বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৭ / ১৭৪ · ১,৬০১১,৭০০ / ১৭,৪৩৭

১,৬০১.
'দ্বিতীয় বিদ্যাপতি' নামে খ্যাত কবি কে?
  1. ক) জ্ঞানদাস
  2. খ) দৌলত কাজী
  3. গ) বিজয় গুপ্ত
  4. ঘ) গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) গোবিন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
গোবিন্দদাস:
- গোবিন্দদাস ছিলেন বৈষ্ণব পদকর্তা। 
- তিনি ছিলেন চৈতন্যত্তোরকালে খ্যাতি অর্জনকারী কবিদের একজন। 
- তিনি 'দ্বিতীয় বিদ্যাপতি' নামে খ্যাত কবি। 
- তার কাব্যগুরু ছিলেন মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ৷ 
- তার রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম 'সংগীতমাধব'। 
- তিনি পূর্বরাগ, অভিসার, মান, কলহস্তরিতা, বাসকসজ্জা, মাথুর প্রভৃতি পর্যায়ের পদকর্তা। 
- অভিসার পদ পর্যায়ে গােবিন্দদাস শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। 
- সমালােচকের মতে অভিসার পর্যায়ে তিনি রাজাধিরাজ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১,৬০২.
আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ছায়া হরিণ
  2. সারা দুপুর
  3. আশায় বসতি
  4. রাত্রিশেষ
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষ
ব্যাখ্যা
আহসান হাবিব ছিলেন মূলত কবি ও সাংবাদিক।
তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ- রাত্রিশেষ।
তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- ছায়া হরিণ, সারা দুপুর, আশায় বসতি, মেঘ বলে চৈত্রে যাব, দুই হাতে দুই আদিম পাথর, প্রেমের কবিতা, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি। অরণ্যে নীলিমা, রানী খালের সাঁকো তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬০৩.
নবীনচন্দ্র সেন কোন দুটি ধর্মগ্রন্থ কাব্যানুবাদ করেছিলেন?
  1. বাইবেল ও কোরআন
  2. রামায়ণ ও মহাভারত
  3. ভগবদগীতা ও চণ্ডী
  4. ত্রিপিটক ও উপনিষদ
সঠিক উত্তর:
ভগবদগীতা ও চণ্ডী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভগবদগীতা ও চণ্ডী
ব্যাখ্যা
• নবীনচন্দ্র সেন:
- নবীনচন্দ্র সেন একজন কবি ছিলেন।
- ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- নবীনচন্দ্র সেন ছাত্রজীবন থেকেই নবীনচন্দ্র কবিতা রচনা শুরু করেন।
- প্যারীচরণ সরকার সম্পাদিত এডুকেশন গেজেটে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতো।
 - তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন অবকাশরঞ্জিনী প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।
- রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস, নবীনচন্দ্রের কাব্যত্রয়ী এবং তাঁর কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ।
- ১৯০৯ সালের ২৩ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।  

• নবীনচন্দ্রের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আমার জীবন,
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা,
- ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি।

- তিনি ভগবদগীতা ও চণ্ডীর কাব্যানুবাদ করেন।

• তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ: 
- আমার জীবন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬০৪.
শামসুর রাহমানের 'স্বাধীনতা তুমি' কবিতায় মিছিল কীরূপ ছিল?
  1. ক) পতাকা-শোভিত
  2. খ) শ্লোগান-মুখর
  3. গ) ঝাঁঝালো
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা তুমি
রবিঠাকুরের অজর কবিতা, অবিনাশী গান।
স্বাধীনতা তুমি
কাজী নজরুল ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো
মহান পুরুষ, সৃষ্টিসুখের উল্লাসে কাঁপা-
স্বাধীনতা তুমি
শহীদ মিনারে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির উজ্জ্বল সভা
স্বাধীনতা তুমি
পতাকা-শোভিত শ্লোগান-মুখর ঝাঁঝালো মিছিল।

-- (স্বাধীনতা তুমি – শামসুর রাহমান)
১,৬০৫.
কোন বিশ্ববিদ্যালয় কবি জসীম উদ্‌দীনকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধি প্রদান করে?
  1. করাচি বিশ্ববিদ্যালয়
  2. রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
  3. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

• জসীম উদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীম উদ্‌দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M Millford গ্রন্থটি 'Field of the Embroidery Quilt' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

• জসীম উদ্‌দীন অর্জিত পুরস্কার ও সম্মাননা:
- জসীম উদ্‌দীন বাংলা সাহিত্যের একজন বিশেষ সম্মানিত ও বহু পুরস্কারে পুরস্কৃত কবি। তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮) অর্জন করেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার ডিগ্রি (১৯৬৯), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- তিনি ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কারের জন্যও মনোনীত হয়েছিলেন, কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করেন। 

 • তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- সোজন বাদিয়ার ঘাট 
- মা যে জননী কান্দে 

 • তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

 • শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১,৬০৬.
"আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট।" - এই কথা কে বলেছেন?
  1. শামসুর রাহমান
  2. শহীদ কাদরী
  3. সমর সেন
  4. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
ব্যাখ্যা

• সমর সেন:
- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর পিতামহ।
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- ‘Frontier’ (ফ্রন্টিয়ার) ও ‘নাও’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’ - এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।
- তাঁর কবিতায় নগর জীবনের ক্লেদ ও গ্লানি, মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট, সংশয়, নীতিহীনতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা এবং সংগ্রামী গণচেতনা বলিষ্ঠভাবে রূপায়িত হয়েছে।
- তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।
- ১৯৮৭ সালের ২৩ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বাবু বৃত্তান্ত।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২. বাংলাপিডিয়া।

১,৬০৭.
ব্যতিক্রম কোনটি?
  1. উভশৃঙ্গ
  2. চৌরসন্ধি
  3. পুরাতন খঞ্জর
  4. রাজসাক্ষী
সঠিক উত্তর:
উভশৃঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উভশৃঙ্গ
ব্যাখ্যা
• ব্যতিক্রম - উভশৃঙ্গ
- এটি শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ।
- বাকিগুলো শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস।

শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। 
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। 
- তিনি  বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২), আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬), একুশে পদক (১৯৮৩), ফিলিপস পুরস্কার (১৯৯১), স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি, 
- সমাগম, 
- চৌরসন্ধি
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাংগী।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পিঁজরাপোল, 
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প,
- প্রস্তর ফলক, 
- উভশৃঙ্গ
- শ্রেষ্ঠ গল্প,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে,
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৬০৮.
“পিপীলিকার পাখা উড়ে মরিবার তরে
কাহার ষোড়শী কন্যা আনিয়াছ ঘরে।।”
উদ্ধৃতিটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. সারদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা

একটি অতি প্রচলিত প্রবাদবাক্য “পিপীলিকার পাখা ওঠে মরিবার তরে”
মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের ‘কালকেতু ও ফুল্লরা উপাখ্যান’ থেকে উদ্ধৃতিটি নেওয়া হয়েছে।

- মধ্যযুগের প্রখ্যাত কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর চন্ডীমঙ্গল কাব্যে প্রবাদটির ব্যবহার আছে।
- চণ্ডীমঙ্গল যখন অপরূপ সুন্দরী নারী মূর্তি ধারণ করে কালকেতুর কুঁড়েঘরটি আলোকিত করে বসে থাকলেন, কালকেতুর স্ত্রী ফুল্লরা এই নারীকে দেখে স্বামীকে সন্দেহ করলো।
- তার সে সন্দেহ দৃঢ়মূল হলো যখন মেয়েটি জানালো বনের মধ্যে তিনি একা একা বিচরণ করছিলেন, ফুল্লরার স্বামী কালকেতুই তাঁকে ধরে নিয়ে এসেছে।
- মেয়েটির কথা শুনে ফুল্লরার পায়ের তলা থেকে যেন মাটি সরে গেল। মেয়েটি ফুল্লরার কথায় গৃহত্যাগ করতে রাজি নয়। কালকেতু তাঁকে নিয়ে এসেছে, কাজেই কালকেতুর নির্দেশ ছাড়া তিনি গৃহত্যাগ করবেন না।
- কালকেতু তখন হাটে গেছে মাংস বিক্রি করতে। ফুল্লরার ধারণা, ঘরে তার সতীন এসেছে। রাগে, দুঃখে, ক্ষোভে অভিমানে ফুল্লরা হাটের দিকে যায় স্বামীকে মোকাবিলা করতে।
স্বামীকে পেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে উচ্চারণ করে:
“পিপীলিকার পাখা ওঠে মরিবার তরে /
কাহার ষোড়শী কন্যা আনিয়াছ ঘরে?”

উৎস : কালকেতু ও ফুল্লরা উপাখ্যান এবং ইত্তেফাক আর্কাইভ।

১,৬০৯.
'সংবাদ প্রভাকর' প্রথম প্রকাশিত হয় কার সম্পাদনায় 
  1. প্রমথ চৌধুরী 
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক।
- ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী কবি হিসেবে পরিচিত।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন যুগসন্ধিক্ষণের কবি (১৭৬১ – ১৮৬০)।
- তাকে যুগসন্ধিক্ষণের  কবি বলা হয় কারণ তার রচনায় মধ্যযুগের সাহিত্যরীতি ও বিষয়বস্তু যেমন ছিল, তেমনি আধুনিক যুগের প্রভাবও ছিল স্পষ্ট।
- তিনি ছিলেন দুই যুগের মেলবন্ধনের প্রতীক।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন।
- অল্পদিনের মধ্যেই এটি বন্ধ হলেও ১৮৩৬ সালে পুনরায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে ১৮৩৯ সালে ‘সংবাদ প্রভাকর’ বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকায় পরিণত হয়।
- এছাড়া ‘সংবাদ প্রভাকর’ ছাড়াও ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকাও সম্পাদনা করেছিলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে উদ্দেশ করে এই উক্তিটি করেন-  “এতো বড় প্রতিভা কেবলই ইয়ার্কিতে ফুরালো।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অসামান্য প্রতিভা মূলত ব্যঙ্গ-রসাত্মক ও অপ্রধান বিষয়নির্ভর রচনাতেই নষ্ট হয়েছে, যা সাহিত্যকে গভীরতা বা স্থায়ী মূল্য দিতে পারেনি।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ।

১,৬১০.
'মরণ রে,
তুঁহুঁ মম শ্যামসমান।'
- কোন কবিতার লাইন?
  1. প্রাণ
  2. সিন্ধুতরঙ্গ
  3. মরণ
  4. বৃষ্টি পরে টাপুর টুপুর
সঠিক উত্তর:
মরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরণ
ব্যাখ্যা
• ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী বৈষ্ণব পদাবলির ধারার এবং ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত একটি কাব্য।  
• উল্লেখযোগ্য কবিতা: মরণ,

‘মরণ’ কবিতার অংশবিশেষ :
"মরণ রে,
তুঁহুঁ মম শ্যামসমান।"

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি, 
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপূট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি। 

উৎস:
১) ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী কাব্যগ্রন্থ এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার - ১০।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৩) বাংলাপিডিয়া।
১,৬১১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'রক্তকরবী' নাটক নিচের কোন বিষয়টি চিত্রায়িত করা হয়েছে?
  1. ধনের উপর ধান্যের প্রাধান্য
  2. শক্তির উপর প্রেমের জয়
  3. মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
• ' রক্তকরবী' নাটকের রচয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

• 'রক্তকরবী' নাটক সম্পর্কিত আলোচনা:
- রক্তকরবী (১৯২৬) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সাংকেতিক নাটক।
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি 'প্রবাসী' পত্রিকার আশ্বিন সংখ্যায় প্রকাশিত।

- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের প্রাধান্য, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- নাটকের চরিত্র - নন্দিনী, রঞ্জন।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে। 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। 
------------------ 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- তিনি অসংখ্য কবিতা, গান, ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য, নৃত্যনাট্য, ভ্রমণকাহিনি, চিঠিপত্র রচনা করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- বাংলাদেশের শাহজাদপুর, পতিসর, কালিগ্রাম ও শিলাইদহে আসেন।
- তিনি ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• রবীন্দ্রনাথ রচিত অন্যান্য নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- তাসের দেশ,
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- ডাকঘর,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা,
- নটীর পূজা।
-----------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিছু উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পের চরিত্র:
- তাঁর 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- তাঁর 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- তাঁর 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'। 
- পোস্টমাস্টার গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'। 
- তাঁর 'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র: কুমুদিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও রবীন্দ্র রচনা সমগ্র।
১,৬১২.
‘ঘুম থেকে জেগে বৈশাখী ঝড়ে কুড়ায়েছি ঝরা আম’ এই লাইনটির লেখক বা কবি কে?
  1. বেগম সুফিয়া কামাল
  2. সুফিয়া আহম্মদ
  3. আহসান হাবীব
  4. সানাউল হক
সঠিক উত্তর:
বেগম সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
- 'ঘুম থেকে জেগে বোইশাখী ঝড়ে কুড়ায়েছি ঝরা আম' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - সুফিয়া কামাল
- লাইনটি কবি সুফিয়া কামালের 'পল্লী স্মৃতি' নামক কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 

পল্লী স্মৃতি
বেগম সুফিয়া কামাল
"বহুদিন পরে মনে পড়ে আজি পল্লী ময়ের কোল,
ঝাউশাখে যেথা বনলতা বাঁধি হরষে খেয়েছি দোল
কুলের কাটার আঘাত লইয়া কাঁচা পাকা কুল খেয়ে,
অমৃতের স্বাদ যেন লভিয়াছি গাঁয়ের দুলালী মেয়ে
পৌষ পার্বণে পিঠা খেতে বসে খুশীতে বিষম খেয়ে,
আরো উল্লাস বাড়িয়াছে মনে মায়ের বকুনি পেয়ে।
চৈত্র নিশির চাঁদিমায় বসি‘ শুনিয়াছি রূপকথা,
মনে বাজিয়াছে সুয়ো দুয়োরাণী দুখিনি মায়ের ব্যথা।
তবু বলিয়াছি মার গলা ধরে, “মাগো, সেই কথা বল,
রাজার দুলালে পাষাণ করিতে ডাইনী করে কি ছল!
সাতশ‘ সাপের পাহারা কাটায়ে পাতালবাসিনী মেয়ে,
রাজার ছেলেরে বাঁচায়ে কি করে পৌঁছিল দেশে যেয়ে।”
কল্পপূরীর স্বপনের কাঠি বুলাইয়া শিশু চোখে
তন্দ্রদোলায় লয়ে যেত মোরে কোথা দূর ঘুমলোকে
ঘুম হতে জেগে বৈশাখী ঝড়ে কুড়ায়েছি ঝরা আম
খেলার সাথীরা কোথা আজ তারা? ভুলিয়াও গেছি নাম।
নববর্ষার জলে অবগাহি কভু পুলকিত মনে
গান গাহিয়াছি মল্লার রাগে বাদলের ধারা সনে;
শিশির সিক্ত শেফালী ফুলের ঘন সৌরভে মাতি‘
শারদ প্রভাতে সখীগন সাথে আনিয়াছি মালা গাঁথি‘।
পল্লী নদীর জলে ভাসাইয়া মোচার খেলার তরী,
কাঁদিয়া ফিরেছি সাঁঝের আলোতে পুতুল বিদায় করি‘।
আগামী দিনের আশা-ভরসার কত না মধুর ছবি
ফুঁটিয়া উঠেছে আঁখির পাতায় ডুবেছে যখন রবি"। 

উৎস: পল্লী স্মৃতি কবিতা – বেগম সুফিয়া কামাল। 
১,৬১৩.
'আত্মচরিত' আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গ) কাজী আবদুল ওদুদ
  4. ঘ) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
সঠিক উত্তর:
ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত বাংলা গদ্যে রচিত প্রথম আত্মজীবনী- বিদ্যাসাগর চরিত/আত্মচরিত। উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,৬১৪.
চণ্ডীচরণ মুনশী কোন গ্রন্থটি রচনা করেন?
  1. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
  2. লিপিমালা
  3. কথোপকথন
  4. তোতা ইতিহাস
সঠিক উত্তর:
তোতা ইতিহাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোতা ইতিহাস
ব্যাখ্যা
তোতা ইতিহাস:
- চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত গ্রন্থ 'তোতা ইতিহাস' একটি গল্পগ্রন্থ। যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে। এটি ফারসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত।

চণ্ডীচরণ মুনশী:
- তিনি ছিলেন বাঙ্গালী লেখক।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাঙালা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অন্যদিকে, 
উইলিয়াম কেরি রচিত গ্রন্থ - কথোপকথন (১৮০১)
রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ - রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১) ও লিপিমালা (১৮০২)। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৬১৫.
‘চাঁদের অমাবস্যা’  সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত একটি-
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
⇒ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
• তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
• বাংলা একাডেমি পুরস্কার(১৯৬১), আদমজি পুরস্কার (১৯৬৫), একুশে পদক (১৯৮৩) লাভ করেন।

⇒ চাঁদের অমাবস্যা:
• ‘চাঁদের অমাবস্যা’ ১৯৬৪ সালে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত একটি উপন্যাস।
• চাঁদের অমাবস্যায় যুবক শিক্ষকের ভয় ও আত্ম-প্রবঞ্চনার প্রতিফলনের সমাচার আঁকতে গিয়ে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ মানবিক অস্তিত্ব-সংকট এবং ব্যক্তির দায় ও ভারবোধের প্রসঙ্গাদি পরিবেশন করেছেন।
• এই গ্রন্থে প্রকৃতি, রাত, চাঁদ, অন্ধকার, আলো, কুয়াশা, নদী, বাঁশির শব্দ, বাতাসের আওয়াজ; ব্যক্তির সংশয়, সারল্য, আত্মনিমগ্নতা- এইসব বিষয় ও অনুভব সারিবদ্ধভাবে হাজির হয়েছে পাঠকের সামনে।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

নাটক:
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬১৬.
কোনটি জসীমউদ্দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি?
  1. বিলাতে সাড়ে সাত শ' দিন
  2. দেশে বিদেশে
  3. যে দেশে মানুষ বড়
  4. পথে প্রবাসে
সঠিক উত্তর:
যে দেশে মানুষ বড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে দেশে মানুষ বড়
ব্যাখ্যা
⇒ ‘যে দেশে মানুষ বড়’ জসীমউদ্দীন রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি।
- ভ্রমণকাহিনিটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে।
- এই ভ্রমনকাহিনিতে মস্কো শহর, তাসখন্দ, রাশিয়া ইত্যাদি জায়গায় বর্ণনা আছে।

অন্যদিকে,
• মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ভ্রমণকাহিনি ‘বিলাতে সাড়ে সাত শ' দিন’।
• 'পথে প্রবাসে' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা অন্নদাশঙ্কর রায়।
• 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিনি।

============
⇒ জসীমউদ্দীন: 
- কবি জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীমউদ্দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা ইত্যাদি।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬১৭.
বুদ্ধদেব বসুর জন্মস্থান-
  1. কুমিল্লা
  2. কলকাতা
  3. বিক্রমপুর
  4. ময়মনসিংহ
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬১৮.
নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়কোবাদকে কোন উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. সাহিত্যরত্ন
  2. সাহিত্যবিশারদ
  3. সাহিত্যসাগর
  4. কাব্যকণ্ঠ
সঠিক উত্তর:
সাহিত্যরত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাহিত্যরত্ন
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১) ছিলেন আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি, তিনি বাঙ্গালি মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা এবং আধুনিক বাংলাসাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি।

- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়কোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

অন্যদিকে,
• বিখ্যাত বাঙালি সাহিত্যিক এবং মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের গবেষক আবদুল করিমকে নদীয়া সাহিত্য সভা তাকে "সাহিত্যসাগর" খেতাব এবং চট্টল ধর্মমণ্ডলী "সাহিত্যবিশারদ" খেতাব প্রদান করে। 

• 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধিতে ভূষিত হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬১৯.
'আধুনিক কবি ও কবিতা' প্রবন্ধটি রচনা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধ - আধুনিক কবি ও কবিতা

হাসান হাফিজুর রহমান:
- ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সংকলন গ্রন্থ “একুশে ফেব্রুয়ারি”।
- এটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়। সম্পাদক ছিলেন - হাসান হাফিজুর রহমান।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র র সম্পাদকও তিনি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,৬২০.
“তোমরা আনিবে ফুল ও ফসল পাখি-ডাকা রাঙা ভোর
জগৎ করিবে মধুময়, প্রাণে প্রাণে বাঁধি প্রীতিডোর।" - কোন কবির শিশু সাহিত্য?
  1. বেগম সুফিয়া কামাল
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. সুকুমার রায়
  4. কামিনী রায় 
সঠিক উত্তর:
বেগম সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

কবিতাংশটুকু কবি সুফিয়া কামালের 'আজিকার শিশু' কবিতার অংশবিশেষ। 
------------------------------------------------
"আজিকার শিশু"
   —সুফিয়া কামাল

"আমাদের যুগে আমরা যখন খেলেছি পুতুল খেলা।
তোমরা এ যুগে সেই বয়সেই লেখাপড়া কর মেলা।
আমরা যখন আকাশের তলে ওড়ায়েছি শুধু ঘুড়ি
তোমরা এখন কলের জাহাজ চালাও গগন জুড়ি।
উত্তর মেরু, দক্ষিণ মেরু সব তোমাদের জানা,
আমরা শুনেছি সেখানে রয়েছে জিন, পরী, দেও, দানা।
পাতালপুরীর অজানা কাহিনী তোমরা শোনাও সবে
মেরুতে মেরুতে জানা পরিচয় কেমন করিয়া হবে।
তোমাদের ঘরে আলোর অভাব কভু নাহি হবে আর
আকাশ-আলোক বাঁধি আনি দূর করিবে অন্ধকার।
শস্য-শ্যামলা এই মাটি মা'র অঙ্গ পুষ্ট করে
আনিবে অটুট স্বাস্থ্য, সবল দেহ-মন ঘরে ঘরে।
তোমাদের গানে, কল-কলতানে উছসি উঠিবে নদী—
সরস করিয়া তৃণ ও তরুরে বহিবে সে নিরবধি।
তোমরা আনিবে ফুল ও ফসল পাখি-ডাকা রাঙা ভোর
জগৎ করিবে মধুময়, প্রাণে প্রাণে বাঁধি প্রীতিডোর।
------------------------------------------------
সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি কবি, লেখক, নারী অধিকার কর্মী এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- তিনি ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।
- কারণ তিনি কেবল সাহিত্যেই নয়, ভাষা আন্দোলন, নারীবাদী সংগ্রাম এবং সামাজিক উন্নয়নের কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
- নারী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তিনি নারীমুক্তি ও সমান অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন।

• তাঁর  উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া;
- উদাত্ত পৃথিবী।

• তাঁর বিখ্যাত গল্প: ‘কেয়ার কাঁটা’। 
• স্মৃতিকথার ক্ষেত্রে কবির উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ- ‘একাত্তরের ডায়েরী’।

• কবি সুফিয়া কামালের শিশু সাহিত্যেও উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।
- তাঁর ‘ইতল বিতল’ এবং ‘নওল কিশোরের দরবারে’ গ্রন্থ দুটি শিশুদের জন্য রচিত ছড়া ও কবিতার সংকলন।
- গ্রন্থ দুইটি বাংলা শিশু সাহিত্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
- এসব রচনায় শিশুদের কল্পনা, আনন্দ ও মানসিক জগৎ অত্যন্ত সহজ ও প্রাণবন্তভাবে ফুটে উঠেছে।

• এ ছাড়া শিশুদের কেন্দ্র করে লেখা তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘আজিকার শিশু’ শিশু সাহিত্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি রচনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

উৎস:
‘আজিকার শিশু’ কবিতা; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১,৬২১.
'নিশুতি রাতের গাঁথা' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. খ) আনোয়ার পাশা
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
খ) আনোয়ার পাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
আনোয়ার পাশা(১৯২৮-১৯৭১):
 বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক আনোয়ার পাশার জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে। 
- আনোয়ার পাশা ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক।
- তাঁর সাহিত্যকর্মে গভীর দেশাত্মবোধ, মননশীলতা এবং প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনার পরিচয় পাওয়া যায়। 
- তাঁর দু দশকের সাহিত্যজীবনে প্রকাশিত হয় মোট দশটি গ্রন্থ ও পনেরোটি প্রবন্ধ।
- তার মধ্যে আছে দুটি কাব্যসংকলন, একটি গল্পসংকলন, তিনটি  উপন্যাস ও দুটি সমালোচনা গ্রন্থ। 

তাঁর  উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে:
- নদী নিঃশেষিত হলে (১৯৬৩),
- রবীন্দ্র ছোটগল্প সমীক্ষা (২ খন্ড ১৯৬৩, ১৯৭৩),
- নীড় সন্ধানী (১৯৬৮),
- নিশুতি রাতের গাঁথা (১৯৬৮),
- সাহিত্যশিল্পী আবুল ফজল (১৯৬৮),
- নিরুপায় হরিণী (১৯৭০),
- রাইফেল-রোটি-আওরাত (১৯৭৩),
- সমুদ্র শঙ্খলতা উজ্জয়িনী ও অন্যান্য কবিতা (১৯৭৪) ইত্যাদি।

- ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী আল বদরদের একটি দল তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসা থেকে চোখ বেঁধে নিয়ে যায় এবং মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের কাছে হত্যা করে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬২২.
"মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।" - রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকে উক্তিটি কে করেছেন?
  1. ইব্রাহিম কার্দি
  2. নবাব সুজাউদ্দৌলা
  3. জোহরা
  4. হিরণবালা
সঠিক উত্তর:
নবাব সুজাউদ্দৌলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবাব সুজাউদ্দৌলা
ব্যাখ্যা
• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর':
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিনঅঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬২৩.
‘জাহান্নম হইতে বিদায়’ কোন ঘটনার পটভূমিতে রচিত?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. ভাষা আন্দোলন 
  3. ব্রিটিশ শাসন
  4. সমাজ সংস্কার
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

‘জাহান্নম হইতে বিদায়’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তক ঘটনার পটভূমিতে রচিত। 

শওকত ওসমান:
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।

তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাঙ্গী,
- জাহান্নম হইতে বিদায়। 

তাঁর রচিত একটি নাটক:
- তস্কর লস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা,
- কাঁকর মণি,
- বাগদাদের কবি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১,৬২৪.
'সোহিনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন ছোটগল্পের চরিত্র?
  1. রবিবার
  2. দেনাপাওনা
  3. ল্যাবরেটরি
  4. একরাত্রি
সঠিক উত্তর:
ল্যাবরেটরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল্যাবরেটরি
ব্যাখ্যা

• 'ল্যাবরেটরি' গল্প:
- 'ল্যাবরেটরি' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একেবারে শেষের দিকের রচনা।
- গল্পটিতে রবীন্দ্রভাবনার অত্যাধুনিক মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।
- গল্পটির মূল চরিত্রে রয়েছে সোহিনী। বিজ্ঞান পাগল নন্দকিশোর নিজের জীবনের সাথে সোহিনীকে জড়িয়ে নিজের মতো করে গড়ে নিতে চেয়েছিলেন।

অন্যদিকে, 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "রবিবার" গল্পটি একটি জটিল মানব সম্পর্কের গল্প, যার কেন্দ্রে রয়েছে অভীককুমার নামে এক তরুণ নাস্তিক এবং বিভা নামে এক ধর্মপ্রাণ তরুণীর মধ্যে গভীর আবেগপ্রবণ সম্পর্ক।

• 'দেনাপাওনা' ছোটগল্প: 'দেনাপাওনা' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গল্পগুচ্ছ' থেকে সংকলিত হয়েছে। এ গল্পে তৎকালীন হিন্দু সমাজে পণপ্রথার কুফল সম্পর্কে জানা যায় এবং পণপ্রথার বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়াস উপলব্ধি করা যায়। লেখক গল্পটিতে যৌতুক নামক সামাজিক ব্যাধির এক নির্মম চিত্র তুলে ধরেছেন, যা যৌতুক গ্রহণকারীদের প্রতি ঘৃণার জন্ম দেয়। 'দেনাপাওনা' গল্পের নায়িকা- নিরূপমার।

• 'একরাত্রি' ছোটগল্প: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রেষ্ঠ গল্পসমূহের মধ্যে 'একরাত্রি' বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৯ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠ সংখ্যা 'সাধনা' পত্রিকায়। ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ছোটগল্প' শীর্ষক রবীন্দ্র গল্পগ্রন্থে এটি প্রথম গ্রন্থিত হয়। গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- 'সুরবালা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

১,৬২৫.
’সুবচন নির্বাসনে‘ নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সেলিম আল দ্বীন
  2. খ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. গ) জিয়া হায়দার
  4. ঘ) আলাউদ্দীন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল্লাহ আল মামুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
‘সুবচন নির্বাসনে‘ নাটকটির রচয়িতা - আবদুল্লাহ আল মামুন। 

আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত বিখ্যাত নাটক- 
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত), 
- এখন দুঃসময়, 
- এবার ধরা দাও, 
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
-  চারদিকে যুদ্ধ, 
- এখনো ক্রীতদাস,
-  কোকিলারা,
-  মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

 উপন্যাস- 
- মানব তোমার সারাজীবন, 
- তাহাদের যৌবনকাল, 
- হায় পার্বতী, 
- এই চুনীলাল,
-  গুন্ডাপান্ডা বাবা, 
- খলনায়ক ইত্যাদি।
১,৬২৬.
সুফিয়া কামাল সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. বাসন্তী
  2. শিলালিপি
  3. নারীশক্তি
  4. বেগম
সঠিক উত্তর:
বেগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম
ব্যাখ্যা

• 'বেগম' পত্রিকা:
- 'বেগম' বাংলাদেশে নারীদের প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা। ১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- সাহিত্যক্ষেত্রে মেয়েদের এগিয়ে আনার লক্ষ্যে সাহিত্যচর্চার পৃথক ক্ষেত্র হিসেবে বেগমের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- বেগম পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন এবং প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা ছিলেন সুফিয়া কামাল।
- পরে পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছেন নূরজাহান বেগম।

------------------
• সুফিয়া কামাল:

- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'বাসন্তী' প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম 'ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন'-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে 'মহিলা সংগ্রাম পরিষদ' (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

অন্যদিকে, 
• নারী সমাজের উন্নতির জন্য 'নারীশক্তি' নামে পত্রিকাটির প্রকাশক ও সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান।
• 'শিলালিপি' সেলিনা পারভীন সম্পাদিত পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৬২৭.
দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন কোনটি?
  1. বৈকুণ্ঠের খাতা
  2. সধবার একাদশী
  3. বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  4. একেই কি বলে সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা

• সধবার একাদশী:
- 'সধবার একাদশী' (১৮৬৬) দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন।
- ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
- এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনি নিয়ে নাটকটির রচিত।

- উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নিমচাঁদ,
- কেনারাম,
- সৌদামিনী,
- গিন্নী,
- কাঞ্চন ইত্যাদি।

দীনবন্ধু মিত্র: 
- তিনি একজন নাট্যকার ছিলেন।
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।

তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রহসনগুলি হচ্ছে:
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ,
- সধবার একাদশী,
- জামাই বরিক।

অন্যদিকে:
- 'একেই কি বলে সভ্যতা' এবং 'বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ' মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রহসন।
- 'বৈকুণ্ঠের খাতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রহসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬২৮.
কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের উপাধি-
  1. বনফুল
  2. ছন্দের জাদুকর
  3. কালপুরুষ
  4. শঙ্খচিল
সঠিক উত্তর:
ছন্দের জাদুকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছন্দের জাদুকর
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত :
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর উপাধি ছিল -  ছন্দের জাদুকর, ছন্দের রাজা।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বর্ধমানের চুপী গ্রামে।
- ১৯২২ সালের ২৫ জুন তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর বিখ্যাত কবিতাগ্রন্থ:
-সবিতা (১৯০০),
- সন্ধিক্ষণ (১৯০৫),
- বেণু ও বীণা (১৯০৬),
- কুহু ও কেকা (১৯১২),
- অভ্র ও আবীর (১৯১৬),
- হসন্তিকা (১৯১৯),
- বেলা শেষের গান (১৯২৩),
- বিদায় আরতি (১৯২৪),
- কাব্য সঞ্চয়ন (১৯৩০)।

অন্যদিকে,
- মুহাম্মাদ আব্দুল আলিরে ছদ্মনাম ছিল- শঙ্খচিল।
- বলাই চাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিল- বনফুল।
- সুবোধ ঘোষের ছদ্মনাম ছিল- কালপুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬২৯.
''এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে'' কবিতায় - ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট ________?
  1. শঙ্খমালা
  2. লক্ষ্মীপেঁচা
  3. শঙ্খচিল
  4. সুদর্শন
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্মীপেঁচা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্মীপেঁচা
ব্যাখ্যা
• 'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে কবিতায় ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট হলো - লক্ষ্মীপেঁচা। 
----------------- 
কবিতাংশ:
এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে—সবচেয়ে সুন্দর করুণ : 
সেখানে সবুজ ডাঙা ভ’রে আছে মধুকূপী ঘাসে অবিরল;
সেখানে গাছের নামঃ কাঁঠাল, অশ্বত্থ, বট, জারুল, হিজল;
সেখানে ভোরের মেঘে নাটার র’ঙের মতো জাগিছে অরুণ;
সেখানে বারুণী থাকে গঙ্গাসাগরের বুকে,—সেখানে বরুণ
কর্ণফুলী ধলেশ্বরী পদ্মা জলাঙ্গীরে দেয় অবিরল জল;
সেইখানে শঙ্খচিল পানের বনের মতো হাওয়ায় চঞ্চল,

সেইখানে লক্ষ্মীপেঁচা ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট, তরুণ;
সেখানে লেবুর শাখা নূয়ে থাকে অন্ধকারে ঘাসের উপর
সুদর্শন উড়ে যায় ঘরে তার অন্ধকার সন্ধ্যার বাতাসে;
সেখানে হলুদ শাড়ি লেগে থাকে রূপসীর শরীরের ’পর—
শঙ্খমালা নাম তারঃ এ-বিশাল পৃথিবীর কোনো নদী ঘাসে
তারে আর খুঁজে তুমি পাবে নাকো—বিশালাক্ষী দিয়েছিলো বর
তাই সে জন্মিছে নীল বাংলার ঘাস আর ধানের ভিতর।
--------------------- 
• জীবনানন্দ দাশ: 
- ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”
- 'বনলতা সেন' তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- 'বনলতা সেন' কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় 'রূপসী বাংলা' এবং “বেলা অবেলা কালবেলা' নামক কাব্য।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, এসএসসি প্রোগ্রাম- বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে- কবিতা, জীবনানন্দ দাস।
১,৬৩০.
নিচের কোনটি মমতাজ উদ্দীন আহমদ রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক নাটক?  
  1. বিবাহ
  2. কী চাহ শঙ্খচীল
  3. সাত ঘাটের কানাকড়ি
  4. স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
বিবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবাহ
ব্যাখ্যা

মমতাজ উদ্দীন আহমদ রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক নাটক- বিবাহ। 
------------------------------------- 
• মমতাজ উদ্দীন আহমদ:
- বাংলাদেশের প্রখ্যাত নাট্যকার, কথাশিল্পী ও ভাষাসৈনিক প্রফেসর মমতাজ উদ্দীন আহমদ।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৫ সালের ১৮ জানুয়ারি, তৎকালীন মালদাহ জেলার হাবিবপুর থানার আইহো গ্রামে, যা বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার অংশ।
- তাঁর পিতার নাম কলিমুদ্দিন আহমদ।
- ১৯৪৭ সালের দেশ-বিভাগের পর পরিবার স্থায়ীভাবে ভোলাহাট উপজেলার কানারহাট গ্রামে বসতি স্থাপন করেন।

- মমতাজ উদ্দীন আহমদ রচনা করেছেন অসংখ্য নাটক ও চিত্রনাট্য।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকগুলির মধ্যে রয়েছে:
• নাট্যত্রয়ী,
• হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার,
• বকুলপুরের স্বাধীনতা (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
• স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), 
• কী চাহ শঙ্খচীল (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), 
• জমীদার দর্পণ,
• সাত ঘাটের কানাকড়ি (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)। 

- তাঁর চিত্রনাট্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ রচনাগুলো হল:
• লাল সবুজের পালা,
• জোহরা,
• কাঠগড়া (রবীন্দ্রনাথের গল্প অবলম্বনে),
• বিরাজ বউ। 

- এছাড়া নাটক বিষয়ে তাঁর প্রবন্ধ ও গবেষণার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
• বাংলাদেশের নাটকের ইতিবৃত্ত,
• বাংলাদেশের থিয়েটারের ইতিবৃত্ত,
• নীলদর্পন (সম্পাদনা),
• সিরাজউদ্দোলা (সম্পাদনা)।

- তাঁর গদ্য রচনার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য- 
• চার্লি চ্যাপলিন-ভাড় নয় ভব ঘুরে নয়,
• বাংলাদেশ প্রসঙ্গ বঙ্গবন্ধু,
• আমার ভেতরের আমি,
• আমার সময়। 

- তাঁর ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক তাঁর অন্যতম নাটক হলো- ‘বিবাহ’। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১,৬৩১.
রুদ্রমঙ্গল কী ধরনের রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কাব্য
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
১৯২২ সালে প্রকাশিত হয় ‘যুগবাণী’ নামক প্রবন্ধগ্রন্থ। ‘নবযুগ’ পত্রিকায় সাত মাসে প্রকাশিত সম্পাদকীয় ও অন্য নিবন্ধগুলো থেকে বাছাই করে ২১টি প্রবন্ধ নিয়ে প্রকাশ করেন ‘যুগবাণী’ সংকলন গ্রন্থ। তাঁর ক্ষুরধার কলম সাহস করে সেই সব কথাই বলেছে, যা নিপীড়িত, লাঞ্ছিত, পরাধীন মানুষের অন্তরের কথা। তিনি তাদের মধ্যে জাগরণের মন্ত্র তুলে দিয়েছেন। যেসব লেখার কারণে ‘নবযুগ’ রাজরোষে পড়েছিল, সেসব লেখার সংকলন প্রকাশের কয়েকদিনের মধ্যে তা সরকার নিষিদ্ধ করে। এই নিষেধাজ্ঞা ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বহাল ছিল। নজরুলের প্রথম গদ্যগ্রন্থটিই শুধু বাজেয়াপ্ত হয়নি, তাঁর আরও দুটি প্রবন্ধগ্রন্থও পরবর্তীকালে বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ‘রুদ্রমঙ্গল’ (১৯২৬) প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বাজেয়াপ্ত হয়। এটিও দেশভাগের পর মুক্ত হয়। ১৯২৬ সালে প্রকাশিত অপর প্রবন্ধগ্রন্থ ‘দুর্দিনের যাত্রী’রও একই ভাগ্য ঘটে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ।
১,৬৩২.
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে লেখা 'হুলিয়া' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মহাদেব সাহা
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• ‘হুলিয়া’ কবিতাটির রচয়িতা: নির্মলেন্দু গুণ। 
-------------------
• কবি নির্মলেন্দু গুণের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো প্রেমাংশুর রক্ত চাই।
- এটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের একটি বিখ্যাত কবিতা হলো 'হুলিয়া'।

• 'নির্মলেন্দু গুণ': 
- ২১ জুন ১৯৪৫, কাশবন, নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাকনাম রতন।
- তিনি মূলত একজন কবি ছিলেন।
- তাকে বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয়।
 
তাঁর কাব্যগ্রন্থ গুলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবি,
- বাঙলার মাটি বাংলার জ্বল,
- চাষাভূষার কাব্য,
- মুজিব লেলিন ইন্দিরা,
- হুলিয়া।
 
কবিতা:
- হুলিয়া,
- স্বাধীনতা,
- এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো।
 
উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।
 
ভ্রমণ কাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসাবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়াখেলার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৩৩.
'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্প নয় কোনটি?
  1. ঘুমের ঘোরে
  2. রাজবন্দীর চিঠি
  3. হেনা
  4. অগ্নি-গিরি
সঠিক উত্তর:
অগ্নি-গিরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নি-গিরি
ব্যাখ্যা

'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ:
- ছয়টি গল্প নিয়ে 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে।
- 'ব্যথার দান' নজরুলের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ; প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ তো বটেই।
- এই গ্রন্থের গল্পগুলোর ভাষা আবেগাশ্রয়ী, বক্তব্য নরনারীর প্রেমকেন্দ্রিক।

• 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- ব্যথার দান,
- হেনা,
- অতৃপ্ত কামনা,
- বাদল-বরিষণে,
- ঘুমের ঘোরে,
- রাজবন্দীর চিঠি

অন্যদিকে,
'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্প - অগ্নি-গিরি।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্পগ্রন্থ: 
- ব্যাথার দান,
- রিক্তের বেদন, 
- শিউলিমালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬৩৪.
'গরিবের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) বদরুদ্দীন উমর
  2. খ) নজিবর রহমান
  3. গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  4. ঘ) মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
খ) নজিবর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
আনোয়ারা, প্রেমের সমাধি, গরিবের মেয়ে, মেহেরুন্নিসা, পরিণাম, দুনিয়া আর চাই না, চাঁদতারা বা হাসন গঙ্গাবাহমতি ইত্যাদি উপন্যাসের রচয়িতা মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১,৬৩৫.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'মানুষ' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. অগ্নিবীণা
  2. ফণিমনসা
  3. বিষের বাঁশী
  4. সাম্যবাদী
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'মানুষ' কবিতাটি 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।

মানুষ- কবিতা,
কাজী নজরুল ইসলাম।

গাহি সাম্যের গান-
মানুষের চেয়ে বড়ো কিছু নাই,
নহে কিছু মহীয়ান!
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম জাতি,
সব দেশে, সবে কালে, ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি
(সংক্ষিপ্ত)

• 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটির উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ,
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী,
- নারী,
- রাজা-প্রজা,
- সাম্য,
- কুলিমজুর

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ।

১,৬৩৬.
’প্রভাতসঙ্গীত’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. ফররুখ আহমেদ
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

 'প্রভাতসঙ্গীত':
- ”প্রভাতসঙ্গীত” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এখানে মোট ২১টি কবিতা রয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, 'প্রভাতসঙ্গীত আমার অন্তর প্রকৃতির প্রথম বহির্মুখী উচ্ছ্বাস।'
- এই গ্রন্থের বিখ্যাত কবিতা: নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ।

রবীন্দ্রনাথা ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর। 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত।
- ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।

তাঁর রচিক কাব্যগ্রন্থ: 
-  প্রকৃতির প্রতিশোধ,
- কড়ি ও কোমল, 
- মায়ার খেলা,
- মানসী,
- সোনর তরী,
- গীতাঞ্জলী,
- বলাকা,
- পূরবী,
- চৈতালী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬৩৭.
কোন গ্রন্থটি মহাকাব্য?
  1. অবকাশ রঙ্গিনী
  2. বৃত্র সংহার
  3. বিরহ বিলাপ
  4. বীরঙ্গনা কাব্য 
সঠিক উত্তর:
বৃত্র সংহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃত্র সংহার
ব্যাখ্যা

• 'বৃত্রসংহার' মহাকাব্য:
- 'বৃত্রসংহার' হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য।
- মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে রচিত হয়েছে এ কাব্যটি এবং এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।
- এতে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে।
- 'বৃত্রসংহার' মহাকাব্যের প্রথম খণ্ড ১৮৭৫ ও দ্বিতীয় খণ্ড ১৮৭৭ সালে প্রকাশিত হয়।

---------------------
• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি হুগলির গুলিটা গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
-  হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- চিন্তাতরঙ্গিণী (হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়)।
- আশাকানন।
- ছায়াময়ী।
- দশমহাবিদ্যা।
- চিত্তবিকাশ।
- বীরবাহু কাব্য (এটি আখ্যানকাব্য যা ১৮৬৪ সালে প্রকাশিত হয়)।

অন্যদিকে, 
• 'বিরহ বিলাপ' (১৮৭০) হলো মহাকবি কায়কোবাদ রচিত ও প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
• বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসুদন দত্ত রচিত পত্রকাব্য। এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৬৩৮.
"মনে মনে সকলেই যাহা জানে মুখ ফুটিয়া তাহা বলিবার অধিকার তাহার নাই।" - উক্তিটি কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়?
  1. ক) হাজার বছর ধরে
  2. খ) পদ্মা নদীর মাঝি
  3. গ) তিতাস একটি নদীর নাম
  4. ঘ) দুই বোন
সঠিক উত্তর:
খ) পদ্মা নদীর মাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পদ্মা নদীর মাঝি
ব্যাখ্যা
উক্তিটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসের অন্তর্গত। উক্তিটি উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কুবের সম্পর্কে করা হয়েছে।

“গরিবের মধ্যে সে গরিব , ছোটলোকের মধ্যে আরও বেশী ছোটলোক। এমনভাবে তাহাকে বঞ্চিত করিবার অধিকারটা সকলে তাই প্রথার মতো , সামাজিক ও ধর্মসম্পর্কীয় দশটা নিয়মের মতো, অসংকোচে গ্রহণ করিয়াছে। সে প্রতিবাদ করিতেও পারিবে না। মনে মনে সকলেই যাহা জানে মুখ ফুটিয়া তাহা বলিবার অধিকার তাহার নাই।”

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পদ্মা নদীর মাঝি' ১৯৩৪ সাল থেকে ‘পূর্বাশা’ পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ হয় ১৯৩৬ সালে।

- কুবের ‘পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র।  
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
 - কপিলা
- মালা,
- হোসেন মিয়া,
- ধনঞ্জয়,
- শীতলবাবু।

উৎস: পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৩৯.
শেক্সপীয়রের 'কমেডি অব এররস' নাটকটি বাংলায় অনুবাদ করেন কে?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

'ভ্রান্তিবিলাস':
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের 'ভ্রান্তিবিলাস' শেক্সপীয়রের 'কমেডি অব এররস' নাটকের অনুবাদ।
- ভ্রান্তিবিলাস রচিত হয় ১৮৬৯ সালে, বিদ্যাসাগরের প্রথম রচনা বেতালপঞ্চবিংশতির বাইশ বছর পরে।
- ভ্রান্তিবিলাস বিশ্বখ্যাত নাট্যকার শেক্সপীয়রের 'কমেডি অব এররস' নাটক অবলম্বনে রচিত।

• বইয়ের 'বিজ্ঞাপন' শিরোনাম অংশে তিনি লিখেছেন:
'কিছু দিন পূর্বে, ইংলন্ডের অদ্বিতীয় কবি শেক্সপীয়রের প্রণীত ভ্রান্তিপ্রহসন পড়িয়া আমার বোধ হইয়াছিল, এতদীয় উপাখ্যানভাগ বাঙ্গালাভাষায় সঙ্কলিত হইলে লোকের চিত্তরঞ্জন হইতে পারে। তদনুসারে ঐ প্রহসনের উপাখ্যানভাগ বাঙ্গালাভাষায় সঙ্কলিত ও ভ্রান্তিবিলাস নামে প্রচারিত হইল।'
এরপরে তিনি বলেছেন যে এই নাটকের কাব্য-অংশ শেক্সপীয়রের অন্যান্য নাটকের চেয়ে 'নিকৃষ্ট', কিন্তু এর কাহিনী-অংশ কৌতুকপূর্ণ।
সেজন্য তিনি এই নাটকটি বাংলাভাষায় রূপান্তরের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তিনি বাংলা গদ্যে যতি বা বিরামচিহ্নের প্রবর্তন করেন।
- বাংলা গদ্য প্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য তিনি ‘উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ’ ও ‘অনতিলক্ষ্য ছন্দঃস্রোত’ সৃষ্টি করেন।
- তিনি বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন।
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন।
- বাংলা গদ্যকে তিনি সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন বলেই বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'ভ্রান্তিবিলাস' গ্রন্থ।

১,৬৪০.
'কালকূট' — কার ছদ্মনাম?
  1. সতীনাথ ভাদুড়ী
  2. মণীশ ঘটক
  3. সমরেশ বসু
  4. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
সমরেশ বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা

• সমরেশ বসুর ছদ্মনাম- 'কালকূট'।

অন্যদিকে,
- সতীনাথ ভাদুড়ীর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১,৬৪১.
'বঙ্গসুন্দরী' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. আব্দুল হাকিম
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

• আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গীতি কবিতার প্রবর্তক বিহারীলাল চক্রবর্তী।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- সারদামঙ্গল (এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা),
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধুবিয়োগ,
- সাধের আসন,
- ধুমকেতু ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

১,৬৪২.
মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের নাম কী?
  1. বাংলা ধ্বনিবিজ্ঞান
  2. আধুনিক বাংলা ধ্বনিবিজ্ঞান
  3. ধ্বনিবিজ্ঞানের কথা
  4. ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের নাম- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব।

• ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব:
- বাংলা ভাষার ধ্বনির গঠন, উচ্চারণ ও ব্যবহারবিধি সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশে­ষণ দিয়ে রচিত তাঁর ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব গ্রন্থটি মুহম্মদ আবদুল হাইকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি দান করে।
- ‘ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব’ গ্রন্থটি ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটির বর্ণনাভঙ্গি বিজ্ঞানানুগ, এর ভাষাভঙ্গি ও রচনাকৌশল বিবেচনায় এখানে নিরস তত্ত্বকথাও রসপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে এ বিষয়ে অনভিজ্ঞ পাঠকও সহজে আকৃষ্ট হয়।
- ভাষাতত্ত্বের মৌলিক বিষয় নিয়ে এরূপ উচ্চমানসম্পন্ন গবেষণাগ্রন্থ দুই বাংলার মধ্যে তিনি প্রথম রচনা করেন।
- ধ্বনিবিজ্ঞানী হিসেবে গ্রন্থটি তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেয়।

-----------------------------
• মুহম্মদ আবদুল হাই:
- মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।

• মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৪৩.
‘বঙ্গবন্ধু সঙ্গে আলাপ ও প্রাসঙ্গিক কথকতা’ - গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. শওকত আলী
  2. শামসুর রাহমান
  3. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. শামসুজ্জামান খান
সঠিক উত্তর:
শামসুজ্জামান খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
• ‘বঙ্গবন্ধু সঙ্গে আলাপ ও প্রাসঙ্গিক কথকতা’ গ্রন্থটি রচনা করেন - শামসুজ্জামান খান।

শামসুজ্জামান খান:

- শামসুজ্জামান খান ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার চারিগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মায়ের নাম শামসুন্নাহার খানম এবং বাবার নাম আবদুর রহমান খান।
- তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমি’র মহাপরিচালক হন।
-  তিনি অগ্রণী ব্যাংক পুরস্কার, কালুশাহ পুরস্কার, দীনেশচন্দ্র সেন ফোকলোর পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার , মীর মশাররফ হোসেন স্বর্ণপদক ইত্যাদি পুরস্কার ও পদকে ভূষিত হন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা প্রসঙ্গ, 
- গণসঙ্গতি, 
- মাটি থেকে মহীরুহ, 
- বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ প্রাসঙ্গিক কথকতা, 
- ফোকলোরচর্চা।

তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- ঢাকাই রঙ্গরসিকতা,
- গ্রামবাংলার রঙ্গরসিকতা,
- গ্রামবাংলার রঙ্গ গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৪৪.
কথাসাহিত্যক হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস -
  1. জোছনা ও জননীর গল্প
  2. আগুনের পরশমণি
  3. শ্যামল ছায়া
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদ:
- কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- অনিল বাগচীর একদিন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৪৫.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন গল্পের জন্য কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন?
  1. মন্দির
  2. মহেশ
  3. সতী
  4. বিলাসী
সঠিক উত্তর:
মন্দির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্দির
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৪৬.
'নগেন্দ্রনাথ' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. চরিত্রহীন
  2. যোগাযোগ
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল
  4. বিষবৃক্ষ
সঠিক উত্তর:
বিষবৃক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা
• 'বিষবৃক্ষ' উপন্যাস
- 'বিষবৃক্ষ' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- এটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। 
- চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এতে বিধবা বিবাহ,পুরুষের একাধিক বিবাহ,নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- বাল্য বিধবা কুন্দনন্দিনী এ উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস এবং চরিত্র সমূহ:
- কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসের চরিত্র: রোহিনী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর। 
- দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের চরিত্র: আয়েশা, তিলোত্তমা। 
- মৃণালিনী  উপন্যাসের চরিত্র: হেমচন্দ্র, মৃনালিনী, পশুপতি, মনোরমা।
- বিষবৃক্ষ  উপন্যাসের চরিত্র: কুন্দনন্দিনী,নগেন্দ্রনাথ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৪৭.
প্রাচীন বাংলার জনপদ ও অর্থনীতি নিয়ে নীহাররঞ্জন রায়ের বইটির নাম কী?
  1. বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
  2. বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
  3. বাঙ্গালীর ইতিহাস(আদি পর্ব)
  4. বাংলা সাহিত্যের কথা
সঠিক উত্তর:
বাঙ্গালীর ইতিহাস(আদি পর্ব)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঙ্গালীর ইতিহাস(আদি পর্ব)
ব্যাখ্যা

• নীহাররঞ্জন রায় 'বাঙ্গালীর ইতিহাস' গ্রন্থটি লিখেছেন। 

• নীহাররঞ্জন রায়: 
- নীহাররঞ্জন রায়, ভারতের শেষ বহুশাস্ত্রজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম একজন।
- মানব অভিজ্ঞতার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনে নীহাররঞ্জন রায় এর প্রয়াস পরিণতি লাভ করেছে তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।
-------------------------------- 
• ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ গ্রন্থ: 
- তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ গ্রন্থ।
- এই ক্লাসিক সৃষ্টি রাজনৈতিক পরিভাষায় ইতিহাস বিশ্লেষণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক পরিবর্তনের সূচনা ঘটায় এবং তা সাধারণ মানুষকে ইতিহাসবিদদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু করে তোলে।
- গ্রন্থটির সাহিত্যমূল্যের ক্ষেত্রেও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
- ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনকালে ১৯৪২ সালে তিনি কারাবন্দি হন এবং জেলখানায়ই ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ রচনার কাজ শুরু করেন।
- বার্মাতেই তাঁর মনে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অবিচ্ছিন্নতার ধারণা দৃঢ়বদ্ধ হয়, যা পূর্ণ পরিণতি লাভ করে ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত তাঁর বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- Maurya and Sunga Art, 
- বাঙ্গালীর ইতিহাস, 
- Nationalism in India, 
- Idea and Image of Indian Art.

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাঙ্গালীর ইতিহাস(আদি পর্ব)।

১,৬৪৮.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম কী?
  1. গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  2. ব্যাকরণ মঞ্জুরী
  3. বাঙ্গালা ব্যাকরণ 
  4. ব্যাকরণ কৌমুদী
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ কৌমুদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ কৌমুদী
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গদ্যগ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

• তাঁর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'ব্যাকরণ মঞ্জুরী' এর লেখক - ড. মুহম্মদ এনামুল হক।
• 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' এর রচয়িতা-ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। 
• 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' এর রচয়িতা-  রাজা রামমোহন রায়। 


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৬৪৯.
নিচের কোনটি শামসুর রাহমানের উপন্যাস?
  1. বন্দী শিবির থেকে
  2. এলো সে অবেলায়
  3. রৌদ্র করোটিতে
  4. পরানের গহীন ভিতর
সঠিক উত্তর:
এলো সে অবেলায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এলো সে অবেলায়
ব্যাখ্যা

"এলো সে অবেলায়"  শামসুর রাহমান উপন্যাস।

অন্যদিকে,
• 'পরানের গহীন ভিতর' কাব্যের রচয়িতা - সৈয়দ শামসুল হক।

• শামসুর রাহমান:

- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী (তৎকালীন ঢাকা জেলা) জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• তাঁর রচিত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- অন্ধকার থেকে আলোয়,
- হরিণের হাড়,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬৫০.
'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে' - উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কামিনী রায়
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. নন্দলাল বসু
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনি:
- 'পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণামূলক ভ্রমণকাহিনী হচ্ছে 'পালামৌ'।
- এটি ছোট নাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু এবং মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে' - এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য। তিনি এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা, 
- মাধবীলতা, 
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট। 

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৫১.
হাসান আজিজুল হক রচিত “আগুনপাখি” উপন্যাসটি কোন প্রেক্ষাপট নিয়ে রচিত?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. দেশ বিভাগ
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. কৃষক বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
দেশ বিভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশ বিভাগ
ব্যাখ্যা
- হাসান আজিজুল হকের “আগুনপাখি” উপন্যাসটি দেশ বিভাগের পটভূমিতে লেখা।
- আগুনপাখি ২০০৬ সালে প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসের কাহিনী বর্ধমান জেলার বাঁকুড়া অঞ্চলের প্রত্যন্ত এক গ্রামের সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারের ও পরিবারের আশেপাশের হিন্দু মুসলমানদের জীবন থেকে নেয়া।
- ১৯৩৯ সালে হাসান আজিজুল হক পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার,
- ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার,
- ১৯৯৯ সালে একুশে পদক,
- ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন। 


অন্যান্য উপন্যাসগুলো হল-
- বৃত্তায়ন
- শিউলি
- আগুনপাখি
- সাবিত্রী উপাখ্যান

উল্লেখ্য, গত ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন। 


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৬৫২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্যিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) সত্যাসত্য
  2. খ) বিষাদ-সিন্ধু
  3. গ) চিলেকোঠার সেপাই
  4. ঘ) গোরা
সঠিক উত্তর:
ক) সত্যাসত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সত্যাসত্য
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায় একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। 
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।

বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্যিক উপন্যাস 'সত্যাসত্য'। 
'সত্যাসত্য' ছয় খন্ডে ছয়টি নামে প্রকাশিত হয়। 
যথাক্রমে-
- যার যেথা দেশ (১৯৩২),
- অজ্ঞাতবাস (১৯৩৩),
- কলঙ্কবতী (১৯৩৪),
- দুঃখমোচন (১৯৩৬),
- মর্ত্যের স্বর্গ (১৯৪০),
- অপসরণ (১৯৪২)।

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি। 

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
১,৬৫৩.
'বেনামী বন্দর' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. খ) প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. গ) ফররুখ আহমেদ
  4. ঘ) ফজিলতুন্নেসা
সঠিক উত্তর:
ক) প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
- 'বেনামী বন্দর' গল্পগ্রন্থটি রচনা করেন প্রেমেন্দ্র মিত্র

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর, বেনামী বন্দর, পুতুল ও প্রতিমা, মৃত্তিকা, অফুরন্ত, মহানগর, ধূলিধূসর, নিশীথ নগরী, কুড়িয়ে ছড়িয়ে, সামনে চড়াই, প্রেমেন্দ্র মিত্রের শ্রেষ্ঠগল্প, সপ্তপদী, জল পায়রা, নানা রঙে বোনা।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- প্রথমা, সম্রাট, সাগর থেকে ফেরা, ফেরারী ফৌজ, হরিণ চিতা চিল, কখনো মেঘ, অথবা কিন্নর,  নদীর নিকটে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- পাঁক, কুয়াশা, মিছিল, উপনয়ন, আগামীকাল, প্রতিশোধ, প্রতিধ্বনি ফেরে, অন্য এক নাম, পা বাড়ালেই রাস্তা, পতাকা যারে দাও, স্তব্ধ প্রহর, মনুদ্বাদশ, অমলতাস, স্বপ্নতনু, দিগ্বলয়, যিনি বিধাতা, সেই যে শহর রাজোলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৬৫৪.
'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন - 
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রাজা রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর:
লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা

হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- 'ইয়ংবেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা  ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৬৫৫.
নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ ছিলেন-
  1. তারাচরণ শিকদার
  2. বিজন ভট্টাচার্য
  3. মাইকেল মধুসূদন
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
বিজন ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি ১৯০৬ সালে ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।
- তিনি ছিলেন নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- ১৯৪২ সালে সক্রিয় কর্মী হিসেবে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন।
- এছাড়া তিনি ভারত ছাড় আন্দোলন, জনযুদ্ধ-নীতি প্রচার, ফ্যাসিবাদ বিরোধী লেখক ও শিল্পিসঙ্ঘ স্থাপন এবং প্রগতি লেখক সঙ্ঘ
- এবং ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।
- ১৯৭৮ সালের ১৯ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত নাটক:
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

অন্যদিকে, 
• তারাচরণ শিকদার রচিত নাটক- ‘ভদ্রার্জুন' (১৮৫২):
- এটি বাঙালি কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম নাটক।
• মাইকেল মধুসূদন রচি নাটক : ‘শর্মিষ্ঠা', 'পদ্মাবতী', ‘কৃষ্ণকুমারী’, ‘মায়াকানন ।
• দীনবন্ধু মিত্র রচিত নাটক:  ‘নীলদর্পণ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৫৬.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক বলা হয় কাকে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী। তাঁর ছন্দনাম “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র। সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব আলালের ঘরের দুলাল যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত। রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে।
- প্যারীচাঁদ মিত্রকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক বলা হয়ে থাকে। তাই তাকে, বাংলা সাহিত্যধারার প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ বলা হয়

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬৫৭.
বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ "বঙ্গভাষা ও সাহিত্য" এর রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. আহমদ শরীফ
  3. মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• বঙ্গভাষা ও সাহিত্য: 
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' (১৮৯৬) দীনেশচন্দ্র সেন রচিত বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- বঙ্গভাষা ও বঙ্গলিপির উৎপত্তি, সংস্কৃত-প্রাকৃত ও বাংলার সম্পর্ক, প্রাচীন বাংলা সাহিত্য, মধ্যযুগের ধর্মগোষ্ঠী ও তাদের সাথে সাহিত্যের যোগ ইত্যাদি বিষয়ের মনোজ্ঞ 
বিবিরণ লিপিবদ্ধ আছে এই গ্রন্থে।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাসগ্রন্থ যেখানে সাহিত্য ও সমাজের গূঢ় সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়া হয়।
---------------- 
• দীনেশচন্দ্র সেন:
- তিনি ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মাতুলালয়, বগজুড়ি গ্রাম, ঢাকা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পল্লী অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে প্রাচীন বাংলা পুঁথি ও লোককথা সংগ্রহ করেন।
- তাঁর সংগৃহীত পুঁথি থেকে উপকরণ সংগ্রহ করে 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' রচনা করেন।
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- তাঁর রচিত একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ - 'বঙ্গসাহিত্য পরিচয়' (১৯১৪)।
- তিনি 'মৈমনসিংহ-গীতিকা' (১৯২৩) ও 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা (১৯২৬)' সম্পাদনা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৫৮.
’একটি তুলসী গাছের কাহিনি’ গল্পের লেখক কে?
  1. আবুল মনসুর আহমেদ
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
  3. আবুল ফজল
  4. আবু জাফার শামসুদ্দিন
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
ব্যাখ্যা
• একটি তুলসী গাছের কাহিনি
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত গল্প  ‘একটি তুলসী গাছের কাহিনি’।
- এই গল্পটি দুই তীর ও অন্যান্য গল্প গ্রন্থ থেকে সংকলিত।
- গল্পটির মধ্যে ফুটে উঠে মানুষের জীবন যখন বিপন্ন ও অর্থহীন তখন তার পারিপার্শ্বিক অনষঙ্গসমূহও হয়ে পড়ে অর্থহীন।
- দেশবিভাগের নির্মম পরিণতিতে সর্বস্বান্ত মানুষের মানবিক মূল্যবোধেও পরিস্থিতির কাছে জিম্মি।
------------------------------------------------------
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ্ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ্‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৫৯.
কোন নাটকের রচনাকালে রচয়িতা কারাগারে বন্দি ছিলেন?
  1. ক) শঙ্খনীল কারাগার
  2. খ) কমলাকান্তের জবানবন্দী
  3. গ) রাজবন্দীর রোজনামচা
  4. ঘ) কবর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কবর
ব্যাখ্যা
'কবর' মুনীর চৌধুরীর একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম বাংলা নাটক। 
- বাংলা ভাষা আন্দোলনের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে মুনীর চৌধরীকে আটক করা হয়।
- ১৯৫৩ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারির প্রাক্কালে জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় অন্য রাজবন্দি বামপন্থী লেখক রণেশ দাশগুপ্ত মুনীর চৌধুরীকে নাটক লিখতে বলেন।
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত Bury The Dead (১৯৩৬) নাটকের অনুসরণে ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে ‘কবর’ নাটকটি রচিত হয়েছে।
- রাজবন্দিরা এই নাটকটি জেলেই মঞ্চস্থ করেন।

মুনীর চৌধুরীর অন্যান্য মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর
- চিঠি
- দন্ডকারণ্য।

তাঁর অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

রাজবন্দীর রোজনামচা শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
শঙ্খনীল কারাগার হুমায়ুন আহমেদের প্রথম লিখিত উপন্যাস ।
কমলাকান্তের জবানবন্দী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রম্য রচনা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৬০.
বুদ্ধদেব বসু কোন গ্রন্থের জন্য সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার পান?
  1. মর্মবাণী
  2. তপস্বী ও তরঙ্গিণী
  3. কঙ্কাবতী
  4. স্বাগত বিদায়
সঠিক উত্তর:
তপস্বী ও তরঙ্গিণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তপস্বী ও তরঙ্গিণী
ব্যাখ্যা
বুদ্ধদেব বসু:
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশ দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- 'তপস্বী ও তরঙ্গিণী' নাটকের জন্য তিনি সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন।
- ১৯৭০ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কারে ভূষিত করে।
- এছাড়া 'স্বাগত বিদায়' কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ (১৯৭৪) লাভ করেন।
- ১৯৭৪ সালের ১৮ মার্চ কলকাতায় মৃত্যু হয়।

বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- যে আঁধার আলোর অধিক,
- মরচেপড়া পেরেকের গান,
- একদিন চিরদিন,
- স্বাগত বিদায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১,৬৬১.
'ধূমকেতু' - পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. দীনেশরঞ্জন দাস 
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. সজনীকান্ত দাস 
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা:
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।
 
• 'ধূমকেতু' পত্রিকা: 
- কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা'- ধূমকেতু'। 
- এটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়। 
- ধূমকেতু পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের বাণী ছাপা হয়েছিল - "আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু"। 
- ধূমকেতুর পূজা সংখ্যায় (২৬শে সেপ্টেম্বর ১৯২২) 'আনন্দময়ীর আগমনে' প্রকাশিত হলে পত্রিকাটি ব্রিটিশ সরকার দ্বারা বাজেয়াপ্ত হয় এবং তিনি গ্রেফতার হন। 

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬৬২.
'ভেড়াকান্ত' চরিত্রে মীর মশাররফ হোসেনের নিজের ছায়াপাত ঘটেছে কোন আত্মজীবনীমূলক রচনায়?
  1. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  2. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  3. কুলসুম জীবনী
  4. ক ও খ 
সঠিক উত্তর:
গাজী মিয়াঁর বস্তানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাজী মিয়াঁর বস্তানী
ব্যাখ্যা

• গাজী মিয়াঁর বস্তানী:
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- এর প্রথম অংশ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়; দ্বিতীয় অংশ পুস্তকাকারে স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবে মীর রচিত আত্মজীবনী আমার জীবনী-তে এর কিয়দংশ মুদ্রিত হয়। গ্রন্থের প্রচ্ছদপটে গ্রন্থকার হিসেবে মীর মশাররফ হোসেনের নাম মুদ্রিত হয়নি; স্বত্বাধিকারী হিসেবে তাঁর ছদ্মনাম 'উদাসীন পথিক' মুদ্রিত হয়েছে।
- সোনাবিবি ও মনিবিবি নামে দুই বিধবা মহিলা জমিদারের দ্বন্দ্ব উপন্যাসের মূল ঘটনা।
- উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা ও স্থানের নামকরণ অভিনব, যেমন অরাজকপুর, যমদ্বার, নচ্ছারপুর, পয়জারন্নেসা, সবলোট চৌধুরী, ভেড়াকান্ত, জয়ঢাক ইত্যাদি।
- ভেড়াকান্ত চরিত্রে লেখকের নিজের ছায়াপাত আছে বলে গ্রন্থখানিকে আত্মজৈবনিক রচনা বলে অভিহিত করা হয়।

------------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক। ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক 'কাঙাল হরিনাথ' ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

উপন্যাস:
বিষাদ-সিন্ধু।

আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৬৬৩.
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর প্রতিষ্ঠিত সংগঠন কোনটি?
  1. অ্যাকাডেমিক অরগানাইজেশন
  2. অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন
  3. অ্যাকাডেমিক ইন্সটিটিউট
  4. অ্যাকাডেমিক সল্যুশন
সঠিক উত্তর:
অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন
ব্যাখ্যা
• হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর প্রতিষ্ঠিত সংগঠন - অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন

হেনরি ডিরোজিও:
- ডিরোজিওর পূর্ণ নাম হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৬৪.
'স্বরূপের সন্ধানে' গ্রন্থটি কার রচিত? 
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. আনিসুজ্জামান 
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ 
  4. আব্দুল মান্নান সৈয়দ 
সঠিক উত্তর:
আনিসুজ্জামান 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনিসুজ্জামান 
ব্যাখ্যা

• আনিসুজ্জামান:
- তিনি ১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগণা জেলার বসিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন।
- জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস প্রফেসর ছিলেন (বাংলা বিভাগ)।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন।
- তাঁর এই গবেষণা পত্রকে তিনি 'মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- বাংলাদেশ সরকার ২০১৮ সালের ১৯ জুন তাকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিযোগ দেন।
- মৃত্যুর পূর্বে তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।
- গত ১৪ মে ২০২০ জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ৮৩ বছর বয়সে মারা যান।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে (প্রবন্ধ),
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি (প্রবন্ধগ্রন্থ),
- কাল নিরবধি (স্মৃতিকথা)।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৬৬৫.
'তৃণাঙ্কুর' আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- তিনি ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি 'দীপক' (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'পথের পাঁচালী'। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 'অপরাজিত', পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ।
- তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'তৃণাঙ্কুর' (১৯৪৩)।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ (১৯৫১) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালে ব্যারাকপুরের ঘাটশিলায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান, 
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৬৬৬.
কবি জসীমউদ্‌দীন রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) নক্সী কাঁথার মাঠ
  2. খ) রাখালী
  3. গ) চৈতালী
  4. ঘ) সোজন বাদিয়ার ঘাট
সঠিক উত্তর:
খ) রাখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাখালী
ব্যাখ্যা
জসীমউদ্‌দীন
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। 
তাঁর প্রধান গ্রন্থগুলি হলো:

- নক্সী কাঁথার মাঠ
- সোজন বাদিয়ার ঘাট
- রঙিলা নায়ের মাঝি
- মাটির কান্না
- সুচয়নী
- পদ্মা নদীর দেশে
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে
- পদ্মাপার
- বেদের মেয়ে
- পল্লীবধূ 
- গ্রামের মায়া
- ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়
- ডালিম কুমার

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া
১,৬৬৭.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের বহুল প্রচলিত 'মেথর' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সবিতা
  2. বেণু ও বীণা
  3. কুহু ও কেকা
  4. অভ্র আবীর
সঠিক উত্তর:
কুহু ও কেকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুহু ও কেকা
ব্যাখ্যা
কুহু ও কেকা:
- এটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- বহুল প্রচলিত 'মেথর' কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য অন্যান্য কবিতাগুলো: মধুমাসে, সহজিয়া, অকারণ, গ্রীষ্মের সুর, দরদী, ঝোড়ো হাওয়ায় ইত্যাদি।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। 
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত  ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি। 
-  বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত। 
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায়  ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। 
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা, 
- সন্ধিক্ষণ, 
- বেণু ও বীণা, 
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান, 
- বিদায় আরতি, 
- কাব্যসঞ্চয়ন।

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
-  তীর্থরেণু, 
- মণি মঞ্জুষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া এবং কুহু ও কেকা কাব্যগ্রন্থ।
১,৬৬৮.
নিচের কোনটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়?
  1. ক) লীলাবতী
  2. খ) জামাই বারিক
  3. গ) নীলদর্পণ
  4. ঘ) কমলে কামিনী
সঠিক উত্তর:
গ) নীলদর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা
দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ বাংলা সাহিত্যে একটি বিশেষ পরিচিত নাটক। ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,৬৬৯.
'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান' এর সম্পাদক কে?
  1. ক) মুহম্মদ আব্দুল হাই
  2. খ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) মুহম্মদ এনামুল হক
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
ঘ) আহমদ শরীফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
আহমদ শরীফ একজন  শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
 তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি  চট্টগ্রাম জেলার  পটিয়া উপজেলার সুচক্রদন্ডী গ্রামে  জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থঃ
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত্র চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি ।


[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও banglaacademy.portal.gov.bd]
১,৬৭০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "বিশ্বকবি" অভিধায় প্রথম অভিষিক্ত করেন কে?
  1. নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
  2. প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
  3. ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• পণ্ডিত ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় প্রথম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "বিশ্বকবি" উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট রোমান ক্যাথলিক পণ্ডিত, সমাজ সংস্কারক এবং জাতীয়তাবাদী চিন্তাবিদ।

• রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, সংগীত, এবং দার্শনিক চিন্তাধারার বিশ্বব্যাপী প্রভাব ও গভীরতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এই উপাধি প্রদান করেছিলেন। এই উপাধি রবীন্দ্রনাথের সর্বজনীন সৃজনশীলতা ও মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি একটি উচ্চ সম্মান প্রকাশ করে।  

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য উপাধিসমূহ:
- 'গুরুদেব' উপাধি দেন মহাত্মা গান্ধী।
- 'কবি গুরু' উপাধি দেন ক্ষিতিমোহন সেন।
- 'ভারতের মহাকবি' উপাধি দেন চীনের কবি চি লিজন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;  এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৭১.
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. রােকেয়া সাখাওয়াত হােসেন
  2. রাবেয়া খাতুন 
  3. সুফিয়া কামাল 
  4. সেলিনা হোসেন 
সঠিক উত্তর:
রােকেয়া সাখাওয়াত হােসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রােকেয়া সাখাওয়াত হােসেন
ব্যাখ্যা

• 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধ:
- রােকেয়া সাখাওয়াত হােসেন রচিত ‘মতিচূর' গ্রন্থের একটি উল্লেখযােগ্য প্রবন্ধ 'অর্ধাঙ্গী'। এই রচনায় উনিশ শতকের শেষ ও বিশ শতকের গােড়ায় ভারতবর্ষে পুরুষ শাসিত সমাজজীবনের সবক্ষেত্রে নারী, বিশেষ করে মুসলমান নারীসমাজের পশ্চাদপদতা, দুর্বহ জীবন ও অধিকারহীনতাকে দেখা হয়েছে পুরুষের নিদারুণ স্বার্থপরতা, আধিপত্যকামী মানসিকতার প্রেক্ষাপটে। অত্যন্ত ব্যথিত হৃদয়ে বেগম রােকেয়া আবেগধর্মী যুক্তিপ্রধান এই রচনায় নারীসমাজকে জ্ঞানচর্চা ও কর্মব্রত, অধিকার সচেতনতা ও মুক্তি-আকাঙ্ক্ষায় প্রবুদ্ধ করতে সচেষ্ট হয়েছেন।

- ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে রােকেয়া সাখাওয়াত হােসেন দেখাতে চেয়েছেন, সমাজ যে পূর্ণ ও স্বাভাবিক গতিতে অগ্রসর হতে পারছে না তার কারণ পরিবার ও সমাজজীবনের অপরিহার্য অর্ধেক শক্তি নারীসমাজের দুর্বল ও অবনত অবস্থা। এজন্যে পুরুষসমাজের দৃষ্টিভঙ্গির সংকীর্ণতাকে দায়ী করেছেন তিনি। এ রচনায় নারী জাগরণের পক্ষে যে সুচিন্তিত, দৃঢ় ও বলিষ্ঠ মতামত তিনি ব্যক্ত করেছেন তাতে তাঁর মন্তব্যে আছে আবেগের গাঢ়তা আর যুক্তিতে আছে ধারালাে তীক্ষ্ণতা। তিনি দেখাতে চেয়েছেন, সমাজ জীবনের অগ্রগতি ও কল্যাণ সাধনের জন্যে নারী জাগরণ এবং সেই সঙ্গে পুরুষ সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের বিকল্প নেই।

------------------------
• "মতিচূর (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড)":
- ‘মতিচূর’ রােকেয়া সাখাওয়াত হােসেনের উদ্দেশ্যমূলক প্রবন্ধ গ্রন্থ। ঘৃতপক্ক মিষ্টান্ন বিশেষকে বলা হয় মতিচূর। রােকেয়ার গ্রন্থের রচনাগুলােও অনেকটা সুস্বাদু মিষ্টান্নের মতােই।

- 'মতিচূর' গ্রন্থের দুটি খণ্ডে মােট প্রবন্ধের সংখ্যা ১৭টি। প্রথম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ৭টি প্রবন্ধের নাম-‘পিপাসা’, ‘স্ত্রীজাতির অবনতি’, ‘নিরীহ বাঙালি’, ‘অর্ধাঙ্গী’, ‘সুগৃহিণী’, ‘বােরকা’ ও ‘গৃহ'। দ্বিতীয় খণ্ডে ১০ প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।

উৎস: মতিচূর (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড) এবং উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র।

১,৬৭২.
'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন না কে?
  1. বিষ্ণু দে 
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. সমর সেন
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে 
ব্যাখ্যা

• 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন না-বিষ্ণু দে। 

• 'কবিতা' পত্রিকা: 
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকার নাম হচ্ছে কবিতা।
- ঢাকা থেকে প্রগতি (১৯২৭-১৯২৯) এবং  কলকাতা থেকে কবিতা (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।
- বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনা সূত্রে সাথে যুক্ত ছিলেন।
- পত্রিকাটি  ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে। 
- এ পত্রিকায় শুধু কবিতা ও কবিতা বিষয়ক গদ্য ছাপা হতো। 
- কবিতাবিষয়ক 'কবিতা' পত্রিকাটি তখন সাহিত্যিক মহলে উচ্চ প্রশংসা লাভ করে; রবীন্দ্রোত্তর কবিতা-আন্দোলনেও এর ভূমিকা স্বীকৃত। বুদ্ধদেব নিজেও রবীন্দ্র- প্রভাববলয় থেকে বেরিয়ে আসেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬৭৩.
'আবদুল্লাহ' উপন্যাসটির রচয়িতা-
  1. কাজী আব্দুল ওদুদ
  2. কাজী ইমদাদুল হক
  3. আব্দুল্লাহ আল মামুন
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
কাজী ইমদাদুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
'আবদুল্লাহ' উপন্যাস:
- রচয়িতা: কাজী ইমদাদুল হক।
- এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হতো। 
- রচনাকালীন সময়ে তার মৃত্যু হলে কাজী আনোয়ারুল কাদির ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন।
- শিল্পের বিচারে 'আবদুল্লাহ' উৎকৃষ্ট উপন্যাস নয়।
- বাংলা সামাজিক বিবর্তনের , বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানদের অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা সুচারুভাবে ফুটে উঠায় গ্রন্থটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে।
- কাহিনির নায়কের নামে গ্রন্থের নামকরণ করা হয়েছে।  
-------------------------- 

কাজী ইমদাদুল হক: 
 - কাজী ইমদাদুল হক ১৮৮২ সালে খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি।
- আবদুল্লাহ উপন্যাস রচনা করেই তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
- বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। 

 তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস: আবদুল্লাহ।

• কাব্য:
- আঁখিজল ও
- লতিকা।

• প্রবন্ধ: প্রবন্ধমালা।
• শিশুতোষ গ্রন্থ: নবীকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৭৪.
'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বিষ্ণু দে
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

পরিচয়:
- 'পরিচয়' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের শ্রাবণ মাসে (১৯৩১, জুলাই)।
- পত্রিকাটি ত্রৈমাসিক।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে সুধীন্দ্রনাথ দত্ত অমর হয়ে আছেন।

উল্লেখ্য,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন একজন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

• তাঁর রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৬৭৫.
মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক কোনটি?
  1. কবর
  2. রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. দণ্ডকারণ্য
  4. মুখরা রমণী বশীকরণ
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৬৭৬.
বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কে?
  1. ক) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) টেকচাঁদ ঠাকুর
  3. গ) বিদ্যাপতি
  4. ঘ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
সঠিক উত্তর:
ঘ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে কালীপ্রসন্ন সিংহ পরিচিত।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার জোড়াসাকোয় ১৮৪০ সালে।
- 'হুতোমী বাংলা' ভাষা রীতি অনুসরণ করে তিনি সাহিত্য রচনা করেন।

কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ হলো,
-হুতোম প্যাঁচার নকশা।
-সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৭৭.
বাংলাদেশের রণসংগীত 'চল্ চল্ চল্' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে?
  1. অগ্নিবীণা
  2. সন্ধ্যা
  3. ব্যথার দান
  4. শিউলিমালা
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যা
ব্যাখ্যা

চল্ চল্ চল্:
- বাংলাদেশের রণসংগীতের রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম।
- এটি তাঁর 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে। 
- এটি ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় 'নতুনের গান' শিরোনামে ১৯২৮ সালে।
- পরে এর নাম হয় 'চল্ চল্ চল্'।
- বাংলাদেশের রণসংগীত 'চল্ চল্ চল্' কবিতার প্রথম ২১টি চরণ।

চল্ চল্ চল্
- কাজী নজরুল ইসলাম

চল্ চল্ চল্
ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল,
নিম্নে উতলা ধরণী-তল,
অরুণ প্রাতের তরুণ দল
চল্ রে চল্ রে চল্।
চল্ চল্ চল্।।
ঊষার দুয়ারে হানি' আঘাত
আমরা আনিব রাঙা প্রভাত,
আমরা টুটাব তিমির রাত,
বাধার বিন্ধ্যাচল।
(সংক্ষিপ্ত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ।

১,৬৭৮.
"দারোগার দপ্তর" গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র 
  3. আবু ইসহাক 
  4. প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• "দারোগার দপ্তর" : 
- "দারোগার দপ্তর" গ্রন্থের রচয়িতা প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়।
- প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায় ডিটেকটিভ গল্পের ধারা শুরু করেন। অনেকগুলি খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছিল।
- প্রিয়নাথ নিজে ছিলেন পুলিশ দপ্তরের কর্মচারী। প্রধানত নিজের অভিজ্ঞতা অবলম্বনে এই গল্পগুলি লিখিত হয়।
- তবে কোনো কোনো খণ্ডে বিদেশি ডিটেকটিভ গল্পের অনুবাদও সংকলিত হয়।এই গ্রন্থধারাকে বাংলা ডিটেকটিভ গল্পের আদি বলা চলে।

----------------------
• প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়:
- তাঁর জন্ম ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দের ৪ জুন নদিয়ার জয়রামপুরের চুয়াডাঙায়। 
- তাঁকে বলা হয়েছে বাংলা গোয়েন্দা গল্পের পথিকৃৎ। পেশায় ছিলেন পুলিশ কর্মচারী। 
- তিনি ‘দারোগার দপ্তর’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা ১২৯৭ বঙ্গাব্দ থেকে ১২ বছর চালিয়েছিলেন। 
- এ পত্রিকায় প্রকাশিত গল্পগুলি পরে ‘ডিটেকটিভ গল্প’ নামে পুস্তকাকারে ছাপা হয়।

উৎস: সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান; "দারোগার দপ্তর" গ্রন্থ।

১,৬৭৯.
’চাচা কাহিনী’ এর লেখক কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. শওকত ওসমান
  4. ফররুখ আহমেদ
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• 'চাচা-কাহিনী' গ্রন্থটির লেখক: 'সৈয়দ মুজতবা আলী'।

⇒ সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

• তাঁর রচিত রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৮০.
‘নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যটির ইংরেজী অনুবাদক কে ছিলেন?
  1. ক) ই.এম. মিলফোর্ড
  2. খ) ডব্লিউ.বি. ইয়েটস
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) অ্যাডগার অ্যালান পো
সঠিক উত্তর:
ক) ই.এম. মিলফোর্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ই.এম. মিলফোর্ড
ব্যাখ্যা

‘নক্সী কাঁথার মাঠ’ জসীমউদদীন এর একটি আখ্যানকাব্য।
- তিনি রূপাই এবং সাজু চরিত্রের মাধ্যমে গ্রামীন জীবনের মাধুর্য ও কারুণা, বৈচিত্রহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা তুলে ধরেছেন।
- কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- The Fleld of the Embroidered Quit নামে E. M. Millford নক্সী কাঁথার মাঠ অনুবাদ করেন।

বাংলা কবিতার ধারায় জসীমউদ্দীনের স্থানটি বিশিষ্ট। তাঁর কবিতা অনাড়ম্বর কিন্তু রূপময়। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও লোকজীবন জসীমউদ্দীনের কবিতায় নতুন রূপ লাভ করেছে।
বাংলাদেশের মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসিকান্না ও জীবন সংগ্রামের কাহিনীই তাঁর কবিতার প্রধান উপজীব্য। তাঁর কবিতায় দেশের মাটির সাক্ষাৎ উপলব্ধি ঘটে।
এজন্য ‘পল্লীকবি’ হিসেবে তাঁর বিশেষ ও স্বতন্ত্র পরিচিতি রয়েছে। তাঁর গদ্য রচনাও বিশেষ আকর্ষণীয়; সরল, সরস, গভীর ও আন্তরিকতার স্পর্শে তা মন ছুঁয়ে যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,৬৮১.
'নূরন্নেহার' কোন নাটকের চরিত্র?
  1. কুলসুম জীবনী
  2. বেহুলা গীতাভিনয়
  3. জমিদার দর্পণ
  4. বসন্তকুমারী
সঠিক উত্তর:
জমিদার দর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জমিদার দর্পণ
ব্যাখ্যা

'জমিদার দর্পণ' নাটক:
- ‘জমিদার দর্পণ’ মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি নাটক।
- নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্থ প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষণ ও হত্যার কাহিনি ‘জমিদার দর্পণ’ (১৮৭৩) - এর মূল ঘটনা।
- লেখক লিখেছে, নাটকটির কিছুই সাজানো নয়, অবিকল ছবি তুলে ধরা হয়েছে প্রচলিত সমাজের। 
- নামকরণে দীনবন্ধু মিত্রের 'নীল-দর্পণ' নাটকের প্রভাব যেমন প্রবল, নাটকটির ঘটনা বিন্যাসেও এর ছায়া পড়েছে।  

মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

তাঁর রচিত প্রহসন: 
- এর উপায় কি?

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৬৮২.
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ - 
  1. মানুষের মানচিত্র
  2. উত্তীর্ণ পঞ্চাশে
  3. ক্রন্দসী
  4. অনেক আকাশ
সঠিক উত্তর:
মানুষের মানচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষের মানচিত্র
ব্যাখ্যা

• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ - মানুষের মানচিত্র।
- গ্রন্থটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়।

• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- তিনি ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তিনি প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্যগ্রন্থ 'উপদ্রুত উপকূল' (১৯৭৯) ও 'ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম' (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কবিতায় বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।
- সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার’ লাভ করেন।
- ১৯৯১ সালের ২১ জুন ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছোবল,
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ,
- একগ্লাস অন্ধকার,
- উপদ্রুত উপকূলইত্যাদি।


অন্যদিকে,
• সৈয়দ আলী আহসান রচিত কাব্যগ্রন্থ - অনেক আকাশ।
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ - ক্রন্দসী।
• সানাউল হক রচিত কাব্যগ্রন্থ - উত্তীর্ণ পঞ্চাশে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৬৮৩.
'বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' কে সম্পাদনা করেন?
  1. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. আহমদ শরীফ
  4. বদরুদ্দীন ওমর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
'বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান':
- আঞ্চলিক ভাষার অভিধান বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উপভাষার একটি সংকলন গ্রন্থ।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সম্পাদনায় ১৯৬৫ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষাসমূহের সংকলন-জাতীয় গ্রন্থ এটিই প্রথম।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন।
- তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভান্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।

তার উল্লেখযোগ্য রচনা কর্ম হলো:
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত।

উৎস: 
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৮৪.
কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড  মুজফ্ফর আহমদ একত্রে সম্পাদনা করেছিলেন?
  1. ক) ধূমকেতু
  2. খ) আজাদ
  3. গ) সওগাত
  4. ঘ) নবযুগ
সঠিক উত্তর:
ঘ) নবযুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নবযুগ
ব্যাখ্যা
- নবযুগ কলকাতা থেকে প্রকাশিত এক পাতার একটি সান্ধ্য দৈনিক।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২০ সালের ১২ জুলাই, কলকাতার ৬ নং টার্ন স্ট্রিট থেকে।
- এর মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা  এ.কে ফজলুল হক 
- নবযুগ পত্রিকাটির যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড  মুজফ্ফর আহমদ। 

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
১,৬৮৫.
'বন্দর থেকে বন্দরে' রম্য রচনাটির রচয়িতা -
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) সানাউল হক
  3. গ) সেলিম আলদীন
  4. ঘ) আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
খ) সানাউল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সানাউল হক
ব্যাখ্যা
• সানাউল হক রচিত 'বন্দর থেকে বন্দরে' একটি  রম্যরচনা
- এটি অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ-কাহিনী নিয়ে রচিত।

• সানাউল হক:
- কবি, অনুবাদক, সংস্কৃতিকর্মী, সংগঠক, শিক্ষাবিদ হিসেবে খ্যাতি কুঁড়ান।
- ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার চাউরা গ্রামে ১৯২৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সানাউল হকের প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী ও মানুষের কবিতা।
- সম্ভবা অনন্য।
- সূর্য অন্যতর।
- বিচূর্ণ আর্শিতে।
- একটি ইচ্ছা সহস্র পালে।
- কাল সমকাল প্রভৃতি।
- পদ্মিনী শঙ্খিনী।
- প্রবাসে যখন।
- বিরাশির কবিতা।
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৮৬.
'সুচরিতা' চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়?
  1. দুইবোন
  2. গোরা
  3. চোখের বালি
  4. শেষের কবিতা
সঠিক উত্তর:
গোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোরা
ব্যাখ্যা
'গোরা' উপন্যাস:
- গোরা (১৯১০)  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।
- উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো ‘ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়’।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

- তার সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি, 
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপূট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি। 

নাটক: 
- বিসর্জন, 
- রাজা, 
- ডাকঘর, 
- অচলায়তন, 
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী, 
- তাসের দেশ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১,৬৮৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর রচিত কোন নাটকটি কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেছিলেন?
  1. বিসর্জন
  2. ডাকঘর
  3. বসন্ত
  4. অচলায়তন
সঠিক উত্তর:
বসন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসন্ত
ব্যাখ্যা
• ‘বসন্ত’ গীতিনাট্য:
- এই নাটকটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়। বসন্ত একটি গীতিনাট্য।
- এই নাটকের বিষয় হচ্ছে যৌবনের প্রতীক ঋতুরাজ বসন্তের জয়গান।
- রবীন্দ্রনাথ এই গ্রন্থ কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেন।
- কারণ নজরুলও বাংলার জীবনে বসন্ত তথা যৌবন এনেছিলেন।

------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৮৮.
‘প্রেমপ্রবাহিনী’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. বিষ্ণু দে
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• ‘প্রেমপ্রবাহিনী’ বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৮৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

----------------------------
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:

- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেমপ্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৬৮৯.
'যুগবাণী' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী
  3. গ) মকবুল হোসেন চৌধুরী
  4. ঘ) মোহাম্মদ আকরম খাঁ
সঠিক উত্তর:
গ) মকবুল হোসেন চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মকবুল হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
যুগবাণী' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- মকবুল হোসেন চৌধুরী। কাজী নজরুল সম্পাদিত পত্রিকা- দৈনিক নবযুগ (১৯২০), ধূমকেতু (১৯২২), লাঙল। সাম্যবাদী পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,৬৯০.
'মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা' প্রবন্ধের লেখক কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. মুহম্মদ আবদুল হাই
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা' প্রবন্ধের লেখক - মোতাহের হোসেন চৌধুরী।
 
মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।
 
তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,৬৯১.
কোনটি শওকত ওসমানের উপন্যাস নয়?
  1. পতঙ্গ পিঞ্জর
  2. প্রসন্ন প্রহর 
  3. রাজসাক্ষী
  4. বনী আদম
সঠিক উত্তর:
প্রসন্ন প্রহর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রসন্ন প্রহর 
ব্যাখ্যা

• প্রসন্ন প্রহর শওকত ওসমানের উপন্যাস নয়। 
এটি  সিকানদার আবু জাফরের একটি কবিতা। 

শওকত ওসমান
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া। 

১,৬৯২.
কোন গল্পটিতে মুসলমান চরিত্র আছে?
  1. ক) সমাপ্তি
  2. খ) একরাত্রি
  3. গ) হৈমন্তি
  4. ঘ) কাবুলিওয়ালা
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাবুলিওয়ালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাবুলিওয়ালা
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত সামাজিক ছোট গল্প - কাবুলিওয়ালা। এর উল্লেখযোগ্য চরিত্র - রহমত, খুকী প্রমুখ। গল্পটিতে রহমতের চরিত্র তিনি এত সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন, বাংলা সাহিত্যে কেউ এমন একটি মুসলিম চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে পারেন নি।
উৎসঃ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।

১,৬৯৩.
'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) বেগম রোকেয়া
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
খ) বেগম রোকেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা
• বেগম রোকেয়া: 
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুরে।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।
- 'চাষার দুক্ষু' বেগম রোকেয়া রচিত - প্রবন্ধ। 

• রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর,
- Sultana’s Dream,
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৯৪.
'এক ফোঁটা কেমন অনল' কাব্যগ্রন্থের কবি কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. শামসুর রাহমান
  4. সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• 'এক ফোঁটা কেমন অনল' কাব্যগ্রন্থের কবি - শামসুর রাহমান

শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- তাঁর ডাক নাম 'বাচ্চু'।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ’শ উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায়। 
- ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’ তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা।
- তিনি আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, 
- রৌদ্র করোটিতে, 
- বিধ্বস্ত নীলিমা, 
- বন্দী শিবির থেকে, 
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, 
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, 
- এক ফোঁটা কেমন অনল
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে, 
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বন্দী শিবির থেকে, শামসুর রাহমান।
১,৬৯৫.
"প্রেম ও ফুল" কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  2. নুরুল মোমেন
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. নবীনচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা

গোবিন্দচন্দ্র দাস:
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ভাওয়ালের কবি হিসেবে বিখ্যাত।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- গোবিন্দ চন্দ্র দাস কে ‘স্বভাব কবি’ বলা হয়।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু্‌,
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬৯৬.
'বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া-ভার,
ঐ হলো পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার।' - এই উদ্ধৃতাংশটি কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. নবান্ন
  2. খেয়াপার
  3. প্রলয়োল্লাস
  4. খেয়া পারের তরণী
সঠিক উত্তর:
খেয়া পারের তরণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খেয়া পারের তরণী
ব্যাখ্যা
• ''বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া-ভার,
ঐ হলো পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার।'' - এই উদ্ধৃতাংশটি 'খেয়া পারের তরণী' কবিতার অন্তর্গত।

খেয়া পারের তরণী
- কাজী নজরুল ইসলাম

‘শাফায়ত’-পাল-বাঁধা তরণীর মাস্তুল,
‘জান্নাত্’ হতে ফেলে হুরি রাশ্ রাশ্ ফুল।
শিরে নত স্নেহ-আঁখি মঙ্গল দাত্রী,
গাও জোরে সারি-গান ও-পারের যাত্রী।
বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া-ভার,
ঐ হলো পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার।

উৎস: 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ, কাজী নজরুল ইসলাম।
১,৬৯৭.
সুফিয়া কামাল তাঁর রচিত 'মৃত্তিকার ঘ্রাণ' সংকলনটি কাকে উৎসর্গ করেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. বেগম রোকেয়া
  4. কুসুমকুমারী দাশ
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা
বেগম রোকেয়ার সামাজিক আদর্শ সুফিয়া কামালকে আজীবন প্রভাবিত করেছে। তিনি 'বেগম রোকেয়া'র উপর অনেক কবিতা রচনা করেন এবং তাঁর নামে 'মৃত্তিকার ঘ্রাণ' (১৯৭০) শীর্ষক একটি সংকলন উৎসর্গ করেন। তিনি 'রোকেয়া সাখাওয়াত স্মৃতি কমিটি' গঠনে সহায়তা করেন, যার প্রস্তাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হল 'রোকেয়া' তাঁর নামে করা হয়।

-----------------
• সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'সৈনিক বধূ'। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের 'তরুণ' পত্রিকায় প্রকাশ পায়।

তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী।
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৯৮.
কাজী নজরুল ইসলামের মোট কয়টি গ্রন্থ নিষিদ্ধ হয়?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি: 
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার - ১৪।
১,৬৯৯.
'কবর' কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. নবযুগ
  2. সওগাত
  3. শিখা
  4. কল্লোল
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
ব্যাখ্যা

'কবর' কবিতা:
- 'কবর' কবিতাটি কবি  জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়। এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮টি পঙ্‌ক্তি আছে।
- কাহিনিধর্মী এই কবিতাটিতে সহজ সরল ভাষায় এক গ্রামীণ বৃদ্ধের জীবনের প্রিয়জন হারানোর বেদনার স্মৃতি বর্ণিত হয়েছে। জীবনের শেষ প্রান্তে বৃদ্ধ যে তাঁর আপনজনদের হারিয়ে ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছেন, তারই বর্ণনা কবি গভীর সহানুভূতি দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন।

- 'কবর' কবিতাটি সংক্ষেপে দেয়া হলো-

কবর
-জসীম উদ্‌দীন 
এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা!
সোনালি ঊষার সোনামুখ তার আমার নয়নে ভরি
লাঙল লইয়া খেতে ছুটিতাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।

• 'রাখালী' কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীন রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- বইটিতে মোট ১৯টি কবিতা আছে। এই কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে 'রাখালী'।
- তাঁর বিখ্যাত ‘কবর’ কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং দ্বাদশ শ্রেণি সাহিত্য পাঠ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭০০.
"হায় রে ভজনালয়,
তোমার মিনারে চড়িয়াভণ্ড গাহে স্বার্থের জয়!" - কাজী নজরুল ইসলামের কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. যৌবনের গান
  2. আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
  3. মানুষ
  4. কুলি-মজুর
সঠিক উত্তর:
মানুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষ
ব্যাখ্যা
• হায় রে ভজনালয়,
তোমার মিনারে চড়িয়াভণ্ড গাহে স্বার্থের জয়!
- - কাজী নজরুল ইসলামের 'মানুষ' কবিতার অন্তর্গত।

মানুষ- কবিতা,  
– কাজী নজরুল ইসলাম

গাহি সাম্যের গান-
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান!
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম জাতি,
সব দেশে, সব কালে, ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।
          
খোদার ঘরে কে কপাট লাগায়, কে দেয় সেখানে তালা?
সব দ্বার এর খোলা রবে, চালা হাতুড়ি-শাবল চালা!
হায় রে ভজনালয়,
তোমার মিনারে চড়িয়াভণ্ড গাহে স্বার্থের জয়!

উৎস: মানুষ- কবিতা, কাজী নজরুল ইসলাম।