বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা: দুর্যোগের ধরণ, প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৯৬৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা: দুর্যোগের ধরণ, প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা / ১০ · ৫০১৬০০ / ৯৬৩

৫০১.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. পরিবেশের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করা
  2. ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা
  3. দুর্যোগের আগে সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি করা
  4. দুর্যোগের পর পুনরুদ্ধার কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের আগে সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের আগে সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি করা
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্ৰান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
- দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে ও সংঘটনের অব্যবহিত পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদান যেমন- সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, প্রশমন উন্নয়ন, প্রতিরোধ, পূর্বপ্রস্তুতি কার্যক্রম সম্পাদন করা প্রয়োজন।

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য তিনটি।
এগুলো হলো:
(১) দুর্যোগকালিন সময়ে জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো বা পরিমাণ হ্রাস করা;
(২) দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে দ্রুত প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছানো ও পূর্ণবাসন নিশ্চিত করা এবং
(৩) দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ সুষ্ঠুরূপে সম্পন্ন করা।

অর্থাৎ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য ক্ষয়ক্ষতি কমানো, পুনরুদ্ধার করা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।
তবে, সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি করা এর উদ্দেশ্য নয়, কারণ এটি মূলত অর্থনৈতিক উন্নয়নের অংশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার নয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫০২.
পৃথিবীর বৃহত্তম আগ্নেয় দ্বীপ -
  1. আইসল্যান্ড
  2. জাভা দ্বীপ
  3. সুমাত্রা দ্বীপ
  4. কৃষ্ণ দ্বীপ
সঠিক উত্তর:
আইসল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইসল্যান্ড
ব্যাখ্যা
আগ্নেয়গিরি
- ভূ-ত্বকের শিলাস্তর সর্বত্র একইরকম না হওয়ায় শিলাস্তরের দুর্বল অংশ ভূ-গর্ভের চাপে ফেটে ভূ-গর্ভ হতে ভূ-পৃষ্ঠ পর্যন্ত বিশাল নলাকৃতির ছিদ্রপথের সৃষ্টি হয়।
- এই ছিদ্রপথে গলিত ম্যাগমা, উত্তপ্ত প্রস্তর খন্ড, কর্দম, ধুম, ভস্ম, গলিত ধাতব পদার্থ ইত্যাদি প্রবলবেগে ভূ-পৃষ্ঠে নির্গত হয়ে সুরঙ্গপথের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে একে অগ্ন্যুৎপাত বলে।

আগ্নেয় দ্বীপ:
- সমুদ্র তলদেশে অগ্ন্যুৎপাতের সময় নির্গত লাভা সঞ্চিত হয়ে দ্বীপের সৃষ্টি করে।
যেমন- আইসল্যান্ড পৃথিবীর বৃহত্তম আগ্নেয় দ্বীপ

সূত্র: ব্রিটানিকা ও Guinnessworldrecords ।
৫০৩.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদানগুলো কী?
  1. প্রতিরোধ, প্রশমন ও পূর্বপ্রস্তুতি
  2. পুনরুদ্ধার, উন্নয়ন ও প্রশমন
  3. প্রতিরোধ, প্রশমন ও পুনরুদ্ধার
  4. প্রতিরোধ, পুনরুদ্ধার ও সাড়াদান
সঠিক উত্তর:
প্রতিরোধ, প্রশমন ও পূর্বপ্রস্তুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিরোধ, প্রশমন ও পূর্বপ্রস্তুতি
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হচ্ছে এরূপ একটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান যার আওতায় পড়ে- যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগ সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার ইত্যাদি কার্যক্রম।
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি হলো দূর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান।
- দুর্যোগ সংঘটনের পরপরই এই ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।

৫০৪.
সেন্দাই ফ্রেম ওয়ার্ক ২০১৫-২০৩০ নিচের কোনটির সাথে সম্পর্কিত?
  1. ভূমিকম্পের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
  2. সুনামি দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
  3. দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
  4. টেকশই উন্নয়ন কৌশল
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
ব্যাখ্যা
→ দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল 

• সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক:

- ২০১৫–২০৩০: দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের কৌশল।
- সম্মেলন: 3rd World Conference on Disaster Risk Reduction (WCDRR).
- স্থান: জাপানের সেন্দাই সিটি।
- আয়োজক: UNISDR (United Nations Office for Disaster Risk Reduction), জাপান সরকার।
- তারিখ: ১৪ – ১৮ মার্চ, ২০১৫।
- "সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ২০১৫–২০৩০"
- একটি নতুন দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কাঠামো, যা ভবিষ্যতের নিরাপদ বিশ্ব গড়ার লক্ষ্য নিয়ে গৃহীত হয়।
- ১টি প্রত্যাশিত ফলাফল (Expected Outcome)।
- ১টি লক্ষ্য (Goal),
- ৭টি বৈশ্বিক উদ্দেশ্য (Global Targets),
- ৪টি অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনা (Priorities for Action),
- ৭টি বৈশ্বিক লক্ষ্য (Targets) – ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্য।

৪টি অগ্রাধিকারমূলক কর্মপদ্ধতি:
১. ঝুঁকি বোঝা ও মূল্যায়ন,
২. ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় শাসনব্যবস্থা জোরদার করা,
৩. ঝুঁকি হ্রাসে বিনিয়োগ বৃদ্ধি,
৪. দুর্যোগ-পরবর্তী প্রস্তুতি, পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন।

 উৎস:  ¡) জাতিসংঘ দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যালয় (UNDRR)।
        ¡¡) দৈনিক প্রথম আলো
৫০৫.
ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা থেকে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে রক্ষা করতে কয়টি মুজিব কেল্লা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে?
  1. ৬৫০
  2. ৫৫০
  3. ৭৫০
  4. ৪৫০
সঠিক উত্তর:
৫৫০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫৫০
ব্যাখ্যা
- ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা থেকে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে রক্ষা করতে দেশের ১৪৮ উপজেলায় ৫৫০টি মুজিব কেল্লা নির্মাণ ও সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এর মাধ্যমে উপকূল অঞ্চলের দুর্গত জনগণ ও প্রাণিসম্পদকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
- পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা যাবে।
- এছাড়া বছরের অন্য সময় জনসাধারণের খেলার মাঠ, সামাজিক অনুষ্ঠান ও হাটবাজার হিসেবেও এসব স্থান ব্যবহার করা যাবে।
- উপকূলবর্তী অঞ্চলে  ৪,২৯১টি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হয়েছে।
উৎস: bonikbarta.net
৫০৬.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়?
  1. চট্টগ্রাম
  2. সিলেট
  3. ঢাকা
  4. বরিশাল
সঠিক উত্তর:
সিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- বন্যা বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী বন্যাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং নগর বন্যা।

মৌসুমী বন্যা:
- বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে মৌসুমী বন্যা বলে।
- কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে মৌসুমী বন্যা তেমন ক্ষতি করে না তবে কখনো কখনো মারাত্মক ক্ষতিকর রূপ ধারণ করে।
মৌসুমী বন্যার মাত্রা স্বাভাবিক হলে ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

আকস্মিক বন্যা:
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমে আকস্মিক বৃষ্টিপাতের ফলে বা পাহাড়ি ঢলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা এবং কিশোরগঞ্জ জেলায় প্রায় প্রতি বছর আকস্মিক বন্যা হতে দেখা যায়।

উপকূলীয় বন্যা:
- উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, সুনামি বা জোয়ার-ভাটাজনিত কারণে যে বন্যা সৃষ্টি হয় তাকে উপকূলীয় বন্যা বলে।
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাসমূহে এ ধরনের বন্যা দেখা দেয়।

নগর বন্যা:
- নগর এলাকায় সুষ্ঠু ও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে বন্যা দেখা দেয়।
- এ ধরনের বন্যাকে নগর বন্যা বলে।
- ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরে এ ধরনের বন্যা দেখা যায়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৫০৭.
নিচের কোনটি বন্যা নিয়ন্ত্রণের সাধারণ ব্যবস্থাপনার অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. সহজে স্থানান্তরযোগ্য বসতি তৈরি করা
  2. নদীর দু'তীরে ঘন জঙ্গল সৃষ্টি করা
  3. নদী-শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা
  4. শহর বেষ্টনীমূলক বাঁধ দেওয়া
সঠিক উত্তর:
শহর বেষ্টনীমূলক বাঁধ দেওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহর বেষ্টনীমূলক বাঁধ দেওয়া
ব্যাখ্যা
- শহর বেষ্টনীমূলক বাঁধ দেওয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণের সহজ প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনার অন্তর্গত। 

বন্যা নিয়ন্ত্রণের সাধারণ ব্যবস্থাপনা (General management): 

(১) সহজে স্থানান্তরযোগ্য বসতি তৈরি করা।
(২) নদীর দু'তীরে ঘন জঙ্গল সৃষ্টি করা।
(৩) নদী-শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা।
(৪) বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন।
(৫) পুকুর, নালা, বিল প্রভৃতি খনন করা এবং সেচের পানি সংরক্ষণ করা।
(৬) প্রতি বছর বন্যা মোকাবেলার জন্য সরকারিভাবে স্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫০৮.
বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (CPP) কোন সংস্থার সাথে যৌথভাবে পরিচালিত হয়?
  1. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
  2. বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি
  3. অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ
  4. আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি
ব্যাখ্যা

CPP: 
- বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (CPP) একটি যৌথ উদ্যোগ যা বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) একসঙ্গে পরিচালনা করে থাকে।
- এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ঘূর্ণিঝড়সহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি গ্রহণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগকালীন সহায়তা প্রদান।
- ২০২০ সালে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সময় দেখা যায়, BDRCS এবং CPP যৌথভাবে পূর্বাভাসের ভিত্তিতে তহবিল সক্রিয় করে জনগণকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করে।
- তাদের Early Action Protocol অনুযায়ী দুর্যোগপূর্ব প্রস্তুতির জন্য IFRC-এর Forecast-based Action Fund থেকে অর্থ সংগ্রহ করে কার্যক্রম চালানো হয়।
- তারা ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে খাদ্য, পানি এবং জরুরি সামগ্রী সরবরাহ করে এবং নিরাপদ আশ্রয়ে জনগণকে পৌঁছে দেয়।

সূত্র: Bangladesh Red Crescent Society ওয়েবসাইট। 

৫০৯.
UDMC এর পূর্ণ রূপ হলো-
  1. Universal Disaster Management Committee.
  2. Union Disaster Management Committee.
  3. Upazila Disaster Management Committee
  4. Unity of Disaster Management Council
সঠিক উত্তর:
Union Disaster Management Committee.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Union Disaster Management Committee.
ব্যাখ্যা

UDMC:
- UDMC এর পূর্ণ রূপ হলো Union Disaster Management Committee.
- ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবেলায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন সদস্য নিয়ে গঠিত হয় UDMC.

• বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিষয়ের পূর্ণরূপ:
- DDMC এর পূর্ণরূপ District Disaster Management Committee.
- NDMAC এর পূর্ণরূপ National Disaster Management Advisory Committee.
- UZDMC এর পূর্ণরূপ Upazila Disaster Management Committee.
- NDMC এর পূর্ণরূপ National Disaster Management Council.

সূত্র: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।

৫১০.
IPCC-এর মতে, কত সালের পর নদীর প্রবাহ নাটকীয়ভাবে কমে যাবে?
  1. ২০৩০ সাল
  2. ২০৪০ সাল
  3. ২০৫০ সাল
  4. ২০৫৫ সাল
সঠিক উত্তর:
২০৩০ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০৩০ সাল
ব্যাখ্যা
IPCC-এর তথ্য অনুসারে ২০৩০ সালের পর নদীর প্রবাহ নাটকীয়ভাবে কমে যাবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
- মানুষের নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারের কারণে মাত্রাতিরিক্ত গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের কারণে বিশ্বে উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- জাতিসংঘ তার সতর্কীকরণে বলেছে পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়লে তাতে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি অংশ প্লাবিত হবে এবং প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে।
- আনুমানিক ৩ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।

⇒ IPCC-এর তথ্য অনুসারে ২০৩০ সালের পর নদীর প্রবাহ নাটকীয়ভাবে কমে যাবে।
- ফলে এশিয়ায় পানির স্বল্পতা দেখা দেবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
- উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাবে ঘন ঘন বন্যা, ঝড়, অনাবৃষ্টি এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে।
- যা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে অনুভূত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।

⇒ ADB-এর একটি সমীক্ষা থেকে জানা যায়, উষ্ণায়নের বর্তমান ধারা ২০৫০ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকলে দক্ষিণ এশিয়ায় শস্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
- জলবায়ুর অন্য আনুষঙ্গিক পরিবর্তনের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার ১৫০ কোটির বেশি মানুষ সরাসরি পানি ও খাদ্য ঝুঁকিতে পড়বে।
- ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে যে, বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে এ শতকের শেষ নাগাদ বিশ্বে চাষাবাদ ২০ থেকে ৪০ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে।

⇒ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলোজি (MIT) অর্থনীতিবিদদের নতুন গবেষণা অনুসারে বিশ্ব উষ্ণায়ন ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যকার ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেবে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫১১.
ঘূর্ণিঝড়ের সতর্ক সংকেত কয়টি?
  1. ৯ টি
  2. ১০ টি
  3. ১১ টি
  4. ১২ টি
সঠিক উত্তর:
১১ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ টি
ব্যাখ্যা
• ঘূর্ণিঝড়ের সময় সতর্কতা ও বিপদ বুঝানোর জন্য ১১টি সংকেত রয়েছে।
- তার মধ্যে প্রথম চারটি সতর্কতা ও স্থানীয় সংকেত। বাকিগুলো বিপদ সংকেত।
নিম্নে ১১টি সংকেতের অর্থ দেওয়া হলঃ

১ নং দূরবর্তী সতর্ক সংকেত:
জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার পর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সম্মুখীন হতে পারে। দূরবর্তী এলাকায় একটি ঝড়ো হাওয়ার অঞ্চল রয়েছে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬১ কিলোমিটার (কি.মি.)। ফলে সামুদ্রিক ঝড়ের সৃষ্টি হবে।
২ নং দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত:
দূরে গভীর সাগরে একটি ঝড় সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিলোমিটার। বন্দর এখনই ঝড়ে কবলিত হবে না, তবে বন্দর ত্যাগকারী জাহাজ পথে বিপদে পড়তে পারে।
৩ নং স্থানীয় সতর্ক সংকেত:
বন্দর ও বন্দরে নোঙর করা জাহাজগুলোর দুর্যোগ কবলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্দরে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং ঘূর্ণি বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০-৫০ কি.মি. হতে পারে।
৪ নং স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত:
বন্দর ঘূর্ণিঝড় কবলিত। বাতাসের সম্ভাব্য গতিবেগ ঘণ্টায় ৫১-৬১ কি.মি.। তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার মতো তেমন বিপজ্জনক সময় এখনও আসেনি।
৫ নং বিপদ সংকেত:
বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
৬ নং বিপদ সংকেত:
বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
৭ নং বিপদ সংকেত:
বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরের উপর বা এর নিকট দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
৮ নং মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে পারে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি. বা এর বেশি হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।
৯ নং মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি. বা এর বেশি হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।
১০ নং মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি.বা তার বেশি হতে পারে।
১১ নং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সংকেত:
আবহাওয়ার বিপদ সংকেত প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় আবহাওয়া কর্মকর্তা পরিস্থিতি দুর্যোগপূর্ণ বলে মনে করেন।

উৎস: ঘূর্নিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি) ওয়েবসাইট ও বিবিসি বাংলা।
৫১২.
১৭৮৭ সালে ডাউকি চ্যুতি বরাবর তীব্র ভূমিকম্পের ফলে কোন নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়েছিল?
  1. মেঘনা
  2. ব্রহ্মপুত্র
  3. সুরমা
  4. যমুনা
সঠিক উত্তর:
ব্রহ্মপুত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রহ্মপুত্র
ব্যাখ্যা
ব্রহ্মপুত্র (Brahmaputra):
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের তিব্বত অংশের মানস সরোবর থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- এরপর তিব্বত হয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এরপর ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
- মেঘনা নদীতে মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এটি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশ অংশে ব্রহ্মপুত্র নদ প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়েছে।
- প্রধান শাখানদী: বংশী ও শীতলক্ষ্যা।
- ধরলা ও তিস্তা প্রধান উপনদী।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের মাটির নিচে ভূমিকম্পের দুটি বড় উৎস আছে।
- একটি হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের ডাউকি চ্যুতি বা ফাটল (ফল্ট)।
- ১৭৮৭ সালে ডাউকি চ্যুতিতে তীব্র ভূমিকম্পের পর ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছিল।
- সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উপরে উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গিয়ে একটি নতুন স্রোতধারা সৃষ্টি হয়।
- যা বর্তমানে যমুনা নামে পরিচিত।

অন্যদিকে,
- আরেকটি হচ্ছে সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ভূ-অভ্যন্তরে বিস্তৃত একটি সাবডাকশন অঞ্চল।
- এই অঞ্চলজুড়ে সক্রিয় আছে অসংখ্য চ্যুতির শাখা (স্প্লে ফল্ট)।
- সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকাটি ইন্দো-বার্মা পর্বতমালার অংশ।
- আজ থেকে প্রায় ৮০০ বছর আগে এই সাবডাকশন অঞ্চলে একটি বড় ভূমিকম্প হয়েছিল।
- তাতে লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে প্রবাহিত নদীটি গতিপথ পাল্টে এখনকার মেঘনা নদীতে সরে এসেছে।

এছাড়াও,
- সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ছিল একটি ডুবো দ্বীপ।
- ১৭৬২ সালে এক বড় ভূমিকম্পে দ্বীপটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে তিন মিটার ওপরে উঠে আসে। 

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) ২০ জুলাই, ২০১৯, প্রথম আলো।
৫১৩.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিচের কোনটি তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল?
  1. বেরিবাঁধ নির্মাণ
  2. নদী শাসন
  3. প্রশিক্ষণ প্রদান
  4. আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি
সঠিক উত্তর:
প্রশিক্ষণ প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশিক্ষণ প্রদান
ব্যাখ্যা
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব না হলেও যথাযথ ব্যবস্থাপনার দ্বারা এর ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। এ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কাঠামোগত ও অকাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
- কাঠামোগত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা যেমন: বেরিবাঁধ নির্মাণ, আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি খুবই ব্যয়বহুল।
অন্যদিকে,
- গণসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ প্রদান প্রভৃতি অকাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল যা দরিদ্র দেশগুলোর জন্যে উপযোগী।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৫১৪.
বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০ অনুসারে, ঢাকা শহর কোন ধরনের ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সর্বাধিক ভূমিকম্প প্রবণ
  2. মাঝারি ভূমিকম্প প্রবণ
  3. উচ্চ ভূমিকম্প প্রবণ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মাঝারি ভূমিকম্প প্রবণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাঝারি ভূমিকম্প প্রবণ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ভূমিকম্প অঞ্চল:
বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০ এ, দেশকে চারটি ভূমিকম্প অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে, যেখানে মাটির গতিবিধি বিভিন্ন স্তরের।
অঞ্চল ১: Z = ০.১২
অঞ্চল ২: Z = ০.২
অঞ্চল ৩: Z = ০.২৮
অঞ্চল ৪: Z = ০.৩৬

- প্রতিটি অঞ্চলে একটি সিসমিক জোন সহগ (Z) রয়েছে, যা মাটির সর্বোচ্চ বিবেচিত ত্বরণ (PGA) নির্দেশ করে।
- এই ত্বরণ কঠোর মাটি/শিলা (সাইট ক্লাস SA) এর জন্য g (মাধ্যাকর্ষণ ত্বরণ) এর এককে মাপা হয়।

• গুরুত্বপূর্ণ শহরের ভূমিকম্প তথ্য:
- অঞ্চল ৪ (সর্বাধিক ভূমিকম্প প্রবণ): উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট) অন্তর্ভুক্ত। PGA = ০.৩৬g।
- ঢাকা শহর: মাঝারি ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে (Z = ০.২)।
- চট্টগ্রাম শহর: উচ্চ ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে (Z = ০.২৮)।

ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই এ, 
১৯৯৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূকম্পনীয় অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা-
অঞ্চল ১: (মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৭); উত্তর ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চল
অঞ্চল ২: (মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৬); মধ্য অঞ্চল
অঞ্চল ৩: (কম ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৫); দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০। 

৫১৫.
অতীতে দুর্যোগে কোনটিকে সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো
  1. দুর্যোগ প্রতিরোধ
  2. দুর্যোগ প্রশমন
  3. পূর্বপ্রস্তুতি
  4. সাড়াদান
সঠিক উত্তর:
সাড়াদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাড়াদান
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: 
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান।
- সুতরাং দুর্যোগকে কার্যত মোকাবিলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
- দুর্যোগ সংঘটনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে, সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।
- অতীতে দুর্যোগে সাড়াদানকেই সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫১৬.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য বিশ্বব্যাংক ২০০৯ সালে মোট কতটি ঝুঁকি চিহ্নিত করেছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন:
- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে।
- ১) মরুকরণ। ২) বন্যা। ৩) ঝড়। ৪) সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি। ৫) কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা। 

বৈশ্বিক ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকা:
- বন্যা ঝুঁকি: বাংলাদেশ, চীন, ভারত, কম্বোডিয়া, মোজাম্বিক, লাওস, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, বেনিন, রুয়ান্ডা।
- ঝড় ঝুঁকি: ফিলিপাইন, বাংলাদেশ, মাদাগাস্কার, ভিয়েতনাম, মলডোভা, মঙ্গোলিয়া, হাইতি, সামোয়া, টোঙ্গা, চীন, হন্ডুরাস, ফিজি।
- মরুকরণ ঝুঁকি: মালাউয়ি, ইথিওপিয়া, জিম্বাবুয়ে, ভারত, মোজাম্বিক, নাইজার, মৌরিতানিয়া, ইরিত্রিয়া, সুদান, ইরাক, কেনিয়া, ইরান।
- সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ঝুঁকি: সব নীচু দ্বীপদেশ, ভিয়েতনাম, মিশর, তিউনিসিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মৌরিতানিয়া, মেক্সিকো, চীন, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, সেনেগাল, লিবিয়া।
- কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা ঝুঁকি: সুদান, সেনেগাল, জিম্বাবুয়ে, মালি, জাম্বিয়া, নাইজার, মরক্কো, ভারত, মালাউয়ি, আলজেরিয়া, ইথিওপিয়া, পাকিস্তান।

উল্লেখ্য, 
- এই তালিকার ৫টি ভাগের মধ্যে ৩টিতে বাংলাদেশের নাম রয়েছে, এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে বাংলাদেশের অবস্থান সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫১৭.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন বাংলাদেশে কত সালে পাস হয়?
  1. ২০০৭ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৫ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন পাস হয় ২০১২ সালে।

​বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন:
- দুর্যোগ মোকাবেলা বিষয়ক কার্যক্রমকে সমন্বিত, লক্ষ্যভিত্তিক ও শক্তিশালী করা এবং সকল ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কাঠামো গড়িয়া তুলিবার নিমিত্ত বিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন।
- ২০১২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এই আইন প্রণীত হয়।
- ২০১২ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করে।
- বাংলাদেশের সংসদে 'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২' পাসের মাধ্যমে এই অধিদপ্তর গঠিত হয়।

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

৫১৮.
দেশের কোন অঞ্চলে সাধারণত বৃষ্টিজনিত কারণে বন্যা হয়?
  1. বৃহত্তর খুলনা ও যশোর
  2. সিলেট অঞ্চল
  3. রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল
  4. চট্টগ্রাম অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
বৃহত্তর খুলনা ও যশোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃহত্তর খুলনা ও যশোর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে সাধারণত চার ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়।
এগুলো হলো:
- বৃষ্টিজনিত বন্যা
- উপকূলীয় বন্যা
- নদীসৃষ্ট বন্যা
- আকস্মিক বন্যা।

বৃহত্তর খুলনা ও যশোর অঞ্চলে বৃষ্টিজনিত বন্যা সংঘটিত হয়।
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট ও চট্টগ্রাম) আকস্মিক বন্যাপ্রবণ এলাকা
উপকূলীয় অঞ্চলে উপকূলীয় বন্যা দেখা দেয়।
নদী সংলগ্ন জেলাসমূহে সাধারণত নদীসৃষ্ট বন্যা দেখা যায়।

(তথ্যসূত্র: বন্যা সাড়াদান ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা : বাংলাদেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর)
৫১৯.
ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ও মেক্সিকো উপসাগর অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়কে কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. ক) টাইফুন
  2. খ) সাইক্লোন
  3. গ) উইলি উইলিছ
  4. ঘ) হারিকেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) হারিকেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হারিকেন
ব্যাখ্যা
• ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড় হলো একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণিজগতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।
- সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় নানা নামে পরিচিত। যেমন-
- চীন ও জাপানের উপকূলে টাইফুন,
- ভারত মহাসাগরে সাইক্লোন,
- ফিলিপাইনের উপকূলে বাগুই,
- অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে উইলি উইলিছ,
- ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ও মেক্সিকো উপসাগর অঞ্চলে হারিকেন প্রভৃতি নামে অভিহিত করা হয়।

• উৎপত্ত:
- অনিয়মিত বায়ুর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো ঘূর্ণিঝড় (Cyclone) ও প্রতীপ ঘূর্ণিঝড় (Anti-cyclone)।
- উপরের ও নিচের বায়ুর পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- আমাদের দেশে প্রায় প্রতি বছর সাধারণত মার্চ ও নভেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে।

সূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২০.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব কোনটি?
  1. প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি
  2. সমুদ্রের পানি নিচে নেমে যাওয়া
  3. মহাশুন্যে অভিযান
  4. নতুন সড়কপথ সৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
• বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব: 
→ জলবায়ু পরিবর্তন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি
→ মেরু অঞ্চলের বরফ গলন।
→ সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন।
→ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস।
→ রোগব্যাধি।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রতিরোধের উপায়:
- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা সমাধানে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হলো:-
১. পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও কার্বন উৎপাদনের হারকে কমিয়ে আনা;
২. যানবাহন ও কল-কারখানার দূষিত গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণ;
৩. যথাযথ মাত্রায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার;
৪. বিকল্প জ্বালানি যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, পারমানবিক শক্তি এর পরিবর্তে সৌরশক্তি, বায়ু শক্তি, জৈব গ্যাস ব্যবহার করা;
৫. প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ এবং নতুন বন সৃজন;
৬. পরিবেশ বান্ধব শিল্পায়ন;
৭. জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২১.
কততম 'COP' সম্মেলনের মাধ্যমে 'গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড' গঠিত হয়?
  1. ক) COP -17
  2. খ) COP -16
  3. গ) COP -15
  4. ঘ) COP -19
সঠিক উত্তর:
খ) COP -16
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) COP -16
ব্যাখ্যা
গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড
• গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (Green Climate Fund) জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন কনভেনশন ফ্রেমওয়ার্ক (UNFCCC) - কর্তৃক গঠিত একটি তহবিল। শিল্পোন্নত দেশ সমূহের প্রদত্ত চাঁদা থেকে এই তহবিল গঠিত হবে।

এক নজরে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড
• প্রতিষ্ঠাকাল : ২০১০ সাল।
• প্রতিষ্ঠার স্থান : কানকুন, মেক্সিকো।
• প্রতিষ্ঠাকালীন সম্মেলন : COP-16
• সদরদপ্তর : ইয়েনচিয়ন, দক্ষিণ কোরিয়া (২০১৩ সালে এর স্থায়ী দপ্তর স্থাপিত হয়)
• তহবিলের পরিমাণ : ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার

• ২০০৯ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেন - এ অনুষ্ঠিত COP - এর ১৫-তম সম্মেলনে (COP-15) গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড তৈরীর অঙ্গীকার করে UNFCCC স্বাক্ষর করা ১৯৭টি পক্ষ।
• ২০১০ সালে মেক্সিকোর কানকুনে COP - এর ১৬-তম সম্মেলনে (COP-16) জলবায়ুর পরিবর্তন - এর প্রভাব মোকাবেলায় এই তহবিল গঠিত হয়।
• ২০১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে অনুষ্ঠিত COP-17 - এ এই তহবিল পরিচালনা সংক্রান্ত নীতি প্রণয়ন ও গ্রহন করা হয়।

তথ্যসূত্র:- গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড ওয়েবসাইট।
৫২২.
নিচের কোনটি উঁচু উচ্চতার মেঘ?
  1. ক) স্ট্রেটাস
  2. খ) সিরাস
  3. গ) কিউম্যুলাস
  4. ঘ) নিম্বাস
সঠিক উত্তর:
খ) সিরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সিরাস
ব্যাখ্যা
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার ভিত্তিতে মেঘকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
এগুলো হলো:

উঁচু উচ্চতার মেঘ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,০০০ মিটারের উর্ধ্বে অবস্থিত মেঘসমূহ উঁচু উচ্চতার মেঘ।
উঁচু উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- সিরাস
- সিরোকিউম্যুলাস
- সিরোস্ট্রেটাস প্রভৃতি।

মাঝারি উচ্চতার মেঘ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ থেকে ৬,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মেঘসমূহ মাঝারি উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
মাঝারি উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- অল্টোস্ট্রেটাস
- কিউম্যুলাসস্ট্রেটাস
- নিম্বোস্ট্রেটাস

নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে অবস্থিত মেঘসমূহ নিম্ন উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- স্ট্রেটাস
- স্ট্রেটোকিউম্যুলাস
- কিউম্যুলাস
- কিউম্যুলোনিম্বাস।

(তথ্যসূত্র: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা)
৫২৩.
দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নয় কোনটি?
  1. বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত
  2. আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ
  3. নদী খনন
  4. শস্য বহুমুখীকরণ
সঠিক উত্তর:
শস্য বহুমুখীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শস্য বহুমুখীকরণ
ব্যাখ্যা
প্রতিরোধ (Prevention):
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।
- তবে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহন, যেমন- বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত স্কুল ও ঘরবাড়ি নির্মাণ, নদী খনন ইত্যাদি বুঝায়।
- কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন যথেষ্ট ব্যয়বহুল, যা বাংলাদেশের ন্যায় উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে বৈদেশিক সাহায্য ব্যতীত তৈরি করা কষ্টসাধ্য।
- অপরদিকে, অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ যেমন- দুর্যোগ মোকাবিলার প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম অপেক্ষাকৃত স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।

উল্লেখ্য,
- মজবুত পাকা ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল অবলম্বন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২৪.
বাংলাদেশে কখন সাধারণত সাইক্লোন দেখা যায়?
  1. ক) মার্চ - মে
  2. খ) জুন - সেপ্টেম্বর
  3. গ) অক্টোবর - নভেম্বর
  4. ঘ) ক ও গ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও গ
ব্যাখ্যা
উৎস: আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট। 
৫২৫.
আরব সাগরে সৃষ্ট ‘হামুন’ ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করেছে কোন দেশ?
  1. ইরাক
  2. ইরান
  3. বাহরাইন
  4. শ্রীলঙ্কা
সঠিক উত্তর:
ইরান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরান
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় 'হামুন’:
- ২১ অক্টোবর ২০২৩-এ বঙ্গোপসাগরের পশ্চিম-মধ্যভাগে একটি নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়।
- সেটাই গভীর নিম্নচাপে ঘনীভূত হয়ে ২৩ অক্টোবর ২০২৩ রাতে ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘হামুন’।

উল্লেখ্য,
- প্রতিটি ঘূর্ণিঝড়ের একটি নাম থাকে।
- ‘হামুন’ নামটি দিয়েছে ইরান।
- ইরানি এই নামটির অর্থ ‘মরুভূমিতে প্রাকৃতিক হ্রদ’ বা বিশাল জলাশয়।
- এই ঘূর্ণিঝড়ের পর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাগরে কোনো ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলে তার নাম হবে ‘মিধিলি’, এটি মালদ্বীপের দেওয়া।

উৎস: ২৪ অক্টোবর ২০২৩, কালের কন্ঠ। [link]
৫২৬.
'MDMR' এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Ministerial Disaster Management and Relief
  2. Ministry of Disaster Management and Relief
  3. Ministerial for Disaster Management and Relief
  4. Ministerial Disaster Management for Relief
সঠিক উত্তর:
Ministry of Disaster Management and Relief
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Ministry of Disaster Management and Relief
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের গৃহীত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামােসমূহ নিম্নরূপ :
- Ministry of Disaster Management and Relief (MDMR)
- National Disaster Management Council (NDMC)
- In-Ministerial Disaster Management Co-ordination Committee (IMDMCC)
- Emergency Operation Centre (EOC)
- Disaster Management Bureau (DMB)

উৎস: ব্যাচেলর অফ এডুকেশন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২৭.
দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়িত্ব কমানো এবং পূর্বপ্রস্তুতিকে কী বলা হয়?
  1. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
  2. দুর্যোগ পূর্বাভাস
  3. দুর্যোগ উদ্ধার
  4. দুর্যোগ প্রশমন
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগ প্রশমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগ প্রশমন
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ীত্ব হ্রাস এবং দুর্যোগের পূর্ব প্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব না হলেও যথাযথ ব্যবস্থাপনার দ্বারা এর ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
- এ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কাঠামোগত ও অকাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
- কাঠামোগত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, যেমন: বেরিবাঁধ নির্মাণ, আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি।
- কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

⇒ উল্লেখ্য:
- পুনরুদ্ধার, সাড়াদান, পূর্বপ্রস্তুতি প্রভৃতি অল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।
- প্রশমন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূখ্য উপাদান।

⇒ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূখ্য উপাদানসমূহ:
• দুর্যোগ প্রতিরোধ,
• দুর্যোগ প্রশমন এবং
• দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি।

⇒ দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে:
• সাড়াদান,
• পুনরুদ্ধার ও
• উন্নয়ন।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।

৫২৮.
যেসব প্রক্রিয়ায় ভূমিরূপের ধীর পরিবর্তন হচ্ছে তাদেরকে প্রধানত কয়টি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারটি
ব্যাখ্যা
ভূপৃষ্ঠের ধীর পরিবর্তনের কারণ ও ফলাফল:
- পৃথিবীর আকস্মিক পরিবর্তনের জন্য তিনটি প্রধান ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়। তা হলো- পর্বত, মালভূমি এবং সমভূমি।
- এসব ভুমিরূপ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক শক্তি যেমন- সূর্যতাপ, বায়ু, বৃষ্টি, নদী প্রভৃতি দ্বারা খুব ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়ে নতুন ভূমিরূপে পরিণত হয়।
- এই পরিবর্তন প্রক্রিয়াকে ধীর পরিবর্তন বলে।
- এতে সূর্যতাপ, বায়ু, বৃষ্টি, নদী প্রভৃতি শক্তি খুব ধীরে ধীরে ভুত্বকের ক্ষয়সাধন করে থাকে।
- ফলে ভূত্বকের উপরিস্থিত শিলা ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়।
- এই শিলা অপসারিত হয়, আবার নতুন করে শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়। এভাবে পর্যায়ক্রমে প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে ভূমি ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকে।

- যেসব প্রক্রিয়ায় ভূমিরূপের ধীর পরিবর্তন হচ্ছে তাদেরকে প্রধানত চারটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়।
• বিচূর্ণীভবন ও ক্ষয়ীভবন।
• অপসারণ।
• নগ্নীভবন।
• অবক্ষেপণ।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫২৯.
বন্যা হওয়ার প্রাকৃতিক কারণ কোনটি?
  1. ফারাক্কা বাঁধ
  2. নদীর গভীরতা কম
  3. অপরিকল্পিত নগরায়ণ
  4. জলাশয় ভরাট
সঠিক উত্তর:
নদীর গভীরতা কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদীর গভীরতা কম
ব্যাখ্যা
• বন্যা হওয়ার প্রাকৃতিক কারণ নদীর গভীরতা কম।

• বন্যার কারণ (Causes of Flood):
- বন্যা হওয়ার দুটি কারণ যথা : ১. প্রাকৃতিক কারণ, ২. মানব-সৃষ্ট কারণ।

• প্রাকৃতিক কারণ:
- উজানে প্রচুর বৃষ্টি;
- ভৌগোলিক অবস্থান;
- মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব;
- নদীর গভীরতা কম;
- হিমালয়ের বরফগলা পানিপ্রবাহ;
- বঙ্গোপসাগরের তীব্র জোয়ার-ভাটা।
- ভূমিকম্প।

•মানব-সৃষ্ট কারণ:
- নদী অববাহিকায় ব্যাপক বৃক্ষ কর্তন ;
- গঙ্গা নদীর উপর নির্মিত ফারাক্কা বাঁধ;
- অন্যান্য নদীতে নির্মিত বাঁধের প্রভাব;
- অপরিকল্পিত নগরায়ণ;
- অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ।
- জলাশয় ভরাট।

• বন্যা :
- বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে বন্যা অন্যতম।
- এ দেশের বন্যা অর্থনৈতির ওপর ভয়াবহ  প্রভাব ফেলে।
- প্রকৃতপক্ষে এ দেশের প্রেক্ষিতে কোনো এলাকা প্লাবিত হয়ে যদি মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষতিসাধন হয় তাহলেই বন্যা হয়েছে বলে ধরা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৫৩০.
নিচের কোনটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান নয়?
  1. দুর্যোগ প্রশমন
  2. দুর্যোগ গবেষণা
  3. দুর্যোগ প্রতিরোধ
  4. দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতি
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগ গবেষণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগ গবেষণা
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অর্থ হলো যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা।
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

⇒ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান-
- দুর্যোগ প্রতিরোধ,
- দুর্যোগ প্রশমন এবং
- দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি

⇒ দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে-
- সাড়াদান,
- পুনরুদ্ধার ও
- উন্নয়ন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৩১.
দুর্যোগ সংঘটনের পরপরই দূর্যোগ ব্যবস্থাপনার উপাদানগুলো কী কী?
  1. ক) সাড়াদান, প্রশমন ও উন্নয়ন
  2. খ) প্রশমন, প্রতিরোধ, ও পূর্বপ্রস্তুতি
  3. গ) সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন
  4. ঘ) প্রশমন, উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার
সঠিক উত্তর:
গ) সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হচ্ছে এরূপ একটি ব্যবিহারিক বিজ্ঞান যার আওতায় পড়ে- যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগ সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার ইত্যাদি কার্যক্রম।
দুর্যোগ প্রতিরোধ, প্রশমন ও পূর্বপ্রস্তুতি হলো দূর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান।
দুর্যোগ সংঘটনের পরপরই এই ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৫৩২.
নিচের কোনটির মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের আকস্মিক পরিবর্তন সংঘটিত হয়?
  1. ক) বায়ুপ্রবাহ
  2. খ) সূর্যতাপ
  3. গ) হিমবাহ
  4. ঘ) অগ্ন্যূৎপাত
সঠিক উত্তর:
ঘ) অগ্ন্যূৎপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অগ্ন্যূৎপাত
ব্যাখ্যা
যে সমস্ত কার্যাবলীর দ্বারা প্রাকৃতিকভাবে ভূমিরূপের পরিবর্তন সাধিত হয় তা ভূ-প্রক্রিয়া নামে পরিচিত।
ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তন আকস্মিক ও ধীর দুভাবে সংঘটিত হয়।

আকস্মিক পরিবর্তন প্রক্রিয়াসমূহ:
- ভূমিকম্প
- আগ্নেয়গিরি অগ্ন্যূৎপাত
- সুনামি প্রভৃতি।

ধীর পরিবর্তন প্রক্রিয়াসমূহ:
- হিমবাহ
- বৃষ্টিপাত
- বায়ুপ্রবাহ
- সূর্যতাপ
- নদী প্রভৃতি।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি)
৫৩৩.
নিচের কোনটি মানবসৃষ্ট আপদ (hazard) নয়?
  1. বায়ু দূষণ
  2. মহামারী 
  3. ভূমিকম্প
  4. দুর্ভিক্ষ
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা

- ভূমিকম্প মানবসৃষ্ট আপদ (hazard) নয়।

​'আপদ (Hazard):
- আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা যা প্রাকৃতিক, মানব সৃষ্ট বা কারিগরি ত্রুটির কারণে ঘটতে পারে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- এর ফলস্বরূপ বিপর্যয় সংঘটনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপদ ও হুমকির মধ্যে নিপতিত করে।
দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদির প্রাথমিক এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অবকাঠামোর উপর যার পুনঃনির্মাণ খুব ব্যয়বহুল কাজ।
সব চরম ঘটনাই হচ্ছে আপদ।

​উল্লেখ্য,
• প্রাকৃতিক আপদ:
- ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, বজ্রঝড়, টর্নেডো, বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি, খরা, নদী ভাঙ্গন, কালবৈশাখী ইত্যাদি।
•  মানবসৃষ্ট আপদ:
- ভবনধ্বস, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকান্ড, বায়ু দূষণ, দুর্ভিক্ষ, মহামারী ইত্যাদি।
• কারিগরি আপদ:
বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ড, শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা, পারমানবিক দুর্ঘটনা ইত্যাদি।

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২।

৫৩৪.
২০০৬ সালে 'সার্ক কমপ্রিহেনসিভ ফ্রেমওয়ার্ক অন ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট' নামে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক কর্ম-কাঠামো প্রণয়ন করা হয় কোথায়?
  1. ক) নয়া দিল্লি
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) কাঠমুন্ডু
  4. ঘ) মালে
সঠিক উত্তর:
খ) ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঢাকা
ব্যাখ্যা
• সার্ক কমপ্রিহেনসিভ ফ্রেমওয়ার্ক অন ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট: 
- ক্রমবর্ধমান দুর্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার সার্কভুক্ত সদস্য দেশসমূহের উন্নয়নের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
- এ প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার সার্কভুক্ত সদস্য দেশসমূহের দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস ব্যবস্থা ও আঞ্চলিক সহযোগিতাকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে  ২০০৬ সালে ঢাকায় সার্ক কমপ্রিহেনসিভ ফ্রেমওয়ার্ক অন ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট নামে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক কর্ম-কাঠামো প্রণয়ন করা হয়।

 • এ কাঠামোর কৌশলগত লক্ষসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে পেশাদারিত্ব আনা;
- দুৰ্যোগ ঝুঁকিহাসকে কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করা বা মূলধারায় নিয়ে আসা;
- জনগোষ্ঠীভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকান্ড শক্তিশালী করা;
- ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী বিশেষ করে নারী, দরিদ্র ও সুবিধা-বঞ্চিতদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা;
- সব ধরনের দুর্যোগের ক্ষেত্রে ঝুঁকিহ্রাস কর্মসূচী সম্প্রসারণ করা;
- জরুরি সাড়াপ্রদান পদ্ধতি জোরদার করা এবং সংশ্লিষ্ট জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের মধ্যে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা ও শক্তিশালী করা।

সূত্র: জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০১৫।
৫৩৫.
নিচের কোনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে পড়ে না?
  1. ঘূর্ণিঝড়
  2. অগ্ন্যুৎপাত
  3. অগ্নিকান্ড
  4. ভূমিকম্প
সঠিক উত্তর:
অগ্নিকান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিকান্ড
ব্যাখ্যা

• প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে পড়ে না- অগ্নিকান্ড।
- কারন এটি একটি মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ।

• দুর্যোগ (Disaster):
- একটি বিপর্যয় যখন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের বেশির ভাগ মানুষকে বিপদাপন্ন করে তুলে এবং তাদের নিজস্ব মোকাবিলা ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তখন তাকে দুর্যোগ বলে।
- বিশ্বব্যাপী দুর্যোগসমূহের প্রকারভেদ: পৃথিবীর যে কোনো দেশে দুই ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হয়।
 যেমন:
ক) প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
খ) মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ।

• প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়।
যেমন: অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি।

• মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ বলতে মানব কর্মকান্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়।
যেমন: জলাবদ্ধতা, অগ্নিকান্ড, রাসায়নিক দূষণ, যুদ্ধ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩৬.
ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয় কোথায়?
  1. ক) সমুদ্র উপকূলে
  2. খ) মালভূমিতে
  3. গ) গভীর সমুদ্রে
  4. ঘ) স্থলভাগে
সঠিক উত্তর:
গ) গভীর সমুদ্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গভীর সমুদ্রে
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয় গভীর সমুদ্রে। গভীর সমুদ্রে উচ্চ তাপমাত্রার ফলে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়।

উচ্চ তাপমাত্রার (সাধারণত ২৭ ডিগ্রির অধিক) ফলে সমুদ্রের বায়ু হালকা হয়ে উপরে উঠে গেলে সেখানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। এতে করে পার্শ্ববর্তী উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে ভারীবায়ু দ্রুত বেগে সৃষ্ট নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে ছুটে আসে এবং ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি করে।
বায়ুর গতিবেগ ৬৩ কিলোমিটারের অধিক হলে তা ঘূর্নিঝড় হিসেবে অভিহিত হয়।

(তথ্যসূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী)
৫৩৭.
টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার ফলে সৃষ্ট দুর্যোগ নয় কোনটি?
  1. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত 
  2. ভূমিকম্প
  3. সুনামি
  4. টর্নেডো
সঠিক উত্তর:
টর্নেডো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টর্নেডো
ব্যাখ্যা

• টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার ফলে টর্নেডো সৃষ্টি হয় না। 
 
টেকটোনিক প্লেট:
- টেকটোনিক প্লেট হলো পৃথিবীর ভূত্বকের অভ্যন্তরের বিশালাকার কয়েকটি প্লেট , যেগুলো ধীরে ধীরে নড়াচড়া করে। এই নড়াচড়ার ফলে ভূত্বকে নানা ধরনের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবর্তন ঘটে।

টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার ফলাফল:
- ভূমিকম্প: প্লেটের সংঘর্ষ বা প্লেট সরে যাওয়ার ফলে সঞ্চিত শক্তি হঠাৎ মুক্ত হয়ে ভূ-কম্পন সৃষ্টি করে।
- আগ্নেয়গিরি: দুটি প্লেটের সংঘর্ষ বা বিচ্ছিন্নতার ফলে ভূ-অভ্যন্তরের গলিত ম্যাগমা ওপরে উঠে এসে আগ্নেয়গিরি সৃষ্টি করে।
- সুনামি: সমুদ্র তলের ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরির ফলে সুনামি হতে পারে।

অন্যদিকে,
- টর্নেডো মূলত বায়ুমণ্ডলের ঘটনা, যা গরম ও ঠান্ডা বায়ুর কারণে সৃষ্টি হয়। এটি সম্পূর্ণভাবে জলবায়ুর সাথে সম্পর্কিত এবং ভূপৃষ্ঠ বা টেকটোনিক প্লেটের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

৫৩৮.
আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়কে কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. সাইক্লোন
  2. উইলি উইলি
  3. হ্যারিকেন
  4. টাইফুন
সঠিক উত্তর:
হ্যারিকেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্যারিকেন
ব্যাখ্যা
হ্যারিকেন:
- উত্তর আটলান্টিক ও উত্তর-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়কে হ্যারিকেন নামে অভিহিত করা হয়।
- হ্যারিকেন বড় এবং ঘূর্ণায়মান ঝড়। 
- এটি প্রতি ঘন্টায় ১১৯ কিলোমিটার (৭৪ মাইল প্রতি ঘন্টা) বা উচ্চতর বাতাস তৈরি করে। 
- এটি স্থলভাগের দ্রুততম প্রাণী অর্থাৎ চিতার চেয়ে দ্রুত। 
- হ্যারিকেনের বাতাস ভবন এবং গাছের ক্ষতি করতে পারে।
- উষ্ণ সাগরের জলের উপরে হ্যারিকেন তৈরি হয়।
- একটি হ্যারিকেন থেকে ভারী বৃষ্টি এবং বন্যা হতে পারে।
 
অন্যদিকে -
- ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়কে সাইক্লোন বলা হয়।
- এশিয়া ও জাপানের উপকূলের ঘূর্ণিঝড়কে টাইফুন বলা হয়।
- অস্ট্রেলিয়ার উপকূলের ঘূর্ণিঝড়কে উইলি উইলি বলা হয়।
 
উৎস: NASA ওয়েবসাইট ও Redcross ওয়েবসাইট।
৫৩৯.
মহাদেশীয় এবং মহাসাগরীয় প্লেটসমূহের সঞ্চালনের জন্য কী হয়?
  1. ভূমিকম্প
  2. প্রবল বৃষ্টি
  3. টর্নেডো
  4. তুষারপাত
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
পাত সঞ্চালন:
- সঞ্চালনশীল মহাদেশীয় ও মহাসাগরীয় পাতসমূহের গতিশীলতার সময় যখন পরস্পরের সাথে সংঘর্ষ হয় তখন ভূমিকম্প হয়।
তাই পৃথিবীর ভমিূকম্প প্রবণ অঞ্চলগুলো পাতসীমা বরাবর অবস্থিত।
এছাড়া সঞ্চালনশীল পাত দুটি পরস্পর থেকে দূরে সরে যায় বা সামনে-পিছনে গতিশীল হয় তখন ভূ-গর্ভে চাপের তারতম্য ঘটে এবং ভমিূকম্প হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪০.
কোনটি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব নয় কোনটি?
  1. সমুদ্রের পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া
  2. হিমালয়ের বরফ গলন
  3. রোগব্যাধি
  4. ভূমিক্ষয়
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া
ব্যাখ্যা
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব:
- জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মুখ্য প্রভাব হলো জলবায়ু পরিবর্তন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টিপাতের ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে। যেমন- অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি। এছাড়া অধিক গরম, খরা, এসিড বৃষ্টি প্রভৃতি দেখা দিচ্ছে।

- প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটনের হার বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততার ন্যায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটনের হার সবচেয়ে বেশি।

- মেরু অঞ্চলের বরফ গলন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে বিংশ শতাব্দীতে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে ০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলতে শুরু করেছে।

- সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মিশর, ভিয়েতনাম, ফিজি, কিরিবাতি, টুভ্যালু প্রভৃতি দেশের উপকূলীয় অঞ্চল সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এছাড়া কৃষি জমি লবণাক্ত হয়ে উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাবে।

- জীববৈচিত্র্য ধ্বংস: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবীতে বহু প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণিকূল বিলুপ্ত হবে। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন উদ্ভিদ ও প্রাণির বসবাসের অনুকূল পরিবেশে সরাসরি আঘাত হানার মধ্য দিয়ে ধ্বংস সাধন করছে।

- রোগব্যাধি: উষ্ণায়নের ফলে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ যেমন-ম্যালেরিয়া, এজমা, এলার্জি প্রভৃতি রোগের বিস্তার ঘটছে।

এছাড়া,
- পৃথিবীর ভূমিক্ষয়, সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া, মাটির উর্বরতা হ্রাস, প্রাকৃতিক জলাশয়ের উৎস বিনষ্ট হওয়া, খাদ্যে অনিরাপত্তা, বাস্তুসংস্থানের চক্র বিনষ্ট হওয়া, ওজোন স্তরের কার্যক্রম নষ্ট হওয়া, সমুদ্রে অক্সিজেন দ্রবীভূত হওয়ার পরিমাণ কমে যাওয়া ইত্যাদি নানা ধরনের হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে পৃথিবীবাসী।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪১.
কোন জেলায় লবণাক্ততার প্রভাব দেখা যায় না?
  1. ফেনী
  2. কুমিল্লা
  3. লক্ষ্মীপুর
  4. বাগেরহাট
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
লবণাক্ততা (Salinity):
- লবণাক্ততা বলতে মাটি ও পানিতে লবণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে যে অবস্থার সৃষ্টি হয় তাকে বুঝায়।
- সাধারণত লবণাক্ততার মাত্রা পরিমাপ করা হয় Parts Per Thousand বা পিপিটি (PPT) দ্বারা।
 সমুদ্রের পানিতে লবণাক্ততার গড় মাত্রা ৩৫পিপিটি অর্থাৎ ১ কিলোগ্রাম পানিতে প্রায় ৩৫ গ্রাম লবণ থাকে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মাটি ও পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- বঙ্গোপসাগরের পানি জোয়ারের সময় নদীর মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের ভূমিতে প্রবেশ করে লবণাক্ততা সৃষ্টি করে।
- সাধারণত আগস্ট মাস থেকে লবণাক্ততা শুরু হয় এবং ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে।
- উপকূলীয় ১৬টি জেলার ৬৪টি উপজেলায় লবণাক্ততা দেখা যায়।
- এর মধ্যে সর্বাধিক লবণাক্ততায় আক্রান্ত খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা জেলা।
- এছাড়া বরিশাল, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজার, ফেনী প্রভৃতি জেলা লবণাক্ততায় আক্রান্ত।

লবণাক্ততার কারণ:
- সাধারণত উপকূলীয় অঞ্চলের ভূমি ও পানিতে লবণাক্ততার জন্য জোয়ার-ভাটা ও সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিকে দায়ী করা হয়।
- আর সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য মানুষের বহুমুখী কর্মকাণ্ডকেই দায়ী করা হয়।

লবণাক্ততার প্রভাব -
১. উপকূলীয় অঞ্চলের জমি কৃষিকাজের অনুপযোগী হয়ে উৎপাদন হ্রাস পাওয়া;
২. সুপেয় পানির অভাব দেখা দেওয়া;
৩. উদ্বাস্তু লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি;
৪. সম্পদহানি ও দারিদ্রতা বৃদ্ধি;
৫. বিভিন্ন রোগব্যাধির প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়া;
৬. ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি;
৭. মিঠা পানির মাছের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস;
৮. গাছপালায় মড়ক লাগা ও ফসলের গোড়া পচে যাওয়া;
৯. সামাজিক বন্ধনে শিথিল হওয়া প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪২.
গ্রিন হাউজ ইফেক্টের কারণে বাংলাদেশে কোন ধরনের ক্ষতি হতে পারে?
  1. বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়বে
  2. বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমবে
  3. নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
  4. খরা দেখা দিবে
সঠিক উত্তর:
নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
ব্যাখ্যা
গ্রিন হাউজ প্রভাব:
- ওজোন স্তরে ক্ষত সৃষ্টি হলে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়ে কৃষি ও পরিবেশের ওপর যে বিরুপ প্রভাব ফেলে একেই গ্রিন হাউজ প্রভাব (Green House Effect) বলা হয়।
- গ্রিন হাউস ইফেক্টের ফলে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হচ্চে।
- ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ ক্রমে গলে যাচ্ছে।
- এর ফলে বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর নিম্নভূমি ক্রমশ নিমজ্জিত হবে।

⇒ গ্রীন হাউস গ্যাস:
- গ্রীন হাউজ ইফেক্টের জন্য দায়ী গ্যাসগুলোকে বলা হয় গ্রীন হাউজ গ্যাস।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রীন হাউজ গ্যাস হচ্ছে -
• জলীয় বাষ্প,
• কার্বন ডাই-অক্সাইড,
• নাইট্রাস অক্সাইড,
• মিথেন,
• ওজোন,
• ক্লোরোফ্লোরো কার্বন ইত্যাদি।
- কার্বন ডাই সালফাইড এবং কার্বনিল সাইফাইড পরোক্ষ গ্রিন হাউজ গ্যাস।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া। 
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৪৩.
দুর্যোগের সম্ভাবনা বা ঝুঁকি কমাতে যে সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয় তাকে বলা হয়- 
  1. দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি 
  2. দুর্যোগ প্রতিরোধ 
  3. দুর্যোগ প্রশমন
  4. দুর্যোগ উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগ প্রতিরোধ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগ প্রতিরোধ 
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অর্থ হলো যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা।
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান:

প্রতিরোধ (Prevention)
প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধ কার্যক্রম সফলতা বয়ে আনতে পারে। দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত এবং অকাঠামোগত প্রশমনের ব্যবস্থা রয়েছে। কাঠামোগত প্রশমনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম যথা- বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকেই বোঝায়। কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ যেমন- প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।
প্রশমন (Mitigation)
দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ী হ্রাস এবং দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে। মজবুত পাকা ভবন নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল নির্ধারণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শক্ত অবকাঠামো নির্মাণ, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর; প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন ইত্যাদি।

দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি:
দুর্যোগের প্রাক্কালে সঠিক প্রস্তুতি গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। এটি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের জনগণকে সচেতন করা, দুর্যোগের সময় দ্রুত সাহায্য পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুতি তৈরি করা এবং উপকরণ সংরক্ষণ করা ইত্যাদি বিষয়গুলির অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে,
- দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে
- সাড়াদান,
- পুনরুদ্ধার ও
- উন্নয়ন।
- এইগুলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান নয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

৫৪৪.
কোন আইন পাসের মাধ্যমে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. জরুরি অবস্থা আইন, ২০০৭
  2. জাতীয় দুর্যোগ নীতিমালা, ২০১০
  3. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২
  4. প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ আইন, ২০০৯
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (ডিডিএম) ২০১২ সালে গঠন করা হয়।
- ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২’ অনুমোদনের পর এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর আগে ১৯৭৩ সালে গঠিত ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তর এবং ১৯৯২ সালে সৃষ্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো (ডিএমবি) একীভূত হয়ে ডিডিএম গঠিত হয়।
- এই অধিদপ্তর দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, জরুরি সহায়তা প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের দায়িত্ব পালন করে।

উল্লেখ্য, 
- এটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও নীতিমালা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও কাজ করে।
- ডিডিএম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। 

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

৫৪৫.
পৃথিবীর সমচাপ সম্পন্ন স্থানসমূহের সংযোগকারী রেখাকে কী বলা হয়?
  1. ক) আইসোবার
  2. খ) আইসোথার্ম
  3. গ) আইসোহাইট
  4. ঘ) আইসোহেলাইন
সঠিক উত্তর:
ক) আইসোবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আইসোবার
ব্যাখ্যা
- আইসোবার : সমচাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
- আইসোহেলাইন : সমুদ্রের সমলবণাক্ততা সম্পন্ন স্থানসমূহের সংযোগকারী রেখা
- আইসোহাইট : সমবৃষ্টিপাত সম্পন্ন স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
- আইসোথার্ম : সমতাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা।

(তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল : ওপেন ইউনিভার্সিটি এবং সায়েন্সডিরেক্ট ওয়েবসাইট)
৫৪৬.
নিম্নের কোনটি ধীর গতিসম্পন্ন দুর্যোগের উদাহরণ?
  1. শস্যহানি
  2. অগ্ন্যুৎপাত
  3. ভূমিকম্প
  4. বজ্রপাত
সঠিক উত্তর:
শস্যহানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শস্যহানি
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ:
- উৎপত্তিগতভাবে দুর্যোগ বলতে এমন একটি অবস্থা বুঝায় যা মানুষকে মন্দ বা অকল্যাণকর পরিস্থিতির সম্মুখীন করে।
- এসব দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মানুষকে অনেক মূল্য দিতে হয়।
- দুর্যোগ কখনো হঠাৎ সংঘটিত হয় আবার কখনো বা এক বা একাধিক ঘটনা ধীরে ধীরে দুর্যোগ সৃষ্টি করতে পারে।
- আবার অনেক সময় একটি দুর্যোগ একাধিক দুর্যোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যেমন- ভূমিকম্প থেকে সুনামি হতে পারে।

দুর্যোগের ধরণ:
দুর্যোগ দুই ধরনের হতে পারে।
যথা- ধীর গতিসম্পন্ন দুর্যোগ এবং দ্রুত গতিসম্পন্ন দুর্যোগ।

১. ধীর গতিসম্পন্ন দুর্যোগ:
- ধীর গতিসম্পন্ন দুর্যোগ হলো এমন একটি অবস্থা, যা মানুষের খাদ্য ও জীবিকানির্বাহের পণ্যসামগ্রী সংগ্রহের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত হয়।
- যেমন- খরা, শস্যহানি, কৃষিক্ষেতে পোকামাকড়ের আক্রমণ ইত্যাদি।
- এ ধরনের দুর্যোগ সহজেই চিহ্নিত করা যায় বলে তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা যায়।

২. দ্রুত গতিসম্পন্ন দুর্যোগ:
- এ ধরনের দুর্যোগ আকস্মিক ঘটে থাকে বলে তা সহজে প্রতিরোধ করা যায় না।
- দ্রুত গতিসম্পন্ন দুর্যোগের ফলে মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং জীবন ও সম্পদহানি ঘটে। যেমন- ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।

সূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪৭.
গ্রীন হাউস ইফেক্টের প্রভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুতর প্রত্যক্ষ ক্ষতি কোনটি হবে?
  1. সাইক্লোনের প্রবনতা বাড়বে
  2. বৃষ্টিপাত কমে যাবে
  3. নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
  4. উত্তাপ অনেক যাবে
সঠিক উত্তর:
নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
ব্যাখ্যা
গ্রিন হাউজ প্রভাব:
- ওজোন স্তরে ক্ষত সৃষ্টি হলে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়ে কৃষি ও পরিবেশের ওপর যে বিরুপ প্রভাব ফেলে একেই গ্রিন হাউজ প্রভাব (Green House Effect) বলা হয়।
- গ্রিন হাউস ইফেক্টের ফলে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হচ্চে।
- ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ ক্রমে গলে যাচ্ছে।
- এর ফলে বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর নিম্নভূমি ক্রমশ নিমজ্জিত হবে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৪৮.
নিচের কোনটি নদীভাঙনের কারণ?
  1. অপরিকল্পিত নগরায়ণ
  2. জলবায়ু পরিবর্তন
  3. নদীর গভীরতা কম
  4. গঙ্গা নদীর উপর নির্মিত ফারাক্কা বাঁধ
সঠিক উত্তর:
জলবায়ু পরিবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলবায়ু পরিবর্তন
ব্যাখ্যা
• নদীভাঙন (River Bank Erosion):
- নদীখাতে পানিপ্রবাহের কারণে পার্শ্ব ক্ষয়কে নদীভাঙন বলে।
- পলিমাটি গঠিত সমভূমি অধ্যুষিত বাংলাদেশে নদীভাঙনে প্রতি বছর প্রচুর ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়।
- অনেক মানুষের জীবনহানি ঘটে।

• নদীভাঙনের কারণ:
- জলবায়ু পরিবর্তন;
- নদীর প্রবাহপথ ও তীব্র গতিবে ;
- নদীর গতিপথ পরিবর্ত ;
- নদীগর্ভে শিলার উপাদান;
- রাসায়নিক দ্রব্যের উপস্থিতি;
- বাহিত শিলার কঠিনতা;
- নদীগর্ভে ফাটলের উপস্থিত;
- বৃক্ষ নিধন।

• বন্যার কারণ (Causes of Flood):
- ভৌগোলিক অবস্থান;
- নদীর গভীরতা কম;
- হিমালয়ের বরফগলা পানিপ্রবাহ;
- বঙ্গোপসাগরের তীব্র জোয়ার-ভাটা।
- ভূমিকম্প।
- গঙ্গা নদীর উপর নির্মিত ফারাক্কা বাঁধ;
- অপরিকল্পিত নগরায়ণ;
- জলাশয় ভরাট।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৫৪৯.
'সাড়াদান' বলতে কোন ধরনের কার্যক্রমকে বুঝায়?
  1. দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন পরিকল্পনা প্রণয়ন
  2. দুর্যোগের পর নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা
  3. দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলসমূহকে চিহ্নিতকরণ
  4. দুর্যোগ পূর্ব সময়ে উদ্ধার কার্যে ব্যবহৃত সরঞ্জাম সংগ্রহ
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের পর নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের পর নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
- দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে ও সংঘটনের অব্যবহিত পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদান যেমন- সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, প্রশমন উন্নয়ন, প্রতিরোধ, পূর্বপ্রস্তুতি কার্যক্রম সম্পাদন করা প্রয়োজন।

সাড়াদান (Response):
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন।
- সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫০.
বাংলাদেশে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা কত মিলিগ্রাম?
  1. ক) ০.০১ মিলিগ্রাম
  2. খ) ০.০৫ মিলিগ্রাম
  3. গ) ০.১৫ মিলিগ্রাম
  4. ঘ) ০.৫০ মিলিগ্রাম
সঠিক উত্তর:
খ) ০.০৫ মিলিগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ০.০৫ মিলিগ্রাম
ব্যাখ্যা
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা হলো ০.০১ মিলিগ্রাম।
- তবে বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ দেশের মাত্রা নির্ধারণ করে থাকে। বাংলাদেশে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা ০.০৫ মিলিগ্রাম।
- চাঁদপুর জেলা দেশের মধ্যে সবচেয়ে আর্সেনিক দূষণপ্রবণ জেলা।
(তথ্যসূত্রঃ ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়)
৫৫১.
বন্যার প্রভাবে নিচের কোনটি ঘটে?
  1. সম্পদহানি
  2. ফসল উৎপাদন হ্রাস
  3. রোগ-ব্যাধির বিস্তার
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
বন্যার প্রভাব:
- বন্যার ফলে বহুমুখী ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।
- যেমন-সম্পদহানি, ফসল উৎপাদন হ্রাস, উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষিজমি লবণাক্ত হওয়া, রোগ-ব্যাধির বিস্তার, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়া, সুপেয় পানির সংকট, খাদ্য ও পুষ্টির অভাব প্রভৃতি।
- বিগত অর্ধশতাব্দীর কিছু বেশি সময়ে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ বন্যা সংঘটিত হয়।
- এর মধ্যে অন্যতম হলো ১৯৫৪, ১৯৬৩, ১৯৭৪, ১৯৭৮, ১৯৮৪, ১৯৮৮, ১৯৯৮, ২০০৪, ২০০৭ সালের বন্যা।
- ১৯৯৮ সালের বন্যা ছিল সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী এবং দেশের অধিকাংশ জেলা ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫২.
নিচের কোনটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগের উদাহরণ?
  1. নদীভাঙন
  2. খরা
  3. বনভূমি বিনাশ
  4. বন্যা
সঠিক উত্তর:
বনভূমি বিনাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বনভূমি বিনাশ
ব্যাখ্যা
দুর্যোগের ধরন: 
♠ কোনো প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট অবস্থা যখন অস্বাভাবিক ও অসহনীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে এবং এর ফলে শস্য ও সম্পদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি ও ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে, পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন তাকে দুর্যোগ হিসাবে বিবেচনা করা যায়।
⇒ দুর্যোগ দুই ধরনের: 
• প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং 
• মানবসৃষ্ট দুর্যোগ। 

♠ প্রাকৃতিক দুর্যোগ: 
• আকস্মিকভাবে ঘটে এবং তার উপর সাধারণত মানুষের হাত থাকে না। 
• প্রাকৃতিক কোনো দুর্ঘটনা বা বিপর্যয় যখন কোনো জনপদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তোলে তখন তাকে আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলি।
• যেমন: বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন, সুনামি, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত প্রভৃতি।  

♠ মানবসৃষ্ট দুর্যোগ:
• মানুষের অসচেতনতা বা দূরদৃষ্টির অভাবে যে দুর্যোগ সৃষ্টি হয় এবং যা মানুষের প্রাণহানি ঘটানোর পাশাপাশি তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে, পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট করে এবং সমাজকে অস্থিতিশীল করে তোলে, তাকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে।
• অনেকটা মানুষের কর্মকাণ্ডের ফল এবং মানুষ সচেতন ও সতর্ক থাকলে এ দুর্যোগ থেকে আত্মরক্ষা করতে পারে।  
• যেমন: যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বনভূমি বিনাশ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, মরুকরণ, অগ্নিকাণ্ড প্রভৃতি।  

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
৫৫৩.
সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে কোন দেশগুলো সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে?
  1. বাংলাদেশ
  2. মিশর
  3. ভিয়েতনাম
  4. বর্নিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্নিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্নিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
• জলবায়ু পরিবর্তন:
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মুখ্য প্রভাব হলো জলবায়ু পরিবর্তন।
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টিপাতের ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে।
- যেমন- অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি।
- এছাড়া অধিক গরম, খরা, এসিড বৃষ্টি প্রভৃতি দেখা দিচ্ছে।

• প্রাকৃতিক দুর্যোগ:

- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটনের হার বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
- বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততার ন্যায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটনের হার সবচেয়ে বেশি।

• সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন:
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে।
- সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মিশর, ভিয়েতনাম, ফিজি, কিরিবাতি, টুভ্যালু প্রভৃতি দেশের উপকূলীয় অঞ্চল সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
- এছাড়া,
- কৃষি জমি লবণাক্ত হয়ে উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাবে।
• মেরু অঞ্চলের বরফ গলন বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে বিংশ শতাব্দীতে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে ০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
- পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলতে শুরু করেছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, একাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৪.
প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম কোন ধরনের দুর্যোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা?
  1. ক) কাঠামোগত
  2. খ) অকাঠামোগত
  3. গ) উভয়ই
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) অকাঠামোগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অকাঠামোগত
ব্যাখ্যা
প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যা স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
৫৫৫.
২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে সর্বপ্রথম কোন হারিকেনটি আঘাত হানে?
  1. ডেনিস
  2. ক্যাটরিনা
  3. আইভান
  4. রিটা
সঠিক উত্তর:
ক্যাটরিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যাটরিনা
ব্যাখ্যা
২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের সমুদ্র উপকূলবর্তী অঙ্গরাজ্য লুইজিয়ানার 'গ্র্যান্ড ইল' এলাকায় প্রথম আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় 'ক্যাটরিনা'।

হারিকেন:
- সাধারণত আটলান্টিক ও উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়গুলোকে হ্যারিকেন নামে অভিহিত করা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কিউবা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে হারিকেন আঘাত করে।
- এটি প্রতি ঘন্টায় ১১৯ কিলোমিটার (৭৪ মাইল প্রতি ঘন্টা) বেগে প্রবাহিত হয়।
- একটি হ্যারিকেন থেকে ভারী বৃষ্টি এবং বন্যা হতে পারে।
- সাফির -সিম্পসন হারিকেন উইন্ড স্কেল হল ১ থেকে ৫ রেটিং বা বিভাগ, হারিকেনের সর্বাধিক স্থায়ী বাতাসের উপর ভিত্তি করে।
- ক্যাটাগরি যত বেশি, হারিকেনের সম্পত্তির ক্ষতির সম্ভাবনা তত বেশি।

উল্লেখ্য,
- হারিকেন ক্যাটরিনা ছিল একটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় যা ২০০৫ সালের আগস্টের শেষের দিকে দক্ষিণ-পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানে।
- হারিকেন এবং এর পরবর্তী সময়ে ১৮০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যায়।
- এটি মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসাবে স্থান পায়।

উৎস: i) NASA ওয়েবসাইট।
ii) NOAA ওয়েবসাইট।
৫৫৬.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২ অনুসারে, নিচের কোনটি কারিগরি আপদ?
  1. নদী ভাঙ্গন
  2. ভবনধ্বস
  3. নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা
  4. পারমানবিক দুর্ঘটনা
সঠিক উত্তর:
পারমানবিক দুর্ঘটনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারমানবিক দুর্ঘটনা
ব্যাখ্যা
‘আপদ (Hazard):
- আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা যা প্রাকৃতিক, মানব সৃষ্ট বা কারিগরি ক্রটির কারণে ঘটতে পারে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- এর ফলস্বরূপ বিপর্যয় সংঘটনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপদ ও হুমকির মধ্যে নিপতিত করে।
- দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদির প্রাথমিক এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অবকাঠামোর উপর যার পুনঃনির্মাণ খুব ব্যয়বহুল কাজ।
- সব চরম ঘটনাই হচ্ছে আপদ।

উল্লেখ্য,
- প্রাকৃতিক আপদ: ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, বজ্রঝড়, টর্ণেডো, বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি, খরা, নদী ভাঙ্গন ইত্যাদি।
- মানবসৃষ্ট আপদ: ভবনধ্বস, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি।
- কারিগরি আপদ: বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ড, শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা, পারমানবিক দুর্ঘটনা ইত্যাদি।

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২।
৫৫৭.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা হয়?
  1. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
  2. পশ্চিমাঞ্চল
  3. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
  4. উত্তর-পূর্বাঞ্চল
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পূর্বাঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পূর্বাঞ্চল
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- বন্যা বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী বন্যাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং নগর বন্যা।

⇒ আকস্মিক বন্যা:
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমী আকস্মিক বৃষ্টিপাত বা পাহাড়ি ঢলের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয়, তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তথা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ প্রভৃতি জেলায় আকস্মিক বন্যা হতে দেখা দেয়।
- বোরো মৌসুমে এ ধরনের বন্যা হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) মে ১, ২০২৪, The Daily Star বাংলা।
৫৫৮.
নিচের কোনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়?
  1. বন্যা
  2. টর্নেডো
  3. অগ্নিকাণ্ড
  4. নদীভাঙন
সঠিক উত্তর:
অগ্নিকাণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিকাণ্ড
ব্যাখ্যা
দুর্যোগের ধারণা:
- কোনো প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট অবস্থা যখন অস্বাভাবিক ও অসহনীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে এবং এর ফলে শস্য ও সম্পদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি ও ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে, পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন তাকে দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
- দুর্যোগ দুই ধরনের। প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মানবসৃষ্ট দুর্যোগ।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ আকস্মিকভাবে ঘটে এবং তার উপর সাধারণত মানুষের হাত থাকে না। 
- মানবসৃষ্ট দুর্যোগ অনেকটা মানুষের কর্মকাণ্ডের ফল এবং মানুষ সচেতন ও সতর্ক থাকলে তা থেকে আত্মরক্ষা করতে পারে।
- মানুষের অসচেতনতা বা দূরদৃষ্টির অভাবে যে দুর্যোগ সৃষ্টি হয় এবং যা মানুষের প্রাণহানি ঘটানোর পাশাপাশি তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে, পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট করে এবং সমাজকে অস্থিতিশীল করে তোলে, তাকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে।
- যেমন: যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বনভূমি বিনাশ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, মরুকরণ, অগ্নিকাণ্ড, দূষণ প্রভৃতি। 
- প্রাকৃতিক কোনো দুর্ঘটনা বা বিপর্যয় যখন কোনো জনপদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তোলে তখন তাকে আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলি।
- যেমন- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন, সুনামি, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৫৯.
বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান কবে আঘাত হানে?
  1. ক) ২০২০ সালের ১৫ মে
  2. খ) ২০১৮ সালের ১৬ মে
  3. গ) ২০১৯ সালের ১৮ মে
  4. ঘ) ২০২০ সালের ২০ মে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২০২০ সালের ২০ মে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২০২০ সালের ২০ মে
ব্যাখ্যা
২০২০ সালের ২০ মে ঘণ্টায় ১৬০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার বাতাসের গতিবেগ নিয়ে বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আমফান৷
উৎসঃ দৈনিক পত্রিকা রিপোর্ট এবং লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার সালতামামি
৫৬০.
ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে কী বলা হয়?
  1. চোখ
  2. মুখ
  3. ফণী
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
চোখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোখ
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড় হলো একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণিজগতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় নানা নামে পরিচিত।
- অনিয়মিত বায়ুর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো ঘূর্ণিঝড় ও প্রতীপ ঘূর্ণিঝড়।
- উপরের ও নিচের বায়ুর পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের সময় পশ্চিমা বায়ু প্রবাহ দ্বারা মধ্য অক্ষাংশ অঞ্চলের নিম্নচাপ ও উচ্চচাপ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়।
- এই ঝড়ের সময় বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ ঘন্টায় ৬৫ কি.মি বা তারও বেশি হয়।
- এছাড়াও নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। দ্রুত উর্দ্ধগামী বায়ু জলীয়বাষ্পপূর্ণ থাকলে ঘূর্ণিঝড়ের সময় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলা হয়।
- উত্তর গোলার্ধে প্রবল ঘূর্ণিবায়ু বাইরের থেকে কেন্দ্রের দিকে প্রবাহিত হয়। পরে প্রচন্ড শক্তিতে বায়ু আবর্তনের মাধ্যমে উপরের দিকে উঠতে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় উষ্ণ জলরাশি থেকে সৃষ্টি হয় যার গড় উঞ্চতা ২৭° সেলসিয়াস।
- সমুদ্র পৃষ্ঠের কাছাকাছি অন্তত ২৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিশিষ্ট যথেষ্ট পরিমাণে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু থাকে।
- মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয় এবং বায়ুপ্রবাহের ভেতরে এবং উপরের দিকে খাড়া হয়ে মেঘপুঞ্জের সৃষ্টি হয়।
- উর্দ্ধস্তরের বায়ু বহির্গামী হবে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৬১.
কোনটি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ?
  1. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
  2. টর্নেডো
  3. খরা
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ (Climate Change-Induced Disasters):
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মুখ্য প্রভাব হলো জলবায়ু পরিবর্তন।
- আগামী দশকের যে সকল চ্যালেঞ্জ বিশ্ববাসীকে মোকাবেলা করতে হবে তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জলবায়ু পরিবর্তন এবং এর বিরূপ প্রভাব।
- জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগগুলো হলো: সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, সুনামির প্রকোপ বৃদ্ধি, অস্বাভাবিকভাবে ঋতু বৈচিত্র্যের চক্র নষ্ট হওয়া, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হওয়া।

• জলবায়ু পরিবর্তন: 
- কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা এলাকায় দীর্ঘ মেয়াদে গড় আবহাওয়ার পরিবর্তনকে জলবায়ুর পরিবর্তন বলে। 
- পৃথিবীতে প্রতিদিন যে সূর্যকিরণ পতিত হয় ভূ-পৃষ্ঠ তা শোষণ করে নেয়। শোষিত সূর্যকিরণ আবার মহাশূন্যে বিকিরিত বা প্রতিফলিত হয়। প্রকৃতির এটিই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু প্রাকৃতিক নিয়মের এই শোষণ বিকিরণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বাঁধা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলেই জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটে।

⇒ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ: 
- জলবায়ু পরিবর্তন হয়ে থাকে মূলত পৃথিবীর গড় তাপমাত্রার বৃদ্ধির ফলে। আর তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো -
১. জীবাশ্ম জ্বালানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার;
২. শিল্প-কারখানার ধোঁয়া ও বিষাক্ত বর্জ্য;
৩. যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া যেমন- কার্বন মনোঅক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড;
৪. ব্যাপকহারে বনাঞ্চল ধ্বংস;
৫. তেজষ্ক্রিয় দূষণ;
৬. বনভূমি এলাকায় দাবানল;
৭. ওজোন স্তর ক্ষয় এবং
৮. মানুষের বিলাসবহুল জীবযাপনের জন্য প্রস্তুত বিভিন্ন সামগ্রী (যেমন-এয়ারকন্ডিশনার) প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৬২.
SPARSO এর পূর্ণ রূপ কোনটি?
  1. ক) Space Resource and Remote Sensing Organisation
  2. খ) Special Resource and Remote Sensing Organisation
  3. গ) Space Research and Regulatory Sensing Organisation
  4. ঘ) Space Research and Remote Sensing Organisation
সঠিক উত্তর:
ঘ) Space Research and Remote Sensing Organisation
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Space Research and Remote Sensing Organisation
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের একমাত্র ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের পূর্বাভাস কেন্দ্র হলো SPARRSO (Space Research and Remote Sensing Organisations)।
- এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান যা ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত।

উৎস: SPARSO ওয়েবসাইট।
৫৬৩.
'Bangladesh Climate and Disaster Risk Atlas' প্রতিবেদন অনুসারে, লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড় প্রবণ জেলা কয়টি?
  1. ১৬টি
  2. ১৩টি
  3. ১১টি
  4. ১৮টি
সঠিক উত্তর:
১৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬টি
ব্যাখ্যা
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) কর্তৃক প্রকাশিত Bangladesh Climate and Disaster Risk Atlas অনুসারে -
১. দেশে ভূমিকম্প ঝুঁকি প্রবণ জেলা - ৩টি।
- কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী।

২. বন্যা প্রবণ জেলা - ১১টি।
- টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, শরীয়তপুর ও চাঁদপুর।

৩. আকস্মিক বন্যা ও ভূমিকম্প ঝুঁকি প্রবণ জেলা - ৬টি।
- সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ।

৪. দেশে খরাপ্রবণ জেলা - ১৩টি।
- পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর, রংপুর, জয়পুরহাট, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও গাজীপুর। 

৫. খরার সঙ্গে বন্যা প্রবণ জেলা - ৬টি।
- রাজশাহী, নাটোর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও কুষ্টিয়া।

৬. বন্যা ও ভূমিকম্প প্রবণ জেলা - ৬টি।
-  লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও জামালপুর।

৭. লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড় প্রবণ জেলা - ১৬টি।
- যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইল, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরিশাল, ভোলা, বরগুনা, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার।

Source: পত্রিকা রিপোর্ট ও এডিবি ওয়েবসাইট।
৫৬৪.
নিম্নের কোন সংস্থাটি দুর্যোগ ঝুঁকি নিরসন বিষয়ক কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত?
  1. UNFPA
  2. FAO
  3. UNDRR
  4. UNESCO
সঠিক উত্তর:
UNDRR
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNDRR
ব্যাখ্যা
• UNDRR:
- পূর্ণরুপ - The United Nations Office for Disaster Risk Reduction (UNDRR)
- এটি দুর্যোগ ঝুঁকি নিরসন বিষয়ক কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত।
- UNDRR দুর্যোগ ঝুঁকি কমানোর সক্ষমতা তৈরি করতে সরকার, প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত এবং নাগরিক সমাজের সাথে বিশ্বব্যাপী কাজ করে।

তথ্যসূত্র: UNDRR ওয়েবসাইট।
৫৬৫.
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে কোন ধরনের বন্যা দেখা যায়?
  1. ক) আকস্মিক বন্যা
  2. খ) উপকূলীয় বন্যা
  3. গ) বৃষ্টিজনিত বন্যা
  4. ঘ) নদীসৃষ্ট বন্যা
সঠিক উত্তর:
খ) উপকূলীয় বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উপকূলীয় বন্যা
ব্যাখ্যা
• উপকূলীয় বন্যা (Coastal Flood ):
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূল রেখা প্রায় ৮০০ কিলোমিটার সংলগ্ন এলাকাতে উপকূলীয় বন্যা দেখা যায়।
- বঙ্গোপসাগরের অগভীর মহাসোপান, বঙ্গোপসাগরে পূর্ব অংশের ফানেল ও মোচাকৃতির উপকূল রেখার কারণে ঘূর্ণিঝড়ের জলোচ্ছাসের উচ্চতা (সর্বোচ্চ ১০-১৫ মিটার) অধিক হওয়ার কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে বন্যা হয়।
- ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায ভয়াবহ বন্যা হয় ।

সূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬৬.
নিচের কোনটি বায়ু দূষণের প্রাকৃতিক কারণ?
  1. ধূলিঝড়
  2. দাবানল
  3. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক কারণ:
১. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত: আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোঅক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস প্রভৃতি বায়ুর সাথে মিশে বায়ুকে দুষিত করে।
২. জৈব ও অজৈব পদার্থ: বিভিন্ন প্রকার জৈব ও অজৈব পদার্থের স্বাভাবিক পচনের ফলে যে গ্যাস সৃষ্টি হয় তা বায়ুকে
দুষিত করে।
৩. দাবানল ও ধূলিঝড়: বিস্তৃত বনাঞ্চলে দাবানল হলে তা ব্যাপক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বায়ুকে দুষিত করে।
এছাড়া মরু এলাকায় ধূলিঝড়ও বায়ু দূষণ ঘটায়।
৪. গ্যাসক্ষেত্রের বিস্ফোরণ: গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ বা দুর্ঘটনাজনিত কারণে যে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে তা বায়ুকে দুষিত করে।

তথ্যসূত্র  ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬৭.
বাংলাদেশের দুর্যোগের তালিকায় ‘বজ্রপাত’ অন্তর্ভুক্ত করা হয় কবে?
  1. ২০১৪ সালে
  2. ২০১৬ সালে
  3. ২০১৭ সালে
  4. ২০১৯ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১৬ সালে
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বাংলাদেশ -
- ১৭ মে, ২০১৬ সালে দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয় বজ্রপাতকে ১৩তম প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে।  

- দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কা, ভারত, নেপাল তুলনায় বাংলাদেশে বজ্রপাতের প্রবণতা অনেক বেশি।
- আবহাওয়াবিদদের মতে, বাংলাদেশে বজ্রপাতের মূল কারণ দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান।
- বাংলাদেশে উত্তরাঞ্চল এবং উত্তর পশ্চিমাঞ্চল বজ্রপাত-প্রবণ এলাকাগুলোর অন্যতম।
- গ্রীষ্মকালে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা বেশি থাকায় এ পরিস্থিতির তৈরি হয়।

সম্প্রতি,
- বাংলাদেশে বজ্রপাত এবং বজ্রপাতে মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- ২০২৪ সালে বাংলাদেশে বজ্রপাতে ২৯৭ জন নিহত হয়েছেন।
- গত এপ্রিল মাসে বজ্রপাতে দেশে মারা গেছেন ৩০ জন।

তথ্যসূত্র: পত্রিকা রিপোর্ট।
৫৬৮.
সম্প্রতি (সেপ্টেম্বর, ২০২৩) ঘূর্ণিঝড় ‘ইডালিয়া’ কোন দেশে আঘাত হানে?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. যুক্তরাজ্য
  3. ব্রাজিল
  4. চীন
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় ‘ইডালিয়া’:
- ৩১ আগস্ট, ২০২৩ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূলে আঘাত হেনেছে ক্যাটাগরি-৩ ঘূর্ণিঝড় ইডালিয়া।
- মেক্সিকো উপসাগর থেকে শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়টি বিধ্বংসী বাতাস ও ঝড় নিয়ে আঘাত হানে।
- অঙ্গরাজ্যটিতে বন্যা দেখা দিয়েছে।
- আঘাতের সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল প্রতি ঘণ্টায় ১২৫ মাইল।

উৎস: ৩১ আগস্ট ২০২৩, প্রথম আলো।
৫৬৯.
বাংলাদেশে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয় কোনটি?
  1. জলোচ্ছ্বাস
  2. কালবৈশাখী
  3. হিমবাহ ধ্বস
  4. ভূমিকম্প
সঠিক উত্তর:
হিমবাহ ধ্বস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমবাহ ধ্বস
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহ:
- পৃথিবীর প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।
- এদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্য, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রভৃতি কারণে প্রায় প্রতি বছরই কোনো না কোনো দুর্যোগে আক্রান্ত হয়।
- ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জনজীবন, ক্ষয়ক্ষতি হয় সম্পদ ও জীবনের।
- বাংলাদেশে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস, কালবৈশাখী ও টর্নেডো, বন্যা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, খরা, আর্সেনিক, ভূমিকম্প ও সুনামি অন্যতম।
- হিমবাহ ধ্বস বাংলাদেশে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭০.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান নয় কোনটি?
  1. প্রতিরোধ
  2. পূর্বপ্রস্তুতি
  3. পুনরুদ্ধার
  4. কাঠামোগত প্রশমন
সঠিক উত্তর:
পুনরুদ্ধার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনরুদ্ধার
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অর্থ হলো যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা।
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান:
১. দুর্যোগ প্রতিরোধ:
দুর্যোগের সম্ভাবনা বা ঝুঁকি কমাতে যে সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা দুর্যোগ প্রতিরোধের অংশ। এর মধ্যে পূর্বাভাস ব্যবস্থা, সতর্কতা কার্যক্রম এবং প্রতিরোধী কাঠামো তৈরি করা অন্তর্ভুক্ত থাকে।

২. দুর্যোগ প্রশমন:
দুর্যোগের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর জন্য দুর্যোগ প্রশমনের কাজ করা হয়। এটি সরাসরি দুর্যোগের তীব্রতা কমানোর জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ, যেমন বাঁধ নির্মাণ, নিরাপত্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং পরিবেশগত বিপর্যয় রোধ করা।

৩. দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি:
দুর্যোগের প্রাক্কালে সঠিক প্রস্তুতি গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। এটি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের জনগণকে সচেতন করা, দুর্যোগের সময় দ্রুত সাহায্য পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুতি তৈরি করা এবং উপকরণ সংরক্ষণ করা ইত্যাদি বিষয়গুলির অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে,
দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে - 
- সাড়াদান,
- পুনরুদ্ধার
- উন্নয়ন।
- এইগুলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান নয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৭১.
অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন নয়- 
  1. গণসচেতনতা বৃদ্ধি
  2. প্রশিক্ষণ
  3. পূর্বপ্রস্তুতি
  4. আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ
সঠিক উত্তর:
আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান। 

• প্রতিরোধ:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধ কার্যক্রম সফলতা বয়ে আনতে পারে।
- দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত এবং অকাঠামোগত প্রশমনের ব্যবস্থা রয়েছে।
- কাঠামোগত প্রশমনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম যথা- বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকেই বোঝায়। 
- কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
• অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন যেমন- প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।

 উৎস: ভূগোল ‍ও পরিবেশ, এসএসসি, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৭২.
কোন সালের ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যায়?
  1. ১৭৮৭ সালে
  2. ১৭৮৯ সালে
  3. ১৮৭৮ সালে
  4. ১৮৭৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৮৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৮৭ সালে
ব্যাখ্যা
ব্রহ্মপুত্র (Brahmaputra) নদ:
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের তিব্বত অংশের মানস সরোবর থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- এরপর তিব্বত হয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- বাংলাদেশে ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
- মেঘনা নদীতে মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এটি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশ অংশে ব্রহ্মপুত্র নদ প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়েছে।
- প্রধান শাখানদী: বংশী ও শীতলক্ষ্যা।
- প্রধান উপনদী: ধরলা ও তিস্তা।

⇒ ১৭৮৭ সালে ডাউকি চ্যুতিতে তীব্র ভূমিকম্পের পর ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছিল।
- সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উপরে উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গিয়ে একটি নতুন স্রোতধারা সৃষ্টি হয়।
- যা বর্তমানে যমুনা নামে পরিচিত।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
৫৭৩.
প্রকৃতি অনুযায়ী অভিবাসনকে কয় ভাগে বিভক্ত করা হয়?
  1. ক) ২ ভাগে
  2. খ) ৩ ভাগে
  3. গ) ৪ ভাগে
  4. ঘ) ৫ ভাগে
সঠিক উত্তর:
ক) ২ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২ ভাগে
ব্যাখ্যা
• প্রকৃতি অনুযায়ী অভিবাসনকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। যথা:
- অবাধ অভিবাসন:
নিজের ইচ্ছায় বাসস্থান ত্যাগ করে আপন পছন্দমতো স্থানে বসবাস করাকে অবাধ অভিবাসন বলে।
- বলপূর্বক অভিবাসন: প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক চাপেরর মুখে কিংবা পরোক্ষভাবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ সৃষ্টির ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে যে অভিগমন করে তাকে বলপূর্বক অভিবাসন বলে।
- অভিবাসনের কারণ: মানুষ প্রাকৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণে অভিগমন করে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৭৪.
মানবসৃষ্ট কারণে সংঘটিত দুর্যোগ কোনটি?
  1. মরুকরণ
  2. বন্যা
  3. নদীভাঙন
  4. ভূমিকম্প
সঠিক উত্তর:
মরুকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরুকরণ
ব্যাখ্যা

• মানবসৃষ্ট কারণে সংঘটিত দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে:
- রাসায়নিক দূষণ, 
- যুদ্ধ, 
- পারমাণবিক বিস্ফোরণ, 
- মরুকরণ, 
- অগ্নিকাণ্ড, 
- জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, 
- বন উজারকরণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
প্রাকৃতিক কারণে সংঘটিত দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে:
- ভূমিকম্প, 
- অগ্ন্যুৎপাত, 
- নদীভাঙন, 
- তুষারপাত, 
- ঘূর্ণিঝড়, 
- খরা, 
- জলোচ্ছ্বাস, 
- বন্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: অষ্টম শ্রেণি।

৫৭৫.
বাংলাদেশে ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটনের কারণ নয় কোনটি?
  1. অপরিকল্পিত নগরায়ন
  2. ভূমির গঠন
  3. জলবায়ু
  4. ভৌগোলিক অবস্থান
সঠিক উত্তর:
অপরিকল্পিত নগরায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপরিকল্পিত নগরায়ন
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ।
- বাংলাদেশে প্রতিবছরই বিভিন্ন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা দিয়ে থাকে।
- বাংলাদেশে ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটনের কারণসমূহের মধ্যে রয়েছে:-
১। ভৌগোলিক অবস্থান
২। জলবায়ু
৩। ভূমির গঠন
৪। নদী-নালার আধিক্য ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচিতি , অষ্টম শ্রেণি।
৫৭৬.
বন্যার প্রভাবে নিচের কোনটি ঘটে?
  1. সম্পদহানি
  2. ফসল উৎপাদন হ্রাস
  3. রোগ-ব্যাধির বিস্তার
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

• বন্যার প্রভাব:
- বন্যার ফলে বহুমুখী ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।
- যেমন-সম্পদহানি, ফসল উৎপাদন হ্রাস, উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষিজমি লবণাক্ত হওয়া, রোগ-ব্যাধির বিস্তার, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়া, সুপেয় পানির সংকট, খাদ্য ও পুষ্টির অভাব প্রভৃতি।
- বিগত অর্ধশতাব্দীর কিছু বেশি সময়ে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ বন্যা সংঘটিত হয়।
- এর মধ্যে অন্যতম হলো ১৯৫৪, ১৯৬৩, ১৯৭৪, ১৯৭৮, ১৯৮৪, ১৯৮৮, ১৯৯৮, ২০০৪, ২০০৭ সালের বন্যা।
- ১৯৯৮ সালের বন্যা ছিল সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী এবং দেশের অধিকাংশ জেলা ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৭৭.
দেশের ১৩ তম প্রাকৃতিক দুর্যোগ-
  1. ক) অগ্নিকাণ্ড
  2. খ) ভূমিধস
  3. গ) বজ্রপাত
  4. ঘ) টর্নেডো
সঠিক উত্তর:
গ) বজ্রপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বজ্রপাত
ব্যাখ্যা

- ১৭ মে ২০১৬ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বজ্রপাতকে দেশের ১৩ তম প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘোষণা করে।
- যার ফলে বাংলাদেশে বর্তমানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলৌ ১৩টি।
- বর্তমানে বিশ্বে বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় বাংলাদেশে।

উৎস: প্রথম আলোর ওয়েবসাইট।

৫৭৮.
নিচের কোনটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ?
  1. জলোচ্ছ্বাস
  2. অগ্নিকাণ্ড
  3. নদীভাঙন
  4. ঘূর্ণিঝড়
সঠিক উত্তর:
অগ্নিকাণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিকাণ্ড
ব্যাখ্যা
মানবসৃষ্ট কারণে সংঘটিত দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে রাসায়নিক দূষণ, যুদ্ধ, পারমাণবিক বিস্ফোরণ, মরুকরণ, অগ্নিকাণ্ড, জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, বনউজারকরণ ইত্যাদি।
অন্যদিকে, প্রাকৃতিক কারণে সংঘটিত দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত, নদীভাঙন, তুষারপাত, ঘূর্ণিঝড়, খরা, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা ইত্যাদি।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী : পৃষ্ঠা-৮৯)
৫৭৯.
মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল নিচের কোনটি?
  1. ক) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল
  2. খ) মধ্যাঞ্চল
  3. গ) দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ক) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল
ব্যাখ্যা
• ভূমিকম্প (Earthquake): বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহের মধ্যে ভূমিকম্প সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভূ-গাঠনিক কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এদেশ। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশকে তিনটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়। এগুলো হলো-
- রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ৭ হলে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ,
- মাত্রা ৬ হলে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং
- মাত্রা ৫ হলে কম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে গণ্য হবে।

• দেশের কোন অঞ্চল কোন মাত্রার ভূমিকম্প ঝুঁকির অন্তর্ভুক্ত তা নিম্নে দেখানো হলো:
১. মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল- দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল এর অন্তর্ভুক্ত।
২. মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল- দেশের মধ্যাঞ্চল এর অন্তর্ভুক্ত।
৩. কম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল- দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল এর অন্তর্ভুক্ত।

সূত্র: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮০.
দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায় নয় কোনটি?
  1. পুনরুদ্ধার 
  2. সাড়া প্রদান
  3. উন্নয়ন
  4. প্রশমন
সঠিক উত্তর:
প্রশমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশমন
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: 
-দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান ৩টি। যথা-
১। দুর্যোগ প্রতিরোধ
২। দুর্যোগ প্রশমন
৩। দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:  
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র বলতে দুর্যোগ মোকাবেলার সাথে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত পর্যায়গুলোকে বুঝানো হয়ে থাকে।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রকে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-

ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়:
- দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়।
- এগুলো হলো: পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং প্রশমন।
- এই ৩টি কার্যক্রম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান ।

খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়:-
- দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়।
- এগুলো হলো- সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন।

- সুতরাং দুর্যোগকে কার্যত মুকাবেলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
- দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।
- অতীতে দুর্যোগে সাড়াদানকেই সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি

৫৮১.
পৃথিবীর ‍বৃহত্তম মহীসোপান কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) উত্তর আমেরিকার পশ্চিম উপকূল
  2. খ) এশিয়ার পূর্ব উপকূলে
  3. গ) আফ্রিকার উত্তর উপকূলে
  4. ঘ) ইউরোপের উত্তর-পশ্চিম উপকূল
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইউরোপের উত্তর-পশ্চিম উপকূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইউরোপের উত্তর-পশ্চিম উপকূল
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর মহাদেশসমূহের স্থলভাগের যে অংশ অল্প ঢালু হয়ে সমুদ্রের পানির মধ্যে নেমে গেছে তাকে মহীসোপান বলে।
- মহীসোপান ১° কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে।
- মহীসোপানের গড় প্রশস্ততা ৭০ কিলোমিটার।
- ইউরোপের উত্তর-পশ্চিম উপকূলে পৃথিবীর বৃহত্তম মহীসোপান অবস্থিত।
- উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূলে দ্বিতীয় বৃহত্তম মহীসোপান অবস্থিত।
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোসাগরে মহীসোপানের বিস্তৃতি প্রায় ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল।

(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং প্রথম আলো)
৫৮২.
নিচের কোনটি অ-কাঠামোগত প্রতিরোধের উদাহরণ?
  1. বেড়িবাঁধ নির্মাণ
  2. নদী খনন
  3. পাকা ঘর নির্মাণ
  4. গণসচেতনতা বৃদ্ধি 
সঠিক উত্তর:
গণসচেতনতা বৃদ্ধি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণসচেতনতা বৃদ্ধি 
ব্যাখ্যা

• সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ অ-কাঠামোগত প্রতিরোধের অংশ।

• প্রতিরোধ (Prevention):

- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও, ক্ষয়ক্ষতি কমানোর উদ্দেশ্যে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
- এই প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমগুলো সঠিকভাবে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করলে দুর্যোগজনিত ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব।

 
• দুর্যোগ প্রতিরোধের ধরন:

- দুর্যোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে—

- কাঠামোগত প্রতিরোধ,
- অ-কাঠামোগত প্রতিরোধ।
 
• কাঠামোগত প্রতিরোধ:

- কাঠামোগত প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। যেমন—

- বেড়িবাঁধ নির্মাণ,
- আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ,
- পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি,
- নদী খনন।

- এই ব্যবস্থাগুলো বাস্তবায়নে তুলনামূলকভাবে বেশি ব্যয় প্রয়োজন হয়।

• অ-কাঠামোগত প্রতিরোধ:

- অ-কাঠামোগত প্রতিরোধে মূলত মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। যেমন—

- প্রশিক্ষণ প্রদান,
- গণসচেতনতা বৃদ্ধি,
- পূর্বাভাস ব্যবস্থা উন্নয়ন,
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন।

- এই ধরনের প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম স্বল্প ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

উৎস: ভূগোল, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৫৮৩.
২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কোন ঝুকিপূর্ণ দিকটি চিহ্নিত করেনি?
  1. ঝড়
  2. বন্যা
  3. মরূকরণ
  4. টর্নেডো
সঠিক উত্তর:
টর্নেডো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টর্নেডো
ব্যাখ্যা
- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে।

• এগুলো হলো
→ মরূকরণ,
→ বন্যা,
→ ঝড়,
→ সসমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং
→ কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা।

- এগুলোর প্রতিটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি দেশের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
- সেই তালিকার ৫টি ভাগের একটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণসহ ৩টি তে নাম আছে বাংলাদেশের।
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ দেশ হলো বাংলাদেশ।

সূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৫৮৪.
বাংলাদেশে কৃষিক্ষেত্রে কোন ফসল আবাদে সর্বাধিক পানি সেচের প্রয়োজন হয়?
  1. ক) রোপা আমন ধান
  2. খ) আউশ ধান
  3. গ) বোরো ধান
  4. ঘ) বোনা আমন ধান
সঠিক উত্তর:
গ) বোরো ধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বোরো ধান
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে ধান উৎপাদনের প্রধান মৌসুম তিনটি। এগুলো হলো:
- আউশ
- আমন ও
- বোরো।
- তিন মৌসুমেই ধান চাষে পানি সেচের প্রয়োজন হয়। এদের মধ্যে বোরো ধান রবি বা শীতকালীন ফসল। যার কারণে শীতকালে বৃষ্টিপাতের অনুপস্থিতির কারণে বোরো ধান চাষে তুলনামূলক অধিক পানি সেচের প্রয়োজন হয়।
(তথ্যসূত্র: কৃষি তথ্য সার্ভিস)
৫৮৫.
উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় -
  1. হারিকেন
  2. উইলি উইলি
  3. টাইফুন
  4. সাইক্লোন
সঠিক উত্তর:
টাইফুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাইফুন
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ Cyclone।
- এটি গ্রিক শব্দ Kyklos থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- যার অর্থ কুণ্ডলি পাকানো সাপ।
- বিজ্ঞানী হেনরি পিডিংটন ১৮৪৮ সালে প্রথম এ শব্দটি ব্যবহার করেন।
- সাধারণত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে।

⇒ হারিকেন:
- উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চল, মধ্য এবং পূর্ব উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর, ক্যারিবিয়ান সাগর এবং মেক্সিকো উপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে 'হারিকেন' বলা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কিউবা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে হারিকেন আঘাত করে।

⇒ টাইফুন:
- উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় 'টাইফুন'।
- চীন, তাইওয়ান, ফাইলিপাইন ও জাপানে প্রায় প্রতি বছরই টাইফুনের কারণে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়।

⇒ সাইক্লোন:
- বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় 'সাইক্লোন' হিসেবে পরিচিত।
- সাইক্লোনের কারণে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতে প্রচুর জানমালের ক্ষতি হয়।

উল্লেখ্য,
যেসব এলাকায় ঘূর্ণিঝড় হয় না:
- পৃথিবীর বিষুব রেখা বরাবর সাগরে সাধারণত কোনো ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয় না।
- বিষুব রেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়।
- অন্যদিকে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরেও কোনো ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয় না।

উৎস: i) তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) ওয়েবসাইট।
         ii) মে ১১, ২০২৩, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা। 
৫৮৬.
বেতবুনিয়া উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র কবে উদ্বোধন করা হয়?
  1. ১৪ জুন, ১৯৭৫
  2. ১ জুলাই, ১৯৭৫
  3. ১৪ জুন, ১৯৭৬
  4. ১ জুলাই, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
১৪ জুন, ১৯৭৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪ জুন, ১৯৭৫
ব্যাখ্যা

• ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র:
- বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি। 

» সেগুলো হলো:
- রাঙামাটির বেতবুনিয়া (১৯৭৫),
- গাজীপুরের তালিবাবাগ (১৯৮২),
- ঢাকার মহাখালী (১৯৯৫), ও
- সিলেট (১৯৯৭)।
- ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ জুন, শেখ মুজিবুর রহমান রাঙামাটির বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহটি কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেছিলেন।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫৮৭.
পার্বত্য এলাকায় সংঘটিত আকস্মিক বন্যার স্থায়িত্বকাল কত হয়ে থাকে?
  1. ৫ - ৬ ঘণ্টা
  2. ৫ - ৬ দিন
  3. ২ - ৩ দিন
  4. ২ - ৩ মাস
সঠিক উত্তর:
৫ - ৬ ঘণ্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ - ৬ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
• বন্যার শ্রেণিবিভাগ ও বৈশিষ্ট্য:

• বাংলাদেশে বন্যার প্রভাব:
- বাংলাদেশের বন্যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক।
- অধিক বৃষ্টিপাতের দরুণ ২০১২ সালে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটে আকস্মিক বন্যায় ১০০ মানুষ নিহত হয় ও প্রায় ২,৫০,০০০ লোক পানিবন্দী হয়ে পড়ে।
- ২০০৭ সালের বন্যায় বাংলাদেশের ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটসহ দেশের সকল বিভাগে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়। ফলে, বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদসহ মোট ৫০০ লোকের প্রাণহানি হয়।
- ১৯৫৪ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে ১৯৭৪, ১৯৭৮, ১৯৮৪, ১৯৮৮, ২০০৪ সালের বন্যা ছিল ভয়াবহ। এর মধ্যে ১৯৯৮ সালের দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় সবচেয়ে বেশি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮৮.
মরু এলাকায় কীসের দ্বারা সবচেয়ে বেশি পরিমাণ ক্ষয়ীভবন হয়ে থাকে?
  1. বায়ুপ্রবাহ
  2. সূর্যরশ্মি
  3. বৃষ্টিপাত
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বায়ুপ্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
• ক্ষয়ীভবন:
- ভূ-ত্বকের উপরের শিলারাশি বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, নদীপ্রবাহ, হিমবাহ ও সাগর তরঙ্গ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে অবিরত ক্ষয়ের মাধ্যমে সৃষ্ট ক্ষয়জাত পদার্থ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পরিবাহিত ও স্থানান্তরিত হয়। এভাবে প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা ভূ-ত্বকের শিলারাশির ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ক্ষয়ীভবন বলে।
- সূর্যরশ্মি, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, নদীপ্রবাহ, হিমবাহ ও সাগর তরঙ্গ প্রভৃতি ক্ষয়ীভবনের প্রাকৃতিক নিয়ামক।

• বায়ুপ্রবাহ:
- মরু এলাকায় বায়ুপ্রবাহের দ্বারা সর্বাধিক ক্ষয়ীভবন হয়।
- মরুভূমিতে গাছপালা না থাকায় মৃত্তিকা ও শিলারাশির দৃঢ়তা খুবই কম। যার দরুণ ভূ-ত্বকের উপরিভাগ থেকে শিলারাশি ও মৃত্তিকা বায়ুর সাথে অন্যত্র চলে যায়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮৯.
বিশ্বের কোন দেশে সর্বাধিক ভূমিকম্প হয়?
  1. নেপাল
  2. ভুটান
  3. জাপান
  4. দক্ষিণ কোরিয়া
সঠিক উত্তর:
জাপান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাপান
ব্যাখ্যা
• ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চল:
- অধিকাংশ ভূমিকম্প (শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ) পৃথিবীর অল্প কিছু জায়গায় সংঘটিত হয়।
- যেমন: পৃথিবীর বৃত্তচাপীয় দ্বীপমালা জাপান, ফিলিপাইন, নবীন ভঙ্গিল পর্বতমালা ও সামুদ্রিক শৈলশিরাসমূহ। 
- ভূমিকম্পের সংখ্যার দিক থেকে জাপান বিশ্বে প্রথম।

উল্লেখ্য: 
- বছরে প্রায় গড়ে ৭,৫০০টি ভূমিকম্প হয় জাপানে।
- জাপানের পর সর্বাধিক ভূমিকম্প হয় ইতালিতে, গড়ে প্রায় ৫০০টি।
- এছাড়াও দক্ষিণ আমেরিকার পেরু ও চিলি এবং আমেরিকার গুয়েতেমালায় অধিক ভূমিকম্প হয়।

সূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯০.
বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC ২০২০) অনুসারে, বাংলাদেশে কয়টি ভূমিকম্প জোন রয়েছে?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

BNBC 2020 অনুযায়ী বাংলাদেশকে মোট ৪টি Seismic Zone–এ ভাগ করা হয়েছে। জোন যত বাড়ে, ভূমিকম্পের ঝুঁকি তত বেশি—এবং সেই অনুযায়ী স্ট্রাকচারাল ডিজাইনও শক্ত হতে হয়।

BNBC রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের ভূ-কম্পন অঞ্চল:
- বাংলাদেশে অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC-2020) একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা।
- সর্বশেষ ২০২০ সালে প্রকাশিত রির্পোটেও সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চলে বা Seismic Zone এ বিভক্ত করা হয়েছে। অঞ্চলগুলো হলো:

১. Zone-I (Low Seismic Risk Zone): কম ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা
- দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ইত্যাদি)।
- এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.12 

২. Zone-II (Moderate Seismic Risk Zone): মধ্যম ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা
- নিম্ন মধ্য এবং উত্তর পশ্চিম অংশ (ঢাকা, কুমিল্লা, নাটোর, নোয়াখালী, পাবনা, সুন্দরবন ইত্যাদি)।
- এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.2

৩. Zone-III (High Seismic Risk Zone): উচ্চ ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা
- উচ্চ মধ্য, উত্তর-পশ্চিম অংশ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রংপুর ইত্যাদি জেলা)।
- এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.28

৪. Zone-IV (Very High Seismic Risk Zone): অত্যন্ত ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা
খুবই গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল:
- উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট, ময়মনসিংহ সহ উত্তরাঞ্চল)।
- এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.36

উল্লেখ্য, 
- মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ বইয়ের সর্বশেষ সংস্করণে ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত রির্পোর্ট অনুসারে, ভূমিকম্পের প্রবণতার ভিত্তিতে সমগ্র বাংলাদেশকে ৩টি অঞ্চলে ভাগ করে দেখানো হয়েছে।

উৎস: হাউজিং এন্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।

৫৯১.
সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্কে মোট কতটি লক্ষ্য (Target) নির্ধারিত হয়েছে?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭টি
ব্যাখ্যা
- সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্কে মোট ৭টি লক্ষ্য (Target) নির্ধারিত হয়েছে।

• সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক:

- ২০১৫ সালের ১৪ থেকে ১৮ মার্চ জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক: ২০১৫-২০৩০ গৃহীত হয়।
- সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য স্থির করা হয়।

সূত্র: জাতিসংঘ দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যালয়।
৫৯২.
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিম্নের কোন পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ সবচেয়ে ফলপ্রসূ হবে?
  1. ক) কমিউনিটি পর্যায়ে
  2. খ) জাতীয় পর্যায়ে
  3. গ) উপজেলা পর্যায়ে
  4. ঘ) আঞ্চলিক পর্যায়ে
সঠিক উত্তর:
ক) কমিউনিটি পর্যায়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কমিউনিটি পর্যায়ে
ব্যাখ্যা
জাতীয়, উপজেলা বা আঞ্চলিক পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার চেয়ে কমিউনিটি পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তা সবচেয়ে বেশি ফলপ্রস্যু হবে।
ব্যক্তি পর্যায়ে মানুষকে সচেতন করার চেয়ে দলগতভাবে মানুষকে সচেতন করা হলে সেটি অধিক ফলপ্রসূ হয়।
৫৯৩.
কোন ধাপটিতে দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো তৈরি করা হয়?
  1. পুনরুদ্ধার
  2. উন্নয়ন
  3. সাড়াদান
  4. পূর্বপ্রস্তুতি
সঠিক উত্তর:
উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের উন্নয়ন (Development) ধাপে দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো তৈরি করা হয়।
- এই ধাপে মূল লক্ষ্য হল দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সেগুলির মাধ্যমে দুর্যোগের জন্য সহনশীল অবকাঠামো ও নীতিমালা তৈরি করা।
এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:
• টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ: দুর্যোগের সময় টেকসই ও স্থিতিশীল অবকাঠামো তৈরি করা যা সহজেই ধ্বংস না হয়।
• জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা: ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ।
• সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কার্যক্রম: দুর্যোগের পরেও সমাজ ও অর্থনীতি শক্তিশালীভাবে পুনর্গঠন করার পরিকল্পনা।
• এই ধাপটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার চক্রের পরবর্তী ধাপগুলোর (যেমন সাড়াদান, পূর্বপ্রস্তুতি, সাড়াদান) মাধ্যমে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে উন্নত ও নিরাপদ ভবিষ্যত তৈরি করার দিকে নির্দেশিত।

সূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৯৪.
বাংলাদেশে সবচেয়ে গুরুতর ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল কোনগুলো? 
  1. রাজশাহী, পাবনা, বরিশাল
  2. সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর
  3. খুলনা, যশোর, বরগুনা
  4. কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা 
সঠিক উত্তর:
সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর
ব্যাখ্যা

• ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল:
- ২০২০ সালের National Building Code অনুসারে, বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে:
• খুবই গুরুতর ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল,
• গুরুতর ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল,
• মাঝারি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল,
• এবং কম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল।
- সবচেয়ে গুরুতর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হলো:
• উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সিলেট, ময়মনসিংহ এবং রংপুর বিভাগ।
- এসব জায়গায় ইন্ডিয়ান ও বার্মা টেকটোনিক প্লেটের সংযোগ বড় ধরনের কম্পনের সম্ভাবনা বাড়ায়। 
- তাছাড়া, উত্তর-পূর্বাঞ্চলও (মৌলভীবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান) সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ ডাউকি ফল্টের মতো বড় সক্রিয় ফল্টলাইন এখানে রয়েছে।

উল্লেখ্য, 
• দেশের পূর্বাঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বের কিছু জেলা, যেমন: খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, সিলেট, ফরিদপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জোনে রয়েছে। 
- এই অঞ্চলগুলোতে ভূমিকম্পের প্রভাব তীব্র (Z=0.2).

• মধ্য ও উত্তর-পশ্চিমের কিছু অংশ, যেমন: ঢাকা, পাবনা, দিনাজপুর, নোয়াখালী, বগুড়া ও আশেপাশের অঞ্চল মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ জোনের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানে ঝুঁকির মাত্রা: Z=0.20, (Seismic Zone Coefficient).
- ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ঘনবসতিপূর্ণ এবং দুর্বল নির্মাণশৈলীর কারণে বড় ধরনের ভূমিকম্পের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

• সাধারণত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ, যেমন: বরিশাল, খুলনা, যশোর, রাজশাহী,সাতক্ষীরা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা কম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। 
- এখানে ভূমিকম্পের প্রভাব: Z=0.12, (Seismic Zone Coefficient).

উৎস:
১. হাউজিং এন্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট;
২. BBC Website;
৩. প্রথম আলো পত্রিকা।

৫৯৫.
নদী ভাঙনের কারণ নয় নিচের কোনটি?
  1. ক) জলবায়ু পরিবর্তন
  2. খ) নদীর গতিপথ পরিবর্তন
  3. গ) রাসায়নিক দ্রব্যের উপস্থিতি
  4. ঘ) ভুমিকম্প
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভুমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভুমিকম্প
ব্যাখ্যা
নদীখাতে পানিপ্রবাহের কারণে পার্শ্ব ক্ষয়কে নদীভাঙন বলে।
পলিমাটি গঠিত সমভূমি অধ্যুষিত বাংলাদেশে নদীভাঙনে প্রতি বছর প্রচুর ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়। অনেক মানুষের জীবনহানি ঘটে।

নদীভাঙনের কারণ - 
- জলবায়ু পরিবর্তন।
- নদীর প্রবাহপথ ও তীব্র গতিবেগ।
- নদীর গতিপথ পরিবর্তন।
- নদীগর্ভে শিলার উপাদান ।
- রাসায়নিক দ্রব্যের উপস্থিতি।

তথ্যসুত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৯৬.
ঘূর্ণিঝড়ের মূল অংশ যখন আসে তখন কেন্দ্রের ভিতরে অবস্থানকারী চোখ কিরকম পরিস্থিতি তৈরি করে?
  1. দমকা বাতাস ও ঘন ঘন মেঘ
  2. স্থিতিশীল আবহাওয়া
  3. মুষলধারে বৃষ্টিপাত
  4. শান্ত আবহাওয়া
সঠিক উত্তর:
শান্ত আবহাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শান্ত আবহাওয়া
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ Cyclone।
- সাধারণত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে।

⇒ ঘূর্ণিঝড়ের বৈশিষ্ট্য:
- সমুদ্র পৃষ্ঠের কাছাকাছি অন্তত ২৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিশিষ্ট যথেষ্ট পরিমাণে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু থাকে।
- মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয় এবং বায়ুপ্রবাহের ভেতরে এবং উপরের দিকে খাড়া হয়ে মেঘপুঞ্জের সৃষ্টি হয়।
- উর্দ্ধস্তরের বায়ু বহির্গামী হবে।
- ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত।
- এর কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয়।

⇒ ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলা হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব ঘটে আবহাওয়াতে।
- ঘূর্ণিঝড় শুরু হওয়ার আগে বায়ু শান্ত, উষ্ণ ও আর্দ্র থাকে।
- ঘূর্ণিঝড়ের মূল অংশ যখন আসে তখন প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও ঘন মেঘসহ মুষলধারে বৃষ্টি হয়।
- আর কেন্দ্রের ভিতরে অবস্থানকারী চোখ শান্ত আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি করে।
- ঘূর্ণিঝড়ের পশ্চাৎভাগে পৌঁছানোর পর আবারও ঘন মেঘ, বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়।
- এ সময় বায়ু অগ্রবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের বিপরীত দিক থেকে প্রবাহিত হয়।

উৎস: i) তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) ওয়েবসাইট।
ii) ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯৭.
রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা এক বেড়ে গেলে তার শক্তি কতগুণ বাড়ে?
  1. ৮ গুণ
  2. ১০ গুণ
  3. ২২ গুণ
  4. ২৮ গুণ
সঠিক উত্তর:
১০ গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ গুণ
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প:
- ভূ-আলোড়নের সময়ে অথবা অন্য কোন প্রাকৃতিক কারণে ভূ-পৃষ্ঠের একটি অংশ যখন হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য কেঁপে উঠে, তখন ভূ-ত্বকের এই কম্পনকে ভূমিকম্প বলা হয়।
- ভূ-গর্ভস্থ যে স্থানে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের উৎস স্থল বা কম্পকেন্দ্র (Centre বা Focus) বলা হয়।
- কম্পকেন্দ্র বরাবর লম্বভাবে ভূ -পৃষ্ঠের যে বিন্দুটি রয়েছে,তাকে উপকেন্দ্র (Epicentre) বলা হয়।
- কম্পকেন্দ্র থেকে ভূমিকম্প চারিদিকে ঢেউ এর মত ছড়িয়ে পড়ে।
- ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়ে থাকে।
- ভূমিকম্প পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়।

⇒ ভূমিকম্প নির্ণয় যন্ত্রের নাম সিসমোমিটার।
- ভূমিকম্পের মাত্রা পরিমাপ করা হয় রিখটার স্কেলে।
- এই রিখটার স্কেলে এক মাত্রা বেড়ে যাওয়া মানে তার শক্তি ১০ গুন বেড়ে যাওয়া।
- রিখটার স্কেলে ৫ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প আমরা অনুভব করতে পারি। 

⇒ সিসমোমিটারে ধারণকৃত তরঙ্গ বিস্তারের পরিমাপের অনুপাতকে রিখটার স্কেলে ১০ভিত্তিক লগারিদমে প্রকাশ করা হয়।
- ১০ভিত্তিক লগারিদমে প্রকাশের অর্থ হলো এই স্কেলের প্রতি এককের পার্থক্য ১০।
- অন্যদিকে, রিখটার স্কেলে প্রতিটি ইউনিটের স্কেলের বৃদ্ধিতে পূর্ববর্তী সংখ্যা দ্বারা উপস্থাপিত তুলনায় প্রায় ৩১ গুণ বেশি শক্তি নিঃসরণ করে।

⇒ ভূমিকম্পের প্রধান কারণ:
- পৃথিবীর উপরিভাগ কতগুলো ফলক/প্লেট দ্বারা গঠিত।
- এই প্লেটসমূহের সঞ্চালন প্রধানত ভূমিকম্প ঘটিয়ে থাকে।
- আবার অগ্নুৎপাতের ফলে প্লেটসমূহের উপর ভূকিম্পন সৃষ্টি হয়।

⇒ ভূমিকম্পের অপ্রধান কারণ:
- শিলাচ্যুতি,
- তাপ বিকিরণ,
- ভূগর্ভস্থ বাষ্প,
- ভূগর্ভস্থ চাপের বৃদ্ধি বা হ্রাস,
- হিমবাহের প্রভাব ইত্যাদি।

⇒ অধিকাংশ ভূমিকম্প (শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ) পৃথিবীর অল্প কিছু জায়গায় সংঘটিত হয়।
- যেমন: পৃথিবীর বৃত্তচাপীয় দ্বীপমালা জাপান, ফিলিপাইন, নবীন ভঙ্গিল পর্বতমালা ও সামুদ্রিক শৈলশিরাসমূহ।
- ভূমিকম্পের সংখ্যার দিক থেকে জাপান বিশ্বে প্রথম।
- বছরে প্রায় গড়ে ৭,৫০০টি ভূমিকম্প হয় জাপানে।
- জাপানের পর সর্বাধিক ভূমিকম্প হয় ইতালিতে, গড়ে প্রায় ৫০০টি।
- এছাড়াও দক্ষিণ আমেরিকার পেরু ও চিলি এবং আমেরিকার গুয়েতেমালায় অধিক ভূমিকম্প হয়।

⇒ ২০২০ সালে 'Bangladesh National Building Code' (BNBC) প্রকাশিত রির্পোটে সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চলে বা Seismic Zone এ বিভক্ত করা হয়েছে।
- অঞ্চলগুলো হলো:
১. খুবই গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট, ময়মনসিংহ সহ উত্তরাঞ্চল)।
২. গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: উচ্চ মধ্য, উত্তর-পশ্চিম অংশ ও দক্ষিণ- পূর্বাঞ্চল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রংপুর ইত্যাদি জেলা)।
৩. মাঝারী ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: নিম্ন মধ্য এবং উত্তর পশ্চিম অংশ (ঢাকা, কুমিল্লা, নাটোর, নোয়াখালী, পাবনা, সুন্দরবন ইত্যাদি)।
৪. কম ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ইত্যাদি)।

উৎস: i) ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
৫৯৮.
'যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া' ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কীকরণ সংকেতের কত নং এ বলা হয়েছে?
  1. ৬ নং
  2. ১০ নং
  3. ১১ নং
  4. ৯ নং
সঠিক উত্তর:
১১ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ নং
ব্যাখ্যা
• ঘূর্ণিঝড়ের সময় সতর্কতা ও বিপদ বুঝানোর জন্য ১১টি সংকেত রয়েছে।
- তার মধ্যে প্রথম চারটি সতর্কতা ও স্থানীয় সংকেত। বাকিগুলো বিপদ সংকেত।

• নিম্নে ১১টি সংকেতের অর্থ দেওয়া হল: 

• ১ নং দূরবর্তী সতর্ক সংকেত:
জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার পর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সম্মুখীন হতে পারে। দূরবর্তী এলাকায় একটি ঝড়ো হাওয়ার অঞ্চল রয়েছে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬১ কিলোমিটার (কি.মি.)। ফলে সামুদ্রিক ঝড়ের সৃষ্টি হবে।
• ২ নং দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত:
দূরে গভীর সাগরে একটি ঝড় সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিলোমিটার। বন্দর এখনই ঝড়ে কবলিত হবে না, তবে বন্দর ত্যাগকারী জাহাজ পথে বিপদে পড়তে পারে।
• ৩ নং স্থানীয় সতর্ক সংকেত:
বন্দর ও বন্দরে নোঙর করা জাহাজগুলোর দুর্যোগ কবলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্দরে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং ঘূর্ণি বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০-৫০ কি.মি. হতে পারে।
• ৪ নং স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত:
বন্দর ঘূর্ণিঝড় কবলিত। বাতাসের সম্ভাব্য গতিবেগ ঘণ্টায় ৫১-৬১ কি.মি.। তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার মতো তেমন বিপজ্জনক সময় এখনও আসেনি।
• ৫ নং বিপদ সংকেত:
বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
• ৬ নং বিপদ সংকেত:
বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
• ৭ নং বিপদ সংকেত:
বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরের উপর বা এর নিকট দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
• ৮ নং মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে পারে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি. বা এর বেশি হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।
• ৯ নং মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি. বা এর বেশি হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।
• ১০ নং মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি.বা তার বেশি হতে পারে।
• ১১ নং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সংকেত:
আবহাওয়ার বিপদ সংকেত প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় আবহাওয়া কর্মকর্তা পরিস্থিতি দুর্যোগপূর্ণ বলে মনে করেন।

উৎস: ঘূর্নিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি) ওয়েবসাইট ও বিবিসি বাংলা। 
৫৯৯.
জাতিসংঘ গৃহীত দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস সংক্রান্ত 'সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক' বাস্তবায়নের সময়সীমা -
  1. ২০১২-২০৩০
  2. ২০১৬-২০৩০
  3. ২০১৫-২০৩০
  4. ২০২৫-২০৩০
সঠিক উত্তর:
২০১৫-২০৩০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১৫-২০৩০
ব্যাখ্যা
• সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক:
- ১৪ মার্চ - ১৮ মার্চ ২০১৫ তারিখে জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক: ২০১৫-৩০ গৃহীত হয়।
- সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক' বাস্তবায়নের সময়সীমা - ২০১৫ -২০৩০ সাল।
- এই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য এবং চারটি অগ্রাধিকারের রূপরেখা স্থির করা হয়।
- দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং যথাযথ বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই এ সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য।

উৎস: UNDRR ওয়েবসাইট
৬০০.
মহীসোপানের গড় প্রশস্ততা কত কিলোমিটার?
  1. ক) ১৬ কি.মি.
  2. খ) ৫০ কি.মি.
  3. গ) ৭০ কি.মি.
  4. ঘ) ৯৫ কি.মি.
সঠিক উত্তর:
গ) ৭০ কি.মি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৭০ কি.মি.
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর মহাদেশসমূহের স্থলভাগের যে অংশ অল্প ঢালু হয়ে সমুদ্রের পানির মধ্যে নেমে গেছে তাকে মহীসোপান বলে। মহীসোপান ১° কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে।
- মহীসোপানের গড় প্রশস্ততা ৭০ কিলোমিটার।
- ইউরোপের উত্তর-পশ্চিম উপকূলে পৃথিবীর বৃহত্তম মহীসোপান অবস্থিত। উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূলে দ্বিতীয় বৃহত্তম মহীসোপান অবস্থিত।
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে মহীসোপানের বিস্তৃতি প্রায় ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং প্রথম আলো)