ বাহিনী ব্যবহার করেন। ভারতবর্ষে তিনিই সর্বপ্রথম গোলন্দাজ বাহিনী নামে একটি বিশেষ বাহিনী গড়ে তুলেন।
- ফলাফল: শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদী পরাজিত ও নিহত হন। ফলে উপমহাদেশে সুলতানি শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- পানিপথের ২য় যুদ্ধ: ১৫৫৬  খ্রিস্টাব্দ।
- পানিপথের ৩য় যুদ্ধ: ১৭৬১ খ্রিস্টাব্দ।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৯৩.
ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে উপমহাদেশে সবার শেষে আগমন করে কারা?
  1. ক) দিনেমার
  2. খ) ওলন্দাজ
  3. গ) ইংরেজ
  4. ঘ) ফরাসি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফরাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফরাসি
ব্যাখ্যা
- ১৪৯৮ সালে পর্তুগিজ নাবিক ‘ভাস্কো দা গামা’ ইউরোপ থেকে ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করার পর থেকে উপমহাদেশে ইউরোপীয় বণিকদের আগমন শুরু হয়।
- ইউরোপীয়দের মধ্যে পর্তুগিজরা প্রথম উপমহাদেশে আগমন করে। পরবর্তীতে ইংরেজ, ওলন্দাজ বা ডাচ, দিনেমার বা ডেনিশদের আগমন ঘটে।
- সবার শেষে আগমন করেন ফরাসিরা। ১৬৬৪ সালে ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
- ১৬৬৮ সালে ফরাসিরা সুরাটে প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৭৯৪.
উপমহাদেশে 'হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন' প্রবর্তন করেন কে?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড ক্যানিং
  3. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
  4. লর্ড রিপন
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা

• হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন প্রবর্তন করেন লর্ড ডালহৌসি।

সামাজিক সংস্কার:
- সংস্কারপন্থী বাঙালি নেতা ও শিক্ষিত শ্রেণির উদারবাদীদের সহযোগিতায় ইংরেজ শাসকরা সামাজিক ধর্মীয় অনেক অমানবিক প্রথা কুসংস্কার দূর করতে সক্ষম হন।
- লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক, রাজা রামমোহন রায়, প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের মতো উদারপন্থী হিন্দু নেতৃবর্গ এবং সদর নিজামত আদালতের জজদের অকুণ্ঠ সমর্থনে ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ডিসেম্বরে সতীদাহ প্রথা রহিত করতে সক্ষম হন।
- স্বামীর মৃত্যুর পর কোনো বিধবাকে স্বামীর সঙ্গে মরতে বাধ্য করলে তা আইনত দণ্ডনীয় বলে আইন জারি করা হয়।
- লর্ড এলেনবরা-এর সময়ে ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে দাস প্রথা উচ্ছেদ করা হয়।
- লর্ড ডালহৌসি পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সহায়তায় হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন পাস করে বিধবা বিবাহের প্রচলন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৯৫.
Who was the Governor-General during the Indian Mutiny of 1857?
  1. Lord Dalhousie
  2. Lord Canning
  3. Lord Ripon
  4. Lord Lytton
  5. Lord Curzon
সঠিক উত্তর:
Lord Canning
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Lord Canning
ব্যাখ্যা
লর্ড ক্যানিং:
- সিপাহি বিপ্লবকালীন ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড ক্যানিং।
- ১৮৫৬ থেকে ১৮৬২ সাল পর্যন্ত ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল।
- এবং ১৮৫৮ সালের ১ নভেম্বর থেকে ভারতে প্রথম ভাইসরয়।
- লর্ড ক্যানিং কাগজি মুদ্রার প্রচলন করেন।

অপরদিকে,
- লর্ড ডালহৌসী বিধবা বিবাহ আইন প্রবর্তন করেন।
- এই আইন প্রণয়ন করেন-১৮৫৪ সালে।
- বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়- ১৮৫৬ সালে।
- লর্ড ডালহৌসী স্বত্ব বিলোপ নীতির প্রবর্তন করেন।
- রেললাইনের প্রচলন করেন।
- লর্ড বেন্টিংক সতীদাহ প্রথা বিলোপ করেন।
- লর্ড ওয়েলেসলী অধীনতা মুলক নীতির প্রবর্তক।
- ব্রিটিশদের প্রথম সাম্রাজ্যবাদী বড়লাট।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯৬.
বাংলার প্রথম মহিলা যিনি ‘নবাব’ উপাধি লাভ করেন -
  1. ক) ফজিলাতুন্নেসা
  2. খ) বেগম রোকেয়া
  3. গ) প্রীতিলতা
  4. ঘ) ফয়জুন্নেসা
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফয়জুন্নেসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফয়জুন্নেসা
ব্যাখ্যা
নবাব ফয়জুন্নেসা (১৮৩৪-১৯০৩)
• জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি।
• কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
• ১৮৭৩ সালে তিনি নারীশিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে কুমিল্লায় একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
ফয়জুন্নেসার এরূপ জনহিতৈষণার পুরস্কারস্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি এই উপাধি লাভ করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
৭৯৭.
বঙ্গভঙ্গ রদের সময় ব্রিটেনের রাজা ছিলেন -
  1. ক) চার্লস (তৃতীয়)
  2. খ) হেনরি (সপ্তম)
  3. গ) জর্জ (পঞ্চম)
  4. ঘ) হেনরি (দ্বিতীয়)
সঠিক উত্তর:
গ) জর্জ (পঞ্চম)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জর্জ (পঞ্চম)
ব্যাখ্যা
- ভারতের বড় লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর বংলা প্রেসিডেন্সিকে দুই ভাগ করেন এই বিভক্ত ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- কিন্তু কংগ্রেসের বিরোধিতা চরমপন্থী নেতাদের আন্দোলনের সঙ্গে সশস্ত্র কার্যকলাপও যুক্ত হওয়ায় ব্রিটিশ সরকার আন্দোলনকারীদের দমন করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রহিত করেন।
- রাজা পঞ্চম জর্জ ভারত সফরে এসে ১৯১১ সালে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রধের ঘোষণা দেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৯৮.
পলাশীর যুদ্ধে প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. ক) ফররুখ সিয়া
  2. খ) শওকত জঙ্গ
  3. গ) মীরজাফর
  4. ঘ) মীর কাসেম
সঠিক উত্তর:
গ) মীরজাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মীরজাফর
ব্যাখ্যা
- পলাশীর যুদ্ধ ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন নওয়াব সিরাজউদ্দৌলা ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এর মধ্যে সংঘটিত। 
- এ যুদ্ধ আট ঘণ্টার মতো স্থায়ী ছিল এবং প্রধান সেনাপতি মীরজাফর আলী খানের বিশ্বাসঘাতকতার দরুণ নওয়াব কোম্পানি কর্তৃক পরাজিত হন। 
- এ যুদ্ধের রাজনৈতিক ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী ও ধ্বংসাত্মক এবং এ কারণে যদিও এটি ছোট খাট দাঙ্গার মতো একটি ঘটনা ছিল, তবু এটিকে যুদ্ধ বলে বাড়িয়ে দেখানো হয়। এর ফলে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। 
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জন্য বাংলা অনেকটা স্প্রিং বোর্ডের মতো কাজ করে, যেখান থেকে ক্রমান্বয়ে ব্রিটিশ শক্তি আধিপত্য বিস্তার করে করে অবশেষে সাম্রাজ্য স্থাপনে সক্ষম হয়। 
- ব্রিটিশ সাম্রাজ্য প্রায় সমগ্র ভারতবর্ষ গ্রাস করে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে এশিয়ার অন্যান্য অনেক অংশও এর অধীনস্থ হয়।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া 
৭৯৯.
প্রতিষ্ঠাকালীন আওয়ামী লীগে বঙ্গবন্ধু ছিলেন -
  1. ক) সভাপতি
  2. খ) সহ-সভাপতি
  3. গ) সাধারণ সম্পাদক
  4. ঘ) যুগ্ম-সম্পাদক
সঠিক উত্তর:
ঘ) যুগ্ম-সম্পাদক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যুগ্ম-সম্পাদক
ব্যাখ্যা
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে. এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একটি অংশের নেতা-কর্মীদের কনভেনশনে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। নতুন এই দলের নামকরণ হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ।
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি, আতাউর রহমান খান, শওকত হোসেন ও আলী আহমদ খানকে সহ-সভাপতি করা হয়।
আবার, ফরিদপুরের শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক, শেখ মুজিবুর রহমান (তখন কারাবন্দি), খোন্দকার মোশতাক আহমদ ও এ.কে রফিকুল হোসেনকে যুগ্ম-সম্পাদক এবং ইয়ার মোহাম্মদ খানকে কোষাধ্যক্ষ করে আওয়ামীলীগ গঠিত হয়।
সূত্র : বাংলাপিডিয়া
৮০০.
পূর্ববঙ্গ এবং আসামের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর কে ছিলেন?
  1. ওয়ারেন হেস্টিং
  2. লর্ড মিন্টো
  3. লর্ড কার্জন
  4. ব্যামফিল্ড ফুলার
সঠিক উত্তর:
ব্যামফিল্ড ফুলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যামফিল্ড ফুলার
ব্যাখ্যা

ব্যামফিল্ড ফুলার:
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট নতুন প্রদেশ পূর্ববঙ্গ এবং আসামের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর ছিলেন স্যার জোসেফ ব্যামফিল্ড ফুলার।
- তিনি ১৮৮৫ সালে মধ্য প্রদেশের ভূমি জরিপ ও কর নির্ধারণ এবং কৃষিবিষয়ক কমিশনার হিসেবে ভারতীয় সিভিল সার্ভিস-এ তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালে ভাইসরয়ের পরিষদের অতিরিক্ত সদস্য এবং ১৯০১-০২ সাল পর্যন্ত ভারত সরকারের সচিব ছিলেন।
- ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর নতুন প্রদেশ পূর্ববঙ্গ ও আসামের লেফটেন্যান্ট গভর্নরের পদে নিয়োগ লাভের পূর্বে ফুলার আসামের প্রধান কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
- তিনি ভারতে ব্রিটিশ প্রশাসনে সেবা প্রদানের জন্য নাইট উপাধি লাভ করেন।

উল্লেখ্য,
- বাংলা ও ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫-১৯১১) একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত ছিল বাংলা প্রদেশ বা বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি। কলকাতা ছিল এর রাজধানী। এটি ছিল ব্রিটিশ ভারতের বৃহত্তম প্রদেশ।
- শাসন কার্যের সুবিধার্থে ব্রিটিশ সরকার বাংলা প্রেসিডেন্সির বিভক্তকরণের কথা চিন্তা করতে থাকে। 
- উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেন স্যার রাম্পফিল্ড ফুলার এবং স্যার এন্ড্রু ফ্রেজার।
- ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গ সম্পন্ন হয়।
- সৃষ্টি হয় ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও আসামকে নিয়ে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে' এক নতুন প্রদেশ এবং এর রাজধানী হয় ঢাকা। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
          ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।