বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৬ / ১৭৪ · ১,৫০১১,৬০০ / ১৭,৪৩৭

১,৫০১.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. দৈনিক ইনকিলাব
  2. কুহেলিকা
  3. সওগাত
  4. ধূমকেতু
সঠিক উত্তর:
ধূমকেতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধূমকেতু
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা 'ধূমকেতু'।

• 'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় অর্ধসপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু (১৯২২)।
- ধূমকেতু পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের বাণী ছাপা হয়েছিল - "আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু-"।
- ধূমকেতুর পূজা সংখ্যায় (২৬শে সেপ্টেম্বর ১৯২২) 'আনন্দময়ীর আগমনে' প্রকাশিত হলে পত্রিকাটি ব্রিটিশ সরকার দ্বারা বাজেয়াপ্ত হয় এবং তিনি গ্রেফতার হন।

অন্যদিকে,
• সওগাত একটি সচিত্র মাসিক পত্রিকা। ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) অগ্রহায়ণ মাসে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।

• দৈনিক ইনকিলাব বাংলাদেশের একটি অন্যতম জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্র। পত্রিকাটি সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়ে থাকে।
- পত্রিকাটির প্রথম প্রকাশকের দায়িত্ব পালন করেন এই পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা এম এ মাওলানা আবদুল মান্নান।

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা:
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫০২.
কোন চরিত্রটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'মেঘনাদবধ কাব্যের' নয়?
  1. যযাতি
  2. সরমা
  3. প্রমীলা
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যযাতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যযাতি
ব্যাখ্যা
- 'যযাতি' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'মেঘনাদবধ কাব্যের' চরিত্র নয়।
- 'যযাতি' - চরিত্রটি মধুসূধন দত্তের শর্মিষ্ঠা নাটকের।

•‘মেঘনাদবধ কাব্য':

- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণে'র কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে ‘মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- গ্রন্থটি ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দেই প্রকাশ পায়।
- এটা মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য' (১৮৬০) তাঁর প্রথম এবং বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- কবি কাব্যের প্রথম দিকে বীররসের কথা বললেও এই কাব্যে করুণরসই প্রধান।
- ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক ও রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন রচনা করে এই স্বাধীনতা ভিলাষী কাব্য।
- নয় সর্গে সম্পূর্ণ 'মেঘনাদবধ কাব্যে’ বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ থেকে মেঘনাদ- হত্যা, প্রমীলার চিতারোহণ পর্যন্ত মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত।
- এ কাব্যের ট্রাজেডি সৃজন হয়েছে নায়ক রাবণ চরিত্রকে অবলম্বন কবি মিল্টনের 'প্যারাডাইস লস্ট' মহাকাব্যে শয়তান যেমন দুর্জয় বাসনা ও ঋজুতা প্রদর্শন করে, মধুসূদনও রাবণকে দিয়ে সে কাজ করিয়েছেন।

• কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- রাবণ,
- মেঘনাদ,
- লক্ষ্মণ,
- রাম,
- প্রমীলা,
- বিভীষণ,
- সীতা,
- সরমা ইত্যাদি।

•  তাঁর অন্যান্য সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য (অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ)
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৩. বাংলাপিডিয়া।
১,৫০৩.
প্রবন্ধ-গবেষণামূলক গ্রন্থ "স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি" রচনা করেন কে?
  1. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  2. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর:
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী:
- তিনি মূলত প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।
- তিনি ১৯৩৬ সালের ২৩শে জুন বিক্রমপুরের বাড়ৈখালিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি লেখক সংঘ পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, লেখিকা সংঘ পুরস্কার, একুশে পদক, ঋষিজ পদক লাভ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- অন্বেষা,
- দ্বিতীয় ভুবন,
- নিরাশ্রয় গৃহী,
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী,
- অনতিক্রান্তবৃত্ত,
- শরৎচন্দ্র ও সামন্তবাদ,
- বঙ্কিমচন্দ্রের জমিদার ও কৃষক,
- স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫০৪.
'পঁচিশে বৈশাখের উদ্দেশে' কবিতাটির রচয়িতা-
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

• 'পঁচিশে বৈশাখের উদ্দেশে' কবিতাটির রচয়িতা- 'সুকান্ত ভট্টাচার্য'। 
---------------- 
⇒ সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ‘কিশোর কবি’ সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলামের পরে সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।  

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস, 
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।
-----------------------
পঁচিশে বৈশাখের উদ্দেশে, 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য।

আমার প্রার্থনা শোনো পঁচিশে বৈশাখ,
আর একবার তুমি জন্ম দাও রবীন্দ্রনাথের।
হতাশায় স্তব্ধ বাক্য ; ভাষা চাই আমরা নির্বাক,
পাঠাব মৈত্রীর বাণী সারা পৃথিবীকে জানি ফের।
রবীন্দ্রনাথের কন্ঠে আমাদের ভাষা যাবে শোনা
ভেঙে যাবে রুদ্ধশ্বাস নিরুদ্যম সুদীর্ঘ মৌনতা,
আমাদের দুঃখসুখে ব্যক্ত হবে প্রত্যেক রচনা
পীড়নের প্রতিবাদে উচ্চারিত হবে সব কথা।
আমি দিব্যচক্ষে দেখি অনাগত সে রবীন্দ্রনাথ,
------------
---------------
যদিও সে অনাগত, তবু যেন শুনি তার ডাক
আমাদেরই মাঝে তাকে জন্ম দাও পঁচিশে বৈশাখ।

উৎস: 'পঁচিশে বৈশাখের উদ্দেশে' কবিতা, বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 

১,৫০৫.
কোনটি প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ?
  1. পদচারণ
  2. দুর্দিনের যাত্রী
  3. রায়তের কথা
  4. যুগবাণী
সঠিক উত্তর:
রায়তের কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রায়তের কথা
ব্যাখ্যা
প্রমথ চৌধুরী:
- তিনি ছিলেন বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- সবুজপত্র পত্রিকা সম্পাদনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে চলিতরীতি প্রবর্তন করেন।
- প্রমথ চৌধুরি বাংলা সাহিত্যে বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হিসেবে পরিচিত।
- ছোটোগল্প ও সনেট রচনাতেও হিসেবেও তার বিশিষ্ট অবদান রয়েছে।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদিত পত্রিকা সবুজপত্র।
- প্রমথ চৌধুরি উক্তি: ’সুশিক্ষিত লোক মানে স্বশিক্ষিত’।

তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল-নুন-লাকড়ি।
- বীরবলের হালখাতা।
- নানাকথা।
- নানা চর্চা।
- রায়তের কথা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ

অন্যদিকে,
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:  ‘যুগবাণী’, ‘দুর্দিনের যাত্রী’।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫০৬.
'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত কবিতা নয় কোনটি? 
  1. সিন্দবাদ
  2. পাঞ্জেরী
  3. মহরম 
  4. আউলাদ
সঠিক উত্তর:
মহরম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহরম 
ব্যাখ্যা

• সাত সাগরের মাঝি:
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।

কবিতাগুলো নিম্নরূপ :
- সিন্দবাদ,
- বা'র দরিয়ায়,
- দরিয়ায় শেষ রাত্রি,
- শাহরিয়ার,
- আকাশ-নাবিক,
- বন্দরে সন্ধ্যা,
- ঝরোকা'য়,
- ডাহুক,
- এই সব রাত্রি,
- পুরানো মাজারে,
- পাঞ্জেরী,
- স্বর্ণ-ঈগল,
- লাশ,
- তুফান,
- হে নিশান-বাহী!,
- নিশান,
- নিশান-বরদার,
- আউলাদ,
- সাত সাগরের মাঝি।

ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনি কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

​ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫০৭.
মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি -
  1. আকরাম খাঁ
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. বদরুদ্দীন উমর
  4. ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫০৮.
'প্রেমাংশুর রক্ত চাই' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. ফররুখ আহমদ
  4. নুরুল মোমেন
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• 'প্রেমাংশুর রক্ত চাই' কাব্যের রচয়িতা হলেন - নির্মলেন্দু গুণ।

নির্মলেন্দু গুণ: 

- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে। 
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- ও বন্ধু আমার,
- চাষাভূষার কাব্য,
- পৃথিবীজোড়া গান,
- দূর হ দুঃশাসন,
- ইসক্রা,
- নেই কেন সেই পাখি,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- ভলগার তীরে, 
- গীনসাবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়াখেলার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।

তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫০৯.
'শব্দকল্পদ্রুম' কবিতার লেখক কে?
  1. অন্নদাশংকর রায়
  2. সুকুমার রায়
  3. সত্যজিৎ রায়
  4. উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় এর জন্ম ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত  চলচ্চিত্রকার  সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।

- পিতার মৃত্যুর পর তিনি পিতৃপ্রতিষ্ঠিত সন্দেশ পত্রিকা পরিচালনা ও সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।
- সুকুমার রায় প্রেসিডেন্সিতে ছাত্র থাকাকালে ‘ননসেন্স ক্লাব’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন, যার মুখপত্র ছিল সাড়ে-বত্রিশ-ভাজা। বিলেত থেকে ফিরে তিনি গঠন করেন ‘মানডে ক্লাব’।

- সুকুমার রায়ের প্রধান অবদান শিশু-কিশোর উপযোগী বিচিত্র সাহিত্যকর্ম। কবিতা, নাটক, গল্প, ছবি সবকিছুতেই তিনি সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ ও কৌতুকরস সঞ্চার করতে পারতেন। তাঁর কাব্যে হাস্যরসের সঙ্গে সমাজচেতনাও প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
- আবোল-তাবোল (১৯২৩),
- হ-য-ব-র-ল (১৯২৪),
- পাগলা দাশু (১৯৪০),
- বহুরূপী (১৯৪৪),
- খাইখাই (১৯৫০),
- অবাক জলপান,
- শব্দকল্পদ্রুম,
- ঝালাপালা ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫১০.
'শব্দকল্পদ্রুম' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  2. খ) সুকুমার সেন
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
গ) সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
• 'শব্দকল্পদ্রুম' এর রচয়িতা সুকুমার রায়।

• সুকুমার রায় একজন শিশুসাহিত্যিক।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত  চলচ্চিত্রকার  সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।
- সুকুমার রায়ের প্রধান অবদান শিশু-কিশোর উপযোগী বিচিত্র সাহিত্যকর্ম।
- কবিতা, নাটক, গল্প, ছবি সবকিছুতেই তিনি সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ ও কৌতুকরস সঞ্চার করতে পারতেন।
- তাঁর কাব্যে হাস্যরসের সঙ্গে সমাজচেতনাও প্রতিফলিত হয়েছে। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
- আবোল-তাবোল (১৯২৩),
- হ-য-ব-র-ল (১৯২৪),
- পাগলা দাশু (১৯৪০),
- বহুরূপী (১৯৪৪),
- খাইখাই (১৯৫০),
- অবাক জলপান,
- শব্দকল্পদ্রুম,
- ঝালাপালা ইত্যাদি। 
এছাড়া বাংলা ও ইংরেজিতে রচিত তাঁর কিছু গুরুগম্ভীর প্রবন্ধও রয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৫১১.
'রক্তে ভেজা একুশ' গদ্যটির লেখক কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. জাহানারা বেগম
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. রশীদ করিম
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

'রক্তে ভেজা একুশ' গদ্য:
- বাংলাদেশের বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' (১৯৬৪) উপন্যাসের অংশবিশেষ 'রক্তে ভেজা একুশ' গদ্যটি।
- আমাদের মহান ভাষা-আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এ কাহিনি রচিত।
- ভাষা-আন্দোলনে ছাত্র-জনতার মিছিলে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী ছাত্র ও পথশিশুর অভিব্যক্তি প্রকাশিত হয়েছে এ গল্পে।
- আন্দোলনে শামিল হয়ে পথশিশু অহি শহিদ হয়েছে এবং সকল মায়ের সন্তান হিসেবে নন্দিত হয়েছে।

সেলিনা হোসেন:
- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
- তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- তার রচিত উপন্যাস 'হাঙ্গর নদী গ্রেনেড'। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫১২.
'স্মৃতির শহর' আত্মস্মৃতি গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. শওকত ওসমান
  2. শামসুর রাহমান
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. শহীদুল্লা কায়সার
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
'স্মৃতির শহর' আত্মস্মৃতি:
• শামসুর রাহমানের শৈশব-কৈশোরে বেড়ে উঠার আনন্দ বেদনার স্মৃতিনিয়ে রচিত গদ্য 'স্মৃতির শহর'।

• কবি শামসুর রাহমান জন্মেছিলেন ঢাকা শহরে (জন্ম: ২৩ অক্টোবর ১৯২৯)। ঢাকা তখন ছিল ফাঁকা ফাঁকা। মানুষের এমন দমবন্ধ অবস্থার কথা তখন কল্পনাও করা যেত না।

এত দালানকোঠা আর পিঁপড়ের সারির মতো গাড়ি ছিল না। ছিল পাড়ায় পাড়ায় আস্তাবল, ঘোড়ার গাড়ি, গাড়োয়ান, বাতিওয়ালা, ভিস্তিওয়ালা, ফেরিওয়ালা। গলির ভেতরে ছোটবড় বাড়িতে ছিল মানুষের বাস। স্কুল ছিল, মসজিদ-মন্দির ছিল, আর ছিল পালা-পার্বণে নানা আনন্দ-উৎসব। এসবের ভেতর দিয়ে শৈশব-কৈশোরে বেড়ে উঠেছেন কবি। সেই সব দিনের আনন্দ-বেদনার স্মৃতিকথা লিখেছেন এই গদ্যে।

----------------
শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

তাঁর রচিত আত্মস্মৃতি:
- কালের ধুলোয় লেখা,
- স্মৃতির শহর।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; 'স্মৃতির শহর' আত্মস্মৃতি শামসুর রাহমান এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫১৩.
জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ কোনটি?
  1. ঝরা পালক
  2. সাতটি তারার তিমির
  3. রূপসী বাংলা
  4. মহা পৃথিবী
সঠিক উত্তর:
ঝরা পালক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝরা পালক
ব্যাখ্যা
ঝরা পালক:
- জীবনানন্দ দাশের কবিতায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যময় প্রকৃতি কাব্যময় হয়ে উঠেছে। 
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ- ঝরা পালক। 
- কাব্যটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের অনুসরণ যেমন আছে, তেমনি আছে নতুন এক ভাষারীতি ও বাকপ্রতিমা রচনার চেষ্টা। 

জীবনানন্দ দাশ:

- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর সাহিত্যকর্ম:

কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উপন্যাস:

- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:

- কবিতার কথা। 
 
উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫১৪.
বাংলাদেশে কাকে 'সব্যসাচী লেখক' বলা হয়?
  1. ক) হেলাল হাফিজ
  2. খ) নির্মলেন্দু গুণ
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ শামসুল হক একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক।
- কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, অনুবাদ তথা সাহিত্যের সকল শাখায় সাবলীল পদচারণার জন্য তাঁকে 'সব্যসাচী' লেখক বলা হয়।
- তিনি মাত্র ২৯ বছর বয়সে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেছিলেন।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১,৫১৫.
'মেঘলা রাতের তারা’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. আসকার ইবনে শাইখ
  2. আনিস চৌধুরী
  3. সাঈদ আহমদ
  4. হুমায়ূন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
আসকার ইবনে শাইখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসকার ইবনে শাইখ
ব্যাখ্যা
• আসকার ইবনে শাইখ: 
- আসকার ইবনে শাইখ সমকালীন নাট্যকারগণের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয়।
- তাঁর নাটকগুলো অভিনয়েও সাফল্য লাভ করেছে।
- তিনি গ্রামজীবন, ধর্মীয় আদর্শ, দেশাত্মবোধক কাহিনী অবলম্বনে নাটক রচনায় কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।
- ‘বিরোধ’, ‘পদক্ষেপ', 'বিদ্রোহী পদ্মা', 'শেষ অধ্যায়’, ‘দুরন্ত ঢেউ', ‘প্রতীক্ষা', 'অনুবর্তন', 'বিল বাওরের ঢেউ', 'এপার ওপার', 'অনেক তারার হাতছানি' ইত্যাদি নাটকে সমাজের বিচিত্র বিষয় রূপায়িত হয়েছে।

- তাঁর অন্যান্য নাটক 'কর্দোভার আগে', 'রাজপুত্র', 'রাজা, রাজ্য, রাজধানী', 'মেঘলা রাতের তারা’, ‘কন্যা জায়া জননী' ইত্যাদি।
- ‘অগ্নিগিরি', ‘তিতুমীর’, ‘রক্তপদ্ম' প্রভৃতি তাঁর ঐতিহাসিক নাটক। এগুলোর বিষয় স্বাধীনতা সংগ্রামের কাহিনী।
- অতীত ঐতিহ্যের পটভূমিকায় জাতীয় জীবনের নতুন চেতনা সৃষ্টির লক্ষ্যে নাট্যকার তাঁর নাটকের বিষয় নির্বাচন করেছেন এবং
- সমকালীন জীবনের চাহিদা মিটানোর ব্যাপারে তৎপরতা দেখিয়েছেন।

সূত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 
১,৫১৬.
‘নূরলদীনের সারা জীবন’ কাব্যনাট্যটি কোন ঘটনার উপর ভিত্তি করে রচিত?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. কারবালা যুদ্ধ
  3. ভাষা আন্দোলন 
  4. কৃষক বিদ্রোহ 
সঠিক উত্তর:
কৃষক বিদ্রোহ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষক বিদ্রোহ 
ব্যাখ্যা

‘নূরলদীনের সারা জীবন’ কাব্যনাট্যটি রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ ঘটনার উপর ভিত্তি করে রচিত। 

নূরলদীনের সারা জীবন:
- নূরলদীনের সারা জীবন সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য।
- এটি রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নূরলদীন (আসল নাম নূরুলউদ্দিন)-এর সামন্তবাদবিরোধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত।
- নূরলদীনের বিখ্যাত আহ্বান: “জাগো বাহে, কোনঠে সবাই।”
- নাটকের অন্যতম বিখ্যাত লাইন: “এক নূরলদীন যদি চলি যায়, হাজার নূরলদীন আসিবে বাংলায়।”
- নাটকটি মোট ১৪টি দৃশ্যে রচিত।

সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক।
- জন্ম: ২৭ ডিসেম্বর ১৯৩৫, কুড়িগ্রাম।
- উপাধি: সব্যসাচী লেখক।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য: পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।

কাব্যনাট্যসমূহ:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- নূরলদীনের সারা জীবন,
- এখানে এখন। 

কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি। 

উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- ত্রাহি,
- তুমি সেই তরবারী,
- অন্য এক আলিখান,
- এক মুঠো জন্মভূমি,
- আলোর জন্য,
- রাজার সুন্দরী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫১৭.
কবি সুফিয়া কামালের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ-
  1. ক) মায়া কাজল
  2. খ) মৃত্তিকার ঘ্রাণ
  3. গ) অভিযাত্রিক
  4. ঘ) সাঁঝের মায়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাঁঝের মায়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাঁঝের মায়া
ব্যাখ্যা

- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- তাকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- তিনি রবীন্দ্র কাব্য ধারার 'গীতিকবিতা' রচনা করতেন।
- তিনি 'বেগম' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া'।
- বেগম রোকেয়ার সামাজিক আদর্শ সুফিয়া কামালকে আজীবন প্রভাবিত করেছে। তিনি রোকেয়ার ওপর অনেক কবিতা রচনা করেন এবং তাঁর নামে 'মৃত্তিকার ঘ্রাণ' সংকলনটি উৎসর্গ করেন।
- এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো- মায়া কাজল, শান্তি ও প্রার্থনা, মন ও জীবন, উদাত্ত পৃথিবী, অভিযাত্রিক, মৃত্তিকার ঘ্রাণ, মোর জাদুদের সমাধি পরে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১,৫১৮.
'বীরবলের হালখাতা' কোন জাতীয় রচনা?
  1. ক) কাব্য
  2. খ) নাটক
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
গ) প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে 'বীরবলের হালখাতা' হচ্ছে প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- এটি প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রথম চলিত রীতির গদ্য রচনা।

• প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রুপাত্নক প্রবন্ধ রচনাকারী, গদ্য সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- ইতালীয় সনেটের প্রবর্তকও হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- তাঁর ছদ্মনাম বীরবল।
- তিনি সবুজপত্র (১৯১৪) ও বিশ্বভারতী, রূপ ও রীতি এবং অলকা পত্রিকা সম্পাদনা করেন ।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

• গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারি কথা।
- আহুতি।
- নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল- নুন -লাকড়ী।
- বীরবলের হালখাতা (চলিত রীতির প্রথম গদ্য রচনা)।
- নানাকথা।
- আমাদের শিক্ষা।
- রায়তের কথা।
- নানাচর্চা।

• তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত উক্তি:
- ‘ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়'।
- 'যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়'।
- 'বাংলা ভাষা আহত হয়েছে সিলেটে আর নিহত হয়েছে চট্টগ্রামে'।
- 'কাব্য জগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা'।
- 'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫১৯.
বাংলা সাহিত্যের স্বভাবকবি নামে পরিচিত ছিলেন কে?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. গােবিন্দচন্দ্র দাস
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
গােবিন্দচন্দ্র দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গােবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা
• গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ‘ভাওয়ালের কবি’ হিসেবে গোবিন্দচন্দ্র দাসের পরিচয়।
- বাংলা সাহিত্যের স্বভাবকবি হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর কবিতায় পূর্ববঙ্গের প্রাকৃতিক শোভা, বস্ত্তনিষ্ঠতা এবং গভীর পত্নিপ্রেম ফুটে উঠেছে।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন। কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসূন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস (১৯১০) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
১,৫২০.
'কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. শামসুর রাহমান
  3. রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প' রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কবিতা।

কবিতা সংক্ষেপ-

কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প
- রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ

তাঁর চোখ বাঁধা হলো।
বুটের প্রথম লাথি রক্তাক্ত
করলো তার মুখ।

থ্যাতলানো ঠোঁটজোড়া লালা –
রক্তে একাকার হলো,
জিভ নাড়তেই দুটো ভাঙা দাঁত
ঝরে পড়লো কংক্রিটে।

-------------------------------
• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- তিনি প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্য- উপদ্রুত উপকূল (১৯৭৯) ও ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কবিতায় মুক্তিযুদ্ধ, দেশাত্মবোধ, গণআন্দোলন, ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতা বলিষ্ঠভাবে উপস্থাপিত।
- সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার’ লাভ করেন।
- ১৯৯১ সালের ২১ জুন ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছোবল,
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ,
- একগ্লাস অন্ধকার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৫২১.
'কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ' কার রচিত গানের সংকলন?
  1. ক) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  2. খ) অতুলপ্রসাদ সেন
  3. গ) অমিয় চক্রবর্তী
  4. ঘ) রামপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
খ) অতুলপ্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা

অতুলপ্রসাদ সেন (১৮৭১-১৯৩৪): কবি, গীতিকার, গায়ক।

‘মোদের গরব, মোদের আশা/ আ মরি বাংলা ভাষা’ গানটিতে অতুলপ্রসাদের মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে।
এ গান বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের মধ্যে অফুরন্ত প্রেরণা জুগিয়েছে। গানটির আবেদন আজও অম্লান।

- তিনি বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুমরি আমদানি করেন৷
- তার রচিত গানের সংখ্যা প্রায় দুশটি৷

'কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ'
(১৯৩১) তার গানের সংকলন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৫২২.
বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) আবদুল্লাহ
  2. খ) প্রদোষে প্রাকৃতজন
  3. গ) রত্নবতী
  4. ঘ) আলালের ঘরের দুলাল
সঠিক উত্তর:
গ) রত্নবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রত্নবতী
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ 'রত্নবতী'। 

মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী' (১৮৬৯)।
- এটি মুসলমান সাহিত্যিক রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) প্রকাশের চার বছর পর 'রত্নবতী' উপন্যাস প্রকাশিত হয়।
- লেখকের নাম পৃষ্ঠায় 'কৌতুকাবহ উপন্যাস' বলে উল্লেখ করেছেন। 
- প্রকৃতপক্ষে এটি রূপকথা জাতীয় শিক্ষামূলক একটি দীর্ঘ গল্প। 

অন্যদিকে, 
- প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮) উপন্যাসের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে উপন্যাস ধারার সূচনা হয়।
- কাজী ইমদাদুল হক রচিত উপন্যাস হলো ‘আবদুল্লাহ’। 
- শওকত আলীর রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস 'প্রদোষে প্রাকৃতজন' (১৯৮৪)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫২৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৮৩৫ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৮৬৯ খ্রিষ্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা

"দুর্গেশনন্দিনী" উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। 
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।
- উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,৫২৪.
নিচের কোন নাটকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'রঘুপতি ও জয়সিংহের' ভূমিকায় অভিনয় করেছেন?
  1. ডাকঘর
  2. অচলায়তন
  3. বিসর্জন
  4. রক্তকরবী
সঠিক উত্তর:
বিসর্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিসর্জন
ব্যাখ্যা

• 'বিসর্জন' নাটক: 
- ১৮৯০ সালে বিসর্জন নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মঞ্চসফল এবং জনপ্রিয় নাটকগুলির মধ্যে অন্যতম।
- এই নাটকে রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং নিজে প্রধান দুটি চরিত্র অভিনয় করেন। ১৮৯০-এ রঘুপতি, এবং ১৯২৩-এ জয়সিংহের ভূমিকায়।
- এই নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

- এই নাটকের বিষয়বস্তু হচ্ছে, উদার ধর্মবোধ এবং সংকীর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব যেমন এই নাটকের প্রধান উপকরণ, তেমনি বিশ্বাসের উগ্রতা এবং মানব সম্পর্কের নিবিড়তা এই নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র গুলো হলো:
- রঘুপতি,
- গুণবতী,
- গোবিন্দমাণিক্য,
- অপর্ণা,
- জয়সিংহ।

----------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক: 
- বিসর্জন, 
- রাজা, 
- ডাকঘর, 
- অচলায়তন, 
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী, 
- তাসের দেশ।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫২৫.
'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫২৬.
বিখ্যাত 'কবর' কবিতা কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. নক্সী কাঁথার মাঠ
  2. রাখালী
  3. বালুচর
  4. মাটির কান্না
সঠিক উত্তর:
রাখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাখালী
ব্যাখ্যা

বিখ্যাত 'কবর' কবিতা রাখালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 

রাখালী
- রাখালী হলো জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯টি কবিতা রয়েছে।
- বিখ্যাত ‘কবর’ কবিতাটি এই কাব্যের অন্তর্গত।
- কাব্যের প্রথম কবিতার নাম ‘রাখালী’।

জসীম উদ্‌দীন
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- জন্ম: ১ জানুয়ারি ১৯০৩, ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়।
- তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- তাকে ‘পল্লীকবি’ বলা হয়।

অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সুচয়নী,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশী,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে,
- মাটির কান্না,
- সকিনা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫২৭.
‘বীরবলের হালখাতা’ গ্রন্থটি কোন ভাষাশৈলীতে লেখা প্রথম গ্রন্থ?
  1. তৎসম
  2. চলিত ভাষা
  3. মিশ্র ভাষা
  4. দেশজ ভাষা
সঠিক উত্তর:
চলিত ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলিত ভাষা
ব্যাখ্যা
• ‘বীরবলের হালখাতা’:
- ‘বীরবলের হালখাতা’ প্রমথ চৌধুরীর চলিত রীতির গদ্য রচনা।
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে 'ভারতী' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।

বাংলা সাহিত্যের আরো কিছু প্রথম সাহিত্য রচনার নাম:

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য 'বীরঙ্গনা'।
• বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষায় রচিত প্রথম গ্রন্থ 'বীরবলের হালখাতা'।
• বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ 'রত্নবতী'।
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প 'ভিখারিণী'।
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প 'দেনাপাওনা'।
• বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাহিত্যিক রচিত প্রথম নাটক 'বসন্তকুমারী'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৫২৮.
'​কঙ্কাবতী' - অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• '​কঙ্কাবতী' অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত - উপন্যাস।

​​​উল্লেখ্য, 
- 'কঙ্কাবতী'- বুদ্ধদেব বসুর রচিত কাব্যগ্রন্থ।

অন্নদাশঙ্কর রায়:
- অন্নদাশঙ্কর রায় একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি, লেখক এবং সেই সাথে বিশিষ্ট ছড়াকারও।
- তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন।
- পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি তাঁর রচিত দুইটি ভ্রমণকাহিনি।
অন্নদাশঙ্কর রায়ের প্রথম কবিতাগ্রন্থ - রাখী (১৯৩২)।

​তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- অপসরণ,
- অজ্ঞাতবাস ইত্যাদি।

​​​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫২৯.
নিচের কোনটি মহাকাব্য?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  4. বীরাঙ্গনা কাব্য
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা
• মেঘনাদবধ কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।

উদ্ধৃতাংশটির কিছু অংশ:

'কি কহিলি বাসন্তি? পর্বতগৃহ ছাড়ি,
বাহিরায় যবে নদী সিন্ধুর উদ্দেশ্যে,
কার হেন সাধ্য যে সে রোধে তার গতি?
দানবনন্দিনী আমি, রক্ষঃকুলবধূ
রাবণ শ্বশুর মম, মেঘনাদ স্বামী
আমি কি ডরাই, সখি, ভিখারী রাঘবে?'

---------------
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
১,৫৩০.
‘বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান’ কে সম্পাদনা করেন?
  1. ক) ড. মুহাম্মদ এনামুল হক
  2. খ) ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) ড. সুকুমার
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
খ) ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
- আঞ্চলিক ভাষার অভিধান বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উপভাষার একটি সংকলন গ্রন্থ।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সম্পাদনায় ১৯৬৫ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষাসমূহের সংকলন-জাতীয় গ্রন্থ এটিই প্রথম।

[উৎস: বাংলাপিডিয়া ]
১,৫৩১.
'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় 
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা

• 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস: 
- এটি একটি মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা |
- 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসটির রচয়িতা- 'সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ'। 
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ'র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫৩২.
“টিকিয়া থাকাই চরম সার্থকতা নয়, অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।" - উক্তিটি কোন গল্পের?
  1. মামলার ফল
  2. বিলাসী
  3. সতী
  4. মহেশ
সঠিক উত্তর:
বিলাসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিলাসী
ব্যাখ্যা
বিলাসী:
- এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প।
- গল্পে অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধাচারণ করা হয়েছে মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর বিয়ে সংঘটনের মাধ্যমে।
- বিলাসী গল্পে 'ন্যাড়া' চরিত্রের মধ্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর নিজের ছায়াপাত ঘটেছে।
- বিলাসী গল্পের বিখ্যাত উক্তি - “টিকিয়া থাকাই চরম সার্থকতা নয়, অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।"

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়।
- তবে তাঁর উপন্যাসে ব্যক্তিবর্গের ইচ্ছাভিসার ও মুক্তি সর্বদাই সমাজ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় বলে তাঁকে রক্ষণশীলও বলা হয়ে থাকে।
- তবে নারীর প্রতি সামাজিক নির্যাতন ও তার সংস্কারবন্দি জীবনের রূপায়ণে তিনি বিপ্লবী লেখক, বিশেষত গ্রামের অবহেলিত ও বঞ্চিত বাঙালি নারীর প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধ ও শ্রদ্ধা তুলনাহীন।
- সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ।
- বার্মায় বসবাসকালে তাঁর অঙ্কিত ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত অন্যান্য গল্প:
- রামের সুমতি,
- মেজদিদি,
- বিন্দুর ছেলে,
- ছবি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৫৩৩.
"প্রেমাংশুর রক্ত চাই" কোন সাহিত্যিকের রচনা?
  1. শওকত ওসমান
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. শামসুর রাহমান
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা

"প্রেমাংশুর রক্ত চাই" নির্মলেন্দু গুনের রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ বাংলাদেশের আধুনিক কবিতার একজন বিশিষ্ট কবি।
- তিনি ১৯৪৫ সালের ২১ জুন নেত্রকোনার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাকনাম ছিল রতন।
- মূলত তিনি একজন কবি হলেও পাঠকসমাজে তাঁকে “বাংলাদেশের কবিদের কবি” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
- তাঁর কবিতায় প্রেম, বিপ্লব, গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রা, সমাজের বাস্তবতা এবং রাজনৈতিক চেতনা গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
- কবিতার পাশাপাশি তিনি অনুবাদকবিতা ও ছোটগল্পও রচনা করেছেন।

কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবি,
- চাষাভূষার কাব্য,
- মুজিব লেলিন ইন্দিরা,
- নিশিকাব্য।

অনুবাদকবিতা:
- রক্ত আর ফুলগুলি,
- তোহু,
- রাজনৈতিক কবিতা।

ছোটগল্প:
- অন্তর্জাল,
- আপনদলের মানুষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৫৩৪.
নিচের কোনটি জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. লাইলি মজনু
  2. মনসামঙ্গল কাব্য
  3. চন্দ্রাবতী
  4. পদুমাবৎ
সঠিক উত্তর:
পদুমাবৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদুমাবৎ
ব্যাখ্যা
• হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সীর 'পদুমাবৎ' জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন:

- তিনি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ১৮৫১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ও ভাষাতাত্ত্বিক।
- ভারতীয় ভাষা শিক্ষা ও অনুশীলনে বিশেষভাবে উৎসাহী ছিলেন।

কাশ্মিরি ভাষা সম্পর্কে তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- Essays on Kashmiri Grammar.
- A Manual of the Kashmiri Language.
- A Dictionary of the Kashmiri Language.

তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ:
- The Kashmiri Ramayana.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৩৫.
কোনটি নুরুল মোমেন রচিত রম্যগ্রন্থ?
  1. রূপলেখা
  2. বহুরূপা
  3. যেমন ইচ্ছা তেমন
  4. শতকরা আশি
সঠিক উত্তর:
বহুরূপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুরূপা
ব্যাখ্যা
নুরুল মোমেন: 
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক ‘রূপান্তর’ ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন।
- ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'।
- ১৯৪৮ সালে ‘বহুরূপা’ নামক রম্যরচনাটি প্রকাশিত হয়।

নুরুল মোমেন রচিত অন্যান্য রম্যগ্রন্থ হলো:
- নরসুন্দর,
- হিংটিং ছট (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড)।

নুরুল মোমেন রচিত বিখ্যাত নাটকসমূহ:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান, 
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে, 
- শতকরা আশি, 
- রূপলেখা, 
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৩৬.
'শিখা' পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক ছিলেন কে?
  1. আবদুল কাদির
  2. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  3. আবদুল হাই
  4. আবুল হাসান
সঠিক উত্তর:
আবদুল কাদির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা
আবদুল কাদির: 
- তিনি ১৯০৬ সালের ১লা জুন আড়াই সিধা গ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ছান্দসিক, সম্পাদক।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- তিনি সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক 'শিখা' (১৯২৭) পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক ছিলেন
- তাঁর 'ছন্দ-সমীক্ষণ' গ্রন্থে বাংলাছন্দের সামগ্রিক রূপটি বিশ্লেষণ করার প্রয়াস আছে।
- তিনি ১৯৮৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বাংলা কাব্যের ইতিহাস: মুসলিম সাধনার ধারা,  
- কবি নজরুল, 
- কাজী আবদুল ওদুদ, 
- লোকায়ত সাহিত্য।

তাঁর রচিত কবিতাগ্রন্থ:
- দিলরুবা ও
- উত্তর বসন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১,৫৩৭.
'বন্দর থেকে বন্দরে' ভ্রমনকাহিনিটি কার রচনা?
  1. সানাউল হক
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
সানাউল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সানাউল হক
ব্যাখ্যা
• 'বন্দর থেকে বন্দরে' ভ্রমনকাহিনি:
- 'বন্দর থেকে বন্দরে' ভ্রমনকাহিনির রচয়িতা সানাউল হক।
- ভ্রমনকাহিনিটি ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়ে বেশ খ্যাতি লাভ করেছে।
- উনিশ শ পঞ্চাশের দশকের প্রথমে সানাউল হক জাহাজে করে অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি থেকে লেখা ভ্রমণকাহিনি 'বন্দর থেকে বন্দরে'।

অন্যদিকে,
• 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী। ভ্রমণ কাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

• ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ সালে 'বিচিত্রা' পত্রিকায় অন্নদাশঙ্কর রায়ের ইউরোপ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা ভ্রমণকাহিনি 'পথে প্রবাসে' প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে লন্ডন, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানিসহ ইউরোপ ভ্রমণের চমকপ্রদ বর্ণনা রয়েছে।

• নির্মলেন্দু গুণ রচিত ভ্রমণকাহিনি গুলোর মাঝে ভলগার তীরে, গীনসাবার্গের সঙ্গে, ভ্রমি দেশে দেশে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫৩৮.
এম আর আখতার মুকুল রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. একাত্তরের দিনগুলি
  2. একাত্তরের কথামালা
  3. একাত্তরের বর্ণমালা
  4. একাত্তরের রণাঙ্গন
সঠিক উত্তর:
একাত্তরের বর্ণমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একাত্তরের বর্ণমালা
ব্যাখ্যা

• 'একাত্তরের বর্ণমালা':
- 'একাত্তরের বর্ণমালা' হলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা একটি বিখ্যাত বই, যা লিখেছেন এম. আর. আখতার মুকুল।  যিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় 'চরমপত্র' নামক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস জুগিয়েছিলেন।
- এই বইটিতে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরেছেন, যা ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এতে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মৃতি ও ঘটনা বর্ণমালায় সাজানো হয়েছে।

-----------------------
• এম আর আখতার মুকুল:

- তিনি সাংবাদিক, লেখক, সম্পাদক এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত সাড়া জাগানো অনুষ্ঠান 'চরমপত্র'-এর কথক।
- জন্ম ১৯২৯ সালের ৯ আগস্ট বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ের অন্তর্গত চিংগাসপুর গ্রামে।
-পিতা বিশিষ্ট সাহিত্যিক সা'দত আলি আখন্দ, মাতা রাবেয়া খাতুন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় রণাঙ্গন পরিদর্শন শেষে তাঁর রচিত এবং স্বকণ্ঠে প্রচারিত 'চরমপত্র' অনুষ্ঠানটি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- একাত্তরের বর্ণমালা,
- মুজিবের রক্তলাল,
- ভাসানী মুজিবের রাজনীতি,
- পঞ্চাশ দশকে আমরা ও ভাষা আন্দোলন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'একাত্তরের দিনগুলি' (ডায়েরি) জাহানারা ইমাম রচিত।
• 'একাত্তরের কথামালা' বেগম নূরজাহান রচিত গ্রন্থ।
• 'একাত্তরের রণাঙ্গন' শামসুল হুদা চৌধুরী রচিত গ্রন্থ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'একাত্তরের বর্ণমালা' গ্রন্থ।

১,৫৩৯.
শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত ‘সমাচার দর্পণ’ কোন ধরনের পত্রিকা ছিল?
  1. ক) ত্রৈমাসিক
  2. খ) মাসিক
  3. গ) ষাণ্মাসিক
  4. ঘ) সাপ্তাহিক
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাপ্তাহিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাপ্তাহিক
ব্যাখ্যা

• শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত ‘সমাচার দর্পণ’ পত্রিকাটি ১৮১৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'সমাচার দর্পণ' বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।

• 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা: 
- ১৮১৮ সালে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে।
- সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
- এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র। 
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পন্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- প্রথম পর্যায়ে, ১৮১৮ সালের ২৩ মে (শনিবার) সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

• পত্রিকাটিতে যেসব সংবাদ ছাপান হতো:
ক. জজ, কালেক্টর ও অন্য রাজকর্মচারীদের নিয়োগ।
খ. ইংল্যান্ড ও ইউরোপ থেকে আগত সংবাদ এবং দেশের নানা সমাচার।
গ. বাণিজ্যবিষয়ক নতুন সংবাদ।
ঘ. জন্ম, বিবাহ ও মৃত্যুবিষয়ক সংবাদ।
ঙ. ভারতবর্ষের প্রাচীন ইতিহাস, পন্ডিতলোক এবং বইয়ের বিবরণ।
চ. গভর্নর কর্তৃক জারিকৃত আইন ও হুকুম প্রভৃতির বিবরণ।
ছ. ইউরোপীয়দের রচিত বই থেকে এবং ইংল্যান্ড হতে আসা বইয়ের শিল্প ও কলকারখানার বিবরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫৪০.
বাংলাদেশের অন্যতম বিজ্ঞান বিষয়ক লেখক কে?
  1. হুমায়ন আহমেদ
  2. রশীদ করিম
  3. হুমায়ন আজাদ
  4. আবদুল্লাহ আল-মুতি
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল-মুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল-মুতি
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল-মুতী:
- বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় বিজ্ঞান বিষয়ক লেখক হচ্ছেন আবদুল্লাহ আল-মুতী।
- তিনি ১৯৫৩ সালে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে এম.এসসি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা বিষয়ে ১৯৬০ সালে এম.এ ও ১৯৬২ সালে পিএইচ.ডি ডিগ্রি লাভ করেন।
- বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে আল-মুতী শরফুদ্দিনের অবদান অসামান্য।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।
- উল্লেখযোগ্য বইগুলির মধ্যে রয়েছে- বিজ্ঞান ও মানুষ, এ যুগের বিজ্ঞান, বিপন্ন পরিবেশ, বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা, সাগরের রহস্যপুরী, মেঘ বৃষ্টি রোদ এবং পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে।
- বিজ্ঞান শিক্ষা ও সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার, একুশে পদক, শিশু একাডেমী পুরস্কার, ইউনেস্কোর কলিঙ্গ পুরস্কার এবং ড. কুদরত-ই-খুদা স্বর্ণপদকসহ এক ডজনের অধিক পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১,৫৪১.
আহসান হাবীব রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম কী? 
  1. সারাদুপুর
  2. রাত্রিশেষ 
  3. ছায়া হরিণ
  4. আশায় বসতি
সঠিক উত্তর:
সারাদুপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সারাদুপুর
ব্যাখ্যা

• 'সারাদুপুর':
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম - 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে 'সারা দুপুর' প্রকাশিত হয়।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬।
- কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

• আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ :
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারাদুপুর,
- আশায় বসতি।

তাঁর উপন্যাস: 
- অরণ্যে নীলিমা
- রানী খালের সাঁকো

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১,৫৪২.
সঞ্জয় ভট্টাচার্য সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সমাচার সভারাজেন্দ্র
  2. জ্ঞানান্বেষণ
  3. কল্লোল
  4. পূর্বাশা
সঠিক উত্তর:
পূর্বাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বাশা
ব্যাখ্যা
• 'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- 'পূর্বাশা' কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা। এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়। ১৯৭১ সালে স্থায়ীবভাবে বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকাটি।
- পূর্বাশা' ছিল মাসিক পত্রিকা। আধুনিক বিখ্যাত লেখকদের প্রায় সবাই এই পত্রিকায় লিখেছেন।

অন্যদিকে, 
• মুসলমান সম্পাদিত প্রথম পত্রিকা 'সমাচার সভারাজেন্দ্র'। ১৮৩১ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 'সমাচার সভারাজেন্দ্র' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শেখ আলিমুল্লাহ।

• 'জ্ঞানান্বেষণ' পত্রিকা সম্পাদক ছিলেন দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়। ১৮৩১ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
• কল্লোল পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৩ সালে। পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৪৩.
ব্রিটিশ আমলে মুসলমানদের মহিমা, তত্ত্ব, জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয় নিচের কোন সংবাদপত্রে আলোচনা হত?
  1. সুধাকর
  2. মিহির
  3. হাফেজ
  4. সবকটি
সঠিক উত্তর:
সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবকটি
ব্যাখ্যা
হাফেজ, মিহির ও সুধাকর এই তিনটি পত্রিকারই সম্পাদক শেখ আবদুর রহিম।

• 'মিহির ওসুধাকর: 
- ‘সুধাকর’ নামে সাপ্তাহিক পত্রিকা শেখ আবদুর রহিম সম্পাদনায় কলকাতা থেকে ১৮৮৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন  শেখ আবদুর রহিম।
- সুধাকর পত্রিকাকে জাতীয় সংবাদপত্র বলে অভিহিত করা হয়।
- সুধাকর পত্রিকাকে কেন্দ্র করে একদল মুসলমান লেখক জাতীয় কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেছিল তাঁরা সিধাকর দল নামে বাংলা সাহিত্যে পরিচিত।
- এ পত্রিকা প্রকাশের লক্ষ ও উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের অতীত গৌরব ও ইসলামের মাহাত্ম্য প্রচার করা।
- এক পর্যায়ে এটি মিহির ও সুধাকর নামে প্রকাশিত হয়।
- ১৯১০ সাল পর্যন্ত এর  প্রকাশনা অব্যাহত ছিল। 

• হাফেজ:
- ১৮৯৭ সালে পত্রিকাটি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- সম্পাদক ছিলেন শেখ আবদুর রহিম।
- বঙ্গীয় ,মুসলমানদের পূর্বপুরুষদের অতীত গৌরব ও ধর্মভক্তি কাহিনি এবং পবিত্র ধর্মের পবিত্র রীতিনীতি অবহিত করার জন্য এই পত্রিকার প্রকাশ।  

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫৪৪.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ব্রজবিলাস
  2. সীতার বনবাস
  3. বেতাল পঞ্চবিংশতি
  4. শকুন্তলা
সঠিক উত্তর:
বেতাল পঞ্চবিংশতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেতাল পঞ্চবিংশতি
ব্যাখ্যা

- বেতাল পঞ্চবিংশতি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। 
- এটি হিন্দি বৈতাল পচ্চীসীর অনুবাদ।
- এ গ্রন্থেই প্রথম তিনি যতিচিহ্ন ব্যবহার করেন। 

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:

- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গদ্যগ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

• তাঁর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫৪৫.
কোনটি বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস?
  1. কঙ্কাবতী
  2. দময়ন্তী
  3. তিথিডোর
  4. মায়া মালঞ্চ
সঠিক উত্তর:
তিথিডোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিথিডোর
ব্যাখ্যা
• ‘তিথিডোর’ উপন্যাস:
- বুদ্ধদেব বসুর ঔপন্যাসিক-প্রতিভার এক উজ্জ্বল প্রকাশ ‘তিথিডোর’ (১৯৪৯) উপন্যাস।
- বিষয়াংশ, মৌল-জীবনার্থ এবং প্রকরণ-স্বাতন্ত্র্যের দৃষ্টিকোণে তিথিডোর বাংলা উপন্যাসের ধারায় প্রকৃত অর্থেই এক স্মরণীয় নির্মাণ। - আলোচ্য উপন্যাসে আমরা বুদ্ধদেব বসুর বাস্তব-জীবনপ্রীতি ও পরিবার-সংলগ্নতার পরিচয় পাই।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন পরিবর্তমুখী সমাজমানসের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে এ-উপন্যাস।
- সত্যেন ও স্বাতীর প্রেম-আখ্যানের অন্তরালে এখানে প্রতিভাসিত হয়েছে চল্লিশের দশকের বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত সমাজজীবনের নানামাত্রিক চিত্র।
- বুদ্ধবেদ বসু মূলত চরিত্রের অন্তঃবাস্তবতার রূপকার; কিন্তু তিথিডোর উপন্যাসে, অন্তঃবাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গে তিনি জীবনের বহিরঙ্গ রূপকেও শিল্পিত করেছেন।
-----------------

•  বুদ্ধদেব বসু:
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫৪৬.
সাহিত্য পত্রিকা 'কবিতা' এর সম্পাদক ছিলেন- 
  1. দীনেশরঞ্জন দাশ
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
- সাহিত্য পত্রিকা 'কবিতা' এর সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু

• কবিতা (সাহিত্য পত্রিকা):
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকার নাম হচ্ছে কবিতা।
- বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনা সূত্রে সাথে যুক্ত ছিলেন।
- পত্রিকাটি ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে।
- এ পত্রিকায় শুধু কবিতা ও কবিতা বিষয়ক গদ্য ছাপা হতো। 
- আধুনিক এমন কোনো বাঙালি উল্লেখযোগ্য কবি নেই, যিনি 'কবিতা' পত্রিকায় লিখেন নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,৫৪৭.
'অপরাজেয় কথাশিল্পী' হিসেবে পরিচিত কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' হিসেবে পরিচিত।
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তার প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তার প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'পথের দাবী' হলো রাজনৈতিক উপন্যাস যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - কমলাকান্ত।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এর উপাধি 'ভাষাচার্য'।
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম- সুনন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৫৪৮.
'ক্রন্দসী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) সত্যেন সেন
সঠিক উত্তর:
গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ- তন্বী, অর্কেষ্ট্রা, ক্রন্দসী, দশমী, সংবর্ত, প্রতিদিন, উত্তর ফাল্গুনী।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ- স্বগত, কুলায় ও কালপুরুষ।
- তাঁর অনুবাদগ্রন্থ- প্রতিধ্বনি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৫৪৯.
'ধানকন্যা' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত -  
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'ধানকন্যা'  আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত গল্পগ্রন্থ।

• আলাউদ্দিন আল আজাদ

- আলাউদ্দিন আল আজাদ ছিলেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, নাট্যকার, গবেষক ও অধ্যাপক।
- ৬ মে ১৯৩২ সালে তিনি নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার রামনগর গ্রাম জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ভাষা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন।

• তাঁর প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ - জেগে আছি (১৯৫০)। যা একটি গল্পগ্রন্থ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:

কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ

গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- ধানকন্যা,
- মৃগনাভি,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- যখন সৈকত,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার,
- জীবনজমিন,

উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৫৫০.
'প্রগতি' পত্রিকার সম্পাদক কে?
  1. অক্ষয়কুমার দত্ত
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
'প্রগতি' পত্রিকা:
- প্রগতি ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় মাসিকপত্র 'প্রগতি'।
- সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত।
- বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার বাতাস প্রবাহিত হলে ঢাকা যে তাতে পিছিয়ে ছিল না, 'প্রগতি'র প্রকাশ তার প্রমাণ। কল্লোল- কালিকলম-প্রগতি একই সঙ্গে উচ্চারিত হওয়ার যোগ্য তিনটি নাম। বাংলাদেশে আধুনিক সাহিত্যের বিকাশে এ পত্রিকার অবদান কম নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৫১.
বেঙ্গল গেজেট কবে প্রকাশিত হয় এবং কে প্রকাশ করেন?
  1. ১৮১৮, গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
  2. ১৭৮০, জেমস অগাস্টাস হিকি
  3. ১৮২১, রাজা রামমোহন রায়
  4. ১৮৩১, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
১৭৮০, জেমস অগাস্টাস হিকি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৮০, জেমস অগাস্টাস হিকি
ব্যাখ্যা

'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা:
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেমস অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।

- পত্রিকাটিতে মূলত বিজ্ঞাপন, বিদেশি ইংরেজি পত্রিকা থেকে উদ্ধৃতি, সংবাদদাতাদের বিবরণধর্মী লেখা ছাপা হতো।
- 'পোয়েটস্ কর্নার' বলে একটি বিশেষ অংশ ছিল। প্রকাশের প্রথম মাস দশেক কোনো রাজনৈতিক বিবাদপূর্ণ লেখা প্রকাশিত হয় নি।
- পরে প্রশাসনের বিপক্ষে কিছু লেখা বের হলে ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই নবেম্বর ফোর্ট উইলিয়াম থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ডাকঘর মারফত পত্রিকা বিতরণ বন্ধ করা হয়। পরে হিকি মামলায় জড়িয়ে পড়েন।

​কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদপত্র:

- বেঙ্গল গেজেট - ১৭৮০ সাল(জেমস অগাস্টাস হিকি)।
- দিগদর্শন - ১৮১৮ (জন ক্লার্ক মার্শম্যান)।
- বাঙ্গাল গেজেট - ১৮১৮ (গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য )।
- সম্বাদ কৌমুদী - ১৮২১(রাজা রামমোহন রায়)।
- বঙ্গদূত -১৮২২ (নীলমণি হালদার)।
- সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) - ১৮৩১ (ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত )। 
- তত্ত্ববোধিনী - ১৮৪৩ (অক্ষয়কুমার দত্ত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া। 

১,৫৫২.
'আগুনের পরশমণি' উপন্যাসের পটভূমি ছিল- 
  1. ভাষা আন্দোলন 
  2. সত্তরের নির্বাচন 
  3. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. মুক্তিযুদ্ধ 
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ 
ব্যাখ্যা

• 'আগুনের পরশমণি' উপন্যাস:
- ১৯৮৬ সালে হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'আগুনের পরশমণি'।
- 'আগুনের পরশমণি'তে ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা অপারেশনের দুঃসাহসিক বর্ণনা, গেরিলাদের গোপন তৎপরতা, স্বাধীনতা সমর্থনকারী ও বিরোধিতাকারী কিছু চরিত্র উপস্থাপন করে ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ রচনা করলেন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- অপরিচিত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমকে আশ্রয় দেয় মতিন সাহেব নামে একজন ভদ্রলোক। এভাবেই উপন্যাসটির কাহিনি শুরু হয়েছে।
- বদিউলের সঙ্গে ওই ভদ্রলোকের কন্যার মানবিক দুর্বলতা প্রকাশিত যুদ্ধকালীন পরিবেশে।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত অন্যান্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস হলো:
- শ্যামল ছায়া,
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- অনিল বাগচীর একদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫৫৩.
'ইয়ংবেঙ্গল' আন্দোলনের সূচনা হয় কোন প্রতিষ্ঠান থেকে?
  1. স্কটিশ চার্চ কলেজ
  2. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. প্রেসিডেন্সি কলেজ
  4. হিন্দু কলেজ
সঠিক উত্তর:
হিন্দু কলেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দু কলেজ
ব্যাখ্যা
'ইয়ংবেঙ্গল':
- ইয়ংবেঙ্গল হিন্দু কলেজের ছাত্রদেরকে সমসাময়িক কলকাতা সমাজ কর্তৃক প্রদত্ত সামাজিক বুদ্ধিবাদী একটি অভিধা বিশেষ।
- এঁরা সবাই হিন্দু কলেজ-এর মুক্তবুদ্ধি যুক্তিবাদী শিক্ষক হেনরী লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও-র অনুসারী ছিলেন।
- এঁদের মধ্যে কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, রামগোপাল ঘোষ, মাধবচন্দ্র মল্লিক, রামতনু লাহিড়ী, মহেশচন্দ্র ঘোষ, শিবচন্দ্র দেব, হরচন্দ্র ঘোষ, রাধানাথ শিকদার, গোবিন্দচন্দ্র বসাক, অমৃতলাল মিত্র উল্লেখযোগ্য।
- ছাত্র হিসেবে সকলেই ছিলেন প্রতিভাবান, ইংরেজি শিক্ষার প্রতি প্রবল আগ্রহী। প্রথম জীবনে হিন্দুধর্মের প্রতি অশ্রদ্ধাপরায়ণ ও ঐতিহ্য সম্পর্কে অত্যন্ত সমালোচনা-মুখর।
- প্রচলিত হিন্দুত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ তাদের ঐক্যসূত্র। ঊনবিংশ শতাব্দীর সাহিত্য, ধর্ম, নীতি গঠনে তাঁদের বিশিষ্ট ভূমিকা ছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৫৫৪.
'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র-
  1. গণেষ
  2. ভিখু
  3. জয়গুন
  4. জাহানারা
সঠিক উত্তর:
জয়গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়গুন
ব্যাখ্যা

• 'সূর্য দীঘল বাড়ী':
 • 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।

• কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬)
- জাল (১৯৮৮)
• গল্পগ্রন্থ:
- হারেম (১৯৬২)
- মহাপতঙ্গ (১৯৬৩)


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫৫৫.
সাধু ভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ উপন্যাস কোনটি?
  1. চতুরঙ্গ
  2. গোরা
  3. ঘরে-বাইরে
  4. শেষের কবিতা
সঠিক উত্তর:
চতুরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা

'চতুরঙ্গ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যতম উপন্যাস চতুরঙ্গ। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- এটি সাধু ভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ উপন্যাস।
- ১৩২১ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন সংখ্যা পর্যন্ত মাসিক 'সবুজপত্রে' এই উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।
- 'সবুজপত্র'র তৎকালীন পাঠকরা ধরে নিয়েছিলেন যে তাঁরা রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে আলাদা আলাদা গল্প উপহার পাচ্ছেন। বস্তুত পত্রিকায় প্রকাশিত হবার সময় উপন্যাসের অধ্যায়গুলোকে আলাদা আলাদা গল্পের শিরোনাম দিয়ে ছাপা হচ্ছিল।
- গল্পগুলোর নাম ছিল যথাক্রমে- জ্যাঠামশায়, শচীশ, দামিনী শ্রীবিলাস।

অন্যদিকে,
'গোরা' উপন্যাস:
- গোরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি উপন্যাস। এটি ১৮৮০-এর দশকে ব্রিটিশ রাজত্বকালের সময়কার কলকাতার পটভূমিতে লেখা।
- এটি লেখার ক্রমে পঞ্চম এবং রবীন্দ্রনাথের তেরোটি উপন্যাসের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘতম। এটি রাজনীতি এবং ধর্ম নিয়ে দার্শনিক বিতর্কে সমৃদ্ধ উপন্যাস।

'শেষের কবিতা':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি রোমান্টিক উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।

'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস।
- ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,৫৫৬.
'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে মোট কয়টি কবিতা পাওয়া যায়?
  1. ১৫টি
  2. ১৭টি
  3. ১৯টি
  4. ২১টি
সঠিক উত্তর:
১৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯টি
ব্যাখ্যা

• সাত সাগরের মাঝি:
- ফররুখ আহমদের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট উনিশটি কবিতা স্থান পেয়েছে।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে।
- এ গ্রন্থের কবিতাগুলি ১৯৪৩-৪৪ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচিত।
- মূলত জাগরণের লক্ষ্যে ফররুখ আহমদ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলি লিখেছেন।
- বাংলা প্রচলিত শব্দ পরিত্যাগ করে এ গ্রন্থে কবি বহু অপ্রচলিত আরবি-ফারসি শব্দ গ্রহণ করেছেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিরূপ সমাজের ছবি কাব্যগ্রন্থটিতে স্থান পেয়েছে।

• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালে যশোর জেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাকে ইসলামি স্বাতন্ত্রবাদী কবি বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর কবিতায় পাকিস্তানবাদ, ইসলামি আদর্শ বিশেষত মুসলিম জাগরণ এবং আরব ইরানের ঐতিহ্য উজ্জ্বলভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নৌফেল ও হাতেম।
• তাঁর রচিত সনেট সংকলন:
- মুহূর্তের কবিতা।
• তাঁর রচিত কাহিনিকাব্য:
- হাতেমতায়ী।
• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থের নাম:
- পাখির বাসা।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

১,৫৫৭.
নির্মলেন্দু গুণ রচিত ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. পশ্চিমের যাত্রী
  2. ভ্রমি দেশে দেশে
  3. পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ
  4. দেশে বিদেশে
সঠিক উত্তর:
ভ্রমি দেশে দেশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রমি দেশে দেশে
ব্যাখ্যা
• ‘ভ্রমি দেশে দেশে’ নির্মলেন্দু গুণ রচিত একটি ভ্রমণ কাহিনি।
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালে।

নির্মলেন্দু গুণ: 
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে। 
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো-
• প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
• না প্রেমিক না বিপ্লবী,
• দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
• ও বন্ধু আমার,
• চাষাভূষার কাব্য,
• পৃথিবীজোড়া গান,
• দূর হ দুঃশাসন,
• ইসক্রা,
• নেই কেন সেই পাখি,
• মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
• শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়ালেখার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।

তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

অন্যদিকে,
- ‘পশ্চিমের যাত্রী’ ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
- ‘দেশে বিদেশে’ ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী।
- ‘পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ’ ভ্রমণবৃত্তান্ত এর রচয়িতা শহীদুল্লা কায়সার। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫৫৮.
'ভারতী' পত্রিকার নারী সম্পাদক ছিলেন-
  1. মৈত্রেয়ী দেবী
  2. আশাপূর্ণা দেবী
  3. স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. কুসুমকুমারী দাশ
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা

• ‘ভারতী’ পত্রিকা:
- স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন ‘ভারতী’ পত্রিকার নারী সম্পাদক।
- তিনি ১২৯১ থেকে ১৩০১ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত প্রায় এক যুগ ধরে পত্রিকাটির সম্পাদনা করেন।
- 'ভারতী’ পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে তিনি সাহিত্য ও নারী জাগরণে অবদান রেখেছেন।
- ‘ভারতী’ পত্রিকা ঠাকুর পরিবারের পারিবারিক পত্রিকা হিসেবে ১৮৭৭ সালে চালু হয়।
- প্রথমে এটি দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনা করেছিলেন।
- পরবর্তীতে জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিকল্পনায় এটি একটি মাসিক পত্রিকা হিসেবে নিয়মিত প্রকাশিত হতে থাকে।
---------------------------------------
স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রজন্মের একজন উল্লেখযোগ্য মহিলা সাহিত্যিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা উপন্যাসিক।
- তিনি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী কবি, ঔপন্যাসিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ‘দীপনির্বাণ’ নামে প্রথম বাংলা উপন্যাস রচনা করেন, যা তাকে প্রথম বাংলা মহিলা ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এছাড়াও তিনি বহু কবিতা, নাটক ও প্রবন্ধ লিখেছেন। 

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ;
- ছিন্নমুকুল;
- মালতী;
- মিবাররাজ।

অন্যদিকে,
- মৈত্রেয়ী দেবী -‘মঙ্গলা’ উপন্যাসের রচয়িতা।
- আশাপূর্ণা দেবী - ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’, ‘সুবর্ণলতা’, ‘বকুল কথা’-র লেখিকা।
- কুসুমকুমারী দাশ - তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১,৫৫৯.
'ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' চরণটি কোন নাটকের?
  1. সাজাহান
  2. তারাবাঈ
  3. মেবার পতন
  4. দুর্গাদাস
সঠিক উত্তর:
সাজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাজাহান
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক সাজাহান।
এটি সম্রাট শাহজাহানকে নিয়ে লেখা প্রথম নাটক‌।
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের বিখ্যাত গান 'ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' এই নাটকে ব্যবহৃত হয়।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার
১,৫৬০.
আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মুহূর্তের কবিতা
  2. হরিণের হাড়
  3. দু'হাতে দুই আদিম পাথর
  4. নতুন লেখা
সঠিক উত্তর:
দু'হাতে দুই আদিম পাথর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দু'হাতে দুই আদিম পাথর
ব্যাখ্যা

• 'দু'হাতে দুই আদিম পাথর' আহসান হাবীব রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৮০ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, 
• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো- মুহূর্তের কবিতা, নতুন লেখা। 
• 'হরিণের হাড়' শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

-----------------
• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক। তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব আধুনিক কাব্যধারার কবি ছিলেন। তাঁর কাব্যচর্চার শুরু বাল্যকাল থেকেই। সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম লেখা একটি প্রবন্ধ 'ধর্ম' প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩৪ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'মায়ের কবর পাড়ে কিশোর' ছাপা হয় পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল ম্যাগাজিনে। তখন তিনি দশম শ্রেণীর ছাত্র।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ।

আহসান হাবীব রচিত উপন্যাস:
- অরণ্য নীলিমা,
- রানী খালের সাঁকো।

তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ:
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
- ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫৬১.
'কলমগীর' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের
  2. সৈয়দ মুজতবা আলীর
  3. আবু জাফর শামসুদ্দীনের
  4. আবদুল হকের
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

অন্যদিকে,
• সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর বিভিন্ন গ্রন্থে কয়েকটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেন, এগুলো হলো: প্রিয়দর্শী, ওমর খৈয়াম, মুসাফির ও সত্যপীর।
• আবু জাফর শামসুদ্দীন 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখতেন।
• 'কলমসৈনিক' আবদুল হকের উপাধি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৬২.
'সুরবালা' কোন উপন্যাসের চরিত্র? 
  1. গৃহদাহ
  2. চতুরঙ্গ
  3. চরিত্রহীন
  4. দেনা পাওনা
সঠিক উত্তর:
চরিত্রহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা

• 'চরিত্রহীন' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে। প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত। উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন। গল্পটিতে চারটি নারী চরিত্র রয়েছে।

- প্রধান দুটি নারী চরিত্রের নাম সাবিত্রী ও কিরণময়ী। ছোট দুটি নারী চরিত্রের নাম সুরবালা ও সরোজিনী। সাবেক দুই চরিত্রহে (চরিত্রহীন) হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় যে উপন্যাসের চারটি চরিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

- সাবিত্রী চরিত্রটি বিশুদ্ধ, সে তার ভালবাসার মানুষ সতীশ-এর প্রতি অনুগত। সুরবালা উপেন্দ্রনাথের স্ত্রী। তিনি বয়সে তরুণ, ধর্মীয় গ্রন্থগুলিতে অন্ধবিশ্বাসের কারণে তার চরিত্রও চিত্তাকর্ষক। সরোজিনী পাশ্চাত্য শৈলীতে শিক্ষিত এবং চিন্তা-ভাবনায় অগ্রসর কিন্তু পারিবারিক পরিস্থিতিত এবং একটি জাদরেল মা দ্বারা তার জীবনযাপন অবরুদ্ধ। সরোজিনী শেষতক সতীশকে বিয়ে করেন। উপন্যাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র কিরণময়ী। তরুণ এবং অত্যন্ত সুন্দরী, বুদ্ধিমতী। তবে তার আবেগ ও আকাঙ্ক্ষাগুলি সর্বদা বিবাহিত বিষয়গুলির তুলনায় স্বামীকে শিক্ষাদান করার জন্য এবং স্বামী ও শাশুড়ীর দ্বারা সর্বদা দমিত হয়। 

অন্যদিকে, 
• 'গৃহদাহ' উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'চতুরঙ্গ' উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো- জ্যাঠামশায়, শচীশ, দামিনী, শ্রীবিলাস।৷

• 'দেনা পাওনা' উপন্যাসটি রচনা করেছেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে। কাহিনির নায়ক, জীবনানন্দ। এই নাটক 'ষোড়শী' নামে নাট্যায়িত হয়।

-------------------
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- দেবদাস,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী ইত্যাদি।

উৎস: "চরিত্রহীন" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫৬৩.
‘প্রাচ্য ও প্রতীচ্য’ -প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. খ) আবুল মনসুর
  3. গ) এস. ওয়াজেদ আলী
  4. ঘ) কাজী আবদুল ওদুদ
সঠিক উত্তর:
গ) এস. ওয়াজেদ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এস. ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা
এস. ওয়াজেদ আলী রচিত প্রবন্ধ হলোঃ জীবনের শিল্প, প্রাচ্য ও প্রতীচ্য, ভবিষ্যতের বাঙালী, আকবরের রাষ্ট্রসাধনা, মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ, ইকবালের পয়গাম। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
১,৫৬৪.
সুলতানার স্বপ্ন (Sultana’s Dream) গ্রন্থটির লেখক-
  1. ক) রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) রাবেয়া খাতুন
  4. ঘ) জাহানারা ইমাম
সঠিক উত্তর:
ক) রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা
• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, একজন সাহিত্যিক, সমাজসংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
• ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার অন্তর্গত পায়রাবন্দ ইউনিয়নে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
-মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),
Sultana’s Dream  (নকশাধর্মী রচনা, ১৯০৮),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস, ১৯২৪),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, ১৯৩১) প্রভৃতি।

• Sultana’s Dream গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে। এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

 • মতিচূর, পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী, সুলতানার স্বপ্ন প্রভৃতি গ্রন্থে রোকেয়ার ঐকান্তিক স্বপ্নই এক অভিনব রূপ পেয়েছে। মতিচূর ২য় খন্ডে আছে ‘সৌরজগৎ’, ‘ডেলিসিয়া হত্যা’ (মেরী করেলী রচিত Murder of Delicia, ১৮৯৬ উপন্যাসের গল্পাংশের অনুবাদ), ‘জ্ঞান-ফল’, ‘নারী-সৃষ্টি’, ‘নার্স নেলী’, ‘মুক্তি-ফল’ প্রভৃতি গল্প ও রূপকথা। বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা তাঁর অসংখ্য চিঠিপত্র রয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৫৬৫.
কোনটি আঞ্চলিক উপন্যাস?
  1. শ্রীকান্ত
  2. ঘরে-বাইরে
  3. পদ্মানদীর মাঝি
  4. খোয়াবনামা
সঠিক উত্তর:
পদ্মানদীর মাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মানদীর মাঝি
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মানদীর মাঝি'- পদ্মা তীরবর্তী জেলে সম্প্রদায়ের জীবনকাহিনি নিয়ে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত আঞ্চলিক উপন্যাস।  

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:

-  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কথাসাহিত্যিক।
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে। 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নের সময় বিচিত্রা পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প ‘অতসী মামী’ প্রকাশিত হয়। 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন।
---------------------- 
• পদ্মানদীর মাঝি:
- এটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর- জীবন এর মূল কাহিনি।
- উপন্যাসে 'আমারে নিবা মাঝি লগে?'- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র - কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিঞা ইত্যাদি।
------------------------------- 
তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- অহিংসা,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- আরোগ্য প্রভৃতি।
------------------------------- 
অন্যদিকে,
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস 'শ্রীকান্ত'। 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষারীতিতে লেখা স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'ঘরে বাইরে'। 
• ঐতিহাসিক উপাদান নির্ভর উপন্যাস 'খোয়াবনামা' এর রচয়িতা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং পদ্মানদীর মাঝি।
১,৫৬৬.
‘কবর’ নাটকটি রচিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৫৫
  2. ১৯৫৩
  3. ১৯৫২
  4. ১৯৫৬
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩
ব্যাখ্যা
'কবর' নাটক:
- 'কবর' নাটকের রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান। এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,৫৬৭.
‘সাত ভাই চম্পা’ কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• ‘সাত ভাই চম্পা’ বিষ্ণু দে রচিত - কাব্যগ্রন্থ

বিষ্ণু দে:
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’ (১৯৪৮)।
- ১৯৮২ সালের ৩ ডিসেম্বর তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫৬৮.
'গীতিমাল্য' কার রচনা?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
সঠিক উত্তর:
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
- জীবনস্মৃতি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।
- সেঁজুতি, পলাতকা, গীতালি, গীতিমাল্য, গীতাঞ্জলি, চৈতালি, ক্ষণিকা, বলাকা ইত্যাদি রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ।
১,৫৬৯.
'আবোল তাবোল' সুকুমার রায় রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. ছড়ার সংকলন
সঠিক উত্তর:
ছড়ার সংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছড়ার সংকলন
ব্যাখ্যা
•  'আবোল তাবোল' সুকুমার রায়ের বিখ্যাত ছড়ার সংকলন। এটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।

-------------------
• সুকুমার রায়:

- সুকুমার রায় ছিলেন শিশুসাহিত্যিক। ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল কিশোরগঞ্জ জেলার মসুয়ায়।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল তাবোল,
- হ-য-ব-র-ল,
- পাগলা দাশু,
- বহুরূপী,
- খাই খাই,
- অবাক জলপান,
- শব্দকল্পদ্রুম,
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'আবোল তাবোল' ছড়ার সংকলন এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫৭০.
'কমলে কামিনী' নাটকটি কে রচনা করেছেন?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'কমলে কামিনী' নাটক:
- 'কমলে কামিনী' (১৮৭৩) দীনবন্ধু মিত্রের সর্বশেষ নাটক।
- এই নাটকের পটভূমি কাছাড় অঞ্চল। চরিত্রগুলি সবই অভিজাত বংশীয় তবে দুর্বল।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: রাজা, সমরকেতু শশাঙ্কশেখর, গান্ধারী, সুশীলা, সুরবালা।

• দীনবন্ধু মিত্র:
- দীনবন্ধু মিত্র ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে নদীয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে। তিনি ঈশ্বর গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখেন।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।

• দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল দর্পণ
- নবীন তপস্বিনী,
- লীলাব্তী,
- জামাই বারিক,
- কমলে কামিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৭১.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এর সম্পাদনায় 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' প্রকাশিত হয়-
  1. ক) ১৯০৭ সালে
  2. খ) ১৯০৯ সালে
  3. গ) ১৯১৬ সালে
  4. ঘ) ১৯১৭ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯১৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯১৬ সালে
ব্যাখ্যা
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক স্মরণীয় নাম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, বহুভাষাবিদ, দার্শনিক, পন্ডিত, প্রত্নতত্ত্ববিদ ও ঐতিহাসিক।
- তার উপাধি ছিলো - মহামহোপাধ্যায়। ১৮৯৮ সালে তাকে এই উপাধি প্রদান করা হয়।
- তিনি ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থশালা থেকে বাংলা সাহিত্যের আদিগ্রন্থ চর্যাপদ আবিস্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' থেকে তার সম্পাদনায় 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে চর্যাপদ প্রকাশিত হয়।

তার রচিত সাহিত্যকর্ম:
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস)
- বাল্মীকির জয়
- মেঘদূত
- প্রাচীন বাংলার গৌরব

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৫৭২.
“রমজান” চরিত্রটি পাওয়া যায় নিচের কোন গ্রন্থে?
  1. ক) সারেং বৌ
  2. খ) দুই সৈনিক
  3. গ) সংশপ্তক
  4. ঘ) জমিদার দর্পণ
সঠিক উত্তর:
গ) সংশপ্তক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সংশপ্তক
ব্যাখ্যা

শহীদুল্লা কায়সারের এক কালজয়ী উপন্যাস ‘সংশপ্তক' (১৯৬৫)।
- এর বৃহত্তম পটভূমিতে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার ঘটনা।
- এ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র - জাহেদ, রাবু, সেকেন্দার, মালু ও সুবিধাবাদী চরিত্র রমজান।

উৎস: সংসপ্তক উপন্যাস ও বাংলাপিডিয়া।


১,৫৭৩.
'এখনও ক্রীতদাস' নাটকের পটভূমি কী?
  1. ভাষা আন্দোলনের
  2. মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী কাহিনির
  3. নীল বিদ্রোহের
  4. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী কাহিনির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী কাহিনির
ব্যাখ্যা
'এখনও ক্রীতদাস' নাটক:
- আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী কাহিনি নিয়ে রচিত নাটক 'এখনও ক্রীতদাস।'
- এই নাটকে ঢাকা শহরে 'গলাচিপা বস্তির যুদ্ধাহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা বাক্কা মিয়াঁর পরিবারের মধ্য দিয়ে
প্রকাশ পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের নিম্নবর্গের মানুষের অসহায় জীবন যাপনের ইতিবৃত্ত।
- পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীদের উপর নির্যাতনের চিহ্নও তুলে ধরা হয়েছে।

আবদুল্লাহ আল মামুন:
- আবদুল্লাহ আল মামুন একজন নাট্যকার ও নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর একক চরিত্র নির্ভর নাটক হলো 'কোকিলারা'।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫৭৪.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. চণ্ডীচরণ মুনশী
  2. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. রামরাম বসু
  4. গোলকনাথ শর্মা
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন। তার রচিত গ্রন্থগুলো হলো: বত্রিশ সিংহাসন, -রাজাবলী, -হিতোপদেশ, -বেদান্তচন্দ্রিকা, -প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলোচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

১,৫৭৫.
'দীপনির্বাণ' কে রচনা করেন?
  1. নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরী
  2. স্বর্ণকুমারী দেবী
  3. সেলিনা হোসেন
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা
• 'দীপনির্বাণ' স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত উপন্যাস।
- ১৮৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।

• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২)  কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী।
- তিনি জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ
- বিদ্রোহ,  
- মেবার  রাজ, 
- ছিন্নমুকুল, 
- হুগলীর ইমামবাড়ী, 
- বিচিত্র, 
- স্বপ্নবাণী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- বিবাহ উৎসব,
- রাজকন্যা,
- যুগান্তর ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং  বাংলাপিডিয়া।
১,৫৭৬.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. প্রভাবতী সম্ভাষণ
  2. বেতাল পঞ্চবিংশতি
  3. ভ্রান্তিবিলাস
  4. আখ্যান মঞ্জরী
সঠিক উত্তর:
বেতাল পঞ্চবিংশতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেতাল পঞ্চবিংশতি
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।  তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত। তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

তাঁর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫৭৭.
"ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়; পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।" - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সমর সেন
  2. শামসুর রাহমান
  3. রফিক আজাদ
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

• 'ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - সুকান্ত ভট্টাচার্য।
আলোচ্য পঙক্তিটি কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের 'হে মহাজীবন' কবিতার অন্তর্গত। 
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

হে মহাজীবন- 
(ছাড়পত্র) - সুকান্ত ভট্টাচার্য।

হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য-ঝঙ্কার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!
প্রয়োজন নেই, কবিতার স্নিগ্ধতা-
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী-গদ্যময়
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হল:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: ছাড়পত্র, সুকান্ত ভট্টাচার্য, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫৭৮.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বেদান্তচন্দ্রিকা
  2. হিতোপদেশ
  3. বত্রিশ সিংহাসন
  4. কথামালা
সঠিক উত্তর:
কথামালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কথামালা
ব্যাখ্যা
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ - কথামালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৫৭৯.
কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নি-বীণা' কাব্যগ্রন্থে কয়টি কবিতা রয়েছে?
  1. ক) ১০টি
  2. খ) ১১টি
  3. গ) ১২টি
  4. ঘ) ১৩টি
সঠিক উত্তর:
গ) ১২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১২টি
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ অগ্নি-বীণা। তিনি গ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধুমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ারা,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী এবং
- মোহররম।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,৫৮০.
'দূরবীন' - রচনাটি বনফুলের কি জাতীয় রচনা?
  1. ক) গল্পগ্রন্থ
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) নাটক
সঠিক উত্তর:
ক) গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'দূরবীন' - রচনাটি বনফুলের রচিত গল্পগ্রন্থ।

• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় পরীক্ষাপ্রবণ শিল্পী। ছোটগল্প পরিকল্পনায় তাঁর মৌলিকতা, তীক্ষ্ম মননশীলতা ও নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে মানবচরিত্রের উপস্থাপন পাঠকের মনে বিস্ময় উদ্রেক করে। আবার এ ধারাতেই তাঁর গল্প জীবনের অভিজ্ঞতায় সরস, গভীর ও নৈর্ব্যক্তিক ভাবনায় স্বাতন্ত্র্য। তাঁর গল্পের অন্য বিশেষত্ব ও অভিনবত্ব হচ্ছে স্বল্প অবয়ব। তাঁর অধিকাংশ গল্প এ সূত্রে বাঁধা বলে এগুলিকে বলা হয় অনুগল্প। বলা যেতে পারে ছোটগল্প রচনায় তাঁর প্রতিভা সম্যকরূপে বিকাশ লাভ করে। ছোটগল্প কত ছোট হতে পারে, খন্ডিত বা আকস্মিকতাজনিত অসমাপ্তির বোধ কীভাবে সৃষ্টি না হয় তার পরীক্ষা তাঁর গল্পগুলিতে পাওয়া যায়। ক্ষুদ্র পরিসরের মধ্যে গভীর চিন্তা ও জটিল অভিজ্ঞতার নিপুণ প্রকাশ তাঁর ছোটগল্পগুলিকে এক অসাধারণত্ব দান করেছে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ-
- বনফুলের গল্প 
- বিন্দুবিসর্গ
- অদৃশ্যলোকে
- তন্বী
- অনুগামিনী
- দূরবীণ
- মণিহারী
- বহুবর্ণ
- বনফুলের নতুন গল্প

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৮১.
বঙ্গবন্ধু কেন্দ্রিক একটি উপন্যাস-
  1. জন্মভূমি
  2. আগস্টের একরাত
  3. একদা এক রাজ্যে
  4. কি চাহ শঙ্খচিল
সঠিক উত্তর:
আগস্টের একরাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগস্টের একরাত
ব্যাখ্যা
'আগস্টের একরাত' উপন্যাস:
- এই উপন্যাসের রচয়িতা সেলিনা হোসেন।
- বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের হত্যাকান্ডের পটভূমিতে রচিত হিউম্যান ট্রাজেডির উপাখ্যান।
- হত্যাকান্ডের বিচারে ৬১ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।
- সাক্ষীদের এইসব জবানবন্দি কাহিনীর প্রয়োজনে উপন্যাসজুড়ে ব্যবহৃত হয়েছে।
- লেখক একদিকে গল্প বানিয়েছেন অন্যদিকে জবানবন্দি উপস্থাপন করে ঘটনার বিবরণ সংযুক্ত করেছেন।
- ফলে উপন্যাসে সাধু ও চলিত ভাষার ব্যবহার অনিবার্য ছিল।
- নিঃসন্দেহে বলা যায় ভাষার এই দুই ধারা উপন্যাসের আঙ্গিকে ভিন্নতা এনেছে।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্ররা মৃত।
- ভিন্নধর্মী আঙ্গিকের কারণে উপন্যাসের পৃষ্ঠাজুড়ে তাদের উপস্থিতি ছিল।
- এই উপন্যাসে সময় উথালপাথাল চরিত্র। কাহিনী নির্মাণের প্রয়োজনে সময়ের ধারাবাহিকতার আগপিছ করা হয়েছে।

সেলিনা হোসেন:
- কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন, রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিনা হোসেন বর্তমানে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বদেশ পরবাসী,
- একাত্তরের ঢাকা,
- নির্ভয় করো হে।

তার রচিত গল্প:
- পরজন্ম,
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা,
- অনূঢ়া পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি,
- নারীর রূপকথা,
- মৃত্যুর নীল পদ্ম ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) 'আগস্টের একরাত' উপন্যাস
১,৫৮২.
'পথ ও বিপথ' নাটকটি রচনা করেন-
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) কাজী আবদুল ওদুদ
  3. গ) আহসান হাবীব
  4. ঘ) এস ওয়াজেদ আলি
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী আবদুল ওদুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
কাজী আবদুল ওদুদ (১৮৯৪- ১৯৭০): শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ। জন্ম ১৮৯৪ সালের ২৬ এপ্রিল ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামে।
নদীবক্ষে ও আজাদ (১৯৪৮) তাঁর দু’টি উপন্যাস।
নাটকও রচনা করেন দু’টি, পথ ও বিপথ (১৯৩৯) এবং মানব-বন্ধু (১৯৪১)। মানব-বন্ধু পরবর্তীকালে তরুণ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১,৫৮৩.
শামসুদ্দীন আবুল কালাম সম্পাদিত পত্রিকা-
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. মাহেনও
  3. বঙ্গদর্শন
  4. কালিকলম
সঠিক উত্তর:
মাহেনও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাহেনও
ব্যাখ্যা
• 'মাহেনও' আবুল কালাম শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা।

• শামসুদ্দীন আবুল কালাম:

- ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে আবুল কালাম শামসুদ্দীন জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ‘আবুল কালাম শামসুদ্দীন’।
- ষাটের দশকে তিনি রোম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট উপাধি এবং রোমের এক্সপেরিমেন্টাল সেন্টার অব সিনেমাটোগ্রাফি থেকে চলচ্চিত্র বিষয়ক ডিপ্লোমা লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুজিবনগর সরকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভে তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
- শামসুদ্দীনের মুখ্য পরিচয় একজন কথাশিল্পী হিসেবে।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৪ সালে ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার’ লাভ করেন।
- ১৯৯৭ সালের ১০ জানুয়ারি রোমে তাঁর মৃত্যু হয় এবং ঢাকায় তিনি সমাহিত হন।

• তাঁর রচনাসমূহ হলো:
• গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই,
- দুই হৃদয়ের তীর,
- শাহের বানু।

• উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়মঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম,
- পুঁই ডালিমের কাব্য।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- 'বঙ্গদর্শন' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- ‘কালিকলম' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১,৫৮৪.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. দিকশূণ্য ভট্টাচার্য
  2. ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা
  3. শ্রীমতি মধ্যমা
  4. অনুরূপা দেবী
সঠিক উত্তর:
অনুরূপা দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুরূপা দেবী
ব্যাখ্যা

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

অন্যদিকে, 
--------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন, এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূণ্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা,
- শ্রীমতি মধ্যমা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫৮৫.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস-
  1. ফেরারী সূর্য
  2. কবর
  3. আর্তনাদ
  4. জলাংগী
সঠিক উত্তর:
আর্তনাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্তনাদ
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস - আর্তনাদ
- এটি শওকত ওসমান রচনা করেন।
- উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, 
• মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক - কবর।
• 'ফেরারী সূর্য’ রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ।
• শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - জলাংগী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১,৫৮৬.
শেখ ওয়াজেদ আলি রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বিশ শতকের মেয়ে
  2. খ) ভবিষ্যতের বাঙালী
  3. গ) বিশ শতকের বাঙালি
  4. ঘ) স্বরূপের সন্ধানে
সঠিক উত্তর:
খ) ভবিষ্যতের বাঙালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভবিষ্যতের বাঙালী
ব্যাখ্যা
শেখ ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
তিনি ১৮৯০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার  শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ
- জীবনের শিল্প
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য 
- ভবিষ্যতের বাঙালী 
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;

অন্যদিকে,
• 'স্বরূপের সন্ধানে' গ্রন্থটির রচিয়তা অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান
• আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ - 'বিশ শতকের বাঙালি',
• ড. নীলিমা ইব্রাহিম রচিত উপন্যাস- বিশ শতকের মেয়ে

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫৮৭.
বাংলা সাহিত্যে 'ছান্দসিক কবি' বলা হয় কাকে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. আব্দুল কাদির
  3. সুকুমার রায়
  4. যতিন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
আব্দুল কাদির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল কাদির
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যে আবদুল কাদিরকে ছান্দসিক কবি বলা হয়।

আবদুল কাদির:
- কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ছান্দসিক ও সম্পাদক।
- ১৯২৬ সালে 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' এর নেতৃত্বে ঢাকার বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের তিনি প্রধান উদ্যোক্তার ভূমিকা পালন করেন।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজ থেকে প্রকাশিত ‘শিখা' পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও লেখক (১৯২৭) ছিলেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
কবিতা :
- দিলরুবা (১৯৩৩),
- উত্তর বসন্ত (১৯৬৭)।

প্রবন্ধ:
- বাংলা কাব্যের ইতিহাস : মুসলিম সাধনার ধারা,
- কবি নজরুল,
- কাজী আবদুল ওদুদ,
- লোকায়ত সাহিত্য।

অন্যদিকে, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত “ছন্দের জাদুকর” এবং “ছন্দের রাজা” হিসেবে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫৮৮.
'কৃষ্ণপক্ষ' গল্পগ্রন্থেরর রচয়িতা কে?
  1. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- তিনি ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালের উলানিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'ডানপিটে শওকত' (১৯৫৩)। এটি একটি শিশুতোষ গ্রন্থ।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থের নাম 'কৃষ্ণপক্ষ' (১৯৫৯)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম 'চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান' (১৯৬০)।
- তিনি ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরণে 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো / একুশে ফেব্রুয়ারি / আমি কি ভুলিতে পারি।' গানটি রচনা করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনভিত্তিক 'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' চলচ্চিত্রের কাহিনি রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।

• আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

• গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

• তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৮৯.
'মৃত্যুক্ষুধা' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) মানিক বন্দোপাধ্যায়
  2. খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
সঠিক উত্তর:
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম উপন্যাস বাঁধন-হারা। তাঁর রচিত আরও দুটি উপন্যাস হচ্ছে মৃত্যুক্ষুধা ও কুহেলিকা।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১,৫৯০.
'জোহরা' চরিত্রের দেখা পাওয়া যায় কোন কাব্যগ্রন্থে?
  1. ক) রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. খ) কবর
  3. গ) মহাশ্মশান
  4. ঘ) অশ্রুমালা
সঠিক উত্তর:
গ) মহাশ্মশান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মহাশ্মশান
ব্যাখ্যা
• 'মহাশ্মশান' (১৯০৫) কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- এটি একটি মহাকাব্য।
- এটি ধারাবাহিকভাবে 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- এর উপজীব্য ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ।
- মহাশ্মশান কাব্যের মোট তিনটি খন্ড রয়েছে এবং ৬০টি সর্গ আছে।
- এর চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা বেগম, হিরণ বালা, আতা খাঁ, ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৯১.
কোনটি জীবনানন্দ দাশের উপাধি?
  1. তিমির হননের কবি
  2. রূপসী বাংলার কবি
  3. ধুসরতার কবি
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ - ধুসরতার কবিতিমির হননের কবিরূপসী বাংলার কবি

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। নমাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫৯২.
ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন -
  1. নবীনচন্দ্র সেন
  2. বিষ্ণু দে
  3. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
বিষ্ণু দে:
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’ (১৯৪৮)।
- ১৯৮২ সালের ৩ ডিসেম্বর তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,৫৯৩.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতা 'মুক্তি' প্রকাশিত হয় কোন পত্রিকা থেকে? 
  1. সওগাত
  2. লাঙল
  3. বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকা
  4. নবযুগ
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকা
ব্যাখ্যা

মুক্তি:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতা: মুক্তি।
- প্রকাশিত হয় বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকা থেকে।
- এই কবিতাটি ১৩২৬ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়।

• কাজী নজরুল ইসলামের যা কিছু প্রথম প্রকাশিত-
- তার প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: অগ্নিবীণা (১৯২২)।
- প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস: বাঁধন-হারা (১৯২৭)।
- প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ: তুর্কি মহিলার ঘোমটা খোলা।
- প্রথম প্রকাশিত নাটক: ঝিলিমিলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১,৫৯৪.
অমিত্রাক্ষর ছন্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ :
  1. ক) হাইকু
  2. খ) ‘সনেট’
  3. গ) ব্লাংকভার্স
  4. ঘ) লিমেরিক
সঠিক উত্তর:
গ) ব্লাংকভার্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ব্লাংকভার্স
ব্যাখ্যা
• অমিত্রাক্ষর ছন্দ ইংরেজি হচ্ছে Blank verse (ব্লাংকভার্স)।

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত, বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে অন্তমিল থাকে না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,৫৯৫.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প কোনটি?
  1. ইছামতী
  2. দেবযান
  3. যাত্রাবদল
  4. আরণ্যক
সঠিক উত্তর:
যাত্রাবদল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যাত্রাবদল
ব্যাখ্যা
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প 'উপেক্ষিতা' প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তিনি চিত্রলেখা (১৯৩০) নামে একটি সিনেমা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তাছাড়া হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ (১৯৫১) লাভ করেন। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫৯৬.
'অভেদী' - উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।দ তাঁর ছন্দনাম “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র। সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব আলালের ঘরের দুলাল যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আলালের ঘরে দুলাল,
- আধ্যাত্নিকা,
- অভেদী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৯৭.
ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত কবিতা হচ্ছে-
  1. কৃষ্ণকলি
  2. মানসী
  3. উর্বশী
  4. মরণ
সঠিক উত্তর:
মরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরণ
ব্যাখ্যা

• ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী বৈষ্ণব পদাবলির ধারার এবং ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত একটি কাব্য।  
• উল্লেখযোগ্য কবিতা : মরণ, প্রশ্ন।

‘মরণ’ কবিতার অংশবিশেষ :
"মরণ রে,
তুঁহুঁ মম শ্যামসমান।"

• “ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী” কাব্যের সারসংক্ষেপ:
১২৯১ সনে আষাঢ়ের মাঝামাঝি এ কাব্যটির প্রকাশকালে কবির নাম হিসেবে আখ্যাপত্রে লিখিত হয় ভানুসিংহ ঠাকুর। আর গ্রন্থটির প্রকাশক হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রকাশকের বিজ্ঞাপনে বলা হয় :
ভানুসিংহের পদাবলী শৈশব সঙ্গীতের আনুষঙ্গিক স্বরূপে প্রকাশিত হইল। ইহার অধিকাংশই পুরাতন কালের খাতা হইতে সন্ধান করিয়া বাহির করিয়াছি। প্রকাশক

• ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' গ্রন্থে বর্তমানে মোট ২০টি পদ রয়েছে। এই পদগুলোর প্রথম চরণ হচ্ছে :

১. বসন্ত আওল রে, ২. শুনহ শুনহ বালিকা, ৩. হৃদয়ক সাধ মিশাওল হৃদয়ে, ৪. শ্যাম রে, নিপট কঠিন মন তোর, ৫. সজনি সজনি রাধিকা লো, ৬. বঁধুয়া, হিয়া' পর আও রে. ৭. শুন সখি, বাজই বাঁশি, ৮. গহন কসমকঞ্জমাঝে ৯. সতিমির রজনা, সচকিত সজনী, ১০. বাজাও রে মোহন বাশি, ১১. আজু সাখ, মুহু মুহু, ১২. শ্যাম, মুখে তব মধুর অধরমে, ১৩. সজনি গো শাঙনগগনে ঘোর ঘনঘটা, ১৪. বাদরবরখন নীরদগরজন ১৫. মাধব, না কহ আদরবাণী, ১৬. সখি লো, সখি লো, নিকরুণ মাধব ১৭. বার বার সখি, বারণ করিনু ১৮. হম যব না রব সজনী, ১৯. মরণ রে তুঁহু মম শ্যামসমান ও ২০. কো তুঁহুঁ বোলবি মোয় ।
'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' যখন প্রকাশিত হয়, তখন কবির বয়স ছিল ২৩ বছর। ১১ সংখ্যক পদ ‘আজু সখি মুহু মুহু' ও ১৯ সংখ্যক পদ 'মরণ রে তুঁহু মম শ্যামসমান' কবির ‘ছবি ও গান' (১২৯০) গ্রন্থে সংকলিত হয়। ২০ সংখ্যক পদ ‘কো তুঁহু বোলবি মোয়' ১২৯৩ সনে প্রকাশিত 'কড়ি ও কোমল'-এর প্রথম সংস্করণে অন্তর্ভুক্ত ছিল । 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী'তে সংকলিত পদের সিংহভাগই গ্রন্থবদ্ধ

উৎস: ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী কাব্যগ্রন্থ এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১,৫৯৮.
নীলিমা ইব্রাহিম রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ -
  1. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  2. বিশ শতকের মেয়ে
  3. কেয়াবন সঞ্চারিণী
  4. বিন্দু বিসর্গ
  5. দুয়ে দুয়ে চার
সঠিক উত্তর:
বিন্দু বিসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিন্দু বিসর্গ
ব্যাখ্যা
• 'বিন্দু বিসর্গ' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত আত্মজীবনী।
- গ্রন্থটি ১৯৯১ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
• ‘বিন্দু বিসর্গ’ বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।

------------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা প্রফুল্লকুমার রায়চৌধুরী এবং মাতা কুসুমকুমারী দেবী।
- তিনি ১৯৯৬ সালে রোকেয়া পদক এবং ২০০০ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• 'বিন্দু বিসর্গ' তাঁর রচিত আত্মজীবনী।

• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ গবেষণাগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫৯৯.
কোনটি প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. পদচারণ
  2. দুর্দিনের যাত্রী
  3. চার ইয়ারী কথা
  4. যুগবাণী
সঠিক উত্তর:
চার ইয়ারী কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার ইয়ারী কথা
ব্যাখ্যা

'চার ইয়ারী কথা' 
- এটি প্রমথ চৌধুরীর গল্পগ্রন্থ। এটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এখানে বর্ণিত হয়েছে চার বন্ধুর প্রেমের কাহিনী। গল্পগ্রন্থের নায়িকা চারজনই ইউরোপীয়।
- গল্পগ্রন্থে প্রথম নায়িকা উন্মাদ, দ্বিতীয় নায়িকা চোর, তৃতীয় নায়িকা প্রতারক ও চতুর্থ নায়িকা মৃত্যুর পর ভালোবাসা ব্যক্ত করেছে।
- এটিতে ভাষার চাতুর্য, পরিহাসপ্রিয়তা এবং সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ উদ্ভাসিত হয়েছে ভাবালু প্রেমকাহিনী প্রতিবাদী রূপে।

অন্যদিকে,
- 'পদচারণ' প্রমথ চৌধুরীর রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ: 'যুগবাণী', দুর্দিনের যাত্রী'। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,৬০০.
'দুর্গাদাস' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  2. খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. গ) দীনবন্ধু মিত্র
  4. ঘ) নুরুল মোমেন
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
'দুর্গাদাস' ঐতিহাসিক নাটকের রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। তাঁর রচিত অন্যান্য ঐতিহাসিক নাটক- সাজাহান, প্রতাপসিংহ, মেবার পতন, নুরজাহান, চন্দ্রগুপ্ত, সিংহল বিজয় ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।