বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ইউরোপীয়দের আগমন ও ব্রিটিশ শাসনামল

মোট প্রশ্ন১,৩১৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ইউরোপীয়দের আগমন ও ব্রিটিশ শাসনামল

PrepBank · পাতা / ১৪ · ৪০১৫০০ / ১,৩১৫

৪০১.
ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি কোন চুক্তির মাধ্যমে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে ? 
  1. আলীনগর চুক্তি
  2. এলাহাবাদ চুক্তি
  3. মুর্শিদাবাদ চুক্তি
  4. লক্ষ্মৌ চুক্তি
সঠিক উত্তর:
এলাহাবাদ চুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এলাহাবাদ চুক্তি
ব্যাখ্যা
• ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে এলাহাবাদ চুক্তির মাধ্যমে।

• ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভ:
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে দেওয়ানি লাভের পর প্রকৃতপক্ষে ইংরেজরাই বাংলার সত্যিকার শাসকরূপে আত্মপ্রকাশ করে।
- এ সময়ে ইংরেজ কোম্পানি মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলার রাজস্ব আদায়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব লাভে সক্ষম হয়।
- বক্সারের যুদ্ধে বাংলার নবাব, অযোধ্যার নবাব এবং দিল্লীর সম্রাটের পরাজয় ইংরেজ শক্তিকে এই ক্ষমতা লাভের সুযোগ করে দেয়।
- বক্সারের যুধের পর ক্লাইভ দ্বিতীয়বার (১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ) ভারতবর্ষে এলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
- ক্লাইভ দেশ থেকে ফিরে অযোধ্যার পরাজিত নবাবের সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করেন।
- তার বিনিময়ে আদায় করে নেন কারা ও এলাহাবাদ জেলা দুটি।
- যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ আদায় করেন পঞ্চাশ লক্ষ টাকা।
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে কোম্পানিকে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ানি দান করা হয়।
- এর বিনিময়ে ছাব্বিশ লক্ষ টাকা নবাব প্রতিবছর সম্রাটকে পাঠাবেন।
- এই টাকা নিয়মিত পাঠাবার জামিনদার হবে কোম্পানি।
- ইতিহাসে এটি এলাহাবাদ চুক্তি নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০২.
'ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' কোন সালে গঠিত হয়?
  1. ১৬০০
  2. ১৬০১
  3. ১৬৫০
  4. ১৭৫০
সঠিক উত্তর:
১৬০০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬০০
ব্যাখ্যা

• ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:

- ব্রিটেনের রানী প্রথম এলিজাবেথের নিকট থেকে প্রাপ্ত সনদের মাধ্যমে ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
- ১৬১২ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৭০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করে।
- ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশী যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয় এবং ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে। এরপর ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার নিজে নিয়ে নেয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।

৪০৩.
ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কখন বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানী লাভ করে?
  1. ১৭৫৫ সালে
  2. ১৭৬৯ সালে
  3. ১৭৬৫ সালে
  4. ১৭৪৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৬৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৬৫ সালে
ব্যাখ্যা

ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি — ১৭৬৫ সালে — বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানী লাভ করে

কোম্পানির দেওয়ানি লাভ:
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে দেওয়ানি লাভের পর প্রকৃতপক্ষে ইংরেজরাই বাংলার সত্যিকার শাসকরূপে আত্মপ্রকাশ করে।
- এ সময়ে ইংরেজ কোম্পানি মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলার রাজস্ব আদায়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব লাভে সক্ষম হয়।
- বক্সারের যুদ্ধে বাংলার নবাব, অযোধ্যার নবাব এবং দিল্লীর সম্রাটের পরাজয় ইংরেজ শক্তিকে এই ক্ষমতা লাভের সুযোগ করে দেয়।
- বক্সারের যুদ্ধের পর — ক্লাইভ দ্বিতীয়বার (১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ) ভারতবর্ষে এলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
- ক্লাইভ দেশ থেকে ফিরে অযোধ্যার পরাজিত নবাবের সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করেন।
- তার বিনিময়ে আদায় করে নেন — কারা ও এলাহাবাদ জেলা দুটি।
- যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ আদায় করেন পঞ্চাশ লক্ষ টাকা।

- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে — কোম্পানিকে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ানি দান করা হয়।
- মোগল সম্রাট — দ্বিতীয় শাহ্ আলম একটি ফরমানের মাধ্যমে — বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি ইংরেজ কোম্পানির হাতে তুলে দেন।
- ইংরেজরা এর বিনিময়ে শাহ্ আলমকে বছরে ২৬ লক্ষ টাকা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়।
- ইতিহাসে এটি — এলাহাবাদ চুক্তি নামে পরিচিত।
- ১৭৬৫ সালের ১২ই অগাস্ট এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধে জয়ী হয়ে 'ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি' বাংলা তথা ভারতবর্ষে তাদের কর্তৃত্বের ভিত্তি রচনা করেন।
- ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে বাংলা, বিহার, অযোধ্যা ও দিল্লির সম্রাটের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করলে, ইংরেজদের সেই ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।

৪০৪.
কৈবর্ত বিদ্রোহের নেতা কে ছিলেন?
  1. ক) প্রথম মহীপাল
  2. খ) দিব্য
  3. গ) ধর্মপাল
  4. ঘ) দ্বিতীয় মহীপাল
সঠিক উত্তর:
খ) দিব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দিব্য
ব্যাখ্যা
-পাল রাজত্বের সময় উত্তর বঙ্গের বরেন্দ্র অঞ্চলের সামন্তবর্গ প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।
- ইতিহাসে এ বিদ্রোহ ‘কৈবর্ত বিদ্রোহ’ বা ‘বরেন্দ্র বিদ্রোহ’ নামে পরিচিত।
- কৈবর্ত বিদ্রোহের নেতা ছিলেন দিব্য
- তিনি দ্বিতীয় মহীপাল কে হত্যা করে বরেন্দ্র দখল করে নেন এবং নিজ শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- অবশেষে বারো শতকের দ্বিতীয় ভাগে বিজয় সেন পাল সাম্রাজ্যের বিলুপ্তি ঘটিয়ে বাংলায় সেন বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪০৫.
ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয় কত সালে?
  1. ১৯৬৭ সালে
  2. ১৯৭১ সালে
  3. ১৯৫২ সালে
  4. ১৯৪৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালে
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ শাসনের অবসান:

- ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয় ১৯৪৭ সালে।
- ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এ্যাটলি ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয়দের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা দেন।
- এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের বড় লাট ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে 'ভারত স্বাধীনতা আইন' প্রণয়ন করেন।
- ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত নামে দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
- বিভক্ত হয় ভারতীয় উপমহাদেশ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৬.
‘হলওয়েল মনুমেন্ট’ কোথায় নির্মাণ করা হয়?
  1. ক) ঢাকা
  2. খ) কলকাতা
  3. গ) অযোধ্যা
  4. ঘ) পাটনা
সঠিক উত্তর:
খ) কলকাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কলকাতা
ব্যাখ্যা
১৭৫৬ সালের জুনে নবাব সিরাউদ্দৌলার সৈন্যদের হাতে বন্দি অবস্থায় শতাধিক ইংরেজ সৈন্য মারা যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিং এর পাশে ইংরেজরা হলওয়েল মনুমেন্ট নির্মাণ করে। প্রথমবার এটি নির্মাণের পর ভেঙে ফেলা হলেও ১৯০২ সালে লর্ড কার্জন পুনরায় এটি নির্মাণ করেন। ১৯৪০ সালে শেরে বাংলা সরকার পুনরায় এটি অপসারণ করে। এই ঘটনা অনিচ্ছাকৃত হওয়া সত্ত্বেও ইংরেজরা এই মনুমেন্ট নির্মাণ করে। (সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং দৈনিক সংগ্রাম)
৪০৭.
বিধবা বিবাহ আইন কোন সালে পাস হয়?
  1. ১৮৫৬
  2. ১৮৬৫
  3. ১৮৬০
  4. ১৮৫২
সঠিক উত্তর:
১৮৫৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৬
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০–১৮৯১) বাংলার নবজাগরণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব,
- ১৮২০ সালে মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম।
- পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে তেজস্বিতা ও সত্যনিষ্ঠা, মা ভাগবতী দেবীর কাছ থেকে মমত্ববোধ লাভ করেন। 

• শিক্ষা ও পাণ্ডিত্য:
- অসাধারণ মেধা ও অধ্যবসায়ে মাত্র ২১ বছর বয়সে সংস্কৃত সাহিত্য, ব্যাকরণ, ন্যায়, বেদান্ত, স্মৃতি, অলংকার ইত্যাদিতে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত ও বিদ্যালয় পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেন।
• সমাজ-সংস্কার:
- বিধবা বিবাহের পক্ষে আন্দোলন করেন → ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন পাস হয়।
- কন্যাশিশু হত্যা ও বহুবিবাহ প্রথার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন।
- হিন্দু সমাজের কুসংস্কার দূরীকরণে নিরলস প্রচেষ্টা চালান।

মানবতা ও দানশীলতা:
- “দয়ার সাগর” নামে খ্যাত।
- ১৮৯১ সালে ৭১ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলা পিডিয়া। 

৪০৮.
ইংরেজরা বিনা শুল্কে অবাধ বাণিজ্যের অনুমতি কার কাছ থেকে পায়?
  1. সম্রাট ফররুখশিয়ার
  2. সম্রাট শাহজাহান
  3. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. সুবেদার শাহ সুজা
সঠিক উত্তর:
সম্রাট ফররুখশিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট ফররুখশিয়ার
ব্যাখ্যা
ইংরেজদের আগমন ও ক্ষমতা বিস্তার:
- পর্তুগিজ ও ওলন্দাজ বণিকদের বাণিজ্যিক সাফল্য ও এদেশের বিপুল ধন-সম্পদের বর্ণনা ইংরেজ বণিকদের মনে এদেশে বাণিজ্য করার আগ্রহ সৃষ্টি করে।
- ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ইংল্যান্ডের রানী এলিজাবেথের কাছ থেকে ১৫ বছর মেয়াদী সনদ নিয়ে এদেশে বাণিজ্য করতে আসে।
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময়ে তারা ১৬১২ খ্রিস্টাব্দে মুম্বাইয়ের নিকট সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৬১৫ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ রাজদূত স্যার টমাস রো সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে এসে ইংরেজদের বাণিজ্যের জন্য কিছু সুবিধা আদায় করেন।
- পর্তুগিজরা বাংলা থেকে বিতাড়িত হলে ইংরেজগণ বালেশ্বরে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে এবং করমণ্ডল উপকূলে কিছু জমি নিয়ে একটি দুর্গ নির্মাণ করে এবং এ দুর্গই পরে মাদ্রাজ শহরে পরিণত হয়।
- ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দে জলপথে ইংরেজগণ হুগলিতে আসে এবং বাংলার সুবেদার শাহ সুজার অনুমতি নিয়ে ১৬৫১ খ্রিস্টাব্দে সেখানে বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ করে।

⇒ ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস ১৬৬৮ খ্রিস্টাব্দে কোম্পানিকে মুম্বাই ইজারা দেন।
- ১৬৯০ খ্রিস্টাব্দে জব চার্নক ভাগীরথী নদীর তীরে ১২০০ টাকার বিনিময়ে কলকাতা, সূতানটি ও গোবিন্দপুর এ তিনটি গ্রামের জমিদারী স্বত্ব কিনে নেন।
- পরবর্তীকালে উপমহাদেশের ভাগ্য নির্ধারণকারী দুর্গ ফোর্ট উইলিয়াম এখানেই নির্মিত হয়।
- ১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট ফররুখশিয়ারের অনুমতি নিয়ে ইংরেজগণ বাংলা, মাদ্রাজ ও মুম্বাইয়ে বিনা শুল্কে অবাধ বাণিজ্য করতে থাকে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৯.
লর্ড মেয়োর শাসনামলে ভারতবর্ষে কোন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগটি শুরু হয়েছিল?
  1. প্রথম বাজেট ঘোষণা
  2. দশসালা বন্দোবস্ত
  3. কাগজের মুদ্রা চালু
  4. প্রথম আদমশুমারি
সঠিক উত্তর:
প্রথম আদমশুমারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথম আদমশুমারি
ব্যাখ্যা

লর্ড মেয়ো: 
- লর্ড মেয়ো ১৮৬৯ থেকে ১৮৭২ সাল পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় এবং গভর্নর জেনারেল।
- তাঁর নাম রাখা হয় রির্চাড সাউথওয়েল বুর্ক। 
- তাঁর শাসনামলেই ভারতবর্ষের প্রথম আদমশুমারি (১৮৭০) শুরু হয়।
- তিনি দেশে পরিসংখ্যান জরিপের ব্যবস্থা করেন এবং কৃষি ও বাণিজ্য বিভাগ সৃষ্টি করেন।

অন্যদিকে, 
- লর্ড ক্যানিং ভারতের ভাইসরয় ছিলেন।
- ১৮৬১ সালে উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা চালু করেন।
- ১৮৬১ সালে পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করেন।
- চার্লস উড শিক্ষা বিষয়ে ১৮৫৪ সালে যে সুপরিশমালা পেশ করেন তা কার্যকর করা হয় তার সময়ে।
- উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন লর্ড ক্যানিং (১৮৬১ সালে)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪১০.
ফকির-সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম কোথায় বিদ্রোহ শুরু করেন?
  1. দিল্লি
  2. আসাম
  3. ত্রিপুরা
  4. পশ্চিমবঙ্গ
সঠিক উত্তর:
পশ্চিমবঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশ্চিমবঙ্গ
ব্যাখ্যা

• ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন:
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন ছিল একটি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন।
- পলাশি যুদ্ধের ১৫/২০ বছর পর থেকে এই আন্দোলনের শুরু।
- ১৭৬০ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ সালে মজনু শাহ উত্তর বাংলায় ইংরেজবিরোধী তৎপরতা শুরু করেন। 
- ১৭৭৭-১৭৮৬ সাল পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ জেলায় ইংরেজদের সঙ্গে মজনু শাহ বহু সংঘর্ষে লিপ্ত হন।
- তাঁর যুদ্ধকৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি অর্থাৎ অতর্কিতে আক্রমণ করে নিরাপদে সরে যাওয়া।
- ইংরেজদের পক্ষে তাঁকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করা কখনোই সম্ভব হয়নি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৪১১.
বাংলাদেশে একচেটিয়া নীলের ব্যবসা কাদের ছিল?
  1. ইংরেজ বণিকদের
  2. ওলন্দাজ বলিকদের
  3. ফরাসি বণিকদের
  4. পর্তুগিজ বণিকদের
সঠিক উত্তর:
ইংরেজ বণিকদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংরেজ বণিকদের
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশে একচেটিয়া নীলের ব্যবসা ছিল ইংরেজ বণিকদের।

নীল বিদ্রোহ:

- ইংরেজরা এদেশে এসেছিল ব্যবসায়-বাণিজ্য করতে।
- উপমহাদেশের শাসকদের দুর্বলতার সুযোগে তারা এদেশের শাসক হয়ে উঠে।
- তারা এই উপমহাদেশের উর্বর জমিতে খাদ্য ফসলের পরিবর্তে বাণিজ্য ফসল উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠে। নীল ছিল তাদের সেই বাণিজ্য ফসল।
- ১৭৭০ থেকে ১৭৮০ সালের মধ্যে বাংলায় ইংরেজ আমলে নীল চাষ শুরু হয়।
- নীল চাষে কৃষকরা রাজি না হলে তাদের উপর চরম অত্যাচার চালানো হতো।
- বাংলাদেশে নীলের ব্যবসা ছিল একচেটিয়া ইংরেজ বণিকদের। ফরিদপুর, ঢাকা, পাবনা, যশোর, রাজশাহী, নদিয়া, মুর্শিদাবাদে ব্যাপক নীল চাষ হতো।
- ১৮৫৯ সালে ইংরেজ নীলকরদের সীমাহীন অত্যাচার শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে নীল চাষিরা যে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে তা-ই ইতিহাসে নীল বিদ্রোহ নামে খ্যাত।
- এই নেতৃত্ব এতটাই শক্তিশালী এবং সুসংহত ছিল যে শেষ পর্যন্ত ইংরেজরা নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়।
- ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে সরকার ইন্ডিগো কমিশন বা নীল কমিশন গঠন করে।
- এই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে নীলচাষ করা, না করা কৃষকদের ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেয়া হয় এবং 'ইন্ডিগো কন্ট্রাক্টস অ্যাক্ট' বাতিল করা হয়।
- ফলে নীল বিদ্রোহের অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১২.
বঙ্গভঙ্গের ফলে গঠিত নতুন প্রদেশের নাম কী ছিল? 
  1. বাংলা ও উড়িষ্যা 
  2. পূর্বভঙ্গ ও আসাম 
  3. পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম 
  4. ঢাকা ও চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
পূর্বভঙ্গ ও আসাম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বভঙ্গ ও আসাম 
ব্যাখ্যা

বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা: 
- ১৯০৫ সালের ২০ জুলাই সরকারিভাবে বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা দেওয়া হয়।
- কিন্তু ঘোষণায় মালদহ জেলা, আসাম, ঢাকা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিভাগ, পার্বত্য ত্রিপুরা ও রাজশাহী বিভাগকে একত্রিত করে 'পূর্বভঙ্গ ও আসাম' নামে একটি নতুন প্রদেশ করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
- এর আয়তন ছিল ১,৬৫,৬৪০ বর্গমাইল এবং তখন এখানে জনসংখ্যা ছিল ৩ কোটির বেশী।
- উক্ত ঘোষণায় নতুন প্রদেশের শাসনভার একজন লেফটেনেন্ট গভর্নর (সহকারী গভর্নর)-এর ওপর ন্যস্ত করা হবে,
- ঢাকা নতুন প্রদেশের রাজধানী হবে, প্রদেশটি কলিকাতা হাইকোর্টের এখতিয়ারভুক্ত থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়।
- অপরদিকে পশ্চিমবঙ্গ, কুচবিহার ও উড়িষ্যাকে নিয়ে গঠিত হবে বাংলার আর একটি আলাদা প্রদেশ।
- প্রদেশের রাজধানী কলিকাতা হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
- ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয়।
- স্যার ব্যামফিল্ড ফুলারকে নবগঠিত 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ'-এর লেফটেনেন্ট গভর্নর নিযুক্ত করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১৩.
১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের প্রধান কারণ কোনটি?
  1. ক) অর্থনৈতিক
  2. খ) ধর্মীয়
  3. গ) প্রশাসনিক
  4. ঘ) রাজনৈতিক
সঠিক উত্তর:
গ) প্রশাসনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রশাসনিক
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ:

- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের প্রধান কারণ প্রশাসনিক।
- ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এ বিভক্তির মাধ্যমে সমগ্র বাংলাকে 'পূর্ববাংলা ও আসাম' এবং 'পশ্চিমবঙ্গ' নামে দুটি প্রদেশে পরিণত করা হয়।
- ১৯০৫ সালের পূর্বে ব্রিটিশ ভারতে অবিভক্ত বঙ্গ প্রদেশই ছিল আয়তনে এবং জনসংখ্যায় সর্বাপেক্ষা বড় প্রদেশ।
- একজন গভর্নরের পক্ষে এতবড় প্রদেশ শাসন করা ছিল খুবই কষ্টকর।
- লর্ড কার্জন ভারত সচিবকে লিখেছিলেন, 'একটিমাত্র কেন্দ্র থেকে এত বড় ও বিশাল জনবহুল এলাকা শাসন করা সম্ভব নয়। এর আলোকেই ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গ হয়।
- কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুদের তীব্র বিরোধিতা এবং সহিংস আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
- লর্ড হার্ডিঞ্জের সময় ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের সময় ভাইসরয় ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪১৪.
When did the Battle of Palashi take place?
  1. ক) 23 June, 1757
  2. খ) 24 June, 1757
  3. গ) 23 June, 1857
  4. ঘ) 24 June, 1857
সঠিক উত্তর:
ক) 23 June, 1757
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 23 June, 1757
ব্যাখ্যা
পলাশী যুদ্ধ :
- বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ও ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পলাশী নামক স্থানে যে যুদ্ধ সংঘটতি হয়েছিল তাই পলাশীর যুদ্ধ নামে পরচিতি।
- ১৭৫৭ সালরে ২৩ জুন এই যুদ্ধ সংঘটতি হয়েছিল।
- সিরাজ-উদ-দৌলা হল আগের বছর বাংলার নবাব হয়েছিলেন, এবং তিনি ইংরেজদের তাদের দূর্গের সম্প্রসারণ বন্ধ করার আদেশ দিয়েছিলেন।
- রবার্ট ক্লাইভ নবাবের সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি মীর জাফরকে ঘুষ দেন এবং তাকে বাংলার নবাব করার প্রতিশ্রুতিও দেন। 
- ক্লাইভ ১৭৫৭ সালে প্লাসিতে সিরাজ-উদ-দৌলাকে পরাজিত করেন এবং কলকাতা দখল করেন।
- এই যুদ্ধে সিরাজ-উদ্দৌলা পরাজতি হন এবং ভারতবর্ষে ইংরজে শাসন প্রতষ্ঠিার পথ সূচিত হয়েছিল।
- বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রবার্ট ক্লাইভ নবাবের সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি মীর জাফরকে ঘুষ দেন এবং তাকে বাংলার নবাব করার প্রতিশ্রুতি দেন।
- ক্লাইভ ১৭৫৭ সালে সিরাজ-উদ-দৌলাকে পরাজতি করনে এবং কলকাতা দখল করনে।

 উৎস : বাংলাপিডিয়া।
৪১৫.
উপমহাদেশে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করেন কে?
  1. লর্ড ক্যানিং
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. লর্ড বেন্টিঙ্ক
  4. লর্ড ডালহৌসি
সঠিক উত্তর:
লর্ড বেন্টিঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড বেন্টিঙ্ক
ব্যাখ্যা
সতীদাহ প্রথা: 
- সতীদাহ প্রথা ভারত উপমহাদেশে নিষিদ্ধ করেছিলেন ব্রিটিশ শাসক লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক। 
- রাজা রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- ১৮২৯ সালে তিনি "রেগুলেশন XVII" আইন পাস করেন, এর মাধ্যমে হিন্দু বিধবা নারীদের জীবন্ত দাহ করা বা সতীদাহ প্রথা বেআইনি ঘোষণা করা হয়।
- এই আইনে ‘সতীদাহ প্রথা বা হিন্দু বিধবা নারীকে জীবন্ত দাহ বা সমাধিস্থ করা বেআইনি’ বলে ঘোষণা করা হয়।
- লর্ড বেন্টিঙ্ক ছিলেন একজন মানবহিতৈষী সংস্কারপন্থী, এবং তার প্রচেষ্টার ফলে সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৪১৬.
চাকমা বিদ্রোহের প্রধান কারণ কোনটি ছিল?
  1. ভূমি সংস্কার
  2. ধর্মীয় নিপীড়ন
  3. মুদ্রায় রাজস্ব দিতে বাধ্য করা
  4. নীল চাষ
সঠিক উত্তর:
মুদ্রায় রাজস্ব দিতে বাধ্য করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুদ্রায় রাজস্ব দিতে বাধ্য করা
ব্যাখ্যা

চাকমা বিদ্রোহ:
- চাকমা বিদ্রোহ সংঘটিত হয় ১৭৭৬–১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে।
- চাকমা বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন চাকমা রাজা জুয়ান (জোয়ান) বক্স খান।
- চাকমা রাজাকে মুদ্রায় রাজস্ব দিতে বাধ্য করা এই বিদ্রোহের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে মুদ্রা অর্থনীতি চালু করার উদ্যোগ চাকমা বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটায়।
- ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে চাকমা জনগণ এই বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করে।
- সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী জুয়ান বক্স ও রানু খান সম্পূর্ণ পাহাড়ি অঞ্চলকে কিছু সময়ের জন্য ব্রিটিশ শাসনমুক্ত করেন।
- চাকমা বিদ্রোহ পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ আদিবাসী প্রতিরোধ আন্দোলন ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪১৭.
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক কবে প্রথম অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন-
  1. ক) ১৯৪৫ সালে
  2. খ) ১৯৪৩ সালে
  3. গ) ১৯৩৭ সালে
  4. ঘ) ১৯৩০ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৩৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৩৭ সালে
ব্যাখ্যা

- শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি কলকাতার মেয়র হোন ১৯৩৫ সালে।
- অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩) এবং পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪) ছিলেন।
- তিনি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী (১৯৫৫) এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের পদ (১৯৫৬-১৯৫৮) সহ বহু উঁচু রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- লোকপ্রিয়ভাবে ‘শেরে বাংলা’ বা হক সাহেব রূপে পরিচিত আবুল কাশেম ফজলুল হক বাকেরগঞ্জ জেলার দক্ষিণাঞ্চলের বর্ধিষ্ণু গ্রাম সাটুরিয়ায় ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৪১৮.
খিলাফত আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন কে?
  1. মাওলানা শওকত আলী
  2. মাওলানা আতাহার আলী
  3. সৈয়দ আহমদ খান
  4. মাওলানা ভাসানী
সঠিক উত্তর:
মাওলানা শওকত আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাওলানা শওকত আলী
ব্যাখ্যা
১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তির অধীনে ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের খেলাফত তুরস্ক তথা অটোমান সাম্রাজ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলে এর বিরুদ্ধে ভারতীয়রা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা খিলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত।
দুই ভাই মাওলানা মুহাম্মদ আলী ও মাওলানা শওকত আলী, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ খিলাফত আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।

একই সময়ে কংগ্রেসের অসহযোগ আন্দোলন ও খিলাফত আন্দোলন সমগ্র ভারতবর্ষে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
১৯২৪ সালে কামাল আতাতুর্ক তুরস্কে খিলাফত বিলুপ্ত করলে খিলাফত আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪১৯.
কলকাতা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. ওয়ারেন হেস্টিংস
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. লর্ড ওয়েলেসলি
  4. লর্ড ডালহৌসি
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা
ওয়ারেন হেস্টিংস:
- বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন ওয়ারেন হেস্টিংস।
- তাঁর শাসন কালকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়, প্রথমপর্ব: ১৭৭২-১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার গভর্নর হিসেবে আর দ্বিতীয় পর্ব, ১৭৭৪-১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত গভর্নর জেনালের হিসেবে।
- তিনি বাংলায় দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটান এবং বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য জমিদারদের সাথে 'পাঁচসালা ভূমি বন্দোবস্ত' করেন।
- তবে নানা কারণে এ ব্যবস্থা ফলপ্রসূ না হলে তিনি ১৭৭৭ সালে 'একসালা বন্দোবস্ত' করেন।
- গভর্নর পদে নিযুক্ত হয়ে হেস্টিংস সর্ব প্রথমেই সীমান্ত নীতি বিষয়ে পরিবর্তন সাধন করেন এবং অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির সূচনা করেন।

⇒ কলকাতা মাদ্রাসা:
- কলকাতা মাদ্রাসা (পরবর্তীকালে আলিয়া মাদ্রাসা)  ব্রিটিশ শাসনাধীনে ভারতে রাষ্ট্রীয়-ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত সর্বপ্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
- ১৭৮০ সালে অক্টোবরে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংসএটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৭৮০ সালের এপ্রিলে বেঙ্গল প্রেসীডেন্সী সরকার এর পরিচালনা দায়িত্ব গ্রহণ করে।
- শুরুতে কলকাতা নগরীর শিয়ালদার নিকটে, একটি বাড়ীর বৈঠকখানায় স্থাপিত হলেও ১৮২৭ সালে এর বর্তমান অবস্থান ওয়েলেসলী স্কোয়ারে এটিকে স্থানান্তরিত করা হয়। 
- এর প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন ইসলামি শিক্ষায় বড় পন্ডিত মোল্লা মাজদুদ্দিন। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২০.
বাংলার 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' সময় কাল- 
  1. ১১৭৮ বঙ্গাব্দ
  2. ১১৭৪ বঙ্গাব্দ
  3. ১১৭৬ বঙ্গাব্দ
  4. ১১৭৭ বঙ্গাব্দ
সঠিক উত্তর:
১১৭৬ বঙ্গাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১৭৬ বঙ্গাব্দ
ব্যাখ্যা

ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় বাংলার ইংরেজ গভর্নর ছিলেন কার্টিয়ার।
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলার ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ নামে পরিচিত। -
- ১১৭৬ বঙ্গাব্দে (ইংরেজি ১৭৭০ সাল) এই দুর্ভিক্ষ হয় বলে একে 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' বলা হয়।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় এক তৃতীয়াংশ লোক মারা যায়।
- এই দুর্ভিক্ষে তৎকালীন বাংলার মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মারা যায়। ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় বাংলার ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর ছিলেন জন কার্টিয়ার।
- দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা এবং পরপর তিন বছর অনাবৃষ্টিজনিত খরার কারণে ফসল উৎপাদন কম হওয়ায় এই দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।

উৎস: বাংলাদেশ ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।

৪২১.
খিলাফত আন্দোলন প্রেক্ষাপট -
  1. বঙ্গভঙ্গ
  2. অটোমান সাম্রাজ্যের পতন
  3. হিন্দু-মুসলিম বিরোধ
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
অটোমান সাম্রাজ্যের পতন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অটোমান সাম্রাজ্যের পতন
ব্যাখ্যা
খিলাফত আন্দোলন
- ১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তির অধীনে ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের খেলাফত তুরস্ক তথা অটোমান সাম্রাজ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলে এর বিরুদ্ধে ভারতীয়রা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা খিলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত।
- মাওলানা মুহাম্মদ আলী ও মাওলানা শওকত আলী, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ খিলাফত আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।
- ১৯২৪ সালে কামাল আতাতুর্ক তুরস্কে খিলাফত বিলুপ্ত করলে খিলাফত আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪২২.
ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ কোথায় অবস্থিত?
  1. কলকাতা
  2. হুগলি
  3. মুর্শিদাবাদ
  4. দিল্লি
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
ব্যাখ্যা

• ইংরেজ :
- ইংল্যান্ড রানি এলিজাবেথের অনুমতি নিয়ে সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ১৬০০ সালে ভারত বর্ষে আসে ইংরেজরা ।
- তারা সুরাটে প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন ১৬১২ সালে।
- সম্রাট শাজাহানের সময় বাংলায় প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন।
-  কলকাতায় রাজা তৃতীয় উইলিয়ামের নাম অনুসারে, ফোর্ট উলিয়াম দুর্গা নির্মাণ করে হয় ১৭০০ সালে।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ও সভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৪২৩.
ভারতীয় উপমহাদেশে ’অধীনতামূলক নীতির প্রবর্তক’ কে?
  1. লর্ড বেন্টিংক 
  2. লর্ড ওয়েলেসলী
  3. লর্ড ডালহৌসী
  4. লর্ড ক্যানিং
সঠিক উত্তর:
লর্ড ওয়েলেসলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ওয়েলেসলী
ব্যাখ্যা

•  লর্ড ওয়েলেসলী: 
- ওয়েলেসলী, ১৭৯৮ থেকে ১৮০৫ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল।
- ১৭৯৮ সালের ১৮ মে ৩৭ বছর বয়সে তাঁকে গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত করা হয়।
- ওয়েলেসলীর সাত বছর শাসনভার ভারতে ব্রিটিশ শক্তি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সময়।
- তাঁর নীতি ছিল ভারত থেকে সর্বপ্রকার ফরাসি প্রভাব দূর করা এবং ব্রিটিশদেরকে উপমহাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত করা।- 
- তিনি হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে পরিবর্তন করেন এবং অধীনতামূলক মিত্রতার নীতি গ্রহণ করেন।

• অধীনতামূলক মিত্রতার নীতি: 
- এ নীতি অনুসারে ভারতীয় রাজ্যসমূহ ব্রিটিশ নয় এমন ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত,
- তাদের রাজ্যে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর একটি অংশকে ভরণপোষণ ও ব্রিটিশদের নিকট বৈদেশিক বিষয়াবলি সমর্পণ করার মাধ্যমে ব্রিটিশদের নিরাপত্তার অধীনে আসতে বাধ্য হয়। 

অন্যদিকে,
- লর্ড ক্যানিং কাগজি মুদ্রার প্রচলন করেন।
- লর্ড ডালহৌসী বিধবা বিবাহ আইন প্রবর্তন করেন।
- লর্ড ডালহৌসী স্বত্ব বিলোপ নীতির প্রবর্তন করেন। রেললাইনের প্রচলন করেন।
- লর্ড বেন্টিংক সতীদাহ প্রথা বিলোপ করেন।
- লর্ড ওয়েলেসলী অধীনতা মুলক নীতির প্রবর্তক।

উৎস: ¡) পৌরনীতি ও সুশাসন এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
          ¡¡) বাংলাপিডিয়া।

৪২৪.
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার নিচের কোন আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন?
  1. তেভাগা আন্দোলন
  2. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
  3. ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন
  4. সত্যাগ্রহ আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন
ব্যাখ্যা

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার: 
- প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন।
- তিনি মাস্টারদা সূর্যসেন-এর নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী দলের প্রথম নারী সদস্য ছিলেন।
- ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে অংশ নেন, যেমন—টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ অফিস ধ্বংস, রিজার্ভ পুলিশ লাইনে আক্রমণ এবং পাহাড়তলীর ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ।
- ইউরোপিয়ান ক্লাবটি ‘কুকুর ও ভারতীয়দের প্রবেশ নিষিদ্ধ’ বলায় এটি ছিল জাতিগত অবমাননার প্রতীক।
- এই ক্লাব আক্রমণে প্রীতিলতা নেতৃত্ব দেন এবং অভিযানের শেষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ধরা পড়ার আগে আত্মহত্যা করেন।  

অন্যদিকে: 
- তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন ইলা মিত্র। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৪২৫.
স্বদেশী আন্দোলনের প্রধান নেতা কে ছিলেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রজণীকান্ত সেন
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

স্বদেশী আন্দোলন:
- এটি ছিলো একটি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন।
- ১৯০৫ সালে ব্রিটিশরা বাংলাকে ভেঙ্গে দুটি প্রদেশ তৈরি করে (বঙ্গভঙ্গ)।
- বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতার অংশ হিসেবে স্বদেশী আন্দোলন শুরু হয়।
- এই আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য: বিলেতি পণ্য বর্জন।
- পরবর্তীতে বিলেতি শিক্ষা বর্জনও আন্দোলনের অংশ হয়।
- স্বদেশী আন্দোলনের প্রধান নেতা: সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।
- কংগ্রেস নেতারা গ্রামে-গঞ্জে-শহরে প্রকাশ্য সভায় বিলেতি পণ্য পুড়িয়ে ফেলে।
- বাংলার নিজস্ব শিল্প ও কারখানা গঠন (তাঁত, সাবান, লবণ, চিনি, চামড়ার দ্রব্য)।
- বিলেতি শিক্ষা বর্জনের কারণে নতুন জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।
- এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলা ভাষায় বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধকারী শ্রেষ্ঠ দেশাত্মবোধক গানগুলো রচনা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এবং রজণীকান্ত সেন প্রমুখ।
- আমাদের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি' গানটি রবীন্দ্রনাথ ঐ সময় রচনা করেন।
- তবে মুসলমানরা বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ছিলো, তাই তারা স্বদেশী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়নি।
- যার কারণে স্বদেশী আন্দোলনের ফলে বাংলার হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের অবনতি হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২৬.
কোন মুঘল সুবেদার চট্টোগ্রামের নাম রাখেন ইসলামাবাদ?
  1. ক) ইসমাইল খাঁ
  2. খ) রাজা মানসিংহ
  3. গ) মীর জুমলা
  4. ঘ) শায়েস্তা খাঁ
সঠিক উত্তর:
ঘ) শায়েস্তা খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শায়েস্তা খাঁ
ব্যাখ্যা

- মীরজুমলার মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হন। তাঁর সুবাদারী শাসনকাল দুপর্বে বিভক্ত ছিল। প্রথম দফায় ১৬৬৪ থেকে ১৬৭৮ খ্রি: পর্যন্ত এবং শেষে ১৬৭৯ থেকে ১৬৮৮ খ্রি: পর্যন্ত তিনি বাংলার সুবাদার ছিলেন।
শায়েস্তা খানের কীর্তি-
- চট্টগ্রাম জয় করে এর নাম রাখেন ইসলামাবাদ।
- সন্দ্বীপ ও চট্টগ্রাম অধিকার করে আরাকানি জলদস্যুদের সম্পূর্ণরূপে উৎখাত করেন।
- তিনি বাংলা থেকে ইংরেজদের বিতাড়িত করেন।
- তাঁর আমলে নির্মিত স্থাপত্য কর্মের মধ্যে ছােট কাটারা, লালবাগ কেল্লা, বিবি পরির সমাধিসৌধ, হােসেনী দালান, সফি খানের মসজিদ, বুড়িগঙ্গার মসজিদ, চক মসজিদ প্রভৃতি উল্লেখযােগ্য।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি(উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।

৪২৭.
Who was the proponent of the 'Young Bengal Movement'?
  1. Henry Luis Derojio
  2. Perichad Mitra
  3. Willium kery
  4. Dadavai Nouroji
সঠিক উত্তর:
Henry Luis Derojio
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Henry Luis Derojio
ব্যাখ্যা
ডিরোজিও ও ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট:
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধ জুড়ে ছিল রাজা রামমোহন রায়ের আন্দোলনের ধারা। দৃঢ়ভাবে সে ধারাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল হিন্দু কলেজের প্রতিভাবান ছাত্রবৃন্দ ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলনের মাধ্যমে । যার নেতৃত্বে ছিলেন হিন্দু কলেজের তরুণ অধ্যাপক হেনরি লুইস ডিরোজিও।
- তিনি তাঁর ছাত্র-অনুসারীদের স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করার শিক্ষা দেন।
- ডিরোজিও ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ডিরোজিও তাঁর স্কুল শিক্ষক ডেভিড ড্রামন্ডের প্রগতিবাদী, সংস্কারমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমৃদ্ধ মানবতাবাদী চিন্তাধারা দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন।
- বাংলার ‘রেনেসাঁস’ যুগের এই প্রতিভাবান তরুণ মাত্র তেইশ বছর বয়সে ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর হাতে গড়া অনুসারী, ছাত্ররা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখতে থাকেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন, রামতনু লাহিড়ী, রাধানাথ সিকদার, প্যারিচাঁদ মিত্র, কৃষ্ণমোহন ব্যনার্জি প্রমুখ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৮.
বেঙ্গল প্যাক্টের রূপকার কে?
  1. পন্ডিত মতিলাল নেহেরু
  2. দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ
  3. মহাত্মা গান্ধী
  4. শরৎচন্দ্র বসু
সঠিক উত্তর:
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ
ব্যাখ্যা

দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ:
- সি. আর দাশ নামেও পরিচিত দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ১৮৭০ সালের ৫ নভেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- কলকাতায় জন্মগ্রহণ করলেও তাঁর পৈতৃক নিবাস ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের অন্তর্গত তেলিরবাগ গ্রামে।
- ভবানীপুরের লন্ডন মিশনারী সোসাইটি স্কুল থেকে ১৮৮৬ সালে এন্ট্রান্স পাশ করার পর চিত্তরঞ্জন দাশ কলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে বি. এ. ডিগ্রী লাভ করেন।
- ১৮৯৪ সালে তিনি ব্যারিস্টারি পরীক্ষা পাশ করে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।
- বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিক থেকে তিনি রাজনীতিতে জড়িত হন। 
- অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে মহাত্না গান্ধীর ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি লাভজনক আইনজীবির পেশা পরিত্যাগ করে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে আরো বেশী সোচ্চার হয়ে ওঠেন।
- পরবর্তীতে তিনি কংগ্রেস ত্যাগ করে স্বরাজ পার্টি গঠন করেন।
- ১৯২৩ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পূর্বে তিনি নিজ প্রদেশে মুসলমান সম্প্রদায়ের সাথে একটি চুক্তি করেন যা ’বেঙ্গল প্যাক্ট' নামে পরিচিত।
- 'বেঙ্গল প্যাক্ট' এ সরকারি চাকুরিতে মুসলমানদের জন্য শতকরা ৫৫ ভাগ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়।
- যতদিন মুসলমানরা ৫৫ শতাংশে না পৌঁছায়, ততদিন পর্যন্ত মোট সরকারি চাকুরির ৮০ ভাগ মুসলমানদের জন্য সংরক্ষণের কথা বলা হয়।
- দেশবন্ধু ১৯২৫ সালের ১৬ জুন অসুস্থ অবস্থায় দার্জিলিংয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২৯.
স্বদেশী আন্দোলনের সূত্রপাত হয় মূলত কোন ঘটনার প্রেক্ষাপটে?
  1. বঙ্গভঙ্গ
  2. ফরায়েজি আন্দোলন
  3. অসহযোগ আন্দোলন
  4. খিলাফত আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
বঙ্গভঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গভঙ্গ
ব্যাখ্যা
স্বদেশী আন্দোলন:
- স্বদেশী আন্দোলন ছিলো একটি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন।
- স্বদেশী আন্দোলনের সূত্রপাত হয় মূলত বঙ্গভঙ্গের প্রেক্ষাপটে।
- বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতার অংশ হিসেবে ১৯০৫ সালে স্বদেশী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। 

⇒ বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন ব্যর্থ হলে কংগ্রেসের উগ্রপন্থী অংশের নেতৃত্বে যে আন্দোলন গড়ে উঠে, তাকেই স্বদেশী আন্দোলন বলা হয়। এই আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিলেতি পণ্য বর্জন। পরে বিলেতি শিক্ষা বর্জনও এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়।
- স্বদেশী আন্দোলন ক্রমশ বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কংগ্রেস নেতারা গ্রামে-গঞ্জে-শহরে প্রকাশ্য সভায় বিলেতি পণ্য পুড়িয়ে ফেলে। একই সঙ্গে দেশী পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করে। ফলে বিলেতি পণ্যের চাহিদা কমে যায়। সঙ্গে সঙ্গে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে উঠে বাংলার নিজস্ব তাঁতবস্ত্র, সাবান, লবণ, চিনি ও চামড়ার দ্রব্য তৈরির কারখানা। অপর দিকে বিলেতি শিক্ষা বর্জন এবং আন্দোলনের সাথে যুক্তদের বিভিন্ন সরকারি স্কুল-কলেজ থেকে বের করে দেওয়ার ফলে প্রয়োজনে গড়ে উঠে জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
- এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলা ভাষায় বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধকারী শ্রেষ্ঠ দেশাত্মবোধক গানগুলো রচনা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এবং রজণীকান্ত সেন প্রমুখ। আমাদের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি' গানটি রবীন্দ্রনাথ ঐ সময় রচনা করেন।

⇒ মুসলমান সমাজ স্বদেশী আন্দোলন থেকে দূরে থাকার কারণে আন্দোলন জাতীয় রূপলাভে ব্যর্থ হয়। তাছাড়া সাধারণ মানুষ, এমনকি হিন্দু সম্প্রদায়ের নিম্নবর্ণের লোকজন, দারিদ্র সমাজ এই আন্দোলনের মর্ম বুঝতে ব্যর্থ হয়।
- এ আন্দোলনের মাধ্যমে বিলেতি দ্রব্য বর্জন সফল হয়নি। কারণ কোলকাতার অবাঙালি মাড়ওয়ারি ব্যবসায়ী এবং বাংলার গ্রাম গঞ্জের ব্যবসায়ীরা এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়নি।
- সর্বোপরি এই আন্দোলন গোপন সশস্ত্র সংগ্রামের পথে অগ্রসর হলে জনগণ আন্দোলন থেকে দূরে সরে যায়।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যকার সম্পর্কের তিক্ততা আরো বৃদ্ধি পায়, যার পরিণতি হচ্ছে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে সম্প্রদায় ভিত্তিতে ভারত বিভক্তি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩০.
ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক পাশকৃত রেগুলেটিং অ্যাক্ট, ১৭৭৩ এর মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. কোম্পানির লাভ বৃদ্ধি
  2. সম্পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান
  3. ভারতে নতুন উপনিবেশ স্থাপন
  4. কোম্পানি ও কর্মচারীদের দূর্নীতি রোধ
সঠিক উত্তর:
কোম্পানি ও কর্মচারীদের দূর্নীতি রোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোম্পানি ও কর্মচারীদের দূর্নীতি রোধ
ব্যাখ্যা
রেগুলেটিং এ্যাক্ট (১৭৭৩ খ্রি:):
- উপমহাদেশে কোম্পানির যাবতীয় কাজ প্রথমে ইংল্যান্ডের বোর্ড অব ডাইরেক্টরস পরিচালনা করত।
- কালক্রমে এদেশে রাজ্য বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শাসন কাজেও নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
- এ বিশৃংখলা দূর করার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সর্বপ্রথম উপমহাদেশের শাসন কাজে হস্তক্ষেপ করে।
- তদানীন্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড নর্থ ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে উপমহাদেশে শাসন আইন নামে একটি আইন পাস করেন যা 'রেগুলেটিং এ্যাক্ট' নামে ইতিহাসে বিখ্যাত।

⇒ ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হওয়ার পর ১৭৭৩ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড নর্থের সরকার সর্বপ্রথম বাংলা তথা ভারত শাসন বিষয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাস করে।
- ১৭৭৩ সালে প্রণীত রেগুলেটিং অ্যাক্ট ভারতীয় উপমহাদেশের সাংবিধানিক বিকাশের ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত।
- এই অ্যাক্ট অনুযায়ী বাংলা এবং অন্যান্য প্রেসিডেন্সির শাসনভার ও নিয়ন্ত্রণ একটি কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অধীনে ন্যস্ত হয়, যা ‘বাংলার গভর্নর জেনারেল ও ফোর্ট উইলিয়ম কাউন্সিল’ নামে পরিচিত ছিল।
- ভারতীয় উপমহাদেশে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে।
- এই আইনের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন ও দায়িত্ব সংজ্ঞায়িত করে দেওয়া হয়।
- বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল পদে উন্নীত করা হয়।
- এই আইনের মূল উদ্দেশ্য ছিলো কোম্পানি ও তার কর্মচারীদের দূর্নীতি রোধ করা।
- কিন্তু তা সত্ত্বেও দূর্নীতি রোধ হয়নি।

⇒ রেগুিলেটিং এ্যাক্ট এর দ্বারা বোর্ড অব ডাইরেকট্রসকে ব্রিটিশ সরকারের নিকট কোম্পানির শাসন ও রাজস্ব সম্পর্কে সকল তথ্য পাঠাতে হতো।
- বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল আখ্যা দেয়া হয়।
- গভর্নর জেনারেলকে সাহায্য করার জন্য ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি 'কাউন্সিল' গঠিত হয় এবং সবার সমান অধিকার দেয়া হয়।
- এই রেগুলেটিং এ্যাক্ট অনুসারে বাংলার গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।
- এ রেগুলেটিং এ্যাক্ট এর দোষ-ত্রুটি থাকলেও তা উপমহাদেশের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

তথ্যসূত্র: i) বাংলাপিডিয়া।
              ii) ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩১.
Which French general fought for Sirajuddaula in the battle of Palashi?
  1. ক) Berner
  2. খ) Rossi
  3. গ) Sinfrey
  4. ঘ) Remy
সঠিক উত্তর:
গ) Sinfrey
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Sinfrey
ব্যাখ্যা
পলাশী যুদ্ধ:

- পলাশীর যুদ্ধে ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে যুদ্ধ করেন।
- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে।
- জেতার সবধরণের সুযোগ সুবিধা এবং এদের প্রাণপাত লড়াইয়ের পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- সিরাজউদ্দৌলা ২২ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন।
- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- পলাশী যুদ্ধের ফলে ইংরেজ বা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়। অপরদিকে ফরাসিরা এদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।
- পলাশী যুদ্ধের সুদূর প্রসারী পরিণতি ছিল সমগ্র উপমহাদেশে কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠা। এ ভাবেই এ যুদ্ধে বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩২.
লর্ড বেন্টিঙ্ক কবে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করেন?
  1. ক) ১৮১৫ সালে
  2. খ) ১৮২১ সালে
  3. গ) ১৮২৯ সালে
  4. ঘ) ১৮৩৯ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৮২৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৮২৯ সালে
ব্যাখ্যা
সতীদাহ প্রথা হলো হিন্দু সমাজের একটি প্রথা যেখানে স্বামীর শবের সাথে বিধবা স্ত্রীকেও দাহ করা হতো। ভারতীয় হিন্দু সমাজে যুগ যুগ ধরে এই প্রথা প্রচলিত ছিলো।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ১৮২৯ সালে আইনের মাধ্যমে সতীদাহ প্রথা রহিত করেন। তবে এ প্রথা পুরোপুরি বন্ধ হয় উনিশ শতকের শেষ দিকে।

রাজা রামমোহন রায়সহ আরো কিছু ভারতীয় সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৪৩৩.
'এলাহাবাদ চুক্তি' কার কার মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়?
  1. মীর কাশিম ও রবার্ট ক্লাইভ
  2. সুজাউদ্দৌলা ও রবার্ট ক্লাইভ
  3. রবার্ট ক্লাইভ ও দ্বিতীয় শাহ আলম
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস ও শাহ আলম
সঠিক উত্তর:
রবার্ট ক্লাইভ ও দ্বিতীয় শাহ আলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবার্ট ক্লাইভ ও দ্বিতীয় শাহ আলম
ব্যাখ্যা

• এলাহাবাদ চুক্তি ও বাংলার ক্ষমতা দখল:
- রবার্ট ক্লাইভ ও মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম-এর মধ্যে ১৭৬৫ সালে এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এই চুক্তির ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করেছিল।
- সম্রাট শাহ আলমকে কোম্পানি প্রতি বছর ২৬ লক্ষ টাকা দান করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
- এই চুক্তির ফলে  রাজস্ব আদায় ও দেশ রক্ষার ভার ছিল কোম্পানির উপর, অন্যদিকে নিজামত তথা বিচার ও প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব বর্তায় নবাবের উপর।

⇒ কোম্পানির সরাসরি দিউয়ানির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য যে অর্থ ও লোকবল প্রয়োজন তা যেমন ছিলনা, তেমনি এদেশীয় ভাষা ও আইন কানুন সম্পর্কে কোম্পানির কর্মচারীদের জ্ঞানও ছিল না।
- তাই রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব সরাসরি গ্রহণ তাদের জন্য সম্ভব ছিল না।
- এ সকল দিক চিন্তা করেই তারা দ্বৈত শাসন নীতি প্রবর্তন করা হয়েছিল।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩৪.
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি চট্টগ্রামের শাসনভার লাভ করে -
  1. ১৭৫২ সালে
  2. ১৭৬০ সালে
  3. ১৭৪৮ সালে
  4. ১৭৭২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৬০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৬০ সালে
ব্যাখ্যা
চট্টগ্রাম:
- চট্টগ্রাম বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর ও বাণিজ্যিক রাজধানী।
- এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বঙ্গোপসাগরের মধ্যবর্তী কর্ণফুলী নদীর তীরে চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- ইউরোপীয়দের মধ্যে পর্তুগিজরাই প্রথম চট্টগ্রামে আগমন করে।
- পর্তুগিজরা প্রথমে জন দ্য সিলভিরার নেতৃত্বে ১৫১৭ সালে এবং পরে আলফন্সো দ্য মিলোর নেতৃত্বে ১৫২৭ সালে চট্টগ্রাম দখলের ব্যর্থ চেষ্টা করে।
- তারা বাংলার সুলতান মাহমুদ শাহকে সাহায্য করার বিনিময়ে তার কাছ থেকে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়েরও অধিকার লাভ করে।
- এটিকে পর্তুগিজরা পোর্টো গ্র্যান্ডে নামকরণ করেন।
- জোয়াও ডি ব্যারোস ১৫৫২ সালে 'বাংলা রাজ্যের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং ধনী শহর' হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন।
- সাতগাঁও বন্দরের নামকরণ হয় ‘পোর্টো পেকুইনে’।
- ১৬৬৫-৬৬ সালে বাংলার মুগল সুবাহদার শায়েস্তা খান চট্টগ্রাম অভিযান করে অতর্কিত আক্রমণে বন্দরটি দখল করে নেন।
- চট্টগ্রাম ১৭৬০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) Britannica.
৪৩৫.
মহাত্মা গান্ধী অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন কত সালে?
  1. ১৯১৯ সালে
  2. ১৯২০ সালে
  3. ১৯৪২ সালে
  4. ১৯৪৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২০ সালে
ব্যাখ্যা
• অসহযোগ আন্দোলন:
- রাউলাট আইন ও জালিয়ান ওয়ালাবাগের হত্যাকান্ড (১৯১৯)-এর প্রতিবাদে মহাত্মা গান্ধী ১৯২০ সালের ১০ মার্চ অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন।
- গান্ধীজী হিংসাত্মক পথ বর্জন এবং সত্যাগ্রহ নীতিকে সামনে রেখে অসহযোগ আন্দোলন শুরু কর্মসূচি গ্রহণ করেন‌।
- এ আন্দোলন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল- খেতাব ও সরকারি পদ ত্যাগ করা, ব্রিটিশ সংশ্লিষ্ট পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া, ব্রিটিশ আদালত বর্জন করে নিজস্ব সালিশি আদালত প্রতিষ্ঠা করা, স্বদেশী বস্ত্র ব্যবহার করা ইত্যাদি।
- ১৯২১-২২ খ্রিস্টাব্দে এই আন্দোলন সর্বভারতীয় গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়।
- অসহযোগ আন্দোলনের সাফল্য ও লক্ষ লক্ষ ভারতীয় এ আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্ত যোগদান ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে সন্ত্রস্ত করে তোলে।
- উত্তর প্রদেশের চৌরিচোরা নামক স্থানে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিলে হঠাৎ করে এই আন্দোলন বন্ধের ডাক দেন।
- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে মহাত্মা গান্ধী গ্রেফতার হলে আন্দোলন স্থিমিত হয়ে যায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৬.
বিধবা বিবাহ আইন প্রণয়ন করেন কে?
  1. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক
  2. লর্ড ক্যানিং
  3. লর্ড ডালহৌসী
  4. লর্ড ওয়েলেসলী
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসী
ব্যাখ্যা
বিধবা বিবাহ আইন:
- বিধবা বিবাহ  আইন প্রবর্তন করেন লর্ড ডালহৌসী।
- এই আইন প্রণয়ন করেন -১৮৫৪ সালে।
- বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়- ১৮৫৬ সালে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিধবা বিবাহের জন্য সামাজিক আন্দোলন শুরু করেন।
- তিনি বাল্যবিবাহ ও বহু বিবাহ নিষিদ্ধের পাশাপাশি বিধবা বিবাহ জন্য সংগ্রাম করেন
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তার ছেলের সাথে বিধবা বিবাহ দিয়েছিলেন।

⇒ এছাড়াও,
- লর্ড ডালহৌসী  স্বত্ব বিলোপ নীতির প্রবর্তন করেন।
- রেললাইনের প্রচলন করেন।

⇒ অপরদিকে,
- লর্ড বেন্টিংক সতীদাহ প্রথা বিলোপ করেন।
- লর্ড ক্যানিং কাগজি মুদ্রার প্রচলন করেন।
- লর্ড ওয়েলেসলী অধীনতা মুলক নীতির প্রবর্তক।
- ব্রিটিশদের প্রথম সাম্রাজ্যবাদী বড়োলাট।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৩৭.
সিপাহি বিদ্রোহের সূত্রপাত কোথায় হয়েছিল? 
  1. কানপুর
  2. ব্যারাকপুর
  3. মিরাট
  4. লখনৌ
সঠিক উত্তর:
ব্যারাকপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যারাকপুর
ব্যাখ্যা

• সিপাহি বিদ্রোহ:
- সিপাহি বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে মঙ্গলপাণ্ডে নামে এক সিপাহী কর্তৃক গুলি বর্ষণের মাধ্যমে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে।
- দ্রুত এই বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে মিরাট, কানপুর, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার, বাংলাসহ ভারতের প্রায় সর্বত্র। বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী এই বিদ্রোহে শামিল হয় ।
- পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
- তবে এ বিদ্রোহের ফলে ভারতে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে।
- ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার সরাসরি তার হাতে নিয়ে নেয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪৩৮.
'কর্নওয়ালিস কোড' চালু হয় কবে?
  1. ১৭৯৩ সালে
  2. ১৮০৫ সালে
  3. ১৭৯০ সালে
  4. ১৮৩৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৯৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৯৩ সালে
ব্যাখ্যা
• কর্নওয়ালিস কোড
- কর্নওয়ালিস কোড  ১৭৯৩ সালে ভারতের ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিস ৪৮টি রেগুলেশন বা আইন জারি করেন।
- উক্ত রেগুলেশন সাধারণভাবে কর্নওয়ালিস কোড নামে পরিচিত।
- কর্নওয়ালিস কোডের কয়েকটি উৎস হলো ১৭৭২ হতে ১৭৯০ সাল পর্যন্ত জারিকৃত রেগুলেশন ও আদেশ, হিন্দু ও মুসলিম আইন, প্রথা-প্রতিষ্ঠান, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত সংক্রান্ত বিধিমালা এবং ব্রিটিশ আইন।
- কর্নওয়ালিস কোডের লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের উপযোগী একটি প্রাতিষ্ঠানিক আইনবিধান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রবর্তন।
- ১৭৯৩ সালের ১ মে কর্নওয়ালিস তাঁর কোড ঘোষণা করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৩৯.
বঙ্গভঙ্গের সময় এন্ড্রু ফ্রেজার কোন প্রদেশের গভর্নর ছিলেন?
  1. পূর্ববঙ্গ
  2. পশ্চিমবঙ্গ
  3. আসাম
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পশ্চিমবঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশ্চিমবঙ্গ
ব্যাখ্যা
এন্ড্রু ফ্রেজার:
- এন্ড্রু ফ্রেজার ১৯০৩ সাল থেকে ১৯০৮ সাল পর্যন্ত বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্নর।
- বলা হয় যে, প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বাংলাকে দুটি প্রদেশে বিভক্তকরণের ধারণার প্রবক্তা ছিলেন মূলত ফ্রেজারই।
- ফ্রেজার বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্নর হওয়ার পূর্বে মধ্য প্রদেশের প্রধান কমিশনার (১৮৯৯) এবং পুলিশ কমিশনের প্রেসিডেন্ট (১৯০২) ছিলেন।
- বঙ্গভঙ্গের সময় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের গভর্নর ছিলেন তিনি। 
- বঙ্গভঙ্গের পরেও তিনি পশ্চিম বাংলার (উড়িষ্যা এবং বিহার) লেফটেন্যান্ট গভর্নর ছিলেন।
- বঙ্গভঙ্গ পরিকল্পনায় জড়িত থাকার কারণে ফ্রেজারকে বঙ্গভঙ্গ বিরোধীরা প্রতিপক্ষ মনে করত। উ
- পনিবেশিক রাষ্ট্রের প্রতি তাঁর অবদানের জন্য তাঁকে সি.এস.আই উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তিনি একজন সুদক্ষ লেখক ছিলেন।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য দুটি গ্রন্থ হলো Among Indian Rajahs and Ryots (1909) এবং India Under Curzon and After ((1911)। 

উল্লেখ্য,
-  বঙ্গভঙ্গ সাধিত হওয়ার পর (১৯০৫) সৃষ্ট দুটি নতুন প্রদেশ, যথা বেঙ্গল (এর মধ্যে বিহার ও উড়িষ্যা অন্তর্ভুক্ত ছিল) এবং পূর্ববাংলা ও আসাম প্রদেশের জন্য দুজন লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিয়োগ করা হয়।
- ১৯১১ সালের ডিসেম্বর মাসে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হলে বাংলা পুনরায় একত্রে সংযুক্ত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৪০.
সিরিল জন র‌্যাডক্লিফ কোন কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন?
  1. ক) নর্থ ইন্ডিয়া বাউন্ডারি কমিশন
  2. খ) বেঙ্গল বাউন্ডারি কমিশন
  3. গ) পাঞ্জাব বাউন্ডারি কমিশন
  4. ঘ) খ ও গ
সঠিক উত্তর:
ঘ) খ ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খ ও গ
ব্যাখ্যা
- ব্রিটিশ সরকার ১৯৪৭ সালে ভারত শাসন আইনের অধীনে সিরিল জন র‌্যাডক্লিফকে ভারতে দুটি সীমানা নির্ধারণকারী কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করে।
- কমিশন দুটি হলো ‘বেঙ্গল বাউন্ডারি কমিশন’ এবং ‘পাঞ্জাব বাউন্ডারি কমিশন’।

- ১৯৪৭ সালের ৩ জুন র‌্যাডক্লিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন এবং ৮ জুলাই ভারত আসেন।
- তিনি ভারত বিভাগ, নতুন দুটি রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের মানচিত্র এবং আন্তর্জাতিক সীমা নির্দেশ করে তাঁর রিপোর্ট পেশ করেন। - তাঁর পরিকল্পনা ভারতের ইতিহাসে র‌্যাডক্লিফ রোয়েদাদ হিসেবে পরিচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৪৪১.
তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন -
  1. তারামন বিবি
  2. মহাশ্বেতা দেবী
  3. ইলা মিত্র
  4. ইন্দু বালা
সঠিক উত্তর:
ইলা মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলা মিত্র
ব্যাখ্যা
তেভাগা আন্দোলন:
- তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন ইলা মিত্র।
- তেভাগা আন্দোলন বাংলায় সংঘটিত বর্গাচাষীদের একটি কৃষক আন্দোলন।
- ১৯৪০ থেকে ১৯৫০ সালে এই আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- তেভাগা আন্দোলন যখন স্তিমিত হওয়ার পথে তখন নাচোলের রাণী ইলা মিত্র এই আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করেন।
- এই আন্দোলনের আরেকজন নেতা হলেন হাজী দানেশ।
- তেভাগা আন্দোলনের দাবী ছিলো বর্গাচাষীরা তাদের উৎপন্ন ফসলের এক ভাগ দিবে মালিকপক্ষকে এবং দুই ভাগ পাবে তারা।
- রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, চব্বিশ পরগণা প্রভৃতি জেলায় তেভাগা আন্দোলন সংঘটিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৪২.
কত সালে বঙ্গীয় আইন সভার সদস্য সংখ্যা ২১ জন করা হয়?
  1. ১৮৯০ সালে
  2. ১৮৯১ সালে
  3. ১৮৯২ সালে
  4. ১৮৯৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৯২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৯২ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গীয় আইন সভা:
- সিপাহী বিদ্রোহ সংঘটিত হওয়ার পর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট ভারত শাসন আইন নামক একটি আইন পাস করা হয়।
- এই আইনে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটানো হয়।
- ভারতের রাষ্ট্র ক্ষমতা ব্রিটিশ রাজ্যের উপর ন্যস্ত করা হয়।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
- ভারতবর্ষে ১৭৭২ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট-এর আওতায় চার সদস্য বিশিষ্ট গভর্নর জেনারেল অ্যান্ড কাউন্সিলকে ক্ষুদ্র পরিসরের আইনসভা বলা যেতে পারে।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৮৬১ সালে ভারত সরকারকে বাংলায় প্রতিনিধিত্বমূলক আইনসভা স্থাপন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
- এর ফলে ১৮৬১ সালের ১আগস্ট ভারতীয় কাউন্সিল আইন ঘোষিত হয়।
- বঙ্গীয় আইনসভা প্রতিষ্ঠার ঘোষণাও দেওয়া হয়।
- ১৮৬২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বঙ্গীয় আইনসভার কার্যক্রম শুরু হয়।
- এই আইনসভায় লেফটেনেন্ট গভর্নর পদাধিকার বলে সভাপতি, ১২ জন মনোনীত সদস্য, যার মধ্যে চারজন মাত্র বাঙালি ছিলেন, বাকি ৮ জনের ৪ জন সরকারি সদস্য, ৪ জন বেসরকারি সদস্য ছিলেন।
- ১৮৯২ সালে ১৩ জনের স্থলে এই সভার সদস্য ২১ জন করা হলো।
- তবে এই প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করার বিধান ছিল না।
- কিন্তু তারপরও বাংলার প্রতিনিধিত্বমূলক আইনসভাই বাংলাকে গণতান্ত্রিক আইনসভার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৩.
সিপাহী বিদ্রোহের সূচনাকারী কে ছিলেন?
  1. লক্ষ্মীবাঈ
  2. চাঙ্কি পান্ডে
  3. কুনওয়ার সিং
  4. মঙ্গল পাণ্ডে
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল পাণ্ডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল পাণ্ডে
ব্যাখ্যা
সিপাহি বিদ্রোহ:
- সিপাহি বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে মঙ্গলপাণ্ডে নামে এক সিপাহী কর্তৃক গুলি বর্ষণের মাধ্যমে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে।
- দ্রুত এই বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে মিরাট, কানপুর, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার, বাংলাসহ ভারতের প্রায় সর্বত্র। বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী এই বিদ্রোহে শামিল হয় ।
- পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
- তবে এ বিদ্রোহের ফলে ভারতে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে।
- ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার সরাসরি তার হাতে নিয়ে নেয়।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৪.
বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে জমিদারি প্রথার বিলোপ ঘটে -
  1. ১৯৪৮ সালে
  2. ১৯৫১ সালে
  3. ১৯৫০ সালে
  4. ১৯৪৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫১ সালে
ব্যাখ্যা
পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০
- এই আইনের আওতায় সরকার দেশের একমাত্র জমিদারে পরিণত হয় এবং সরকার পর্যায়ক্রমে জমিতে সকল খাজনা-আদায়ি স্বার্থ অধিগ্রহণ করে।
- ১৯৫১ ইং সনের ১৬ মে, এই আইন পাস এর মাধ্যমে এদেশ থেকে জমিদারি প্রথার বিলোপ ঘটে।
- এই আইনে ১৫২টি ধারা রয়েছে।
- এগুলি পাঁচটি অংশ ও উনিশটি অধ্যায়ে বিভক্ত। 

- আইনটি পাশের আগে এদেশের কৃষিসংক্রান্ত আইন বলতে প্রধানত ছিল ১৭৯৩ সালের বঙ্গীয় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবিধান ও বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন, ১৮৮৫।
- লর্ড কর্নওয়ালিস বাংলায় ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন করেন যার ফলে জমিদাররা শাসক শ্রেণীরূপে প্রভাব বিস্তার করতে থাকে।

তথ্য - ভূমি মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৪৪৫.
ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম আদমশুমারি হয় কত সালে?
  1. ১৮৬২
  2. ১৮৬৭
  3. ১৮৭২
  4. ১৮৭৬
সঠিক উত্তর:
১৮৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৭২
ব্যাখ্যা
আদমশুমারি:
- ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম আদমশুমারি হয় ব্রিটিশ আমলে ১৮৭২ সালে। 
- পরের আদমশুমারি হয় ১৮৮১ সালে। এরপর থেকে এই উপমহাদেশে প্রতি ১০ বছর পরপর আদমশুমারি হয়েছে।
- বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি ও গৃহগণনা হয় ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।
- পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, সেই সময় বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৩ লাখ। 
- -প্রতি ১০ বছর পরপর ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১ ও ২০১১ সালে আদমশুমারি ও গৃহগণনা হয়েছে।
- কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ২০২১ সালে না হয়ে এক বছর পিছিয়ে যায়।
- ২০২২ সালে এটিকে জনশুমারি নাম দেয়া হয়।
- ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৫১৬ জন। 
- ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের সীমান্ত এলাকায় আদমশুমারি করে।

উৎস: বিবিসি নিউজ বাংলা। [লিঙ্ক]
৪৪৬.
দ্বৈত শাসনব্যবস্থা বিলুপ্ত করেন কে? 
  1. ওয়ারেন হেস্টিংস 
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. লর্ড মিন্টো
  4. লর্ড রিপন
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস 
ব্যাখ্যা
• ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

• ওয়ারেন হেস্টিংস:

- বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রথম গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস।
- ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেলও ছিলেন ওয়ারেন হেস্টিংস।
- তাঁর শাসন কালকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়, প্রথমপর্ব: ১৭৭২-১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার গভর্নর হিসেবে আর দ্বিতীয় পর্ব, ১৭৭৪-১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত গভর্নর জেনালের হিসেবে।
- ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭২ সালের ১৩ আগস্ট বাংলায় প্রথম রাজস্ব বোর্ড গঠন করেন।
- তিনি প্রচলিত জমিদার পদ্ধতির পরিবর্তে 'পাঁচসালা বন্দোবস্ত' (১৭৭২-১৭৭৭) প্রবর্তন করেন।
- তবে নানা কারণে এ ব্যবস্থা ফলপ্রসূ না হলে তিনি ১৭৭৭ সালে 'একসালা বন্দোবস্ত' করেন।
- ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
- এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৭.
পলাশীর যুদ্ধে কোন ফরাসি সেনাপতি সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে যুদ্ধ করেন?
  1. কাউন্ট শ্যালী
  2. সিনফ্রে
  3. মার্কুইস সি
  4. দুপ্লেই
সঠিক উত্তর:
সিনফ্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিনফ্রে
ব্যাখ্যা

পলাশীর যুদ্ধ:
- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে।
- জেতার সবধরণের সুযোগ সুবিধা এবং এদের প্রাণপাত লড়াইয়ের পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- পলাশী যুদ্ধের ফলে ইংরেজ বা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪৮.
"জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থি’’ উক্তিটি কে বলেছেন? 
  1. দুদু মিয়া
  2. হাজী শরীয়তুল্লাহ
  3. সৈয়দ আমীর আলী
  4. মীর নিসার আলী
সঠিক উত্তর:
দুদু মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুদু মিয়া
ব্যাখ্যা

দুদু মিয়া:
- হাজী শরীয়তুল্লাহ ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে মাদারীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ফরায়েজী আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ছিল ফরিদপুর জেলায় এবং তার নেতৃত্বে এটি শুরু হয়।
- হাজী শরীয়তুল্লাহর মৃত্যুর পর ফরায়েজী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর পুত্র দুদু মিয়া।
- তিনি ধর্মীয় সংস্কারমূলক এ আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দেন।
- দুদু মিয়া ঘোষণা করেন, "জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থি”।

​উৎস : পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথমপত্র, মো. মোজাম্মেল হক।

৪৪৯.
ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় দিল্লির সম্রাট কে ছিলেন?
  1. আওরঙ্গজেব
  2. দ্বিতীয় শাহ আলম
  3. দ্বিতীয় আলমগীর
  4. দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় শাহ আলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় শাহ আলম
ব্যাখ্যা

- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় দিল্লির সম্রাট ছিলেন দ্বিতীয় শাহ আলম।

ছিয়াত্তরের মন্বন্তর: 
- দ্বিতীয় শাহ আলম,(১৭৬১-১৮০৫)  দিল্লির মুগল সম্রাট আজিজুদ্দীন দ্বিতীয় আলমগীরের পুত্র।
- তাঁর পূর্ব নাম আলী গওহর (পরবর্তী সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম)।
- দিউয়ানী ও দ্বৈত শাসনের পরিণাম ছিল বাংলায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের ধ্বংসলীলা।
- এ দুর্ভিক্ষ 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত।
- দ্বৈত শাসনের কুফলে বাংলার জনজীবন যখন চরম বিপর্যয়ের মুখে তখন পরপর দুবছর খরা ও অনাবৃষ্টির ফলে ১১৭৬ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় এক প্রচণ্ড দুর্ভিক্ষ ও মহামারী দেখা দেয়।
- এসময় খাদ্যের অভাবে মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৭৬৫ সালে লর্ড ক্লাইভ দ্বিতীয়বারের মতো গভর্নর জেনারেল হয়ে আসেন।
- দায়িত্ব নিয়েই তিনি বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত নবাব সুজাউদ্দৌলা এবং সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে চুক্তি সম্পাদন করেন।
- সুজাউদ্দৌলাহ যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ লক্ষ টাকা এবং কারা ও এলাহাবাদ নামক দুটি জেলা ইংরেজদের হাতে তুলে দেন।
- দ্বিতীয় শাহ্ আলমের সাথে সম্পাদিত চুক্তির নাম 'এলাহাবাদ চুক্তি'।
- ১৭৬৫ সালের ১২ আগস্ট সম্পাদিত এ চুক্তির মাধ্যমে ইংরেজরা কারা ও এলাহাবাদ জেলা দুটি এবং বার্ষিক ২৬ লক্ষ টাকা সম্রাট শাহ আলমকে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

উৎস: ¡)পৌরনীতি, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
¡¡)বাংলাডপিডিয়া।

৪৫০.
‘ইয়াং বেঙ্গল’ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন কে?
  1. রামমোহন রায়
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা

ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট:
- ‘ইয়াং বেঙ্গল’ আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- ডিরোজিও ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ছিলেন পর্তুগিজ এবং মা ছিলেন বাঙালি।
- ডিরোজিও ইংরেজি শিক্ষার স্কুল ডেভিড ড্রামন্ডের ধর্মতলা একাডেমিতে পড়ালেখা শুরু করেন।
- ডেভিড ড্রামন্ডের আদর্শ ডিরোজিওকে শৈশব থেকে মৃত্যু পর্যন্ত গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
- বাঙালি যুব সমাজের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ‘ইয়াং বেঙ্গল’ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন ডিরোজিও।
- অল্প বয়সেই তিনি ইতিহাস, ইংরেজি, সাহিত্য ও দর্শনশাস্ত্রে গভীর জ্ঞানের অধিকারী হন।
- ডিরোজিওর উল্লেখযোগ্য অনুসারীদের মধ্যে ছিলেন রামতনু লাহিড়ী, রাধানাথ সিকদার, প্যারিচাঁদ মিত্র ও কৃষ্ণমোহন ব্যানার্জি।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর সরাসরি ছাত্র না হলেও ডিরোজিওর আদর্শ দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হন।
- ডিরোজিওর অনুসারীদের আন্দোলন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকেও প্রভাবিত করেছিল।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৪৫১.
‘পঞ্চাশের মন্বন্তর’ কত সালে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ক) ইংরেজি ১৯৫০ সালে
  2. খ) বাংলা ১৩৫০ বঙ্গাব্দে
  3. গ) ইংরেজি ১৯৪৩ সালে
  4. ঘ) খ ও গ
সঠিক উত্তর:
ঘ) খ ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খ ও গ
ব্যাখ্যা
১৯৪৩ সালে বাংলায় সংঘটিত দুর্ভিক্ষ ‘পঞ্চাশের মন্বন্তর’ নামে পরিচিত।
• বাংলা ১৩৫০ বঙ্গাব্দে এই দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হওয়ায় একে ‘পঞ্চাশের মন্বন্তর’ বলা হয়।
• এই দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ মারা যায়।
• এই দুর্ভিক্ষকে কেন্দ্র করে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।      

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম - ১০ম শ্রেণি, বাংলাদেশ ও ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া। 
৪৫২.
১৯১৬ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় ছিলেন -
  1. ক) লর্ড কার্জন
  2. খ) লর্ড মিন্টো
  3. গ) লর্ড চেমসফোর্ড
  4. ঘ) লর্ড হার্ডিঞ্জ
সঠিক উত্তর:
গ) লর্ড চেমসফোর্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লর্ড চেমসফোর্ড
ব্যাখ্যা
চেমসফোর্ড, লর্ড (১৮৬৮-১৯৩৩) 
১৯১৬ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় ও গভর্নর জেনারেল। পুরো নাম ফ্রেডারিক জন থেসিয়ার (Frederic John Thesiger)। 
-  ১৯০৫ সালে তিনি ব্যারন হন, ১৯০৫ থেকে ১৯০৯ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড এবং ১৯০৯ থেকে ১৯১৩ সাল পর্যন্ত নিউ সাউথ ওয়েলসের গভর্নর হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। 
- ১৯১৬ সালে তিনি ভারতের ভাইসরয় হিসেবে লর্ড হার্ডিঞ্জ-এর স্থলাভিষিক্ত হন। মেসোপটেমিয়ায় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর পরাজয় এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধ যত এগোতে থাকে ভারতীয়দের তত পরিমাণ অসন্তোষ বৃদ্ধিকে অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী হিসেবে সাথে নিয়ে ভারতে তাঁর শাসনকাল শুরু হয়। 
- ব্রিটিশদের যুদ্ধ প্রচেষ্টায় ভারতীয়দের আনুগত্যের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ভারতীয় বিষয়াদি দেখাশোনার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্রিটিশ রাজ্য সচিব এডউইন মন্টেগু হাউস অব কমন্সে ঘোষণা করেছিলেন যে, ভারতে ব্রিটিশ সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ‘ভারতে ক্রমান্বয়ে দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সফলকাম হওয়া।
- ১৯১৮ সালে ভারত সচিব এডউইন মন্টেগু ও ভাইসরয় লর্ড চেমসফোর্ডের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয় যা মন্টেগু-চেমসফোর্ড রিপোর্ট নামে পরিচিত। 
- এই রিপোর্টে অভিমত ব্যক্ত করা হয় যে, প্রাদেশিক আইনসভায় পরোক্ষ নির্বাচনের পরিবর্তে যতদূর সম্ভব সম্প্রসারিত ভোটাধিকারের ভিত্তিতে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা উচিত। 
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া 
৪৫৩.
ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম কত সালে সংঘটিত হয়?
  1. ১৭৫৬ সালে
  2. ১৭৫৭ সালে
  3. ১৮৫৭ সালে
  4. ১৯৪৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৫৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৭ সালে
ব্যাখ্যা
১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম: 
- পলাশি যুদ্ধের এক'শ বছর পর ১৮৫৭ সালে ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে প্রধানত সিপাহিদের নেতৃত্বে যে সশস্ত্র বিদ্রোহ সংঘটিত হয়, তাকেই ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কর্তৃক দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক শোষণ, সামাজিকভাবে হেয় করা, সর্বোপরি ভারতীয় সৈনিকদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ এসবই এই সংগ্রামের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে।
- বিদ্রোহের আগুন প্রথমে জ্বলে ওঠে পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে।
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ বন্দুকের গুলি ছুড়ে বিদ্রোহের সূচনা করেন মঙ্গল পাণ্ডে নামে এক সিপাহি।
- দ্রুত এই বিদ্রোহ মিরাট, কানপুর, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার, বাংলাসহ ভারতের প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
- বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী এই বিদ্রোহে শামিল হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪৫৪.
খিলাফত আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. মুসলিম লীগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করা
  2. ব্রিটিশদের ভারত থেকে বিতাড়ন করা
  3. মদিনায় নতুন খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা
  4. খলিফার মর্যাদা ও তুরস্কের অখণ্ডতা রক্ষা করা
সঠিক উত্তর:
খলিফার মর্যাদা ও তুরস্কের অখণ্ডতা রক্ষা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খলিফার মর্যাদা ও তুরস্কের অখণ্ডতা রক্ষা করা
ব্যাখ্যা

- খলিফার মর্যাদা ও তুরস্কের অখণ্ডতা রক্ষা করা খিলাফত আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ।

খিলাফত আন্দোলন: 

- খিলাফত ইসলামের একটি ধর্মীয় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। মদীনায় এ প্রতিষ্ঠানের জন্ম।
- খিলাফত রাজনৈতিক বিবর্তনের ধারায় দামেস্ক, বাগদাদ, কায়রো ও কর্ডোভা হয়ে তুরস্কের অটোমান সুলতানদের অধিকার যায়।
- এ মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের অধিকারী হওয়ায় বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মুসলমানদের মত তুরস্কের সুলতান খলিফার প্রতি ভারতীয় মুসলমানদের আনুগত্য ও সম্মানবোধ অনেক দিন থেকেই ছিল।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪-১৯১৮) শুরু হলে তুরস্ক নিজের স্বার্থে মিত্র শক্তির (ব্রিটেন, ফ্রান্স ও রাশিয়া ইত্যাদি) বিরুদ্ধে অক্ষ শক্তির (জার্মানী, ইটালী ইত্যাদি) পক্ষে যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ায় ভারতীয় মুসলমানরা রাজনৈতিকভাবে হতবুদ্ধি হয়ে পড়ে।
- এমতাবস্থায় চতুর ব্রিটিশদের প্ররোচনায় ভারতীয় মুসলমানগণ এ শর্তে যুদ্ধে যোগদান করেন যে, যুদ্ধ শেষে ব্রিটিশরা তুরস্কের খিলাফতের মর্যাদা রক্ষা করবে, এর কোন ক্ষতি করবে না।
- কিন্তু যুদ্ধে অক্ষ শক্তি তথা তুরস্ক পরাজিত হলে এবং ব্রিটিশদের মারমুখি অবস্থানের কারণে মুসলমানগণ খলিফার মর্যাদা রক্ষা ও তুরস্কের অখণ্ডতা রক্ষার ব্যাপারে শংকিত হয়ে পড়েন।
- এমতাস্থায় খলিফার মর্যাদা ও খিলাফত রক্ষার দাবীতে ভারতীয় মুসলমানগণ যে আন্দোলন গড়ে তোলে, ইতিহসে এ আন্দোলন 'খিলাফত আন্দোলন' নামে পরিতি।
- আলী ভ্রাতৃদ্বয় (মাওলানা মুহাম্মদ আলী ও মাওলানা শওকত আলী), মওলানা আবুল কালাম আযাদ, ড. এম.এ. আনসারী, হযরত মোহানী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক প্রমুখের নেতৃত্বে এ আন্দোলন পরিচালিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫৫.
তিতুমীর বাঁশের কেল্লা কোথায় নির্মাণ করেন?
  1. কলকাতা
  2. নদীয়া
  3. নারিকেলবাড়িয়া
  4. সরফরাজপুর
সঠিক উত্তর:
নারিকেলবাড়িয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারিকেলবাড়িয়া
ব্যাখ্যা
• তিতুমীরের কৃষক বিদ্রোহ: 
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর (১৭৮২-১৮৩১) পশ্চিম বাংলার চব্বিশ পরগনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- নদীয়া জেলার জমিদারের লাঠিয়াল বাহিনীর প্রধান হিসেবে কাজ করেন।
-  ওহাবী আন্দোলনের নেতা সৈয়দ আহমদ বেরেলভির সান্নিধ্য লাভ করেন। 
-  জমিদার, নীলকর ও ব্রিটিশ বাহিনীর নির্মম অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে জনগণকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেন।
- শীঘ্রই পশ্চিম বাংলার বিশাল অঞ্চল জুড়ে তিতুমীরের নেতৃত্বে কৃষক বিদ্রোহ দেখা দেয়।
- অত্যাচারী নীলকর, জমিদার ও ব্রিটিশ বাহিনীর সঙ্গে একাধিক জায়গায় তিতুমীরের বাহিনীর সংঘর্ষ হয়।
- চূড়ান্ত সংঘর্ষ বাঁধে বারাসাতের অদূরে নারিকেলবাড়িয়া নামক স্থানে।
- নারিকেলবাড়িয়া বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে শাসকগোষ্ঠির আক্রমণের বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

অপরদিকে,
- আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত কর্ণেল সুয়ার্টের নেতৃত্বাধীন ব্রিটিশ বাহিনী।
- কামানের গোলার আঘাতে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
- ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এ সম্মুখ যুদ্ধে ৫০ জন সহযোদ্ধাসহ তিতুমীর শহীদ হন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
৪৫৬.
ফকির আন্দোলনের প্রধান নেতা ছিলেন কে?
  1. ভবানী পাঠক
  2. মুসা শাহ
  3. করিম শাহ
  4. মজনু শাহ
সঠিক উত্তর:
মজনু শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মজনু শাহ
ব্যাখ্যা

• ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন:
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন ছিল ব্রিটিশবিরোধী।

- পলাশি যুদ্ধের ১৫–২০ বছর পর এই আন্দোলন শুরু হয়।
- ফকির-সন্ন্যাসীরা মূলত ভিক্ষাবৃত্তি বা মুষ্টি সংগ্রহের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করত।
- ধর্মীয় উৎসব ও তীর্থস্থান দর্শনের জন্য তারা সারা বছর এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভ্রমণ করত।
- নিরাপত্তার জন্য তাদের সঙ্গে হালকা অস্ত্রও থাকত।
- বাংলায় ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠার আগে তারা স্বাধীন ও মুক্ত ছিল।
- ইংরেজ সরকার তাদের চলাফেরায় বাধা সৃষ্টি করতে থাকে।
- তীর্থস্থান দর্শনের ওপর কর আরোপ করে এবং ভিক্ষা/মুষ্টি সংগ্রহকে বেআইনি ঘোষণা করে।
- ফকির-সন্ন্যাসীদের ডাকাত-দস্যু বলে আখ্যায়িত করা হতো।
- এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা ইংরেজদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনে নেমে পড়ে।
- ফকির দলের নেতার নাম: মজনু শাহ।
- সন্ন্যাসীদের নেতার নাম: ভবানী পাঠক।
- তাদের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কুঠি, জমিদারদের কাছারি ও নায়েব-গোমস্তার বাড়ি আক্রমণ।
- ১৭৬০ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ সালে মজনু শাহ উত্তর বাংলায় ইংরেজবিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭–১৭৮৬ সালে রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহে মজনু শাহ বহু সংঘর্ষে লিপ্ত হন।
- তাঁর যুদ্ধকৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি: অতর্কিতে আক্রমণ করে নিরাপদে সরে যাওয়া।
- ইংরেজরা তাকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করতে পারেননি।
- ১৭৮৭ সালে মজনু শাহ মৃত্যুবরণ করলে নেতৃত্ব নেন: মুসা শাহ, সোবান শাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- এই নেতারা কয়েক বছর ইংরেজ প্রশাসনকে ব্যস্ত রাখেন।
- ১৮০০ সালে ফকিররা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।
- সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নেতা ভবানী পাঠক ১৭৮৭ সালে লেফটেন্যান্ট ব্রেনানের নেতৃত্বে একদল ব্রিটিশ সৈন্যের আক্রমণে নিহত হন।
- ভবানী পাঠকের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সন্ন্যাসী আন্দোলনের অবসান ঘটে।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।

৪৫৭.
কোন শতকে 'ফরায়েজি আন্দোলন'-এর সূত্রপাত ঘটে?
  1. বিশ শতকে
  2. উনিশ শতকে
  3. আঠারো শতকে
  4. সতেরো শতকে
সঠিক উত্তর:
উনিশ শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উনিশ শতকে
ব্যাখ্যা
• ফরায়েজি আন্দোলন:

- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহ বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলার শাসশাইল গ্রামে ১৭৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন।
- সেখানে তিনি ইসলাম ধর্মের ওপর লেখাপড়া করে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
- দেশে ফিরে তিনি বুঝতে পারেন যে, বাংলার মুসলমানরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।
- তাদের মধ্যে অনৈসলামিক রীতিনীতি, কুসংস্কার, অনাচার প্রবেশ করেছে।
- ইসলাম ধর্মকে কুসংস্কার আর অনাচারমুক্ত করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন।
- এই প্রতিজ্ঞার বশবর্তী হয়ে উনিশ শতকের প্রথমার্ধে তিনি এক ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- হাজী শরীয়তউল্লাহর এই ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের নামই 'ফরায়েজি আন্দোলন'।

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪৫৮.
উপমহাদেশে প্রথম মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন -
  1. লর্ড ওয়েলেসলি
  2. লর্ড মিন্টো
  3. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক
  4. লর্ড রিপন
সঠিক উত্তর:
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক
ব্যাখ্যা
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক
- ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড বেন্টিঙ্ক এদেশে গভর্নর জেনারেল হয়ে আসেন।
- তিনি ১৮২৮ থেকে ১৮৩৫ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
- বেন্টিঙ্কই প্রথম গভর্নর জেনারেল যিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে এদেশে প্রজাদের কল্যাণ সাধনই শাসকের প্রধান কর্তব্য।

- তাঁর প্রচেষ্টার ফলেই এদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও সভ্যতার অবাধ প্রসারের পথ উন্মুক্ত হয়।
- তাঁর আমলে ১৮৩৫ সালে কলকাতা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা উপমহাদেশের প্রথম মেডিকেল কলেজ।
- উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের সময় সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরন আইন ( ১৮২৯ )পাস হয় এতে তিনি রাজা রামমোহন রায় ও প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সমর্থন ও সহায়তা লাভ করেন।
- উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক বাংলায় সর্বপ্রথম ‘জুরী ব্যবস্থার’ প্রবর্তন করেন।
- তিনি লর্ড মেকলের সহায়তায় আইন কমিশন গঠন করে ‘ইন্ডিয়ান পেনাল কোড’ তৈরি করেন। 
- তিনি সেনাবাহিনীতে বেত্রাঘাত নিষিদ্ধ করেন।

তথ্যসূত্র - ১. ব্রিটানিকা।
২.  বাংলাদেশ ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণী।
৪৫৯.
কোন মোগল সুবেদার পর্তুগীজদের এ দেশ থেকে বিতাড়িত করেন?
  1. শায়েস্তা খান
  2. আজম শাহ
  3. মীর জুমলা
  4. শাহ সুজা
সঠিক উত্তর:
শায়েস্তা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
পর্তুগিজ:
- পর্তুগিজরা কেবল ব্যবসা-বাণিজ্যই করত না, তারা এদেশের জমিদার ও প্রতাপশালী বার ভূঁইয়াদের সেনাবাহিনীতে চাকরী করত।
- আবার সুযোগ পেলেই জুলুম, অত্যাচার ও লুণ্ঠন করতো।
- অনেক সময় সম্রাট বা নবাবের আইন অমান্য করে বিনা শুল্কে স্বাধীনভাবে ব্যবসা চালাত। এতে তাঁরা মোগল সম্রাটের বিরাগভাজন হন। 
- তাঁরা জোর করে এদেশেরই অসহায় বালক-বালিকাদের খ্রিস্টান বানাত।
- এদেশের মানুষকে ধরে নিয়ে দাসদাসীরূপে বিক্রি করতো বিদেশের বাজারে।
- পর্তুগিজ সৈন্যরা জোর করে এদেশের মেয়ে বিয়ে করত।

- তাদের এ অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেলে সম্রাট শাহজাহান পর্তুগীজদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করেন।
- সম্রাটের নির্দেশে কাসিম খান তাদের হুগলী কুঠি থেকে বিতাড়িত করেন।
- সর্বশেষ বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান তাদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ ঘাঁটি দখল করে চিরতরে এ দেশ থেকে উচ্ছেদ করেন। 

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬০.
তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলন কী নামে পরিচিত?
  1. ফারায়েজি আন্দোলন
  2. তাহরিক-ই-মুহম্মদীয়া
  3. ওয়াহাবি আন্দোলন
  4. খ+গ
সঠিক উত্তর:
খ+গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ+গ
ব্যাখ্যা

ওয়াহাবি আন্দোলন:
- পূর্ব ও পশ্চিম বাংলায় প্রায় একই সময়ে দুটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের শুরু হয়।
- পূর্ব বাংলার আন্দোলনটি ফরায়েজি আন্দোলন নামে পরিচিত।
- পশ্চিম বাংলার আন্দোলনের নাম ওয়াহাবি বা ‘তাহরিক-ই-মুহম্মদীয়া'।
- ওয়াহাবি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তিতুমীর।
- ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে এ আন্দোলন শুরু এবং শেষ হয় ১৮৩১ ক্রিস্টাব্দে তিতুমীরের শাহাদাৎ বরণের মধ্য দিয়ে।
- উনিশ শতকে ভারতবর্ষে মুসলমান সমাজের ধর্মীয়, সামাজিক কুসংস্কার দূর করে মুসলিম সম্প্রদায়কে ধর্মীয় অনুশাসন পালনের সঠিক পথ নির্দেশ করাই এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল।
- বাংলার ওয়াহাবিরাও তিতুমীরের নেতৃত্বে একই উদ্দেশ্যে সংগঠিত হয়েছিল।
- তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত 'তাহরিক-ই-মুহম্মদীয়া' আন্দোলন বা ওয়াহাবি আন্দোলন ছিল উত্তর ভারতের সৈয়দ আহমদ শহীদের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত।
- তাঁর এই ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনে বহু মুসলমান, বিশেষ করে চব্বিশ পরগনা এবং নদীয়া জেলার বহু কৃষক, তাঁতী স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দেয়।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিতুমীর তাঁর প্রধান ঘাটি স্থাপন করেন। নির্মাণ করেন ইতিহাস খ্যাত তাঁর বাঁশের কেল্লা।
- গোলাম মাসুমের নেতৃত্বে গড়ে তোলেন সুদক্ষ শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনী।
- ইংরেজ জমিদার, নীলকরদের দ্বারা নির্যাতিত কৃষকরা দলে দলে তিতুমীরের বাহিনীতে যোগ দিলে ধর্ম সংস্কার আন্দোলন একটি ব্যাপক কৃষক আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ফলে কৃষকদের সংঘবদ্ধতা এবং তিতুমীরের শক্তি বৃদ্ধিতে শঙ্কিত হয়ে উঠে শাসক-শোষক, জমিদার শ্রেণি।
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিতুমীর হজকরার জন্য মক্কা শরিফ যান এবং ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে দেশে ফিরে আসেন। দেশের ফিরে তিনি ধর্মীয় সংস্কার কাজে আত্মনিয়োগ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬১.
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন?
  1. চাঙ্কি পান্ডে
  2. মঙ্গল পান্ডে
  3. হারপান সিং
  4. লাল সিং
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল পান্ডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল পান্ডে
ব্যাখ্যা
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ:
- এটি ছিল ব্রিটিশ শাসন অবসানকল্পে ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা ‘স্বাধীনতা লড়াই'।
- এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।
- ১৮৫৭ সালের সংগ্রামের নানাবিধ কারণ ছিল।
- এসব কারণকে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ এ দু শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।

• পরোক্ষ কারণ:
- রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও সামরিক অসন্তোষ।
• প্রত্যক্ষ কারণ:
- ১৮৫৬ সালে সেনাবাহিনীতে ‘এনফিল্ড রাইফেল' প্রচলন করা হয়।
- এতে ব্যবহৃত কার্তুজ দাঁতে কেটে ভরতে হতো।
- গুজব রটে যে, এ কার্তুজে শুকর ও গরুর চর্বি মেশানো আছে।
- এটি ধর্মনাশের একটি পরিকল্পিত ও সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র বলে ভারতের হিন্দু-মুসলমান সিপাহীদের মধ্যে দারুন বিক্ষোভের সূচনা করে। 

সিপাহী বিদ্রোহ:
- ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে ‘মঙ্গল পান্ডে' নামক একজন সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬২.
বাংলায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করেন কে?
  1. ক) ওয়ারেন হেস্টিংস
  2. খ) লর্ড ওয়েলেসলি
  3. গ) লর্ড ক্যানিং
  4. ঘ) লর্ড কর্নওয়ালিস
সঠিক উত্তর:
ঘ) লর্ড কর্নওয়ালিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লর্ড কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা
১৭৯৩ সালের ২২শে মার্চ লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
ঐদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর চিরস্থায়ী মালিকানা প্রদান করে যে বন্দোবস্ত করা হয় তা-ই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে পরিচিত।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৬৩.
খিলাফত আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কে?
  1. মাওলানা মোহাম্মদ আলী
  2. মাওলানা ভাসানী
  3. সৈয়দ আহমদ খান
  4. মাওলানা আতাহার আলী
সঠিক উত্তর:
মাওলানা মোহাম্মদ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাওলানা মোহাম্মদ আলী
ব্যাখ্যা
খিলাফত আন্দোলন:
- ১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তির অধীনে ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের খেলাফত তুরস্ক তথা অটোমান সাম্রাজ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলে এর বিরুদ্ধে ভারতীয়রা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা খিলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত।
- ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রভাবে উদ্ভূত একটি প্যান-ইসলামি আন্দোলন।
- কারণ ভারতের মুসলমানেরা তুরস্কের সুলতানকে মুসলিম বিশ্বের খলিফা বা ধর্মীয় নেতা বলে শ্রদ্ধা করতেন।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের সুলতান ব্রিটিশ বিরোধী শক্তি জার্মানির পক্ষ অবলম্বন করলে ভারতে মুসলমান সম্প্রদায় বিব্রত হন। কারণ ধর্মীয় কারণে তাঁরা খলিফার অনুগত, আবার অন্যদিকে রাজনৈতিক কারণে ব্রিটিশ সরকারের অনুগত থাকতে বাধ্য।
- কিন্তু এই যুদ্ধে জার্মানি হেরে গেলে জার্মানির পক্ষে যোগদানের কারণে শাস্তি স্বরূপ তুরস্ককে খণ্ড-বিখণ্ডিত করার পরিকল্পনা করা হয়।
- এই আন্দোলনে নেতৃত্বদেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও দুই ভাই মাওলানা শওকত আলী এবং মাওলানা মোহাম্মদ আলী।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৪৬৪.
'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' সময় কাল- 
  1. ১৭৭২ সাল
  2. ১৭৭৫ সাল
  3. ১৭৭০ সাল
  4. ১৭৭৩ সাল
সঠিক উত্তর:
১৭৭০ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৭০ সাল
ব্যাখ্যা

ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় বাংলার ইংরেজ গভর্নর ছিলেন কার্টিয়ার।
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলার ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ নামে পরিচিত। -
- ১১৭৬ বঙ্গাব্দে এবং ইংরেজি ১৭৭০ সাল  এই দুর্ভিক্ষ হয় বলে একে 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' বলা হয়।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় এক তৃতীয়াংশ লোক মারা যায়।
- এই দুর্ভিক্ষে তৎকালীন বাংলার মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মারা যায়। ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় বাংলার ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর ছিলেন জন কার্টিয়ার।
- দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা এবং পরপর তিন বছর অনাবৃষ্টিজনিত খরার কারণে ফসল উৎপাদন কম হওয়ায় এই দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।

উৎস: বাংলাদেশ ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৬৫.
কার নেতৃত্বে ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ সংঘটিত হয়?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ
  3. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  4. শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ
ব্যাখ্যা
মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ-এর নেতৃত্বে ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। 

সলঙ্গা বিদ্রোহ:

- ১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি তরুণ নেতা মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ-এর নেতৃত্বে তৎকালীন পাবনা জেলার সিরাজগঞ্জ মহকুমার সলঙ্গা হাটে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সূচনা ঘটে।
- আন্দোলনরত জনতার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে ব্রিটিশ পুলিশ, নিহত হন কয়েক শ মানুষ।
- নিহতদের ব্রিটিশ পুলিশ সিরাজগঞ্জের রহমতগঞ্জে গণকবর দেয়।

⇒ বিদেশি পণ্য বর্জন ও স্বদেশি পণ্য ব্যবহার করার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের সলঙ্গা হাটে গণহত্যা সংঘটিত হয়।
- যুবনেতা মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশের নেতৃত্বে সলঙ্গা এলাকায় 

⇒ মূলত জালিয়ান ওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা থেকে সূত্রপাত হয় ভারতবর্ষে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের। জালিয়ান ওয়ালাবাগের পথ ধরে ব্রিটিশ বেনিয়াদের নৃশংসতার আরেক রক্তাক্ত অধ্যায় রচিত হয় সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায়।

⇒ ২৭ জানুয়ারি ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস পালিত হয়।

উল্লেখ্য,
• আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ:
- মওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ একজন রাজনীতিক। 
- তর্কবাগীশ জন্মেছিলেন ১৯০০ সালের ২৭ নভেম্বরে সলঙ্গাতে।
- স্থানীয় ডায়মন্ড জুবিলী হাইস্কুলে এন্ট্রান্স ক্লাসে অধ্যয়নকালে তিনি খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দেন।
- লাহোরের এরশাদ ইসলামিয়া কলেজে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সেরা বাগ্মীর স্বীকৃতি লাভ করার পরে তিনি ‘তর্কবাগীশ’ হিসেবে পরিচিত হন।
- ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য এবং ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হিসেবে পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। 
- তিনি ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।
- ১৯৬৯-এর গণআন্দোলনের পর তিনি ছয়দফা-পন্থি আওয়ামী লীগে প্রত্যাবর্তন করেন।
- ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মাওলানা সভাপতিত্ব করেন।
- ১৯৮৬ সালের ২০ আগস্ট ঢাকায় তার মৃত্যু হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো।
৪৬৬.
ফরায়েজী আন্দোলনের সূত্রপাত করেন কে?
  1. স্যার সৈয়দ আহমদ
  2. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  3. মজনু শাহ
  4. মীর নিসার আলী
সঠিক উত্তর:
হাজী শরীয়তউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজী শরীয়তউল্লাহ
ব্যাখ্যা
ফরায়েজি আন্দোলন:
- ফরায়েজি আন্দোলন ছিল একটি ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলন।
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তুল্লাহ ফরায়েজী আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফরায়েজি শব্দটি আরবি ‘ফরজ’ (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে। যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি।
- হাজী শরীয়তুল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে হাজী শরীয়তুল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
- ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
- ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- হাজী শরীয়তুল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর যোগ্যপুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া।
- তিনি ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন।
- দুদু মিয়া ফরায়েজি আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপদান করেন।
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে দুদু মিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৭.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ছিল মূলত-
  1. শিল্প সংক্রান্ত বন্দোবস্ত
  2. বাণিজ্য সংক্রান্ত বন্দোবস্ত
  3. শাসন সংক্রান্ত বন্দোবস্ত
  4. ভূমি সংক্রান্ত বন্দোবস্ত
সঠিক উত্তর:
ভূমি সংক্রান্ত বন্দোবস্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমি সংক্রান্ত বন্দোবস্ত
ব্যাখ্যা
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
- নির্দিষ্ট রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর স্থায়ী মালিকানা দান করে যে ভূমি বন্দোবস্ত চালু করা হয় তাকেই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বলা হয়।
- ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত জমিদারদের জমির স্থায়ী মালিকে পরিণত করে এবং জমিদাররা জমির মালিকানা স্বত্ব লাভ করে।
- রাজস্বের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেয়ার ফলে নিয়মিত রাজস্ব প্রদানের বিনিময়ে জমিদার জমিদারী ভোগের চিরস্থায়ী অধিকার লাভ করে।
- এ প্রথা চালু হওয়ার ফলে জমিদারদের প্রশাসনিক ক্ষমতা বিলুপ্ত হয়। সরকার স্বয়ং শান্তি রক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করে।
- নজরানা ও বিক্রয় ফি সমূহ বাতিল করা হয়।
- খাজনা বাকি পড়লে জমিদারদের ভূমির কিছু অংশ বিক্রি করে রাজস্ব আদায় করার ব্যবস্থা ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৮.
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে কত তারিখ ছিল?
  1. ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৩৭৭ বঙ্গাব্দ
  2. ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৩৭৮ বঙ্গাব্দ
  3. ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৩৭৮ বঙ্গাব্দ
  4. ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৩৭৭ বঙ্গাব্দ
সঠিক উত্তর:
২৯ অগ্রহায়ণ, ১৩৭৮ বঙ্গাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৯ অগ্রহায়ণ, ১৩৭৮ বঙ্গাব্দ
ব্যাখ্যা
বিজয় দিবস
- ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪:৩১ মিনিটে পাক বাহিনীর পক্ষে লে.জেনারেল নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্য নিয়ে রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণ করে। 
- বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে দিনটি ছিল  ২৯ অগ্রহায়ণ,১৩৭৮ বঙ্গাব্দ।

উল্লেখ্য, 
- মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৯ টি জেলার মধ্যে প্রথম শত্রুমুক্ত জেলা যশোর, যেটি ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ এ স্বাধীন হয়।

তথ্যসূত্র- সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৪৬৯.
তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) সুমিত্রা দেবী
  2. খ) তারামন বিবি
  3. গ) ইলা মিত্র
  4. ঘ) মহাশ্বেতা দেবী
সঠিক উত্তর:
গ) ইলা মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইলা মিত্র
ব্যাখ্যা
বিশ শতকের মধ্যভাগে বাংলায় সংঘটিত তেভাগা আন্দোলন একটি কৃষক আন্দোলন। নাচোলের রানী ইলা মিত্র তেভাগা আন্দোলন একজন নেত্রী। এই আন্দোলন যখন স্তিমিত হয়ে যেতে থাকে তখন ইলা মিত্র এই আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করেন। কৃষকদের নিকট তিনি রানী মা হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৪৬-৪৭ এবং ১৯৪৮-৫০ দুই দফায় রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, চব্বিশ পরগণা প্রভৃতি জেলায় তেভাগা আন্দোলন সংঘটিত হয়। তেভাগা আন্দোলনে দাবী ছিলো বর্গাচাষীরা তাদের উৎপন্ন ফসলের এক ভাগ দিবে মালিকপক্ষকে এবং দুই ভাগ পাবে তারা নিজেরা।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৪৭০.
নিচের কোন ঘটনাটি আগে ঘটেছিলো?
  1. ক) চেমসফোর্ড-মন্টেগু সংস্কার আইন
  2. খ) চট্টগ্রাম অস্ত্রগার লুন্ঠন
  3. গ) লক্ষ্ণৌ চুক্তি
  4. ঘ) সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ
সঠিক উত্তর:
গ) লক্ষ্ণৌ চুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লক্ষ্ণৌ চুক্তি
ব্যাখ্যা

- ১৯১৬ সালের ডিসেম্বরে লক্ষ্ণৌ শহরে একই সময়ে ও স্থানে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে উভয় দল ভারতের শাসনতান্ত্রিক সংস্কার প্রশ্নে সমঝোতার অংশ হিসেবে লক্ষ্ণৌ চুক্তি সম্পাদন করে।
- এই চুক্তিতে কংগ্রেস প্রথমবারের মতো মুসলমানদের জন্যে পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা মেনে নেয়।
অন্যদিকে,
- চেমসফোর্ড-মন্টেগু সংস্কার আইন : ১৯১৯ সালে
- চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন : ১৯৩০ সালে
- সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ : ১৯৩২ সালে।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)

 
৪৭১.
ব্রিটিশ শাসন বিরোধী ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা 'স্বাধীনতা লড়াই' ছিল -
  1. ফরায়েজী আন্দোলন
  2. নীল বিদ্রোহ
  3. ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  4. সিপাহী বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
সিপাহী বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিপাহী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা

সিপাহী বিদ্রোহ:
- ব্রিটিশ শাসন বিরোধী ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা 'স্বাধীনতা লড়াই' ছিল সিপাহী বিদ্রোহ।

⇒ ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে ‘মঙ্গল পান্ডে' নামক একজন সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।
- এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।

⇒ এ সংগ্রামের কারণকে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ এ দু শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।
• পরোক্ষ কারণ: 
- রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও সামরিক অসন্তোষ।

• প্রত্যক্ষ কারণ:
- ১৮৫৬ সালে সেনাবাহিনীতে ‘এনফিল্ড রাইফেল' প্রচলন করা হয়।
- এতে ব্যবহৃত কার্তুজ দাঁতে কেটে ভরতে হতো।
- গুজব রটে যে, এ কার্তুজে শুকর ও গরুর চর্বি মেশানো আছে।
- এটি ধর্মনাশের একটি পরিকল্পিত ও সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র বলে ভারতের হিন্দু-মুসলমান সিপাহীদের মধ্যে দারুন বিক্ষোভের সূচনা করে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭২.
উপমহাদেশে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা রহিত করেন কে?
  1. ওয়ারেন হেস্টিংস
  2. লর্ড ক্যানিং
  3. রবার্ট ক্লাইভ
  4. লর্ড কার্জন
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা

দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা:
- ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- দ্বৈতশাসন অনুসারে রাজস্ব প্রশাসন ও দেশ রক্ষার ভার থাকে কোম্পানির হাতে এবং নিয়ামত বা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পিত হয় নবাবের হাতে।
- দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে।
- অবাধ লুণ্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়ে যায়।
- নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হন। 
- সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
- এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৭৩.
অসহযোগ আন্দোলন সংঘটিত হয় কত সালে?
  1. ১৯১৯
  2. ১৯২০
  3. ১৯২১
  4. ১৯২২
সঠিক উত্তর:
১৯২০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২০
ব্যাখ্যা

অসহযোগ আন্দোলন:
- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে খিলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে।
- মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯২০ সালে।
- ১৯২১-২২ খ্রিস্টাব্দে এই আন্দোলন সর্বভারতীয় গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে উত্তর প্রদেশের চৌরিচোরা নামক স্থানে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিলে হঠাৎ করে এই আন্দোলন বন্ধের ডাক দেন।
- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি গ্রেফতার হলে আন্দোলন স্থিমিত হয়ে যায়।

উল্লেখ্য,
- ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
- ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর ভারতে জন্ম নেন তিনি।
- ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলন করা এবং ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে বিদায় করতে তাঁর ভূমিকা অগ্রগণ্য।
- তিনি ছিলেন সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা।
- মহাত্মা গান্ধীকে ১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারি নতুন দিল্লির একটি সুবৃহৎ প্রাসাদ বিড়লা হাউসের প্রাঙ্গনে হত্যা করা হয়েছিল।
- তাঁর ঘাতক ছিলেন নাথুরাম গডসে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
          ii) ব্রিটানিকা।

৪৭৪.
ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  2. মজনু শাহ্
  3. মুহাম্মদ মুহসীনউদ্দীন দুদু
  4. মীর কাসিম
সঠিক উত্তর:
হাজী শরীয়তউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজী শরীয়তউল্লাহ
ব্যাখ্যা
• ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহ।

• ফরায়েজি আন্দোলন:
হাজী শরীয়তউল্লাহ  দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন। দেশে ফিরে তিনি বুঝতে পারেন যে, বাংলার মুসলমানরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। তাদের মধ্যে অনৈসলামিক রীতিনীতি, কুসংস্কার, অনাচার প্রবেশ করেছে। ইসলাম ধর্মকে কুসংস্কার আর অনাচারমুক্ত করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন। এই প্রতিজ্ঞার বশবর্তী হয়ে উনিশ শতকের প্রথমার্ধে তিনি এক ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত করেন। হাজী শরীয়তউল্লাহর এই ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের নামই 'ফরায়েজি আন্দোলন'।

• হাজী শরীয়তউল্লাহ :
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহ।
- তিনি বাংলার একজন ইসলামি সংস্কারক।
- বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলার শাসশাইল গ্রামে ১৭৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর নামানুসারে শরিয়তপুর জেলার নামকরণ করা হয়েছে।
- তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন। সেখানে তিনি ইসলাম ধর্মের ওপর লেখাপড়া করে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।
৪৭৫.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করা হয় ১৭৯৩ সালের--
  1. ক) ২৫শে মার্চ
  2. খ) ২২শে মার্চ
  3. গ) ২৭শে মার্চ
  4. ঘ) ২৩শে মার্চ
সঠিক উত্তর:
খ) ২২শে মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২২শে মার্চ
ব্যাখ্যা
• ১৭৮৬ সালে লর্ড কর্নওয়ালিসকে ভারতের গভর্নর জেনারেল ও সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দেয়ার পর তিনি ১৭৯৩ সালে ২২শে মার্চ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
• ঐ বছর ২২শে মার্চ নির্দিষ্ট রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির ওপর স্থায়ী মালিকানা দান করে যে বন্দোবস্ত চালু করা হয়, তাকেই ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ বলা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৭৬.
উপমহাদেশে রেল যোগাযোগ চালু হয় কত সালে?
  1. ১৮৫৩ সালে
  2. ১৮৫৬ সালে
  3. ১৮২২ সালে
  4. ১৮৫৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৫৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৩ সালে
ব্যাখ্যা
লর্ড ডালহৌসি:
-উপমহাদেশে ইংরেজ শাসকদের মাঝে সব চেয়ে সাম্রাজ্যবাদী ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।
- তিনি ১৮৫৩ সালে উপমহাদেশে রেল যোগাযোগ চালু করেন।
- তিনি ১৮৫৬ সালে বিধবা আইন পাস করেন।
- তিনি স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগ করেন।
- ১৮৫০ সালে তিনি কলকাতা থেকে ডায়মন্ড হারবার পর্যন্ত টেলিগ্রাফ লাইন স্থাপন করেন।
উল্লেখ্য :
- বাংলাদেশে দর্শনা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রথম রেল লাইন স্থাপন করা হয়-১৮৬২ সালে।
- বিশ্বের প্রথম রেল লাইন স্থাপিত হয়- লন্ডনে।

উৎস: ইতিহাস,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
৪৭৭.
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ কোনটি?
  1. ক) নীল বিদ্রোহ
  2. খ) সিপাহী বিদ্রোহ
  3. গ) ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  4. ঘ) সাঁওতাল বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
গ) ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
- ফকির-সন্ন্যাসীদের বিদ্রোহ ছিল বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ। 
- ১৭৬৩ থেকে ১৮০০ খ্রি.- এই দীর্ঘ সময় ধরে চলে ফকির সন্ন্যাসীদের বিদ্রোহ।
- এই ফকির-সন্ন্যাসীরা ছিলেন বাংলারই অধিবাসী। 
- ফকিরেরা ছিলেন সুফি সম্প্রদায়ের মাদারিয়া শ্রেণীভুক্ত। 
- আর সন্ন্যাসীরা ছিলেন বৈদান্তিক হিন্দু যোগী। 
- এদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন যারা মুঘল সাম্রাজ্যের সৈন্যদল থেকে বাদ পড়া সদস্য, আবার অনেকে ছিলেন ভূমিহীন কৃষক। 
- তবে এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই যে, এই ফকির-সন্ন্যাসীরা ছিলেন এদেশেরই স্থায়ী অধিবাসী। 
- ধর্মীয় দিক থেকে ফকির-সন্ন্যাসীদের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ ফকির-সন্ন্যাসীদের মধ্যে মিলনের সাধারণ ক্ষেত্র তৈরি করে এবং তারা একই পতাকাতলে সমবেত হন।
 
উৎস: ইতিহাস, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়। 
৪৭৮.
কোন পর্তুগিজ নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে ভারত উপমহাদেশে আসেন?
  1. জব চার্নক
  2. ভাস্কো-ডা-গামা
  3. ক্যাপ্টেন হকিন্স
  4. স্যার টমাস রো
সঠিক উত্তর:
ভাস্কো-ডা-গামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাস্কো-ডা-গামা
ব্যাখ্যা

পর্তুগিজ
- পর্তুগিজদের মধ্যেকার  দুঃসাহসী নাবিক ভাস্কো-ডা-গামা প্রথম সমুদ্রপথে এদেশে আসেন ।
- তিনি ১৪৯৮ সালের ২৭শে মে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন।
- উপমহাদেশে তাঁর এ আগমন ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
- ১৫৩৮ সালে তারা চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে বাণিজ্যঘাঁটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে। ১৫৭৯ সালে হুগলী নামক স্থানে তারা উপনিবেশ গড়ে তোলে। 
- পর্তুগিজদের বিভিন্ন অপকর্ম ও দস্যুতার কারণে বাংলার সুবাদার শায়েস্তা খান তাদের চট্টগ্রাম ও সন্দীপের ঘাঁটি দখল করে বাংলা থেকে বিতাড়ন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।

৪৭৯.
ফিরিঙ্গি' কাদের বলা হয়?
  1. ক) ফরাসিদের
  2. খ) মগদের
  3. গ) পর্তুগিজদের
  4. ঘ) দিনেমারদের
সঠিক উত্তর:
গ) পর্তুগিজদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পর্তুগিজদের
ব্যাখ্যা
পর্তুগিজদের আগমন:

- 'ফিরিঙ্গি' বলা হয় পর্তুগিজদের।
- ভাস্কো-ডা-গামা একজন পর্তুগিজ নাবিক যে ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দের ২৭ মে প্রথম সমুদ্রপথে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে তারা কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি অঞ্চলে কুঠি স্থাপন এবং ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে শুল্কঘাটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে।
- পর্তুগিজরা ভারতীয় উপমহাদেশে আগত প্রথম ইউরোপীয়ান বাণিজ্যিক দল।

অন্যদিকে,
- হল্যান্ডের অধিবাসীদের ওলন্দাজ বা ডাচ বলা হয়।
- ডেনমার্কের অধিবাসীদের দিনেমার বলা হয়।

তথ্যসূত্র - এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮০.
লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু করেন কে?
  1. ইসলাম খান
  2. যুবরাজ মোহাম্মদ আযম
  3. শায়েস্তা খান
  4. রুকনদ্দিন নুসরাত শাহ
সঠিক উত্তর:
যুবরাজ মোহাম্মদ আযম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুবরাজ মোহাম্মদ আযম
ব্যাখ্যা
লালবাগের কেল্লা পুরান ঢাকার লালবাগে অবস্থিত।
এটির পূর্বনাম আওরঙ্গবাদ দুর্গ।
সম্রাট আওরঙ্গজেবের তৃতীয় পুত্র শাহজাদা মোহাম্মদ আযম শাহ ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
সুবেদার শায়েস্তা খানের আমলে নির্মাণ কাজ অব্যাহত থাকে।
এখানে শায়েস্তা খানের কন্যা পরিবিবি (প্রকৃত নাম ইরান দুখত) সমাধি রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় -৫ম শ্রেণি।
৪৮১.
পলাশীর যুদ্ধ কোন নদীর তীরে হয়েছিল?
  1. ব্রহ্মপুত্র
  2. পদ্মা
  3. ভাগীরথী
  4. গঙ্গা
সঠিক উত্তর:
ভাগীরথী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাগীরথী
ব্যাখ্যা
পলাশীর যুদ্ধ:
- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে।
- জেতার সবধরণের সুযোগ সুবিধা এবং এদের প্রাণপাত লড়াইয়ের পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- পলাশী যুদ্ধের ফলে ইংরেজ বা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮২.
বাংলার গভর্নর জেনারেল পদ ভারতের গভর্নর জেনারেল পদে পরিণত হয় কত সালে?
  1. ১৭৭৬ সালে
  2. ১৮০১ সালে
  3. ১৮৩৩ সালে
  4. ১৮৫৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৩৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৩৩ সালে
ব্যাখ্যা
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক (১৭৭৪-১৮৩৯): 
- ১৮২৮ থেকে ১৮৩৩ সাল পর্যন্ত বাংলার গভর্নর জেনারেল এবং ১৮৩৩ থেকে ১৮৩৫ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
- লর্ড উইলিয়ম ক্যাভেন্ডিস বেন্টিঙ্ক ১৭৭৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
- মাদ্রাজের গভর্নর হিসেবে ১৮০৩ সালে তিনি প্রথম ভারতে আসেন এবং ১৮০৬ সালে ভেল্লোরে সিপাইদের বিদ্রোহের কারণে ১৮০৭ সালে তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়।
- প্রায় দুই দশক পর তাঁকে বাংলার গভর্নর জেনারেল নিয়োগ করা হয় এবং তিনি ১৮২৮ সালে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
- ১৮৩৩ সালের  সনদ আইন (Charter Act-1833) দ্বারা পরে তাঁর পদবিকে ভারতের গভর্নর জেনারেল হিসেবে পুনরাখ্যায়িত করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৮৩.
'হান্টার কমিশন' গঠন করেন কে?
  1. লর্ড হান্টার
  2. লর্ড রিপন
  3. লর্ড মেয়ো
  4. লর্ড কার্জন
সঠিক উত্তর:
লর্ড রিপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড রিপন
ব্যাখ্যা
• হান্টার কমিশন:
- লর্ড রিপন 'হান্টার কমিশন' নামে শিক্ষা কমিশন গঠন করেন।
- ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন হলো হান্টার কমিশন।
- এটি ১৮৮২ সালে স্যার উইলিয়াম হান্টার কে প্রধান করে গঠিত হয়।
- এতে মোট সাতজন সদস্য ছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশ ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৪৮৪.
নবগঠিত পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর ছিলেন কে?
  1. ক) ফ্রেডেরিক বারোজ
  2. খ) ব্যামফিল্ড ফুলার
  3. গ) ক্রিস্টোফার ক্রিপস
  4. ঘ) পেথিক লরেন্স
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যামফিল্ড ফুলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যামফিল্ড ফুলার
ব্যাখ্যা
১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, জলপাইগুড়ি, মালদহ, পার্বত্য ত্রিপুরা ও আসামের কিছু অংশ নিয়ে পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ গঠিত হয়।
এর প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিযুক্ত হন স্যার জোসেফ ব্যামফিল্ড ফুলার। তিনি ১৯০৬ সালের ২০ আগস্ট লেফটেন্যান্ট গভর্নরের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের রাজধানী ছিলো ঢাকা। কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুদের তীব্র বিরোধিতার কারণে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৪৮৫.
নওয়াব আব্দুল লতিফকে প্রথমে কোন উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. নওয়াব
  2. খান বাহাদুর
  3. নওয়াব বাহাদুর
  4. লর্ড
সঠিক উত্তর:
খান বাহাদুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খান বাহাদুর
ব্যাখ্যা

নওয়াব আব্দুল লতিফ:
- তিনি ১৮২৮ সালে ফরিদপুর জেলার রাজাপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে তাঁর কৃতিত্বের জন্য সরকার তাঁকে প্রথমে ‘খান বাহাদুর’, পরে ‘নওয়াব’ এবং ‘নওয়াব বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দ: আয়োজন করেন ‘মুসলমান ছাত্রদের পক্ষে ইংরেজি শিক্ষার সুফল’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতা।
- শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান: কোলকাতা মাদরাসায় অ্যাংলো-পার্সিয়ান বিভাগ খোলার প্রচেষ্টা।
- সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদান: ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি বা মুসলিম সাহিত্য সমাজ প্রতিষ্ঠা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৪৮৬.
নিচের কোন ঘটনাটি আগে ঘটেছিলো?
  1. ক) চেমসফোর্ড-মন্টেগু সংস্কার আইন
  2. খ) চট্টগ্রাম অস্ত্রগার লুন্ঠন
  3. গ) মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন
  4. ঘ) বেঙ্গল প্যাক্ট সম্পাদন
সঠিক উত্তর:
গ) মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত ঘটনাসমূহের মধ্যে সবার আগের ঘটনা হলো মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন। ১৯০৯ সালে মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন প্রবর্তিত হয়। এই আইনে প্রথমবারের মতো মুসলমানদের জন্যে পৃথক নির্বাচনের বিধান গৃহীত হয়।

অন্যদিকে,

- চেমসফোর্ড-মন্টেগু সংস্কার আইন : ১৯১৯ সালে
- বেঙ্গল প্যাক্ট সম্পাদিত হয় : ১৯২৩ সালে
- চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন : ১৯৩০ সালে।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৪৮৭.
হাজী শরীয়তউল্লাহ ভারতবর্ষকে কী বলে ঘোষণা করেছিলেন?
  1. দারুল ইসলাম
  2. দারুল আমান
  3. দারুল হারব
  4. দারুল হিজরত
সঠিক উত্তর:
দারুল হারব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দারুল হারব
ব্যাখ্যা

ফরায়েজী আন্দোলন:
- ফরায়েজী আন্দোলন ছিল উনিশ শতকে বাংলায় সংঘটিত একটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলন।
- প্রাথমিক পর্যায়ে এ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ধর্ম সংস্কার, কিন্তু পরবর্তী সময়ে এই আন্দোলনে আর্থ-সামাজিক সংস্কারের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
- এ আন্দোলনের প্রবক্তা হাজী শরীয়তউল্লাহ। 
- হাজী শরীয়তউল্লাহ বাংলায় ব্রিটিশ শাসনকে মুসলমানদের আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য ক্ষতিকর বলে বিবেচনা করতেন।
- হাজী শরীয়তউল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি ভারতবর্ষকে 'দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন। জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে শরিয়ত উল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
- ফরায়েজী আন্দোলন অসামান্য দ্রুততার সঙ্গে ঢাকা, ফরিদপুর, বাকেরগঞ্জ (বর্তমান বরিশাল), ময়মনসিংহ, ত্রিপুরা (বর্তমান কুমিল্লা), চট্টগ্রাম ও -নোয়াখালী জেলাসমূহে এবং আসাম প্রদেশে বিস্তারলাভ করে।
- হিন্দু জমিদার ও ইউরোপীয় নীলকরদের সঙ্গে অবিরাম সংঘর্ষের ফলে আন্দোলনটি ক্রমান্বয়ে আর্থ-সামাজিক রূপ পরিগ্রহ করে।
- ১৮৪০ সালে হাজী শরীয়তউল্লাহর মৃত্যুর পর তার একমাত্র পুত্র মুহসীনউদ্দীন ওরফে দুদু মিয়াকে ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা ঘোষণা করা হয়।
- তিনি ফরায়েজী আন্দোলনকে একটি সুবিন্যস্ত ও শক্তিশালী সাংগঠনিক রূপ দেন।
- ফরায়েজী আন্দোলনভূক্ত সমগ্র অঞ্চলকে তিনি কয়েকটি সার্কেলে বিভক্ত করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮৮.
‘মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা’ অনুযায়ী প্রণীত হয় -
  1. ক) মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন
  2. খ) ভারত স্বাধীনতা আইন
  3. গ) ভারত শাসন আইন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) ভারত স্বাধীনতা আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভারত স্বাধীনতা আইন
ব্যাখ্যা
১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন

- ১৯৪৭ সালের জুন মাসে মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে মি. জিন্নাহর প্ররোচনায় অবাঙালি মুসলিম লীগ নেতাদের সমর্থনে ভারত বিভক্তি সংক্রান্ত মাউন্টব্যাটেনের '৩ জুন পরিকল্পনা' গৃহীত হয়।
- এটিই ‘৩ জুন পরিকল্পনা’ বা ‘মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা’ নামে খ্যাত।
- মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই যে আইন পাস করে তা 'ভারত স্বাধীনতা আইন' নামে খ্যাত।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৪৮৯.
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে প্রথম শহীদ হয়েছিলেন-
  1. ফকির মজনু শাহ
  2. মঙ্গল পাণ্ডে
  3. সৈয়দ নিসার আলী
  4. নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ নিসার আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ নিসার আলী
ব্যাখ্যা

তিতুমীরের বিদ্রোহ:
- ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত তিতুমীর ও ও তাঁর অনুসারীরা সশস্ত্র প্রতিরোধের পথ অবলম্বন করেন।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিতুমীর তাঁর প্রধান ঘাটি স্থাপন করেন। নির্মাণ করেন ইতিহাস খ্যাত তাঁর 'বাঁশের কেল্লা'।
- ইংরেজ জমিদার, নীলকরদের দ্বারা নির্যাতিত কৃষকরা দলে দলে তিতুমীরের বাহিনীতে যোগ দিলে ধর্ম সংস্কার আন্দোলন একটি ব্যাপক কৃষক আন্দোলনে রূপ নেয়।
- কোম্পানি ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে তিতুমীরের বিরুদ্ধে বিশাল সেনা বাহিনী প্রেরণ করে। মেজর স্কটের নেতৃত্বে এই বাহিনী তিতুমীরের নারিকেলবাড়িয়ার বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে।
- ইংরেজদের কামান বন্দুকের সামনে বীরের মতো লড়াই করে পরাজিত হয় তিতুমীরের বাহিনী।
- তিনি যুদ্ধে শহীদ হন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪৯০.
নিচের কোনটি সিপাহী বিদ্রোহের ফলাফল?
  1. ক) স্বত্ব বিলোপ নীতি বাতিল
  2. খ) ভাইসরয় নামক পদের সৃষ্টি
  3. গ) গভর্নর জেনারেল নামক পদের সৃষ্টি
  4. ঘ) ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
ফলাফল ও মূল্যায়ন:-
• সিপাহী বিদ্রোহের ফলাফল সুদূরপ্রসারী। এ বিদ্রোহ সফল না হলেও এটি ভারতে ব্রিটিশ শাসনের মূলে প্রচন্ড আঘাত হানে।
• ১৮৫৮ সালে বিদ্রোহ শেষে এক ঘোষণা বলে মহারাণী ভিক্টোরিয়া ভারতবর্ষের শাসনভার নিজের হাতে তুলে নেন এবং অবসান হয় একশ বছরের কোম্পানি শাসন।
• ব্রিটিশ রাজ ‘স্বত্ব বিলোপ নীতি’ বাতিল ঘোষণা করে। সামরিক বাহিনীতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে নির্বাসনে পাঠানো হয়।
• ভারতবর্ষের বিষয়াবলী দেখাশোনার জন্য ‘ভাইসরয়’ নামক একটি পদ সৃষ্টি করা হয়। 

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪৯১.
বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয় কোন স্থানে?
  1. দিল্লি
  2. পাটনা
  3. কানপুর
  4. বিহার
সঠিক উত্তর:
বিহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহার
ব্যাখ্যা

বক্সারের যুদ্ধ:
- বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয় বিহারে।
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে সংঘটিত এ যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করে। 
- বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম পুনরায় ইংরেজ শিবিরে আশ্রয় নেন। সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান এবং অযোধ্যা ইংরেজ বাহিনীর পদানত হয়। মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন এবং এরপর তাঁর সম্পর্কে আর কিছু জানা যায় নি।
- বক্সার ছিল একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ।
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়। 

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৪৯২.
ফরায়েজি আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপদান করেন কে?
  1. দুদু মিয়া
  2. মীর নিসার আলী
  3. হাজী শরীয়তুল্লাহ
  4. মজনু শাহ
সঠিক উত্তর:
দুদু মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুদু মিয়া
ব্যাখ্যা

ফরায়েজি আন্দোলন:
- ফরায়েজি আন্দোলন ছিল একটি ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলন।
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তুল্লাহ ফরায়েজী আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফরায়েজি শব্দটি আরবি ‘ফরজ’ (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে। যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি।
- হাজী শরীয়তুল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে হাজী শরীয়তুল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
- ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
- ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- হাজী শরীয়তুল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর যোগ্যপুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া।
- তিনি ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন।
- দুদু মিয়া ফরায়েজি আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপদান করেন।
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে দুদু মিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯৩.
অন্ধকূপ হত্যার কাহিনী মূলত কার বিবরণের ওপর ভিত্তি করে রচিত?
  1. রবার্ট ক্লাইভ
  2. সিরাজউদ্দৌলা
  3. ওয়ারেন হেস্টিংস
  4. জে.জেড. হলওয়েল
সঠিক উত্তর:
জে.জেড. হলওয়েল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জে.জেড. হলওয়েল
ব্যাখ্যা

অন্ধকূপ হত্যা:
- অন্ধকূপ হত্যার কাহিনী মূলত ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারী ও কলকাতা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত সেনাপতি জে.জেড. হলওয়েলের বিবরণের ওপর ভিত্তি করে রচিত।

উলেখ্য,
- অন্ধকূপ হত্যা ১৭৫৬ সালের ২০ জুন বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা কর্তৃক কলকাতা দখলের সময় সংঘটিত হওয়া কথিত ঘটনা।
- নবাব কর্তৃক ১৭৫৬ সালে জুন মাসে কলকাতার ইংরেজ দুর্গ দখলের পর ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে অবিশ্বাস্য রকম ক্ষুদ্র একটি কক্ষে আবদ্ধ রেখে হত্যা করা হয় বলে এই উপাখ্যানে দাবি করা হয়।

⇒ ১৭৫৬ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কর্তৃক কলকাতা দখলের পর, হলওয়েল দাবি করেন যে, ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে একটি ছোট ঘরে আটকে রাখায় শ্বাসরোধ হয়ে ১২৩ জন মারা গেছেন ।
- জীবিতদের মধ্যে একজন ছিলেন হলওয়েল। তিনি এই শোকাবহ ঘটনার বিস্তৃত বর্ণনা দেন এবং এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্য নবাবকে দায়ী করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯৪.
১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটান কে?
  1. লর্ড ক্লাইভ
  2. ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. লর্ড বেন্টিংক
  4. কর্নওয়ালিস
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা
দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা:
- ১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- দ্বৈতশাসন অনুসারে রাজস্ব প্রশাসন ও দেশ রক্ষার ভার থাকে কোম্পানির হাতে।
- নিয়ামত বা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পিত হয় নবাবের হাতে।
- দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে।
- অবাধ লুন্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়ে যায়।
- নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হন।
- সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
- এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯৫.
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ কত বছরব্যাপী হয়েছিল?
  1. ক) ১৭৬০ থেকে ১৭৭১ সাল পর্যন্ত
  2. খ) ১৭৬০ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত
  3. গ) ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত
  4. ঘ) ১৭৮৭ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭৬০ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭৬০ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
- তবে এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে।

- ফকির মজনু শাহের যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি, অর্থাৎ অতর্কিতে আক্রমণ করে নিরাপদে সরে যাওয়া।
- তিনি ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।
- ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ১৭৬০ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। 
- অপরদিকে সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নেতা ভবানী-পাঠক ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে লেফটেন্যান্ট ব্রেনানের নেতৃত্বে একদল ব্রিটিশ সৈন্যের আক্রমণে দুই সহকারীসহ নিহত হন।
- সন্ন্যাসী বিদ্রোহের প্রধান নেতা ছিলেন ভবানী-পাঠক।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৬.
পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিপক্ষে ছিল কে?
  1. মোহনলাল
  2. মীরমদন
  3. জগতশেঠ
  4. সিনফ্রে
সঠিক উত্তর:
জগতশেঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জগতশেঠ
ব্যাখ্যা

পলাশীর যুদ্ধ (১৭৫৭):
- সংঘটিত হয়: ২৩ জুন ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দ।
- স্থান: ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগান।
- পক্ষসমূহ: নবাব সিরাজউদ্দৌলা বনাম ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
- ইংরেজ বাহিনীর নেতৃত্ব: রবার্ট ক্লাইভ।
- নবাবের পক্ষে ছিলেন: মীরমদন, মোহনলাল, ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে।
- নবাবের পরাজয়ের প্রধান কারণ: মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা।
- ফলাফল: সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু।
- বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম হয়।
- মীরজাফর বাংলার নবাব নিযুক্ত হন।
- ক্ষমতা থাকে রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- ইংরেজরা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ লাভ করে।

উল্লেখ্য,
- জগৎ শেঠ বাংলার অত্যন্ত ধনী ব্যাংকার ফতেহ চাঁদকে আঠারো শতকের প্রথমার্ধে ‘জগৎ শেঠ’ বা বিশ্বের ব্যাংকার উপাধি প্রদান করা হয়।
- তিনি ও তার সম্পর্কিত ভাই মহারাজা স্বরূপ চাঁদ নওয়াব আলীবর্দী খান এর সময়ে অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিলেন।
- আলীবর্দীর উত্তরাধিকারী সিরাজউদ্দৌলা এ পরিবারের দুভাইকে বৈরী করে তোলেন।
- ফলে তারা তার বিরুদ্ধে ইংরেজদের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন এবং পলাশীর যুদ্ধ এর আগে ও পরে তাদেরকে বিপুল অর্থ দিয়ে সাহায্য করেন।
- বাংলার জনগণ বিশ্বাস করে যে, জগৎ শেঠের অর্থ আর ইংরেজদের তলোয়ার মিলে বাংলায় মুসলিম শাসনের পতন ঘটিয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৪৯৭.
বাংলা ভাগের জন্য সীমানা নির্ধারণ কমিশনের প্রধান ছিলেন -
  1. ক) সি.সি. বিশ্বাস
  2. খ) এস.এ. রহমান
  3. গ) আবু সালেহ মোহাম্মদ আকরাম
  4. ঘ) সিরিল রেডক্লিফ
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিরিল রেডক্লিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিরিল রেডক্লিফ
ব্যাখ্যা
• ১৯৪৭ সালের ৩০ জুন পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গের সীমানা নির্ধারণের জন্যে বেঙ্গল বাউন্ডারি কমিশন গঠিত হয়। এই কমিশনের সদস্য ছিলো পাঁচজন। এরা হলেন-
- সিরিল রেডক্লিফ (চেয়ারম্যান)
- বিচারপতি বিজন কুমার মুখার্জী
- বিচারপতি সি.সি. বিশ্বাস
- বিচারপতি আবু সালেহ মোহাম্মদ আকরাম
- বিচারপতি এস.এ. রহমান।

• কমিশনের চেয়ারম্যান সিরিল র‌্যাডক্লিফের নামানুসারে এই কমিশন রেডক্লিফ কমিশন নামে অধিক পরিচিত।
১২ আগস্ট ১৯৪৭ রেডক্লিফ কমিশন ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার উপর গুরুত্ব প্রদান করে তাদের প্রস্তুতকৃত রিপোর্ট প্রদান করে।

তথ্যসূত্র: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খণ্ড।
৪৯৮.
ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কে?
  1. কর্নওয়ালিস
  2. রবার্ট ক্লাইভ
  3. কার্টিয়ার
  4. ওয়াটসন
সঠিক উত্তর:
রবার্ট ক্লাইভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবার্ট ক্লাইভ
ব্যাখ্যা

রবার্ট ক্লাইভ:
- উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট ক্লাইভ।
- উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের ইতিহাসে রবার্ট ক্লাইভের স্থান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
- তরুণ বয়সে মাদ্রাজে (বর্তমান চেন্নাই) ঈস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরী গ্রহণ করে স্বীয় কর্ম প্রচেষ্টার দ্বারা উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছেন।
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে রবার্ট ক্লাইভ সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষর করলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করে দ্বৈত শাসন প্রবর্তন করে।
- রবার্ট ক্লাইভের চারিত্রিক দোষ থাকা সত্বেও উপমহাদেশে ইংরেজ শক্তির গোড়াপত্তনে তাঁর অবদান অস্বীকার করা যায় না।
- উপমহাদেশের ইতিহাসে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্থপতি ও প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে লর্ড ক্লাইভের নাম অবিস্মরণীয়।
- কেননা প্রথম পর্যায়ে তিনি দাক্ষিণাত্যে কোম্পানিকে রক্ষা করেন।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে তিনি বাংলা জয় করেন। তৃতীয় পর্যায়ে তিনি নবাব ও সম্রাটকে নিয়ন্ত্রণ করে সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হন এবং ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯৯.
'বাহাদুর শাহ পার্ক' নিচের কোন ঘটনার স্মৃতি বহন করে?
  1. আলীগড় আন্দোলন
  2. সিপাহি বিদ্রোহ
  3. নীল বিদ্রোহ
  4. ভারত ছাড় আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
সিপাহি বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিপাহি বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
বাহাদুর শাহ পার্ক:
- বাহাদুর শাহ পার্ক বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে অবস্থিত।
- ১৮৫৮ সালে রানি ভিক্টোরিয়ার নামানুসারে এই স্থানের নামকরণ হয় ‘ভিক্টোরিয়া পার্ক’।
- পার্কটি আন্টাঘর ময়দান নামে পরিচিত ছিল।
- ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর এক প্রহসনমূলক বিচারে ইংরেজ শাসকেরা ফাঁসি দেয় অসংখ্য বিপ্লবী সিপাহিকে।
- তারপর জনগণকে ভয় দেখাতে সিপাহিদের লাশ এনে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এই ময়দানের বিভিন্ন গাছের ডালে।
- ১৯৫৭ সালে (মতান্তরে ১৯৬১) সিপাহি বিদ্রোহের শতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে পার্কের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাহাদুর শাহ পার্ক।
- সিপাহী বিদ্রোহ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইংরেজ শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ এর শাসন পুনরায় আনার জন্য।
- তাই তাঁর নামানুসারে এর নতুন নামকরণ করা হয় ‘বাহাদুর শাহ পার্ক’।

 উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫০০.
হিন্দু ও মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনের বিধান কোন আইনে করা হয়েছিল?
  1. মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন-১৯০৯
  2. মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার আইন, ১৯১৯
  3. বেঙ্গল প্যাক্ট, ১৯২২
  4. ভারত শাসন আইন, ১৯৩৫
সঠিক উত্তর:
মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন-১৯০৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন-১৯০৯
ব্যাখ্যা
মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন-১৯০৯:
- ভারতবর্ষের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসে ১৯০৯ সালের ভারত শাসন আইন যা মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন নামে পরিচিত।
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ক্রমাগত ভারতীয়দের প্রতিনিধিত্ব বিধানের দাবি উত্থাপন করতে থাকে। কংগ্রেসের নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলন জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার উম্মেষ ঘটায়।
- অন্যদিকে, ভারতের মুসলমান সম্প্রদায়ও রাজনৈতিকভাবে নিজেদের সংগঠিত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করে 'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ'। এমনই এক পটভূমিতে ব্রিটিশ সরকারের ভারত সচিব লর্ড মর্লি এবং ভাইসরয় লর্ড মিন্টোর উদ্যোগে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৯০৯ সালের মর্লি-মিন্টো আইন পাশ হয়।

⇒ মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. এ আইন দ্বারা কেন্দ্রীয় আইনসভার সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়। গভর্ণর জেনারেল ও তাঁর নির্বাহী পরিষদের ৭ জন সদস্য ছাড়াও সর্বাধিক ৬০ জন অতিরিক্ত সদস্য এতে অন্তর্ভুক্ত হন।
২. প্রাদেশিক আইনসভাসমূহেরও সম্প্রসারণ করা হয়। বড় প্রদেশের ক্ষেত্রে সর্বাধিক ৫০ জন এবং ছোট প্রদেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ জন সদস্য থাকার বিধান করা হয়।
৩. এ আইন দ্বারা কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক উভয় আইনসভার ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়। সদস্যরা বাজেট বা অর্থ বিল নিয়ে আলোচনা করার অধিকার লাভ করে।
৪. এ আইনে মুসলমান সম্প্রদায়ের দাবী অনুযায়ী তাদের জন্য 'পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা' প্রবর্তন করা হয়।
৫. কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইন সভাগুলোতে নির্বাচনের মাধ্যমে ভারতীয় বেসরকারি সদস্যগণ নির্বাচনের বিধান করা হয়। তবে অধিকাংশ সদস্যই নির্বাচিত হতেন পরোক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে।
৬. এই প্রথমবার প্রাদেশিক আইনসভাসমূহে সরকারি সদস্যদের স্থলে বেসরকারি সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা হয়।
৭. এ আইনের মাধ্যমে প্রথমবারের মত গভর্ণর জেনারেল ও গভর্ণরের নির্বাহী পরিষদে ভারতীয়দের অন্তর্ভুক্ত করার বিধান করা হয়।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।