বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা: দুর্যোগের ধরণ, প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৯৬৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা: দুর্যোগের ধরণ, প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা / ১০ · ৪০১৫০০ / ৯৬৩

৪০১.
দুর্যোগ প্রশমন বলতে কী বোঝায়? 
  1. ত্রাণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত
  2. দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস
  3. দুর্যোগ পরবর্তী ত্রাণ বিতরণ
  4. আবহাওয়ার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস
ব্যাখ্যা
প্রশমন (Mitigation): 
- দীর্ঘ সময়ব্যাপী নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহন করাকে দুর্যোগ প্রশমন বলে। 
- মজবুত পাকা ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল অবলম্বন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত।
- দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল হলেও সরকার সীমিত সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন ইত্যাদি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০২.
কত সালের ঘূর্ণিঝড়ে সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ মারা যায়?
  1. ১৯৬৬ সাল
  2. ১৯৭০ সাল
  3. ১৯৯১ সাল
  4. ২০০৭ সাল
সঠিক উত্তর:
১৯৭০ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭০ সাল
ব্যাখ্যা
- ১৯৬০ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত বাংলাদেশে ৫০টির অধিক সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে।
- এদের মধ্যে সবচেয়ে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ছিলো ১৯৭০ সালে আঘাত হানা সাইক্লোন। এই ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষ মারা যায়।

- এছাড়া ১৯৬১, ১৯৬৩, ১৯৬৫, ১৯৮৫, ১৯৯১, ২০০৭ ও ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ও ব্যাপক মাত্রার ছিলো।
- ১৯৯১ সালে সংঘটিত ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ ছিলো ঘণ্টায় ২২৫ কিমি।

(তথ্যসূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী)
৪০৩.
সিলেট অঞ্চলে সাধারণত কোন ধরনের বন্যা দেখা দেয়?
  1. আকস্মিক বন্যা
  2. বৃষ্টিজনিত বন্যা
  3. জোয়ার-ভাটাজনিত বন্যা
  4. নদীসৃষ্ট বন্যা
সঠিক উত্তর:
আকস্মিক বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকস্মিক বন্যা
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে সাধারণত চার ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়।
এগুলো হলো:
- বৃষ্টিজনিত বন্যা
- উপকূলীয় বন্যা
- নদীসৃষ্ট বন্যা
- আকস্মিক বন্যা।
- বাংলাদেশেরে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ী নদীর পানি উপচে পড়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে।
- এপ্রিল-মে এবং সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় পাহাড়ী নদীর উপচে পড়া পানির কারণে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
- আকস্মিক বন্যায় হাওরাঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।
অন্যদিকে,
- বৃহত্তর খুলনা ও যশোর অঞ্চলে বৃষ্টিজনিত বন্যা দেখা যায়।
- উপকূলীয় অঞ্চলে উপকূলীয় বন্যা দেখা দেয়।
- নদী সংলগ্ন জেলাসমূহে নদীসৃষ্ট বন্যা দেখা যায়।
(তথ্যসূত্র: বন্যা সাড়াদান ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা : বাংলাদেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর)
৪০৪.
কোনটি মানবসৃষ্ট বিপর্যয়ের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সুনামি
  2. যুদ্ধ
  3. অগ্ন্যুৎপাত
  4. ভূমিকম্প
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
বিপর্যয় (Hazard):
- যে সকল ঘটনা একটি এলাকার জনগণের জীবন, জীবিকা ও পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, এমনকি একেবারে ধ্বংস করতে পারে, সে সকল ঘটনাকে বিপর্যয় বলে।
- বিপর্যয় দুই ধরনের হতে পারে। যেমন:
(ক) প্রাকৃতিক বিপর্যয়- ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত, কালবৈশাখী ঝড় ইত্যাদি।
(খ) মানব-সৃষ্ট বিপর্যয়: বায়ু দূষণ, রাসায়নিক বিষক্রিয়া, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, মহামারি ইত্যাদি।

দুর্যোগ (Disaster):
- কোনো প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট অবস্থা যখন অস্বাভাবিক ও অসহনীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে তখন তাকে দুর্যোগ বলে।
- জাতিসংঘের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান (United Nations Institute for Training and Research) দুর্যোগসমূহকে চার ভাগে ভাগ করেছে-
ক) প্রাকৃতিক দুর্যোগ: বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো, নদীভাঙন, ভূমিকম্প ইত্যাদি।
(খ) দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ: মহমারী, খরা ইত্যাদি।
(গ) মানবসৃষ্ট দুর্যোগ: যুদ্ধ, অপরিকল্পিত নগরায়ন, বনাঞ্চল ধ্বংস, পরিবেশ দূষণ ইত্যাদি।
(ঘ) দুর্ঘটনাজনিত দুর্যোগ।
 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৫.
নদীভাঙনের কারণ নিচের কোনটি?
  1. অত্যধিক বৃষ্টিপাত
  2. নদীর গতিপথ পরিবর্তন
  3. নদীগর্ভে ফাটলের উপস্থিতি
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
নদীভাঙন:
- জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে বাংলাদেশের প্রধান নদী ও শাখানদী দ্বারা দেশের প্রায় ১০০টি উপজেলায় কমবেশি নদীভাঙন প্রক্রিয়া চলে।
- বর্ষাকালে নদীখাতে প্রবল বেগে পানিপ্রবাহ, নদী খাতের উভয় পার্শ্বে নরম মাটি ও ফাটলের অবস্থানের কারণে যে ক্ষয় হয়ে থাকে, তাকে নদীভাঙন বলে।
- পলিমাটি গঠিত সমভূমি অধ্যুষিত বাংলাদেশে নদীভাঙনে প্রতি বছর প্রচুর ঘরবাড়ি, নানা ধরনের স্থাপনা ও রাস্তাঘাট ধ্বংস হয় এবং অনেক মানুষের জীবনহানি ঘটে। - নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকগণ জমি পুনরূদ্ধার করতে না পারায় ভূমিহীন হয়ে পড়ে। ফলে, তারা শহর ও নগরের ভাসমান মানুষে পরিণত হয়।

নদীভাঙনের কারণসমূহ:
- নদীর গতিপথ পরিবর্তন।
- নদী গর্ভে নরম, ক্ষয়িষ্ণু শিলার উপস্থিতি।
- বাহিত শিলার কাঠিন্যতা।
- নদীগর্ভে ফাটলের উপস্থিতি।
- বন্যার সময়ে প্রবল পানির আঘাত।
- অত্যধিক বৃষ্টিপাত।
- নদী তীর থেকে অত্যধিক পরিমাণে বৃক্ষ নিধন।
- নদী তীর ও তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন।
- নদী তীর দখলের মাধ্যমে নদীর গতিপথে বাধা দেয়া ও গতিপথ পরিবর্তন করা।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৬.
পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বেশি টনের্ডো কোথায় হয়?
  1. ভিয়েতনাম ও শ্রীলঙ্কায়
  2. ইন্দোনেশিয়া ও প্রশান্ত সাগরের নিকটবর্তী এলাকায়
  3. উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায়
  4. ভারত মহাসাগরের নিকট
সঠিক উত্তর:
উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায়
ব্যাখ্যা

টর্নেডো: 
- টর্নেডো মূলত অতি দ্রুত আবর্তনশীল ক্ষুদ্র আকারের অথচ প্রলয়ঙ্কারী বজ্রঝড়।
- এটি চোঙ আকৃতির হয়ে থাকে এবং এই বজ্রঝড়ের মধ্যভাগে বায়ু অতিদ্রুত বেগে উপরে উঠতে থাকে।
- এই চোঙ যদি ভূমি স্পর্শ করে তখন ধ্বংসলীলা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। 
- টর্নেডোর ব্যাস ভূ-পৃষ্ঠের উপরে ১০০ থেকে ৫০০ গজ পর্যন্ত হয়।
- টর্নেডোর ভিতরে ও বাইরের বায়ুচাপের গড় পার্থক্য প্রায় ২ ইঞ্চি। তবে কখনো কখনো তা ৫ইঞ্চি হয়ে যায়।
- টর্নেডোর চোঙ মাটি স্পর্শ করলে ব্যাপক শব্দে সবকিছু ধূলিসাৎ হয়ে যায় এবং কালো মেঘে ছেঁয়ে যায়।

• টর্নেডোর বৈশিষ্ট্য:
১. টর্নেডোতে প্রথমত আকস্মিকভাবে বায়ুচাপের হ্রাস ঘটে বলেই বড় বড় ইমারতে ফাটল ধরে।
২. বায়ুর আবর্তন হয় অত্যন্ত দ্রুতবেগে। ফলে বায়ুপ্রবাহের সম্মুখে প্রতি বর্গফুটে বায়ুচাপের পরিমাণ হয় ১৬০ থেকে ১০০০ পাউন্ড।
৩. টর্নেডোর উত্তোলন ক্ষমতা অনেক ভয়ঙ্কর। ভয়ঙ্কর বেগে টর্নেডোর বায়ু উপরের দিকে উত্থিত হয় এবং পথে যা পায় তাই তুলে নেয়।
৪. ভূমিতে টর্নেডোর রৈখিক গতিবেগ বিভিন্ন টর্নেডোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকমের হয়। যেমন- উত্তর গোলার্ধে টর্নেডো দক্ষিণ পশ্চিম দিক থেকে আসে।
৫. টর্নেডোর গতিপথ অর্ধবৃত্তাকার হতে পারে এবং উত্তর গোলার্ধে টর্নেডো ডানদিকে আবর্তিত হয়।
৬. টর্নেডোর গতিবেগ ঘন্টায় ৫ হতে ৬৫ মাইল হয়ে থাকে। তবে কখনো কখনো গড় গতিবেগ ঘন্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ মাইল হয়।
৭. পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি টর্নেডোপ্রবণ এলাকা উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া।
৮. সমুদ্রের উপর টর্নেডো সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের নিকটস্থ সমুদ্রে, মেক্সিকো উপসাগরে এবং চীন ও জাপানের উপকূলের নিকটস্থ সমুদ্রে গ্রীষ্মকালে টর্নেডোর প্রকোপ দেখা যায়।
৯. টর্নেডো ব্যাপক জানমাল ও পরিবেশের ক্ষতিসাধন করে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

৪০৭.
বাংলাদেশে আকস্মিক বন্যা সাধারণত কোথায় ঘটে?
  1. উত্তরাঞ্চল
  2. পার্বত্য অঞ্চল
  3. সুন্দরবন অঞ্চল
  4. উপকূলীয় অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
পার্বত্য অঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পার্বত্য অঞ্চল
ব্যাখ্যা
আকস্মিক বন্যা:
- পার্বত্য অঞ্চলে অত্যধিক বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যাকে আকস্মিক বন্যা বলা হয়।
- বাংলাদেশে আকস্মিক বন্যা সাধারণত পার্বত্য এলাকায় ঘটে, যেখানে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে দ্রুত পানি জমে যায় এবং উঁচু জায়গা থেকে নিচে নামতে থাকে, ফলে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয়।
- বিশেষ করে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চলে এ ধরনের বন্যা প্রায়ই দেখা যায়।
- অধিক বৃষ্টিপাতের দরুন ২০১২ সালে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটে আকস্মিক বন্যায় ১০০ মানুষ নিহত হয় ও প্রায় ২,৫০,০০০ লোক পানিবন্দি হয়ে পড়ে। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৮.
’Cloudburst' কী?
  1. হালকা বৃষ্টিপাত
  2. ভারী বৃষ্টিপাত
  3. তুষারপাত
  4. হিমেল হাওয়া
সঠিক উত্তর:
ভারী বৃষ্টিপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারী বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা

- ক্লাউডবার্স্ট হলো হঠাৎ প্রবল ভারী বৃষ্টিপাতের ঘটনা, যা অল্প সময়ের মধ্যে (সাধারণত কয়েক মিনিট থেকে এক ঘণ্টা) অত্যন্ত উচ্চমাত্রায় বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- ​এতে বৃষ্টির হার ঘণ্টায় প্রায় 100 মিমি (৪ ইঞ্চি) বা তার বেশি হতে পারে।
- ​এই ধরনের বৃষ্টি সাধারণত বজ্রঝড় বা কিউমুলোনিম্বাস মেঘ থেকে ঘটে এবং পাহাড়ি অঞ্চল বা অস্থিতিশীল বায়ুমণ্ডলে বেশি দেখা যায়।
​​-  ক্লাউডবার্স্ট প্রায়ই ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে আনে।

​উৎস: ব্রিটানিকা।

৪০৯.
বাংলাদেশের 'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন' কবে প্রণীত হয়?
  1. ২০০৫
  2. ২০০৮
  3. ২০১২
  4. ২০১৫
সঠিক উত্তর:
২০১২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১২
ব্যাখ্যা

◉ বাংলাদেশের 'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন' ২০১২ সালে  প্রণীত হয়।
- অন্য অপশনগুলো যথা উপযুক্ত নয়।

• বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন:
- দুর্যোগ মোকাবেলা বিষয়ক কার্যক্রমকে সমন্বিত, লক্ষ্যভিত্তিক ও শক্তিশালী করা এবং সকল ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কাঠামো গড়িয়া তুলিবার নিমিত্ত বিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন।
- ২০১২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এই আইন প্রণীত হয়।
- ২০১২ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করে।
- বাংলাদেশের সংসদে 'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২' পাসের মাধ্যমে এই অধিদপ্তর গঠিত হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪১০.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান নয় কোনটি?
  1. প্রতিরোধ
  2. উন্নয়ন
  3. প্রশমন
  4. পূর্বপ্রস্তুতি
সঠিক উত্তর:
উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অর্থ হলো যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা।
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান:
১. দুর্যোগ প্রতিরোধ:
দুর্যোগের সম্ভাবনা বা ঝুঁকি কমাতে যে সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা দুর্যোগ প্রতিরোধের অংশ। এর মধ্যে পূর্বাভাস ব্যবস্থা, সতর্কতা কার্যক্রম এবং প্রতিরোধী কাঠামো তৈরি করা অন্তর্ভুক্ত থাকে।

২. দুর্যোগ প্রশমন:
দুর্যোগের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর জন্য দুর্যোগ প্রশমনের কাজ করা হয়। এটি সরাসরি দুর্যোগের তীব্রতা কমানোর জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ, যেমন বাঁধ নির্মাণ, নিরাপত্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং পরিবেশগত বিপর্যয় রোধ করা।

৩. দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি:
দুর্যোগের প্রাক্কালে সঠিক প্রস্তুতি গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। এটি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের জনগণকে সচেতন করা, দুর্যোগের সময় দ্রুত সাহায্য পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুতি তৈরি করা এবং উপকরণ সংরক্ষণ করা ইত্যাদি বিষয়গুলির অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে,
দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে - 
- সাড়াদান,
- পুনরুদ্ধার ও
- উন্নয়ন।
- এইগুলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান নয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪১১.
‘Nor' wester’ কোন দুর্যোগকে নির্দেশ করে?
  1. সুনামি
  2. ভূমিকম্প
  3. অনাবৃষ্টি
  4. কালবৈশাখী ঝড়
সঠিক উত্তর:
কালবৈশাখী ঝড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালবৈশাখী ঝড়
ব্যাখ্যা

কালবৈশাখী ঝড় (Nor’ wester):
- কালবৈশাখী এক ধরনের বজ্রঝড়, যা সচরাচর এপ্রিল-মে (বৈশাখ) মাসে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- স্থানীয়ভাবে কোনো এলাকার ভূ-পৃষ্ঠ অত্যধিক তাপমাত্রা অথবা অন্যান্য কারণে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বায়ুমন্ডল যথেষ্ট অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে এবং এ ঝড়ের জন্ম হয়।
- বায়ুমন্ডলের অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে কিউমুলাস মেঘ উল্লম্বভাবে কিউমুলোনিম্বাস মেঘ গঠন করে এবং পরবর্তী সময়ে বজ্রঝঞ্ঝার সৃষ্টি হয় যা সবার কাছে কালবৈশাখী নামে পরিচিত।
- সাধারণ বর্ষণের সঙ্গে এ ঝড়ের মূল পার্থক্য হচ্ছে, এ ঝড়ের সঙ্গে সবসময়ই বিদ্যুৎ চমকায় ও বজ্রপাত হয়।
- কালবৈশাখীর গতি প্রতি ঘণ্টায় ৪০ হতে ৮০ কিলোমিটার। অনেক সময় এ ঝড়ের গতি ঘণ্টায় ১২৮ কিলোমিটারেরও বেশি হয়ে থাকে।
- কালবৈশাখীকে বায়ুপুঞ্জ বজ্রঝড় (air mass thunderstorm) অথবা পরিচলনগত বজ্রঝড় (convective thunderstorm) নামেও আখ্যায়িত করা যায়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া, ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১২.
বিশ্ব মরুকরণ ও খরা প্রতিরোধ দিবস-
  1. ক) ১৩ জুলাই
  2. খ) ১০ সেপ্টেম্বর
  3. গ) ১৭ জুন
  4. ঘ) ১৩ অক্টোবর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৭ জুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৭ জুন
ব্যাখ্যা
- আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস ১৩ অক্টোবর। (International Day for Disaster Reduction)
- বিশ্ব মরুকরণ ও খরা প্রতিরোধ দিবস ১৭ জুন। (World Day to Combat Desertification and Drought)

উৎসঃ জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৪১৩.
খরার ফলে কী ধরনের প্রাকৃতিক পরিবর্তন হয়?
  1. শিলা বৃষ্টি হয়
  2. মাটি শুকনো হয়ে ফেটে যায়
  3. বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হয়
  4. জমির মধ্যে পানি জমে যায়
সঠিক উত্তর:
মাটি শুকনো হয়ে ফেটে যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাটি শুকনো হয়ে ফেটে যায়
ব্যাখ্যা
⇒ খরা এর ফলে মাটি শুকনো হয়ে ফেটে যায়।

অনাবৃষ্টি ও খরা:
- কোনো এলাকা দীর্ঘদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে উক্ত এলাকাটির মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে। ফলে, উক্ত এলাকার মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় ও ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়। মাটির এরূপ অবস্থাকে খরা বলা হয়।
- বাংলাদেশের উত্তর- পূর্বাঞ্চলে অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়।
- খরা উপদ্রুত অঞ্চলে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়।
- উপদ্রুত অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গিয়ে পানির অভাব দেখা দেয়।
- পর্যাপ্ত ফসলের অভাবে খাদ্যদ্রব্যের অভাব প্রকট হয়ে পড়ে।
- গাছপালা বিহীন শুষ্ক প্রকৃতি ও তীব্র গরমে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের অসুখের প্রাদুর্ভাব ঘটে।
- বনজ সম্পদ বৃদ্ধি তথা অধিক বৃক্ষরোপন করে ও ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগকে কিছুটা নিয়ন্ত্রন করা যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৪.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রথম ধাপ কোনটি?
  1. উদ্ধার
  2. পুনর্বাসন
  3. পুনর্গঠন
  4. প্রস্তুতি
সঠিক উত্তর:
প্রস্তুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রস্তুতি
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রথম ধাপ প্রস্তুতি।

• পূর্ব প্রস্তুতি (Preparedness): 
- প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করার লক্ষ্যে দুর্যোগ পূর্ব সময়ে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, সেগুলোকে পূর্ব প্রস্তুতি বলে।
- দুর্যোগ পূর্ব প্রস্তুতির পদক্ষেপগুলোর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠি চিহ্নিতকরণ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও ঘরবাড়ি চিহ্নিতকরণ, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন, দুর্যোগ সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন, বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় সাধনের রূপরেখা নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় সম্পদের ব্যবস্থা করা, রাস্তাঘাট ও যানবাহন প্রস্তুত রাখা, আধুনিক পূর্বাভাস ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রাখা, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি প্রস্তুত রাখা অন্যতম।

অন্যদিকে,
• উদ্ধার (Response) :

- এটি দুর্যোগ সংঘটনের পর প্রথম সাড়া প্রদানের ধাপ।
- জীবন রক্ষা, খাদ্য, পানি, আশ্রয় ও চিকিৎসা সরবরাহ করা এখানে অন্তর্ভুক্ত।
- প্রস্তুতির আগে এটি সম্ভব নয়।

• পুনর্বাসন (Recovery):
- এটি দুর্যোগের পর ধ্বংস হওয়া সম্পদ ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের ধাপ।
- ঘরবাড়ি, রাস্তা মেরামত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এখানে অন্তর্ভুক্ত।

• পুনর্গঠন / উন্নয়ন (Development):
- এটি দুর্যোগ পরবর্তী ধাপ, যা পুনর্বাসনের পর বাস্তবায়িত হয়।
- ধ্বংসস্তুপ অপসারণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মানব সম্পদ উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত।



• দুর্যোগ:

- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান ৩টি। যথা-
১। দুর্যোগ প্রতিরোধ।
২। দুর্যোগ প্রশমন।
৩। দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি।

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র: 
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র বলতে দুর্যোগ মোকাবেলার সাথে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত পর্যায়গুলোকে বুঝানো হয়ে থাকে।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রকে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-

ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়:- দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং প্রশমন। এই ৩টি কার্যক্রম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান ।
১. পূর্ব প্রস্তুতি (Preparedness):
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করার লক্ষ্যে দুর্যোগ পূর্ব সময়ে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ
করা হয়, সেগুলোকে পূর্ব প্রস্তুতি বলে। দুর্যোগ পূর্ব প্রস্তুতির পদক্ষেপগুলোর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠি চিহ্নিতকরণ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও ঘরবাড়ি চিহ্নিতকরণ, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন, দুর্যোগ সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন, বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় সাধনের রূপরেখা নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় সম্পদের ব্যবস্থা করা, রাস্তাঘাট ও যানবাহন প্রস্তুত রাখা, আধুনিক পূর্বাভাস ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রাখা, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি প্রস্তুত রাখা অন্যতম।

২. প্রতিরোধ (Prevention):
প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহ সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে রাখার
জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। যেমন- বন্যার হাত থেকে রক্ষার জন্য বেড়িবাঁধ নির্মাণ, ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিকম্প থেকে রক্ষার জন্য বিল্ডিং কোড অনুযায়ী ভবন নির্মাণ, নদীর আঁকাবাঁকা গতিপথ সোজা করে নদীভাঙন কমানো ইত্যাদি। এভাবে দুর্যোগ প্রতিরোধ অর্থাৎ অবকাঠামো নির্মাণ করা ব্যয়বহুল হলেও দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে অবকাঠামোগত প্রতিরোধের চেয়ে অঅবকাঠামোগত প্রতিরোধ যেমন প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি খুব অল্প খরচে এবং সহজেই করা যায়।

৩. প্রশমন (Mitigation):
দীর্ঘ সময়ব্যাপী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করাকে প্রশমন বলে। দুর্যোগ প্রশমন কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে মজবুত ও পাঁকা ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর, বনায়ন, বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রভৃতি।

খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়:- দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন।
১. সাড়া প্রদান (Response):
 দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রে সাড়াপ্রদান গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। দুর্যোগ সংঘটিত হওয়ার পর নিজের এবং অন্যের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করাকে সাড়া প্রদান বলে। সাড়া প্রদান কার্যক্রমসমূহের মধ্যে রয়েছে উদ্ধার, চিকিৎসা, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, আশ্রয়, বস্ত্র, ধ্বংসস্তুপ অপসারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ, পুনর্বাসন কার্যক্রম প্রভৃতি। উপযুক্ত সাড়া প্রদানের মাধ্যমে দুর্যোগ আক্রান্ত এলাকার লোকজন দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এসব কারণে দুর্যোগের পরপরই উপযুক্ত সাড়া প্রদান প্রয়োজন হয়।

২. পুনরুদ্ধার (Recovery):
দুর্যোগের ফলে সম্পদ, অবকাঠামো, পরিবেশ ইত্যাদির যে ক্ষতি হয় তা পুনঃনির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগ পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকে পুনরুদ্ধার বলে। এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি, স্বেচ্ছাসেবী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য ও সহায়তা প্রয়োজন হয়। যেমন- ঘরবাড়ি নির্মাণ, রাস্তাঘাট মেরামত ইত্যাদিতে অর্থ ও প্রযুক্তি যোগান।

৩. উন্নয়ন (Development):
দুর্যোগ আক্রান্ত এলাকাকে পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার অব্যবহিত পর উক্ত এলাকার ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা আবশ্যক। এক্ষেত্রে দুইটি কাজ একসঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে। প্রথমত, ধ্বংস স্তুপ ও আবর্জনা অপসারণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দ্বিতীয়ত, মানব সেবা ও মানব সম্পদ উন্নয়ন। একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে, উন্নয়নের সাথে পরিবেশের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করার সময় পরিবেশগত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে। এতে পরিবেশ ও উন্নয়ন উভয়ই টেকসই হবে।
পরিশেষে বলা যায় যে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে স্বল্প সময়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়া যেতে পারে। এ লক্ষ্যে সরকারি, বেসরকারি পর্যায়ের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১৫.
‘মুজিব কিল্লা’ কিসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ক) যোগাযোগ ব্যবস্থা
  2. খ) দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা
  3. গ) দর্শনীয় স্থান
  4. ঘ) প্রত্নতত্ত্ব সংরক্ষক সংস্থা
সঠিক উত্তর:
খ) দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা
ব্যাখ্যা

- উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা থেকে জানমাল রক্ষার্থে বেশ কিছু মাটির কিল্লা নির্মাণ করা হয়। স্বাধীনতা–পরবর্তী সময়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে কিল্লাগুলো নির্মিত হয়। সে সময় এগুলো ‘মুজিব কিল্লা’ নামে পরিচিতি পায়। পরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কিল্লাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিছু কিছু কিল্লা ও তার আশপাশের জমি বেদখল ও নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

- সম্প্রতি এসব কিল্লার সংস্কার ও উন্নয়ন শুরু করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। তারই অংশ হিসেবে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নির্মিত হয়েছে দুটি মাটির কিল্লা। এ দুটিসহ মোট পাঁচটি কিল্লা ২৩ মে ২০২১ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

উৎস: ddm.gov.com ও দৈনিক প্রথম আলো।
৪১৬.
বাংলাদেশের কোন এলাকায় প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি হয়?
  1. দিনাজপুর
  2. বরিশাল
  3. পার্বত্য চট্টগ্রাম
  4. সিলেট
সঠিক উত্তর:
সিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট
ব্যাখ্যা

শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত:
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ভূ-পৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সময় পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হলে তা পর্বতের ঢাল বেয়ে উপরের দিকে উঠে যায়।
- এই বায়ু শীতল হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।
- শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাতে প্রতিবাত ঢালে বৃষ্টিপাত ঘটে।

উল্লেখ্য, 
- দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু মেঘালয় পাহাড়ে বাধা পাওয়ায় সিলেট এলাকায় প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি হয়।
- তবে পর্বত অতিক্রমকারী বায়ু যদি পর্বতের অপর পাশে অর্থাৎ অনুবাত ঢালে পৌঁছায় তখন ঐ বায়ুতে জলীয়বাষ্প কমে থাকে।
- ঐ বায়ু নিচে নামার ফলে আরও উষ্ণ এবং শুষ্ক হয়ে উঠে বলেই ঐ স্থানে বৃষ্টিপাত হয় না।
- এই বৃষ্টিহীন স্থানকে বলা হয় বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১৭.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত প্রশমন কোনটি? 
  1. আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ
  2.  প্রশিক্ষণ
  3. গণসচেতনতা বৃদ্ধি
  4. পূর্বপ্রস্তুতি 
সঠিক উত্তর:
আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান। 


প্রতিরোধ:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধ কার্যক্রম সফলতা বয়ে আনতে পারে।
- দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত এবং অকাঠামোগত প্রশমনের ব্যবস্থা রয়েছে।
- কাঠামোগত প্রশমনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম যথা-
• বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকেই বোঝায়। 
- কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
• অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন যেমন- প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।

উৎস: ভূগোল ‍ও পরিবেশ, এসএসসি, নবম-দশম শ্রেণি।

৪১৮.
ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্যে দায়ী কোনটি?
  1. ক) গভীর সমুদ্রে নিম্নতাপমাত্রা
  2. খ) সমুদ্রখাতের উপস্থিতি
  3. গ) গভীর সমুদ্রে নিম্নচাপ সৃষ্টি
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
গ) গভীর সমুদ্রে নিম্নচাপ সৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গভীর সমুদ্রে নিম্নচাপ সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
- ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করে নিম্নচাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রা।
- উচ্চ তাপমাত্রার (সাধারণত ২৭ ডিগ্রির অধিক) ফলে সমুদ্রের বায়ু হালকা হয়ে উপরে উঠে গেলে সেখানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। এতে করে পার্শ্ববর্তী উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে ভারীবায়ু দ্রুত বেগে সৃষ্ট নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে ছুটে আসে এবং ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি করে।
- বায়ুর গতিবেগ ৬৩ কিলোমিটারের অধিক হলে তা ঘূর্নিঝড় হিসেবে অভিহিত হয়।
(তথ্যসূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী)
৪১৯.
কোনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে পড়ে না?
  1. ঘূর্ণিঝড়
  2. সুনামি
  3. তুষারপাত
  4. অগ্নিকাণ্ড
সঠিক উত্তর:
অগ্নিকাণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিকাণ্ড
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ (Disaster):
- একটি বিপর্যয় যখন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের বেশির ভাগ মানুষকে বিপদাপন্ন করে তুলে এবং তাদের নিজস্ব মোকাবিলা ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তখন তাকে দুর্যোগ বলে।
- দুর্যোগ একটি এলাকার স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রচণ্ডভাবে বিঘ্ন ঘটায় এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
- দুর্যোগ কোনো স্থানের জনবসতিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়, যার ফলে ঐ জনবসতি সহজে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে না।

বিশ্বব্যাপী দুর্যোগের প্রকারভেদ: পৃথিবীতে সাধারণত দুই ধরনের দুর্যোগ ঘটে:
১. প্রাকৃতিক দুর্যোগ: এ ধরনের দুর্যোগ প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত হয়, যেমন:
- বন্যা
- ভূমিকম্প
- ঘূর্ণিঝড়
- সুনামি
- তুষারপাত ইত্যাদি।

২. মানবসৃষ্ট দুর্যোগ: এই ধরনের দুর্যোগ মানব কর্মকাণ্ডের কারণে সংঘটিত হয়, যেমন:
- জলাবদ্ধতা
- অগ্নিকাণ্ড
- রাসায়নিক দূষণ
- যুদ্ধ
- পারমাণবিক দুর্ঘটনা ইত্যাদি।

তথ্যসুত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪২০.
টর্নেডো সৃষ্টি হয় কোথায়?
  1. গভীর সমুদ্রে
  2. উপকূলীয় অঞ্চলে
  3. স্থলভাগে
  4. বৃষ্টিবহুল স্থানে
সঠিক উত্তর:
স্থলভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থলভাগে
ব্যাখ্যা
- টর্নেডো একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা স্থলভাগে সৃষ্টি হয়। স্থলভাগে নিম্নচাপ সৃষ্টির ফলে উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে শীতল ও ভারী বায়ু প্রবল বেগে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়ে টর্নেডোতে রূপ নেয়।
- সাধারণত ঝড়ের গতিবেগ ১০০ কিলোমিটারের অধিক হলে তা টর্নেডো হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- টর্নেডোর স্থায়ীত্ব স্বল্প সময়ের জন্যে হলেও এর তাণ্ডবের মাত্রা থাকে অত্যধিক।
(তথ্যসূত্রঃ সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী)
৪২১.
নিচের কোনটি বন্যা মোকাবিলায় অ-অবকাঠামোগত কার্যক্রমের অংশ?
  1. ক) বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ
  2. খ) বাঁধ নির্মাণ
  3. গ) বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
গ) বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
বন্যা মোকাবিলায় ভবিষ্যত অগ্রাধিকার:
- অবকাঠামোগত (বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ, বাঁধ নির্মাণ, রাস্তা উঁচুকরণ ইত্যাদি) ও অ-অবকাঠামোগত (বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, সচেতনতা বৃদ্ধি, স্থানীয় জনসাধারনের  সম্পৃক্ততা, টেকসই ও সমন্বিত প্রয়াস ইত্যাদি) কার্যক্রম জোরদারকরণ। 
- নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি এবং নদী শাসনে সরকারের পরিকল্পনার সাথে জনসাধারণের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ। 
- বন্যাঝুঁকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ। 
- বন্যা নিয়ন্ত্রণে নির্মিত স্লুইস গেইট কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিধায় এর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন। 
- বন্যা ও নদী ভাঙনে গৃহহীন পরিবারসমূহকে দুর্যোগ সহনীয় গৃহ প্রদান। 
-উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড (রাস্তাসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ) যাতে বন্যার ঝুঁকি সৃষ্টি না করে সে জন্য সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন প্রস্তুত ও বাস্তবায়ন। 
- বন্যা পূর্বাভাস প্রদানের জন্য প্রযুক্তি ও গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণ 
- বন্যা মোকাবিলায় আন্ত:দেশীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণ
- বন্যা প্রস্তুতি কর্মসূচি প্রতিষ্ঠা
 
উৎস: modmr.portal.gov.bd/
৪২২.
ইতালির ভিসুভিয়াস একটি-
  1. ক) নিষ্ক্রিয় আগ্নেয়গিরি
  2. খ) মৃত আগ্নেয়গিরি
  3. গ) সক্রিয় আগ্নেয়গিরি
  4. ঘ) জলপ্রপাত
সঠিক উত্তর:
গ) সক্রিয় আগ্নেয়গিরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সক্রিয় আগ্নেয়গিরি
ব্যাখ্যা

- ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তন সাধনকারী প্রক্রিয়া বা শক্তিগুলোর মধ্যে অগ্নুৎপাত অন্যতম।
- যে আগ্নেয়গিরি থেকে মাঝে মাঝে বা সবসময় অগ্নুৎপাত হয় তাকে সক্রিয় বা জীবন্ত আগ্নেয়গিরি বলে। যেমনঃ
• ইতালির ভিসুভিয়াস,
• হাওয়াই দ্বীপের মাওনালেয়া ও মাওনাকেয়া,
• কোটোপ্যাক্সি ইত্যাদি।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪২৩.
সরকার পরিবেশ দূষণ রোধে সারাদেশে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে কবে?
  1. ক) ২০০০ সালে
  2. খ) ২০০১ সালে
  3. গ) ২০০২ সালে
  4. ঘ) ২০০৩ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ২০০২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২০০২ সালে
ব্যাখ্যা
• পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ: সরকার পরিবেশ দূষণ রোধে ২০০২ সালের জানুয়ারি থেকে ঢাকা শহরে এবং একই সালের মার্চ থেকে সারাদেশে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। পরিবেশ অধিদপ্তর নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ যাতে ব্যবহার হতে না পারে সে লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করে থাকে। পাশাপাশি সরকার জনগণকেও সচেতন করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

সূত্র: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪২৪.
কোন সময়ে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়?
  1. ক) এপ্রিল-মে
  2. খ) জুন-জুলাই
  3. গ) সেপ্টেম্বর-নভেম্বর
  4. ঘ) ক ও গ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও গ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশেরে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ী নদীর পানি উপচে পড়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে।
- এপ্রিল-মে এবং সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় পাহাড়ী নদীর উপচে পড়া পানির কারণে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
- আকস্মিক বন্যায় হাওরাঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

তথ্যসূত্র:- বন্যা সাড়াদান ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা : বাংলাদেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
৪২৫.
বাংলাদেশের এফসিডিআই প্রকল্পের উদ্দেশ্য:
  1. বন্যা নিয়ন্ত্রণ
  2. পানি নিষ্কাশন
  3. পানি সেচ
  4. উপরের তিনটি (ক, খ ও গ)
সঠিক উত্তর:
উপরের তিনটি (ক, খ ও গ)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের তিনটি (ক, খ ও গ)
ব্যাখ্যা
এফসিডিআই প্রকল্প:
- FCDIP-এর পূর্ণরপ Flood Control, Drainage and Irrigation Projects.
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প (Flood Control, Drainage and Irrigation Projects) অনুচ্চ ভূ-সংস্থানের কারণে একটি স্বাভাবিক বৎসরে বাংলাদেশের ভৌগোলিক এলাকার কমপক্ষে ২০% এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে থাকে।
- ১৯৯৮ সালের মতো মারাত্মক পর্যায়ে গেলে বন্যা কবলিত এলাকার পরিমাণ প্রায় ৭০% এ গিয়ে পৌঁছতে পারে।
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পসমূহ বন্যার তীব্রতা হ্রাসকরণে অথবা বন্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বন্যার পানি নিষ্কাশনের উপায় হিসেবে ব্যবহূত হয়, যেগুলো শস্য উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুকূল অবস্থার সৃষ্টি করে।
- Bangladesh Water and Power Development Boards Order, 1972 (P. O. No. 59 of 1972) - এর অধীন প্রতিষ্ঠিত Bangladesh Water Development Board সংক্রান্ত বিধানাবলী রহিত করিয়া পানি সম্পদের উন্নয়ন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করা হয়।
- এই আইন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড আইন, ২০০০ নামে পরিচিত।

⇒ এফসিডিআই প্রকল্পের উদ্দেশ্য -
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ,
- পানি নিষ্কাশন ও
- সেচ প্রকল্প।

উৎস: বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর।
৪২৬.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় "সাড়াদান" ধাপের কাজ কী?
  1. ত্রাণ ও পুনর্বাসন
  2. আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ
  3. প্রশমন
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ত্রাণ ও পুনর্বাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রাণ ও পুনর্বাসন
ব্যাখ্যা
সাড়াদান:
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন।
- সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৭.
অস্ট্রেলিয়ার নিকটে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. উইলি উইলিস
  2. টাইফুন
  3. পাপাগ্যালোস
  4. বাগুই
সঠিক উত্তর:
উইলি উইলিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলি উইলিস
ব্যাখ্যা

ঘূর্নিঝড় (Cyclone):
- ঘূর্ণিঝড় মানে ঘূর্ণায়মান প্রচণ্ড বাতাস।
- সাইক্লোন শব্দটি সর্বপ্রথম প্রবর্তন করেন ক্যাপ্টেন হেনরী পিডিংটন ১৮৪৮ সালে।
- এর মূল উৎস হচ্ছে গ্রীক শব্দ 'কাইক্লোস' (Kyklos) যার অর্থ সাপের প্যাঁচ। 
- আমাদের দেশে সাইক্লোনকে কখনো কখনো আবার তুফানও বলা হয়। 
- ঘূর্ণিঝড়ের উৎস সমুদ্র। এজন্য একে সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় বলা হয়।

উল্লেখ্য, ঘূর্নিঝড়ের স্থানীয় নাম:
- উত্তর ভারত মহাসাগর: সাইক্লোন বা ট্রপিক্যাল সাইক্লোন (বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর)। 
- উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর: হারিকেন (Hurricane)। 
- উত্তর পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর: টাইফুন (Typhoon)। 
- অস্ট্রেলিয়ার নিকটে: উইলি উইলিস (Willy-willies)। 
- উত্তর-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর: পাপাগ্যালোস (Papagallos)। 
- ফিলিপাইনের নিকট: বাগুই (Baguios)। 
- মাদাগাস্কারের নিকট: ট্রোভাডোজ (Trovadoes)। 

উৎস: বাংলাদেশ ন্যাশনাল সায়েন্টিফিক এন্ড টেকনিক্যাল ডকুমেন্টেশন সেন্টার।

৪২৮.
বাংলাদেশের গড় বৃষ্টিপাত-
  1. ক) ২০৩ মিলিমিটার
  2. খ) ২৬০০ মিলিমিটার
  3. গ) ২৮০ মিলিমিটার
  4. ঘ) ২০৩০ মিলিমিটার
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২০৩০ মিলিমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২০৩০ মিলিমিটার
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশে বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত হয় ৮০%।
- জুন থেকে অক্টোবর মাসে সাধারণত বৃষ্টিপাত হয় ৭০ থেকে ৮০%
‌- সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় সিলেটের লালাখালে।
- সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয় নাটোরের লালপুরে।
- বাংলাদেশের গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার বা ২০৩০ মিলিমিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪২৯.
ভূমিকম্প সৃষ্টির প্রধান কারণ কোনটি?
  1. ক) পাহাড়ের ভূমিধ্বস
  2. খ) টেকটোনিক্স প্লেটের বিচলন
  3. গ) ভূত্বকের অভ্যন্তরে বিস্ফোরণ
  4. ঘ) পৃথিবীর ঘূর্ণন
সঠিক উত্তর:
খ) টেকটোনিক্স প্লেটের বিচলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) টেকটোনিক্স প্লেটের বিচলন
ব্যাখ্যা
প্লেট টেকটোনিক্স (Plate Tectonics): 
ভূতাত্ত্বিক মতবাদ অনুসারে ভূত্বক প্রধানত সাতটি বড় ও কয়েকটি ক্ষুদ্র গতিশীল কঠিন প্লেট দ্বারা গঠিত, যেগুলি নিম্নস্থ ভ্রাম্যমান উষ্ণ গুরুমন্ডলীয় পদার্থের ওপর ভাসছে। প্লেটের বিচলন (movement) ও পারস্পরিক ক্রিয়া ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত, পর্বত সৃষ্টি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য ভূতাত্ত্বিক ঘটনাবলীর নিয়ন্ত্রক বলে ধারণা করা হয়।

তিন ধরনের পারস্পরিক প্লেট সীমানার কথা জানা যায়। যথা: সমকেন্দ্রাভিমুখী সীমা, অপসারী সীমা ও পরিবর্তক চ্যুতি সীমা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৪৩০.
'সাড়াদান' বলতে কোন ধরনের কার্যক্রমকে বুঝায়?
  1. দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন পরিকল্পনা প্রণয়ন
  2. দুর্যোগের অব্যবহিত পরে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা
  3. দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলসমূহকে চিহ্নিতকরণ
  4. দুর্যোগ পূর্ব সময়ে উদ্ধার কার্যে ব্যবহৃত সরঞ্জাম সংগ্রহ
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের অব্যবহিত পরে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের অব্যবহিত পরে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
- দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে ও সংঘটনের অব্যবহিত পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদান যেমন- সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, প্রশমন উন্নয়ন, প্রতিরোধ, পূর্বপ্রস্তুতি কার্যক্রম সম্পাদন করা প্রয়োজন।

সাড়াদান (Response):
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন।
- সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩১.
২০১৩ সালে ঢাকার সাভারের রানা প্লাজা ধস কোন ধরনের দুর্যোগের উদাহরণ?
  1. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  2. মানবসৃষ্ট দুর্যোগ
  3. প্রযুক্তিগত দুর্যোগ
  4. জৈবিক দুর্যোগ
সঠিক উত্তর:
মানবসৃষ্ট দুর্যোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানবসৃষ্ট দুর্যোগ
ব্যাখ্যা
দুর্যোগের ধরণ: 
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলো প্রাকৃতিক কারণে সৃষ্ট বিপর্যয়, যেমন ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, নদীভাঙন এবং তুষারপাত।
- এসব দুর্যোগ প্রকৃতির অপ্রতিরোধ্য শক্তির কারণে ঘটে এবং মানবজীবন ও পরিবেশে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।

অপরদিকে,
- মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মানুষের কর্মকাণ্ড বা অবহেলার ফলে সৃষ্ট বিপর্যয়, যেমন যুদ্ধ, পারমাণবিক বিস্ফোরণ, রাসায়নিক দূষণ, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ ইত্যাদির মাধ্যমে ঘটে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৪৫ সালে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ এবং ২০১৩ সালে ঢাকার সাভারের রানা প্লাজা ধস উল্লেখযোগ্য মানবসৃষ্ট দুর্যোগ। উভয় ধরনের দুর্যোগই মানবজীবন ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

সূত্র: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইস এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪৩২.
BCCSAP-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan
  2. Bangladesh Climate Change System and Action Plan
  3. Bangladesh Coastal Climate Strategy and Action Plan
  4. Bangladesh Climate Control Strategy and Action Plan
সঠিক উত্তর:
Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan
ব্যাখ্যা

◉ BCCSAP এর পূর্ণরূপ হলো Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan. এটি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের জাতীয় কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা।

BCCSAP: 
​- BCCSAP-এর পূর্ণরূপ হলো Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan.
​- এটি বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০০৯ সালে প্রণীত একটি নীতিগত দলিল, এর উদ্দেশ্য জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় একটি সুসংগঠিত কৌশল নির্ধারণ করা। 
​- এই কর্মপরিকল্পনা ছয়টি মূল ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে গঠিত: খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, গবেষণা ও জ্ঞান ব্যবস্থাপনা, কম-কার্বন উন্নয়ন এবং প্রতিষ্ঠানগত সক্ষমতা বৃদ্ধি।
​- BCCSAP-এর আওতায় ৪৪টি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, এগুলো স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। 
​- এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।  

​সূত্র: International Climate Finance Cell ওয়েবসাইট।

৪৩৩.
নিচের কোনটি স্বল্পস্থায়ী প্রাকৃতিক দুর্যোগ?
  1. ক) বন্যা
  2. খ) ঘূর্ণিঝড়
  3. গ) টর্নেডো
  4. ঘ) কালবৈশাখী ঝড়
সঠিক উত্তর:
গ) টর্নেডো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) টর্নেডো
ব্যাখ্যা
- সাধারণত স্থলভাগে সৃষ্ট ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের অধিক হলে তা টর্নেডো হিসেবে অভিহিত।
- টর্নেডোর স্থায়ীত্বকাল থাকে খুবই স্বল্প সময়ের এবং এর পরিধিও ক্ষুদ্র এলাকায় ব্যাপ্ত থাকে। কিন্তু এর তাণ্ডবের মাত্রা থাকে অত্যধিক।
- টর্নেডো সৃষ্টির মুখ্য কারণ হলো স্থলভাগে নিম্নচাপের সৃষ্টি।
- স্থলভাগে নিম্নচাপ সৃষ্টির ফলে উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে শীতল ও ভারী বায়ু প্রবল বেগে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়ে টর্নেডোতে রূপ নেয়।
(তথ্যসূত্রঃ সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৩৪.
পাহাড়ি এলাকায় কোন ধরনের বন্যা দেখা যায়?
  1. ক) মৌসুমি বন্যা
  2. খ) আকস্মিক বন্যা
  3. গ) জোয়ারসৃষ্ট বন্যা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) আকস্মিক বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আকস্মিক বন্যা
ব্যাখ্যা
পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হতে দেখা যায়।

বাংলাদেশে সংঘটিত বন্যাকে তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়:
i) মৌসুমি বন্যা (monsoon flood) - এই বন্যা ঋতুগত, নদনদীর পানি ধীরে ধীরে উঠানামা করে এবং বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে;
ii) আকস্মিক বন্যা (flash flood) - আকস্মিক পাহাড়ি ঢল অথবা স্বল্প সময়ে সংঘটিত প্রবল বৃষ্টিপাত থেকে কিংবা প্রাকৃতিক অথবা মানবসৃষ্ট বাঁধ ভেঙে সংঘটিত হয়; 
iii) জোয়ারসৃষ্ট বন্যা (tidal flood): সংক্ষিপ্ত স্থিতিকাল বিশিষ্ট এই বন্যার উচ্চতা সাধারণত ৩ থেকে ৬ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে এবং ভূভাগের নিষ্কাশন প্রণালীকে আবদ্ধ করে ফেলে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৪৩৫.
কোনটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগের উদাহরণ?
  1. ঘূর্ণিঝড়
  2. অগ্ন্যুৎপাত
  3. নদীভাঙন
  4. অগ্নিকান্ড
সঠিক উত্তর:
অগ্নিকান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিকান্ড
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ:
- যে অবস্থা অস্বাভাবিক ও অসহনীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি, পরিবেশের ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটে তাই দুর্যোগ।
- এর ফলে বাহ্যিকভাবে ক্ষতিসাধন, জীবনহানি কিংবা পরিবেশগতভাবে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দেয়। 
 
• দুর্যোগ বিভিন্নভাবে ও বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। প্রধানত দুর্যোগ দুই ধরনের-
১/ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও
২/ মানবসৃষ্ট দুর্যোগ।
 
• প্রাকৃতিক দুর্যোগ:
- প্রাকৃতিক কারণে যে সকল দুর্যোগ সৃষ্টি হয়, সেগুলোকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ আকস্মিকভাবে ঘটে এবং সাধারণত এর উপর মানুষের কোন নিয়ন্ত্রন থাকে না।
- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন, সুনামি, আগ্নেয়গিরির, অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহ।
 
• মানবসৃষ্ট দুর্যোগ:
- মানুষের অসচেতনতা বা দূরদৃষ্টির অভাবে যে দুর্যোগ সৃষ্টি হয় তাকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে।
- মানুষের প্রাণহানি ঘটানোর পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
- যেমন- যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বনাঞ্চল ধ্বংস, পরিবেশ দূষণ, মরুকরণ, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি।
 
উৎস- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়; অষ্টম শ্রেণীর বোর্ড বই।

৪৩৬.
২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট সুনামি কতটি দেশে আঘাত হানে?
  1. ১১
  2. ১৩
  3. ১৫
  4. ১৪
সঠিক উত্তর:
১৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪
ব্যাখ্যা
২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে যে সুনামি সৃষ্টি হয়, তা এই মহাসাগরের আশেপাশে ১৪টি দেশে আঘাত হানে এবং মারাত্নক একটি দুর্যোগ সৃষ্টি করে।
উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণি, ভূগোল ও পরিবেশ
৪৩৭.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কোন ধরনের বিজ্ঞান?
  1. মানবিক বিজ্ঞান
  2. মনস্তাত্ত্বিক বিজ্ঞান
  3. ব্যবহারিক বিজ্ঞান
  4. তাত্ত্বিক বিজ্ঞান
সঠিক উত্তর:
ব্যবহারিক বিজ্ঞান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যবহারিক বিজ্ঞান
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হচ্ছে একটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান যার আওতায় যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগ সাড়াদল ও পুনরুদ্ধার ইত্যাদি কার্যক্রম কে বুঝায়।

-এটি একটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান। 

-দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য তিনটি। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৪৩৮.
নিচের কোনটি বন্যার মানব সৃষ্ট কারণ-
  1. ক) মূল নদীর গভীরতা কম
  2. খ) ভূমিকম্প
  3. গ) অপরিকল্পিত নগরায়ন
  4. ঘ) ভৌগােলিক অবস্থান
সঠিক উত্তর:
গ) অপরিকল্পিত নগরায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অপরিকল্পিত নগরায়ন
ব্যাখ্যা

মানবসৃষ্ট কারণঃ
১) নদী অববাহিকায় ব্যাপক বৃক্ষ কর্তন।
২) গঙ্গা নদীর উপর নির্মিত ফারাক্কা বাঁধ।
৩) অন্যান্য নদীতে নির্মিত বাঁধের প্রভাব।
৪) অপরিকল্পিত নগরায়ণ।

৪৩৯.
বাংলাদেশের সাইক্লোন শেল্টারের পূর্ব নাম-
  1. ক) মুজিব বাসস্থান
  2. খ) মুজিব ঢিবি
  3. গ) মুজিব আশ্রায়ণ
  4. ঘ) মুজিব কেল্লা
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুজিব কেল্লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুজিব কেল্লা
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সাইক্লোন শেল্টারের পূর্ব নাম মুজিব কেল্লা।
- দেশে বর্তমানে প্রায় ১৮৪১টি সাইক্লোন শেল্টার আছে।

উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক পত্রিকা।
৪৪০.
আটলান্টিক ও উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়গুলো কী নামে পরিচিত?
  1. সাইক্লোন
  2. টাইফুন
  3. হারিকেন
  4. উইলি উইলি
সঠিক উত্তর:
হারিকেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হারিকেন
ব্যাখ্যা
হারিকেন:
- সাধারণত আটলান্টিক ও উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়গুলোকে হ্যারিকেন নামে অভিহিত করা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কিউবা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে হারিকেন আঘাত করে।
- এটি প্রতি ঘন্টায় ১১৯ কিলোমিটার (৭৪ মাইল প্রতি ঘন্টা) বেগে প্রবাহিত হয়।
- একটি হ্যারিকেন থেকে ভারী বৃষ্টি এবং বন্যা হতে পারে।
- সাফির -সিম্পসন হারিকেন উইন্ড স্কেল হল ১ থেকে ৫ রেটিং বা বিভাগ, হারিকেনের সর্বাধিক স্থায়ী বাতাসের উপর ভিত্তি করে।
- ক্যাটাগরি যত বেশি, হারিকেনের সম্পত্তির ক্ষতির সম্ভাবনা তত বেশি।

অন্যদিকে -
- বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় 'সাইক্লোন' হিসেবে পরিচিত। সাইক্লোনের কারণে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতে প্রচুর জানমালের ক্ষতি হয়।
- উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় 'টাইফুন'। চীন, তাইওয়ান, ফাইলিপাইন ও জাপানে প্রায় প্রতি বছরই টাইফুনের কারণে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়।
- অস্ট্রেলিয়ার উপকূলের ঘূর্ণিঝড়কে উইলি উইলি বলা হয়।

উৎস: i) NASA ওয়েবসাইট।
ii) NOAA ওয়েবসাইট।
৪৪১.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আমাদের দেশে কর্মরত বেসরকারি সংস্থা-
  1. ক) Christian Commission for Development in Bangladesh
  2. খ) Bangladesh Disaster Preparedness Centre
  3. গ) Caritas Bangladesh
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আমাদের দেশে কর্মরত বেসরকারি সংস্থাসমূহ যেমনঃ প্রশিকা, সিসিডিবি, বিডিপিসি, কারিতাস, অক্সফাম, কেয়ার বাংলাদেশ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
৪৪২.
নিচের কোনটি মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ? 
  1. অগ্ন্যুৎপাত
  2. ভূমিকম্প
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. অগ্নিকান্ড
সঠিক উত্তর:
অগ্নিকান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিকান্ড
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ (Disaster):
- একটি বিপর্যয় যখন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের বেশির ভাগ মানুষকে বিপদাপন্ন করে তুলে এবং তাদের নিজস্ব মোকাবিলা ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তখন তাকে দুর্যোগ বলে।
- বিশ্বব্যাপী দুর্যোগসমূহের প্রকারভেদ: পৃথিবীর যে কোনো দেশে দুই ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হয়।
 যেমন:
ক)প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও
খ) মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ।

• প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়। যেমন: অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি।
• মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ বলতে মানব কর্মকান্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়। যেমন: জলাবদ্ধতা, অগ্নিকান্ড, রাসায়নিক দূষণ, যুদ্ধ।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪৩.
বাংলাদেশে সবচেয়ে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয় কবে?
  1. ক) ১৯৬১ সাল
  2. খ) ১৯৭০ সাল
  3. গ) ১৯৮৮ সালে
  4. ঘ) ১৯৯১ সাল
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৭০ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৭০ সাল
ব্যাখ্যা
১৯৬০ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত বাংলাদেশে ৫০টির অধিক সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে।
- এর মধ্যে সবচেয়ে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ছিলো ১৯৭০ সালে আঘাত হানা সাইক্লোন। এতে প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষ মারা যায়।
- এছাড়াও ১৯৬১, ১৯৬৩, ১৯৬৫, ১৯৮৫, ১৯৯১, ২০০৭ ও ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ও ব্যাপক মাত্রার ছিলো। ১৯৯১ সালে সংঘটিত ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ ছিলো ঘণ্টায় ২২৫ কিমি।

(তথ্যসূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৪৪.
দুর্যোগ প্রশমন বলতে কী বোঝায়? 
  1. দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধার অভিযান
  2. আবহাওয়ার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ
  3. দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস
  4. দুর্যোগ পরবর্তী ত্রাণ বিতরণ
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ প্রশমন (Mitigation): 
- দীর্ঘ সময়ব্যাপী নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহন করাকে দুর্যোগ প্রশমন বলে। 
- মজবুত পাকা ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল অবলম্বন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত।
- দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল হলেও সরকার সীমিত সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন ইত্যাদি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪৫.
নিম্নের কোন দেশ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে মরুকরণের ঝুঁকিতে রয়েছে?
  1. জিম্বাবুয়ে
  2. মোজাম্বিক
  3. ভারত
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• বৈশ্বিক উষ্ণায়ন:
- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে। 
- এগুলো হলো: মরুকরণ, বন্যা, ঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা।
- সেই তালিকার ৫টি ভাগের একটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণসহ ৩টিতে নাম আছে বাংলাদেশের। 
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বাংলাদেশ।

বৈশ্বিক ঝুঁকিতে থাকা পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ১২টি করে দেশের তালিকা:
• বন্যা:
- বাংলাদেশ, চীন, ভারত, কম্বোডিয়া, মোজাম্বিক, লাওস, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, বেনিন, রুয়ান্ডা।

• ঝড়:
- ফিলিপাইন, বাংলাদেশ, মাদাগাস্কার, ভিয়েতনাম, মলডোভা, মঙ্গোলিয়া, হাইতি, সামোয়া, টোঙ্গা, চীন, হন্ডুরাস, ফিজি।

• মরুকরণ:

- মালাউয়ি, ইথিওপিয়া, জিম্বাবুয়ে, ভারত, মোজাম্বিক, নাইজার, মৌরিতানিয়া, ইরিত্রিয়া, সুদান, শাদ, কেনিয়া, ইরান।

• সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি:
- সব নিচু দ্বীপদেশ, ভিয়েতনাম, মিসর, তিউনিসিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মৌরিতানিয়া, মেক্সিকো, চীন, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, সেনেগাল, লিবিয়া।

• কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা:
- সুদান, সেনেগাল, জিম্বাবুয়ে, মালি, জাম্বিয়া, নাইজার, মরক্কো, ভারত, মালাউয়ি, আলজেরিয়া, ইথিওপিয়া, পাকিস্তান।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৪৬.
আরব মরুভূমিতে প্রবাহিত বায়ুর নাম-
  1. ক) টাইফুন
  2. খ) খামসিন
  3. গ) সাইমুম
  4. ঘ) সিরোক্কো
সঠিক উত্তর:
গ) সাইমুম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাইমুম
ব্যাখ্যা

• তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে ভূ-পৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানে উৎপত্তি হয় স্থানীয় বায়ুর।
• কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহরণঃ
- আরব মরুভূমিতে সাইমুম।
- ভারতীয় উপমহাদেশের লু।
- উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরক্কো।
- মিশরের খামসিন।
- আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৪৭.
মানবসৃষ্ট আপদ হলো -
  1. নদী ভাঙ্গন
  2. বন্যা
  3. নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা
  4. ক ও গ
সঠিক উত্তর:
নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা
ব্যাখ্যা
আপদ (Hazard):

‘‘আপদ (Hazard) ’’ অর্থ এমন কোন অস্বাভাবিক ঘটনা যাহা প্রাকৃতিক নিয়মে, কারিগরি ত্রুটির কারণে অথবা মানুষের দ্বারা সৃষ্ট হইয়া থাকে এবং ফলস্বরূপ বিপর্যয় সংঘটনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপদ ও হুমকির মধ্যে নিপতিত করে এবং জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজনীয় উপাদানসমূহের ভয়াবহ ও অপূরণীয় ক্ষতিসহ দুঃখ দুর্দশার সৃষ্টি করে।

• আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা - যা প্রাকৃতিক, মানব সৃষ্ট বা কারিগরি ক্রটির কারণে ঘটতে পারে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- সব চরম ঘটনাই হচ্ছে আপদ।
• প্রাকৃতিক আপদ হল- ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, বজ্রঝড়, টর্ণেডো, বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি, খরা, নদী ভাঙ্গন ইত্যাদি।
মানবসৃষ্ট আপদ হল- ভবনধ্বস, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি।
• কারিগরি আপদ হল- বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ড, শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা, পারমানবিক দুর্ঘটন ইত্যাদি। 
- মনে রাখতে হবে - ‘আপদ দুর্যোগ নয়, বরং দুর্যোগের সম্ভাব্য কারণ’।
- দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প,বন্যা ইত্যাদির প্রাথমিক এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অবকাঠামোর উপর যার পুনঃনির্মাণ খুব ব্যয়বহুল কাজ।

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২
৪৪৮.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়?
  1. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে
  2. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে
  3. উত্তর- পূর্বাঞ্চলে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
['ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়' এর তথ্যমতে অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হযউত্তর- পূর্বাঞ্চলে যা ভুল। বাংলাপিডিয়া এর তথ্যমতে, সাম্প্রতিক দশকগুলিতে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম (বরেন্দ্রভূমি) অঞ্চলে খরার ঘন ঘন প্রাদুর্ভাব ওই এলাকার একটা বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সঠিক উত্তর হবে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল। অপশন অনুযায়ী উত্তর হবে "কোনটি নয়"।] 

অনাবৃষ্টি ও খরা:

- কোনো এলাকা দীর্ঘদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে উক্ত এলাকাটির মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে। ফলে, উক্ত এলাকার মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় ও ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়। মাটির এরূপ অবস্থাকে খরা বলা হয়।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে  অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়।
- খরা উপদ্রুত অঞ্চলে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়।
- উপদ্রুত অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গিয়ে পানির অভাব দেখা দেয়।
- পর্যাপ্ত ফসলের অভাবে খাদ্যদ্রব্যের অভাব প্রকট হয়ে পড়ে।
- গাছপালা বিহীন শুষ্ক প্রকৃতি ও তীব্র গরমে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের অসুখের প্রাদুর্ভাব ঘটে।
- বনজ সম্পদ বৃদ্ধি তথা অধিক বৃক্ষরোপন করে ও ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগকে কিছুটা নিয়ন্ত্রন করা যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৯.
'বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত এবং আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ' দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের কোন পর্যায়ের অংশ?
  1. পূর্বপ্রস্তুতি
  2. পুনরুদ্ধার
  3. উন্নয়ন
  4. প্রতিরোধ
সঠিক উত্তর:
প্রতিরোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিরোধ
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান।
- সুতরাং দুর্যোগকে কার্যকরভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
- দুর্যোগ সংঘটনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।

⇒ পূর্বপ্রস্তুতি:
- পূর্ব প্রস্তুতি বলতে দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে দুর্যোগের পূর্বেই ব্যবস্থা গ্রহণকে বোঝায়। ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠিকে চিহ্নিতকরণ, দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রনয়ণ, জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সম্পদের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, ড্রিল বা পথ নাটক অভিনয় এবং রাস্তাঘাট, যানবাহন, বেতার যন্ত্র, টর্চ-ব্যাটারি ও প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র ইত্যাদি দুর্যোগের পূর্বে প্রস্তুত রাখা দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতির অন্তর্ভুক্ত।

প্রতিরোধ:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহন, যেমন- বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত স্কুল ও ঘরবাড়ি নির্মাণ, নদী খনন ইত্যাদি বুঝায়। কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন যথেষ্ট ব্যয়বহুল, যা বাংলাদেশের ন্যায় উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে বৈদেশিক সাহায্য ব্যতীত তৈরি করা কষ্টসাধ্য। অপরদিকে, অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ যেমন- দুর্যোগ মোকাবিলার প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম অপেক্ষাকৃত স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।

⇒ প্রশমন:
- দীর্ঘ সময়ব্যাপী নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহন করাকে দুর্যোগ প্রশমন বলে। মজবুত পাকা ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল অবলম্বন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত। দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল হলেও সরকার সীমিত সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন ইত্যাদি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

⇒ সাড়াদান:
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন। সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

⇒ পুনরুদ্ধার:
- :দুর্যোগের ফলে জৈব ও অজৈব সকল সম্পদ, প্রাকৃতিক পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদি খাতে যে ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়, পুন:নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকেই পুনরুদ্ধার বলা হয়। এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাহায্য ও সহায়তা প্রয়োজন হয়।

⇒ উন্নয়ন:
- দুর্যোগে বিপর্যস্ত এলাকাকে পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার অব্যবহিত পর উক্ত এলাকার ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহন করা আবশ্যক।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫০.
কার্যকরভাবে কোন দুর্যোগ মোকাবেলার ক্ষমতা হচ্ছে -
  1. ক) প্রশমন
  2. খ) পূর্ব প্রস্তুতি
  3. গ) সক্ষমতা
  4. ঘ) কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
গ) সক্ষমতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সক্ষমতা
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়  ঝুঁকি, বিপদাপন্নতা ও সক্ষমতা সম্পর্কে জানা প্রয়োজন ।

ঝুঁকি (Risk): আপদ, বিপদাপন্ন জনগোষ্ঠী এবং পরিবেশ- এ তিন উপাদানের নেতিবাচক সংমিশ্রণের ফলে সৃষ্ট ক্ষতিকর প্রভাবের আশঙ্কাই হলো ঝুঁকি ।
ঝুঁকি = বিপদাপন্নতা x আপদ/সক্ষমতা

বিপদাপন্নতা বা নাজুকতা (Vulnerability): হলো কোন ব্যক্তি, পরিবার বা জনগোষ্ঠীর এক বা একাধিক সুনির্দিষ্ট আপদে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা এবং ঐ আপদ সংঘটনের ফলে জনগোষ্ঠীর ও ব্যক্তির জীবন যাপনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাব্য মাত্রা।

সক্ষমতা (Capacity): কার্যকরভাবে কোন দুর্যোগ মোকাবেলার ক্ষমতাকেই সক্ষমতা বলে। সক্ষমতা হচ্ছে আগাম প্রস্ততি অথবা পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করার মতো জ্ঞান বা দক্ষতা তৈরি করা।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, বিএড প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫১.
নিচের কোনটি বন্যার মানবসৃষ্ট কারণ নয়?
  1. বনজ সম্পদ ধ্বংস করা
  2. নিম্নচাপের ফলে ভারী বর্ষণ
  3. খাল ও নালা ভরাট করা
  4. উজানে বাঁধ নির্মাণ
সঠিক উত্তর:
নিম্নচাপের ফলে ভারী বর্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিম্নচাপের ফলে ভারী বর্ষণ
ব্যাখ্যা

বন্যা:
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কুল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- বন্যার কারণ ২টি।
• প্রাকৃতিক কারণ।
• মানবসৃষ্ট কারণ।

⇒ প্রাকৃতিক কারণ:
- বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি,
- ভৌগোলিক অবস্থান, ভূমিরূপের গঠন ও প্রকৃতি,
- পাহাড়ি বরফগলা পানি,
- নদীর আকাবাঁকা গতিপথ,
- নিম্নচাপের ফলে ভারী বর্ষণ,
- বর্ষা মৌসুমে নদীর অতিরিক্ত পানি,
- নদীর পানি প্রবাহ ক্ষমতা কমে যাওয়া,
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে জলবায়ুর পরিবর্তন প্রভৃতি।

⇒ মানবসৃষ্ট কারণ:
- নদীর গতিপথে বাধা প্রদান,
- খাল ও নালা ভরাট করে ফেলা,
- অপরিকল্পিতভাবে রাস্তাঘাট নির্মাণ,
- নদীর তলদেশ ভরাট করে ফেলা,
- বনজ সম্পদ ধ্বংস করা,
- প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে অপরিকল্পিতভাবে নদীশাসন করা,
- উজানে পানি প্রত্যাহার বা বাঁধ নির্মাণ,
- পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অপ্রতুলতা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - ভুগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫২.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের মূখ্য উপাদান কোনটি?
  1. প্রশমন
  2. সাড়াদান
  3. পুনরুদ্ধার 
  4. উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
প্রশমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশমন
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (Disaster Management):
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হচ্ছে এরূপ একটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান যার আওতায় পড়ে যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার ইত্যাদি কার্যক্রম।

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উপাদান:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ,
- দুর্যোগ প্রশমন এবং
- দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি 
- সাড়াদান,
- পুনরুদ্ধার 
- উন্নয়ন। 
- প্রতিরোধ, প্রশমন, পূর্বপ্রস্তুতি হলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূখ্য উপাদান।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৪৫৩.
কোন তরঙ্গ ভূমিকম্পের সময় প্রথম উপকেন্দ্রে পৌঁছায়?
  1. P তরঙ্গ
  2. S তরঙ্গ
  3. L তরঙ্গ
  4. T তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
P তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
P তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

প্রাথমিক তরঙ্গ (Primary Wave):
- সংক্ষেপে প্রাথমিক তরঙ্গকে P Wave বা P তরঙ্গ বলে। সর্বপ্রথম P তরঙ্গ ভূমিকম্প কেন্দ্র হতে ভূ-কম্পলেখ যন্ত্রে অর্থাৎ উপকেন্দ্রে এসে পৌঁছে বলে একে প্রাথমিক তরঙ্গ বলে।
- এটি মাটির মধ্য দিয়ে সোজা পথে গমন করে এবং তরঙ্গের গতিবেগ ঘনত্বের সাথে সমানুপাতিক।
 - মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের উপরিভাগে এর গতিবেগ ৬.১ কি.মি/সেকেন্ড, মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের নিম্নভাগে এর গতিবেগ ৬.৯ কি.মি/সেকেন্ড এবং - সামুদ্রিক ভূ-ত্বকে এর গতিবেগ ৮ কি.মি/সেকেন্ড।
- অপরদিকে পৃথিবীর কেন্দ্রে অর্থাৎ ম্যান্টল এ এর গতিবেগ ১১ কি.মি/সেকেন্ড। প্রাথমিক তরঙ্গ সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে বস্তুকে আন্দোলিত করে এবং শিলায় সামান্য পরিমাণে স্থান পরিবর্তন হয়।

গৌণ তরঙ্গ (Secondary Wave):
- গৌণ তরঙ্গকে S Wave বা দ্বিতীয় পর্যায়ের তরঙ্গ বলে। প্রাথমিক তরঙ্গের পরে  দ্বিতীয় পর্যায়ের তরঙ্গ ভূমিকম্প তরঙ্গ কেন্দ্র হতে ভূ-কম্পলেখ যন্ত্রে এসে পৌঁছে।
 - প্রাথমিক তরঙ্গ হতে এর পার্থক্য হলো এটি প্রাথমিক তরঙ্গের তুলনায় ধীরগতি সম্পন্ন এবং এটি তরল মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যেতে পারে না।
S তরঙ্গ বস্তুকে সামনে পিছনে সমকোণে দোলাতে থাকে এবং দালানের কাঠামোর জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতির কারণ হয়।

পৃষ্ঠ তরঙ্গ (Surface Wave):
- পৃষ্ঠ তরঙ্গকে দীর্ঘ তরঙ্গ বা Long Wave বলে।
- এই তরঙ্গ সবচেয়ে কম গতিবেগ সম্পন্ন।
 - Long Wave বা পৃষ্ঠ তরঙ্গের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পৃষ্ঠ তরঙ্গ শুধুমাত্র পৃথিবীর উপরিভাগ বা বহিরাবরণ দিয়ে চলতে পারে।
 - এর গতিবেগ অত্যন্ত কম মাত্র ৪.৮-৬.২ কি.মি/সেকেন্ড।
 - এই তরঙ্গও গৌণ তরঙ্গ বা S তরঙ্গের ন্যায় তরল মাধ্যমে চলাচল করতে পারে না।

উল্লেখ্য,
কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র (Epicentre) বলে 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫৪.
কত সাল থেকে ভূমিকম্প সংক্রান্ত রেকর্ড সংগৃহীত হয়?
  1. ক) ১৫৪৮
  2. খ) ১৪৪৮
  3. গ) ১৮৪২
  4. ঘ) ১৯৭৮
সঠিক উত্তর:
ক) ১৫৪৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৫৪৮
ব্যাখ্যা
১৫৪৮ সাল থেকেই বাংলাদেশ এবং তৎসংলগ্ন অঞ্চলে ভূমিকম্প সংক্রান্ত রেকর্ড সংগৃহীত শুরু হয়। ভূমিকম্পের কেন্দ্র উপকেন্দ্রের সঙ্গে তিন ধরনের পরিমাপ সম্পর্কযুক্ত। অগভীর কেন্দ্র (০-৭০ কিলােমিটার), মধ্য পর্যায়ের কেন্দ্র (৭০- ৩০০ কিলােমিটার) এবং গভীর কেন্দ্র (১,৩০০ কিলােমিটার)। সুতরাং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে উপকেন্দ্র না থাকলেও সংলগ্ন অঞ্চলে ভূমিকম্প হলে তার প্রভাব হিসেবে বাংলাদেশেও ভূকম্পন অনুভূত হয়। (রেফারেন্সঃ বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর)
৪৫৫.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের কোন স্তরটি বেশি ব্যয়বহুল?
  1. সাড়াদান
  2. পুনরুদ্ধার
  3. পূর্বপ্রস্তুতি
  4. প্রশমন
সঠিক উত্তর:
প্রশমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশমন
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্ৰান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
- দুর্যোগ কালীন সময়ে ও সংঘটনের অব্যবহিত পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদান যেমন- সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, প্রশমন উন্নয়ন, প্রতিরোধ, পূর্বপ্রস্তুতি কার্যক্রম সম্পাদন করা প্রয়োজন।

প্রশমন (Mitigation):
- দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ী হ্রাস এবং দুর্যোগ পূর্ব প্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে।
- দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল হয়ে থাকে।
- বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন ইত্যাদি কার্যক্রমের মাধ্যমে দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ী হ্রাস করা যায়।
- তবে মজবুত পাকা ভবন নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল নির্ধারণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শক্ত অবকাঠামো নির্মাণ, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর; প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৫৬.
ভূ-অভ্যন্তরের আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে কোন ধরনের দুর্যোগটি সংঘটিত হয়?
  1. ক) কালবৈশাখি ঝড়
  2. খ) বন্যা
  3. গ) নদী ভাঙন
  4. ঘ) অগ্ন্যুৎপাত
সঠিক উত্তর:
ঘ) অগ্ন্যুৎপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অগ্ন্যুৎপাত
ব্যাখ্যা
• ভূ-অভ্যন্তর উত্তপ্ত বলে প্রচণ্ড তাপ ও চাপের যে তারতম্য হয়, তাতে ভূ-অভ্যন্তরে প্রচন্ড শক্তির সৃষ্টি হয় এবং ভূ-ত্বকের আকস্মিক ও ধীর পরিবর্তন হয়।
• ভূ-অভ্যন্তরের আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত প্রভৃতি হয়ে থাকে।
• এসব দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়ায় দূষণের উদ্ভব হতে পারে। যেমন- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে গ্রাম, শহর ও জনপদ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে, ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে পম্পেই নগর লাভার নিচে চাপা পড়ে। এছাড়া ছাই, ভস্ম ইত্যাদি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে বাতাস দূষিত করে তোলে।
• আবার ভূমিকম্পের ফলে বহু মানুষ, জীবজন্তু মারা যায় এবং ঘরবাড়ি বিনষ্ট হয়। মৃতদেহসমূহ দ্রুত সরাতে না পারলে তা পচে দুর্গন্ধ এবং রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বায়ু, পানি এবং মৃত্তিকা দূষণ
দেখা দেয়। সুতরাং বলা যায় যে, ভূ-অভ্যন্তরস্থ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট দুর্যোগসমূহ দূষণের কারণ হিসেবে কাজ করে।   

তথ্যসূত্র:- ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৭.
নিম্নের কোনটি ধীর গতিসম্পন্ন দুর্যোগের উদাহরণ?
  1. খরা
  2. অগ্ন্যুৎপাত
  3. বজ্রপাত
  4. ভূমিকম্প
সঠিক উত্তর:
খরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খরা
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ (Disaster):
- উৎপত্তিগতভাবে দুর্যোগ বলতে এমন একটি অবস্থা বুঝায় যা মানুষকে মন্দ বা অকল্যাণকর পরিস্থিতির সম্মুখীন করে।
- এসব দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মানুষকে অনেক মূল্য দিতে হয়।
- দুর্যোগ কখনো হঠাৎ সংঘটিত হয় আবার কখনো বা এক বা একাধিক ঘটনা ধীরে ধীরে দুর্যোগ সৃষ্টি করতে পারে।
- আবার অনেক সময় একটি দুর্যোগ একাধিক দুর্যোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যেমন- ভূমিকম্প থেকে সুনামি হতে পারে।

দুর্যোগের ধরণ:
দুর্যোগ দুই ধরনের হতে পারে। যথা- ধীর গতিসম্পন্ন দুর্যোগ এবং দ্রুত গতিসম্পন্ন দুর্যোগ।

১. ধীর গতিসম্পন্ন দুর্যোগ (Slow Onset Disaster):
- ধীর গতিসম্পন্ন দুর্যোগ হলো এমন একটি অবস্থা, যা মানুষের খাদ্য ও জীবিকানির্বাহের পণ্যসামগ্রী সংগ্রহের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত হয়।
- যেমন- খরা, শস্যহানি, কৃষিক্ষেতে পোকামাকড়ের আক্রমণ ইত্যাদি।
- এ ধরনের দুর্যোগ সহজেই চিহ্নিত করা যায় বলে তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা যায়।

২. দ্রুত গতিসম্পন্ন দুর্যোগ (Rapid Disaster):
- এ ধরনের দুর্যোগ আকস্মিক ঘটে থাকে বলে তা সহজে প্রতিরোধ করা যায় না।
- দ্রুত গতিসম্পন্ন দুর্যোগের ফলে মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং জীবন ও সম্পদহানি ঘটে। যেমন- ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৮.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান কয়টি পর্যায় রয়েছে?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
দুইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুইটি
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র বলতে দুর্যোগ মোকাবেলার সাথে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত পর্যায়গুলোকে বুঝানো হয়ে থাকে।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রকে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-

ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়:- দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং প্রশমন। এই ৩টি কার্যক্রম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান ।

খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়:- দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন।

• সুতরাং দুর্যোগকে কার্যত মুকাবেলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
• দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।
• অতীতে দুর্যোগে সাড়াদানকেই সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। লিঙ্ক]
৪৫৯.
স্পারসো কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭৫ সালে
  2. ১৯৭৭ সালে
  3. ১৯৮০ সালে
  4. ১৯৮৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮০ সালে
ব্যাখ্যা

স্পারসো:
- বাংলাদেশ  মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) প্রযুক্তি ভিত্তিক বহুমাত্রিক গবেষণা ও প্রয়োগ বিষয়ে একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান।
- প্রতিষ্ঠানটির ম্যান্ডেট হচ্ছে- কৃষি, বন, মৎস্য, ভূতত্ত্ব, মানচিত্র অংকন, পানি সম্পদ, ভূমি ব্যবহার, আবহাওয়া, পরিবেশ, ভূগোল, সমুদ্র বিজ্ঞান, শিক্ষা এবং জ্ঞান ও বিজ্ঞানের অন্যান্য ক্ষেত্রে মহাকাশ ও দূর অনুধাবন প্রযুক্তিকে শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবহার করা এবং উক্ত প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহারিক প্রয়োগের জন্য গবেষণা কাজ পরিচালনা করা।
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের অধীন স্পারসো প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৯৮০ সালে।
- প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন স্থানান্তর করা হয়: ১৯৮৫ সালে।
- ১৯৯৫ সালে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে মহাকাশ সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য স্পারসোকে “ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট” নির্ধারণ করা হয়।
- প্রধান উদ্দেশ্য: প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিবীক্ষণ ও পূর্বাভাস প্রদান করা।
- মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি, বন, সমুদ্রবিজ্ঞান, মহাকাশ ও বায়ুমন্ডল, পানিসম্পদ বিষয়ে গবেষণার দ্বারা নিজস্ব সক্ষমতা উন্নীতকরণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালীকরণ।

তথ্যসূত্র - স্পারসো অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

৪৬০.
গত ০৬/০২/২০২৩ তারিখ সিরিয়া-তুরস্কে সংঘটিত ভূ-কম্পনের উৎপত্তিস্থল কোনটি?
  1. Damascus
  2. Gaziantep
  3. Izmir
  4. Istanbul
সঠিক উত্তর:
Gaziantep
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Gaziantep
ব্যাখ্যা
• তুরস্ক ও সিরিয়ার ভূমিকম্প:

- ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ভোরে তুরস্ক ও সিরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।
- রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮। যার উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ১৭.৯ কিলোমিটার।
- সিরিয়া সীমান্তের কাছে তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় গাজিয়ানটেপ এলাকায় ভূ-কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল।
- তুরস্কের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এমন মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি।
- আর সিরিয়ায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক এল-মোস্তাফা বেনলামিল জানিয়েছেন, দেশটিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক কোটির বেশি মানুষ।

তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথম আলো।
৪৬১.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিচের কোনটি তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল?
  1. বেরিবাঁধ নির্মাণ
  2. গণসচেতনতা বৃদ্ধি
  3. নদী শাসন
  4. আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি
সঠিক উত্তর:
গণসচেতনতা বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণসচেতনতা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব না হলেও যথাযথ ব্যবস্থাপনার দ্বারা এর ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। এ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কাঠামোগত ও অকাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
- কাঠামোগত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা যেমন: বেরিবাঁধ নির্মাণ, আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি খুবই ব্যয়বহুল।
অন্যদিকে,
- গণসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ প্রদান প্রভৃতি অকাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল যা দরিদ্র দেশগুলোর জন্যে উপযোগী।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৬২.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান -
  1. প্রশমন
  2. পূর্বপ্রস্তুতি
  3. প্রতিরোধ
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান ৩টি।
- যথা- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি।
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্ৰান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
- দুর্যোগ সংঘটনকালীন ও পরবর্তী সময় সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, প্রশমন, উন্নয়ন, প্রতিরোধ, এবং পূর্বপ্রস্তুতি কার্যক্রম কার্যকরভাবে পরিচালনা করা হয়।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য তিনটি। এগুলো হলো:
(১) দুর্যোগকালিন সময়ে জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো বা পরিমাণ হ্রাস করা;
(২) দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে দ্রুত প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছানো ও পূর্ণবাসন নিশ্চিত করা এবং
(৩) দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ সুষ্ঠুরূপে সম্পন্ন করা।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 
৪৬৩.
নিম্নের কোন দুর্যোগটি বাংলাদেশের জনগণের জীবিকা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে?
  1. ভূমিকম্প
  2. সমুদ্রের জলস্তরের বৃদ্ধি (Sea level rise)
  3. ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস
  4. খরা বা বন্যা
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের জলস্তরের বৃদ্ধি (Sea level rise)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের জলস্তরের বৃদ্ধি (Sea level rise)
ব্যাখ্যা
সমুদ্রের জলস্তরের বৃদ্ধি (Sea level rise) দুর্যোগটি বাংলাদেশের জনগণের জীবিকা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।

সমুদ্রের জলস্তরের বৃদ্ধি:
- বাংলাদেশের উপকূল (৭১৬ কি.মি.) অঞ্চল সমুদ্র সমতলের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙন ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ দ্বারা অনবরত ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
- ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত অসংখ্য নিম্নআয়ের মানুষ প্রতিনিয়ত নানা ধরনের দুর্যোগ দ্বারা বিপদাপন্ন অবস্থায় পতিত হচ্ছে।

লবণাক্ততা বৃদ্ধি:
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- লবণাক্ততার কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি অংশের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা বদলে যাচ্ছে।
- বিগত তিন দশকে খুলনা জেলায় লবণাক্ততা বেড়েছে সবচেয়ে বেশি, ২১ শতাংশ।
- খুলনার পরেই বাগেরহাট।
- সেখানে লবণাক্ততা বেড়েছে ১৫.৮৮ শতাংশ।
- নড়াইল, যশোর ও গোপালগঞ্জে লবণাক্ততা একেবারেই ছিলনা।
- অথচ সেখানকার জমিতেও লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- উপকূল এবং তীরবর্তী এলাকায় ১৪ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় লবণাক্ত মাটি রয়েছে।
- এ অবস্থায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৪৫ সেন্টিমিটার বাড়লে লবণাক্ততা আরো ভিতরের দিকে আসবে এবং কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে।
- লবণাক্ততা বর্ষা মৌসুমে ১০ শতাংশ থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে তা বেড়ে ৪০ শতাংশ হয় (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ২০২০)।
- লবণাক্ততা বাংলাদেশে ক্রমেই বাড়ছে।
- ১৯৭৩ সালে লবণাক্ততাপূর্ণ অঞ্চল ছিল ৮৩.৩ মিলিয়ন হেক্টর, ২০০০ সালে ১০২ মিলিয়ন হেক্টর এবং ২০০৯ সালে ১০৫.৬ মিলিয়ন হেক্টর এবং ২০১৯ সালে ১০৯.৮ মিলিয়ন হেক্টর (ইউএসবি এবং আইপিএস রিপোর্ট, ২০২০)।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এবং জোয়ারের উচ্চতা বৃদ্ধি:
- ধারণা করা হয় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে।
- ফলশ্রুতিতে উপকূলীয় অঞ্চলে ভাঙনও বৃদ্ধি পেয়েছে।
- সমুদ্র ভাঙনের কবলে পড়ে কুতুবদিয়া ও সন্দ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকা সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
- পূর্ব হিমালয় অঞ্চলে বছরে যত পানি প্রবাহিত হয় তার ৯০ শতাংশের অধিক বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়ে।
- ইউএনডিপি ২০১৯ এর রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৮ সালে চরচঙ্গা স্টেশন হাতিয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়েছে ৫.৭৩ মিলিমিটার এবং একই সময়ে হিরণ পয়েন্টে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়েছে ৩.৩৮ মিলিমিটার।

উৎস: i) বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ স্টাডিজ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৪.
'দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী' প্রণয়ন করা হয় কত সালে?
  1. ২০১৫ সালে
  2. ২০১৯ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০২০ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১৯ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
⇒ বাংলাদেশ সরকারের 'দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী' প্রণয়ন করা হয় - ২০১৯ সাল। 

উল্লেখ্য
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: বাংলাদেশে প্রায়শই ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, নদীভাঙন, শৈত্যপ্রবাহ ও বজ্রপাতসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবেলা করতে হয়।
- বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দুর্যোগের তীব্রতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই বাংলাদেশের জাতীয় নীতি, পরিকল্পনা, এবং বিভিন্ন কর্মসুচি প্রণয়নে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে
- বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় রয়েছে-
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২,
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০১৫, 
- জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ২০২১-২৫,
- জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা - ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৬৫.
নিচের কোনটি বিশ্বব্যাংকের মতে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ দেশ?
  1. ক) জাপান
  2. খ) বাংলাদেশ
  3. গ) ভারত
  4. ঘ) ন্যাদারল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
খ) বাংলাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ দেশ হলো বাংলাদেশ।
২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে।
এগুলো হলো মরূকরণ, বন্যা, ঝড়, সসমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা।
এগুলোর প্রতিটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি দেশের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেই তালিকার ৫টি ভাগের একটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণসহ ৩টিতে নাম আছে বাংলাদেশের।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৬৬.
বর্তমানে সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা, বাংলাদেশ
  2. গুজরাট, ভারত
  3. ইসলামাবাদ, পাকিস্তান
  4. নয়াদিল্লি, ভারত
সঠিক উত্তর:
গুজরাট, ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুজরাট, ভারত
ব্যাখ্যা
• সার্ক:
- গঠিত হয়- ৮ ডিসেম্বর, ১৯৮৫ সালে।
- সচিবালয়- কাঠমান্ডু, নেপাল।
- সার্কভুক্ত দেশের সংখ্যা- ৮ টি। 
- সর্বশেষ সদস্য - আফগানিস্তান।
- ২০০৬ সালের অক্টোবরে ভারতের নয়াদিল্লিতে সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তবে ২০১৬ সালে সার্ক আবহাওয়া কেন্দ্র, সার্ক বন কেন্দ্র এবং সার্ক উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রকে সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের সাথে একীভূত করা হয়। তখন এটির কার্যালয় নয়াদিল্লি থেকে গুজরাটের গান্ধীনগরে স্থানান্তর করা হয়।
- বর্তমানে সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র গুজরাটের গান্ধীনগরে অবস্থিত।

• সার্কের অন্যান্য আঞ্চলিক কেন্দ্রেসমূহ:
→ সার্ক কৃষি কেন্দ্র- ঢাকা, বাংলাদেশ।
→ সার্ক যক্ষ্মা ও এইডস কেন্দ্র- কাঠমান্ডু, নেপাল।
→ সার্ক  সাংস্কৃতিক কেন্দ্র- কলম্বো, শ্রীলঙ্কা।
→ সার্ক জ্বালানি কেন্দ্র- ইসলামাবাদ, পাকিস্তান।

তথ্যসূত্র: সার্ক ওয়েবসাইট।
৪৬৭.
সুনামি কোথায় সৃষ্টি হয়?
  1. পুুকুর
  2. হ্রদ
  3. সাগর
  4. লেক
সঠিক উত্তর:
সাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাগর
ব্যাখ্যা

• সুনামি:
- সুনামি (Tsunami) জাপানি শব্দ।
- এর শাব্দিক অর্থ 'পোতাশ্রয়ের ঢেউ'।
- সমুদ্র তলদেশে প্রবল ভূমিকম্প সংঘটিত হলে সমুদরপৃষ্ঠে বিশাল যে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় তাকে সুনামি বলে।
- সুনামির সৃষ্টির প্রধান কারণ সমুদ্রের তলদেশের ভূমিকম্প।
- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণেও সুনামি সৃষ্টি হয়ে থাকে।
- এছাড়া পারমানবিক বিস্ফোরণ, ভূমিধ্বস, উল্কাপিন্ডের পতন ইত্যাদি কারণেও সুনামি হতে পারে।
- সর্বপ্রথম সুনামির কথা লিপিবদ্ধ হয় খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে।
- সুনামি দুর্যোগটি উপকূলীয় অঞ্চলের দুর্যোগ বলে বিবেচিত।

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬৮.
আকস্মিক বন্যাপ্রবণ জেলা কোনটি?
  1. ক) বান্দরবান
  2. খ) রংপুর
  3. গ) সাতক্ষীরা
  4. ঘ) মুন্সিগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
ক) বান্দরবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বান্দরবান
ব্যাখ্যা
আকস্মিক বন্যা
• এপ্রিল-মে, সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে স্থানীয় পযার্য়ে স্বল্পস্থায়ী ভারি বর্ষণের দরুন পাহাড়ি নদীর পানি উপচে পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এলাকায় আকস্মিক ভাবে যে বন্যা দেখা যায় তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
• এদেশের সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি প্রভৃতি আকস্মিক বন্যাপ্রবণ জেলা।
• আকস্মিক বন্যায় হাওরাঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

তথ্যসূত্র: বন্যা সাড়াদান ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা : বাংলাদেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৯.
বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল কোন দুর্যোগের জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ?
  1. বন্যা
  2. খরা
  3. নদীভাঙন
  4. টর্নেডো
সঠিক উত্তর:
খরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খরা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা খরার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ অঞ্চলের রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর প্রভৃতি জেলা খরার জন্যে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
বাংলাদেশে ১৯৭৮-৭৯ সালে ভয়াবহ খরা হয়েছিলো।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৪৭০.
নিচের কোনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ?
  1. অগ্নিকাণ্ড
  2. বনাঞ্চল ধ্বংস
  3. আগ্নেয়গিরি
  4. মরুকরণ
সঠিক উত্তর:
আগ্নেয়গিরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগ্নেয়গিরি
ব্যাখ্যা
- ’রাসায়নিক দূষণ’ একটি মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ।

• প্রাকৃতিক দুর্যোগঃ
-  প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়। 
 যেমন:
- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন, সুনামি, আগ্নেয়গিরি, ইত্যাদি।

• মানব- সৃষ্ট দুর্যোগ:
- মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ বলতে মানব কর্মকান্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়।
যেমন:
- জলাবদ্ধতা, অগ্নিকাণ্ড, রাসায়নিক দূষণ, যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বনাঞ্চল ধ্বংস, পরিবেশ দূষণ, মরুকরণ, অগ্নিকাণ্ড ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭১.
বন্যা নিয়ন্ত্রণে সাধারণ ব্যবস্থাপনার অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. নদী খননের মাধ্যমে পানি পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা
  2. নদী শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা
  3. নদীর দুই তীরে বনাঞ্চল সৃষ্টি করা
  4. বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করা
সঠিক উত্তর:
নদী খননের মাধ্যমে পানি পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদী খননের মাধ্যমে পানি পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা
ব্যাখ্যা
◉  "নদী খননের মাধ্যমে পানি পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা" - বন্যা নিয়ন্ত্রণে সাধারণ ব্যবস্থাপনার অন্তর্ভুক্ত নয়।

⇒ বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (Flood Control System):
ক. সাধারণ ব্যবস্থাপনা:
১) নদীর দুই তীরে প্রচুর বৃক্ষ রোপন করা।
২) নদী-শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা।
৩) বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন।
৪) পুকুর, নালা, বিল প্রভৃতি খনন ও পুনঃখনন করে পানি সংরক্ষণ করা।
৫) বন্যা মোকাবেলার জন্য সরকারি ভাবে স্থায়ী ও দক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা।

খ. ব্যয়বহুল প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনা:
১) ড্রেজিং-এর মাধ্যমে নদীর পানি পরিবহন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
২) জলাধার নির্মাণের মাধ্যমে পানি প্রবাহকে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করা।
৩) আর্ন্তজাতিক নদীসমূহে পানি প্রবাহকে বাঁধের সাহায্যে নিয়ন্ত্রন ও নিষ্কাশন করা।
৪) সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার পানির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা।
৫) নদী তীরে স্থায়ী ও সুদৃঢ় বাঁধ নির্মাণ করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ সংরক্ষণ করা।

গ. সহজ প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনা
১) নদীর দুই তীরে বেড়িবাঁধ দিয়ে নদীর পানি উপচে পড়া বন্ধ করা।
২) দেশের সর্বত্র বনায়ন সৃষ্টি করা।
৩) রাস্তাঘাট নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা।
৪) বন্যা প্রবল অঞ্চলে সর্বোচ্চ বন্যা লেভেলের উপরে 'আশ্রয়কেন্দ্র' প্রতিষ্ঠা করা।
৫) শহর বেষ্টনীমূলক বাঁধ দেওয়া।

সূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭২.
নিচের কোন দুর্যোগের পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়?
  1. বন্যা
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. খরা
  4. ভূমিকম্প
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প (Earthquake):
- বাংলাদেশ যেহেতু মহাসাগরগুলো থেকে অনেক দূরে অবস্থিত সেহেতু এ দেশকে সরাসরি সামুদ্রিক ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে তেমন চিহ্নিত করা যায় না।
- তবে বাংলাদেশের উত্তরে আসামের খাসিয়া ও জয়ন্তিয়া পাহাড়,
- হিমালয়ের পাদদেশ, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ ও বঙ্গোপসাগরের তলদেশে ভূমিকম্প প্রবণতা যথেষ্ট লক্ষ করা যায়।
- এছাড়াও রয়েছে ভূ-গাঠনিক গতিময়তা। সামগ্রিক দিক হতে দেখা যায় বাংলাদেশ ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
- বাংলাদেশের পূর্বাংশে রয়েছে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়।
- উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত স্বল্প ভাঁজবিশিষ্ট ভঙ্গিল প্রকৃতির পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধরা হয়।
- এ পাহাড়গুলো বেলেপাথর, সেলপাথর এবং কর্দম দ্বারা গঠিত।
- গঠনগত কারণে এ চত্বর ভূমিকম্পপ্রবণ।
- ভূমিকম্প কোন পূর্ভাবাস পাওয়া যায় না।
- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা এগুলো পূর্বাভাস পাওয়া যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, অষ্টম শ্রেণি।

৪৭৩.
ঘূর্ণিঝড়ের চোখের চারপাশে কী বিরাজ করে?
  1. নিম্নচাপ
  2. স্থিরবায়ু
  3. মধ্যচাপ
  4. উচ্চচাপ
সঠিক উত্তর:
উচ্চচাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চচাপ
ব্যাখ্যা

- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে অর্থাৎ ঘূর্ণিঝড়ের 'চোখ'-এ নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে ।

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস :

- বাংলাদেশে সংঘটিত প্রচন্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় উল্লেযোগ্য।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে অর্থাৎ ঘূর্ণিঝড়ের 'চোখ'-এ নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে ।
- ফলে বাহিরের অংশ হতে উচ্চচাপ যুক্ত বায়ু প্রবল বেগে ঘড়ির কাঁটার দিকে আবর্তন করতে করতে ঝড়ের কেন্দ্রভাগে নিম্নচাপযুক্ত অঞ্চলের দিকে ধাবিত হয়।
- বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উপকূলভাগ ফানেল আকৃতির হওয়ার কারণে এ দেশে অধিক সংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- গত তিন দশকে বাংলাদেশের উপকূলে, বিশেষত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, উরিরচর, চর জব্বার, চর আলেকজান্ডার প্রভৃতি স্থানে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৭৪.
বাংলাদেশে সাধারণত ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়-
  1. এপ্রিল - মে 
  2. জুন - জুলাই
  3. জুলাই - আগস্ট
  4. ফেব্রুয়ারি - মার্চ
সঠিক উত্তর:
এপ্রিল - মে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এপ্রিল - মে 
ব্যাখ্যা

• ঘূর্ণিঝড়:
- সাধারণত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য সমুদ্র পৃষ্ঠে সাধারণত ২৭° সেলসিয়াস বা এর বেশি তাপমাত্রা প্রয়োজন হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
- এসময় উচ্চচাপযুক্ত বায়ু প্রবলবেগে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রভাগে যেখানে নিম্নচাপ থাকে সেদিকে ধাবিত হয়।
- এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়।
- এটি সমুদ্রপৃষ্ঠে উৎপত্তি লাভ করে মহাদেশীয় মূলভাগের দিকে অগ্রসর হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলকে চোখ বলে।
- এটি দেখতে অনেকটা মানুষের চোখের মতো।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭৫.
নিম্নের কোন কারণে খরা দেখা দিতে পারে?
  1. পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা
  2. নদীর উজানে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ
  3. এল নিনো ও লা নিনোর প্রভাব
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
খরা:
- সাধারণত খরা বলতে কোনো এলাকায় দীর্ঘসময় ধরে ভূমিতে পানির অনুপস্থিতিকে বুঝায়।
- অর্থাৎ কোনো এলাকা বৃষ্টিহীন অবস্থায় থাকলে বা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে।
- এর ফলে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় এবং পানির স্তর নিচে নেমে যায়।
- এরূপ অবস্থাকে খরা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাসমূহে খরার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
- বিগত অর্ধ শতকের ১৯৭৩, ১৯৭৫, ১৯৭৮, ১৯৭৯, ১৯৮১, ১৯৮২, ১৯৮৯, ১৯৯২, ১৯৯৪, ১৯৯৫ এবং ২০১৬ সালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অধিক মাত্রায় খরা দেখা দেয়।

⇒ বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল:
- অতি তীব্র: রাজশাহী ও চাপাইনবাবগঞ্জ,
- তীব্র: দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর জেলা এবং টাঙ্গাইল জেলার অংশবিশেষ,
- মাঝারি: রংপুর ও বরিশাল জেলা এবং দিনাজপুর, কুষ্টিয়া ও যশোর জেলার অংশবিশেষ,
- সামান্য: তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনার পললভূমি এলাকা।

⇒ খরার কারণ:
১. সময়মতো বৃষ্টিপাতের অভাব;
২. পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা;
৩. অপরিকল্পিতভাবে বনভূমি উজাড়;
৪. নদীর উজানে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ;
৫. এল নিনো ও লা নিনোর প্রভাব প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৬.
'সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ২০১৫-৩০' এ ২০৩০ সালের মধ্যে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য কতটি লক্ষ্য স্থির করা হয়?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ৯টি
  4. ১০টি
সঠিক উত্তর:
৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭টি
ব্যাখ্যা
সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক:
- ২০১৫ সালের ১৮ মার্চ জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক: ২০১৫-২০৩০ গৃহীত হয়।
- এই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য স্থির করা হয়।
- সেন্ডাই ফ্রেমওয়ার্ক ২০১৫-৩০: সাতটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য এবং চারটি অগ্রাধিকারের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে যাতে নতুন করে দুর্যোগের ঝুঁকি প্রতিরোধ করা যায়।

⇒ চারটি অগ্রাধিকারের রূপরেখাগুলো হলো:
- দুর্যোগের ঝুঁকি বোঝা।
- দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করা।
- স্থিতিস্থাপকতার জন্য দুর্যোগ হ্রাসে বিনিয়োগ করা।
- কার্যকর প্রতিক্রিয়ার জন্য এবং পুনরুদ্ধার, পুনর্বাসন এবং পুনর্গঠনে 'বিল্ড ব্যাক বেটার' এর জন্য দুর্যোগের প্রস্তুতি বাড়ানো।

তথ্যসূত্র - জাতিসংঘ দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যালয়।
৪৭৭.
ভূমিকম্পের সঙ্গে কোনটি ঘটার আশঙ্কা থাকে?
  1. জলোচ্ছ্বাস
  2. সুনামি
  3. বন্যা
  4. অগ্ন্যুৎপাত
সঠিক উত্তর:
সুনামি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনামি
ব্যাখ্যা
সুনামি (Tsunami):
- সমুদ্র তলদেশে প্রবল ভূমিকম্প সংঘটিত হলে সমুদরপৃষ্ঠে বিশাল যে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় তাকে সুনামি বলে।
- সুনামির (কারন হলো সমুদ্রতলের ভূমিকম্প।
- সুনামি (Tsunami) জাপানি শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ পোতাশ্রয়ের ঢেউ।
- সুনামির উৎপত্তি সমুদ্রতলে।
- সর্বপ্রথম সুনামির কথা লিপিবদ্ধ হয় খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে।

⇒ সুনামি সৃষ্টির কারণ:
- সুনামির সৃষ্টির প্রধান কারণ সমুদ্রের তলদেশের ভূমিকম্প। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণেও সুনামি সৃষ্টি হয়ে থাকে। এছাড়া পারমানবিক বিস্ফোরণ, ভূমিধ্বস, উল্কাপিন্ডের পতন ইত্যাদি কারণেও সুনামি হতে পারে।
- সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্পের ফলে যে ঢেউয়ের সৃষ্টি করে তা প্রবলবেগে উপকূলের দিকে অগ্রসর হয়।
- গভীর সমুদ্রে সুনামির উৎপত্তিস্থলে সুনামির উচ্চতা মাত্র কয়েক সে.মি. উঁচু কিন্তু উপকূলে সুনামির ঢেউয়ের উচ্চতা ৩০-৫০ মিটার উঁচু আকার ধারণ করে।
- এ ছাড়া ভূ-অভ্যন্তরে টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়া হতে থাকে। এভাবে কখনো কোনো একটি প্লেট অপর প্লেটের দিকে অনবরত ধাক্কা দিতে থাকলে সমুদ্রের তলদেশে সুনামির সৃষ্টি হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪৭৮.
জাপানের উপকূলে ঘূর্ণিঝড় কী নামে পরিচিত?
  1. সাইক্লোন
  2. টাইফুন 
  3. হারিকেন
  4. টর্নেডো
সঠিক উত্তর:
টাইফুন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাইফুন 
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড় হলো একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণিজগতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।
- সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় নানা নামে পরিচিত।
- চীন ও জাপানের উপকূলে টাইফুন,
- ভারত মহাসাগরে সাইক্লোন,
- ফিলিপাইনের উপকূলে বাগুই,
- অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে উইলি উইলি,
- ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ও মেক্সিকো উপসাগর অঞ্চলে হারিকেন প্রভৃতি নামে অভিহিত করা হয়।

উৎস: ভূগোল ‍ও পরিবেশ, এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭৯.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে ঝড়, বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত ঘটে থাকে?
  1. এক্সোস্ফিয়ার
  2. আয়োনোস্ফিয়ার
  3. ট্রপোস্ফিয়ার
  4. মেসোস্ফিয়ার
সঠিক উত্তর:
ট্রপোস্ফিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রপোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের ট্রপোস্ফিয়ার স্তরে ঝড়, বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত ঘটে থাকে। 

ট্রপোস্ফিয়ার
- গ্রিক শব্দ ট্রপো (Tropo) কথার অর্থ হল পরিবর্তন।
- দৈনন্দিন আবহাওয়ায় আমরা যেরকম বিভিন্ন পরিবর্তন অনুভব করি, এই বায়ুস্তরেও সে ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়।
- বায়ুমণ্ডলের একেবারে নীচের স্তরে অবাধে তাপীয় মিশ্রণ ঘটে বলে, একে ট্রপোস্ফিয়ার বলে। 
- এ স্তরে ৭৮% নাইট্রোজেন, ২১% অক্সিজেন এবং ১% আর্গন, জলীয় বাষ্প এবং কার্বন ডাই অক্সাইড রয়েছে। 
- ট্রপোস্ফিয়ারের উর্ধ্বসীমাকে বলে ট্রপোপজ।
- ট্রপোপজ স্তরে বায়ুর উষ্ণতা একই রকম থাকে বলে, একে সমতাপ অঞ্চল বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮০.
ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ কত তারিখে বাংলাদেশে আঘাত হানে?
  1. ২২ মে, ২০২৪
  2. ২৪ মে, ২০২৪
  3. ২৬ মে, ২০২৪
  4. ২৮ মে, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
২৬ মে, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৬ মে, ২০২৪
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’:
- ২৬ মে, ২০২৪ সালের রাত ৮টার দিকে প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি মোংলার দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ উপকূল ও বাংলাদেশের খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম শুরু করে।
- ঘূর্ণিঝড়টির বিস্তৃতি ছিল প্রায় ৪০০ কিলোমিটার।
- ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’-এর নামকরণ করেছে ওমান।
- আরবিতে যার অর্থ বালি।
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল অতিক্রম করেছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল।

উল্লেখ্য,
- বিশ্ব আবহওয়া সংস্থার অধিভুক্ত প্রশান্ত-মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৩টি দেশের প্রস্তাবিত নামগুলো পরপর প্রয়োগ করা হয়।
- আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, যে মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়-তার অববাহিকায় থাকা দেশগুলো নামকরণ করে।
- পৃথিবীতে মোট ১১টি সংস্থা ঝড়ের নামকরণ করে থাকে।
- Q, U, X, Y ও Z- এই ৫টি অক্ষর বাদ দিয়ে ইংরেজি বর্ণমালার ২১টি অক্ষর ব্যবহার করে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়।
- 'রিমাল' ছাড়াও অদূর ভবিষ্যতে আসন্ন উত্তর ভারতীয় ঘূর্ণিঝড়ের নামগুলো হলো- আসনা (পাকিস্তান), ডানা (কাতার), ফেঙ্গাল (সৌদি আরব), শক্তি (শ্রীলঙ্কা), মন্থ (থাইল্যান্ড), সেনিয়ার (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ও দিত্ত্ব (ইয়েমেন)।
- ২০২০ সালে মোট ১৩টি দেশ ১৩টি করে মোট ১৬৯টি নাম দেয়।
- ১৩ টি দেশ হলো: বাংলাদেশ, ভারত, মলদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ইরান, কাতার, সৌদি আরব, আরব-আমিরাত এবং ইয়েমেন।
- ডব্লিওএমও-র ভারতীয় উপমহাদেশের এই সদস্য দেশগুলোই নাম দেয়।

উৎস: i) মে ২৬, ২০২৪, The Daily Star বাংলা।
         ii) ১৭ নভেম্বর, ২০২৩, কালের কন্ঠ।
৪৮১.
নিচের কোন দুর্যোগটি ‘Hydro-Metrological'দুর্যোগ হিসেবে পরিচিত?
  1. ভারি বৃষ্টি
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. ভূমিধস
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
→ বর্ণিত সবগুলোই Hydro-Metrological'দুর্যোগ 

Hydro-meteorological দুর্যোগ:
- Hydro-meteorological শব্দটি দুটি অংশ থেকে গঠিত:
- Hydro এর অর্থ পানি সংশ্লিষ্ট।
- এবং Meteorological অর্থ আবহাওয়া বা জলবায়ু সংক্রান্ত ঘটনা।
- Hydro-meteorological দুর্যোগ বলতে মূলত জলবায়ু ও আবহাওয়াজনিত কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলিকে বোঝায়।
- বন্যা, ভূমিধস উভয় hydro-meteorological দুর্যোগ হিসেবে পরিচিত।
- এই দুর্যোগগুলো সরাসরি জলবায়ু (Climate) এবং আবহাওয়ার (Weather) পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- প্রধানত বৃষ্টিপাত, বায়ুর গতি, তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার পরিবর্তন এই দুর্যোগগুলির কারণ।
- জলজ আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের কিছু উদাহরণ হলো: বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস, ভারি বৃষ্টি, খরা, তুষারপাত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮২.
'National Disaster Management Council' (NDMC) এর চেয়ারপারসন কে?
  1. পানিসম্পদ মন্ত্রী
  2. মন্ত্রীপরিষদ সচিব
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী
সঠিক উত্তর:
প্রধানমন্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সর্বোচ্চ কমিটি হলো NDMC (National Disaster Management Council)।
- এর চেয়ারপারসন প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী।
- এটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ও আইনের বিষয়ে সিদ্ধান্তগ্রহণ এবং দুর্যোগকালীন সময়ে জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে।    

সূত্র:- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা - ২০১৫ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট। 
৪৮৩.
সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. ভারত
  2. নেপাল 
  3. ঢাকা 
  4. আফগানিস্তান
সঠিক উত্তর:
ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারত
ব্যাখ্যা

• SAARC:
-  SAARC এর পুরনরুপ- South Asian Association for Regional Cooperation
-  SAARC হলো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা ফোরাম।
- এটি ৮ ডিসেম্বর ১৯৮৫ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বর্তমানে এর ৮টি সদস্য দেশ রয়েছে।
- SAARC-এর আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলো বিভিন্ন দেশের নির্দিষ্ট খাতের উন্নয়ন ও গবেষণায় কাজ করে।
- SAARC দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র: গান্ধীনগর, গুজরাত, ভারতে অবস্থিত।

উল্লেখ্য, 
• SAARC-এর আঞ্চলিক কেন্দ্রসমূহ :
- SAARC সাংস্কৃতিক কেন্দ্র রয়েছে কলম্বো, শ্রীলংকায়;
- কৃষি ও আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র ঢাকায় অবস্থিত।
- যক্ষ্মা ও এইচআইভি/এইডস কেন্দ্র কাঠমান্ডু, নেপালে অবস্থিত।
- শক্তি কেন্দ্র পাকিস্তানে অবস্থিত।
- বন গবেষণা কেন্দ্র অবস্থিত থিম্পু, ভুটানে;
- মানব সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অবস্থিত।
- এবং উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র মালদ্বীপে অবস্থিত। 

উৎস: SAARC Official Website.

৪৮৪.
ঘূর্ণীঝড় 'ফণী'র নামকরণ করে কোন দেশ?
  1. ক) মালয়েশিয়া
  2. খ) ভারত
  3. গ) সুদান
  4. ঘ) বাংলাদেশ
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাংলাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
৩ মে ২০১৯ বাংলাদেশে আঘাত হানা ঘূর্ণীঝড় 'ফণী'র নামকরণ করে বাংলাদেশ। এই ঝড়ে বাংলাদেশ ১৬ জন ও ভারতে ৩৩ জন মারা যায়। ভারত মহাসাগরে আঘাত হানা ঝড়গুলোর নামকরণ করে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ওমান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের সমন্বয়ে গঠিত WMO/ESCAP প্যানেল।
উৎসঃ বিবিসি
৪৮৫.
নিম্নের কোন অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়?
  1. কিশোরগঞ্জ
  2. সুনামগঞ্জ
  3. মৌলভীবাজার
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- বন্যা বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী বন্যাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং নগর বন্যা।

⇒ আকস্মিক বন্যা:
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমী আকস্মিক বৃষ্টিপাত বা পাহাড়ি ঢলের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয়, তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তথা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ প্রভৃতি জেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
- বোরো মৌসুমে এ ধরনের বন্যা হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) The Daily Star বাংলা।
৪৮৬.
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার মেয়াদকাল -
  1. ক) ২০২০-২০২৫
  2. খ) ২০২১-২০২৫
  3. গ) ২০২২-২০২৬
  4. ঘ) ২০২৩-২০২৭
সঠিক উত্তর:
খ) ২০২১-২০২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২০২১-২০২৫
ব্যাখ্যা
• জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (এনপিডিএম) ২০২১-২০২৫ (National Plan for Disaster Management, NPDM,2021-2025) দুর্যোগ বিষয়ক বাংলাদেশের ভিশন, মিশন এবং জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক পদ্ধতির দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনার এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পরিচালিত কৌশলগত পরিকল্পনা।

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৮৭.
'জলবায়ু বিষয়ে পদক্ষেপ' SDG'র কত নং লক্ষ্যমাত্রায় উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ১৭ নং
  2. ৯ নং
  3. ১৩ নং
  4. ১৪ নং
সঠিক উত্তর:
১৩ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩ নং
ব্যাখ্যা
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG):

- SDG - এর পূর্ণরূপ Sustainable Development Goals বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য।
- SDGs-এর মেয়াদ ২০১৬ থেকে ২০৩০ সাল।
- এতে মোট ১৭টি বৈশ্বিক লক্ষ্য (Goals) রয়েছে।
লক্ষ্যমাত্রাসমূহ হলো:
১. দারিদ্র্য নির্মূল।
২. ক্ষুধামুক্তি।
৩. সুস্বাস্থ।
৪. মানসম্মত শিক্ষা।
৫. লিঙ্গ সমতা।
৬. বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন।
৭. সাশ্রয়ী ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি।
৮. উপযুক্ত কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।
৯. শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো।
১০. বৈষম্য হ্রাস।
১১. টেকসই শহর ও জনগণ।
১২. পরিমিত ভোগ ও উৎপান।
১৩. জলবায়ু বিষয়ে পদক্ষেপ।
১৪. সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান।
১৫. স্থলভাগের জীবন।
১৬. শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান।
১৭. অভিষ্টের জন্যে অংশীদারিত্ব।

উৎস: SDG অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৪৮৮.
নিম্নের কোনটি Hydro-meteorological দুর্যোগ?
  1. ঘূর্ণিঝড়
  2. নদীভাঙ্গন
  3. ভূমিধস
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
Hydro-meteorological দুর্যোগ:
- ভূমিধস, নদীভাঙ্গন ও ঘূর্ণিঝড় জলজ আবহাওয়াজনিত (Hydro-meteorological) দুর্যোগ।

⇒ দুর্যোগ হলো একটি মারাত্মক পরিস্থিতি যা প্রকৃতি বা মানবসৃষ্ট আপদের ফলে দেখা দেয়।
- সাধারণ অর্থে দুর্যোগ বলতে আপদ বোঝায় কিন্তু সব আপদই দুর্যোগ নয়।
- আপদ ও বিপদাপন্নতা এ দুটো উপাদান একত্র হলেই তাকে দুর্যোগ পরিস্থিতি বলা হয়।
- এই পরিস্থিতি চলমান সমাজ জীবনকে গভীরভাবে ব্যাহত করে এবং মানুষ, সম্পদ ও পরিবেশের এত ক্ষতি সাধন করে যা মোকাবেলায় একটি সমাজকে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয় এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এত বেশি হয় তা শুধু নিজস্ব সম্পদ দিয়ে প্রায়ই পূরণ করা সম্ভব হয় না বরং বাইরের সাহায্যের প্রয়োজন হয়।
- ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও সৃষ্ট পরিস্থিতি দুর্যোগ কিনা তা নির্ধারণ একটি সমাজের সামর্থ্যের ওপর নির্ভর করে।

⇒ জলজ আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ (Hydrometeorological Disasters) হলো এমন দুর্যোগ যা মূলত জলবায়ু বা আবহাওয়া সম্পর্কিত প্রাকৃতিক ঘটনার কারণে সৃষ্টি হয়।
- এই ধরনের দুর্যোগে সাধারণত জল এবং বায়ু সম্পর্কিত প্রাকৃতিক শক্তি কাজ করে।
- এই দুর্যোগগুলি মানুষ এবং পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে এবং এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।
- জলজ আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের কিছু উদাহরণ হলো: বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস, ভারি বৃষ্টি, খরা, তুষারপাত।

উৎস: i) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) NIDM.
৪৮৯.
বাংলাদেশে সবচেয়ে শীতল মাস -
  1. নভেম্বর
  2. ডিসেম্বর
  3. জানুয়ারি
  4. ফ্রেব্রুয়ারি
সঠিক উত্তর:
জানুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
• মৌসুমী জলবায়ুর প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য সমূহ:
→ বাংলাদেশের জলবায়ু মোটামুটি সমভাবাপন্ন।
→ জলবায়ুর উপাদানের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তি করে বাংলাদেশের জলবায়ুকে ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু বলা হয়।
=================
• ভৌগোলিক অবস্থান:
 → বাংলাদেশের উত্তরে হিমালয়সহ উত্তর-পূর্বে আসাম পাহাড়ী অঞ্চল রয়েছে এবং এর মাঝে বাংলাদেশ নীচু সমতল ভূমি। এরূপ অবস্থানের জন্য বাংলাদেশে দুটি রূপে মৌসুমী জলবায়ুর প্রভাব দেখা যায়।
• মৌসুমী জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য:
 → মৌসুমী জলবায়ুর প্রধান এবং অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে বায়ুর দিক পরিবর্তিত হয়।
→ নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী মাস শীত কাল বলে পরিচিত।
জানুয়ারী হচ্ছে সবচেয়ে শীতল মাস। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯০.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে বাংলাদেশ কোন দুর্যোগের জন্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ?
  1. বন্যা
  2. খরা
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্যা
ব্যাখ্যা
২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করে।
এগুলো হলো:
- মরুকরণ,
- বন্যা,
- ঝড়,
- সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং
- কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা।

তালিকার ৫টি ভাগের একটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণসহ ৩টিতে নাম আছে বাংলাদেশের। 

- এর মধ্যে বন্যা ঝুঁকিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১ নম্বরে।
- ঝড়ের ঝুঁকিতে ২ নম্বর এবং সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ১০ নম্বর।

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি হলো বাংলাদেশ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেনি।
৪৯১.
নিচের কোন দেশ বৈশ্বিক উষ্ণায়ণের ফলে 'মরুকরণ'-এর ঝুঁকিতে রয়েছে?
  1. জিম্বাবুয়ে
  2. মোজাম্বিক
  3. ভারত
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন:
- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে। 
- এগুলো হলো: মরুকরণ, বন্যা, ঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা।
- সেই তালিকার ৫টি ভাগের একটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণসহ ৩টিতে নাম আছে বাংলাদেশের। 
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বাংলাদেশ।

বৈশ্বিক ঝুঁকিতে থাকা পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ১২টি করে দেশের তালিকা:
• বন্যা:
- বাংলাদেশ, চীন, ভারত, কম্বোডিয়া, মোজাম্বিক, লাওস, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, বেনিন, রুয়ান্ডা।
• ঝড়:
- ফিলিপাইন, বাংলাদেশ, মাদাগাস্কার, ভিয়েতনাম, মলডোভা, মঙ্গোলিয়া, হাইতি, সামোয়া, টোঙ্গা, চীন, হন্ডুরাস, ফিজি।
• মরুকরণ:
- মালাউয়ি, ইথিওপিয়া, জিম্বাবুয়ে, ভারত, মোজাম্বিক, নাইজার, মৌরিতানিয়া, ইরিত্রিয়া, সুদান, শাদ, কেনিয়া, ইরান।
• সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি:
- সব নিচু দ্বীপদেশ, ভিয়েতনাম, মিসর, তিউনিসিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মৌরিতানিয়া, মেক্সিকো, চীন, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, সেনেগাল, লিবিয়া।
• কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা:
- সুদান, সেনেগাল, জিম্বাবুয়ে, মালি, জাম্বিয়া, নাইজার, মরক্কো, ভারত, মালাউয়ি, আলজেরিয়া, ইথিওপিয়া, পাকিস্তান।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯২.
পার্বত্য এলাকায় কোন ধরনের বন্যা বেশি দেখা যায়?
  1. মৌসুমি বন্যা
  2. জোয়ার-ভাটাজনিত বন্যা
  3. আকস্মিক বন্যা
  4. নিয়মিত বন্যা
সঠিক উত্তর:
আকস্মিক বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকস্মিক বন্যা
ব্যাখ্যা
বন্যা:
• বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে বন্যা অন্যতম।
• এ দেশের মানুষের কাছে বন্যা যেমন ভয়াবহ তেমনি অর্থনৈতিক অবস্থার উপর অপরিসীম প্রভাব ফেলে।
• প্রকৃতপক্ষে এ দেশের প্রেক্ষিতে কোনো এলাকা প্লাবিত হয়ে যদি মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষতিসাধন হয় তাহলেই বন্যা হয়েছে ধরা হয়।

♣ বন্যার শ্রেণিবিভাগ: 
১. মৌসুমি বন্যা: 
• ঋতুভিত্তিক;
• বিস্তৃতি ব্যাপক;
• ক্ষতির পরিমাণ বেশি;
• পানি হ্রাস-বৃদ্ধির গতি ধীর।  

২. আকস্মিক বন্যা:
• পানি হ্রাস-বৃদ্ধির দ্রুত গতি;
• পার্বত্য এলাকায় দেখা যায়।   

৩. জোয়ার-ভাটাজনিত বন্যা:  
• স্বল্প স্থায়ী;
• সাধারণ উচ্চতা ৩ থেকে ৬ মিটার;
• অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় বন্যার রূপ ভয়াবহ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯৩.
কোনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. নদী ভাঙন
  2. লবণাক্ততা
  3. রাসায়নিক দূষণ
  4. অগ্ন্যুৎপাত
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক দূষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক দূষণ
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক কারণে যেসব দুর্যোগ সংঘটিত হয় তাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলা হয়।
প্রাকৃতিক কারণে সংঘটিত দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে:
- ভূমিকম্প
- অগ্ন্যুৎপাত
- নদীভাঙন
- তুষারপাত
- ঘূর্ণিঝড়
- খরা
- জলোচ্ছ্বাস
- বন্যা
- লবণাক্ততা ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
মানবসৃষ্ট কারণে সংঘটিত দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে:
- রাসায়নিক দূষণ
- যুদ্ধ
- পারমাণবিক বিস্ফোরণ
- মরুকরণ
- অগ্নিকাণ্ড
- জলাবদ্ধতা সৃষ্টি
- বনউজারকরণ ইত্যাদি।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)
৪৯৪.
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয় কোন অঞ্চলে?
  1. শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
  2. লালপুর, নাটোর
  3. লালাখাল, সিলেট
  4. হিমছড়ি, কক্সবাজার
সঠিক উত্তর:
লালাখাল, সিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালাখাল, সিলেট
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত:
- সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত: নাটোর জেলার লালপুর।
- সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত: সিলেট জেলার লালাখাল।
- বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত: ২০৩ সেন্টিমিটার বা ২০৩০ মিলিমিটার।
- বৃষ্টিপাতের তারতম্য: দেশের পূর্বাঞ্চলে বেশি এবং পশ্চিমাঞ্চলে কম বৃষ্টিপাত হয়।
- বর্ষাকালে গড় তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াস।
- বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাতের এক-পঞ্চমাংশ গ্রীষ্মকালে হয়, আর শীতকালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই কম।

• বাংলাদেশের উষ্ণতম ও শীতলতম স্থান:
- উষ্ণতম স্থান: নাটোর জেলার লালপুর।
- শীতলতম স্থান: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল।
- উষ্ণতম মাস: এপ্রিল।
- শীতলতম মাস: জানুয়ারি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪৯৫.
নিচের কোনটি সুনামির কারণ?
  1. ভূমিধ্বস
  2. আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত
  3. ভূমিকম্প
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুনামি (Tsunami): 
- সুনামি (Tsunami) ‘সুনামি’ জাপানি শব্দ।
- বাংলায় এর অর্থ ‘পোতাশ্রয় ঢেউ’।
- সাগর বা নদী বা অন্য কোন জলক্ষেত্রে ভূমিকম্পের, ভূমিধ্বসের কিংবা আগ্নেয়গিরির উদগীরণের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসকেই বলা হয় সুনামি।
- বিভিন্ন কারণে সুনামির সৃষ্টি হতে পারে।
- কারণগুলোর মধ্যে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত, ভূমিধ্বস অন্যতম।
- তন্মধ্যে দুটি কারণ উলে­খযোগ্য হলো সমুদ্রতলের ২০-৩০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্প সংঘটন এবং টেকটোনিক পে­টের আকষ্মিক উত্থান-পতন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৯৬.
ভিসুভিয়াস আগ্নেয় পর্বত কোথায় অবস্থিত?
  1. জার্মানিতে
  2. ইতালিতে
  3. যুক্তরাষ্ট্রে
  4. জাপানে
সঠিক উত্তর:
ইতালিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতালিতে
ব্যাখ্যা
আগ্নেয় পর্বত :
- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত লাভা, দীর্ঘকাল ধরে একই জায়গায় সঞ্চিত হয়ে আগ্নেয় পর্বতের সৃষ্টি করে। যেমন- ইতালির ভিসুভিয়াস।

এছাড়াও -
আগ্নেয় হ্রদ: 
→ মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে বৃষ্টির পানি জমে হ্রদের সৃষ্টি করে। যেমন- আলাস্কার মাউন্ট আতাকামা, নিকারাগুয়ার কোসেগায়েনা, অ্যারিজোনা ও নেভাদার আগ্নেয় হ্রদ উল্লেখযোগ্য।

আগ্নেয় দ্বীপ:
 → সমুদ্র তলদেশে অগ্ন্যুৎপাতের সময় নির্গত লাভা সঞ্চিত হয়ে দ্বীপের সৃষ্টি করে। যেমন- প্রশান্ত মহাসাগরের
হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ পৃথিবীর বৃহত্তম আগ্নেয় দ্বীপ।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৭.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান কোনটি?
  1. সাড়াদান
  2. উন্নয়ন
  3. প্রশমন
  4. পুনরুদ্ধার
সঠিক উত্তর:
প্রশমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশমন
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অর্থ হলো যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা।
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান:
১. দুর্যোগ প্রতিরোধ:
দুর্যোগের সম্ভাবনা বা ঝুঁকি কমাতে যে সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা দুর্যোগ প্রতিরোধের অংশ। এর মধ্যে পূর্বাভাস ব্যবস্থা, সতর্কতা কার্যক্রম এবং প্রতিরোধী কাঠামো তৈরি করা অন্তর্ভুক্ত থাকে।

২. দুর্যোগ প্রশমন:
দুর্যোগের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর জন্য দুর্যোগ প্রশমনের কাজ করা হয়। এটি সরাসরি দুর্যোগের তীব্রতা কমানোর জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ, যেমন বাঁধ নির্মাণ, নিরাপত্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং পরিবেশগত বিপর্যয় রোধ করা।

৩. দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি:
দুর্যোগের প্রাক্কালে সঠিক প্রস্তুতি গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। এটি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের জনগণকে সচেতন করা, দুর্যোগের সময় দ্রুত সাহায্য পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুতি তৈরি করা এবং উপকরণ সংরক্ষণ করা ইত্যাদি বিষয়গুলির অন্তর্ভুক্ত।

দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদান:
১. সাড়াদান:
দুর্যোগের পরপরই ত্রাণ, উদ্ধারকাজ এবং মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়, যা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি চাহিদা মেটাতে সহায়তা করে। সাড়াদানের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে প্রাণ রক্ষাকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

২. পুনরুদ্ধার:
দুর্যোগের প্রভাব থেকে পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের অবকাঠামো, জীবনযাত্রা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনর্স্থাপন করা হয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া যা পুনর্বাসন এবং সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের উপর গুরুত্ব দেয়।

৩. উন্নয়ন:
দুর্যোগের পরবর্তী সময়ে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়, যাতে এলাকাটি আরও শক্তিশালী এবং দুর্যোগ সহনশীল হয়ে ওঠে। এটি ভবিষ্যতে আরও উন্নত জীবনযাত্রা নিশ্চিত করার জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থা, অবকাঠামো এবং সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯৮.
পৃথিবীতে নিম্নচাপ বলয়ের সংখ্যা কতটি?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
পৃথিবীতে ৭টি চাপ বলয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩টি নিম্নচাপ বলয় এবং ৪টি উচ্চচাপ বলয়।
এগুলো হলোঃ
নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়
কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয়
মকরীয় উচ্চচাপ বলয়
উত্তর মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়
দক্ষিণ মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়
উত্তর মেরু উচ্চচাপ বলয় এবং
দক্ষিণ মেরু উচ্চচাপ বলয়।
(সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৪৯৯.
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ কোন দুর্যোগের জন্যে সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ?
  1. মরুকরণ
  2. টর্নেডো
  3. বন্যা
  4. ঘূর্ণিঝড়
সঠিক উত্তর:
বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্যা
ব্যাখ্যা
- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করে। এগুলো হলোঃ
- মরুকরণ
- বন্যা
- ঝড়
- সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং
- কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা।
- এর মধ্যে বন্যা ঝুঁকিতে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১ নম্বরে।
- এছাড়া ঝড়ের ঝুঁকিতে ২ নম্বর এবং সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ১০ নম্বর।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৫০০.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিম্নের কোনটি তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল?
  1. অকাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা
  2. নদী খনন
  3. আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি 
  4. বেরিবাঁধ নির্মাণ
সঠিক উত্তর:
অকাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অকাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব না হলেও যথাযথ ব্যবস্থাপনার দ্বারা এর ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
- এ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কাঠামোগত ও অকাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
- কাঠামোগত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা যেমন: বেরিবাঁধ নির্মাণ, আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি খুবই ব্যয়বহুল যা অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যে উপযোগী নয়।
- গণসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ প্রদান প্রভৃতি অকাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল যা দরিদ্রদেশগুলোর জন্যে উপযোগী।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেনি।