বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ইউরোপীয়দের আগমন ও ব্রিটিশ শাসনামল

মোট প্রশ্ন১,৩১৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ইউরোপীয়দের আগমন ও ব্রিটিশ শাসনামল

PrepBank · পাতা / ১৪ · ৬০১৭০০ / ১,৩১৫

৬০১.
বাংলায় প্রথম প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় -
  1. ক) ১৯২৩ সালে
  2. খ) ১৯৩৭ সালে
  3. গ) ১৯৩৫ সালে
  4. ঘ) ১৯৪৩ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৩৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৩৭ সালে
ব্যাখ্যা
- ১৯৩৫ সালে প্রবর্তিত ভারত শাসন আইনের অধীনে বাংলায় প্রথম প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৩৭ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে।
- ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচনের পর অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হন শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক।
- এই নির্বাচনে কোনো দলই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
- শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টি ও মুসলিম লীগের মধ্যে কোয়ালিশন সরকার গঠন করা হয়। এই কোয়ালিশন মন্ত্রিসভায় ১১ জন সদস্য ছিল।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক; বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
৬০২.
দিল্লির সম্রাটকে বাৎসরিক কত টাকার বিনিময়ে কোম্পানী দিউয়ানি লাভ করে?
  1. ১ লক্ষ
  2. ১২ লক্ষ
  3. ১৯ লক্ষ
  4. ২৬ লক্ষ
সঠিক উত্তর:
২৬ লক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৬ লক্ষ
ব্যাখ্যা
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দিউয়ানি লাভ:
- পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলা এবং বক্সারের যুদ্ধে নবাব মীরকাশিম পরাজিত হওয়ার পর ইংরেজদের গতিরোধ করার মতো শক্তি ও সাহস এদেশ থেকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
- তখন থেকেই বাংলার শাসন ব্যবস্থায় ইংরেজরা সরাসরি হস্তক্ষেপ শুরু করে এবং বাংলার ভাগ্যবিধাতা হয়ে যায়।
- মুগল শাসনতন্ত্রে প্রদেশ শাসনের জন্য দু'টি সমপর্যায়ের পদের বিধান ছিল। একটি সুবাদারী, আরেকটি দিউয়ানি।
- সুবাদার ও দিউয়ান উভয় ব্যক্তিই সরাসরি দিল্লির সম্রাটের নিকট ব্যক্তিগতভাবে জবাবদিহি করতে বাধ্য ছিলেন। তাঁরা একে অপরকে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতেন, কিন্তু একে অন্যকে তাঁর অধীন করতে পারতেন না।
- সুবাদারের দায়িত্ব ছিল বিচার, প্রতিরক্ষা ও সাধারণ প্রশাসন পরিচালনা, আর দিউয়ানের দায়িত্ব ছিল মূলত রাজস্ব (খাজনা) শাসন। 
- মুর্শিদকুলী খানের (১৭১৭ খ্রি.) সুবাদারী লাভ পর্যন্ত সুবাদারী ও দিউয়ানের পদ পৃথক পৃথক ব্যক্তির উপর ন্যস্ত ছিল। 
- পলাশীর যুদ্ধের পর হতে কোম্পানি ছিল দেশের হর্তাকর্তা।
- বক্সার যুদ্ধের পর কোম্পানির কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা চরমে উঠলে এবং বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশ খারাপ হলে, ইংরেজ সরকার ভীত হয়ে পড়লেন। ফলে ইংল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ কোম্পানির দুর্নীতি দমন ও স্বার্থ বৃদ্ধির জন্য পুনরায় ক্লাইভকে লর্ড উপাধি দান করে বাংলায় দ্বিতীয়বার প্রেরণ করেন (১৭৬৫-১৭৬৭ খ্রি.)।
- তিনি দিল্লির দুর্বল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে সন্ধি স্থাপন করেন।
- ক্লাইভ কারা ও এলাহাবাদ জেলা দু'টি ও বাৎসরিক ২৬ লক্ষ টাকা কর প্রদানের বিনিময়ে সম্রাটের নিকট হতে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করলেন (১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে ১২ আগস্ট ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দিউয়ানি সনদ লাভ করে)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৩.
বঙ্গভঙ্গ করা হয় কত সালে?
  1. ১৯০১ সালে
  2. ১৯০৩ সালে
  3. ১৯০৫ সালে
  4. ১৯০৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯০৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯০৫ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ:
- ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- বাংলার মুসলমানরা নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়।
- অপর দিকে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায় হিন্দু সমপ্রদায়ের মধ্যে।
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে তারা বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে। রাজা পঞ্চম জর্জ ভারত সফরে এসে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- বঙ্গভঙ্গ রদে হিন্দু সম্প্রদায় খুশি হয়, অপর দিকে মুসলমান সম্প্রদায় মর্মাহত এবং হতাশ হয়।
- ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৪.
Who was responsible for causing the partition of Bengal?
  1. Lord Lytton
  2. Lord Wellesly
  3. Lord Dufferin
  4. Lord Minto
  5. Lord Curzon
সঠিক উত্তর:
Lord Curzon
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Lord Curzon
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ ও নতুন প্রদেশ সৃষ্টি: 
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ করে দুটি প্রদেশ করা হয়।
- প্রধানত প্রশাসনিক প্রয়োজন এবং সেই সাথে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে বিশাল আয়তনের বাংলা প্রদেশকে বিভক্ত করেন।
- পূর্ব বঙ্গের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগের সাথে জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা, মালদাহ ও আসামকে যুক্ত করে পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশ নামে একটি নতুন প্রদেশ সৃষ্টি করা হয়।
- নতুন প্রদেশের আয়তন দাঁড়ায় ১০৬,৫৪০ বর্গমাইল।
- জনসংখ্যা ৩ কোটি ১০ লক্ষ।
- এর মধ্যে ১ কোটি ৮০ লক্ষ ছিল মুসলমান।
- নতুন প্রদেশের রাজধানী করা হয় ঢাকা এবং অনুসঙ্গী সদর দপ্তর চট্টগ্রামে।

অন্য দিকে -
- পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে আরেকটি প্রদেশ হয়।
- এর নামকরণ করা হয় বাংলা প্রদেশ।
- বাংলা প্রদেশের রাজধানী করা হয় কলকাতা।

উল্লেখ্য,
- নতুন প্রদেশে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় তারা কার্জনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানায়।
- অন্যদিকে উচ্চ বর্ণের হিন্দুরা এর তীব্র বিরোধিতা করে।
- কংগ্রেস এর বিরুদ্ধে একটি তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে।
- শেষ পর্যন্ত সরকার ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করে ।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৫.
বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয় কাদের মধ্যে?
  1. মীর জাফর ও ইংরেজদের
  2. মীর কাসিম ও ইংরেজদের
  3. মীর কাসিম ও মারাঠাদের
  4. মীর জাফর ও ফরাসিদের
সঠিক উত্তর:
মীর কাসিম ও ইংরেজদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর কাসিম ও ইংরেজদের
ব্যাখ্যা

বক্সারের যুদ্ধ:
- বক্সারের যুদ্ধ নবাব মীর কাসিম ও তাঁর মিত্রশক্তির সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ।
- ১৭৬৪ সালে বিহারের বক্সার নামক স্থানে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- মেজর হেক্টর মুনরোর নেতৃত্বে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী এবং মীর কাসিম, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা-এর সম্মিলিত সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াই হয়েছিল।
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে সংঘটিত এ যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করে।
- এই যুদ্ধের ফলে বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম পুনরায় ইংরেজ শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান এবং অযোধ্যা ইংরেজ বাহিনীর পদানত হয়।
- মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন এবং এরপর তাঁর সম্পর্কে আর কিছু জানা যায় নি।
- বক্সার ছিল একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ।
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা ও বাংলাপিডিয়া।

৬০৬.
ওলন্দাজরা কত সালে উপমহাদেশে আসে?
  1. ১৬০১ সালে
  2. ১৬০২ সালে
  3. ১৬০৩ সালে
  4. ১৬০৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৬০২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬০২ সালে
ব্যাখ্যা
ওলন্দাজ:
- হল্যান্ডের অধিবাসীদের ওলন্দাজ বা ডাচ বলা হয়।
- ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজরা জলপথে উপমহাদেশে আসে।
- বাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে হল্যান্ডের একদল বণিক 'ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে।
- কালিকট, নাগাপট্রম, বাংলার চুঁচুড়া ও বাঁকুড়ায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৭.
ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয় -
  1. ১৬০০ সালে
  2. ১৬৫৭ সালে
  3. ১৭০৪ সালে
  4. ১৭৫৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৫৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৫৭ সালে
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- ব্রিটেনের রানী প্রথম এলিজাবেথের নিকট থেকে প্রাপ্ত সনদের মাধ্যমে ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
- ১৬১২ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৭০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করে।
- ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশী যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয়।
- ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে।
- এরপর ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার নিজে নিয়ে নেয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৬০৮.
হাজী মুহম্মদ মহসীনের আদি নিবাস কোথায়?
  1. ক) রোম
  2. খ) পারস্য
  3. গ) জর্ডান
  4. ঘ) চৈনিক
সঠিক উত্তর:
খ) পারস্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পারস্য
ব্যাখ্যা
- হাজী মুহম্মদ মহসীন ১৭৩২ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল মুহম্মদ ফয়জুল্লাহ এবং মায়ের নাম ছিল জয়নাব খানম। তাদের আদি নিবাস ছিল পারস্যে
- দানশীলতার জন্য ইতিহাসে তিনি ‘দানবীর বা বাংলার হাতেম তাই’ নামে পরিচিত। তিনি ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর প্রভৃতি স্থানে মাদ্রাসার উন্নতি সাধনে প্রচুর অর্থ দান করেন। তিনি তাঁর সমুদয় অর্থ শিক্ষা বিস্তার চিকিৎসা এবং দরিদ্র মানুষের জন্য ব্যয় করেন।
- ১৮০৬ সালে মৃত্যুর ছয় বছর পূর্বে তিনি ‘মহসীন ফান্ড’ নামক একটি ফান্ড গঠন করে তার সমস্ত সম্পত্তি জনহিতকর কাজে দান করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬০৯.
'বাহাদুর শাহ পার্ক' নিম্নের কোনটির সাথে সংশ্লিষ্ট?
  1. ক) নীল বিদ্রোহ
  2. খ) সিপাহী বিদ্রোহ
  3. গ) বঙ্গভঙ্গ
  4. ঘ) ভারতছাড় আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
খ) সিপাহী বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সিপাহী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
- 'বাহাদুর শাহ পার্ক' এর পূর্বনাম ভিক্টোরিয়া পার্ক। 
- ইহা সিপাহী বিদ্রোহের স্মৃতিবিজড়িত একটি স্থান। 
- পুরানো ঢাকা এলাকার সদরঘাটের সন্নিকটে লক্ষ্মীবাজারে অবস্থিত। 
- ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর এক প্রহসনমূলক বিচারে ইংরেজ শাসকেরা ফাঁসি দেয় অসংখ্য বিপ্লবী সিপাহিকে। 
- তারপর জনগণকে ভয় দেখাতে সিপাহিদের লাশ এনে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এই ময়দানের বিভিন্ন গাছের ডালে। 
- ১৯৫৭ সালে (মতান্তরে ১৯৬১) সিপাহি বিদ্রোহের শতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে ভিক্টোরিয়া পার্কের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাহাদুর শাহ পার্ক। 
- সিপাহী বিদ্রোহ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইংরেজ শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ এর শাসন পুনরায় আনার জন্য। তাই তাঁর নামানুসারে এর নতুন নামকরণ করা হয় ‘বাহাদুর শাহ পার্ক’।
 
উৎস : ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট
৬১০.
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৬০০ সালে
  2. ১৬০৫ সালে
  3. ১৬১০ সালে
  4. ১৬১৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৬০০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬০০ সালে
ব্যাখ্যা
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- ব্রিটেনের রানী প্রথম এলিজাবেথের নিকট থেকে প্রাপ্ত সনদের মাধ্যমে ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
- ১৬১২ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৭০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করে।
- ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশী যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয় এবং ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে। এরপর ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার নিজে নিয়ে নেয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬১১.
বঙ্গভঙ্গ ব্যবস্থা রহিত করেন-
  1. লর্ড বেন্টিংক
  2. লর্ড ডালহৌসি
  3. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  4. লর্ড ক্যানিং
সঠিক উত্তর:
লর্ড হার্ডিঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড হার্ডিঞ্জ
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ রদ:

- বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা ১৯১০ সালে লর্ড হার্ডিঞ্জ ভারতের নতুন ভাইসরয় হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- তিনি বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অসন্তোষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা লক্ষ্য করে বঙ্গভঙ্গ রদের বিষয়ে গোপন তৎপরতা শুরু করেন।
- ব্রিটেনের সম্রাট পঞ্চম জর্জ বঙ্গভঙ্গ রদের পক্ষে মত দেন।
- ১৯১১ সালে সম্রাট পঞ্চম জর্জ ও রাণি মেরী ভারত সফরে আসেন।
- এই সফরে সম্রাট পঞ্চম জর্জ আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- ফলে কার্জনের বাংলা বিভক্তির ব্যবস্থা বাতিল হয়।
- ঢাকা চট্টগ্রাম, রাজশাহী, প্রেসিডেন্সি ও বর্ধমানের পাঁচটি বাংলা ভাষাভাষী বিভাগ নিয়ে বাংলা প্রদেশ পূনর্গঠন করা হয়।
- ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা হতে দিল্লিতে স্থানান্তর করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন।
- এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদাহ নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশ।
- প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা।
- অপরদিকে পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশ, যার রাজধানী করা হয় কোলকাতাকে।
- বাংলার মুসলমানরা নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়।
- অপর দিকে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে।
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে তারা বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১২.
যশোর অঞ্চলে নীল বিদ্রোহের নেতা কে ছিলেন?
  1. ক) বেণী মাধব
  2. খ) বৈদ্যনাথ
  3. গ) বিষ্ণুচরণ
  4. ঘ) দিগম্বর বিশ্বাস
সঠিক উত্তর:
ক) বেণী মাধব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বেণী মাধব
ব্যাখ্যা
• ১৭৭০-১৭৮০ সালের মধ্যে ইংরেজ আমলে বাংলাদেশে নীল চাষ শুরু হয়। নীল চাষের শুরু দিক থেকেই কৃষকদের উপরে চালানো হতো চরম অত্যাচার। শেষ পর্যন্ত দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া নীল চাষিরা ১৮৫৯ সালে ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করে। এসব বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয় নীলচাষিরাই। 
- যশোরের নীল বিদ্রোহের নেতা ছিলেন নবীন মাধব ও বেণী মাধব নামের দুই ভাই।
- হুগলিতে নেতৃত্ব দেয় বৈদ্যনাথ ও বিশ্বনাথ সর্দার।
- নদীয়ায় ছিলেন মেঘনা সর্দার এবং নদীয়ার চৌগাছায় বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস নামে দুই ভাই।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬১৩.
বাংলাদেশে ফরায়েজী আন্দোলনের উদ্যোক্তা কে ছিলেন?
  1. পীর মুহসীনুদ্দীন
  2. শাহ ওলিউল্লাহ
  3. মাওলানা কেরামত আলী
  4. হাজী শরীয়তুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
হাজী শরীয়তুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজী শরীয়তুল্লাহ
ব্যাখ্যা

→ বাংলাদেশে ফরায়েজী আন্দোলনের উদ্যোক্তা ছিলেন হাজী শরীয়তুল্লাহ।

ফরায়েজি আন্দোলন:
- ফরায়েজি আন্দোলন ছিল একটি ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলন।
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তুল্লাহ ফরায়েজী আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফরায়েজি শব্দটি আরবি ‘ফরজ’ (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে। যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি।
- হাজী শরীয়তুল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে হাজী শরীয়তুল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
- ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
- ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- হাজী শরীয়তুল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর যোগ্যপুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া।
- তিনি ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন।
- দুদু মিয়া ফরায়েজি আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপদান করেন।
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে দুদু মিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১৪.
'বঙ্গভঙ্গ' কালে ভারতের ভাইসরয় কে ছিলেন?
  1. লর্ড ক্লাইভ
  2. লর্ড কর্ণওয়ালিশ
  3. লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন
  4. লর্ড কার্জন
সঠিক উত্তর:
লর্ড কার্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড কার্জন
ব্যাখ্যা

বঙ্গভঙ্গ:
- ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর লর্ড কার্জনের সময়ে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করা হয় যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জনের সময় ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ হয়।
- এ বিভক্তির মাধ্যমে সমগ্র বাংলাকে 'পূর্ববাংলা ও আসাম' এবং 'পশ্চিমবঙ্গ' নামে দুটি প্রদেশে পরিণত করা হয়।
​- কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুদের তীব্র বিরোধিতা এবং সহিংস আন্দোলনের কারণে লা ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
- লর্ড হার্ডিঞ্জের সময় ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের সময় ভাইসরয় ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন।

​উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৬১৫.
ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব কবে ও কোথায় উত্থাপিত হয়?
  1. ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ, লাহোরে
  2. ১৯৩৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর, দিল্লিতে
  3. ১৯৪৬ সালের ৯ এপ্রিল, কলকাতায়
  4. ১৯৪৭ সালের ৩ জুন, করাচিতে
সঠিক উত্তর:
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ, লাহোরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ, লাহোরে
ব্যাখ্যা

- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ, লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা পাকিস্তান প্রস্তাব নামেও পরিচিত।

লাহোর প্রস্তাব:
- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক একটি প্রস্তাব পেশ করেন। জিন্নাহর সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি সভায় গৃহীত হয়। এই প্রস্তাবই ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব নামে পরিচিত।
- লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল দ্বিজাতি তত্ত্ব।
- এ প্রস্তাবের কোথাও পাকিস্তান শব্দটি ছিল না। তথাপি এ প্রস্তাব ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
- এ প্রস্তাব ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে পৃথক আবাসভূমির স্বপ্ন বপন করে।
- কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ লাহোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১৬.
কোন জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে?
  1. ব্যারাকপুরে
  2. পুরুলিয়া
  3. বর্ধমানে
  4. কলকাতায়
সঠিক উত্তর:
বর্ধমানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ধমানে
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ব্যাপ্তিকাল প্রায় ৪০ বছর (১৭৬০-১৮০০ খ্রিস্টাব্দে)।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গে ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু হয়।
- বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে।
- এ সব সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা অনেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুঠ করে।
- ফকির মজনু শাহর যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি।
- তিনি ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৭.
কার উদ্যোগে বেঙ্গল প্যাক্ট স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. চিত্তরঞ্জন দাস
  3. জওহরলাল নেহরু
  4. সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল
সঠিক উত্তর:
চিত্তরঞ্জন দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিত্তরঞ্জন দাস
ব্যাখ্যা

বেঙ্গল প্যাক্ট স্বাক্ষরিত হয়েছিল দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের উদ্যোগে।

বেঙ্গল প্যাক্ট, ১৯২৩:

- ব্রিটিশ বিরোধী অহিংস খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন সহিংস রূপ ধারণ করলে, মহাত্মা গান্ধী ১৯২২ সালে এ আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।
- আন্দোলন তুঙ্গে থাকা অবস্থায় তা বন্ধ ঘোষণা করার পর পক্ষে-বিপক্ষে মতামত ব্যক্ত হতে থাকে।
- অপরদিকে, ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী প্রাদেশিক আইনসভার দ্বিতীয় নির্বাচন ১৯২৩ সালের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হবার কথা।
- গান্ধীর নেতৃত্বাধীন একটি অংশ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার বিপক্ষে ছিলেন না অপরদিকে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের (সি আর দাশ) এর নেতৃত্বাধীন আরেকটি অংশ নির্বাচনের পক্ষে ছিলেন।
- সি আর দাশের প্রস্তাব কংগ্রেস সম্মেলনে গৃহীত হয়নি এমতাবস্থায়, তিনি তাঁর সমর্থকদের নিয়ে ১৯২২ সালের ৩১শে ডিসেম্বর গঠন করেন স্বরাজ পার্টি।
- সি.আর দাশ ছিলেন সাম্প্রদায়িক ঐক্যের পক্ষের মানুষ। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তিনি ব্রিটিশদের সহযোগিতা করতে চাননি বরং নিয়মতান্ত্রিকভাবে ব্রিটিশদের বিরোধিতা করতে চেয়েছিলেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে তিনি নিজ প্রদেশ বাংলায় মুসলমান নেতৃবৃন্দের সাথে রাজনৈতিক সমঝোতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্যে ১৯২৩ সনে এক চুক্তি সাক্ষর করেন যা বেঙ্গল প্যাক্ট নামে পরিচিত।

⇒ বেঙ্গল প্যাক্টের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
১. বাংলায় প্রাদেশিক কাউন্সিল নির্বাচনে হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায় জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রতিনিধিত্ব করবে।
২. স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট এলাকার সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় পাবে শতকরা ৬০ ভাগ আসন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় পাবে শতকরা ৪০ ভাগ আসন।
৩. মুসলমান সম্প্রদায়ের পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থার স্বীকৃতি।
৪. সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে মুসলমান সম্প্রদায়ের জন্য শতকরা ৪৫ ভাগ বরাদ্দ করা হয়। যতদিন পর্যন্ত হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের চাকরি লাভের একই অনুপাত অর্জিত না হবে, ততদিন পর্যন্ত মুসলমান সম্প্রদায়ের জন্য ৮০ ভাগ চাকরি লাভের বিধান রাখা হয়।
৫. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায় এমন কোন কাজ করবে না যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে।

উল্লেখ্য,
- হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক সমঝোতার ক্ষেত্রে 'বেঙ্গল প্যাক্ট' নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ ছিল। অনগ্রসর মুসলিম জনগণের উন্নয়নে বেঙ্গল প্যাক্ট নিঃসন্দেহে কার্যকর ছিল। কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশের বিরোধীতা ও সি আর দাশের হঠাৎ মৃত্যুতে বেঙ্গল প্যাক্ট মুখ থুবড়ে পড়ে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১৮.
কত খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা বিহার উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে?
  1. ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৭৬৬ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৭৬৭ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৭৬৮ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
এলাহাবাদ চুক্তি ও বাংলার ক্ষমতা দখল:
- রবার্ট ক্লাইভ ও মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম-এর মধ্যে এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৭৬৫ সালে।
- ১৭৬৫ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করেছিল।
- সম্রাট শাহ আলমকে কোম্পানি প্রতি বছর ২৬ লক্ষ টাকা দান করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
- এই চুক্তির ফলে রাজস্ব আদায় ও দেশ রক্ষার ভার ছিল কোম্পানির উপর, অন্যদিকে নিজামত তথা বিচার ও প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব বর্তায় নবাবের উপর।

⇒ কোম্পানির সরাসরি দিউয়ানির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য যে অর্থ ও লোকবল প্রয়োজন তা যেমন ছিলনা, তেমনি এদেশীয় ভাষা ও আইন কানুন সম্পর্কে কোম্পানির কর্মচারীদের জ্ঞানও ছিল না।
- তাই রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব সরাসরি গ্রহণ তাদের জন্য সম্ভব ছিল না।
- এ সকল দিক চিন্তা করেই তারা দ্বৈত শাসন নীতি প্রবর্তন করা হয়েছিল।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৯.
কোন আইনের দ্বারা উপমহাদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে?
  1. ভারত শাসন আইন
  2. রাওলাট আইন
  3. রেগুলেটিং অ্যাক্ট
  4. চার্টার অ্যাক্ট
সঠিক উত্তর:
ভারত শাসন আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারত শাসন আইন
ব্যাখ্যা

ভারত শাসন আইন:
- সিপাহী বিদ্রোহ সংঘটিত হওয়ার পর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট ভারত শাসন আইন নামক একটি আইন পাস করা হয়।
- এটি ছিল ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লবের প্রত্যক্ষ ফল।
- ১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট পার্লামেন্ট ইন্ডিয়া অ্যাক্ট আইনের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে রাজ শাসন প্রতিষ্ঠা করে।
- ভারতের রাষ্ট্র ক্ষমতা ব্রিটিশ রাজ্যের উপর ন্যস্ত করা হয়।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া। 

৬২০.
ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন-
  1. রবার্ট ক্লাইভ
  2. লর্ড বেন্টিঙ্ক
  3. ওয়ারেন হেস্টিংস
  4. লর্ড কর্ণওয়ালিস
সঠিক উত্তর:
লর্ড বেন্টিঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড বেন্টিঙ্ক
ব্যাখ্যা
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক:
- ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক।
- লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ১৮২৮ -৩৫ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
- বেন্টিংক মাদ্রাজের গভর্নর হিসেবে ১৮০৩ সালে প্রথম ভারতে আসেন।
- ১৮৩৩ সালের সনদ আইন দ্বারা পরে তাঁর পদবিকে ভারতের গভর্নর জেনারেল হিসেবে পুনরাখ্যায়িত করা হয়।
⇒ ১৮৩৩ সালের সনদ আইন দ্বারা বাংলার গভর্নর জেনারেলকে ভারতের গভর্নর জেনারেলে উন্নীত করা হয়।
- ফলে বাংলার তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন।
উল্লেখ্য,
- লর্ড উইলিয়ম বেন্টিঙ্ক সাধারণত হস্তক্ষেপ না করা এবং অনাক্রমণের নীতি অনুসরণ করেছিলেন।
- ১৮৩১ সালে মহিশূরে অনেকদিন যাবৎ চলতে থাকা কুশাসন ঐ রাজ্যটিকে ব্রিটিশ প্রশাসনে আনতে তাঁকে বাধ্য করে।
- বেন্টিঙ্ক উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার করেন এবং সেখানে রাজস্ব বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন।
- সতীদাহ নিবারণ ও ঠগী দমন হলো বেন্টিঙ্কের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কীর্তি।
- তিনি সতীদাহ প্রথার বিলোপ সাধন করেন।
অন্যদিকে,
- ওয়ারেন হেস্টিংস ছিলেন বাংলার প্রথম গভর্নর-জেনারেল, প্রথমে ফোর্ট উইলিয়মএর গভর্নর এবং পরে গভর্নর জেনারেল।
- ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড ক্যানিং।
- স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন।
উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২১.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা কত সালে উচ্ছেদ করা হয়?
  1. ১৮৫৭ সালে
  2. ১৯৪৭ সালে
  3. ১৯৩৫ সালে
  4. ১৯৫০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫০ সালে
ব্যাখ্যা

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ১৭৯৩ সালে কর্নওয়ালিস প্রশাসন কর্তৃক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সরকার ও বাংলার ভূমি মালিকদের (সকল শ্রেণির জমিদার ও স্বতন্ত্র তালুকদারদের) মধ্যে সম্পাদিত একটি স্থায়ী চুক্তি।
- এ চুক্তির আওতায় জমিদার উপনিবেশিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ভূ-সম্পত্তির নিরঙ্কুশ স্বত্বাধিকারী হন।
- জমির স্বত্বাধিকারী হওয়া ছাড়াও জমিদারগণ স্বত্বাধিকারের সুবিধার সাথে চিরস্থায়ীভাবে অপরিবর্তনীয় এক নির্ধারিত হারের রাজস্বে জমিদারিস্বত্ব লাভ করেন। 

⇒ “একশালা” ও “পাঁচশালা”  বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে লর্ড কর্নওয়ালিসের (১৭৩৮-১৮০৫) প্রস্তাবনা মেনে নিয়ে ১৭৯৩ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্রিটিশ ভারতে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করেন।
- এটি মূলত ভূমি রাজস্ব আদায়ের একটি মাধ্যম।
- এর মাধ্যমে জমিদারদেরকে জমির মালিক এবং কৃষকদেরকে তাদের প্রজা রূপে রূপায়িত করা হয়। 

উল্লেখ্য,
- ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস ‘পাঁচসালা বন্দোবস্ত এবং ‘একসালা বন্দোবস্ত' প্রবর্তন করেন।
- কিন্তু এ দুটি বন্দোবস্ত রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হয়নি।
- এমতাবস্থায় গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিশ নানা বিচার-বিশ্লেষণ করে ১৭৯৩ সালে ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এক নতুন প্রথার প্রবর্তন করেন। ইতিহাসে এটি ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' নামে পরিচিত।
- এর মাধ্যমে ইংরেজরা এদেশে তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন।
- এক্ষেত্রে তারা অনেক সফলতা লাভ করলেও এ ব্যবস্থার ফলে সাধারণ কৃষক এমনকি অনেক সম্ভ্রান্ত বনেদি জমিদার সর্বশান্ত হয়ে পড়ে।
- অন্যদিকে নগদ টাকার মালিক ও পুঁজিপতি মহাজনরা রাতারাতি জমিদারে পরিণত হয়।
- নব সৃষ্ট এ জমিদার শ্রেণী ইংরেজ শাসনের জন্য একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি স্থাপনে সহায়ক শক্তির ভূমিকা পালন করে।
- ১৯৫০ সালে এ ব্যবস্থা উচ্ছেদ করা হয় ।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২২.
ভারতের প্রথম মুদ্রা প্রবর্তন করেন -
  1. ক) শের শাহ
  2. খ) মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  3. গ) ইলতুৎমিশ
  4. ঘ) লর্ড কর্নওয়ালিস
সঠিক উত্তর:
ক) শের শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শের শাহ
ব্যাখ্যা

দক্ষিণ এশিয়াতে বিনিময়ের মাধ্যমরূপে মুদ্রার চাক্ষুষ প্রমাণ খ্রিস্টপূর্ব ছয়-পাঁচ শতকের পূর্বে পাওয়া দুরূহ। তক্ষশিলার ভির ঢিবি অঞ্চল ও কাবুলের নিকটবর্তী চমান-ই-হুজুরীর মুদ্রাভান্ডার আবিষ্কৃত হওয়ায় তর্কাতীত প্রমাণ পাওয়া যায় যে, খ্রিস্টপূর্ব পাঁচ শতকে উত্তর ভারতে ধাতব মুদ্রার প্রচলন হয়েছিল।
সুত্রঃ বাংলাপিডিয়া।
পরবর্তীতে, বিভিন্ন যুগের শাসকগণ মুদ্রার ধরণ এবং মুদ্রা ব্যবস্থার পরিবর্তন ও সংস্কার করেছেন। কোন শাসক "ভারতের প্রথম মুদ্রা প্রবর্তন" করেন এটা বলা সম্ভব নয়।

প্রশ্নটা যেভাবে করা হয়ে সে অনুযায়ী উত্তর ক) শের শাহ ধরা যায়।

তাঁর মুদ্রা পদ্ধতি মুঘল ও কোম্পানি আমলেও বজায় ছিল। প্রকৃতপক্ষে এটাই ব্রিটিশ মুদ্রার এবং বর্তমান রুপির ভিত্তি।
Reference: The Reserve Bank of India

অপশনগুলোর শাসকদের মুদ্রা এবং মুদ্রাব্যবস্থা সম্পর্কিত কিছু তথ্য দেয়া হল -

ক) শের শাহ
শেরশাহ মুদ্রা ব্যবস্থার সংস্কার সাধন করেন। তিনি তাঁর মুদ্রার উপাদানে নির্ভেজাল, ওজনে সঠিক ও গঠনরীতিতে মনোরম ইত্যাদি বিষয়ের ওপর প্রভুত গুরুত্ব প্রদান করেন। তিনি চতুষ্কোণ ও গোলাকার দু'ধরনের মুদ্রা চালু করেন। তিনি সোনা, রূপা ও তামার পৃথক মুদ্রা চালু করেন। তামার মুদ্রাকে বলা হতো দাম। এছাড়া আনি, দু'আনি, সিকি, আধুলি স্তরের মুদ্রাও প্রচলন করেছিলেন। এসঙ্গে মুদ্রার নকসার উন্নতি সাধন করেন। তাঁর এই মুদ্রানীতির সংস্কারের ফলে সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে লেনদেনের অসুবিধা দূর হয়।
তাঁর মুদ্রা পদ্ধতি মুঘল ও কোম্পানি আমলেও বজায় ছিল। প্রকৃতপক্ষে এটাই ছিল ব্রিটিশ মুদ্রার ভিত্তি।

Sher Shah Suri (1540 to 1545 AD), an Afghan, who ruled for a brief time in Delhi. Sher Shah issued a coin of silver which was termed the Rupiya. This weighed 178 grains and was the precursor of the modern rupee. It remained largely unchanged till the early 20th Century. Together with the silver Rupiya were issued gold coins called the Mohur weighing 169 grains and copper coins called Dam.

Reference: The Reserve Bank of India

খ) মুহাম্মদ বিন তুঘলক

সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলকের সময় দেশে সোনার অনুপাতে রূপার অভাব দেখা দিয়েছিল। তদুপরি দেশ থেকে প্রচুর স্বর্ণমুদ্রা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছিল।
দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা চিন্তা করে সুলতান বাজারে তামার নোট ছাড়েন। এ মুদ্রা ছিল স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রার প্রতীক স্বরূপ। অনেকটা আধুনিক কালের কাগজের টাকার মতো। তামার পাতে টাকার যে অংক বা পরিমাণ লেখা থাকতো তামার ধাতব মূল্য ছিল তার ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ মাত্র। ব্যাপারটি ছিল অভিনব। অবশ্যই এটি সুলতানের মেধা ও প্রতিভার স্বাক্ষর বহন করে। কিন্তু, অসাবধানতাবশত: মুদ্রা যাতে জাল না হয় সে ব্যাপারে টাকশালের কর্মকর্তারা কোন সতর্কতা অবলম্বন করেন নি। ফলে নকল প্রতীক মুদ্রায় বাজার ছেয়ে যায় এবং দেশে চরম মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। প্রতীক মুদ্রার কোনটা আসল, কোনটা নকল তা চেনা কষ্টকর হয়ে পড়ে। পরিকল্পনাটি ছিল যুগের চেয়ে অনেক বেশি অগ্রসর। সমসাময়িক জনগণ এটি বুঝতে পারেনি। কিন্ত তাঁর প্রবর্তিত প্রতীক মুদ্রা ব্যবস্থা ছিল নিঃসন্দেহে একটি মৌলিক ও সাহসী পদক্ষেপ।

গ) ইলতুৎমিশ

সুলতান ইলতুৎমিশ এক ধরনের রৌপ্য মুদ্রা প্রবর্তন করেন যা ‘তংকা’ নামে পরিচিত।
সুলতান ইলতুৎমিশ নিজ নামে মুদ্রা প্রচলন করেন। তিনিই প্রথম ভারতে খাঁটি আরবি মুদ্রা অর্থাৎ আরবি ভাষা খোদিত মুদ্রার প্রচলন ঘটান। মুদ্রায় তিনি বাগদাদের খলিফার নাম অঙ্কন করেন এবং নিজেকে ‘বিশ্বাসীদের নেতার সাহায্যকারী' হিসেবে দাবি করেন।

সুত্রঃ বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, ইতিহাস বই।

৬২৩.
১৯৪৭ সালের সীমানা কমিশন পরিচিত -
  1. ক) ফ্লাউড কমিশন
  2. খ) মাউন্টব্যাটেন কমিশন
  3. গ) রেডক্লিফ কমিশন
  4. ঘ) হান্টার কমিশন
সঠিক উত্তর:
গ) রেডক্লিফ কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রেডক্লিফ কমিশন
ব্যাখ্যা
• ১৯৪৭ সালের ৩০ জুন পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গের সীমানা নির্ধারণের জন্যে বেঙ্গল বাউন্ডারি কমিশন গঠিত হয়। এই কমিশনের সদস্য ছিলো পাঁচজন। এরা হলেন-
- সিরিল রেডক্লিফ (চেয়ারম্যান)
- বিচারপতি বিজন কুমার মুখার্জী
- বিচারপতি সি.সি. বিশ্বাস
- বিচারপতি আবু সালেহ মোহাম্মদ আকরাম
- বিচারপতি এস.এ. রহমান।

• কমিশনের চেয়ারম্যান সিরিল র‌্যাডক্লিফের নামানুসারে এই কমিশন রেডক্লিফ কমিশন নামে অধিক পরিচিত।
১২ আগস্ট ১৯৪৭ রেডক্লিফ কমিশন ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার উপর গুরুত্ব প্রদান করে তাদের প্রস্তুতকৃত রিপোর্ট প্রদান করে।

তথ্যসূত্র: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খণ্ড। 
৬২৪.
উপমহাদেশে লর্ড ডালহৌসি এর অবদান নয় কোনটি?
  1. বিধবা বিবাহ আইন পাশ
  2. স্বত্ববিলোপ নীতি প্রবর্তন
  3. পরিসংখ্যান জরিপ চালুকরণ
  4. রেলওয়ের প্রথম যাত্রা
সঠিক উত্তর:
পরিসংখ্যান জরিপ চালুকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিসংখ্যান জরিপ চালুকরণ
ব্যাখ্যা
লর্ড ডালহৌসি
- সাম্রাজ্যবাদী লর্ড ডালহৌসি স্বত্ববিলোপ নীতি প্রবর্তন করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় ও সহযোগীতায় তিনি ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন পাশ করেন।
- তার শাসনামলেই ( ১৮৫৩ সালে ) উপমহাদেশে রেলের যাত্রা শুরু হয়।
- তিনি বনভূমি সংরক্ষণ নীতি প্রবর্তন করেন।
- উপমহাদেশে টেলিগ্রাফ সিস্টেমও তার অবদান।

অন্যদিকে,
- লর্ড মেয়ো ভারতবর্ষে পরিসংখ্যান জরিপ চালু করেন।
- তার শাসনামলেই ১৮৭২ সালে উপমহাদেশের প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস : ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৫.
কার্জন হল কোন সালে নির্মিত হয়?
  1. ক) ১৯০১
  2. খ) ১৯০৫
  3. গ) ১৯০৮
  4. ঘ) ১৯৫৭
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯০৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯০৮
ব্যাখ্যা

কার্জন হল তৎকালীন ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জনের নামানুসারে এ ভবনটি টাউন হল হিসেবে নির্মিত হয়েছিল। 
১৯০৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রতিনিধি ভাইসরয় লর্ড কার্জন ঢাকায় এসে কার্জন হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। ১৯০৮ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং ঢাকা জেলার ওয়েবসাইট।

৬২৬.
ব্রিটিশদের 'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতির উদ্দেশ্য ছিল-
  1. ক) মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা
  2. খ) ব্রিটিশ শাসন দীর্ঘস্থায়ী করা
  3. গ) হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা
  4. ঘ) অর্থনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করা
সঠিক উত্তর:
খ) ব্রিটিশ শাসন দীর্ঘস্থায়ী করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ব্রিটিশ শাসন দীর্ঘস্থায়ী করা
ব্যাখ্যা

- ব্রিটিশদের 'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতির উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ শাসন দীর্ঘস্থায়ী করা।
- ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর থেকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এদেশের রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের জন্য প্রথম থেকেই ভাগ কর শাসন কর নীতি কার্যকর করার চেষ্টা চালায়।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬২৭.
বঙ্গভঙ্গ রদের পর, যখন বাংলা গভর্নর শাসিত প্রদেশে রূপান্তরিত হয়, তখন বাংলার প্রথম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন কে?
  1. লর্ড কারমাইকেল
  2. এন্ড্রু ফ্রেজার
  3. ফ্রেডারিক জেমস হ্যালিডে
  4. এডওয়ার্ড বেকার
সঠিক উত্তর:
লর্ড কারমাইকেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড কারমাইকেল
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ রদের পর গভর্নর শাসিত প্রদেশ রূপান্তরিত হওয়ার পর বাংলার প্রথম গভর্নর হয়েছিলেন লর্ড কারমাইকেল।

লর্ড কারমাইকেল:

- লর্ড কারমাইকেল বঙ্গভঙ্গ রদের পর এবং গভর্নর শাসিত প্রদেশ হিসেবে রূপান্তরিত হওয়ার পর বাংলার প্রথম গভর্নর।
- তিনি জর্জ ট্রেভেলিয়ান ও লর্ড ডালহৌসীর একান্ত সচিব হিসেবে কাজ করেন।
- ১৮৯৫ থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে মিডলটনের প্রতিনিধিত্ব করেন।
- বাংলার গভর্নর হওয়ার আগে তিনি ভিক্টোরিয়া ও মাদ্রাজের গভর্নর ছিলেন।

⇒ গভর্নর শাসিত প্রদেশ হওয়ার সুবাদে বাংলার গভর্নর স্বশাসনের অধিকার নিয়ে সরাসরি ইন্ডিয়া কাউন্সিল দ্বারা নিযুক্ত হতেন।
- গভর্নরকে পরামর্শ দান ও নির্বাহি দায়িত্ব পালনের জন্য একটি নির্বাহি সভা (executive council) ছিল।

উল্লেখ্য,
⇒ লেফটেন্যান্ট গভর্নর:
- লেফটেন্যান্ট গভর্নর শাসনতান্ত্রিকভাবে সপরিষদ গভর্নর জেনারেলের প্রতিনিধি।
- বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির গভর্নর ছিলেন একই সঙ্গে ভারতের গভর্নর জেনারেল।
- তাঁর পক্ষে প্রদেশের শাসনকার্য পরিচালনা করতেন লেফটেন্যান্ট গভর্নর।
- ১৮৩৫ সালে একজন লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিয়োগ করা হয়। 
- ১৮৫৩ সালের সনদ আইনের আওতায় গভর্নর জেনারেলকে বাংলার গভর্নরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং ঐ আইন অনুযায়ী তাঁকে বঙ্গ প্রদেশের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় ও বিধান পরিষদসহ একজন লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিয়োগ করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়।
- এভাবে ভারতের গভর্নর জেনারেল ১৮৫৪ সালের ১মে স্যার ফ্রেডারিক জেমস হ্যালিডেকে বাংলার প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিয়োগ করেন।
- বঙ্গভঙ্গ সাধিত হওয়ার পর (১৯০৫) সৃষ্ট দুটি নতুন প্রদেশ, যথা বেঙ্গল (এর মধ্যে বিহার ও উড়িষ্যা অন্তর্ভুক্ত ছিল) এবং পূর্ববাংলা ও আসাম প্রদেশের জন্য দুজন লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিয়োগ করা হয়।
- ১৯১১ সালের ডিসেম্বর মাসে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হলে বাংলা পুনরায় একত্রে সংযুক্ত হয়।
- তাতে যে শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তন ঘটে তা হলো সপরিষদ একজন গভর্নর মাদ্রাজ ও বোম্বে প্রেসিডেন্সিদ্বয়ের গভর্নরদের মতো একই ক্ষমতা ও কার্যকলাপ সহকারে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি প্রদেশটির শাসনকার্য পরিচালনা করবেন।
- লর্ড কারমাইকেল হলেন বাংলার প্রথম গভর্নর।
- তিনি ১৯১২ সালের ১ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬২৮.
ভারত ভাগ পরিকল্পনা পেশ করেন কে?
  1. ক) লর্ড আরউইন
  2. খ) লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  3. গ) ব্যামফিল্ড ফুলার
  4. ঘ) লর্ড ডাফরিন
সঠিক উত্তর:
খ) লর্ড মাউন্টব্যাটেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লর্ড মাউন্টব্যাটেন
ব্যাখ্যা
১৯৪৭ সালের ৩রা জুন ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারত ভাগ পরিকল্পনা পেশ করেন। এ্র ভিত্তিতেই ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৬২৯.
রাজস্ব আদায়ের জন্য পাঁচসালা বন্দোবস্ত চালু করেন-
  1. ক) লর্ড ক্যানিং
  2. খ) ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. গ) লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. ঘ) লর্ড বেন্টিঙ্ক
সঠিক উত্তর:
খ) ওয়ারেন হেস্টিংস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা
নির্দিষ্ট রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর স্থায়ী মালিকানা দান করে যে ভূমি বন্দোবস্ত চালু করা হয় তাকেই "চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত" বলা হয়।
ওয়ারেন হেস্টিংস পাঁচসালা বন্দোবস্ত এবং একসালা বন্দোবস্ত করে ভূমিব্যবস্থায় পরিবর্তন আনেন। তবে এই ব্যবস্থা প্রয়োজনীয় রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থ হয়।
এই পরিস্থিতিতে কর্নওয়ালিস প্রথমে দশসালা পরে ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে একে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হিসেবে ঘোষণা করেন।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী]
৬৩০.
ভারতবর্ষে পরিসংখ্যান জরিপ চালু করেন কে?
  1. লর্ড মেয়ো
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. লর্ড বেন্টিং
  4. লর্ড ডালহৌসি
সঠিক উত্তর:
লর্ড মেয়ো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড মেয়ো
ব্যাখ্যা
লর্ড মেয়ো ও ভারতবর্ষে পরিসংখ্যান জরিপ
- লর্ড মেয়ো ভারতবর্ষে পরিসংখ্যান জরিপ চালু করেন।
- তার শাসনামলেই ১৮৭২ সালে উপমহাদেশের প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে, 
-.১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন।
- ১৮২৯ সালে রাজা রামমোহন রায়ের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় লর্ড বেন্টিং এই উপমহাদেশে সতীদাহ প্রথা রহিত করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় ও সহযোগীতায় লর্ড ডালহৌসি ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন পাশ করেন।

উৎস : ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩১.
সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের প্রথম সূত্রপাত ঘটে -
  1. ক) বিহারে
  2. খ) বাংলায়
  3. গ) মহারাষ্ট্রে
  4. ঘ) উত্তর ভারতে
সঠিক উত্তর:
গ) মহারাষ্ট্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মহারাষ্ট্রে
ব্যাখ্যা
- সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের প্রথম সূত্রপাত ঘটে মহারাষ্ট্রে। 
- কিন্তু পরে এ আন্দোলন অধিক জোরদার হয়ে উঠে বাংলায়। 
- বঙ্গভঙ্গ ও স্বদেশী আন্দোলনে সরকারী দমন নীতির মোকাবেলায় বাংলার এক শ্রেণির যুবক বিপ্লব ও সন্ত্রাসবাদের পথ বেছে নেয়। 
- বিভিন্ন গুপ্ত সমিতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তারা বৈপ্লবিক ক্রিয়াকর্ম পরিচালনা করে এবং সশস্ত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বৃটিশ সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা করে। 
- গুপ্ত সমিতিগুলোর মধ্যে ‘ঢাকার অনুশীলন সমিতি' ও কলকাতার ‘যুগান্তর সমিতি' ছিল প্রধান। 
- সারাদেশে এসব সংগঠনের অনেক শাখা প্রশাখা ছিল। 
- ‘যুগান্তর’ নামে যুগান্তর সমিতির একটি সাপ্তাহিক পত্রিকাও বের হতো।
-  এ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মধ্যে ছিলেন অরবিন্দ ঘোষ, বারীন্দ্র ঘোষ, ভূপেন্দ্ৰ নাথ দত্ত প্রমুখ বিপ্লবীগণ। ঢাকার অনুশীলন সমিতির প্রধান সংগঠক ছিলেন পুলিন বিহারী দাস। 
 
উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম, ইতিহাস ১ম পত্র; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৬৩২.
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয় কত খ্রিস্টাব্দে?
  1. ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৭৬১ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৭৬১ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৬১ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা

পানিপথের ৩য় যুদ্ধ:
- পানিপথের ৩য় যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৭৬১ খ্রিস্টাব্দে।

উল্লেখ্য, 
- ১৭৬১ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে আফগান শাসক আহমদ শাহ আবদালির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় মারাঠাশক্তি।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে আফগান শাসক আহমদ শাহ আবদালির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় মারাঠাশক্তি।
- অষ্টাদশ শতকের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধগুলোর মধ্যে ভয়াবহতম ছিল এই যুদ্ধ। দু’পক্ষের প্রায় সত্তর হাজার সৈন্য প্রাণ হারিয়েছিলন।
- বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করেও আফগান বাহিনীর হাতে পরাজিত হয়েছিল পেশওয়া শক্তি।
- পরে মারাঠাদের ওপর বীভৎস হত্যালীলা চালিয়েছিল আফগান সৈন্যরা। 
- এই যুদ্ধে পরাজিত হলে মারাঠা সাম্রাজ্য তছনছ হয়ে যায়।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৬৩৩.
বাংলার ওয়াহাবিরা কার নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিল?
  1. এ.কে ফজলুল হক
  2. হাজী শরীয়তুল্লাহ
  3. মওলানা ভাসানী
  4. তিতুমীর
সঠিক উত্তর:
তিতুমীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিতুমীর
ব্যাখ্যা
ওয়াহাবি আন্দোলন:
- পূর্ব ও পশ্চিম বাংলায় প্রায় একই সময়ে দুটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের শুরু হয়।
- পূর্ব বাংলার আন্দোলনটি ফরায়েজি আন্দোলন নামে পরিচিত।
- আর পশ্চিম বাংলার আন্দোলনের নাম ওয়াহাবি বা ‘তারিক-ই- মুহম্মদীয়া'।
- ওয়াহাবি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তিতুমীর।
- ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে এ আন্দোলন শুরু এবং শেষ হয় ১৮৩১ ক্রিস্টাব্দে তিতুমীরের শাহাদাৎ বরণের মধ্য দিয়ে।
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

⇒ ওয়াহাবি আন্দোলনের উদ্দেশ্য -
- তিতুমীরের পরিচালিত তাহরিক-ই-মুহাম্মদীয়া বা ওয়াহাবি আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার।
- পরবর্তিতে এটি একটি ব্যাপক কৃষক আন্দোলনে রূপ নেয়। যা শেষ পর্যন্ত সশস্ত্র সংগ্রামে পরিণত হয়।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিতুমীর তাঁর প্রধান ঘাটি স্থাপন করেন।
- নির্মাণ করেন ইতিহাস খ্যাত তাঁর বাঁশের কেল্লা।
- ইংরেজ সরকার, জমিদার নীলকরদের ঐক্যবদ্ধ আক্রমণের মুখে তিতুমীর ও তার বাহিনী পরাজিত হয়।
- এ আন্দোলন ব্যর্থ হলেও পরবর্তিকালে স্বাধীনতা আন্দোলনে এই সংগ্রাম প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৪.
লক্ষ্মৌ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়-
  1. ক) ৭ জানুয়ারি ১৯১৪
  2. খ) ১৭ মার্চ ১৯১৫
  3. গ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯১৬
  4. ঘ) ১৯ ডিসেম্বর ১৯১৬
সঠিক উত্তর:
গ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯১৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯১৬
ব্যাখ্যা
১৯১৬ সালে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ ভারতের শাসনতান্ত্রিক সরকারের নীতির প্রশ্নে লক্ষ্মৌ শহরে যে চুক্তি সম্পাদন করেন তা-ই ইতিহাসে লক্ষ্মৌ চুক্তি নামে খ্যাত। এ চুক্তির উদ্দেশ্য হচ্ছে - জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগীতা বৃদ্ধি, স্বরাজ অর্জন ইত্যাদি। [সূত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস প্রথম পত্র, অধ্যাপক মোঃ গোলাম মোস্তফা]
৬৩৫.
কোন তারিখে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারত শাসন আইন পাস হয়?
  1. ১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট
  2. ১৮৫৮ সালের ২ সেপ্টেম্বর
  3. ১৮৫৮ সালের ২ অক্টোবর
  4. ১৮৫৮ সালের ২ নভেম্বর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট
ব্যাখ্যা
বঙ্গীয় আইন সভা:
- সিপাহী বিদ্রোহ সংঘটিত হওয়ার পর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট ভারত শাসন আইন নামক একটি আইন পাস করা হয়।
- এই আইনে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটানো হয়।
- ভারতের রাষ্ট্র ক্ষমতা ব্রিটিশ রাজ্যের উপর ন্যস্ত করা হয়।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

⇒ ভারতবর্ষে ১৭৭২ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট-এর আওতায় চার সদস্য বিশিষ্ট গভর্নর জেনারেল অ্যান্ড কাউন্সিলকে ক্ষুদ্র পরিসরের আইনসভা বলা যেতে পারে।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৮৬১ সালে ভারত সরকারকে বাংলায় প্রতিনিধিত্বমূলক আইনসভা স্থাপন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
- এর ফলে ১৮৬১ সালের ১আগস্ট ভারতীয় কাউন্সিল আইন ঘোষিত হয়।
- বঙ্গীয় আইনসভা প্রতিষ্ঠার ঘোষণাও দেওয়া হয়।

⇒ ১৮৬২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বঙ্গীয় আইনসভার কার্যক্রম শুরু হয়।
- এই আইনসভায় লেফটেনেন্ট গভর্নর পদাধিকার বলে সভাপতি, ১২ জন মনোনীত সদস্য, যার মধ্যে চারজন মাত্র বাঙালি ছিলেন, বাকি ৮ জনের ৪ জন সরকারি সদস্য, ৪ জন বেসরকারি সদস্য ছিলেন।
- ১৮৯২ সালে ১৩ জনের স্থলে এই সভার সদস্য ২১ জন করা হলো।
- তবে এই প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করার বিধান ছিল না।
- কিন্তু তারপরও বাংলার প্রতিনিধিত্বমূলক আইনসভাই বাংলাকে গণতান্ত্রিক আইনসভার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৬.
'এনফিল্ড' কীসের নাম?
  1. ক) নির্বতনমূলক আইন
  2. খ) রাইফেলের নাম
  3. গ) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বন্দিশালা
  4. ঘ) ব্রিটিশ সরকার প্রদত্ত সম্মাননা
সঠিক উত্তর:
খ) রাইফেলের নাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাইফেলের নাম
ব্যাখ্যা
- এনফিল্ড হলো একটি রাইফেলের নাম। এটি ১৮৫৬ সালে ভারতীয় বাহিনীতে প্রবর্তন করা হয়।
- এই রাইফেলের টোটা দাঁত দিয়ে কেটে বন্দুকে প্রবেশ করাতে হতো। কিন্তু গুজব রটে যে এর গুলির কার্তুজ গরু ও শূকরের চর্বি দিয়ে তৈরি। ফলে ভারতীয় মুসলিম ও হিন্দু সৈনিকরা এ রাইফেলের প্রবর্তনকে তাদের ধর্মনাশের অংশ হিসেবে দেখে।
- এই ঘটনাকে সিপাহী বিদ্রোহের আশু কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৬৩৭.
ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের নাম কী?
  1. কার্জন শিক্ষা কমিশন
  2. মেকলে শিক্ষা কমিশন
  3. হান্টার শিক্ষা কমিশন
  4. স্যাডলার শিক্ষা কমিশন
সঠিক উত্তর:
হান্টার শিক্ষা কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হান্টার শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা

হান্টার কমিশন:
- ১৮৫৪ সালে উডের ডেসপ্যাচে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উন্নতির জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
- কিন্তু এই ডেসপ্যাচের ভাবধারা কে অবহেলা করে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উপর গুরুত্ব না দিয়ে শুধু উচ্চশিক্ষা ও সরকারি স্কুল কলেজগুলিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতি একেবারেই হয় না।
- তাই সরকার প্রথমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নতি সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করেন।

• হান্টার কমিশন গঠন:
- এই পরিস্থিতিতে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড রিপন ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দের ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০ জন সদস্য নিয়ে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন।
- এটি প্রথম "ভারতীয় শিক্ষা কমিশন” নামে পরিচিত।
- এর অফিশিয়াল সরকারিভাবে নামকরণ করা হয়েছিলো ইন্ডিয়ান এডুকেশন কমিশন, ১৮৮২।
- এই কমিশন স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টারের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল বলে একে "হান্টার কমিশন” বলা হয়।
- স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টার ছিলেন এই কমিশনের সভাপতি।
- অন্যান্য সদস্যরা হলেন আনন্দমোহন বসু, কে.টি. তেলাং, ভূদেব মুখোপাধ্যায়, স্যার সৈয়দ আহমদ খান প্রমুখ।
- প্রাথমিক শিক্ষা ও নিরক্ষরতা বিষয়ে এই কমিশনকে বিশেষভাবে বিচার করার কথা বলা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬৩৮.
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের সময়কাল ছিল -
  1. ১৭০০-১৭৫০ খ্রিস্টাব্দ 
  2. ১৭৬০-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ১৮১০-১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ১৮৫০-১৯০০ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
১৭৬০-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৬০-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা

ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ।
- ইংরেজ সরকার তীর্থস্থান দর্শনের উপর করারোপ করে, ভিক্ষা ও মুষ্টি সংগ্রহকে বেআইনি ঘোষণা করে।
- তাছাড়া তাদেরকে ডাকাত-দস্যু বলে আখ্যায়িত করতে থাকে।
- ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে ফকির সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনে অবতীর্ণ হয়।
- বিদ্রোহী ফকির দলের নেতার নাম ছিল মজনু শাহ।
- আর সন্ন্যাসীদের নেতার নাম ছিল ভবানী পাঠক।
- তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কুঠি, জমিদারদের কাছারি ও নায়েব-গোমস্তার বাড়ি।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
- এই সব অঞ্চলে ইংরেজদের সঙ্গে বিদ্রোহী ফকির-সন্ন্যাসীদের বহু সংঘর্ষ সংঘটিত হয়।
- এ সব সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা অনেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুঠ করে ।
- ফকির মজনু শাহ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- এই নেতারা কয়েক বছর ইংরেজ প্রশাসনকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

অপরদিকে -
- সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নেতা ভবানী-পাঠক ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে লেফটেন্যান্ট ব্রেনানের নেতৃত্বে একদল ব্রিটিশ সৈন্যের আক্রমণে দুই সহকারীসহ নিহত হন। 
- তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সন্ন্যাসী বিদ্রোহের অবসান ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩৯.
ভারতীয় উপমহাদেশের সাংবিধানিক বিকাশের ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ কোনটি?
  1. ভারত শাসন আইন-১৯৩৫
  2. রেগুলেটিং অ্যাক্ট-১৭৭৩
  3. মর্লি-মিন্টু সংস্কার আইন-১৯০৯
  4. ভারতীয় কাউন্সিল অ্যাক্ট-১৮৬১
সঠিক উত্তর:
রেগুলেটিং অ্যাক্ট-১৭৭৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেগুলেটিং অ্যাক্ট-১৭৭৩
ব্যাখ্যা
- ১৭৭৩ সালে প্রণীত রেগুলেটিং অ্যাক্ট ভারতীয় উপমহাদেশের সাংবিধানিক বিকাশের ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত।
- এই অ্যাক্ট অনুযায়ী বাংলা এবং অন্যান্য প্রেসিডেন্সির শাসনভার ও নিয়ন্ত্রণ একটি কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অধীনে ন্যস্ত হয়, যা ‘বাংলার গভর্নর জেনারেল ও ফোর্ট উইলিয়ম কাউন্সিল’ নামে পরিচিত ছিল।
- ভারতীয় উপমহাদেশে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৬৪০.
'বয়কট' আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল কোনটি?
  1. বিলেতি শিক্ষা বর্জন
  2. বিলেতি পণ্য বর্জন
  3. দেশী খাদ্য বর্জন
  4. দেশী বস্ত্র বর্জন
সঠিক উত্তর:
বিলেতি পণ্য বর্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিলেতি পণ্য বর্জন
ব্যাখ্যা
• স্বদেশী আন্দোলন:
- ব্রিটিশ সরকারের বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন ব্যর্থ হলে কংগ্রেসের উগ্রপন্থী অংশের নেতৃত্বে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, তাকেই স্বদেশী আন্দোলন বলা হয়।
- আন্দোলনের মূল কর্মসূচি ছিল দুইটি- বয়কট ও স্বদেশী।
- 'বয়কট' আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিলেতি পণ্য বর্জন।
- ক্রমে ক্রমে 'বয়কট' শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহার হতে থাকে।
- বয়কট শুধু বিলেতি পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।
- বিলেতি শিক্ষা বর্জনও কর্মসূচিতে যুক্ত হয়।
- ফলে স্বদেশী আন্দোলন শিক্ষাক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষা আন্দোলনে রূপ নেয়।

এছাড়াও,
- বিলেতি শিক্ষা বর্জনের মতো পণ্য বর্জনের জন্যও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
- স্থানে স্থানে সমিতির মাধ্যমে বিলেতি পণ্য বর্জন এবং দেশীয় পণ্য ব্যবহারে শপথ নেওয়া হয়।
- কংগ্রেস নেতারা গ্রামে-গঞ্জে-শহরে প্রকাশ্য সভায় বিলেতি পণ্য পুড়িয়ে ফেলা।
- এবং দেশীয় পণ্য ব্যবহারের জন্য জনগণকে উৎসাহিত করতে থাকেন।
- একই সঙ্গে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে এ সময় দেশি তাঁতবস্ত্র, সাবান, লবণ, চিনি ও চামড়ার দ্রব্য তৈরির কারখানা গড়ে ওঠে।

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম- দশম শ্রেণি।
৬৪১.
চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের প্রধান সংগঠক কে ছিলেন?
  1. মাস্টারদা সূর্য সেন
  2. মঙ্গলপাণ্ডে
  3. মীর কাশিম
  4. ক্ষুদিরাম বসু
সঠিক উত্তর:
মাস্টারদা সূর্য সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাস্টারদা সূর্য সেন
ব্যাখ্যা
মাস্টারদা সূর্য সেন:
- চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার লুণ্ঠিত হয় ১৯৩০ সালে।
- ১৯৩০ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের প্রধান সংগঠক মাস্টারদা সূর্যসেন।
- মাস্টারদা সূর্যসেনের জন্ম ১৮৯৪ সালে চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামে।
- পুরো নাম সূর্যকুমার সেন। ডাক নাম কালু।
- শিক্ষকতা করার কারণে তিনি পরিচিত মহলে 'মাস্টারদা' আখ্যা পান।
- ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিলের সশস্ত্র বিদ্রোহ ছিল সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীদের দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার ফসল।
- ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কারাগারে তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬৪২.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. লর্ড ওয়েলেসলি
  2. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  3. ওয়ারেন হেস্টিংস
  4. লর্ড বেন্টিঙ্ক
সঠিক উত্তর:
লর্ড ওয়েলেসলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ওয়েলেসলি
ব্যাখ্যা
লর্ড ওয়েলেসলি:
- ১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড ওয়েলেসলি কোম্পানির গভর্নর হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করেন।
- তিনি রাজ্য শাসনের পরিবর্তে রাজ্য বিস্তারের দিকেই বেশি আগ্রহী ছিলেন।
- রাজ্যের শাসন ব্যবস্থায় তাঁর অবদান নিতান্তই সামান্য। সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব থাকা সত্ত্বেও তিনি বেশকিছু সংস্কার করে গেছেন।
- তিনি ইংরেজ অধিকৃত স্থানে জমি জরিপ করার জন্য ড. ফ্রান্সিস বুকাননকে নিযুক্ত করেন।
- ওয়েলেসলি বিচার ব্যবস্থার বেশকিছু সংস্কার করেন।
- লর্ড ওয়েলেসলি ভারতবর্ষে নবাগত ইংরেজ কর্মচারিদের শিক্ষার জন্য কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে একটি কলেজ স্থাপন করেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬৪৩.
সিপাহী বিদ্রোহের ব্যর্থতার প্রধান কারণ কী ছিল?
  1. অস্ত্রের সহজলভ্যতা 
  2. জনসমর্থন না থাকা
  3. নেতৃত্বের অভাব
  4. পরিকল্পনার অভাব ও বিচ্ছিন্নতা
সঠিক উত্তর:
পরিকল্পনার অভাব ও বিচ্ছিন্নতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিকল্পনার অভাব ও বিচ্ছিন্নতা
ব্যাখ্যা

সিপাহী বিদ্রোহ:
- ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে ‘মঙ্গল পান্ডে' নামক একজন সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।
- এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।

• এ সংগ্রামের কারণকে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ এ দু শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।
- পরোক্ষ কারণ: রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও সামরিক অসন্তোষ।
- প্রত্যক্ষ কারণ: ১৮৫৬ সালে সেনাবাহিনীতে ‘এনফিল্ড রাইফেল' প্রচলন করা হয়। এতে ব্যবহৃত কার্তুজ দাঁতে কেটে ভরতে হতো। গুজব রটে যে, এ কার্তুজে শুকর ও গরুর চর্বি মেশানো আছে। এটি ধর্মনাশের একটি পরিকল্পিত ও সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র বলে ভারতের হিন্দু-মুসলমান সিপাহীদের মধ্যে দারুন বিক্ষোভের সূচনা করে। 

• ফলাফল: ব্রিটিশরা কঠোর হাতে বিদ্রোহ দমন করে, কিন্তু এর ফলে ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে এবং সরাসরি ব্রিটিশ Crown-এর শাসন (British Raj) প্রতিষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- সিপাহী বিদ্রোহের ব্যর্থতার প্রধান কারণ ছিল সুনির্দিষ্ট ও ঐক্যবদ্ধ পরিকল্পনার অভাব, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দুর্বলতা এবং আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের অভাব। সমগ্র ভারতজুড়ে এই বিদ্রোহ ছড়িয়ে না পড়া, অনেক দেশীয় রাজা ও শিক্ষিত মধ্যবিত্তের ব্রিটিশদের সমর্থন এবং স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকা এই ব্যর্থতাকে নিশ্চিত করেছিল। 

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪৪.
সতীদাহ প্রথা রহিত করেন কে? 
  1. লর্ড লিনলিথগো
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
  4. লর্ড ডালহৌসি
সঠিক উত্তর:
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
ব্যাখ্যা

সতীদাহ প্রথা:
- সতীদাহ প্রথা হলো হিন্দু সমাজের একটি প্রথা যেখানে স্বামীর শবের সাথে বিধবা স্ত্রীকেও দাহ করা হতো।
- ভারতীয় হিন্দু সমাজে যুগ যুগ ধরে এই প্রথা প্রচলিত ছিলো।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ১৮২৯ সালে আইনের মাধ্যমে সতীদাহ প্রথা রহিত করেন।
- তবে এ প্রথা পুরোপুরি বন্ধ হয় উনিশ শতকের শেষ দিকে।
- রাজা রামমোহন রায়সহ আরো কিছু ভারতীয় সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬৪৫.
‘সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন’ কে গঠন করেন?
  1. ক) সৈয়দ আমির আলি
  2. খ) নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. গ) হাজী মুহম্মদ মহসীন
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ আমির আলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ আমির আলি
ব্যাখ্যা
•  সৈয়দ আমির আলিই বাংলার তথা ভারতের প্রথম মুসলমান নেতা, যিনি বিশ্বাস করতেন মুসলমানদের স্বার্থরক্ষা এবং দাবি-দাওয়ার প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন থাকা প্রয়োজন। এ উদ্দেশে তিনি ১৮৭৭ সালে কোলকাতায় ‘সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন’ নামে একটি সমিতি গঠন করেন।

• তিনি বিশ্বাস করতেন, আধুনিক ভারতের উন্নতির জন্য হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের একযোগে কাজ করা প্রয়োজন। তিনি ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠাকে স্বাগত জানান এবং ১৯১২ সালে তিনি মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৪৬.
ভারতীয় উপমহাদেশে পর্তুগীজরা প্রথম কোন বন্দরে পৌঁছেছিল?
  1. গোয়া
  2. কর্ণাটক
  3. মান্দাভি
  4. কালিকট
সঠিক উত্তর:
কালিকট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালিকট
ব্যাখ্যা

⇒ ভারতীয় উপমহাদেশে পর্তুগীজরা প্রথম "কালিকট" বন্দরে পৌঁছেছিল।

বাংলায় ইউরোপীয়দের আগমন:

- পর্তুগীজরা প্রথম ইউরোপীয় বাণিজ্যিক দল হিসেবে উপমহাদেশে আসে।
- তারা ভারতের কালিকট বন্দরে প্রথম পোঁছায়।
- ১৪৯৮ সালে পর্তুগীজ নাবিক ভাস্কো-ডা-গামা সমুদ্রপথে ভারতের পশ্চিম উপকূলে কালিকট বন্দরে পৌঁছান।
- ১৫০৯ সালে আলবুকার্ক গোয়াতে আসেন।
- আলবুকার্ক ছিলেন উপমহাদেশে পর্তুগিজ শক্তির প্রতিষ্ঠাতা।
- কলম্বাস এবং ম্যাজিলানও বিখ্যাত পর্তুগীজ নাবিক ছিলেন।
- পর্তুগীজরা দ্রুত কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ সহ বিভিন্ন অঞ্চলে কুঠি স্থাপন করে এবং ১৫৩৮ সালে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে শুল্কঘাটি স্থাপনের অনুমতি পায়।
- তারা ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি জমিদার ও বার ভূঁইয়াদের সেনাবাহিনীতে কাজ করত।
- পর্তুগীজরা অনেক সময় অত্যাচার ও লুণ্ঠন করত।
- সম্রাট বা নবাবের আইন অমান্য করে বিনা শুল্কে ব্যবসা চালাত, যা মোগল সম্রাটদের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
- তাদের অপরাধের কারণে সম্রাট শাহজাহান পর্তুগীজদের দেশ থেকে বিতাড়িত করেন।
- শাহজাহানের নির্দেশে কাসিম খান হুগলী কুঠি থেকে পর্তুগীজদের বিতাড়িত করেন।
- সর্বশেষ, বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপে পর্তুগীজদের ঘাঁটি দখল করে তাদের চিরতরে দেশ থেকে বের করে দেন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪৭.
বক্সারের যুদ্ধ কোথায় সংঘটিত হয়?
  1. ঝাড়খন্ডে
  2. রাজস্থানে
  3. উড়িষ্যায়
  4. বিহারে
সঠিক উত্তর:
বিহারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারে
ব্যাখ্যা
বক্সারের যুদ্ধ:
- বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয় বিহারে।
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে সংঘটিত এ যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করে।
- বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম পুনরায় ইংরেজ শিবিরে আশ্রয় নেন। সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান এবং অযোধ্যা ইংরেজ বাহিনীর পদানত হয়। মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন এবং এরপর তাঁর সম্পর্কে আর কিছু জানা যায় নি।
- বক্সার ছিল একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ।
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬৪৮.
শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহের কবর কোথায়?
  1. ক) দিল্লি
  2. খ) আগ্রা
  3. গ) ইয়াঙ্গুন
  4. ঘ) লাহোর
সঠিক উত্তর:
গ) ইয়াঙ্গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইয়াঙ্গুন
ব্যাখ্যা
• দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ:
- ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট জহিরউদ্দিন বাবর কর্তৃক ভারতবর্ষে মোগল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে তার উত্তরসূরীরা এটিকে সর্বভারতীয় সাম্রাজ্যে রুপান্তরিত করে।
- বাবর থেকে আওরঙ্গজেব অর্থাৎ ১৫২৬ থেকে ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোগল শাসন ছিল স্বর্ণযুগের শাসন।

- ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দে আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মোগল শাসনের পতনে প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- ১৮৫৭ সালে শেষ মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজ কর্তৃক নির্বাসিত হলে মোগল শাসনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হয়।
- তাই ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে (প্রায় দেড়শ বছর) মোগল বংশের পতনের যুগ বলা হয়। 

- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে/ইয়াঙ্গুনে (বার্মা) নির্বাসিত করেন।
- বাহাদুর শাহের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মোগল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৯.
'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' প্রদেশের রূপকার ছিলেন -
  1. ক) লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  2. খ) লর্ড কার্জন
  3. গ) লর্ড হার্ডিঞ্জ
  4. ঘ) লর্ড ওয়েলেসলি
সঠিক উত্তর:
খ) লর্ড কার্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লর্ড কার্জন
ব্যাখ্যা
১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর লর্ড কার্জনের সময়ে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করা হয় যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এ বিভক্তির মাধ্যমে সমগ্র বাংলাকে 'পূর্ববাংলা ও আসাম' এবং 'পশ্চিমবঙ্গ' নামে দুটি প্রদেশে পরিণত করা হয়।
- ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড কার্জন ছিলেন পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের রূপকার। 
- তাঁর সম্মানে তখনকার আইন সভা ভবনের নাম দেয়া হয় কার্জন হল। 
- পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের প্রথম ল্যাফটেন্যান্ট গভর্নর স্যার জোসেফ  ব্যামফিল্ড ফুলার। 
- ১৯০৫-১৯১১ সময়কালে ঢাকা ছিল পূর্ববাংলা ও আসাম প্রদেশের রাজধানী।  
- কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুদের তীব্র বিরোধিতা এবং সহিংস আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
- লর্ড হার্ডিঞ্জের সময় ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের সময় ভাইসরয় ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৫০.
হলওয়েল মনুমেন্ট কোন ঘটনার সাথে জড়িত?
  1. ক) চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন
  2. খ) অন্ধকূপ হত্যাকাণ্ড
  3. গ) কলকাতা রাইটার্স বিল্ডিং আক্রমণ
  4. ঘ) জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যকাণ্ড
সঠিক উত্তর:
খ) অন্ধকূপ হত্যাকাণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অন্ধকূপ হত্যাকাণ্ড
ব্যাখ্যা
- হলওয়েল মনুমেন্ট হলো ইংরেজদের কথিত অন্ধকূপ হত্যাকাণ্ড স্মরণে নির্মিত একটি স্মৃতিস্তম্ভ।
- ১৭৫৬ সালের জুন মাসে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ফোর্ট উইলিয়াম দূর্গ আক্রমণ সময় নবাবের বাহিনীর হাতে আটক ইংরেজদের ১২৩ জনকে অন্ধকার বন্দিশালায় রেখে হত্যার বানোয়াট কাহিনী অন্ধকূপ হত্যাকাণ্ড নামে পরিচিত। বন্দিশালা থেকে বেঁচে যাওয়া জন জেফেনিয়াহ হলওয়েল এই কাহিনী করেন।
- ইংরেজরা পরবর্তীতে অন্ধকূপ হত্যাকাণ্ড স্মরণে কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিং এর পাশে হলওয়েল মনুমেন্ট নির্মাণ করে।
- প্রথমবার এটি নির্মাণের পর ভেঙে ফেলা হলেও ১৯০২ সালে লর্ড কার্জন পুনরায় এটি নির্মাণ করেন। ১৯৪০ সালে শেরে বাংলা সরকার পুনরায় এটি অপসারণ করে।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং দৈনিক সংগ্রাম)
৬৫১.
নানকার বিদ্রোহ কোথায় সংঘটিত হয়েছিল?
  1. সিলেট
  2. রাজশাহী
  3. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  4. বগুড়া
সঠিক উত্তর:
সিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট
ব্যাখ্যা
নানকার বিদ্রোহ:
- নানকার বিদ্রোহ সিলেটে সংঘটিত হয়েছিল।

⇒ 'নানকার বিদ্রোহ' সিলেট অঞ্চলের একটি কৃষক-আন্দোলন, যা ১৮ আগস্ট ১৯৪৯ সালে সংঘটিত হয়।
- জমিদারের ভূমিদাসদের একটি প্রথাকে 'নানকার প্রথা' বলা হতো।
- বিংশ শতাব্দীর বিশের দশকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ১৯৫০ সালে জমিদারপ্রথা বিলুপ্ত করার মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।

⇒ বাঙালি জাতির সংগ্রামের ইতিহাসে বিশেষ করে অধিকারহীন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যেসব গৌরবমণ্ডিত আন্দোলন-বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল তার মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো 'নানকার বিদ্রোহ'। 
- ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের আমলে সামন্তবাদী ব্যবস্থার সবচেয়ে নিকৃষ্টতম শোষণ পদ্ধতি ছিল নানকার প্রথা।
- নানকার প্রজারা জমিদারের দেওয়া বাড়ি ও সামান্য কৃষি জমি ভোগ করত; কিন্তু ওই জমি ও বাড়ির ওপর তাদের কোনো মালিকানা ছিল না।
- নানকার প্রজারা বিনা মজুরিতে জমিদারের বাড়িতে কাজ করত।
- চুন থেকে পান খসলেই তাদের ওপর চলত অকথ্য নির্যাতন।
- মূলত সিলেটের বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমার রেঙ্গা পরগনাসমেত এই অঞ্চলে এই সামন্তপ্রথাটি প্রচলিত ছিল। সামন্ত ভূমালিকদের সিলেট অঞ্চলে মিরাশদার এবং বড় মিরাশদারকে জমিদার বলা হতো। 
- ১৯২২ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত কমিউনিস্ট পার্টি ও কৃষক সমিতির সহযোগিতায় বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, বড়লেখা, কুলাউড়া, বালাগঞ্জ, ধর্মপাশা থানায় দানা বাঁধতে থাকল নানকার আন্দোলন।
- কমরেড অজয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে চলতে থাকে নানকার কৃষকসহ সব নির্যাতিত জনগণকে সংগঠিত করার কাজ। 
- সে সময় অজয় ভট্টাচার্য্যের সঙ্গে কাজ করেছেন শিশির ভট্টাচার্য্য, ললিত পাল, জোয়াদ উল্ল্যা, আব্দুস সোবহান ও শৈলেন্দ্র ভট্টাচার্যসহ আরো কয়েক জন। তাদের নেতৃত্বে নানকার কৃষক ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে জমিদারের বিরুদ্ধে। বন্ধ হয়ে যায় খাজনা দেওয়া, এমনকি জমিদারদের হাট-বাজারের কেনাকাটা পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিভিন্ন জায়গায় জমিদার ও তার লোকজনকে ধাওয়া করে তাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

উৎস: i) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৬৫২.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কত সালে প্রবর্তিত হয়?
  1. ১৭৯১ সালে
  2. ১৭৯০ সালে
  3. ১৭৯৫ সালে
  4. ১৭৯৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৯৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৯৩ সালে
ব্যাখ্যা

 চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত  ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস প্রশাসন কর্তৃক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সরকার ও বাংলার ভূমি মালিকদের (সকল শ্রেণির জমিদার ও স্বতন্ত্র তালুকদারদের) মধ্যে সম্পাদিত একটি স্থায়ী চুক্তি। 

- ঐদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর চিরস্থায়ী মালিকানা প্রদান করে যে বন্দোবস্ত করা হয় তা-ই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে পরিচিত।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে কৃষক জমির উপর তাদের অধিকার হারায়।
- বিপরীতে জমির উপর জমিদারদের স্থায়ী মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত্ব আইনের ফলশ্রুতিতে জমিদারি প্রথা ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার উচ্ছেদ ঘটে।

উৎস:
i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৬৫৩.
'India Wins Freedom' কার আত্মজীবনীমূলক বই?
  1. ক) পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু
  2. খ) মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
  3. গ) সুভাষচন্দ্র বসু
  4. ঘ) এ কে ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
খ) মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
ব্যাখ্যা
India Wins Freedom বইটি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস নেতা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ। এটি ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয়। আবুল কালাম আজাদ কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি এবং ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। (সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৬৫৪.
কোনটি ভারতের ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা করে?
  1. পলাশীর যুদ্ধ
  2. পানিপথের যুদ্ধ
  3. বক্সারের যুদ্ধ
  4. ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
পলাশীর যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পলাশীর যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
পলাশীর যুদ্ধ:
- পলাশীর যুদ্ধ ভারতের ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা করে।
- ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আমবাগানের যুদ্ধে স্বাধীন বাংলার নবাব ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে পরাজিত হয়।
- ফলে প্রায় ২০০ বছরের জন্য বাংলা স্বাধীনতা হারায়।
- প্রতি বছর সে জন্য ২৩ জুন পলাশী দিবস হিসাবে পালিত হয়।
- বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ও ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পলাশী নামক স্থানে যে যুদ্ধ সংঘটতি হয়েছিল তাই পলাশীর যুদ্ধ নামে পরচিতি।
- ক্লাইভ ১৭৫৭ সালে সিরাজ-উদ-দৌলাকে পরাজিত করেন এবং কলকাতা দখল করেন।
- এই যুদ্ধে সিরাজ-উদ-দৌলা পরাজতি হন এবং ভারতবর্ষে ইংরজে শাসন প্রতষ্ঠিার পথ সূচিত হয়।
- নবাবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে জগৎশেঠ, মীরজাফর, রায়দুর্লভ ও উমিচাদ।
- নবাবের পক্ষে যুদ্ধ করেন মীরমদন, মোহন লাল ও ফরাসি সেনাপতি সিন ফ্রে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬৫৫.
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট কোন আইন পাস হয়?
  1. ভারত ভাগ আইন
  2. ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অ্যাক্ট
  3. ভারত শাসন আইন
  4. রেগুলেটরি অ্যাক্ট
সঠিক উত্তর:
ভারত শাসন আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারত শাসন আইন
ব্যাখ্যা

ভারত শাসন আইন:
- সিপাহী বিদ্রোহ সংঘটিত হওয়ার পর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট ভারত শাসন আইন নামক একটি আইন পাস করা হয়।
- এটি ছিল ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লবের প্রত্যক্ষ ফল।
- ১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট পার্লামেন্ট ইন্ডিয়া অ্যাক্ট আইনের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে রাজ শাসন প্রতিষ্ঠা করে।
- ভারতের রাষ্ট্র ক্ষমতা ব্রিটিশ রাজ্যের উপর ন্যস্ত করা হয়।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া। 

৬৫৬.
‘পাকিস্তান’ নামের উদ্ভাবন করেন কে?
  1. ক) আল্লামা ইকবাল
  2. খ) লিয়াকত আলী খান
  3. গ) খাজা নাজিমউদ্দিন
  4. ঘ) চৌধুরী রহমত আলী
সঠিক উত্তর:
ঘ) চৌধুরী রহমত আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চৌধুরী রহমত আলী
ব্যাখ্যা
চৈৗধুরী রহমত আলী ১৯৩৩ সালে ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ৫টি ‍মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকার জন্যে পাকিস্তান নামটি উদ্ভাবন করেন।
পরবর্তীতে ভারতের মুসলমানদের জন্যে পৃথক রাষ্ট্রের নাম হিসেবে পাকিস্তান গৃহিত হয়। মুহম্মদ আলী জিন্নাহর দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৬৫৭.
কোন নদীর তীরে পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়?
  1. যমুনা
  2. কাবেরী
  3. সিন্ধু
  4. ভাগীরথী
সঠিক উত্তর:
ভাগীরথী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাগীরথী
ব্যাখ্যা
পলাশীর যুদ্ধ:
- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে।
- জেতার সবধরণের সুযোগ সুবিধা এবং এদের প্রাণপাত লড়াইয়ের পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- পলাশী যুদ্ধের ফলে ইংরেজ বা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৮.
কালিকট বন্দরে এসে কারা প্রথম পৌছায়?
  1. ইংরেজরা
  2. ওলন্দাজরা
  3. পর্তুগিজরা
  4. ফরাসিরা
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজরা
ব্যাখ্যা
-পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা ১৪৯৮ সালে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে সমুদ্রপথে ভারতের কালিকট বন্দরে এসে পৌঁছান। ভাস্কো-দা-গামা আসার পর পর্তুগিজরা উপমহাদেশে আগমন শুরু করে এবং ব্যবসা বাণিজ্য ও যোগাযোগে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
- কোচিনে তারা প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে ১৫০২ সালে।
 -ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে বাংলায় প্রথম এসেছিলেন- পর্তুগিজরা।
- বাংলায় কুঠি স্থাপন করে ১৫১৭ সালে
-পর্তুগিজরা বাংলায় ফিরিঙ্গি নামে পরিচিত।

ইংরেজ :
ইংল্যান্ড রানি এলিজাবেথের অনুমতি নিয়ে সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ১৬০০ সালে ভারত বর্ষে আসে ইংরেজরা ।
 তারা সুরাটে প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন ১৬১২ সালে।
 সম্রাট শাজাহানের সময় বাংলায় প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন।
 তারা কলকাতায় রাজা উইলিয়ামের নাম অনুসারে, ফোর্ট উলিয়াম দুর্গা নির্মাণ করে ১৭০০ সালে

উৎস : এইচএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৯.
ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে সর্বপ্রথম ভারতবর্ষে আসেন কারা?
  1. ইংরেজ
  2. ফরাসি
  3. ওলন্দাজ
  4. পর্তুগিজ
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
 পর্তুগিজ:
- পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা ১৪৯৮ সালে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে সমুদ্রপথে ভারতের কালিকট বন্দরে এসে পৌঁছান।
- উপমহাদেশে তাঁর এ আগমন ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
- পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দ্য-গামার উপমহাদেশে আসার পরপরই পর্তুগিজরা এ দেশে আসতে শুরু করে।
 - ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে বাংলায় প্রথম এসেছিলেন- পর্তুগিজরা।
- আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- উপমহাদেশে আসার অল্পদিনের মধ্যেই তাঁরা এদেশের পশ্চিম উপকূলের কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি বন্দরে, সিংহলের নানাস্থানে এবং বাংলার হুগলী বন্দরে তাঁদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন। 
- পর্তুগিজরা বাংলাদেশের চট্টগ্রামেও বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে এবং কুঠিগুলোকে দুর্গে পরিণত করে।
- পর্তুগিজরা চীন, ব্রুনাই, মালাক্কা, হরমুজ, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা প্রভৃতি দেশ থেকে মূল্যবান কাপড়, বাদাম, মসলা, রং, কড়ি, কপূর এনে উপমহাদেশে বিক্রি করতো।
- আর বাংলাদেশ থেকে সূতি ও রেশমী কাপড়, পাট, তামাক, চামড়া, চাল, ডাল, ঘি, তেল, মধু মোম অন্যান্য দেশে নিয়ে যেত।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬০.
'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. হেনরি লুই ডিরোজিও
  3. রাধানাথ সিকদার
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুই ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুই ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা হেনরি লুই ডিরোজিও।

• ডিরোজিও ও ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট :
- হেনরি লুই ডিরোজিও ১৮০৯ সালের ১৮ই এপ্রিল কোলকাতা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ছিলেন পর্তুগিজ এবং মা ছিলেন বাঙালি।
- ডিরোজিও ইংরেজি শিক্ষার স্কুল ডেভিড ড্রামন্ডের ধর্মতলা একাডেমিতে পড়ালেখা শুরু করেন।
- এই শিক্ষকের আদর্শ ডিরোজিওকে তাঁর শিশুকাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রভাবিত করে রেখেছিল।
- বাঙালি যুব সমাজের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টিকারী 'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা।
- বয়সে তরুণ হলেও তিনি ইতিহাস, ইংরেজি, সাহিত্য, দর্শন শাস্ত্রে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।
-  ডিরোজিওর অনুসারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন রামতনু লাহিড়ী, রাধানাথ সিকদার, প্যারিচাঁদ মিত্র, কৃষ্ণমোহন ব্যানার্জি প্রমুখ।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর ছাত্র না হলেও তাঁর আদর্শ দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। ডিরোজিওর অনুসারীদের আন্দোলন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকেও প্রভাবিত করেছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।
৬৬১.
কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কার্পাস বিদ্রোহ সংঘটিত করেছিলো?
  1. ক) সাঁওতাল
  2. খ) মুন্ডা
  3. গ) চাকমা
  4. ঘ) হাজং
সঠিক উত্তর:
গ) চাকমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চাকমা
ব্যাখ্যা
১৭৭৬ সাল থেকে ১৭৮৭ সাল পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত চাকমাদের বিদ্রোহ কার্পাস বিদ্রোহ নামে পরিচিত।

পার্বত্য চট্টগ্রামে তুলার চাষ হতো এবং কর হিসেবে তারা মুঘল শাসকদের তুলা প্রদান করতো। কিন্তু ইংরেজ শাসনামলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পার্বত্য চট্টগ্রামের কার্পাস মহল বেনিয়াদের নিকট ইজারা প্রদান করে। এসব মধ্যস্বত্বভোগীরা কর হিসেবে অধিক পরিমাণ তুলা প্রদানে চাকমাদের বাধ্য করতো।

এতে করে চাকমারা রানু খাঁ, শের দৌলত ও জানবক্সের নেতৃত্বের ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। মোট চারবার চাকমা বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।
১৭৮৭ সালে চাকমা রাজা ও ইংরেজদের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি ফলে কার্পাস বিদ্রোহের অবসান হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস : সিরাজুল ইসলাম এবং দৈনিক প্রথম আলো)
৬৬২.
ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপিত হয় -
  1. ক) ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৩
  2. খ) ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪০
  3. গ) ২৩ মার্চ, ১৯৪৩
  4. ঘ) ২৩ মার্চ, ১৯৪০
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৩ মার্চ, ১৯৪০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৩ মার্চ, ১৯৪০
ব্যাখ্যা
১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ পাকিস্তানে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সাধারণ সভায় শেরে বাংলা একে ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

তার প্রস্তাবে বলা হয়,
ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব এলাকাসমূহের মতো যে সকল অঞ্চলে মুসলমানগণ সংখ্যাগরিষ্ঠ, সে সব অঞ্চলে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ’ (স্টেটস) গঠন করতে হবে যার মধ্যে গঠনকারী এককগুলি হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম।

২৪শে মার্চ লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয়। এই প্রস্তাবে ভারতে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়। ১৯৪৬ সালের এপ্রিলে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনে লাহোর প্রস্তাব সংশোধন করে একাধিক রাষ্ট্রের (স্টেটস) পরিবর্তে কেবল একটি রাষ্ট্র (স্টেট) প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৬৬৩.
সিপাহী বিদ্রোহের সূচনাকারী কে ছিলেন?
  1. মঙ্গল পাণ্ডে
  2. কুনওয়ার সিং
  3. চাঙ্কি পান্ডে
  4. লক্ষ্মীবাঈ
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল পাণ্ডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল পাণ্ডে
ব্যাখ্যা
মঙ্গল পান্ডে:
- মঙ্গল পান্ডে ছিলেন একজন সিপাহি, যার নেতৃত্বে সিপাহি বিদ্রোহ শুরু হয়।
- ১৮৫৭ সালে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সিপাহিদের একটি অংশ বিদ্রোহ করে।
- মঙ্গল পাণ্ডের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণার ব্যারাকপুরে এই বিদ্রোহ শুরু হয়।
- ‘সিপাহি বিদ্রোহ’ নামে খ্যাত এই বিদ্রোহের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইংরেজ শাসনকে হটিয়ে দিয়ে পুরো ভারতকে দখলদার মুক্ত করা।

⇒ সিপাহী বিদ্রোহ:
- এটি ছিল ব্রিটিশ শাসন অবসানকল্পে ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা ‘স্বাধীনতা লড়াই'।
- ১৮৫৭ সালে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।
- এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৪.
ভারত ছাড় আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন কে?
  1. জওহরলাল নেহরু
  2. সুভাষচন্দ্র বসু
  3. মহাত্মা গান্ধী
  4. বল্লভভাই প্যাটেল
সঠিক উত্তর:
মহাত্মা গান্ধী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাত্মা গান্ধী
ব্যাখ্যা

- গান্ধীর নেতৃত্বেই কংগ্রেস অহিংস আন্দোলনের ডাক দেয়।

ভারত ছাড় আন্দোলন:
- ভারত ছাড় আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয় মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে।
- ১৯৪২ ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে শ্বেতাঙ্গ-বিরোধী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ প্রথম স্বতঃস্ফূর্ত ব্যাপক আন্দোলন ভারত ছাড় আন্দোলন।
- ইংরেজ সরকার কোনোভাবেই ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে রাজি ছিল না।
- সরকার এই আন্দোলন দমনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিল।
- ঐ দিনই মধ্য রাতে কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ গান্ধীজি, আবুল কালাম আজাদ, জওহরলাল নেহরুসহ অনেকে গ্রেফতার হন।
- কংগ্রেসকে বেআইনি ঘোষণা করা হয় এবং এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় সব নেতা কারাগারে বন্দি হন।
- নেতৃবৃন্দের গ্রেফতারের কারণে অহিংস আন্দোলন ভয়াবহ সহিংস আন্দোলনে পরিণত হয়।
- ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির (বোম্বাইর) অধিবেশনে বিখ্যাত ভারত ছাড় আন্দোলনের প্রস্তাব পাস হয় এবং পরপরই যতদূর সম্ভব ব্যাপকভাবে অহিংস পথে গান্ধীর নেতৃত্বে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৬৬৫.
দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটান কে?
  1. ওয়াটসন
  2. ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. কার্টিয়ার
  4. কর্নওয়ালিস
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা
- ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটান।

• দ্বৈত শাসন:
- দিল্লি কর্তৃক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে দেওয়ানি বা খাজনা ও কর আদায়ের ক্ষমতা প্রদানে সৃষ্টি হয় দ্বৈত শাসনের।
- এতে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা, নবাব পরিণত হন ক্ষমতাহীন শাসকে।
- অথচ নবাবের দায়িত্ব থেকে যায় ষোলোআনা।
- ফলে বাংলায় এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়, যার চরম মাসুল দিতে হয় এদেশের সাধারণ জনগোষ্ঠীকে।
- ১৭৭০ সালে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) গ্রীষ্মকালে দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
- যা ইতিহাসে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- দ্বৈতশাসন ব্যবস্থায় নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় তিনি সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হন।
- সারা দেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
- এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটান।

উল্লেখ,
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর ইংরেজি -১৭৭০ সাল।

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি
৬৬৬.
কার প্রচেষ্টায় সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত হয়?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. দ্বারকানাথ ঠাকুর
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. সৈয়দ আমীর আলী
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায়: 
- বাংলার নবজাগরণের স্রষ্টা ছিলেন রাজা রামমোহন রায়।
- ১৭৭৪ সালে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- অসাধারণ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন রাজা রামমোহন রায়।
- ১৮২৯ সালে রামমোহন রায়ের প্রচেষ্টায়, সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত হয়। 
- বিশেষ করে ইংরেজি, বাংলা, আরবি, ফারসি, উর্দু, ল্যাটিন ও গ্রিক ভাষায় তিনি অসামান্য দক্ষতা অর্জন করেন।
- তিনি বেদান্তসূত্র ও বেদান্তসারসহ উপনিষদের অনুবাদ প্রকাশ-করেন।
- তাছাড়া তিনি সম্বাদ কৌমুদী, মিরাতুল আখবার ও ব্রাহ্মণিকাল ম্যাগাজিন নামে তিনটি পত্রিকার প্রকাশকও ছিলেন।

উল্লেখ্যে,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রচেষ্টায় বিধবা বিবাহ প্রথা  চালু হয়।
- দ্বারকানাথ ঠাকুর ছিলেন রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাদা।
- সৈয়দ আমীর আলীর সবচেয়ে বিখ্যাত বই হল "দ্য স্পিরিট অফ ইসলাম"।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি।
৬৬৭.
ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় কে ছিলেন?
  1. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  2. জেনারেল ব্যামফিল্ড ফুলার
  3. লর্ড ক্লাইভ
  4. স্যার চার্লস স্টুয়ার্ট বেইলি
সঠিক উত্তর:
লর্ড মাউন্টব্যাটেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড মাউন্টব্যাটেন
ব্যাখ্যা

- লর্ড মাউন্টব্যাটেন তিনি ভারতের শেষ ভাইসরয়।

• ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় / গভর্নর:
- ব্রিটিশ ভারতের প্রথম গভর্নর: লর্ড ক্লাইভ।
- শেষ গভর্নর: লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস।
- প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিল- লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস।
-শেষ গভর্নর জেনারেল: লর্ড ক্যানিং।
- ব্রিটিশ ভারতের প্রথম ভাইসরয়: লর্ড ক্যানিং।
- শেষ ভাইসরয়: লর্ড মাউন্টব্যাটেন।
- লর্ড লিটন, বাংলার গভর্নর (১৯২২-১৯২৭) এবং স্বল্প সময়ের জন্য ভারতের অস্থায়ী ভাইসরয়।
- স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের ক্রমবিকাশের ক্ষেত্রে লর্ড রিপন উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন।

এছাড়াও,
- পূর্ব বাংলার ও আসামের প্রথম লেফটেন্যান্ট জেনারেল স্যার জেনারেল ব্যামফিল্ড ফুলার।
- পূর্ব বাংলার ও আসামের শেষ লেফটেন্যান্ট জেনারেল- স্যার চার্লস স্টুয়ার্ট বেইলি।

উৎস: ইতিহাস, (প্রথম পত্র) একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৬৮.
ব্রিটিশ ভারতের শাসকদের মধ্যে সর্বাধিক সাম্রাজ্যবাদী বিবেচনা করা হয় কাকে?
  1. ক) ওয়ারেন হেস্টিংস
  2. খ) লর্ড ক্যানিং
  3. গ) লর্ড ডালহৌসি
  4. ঘ) লর্ড হার্ডিঞ্জ
সঠিক উত্তর:
গ) লর্ড ডালহৌসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা

- ব্রিটিশ ভারতের শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাম্রাজ্যবাদী বিবেচনা করা হয় লর্ড ডালহৌসিকে।
- তার শাসনের মূলনীতিই ছিলো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রসার ও সুদৃঢ়করণ। তিনি ১৮৪৮ সাল থেকে ১৮৫৬ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
- তিনি স্বত্ববিলোপ নীতি প্রবর্তন করেন এবং এর মাধ্যমে ঝাঁসি, সাঁতারা, ছোট নাগপুর, উদয়পুর, সম্বলপুর, অযোধ্যা প্রভৃতি রাজ্য জোরপূর্বক ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করেন।
- তবে তার সময়ে রেললাইন ও টেলিগ্রাফ চালু হয় এবং বিধবা বিবাহ আইন প্রণয়নের মতো অনেক উন্নয়ন ও সংস্কারও সাধিত হয়।
- ডালহৌসি ব্যতীত লর্ড ওয়েলেসলি এবং রবার্ট ক্লাইভকেও ঘোর সাম্রাজ্যবাদী বিবেচনা করা হয়।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)

৬৬৯.
Who was the Governor General of India at the time of the Sepoy Mutiny?
  1. Lord Canning
  2. Lord Ripon
  3. Lord Dalhousie
  4. Lord Hardings
  5. Lord Lytton
সঠিক উত্তর:
Lord Canning
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Lord Canning
ব্যাখ্যা
সিপাহী বিদ্রোহ:
- সিপাহী বিদ্রোহের সময় ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড ক্যানিং।


উল্লেখ্য,
- এটি ছিল ব্রিটিশ শাসন অবসানকল্পে ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা ‘স্বাধীনতা লড়াই'।
- ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে ‘মঙ্গল পান্ডে' নামক একজন সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।
- এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।

⇒ এ সংগ্রামের কারণকে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ এ দু শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।
• পরোক্ষ কারণ:
- রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও সামরিক অসন্তোষ।
• প্রত্যক্ষ কারণ:
- ১৮৫৬ সালে সেনাবাহিনীতে ‘এনফিল্ড রাইফেল' প্রচলন করা হয়।
- এতে ব্যবহৃত কার্তুজ দাঁতে কেটে ভরতে হতো।
- গুজব রটে যে, এ কার্তুজে শুকর ও গরুর চর্বি মেশানো আছে।
- এটি ধর্মনাশের একটি পরিকল্পিত ও সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র বলে ভারতের হিন্দু-মুসলমান সিপাহীদের মধ্যে দারুন বিক্ষোভের সূচনা করে।

⇔ লর্ড ক্যানিং:
- ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল এবং প্রথম ভাইসরয় লর্ড জন ক্যানিং।
- লর্ড ক্যানিং ১৮৫৬ থেকে ১৮৬২ সাল পর্যন্ত ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল এবং ১৮৫৮ সালের ১ নভেম্বর থেকে ভারতে প্রথম ভাইসরয় ছিলেন।
- তাঁর প্রশাসনের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লব-এর শুরু।
- লর্ড ক্যানিং বিদ্রোহটি দমন করেন এবং এ ঘটনার পর ১৮৫৮ সালে পার্লামেন্টারি আইন পাস হয়।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৬৭০.
‘পাঁচসালা বন্দোবস্ত' কে চালু করেন?
  1. লর্ড ক্লাইভ
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. ওয়ারেন হেস্টিংস
  4. লর্ড কার্জন
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা

ওয়ারেন হেস্টিংস:
- উপমহাদেশে বৃটিশ শক্তিকে সুদৃঢ় করার পেছনে হেস্টিংসের অবদান অনস্বীকার্য।
- ক্লাইভের শাসন ব্যবস্থার ফলে যখন বাংলার সামাজিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত করুণ, ঠিক সে মুহূর্তে হেস্টিংস এদেশের শাসনভার গ্রহণ
করেন।
- ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস ‘পাঁচসালা বন্দোবস্ত' এবং ‘একসালা বন্দোবস্ত' প্রবর্তন করেন।
- কিন্তু এ দুটি বন্দোবস্ত রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হয়নি।
- রাজস্ব বিভাগের দুর্নীতি দূর করতে ও এর সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য রাজকোষ মুর্শিদাবাদ হতে কলকাতায় স্থানান্তর করে একটি রাজস্ব
বোর্ড গঠন করেন।
- রাজস্ব খাতে আয় বৃদ্ধির জন্য তিনি পাঁচ বছর মেয়াদে সর্বোচ্চ মূল্যে জমিদারী ইজারা দেয়ার নিয়ম প্রবর্তন করেন। যা ‘পাঁচসালা বন্দোবস্তু’ নামে পরিচিত।
- এ ব্যবস্থার মাধ্যমে জমিদারগণ প্রজাদের উপর জোর জুলুম করে অর্থ আদায় করতো। ফলে প্রজাদের দু:খ দুর্দশার সীমা ছাড়িয়ে যায়। 

উল্লেখ্য,
- গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিশ নানা বিচার-বিশ্লেষণ করে ১৭৯৩ সালে ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এক নতুন প্রথার প্রবর্তন করেন। ইতিহাসে এটি ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' নামে পরিচিত।
- এর মাধ্যমে ইংরেজরা এদেশে তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন।
- এক্ষেত্রে তারা অনেক সফলতা লাভ করলেও এ ব্যবস্থার ফলে সাধারণ কৃষক এমনকি অনেক সম্ভ্রান্ত বনেদি জমিদার সর্বশান্ত হয়ে পড়ে।
- অন্যদিকে নগদ টাকার মালিক ও পুঁজিপতি মহাজনরা রাতারাতি জমিদারে পরিণত হয়।
- নব সৃষ্ট এ জমিদার শ্রেণী ইংরেজ শাসনের জন্য একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি স্থাপনে সহায়ক শক্তির ভূমিকা পালন করে।
- ১৯৫০ সালে এ ব্যবস্থা উচ্ছেদ করা হয় ।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
          ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭১.
কার ঘোষণার মাধ্যমে বঙ্গ ভঙ্গ ঘটে?
  1. রাজা পঞ্চম জর্জ
  2. লর্ড ক্লাইভ
  3. লর্ড ব্যামফিল্ড ফুলার
  4. লর্ড কার্জন
সঠিক উত্তর:
লর্ড কার্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড কার্জন
ব্যাখ্যা

বঙ্গভঙ্গ :
- বঙ্গভঙ্গ অবিভক্ত বাংলায় তথা সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- ১৯০৫ সালের পূর্বে 'বাংলা প্রেসিডেন্সি' ছিল ভারতের সর্ববৃহৎ প্রদেশ।
- ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা প্রদান করা হয় এবং ১৫ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হয়।
- ঘোষনা করেন বড় লাট লর্ড কার্জন। 

- ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং আসাম নিয়ে গঠিত হয় 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ'।
- ঢাকায় এ নতুন প্রদেশের রাজধানী স্থাপিত হয়।
- পশ্চিম বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় ‘পশ্চিমবঙ্গ’ প্রদেশ। এর রাজধানী হয় কলিকাতা । 

- বঙ্গভঙ্গের পর নবগঠিত ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম’ প্রদেশের গভর্নর নিযুক্ত হন স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার এবং ‘পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের' গভর্নর নিযুক্ত হন এনডু ফ্রেজার।
- নবাব স্যার সলিমুল্লাহ্ বঙ্গভঙ্গের সমর্থনে পূর্ববঙ্গের মুসলমান জনগণকে সংগঠিত করেন। 

- ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনকারীদের প্রতিহত করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ রহিত করে।
- রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লী দরবারে এ ঘোষণা দেন।  

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং
           ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭২.
ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান করেন কে কে?
  1. নবীন মাধব ও বেণী মাধব
  2. মজনু শাহ ও ভবানী পাঠক
  3. তিতুমীর ও গোলাম রসুল 
  4. শরীয়তউল্লাহ ও দুদু মিয়া
সঠিক উত্তর:
মজনু শাহ ও ভবানী পাঠক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মজনু শাহ ও ভবানী পাঠক
ব্যাখ্যা

ফকির মজনু শাহ:
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ।
- বিদ্রোহী ফকির দলের নেতার নাম ছিল মজনু শাহ। আর সন্ন্যাসীদের নেতার নাম ছিল ভবানী পাঠক।
- ঐতিহাসিক ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের প্রধান নেতা ছিলেন মজনু শাহ।
- তিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের মাদারিয়া তরিকার সুফি সাধক।
- ফকির মজনু শাহ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করেন।
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ।
- ইংরেজ সরকার তীর্থস্থান দর্শনের উপর করারোপ করে, ভিক্ষা ও মুষ্টি সংগ্রহকে বেআইনি ঘোষণা করে। তাছাড়া তাদেরকে ডাকাত-দস্যু বলে আখ্যায়িত করতে থাকে। ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে ফকির সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনে অবতীর্ণ হয়।
- তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কুঠি, জমিদারদের কাছারি ও নায়েব-গোমস্তার বাড়ি।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। এই সব অঞ্চলে ইংরেজদের সঙ্গে বিদ্রোহী ফকির-সন্ন্যাসীদের বহু সংঘর্ষ সংঘটিত হয়।
- এ সব সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা অনেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুঠ করে ।
- ফকির মজনু শাহ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- এই নেতারা কয়েক বছর ইংরেজ প্রশাসনকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭৩.
চাকমা বিদ্রোহ কোন সমকালের মধ্যে সংঘটিত হয়?
  1. ক) ১৭৭৭ - ১৭৮৭ সাল
  2. খ) ১৭৬৫ - ১৭৭৫ সাল
  3. গ) ১৭৮৩ - ১৭৯৩ সাল
  4. ঘ) ১৭৯৯ - ১৮০৯ সাল
সঠিক উত্তর:
ক) ১৭৭৭ - ১৭৮৭ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৭৭৭ - ১৭৮৭ সাল
ব্যাখ্যা
১৭৭৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যভাগে চাকমারা প্রথমবার বিদ্রোহ ঘোষণা করে। এই বিদ্রোহের নায়ক ছিলেন চাকমা দলপতি রাজা সের দৌলত ও তাঁর সেনাপতি রামু খাঁ। প্রথম বিদ্রোহের পর রামু খাঁর পুত্র জানবকস খাঁর নেতৃত্বে ১৭৮২ সালে ও ১৭৮৪ সালে দুটি বিদ্রোহ হয়। এরপর দ্বিতীয় শের দৌলত খাঁর নেতৃত্বে ১৭৮৭ সালে আরেকটি বিদ্রোহ হয়। [সূত্র: কালের কণ্ঠ]
৬৭৪.
‘আর্মস অ্যাক্ট’ ভারতীয় উপমহাদেশে জারি করেছিলেন কে?
  1. লর্ড রিপন
  2. লর্ড ওয়েলেসলি
  3. লর্ড লিটন 
  4. লর্ড ডালহৌসি
সঠিক উত্তর:
লর্ড লিটন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড লিটন 
ব্যাখ্যা

• লর্ড লিটন:
- লর্ড লিটন (এডওয়ার্ড রবার্ট লিটন) ১৮৭৬ হতে ১৮৮০ পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় এবং গভর্নর জেনারেল ছিলেন। 
- ১৮৮০ সালে গ্ল্যাডস্টোন ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন করলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য,
- লর্ড লিটন কর্তৃক প্রবর্তিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইন হলো ১৮৭৮ সালের দেশীয় সংবাদপত্র আইন (Vernacular Press Act) এবং ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন (Arms Act)।

⇒ দেশীয় সংবাদপত্র আইন (Vernacular Press Act):
- এই আইনটি ভারতীয়দের দেশীয় ভাষায় (Vernacular) সংবাদপত্র প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে।
- এর উদ্দেশ্য ছিল সরকারের সমালোচনামূলক লেখা দমন করা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব করা। 

⇒ অস্ত্র আইন (Arms Act):
- এই আইনের মাধ্যমে লাইসেন্স ছাড়া কোনো ভারতীয়র অস্ত্র বহন করা একটি ফৌজদারি অপরাধ বলে গণ্য করা হয়।
- তবে, এই আইনটি ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য ছিল না। 

এছাড়াও,
- তার শাসনামলে দ্বিতীয় ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধ সংঘটিত হয়। 

তথ্যসূত্র:
i) অস্ত্র আইন, ১৮৭৮।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৬৭৫.
ব্রিটিশ ভারতে প্রথম ভাইসরয় কে ছিলেন?
  1. লর্ড বেন্টিঙ্ক
  2. লর্ড ক্যানিং
  3. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  4. লর্ড কার্জন
সঠিক উত্তর:
লর্ড ক্যানিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা
লর্ড ক্যানিং:
- ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল এবং প্রথম ভাইসরয় লর্ড জন ক্যানিং।
- লর্ড ক্যানিং ১৮৫৬ থেকে ১৮৬২ সাল পর্যন্ত ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল এবং ১৮৫৮ সালের ১ নভেম্বর থেকে ভারতে প্রথম ভাইসরয় ছিলেন।
- তাঁর প্রশাসনের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লব-এর শুরু।
- লর্ড ক্যানিং বিদ্রোহটি দমন করেন এবং এ ঘটনার পর ১৮৫৮ সালে পার্লামেন্টারি আইন পাস হয়।

⇒ লর্ড ক্যানিং ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা প্রচলন করেন।
- এর আগে মুদ্রা হিসেবে স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা ব্যবহৃত হতো।
- লর্ড ক্যানিং উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন।
- ১৮৬১ সালে লর্ড ক্যানিং পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৬৭৬.
মাস্টারদা সূর্যসেনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছিল কোথায়?
  1. দিল্লী
  2. ঢাকা
  3. চট্টগ্রাম
  4. কলকাতা
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
মাস্টারদা সূর্য সেন:
- তার পুরো নাম সূর্যকুমার সেন।
- মাস্টারদা সূর্যসেনের জন্ম ১৮৯৪ সালে চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামে।

⇒ বিএ পড়ার সময় তিনি তাঁর এক শিক্ষক সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন।
- অধ্যাপক সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী যুগান্তর নামে বিপ্লবী দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- সূর্য সেন ১৯১৮ সালে চট্টগ্রামে ফিরে বিপ্লবী যুগান্তর দলকে পুনরুজ্জীবিত করেন।
- শিক্ষকতা করার কারণে তিনি পরিচিত মহলে 'মাস্টারদা' আখ্যা পান।

⇒ সূর্যসেন যখন নোয়াপাড়া উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ের ছাত্র তখন বঙ্গভঙ্গকে (১৯০৫) কেন্দ্র করে বাংলায় স্বদেশী আন্দোলন শুরু হয়।
- ক্রমে এই আন্দোলন বিশেষ করে চট্টগ্রাম এলাকায় বিপ্লবী আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ১৯১৬ সালে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজে বি.এ. শ্রেণিতে পড়াকালীন শিক্ষক শতীশচন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন সূর্যসেন।
- সূর্যসেন চট্টগ্রামে ফিরে গিয়ে ব্রিটিশ বিরোধী একটি বিপ্লবী দল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন।
- সূর্য সেন ১৯১৮ সালে চট্টগ্রামে ফিরে বিপ্লবী যুগান্তর দলকে পুনরুজ্জীবিত করেন।

⇒ ১৯৩০ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের প্রধান সংগঠক মাস্টারদা সূর্যসেন।
- ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিলের সশস্ত্র বিদ্রোহ ছিল সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীদের দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার ফসল।
- ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কারাগারে তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৭৭.
Who established Permanent settlement in India?
  1. Lord Ripon
  2. Lord Cornwallis
  3. Lord Wellesley
  4. Lord canning
সঠিক উত্তর:
Lord Cornwallis
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Lord Cornwallis
ব্যাখ্যা
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
- ১৭৯৩ সালের ২২মার্চ লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- ঐদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর চিরস্থায়ী মালিকানা প্রদান করে যে বন্দোবস্ত করা হয় তা-ই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে পরিচিত।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে কৃষক জমির উপর তাদের অধিকার হারায়।
- বিপরীতে জমির উপর জমিদারদের স্থায়ী মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত্ব আইনের ফলশ্রুতিতে জমিদারি প্রথা ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার উচ্ছেদ ঘটে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৭৮.
‘হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন’ কে প্রবর্তন করেন?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড ওয়েলেসলি
  3. লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা
হিন্দু বিধবা বিবাহ:
- হিন্দু বিধবাদের পুনরায় বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে বিধবা বিবাহ বলে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহের জন্য সমাজসংস্কার আন্দোলন সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
- তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল পান ১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় তৎকালীন বড়লাট লর্ড ডালহৌসি ‘দ্য হিন্দু উইডো’স রিম্যারেজ অ্যাক্ট ১৮৫৬’ নামে আইন প্রণয়ন করে হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহকে বৈধ করেন।
- এ আইন করার লক্ষ্য ছিল কিছু হিন্দু বিধবা শিশু, যারা স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার আগেই বিধবা হয়ে যেত; এ আইন পাসের মাধ্যমে হিন্দু বিধবা বিবাহের সব বাধা দূরীভূত হয়।
- সে বছরই ৭ ডিসেম্বর রাজকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উপস্থিতিতে প্রথম বিধবা বিবাহের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

উল্লেখ্য,
⇒ লর্ড ডালহৌসি:
- ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড হার্ডিঞ্জের পর মাত্র ৩৬ বৎসর বয়সে লর্ড ডালহৌসী এ উপমহাদেশে আসেন।
- ব্রিটিশ ভারতের শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাম্রাজ্যবাদী ছিলো লর্ড ডালহৌসি।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় ও সহযোগীতায় তিনি ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন পাশ করেন।

উৎস: i) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৬৭৯.
সূর্যাস্ত আইন প্রবর্তন করেন কে?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. লর্ড রিপন 
  4. লর্ড ওয়েলেসলি
সঠিক উত্তর:
লর্ড কর্নওয়ালিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
- লর্ড কর্নওয়ালিসের শাসনামলের ভূমি রাজস্ব সংস্কার একটি গুরত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
- ওয়ারেন হেস্টিংসের প্রবর্তিত জমির পাঁচসালা ও একসালা বন্দোবস্তের ভুলত্রুটি নিরসনের জন্য লর্ড কর্ণওয়ালিস জমির দশসালা বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- এই সংস্কার ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে পরিণত হয়।
- এ ব্যবস্থার ফলে জমিদাররা জমির স্থায়ী মালিক হন এবং তাঁদের দেয় করের পরিমাণ নির্দিষ্ট হয়ে যায়।
- তাঁরা নিয়মিত কর প্রদান সাপেক্ষে স্থায়ীভাবে জমির মালিক হয়ে যান।
- তবে এ ব্যবস্থার ফলে কৃষকদের দুর্দশা বেড়ে যায় ও জমির উন্নয়ন ব্যাহত হয়।
- কর্নওয়ালিস সূর্যাস্ত আইন প্রবর্তন করেন।
- এ ব্যবস্থায় সূর্যাস্ত আইনের বলে বহু জমিদারী নিলামে উঠে এবং বহু নতুন জমিদার শ্রেণির সৃষ্টি হয় যা এদেশে বিদেশি শাসকদের হাতকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
৬৮০.
চট্টগ্রাম থেকে মগ ও ফিরিঙ্গি জলদস্যুদের বিতাড়িত করেন কে?
  1. ইসলাম খান
  2. বাহাদুর শাহ
  3. শায়েস্তা খান
  4. শাহ সুজা
সঠিক উত্তর:
শায়েস্তা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
সুবেদার শায়েস্তা খান:

- শায়েস্তা খানের সুবাদারি আমল দুঅধ্যায়ে বিভক্ত ছিল।
- তিনি প্রথম অধ্যায়ে ১৬৬৪ খ্রিঃ থেকে ১৬৭৮ খ্রিঃ পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় অধ্যায়ে ১৬৮০ খ্রিঃ থেকে ১৬৮৮ খ্রিঃ পর্যন্ত বাংলাদেশের সুবাদার ছিলেন।
- তিনি একজন দক্ষ সেনাপতি ও জনপ্রিয় সুবেদার ছিলেন।
- চট্টগ্রাম থেকে মগ ও ফিরিঙ্গি জলদস্যুদের বিতাড়িত করেন শায়েস্তা খান।
- মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের ইচ্ছানুযায়ী চট্টগ্রামের নাম রাখা হয় ইসলামাবাদ।
- শুল্ক ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করলে ইংরেজ কোম্পানির সঙ্গে শায়েস্তা খানের প্রথম সংঘর্ষ ঘটে এবং ইংরেজরা বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। এভাবে তিনি ইংরেজ বণিকদের ঔদ্ধত্যের সমুচিত জবাব দেন।
- শায়েস্তা খান রাজস্ব সংস্কারে বড় ধরনের অবদান রাখেন।
-তাঁর সময়ে বাংলাদেশ কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছিল। তখন বাংলাদেশে জিনিসপত্রের দাম খুব কম ছিল।
- শায়েস্তা খান ঢাকায় ছোট কাটরা, হুসায়েনী দালান, লালবাগ দুর্গের একাংশ এবং আরও বহু অট্টালিকা ও মসজিদ নির্মাণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
৬৮১.
পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ প্রণয়নে কোন আন্দোলনের প্রভাব ছিল?
  1. ফরায়েজি আন্দোলন
  2. তেভাগা আন্দোলন
  3. অসহযোগ আন্দোলন
  4. স্বদেশী আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
তেভাগা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেভাগা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
তেভাগা আন্দোলন
- তেভাগা আন্দোলন কৃষি উৎপাদনের দুই-তৃতীয়াংশের দাবিতে সংগঠিত বর্গাচাষিদের আন্দোলন।
- ১৯৪০-৫০ সময়ে এই আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- তেভাগা আন্দোলনের দাবী ছিলো বর্গাচাষীরা তাদের উৎপন্ন ফসলের এক ভাগ দিবে মালিকপক্ষকে এবং দুই ভাগ পাবে তারা।
- আন্দোলনটি নিশ্চিতভাবেই পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ প্রণয়নে প্রভাব বিস্তার করেছিল।

- এই আন্দোলন সংগঠিত করেন বাংলার কৃষকসভার কমিউনিস্ট কর্মীরা। হাজী মোহাম্মদ দানেশ তেভাগা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।
- তেভাগা আন্দোলন যখন স্তিমিত হওয়ার পথে তখন নাচোলের রাণী ইলা মিত্র এই আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করেন।
- কৃষকদের নিকট তিনি রানী মা হিসেবে পরিচিতি পান।
- কৃষকদের অধিকার আদায়ে তেভাগা আন্দোলনে অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করেন অমল সেন।

পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০
- এই আইনের আওতায় সরকার দেশের একমাত্র জমিদারে পরিণত হয় এবং সরকার পর্যায়ক্রমে জমিতে সকল খাজনা-আদায়ি স্বার্থ অধিগ্রহণ করে।
- ১৯৫১ ইং সনের ১৬ মে, এই আইন পাস এর মাধ্যমে এদেশ থেকে জমিদারি প্রথার বিলোপ ঘটে।
- এই আইনে ১৫২টি ধারা রয়েছে।
- এগুলি পাঁচটি অংশ ও উনিশটি অধ্যায়ে বিভক্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৮২.
কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের যৌথ উদ্যোগে কোন চুক্তিটি সম্পাদিত হয়?
  1. লক্ষ্ণৌ চুক্তি
  2. এলাহাবাদ চুক্তি
  3. বেঙ্গল প্যাক্ট
  4. মারী চুক্তি
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্ণৌ চুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্ণৌ চুক্তি
ব্যাখ্যা
১৯১৬ সালের ডিসেম্বরে লক্ষ্ণৌ শহরে একই সময়ে ও স্থানে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে উভয় দল ভারতের শাসনতান্ত্রিক সংস্কার প্রশ্নে সমঝোতার অংশ হিসেবে লক্ষ্ণৌ চুক্তি সম্পাদন করে।
এই চুক্তিতে কংগ্রেস প্রথমবারের মতো মুসলমানদের জন্যে পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা মেনে নেয়।

(তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৬৮৩.
দ্বৈত শাসন ব্যবস্থায় রাজস্ব প্রশাসন ছিল কার অধীনে?
  1. নবাবের
  2. মুঘল সম্রাটের
  3. ব্রিটিশ পার্লামেন্টের
  4. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির
সঠিক উত্তর:
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির
ব্যাখ্যা
দ্বৈত শাসন:
- ১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- দ্বৈতশাসন অনুসারে রাজস্ব প্রশাসন ও দেশ রক্ষার ভার থাকে কোম্পানির হাতে এবং নিয়ামত বা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পিত হয় নবাবের হাতে।
- দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে।
- অবাধ লুণ্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়ে যায়।
- নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হন। 
- সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
- ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটান।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৪.
রাজা পঞ্চম জর্জ কোথায় বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন?
  1. দিল্লিতে
  2. লন্ডনে
  3. ঢাকায়
  4. কলকাতায়
সঠিক উত্তর:
দিল্লিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিল্লিতে
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গের পটভূমি:
- ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন।
- এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা গৃহীত হলেও শেষ পর্যন্ত ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে এর বাস্তবায়ন হয়।
- এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদাহ নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশ।
- এই প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা।
- অপরদিকে পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশ, যার রাজধানী করা হয় কোলকাতাকে।

বঙ্গভঙ্গ রদ:
- বাংলার মুসলমানরা নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়।
- অপর দিকে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে।
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে তারা বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে।
- ব্রিটিশ সরকার আন্দোলনকারীদের দমন করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ রহিত করে।
- রাজা পঞ্চম জর্জ ভারত সফরে এসে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৫.
ব্রিটিশ শাসনামলে প্রথম গোল টেবিল বৈঠক কত খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ১৯২৯ সালে
  2. খ) ১৯৩০ সালে
  3. গ) ১৯৩১ সালে
  4. ঘ) ১৯৩২ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৩০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৩০ সালে
ব্যাখ্যা
প্রথম গোলটেবিল বৈঠক:
- গোল টেবিল বৈঠকের প্রথম অধিবেশন বসে ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ১২ নভেম্বর
- অধিবেশনে বৃটেনের রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে ১৬, ভারতীয় রাজন্যবর্গের পক্ষে ১৩ এবং বৃটিশ শাসিত ভারত থেকে ৫৭ জন সহ সর্বমোট ৮৯ জন সদস্য যোগ দেন।
- কংগ্রেস এ অধিবেশনে যোগ দেয় নি।
- উপস্থিত ভারতীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে অনুন্নত সম্প্রদায়ের নেতা ড. আম্বেদকার, মুসলিম লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ এবং তেজ বাহাদুর সাপ্রু বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী রামজে মেকডোনাল্ড এ বৈঠকে কতগুলো সংবিধানিক প্রস্তাব দেন; তার মধ্যে
১. ভারতে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার গঠন,
২ - প্রদেশগুলোতে দায়িত্বশীল সরকার এবং
৩. কেন্দ্রে আংশিক দায়িত্বশীল সরকার গঠন সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো অন্যতম। 

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৬.
বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশের রাজধানী কোথায় নির্ধারণ করা হয়?
  1. কলকাতা
  2. ঢাকা
  3. চট্টগ্রাম
  4. রাজশাহী
  5. মালদাহ 
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা

বঙ্গভঙ্গ ও নতুন প্রদেশ সৃষ্টি:
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ করে দুটি প্রদেশ করা হয়।
- প্রধানত প্রশাসনিক প্রয়োজন এবং সেই সাথে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে বিশাল আয়তনের বাংলা প্রদেশকে বিভক্ত করেন। 
- পূর্ব বঙ্গের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগের সাথে জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা, মালদাহ ও আসামকে যুক্ত করে পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশ নামে একটি নতুন প্রদেশ সৃষ্টি করা হয়।
- নতুন প্রদেশের আয়তন দাঁড়ায় ১০৬,৫৪০ বর্গমাইল।
- জনসংখ্যা ৩ কোটি ১০ লক্ষ।
- এর মধ্যে ১ কোটি ৮০ লক্ষ ছিল মুসলমান।
- নতুন প্রদেশের রাজধানী করা হয় ঢাকা এবং অনুসঙ্গী সদর দপ্তর চট্টগ্রামে।

অন্য দিকে -
- পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে আরেকটি প্রদেশ হয়।
- এর নামকরণ করা হয় বাংলা প্রদেশ।
- বাংলা প্রদেশের রাজধানী করা হয় কলকাতা।

উল্লেখ্য,
- নতুন প্রদেশে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় তারা কার্জনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানায়।
- অন্যদিকে উচ্চ বর্ণের হিন্দুরা এর তীব্র বিরোধিতা করে।
- কংগ্রেস এর বিরুদ্ধে একটি তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে।
- শেষ পর্যন্ত সরকার ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করে ।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৬৮৭.
১৯৪৭ সালে ‘বৃহত্তর বাংলা বা স্বাধীন-সার্বভৌম অখণ্ড বাংলা’ রাষ্ট্রের পক্ষে কোন চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ক) বাংলা চুক্তি
  2. খ) লাহোর চুক্তি
  3. গ) বেঙ্গল প্যাক্ট চুক্তি
  4. ঘ) বসু-সোহরাওয়ার্দী চুক্তি
সঠিক উত্তর:
ঘ) বসু-সোহরাওয়ার্দী চুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বসু-সোহরাওয়ার্দী চুক্তি
ব্যাখ্যা
১৯৪৭ সালে হােসেন শহীদ সােহরাওয়ার্দী যুক্ত বাংলার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এ প্রস্তাবের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন শরৎচন্দ্র বসু। প্রস্তাবটি উপমহাদেশের ইতিহাস ‘বসু-সােহরাওয়ার্দী’ প্রস্তাব নামে খ্যাত।
১৯৪৭ সালের ২০শে মে কোলকাতায় স্বাধীন-সার্বভৌম অখণ্ড বাংলা রাষ্ট্রের পক্ষে এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যা বসু-সােহরাওয়ার্দী চুক্তি নামে পরিচিত।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬৮৮.
বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণার মূল কারণ কোনটি?
  1. ক) ব্রিটিশ স্বার্থ
  2. খ) বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন
  3. গ) মুসলমানদের দুর্বল রাজনীতি
  4. ঘ) হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতি স্থাপন
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলন
বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ববাংলার জনগণের সার্বিক উন্নতি হবে এ আশাবাদ থেকে পূর্ববাংলায় নতুন প্রদেশের প্রতি সমর্থন লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু বাংলার হিন্দু সম্প্রদায় প্রধানত দুইটি কারণে বঙ্গভঙ্গের ঘোর বিরোধিতা করে । 

- প্রথমত, বাংলার রাজনীতি, অর্থনীতি ব্যবসা-বাণিজ্য, ইত্যাদি সবকিছু কলকাতাকেন্দ্রিক হিন্দু সম্প্রদায়ের নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল। 
নতুন প্রদেশ গঠনের ফলে তাদের স্বার্থে চরম আঘাত লাগে। 
- দ্বিতীয়ত, দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী হিন্দু নেতৃবৃন্দের নিকট বাংলা বিভক্তি ছিল ‘মাতৃভূমির অঙ্গচ্ছেদ' এর মত। 
- বঙ্গভঙ্গকে হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির ব্রিটিশ ষড়যন্ত্র বলে অ্যাখায়িত করে তাঁরা এর ঘোর বিরোধিতায় অবতীর্ণ হন।
- এ সকল কারণে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন দ্রুত বাংলার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
 - এক পর্যায়ে, স্বদেশীপণ্য ব্যবহার এবং বিদেশী পণ্য বর্জনের কর্মসূচি যুক্ত হয়। এক পর্যায়ে আন্দোলন সহিংস রূপ ধারণ করে। 
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অচল হয়ে পড়ে। 
- কুমিল্লা, ঢাকা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা, রাজশাহীসহ পূর্ব বাংলায় বহু স্থানে হিন্দু-মসুলমান সম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংগঠিত হয়। 
- আন্দোলন তীব্র হলে ব্রিটিশ সরকার নত হতে বাধ্য হয় । 
- ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর সম্রাট পঞ্চম জর্জ বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করেন। 
- একই সঙ্গে, তিনি ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরের কথা বলেন।
 
 উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬৮৯.
'পঞ্চাশের মন্বন্তর' কত সালে হয়?
  1. ইংরেজি ১৯৪৩ সালে
  2. ইংরেজি ১৮৪৩ সালে
  3. ইংরেজি ১৮৫০ সালে
  4. ইংরেজি ১৯৫০ সালে
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি ১৯৪৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি ১৯৪৩ সালে
ব্যাখ্যা

 পঞ্চাশের মন্বন্তর:
- বাংলার ইতিহাসে একটি ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ছিল পঞ্চাশের মন্বন্তর।
- ইংরেজি ১৯৪৩ সালে অর্থাৎ বাংলা ১৩৫০ সালে এই দুর্ভিক্ষটি হয়েছিল বলে এটি পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- ১৭৭০ সালের পর বাংলায় সংঘটিত সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ছিল এটি।
- পঞ্চাশের মন্বন্তরে প্রায় সাত লাখ পরিবারের ৩৮ লাখ মানুষের জীবনযাত্রার মানের মারাত্মক অবনতি ঘটে।
- ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই দুর্ভিক্ষ এবং দুর্ভিক্ষ-পরবর্তী মহামারিতে ৩৫ থেকে ৩৮ লাখ মানুষ মারা যায়।
- এই দুর্ভিক্ষের পেছনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল একটা বড় কারণ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬৯০.
ইউরোপ থেকে ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করেন -
  1. আলবুকার্ক
  2. ক্রিস্টোফার কলম্বাস
  3. লুই বার্থামেলু
  4. ভাস্কো-দ্য-গামা
সঠিক উত্তর:
ভাস্কো-দ্য-গামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাস্কো-দ্য-গামা
ব্যাখ্যা
• পর্তুগিজ:
- বাণিজ্যকে মূলধন করে পর্তুগাল থেকে পর্তুগিজরা এ উপমহাদেশে আসলেও ক্রমে তাঁরা সাম্রাজ্য বিস্তারের স্বপ্ন দেখে।
- ইউরোপ থেকে ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করেন -  ভাস্কো-দ্য-গামা।
- পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দ্য-গামার উপমহাদেশে আসার পরপরই পর্তুগিজরা এ দেশে আসতে শুরু করে।
- এরপর ১৪৮৭ খ্রিস্টাব্দে বার্থলমিউ দিয়াজ, আলভারেঞ্জ ক্যাব্রাল ও ১৫০৯ খ্রিস্টাব্দে আলবুকার্ক গোয়াতে আগমন করেন।
- আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

সূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯১.
বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে স্বদেশী আন্দোলনের নেতৃত্ব দান করেন কে?
  1. বলভভাই প্যাটেল
  2. অরবিন্দ ঘোষ
  3. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  4. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

স্বদেশী আন্দোলন:
- স্বদেশী আন্দোলন ছিলো একটি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন।
- ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ সরকার বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করে যা ‘বঙ্গভঙ্গ’ নামে পরিচিত।
- কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুরা এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে।
- বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতার অংশ হিসেবে ১৯০৫ সালে স্বদেশী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।
- তাছাড়া এ আন্দোলন শুরুতে তরুণদের দেশপ্রেম, ঔপনিবেশিক শক্তিবিরোধী শাড়িপূর্ণ নিষ্ঠা ও আদর্শ নিয়ে শুরু হলেও ক্রমে তা থেকে চরম ও সশস্ত্র ধারার ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের জন্ম নেয়।
- ফলে ব্রিটিশ শক্তি শেষ পর্যন্ত বঙ্গভঙ্গ বাতিল করতে বাধ্য হয়।
- স্বদেশী আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।
- এই আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিলেতি পণ্য বর্জন।
- পরে বিলেতি শিক্ষা বর্জনও এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়।
- কংগ্রেস নেতারা গ্রামে-গঞ্জে-শহরে প্রকাশ্য সভায় বিলেতি পণ্য পুড়িয়ে ফেলে।
- সঙ্গে সঙ্গে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে উঠে বাংলার নিজস্ব তাঁতবস্ত্র, সাবান, লবণ, চিনি ও চামড়ার দ্রব্য তৈরির কারখানা।
- অপর দিকে বিলেতি শিক্ষা বর্জন এবং আন্দোলনের সাথে যুক্তদের বিভিন্ন সরকারি স্কুল-কলেজ থেকে বের করে দেওয়ার ফলে প্রয়োজনে গড়ে উঠে জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
- এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলা ভাষায় বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধকারী শ্রেষ্ঠ দেশাত্মবোধক গানগুলো রচনা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এবং রজণীকান্ত সেন প্রমুখ।
- আমাদের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি' গানটি রবীন্দ্রনাথ ঐ সময় রচনা করেন।
- তবে মুসলমানরা বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ছিলো, তাই তারা স্বদেশী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়নি।
- যার কারণে স্বদেশী আন্দোলনের ফলে বাংলার হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের অবনতি হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৯২.
লর্ড কার্জন বাংলা ভাগ করেন কবে?
  1. ১৯০৪ সালে
  2. ১৯০৫ সালে
  3. ১৯০৬ সালে
  4. ১৯০৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯০৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯০৫ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ:
- ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- বাংলার মুসলমানরা নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়।
- অপর দিকে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায় হিন্দু সমপ্রদায়ের মধ্যে।
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে তারা বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে। রাজা পঞ্চম জর্জ ভারত সফরে এসে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- বঙ্গভঙ্গ রদে হিন্দু সম্প্রদায় খুশি হয়, অপর দিকে মুসলমান সম্প্রদায় মর্মাহত এবং হতাশ হয়।
- ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৩.
কার সময়ে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়?
  1. ক) ওয়ারেন হেস্টিংস
  2. খ) জন কার্টিয়ার
  3. গ) রবার্ট ক্লাইভ
  4. ঘ) লর্ড কর্ণওয়ালিস
সঠিক উত্তর:
গ) রবার্ট ক্লাইভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রবার্ট ক্লাইভ
ব্যাখ্যা
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভ ১৭৬৫ সালে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
এলাহাবাদ চুক্তির মাধ্যমে মোগল সম্রাট শাহ আলমের নিকট থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি বা রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা লাভ করে।
অন্যদিকে নবাবকে শাসন ও বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। ইতিহাসে এটিই দ্বৈতশাসন নামে পরিচিত।
ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭২ সালে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা বাতিল করেন।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৬৯৪.
পাকিস্তানের গণপরিষদে উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবী প্রথম উত্থাপন করেন কে?
  1. ক) আব্দুস সালাম খান
  2. খ) ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  4. ঘ) খাজা নাজিমুদ্দিন
সঠিক উত্তর:
খ) ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।
এতে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুরু হলে পূর্ব বাংলার কংগ্রেস সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গণপরিষদের ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবী পেশ করেন। কিন্তু মুসলিম লীগ সদস্যরা এর তীব্র বিরোধিতা করে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৬৯৫.
কোন গভর্নর জেনারেলের সময় বিধবা বিবাহ আইন পাস হয়?
  1. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
  2. লর্ড এলেনবরা
  3. লর্ড ডালহৌসি
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা
সামাজিক সংস্কার:
- সংস্কারপন্থী বাঙালি নেতা ও শিক্ষিত শ্রেণির উদারবাদীদের সহযোগিতায় ইংরেজ শাসকরা সামাজিক ধর্মীয় অনেক অমানবিক প্রথা কুসংস্কার দূর করতে সক্ষম হন।
- লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক, রাজা রামমোহন রায়, প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের মতো উদারপন্থী হিন্দু নেতৃবর্গ এবং সদর নিজামত আদালতের জজদের অকুণ্ঠ সমর্থনে ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ডিসেম্বরে সতীদাহ প্রথা রহিত করতে সক্ষম হন।
- স্বামীর মৃত্যুর পর কোনো বিধবাকে স্বামীর সঙ্গে মরতে বাধ্য করলে তা আইনত দণ্ডনীয় বলে আইন জারি করা হয়।
- লর্ড এলেনবরা-এর সময়ে ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে দাস প্রথা উচ্ছেদ করা হয়।
- লর্ড ডালহৌসি পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সহায়তায় হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন পাস করে বিধবা বিবাহের প্রচলন করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৬.
কোন মুঘল সম্রাট ইংরেজ কোম্পানিকে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ানি প্রদান করেন?
  1. ক) দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
  2. খ) দ্বিতীয় শাহ আলম
  3. গ) দ্বিতীয় আলমগীর
  4. ঘ) সম্রাট ফররুখশিয়র
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিতীয় শাহ আলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিতীয় শাহ আলম
ব্যাখ্যা
বক্সারের যুদ্ধে অযোদ্ধার নবাব সুজাউদ্দৌলা, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সহায়তায় গড়ে তোলা মীর কাশিমের সম্মিলিত বাহিনীর সাথে ১৭৬৪ খ্রিষ্টাব্দে বিহারের বক্সার নামক স্থানে ইংরেজ বাহিনীর যে যুদ্ধ সংঘটিত হয় তাই বক্সারের যুদ্ধ নামে খ্যাত। এ যুদ্ধে মীর কাশিম শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। ফলে ১৭৬৫ সালে মুঘল সম্রাট এলাহাবাদ চুক্তি অনুসারে বার্ষিক ২৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা বা দেওয়ানি প্রদান করেন।
[সূত্রঃ ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম(উন্মুক্ত) এবং বাংলাপিডিয়া]
৬৯৭.
উপমহাদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাসনকাল কোনটি?
  1. ক) ১৭৫৭ - ১৮৪৭ সাল
  2. খ) ১৭৬৫ - ১৮৪৭ সাল
  3. গ) ১৭৫৭ - ১৮৫৭ সাল
  4. ঘ) ১৭৬৫ - ১৮৫৭ সাল
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭৬৫ - ১৮৫৭ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭৬৫ - ১৮৫৭ সাল
ব্যাখ্যা
উপমহাদেশে কোম্পানীর শাসনকাল ১৭৬৫ সাল থেকে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত।
- ১৭৬৫ সালে বক্সারের যুদ্ধে জয়লাভের পর মোঘল সম্রাট শাহ আলমের সাথে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির ''এলাহাবাদ চুক্তি'' স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিওয়ানী লাভ করে। এর মাধ্যমেই উপমহাদেশে কোম্পানির শাসন শুরু হয়।
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত ''সিপাহী বিদ্রোহ'' - এর ফলে উপমহাদেশের শাসনভার বৃটিশ রাজ ও পার্লামেন্টের হাতে অর্পিত হয়। বৃটিশ কেবিনেটের একজন সদস্য ভারত সচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সিদ্ধান্ত হয় শাসনকার্যে তাঁকে সাহায্য করবে ১৫ সদস্যের একটি কাউন্সিল। বৃটিশ সরকার সাম্রাজ্য বিস্তার নীতির অবসান ঘোষণা করে।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস ১ম পত্র বই (উন্মুক্ত)।
৬৯৮.
তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলন কী নামে পরিচিত?
  1. ক) খিলাফতে ই মুহম্মদীয়া
  2. খ) তরীকায়ে মোহাম্মদীয়া
  3. গ) তেভেগা আন্দোলন
  4. ঘ) ফকির বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
খ) তরীকায়ে মোহাম্মদীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তরীকায়ে মোহাম্মদীয়া
ব্যাখ্যা
তিতুমীর:

- তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলন তরীকায়ে মোহাম্মদীয়া।
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- উত্তর ভারত ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে যখন ওয়াহাবি আন্দোলনের (তাহরিক ই মুহম্মদীয়া) জোয়ার চলছে, তখন পশ্চিম বঙ্গের বারাসাত অঞ্চলে তিতুমীরের নেতৃত্বে এই আন্দোলন প্রবল আকার ধারণ করে।
- ওয়াহাবি আন্দোলন ছিল উত্তর ভারতের সৈয়দ আহমদ শহীদের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত।
- তিতুমীর হজ করার জন্য মক্কা শরিফ যান এবং ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে দেশে ফিরে আসেন।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিতুমীর তাঁর প্রধান ঘাটি স্থাপন করেন। নির্মাণ করেন ইতিহাস খ্যাত তাঁর বাঁশের কেল্লা।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে তিতুমীরের বিরুদ্ধে ইংরেজ সরকার এক বিশাল সুশিক্ষিত সেনা বাহিনী প্রেরণ করে। মেজর স্কটের নেতৃত্বে এই বাহিনী তিতুমীরের নারিকেলবাড়িয়ার বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে।এই যুদ্ধে তিনি নিহত হন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৯.
ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় কে ছিলেন?
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড লিটন
  3. লর্ড রিপন
  4. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
সঠিক উত্তর:
লর্ড মাউন্টব্যাটেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড মাউন্টব্যাটেন
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ শাসন: 
- ব্রিটিশদের ভারত ত্যাগ এবং ভারত ভেঙে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন করে।
- রাষ্ট্রের জন্মের মতো ইতিহাসের ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে ব্রিটিশ সরকার ভারতের গভর্নর জেনারেল করে পাঠায়। 
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন তিনি ভারতের শেষ ভাইসরয়।
• ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় / গভর্নর:
- ব্রিটিশ ভারতের প্রথম গভর্নর: লর্ড ক্লাইভ।
- শেষ গভর্নর: লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস।
- প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিল- লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস।
- শেষ গভর্নর জেনারেল: লর্ড ক্যানিং।
- ব্রিটিশ ভারতের প্রথম ভাইসরয়: লর্ড ক্যানিং।
- শেষ ভাইসরয়: লর্ড মাউন্টব্যাটেন।

এছাড়াও,
- পূর্ব বাংলার ও আসামের প্রথম লেফটেন্যান্ট জেনারেল স্যার জেনারেল ব্যামফিল্ড ফুলার।
- পূর্ব বাংলার ও আসামের শেষ লেফটেন্যান্ট জেনারেল- স্যার চার্লস স্টুয়ার্ট বেইলি।

উৎস: ইতিহাস, (প্রথম পত্র) একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০০.
অসহযোগ আন্দোলনের নেতা কে ছিলেন?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. জওহরলাল নেহরু
  3. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বিপিনচন্দ্র পাল 
সঠিক উত্তর:
মহাত্মা গান্ধী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাত্মা গান্ধী
ব্যাখ্যা

অসহযোগ আন্দোলন:
-  অসহযোগ আন্দোলন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের মধ্যে অহিংস প্রতিরোধ, রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণমানুষকে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে একত্রিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত। 
- ১৯২০ সালে মহাত্মা গান্ধী ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অংশ হিসেবে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন।
- এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল- ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে অহিংস প্রতিবাদ এবং সরকারি কার্যক্রমে কোনো সহযোগিতা না করা।
- ১৯২১–২২ খ্রিস্টাব্দে আন্দোলনটি সর্বভারতীয় গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়।
- তবে ১৯২১ সালে উত্তর প্রদেশের চৌরিচোরা এলাকায় অহিংস আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় গান্ধী হঠাৎ করে আন্দোলন বন্ধের ঘোষণা দেন।
- ১৯২২ সালে মহাত্মা গান্ধী গ্রেফতার হলে আন্দোলন স্থিমিত হয়।
---------------------
উল্লেখ্য,
• মহাত্মা গান্ধী:
- মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, যিনি মহাত্মা গান্ধী নামেও পরিচিত।
- তিনি অহিংস প্রতিরোধ আন্দোলনের একজন প্রবক্তা এবং ভারত রাষ্ট্রের জনক।
- তিনি ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর ভারতের গুজরাট রাজ্যের পোরবন্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে “মহাত্মা” উপাধি প্রদান করেন।
- দক্ষিণ আফ্রিকায় গান্ধী “নাটাল ইন্ডিয়ান কংগ্রেস” নামে একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানে ‘Indian Opinion’ পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয়দের উপর বর্ণবাদী আচরণের বিরুদ্ধে সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু করেন।
- ১৯১০ সালে তিনি তলস্তয় ফার্ম (Tolstoy Farm) নামে একটি আশ্রম স্থাপন করেন, যেখান থেকেই আন্দোলন পরিচালিত হতো।
- এছাড়াও সেখানে তিনি “দ্যা ক্রনিকল” নামের একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।