বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা: দুর্যোগের ধরণ, প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৯৬৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা: দুর্যোগের ধরণ, প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা / ১০ · ৬০১৭০০ / ৯৬৩

৬০১.
'Seismograph' যন্ত্রটি কি মাপার জন্য ব্যবহৃত হয়?
  1. আবহাওয়া
  2. বৃষ্টিপাত
  3. ভূমিকম্প
  4. বাতাসের গতি
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র - সিসমোগ্রাফ।

- রিকটার স্কেল ও সিসমোগ্রাফ দুটোই ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
- সিসমােগ্রাফ হচ্ছে ভূমিকম্পের উৎস খুঁজে বের করার যন্ত্র। এর সাহায্যে অন্যান্য বিস্ফোরণ, প্রচণ্ড ঝড় ইত্যাদির খোঁজ পাওয়া যায়।
- এছাড়া মেরু অঞ্চলের বরফের গভীরতা, খনিজ তেল ভাণ্ডার ইত্যাদিও এর সাহায্যে বের করা সম্ভব।

- অপরদিকে, ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপা হয় রিকটার স্কেলের মাধ্যমে।

এছাড়াও,
- সমুদ্রের গভীরতা মাপক যন্ত্রের নাম - ফ্যাদোমিটার।
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম - ক্রেস্কোগ্রাফ।
- সূক্ষ্ম সময় মাপার যন্ত্রের নাম - ক্রোনোমিটার।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৬০২.
যে ধরনের বন্যার বিস্তৃতি ব্যাপক-
  1. ক) আকস্মিক বন্যা
  2. খ) মৌসুমি বন্যা
  3. গ) জোয়ার-ভাটাজনিত বন্যা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) মৌসুমি বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মৌসুমি বন্যা
ব্যাখ্যা
মৌসুমী বন্যার বিস্তৃতি ব্যাপক। এই বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বেশি। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
৬০৩.
পৃথিবীর কোন দেশে খুব বেশি ভূমিকম্প অনুভূত হয়?
  1. ক) নেপাল
  2. খ) ভারত
  3. গ) জাপান
  4. ঘ) চীন
সঠিক উত্তর:
গ) জাপান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জাপান
ব্যাখ্যা
বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্প প্রবণ দেশের তালিকা:-
১। জাপান
২। ইন্দোনেশিয়া
৩। চীন
৪। ফিলিপাইন
৫। ইরান

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৬০৪.
বাংলাদেশে সমুদ্র বন্দরগুলোর জন্য সাধারণত কয় ধরনের সতর্ক সংকেত প্রচার করা হয়?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৫
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ১০
সঠিক উত্তর:
গ) ৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর প্রকাশিত “ঘূর্ণিঝড় ও আবহাওয়ার সতর্ক সঙ্কেত ও গণদুর্যোগ বার্তা” অনুসারে,
সমুদ্র বন্দর ও উপকূল অঞ্চলের জন্য ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্কেত মোট - ১০টি।
তার মধ্যে,
- সতর্ক সঙ্কেত - চারটি (১ - ৪)।
- বিপদ সঙ্কেত - ৩টি (৫ - ৭)
- মহাবিপদ সঙ্কেত - ৩টি (৮ - ১০)

তবে, আবহাওয়ার বিপদ সংকেত প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের সাথে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে আরেকটি সঙ্কেত প্রচার করে থাকে যা মূলত স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জন্য। এটি ১১ নং মহাবিপদ সংকেত হিসাবে বিবেচিত। তবে সর্বসাধারণের জন্য প্রচারিত ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত - ১০টি।

--------

নিম্নে ১০টি সংকেতের অর্থ দেওয়া হলঃ

সতর্ক সংকেত:
১ নং দূরবর্তী সতর্ক সংকেতঃ
জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার পর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সম্মুখীন হতে পারে। দূরবর্তী এলাকায় একটি ঝড়ো হাওয়ার অঞ্চল রয়েছে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬১ কিলোমিটার (কি.মি.)। ফলে সামুদ্রিক ঝড়ের সৃষ্টি হবে।

২ নং দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেতঃ
দূরে গভীর সাগরে একটি ঝড় সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিলোমিটার। বন্দর এখনই ঝড়ে কবলিত হবে না, তবে বন্দর ত্যাগকারী জাহাজ পথে বিপদে পড়তে পারে।

৩ নং স্থানীয় সতর্ক সংকেতঃ
বন্দর ও বন্দরে নোঙর করা জাহাজগুলোর দুর্যোগ কবলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্দরে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং ঘূর্ণি বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০-৫০ কি.মি. হতে পারে।

৪ নং স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেতঃ
বন্দর ঘূর্ণিঝড় কবলিত। বাতাসের সম্ভাব্য গতিবেগ ঘণ্টায় ৫১-৬১ কি.মি.। তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার মতো তেমন বিপজ্জনক সময় এখনও আসেনি।

বিপদ সংকেত:
৫ নং বিপদ সংকেতঃ
বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

৬ নং বিপদ সংকেত:
বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

৭ নং বিপদ সংকেতঃ
বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরের উপর বা এর নিকট দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

মহাবিপদ সংকেত:
৮ নং মহাবিপদ সংকেতঃ
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে পারে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি. বা এর বেশি হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।

৯ নং মহাবিপদ সংকেতঃ
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি. বা এর বেশি হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।

১০ নং মহাবিপদ সংকেতঃ
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি.বা তার বেশি হতে পারে।

উৎসঃ বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো, ঘূর্নিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি) ওয়েবসাইট ও বিবিসি বাংলা প্রতিবেদন।
৬০৫.
নিচের কোনটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ?
  1. ভূমিকম্প
  2. যুদ্ধ-বিগ্রহ
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. নদীভাঙন
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধ-বিগ্রহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধ-বিগ্রহ
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ
- যে অবস্থা অস্বাভাবিক ও অসহনীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি, পরিবেশের ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটে তাই দুর্যোগ।
- এর ফলে বাহ্যিকভাবে ক্ষতিসাধন, জীবনহানি কিংবা পরিবেশগতভাবে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দেয়। 
 
দুর্যোগ বিভিন্নভাবে ও বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। প্রধানত দুর্যোগ দুই ধরনের-
১/ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও
২/ মানবসৃষ্ট দুর্যোগ।
 
প্রাকৃতিক দুর্যোগ
- প্রাকৃতিক কারণে যে সকল দুর্যোগ সৃষ্টি হয়, সেগুলোকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ আকস্মিকভাবে ঘটে এবং সাধারণত এর উপর মানুষের কোন নিয়ন্ত্রন থাকে না।
- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন, সুনামি, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহ।
 
মানবসৃষ্ট দুর্যোগ
- মানুষের অসচেতনতা বা দূরদৃষ্টির অভাবে যে দুর্যোগ সৃষ্টি হয় তাকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে।
- মানুষের প্রাণহানি ঘটানোর পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
- যেমন- যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বনাঞ্চল ধ্বংস, পরিবেশ দূষণ, মরুকরণ, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি।
 
উৎস- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়; অষ্টম শ্রেণীর বোর্ড বই।
৬০৬.
'Natural Disaster Risk by Country-2025' অনুসারে, বিশ্বের শীর্ষ দূর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ কোনটি? 
  1. ফিলিপাইন
  2. ইন্দোনেশিয়া
  3. চীন
  4. থাইল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
ফিলিপাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিলিপাইন
ব্যাখ্যা

'Natural Disaster Risk by Country-2025' অনুসারে, দূর্যোগ ঝুঁকি সূচক ও বিশ্বের শীর্ষ দূর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ ৫টি দেশ:
১। ফিলিপাইন → ৪৬.৯
২। ইন্দোনেশিয়া → ৪১.১
৩। ভারত → ৪১
৪। মেক্সিকো → ৩৭.৮
৫। কলম্বিয়া → ৩৫.৯

তথ্যসূত্র: বিশ্ব জনসংখ্যা রিভিউ রিপোর্ট। (লিংক)

৬০৭.
‘সাড়াদান’ বলতে কোন ধরনের কার্যক্রমকে বুঝায়?
  1. দুর্যোগ ঝুঁকিপুর্ণ অঞ্চলসমূহকে চিহ্নিতকরণ
  2. দুর্যোগ পূর্ব সময়ে উদ্ধার কার্যে ব্যবহৃত সরঞ্জাম সংগ্রহ
  3. দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন পরিকল্পনা প্রণয়ন
  4. দুর্যোগের অব্যবহিত পরে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের অব্যবহিত পরে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের অব্যবহিত পরে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা
ব্যাখ্যা

সাড়াদান (Response):
- সাড়াদান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার একটি অংশ মাত্র।
- দুর্যোগের পরপরই উপযুক্ত সাড়াদানের প্রয়োজন হয়।
- সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

অন্যদিকে:
• প্রশমন (Mitigation):
- দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ী হ্রাস এবং দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে।
- মজবুত পাকা ভবন নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল নির্ধারণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শক্ত অবকাঠামো নির্মাণ, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর; প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত।

• পুনরুদ্ধার (Recovery):
- দুর্যোগে সম্পদ, পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদির যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা পুননির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকেই পুনরুদ্ধার বোঝায়।
- এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাহায্য ও সহায়তার প্রয়োজন হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬০৮.
ডাউকি চ্যুতি বরাবর কোন সালে ভূমিকম্প সংঘটিত হয়?
  1. ১৭৮১ সালে
  2. ১৭৮৩ সালে
  3. ১৭৮৭ সালে
  4. ১৭৮৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৮৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৮৭ সালে
ব্যাখ্যা
ব্রহ্মপুত্র (Brahmaputra):
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের তিব্বত অংশের মানস সরোবর থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- এরপর তিব্বত হয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এরপর ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
- মেঘনা নদীতে মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এটি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশ অংশে ব্রহ্মপুত্র নদ প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়েছে।
- প্রধান শাখানদী: বংশী ও শীতলক্ষ্যা।
- ধরলা ও তিস্তা প্রধান উপনদী।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের মাটির নিচে ভূমিকম্পের দুটি বড় উৎস আছে।
- একটি হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের ডাউকি চ্যুতি বা ফাটল (ফল্ট)।
- ১৭৮৭ সালে ডাউকি চ্যুতিতে তীব্র ভূমিকম্পের পর ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছিল।
- সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উপরে উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গিয়ে একটি নতুন স্রোতধারা সৃষ্টি হয়।
- যা বর্তমানে যমুনা নামে পরিচিত।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ২০ জুলাই, ২০১৯, প্রথম আলো।
৬০৯.
বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প (Flood Control, Drainage and Irrigation Projects, FCDI) মাষ্টারপ্ল্যান কত সালে গৃহীত হয়? 
  1. ১৯৬৪
  2. ১৯৯৮
  3. ১৯৭২
  4. ১৯৬৮
সঠিক উত্তর:
১৯৬৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬৪
ব্যাখ্যা
FCDI প্রকল্প: 

• FCDI: Flood Control, Drainage and Irrigation Projects 
• বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প হলো বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্প। 
• উদ্দেশ্য: বন্যাপ্রবণ এলাকার ২০% ভূমিকে রক্ষা করা। 
• ১৯৬৪ সালে দেশজুড়ে ৫৮টি বন্যা প্রতিরোধ এবং নিষ্কাশন প্রকল্প সম্বলিত একটি মাস্টার প্ল্যান গৃহীত হয়েছিল।  
• FCDI এর প্রধান প্রধান কয়েকটি সেচ প্রকল্প হলো:
- গঙ্গা কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জি-কে প্রজেক্ট);
- ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) প্রকল্প ;
- কর্ণফুলি বহুমুখী প্রকল্প ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর। 
৬১০.
নিম্নোক্ত কোনটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য নয়?
  1. জীবন, সম্পদ এবং পরিবেশের ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করা
  2. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করা
  3. ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মাঝে ত্রাণ পৌছানো ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা
  4. দুর্যোগ পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে শুধু পর্যবেক্ষণ করা
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগ পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে শুধু পর্যবেক্ষণ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগ পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে শুধু পর্যবেক্ষণ করা
ব্যাখ্যা

- 'দুর্যোগ পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে শুধু পর্যবেক্ষণ করা' দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য নয়।

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হচ্ছে এরূপ একটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান।
- পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার ইত্যাদি হচ্ছে  দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম।
সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুর্যোগপূর্ব, দুর্যোগকালীন এবং দুর্যোগ পরবর্তী সময়ের কার্যক্রমকে বোঝায়।

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো তিনটি :
১। দুর্যোগের সময় জীবন, সম্পদ এবং পরিবেশের যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা এড়ানো বা ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করা;
২। প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে অল্প সময়ে সকল প্রকার ত্রাণ পৌছানো ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং
৩। দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬১১.
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র কীসের অধীন?
  1. প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
  2. কৃষি মন্ত্রণালয়
  3. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
  4. পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়
সঠিক উত্তর:
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান। এটি ঢাকায় অবস্থিত যা ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
এটির প্রধান কাজ হলো বন্যা বিষয়ে আগাম সতর্কতা প্রদান করা।

(তথ্যসূত্র: বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র ওয়েবসাইট)
৬১২.
নিচের কোনটি বন্যার মানবসৃষ্ট কারণ?
  1. পাহাড়ি বরফগলা পানি
  2. নদীর গতিপথে বাধা প্রদান
  3. নদীর আকাবাঁকা গতিপথ
  4. নদীর পানি প্রবাহ ক্ষমতা কমে যাওয়া
সঠিক উত্তর:
নদীর গতিপথে বাধা প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদীর গতিপথে বাধা প্রদান
ব্যাখ্যা

বন্যা:
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কুল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- বন্যার কারণ ২টি।
• প্রাকৃতিক কারণ।
• মানবসৃষ্ট কারণ।

⇒ প্রাকৃতিক কারণ:
- বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি,
- ভৌগোলিক অবস্থান, ভূমিরূপের গঠন ও প্রকৃতি,
- পাহাড়ি বরফগলা পানি,
- নদীর আকাবাঁকা গতিপথ,
- নিম্নচাপের ফলে ভারী বর্ষণ,
- বর্ষা মৌসুমে নদীর অতিরিক্ত পানি,
- নদীর পানি প্রবাহ ক্ষমতা কমে যাওয়া,
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে জলবায়ুর পরিবর্তন প্রভৃতি।

⇒ মানবসৃষ্ট কারণ:
- নদীর গতিপথে বাধা প্রদান,
- খাল ও নালা ভরাট করে ফেলা,
- অপরিকল্পিতভাবে রাস্তাঘাট নির্মাণ,
- নদীর তলদেশ ভরাট করে ফেলা,
- বনজ সম্পদ ধ্বংস করা,
- প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে অপরিকল্পিতভাবে নদীশাসন করা,
- উজানে পানি প্রত্যাহার বা বাঁধ নির্মাণ,
- পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অপ্রতুলতা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - ভুগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১৩.
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপর নিচের কোন প্রভাবটি পড়ে?
  1. বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট
  2. কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস
  3. ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের উপর প্রভাব:
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপরও বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

⇒ নিম্নে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপরও যেসব প্রভাব পড়বে সেগুলো উল্লেখ করা হলো:
১. উপকূলীয় অঞ্চলের জমিতে লবনাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি,
২. কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস,
৩. অধিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি,
৪. দেশের উত্তরাংশসহ বিস্তীর্ণ এলাকা খরায় আক্রান্ত হওয়া,
৫. ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া,
৬. আবাদী জমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়া,
৭. মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ যেমন- অতিরিক্ত লবনাক্ততায় মৎস্য প্রজাতির বিলুপ্তি দেখা যাচ্ছে।
৮. যে হারে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই হারে যদি সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় তাহলে প্রায় ১৫% স্থলভাগ হারানোর সম্ভাবনা আছে। এক্ষেত্রে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ৩০ মিলিয়ন (৩কোটি) মানুষ ও নানা প্রজাতির জীবজন্তু, সম্পদ প্রভৃতি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।
৯. এদেশের স্বতন্ত্র বাস্তুতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো সুন্দরবন, সেখানে প্রাণি বৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।
১০. বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট প্রভৃতি। 

এছাড়াও
- অতিবৃষ্টি, বন্যা, শহরে জলাবদ্ধতা, বনভূমি উজাড় হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের এ সকল সমস্যা জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কযুক্ত।
- তাই এদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা তথা উদ্ভিদ ও প্রাণিকূলের জীবনরক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৪.
দুর্যোগ প্রশমন বলতে কী বোঝায়?
  1. দুর্যোগের পর ত্রাণ বিতরণ
  2. দুর্যোগের পর পুনর্বাসন কার্যক্রম
  3. দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়িত্ব হ্রাস এবং পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ
  4. দুর্যোগের সময় উদ্ধার অভিযান
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়িত্ব হ্রাস এবং পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়িত্ব হ্রাস এবং পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ
ব্যাখ্যা

♦ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ীত্ব হ্রাস এবং দুর্যোগের পূর্ব প্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব না হলেও যথাযথ ব্যবস্থাপনার দ্বারা এর ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
- এ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কাঠামোগত ও অকাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
- কাঠামোগত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, যেমন: বেরিবাঁধ নির্মাণ, আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি।
- কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

⇒ উল্লেখ্য:
- পুনরুদ্ধার, সাড়াদান, পূর্বপ্রস্তুতি প্রভৃতি অল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।
- প্রশমন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূখ্য উপাদান।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূখ্য উপাদানসমূহ:
• দুর্যোগ প্রতিরোধ,
• দুর্যোগ প্রশমন এবং
• দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি।
- দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে:
• সাড়াদান,
• পুনরুদ্ধার ও
• উন্নয়ন।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।

৬১৫.
বাংলাদেশে বন্যার প্রধান কারণ -
  1. ক) বদ্বীপ এলাকায় বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকা অবস্থিত
  2. খ) দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা সমুদ্রসমতল থেকে ৫ মি. এর কম উঁচু
  3. গ) বর্ষাকালে, জোয়ারের এবং জলোচ্ছ্বাসের সময় খুব সহজে প্লাবিত হয়
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- বন্যা বাংলাদেশের একটি নিয়মিত চিত্র।
- পৃথিবীর তিনটি বৃহত্তম নদী- গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনার বদ্বীপ এলাকায় বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকা অবস্থিত।
- বন্যার সময়, এ নদীগুলো থেকে সম্মিলিতভাবে ১৮০,০০০ মি./সে. পানি এবং প্রায় দুই বিলিয়ন টন পলল নিঃসরণ হয়।
- এদেশের অধিকাংশ ভূপ্রকৃতি সমতল ও নিম্নভূমি এবং দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা সমুদ্রসমতল থেকে ৫ মি. এর কম উঁচু।
- সেকারণে বর্ষাকালে, জোয়ারের এবং জলোচ্ছ্বাসের সময় খুব সহজে প্লাবিত হয়।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, বিএড প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৬.
জোয়ার-ভাটার তেজকটাল কখন হয়?
  1. পূর্ণিমাতে
  2. অমাবস্যায়
  3. অষ্টমীতে
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
ব্যাখ্যা
জোয়ার-ভাটার তেজকটাল:
- পূর্ণিমা ও অমাবস্যার তিথিতে পৃথিবী, চন্দ্র ও সূর্য প্রায় একই সরলরেখায় অবস্থান করে। এ সময় চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণের জন্য জোয়ারের পানি খুব বেশি ফুলে ওঠে। ফলে প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয় একে তেজকটাল বলে।

অন্যদিকে,
- অষ্টমীর তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। তাই চন্দ্রের আকর্ষণে যেখানে জোয়ার হয় সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাঁটা হয়। চন্দ্র পৃথিবীর নিকট থাকায় তার কার্যকরী শক্তি সূর্য অপেক্ষা বেশি। কিন্তু চন্দ্রের আকর্ষণে যে জোয়ার হয়, সূর্যের আকর্ষণের তা বেশি স্ফীত হতে পারে না। ফলে মরা কটাল হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬১৭.
আগ্নেয় পর্বতের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) হিমালয়
  2. খ) আন্দিজ
  3. গ) রকি
  4. ঘ) ভিসুভিয়াস
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভিসুভিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভিসুভিয়াস
ব্যাখ্যা
আগ্নেয় পর্বত : আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত লাভা, দীর্ঘকাল ধরে একই জায়গায় সঞ্চিত হয়ে আগ্নেয় পর্বতের
সৃষ্টি করে।  যেমন - জাপানের ফুজিয়ামা, হাওয়াই দ্বীপের মওনালোয়া, ইতালির ভিসুভিয়াস, আফ্রিকার কিলিমানজারো ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৮.
ভারত মহাসাগরের ঘূর্ণিঝড়কে কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. ক) টাইফুন
  2. খ) সাইক্লোন
  3. গ) উইলি উইলিছ
  4. ঘ) হারিকেন
সঠিক উত্তর:
খ) সাইক্লোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সাইক্লোন
ব্যাখ্যা
• ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড় হলো একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণিজগতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।
- সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় নানা নামে পরিচিত। যেমন-
- চীন ও জাপানের উপকূলে টাইফুন,
- ভারত মহাসাগরে সাইক্লোন,
- ফিলিপাইনের উপকূলে বাগুই,
- অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে উইলি উইলিছ,
- ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ও মেক্সিকো উপসাগর অঞ্চলে হারিকেন প্রভৃতি নামে অভিহিত করা হয়।

• উৎপত্তি:
- অনিয়মিত বায়ুর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো ঘূর্ণিঝড় (Cyclone) ও প্রতীপ ঘূর্ণিঝড় (Anti-cyclone)।
- উপরের ও নিচের বায়ুর পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- আমাদের দেশে প্রায় প্রতি বছর সাধারণত মার্চ ও নভেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে।

সূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৯.
উত্তর গোলার্ধে ঘূর্ণিঝড়ের বাতাস কিভাবে প্রবাহিত হয়?
  1. কেন্দ্র থেকে বাইরের দিকে
  2. বাইরের থেকে কেন্দ্রের দিকে
  3. শুধুমাত্র উপরের দিকে
  4. পশ্চিম থেকে পূর্ব
সঠিক উত্তর:
বাইরের থেকে কেন্দ্রের দিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাইরের থেকে কেন্দ্রের দিকে
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড় হলো একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণিজগতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় নানা নামে পরিচিত।
- অনিয়মিত বায়ুর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো ঘূর্ণিঝড় ও প্রতীপ ঘূর্ণিঝড়।
- উপরের ও নিচের বায়ুর পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের সময় পশ্চিমা বায়ু প্রবাহ দ্বারা মধ্য অক্ষাংশ অঞ্চলের নিম্নচাপ ও উচ্চচাপ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়।
- এই ঝড়ের সময় বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ ঘন্টায় ৬৫ কি.মি বা তারও বেশি হয়।
- এছাড়াও নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। দ্রুত উর্দ্ধগামী বায়ু জলীয়বাষ্পপূর্ণ থাকলে ঘূর্ণিঝড়ের সময় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলা হয়।
- উত্তর গোলার্ধে প্রবল ঘূর্ণিবায়ু বাইরের থেকে কেন্দ্রের দিকে প্রবাহিত হয়। পরে প্রচন্ড শক্তিতে বায়ু আবর্তনের মাধ্যমে উপরের দিকে উঠতে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় উষ্ণ জলরাশি থেকে সৃষ্টি হয় যার গড় উঞ্চতা ২৭° সেলসিয়াস।
- সমুদ্র পৃষ্ঠের কাছাকাছি অন্তত ২৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিশিষ্ট যথেষ্ট পরিমাণে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু থাকে।
- মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয় এবং বায়ুপ্রবাহের ভেতরে এবং উপরের দিকে খাড়া হয়ে মেঘপুঞ্জের সৃষ্টি হয়।
- উর্দ্ধস্তরের বায়ু বহির্গামী হবে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২০.
কত সালে স্পারসোকে মহাকাশ সংক্রান্ত “ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট” হিসেবে ঘোষণা করা হয়?
  1. ১৯৮৫ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯৫ সালে
  4. ২০০০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৫ সালে
ব্যাখ্যা
→ সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১৯৯৫ সালে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

স্পারসো:
- স্পারসো প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়।
- ১৯৮০ সালে এটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হলেও, ১৯৮৫ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্থানান্তরিত হয়।
- ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ২৯ নম্বর আইন দ্বারা এটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
- এছাড়া, ১৯৯৫ সালে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্পারসোকে মহাকাশ সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য "ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট" হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
- মহাকাশ প্রযুক্তির গবেষণা ও প্রয়োগের মাধ্যমে কৃষি, পরিবেশ, আবহাওয়া এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অবদান রাখাই এর মূল লক্ষ্য।

সূত্র: স্পারসো ওয়েবসাইট।
৬২১.
নিচের কোনটি দুর্যোগ প্রশমনের উদাহরণ?
  1. ত্রাণ বিতরণ
  2. বাঁধ নির্মাণ
  3. সংবাদ প্রচার
  4. মানুষের সরিয়ে নেওয়া
সঠিক উত্তর:
বাঁধ নির্মাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁধ নির্মাণ
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অর্থ হলো যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা।
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান:
১. দুর্যোগ প্রতিরোধ:
দুর্যোগের সম্ভাবনা বা ঝুঁকি কমাতে যে সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা দুর্যোগ প্রতিরোধের অংশ। এর মধ্যে পূর্বাভাস ব্যবস্থা, সতর্কতা কার্যক্রম এবং প্রতিরোধী কাঠামো তৈরি করা অন্তর্ভুক্ত থাকে।

২. দুর্যোগ প্রশমন:
দুর্যোগের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর জন্য দুর্যোগ প্রশমনের কাজ করা হয়। এটি সরাসরি দুর্যোগের তীব্রতা কমানোর জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ, যেমন বাঁধ নির্মাণ, নিরাপত্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং পরিবেশগত বিপর্যয় রোধ করা।

৩. দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি:
দুর্যোগের প্রাক্কালে সঠিক প্রস্তুতি গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। এটি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের জনগণকে সচেতন করা, দুর্যোগের সময় দ্রুত সাহায্য পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুতি তৈরি করা এবং উপকরণ সংরক্ষণ করা ইত্যাদি বিষয়গুলির অন্তর্ভুক্ত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬২২.
বাংলাদেশের FCDI প্রকল্পের উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. পানি সেচ
  2. বন্যা নিয়ন্ত্রণ
  3. পানি নিষ্কাশন
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
FCDI প্রকল্প:
- FCDIP-এর পূর্ণরপ Flood Control, Drainage and Irrigation Projects.
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প (Flood Control, Drainage and Irrigation Projects) অনুচ্চ ভূ-সংস্থানের কারণে একটি স্বাভাবিক বৎসরে বাংলাদেশের ভৌগোলিক এলাকার কমপক্ষে ২০% এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে থাকে।
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পসমূহ বন্যার তীব্রতা হ্রাসকরণে অথবা বন্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বন্যার পানি নিষ্কাশনের উপায় হিসেবে ব্যবহূত হয়, যেগুলো শস্য উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুকূল অবস্থার সৃষ্টি করে।

⇒ Bangladesh Water and Power Development Boards Order, 1972 (P. O. No. 59 of 1972) - এর অধীন প্রতিষ্ঠিত Bangladesh Water Development Board সংক্রান্ত বিধানাবলী রহিত করিয়া পানি সম্পদের উন্নয়ন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করা হয়।
- এই আইন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড আইন, ২০০০ নামে পরিচিত।

⇒ এফসিডিআই প্রকল্পের উদ্দেশ্য -
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ,
- পানি নিষ্কাশন ও
- সেচ প্রকল্প।

উৎস: বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর।
৬২৩.
'UNDRR' কী বিষয়ক সংস্থা?
  1. ক) জলবায়ু
  2. খ) সমুদ্র
  3. গ) বন্যপ্রাণী
  4. ঘ) দুর্যোগ
সঠিক উত্তর:
ঘ) দুর্যোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দুর্যোগ
ব্যাখ্যা

- United Nations Office for Disaster Risk Reduction (UNDRR) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালে।
- এটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে জাতীয় কর্মকৌশল বাস্তবায়ন।
- এর সদরদপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত।
উৎস: UNDRR'র ওয়েবসাইট।

৬২৪.
বাংলাদেশে প্রচুর ঘূর্ণিঝড় হওয়ার কারণ- 
  1. নদীর মোহনা বেশি হওয়ার কারণে
  2. সমুদ্র থেকে দূরত্ব বেশি হওয়ার কারণে
  3. বঙ্গোপসাগরের ফানেল আকৃতির কারণে 
  4. পাহাড় বেশি হওয়ার কারণে
সঠিক উত্তর:
বঙ্গোপসাগরের ফানেল আকৃতির কারণে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গোপসাগরের ফানেল আকৃতির কারণে 
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড় হলো এক ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- এই বায়ুমণ্ডলীয় দুর্যোগ বাতাসের প্রচণ্ড ঘূর্ণায়মান গতি এবং নিম্নচাপের কারণে সৃষ্টি হয়। 
- এটি সাধারণত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে ঘটে।
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের আকৃতি ফানেলের মতো হওয়ার কারণে বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বেশি হয়। 
- ফানেল আকারের কারণে ঝড় সহজে উপকূলের দিকে চলে আসে।
- এবং জলোচ্ছ্বাস আরও শক্তিশালী হয়।
- বঙ্গোপসাগরের উপর নিম্নচাপ তৈরি হলে এই ঝড় বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানে। 
- বিশেষ করে এপ্রিল-মে ও অক্টোবর-নভেম্বর মাসে বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় বেশি সংঘটিত হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের ফলে প্রচণ্ড বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাস উপকূলে অনেক ক্ষয়ক্ষতি করে।
- ঘরবাড়ি, রাস্তা, কৃষিজমি ও মাছ চাষের ক্ষেত্র ধ্বংস হয়।
- বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানও ঘূর্ণিঝড় সংঘটনের জন্য দায়ী। 

উৎস:
১. বাংলাপিডিয়া;
২. Britannica.

৬২৫.
Sendai Framework for Disaster Risk Reduction কত সালে গৃহীত হয়?
  1. ২০১৪ সালে
  2. ২০১৫ সালে
  3. ২০১৬ সালে
  4. ২০১৭ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১৫ সালে
ব্যাখ্যা
Sendai Framework for Disaster Risk Reduction:
- জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলন ১৪ মার্চ - ১৮ মার্চ, ২০১৫ তারিখে জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয়।
- এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক: ২০১৫-৩০ গৃহীত হয়।
- এই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য এবং চারটি অগ্রাধিকারের রূপরেখা স্থির করা হয়।
- দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং যথাযথ বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই এ সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য।

⇒ সাতটি লক্ষ্য:
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী দুর্যোগে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সাথে সরাসরি দুর্যোগের অর্থনৈতিক ক্ষতি হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে গুরুতর অবকাঠামোর দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুবিধাগুলির মধ্যে মৌলিক পরিষেবাগুলির ব্যাঘাতকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০২০ সালের মধ্যে জাতীয় এবং স্থানীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কৌশলসহ দেশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে এই কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য তাদের জাতীয় কর্মের পরিপূরক করার জন্য পর্যাপ্ত এবং টেকসই সহায়তার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বহু-বিপদ প্রারম্ভিক সতর্কতা ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ ঝুঁকির তথ্য এবং মূল্যায়নের প্রাপ্যতা এবং অ্যাক্সেস উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।

উৎস: UNDRR ওয়েবসাইট।
৬২৬.
বাংলাদেশে কোন অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা হয়? 
  1. পশ্চিম-উত্তরাঞ্চলে
  2. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে
  3. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে
  4. উত্তর-পূর্বাঞ্চলে
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পূর্বাঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পূর্বাঞ্চলে
ব্যাখ্যা
আকস্মিক বন্যা (Flash Flood):
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমী আকস্মিক বৃষ্টিপাত বা পাহাড়ি ঢলের ফলে বন্যার সৃষ্টি হয়,
- এটাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তথা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ প্রভৃতি জেলায় আকস্মিক বন্যা হতে দেখা দেয়।
- বোরো মৌসুমে এ ধরনের বন্যা হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
--------------------- 
বন্যা:

- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- সাধারণত বন্যা চার প্রকারের হয়ে থাকে।
- যথা:
১. মৌসুমী বন্যা,
২. আকস্মিক বন্যা,
৩. উপকূলীয় বন্যা,
৪. নগর বন্যা। 

সূত্র: ভূগোল ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৭.
নিচের কোন জেলায় নদীভাঙনের পরিমাণ অত্যধিক?
  1. চট্টগ্রাম
  2. সিরাজগঞ্জ
  3. যশোর
  4. সুনামগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
সিরাজগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরাজগঞ্জ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নদীতে ভাঙনের পরিমাণ সর্বাধিক। তিনটি নদীতে বিগত চল্লিশ বছরে দেড় থেকে দুই লক্ষ হেক্টর জমি ভাঙনের শিকার হয়েছে। বাৎসরিক চার থেকে ছয় হাজার হেক্টর জমি ভাঙনের শিকার হয়।

ভাঙনপ্রবণ জেলাসমূহের মধ্যে সিরাজগঞ্জ, শরীয়তপুর, চাঁদপুর, ভোলা, চাপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, ফরিদপুর, মাদারীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও বরিশাল প্রধান।

(তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা, ডয়েচভেলে এবং সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিস)
৬২৮.
বদ্বীপ পরিকল্পনায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির ভিত্তিতে সমগ্র দেশকে কতটি হটস্পটে বিভক্ত করা হয়েছে?
  1. তিনটি
  2. পাঁচটি
  3. ছয়টি
  4. নয়টি
সঠিক উত্তর:
ছয়টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছয়টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ডেল্টা বা বদ্বীপ পরিকল্পনায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির ভিত্তিতে সমগ্র দেশকে ছয়টি হটস্পটে বিভক্ত করা হয়েছে।
এগুলো হলো:
- উপকূলীয় অঞ্চল
- বরেন্দ্র ও খরা প্রবণ অঞ্চল
- হাওর ও আকস্মিক বন্যাপ্রবণ এলাকাসমূহ
- পার্বত্য চট্টগ্রাম
- নদী অঞ্চল ও মোহনা এবং
- নগর এলাকাসমূহ।

ডেল্টা পরিকল্পনায় ছয়টি জেলাকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে কম ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এগুলো হলো:
- গাজীপুর
- ঝিনাইদহ
- মাগুরা
- ময়মনসিংহ
- নীলফামারী এবং
- শেরপুর।

(তথ্যসূত্র: বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০)
৬২৯.
"সুনামি" শব্দটির উৎপত্তি কোন ভাষা থেকে?
  1. চীনা
  2. জাপানি
  3. ল্যাটিন
  4. ইংরেজি
সঠিক উত্তর:
জাপানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাপানি
ব্যাখ্যা

সুনামি (Tsunami):
- সুনামি (Tsunami) একটি জাপানি শব্দ।
- জাপানি ভাষায় এর অর্থ হলো 'পোতাশ্রয়ের ঢেউ'।
- সুনামি হলো পানির এক মারাত্মক ঢেউ যা সমুদ্রের মধ্যে বা বিশাল হ্রদে ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে সৃষ্টি হয়ে থাকে
- পানির নিচে কোনো পারমাণবিক বা অন্য কোনো বিস্ফোরণ, ভূপাত ইত্যাদি কারণেও সুনামি হতে পারে।
- সুনামির ক্ষয়ক্ষতি সমুদ্র উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকলেও এর আশেপাশে সুনামির ধ্বংসাত্মক লীলা সংঘটিত হয়।
- ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে যে সুনামি সৃষ্টি হয় তা এই মহাসাগরের আশেপাশে ১৪টি দেশে আঘাত হানে এবং মারাত্মক একটি দুর্যোগ সৃষ্টি করে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৩০.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়?
  1. উত্তর-পূর্বাঞ্চলে
  2. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে
  3. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
  4. দক্ষিণ-পূবার্ঞ্চলে
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
ব্যাখ্যা
['ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়' এর তথ্যমতে অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যা ভুল। বাংলাপিডিয়া এর তথ্যমতে, সাম্প্রতিক দশকগুলিতে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম (বরেন্দ্রভূমি) অঞ্চলে খরার ঘন ঘন প্রাদুর্ভাব ওই এলাকার একটা বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সঠিক উত্তর হিসেবে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল নেওয়া হয়েছে।]

• অনাবৃষ্টি ও খরা:
- কোনো এলাকা দীর্ঘদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে উক্ত এলাকাটির মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে। ফলে, উক্ত এলাকার মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় ও ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়। মাটির এরূপ অবস্থাকে খরা বলা হয়।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়।
- খরা উপদ্রুত অঞ্চলে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়।
- উপদ্রুত অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গিয়ে পানির অভাব দেখা দেয়।
- পর্যাপ্ত ফসলের অভাবে খাদ্যদ্রব্যের অভাব প্রকট হয়ে পড়ে।
- গাছপালা বিহীন শুষ্ক প্রকৃতি ও তীব্র গরমে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের অসুখের প্রাদুর্ভাব ঘটে।
- বনজ সম্পদ বৃদ্ধি তথা অধিক বৃক্ষরোপন করে ও ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগকে কিছুটা নিয়ন্ত্রন করা যায়।

উৎস:
১. ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. বাংলাপিডিয়া।
৬৩১.
পরিবেশ দূষণের কৃত্রিম কারণ কোনটি?
  1. বন্যা
  2. খরা
  3. পাহাড় কর্তন
  4. ঘূর্ণিঝড়
সঠিক উত্তর:
পাহাড় কর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাহাড় কর্তন
ব্যাখ্যা
• পরিবেশ দূষণ (Environment Pollution):
→ পরিবেশে জীবের স্বাভাবিক অবস্থা বা জীবনযাত্রায় বিঘ্ন সৃষ্টিতে সক্ষম ক্ষতিকর অবস্থার নাম দূষণ।
→ অন্যদিকে পানি, বাতাস, মৃত্তিকা বা পরিবেশের কোনো উপাদানের ভৌত, রাসায়নিক বা জৈবিক যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত পরিবর্তনই প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণ।
→ মানুষের বহুমুখী কর্মকান্ডই পরিবেশ দূষণের সবচেয়ে বড় কারণ।

• প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণের কারণ:
→ প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণের কারণসমূহকে দুইটি ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা যেতে পারে। যথা-
ক. প্রাকৃতিক কারণ এবং খ. মানবসৃষ্ট কারণ।

→ প্রাকৃতিক কারণ:
১. বন্যা ও খরা, 
২. ভূমিকম্প, 
৩. ঘূর্ণিঝড়,
৪. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত।

→ মানবসৃষ্ট কারণ:
১. গাছপালা নিধন।
২. পাহাড় কর্তন।
৩. অপরিকল্পিত নগরায়ন।
৪. কীটনাশক ব্যবহার।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩২.
কোন সালের দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
  1. ১৯৭৮ সাল
  2. ১৯৮৮ সাল
  3. ১৯৯৮ সাল
  4. ১৯৮৪ সাল
সঠিক উত্তর:
১৯৯৮ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৮ সাল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বন্যা:
- ভৌগলিক অবস্থান ও জলবায়ুগত কারণে বাংলাদেশ বন্যা উপদ্রুত এলাকা হিসাবে চিহ্নিত।
- এশিয়ার অন্যতম ২টি বড় নদী বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- এর ফলে প্রায় প্রতি বছর বাংলাদেশ মারাত্মক বন্যায় আক্রান্ত হয়।
- বর্ষাকালে অতিবৃষ্টি, উজান থেকে আসা বরফগলা ও বৃষ্টির পানি, সেই সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে বৃষ্টি বহুল অঞ্চল মেঘালয় পাহাড়ের পাহাড়ী ঢল এবং বঙ্গোপসাগরের জোয়ার এই বন্যাকে দীর্ঘস্থায়ী ও মারাত্মক অবস্থায় নিয়ে যায়।

বন্যার ধরনের উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের বন্যাকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়:
১. সাধারণ বন্যা (General Flood):
- সাধারণত বড় নদীগুলো থেকে সৃষ্ট বন্যা।
- বাংলাদেশের উত্তর ও মধ্য ভাগ এই বন্যায় বেশী আক্রান্ত হয়।

২. আকস্মিক বন্যা (Flash Flood):
- পাহাড়ী ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যা যা অল্প সময়ের মধ্যে ঘটে।
- সাধারনত বাংলাদেশের উত্তর ও পূর্ব অঞ্চল বিশেষ করে মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশের এলাকাসমূহ এই বন্যায় আক্রান্ত হয়।

৩. ঘূর্নিঝড়ের ফলে সৃষ্ট বন্যা বা জলোচ্ছ্বাস (Tidal Surge):
- বাংলাদেশের উপকূলবর্তী এলাকায় বিশেষ করে ঘূর্নিঝড় প্রবন এলাকায় এই বন্যা দেখা দেয়।

বন্যার প্রভাব (Influence of Flood in Bangladesh):

- বাংলাদেশের বন্যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক।
- বন্যার পানিতে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়ে বিপুল পরিমাণ ফসলের ক্ষতি, মানুষসহ অন্যান্য প্রাণির প্রাণহানি, অর্থ-সম্পদ ধ্বংস এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে।
- ১৯৫৪ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে ১৯৭৪, ১৯৭৮, ১৯৮৪, ১৯৮৮, ২০০৪ সালের বন্যা ছিল ভয়াবহ।
- এর মধ্যে ১৯৯৮ সালের দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় সবচেয়ে বেশি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশের ৬১% ও ১৯৯৮ সালে ৬৮% এলাকা পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। (বিবিসি বাংলা [২৪ আগস্ট, ২০১৭])
- পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যে দেখা যাচ্ছে ২০১৭ সালে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ১৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে, যেটি সর্বকালের সবচে বেশি।
- ১৯৮৮ সালে পানি ১১২ সেন্টিমিটার ও ১৯৯৮ সালে বিপদসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে বন্যার সৃষ্টি করেছিল।

উৎস: i) বিবিসি বাংলা [২৪ আগস্ট, ২০১৭]
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) বাংলাদেশ সরকারের ক্লাইমেট চেঞ্জ সেল।
৬৩৩.
দুর্যোগ সংঘটনের পরপরই কোন ধরনের কার্যক্রম শুরু করতে হয়?
  1. প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম
  2. সাড়াদান কার্যক্রম
  3. পুনরুদ্ধার কার্যক্রম
  4. প্রশমন কার্যক্রম
সঠিক উত্তর:
সাড়াদান কার্যক্রম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাড়াদান কার্যক্রম
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ সংঘটনের পরপরই সাড়াদান কার্যক্রম শুরু করতে হয়।
সাড়াদান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে:
- তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম
- নিরাপদ স্থানে অপসারণ
- ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ
- পুনর্বাসন কার্যক্রম প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম দুর্যোগ সংঘটনের পূর্বে সম্পন্ন করা হয়। পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের মাধ্যমে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়। প্রশমনমূলক কার্যক্রম হলো দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৬৩৪.
বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় হয় কোন মাসে?
  1. ক) আষাঢ়-শ্রাবণ
  2. খ) আশ্বিন-কার্তিক
  3. গ) চৈত্র-বৈশাখ
  4. ঘ) খ ও গ
সঠিক উত্তর:
ঘ) খ ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খ ও গ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
৬৩৫.
দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায় নয় কোনটি?
  1. সাড়া প্রদান
  2. উন্নয়ন
  3. প্রশমন
  4. পুনরুদ্ধার 
সঠিক উত্তর:
প্রশমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশমন
ব্যাখ্যা

'প্রশমন' দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায় নয়। এটি দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: 

- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান ৩টি। যথা-
১। দুর্যোগ প্রতিরোধ
২। দুর্যোগ প্রশমন
৩। দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:  
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র বলতে দুর্যোগ মোকাবেলার সাথে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত পর্যায়গুলোকে বুঝানো হয়ে থাকে।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রকে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-

ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়:
- দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়।
- এগুলো হলো: পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং প্রশমন।
- এই ৩টি কার্যক্রম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান ।

খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়:-
- দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়।
- এগুলো হলো- সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন।

উল্লেখ্য,
- সুতরাং দুর্যোগকে কার্যত মুকাবেলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
- দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।
- অতীতে দুর্যোগে সাড়াদানকেই সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৩৬.
'ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম' কোনটির আওতাভুক্ত?
  1. সাড়া দান
  2. উন্নয়ন
  3. প্রতিরোধ
  4. পুনরুদ্ধার
সঠিক উত্তর:
সাড়া দান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাড়া দান
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে। দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে ও সংঘটনের অব্যবহিত পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদান যেমন- সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, প্রশমন উন্নয়ন, প্রতিরোধ, পূর্বপ্রস্তুতি কার্যক্রম সম্পাদন করা প্রয়োজন।

• সাড়াদান (Response):
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন।
- সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম -১০ম শ্রেনি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৭.
সর্বকালের সবচেয়ে প্রলয়ঙ্করী সাইক্লোন কত সালে সংঘটিত হয়েছিলো?
  1. ক) ১৯৬৩
  2. খ) ১৯৬৯
  3. গ) ১৯৭০
  4. ঘ) ১৯৯১
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৭০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৭০
ব্যাখ্যা
নিম্নচাপের কারণে যখন বাতাস প্রচন্ড গতিবেগে ঘুরতে থাকে, তখন সেটাকে সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় বলে।
১৯৬০ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রায় ৫০ বার বাংলাদেশে সাইক্লোন আঘাত হেনেছে।
১৯৭০ সালের সাইক্লোনটি সর্বকালের সবচেয়ে প্রলয়ঙ্করী সাইক্লোন হিসেবে পৃথিবীর ইতিহাসে চিহ্নিত হয়েছে৷ এ ঝড়ে প্রায় ৫ লক্ষ প্রাণহানি ঘটেছিলো।
এ পর্যন্ত বাংলাদেশে সবচেয়ে শক্তিশালী সাইক্লোন হয়েছিলো ১৯৯১ সালে
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৬৩৮.
কোন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে 'পম্পেই' নগরী ধ্বংস হয়েছিল?
  1. মাওনালেয়া, হাওয়াই দ্বীপ
  2. ফুজিয়ামা, জাপান
  3. ভিসুভিয়াস, ইতালি
  4. কোহিসুলতান, ইরান
সঠিক উত্তর:
ভিসুভিয়াস, ইতালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিসুভিয়াস, ইতালি
ব্যাখ্যা
আগ্নেয়গিরি:
- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে লাভা চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে গ্রাম, নগর ও কৃষিক্ষেত্র সব ধ্বংস করে।
- ১৮৭১ সালে ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে হারকিউলেনিয়াম ও পম্পেই নামের দু'টি নগর উত্তপ্ত লাভা ও ভস্মরাশির মধ্যে ডুবে গিয়েছিল।
- আগ্নেয়গিরির কারণে কেবল মানুষের অপকার নয় উপকারও হয়ে থাকে।
- এতে ভূমির উর্বরতাও বৃদ্ধি পায়। যেমন- দাক্ষিণাত্যের লাভা গঠিত কৃষ্ণমৃত্তিকা কার্পাস চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী।
- অনেক সময় লাভার সঙ্গে অনেক খনিজ পদার্থ নির্গত হয়।
- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাংশে অগ্ন্যুৎপাতের জন্য অধিক পরিমাণে খনিজ দ্রব্য পাওয়া যায়।
- অগভীর সমুদ্রে বা হ্রদে লাভা ও ভস্ম সঞ্চিত হয়ে এরূপ ভূভাগ সৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র - ভুগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬৩৯.
ধ্বংসস্তুপ অপসারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের কোন স্তরের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সাড়াদান
  2. পূর্বপ্রস্ততি
  3. প্রশমন
  4. উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
সাড়াদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাড়াদান
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান।
- সুতরাং দুর্যোগকে কার্যকরভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
- দুর্যোগ সংঘটনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।

• সাড়াদান:
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন।
- সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪০.
বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের সংখ্যা কয়টি?
  1. ১টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
• ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্ৰ:
- বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি।

- সেগুলো হলো:
- রাঙামাটির বেতবুনিয়া (১৯৭৫),
- গাজীপুরের তালিবাবাগ (১৯৮২),
- ঢাকার মহাখালী (১৯৯৫),
- সিলেট (১৯৯৭)।

- ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ জুন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাঙামাটির বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহটি কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেছিলেন।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাসস।
৬৪১.
নদী বন্দরের জন্য নির্ধারিত সতর্কতা সংকেত কতটি?
  1. ২টি
  2. ৪টি
  3. ৯টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
সতর্কতা ও বিপদ সংকেত:
ঘূর্ণিঝড়ের সময় সতর্কতা ও বিপদ বুঝানোর জন্য ১১টি সংকেত রয়েছে।
- তার মধ্যে প্রথম চারটি সতর্কতা ও স্থানীয় সংকেত। বাকিগুলো বিপদ সংকেত।
নিম্নে ১১টি সংকেতের অর্থ দেওয়া হল:

১ নং দূরবর্তী সতর্ক সংকেত:
জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার পর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সম্মুখীন হতে পারে। দূরবর্তী এলাকায় একটি ঝড়ো হাওয়ার অঞ্চল রয়েছে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬১ কিলোমিটার (কি.মি.)। ফলে সামুদ্রিক ঝড়ের সৃষ্টি হবে।

২ নং দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত:
দূরে গভীর সাগরে একটি ঝড় সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিলোমিটার। বন্দর এখনই ঝড়ে কবলিত হবে না, তবে বন্দর ত্যাগকারী জাহাজ পথে বিপদে পড়তে পারে।

৩ নং স্থানীয় সতর্ক সংকেত:
বন্দর ও বন্দরে নোঙর করা জাহাজগুলোর দুর্যোগ কবলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্দরে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং ঘূর্ণি বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০-৫০ কি.মি. হতে পারে।

৪ নং স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত:
বন্দর ঘূর্ণিঝড় কবলিত। বাতাসের সম্ভাব্য গতিবেগ ঘণ্টায় ৫১-৬১ কি.মি.। তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার মতো তেমন বিপজ্জনক সময় এখনও আসেনি।

৫ নং বিপদ সংকেত:
বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

৬ নং বিপদ সংকেত:
বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

৭ নং বিপদ সংকেত:
বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরের উপর বা এর নিকট দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

৮ নং মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে পারে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি. বা এর বেশি হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।

৯ নং মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি. বা এর বেশি হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।

১০ নং মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি.বা তার বেশি হতে পারে।

১১ নং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সংকেত:
আবহাওয়ার বিপদ সংকেত প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় আবহাওয়া কর্মকর্তা পরিস্থিতি দুর্যোগপূর্ণ বলে মনে করেন।

উৎস: ঘূর্নিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি) ওয়েবসাইট ও বিবিসি বাংলা।
৬৪২.
নিচের কোনটি কাঠামোগত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা?
  1. প্রশিক্ষণ প্রদান 
  2. আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি
  3. বেরিবাঁধ নির্মাণ
  4. খ+গ
সঠিক উত্তর:
খ+গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ+গ
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব না হলেও যথাযথ ব্যবস্থাপনার দ্বারা এর ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
- এ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কাঠামোগত ও অকাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
- কাঠামোগত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা যেমন: বেরিবাঁধ নির্মাণ, আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি,
- নদী খনন ইত্যাদি খুবই ব্যয়বহুল যা অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যে উপযোগী নয়।
- গণসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ প্রদান প্রভৃতি অকাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল যা দরিদ্রদেশগুলোর জন্যে উপযোগী।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেনি।

৬৪৩.
সুনামির প্রধান কারণ কোনটি?
  1. সমুদ্রতলের ভূমিকম্প
  2. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
  3. ভূমিধ্বস
  4. উল্লিখিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রতলের ভূমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রতলের ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা

সুনামি:
- সুনামির (Tsunami) কারন হলো সমুদ্রতলের ভূমিকম্প।
- সুনামি (Tsunami) জাপানি শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ পোতাশ্রয়ের ঢেউ।
- সুনামির উৎপত্তি সমুদ্রতলে।
- সমুদ্র তলদেশে প্রবল ভূমিকম্প সংঘটিত হলে সমুদরপৃষ্ঠে বিশাল যে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় তাকে সুনামি বলে।
- সর্বপ্রথম সুনামির কথা লিপিবদ্ধ হয় খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে।

⇒ সুনামি সৃষ্টির কারণ ও সুনামির গতিবিধি:
- সুনামির সৃষ্টির প্রধান কারণ সমুদ্রের তলদেশের ভূমিকম্প। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণেও সুনামি সৃষ্টি হয়ে থাকে। এছাড়া পারমানবিক বিস্ফোরণ, ভূমিধ্বস, উল্কাপিন্ডের পতন ইত্যাদি কারণেও সুনামি হতে পারে।
- সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্পের ফলে যে ঢেউয়ের সৃষ্টি করে তা প্রবলবেগে উপকূলের দিকে অগ্রসর হয়।
- সুনামির একেকটি ঢেউ ঘন্টায় ৬৪০- ৯৬০ কি.মি বেগে প্রবাহিত হয়। সুনামির ঢেউ উপকূলের দিকে আসতে থাকলে ঢেউয়ের গতির প্রচন্ডতা কমলেও ঢেউয়ের উচ্চতা বেড়ে যায় বহুগুণে।
- গভীর সমুদ্রে সুনামির উৎপত্তিস্থলে সুনামির উচ্চতা মাত্র কয়েক সে.মি. উঁচু কিন্তু উপকূলে সুনামির ঢেউয়ের উচ্চতা ৩০-৫০ মিটার উঁচু আকার ধারণ করে।
- এ ছাড়া ভূ-অভ্যন্তরে টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়া হতে থাকে। এভাবে কখনো কোনো একটি প্লেট অপর প্লেটের দিকে অনবরত ধাক্কা দিতে থাকলে সমুদ্রের তলদেশে সুনামির সৃষ্টি হয়।

⇒ সুনামির ঢেউ সাধারণত হয় ধারাবাহিক এবং একটি ঢেউয়ের চূড়া থেকে আরেকটি ঢেউয়ের চূড়ার দূরত্ব ১০০ মাইলের (১৬০ কিলোমিটার) মতো হতে পারে। তাই একটি বড় ঢেউ আঘাত করার মোটামুটি এক ঘণ্টা বা সামান্য বেশি সময় পর দ্বিতীয় আরেকটি ঢেউ ভূ-ভাগে এসে আঘাত করে।
- ২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট সুনামিতে উপকূলবর্তী ১২টিরও বেশি দেশে দুই লক্ষাধিক মানুষ প্রাণ হারায়। এর পর থেকে ‘সুনামি’ শব্দটি ব্যাপকভাবে পরিচিতি পায়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪৪.
ভূমিকম্পের কারণ কী?
  1. পাত সঞ্চালনের সংঘর্ষ
  2. সমুদ্রের স্রোত
  3. আগ্নেয়গিরির সঞ্চালন
  4. কল-কারখানার বর্জ্য
সঠিক উত্তর:
পাত সঞ্চালনের সংঘর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাত সঞ্চালনের সংঘর্ষ
ব্যাখ্যা
পাত সঞ্চালন:
- সমুদ্রের তলদেশ, মহাদেশ, পর্বত, মালভূমি প্রভৃতির গঠন ব্যাখ্যা করার জন্য পাত সঞ্চালন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- এই সম্পর্কে সর্বপ্রথম ১৯১২ সালে আলফ্রেড ওয়েগনার মহাদেশীয় ভূ-ভাগ সঞ্চালন মতবাদ প্রদান করেন।
- পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে জেভিয়ার লি-পিনচন পাত সঞ্চালন মতবাদ প্রদান করেন।
- মহাদেশ এবং মহাসাগরের তলদেশ বিভিন্ন পাতের সমন্বয়ে তৈরি এবং এইসব পাতসমূহ চলমান। যদিও গতিশীলতার পরিমাণ বছরে মাত্র ১০-২০মি.মি.।

- এই সকল পাতসমূহ পরস্পরের দিকে, বিপরীত দিকে, পার্শ্বীয় দিকে তাদের নিজ নিজ সীমানা, অবস্থান ও সীমানা অনুয়ায়ী সঞ্চালিত হয়। - এই ধরনের সঞ্চালনের ফলেই মহাসাগরের তলদেশে তাদের সীমানা বরাবর ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টি করে ভূমিকম্প হয়।
- ভূ-অভ্যন্তরীণ উত্তাপই হচ্ছে পাত সঞ্চালনের সংঘর্ষের প্রধান কারণ।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৫.
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের দৈর্ঘ্য কত কিলোমিটার?
  1. ৬২০ কি.মি.
  2. ৭১৬ কি.মি.
  3. ৭১৩ কি.মি.
  4. ৮৭০ কি.মি.
সঠিক উত্তর:
৭১৬ কি.মি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭১৬ কি.মি.
ব্যাখ্যা
• উপকূলীয় অঞ্চল:
- বাংলাদেশের উপকূল (৭১৬ কি.মি.) অঞ্চল সমুদ্র সমতলের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস ও নদীভাঙন ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ দ্বারা অনবরত ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
- ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত অসংখ্য নিম্ন আয়ের মানুষ প্রতিনিয়ত নানা ধরনের দুর্যোগ দ্বারা বিপদাপন্ন অবস্থায় পতিত হচ্ছে।
-  অতএব সুষ্ঠু দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উপকূলীয় জনগণের দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা (দুর্যোগ মোকাবেলার ক্ষমতা) বৃদ্ধি ও পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
 
তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৬.
দুর্যোগ প্রশমন বলতে কী বোঝায়?
  1. দুর্যোগ পরবর্তী ত্রাণ বিতরণ
  2. দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস
  3. আবহাওয়ার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ
  4. দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধার অভিযান
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ীত্ব হ্রাস এবং দুর্যোগের পূর্ব প্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব না হলেও যথাযথ ব্যবস্থাপনার দ্বারা এর ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
- এ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কাঠামোগত ও অকাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
- কাঠামোগত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, যেমন: বেরিবাঁধ নির্মাণ, আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি।
- কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

→ অন্যদিকে:
- পুনরুদ্ধার, সাড়াদান, পূর্বপ্রস্তুতি প্রভৃতি অল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।
- প্রশমন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূখ্য উপাদান।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূখ্য উপাদানসমূহ:
• দুর্যোগ প্রতিরোধ,
• দুর্যোগ প্রশমন এবং
• দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি।
- দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে:
• সাড়াদান,
• পুনরুদ্ধার ও
• উন্নয়ন।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।

৬৪৭.
জৈবিক দুর্যোগের (Biological hazard) মধ্যে নিচের কোনটি অন্তর্ভুক্ত?
  1. ঘূর্ণিঝড়
  2. কোভিড-১৯
  3. বজ্রপাত
  4. ভূমিধ্বস
সঠিক উত্তর:
কোভিড-১৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোভিড-১৯
ব্যাখ্যা

জৈবিক দুর্যোগ (Biological hazard):
- জৈবিক দুর্যোগ (Biological hazard) হলো এমন ধরনের দুর্যোগ যা জীবাণু, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী অথবা অন্যান্য সংক্রামক এজেন্টের মাধ্যমে মানুষের স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
- এই ধরনের দুর্যোগ সাধারণত মহামারির আকারে দেখা দেয় এবং সমাজের সবস্তরের মানুষের জীবন ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
- জৈবিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: কোভিড-১৯ মহামারি, ২০১৭ সালের চিকুনগুনিয়া প্রাদুর্ভাব, ২০০৭ সালের বার্ড ফ্লু, ২০০৪ সালের নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ, এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেঙ্গু জ্বরের ব্যাপক বিস্তার।
- এছাড়াও সোয়াইন ফ্লু, জিকা ভাইরাস ইত্যাদিও জৈবিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত।
- এধরনের দুর্যোগ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে চরম চাপে ফেলে, জনজীবনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়।
- তাই জৈবিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সচেতনতা, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা অপরিহার্য। 

সূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৬৪৮.
বাংলাদেশের কোন জেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়?
  1. কুমিল্লা
  2. নেত্রকোনা
  3. নোয়াখালি
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
নেত্রকোনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেত্রকোনা
ব্যাখ্যা
বন্যা:
- বাংলাদেশে সাধারণত চার ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়।
- এগুলো হলো:
- বৃষ্টিজনিত বন্যা
- উপকূলীয় বন্যা
- নদীসৃষ্ট বন্যা
- আকস্মিক বন্যা।

- বাংলাদেশেরে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ী নদীর পানি উপচে পড়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে।
- এপ্রিল-মে এবং সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় পাহাড়ী নদীর উপচে পড়া পানির কারণে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
- আকস্মিক বন্যায় হাওরাঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

সূত্র - বন্যা সাড়াদান ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা: বাংলাদেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। 
৬৪৯.
নিচের কোনটি মানব সৃষ্ট দুর্যোগ?
  1. নদীভাঙন
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. রাসায়নিক দূষণ
  4. খরা
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক দূষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক দূষণ
ব্যাখ্যা

- রাসায়নিক দূষণ মানব সৃষ্ট  দুর্যোগ।

প্রাকৃতিক দুর্যোগঃ

- প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়।
- যেমন: বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন, সুনামি, আগ্নেয়গিরির, ইত্যাদি।

• মানব- সৃষ্ট দুর্যোগ:
- মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ বলতে মানব কর্মকান্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়।
- যেমন: জলাবদ্ধতা, অগ্নিকাণ্ড, রাসায়নিক দূষণ, যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা,
বনাঞ্চল ধ্বংস, পরিবেশ দূষণ, মরুকরণ, অগ্নিকাণ্ড ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৫০.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে ব্যয়বহুল ধাপ কোনটি?
  1. পুনরুদ্ধার
  2. সাড়াদান
  3. পূর্বপ্রস্তুতি
  4. প্রশমন
সঠিক উত্তর:
প্রশমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশমন
ব্যাখ্যা
« দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূখ্য উপাদানসমূহ:
• দুর্যোগ প্রতিরোধ,
• দুর্যোগ প্রশমন এবং
• দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি।

• প্রশমন:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের প্রশমন স্তরটি বেশি ব্যয়বহুল।
- দীর্ঘ সময়ব্যাপী নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহন করাকে দুর্যোগ প্রশমন বলে।
- মজবুত পাকা ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ শস্য বহুমুখীকরণ।
- ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল অবলম্বন।
- অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত।
- দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল হলেও সরকার সীমিত সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন ইত্যাদি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে,
- পুনরুদ্ধার, সাড়াদান, পূর্বপ্রস্তুতি প্রভৃতি অল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।
- দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে:
- সাড়াদান,
- পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫১.
নিম্নলিখিত কোনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ঘূর্ণিঝড়
  2. অগ্ন্যুৎপাত
  3. ভূমিকম্প
  4. রাসায়নিক দূষণ
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক দূষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক দূষণ
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ (Disaster):
- দুর্যোগ হলো এমন একটি বিপর্যয়, যা নির্দিষ্ট এলাকার অধিকাংশ জনগণকে বিপদাপন্ন করে তোলে এবং তাদের নিজস্ব মোকাবিলা ক্ষমতার বাইরে চলে যায়।
- এটি স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রচণ্ড বিঘ্ন ঘটায় এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।

বিশ্বের যেকোনো দেশে সাধারণত দুই ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হয়:
১. প্রাকৃতিক দুর্যোগ:
- প্রাকৃতিক শক্তির কারণে সংঘটিত দুর্যোগকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে। উদাহরণ— অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়।
২. মানবসৃষ্ট দুর্যোগ:
- মানব কর্মকাণ্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে। উদাহরণ— জলাবদ্ধতা, অগ্নিকাণ্ড, রাসায়নিক দূষণ, যুদ্ধ।

সুতরাং, উল্লিখিত প্রশ্নে 'রাসায়নিক দূষণ' প্রাকৃতিক দুর্যোগের অন্তর্ভুক্ত নয়।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫২.
বাংলাদেশে ভূমিকম্প প্রস্তুতি এবং সচেতনতা সংক্রান্ত কমিটি কোনটি?
  1. ক) EIPAC
  2. খ) OSHE
  3. গ) EPAC
  4. ঘ) JMREMP
সঠিক উত্তর:
গ) EPAC
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) EPAC
ব্যাখ্যা
- EPAC এর পূর্ণরূপ Earthquake Preparedness and Awareness Committee.
- ভূমিকম্প প্রস্তুতি এবং সচেতনতার জন্য এই কমিটি গঠিত হয় ২০০৯ সালে 
- এই কমিটির চেয়ারম্যান হলেন খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। 
 
উৎস: ddm.portal.gov.bd
৬৫৩.
বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল কোনটি?
  1. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  2. টাঙ্গাইল
  3. কুষ্টিয়া
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
খরা:
- সাধারণত খরা বলতে কোনো এলাকায় দীর্ঘসময় ধরে ভূমিতে পানির অনুপস্থিতিকে বুঝায়।
- অর্থাৎ কোনো এলাকা বৃষ্টিহীন অবস্থায় থাকলে বা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে।
- এর ফলে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় এবং পানির স্তর নিচে নেমে যায়।
- এরূপ অবস্থাকে খরা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাসমূহে খরার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
- বিগত অর্ধ শতকের ১৯৭৩, ১৯৭৫, ১৯৭৮, ১৯৭৯, ১৯৮১, ১৯৮২, ১৯৮৯, ১৯৯২, ১৯৯৪, ১৯৯৫ এবং ২০১৬ সালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অধিক মাত্রায় খরা দেখা দেয়।

বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল:
- অতি তীব্র: রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ,
- তীব্র: দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর জেলা এবং টাঙ্গাইল জেলার অংশবিশেষ,
- মাঝারি: রংপুর ও বরিশাল জেলা এবং দিনাজপুর, কুষ্টিয়া ও যশোর জেলার অংশবিশেষ,
- সামান্য: তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনার পললভূমি এলাকা।

⇒ খরার কারণ:
১. সময়মতো বৃষ্টিপাতের অভাব;
২. পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা;
৩. অপরিকল্পিতভাবে বনভূমি উজাড়;
৪. নদীর উজানে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ;
৫. এল নিনো ও লা নিনোর প্রভাব প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৪.
প্লেট টেকটোনিক ধারণাটি কোনটির সাথে জড়িত?
  1. ভূমিকম্প
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. খরা
  4. নদী ভাঙন
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব:
- এই তত্ত্বের মূল ধারণা হলো, ভূ-পৃষ্ঠের নিচে পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতগুলো অংশে বা খণ্ডে বিভক্ত।
- এগুলোকে প্লেট বলা হয়।

⇒ এই প্লেটগুলো গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের উপরে ভাসমান অবস্থায় আছে।
- এই প্লেটগুলো প্রতিবছরে কয়েক সেন্টিমিটার কোনো একদিকে সরে যায়।
- প্লেটগুলো কখনও একটি থেকে আরেকটি দূরে সরে যায়। আবার কখনও কখনও একে অন্যের দিকে আসে।
- কখনও কখনও প্লেটগুলো বছরে কয়েক মিলিমিটার উপরে ওঠে বা নিচে নামে।

⇒ একটি প্লেটের সাথে আরেকটি প্লেট যেখানে মেশে সেখানেই বেশি ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা ঘটে।
- প্লেটগুলোর সংযোগস্থলে উঁচু পর্বত থাকলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা আরও বাড়ে।
- ধারণা করা হয়, প্লেটগুলো একটি আরেকটির সাথে ঘষা বা ধাক্কা খেলে সেখানে প্রচুর তাপ সৃষ্টি হয়।
- তাপে ভূ-অভ্যন্তরের পদার্থ গলে যায়।
- এ গলিত পদার্থ চাপের ফলে নিচ থেকে ভূ-পৃষ্ঠ ভেদ করে বেরিয়ে আসে। এ
- কেই আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলে।
- বেরিয়ে আসা গলিত তরল পদার্থ ম্যাগমা নামে পরিচিত।
- একইভাবে প্লেটগুলো একটি অন্যটির সাথে ধাক্কা খেলে পৃথিবী কেঁপে ওঠে।
- একেই ভূমিকম্প বলে।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৬৫৫.
ভূমিকম্পের উৎপত্তির কেন্দ্র হতে দূরত্ব বৃদ্ধির সাথে ভূ-কম্পন শক্তি-
  1. বৃদ্ধি পায়
  2. হ্রাস পায়
  3. একই থাকে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
হ্রাস পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প:

• ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিকম্প বলে। 
• ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে কেন্দ্র (Centre বা Focus) বলে।
• কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র (Epicentre) বলে।
• ভূমিকম্পের উৎপত্তির কেন্দ্র হতে দূরত্ব বৃদ্ধির সাথে ভূ-কম্পন শক্তি হ্রাস পায়।
• ভূমিকম্পের কেন্দ্র ভূ-অভ্যন্তরের প্রায় ১৬-২০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত হয়ে থাকে।
• যে যন্ত্রের সাহায্যে ভূমিকম্প পরিমাপ করা হয় তাকে বলা হয় সিসমোগ্রাফ। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৬.
'কিলাওয়েয়া' আগ্নেয়গিরির অবস্থান কোথায়?
  1. ক) সিসিলি দ্বীপে
  2. খ) ভূমধ্যসাগরে
  3. গ) হাওয়াই দ্বীপে
  4. ঘ) ইন্দোনেশিয়ায়
সঠিক উত্তর:
গ) হাওয়াই দ্বীপে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হাওয়াই দ্বীপে
ব্যাখ্যা
হাওয়াই দ্বীপের সবচাইতে শক্তিশালী আগ্নেয়গিরি হল কিলাওয়েয়া।
- ১৯৮৩ সাল থেকে এর পূর্ব অংশ থেকে সারাক্ষণই লাভা বের হয়।
- কিলাওয়েয়ার লাভাকে বলা হয় বিশ্বের সবচাইতে গরম।
- জ্বালামুখের আশপাশে রয়েছে নালার মতো।

সূত্র: World Atlas ও বিবিসি বাংলা। 
৬৫৭.
নিম্নের কোনটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি?
  1. জাপানের ফুজিয়ামা
  2. ইরানের কোহিসুলতান
  3. হাওয়াই দ্বীপের মাওনালেয়া
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
হাওয়াই দ্বীপের মাওনালেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাওয়াই দ্বীপের মাওনালেয়া
ব্যাখ্যা
আগ্নেয়গিরি:
- ভূত্বকের শিলাস্তর সর্বত্র একই ধরনের কঠিন বা গভীর নয়। কোথাও নরম আবার কোথাও কঠিন। কোনো কোনো সময় ভূগর্ভের চাপ প্রবল হলে শিলাস্তরের কোনো দুর্বল অংশ ফেটে যায় বা সুড়ঙ্গের সৃষ্টি হয়। ভূপৃষ্ঠের দুর্বল অংশের ফাটল বা সুড়ঙ্গ দিয়ে ভূগর্ভের উষ্ণ বায়ু, গলিত শিলা, ধাতু, ভস্ম, জলীয়বাষ্প, উত্তপ্ত পাথরখন্ড, কাদা, ছাই প্রভৃতি প্রবলবেগে ঊর্ধ্বে উৎক্ষিপ্ত হয়। ভূপৃষ্ঠে ঐ ছিদ্রপথ বা ফাটলের চারপাশে ক্রমশ জমাট বেঁধে যে উঁচু মোচাকৃতি পর্বত সৃষ্টি করে তাকে আগ্নেয়গিরি বলে। আগ্নেয়গিরির মুখকে জ্বালামুখ এবং জ্বালামুখ দিয়ে নির্গত গলিত পদার্থকে লাভা বলে।

⇒ আগ্নেয়গিরির প্রকারভেদ (Types of Volcanoes): অগ্ন্যুৎপাতের ভিত্তিতে আগ্নেয়গিরিকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
১। সক্রিয় আগ্নেয়গিরি (Active Volcano): যেসব আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এখনও বন্ধ হয়নি, তাকে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি বলে। যেমন- হাওয়াই দ্বীপের মাওনালেয়া ও মাওনাকেয়া।
২। সুপ্ত আগ্নেয়গিরি (Dormant Volcano): যেসব আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত অনেককাল আগে বন্ধ হয়ে গেছে; তাদেরকে সুপ্ত আগ্নেয়গিরি বলে। যেমন- জাপানের ফুজিয়ামা।
৩। মৃত আগ্নেয়গিরি (Extinct Volcano): যেসব আগ্নেয়গিরি দীর্ঘকাল ধরে নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে এবং ভবিষ্যতেও অগ্ন্যুৎপাতের সম্ভাবনা নেই, সেগুলোকেই মৃত আগ্নেয়গিরি বলে। যেমন- ইরানের কোহিসুলতান।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম-১০ম শ্রেণি। 
৬৫৮.
বাংলাদেশের উপকূলীয় সমভূমিতে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী যে ধরনের বন্যা কবলিত হয় তার নাম - 
  1. নদীজ বন্যা
  2. আকস্মিক বন্যা
  3. বৃষ্টিজনিত বন্যা
  4. জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা
সঠিক উত্তর:
জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- বন্যা বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী বন্যাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং নগর বন্যা।

⇒ মৌসুমী বন্যা:
- বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে মৌসুমী বন্যা বলে।
- কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে মৌসুমী বন্যা তেমন ক্ষতি করে না তবে কখনো কখনো মারাত্মক ক্ষতিকর রূপ ধারণ করে।
- মৌসুমী বন্যার মাত্রা স্বভাবিক হলে ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

⇒ আকস্মিক বন্যা:
বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমী আকস্মিক বৃষ্টিপাত বা পাহাড়ি ঢলের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয়, তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তথা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ প্রভৃতি জেলায় আকস্মিক বন্যা হতে দেখা দেয়।
- বোরো মৌসুমে এ ধরনের বন্যা হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

⇒ জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা:
- উপকূলীয় অঞ্চলে আরেক ধরণের বন্যা দেখা যায়, যার নাম জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা।
- ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছাস জনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর সমুদ্রের পানি উপকূলীয় অঞ্চল সমূহকে প্লাবিত করে এই ধরনের বন্যার সৃষ্টি করে।
- সংক্ষিপ্ত স্থিতিকাল বিশিষ্ট এই বন্যার উচ্চতা সাধারণত ৩ থেকে ৬ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে এবং ভূ-ভাগের নিষ্কাশন প্রণালীকে আবদ্ধ করে ফেলে।

⇒ নগর বন্যা:
- নগর এলাকায় সুষ্ঠু ও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে বন্যা দেখা দেয়।
- এ ধরনের বন্যাকে নগর বন্যা বলে।
- ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরে এ ধরনের বন্যা দেখা যায়।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৬৫৯.
'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন' প্রণীত হয় কত সালে?
  1. ২০০২ সালে
  2. ২০০৮ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৪ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২ (৩৪ নং আইন)
- আইন প্রণীত হয়: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১২।
- এর আওতায় প্রতিষ্ঠিত হয়: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
- এর অধীনে তৈরি হয়: জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১৫।
- আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য:
- দুর্যোগ মোকাবেলা কার্যক্রমকে সমন্বিত, সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করা।
- সকল প্রকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কার্যকর কাঠামো তৈরি করা।
- দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস করে জনগণের সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন- ২০১২ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৬৬০.
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন বাংলাদেশে কোন বছরে প্রণয়ন করা হয়েছিল?
  1. ১৯৯৫ সালে 
  2. ১৯৯৬ সালে 
  3. ১৯৯৮ সালে 
  4. ১৯৯৯ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯৯৫ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৫ সালে 
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন:
- বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন - ১৯৯৫ সালে প্রণয়ন করা হয়।
- এই আইনটি পরে সংশোধন করা হয়, যা বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০১০ নামে পরিচিত।
-  পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের মাধ্যমে - পরিবেশ অধিদপ্তর তৈরি হয়।
-  পরিবেশ অধিদপ্তর  প্রধান হবে-  একজন মহাপরিচালক৷
-  এ আইনের মাধ্যমে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সামগ্রী উৎপাদন, বিক্রয় ইত্যাদির উপর বাধা নিষেধ আরোপ করা হয়।
-  ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য উৎপাদন, আমদানি, মওজুদকরণ, বোঝাইকরণ, পরিবহণ, ইত্যাদি সংক্রান্ত বাধা নিষেধ আরোপ করা হয়।
-  জাহাজ কাটা বা ভাঙার কারণে সৃষ্ট দূষণ সংক্রান্ত বাধা-নিষেধ নিষেধ আরোপ করা হয়।
- জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গা ভরাট বা অন্য কোনোভাবে শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। 
- সরকারি বা আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা দখলাধীন বা ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড় ও টিলা কাটা যাবে না।

তথ্যসূত্র: Laws of Bangladesh

৬৬১.
কালবৈশাখী সচরাচর কোন সময়ে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়? 
  1. জুন- জুলাই
  2. এপ্রিল-মে
  3. ফেব্রুয়ারি-মার্চ
  4. জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি
সঠিক উত্তর:
এপ্রিল-মে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এপ্রিল-মে
ব্যাখ্যা

কালবৈশাখী: 
- কালবৈশাখী এক ধরনের বজ্রঝড় যা সচরাচর এপ্রিল-মে (বৈশাখ) মাসে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- স্থানীয়ভাবে এ বজ্রঝঞ্ঝা কালবৈশাখী নামেই অধিক সুপরিচিত।
- ‘কাল’ শব্দের অর্থ ঋতু (season), আবার কালো বর্ণকেও বোঝানো হয়ে থাকে।
- কালবৈশাখীকে কখনও কখনও ‘কালোবৈশাখী’ নামেও আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে যার অর্থ কালো বর্ণের বৈশাখী মেঘ।
- মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত বাংলাদেশের তাপমাত্রা পূর্ববর্তী মাসগুলির (শীতকালের মাসগুলি) তুলনায় দ্রুত বাড়তে থাকে।
- এপ্রিল মাসের মাঝামাঝিতে সারা দেশে বিশেষ করে দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশে দৈনিক তাপমাত্রা সর্বোচ্চ পরিমাণে বৃদ্ধি পায়।
- বায়ুমন্ডলের নিম্নস্তরে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুর উপস্থিতি কালবৈশাখী সৃষ্টির অপরিহার্য পূর্বশর্ত।
- কালবৈশাখীর বায়ুর গড় গতিবেগ ঘন্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিমি।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ গতিবেগ ঘন্টায় ১০০ কিমি-এর বেশিও হতে পারে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।[লিঙ্ক]

৬৬২.
নিচের কোনটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সাধারণ ব্যবস্থাপনার অন্তর্ভুক্ত?
  1. নদীর দুই তীরে ঘন জঙ্গল সৃষ্টি করা
  2. পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা
  3. নদীর দু'তীরে বেড়িবাঁধ দেওয়া
  4. ড্রেজারের মাধ্যমে নদীর তলদেশ খনন
সঠিক উত্তর:
নদীর দুই তীরে ঘন জঙ্গল সৃষ্টি করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদীর দুই তীরে ঘন জঙ্গল সৃষ্টি করা
ব্যাখ্যা
বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা:
১) সাধারণ ব্যবস্থাপনা।
২) শ্রমসাধ্য ও ব্যয়বহুল প্রকৌশল ব্যবস্থাপনা।
৩) সহজ প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনা।

⇒ সাধারণ ব্যবস্থাপনা:
• সহজে স্থানান্তরযোগ্য বসতি তৈরি করা।
• নদীর দুই তীরে ঘন জঙ্গল সৃষ্টি করা।
• নদী-শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা।
• বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন।
• পুকুর, নালা, বিল প্রভৃতি খনন করা এবং সেচের পানি সংরক্ষণ করা।
• প্রতি বছর বন্যা মোকাবেলার জন্য সরকারিভাবে স্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬৬৩.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের অতি তীব্র খরাপ্রবণ অঞ্চল?
  1. রংপুর
  2. দিনাজপুর
  3. চাপাইনবাবগঞ্জ
  4. কুষ্টিয়া
সঠিক উত্তর:
চাপাইনবাবগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাপাইনবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল:
- অতি তীব্র: রাজশাহী ও চাপাইনবাবগঞ্জ,
- তীব্র: দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর জেলা এবং টাঙ্গাইল জেলার অংশবিশেষ,
- মাঝারি: রংপুর ও বরিশাল জেলা এবং দিনাজপুর, কুষ্টিয়া ও যশোর জেলার অংশবিশেষ,
- সামান্য: তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনার পললভূমি এলাকা।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৪.
SPARRSO বর্তমানে কোন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে?
  1. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
  2. প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
  3. শিক্ষা মন্ত্রণালয়
  4. পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়
সঠিক উত্তর:
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা
SPARRSO:
- SPARRSO, যা সম্পূর্ণরূপে Bangladesh Space Research and Remote Sensing Organization হিসেবে পরিচিত, একটি প্রযুক্তিভিত্তিক বহুমাত্রিক গবেষণা ও প্রয়োগ প্রতিষ্ঠান।
- ১৯৮০ সালে এটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্থানান্তরিত হয়।
- ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ২৯ নম্বর আইন দ্বারা এটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
- ১৯৯৫ সালে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্পারসোকে দেশ এবং বিদেশে মহাকাশ সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য "ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট" হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
- SPARRSO ঢাকা শহরের আগারগাঁও এলাকায় অবস্থিত।

উল্লেখ্য, SPARRSO বর্তমানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তথ্যসূত্র: SPARRSO এর ওয়েবসাইট।
৬৬৫.
বর্ষাকালে সারা বছরের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় কত ভাগ বৃষ্টি হয়ে থাকে?
  1. ক) ৫০ ভাগ
  2. খ) ৬০ ভাগ
  3. গ) ৭০ ভাগ
  4. ঘ) ৮০ ভাগ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮০ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮০ ভাগ
ব্যাখ্যা
• বর্ষাকালে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে ফেরেলের সূত্রানুসারে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে বেঁকে বাংলাদেশের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু হিসেবে প্রবাহিত হয়।
• সমুদ্র থেকে আগত হওয়ায় এই বায়ু জলীয়বাষ্পপূর্ণ থাকে। ফলে এই মৌসুমি বায়ু হিমালয় পর্বতে বাঁধা প্রাপ্ত হয়ে শৈলোৎক্ষেপ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
• এই প্রক্রিয়ায় বর্ষাকালে দেশের সারা বছরের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০ ভাগ বৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 
৬৬৬.
বাংলাদেশে কত সালে ঘূর্ণিঝড় 'সিডর' আঘাত হানে?
  1. ২০০৫ সালে
  2. ২০০৬ সালে
  3. ২০০৭ সালে
  4. ২০১২ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৭ সালে
ব্যাখ্যা

সিডর:
- বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা শ্রীলঙ্কার দেওয়া নাম অনুসারে সিডরের নাম ঠিক করে। 
- সিডর (SIDR) শব্দের অর্থ চোখ।

⇒ সরকারি তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশে ১৯৬০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মোট ৩৫টি বড় ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোনের হদিস পাওয়া যায়।
- এর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক পাঁচটি ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে অন্যতম সিডর।
- এ অঞ্চলে যে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানবে, তার নাম দেওয়া হয় ২০০৪ সালে।
- ১৫ নভেম্বর, ২০০৭ তারিখে ঘূর্ণিঝড় সিডর বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচন্ড ভাবে আঘাত হানে।
- আঘাতের সময় সিডরের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার। 
- সিডরকে ১৯৭০ ও ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর সবচেয়ে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় বিবেচনা করা হয় ।

উৎস: প্রথম আলো।

৬৬৭.
নিচের কোনটি মানব সৃষ্ট দুর্যোগের উদাহরণ?
  1. ক) ভূমিধস
  2. খ) রাসায়নিক বিস্ফোরণ
  3. গ) জিকা ভাইরাস
  4. ঘ) ঘূর্ণিঝড়
সঠিক উত্তর:
খ) রাসায়নিক বিস্ফোরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাসায়নিক বিস্ফোরণ
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট কারণে বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশ অবক্ষয়ের দরুন বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগের শিকার হচ্ছে বিশ্ববাসী।
- দুর্যোগের ধরন ও দুর্যোগ সৃষ্টির কারণের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশের দুর্যোগ ও দুর্যোগ ঝুঁকির পরিবেশকে প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা হয়েছে। যথা- প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির পরিবেশ, মানব সৃষ্ট দুর্যোগের ঝুঁকির পরিবেশ এবং জৈবিক দুর্যোগের ঝুঁকির পরিবেশ।

• প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির পরিবেশ (Natural Disaster Risk Environment): বাংলাদেশের প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির মধ্যে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, ভূমিধস, ভূমিকম্প ও বজ্রপাত প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। 

• মানব সৃষ্ট দুর্যোগের ঝুঁকি (Human made Disaster Risk): বিপদজনক রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহারের কারণে চামড়া শিল্প, জাহাজভাঙ্গা শিল্প, রাসায়নিক শিল্পে প্রায় দুর্ঘটনা হয়। ২০১৯ সালে ঢাকায় চকবাজার এলাকায় রাসায়নিক বিস্ফোরণে ৭০ জনের মৃত্যু হয়। ২০১৯ সালে সারাদেশে ভবনধ্বসে ২৬ জন মানুষ মারা যায়।

• জৈবিক দুর্যোগ ঝুঁকি (Biological Disaster): সম্প্রতির কোভিড-১৯ সহ বিগত বছরগুলোতে যেমন ২০১৭ সালের চিকুনগুনিয়া, ২০০৭ সালে ব্রার্ড ফ্লু, ২০০৪ সালের নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ জৈবিক হ্যাজার্ডের অন্তর্ভূক্ত । এছাড়াও ডেঙ্গু, সোয়াইন ফ্লু নিপাহ, জিকা ভাইরাসের আক্রমণ জৈবিক হ্যাজার্ডের অন্তর্গত।

সূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৮.
কোনটি আয়তনে ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম দ্বীপ?
  1. ক) সুমাত্রা
  2. খ) জাভা
  3. গ) সুলাওয়েসি
  4. ঘ) বোর্নিও
সঠিক উত্তর:
ক) সুমাত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সুমাত্রা
ব্যাখ্যা
• ইন্দোনেশিয়া:
- ১৯ শতকে, ইন্দোনেশিয়া নেদারল্যান্ডের একটি উপনিবেশ ছিল এবং "নেদারল্যান্ডস ইন্ডিজ" নামে পরিচিত ছিল। 
- নেদারল্যান্ডসের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ (১৯৪৫ সালে)।
- ইন্দোনেশিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপতি (স্বাধীনতার নেতৃত্ব প্রদান) সুকর্ণ।
- অন্য নাম - বাংকর্ণ 
- জেনারেল সুহার্তো (১৯৬৮-১৯৯৮) মোট ৩২ বছর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন।

 - মেঘবতী সুকর্ণপুত্রী (২০০১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত)।
- তিনি মুসলিম বিশ্বের প্রথম নির্বাচিত মহিলা প্রধান।

- বৃহত্তম দ্বীপ - সুমাত্রা (আয়তনে)।
- আচেহ প্রদেশ অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায়।
- জনবহুল দ্বীপ - জাভা (রাজধানী জাকার্তায় অবস্থিত)।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৬৬৯.
রাসায়নিক দূষণ কোন প্রকারের দুর্যোগ?
  1. মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ
  2. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  3. মহাকাশীয় দুর্যোগ
  4. ভূ-অভ্যন্তরস্থ প্রতিক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট দুর্যোগ 
সঠিক উত্তর:
মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক দূষণ - মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ।

• বিশ্বব্যাপী দুর্যোগসমূহের প্রকারভেদ:
- পৃথিবীর যে কোনো দেশে দুই ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হয়।
যেমন: প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ।

• প্রাকৃতিক দুর্যোগ: প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়।
যেমন: অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি।

• মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ: মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ বলতে মানব কর্মকান্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়। যেমন: জলাবদ্ধতা, অগ্নিকান্ড, রাসায়নিক দূষণ, যুদ্ধ ইত্যাদি

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭০.
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং বাংলাদেশে আঘাত হানে কবে?
  1. ১৪ই এপ্রিল ২০২৩
  2. ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২
  3. ১৪ই মে ২০২৩
  4. ২৪শে অক্টোবর ২০২২
সঠিক উত্তর:
২৪শে অক্টোবর ২০২২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪শে অক্টোবর ২০২২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সংঘটিত উল্লেখযোগ্য ঘূর্ণিঝড়সমূহ:
ভোলা - ১২ নভেম্বর, ১৯৭০
সিডর - ১৫ নভেম্বর, ২০০৭
আইলা - ২৫শে মে, ২০০৯
মহাসেন - ১৬ই মে ২০১৩
কোমেন - ২৯ জুলাই ২০১৫
মোরা - ৩০শে মে ২০১৭
ফণী - ২মে ২০১৯
আম্ফান - ২০শে মে ২০২০
সিত্রাং - ২৪শে অক্টোবর ২০২২
মোখা - ১৪ই মে ২০২৩

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ (নবম-দশম শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বিবিসি বাংলা।
৬৭১.
কোনটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত?
  1. অগ্ন্যুৎপাত
  2. রাসায়নিক দূষণ
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক দূষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক দূষণ
ব্যাখ্যা
• মানবসৃষ্ট কারণে সংঘটিত দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে:
- রাসায়নিক দূষণ,
- মরুকরণ,
- অগ্নিকাণ্ড,
- যুদ্ধ,
- পারমাণবিক বিস্ফোরণ,
- জলাবদ্ধতা সৃষ্টি,
- বন উজারকরণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
প্রাকৃতিক কারণে সংঘটিত দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে:
- ভূমিকম্প,
- অগ্ন্যুৎপাত,
- খরা,
- জলোচ্ছ্বাস,
- নদীভাঙন,
- তুষারপাত,
- ঘূর্ণিঝড়,
- বন্যা ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: অষ্টম শ্রেণি।
৬৭২.
মরু এলাকায় কোনটির দ্বারা সবচেয়ে বেশি পরিমাণ ক্ষয়ীভবন হয়ে থাকে?
  1. বৃষ্টিপাত
  2. সূর্যরশ্মি
  3. বায়ুপ্রবাহ
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বায়ুপ্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
ক্ষয়ীভবন:
- ভু-ত্বকের উপরের শিলারাশি বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, নদীপ্রবাহ, হিমবাহ ও সাগর তরঙ্গ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে অবিরত ক্ষয়ের মাধ্যমে সৃষ্ট ক্ষয়জাত পদার্থ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পরিবাহিত ও স্থানান্তরিত হয়। এভাবে প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা ভূ-ত্বকের শিলারাশির ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ক্ষয়ীভবন বলে।
- সূর্যরশ্মি, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, নদীপ্রবাহ, হিমবাহ ও সাগর তরঙ্গ প্রভৃতি ক্ষয়ীভবনের প্রাকৃতিক নিয়ামক।

বায়ুপ্রবাহ:
- মরু এলাকায় বায়ুপ্রবাহের দ্বারা সর্বাধিক ক্ষয়ীভবন হয়।
- মরুভূমিতে গাছপালা না থাকায় মৃত্তিকা ও শিলারাশির দৃঢ়তা খুবই কম। যার দরুণ ভূ-ত্বকের উপরিভাগ থেকে শিলারাশি ও মৃত্তিকা বায়ুর সাথে অন্যত্র চলে যায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭৩.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় পুনরুদ্ধার বলতে নিচের কোন পর্যায়কে বোঝানো হয়েছে?
  1. দুর্যোগপূর্বকালীন পর্যায়
  2. দুর্যোগকালীন পর্যায়
  3. দুর্যোগ পরবর্তী পর্যায়
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগ পরবর্তী পর্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগ পরবর্তী পর্যায়
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র 
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র বলতে দুর্যোগ মোকাবেলার সাথে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত পর্যায়গুলোকে বুঝানো হয়ে থাকে।
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রকে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-

ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়:- দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং প্রশমন।

খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়:- দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন।

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭৪.
বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় ‘ম্যারি এন’ আঘাত হানে কবে?
  1. ১৯৮৮ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ২০০৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় ‘ম্যারি এন’:
- ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় ‘ম্যারি এন’ আঘাত হানে।
- এর প্রভাবে সৃষ্ট ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা জুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
- সাইক্লোনটি চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘণ্টায় প্রায় ২৫০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানে। ২০ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হয়।
- এ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৬ জন।
- তবে বেসরকারি হিসাবে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। মারা যায় ২০ লাখ গবাদি পশু।
- প্রায় ১ কোটি মানুষ তাদের সর্বস্ব হারায়। ক্ষতি হয়েছিল ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পদ।

তথ্যসূত্র- বাসস। [LINK]
৬৭৫.
নিচের কোন সালে বাংলাদেশে প্রলয়ঙ্কারি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানেনি?
  1. ১৯৭০ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ২০০৪ সালে
  4. ২০০৭ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৪ সালে
ব্যাখ্যা

• ২০০৪ সালে বাংলাদেশে কোন প্রলয়ঙ্কারি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে নি।

• বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস:
- বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত বঙ্গোপসাগর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির একটি আদর্শ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত।
- বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়সমূহের মধ্যে কোনো কোনোটি মারাত্মক ধ্বংসাত্মক রূপ ধারণ করে।
- ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য সমুদ্র পৃষ্ঠে সাধারণত ২৭ সেলসিয়াস বা এর বেশি তাপমাত্রা প্রয়োজন হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
- এসময় উচ্চচাপযুক্ত বায়ু প্রবলবেগে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রভাগে যেখানে নিম্নচাপ থাকে সেদিকে ধাবিত হয়।
- এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়।
- এটি উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠে উৎপত্তি লাভ করে মহাদেশীয় মূলভাগের দিকে অগ্রসর হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলকে চোখ বলে।
- এটি দেখতে অনেকটা মানুষের চোখের মতো।
- বিগত অর্ধশতাব্দীতে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশে আঘাত হানে।
- এর মধ্যে ১৯৭০, ১৯৮৮, ১৯৯১, ২০০৭, ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় অন্যতম।
- জীবনহানির দিকে থেকে সবচেয়ে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ১৯৭০ এবং ১৯৯১ সালে সংঘটিত হয়।
 - ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৫ লক্ষাধিক, ১৯৯১ সালে ১.৪০ লক্ষ, ২০০৭ সালে ১০ হাজার এবং ২০০৯ সালে ৭ হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটে। ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলীয় জেলাসমূহ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
 - এসব জেলার মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭৬.
সাইক্লোনের সময় উত্তর গোলার্ধে বাতাস কোনদিকে ঘুরতে থাকে?
  1. প্রথমে ঘড়ির কাটার দিকে ও পরে বিপরীত দিকে
  2. ঘড়ির কাটার দিকে
  3. ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে
  4. প্রথমে ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে ও পরে কাটার দিকে
সঠিক উত্তর:
ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে
ব্যাখ্যা
সাইক্লোন:
- বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় 'সাইক্লোন' হিসেবে পরিচিত।
- সাইক্লোনের কারণে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতে প্রচুর জানমালের ক্ষতি হয়।

⇒ সাধারণভাবে ঘূর্ণিঝড় একটি নিম্নচাপ সংক্রান্ত আবহাওয়া অবস্থা।
- যেখানে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ তার কেন্দ্রে আশপাশের এলাকার তুলনায় কম থাকে, বাতাস ভেতরের দিকে ঘুরতে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘোরে। 

উৎস: i) তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।
৬৭৭.
পরিবেশ দূষণের কৃত্রিম কারণ কোনটি?
  1. বন্যা
  2. খরা
  3. গাছপালা নিধন
  4. ঘূর্ণিঝড়
সঠিক উত্তর:
গাছপালা নিধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাছপালা নিধন
ব্যাখ্যা
• পরিবেশ দূষণ (Environment Pollution):
→ পরিবেশে জীবের স্বাভাবিক অবস্থা বা জীবনযাত্রায় বিঘ্ন সৃষ্টিতে সক্ষম ক্ষতিকর অবস্থার নাম দূষণ।
→ অন্যদিকে পানি, বাতাস, মৃত্তিকা বা পরিবেশের কোনো উপাদানের ভৌত, রাসায়নিক বা জৈবিক যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত পরিবর্তনই প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণ।
→ মানুষের বহুমুখী কর্মকান্ডই পরিবেশ দূষণের সবচেয়ে বড় কারণ।

• প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণের কারণ:
→ প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণের কারণসমূহকে দুইটি ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা যেতে পারে। যথা-
ক. প্রাকৃতিক কারণ এবং খ. মানবসৃষ্ট কারণ।

→ প্রাকৃতিক কারণ:
১. বন্যা ও খরা, 
২. ভূমিকম্প, 
৩. ঘূর্ণিঝড়,
৪. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত।

→ মানবসৃষ্ট কারণ:
১. গাছপালা নিধন
২. পাহাড় কর্তন।
৩. অপরিকল্পিত নগরায়ন।
৪. কীটনাশক ব্যবহার।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭৮.
বাংলাদেশের পরিবেশ আন্দোলনের নাম কী?
  1. ক) সবুজ বনায়ন
  2. খ) সবুজায়ন
  3. গ) গ্রিন পিস
  4. ঘ) বাপা
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাপা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (BAPA) 2000 সালে বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষার জন্য একটি দেশব্যাপী, ঐক্যবদ্ধ এবং শক্তিশালী নাগরিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য চালু করা হয়েছিল।
- বাংলাদেশের পরিবেশ দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। শহুরে বাতাসের মান হ্রাস পাচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানি দূষিত। ভূ-পৃষ্ঠের জলাশয়গুলি দূষিত, সীমাবদ্ধ এবং অবক্ষয়িত হচ্ছে। কঠিন, তরল, বায়বীয় এবং বিপজ্জনক বর্জ্য উপচে পড়ছে। উধাও হয়ে যাচ্ছে বন ও খোলা জায়গা। কোলাহল বাড়ছে। বিলুপ্ত হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। দূষণের কারণে স্বাস্থ্যের অবস্থা খারাপ হচ্ছে।
- এই অবক্ষয়ের প্রক্রিয়াগুলোকে ধীরগতি ও প্রত্যাবর্তন না করা হলে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক অগ্রগতি ধীরে ধীরে বাধাগ্রস্ত হবে এবং বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।

- এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশের পরিবেশ-পন্থী শক্তিরা বাংলাদেশের পরিবেশগত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে এবং ভবিষ্যতের জন্য করণীয় নির্ধারণের জন্য জানুয়ারী 2000 সালে বাংলাদেশ পরিবেশ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে (ICBEN) একত্রিত হয়। সম্মেলনে বাংলাদেশ পরিবেশ 2000-এর উপর ঢাকা ঘোষণাপত্র গৃহীত হয় এবং দেশের সকল আন্তরিক পরিবেশ-পন্থী শক্তিকে যোগদান ও একসঙ্গে কাজ করার জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়
- ICBEN 2000 এর সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে, BAPA গঠিত হয়।

উৎস: BAPA ওয়েবসাইট। 
৬৭৯.
'Bangladesh Climate and Disaster Risk Atlas' প্রতিবেদন অনুসারে, নিচের কোনটি বন্যা প্রবণ জেলা?
  1. ক) কুমিল্লা
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  4. ঘ) নরসিংদী
সঠিক উত্তর:
খ) ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঢাকা
ব্যাখ্যা
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) কর্তৃক প্রকাশিত Bangladesh Climate and Disaster Risk Atlas অনুসারে -
দেশে ভূমিকম্প ঝুঁকি প্রবণ জেলা - ৩টি।
- কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী।

বন্যা প্রবণ জেলা - ১১টি।
- টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, শরীয়তপুর ও চাঁদপুর।


আকস্মিক বন্যা ও ভূমিকম্প ঝুঁকি প্রবণ জেলা - ৬টি।
- সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ।


দেশে খরাপ্রবণ জেলা - ১৩টি।
- পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর, রংপুর, জয়পুরহাট, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও গাজীপুর। 


খরার সঙ্গে বন্যা প্রবণ জেলা - ৬টি।
- রাজশাহী, নাটোর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও কুষ্টিয়া।


বন্যা ও ভূমিকম্প প্রবণ জেলা - ৬টি।
- লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও জামালপুর।


লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড় প্রবণ জেলা - ১৬টি।
- যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইল, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরিশাল, ভোলা, বরগুনা, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার।
৬৮০.
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ২০৫০ সাল নাগাদ দেশের কত শতাংশ ভূমি প্লাবিত হতে পারে?
  1. ১০ শতাংশ 
  2. ১১ শতাংশ 
  3. ১৭ শতাংশ 
  4. ২২ শতাংশ 
সঠিক উত্তর:
১৭ শতাংশ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ শতাংশ 
ব্যাখ্যা

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ:
- জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের জিডিপির দুই শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ২১০০ সাল নাগাদ এই হার বৃদ্ধি হবে নয় শতাংশ।
- সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ২০৫০ সাল নাগাদ দেশের ১৭ শতাংশ ভূমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং একই সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে দেশের মোট উৎপাদনের ৩০ শতাংশ হ্রাস পাবে।
- এর ফলে প্রায় ২ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে। 
- এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাবে যা ৩২% ভূমিকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
- উপকূলীয় এলাকার ২৭% মানুষ বর্তমানে বন্যার ঝুঁকিতে আছে। 
- তাছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- এ ছাড়া অনিয়মিত বৃষ্টি, নদীভাঙন, খরা ও ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগ ইতিমধ্যে কৃষি, অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

উল্লেখ্য,
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে প্রতি বছর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় গড়ে ৩ দশমিক ৪২ মিলিমিটার।

উৎস: i) Transparency International Bangladesh ওয়েবসাইট।
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) প্রথম আলো।

৬৮১.
সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. বাংলাদেশ
  2. নেপাল
  3. ভারত
  4. ভুটান
সঠিক উত্তর:
ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারত
ব্যাখ্যা
সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র ভারতের গুজরাটের গান্ধীনগরে অবস্থিত।
সার্ক:
- গঠিত হয়: ৮ ডিসেম্বর, ১৯৮৫ সালে।
- সচিবালয়: কাঠমান্ডু, নেপাল।
- সার্কভুক্ত দেশের সংখ্যা: ৮ টি।
- ২০০৬ সালের অক্টোবরে ভারতের নয়াদিল্লিতে সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- ২০১৬ সালে সার্ক আবহাওয়া কেন্দ্র, সার্ক বন কেন্দ্র এবং সার্ক উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রকে সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের সাথে একীভূত করা হয়।
- তখন এটির কার্যালয় নয়াদিল্লি থেকে গুজরাটের গান্ধীনগরে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র গুজরাটের গান্ধীনগরে অবস্থিত।

সার্কের অন্যান্য আঞ্চলিক কেন্দ্রেসমূহ:
- সার্ক কৃষি কেন্দ্র- ঢাকা, বাংলাদেশ।
- সার্ক যক্ষ্মা ও এইডস কেন্দ্র- কাঠমান্ডু, নেপাল।
- সার্ক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র- কলম্বো, শ্রীলঙ্কা।
- সার্ক জ্বালানি কেন্দ্র- ইসলামাবাদ, পাকিস্তান।

উৎস: সার্ক ওয়েবসাইট।
৬৮২.
কোনটির দ্বারা আকস্মিকভাবে ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তন সংঘটিত হয়?
  1. বিচূর্ণীভবন
  2. নগ্নীভবন
  3. ভূমিকম্প
  4. অপসারণ
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
- প্রাকৃতিকভাবে ভূপৃষ্ঠ পরির্তনের প্রক্রিয়া দুটো। এগুলো হলো:
- আকস্মিক পরিবর্তন ও
- ধীর পরিবর্তন।

আকস্মিক পরিবর্তন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে:
- ভূমিকম্প
- অগ্ন্যুৎপাত

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৬৮৩.
২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়া ঘূর্ণিঝড়টির নাম কী?
  1. ক) সিডর
  2. খ) নার্গিস
  3. গ) আইলা
  4. ঘ) সুনামি
সঠিক উত্তর:
ক) সিডর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সিডর
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে সংঘটিত প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় সমূহের মধ্যে সিডর অন্যতম। ২০০৭ সালের ১৫ই নভেম্বর সিডর খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে আঘাত হানে।
- এর গতিবেগ ছিলো ঘন্টায় প্রায় ২২৩ কিলোমিটার। সিডর জোয়ারের সময় আঘাত না হানায় এতে কম এলাকা প্লাবিত হয়।
- ফলে এতে প্রাণহানির সংখ্যা ছিলো তুলনামূলক কম। ৬-১০ হাজার মানুষ এতে প্রাণ হারায়। কিন্তু অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিলো অত্যধিক।
- সিডরকে ১৯৭০ ও ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর সবচেয়ে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় বিবেচনা করা হয়।

সূত্র: বিবিসি বাংলা
৬৮৪.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কাজকে পর্যায়ক্রম অনুযায়ী সাজাতে হলে কোন কাজটি সর্বপ্রথমে হবে?
  1. পুনর্বাসন
  2. ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ
  3. দুর্যোগ প্রস্তুতি
  4. সাড়াদান
সঠিক উত্তর:
ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- ঝুঁকি অর্থ আপদ, বিপদাপন্নতার উপাদান এবং পরিবেশের আন্তঃক্রিয়া বা সম্মিলন ও সক্ষমতার ফলে উদ্ভূত সম্ভাব্য ক্ষতিকর অবস্থা।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ কাজটি সর্বপ্রথমে করতে হবে।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য হলো:
- দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করা।
- সম্পদ এবং পরিবেশের যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা এড়ানো বা ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করা,
- প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে অল্প সময়ে সকল প্রকার ত্রাণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং
- দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ ভালভাবে সম্পন্ন করা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৮৫.
বন্যা নিয়ন্ত্রণের সাধারণ ব্যবস্থাপনা-
  1. সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার পানির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা।
  2. রাস্তাঘাট নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা।
  3. নদী-শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা।
  4. নদী তীরকে স্থায়ী সুদৃঢ় কাঠামোর সাহায্যে সংরক্ষণ করা।
সঠিক উত্তর:
নদী-শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদী-শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা।
ব্যাখ্যা
• বন্যা নিয়ন্ত্রণ সাধারণের ব্যবস্থাপনা - নদী-শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা।

• বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (Flood Control Measures)

• সাধারণ ব্যবস্থাপনা (General management):
- সহজে স্থানান্তরযোগ্য বসতি তৈরি করা।
-  নদীর দু'তীরে ঘন জঙ্গল সৃষ্টি করা।
-  নদী-শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা।
-  বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন।
- পুকুর, নালা, বিল প্রভৃতি খনন করা এবং সেচের পানি সংরক্ষণ করা।
-  প্রতি বছর বন্যা মোকাবেলার জন্য সরকারিভাবে স্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা।

• শ্রমসাধ্য ও ব্যয়বহুল প্রকৌশল ব্যবস্থাপনা (Labour intensive and expensive engineering management):
-  ড্রেজারের মাধ্যমে নদীর তলদেশ খনন করে পানির পরিবহন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
-  সন্নিহিত স্থানে জলাধার নির্মাণের মাধ্যমে পানিপ্রবাহকে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করা।
- ভারত থেকে আসা পানিকে বাঁধের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন করা।
সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার পানির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা।
- নদী তীরকে স্থায়ী সুদৃঢ় কাঠামোর সাহায্যে সংরক্ষণ করা।

• সহজ প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনা (Easy engineering management):
-  নদীর দু'তীরে বেড়িবাঁধ দিয়ে নদীর পানি উপচে পড়া বন্ধ করা।
-  দেশের সর্বত্র বনায়ন সৃষ্টি করা।
- রাস্তাঘাট নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা।
- বন্যা প্রবল অঞ্চলে সর্বোচ্চ বন্যা লেভেলের উপরে 'আশ্রয়কেন্দ্র' প্রতিষ্ঠা করা।
- শহর বেষ্টনীমূলক বাঁধ দেওয়া।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৬৮৬.
'সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক' কোন বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট?
  1. ক্ষতিকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
  2. দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস
  3. জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা
  4. জলাভূমির যথাযথ ব্যবহার
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস
ব্যাখ্যা

সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক:
- ২০১৫ সালের ১৪ থেকে ১৮ মার্চ জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলন। 
- এই সম্মেলনে দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক : ২০১৫-২০৩০ গৃহীত হয়।
- সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য স্থির করা হয়।

• এগুলো হলো:
- বিশ্বব্যাপী দুর্যোগে মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনা
- দুর্যোগের ফলে আক্রান্তের সংখ্যা হ্রাস করা
- দুর্যোগের আর্থিক ক্ষয়-ক্ষতি হ্রাস করা
- দুর্যোগের ফলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জরুরি সেবাখাতের ক্ষয়-ক্ষতি হ্রাস করা
- জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস কৌশলের বিস্তৃতি
- উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা
- দুর্যোগের পূর্বাভাস প্রযুক্তি ও পদ্ধতির উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও সহজলভ্যতা বৃদ্ধি।

সূত্র: জাতিসংঘ দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস কার্যালয়। 

৬৮৭.
আগাম সতর্ক সংকেত ছাড়া সংঘটিত দুর্যোগ কোনটি?
  1. ক) বন্যা
  2. খ) ভূমিকম্প
  3. গ) খরা
  4. ঘ) ঘূর্ণিঝড়
সঠিক উত্তর:
খ) ভূমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
- কোন ধরনের আগাম সতর্ক সংকেত ব্যতীত অর্থাৎ কার্যকর পূর্বাভাস ছাড়া সংঘটিত দুর্যোগ হলো ভূমিকম্প।
- ভূমিকম্প সংঘটনের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল চিহ্নিত করা সম্ভব হলেও ভূমিকম্প সংঘটনের পূর্বে সতর্কতা প্রাপ্তি এখনো সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে,
- বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও শৈত্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে পূর্বাভাস পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৮.
বন্যা সৃষ্টির প্রাকৃতিক কারণ নয় কোনটি?
  1. বর্ষাকালে উত্তরাঞ্চলে নদীর উজানে প্রচুর বৃষ্টি
  2. অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ
  3. মূল নদীসমূহের গভীরতা হ্রাস পাওয়া
  4. হিমালয়ের বরফগলা পানিপ্রবাহ
সঠিক উত্তর:
অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ
ব্যাখ্যা
বন্যার কারণসমূহ
প্রাকৃতিক কারণ
- বর্ষাকালে উত্তরাঞ্চলে নদীর উজানে প্রচুর বৃষ্টি
- মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব। 
- মূল নদীসমূহের গভীরতা হ্রাস পাওয়া
- বঙ্গোপসাগরে ভরা জোয়ার।
- হিমালয়ের বরফগলা পানিপ্রবাহ
- শাখা নদীগুলো পলি দ্বারা ভরাট হয়ে যাওয়া।

মানব সৃষ্ট কারণ
- অপরিকল্পিত নগরায়ন ও জলাধার ভরাট করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘ্ন করা।
অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ
- গঙ্গা নদীর উপর ফারাক্কা ও তিস্তা নদীর উপর নির্মিত বাঁধের প্রভাব।
- বালু ভরাট করে নদীসমূহের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা দান।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৯.
তিস্তা বাঁধ বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. পঞ্চগড়
  2. নওগাঁ
  3. নীলফামারী
  4. লালমনিরহাট
সঠিক উত্তর:
লালমনিরহাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালমনিরহাট
ব্যাখ্যা
• তিস্তা বাঁধ:
- তিস্তা বাঁধ লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলাধীন দুয়ানি নামক স্থানে তিস্তা নদীর উপর নির্মিত।
- এই বাঁধে ৬১৫মি দীর্ঘ একটি কংক্রিটের কাঠামোর সঙ্গে ৪৪টি বেড়িয়েল দ্বার সংযুক্ত রয়েছে।
- বাঁধের পানি অপসারণ ক্ষমতা ১২.৭৫০ কিউমেক।
- বাঁধের উজানে সেচকার্যের জন্য নদীর ডানতীরে খালের মাধ্যমে পানি সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
- বাঁধটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৭৯ সালে, সেচকার্যের জন্য সেচখালসমূহ খনন শুরু হয় ১৯৮৪ সালে এবং বাঁধটির সামগ্রিক কাজ সমাপ্ত হয় ১৯৯৭ - ৯৮ অর্থ বৎসরে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৯০.
বর্তমানে নদীবন্দরগুলোর জন্য মোট কয়টি সতর্ক সংকেত প্রচলিত রয়েছে?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ১০টি
সঠিক উত্তর:
৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬টি
ব্যাখ্যা
নদী বন্দরের সংকেত:
- বর্তমানে নদীবন্দরগুলোর জন্য মোট ছয়টি সতর্ক সংকেত প্রচলিত
- ছয়টি সংকেতের প্রথমটি স্থানীয় সতর্ক সংকেত ৩।
- দ্বিতীয়টি হুঁশিয়ারি সংকেত ৪।
- নদীবন্দরের জন্য শুধু ৩ এবং ৪ সম্বর সতর্ক সংকেত ব্যবহার করা হয় যা কালবৈশাখী ও বর্ষাকালীন ঝড়ো হাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
- বড় ঝড় কিংবা ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রে সমুদ্রবন্দরের মতোই নদী বন্দরেও বিপদ সংকেত ৬ এবং মহাবিপদ সংকেত ৮, ৯ ও ১০ ব্যবহার করা হয়।

সমুদ্র বন্দরের সংকেত:
- প্রচলিত পদ্ধতির ১১টির স্থলে নতুন পদ্ধতিতে সমুদ্র ও সমুদ্রবন্দরের জন্য মোট আটটি সংকেত প্রবর্তন করা হচ্ছে।
- এর মধ্যে দূরবর্তী সতর্ক সংকেত ১ ও দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত ২ শুধু গভীর সমুদ্র এলাকার জন্য।

স্থানীয় সতর্ক সংকেত ৩:
- বন্দর ও সংলগ্ন এলাকায় ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

হুঁশিয়ারি সংকেত ৪:
- বন্দর ও সংলগ্ন এলাকা ঘূর্ণিঝড়কবলিত।
- বাতাসের গতিবেগ ৫১-৬১ কিলোমিটার।

বিপদ-সংকেত ৬:
- মাঝারি তীব্রতাসম্পন্ন সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় বন্দর এলাকায় মাঝারি ঝড়ো হাওয়া সৃষ্টি করবে।
- বাতাসের গতিবেগ ৬২-৮৮ কিলোমিটার।

মহাবিপদ-সংকেত ৮:
- প্রচণ্ড তীব্রতাসম্পন্ন সামুদ্রিক ঝড় বন্দর এলাকায় অতিতীব্র ঝড়ো আবহাওয়া সৃষ্টি করবে।
- বাতাসের গতিবেগ ৮৯-১১৭ কিলোমিটার।

মহাবিপদ-সংকেত ৯:
- অতি প্রচণ্ড তীব্রতাসম্পন্ন সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়।
- বন্দর এলাকায় অতিতীব্র ঝড়ো হাওয়া বিরাজ করবে।
- বাতাসের গতিবেগ ১১৮-১৭০ কিলোমিটার।

মহাবিপদ-সংকেত ১০:
- সুপার সাইক্লোনের তীব্রতাসম্পন্ন ঘূর্ণিঝড়। বন্দর এলাকায় অতিতীব্র ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ ঝড়ো হাওয়া সৃষ্টি করবে।
- বাতাসের গতিবেগ ১৭১ কিলোমিটার বা তার বেশি।

উৎস: ঘূর্ণিঝড় ও আবহাওয়ার নতুন সতর্ক সংকেত এবং গণদুর্যোগ বার্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।
৬৯১.
'সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক' গ্রহণের এর প্রধান উদ্দেশ্য-
  1. বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধ করা
  2. জলবায়ু তহবিল সংগ্রহ
  3. দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করা
  4. গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ হ্রাস
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করা
ব্যাখ্যা
সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক:

- ১৪ মার্চ - ১৮ মার্চ ২০১৫ তারিখে জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক: ২০১৫-৩০ গৃহীত হয়।
- এই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য এবং চারটি অগ্রাধিকারের রূপরেখা স্থির করা হয়।
- দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং যথাযথ বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই এ সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য।

⇒ সাতটি লক্ষ্য:
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী দুর্যোগে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সাথে সরাসরি দুর্যোগের অর্থনৈতিক ক্ষতি হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে গুরুতর অবকাঠামোর দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুবিধাগুলির মধ্যে মৌলিক পরিষেবাগুলির ব্যাঘাতকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০২০ সালের মধ্যে জাতীয় এবং স্থানীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কৌশলসহ দেশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে এই কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য তাদের জাতীয় কর্মের পরিপূরক করার জন্য পর্যাপ্ত এবং টেকসই সহায়তার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বহু-বিপদ প্রারম্ভিক সতর্কতা ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ ঝুঁকির তথ্য এবং মূল্যায়নের প্রাপ্যতা এবং অ্যাক্সেস উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।



উৎস: UNDRR ওয়েবসাইট এবং দূর্যোগ বিষয়ক- স্থায়ী আদশাবলী-২০১৯।
৬৯২.
২০২০ সালে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে বাংলাদেশে কী পরিমাণ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে?
  1. প্রায় ১ কোটি
  2. প্রায় ৭০ লাখ
  3. প্রায় ২ কোটি
  4. প্রায় ৩ কোটি
সঠিক উত্তর:
প্রায় ৩ কোটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ৩ কোটি
ব্যাখ্যা
UNB রিপোর্ট অনুসারে,
- ২০২০ সালে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ৩ কোটি ৭ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
- প্রতিবছর জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারনে ৫০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।
উৎসঃ The Financial Express
৬৯৩.
এফসিডিআই প্রকল্পের উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ
  2. বন্যা নিয়ন্ত্রণ
  3. বনায়ন
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বন্যা নিয়ন্ত্রণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্যা নিয়ন্ত্রণ
ব্যাখ্যা

♦ এফসিডিআই প্রকল্প:
- FCDIP-এর পূর্ণরপ Flood Control, Drainage and Irrigation Projects.
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প (Flood Control, Drainage and Irrigation Projects) অনুচ্চ ভূ-সংস্থানের কারণে একটি স্বাভাবিক বৎসরে বাংলাদেশের ভৌগোলিক এলাকার কমপক্ষে ২০% এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে থাকে।
- ১৯৯৮ সালের মতো মারাত্মক পর্যায়ে গেলে বন্যা কবলিত এলাকার পরিমাণ প্রায় ৭০% এ গিয়ে পৌঁছতে পারে।
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পসমূহ বন্যার তীব্রতা হ্রাসকরণে অথবা বন্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বন্যার পানি নিষ্কাশনের উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেগুলো শস্য উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুকূল অবস্থার সৃষ্টি করে।
- প্রতিষ্ঠিত Bangladesh Water Development Board সংক্রান্ত বিধানাবলী রহিত করিয়া পানি সম্পদের উন্নয়ন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করা হয় ।
- এই আইন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড আইন, ২০০০ নামে পরিচিত।

⇒ এফসিডিআই প্রকল্পের উদ্দেশ্য -
• বন্যা নিয়ন্ত্রণ,
• পানি নিষ্কাশন ও
• সেচ প্রকল্প।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর।

৬৯৪.
নিচের কোনটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ?
  1. ক) বজ্রপাত
  2. খ) পামাণবিক বিস্ফোরণ
  3. গ) ঘূর্ণিঝড়
  4. ঘ) তুষারপাত
সঠিক উত্তর:
খ) পামাণবিক বিস্ফোরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পামাণবিক বিস্ফোরণ
ব্যাখ্যা
মানবসৃষ্ট কারণে সংঘটিত দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে:
- মরুকরণ
- রাসায়নিক দূষণ
- যুদ্ধ
- পারমাণবিক বিস্ফোরণ
- অগ্নিকান্ড
- জলাবদ্ধতা সৃষ্টি
- বনউজারকরণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অগ্ন্যুৎপাত, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প, নদীভাঙন, তুষারপাত, খরা, বন্যা, শৈত্যপ্রবাহ ইত্যাদি হলো প্রাকৃতিক কারণে সংঘটিত দুর্যোগ।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)
৬৯৫.
 'ডাউকি ফল্ট' বরাবর কোন ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি রয়েছে? 
  1. বন্যা
  2. খরা
  3. নদীভাঙন 
  4. ভূমিকম্প
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা

ডাউকি ফল্ট বরাবর প্রধান দুর্যোগের ঝুঁকি হলো প্রবল ভূমিকম্প। এই ফল্টটি সিলেট এবং ভারতের মেঘালয়ের মধ্যে অবস্থিত, এবং এখানে একটি বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে তা বাংলাদেশে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাতে পারে। 

ডাউকি ফল্ট:

- বাংলাদেশের মাটির নিচে ভূমিকম্পের দুটি বড় উৎস আছে।
- একটি হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের ডাউকি চ্যুতি বা ফাটল (ফল্ট)।
- ১৭৮৭ সালে ডাউকি চ্যুতিতে তীব্র ভূমিকম্পের পর ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছিল।
- সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উপরে উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গিয়ে একটি নতুন স্রোতধারা সৃষ্টি হয়।
- যা বর্তমানে যমুনা নামে পরিচিত।

⇒ আরেকটি হচ্ছে সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ভূ-অভ্যন্তরে বিস্তৃত একটি সাবডাকশন অঞ্চল।
- এই অঞ্চলজুড়ে সক্রিয় আছে অসংখ্য চ্যুতির শাখা (স্প্লে ফল্ট)।
- সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকাটি ইন্দো-বার্মা পর্বতমালার অংশ।
- আজ থেকে প্রায় ৮০০ বছর আগে এই সাবডাকশন অঞ্চলে একটি বড় ভূমিকম্প হয়েছিল।
- তাতে লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে প্রবাহিত নদীটি গতিপথ পাল্টে এখনকার মেঘনা নদীতে সরে এসেছে।

এছাড়াও,
- সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ছিল একটি ডুবো দ্বীপ।
- ১৭৬২ সালে এক বড় ভূমিকম্পে দ্বীপটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে তিন মিটার ওপরে উঠে আসে।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।

৬৯৬.
দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ের কার্যক্রম কোনটি?
  1. প্রশমন
  2. প্রতিরোধ
  3. পূর্ব প্রস্তুতি
  4. সাড়া প্রদান
সঠিক উত্তর:
সাড়া প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাড়া প্রদান
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র বলতে দুর্যোগ মোকাবেলার সাথে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত পর্যায়গুলোকে বুঝানো হয়ে থাকে।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রকে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-
ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায় এবং
খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়।

ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়:
দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং প্রশমন।   

খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়:
দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন।

তথ্যসূত্র: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৭.
নিম্নের কোন উপজেলাটি সবচেয়ে নদীভাঙ্গন-প্রবণ?
  1. বােয়ালমারী
  2. নড়িয়া
  3. আলমডাঙ্গা
  4. নিকলি
সঠিক উত্তর:
নড়িয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নড়িয়া
ব্যাখ্যা
নদীভাঙ্গন:
- যখন নদীর প্রবল স্রোতের আঘাতে তীরবর্তী অঞ্চলের জমি ভেঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়, তখন তাকে নদীভাঙ্গন বলে।
- বাংলাদেশে নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় নদ-নদীগুলো সর্বত্র জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে।
- নদীমাতৃক দেশ হওয়াতে এসব নদীতে ভাঙ্গন সমস্যা বহুদিনের।
- নদীভাঙ্গনের কারণে নদী তীরবর্তী পাকা ঘরবাড়ি, স্কুল- কলেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

উল্লেখ্য,
⇒ শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলাটি বর্তমানে সবচেয়ে ভাঙ্গন প্রবণ উপজেলা।
- পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে যায় পদ্মাতীরবর্তী উপজেলাটি বসতবাড়ি, হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
- পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (সিইজিআইএস) হিসাবে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার প্রায় সোয়া ১৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা নদীতে তলিয়ে গেছে।
- এর মধ্যে ২০১১-১২ থেকে ২০১৪-১৫ সময়কাল পর্যন্ত নড়িয়াতে প্রতিবছর গড়ে আধা বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা ভাঙনের শিকার হয়।
- এরপর থেকে ভাঙন বাড়তে থাকে।
- ২০১৫-১৬ সময়কালে বিলীন হয়েছে ১ দশমিক ৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা।
- ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ভেঙেছে প্রায় ২ বর্গকিলোমিটার।

অন্যদিকে,
- বোয়ালমারি ফরিদপুর জেলার একটি উপজেলা।
- আলমডাঙ্গা চুয়াডাঙ্গার একটি উপজেলা।
- নিকলি কিশোরগঞ্জের একটি উপজেলা।

উৎস: i) ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।
৬৯৮.
কালবৈশাখী ঝড়ের বৈশিষ্ঠ্য নিচের কোনটি?
  1. ঝড়ো বায়ুপ্রবাহ ও ভারী বৃষ্টিপাত
  2. গুড়িগুড়ি বৃষ্টি ও বজ্রপাত
  3. বজ্রপাত ও হালকা বৃষ্টিপাত
  4. সমুদ্র উপকূলে ঝড়ের আঘাত
সঠিক উত্তর:
ঝড়ো বায়ুপ্রবাহ ও ভারী বৃষ্টিপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝড়ো বায়ুপ্রবাহ ও ভারী বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা
কালবৈশাখী:
- বাংলাদেশে বৈশাখ মাসে সংঘটিত ঝড়ের নাম কালবৈশাখী।
- বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে কালবৈশাখী ঝড় সুপরিচিত।
- কালবৈশাখী ঝড়ো বায়ুপ্রবাহ ও ভারী বৃষ্টিপাতের সাথে সংঘটিত হয়।
- কালবৈশাখী ঝড় ভারী বৃষ্টিপাত ও বজ্রসহ ভূ-পৃষ্ঠের উপর আঘাত হানে।
- কালবৈশাখীকে বায়ুপুঞ্জ বজ্রঝড় অথবা পরিচলনগত বজ্রঝড় নামেও আখ্যায়িত করা যায়।
- বাংলাদেশে কালবৈশাখী সৃষ্টির প্রধান কারণ দেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আসা উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু যা ঊর্ধ্বে ২ কিলোমিটার পর্যন্ত আরোহন করে থাকে এবং এ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু উত্তর-পশ্চিম এবং পশ্চিম দিক থেকে আসা অপেক্ষাকৃত শীতল ও শুষ্ক বায়ুর সঙ্গে মিলিত বা মুখোমুখি হয়।
- উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ছোটনাগপুর মালভূমিতে সৃষ্টির পর পূর্বদিকে ধাবিত হয়ে বাংলাদেশের সীমায় উপস্থিত হয়। বিপরীতধর্মী ও অসম এ দু বায়ুপ্রবাহের মুখোমুখি হওয়ার ফলে প্রাক-কালবৈশাখীর সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বজ্র-বিদ্যুৎপূর্ণ ঝড় সৃষ্টি হয়।
- এই ঝড় বৈশাখ মাসে কখনও চৈত্র মাসে উত্তর-পশ্চিম দিক হতে আসে বলে একে কালবৈশাখী ঝড় বা গ্রীষ্মকালীন উত্তর পশ্চিম ঝড় বা বজ্রবিদ্যুৎপূর্ণ ঝড়বৃষ্টি বলা হয়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৯.
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের অন্যতম কারণ কী?
  1. ক) জনসংখ্যার ঘনত্ব
  2. খ) নগরায়ন
  3. গ) অনুন্নত অবকাঠামো
  4. ঘ) ভূমির গঠন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভূমির গঠন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভূমির গঠন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের অন্যতম কারণ - ভূমির গঠন।

• প্রাকৃতিক দুর্যোগ:

- বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবণ দেশ।
- বাংলাদেশে প্রতিবছরই বিভিন্ন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা দিয়ে থাকে।
- বাংলাদেশে ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটনের কারণসমূহের মধ্যে রয়েছে:-
১। ভৌগোলিক অব স্থান,
২। জলবায়ু,
৩। ভূমির গঠন,
৪। নদী-নালার আধিক্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচিতি , অষ্টম শ্রেণি।
৭০০.
কোনটি "Biological Disaster" এর উদাহরণ?
  1. ভূমিকম্প
  2. বন্যা
  3. সুনামি
  4. ডেঙ্গু
সঠিক উত্তর:
ডেঙ্গু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেঙ্গু
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ: 
- প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট কারণে প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হচ্ছে বাংলাদেশ।
- দুর্যোগের ধরন ও দুর্যোগ সৃষ্টির কারণের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশে দুর্যোগঝুঁকির পরিবেশকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা- প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুঁকির পরিবেশ, মানব সৃষ্ট দুর্যোগ ঝুঁকির পরিবেশ এবং জৈবিক দুর্যোগ ঝুঁকির (Biological Disaster) পরিবেশ।

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশের প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুঁকিসমূহ হলো- বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধ্বস, ভূমিকম্প এবং বজ্রপাত ।
- এছাড়াও বাংলাদেশে মানব সৃষ্ট দুর্যোগ ঝুঁকির পরিবেশের মধ্যে বিপদজনক রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহারের কারণে প্রায় চামড়া শিল্প, জাহাজভাঙ্গা শিল্প, রাসায়নিক শিল্পের দুঘর্টনা উল্লেখযোগ্য।
- "Biological Disaster" এর উদাহরণ হলো ডেঙ্গু।
- এর মধ্যে অন্যান্য উদাহরণ হিসেবে ২০১৭ সালের চিকুনগুনিয়া, ২০০৪ সালের নিপাহ ভাইরাস, ডেঙ্গু, সোয়াইন ফ্লু, জিকা ভাইরাস প্রভৃতি অন্তর্ভুক্ত।
- এই ধরনের দুর্যোগে সাধারণত জীবাণু, ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের মাধ্যমে পরিবেশে ব্যাপক ক্ষতি হয়, যা মানুষের স্বাস্থ্যকে সরাসরি প্রভাবিত করে।
 
সূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।