বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ইউরোপীয়দের আগমন ও ব্রিটিশ শাসনামল

মোট প্রশ্ন১,৩১৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ইউরোপীয়দের আগমন ও ব্রিটিশ শাসনামল

PrepBank · পাতা / ১৪ · ৫০১৬০০ / ১,৩১৫

৫০১.
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন বসেছিলো কোথায়?
  1. ক) কলকাতা
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) মুম্বাই
  4. ঘ) লখনৌতি
সঠিক উত্তর:
গ) মুম্বাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুম্বাই
ব্যাখ্যা
১৮৮৫ সালের ডিসেম্বরে কংগ্র্রেসের প্রথম অধিবেশন বসে মুম্বাইয়ে। এতে সভাপতিত্ব করেছিলেন বাঙালি ব্যারিস্টার উমেশচন্দ্র ব্যানার্জি।

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস হলো সর্বভারতীয় প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন। এটি ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন ইংরেজ সিভিলিয়ান অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৫০২.
মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয় কাকে?
  1. ক) সম্রাট শাহজাহান
  2. খ) সম্রাট বাবর
  3. গ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. ঘ) সম্রাট আকবর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সম্রাট আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা
• সম্রাট আকবরের মন্ত্রীসভার অর্থমন্ত্রী ছিলেন- টোডরমল।
সম্রাট আকবর ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা
• ১৫৫৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জালালউদ্দিন মুহাম্মদ আকবর উপাধি নিয়ে মাত্র ১৩ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন।

আকবরের মন্ত্রীসভা
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন আবুল ফজল।
- অর্থমন্ত্রী ছিলেন টোডরমল।
- সেনাপ্রধান ছিলেন মান সিংহ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৫০৩.
নিচের কোন ঘটনাটি আগে ঘটেছিলো?
  1. অসহযোগ আন্দোলন
  2. মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন
  3. ভারত ছাড় আন্দোলন
  4. সিমলা ডেপুটেশন
সঠিক উত্তর:
সিমলা ডেপুটেশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিমলা ডেপুটেশন
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত ঘটনাসমূহের মধ্যে সিমলা ডেপুটেশন সবার আগে সংঘটিত হয়।

১৯০৬ সালের ১ অক্টোবর ভারতীয় মুসলমানদের ৩৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আগা খানের নেতৃত্বে সিমলায় বড়লাট লর্ড মিন্টোর সাথে সাক্ষাত করেন।
তারা মুসলমানদের বিভিন্ন দাবী দাওয়া বড়লাটের নিকট পেশ করে। এটিই সিমলা ডেপুটেশন নামে পরিচিত।
অন্যদিকে,
- মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন : ১৯০৯ সাল
- অসহযোগ আন্দোলন : ১৯২১ সাল
- ভারত ছাড় আন্দোলন : ১৯৪২ সাল।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৫০৪.
কত খ্রিস্টাব্দে দিনেমারগণ উপমহাদেশে বাণিজ্য করার জন্য ‘দিনেমার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ গঠন করে?
  1. ১৬১৬ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৬১৭ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৬১৮ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৬১৯ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৬১৬ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬১৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• দিনেমার:
→ ডেনমার্কের অধিবাসীদের দিনেমার বলা হয়।
১৬১৬ খ্রিস্টাব্দে দিনেমারগণ উপমহাদেশে বাণিজ্য করার জন্য ‘দিনেমার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ গঠন করে এবং দক্ষিণ ভারতের ত্রিবাঙ্কুরে ও কলকাতার শ্রীরামপুরে তাদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
→ অবশেষে দিনেমারগণ কোনো প্রকার বাণিজ্যিক সফলতা ছাড়াই এদেশ থেকে চিরতরে বিদায় নেয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৫.
দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রবক্তা কে ছিলেন?
  1. জুলফিকার আলী ভুট্টো 
  2. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. গোলাম মোহাম্মদ 
  4. আইয়ুব খান 
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা

দ্বিজাতি তত্ত্ব:
- জাতিতত্ত্বের বিশ্লেষণে একটি জনগোষ্ঠীকে তখনই জাতি বলা যায়, যার ভাষা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, মনন, কৃষ্টি, ধর্ম এমনকি অর্থনীতি একটি একক সত্তায় পরিণতি লাভ করে।
- মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ভারতের হিন্দু ও মুসলমান এ দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে দুটি পৃথক জাতি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।
- দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রবক্তা ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
- তিনি ১৯৪০ সালে পাকিস্তান আন্দোলনের মূল ভিত্তি হিসেবে এই তত্ত্বটি প্রস্তাব করেন।
- দ্বিজাতি তত্ত্ব অনুযায়ী, ভারতীয হিন্দু এবং মুসলিম সমাজ দুটি আলাদা জাতি, যার সাংস্কৃতিক, সামাজিক, ধর্মীয়, এবং ঐতিহাসিক পার্থক্য রয়েছে।
- তিনি মনে করতেন যে, হিন্দু ও মুসলিমরা একত্রে একটি সাধারণ রাষ্ট্রের অধীনে বাস করতে সক্ষম নয়, কারণ তাদের মধ্যে মৌলিকভাবে ভিন্ন জাতিগত পরিচয় রয়েছে।
- জিন্নাহর মতে, মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্রের প্রয়োজন ছিল, যেখানে তারা নিজেদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা বজায় রাখতে পারবে।

⇒ ১৯৩৯ সালে জিন্নাহ্ তাঁর 'দ্বিজাতি তত্ত্ব' ঘোষণা করেন।
- পরবর্তী বছর লাহোরে মুসলিম লীগের ঘোষণায় এরই প্রতিধ্বনি পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
- ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের ২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্।
- এ অধিবেশনেই বাংলার নেতা ও প্রধানমন্ত্রী এ.কে. ফজলুল হক বিখ্যাত লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- এতে বলা হয় যে, কোনো শাসনতান্ত্রিক পরিকল্পনা এদেশে কার্যকর বা মুসলমানদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না যদি একটি নিম্নবর্ণিত মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত না হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০৬.
বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. ক্যাপ্টেন এলিস
  2. মেজর এডামস
  3. লর্ড ক্লাইভ
  4. মেজর মনরো
সঠিক উত্তর:
মেজর মনরো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেজর মনরো
ব্যাখ্যা
বক্সারের যুদ্ধ:
-  ১৭৬৩ খ্রিস্টাব্দে কোলকাতা কাউন্সিল নবাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। মেজর এডামসের নেতৃত্বে প্রেরিত ইংরেজ বাহিনীর কাছে গিরিয়া, কাটোয়া ও উদয়নালার যুদ্ধে নবাব শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন।
- ১৭৬৪ সালে বিহারের বক্সার নামক স্থানে সম্মিলিত বাহিনীর সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের নেতৃত্ব দেন- মেজর মনরো।
- এই যুদ্ধে ইংরেজদের নিকট মীর কাশিমের সম্মিলিত বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।
- বক্সারের যুদ্ধকে পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজদের নিকট হারানো বাংলার স্বাধীনতাকে পুনরুদ্ধারের শেষ প্রচেষ্টা বিবেচনা করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন - লর্ড ক্লাইভ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৭.
বন্দুকের গুলি ছুড়ে সিপাহি বিদ্রোহের সূচনা কে করেন?
  1. ক) বাহাদুর শাহ
  2. খ) নানা সাহেব
  3. গ) মঙ্গল পান্ডে
  4. ঘ) সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি
সঠিক উত্তর:
গ) মঙ্গল পান্ডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মঙ্গল পান্ডে
ব্যাখ্যা
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কতৃক শোষণ, নিপীড়ন ও সৈনিকদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের পেক্ষাপটে সিপাহিদের নেতৃত্বে সশস্ত্র বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ বন্দুকের গুলি ছুড়ে বিদ্রোহের সূচনা করেন মঙ্গল পাণ্ডে নামে এক সিপাহি।
- দ্রুতই এই বিদ্রোহটি  ভারতে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী এই বিদ্রোহে শামিল ছিল।
- এই যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন নানা সাহেব, ঝাঁসির রানি লক্ষ্ণীবাঈ, আযোদ্ধার বেগম হজরত মহল, মৌলভি আহমদ উল্লাহসহ ক্ষুব্ধ বঞ্চিত দেশীয় রাজন্যবর্গ। ১৮৫৮ সালের জুলাইয়ের মধ্যে সব আন্দোলন শেষ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৫০৮.
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন কোথায় পাশ হয়? 
  1. রাউন্ড টেবিল কনফারেন্সে
  2. ভারতীয় পার্লামেন্টে
  3. সাইমন কমিশনে
  4. ব্রিটিশ পার্লামেন্টে
সঠিক উত্তর:
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে
ব্যাখ্যা

- ১৯৩৫ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নতুন ভারত শাসন আইন পাশ হয়।

ভারত শাসন আইন:

- ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন ভারতীয়দের রাজনৈতিক আশা-আকাংখা পূরণে ব্যর্থ হয়।
- ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী ১০ বছর পর ভারতের সাংবিধানিক অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য একটি বিধিবদ্ধ কমিশন গঠনের কথা ছিল।
- এমতাবস্থায় ব্রিটিশ সরকার ১৯২৭ সালে স্যার জন সাইমনের নেতৃত্বে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিশন গঠন করে।
- যা সাইমন কমিশন নামে পরিচিত। 
- ১৯২৮ সালে কংগ্রেস নিজেই মতিলাল নেহেরুকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করে।
- এই কমিটি যে রিপোর্ট প্রকাশ করে, তা 'নেহেরু রিপোর্ট' নামে পরিচিত।
- এ রিপোর্টে মুসলমানদের দাবী-দাওয়া পূরণ না হওয়ায় মুসলিম নেতৃবৃন্দ তা বর্জন করেন।
- নেহেরু রিপোর্টের প্রতিবাদে ১৯২৯ সালে মুসলিম লীগের পক্ষ থেকে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ তাঁর চৌদ্দ দফা দাবি পেশ করেন।
- ১৯৩০ সালে শুরু হয়ে তিন দফায় ১৯৩২ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।
- ভারতীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতার সম্ভাবনা না দেখে ১৯৩২ সালের ১৭ আগস্ট ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী রামজে ম্যাকডোনাল্ড একটি সমাধান প্রদান করেন।
- এতে তিনি আইনসভায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি বণ্টনসহ ভারতের জন্য একটি ভবিষ্যত সংবিধানের রূপরেখা প্রণয়ন করেন।
- এটি ম্যাকডোনাল্ডের 'সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ' নামে পরিচিত।
- এই ধারাবাহিকতাতে ১৯৩৫ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নতুন ভারত শাসন আইন পাশ হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০৯.
স্বদেশী আন্দোলনের তাৎপর্য কী ছিল?
  1. দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক চেতনা
  2. ব্রিটিশদের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা
  3. হিন্দু-মুসলমান বিরোধ নিষ্পত্তি
  4. সাম্প্রদায়িকতার উন্মেষ
সঠিক উত্তর:
দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক চেতনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক চেতনা
ব্যাখ্যা
স্বদেশী আন্দোলনের তাৎপর্য ছিল দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক চেতনা।

স্বদেশী আন্দোলন:

- স্বদেশী আন্দোলন ছিলো একটি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন।
- ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ সরকার বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করে যা ‘বঙ্গভঙ্গ’ নামে পরিচিত।
- কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুরা এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে।
- বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতার অংশ হিসেবে ১৯০৫ সালে স্বদেশী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।
- তাছাড়া এ আন্দোলন শুরুতে তরুণদের দেশপ্রেম, ঔপনিবেশিক শক্তিবিরোধী শাড়িপূর্ণ নিষ্ঠা ও আদর্শ নিয়ে শুরু হলেও ক্রমে তা থেকে চরম ও সশস্ত্র ধারার ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের জন্ম নেয়।
- ফলে ব্রিটিশ শক্তি শেষ পর্যন্ত বঙ্গভঙ্গ বাতিল করতে বাধ্য হয়।

⇒ স্বদেশী আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিলেতি পণ্য বর্জন।
- পরে বিলেতি শিক্ষা বর্জনও এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়।
- কংগ্রেস নেতারা গ্রামে-গঞ্জে-শহরে প্রকাশ্য সভায় বিলেতি পণ্য পুড়িয়ে ফেলে।
- সঙ্গে সঙ্গে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে উঠে বাংলার নিজস্ব তাঁতবস্ত্র, সাবান, লবণ, চিনি ও চামড়ার দ্রব্য তৈরির কারখানা।
- অপর দিকে বিলেতি শিক্ষা বর্জন এবং আন্দোলনের সাথে যুক্তদের বিভিন্ন সরকারি স্কুল-কলেজ থেকে বের করে দেওয়ার ফলে প্রয়োজনে গড়ে উঠে জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
- এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলা ভাষায় বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধকারী শ্রেষ্ঠ দেশাত্মবোধক গানগুলো রচনা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এবং রজণীকান্ত সেন প্রমুখ।
- আমাদের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি' গানটি রবীন্দ্রনাথ ঐ সময় রচনা করেন।
- তবে মুসলমানরা বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ছিলো, তাই তারা স্বদেশী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়নি।
- যার কারণে স্বদেশী আন্দোলনের ফলে বাংলার হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের অবনতি হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১০.
কত সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার দেওয়ানি লাভ করে?
  1. ১৭৬০ সালে
  2. ১৭৬১ সালে
  3. ১৭৬৪ সালে
  4. ১৭৬৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৬৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৬৫ সালে
ব্যাখ্যা
কোম্পানির দেওয়ানি লাভ: 
- ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার দেওয়ানি লাভ করে।
- ১৭৬৫ সালে মীর জাফরের মৃত্যুর পর তার পুত্র নাজিম-উদ-দৌলাকে শর্তসাপেক্ষে বাংলার সিংহাসনে বসানো হয়।
- শর্ত থাকে যে, তিনি তার পিতার মতো ইংরেজদের নিজস্ব পুরাতন দস্তক অনুযায়ী বিনা শুল্কে অবাধ বাণিজ্য করতে দেবেন এবং দেশীয় বণিকদের অবাধ বাণিজ্যের সুবিধা বাতিল করবেন।
- এ সময়ে ইংরেজ কোম্পানি মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলার রাজস্ব বা খাজনা ও কর আদায়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব অর্থাৎ দেওয়ানি লাভ করে।
- ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের পর ইংরেজরাই বাংলার সত্যিকার শাসকরূপে আত্মপ্রকাশ করে

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫১১.
লর্ড ডালহৌসি প্রবর্তিত 'স্বত্ববিলোপ নীতি'র মাধ্যমে প্রথম কোন রাজ্যটি ব্রিটিশরা দখল করে?
  1. অযোধ্যা
  2. নাগপুর
  3. সাতারা
  4. ঝাঁসি
সঠিক উত্তর:
সাতারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাতারা
ব্যাখ্যা

- লর্ড ডালহৌসি প্রবর্তিত 'স্বত্ববিলোপ নীতি' (Doctrine of Lapse) অনুসারে ব্রিটিশরা প্রথম যে রাজ্যটি দখল করে সাতারা।
- ১৮৪৮ সালে, যখন সেখানকার রাজা কোনো বৈধ পুরুষ উত্তরাধিকারী না রেখে মারা যান। এটি ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য ডালহৌসির একটি প্রধান কৌশল, যার মাধ্যমে একাধিক রাজ্য ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। 

• স্বত্ববিলোপ নীতির প্রয়োগ:

- স্বত্ববিলোপ নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করে ডালহৌসী প্রথমেই ব্রিটিশ প্রভাবাধীন সাতারা রাজ্যটি দখল করেন ১৮৪৮ খ্রিঃ,
- এরপর ১৮৫৩ সালে নাগপুরের রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে তাঁর রাজ্যটি গ্রাস করা হয়, এক্ষেত্রে ডালহৌসীর যুক্তি ছিল যে, নাগপুর রাজ্যটি নাকি ইংরেজরাই সৃষ্টি করেছিল।
- ঝাঁসির রাজা গঙ্গাধর রাও-এর প্রয়াণ হলে ডালহৌসী তাঁর দত্তক পুত্রকে মেনে নিতে রাজি হলেন না এবং ঝাঁসির রানির মতামতকে উপেক্ষা করেই ঝাঁসি রাজ্যটি দখল করা হল।
এছাড়া ভগৎপুর, করৌলী, সম্বলপুর, উদয়পুর, বাগৎ প্রভৃতি রাজ্যগুলি একই কারণে গ্রাস করা হয়, যদিও উদয়পুর কোম্পানির সৃষ্ট দেশীয় রাজ্য ছিল না।

উৎস: দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস ১ম পত্র বই, বাংলাপিডিয়া।

৫১২.
বাঙালি ব্রিটিশ-বিরোধী বিপ্লবী নেতা “বাঘা যতীন” কোন অঞ্চল থেকে বিপ্লবী হয়ে ওঠেন?
  1. মেদিনীপুর
  2. কুষ্টিয়া
  3. ফরিদ পুর
  4. চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
কুষ্টিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুষ্টিয়া
ব্যাখ্যা

যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (৭ ডিসেম্বর ১৮৭৯ – ১০ সেপ্টেম্বর ১৯১৫) ছিলেন একজন বাঙালি ব্রিটিশ-বিরোধী বিপ্লবী নেতা।
- তিনি বাঘা যতীন নামেই সকলের কাছে সমধিক পরিচিত।
- ভারতে ব্রিটিশ-বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন।
- বাঘা যতীন ছিলেন বাংলার প্রধান বিপ্লবী সংগঠন যুগান্তর দলের প্রধান নেতা।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্বে কলকাতায় জার্মান যুবরাজের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করে তিনি জার্মানি থেকে অস্ত্র ও রসদের প্রতিশ্রুতি অর্জন করেছিলেন।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে 'জার্মান প্লট' তারই মস্তিষ্কপ্রসূত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৫১৩.
ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে সর্বপ্রথম বণিজ্য করার উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষে প্রথম আগমন করে-
  1. পর্তুগিজ
  2. ওলন্দাজ
  3. ইংরেজ
  4. ফরাসি
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
• পর্তুগিজ:
- পর্তুগিজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে এদেশে আসেন, তাঁর নাম ভাস্কো-ডা-গামা। তিনি ১৪৯৮
- সালের ২৭শে মে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন।
- উপমহাদেশে তাঁর এ আগমন ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
- পর্তুগিজরা ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে এদেশে আসে কিন্তু ক্রমে তারা সাম্রাজ্য বিস্তারের দিকে মনোনিবেশ করে।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে তারা উপমহাদেশের পশ্চিম উপকূলের কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি বন্দরে কুঠি স্থাপন করতে সক্ষম হয়।
- ১৫৩৮ সালে তারা চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে বাণিজ্যঘাঁটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে।
- ১৫৭৯ সালে হুগলী নামক স্থানে তারা উপনিবেশ গড়ে তোলে।
- এরপর তারা উড়িষ্যা এবং বাংলার কিছু অঞ্চলে বসতি সম্প্রসারণ করতে সক্ষম হয়।
- বাংলাসহ ভারতীয় উপমহাদেশে বিভিন্ন অংশে বাণিজ্য কুঠি নির্মাণের ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা থাকলেও পর্তুগিজদের বিভিন্ন অপকর্ম ও দস্যুতার কারণে বাংলার সুবাদার শায়েস্তা খান তাদের
- চট্টগ্রাম ও সন্দীপের ঘাঁটি দখল করে বাংলা থেকে বিতাড়ন করেন। তাছাড়া পর্তুগিজরা বাংলায় আগত অন্যান্য
- ইউরোপীয় শক্তির সঙ্গেও পরাজিত হয়। এরপর তারা দেশ ত্যাগ করে।

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫১৪.
রবার্ট ক্লাইভ কত সালে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন?
  1. ১৭৬২ সালে
  2. ১৭৬৩ সালে
  3. ১৭৬৫ সালে
  4. ১৭৬৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৬৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৬৫ সালে
ব্যাখ্যা
দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা:
- ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- দ্বৈতশাসন অনুসারে রাজস্ব প্রশাসন ও দেশ রক্ষার ভার থাকে কোম্পানির হাতে এবং নিয়ামত বা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পিত হয় নবাবের হাতে।
- দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে।
- অবাধ লুণ্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়ে যায়।
- নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হন।
- সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।

⇒ এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫১৫.
গণতন্ত্রের মানসপুত্র বলা হয় -
  1. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. এ কে ফজলুল হক
  4. সৈয়দ আমীর আলী
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
• হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী:
- পাকিস্তানে গণতন্ত্র ও শিক্ষিত মানুষের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
- বাংলাদেশের তিনি ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র' নামেই পরিচিত।
- রাজনীতিতে মানবিক মূল্যবোধ ও মেধার গুরুত্ব বিবেচনায় তিনি কোন আপোস করেন নি।
- দেশপ্রেম, মানব-কল্যাণ ও গণতন্ত্রের একনিষ্ঠ সাধক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এ দেশের রাজনীতিতে ধ্রুবতারার জ্যোতি নিয়ে বিরাজ করতে থাকবেন।

উৎস: সিভিক এডুকেশন-২, বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১৬.
অধীনতামূলক মিত্রতানীতি প্রবর্তন করেন কে?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড ওয়েলেসলি
  3. লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. লর্ড বেন্টিং
সঠিক উত্তর:
লর্ড ওয়েলেসলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ওয়েলেসলি
ব্যাখ্যা
⇒ অধীনতামূলক মিত্রতানীতি প্রবর্তন করেন লর্ড ওয়েলেসলি।

লর্ড ওয়েলেসলির সময়ে শাসন ব্যবস্থা:
- ১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড ওয়েলেসলি কোম্পানির গভর্নর হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করেন।
- তিনি রাজ্য শাসনের পরিবর্তে রাজ্য বিস্তারের দিকেই বেশি আগ্রহী ছিলেন।
- রাজ্যের শাসন ব্যবস্থায় তাঁর অবদান নিতান্তই সামান্য। সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব থাকা সত্ত্বেও তিনি বেশকিছু সংস্কার করে গেছেন।
- তিনি ইংরেজ অধিকৃত স্থানে জমি জরিপ করার জন্য ড. ফ্রান্সিস বুকাননকে নিযুক্ত করেন।
- তিনি এদেশের কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন।
- ওয়েলেসলি বিচার ব্যবস্থার বেশকিছু সংস্কার করেন।
- লর্ড ওয়েলেসলি ভারতবর্ষে নবাগত ইংরেজ কর্মচারিদের শিক্ষার জন্য কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে একটি কলেজ স্থাপন করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১৭.
কোন দেশের অধিবাসীদের 'ডাচ' বা ওলন্দাজ বলা হয়?
  1.  ইংল্যান্ডের
  2. হল্যান্ডের
  3. বেলজিয়ামের
  4. স্পেনের
সঠিক উত্তর:
হল্যান্ডের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হল্যান্ডের
ব্যাখ্যা

ওলন্দাজ বা ডাচ:
- হল্যান্ডের অধিবাসীদের ওলন্দাজ বা ডাচ বলা হয়।
- ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজরা জলপথে উপমহাদেশে আসে।
- প্রাচ্য বাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে হল্যান্ডের একদল বণিক 'ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে।
- তারা কালিকট, নাগাপট্টম, বাংলার চুঁচুড়া ও বাঁকুড়ায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- এছাড়া বালেশ্বর, কাশিমবাজার এবং বরানগরেও তাদের কুঠি ছিল।
- প্রথমে ওলন্দাজগণ ইংরেজদের সাথে রেশমী সূতা, সুতি কাপড় চাল, ডাল সোরা ও তামাক এদেশ থেকে রপ্তানি করত এবং অন্যদেশ থেকে এদেশে মসলা আমদানি করত।
- ইংরেজদের সাথে তাদের যে বাণিজ্য চুক্তি হয় তা দু'বছরের মধ্যে ভেঙ্গে গিয়ে বিরোধ দেখা দেয়।
- অন্যদিকে বাংলার শাসনকর্তাদের সাথেও তাদের প্রবল বিরোধ দেখা দেয়।
- এ বিরোধ বেশি বেড়ে গেলে ইংরেজগণ ওলন্দাজ কুঠিগুলো দখল করে ফেলে।
- আর এভাবে ওলন্দাজদের বাণিজ্যিক সুবিধা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং তাঁরা উপমহাদেশ ছেড়ে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় চলে যায়।
- সেখানে তাঁরা উপনিবেশ স্থাপন করে।
- ফলে এদেশে ইংরেজদের শক্তি বেড়ে যায়।
- বর্তমান ইন্দোনেশিয়া ওলন্দাজদের কাছ থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫১৮.
ব্রিটিশ আমলে কোন আন্দোলন হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের অবনতি হওয়ার জন্য দায়ী?
  1. ক) ভারত ছাড় আন্দোলন
  2. খ) স্বদেশী আন্দোলন
  3. গ) ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন
  4. ঘ) অসহযোগ আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
খ) স্বদেশী আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্বদেশী আন্দোলন
ব্যাখ্যা
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের উগ্রপন্থিদের নেতৃত্বে যে বয়কট আন্দোলন সংগঠিত হয় তা স্বদেশী আন্দোলন নামে পরিচিত। এই আন্দোলনের মূল বিষয় ছিলো ইংরেজদের সবকিছু বয়কট ও স্বদেশী সবকিছুর ব্যবহার।
- বাংলার মুসলমানরা বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ছিলো, তাই তারা স্বদেশী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়নি বরং এর বিরোধিতা করে। যার কারণে এই আন্দোলনের ফলে বাংলার হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের অবনতি হয়।
- বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের অবনতির যে সূচনা হয়, স্বদেশী আন্দোলনের ফলে তা আরো তিক্ত হয়। যার চূড়ান্ত পরিণতিতে ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয়।

(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫১৯.
'একজাতি একরাষ্ট্র' কোন তত্ত্বের মূলমন্ত্র?
  1. ক) কৃষকপ্রজা তত্ত্ব
  2. খ) স্বদেশি তত্ত্ব
  3. গ) দ্বিজাতি তত্ত্ব
  4. ঘ) প্রজাস্বত্ব
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিজাতি তত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিজাতি তত্ত্ব
ব্যাখ্যা

- দ্বিজাতি তত্ত্বের মূলমন্ত্র একজাতি একরাষ্ট্র।
- হিন্দু ও মুসলিম জনগণ দুটি পৃথক ধর্মীয় দর্শন, সামাজিক আচার-আচরণ এবং সাহিত্যের অধিকারী।
- মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দাবি করেন যে, ''ভারতের হিন্দু ও মুসলমানরা দুটি পৃথক জাতি। ভারতের মুসলমানরা একটি পৃথক জাতি। তাই তাদের প্রয়োজন একটি পৃথক আবাসভূমি ও রাষ্ট্রের।'' তাই একটি জাতির জন্য একটি রাষ্ট্র দরকার।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫২০.
এডমন্ড বার্ক কাকে মানবজাতির শত্রু বলে অভিহিত করেন?
  1. ক) ওয়ারেন হেস্টিংসকে
  2. খ) লর্ড ওয়েলেসলিকে
  3. গ) লর্ড কর্ণওয়ালিসকে
  4. ঘ) লর্ড ডালহৌসিকে
সঠিক উত্তর:
ক) ওয়ারেন হেস্টিংসকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ওয়ারেন হেস্টিংসকে
ব্যাখ্যা

- এডমন্ড বার্ক মানবজাতির শত্রু বলে অভিহিত করেন ওয়ারেন হেস্টিংসকে।
- এডমন্ড বার্ক ভারতে দুঃশাসনের জন্য হেস্টিংসকে দায়ী করেন।
- ১৭৮৬ সালে বার্ক কমন্স সভায় হেস্টিংসের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবও আনয়ন করেন।
- তবে, ঐতিহাসিকগণ বার্ক কর্তৃক হেস্টিংসের এরকম বর্ণনায় পুরোপুরি একমত নন।

৫২১.
ইংরেজরা কত বছর ভারতবর্ষ শাসন করে?
  1. দুইশ বছর
  2. তিনশ বছর
  3. চারশ বছর
  4. একশ বছর
সঠিক উত্তর:
দুইশ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুইশ বছর
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ শাসন:
- ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশীর যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের সূত্রপাত হয়।
- তারপর থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত প্রায় দুইশ বছর ইংরেজরা ভারতীয় উপমহাদেশ শাসন করে।

উৎস:  নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা।
৫২২.
ভারতে গঠিত সর্বপ্রথম সমাজতান্ত্রিক দল -
  1. ক) কংগ্রেস
  2. খ) কমিউনিস্ট পার্টি
  3. গ) নিখিল বঙ্গ প্রজা পার্টি
  4. ঘ) কৃষক প্রজা পার্টি
সঠিক উত্তর:
খ) কমিউনিস্ট পার্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কমিউনিস্ট পার্টি
ব্যাখ্যা
ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম দিকের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে,
- ১৮৮৫ সালে বৃটিশ ভারতে কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।

সর্বপ্রথম সমাজতান্ত্রিক দল ছিল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি। ১৯২৫ সালে এ সংগঠনটি গঠিত হয়।

উৎস: Live MCQ লেকচার।
৫২৩.
বঙ্গভঙ্গের পরেই ঢাকায় কি নির্মিত হয়?
  1. ক) সুরম্য অট্টালিকা
  2. খ) কার্জন হল
  3. গ) হাইকোর্ট
  4. ঘ) এর সবগুলিই
সঠিক উত্তর:
ঘ) এর সবগুলিই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এর সবগুলিই
ব্যাখ্যা
- ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ১৬ অক্টোবর বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করেন।

অপরদিকে -
- কার্জন হল কোন সালে নির্মিত হয় - ১৯০৮ সালে।
- হাইকোর্ট ভবন, পুরাতন ঔপনিবেশিক আমলে ঢাকায় নির্মিত একটি ভবন। এটি রমনা গ্রীনের প্রান্ত ঘেঁষে সুদৃশ্য কার্জন হলের বিপরীতে কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউতে অবস্থিত। বঙ্গভঙ্গ-এর (১৯০৫) পর নব প্রতিষ্ঠিত পূর্ববাংলা ও আসাম প্রদেশের গভর্নরের সরকারি বাসভবন হিসেবে জমকালো দ্বিতল ভবনের পরিকল্পনা করা হয়।
- সুরম্য অট্টালিকাও বঙ্গভঙ্গের পরেই নির্মিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫২৪.
লর্ড মাউন্টব্যাটেনের ভাইসরয় হিসেবে কোন সিদ্ধান্ত ছিল সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য?
  1. ভারতীয় রেল ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা
  2. উপমহাদেশের পুলিশ বাহিনী সংস্কার
  3. উপমহাদেশের বিভক্তি এবং ক্ষমতা হস্তান্তর
  4. ভারতীয় ডাক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
উপমহাদেশের বিভক্তি এবং ক্ষমতা হস্তান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমহাদেশের বিভক্তি এবং ক্ষমতা হস্তান্তর
ব্যাখ্যা
লর্ড মাউন্টব্যাটেন:
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় ছিলেন।
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় ছিলেন।
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।
- এই পদে আসীন থাকাকালে (১৯৪৭-এর আগস্ট থেকে ১৯৪৮-এর জুন পর্যন্ত) তিনি ভারতীয় রাজন্যবর্গকে হয় ভারতীয় ইউনিয়ন, না হয় পাকিস্তানের সঙ্গে একীভূত হতে উদ্বুদ্ধ করেন।

⇒ ভাইসরয় হিসেবে তাঁর কার্যকাল সংক্ষিপ্ত হলেও এই সময়ে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
- সেসব সিদ্ধান্তের মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য হচ্ছে উপমহাদেশের বিভক্তি এবং ভারত ও পাকিস্তানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর।
- তিনি স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।
- এই পদে আসীন থাকাকালে (১৯৪৭-এর আগস্ট থেকে ১৯৪৮-এর জুন পর্যন্ত) তিনি ভারতীয় রাজন্যবর্গকে হয় ভারতীয় ইউনিয়ন, না হয় পাকিস্তানের সঙ্গে একীভূত হতে উদ্বুদ্ধ করেন।

উল্লেখ্য,
- তিনি ১৯৭৯ সালের ২৭ আগস্ট আয়ারল্যান্ডের অদূরে ডোনেগাল বে-তে তাঁর নৌযানে এক বিস্ফোরণে নিহত হন।

অন্যদিকে
- ভারতীয় রেল ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা করেন লর্ড ডালহৌসি।
- উপমহাদেশের পুলিশ বাহিনী সংস্কারের ক্ষেত্রে লর্ড ক্যানিং-এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৮৬১ সালে তিনি পুলিশ আইন প্রণয়ন করেন।
- ভারতীয় ডাক ব্যবস্থার সূচনা করেন ওয়ারেন হেস্টিংস। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) Britannica.
৫২৫.
নবাব সিরাজউদ্দৌলা কত বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহন করেন?
  1. ২০ বছর
  2. ২১ বছর
  3. ২৩ বছর
  4. ২৪ বছর
সঠিক উত্তর:
২৩ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ বছর
ব্যাখ্যা
নবাব সিরাজউদ্দৌলা:
সিরাজউদ্দৌলা ২৩ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন।
- পলাশী যুদ্ধের কারণ ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলার নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যু হলে তার প্রিয় দৌহিত্র সিরাজউদ্দৌলা ২৩ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন।
- এসময় তাকে নানামুখি ষড়যন্ত্র ও সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়। এর মধ্যে একটি পরিবারিক ষড়যন্ত্র।
- যা নবাব কৌশলে দমন করতে সক্ষম হন।
- কিন্তু পরিবারের বাইরেও ষড়যন্ত্রের আরেক জাল বিস্তৃত হতে থাকে।
- এর সঙ্গে জড়িত হয় দেশি-বিদেশি বণিক শ্রেণি,
- নবাবের দরবারের প্রভাবশালী রাজন্যবর্গ ও অভিজাত শ্রেণি,
- নবাবের সেনাপতি মীর জাফরসহ আরো অনেকে।
- এই ষড়যন্ত্রকারীরা পলাশী যুদ্ধের পটভূমি তৈরি করতে থাকে।

এছাড়াও,
- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাবের সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিন ফ্রে।
- জেতার সবধরণের সুযোগ সুবিধা এবং এদের প্রাণপাত লড়াইয়ের পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- এ যদ্ধ পলাশীর  যুদ্ধ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (৯ম-১০ম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।[Link]
৫২৬.
‘স্বত্ববিলোপ নীতি’ আরোপ করে লর্ড ডালহৌসি কোন রাজ্যটি অধিকার করেন?
  1. অযোধ্যা ও পাঞ্জাব
  2. পাঞ্জাব ও হায়দ্রাবাদ
  3. নাগপুর ও ঝাঁসি
  4. হায়দ্রাবাদ ও অযোধ্যা
সঠিক উত্তর:
নাগপুর ও ঝাঁসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাগপুর ও ঝাঁসি
ব্যাখ্যা
লর্ড ডালহৌসি:
- স্বত্ববিলোপ নীতি আরোপ করে লর্ড ডালহৌসি নাগপুর ও ঝাঁসি অধিকার করেন।
- স্বত্ববিলোপ নীতি বা ডক্ট্রিন অব ল্যাপ্স হলো ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দ্বারা আরোপিত ভারতীয় রাজ্য আত্মসাৎ করার নীতি ৷
- ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দ অবধি এই নীতি কার্যকর ছিল ৷
- লটারি উপমহাদেশের প্রথম টেলিগ্রাফ লাইন স্থাপন করেন ১৮৫০ সালে।
- বাংলাদেশের প্রথম রেললাইন স্থাপন করেন ১৮৬২ সালে।
- ডাকটিকিট চালু করেন ১৮৫৪ সালে।
- বিধবা বিবাহ আইন প্রণয়ন করেন ১৮৫৬ সালে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৫২৭.
বঙ্গভঙ্গের ফলে কোন প্রদেশকে বিভক্ত করা হয়?
  1. ক) আসাম ও ত্রিপুরা
  2. খ) পূর্ব বাংলা ও আসাম
  3. গ) আসাম ও পাঞ্জাব
  4. ঘ) বাংলা প্রেসিডেন্সি
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাংলা প্রেসিডেন্সি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাংলা প্রেসিডেন্সি
ব্যাখ্যা
- ১৯০৫ সালের পূর্বে 'বাংলা প্রেসিডেন্সি' ছিল ভারতের সর্ববৃহৎ প্রদেশ। ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা প্রদান করা হয় এবং ১৫ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হয়।
- ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং আসাম নিয়ে গঠিত হয় 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' প্রদেশ। এ প্রদেশের রাজধানী স্থাপিত হয় ঢাকায়।
- পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ। এ প্রদেশের রাজধানী হয় কলকাতা।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫২৮.
এলাহাবাদ চুক্তির ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কোন অঞ্চলের দিউয়ানি লাভ করেছিল?
  1. উড়িষ্যা
  2. বাংলা
  3. বিহার
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
এলাহাবাদ চুক্তি ও বাংলার ক্ষমতা দখল:
- এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৭৬৫ সালে।
- রবার্ট ক্লাইভ ও মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম-এর মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এই চুক্তির ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করেছিল।
- সম্রাট শাহ আলমকে কোম্পানি প্রতি বছর ২৬ লক্ষ টাকা দান করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
- এই চুক্তির ফলে রাজস্ব আদায় ও দেশ রক্ষার ভার ছিল কোম্পানির উপর, অন্যদিকে নিজামত তথা বিচার ও প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব বর্তায় নবাবের উপর।

⇒ কোম্পানির সরাসরি দিউয়ানির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য যে অর্থ ও লোকবল প্রয়োজন তা যেমন ছিলনা, তেমনি এদেশীয় ভাষা ও আইন কানুন সম্পর্কে কোম্পানির কর্মচারীদের জ্ঞানও ছিল না।
- তাই রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব সরাসরি গ্রহণ তাদের জন্য সম্ভব ছিল না।
- এ সকল দিক চিন্তা করেই তারা দ্বৈত শাসন নীতি প্রবর্তন করা হয়েছিল।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২৯.
ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ কোথায় সংঘটিত হয়?
  1. চট্টগ্রাম
  2. সিরাজগঞ্জ
  3. সিলেট
  4. দিনাজপুর
সঠিক উত্তর:
সিরাজগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরাজগঞ্জ
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ সিরাজগঞ্জ-এ সংঘটিত হয়। 

সলঙ্গা বিদ্রোহ:
- মূলত জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা থেকে সূত্রপাত হয় ভারতবর্ষে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের।
- জালিয়ানওয়ালাবাগের পথ ধরে ব্রিটিশ বেনিয়াদের নৃশংসতার আরেক রক্তাক্ত অধ্যায় রচিত হয় সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায়।
- ১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি তরুণ নেতা মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ এর নেতৃত্বে তৎকালীন পাবনা জেলার সিরাজগঞ্জ মহকুমার সলঙ্গা হাটে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সূচনা ঘটে।

- আন্দোলনরত জনতার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে ব্রিটিশ পুলিশ, নিহত হন কয়েক শ মানুষ।
- নিহতদের ব্রিটিশ পুলিশ সিরাজগঞ্জের রহমতগঞ্জে গণকবর দেয়।

⇒ বিদেশি পণ্য বর্জন ও স্বদেশি পণ্য ব্যবহার করার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের সলঙ্গা হাটে গণহত্যা সংঘটিত হয়।
- মূলত জালিয়ান ওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা থেকে সূত্রপাত হয় ভারতবর্ষে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের। জালিয়ান ওয়ালাবাগের পথ ধরে ব্রিটিশ বেনিয়াদের নৃশংসতার আরেক রক্তাক্ত অধ্যায় রচিত হয় সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায়।
- ২৭ জানুয়ারি ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস পালিত হয়। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো।
৫৩০.
কোন নাবিকের আগমনের পর পর্তুগিজরা উপমহাদেশে আসতে শুরু করে?
  1. আলভারেঞ্জ ক্যাব্রাল
  2. ম্যাজিলান
  3. ভাস্কো-দ্য-গামা
  4. আলবুকার্ক
সঠিক উত্তর:
ভাস্কো-দ্য-গামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাস্কো-দ্য-গামা
ব্যাখ্যা

উপমহাদেশে পর্তুগিজদের আগমন:
- বাণিজ্যকে মূলধন করে পর্তুগাল থেকে পর্তুগিজরা এ উপমহাদেশে আসলেও ক্রমে তাঁরা সাম্রাজ্য বিস্তারের স্বপ্ন দেখে।
- পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দ্য-গামার উপমহাদেশে আসার পরপরই পর্তুগিজরা এ দেশে আসতে শুরু করে।
- এরপর ১৪৮৭ খ্রিস্টাব্দে বার্থলমিউ দিয়াজ, আলভারেঞ্জ ক্যাব্রাল ও ১৫০৯ খ্রিস্টাব্দে আলবুকার্ক গোয়াতে আগমন করেন।
- আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
- কলম্বাস এবং ম্যাজিলানও বিখ্যাত পর্তুগিজ নাবিক ছিলেন।
- উপমহাদেশে আসার অল্পদিনের মধ্যেই তাঁরা এদেশের পশ্চিম উপকূলের কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি বন্দরে, সিংহলের নানাস্থানে এবং বাংলার হুগলী বন্দরে তাঁদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন।
- তাঁদের নৌ ও সেনাবাহিনী খুব শক্তিশালী ছিল।

⇒ পর্তুগিজরা বাংলাদেশের চট্টগ্রামেও বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে এবং কুঠিগুলোকে দুর্গে পরিণত করে।
- পর্তুগিজরাই প্রথম ইউরোপীয় যাঁরা ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য কাজে এদেশে সুদূরপ্রসারী ও স্থায়ী প্রভাব রেখে গেছে।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩১.
ভারতের মুসলিম জাগরণের প্রথম অগ্রদূত কে?
  1. ক) এ কে ফজলুল হক
  2. খ) নবাব সলিমুল্লা
  3. গ) আবুল কালাম আজাদ
  4. ঘ) স্যার সৈয়দ আহমদ খান
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্যার সৈয়দ আহমদ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্যার সৈয়দ আহমদ খান
ব্যাখ্যা
- স্যার সৈয়দ আহমদ খান কে মুসলিম জাগরনের অগ্রদূত বলা হয়।

- সৈয়দ আহমদ খান:
সৈয়দ আহমদ খান হাজী আহমদের দ্বিতীয় পুত্র সৈয়দ আহমদ খান নওয়াব  সরফরাজ খানের আমলে ঘোড়াঘাট ও রংপুরের নায়েব ফৌজদার ছিলেন।
উনিশ শতকের মধ্যভাগে স্যার সৈয়দ আহমদ খান উত্তর ভারতে আলীগড় আন্দোলন গড়ে তুলে।
- আলিগড় আন্দোলনের প্রবর্তক ছিলেন স্যার সৈয়দ আহমদ খান। পিছিয়ে পড়া মুসলমান সম্প্রদায়কে যুক্তিবাদী আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার জন্য উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে যে আন্দোলনের সূচনা করেন তা আলিগড় আন্দোলন নামে খ্যাত।
- ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে বিদ্রোহের পর অনগ্রসর মুসলিম সমাজে কিছু কিছু সংস্কারের প্রয়োজন অনুভূত হয়।
- হিন্দুদের তুলনায় অনগ্রসর পাশ্চাত্য শিক্ষায় উদাসীন মুসলিম সমাজের দুরবস্থার কথা সৈয়দ আহমদ অবগত ছিলেন।
- ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে পাশ্চাত্য শিক্ষাকে প্রগতির যথার্থ সোপান বলে মনে করতেন তিনি এজন্য মুসলমানদের মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রসারে উদ্যোগী হয়েছিলেন।
- তাই তাকে মুসলিম জাগরনের অগ্রদূত বলা হয়। 

সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ।
৫৩২.
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নেতা ছিলেন কে?
  1. দুদু মিয়া
  2. হাজী শরীয়তুল্লাহ
  3. চেরাগ আলী শাহ
  4. মীর নিসার আলী
সঠিক উত্তর:
চেরাগ আলী শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চেরাগ আলী শাহ
ব্যাখ্যা

ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ব্যাপ্তিকাল প্রায় ৪০ বছর (১৭৬০-১৮০০ খ্রিস্টাব্দে)।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গে ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু হয়।
- বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে।
- এ সব সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা অনেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুঠ করে।
- ফকির মজনু শাহর যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি।
- তিনি ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩৩.
১৯২০ সালে কার নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন পরিচালিত হয়?
  1. সুভাষচন্দ্র বসু
  2. শেরে বাংলা একে ফজলুল হক
  3. মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী
  4. সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী
সঠিক উত্তর:
মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী
ব্যাখ্যা
অসহযোগ আন্দোলন: 
- মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর নেতৃত্বে পরিচালিত অসহযোগ আন্দোলন ছিল ভারতের এক শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী আন্দোলন।
- ১৯২০ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রত্যক্ষ সংগ্রামের নীতি অনুসরণের সিদ্ধান্ত নেয়, যা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হয়।
- রাওলাট আইন, জালিয়ানওয়ালা বাগ হত্যাকান্ড ও পাঞ্জাবে সামরিক আইন যুদ্ধকালীন সময়ে ব্রিটিশদের প্রদত্ত উদার অঙ্গীকারকে মিথ্যা বলে প্রতিপন্ন করে।
- ক্ষতিকর বলে বিবেচিত দ্বৈত-শাসনের কর্ম-পরিকল্পনাসহ মন্টেগু চেমসফোর্ড রিপোর্ট খুব অল্পসংখ্যক লোককেই সন্তুষ্ট করতে পেরেছিল।
- এতদিন পর্যন্ত সরকারের ন্যায়পরায়ণতা ও নিরপেক্ষ বিচারে আস্থাশীল গান্ধী এখন উপলব্ধি করলেন যে, বাধ্য হয়েই সরকারের সঙ্গে অসহযোগ আরম্ভ করতে হবে।
- একই সময় মিত্র শক্তিবর্গ ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত সেভার্স চুক্তির কঠোর শর্তাবলি ভারতীয় মুসলমানদের ক্ষুব্ধ করে তোলে।
- মুসলমানগণ খিলাফত আন্দোলন শুরু করে এবং গান্ধী নিজেকে তাদের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যরূপে একাত্ম করার সিদ্ধান্ত নেন।
- ‘গান্ধীর উঁচুস্তরের রাজনৈতিক কৌশল’ ভারতে অসহযোগ আন্দোলনে মুসলমানদের সমর্থন লাভ নিশ্চিত করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৫৩৪.
বক্সারের যুদ্ধে কে পরাজিত হন?
  1. ক) মীর কাশিম
  2. খ) সুজাউদ্দৌলা
  3. গ) শাহ আলম
  4. ঘ) ফররুখশিয়ার
সঠিক উত্তর:
ক) মীর কাশিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মীর কাশিম
ব্যাখ্যা
অযোদ্ধার নবাব সুজাউদ্দৌলা ও মুঘল সম্রাট শাহ আলমের সহায়তায় গড়ে তোলা মীর কাশিমের সম্মিলিত বাহিনীর সাথে ১৭৬৪ খ্রিষ্টাব্দে বিহারের বক্সার নামক স্থানে ইংরেজ বাহিনীর যে যুদ্ধ সংঘটিত হয় তাই বক্সারের যুদ্ধ নামে খ্যাত। এ যুদ্ধে মীর কাশিম শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। [সূত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস প্রথম পত্র, অধ্যাপক মোঃ গোলাম মোস্তফা]
৫৩৫.
উপমহাদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষা চালু করেন কে?
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড বেন্টিঙ্ক
  3. রবার্ট ক্লাইভ
  4. লর্ড ডালহৌসি
সঠিক উত্তর:
লর্ড বেন্টিঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড বেন্টিঙ্ক
ব্যাখ্যা
শিক্ষা সংস্কার:

- ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। 
- বাংলা তথা উপমহাদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষা চালুর কৃতিত্ব লর্ড বেন্টিঙ্কের।
- ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দের চার্টার অনুযায়ী কোম্পানি শিক্ষার জন্য বছরে এক লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে।
- প্রথমে শুধু সংস্কৃত ও ফারসি ভাষায় শিক্ষা দান করা হতো।
- ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজি ভাষায় শিক্ষা দানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। 
- প্রতিষ্ঠিত হয় কোলকাতা মেডিকেল কলেজ, হুগলী কলেজ, ঢাকা কলেজ, কৃষ্ণনগর কলেজ, বহরমপুর কলেজ।
- প্রচলিত ভাষায় শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে আরবি, ফারসি, সংস্কৃত ভাষায় শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান ব্যবস্থাও চালু করা হয়।
- ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে চার্লস উডের শিক্ষা বিষয়ক নির্দেশ নামা (Education Despatch) প্রণয়ন করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৬.
বিধবা বিবাহ প্রচলনে কোন মনীষী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন?
  1. ক) রাজা রামমোহন রায়
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) স্বামী বিবেকানন্দ
সঠিক উত্তর:
খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
সাহিত্য সাধনার পাশাপাশি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সমাজ সংস্কারেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহ প্রচলন এবং বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধকরণে সংগ্রাম করেন।

তার প্রচেষ্টায় ১৮৫৬ সালে লর্ড ডালহৌসি বিধবা বিবাহ আইন পাস করেন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তার ছেলের বিয়ে দেন একজন বিধবা'র সাথে।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৫৩৭.
উপমহাদেশের অফিস আদালতে ফারসির বদলে ইংরেজি চালু হয় কত সালে?
  1. ১৮৩৫
  2. ১৮১৭
  3. ১৮২৪
  4. ১৮৩৭
সঠিক উত্তর:
১৮৩৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৩৭
ব্যাখ্যা

অফিস আদালতে ফারসির বদলে ইংরেজি চালু হয় ১৮৩৭ সালে।
- ইংরেজরা তাদের শাসন পাকাপোক্ত করার জন্য দেশের মধ্যে থেকে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত একটি অনুগত শ্রেণি তৈরিতে কোন যোগ দেয়।
- লর্ড বেন্টিঙ্ক এদেশে ইংরেজি শিক্ষার সম্প্রসারণ এর পক্ষে লর্ড মেকলে নামের একটি ইংরেজী শিক্ষা নীতির প্রস্তাব করেন।
- ১৮৩৫ সালে কলকাতা মেডিকেল কলেজ এবং বোম্বাই এলফিনস্টোন ইনস্টিটিউশন স্থাপিত করেন যার উচ্চ শিক্ষার মাধ্যম ছিল ইংরেজি।
- ১৮৪৫ চাকুরীতে ইংরেজি শিক্ষিতদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি প্রবর্তিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় সপ্তম শ্রেণি

৫৩৮.
বাংলা ১১৭৬ কোনটির সাথে সংশ্লিষ্ট?
  1. ক) সিপাহী বিদ্রোহ
  2. খ) বঙ্গবঙ্গ
  3. গ) ছিয়াত্তরের মন্বত্বর
  4. ঘ) দেশভাগ
সঠিক উত্তর:
গ) ছিয়াত্তরের মন্বত্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ছিয়াত্তরের মন্বত্বর
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি ও দ্বৈত শাসনের চূড়ান্ত পরিণাম ছিল বাংলায় ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের ধ্বংসলীলা। একদিকে দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে, অন্যদিকে অবাধ লুন্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়ে যায়। তদুপরি পরপর দু’বছর কৃষির অবনতি ও অনাবৃষ্টির ফলে ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে অর্থাৎ ১১৭৬ বঙ্গাব্দে দেশে যে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় তা ইতিহাসে ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ নামে পরিচিত। সূত্র- বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৩৯.
ব্যারাকপুরে প্রথম প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করেন কে?
  1. ক) নানা সাহেব
  2. খ) বাজীয়াও
  3. গ) লক্ষ্মী বাঈ
  4. ঘ) মঙ্গল পান্ডে
সঠিক উত্তর:
ঘ) মঙ্গল পান্ডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মঙ্গল পান্ডে
ব্যাখ্যা
- বিপ্লবের প্রত্যক্ষ কারণ হল চর্বি মিশ্রিত কার্তুজের প্রবর্তন।
- ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে সেনাবাহিনীতে এনফিল্ড রাইফেল নামে এক ধরনের বন্দুকের ব্যবহার শুরু হয়।
- ব্যবহারের পূর্বে এর কার্তুজ দাঁত দিয়ে কাটতে হতো।
- গুজব রটে যে, উক্ত রাইফেলে গরু ও শুকরের চর্বি মিশ্রিত কার্তুজের প্রচলন করে বৃটিশ সরকার হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের ধর্ম নাশ করার ষড়যন্ত্র করছে। ফলে দেশীয় সিপাহীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
- ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুর সেনানিবাসে মঙ্গল পান্ডে নামে এক সিপাহী প্রকাশ্যভাবে বিদ্রোহ করে।
- বৃটিশ কর্তৃপক্ষ মঙ্গল পাণ্ডে এবং তার একজন সমর্থককে প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত করে বিদ্রোহের আগুন নেভাবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
- এরপর মে মাসে বড় আকারের বিদ্রোহ দেখা দেয় মীরাটের সেনা ছাউনিতে। 
- সিপাহীরা সরকারী নির্দেশ অমান্য করে এবং কর্নেল ফিনিসকে গুলি করে হত্যা করার পর প্রকৃত বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪০.
প্রথম ভারতীয় শিক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান কে ছিলেন?
  1. লর্ড লিটন
  2. লর্ড ক্যানিং
  3. লর্ড মিন্টো
  4. উইলিয়াম হান্টার
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম হান্টার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম হান্টার
ব্যাখ্যা

হান্টার কমিশন সরকারিভাবে ইন্ডিয়ান এডুকেশন কমিশন (১৮৮২) নামে পরিচিত। এটি ছিল আধুনিক ভারতের ইতিহাসে প্রথম শিক্ষা কমিশন।
- ভারত সরকার কর্তৃক গঠিত এ কমিশনের কাজ ছিল ১৮৫৪ সালের উড-এর শিক্ষা প্রস্তাবের সময় থেকে ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার পর্যালোচনা।
-স্যার উইলিয়ম উইলসন হান্টারকে সভাপতি করে গঠিত এ কমিশনের অন্যান্য সদস্যগণ ছিলেন আনন্দমোহন বসু, এ.ডব্লিউ ক্রফট্ (Director of Public Instruction, Bengal), ভূদেব মুখোপাধ্যায়, মহারাজা যতীন্দ্রমোহন ঠাকুর, কাশীনাথ ত্রিম্বক তীলং এবং স্যার সৈয়দ আহমদ খান।
- অবশ্য সৈয়দ আহমদ খান পরবর্তীসময়ে তাঁর পুত্র সৈয়দ মুহম্মদের পক্ষে নিজের নিযুক্তি প্রত্যাহার করে নেন।

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অষ্টম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া

৫৪১.
১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ গঠনের সাথে ‍যুক্ত ছিলেন না কে?
  1. নওয়াব খাজা সলিমুল্লাহ
  2. মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. আগা খান
  4. নবাব ভিকার-উল মুলক
সঠিক উত্তর:
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
- ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় ‘নিখিল ভারত মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯০৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘সর্ব ভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে’ ঢাকার তৎকালীন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলমানদের জন্যে একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন। তার প্রস্তাবের ভিত্তিতেই মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মুসলিম লীগের গঠন প্রক্রিয়ার সাথে নওয়াব ‍সলিমুল্লাহ, নবাব ভিকার-উল ‍মুলক, আগা খান প্রমুখ যুক্ত ছিলেন।
- মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯১৩ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন। তবে মুসলিম লীগ রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর হাত ধরে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৫৪২.
ইন্ডিয়া অ্যাক্টের মাধ্যমে কোন কোম্পানির শাসনভার অবসান ঘটে?
  1. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
  2. ডাচ ইন্ডিয়া কোম্পানি
  3. ফরাসি ইন্ডিয়া কোম্পানি
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
ব্যাখ্যা

ইন্ডিয়া অ্যাক্ট:
- ইন্ডিয়া অ্যাক্ট এর মাধ্যমে ১৮৫৮ ভারতীয় উপমহাদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটায় এবং এর বদলে সরাসরি ব্রিটিশ সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি ছিল ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লবের প্রত্যক্ষ ফল।
- এভাবে বিপ্লবের অব্যবহিত পরেই পার্লামেন্ট ভারতীয় প্রশাসনের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করে।
- ১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট পার্লামেন্ট ইন্ডিয়া অ্যাক্ট আইনের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে রাজ শাসন প্রতিষ্ঠা করে।
- এ আইন বোর্ড অব কন্ট্রোল এবং কোর্ট অব ডাইরেক্টর্স-এর দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটায়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৪৩.
ক্যাবিনেট বা মন্ত্রী মিশনে কতজন সদস্য ছিলেন?
  1. ক) ২ জন
  2. খ) ৩ জন
  3. গ) ৫ জন
  4. ঘ) ৭ জন
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ জন
ব্যাখ্যা
ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা বিষয়ে আলোচনার জন্যে ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ সরকার তৎকালীন ভারত সচিব পেথিক লরেন্স কে প্রধান করে তিন সদস্যের ক্যাবিনেট বা মন্ত্রী মিশন ভারতে পাঠান। এর অপর দুই সদস্য হলেন স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস এবং এ. ভি. আলেকজান্ডার। এই মিশন ভারতকে তিনটি ভাগে ভাগ করে এবং তিন স্তর বিশিষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা করে। মুসলিমলীগ শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনা মেনে নিলেও কংগ্রেসের অসহযোগিতায় মন্ত্রী মিশন পরিকল্পনা সফল হয়নি। (সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫৪৪.
আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন-
  1. ক) আবুল হাশেম
  2. খ) মাওলানা ভাসানী
  3. গ) শামসুল হক
  4. ঘ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
সঠিক উত্তর:
গ) শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শামসুল হক
ব্যাখ্যা
১৯৪৯ সালের ২৩-২৪ শে জুন ঢাকার রোজ গার্ডেন কর্মী সম্মেলনে ৩০০ জন শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধি অংশ নিয়ে সর্বসম্মতভাবে 'পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ' নামে নতুন দল গঠন করা হয়৷
মাওলানা ভাসানীকে সভাপতি, শামসুল হককে সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যুগ্ম সম্পাদক করে ৪০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়৷
ঢাকার আরমানিটোলায় ২৪ শে জুন সদ্য গঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হয়৷ ১৯৫৫ সালে ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে 'আওয়ামী লীগ' নাম ধারণ করে৷
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী]
৫৪৫.
ক্যাবিনেট মিশনের সদস্য ছিলো কতজন?
  1. ক) তিনজন
  2. খ) চারজন
  3. গ) পাঁচজন
  4. ঘ) দুইজন
সঠিক উত্তর:
ক) তিনজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তিনজন
ব্যাখ্যা
- ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা বিষয়ে আলোচনার জন্যে ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ সরকার তৎকালীন ভারত সচিব পেথিক লরেন্স কে প্রধান করে তিন সদস্যের ক্যাবিনেট বা মন্ত্রী মিশন ভারতে পাঠায়।
ক্যাবিনেট মিশনের সদস্যবৃন্দরা হলেন:
- পেথিক লরেন্স (মিশন প্রধান)
- স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস (সদস্য)
- এ. ভি. আলেকজান্ডার (সদস্য)।
- এই মিশন ভারতকে তিনটি ভাগে ভাগ করে এবং তিন স্তর বিশিষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা পেশ করে। মুসলিমলীগ শেষ পর্যন্ত ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা মেনে নিলেও কংগ্রেসের অসহযোগিতায় তা সফল হয়নি।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী
৫৪৬.
বাঁশেরকেল্লা নির্মাণ করেন কে?
  1. ক) দুদু মিয়া
  2. খ) হাজী শরীয়তউল্লাহ
  3. গ) ফকির মজনু শাহ
  4. ঘ) মীর নিসার আলী
সঠিক উত্তর:
ঘ) মীর নিসার আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মীর নিসার আলী
ব্যাখ্যা
- তিতুমীর ওরফে মীর নিসার আলী প্রথমে ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন শুরু করেন। পরবর্তীতে তার এই আন্দোলন জমিদার ও ব্রিটিশবিরোধী রূপ লাভ করে।
- তিনি বারাসাতের নিকটবর্তী নারিকেলবাড়িয়ায় একটি বাঁশেরকেল্লা নির্মাণ করেন।
- ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর লে. কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সাথে যুদ্ধে কামানের গোলায় তার বাঁশেরকেল্লা ধ্বংস হয়ে যায় এবং তিনিসহ তার বহু অনুসারী শহিদ হন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৫৪৭.
বাংলায় সর্বপ্রথম জুরী ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন -
  1. ক) লর্ড হার্ডিঞ্জ
  2. খ) ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. গ) উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
  4. ঘ) লর্ড কর্নওয়ালিস
সঠিক উত্তর:
গ) উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
ব্যাখ্যা
উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক 
• উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের সময় সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরন আইন ( ১৮২৯ )পাস হয় এতে তিনি রাজা রামমোহন রায় ও প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সমর্থন ও সহায়তা লাভ করেন।
• উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক বাংলায় সর্বপ্রথম ‘জুরী ব্যবস্থার’ প্রবর্তন করেন।
• উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক বাংলার সর্বশেষ ( ১৮২৮-১৮৩৩) এবং ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ( ১৮৩৩-১৮৩৫)।
• বেন্টিঙ্ক লর্ড মেকলের সহায়তায় আইন কমিশন গঠন করে ‘ইন্ডিয়ান পেনাল কোড’ তৈরি করেন ।

অন্যদিকে,   
• লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (১৭৯৩) প্রবর্তন এবং ভারতের সিভিল সার্ভিসের জনক।
• ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭৪ সালে কলকাতায় সুপ্রিম কোর্ট স্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ তথা ভারতীয় উপমহাদেশের ভূখণ্ডে এটিই প্রথম সুপ্রিম কোর্ট।
• লর্ড হার্ডিঞ্জ রবিবার সরকারি অফিসের সাপ্তাহিক ছুটি ঘোষণা করেন

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪৮.
কোন গভর্নর জেনারেল উপমহাদেশে সাম্রাজ্যবাদী বলে পরিচিত?
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড ওয়েলেসলি
  3. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  4. লর্ড কর্নওয়ালিস
সঠিক উত্তর:
লর্ড ওয়েলেসলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ওয়েলেসলি
ব্যাখ্যা
লর্ড ওয়েলেসলি:
→ ১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড ওয়েলেসলি ভারত বর্ষের গভর্ণর জেনারেল নিযুক্ত হন।
→  তাঁর শাসনকালকে উপমহাদেশের ইতিহাসে সংকটময় যুগ বলা যেতে পারে। 
→ লর্ড ওয়েলেসলি ছিলেন একজন ঘোর সাম্রাজ্যবাদী শাসক।
প্রতিভাবান, বিদ্বান, আত্মমর্যাদা সম্পন্ন ও অভিজাত সুলভ লর্ড ওয়েলেসলি চেয়েছিলেন উপমহাদেশে ব্রিটিশ শক্তিকে সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী করে তুলতে।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫৪৯.
পিটের ইন্ডিয়া এ্যাক্ট কত সালে পাস হয়?
  1. ১৭৫৮ সালে
  2. ১৭৬২ সালে
  3. ১৭৭৮ সালে
  4. ১৭৮৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৮৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৮৪ সালে
ব্যাখ্যা
পিটের ইন্ডিয়া এ্যাক্ট (১৭৮৪ খ্রিঃ):
- রেগুলেটিং এ্যাক্ট-এর ভুলত্রুটি সংশোধনের জন্য ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী উইলিয়াম পিট একটি আইন পাস করেন যা ইতিহাসে 'পিট এর ইন্ডিয়া এ্যাক্ট' নামে পরিচিত।
- এ আইন দ্বারা পার্লামেন্ট উপমহাদেশ শাসনের সকল ক্ষমতা গ্রহণ করে।
- এ আইনের বলে ব্রিটিশ সরকারের নিযুক্ত ৬ জন এবং ইংল্যান্ডের মন্ত্রী সভার ১ জন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত 'বোর্ড অফ কন্ট্রোল' এর উপর উপমহাদেশ শাসন ও পর্যবেক্ষণের ভার অর্পিত হয়।
- গভর্নর জেনারেলের ক্ষমতা বাড়ানো হয়।
- সুপ্রীম কোর্টের ক্ষমতা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়।
- এছাড়া, কোম্পানির তিনজন ডাইরেক্টর নিয়ে একটি সাগর বঙ্গোপসাগর ইংরাজী সাইন ভারতবর্ষ, ওয়ারেন হেস্টিংসের সময় 'সিক্রেট কমিটি'ও গঠিত হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫০.
পলাশির যুদ্ধ কোথায় সংঘটিত হয়?
  1. মুর্শিদাবাদ
  2. নদীয়া
  3. ভাগীরথী নদীর তীরে
  4. হুগলির তীরে
সঠিক উত্তর:
ভাগীরথী নদীর তীরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাগীরথী নদীর তীরে
ব্যাখ্যা
পলাশির যুদ্ধ: 
- পলাশির যুদ্ধ ১৭৫৭সালের ২৩শে জুন।
- ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশির আমবাগানে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

- রবার্ট ক্লাইভ তার অবস্থান সুদৃঢ় করে সন্ধি ভঙ্গের অজুহাতে সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
- নবাবের পক্ষে দেশপ্রেমিক মীর মদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিন ফ্রে প্রাণপণ যুদ্ধ করেন।
- যুদ্ধে মীর মদন নিহত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৫১.
বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল কোনটি?
  1. ক) তুলা
  2. খ) পাট
  3. গ) চা
  4. ঘ) গম
সঠিক উত্তর:
খ) পাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পাট
ব্যাখ্যা
• পাট:
- সোনালী আঁশের সোনার দেশ, পাট পণ্যের বাংলাদেশ।
- বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ পাট থেকে উৎপাদিত সোনালী আঁশের দেশ হিসেবে পরিচিত।
- পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল।
- সারা বিশ্বে আঁশ উৎপাদনকারী ফসল হিসেবে তুলার পরেই পাট ও পাট জাতীয় আঁশ ফসল দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
- একটি কাঁচা পাটের গাঁইটের ওজন সাড়ে তিন মণ।
- বাংলাদেশের যে জেলায় সবচেয়ে বেশি পাট উৎপন্ন হয়— ফরিদপুর জেলায় । 
- বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠা— ১৯৭৪ সালে ।
- পাট উৎপাদনের বিশ্বে প্রথম দেশ- ভারত (২য় শীর্ষ দেশ বাংলাদেশ)।
- জুটন আবিস্কার করেন— ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকউল্লাহ । 
- আন্তর্জাতিক পাট সংস্থা (IJO) প্রতিষ্ঠিত হয়— ১৯৮৪ সালে।
- সদর দপ্তর ফার্মগেট, ঢাকা (প্রতিষ্ঠা ২৭ এপ্রিল ২০০২)। 
- বাংলাদেশে উৎপন্ন কিছু উন্নত জাতের গম— অগ্রণী, আনন্দ, আকবর, কাঞ্চন, দোয়েল, বরকত।

সূত্র: কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)।
৫৫২.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কবে প্রবর্তন করা হয়?
  1. ১৮৯৩ সালে
  2. ১৮০৫ সালে
  3. ১৭৯৩ সালে
  4. ১৭৯৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৯৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৯৩ সালে
ব্যাখ্যা

- ১৭৯৩ সালের  লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:

- ১৭৯৩ সালের ২২মার্চ লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- ঐদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর চিরস্থায়ী মালিকানা প্রদান করে যে বন্দোবস্ত করা হয় তা-ই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে পরিচিত।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে কৃষক জমির উপর তাদের অধিকার হারায়।
- বিপরীতে জমির উপর জমিদারদের স্থায়ী মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ফলশ্রুতিতে জমিদারি প্রথা ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার উচ্ছেদ ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৫৩.
সময়ের বিবেচনায় কোন রাজনৈতিক দলটি সবার আগে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)
  2. খ) নিখিল ভারত মুসলিম লীগ
  3. গ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
  4. ঘ) জামায়াতে ইসলামী
সঠিক উত্তর:
খ) নিখিল ভারত মুসলিম লীগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নিখিল ভারত মুসলিম লীগ
ব্যাখ্যা

- ১৯৫৭ সালের ২৪-২৫ জুলাই ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে আয়োজিত গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ‘ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)’ গঠিত হয়।
- ন্যাপের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন মাওলানা ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের মাহমুদুল হক ওসমানী।
- এর আগে ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ‘কাগমারি সম্মেলনে’ পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি প্রশ্নে বিরোধের জের ধরে ১৮ই মার্চ ১৯৫৭ মাওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন।

- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে.এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একটি অংশের নেতা-কর্মীদের কনভেনশনে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।

- ১৯৪১ সালের ২৫ আগস্ট লাহোরে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করা হয় - ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর।

- ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় ‘নিখিল ভারত মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯০৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘সর্ব ভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে’ ঢাকার তৎকালীন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলমানদের জন্যে একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন। তার প্রস্তাবের ভিত্তিতেই মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মুসলিম লীগের গঠন প্রক্রিয়ার সাথে নওয়াব ‍সলিমুল্লাহ, নবাব ভিকার-উল ‍মুলক, আগা খান প্রমুখ যুক্ত ছিলেন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।

 

৫৫৪.
বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ব বাংলা ও আসামের নতুন প্রদেশের রাজধানী কোথায় হয়?
  1. কোলকাতা
  2. ঢাকা
  3. চট্টগ্রাম
  4. মুর্শিদাবাদ
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা

বঙ্গভঙ্গ:
- ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট নতুন প্রদেশ "পূর্ববঙ্গ ও আসাম"-এর রাজধানী করা হয় ঢাকা।

উল্লেখ্য,
- ভারতের বড় লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত। ভাগ হবার পূর্বে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, মধ্যপ্রদেশ, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও আসামের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিল বাংলা প্রদেশ বা বাংলা প্রেসিডেন্সি।

• ১৯০৪ সালে ভারত সচিব এটি অনুমোদন করেন এবং ১৯০৫ সালের জুলাই মাসে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়। সে বছর অক্টোবরে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়।
- এই পরিকল্পনায় বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী এবং ভারতের আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদহ নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব বাংলা ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ। প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা।
- অপরপক্ষে পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশ, যার রাজধানী হয় কোলকাতা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম- ১০ম শ্রেণি। 

৫৫৫.
কোন চুক্তির মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে?
  1. আলীগড় চুক্তি
  2. এলাহাবাদ চুক্তি
  3. লক্ষ্মৌ চুক্তি
  4. মুর্শিদাবাদ চুক্তি
সঠিক উত্তর:
এলাহাবাদ চুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এলাহাবাদ চুক্তি
ব্যাখ্যা

এলাহাবাদ চুক্তি:
- রবার্ট ক্লাইভ ও মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম-এর মধ্যে এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৭৬৫ সালে।
- ১৭৬৫ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করেছিল।
- সম্রাট শাহ আলমকে কোম্পানি প্রতি বছর ২৬ লক্ষ টাকা দান করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
- এই চুক্তির ফলে রাজস্ব আদায় ও দেশ রক্ষার ভার ছিল কোম্পানির উপর, অন্যদিকে নিজামত তথা বিচার ও প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব বর্তায় নবাবের উপর।
- কোম্পানির সরাসরি দিউয়ানির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য যে অর্থ ও লোকবল প্রয়োজন তা যেমন ছিলনা, তেমনি এদেশীয় ভাষা ও আইন কানুন সম্পর্কে কোম্পানির কর্মচারীদের জ্ঞানও ছিল না।
- তাই রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব সরাসরি গ্রহণ তাদের জন্য সম্ভব ছিল না।
- এ সকল দিক চিন্তা করেই তারা দ্বৈত শাসন নীতি প্রবর্তন করা হয়েছিল।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫৬.
ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন কে?
  1. ক) রামতনু লাহিড়ী
  2. খ) রাধানাথ শিকদার
  3. গ) কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) উপরের সবাই
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
উনিশ শতকের ত্রিশের দশকে হিন্দু কলেজের শিক্ষানুরাগী ও মুক্তবুদ্ধিসম্পন্ন ছাত্রদেরকে সমকালীন কলকাতার সমাজ ইয়ং বেঙ্গল হিসেবে আখ্যায়িত করে। এদের গুরু ছিলেন হিন্দু কলেজের তরুণ শিক্ষক হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও। তার অনুসারী ছাত্রদের মধ্যে ছিলেন কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, রাধানাথ শিকদার, রামতনু লাহিড়ী, প্যারিচাঁদ মিত্র, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, তারাচাঁদ চক্রবর্তী প্রমুখ। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৫৫৭.
স্যার সৈয়দ আহমদ খান কোন আন্দোলনের উদ্যোক্তা ছিলেন?
  1. ক) আলীগড় আন্দোলন
  2. খ) ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলন
  3. গ) ফরায়েজী আন্দোলন
  4. ঘ) খিলাফত আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ক) আলীগড় আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আলীগড় আন্দোলন
ব্যাখ্যা
উনিশ শতকের মধ্যভাগে স্যার সৈয়দ আহমদ খান উত্তর ভারতের আলীগড় আন্দোলন গড়ে তোলেন। এ আন্দোলনের মূলে ছিলো মুসলমানদের পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা এবং ইংরেজদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে মুসলমানদের উন্নয়ন সাধন।

এই লক্ষ্যে সৈয়দ আহমদ খানের প্রচেষ্টায় আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি কংগ্রেসের বিরোধিতায় বিভিন্ন সময় তিনটি সংগঠন গড়ে তোলেন।
সৈয়দ আহমদ খান ১৮৯৮ সালে মারা যান।

অন্যদিকে,

ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের উদ্যোক্তা ছিলেন হেনরী লুই ভিভিয়ান ডি রোজিও।
ফরায়েজী আন্দোলনের উদ্যোক্তা হাজী শরীয়ত উল্লাহ এবং খিলাফত আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন মাওলানা শওকত আলী, মাওলানা মুহম্মদ আলী প্রমুখ।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট)
৫৫৮.
লক্ষ্মৌ চুক্তির প্রধান উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. সামরিক শক্তি বৃদ্ধি
  2. ব্রিটিশ শাসন জোরদার
  3. প্রাদেশিক বিভাজন 
  4. ঐক্য গড়ে তোলা
সঠিক উত্তর:
ঐক্য গড়ে তোলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐক্য গড়ে তোলা
ব্যাখ্যা

লক্ষ্মৌ চুক্তি:
- ১৯১৬ সালের লক্ষ্মৌ চুক্তি ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে হিন্দু–মুসলিম ঐক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
- এই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল-
- ভারতের বিভিন্ন জাতি ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা,
- পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা,
- এবং সম্মিলিতভাবে স্বরাজ বা আত্মশাসন অর্জনের পথ সুগম করা।

- ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ ১৯১১ সালে রদ হওয়ায় মুসলমান সমাজের মধ্যে গভীর হতাশা সৃষ্টি হয়।
- এর পাশাপাশি ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করতে বাধ্য হয়।
- ফলে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি নতুন সমঝোতার পরিবেশ গড়ে ওঠে।
- এই প্রেক্ষাপটে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস ও নিখিল ভারত মুসলিম লীগ—উভয়েই পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে।
- ১৯১৬ সালের ডিসেম্বরে লক্ষ্মৌ শহরে দুই দল একযোগে তাদের বার্ষিক অধিবেশন আয়োজন করে।
- এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছায়, যা ইতিহাসে লক্ষ্মৌ চুক্তি নামে পরিচিত।

- এই চুক্তির মাধ্যমে কংগ্রেস মুসলিম লীগের পৃথক নির্বাচনী ব্যবস্থা ও মুসলমানদের ন্যায্য প্রতিনিধিত্বের দাবিকে স্বীকৃতি দেয়।
- অন্যদিকে মুসলিম লীগ কংগ্রেসের সঙ্গে একত্রে সাংবিধানিক সংস্কার ও স্বশাসনের দাবিতে আন্দোলন চালাতে সম্মত হয়।
- এর ফলে হিন্দু–মুসলিম রাজনৈতিক ঐক্য দৃঢ় হয়।
- এবং ব্রিটিশ সরকারের ওপর সাংবিধানিক সংস্কার আনার জন্য উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫৯.
কোন গভর্নর জেনারেলের শাসনকালে ভারতে প্রথম রেল চলাচল শুরু হয়?
  1. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  2. লর্ড ডালহৌসি
  3. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
  4. লর্ড ক্যানিং
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা

লর্ড ডালহৌসি:
- ভারতে প্রথম রেল চলাচল শুরু হয়েছিল লর্ড ডালহৌসির শাসনকালে। 
- তাঁর সময়েই ১৮৫৩ সালে বোম্বে (মুম্বাই) থেকে থানে পর্যন্ত প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হয়।
- ডালহৌসিকে ভারতের রেলপথের জনক বলা হয়।
- তাঁর সময়েই ভারতে রেলপথ, টেলিগ্রাফ এবং ডাক ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ শুরু হয়েছিল। 

উল্লেখ্য,
- ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড হার্ডিঞ্জের পর মাত্র ৩৬ বৎসর বয়সে লর্ড ডালহৌসী এ উপমহাদেশে আসেন।
- ব্রিটিশ ভারতের শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাম্রাজ্যবাদী ছিলো লর্ড ডালহৌসি।
- ইংল্যান্ড কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত যত সাম্রাজ্যবাদী শাসক এ উপমহাদেশে প্রেরণ করেছেন তার মধ্যে লর্ড ডালহৌসী ছিলেন ঘোর সাম্রাজ্যবাদী। লর্ড ডালহৌসীর সাম্রাজ্যবাদ নীতির তিনটি লক্ষ্য ছিল-
ক. পাশ্চাত্য সভ্যতা ও শাসনের প্রসার,
খ. ইংরেজ সাম্রাজ্যের সংহতি স্থাপন ও,
গ. উপমহাদেশে ব্রিটিশ পণ্যের বাজার সৃষ্টি।

এছাড়াও,
- ডালহৌসী কঠোরতার সাথে স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য প্রসারের পথ আরও প্রশস্ত করে তোলেন।
- তিনি গভর্নর জেনারেলের কাজের চাপ কমানোর লক্ষ্যে বাংলার জন্য একজন লেফটেন্যান্ট গভর্নর (ছোট লাট) নিযুক্ত করেন।
- তিনি বিধবা বিবাহ আইন পাস করে হিন্দু বিধবা বিয়েকে আইনসঙ্গত করেন। এ বিষয়ে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ডালহৌসীকে সাহায্য করেন। ডালহৌসী এমন একটি আইন পাস করান যাতে এদেশীয়গণ ধর্মান্তরিত হলেও তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ভোগ করতে পারে।
- তিনি পূর্তবিভাগের প্রতিষ্ঠিত গঙ্গা খাল খনন ও জল সেচ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করেন।
- তিনি রাজপথ ও সড়কগুলোর উন্নয়ন করেন। তাঁরই সময়ে কলকাতা হতে পেশোয়ার পর্যন্ত গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড পুনরায় চালু হয়।
- তিনি বনভূমি সংরক্ষণ নীতি প্রবর্তন করেন এবং চা ও কফি বাগানের প্রসার সাধন করেন।
- তিনি রুরকির ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজও স্থাপন করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৫৬০.
তেভাগা আন্দোলনের মূল কারণ কী ছিল?
  1. নীল চাষিদের নিপীড়ন
  2. জমির খাজনা নিয়ে দ্বন্দ্ব 
  3. ফসলের ভাগ নিয়ে অসন্তোষ
  4. বাজারমূল্য বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
ফসলের ভাগ নিয়ে অসন্তোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফসলের ভাগ নিয়ে অসন্তোষ
ব্যাখ্যা

তেভাগা আন্দোলন:
- তেভাগা আন্দোলন কৃষি উৎপাদনের দুই-তৃতীয়াংশের দাবিতে সংগঠিত বর্গাচাষিদের আন্দোলন।
- ১৯৪৬-৪৭ সালে এ আন্দোলন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল।
- মূলত তেভাগা আন্দোলন সংগঠিত করেন বাংলার প্রাদেশিক কৃষকসভার কম্যুনিস্ট কর্মীরা।
- তাদের নেতৃত্বে বর্গাচাষিরা ভূমিমালিক শ্রেণীর বিরুদ্ধে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ হয়। খুব দ্রুত নিচের স্তরে এর নেতৃত্ব গড়ে ওঠে।
- এ তেভাগা আন্দোলন বাংলার ১৯টি জেলায় ছড়িয়ে পড়ে।
- আন্দোলনটি তীব্র আকার ধারণ করে দিনাজপুর, রংপুর, জলপাইগুড়ি, খুলনা, ময়মনসিংহ, যশোর এবং চবিবশ পরগনা জেলায়।
- এ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল বর্গাচাষিদের অধিকার আদায়।

• তেভাগা আন্দোলনের মূল কারণ:
- জমির মালিক ও বর্গাচাষীদের মধ্যে ফসলের ভাগ নিয়ে অসন্তোষ।
- বর্গাচাষীদের উপর জমিদার ও জোতদারদের শোষণ।
- ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ এবং এর পরবর্তী অর্থনৈতিক সংকট।
- ফ্লাউড কমিশনের সুপারিশ যা উৎপাদিত ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ চাষীদের দেয়ার কথা বলেছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি।

উল্লেখ্য,
- তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন ইলা মিত্র।
- তেভাগা আন্দোলন যখন স্তিমিত হওয়ার পথে তখন নাচোলের রাণী ইলা মিত্র এই আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করেন।
- এই আন্দোলনের আরেকজন নেতা হলেন হাজী দানেশ।
- কৃষকদের অধিকার আদায়ে তেভাগা আন্দোলনে অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করেন নড়াইলের অমল সেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া। 

৫৬১.
১৯৩০ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন অভিযানের নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন?
  1. নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু
  2. প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার 
  3. ভগৎ সিং
  4. মাস্টারদা সূর্য সেন
সঠিক উত্তর:
মাস্টারদা সূর্য সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাস্টারদা সূর্য সেন
ব্যাখ্যা
১৯৩০ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মাস্টারদা সূর্য সেন।

মাস্টারদা সূর্য সেন:

- তার পুরো নাম সূর্যকুমার সেন।
- মাস্টারদা সূর্যসেনের জন্ম ১৮৯৪ সালে চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামে।

⇒ বিএ পড়ার সময় তিনি তাঁর এক শিক্ষক সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন।
- অধ্যাপক সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী যুগান্তর নামে বিপ্লবী দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- সূর্য সেন ১৯১৮ সালে চট্টগ্রামে ফিরে বিপ্লবী যুগান্তর দলকে পুনরুজ্জীবিত করেন।
- শিক্ষকতা করার কারণে তিনি পরিচিত মহলে 'মাস্টারদা' আখ্যা পান।

⇒ সূর্যসেন যখন নোয়াপাড়া উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ের ছাত্র তখন বঙ্গভঙ্গকে (১৯০৫) কেন্দ্র করে বাংলায় স্বদেশী আন্দোলন শুরু হয়।
- ক্রমে এই আন্দোলন বিশেষ করে চট্টগ্রাম এলাকায় বিপ্লবী আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ১৯১৬ সালে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজে বি.এ. শ্রেণিতে পড়াকালীন শিক্ষক শতীশচন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন সূর্যসেন।
- সূর্যসেন চট্টগ্রামে ফিরে গিয়ে ব্রিটিশ বিরোধী একটি বিপ্লবী দল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন।
- সূর্য সেন ১৯১৮ সালে চট্টগ্রামে ফিরে বিপ্লবী যুগান্তর দলকে পুনরুজ্জীবিত করেন।

⇒ ১৯৩০ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের প্রধান সংগঠক মাস্টারদা সূর্যসেন।
- ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিলের সশস্ত্র বিদ্রোহ ছিল সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীদের দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার ফসল।
- ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কারাগারে তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৫৬২.
স্বাধীন-সার্বভৌম অখণ্ড বাংলা রাষ্ট্র গঠনের বিষয়টি উত্থাপন করেন কে?
  1.  আবুল কালাম আজাদ
  2. সত্যরঞ্জন বখসী
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. কিরণ শংকর রায়
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা

• অখণ্ড বাংলার উদ্যোগ:
- ১৯৪৭ সালে হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ক এক রক্তক্ষয়ী দাঙ্গায় রূপ নেয়।
- এরকম চরম জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যর্থ ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের ইচ্ছা ঘোষণা করে।
- ঠিক এই রকম পরিস্থিতিতে বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী যুক্ত বাংলার প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- এ প্রস্তাবের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন শরৎচন্দ্র বসু।
- প্রস্তাবটি উপমহাদেশের ইতিহাস 'বসু-সোহরাওয়ার্দী' প্রস্তাব নামে খ্যাত।
- ১৯৪৭ সালের ২৭শে এপ্রিল দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে শহীদ সোহরাওয়ার্দী তাঁর বক্তব্যে স্বাধীন-সার্বভৌম অখণ্ড বাংলা রাষ্ট্র গঠনের বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং এর পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন।
- মুসলিম লীগ নেতা আবুল হাশিম বৃহত্তর বাংলা রাষ্ট্রের একটি রূপরেখা প্রণয়ন করেন।
- পরবর্তীকালে শরৎচন্দ্র বসু তাঁর এক প্রস্তাবে অখণ্ড বাংলাকে একটি 'সোস্যালিস্ট রিপাবলিক' হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৫৬৩.
মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি গঠন করেন কে?
  1. ক) সৈয়দ আমির আলী
  2. খ) স্যার সৈয়দ আহমদ
  3. গ) নওয়াব আব্দুল লতিফ
  4. ঘ) নবাব ফয়জুন্নেসা
সঠিক উত্তর:
গ) নওয়াব আব্দুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নওয়াব আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা
বাংলার মুসলমানদের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষা বিস্তারে নওয়াব আব্দুল লতিফ আন্তরিক প্রচেষ্টা চালান। এ লক্ষ্যে তিনি ১৮৬৩ সালে মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি গঠন করেন।
এছাড়া তিনি ‍মুসলমানদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের নিকট বিভিন্ন দাবী দাওয়া পেশ করেন। তার প্রচেষ্টায় মহসীন ফান্ডের অর্থ কেবল মুসলমান ছাত্রদের জন্যে ব্যয়ের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫৬৪.
কোন মুগল সম্রাট বাংলায় মীর জুমলাকে সুবেদারির দায়িত্ব অর্পন করেন?
  1. ক) সম্রাট শাহজাহান
  2. খ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
  3. গ) সম্রাট আওরঙ্গজেব
  4. ঘ) সম্রাট হুমায়ুন
সঠিক উত্তর:
গ) সম্রাট আওরঙ্গজেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সম্রাট আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনাকাল ছিল ১৬৫৮ - ১৭০৭ সাল।
- আওরঙ্গজেব বাংলায় মীর জুমলাকে সুবেদারির দায়িত্ব দেন।
- সুবেদার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে মীর জুমলা অহোমরাজের বিরুদ্ধে অভিযান চালনা করেন।
- এক্ষেত্রে তেমন উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত না হলেও কুচবিহার ও আসাম বিজয় মীর জুমলার কৃতিত্ব বহন করে।
- তাঁর সময়েই কুচবিহার সম্পূর্ণরূপে প্রথমবারের মতো মুঘল সাম্রাজ্যের অধীনে 
আসে। আসাম অভিযানের দ্বারা তিনি মুঘল সাম্রাজ্যের সীমান্ত আসাম পর্যন্ত বর্ধিত করেন।
- মীর জুমলার মৃত্যুর পর প্রথমে দিলির খান (১৬৬৩ খ্রি.) ও পরে দাউদ খান (১৬৬৩-১৬৬৪ খ্রি.) অস্থায়ী সুবাদার হিসেবে বাংলা শাসন করেন।
- অতঃপর আওরঙ্গজেব তাঁর মামা শায়েস্তা খানকে (১৬৬৪-১৬৮৮ খ্রি.) বাংলার সুবাদার নিয়োগ দেন।

উল্লেখ্য, ঢাকা গেইট মীর জুমলা নির্মান করেন। বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বরের নিকটে এটি অবস্থিত। আগে এটি মীর জুমলা গেইট নামে পরিচিত ছিলো।

উৎসঃ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫৬৫.
আলীগড় আন্দোলনের সূত্রপাত হয় কোথায়?
  1. ক) পশ্চিম বাংলা
  2. খ) উত্তর ভারতে
  3. গ) পূর্ব বাংলা
  4. ঘ) দক্ষিণ ভারতে
সঠিক উত্তর:
খ) উত্তর ভারতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উত্তর ভারতে
ব্যাখ্যা
- ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিপ্লবের ব্যর্থতা ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে নিরুৎসাহ ও হতাশার সৃষ্টি করে। 
- ইংরেজ শাসনকে মনে প্রাণে গ্রহণ করতে না পারায় এবং পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রতি অনীহার কারণে তারা জীবনের সর্বক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়ে এবং দুঃখ দুর্দশার আবর্তে নিপতিত হয়। 
- মুসলমানদের সেই দুর্যোগময় মুহূর্তে তাদের ত্রাণকর্তারূপে উত্তর ভারতে স্যার সৈয়দ আহমদ খানের আবির্ভাব ঘটে। 
- অধঃপতিত অবস্থা থেকে মুসলমানদের পুনরুদ্ধার ও তাদের পুনর্জাগরণের জন্য তিনি উত্তর ভারতে আলীগড়কেন্দ্রিক যে আন্দোলন সৃষ্টি করেন, ইতিহাসে তা ‘আলীগড় আন্দোলন' নামে প্রসিদ্ধ ।
 
উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫৬৬.
বাংলার সর্বশেষ স্বাধীন নবাব কে?
  1. আলীবর্দি খান
  2. মুর্শিদকুলী খান
  3. সিরাজউদ্দৌলা
  4. সরফরাজ খান
সঠিক উত্তর:
সিরাজউদ্দৌলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরাজউদ্দৌলা
ব্যাখ্যা
বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব ছিলেন সিরাজউদ্দৌলা।
তিনি ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন ইংরেজদের নিকট পলাশী যুদ্ধে পরাজিত হন। এর ফলে বাংলার স্বাধীনতার সমাপ্তি ঘটে।
বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদকুলি খান।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫৬৭.
কোন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে বাংলা ভাগ হয়?
  1. ক) মেকলে কমিশন
  2. খ) সাইমন কমিশন
  3. গ) র‌্যাডক্লিফ কমিশন
  4. ঘ) মর্লি-মিন্টো কমিশন
সঠিক উত্তর:
গ) র‌্যাডক্লিফ কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) র‌্যাডক্লিফ কমিশন
ব্যাখ্যা
১৯৪৭ সালের ৩রা জুন মাউন্টব্যাটেন তার ভারত বিভাগ পরিকল্পনা প্রকাশের পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা চিহ্নিতকরণের জন্যে ব্রিটিশ সরকার জুন মাসে স্যার সিরিল জন র‌্যাডক্লিফকে চেয়ারম্যান করে র‌্যাডক্লিফ কমিশন গঠন করে।
এই কমিশনের অধীন বেঙ্গল বাউন্ডারি কমিশন ও পাঞ্জাব বাউন্ডারি কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে র‌্যাডক্লিফ রোয়েদাদ প্রকাশ করা হয় যার ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৫৬৮.
ছিয়াত্তরের মন্বন্তরে কত মানুষের প্রাণহানি ঘটে?
  1. প্রায় ১০ লক্ষ
  2. প্রায় ৫০ লক্ষ
  3. প্রায় ৩০ লক্ষ
  4. প্রায় ১ কোটি
সঠিক উত্তর:
প্রায় ১ কোটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ১ কোটি
ব্যাখ্যা
বাংলায় ছিয়াত্তরের মন্বন্তর, ব্রিটেনে শিল্পবিপ্লব : একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ

- ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলার ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ নামে পরিচিত।
- ১১৭৬ বঙ্গাব্দে (ইংরেজি ১৭৭০ সাল) এই দুর্ভিক্ষ হয় বলে একে ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ বলা হয়।
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় বাংলার ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর ছিলেন জন কার্টিয়ার।
- জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ, প্রায় ১ কোটি মানুষ এই দুর্ভিক্ষে মারা যায়।

ছিয়াত্তরের মন্বন্তর প্রেক্ষাপট :
- ১৭৫৭ সালে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হন।
- তখন থেকেই এ দেশে ব্যাপক সম্পদ লুণ্ঠন করতে থাকে ইংরেজরা।
১. দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা
- ১৭৬৫ সালে ইংরেজরা দিল্লির সম্রাট শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা-বিহার-ওড়িশার দেওয়ানি লাভ করে।
- বাংলার নবাবের হাতে থাকে নামে মাত্র প্রশাসনিক ক্ষমতা। রাজস্ব আদায় ও আয়-ব্যয়ের হিসাব থাকে ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির কাছে।
- ফলে ইতিহাসে দ্বৈত শাসন নামে শাসনব্যবস্থার সৃষ্টি হয়।
- দ্বৈত শাসন ব্যবস্থায় নবাবের হাতে থাকে প্রশাসনিক দায়িত্ব, আর রাজস্ব আদায় ও ব্যয়ের পূর্ণ কর্তৃত্ব পায় কোম্পানি।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি খাজনা আদায়ের নামে সীমাহীন শোষণ আর লুণ্ঠন করে পাচার করতে থাকে।
২. অনাবৃষ্টি ও খরা
- পাশাপাশি সেই সময় (১৭৬৮-১৭৬৯) অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়।
- কিন্তু অব্যহত থাকে ইংরেজদের খাজনা আদায়।
৩. শিল্পবিপ্লব
- ১৭৬৫-১৭৮৪ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অপেক্ষা বেশি দুর্নীতিপূর্ণ, বেশি অত্যাচারী ও লুণ্ঠন প্রবৃত্তির তথাকথিত সভ্য সরকার পৃথিবীর বুকে আর দেখা যায়নি।
- অন্যদিকে, ঐতিহাসিক আর্নল্ড টয়েনবি ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের উড্ডয়নকাল ১৭৬০-১৭৮০ খ্রি. ধার্য করেন।
- ১৭৬৫ সালে বাংলার দেওয়ানি প্রকৃত অর্থে ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের ক্ষেত্র রচনা করে।
- আটলান্টিক তীরে পশ্চিমের সেই শিল্পবিপ্লবের রসদ যোগাতে গিয়ে ব্রিটিশ শাসনাধীন বাংলায় নেমে আসে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর।

- সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় -এর ‘আনন্দমঠ‘ উপন্যাস থেকে এই মন্বন্তরের ভয়াবহতার এক সকরুণ চিত্র পাওয়া যায়।
- এই সময় এই অঞ্চলের জনগন তাদের নিজ মাতৃভূমিতেই সব ধরণের মৌলিক বা মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে একে একে জীবন সংগ্রামে পরাজিত হতে থাকে।
- খাদ্যভাবে শীর্ণ লোকরা দলে দলে মারা যায়। অন্নহীন কঙ্কালসার মৃত্যু দেহগুলো রাস্তাঘাটে পড়ে থাকে।
- গ্রামবাংলায় যখন এই মৃত্যুর মিছিল চলছিল, তখন কলকাতায় শেতাঙ্গ সমাজে আমোদণ্ডপ্রমোদ, বিলাসিতা, নাচ, সুরাপানে আনন্দণ্ডউচ্ছল জীবনযাপনে রত ছিল।
- অথচ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনকে পঙ্গু করে দেয়।

তথ্যসূত্র - ১. বাংলাপিডিয়া।
২. বাংলাদেশ ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণী।
৩. বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪. ব্রিটানিকা।
৫. জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫৬৯.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন কে?
  1. জন কাটিয়ের
  2. ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. রবার্ট ক্লাইভ
  4. কর্নওয়ালিস
সঠিক উত্তর:
কর্নওয়ালিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা

 চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত
⇒ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত  ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস প্রশাসন কর্তৃক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সরকার ও বাংলার ভূমি মালিকদের (সকল শ্রেণির জমিদার ও স্বতন্ত্র তালুকদারদের) মধ্যে সম্পাদিত একটি স্থায়ী চুক্তি। 

- ঐদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর চিরস্থায়ী মালিকানা প্রদান করে যে বন্দোবস্ত করা হয় তা-ই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে পরিচিত।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে কৃষক জমির উপর তাদের অধিকার হারায়।
- বিপরীতে জমির উপর জমিদারদের স্থায়ী মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত্ব আইনের ফলশ্রুতিতে জমিদারি প্রথা ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার উচ্ছেদ ঘটে।

উৎস:
i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৫৭০.
ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লীতে স্থানান্তরিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯১২ সালে
  2. খ) ১৯১৩ সালে
  3. গ) ১৯১৪ সালে
  4. ঘ) ১৯১১ সালে
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯১২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯১২ সালে
ব্যাখ্যা
১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জের অভিষেক অনুষ্ঠানে রাজা জর্জ ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরের ঘোষণা দেন।
- এলক্ষ্যে ১৯১২ সালে দিল্লিতে সরকারের অস্থায়ী দপ্তর নির্মাণ করা হয় এবং দিল্লিকে রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার কাজ সমাপ্ত হয় ১৯৩১ সালে।
- তার আগে পর্যন্ত কলকাতাই ছিলো ব্রিটিশদের রাজধানী।
সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বিবিসি বাংলা।
৫৭১.
Who was the first Governor General of Pakistan?
  1. Iskander Mirza
  2. Khawaja Nazimuddin
  3. Nurul Amin
  4. Mohammed Ali Jinnah
  5. Liaquat Ali Khan
সঠিক উত্তর:
Mohammed Ali Jinnah
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Mohammed Ali Jinnah
ব্যাখ্যা
প্রথম গভর্নর:
- পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।

উল্লেখ্য,
- মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে লিয়াকত আলী খানকে নিযুক্ত করেন। 
- ব্রিটিশ আমলে বাংলা নামক যে প্রদেশ ছিল তা ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে পূর্ব বাংলা ও পশ্চিম বাংলা নামক দুটি অংশে বিভক্ত করে।
- পশ্চিম বাংলাকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত এবং পূর্ববাংলাকে পাকিস্তানের অংশ বলে ঘোষণা করে। 
- পূর্ববাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন খাজা নাজিমউদ্দিন।
- পূর্ববাংলার প্রথম গভর্নর নিযুক্ত হন স্যার ফ্রেডারিক বোর্ণ।
- ১৯৪৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মৃত্যুবরণ করলে পূর্ববাংলার মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিন গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন। 
- তখন নূরুল আমিনকে পূর্ববাংলার মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করা হয়।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭২.
প্রজাস্বত্ব আইন কবে প্রণীত হয়?
  1. ক) ১৯৫০ সালে
  2. খ) ১৯৪৫ সালে
  3. গ) ১৯৪৮ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৪ সালে
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৫০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৫০ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৩৯ সালে ফ্রান্সিস ফ্লাউড-কে চেয়ারম্যান করে ভূমি রাজস্ব কমিশন নিয়োগ দেওয়া হয়। রাজস্ব আয়কারী সকল সম্পত্তি সরকার কর্তৃক হুকুমদখলের সুপারিশসহ এই কমিশন ১৯৪০ সালে তার প্রতিবেদন পেশ করে। এই কমিশনের সুপারিশমালার ওপর ভিত্তি করেই পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ পাশ হয়। এভাবেই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইনের ১৬৩ বছর পর সকল রাজস্ব আয়কারী বিষয়াদিসহ জমিদারি প্রথা বাতিলপূর্বক ভূমি ব্যবস্থা সরাসরি সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন চলে যায়। [Source: Banglapedia]
৫৭৩.
হাজী শরীয়তউল্লাহর 'ফরায়েজি আন্দোলন' কোন ধরনের আন্দোলন ছিল?
  1. রাজনৈতিক আন্দোলন 
  2. অর্থনৈতিক আন্দোলন 
  3. ধর্মীয় আন্দোলন 
  4. সাংস্কৃতিক আন্দোলন 
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয় আন্দোলন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয় আন্দোলন 
ব্যাখ্যা
ফরায়েজি আন্দোলন: 
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহ বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলার শাসশাইল গ্রামে ১৭৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন।
- সেখানে তিনি ইসলাম ধর্মের ওপর লেখাপড়া করে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
- দেশে ফিরে তিনি বুঝতে পারেন যে, বাংলার মুসলমানরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।
- তাদের মধ্যে অনৈসলামিক রীতিনীতি, কুসংস্কার, অনাচার প্রবেশ করেছে।
- ইসলাম ধর্মকে কুসংস্কার আর অনাচারমুক্ত করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন।
- এই প্রতিজ্ঞার বশবর্তী হয়ে উনিশ শতকের প্রথমার্ধে তিনি এক ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- হাজী শরীয়তউল্লাহর এই ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের নামই 'ফরায়েজি আন্দোলন'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৭৪.
জেনানা মিশনের মুখ্য উদ্দেশ্য কি ছিল?
  1. ইংরেজিতে উচ্চশিক্ষা প্রণয়ন
  2. নারীদের খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত করা
  3. পুরুষদের খ্রিস্ট ধর্মে ধর্মান্তরিত করা
  4. মুসলিম দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন
সঠিক উত্তর:
নারীদের খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারীদের খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত করা
ব্যাখ্যা

জেনানা মিশন বাঙালি ও ভারতীয়দের খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিতকরণের লক্ষ্যে ব্রিটেনে প্রতিষ্ঠিত একটি আন্দোলন।
- এ আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল জেনানা অর্থাৎ অন্তপুরে গিয়ে নারী কর্তৃক নারীদের পাশ্চাত্য শিক্ষা দেওয়া এবং ওই শিক্ষার মাধ্যমে নারীর সনাতন দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটানো।
- বাংলা ও ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে পাঠদান এবং পরিশেষে নারীদেরকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করাই ছিল জেনানা মিশনের মুখ্য উদ্দেশ্য।
- মেরী জেইন কেনার্ড ছিলেন একজন খ্রিস্টান মিশনারি। ব্রিটিশ সরকারের সমর্থন ও সহযোগিতায় ১৮৫২ সালে তিনি ’জেনানা মিশন’ নামে নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ভারতে মহিলাদের মধ্যে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে জেনানা মিশনই প্রথম ভারতে মহিলা ধর্মপ্রচারক প্রেরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
- জেনানা মিশন চার্চ মিশনারি সোসাইটি (প্রতিষ্ঠিত. ১৭৯৯ সাল)-এর অঙ্গ সংস্থারূপে ভারতে ধর্মপ্রচার পরিচালনা করে।
- ১৮৬৪ সালে ভারতে জেনানা মিশনের নতুন নাম হয় Indian Female Normal and Instruction Society।
- ১৮৮০ সালে ইংল্যান্ডে জেনানা মিশন নতুন কর্মকান্ড হিসেবে পাশ্চাত্য চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং এর সঙ্গে মিশনের নতুন নামও দেওয়া হয় Zenana Bible and Medical Mission।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৫৭৫.
নিচের কোন ক্ষেত্রে উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক অবদান রাখেন?
  1. সতীদাহ প্রথা বিলোপ
  2. ঠগী দমন
  3. 'ইন্ডিয়ান পেনাল কোড’ তৈরি
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক বাংলার সর্বশেষ ( ১৮২৮-১৮৩৩) এবং ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ( ১৮৩৩-১৮৩৫) ছিলেন।
তার অবদানসমূহ-
- তিনি বাংলায় সর্বপ্রথম ‘জুরী ব্যবস্থার’ প্রবর্তন করেন।
- বেন্টিঙ্ক লর্ড মেকলের সহায়তায় আইন কমিশন গঠন করে ‘ইন্ডিয়ান পেনাল কোড’ তৈরি করেন।
- সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরন আইন ( ১৮২৯ ) - রাজা রামমোহন রায় ও প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সমর্থন ও সহায়তা লাভ করেন।
- সতীদাহ নিবারণ ও ঠগী দমন হলো বেন্টিঙ্কের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কীর্তি।
- এছাড়া তৎকালীন হিন্দু রীতি অনুযায়ী দেবতাকে খুশি করার জন্য নিজের প্রথম সন্তানকে গঙ্গা নদীতে নিক্ষেপ ও বিবাহ দেয়ার অক্ষমতাহেতু নিজ শিশু কন্যাকে গলাটিপে হত্যা করার নিয়মও বেন্টিঙ্ক চিরতরে বন্ধ করে দেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা - ৯ম - ১০ম শ্রেনি এবং ইতিহাস প্রথম পত্র - এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৭৬.
নিচের কোনজন একজন সশ্বস্ত্র ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী?
  1. ক) জওহরলাল নেহরু
  2. খ) মাস্টার দা সূর্যসেন
  3. গ) সর্দার বল্লবভাই প্যাটেল
  4. ঘ) চিত্তরঞ্জন দাস
সঠিক উত্তর:
খ) মাস্টার দা সূর্যসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মাস্টার দা সূর্যসেন
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত অপশনসমূহের মধ্যে মাস্টার দা সূর্যসেন ছিলেন একজন ব্রিটিশবিরোধী সশ্বস্ত্র বিপ্লবী। তিনি ১৮৯৪ সালে চট্টগ্রামের রাউজানে জন্মগ্রহণ করেন। তার পুরোনাম সূর্যকুমার সেন। ডাকনাম ছিলো কালু।

১৯১৬ সালে বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজে অধ্যয়নকালে সূর্যসেন শিক্ষক শতীশচন্দ্র চক্রবর্তীর মাধ্যমে বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন এবং যুগান্তর দলের সাথে সম্পৃক্ত হন। পরবর্তীতে চট্টগ্রামে ফিরে এসে তিনি যুগান্তর দলকে উজ্জীবিত করেন।

তিনি ছিলেন যুগান্তর দলের চট্টগ্রাম শাখার প্রধান। এছাড়া চট্টগ্রাম রিপাবলিকান আর্মি নামে একটি সশ্বস্ত্র সংগঠন গড়ে তোলেন।

তার নেতৃত্বে ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রামে সরকারি অস্ত্রগার লুন্ঠন সংঘটিত হয় যা সারা ভারতবর্ষে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো। মাস্টার দা স্বাধীন চিটাগাং সরকারের ঘোষণা দেন। তবে শেষ পর্যন্ত ইংরেজ বাহিনীর সাথে যুদ্ধে মাস্টার দা ও তার বিপ্লবীরা পরাজিত হয়।

১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কারাগারে সূর্যসেনকে ফাসি দেওয়া হয়। তার সহচরদের মধ্যে ছিলেন অম্বিকা চক্রবর্তী, লোকনাথবল, নির্মল সেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার প্রমুখ।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৫৭৭.
কোনটি লর্ড কার্জন করেছিলেন?
  1. ক) সীমান্ত নীতি চালু করেন
  2. খ) ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল নির্মাণ
  3. গ) ইম্পেরিয়াল লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
লর্ড কার্জন
- কার্জন, লর্ড (১৮৫৯-১৯২৫) ভারতের গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয়।
- তাঁর পুরো নাম জর্জ নাথানিয়েল কার্জন।
- লর্ড কার্জন পর পর দু'বার ভারত সাম্রাজ্যের অধিকর্তা ছিলেন। 

সীমান্ত নীতি  
- কার্জনের গৃহীত প্রথম পদক্ষেপ ছিল চিত্রল, খাইবার ও খুর্রম উপত্যকা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার।
- কারণ, এগুলি সরাসরি ব্রিটিশ শাসিত ছিল না।
- প্রয়োজনে ব্রিটিশ সাহায্য নিয়ে উক্ত অঞ্চলের উপজাতীয়রা নিজেদেরকে রক্ষা করবে- এটিই ছিল লর্ড কার্জনের নীতি।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যন্ত এ নীতির গুণেই সীমান্ত অঞ্চল শান্ত ছিল।
- এ নীতির সম্পূরক হিসেবেই উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ সৃষ্টি করা হয়।
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল  
- কলকাতার বিখ্যাত গড়ের মাঠের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত স্মৃতিভবন।
- ১৯০১ সালে ৯৪ বছর বয়সে মহারানী ভিক্টোরিয়া মারা যাওয়ার পর তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে সাদা মার্বেল পাথরের এই ভবনটি নির্মিত হয়।
- লর্ড কার্জন এই স্মৃতিসৌধটি নির্মাণের পরিকল্পনা করেন।
ইম্পেরিয়াল লাইব্রেরি
- ব্রিটিশ মিউজিয়াম আর অক্সফোর্ডের বোদলেইয়ান লাইব্রেরির আদলে স্থাপন করেন ‘ইম্পেরিয়াল লাইব্রেরি’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৭৮.
অখণ্ড বাংলা রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব কবে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হয়?
  1. ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট
  2. ১৯৪৫ সালের ২৬ জানুয়ারি
  3. ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট
  4. ১৯৪৭ সালের ২৭ এপ্রিল
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালের ২৭ এপ্রিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালের ২৭ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
• অখণ্ড বাংলার উদ্যোগ:
- ১৯৪৭ সালে হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ক ভয়াবহ রূপ ধারণ করে এবং রক্তক্ষয়ী দাঙ্গায় পরিণত হয়।
- এই জটিল পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে ব্রিটিশ সরকার ক্ষমতা ভারতীয়দের হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
- এমন এক সংকটময় সময়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী "যুক্ত বাংলা" গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- এই প্রস্তাবের পক্ষে দৃঢ় সমর্থন দেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ভাই শরৎচন্দ্র বসু।
- এই প্রস্তাবটি ইতিহাসে "বসু-সোহরাওয়ার্দী প্রস্তাব" নামে পরিচিত।
- ১৯৪৭ সালের ২৭ এপ্রিল দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সোহরাওয়ার্দী স্বাধীন ও সার্বভৌম অখণ্ড বাংলা রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
- মুসলিম লীগ নেতা আবুল হাশিম বৃহত্তর বাংলার একটি রাজনৈতিক রূপরেখা প্রণয়ন করেন।
- পরে শরৎচন্দ্র বসু একটি ‘সোস্যালিস্ট রিপাবলিক’ হিসেবে অখণ্ড বাংলাকে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৭৯.
কোন চাকমা নেতা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন?
  1. জুয়ান বক্স খান
  2. আজিয়ান বক্স খান
  3. জিয়ান বক্স খান
  4. জুম্মন বক্স খান
সঠিক উত্তর:
জুয়ান বক্স খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুয়ান বক্স খান
ব্যাখ্যা
• চাকমা বিদ্রোহ (১৭৭৬-১৭৮৯):
- চাকমা বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয় চাকমা রাজা জুয়ান বক্স খান ।
- কারণ চাকমা রাজা জুয়ান বক্স মুদ্রার রাজস্ব দিতে বাধ্য করা হয় ।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে মুদ্রা অর্থনীতি প্রচলনের ব্যবস্থা করায় চাকমা বিদ্রোহ সংঘঠিত হয়।
- সরকারি নথিপত্র থেকে জানা যায় যে, জুয়ান বক্স ও রানু খান সম্পূর্ণ পাহাড়ি এলাকা ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীন করেছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৮০.
পূর্ব পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটি গঠিত হয় কবে?
  1. ১৯২৭ সালে
  2. ১৯৪২ সালে
  3. ১৯৪৭ সালে
  4. ১৯৫০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪২ সালে
ব্যাখ্যা
- ১৯৪২ সালের ৩০ আগস্ট কলকাতায় পূর্ব পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটি গঠিত হয়।
- এটির সভাপতি ছিলেন আবুল কালাম শামসুদ্দীন এবং আহবায়ক ছিলেন মুজিবুর রহমান খাঁ।
- সোসাইটির অন্যতম মূলনীতি ছিল পাকিস্তানি চেতনার সাহিত্যিক রূপায়ণ। এ উদ্দেশ্যে বৈঠক, বক্তৃতা, বিতর্ক, রচনাপাঠ, আলোচনা, গবেষণা, পুস্তকাদি প্রচার প্রভৃতির আয়োজন করা হতো। মুসলমানদের ধর্ম, সমাজ, ঐতিহ্য ও জীবনকে উপাদান হিসেবে গ্রহণ করে এবং আরবি-ফারসি-উর্দু শব্দ মিশ্রিত বাংলা ভাষাকে মাধ্যম করে সাহিত্য রচনা করা হতো।
- রেনেসাঁ সোসাইটির প্রবক্তারা পূর্ব পাকিস্তানকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান জন্মের মাধ্যমে বাংলা ভাগের ফলে পূর্ব পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটির অস্তিত্বও ফুরিয়ে যায়।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৫৮১.
ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট এর প্রবক্তা কে?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. ক্ষুদিরাম বসু
  3. হেনরি লুইস ডিরোজিও
  4. প্যারিচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুইস ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুইস ডিরোজিও
ব্যাখ্যা

ডিরোজিও ও ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট:
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধ জুড়ে ছিল রাজা রামমোহন রায়ের আন্দোলনের ধারা। দৃঢ়ভাবে সে ধারাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল হিন্দু কলেজের প্রতিভাবান ছাত্রবৃন্দ ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলনের মাধ্যমে । যার নেতৃত্বে ছিলেন হিন্দু কলেজের তরুণ অধ্যাপক হেনরি লুইস ডিরোজিও।
- তিনি তাঁর ছাত্র-অনুসারীদের স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করার শিক্ষা দেন।
- ডিরোজিও ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ডিরোজিও তাঁর স্কুল শিক্ষক ডেভিড ড্রামন্ডের প্রগতিবাদী, সংস্কারমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমৃদ্ধ মানবতাবাদী চিন্তাধারা দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন।
- বাংলার ‘রেনেসাঁস’ যুগের এই প্রতিভাবান তরুণ মাত্র তেইশ বছর বয়সে ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর হাতে গড়া অনুসারী, ছাত্ররা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখতে থাকেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন, রামতনু লাহিড়ী, রাধানাথ সিকদার, প্যারিচাঁদ মিত্র, কৃষ্ণমোহন ব্যনার্জি প্রমুখ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮২.
ভারত শাসন আইন -১৯৩৫ এর বৈশিষ্ট নয় কোনটি?
  1. ভারতীয় প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান
  2. ভারতে প্রথম বারের জন্য সরাসরি নির্বাচন উপস্থাপন
  3. ভারত থেকে মায়ানমার এর পৃথকীকরণ
  4. এই আইনের আলোকে সাইমন কমিশন গঠন করা হয়
সঠিক উত্তর:
এই আইনের আলোকে সাইমন কমিশন গঠন করা হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এই আইনের আলোকে সাইমন কমিশন গঠন করা হয়
ব্যাখ্যা
ভারত শাসন আইন:
- সাইমন কমিশনের রিপোর্ট এবং উক্ত শ্বেতপত্রের আলোকে পরের বছর ভারতের জন্য একটা নতুন সংবিধানের খসড়া প্রকাশিত হয়।
- এ খসড়ার ভিত্তিতেই ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে বৃটিশ পার্লামেন্টের উভয় হাউসে ভারতের শাসনকার্যের জন্য একটা নতুন শাসনতন্ত্র গৃহীত হয়।
- এটাই ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দের বিখ্যাত ভারত শাসন আইন।

- ভারত শাসন আইন ১৯৩৫ ছিল ব্রিটিশ সরকার রাজের পরাধীন ভারতের শেষ সংবিধান। 
- এই আইনটি ছিল একটি সুবৃহৎ দলিল।
- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ভারত বিভক্তির সময়ও এ আইন কার্যকরী ছিল।

এই আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দিক :
- এইটি ভারতীয় প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান করল এবং ভারত শাসন আইন ১৯৪৭ শেষ হল।
- এইটি ফলে সমস্ত ভারতীয় প্রাদেশিক রাজ্য গুলি ভারত ফেডারেশনের জন্য যোগ দিল।
- প্রথম বারের জন্য সরাসরি নির্বাচন উপস্থাপন করা হল। ভোট দেবার অধিকার বৃদ্ধি কর হল।
- সিন্ধু বোম্বে থেকে পৃথকী করণ হল। উড়িষ্যা বিহার থেকে আলাদা করা হল।
- বর্মা বা মায়ানমার ভারত থেকে আলাদা করা হল।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫৮৩.
'দশসালা বন্দোবস্ত' চালু করেন কে? 
  1. লর্ড কার্জন 
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. লর্ড মেয়ো
  4. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক
সঠিক উত্তর:
লর্ড কর্নওয়ালিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা

দশসালা বন্দোবস্তো:
- ইংরেজ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি ছিল একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।
- এমতাবস্থায় লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংসকে কোম্পানির গভর্নর জেনারেল করে পাঠানো হয়।
- তিনি বাংলায় দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটান।
- অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য জমিদারদের সাথে 'পাঁচসালা ভূমি বন্দোবস্ত করেন।
- তিনি ১৭৭৭ সালে 'একসালা বন্দোবস্ত' করেন।
- ১৭৮৬ সালে লর্ড কর্নওয়ালিশকে গভর্নর জেনারেল নিয়োগ করা হয়।
- 'দশসালা বন্দোবস্ত' করেন লর্ড কর্নওয়ালিশ।১৭৯০ সালে তিনি 'দশসালা বন্দোবস্ত' প্রবর্তন করেন।

- কর্নওয়াশি ১৭৯৩ সালের ২২ মার্চ 'দশসালা বন্দোবস্ত'কে 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' বলে ঘোষণা করেন।

অপরদিকে,
- ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস পাঁচসালা বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- পাঁচসালা বন্দোবস্তের মূল লক্ষ্য ছিল রাজস্ব আদায় করা।
- জমি বন্দোবস্তের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকায় জমিদাররা অর্থ আদায়ের জন্য কৃষকদের প্রতি চরম নির্যাতন মূলক ব্যবস্থা নিতো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮৪.
'হান্টার কমিশন' কার শাসনামলে গঠিত হয়?
  1. লর্ড মেয়ো
  2. লর্ড কার্জন
  3. লর্ড মিন্টো
  4. লর্ড রিপন
সঠিক উত্তর:
লর্ড রিপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড রিপন
ব্যাখ্যা
• 'হান্টার কমিশন' লর্ড রিপনের শাসনামলে গঠিত হয়।

• হান্টার কমিশন গঠন:

- তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড রিপন ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দের ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০ জন সদস্য নিয়ে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন।
- এটি প্রথম "ভারতীয় শিক্ষা কমিশন” নামে পরিচিত।
- এই কমিশন স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টারের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল বলে একে "হান্টার কমিশন” বলা হয়।
- স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টার ছিলেন এই কমিশনের সভাপতি।
- অন্যান্য সদস্যরা হলেন আনন্দমোহন বসু, কে.টি. তেলাং, ভূদেব মুখোপাধ্যায়, স্যার সৈয়দ আহমদ খান প্রমুখ।
- প্রাথমিক শিক্ষা ও নিরক্ষরতা বিষয়ে এই কমিশনকে বিশেষভাবে বিচার করার কথা বলা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৮৫.
কোন ঘটনাটি সবার শেষে ঘটেছিলো?
  1. ক) সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ
  2. খ) লাহোর প্রস্তাব পেশ
  3. গ) জালিয়ানওযালাবাগ হত্যাকাণ্ড
  4. ঘ) ক্রিপস মিশন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রিপস মিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রিপস মিশন
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত অপশনসমূহের মধ্যে সবার শেষের ঘটনা হলো ক্রিপস মিশন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ভারতীয়দের সহায়তা লাভে উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইন্সটন চার্চিল ক্যাবিনেট মন্ত্রী স্ট্যাফোর্ট ক্রিপসের নেতৃত্বে ১৯৪২ সালের ২৩শে মার্চ ভারতে একটি প্রতিনিধি দল পাঠায়। এই প্রতিনিধি দলটিই ‘ক্রিপস মিশন’ নামে পরিচিত।
এতে ভারতীয়দের জন্যে নতুন কিছু প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই মিশন ব্যর্থ হয়।
অন্যদিকে,
- জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড : ১৯১৯ সালে
- সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ ঘোষিত হয় : ১৯৩২ সালে
- লাহোর প্রস্তাব পেশ করা হয় : ১৯৪০ সালে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৫৮৬.
'The Spirit of Islam' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ আহমদ খান
  2. সৈয়দ আমির আলি
  3. আল্লামা ইকবাল
  4. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমির আলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমির আলি
ব্যাখ্যা

সৈয়দ আমির আলি:
- সৈয়দ আমির আলি উনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণ, ইসলামের আধুনিক ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
- ১৮৪৯ সালে হুগলীর এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ. ও বি.এল. ডিগ্রি লাভ করেন।
- ১৮৭৩ সালে লন্ডনের লিংকন্স ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে দেশে ফেরেন।

•রাজনৈতিক অবদান:
- ভারতের প্রথম মুসলিম নেতা যিনি মুসলমানদের জন্য পৃথক রাজনৈতিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন।
- ১৮৭৭ সালে কলকাতায় সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন গঠন করেন।
- মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষা ও দাবি-দাওয়া সরকারের কাছে পৌঁছানোর জন্য সংগঠিত প্রচেষ্টা শুরু করেন।
- ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠাকে স্বাগত জানান এবং ১৯১২ সালে মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

সাহিত্যিক অবদান:
- The Spirit of Islam — ইসলাম ধর্মের বিজ্ঞানসম্মত ও আধুনিক ব্যাখ্যা।
- A Short History of the Saracens — ইসলামের অতীত গৌরব তুলে ধরা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৮৭.
সরকারী ভাষা হিসেবে এ দেশে ইংরেজির ব্যবহার শুরু হয় কোন সাল থেকে?
  1. ১৮২৪
  2. ১৮৫৭
  3. ১৮৩৫
  4. ১৭৬৫
সঠিক উত্তর:
১৮৩৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৩৫
ব্যাখ্যা

লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক (১৭৭৪–১৮৩৯)
- ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর-জেনারেল (১৮২৮–১৮৩৫)। 
- তিনি শিক্ষা এবং সামাজিক সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
- ১৮৩৫ সালে ইংরেজি মাধ্যমিক শিক্ষা চালু করার নীতি ঘোষণা করেন।
- বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি শিক্ষাকে সরকারী শিক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করেন।
- কলকাতা মেডিকেল কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে সাহায্য করেন।
- তাঁর পদক্ষেপ আধুনিক শিক্ষার ভিত্তি স্থাপন করে, তাই তাঁকে “Father of Indian Education” বলা হয়।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ)

৫৮৮.
Which emperor of Delhi granted duty-free trade rights to the British in Madras, Bengal, Bombay?
  1. Emperor Farukhshia
  2. Emperor Humayun
  3. Emperor Akbor
  4. Emperor Bahadur Shah Jafar
সঠিক উত্তর:
Emperor Farukhshia
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Emperor Farukhshia
ব্যাখ্যা
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- ইংরেজ কোম্পানির ক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পায় যখন দিল্লীর সম্রাট ফারুখশিয়ার তাদের বাংলা, বোম্বাই, মাদ্রাজে বিনা শুল্কে বাণিজ্যের অধিকার প্রদান করেন।
- এই সঙ্গে নিজস্ব মুদ্রা প্রচলনের অধিকারও তারা লাভ করে।
- সম্রাটের এই ফরমানকে ইংরেজ ঐতিহাসিক ওরমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মহাসনদ বা ম্যাগনাকার্টা বলে উল্লেখ করেন।
- এই অধিকার লাভ করে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অপ্রতিরুধ্য গতিতে অগ্রসর হতে থাকে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮৯.
নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীকে ‘নবাব’ উপাধি কে প্রদান করেন?
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড ক্লাইভ
  3. মহারানী ভিক্টোরিয়া
  4. লর্ড ডালহৌসি
সঠিক উত্তর:
মহারানী ভিক্টোরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহারানী ভিক্টোরিয়া
ব্যাখ্যা

- ১৮৮৯ সালে মহারানী ভিক্টোরিয়া তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন — ভারতবর্ষের প্রথম নারী হিসেবে এই সম্মান লাভ করেন।

নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী:

- নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী ছিলেন বাংলার নারীশিক্ষার প্রবর্তক, জনহিতৈষী জমিদার, সমাজসেবক, লেখিকা এবং ভারতবর্ষের প্রথম নারী যিনি ‘নবাব’ উপাধি লাভ করেন।
জন্ম ও শিক্ষা:
• জমিদারি ও প্রশাসন:
- পিতার মৃত্যুর পর পশ্চিমগাঁও-এর জমিদারি এবং মাতুল সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়ে বিশাল জমিদারির মালিক হন।
- প্রজাবৎসল ও কর্মদক্ষ জমিদার হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 

•নারীশিক্ষা ও সমাজসেবা:
- ১৮৭৩ সালে কুমিল্লায় একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন — ভারত উপমহাদেশে বেসরকারিভাবে প্রতিষ্ঠিত নারীশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম।
- পরবর্তীকালে এটি কলেজে রূপান্তরিত হয় এবং নামকরণ করা হয় নবাব ফয়জুন্নেছা কলেজ।
- দরিদ্র নারীদের চিকিৎসার জন্য ফয়জুন্নেছা জেনানা হাসপাতাল ও দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন করেন।
- জমিদারি এলাকায় বহু প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা নির্মাণ করেন।

• সাহিত্যকর্ম:
- আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস রূপজালাল।
- তত্ত্ব ও জাতীয় সংগীত, সংগীত সার ও সংগীত লহরী নামক গ্রন্থ রচনা করেন।
সমকালীন সংবাদপত্র ও সাময়িকী (বান্ধব, ঢাকা প্রকাশ, মুসলমান বন্ধু, সুধাকর, ইসলাম প্রচারক প্রভৃতি) আর্থিকভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করেন।

সম্মান ও স্বীকৃতি:
- ১৮৮৯ সালে মহারানী ভিক্টোরিয়া তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন — ভারতবর্ষের প্রথম নারী হিসেবে এই সম্মান লাভ করেন।
- ২০০৪ সালে বাংলাদেশ সরকার মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৯০.
পলাশীর যুদ্ধে কে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেনি?
  1. ক) মীরজাফর
  2. খ) মীরমদন
  3. গ) রায় দুর্লভ
  4. ঘ) ইয়ার লতিফ
সঠিক উত্তর:
খ) মীরমদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মীরমদন
ব্যাখ্যা
১৭৫৭ সালের ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজ-উ-দ্দৌলার সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ হয় । যুদ্ধক্ষেত্রে নবাবের সেনাপতি মীরজাফর, জগৎশেঠ, রায় দুর্লভ, ইয়ারলতিফ, উমিচাঁদ প্রমূখ তাদের সৈন্যবাহিনীসহ নিস্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে ইংরেজদের জয়ের সুযোগ করে দেয়।
তবে মীরমদন, মোহনলাল প্রমুখ দেশপ্রেমিক সৈনিকগণ ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রাণপণে যুদ্ধ করেন এবং ইংরেজদের গোলার আঘাতে মীরমদনের মৃত্যু হয়।
নবাব পরাজিত ও নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়।
পলাশীর যুদ্ধে ফরাসি সেনাদের একটি দল 'সিনফ্রে'র সেনাপতিত্বে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা - নবম দশম শ্রেণী।
৫৯১.
নাথান কমিশন গঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯১০ সালে
  2. ১৯১২ সালে
  3. ১৯১৩ সালে
  4. ১৯১৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১২ সালে
ব্যাখ্যা
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ১৯১২ সালের ২৭ মে তৎকালীন বঙ্গীয় সরকার ১৩ সদস্য বিশিষ্ট নাথান কমিশন গঠন করে।
নাথান কমিশনের সদস্যরা হলেন:
- আর. নাথানিয়েল (প্রধান)
- ডব্লিউ কুচলু
- অ্যাডভোকেট রাসবিহারী ঘোষ
- নওয়াব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী
- নওয়াব সিরাজুল ইসলাম
- উকিল আনন্দচন্দ্র রায়
- মুহম্মদ আলী
- এইচ.আর জেমস
- ডব্লিউ.এ.টি আর্চবোল্ড
- সতীশচন্দ্র আচার্য
- ললিত মোহন চ্যাটার্জী
- সি.ডব্লিউ পীক ও
- শামসুল উলামা আবু নসর মুহম্মদ ওহীদ।
- কমিশনের সচিবের দায়িত্ব পালন করেন ডি.এস ফ্রেজার।
- এই কমিশন একই বছরের হেমন্তে তার রিপোর্ট সরকারের নিকট পেশ করে। কমিশন ঢাকায় একটি সরকার নিয়ন্ত্রিত আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব করে।
- ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৫৯২.
নীল বিদ্রোহের প্রধান নেতা কারা ছিলেন?
  1. বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস
  2. হাজী শরিয়তুল্লাহ এবং মজনু শাহ
  3. ভবানী পাঠক এবং গোলাম মাসুম
  4. উপরের কেউই না
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস
ব্যাখ্যা

নীল বিদ্রোহ:
- বাংলার কৃষকেরা ১৮৫৯-৬২ খ্রি. ইউরোপীয় নীলকরদের বিরুদ্ধে একটি ব্যাপক বিদ্রোহ সংঘটন করে।
- তারা সকলে একতাবদ্ধ হয়ে নীল চাষ বর্জন করার আন্দোলন গড়ে তোলে।
- এই আন্দোলনের মাধ্যমে কৃষকেরা সাফল্যের সাথে ইংরেজদের নীলভিত্তিক অর্থনীতিতে আঘাত হেনেছিল।
- এই বিদ্রোহের ফলে নীল শিল্প ধ্বংস হয়ে যায় এবং বাংলার নীলকরেরা তাদের কুঠি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

⇒ ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লবের ফলে কাঁচামাল সংগ্রহের একটি ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হয় ব্রিটেনের বাংলা উপনিবেশ। বস্ত্র শিল্পের রঞ্জক হিসেবে নীলের চাষ ও তা ইংল্যান্ডে রপ্তানি করে প্রচুর মুনাফার সম্ভাবনা সূত্র খুঁজে পায় নীলকরেরা। রায়তদের জোর করে নীল চাষে বাধ্য করে তারা। কিন্তু অলাভজনক হওয়ায় রায়তেরা নীলচাষে অনাগ্রহ প্রকাশ করে।

⇒ চরম অত্যাচার আর শোষণে বিপর্যস্ত দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া নীল চাষিরা ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে প্রচণ্ড বিদ্রোহে ফেটে পড়ে। গ্রামে গ্রামে কৃষকরা সংগঠিত এবং ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে। এই সব বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয় নীল চাষিরাই।
- যশোরের নীল বিদ্রোহের নেতা ছিলেন নবীন মাধব ও বেনী মাধব নামে দুই ভাই।
- হুগলীতে নেতৃত্ব দেন বৈদ্যনাথ ও বিশ্বনাথ সর্দার।
- নদীয়ায় ছিলেন মেঘনা সর্দার এবং নদীয়ার চৌগাছায় বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস নামে দুই ভাই।

⇒ ১৮৬০ সালে সরকার 'ইন্ডিগো কমিশন' বা 'নীল কমিশন' গঠন করে।
- এই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে নীলচাষ করা, না করা কৃষকদের ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেয়া হয় এবং ‘ইন্ডিগো কন্ট্রাক্টস অ্যাক্ট' বাতিল করা হয়।
- ফলে নীল বিদ্রোহের অবসান ঘটে।
- দীনবন্ধু মিত্রের লেখা 'নীলদর্পণ' নাটকের কাহিনী চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) Britannica.
iii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।

৫৯৩.
সম্রাট ফারুকশিয়ার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কোন স্থানে বিনা শুল্কে বাণিজ্যের অধিকার প্রদান করেন?
  1. দিল্লী
  2. সুরাট
  3. বোম্বাই
  4. রাজস্থান
সঠিক উত্তর:
বোম্বাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোম্বাই
ব্যাখ্যা
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- ইংরেজ কোম্পানির ক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পায় যখন দিল্লীর সম্রাট ফারুকশিয়ার তাদের বাংলা, বোম্বাই, মাদ্রাজে বিনা শুল্কে বাণিজ্যের অধিকার প্রদান করেন।
- এই সঙ্গে নিজস্ব মুদ্রা প্রচলনের অধিকারও তারা লাভ করে।
- সম্রাটের এই ফরমানকে ইংরেজ ঐতিহাসিক ওরমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মহাসনদ বা ম্যাগনাকার্টা বলে উল্লেখ করেন।
- এই অধিকার লাভ করে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অপ্রতিরুধ্য গতিতে অগ্রসর হতে থাকে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯৪.
মাস্টারদা সূর্যসেনের সহযোগী কে ছিলেন?
  1. ক) ইলা মিত্র
  2. খ) তিতুমীর
  3. গ) প্রীতিলতা
  4. ঘ) ক্ষুদিরাম
সঠিক উত্তর:
গ) প্রীতিলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রীতিলতা
ব্যাখ্যা
মাস্টারদা সূর্যসেন:
- ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিলের সশস্ত্র বিদ্রোহ ছিল সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীদের দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি ও  সুষ্ঠ পরিকল্পনার ফসল। 
- প্রাথমিক পর্যায়ে অহিংস ও নিয়মতান্ত্রিক পথ ধরে বিপ্লবের সূচনা হলেও সময়ের ব্যবধানে সংগ্রামের অবশ্যম্ভাবী পরিণতিতে হিংসাত্মক কর্মনীতি বা বিপ্লববাদ দেখা দেয়। 
- ১৮ তারিখে গুড ফ্রাইডে থাকায় সেদিন ইউরোপীয়ান ক্লাবে ইংরেজ পদস্থ কর্মকর্তারা কেউ উপস্থিত ছিল না এবং অক্সিলিয়ারি ফোর্সের অস্ত্রাগারে ভারী অস্ত্র মিললেও কোন গুলি পাওয়া যায়নি বলে এই দুটি ক্ষেত্রে আশানুরূপ সফলতা আসেনি।
- তবে সূর্যসেনের নেতৃত্বে পুলিশের অস্ত্রাগার দখলের পর অস্ত্র ও গুলি সংগৃহীত হয়।
- অস্ত্রাগারে আগুন লাগানোর সময় অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন বিপ্লবী হিমাংশু বিমল সেন। 
- সূর্যসেন পাহাড়ে আত্মগোপন করেন।

- তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, বিপ্লবী দল চট্টগ্রামে গিয়ে ইংরেজদের আক্রমণ করবে। 
- ১৯৩০ সালের ২২ এপ্রিল এ সংঘটিত যুদ্ধে ১৪ জন বিপ্লবী শহীদ হন।
- সূর্যসেন এর নেতৃত্বে দলটি পাহাড়ে আত্মগোপন করেন। 
- মাস্টারদা সূর্যসেনের সহযোগী ছিলেন প্রীতিলতা ওয়াদেদ্দার।
- ১৯৩২ সালের জুন মাসে মাস্টারদা প্রীতিলতা ও কল্পনা দত্তকে বোমা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম কারাগার ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেবার নির্দেশ প্রদান করেন। 
- কিন্তু সে পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। এই ঘটনায় ১১ জন বিপ্লবী গ্রেফতার হন। 
- ২৪ সেপ্টেম্বর তারিখে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার পাহাড়তলী ইউরোপীয়ান ক্লাবে সফল আক্রমণ চালান, তবে তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৯৫.
পলাশীর যুদ্ধ কখন সংঘটিত হয়?
  1. ২৩ জুন ১৭৫৬
  2. ২৩ জুন ১৭৫৭
  3. ২১ ফেব্রুয়ারি ১৭৫৭
  4. ১৭ জুলাই ১৭৫৭
সঠিক উত্তর:
২৩ জুন ১৭৫৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ জুন ১৭৫৭
ব্যাখ্যা

পলাশীর যুদ্ধ: 
- পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয় ২৩ জুন ১৭৫৭।
- যুদ্ধের একপক্ষ ছিলেন বাংলার নবাব সিরাজুদ্দৌলা।
- অপরপক্ষ ছিল রবার্ট ক্লাইভ নেতৃত্বাধীন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
- যুদ্ধের ফলাফল: সিরাজুদ্দৌলা পরাজিত হন।
- এই যুদ্ধের ফলে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়।
- এর পর বাংলায় প্রায় দুইশ বছরের ইংরেজ শাসন শুরু হয়।
- যুদ্ধের মাধ্যমে মীর জাফরকে নবাব বানানো হয়, যিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পুতুলশাসক হিসেবে কাজ করেন।
- পলাশীর যুদ্ধ ইতিহাসে ভূমিকম্প-সদৃশ পরিবর্তন সূচিত করে- রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে বাংলার শাসন ব্যর্থ হয়।
-এটি মুঘল শাসন অবসানের প্রাক্কালে বাংলার প্রধান ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (নবম–দশম শ্রেণি)।

৫৯৬.
সিপাহি বিদ্রোহের সূচনা হয় কোন জেলায়?
  1. ব্যারাকপুর
  2. কানপুর
  3. মিরাট
  4. সুরাট
সঠিক উত্তর:
ব্যারাকপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যারাকপুর
ব্যাখ্যা

→ সিপাহি বিদ্রোহের সূচনা হয় ব্যারাকপুরে।

সিপাহি বিদ্রোহ:
- সিপাহি বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে মঙ্গলপাণ্ডে নামে এক সিপাহী কর্তৃক গুলি বর্ষণের মাধ্যমে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে।
- দ্রুত এই বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে মিরাট, কানপুর, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার, বাংলাসহ ভারতের প্রায় সর্বত্র। বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী এই বিদ্রোহে শামিল হয় ।
- পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
- তবে এ বিদ্রোহের ফলে ভারতে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে।
- ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার সরাসরি তার হাতে নিয়ে নেয়।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৯৭.
পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয় কবে?
  1. ২১ জুন, ১৭৫৭
  2. ২৩ জুন, ১৭৫৭
  3. ২১ জুন, ১৮৫৭
  4. ২৩ জুন, ১৮৫৭
সঠিক উত্তর:
২৩ জুন, ১৭৫৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ জুন, ১৭৫৭
ব্যাখ্যা
পলাশীর যুদ্ধ:
- ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে।
- জেতার সবধরণের সুযোগ সুবিধা এবং এদের প্রাণপাত লড়াইয়ের পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- পলাশী যুদ্ধের ফলে ইংরেজ বা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯৮.
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পিটস ইন্ডিয়া এ্যাক্ট পাস হয় কবে?
  1. ১৭৮৪ সালে
  2. ১৭৮৫ সালে
  3. ১৮৭৭ সালে
  4. ১৭৭৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৮৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৮৪ সালে
ব্যাখ্যা
পিটস ইন্ডিয়া এ্যাক্ট:
- কোম্পানি দিউয়ানির নামে বাংলায় যে শোষণ ও উৎপীড়নের রাজত্ব কায়েম করে সে বিষয়ে ব্রিটিশ-রাজ কখনো দৃষ্টিপাত করেনি।
- কিন্তু ১৭৭০ সালে বাংলার মহাদুর্ভিক্ষ ব্রিটিশ সরকারকে কোম্পানির বিষয়াদিতে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য করে।
- ১৭৭২ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট-এর মাধ্যমে পার্লামেন্ট কোম্পানি নিয়ন্ত্রিত বাংলার বঙ্গরাজ্য বিষয়ে প্রথম হস্তক্ষেপ করে।
- মার্কিন বিপ্লবের পর আমেরিকা থেকে বিতাড়িত হয়ে ব্রিটিশ সরকার ভারতবর্ষকে বিকল্প কলোনি হিসেবে বেছে নেয়।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পিটস ইন্ডিয়া এ্যাক্ট পাস হয় ১৭৮৪ সালে।
- ১৭৮৪ সালের পিট-এর ভারত আইনের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া নিয়ন্ত্রিত কোম্পানির বঙ্গ রাজ্যের ওপর ব্রিটিশ সরকারের কর্তৃত্ব আরও সুদৃঢ় করা হয়।
- ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইলিয়াম পিট এর নামে নামকরণ করা হয়েছিল।

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯৯.
'ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ' কত শতকে সংঘটিত হয়?
  1. ষোড়শ শতক
  2. সপ্তাদশ শতক
  3. অষ্টাদশ শতক
  4. ঊনবিংশ শতক
সঠিক উত্তর:
অষ্টাদশ শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অষ্টাদশ শতক
ব্যাখ্যা
• 'ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ' অষ্টাদশ শতকে সংঘটিত হয়।
• ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ১৭৬০ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।

• ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
- তবে এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে।
- ফকির মজনু শাহের যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি, অর্থাৎ অতর্কিতে আক্রমণ করে নিরাপদে সরে যাওয়া।
- তিনি ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।
- অপরদিকে সন্ন্যাসী বিদ্রোহের প্রধান নেতা ছিলেন ভবানী-পাঠক।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০০.
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক কত খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেল হয়ে ভারতে আসেন?
  1. ১৮২৮ সালে
  2. ১৮২৯ সালে
  3. ১৮৩০ সালে
  4. ১৮৩১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮২৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮২৮ সালে
ব্যাখ্যা
লর্ড বেন্টিঙ্ক:

- ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড বেন্টিঙ্ক এদেশে গভর্নর জেনারেল হয়ে আসেন।
- প্রথম জীবনে তিনি নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে ওয়াটারলুর যুদ্ধ বিজেতা ডিউক অফ ওয়েলিংটনের সেনা বাহিনীতে ছিলেন।
- তিনি যখন এদেশে গভর্নর জেনারেল হিসেবে আসেন তখন তাঁর এদেশে সামরিক নৈপুণ্য দেখানোর কোনো সুযোগ ছিল না।
- কারণ সে সময়টা ছিল সংস্কারের যুগ। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, বেন্টিঙ্কই প্রথম গভর্নর জেনারেল যিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে এদেশে প্রজাদের কল্যাণ সাধনই শাসকের প্রধান কর্তব্য।
- তাঁর প্রচেষ্টার ফলেই এদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও সভ্যতার অবাধ প্রসারের পথ উন্মুক্ত হয়।
- বেন্টিঙ্কের সমাজ সংস্কার ধর্মীয় গোঁড়ামী ও নিপীড়নের হাত থেকে এদশের জনগণকে রক্ষা করেছিল।
- তাঁর শিক্ষা সংস্কার পরবর্তীকালে এদেশীয়দের মনোজগতে এক বিরাট আলোড়ন ও পরিবর্তন নিয়ে আসে যা এদেশের সমাজ ও সভ্যতার অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করে তুলেছিল।
- তাই আজও লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক উপমাহদেশের ব্রিটিশ যুগের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।