বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

মোট প্রশ্ন২,৭৬৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

PrepBank · পাতা / ২৮ · ৩০১৪০০ / ২,৭৬৪

৩০১.
মধ্যযুগের সাহিত্যধারা কেমন ছিল?
  1. গদ্যনির্ভর
  2. ধর্মনির্ভর
  3. কল্পনানির্ভর
  4. রূপকথানির্ভর
সঠিক উত্তর:
ধর্মনির্ভর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মনির্ভর
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য - ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা - বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- মধ্যুযগে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
৩০২.
‘আমি ভজন সাধন জানি নে মা
নিজে ত ফিরিঙ্গি।
যদি দয়া করে কৃপা কর
হে শিবে মাতঙ্গী।’ - এই বিখ্যাত গানের রচয়িতা কে?
  1. রামপ্রসাদ সেন
  2. রামনিধি গুপ্ত
  3. লালন ফকির
  4. এন্টনি ফিরিঙ্গি
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
এন্টনি ফিরিঙ্গি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এন্টনি ফিরিঙ্গি
ব্যাখ্যা
এন্টনি ফিরিঙ্গি:
- তিনি ছিলেন আঠারো শতকের বাংলা ভাষার কবিয়াল।
- তাঁর প্রকৃত নাম হেনসম্যান এন্টনি (Hensman Anthony)। তিনি জাতিতে ছিলেন পর্তুগিজ এবং ধর্মে খ্রিস্টান।
- পশ্চিমবঙ্গের চন্দননগরের ফরাসডাঙায় তিনি বসবাস করতেন।
- তিনি খ্রিস্টান হলেও বাঙালি কালি সাধক হিন্দুর মত জীবনযাপন করতেন। তিনি হিন্দু বিধবা কে বিয়ে করেন এবং কলকাতার বউবাজারে ফিরিঙ্গি কাকীমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

তাঁর একটি বিখ্যাত গান-
‘আমি ভজন সাধন জানি নে মা
নিজে ত ফিরিঙ্গি।
যদি দয়া করে কৃপা কর
হে শিবে মাতঙ্গী।’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০৩.
দ্বিজ কানাই রচিত ‘মহুয়া’ পালায় বেদে সম্প্রদায়ের সর্দারের নাম কী ছিল?
  1. কুব্বাত আলী
  2. রতন সর্দার
  3. হুমরা 
  4. সমিরন
সঠিক উত্তর:
হুমরা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমরা 
ব্যাখ্যা

দ্বিজ কানাই রচিত ‘মহুয়া’ পালায় বেদে সম্প্রদায়ের সর্দারের নাম ছিল- হুমরা বাইদ্যা। 
-------------------------
'মহুয়া পালা':
- ‘মহুয়া পালা’, দ্বিজ কানাই (১৬৫০) রচিত, মৈমনসিংহ গীতিকার অন্যতম জনপ্রিয় ও করুণ প্রেমকাহিনী। কাহিনীর কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো বেদে সম্প্রদায়ের কন্যা মহুয়া এবং জমিদার নদের চাঁদ। মহুয়া শৈশবে হুমরা বাইদ্যা নামে এক বেদে সর্দারের কাছে চলে যায় এবং বেদে সম্প্রদায়ের মধ্যেই বড় হয়। বড় হয়ে মহুয়া সাপের খেলা দেখাতে শিখে। একদিন হুমরা বেদের দল বাউলের গ্রামে আসে, সেখানেই মহুয়া ও নদের চাঁদের মধ্যে গভীর প্রেম গড়ে ওঠে। তাদের প্রেম জনসমাজের নজরে আসলে সামাজিক বাধার সৃষ্টি হয়। নদের চাঁদের আত্মীয় ও সমাজের চাপের কারণে হুমরা বাইদ্যা মহুয়াকে অন্যত্র নিয়ে যায়। নদের চাঁদ মহুয়াকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করলেও, শেষপর্যন্ত হুমরা বাইদ্যা মহুয়াকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করে। মহুয়া প্রেমের জন্য নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে আত্মবলিদান দেয়, নিজের বুকে ছুরি বসিয়ে আত্মহত্যা করে। এই ঘটনার পর নদের চাঁদও মহুয়ার বিরহে সংসার ত্যাগ করেন।

- মহুয়া পালার গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি:
• ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী রাত্রি।। 
নিশাকালে হুমরা তার করল চুরি।। 

• লজ্জা নাই নিলজ্জ ঠাকুর লজ্জা নাইরে তর।। 
গলায় কলসী বাইন্দা জলে ডুব্যা মর।। 

• কোথায় পাব কলসী কইন্যা কোথায় পাব দড়ি।। 
তুমি হও গহিন গাঙ আমি ডুব্যা মরি।। 
------------
মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা হলো বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল (বর্তমান কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা) থেকে সংগৃহীত প্রাচীন লোকগাথা ও পালাগানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকলন।
- এটি সাধারণ মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত গল্প ও গানসমূহকে একত্রিত করেছে, যা গ্রামীণ সংস্কৃতির অনন্য দলিল হিসেবে বিবেচিত।
- ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় এই গীতিকাগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মূল সংগ্রাহক ছিলেন চন্দ্রকুমার দে।
- মৈমনসিংহ গীতিকার কাহিনিগুলো সাধারণ মানুষের জীবন, নারীর প্রেম, সংগ্রাম ও ট্রাজিক পরিণতি নিয়ে রচিত।
- ভাষা সহজ, সরল ও গ্রামীণ ছন্দময়। 
- এই সংকলন বিশ্বসাহিত্যে স্বীকৃত এবং ২৩টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- সৌরভ পত্রিকায় কেদারনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় এর দুটি পালা প্রথম প্রকাশিত হয়। 

• সংকলনে ১০টি গীতিকা ও রূপকথা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- যেমন:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা),
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৩০৪.
মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের কয়টি ভাষায় মুদ্রিত হয়েছে?
  1. ৯ টি
  2. ১৫ টি
  3. ২৩ টি
  4. ১০ টি
সঠিক উত্তর:
২৩ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ টি
ব্যাখ্যা
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• বাংলা সাহিত্যে তিন ধরনের গীতিকা রয়েছে। যথা :
১. নাথ গীতিকা,
২. মৈমনসিংহ-গীতিকা এবং
৩. পূর্ববঙ্গ গীতিকা।

• মৈমনসিংহ গীতিকা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে।
যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০৫.
মর্সিয়া সাহিত্যে হিন্দু কবি হলেন- 
  1. ভবানী দাস
  2. দুর্লভ মল্লিক 
  3. রাধারমণ গোপ
  4. শ্যামাদাস সেন
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ গোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ গোপ
ব্যাখ্যা

• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনী নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি হলেন - শেখ ফয়জুল্লাহ। তার রচিত গ্রন্থের নাম জয়নবের চৌতিশা এটি ১৫৭০ সালে প্রকাশিত হয়। 
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন- রাধারমণ গোপ। 
- রাধারমণ গোপ রচিত গ্রন্থ হলো: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩০৬.
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার লেখক নয় কে?
  1. আবদুল হাকিম
  2. ঘনরাম চক্রবর্তী
  3. আলাওল
  4. কোরেশী মাগন ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
ঘনরাম চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘনরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা।
- মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

এই ধারার কবি হচ্ছেন:
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

অন্যদিকে,
- ঘনরাম চক্রবর্তী হচ্ছে - ধর্মমঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩০৭.
মনসামঙ্গল কাব্যের কবিদের কী বলা হয়?
  1. বৈষ্ণক
  2. বাইশা
  3. গীতকার
  4. পদকর্তা
সঠিক উত্তর:
বাইশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাইশা
ব্যাখ্যা

মনসামঙ্গল কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'। একে পদ্মপুরাণ বলে অভিহিত করা হয়।
- বাংলার প্রাকৃত জীবন, এবং লৌকিক জীবনাচার থেকে উদ্ভব ঘটেছে, মনসামঙ্গল কাব্যের।
- মনসামঙ্গল কাব্যের কবিদের কে বলা হয়- বাইশা। 'বাইশা' বলতে বোঝায় বাইশজন কবি রচিত মনসামঙ্গলের বিভিন্ন অংশের সংকলন।
- মনসামঙ্গল কাব্য ধারার উল্লেখযোগ্য কবিরা হলেন- নারায়ন দেব, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ প্রভৃতি।
- মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি কানা হরিদত্ত।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩০৮.
নিচের কোনটি শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. হারখণ্ড
  2. দানখণ্ড
  3. বৃন্দ খণ্ড
  4. যমুনা খণ্ড
সঠিক উত্তর:
বৃন্দ খণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃন্দ খণ্ড
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি।
- কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
-শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।

- এটি মোট ১৩ খণ্ডে  ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।
খণ্ড গুলি হলো:
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বূল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালীয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হারখণ্ড,
- বাণখণ্ড,
- বংশীখণ্ড ও
- বিরহখণ্ড  (রাধাবিরহ)।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনী ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।
- কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই (দূতী)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৩০৯.
মধ্যযুগে কোনটি মুখ্য ছিল?
  1. ক) মানবতা
  2. খ) প্রেম
  3. গ) স্বাজাত্যবোধ
  4. ঘ) ধর্ম
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধর্ম
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল ধর্মকেন্দ্রিকতা।
বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়। যথা :
১. প্রাচীন যুগ
২. মধ্যযুগ
৩. আধুনিক যুগ

• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান ছিল।
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মটাই মুখ্য হয়ে ওঠে, মানুষ হয়ে পড়ে গৌণ।
• আর আধুনিক যুগে মানুষ মুখ্যহয় এবং মানবতায় একমাত্র কাম্য হয়ে ওঠে। সে সঙ্গে যোগ হয় অন্ধবিশ্বাসের বদলে যুক্তিশীলতা। স্বাজাত্যবোধ, স্বদেশপ্রেম, ব্যক্তিস্বাধীনতা বিশেষ করে নারী-স্বাধীনতা আধুনিক যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১০.
নিচের কোনটি রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যানধর্মী অনুবাদ সাহিত্য নয়?
  1. ইউসুফ-জোলেখা
  2. মধুমালতী
  3. লায়লী-মজনু
  4. রামায়ণ
সঠিক উত্তর:
রামায়ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামায়ণ
ব্যাখ্যা
‘রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' ধারার সাহিত্য:
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।
- 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন- শাহ মুহম্মদ সগীর, সৈয়দ সুলতান, দৌতল কাজী, আবদুল হাকিম, আলাওল, কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
রামায়ণ:
- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন - কৃত্তিবাস ওঝা।
- রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য। সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন বাল্মীকি
- গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস বাংলায় ''রামায়ণ'' অনুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩১১.
সর্বপ্রথম রামায়ণ অনুবাদকারী মহিলা কবির নাম কী?
  1. স্বর্ণকুমারী দেবী
  2. চন্দ্রাবতী
  3. বেগম রোকেয়া
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা
সর্বপ্রথম রামায়ণ অনুবাদকারী মহিলা কবি চন্দ্রাবতী।
- মধ্যযুগের তিনজন যে উল্লেখযোগ্য মহিলা কবি রয়েছে তাদের মধ্যে চন্দ্রাবতী (১৬শ শতক) অন্যতম।
- চন্দ্রাবতী ছিলেন মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা।
- তাঁদের নিবাস ছিল বৃহত্তর ময়মনসিংহের  কিশোরগঞ্জ জেলার অন্তর্গত পাঠবাড়ী বা পাতুয়ারী গ্রামে।
- দীনেশচন্দ্র সেনের মতে কবি চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

- মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী’ উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন।  
- ময়মনসিংহ অঞ্চলে ‘চন্দ্রাবতীর রামায়ণ’ নামে একটি গাঁথা প্রচলিত আছে।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩১২.
মাথুর ও মুরলীশিক্ষা গ্রন্থ দুটির রচয়িতা কে?
  1. ক) বিদ্যাপতি
  2. খ) জ্ঞানদাস
  3. গ) চণ্ডীদাস
  4. ঘ) গোবিন্দ দাস
সঠিক উত্তর:
খ) জ্ঞানদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস  চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
-  জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ। 
- পদরচনায় তিনি  বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
৩১৩.
কার সম্পাদনায় 'সেক শুভোদয়া' গ্রন্থটি ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে মুদ্রিত হয়? 
  1. মণীন্দ্রমোহন বসু
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. সুকুমার সেন
  4. ড. মুহাম্মদ এনামুল হক
সঠিক উত্তর:
সুকুমার সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকুমার সেন
ব্যাখ্যা

• সেক শুভোদয়া:
- 'সেক শুভোদয়া' অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন। 'সেক শুভোদয়া' হলায়ুধ মিশ্র রচিত গদ্য-পদ্য মিশ্রিত একটি 'চম্পুকাব্য'
- অশুদ্ধ বাংলা ও প্রচুর ভুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার পাওয়া যাওয়ায় সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 'সেক শুভোদয়া' কে dog sanskrit বলেছেন।
ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, 'সেক শুভদয়া' খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের রচনা।
- শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভায় গল্পটি পরিবেশন করেন। গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগ্‌ধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
- গদ্যপদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে অধ্যায় আছে ২৫টি। ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন 'কায়স্থ' পত্রিকায়।
- সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয় ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৩১৪.
কোন দুটি চরিত্রকে কেন্দ্র করে ‘মধুমালতী’ কাব্য রচিত হয়েছে?
  1. চাঁদ ও সাওদাগর
  2. ফরহাদ ও শিরি
  3. মনোহর ও মধুমালতী
  4. কায়েশ ও লায়লী
সঠিক উত্তর:
মনোহর ও মধুমালতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনোহর ও মধুমালতী
ব্যাখ্যা
'মধুমালতী' কাব্য:
- মুহম্মদ কবীর হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা ‘মধুমালতী’ কাব্য রচনা করেন। এর রচনা কাল ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দ এবং এ কাহিনি ভারতীয়।
- রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলভ রোম্যান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
- মূল কাব্য অধ্যাত্ম রসাত্মক হলেও অনুবাদে তা আদি রসাত্মক কাব্যে পরিণত হয়েছে।
- কাব্যটি তৎকালে এতই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যে, কবিরের পরবর্তী আরও ছয়জন কবি একই নামে কাব্য রচনা করেন। তবে একমাত্র সৈয়দ হামজা ব্যতীত অন্য কারও কাব্য শিল্পসফল হয়নি; আবার সৈয়দ হামজার কাব্যও কবিরের কাব্যের মতো সার্থক নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩১৫.
মধ্যযুগের রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) মঙ্গলকাব্য
  2. খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. গ) পদ্মাবতী
  4. ঘ) লায়লী মজনু
সঠিক উত্তর:
খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
• শ্রী বসন্তরঞ্জন রায় ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাকিল্যা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- এটি মধ্যযুগের বাংলা ভাষায় রচিত কোনো লেখকের প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ যেখানে রাধা কৃষ্ণ কাব্যের আড়ালে ঈশ্বরের প্রতি জীবকুলের আকুলতা প্রকাশিত।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা বড়ু চন্ডীদাস।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র রাধা, কৃষ্ণ এবং বড়ায়ি।
- এটি ১৩ খন্ডের কাব্য।
- মোট ১৩ খন্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।
খন্ডগুলি হচ্ছে -
- জন্মখন্ড, তাম্বূল খন্ড, দানখন্ড, নৌকাখন্ড, ভারখন্ড, ছত্রখন্ড, বৃন্দাবন খন্ড, কালীয়দমন খন্ড, যমুনা খন্ড, হারখন্ড, বাণখন্ড, বংশীখন্ড ও বিরহখন্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩১৬.
বৈষ্ণব পদাবলিতে সাহিত্যে বৈষ্ণবসমাজে পদকর্তাদের কী নামে পরিচিত?
  1. সিদ্ধাচার্য
  2. আচার্য
  3. মহাজন
  4. গোস্বামী
সঠিক উত্তর:
মহাজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাজন
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলি:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম গৌরব বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্য। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল বৈষ্ণব পদাবলি।
- রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে এই অমর কবিতাবলির সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে শ্রীচৈতন্যদেব প্রচারিত বৈষ্ণব মতবাদের সম্প্রসারণে এর ব্যাপক বিকাশ।
- জয়দেব-বিদ্যাপতি-চণ্ডীদাস থেকে সাম্প্রতিককাল পর্যন্ত বৈষ্ণব গীতিকবিতার ধারা প্রবাহিত হলেও প্রকৃতপক্ষে ষোল-সতের শতকে এই সৃষ্টিসম্ভার প্রাচুর্য ও উৎকর্ষপূর্ণ ছিল।
- পদাবলি সাহিত্য বৈষ্ণবতত্ত্বের রসভাষ্য। বৈষ্ণব পদাবলি বৈষ্ণব সমাজে মহাজন পদাবলি এবং বৈষ্ণব পদকর্তাগণ মহাজন নামে পরিচিত।
- বৈষ্ণবমতে স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক বিদ্যমান। এই প্রেম সম্পর্ককে বৈষ্ণব মতাবলম্বীগণ রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলার রূপকের মাধ্যমে উপলব্ধি করেছেন।
- রাধা ও শ্রীকৃষ্ণের রূপাশ্রয়ে ভক্ত ও ভগবানের নিত্যবিরহ ও নিত্যমিলনের অপরূপ আধ্যাত্মিক লীলা কীর্তিত হয়েছে। বৈষ্ণবদের উপাস্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। তাঁর আনন্দময় আনন্দময় তথা তথা প্রেমময় প্রকাশ ঘটেছে রাধার মাধ্যমে। রাধা মানবী নয়, শ্রীকৃষ্ণরূপ পূর্ণ ভগবৎ-তত্ত্বের। ভগবৎ-তত্ত্বের অংশ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩১৭.
গোপীচন্দ্র কাহিনির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় -
  1. জায়সীর পদুমাবতে
  2. মনঝনের মধুমালতে
  3. রূপগোস্বামীর হংসদূতে
  4. সাধনের মৈনাসতে
সঠিক উত্তর:
জায়সীর পদুমাবতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জায়সীর পদুমাবতে
ব্যাখ্যা
• গোপীচন্দ্র কাহিনির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় - জায়সীর পদুমাবতে

নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথসাহিত্য প্রধান দুই ভাগে বিভক্ত। যথা:
১) মীননাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
- এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে।
- গোপীচন্দ্র কাহিনির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় জায়সীর পদুমাবতে
- এ বিষয়ে প্রথম বাংলা গ্রন্থ নেপালে রচিত সপ্তদশ শতাব্দীর নাটক 'গোপীচন্দ্র নাটক'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১৮.
বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রাম থেকে আবিষ্কৃত হয়-
  1. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  2. শূন্যপুরাণ
  3. ডাকার্নব
  4. ধর্মমঙ্গল কাব্য
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি।
- আবিষ্কর্তা ও সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় প্রাচীন বৈষ্ণব লেখকদের ইঙ্গিত অনুসরণ করে গ্রন্থের নামকরণ করেন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখ।
৩১৯.
রামনিধি গুপ্তের টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম কী?
  1. গীতাঞ্জলি
  2. সঙ্গীত সুধা
  3. গীতরত্ন
  4. সঙ্গীতকল্পতরু
সঠিক উত্তর:
গীতরত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতরত্ন
ব্যাখ্যা

টপ্পা সঙ্গীত:
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত।
- রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধুবাবু।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না।
- ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্থানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।
- রামনিধি গুপ্তের টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম - গীতরত্ন (১৮৩২)।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা- 
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩২০.
বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুঁথি আবিষ্কার করেন কত খ্রিষ্টাব্দে ?
  1. ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এগ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২১.
রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান সাহিত্য ধারার কবি নন কে?
  1. আলাওল
  2. আবদুল হাকিম
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. রাধারমণ গোপ
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ গোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ গোপ
ব্যাখ্যা
• রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান সাহিত্য ধারার কবি নন - রাধারমণ গোপ।
• তিনি মর্সিয়া সাহিত্যের একজন হিন্দু কবি।
 
তাছাড়া,
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন- শাহ মুহম্মদ সগীর, সৈয়দ সুলতান, আবদুল হাকিম, আলাওল, কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩২২.
'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বঙ্গানুবাদ করেন কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. বিজয়গুপ্ত
  3. নওয়াজিস খান
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
নওয়াজিস খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াজিস খান
ব্যাখ্যা
‘গুলে বকাওলী' কাব্য:
- ইজ্জতুল্লা নামক এক বাঙালি লেখক রচিত পারসি গ্রন্থ।
- ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচিত এই গ্রন্থটির বঙ্গানুবাদ করেন 'কবি নওয়াজিশ খান'।
- এছাড়া অষ্টাদশ শতাব্দীর কবি মহম্মদ মুকিম তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম দেন ‘গুলে বকাওলী'।
- এই গ্রন্থে তিনি তাঁর সমসাময়িক মুসলিম কবিদের নাম উল্লেখ করে মুসলিম বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ নিয়ে আলোকপাত করেন
- তারপরও নওয়াজিস খান খন্দকার বিরচিত ‘গুলে বকাওলী'র রচনাকাল নিয়ে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
- তবে কাব্যটি যে সতের শতকের রচনা এ ব্যাপারে পণ্ডিতেরা মত দিয়েছেন।
- চট্টগ্রামের জমিদার বংশীয় বৈদ্যনাথ রায়ের আদেশে কবি এই কাব্য লেখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২৩.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্য’র ধনপতি সওদাগর কোন নগরের অধিবাসী?
  1. উজানী নগর
  2. সিংহল নগর
  3. রুপ নগর
  4. বর্ধমান নগর
সঠিক উত্তর:
উজানী নগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উজানী নগর
ব্যাখ্যা

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে ধনপতি সওদাগরের কাহিনী উজানী নগরের পটভূমিতে রচিত হয়েছে।
---------------------------------------------- 
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্য হলো মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঙ্গলকাব্য, যেখানে দেবী চণ্ডীকে কেন্দ্র করে কাহিনী রচিত।
- দেবী চণ্ডীকে অন্য নামে অভয়া, ভবানী বা কখনও অম্বিকা বলা হয়।
- তাই চণ্ডীমঙ্গলকে অভয়ামঙ্গল, ভবানীমঙ্গল বা অম্বিকামঙ্গলও বলা হয়।

- কাব্যটি মূলত দুইটি খণ্ডে বিভক্ত-
- প্রথম খণ্ডকে বলা হয় আখেটিক খণ্ড, যা ব্যাধ কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনী উপস্থাপন করে।
- দ্বিতীয় খণ্ড হলো বণিক খণ্ড, যা ধনপতি সওদাগরের কাহিনী। 

- দ্বিতীয় খণ্ডে উজানী নগরের ধনপতি তার সন্তান লাভের আশায় দ্বিতীয় বিবাহ করেন।
- কিন্তু দ্বিতীয় স্ত্রী খুল্লনা সন্তানহীন থাকায় তাকে বনভূমিতে ছাগল চরাতে পাঠানো হয়।
- সেখানে খুল্লনা দেবী চণ্ডীর পূজা করেন, যা ধনপতি দেখে ভাঙার চেষ্টা করেন।
- তবে খুল্লনা ও দেবী চণ্ডী মিলিতভাবে ধনপতি ও পরিবারকে রক্ষা করেন।
- ধনপতির ছেলে শ্রীমন্ত উপযুক্ত শিক্ষা গ্রহণের পরে বাণিজ্যিক কাজে সিংহলে পাঠানো হয়।
- সেখানে তিনি কমলে কামিনী দেখেন।
- ধনপতি রাজাকে ঘটনা জানান, কিন্তু রাজা তখন তা প্রত্যক্ষ করতে পারেননি।
- পরে দেবী চণ্ডীর কৃপায় রাজা ও ধনপতি উভয়ই উদ্ধার হন।
- শেষে রাজা শ্রীমন্তকে তার কন্যা সুশীলা ও জয়াবতী-এর সঙ্গে বিবাহ প্রদান করেন।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্য মূলত দেবীর পূজা, ন্যায়-অন্যায়, কৌশল ও নৈতিকতার মধ্য দিয়ে চরিত্রের শিক্ষণীয় দিক তুলে ধরে এবং সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৩২৪.
মধ্যযুগের কোন সাহিত্যধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয় মানুষের গুরুত্ব অধিক?
  1. শাক্তপদ ধারা
  2. মঙ্গলকাব্য ধারা
  3. লোক সাহিত্যধারা
  4. নাথ সাহিত্যধারা
সঠিক উত্তর:
লোক সাহিত্যধারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোক সাহিত্যধারা
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য- ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা- বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- ‘কানু ছাড়া গীত নাই’ উক্তিটি মধ্যযুগে সত্য ছিল।
- মধ্যযুগে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২৫.
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কোন রাজার সভাকবি ছিলেন?
  1. রাজা রঘুনাথ রায়
  2. লক্ষ্মণ সেন
  3. রাজা গণেশ
  4. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
সঠিক উত্তর:
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর:
- অষ্টাদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি এবং মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে সুপরিচিত ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা তিনি। তিনি 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি। তাঁর অপর গ্রন্থ ‘সত্যপীরের পাঁচালী’।
- ভারতচন্দ্র সভাকবি ছিলেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র। তাকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি প্রদান করেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।
- “নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?” - লাইনটির রচয়িতা তিনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩২৬.
বৈষ্ণব সাহিত্য কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলি:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম গৌরব বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্য।
- রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলস্বনে এই অমর কবিতাবলির সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে শ্রীচৈতন্যদেব প্রচারিত বৈষ্ণব মতবাদের সম্প্রসারণে এর ব্যাপক বিকাশ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সবচেয়ে সমৃদ্ধ।
বৈষ্ণব সাহিত্য ৩ প্রকার।
যথা:
১. জীবনীকাব্য,
২. বৈষ্ণব শাস্ত্র ও
৩. বৈষ্ণব পদাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩২৭.
বিষয়বস্তু অনুসারে মঙ্গলকাব্য কয়টি ধারায় বিভক্ত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
বিষয়বস্তু অনুসারে মঙ্গলকাব্যকে দুটি ধারায় বিভক্ত করা হয়। যথা:
১. খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের ধারা,
২. বিশুদ্ধ পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা।

•খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের ধারা:
এটি লোকায়ত ধারা বা খাঁটি মঙ্গলকাব্যের ধারা। ধারার কাব্যগুলো হলো: মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর) ও ধর্মমঙ্গল। অপ্রধান শ্রেণি হিসেবে: সারদামঙ্গল, শিবমঙ্গল, শীতলামঙ্গল, রায়মঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, সূর্যমঙ্গল।

• পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: অন্নদামঙ্গল, গৌরীমঙ্গল, ভবানীমঙ্গল, দুর্গামঙ্গল, কমলামঙ্গল, গঙ্গামঙ্গল, চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩২৮.
বৈষ্ণব পদাবলির বেশিরভাগ পদ কোন ভাষায় রচিত হয়েছে?
  1. প্রাচীন বাংলা
  2. প্রাচীন সংস্কৃত
  3. ব্রজবুলি
  4. গদ্য-পদ্য
সঠিক উত্তর:
ব্রজবুলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রজবুলি
ব্যাখ্যা
- মৈথিলি ও বাংলা মিশ্রিত হয়ে যে কৃত্রিম ভাষা সৃষ্টি হয়েছিল তাকে ব্রজবুলি ভাষা বলে।
- এই ভাষায় কথা বলা হত না, কেবল লেখার ভাষা হিসেবে এটি ব্যবহৃত হত।
- এই ভাষার উদ্ভাবন করেন - মিথিলার কবি বিদ্যাপতি।
- এই ভাষাতেই বৈষ্ণব পদাবলির অধিকাংশ পদ রচিত হয়েছে।
উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম
৩২৯.
শুকুর মাহমুদ রচিত কাব্য কোনটি?
  1. মীনচেতন
  2. গোর্খবিজয়
  3. গোপীচাদের সন্ন্যাস
  4. গোরক্ষবিজয়
সঠিক উত্তর:
গোপীচাদের সন্ন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপীচাদের সন্ন্যাস
ব্যাখ্যা
শুকুর মাহমুদ ও 'গোপীচাদের সন্ন্যাস' কাব্য:
- শুকুর মহম্মদের কাব্যের নাম 'গোপীচাদের সন্ন্যাস'। তাঁর মতে এটি ঐতিহাসিক কাহিনিকাব্য।
- ড. নলিনীকান্ত ভট্টশালীর সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়।
- ড. নলিনীকান্ত ভট্টশালী শুকুর মহম্মদের পুঁথি দিনাজপুর থেকে সংগ্রহ করেছিলেন। সে পুঁথি শতাধিক বৎসরের পুরাতন। কবির নিবাস বালুরঘাটে সিন্দুর-কুসুম গ্রামে ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। পুরাণ শুনে কবি এ কাব্য রচনা করেন।

- যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধি শুকুর মহম্মদের কাব্য সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে লিখেছেন, 'কবির ভাষা প্রাঞ্জল। কিন্তু নারীর বেশভূষা ও রূপবর্ণনা করিবার সময় তিনি সংস্কৃত শব্দের লোভছাড়িতে পারেন নাই। অনেক শব্দের অপপ্রয়োগ করিয়াছেন, বর্ণনাও ব্যর্থ হইয়াছে। তথাপি তাঁহার রচনায় সংযম আছে; অন্যান্য কবির ন্যায় গ্রাম্যজনসুলভ অশ্লীলতা নাই। ভাষা দেখিলে কবিকে দুই একশত বৎসরের অধিক পুরাতন বোধ হয় না।'

- ড. মুহম্মদ এনামুল হক শুকুর মহম্মদের কাল আনুমানিক ১৬৮৩ থেকে ১৭৫০ সঙ্গি বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি তাঁকে ত্রিপুরার কবি মনে করেন এবং তাঁর মতে আঠার শতকের গোড়ার দিকে এ কাব্য রচিত হয়। 

- কবি নিজের নাম সম্পর্কে বলেছেন:
আবদুল শুকুর নাম পিতাএ রাখিল।
শুকুর মোহাম্মদ নাম কিতাবে ঘুষিল।

অন্যদিকে, 
গোরক্ষনাথ-মীননাথের কাহিনি অবলম্বনে রচিত যে সব কাব্য সম্পাদিত হয়ে প্রকাশ পেয়েছে সেগুলো হলো:
১. আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ সম্পাদিত কবি শেখ ফয়জুল্লার 'গোরক্ষবিজয়',
২. ড. নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত কবি শ্যামদাস সেনের 'মীনচেতন' এবং
৩. ড. পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত কবি ভীম সেনের 'গোর্খবিজয়'। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
৩৩০.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র নয়-
  1. ক) রাধা
  2. খ) সনকা
  3. গ) কৃষ্ণ
  4. ঘ) বড়াই
সঠিক উত্তর:
খ) সনকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সনকা
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি। এগুলো হলো- কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই। রাধা কৃষ্ণের মাঝে সংযোগ সৃষ্টিকারী অনুঘটক চরিত্র ছিলো বড়াই। মনসামঙ্গল কাব্যের চরিত্র সনকা। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৩৩১.
বাংলা লোকসাহিত্যের অন্যতম প্রধান সংগ্রাহক-
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. খ) মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন
  3. গ) হরিনাথ মজুমদার
  4. ঘ) রামেন্দু মজুমদার
সঠিক উত্তর:
খ) মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন
ব্যাখ্যা

- মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন বাংলা লোকসাহিত্যের অন্যতম প্রধান সংগ্রাহক।
- তিনি লোকসাহিত্যের সংকলন 'হারামনি' (দশ খন্ড) সম্পাদনা করেন।
- এর প্রথম সংগ্রহ ছিল নিজ গ্রামের প্রেমদাস বৈরাগীর কাছ থেকে লালনের একটি গান।
- যা পরে প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৩৩২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম গদ্যগ্রন্থ -
  1. ক) কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
  2. খ) মঙ্গল সমাচার
  3. গ) কথোপকথন
  4. ঘ) রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
সঠিক উত্তর:
ক) কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম গদ্যগ্রন্থ- কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ।

- 'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' গ্রন্থটি রচনা করেন - মনোএল দা আসসাম্পসাঁউ ।

মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ একজন পর্তুগিজ। মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেনি।

- ১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ দুটি হলো: · কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ।

- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোর্তুগিজ। এর মধ্যে ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ গ্রন্থে একটি অধ্যায়ে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ সংযোজন করেন। তাই তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচয়িতা।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩৩৩.
রামপ্রসাদ সেনকে 'কবিরঞ্জন' উপাধিতে ভূষিত করেন কে?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. দাশরথি রায়
  3. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
ব্যাখ্যা

রামপ্রসাদ সেন:
 - তিনি ছিলেন বাংলা ভক্তিগীতির, বিশেষত শ্যামাসঙ্গীতের শ্রেষ্ঠ রূপকার, সাধককবি, গায়ক।
- শাক্তপদাবলির আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি রামপ্রসাদ সেন।
- পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কুমারহট্ট গ্রামের কবিরাজ বংশে তাঁর জন্ম।
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় রামপ্রসাদের কবিত্ব ও সঙ্গীতখ্যাতির কথা শুনে তাঁকে নিজের রাজসভায় যোগদানের আহবান জানান এবং 'কবিরঞ্জন' উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনি ভক্তিভাব এবং রাগ ও বাউল সুরের মিশ্রণে এক ভিন্ন সুরের সৃষ্টি করেন, যা বাংলা সঙ্গীতজগতে 'রামপ্রসাদী সুর' নামে পরিচিত।
- তার গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।

• তাঁর কয়েকটি জনপ্রিয় গান হলো: 
- ‘মন রে কৃষি কাজ জানো না’,
- ‘ডুব দেরে মন কালী বলে’,
- ‘মা আমায় ঘুরাবি কত’ ইত্যাদি। এ গানগুলির আবেদন চিরন্তন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩৩৪.
বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা কে?
  1. জয়দেব
  2. চণ্ডীদাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর:
জয়দেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়দেব
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা পদাবলির আদিকবি বলা হয়। তাঁর রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- অবাঙালি কবি বিদ্যাপতিকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি বলা হয়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস।

এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে। যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।
['শৃঙ্গার রস'কে মধুররস বলে।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৩৩৫.
কোন আমলে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যেরা বাংলা থেকে বিতাড়িত হয়ে যায়?
  1. ক) আর্য
  2. খ) মৌর্য
  3. গ) পাল
  4. ঘ) সেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেন
ব্যাখ্যা
সেন আমলে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যেরা বাংলা থেকে বিতাড়িত হয়ে যায়
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন।
- পাল বংশের রাজারা বৌদ্ধ ছিলেন, তাদের আমলে চর্যাগীতিকাগুলোর বিকাশ ঘটেছিল। 
- পাল বংশের পরে পরেই বাংলাদেশে সেন, বর্মণ রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় পৌরাণিক হিন্দুধুর্ম ও ব্রাহ্মণ্যসংস্কার রাজধর্ম হিসেবে গৃহীত হয় এবং দেশি ভাষা বাংলার পরিবর্তে সংস্কৃত ভাষা প্রাধান্য লাভ করে।
- পাল রাজাদের উদারপন্থী বৌদ্ধ মতবাদের পরিবর্তে সেন রাজাদের ব্রাহ্মণ্য ধর্মমতের প্রাধান্যের ফলে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যেরা এদেশ থেকে বিতাড়িত হয়।
- সেন রাজাদের প্রতাপের জন্যই বাংলাদেশের বাইরে তাদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে হয়েছিল।  
- তাই বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন বাংলার বাইরে নেপালে পাওয়া গিয়েছিল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৩৩৬.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুঁথিতে কবির ভণিতার সংখ্যা কত?
  1. ১৩টি
  2. ১৬১টি
  3. ৪০৯টি
  4. ৪১৮টি
সঠিক উত্তর:
৪০৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪০৯টি
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে কবির মোট ভণিতা সংখ্যা ৪০৯টি।
--------------------------- 
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন হলো বড়ু চণ্ডীদাস রচিত মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য ও উৎকৃষ্ট আখ্যানকাব্য।
- প্রাক্‌-চৈতন্য যুগের (খ্রিস্টীয় চতুর্দশ শতক) প্রেক্ষাপটে রাধা–কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত এই কাব্যটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে নির্মিত একটি নাট্যগীতি।
- গ্রন্থটি ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ আবিষ্কার করেন।
- এবং পরবর্তীতে ১৯১৬ সালে এটি প্রকাশিত হয়।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের নামকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের বিষয়।
- পুঁথির প্রথম ও শেষাংশ খণ্ডিত থাকায় কাব্যের নাম ও কবির পূর্ণ পরিচয় জানা যায়নি।
- গ্রন্থের ভেতরে কবির ভণিতা থাকলেও কাব্যের নামের উল্লেখ নেই।
- লোকশ্রুতি ও কৃষ্ণলীলা-ভিত্তিক বিষয়বস্তুর ওপর নির্ভর করে সম্পাদক এর নামকরণ করেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
- তবে এই নাম যথার্থ নয় বলে অনেকের মত, কারণ কীর্তন বলতে ভক্তিসঙ্গীতে নাম-রূপ-গুণের সরব উচ্চারণ বোঝায়, অথচ এই কাব্যে সেই অর্থে কীর্তন অনুপস্থিত।
- কাব্যে ১২টি স্থানে ‘ধামালি’ শব্দের ব্যবহার থাকায় কেউ কেউ মনে করেন এর নাম ‘রাধাকৃষ্ণের ধামালি’ হলে অধিক উপযুক্ত হতো।
- পুঁথিতে প্রাপ্ত একটি চিরকুট অনুসারে কাব্যটির প্রকৃত নাম ‘শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ব্ব’ (শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ)।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে মোট ৪১৮টি পদ রয়েছে (খণ্ডিতসহ)।
- এতে ১৬১টি সংস্কৃত শ্লোক সংযোজিত।
- পুঁথির মোট পাতা ২২৬টি, অর্থাৎ পৃষ্ঠা ৪৫২টি।
- এর মধ্যে মাঝের ৪৫টি পৃষ্ঠা বিলুপ্ত, আর প্রাপ্ত পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪০৭টি।
- কাব্যে কবির ভণিতা সংখ্যা ৪০৯টি।

- গঠনগতভাবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যটি ১৩টি খণ্ডে বিভক্ত।
- খণ্ডগুলো হলো—
১. জন্ম খণ্ড
২. তাম্বুল খণ্ড
৩. দান খণ্ড
৪. নৌকা খণ্ড
৫. ভার খণ্ড
৬. ছত্র খণ্ড
৭. বৃন্দাবন খণ্ড
৮. কালিয়দমন খণ্ড
৯. যমুনা খণ্ড
১০. হার খণ্ড
১১. বাণ খণ্ড
১২. বংশী খণ্ড
১৩. বিরহ খণ্ড

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৩৭.
গোরক্ষবিজয়ের পুথি কোন শতকে পাওয়া যায়?
  1. ষোড়শ শতক
  2. সপ্তদশ শতক
  3. অষ্টাদশ শতক
  4. ঊনবিংশ শতক
সঠিক উত্তর:
অষ্টাদশ শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অষ্টাদশ শতক
ব্যাখ্যা

নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথ সাহিত্য প্রধান দুই ভাগে বিভক্ত।
যথা:
 ১. মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২. রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।

এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে।
- গোরক্ষবিজয়ের পুথি অষ্টাদশ শতকে, বাংলায় সহদেব চক্রবর্তী ও রামাই পণ্ডিতের  'ধর্ম পুরাণে' বা 'অনিল পুরাণে' পাওয়া যায়।
- গোপীচন্দ্র কাহিনির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় জায়সীর  'পদুমাবৎ' এ। এ বিষয়ে প্রথম বাংলা গ্রন্থ নেপালে রচিত সপ্তদশ শতাব্দীর নাটক 'গোপীচন্দ্র নাটক'।
- 'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' রচনা করেন - সুকুর মামুদ।

উল্লেখ্য,
- বাংলাপিডিয়ায় 'শুকুর মাহমুদ' দেওয়া আছে। মূলত তারা একই ব্যক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৩৮.
শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে কোন উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন?
  1. সংগীতমাধব
  2. কবিকঙ্কন
  3. কবিরাজ
  4. কবিকন্ঠহার
সঠিক উত্তর:
কবিরাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিরাজ
ব্যাখ্যা

গোবিন্দদাস:
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ এবং ‘কবীন্দ্র’ উপাধি প্রদান করেন।

অন্যদিকে,
• মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল - কবিকঙ্কন।
• কবি বিদ্যাপতির উপাধি ছিলো - কবিকন্ঠহার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৩৯.
'মহুয়া পালার' - চরিত্র নয় কোনটি?
  1. হুমরা বেদে
  2. মলুয়া
  3. নদের চাঁদ
  4. সাধু
সঠিক উত্তর:
মলুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মলুয়া
ব্যাখ্যা
মহুয়া পালা: 
- নমশূদ্রদের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে মহুয়া পালা রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেনের ধারণা।
- এই পালার কাহিনির সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- এটি ময়মনসিংহ গীতিকার অন্যতম পালা।
- মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো:
- মহুয়া, নদের চাঁদ, হুমরা বেদে, সাধু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪০.
মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য কোনটি?
  1. চৈতন্যমঙ্গল
  2. জয়নবের চৌতিশা
  3. লায়লী মজনু
  4. মহাশ্মশান
সঠিক উত্তর:
জয়নবের চৌতিশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়নবের চৌতিশা
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য
- 'জঙ্গনামা' কাব্যের বিষয়- 'যুদ্ধ- বিগ্রহ'।

------------- 
• ‘জঙ্গনামা’:
- জঙ্গনামা  মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ বা তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা। অর্থ্যাৎ ‘জঙ্গনামা’ কাব্যের বিষয় যুদ্ধ-বিগ্রহ।
- বিশেষত  হযরত মুহম্মাদ (স.) ও তাঁর স্বজনদের যুদ্ধই এ শ্রেণীর কাব্যের মূল বিষয়। যেসব যুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে।
- তাই আরবি-ফারসি সাহিত্যে যেমন, বাংলা সাহিত্যেও তেমনি ‘জঙ্গনামা’ বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা। 
- বাংলা সাহিত্যে ‘জঙ্গনামা’ বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।
-------------
জঙ্গনামা শ্রেণির কাব্যধারার উল্লেখযোগ্য কবি ও কাব্যের নাম হলো: 
- শেখ ফয়জুল্লাহ, (জয়নবের চৌতিশা)
- দৌলত উজির বাহরাম খান (জঙ্গনামা),
- মুহম্মদ খান (মকতুল হোসেন)
- শেরবাজ (কাশিমের লড়াই ও ফাতিমার সুরতনামা)
- হেয়াত মামুদ (জারি-জঙ্গনামা),
- জাফর (শহীদ-ই-কারবালা ও সখিনার বিলাপ),
- হামিদ (সংগ্রাম হুসেন)
- ফকির গরিবুল্লাহ (জঙ্গনামা ও সোনাভান)
- মুহম্মদ হামিদুল্লাহ খান (গুলজার-ই-সাহাদৎ) এবং
- ওয়াহিদ আলী (বড় জঙ্গনামা)

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৪১.
বাংলা সাহিত্যে যুগসন্ধিক্ষণের সময়কাল কোনটি?
  1. ১৭০০-১৭৫০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ১৮৫০-১৯০০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ১৭৫০-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ১৭৬০-১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
১৭৬০-১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৬০-১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা
যুগসন্ধির কাল:
- ১২০১-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়টাকে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ হিসেবে ধরা হয়।
- আর ১৮০১ খ্রিস্টাব্দ - বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- এর মধ্যে ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের 'যুগসন্ধির কাল' বলা হয়। মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের সূচনালগ্নের এই শত বছরে চলেছে একটি নীরব প্রস্তুতি। এই প্রস্তুরি প্রধান পুরোহিত ছিলেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে 'যুগসন্ধির কাল' বা 'যুগসন্ধিক্ষণ' বা 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩৪২.
কবি আলাওল রচিত সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য কোনটি?
  1. সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
  2. রাগতালনামা
  3. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
  4. সিকান্দরনামা
সঠিক উত্তর:
রাগতালনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাগতালনামা
ব্যাখ্যা
• আলাওল:
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- তাঁর জন্ম আনুমানিক ১৬০৭ সালে।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজ্জিত ছিলেন।

• আলাওল রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
- পদ্মাবতী (১৬৪৮),
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী(১৬৫৯),
- সপ্তপয়কর/হপ্তপয়কর (১৬৬৫),
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল (১৬৬৯) ও
- সিকান্দরনামা (১৬৭৩)।

• নীতিকাব্য: তোহফা (১৬৬৪)।

• সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য: রাগতালনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৪৩.
‘মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম কী?
  1. ক) পদ্মাপুরাণ
  2. খ) পদ্মাবতী
  3. গ) চণ্ডীমঙ্গল
  4. ঘ) অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
ক) পদ্মাপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পদ্মাপুরাণ
ব্যাখ্যা
- ‘মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম 'পদ্মাপুরাণ'
- সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য ‘মনসামঙ্গল'।
- মনসামঙ্গল মূলত পাঁচালী পালা।

- কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি।
- এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।
- চাঁদ সওদাগরের প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা,পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির স্বীকার করে বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
৩৪৪.
'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' ধারার কবি নন কে?
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. আলাওল
  3. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  4. হুসেন শাহ
সঠিক উত্তর:
হুসেন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুসেন শাহ
ব্যাখ্যা
"রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান" সাহিত্য ধারার কবি নন- হুসেন শাহ।
- নবাব হুসেন শাহ চট্টগ্রামের শাসক ছিলেন। 

--------------------------
• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন-
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৪৫.
দৌলত উহির বাহরাম খান কোন অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন?
  1. ফরিদপুর 
  2. চট্টগ্রাম
  3. কক্সবাজার 
  4. নোয়াখালী 
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

দৌলত উজির বাহরাম খান:
- দৌলত উজির বাহরাম খান (আনুমানিক ১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধিপতির উজির এবং জনৈক পূর্বপুরুষ হামিদ খান ছিলেন গৌড় সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য।
- তাঁর প্রকৃত নাম - আসাউদ্দীন।
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।
- দৌলত উজির বাহরাম খান দুটি আখ্যানকাব্য রচনা করেন: লায়লী-মজনু ও ইমাম-বিজয়। উভয় কাব্যের উৎস আরবি সাহিত্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৩৪৬.
বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম সংকলন গ্রন্থ কোনটি?
  1. পদসমুদ্র
  2. পদপ্রাখ্যান
  3. পদসঞ্চয়
  4. বৈষ্ণপদার্ণ
সঠিক উত্তর:
পদসমুদ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদসমুদ্র
ব্যাখ্যা
⇒ বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম সংকলক বাবা আউল মনোহর দাস।
⇒ বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম সংকলনের নাম ‘পদসমুদ্র’। 
⇒ এই সংকলনে মোট ১৫ হাজার পদ ছিল। 

উৎস : শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের মূল বই; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩৪৭.
চম্পুকাব্য কী?
  1. ক) সংস্কৃত ও প্রাকৃত মিশ্রিত কাব্য
  2. খ) বাংলা ও মৈথিলি মিশ্রিত কাব্য
  3. গ) চম্পুক রাজ্যে লিখিত কাব্য
  4. ঘ) গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্য
ব্যাখ্যা
গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- চম্পুকাব্যের একটি নিদর্শন হচ্ছে রামাই পণ্ডিত রচিত ‘শূন্যপুরাণ’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৩৪৮.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের বিষয়বস্তু কী?
  1. শিব-পার্বতীর উপাখ্যান
  2. রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা
  3. বৌদ্ধধর্ম প্রচার
  4. রামায়ণের কাহিনি
সঠিক উত্তর:
রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা
ব্যাখ্যা
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- এ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস। বড়ু চণ্ডীদাসের প্রধান পরিচয় শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- বসন্তরঞ্জন বিদ্বদ্বল্লভ এর মতে চণ্ডীদাসের জন্ম ১৩৩৯ এবং মৃত্যু ১৩৯৯ খ্রিস্টাব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৪৯.
মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে কোন সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ?
  1. অনুবাদ সাহিত্যধারা
  2. জীবনী সাহিত্যধারা
  3. বৈষ্ণব সাহিত্যধারা
  4. লোক সাহিত্যধারা
সঠিক উত্তর:
বৈষ্ণব সাহিত্যধারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈষ্ণব সাহিত্যধারা
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য - ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা - বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- মধ্যুযগে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫০.
মঙ্গলকাব্যের প্রধান স্ত্রীদেবতা কোনটি?
  1. ফুল্লরা
  2. কালী
  3. চণ্ডী
  4. সনাকা
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
চণ্ডী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডী
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে বিশেষ এক শ্রেণির ধর্মবিষয়ক আখ্যান কাব্য 'মঙ্গলকাব্য' নামে পরিচিত। এগুলো খ্রিস্টীয় পনের শতকের শেষ ভাগ থেকে আঠার শতকের শেষার্ধ পর্যন্ত পৌরাণিক, লৌকিক ও পৌরাণিক-লৌকিক সংমিশ্রিত দেবদেবীর লীলামাহাত্ম্য, পূজাপ্রচার ও ভক্তকাহিনি অবলম্বনে রচিত সম্প্রদায়গত প্রচারধর্মী ও আখ্যানমূলক কাব্য। 

- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- এর প্রধান শাখা ৩টি- মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল/অন্নদামঙ্গল।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর। এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্মপরিচয়, দেবখণ্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়।
- এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কানাহারি দত্ত, মানিক দত্ত, ভারতচন্দ্র, দ্বিজমাধম, ঘনরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।
- মঙ্গলকাব্যের দেবীদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী দেবী সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
- মঙ্গলকাব্যের দেব দেবীরা মূলত অনার্যদের দেব-দেবী।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারায় কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাবকবি' বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৫১.
‘বিদ্যাসুন্দর' নামে অভিহিত মঙ্গলকাব্য কোনটি?
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য:
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ ‘বিদ্যাসুন্দর'।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

অন্যদিকে,
• কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি। মনসামঙ্গল কাব্য পদ্মপুরাণ নামেও পরিচিত।
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের অপর নাম অভয়ামঙ্গল। 
• ধর্মমঙ্গল কাব্য ধর্ম ঠাকুরের কাহিনি অবলম্বনে রচিত। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৫২.
শাহ মুহম্মদ সগীর কত শতকের কবি?
  1. চৌদ্দ 
  2. পনেরো 
  3. ষোল 
  4. সতেরো 
সঠিক উত্তর:
পনেরো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পনেরো 
ব্যাখ্যা

• শাহ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি - শাহ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম ইউসুফ-জুলেখা। তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জুলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি এ কাব্য রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৫৩.
কালকেতু ও ফুল্লরা —বিখ্যাত এ চরিত্র দুটি কোথায় পাওয়া যায়?
  1. ক) ধর্মমঙ্গল
  2. খ) অন্নদামঙ্গল
  3. গ) চণ্ডীমঙ্গল
  4. ঘ) মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
গ) চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। তিনি চতুর্দশ শতকের কবি।
চন্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷ তিনি ষোল শতকের কবি।
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৩৫৪.
'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যে কয়টি উপাখ্যান বর্ণিত হয়েছে?
  1. দুইটি 
  2. তিনটি 
  3. চারটি 
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
দুইটি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুইটি 
ব্যাখ্যা

'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল' চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৫৫.
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম নিদর্শন কী?
  1. ক) চতুর্দশপদী কবিতা
  2. খ) চর্যাপদ
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) মঙ্গলকাব্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) মঙ্গলকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মঙ্গলকাব্য
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের সাহিত্যের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য শাখা মঙ্গলকাব্য। এ সময়ে পাওয়া যায় - মনসামঙ্গল কাব্য, চণ্ডীমঙ্গলকাব্য, ধর্মমঙ্গল কাব্য, কালিকামঙ্গল কাব্য, অন্নদামঙ্গল কাব্য, শীতলামঙ্গল কাব্য। এ সময়ের প্রধান কাব্যগ্রন্থ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা
৩৫৬.
রামপ্রসাদ সেন কোন ধারার পদের জন্য বিখ্যাত?
  1. মর্সিয়া
  2. বৈষ্ণব পদবলি
  3. বাউল গান
  4. শাক্ত পদাবলি
সঠিক উত্তর:
শাক্ত পদাবলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাক্ত পদাবলি
ব্যাখ্যা
• রামপ্রসাদ সেন  "শাক্ত পদাবলীর " জন্য বিখ্যাত।

• রামপ্রসাদ সেন:

- শাক্তসঙ্গীত/শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বিখ্যাত ছিনেন" রামপ্রসাদ সেন"।
- তিনি শাক্ত পদাবলীর আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি।
- তার রচিত শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।
- পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কুমারহট্ট গ্রামের কবিরাজ বংশে তাঁর জন্ম।
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় রামপ্রসাদের কবিত্ব ও সঙ্গীতখ্যাতির কথা শুনে তাঁকে নিজের রাজসভায় যোগদানের আহবান জানান এবং ‘কবিরঞ্জন’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- একসময় মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে নবাব সিরাজউদ্দৌলা নদীর পাড়ে রামপ্রসাদের গান শুনে মুগ্ধ হন।
- তিনি ভক্তিভাব এবং রাগ ও বাউল সুরের মিশ্রণে এক ভিন্ন সুরের সৃষ্টি করেন, যা বাংলা সঙ্গীতজগতে ‘রামপ্রসাদী সুর’ নামে পরিচিত।
- তার গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।

• তাঁর বিখ্যাত উক্তি,
- 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই'।

• বিখ্যাত গান-
"মনরে কৃষি কাজ জান না
এমন মানবজমিন রইল পতিত
আবাদ করলে ফলতো সোনা।"

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩৫৭.
‘ওরা কদম আলী’ নাটকটি কে লিখেছেন?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. মমতাজ উদ্দীন আহমদ
  3. মামুনুর রশীদ
  4. বদরুদ্দীন ওমর
সঠিক উত্তর:
মামুনুর রশীদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা
• মামুনুর রশীদ রচিত নাটক হচ্ছে ওরা কদম আলী। 

• ওরা কদম কদম আলী:
- ১৯৭৮ সালে 'ওরা কদম আলী' প্রকাশের মধ্য দিয়ে মামুনুর রশীদের আবির্ভাব ঘটে নাট্যকার হিসেবে।
- শোষিত-নিপীড়িত বঞ্চিত মানুষের জন্য নাটক লিখতে গিয়ে তিনি নাটকে নিয়ে এসেছেন প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ চেতনা।
- আর বঞ্চিত, শোষিত মানুষের শ্রেণিসংগ্রামের রূপকার হিসেবে মামুনুর রশীদের ‘ওরা কদম আলী' নাটক সমকালীন বাংলা নাট্য-সাহিত্যের ধারায় যুক্ত করেছেন বিশিষ্ট মাত্রা। গরিব ও মেহনতি মানুষের ব্যক্তিক প্রতিবাদ সামষ্টিক রূপ কীভাবে পরিগ্রহ করে কদম আলী নামের একটি বোবা চরিত্রের মধ্য দিয়ে এ নাটকে তা দেখানো হয়েছে। 
-----------------------
• মামুনুর রশীদ:
- তিনি মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান৷

• তাঁর রচিত নাটক:
-  ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫৮.
আলাওল কোন শতকের কবি?
  1. ১৫ শতক
  2. ১৬ শতক
  3. ১৭ শতক
  4. ১৮ শতক
সঠিক উত্তর:
১৭ শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ শতক
ব্যাখ্যা

• আলাওল:
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি।
- আলাওল — ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- 'পদ্মাবতী' তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন। কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সিকান্দার নামা,
- তোহ্‌ফা,
- সপ্তপয়কর, 
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল,
- রাগতালনামা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৩৫৯.
মধ্যযুগের কোন সাহিত্য কৃষিকাজের জন্য উপযোগী?
  1. ক) রুপকথা
  2. খ) পুঁথি সাহিত্য
  3. গ) ডাক ও খনার বচন
  4. ঘ) লোকসাহিত্য
সঠিক উত্তর:
গ) ডাক ও খনার বচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ডাক ও খনার বচন
ব্যাখ্যা
খনার বচন মূলত কৃষিতত্ত্বভিত্তিক ছড়া।
- তাই মধ্যযুগের ডাক ও খনার বচন কৃষিকাজের জন্য উপযোগী।
- বুদ্ধ সমাজের ডাকের বচন এবং হিন্দু সমাজে খনার বচনের উৎপত্তি হয়েছিল।
- ডাকের বচন ‘ডাকের কথা’ বা ‘ডাক পুরুষের কথা’ নামেও পরিচিত। 
- ডাক তাঁর বচনকে ‘ডাকর কথা’ বলেছেন, চাকমা ভাষায় যা ‘দাগর কধা’ নামে পরিচিত।
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী, লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও  খনা একই ব্যক্তি।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ও দীনেশচন্দ্র সেনের মতে ডাকার্ণব বাংলা ভাষার আদিগ্রন্থ।
- এটি কৃষি, জ্যোতিষশাস্ত্র, গণস্বাস্থ্য ও প্রাত্যহিক জীবন সংক্রান্ত প্রজ্ঞা-বচনের সমাহার

উৎস : বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬০.
'যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী,
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।' - কবিতাংশটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. নূরনামা
  2. নসিহতনামা
  3. মধুমালতী
  4. ইউসুফ-জুলেখা
সঠিক উত্তর:
নূরনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নূরনামা
ব্যাখ্যা

যে সব বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী,
 সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি”—
এই পংক্তি আবদুল হাকিমের ‘নূরনামা’ কাব্যের অন্তর্গত ‘বঙ্গবানী’ কবিতা থেকে নেওয়া
- এতে কবি বলেন – যারা বাঙালি হয়ে বাংলা ভাষাকে হেয় করে, তাদের জন্ম-পরিচয় পর্যন্ত বোঝা যায় না।

• আবদুল হাকিম:
- আবদুল হাকিম ছিলেন সপ্তদশ শতকের একজন বিশিষ্ট মুসলিম কবি।
- তাঁর বসবাস নোয়াখালীর বাবুপুর গ্রামে; কারও মতে তিনি সন্দ্বীপের সুধারাম এলাকায় অধিবাসী ছিলেন।
- আবদুল হাকিম প্রধানত প্রণয়োপাখ্যানের কবি ছিলেন।
- আরবি, ফারসি ও সংস্কৃত – এই তিন ভাষায় তিনি ছিলেন অত্যন্ত পারদর্শী।
- হাদিস, কোরআন, ফিকহসহ ইসলামী শাস্ত্রে যেমন দক্ষ ছিলেন, তেমনি রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণ সম্পর্কেও তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল।

• আবদুল হাকিমের ৫টি কাব্য পাওয়া যায়:
- ইউসুফ জোলেখা,
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলক,
- হানিফার লড়াই।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৩৬১.
'চন্দ্রাবতী' কী?
  1. কাব্য
  2. পদাবলী
  3. পালাগান
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্য
ব্যাখ্যা

'চন্দ্রাবতী' কাব্য:
- 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।
- মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় বাংলা সাহিত্যচর্চা শুরু হয়।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন।
- তার পৃষ্ঠাপােষকতায় আরাকান বা রােসাঙ্গ রাজসভায় বাংলা সাহিত্য চর্চা শুরু হয়েছিল।
- তিনি আলাওলকে দুটি কাব্য ‘পদ্মাবতী’ ও ‘সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামান' লিখতে পৃষ্ঠপােষকতা করেছিলেন।
- আলাওল, দৌলত কাজী, কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার উল্লেখযােগ্য কবি।

-----------------------------------
- উল্লেখ্য, চন্দ্রাবতী নামে ময়মনসিংহ গীতিকার একজন মহিলা কবি রয়েছেন যিনি প্রথম রামায়ণ বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন।
- আরও উল্লেখ্য, চন্দ্রাবতীকে নিয়ে মৈমনসিংহ-গীতিকায় নয়ানচাঁদ ঘোষ নামে একজন কবির পালা রয়েছে। এই পালাটি বিভিন্ন নামে পরিচিত - ‘জয়-চন্দ্রাবতী’, 'চন্দ্রাবতী চরিত', 'চন্দ্রাবতী উপাখ্যান'।
- এছাড়াও, ১৯৩২ সালে দীনেশচন্দ্র সেন চন্দ্রাবতীর রামায়ণ প্রকাশ করেন। পূর্ববঙ্গ-গীতিকার চতুর্থ খণ্ডের ২য় ভাগে এ রামায়ণ স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলার পুরনারী - দীনেশচন্দ্র সেন, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৬২.
'রাজা হরিশ্চন্দ্র' ও 'লাউসেন' এর ঘটনা বর্ণিত হয়েছে কোন মঙ্গল কাব্যে?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
ধর্মমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• ধর্মমঙ্গল:
- ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূর ভট্ট।
- ধর্মমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী।
- রূপরাম, সীতারাম দাস ধর্মমঙ্গলের উল্লেখযোগ্য কবি।
- ধর্মমঙ্গল কাব্য দুটি পালায় বিভক্ত:
- রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনী।
- লাউসেনের সংগ্রামী জীবনের কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬৩.
কোনটি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি?
  1. রামায়ণ
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. সত্যনারায়ণের পাঁচালী
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ। তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘সত্যনারায়ণের পাঁচালী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
৩৬৪.
বৈষ্ণব কবিতার সর্বপ্রথম সংকলন করেন-
  1. বিদ্যাপতি 
  2. আউল মনোহর দাস
  3. লোচনদাস
  4. বলরাম দাস
সঠিক উত্তর:
আউল মনোহর দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আউল মনোহর দাস
ব্যাখ্যা

• বৈষ্ণব সাহিত্য:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে পরিমাণে ও গুণে সবচেয়ে সমৃদ্ধ ধারা হলো বৈষ্ণব সাহিত্য।
- মধ্যযুগে ১৬৫ জনের মতো কবি বৈষ্ণব সাহিত্য রচনা করেন।
- এদের রচিত বৈষ্ণব কবিতার সর্বপ্রথম সংকলন করেন বাবা আউল মনোহর দাস। তাঁর বৈষ্ণব কবিতা সংকলের নাম পদসমুদ্র।
- এতে প্রায় পনের হাজার বৈষ্ণব কবিতা সংকলিত হয়েছে। ষোড়শ শতকের শেষের দিকে তিনি এগুলো সংগ্রহ করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৬৫.
মৈমনসিংহ গীতিকা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় -
  1. ১৯২৭ সালে
  2. ১৯২৩ সালে
  3. ১৯২৫ সালে
  4. ১৯২১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ সালে
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা: 
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
-  মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে, যথা:
- মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, কমলা, দেওয়ান ভাবনা, দস্যু কেনারামের পালা, রূপবতী, কঙ্ক ও লীলা, কাজলরেখা ও দেওয়ানা মদিনা। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩৬৬.
'শূন্যপুরাণ' গ্রন্থের রচিতা কে?
  1. হলায়ুধ মিত্র
  2. কেতদাস ক্ষমানন্দ
  3. রামাই পণ্ডিত
  4. কানা হরি দত্ত
সঠিক উত্তর:
রামাই পণ্ডিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামাই পণ্ডিত
ব্যাখ্যা
'শূন্যপুরাণ':
- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বীয় গ্রন্থের নাম 'শূন্যপুরাণ'।
- মূল গ্রন্থে ধর্মপূজার যে বিবরণ আছে তাতে বৌদ্ধধর্মের শূন্যবাদ ও হিন্দু লোকধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে।
- শূন্যপুরাণ বিশেষভাবে ধর্মপূজা পদ্ধতি।
- কাব্যগ্রন্থটি ৫১ টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- শূন্যপুরাণ চম্পুকাব্যের নিদর্শন।
- গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।
-  এই কাব্যে ’শূন্যময় দেবতা’ ধর্মঠাকুরের পূজা পদ্ধতির বর্ণনা আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩৬৭.
কাব্যের নাম ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কে দিয়েছিলেন?
  1. দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়
  2. বসন্তরঞ্জন রায়
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. রাখালদাস বন্দোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বসন্তরঞ্জন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসন্তরঞ্জন রায়
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বাংলায় রচিত মধ্যযুগের প্রথম কাব্য।
- ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘরের মাচা থেকে উদ্ধার করেন।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কারের সময় গ্রন্থের প্রথম পৃষ্ঠায় এর কোনো নাম পাওয়া যায়নি।
- সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় এর নাম দেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। একে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভও বলা হয়।
- ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৬৮.
বৈষ্ণব পদাবলিতে 'শৃঙ্গার রস'কে কী নামে ডাকা হয়?
  1. শান্তরস
  2. দাস্যরস
  3. সখ্যরস
  4. মধুররস
সঠিক উত্তর:
মধুররস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধুররস
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলির রচনা করেন চণ্ডীদাস।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮ টি অবস্থা।

- এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে।
যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।

• মধুর রস’কে শৃঙ্গার রসও বলে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও লাল নীল দীপাবলি হুমায়ুন আজাদ।

৩৬৯.
'এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর।
এ ভরা বাদর মাহ ভাদর শূন্য মন্দির মোর।।' পঙ্‌ক্তিটি কোন কবির রচনা?
  1. জ্ঞানদাস
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. মুকন্দরাম চক্রবর্তী
  4. বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
'এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর।
এ ভরা বাদর মাহ ভাদর শূন্য মন্দির মোর।।' - পঙ্‌ক্তিটি মিথিলার কবি বিদ্যাপতি রচিত "বর্ষাবিরহের" একটি পদ।

অর্থ: সখি আমার দুখের শেষ নেই। এ ভরা বাদল, ভাদ্র মাস, আমার মন্দির শব্দ। 

----------------
• বিদ্যাপতি:
- বিদ্যাপতি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। বাঙালী কবি না হয়েও বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
- তিনি মাতৃভাষা মৈথিলি ছাড়াও সংস্কৃত, অবহঠট ও ব্রজবুলি ভাষায় পদাবলি রচনা করেন।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- শৈব বংশে জন্ম বলে তিনি বহু শৈবসঙ্গীতও রচনা করেন।
- কিন্তু ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ-বিষয়ক পদগুলিই তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৭০.
নাথ সাহিত্যকে প্রধানত কয়টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. দুই ভাগে
  2. তিন ভাগে
  3. চার ভাগে
  4. পাঁচ ভাগে
সঠিক উত্তর:
দুই ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই ভাগে
ব্যাখ্যা

নাথ সাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথ সাহিত্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে,
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
- এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে ।

• শুকুর মাহমুদ (১৬৬৫-১৭৩৫) মধ্যযুগের একজন সাধক কবি।
- তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম আবদুল শুকুর মাহমুদ।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম - গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

৩৭১.
‘দেওয়ানা মদিনা’ পালা কোন অঞ্চলের কাহিনী নিয়ে রচিত?
  1. ক) নেত্রকোনা
  2. খ) কিশোরগঞ্জ
  3. গ) ময়মনসিংহ
  4. ঘ) হবিগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
ঘ) হবিগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হবিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
হবিগঞ্জ জেলার বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙের দেওয়ান সম্পর্কে এই পালা রচিত হয়।
- এর রয়চিয়তা মনসুর বয়াতি।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৩৭২.
পনের শতকের কবি ছিলেন -
  1. শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. এন্টনি ফিরিঙ্গি
  4. আব্দুল হাকিম
সঠিক উত্তর:
শাহ মুহম্মদ সগীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহ মুহম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা

শাহ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি - শাহ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম  ইউসুফ-জোলেখা।

অন্যদিকে,
- শেখ ফয়জুল্লাহ ১৬শ শতক মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- এন্টনি ফিরিঙ্গি ছিলেন আঠারো শতকের বাংলা ভাষার কবিয়াল।
- আব্দুল হাকিম সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৭৩.
বটতলার পুঁথি বলতে বুঝায়-
  1. ক) মধ্যযুগীয় কাব্যের হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি
  2. খ) বটতলা নামক স্থানে রচিত কাব্য
  3. গ) দোভাষী বাংলায় রচিত পুঁথি সাহিত্য
  4. ঘ) অবিমিশ্র দেশজ বাংলায় রচিত লোকসাহিত্য
সঠিক উত্তর:
গ) দোভাষী বাংলায় রচিত পুঁথি সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দোভাষী বাংলায় রচিত পুঁথি সাহিত্য
ব্যাখ্যা
পুথি সাহিত্যের শব্দসম্ভার ও ভাষারীতি লক্ষ করে বিভিন্ন জন এর বিভিন্ন নামকরণ করেছেন।
- রেভারেন্ড জেমস লং এ ভাষাকে বলেছেন ‘মুসলমানী বাংলা’, আর এ ভাষায় রচিত সাহিত্যকে বলেছেন ‘মুসলমানী বাংলা সাহিত্য’।
- কলকাতার বটতলার ছাপাখানার বদৌলতে প্রচার লাভ করে বলে এগুলি ‘বটতলার পুথি’ নামেও পরিচিত হয়।
- গবেষকগণ ভাষা-বৈশিষ্ট্য ও বাক্যরীতির দিক থেকে বিচার করে প্রথমে এগুলিকে দোভাষী পুথি এবং পরবর্তীকালে ‘মিশ্র ভাষারীতির কাব্য’ বলে অভিহিত করেন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৩৭৪.
বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছেন কে?
  1. রাজা শিবসিংহ
  2. রাজা কৃষ্ণদাস
  3. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
রাজা শিবসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা শিবসিংহ
ব্যাখ্যা
বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়। কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭৫.
“নানান দেশের নানান ভাষা, বিনে স্বদেশী ভাষাপুরে কি আশা”—এই বিখ্যাত টপ্পাটি রচনা করেছেন কে?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. শোরী মিঞা
  3. কালী মীর্জা
  4. শ্রীধর কথক
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
ব্যাখ্যা

নানান দেশের নানান ভাষা, বিনে স্বদেশী ভাষাপুরে কি আশা”—এই বিখ্যাত টপ্পাটি রচনা করেছেন- রামনিধি গুপ্ত।
---------------------------------
• টপ্পা:
- টপ্পা হলো ভারতীয় মার্গসঙ্গীতের চারটি প্রধান ধারার একটি।
- অপর তিনটি হলো ধ্রুপদ, খেয়াল এবং ঠুম্রি।
- টপ্পা দুই প্রকারে বিভক্ত: হিন্দুস্থানি ও বাংলা।
- হিন্দুস্থানি টপ্পাকে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল অযোধ্যার নবাব-দরবারের সঙ্গীতজ্ঞ গোলাম নবী বা শোরী মিঞার দ্বারা। 
- আর বাংলা টপ্পার সূচনাকারী হচ্ছে- রামনিধি গুপ্ত। 

- কলকাতা ও তার শহরতলীতে সমসাময়িক কালে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গান প্রচলিত ছিল।
- এই গান মূলত হিন্দি টপ্পার আদর্শ অনুসরণ করত।
- বাংলা টপ্পাগানের প্রবর্তক নিধুবাবু চাকরির সময় একজন মুসলমান ওস্তাদের কাছে সঙ্গীত শিক্ষা নেন।
- এবং শোরী মিঞার হিন্দুস্থানি টপ্পার সঙ্গে পরিচিত হয়ে কলকাতায় এসে বাংলা টপ্পা গানের সৃষ্টিশীল রূপ দেন।
- নিধুবাবুর টপ্পা সংকলনের নাম ছিল ‘গীতরত্ন'।

- বাংলা টপ্পার বৈশিষ্ট্য হলো—
- একেক স্বরের ওপর মধ্যলয়ে দোলায়মান কোমল কম্পন;
- যা গানের কথাগুলিকে স্বাভাবিকভাবে আবৃত্তি করে।
- তবে নিধুবাবু হিন্দুস্থানি টপ্পার রাগ ও তাল প্রায় অপরিবর্তিত রেখেছিলেন।
- নিধুবাবুর সমসাময়িক এবং পরবর্তী সময়ে বাংলা টপ্পা রচনায় কালী মীর্জা ও শ্রীধর কথক উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন।

- নিধুবাবু রচিত বিখ্যাত টপ্পা-
- “নানান দেশের নানান ভাষা, বিনে স্বদেশী ভাষাপুরে কি আশা” 

- নিধুবাবু শুধু প্রেমসঙ্গীতই নয়, ব্রহ্মসঙ্গীতও টপ্পার ছাঁচে রচনা করেছিলেন।
- যেমন:
- ‘পরমব্রহ্ম তৎপরাৎপর পরমেশ্বর/ নিরঞ্জন নিরাময় নির্বিশেষে সদাশয়/ আপনা আপনি হেতু বিভু বিশ্বধর।’

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৩৭৬.
মহুয়া পালার চরিত্র নয় কোনটি?
  1. ক) সাধু
  2. খ) মলুয়া
  3. গ) নদের চাঁদ
  4. ঘ) হুমরা বেদে
সঠিক উত্তর:
খ) মলুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মলুয়া
ব্যাখ্যা
- মহুয়া পালার চরিত্র নয়- মলুয়া
- নমশূদ্রদের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে মহুয়া পালা রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেনের ধারণা।
- এই পালার কাহিনির সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

• মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মধ্যযুগের কোন কবিকে ‘দুঃখের কবি’ বলে উল্লেখ করেছেন?
  1. জ্ঞানদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. চণ্ডীদাস
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীদাস:
- চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন।
- চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।
- তিনি ‘শুনহ মানুষ ভাই/ সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই' বলে জাত-পাতযুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বাণী কাব্যে ধারণ করেছেন বলে তাকে মানবতার কবি বলা হয়। তাছাড়া ব্যক্তিজীবনেও তিনি জাত-সংস্কারের ঊর্ধ্বে ছিলেন।
- চণ্ডীদাস সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মন্তব্য করেছেন “চণ্ডীদাস সহজ ভাষায় সহজ ভাবের কবি-এই গুণে তিনি বঙ্গীয় প্রাচীন কবিদের মধ্যে প্রধান কবি”।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।

উল্লেখ্য,
• রাজা রঘুনাথ মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে কবিকঙ্কন উপাধি প্রদান করেন। এবং তাঁকে দুঃখ বর্ণনার কবি বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৩৭৮.
'ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ'- কোন যুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য?
  1. প্রাচীনযুগ
  2. মধ্যযুগ
  3. আধুনিক যুগ
  4. উত্তর আধুনিক যুগ
সঠিক উত্তর:
মধ্যযুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যযুগ
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য - ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ

- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা - বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- আবার মধ্যযুগের লোক সাহিত্য ব্যতিক্রমধর্মী ধারা। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

এছাড়া,
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান ছিল, ধর্ম প্রধান ছিল না।
• আধুনিক যুগে মানুষ মুখ্য হয় এবং মানবতাই একমাত্র কাম্য হয়ে ওঠে, সে সঙ্গে যোগ হয় অন্ধবিশ্বাসের বদলে যুক্তিশীলতা। স্বাজাত্যবোধ, স্বদেশপ্রেম, ব্যক্তিস্বাধীনতা বিশেষ করে নারী-স্বাধীনতা আধুনিক যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩৭৯.
ধর্মমঙ্গল কাব্যের অন্তর্ভুক্ত কাহিনি সংখ্যা কয়টি?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
দুইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুইটি
ব্যাখ্যা
ধর্মমঙ্গল কাব্যের দুটি কাহিনি- ১ রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি এবং ২. লাউসেনের কাহিনি। এর মধ্যে লাউসেনের কাহিনিই কাব্যে অধিকতর প্রাধান্য পেয়েছে।

• রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি:
রাজা হরিশ্চন্দ্র ও তাঁর রানী মদনা নিঃসন্তান ছিলেন বলে লজ্জায় লোকের কাছে মুখ দেখাতে পারছিলেন না। মনের দুঃখে তাঁরা ঘুরতে ঘুরতে বলুকা নদীর তীরে এসে দেখলেন সেখানে ভক্তেরা ধর্মের পূজা করছে। রাজারানীও ধর্মের পূজা করে তাঁর কাছে পুত্রবর প্রার্থনা করলেন। ধর্ম তাঁদের পুত্রলাভের বর দিলেন। পুত্রটিকে যথা সময়ে ধর্মের কাছে বলি দিতে হবে। রাজা পুত্রের মুখ দেখার আশায় তাতেই রাজি হলেন। পুত্র জন্মালে তার নাম রাখা হল লুইচন্দ্র বা লুইধর। একসময় রাজারানী প্রতিজ্ঞার কথা ভুলে গেলেন। একদিন ব্রাহ্মণের বেশে ধর্মঠাকুর উপস্থিত হয়ে রাজপুত্রের মাংস ভক্ষণের আকাঙ্ক্ষা জানালেন। রাজারানী প্রতিজ্ঞার কথা স্মরণ করে পুত্রের দেহ কেটে রান্না করলেন। এতে ধর্মঠাকুর সন্তুষ্ট হয়ে নিজ মূর্তি ধারণ করে রাজপুত্রকে ফিরিয়ে দিলেন। রাজা মহাসমারোহে ধর্মের পূজা করলেন।

• লাউসেনের কাহিনি:
গৌড়েশ্বরের একজন সামন্ত-নাম কর্ণসেন। ইছাই ঘোষ নামে জনৈক সামন্তের আক্রমণে কর্ণসেনের ছয় পুত্র মারা যায়। বৃদ্ধ বয়সে সকল পুত্রের মৃত্যুতে তিনি ভেঙে পড়েন। গৌড়েশ্বর কর্ণসেনকে সংসারে আবদ্ধ রাখার জন্য নিজের শ্যালিকা রঞ্জাবতীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে দেন। গৌড়েশ্বরের শ্যালক মহামদ তা পছন্দ করে নি। সে বৃদ্ধ ভগ্নিপতি কর্ণসেনকে আঁটকুড়ে বলে উপহাস করে। রঞ্জাবতী এ গ্লানি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ধর্মঠাকুরের কাছে পুত্রবর চেয়ে কঠোর ব্রত পালন করে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৮০.
নিম্নের কোনটি মঙ্গল কাব্যের অংশ নয়?
  1. বন্দনা
  2. আত্মপরিচয়
  3. দেবপরিচয়
  4. দৈব্যলোক
সঠিক উত্তর:
দেবপরিচয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেবপরিচয়
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা। দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। 
• প্রতিটি মঙ্গলকাব্যে একেকজন দেবতার মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। এরা লৌকিক দেবতার সঙ্গে পৌরাণিক দেবতার সংমিশ্রণে সৃষ্ট বাঙালির নিজস্ব দেবতা। বহিরাগত আর্যদেবতাদের বিরুদ্ধে অনেক সংগ্রাম করে এদেরকে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে হয়েছে। আর্যদেবতাদের বিরুদ্ধে এই বিজয়ের কারণে মঙ্গলকাব্যের ‘মঙ্গল’ শব্দটি ‘বিজয়’ অর্থেও গ্রহণ করা হয়। এমনকি কোনো কোনো মঙ্গলকাব্যের নামের সঙ্গে ‘বিজয়’ শব্দটি সংযুক্তও হয়েছে, যেমন বিপ্রদাস পিপিলাইয়ের মনসাবিজয়।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চন্ডী ও ধর্মঠাকুর। এদের মধ্যে মনসা ও চন্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি। এই তিনজনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল। 

সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যের সাধারনত ৫ টি অংশ থাকে।
যথা -
-  বন্দনা
- আত্মপরিচয়
- দেবখন্ড
- মর্ত্যখন্ড
- শ্রুতিফল

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৩৮১.
বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম সংকলন কোনটি?
  1. গীতিসঞ্চয়ন
  2. পদসঞ্চয়ন
  3. পদসমুদ্র
  4. পদমঞ্জুরি
সঠিক উত্তর:
পদসমুদ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদসমুদ্র
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম সংকলক — বাবা আউল মনোহর দাস।
- বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম সংকলনের নাম — ‘পদসমুদ্র’। 
- বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম সংকলন ‘পদসমুদ্র’—এ ১৫ হাজার পদ ছিল। 

উৎস : শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যেল মূল বই; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩৮২.
বৈষ্ণব পদাবলির আদি নিদর্শন গীতগোবিন্দম্ কোন ভাষায় রচিত?
  1. সংস্কৃত
  2. ব্রজবুলি
  3. বাংলা
  4. মণিপুরি
  5. কোনটি নয় 
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
ব্যাখ্যা

আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন-গীতগোবিন্দম্- সংস্কৃত ভাষায় রচিত। 
---------------------------- 
• বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সমৃদ্ধ সাহিত্যধারা হিসেবে বিবেচিত।
- এই ধারার সূচনা ও বিকাশ মূলত রাধা–কৃষ্ণের প্রেমলীলা ও ভক্তিভাবকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে।
- বাঙালি কবি জয়দেব-কে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা আদিকবি বলা হয়।
- তাঁর রচিত গীতগোবিন্দম্ কাব্যে রাধা–কৃষ্ণের প্রেম ও ভক্তির রূপ চিত্রিত হলেও এটি বাংলা নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- তবু এটিকেই আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন ধরা হয়।

- পরবর্তীতে অবাঙালি কবি বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- তাই তাঁকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদিকবি বলা হয়। 
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস—যার মাধ্যমে বাংলা ভাষায় এই ধারার পূর্ণ বিকাশ ঘটে।

- বৈষ্ণব পদাবলিতে মোট পাঁচটি রসের প্রকাশ দেখা যায়—
- শান্তরস,
- দাস্যরস,
- সখ্যরস,
- বাৎসল্যরস,
- ও মধুররস।
- এই রসসমূহের সমন্বয়েই বৈষ্ণব পদাবলি ভক্তি ও প্রেমের এক অনন্য সাহিত্যিক রূপ লাভ করেছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৩৮৩.
আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি-
  1. আলাওল
  2. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. দৌলত কাজী
  4. মরদন
সঠিক উত্তর:
দৌলত কাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা

​• আরাকান রাজসভা:
- ​আরাকান রাজসভার আদি কবি ও প্রথম বাঙালি কবি দৌলত কাজী।
- তিনি লৌকিক কাহিনীর প্রথম রচয়িতা।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যের নাম 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী'।
- এটি হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসত' কাব্য অবলম্বনে তিন খন্ডে রচিত।

• আরাকান রাজসভার অন্যান্য কবিগণ হলেন:
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর,
- মরদন,
- আবদুল করিম খন্দকার,
- শমসের আলী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৮৪.
'শূণ্যপুরাণ' গ্রন্থটি কোন যুগের সাহিত্যকর্ম?
  1. প্রাচীন
  2. আধুনিক
  3. অন্ধকার
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অন্ধকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্ধকার
ব্যাখ্যা
'শূণ্যপুরাণ':
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৮৫.
শ্রীরামপুরের মিশনারীরা স্মরণীয় যে জন্য-
  1. প্রথম বাংলায় খৃষ্টধর্ম প্রচার
  2. প্রথম বাংলায় মুদ্রণ
  3. প্রথম বাংলায় সংস্কার কাজ
  4. প্রথম বাংলা স্কুল
সঠিক উত্তর:
প্রথম বাংলায় মুদ্রণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথম বাংলায় মুদ্রণ
ব্যাখ্যা
শ্রীরামপুর মিশন প্রেস:
- শ্রীরামপুর মিশন ছিল ভারতের প্রথম নিজস্ব প্রচারক সংঘ।
- মিশন হুগলি জেলার দুটি স্থান থেকে বাংলায় যীশুর বাণী প্রচার শুরু করে। 
- ১৮০০ সালের ১০ই জানুয়ারি উইলিয়াম কেরি এবং ভ্রাতৃবৃন্দ এই মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।
- সেই বছরই মার্চ মাসে উইলিয়াম কেরি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস নামে ছাপাখানাটি খোলেন।
- এই মাসেই পঞ্চানন কর্মকারের সহযোগিতায় প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ মথী রচিত মঙ্গল সমাচার ছাপা হয় মিশন প্রেস থেকে।
- বাংলা গদ্য চর্চায় যে সকল প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে খ্রিষ্টান মিশনারীগণ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘শ্রীরামপুর মিশন' সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। 
- বাংলায় বাইবেল আনুবাদ করে প্রদেশে খ্রিষ্টধর্ম প্রচারে ব্রতী হয়েছিলেন উইলিয়াম কেরি।
- শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে পরবর্তীকালে রামায়ণ, মহাভারত, পাঠ্যপুস্তক ইত্যাদি বহু গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল।
- ১৮১৮ খ্রিষ্টাব্দে এই মিশন থেকে 'দিগদর্শন' ও 'সমাচার দর্পণ' নামক পত্রিকা দুটি প্রকাশিত হয়। 
- ১৮০০-১৮৩২ সালের মধ্যে শ্রীরামপুর প্রেস থেকে ৪৫টি ভাষায় ২,১২,০০০ বই ছাপা হয়।
- ১৮৪৫ সালে শ্রীরামপুর মিশন বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু এ প্রেস ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত চালু ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৮৬.
রামনিধি গুপ্ত বাংলা সাহিত্যে কোনটির প্রবর্তন হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন?
  1. মর্সিয়া গান
  2. নাথ গান
  3. টপ্পা গান
  4. পাচাঁলি গান
সঠিক উত্তর:
টপ্পা গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টপ্পা গান
ব্যাখ্যা
• টপ্পা সঙ্গীত:
- কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল।
- হিন্দি টপ্পাগান এর আদর্শ তবে বাংলা টপ্পা সর্বতোভাবে পাঞ্জাবি টপ্পার অনুকরণ নয়।
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধুবাবু।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্থানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম - গীতরত্ন (১৮৩২)।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা-
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"

অন্যদিকে,
• কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য৷ মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি শেখ ফয়জুল্লাহ৷ তাঁর গ্রন্থের নাম জয়নালের চৌতিশা (১৫৭০)।

• শিবের উপাশক এক শ্রেণীর যোগী সম্প্রদায় ছিল যাদের ধর্মের নাম ছিল নাথ ধর্ম। এই নাথ ধর্মের কাহিনিই বর্ণিত হয়েছে নাথ সাহিত্যে।  শেখ ফয়জুল্লাহ নাথ সাহিত্যের আদি কবি। উনার আখ্যানকাব্যের নাম “গোরক্ষ বিজয়”।

• আগে মঙ্গলকাব্যকেই “পাচাঁলি” নামে আখ্যায়িত করা হত। পরে, দীর্ঘ আখ্যানমূলক কাব্য পাঁচালি নামে পরিচিত হয়। পাঁচালি গানের রচয়িতাদের মধ্যে শক্তিশালী কবি ছিলেন দাশরথি রায়। 

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৮৭.
“পিপিড়ার পাখা ওঠে মরিবার তরে কাহার ষোড়শী কন্যা আনিয়াছ ঘরে।” উক্তিটি মঙ্গলকাব্যের কোন শাখা থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. কালিকামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা

“পিপিড়ার পাখা ওঠে মরিবার তরে কাহার ষোড়শী কন্যা আনিয়াছ ঘরে।” - উক্তিটি মঙ্গলকাব্যের চণ্ডীমঙ্গল শাখার কালকেতু-ফুল্লরা উপাখ্যান থেকে নেওয়া।
- উক্তিটি ফুল্লরা বলেছে তার স্বামী কালকেতুকে
--------------------------------
• চণ্ডীমঙ্গলের প্রথম খণ্ড: কালকেতু-ফুল্লরা উপাখ্যান:
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্য মূলত দুটি প্রধান কাহিনির সমন্বয়ে গঠিত—
• ব্যাধ কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, যা ‘আখেটিক খণ্ড’ নামে পরিচিত,
• এবং বণিক ধনপতি সদাগর ও খুল্লনার কাহিনি, যা ‘বণিক খণ্ড’ নামে অভিহিত।

- চণ্ডীমঙ্গলের প্রথম খণ্ডে দেবী চণ্ডীকে কেন্দ্র করে কাহিনি রচিত।
- নায়ক কালকেতু এবং নায়িকা ফুল্লরা।
- খল চরিত্র হিসেবে রয়েছে ভাঁড়ু-দত্ত ও মুরারী শীল।

- কাহিনী:
- কাহিনির সূচনা হয় শিবভক্ত নীলাম্বর শাপগ্রস্ত হয়ে মর্ত্যে আগমনের মাধ্যমে। নীলাম্বর কলিঙ্গ জনপদে কালকেতু নামে জন্মায় এবং তাঁর স্ত্রী ছায়া ফুল্লরা নামে জন্মগ্রহণ করে। মর্ত্যে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। কালকেতু বনের পশু শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে, কিন্তু তার অত্যাচারে পশুরা দেবী চণ্ডীর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। চণ্ডী গুইসাপরূপে কালকেতুর সামনে উপস্থিত হয়ে শিকার প্রতিরোধ করে। কালকেতু শিকার না পেয়ে গুইসাপরূপী চণ্ডীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে হাটে চলে যায়। 
ফুল্লরা বাসায় ফিরে দেখে চণ্ডী সুন্দরী নারীমূর্তি ধারণ করে বসে আছে। এটি দেখে ফুল্লরা রেগে যায় এবং চোখ লাল হয়ে প্রতিবাদ করে বলে: “পিপিড়ার পাখা ওঠে মরিবার তরে কাহার ষোড়শী কন্যা আনিয়াছ ঘরে।”
পরে দেবী স্বরূপে ফিরে এসে ফুল্লরাকে পূজা প্রচারের প্রলোভন দেখান এবং কালকেতুকে দুটি উপহার দেন—মানিক অঙ্গুরীয় ও সাত ঘড়া সোনার মহর, যা বিক্রি করে গুজরাট বন কেটে নগর গঠন করতে নির্দেশ দেয়া হয়। কালকেতু নগর তৈরি করেন, কিন্তু লোক না থাকায় দেবী বন্যা প্রেরণ করে যাতে লোক আসে এবং বিনিময়ে চণ্ডীর পূজা করা হয়। কিছু মুসলমানও আসে, তবে তাদের পূজা বাধ্যতামূলক নয়। এরপর ভাড়-দত্ত নামে প্রতারক লোক আসে, যার কারণে কলিঙ্গ রাজা কালকেতুকে পরাজিত করে। দেবীর স্বপ্নাদেশে কালকেতু পুনরায় বাড়ি পৌঁছায় এবং অবশেষে সকলেই চণ্ডীর ক্ষমতা বুঝে তার পূজা প্রচার করতে থাকে।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৮৮.
'গুলে বকাওলী' কাব্যটি প্রথম বঙ্গানুবাদ করেন কে?
  1. দৌলত কাজী
  2. কবি নওয়াজিস খান
  3. মুহম্মদ কবীর
  4. দৌলত উজির বাহরাম খান
সঠিক উত্তর:
কবি নওয়াজিস খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবি নওয়াজিস খান
ব্যাখ্যা
• গুলে বকাওলী:
- ইজ্জতুল্লা নামক এক বাঙালি লেখক রচিত পারসি গ্রন্থ গুলে বকাওলী'।
- ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে রচিত 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থটি রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য।
- সতের শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বঙ্গানুবাদ করেন।
- এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী ও উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৮৯.
'লখিন্দর' কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. ক) চন্ডীমঙ্গল
  2. খ) মনসামঙ্গল
  3. গ) ধর্মমঙ্গল
  4. ঘ) অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
খ) মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
মনসামঙ্গলের প্রধান চরিত্র গুলো হলো- সাপের দেবী মনসা, চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা। মনসামঙ্গলের অপর নাম পদ্মাপুরাণ। চন্ডীমঙ্গল মধ্যযুগের মঙ্গল কাব্যের সাহিত্য ধারা। চন্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রসমূহ- কালকেতু, ফুল্লরা, ভাড়ুদত্ত, মুরারি শীল। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৩৯০.
বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ 'শূন্যপূরাণের' রচয়িতা -
  1. শ্রীহর্ষ
  2. হলায়ূধ মিশ্র
  3. রামাই পণ্ডিত
  4. বড়ু চণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
রামাই পণ্ডিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামাই পণ্ডিত
ব্যাখ্যা
• শূন্যপুরাণ:
- 'শূন্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ এবং অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- ‘শূন্যপুরাণ’ বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি। গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন। কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য,
- ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ নামে শূন্যপুরাণের একটি অংশ আছে।
- তাতে মুসলিম পীর-গাজী কর্তৃক ব্রাহ্মণদের অত্যাচার থেকে সদ্ধর্মী তথা বৌদ্ধদের রক্ষা করার বিবরণ আছে।
- ভাষাগত বৈশিষ্ট্য থেকে কোনো কোনো পণ্ডিত এই অংশকে শূন্যপুরাণের পরবর্তীকালের রচনা বলে মনে করেন।
- তাঁদের মতে ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ অংশটি হিন্দু-মুসলমানের ধর্মসমন্বয়ের চেতনা থেকে পরে প্রক্ষিপ্ত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৯১.
বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগে রচিত গ্রন্থ-
  1. গুলেবকাওলী
  2. প্রাকৃত পৈঙ্গল
  3. সায়াতনামা
  4. সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামান
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃত পৈঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃত পৈঙ্গল
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
বাংলা সাহিত্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়'শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
• 'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম 'শূণ্যপুরাণ' এবং এর 'কলিমা জালাল' বা অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুম্মা',
• হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'। 'সেক শুভোদয়া' পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক একটি কাব্য।

অন্যদিকে, 
• 'সায়াতনামা' অনুবাদ গ্রন্থের লেখক- মুজাম্মিল। 
• 'গুলেবকাওলী' অনুবাদ গ্রন্থের লেখক- নওয়াজিস খান, মুহম্মদ মুকীম। 
• 'সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামান' অনুবাদ গ্রন্থের লেখক- দোনা গাজী চৌধুরী, আলাওল, ইব্রাহিম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ: মিথ বনাম বাস্তবতা।
৩৯২.
মৈয়মনসিংহ গীতিকার পালাগুলোর মধ্যে 'মহুয়া' পালাটি কে রচনা করেন?
  1. মনসুর বয়াতী
  2. দ্বিজ কানাই
  3. দ্বিজ ঈশান
  4. নয়ানচাঁদ ঘোষ 
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ কানাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ কানাই
ব্যাখ্যা

• 'মহুয়া পালা':
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি — দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পংক্তি:
"কোথায় পাব কলসী কইন্যা কোথায় পাব দড়ী।।
তুমি হও গহীন গাঙ্গ আমি ডুব্যা মরি।।"

উল্লেখ্য,
• চন্দ্রাবতী রচিত কয়েকটি পালা হচ্ছে - মলুয়া, দস্যু কেনারামের পালা ইত্যাদি।
• ‘চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র’ নয়ানচাঁদ ঘোষ প্রণীত পালা। 
• ‘কমলা’ দ্বিজ ঈশান প্রণীত পালা।
• 'দেওয়ানা মদিনা' - পালার লেখক মনসুর বয়াতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৯৩.
বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা নয় কোনটি?
  1. উৎকণ্ঠিতা
  2. খণ্ডিতা
  3. অভিসারিকা
  4. প্রেমকণ্ঠিতা
সঠিক উত্তর:
প্রেমকণ্ঠিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেমকণ্ঠিতা
ব্যাখ্যা
⇒ বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা:
• যে নায়িকা অন্তরে স্বতঃসিদ্ধ কৃষ্ণরতি এবং যাঁর রতির মূলে আছে একমাত্র কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি এবং কৃষ্ণপ্রেমে বশীভূত, তাকে বলা হয় সমর্থা নায়িকা। 
• বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি - সমর্থা নায়িকা। এঁদের মধ্যে শ্রীরাধা হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।
• বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮ টি অবস্থা।

যথা:
- অভিসারিকা,
- বাসকসজ্জা,
- উৎকণ্ঠিতা,
- বিপ্রলব্ধা,
- খণ্ডিতা,
- কলহান্তরিতা,
- প্রোষিতভর্তৃকা,
- স্বাধীনভর্তৃকা।

• অতএব, বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা নয় - প্রেমকণ্ঠিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯৪.
বৈষ্ণব কবিতার সর্বপ্রথম সংকলনটি কে তৈরি করেন?
  1. শ্রীচৈতন্যদেব
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. বাবা আউল মনোহর দাস
সঠিক উত্তর:
বাবা আউল মনোহর দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাবা আউল মনোহর দাস
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব সাহিত্য:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে পরিমাণে ও গুণে সবচেয়ে সমৃদ্ধ ধারা হলো বৈষ্ণব সাহিত্য।
- মধ্যযুগে ১৬৫ জনের মতো কবি বৈষ্ণব সাহিত্য রচনা করেন।
- এদের রচিত বৈষ্ণব কবিতার সর্বপ্রথম সংকলন করেন বাবা আউল মনোহর দাস। তাঁর বৈষ্ণব কবিতা সংকলের নাম পদসমুদ্র।
- এতে প্রায় পনের হাজার বৈষ্ণব কবিতা সংকলিত হয়েছে। ষোড়শ শতকের শেষের দিকে তিনি এগুলো সংগ্রহ করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৯৫.
আবদুল হাকিম কোন শতাব্দীর কবি? 
  1. পঞ্চদশ শতাব্দী
  2. ষোড়শ শতাব্দী
  3. সপ্তদশ শতাব্দী
  4. অষ্টাদশ শতাব্দী
সঠিক উত্তর:
সপ্তদশ শতাব্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সপ্তদশ শতাব্দী
ব্যাখ্যা
আবদুল হাকিম: 
- আবদুল হাকিম ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রামের সন্দীপের ভুলুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবদুল হাকিম সতেরো শতেকের একজন কবি। 
- তিনি ৮ টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। 
যথা: 
• লালমতি সয়ফুল মুলুক, 
• নূরনামা, 
• কারবালা, 
• ইউসুফ জোলেখা, 
• নসীহৎনামা, 
• শহরনামা, 
• শিহাবউদ্দিননামা এবং 
• চারি মোকামভেদ। 

- আবদুল হাকিমের ‘নূরনামা’ কাব্যের বিখ্যাত উক্তি: 
"যে সবে বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় না জানি"। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (মাহবুবুল আলম), বাংলা সাহিত্যের কথা (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ) এবং লাল নীল দীপাবলি।
৩৯৬.
মর্সিয়া সাহিত্যে হিন্দু কবি হলেন-
  1. রামপ্রসাদ সেন 
  2. রামনিধি গুপ্ত 
  3. রাধারমণ গোপ
  4. রাধামন গোপ
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ গোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ গোপ
ব্যাখ্যা

• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ। তার গ্রন্থের নাম 'জয়নাবের চৌতিশা' (১৫৭০)।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন রাধারমণ গোপ।তাঁর গ্রন্থ: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।
- 'মুক্তল হোসেন' হলো মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৯৭.
"গোরক্ষবিজয়" কাব্যটি কে রচনা করেন?
  1. শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. রাধারমণ গোপ
  3. শাহ্‌ ফকির গরীবুল্লাহ
  4. গোপীচন্দ্র
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
‘গোরক্ষবিজয়’ কাব্যগ্রন্থ:
- নাথ সাহিত্য ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো গোরক্ষবিজয়। গোরক্ষবিজয় সংক্রান্ত ১৭টির মতো পুথি অবিভক্ত বাংলা থেকে সংগৃহীত হয়েছে। 
- সংগ্রাহকরা হলেন: নলিনীকান্ত ভট্টশালী (১টি পুথি), আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (৮টি পুথি), আলি আহমদ (৭টি পুথি) এবং পঞ্চানন মন্ডল (১টি পুথি)।

শেখ ফয়জুল্লাহ:
- শেখ ফয়জুল্লাহ (১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- বিভিন্ন মতে তাঁর জন্মস্থান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বারাসত, দক্ষিণ রাঢ় এবং কুমিল্লার নাম উল্লিখিত হয়েছে।

ফয়জুল্লাহর কাব্যগ্রন্থ:
- সত্যপীরবিজয়
- গোরক্ষবিজয়
- গাজীবিজয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৯৮.
বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা কয়টি?
  1. ৮টি 
  2. ৭টি 
  3. ৬টি 
  4. ৫টি 
সঠিক উত্তর:
৮টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮টি 
ব্যাখ্যা

• বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা:
- যে নায়িকার অন্তরে স্বতঃসিদ্ধ কৃষ্ণরতি থাকে এবং যার রতির মূলে থাকে একমাত্র কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি, যিনি কৃষ্ণপ্রেমে বশীভূত, তাকে সমর্থা নায়িকা বলা হয়।
- বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি এরা সকলেই সমর্থা নায়িকা। এঁদের মধ্যে 'শ্রীরাধা' সর্বশ্রেষ্ঠ নায়িকা হিসেবে বিবেচিত।

পদাবলিতে নায়িকার ৮টি অবস্থা।
যথা:
- অভিসারিকা,
- বাসকসজ্জা,
- উৎকণ্ঠিতা,
- বিপ্রলব্ধা,
- খণ্ডিতা,
- কলহান্তরিতা,
- প্রোষিতভর্তৃকা এবং
- স্বাধীনভর্তৃকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৯৯.
'সেক শুভোদয়া' কে রচনা করেছেন বলে মনে করা হয়?
  1. বড়ু চণ্ডীদাস
  2. রামাই পণ্ডিত
  3. হলায়ুধ মিশ্র
  4. রাজেন্দ্রলাল মিত্র 
সঠিক উত্তর:
হলায়ুধ মিশ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হলায়ুধ মিশ্র
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগের অন্যতম নিদর্শন 'সেক শুভোদয়া' রচনা করেছেন - হলায়ুধ মিশ্র।

'সেক শুভোদয়া':
- হলায়ুধ মিশ্র ছিলেন রাজা লক্ষ্মণ সেন এর সভাকবি।
- 'সেক শুভোদয়া' হলো বাংলা এবং সংস্কৃত ভাষায় মিশ্রিত একটি চম্পুকাব্য।
- এর রচনাকাল ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যে।
- গদ্য-পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫টি অধ্যায় আছে।
- গ্রন্থটি রাজা লক্ষ্মন সেন ও শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজীর অলৌকিক কাহিনি অবলম্বনে রচিত।
- 'শেখের শুভোদয়' অর্থাৎ শেখের গৌরব ব্যাখ্যাই এই পুস্তিকার উদ্দেশ্য।

• অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়'শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

- অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুম্মা'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪০০.
'মহুয়া' পালাটির প্রণেতা ছিলেন-
  1. দ্বিজ বংশীদাস 
  2. চন্দ্রাবতী 
  3. নয়ানচাঁদ ঘোষ
  4. দ্বিজ কানাই
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ কানাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ কানাই
ব্যাখ্যা

• 'মহুয়া' পালা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
- 'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই।
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিস্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।