বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

মোট প্রশ্ন২,৭৬৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

PrepBank · পাতা / ২৮ · ৪০১৫০০ / ২,৭৬৪

৪০১.
মধ্যযুগের অন্যতম সাহিত্যিক অনুষঙ্গ 'কড়চা' মূলত -
  1. রাধা কৃষ্ণের প্রেমের বর্ণনা
  2. বৈষ্ণব সাহিত্যের ভূমিকা
  3. কৃষ্ণ ও রাধার দিনলিপি
  4. চৈতন্যজীবনী
সঠিক উত্তর:
চৈতন্যজীবনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৈতন্যজীবনী
ব্যাখ্যা
- কড়চা কথাটির আধুনিক অর্থ দিনলিপি বা ডায়েরি।
- তবে মুরারি গুপ্ত ও স্বরূপ দামোদরের কল্যাণে চৈতন্যজীবনী গ্রন্থকে কড়চা বলে অভিহিত হয়।
- তাঁরা চৈতন্যজীবনী শ্লোকে পরিবেশন করে কড়চা বলে নির্দেশ করেন। এ কারণে অনেক গবেষক চৈতন্য জীবনগ্রন্থকে 'কড়চা' বলে অভিহিত করেছেন।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪০২.
‘ঢল ঢল কাঁচা অঙ্গের লাবণি,
আবনী বহিয়া যায়।’ - পঙঙ্কিটির রচয়িতা কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর
  2. রামপ্রসাদ সেন
  3. গোবিন্দদাস
  4. মালধর বসু
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা

⇒ গোবিন্দদাস: 
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস। তিনি দ্বিতীয় বিদ্যাপতি নামেও খ্যাত।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন।     

গোবিন্দদাস রচিত পদেও অংশ বিশেষ:
ঢল ঢল কাঁচা অঙ্গের লাবণি,
আবনী বহিয়া যায়।
ঈষত হাসির তরঙ্গ-হিলোলে
মদন মুরছা পায়।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।                                                   

৪০৩.
সুস্পষ্ট সন তারিখযুক্ত মনসামঙ্গল কাব্যের প্রথম রচয়িতা কে?
  1. ক) কানা হরিদত্ত
  2. খ) বিপ্রদাস পিপিলাই
  3. গ) বিজয় গুপ্ত
  4. ঘ) নারায়ন দেব
সঠিক উত্তর:
গ) বিজয় গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিজয় গুপ্ত
ব্যাখ্যা
সুস্পষ্ট সন তারিখযুক্ত মনসামঙ্গল কাব্যের প্রথম রচয়িতা বিজয় গুপ্ত। 
- বিজয় গুপ্ত (১৫ শতক)  মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- পদ্মাপুরাণ নামক মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করে তিনি মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
- তাঁর কাব্যের ভণিতা থেকে কাব্য রচনার কাল পাওয়া যায় ১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দ।

- মনসামঙ্গলের  আদি কবি  কানা হরিদত্ত, কিন্তু তাঁর গ্রন্থ পাওয়া যায়নি।
- মনসামঙ্গলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি নারায়ন দেব। নারায়ন দেবের কাব্যের নাম পদ্মাপুরাণ। 
- বিজয়গুপ্তের প্রায় সমসাময়িক বিপ্রদাস পিপিলাই। তাঁর রচিত কাব্যের নাম মনসা বিজয়। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৪০৪.
মধ্যযুগের সাহিত্য 'শূন্যপুরাণ' হলো -
  1. রাধাকৃষ্ণের প্রেমের কাব্য
  2. চৈতন্যজীবনীমূলক গ্রন্থ
  3. ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ
  4. পুঁথিসাহিত্য
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'শূন্যপুরাণ' হলো- 'ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ'।

• 'শূন্যপুরাণ': 
- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বীয় গ্রন্থের নাম ‘শূন্যপুরাণ’।
- মূল গ্রন্থে ধর্মপূজার যে বিবরণ আছে তাতে বৌদ্ধধর্মের শূন্যবাদ ও হিন্দু লোকধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে। 
- শূন্যপুরাণ বিশেষভাবে ধর্মপূজা পদ্ধতি।
- কাব্যগ্রন্থটি ৫১ টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- শূন্যপুরাণ চম্পুকাব্যের নিদর্শন।
- গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ’ থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম। 
৪০৫.
অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রথম খণ্ডের প্রধান কাহিনি কোনটি?
  1. মানসিংহের যশোর অভিযান
  2. সীতার দেহত্যাগ, উমারূপ জন্ম ও শিববিবাহ
  3. ভবানন্দের দিল্লি যাত্রার বর্ণনা
  4. বিদ্যাসুন্দর প্রেমকাহিনি
সঠিক উত্তর:
সীতার দেহত্যাগ, উমারূপ জন্ম ও শিববিবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সীতার দেহত্যাগ, উমারূপ জন্ম ও শিববিবাহ
ব্যাখ্যা

অন্নদামঙ্গল:
- অন্নদামঙ্গল মধ্যযুগের একটি উল্লেখযোগ্য কাব্য, যা আনুমানিক ১৭৫২-৫৩ সালে রচিত হয়।
- এর রচয়িতা হলেন মধ্যযুগের শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- প্রথম মুদ্রণ করা হয় ১৮১৬ সালে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যের মাধ্যমে।
- কাব্যটি মূলত দেবী অন্নদার পূজা, মহিমা এবং আখ্যান প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যটি ছন্দ ও অলঙ্কারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুদক্ষভাবে রচিত।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এটি অষ্টাদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য এবং সমগ্র বাংলা সাহিত্যের মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।

- কাব্যটি তিনটি খণ্ডে বিভক্ত:
• প্রথম খণ্ড শিবায়ন অন্নদামঙ্গল,
• দ্বিতীয় খণ্ড বিদ্যাসুন্দর কালিকা মঙ্গল এবং
• তৃতীয় খণ্ড মানসিংহ অন্নদামঙ্গল।

প্রথম খণ্ডে সীতার দেহত্যাগ, উমারূপে জন্মগ্রহণ, শিবের সঙ্গে বিবাহ, অন্নপূর্ণার মূর্তিধারণ এবং কাশীপ্রতিষ্ঠার কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

• দ্বিতীয় খণ্ডে বিদ্যাসুন্দরের প্রেমকাহিনি প্রকাশিত হয়েছে।

• তৃতীয় খণ্ডে মানসিংহের যশোর অভিযান, রাজা প্রতাপাদিত্যের পরাজয় এবং ভবানন্দের দিল্লি যাত্রার বর্ণনা রয়েছে।

- অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিখ্যাত পঙক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
• “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।”
•“মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।”
• “হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।”
• “নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?”
• “বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।”

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
বাংলাপিডিয়া।

৪০৬.
'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে' পঙক্তিটির স্রষ্টা কে?
  1. কামিনী রায়
  2. বেগম রোকেয়া
  3. মুকুন্দরাম
  4. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়াংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- তাঁর রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম সত্যপীরের পাঁচালি (১৭৩৭-৩৮)।

তার কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- "আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।"
- "মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।"
- "নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?”

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪০৭.
‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ গ্রন্থটি অন্য কোন নামে পরিচিত?
  1. শ্রীকৃষ্ণকীর্তি
  2. শ্রীকৃষ্ণসদ্ভাব
  3. শ্রীকৃষ্ণস্তুতি
  4. শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় রচিত কোনো লেখকের প্রথম একক গ্রন্থ।

- কাব্যটির পুঁথির প্রথম ও শেষাংশ খণ্ডিত থাকায় গ্রন্থের আসল নাম ও কবির বিস্তৃত পরিচয় নির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।
- যদিও গ্রন্থের ভেতরে কবির ভণিতা আছে, তবু কোথাও কাব্যের নাম উল্লেখ নেই।
- এই অবস্থায় সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ লোকশ্রুতি ও কৃষ্ণলীলা–কেন্দ্রিক বিষয়বস্তুর ওপর ভিত্তি করে কাব্যটির নামকরণ করেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
- তবে এই নামকে অনেক গবেষক যথার্থ মনে করেন না।
- কারণ, ‘কীর্তন’ বলতে ভক্তিসঙ্গীতের মাধ্যমে নাম–রূপ–গুণের সরব উচ্চারণ বোঝায়।
- অথচ এই কাব্যে কৃষ্ণের উপস্থিতি থাকলেও প্রকৃত কীর্তনের রূপ অনুপস্থিত।

- কাব্যে ১২টি স্থানে ‘ধামালি’ শব্দের ব্যবহার থাকায় কেউ কেউ মনে করেন এর নাম ‘রাধাকৃষ্ণের ধামালি’ হওয়াই যুক্তিযুক্ত হতো।
- অপরদিকে, পুঁথিতে প্রাপ্ত একটি চিরকুটের সূত্রে জানা যায় যে কাব্যটির প্রকৃত নাম হলো ‘শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ব্ব’ (শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ)।
- ‘সন্দর্ভ’ শব্দের অর্থ রচনার সংকলন বা গবেষণামূলক গ্রন্থ। 
- সুতরাং আভিধানিক অর্থে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ বলতে বোঝায় ‘শ্রীকৃষ্ণ বিষয়ক সংকলন/গবেষণা’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৪০৮.
শাক্তপদাবলির আদি কবি কে?
  1. চণ্ডীদাস
  2. রামপ্রসাদ সেন
  3. গোবিন্দদাস
  4. বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর:
রামপ্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• রামপ্রসাদ সেন:
- শাক্তপদাবলির আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি - রামপ্রসাদ সেন।
- পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কুমারহট্ট গ্রামের কবিরাজ বংশে তাঁর জন্ম।
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় রামপ্রসাদের কবিত্ব ও সঙ্গীতখ্যাতির কথা শুনে তাঁকে নিজের রাজসভায় যোগদানের আহবান জানান এবং ‘কবিরঞ্জন’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- একসময় মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে নবাব সিরাজউদ্দৌলা নদীর পাড়ে রামপ্রসাদের গান শুনে মুগ্ধ হন।
- তিনি ভক্তিভাব এবং রাগ ও বাউল সুরের মিশ্রণে এক ভিন্ন সুরের সৃষ্টি করেন, যা বাংলা সঙ্গীতজগতে ‘রামপ্রসাদী সুর’ নামে পরিচিত।
- তার গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।

অন্যদিকে,
- পূর্বরাগের শ্রেষ্ঠ পদকর্তা - চণ্ডীদাস।
- গৌরচন্দ্রিকার শ্রেষ্ঠ পদকর্তা - গোবিন্দদাস।
- বৈষ্ণব পদাবলীর আদি কবি - বিদ্যাপতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪০৯.
‘গীতগোবিন্দম্’ কাব্যটি কার রচনা?
  1. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  2. গোবিন্দ দাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. জয়দেব
সঠিক উত্তর:
জয়দেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়দেব
ব্যাখ্যা
‘গীতগোবিন্দম্’ গীতিকাব্য:
- জয়দেবের বিখ্যাত রচনা ‘গীতগোবিন্দম্’ কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন।
- এটি একটি সংস্কৃত গীতিকাব্য।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা এর মুখ্য বিষয়।
- ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে এটি রচিত।
- বর্ণিত বিষয়ের তত্ত্বনির্দেশক বারোটি ভিন্ন ভিন্ন নামে সর্গগুলির নামকরণ করা হয়েছে।
- কাব্যের নায়ক-নায়িকা রাধা-কৃষ্ণ হলেও তাঁদের প্রতীকে জীবাত্মা-পরমাত্মার সম্পর্ক এবং নর-নারীর চিরন্তন প্রেমই এর মূল বক্তব্য।
- রাগমূলক গীতসমূহ এ কাব্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। পরবর্তীকালের বাংলা পদাবলি সাহিত্যে এর গভীর প্রভাব পড়েছে।
- বৈষ্ণব সম্প্রদায় ও সাহিত্য-রসিকদের নিকট গীতগোবিন্দম্ এক সময় পরম শ্রদ্ধার বিষয় ছিল।
- গীতগোবিন্দম্-এর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে চরণশেষে অন্তমিল অনুসৃত হয়েছে, যা সংস্কৃত সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রায়শই দুর্লভ।

জয়দেব:
- জয়দেব (বার’শ শতক) বাঙালি কবি। তবে তাঁর সাহিত্য ভাষা ছিল সংস্কৃত।
- শ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অজয়নদের তীরবর্তী কেন্দুবিল্ব বা কেঁদুলি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- কেউ কেউ তাঁকে মিথিলা বা উড়িষ্যার অধিবাসী বলেও মনে করেন।
- জয়দেব ছিলেন লক্ষ্মণসেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের অন্যতম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪১০.
বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) রত্নবতী
  2. খ) বীরবলের হালখাতা
  3. গ) বনফুলের গল্প
  4. ঘ) আনোয়ারা
সঠিক উত্তর:
ক) রত্নবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রত্নবতী
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ 'রত্নবতী'। 

মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী' (১৮৬৯)।
- এটি মুসলমান সাহিত্যিক রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) প্রকাশের চার বছর পর 'রত্নবতী' উপন্যাস প্রকাশিত হয়।
- লেখকের নাম পৃষ্ঠায় 'কৌতুকাবহ উপন্যাস' বলে উল্লেখ করেছেন। 
- প্রকৃতপক্ষে এটি রূপকথা জাতীয় শিক্ষামূলক একটি দীর্ঘ গল্প। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪১১.
কারবালা এবং ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মুসলমানদের রচিত সাহিত্যকে কী বলে?
  1. মর্সিয়া সাহিত্য
  2. পুথি সাহিত্য
  3. নাথসাহিত্য
  4. লোক সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
মর্সিয়া সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মর্সিয়া সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• কারবালা এবং ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মুসলমানদের রচিত সাহিত্যকে মর্সিয়া সাহিত্য বলে

• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তাঁর গ্রন্থের নাম 'জয়নালের চৌতিশা' (১৫৭০)।
- মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ - মুক্তল হোসেন।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি রাধারমণ গোপ।
- তাঁর গ্রন্থের নাম 'ইমামগণের কেচ্ছা', 'আফৎনামা'।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য।
- অন্যভাবে বলা যায়, নাথ ধর্মের সাধনতত্ত্ব ও প্রাসঙ্গিক গল্প কাহিনি অবলম্বনে রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য।

• পুথি সাহিত্য:
- পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য।
- আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
- পুথি (বা পুঁথি) শব্দের উৎপত্তি ‘পুস্তিকা’ শব্দ থেকে। এ অর্থে পুথি শব্দদ্বারা যেকোনো গ্রন্থকে বোঝালেও পুথি সাহিত্যের ক্ষেত্রে তা বিশেষ অর্থ বহন করে।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত। 
- পুথি সাহিত্যের শব্দসম্ভার ও ভাষারীতি লক্ষ করে বিভিন্ন জন এর বিভিন্ন নামকরণ করেছেন।
- রেভারেন্ড জেমস  লং এ ভাষাকে বলেছেন ‘মুসলমানী বাংলা’, আর এ ভাষায় রচিত সাহিত্যকে বলেছেন ‘মুসলমানী বাংলা সাহিত্য’।
- কলকাতার বটতলার ছাপাখানার বদৌলতে প্রচার লাভ করে বলে এগুলি ‘বটতলার পুথি’ নামেও পরিচিত হয়।

• লোক সাহিত্য:
- মধ্যুযগে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৪১২.
"মালিনী" মধ্যযুগের কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

অন্নদামঙ্গল:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টাদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪১৩.
'মৈথিল কোকিল' খ্যাত কে?
  1. ক) জ্ঞানদাস
  2. খ) গোবিন্দদাস
  3. গ) বিদ্যাদাস
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বুঝায়। কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথালার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিল ভাষায় সুন্দর পদাবলী ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে মৈথিল কোকিল বলা হয়।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪১৪.
আরাকান রাজসভার আদি কবি কে?
  1. ক) মাগন ঠাকুর
  2. খ) শমসের আলী
  3. গ) বিদ্যাপতি
  4. ঘ) দৌলত কাজী
সঠিক উত্তর:
ঘ) দৌলত কাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
আরাকান রাজসভার আদি কবি ও প্রথম বাঙালি কবি দৌলত কাজী। তিনি লৌকিক কাহিনীর প্রথম রচয়িতা। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যের নাম 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী'। এটি হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসত' কাব্য অবলম্বনে তিন খন্ডে রচিত। আরাকান রাজসভার অন্যান্য কবিগণ হলেন- আলাওল, কোরেশী মাগন ঠাকুর, মরদন, আবদুল করিম খন্দকার, শমসের আলী ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪১৫.
'বিদ্যাসুন্দর' ও 'মানসিংহ' কোন কাব্যের উল্লেখ্যযোগ্য চরিত্র?
  1. মনসামঙ্গল কাব্য
  2. চণ্ডীমঙ্গল কাব্য
  3. অন্নদামঙ্গল কাব্য
  4. ধর্মমঙ্গল কাব্য
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল কাব্য
ব্যাখ্যা

• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি। তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়।
- তিনি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবেও মর্যাদার অধিকারী।
- মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র বিদ্যাসুন্দর কাহিনিরও শ্রেষ্ঠ কবি রূপে পরিগণিত।
- কবি ভারতচন্দ্রের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য।
- 'কালিকামঙ্গল' ও 'বিদ্যাসুন্দর' এই কাব্যের অংশমাত্র।
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'- এটা অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র-
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী, ইত্যাদি।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪১৬.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. বিজয়গুপ্ত
  4. জ্ঞানদাস
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি - ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- আধুনিক যুগের নাগরিক কবি - শামসুর রাহমান।

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:

- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গলকাব্য রচনা করেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের 'শেষ বড় কবি' বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪১৭.
নিচের কোন কাব্যটি হিন্দি ভাষার রচনা থেকে অনূদিত?
  1. পদ্মাবতী
  2. হপ্তপয়কর
  3. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
  4. সিকান্দরনামা
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• পদ্মাবতী' কাব্য:
- মহাকবি আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্যের নাম পদ্মাবতী।
- এই কাব্যটি আলাওল রচনা করেন মাগণ ঠাকুরের অনুরোধে।
- পদ্মাবতী রচিত বা প্রকাশিত হয় ১৬৪৮ সালে।
- এটি বিখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির পদুমাবত এর কাব্যোনুবাদ।
- পদ্মাবতী দুটি পর্বে বিভক্ত।
- প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রাণী পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।
- হিন্দি কাব্যে সুফিবাদের প্রতিফলন আছে, কিন্তু বাংলায় তা লৌকিক প্রেমকাব্যে পরিণত হয়েছে।
--------------------- 
• আলাওল: 
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- ‘পদ্মাবতী’ তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। 

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- পদ্মাবতী (মালিক মুহম্মদ জায়সীকৃত হিন্দি পদুমাবত থেকে রচিত),
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী (সাধনকৃত 'মৈনাসত' থেকে),
- হপ্তপয়কর (নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি 'হফত্ পয়কর' থেকে),
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল (গাওয়াসীকৃত ফারসি সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল থেকে) ও
- সিকান্দরনামা (নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি সিকান্দরনামা অনুসরণে)।

নীতিকাব্য:
- তোহফা (ইউসুফ গদাকৃত ফারসি তুহুফ-ই-নসাঈহ থেকে)

সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য:
- রাগতালনামা (মৌলিক গ্রন্থ)।

এ ছাড়াও বৈষ্ণবপদের অনুরূপ তাঁর কিছু গীতিকবিতা আছে।
- রাগতালনামা ও গীতিকবিতাগুলি তাঁর মৌলিক রচনা, অন্যগুলি অনুবাদমূলক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪১৮.
“মহুয়া পালা” কে রচনা করেছেন?
  1. ক) দ্বিজকানাই
  2. খ) মনসুর বয়াতী
  3. গ) গরীবউল্লাহ
  4. ঘ) নয়ন চাঁদ ঘোষ
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বিজকানাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বিজকানাই
ব্যাখ্যা

- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

- মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্রঃ
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

সোর্সঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪১৯.
'পদ্মাবতী' কোন গ্রন্থ অবলম্বনে রচিত?
  1. তোহফা
  2. লাইলী ওয়া মজনুন
  3. সিকান্দারনামা
  4. পদুমাবৎ
সঠিক উত্তর:
পদুমাবৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদুমাবৎ
ব্যাখ্যা
আলাওল:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- কাব্যিক আবেগের সঙ্গে বৌদ্ধিক চেতনার মিশ্রণ থাকায় আলাওলকে ‘পন্ডিতকবি’ বলা হয়।
- এখন পর্যন্ত আলাওলের ৭ টি কাব্যের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দিকাব্য 'পদুমাবৎ' অবলম্বনে আলাওল 'পদ্মাবতী' গ্রন্থটি অনুবাদ করেন।

পদ্মাবতী:
- এটি একটি ইতিহাসমিশ্রিত রোমান্টিক প্রেমকাব্য।
- পদ্মাবতী আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- নাগরিক শিক্ষা, বৈদগ্ধ্য রূপ ও অভিপ্রায় তাঁর এ কাব্যের ভাব-ভাষা-রুচিতে প্রভাব বিস্তার করেছে।
- ‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’ পঙক্তিটি আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' কাব্যে রূপ বর্ণনা খন্ডে লেখা আছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪২০.
নিম্নে কোনটি মঙ্গলকাব্যের অন্তর্গত নয়?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. চণ্ডিকামঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডিকামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডিকামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্যের অন্তর্গত নয় = চণ্ডিকামঙ্গল।
----------------------------------------
• মঙ্গকাব্য:
- মানুষের বিশ্বাস মতে, দেবদেবীর মাহাত্ম নির্ভর যে কাব্য রচনা, পাঠ ও শ্রবণ করলে নিজের, প্রতিবেশীর ও সমাজের মঙ্গল বা কল্যাণ সাধন হয় তাকে মঙ্গলকাব্য বলে।
- পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
•মঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি, ঘনরাম চক্রবর্তী।

• মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি।
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- অন্নদামঙ্গল।

• একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত ৫টি অংশ থাকে।
যথা:
- বন্দনা,
- আত্মপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখন্ড,
- শ্রুতিফল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৪২১.
গোবিন্দ চন্দ্র দাস কে বলা হয় -
  1. স্বভাব কবি
  2. চারণ কবি
  3. গীতি কবি
  4. প্রেমের কবি
সঠিক উত্তর:
স্বভাব কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বভাব কবি
ব্যাখ্যা
• গোবিন্দচন্দ্র দাস:
- গোবিন্দ চন্দ্র দাস কে ‘স্বভাব কবি’ বলা হয়।
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ভাওয়ালের কবি হিসেবেও বিখ্যাত।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- গোবিন্দ চন্দ্র দাস কে ‘স্বভাব কবি’ বলা হয়।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু্‌,
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৪২২.
গোবিন্দদাসের আসল পদবি কী ছিল?
  1. গুপ্ত
  2. কাবিরাজ
  3. মুখোপাধ্যায়
  4. সেন
সঠিক উত্তর:
সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেন
ব্যাখ্যা
গোবিন্দদাস:
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন। বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪২৩.
"নেজাম ডাকাতের পালা" - কোন ধরনের লোকসাহিত্য?
  1. মৈমনসিংহ গীতিকা 
  2. নাথগীতিকা
  3. পূর্ববঙ্গ-গীতিকা
  4. কবিগান 
সঠিক উত্তর:
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা
ব্যাখ্যা

• 'পূর্ববঙ্গ-গীতিকা':
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন। পূর্ববাংলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পালাগুলো সংগ্রহ করা হয়। এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীম উদ্‌দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।

পূর্ববঙ্গ-গীতিকাগুলো হলো:
- ভেলুয়া,
- মইষাল বন্ধু,
- কমলারাণী,
- দেওয়ান ঈসা খাঁ,
- নেজাম ডাকাতের পালা,
- ফিরোজ খাঁ দেওয়ান,
- আয়না বিবি,
- শ্যামরায়,
- শিলাদেবী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা রয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে,
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই), মলুয়া (চন্দ্রাবতী), চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র (নয়ানচাঁদঘোষ), কমলা (দ্বিজ ঈশান) কঙ্ক ও লীলা, রূপবতী, । নিজাম ডাকাতের পালা, কাফন চোরা, চৌধুরীর লড়াই, আয়না বিবি, ভেলুয়া ইত্যাদি পূর্ববঙ্গ গীতিকা উপাখ্যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।

৪২৪.
'পূর্ববঙ্গ গীতিকা'র লোকপালাসমূহের সংগ্রাহক কে?
  1. ক) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  2. খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. গ) চন্দ্রকুমার দে
  4. ঘ) দীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
গ) চন্দ্রকুমার দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চন্দ্রকুমার দে
ব্যাখ্যা
চন্দ্রকুমার দে আমৃত্যু পল্লীর এ লোকসম্পদ সংগ্রহে নিয়োজিত থেকে বহু সংখ্যক পালা সংগ্রহ করেন।
- সেগুলির অধিকাংশই দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) ও পূর্ববঙ্গ-গীতিকা (১৯২৬) নামে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয় এবং দেশবিদেশের বহু গুণিজনের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।
চন্দ্রকুমারের সংগৃহীত পালাগুলি হচ্ছে -
মৈমনসিংহ-গীতিকা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- দস্যু কেনারাম,
- কমলা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- দেওয়ান মদিনা ও
- ধোপার পাট;

পূর্ববঙ্গ-গীতিকা:
- ভেলুয়া সুন্দরী,
- মইষাল বন্ধু,
- কমলারাণী,
- দেওয়ান ঈসা খাঁ,
- ফিরোজ খাঁ দেওয়ান,
- আয়না বিবি,
- শ্যামরায়,
- শিলাদেবী,
- আন্ধা বন্ধু,
- বন্ডুলার বারমাসী,
- রতন ঠাকুর,
- পীর বাতাসী,
- জিবালনি,
- সোনারামের জন্ম ও
- ভারাইয়া রাজা।

এগুলি ছাড়া তাঁর সংগৃহীত আরও কতগুলি পালা হচ্ছে: অধুয়া সুন্দরী, সুরতজামাল, কাজলরেখা, আসমা, সত্যপীরের পাঁচালি, চন্দ্রাবতীর রামায়ণ, লীলার বারমাসী ও গোপিনী কীর্তন।
পালাগুলির বেশির ভাগ ময়মনসিংহ ও সিলেট থেকে সংগৃহীত হয়েছে। মৌখিক ধারার এসব গান ও সাহিত্য মাঠপর্যায় থেকে সংগ্রহ করে জনসম্মুখে তুলে ধরার মৌলিক কৃতিত্ব চন্দ্রকুমারের। পালা সংগ্রহ ছাড়া চন্দ্রকুমার নিজে বেশ কিছু কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ রচনা করেছিলেন। ১৯৪৬ সালে ময়মনসিংহে তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৪২৫.
মধ্যযুগের কোন কবির রচনা 'হানিফার লড়াই'?
  1. আবদুল হাকিম
  2. দৌলত কাজী
  3. শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ
  4. শাহ মুহম্মদ সগীর
সঠিক উত্তর:
আবদুল হাকিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল হাকিম
ব্যাখ্যা
আবদুল হাকিম:
- সতের শতকের মুসলিম কবি।
- তিনি ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে সন্দ্বীপের সুধারামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবদুল হাকিমের ৫টি কাব্য পাওয়া গেছে। সেগুলো হলো:
→ ইউসুফ জোলেখা,
→ নূরনামা,
→ দুররে মজলিশ,
→ লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
হানিফার লড়াই
- মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে রচিত প্রবাদতুল্য তাঁর পঙ্‌ক্তি দুটি -

যে সব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী।
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।।

- মধ্যযুগে মুসলমানগণ বাংলাকে নিজেদের ভাষা মনে না করে পারসি-আরবি-উর্দুকে আপন ভাষা মনে করতো। এই পরভাষাপ্রীতিকে আঘাত করার জন্য আবদুল হাকিম এ ধরনের পঙ্‌ক্তি লেখেন।
- 'নূরনামা' কাব্যে তিনি এই প্রবাদতুল্য পঙ্‌ক্তি দুটো লিখেন।
- তিনি ১৬৯০ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪২৬.
বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয় কাকে?
  1. চণ্ডীদাস
  2. চৈতন্যদেব
  3. বিদ্যাপতি
  4. জয়দেব
সঠিক উত্তর:
জয়দেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়দেব
ব্যাখ্যা
বৈষ্ণব পদাবলি ও কবিগণ:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম গৌরব বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্য।
- রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে এই অমর কবিতাবলির সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে শ্রীচৈতন্যদেব প্রচারিত বৈষ্ণব মতবাদের সম্প্রসারণে এর ব্যাপক বিকাশ।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয় তবে তাঁর রচিত পদের ভাষা ছিল সংস্কৃত। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন। বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলির রচনা করেন চণ্ডীদাস।

• মধ্যযুগের সাহিত্যধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সবচেয়ে সমৃদ্ধ।
বৈষ্ণব সাহিত্য ৩ প্রকার।

যথা:
১. জীবনীকাব্য,
২. বৈষ্ণব শাস্ত্র ও
৩. বৈষ্ণব পদাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি।
৪২৭.
মধ্যযুগের আদি কবি কে?
  1. বড়ু চণ্ডীদাস
  2. বিজয় গুপ্ত
  3. বিদ্যাপতি
  4. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
সঠিক উত্তর:
বড়ু চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বড়ু চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' মধ্যযুগের প্রথম কাব্য এবং বড়ু চণ্ডীদাস মধ্যযুগের আদি কবি
- ভাগবত প্রভৃতি পুরাণের কৃষ্ণলীলা-সম্পর্কিত কাহিনি অনুসরণে, জয়দেবের গীতগোবিন্দ কাব্যের প্রভাব স্বীকার করে, লোকসমাজে প্রচলিত রাধাকৃষ্ণ প্রেম-সম্পর্কিত গ্রাম্য গল্প অবলম্বনে কবি বড়ু চণ্ডীদাস শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য রচনা করেন।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামে এক গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে পুঁথি আকারে অযত্নে রক্ষিত এ কাব্য আবিষ্কার করে বাংলা সাহিত্যে এক নতুন অধ্যায়ের সংযোজন ঘটান।
- বৈষ্ণব মহান্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের অধিকারে এই গ্রন্থটি রক্ষিত ছিল।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ সনে) বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় গ্রন্থটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, 
• সুস্পষ্ট সনতারিখ যুক্ত মনসামঙ্গল কাব্যের প্রথম রচয়িতা - বিজয় গুপ্ত।
• বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার - বিদ্যাপতি।
• মধ্যযুগের শেষ কবি - ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪২৮.
‘গোরক্ষ বিজয়’ কাব্য কোন ধর্মমতের কাহিনী অবলম্বনে লেখা?
  1. ক) শৈবধর্ম
  2. খ) বৌদ্ধ সহজযান
  3. গ) নাথধর্ম
  4. ঘ) কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
গ) নাথধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নাথধর্ম
ব্যাখ্যা
ষোল শতকের কবি শেখ ফয়জুল্লাহ ‘গোরক্ষ-বিজয়’ নামে প্রথম একখানি কাব্য রচনা করেন। এতে নাথগুরুর মাহাত্ম্য ও নাথ ধর্মমতের মহত্ত্ব প্রকাশ বিধৃত হয়েছে। আদি গুরু মৎস্যেন্দ্রনাথ শিব কর্তৃক অভিশপ্ত হয়ে কদলীর ‘স্ত্রী-রাজ্যে’ নারী সংসর্গে এসে ধর্মকর্ম বিসর্জন দেন। শিষ্য গোরক্ষনাথ যোগ-সাধনাবলে বহু কষ্টে গুরুকে সেখান থেকে উদ্ধার করেন।
সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া।
৪২৯.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের পুঁথি কোন স্থান থেকে আবিষ্কৃত হয়?
  1. মন্দির
  2. পাঠশালা
  3. গোয়ালঘর
  4. গ্রন্থাগার
সঠিক উত্তর:
গোয়ালঘর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোয়ালঘর
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:  
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্যিক নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত।
- এটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম একক গ্রন্থ, অর্থাৎ একজন কবির একক রচনায় সম্পূর্ণ একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
- তিনি মধ্যযুগের আদি কবি হিসেবে পরিচিত।

- কাব্যটির কাহিনি লোকসমাজে প্রচলিত রাধা–কৃষ্ণের প্রেমকাহিনি অবলম্বনে রচিত।
- এতে ধর্মীয় ভক্তিভাবের সঙ্গে মানবীয় প্রেম ও আবেগ প্রকাশ পেয়েছে, যা মধ্যযুগীয় সাহিত্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
- এই কাব্যটি দীর্ঘদিন অজ্ঞাত ছিল।
- অবশেষে ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে পুঁথিটি আবিষ্কৃত হয় এবং ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- পুঁথিটি আবিষ্কার ও সম্পাদনা করেন বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ।
- তাঁর সম্পাদনায় এটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়।
- আবিষ্কারের সময় পুঁথিটির অবস্থা ছিল অসম্পূর্ণ—প্রথম দুই পাতা ও শেষের একটি পাতা অনুপস্থিত ছিল, মাঝের কিছু পাতাও পাওয়া যায়নি।
- পুঁথিটি পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামে একটি গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে আবিষ্কৃত হয়—যা বাংলা সাহিত্য ইতিহাসে এক বিস্ময়কর ঘটনা।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৩০.
পদাবলীর প্রথম কবি কে?
  1. গোবিন্দ দাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. চন্ডিদাস
  4. লুইপা
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা

 বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্’ কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন।
- তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।

পরবর্তীতে,
- বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলীর রচনা করেন চণ্ডীদাস।
- বৈষ্ণব পদাবলী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।

উল্লেখ্য,
- যদি প্রশ্ন হয় “বৈষ্ণব পদাবলির আদি পদকর্তা/প্রথম পদকর্তা/আদিকবি কে?” এবং অপশনে "জয়দেব" থাকে; তাহলে উত্তর নিঃসন্দেহে - জয়দেব। কেননা তিনি সবচেয়ে প্রাচীন কবি যিনি বৈষ্ণব পদ রচনা করেছেন।

- যদি একই প্রশ্নের অপশনে জয়দেব না থাকে এবং "বিদ্যাপতি" থাকে তাহলে বিদ্যাপতি উত্তর হবে। কেননা, জয়দেবের পর তিনিই বৈষ্ণব পদ রচনা করেন এবং বৈষ্ণব পদের উৎকর্ষ তার মাধ্যমে শুরু হয়। উল্লেখ্য, রেফারেন্স বইগুলােতে দুইজনকেই বৈষ্ণব পদের প্রথম রচয়িতা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

- যদি প্রশ্ন হয় "বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলীর আদি রচয়িতা কে?" তাহলে অপশনে যাই থাকুক না কেন, উত্তর হবে - চন্ডীদাস।

তথ্যসূত্র:- (তথ্যকল্পদ্রুম) , লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ , বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, অধ্যাপক মাহবুবুল আলম , বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৩১.
চাঁদ সওদাগর বাংলা কোন কাব্যধারার চরিত্র?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• মনসামঙ্গল:
• মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
• ‘মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম ‘পদ্মাপুরাণ’।
• সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য ‘মনসামঙ্গল’।
• চাঁদ সওদাগর প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা করে, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
• দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণীবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।
• কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি ।
• এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস, পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।

• এই কাব্যের অন্যান্য চরিত্রগুলো:
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা,
- সাপের দেবী মনসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৩২.
নিচের কোন মঙ্গলকাব্যে চাঁদ সওদাগরের বাণিজ্যিক অভিযান ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের ভূমিকা ফুটে উঠেছে?
  1. ধর্মমঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
সাধারণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে মঙ্গলকাব্যে দেখা যায়:
• সমাজের নানা স্তরের মানুষের আচরণ, বিশ্বাস ও আচার।
• লোকায়ত ধর্মচর্চা, পরিবার, গ্রামীন পরিপ্রেক্ষিত।
• দেবতা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া বা সম্পর্ক।
• ধর্ম ছাড়াও মানবিকতা, ন্যায়-অন্যায় ইত্যাদির চিত্র।

• মনসামঙ্গল:
চাঁদ সওদাগরের বাণিজ্যিক অভিযান, সমুদ্রযাত্রা, এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের (বণিক, শ্রমিক, ভক্ত) ভূমিকা এই কাব্যে বিশদভাবে ফুটে উঠেছে।
চাঁদ সওদাগরের মনসা দেবীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব এবং তার বাণিজ্যিক জীবনের বিবরণ এই কাব্যের মূল বিষয়।
অর্থ্যাৎ,
- এ চাঁদ সওদাগরের বাণিজ্যিক অভিযান ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের ভূমিকা।

অন্যদিকে,
• চণ্ডীমঙ্গল- এ ধনপতি সওদাগরের গল্পে বণিক সম্প্রদায়ের প্রাধান্য এবং সামাজিক শ্রেণির গতিশীলতা।
• ধর্মমঙ্গল- এ নিম্নবর্গের মানুষের সংগ্রাম ও সামাজিক মর্যাদার প্রশ্ন।
• অন্নদামঙ্গল: দেবী অন্নপূর্ণার পূজা এবং ভবানন্দ মজুমদারের কাহিনি বর্ণিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৪৩৩.
'গুলে বকাওলী' কোন ধারার সাহিত্য?
  1. নাথ সাহিত্য
  2. বৈষ্ণব সাহিত্য
  3. রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান সাহিত্য
  4. মঙ্গল সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• 'গুলে বকাওলী' রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার সাহিত্য।

• নওয়াজিস খান: গুলে বকাওলী
- বাংলা রোমান্টিক প্রণয়কাব্যের ধারায় 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
- গদ্যে ও পদ্যে গুলে বকাওলী প্রেমকাহিনি বাংলায় পরিবেশিত হয়েছে এবং বিশ শতকেও সাহিত্যরূপ লাভ করায় এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা প্রমাণিত।
- বাংলা ভাষা ছাড়া হিন্দি, ফারসি, উর্দু ইত্যাদি ভাষায়ও এ কাব্য রচিত হয়েছিল।
- বাংলায় গুলে বকাওলী কাব্যের রচয়িতা হিসেবে নওয়াজিস খান খ্যাতিমান।
- কবি কাব্যে যে আত্মপরিচয় দান করেছেন তাতে তাঁর বংশলতিকার পরিচয় পাওয়া যায়।
- তাঁর এক পূর্বপুরুষ ছিলিম খান গৌড় থেকে চট্টগ্রাম এসে ছিলিমপুর গ্রামের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- কবি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার অন্তর্গত সুখছড়ি গ্রামে বসবাস করতেন বলে জানা যায়।

• গুলে বকাওলী:
- ইজ্জতুল্লা নামক এক বাঙালি লেখক রচিত পারসি গ্রন্থ গুলে বকাওলী।
- ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে রচিত 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থটি রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য।
- সতেরো শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বঙ্গানুবাদ করেন।
- এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী ও উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২।বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৩৪.
চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য কে?
  1. গোপীনাথ পণ্ডিত
  2. বিদ্যাপতি
  3. জ্ঞানদাস
  4. হরিশ্চন্দ্র
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য ছিলেন "জ্ঞানদাস"।

• জ্ঞানদাস:

- সম্ভবত ষোল শতকে বর্ধমান জেলায় কবি জ্ঞানদাসের জন্ম।
- তিনি চণ্ডীদাসের কাব্যাদর্শ অনুসরণ করে এবং তার সঙ্গে নিজের মৌলিক প্রতিভার সমন্বয়ে রাধাকৃষ্ণের লীলাবর্ণনার মাধ্যমে মানবমানবীর শাশ্বত প্রেমবেদনার কথা ব্যক্ত করেছেন।
- তিনি ছিলেন চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য।
- তিনি ব্রজবুলি ও বাংলায় পদ রচনা করেছিলেন, তবে বাংলা পদেই তাঁর কৃতিত্ব বেশি।
- জ্ঞানদাস পদাবলিতে সৌন্দর্যের ব্যঞ্জনা দিয়েছেন, আবেগের সূক্ষ্ম কারুকর্ম ফুটিয়ে তুলেছেন।
- তিনি মানবজীবনের বাতায়নে বসে ভাব বৃন্দাবনের কিশোর কিশোরীর লীলা প্রত্যক্ষ করে শিল্পী হয়ে উঠেছেন।
- তিনি তপস্বিনী রাধার মূর্তিটি নিরাভরণ ও নিরলঙ্কার ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন।
- নায়িকার রূপবর্ণনা, অতৃপ্ত প্রণয়াকাঙ্ক্ষার তীব্রজ্বালা, মিলনের জন্য ব্যাকুলতা, মিলনের গভীর উল্লাস ও বিরহের মর্মস্পর্শী আর্তি কুশলতার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছেন।

• গোবিন্দদাসকে বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য বলা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৪৩৫.
'ঈশ্বরী পাটনী' চরিত্রটি কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চণ্ডীমঙ্গল 
  2. ধর্মমঙ্গল 
  3. অন্নদামঙ্গল 
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল 
ব্যাখ্যা

• 'ঈশ্বরী পাটনী' অন্নদামঙ্গল কাব্যের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র। 

• 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য সম্পর্কিত কিছু তথ্য:

- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।

অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত।
যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪৩৬.
রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভা কবি ছিলেন- 
  1. বিদ্যাপতি
  2. ভারতচন্দ্র
  3. বিজয় গুপ্ত
  4. মানিক দত্ত
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্র জন্মে ছিলেন আঠারো শতকের প্রথম দিকে। 
- তিনি বর্ধমানের (বর্তমান হাওড়া জেলা) পেঁড়োবসন্তপুর বা পাণ্ডুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ভারতচন্দ্র নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভা কবি ছিলেন। 
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দিয়েছেন। 
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর'কে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)।
৪৩৭.
মঙ্গলকাব্য হলো-
  1. ক) রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা সম্পর্কিত কাব্য
  2. খ) শিব উপাসকদের রচিত সাহিত্য
  3. গ) লোকমুখে প্রচারিত কবতা ও গীত
  4. ঘ) দেবদেবীর মাহাত্ম নির্ভর কাব্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেবদেবীর মাহাত্ম নির্ভর কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেবদেবীর মাহাত্ম নির্ভর কাব্য
ব্যাখ্যা

মানুষের বিশ্বাস মতে, দেবদেবীর মাহাত্ম নির্ভর যে কাব্য রচনা, পাঠ ও শ্রবণ করলে নিজের, প্রতিবেশীর ও সমাজের মঙ্গল বা কল্যাণ সাধন হয় তাকে মঙ্গলকাব্য বলে।
পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি।
১. মনসামঙ্গল,
২. চণ্ডীমঙ্গল,
৪. অন্নদামঙ্গল।
এছাড়াও কালিকামঙ্গল, ধর্মমঙ্গল ইত্যাদি কিছু অপ্রধান মঙ্গলকাব্য রয়েছে।

একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত ৫টি অংশ থাকে।
যথা:
- বন্দনা,
- আত্মপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখন্ড,
- শ্রুতিফল ।
মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়৷

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪৩৮.
‘পদ্মাবতী’ কাব্যের দ্বিতীয় পর্বে কোন সুলতানের সামরিক অভিযানের বিবরণ রয়েছে?
  1. আলাউদ্দিন খিলজি
  2. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  3. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  4. ইলিয়াস শাহ
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন খিলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন খিলজি
ব্যাখ্যা
‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৪৩৯.
"সময় গেলে সাধন হবে না।" চরণটির রচয়িতা কে?
  1. লালন শাহ
  2. সাবিরিদ খান
  3. শাহ আব্দুল করিম
  4. সিরাজ শাহ
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ
ব্যাখ্যা
• 'সময় গেলে সাধন হবে না।" চরণটির রচয়িতা লালন শাহ।

• লালন ফকিরের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গান:

- খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়।
- আমি অপার হয়ে বসে আছি ও হে দয়াময়, পারে লয়ে যাও আমায়।।
- জাত গেল জাত গেল বলে একি আজব কারখানা।

• লালন শাহ:

- লালন শাহ বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা, গায়ক।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
-মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর গান মরমি ব্যঞ্জনা ও শিল্পগুণে সমৃদ্ধ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪৪০.
শ্রীচৈতন্যদেবকে কেন্দ্র করে মধ্যযুগের সাহিত্য রচনাকে কয় শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে?
  1. তিন
  2. দুই
  3. চার
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের সাহিত্যের সময়সীমা:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ ১২০০ থেকে আরম্ভ হয়ে ১৮০০ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত। এই সুদীর্ঘ ছয় শ বছর বাংলা সাহিত্যের বৈচিত্র্যমুখী বিকাশ ও উৎকর্ষ সাধিত হয়। এ যুগের প্রথম দেড় শ বছরকে তথাকথিত অন্ধকার যুগ বা বন্ধ্যা যুগ বলে।

- শ্রীচৈতন্যদেবকে (জন্ম: ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দ) মাঝখানে রেখে এই যুগকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয় -
১. প্রাক্-চৈতন্য যুগ (১২০৩ - ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দ) এবং
২. উত্তর-চৈতন্য যুগ (১৫০০ - ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ)।

• প্রাক্-চৈতন্য যুগে রচিত হয়েছে কৃত্তিবাসি 'রামায়ণ', বড়ুচণ্ডীদাসের 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন', মালাধর বসুর 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়', বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাসের বৈষ্ণব পদাবলি এবং তিনটি আদি 'মনসামঙ্গলকাব্য'।

• উত্তর-চৈতন্যযুগের বিচিত্র ও প্রচুর সাহিত্যসম্ভারের মধ্যে বৃন্দাবনদাস, লোচনদাস, জয়ানন্দ এবং কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্য-জীবন-কাব্য; জ্ঞানদাস ও গোবিন্দদাসের বৈষ্ণব পদাবলি; কাশীরাম দাসের 'মহাভারত'; বহুসংখ্যক মনসা, চণ্ডী, ধর্ম ও অন্নদামঙ্গল কাব্য (কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, ঘনরাম চক্রবর্তী, ভারতচন্দ্র ইত্যাদি); মুসলমান কবি দৌলত কাজী ও আলাওলের কাব্যসম্ভার এবং শাক্তপদাবলি উল্লেখযোগ্য।

অধিকাংশ তথ্যসূত্র অনুসারে,
চৈতন্যদেবকে (জন্ম ১৪৮৬ খ্রিঃ) মাঝখানে রেখে এই যুগকে প্রধানত ২ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রাক চৈতন্য যুগ (১২০৩ ১৫০০ খ্রঃ) এবং উত্তর চৈতন্য যুগ (১৫০০- ১৭৬০ খ্রিঃ) - চৈতন্যযুগ (১৫০১-১৬০০) ও এর অন্তর্ভুক্ত।। পরবর্তীতে এর বিস্তৃত যুগবিভাগে কোথাও কোথাও ৩টি দেখানো হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৪১.
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছরকে কী বলা হয়?
  1. বৈষ্ণব যুগ
  2. গীতিকাব্যের যুগ
  3. রোমান্টিক যুগ
  4. অন্ধকার যুগ
সঠিক উত্তর:
অন্ধকার যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্ধকার যুগ
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'।
- সেক শুভোদয়া।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৪২.
মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি কে?
  1. রামকৃষ্ণ রায় 
  2. রামপ্রসাদ সেন 
  3. ভারতচন্দ্র রায়
  4. গোবিন্দদাস 
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়
ব্যাখ্যা

• ভারতচন্দ্র রায়:
- কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি। তিনি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবেও মর্যাদার অধিকারী। মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র বিদ্যাসুন্দর কাহিনিরও শ্রেষ্ঠ কবি রূপে পরিগণিত। কবি ভারতচন্দ্রের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য। 'কালিকামঙ্গল' ও 'বিদ্যাসুন্দর' এই কাব্যের অংশমাত্র।
- ভারতচন্দ্র ছিলেন 'ব্যাকরণ অভিধান সাহিত্য নাটক অলঙ্কার সঙ্গীত শাস্ত্রের অধ্যাপক এবং পুরাণ - আগম- পারসী নাগরী -বেত্তা।'

- ভারতচন্দ্রের জন্মকাল নিয়ে মতানৈক্য আছে। ঈশ্বরগুপ্ত কর্তৃক উল্লেখিত ১৭১২ সাল সঠিক জন্মসাল নয়। বিভিন্ন তথ্য ও অনুমান মিলিয়ে সিদ্ধান্ত করা হয়েছে যে, ভারতচন্দ্র আঠার শতকের গোড়ার দিকে ১৭০৫ থেকে ১৭১০ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ড. আশুতোষ ভট্টাচার্য সর্বশেষ তথ্য বিবেচনা করে ১৭০৭ সালে ভারতচন্দ্রের জন্ম হয়েছিল বলে মনে করেন ।
- রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র বর্তমান বর্ধমান বিভাগের ভুরসুট পরগনায় আধুনিক হাওড়া জেলার পেঁড়ো (পাণ্ডুয়া) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

৪৪৩.
'পুরুষপরীক্ষা’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) বিদ্যাপতি
  2. খ) চন্দ্রাবতী
  3. গ) আলাওল
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
ক) বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন - বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন - পঞ্চদশ শতকের কবি।
- তিনি ব্রজবুলি ভাষায় কাব্য রচনা করতেন। তবে -
- সংস্কৃত ভাষায় তার রচিত একটি গ্রন্থ হচ্ছে - পুরুষপরীক্ষা
বিদ্যাপতির এ-জাতীয় আরো কয়েকটি গ্রন্থ হচ্ছে
- কীর্তিলতা,
- গঙ্গাবাক্যাবলী,
- বিভাগসার।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন - মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য তিনি বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।

[উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ]
৪৪৪.
ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্য নয় কোনটি?
  1. ক) লাইলি মজনু
  2. খ) সত্যপীরের পুঁথি
  3. গ) সােনাভান
  4. ঘ) জঙ্গনামা
সঠিক উত্তর:
ক) লাইলি মজনু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লাইলি মজনু
ব্যাখ্যা
দোভাষী পুঁথি বা পুঁথি সাহিত্যর প্রাচীনতম, আদি, শ্রেষ্ঠ ও সার্থক কবি ফকির গরীবুল্লাহ।
ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্য-
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- সােনাভান,
- জঙ্গনামা,
- সত্যপীরের পুঁথি ও
- ইউসুফ জোলেখা। 

- দৌলত উজির বাহরাম খাঁর রচিত 'লায়লী-মজনু' কাব্য পারসিয়ান কবি নিজামীর 'লায়লা ওয়া মজনুন’ কাব্যের ভাবানুবাদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৪৪৫.
আলাওল রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. তোহ্‌ফা
  2. সিকান্দার নামা
  3. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
  4.  ইউসুফ জোলেখা
সঠিক উত্তর:
 ইউসুফ জোলেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ইউসুফ জোলেখা
ব্যাখ্যা

 ইউসুফ-জোলেখা:
- ইউসুফ-জোলেখা একটি কাহিনি কাব্যগ্রন্থ।এটি মূলত অনুবাদ কাব্য বা রোমান্টিক প্রণোয়োপাখ্যানের নিদর্শন।
- ইউসুফ-জোলেখা কাহিনি কাব্যের রচয়িতা শাহ মুহম্মদ সগীর।
গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে (১৩৮৯-১৪০৯ খ্রিষ্টাব্দ) এ গ্রন্থ রচিত হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
সে-বিচারে কাব্যটি পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকের রচনা এবং শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে গণ্য।
-বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে।
ইরানের কবি ফেরদৌসিও (মৃত্যু ১০২৫ খ্রিষ্টাব্দ) এই নামে কাব্য রচনা করেছেন।

আলাওল:
- আলাওল আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি। আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- 'পদ্মাবতী' তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন। কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সিকান্দার নামা,
- তোহ্‌ফা,
- সপ্তপয়কর,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল,
- রাগতালনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৪৬.
কবি গোবিন্দদাস কার ভাবশিষ্য ছিলেন?
  1. বিদ্যাপতি
  2. চণ্ডিদাস
  3. জয়দেব
  4. শ্রী চৈতন্যদেব
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
গোবিন্দদাস:
- তিনি বৈষ্ণব পদকর্তা ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গের  মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলার নিকট তেলিয়াবুধুরি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু ছিলেন মিথিলার কবি  বিদ্যাপতি।
-  বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’  উপাধিও প্রদান করেন। 

উৎস: 
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৪৭.
'অতি বড় বৃদ্ধ পতি সিদ্ধিতে নিপুণ, কোন গুণ নাই তার কপালে আগুন'। পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) চন্ডীদাস
  2. খ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. গ) গোবিন্দ দাস
  4. ঘ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
অতি বড় বৃদ্ধ পতি সিদ্ধিতে নিপুণ, কোন গুণ নাই তার কপালে আগুন'- পঙক্তিটির রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। এটি অন্নদামঙ্গল কাব্যের অন্তর্গত। উৎস: লাইভ এমসিকিউ বাংলা লেকচার।
৪৪৮.
‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের প্রধান তিনটি চরিত্র -
  1. রাধা, কৃষ্ণ, গোপাল
  2. রাধা, কংস, উগ্রসেন
  3. রাধা, কৃষ্ণ, যশোদা
  4. রাধা, কৃষ্ণ, বড়ায়ি
সঠিক উত্তর:
রাধা, কৃষ্ণ, বড়ায়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধা, কৃষ্ণ, বড়ায়ি
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- এটি একটি বৈষ্ণব কাব্য। এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
- রচনাকাল সঠিকভাবে নির্ণীত না হলেও প্রাকচৈতন্য যুগের (খ্রিস্টীয় ১৪শ শতক) মনে করা হয়।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- এটি মধ্যযুগের বাংলা ভাষায় রচিত কোনো লেখকের প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৩ খণ্ডের কাব্য। মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮ টি পদে এটি বিন্যস্ত।

এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- রাধা,
- কৃষ্ণ এবং
- বড়ায়ি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৪৯.
বৈষ্ণব পদাবলির ‘আদিকবি’ কাকে বলা হয়?
  1. বিদ্যাপতি
  2. গোবিন্দদাস
  3. জয়দেব
  4. চণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
জয়দেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়দেব
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বৈষ্ণব পদাবলির অধিকাংশ পদ রচিত হয়েছে বাংলা ও মৈথিলি ভাষার সংমিশ্রণে সৃষ্ট এক প্রকার কৃত্রিম ভাষায়, যা ব্রুজবুলি ভাষা নামে পরিচিত।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা পদাবলির আদিকবি বলা হয়। তাঁর রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন। অবাঙালি কবি বিদ্যাপতিকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি বলা হয়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস। সুতরাং বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলীর আদি রচয়িতা চণ্ডীদাস।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৫০.
অন্ধকার যুগের অন্যতম সাহিত্য নিদর্শন 'সেক শুভোদয়া' কে রচনা করেছেন?
  1. রামাই পণ্ডিত
  2. বড়ু চণ্ডীদাস
  3. চণ্ডীদাস
  4. হলায়ুধ মিশ্র
সঠিক উত্তর:
হলায়ুধ মিশ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হলায়ুধ মিশ্র
ব্যাখ্যা

• অন্ধকার যুগের অন্যতম সাহিত্য নিদর্শন 'সেক শুভোদয়া' রচনা করেছেন - হলায়ুধ মিশ্র।

'সেক শুভোদয়া':
- হলায়ুধ মিশ্র ছিলেন রাজা লক্ষ্মণ সেন এর সভাকবি।
- 'সেক শুভোদয়া' হলো বাংলা এবং সংস্কৃত ভাষায় মিশ্রিত একটি চম্পুকাব্য।
- এর রচনাকাল ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যে।
- গদ্য-পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫টি অধ্যায় আছে।
- গ্রন্থটি রাজা লক্ষ্মন সেন ও শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজীর অলৌকিক কাহিনি অবলম্বনে রচিত।
- 'শেখের শুভোদয়' অর্থাৎ শেখের গৌরব ব্যাখ্যাই এই পুস্তিকার উদ্দেশ্য।

• অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়'শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।
- অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুম্মা'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৫১.
বণিক ধনপতির কাহিনি বর্ণিত হয়েছে কোন মঙ্গলকাব্যে?
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কাহিনি দুই খণ্ডে বিভক্ত। প্রথম-আক্ষেটিক খণ্ড এবং দ্বিতীয়-বণিক খণ্ড। অন্যান্য মঙ্গলকাব্যে একটি মাত্র কাহিনি রয়েছে। 

• প্রথম খণ্ড: আক্ষেটিক খণ্ড বা ব্যাধ কালকেতু-ফুল্লরা উপাখ্যান'।প্রথম খণ্ডে আক্ষেটিক বা ব্যাধ কালকেতুর কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। 
• দ্বিতীয় খণ্ড: বণিক খণ্ড বা ধনপতি সওদাগরের কাহিনি।দ্বিতীয় খণ্ডে বণিক ধনপতির কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪৫২.
'মীনচেতন' গ্রন্থের সম্পাদক কে?
  1. আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ
  2. আলি আহমদ
  3. নলিনীকান্ত ভট্টশালী
  4. পঞ্চানন মণ্ডল
সঠিক উত্তর:
নলিনীকান্ত ভট্টশালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নলিনীকান্ত ভট্টশালী
ব্যাখ্যা
• 'মীনচেতন' গ্রন্থের সম্পাদক - নলিনীকান্ত ভট্টশালী

নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য। 
- অন্যভাবে বলা যায়, নাথ ধর্মের সাধনতত্ত্ব ও প্রাসঙ্গিক গল্প কাহিনি অবলম্বনে রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য।

গোরক্ষবিজয়:
- নাথসাহিত্য ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো গোরক্ষবিজয়। 
- গোরক্ষবিজয় সংক্রান্ত ১৭টির মতো পুথি অবিভক্ত বাংলা থেকে সংগৃহীত হয়েছে। সংগ্রাহকরা হলেন:
→ নলিনীকান্ত ভট্টশালী (১টি পুথি),
→ আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (৮টি পুথি),
→ আলি আহমদ (৭টি পুথি) এবং 
→ পঞ্চানন মণ্ডল (১টি পুথি)।

• এসব পুথির অধিকাংশই খণ্ডিত। 
- পুথি অনুসরণে সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন। 
- নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত গ্রন্থের নাম 'মীনচেতন' এবং আবদুল করিম ও পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত গ্রন্থের নাম যথাক্রমে 'গোরক্ষবিজয়' ও 'গোর্খবিজয়'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৫৩.
'দস্যু কেনারামের পালা' কোন সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. নাথ সাহিত্য 
  2. পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  3. মৈমনসিংহ গীতিকা
  4. ধর্মমঙ্গল কাব্য 
সঠিক উত্তর:
মৈমনসিংহ গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৈমনসিংহ গীতিকা
ব্যাখ্যা

• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
- দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা:
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি)
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- দেওয়ান ভাবনা, 
- কঙ্ক ও লীলা ও
- কাজলরেখা (রূপকথা)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া

৪৫৪.
'সনকা' চরিত্রটি কোন মঙ্গলকাব্যের?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
'মনসামঙ্গল' কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত। এবং এই কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
- 'কানা হরিদত্ত, বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, প্রমুখ ছিলেন 'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা।
মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো: সাপের দেবী মনসা, চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৫৫.
মধ্যযুগের কোন কাব্যে 'ভাঁড়ুদত্ত' চরিত্রটি পাওয়া যায়?
  1. ক) অভয়ামঙ্গল
  2. খ) চণ্ডীমঙ্গল
  3. গ) মনসামঙ্গল
  4. ঘ) ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
খ) চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
- 'ভাঁড়ুদত্ত' চরিত্রটি চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে পাওয়া যায়।

• চণ্ডীমঙ্গল:
- চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য 'চণ্ডীমঙ্গল’।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। তিনি ছিলেন চতুর্দশ শতকের কবি।
- চন্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী।
- এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে। একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ। দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো: কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৫৬.
কোনটি মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. দেবখণ্ড
  2. বন্দনা
  3. মর্ত্যখণ্ড
  4. দানখণ্ড
সঠিক উত্তর:
দানখণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দানখণ্ড
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্য:
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। 
- ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- এর প্রধান শাখা ৩টি - মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্নপরিচয়, দেবখণ্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল।

অন্যদিকে,
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২। বাংলাপিডিয়া।

৪৫৭.
'লেটো' কী?
  1. নজরুল সঙ্গীত
  2. রবীন্দ্র সঙ্গীত
  3. সারিগান
  4. লোকগান
সঠিক উত্তর:
লোকগান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকগান
ব্যাখ্যা
• 'লেটো' এক ধরনের লোকগান।
--------------------
• লেটো গান সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য:
- লেটো গান  পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে প্রচলিত এক প্রকার  লোকসঙ্গীত।
- এটি যাত্রাগানের প্রকারভেদ।
- যাত্রাগানের মতোই পালার আকারে রচিত এ গান নৃত্য ও অভিনয়সহ পরিবেশন করা হয়; সঙ্গে থাকে বাদকদল।
- লেটো গান শুরু হয় বন্দনা দিয়ে। সখি, সঙদার, পাঠক বিভিন্ন নামে নট-নটীরা গান ও নাচ পরিবেশন করে। 
- এর বিষয়বস্ত্ত সামাজিক রঙ্গরস ও আটপৌরে গ্রামীণ জীবন; পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়েও পালা রচিত হয়।  
- কাজী নজরুল ইসলাম শৈশবকালে লেটোদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- তাঁর রচিত রাজপুত্রের সঙ, চাষার সঙ, আকবর বাদশা প্রভৃতি লেটো গানের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- লেটো গানে অনেক সময় দুটি দলের মধ্যে প্রতিযোগিতাও হয়; দলের প্রধানকে বলা হয় ‘গোদা কবি’।
-------------------- 
• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: 
- 'ভাওয়াইয়া' মূলত রংপুর অঞ্চলের গান।
- মূলত গরুর গাড়ি চালকদের মুখে এ গান শোনা যায়।
- 'গম্ভীরা' বৃহত্তর রাজশাহী (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) অঞ্চলের গান।
- 'জারি গান' মূলত ময়মনসিংহ ও ঢাকা অঞ্চলের গান। এটি মূলত দুই পক্ষের মধ্যে গানের প্রতিযোগিতা।
- 'ভাটিয়ারী' মূলত ময়মনসিংহ অঞ্চলের গান।
- 'চটকা' রংপুর অঞ্চলের গান।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্ট।
৪৫৮.
“টপ্পা” কী?
  1. ক) এক ধরণের গান
  2. খ) বাদ্যযন্ত্র
  3. গ) কাব্যগ্রন্থ
  4. ঘ) নাচের মুদ্রা
সঠিক উত্তর:
ক) এক ধরণের গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এক ধরণের গান
ব্যাখ্যা
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধু (বাবু)।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টপ্পা শিক্ষাগ্রহণ করেন। ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।

তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ:
নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা।

-তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম ‘গীতরত্ন’ (১৮৩২)।


উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৫৯.
বৈষ্ণব পদাবলির সর্বপ্রথম সংকলক কে?
  1. বলরাম দাস
  2. মণীন্দ্রমোহন ঘোষ
  3. বাবা আউল মনোহর দাস
  4. গোবিন্দ দাস
সঠিক উত্তর:
বাবা আউল মনোহর দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাবা আউল মনোহর দাস
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব সাহিত্য:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে পরিমাণে ও গুণে সবচেয়ে সমৃদ্ধ ধারা হলো বৈষ্ণব সাহিত্য।
- মধ্যযুগে ১৬৫ জনের মতো কবি বৈষ্ণব সাহিত্য রচনা করেন।
- এদের রচিত বৈষ্ণব কবিতার সর্বপ্রথম সংকলন করেন বাবা আউল মনোহর দাস।
- তার বৈষ্ণব কবিতা সংকলের নাম পদসমুদ্র।
- এতে প্রায় পনের হাজার বৈষ্ণব কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- ষোড়শ শতকের শেষের দিকে তিনি এগুলো সংগ্রহ করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সেমিত্র শেখর।
৪৬০.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' আবিষ্কার করেন কে?
  1. ক) শ্রীবসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ
  2. খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. গ) সুকুমার সেন
  4. ঘ) ড. দীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
ক) শ্রীবসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শ্রীবসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের শুরুতেই রচিত হয় একটি সুদীর্ঘ অসাধারণ কাব্য যার নাম ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’। এ কাব্যটি রচনা করেন বড়ু চণ্ডীদাস।
গ্রন্থটি ১৯০৯ সালে বাঁকুড়ার এক গৃহস্থের গোয়ালঘর থেকে শ্রীবসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ এটি আবিষ্কার করেন।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন-এর কবি বড়ু চণ্ডীদাস বাংলা ভাষার প্রথম মহাকবি।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ
৪৬১.
বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা কার গান শুনে অভিভূত হয়েছিলেন?
  1. ক) নিধু বাবু
  2. খ) রামপ্রসাদ সেন
  3. গ) অতুলপ্রসাদ সেন
  4. ঘ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
খ) রামপ্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রামপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
শাক্তসঙ্গীত/শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বিখ্যাত হয়েছিলেন - রামপ্রসাদ সেন।
- তিনি শাক্ত পদাবলীর আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি।
- তার গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।
- তার রচিত শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।

- তার গান শুনে বাংলার শেষ নবাব সিরাজঊদৌলা অভিভূত হয়েছিলেন।
- রামপ্রসাদ সেনকে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র 'কবিরঞ্জন' উপাধি দিয়েছিলেন।


- বিখ্যাত গান
"মনরে কৃষি কাজ জান না
এমন মানবজমিন রইল পতিত
আবাদ করলে ফলতো সোনা।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
৪৬২.
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে ইউসুফ-জুলেখা একটি
  1. ক) মঙ্গলকাব্য
  2. খ) প্রণয়োপাখ্যান
  3. গ) জীবনীকাব্য
  4. ঘ) লোক-উপখ্যান
সঠিক উত্তর:
খ) প্রণয়োপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তাঁর রচিত একটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান 'ইউসুফ জুলেখা'।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্য রচনা করেন।
- এটি তিনি পারস্যের ফারসি ভাষার কবি জামী রচিত 'ইউসুফ ওয়া জুলায়খা' থেকে অনুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৬৩.
কালিকামঙ্গল কাব্যধারার কবি নন কে?
  1. ক) কবি কঙ্ক
  2. খ) সাবিরিদ খান
  3. গ) রমাপদ সেন
  4. ঘ) কবীন্দ্র পরমেশ্বর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কবীন্দ্র পরমেশ্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কবীন্দ্র পরমেশ্বর
ব্যাখ্যা
• কালিকামঙ্গল:
- কালিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দর কাহিনি' বলা হয়।
- দেবী কালির মাহাত্ম বর্ণনা করা হয়েছে এই মঙ্গল কাব্যে। 
- কালিকামঙ্গল কাব্যের আদি কবি- কবি কঙ্ক
- এছাড়া সাবিরিদ খানরমাপদ সেন কালিকা মঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪৬৪.
‘বাঙলা সাহিত্যে মধ্যযুগ অপাঠ্য’ কথাটি বলেছেন কে?
  1. ক) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) ভারতচন্দ্র রায় গুনাকর
  4. ঘ) নবীনচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
নানা রকমের মঙ্গলকাব্য রচিত হয়েছে বাঙলা ভাষায়, সকলের রূপ প্রায় একই রকম।
- একই বিষয়ে অসংখ্য কবি কাব্য লিখেছেন।
- মনসামঙ্গলকাব্য লিখেছেন হরি দত্ত, নারায়ণ দেব, বিজয় গুপ্ত, বিপ্রদাস এবং আরো অনেকে।
- চন্ডীমঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন মাণিক দত্ত, দ্বিজ মাধব, মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, দ্বিজ রামদেব, ভারতচন্দ্র রায় প্রমুখ।
- ধর্মমঙ্গলকাব্য লিখেছেন ময়ূরভট্ট, মাণিকরাম, রূপরাম, সীতারাম, ঘনরাম, এবং আরো বহু কবি
- মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্যের ফিরে ফিরে পুনরুক্তি দেখে মধ্যযুগের ওপর ভীষণ বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন আধুনিক কালের একজন বড়ো কবি, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। তিনি অনেকটা রেগেই বলেছেন, ‘বাঙলা সাহিত্যে মধ্যযুগ অপাঠ্য।’

[উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ]
৪৬৫.
"হানিফা-কয়রাপরী" - কী জাতীয় রচনা?
  1. নীতিশাস্ত্র
  2. রূপকথা
  3. যুদ্ধ উপজীব্য রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  4. গ্রাম-বাংলার জীবন কাঠামো 
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধ উপজীব্য রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধ উপজীব্য রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা

• 'হানিফা-কয়রাপরী' কাব্য: 
- 'হানিফা কয়রাপরী' কাব্যের রচয়িতা সাবিরিদ খান/শাহ বারিদ খান। 
- 'হানিফা কয়রাপরী' জঙ্গনামাজাতীয় যুদ্ধকাব্য হলেও প্রেমকাহিনির জন্য তা রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের পর্যায়ভুক্ত। 
- কবির কাব্যটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে কাব্যের নাম নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। 

• সাবিরিদ খান: 
- সাবিরিদ খান মধ্যযুগের আখ্যানকবি।
- সাবিরিদ খান ‘বিদ্যাসুন্দর’, ‘রসুল বিজয়’ ও ‘হানিফা-কয়রাপরী’ নামে তিনখানি আখ্যানমূলক কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যের প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপিগুলি খণ্ডিত হওয়ায় কবির ব্যক্তিগত পরিচয় জানা যায় না।
- ভনিতার সামান্য তথ্য থেকে বলা যায়, কবি চট্টগ্রামের নানুপুরের অধিবাসী ছিলেন। 
- তিনি ভারতীয় উৎস থেকে বিদ্যাসুন্দর এবং আরব-ইরান উৎস থেকে রসুল বিজয় ও হানিফা-কয়রাপরী কাব্য রচনা করেন।
- বিদ্যাসুন্দর ও হানিফা-কয়রাপরী রোমান্সসূলভ প্রণয়কাব্য, রসুল বিজয় ইসলামের গৌরব-গাথা।
- হানিফা-কয়রাপরী ও রসুল বিজয় কাব্যে যুদ্ধ-বিগ্রহের প্রাধান্য থাকায় উভয় কাব্যকে জঙ্গনামা নামেও চিহ্নিত করা হয়। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৬৬.
'শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথম দিন' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আহমদ ছফা
  2. খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. গ) ইমদাদুল হক মিলন
  4. ঘ) কাজী আবদুল ওদুদ
সঠিক উত্তর:
খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
'শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথম দিন' উপন্যাসটির রচয়িতা- আলাউদ্দিন আল আজাদ। 

আলাউদ্দিন আল আজাদ 
- আলাউদ্দিন আল আজাদ ১৯৩২ সালে নরসিংদী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।  
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম: 'জেগে আছি'। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
- কর্ণফুলী
- শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন
- ক্ষুধা ও আশা 
- শ্যামল ছায়ার সংবাদ 

তাঁর রচিত গল্পগন্থ:
- জেগে আছি,
- ধানকন্যা 
- মৃগনাভি,
- অন্ধকার সিঁড়,
- যখন সৈকত,
- আমার রক্ত আমার স্বপ্ন,
- জীবন জমিন প্রভৃতি।

তাঁর রচিত কাবগ্রন্থগুলি:
- মানচিত্র 
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ 

• মহান একুশে নিয়ে তাঁর একটি বিখ্যাত কবিতার কয়েক পংক্তি:
স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার?
ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো!

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৬৭.
কোন গ্রন্থটি আলাওল রচিত?
  1. ক) তোহফা
  2. খ) নূরনামা
  3. গ) ইউসূফ-জোলেখা
  4. ঘ) মধুমালতী
সঠিক উত্তর:
ক) তোহফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তোহফা
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগের সবচেয়ে উল্লেখযােগ্য মুসলমান কবি আলাওল। আরাকান রাজসভার তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল। কবি আলাওলের সাহিত্যকর্ম হলো- পদ্মাবতী, সপ্ত পয়কর, সিকান্দারনামা, তোহফা, রাগতালনামা, সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান এবং দৌলত কাজীর অসমাপ্ত গ্রন্থ সতীময়না লোরচন্দ্রানী ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪৬৮.
‘জঙ্গনামা’ কাব্যের বিষয়বস্তু কী?
  1. রোমান্স
  2. যুদ্ধ-বিগ্রহ
  3. প্রকৃতি
  4. মনোসমীক্ষণ
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধ-বিগ্রহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধ-বিগ্রহ
ব্যাখ্যা

• ‘জঙ্গনামা’ কাব্যের বিষয়বস্তু- যুদ্ধ-বিগ্রহ।
- জঙ্গনামা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য। ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা।
- যেসব যুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে। তাই আরবি-ফারসি সাহিত্যে যেমন, বাংলা সাহিত্যেও তেমনি ‘জঙ্গনামা’ বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।
- জঙ্গনামা ও মর্সিয়া সাহিত্য প্রথমত আরবে, পরে পারস্যে বিকাশ লাভ করে এবং মধ্যযুগের মুসলিম শাসনামলে এ সাহিত্যধারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

জঙ্গনামা শ্রেণির কাব্যধারার উল্লেখযোগ্য কবি ও কাব্যের নাম হলো: 
- শেখ ফয়জুল্লাহ, (জয়নবের চৌতিশা)
- দৌলত উজির বাহরাম খান (জঙ্গনামা),
- মুহম্মদ খান (মকতুল হোসেন)
- শেরবাজ (কাশিমের লড়াই ও ফাতিমার সুরতনামা)
- হেয়াত মামুদ (জারি-জঙ্গনামা),
- জাফর (শহীদ-ই-কারবালা ও সখিনার বিলাপ),
- হামিদ (সংগ্রাম হুসেন)
- ফকির গরিবুল্লাহ (জঙ্গনামা ও সোনাভান)
- মুহম্মদ হামিদুল্লাহ খান (গুলজার-ই-সাহাদৎ) এবং
- ওয়াহিদ আলী (বড় জঙ্গনামা)

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ।

৪৬৯.
বিপ্রদাস পিপিলাই রচিত কাব্যের নাম -
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. বিজয়পুরাণ
  3. মনসাবিজয়
  4. সারদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসাবিজয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসাবিজয়
ব্যাখ্যা
• বিপ্রদাস পিপিলাই রচিত কাব্যের নাম - মনসাবিজয়।

• বিপ্রদাস পিপিলাই:  
- তিনি মনসামঙ্গল কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- বিজয় গুপ্তের প্রায় সমসাময়িক কবি বিপ্রদাস পিপিলাই। 
- তিনি বিজয় গুপ্তের মনসামঙ্গল রচনার এক বছর পর তাঁর 'মনসাবিজয়' কাব্য রচনা করেন। 
- কাব্যমধ্যে কবি যে আত্মপরিচয় দিয়েছেন তা থেকে জানা যায় যে, তিনি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বাদুড়্যা-বটগ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- বিপ্রদাস পিপিলাই এর কাব্যে মনসা দেবীর চরিত্র অপেক্ষাকৃত নমনীয় এবং স্নেহমমতা ও করুণায় সমধিক আর্দ্র।
- এ কাব্যে চাঁদ সওদাগরের বাণিজ্যযাত্রার বর্ণনা প্রসঙ্গে সপ্তগ্রামের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়।
- তাঁর কাব্যের আখ্যানধারা বেশ সরল ও কাব্যভাষা সাবলীল; চরিত্রচিত্রণেও তিনি সংযম ও পরিচ্ছন্ন রুচির পরিচয় দিয়েছেন।

উল্লেখ্য,
- 'মনসামঙ্গল' কাব্যের আদি কবি-কানা হরি দত্ত।
- 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের আদি কবি - মানিক দত্ত।
- 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের প্রধান কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। 
- ‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের রচয়িতা বিহারীলাল চক্রবর্তী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৭০.
রামায়ণ কোন ভাষায় রচিত মহাকাব্য?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) অসমিয়া
  3. গ) হিন্দি
  4. ঘ) সংস্কৃত
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত ভাষায় রচিত প্রাচীন মহাকাব্য রামায়ণ। ঋষি বাল্মীকি রামায়ণের রচয়িতা। এটি ৭ খণ্ডে বিভক্ত। রামায়ণের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কৃত্তিবাস ওঝা।
শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৪৭১.
'ছুটি খাঁনী' মহাভারত কে রচনা করেন?
  1. শ্রীকর নন্দী
  2. কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব
  3. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  4. কাশীরাম দাস
সঠিক উত্তর:
শ্রীকর নন্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকর নন্দী
ব্যাখ্যা
• 'ছুটি খাঁনী' মহাভারত:
- চট্টগ্রামের শাসনকর্তা পরাগল খান মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র ছুটি খাঁ সভাসদ শ্রীকর নন্দীকে মহাভারত অনুবাদের নির্দেশ দেন।
- ছুটিখানের আদেশে জৈমিনি মহাভারতের ওপর নির্ভর করে কেবল ‘অশ্বমেধ পর্বের’ অংশ নিয়ে শ্রীকর নন্দী 'ভারত পাঁচালী' রচনা করেন।
- শ্রীকর নন্দী রচিত ভারত পাঁচালী 'ছুটি খাঁনী' মহাভারত নামেও পরিচিত।
- কেউ কেউ বলে পরাগলী মহাভারতের অসম্পূর্ন অংশ সম্পূর্ণ করেছেন শ্রীকর নন্দী।

অন্যদিকে,
• দ্বৈপায়ন ব্যাসদেবের ‘মহাভারত’:
- ‘মহাভারত' কাব্যের মূল রচয়িতা হচ্ছেন কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকের নাম কাশীরাম দাস। ‘মহাভারত' কাব্যগ্রন্থ টি সংস্কৃত ভাষায় রচিত।

• 'পরাগলী মহাভারত:
- 'পরাগলী মহাভারত' খ্যাত গ্রন্থের লেখক কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- তিনি মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি।
- নবাব হুসেন শাহ্‌ (১৪৯৩-১৫১৮) চট্টগ্রাম শাসনের জন্য পরাগল খাঁ নামক এক লস্কর নিযুক্ত করেন।
- যুদ্ধপ্রিয় পরাগল খাঁ মহাভারতের যুদ্ধকাহিনি শুনে গ্রন্থটি অনুবাদের জন্য পরমেশ্বর দাসকে নির্দেশ দেন।
- তাই কবীন্দ্র পরমেশ্বর এর অনুবাদকৃত মহাভারতকে 'পরাগলী মহাভারত' বলা হয়।
- কবীন্দ্র তাঁর রচিত মহাভারতের নাম দিয়েছেন ‘ভারত পাঁচালী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪৭২.
'আমি কি দুঃখেরে ডরাই'- উক্তিটি কার রচনা?
  1. মালাধর বসু 
  2. রামনিধি গুপ্ত 
  3. রামপ্রসাদ সেন
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী 
সঠিক উত্তর:
রামপ্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• রামপ্রসাদ সেন:
- শাক্তসঙ্গীত/শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বিখ্যাত ছিনেন" রামপ্রসাদ সেন"। তিনি শাক্ত পদাবলীর আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি। পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কুমারহট্ট গ্রামের কবিরাজ বংশে তাঁর জন্ম।
- তাঁর রচিত শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় রামপ্রসাদের কবিত্ব ও সঙ্গীতখ্যাতির কথা শুনে তাঁকে নিজের রাজসভায় যোগদানের আহবান জানান এবং 'কবিরঞ্জন' উপাধিতে ভূষিত করেন।
- একসময় মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে নবাব সিরাজউদ্দৌলা নদীর পাড়ে রামপ্রসাদের গান শুনে মুগ্ধ হন। তিনি ভক্তিভাব এবং রাগ ও বাউল সুরের মিশ্রণে এক ভিন্ন সুরের সৃষ্টি করেন, যা বাংলা সঙ্গীতজগতে 'রামপ্রসাদী সুর' নামে পরিচিত।

তাঁর বিখ্যাত উক্তি,
'আমি কি দুঃখেরে ডরাই'।

তাঁর কয়েকটি জনপ্রিয় গান হলো:
- 'মন রে কৃষি কাজ জানো না'
- 'ডুব দেরে মন কালী বলে'
- 'মা আমায় ঘুরাবি কত' ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৭৩.
কবি আলাওলের পদ্মাবতী রচনায় পৃষ্ঠপোষকতা করেন কে?
  1. ক) দৌলত কাজী
  2. খ) কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. গ) আশরাফ খান
  4. ঘ) সৈয়দ মুহম্মদ
সঠিক উত্তর:
খ) কোরেশী মাগন ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কোরেশী মাগন ঠাকুর
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগের সেরা মুসলিম কবি - আলাওল। তিনি রোসাঙ্গ রাজসভার কবি ছিলেন।
- কোরেশী মাগন ঠাকুরও রোশাঙ্গ রাজসভার বাঙ্গালি কবি ছিলেন। তার পিতা বড়াই ঠাকুর রাজসভার মন্ত্রী ছিলেন।
- কোরেশী মাগন ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় আলাওল যে কাব্যগুলো রচনা করেন সেগুলো হচ্ছে - 'পদ্মাবতী''সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল'
- মাগন ঠাকুর 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের রচয়িতা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪৭৪.
বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম সংকলক ছিলেন-
  1. আউল মনোহর দাস
  2. রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ
  3. গোপাল হালদার 
  4. দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
আউল মনোহর দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আউল মনোহর দাস
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে জয়দেব রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলির রচনা করেন চণ্ডীদাস।
- বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম সংকলক বাবা আউল মনোহর দাস।
- বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম সংকলনের নাম 'পদসমুদ্র'।
- বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম সংকলন 'পদসমুদ্র'-এ ১৫ হাজার পদ ছিল।

বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮টি অবস্থা। এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে।
যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।

অন্যদিকে, 
• বাংলা ভাষার প্রথম অভিধান সংকলন করেন রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ। 

উৎস: 'পদসমুদ্র' সংকলন; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৭৫.
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য কোনটি?
  1. মহাভারত
  2. পদাবলী কীর্তন
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. গীতগোবিন্দ
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত। এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৭৬.
'শূণ্যপুরাণ' কাব্য কার রচনা?
  1. হর্ষবর্ধন
  2. গোবিন্দদাস
  3. রামাই পণ্ডিত 
  4. বিপ্রদাস
সঠিক উত্তর:
রামাই পণ্ডিত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামাই পণ্ডিত 
ব্যাখ্যা

• 'শূণ্যপুরাণ':
- 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ। এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য। গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৭৭.
'শাহনামা' মৌলিক গ্রন্থটি কার?
  1. মালিক জয়সী
  2. ফেরদৌসী
  3. সৈয়দ হামজা
  4. কাজী দৌলত উজির বাহরাম খাঁ
সঠিক উত্তর:
ফেরদৌসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেরদৌসী
ব্যাখ্যা
• শাহনামা:
- শাহনামা পারস্যের (বর্তমান ইরান) কবি ফেরদৌসী দ্বারা লিখিত একটি দীর্ঘ মহাকাব্য।
- এটি একই সাথে ইরানের ও সারা বিশ্বের ফার্সি ভাষাভাষী লোকদের জন্য জাতীয় মহাকাব্য।
- ফেরদৌসী ৯৭৭ থেকে ১০১০ সালের মধ্যে ৩০ বছরের অধিক সময় ধরে এই মহাকাব্য রচনা করেন।
- শাহনামায় প্রায় ষাট হাজার শ্লোক রয়েছে।
- ইরানের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তুলে আনা হয়েছে এই মহাকাব্যে।
- এটিকে বলা হয় ইরানের জাতীয় মহাকাব্য।
- ভারতীয় উপমহাদেশে এটির একটি সংকলন প্রকাশিত হয় ১৮২৯ সালে।
- প্রথম মুঘল সম্রাট বাবর এই মহাকাব্য থেকে কিছু পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করেছিলেন।
- বাংলার নবাব আলীবর্দী খাঁও শাহনামা পড়ে উদ্দীপ্ত হয়েছিলেন।

উৎস: কালের কন্ঠ, ৩১ জুলাই, ২০১৫, ‘শাহনামা' গ্রন্থ- কবি ফেরদৌসী।
৪৭৮.
রোম্যান্টিক প্রনয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি কে?
  1. চন্দ্রবতী
  2. শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. আব্দুল কাদির
  4. গোলাম মোস্তফা
সঠিক উত্তর:
শাহ মুহম্মদ সগীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহ মুহম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মুসলমান কবিগণের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান এই রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান বা প্রণয়কাহিনি।
- এই শ্রেণির কাব্য মধ্যযুগের সাহিত্যে বিশিষ্ট স্থান জুড়ে আছে।
- এই কাব্যধারা মূলত প্রেম, বিরহ, ঐতিহাসিক ঘটনা এবং কল্পনাপ্রসূত কাহিনিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
- মধ্যযুগে এই ধারা বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষত্ব হিসেবে গড়ে ওঠে এবং পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
----------------------------------------------------------------
• শাহ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্য বা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম ইউসুফ-জোলেখা।
- এটি একটি রোমান্টিক প্রনয়োপাখ্যান।
- ইউসুফ-জোলেখা কাব্যগ্রন্থের রচনাকাল অনুসারে এটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য এবং শাহ মুহম্মদ সগীর এই ধারার প্রথম কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৭৯.
‘রাজা প্রতাপাদিত্যচরিত্র’ কার লেখা?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. হরপ্রসাদ রায়
  4. রামরাম বসু
সঠিক উত্তর:
রামরাম বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামরাম বসু
ব্যাখ্যা

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অন্যতম পণ্ডিত ছিলেন রামরাম বসু। তিনি হুগলি জেলায় ১৭৫৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
১৭৯৩- ১৭৯৬ সাল পর্যন্ত উইলিয়াম কেরিকে বাংলা ভাষা শেখান। সেজন্য তাঁকে কেরি সাহেবের মুন্‌সি বলা হয়।
- রামরাম বসু, রাজা প্রতাপাদিত্যচরিত্র (১৮০১) ও লিপিমালা (১৮০২) গ্রন্থের রচয়িতা।
- রাজা প্রতাপাদিত্যচরিত্র বাংলা ভাষায় প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ।


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি।

৪৮০.
‘ধনপতি সদাগরের কাহিনি’ কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ধর্মমঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷ 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়। 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।
 
• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যানে রয়েছে ধনপতি সদাগরের কাহিনি। উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।
 
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৮১.
বৈষ্ণব সাহিত্য কয় প্রকার?
  1. ক) ২ প্রকার
  2. খ) ৩ প্রকার
  3. গ) ৪ প্রকার
  4. ঘ) ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ প্রকার
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের সাহিত্যধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সবচেয়ে সমৃদ্ধ।
বৈষ্ণব সাহিত্য ৩ প্রকার। যথা: ১. জীবনীকাব্য, ২. বৈষ্ণব শাস্ত্র ও ৩. বৈষ্ণব পদাবলী।
[সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৪৮২.
কৃত্তিবাস ওঝা অনূদিত রামায়ণের নাম কী?
  1. সত্য পীরের পাঁচালী
  2. শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ
  3. শ্রীরাম-পাঁচালি
  4. কৃত্তিবাসি রামায়ণ
সঠিক উত্তর:
শ্রীরাম-পাঁচালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীরাম-পাঁচালি
ব্যাখ্যা
• কৃত্তিবাস ওঝা অনূদিত রামায়ণের নাম - শ্রীরাম-পাঁচালি।  

কৃত্তিবাস ওঝা:
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঁচালি'। 
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- কৃত্তিবাসী রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খন্ডে মুদ্রিত হয়।

তাছাড়া, 
'সত্য পীরের পাঁচালী- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত গ্রন্থ।
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের অপর নাম- 'শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৮৩.
'টপ্পা' কী?
  1. ক) এক ধরনের গান
  2. খ) বাদ্যযন্ত্র
  3. গ) নাচের মুদ্রা
  4. ঘ) বিশেষ ধরনের খেলা
সঠিক উত্তর:
ক) এক ধরনের গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এক ধরনের গান
ব্যাখ্যা
কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল।
- হিন্দি টপ্পাগান এর আদর্শ। 
- বাংলা  টপ্পাগানের জনক ছিলেন  নিধু বাবু বা রামনিধি গুপ্ত ।
- তাঁর টপ্পাগানের সংকলনের নাম 'গীতরত্ন' (১৮৩২)। 

বিখ্যাত টপ্পাগান-
"নানান দেশের নানান ভাষা।
বিনে স্বদেশীয় ভাষা
পুরে কি আশা।।" -এর রচয়িতা নিধু বাবু বা রামনিধি গুপ্ত (১৭৪১-১৮৩৯)

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৮৪.
ড. দীনেশচন্দ্র সেনের মতে ডাক ও খনার বচনের রচনাকাল কবে?
  1. ক) অষ্টম থেকে দশম
  2. খ) সপ্তম থেকে একাদশ
  3. গ) অষ্টম থেকে দ্বাদশ
  4. ঘ) সপ্তম থেকে দশম
সঠিক উত্তর:
গ) অষ্টম থেকে দ্বাদশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অষ্টম থেকে দ্বাদশ
ব্যাখ্যা
ডাক ও খনার বচনকে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সৃষ্টি  বলে বিবেচনা করা হয়।
- ছড়া জাতীয় এসব রচনায় এদেশের আবহাওয়া ও কৃষি সম্পর্কিত বহু বিচিত্র অভিজ্ঞতার রূপায়ন ঘটেছে। 
- ড. দীনেশচন্দ্র সেন ডাক ও খনার বচন রচনার কাল অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতক বলে বিবেচনা করেছেন। 
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এর কতগুলোকে  বৌদ্ধযুগের রচনা বলে ধারণা করেছেন। 
- ড. নীহাররঞ্জন রায় এগুলোকে  প্রাক তুর্কি আমলের রচনা বলে মনে করেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৪৮৫.
'আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে।'- এই মনোবাঞ্ছাটি কার?
  1. ভবানন্দের
  2. ভাঁডুদত্তের
  3. ঈশ্বরী পাটনীর
  4. ফুল্লরার
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরী পাটনীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরী পাটনীর
ব্যাখ্যা
• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
• ভারতচন্দ্র রায় ছিলেন আঠারো শতকের শ্রেষ্ঠ কবি এবং তাঁর অন্নদামঙ্গল এ সময়ের শ্রেষ্ঠ কাব্য। কাব্যটি তিন খণ্ডে তিনটি স্বতন্ত্র কাহিনিতে পূর্ণতা লাভ করেছে। প্রথম খণ্ডে শিবায়ন-অন্নদামঙ্গল, দ্বিতীয় খণ্ডে বিদ্যাসুন্দর-কালিকামঙ্গল এবং তৃতীয় খণ্ডে মানসিংহ-অন্নপূর্ণামঙ্গল কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

• প্রথম উপাখ্যানের মূল ঘটনা পৌরাণিক। এতে সতীর দেহত্যাগ, পার্বতীর বিবাহ, শিবের সংসার ও কাশীতে দেবীর অন্নপূর্ণামূর্তি ধারণের বর্ণনা আছে। সেসঙ্গে যুক্ত হয়েছে হরিহোড়কে ছেড়ে দেবী কিভাবে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পূর্বপুরুষ ভবানন্দের পিতৃগৃহে উপস্থিত হন সেই লৌকিক কাহিনি।

• দ্বিতীয়টি বিদ্যাসুন্দরের কাহিনী। কালিকার কৃপায় কিভাবে সুন্দর বিদ্যার পাণিগ্রহণ করেছিলেন এবং মশান থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন সে কাহিনী বর্ণিত হয়েছে এখানে।

• তৃতীয় অংশটি অনেকটা ঐতিহাসিক। মানসিংহ কর্তৃক প্রতাপাদিত্যকে পরাজিত ও বন্দিকরণ এবং সম্রাট জাহাঙ্গীরের নিকট থেকে ভবানন্দের ‘রাজা-ই-ফরমান’ লাভের ঘটনা এখানে বর্ণিত হয়েছে।

• অন্নদামঙ্গল থেকে তৎকালীন বাঙালি সমাজের অনেক তথ্যই পাওয়া যায়। দেবী ও ঈশ্বরী পাটনীর ঘটনা থেকে দেব-মানুষের একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা জানা যায়।

‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’ দেবীর নিকট ঈশ্বরী পাটনীর এই বর প্রার্থনার মধ্য দিয়ে অনুমান করা যায় যে, তখন ন্যূনপক্ষে দুধভাত খাওয়ার নিশ্চয়তা ছিল বাঙালি জীবন-যাত্রার নিম্নতম স্ট্যান্ডার্ড।

• অন্নদামঙ্গলে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয় যে, অন্যান্য মঙ্গলকাব্যের মতো এতে দৈবপ্রাধান্য কম, সে স্থান দখল করেছে মানুষ। এখানে দেবীর সন্তুষ্টিকামনা অপেক্ষা রাজার সন্তুষ্টিকামনা তীব্রতর। মূলত নদীয়ার রাজবংশের গৌরবময় ইতিহাস বর্ণনা করতে গিয়ে কবি সমকালীন ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে দৈব ঘটনা মিশিয়ে নগরসংস্কৃতিসুলভ একটি আদিরসাত্মক প্রণয়োপাখ্যান রচনা করেছেন। এর সাহিত্যিক মূল্যও অসাধারণ। উপমাদি অলঙ্কার এবং ছন্দপ্রয়োগে তিনি যে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন তাতে তাঁর মৌলিকত্ব প্রকাশ পেয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৮৬.
'পদ্মাবতী' কাব্যের চরিত্র কোনটি?
  1. ক) রত্নসেন
  2. খ) মহীপাল
  3. গ) ঈশ্বরী পাটনি
  4. ঘ) বেহুলা
সঠিক উত্তর:
ক) রত্নসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রত্নসেন
ব্যাখ্যা
'পদ্মাবতী' হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির রচিত 'পদুমাবৎ' কাব্যের অনুবাদ।
এটি অনুবাদ করেন সতের শতকের বাঙালি কবি আলাওল (মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি)।
এর চরিত্র চিতোরের রাজা রত্নসেন, প্রথম স্ত্রী নাগমতী ও মূল নায়িকা পদ্মাবতীকে ঘিরে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৪৮৭.
সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কে?
  1. কৃত্তিবাস ওঝা
  2. কাশীরাম দাস
  3. মানিক দত্ত
  4. চন্দ্রাবতী
সঠিক উত্তর:
কৃত্তিবাস ওঝা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃত্তিবাস ওঝা
ব্যাখ্যা
কৃত্তিবাস ওঝা:
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঁচালি'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- কৃত্তিবাসী রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৮৮.
'রূপলাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।' উক্তিটি মধ্যযুগের কোন কবির রচনা?
  1. জ্ঞানদাস
  2. বিদ্যাপতি 
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. চণ্ডীদাস 
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা

• জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাটোয়ার কাঁদড়া গ্রামে এক মঙ্গল-ব্রাহ্মণ বংশে আনুমানিক ১৫৩০ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর জন্ম।
- জ্ঞানদাস পদ রচনার ক্ষেত্রে মধ্যযুগের গতানুগতিক ধারা পরিহার করে স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক অর্থাৎ রাধাকৃষ্ণের রূপাশ্রয়ে ভক্ত-ভগবানের আধ্যাত্মিক লীলা বর্ণনা করেন।
- পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়।

তাঁর কিছু গুরুত্বপূর্ণ উক্তি:
সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু,
অনলে পুড়িয়ে গেল।

রূপলাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর। 
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।। 

রূপের পাথারে আঁখি ডুবিয়া রহিল,
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪৮৯.
'কলঙ্কের ডালি মাথায় করিয়া আনল ভেজাই ঘরে।' বৈষ্ণব পদটি কার রচনা?
  1. চণ্ডীদাস
  2. বিদ্যাপতি 
  3. গোবিন্দদাস 
  4. জ্ঞানদাস 
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা

• চণ্ডীদাস:
- বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কবি চণ্ডীদাস। তাঁর রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলি যুগ যুগ ধরে বাঙালির হৃদয়কে সীমাহীন রসমাধুর্যে পরিপূর্ণ করে তুলেছে। বাংলা সাহিত্যে একাধিক চণ্ডীদাস নিয়ে জটিল চণ্ডীদাস সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

- চণ্ডীদাসের আবির্ভাবের স্থান ও কাল নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তের এখনও অভাব রয়েছে। সম্ভবত তিনি চৌদ্দ শতকের শেষভাগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। চণ্ডীদাসের বিস্ময়কর প্রতিভার পরিচায়ক আশ্চর্য সুন্দর পদগুলোতে অপূর্ব ভাবতায় কৃষ্ণপ্রেম-সাধিকা শ্রীরাধার যে মনোমুগ্ধকর চিত্র রূপায়িত হয়ে উঠেছে তা কয়েক শতাব্দী ধরে বাঙালির রসপিপাসু মনের পরিতৃপ্তি সাধন করে যাচ্ছে।

- তাঁর পদাবলির 'অনাবৃত প্রাণের নিরাভরণ আনন্দ-বেদনায় মেদুর মুহূর্তগুলো পাঠকের মনে যে প্রশান্তি, স্নিগ্ধতা ও প্রাপ্তির আনন্দঘন উপলব্ধি সৃষ্টি করে' তার মূল্য অপরিসীম।

- চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন। চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।

- তিনি 'শুনহ মানুষ ভাই/ সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই' বলে জাত-পাতযুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বাণী কাব্যে ধারণ করেছেন বলে তাকে মানবতার কবি বলা হয়। তাছাড়া ব্যক্তিজীবনেও তিনি জাত-সংস্কারের ঊর্ধ্বে ছিলেন।

- চণ্ডীদাস সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মন্তব্য করেছেন "চণ্ডীদাস সহজ ভাষায় সহজ ভাবের কবি-এই গুণে তিনি বঙ্গীয় প্রাচীন কবিদের মধ্যে প্রধান কবি"। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।

চণ্ডীদাসের ভাষা বাঙালির গভীরতম আবেগ-মুহূর্তকে স্পর্শ করেছে। এই ভাষাই বৈষ্ণব সাহিত্যের সাধারণ ভাষা।

চণ্ডীদাসের কতকগুলো পঙ্‌ক্তি প্রবাদের মতো:
১. কলঙ্কের ডালি মাথায় করিয়া আনল ভেজাই ঘরে।
২. তোমার লাগিয়া কলঙ্কের হার গলায় পরিতে সুখ।
৩. চোরের মা যেন পোয়ের লাগিয়া ফুকরি কাঁদিতে নারে।
৪. গড়ন ভাঙিতে সই আছে কত খল। ভাঙিয়া গড়িতে পারে সে বড় বিরল।
৫. বিধিরে কি দিব দোষ করম আপনা। সুজনে করিনু প্রেম হইল কুজনা।
৬. ঘর হইতে আঙিনা বিদেশ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৯০.
'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' ধারার অনুবাদ সাহিত্য নয় কোনটি?
  1. মধুমালতী
  2. গুলে বকাওলী
  3. গোরক্ষবিজয়
  4. লায়লী মজনু
সঠিক উত্তর:
গোরক্ষবিজয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোরক্ষবিজয়
ব্যাখ্যা
• ‘গোরক্ষবিজয়’ কাব্যগ্রন্থ - নাথ সাহিত্য ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো গোরক্ষবিজয়।

রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:

- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা।
- মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন:
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৯১.
মনসা দেবীকে নিয়ে লেখা বিজয়গুপ্তের মঙ্গলকাব্যের নাম কী?
  1. মনসামঙ্গল
  2. পদ্মপুরাণ
  3. মনসাবিজয়
  4. গোরক্ষ বিজয়
সঠিক উত্তর:
পদ্মপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মপুরাণ
ব্যাখ্যা

• মনসা দেবীকে নিয়ে লেখা বিজয়গুপ্তের মঙ্গলকাব্যের নাম: 'পদ্মপুরাণ'।

• পদ্মপুরাণ: 
- মনসামঙ্গল কাব্যধারার অন্যতম কবি বিজয়গুপ্ত।
- পদ্মাপুরাণ নামক মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করে তিনি মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
- তিনি মনসামঙ্গলকাব্যের যে পুঁথি পাওয়া গেছে, প্রাপ্ত এই পুঁথিভিত্তিক প্রাচীনতম কবি।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম - পদ্মাপুরাণ।

এছাড়া,
- মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি নারায়ণ দেব। তাঁর রচিত কাব্যের নামও পদ্মাপুরাণ।
- কবি বিপ্রদাস পিপিলাই রচনা করেছেন- মনসাবিজয়।
- নাথ সাহিত্যের প্রধান কবি শেখ ফয়জুল্লাহ। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ 'গোরক্ষ বিজয়'।
-----------------
⇒ মনসামঙ্গল:
• মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
• ‘মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম ‘পদ্মাপুরাণ’।
• সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য ‘মনসামঙ্গল’। 
• চাঁদ সওদাগর প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা করে, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
• দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণিবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।
• কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি ।

• এই কাব্যের অন্যান্য চরিত্রগুলো
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা,
- সাপের দেবী মনসা।
- মধ্যযুগের সংগ্রামী নারী চরিত্র হলো বেহুলা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৯২.
মঙ্গলযুগের সর্বশেষ কবি হিসেবে অভিহিত করা হয় কাকে?
  1. কানাহরি দত্ত
  2. মানিক দত্ত
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা

• মঙ্গলযুগের সর্বশেষ কবি হিসেবে অভিহিত করা হয় 'ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর' কে।

• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের ৩টি খণ্ড ছিল।
- এ কাব্যের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম কাব্য ছিল বিমিশ্র দেবতা সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি পাঁচালি।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের/মঙ্গলযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৯৩.
বাংলাদেশের সাহিত্যে লোকসাহিত্য সংগ্রাহক কে?
  1. ড. কাজী আব্দুল মান্নান
  2. ড. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. ড. কাজী দীন মহাম্মদ
  4. ড. আশরাফ সিদ্দিকী
সঠিক উত্তর:
ড. আশরাফ সিদ্দিকী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. আশরাফ সিদ্দিকী
ব্যাখ্যা

• ড. আশরাফ সিদ্দিকী বাংলাদেশের সাহিত্যে লোকসাহিত্য সংগ্রাহক।

ড. আশরাফ সিদ্দিকী:
• আশরাফ সিদ্দিকী (১ মার্চ ১৯২৭-১৯ মার্চ ২০২০) ছিলেন একজন বাঙালি সাহিত্যিক।
- বিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন যেসব সাহিত্যিক, আশরাফ সিদ্দিকী তাদের একজন।
- তিনি পাঁচশ’রও অধিক কবিতা রচনা করেছেন।
- গভীর গবেষণা করেছেন বাংলার লোকঐতিহ্য নিয়ে। তিনি একাধারে প্রবন্ধকার, ছোটগল্প লেখক, ঔপন্যাসিক, লোকসাহিত্যিক, এবং শিশু সাহিত্যিক।
- বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ১৯৬৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত হন।
লোকসাহিত্যের ভেতর রয়েছে :
- লোকসাহিত্য প্রথম খণ্ড (১৯৬৩), 
- রবীন্দ্রনাথের শান্তি নিকেতন (১৯৭৪),
- কিংবদন্তির বাংলা (১৯৭৫),
- শুভ নববর্ষ (১৯৭৭),
- লোকায়ত বাংলা (১৯৭৮),
- আবহমান বাংলা (১৯৮৭),
- বাংলার মুখ (১৯৯৯),
- প্যারিস সুন্দরী (১৯৭৫),
- বাংলাদেশের রূপকথা (১৯৯১),
- লোক সাহিত্য-দ্বিতীয় খণ্ড।

উৎস: ইনকিলাব পত্রিকা প্রতিবেদন।

৪৯৪.
মধ্যযুগে ''কড়চা'' কি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) গল্পগ্রন্থ
  2. খ) কাব্য
  3. গ) চৈতন্যজীবনী গ্রন্থ
  4. ঘ) উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
গ) চৈতন্যজীবনী গ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চৈতন্যজীবনী গ্রন্থ
ব্যাখ্যা

কড়চা কথাটির আধুনিক অর্থ দাড়িয়েছে দিনলিপি বা ডায়েরি।
তবে মুরারী গুপ্ত ও স্বরূপ দামোদারের কল্যাণে চৈতন্যজীবনী গ্রন্থ কড়চা বলে অভিহিত হয়েছে।
বাংলা সাহিত্যে চৈতন্যদেবের জীবনী লেখার সাথে এই কড়চা শব্দটি জড়িত।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর

৪৯৫.
বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার পাতোয়ারি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কে?
  1. দ্বিজ চণ্ডীদাস
  2. দ্বিজ বংশীদাস
  3. বড়ু চণ্ডীদাস
  4. বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ বংশীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা
দ্বিজ বংশীদাস:
- তিনি ষোড়শ শতাব্দীর কবি।
- তিনি পাতোয়ারি গ্রাম, কিশোরগঞ্জ এ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সংস্কৃত, পুরাণ, আগম, তন্ত্রাদি শাস্ত্রে সুপণ্ডিত ছিলেন।
- তিনি 'পদ্মাপুরাণ' বা 'মনসামঙ্গল' কাব্যের অন্যতম প্রধান কবি।
- তিনি তাঁর কাব্যে বেহুলার দুঃখের চিত্র ও চাঁদ সওদাগরের চরিত্রের দৃঢ়তা, দৃঢ়তার সঙ্গে অঙ্কন করেন।
- দ্বিজ বংশীদাস রচিত অন্য কাব্যগুলো:
• কৃষ্ণ গুণার্ণব,
• রামসীতা ও
• চণ্ডী।

অন্যদিকে,
• বৈষ্ণব পদাবলীর আদি রচয়িতা, বড়ু চণ্ডীদাস ছাতনা, বাঁকুড়া মতান্তরে বীরভূমের নানুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• পদসঙ্গীত ধারার রূপকার, বিদ্যাপতি মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৯৬.
'মনসামঙ্গল' কাব্যের আদি কবি কে?
  1. কানাহরি দত্ত
  2. মানিক দত্ত
  3. বিজয়গুপ্ত
  4. দ্বিজ বংশীদাস
সঠিক উত্তর:
কানাহরি দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানাহরি দত্ত
ব্যাখ্যা

• মনসামঙ্গল' কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
- 'কানা হরিদত্ত, বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, প্রমুখ ছিলেন 'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪৯৭.
বাংলা সাহিত্যে একটি শব্দও না লিখে স্থায়ী আসন গ্রহণ করেছেন কে?
  1. ক) শ্রীকৃষ্ণ
  2. খ) শ্রীরাম
  3. গ) শ্রীচৈতন্য
  4. ঘ) শ্রীদেব
সঠিক উত্তর:
গ) শ্রীচৈতন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শ্রীচৈতন্য
ব্যাখ্যা
১৫০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে চৈতন্য যুগ বলা হয়। এ সময় চৈতন্যদেব বৈষ্ণব ধর্মের বাণী প্রচার করেছেন। ফলে বৈষ্ণব মতাদর্শের দ্বারা প্রভাবতি হয়ে পদ রচনা করেছেন, যা বৈষ্ণব পদাবলি নামে পরিচিত। 

উৎস : চর্যাপদ মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
৪৯৮.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কোন কবি স্বভাব কবি হিসেবে পরিচিত?
  1. নারায়ণ দেব
  2. মানিক দত্ত
  3. দ্বিজমাধব
  4. মুকুন্দরাম
সঠিক উত্তর:
দ্বিজমাধব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজমাধব
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- এ কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- এ ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷ 
- এ কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো:
- দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৯৯.
‘জ্ঞানপ্রদীপ’ গ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. ক) সৈয়দ সুলতান
  2. খ) শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. গ) রামপ্রসাদ সেন
  4. ঘ) মানিক দত্ত
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ সুলতান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ সুলতান
ব্যাখ্যা

‘জ্ঞানপ্রদীপ’ গ্রন্থটির লেখক সৈয়দ সুলতান।
তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো - জ্ঞানচৌতিশা, নবীবংশ, শব-ই-মেরাজ ও জয়কুমার রাজার লড়াই।
‘নবীবংশ’ গ্রন্থের জন্য তিনি বিখ্যাত।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৫০০.
বৈষ্ণব পদাবলির সর্বশ্রেষ্ঠ নায়িকা বলা হয় কাকে?
  1. বিশাখা
  2. শ্রীরাধা
  3. ললিতা
  4. চন্দ্রাবলি
  5. সীতা
সঠিক উত্তর:
শ্রীরাধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীরাধা
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা:
- যে নায়িকার অন্তরে স্বতঃসিদ্ধ কৃষ্ণরতি থাকে এবং যার রতির মূলে থাকে একমাত্র কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি, যিনি কৃষ্ণপ্রেমে বশীভূত, তাকে সমর্থা নায়িকা বলা হয়।
- বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি এরা সকলেই সমর্থা নায়িকা।
- এঁদের মধ্যে শ্রীরাধা সর্বশ্রেষ্ঠ নায়িকা হিসেবে বিবেচিত।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা হিসেবে শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়।

• পদাবলিতে নায়িকার ৮টি অবস্থা।
যথা:
- অভিসারিকা,
- বাসকসজ্জা,
- উৎকণ্ঠিতা,
- বিপ্রলব্ধা,
- খণ্ডিতা,
- কলহান্তরিতা,
- প্রোষিতভর্তৃকা এবং
- স্বাধীনভর্তৃকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।