বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ইউরোপীয়দের আগমন ও ব্রিটিশ শাসনামল

মোট প্রশ্ন১,৩১৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ইউরোপীয়দের আগমন ও ব্রিটিশ শাসনামল

PrepBank · পাতা ১০ / ১৪ · ৯০১১,০০০ / ১,৩১৫

৯০১.
পলাশীর যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?
  1. ১৮৫৬ সালে
  2. ১৮৫৭ সালে
  3. ১৭৫৬ সালে
  4. ১৭৫৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৫৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৫৭ সালে
ব্যাখ্যা

পলাশী যুদ্ধ:
- নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তাই পলাশীর যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- এ যুদ্ধ আট ঘণ্টার মতো স্থায়ী ছিল।
- প্রধান সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোম্পানি কর্তৃক পরাজিত হন।
- এ যুদ্ধের রাজনৈতিক ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী ও ধ্বংসাত্মক।
- এর ফলে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে।
- নবাবের পক্ষে সৈন্যসংখ্যা ছিল প্রায় ৬৫ হাজার।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পক্ষে ছিল মাত্র ৩ হাজার।
- জেতার সব ধরণের সুযোগ সুবিধার পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- ইংরেজরা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়।
- অপরদিকে ফরাসিরা এদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।
- এ ভাবেই এ যুদ্ধে বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯০২.
ভারতীয় উপমহাদেশে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন কে?
  1. ফিলিপ ফ্রান্সিস
  2. রবার্ট ক্লাইভ
  3. লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস
সঠিক উত্তর:
লর্ড কর্নওয়ালিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
- ১৭৯৩ সালের ২২মার্চ লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- ঐদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর চিরস্থায়ী মালিকানা প্রদান করে যে বন্দোবস্ত করা হয় তা-ই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে পরিচিত।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে কৃষক জমির উপর তাদের অধিকার হারায়।
- বিপরীতে জমির উপর জমিদারদের স্থায়ী মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত্ব আইনের ফলশ্রুতিতে জমিদারি প্রথা ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার উচ্ছেদ ঘটে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৯০৩.
When did the Sepoy Mutiny take place?
  1. in 1857
  2. in 1911
  3. in 1933
  4. in 1891
সঠিক উত্তর:
in 1857
উত্তর
সঠিক উত্তর:
in 1857
ব্যাখ্যা
১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল।

সিপাহী বিদ্রোহ:
- এটি ছিল ব্রিটিশ শাসন অবসানকল্পে ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা ‘স্বাধীনতা লড়াই'।
- ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে ‘মঙ্গল পান্ডে' নামক একজন সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।
- এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।

⇒ এ সংগ্রামের কারণকে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ এ দু শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।
পরোক্ষ কারণ:
- রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও সামরিক অসন্তোষ।
প্রত্যক্ষ কারণ:
- ১৮৫৬ সালে সেনাবাহিনীতে ‘এনফিল্ড রাইফেল' প্রচলন করা হয়।
- এতে ব্যবহৃত কার্তুজ দাঁতে কেটে ভরতে হতো।
- গুজব রটে যে, এ কার্তুজে শুকর ও গরুর চর্বি মেশানো আছে।
- এটি ধর্মনাশের একটি পরিকল্পিত ও সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র বলে ভারতের হিন্দু-মুসলমান সিপাহীদের মধ্যে দারুন বিক্ষোভের সূচনা করে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৪.
ঐতিহাসিক লক্ষ্মৌ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কত সালে?
  1. ১৯২০ সালে
  2. ১৯১৯ সালে
  3. ১৯১৬ সালে
  4. ১৯১৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ সালে
ব্যাখ্যা

- ঐতিহাসিক লক্ষ্মৌ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৯১৬সালে।

লক্ষ্মৌ চুক্তি: 
- ভারত উপমহাদেশের সাংবিধানিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে ১৯১৬ সালের লক্ষ্মৌ চুক্তি এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
- হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে রাজনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তি রচনা করে এ চুক্তি। 

• নিম্নে লক্ষ্মৌ চুক্তির গুরুত্ব আলোচনা করা হলো:
১. লক্ষ্মৌ চুক্তির স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে হিন্দু মুসলিম রাজনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তি রচিত হয়।
২. এ চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় কংগ্রেসে মুসলমানদের পৃথক নির্বাচনের দাবি মেনে নেয়।
৩. এ চুক্তির ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল।
8. এ চুক্তির ফলে ভারতবর্ষে স্বায়ত্তশাসনের দাবি জোরদার হয়ে ওঠে।
৫. এ চুক্তির ফলে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ সম্মিলিতভাবে ব্রিটিশ সরকারের কাছে স্বায়ত্বশাসনের দাবি জানায়।
৬. মুসলমানদের স্বার্থ বিরোধী বিল পাশ না হওয়ার সম্ভবনা সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

৯০৫.
ইলবার্ট বিল প্রণয়ন করেন কে?
  1. লর্ড লিটন
  2. লর্ড মিন্টো
  3. লর্ড রিপন
  4. লর্ড হার্ডিঞ্জ
সঠিক উত্তর:
লর্ড রিপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড রিপন
ব্যাখ্যা
ইলবার্ট বিল:
- ইলবার্ট বিল প্রণয়ন করেন লর্ড রিপন।

⇒ লর্ড রিপন ভারতে আসার আগে কোন ভারতীয় বিচারকরা কোন অভিযুক্ত ইংরেজের বিচার করতে পারত না।
- এই বৈষম্য দূর করতে লর্ড রিপনের পরামর্শে তার আইন সচিব ইলবাট একটি বিলের খসড়া রচনা করেন।
- এই খসড়া বিলে ভারতীয় বিচারকদের ইংরেজ অভিযুক্তের বিচার করার অধিকার দেওয়া হয়।
- এই খসড়া বিলই ইলবার্ট বিল (১৮৮৩) নামে পরিচিত।

⇒ ইলবার্ট বিল বিতর্ক ভারতের বিশেষত বাংলার শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির মনে গভীর প্রভাব ফেলে।
- তারা প্রথমবারের মতো নিজেদের অধিকার সংরক্ষণ ও প্রতিষ্ঠার জন্য শক্তিশালী ও সার্বজনীন রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।
- ইলবার্ট বল আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রথমে ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (১৮৮৩) এবং পরে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস (১৮৮৫) প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাপিডিয়া।
৯০৬.
ব্রিটিশ ভারতের কোন ভাইসরয় বঙ্গভঙ্গ রদের সুপারিশ করেন?
  1. ক) লর্ড হার্ডিঞ্জ
  2. খ) লর্ড কার্জন
  3. গ) লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  4. ঘ) লর্ড ডালহৌসি
সঠিক উত্তর:
ক) লর্ড হার্ডিঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লর্ড হার্ডিঞ্জ
ব্যাখ্যা
১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর লর্ড কার্জনের সময়ে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করা হয় যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
কিন্তু কংগ্রেস ও বর্ণ হিন্দুদের তীব্র বিরোধিতা এবং সহিংস আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
গর্ভনর জেনারেল বা বড়লাট (ভাইসরয়) লর্ড হার্ডিঞ্জের সুপারিশে ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বরে ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী]
৯০৭.
ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন কে?
  1. ক) দুদু মিয়া
  2. খ) মীর নিসার আলী
  3. গ) হাজী শরিয়াত উল্লাহ
  4. ঘ) মজনু শাহ
সঠিক উত্তর:
গ) হাজী শরিয়াত উল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হাজী শরিয়াত উল্লাহ
ব্যাখ্যা
ফরায়েজি আন্দোলন:

- হাজী শরিয়াত উল্লাহ ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- হাজী শরিয়াত উল্লাহ মাদারীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরিয়াত উল্লাহ বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহর এই সংস্কার আন্দোলনের নামই ফরায়েজি আন্দোলন
- ফরায়েজি শব্দটি আরবি ‘ফরজ’ (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে। যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি।
-  শরিয়ত উল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি।
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে শরিয়ত উল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। 
- ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
- ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর যোগ্যপুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৮.
খিলাফত আন্দোলনের নেতৃত্বে কে ছিলেন?
  1. মাওলানা আতাহার আলী
  2. মাওলানা আহমদ আলী
  3. মাওলানা শওকত আলী
  4. মাওলানা আব্দুল আলী
সঠিক উত্তর:
মাওলানা শওকত আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাওলানা শওকত আলী
ব্যাখ্যা
খিলাফত আন্দোলন:
 
- ১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তির অধীনে ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের খেলাফত তুরস্ক তথা অটোমান সাম্রাজ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলে এর বিরুদ্ধে ভারতীয়রা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা খিলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত।
- ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রভাবে উদ্ভূত একটি প্যান-ইসলামি আন্দোলন।
- কারণ ভারতের মুসলমানেরা তুরস্কের সুলতানকে মুসলিম বিশ্বের খলিফা বা ধর্মীয় নেতা বলে শ্রদ্ধা করতেন।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের সুলতান ব্রিটিশ বিরোধী শক্তি জার্মানির পক্ষ অবলম্বন করলে ভারতে মুসলমান সম্প্রদায় বিব্রত হন। কারণ ধর্মীয় কারণে তাঁরা খলিফার অনুগত, আবার অন্যদিকে রাজনৈতিক কারণে ব্রিটিশ সরকারের অনুগত থাকতে বাধ্য।
- কিন্তু এই যুদ্ধে জার্মানি হেরে গেলে জার্মানির পক্ষে যোগদানের কারণে শাস্তি স্বরূপ তুরস্ককে খণ্ড-বিখণ্ডিত করার পরিকল্পনা করা হয়। 
- এই আন্দোলনে নেতৃত্বদেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও দুই ভাই মাওলানা শওকত আলী এবং মাওলানা মোহাম্মদ আলী।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৯০৯.
কুখ্যাত 'রাওলাট আইন' পাশ হয় কার আমলে?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  3. লর্ড কার্জন
  4. লর্ড চেমসফোর্ড
সঠিক উত্তর:
লর্ড চেমসফোর্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড চেমসফোর্ড
ব্যাখ্যা
- চেমসফোর্ডের আমলে ১৯১৯ সালে কুখ্যাত রাওলাট আইন পাস হয়। 

লর্ড চেমসফোর্ড:

- লর্ড চেমসফোর্ড ছিলেন ভারতবর্ষের ১৯১৬ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত ভাইসরয় ও গভর্নর জেনারেল।
- তাঁর পুরো নাম ছিল ফ্রেডারিক জন থেসিয়ার (Frederic John Thesiger)।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ১২ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯০৫ সালে তিনি ব্যারন উপাধি পান এবং ১৯০৫ থেকে ১৯০৯ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড এবং ১৯০৯ থেকে ১৯১৩ সাল পর্যন্ত নিউ সাউথ ওয়েলসের গভর্নর হিসেবে কাজ করেছিলেন।

উল্লেখ্য, 
- লর্ড চেমসফোর্ড ১৯১৬ সালে ভারতের ভাইসরয় হিসেবে লর্ড হার্ডিঞ্জ-এর স্থলাভিষিক্ত হন। তাঁর আমলে ১৯১৮ সালে মন্টেগু-চেমসফোর্ড রিপোর্ট প্রকাশিত হয়, যা ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনে সঙ্ঘবদ্ধ করা হয়। এই আইনের অধীনে ভারতীয় জনগণের ওপর আরো কঠোর শাসন ব্যবস্থা চালু করা হয়। চেমসফোর্ডের আমলে ১৯১৯ সালে কুখ্যাত রাওলাট আইন পাস হয়, এর মাধ্যমে ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উপর দমন-পীড়ন বৃদ্ধি করে। লর্ড চেমসফোর্ড ১৯৩৩ সালের ১ এপ্রিল মারা যান।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৯১০.
কোন ইউরোপীয় ভারত আসার জলপথ আবিস্কার করেন?
  1. লর্ড ক্লাইভ
  2. ক্রিস্টোফার কলম্বাস
  3. ভাস্কো-ডা-গামা
  4. ফ্র্যান্সিস ড্রেক
সঠিক উত্তর:
ভাস্কো-ডা-গামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাস্কো-ডা-গামা
ব্যাখ্যা

• পর্তুগিজ:
- পর্তুগিজ নাবিক  ভাস্কো-ডা-গামা প্রথম সমুদ্রপথে এদেশে আসেন।
- তিনি ১৪৯৮ সালের ২৭শে মে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন।
- তিনি ইউরোপীয় ভারত আসার জলপথ আবিস্কার করেন।
- উপমহাদেশে তাঁর এ আগমন ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
- পর্তুগিজরা ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে এদেশে আসে কিন্তু ক্রমে তারা সাম্রাজ্য বিস্তারের দিকে মনোনিবেশ
করে।
- ১৫৩৮ সালে তারা চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে বাণিজ্যঘাঁটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে।
- ১৫৭৯ সালে হুগলী নামক স্থানে তারা উপনিবেশ গড়ে তোলে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা

৯১১.
ইংরেজরা কবে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি বা রাজস্ব সংগ্রহের অধিকার লাভ করে?
  1. ১৭৬৫ সালে
  2. ১৭৫৭ সালে
  3. ১৭৭২ সালে
  4. ১৮৫৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৬৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৬৫ সালে
ব্যাখ্যা

এলাহাবাদ চুক্তি ও বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ:
- এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৭৬৫ সালে। এই চুক্তির ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করেছিল।
- রবার্ট ক্লাইভ ও মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম-এর মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- সম্রাট শাহ আলমকে কোম্পানি প্রতি বছর ২৬ লক্ষ টাকা দান করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
- এই চুক্তির ফলে  রাজস্ব আদায় ও দেশ রক্ষার ভার ছিল কোম্পানির উপর, অন্যদিকে নিজামত তথা বিচার ও প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব বর্তায় নবাবের উপর।

⇒ কোম্পানির সরাসরি দিউয়ানির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য যে অর্থ ও লোকবল প্রয়োজন তা যেমন ছিলনা, তেমনি এদেশীয় ভাষা ও আইন কানুন সম্পর্কে কোম্পানির কর্মচারীদের জ্ঞানও ছিল না। তাই রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব সরাসরি গ্রহণ তাদের জন্য সম্ভব ছিল না। এ সকল দিক চিন্তা করেই তারা দ্বৈত শাসন নীতি প্রবর্তন করা হয়েছিল।

⇒ বক্সার যুদ্ধের পর কোম্পানির কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা চরমে উঠলে এবং বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশ খারাপ হলে, ইংরেজ সরকার ভীত হয়ে পড়লেন।
- ফলে ইংল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ কোম্পানির দুর্নীতি দমন ও স্বার্থ বৃদ্ধির জন্য পুনরায় ক্লাইভকে লর্ড উপাধি দান করে বাংলায় দ্বিতীয়বার প্রেরণ করেন (১৭৬৫-১৭৬৭ খ্রি.)।
- এদেশে এসেই তিনি মীর কাশিমের মিত্রশক্তি অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা ও দিল্লির সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের প্রতি নজর দেন।
- বক্সার যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ লক্ষ টাকা এবং কারা ও এলাহাবাদ জেলা দু'টি পেয়ে অযোধ্যার নবাবের সাথে মিত্রতা স্থাপন করেন।
- তারপর তিনি দিল্লির দুর্বল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে সন্ধি স্থাপন করেন।
- ক্লাইভ কারা ও এলাহাবাদ জেলা দু'টি ও বাৎসরিক ২৬ লক্ষ টাকা কর প্রদানের বিনিময়ে সম্রাটের নিকট হতে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করলেন (১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে ১২ আগস্ট ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দিউয়ানি সনদ লাভ করে)।
- এর ফলে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইংরেজ উপনিবেশের পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯১২.
নিচের কোন ঘটনাটি সবার শেষে সংঘটিত হয়েছিলো?
  1. লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন
  2. মন্ত্রী মিশনের আগমন
  3. গোলটেবিল বৈঠক
  4. জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড
সঠিক উত্তর:
মন্ত্রী মিশনের আগমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্ত্রী মিশনের আগমন
ব্যাখ্যা
ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা বিষয়ে আলোচনার জন্যে ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ সরকার তৎকালীন ভারত সচিব পেথিক লরেন্স কে প্রধান করে তিন সদস্যের ক্যাবিনেট বা মন্ত্রী মিশন ভারতে পাঠায়।

ক্যাবিনেট মিশনের সদস্যবৃন্দরা হলেন:
- পেথিক লরেন্স (মিশন প্রধান)
- স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস (সদস্য)
- এ. ভি. আলেকজান্ডার (সদস্য)।

এই মিশন ভারতকে তিনটি ভাগে ভাগ করে এবং তিন স্তর বিশিষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা পেশ করে। মুসলিমলীগ শেষ পর্যন্ত ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা মেনে নিলেও কংগ্রেসের অসহযোগিতায় তা সফল হয়নি।

অন্যদিকে,
- জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড : ১৩ এপ্রিল ১৯১৯
- গোলটেবিল বৈঠক : ১৯৩০-১৯৩২ সাল সাল
- লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন : ২৩শে মার্চ ১৯৪০ সাল।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী
৯১৩.
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের ধারা অনুযায়ী প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় কবে?
  1. ১৯৩৫ সালে
  2. ১৯৩৬ সালে
  3. ১৯৩৭ সালে
  4. ১৯৩৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৩৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৩৭ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন:
- ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের প্রদত্ত স্বায়ত্তশাসন শুধু তত্ত্বেই ছিল বাস্তবে ছিল না।
- ভারত সচিব, গভর্নর জেনারেল ও গভর্নরদের সীমাহীন ক্ষমতার কারণে এ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন 'আড়ম্বরপূর্ণ প্রহসনে' পরিণত হয়।
- ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের কেবলমাত্র প্রাদেশিক অংশটুকুকে কার্যকর করা হয় ১৯৩৭ সালে।
- এ আইন অনুসারে ১৯৩৭ সালে প্রাদেশিক আইন পরিষদ গঠনের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে সর্বভারতীয় দুটো রাজনৈতিক দল কংগ্রেস ও মুসলীম লীগ সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করে।
- নির্বাচনে যে এগারোটি প্রদেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় তাতে কংগ্রেস ছয়টি প্রদেশে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- মুসলীম লীগ চারটি প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করলে কোয়ালিশন সরকার গঠনের ইঙ্গিত প্রদান করে।
- কিন্তু একক ভাবে কংগ্রেস মন্ত্রিসভা গঠন করলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে।
- কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে কংগ্রের মন্ত্রীরা একে একে পদত্যাগ করে।
- অবসান ঘটে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের কার্যকারিতা।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৫, বিএ এবং বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৪.
কত সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা বাতিল করা হয়?
  1. ১৭৯৩ সালে
  2. ১৯৩৩ সালে
  3. ১৮৫০ সালে
  4. ১৯৫০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫০ সালে
ব্যাখ্যা
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত

- ১৭৯৩ সালের ২২মার্চ লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- ঐদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর চিরস্থায়ী মালিকানা প্রদান করে যে বন্দোবস্ত করা হয় তা-ই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে পরিচিত।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে কৃষক জমির উপর তাদের অধিকার হারায়। বিপরীতে জমির উপর জমিদারদের স্থায়ী মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত্ব আইনের ফলশ্রুতিতে জমিদারি প্রথা ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার উচ্ছেদ ঘটে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৯১৫.
বঙ্গভঙ্গের পর কাকে নতুন প্রদেশের গভর্ণর নিযুক্ত করা হয়?
  1. লর্ড কার্জন
  2. স্যার এন্ড্রু ফ্রেজার
  3. স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার
  4. উইলিয়াম হান্টার
সঠিক উত্তর:
স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার
ব্যাখ্যা
• বঙ্গভঙ্গ:
- বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত ছিল বাংলা প্রদেশ বা বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি। 
- কলকাতা ছিল এর রাজধানী।
- এটি ছিল ব্রিটিশ ভারতের বৃহত্তম প্রদেশ।
- ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গ সম্পন্ন হয়।
- সৃষ্টি হয় ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও আসামকে নিয়ে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে' এক নতুন প্রদেশ।
- এবং এর রাজধানী হয় ঢাকা।
- নতুন প্রদেশের আয়তন ছিল ১,০৬,৫০৪, বর্গমাইল। 
- লর্ড কার্জন ঢাকাকে প্রশাসনিক কেন্দ্র ঘোষণা করেন।
- এবং স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার গভর্নর নিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গভঙ্গের পরবর্তী সময়ে নতুন প্রদেশে হাইকোর্ট ভবন, আইন পরিষদ ভবন ইত্যাদি গড়ে উঠে।
- ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর সম্রাট পঞ্চম জর্জের রাজ্যাভিষেকে দিল্লির দরবারে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করে।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৬.
কার সময়ে সূর্যাস্ত আইন প্রবর্তিত হয়?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড মিন্টো
  3. উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
  4. লর্ড কর্নওয়ালিস
সঠিক উত্তর:
লর্ড কর্নওয়ালিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা
- লর্ড কর্নওয়ালিস এর চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে সূর্যাস্ত আইন প্রবর্তিত হয়।

সূর্যাস্ত আইন:

- কোম্পানির বোর্ড অব ডাইরেক্টরস্ এর অনুমোদন লাভের পর কর্নওয়ালিস ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে দশসালা বন্দোবস্তকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হিসেবে ঘোষণা করেন।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত অনুসারে রাজস্বের পরিমাণ চিরদিনের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যায় এবং জমির উপর জমিদারদের মালিকানা ক্ষমতা এবং আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- জমি হস্তান্তর বা দান করার ক্ষমতাও তাঁরা পান। জমিদারগণ নিজ খুশী মত শর্ত সাপেক্ষে জমি পত্তন বা ইজারা দেয়ার ক্ষমতাও লাভ করেন।
- কেবল শুল্ক আদায়ের ক্ষমতা, বিচার ও পুলিশী ক্ষমতা তাঁদের হাতে দেয়া হয় নি।
- তাছাড়া জমির রাজস্ব কিস্তি নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের পূর্বে দিতে সক্ষম না হলে জমি নিলামে বিক্রি করার ক্ষমতা সরকারের হাতেই রয়ে গেল।
- তাই এই নিয়ম সূর্যাস্ত আইন নামে পরিচিত হয়।
- সূর্যাস্ত আইনের বলে বহু জমিদারী নিলামে উঠে এবং বহু নতুন জমিদার শ্রেণির সৃষ্টি হয় যা এদেশে বিদেশি শাসকদের হাতকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৭.
The historic Lahore Resolution was influenced by -
  1. Non-violence
  2. Two nations theory
  3. Pakistani Nationalism
  4. Communal harmony
  5. None of them
সঠিক উত্তর:
Two nations theory
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Two nations theory
ব্যাখ্যা
লাহোর প্রস্তাব :
- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক একটি প্রস্তাব পেশ করেন।
- জিন্নাহর সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি সভায় গৃহীত হয়।
- এই প্রস্তাবই ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব নামে পরিচিত।
- লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল দ্বিজাতি তত্ত্ব।
- এ প্রস্তাবের কোথাও পাকিস্তান শব্দটি ছিল না।
- তথাপি এ প্রস্তাব ‘পাকিস্তান প্রস্তাব' হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
- এ প্রস্তাব ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে পৃথক আবাসভূমির স্বপ্ন বপন করে।
- কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ লাহোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।
- এ প্রস্তাবে ভারতে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও ১৯৪৬ সালের দিল্লি অধিবেশনে কেবল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গৃহিত হয়।
 
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯১৮.
কোন ব্রিটিশ গভর্নরের শাসনামলে ভারতীয় উপমহাদেশ স্বাধীন হয়?
  1. লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন
  2. লর্ড বেন্টিংক
  3. ওয়ারেন হেস্টিংস
  4. লর্ড কর্ণওয়ালিস
সঠিক উত্তর:
লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন
ব্যাখ্যা

• লর্ড মাউন্টব্যাটেন: 
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় ও গভর্নর জেনারেল ছিলেন। 
- তিনি ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় ছিলেন।
- ১৯৪৭ সালের মার্চ মাসে তিনি ভারতের ভাইসরয় নিযুক্ত হন।
- লর্ড মাউন্টব্যাটেনের সময়ে ভারত উপমহাদেশ স্বাধীন হয়।
- ভাইসরয় হিসেবে তাঁর কার্যকাল সংক্ষিপ্ত হলেও এই সময়ে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
- সেসব সিদ্ধান্তের মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য হচ্ছে উপমহাদেশের বিভক্তি এবং ভারত ও পাকিস্তানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর।
- লর্ড স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।
- মাউন্টব্যাটেন কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার পরও ভারত বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহী ছিলেন। 

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।

৯১৯.
‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের’ সময় বাংলার ইংরেজ গভর্নর ছিলেন কে?
  1. কার্টিয়ার
  2. ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. মাউন্টব্যাটেন
  4. কর্নওয়ালিস
সঠিক উত্তর:
কার্টিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্টিয়ার
ব্যাখ্যা

• ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
• ১১৭৬ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে।
• খাদ্যের অভাবে মােট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ (১ কোটি) মৃত্যুমুখে পতিত হয়।
• তখন দিল্লীর সম্রাট ছিলেন শাহ আলম।
• জন কার্টিয়ার ১৭৬৯ থেকে ১৭৭২ সাল পর্যন্ত বাংলার ফোর্ট উইলিয়ম কাউন্সিলের গভর্নর ছিলেন।
• বাংলার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ১৭৬৯-৭০ সালের মহাদুর্ভিক্ষের দ্বারা জন কার্টিয়ারের শাসনকাল সমালোচনার মুখে পড়ে।
• নায়েব দীউয়ান ও নায়েব নাজিম সৈয়দ মুহম্মদ রেজা খান আসন্ন দুর্ভিক্ষ সম্পর্কে বারবার জন কার্টিয়ারকে অবহিত করা সত্ত্বেও তিনি তার সতর্কবাণীকে তেমন গুরুত্ব দেন নি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

৯২০.
বেঙ্গল প্যাক্টের প্রধান উদ্যোক্তা কে ছিলেন?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. সুভাষচন্দ্র বসু
  3. চিত্তরঞ্জন দাশ
  4. জওহরলাল নেহেরু
সঠিক উত্তর:
চিত্তরঞ্জন দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিত্তরঞ্জন দাশ
ব্যাখ্যা
বেঙ্গল প্যাক্টের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন চিত্তরঞ্জন দাশ (সি.আর দাশ)।

বেঙ্গল প্যাক্ট, ১৯২৩:

- ব্রিটিশ বিরোধী অহিংস খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন সহিংস রূপ ধারণ করলে, মহাত্মা গান্ধী ১৯২২ সালে এ আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।
- আন্দোলন তুঙ্গে থাকা অবস্থায় তা বন্ধ ঘোষণা করার পর পক্ষে-বিপক্ষে মতামত ব্যক্ত হতে থাকে।
- অপরদিকে, ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী প্রাদেশিক আইনসভার দ্বিতীয় নির্বাচন ১৯২৩ সালের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হবার কথা।
- গান্ধীর নেতৃত্বাধীন একটি অংশ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার বিপক্ষে ছিলেন না অপরদিকে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের (সি আর দাশ) এর নেতৃত্বাধীন আরেকটি অংশ নির্বাচনের পক্ষে ছিলেন।
- সি আর দাশের প্রস্তাব কংগ্রেস সম্মেলনে গৃহীত হয়নি এমতাবস্থায়, তিনি তাঁর সমর্থকদের নিয়ে ১৯২২ সালের ৩১শে ডিসেম্বর গঠন করেন স্বরাজ পার্টি।
- সি.আর দাশ ছিলেন সাম্প্রদায়িক ঐক্যের পক্ষের মানুষ। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তিনি ব্রিটিশদের সহযোগিতা করতে চাননি বরং নিয়মতান্ত্রিকভাবে ব্রিটিশদের বিরোধিতা করতে চেয়েছিলেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে তিনি নিজ প্রদেশ বাংলায় মুসলমান নেতৃবৃন্দের সাথে রাজনৈতিক সমঝোতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্যে ১৯২৩ সনে এক চুক্তি সাক্ষর করেন যা বেঙ্গল প্যাক্ট নামে পরিচিত।

⇒ বেঙ্গল প্যাক্টের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
১. বাংলায় প্রাদেশিক কাউন্সিল নির্বাচনে হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায় জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রতিনিধিত্ব করবে।
২. স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট এলাকার সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় পাবে শতকরা ৬০ ভাগ আসন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় পাবে শতকরা ৪০ ভাগ আসন।
৩. মুসলমান সম্প্রদায়ের পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থার স্বীকৃতি।
৪. সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে মুসলমান সম্প্রদায়ের জন্য শতকরা ৪৫ ভাগ বরাদ্দ করা হয়। যতদিন পর্যন্ত হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের চাকরি লাভের একই অনুপাত অর্জিত না হবে, ততদিন পর্যন্ত মুসলমান সম্প্রদায়ের জন্য ৮০ ভাগ চাকরি লাভের বিধান রাখা হয়।
৫. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায় এমন কোন কাজ করবে না যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে।

উল্লেখ্য,
- হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক সমঝোতার ক্ষেত্রে 'বেঙ্গল প্যাক্ট' নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ ছিল। অনগ্রসর মুসলিম জনগণের উন্নয়নে বেঙ্গল প্যাক্ট নিঃসন্দেহে কার্যকর ছিল। কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশের বিরোধীতা ও সি আর দাশের হঠাৎ মৃত্যুতে বেঙ্গল প্যাক্ট মুখ থুবড়ে পড়ে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২১.
পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ গঠনকালে ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় ছিলেন-
  1. লর্ড রিপন
  2. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  3. লর্ড কার্জন
  4. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
সঠিক উত্তর:
লর্ড কার্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড কার্জন
ব্যাখ্যা

• বঙ্গভঙ্গ:
- হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল বাঙালি লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গ পরিকল্পনার বিরোধিতা করে। 
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ করে দুটি প্রদেশ করা হয়।
- পূর্ব বঙ্গের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগের সাথে জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা, মালদাহ ও আসামকে যুক্ত করে পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশ নামে একটি নতুন প্রদেশ সৃষ্টি করা হয়।
- পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ গঠনকালে ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় ছিলেন লর্ড কার্জন।
- নতুন প্রদেশের রাজধানী করা হয় ঢাকা।
- অন্য দিকে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে আরেকটি প্রদেশ হয় ।
- এর নামকরণ করা হয় বাংলা প্রদেশ।
- বাংলা প্রদেশের রাজধানী করা হয় কলকাতা ।

উৎস: ইতিহাস, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৯২২.
অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি কে গ্রহণ করেন?
  1. ওয়ারেন হেস্টিংস
  2. লর্ড ওয়েলেসলি
  3. লর্ড ক্যানিং
  4. রবার্ট ক্লাইভ
সঠিক উত্তর:
লর্ড ওয়েলেসলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ওয়েলেসলি
ব্যাখ্যা

অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি:
- জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে পরিবর্তন করেন এবং অধীনতামূলক মিত্রতার নীতি গ্রহণ করেন।
- এই নীতি অনুযায়ী ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণবর্হিভূত দেশীয় রাজ্যগুলোকে ব্রিটিশদের অধীনে ও নিরাপত্তায় থেকে রাজ্য শাসনে অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতা প্রদান করা হতো।
- এই নীতির মাধ্যমে হায়দ্রাবাদ ও মারাঠারাজ্য কোম্পানির অধীনে আসে।
- টিপু সুলতান এই নীতিগ্রহণে অস্বীকার করলে চতুর্থ মহীশূর যুদ্ধে তিনি ব্রিটিশদের নিকট পরাজিত ও নিহত হন।

উল্লেখ্য,
- ওয়ারেন হেস্টিংস অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির সূচনা করেন। আর এই নীতি নিপুণতার সাথে ব্যাপকভাবে কার্যকর করেন লর্ড ওয়েলেসলি।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯২৩.
Who discovered the water route from Europe to India?
  1. Vasco-the-Gamma
  2. Bartholomew Diaz
  3. Alvarez Cabral
  4. Albukark
  5. None of the above
সঠিক উত্তর:
Vasco-the-Gamma
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Vasco-the-Gamma
ব্যাখ্যা
ইউরোপীয় আগমন:
- ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ অতিক্রম করে ভাস্কো-দ্য-গামা কালিকট বন্দরে উপস্থিত হন।
- ভাস্কো-দ্য-গামা  প্রথম ইউরোপ থেকে ভারতের জলপথ আবিস্কার করেন।
- পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দ্য-গামার উপমহাদেশে আসার পরপরই পর্তুগিজরা এ দেশে আসতে শুরু করে। 
- এরপর ১৪৮৭ খ্রিস্টাব্দে বার্থলমিউ দিয়াজ, আলভারেঞ্জ ক্যাব্রাল ও ১৫০৯ খ্রিস্টাব্দে আলবুকার্ক গোয়াতে আগমন করেন। 
- পরবর্তীকালে এই জলপথ দিয়েই পর্তুগিজ, ডাচ, ইংরেজ, ফরাসি, সুইডিশ, অস্ট্রিয়ান ও অন্যান্য ইউরোপীয় বণিকগণ ক্রমান্বয়ে উপমহাদেশে এসে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেছিল।
- আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
- কলম্বাস এবং ম্যাজিলানও বিখ্যাত পর্তুগিজ নাবিক ছিলেন।
- পর্তুগিজরা বাংলাদেশের চট্টগ্রামেও বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে এবং কুঠিগুলোকে দুর্গে পরিণত করে। 

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২৪.
বাংলায় ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে কারা প্রথম এসেছিল?
  1. ইংরেজরা
  2. ফরাসীরা
  3. ওলন্দাজরা
  4. পর্তুগিজরা
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজরা
ব্যাখ্যা
• বাংলায় ইউরোপীয় বণিকেদের মধ্যে, 
- পর্তুগিজরাই প্রথম বাংলায় আগমন করে।
- পনেরো শতকের শুরু থেকেই তারা বাণিজ্যের জন্য দুঃসাহসিক সমুদ্রযাত্রা শুরু করে।
- ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে ভাস্কো ডা গামার কালিকটে পৌঁছার কয়েক দশক পরে বাংলায় পর্তুগিজদের আগমন ঘটে।
- প্রথম আগত ইউরোপীয়ান বাণিজ্যিক দল হলেও তাদের অপকর্ম ও দস্যুতার কারণে বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান পর্তুগিজদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপের ঘাঁটি দখল করে, তাদের বাংলা থেকে বিতাড়িত করেন।
- তাছাড়া পর্তুগিজরা এদেশে আগত ইউরোপীয় অন্যন্য শক্তির সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরাজিত হয়ে এদেশ ত্যাগে বাধ্য হয়।

পর্তুগিজদের নিয়ে আরো কিছু তথ্য: 
• পর্তুগালের অধিবাসীরা পর্তুগিজ বা ফিরিঙ্গি নামে পরিচিত। 
• ইউরোপীয়দের মধ্যে পর্তুগিজরাই প্রথম বাংলায় আগমন করে।
• আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। 
• উপমহাদেশে আগমন- ১৪৯৮ 
• বাংলায় আগমন- ১৫১৬ ( হুগলি )
• বাংলায় প্রথম কুঠি-১৫১৭ ( হুগলি )
• বাংলা ত্যাগ-১৬৬৬ চট্রগ্রাম থেকে 
• ভারত ত্যাগ-১৯৬১ গয়া থেকে।
------------------------- 
বাংলায় ইউরোপীয়দের আগমন:
- হল্যান্ডের অধিবাসীদের ওলন্দাজ বা ডাচ বলা হয়।
- তারা ‘ডাচ ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে বাণিজ্যের উদ্দেশে ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে উপমহাদেশে আসে।
- ১৭৫৯ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজরা বিদরার যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। ফলে ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে শেষ পর্যন্ত সকল বাণিজ্যকেন্দ্র গুটিয়ে তারা এদেশ ত্যাগে বাধ্য হয়।
- ওলন্দাজদের মতোই দিনেমার বা ডেনমার্কের অধিবাসী একদল বণিক বাণিজ্য করার জন্য ‘ডেনিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠন করে।
- এদেশে লাভজনক ব্যবসা করতে ব্যর্থ হয়ে ১৮৪৫ খ্রিস্টাব্দে বাণিজ্যিক সফলতা ছাড়াই দিনেমাররা এদেশ ত্যাগ করে।
- ইউরোপীয়দের মধ্যে সবার শেষে আসেন ফরাসিরা।
• ইংরেজরা বাংলায় আগমন-১৬০০ সালে।
• ফরাসিরা বাংলায় আগমন-১৬৭৪ সালে। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৯২৫.
'তাহরিক ই মুহম্মদীয়া' আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কে?
  1. মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন
  2. করিম শাহ
  3. মীর নিসার আলী
  4. চেরাগ আলী শাহ
সঠিক উত্তর:
মীর নিসার আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর নিসার আলী
ব্যাখ্যা
তিতুমীর:
- তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলন তাহরিক ই মুহম্মদীয়া।
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- উত্তর ভারত ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে যখন ওয়াহাবি আন্দোলনের (তাহরিক ই মুহম্মদীয়া) জোয়ার চলছে, তখন পশ্চিম বঙ্গের বারাসাত অঞ্চলে তিতুমীরের নেতৃত্বে এই আন্দোলন প্রবল আকার ধারণ করে।
- ওয়াহাবি আন্দোলন ছিল উত্তর ভারতের সৈয়দ আহমদ শহীদের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত।
- তিতুমীর হজ করার জন্য মক্কা শরিফ যান এবং ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে দেশে ফিরে আসেন।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিতুমীর তাঁর প্রধান ঘাটি স্থাপন করেন। নির্মাণ করেন ইতিহাস খ্যাত তাঁর বাঁশের কেল্লা।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে তিতুমীরের বিরুদ্ধে ইংরেজ সরকার এক বিশাল সুশিক্ষিত সেনা বাহিনী প্রেরণ করে। মেজর স্কটের নেতৃত্বে এই বাহিনী তিতুমীরের নারিকেলবাড়িয়ার বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে।এই যুদ্ধে তিনি নিহত হন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২৬.
কার নেতৃত্বে আইন অমান্য আন্দোলন সংঘটিত হয়?
  1. অরবিন্দ ঘোষ
  2. সুভাষচন্দ্র বসু
  3. মহাত্মা গান্ধী
  4. মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
সঠিক উত্তর:
মহাত্মা গান্ধী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাত্মা গান্ধী
ব্যাখ্যা
মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ১৯৩০ সালে ভারতবর্ষ জুড়ে আইন অমান্য আন্দোলন সংঘটিত হয়।
চেমসফোর্ড-মন্টেগু আইনের ব্যর্থতার পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ সরকার ভারতের জন্যে নতুন সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে সায়মন কমিশন গঠন করে। এতে কোন ভারতীয় প্রতিনিধি না থাকায় কংগ্রেস এই কমিশন বয়কট করে।
এর অংশ হিসেবেই আইন অমান্য আন্দোলন সংঘটিত হয়। এই আন্দোলন ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত চলে। তবে লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৯২৭.
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট কোন আইন পাস হয়?
  1. ভারত ভাগ আইন
  2. যুদ্ধবিরতি আইন
  3. ভারত শাসন আইন
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ভারত শাসন আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারত শাসন আইন
ব্যাখ্যা
বঙ্গীয় আইন সভা:
- সিপাহী বিদ্রোহ সংঘটিত হওয়ার পর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট ভারত শাসন আইন নামক একটি আইন পাস করা হয়।
- এই আইনে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটানো হয়।
- ভারতের রাষ্ট্র ক্ষমতা ব্রিটিশ রাজ্যের উপর ন্যস্ত করা হয়।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

⇒ ভারতবর্ষে ১৭৭২ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট-এর আওতায় চার সদস্য বিশিষ্ট গভর্নর জেনারেল অ্যান্ড কাউন্সিলকে ক্ষুদ্র পরিসরের আইনসভা বলা যেতে পারে।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৮৬১ সালে ভারত সরকারকে বাংলায় প্রতিনিধিত্বমূলক আইনসভা স্থাপন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
- এর ফলে ১৮৬১ সালের ১আগস্ট ভারতীয় কাউন্সিল আইন ঘোষিত হয়।
- বঙ্গীয় আইনসভা প্রতিষ্ঠার ঘোষণাও দেওয়া হয়।

⇒ ১৮৬২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বঙ্গীয় আইনসভার কার্যক্রম শুরু হয়।
- এই আইনসভায় লেফটেনেন্ট গভর্নর পদাধিকার বলে সভাপতি, ১২ জন মনোনীত সদস্য, যার মধ্যে চারজন মাত্র বাঙালি ছিলেন, বাকি ৮ জনের ৪ জন সরকারি সদস্য, ৪ জন বেসরকারি সদস্য ছিলেন।
- ১৮৯২ সালে ১৩ জনের স্থলে এই সভার সদস্য ২১ জন করা হলো।
- তবে এই প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করার বিধান ছিল না।
- কিন্তু তারপরও বাংলার প্রতিনিধিত্বমূলক আইনসভাই বাংলাকে গণতান্ত্রিক আইনসভার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২৮.
উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. রবার্ট ক্লাইভ
  3. ওয়ারেন হেস্টিংস
  4. লর্ড ক্যানিং
সঠিক উত্তর:
রবার্ট ক্লাইভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবার্ট ক্লাইভ
ব্যাখ্যা

রবার্ট ক্লাইভ:
- রবার্ট ক্লাইভ উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা।
- কর্মজীবন শুরু: তরুণ বয়সে মাদ্রাজে (বর্তমান চেন্নাই) ঈস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে চাকরি গ্রহণ।
- অবদান: স্বীয় প্রচেষ্টায় উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠা।
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ: এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষর (সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সঙ্গে)।
- চুক্তির ফলাফল: বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ; দ্বৈত শাসন প্রবর্তন।
- চারিত্রিক দোষ থাকা সত্ত্বেও: ইংরেজ শক্তির গোড়াপত্তনে অবদান অপরিসীম।
- পদবী/সম্মান: উপমহাদেশে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্থপতি ও প্রতিষ্ঠাতা।
- কৌশল: প্রথমে দাক্ষিণাত্যে কোম্পানি রক্ষা, দ্বিতীয় পর্যায়ে বাংলা জয়, তৃতীয় পর্যায়ে নবাব ও সম্রাট নিয়ন্ত্রণ।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯২৯.
পূর্ববঙ্গের মুসলমানরা কার নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়?
  1. ক) আগা খান
  2. খ) নবাব সলিমুল্লাহ
  3. গ) মহসীন-উল-হক
  4. ঘ) নবাব আব্দুল লতিফ
সঠিক উত্তর:
খ) নবাব সলিমুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নবাব সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা
লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবরে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে নতুন একটা প্রদেশ সৃষ্টি করেন। এ প্রদেশের রাজধানী ছিল ঢাকা। বাংলার মুসলমানরা নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়। পূর্ববঙ্গের মুসলমানরা এতে খুশী হলেও বাংলার বর্ণ হিন্দুরা এর বিরুদ্ধে প্রবল আন্দোলন গড়ে তোলে। ব্রিটিশ সরকার আন্দোলনকারীদের দমন করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ রহিত করে। রাজা পঞ্চম জর্জ ভারত সফরে এসে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন। সূত্র- বোর্ড বইঃনবম-দশম শ্রেণি।
৯৩০.
‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ বা মহাদুর্ভিক্ষ হয় ইংরেজি -
  1. ক) ১১৭৬ সালে
  2. খ) ১১৭০ সালে
  3. গ) ১৭৭০ সালে
  4. ঘ) ১৭৭৬ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৭৭০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৭৭০ সালে
ব্যাখ্যা
রবার্ট ক্লাইভের দ্বৈতশাসন নীতি এবং ইংরেজ কর্মচারীদের অত্যাচার, উৎপীড়ন এবং শোষনের ফলে বাংলার জনসাধারণের অবস্থা ক্রমশ শোচনীয় হয়ে যায় এবং ১১৭০ সালে অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে ফসল নষ্ট হয়ে গেলে বাংলায় প্রচন্ড খাদ্যাভাব দেখা দেয়।
এই দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় ১ কোটি লোক মারা যায় । বাংলা ১১৭৬ বঙ্গাব্দে (ইংরেজী - ১৭৭০ সাল ) সংঘটিত এই দুর্ভিক্ষ "ছিয়াত্তরের মন্বন্তর" নামে পরিচিত।
এই সময় বাংলার গভর্ণর ছিল লর্ড কার্টিয়ার।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা - নবম দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া।
৯৩১.
'মাৎস্যন্যায়' বিরাজমান ছিলো কোন শতকে?
  1. ক) ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে
  2. খ) ৬ষ্ঠ-৭ম শতকে
  3. গ) ৭ম-৮ম শতকে
  4. ঘ) ৮ম-৯ম শতকে
সঠিক উত্তর:
গ) ৭ম-৮ম শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৭ম-৮ম শতকে
ব্যাখ্যা
৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে শশাঙ্কের মৃত্যুর পর যোগ্য শাসকের অভাবে বাংলা অরাজকতা দেখা দেয়। সর্বত্র অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, লুটতরাজ প্রভৃতিতে ছেয়ে যায়। ঐতিহাসিকরা এ অবস্থাকে ‘মাৎস্যন্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেন।
পুকুরে যেমন বড় মাছ ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে, এ সময়ে বাংলার অবস্থাও তেমনটিই ছিলো। যার কারণে এ সময়কে ‘মাৎস্যন্যায়’ বলা হয়।
৭ম শতকের মাঝামাঝি থেকে ৮ম শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ১০০ বছর এ অবস্থা বিরাজমান ছিলো।
৭৫০ সালে গোপাল কর্তৃক পাল শাসনের সূত্রপাতের মাধ্যমে মাৎস্যন্যায় অবস্থার অবসান হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৯৩২.
বঙ্গভঙ্গ রদ কালে ভারতের ভাইসরয় কে ছিলেন?
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন
  3. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  4. লর্ড ওয়াভেল
সঠিক উত্তর:
লর্ড হার্ডিঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড হার্ডিঞ্জ
ব্যাখ্যা

• বঙ্গভঙ্গ:
 - ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর-  লর্ড কার্জনের সময়ে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করা হয় যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন।
- এ বিভক্তির মাধ্যমে সমগ্র বাংলাকে 'পূর্ববাংলা ও আসাম' এবং 'পশ্চিমবঙ্গ' নামে দুটি প্রদেশে পরিণত করা হয়।
- কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুদের তীব্র বিরোধিতা এবং সহিংস আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
- লর্ড হার্ডিঞ্জের সময় ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের সময় ভাইসরয় ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৩৩.
মুসলিম রেঁনেসার অগ্রদূত বলা হয় -
  1. ক) নওয়াব খাজা সলিমুল্লাহ
  2. খ) সৈয়দ আমীর আলী
  3. গ) নওয়াব আব্দুল লতিফ
  4. ঘ) সৈয়দ আহমদ খান
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ আমীর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ আমীর আলী
ব্যাখ্যা
• মুসলিম রেঁনেসার অগ্রদূত:
- সৈয়দ আমীর আলী ছিলেন মুসলিম রেনেসাঁর অগ্রদূত।
- ইসলামী ও পাশ্চাত্য জ্ঞানের অধিকারী আমীর আলী ছিলেন একজন সুলেখক।
- তিনি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ক বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেন।

• এসব গ্রন্থের মধ্যে দুটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে-
(১) দি স্পিরিট অব ইসলাম এবং
(২) এ সর্ট হিস্টরি অব দি স্যারাসিন।
- এ গ্রন্থ দুটি পণ্ডিত হিসেবে আমীর আলীকে অমরত্ব দান করেছে।
- আমীর আলী তাঁর লেখায় ইসলাম ধর্মের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা দান করেছেন।
- মুসলমানদের গৌরবময় অতীতের প্রতি বারংবার অঙ্গুলি নির্দেশ করে মুসলিম সমাজকে আত্মসচেতন করার চেষ্টা করেছেন।
- তাঁর এ চেষ্টায় হতাশাগ্রস্ত মুসলিম সমাজে প্রাণের সঞ্চার ঘটে।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩৪.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বাংলার কোন বিপ্লবী জার্মান থেকে অস্ত্র সাহায্যের আশ্বাস পান?
  1. ক) অরবিন্দ ঘোষ
  2. খ) প্রফুল্য চাকি
  3. গ) বাঘা যতীন
  4. ঘ) বারীন্দ্র ঘোষ
সঠিক উত্তর:
গ) বাঘা যতীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাঘা যতীন
ব্যাখ্যা
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বাংলায় বিপ্লবীদের মধ্যে একদল বিদেশ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে সম্মুখ যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে থেকে ক্ষমতা দখলের নীতি গ্রহণ করে।
- এঁদের মধ্যে ছিলেন যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ওরফে বাঘা যতীন, ডা. যদুগোপাল মুখোপাধ্যায়, নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য প্রমুখ।
-  নরেন্দ্র নাথ পরে এম.এন.রায় নামে বিখ্যাত হন। 
- তাঁরা ইংরেজ বিরোধী শক্তি জার্মানি থেকে অস্ত্র সাহায্যের আশ্বাস পান। 
- কিন্তু ইংরেজ সরকার বিপ্লবীদের এ চক্রান্তের কথা আগেই জেনে যাওয়ায় জার্মানির জাহাজ আসার পথ রুদ্ধ হয়। 
- এ দিকে বাঘা যতীন ও তাঁর কয়েকজন সঙ্গী উড়িষ্যার বালেশ্বরে জার্মান জাহাজের উপস্থিতির আশায় হাজির হয়েছিলেন। 
- তাঁদের আগমনের সংবাদ পেয়ে কলিকাতা থেকে পুলিশ কমিশনার চার্লস টেগার্ট একদল সশস্ত্র পুলিশ নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন।
- বাঘা যতীন ও তাঁর সহকর্মীদের সাথে পুলিশ বাহিনীর গুলি বিনিময়কালে চিত্ত প্রিয় নামের একজন বিপ্লবী নিহত হন। 
- অন্য তিন আহত সহকর্মীসহ বাঘা যতীন ধরা পড়েন এবং বন্দী অবস্থায় তাঁর মৃত্যু ঘটে । 
- তাঁর দুই সহকর্মীর ফাঁসি হয় এবং একজন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।
 
উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯৩৫.
ইলবার্ট বিলের বিষয়বস্তু কী?
  1. ব্রিটিশদের দ্বারা পরিচালিত বাণিজ্যের উপর নিয়ন্ত্রণ।
  2. ইউরোপীয় অপরাধীদের ভারতীয় বিচারকদের দ্বারা বিচার করার বিধান।
  3. ভারতীয় কৃষকদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ।
  4. ভারতীয় সংবাদপত্রের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ।
সঠিক উত্তর:
ইউরোপীয় অপরাধীদের ভারতীয় বিচারকদের দ্বারা বিচার করার বিধান।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরোপীয় অপরাধীদের ভারতীয় বিচারকদের দ্বারা বিচার করার বিধান।
ব্যাখ্যা

- ইলবার্ট বিলের বিষয়বস্তু হচ্ছে - ইউরোপীয় অপরাধীদের ভারতীয় বিচারকদের দ্বারা বিচার করার বিধান। 

ইলবার্ট বিল:

- ইলবার্ট বিল ১৮৮৩ সালে সেন্ট্রাল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের আইন-সদস্য স্যার সি.পি ইলবার্ট কর্তৃক প্রস্তাবিত একটি আইন ছিল।
- এর উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় বিচারকদের কাছে ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করার ক্ষমতা দেওয়া।
- বিলটি ভারতীয় এবং ইউরোপীয় বিচারকদের মধ্যে সমমর্যাদা স্থাপন করতে চেয়েছিল।
- তবে, ইউরোপীয়রা এই প্রস্তাবকে তীব্রভাবে বিরোধিতা করে, কারণ তারা মনে করত যে এতে তাদের শাসক অবস্থানে আঘাত আসবে।
- ইলবার্ট বিল বিতর্ক ভারতের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের দিকে উদ্বুদ্ধ করে, এটা পরবর্তীতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক সংগঠন গঠনের দিকে নিয়ে যায়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৯৩৬.
নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে শক্তিশালী এক বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন কে?
  1. দুদু মিয়া
  2. তিতুমির
  3. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  4. সৈয়দ আহমদ শহীদ
সঠিক উত্তর:
তিতুমির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিতুমির
ব্যাখ্যা
তিতুমিরের সংগ্রাম: 
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমির চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- উনিশ শতকে ভারতবর্ষে মুসলমান সমাজে এক ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল।
- বাংলায় তার দুইটি ধারা প্রবহমান ছিল।
- যার একটি ওয়াহাবি বা মুহাম্মদিয়া আন্দোলন, অপরটি ফরায়েজি আন্দোলন নামে খ্যাত।
- বাংলার ওয়াহাবিরা তিতুমিরের নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিল।
- তিতুমিরের নেতৃত্বে পরিচালিত তারিখ-ই-মুহাম্মদিয়া বা ওয়াহাবি আন্দোলন ছিল উত্তর ভারতের সৈয়দ আহমদ শহীদের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত।
- ১৮৩১ সালে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিতুমির নির্মাণ করেন শক্তিশালী এক বাঁশের কেল্লা।
- গোলাম মাসুমের নেতৃত্বে গড়ে তোলেন সুদক্ষ শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনী।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৯৩৭.
ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
  1. ক) লর্ড ওয়াভেল
  2. খ) লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক
  3. গ) লর্ড কার্জন
  4. ঘ) লর্ড ক্যানিং
সঠিক উত্তর:
ঘ) লর্ড ক্যানিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা
- ১৮৩৩ সালের চার্টার অ্যাক্টের (সনদ আইন) মাধ্যমে বাংলার গভর্নর জেনারেলকে ভারতের গভর্নর জেনারেল হিসেবে উন্নীত করা হয়।
এর ফলে বাংলার তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।

- ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল হলেন লর্ড ক্যানিং
- সিপাহী বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার ভারতের শাসনভার সরাসরি নিজের হাতে ‍তুলে নেয়। এতে গভর্নর জেনারেলের পরিবর্তে ভাইসরয় নিয়োগ প্রদান শুরু হয়।
- সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল লর্ড ক্যানিংকে প্রথম ভাইসরয় হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে,
- ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বশেষ ভাইসরয় বা রাজপ্রতিনিধি ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন। তাঁর সময় ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বই।
৯৩৮.
‘ইয়ং বেঙ্গল’ গোষ্ঠীর মুখপত্ররূপে কোন পত্রিকা প্রকাশিত হয়?
  1. ক) বঙ্গদূত
  2. খ) জ্ঞানান্বেশণ
  3. গ) জ্ঞানাংকুর
  4. ঘ) সংবাদপ্রভাকর
সঠিক উত্তর:
খ) জ্ঞানান্বেশণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জ্ঞানান্বেশণ
ব্যাখ্যা
'জ্ঞানান্বেষণ'(১৮৩১) পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।যা 'ইয়ং বেঙ্গল' গোষ্ঠীর মুখপত্ররূপে প্রকাশিত হয়। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৯৩৯.
১৯৩৭ সালের বঙ্গীয় প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মোট আসন সংখ্যা কত ছিল?
  1. ২২৩টি
  2. ২৫০টি
  3. ৩৫৫টি
  4. ২০৪টি
সঠিক উত্তর:
২৫০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫০টি
ব্যাখ্যা

• ১৯৩৭ সালের নির্বাচন ও রাজনৈতিক দলসমূহ:
- ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন বাংলার ইতিহাসে অতীব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৯৩৬ সাল হতে ভারতের অন্যান্য প্রদেশের মতো সারা বাংলায় নির্বাচনের তোড়জোর আরম্ভ হয়।
- নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলায় তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দলের তৎপরতা বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়।
- বঙ্গীয় প্রাদেশিক পরিষদের মোট আসন সংখ্যা ছিল ২৫০টি। 

•  রাজনৈতিক দল তিনটি হচ্ছে-
ক. জিন্নাহর নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত মুসলিম লীগ;
খ. এ.কে. ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক-প্রজা পার্টি এবং
গ. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, বাংলাদেশে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৪০.
অসহযোগ আন্দোলনের সূত্রপাত হয় কত সালে?
  1. ১৯২০ সালে
  2. ১৯৩০ সালে
  3. ১৯১৮ সালে
  4. ১৯২১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২০ সালে
ব্যাখ্যা
অসহযোগ আন্দোলন:
- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে খিলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে।
- মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯২০ সালে।
- ১৯২১-২২ খ্রিস্টাব্দে এই আন্দোলন সর্বভারতীয় গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে উত্তর প্রদেশের চৌরিচোরা নামক স্থানে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিলে হঠাৎ করে এই আন্দোলন বন্ধের ডাক দেন।
- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি গ্রেফতার হলে আন্দোলন স্থিমিত হয়ে যায়।

উল্লেখ্য,
- ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
- ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর ভারতে জন্ম নেন তিনি।
- ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলন করা এবং ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে বিদায় করতে তাঁর ভূমিকা অগ্রগণ্য।
- তিনি ছিলেন সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা।
- মহাত্মা গান্ধীকে ১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারি নতুন দিল্লির একটি সুবৃহৎ প্রাসাদ বিড়লা হাউসের প্রাঙ্গনে হত্যা করা হয়েছিল।
- তাঁর ঘাতক ছিলেন নাথুরাম গডসে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, Britannica.
৯৪১.
কোনটি কৃষক আন্দোলন?
  1. ক) আলীগড় আন্দোলন
  2. খ) ভারত ছাড় আন্দোলন
  3. গ) নীল বিদ্রোহ
  4. ঘ) অসহযোগ আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
গ) নীল বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নীল বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ ভারতে সংঘটিত কৃষক আন্দোলনগুলোর মধ্যে নীল বিদ্রোহ অন্যতম। ১৮৫০ এর দশকের শেষ ভাগে নদীয়া ও যশোরাঞ্চলে নীল চাষীদের দ্বারা নীল বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়। এরপর তা নীল চাষের অন্যান্য এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ে। ব্রিটিশ সরকার নীল সমস্যা সমাধানে ১৮৬০ সালে নীল কমিশন গঠন করে। পরবর্তীতে সরকার আইনের মাধ্যমে নীল চাষ কৃষকদের ইচ্ছাধীন করলে নীল বিদ্রোহ প্রশমিত হয়। কৃত্রিম নীল আবিষ্কৃত হলে ১৮৯২ সালে বাংলা থেকে নীল চাষ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৯৪২.
বাংলায় ছিয়াত্তরের মন্বন্তর এর কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা যায় -
  1. দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা
  2. শিল্পবিপ্লব
  3. অনাবৃষ্টি ও খরা
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলায় ছিয়াত্তরের মন্বন্তর, ব্রিটেনে শিল্পবিপ্লব : একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ

- ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলার ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ নামে পরিচিত।
- ১১৭৬ বঙ্গাব্দে (ইংরেজি ১৭৭০ সাল) এই দুর্ভিক্ষ হয় বলে একে ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ বলা হয়।
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় বাংলার ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর ছিলেন জন কার্টিয়ার।

ছিয়াত্তরের মন্বন্তর প্রেক্ষাপট :
- ১৭৫৭ সালে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হন।
- তখন থেকেই এ দেশে ব্যাপক সম্পদ লুণ্ঠন করতে থাকে ইংরেজরা।
১. দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা
- ১৭৬৫ সালে ইংরেজরা দিল্লির সম্রাট শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা-বিহার-ওড়িশার দেওয়ানি লাভ করে।
- বাংলার নবাবের হাতে থাকে নামে মাত্র প্রশাসনিক ক্ষমতা। রাজস্ব আদায় ও আয়-ব্যয়ের হিসাব থাকে ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির কাছে।
- ফলে ইতিহাসে দ্বৈত শাসন নামে শাসনব্যবস্থার সৃষ্টি হয়।
-  দ্বৈত শাসন ব্যবস্থায় নবাবের হাতে থাকে প্রশাসনিক দায়িত্ব, আর রাজস্ব আদায় ও ব্যয়ের পূর্ণ কর্তৃত্ব পায় কোম্পানি।
-  ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি খাজনা আদায়ের নামে সীমাহীন শোষণ আর লুণ্ঠন করে পাচার করতে থাকে।
২. অনাবৃষ্টি ও খরা
- পাশাপাশি সেই সময় (১৭৬৮-১৭৬৯) অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়।
- কিন্তু অব্যহত থাকে ইংরেজদের খাজনা আদায়।
 ৩. শিল্পবিপ্লব
- ১৭৬৫-১৭৮৪ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অপেক্ষা বেশি দুর্নীতিপূর্ণ, বেশি অত্যাচারী ও লুণ্ঠন প্রবৃত্তির তথাকথিত সভ্য সরকার পৃথিবীর বুকে আর দেখা যায়নি।
- অন্যদিকে, ঐতিহাসিক আর্নল্ড টয়েনবি ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের উড্ডয়নকাল ১৭৬০-১৭৮০ খ্রি. ধার্য করেন।
- ১৭৬৫ সালে বাংলার দেওয়ানি প্রকৃত অর্থে ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের ক্ষেত্র রচনা করে। 
- আটলান্টিক তীরে পশ্চিমের সেই শিল্পবিপ্লবের রসদ যোগাতে গিয়ে ব্রিটিশ শাসনাধীন বাংলায় নেমে আসে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর। 
- জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ, প্রায় ১ কোটি মানুষ এই দুর্ভিক্ষে মারা যায়।

- সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় -এর ‘আনন্দমঠ‘ উপন্যাস থেকে এই মন্বন্তরের ভয়াবহতার এক সকরুণ চিত্র পাওয়া যায়।
- এই সময় এই অঞ্চলের জনগন তাদের নিজ মাতৃভূমিতেই সব ধরণের মৌলিক বা মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে একে একে জীবন সংগ্রামে পরাজিত হতে থাকে। 
- খাদ্যভাবে শীর্ণ লোকরা দলে দলে মারা যায়। অন্নহীন কঙ্কালসার মৃত্যু দেহগুলো রাস্তাঘাটে পড়ে থাকে। 
- গ্রামবাংলায় যখন এই মৃত্যুর মিছিল চলছিল, তখন কলকাতায় শেতাঙ্গ সমাজে আমোদণ্ডপ্রমোদ, বিলাসিতা, নাচ, সুরাপানে আনন্দণ্ডউচ্ছল জীবনযাপনে রত ছিল।
- অথচ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনকে পঙ্গু করে দেয়।

তথ্যসূত্র - ১. বাংলাপিডিয়া।  
২. বাংলাদেশ ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণী।
৩. বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪. ব্রিটানিকা।
৫. জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯৪৩.
দ্বৈত শাসন ব্যবস্থায় নবাবের কাছে কোন ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়?
  1. রাজস্ব আদায়
  2. দেশ রক্ষা
  3. প্রশাসনিক
  4. উল্লিখিত সব
সঠিক উত্তর:
প্রশাসনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশাসনিক
ব্যাখ্যা
দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা:

- ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- দ্বৈত শাসন অনুসারে রাজস্ব আদায় ও দেশ রক্ষার ভার থাকে কোম্পানির হাতে এবং নিয়ামত বা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পিত হয় নবাবের হাতে।
- দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে। অবাধ লুণ্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়ে যায়। নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হন। সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
- এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৪৪.
ভারত ছাড় আন্দোলন অনুষ্ঠিত হয়-
  1. ১৯৪২ সালে
  2. ১৯৩৭ সালে
  3. ১৯৩৫ সালে
  4. ১৯২০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪২ সালে
ব্যাখ্যা
ভারত ছাড় আন্দোলন, ১৯৪২
- ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে শ্বেতাঙ্গ-বিরোধী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ প্রথম স্বতঃস্ফূর্ত ব্যাপক আন্দোলন ভারত ছাড় আন্দোলন।
-  ১৯৪২ সালের ৯ আগস্ট ভোরে কংগ্রেস নেতাদের গ্রেপ্তার দেশব্যাপী এক নজিরবিহীন গণরোষের সৃষ্টি করে, যা বাংলার শহরগুলিতে, বিশেষ করে বড় শহরগুলিতে  এ আন্দোলন  ছড়িয়ে পড়ে।
- ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির অধিবেশনে বিখ্যাত ভারত ছাড় আন্দোলনের প্রস্তাব পাস হয় এবং গান্ধীর নেতৃত্বে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।
- ভারত ছাড় আন্দোলন চলাকালীন  ‘পঞ্চম বাহিনী’র সুচিন্তিত ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করে। 
- ভারত ছাড় আন্দোলনের প্রধান তিনটি পর্ব দেখা যায়। ⇒
- প্রথম পর্বে  শহরগুলিতে হরতাল, ধর্মঘট, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সাথে সংঘর্ষ ছিল লক্ষণীয় বিষয়। 
- দ্বিতীয়  পর্যায়ে জঙ্গি ছাত্ররা বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ছড়িয়ে পড়ে ও তারা যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয় ।
- তৃতীয় পর্ব শিক্ষিত যুবক সম্প্রদায় ও কৃষক দলের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা এবং গেরিলা যুদ্ধ। 
-  আন্দোলনকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে দমন করা হয় এবং আন্দোলন দমন করতে সরকার আকাশ থেকে মেশিনগান ব্যবহার করেছিল।

উল্লেখ্য,
- ১৯৩৭ সালে প্রাদেশিক নির্বাচন হয়।
- ১৯২০ সালে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯৪৫.
খিলাফত আন্দোলনে কে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন?
  1. মাওলানা কারামত আলী
  2. মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগিশ
  3. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
  4. হাজী শরীয়ত উল্লাহ
সঠিক উত্তর:
মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
ব্যাখ্যা

খিলাফত আন্দোলন:
- ১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তির অধীনে ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের খেলাফত তুরস্ক তথা অটোমান সাম্রাজ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলে এর বিরুদ্ধে ভারতীয়রা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা খিলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত।
- ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রভাবে উদ্ভূত একটি প্যান-ইসলামি আন্দোলন।
- কারণ ভারতের মুসলমানেরা তুরস্কের সুলতানকে মুসলিম বিশ্বের খলিফা বা ধর্মীয় নেতা বলে শ্রদ্ধা করতেন।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের সুলতান ব্রিটিশ বিরোধী শক্তি জার্মানির পক্ষ অবলম্বন করলে ভারতে মুসলমান সম্প্রদায় বিব্রত হন। কারণ ধর্মীয় কারণে তাঁরা খলিফার অনুগত, আবার অন্যদিকে রাজনৈতিক কারণে ব্রিটিশ সরকারের অনুগত থাকতে বাধ্য।
- কিন্তু এই যুদ্ধে জার্মানি হেরে গেলে জার্মানির পক্ষে যোগদানের কারণে শাস্তি স্বরূপ তুরস্ককে খণ্ড-বিখণ্ডিত করার পরিকল্পনা করা হয়। 
- এই আন্দোলনে নেতৃত্বদেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও দুই ভাই মাওলানা শওকত আলী এবং মাওলানা মোহাম্মদ আলী।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৯৪৬.
‘সিপাহী বিদ্রোহের কারণ’ বইটির লেখক কে?
  1. ক) সৈয়দ আহমদ খান
  2. খ) সৈয়দ আমীর আলী
  3. গ) নওয়াব আব্দুল লতিফ
  4. ঘ) মাওলানা মোহাম্মদ আলী
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ আহমদ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ আহমদ খান
ব্যাখ্যা
১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের পর মুসলমানরা ব্রিটিশ সরকারের বিরাগভাজন হয়ে পড়ে। কেননা সরকারের ধারণা ছিল, সংগ্রামের মূলে মুসলমানরা দায়ী। ইংরেজ সরকারের এ মনোভাব পরিবর্তনের জন্য সৈয়দ আহমদ খান ‘সিপাহী বিদ্রোহের কারণ’ ও ভারতের রাজ ভক্ত মুসলমান’ নামে দুইটি বই লিখেন। [সূত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস প্রথম পত্র, অধ্যাপক মোঃ গোলাম মোস্তফা]
৯৪৭.
ভারতে স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় কবে?
  1. ১৭৪৩ সালের ২২শে মার্চ
  2. ১৭৯৩ সালের ২২শে মার্চ
  3. ১৮৯৩ সালের ২২শে মার্চ
  4. ১৮৪৩ সালের ২২শে মার্চ
সঠিক উত্তর:
১৭৯৩ সালের ২২শে মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৯৩ সালের ২২শে মার্চ
ব্যাখ্যা
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
- ১৭৯৩ সালের ২২শে মার্চ লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- নির্দিষ্ট রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর স্থায়ী মালিকানা দান করে যে ভূমি বন্দোবস্ত চালু করা হয় তাকেই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বলা হয়।
- এ প্রথা চালু হওয়ার ফলে জমিদারদের প্রশাসনিক ক্ষমতা বিলুপ্ত হয়। সরকার স্বয়ং শান্তি রক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করে।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে বাংলার কৃষকরা জমির উপর তাদের মালিকানা হারায়।
- ১৯৫০ সালের ‘পূর্ববঙ্গ জমিদার অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনে’র ফলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথার বিলুপ্তি হয়। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৪৮.
কোন ইউরোপীয় ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করেন?
  1. ফ্রান্সিস ড্রেক
  2. ফার্ডিনান্ড ম্যাগেলান
  3. ভাস্কো-ডা-গামা
  4. ক্রিস্টোফার কলম্বাস
সঠিক উত্তর:
ভাস্কো-ডা-গামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাস্কো-ডা-গামা
ব্যাখ্যা

- পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো ডা গামা প্রথম ইউরোপীয় হিসেবে ১৪৯৮ সালে ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করেন। তিনি আফ্রিকা ঘুরে কেপ অব গুড হোপ পেরিয়ে কালিকটে পৌঁছান।

• পর্তুগিজ:

- বাণিজ্যকে মূলধন করে পর্তুগাল থেকে পর্তুগিজরা এ উপমহাদেশে আসলেও ক্রমে তাঁরা সাম্রাজ্য বিস্তারের স্বপ্ন দেখে।
- ইউরোপ থেকে ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করেন - ভাস্কো-ডা-গামা।
- পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দ্য-গামার উপমহাদেশে আসার পরপরই পর্তুগিজরা এ দেশে আসতে শুরু করে।
- এরপর ১৪৮৭ খ্রিস্টাব্দে বার্থলমিউ দিয়াজ, আলভারেঞ্জ ক্যাব্রাল ও ১৫০৯ খ্রিস্টাব্দে আলবুকার্ক গোয়াতে আগমন করেন।
- আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

সূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৪৯.
পর্তুগীজরা ভারতীয় উপমহাদেশের কোন বন্দরে প্রথম বাণিজ্য করতে আসে?
  1. চট্টগ্রাম
  2. কালিকট
  3. কোচিন
  4. গোয়া
সঠিক উত্তর:
কালিকট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালিকট
ব্যাখ্যা
বাংলায় ইউরোপীয়দের আগমন:
- পর্তুগীজরা প্রথম আগত ইউরোপীয়ান বাণিজ্যিক দল।
- পর্তুগীজরা ভারতীয় উপমহাদেশের কালিকট বন্দরে প্রথম আসে।
- ১৪৯৮ সালে পর্তুগীজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন, তিনি ভাস্কো-ডা-গামা।
- এরপর ১৫০৯ খ্রিস্টাব্দে আলবুকার্ক গোয়াতে আগমন করেন।
- আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
- কলম্বাস এবং ম্যাজিলানও বিখ্যাত পর্তুগিজ নাবিক ছিলেন।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে পর্তুগীজরা কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি অঞ্চলে কুঠি স্থাপন এবং ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে শুল্কঘাটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে।
- পর্তুগিজরা কেবল ব্যবসা-বাণিজ্যই করত না, তারা এদেশের জমিদার ও প্রতাপশালী বার ভূঁইয়াদের সেনাবাহিনীতে চাকরী করত।
- তারা সুযোগ পেলেই জুলুম, অত্যাচার ও লুণ্ঠন করতো।
- অনেক সময় সম্রাট বা নবাবের আইন অমান্য করে বিনা শুল্কে স্বাধীনভাবে ব্যবসা চালাত। এতে তাঁরা মোগল সম্রাটের বিরাগভাজন হন।
- পর্তুগিজরা আরও নানা প্রকার অপরাধমূলক কাজ করত।
- তাদের এ অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেলে সম্রাট শাহজাহান পর্তুগিজদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করেন।
- সম্রাটের নির্দেশে কাসিম খান তাদের হুগলী কুঠি থেকে বিতাড়িত করেন।
- সর্বশেষ বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান তাদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ ঘাঁটি দখল করে চিরতরে এ দেশ থেকে উচ্ছেদ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫০.
অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন কে?
  1. ক) খাজা নাজিমউদ্দিন
  2. খ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. গ) শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  4. ঘ) দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস
সঠিক উত্তর:
গ) শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের অধীনে ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলায় প্রাদেশিক পরিষদের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে কংগ্রেস, মুসলিমলীগ ও কৃষক প্রজা পার্টি কেউই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় মুসলিমলীগ ও কৃষক প্রজা পার্টি কোয়ালিশন সরকার গঠন করে।
এই সরকারে বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক। তিনি (১৯৩৭-১৯৪১) এবং (১৯৪১-১৯৪৩) দুটো মন্ত্রিসভায় ‍মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
অবিভক্ত বাংলার সর্বশেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৯৫১.
'সিপাহী বিদ্রোহ' কোথায় সূচনা হয়?
  1. দিল্লি
  2. ব্যারাকপুর
  3. পাঞ্জাব
  4. মীরাট
সঠিক উত্তর:
ব্যারাকপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যারাকপুর
ব্যাখ্যা
• সিপাহী বিদ্রোহ:
- পলাশী যুদ্ধের একশ বছর পর ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে প্রধানত সিপাহীদের নেতৃত্বে যে ব্যাপক সশস্ত্র বিদ্রোহ সংঘটিত হয়, তাকেই ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
- এর ফলে ১৮৫৮ সালে 'মহারানীর রাজকীয় ঘোষণা' এবং ১৮৫৮ সালের 'ভারত শাসন আইন' দ্বারা ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটানো হয়।
- ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম সংঘটিত হয় - সিপাহী বিদ্রোহ (১৮৫৭ সালে)।
- ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর সেনানিবাসে মঙ্গল পান্ডে নামে এক সিপাহী সর্বপ্রথম প্রকাশ্যভাবে বিদ্রোহ করে।
- সিপাহী বিদ্রোহের প্রথম শহীদ মঙ্গল পাণ্ডে।
- এরপর মে মাসে মীরাটের সেনা ছাউনিতে সিপাহীরা সরকারী নির্দেশ অমান্য করে এবং কর্নেল ফিনিসকে গুলি করে হত্যা করার পর বিদ্রোহের তীব্রতা বাড়ে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।

উল্লেখ্য,
- সিপাহী বিদ্রোহের স্মৃতি বিজড়িত স্থান - বাহাদুর শাহ পার্ক।
- সিপাহী বিদ্রোহকালীন গভর্নর জেনারেল ছিলেন - লর্ড ক্যানিং। 

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫২.
বাংলায় মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য কে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন?
  1. সৈয়দ আমীর আলী
  2. নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ
  4. স্যার সৈয়দ আহমেদ খান
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা
• বাংলার মুসলিমদের মধ্যে আধুনিক শিক্ষা বিস্তারে — আবদুল লতিফের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
-------------------------- 
• নওয়াব আবদুল লতিফ:

- বাংলার মুসলমানদের মধ্যে নবজাগরণ আসে — নওয়াব আবদুল লতিফ তাঁদের মধ্যে অন্যতম।
- নওয়াব আবদুল লতিফ ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কোলকাতা মাদরাসায় ইংরেজি শিক্ষা লাভ করেন।
- শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি প্রথমে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল।
- এবং পরে কোলকাতা মাদরাসায় অধ্যাপনা করেন।

- ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি ডিপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের পদে যোগদান করেন।
- ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে কোলকাতা প্রেসিডেন্সির ম্যাজিস্ট্রেট পদে উন্নীত করা হয়।
- ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি সরকারি চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে তাঁর কৃতিত্বের জন্য সরকার তাঁকে প্রথমে খান বাহাদুর পরে নওয়াব এবং নওয়াব বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত করে।
- আবদুল লতিফ বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষা বিস্তারের প্রয়োজন এবং এর গুরুত্ব বুঝতে পারেন।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাগুলোতে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি ইংরেজি ও আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষা চালু করা হয়।
- ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে কোলকাতায় প্রতিষ্ঠিত মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি বা মুসলিম সাহিত্য সমাজ।

উল্লেখ্য, 
বাংলার মুসলিমদের মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে মুসলিমদের প্রভাব বিস্তার এবং পুনর্জাগরণের লক্ষ্যে ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে কলকাতায় ‘মুসলিম সাহিত্য সমিতি’ (Mohammedan Literary Society of  Calcutta) গঠন ছিল আবদুল লতিফের জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি, প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যলয়, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
৯৫৩.
নিম্নোক্ত কোন ব্রিটিশ ভাইসরয়ের সময় প্রথম 'ভারতীয় শিক্ষা কমিশন' গঠন করা হয়?
  1. লর্ড রিপন
  2. লর্ড লিটন
  3. লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস
সঠিক উত্তর:
লর্ড রিপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড রিপন
ব্যাখ্যা
হান্টার কমিশন:
- ১৮৫৪ সালে উডের ডেসপ্যাচে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উন্নতির জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
- কিন্তু এই ডেসপ্যাচের ভাবধারা কে অবহেলা করে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উপর গুরুত্ব না দিয়ে শুধু উচ্চশিক্ষা ও সরকারি স্কুল কলেজগুলিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতি একেবারেই হয় না।
- তাই সরকার প্রথমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নতি সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করেন।

• হান্টার কমিশন গঠন:
- এই পরিস্থিতিতে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড রিপন ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দের ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০ জন সদস্য নিয়ে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন।
- এটি প্রথম "ভারতীয় শিক্ষা কমিশন” নামে পরিচিত।
- এই কমিশন স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টারের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল বলে একে "হান্টার কমিশন” বলা হয়।
- স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টার ছিলেন এই কমিশনের সভাপতি।
- অন্যান্য সদস্যরা হলেন আনন্দমোহন বসু, কে.টি. তেলাং, ভূদেব মুখোপাধ্যায়, স্যার সৈয়দ আহমদ খান প্রমুখ।
- প্রাথমিক শিক্ষা ও নিরক্ষরতা বিষয়ে এই কমিশনকে বিশেষভাবে বিচার করার কথা বলা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯৫৪.
কর্নওয়ালিসের সময় বিচার ব্যবস্থাকে কয় ভাগে ভাগ করা হয়?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
সঠিক উত্তর:
২ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ ভাগে
ব্যাখ্যা

বিচার ব্যবস্থা:
- কর্নওয়ালিসের সময় বিচার ব্যবস্থার সংস্কার করা হয়, একে ফৌজদারি ও দেওয়ানি এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
- ১৭৯০ খ্রিস্টাব্দে বিচার ব্যবস্থার সংস্কারের ফলে সদর নিজামত আদালত মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়।
- বাংলা বিহার এ উড়িষ্যাকে মোট ১২টি বিভাগে বিভক্ত করে প্রতিটি বিভাগে একটি ভ্রাম্যমান কোর্ট স্থাপন করা হয়।
- এই আদালতের প্রত্যেকটিতে দুজন ইংরেজ বিচারক এবং আইন ব্যাখ্যার জন্য কাযি ও মুফতি নিযুক্ত করা হয়।
- লর্ড বেটিঙ্ক সর্ব প্রথম বিচার কার্য ও রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেশীয়দের ওপর ন্যস্ত করেন।
- তিনি ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় সর্বপ্রথম জুড়ি ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন এবং ভারতীয়দের জুরির সদস্য নিযুক্ত করা হয়।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৫৫.
ভারতে কমিউনিস্ট আন্দোলনের পথিকৃৎ বলা হয় কাকে?
  1. মনি সিং
  2. মুজাফফর আহমেদ
  3. আব্দুল হালিম
  4. আবদুর রাজ্জাক
সঠিক উত্তর:
মুজাফফর আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুজাফফর আহমেদ
ব্যাখ্যা
⇒ কমরেড মুজাফফর আহমদকে ভারতে কমিউনিস্ট আন্দোলনের পথিকৃৎ বলা হয়।

ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি:
- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে ১৭ অক্টোবর প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের উজবেক প্রজাতন্ত্রের তাসখন্দ শহরে মানবেন্দ্রনাথ রায়ের উদ্যোগে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সে সময় ভারত জুড়েও চলছিল বিক্ষোভ, ধর্মঘট, হরতাল, উত্তাল গণআন্দোলন।
- এই অবস্থার পটভূমিতে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক দল কমিউনিস্ট পার্টির ভারতীয় দলটির জন্ম দেশের বাইরে।
- মোট ৭ জন সদস্য নিয়ে তাসখন্দে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয়।
- মুহম্মদ শফিক এই কমিটির সম্পাদক নির্বাচিত হন।
- প্রবাসে প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনালের স্বীকৃতি লাভ করে।
- ব্রিটিশ সরকার ভারতের বিশেষ করে বাংলাদেশে কমিউনিস্ট আন্দোলন ঠেকাতে পারেনি।
- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ থেকেই বিচ্ছিন্নভাবে বাংলাদেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনের যাত্রা শুরু হয়।
- প্রথম থেকে মুজাফফর আহমদের নেতৃত্বে এবং আব্দুল হালিম, আবদুর রাজ্জাক খাঁ ও শামসুল হুদা প্রমুখের প্রচেষ্টায় অবিভক্ত বাংলায় কোলকাতাকে কেন্দ্র করে কমিউনিস্ট পার্টি গঠনের সূত্রপাত ঘটে।
- কমরেড মুজাফফর আহমদ শুধু বাংলা নয়, ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ হিসেবে স্বীকৃত।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫৬.
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠন
  2. ভারতের পূর্ণ সংবিধান প্রণয়ন
  3. ভারতীয়দের জন্য পৃথক নির্বাচন
  4. সর্বজনীন ভোটাধিকার
সঠিক উত্তর:
সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠন
ব্যাখ্যা

ভারত শাসন আইন-১৯৩৫:
- ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন হলো ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক গৃহীত একটি আইন যা ভারতে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন এবং একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভিত্তি স্থাপন করে।
- এই আইনটি ১৯১৯ সালের আইনের ব্যর্থতার পর প্রণীত হয়।

⇒ বৈশিষ্ট্য:
- ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী ব্রিটিশ ভারতের সকল প্রদেশ ও দেশীয় রাজ্যসমূহ নিয়ে একটি সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠনের কথা উল্লেখ করা হয়।
- এ আইন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় আইনসভা দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট করা হয়। এর উচ্চকক্ষটি রাজ্যসভা (Council of state) ও নিম্নকক্ষটি ব্যবস্থাপক পরিষদ (House of Assembly) বলে অভিহিত হবে। উচ্চকক্ষের সর্বমোট প্রতিনিধি হবেন ২৬০ জন এবং নিম্নকক্ষের সদস্য সংখ্যা হবে ৩৭৫ জন।
৩. এ আইনের মাধ্যমে শাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে তিনভাগে বিভক্ত করা হয় যথা: কেন্দ্রীয় বিষয়, প্রাদেশিক বিষয় ও যুগ্ম বিষয়। কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে কেন্দ্রীয় তালিকাভুক্ত বিষয়সমূহ যথা: দেশরক্ষা, বৈদেশিক সম্পর্ক, মুদ্রা, আয়কর, যোগাযোগ, তথ্যদপ্তর প্রভৃতি ন্যস্ত করা হয়। অপরদিকে, প্রাদেশিক সরকারের হাতে প্রাদেশিক বিষয়াবলী যথা-আইনশৃংখলা, পুলিশ, শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার প্রভৃতি বিষয় পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়। এছাড়া যুগ্মা তালিকাভুক্ত বিষয়সমূহ যথা- ফৌজদারি আইন, বিচার প্রণালী, উইল প্রভৃতি কেন্দ্র ও প্রদেশ উভয় সরকারের এখতিয়ারভুক্ত রাখা হয়।
- ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন প্রদেশে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন করে। প্রাদেশিক বিষয়সমূহের উপর প্রদেশের কর্তৃত্ব স্বীকার করা হয় এবং প্রাদেশিক মন্ত্রিসভাকে আইনসভার নিকট জবাবদিহি করার বিধান করা হয়।
- ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা চালু করে। গভর্ণর জেনারেল ও তাঁর নির্বাহী পরিষদের নিকট প্রতিরক্ষা, বৈদেশিক সম্পর্ক, ধর্মীয় বিষয়, উপজাতি প্রভৃতি বিষয়ের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। অপরদিকে অন্যান্য বিষয়াবলী গভর্ণর জেনারেল ও তাঁর মন্ত্রিসভার হাতে ন্যস্ত করা হয়।
- এ আইনে ভারতবর্ষের জন্য একটি ফেডারেল কোর্ট বা যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করা হয়। একজন প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতি নিয়ে তা গঠিত হবে।
- এ আইন দ্বারা সিন্ধু ও উড়িষ্যা নামে দুটি নতুন প্রদেশ সৃষ্টি করা হয়।
- মুসলমান ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা ও সংখ্যা অতিরিক্ত প্রতিনিধিত্ব অব্যাহত রাখা হয়।
- এই আইনে বার্মাকে (বর্তমান মায়ানমার) ভারতবর্ষ থেকে পৃথক করা হয়।
- এ আইনের মাধ্যমে ভোটদানকে উৎসাহিত করা হয় এবং ভোটার হবার যোগ্যতা শিথিল করা হয়।
- এ আইনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় আইনসভায় মুসলমানদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন বরাদ্দ রাখা হয়।
- ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের যেকোন প্রকার সংশোধন, পরিবর্তন বা পরিমার্জনের ক্ষমতা ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাতে রাখা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৫৭.
সড়ক-ই-আজম বা বিখ্যাত গ্রান্ড ট্রাংক রোডের নির্মাতা-
  1. ক) আকবর
  2. খ) শেরশাহ
  3. গ) মুহম্মদ বিন তোঘলক
  4. ঘ) আওরঙ্গজেব
সঠিক উত্তর:
খ) শেরশাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শেরশাহ
ব্যাখ্যা

শূর শাসনের সূত্রপাত করেন আফগান শাসক শের শাহ। বিহারের শাসনকর্তা সুলতান মুহম্মদের মৃত্যুর পর শের শাহ বিহারের শাসন করেন।
১৫৩৮ সালে তিনি বাংলার সুলতান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন।
শের শাহের আমলের কিছু উল্লেখযোগ্য কীর্তিঃ
- শের শাহ বাংলায় ঘোড়ার ডাক ব্যবস্থার প্রচলন করেন।
- তিনি ‘দাম’ নামক মুদ্রার প্রচলন করেন।
- সড়ক-ই-আজম বা বিখ্যাত গ্রান্ড ট্রাংক রোডের নির্মাতা তিনি।
- পাট্টা ও কাবুলিয়াত প্রথা চালু করেন শের শাহ।
[সূত্র- বাংলাপিডিয়া]

৯৫৮.
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলায় কোন বঙ্গাব্দে ঘটে?
  1. ১১৭০
  2. ১১৭৬
  3. ১৭৭০
  4. ১১৭৫
সঠিক উত্তর:
১১৭৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১৭৬
ব্যাখ্যা

ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
- বাংলার তথা ভারতের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
- ঘটনার বছর: ১১৭৬ বঙ্গাব্দ, ইংরেজি ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ।
- বাংলার জনসাধারণের অবস্থা ক্রমশ শোচনীয় হয়ে ওঠে।
- এই দুর্ভিক্ষে প্রায় ১ কোটি লোক মারা যায়।
- সেই সময়ে গভর্ণর: লর্ড কার্টিয়ার। 

• কারণ:
- ১১৭০ সালে অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে ফসল নষ্ট।
- রবার্ট ক্লাইভের দ্বৈতশাসন নীতি।
- ইংরেজ কর্মচারীদের অত্যাচার, উৎপীড়ন ও শোষণ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা - নবম দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া।

৯৫৯.
ভাস্কো ডা গামা কোন দেশের অধিবাসী?
  1. ক) পর্তুগীজ
  2. খ) হল্যান্ড
  3. গ) ইংল্যান্ড
  4. ঘ) ফরাসি
সঠিক উত্তর:
ক) পর্তুগীজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পর্তুগীজ
ব্যাখ্যা
বাংলায় পর্তুগীজ আগমন:

- পর্তুগীজ নাবিক ভাস্কো ডা গামা প্রথম সমুদ্রপথে ভারতের পশ্চিম উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দের ২৭ মে।
- পর্তুগীজরা ভারতীয় উপমহাদেশের কালিকট বন্দরে প্রথম আসে।
- তার এ উপমহাদেশে আগমন ব্যবসায় বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে পর্তুগীজরা কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি অঞ্চলে কুঠি স্থাপন এবং ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে শুল্কঘাটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে।
- পর্তুগীজরা প্রথম আগত ইউরোপীয়ান বাণিজ্যিক দল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬০.
রেগুলেটিং অ্যাক্ট, ১৭৭৩ অনুযায়ী বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
  1. লর্ড ক্লাইভ
  2. ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. লর্ড বেন্টিঙ্ক
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা

রেগুলেটিং এ্যাক্ট:
- ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং এ্যাক্ট অনুযায়ী বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন ওয়ারেন হেস্টিংস।

• উপমহাদেশে কোম্পানির যাবতীয় কাজ প্রথমে ইংল্যান্ডের বোর্ড অব ডাইরেক্টরস পরিচালনা করত।
- কালক্রমে এদেশে রাজ্য বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শাসন কাজেও নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
- এ বিশৃংখলা দূর করার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সর্বপ্রথম উপমহাদেশের শাসন কাজে হস্তক্ষেপ করে।
- তদানীন্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড নর্থ ১৭৭৩ সালে উপমহাদেশে শাসন আইন নামে একটি আইন পাস করেন যা 'রেগুলেটিং এ্যাক্ট' নামে ইতিহাসে বিখ্যাত।

উল্লেখ্য,
- রেগুলেটিং এ্যাক্ট এর দ্বারা বোর্ড অব ডাইরেকট্রসকে ব্রিটিশ সরকারের নিকট কোম্পানির শাসন ও রাজস্ব সম্পর্কে সকল তথ্য পাঠাতে হতো।
- বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল আখ্যা দেয়া হয়।
- গভর্নর জেনারেলকে সাহায্য করার জন্য চার সদস্য বিশিষ্ট একটি 'কাউন্সিল' গঠিত হয় এবং সবার সমান অধিকার দেয়া হয়।
- এই রেগুলেটিং এ্যাক্ট অনুসারে বাংলার গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৬১.
সর্বপ্রথম কার নেতৃত্বে সিপাহীরা বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন?
  1. অসীম পান্ডে
  2. মঙ্গল পান্ডে
  3. অমল পান্ডে
  4. কুসল পান্ডে
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল পান্ডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল পান্ডে
ব্যাখ্যা
সিপাহী বিদ্রোহ:
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চের বিকেল, ব্রিটিশ ভারতের দেশীয় সেনাদের প্রশিক্ষণ চলছিল ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে।
- প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছিল ‘বিতর্কিত’ এনফিল্ড রাইফেল।
- একজন সিপাহি প্রশিক্ষণের সময় চর্বিযুক্ত কার্তুজ ব্যবহারে অস্বীকৃতি জানান।
- তাকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ হয়ে ইংরেজ অফিসারকেই গুলি করে বসেন।
- সেই সিপাহির নাম মঙ্গল পাণ্ডে।
- লেফটেন্যান্ট বফকে গুলি করার সময় সৈনিকদের কেউ কেউ তাকে আটকানোর চেষ্টা করলেও বাকিরা মঙ্গল পাণ্ডের পক্ষ নেন।
- ২৯ মার্চ, ১৮৫৭ খ্রি. ব্যারাকপুরে মঙ্গল পান্ডে নামক জনৈক সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।
- তাঁকে এবং তাঁর সঙ্গীদের প্রাণদন্ডে দন্ডিত করে বিদ্রোহ দমন করতে চেষ্টা করা হয়।

উৎস: ইতিহাস এসএসএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬২.
”জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থি’’ কথাটি কে বলেছেন?
  1. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  2. সৈয়দ আহমদ বেরেলভী
  3. তিতুমীর
  4. দুদু মিয়া
সঠিক উত্তর:
দুদু মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুদু মিয়া
ব্যাখ্যা
ফরায়েজি আন্দোলন:
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহ।
- ফরায়েজি আন্দোলন  শুরু হয় -১৮১৮ সালে।
- এ আন্দোলন কেন্দ্র ছিল ফরিদপুর।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহর মৃত্যুর পর ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন দুদু মিয়া।
- দুদু মিয়ার  আসল নাম পীর মুহসীনউদ্দীন আহমদ।
- দুদু মিয়ার নেতৃত্ব ফরায়েজি আন্দোলন সশস্ত্র আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ’’জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থি’’ কথাটি  বলেছেন দুদু মিয়া।
- দুদু মিয়া অত্যাচারী জমিদারদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছেলেন।
- এবং বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।
- দুদু মিয়া বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে খলিফা নিযুক্ত করেন।

অপরদিকে,
- ভারতবর্ষে ওহাবি আন্দোলনের  মতাদর্শ  প্রতিষ্ঠা করেন সৈয়দ আহমেদ বেরেলভী।
- তিতুমীর ১৮৩১ সালে বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন।
- এটি নারিকেলবাড়িয়ায় তৈরি করেছিলেন।
- লেফটেন্যান্ট কর্নেল স্টুয়ার্ট  এটি ধ্বংস করে দেন। 

উৎস: ¡) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , নবম-দশম শ্রেণি।
          ¡¡) বাংলাপিডিয়া।
৯৬৩.
দ্বৈত শাসনের ফলে ইংরেজ কোম্পানির হাতে কেন্দ্রীভূত হয় -
  1. রাজস্ব আদায়ের ভার
  2. প্রশাসন পরিচালনার ভার
  3. বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণ
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
রাজস্ব আদায়ের ভার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজস্ব আদায়ের ভার
ব্যাখ্যা
দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা:
- ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।

উল্লেখ্য,
- রাজস্ব আদায় ও দেশ রক্ষার ভার ছিল কোম্পানির উপর।
- অন্যদিকে নিজামত তথা বিচার ও প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব বর্তায় নবাবের উপর।
- দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে।
- অবাধ লুণ্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়ে যায়।
- নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হন।
- সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।

⇒ এর ফল হিসেবে ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয় ৷
- এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৬৪.
রাজা পঞ্চম জর্জ কোথায় বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন?
  1. লন্ডন
  2. ঢাকা
  3. কলকাতা
  4. দিল্লি
সঠিক উত্তর:
দিল্লি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিল্লি
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গের পটভূমি:
- ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন।
- এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা গৃহীত হলেও শেষ পর্যন্ত ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে এর বাস্তবায়ন হয়।
- এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদাহ নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশ।
- এই প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা।
- অপরদিকে পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশ, যার রাজধানী করা হয় কোলকাতাকে।

বঙ্গভঙ্গ রদ: 

- বাংলার মুসলমানরা নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়।
- অপর দিকে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে।
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে তারা বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে।
- ব্রিটিশ সরকার আন্দোলনকারীদের দমন করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ রহিত করে।
- রাজা পঞ্চম জর্জ ভারত সফরে এসে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬৫.
কত খ্রিস্টাব্দে লক্ষ্মৌ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা

লক্ষ্ণৌ চুক্তি:
-  ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে লক্ষ্মৌ শহরে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের যৌথ অধিবেশনে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস ও নিখিল ভারত মুসলিম লীগের মধ্যে লক্ষ্মৌ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

⇒ লক্ষ্ণৌ চুক্তির বৈশিষ্ট্য:
১. প্রাদেশিক আইন পরিষদ সমূহ সম্প্রসারণ করার সুপারিশ করা হয়। বৃহৎ প্রদেশের সদস্য সংখ্যা ১২৫ জন এবং ছোট প্রদেশের সদস্য সংখ্যা ৫০ থেকে ৭৫ এর মধ্যে নির্ধারণ করার দাবি করা হয়। এদের মধ্যে পাঁচ ভাগের এক ভাগ মনোনীত সদস্য এবং বাকী পাঁচ ভাগের চার ভাগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার দাবি করা হয়।
২. কেন্দ্রীয় বা প্রাদেশিক আইন পরিষদে কোন সম্প্রদায়ের কোনো বিল পাশের ক্ষেত্রে আইনসভায় ঐ সম্প্রদায়ের তিন-চতুর্থাংশ সদস্যের সম্মতির বিধান রাখা হয়। ৩. লক্ষ্ণৌ চুক্তিতে ভোটারের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ভোটারদের ভোট দিতে উৎসাহিত করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
৪. এ চুক্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, এতে সংখ্যানুপাতে অধিক প্রতিনিধিত্বের সুপারিশ করা হয়। অর্থাৎ যেখানে মুসলমানগণ সংখ্যালঘু, সেখানে তাদের আসন সংখ্যা লোকসংখ্যা থেকে বাড়িয়ে দেয়া হবে। আর যেখানে সংখ্যাগুরু সেখানে জনসংখ্যার তুলনায় তারা কম আসন লাভ করবে। উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করা যায় বাংলা প্রদেশের কথা। বাংলার মুসলিম জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৫২.৬ শতাংশ আর মুসলিম আসন বরাদ্দ করা হয় ৪০ শতাংশ। এভাবে বিহার ও উড়িষ্যাতে ২৫ শতাংশ, সেন্ট্রাল প্রদেশে ১৫ শতাংশ, মাদ্রাজে ১৫ শতাংশ, পাঞ্জাবে ৫০ শতাংশ এবং যুক্ত প্রদেশে ৩০ শতাংশ আসন বরাদ্দের কথা বলা হয়।
৫. এ চুক্তিতে মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থার স্বীকৃতির পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন প্রদানে সম্মতি দেয়া হয়।
৬. ভারতের জন্য স্ব-শাসন কায়েমের লক্ষ্যে কংগ্রেসও মুসলিম লীগ একত্রে আন্দোলন করবে।
৭. প্রদেশসমূহ কেন্দ্রীয় সরকার যথাসম্ভব নিয়ন্ত্রণমুক্ত থেকে স্বায়ত্বশাসন ভোগ করবে।
৮. গভর্ণর জেনারেলের শাসন পরিষদের অর্ধেক সদস্য ভারতীয় হবেন। তারা ভারতীয় আইন পরিষদের সদস্য দ্বারা নির্বাচিত হবেন।

⇒ ভারতীয় উপমহাদেশের শাসনতান্ত্রিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে ১৯১৬ সালের লক্ষ্ণৌ চুক্তি এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ চুক্তির মাধ্যমে হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায় সম্মিলিতভাবে ব্রিটিশ সরকারের কাছে নিজেদের দাবি-দাওয়া পেশ করার সুযোগ পায়। প্রথমবারের মতে হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে রাজনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তি রচনা করে এই চুক্তি। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনকে সংগঠিত ও পরিকল্পিত করার জন্য এ চুক্তি করা হয়। লক্ষ্ণৌ চুক্তির মাধ্যমে মুসলমান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার স্বীকৃতি দেয়া হয়। তা সত্ত্বেও বাংলার রক্ষণশীল মুসলিম নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এর মূলে ছিল আসন সংখ্যা সমন্বয়ের নিীতি।

উৎস: i) Britannica.
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৬৬.
ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ডিরোজিও
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. নওয়াব আবদুল লতিফ
সঠিক উত্তর:
ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিরোজিও
ব্যাখ্যা

ডিরোজিও ও ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট:
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধ জুড়ে ছিল রাজা রামমোহন রায়ের আন্দোলনের ধারা।
- দৃঢ়ভাবে সে ধারাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল হিন্দু কলেজের প্রতিভাবান ছাত্রবৃন্দ ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলনের মাধ্যমে।
- যার নেতৃত্বে ছিলেন হিন্দু কলেজের তরুণ অধ্যাপক হেনরি লুইস ডিরোজিও।
- তিনি তাঁর ছাত্র-অনুসারীদের স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করার শিক্ষা দেন।

উল্লেখ্য,
- ডিরোজিও ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ডিরোজিও তাঁর স্কুল শিক্ষক ডেভিড ড্রামন্ডের প্রগতিবাদী, সংস্কারমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমৃদ্ধ মানবতাবাদী চিন্তাধারা দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন।
- বাংলার ‘রেনেসাঁস’ যুগের এই প্রতিভাবান তরুণ মাত্র তেইশ বছর বয়সে ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর হাতে গড়া অনুসারী, ছাত্ররা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখতে থাকেন।
- তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন, রামতনু লাহিড়ী, রাধানাথ সিকদার, প্যারিচাঁদ মিত্র, কৃষ্ণমোহন ব্যানার্জি প্রমুখ।

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৬৭.
কোনটি ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম?
  1. ক) নীল বিদ্রোহ
  2. খ) সিপাহী বিদ্রোহ
  3. গ) ফকির সন্ন্যাসি আন্দোলন
  4. ঘ) স্বদেশী আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
খ) সিপাহী বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সিপাহী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
সিপাহি বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে মঙ্গলপাণ্ডে নামে এক সিপাহী কর্তৃক গুলি বর্ষণের মাধ্যমে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে।
পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
তবে এ বিদ্রোহের ফলে ভারতে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে। ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার সরাসরি তার হাতে নিয়ে নেয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৯৬৮.
পর্তুগিজদের মধ্যে কোন দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে ভারতের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন?
  1. কাউন্ট লালী
  2. আলবুকার্ক
  3. ভাস্কো-ডা-গামা
  4. ফ্রান্সিসকো ডি আলমেদা
সঠিক উত্তর:
ভাস্কো-ডা-গামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাস্কো-ডা-গামা
ব্যাখ্যা
ইউরোপীয়দের আগমন: 
- ১৪৫৩ সালে কনস্টান্টিনোপল তুর্কিরা দখল করে নেয়।
- ফলে ভারতীয় উপমহাদেশের সাথে জলপথে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়।
- সুতরাং প্রাচ্যের সাথে পাশ্চাত্যের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য ভিন্ন জলপথ আবিষ্কারের প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
- মূলত এ কারণেই ইউরোপীয় শক্তিগুলো সমুদ্রপথে উপমহাদেশে আসার অভিযান শুরু করে।
- পর্তুগিজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে এদেশে আসেন, তাঁর নাম ভাস্কো-ডা-গামা।
- তিনি ১৪৯৮ সালের ২৭শে মে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন।
- উপমহাদেশে তাঁর এ আগমন ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৯৬৯.
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সর্বপ্রথম কোথায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে?
  1. বিহারে
  2. সুরাটে
  3. চন্দননগরে
  4. মালদহে
সঠিক উত্তর:
সুরাটে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুরাটে
ব্যাখ্যা

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- ব্রিটেনের রানী প্রথম এলিজাবেথের নিকট থেকে প্রাপ্ত সনদের মাধ্যমে ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
- ১৬১২ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৭০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করে।
- ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশী যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয়।
- ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে।
- এরপর ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার নিজে নিয়ে নেয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাপিডিয়া।

৯৭০.
ফকির মজনু শাহ নিম্নের কোন আন্দোলনের সাথে জড়িত?
  1. অসহযোগ আন্দোলন
  2. ওয়াহাবি আন্দোলন
  3. ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  4. সিপাহী বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
ফকির মজনু শাহ:
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ।
- ঐতিহাসিক ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নায়ক মজনু শাহ।
- তিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের মাদারিয়া তরিকার সুফি সাধক।
- ফকির মজনু শাহ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করেন।

উল্লেখ্য,
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ।
- ইংরেজ সরকার তীর্থস্থান দর্শনের উপর করারোপ করে, ভিক্ষা ও মুষ্টি সংগ্রহকে বেআইনি ঘোষণা করে। তাছাড়া তাদেরকে ডাকাত-দস্যু বলে আখ্যায়িত করতে থাকে।
- ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে ফকির সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনে অবতীর্ণ হয়।
- তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কুঠি, জমিদারদের কাছারি ও নায়েব-গোমস্তার বাড়ি।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
- এ সব সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা অনেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুঠ করে ।
- ফকির মজনু শাহ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭১.
রবার্ট ক্লাইভ কোন মুঘল সম্রাটের সাথে এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষর করেন?
  1. বাহাদুর শাহ জাফর
  2. দ্বিতীয় শাহ আলম
  3. আওরঙ্গজেব
  4. ফররুখসিয়ার
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় শাহ আলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় শাহ আলম
ব্যাখ্যা

রবার্ট ক্লাইভ:
- উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট ক্লাইভ।
- উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের ইতিহাসে রবার্ট ক্লাইভের স্থান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
- তরুণ বয়সে মাদ্রাজে (বর্তমান চেন্নাই) ঈস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরী গ্রহণ করে স্বীয় কর্ম প্রচেষ্টার দ্বারা উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছেন।
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে রবার্ট ক্লাইভ সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষর করলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করে দ্বৈত শাসন প্রবর্তন করে।
- রবার্ট ক্লাইভের চারিত্রিক দোষ থাকা সত্বেও উপমহাদেশে ইংরেজ শক্তির গোড়াপত্তনে তাঁর অবদান অস্বীকার করা যায় না।
- উপমহাদেশের ইতিহাসে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্থপতি ও প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে লর্ড ক্লাইভের নাম অবিস্মরণীয়।
- কেননা প্রথম পর্যায়ে তিনি দাক্ষিণাত্যে কোম্পানিকে রক্ষা করেন।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে তিনি বাংলা জয় করেন। তৃতীয় পর্যায়ে তিনি নবাব ও সম্রাটকে নিয়ন্ত্রণ করে সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হন এবং ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৭২.
সিপাহী বিদ্রোহের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড রিপন
  3. লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. লর্ড ক্যানিং
সঠিক উত্তর:
লর্ড ক্যানিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা

সিপাহী বিদ্রোহ:
- সিপাহী বিদ্রোহ সংঘটিত হয় ১৮৫৭ সালে।
- এটি ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম।
- সংঘটনের সময়: পলাশী যুদ্ধের প্রায় ১০০ বছর পর।
- নেতৃত্ব: প্রধানত সিপাহীরা (উত্তর ও পূর্ব ভারতে বিস্তৃত)।
- ব্যারাকপুরে প্রথম বিদ্রোহ করেন: মঙ্গল পাণ্ডে।
- সিপাহী বিদ্রোহের প্রথম শহীদ: মঙ্গল পাণ্ডে।
- বিদ্রোহকালীন গভর্নর জেনারেল: লর্ড ক্যানিং।
- ফলাফল: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান।
- কোম্পানি শাসনের অবসান কার্যকর: ১৮৫৮ সালে (ভারত শাসন আইন)।
- স্মৃতিবিজড়িত স্থান: বাহাদুর শাহ পার্ক।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৭৩.
বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রথম রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হয় কোথায়?
  1. ক) জগতী থেকে পাকশী
  2. খ) ঈশ্বরদী থেকে সৈয়দপুর
  3. গ) দর্শনা থেকে জগতী
  4. ঘ) পাকশী থেকে চিলাহাটি
সঠিক উত্তর:
গ) দর্শনা থেকে জগতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দর্শনা থেকে জগতী
ব্যাখ্যা
বর্তমান বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ভাইসরয় লর্ড এলগিনের সময়ে ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গা দর্শনা থেকে কুষ্টিয়ার জগতী পর্যন্ত ৫৩ কিলোমিটার প্রথম রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হয়।
- ভারতীয় উপমহাদেশে ১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল লর্ড ডালহৌসির সময়ে মুম্বাইয়ে প্রথম রেললাইন স্থাপিত হয়।
- ১৮৫৪ সালে হাওড়া থেকে হুগলি পর্যন্ত বাংলায় প্রথম রেললাইন স্থাপিত হয়।
- জর্জ স্টিফেনসনের যুগান্তকারী প্রচেষ্টায় ১৮২৫ খ্রিস্টাব্দের ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বের প্রথম ইংল্যান্ডে রেলপথ ব্যবস্থা চালু হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৯৭৪.
ফরায়েজী আন্দোলনের নেতৃত্ব দানকারী দুদু মিয়ার পুরো নাম কী?
  1. ক) নেসার আলী
  2. খ) মুহাম্মদ মহসীন উদ্দীন
  3. গ) মীর লতিফ
  4. ঘ) শওকত বেগ
সঠিক উত্তর:
খ) মুহাম্মদ মহসীন উদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুহাম্মদ মহসীন উদ্দীন
ব্যাখ্যা
- ফরায়েজী আন্দোলন  ঊনিশ শতকে বাংলায় গড়ে ওঠা একটি সংস্কার আন্দোলন।
- প্রাথমিক পর্যায়ে এ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ধর্ম সংস্কার। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এই আন্দোলনে আর্থ-সামাজিক সংস্কারের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
- ফরায়েজী শব্দটি ‘ফরজ’ থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহ কর্তৃক নির্দেশিত অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। কাজেই ফরায়েজী বলতে তাদেরকেই বোঝায় যাদের লক্ষ্য হচ্ছে অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর্তব্যসমূহ কার্যকর করা।
- এ আন্দোলনের প্রবক্তা হাজী শরীয়তউল্লাহ।
- তিনি অবশ্য শব্দটিকে ব্যাপক অর্থে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে, অবশ্য পালনীয়ই হোক বা ঐচ্ছিকই হোক, কুরআন ও সুন্নাহ নির্দেশিত সকল ধর্মীয় কর্তব্যই এর অন্তর্ভুক্ত।
- শরীয়তউল্লাহ হজ্ব পালনের জন্য মক্কায় যান এবং সেখানে বিশ বছর অবস্থান করে হানাফি শাস্ত্রজ্ঞ শেখ তাহির সোম্বলের নিকট ধর্মশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন।
- দেশে ফিরে তিনি দেখতে পান যে, বাংলার মুসলমানদের একটি অংশ বহুবিধ স্থানীয় লোকাচার ও পর্ব-উৎসব পালনে উৎসাহী হয়ে ইসলামের মৌলিক শিক্ষার প্রতি চরম উদাসীন হয়ে উঠেছেন।
- সে কারণেই তিনি ফরায়েজী আন্দোলন শুরু করেন এবং কালক্রমে এ আন্দোলন সমগ্র পূর্ববঙ্গে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
- ১৮৪০ সালে শরীয়তউল্লাহর মৃত্যুর পর তার পুত্র মুহাম্মদ মুহসীনউদ্দিন ওরফে দুদু মিয়া এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। তিনি ফরায়েজী আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেন।
- ১৮৬২ সালে দুদু মিয়ার মৃত্যুর পর সুযোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজী আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
৯৭৫.
ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. মুর্শিদাবাদ
  3. কলকাতা
  4. আগ্রা
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
ব্যাখ্যা

ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ:
- ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের সর্বাধিক বিখ্যাত দুর্গ হলো ফোর্ট উইলিয়াম।
- ফোর্ট উইলিয়ামের মাধ্যমেই ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের ঘাঁটি নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- বিখ্যাত এই দুর্গটি কলকাতায় অবস্থিত।
- ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের একটি বড় নিদর্শন এই দুর্গ।
- ইংল্যান্ডের রাজা তৃতীয় উইলিয়ামের নামে নামকরণ করা হয়েছে ।
- অন্যান্য ইউরোপীয় বণিকদের মতো ইংরেজ বণিকদেরকেও এ অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যে উৎসাহিত করে; ইংল্যান্ডের একদল বণিক ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' নামে একটি বণিক সংঘ গঠন করে।
- এই সংঘটি ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে রাণী এলিজাবেথের কাছ থেকে ১৫ বছর মেয়াদি একচেটিয়া বাণিজ্য করার সনদপত্র লাভ করে।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সুরাট, আগ্রা, আহমদাবাদ, মসলিপট্টমে বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করে এদেশে তাদের ভিত্তি মজবুত করে ফেলে।
- বাংলার সুবেদার শাহ সুজার অনুমতি নিয়ে ১৬৫৮ খ্রিস্টাব্দে হুগলিতে একটি বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- এছাড়া ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কাশিমবাজার, ঢাকা, মালদহেও তাদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করতে সক্ষম হয়।
- ভাগীরথী নদীর তীরের তিনটি গ্রামকে কেন্দ্র করেই কোলকাতা নগরীর জন্ম হয়।
- এখানেই কোম্পানি ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যন্ডের রাজা তৃতীয় উইলিয়মের নাম অনুসারে নির্মাণ করে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৭৬.
Who among the following had led the Aligarh Movement?
  1. Sir Sayyid Ahmad Khan
  2. Maulana Muhammad Ali
  3. Syed Ameer Ali
  4. Altaf Hussain
  5. Nawab Abdul Latif
সঠিক উত্তর:
Sir Sayyid Ahmad Khan
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Sir Sayyid Ahmad Khan
ব্যাখ্যা
আলীগড় আন্দোলন:
- আলীগড় আন্দোলন হচ্ছে আলীগড়ভিত্তিক সমাজ সংস্কারমূলক আন্দোলন।
- স্যার সৈয়দ আহমদ খানের নেতৃত্বে আলীগড় আন্দোলন সংঘটিত হয়। 

⇒ ১৮৭৫ সালে সৈয়দ আহমদ খান আলীগড়ে 'মোহামেডান এ্যাংলো ওরিয়েন্টাল স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৭৭ সালে এটি কলেজে উন্নীত হয়।
- এ কলেজ প্রতিষ্ঠার পর আলীগড় ভারতীয় মুসলমানদের ধর্মীয়, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
- সৈয়দ আহমদ খান এ আলীগড় কলেজকে কেন্দ্র করে অধঃপতিত অবস্থা থেকে মুসলমানদের পুনরুদ্ধার ও তাদের পুনর্জাগরণের জন্য একটি আন্দোলন পরিচালনা করেন।
- ইতিহাসে এটিই 'আলীগড় আন্দোলন' নামে প্রসিদ্ধ।
- এ আন্দোলন মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক ভাবধারা ও চিন্তা-চেতনা জাগ্রত করে।
- পরবর্তীকালে আলীগড় কলেজ ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক জীবনকেও প্রভাবিত করেছিল।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭৭.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন কে?
  1. লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. লর্ড হেস্টিংস 
  3. লর্ড বেন্টিংক 
  4. লর্ড ডালহৌসি 
সঠিক উত্তর:
লর্ড কর্নওয়ালিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত: 
- কোম্পানির শাসন দুর্নীতিমুক্ত ও সুসংগঠিত করতে ১৭৮৬ সালে লর্ড কর্নওয়ালিসকে ভারতের গভর্নর জেনারেল ও সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়।
- তিনি ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- ঐ বছর ২২শে মার্চ নির্দিষ্ট রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির ওপর স্থায়ী মালিকানা দান করে যে বন্দোবস্ত চালু করা হয়, তাকেই 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' বলা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৯৭৮.
ইউরোপীয়দের মধ্যে কারা প্রথম চট্টগ্রামে আগমন করে?
  1. ফরাসিরা
  2. পর্তুগিজরা
  3. ডাচরা
  4. ইংরেজরা
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজরা
ব্যাখ্যা

চট্টগ্রাম:
- চট্টগ্রাম বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর ও বাণিজ্যিক রাজধানী।
- এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বঙ্গোপসাগরের মধ্যবর্তী কর্ণফুলী নদীর তীরে চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত।

⇒ ইউরোপীয়দের মধ্যে পর্তুগিজরাই প্রথম চট্টগ্রামে আগমন করে
- পর্তুগিজরা প্রথমে জন দ্য সিলভিরার নেতৃত্বে ১৫১৭ সালে এবং পরে আলফন্সো দ্য মিলোর নেতৃত্বে ১৫২৭ সালে চট্টগ্রাম দখলের ব্যর্থ চেষ্টা করে। 
- তারা বাংলার সুলতান মাহমুদ শাহকে সাহায্য করার বিনিময়ে তার কাছ থেকে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়েরও অধিকার লাভ করে। 
- এটিকে পর্তুগিজরা পোর্টো গ্র্যান্ডে নামকরণ করেন।
- জোয়াও ডি ব্যারোস ১৫৫২ সালে 'বাংলা রাজ্যের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং ধনী শহর' হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন। 
- সাতগাঁও বন্দরের নামকরণ হয় ‘পোর্টো পেকুইনে’।
- ১৬৬৫-৬৬ সালে বাংলার মুগল সুবাহদার শায়েস্তা খান চট্টগ্রাম অভিযান করে অতর্কিত আক্রমণে বন্দরটি দখল করে নেন।
- চট্টগ্রাম ১৭৬০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) Britannica.

৯৭৯.
কোন দেশের অধিবাসীদের দিনেমার বলা হয়?
  1. আয়ারল্যান্ড
  2. নিউজিল্যান্ড
  3. ডেনমার্ক
  4. নেদারল্যান্ডস
সঠিক উত্তর:
ডেনমার্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেনমার্ক
ব্যাখ্যা
• দিনেমার:
→ ডেনমার্কের অধিবাসীদের দিনেমার বলা হয়।
→ ১৬১৬ খ্রিস্টাব্দে দিনেমারগণ উপমহাদেশে বাণিজ্য করার জন্য ‘দিনেমার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ গঠন করে এবং দক্ষিণ ভারতের ত্রিবাঙ্কুরে ও কলকাতার শ্রীরামপুরে তাদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
→ অবশেষে দিনেমারগণ কোনো প্রকার বাণিজ্যিক সফলতা ছাড়াই এদেশ থেকে চিরতরে বিদায় নেয়।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮০.
কাকে হত্যা চেষ্টার দায়ে বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর ফাঁসি হয়েছিল?
  1. এন্ড্রু ফ্রেজার
  2. জেনারেল ডায়ার
  3. ব্যামফিল্ড ফুলার
  4. কিংস ফোর্ড
সঠিক উত্তর:
কিংস ফোর্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিংস ফোর্ড
ব্যাখ্যা
ক্ষুদিরাম বসু:
- তিনি ১৮৮৯ সালে মেদিনীপুর জেলার হাবিবপুর গ্রামে ক্ষুদিরামের জন্ম গ্রহণ করেন।
- ১৯০৬ সালের মার্চে মেদিনীপুরের এক কৃষি ও শিল্পমেলায় রাজদ্রোহমূলক ইস্তেহার বণ্টনকালে ক্ষুদিরাম প্রথম পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
- বঙ্গভঙ্গ বিরোধী ও স্বদেশী আন্দোলনের কর্মীদের প্রয়োজনভিত্তিক কঠোর সাজা ও দমননীতির কারণে কলকাতার প্রধান প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ড বাঙালিদের অত্যন্ত ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন।
- ১৯০৮ সালে ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে হত্যার উদ্দেশ্যে ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকীর উপর এ দায়িত্ব পড়ে।
- ভুলবশত অন্য গাড়িতে বোমা পড়ায় এক ইংরেজ মহিলা ও তার মেয়ে মারা যান।
- এ ঘটনার পর ক্ষুদিরাম ওয়ানি রেলস্টেশনে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন।
- তিনি বোমা নিক্ষেপের সমস্ত দায়িত্ব নিজের উপর নিয়ে নেন।
- ১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট মুজফ্ফরপুর জেলে তার ফাঁসি কার্যকর হয়।

সূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৯৮১.
'ফোর্ট উইলিয়াম' দুর্গ কোথায় নির্মিত হয়েছিল? 
  1. দিল্লী 
  2. কলকাতা
  3. হায়দ্রাবাদ
  4. মাদ্রাজ
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
ব্যাখ্যা

• ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ: 
- ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের সর্বাধিক বিখ্যাত দুর্গ হলো ফোর্ট উইলিয়াম।
- ফোর্ট উইলিয়ামের মাধ্যমেই ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের ঘাঁটি নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- বিখ্যাত এই দুর্গটি কলকাতায় অবস্থিত।
- ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের একটি বড় নিদর্শন এই দুর্গ।
- বাস্তবে দুটি ফোর্ট উইলিয়াম ছিল : একটি পুরনো, অন্যটি নতুন। পুরনো দুর্গটি ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির সূচনাকালের সৃষ্টি।
- স্যার চার্লস আইয়ার এই দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন।
- তাঁর উত্তরসূরি জন বিয়ার্ড ১৭০১ সালে ফোর্ট উইলিয়ামের উত্তর-পূর্বাংশের দুর্গপ্রাচীর সংযোজন করেন।
- ১৭০২ সালে তিনি দুর্গের মধ্যভাগে বাণিজ্যকুঠি বা 'গভর্নমেন্ট হাউস' নির্মাণ শুরু করেন, যা ১৭০৬ সালে শেষ হয়।
- এরপর ইংল্যান্ডের রাজার সম্মানে দুর্গটির নামকরণ করা হয় ফোর্ট উইলিয়াম।
- ১৯৫৬ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা আক্রমণ করে ফোর্ট উইলিয়াম দখল করেন এবং ইংরেজদের তাড়িয়ে দেন।
- পরে পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজরা জয়ী হলে উপমহাদেশে ইংরেজদের অবস্থান সংহত হতে থাকে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।

৯৮২.
When was Permanent Settlement established in British India?
  1. in 1791
  2. in 1792
  3. in 1793
  4. in 1739
  5. in 1731
সঠিক উত্তর:
in 1793
উত্তর
সঠিক উত্তর:
in 1793
ব্যাখ্যা
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
- ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস ‘পাঁচসালা বন্দোবস্ত এবং ‘একসালা বন্দোবস্ত' প্রবর্তন করেন।
- কিন্তু এ দুটি বন্দোবস্ত রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হয়নি।
- এমতাবস্থায় গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিশ নানা বিচার-বিশ্লেষণ করে ১৭৯৩ সালে ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এক নতুন প্রথার প্রবর্তন করেন।
- ইতিহাসে এটি ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- এটি ছিল ইংরেজদের একটি সাম্রাজ্যবাদী বিধিব্যবস্থা।
- এর মাধ্যমে ইংরেজরা এদেশে তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন।
- এক্ষেত্রে তারা অনেক সফলতা লাভ করলেও এ ব্যবস্থার ফলে সাধারণ কৃষক এমনকি অনেক সম্ভ্রান্ত বনেদি জমিদার সর্বশান্ত হয়ে পড়ে।
- অন্যদিকে নগদ টাকার মালিক ও পুঁজিপতি মহাজনরা রাতারাতি জমিদারে পরিণত হয়।
- নব সৃষ্ট এ জমিদার শ্রেণী ইংরেজ শাসনের জন্য একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি স্থাপনে সহায়ক শক্তির ভূমিকা পালন করে।
- ১৯৫০ সালে এ ব্যবস্থা উচ্ছেদ করা হয় ।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮৩.
বেঙ্গল মুভমেন্টের প্রবক্তা ছিলেন -
  1. ক্ষুদিরাম
  2. ডিরোজিও
  3. সুভাষচন্দ্র বসু
  4. উইলিয়াম কেরি
সঠিক উত্তর:
ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
ডিরোজিও ও ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট:
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধ জুড়ে ছিল রাজা রামমোহন রায়ের আন্দোলনের ধারা। দৃঢ়ভাবে সে ধারাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল হিন্দু কলেজের প্রতিভাবান ছাত্রবৃন্দ ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলনের মাধ্যমে । যার নেতৃত্বে ছিলেন হিন্দু কলেজের তরুণ অধ্যাপক হেনরি লুইস ডিরোজিও।
- তিনি তাঁর ছাত্র-অনুসারীদের স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করার শিক্ষা দেন।
- ডিরোজিও ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ডিরোজিও তাঁর স্কুল শিক্ষক ডেভিড ড্রামন্ডের প্রগতিবাদী, সংস্কারমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমৃদ্ধ মানবতাবাদী চিন্তাধারা দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন।
- বাংলার ‘রেনেসাঁস’ যুগের এই প্রতিভাবান তরুণ মাত্র তেইশ বছর বয়সে ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর হাতে গড়া অনুসারী, ছাত্ররা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখতে থাকেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন, রামতনু লাহিড়ী, রাধানাথ সিকদার, প্যারিচাঁদ মিত্র, কৃষ্ণমোহন ব্যনার্জি প্রমুখ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮৪.
কোন আইনের মাধ্যমে উপমহাদেশে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে?
  1. পিটের ইন্ডিয়া এ্যাক্ট, ১৮৩৫
  2. পিটের ইন্ডিয়া এ্যাক্ট, ১৮৫৮
  3. ইন্ডিয়া অ্যাক্ট, ১৮৩৫
  4. ইন্ডিয়া অ্যাক্ট, ১৮৫৮
সঠিক উত্তর:
ইন্ডিয়া অ্যাক্ট, ১৮৫৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্ডিয়া অ্যাক্ট, ১৮৫৮
ব্যাখ্যা
ইন্ডিয়া অ্যাক্ট:
- ইন্ডিয়া অ্যাক্ট, ১৮৫৮ এর মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটায় এবং এর বদলে সরাসরি ব্রিটিশ সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি ছিল ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লবের প্রত্যক্ষ ফল।
- এভাবে বিপ্লবের অব্যবহিত পরেই পার্লামেন্ট ভারতীয় প্রশাসনের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করে।
- ১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট পার্লামেন্ট ইন্ডিয়া অ্যাক্ট আইনের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে রাজ শাসন প্রতিষ্ঠা করে।
- এ আইন বোর্ড অব কন্ট্রোল এবং কোর্ট অব ডাইরেক্টর্স-এর দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটায়।

অন্যদিকে,
• পিটের ইন্ডিয়া এ্যাক্ট (১৭৮৪ খ্রিঃ):
- রেগুলেটিং এ্যাক্ট-এর ভুলত্রুটি সংশোধনের জন্য ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী উইলিয়াম পিট একটি আইন পাস করেন যা ইতিহাসে 'পিট এর ইন্ডিয়া এ্যাক্ট' নামে পরিচিত।
- এ আইন দ্বারা পার্লামেন্ট উপমহাদেশ শাসনের সকল ক্ষমতা গ্রহণ করে।
- এ আইনের বলে ব্রিটিশ সরকারের নিযুক্ত ৬ জন এবং ইংল্যান্ডের মন্ত্রী সভার ১ জন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত 'বোর্ড অফ কন্ট্রোল' এর উপর উপমহাদেশ শাসন ও পর্যবেক্ষণের ভার অর্পিত হয়।
- গভর্নর জেনারেলের ক্ষমতা বাড়ানো হয়।
- সুপ্রীম কোর্টের ক্ষমতা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়।
- এছাড়া, কোম্পানির তিনজন ডাইরেক্টর নিয়ে একটি সাগর বঙ্গোপসাগর ইংরাজী সাইন ভারতবর্ষ, ওয়ারেন হেস্টিংসের সময় 'সিক্রেট কমিটি'ও গঠিত হয়। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮৫.
বেঙ্গল প্যাক্ট স্বাক্ষরিত হয় কত সালে?
  1. ১৯০৫ সালে
  2. ১৯১১ সালে
  3. ১৯২৩ সালে
  4. ১৯২৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ সালে
ব্যাখ্যা

→ বেঙ্গল প্যাক্ট স্বাক্ষরিত হয় ১৯২৩ সালে।

বেঙ্গল প্যাক্ট:
- অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলন কার্যত ব্যর্থ হলে ভারতবর্ষে হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কে মারাত্মক অবনতি ঘটে।
- আন্দোলনে ব্যর্থতার জন্য হিন্দু-মুসলমান নেতৃবৃন্দ পরস্পরকে দোষারোপ করে বক্তৃতা-বিবৃতি প্রদান করেন। 
- এ বিষয়টি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসকে বিচলিত করে তোলে। তিনি বিশ্বাস করতেন, ভারতের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার
জন্য হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।
- এ ঐক্য প্রতিষ্ঠায় তিনি বাংলা প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ অথচ পশ্চাৎপদ বাঙালি মুসলমানদেরকে তাদের যৌক্তিক সুযোগ-সুবিধা দানের পক্ষপাতী ছিলেন।
- এ বিষয়ে তিনি শের-ই-বাংলা এ.কে. ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে আলোচনা করেন।
- একই সঙ্গে তিনি মৌলভী আব্দুল করিম, মওলানা আকরাম খান, মৌলভী মজিবর রহমান প্রমুখ নেতাদের সঙ্গেও রাজনৈতিক সমস্যা এবং দাবি-দাওয়া নিয়ে
বৈঠক করেন।
- কংগ্রেস থেকে বের হয়ে এসে ১৯২২ সালে তিনি গঠন করেন 'স্বরাজ পার্টি'।
- স্বরাজ দলের সভাপতি হিসেবে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস মুসলমান নেতাদের সঙ্গে ১৯২৩ সালে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
- এ চুক্তির লক্ষ্য ছিলো, বাংলায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতি জোরদারকরণ।
- ইতিহাসে এই চুক্তিই 'বেঙ্গল প্যাক্ট' নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৯৮৬.
সর্বভারতীয় প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন কোনটি?
  1. ক) ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন
  2. খ) নিখিল ভারত মুসলিম লীগ
  3. গ) ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
  4. ঘ) ইন্ডিয়ার সিভিল অ্যালয়েন্স
সঠিক উত্তর:
গ) ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
ব্যাখ্যা
- সর্বভারতীয় প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন হলো ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়।
- কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা হলেন ইংরেজ সিভিলিয়ান অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম। ব্রিটিশ সরকারের নিকট শান্তিপূর্ন উপায়ে দাবী-দাওয়া পেশের মাধ্যম হিসেবে কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- ১৮৮৫ সালের ডিসেম্বরে কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন বসে মুম্বাইয়ে। এতে সভাপতিত্ব করেন বাঙালি ব্যারিস্টার উমেশচন্দ্র ব্যানার্জি।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৯৮৭.
১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন কে?
  1. লর্ড কার্জন
  2. ব্যামফিল্ড ফুলার
  3. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  4. লর্ড রিপন
সঠিক উত্তর:
লর্ড কার্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড কার্জন
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫-১৯১১ সাল): 
- হিন্দুদের বড়ো অংশ বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করে এবং মুসলমানদের বড়ো অংশ বঙ্গভঙ্গকে সমর্থন করে। 
- ভারতের বড় লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন।
- এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- ভাগ হবার পূর্বে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, মধ্যপ্রদেশ, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও আসামের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিল বাংলা প্রদেশ বা বাংলা প্রেসিডেন্সি। 
- প্রকৃতপক্ষে ১৯০৩ সালে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা গৃহীত হয়।
- ১৯০৪ সালে ভারত সচিব এটি অনুমোদন করেন এবং ১৯০৫ সালের জুলাই মাসে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়।
- সে বছর অক্টোবরে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়।
- এই পরিকল্পনায় বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী এবং ভারতের আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদহ নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব বাংলা ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ।
- প্রদেশের রাজধানী হর ঢাকা।
- অপরপক্ষে পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশ, যার রাজধানী হয় কোলকাতা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৯৮৮.
সিপাহী বিদ্রোহ কত সালে সংঘটিত হয়?
  1. ১৭৫৭ সালে
  2. ১৮৫৭ সালে
  3. ১৭৮৯ সালে
  4. ১৮৭৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৫৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৭ সালে
ব্যাখ্যা

সিপাহী বিদ্রোহ ১৮৫৭ সালে সংঘটিত হয়। 

• সিপাহী বিদ্রোহ:
- এটি ছিল ব্রিটিশ শাসন অবসানকল্পে ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা ‘স্বাধীনতা লড়াই'।
- ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে ‘মঙ্গল পান্ডে' নামক একজন সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।
- এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।

⇒ এ সংগ্রামের কারণকে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ এ দু শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।
পরোক্ষ কারণ:
- রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও সামরিক অসন্তোষ।

প্রত্যক্ষ কারণ:
- ১৮৫৬ সালে সেনাবাহিনীতে ‘এনফিল্ড রাইফেল' প্রচলন করা হয়।
- এতে ব্যবহৃত কার্তুজ দাঁতে কেটে ভরতে হতো।
- গুজব রটে যে, এ কার্তুজে শুকর ও গরুর চর্বি মেশানো আছে।
- এটি ধর্মনাশের একটি পরিকল্পিত ও সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র বলে ভারতের হিন্দু-মুসলমান সিপাহীদের মধ্যে দারুন বিক্ষোভের সূচনা করে। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৮৯.
১৯৪৩ সালে বাংলায় সংঘটিত দুর্ভিক্ষ কী নামে পরিচিত?
  1. ক) সত্তরের মন্বন্তর
  2. খ) পঞ্চাশের মন্বন্তর
  3. গ) ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
  4. ঘ) তেতাল্লিশের মন্বন্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পঞ্চাশের মন্বন্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পঞ্চাশের মন্বন্তর
ব্যাখ্যা
১৯৪৩ সালে বাংলায় সংঘটিত দুর্ভিক্ষ পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত। বাংলা ১৩৫০ সালে এই দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হওয়ায় এটিকে পঞ্চাশের মন্বন্তর বলা হয়।

এ দুর্ভিক্ষে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ মারা যায়। এ দুর্ভিক্ষের জন্যে কৃত্রিম সংকটকে দায়ী করা হয়। এ দুর্ভিক্ষকে কেন্দ্র করে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৯৯০.
ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ কত সালে উত্থাপন করা হয়?
  1. ১৯৩৭ সালে
  2. ১৯৪৪ সালে
  3. ১৯৪০ সালে
  4. ১৯৪২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪০ সালে
ব্যাখ্যা
• লাহোর প্রস্তাব:

- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব পেশ করেন।
- লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল দ্বিজাতি তত্ত্ব।
- এ প্রস্তাবের কোথাও পাকিস্তান শব্দটি ছিল না। তথাপি এ প্রস্তাব ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
- এ প্রস্তাব ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে পৃথক আবাসভূমির স্বপ্ন বপন করে।
- কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ লাহোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। 
- এ প্রস্তাবে ভারতে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও ১৯৪৬ সালের দিল্লি অধিবেশনে কেবল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গৃহীত হয়।
 
তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯১.
ভারতীয় উপমহাদেশে কত সালে রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাস হয়?
  1. ১৭৭১ সালে
  2. ১৭৭৩ সালে
  3. ১৮৮২ সালে
  4. ১৮৮৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৭৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৭৩ সালে
ব্যাখ্যা

রেগুলেটিং অ্যাক্ট:
- উপমহাদেশে কোম্পানির যাবতীয় কাজ প্রথমে ইংল্যান্ডের বোর্ড অব ডাইরেক্টরস পরিচালনা করত।
- কালক্রমে এদেশে রাজ্য বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শাসন কাজেও নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
- এ বিশৃংখলা দূর করার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সর্বপ্রথম উপমহাদেশের শাসন কাজে হস্তক্ষেপ করে।
- তদানীন্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড নর্থ ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে উপমহাদেশে শাসন আইন নামে একটি আইন পাস করেন যা 'রেগুলেটিং অ্যাক্ট' নামে ইতিহাসে বিখ্যাত।
- রেগুলেটিং অ্যাক্ট-এর দ্বারা বোর্ড অব ডাইরেকট্রসকে ব্রিটিশ সরকারের নিকট কোম্পানির শাসন ও রাজস্ব সম্পর্কে সকল তথ্য পাঠাতে হতো।
- বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল আখ্যা দেয়া হয়।
- এই রেগুলেটিং অ্যাক্ট অনুসারে বাংলার গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৯২.
বাংলার 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' এর সময়কাল কবে ছিল?
  1. ক) ১৭৭০ খ্রি.
  2. খ) ১৭৬০ খ্রি.
  3. গ) ১৯৬৫ খ্রি.
  4. ঘ) ১৭৫৬ খ্রি.
সঠিক উত্তর:
ক) ১৭৭০ খ্রি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৭৭০ খ্রি.
ব্যাখ্যা
- রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রণয়ন করলে দেওয়ানি চলে যায় কোম্পানির হাতে আর প্রশাসনিক ক্ষমতা থাকে নবাবের হাতে।
- ফলে বাংলায় এক অভূতপর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়।
- এর ফল হিসেবে ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- এ দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয়।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৯৯৩.
‘ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ গঠিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে
  2. খ) ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে
  3. গ) ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে
  4. ঘ) ১৬৬৭ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
ক) ১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• ফরাসি:
- উপমহাদেশে ফরাসিদের আগমন সবার শেষে।
- ১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি মন্ত্রী কোলবার্টের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘ফরাসি ইস্ট  ইন্ডিয়া কোম্পানি’ গঠিত হয় এবং ভারতবর্ষে বাণিজ্য শুরু করে।
- প্রথমে তারা মুম্বাইয়ের সুরাটে ও পরে পন্ডিচেরীতে কুঠি স্থাপন করে। অল্পদিনের মধ্যেই তারা বাংলার চন্দননগরে আরও একটি কুঠি স্থাপন করে। ফরাসিরা উপমহাদেশে প্রায় একশ বছর বাণিজ্য করে।

- ইংরেজগণ ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ফরাসিদের চন্দননগর এবং ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পন্ডিচেরী কুঠি দখল করে নেয়।
- স্বদেশে ইংরেজ ও ফরাসিদের মধ্যে বিবাদের জের হিসেবে এখানেও বিবাদ চলতে থাকে। কিন্তু ইংরেজগণ উন্নততর সামরিক শক্তি ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উপমহাদেশের রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করে নেয়।
- পরপর তিনটি কর্ণাটক যুদ্ধে ফরাসিরা পরাজিত হলে ফরাসিদের সাম্রাজ্য ও বাণিজ্য বিস্তারের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। ফলে তাদের উপমহাদেশ থেকে বিদায় নিতে হয়। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯৪.
তিতুমীর নিম্নের কোন আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন?
  1. ফরায়েজি আন্দোলন
  2. ওয়াহাবি আন্দোলন
  3. আলীগড় আন্দোলন
  4. স্বদেশী আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ওয়াহাবি আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়াহাবি আন্দোলন
ব্যাখ্যা

ওয়াহাবি আন্দোলন:
- পূর্ব ও পশ্চিম বাংলায় প্রায় একই সময়ে দুটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের শুরু হয়।
- পূর্ব বাংলার আন্দোলনটি ফরায়েজি আন্দোলন নামে পরিচিত, আর পশ্চিম বাংলার আন্দোলনের নাম ওয়াহাবি বা ‘তারিক-ই- মুহম্মদীয়া'।
- ওয়াহাবি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তিতুমীর।
- ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে এ আন্দোলন শুরু এবং শেষ হয় ১৮৩১ ক্রিস্টাব্দে তিতুমীরের শাহাদাৎ বরণের মধ্য দিয়ে।

⇒ উনিশ শতকে ভারতবর্ষে মুসলমান সমাজের ধর্মীয়, সামাজিক কুসংস্কার দূর করে মুসলিম সম্প্রদায়কে ধর্মীয় অনুশাসন পালনের সঠিক পথ নির্দেশ করাই এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল।
- বাংলার ওয়াহাবিরাও তিতুমীরের নেতৃত্বে একই উদ্দেশ্যে সংগঠিত হয়েছিল।
- তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত 'তাহরিক-ই-মুহম্মদীয়া' আন্দোলন বা ওয়াহাবি আন্দোলন ছিল উত্তর ভারতের সৈয়দ আহমদ শহীদের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত।
- তাঁর এই ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনে বহু মুসলমান, বিশেষ করে চব্বিশ পরগনা এবং নদীয়া জেলার বহু কৃষক, তাঁতী স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দেয়।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিতুমীর তাঁর প্রধান ঘাটি স্থাপন করেন। নির্মাণ করেন ইতিহাস খ্যাত তাঁর বাঁশের কেল্লা।
- গোলাম মাসুমের নেতৃত্বে গড়ে তোলেন সুদক্ষ শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনী।
- ইংরেজ জমিদার, নীলকরদের দ্বারা নির্যাতিত কৃষকরা দলে দলে তিতুমীরের বাহিনীতে যোগ দিলে ধর্ম সংস্কার আন্দোলন একটি ব্যাপক কৃষক আন্দোলনে রূপ নেয়। ফলে কৃষকদের সংঘবদ্ধতা এবং তিতুমীরের শক্তি বৃদ্ধিতে শঙ্কিত হয়ে উঠে শাসক-শোষক, জমিদার শ্রেণি।

⇒ জমিদারদের প্ররোচনায় ইংরেজ সরকার তিতুমীর এবং তার অনুসারীদের দমনের জন্য বারাসাতের ম্যাজিস্ট্রেট আলেকজেন্ডারের নেতৃত্বে একদল সৈন্য পাঠায়। কিন্তু তারা তিতুমীরের বাহিনীর কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। ১৫ জন ইংরেজ সৈন্য নিহত ও বহু আহত হয়। এতে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন বড় লাট লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক। শেষ পর্যন্ত ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে তিতুমীরের বিরুদ্ধে ইংরেজ সরকার এক বিশাল সুশিক্ষিত সেনা বাহিনী প্রেরণ করে। মেজর স্কটের নেতৃত্বে এই বাহিনী তিতুমীরের নারিকেলবাড়িয়ার বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে। ইংরেজদের কামান বন্দুকের সামনে বীরের মতো লড়াই করে পরাজিত হয় তিতুমীরের বাহিনী। তিনি যুদ্ধে নিহত হন। এ ভাবেই পরিসমাপ্তি ঘটে একটি সুসংগঠিত কৃষক আন্দোলনের। 

⇒ মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিতুমীর হজকরার জন্য মক্কা শরিফ যান এবং ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে দেশে ফিরে আসেন। দেশের ফিরে তিনি ধর্মীয় সংস্কার কাজে আত্মনিয়োগ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৯৫.
দেশ ভাগের সময় আসামের কোন জেলাটি গনভোটের মাধ্যমে পাকিস্তানে যোগ দেয়?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) চট্রগ্রাম
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) দিনাজপুর
সঠিক উত্তর:
ক) সিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সিলেট
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৭ সালের ৩ জুলাই সরকারি ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ৬ ও ৭ জুলাই সিলেটে গণভোটের তারিখ নির্ধারিত হয়।
- সিলেট পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত পূর্ববাংলায় যোগদান করবে, নাকি ভারতের অন্তর্ভুক্ত আসাম প্রদেশে থাকবে তা নির্ধারণের জন্যই গণভোটের ব্যবস্থা করা হয়।
- গণভোট পরিচালনার জন্য এইচ.সি স্টর্ককে রেফারেন্ডাম কমিশনার নিযুক্ত করা হয়।
- ২৩৯টি কেন্দ্রের জন্য নিযুক্ত করা হয় ৪৭৮ জন প্রিজাইডিং অফিসার ও ১৪৩৪ জন পুলিং অফিসার।

গণভোটের ফলাফল ছিল নিম্নরূপ-
মোট ভোট ছিল- ৫৪৬৮১৫
পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত পূর্ববাংলায় যোগদানের পক্ষে ভোট পড়ে- ২৩৯৬১৯
ভারতের অন্তর্ভুক্ত আসাম প্রদেশে যোগদানের পক্ষে ভোট পড়ে- ১৮৪০৪১

সুতরাং সিলেটবাসী বিপুল ভোটাধিক্যে পূর্ববঙ্গের সাথে অন্তর্ভুক্তির পক্ষে রায় দেয়।
- ৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই’র ভারত স্বাধীনতা আইনের ধারা ৩ অনুযায়ী গণভোট সংক্রান্ত কার্যক্রমের বৈধতা দেওয়া হয়।
- ১৯৪৭ সালের ১২ আগস্ট প্রকাশিত র‍্যাডক্লিফ রোয়েদাদ অনুযায়ী করিমগঞ্জের কয়েকটি থানা ও পার্শ্ববর্তী অধিকাংশ মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল আসামের অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৯৯৬.
বঙ্গভঙ্গের ফলে পশ্চিম বাংলার রাজধানী কোথায় স্থাপন করা হয়?
  1. ঢাকা
  2. কলকাতা
  3. মুর্শিদাবাদ
  4. উড়িষ্যা
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
ব্যাখ্যা

বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫-১৯১১ সাল):
- ভারতের বড় লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত। 
- বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী এবং ভারতের আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদহ নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব বাংলা ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ। 
- প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা। 
- অপরপক্ষে পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশ, যার রাজধানী হয় কলকাতা।

উল্লেখ্য,
- বঙ্গভঙ্গ ঘোষণার ফলে বাংলার মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। 
- পূর্ব বাংলার মুসলমানরা নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়।
- অপরদিকে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায় উচ্চবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে। 
- বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলন ক্রমে স্বদেশী আন্দোলনে রূপ নেয়।
- শেষ পর্যন্ত রাজা পঞ্চম জর্জ ভারত সফরে এসে ১৯১১ সালে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৯৭.
সিরিল জন র‌্যাডক্লিফ কোন দুটি বাউন্ডারি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হন?
  1. ক) বেঙ্গল ও পাঞ্জাব
  2. খ) ভারত ও পাকিস্তান
  3. গ) আসাম ও বেঙ্গল
  4. ঘ) ভারত ও বার্মা
সঠিক উত্তর:
ক) বেঙ্গল ও পাঞ্জাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বেঙ্গল ও পাঞ্জাব
ব্যাখ্যা
- ব্রিটিশ সরকার ১৯৪৭ সালে ভারত শাসন আইনের অধীনে সিরিল জন র‌্যাডক্লিফকে ভারতে দুটি সীমানা নির্ধারণকারী কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করে।
- কমিশন দুটি হলো ‘বেঙ্গল বাউন্ডারি কমিশন’ এবং ‘পাঞ্জাব বাউন্ডারি কমিশন’।

- ১৯৪৭ সালের ৩ জুন র‌্যাডক্লিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন এবং ৮ জুলাই ভারত আসেন।
- তিনি ভারত বিভাগ, নতুন দুটি রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের মানচিত্র এবং আন্তর্জাতিক সীমা নির্দেশ করে তাঁর রিপোর্ট পেশ করেন। - তাঁর পরিকল্পনা ভারতের ইতিহাসে র‌্যাডক্লিফ রোয়েদাদ হিসেবে পরিচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯৯৮.
বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয় কত সালে?
  1. ১৯ জুলাই ১৯০৫
  2. ১ সেপ্টেম্বর ১৯০৫
  3. ১৬ অক্টোবর ১৯০৫
  4. ১২ ডিসেম্বর ১৯০৬
সঠিক উত্তর:
১৬ অক্টোবর ১৯০৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬ অক্টোবর ১৯০৫
ব্যাখ্যা
• বঙ্গভঙ্গ কার্যকর: 
- ১৯০৩ সালে লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গ পরিকল্পনা প্রবল গণ অসন্তোষের সৃষ্টি করে।
- হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল বাঙালি এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করে।
- ১৯০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে লর্ড কার্জন পূর্ব বঙ্গ সফরে আসেন।
- ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামে প্রদত্ত বিভিন্ন ভাষণে তিনি নতুন প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের বেশি সুযোগ-সুবিধা লাভের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন।
- ফলে পূর্ব বঙ্গেরমুসলমানদের মনোভাবের পরিবর্তন ঘটে।
- এমতাবস্থায় কার্জন ১৯০৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বঙ্গভঙ্গ পরিকল্পনাটি অনুমোদনের জন্য ভারত সচিবের কাছে পাঠান।
- ১৯ জুলাই পরিকল্পনাটি সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে।
- ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করা হয়।
- পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে একটি নতুন প্রদেশ সৃষ্টি করা হয়।
- নতুন প্রদেশে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় তারা কার্জনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানায়।

এছাড়াও,
 - অন্যদিকে উচ্চ বর্ণের হিন্দুরা এর তীব্র বিরোধিতা করে।
- কংগ্রেস এর বিরুদ্ধে একটি তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে।
- শেষ পর্যন্ত সরকার ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করে।

উৎস: সমাজ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯৯.
কত খ্রিস্টাব্দে কোম্পানি বাংলা বিহার উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে?
  1. ক) ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দে
  2. খ) ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে
  3. গ) ১৭৬৬ খ্রিস্টাব্দে
  4. ঘ) ১৭৬৭ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
কোম্পানির দেওয়ানি লাভ:
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে দেওয়ানি লাভের পর প্রকৃতপক্ষে ইংরেজরাই বাংলার সত্যিকার শাসকরূপে আত্মপ্রকাশ করে।
- এ সময়ে ইংরেজ কোম্পানি মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলার রাজস্ব আদায়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব লাভে সক্ষম হয়।
- বক্সারের যুদ্ধে বাংলার নবাব, অযোধ্যার নবাব এবং দিল্লীর সম্রাটের পরাজয় ইংরেজ শক্তিকে এই ক্ষমতা লাভের সুযোগ করে দেয়।
- বক্সারের যুধের পর ক্লাইভ দ্বিতীয়বার (১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ) ভারতবর্ষে এলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
- ক্লাইভ দেশ থেকে ফিরে অযোধ্যার পরাজিত নবাবের সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করেন।

- তার বিনিময়ে আদায় করে নেন কারা ও এলাহাবাদ জেলা দুটি।
- যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ আদায় করেন পঞ্চাশ লক্ষ টাকা।
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে কোম্পানিকে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ানি দান করা হয়।
- এর বিনিময়ে ছাব্বিশ লক্ষ টাকা নবাব প্রতিবছর সম্রাটকে পাঠাবেন।
- এই টাকা নিয়মিত পাঠাবার জামিনদার হবে কোম্পানি।
- ইতিহাসে এটি এলাহাবাদ চুক্তি নামে পরিচিত। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০০০.
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নেতৃত্বে ছিলেন -
  1. সোবানশাহ
  2. চেরাগ আলী শাহ
  3. করিম শাহ
  4. উপরের সবাই
সঠিক উত্তর:
উপরের সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবাই
ব্যাখ্যা

ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ব্যাপ্তিকাল প্রায় ৪০ বছর (১৭৬০-১৮০০ খ্রিস্টাব্দে)।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গে ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু হয়।
- বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে।
- এ সব সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা অনেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুঠ করে।
- ফকির মজনু শাহর যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি।
- তিনি ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।