বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নদী, হ্রদ, সাগর, মহাসাগর ইত্যাদি

মোট প্রশ্ন১,১২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নদী, হ্রদ, সাগর, মহাসাগর ইত্যাদি

PrepBank · পাতা / ১২ · ২০১৩০০ / ১,১২৭

২০১.
শৈবাল সাগর কোন মহাসাগরে দেখা যায়?
  1. আটলান্টিক মহাসাগর
  2. আর্কটিক মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর
  4. দক্ষিণ মহাসাগর
সঠিক উত্তর:
আটলান্টিক মহাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আটলান্টিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা
শৈবাল সাগর (Sargasso Sea):
- মহাসাগরের মাঝখানে বিভিন্ন স্রোত মিলিত হয়ে কয়েক হাজার বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকা জুড়ে একটি ঘূর্ণস্রোত বা জলাবর্তের সৃষ্টি করে।
- এই বিশাল জলাবর্তের মাঝখানে কোনোরকম জলপ্রবাহ থাকে না বলে স্রোতবিহীন এই অঞ্চলে নানারকম শৈবাল বা শেওলা, আগাছা ও জলজ উদ্ভিদ জন্মায়।
- এইজন্য এই অঞ্চলকে শৈবাল সাগর বলা হয়।

⇒ শৈবাল সাগর (Sargasso Sea) উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যভাগে অবস্থিত একটি অনন্য সামুদ্রিক অঞ্চল।
- এটি বিশ্বের একমাত্র 'সমুদ্র' যার কোনো স্থল সীমানা নেই।
- এটি সম্পূর্ণরূপে চারটি প্রধান সমুদ্রস্রোত দ্বারা বেষ্টিত: গালফ স্ট্রিম (Gulf Stream), উত্তর আটলান্টিক স্রোত (North Atlantic Current), ক্যানারি স্রোত (Canary Current), উত্তর বিষুবীয় স্রোত (North Equatorial Current)।
- এই স্রোতগুলো মিলিত হয়ে কয়েক হাজার বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকা জুড়ে একটি ঘূর্ণস্রোত বা জলাবর্তের সৃষ্টি করে।
- এই বিশাল জলাবর্তের মাঝখানে কোনোরকম জলপ্রবাহ থাকে না বলে স্রোতবিহীন এই অঞ্চলে নানারকম শৈবাল বা শেওলা, আগাছা ও জলজ উদ্ভিদ জন্মায়।

উৎস: i) Britannica.
ii) NOAA's National Ocean Service (.gov).
২০২.
বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র কোনটি?
  1. হালদা নদী
  2. চলন বিল
  3. পশুর নদী
  4. মেঘনা নদী
সঠিক উত্তর:
হালদা নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হালদা নদী
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হলো হালদা নদী
- এটি চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত।
- এটি একটি মৎস্য অভয়াশ্রম।
- মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে সরকার হালদা নদীকে বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ ঘোষণা করেছে।

(সূত্রঃ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট)। 
২০৩.
গঙ্গা নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের প্রস্তাব-
  1. ক) নেপালে জলাধার নির্মাণ
  2. খ) গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের মধ্যে সংযোগ খাল খনন
  3. গ) বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গঙ্গা বাঁধ নির্মাণ
  4. ঘ) গঙ্গার শাখা নদীসমূহের পানি প্রবাহ বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
ক) নেপালে জলাধার নির্মাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নেপালে জলাধার নির্মাণ
ব্যাখ্যা
- গঙ্গা নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের প্রস্তাব ছিল নেপালে জলাধার নির্মাণ। 
- বাংলাদেশের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছিল-নেপালে সাতটি পানি সংরক্ষণাগার স্বাভাবিক উচ্চতায় নির্মাণ করতে পারলে ফারাক্কায় বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে যে পরিমাণ পানি পাওয়া যাচ্ছে তার চেয়ে অতিরিক্ত আরও ৪৫ হাজার কিউসেক পানি বেশি পাওয়া যেত৷
- আর যদি সাতটি পানি সংরক্ষণাগারের মধ্যে অন্য চারটি সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা যায় তাহলে অতিরিক্ত আরও ১ লাখ ৮০ হাজার কিউসেক পানি বেশি পাওয়া যাবে৷
- নেপাল থেকে উৎপন্ন কোশি, কর্ণালী ও গন্ধকীর মত গঙ্গা নদীর এইসব গুরুত্বপূর্ণ উপ নদী ফারাক্কায় শুকনো মৌসুমে গঙ্গায় লব্ধ মোট প্রবাহের ৭১ শতাংশ যোগান দেয়৷
- বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষ অর্থাৎ প্রায় ৪ কোটি লোক গঙ্গার পানির উপর নির্ভরশীল৷

উৎস: dw.com
২০৪.
গোবী মরুভূমি কোন ধরনের মরুভূমি?
  1. উষ্ণ মরুভূমি
  2. উপক্রান্তীয় মরুভূমি
  3. শীতল মরুভূমি
  4. উপকূলীয় মরুভূমি
সঠিক উত্তর:
শীতল মরুভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শীতল মরুভূমি
ব্যাখ্যা

গোবী মরুভূমি (Gobi Desert):
- অবস্থান: এশিয়া মহাদেশ, উত্তর চীন ও দক্ষিণ মঙ্গোলিয়া জুড়ে বিস্তৃত।
- ধরন: শীতল মরুভূমি (Cold Desert) অর্থাৎ শীতল ও অত্যন্ত শুষ্ক জলবায়ু।
- আয়তন: প্রায় ১,৩০০,০০০ বর্গকিলোমিটার (৫,০০,০০০ বর্গমাইল)।
- বিশ্বে অবস্থান: পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমিগুলির মধ্যে একটি।
- জলবায়ু বৈশিষ্ট্য: শীতে তাপমাত্রা প্রায় −৪০ °C পর্যন্ত নেমে যেতে পারে এবং গ্রীষ্মে ৪০ °C বা তারও বেশি হতে পারে।
- ভূগোল: অধিকাংশ অংশ পাথুরে বা খড়কুটোর মতো ভূমি; বালির টিলার পরিমাণ সীমিত।
- ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব: সিল্ক রোড ও ডাইনোসরের ফসিলগুলোর জন্য পরিচিত।

উৎস: ব্রিটানিকা।

২০৫.
পৃথিবীর বৃহত্তম মহীসোপান কোথায় অবস্থিত?
  1. আফ্রিকার দক্ষিণ-পূর্বে
  2. ইউরোপের উত্তর-পশ্চিমে
  3. এশিয়ার পশ্চিম উপকূলে
  4. আমেরিকার পূর্ব উপকূলে
সঠিক উত্তর:
ইউরোপের উত্তর-পশ্চিমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরোপের উত্তর-পশ্চিমে
ব্যাখ্যা
মহীসোপান (Continental Shelf):
- পৃথিবীর মহাদেশসমূহের চারদিকে স্থলভাগের কিয়দংশ ক্রমশ সমুদ্রের পানির মধ্যে বিস্তৃত থাকে। এরূপ ক্রমনিম্ন স্বল্প গভীর নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান বলে।

⇒ মহীসোপান অংশের পানির গভীরতা সাধারণত ২০০ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এটি এক ডিগ্রি কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে। মহীসোপান অঞ্চলটি সমুদ্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। মহাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল নিমজ্জিত হওয়ার ফলে অথবা সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতার তারতম্য হওয়ার কারণে মহীসোপানের সৃষ্টি হয়। আবার অনেক সময় সমুদ্র তরঙ্গ ও ক্ষয়ক্রিয়া মহীসোপান গঠনে সহায়তা করে। মহীসোপানের গড় প্রশস্ততা প্রায় ৭০ কিলোমিটার।

উল্লেখ্য,
- ইউরোপের উত্তর-পশ্চিমে পৃথিবীর বৃহত্তম মহীসোপান অবস্থিত।

⇒ মহীসোপানকে সমুদ্রের অগভীর অঞ্চলও বলা হয়।
- মহীসোপান অঞ্চলের সামুদ্রিক সঞ্চয় বেশি আবার মহাদেশীয় ভূ-খন্ডের শেষ প্রান্তবা শেষ সীমাও বলা হয়।
- মহীসোপানকে প্রধান দুইভাগে ভাগ করা যায়; যথা: ১। তটদেশীয় অঞ্চল ২। ঝিনুক অঞ্চল।

উৎস: i) ভূগোল ১ম পত্র ,এইচএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৬.
'স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জ' কোথায় অবস্থিত?
  1. ভারত মহাসাগর
  2. দক্ষিণ চীন সাগর
  3. আন্দামান সাগর
  4. ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ চীন সাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ চীন সাগর
ব্যাখ্যা

• স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জ:
- অবস্থান: প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থিত বিশাল প্রাচীর, শোল, অ্যাটল এবং ছোট ছোট দ্বীপপুঞ্জ ।
- এগুলি মালয়েশিয়ার উত্তরে অবস্থিত এবং ভিয়েতনাম এবং ফিলিপাইনের প্রায় মাঝখানে অবস্থিত এবং এই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে তাদের মালিকানা দাবি করে।
- আয়তন: প্রায় ১৫৮,০০০ বর্গমাইল (৪০৯,০০০ বর্গকিমি) সমুদ্র অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত।
- এদের মধ্যে বেশিরভাগই ডুবে আছে।
- প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন ১২টি প্রধান দ্বীপের মধ্যে, বৃহত্তমটি হল ৯০ একর (৩৬ হেক্টর) ইতু আবা।
- আরেকটি, যাকে স্প্রাটলি দ্বীপ বা স্টর্ম আইল্যান্ড বলা হয়, ৯০০ বাই ১,৫০০ ফুট (২৭৫ বাই ৪৫০ মিটার) পরিমাপ করে। 

• ইতিহাস ও কৌশলগত গুরুত্ব:
- ফ্রান্স ১৯৩৩–১৯৩৯ পর্যন্ত দখল করে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান সাবমেরিন ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার।
- যুদ্ধ পরের সময় চীনা জাতীয়তাবাদীরা ইতু আবায় গ্যারিসন স্থাপন করে।
- ১৯৪৯ সালে তাইওয়ান, চীন মূল ভূখণ্ড এবং ভিয়েতনাম নিজেদের মালিকানা দাবি করে।
- ১৯৫৫ সালে ফিলিপাইন নৈকট্য ভিত্তিক দাবি যোগ করে।
- ১৯৭০-এর দশকে দক্ষিণ ভিয়েতনাম চীনা দখল ঠেকাতে স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জের তিনটি (স্প্রাটলি দ্বীপ সহ) দখল করে।
- তাইওয়ানের সৈন্যরা ইতু আবাতেই থেকে যায়।
- এরপর ফিলিপাইন অবশিষ্ট সাতটি দ্বীপে সৈন্য স্থানান্তর করে এবং পাগাসা দ্বীপে একটি বিমানঘাঁটি (১৯৭৬) নির্মাণ করে।

উৎস: ব্রিটানিকা।

২০৭.
কাস্পিয়ান সাগর কোন দুটি মহাদেশের মধ্যে অবস্থিত?
  1. এশিয়া ও আফ্রিকা
  2. ইউরোপ ও আফ্রিকা
  3. এশিয়া ও ইউরোপ
  4. উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা
সঠিক উত্তর:
এশিয়া ও ইউরোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এশিয়া ও ইউরোপ
ব্যাখ্যা
কাস্পিয়ান সাগর:
- কাস্পিয়ান সাগর (Caspian Sea) হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আন্তঃমহাদেশীয় হ্রদ।
- এটি সাগরের মতো দেখতে হলেও এটি প্রকৃতপক্ষে একটি হ্রদ।
- এটি এশিয়া এবং ইউরোপের মাঝে অবস্থিত।
- আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম লবণাক্ত পানির হ্রদ।
- কাস্পিয়ান সাগরের আয়তন ৩,৮৬,৪০০ বর্গ কিলোমিটার।
- প্রধান নদী: ভলগা, ইউরাল, কুরা ও তেরেক নদী এতে পানি সরবরাহ করে।

⇒ এটি পাঁচটি দেশের সীমান্তে অবস্থিত: রাশিয়া, কাজাখস্তান, আজারবাইজান, ইরান এবং তুর্কমেনিস্তান।
- এটি এশিয়া-ইউরোপের মাঝে, ককেসাস পর্বতমালার পূর্বে এবং স্তেপ ও মধ্য এশিয়ার পশ্চিমে অবস্থিত।

উৎস: World Atlas.
২০৮.
কোন নদী সর্বাধিক জেলা দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে?
  1. ইছামতি
  2. মেঘনা
  3. যমুনা
  4. পদ্মা
সঠিক উত্তর:
পদ্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মা
ব্যাখ্যা

সবচেয়ে বেশি জেলা দিয়ে প্রবাহিত নদীর নাম - পদ্মা।
- জেলার সংখ্যা - ১২টি।

সবচেয়ে বেশি উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত নদীর নাম - মেঘনা।
- উপজেলার সংখ্যা - ৩৬টি।

সবচেয়ে বেশি নদী প্রবাহিত বিভাগের নাম - ঢাকা।
- নদীর সংখ্যা - ২২২টি।

সবচেয়ে বেশি নদী প্রবাহিত জেলার নাম - সুনামগঞ্জ।
- নদীর সংখ্যা - ৯৭টি।

উৎস: বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট।

২০৯.
লামার মাইভার পর্বতে কোন নদীর উৎপত্তি হয়েছে?
  1. সাঙ্গু
  2. মাতামুহুরী
  3. ফেনী
  4. নাফ
সঠিক উত্তর:
মাতামুহুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাতামুহুরী
ব্যাখ্যা
সাঙ্গু, ফেনী, নাফ ও মাতামুহুরী নদী:
- সাঙ্গু নদী উত্তর আরাকান পাহাড় থেকে নির্গত হয়ে বান্দরবান জেলার থানছি উপজেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- এটি ২৯৪ কি.মি. দীর্ঘ।
- পার্বত্য ত্রিপুরায় উৎপত্তি হয়ে ফেনী জেলায় প্রবেশ করেছে ফেনী নদী।
- সন্দ্বীপের উত্তরে ফেনী নদী বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- বাংলাদেশ মিয়ানমারের সীমান্তে নাফ নদী অবস্থিত।
- এর মোহনা অত্যন্ত প্রশস্ত।
- এই নদী বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৬ কি. মি।
- লামার মাইভার পর্বতে মাতামুহুরী নদীর উৎপত্তি হয়েছে।
- নদীটি কক্সবাজার জেলার চকরিয়ার পশ্চিম পাশ ঘেঁষে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০ কি.মি.।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২১০.
নিচের কোনটি নদীবিহীন দেশ নয়?
  1. লিবিয়া
  2. বাহরাইন
  3. ইরাক 
  4. বাহামাস
সঠিক উত্তর:
ইরাক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরাক 
ব্যাখ্যা

- ইরাক নদীবিহীন দেশ নয়।

• নদী বিহীন দেশ:
- কিছু দেশ এত ছোট যে সেখানে নদী থাকার জায়গাই নেই।
- অনেক ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র, শহর-রাষ্ট্র, অথবা যে-সব দেশে শুধুমাত্র মৌসুমি পানি প্রবাহ ঘটে।
- যা প্রকৃতপক্ষে স্থায়ী নদী হিসেবে বিবেচিত হয় না।
- এই মানদণ্ড অনুযায়ী, বিশ্বে মোট ১৯টি দেশ রয়েছে যেগুলোর মধ্যে কোনো স্থায়ী প্রাকৃতিক নদী নেই।

• নদী বিহীন দেশগুলো হলো যথা:
- কোমোরোস, জিবুতি, লিবিয়া, বাহামাস, বাহরাইন, কুয়েত, মালদ্বীপ, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত,ইয়েমেন,মাল্টা, মোনাকো, ভ্যাটিকান সিটি,  কিরিবাটি, নাউরু,  টোঙ্গা, টুভ্যুলু।

উৎস: World Atlas. 

২১১.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিল -
  1. ক) সিংড়া বিল
  2. খ) বাইক্কা বিল
  3. গ) চিলপাড়া বিল
  4. ঘ) চলন বিল
সঠিক উত্তর:
ঘ) চলন বিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চলন বিল
ব্যাখ্যা
চলন বিল (Chalan Beel):
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিল এবং সমৃদ্ধতম জলাভূমিগুলির একটি।
- বিলটি সংলগ্ন তিনটি জেলা রাজশাহী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ-এর অংশবিশেষ জুড়ে অবস্থান করছে।
- এটি সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ ও পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলা দুটির অধিকাংশ স্থান জুড়ে বিস্তৃত।
- এটি নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলা ও গুমনী নদীর উত্তর পাড়ের মধ্যে অবস্থিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
২১২.
মারিয়ানা ট্রেঞ্চে অবস্থিত সর্বাধিক গভীর বিন্দু কোনটি? 
  1. Challenger Deep
  2. Challenger Abyss
  3. Pacific Deep
  4. Mariana Pit
সঠিক উত্তর:
Challenger Deep
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Challenger Deep
ব্যাখ্যা

• মারিয়ানা ট্রেঞ্চ (Mariana Trench):
- মারিয়ানা ট্রেঞ্চ বিশ্বের গভীরতম স্থান।
- এর অবস্থান হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ ও ফিলিপাইনের মধ্যবর্তী প্রশান্ত মহাসাগরে।
- এর নামকরণ করা হয় নিকটবর্তী মারিয়ানা দ্বীপ ও অস্ট্রিয়ার তৎকালীন রানী মারিয়ানার নামে।
- মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরতা মাপার উদ্যোগ নেয়া হয় ১৮৭৫ সালে।
- তখন গভীরতা নির্ণয় করা হয় ২৬,৮৫০ ফুট।
- পরবর্তীতে আরো কয়েকদফা মাপার পর ২০১০ সালে এর সর্বোচ্চ গভীরতা মাপা হয় ৩৬,০৭০ ফুট।
- বর্তমানে এই গভীরতাই গ্রহণযোগ্য।
- এর গভীরতম অংশকে চ্যালেঞ্জার ডিপ বা Challenger Deep বলা হয়।

তথ্যসূত্র:  i) World Atlas 
ii) National Geographic Society.

২১৩.
লন্ডন কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. ক) হাডসন
  2. খ) টেমস
  3. গ) দানিয়ুব
  4. ঘ) রাইন
সঠিক উত্তর:
খ) টেমস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) টেমস
ব্যাখ্যা
টেমস নদী:

- লন্ডন টেমস নদীর তীরে অবস্থিত।
- টেমসকে ইংল্যান্ডের প্রধান নদী বলা হয়।
- টেমস নদীর দৈর্ঘ্য ৩৩০ কি.মি.

নদীর তীরবর্তী শহরসমূহ,
- ওয়াশিংটন ডিসি পটোম্যাক নদীর তীরে অবস্থিত।
- হাডসন নদীর তীরে নিউইয়র্ক সিটি অবস্থিত।
- রাইন নদীর তীরে স্ট্রাসবার্গ অবস্থিত।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
২১৪.
ভারতের শিলং মালভূমির গারো পাহাড় হতে কোন নদীর উৎপত্তি হয়েছে?
  1. ক) কুশিয়ারা নদী
  2. খ) কংস নদী
  3. গ) সুরমা নদী
  4. ঘ) মনু নদী
সঠিক উত্তর:
খ) কংস নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কংস নদী
ব্যাখ্যা
• কংস নদী:
- কংস নদী (Kangsa River)  ভারতের মেঘালয় ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এ নদী কংসাই বা কংসবতী নামেও পরিচিত।
⇒ ভারতের শিলং মালভূমির পূর্বভাগে তুরার কাছে গারো পাহাড়ে এ নদীর উৎপত্তি।
- উৎস থেকে দক্ষিণদিকে প্রবাহিত হওয়ার পর জামালপুর জেলার উত্তর ভাগে নালিতাবাড়ী উপজেলা সদরের প্রায় ১৬ কিমি উত্তর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
- সেখান থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে সোমেশ্বরী নদীতে মিশেছে।
- কংস ও সোমেশ্বরীর মিলিত স্রোত বাউলাই নদী নামে পরিচিত।

» অন্যদিকে: 
• কুশিয়ারা নদী: 
- কুশিয়ারা নদী (Kushiyara River)  ভারতের  আসাম রাজ্যের উত্তরাঞ্চলের পর্বত থেকে উদ্ভুত হয়ে  বরাক নদী কিছু দূর পর্যন্ত নাগাপাহাড় ও মণিপুর রাজ্যের মধ্যে সীমারেখা রচনা করেছে।

• সুরমা নদীর:
- মণিপুর পাহাড়ে মাও সংসাং হতে বরাক নদীর উৎপত্তি।
- আসামের নাগা মণিপুর অঞ্চল থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে নদীটি দুই শাখায় বিভক্ত হয়ে জকিগঞ্জ, কানাইঘাট,বিয়ানীবাজার, সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সিলেট জেলায় প্রবেশ করেছে।
- এর উত্তরের শাখাটি সুরমা পশ্চিম দিকে বিশ্বনাথ উপজেলা হয়ে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- আজমেরিগঞ্জের কাছে উত্তর সিলেটের সুরমা, আর দক্ষিণের শাখা সিলেটের কুশিয়ারা নদী এবং হবিগঞ্জে সিলেটের কালনী নদী একসঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- এর পরে সুরমা ও কুশিয়ারার মিলিত প্রবাহ কালনী নামে দক্ষিণে কিছুদূর প্রবাহিত হয়ে মেঘনা নাম ধারণ করেছে।
- মেঘনা ভৈরব বাজারে পুরাতন বহ্মপুত্রের সঙ্গে এবং চাঁদপুরের কাছে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।

• মনু নদী:
- মনু নদী  ভারতের পার্বত্য ত্রিপুরা এবং বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম যেখানে আন্তর্জাতিক সীমারেখা রচনা করেছে তারই পূর্বকোণের উঁচু ভূমিতে দুটি উপনদী উৎপত্তি হওয়ার পর উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়ে ত্রিপুরার ফটিকরাই-এর দক্ষিণে মিলিত হয়েছে।
- এই মিলিত স্রোতধারা কৈলা (ভারত) শহরের অদূরে  মৌলভীবাজারের কুলাউড়া দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ২৫ কিমি প্রবাহিত হওয়ার পর ধলাই নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে ধলাই নামেই প্রথমে পশ্চিমে এবং পরে উত্তরে প্রবাহিত হওয়ার পর মনুমুখ-এর কাছে মনু নদী হিসেবে কুশিয়ারা নদীতে পড়েছে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও সিলেট জেলা ওয়েবসাইট।
২১৫.
আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরতম স্থান কোনটি?
  1. Milwaukee Deep
  2. Challenger Deep
  3. Java Trench
  4. Tonga Trench
সঠিক উত্তর:
Milwaukee Deep
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Milwaukee Deep
ব্যাখ্যা

আটলান্টিক মহাসাগর: 
- আটলান্টিক মহাসাগর পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর, যার আকৃতি ইংরেজি অক্ষর “S”-এর মতো।
- আটলান্টিক মহাসাগর এর গড় গভীরতা ৩৯৩২ মিটার।
- এটি ইউরোপ ও আফ্রিকাকে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আলাদা করেছে।
- এর গভীরতম স্থান হলো পুয়ের্তো রিকো ট্রেঞ্চ যা ক্যারিবিয়ান সাগরের মধ্যখানে অবস্থিত।
- পুয়ের্তো রিকো ট্রেঞ্চ এর গভীরতম বিন্দু হচ্ছে Milwaukee Deep.
- Milwaukee Deep এর গভীরতা ৮৩৮০ মিটার।
- এই মহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ হচ্ছে : গ্রীনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, বাহামা দ্বীপপুঞ্জ, বারমুডা, জ্যামাইকা, কিউবা, আয়ারল্যান্ড, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র
- এ মহাসাগরটি প্রাচীন যুগ থেকেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, উপনিবেশ স্থাপন ও সমুদ্র অভিযানের প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
---------------------------------------- 
অন্যদিকে,
- Challenger Deep – এটি প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা ট্রেঞ্চের সবচেয়ে গভীর বিন্দু।
-  Java Trench – এটি ভারত মহাসাগরের গভীরতম অংশ।
- Tonga Trench – এটি দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের একটি গভীর ট্রেঞ্চ।

উৎস: Britannica. 

২১৬.
বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের নাম-
  1. টর্নেডো
  2. সাইক্লোন
  3. টাইফুন
  4. হ্যারিকেন
সঠিক উত্তর:
সাইক্লোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইক্লোন
ব্যাখ্যা

- বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয় সাইক্লোন।
- প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয় টাইফুন।
- আটলান্টিক মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয় হ্যারিকেন।
- সাধারণত স্বল্প সময় নিয়ে স্বল্প এলাকায় টর্নেডো হয়ে থাকে। স্থলভাগে উচ্চচাপ সৃষ্টির কারণে টর্নেডো হয়।

উৎস: মাধ্যমিক ভূগোল বোর্ড বই।

২১৭.
বাংলাদেশে কার্পজাতীয় মাছের রেণুর প্রধান উৎস কোনটি?
  1. পদ্মা
  2. হালদা
  3. মেঘনা
  4. কর্ণফুলী
সঠিক উত্তর:
হালদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হালদা
ব্যাখ্যা

⇒ হালদা নদী বাংলাদেশে কার্পজাতীয় মাছের রেণুর প্রধান উৎস। 

হালদা নদী: 
- হালদা বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের ছোট্ট একটি নদী। 
- এই নদীর উৎপত্তি, বিস্তার এবং সমাপ্তি সবই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে।

⇒ হালদী নদী সরকার ঘোষিত একটি মৎস্য অভয়াশ্রম। 
- হালদা নদী বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র। 
- হালদা বিশ্বের একমাত্র জোয়ার-ভাটার নদী, যেখান থেকে রুইজাতীয় মাছের (রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউশ) নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়। 
- হালদা নদীর প্রজনন সময় হচ্ছে এপ্রিল, মে, জুন এই তিন মাস। 
- অমাবস্যা, পূর্ণিমা তিথিতে এখানে রুইজাতীয় মাছ নিষিক্ত ডিম ছাড়ে। 
হালদা হচ্ছে বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক জিন ব্যাংক। 

তথ্যসূত্র - মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।

২১৮.
নায়াগ্রা জলপ্রপাত কোন দুটি অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত?
  1. নিউইয়র্ক এবং ওন্টারিও
  2. নিউইয়র্ক এবং কুইবেক
  3. পেনসিলভানিয়া এবং ওন্টারিও
  4. পেনসিলভানিয়া এবং কুইবেক
সঠিক উত্তর:
নিউইয়র্ক এবং ওন্টারিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউইয়র্ক এবং ওন্টারিও
ব্যাখ্যা

নায়াগ্রা জলপ্রপাত:
- নায়াগ্রা জলপ্রপাত উত্তর আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক এবং কানাডার ওন্টারিওর সীমান্তে অবস্থিত।
- নায়াগ্রা নদী এই জলপ্রপাতটির মাধ্যমে আটলান্টিক মহাসাগরে প্রবাহিত হয়।

⇒ এটি পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত জলপ্রপাত।
- নায়াগ্রা জলপ্রপাতের উচ্চতা প্রায় ৫১ মিটার (১৬৭ ফুট) এবং এটি প্রতি মিনিটে প্রায় ২,৮০০ ঘনমিটার পানি পতিত হয়।
- এটি মূলত তিনটি জলপ্রপাতের সমষ্টি। সবচেয়ে বড় জলপ্রপাতটির নাম হলো হর্সশু ফলস বা কানাডা ফলস। এর পরের ফলসটির নাম আমেরিকান ফলস। অন্যটির নাম ব্রাইডল ভেইল ফলস।
- নায়াগ্রা জলপ্রপাতের তিন ভাগের এক ভাগ আমেরিকায়। বাকি দুই ভাগ কানাডায়।

উৎস: Britannica.

২১৯.
ফারাক্কা বাঁধ কোন নদীর উপর নির্মিত?
  1. তিস্তা
  2. ব্রহ্মপুত্র
  3. যমুনা
  4. গঙ্গা
সঠিক উত্তর:
গঙ্গা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গঙ্গা
ব্যাখ্যা
ফারাক্কা বাঁধ:
- ফারাক্কা বাঁধ গঙ্গা নদীর উপর অবস্থিত একটি বাঁধ।
- ভারতের হুগলী নদীতে পানি সরবরাহ এবং কলকাতা বন্দরটি সচল করার জন্য ১৯৭৪ সালে এই ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করা হয়।
- যার অবস্থান বাংলাদেশ থেকে মাত্র ১৬.৫ কিলোমিটার উজানে ভারতের ভূখণ্ডে গঙ্গা নদীর ওপরে।
- ১৯৬১ সালে এই বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
- শেষ হয় ১৯৭৫ সালে।
- সেই বছর ২১ এপ্রিল থেকে বাঁধ চালু হয়।
- বাঁধটিতে মোট ১০৯টি গেট রয়েছে।
- ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশে পানির প্রবাহ কমতে থাকার প্রেক্ষাপটে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা চুক্তি হয়।

উৎস: ১ অক্টোবর ২০১৯, বিবিসি বাংলা নিউজ।
২২০.
নিচের কোন দেশটি সম্পূর্ণ নদীবিহীন?
  1. মাল্টা
  2. নাউরু
  3. লিবিয়া
  4. উপরোক্ত সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত সবগুলো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত সবগুলো 
ব্যাখ্যা

লিবিয়া, মাল্টা,  নাউরু নদীবিহীন দেশ।

• নদীবিহীন দেশ:
- পৃথিবীতে এমন কিছু দেশ আছে যেগুলোর কোনো নদী নেই। অবশ্যই এগুলি বেশিরভাগই মরুভূমির দেশ, যেখানে বৃষ্টিপাত এবং জলের উৎস খুব কম, এবং কোনও বাস্তব নদী বা নদীর তল তৈরি করার জন্য পর্যাপ্ত জলপ্রবাহ নেই।

- স্থায়ী প্রাকৃতিক নদী নেই এমন দেশগুলি হলো: কমোরোস, জিবুতি, লিবিয়া, বাহামাস, বাহরাইন, কুয়েত, মালদ্বীপ, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন, মাল্টা, মোনাকো, ভ্যাটিকান সিটি, কিরিবাতি, নাউরু, টোঙ্গা ও টুভালু।

সূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

২২১.
নিচের কোনটি মেঘনার উপনদী?
  1. গোমতী
  2. তিতাস
  3. বাউলাই
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
মেঘনা:
- আসামের বরাক নদী নাগা-মণিপুর অঞ্চল থেকে উৎপন্ন হয়ে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশের সিলেট জেলায় প্রবেশ করেছে।
- উত্তরের শাখা সুরমা পশ্চিম দিকে সিলেট, ছাতক, সুনামগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- আজমিরীগঞ্জের কাছে উত্তর সিলেটের সুরমা, দক্ষিণ সিলেটের কুশিয়ারা নদী এবং হবিগঞ্জের কালনী নদী একসঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- পরে কালনী, সুরমা ও কুশিয়ারার মিলিত প্রবাহ কালনী নামে দক্ষিণে কিছুদূর প্রবাহিত হয়ে মেঘনা নাম ধারণ করেছে।
- মেঘনা ভৈরববাজারের দক্ষিণে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রবাহিত হয়েছে এবং চাঁদপুরের কাছে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- বাংলাদেশে মেঘনা বিধৌত অঞ্চল হচ্ছে ২৯,৭৮৫ বর্গকিলোমিটার।
- মনু, বাউলাই, তিতাস, গোমতী মেঘনার উপনদী।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২২২.
এভারেস্ট শৃঙ্গের তিব্বতী ও চীনা নাম কী কী?
  1. দালাইলামা এবং চিংলু
  2. চোমোলাংমা এবং কোমোলাংমা
  3. কোমোলাংমা এবং চিংলু 
  4. চোমোলাংমা এবং এলবার্গ
সঠিক উত্তর:
চোমোলাংমা এবং কোমোলাংমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোমোলাংমা এবং কোমোলাংমা
ব্যাখ্যা

Chomolungma এবং Qomolangma হলো একটাই তিব্বতী নামের ভিন্ন ইংরেজি রোমানাইজেশন, যার অর্থ "বিশ্বের দেবী মা"।

- চীনারা ডাকে Qomolangma যা হলো চীনা পিনইন (pinyin) এর প্রতিবর্ণকরণ।
- তিব্বতিরা ডাকে Chomolungma (বা Jomolungma) যা হলো সাধারণ ধ্বনিবর্ণনায় ইংরেজিতে লেখা নাম।
- উভয়ই একই শৃঙ্গকে বোঝায়, যা তিব্বতীয় এবং চীনা ভাষাভাষীদের মধ্যে ব্যবহৃত হয়।
- একে নেপালীরা Sagarmatha বা সাগর মাতা নামে ডাকে।

• এভারেস্ট শৃঙ্গের নামকরণ:
- ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ব্রিটিশ ভারতের মহান ট্রিগনোমেট্রিক সার্ভে (Great Trigonometric Survey) দার্জিলিং থেকে প্রায় ১৪০ মাইল দূরে এক বিশাল বরফাচ্ছন্ন পর্বতের অবস্থান চিহ্নিত করে।
- প্রথমে এটি "Gamma" নামে এবং পরে ১৮৪৭ সালে "Peak B" নামে ডাকা হয়। পরবর্তীতে পরিমাপ নিশ্চিত করার পর এটিকে "Peak XV" নাম দেওয়া হয়।

- ১৮৫৬ সালে ব্রিটিশরা এই পর্বতের উচ্চতা 29,002 ফুট (8,839.8 মিটার) ঘোষণা করে এবং নামকরণ করে "Mont Everest", যা পরে Mount Everest হিসেবে স্বীকৃত হয়। এটি স্যার জর্জ এভারেস্টের নামানুসারে রাখা হয়েছিল, যিনি ব্রিটিশ সার্ভেয়ার জেনারেলের পদে ছিলেন।

- যদিও স্যার জর্জ এভারেস্ট নিজে চাইতেন স্থানীয় নাম ব্যবহার করা হোক, তখন তিব্বত ও নেপাল বিদেশীদের জন্য বন্ধ থাকায় স্থানীয় নাম নিশ্চিত করা যায়নি।

- ২০ শতকের শুরুতে সুইডিশ অভিযাত্রী Sven Hedin তিব্বতের প্রাচীন নাম Chomolungma উন্মোচন করেন। অর্থাৎ, এভারেস্টের তিব্বতী নাম হলো Chomolungma বা Qomolangma, যার অর্থ "বিশ্বের দেবী মা"। নেপালী নাম হলো Sagarmatha, অর্থ "আকাশের দেবী"।

বর্তমানে, বিশ্বের সর্বাধিক পরিচিত নাম Mount Everest হলেও স্থানীয় নামগুলো এখনও ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা ও Montana State University [Link]

২২৩.
’মরিস জেসাপ অন্তরীপ’ কোথায় অবস্থিত? 
  1. গ্রিনল্যান্ড
  2. চিলি
  3. ভারত
  4. স্পেন
সঠিক উত্তর:
গ্রিনল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিনল্যান্ড
ব্যাখ্যা

অন্তরীপ:
- ভূপৃষ্ঠের কোন অংশ ক্রমশ সরু হয়ে কোন জল-অংশে প্রবেশ করলে সেই সংকীর্ণ অংশকে অন্তরীপ বলা হয়।
- মরিস জেসাপ অন্তরীপ : গ্রিনল্যান্ড।

এছাড়াও,
- ট্রাফালগার অন্তরীপ : স্পেন
- উত্তমাশা অন্তরীপ : দক্ষিণ আফ্রিকা
- হর্ন অন্তরীপ : চিলি
- গার্দাফুই অন্তরীপ সোমালিয়ায় অবস্থিত।
- কন্যাকুমারী অন্তরীপ : ভারত।

উৎস: ব্রিটানিকা ও ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস।

২২৪.
ব্রহ্মপুত্র নদ কোন জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে?
  1. লালমনিরহাট
  2. কুড়িগ্রাম
  3. ময়মনসিংহ
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
কুড়িগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুড়িগ্রাম
ব্যাখ্যা

ব্রহ্মপুত্র নদ: 
- হিমালয় পর্বতের তিব্বত অংশের মানস সরোবর থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি। 
- এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম নদনদীগুলির একটি। 
- এর অববাহিকা অঞ্চল চীন (তিববত), ভারত ও বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- এই নদ তিব্বত হয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। 
- এরপর ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। 
- মেঘনা নদীতে মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এটি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত। 
- বাংলাদেশ অংশে ব্রহ্মপুত্র নদ প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়েছে। 
- দক্ষিণপশ্চিম তিব্বতের উৎপত্তি স্থল থেকে ব্রহ্মপুত্রের সর্বমোট দৈর্ঘ্য ২৮৫০ কিমি।
- আসামের হিমালয় অঞ্চলে ব্রহ্মপুত্র দিহাঙ নামে পরিচিত।
- প্রধান শাখানদী: বংশী ও শীতলক্ষ্যা। 
- প্রধান উপনদী: ধরলা ও তিস্তা। 

উল্লেখ্য,
- ১৭৮৭ সালে সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উপরে উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গিয়ে একটি নতুন স্রোতধারা সৃষ্টি হয়।
- যা যমুনা নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৫.
Dead Sea is a -
  1. ক) Sea
  2. খ) River
  3. গ) Lake
  4. ঘ) Canal
সঠিক উত্তর:
গ) Lake
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Lake
ব্যাখ্যা
ডেড সি:

- ডেড সি জর্ডানে অবস্থিত।
- মৃত সাগর বা লবণ সাগর নামেও পরিচিত।
- ডেড সি জর্ডান এবং ইসরায়েলের মধ্যে অবস্থিত দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার একটি লবণাক্ত হ্রদ।
- এই প্রাকৃতিক বিস্ময়টি সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে ৪৩০.৫ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।
- ডেড সি পৃথিবীর সবচেয়ে লবণাক্ত জলাশয়গুলির মধ্যে একটি, সাধারণ সমুদ্রের জলের তুলনায় প্রায় দশ গুণ বেশি লবণাক্ত।
- এটি বাষ্পীভবনের মাধ্যমে পানি হারায়। 
- উচ্চ লবণাক্ত স্তর এবং কঠোর জলবায়ু জন্যে ডেড সি তে কোনো মাছ জন্মায় না।

তথ্যসূত্র - Worldatlas.com
২২৬.
কত সালে সৃষ্ট ভূমিকম্প ও বন্যার কারণে ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ পরিবর্তিত হয়?
  1. ১৭৫৭ সালে
  2. ১৭৮৭ সালে
  3. ১৮৫৭ সালে
  4. ১৮৮৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৮৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৮৭ সালে
ব্যাখ্যা

ব্রহ্মপুত্র নদ:  
- ব্রহ্মপুত্র নদ (Brahmaputra River)  পৃথিবীর দীর্ঘতম নদনদীগুলির একটি।
- এর অববাহিকা অঞ্চল চীন (তিববত), ভারত ও বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- এর উৎপত্তি শিমায়াঙ-দাঙ হিমবাহ থেকে, স্থানটি পারখা থেকে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটারের মতো দূরে।
- পারখা, মানস সরোবর হ্রদ ও কৈলাস পর্বতের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র।
- দক্ষিণ তিববতের শুষ্ক ও সমতল অঞ্চলের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে নদটি হিমালয়ের ‘নামছা বারওয়া’ চূড়ার সন্নিকটে বাধাপ্রাপ্ত হয়।

উল্লেখ্য, 
- ১৭৮৭ সালে একটি তীব্র ভূমিকম্প ও প্রলয়ংকরী বন্যার কারণে ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তিত হয়।
- এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে নদীর তলদেশের ভূ-গাঠনিক পরিবর্তন ঘটে, বিশেষত মধুপুর গড়ের উচ্চতা বৃদ্ধি পায়।
- ফলে নদীটি তার পূর্বতন গতিপথ, যা ময়মনসিংহ জেলার মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত ছিল, তা পরিবর্তন করে।
- এই ঘটনার পর নদীটি পশ্চিম দিকে সরে যায় এবং বর্তমান যমুনা নদের গতিপথ গ্রহণ করে।
- এই পরিবর্তন নদীর নিম্ন অববাহিকায় ব্যাপক প্রভাব ফেলে। ঐতিহাসিক মানচিত্রে এই গতিপথের পরিবর্তন স্পষ্টভাবে লক্ষণীয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

২২৭.
'সেইন নদী’ কোথায় অবস্থিত?
  1. ফ্রান্স
  2. স্পেন
  3. জার্মানি
  4. ইতালি
সঠিক উত্তর:
ফ্রান্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
'সেইন নদী’:
- সেইন নদী ফ্রান্সের একটি ঐতিহাসিক এবং গুরুত্বপূর্ণ নদী।
- নদীটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৮৫ মাইল (৭৮০ কিলোমিটার)।
- এটি ডিজন শহর থেকে প্রায় ১৮ মাইল (৩০ কিলোমিটার) উত্তর-পশ্চিমে উৎপত্তি লাভ করে এবং প্যারিসের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে যায়।
- শেষ পর্যন্ত এটি লে হাভরে শহরের কাছে ইংলিশ চ্যানেলে মিলিত হয়। 
- এই নদীর তীরে আইফেল টাওয়ার, নটরডেম ক্যাথেড্রাল এবং ল্যুভর জাদুঘরের মতো বিখ্যাত অনেক আধুনিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে।

সম্প্রতি,
- সেইন নদী এক শতাব্দী পর সাঁতারের জন্য আবার উন্মুক্ত করা হয়েছে।
- অতিরিক্ত বর্জ্য পদার্থের জন্য ১৯২৩ সালে নদীটিতে সাঁতার কাটা নিষিদ্ধ করা হয়।
- গত বছর হয়ে যাওয়া প্যারিস অলিম্পিককে সামনে রেখে বছরজুড়ে ফ্রান্সের কিছু নদী পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
- তারই অংশ হিসেবে সেন নদীও পরিষ্কার করা হয়েছিল।

তথ্যসূত্র- ব্রিটানিকা, পত্রিকা রিপোর্ট।
২২৮.
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক নদী কয়টি?
  1. ক) ৫৭
  2. খ) ৫৬
  3. গ) ৫৫
  4. ঘ) ৫৪
সঠিক উত্তর:
ক) ৫৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৫৭
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ ও বৃষ্টিবহুল দেশ৷ ৫৭ টি আন্তর্জাতিক নদীসহ ছোট বড় প্রায় ৭০০টি নদী এ দেশে জালের মত বিস্তার করে আছে। এর মধ্যে ৫৪ টি নদীর উৎপত্তিস্থল ভারতে অবস্থিত।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
২২৯.
যমুনার প্রধান শাখানদী কোনটি? 
  1. সুরমা 
  2. আড়িয়াল খাঁ
  3. ধলেশ্বরী
  4. ডাকাতিয়া
সঠিক উত্তর:
ধলেশ্বরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধলেশ্বরী
ব্যাখ্যা

• যমুনা নদী:
- ব্রহ্মপুত্র একসময় বিশাল স্রোতধারা নিয়ে ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- যমুনা নদীও ছিল ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী।
- মূলত ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্রের স্রোতধারা দেওয়ানগঞ্জের কাছে এসে ওই শীর্ণকায় খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- সেটিই আজকের যমুনা নদী।
- এটি দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট পদ্মার সাথে মিলিত হয়।
- এরপর এই মিলিত স্রোত দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়েছে।
- যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা।
- যমুনার উপনদীগুলোর মধ্যে ধরলা, তিস্তা, করতোয়া, আত্রাই অন্যতম।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২৩০.
'গ্রেট বেরিয়ার রীফ' দৈর্ঘ্য কত?
  1. ক) ৩০০০ কি.মি
  2. খ) ৪০০০ কি.মি
  3. গ) ৫০০০ কি.মি
  4. ঘ) ৬০০০ কি.মি
সঠিক উত্তর:
ক) ৩০০০ কি.মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৩০০০ কি.মি
ব্যাখ্যা
গ্রেট বেরিয়ার রীফ:

- এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০০০ কি.মি.।
- গ্রেট বেরিয়ার রীফের সর্বাধিক প্রস্থ ৬৫ কি.মি.।
- অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্য বরাবর প্রশান্ত মহাসাগরে গ্রেট বেরিয়ার রীফ অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চার্যের একটি।

অন্যদিকে,
- পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মহাসাগর প্রশান্ত মহাসাগর।
- প্রশান্ত মহাসাগর দক্ষিণে অ্যান্টার্কটিক অঞ্চল থেকে উত্তরে আর্কটিক বৃত্ত পর্যন্ত বিস্তৃত।
- পশ্চিমে এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ এবং পূর্বে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যে অবস্থিত।
- প্রশান্ত মহাসাগর পৃথিবীর পৃষ্ঠের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে রয়েছে।
- এর আয়তন ৬৩৮০০০০০ বর্গ মাইল।
- প্রশান্ত মহাসাগর গড় গভীরতা ১৪,০৪০ ফুট।

তথ্যসূত্র - গ্রেট বেরিয়ার রীফ অর্গানাইজেশন ওয়েবসাইট এবং ব্রিটানিকা।
২৩১.
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড কোথায় অবস্থিত?
  1. এডেন উপসাগর
  2. বঙ্গোপসাগর
  3. আন্দামান সাগর
  4. আরব উপসাগর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গোপসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গোপসাগর
ব্যাখ্যা

সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড:
- বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত সবচেয়ে গভীর সামুদ্রিক খাদ হলো সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড।
- এটি সুন্দরবনের দুবলার চর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
- এই গিরিখাতের গড় গভীরতা প্রায় ১২০০ মিটার।
- সর্বোচ্চ রেকর্ডকৃত গভীরতা প্রায় ১৩৪০ মিটার।
- এটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক সংরক্ষিত অঞ্চল
- বিশ্বের বৃহত্তম ডুবো গিরিখাতগুলোর মধ্যেও এটি অন্যতম।

উল্লেখ্য,
- ভারত মহাসাগরের একটি বিস্তৃত অংশ হলো বঙ্গোপসাগর।
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম উপসাগর হিসেবে পরিচিত। 
- এটি ভারত, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের মধ্যবর্তী ত্রিভুজাকৃতির জলভাগ। 
- উপসাগরটির পশ্চিম সীমান্তে ভারত ও শ্রীলঙ্কা, উত্তরে ভারত ও বাংলাদেশ এবং পূর্বে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড অবস্থিত।

উৎস: ব্রিটানিকা।

২৩২.
পদ্মা নদী বাংলাদেশে কোন জেলা দিয়ে প্রবেশ করেছে?
  1. খুলনা
  2. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  3. বরিশাল
  4. কুষ্টিয়া
সঠিক উত্তর:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা
• পদ্মা নদী
পদ্মা নদী ভারত ও বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী।
ভারতে একে গঙ্গা নামে ডাকা হয়, আর বাংলাদেশে এটি পদ্মা নামে পরিচিত।
এর উৎসস্থান হলো ভারতের মধ্য হিমালয়ের গাঙ্গোত্রী হিমবাহ।

পদ্মা নদী প্রথমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ দিয়ে প্রবেশ করে ও পরে রাজশাহী জেলার দক্ষিণ পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে কুষ্টিয়া জেলার উত্তর-পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত প্রায় ১৪৪ কি.মি ভারত ও বাংলাদেশের সীমানা নির্দেশ করে।
এরপর এটি গোয়ালন্দ অঞ্চলে এসে ব্রহ্মপুত্র নদীর প্রধান ধারা যমুনার সঙ্গে মিলিত হয়।

পদ্মা নদী অসংখ্য শাখা নদীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ভাগীরথী, হুগলি, মাথাভাঙ্গা, ইছামতী, ভৈরব, কুমার, কপোতাক্ষ, নবগঙ্গা, চিত্রা, মধুমতী, আড়িয়াল খাঁ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী।
২৩৩.
’কালাহারি মরুভূমি’ যে সব দেশে বিস্তৃত- 
  1. মালি, নাইজার ও চাঁদ
  2. মিশর, লিবিয়া ও সুদান
  3. নামিবিয়া, বতসোয়ানা ও দক্ষিণ আফ্রিকা
  4. কেনিয়া, তানজানিয়া ও উগান্ডা
সঠিক উত্তর:
নামিবিয়া, বতসোয়ানা ও দক্ষিণ আফ্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নামিবিয়া, বতসোয়ানা ও দক্ষিণ আফ্রিকা
ব্যাখ্যা

- বতসোয়ানা,নামিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকায় ’কালাহারি মরুভূমি’বিস্তৃত।

কালাহারি মরুভূমি:
- কালাহারি মরুভূমি আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- আফ্রিকার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি অঞ্চল মরুভূমি দ্বারা আবৃত।
- কালাহারি মরুভূমি আফ্রিকার মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম।
- এবং বিশ্বের মধ্যে ষষ্ঠ বৃহত্তম মরুভূমি।
- এটি তিনটি দেশে বিস্তৃত।
- বতসোয়ানা,নামিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা।
- এর আয়তন প্রায় ৯,৩২,০০০ বর্গ কিমি।
- এটি বতসোয়ানার ৭০% অঞ্চল,
- নামিবিয়ার পূর্ব অংশ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তর অংশ জুড়ে বিস্তৃত।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

২৩৪.
নীল কেন নদ, মেঘনা কেন নদী?
  1. বাংলা ভাষা রীতি 
  2. উৎপত্তিগত
  3. জীববৃত্তীয়
  4. ঐতিহাসিক
সঠিক উত্তর:
বাংলা ভাষা রীতি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা ভাষা রীতি 
ব্যাখ্যা

- নীল কেন নদ, মেঘনা কেন নদী এটি বাংলা ভাষা রীতি সাথে সম্পর্ক।
- প্রকৃতপক্ষে নদ ও নদীর সঙ্গে শাখা থাকা না থাকার কোনো সম্পর্ক নেই।
- এই দুয়ের মাঝে যা পার্থক্য আছে তা হলো ব্যাকরণগত।
- বাংলা, হিন্দি ও ফারসি ইত্যাদি ভাষার ক্ষেত্রে, পুরুষবাচক শব্দ সাধারণত অ-কারান্ত এবং নারীবাচক শব্দ আ-কারান্ত বা ই, ঈ-কারান্ত হয়। যেমন; পদ্মজ (অ-কারান্ত), পদ্মজা (আ-কারান্ত, নামের শেষে আ আছে), রজক (অ-কারান্ত) -রজকী (ঈ-কারান্ত, নামের শেষে ঈ আছে)।
- তাই যে সকল নদীর নাম পুরুষবাচক অর্থাৎ অ-কারান্ত তারা নদ আর যে সকল নদীর নাম নারীবাচক অর্থাৎ আ-কারান্তবা ঈ, ই-কারান্ত তারা নদী।
- এই কারণে আড়িয়াল খাঁ, এটি পুরুষ নাম জ্ঞাপক হলেও যেহেতু শেষে আকার রয়েছে সে জন্য এটি নদ না হয়ে নদী।
- আবার নীল স্ত্রী নাম জ্ঞাপক একটি প্রবাহ।
- যেহেতু এর শেষে আকার, একার কিছু নেই, সেই সূত্রে এটি নদ। 
- তাই মেঘনার ক্ষেত্রে নদী বলা হয়।

সুতরাং বাংলা ভাষা রীতির কারনে নীলকে নদ ও মেঘনাকে নদী বলা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।

২৩৫.
কত সালে ডাউকি চ্যুতিতে তীব্র ভূমিকম্পের পর ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছিল?
  1. ১৮৮৭ সালে
  2. ১৭৮৮ সালে
  3. ১৭৮৭ সালে
  4. ১৮৮৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৮৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৮৭ সালে
ব্যাখ্যা
ব্রহ্মপুত্র: 
- হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের নিকটে ‘মানস সরোবর হ্রদ’ থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি হয়েছে।
- এটি তিব্বত ও আসামের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- ব্রহ্মপুত্র নদ ভৈরববাজারের নিকট মেঘনা নদীতে মিলিত হয়েছে।

এছাড়াও,
- বাংলাদেশ অংশে ব্রহ্মপুত্র নদ প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়েছে। 
- আজ থেকে প্রায় ৮০০ বছর আগে এই সাবডাকশন অঞ্চলে একটি বড় ভূমিকম্প হয়েছিল।
- তাতে লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে প্রবাহিত নদীটি গতিপথ পাল্টে এখনকার মেঘনা নদীতে সরে এসেছে।
- ১৭৮৭ সালে ডাউকি চ্যুতিতে তীব্র ভূমিকম্পের পর ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছিল

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৬.
‘ভলগা নদী’ কোন সাগরে পতিত হয়েছে?
  1. কৃষ্ণ সাগরে
  2. আরব সাগরে
  3. বাল্টিক সাগরে
  4. কাস্পিয়ান সাগরে
সঠিক উত্তর:
কাস্পিয়ান সাগরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাস্পিয়ান সাগরে
ব্যাখ্যা
ইউরোপের ভলগা নদী:
- ইউরোপের দীর্ঘতম নদী হলো ভলগা নদী।
- ভলগা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩,৫৩০ কিলোমিটার।
- এটির রাশিয়ার ভলদাই পর্বত থেকে উৎপন্ন হয়ে রাশিয়ার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কাস্পিয়ান সাগরে পতিত হয়েছে।
- দানিয়ুব ইউরোপের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী যা জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট থেকে উৎপন্ন হয়ে ইউরোপের ১০টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কৃষ্ণসাগরে পতিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট।
২৩৭.
ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা আন্তঃসীমান্ত নদী কয়টি?
  1. ৪৮টি
  2. ৫২টি
  3. ৫৪টি
  4. ৫৭টি
সঠিক উত্তর:
৫৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫৪টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের আন্তঃসীমান্ত নদী:
- আন্তঃসীমান্ত নদী ৫৭ টি। 
- ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা নদী ৫৪ টি।
-  বাংলাদেশ-মিয়ানমার আন্তঃসীমান্ত নদী ৩টি, (সাঙ্গু, মাতামুহুরী, নাফ)। 
- আন্তর্জাতিক নদী ১ টি। (পদ্মা)
- বাংলাদেশের প্রায় সব নদীর প্রবাহের দিক উত্তর থেকে দক্ষিণে (সর্পিল গতি)।
- পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত নদী মাতামুহুরী, ডাকাতিয়া, গোমতী।
- দুবার ভারতে ও বাংলাদেশে প্রবেশ করে আত্রাই, পুনর্ভবা ও টাঙ্গন নদী। 
- সর্বাধিক নাব্য নদী মেঘনা। 
- বাংলাদেশে উৎপত্তি হয়ে ভারতে যাওয়া নদী ১ টি (কুলিখ)।
- বাংলাদেশে উৎপত্তি ও সমাপ্তি হওয়া নদী ১টি (হালদা)।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও যৌথ নদী কমিশনের ওয়েবসাইট।[লিঙ্ক]

২৩৮.
’কুরিল দ্বীপপুঞ্জ’ কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
  1. আটলান্টিক মহাসাগরে
  2. দক্ষিণ মহাসাগরে
  3. প্রশান্ত মহাসাগরে
  4. ভারতীয় মহাসাগরে
সঠিক উত্তর:
প্রশান্ত মহাসাগরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশান্ত মহাসাগরে
ব্যাখ্যা

কুরিল দ্বীপপুঞ্জ (Kuril Islands):
- কুরিল দ্বীপপুঞ্জ প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তর-পশ্চিম অংশে, রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপ ও জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপের মধ্যে অবস্থিত।
- ১৮৫৫ সালের শিমোডা চুক্তির মাধ্যমে জাপান ও রাশিয়ার মধ্যে সীমা নির্ধারণ হয়, তবে ১৯৪৫ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়ন পুরো কুরিল দ্বীপপুঞ্জ দখল করে।
- জাপান দক্ষিণ কুরিলের চারটি দ্বীপের ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে, যা রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু।
- কূটনৈতিক গুরুত্ব: এই দ্বীপগুলো রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের প্রধান অন্তরায়।

উৎস: ব্রিটানিকা।

২৩৯.
ব্রহ্মপুত্র নদ কোন জেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে?
  1. ময়মনসিংহ
  2. কুড়িগ্রাম
  3. সিলেট
  4. গাইবান্ধা
সঠিক উত্তর:
কুড়িগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুড়িগ্রাম
ব্যাখ্যা

ব্রহ্মপুত্র নদ:
- হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের মানস সরোবর থেকে এর উৎপত্তি।
- তিব্বত, আসাম হয়ে বাংলাদেশে কুড়িগ্রাম জেলায় প্রবেশ করেছে।
- ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনায় মিলিত।
- বাংলাদেশের ভিতরে দৈর্ঘ্য: প্রায় ২৭৭ কিমি।
- প্রধান উপনদী: ধরলা, তিস্তা।
- প্রধান শাখানদী: বংশী, শীতলক্ষ্যা।
- ১৭৮৯ সালের ভূমিকম্পে তলদেশ উপরে উঠায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে যমুনা নদীর স্রোতধারা সৃষ্টি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪০.
দক্ষিণ আমেরিকায় কোন নদী ব্রাজিল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে পতিত হয়?
  1. আমাজন নদী
  2. ইগুয়াসু নদী
  3. প্যারাগুয়ে
  4. রিও নেগ্রো
সঠিক উত্তর:
আমাজন নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমাজন নদী
ব্যাখ্যা

• আমাজন নদী:
- আমাজন নদী হলো দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম নদী।
- আমাজন নদী দৈর্ঘ্য অনুযায়ী বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী (নীল নদীর পর)।
- এর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,০০০ মাইল (৬,৪০০ কিমি)।
- এই নদীটি ব্রাজিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে উত্তর-পূর্ব উপকূলে আটলান্টিক মহাসাগরে পতিত হয়।
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম নদী ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত।
- এই নদীর উৎপত্তি ঘটে পেরুর আন্দিজ পর্বতমালা থেকে।
- এর প্রবাহ দক্ষিণ আমেরিকার একাধিক দেশ অতিক্রম করে- যার মধ্যে কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং বিশেষভাবে ব্রাজিল অন্তর্ভুক্ত।

উল্লেখ্য,
- আয়তন ও জলপ্রবাহের দিক থেকে এটি বিশ্বের বৃহত্তম নদী।
- মহাকাশ থেকেও এর বাদামী জলের ধারা দেখা যায়, যা আটলান্টিকের নীল জলের সঙ্গে মিশে যায়।
- এর অববাহিকা (watershed) পৃথিবীর সবচেয়ে বড়।
- এছাড়া এর প্রবাহের আয়তন এবং অববাহিকার ক্ষেত্রফলের দিক থেকে এটি বিশ্বের বৃহত্তম নিষ্কাশন ব্যবস্থা।
-------------------------------
অন্যদিকে, 
• ব্রাজিলে নদ-নদীর সংখ্যা অনেক এবং এগুলো দেশের ভূপ্রকৃতি ও জলব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

• ইগুয়াসু নদী- বিশ্ববিখ্যাত ইগুয়াসু জলপ্রপাতের জন্য পরিচিত।

• প্যারাগুয়ে নদী- প্যারাগুয়ে–পারানা–প্লাটা নদী ব্যবস্থার একটি অংশ।
- এটি দক্ষিণ ব্রাজিলের বিস্তীর্ণ এলাকার পানি নিষ্কাশনে সহায়তা করে এবং নৌপরিবহনে ভূমিকা রাখে।

• রিও নেগ্রো- আমাজন নদীর বৃহত্তম বাম উপনদী।
- এটি বিপুল পরিমাণ পানি আমাজন নদীতে সরবরাহ করে এবং আমাজন অববাহিকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

উৎস: Britannica.

২৪১.
ডেড সী কোন দেশে অবস্থিত?
  1. জর্ডান
  2. ইসরাইল
  3. ইরান
  4. ক + খ
সঠিক উত্তর:
ক + খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক + খ
ব্যাখ্যা
• ডেড সি:
- ডেড সি, যা লবণ সাগর নামেও পরিচিত।
- এটি একটি লবণাক্ত হ্রদ যা দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায়, জর্ডান এবং ইসরায়েল এর মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।
-  সমুদ্রপৃষ্ঠের চেয়ে ৪৩০.৫ মিটার নিচে অবস্থিত,
- যা একে পৃথিবীর সবচেয়ে নিম্নভূমির স্থলভাগ হিসেবে পরিচিত।
- এর লবণাক্ততা সাধারণ সমুদ্রের চেয়ে প্রায় দশ গুণ বেশি।
- এই হ্রদের একটি প্রধান পানির উৎস হলো জর্ডান নদী,
- তবে এর কোনো প্রাকৃতিক নিষ্কাশন পথ নেই।
- ফলে এটি প্রধানত বাষ্পীভবনের মাধ্যমে পানি হারায়।
-  এই হ্রদে জীবনের অস্তিত্ব প্রায় নেই।
- শুধুমাত্র শৈবাল এবং কিছু আণুবীক্ষণিক জীব ছাড়া আর কিছু বেঁচে থাকতে পারে না।
 
উৎস: World Atlas. 
২৪২.
দেশের দীর্ঘতম নদী পদ্মা কয়টি জেলা দিয়ে প্রবাহিত হয়?
  1. ১০টি
  2. ১১টি
  3. ১২টি
  4. ১৩টি
সঠিক উত্তর:
১২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২টি
ব্যাখ্যা
পদ্মা নদী:
- পদ্মার অপর নাম কীর্তিনাশা।
- ভারতের মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে গঙ্গা নদীর উৎপত্তি।
- রাজশাহীর কাছে কুষ্টিয়ার উত্তর প্রান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- তারপর গোয়ালন্দে যমুনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- এই মিলিত ধারা পদ্মা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরে মেঘনার সাথে মিলিত হয়েছে।
- অতঃপর তিন নদীর মিলিত স্রোত বঙ্গোপসাগরে ঢুকেছে।
- শাখা নদী: মধুমতী, আড়িয়াল খাঁ, ভৈরব, মাথাভাঙা, কুমার, কপোতাক্ষ, শিবসা, পশুর (বা পসুর) বড়াল প্রধান।
- উপনদী: মহানন্দা, ট্যাঙ্গন, পুনর্ভবা, নগর, কুলিক।

উল্লেখ্য,
- দেশের দীর্ঘতম নদী পদ্মা।
- দেশের তিন বিভাগের ১২টি জেলায় প্রবাহিত নদীটির দৈর্ঘ্য ৩৪১ কিলোমিটার।

অন্যদিকে,
- দেশের ২য় দীর্ঘতম নদী ইছামতী নদী (দৈর্ঘ্য ৩৩৪ কি.মি.)।
- দেশের ৩য় দীর্ঘতম নদী সাঙ্গু বা শঙ্খ নদী (দৈর্ঘ্য ২৯৪ কি.মি.)।

এছাড়াও,
- ‘বাংলাদেশ নদ-নদী: সংজ্ঞা ও সংখ্যাবিষয়ক বই’ অনুসারে,
- দেশে বর্তমানে নদ-নদীর সংখ্যা ১০০৮টি।
- দেশে নদীপথ রয়েছে: ২২ হাজার কি.মি.।
- দেশের ক্ষুদ্রতম নদী: গাঙ্গিনা নদী (দৈর্ঘ্য ০.০৩২ কি.মি.)।
- সবচেয়ে বেশি উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত নদী মেঘনা (৩৬টি উপজেলা)।
- সবচেয়ে বেশি নদ-নদী রয়েছে ঢাকা বিভাগে, ২২২টি।
- সবচেয়ে বেশি নদী রয়েছে সুনামগঞ্জ জেলায়, ৯৭টি।

উৎস: i) নদী গবেষণা ইন্সটিটিউট।
           ii) ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, প্রথম আলো।
২৪৩.
বাংলাদেশে শীতল পানির ঝর্ণা কোথায় অবস্থিত?
  1. রাঙ্গামাটি
  2. সীতাকুণ্ড
  3. কক্সবাজার
  4. মৌলভীবাজার
সঠিক উত্তর:
কক্সবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ঝর্ণা:
- বাংলাদেশের একমাত্র শীতল পানির ঝর্ণা কক্সবাজার হিমছড়িতে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের একমাত্র উষ্ণ পানির ঝর্ণা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত।
- মৌলভীবাজার জেলার অন্যতম আকর্ষণ হামহাম ঝর্ণা।
- রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য শুভলং ঝর্ণা।
- খাগড়াছড়ি জেলার প্রখ্যাত ঝর্ণা রিসাং ঝর্ণা।
- বান্দরবান জেলার পরিচিত জলপ্রপাত শৈলপ্রপাত ঝর্ণা।
- খাগড়াছড়ি জেলার আরেকটি সুন্দর ঝর্ণা তৈদুছড়া ঝর্ণা।

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইট।
২৪৪.
The longest river in the country -
  1. Padma
  2. Meghna
  3. Jamuna
  4. Ichamati
সঠিক উত্তর:
Padma
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Padma
ব্যাখ্যা
 দেশের দীর্ঘতম নদী:
- দেশের দীর্ঘতম নদী পদ্মা।
- দেশের তিন বিভাগের ১২টি জেলায় প্রবাহিত নদীটির দৈর্ঘ্য ৩৪১ কিলোমিটার।

উল্লেখ্য,
- দেশে বর্তমানে জীবন্ত নদ-নদীর সংখ্যা ১০০৮টি।
- সব মিলিয়ে দেশে ২২ হাজার কিলোমিটারের দীর্ঘ নদীপথ রয়েছে।
- দেশে বর্তমানে ২০০ কিলোমিটারের বেশি নদী রয়েছে ১৪টি।
- এক কিলোমিটারের‌ও কম দৈর্ঘ্যের নদী রয়েছে ৪১টি।
- নদ-নদীর এই তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে। 
- সবচেয়ে বেশি নদী রয়েছে সুনামগঞ্জ জেলায়, ৯৭টি।
- ৯ আগস্ট নদী রক্ষা কমিশন তাদের ওয়েবসাইটে ৯০৭টি নদ-নদীর খসড়া তালিকা প্রকাশ করে।
- কমিশনে জমা পড়া সব মতামত ও আপত্তি নিষ্পত্তি করে ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ তারিখে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়, যেখানে নদীর সংখ্যা বেড়েছে ১০১টি।

উৎস: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, কালের কন্ঠ।
২৪৫.
ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার মিলনস্থল কোথায়?
  1. কুড়িগ্রাম
  2. রাজবাড়ি
  3. হবিগঞ্জ
  4. কিশোরগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
কুড়িগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুড়িগ্রাম
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন নদীর মিলনস্থল:
ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার মিলনস্থল - চিলমারি (কুড়িগ্রাম),
পদ্মা ও যমুনার মিলনস্থল - গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী),
পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার বিভক্তি হয়েছে - দেওয়ানগঞ্জে,
সুরমা ও কুশিয়ারার মিলনস্থল - আজমিরিগঞ্জ (হবিগঞ্জ),
পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার মিলনস্থল - ভৈরববাজার (কিশোরগঞ্জ)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২৪৬.
'বগা লেক' কোন জেলায়?
  1. সিলেট
  2. কুমিল্লা
  3. নেত্রকোনা
  4. বান্দরবান
সঠিক উত্তর:
বান্দরবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বান্দরবান
ব্যাখ্যা

- বগাকাইন হ্রদ বা বগা লেক বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উচ্চতার স্বাদু পানির একটি হ্রদ। 
- বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে বগা লেকের  অবস্থান কেওকারাডং পর্বতের গা ঘেষে, রুমা উপজেলায়।

• দেশের অন্যান্য লেকসমূহ হলো:
- কাপ্তাই লেক: রাঙামাটি -
- বগা লেক: বান্দরবান
- মহামায়া লেক: চট্টগ্রাম
- ফয়'স লেক: চট্টগ্রাম
- ভাটিয়ারি লেক: চট্টগ্রাম।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২৪৭.
নিচের কোন নদী মেঘনার উপনদী?
  1. ডাকাতিয়া
  2. জাঙ্গালিয়া
  3. গোমতী
  4. বংশী
সঠিক উত্তর:
গোমতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোমতী
ব্যাখ্যা
মেঘনা (Meghna):
- ভারতের আসাম রাজ্যের নাগা-মনিপুর পার্বত্য অঞ্চলে উৎপন্ন বরাক নদী সিলেট সীমান্তে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে দুইটি শাখায় বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- সুরমা, কুশিয়ারা ও কালনী নদীর মিলিত প্রবাহ কালনী নামে কিছুদূর অগ্রসর হয়ে মেঘনা নাম ধারণ করেছে।
- মেঘনা নদী কিশোরগঞ্জের ভৈরববাজারের নিকট পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রবাহিত হয়েছে।
- চাঁদপুরের কাছে পদ্মার সাথে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে আরও দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- মেঘনার উল্লেখযোগ্য উপনদী হলো মনু, বাউলাই, তিতাস, গোমতী, কাসনি।
- মেঘনার শাখানদী জাঙ্গালিয়া ও ডাকাতিয়া।
- বাংলাদেশের মেঘনা বিধৌত অঞ্চলের আয়তন প্রায় ২৯,৭৮৫ বর্গকিলোমিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৮.
নীল নদের উৎপত্তির স্থান কোনটি?
  1. বৈকাল হ্রদ
  2. লেক ভিক্টোরিয়া
  3. আল্পস পর্বতমালা
  4. মালাউই হ্রদ
সঠিক উত্তর:
লেক ভিক্টোরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লেক ভিক্টোরিয়া
ব্যাখ্যা
নীল নদ:
- অবস্থান: আফ্রিকা মহাদেশে।
- এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী।
- এর দৈর্ঘ্য: ৬৬৫০ কি.মি।
- নীল নদের উৎস: লেক ভিক্টোরিয়া।
- বিভিন্ন দেশ হয়ে ভূ-মধ্যসাগরে নীল নদ পতিত হয়।
- নীলনদ ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নীল নদের অববাহিকা মিশর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, উগান্ডা এবং তানজানিয়া জুড়ে বিস্তৃত।
- এই নদ দুটি উপনদী নিয়ে গঠিত:
• সাদা নীল।
• নীল নীল।

তথ্যসূত্র - Britannica.com & Worldatlas.com
২৪৯.
নীল নদ কয়টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে?
  1. ১০ টি
  2. ১১ টি
  3. ৯ টি
  4. ৮ টি
সঠিক উত্তর:
১১ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ টি
ব্যাখ্যা
• নীল নদ:
- নীল নদীকে আফ্রিকার "পিতামহ" হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- এবং এটি আফ্রিকা ও বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘতম নদী হিসেবে পরিচিত।
- তবে, কিছু গবেষক দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন নদীকে বিশ্বের দীর্ঘতম নদী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
- আফ্রিকার মোট ভূমির প্রায় ১০%।
- এই নদী ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- কেনিয়া, উগান্ডা, তানজানিয়া, মিশর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইথিওপিয়া, রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো এবং ইরিত্রিয়া

→ উৎস ও প্রধান শাখা:
- নীল নদ দুটি প্রধান শাখা নিয়ে গঠিত:​
• হোয়াইট নাইল (White Nile):
- এটি রুয়ান্ডা ও বুরুন্ডির উচ্চভূমি থেকে উৎপন্ন হয়।​
• ব্লু নাইল (Blue Nile):
- এটি ইথিওপিয়ার লেক তানা থেকে উৎপন্ন হয়।​
- এই দুটি শাখা খার্তুমে মিলিত হয়ে নীল নদ গঠন করে।
- যা মিশরের নীল ডেল্টার মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরে পতিত হয়।

উৎস: World Atlas.
২৫০.
নিচের কোনটি প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্তিত?
  1. বারমুডা
  2. সলোমান দ্বীপপুঞ্জ
  3. মালাগাছি
  4. দিয়াগো গার্সিয়া
সঠিক উত্তর:
সলোমান দ্বীপপুঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সলোমান দ্বীপপুঞ্জ
ব্যাখ্যা
প্রশান্ত মহাসাগর:
- পাপুয়া নিউ গিনি, হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ, নিউজিল্যান্ড, ফিলিপাইন, পালাউ, নাউরু, তাহিতি, ফিজি, সলোমান দ্বীপপুঞ্জ ইত্যাদি প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্তিত।

এছাড়াও, 
ভারত মহাসাগর:
- মাদাগাস্কার, সিসিলি, মরিশাস, দিয়াগো গার্সিয়া, মালদ্বীপ, আন্দামান ও নিকোবর, মালাগাছি ইত্যাদি ভারত মহাসাগরে অবস্তিত।

আটলান্টিক মহাসাগর:
- যুক্তরাজ্য, বাহামা, বারমুডা, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, জ্যামাইকা, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, কিউবা ইত্যাদি আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্তিত।

সূত্র: Britannica.
২৫১.
বিশ্বের ক্ষুদ্রতম সাগর কোনটি?
  1. দক্ষিণ চীন সাগর
  2. মারমারা সাগর
  3. বাল্টিক সাগর
  4. কৃষ্ণ সাগর
সঠিক উত্তর:
মারমারা সাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মারমারা সাগর
ব্যাখ্যা
মারমারা সাগর:
- পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম সাগর হলো মারমারা সাগর।
- এটি মাত্র ১৭৫ মাইল (২৮০ কিমি) দীর্ঘ এবং প্রায় ৫০ মাইল (৮০ কিমি) প্রশস্ত।
- মোট ভূপৃষ্ঠের আয়তন মাত্র ৪৩৮২ বর্গ মাইল (১১৩৫০ বর্গ কিমি)।
- এর গড় গভীরতা ১৬২০ ফুট (৪৯৪ মিটার) এবং কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৪৪৪৬ ফুট (১৩৫৫ মিটার) গভীরতা।
- এটি তুরস্কে অবস্থিত.
- মারমারা সাগর বসফরাস প্রণালি ও দার্দানেলিস প্রনালীর মাধ্যমে কৃষ্ণসাগর ও এজিয়ান সাগরের সাথে যুক্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- পৃথিবীর বৃহত্তম সমুদ্র হলো দক্ষিণ চীন সাগর প্রায় ৩,৫০০,০০০ বর্গ কিলোমিটার। এটি চীন, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং ভিয়েতনাম সীমান্তে অবস্থিত।

উৎস: i) Guinness World Records ওয়েবসাইট। [link]
ii) Britannica. 
২৫২.
নদীখাতের দুই তীরের মধ্যবর্তী দূরত্বকে কী বলা হয়?
  1. গভীরতা
  2. প্রস্থ
  3. ঢাল
  4. সীমানা
সঠিক উত্তর:
প্রস্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রস্থ
ব্যাখ্যা
প্রতিটি নদী একটি খাতে প্রবাহিত হয়ে এবং এ প্রবাহ নিম্নোক্ত নিয়ম বা বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়।
যেমন- নদীর প্রস্থ ,গভীরতা, ঢাল, বেগ ও পানির ধারণকৃত অংশের সীমানা দ্বারা প্রভাবিত।
১. প্রস্থ : নদীখাতের দুই তীরের মধ্যবর্তী দূরত্ব। এটি মিটারে প্রকাশ করা হয়।
২. গভীরতা : একটি নদীখাতের তলদেশ থেকে খাড়াভাবে পানির ওপর পর্যন্ত দূরত্ব, যা মিটারে প্রকাশ করা হয়।
৩. ঢাল : অনুভূমিক ও নদীতলের কৌণিক অবস্থান।
৪. বেগ : নদীখাতে যে গতিতে পানি প্রবাহিত হয় তাকে বেগ বলে। নদীর বেগ উপরিভাগে সবচেয়ে বেশি এবং দুই তীর ও তল বরাবর ঘর্ষণের কারণে কম হয়।
৫. পানির ধারণকৃত অংশের সীমানা : নদীখাত এবং পানির সংযােগরেখার দৈর্ঘ্য।

উৎস: ব্যাচেলর অফ এডুকেশন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৩.
‘পার্পল লাইন' কোন দুই দেশের যুদ্ধবিরতি রেখা?
  1. ফ্রান্স ও জার্মানি
  2. সিরিয়া ও ইসরাইল
  3. ইসরাইল ও লেবানন
  4. মিশর ও জর্ডান
সঠিক উত্তর:
সিরিয়া ও ইসরাইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরিয়া ও ইসরাইল
ব্যাখ্যা
গোলান মালভূমি:
- ১১৫০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের একটি মালভূমি যা গোলান পর্বতমালার অংশ।
- এটি সিরিয়া-ইসরাইল সীমান্তে অবস্থিত।
- ১৯৬৭ সালের তৃতীয় আরব-ইসরাইল যুদ্ধে ইসরাইল গোলান মালভূমির দুই-তৃতীয়াংশ দখল করে নেয়।
- পরবর্তীতে, ১৯৭৩ সালে চতুর্থ আরব-ইসরাইল যুদ্ধে ইসরাইল এটি ফেরত দেয়।
- গোলান মালভূমিতে সিরিয়া-ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি রেখা ‘পার্পল লাইন' নামে পরিচিত।

অন্যদিকে -
- সিগফ্রিড লাইন ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে নিরুপিত সীমারেখা।
- ব্লু লাইন ইসরাইল এবং লেবাননের মধ্যকার সীমারেখা।
- গ্রিন লাইন ইসরাইল ও তার পার্শ্ববর্তী দেশ (ইজিপ্ট, জর্ডান, লেবানন এবং সিরিয়া) এর মধ্যে অবস্থিত সীমারেখা। 

উৎস: Britannica.
২৫৪.
পারস্য উপসাগরের দীর্ঘতম উপকূলরেখা রয়েছে কোন দেশের সাথে?
  1. ইরান
  2. ইরাক
  3. বাহরাইন
  4. কুয়েত 
সঠিক উত্তর:
ইরান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরান
ব্যাখ্যা

পারস্য উপসাগর :
- ভূমধ্যসাগরীয় সমুদ্র পারস্য উপসাগর ভারত মহাসাগরের অংশ।
- পারস্য উপসাগর কয়েকটি দেশ দ্বারা বেষ্টিত, যার মধ্যে উত্তরে ইরান, এবং উত্তর-পশ্চিমে বাহরাইন, ইরাক এবং কুয়েত রয়েছে।
- দক্ষিণে, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, অবস্থিত।
- এর উপকুলরেখা প্রায় ৫,১১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ।
- পারস্য উপসাগরের দীর্ঘতম উপকূলরেখা (১,৫৩৬ কিলোমিটার) রয়েছে ইরানের সাথে।

উল্লেখ্য,
- এটি পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত।
- এটি ওমান উপসাগরের একটি সম্প্রসারিত অংশ এবং পূর্বে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে ভারত মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত।
- পারস্য উপসাগরকে আরব উপসাগর বা ইরান উপসাগরও বলা হয়।
- এটির আয়তন প্রায় ২,৫১,০০০ বর্গ কিলোমিটার।
- সর্বোচ্চ গভীরতা ৯০ মিটার
- এর গড় গভীরতা ৫০ মিটার।

 উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

২৫৫.
গভীর সমুদ্রখাতের গড় গভীরতা সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে কত মিটার?
  1. ক) ৫,১০০ মিটারের অধিক
  2. খ) ৫,২০০ মিটারের অধিক
  3. গ) ৫,৪০০ মিটারের অধিক
  4. ঘ) ৫,৫০০ মিটারের অধিক
সঠিক উত্তর:
গ) ৫,৪০০ মিটারের অধিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৫,৪০০ মিটারের অধিক
ব্যাখ্যা
• গভীর সমুদ্রখাত :
- মহাসাগরের তলদেশে বিভিন্ন স্থানে গভীর খাত থাকে। এইগুলিকে গভীর সমুদ্রখাত বলে।
- গভীর সমুদ্র খাতগুলো সাধারণত আগ্নেয়গিরি, ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অধিক দেখতে পাওয়া যায়।
- গভীর সমুদ্র খাতের গড় গভীরতা সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে ৫,৪০০ মিটারের অধিক।
- সমুদ্রতলে মোট সাতান্নটি গভীর সমুদ্রখাত রয়েছে।
- প্রশান্ত মহাসাগরেই গভীর সমুদ্রখাতের সংখ্যা অধিক।
- নিউগিনির উত্তর দিকে অবস্থিত প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা খাত পৃথিবীর মধ্যে গভীরতম সমুদ্র খাত এর গড় গভীরতা প্রায় ১০,৮৭০ মিটার।
- আটলান্টিক মহাসাগরের পোর্টোরিকো খাত (৮,৫৩৮ মিটার) উল্লেখযোগ্য।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৬.
এঞ্জেল জলপ্রপাত কোথায় অবস্থিত? 
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. জিম্বাবুয়ে
  3. আর্জেন্টিনা 
  4. ভেনিজুয়েলা
সঠিক উত্তর:
ভেনিজুয়েলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেনিজুয়েলা
ব্যাখ্যা
এঞ্জেল জলপ্রপাত:
- অবস্থান: বলিভার রাজ্য, ভেলিজুয়েলা। 
- উচ্চতা: পৃথিবীর সর্বোচ্চ জলপ্রপাত, ৩,২১২ ফুট (৯৭৯ মিটার) উচ্চতা।
- প্রশস্ততা: ৫০০ ফুট (১৫০ মিটার) প্রস্থ।
- ভেনেজুয়েলার রিও কারোনি নদীর উপর অবস্থিত । 
 - বিশেষত্ব: পৃথিবীর উচ্চতম জলপ্রপাত।
- আমেরিকান অভিযাত্রিক জেমস অ্যাঞ্জেল ১৯৩০ সালে বহিরাগত হিসেবে এটি প্রথম দেখতে পান।
- নতুন নাম: ২০০৯ সালে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজ আদিবাসী ভাষায় "কেরেপাকুপাই মেরু" নামকরণের প্রস্তাব দেন।
- অবস্থান: কানাইমা ন্যাশনাল পার্কে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
২৫৭.
সাগরের তলদেশে বাংলাদেশের কতটুকু পর্যন্ত মহীসোপান রয়েছে?
  1. ১২ নটিক্যাল মাইল
  2. ১৩০ নটিক্যাল মাইল
  3. ২০০ নটিক্যাল মাইল
  4. ৩৫০ নটিক্যাল মাইল
সঠিক উত্তর:
৩৫০ নটিক্যাল মাইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৫০ নটিক্যাল মাইল
ব্যাখ্যা
 বাংলাদেশের মহীসোপান:
- উপকূল থেকে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সাগরের তলদেশে বাংলাদেশের মহীসোপান রয়েছে (১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার)। অর্থাৎ বাংলাদেশের উপকূলীয় ভূখণ্ড সমুদ্রে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে, যার ভৌগোলিক নাম মহীসোপান।

উল্লেখ্য,
⇒ মিয়ানমার ও ভারতের দাবিকৃত সমদূরত্ব পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ১৩০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে সীমাবন্ধ হয়ে পড়েছিল।
-তাতে বাংলাদেশ পেত ৫০,০০০ বর্গকিলোমিটারের কম জলসীমা।
 ⇒ বঙ্গোপসাগরের জলসীমা নির্ধারণ ও সমুদ্র সম্পদের উপর অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ১৪ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সালে মিয়ানমারের বিপক্ষে জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত সমুদ্র আইন বিষয়ক ট্রাইব্যুনালে এবং ভারতের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত সালিশ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করে।
⇒ বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গত ১৪ই মার্চ, ২০১২ সালে বাংলাদেশ-মিয়ানমার মামলায় আন্তর্জাতিক আদালত বাংলাদেশের ন্যায্যভিত্তিক দাবির পক্ষে ঐতিহাসিক রায় পায়।
-এ রায়ের ফলে বাংলাদেশ প্রায় এক লক্ষ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি জলসীমা পেয়েছে।
 ⇒ এ রায়ের মাধ্যমে সেন্টমার্টিন্স দ্বীপকে উপকূলীয় বেজলাইন ধরে ১২ নটিক্যাল মাইল রাষ্ট্রাধীন সমুদ্র এলাকা (Territorial sea) এবং ২০০ নটিক্যাল মাইল একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল বা একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল (Exclusive economic zone) পেয়েছে।
- প্রাপ্ত এই জলরাশি ও তলদেশে এবং তার বাইরে মহীসোপান এলাকার সকল খনিজ সম্পদে বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার নিশ্চিত হয়েছে।
 ⇒ এই হিসেবে উপকূল থেকে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সাগরের তলদেশে বাংলাদেশের মহীসোপান রয়েছে (১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার)। অর্থাৎ বাংলাদেশের উপকূলীয় ভূখণ্ড সমুদ্রে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে, যার ভৌগোলিক নাম মহীসোপান।

সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২৫৮.
পৃথিবীর গভীরতম সমুদ্রখাত কোনটি?
  1. পুয়ের্তো রিকো ট্রেঞ্চ
  2. স্যান্ডউইচ ট্রেঞ্চ
  3. মারিয়ানা ট্রেঞ্চ
  4. আর্কটিক বেসিন
সঠিক উত্তর:
মারিয়ানা ট্রেঞ্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মারিয়ানা ট্রেঞ্চ
ব্যাখ্যা
•  প্রশান্ত মহাসাগর (Pacific Ocean): 
- ইংরেজি "প্যাসিফিক" মানে "শান্তিপূর্ণ"।
- কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বড় বড় এবং শক্তিশালী ঝড় এ মহাসাগরের মাধ্যমে সৃষ্ট।
- এর সমুদ্রতলে হাজার হাজার আগ্নেয়গিরি আছে, প্রায়ই বড় বড় ভূমিকম্প ঘটে।
- পৃথিবীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে এ মহাসাগর অবস্থিত।
- সাতটি মহাদেশের একত্রিত ভাবে যে আয়তন তার থেকে এ মহাসাগরের আয়তন বেশি।
- এটি পৃথিবীর জলভাগের প্রায় ৪৬% এলাকা জুড়ে অবস্থিত।
- প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তর-পশ্চিমে মারিয়ানা ট্রেঞ্চ (Mariana Trench) পৃথিবীর গভীরতম সমুদ্রখাত যার গভীরতা প্রায় ১১,০৩৩ মিটার।

• সর্বোচ্চ গভীরতম স্থান:
- মারিয়ানা ট্রেঞ্চ (Mariana Trench) গভীরতা:  প্রায় ১১,০৩৩ মিটার;
- পুয়ের্তো রিকো ট্রেঞ্চ (Puerto Rico Trench) গভীরতা: প্রায় ৯,২১৯ মিটার;
- সুন্ডাখাদ/জাভাখাদ (Sunda Trench) গভীরতা: প্রায় ৭,৭২৫ মিটার;
- স্যান্ডউইচ ট্রেঞ্চ (Sandwich trench) গভীরতা: প্রায় ৭,২৩৫ মিটার;
- ইউরেশিয়ান/আর্কটিক বেসিন (Arctic Basin) গভীরতা: প্রায় ৫,৪৫০ মিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বি এড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৯.
কাস্পিয়ান সাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলির মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. আজারবাইজান
  2. তুরস্ক
  3. ইরান
  4. রাশিয়া
সঠিক উত্তর:
তুরস্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুরস্ক
ব্যাখ্যা
তুরস্ক কাস্পিয়ান সাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।

কাস্পিয়ান সাগর:

- কাস্পিয়ান সাগর (Caspian Sea) হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আন্তঃমহাদেশীয় হ্রদ।
- এটি সাগরের মতো দেখতে হলেও এটি প্রকৃতপক্ষে একটি হ্রদ।
- এটি এশিয়া এবং ইউরোপের মাঝে অবস্থিত।
- আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম লবণাক্ত পানির হ্রদ।
- কাস্পিয়ান সাগরের আয়তন ৩,৮৬,৪০০ বর্গ কিলোমিটার।
- প্রধান নদী: ভলগা, ইউরাল, কুরা ও তেরেক নদী এতে পানি সরবরাহ করে।

⇒ এটি পাঁচটি দেশের সীমান্তে অবস্থিত: রাশিয়া, কাজাখস্তান, আজারবাইজান, ইরান এবং তুর্কমেনিস্তান।
- এটি এশিয়া-ইউরোপের মাঝে, ককেসাস পর্বতমালার পূর্বে এবং স্তেপ ও মধ্য এশিয়ার পশ্চিমে অবস্থিত।

উৎস: World Atlas. [link]
২৬০.
৪৯° উত্তর অক্ষরেখা কোন দুটি দেশকে পৃথক করেছে?
  1. উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া
  2. ভারত ও পাকিস্তান
  3. চীন ও রাশিয়া
  4. যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা
ব্যাখ্যা
- যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা: ৪৯° উত্তর অক্ষরেখা
- উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া : ৩৮° উত্তর অক্ষরেখা
- ভারত ও পাকিস্তান : ২৪° উত্তর অক্ষরেখা
- উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম : ১৭° উত্তর অক্ষরেখা
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
২৬১.
বারমুডা ট্রায়াঙ্গল কোন মহাসাগরে অবস্থিত? 
  1. প্রশান্ত মহাসাগরে 
  2. ভারত মহাসাগরে 
  3. দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে 
  4. উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে 
সঠিক উত্তর:
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে 
ব্যাখ্যা

বারমুডা ট্রায়াঙ্গল:
- ‍উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে মায়ামি, বারমুডা ও পুয়ের্তো রিকোবেষ্টিত সমুদ্রের বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে থাকা বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের গভীরে একটি অস্বাভাবিক পুরু শিলাস্তর শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা।
- প্রায় ২০ কিলোমিটার পুরু শিলাস্তরটি বারমুডার নিচের টেকটোনিক প্লেটের ভেতরে অবস্থিত।
- বিজ্ঞানীরা মনে করেন, প্রাচীন প্যানজিয়া মহাদেশ ভেঙে যাওয়ার সময়কার ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার ফলে এই স্তরটি তৈরি হয়েছিল।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

২৬২.
পৃথিবীর গভীরতম স্থান?
  1. ক) ম্যারিয়ানা ট্রেঞ্চ
  2. খ) ডেড সী
  3. গ) বৈকাল হ্রদ
  4. ঘ) প্রশান্ত মহাসাগর
সঠিক উত্তর:
ক) ম্যারিয়ানা ট্রেঞ্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ম্যারিয়ানা ট্রেঞ্চ
ব্যাখ্যা
মারিয়ানা ট্রেঞ্জ (Mariana Trench):
- মারিয়ানা ট্রেঞ্জ হচ্ছে - বিশ্বের গভীরতম স্থান।
- এর অবস্থান হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ ও ফিলিপাইনের মধ্যবর্তী প্রশান্ত মহাসাগরে।
- এর নামকরণ করা হয় নিকটবর্তী মারিয়ানা দ্বীপ ও অস্ট্রিয়ার তৎকালীন রানী মারিয়ানার নামে।

- মারিয়ানা ট্রেঞ্জের গভীরতা মাপার উদ্যোগ নেয়া হয় ১৮৭৫ সালে।
- তৎকালীন ব্রিটিশ জরিপ পরিচালনাকারী জাহাজ - HMS Challenger। তখন গভীরতা নির্ণয় করা হয় - ২৬,৮৫০ ফুট।
- পরবর্তীতে আরো কয়েকদফা মাপার পর ২০১০ সালে এর সর্বোচ্চ গভীরতা মাপা হয় - ৩৬,০৭০ ফুট। বর্তমানে এই গভীরতাই গ্রহণযোগ্য।
- এর গভীরতম অংশকে Challenger Deep বলা হয়।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস, ব্রিটানিকা ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফি ওয়েবসাইট।
২৬৩.
দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র—
  1. মেঘনা নদী
  2. হালদা নদী
  3. ইছামতি নদী
  4. হাকালুকি হাওর
সঠিক উত্তর:
হালদা নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হালদা নদী
ব্যাখ্যা

• হালদা নদী: 
- হালদা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম জেলার একটি নদী।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বাটনাতলী পাহাড়ি এলাকা থেকে উৎসারিত হয়ে ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তরপূর্ব কোণ দিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় প্রবেশ করেছে। 
- বাংলাদেশে প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষিত- হালদা নদী। 
- হালদা নদী হলো দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র।
- প্রতিবছর এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে হালদা নদীতে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউসের মতো কার্প জাতীয় মাতৃমাছ প্রচুর পরিমাণ ডিম ছাড়ে।  
- হালদার প্রধান উপনদী ধুরুং খুবই খরস্রোতা।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২৬৪.
জার্মানি কর্তৃক জার্মান-ফ্রান্স সীমান্তে নির্মিত সুরক্ষিত সীমারেখা কোনটি?
  1. ক) ম্যাজিনো লাইন
  2. খ) সিগফ্রিড লাইন
  3. গ) ওডারনিস লাইন
  4. ঘ) হিন্ডারবার্গ লাইন
সঠিক উত্তর:
খ) সিগফ্রিড লাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সিগফ্রিড লাইন
ব্যাখ্যা
সিগফ্রিড লাইন, জার্মানির পশ্চিম সীমান্তে ১৯৩০-এর দশকে নির্মিত হয়েছিল। এটি জার্মানি কর্তৃক জার্মান-ফ্রান্স সীমান্তে নির্মিত সুরক্ষিত সীমারেখা। এছাড়া জার্মান আক্রমণ হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য ফ্রান্স কর্তৃক জার্মান-ফ্রান্স সীমান্তে নির্মিত সুরক্ষিত সীমারেখা ম্যাজিনো লাইন; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যে নিরূপতি সীমারেখা ওডারনিস লাইন; এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যে নিরূপতি সীমারেখা হিন্ডারবার্গ লাইন। সূত্র- ব্রিটানিকা।
২৬৫.
'গুয়ানতানামো বে' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) কানাডা
  2. খ) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  3. গ) কিউবা
  4. ঘ) হাইতি
সঠিক উত্তর:
গ) কিউবা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কিউবা
ব্যাখ্যা
গুয়ানতানামো বে:
- গুয়ানতানামো বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি কারাগার।
- ১৯০৩ সালে হাভানা চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার নিকট থেকে এটি ইজারা নেয়।
- কারাগারটি ২০০২ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূ-খণ্ডের বাইরে কিউবার দক্ষিণ-পূর্ব পাশে ক্যারিবীয় সাগরে এর অবস্থান।
- এই কারাগার বন্দীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতনের জন্য কুখ্যাত।
- ক্যাম্প সেভেন হলো কিউবায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের গুয়ানতানামো বে কারাগারের একটি সুরক্ষিত ও গোপনীয় বন্দি শিবির।
- এই শিবিরে ৯/১১ হামলার সাথে জড়িত ও সিআইয়ের অন্যান্য শীর্ষ স্থানীয় অপরাধীদের আটকে রাখা হতো।
- যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিভাগ এই ক্যাম্পটি বন্ধের ঘোষণা দেয়।

উৎস: Britannica.
২৬৬.
যমুনার প্রধান উপনদী-
  1. ধরলা 
  2. শীতলক্ষা
  3. আড়িয়াল খাঁ 
  4. করতোয়া 
সঠিক উত্তর:
করতোয়া 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করতোয়া 
ব্যাখ্যা

- যমুনা নদীর প্রধান উপনদী -  করতোয়া ও আত্রাই।

অন্যদিকে,
- ব্রহ্মপুত্র নদের প্রধান উপনদী - ধরলা ও তিস্তা।
- ব্রহ্মপুত্র নদের প্রধান শাখানদী -  বংশী ও শীতলক্ষা
-  পদ্মা নদীর প্রধান শাখা নদী -  কুমার, মাথাভাঙা, ভৈরব, গড়াই, মধুমতী, আড়িয়াল খাঁ ।

উৎস: ভূগোল পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

২৬৭.
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য কত?
  1. ১০ কিলোমিটার
  2. ১৫ কিলোমিটার
  3. ১৮ কিলোমিটার
  4. ২৫ কিলোমিটার
সঠিক উত্তর:
১৮ কিলোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত:
- 'সাগরকন্যা' নামে পরিচিত 'কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত'।
- ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সৈকত বিশিষ্ট কুয়াকাটা বাংলাদেশের অন্যতম নৈসর্গিক সমুদ্র সৈকত।
- এটি বাংলাদেশের একমাত্র সৈকত যেখান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দুটোই দেখা যায়।
- অবস্থান: পটুয়াখালী জেলা।
- পটুয়াখালী সদর থেকে দূরত্ব: ৭০ কিলোমিটার।
- নারিকেল কুঞ্জ নামে সমুদ্র সৈকতের পাশে দেড় শতাধিক একর নারিকেল বাগান রয়েছে। 

উৎস: পটুয়াখালী জেলার ওয়েবসাইট।

২৬৮.
গ্রেট বেরিয়ার রিফ কোন দেশের অন্তর্গত?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. কানাডা
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. নিউজিল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রেলিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা
গ্রেট বেরিয়ার রিফ:
- গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ হলো পৃথিবীর বৃহত্তম ও দীর্ঘতম প্রবাল প্রাচীর।
- এটি ২৯০০ এর বেশি একক রিফের সমন্বয়ে গঠিত।
- রিফটি অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের উপকূল ঘেঁষা প্রশান্ত মহাসাগরের কোরাল সাগরে অবস্থিত।
- UNESCO এটিকে ১৯৮১ সালে বিশ্ব হেরিটেজ সাইটেও অন্তর্ভুক্ত করে।

⇒ প্রশান্ত মহাসাগর দক্ষিণে অ্যান্টার্কটিক অঞ্চল থেকে উত্তরে আর্কটিক বৃত্ত পর্যন্ত বিস্তৃত।
- পশ্চিমে এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ এবং পূর্বে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যে অবস্থিত।
- পৃথিবীর বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
- প্রশান্ত মহাসাগর পৃথিবীর পৃষ্ঠের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে রয়েছে।

উৎস: World Atlas.
২৬৯.
সমুদ্র সমতল হতে অতি উচ্চ বিস্তীর্ণ ভূমিকে বলা হয়-
  1. ক) সমভূমি
  2. খ) পর্বত
  3. গ) মালভূমি
  4. ঘ) চ্যুতি
সঠিক উত্তর:
গ) মালভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মালভূমি
ব্যাখ্যা

- পর্বত থেকে নিচু কিন্তু সমভূমি থেকে উঁচু খাড়া ঢালযুক্ত ঢেউ খেলানো বিস্তীর্ণ সমতলভূমিকে মালভূমি বলে।
- মালভূমির উচ্চতা শত মিটার থেকে কয়েক হাজার মিটার পর্যন্ত হতে পারে।
- পৃথিবীর বৃহত্তম মালভূমির উচ্চতা ৪,২৭০ থেকে ৫,১৯০ মিটার। যেমন: পামির মালভূমি।
- পামির মালভূমিকে পৃথিবীর ছাদ বলা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২৭০.
শৈবাল সাগর কোথায় অবস্থিত?
  1. দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগর
  2. উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর
  3. দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর
  4. উত্তর আটলান্টিক মহসাগর
সঠিক উত্তর:
উত্তর আটলান্টিক মহসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর আটলান্টিক মহসাগর
ব্যাখ্যা
- শৈবাল সাগর বা সারগ্যাসো সাগর উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর একমাত্র সাগর যার কোন তীর নেই। শৈবাল সাগর চারপাশে চারটি সামুদ্রিক স্রোত দ্বারা বেষ্টিত। যার কারণে এর মধ্য প্রবাহহীন ও শান্ত।
- জীবৈচিত্র্যের দিক থেকে এই সাগর অত্যন্ত সমৃদ্ধ।
- শৈবাল সাগরের মধ্যে শৈবালের আধিক্যের কারণে এটিকে পর্তুগিজরা সারগ্যাসো বা শৈবাল সাগর নামকরণ করে।
- এটির আয়তন প্রায় ৩৫ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার।
(তথ্যসূত্র: সারগ্যাসো কমিশন ওয়েবসাইট)
২৭১.
নিচের কোনটি মহানন্দা নদীর উপনদী নয়?
  1. পুবর্ভবা
  2. হালদা
  3. ট্যাংগন
  4. নাগর
সঠিক উত্তর:
হালদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হালদা
ব্যাখ্যা

'হালদা' মহানন্দা নদীর উপনদী নয়।

মহানন্দা:

- মহানন্দা নদীর উৎপত্তি হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দার্জিলিং জেলার নিকটবর্তী মহালড্রীম পর্বতে।
- এরপর জলপাইগুড়ি জেলার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের সর্বত্র উত্তরের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা দিয়ে প্রবেশ করেছে।
- এরপর বাংলাবান্ধা থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বরাবর প্রবাহিত হয়ে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করেছে।
- অত:পর ভারতের পূর্নিয়া ও মালদহ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চাপাইনবাবগঞ্জের নিকট বাংলাদেশে প্রবেশ করে গোদাগাড়ির কাছে পদ্মার সাথে মিলিত হয়েছে।

• মহানন্দার উপনদী:
- পুবর্ভবা,
- নাগর,
- কুলিক,
- ট্যাংগন,
- পাগলা প্রভৃতি।

উল্লেখ্য,
- কর্ণফুলী নদীর প্রধান উপনদী 'হালদা'।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭২.
এশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘ নদী কোনটি?
  1. ইয়াংসিকিয়াং
  2. গঙ্গা
  3. হোয়াংহো 
  4. সিন্ধু
সঠিক উত্তর:
ইয়াংসিকিয়াং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইয়াংসিকিয়াং
ব্যাখ্যা

• ইয়াংজি/ ইয়াংসিকিয়াং নদী (Yangtze River):
- চীন এবং এশিয়ার দীর্ঘতম নদী এবং বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম নদী। 
- দৈর্ঘ্য: ৩,৯১৫ মাইল (৬,৩০০ কিমি)।
- নদীর বেসিন প্রায় ২,০০০ মাইল (৩,২০০ কিমি) পশ্চিম থেকে পূর্ব এবং ৬০০ মাইল (১,০০০ কিমি) উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- নদীটি তিব্বতের প্লেটোর উৎস থেকে বের হয়ে পূর্ব চীনা সাগরে পতিত হয়।
- নদী ১০টি চীনা প্রদেশ বা অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বা তাদের সীমান্ত হিসাবে কাজ করে।
- নদীর প্রায় ৭৫% পথ পাহাড়ি অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত।

• প্রধান উপনদীসমূহ:
- বাম তীরে: ইয়ালুং, মিন, জিয়ালিং, হান নদী।
- ডান তীরে: উ, ইউয়ান, শিয়াং, গ্যান নদী।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

২৭৩.
তিস্তা নদী বাংলাদেশের কোন জেলা দিয়ে প্রবেশ করেছে?
  1. লালমনিরহাট
  2. ঠাকুরগাঁও
  3. দিনাজপুর
  4. নীলফামারী
সঠিক উত্তর:
নীলফামারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলফামারী
ব্যাখ্যা

তিস্তা:
- ভারতের সিকিমের পাবর্ত্য অঞ্চলে তিস্তা নদী উৎপত্তি হয়েছে।
- এরপর অগ্রসর হয়ে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার ডিমলা দিয়ে প্রবেশ করেছে।
- তিস্তা নদীর বর্তমান দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭৭ কিলেমিটার এবং চওড়া ৩০০ থেকে ৫৫০ মিটার।
- এ নদীতে তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ করা হয়েছে। যা এ অঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭৪.
তিস্তা নদীর উৎপত্তিস্থল- 
  1. সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল
  2. কৈলাস পর্বত, তিব্বত
  3. মানস সরোবর, তিব্বত
  4. গঙ্গোত্রী হিমবাহ, ভারত
সঠিক উত্তর:
সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন নদীর উৎপত্তিস্থল:
- পদ্মা নদীর উৎপত্তিস্থল গঙ্গা নামে হিমালয় পর্বতের গাঙ্গোত্রী হিমবাহ।
- মেঘনা নদীর উৎপত্তিস্থল আসামের লুসাই পাহাড়।
- যমুনা নদীর উৎপত্তিস্থল ব্ৰহ্মপুত্ৰ নামে কৈলাশ শৃঙ্গের মানস সরোবর হ্রদ।
- কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তিস্থল মিজোরামের লুসাই পাহাড়।
- তিস্তা নদীর উৎপত্তিস্থল সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল।
- সাঙ্গু নদীর উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমানার আরাকান পাহাড়।
- হালদা নদীর উৎপত্তিস্থল খাগড়াছড়ির বাদানাতলী পর্বতশৃঙ্গ।
- মহানন্দা নদীর উৎপত্তিস্থল হিমালয় পর্বতের দার্জিলিং-এর মহালদিরাম পাহাড়।
 
এছাড়াও,
বিশ্বের কয়েকটি প্রধান নদীর উৎপত্তি স্থল:
- হোয়াংহো: কুনকুন পর্বত, চিন দেশ,
- মিসিসিপি: মিনোসোটার হ্রদ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,
- দানিয়ুব: ব্ল‍্যাক ফরেস্ট, ইউরোপ,
- মারে ডার্লিং: কোমিয়াস্কে, অষ্ট্রেলিয়া,
- তিস্তা: সিকিমের পর্বত অঞ্চল,
- আমাজান: আন্দিজ পর্বতমালা, দক্ষিণ আমেরিকা।

উৎস: i) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
         ii) Britannica.

২৭৫.
হালদা নদীর উৎপত্তি কোন জেলায়?
  1. রাঙ্গামাটি
  2. খাগড়াছড়ি
  3. বান্দরবান
  4. চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
খাগড়াছড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা

হালদা নদী:
- খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার বদনাতলী পর্বতশ্রেণী থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে হালদা নদী।
- এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে উৎপত্তি লাভ করে বাংলাদেশের জলসীমায় সমাপ্তি ঘটেছে।
- হালদা নদী উৎপত্তি লাভ করার পর দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে কালুঘাটের নিকট কর্ণফুলী নদীতে মিলিত হয়েছে।
- কালুরঘাটের কাছে এটি কর্ণফুলী নদীতে এসে মিশেছে।
- এর মোট দৈর্ঘ্য ৮০.৪৫ কিমি। 
- হালদার প্রধান উপনদী ধুরুং খুবই খরস্রোতা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭৬.
কোনটি স্থানীয় বায়ু?
  1. ক) মৌসুমী বায়ু
  2. খ) নিয়ত বায়ু
  3. গ) মেরু বায়ু
  4. ঘ) সায়মুম বায়ু
সঠিক উত্তর:
ঘ) সায়মুম বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সায়মুম বায়ু
ব্যাখ্যা
- স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও তাপমাত্রার তারতম্যের ফলে সৃষ্ট বায়ু স্থানীয় বায়ু নামে পরিচিত।
স্থানীয় বায়ুসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- সায়মুম : আরব মালভূমির স্থানীয় বায়ু
- খামসিন : মিশর
- চিনুক : রকি পর্বত
- সিরক্কো : উ. আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালি
- মিস্ট্রাল : ফ্রান্সের মালভূমি
- পাম্পেরু : আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে
- লু : ভারত প্রভৃতি।
(সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২৭৭.
লোহিত সাগর কোন মহাসাগরের একটি অংশ?
  1. ভারত মহাসাগর
  2. প্রশান্ত মহাসাগর
  3. আটলান্টিক মহাসাগর
  4. দক্ষিণ মহাসাগর
সঠিক উত্তর:
ভারত মহাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারত মহাসাগর
ব্যাখ্যা
লোহিত সাগর:
- লোহিত সাগর (Red sea) ভারত মহাসাগরের একটি বিশেষ অংশ। 
- এশিয়া মহাদেশকে আফ্রিকা মহাদেশ থেকে পৃথক করেছে লোহিত সাগর।
- লোহিত সাগর সৌদি আরব (এশিয়া) এবং মিশর (আফ্রিকা) কে পৃথক করেছে।
- এর দক্ষিণে বাব এল মান্দের প্রণালী। 
- লোহিত সাগরে জলে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া আছে, যা বাতাস থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে ট্রিকোডেসামিয়াম রিথ্রিয়াম নামে এক ধরনের অজৈব যৌগ গঠন করে।
- এর রং লাল হওয়ায় এই সাগরের জল লাল দেখায়।

উল্লেখ্য,
- বর্তমানে বিশ্বের ১২ শতাংশ পণ্যবাহী জাহাজ লোহিত সাগর ব্যবহার করে।
- দৈনিক গড়ে ৫০টি জাহাজ ব্যবহার করছে এই জলপথ।
-  ক্লার্কসন রিসার্চ সার্ভিস লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে লোহিত সাগরে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ডিসেম্বরের প্রথমার্ধের তুলনায় ৪৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
- নভেম্বর, ২০২৩ থেকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা করছে।
- বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটটিতে হুতিদের হামলায় পণ্য পরিবহনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।

উৎস: i) World Atlas.
         ii) ২১ জানুয়ারি, ২০২৪, কালের কন্ঠ। 
২৭৮.
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে পৃথক করেছে কোন নদী? 
  1. কর্ণফুলী নদী
  2. নাফ নদী
  3. শিবসা নদী
  4. হালদা নদী
সঠিক উত্তর:
নাফ নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাফ নদী
ব্যাখ্যা

নাফ নদী:
- বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে পৃথক করেছে নাফ নদী।
- নাফ নদী কক্সবাজার জেলার সর্ব দক্ষিণ-পূর্ব কোণ দিয়ে প্রবাহিত প্রলম্বিত খাঁড়ি সদৃশ নাফ নদী মায়ানমারের আরাকান থেকে কক্সবাজার জেলাকে বিভক্ত করেছে।।
- কক্সবাজার জেলার দক্ষিণে এটি একটি বড় নদী।
- আরাকান ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সীমা ন্তের অন্যান্য পাহাড় থেকে উৎসারিত নাফ নদী বঙ্গোপসাগরে এসে পড়েছে।
- ১.৬১ কিমি থেকে ৩.২২ কিমি প্রস্থবিশিষ্ট এই নদী জোয়ারভাটা প্রবণ।
- বাংলাদেশের দক্ষিণতম উপজেলা টেকনাফ নাফ নদীর ডান তীরে অবস্থিত।
- মায়ানমারের আকিয়াব বন্দর নাফ নদীর বাম তীরে অবস্থিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২৭৯.
আপালেশিয়ান পর্বত কোন মহাদেশে অবস্থিত?
  1. উত্তর আমেরিকা
  2. ইউরোপ
  3. অ্যান্টার্কটিকা
  4. এশিয়া
সঠিক উত্তর:
উত্তর আমেরিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর আমেরিকা
ব্যাখ্যা
আপালেশিয়ান পর্বত:
- আপালেশিয়ান পর্বতমালা উত্তর আমেরিকার পূর্ব অংশে অবস্থিত।
- এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা জুড়ে বিস্তৃত।
- আপালেশিয়ান পর্বতের দৈর্ঘ্য প্রায় ২,০০০ মাইল (৩,২০০ কিমি)।
- এটি অ্যালাবামা রাজ্য থেকে শুরু হয়ে নিউফাউন্ডল্যান্ড পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে।
- আপালেশিয়ান পর্বত খুবই প্রাচীন, এবং এটি পৃথিবীর অন্যতম পুরনো পর্বত শ্রেণী।

উৎস: Britannica.
২৮০.
নিচের কোন নদীর উপর এখনো কোনো ব্রিজ নির্মিত হয়নি?
  1. আমাজন
  2. নীল নদ
  3. হোয়াংহো
  4. ইরাবতী
সঠিক উত্তর:
আমাজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমাজন
ব্যাখ্যা
• আমাজন নদী (Amazon River) পৃথিবীর অন্যতম দীর্ঘতম ও বৃহত্তম নদী, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,৩০০ মাইল (৬,৯২০ কিমি)। এত বিশাল দৈর্ঘ্য সত্ত্বেও, আশ্চর্যজনকভাবে, এই নদীর উপর একটিও স্থায়ী সেতু নেই।​

অন্যদিকে, 
- নীল নদ: এই নদীর উপর বহু সেতু রয়েছে, যেমন কায়রোর কাসর এল নীল ব্রিজ (Qasr El Nil Bridge) এবং ৬ অক্টোবর ব্রিজ (6th October Bridge)। ​Egypt Tours Plus+2Wikipedia+2Wikipedia+2
- হোয়াংহো (হলুদ নদী): চীনের এই নদীর উপরও বহু সেতু রয়েছে, যেমন জিনান হলুদ নদী ব্রিজ (Jinan Yellow River Bridge)। 
- ইরাবতী (আইয়ারওয়াদি) নদী: মিয়ানমারের এই প্রধান নদীর উপরও সেতু রয়েছে, যেমন ইয়াদানাবোন ব্রিজ (Yadanabon Bridge)।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস ও ব্রিটানিকা।
২৮১.
নিম্নের কোন জেলায় পাদদেশীয় সমভূমি অবস্থিত?
  1. কুমিল্লা
  2. ফরিদপুর
  3. দিনাজপুর
  4. নোয়াখালী
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি বাংলাদেশকে একটি উর্বর কৃষিপ্রধান দেশে পরিণত করেছে। 
- পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ অসংখ্যা ছোট-বড় নদী সারা দেশে জালের ন্যায় ছড়িয়ে আছে।
- এসব নদী সমতল ভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রায় প্রতি বছর বন্যার সৃষ্টি হয়।
- এভাবে বন্যার সঙ্গে বাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে দেশের বিস্তীর্ণ প্লাবন সমভূমি সৃষ্টি হয়েছে।
- এ প্লাবন সমভূমি উত্তর দিক থেকে ক্রমশ ঢালু হয়ে দক্ষিণে প্রায় সমুদ্র সমতলে মিশেছে।
- দক্ষিণের সুন্দরবন অঞ্চল প্রায় সমুদ্র সমতলে অবস্থিত।
- সমুদ্র সমতল থেকে দিনাজপুরের উচ্চতা ৩৭.৫০ মিটার, বগুড়ার উচ্চতা ২০ মিটার, ময়মনসিংহের উচ্চতা ১৮ মিটার, নারায়নগঞ্জ ও যশোরের উচ্চতা ৮ মিটার।
- এ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য জলাভূমি ও নিম্নভূমি।
- স্থানীয়ভাবে এসব জলাভূমি ও নিম্নভূমিকে বিল, ঝিল বা হাওড় বলে।
- রাজশাহীর চলনবিল, ঢাকার আড়িয়াল বিল, গোপালগঞ্জের বিল এবং সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা ও শেরপুর জেলার বিল ও হাওড় অন্যতম।
- মেঘনা নদীর মোহনায় রয়েছে হাতিয়া ও সদ্বীপ।
- এছাড়া বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলে আরোও কিছু ছোট ছোট দ্বীপ রয়েছে।
- এসব দ্বীপের মাটি উর্বর এবং মানব বসতির উপযোগী। 

⇒ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।
• পাদদেশীয় সমভূমি:
- হিমালয় পর্বত হতে বাহিত পলল দ্বারা গঠিত রংপুর ও দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি।
• বন্যাপ্রবণ সমভূমি:
- ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও সিলেট জেলার বন্যাপ্রবণ সমভূমি।
• স্রোতজ সমভূমি:
- খুলনা, পটুয়াখালী এবং বরগুনা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে স্রোতজ সমভূমি।
- এ অঞ্চলের নদীতে প্লাবন কম হয়, তবে নিয়মিত জোয়ার-ভাটা হয়।
• উপকূলীয় সমভূমি:
- নোয়াখালী ও ফেনী নদীর নিম্নভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত চট্টগ্রামের উপকূলীয় সমভূমি।
- এখানকার পতেঙ্গা সৈকত, কক্সবাজার সৈকত এবং টেকনাফ সৈকত পর্যটনের জন্য বিশেষ প্রসিদ্ধ।
• ব-দ্বীপ সমভূমি:
- ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা এবং ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে ব-দ্বীপ সমভূমি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮২.
আটলান্টিক ও উত্তর সাগরকে যুক্ত করেছে কোন প্রনালী?
  1. পানামা খাল
  2. পক প্রণালী
  3. বেরিং প্রণালী
  4. ডোভার প্রণালী
সঠিক উত্তর:
ডোভার প্রণালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডোভার প্রণালী
ব্যাখ্যা
ডোভার প্রণালী:

- ডোভার প্রণালী যুক্তরাজ্যকে ফ্রান্স থেকে পৃথক করেছে।
- এটি ইংলিশ চ্যানেল তথা আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে উত্তর সাগরকে যুক্ত করেছে। 
- প্রণালীটি ১৮ থেকে ২৫ মাইল (৩০ থেকে ৪০ কিমি) প্রশস্ত।
- এর গভীরতা ১২০ থেকে ১৮০ ফুট (৩৫ থেকে ৫৫ মিটার) পর্যন্ত। 
- ডোভার প্রণালীটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত সমুদ্রপ্রণালী।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
২৮৩.
বাংলাদেশের চিরযৌবনা নদী কোনটি?
  1. ক) পদ্মা
  2. খ) মেঘনা
  3. গ) যমুনা
  4. ঘ) কর্ণফুলি
সঠিক উত্তর:
খ) মেঘনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মেঘনা
ব্যাখ্যা
মেঘনা নদী:

- বাংলাদেশের চিরযৌবনা নদী মেঘনা।
- মেঘনা নদীতে সব সময় জোয়ার-ভাটা বহমান থাকায় তাকে চিরযৌবনা নদী বলা হয়।
- বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ এবং প্রশস্ততম নদী মেঘনা।
- চাঁদপুরের পর থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত মেঘনা ও পদ্মার মিলিত ধারার নাম মেঘনা।
- উৎপত্তিস্থলে মেঘনা নদীর নাম ছিল বরাক নদী।
- ভোলার চরফ্যাশন এলাকায় মেঘনা বঙ্গোপসাগরের সাথে মিলিত হয়।
- মেঘনার শাখা নদী হল তিতাস ও ডকাতিয়া

তথ্যসূত্র - মাধ্যমিক ভূগোল, নবম ও দশম শ্রেণি।
২৮৪.
নিচের কোন নদী মেঘনার শাখানদী?
  1. গোমতী
  2. ডাকাতিয়া
  3. তিতাস
  4. কাসনি
সঠিক উত্তর:
ডাকাতিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাকাতিয়া
ব্যাখ্যা
মেঘনা (Meghna):
- ভারতের আসামের নাগা-মনিপুর পাহাড়ে বরাক নদী উৎপন্ন হয়ে সিলেট সীমান্তে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- সুরমা, কুশিয়ারা ও কালনী নদী একত্র হয়ে কালনী নামে কিছুদূর প্রবাহিত হয়ে মেঘনা নামে পরিচিত হয়।
- মেঘনা নদী ভৈরববাজারের কাছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়।
- চাঁদপুরের কাছে পদ্মার সঙ্গে মিশে মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়।
- মেঘনার প্রধান উপনদী হলো মনু, বাউলাই, তিতাস, গোমতী ও কাসনি।
- মেঘনার শাখানদী জাঙ্গালিয়া ও ডাকাতিয়া।
- মেঘনা বিধৌত অঞ্চলের আয়তন প্রায় ২৯,৭৮৫ বর্গকিলোমিটার।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৫.
হাকালুকি হাওর কোন দুটি জেলায় অবস্থিত?
  1. মৌলভীবাজার ও সিলেট
  2. সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ
  3. সিলেট ও সুনামগঞ্জ
  4. হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার ও সিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার ও সিলেট
ব্যাখ্যা

হাকালুকি হাওর:
- হাকালুকি হাওর বাংলাদেশের বৃহত্তর হাওর।
- এটি মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলায় অবস্থিত।
- এর ভৌগোলিক অবস্থান ২৪°৩৫´-২৪°৪৪´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২°০১´-৯২°০৯´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।
- হাকালুকি হাওরের আয়তন ১৮১.১৫ বর্গ কিমি।
- হাওরটি ৫টি উপজেলা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে বিস্তৃত।
- হাওরের ৪০% বড়লেখা, ৩০% কুলাউড়া, ১৫% ফেঞ্চুগঞ্জ, ১০% গোলাপগঞ্জ এবং ৫% বিয়ানীবাজার উপজেলার অন্তর্গত।
- হাকালুকি হাওরের বিশাল জলরাশির মূল প্রবাহ হলো জুরী এবং পানাই নদী।
- হাকালুকি হাওরে প্রায় ২৩৮টি বিল রয়েছে।
- জীববিজ্ঞানীদের মতে, হাকালুকি হাওরে ১৫০ প্রজাতির মিঠা পানির মাছ, ১২০ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ, ২০ প্রজাতির সরীসৃপ বিলুপ্ত প্রায়। 
- এখানে প্রতি বছর শীতকালে প্রায় ২০০ বিরল প্রজাতির অতিথি পাখির সমাগম ঘটে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

২৮৬.
কোন নদী মায়ানমারের আরাকান থেকে কক্সবাজার জেলাকে বিভক্ত করেছে?
  1. হালদা
  2. মাতামুহুরী
  3. সাঙ্গু
  4. নাফ
সঠিক উত্তর:
নাফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাফ
ব্যাখ্যা
নাফ নদী (Naf River):
- কক্সবাজার জেলার সর্ব দক্ষিণ-পূর্ব কোণ দিয়ে প্রবাহিত প্রলম্বিত খাঁড়ি সদৃশ নাফ নদী মায়ানমারের আরাকান থেকে কক্সবাজার জেলাকে বিভক্ত করেছে।
- কক্সবাজার জেলার দক্ষিণে এটি একটি বড় নদী।
- আরাকান ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের অন্যান্য পাহাড় থেকে উৎসারিত নাফ নদী বঙ্গোপসাগরে এসে পড়েছে।
- ১.৬১ কিমি থেকে ৩.২২ কিমি প্রস্থবিশিষ্ট এই নদী জোয়ারভাটা প্রবণ।
- নদী তীর সংলগ্ন জোয়ার-ভাটা প্রভাবিত উপকূলীয় সমভূমি (যেমন- কদমভূমি) ব্যাপকভাবে চিংড়ি চাষে ব্যবহূত হয়।
- বাংলাদেশের দক্ষিণতম উপজেলা টেকনাফ নাফ নদীর ডান তীরে অবস্থিত।
- মায়ানমারের আকিয়াব বন্দর নাফ নদীর বাম তীরে অবস্থিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৮৭.
সাভানা তৃণভূমি কোথায় দেখা যায়?
  1. ক) আফ্রিকা
  2. খ) দক্ষিণ আমেরিকা
  3. গ) সাইবেরিয়া
  4. ঘ) পূর্ব ইউরোপ
সঠিক উত্তর:
ক) আফ্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আফ্রিকা
ব্যাখ্যা
সাভানা হলো আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দক্ষিণে অবস্থিত একটি বিস্তৃত তৃণভূমি। এটির আয়তন প্রায় ৫০ লক্ষ বর্গমাইল।

এটি সাহারা মরুভূমি ও কালাহারি মরুভূমির মধ্যবর্তী স্থানে সুদান, দক্ষিণ সুদান, কেনিয়া, তাঞ্জানিয়া, বতসোয়ানা, জিম্বাবুয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা প্রভৃতি দেশজুড়ে বিস্তৃত।

(তথ্যসূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক)
২৮৮.
পর্তুগাল - স্পেনের মধ্যকার সীমানা কোনটি?
  1. ক) ম্যাকমোহন লাইন
  2. খ) পার্পল লাইন
  3. গ) সনেরা লাইন
  4. ঘ) লাইন অব ডিমারকেশন
সঠিক উত্তর:
ঘ) লাইন অব ডিমারকেশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লাইন অব ডিমারকেশন
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন দেশের সীমানা:

- লাইন অব ডিমারকেশন - পর্তুগাল - স্পেনের মধ্যে সীমানা
- মেক্সিকো -যুক্তরাষ্টের মধ্যকার সীমানা সনেরা লাইন
- ডুরান্ড লাইন - পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমানা।
- ম্যাকমোহন লাইন - ভারত ও চীনের মধ্যে সীমানা।
- রেডক্লিফ লাইন - ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমারেখা।
- লাইন অব কন্ট্রোল - ভারত -পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা
- লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল - চীন - ভারত মধ্যে সীমানা।
- পার্পল লাইন - ইসরাইল -সিরিয়ার মধ্যে সীমানা।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
২৮৯.
বগা লেক কোন উপজেলায় অবস্থিত?
  1. থানটি
  2. রুমা
  3. আলীকদম
  4. রোয়াংছড়ি
সঠিক উত্তর:
রুমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুমা
ব্যাখ্যা

- বগাকাইন হ্রদ বা বগা লেক বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উচ্চতার স্বাদু পানির একটি হ্রদ। 
- বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে বগা লেকের  অবস্থান কেওকারাডং পর্বতের গা ঘেষে, রুমা উপজেলায়।

• দেশের অন্যান্য লেকসমূহ হলো:
- কাপ্তাই লেক: রাঙামাটি -
- বগা লেক: বান্দরবান
- মহামায়া লেক: চট্টগ্রাম
- ফয়'স লেক: চট্টগ্রাম
- ভাটিয়ারি লেক: চট্টগ্রাম।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২৯০.
আটলান্টিক মহাসাগর পৃথিবীর পৃষ্ঠের প্রায় কত অংশ জুড়ে বিস্তৃত?
  1. এক-চতুর্থাংশ
  2. এক-পঞ্চমাংশ
  3. এক-ষষ্ঠাংশ
  4. এক-দশমাংশ
সঠিক উত্তর:
এক-পঞ্চমাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক-পঞ্চমাংশ
ব্যাখ্যা

আটলান্টিক মহাসাগর:
- আটলান্টিক মহাসাগর পৃথিবীর ২য় বৃহত্তম মহাসাগর।
- পৃথিবীর পৃষ্ঠের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জুড়ে এটি অবস্থিত।
- আয়তনের দিক থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের স্থান দ্বিতীয় এবং গভীরতার দিক থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের স্থান তৃতীয়।
- এর আয়তন ৮,৫১,৩৩,০০০ বর্গ কিলোমিটার।
- অবস্থান: আমেরিকা, ইউরোপ ও আফ্রিকা।
- আটলান্টিক মহাসাগর পূর্বে ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশে পৌঁছে উত্তর আমেরিকা এবং পশ্চিমে দক্ষিণ আমেরিকা পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এটি উত্তরে আর্কটিক মহাসাগর থেকে দক্ষিণে অ্যান্টার্কটিকার কাছে দক্ষিণ মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।

তথ্যসূত্র: Britannica.

২৯১.
'চিত্রা' নদী কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. বরিশাল
  2. নড়াইল
  3. কিশোরগঞ্জ
  4. বগুড়া
সঠিক উত্তর:
নড়াইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নড়াইল
ব্যাখ্যা

• 'চিত্রা' নদী নড়াইল জেলায় অবস্থিত।

এছাড়াও,
- আড়িয়াল খাঁ: মাদারীপুর।
- চেঙি : খাগড়াছড়ি।
- ভৈরব: ঝিনাইদহ।
- কীর্তনখোলা : বরিশাল।
- বুড়িগঙ্গা: ঢাকা।
- গোমতী: কুমিল্লা।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২৯২.
ব্রক্ষপুত্র কোথায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে?
  1. লালমনিরহাট
  2. নীলাফামারী
  3. গাইবান্ধা
  4. কুড়িগ্রাম
সঠিক উত্তর:
কুড়িগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুড়িগ্রাম
ব্যাখ্যা

• ব্রহ্মপুত্র এবং যমুনা:
- তিব্বতের মানস সরোবরে ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি হয়েছে।
- আসাম হয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় এটি প্রবেশ করেছে।
- ব্রহ্মপুত্রের প্রধান ধারাটি এক সময়ে ময়মনসিংহের মধ্য দিয়ে উত্তর-পশ্চিমদিক থেকে দক্ষিণ-পূর্বদিকে আড়াআড়িভাবে প্রবাহিত হতো।
- কিন্তু ১৭৮৭ সালে সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে যায় এবং নতুন স্রোতধারার একটি শাখা নদীর সৃষ্টি হয়।

⇒ এই নতুন স্রোত ধারাটি যমুনা নামে পরিচিত হয়। 
- এটি দক্ষিণে গোয়ালন্দ পর্যন্ত যমুনা নদী বলে পরিচিত।
- যমুনার শাখা নদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখা নদী-বুড়িগঙ্গা।
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের উপনদী। 
- করতোয়া ও আত্রাই হলো যমুনার উপনদী। 
- ব্রহ্মপুত্রের দৈর্ঘ্য ২৮৯৭ কি.মি.। 
- এর অববাহিকার আয়তন ৫,৮০,১৬০ বর্গ কি.মি. যার ৪৪,০৩০ বর্গ কি.মি. বাংলাদেশে অবস্থিত।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)

২৯৩.
Name of the Canal/strait joining the Red Sea with the Mediteranean Sea is
  1. ক) Panama
  2. খ) Suez
  3. গ) Kiel
  4. ঘ) None
সঠিক উত্তর:
খ) Suez
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Suez
ব্যাখ্যা
সুয়েজ খাল:

- এটি একটি কৃত্রিম সামুদ্রিক খাল যা লোহিত সাগরকে ভূমধ্যসাগরের সাথে যুক্ত করেছে। 
- ফরাসি প্রকৌশলী ফার্দিনান্দ দ্য লেসেন্সের উদ্যোগে ১৮৫৯ সালে সুয়েজ খালের খননকার্য শুরু হয়।
- ১৮৬৯ সালের ১৭ নভেম্বর খালটি নৌ চলাচলের জন্যে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
- শুরুতে খালটি ফ্রান্স ও মিশরের জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হতো।
- পরবর্তীতে মিশর তার ৪৪ ভাগ শেয়ার ব্রিটেনের নিকট বিক্রি করে দেয়।
- ১৯৫৬ সালের ২৬ জুলাই মিশরের গামাল আবদেল নাসের সরকার সুয়েজ খালকে জাতীয়করণ করেন।
- এর ফলে ইসরাইল, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের সাথে মিশরের যুদ্ধ বেধে যায় যা ‘দ্বিতীয় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ' বা 'সুয়েজ যুদ্ধ’ নামে পরিচিত।
- বর্তমানে সুয়েজ খাল মিশর সরকারের অধীন ‘সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষ' নামে একটি কোম্পানি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।
- আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসারে সুয়েজ খাল সবদেশের জন্যে সকল ধরনের বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজ চলাচলের চন্যে উন্মুক্ত থাকবে।

তথ্যসূত্র - সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষ ওয়েবসাইট।
২৯৪.
'ম্যাজিনো লাইন' কোন দুটি দেশের মধ্যকার সীমারেখা?
  1. ক) জার্মানি ও অস্ট্রিয়া
  2. খ) জার্মানি ও পোল্যান্ড
  3. গ) জার্মানি ও ফ্রান্স
  4. ঘ) ফিনল্যান্ড ও রাশিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) জার্মানি ও ফ্রান্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জার্মানি ও ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
• সীমারেখা:
- ম্যাজিনো লাইন : জার্মানি-ফ্রান্স।
- সিগফ্রিড লাইন : জার্মানি-ফ্রান্স।
- ওডারনিস লাইন : জার্মানি ও পোল্যান্ড।
- ম্যানারহেইম লাইন : ফিনল্যান্ড ও রাশিয়া।  

তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা। 
২৯৫.
'মারে ডার্লিং' নদী কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ক) ঘানা
  2. খ) ব্রাজিল
  3. গ) রাশিয়া
  4. ঘ) অস্ট্রেলিয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) অস্ট্রেলিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা
অস্ট্রেলিয়ার নদীসমূহ:

- 'মারে ডার্লিং' নদী অস্ট্রেলিয়াতে অবস্থিত।
- মারে নদীর দৈর্ঘ্য ২৫০৮ কি.মি.
- ডার্লিং নদীর দৈর্ঘ্য ১৪৭২ কি.মি.
- মুরুমবিজি নদীর দৈর্ঘ্য ১৭৮৫ কি.মি.
- লাচান নদীর দৈর্ঘ্য ১৪৪৮ কি.মি. 
- কুপার ক্রিক নদীর দৈর্ঘ্য ১৩০০ কি.মি.

বিভিন্ন নদীসমূহ,
- নীল নদের দৈর্ঘ্য ৬৬৫০ কি.মি. এবং আফ্রিকাতে অবস্থিত।
- আমাজন নদীর দৈর্ঘ্য ৬৪০০ কি.মি. এবং দক্ষিন আমেরিকাতে অবস্থিত।
- ইয়াংজি নদীর দৈর্ঘ্য ৬৩০০ কি.মি.। নদীটি চীনে অবস্থিত।
- মিসিসিপি নদীর দৈর্ঘ্য ৫৯৭১ কি.মি. এবং উত্তর আমেরিকাতে অবস্থিত।
- কঙ্গো নদীর দৈর্ঘ্য ৪৭০০ কি.মি.। নদীটি আফ্রিকাতে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র - Britannica.com & Worldatlas.com
২৯৬.
হালদা নদী কিসের জন্য বিখ্যাত?
  1. ক) মাতৃ মৎস ভাণ্ডার
  2. খ) পর্যটন
  3. গ) রামসার সাইট
  4. ঘ) নদী বন্দর
সঠিক উত্তর:
ক) মাতৃ মৎস ভাণ্ডার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মাতৃ মৎস ভাণ্ডার
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের মৎস্য খনি বা মাতৃ মৎস ভাণ্ডার খ্যাত ছোট একটি নদীর নাম হালদা। এই নদী পৃথিবীর একমাত্র জোয়ার-ভাটার নদী যেখানে রুই জাতীয় মাছ ডিম ছাড়ে এবং নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়।
উৎসঃ দৈনিক যুগান্তর

২৯৭.
আমাজন নদীর উৎস কোনটি?
  1. ইউরাল পর্বতমালা
  2. আন্দিজ পর্বতমালা
  3. আল্পস পর্বতমালা
  4. ব্রাজিলের উচ্চভূমি
সঠিক উত্তর:
আন্দিজ পর্বতমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আন্দিজ পর্বতমালা
ব্যাখ্যা

আমাজন নদী (Amazon River):
- এটি দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত।
- পেরুর আন্দিজ পর্বতমালা আমাজন নদীর উৎস
- এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৭,০৬২ কিলোমিটার।
- আমাজন নদী বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী।
- এই নদী জাগুয়ার, প্যারাট এবং অগণিত প্রজাতির মাছ, উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল।
- পৃথিবীর মোট নদীর পানিপ্রবাহের প্রায় ২০% আমাজন নদী নিয়ন্ত্রণ করে।
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম জলাধার নদী এবং দক্ষিণ আমেরিকার প্রাণভোমরা হিসেবে পরিচিত।
- আমাজন নদী বন উজাড়, জলদূষণ ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া হেকে রক্ষা করে।
- এটি ৬টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে- 
- ব্রাজিল,
- পেরু,
- কলম্বিয়া,
- ভেনেজুয়েলা,
- ইকুয়েডর,
- বোলিভিয়া।

উৎস: ব্রিটানিকা ও worldatlas।

২৯৮.
আয়তনের দিক দিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম উপসাগরের নাম কী?
  1. হাডসন উপসাগর
  2. বঙ্গোপসাগর
  3. মেক্সিকো উপসাগর
  4. পারস্য উপসাগর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গোপসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গোপসাগর
ব্যাখ্যা

• বঙ্গোপসাগর:
- বঙ্গোপসাগর হলো বিশ্বের বৃহত্তম উপসাগর।
- বঙ্গোপসাগর ভারত মহাসাগরের অংশ।
- পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এ উপসাগরটি পশ্চিমে ভারত ও শ্রীলংকার পূর্ব উপকূল, উত্তরে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীপ্রণালী সৃষ্ট বদ্বীপ এবং পূর্বে মায়ানমার উপদ্বীপ থেকে আন্দামান-নিকোবর শৈলশিরা পর্যন্ত বিস্তৃত ভূভাগ দ্বারা বঙ্গোপসাগর তিনদিকে আবদ্ধ।
- বঙ্গোপসাগরের আয়তন ২৬,০০,০০০ বর্গকিলোমিটার।
- এর গড় গভীরতা প্রায় ২,৬০০ মিটার এবং সর্বোচ্চ গভীরতা ৫,২৫৮ মিটার।
- বঙ্গোপসাগরের সবচেয়ে উত্তর প্রান্তে বাংলাদেশ অবস্থিত। বঙ্গোপসাগরের একটি গিরিখাত সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড।

অন্যদিকে -
- মেক্সিকো উপসাগরের আয়তন ১৫,৪২,৯৮৫ বর্গ কিমি.।
- পারস্য উপসাগরের আয়তন ২,৩৭,৭৬০ বর্গ কিমি.।
- হাডসন উপসাগরের আয়তন ১২,৩০,০০০ বর্গ কিমি.।

তথ্যসূত্র: Britannica.

২৯৯.
মিসিসিপি নদীর উৎপত্তিস্থল -
  1. বৈকাল হ্রদ
  2. ইটাস্কা হ্রদ
  3. সুপিরিয়র হ্রদ
  4. ভিক্টোরিয়া হ্রদ
সঠিক উত্তর:
ইটাস্কা হ্রদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইটাস্কা হ্রদ
ব্যাখ্যা
মিসিসিপি নদী:
- মিসিসিপি নদী হলো উত্তর আমেরিকার দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী।
- মিসিসিপি নদীর দৈর্ঘ্য ৬২৭০ কি.মি.।
- নদীটির উৎস ইটাস্কা হ্রদ, যা আমেরিকার মিনোসোটার রাজ্যে অবস্থিত।
- মিসিসিপি নদীর প্রশস্ত অংশ বেনা।

উল্লেখ্য,
⇒ বিশ্বের কয়েকটি প্রধান নদীর উৎপত্তিস্থল:
- হোয়াংহো নদী: কুনকুন পর্বত, চিন দেশ।
- দানিয়ুব নদী: ব্ল্যাক ফরেস্ট, ইউরোপ।
- মারে ডার্লিং নদী: কোমিয়াস্কে, অষ্ট্ৰেলিয়া।
- তিস্তা নদী: সিকিমের পর্বত অঞ্চল।
- নীলনদ: ভিক্টোরিয়া হ্রদ, আফ্রিকা মহাদেশ।
- আমাজান নদী: আন্দিজ পর্বতমালা, দক্ষিণ আমেরিকা।

উৎস: i) Worldatlas.
ii) ভূগোল ১ম পত্র ,এইচএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০০.
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা কোন মহাসাগরের উপর দিয়ে গেছে?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. আটলান্টিক মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর
  4. উত্তর মহাসাগর
সঠিক উত্তর:
প্রশান্ত মহাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা:
- পৃথিবীপৃষ্ঠে কল্পিত ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাটি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত।
- এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে অংকিত এই রেখা স্থলভাগ এড়িয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমা মূলত একই দ্রাঘিমা রেখা।
- ফলে একই দ্রাঘিমা রেখায় সময়ের ব্যবধান হয়ে যাচ্ছে ২৪ ঘন্টা এবং তারিখের ক্ষেত্রে দুইটি তারিখ হয়ে যাচ্ছে।
- তারিখ, সময় ও সাপ্তাহিক দিন নির্ধারনের এই সমস্যা সমাধানের উদেশ্যে ১৮৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন-এ 'দ্রাঘিমা ও সময়' সম্পর্কিত আর্ন্তজাতিক সম্মেলনে ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাকে 'আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখা' হিসাবে স্থির করা হয়।
- আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখা প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয় এবং রেখাটি সাইবেরিয়ার উত্তর-পূর্বাংশ এবং এ্যালিউশয়ান, ফিজি ও চ্যাথাম দ্বীপপুঞ্জের স্থলভাগকে এড়িয়ে ১১° পূর্ব দিয়ে বেঁকে এবং বেরিং প্রণালিতে ১২° পূর্ব দিকে বেঁকে কল্পনা করা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।