উত্তর
ব্যাখ্যা
- সাঙ্গু নদী বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থিত আরাকান পাহাড়ে উৎপন্ন হয়েছে।
- বান্দরবান ও চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৪ / ১২ · ৩০১–৪০০ / ১,১২৭
• ভৈরব নদী:
- ভৈরব অর্থ ভয়াবহ। একসময় গঙ্গা ও পদ্মা নদীর মূল প্রবাহ এই নদকে প্রমত্তা রূপ দিয়েছিল।
- সেই থেকেই নামটির উৎপত্তি।
- খুলনা ও যশোর শহর এই নদীর তীরে অবস্থিত।
- ভৈরব নদী যশোর-খুলনা এলাকার দীর্ঘতম নদী।
- মালদহের যেস্থানে শ্রুতকীর্তি গঙ্গায় পড়েছে, তারই অপর পাড়ে ভৈরবের উৎপত্তি।
- ভৈরব নদের দৈর্ঘ্য ২৫০ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৬০ মিটার এবং এর প্রকৃতি সর্পিলাকার।
- চলার পথে ভৈরব বহু নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- নদীটির উল্লেখযোগ্য দুটি শাখা হচ্ছে ইছামতি ও কপোতাক্ষ।
- কালিগংগার পর বৈখালী পর্যন্ত কালিন্দী নদী নামে পরিচিত।
- তারপর মোহনার নিকট এই নদী রায়মংগল নামে পরিচিত।
- পূর্বে রায়মংগল এবং পশ্চিমে হাড়িয়াভাংগা মোহনা দিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়েছে।
- এই নদের তীরে খুলনা, যশোর শহর ছাড়াও রয়েছে মুজিবনগর, মেহেরপুর, গাড়াবাড়িয়া, চুয়াডাঙা, বড়বাজার, কোটচাঁদপুর, চৌগাছা, দৌলতপুর ও বাগেরহাট।
- সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে নদটি পবিত্র।
তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও কালের কণ্ঠ। (Link1) (Link2) (Link3)
আন্তঃসীমান্ত নদী:
- বাংলাদেশ হিমালয় থেকে উৎসরিত ৩টি বৃহৎ নদী:
- গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার পলল দ্বারা সৃষ্টি হয়েছে। এটি পৃথিবীর একটি অন্যতম বৃহৎ বদ্বীপ।
- বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রায় ৪০৫টি নদী প্রবাহিত হচ্ছে।
- এ নদীগুলোর মধ্যে ৫৭টি হচ্ছে আন্তঃসীমান্ত নদী যার মধ্যে ৫৪টি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অভিন্ন।
- এবং ৩টি বাংলাদেশ ও মায়ানমারের মধ্যে অভিন্ন।
- আবহমানকাল ধরে নদীমাতৃক বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকা আবর্তিত হচ্ছে এসকল নদীর পানিকে ঘিরে।
- এ তিনটি নদীর অববাহিকার মোট আয়তন প্রায় ১.৭২ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার, যার মাত্র ৭ শতাংশ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত।
- এসকল নদীর অন্যান্য অববাহিকাভূক্ত দেশ হচ্ছে ভারত, নেপাল, ভূটান ও চীন।
উৎস: যৌথ নদী কমিশন ওয়েবসাইট।
- আকাবা সমুদ্রবন্দর অবস্থিত জর্ডানে।
- মন্ট্রিল, কুইবেক, ভ্যাঙ্কুভার সমুদ্রবন্দর অবস্থিত কানাডায়।
- গ্লাসগো সমুদ্র বন্দর অবস্থিত স্কটল্যান্ডে।
- এডেন সমুদ্রবন্দর ইয়েমেনে অবস্থিত।
উৎস: সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি ওয়েবসাইট।
• নদী বিহীন দেশ:
- কিছু দেশ এত ছোট যে সেখানে নদী থাকার জায়গাই নেই।
- অনেক ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র, শহর-রাষ্ট্র, অথবা যে-সব দেশে শুধুমাত্র মৌসুমি পানি প্রবাহ ঘটে।
- যা প্রকৃতপক্ষে স্থায়ী নদী হিসেবে বিবেচিত হয় না।
- এই মানদণ্ড অনুযায়ী, বিশ্বে মোট ১৯টি দেশ রয়েছে যেগুলোর মধ্যে কোনো স্থায়ী প্রাকৃতিক নদী নেই।
• নদী বিহীন দেশগুলো হলো যথা:
- কোমোরোস, জিবুতি, লিবিয়া, বাহামাস, বাহরাইন, কুয়েত, মালদ্বীপ, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত,ইয়েমেন,মাল্টা, মোনাকো, ভ্যাটিকান সিটি, কিরিবাটি, নাউরু, টোঙ্গা, টুভ্যুলু।
উৎস: World Atlas.
• ইউরোপ মহাদেশ:
- ইউরোপ মহাদেশ হলো পৃথিবীর দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম মহাদেশ।
- এটি আয়তনের দিক থেকে বিশ্বে ষষ্ঠ।
- ইউরোপের উত্তরে অবস্থিত আর্কটিক মহাসাগর, পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর, দক্ষিণে (পশ্চিম থেকে পূর্বে) ভূমধ্যসাগর, কৃষ্ণ সাগর ও কুমা-মানিচ নিম্নচাপ এবং পূর্বে কাস্পিয়ান সাগর, ইউরাল নদী ও ইউরাল পর্বত।
- এই মহাদেশের ক্ষুদ্রতম দেশ হলো ভ্যাটিকান সিটি।
- ইউরোপের সবচেয়ে বড় দেশ হলো রাশিয়া, যা আয়তন ও জনসংখ্যা উভয় দিক থেকেই বৃহত্তম।
- এশিয়া ও ইউরোপ উভয় মহাদেশে অবস্থিত রাশিয়ার অংশ ইউরোপের অন্তর্ভুক্ত।
- ইউরোপের বৃহত্তম দ্বীপ হলো গ্রিনল্যান্ড, যা ডেনমার্কের অধীনে রয়েছে, তবে ভৌগোলিকভাবে উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত।
- এই মহাদেশের দীর্ঘতম নদী হলো ভলগা নদী।
- এবং দীর্ঘতম পর্বতমালা হলো আল্পস পর্বতমালা।
- ইউরোপের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো মাউন্ট এলব্রুস।
- আর সর্বনিম্ন স্থান হলো কাস্পিয়ান সাগর।
উৎস: World Atlas ও Britannica.
ব্রহ্মপুত্র (Brahmaputra) নদ:
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের তিব্বত অংশের মানস সরোবর থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- এরপর তিব্বত হয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- বাংলাদেশে ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
- মেঘনা নদীতে মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এটি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশ অংশে ব্রহ্মপুত্র নদ প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়েছে।
- প্রধান শাখানদী: বংশী ও শীতলক্ষ্যা।
- প্রধান উপনদী: ধরলা ও তিস্তা।
উল্লেখ্য,
- ব্রহ্মপুত্র নদ তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো (Yarlung Tsangpo) নামে পরিচিত।
- তিব্বতে এর নাম ইয়ারলুং সাংপো, অরুণাচলে সিয়ং এবং আসাম ও বাংলাদেশে এর নাম হয়েছে ব্রহ্মপুত্র।
উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
• সীমান্তবর্তী নদী:
- আন্তঃসীমান্তবর্তী নদী হলো এমন নদী যা অন্তত এক বা একাধিক দেশের রাজনৈতিক সীমান্ত অতিক্রম করে।
- বাংলাদেশে মোট ৫৭টি আন্তঃসীমান্তবর্তী নদী রয়েছে।
- এর মধ্যে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রধানত তিনটি নদী প্রবেশ করেছে।
- যা হলো: নাফ, মাতামুহুরী এবং সাঙ্গু।
- এই তিনটি নদীর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নদী হলো নাফ নদী।
- নাফ নদী কক্সবাজার জেলার দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত বরাবর প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে।
- বঙ্গোপসাগরে মিশে নাফ নদী বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রধান আন্তর্জাতিক সীমান্ত গঠন করে।
- অন্য দুটি নদী, মাতামুহুরী ও সাঙ্গু, মিয়ানমার থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো ।
বিভিন্ন নদীর প্রবেশ পথ:
- পদ্মা নদীর মূল প্রবাহ রাজশাহী জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সীমানা বরাবর এসে কুষ্টিয়ার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এরপর রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট যমুনার সাথে মিলিত হয়েছে।
- ব্রহ্মপুত্র নদ তিব্বত ও আসামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- মেঘনা ভারতের আসাম রাজ্যের নাগা-মনিপুর পার্বত্য অঞ্চলে উৎপন্ন বরাক নদী সিলেট সীমান্তে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে দুইটি শাখায় বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- যমুনা ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে ব্রহ্মপুত্রের একাট শাখা যমুনা নদী নামে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- করতোয়া নদী পঞ্চগড় জেলার ভিটগড়ের নিকট বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- মহানন্দা নদী পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করে।
- কর্ণফুলী নদী রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- সাঙ্গু নদী বান্দরবান ও চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- ফেনী নদী ফেনী জেলার পূর্ব সীমানা দিয়ে প্রবেশ করে সন্দ্বীপ প্রণালির উত্তরে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- নাফ নদী বাংলাদেশের টেকনাফ ও মিয়ানমারের সীমানা নির্দেশ করে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
কর্ণফুলী:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর মধ্যে অন্যতম কর্ণফুলী।
- কর্ণফুলী মিজোরামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- পাহাড়ি এ নদী চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পতেঙ্গার কাছে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত এ নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭৪ কিলোমিটার।
- কর্ণফুলী নদীর প্রধান উপনদী হালদা, কাসালং, বোয়ালখালি, চেঙ্গী, শিলক, রাঙখিয়াং ইত্যাদি।
- রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই নামক স্থানে বাঁধ দিয়ে দেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
- এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।
- দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরটি এই নদীর তীরে চট্টগ্রামে অবস্থিত।
অন্যদিকে,
- পদ্মা নদী গঙ্গা নামে মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- ভারতের সিকিমের পাবর্ত্য অঞ্চলে তিস্তা নদী উৎপত্তি হয়েছে।
- মহানন্দা নদীর উৎপত্তি হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দার্জিলিং জেলার নিকটবর্তী মহালড্রীম পর্বতে।
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ:
- প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ।
- জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপের ঠিক উত্তরে কুড়িল দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান ।
- রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ দ্বীপপুঞ্জ হলো কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়ন জাপানের কাছ থেকে দ্বীপগুলো দখল করে নেয়।
উল্লেখ্য,
- এই বিরোধ মূলত দক্ষিণ কুড়িলের চারটি দ্বীপ নিয়ে।
- বিরোধপূর্ণ চারটি দ্বীপ হলো:
- ইটুরুপ (Iturup / Etorofu)
- কুনাশির (Kunashir)
- শিকোটান (Shikotan)
- হাবোমাই (Habomai)
- এই চারটির মধ্যে কুনাশির দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ।
- জাপান এই চারটি দ্বীপকে একত্রে “নর্দান টেরিটরিজ (Northern Territories)” বলে দাবি করে।
- দ্বীপগুলো প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে, জাপানের হোক্কাইডো ও রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত।
- এই ভূখণ্ড বিরোধের কারণে রাশিয়া ও জাপান এখনো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি।
উৎস: ব্রিটানিকা।
রিং অফ ফায়ার (Ring of Fire):
- রিং অফ ফায়ার হলো প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকাকে ঘিরে থাকা অশ্বখুরাকৃতি ভূকম্পন ও আগ্নেয়গিরি সক্রিয় অঞ্চল।
- এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০,০০০ কিলোমিটার (২৪,৯০০ মাইল)।
- পুরো অঞ্চল জুড়ে অসংখ্য সক্রিয় আগ্নেয়গিরি থাকায় একে “রিং অফ ফায়ার” বলা হয়।
- এই অঞ্চল দ্বীপমালার সারি যেমন টোঙ্গা ও নিউ হেব্রিডিস, ইন্দোনেশীয় দ্বীপপুঞ্জ, ফিলিপাইন, জাপান, কুরিল দ্বীপপুঞ্জ ও আলেউশিয়ান দ্বীপপুঞ্জ, এবং আর্ক-আকৃতির ভূ-আকৃতি যেমন উত্তর আমেরিকার পশ্চিম উপকূল ও আন্দেস পর্বতমালা অনুসরণ করে বিস্তৃত।
উল্লেখ্য,
- বিশ্বের অধিকাংশ ভূমিকম্প, সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর প্রায় সবকটি এবং বিশ্বের প্রায় ৭৫% সক্রিয় আগ্নেয়গিরি এই অঞ্চলে ঘটে।
- ১৮০০ সালের পর থেকে রিং অফ ফায়ারের ভেতরে সংঘটিত প্রধান আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুত্পাতের মধ্যে রয়েছে মাউন্ট টাম্বোরা (১৮১৫), ক্রাকাতোয়া (১৮৮৩), নোভারুপটা (১৯১২), মাউন্ট সেন্ট হেলেন্স (১৯৮০), মাউন্ট রুইজ (১৯৮৫) ও মাউন্ট পিনাতুবো (১৯৯১)।
- এছাড়া এই অঞ্চলে সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে রয়েছে চিলি ভূমিকম্প (১৯৬০, ২০১০), আলাস্কা ভূমিকম্প (১৯৬৪), জাপান ভূমিকম্প (২০১১) এবং ২০০৪ সালের ভয়াবহ ভারত মহাসাগরীয় সুনামি সৃষ্টিকারী ভূমিকম্প।
উৎস: ব্রিটানিকা।
অ্যাঞ্জেলস জলপ্রপাত:
- বিশ্বের উচ্চতম জলপ্রপাত হলো অ্যাঞ্জেলস জলপ্রপাত।
- এটি ভেনেজুয়েলায় অবস্থিত।
- এটির উচ্চতা ৯৭৯ মিটার।
- গুয়ারিয়া জলপ্রপাত ব্রাজিল অবস্থিত।
- এটি পানি পতনের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম জলপ্রপাত।
অন্যদিকে,
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক এবং কানাডার ওন্টারিওর মাঝে অবস্থিত নায়াগ্রা জলপ্রপাত। এই জলপ্রপাতটি মাত্র ৫১ মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট।
- ভিক্টোরিয়া ফলস পৃথিবীর সবচেয়ে চওড়া জলপ্রপাত। এটির উচ্চতা ১০৮ মিটার।
- ইগুয়াজু জলপ্রপাত ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সীমান্তে অবস্থিত। এই জলপ্রপাতটি মাত্র ৮১ মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট ।
উৎস: Britannica.
নীল নদ:
- নীল নদ হলো পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী।
- এটি নিরক্ষরেখার দক্ষিণে উৎপন্ন হয় এবং উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার মধ্য দিয়ে উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়ে ভূমধ্যসাগরে পতিত হয়।
- এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬,৬৫০ কিলোমিটার (৪,১৩২ মাইল) এবং এর অববাহিকা প্রায় ৩,৩৪৯,০০০ বর্গকিলোমিটার (১,২৯৩,০০০ বর্গমাইল)।
- নীল নদের অববাহিকায় তানজানিয়া, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, কেনিয়া, উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান, ইথিওপিয়া, সুদান এবং মিশরের চাষযোগ্য অংশ অন্তর্ভুক্ত।
- এর সবচেয়ে দূরবর্তী উৎস হলো বুরুন্ডির কাগেরা নদী।
- নীল নদ তিনটি প্রধান স্রোত নিয়ে গঠিত।
তথ্যসূত্র - Britannica.
নদীভাঙন:
- বর্ষাকালে নদীখাতে প্রবল বেগে পানিপ্রবাহ, নদী খাতের উভয় পার্শ্বে নরম মাটি ও ফাটলের অবস্থানের কারণে যে ক্ষয় হয়ে থাকে, তাকে নদীভাঙন বলে।
- নদী ভাঙ্গনের শিকার হয় পলিমাটি গঠিত সমভূমি অধ্যুষিত অঞ্চলসমূহ।
- নদীতে ভেঙে যাওয়া জমির স্থানে নতুন চর জাগা বা পুনর্গঠনকে নদী পয়স্তি বলে।
উল্লেখ্য:
- নদী ভাঙ্গনে সর্বস্বান্ত জনগণকে নদী সিকস্তি বলে।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• বিভিন্ন নদীর প্রবেশ পথ:
- পদ্মা নদীর মূল প্রবাহ রাজশাহী জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সীমানা বরাবর এসে কুষ্টিয়ার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এরপর রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট যমুনার সাথে মিলিত হয়েছে।
- ব্রহ্মপুত্র নদ তিব্বত ও আসামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- মেঘনা ভারতের আসাম রাজ্যের নাগা-মনিপুর পার্বত্য অঞ্চলে উৎপন্ন বরাক নদী সিলেট সীমান্তে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে দুইটি শাখায় বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- যমুনা ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে ব্রহ্মপুত্রের একাট শাখা যমুনা নদী নামে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- করতোয়া নদী পঞ্চগড় জেলার ভিটগড়ের নিকট বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- মহানন্দা নদী পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করে।
- কর্ণফুলী নদী রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- সাঙ্গু নদী বান্দরবান ও চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- ফেনী নদী ফেনী জেলার পূর্ব সীমানা দিয়ে প্রবেশ করে সন্দ্বীপ প্রণালির উত্তরে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- নাফ নদী বাংলাদেশের টেকনাফ ও মিয়ানমারের সীমানা নির্দেশ করে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রশান্ত মহাসাগর:
- প্রশান্ত মহাসাগর পৃথিবীর বৃহত্তম ও গভীরতম মহাসাগর ।
- এর সর্বোচ্চ গভীরতা ১০,৯২৮ মিটার এবং গড় গভীরতা ৪০৭৯ মিটার।
- প্রশান্ত মহাসাগরের আয়তন- ১৬ কোটি ৬০ লক্ষ বর্গকিলোমিটার।
- পৃথিবীর বৃহত্তম প্রবাল-প্রাচীর 'গ্রেট বেরিয়ার রীফ' (Great Barrier Reef) প্রশান্ত মহাসাগরের অস্ট্রেলিয়ার উত্তরপূর্ব উপকূলে অবস্থিত।
উল্লেখ্য,
- আটলান্টিক মহাসাগর ২য় বৃহত্তম মহাসাগর।
- উত্তর বা আর্কটিক মহাসাগর আয়তনে পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাসাগর ও সর্বাপেক্ষা কম গভীর একটি মহাসাগর।
উৎস: ব্রিটানিকা ও হিস্টোরি ডটকম।
• প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা খাত (Mariana Trench) পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা গভীর খাত।
• প্রশান্ত মহাসাগর:
- পৃথিবীর বৃহত্তম ও গভীরতম মহাসাগর প্রশান্ত মহাসাগর।
- প্রশান্ত মহাসাগরের আকৃতি - ত্রিভুজের মতো।
- প্রশান্ত মহাসাগরের আয়তন - ১৬ কোটি ৮৭ লক্ষ বর্গকিলোমিটার।
- গড় গভীরতা - গড় - ৪,১৮৮ মি.; সর্বোচ্চ গভীরতা - ১০,৯২০ মি.
- এই মহাসাগরে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ প্রবাল প্রাচীর গ্রেট বেরিয়ার রিফ অবস্থিত।
- ২৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রবাল প্রাচীর অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
- আর পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগরের নাম আটলান্টিক মহাসাগর।
উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস
• ভলগা নদী (Volga River):
- উৎপত্তি: মস্কোর উত্তরে ভ্যালডাই হিলস।
- পতিত হয়েছে: ক্যাসপিয়ান সাগরে, দক্ষিণে প্রায় ৩,৫৩০ কিমি দূরে।
- নদীর মোট দৈর্ঘ্য: প্রায় ৩,৫৭,০০০ মাইল।
- এটি প্রায় ২০০ উপনদী, ১,৫১,০০০ নদী ও স্থায়ী ও অস্থায়ী নালা সমন্বিত।
- এটি ইউরোপের দীর্ঘতম নদী এবং পশ্চিম রাশিয়ার প্রধান নৌপথ।
- এটি রাশিয়ার ঐতিহাসিক কেন্দ্রস্থল এবং দেশের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল উৎস।
- ভলগা নদীর অববাহিকা ইউরোপীয় রাশিয়ার প্রায় দুই-পঞ্চমাংশ এলাকায় বিস্তৃত এবং এটি প্রায় রাশিয়ার জনসংখ্যার অর্ধেকের আবাসস্থল।
- অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে এটি বিশ্বের প্রধান নদীর মধ্যে গণ্য।
উৎস: ব্রিটানিকা।
• কংস নদী বা কংশ নদী বা কংসবতী নদী বা কংসাই নদী:
- বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা ও সুনামগঞ্জ জেলার একটি নদী।
- ভারতের শিলং মালভূমির পূর্বভাগে তুরার কাছে গারো পাহাড়ে এ নদীর উৎপত্তি।
- উৎস থেকে দক্ষিণদিকে প্রবাহিত হওয়ার পর শেরপুর জেলার উত্তর ভাগে নালিতাবাড়ী উপজেলা সদরের প্রায় ১৬ কিমি উত্তর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
- সেখান থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে সোমেশ্বরী নদীতে মিশেছে। কংস ও সোমেশ্বরীর মিলিত স্রোত বাউলাই নদী নামে পরিচিত।
• বিভিন্ন নদীর উৎপত্তিস্থল:
- পদ্মা নদীর উৎপত্তিস্থল গঙ্গা নামে হিমালয় পর্বতের গাঙ্গোত্রী হিমবাহ।
- মেঘনা নদীর উৎপত্তিস্থল আসামের লুসাই পাহাড়।
- যমুনা নদীর উৎপত্তিস্থল ব্ৰহ্মপুত্ৰ নামে কৈলাশ শৃঙ্গের মানস সরোবর হ্রদ।
- কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তিস্থল মিজোরামের লুসাই পাহাড়।
- করতোয়া নদীর উৎপত্তিস্থল সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল।
- সাঙ্গু নদীর উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমানার আরাকান পাহাড়।
- হালদা নদীর উৎপত্তিস্থল খাগড়াছড়ির বাদানাতলী পর্বতশৃঙ্গ।
- মহানন্দা নদীর উৎপত্তিস্থল মহালড্রীম, দার্জিলিং।
তথ্যসূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• মেঘনা নদী:
- মেঘনা নদী বাংলাদেশের একটি প্রধান নদী।
- এই নদীটি মূলত বরাক নদী থেকে উৎপন্ন হয়।
- বরাক নদী ভারতের পার্বত্য অঞ্চল থেকে জন্ম নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করলে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে দুটি শাখায় বিভক্ত হয়।
- এই দুটি নদী সিলেট জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের সীমান্তে মারকুলীতে মিলিত হয়ে কালনী নামে পরিচিত হয়।
- এরপর ভৈরব বাজারের কাছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে নদীটি মেঘনা নাম ধারণ করে।
- মেঘনার উপনদীসমূহ হলো-
• বাউলাই,
• ধলেশ্বরী,
• গোমতি,
• তিতাস,
• মনু,
• ফেনী।
উল্লেখ্য,
- মেঘনা নদী দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরে পদ্মা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়।
- আরও দক্ষিণে এটি নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ভোলা দ্বীপের মধ্য দিয়ে মেঘনা লোয়ার নদী নামে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ে।
- নদীর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৫০ মাইল।
- নদীটি গভীর এবং প্রবাহ খুব দ্রুত, কখনও কখনও নিজস্ব চ্যানেল এবং বালির তীরে বিভক্ত হয়।
- সারা বছর নৌযান চলাচলের জন্য উপযোগী হলেও ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে বসন্তের জোয়ারে, যখন সমুদ্রের পানি প্রায় ২০ ফুট (৬ মিটার) উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।
উৎস:
১. জাতীয় তথ্য বাতায়ন;
২. Britannica.
• ভিক্টোরিয়া হ্রদ:
- ভিক্টোরিয়া হ্রদ আফ্রিকার বৃহত্তম এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানির উৎস
- এই হ্রদটি কেনিয়া, তানজানিয়া এবং উগান্ডার মধ্যে অবস্থিত, যদিও তানজানিয়া সবচেয়ে বেশি জল ধারণ করে।
- ভিক্টোরিয়া হ্রদ বৃষ্টিপাত এবং নীল নদ সহ বেশ কয়েকটি নদী থেকে তার জল গ্রহণ করে।
- এটি ২৬,৬০০ বর্গমাইল পৃষ্ঠভূমি জুড়ে বিস্তৃত, এর গভীরতম স্থানে এর গভীরতা ২৭২ ফুট এবং গড় গভীরতা ১৩০ ফুট।
- এটি প্রায় ৬৬০ ঘনমাইল জল ধারণ করে।
এছাড়াও,
- বৈকাল হ্রদ: টি বিশ্বের গভীরতম হ্রদ।
- পৃথিবীর বৃহত্তম হ্রদ হলো কাস্পিয়ান সাগর।
- উত্তর আমেরিকার সুপিরিয়র বিশ্বের বৃহত্তম স্বাদু পানির হ্রদ।
উৎস: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস।
বৃহত্তম হ্রদ:
- পৃথিবীর বৃহত্তম হ্রদ কাস্পিয়ান সাগর যা একটি লবণাক্ত পানির হ্রদ।
- এটি ককেশাস পর্বতমালার পূর্বে এবং মধ্য এশিয়ার পশ্চিমে অবস্থিত।
- এটি প্রায় ১২০০ কিমি দীর্ঘ এবং ৩২০ কিমি চওড়া।
- এটি মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত যার আয়তন প্রায় ৩.৭২ লক্ষ বর্গকিমি।
- ক্যাস্পিয়ান সাগর বিশ্বের ল্যাকস্ট্রিন জলের ৪০ -৪৪% এর মধ্যে রয়েছে।
- তবে সর্বাধিক লবণাক্ত হ্রদ হলো জিবুতির লেক আসাল।
অন্যদিকে,
- সুপিরিয়র বিশ্বের বৃহত্তর স্বাদুপানির হ্রদ যা উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত।
- লেক আসাল পৃথিবীর সবচেয়ে লবণাক্ত হ্রদ যা আফ্রিকার জিবুতিতে অবস্থিত।
- বলিভিয়া ও পেরু সীমান্তে অবস্থিত টিটিকাকা পৃথিবীর উচ্চতম হৃদ।
উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা, ওয়ার্ল্ড এটলাস।
ব্লাক ফরেষ্ট:
- ব্লাক ফরেষ্ট জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্য ব্যান্ডেন-ওরিটেমবার্গে অবস্থিত।
- এর দক্ষিণ ও পশ্চিমে রাইন উপত্যকা।
- এ বনের দৈর্ঘ্য ১৬০ কিমি এবং প্রস্থ ৬০ কিমি।
- এটি পার্বত্য বনাঞ্চল।
- এখান থেকে দানিয়ুব নদীর উৎপত্তি।
উল্লেখ্য,
- আমাজন বনকে বিশ্বের ফুসফুস বলা হয়।
- পৃথিবীর বৃহত্তম সবুজ বনাঞ্চল হলো আমাজন।
- আমাজন বনের ৬০% ব্রাজিলে, ১৩% পেরুতে, বাকি অংশ কলম্বিয়া, ভেনিজুয়েলা, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, গায়ানা ও সুরিনামে অবস্থিত।
- টাংগাস ফরেষ্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা রাজ্যে অবস্থিত।
- সাইবেরিয়া রাশিয়াতে তৈগা হল বিশ্বের বৃহত্তম অরণ্য।
- বিশ্বের সর্বাধিক বনভূমির দেশ হল রাশিয়া।
সূত্র: ব্রিটানিকা ও হিস্টোরি ডটকম।
• আবু মুসা পারস্য উপসাগরের দ্বীপ।
• বঙ্গোপসাগর (Bay of Bengal):
- পশ্চিমে ভারত ও শ্রীলংকার পূর্ব উপকূল, উত্তরে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদী দ্বারা সৃষ্ট ব-দ্বীপ এবং পূর্বে মায়ানমার থেকে আন্দামান-নিকোবর পর্যন্ত বিস্তৃত ভূভাগ দ্বারা বঙ্গোপসাগর তিনদিকে আবদ্ধ।
- বঙ্গোপসাগরের আয়তন ২১,৭২,০০০ বর্গকিলোমিটার।
- এর গড় গভীরতা প্রায় ২,৬০০ মিটার এবং সর্বোচ্চ গভীরতা ৫,২৫৮ মিটার।
- বঙ্গোপসাগরের অন্তর্ভুক্ত ৫৭২ টি দ্বীপ আছে৷
- তন্মধ্যে আন্দামান, নিকোবর, মার্গুই দ্বীপপুঞ্জ অন্যতম৷।
- ৫৭২টি দ্বীপের মধ্যে ৩৭টিতে অধিবাসী রয়েছে।
উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
• নায়াগ্রা জলপ্রপাত:
- নায়াগ্রা জলপ্রপাত উত্তর আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক এবং কানাডার ওন্টারিওর সীমান্তে অবস্থিত।
- নায়াগ্রা নদী এই জলপ্রপাতটির মাধ্যমে আটলান্টিক মহাসাগরে প্রবাহিত হয়।
⇒ এটি পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত জলপ্রপাত।
- নায়াগ্রা জলপ্রপাতের উচ্চতা প্রায় ৫১ মিটার (১৬৭ ফুট) এবং এটি প্রতি মিনিটে প্রায় ২,৮০০ ঘনমিটার পানি পতিত হয়।
- এটি মূলত তিনটি জলপ্রপাতের সমষ্টি। সবচেয়ে বড় জলপ্রপাতটির নাম হলো হর্সশু ফলস বা কানাডা ফলস। এর পরের ফলসটির নাম আমেরিকান ফলস। অন্যটির নাম ব্রাইডল ভেইল ফলস।
- নায়াগ্রা জলপ্রপাতের তিন ভাগের এক ভাগ আমেরিকায়। বাকি দুই ভাগ কানাডায়।
উল্লেখ্য,
- স্টবাক জলপ্রপাত: সুইজারল্যান্ড।
- অ্যাঞ্জেলস জলপ্রপাত: ভেনিজুয়েলা।
- ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত: জিম্বাবুয়ে।
তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
- বর্তমানে বাংলাদেশে নদী বন্দর ৩৫টি।
- বাংলাদেশের সর্বশেষ নদীবন্দর বালাগঞ্জ, সিলেট।
- ৩৪ তম নদীবন্দর মীরসরাই রাসমতি নদীবন্দর।
- ৩৩ তম নদীবন্দর মেঘাইঘাট নাটুয়াপাড়া, সিরাজগঞ্জ।
- বাংলাদেশের বৃহত্তম নদী বন্দর নারায়ণগঞ্জ।
উৎসঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট।
• প্রশান্ত মহাসাগর:
- পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মহাসাগর প্রশান্ত মহাসাগর।
- প্রশান্ত মহাসাগরের আয়তন ৬৩৮০০০০০ বর্গ মাইল।
- প্রশান্ত মহাসাগর গড় গভীরতা ১৪,০৪০ ফুট।
- প্রশান্ত মহাসাগর দক্ষিণে অ্যান্টার্কটিক অঞ্চল থেকে উত্তরে আর্কটিক বৃত্ত পর্যন্ত বিস্তৃত।
- পশ্চিমে এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ এবং পূর্বে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যে অবস্থিত।
- পৃথিবীর বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
- প্রশান্ত মহাসাগর পৃথিবীর পৃষ্ঠের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে রয়েছে।
তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
পারস্য উপসাগর :
- পারস্য উপসাগর দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার একটি ভূমধ্যসাগরীয় সাগর।
- এই উপসাগরটি ইরান ও আরব উপদ্বীপের মাঝে অবস্থিত।
- এটি হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে ওমান উপসাগরের সাথে যুক্ত।
- এর চারপাশে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, ইউএই ও ওমানসহ আটটি দেশ অবস্থিত।
- ইরানের উল্লেখযোগ্য দ্বীপ : গেশম, হরমুজ, বাহরাইন, আবু মুসা, এবং খার্ক/খার্গ এই উপসাগরে অবস্থিত।
- গেশম দ্বীপ হরমুজ প্রণালীর মধ্যে অবস্থান করে, যা তাকে ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে পৃথক করেছে।
- গেশম দ্বীপ শুধু ইরানের নয়, সমগ্র পারস্য উপসাগরের বৃহত্তম দ্বীপ হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
উৎস : Britannica.com
এটলাস পর্বতমালা আটলান্টিক মহাসগর এবং ভূমধ্যসাগরকে সাহারা মরুভূমি হতে পৃথক করেছে।
আটলান্টিক মহাসাগর এবং ভূমধ্যসাগরকে সংযুক্ত করেছে জিব্রাল্টার প্রণালী।
সূত্র: worldatlas.com
প্রশান্ত মহাসাগর:
- পৃথিবীর বৃহত্তম ও গভীরতম মহাসাগর প্রশান্ত মহাসাগর।
- পৃথিবীর গভীরতম স্থান প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা ট্রেজ।
- পৃথিবীর বৃহত্তম প্রবাল-প্রাচীর 'গ্রেট বেরিয়ার রীফ' (Great Barrier Reef) প্রশান্ত মহাসাগরের অস্ট্রেলিয়ার উত্তরপূর্ব উপকূলে অবস্থিত।
অন্যদিকে,
- আটলান্টিক মহাসাগর ২য় বৃহত্তম মহাসাগর।
- উত্তর বা আর্কটিক মহাসাগর আয়তনে পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাসাগর ও সর্বাপেক্ষা কম গভীর একটি মহাসাগর।
উৎস: ব্রিটানিকা ও হিস্টোরি ডটকম।
বাংলাদেশের আন্তঃসীমান্ত নদী:
- বর্তমানে বাংলাদেশে প্রবাহিত ৫৭টি আন্তঃসীমান্ত নদী (Trans-boundary Rivers) রয়েছে।
- বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃসীমান্ত নদী ৫৪টি।
- বাংলাদেশ-মিয়ানমার আন্তঃসীমান্ত নদী ৩টি (সাঙ্গু, মাতামুহুরী, নাফ)।
- আন্তঃসীমান্ত নদী বলতে সাধারণত সেসমস্ত নদীকে বুঝায় যেগুলি অন্তত এক বা একাধিক দেশের রাজনৈতিক সীমা অতিক্রম করে।
- এই সীমা একটি দেশের অভ্যন্তরস্থ বা আন্তর্জাতিক হতে পারে।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
বাংলাদেশের নদ-নদী:
• বর্তমানে বাংলাদেশে নদ-নদীর (BWDB–এর হিসাবে) সংখ্যা হলো—১৪১৫টি।
• বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদীর নাম—পদ্মা। দৈর্ঘ্য ৩৫১ কিমি।
• বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম নদীর নাম—বলেশ্বর। (শেরপুর) দৈর্ঘ্য ০.২ কিমি।
- সবচেয়ে বেশী নদী প্রবাহিত হচ্ছে - ঢাকা বিভাগে।
- এই বিভাগে নদীর সংখ্যা - ২২২ টি।
- সবচেয়ে বেশী নদী প্রবাহিত হচ্ছে - সুনামগঞ্জ জেলায় (৯৭টি)।
- সবচেয়ে বেশী জেলায় প্রবাহিত হচ্ছে- পদ্মা (১২টি)।
- সবচেয়ে বেশী উপজেলায় প্রবাহিত হচ্ছে - মেঘনা (৩৬টি)।
উৎস: জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড।
• বাংলাদেশে আন্তঃসীমান্ত নদী- ৫৭ টি।
• ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা নদী- ৫৪ টি।
• বাংলাদেশ-মিয়ানমার আন্তঃসীমান্ত নদী ৩টি, (সাঙ্গু, মাতামুহুরী, নাফ)।
• আন্তর্জাতিক নদী- ১ টি। (পদ্মা)
উৎস: যৌথ নদী কমিশন, বাংলাদেশ
• পদ্মানদীর শাখা নদী- ভাগীরথী, হুগলি, মাথাভাঙ্গা, ইছামতী, ভৈরব, কুমার, কপোতাক্ষ, নবগঙ্গা, চিত্রা, মধুমতী, আড়িয়াল খাঁ ইত্যাদি।
• মহানন্দার উপনদী পুবর্ভবা, নাগর, কুলিক, ট্যাংগন, পাগলা প্রভৃতি।
• কর্ণফুলীর প্রধান উপনদী হলো- কাপ্তাই, হালদা, কাসালায়ং, রাঙখিয়াং,
• যমুনার উপনদীগুলোর মধ্যে ধরলা, তিস্তা, করতোয়া, আত্রাই অন্যতম।
• মেঘনার উপনদীসমূহের মধ্যে মনু, বাউলাই, গোমতী, তিতাস, কাসনি অন্যতম।
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি ।
• পদ্মা:
- বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম নদী পদ্মা।
- ভারতে এই নদীর নাম গঙ্গা।
- গঙ্গা নদী হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপত্তি লাভকরেছে।
- এরপর প্রথমে দক্ষিণ-পশ্চিম ও পরে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে ভারতের হরিদ্বারের নিকট সমভূমিতে পড়েছে।
- এরপর ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহার রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ান নামক স্থানে ভাগীরথী (হুগলি নদী) নামে এর একটি শাখা বের হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
- গঙ্গা নদীর মূল প্রবাহ রাজশাহী অঞ্চলের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সীমানা বরাবর এসে কুষ্টিয়ার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এরপর দৌলতদিয়ার নিকট যমুনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
• নদী সম্পর্কিত বিভিন্ন পারিভাষিক শব্দ ও সংজ্ঞা:
১। নদীর উৎস (Source): নদীর উৎপত্তিস্থলকে নদীর উৎস বলে।
২। নদীর মোহনা (Mouth): নদী উৎপত্তি লাভ করে সাগর বা হ্রদের সাথে যে স্থানে মিলিত হয় সেই মিলিত স্থানকে নদীর মোহনা বলে।
৩। দোয়াব অঞ্চল: দুটি নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে দোয়াব অঞ্চল বলে।
৪। নদীসঙ্গম (Confluence): পার্বত্য অঞ্চলে প্রাথমিক অবস্থায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নদীগুলো নিজ নিজ পথে প্রবাহিত হয়।
- এক সময় ঐ নদীগুলো একটি অপরটির সাথে মিলিত হয়।
- ফলে মিলিত স্রোতধারা ক্রমশ অধিকতর বড় হয়।
- এভাবে দুই বা ততোধিক নদীর মিলন স্থলকে নদীসঙ্গম বলে।
তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।