বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৮ / ১৭৪ · ১,৭০১১,৮০০ / ১৭,৪৩৭

১,৭০১.
শামসুজ্জামান খান রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ -
  1. সঞ্চয়ন 
  2. মাটি থেকে মহীরুহ
  3. প্রবন্ধ সংগ্রহ
  4. শাশ্বত বঙ্গ
সঠিক উত্তর:
মাটি থেকে মহীরুহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাটি থেকে মহীরুহ
ব্যাখ্যা

• শামসুজ্জামান খান রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ - মাটি থেকে মহীরুহ।
- গ্রন্থটি ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।

• শামসুজ্জামান খান:
- শামসুজ্জামান খান ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার চারিগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মায়ের নাম শামসুন্নাহার খানম এবং বাবার নাম আবদুর রহমান খান।
- তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমি’র মহাপরিচালক হন।
-  তিনি অগ্রণী ব্যাংক পুরস্কার, কালুশাহ পুরস্কার, দীনেশচন্দ্র সেন ফোকলোর পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার , মীর মশাররফ হোসেন স্বর্ণপদক ইত্যাদি পুরস্কার ও পদকে ভূষিত হন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা প্রসঙ্গ, 
- গণসঙ্গতি, 
- মাটি থেকে মহীরুহ, 
- বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ প্রাসঙ্গিক কথকতা, 
- ফোকলোরচর্চা।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- ঢাকাই রঙ্গরসিকতা,
- গ্রামবাংলার রঙ্গরসিকতা,
- গ্রামবাংলার রঙ্গ গল্প।

• তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য:
- দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ।

অন্যদিকে,
• সঞ্চয়ন - কাজী মোতাহার হোসেন রচিত প্রবন্ধ।
• প্রমথ চৌধুরীর প্রবন্ধ গ্রন্থ- প্রবন্ধ সংগ্রহ।
• কাজী আবদুল ওদুদের প্রবন্ধ - শাশ্বত বঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৭০২.
মার্কসবাদে দক্ষশিল্পী ছিলেন নিচের কোন সাহিত্যিক?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮-১৯৫৬) ছিলেন কথাসাহিত্যিক। ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক। স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নের সময় বিচিত্রা পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প ‘অতসী মামী’ (১৯২৮) প্রকাশিত হলে পাঠক মহলে আলোড়নের সৃষ্টি হয়।

• বিশ শতকের তিরিশের দশকে রবীন্দ্রনাথ-শরৎচন্দ্র ধারার বিরোধিতা করে যে কল্লোল গোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটে, সেই গোষ্ঠীর লেখক হিসেবে মানিকের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে ওঠে।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন। ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য হন এবং আমৃত্যু এই দলের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পী সঙ্ঘের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। সাহিত্যের মাধ্যমে মার্কসের শ্রেণিসংগ্রামতত্ত্বের বিশ্লেষণ এবং মানুষের মনোরহস্যের জটিলতা উন্মোচনে তিনি ছিলেন একজন দক্ষশিল্পী। শহরের পাশাপাশি গ্রামজীবনের দ্বন্দ্বসঙ্কুল পটভূমিও তাঁর উপন্যাস ও গল্পে গুরুত্ব পেয়েছে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গন্থ:
• উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,

[পদ্মানদীর মাঝি ও পুতুলনাচের ইতিকথা উপন্যাস দুটি তাঁর বিখ্যাত রচনা। এ দুটির মাধ্যমেই তিনি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পদ্মানদীর মাঝি চলচ্চিত্রায়ণ হয়েছে।]

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৭০৩.
শামসুর রাহমানের ডাক নাম কী ছিল?
  1. মিঠু
  2. বাচ্চু
  3. মনা 
  4. টুটুল 
সঠিক উত্তর:
বাচ্চু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাচ্চু
ব্যাখ্যা

শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুর রাহমানের জন্ম তার নানাবাড়িতে।
- তার পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তার পিতা মুখলেসুর রহমান চৌধুরী এবং মাতা আমেনা বেগম।
- শামসুর রাহমানের ডাক নাম ছিল- বাচ্চু।
- শামসুর রাহমানকে প্রধানত “নাগরিক কবি” বলা হয়।
- কারণ তার কবিতায় নগর জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লিখতেন।
-  তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- শামসুর রাহমান তাঁর কবিতায় সাধারণ মানুষ কীভাবে জীবন যাপন করে, শহরের মানুষদের দৈনন্দিন সমস্যা, সুখ–দুঃখ ও সমাজের নানা ঘটনা তুলে ধরেছেন।
- এই অনন্য কবি-কীর্তি ও সত্যনিষ্ঠ কাব্যচর্চার জন্য তাকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে।
- তিনি ২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

- শামসুর রাহমানের অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ রয়েছে।
• উল্লেখযোগ্য কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (প্রথম কাব্যগ্রন্থ);
- রৌদ্র করোটিতে;
- বিধ্বস্ত নীলিমা;
- বন্দী শিবির থেকে;
- নিজ বাসভূমে;
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়;
- এবং উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১,৭০৪.
আবুল মনসুর আহমদের 'আসমানী পর্দা' কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) গল্পগ্রন্থ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
খ) গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• আবুল মনসুর আহমদ:
আবুল মনসুর আহমদ সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

• আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স, 
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া
১,৭০৫.
'বীরবল' কোন লেখকের ছদ্মনাম?
  1. আবু ইসহাক
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. প্রমথনাথ বিশী
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চোধুরী:
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।

• প্রমথ চৌধুরী প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত ও
- আহুতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭০৬.
‘কাজলা দিদি’ কবিতাটি কে রচনা করেছেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মুহিব খান
  4. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
সঠিক উত্তর:
যতীন্দ্রমোহন বাগচী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যতীন্দ্রমোহন বাগচী
ব্যাখ্যা
• যতীন্দ্রমোহন বাগচী:
- নদীয়া জেলার জমশেরপুর গ্রামে ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দের ২৭ নভেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস হুগলি জেলার বলাগড় গ্রামে। ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে তিনি কলকাতার ডাফ কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। 
- যতীন্দ্রমোহন অল্প বয়স থেকেই কাব্যচর্চা শুরু করেন।
- ভারতী, সাহিত্য প্রভৃতি বিখ্যাত পত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশিত হলে তিনি কবি হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
- যতীন্দ্রমোহন ছিলেন রবীন্দ্রোত্তর যুগের শক্তিমান কবিদের অন্যতম। 
- ‘কাজলাদিদি’ ও ‘অন্ধবন্ধু’ তাঁর এ ধরনের দুটি বিখ্যাত কবিতা।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- লেখা (১৯০৬),
- রেখা (১৯১০),
- অপরাজিতা (১৯১৫),
- নাগকেশর (১৯১৭),
- জাগরণী (১৯২২),
- নীহারিকা (১৯২৭),
- মহাভারতী (১৯৩৬) ইত্যাদি। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
১,৭০৭.
বাংলা সাহিত্যে গদ্যরীতির সূচনা হয় কবে?
  1. ষোল শতকে
  2. সতের শতকে
  3. আঠার শতকে
  4. উনিশ শতকে
সঠিক উত্তর:
ষোল শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষোল শতকে
ব্যাখ্যা

• বাংলা গদ্যের উৎপত্তি:
- বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের পূর্বে সাহিত্যগুণসমৃদ্ধ কোন গদ্যরচনার অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় না।
- দৈনন্দিন জীবনে বাঙালির কথাবার্তায় চিরদিন গদ্যরীতি ব্যবহৃত হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত সাহিত্যে তার অনুপ্রবেশ ঘটে নি এবং এর লিখিত রূপ চিঠিপত্র, দলিলদস্তাবেজ, বৈষ্ণব কড়চা ও বিদেশি খ্রিষ্টানকর্তৃক লিখিত ধর্মবিষয়ক গ্রন্থের সঙ্কীর্ণ সীমানায় আবদ্ধ ছিল।
- ১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
- ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে নিতান্ত প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে ভাষাগত দিক থেকে গদ্যের উৎকর্ষসাধন মোটেই সম্ভবপর হয় নি।
- ইতস্তত বিক্ষিপ্ত কিছুসংখ্যক দৃষ্টান্ত অন্যত্র দৃষ্টিগোচর হলেও বাণিজ্যসম্ভারের পশ্চাতে খ্রিষ্টধর্মের পসার সাজিয়ে আগত পর্তুগিজ পাদ্রিদের হাতেই বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহারের সূত্রপাত হয়।

• ড. সুকুমার সেন বাংলা গদ্যরীতির চারটি স্তর নির্দেশ করেছেন। সে স্তরগুলোর পরিধি:
- প্রথম স্তর: সূচনা - ষোল শতক থেকে ১৮০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
- দ্বিতীয় স্তর: উন্মেষ - ১৮০০ (শ্রীরামপুর মিশন) থেকে ১৮৪৭ সালের (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের) পূর্ব পর্যন্ত ।
- তৃতীয় স্তর: অভ্যুদয় - ১৮৪৭ (বিদ্যাসাগর) থেকে ১৮৬৫ সালের (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের) পূর্ব পর্যন্ত
- চতুর্থ স্তর: পরিণতি - ১৮৬৫ (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।

সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় বাংলা গদ্যরীতির সূচনা হয় ষোল শতকে তকে উনিশ শতকে বাংলা সাহিত্যে গদ্যরীতির ব্যবহার শুরু হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,৭০৮.
"বিশ শতকের মেয়ে" উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. রাবেয়া খাতুন
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
• কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, গবেষক নীলিমা ইব্রাহিম রচিত উপন্যাস "বিশ শতকের মেয়ে"। 
- উপন্যাসটি ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয়েছিলো। 

-------------------
নীলিমা ইব্রাহিম ও তাঁর 'উপন্যাস সমগ্র' গ্রন্থে প্রকাশিত উপন্যাসগুলো হলো-
• কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, গবেষক নীলিমা ইব্রাহিমের 'উপন্যাস সমগ্র' প্রকাশিত হলো। এ গ্রন্থে তাঁর ছয়টি উপন্যাস স্থান পেয়েছে।

• ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয়েছিলো তিনটি উপন্যাস- 'বিশ শতকের মেয়ে,' 'এক পথ দুই বাঁক' ও 'পথশ্রান্ত'। ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয় 'কেয়াবন সঞ্চারিণী'। ১৯৮৫ সালে 'বহ্নি বলয়' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। 'জ্যোতির্গময়' উপন্যাসটি ১৯৯১ সালে সাপ্তাহিক 'বেগম' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। কিন্তু বই হিসেবে প্রকাশিত হয়নি। এই সংকলনে উপন্যাসটির বই আকারে প্রথম মুদ্রণ।

• চারপাশের সমাজ, সেই সমাজে মেয়েদের অবস্থা, নর-নারীর সম্পর্ক ইত্যাদি নানা কিছু তাঁর উপন্যাসের কাহিনিতে আছে। সে সময়ের পটভূমিতে রক্ষণশীলতার বেড়ি ভেঙে তিনি তৈরি করেছিলেন উপন্যাসের চরিত্র। সমকালীন নারীমুক্তি প্রসঙ্গ তিনি উপন্যাসের চরিত্রের ভাবনার মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন।

• তাঁর ছয়টি উপন্যাসই বিষয় বৈচিত্র্যে ভরপুর। মানব সম্পর্কের জটিলতা, সমাজ বাস্তবতা, জীবনের সাদা ও কালো রঙের দিক-প্রেম, বেদনা, নিষ্ঠুরতা, অভাব-দারিদ্র্য, বঞ্চনা, মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা-মানবজীবন সম্পর্কিত এমন নানা কিছু তাঁর উপন্যাসে খুব অনায়াসে উঠে এসেছে। স্পষ্ট বোঝা যায় যে তিনি তাঁর অভিজ্ঞতায় সিক্ত সাধনাকে বিন্যস্ত করেছেন কাহিনির আদলে।

উৎস: নীলিমা ইব্রাহিমের 'উপন্যাস সমগ্র'।
১,৭০৯.
'সতীশ ও সাবিত্রী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. দেনা-পাওনা
  2. গৃহদাহ
  3. চরিত্রহীন
  4. পণ্ডিতমশাই
সঠিক উত্তর:
চরিত্রহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা
• 'চরিত্রহীন' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে। প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত। উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন। গল্পটিতে চারটি নারী চরিত্র রয়েছে।

- প্রধান দুটি নারী চরিত্রের নাম সাবিত্রী ও কিরণময়ী। ছোট দুটি নারী চরিত্রের নাম সুরবালা ও সরোজিনী। সাবেক দুই চরিত্রের চরিত্রহীন হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় যে উপন্যাসের চারটি চরিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-
সাবিত্রী চরিত্রটি বিশুদ্ধ, সে তার ভালবাসার মানুষ সতীশ-এর প্রতি অনুগত। সুরবালা উপেন্দ্রনাথের স্ত্রী। তিনি বয়সে তরুণ, ধর্মীয় গ্রন্থগুলিতে অন্ধবিশ্বাসের কারণে তার চরিত্রও চিত্তাকর্ষক। সরোজিনী পাশ্চাত্য শৈলীতে শিক্ষিত এবং চিন্তা-ভাবনায় অগ্রসর কিন্তু পারিবারিক পরিস্থিতিত এবং একটি জাদরেল মা দ্বারা তার জীবনযাপন অবরুদ্ধ। সরোজিনী শেষে সতীশকে বিয়ে করেন। 'চরিত্রহীন' উপন্যাসে মুখ্য চরিত্রের সমন্বয়ক উপেন্দ্র। যদিও এ উপন্যাসে উপেন্দ্রর গুরুত্ব যথেষ্ট। উপন্যাসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাঁর বিস্তৃতি লক্ষ করা যায়। সতীশ ও সাবিত্রীর গভীর অনুরাগ জ্ঞাত হয়েও তিনি সমাজব্যবস্থার যাঁতাকল থেকে বেরিয়ে এসে সমাজ- শৃঙ্খলে আবদ্ধ নারীকে মুক্তি দিতে পারেননি। তাই তো উপেন্দ্র সাবিত্রীক নয়, সতীশের হাতে তুলে দিলেন সরোজিনীকে। আবার কিরণময়ী তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হলেও কিরণময়ীর প্রতি তাঁর ছিল নির্মোহ ভালোবাসা। যার ফলে কিরণময়ী শোধ তুলতে কৃত্রিম প্রণয়স্রোতে দিবাকরকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল অনেক দূরে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রত্রয় হলো-
- সতীশ,
- সাবিত্রী ও
- কিরণময়ী।

----------------
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- দেবদাস,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী ইত্যাদি।

উৎস: "চরিত্রহীন" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭১০.
'কাবিলের বোন' আল মাহমুদ রচিত -
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• আল মাহমুদ:
- মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ (১৯৩৬-২০১৯): যিনি আল মাহমুদ নামে অধিক পরিচিত।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৭১১.
'সুবচন নির্বাসনে' আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) নাটক
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা

• আব্দুল্লাহ আল মামুন একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক, চলচ্চিত্র পরিচালক।
• আবদুল্লাহ আল মামুন যুদ্ধবিরোধী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ‘শপথ’ নামে নাটক রচনা করেন ১৯৬৪ সালে।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটকঃ
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- মানব তোমার সারাজীবন,
- তাহাদের যৌবনকাল,
- হায় পার্বতী,
- এই চুনীলাল,
- গুন্ডাপান্ডা বাবা,
- খলনায়ক ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৭১২.
'অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী' কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) কাব্য
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) গল্প
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
খ) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
- 'অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী' আহমদ ছফা রচিত একটি উপন্যাস।  

আহমদ ছফা:
-  ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন  চট্টগ্রাম জেলার  চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক। 
- ষাটের দশকে তাঁর সাহিত্য-জীবনের সূচনা হয়।
- তাঁর আখ্যানমূলক রচনায় বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা, মুক্তিকামনা ও স্বাধীনতাস্পৃহা এবং সামাজিক অসঙ্গতি ও বৈষম্যের চিত্র রূপায়িত হয়েছে।

- তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী 
- উদ্ধার 
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন 
- অলাতচক্র 
- ওঙ্কার 
- গাভীবৃত্তান্ত 
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী 
- পুষ্পবৃক্ষ ও বিহঙ্গপুরাণ।
গল্প:
- নিহত নক্ষত্র
প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস ও
- বাঙালি মুসলমানের মন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১,৭১৩.
‘সংস্কৃতি-কথা’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. কাজী আব্দুল ওদুদ
  4. প্রথম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা

বিশিষ্ট গদ্যশিল্পী মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিখ্যাত গদ্যবই (প্রবন্ধ) সংস্কৃতি-কথা
- এটি ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- জীবন ও ব্ক্ষৃ, শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব উল্লেখযোগ্য দুটি প্রবন্ধ

তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ :
- সভ্যতা
- সুখ

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৭১৪.
'যাত্রা' উপন্যাসের মূল প্রেক্ষাপট কোনটি?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ্রামীণ জীবন
  4. নদীর পাড়ের জীবন
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
'যাত্রা' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা ও সময় নিয়ে রচিত উপন্যাস শওকত আলীর 'যাত্রা'।
- শুরুর প্রাক্কালে দলে দলে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে; আবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছে। এ পলায়ন শুধু চেতনাগত নয়, মানসিকভাবেও পলায়ন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন।
- একসময় প্রগতিশীল রাজনীতিক রায়হান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন কি নেবেন না- এ সংশয় ও দ্বিধায় শেষাবধি যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।
- ১৯৭২ সালে রচিত হয় 'যাত্রা' উপন্যাসটি। তবে প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার- ১৫।
১,৭১৫.
‘সংশপ্তক’ কার রচিত উপন্যাস?
  1. জহির রায়হান
  2. আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. শহীদুল জহির
  4. আবু ইসহাক
সঠিক উত্তর:
আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা

 কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক শহীদুল্লা কায়সার ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
- পিতা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ।
- প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক জহির রায়হান তাঁর অনুজ।

তাঁর রচিত উপন্যাস সমূহ-
- সারেং বৌ
- সংশপ্তক 
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ
- তিমির বলয়
- দিগন্তে ফুলের আগুন
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা
- চন্দ্রভানের কন্যা
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)

> ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শেষলগ্নে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তার স্থানীয় সহযোগী আল-বদরের হাতে অপহৃত হন। ধারণা করা হয় যে, অপহরণকারীদের হাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৭১৬.
"ললাট লিখন দুঃখ যায় না খণ্ডন" উক্তিটি কোন কাব্যের অংশ?
  1. ক) পদ্মাবতী
  2. খ) তোহফা
  3. গ) হপ্তপয়কর
  4. ঘ) পদাবলী
সঠিক উত্তর:
ক) পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
"ললাট লিখন দুঃখ যায় না খণ্ডন" উক্তিটি কবি আলাওল 'পদ্মাবতী' কাব্যে করেছেন।
- মহাকবি আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্যের নাম পদ্মাবতী।
- এই কাব্যটি আলাওল রচনা করেন মাগণ ঠাকুরের অনুরোধে।
- পদ্মাবতী রচিত বা প্রকাশিত হয় ১৬৪৮ সালে।
- এটি বিখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির পদুমাবত এর কাব্যোনুবাদ।

'পদ্মাবতী' কাব্যে কবি আলাওলের আরও কিছু উক্তি- 
- দিবসের মর্ম কভু না পুছে পেচক। 
- যমে প্রাণ হরি নিতে কিবা নিশি দিশি। 
- ভাগ্য বিপরীত হৈলে খণ্ডে সব সুখ। 
- পড়শী হৈলে শত্রু গৃহে সুখ নাই। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
১,৭১৭.
বাংলা ভাষায় প্রথম কুরআন শরীফের সার্থক ও পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন কে?
  1. ক) গিরিশচন্দ্র সেন
  2. খ) ফররুখ আহমেদ
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) কেশব চন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
ক) গিরিশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গিরিশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
- বাংলা ভাষায় প্রথম কুরআন শরীফের সার্থক ও পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন গিরিশচন্দ্র সেন

• গিরিশচন্দ্র সেন:
- নরসিংদী জেলার পাঁচদোনা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ধর্মবেত্তা ও অনুবাদক।
- তিনি 'সুলভ সমাচার' ও 'বঙ্গবন্ধু' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক এবং 'মাসিক মহিলা' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- কেশবচন্দ্র সেন ও বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর প্রভাবে ১৮৭১ সালে তিনি ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন।
- কুরআনের বঙ্গানুবাদ বাংলা সাহিত্যে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- সকলের নিকট তিনি ‘ভাই গিরিশচন্দ্র’ নামে পরিচিত ছিলেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
⇒ তাপসমালা:
- গিরিশচন্দ্রের বিখ্যাত গ্রন্থ তাপসমালা।
- এটি ৯৬ জন ওলি-আউলিয়ার জীবনচরিত, যা শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের ফারসি ভাষায় রচিত তায্কেরাতুল আত্তলিয়ার ভাবাদর্শে রচিত।

⇒ তত্ত্বরত্নমালা:
- গিরিশচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য আরেকটি গ্রন্থ হলো তত্ত্বরত্নমালা।
- এটি শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের মানতেকুত্তায়েব ও মওলানা জালালউদ্দীন রূমীর মসনবী শরীফ নামক প্রখ্যাত ফারসি গ্রন্থদ্বয় থেকে সংকলিত।
- এতে নীতিকথা ও শিক্ষণীয় বিষয় ছোট ছোট গল্পের আকারে রসাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

 এছাড়াও তিনি হাদিস-পূর্ব বিভাগ শিরোনামে মিশ্কাত শরীফের প্রায় অর্ধাংশের অনুবাদ প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৭১৮.
বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. নবান্ন
  2. অবরোধ
  3. যেমন ইচ্ছা তেমন
  4. গোত্রান্তর
সঠিক উত্তর:
যেমন ইচ্ছা তেমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেমন ইচ্ছা তেমন
ব্যাখ্যা
• 'যেমন ইচ্ছা তেমন' - নুরুল মোমেন রচিত নাটক। 

• বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক। 
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।
- তাঁর রচিত নাটকের উপজীব্য সমাজের নিচের তলার মানুষের জীবনচিত্র।

• তাঁর রচিত নাটক: 
- নবান্ন, 
- জনপদ, 
- কলঙ্ক, 
- মরাচাঁদ, 
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উল্লেখ্য,
'গোত্রান্তর'- ছোটগল্পের লেখক সুবোধ ঘোষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৭১৯.
'আমলার মামলা' নাটকটি কে লিখেছেন?
  1. শওকত ওসমান
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সমরেশ বসু
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
'আমলার মামলা' নাটকটির রচয়িতা শওকত ওসমান। 

শওকত ওসমান
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

তাঁর রচিত নাটক: 
- তস্কর লস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা,
- কাঁকর মণি,
- বাগদাদের কবি।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিখ্যাত উপন্যাস:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম ইত্যাদি।
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী
- জাহান্নাম হইতে বিদায়।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭২০.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দিনলিপি মূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) নিষিদ্ধ লোবান
  2. খ) আগুনের পরশমণি
  3. গ) রাইফেল রোটি আওরাত
  4. ঘ) একাত্তরের দিনগুলি
সঠিক উত্তর:
ঘ) একাত্তরের দিনগুলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) একাত্তরের দিনগুলি
ব্যাখ্যা
• একাত্তরের দিনগুলি:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি (দিনলিপি) গ্রন্থ।

• জাহানারা ইমাম:
- অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

• কিন্তু তাঁর সর্বাধিক খ্যাতির কারণ দিনপঞ্জিরূপে লেখা তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ ‘একাত্তরের দিনগুলি’। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি পুত্র রুমী ও স্বামীকে হারান। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাস কেটেছে তাঁর একদিকে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও ত্রাসের মধ্য দিয়ে; অন্যদিকে মনের মধ্যে ছিল দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার স্বপ্ন। সেই দুঃসহ দিনগুলিতে প্রাত্যহিক ঘটনা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করার বৃত্তান্ত লিখেছিলেন তিনি নানা চিরকুটে, ছিন্ন পাতায়, গোপন ভঙ্গি ও সংকেতে। ১৯৮৬ সালে গ্রন্থরূপ পাওয়ার পর তা জনমনে বিপুল সাড়া জাগায়। বস্ত্তত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো একাত্তরের দিনগুলি।

- ১৯৮১-র দিকে জাহানারা ইমাম মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
- ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
- পরবর্তীতে সেখান থেকে ঢাকায় এনে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

• তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি। 
- অন্যজীবন
- বুকের ভিতর আগুন।
- নাটকের অবসান।
- নিঃসঙ্গ পাইন।
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস।
- প্রবাসের দিনগুলি।

অন্যদিকে,
আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস - রাইফেল রোটি আওরাত।
সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস - নিষিদ্ধ লোবান।
হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস - আগুনের পরশমণি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭২১.
'স্বর্ণকুমারী দেবী' ও  'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর' সম্পর্কে কী ছিলেন? 
  1. ভাই-বোন
  2. চাচা-ভাতিজি
  3. মামা-ভাগনি
  4. চাচাতো ভাই-বোন
সঠিক উত্তর:
ভাই-বোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাই-বোন
ব্যাখ্যা

স্বর্ণকুমারী দেবী:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- স্বর্ণকুমারী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তিনি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'দীপনির্বাণ'।
- সম্ভবত তার সবচেয়ে সেরা গ্রন্থ কাহাকে (১৮৯৮)। এ গ্রন্থটি The Unfinished Song নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- গাঁথা,
- কবিতা ও গান।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৭২২.
'উত্তরাধিকার' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) শহীদ কাদরী
সঠিক উত্তর:
ঘ) শহীদ কাদরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা
উত্তরাধিকার, তোমাকে অভিবাদন প্রিয়া, কোথাও কোন ক্রন্দন নেই, আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও ইত্যাদি শহীদ কাদরী রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১,৭২৩.
শিশুতোষ গ্রন্থ 'এক পয়সার বাঁশী' রচনা করেন কে?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. সুকুমার রায়
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
জসীম উদ্‌দীন রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ - এক পয়সার বাঁশী

জসীম উদ্‌দীন:

- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭২৪.
‘অন্নদা দিদি’ কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. বড়দিদি
  2. শ্রীকান্ত
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. বিরাজ বৌ
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
ব্যাখ্যা
• ‘অন্নদা দিদি’- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের চরিত্র। 

• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস: 
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র- 'ইন্দ্রনাথ'। 
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।

• উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
- শ্রীকান্ত,
- রাজলক্ষ্মী,
- অন্নদাদিদি,
- অভয়া,
- কমললতা প্রমুখ।

------------------------- 
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প: 
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী, 
- মামলার ফল ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস :
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭২৫.
'মানব মুকুট' গ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. মুহম্মদ এনামুল হক
  2. এস ওয়াজেদ আলী
  3. মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী
  4. আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'মানব মুকুট' গ্রন্থটির রচয়িতা- 'মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী'। 

মোহাম্মদ এয়াকুব আলীচৌধুরী:
- তিনি একজন লেখক, সাংবাদিক।
- ১৩৯৫ বঙ্গাব্দের ১৮ কার্তিক (নভেম্বর, ১৮৮৮)  ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার অন্তর্গত মাগুরাডাঙ্গা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর প্রধান রচনা হলো:
- ধর্মের কাহিনী,
- নূরনবী,
- শান্তিধারা ও
- মানব মুকুট (১৯২৬)।

[উৎস: বাংলাপিডিয়া ]
১,৭২৬.
'বন্দীর বন্দনা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• 'বন্দীর বন্দনা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক‌:

- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭২৭.
শামসুর রাহমান রচিত কবিতা কোনটি?
  1. আমি কোনো আগন্তুক নই
  2. তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা
  3. স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হল
  4. পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
• 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতা:
- 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' শীর্ষক কবিতাটি কবি শামসুর রাহমানের 'বন্দী শিবির থেকে' নামক কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। স্বাধীনতা অর্জনে বাঙালির সংগ্রামী চেতনা এবং তাঁদের মহান আত্মত্যাগের মহিমা কবি সুন্দরভাবে এই কবিতায় প্রকাশ করেছেন।

- এখানে কবি স্বাধীনতার জন্য এদেশের সর্বস্তরের মানুষের আত্মত্যাগ, পাক-হানাদার বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ, মুক্তিকামী মানুষের প্রতীক্ষার স্বরূপ ব্যাখ্যা করেছেন। কবি স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাস থেকে স্বাধীনতাকে রক্ষা ও অর্থবহ করে তুলতে সকলকে উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত হতে আহ্বান জানিয়েছেন।

কবিতাটি সংক্ষেপে- 

তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা
তোমাকে পাওয়ার জন্যে
আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়?
আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন?

তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা,
সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল,
সিঁথির সিঁদুর মুছে গেল হরিদাসীর।

--------------
অন্যদিকে, 
• 'আমি কোনো আগন্তুক নই' আহসান হাবীব রচিত কবিতা। 
• 'স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হল' নির্মলেন্দু গুণ রচিত কবিতা। 
• 'পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা' নাটকটির রচয়িতা শওকত ওসমান।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭২৮.
‘কৃত্তিবাস ভদ্র’ ছদ্মনামে লিখতেন-
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. বিজন ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
• প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র ছিলেন কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সম্পাদক। জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে। পৈতৃক নিবাস দক্ষিণ চবিবশ পরগণার বৈকুণ্ঠপুরে। 

- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন। ১৯২৩ সালে প্রবাসীতে ‘শুধু কেরাণী’ ও ‘গোপন চারিণী’ নামে দুটি গল্প প্রকাশিত হয় এবং গল্প দুটি নিয়ে কল্লোল পত্রিকা গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করে। ফলে সাহিত্য অঙ্গনে তাঁর খ্যাতি বেড়ে যায়। সাহিত্য-সাধনার প্রথমপর্বে তিনি ‘কৃত্তিবাস ভদ্র’ ছদ্মনামে লিখতেন।

- প্রেমেন্দ্র মিত্র কল্লোল (১৯২৩) পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন। পরে মুরলীধর বসুর সহযোগিতায় কালিকলম (১৯২৬) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
তিনি রবীন্দ্রনাথের উত্তরাধিকারকে নিজের লেখায় সাঙ্গীকরণের মাধ্যমে গ্রহণ করেন। 

- কবিতা, উপন্যাস, গল্প ছাড়াও তিনি সৃজনশীল প্রবন্ধ, গান, চিত্রনাট্য, রম্যরচনা এবং গোয়েন্দা কাহিনিও লিখেছেন। হাস্যকৌতুকের ধারায় তাঁর অমর সৃষ্টি ‘পরাশর বর্ম’। বাংলা শিশুসাহিত্যে তাঁর অতুলনীয় সৃষ্টি ‘ঘনাদা’। শিশুর মনোরাজ্যের রোমাঞ্চকর অনুভূতিগুলি তিনি ঘনাদা চরিত্রের মাধ্যমে অভিব্যক্ত করেন। ঘনাদা পড়ে প্রতিটি শিশু-কিশোর ঘনাদার ভিতর দিয়ে নিজেদের দেখতে উন্মুখ হয়ে ওঠে। প্রেমেন্দ্র মিত্রের এ ঘনাদা সৃষ্টি হয় প্রথম ‘মশা’ (১৯৩৭) গল্পের মাধ্যমে। কিশোর মনোরাজ্য অধিকারের জন্য ডিটেকটিভ ও রোমাঞ্চকর কাহিনি সৃজনে তিনি অসাধারণ শক্তির পরিচয় দেন। অপরদিকে তিনি বিজ্ঞানভিত্তিক কিশোর উপন্যাস কুহকের দেশে লিখে বাংলা ভাষায় এ ধারার সার্থকতা প্রতিষ্ঠা করেন।

অন্যদিকে, 
• প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম টেকচাঁদ ঠাকুর।
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ক্বচিৎ প্রৌঢ়। 
• বিজন ভট্টাচার্যের ছদ্মনাম সহযাত্রী। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৭২৯.
নিচের কোনটি নাটক?
  1. ক) কন্যাকুমারী
  2. খ) নতুন চাঁদ
  3. গ) গড্ডলিকা
  4. ঘ) নেমেসিস
সঠিক উত্তর:
ঘ) নেমেসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নেমেসিস
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত নাটক।

 • অন্যান্য অপশন:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ - 'নতুন চাঁদ'।
- আব্দুর রাজ্জাক রচিত উপন্যাস - 'কন্যাকুমারী'।
- রাজশেখর বসু রচিত গল্পগ্রন্থ - 'গড্ডলিকা'।
১,৭৩০.
'রায়নন্দিনী' কার রচনা?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
গ) ইসমাইল হোসেন সিরাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর উপন্যাস- রায়নন্দিনী। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের প্রতিক্রিয়ায় ইসমাইল হোসেন সিরাজী রায়নন্দিনী উপন্যাস লেখেন। রায়নন্দিনী উপন্যাস হিসেবে সফল না হলেও প্রতিক্রিয়া হিসেবে সফল।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৩১.
'হাসু' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. সূর্য দীঘল বাড়ি
  2. লালসালু
  3. পদ্মার পলিদ্বীপ
  4. হাজার বছর ধরে
সঠিক উত্তর:
সূর্য দীঘল বাড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্য দীঘল বাড়ি
ব্যাখ্যা

'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।

আবু ইসহাক:
- তাঁর জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন সূর্য দীঘল বাড়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৭৩২.
বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. সাধের আসন
  2. শেষ সপ্তক
  3. বন্ধু-বিয়োগ
  4. স্বপ্নদর্শন
সঠিক উত্তর:
সাধের আসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধের আসন
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'।

• “সাধের আসন” কাব্যগ্রন্থ:

- বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘সাধের আসন’ (১৮৮৯)।
- ‘সাধের আসন’কে ‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের পরিশিষ্ট বলা যায়।
- কোনো এক সম্ভ্রান্ত বিবাহিত নারী কবির ‘সারদামঙ্গল’ কাব্য পাঠ করে নিজ হাতে একটি আসন বুনে কবিকে প্রশ্ন করেছিলেন , “তুমি কাকে ধ্যান কর?”। এর উত্তর স্বরূপ বিহারীলাল ‘বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ’ লিখেছিলেন।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'।
- তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- 'শেষ সপ্তক' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১,৭৩৩.
শহীদুল্লাহ কায়সারের মহাকাব্যিক উপন্যাস কোনটি?
  1. সারেং বউ
  2. সংশপ্তক
  3. পতঙ্গ পিঞ্জর
  4. যাত্রা
সঠিক উত্তর:
সংশপ্তক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংশপ্তক
ব্যাখ্যা
- শহীদুল্লাহ কায়সার একজন বাঙালি লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্।

- 'সংশপ্তক' (১৯৬৫) তাঁর রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্ববর্তীকাল থেকে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পূর্বকাল অবধি বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও রূপান্তর ধারণ করেছেন।
- এই উপন্যাসকে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৩৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর "লাইব্রেরি" প্রবন্ধে লাইব্রেরিকে কিসের সাথে তুলনা করেছেন?​
  1. ঢেউয়ের গর্জন​
  2. মহাসমুদ্রের কল্লোলধ্বনি
  3. নদীর স্রোত
  4. আকাশের মেঘ
সঠিক উত্তর:
মহাসমুদ্রের কল্লোলধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাসমুদ্রের কল্লোলধ্বনি
ব্যাখ্যা
'লাইব্রেরি' প্রবন্ধ:
- প্রবন্ধটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিচিত্র প্রবন্ধ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। এটি তাঁর 'বিচিত্র' প্রবন্ধগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত। এ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ লাইব্রেরির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি লাইব্রেরিকে মহাসমুদ্রের কল্লোলধ্বনির সাথে তুলনা করেছেন। কেননা, লাইব্রেরিতে মানবাত্মার ধ্বনিরাশি বইয়ের পাতায় বন্দি হয়ে থাকে।

• 'লাইব্রেরি' প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
মহাসমুদ্রের শত বৎসরের কল্লোল কেহ যদি এমন করিয়া বাঁধিয়া রাখিতে পারিত যে, সে ঘুমাইয়া পড়া শিশুটির মতো চুপ করিয়া থাকিত, তবে সেই নীরব মহাশব্দের সহিত এই লাইব্রেরির তুলনা হইত। এখানে ভাষা চুপ করিয়া আছে, প্রবাহ স্থির হইয়া আছে, মানবাত্মার অমর আলোক কালো অক্ষরের শৃঙ্খলে কাগজের কারাগারে বাঁধা পড়িয়া আছে। ইহারা সহসা যদি বিদ্রোহী হইয়া উঠে, নিস্তব্ধতা ভাঙিয়া ফেলে, অক্ষরের বেড়া দগ্ধ করিয়া একবারে বাহির হইয়া আসে! হিমালয়ের মাথার উপরে কঠিন বরফের মধ্যে যেমন কত কত বন্যা বাঁধা আছে, তেমনি এই লাইব্রেরির মধ্যে মানবহৃদয়ের বন্যা কে বাঁধিয়া রাখিয়াছে!

কাহিনি সংক্ষেপ:
বইয়ের ভেতর দিয়েই আমরা আকাশের দৈববাণী থেকে মহাত্মাদের কথা পেয়ে থাকি। যাঁদের সান্নিধ্য আমাদের কখনই পাওয়া সম্ভব নয়, বইয়ের ভেতর দিয়েই আমরা তাদের পেতে পারি। বই আমাদের অতীতের সাথে সেতুবন্ধ গড়ে দেয়। এ বইয়ের স্থান হলো লাইব্রেরি। এ লাইব্রেরিতেই মানব হৃদয়ের উত্থান-পতনের শব্দ শোনা যায়। লাইব্রেরিতে সকল পথের, সকল মতের মানুষের সম্মিলন ঘটে। লাইব্রেরির মহত্ত্বের কথা বর্ণনা করে লেখক বলেছেন- জগতের উদ্দেশ্যে কি আমাদেরও কিছু বলার নেই? আমরা কি কেবল তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কলহ করে বেড়াব। লেখক শেষে আশা ব্যক্ত করে বলেছেন- বাঙালিরা জেগে উঠেছে। তারাও আপন ভাষায় লিখে বিশ্বের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে তুলবে। 'লাইব্রেরি' প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বই পড়ার সঙ্গে জ্ঞানের সম্পর্ক উপস্থাপন করেছেন। প্রবন্ধটি আমাদের বই পাঠ এবং জ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করে তোলে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কালান্তর,
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- শিক্ষা,
- মানুষের ধর্ম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৩৫.
বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তন করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

অমিত্রাক্ষর ছন্দ:
— অমিত্রাক্ষর ছন্দ হলো বাংলা কাব্যের একটি ছন্দ, যা অক্ষরবৃত্ত ছন্দের নব সংস্করণ। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো — এতে অন্ত্যমিল বা অন্ত্যানুপ্রাস থাকে না, যা ইংরেজি কাব্যের — ব্ল্যাঙ্ক ভার্স (Blank Verse)-এর সঙ্গে তুলনীয়।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের অবদান:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত — উনিশ শতকে বাংলা সাহিত্যে — অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তন করেন। তিনি প্রথম এই ছন্দের ব্যবহার করেন তাঁর নাটক — ‘পদ্মাবতী’ (দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে) এবং পরবর্তীতে তাঁর কাব্য ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’ -এ এই ছন্দের পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ করেন।

এই ছন্দের মাধ্যমে তিনি বাংলা কাব্যে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেন, যা ঐতিহ্যবাহী পায়ার ছন্দ থেকে ভিন্ন এবং ইংরেজি সাহিত্যের ব্ল্যাঙ্ক ভার্সের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এটি বাংলা কাব্যে সুরমুক্তির একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।

১,৭৩৬.
“অনল প্রবাহ” - কি ধরনের গ্রন্থ?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাট্যগ্রন্থ
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'অনল প্রবাহ' কাব্য:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্ৰ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভারত ভিক্ষা’, ‘ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলো হচ্ছে : অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ : ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।
- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
- সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন।
- পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন,
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

• ভ্রমণ কাহিনী:
-তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭৩৭.
শরৎচন্দ্রের আত্মচরিতমূলক উপন্যাস কোনটি ? 
  1. গৃহদাহ
  2. শ্রীকান্ত
  3. দেবদাস
  4. বিলাসী
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মচরিতমূলক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনী নামে প্রকাশ পায়। 
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র - শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চরিত্রহীন,
- পণ্ডিতমশাই,
- পল্লীসমাজ,
- দেবদাস,
- শ্রীকান্ত,
- পরিণীতা,
- বিরাজবৌ,
- দত্তা,
- চরিত্রহীন,
- বামুনের মেয়ে,
- শেষ প্রশ্ন,
- দেনাপাওনা,
- পথের দাবী,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৭৩৮.
ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. বহিপীর
  2. লালসালু
  3. তরঙ্গভঙ্গ
  4. উজান মৃত্যু
সঠিক উত্তর:
লালসালু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালসালু
ব্যাখ্যা
⇒ ‘লালসালু’ উপন্যাস:
• ‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
• এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।
• নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।
• ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে। 
• তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
• 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
• উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মজিদ, খালেক ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা।
• ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির ‘লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।
 
================
⇒ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ্ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ্‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭৩৯.
'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনি কোন শহর নিয়ে লেখা?
  1. কাবুল
  2. কায়রো
  3. প্যারিস
  4. রোম
সঠিক উত্তর:
কাবুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাবুল
ব্যাখ্যা

•'দেশে বিদেশে':
 'দেশে বিদেশেভ্রমণকাহিনির রচয়িতা- সৈয়দ মুজতবা আলী।
- এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

সৈয়দ মুজতবা আলী:
১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালে ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য
- শবনম

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী
- টুনি মেম

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

১,৭৪০.
'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. আহমদ ছফা
  4. আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসটি আলাউদ্দিন আল আজাদের প্রথম উপন্যাস। 
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (পরিচালক: সুভাষ দত্ত) উপন্যাস অবলম্বনে বসুন্ধরা চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।
- নির্মিত চলচ্চিত্রটি ১৯৭৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

----------------------------
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি  ১৯৩২ সালের  ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মসমূহ:
 • উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র, 
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন, 
- কর্ণফুলী, 
- ক্ষুধা ও আশা, 
- খসড়া কাগজ, 
- স্বপ্নশিলা, 
- বিশৃঙ্খলা।  

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র, 
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ, 

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি, 
- মৃগনাভি, 
- ধানকন্যা, 
- যখন সৈকত, 
- অন্ধকার সিঁড়ি, 
- জীবনজামিন,  
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৪১.
'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের চরিত্র নয় কোনটি?
  1. উদয়াদিত্য
  2. অমল
  3. সুরমা
  4. ধনঞ্জয়
সঠিক উত্তর:
অমল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমল
ব্যাখ্যা
'প্রায়শ্চিত্ত' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথের 'বৌঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানভূমিক নাটক। নাটকটি পঞ্চাঙ্কের।
- টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে।
- ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ ‘পরিত্রাণ’ নাটক। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।

'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ধনঞ্জয় বৈরাগী,
- সুরমা,
- উদয়াদিত্য,
- বিভা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
'ডাকঘর' নাটকের চরিত্র - অমল

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১,৭৪২.
কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৌলিক রচনা নয়?
  1. ক) রত্নপরীক্ষা
  2. খ) ব্রজবিলাস
  3. গ) অতি অল্প হইল
  4. ঘ) শকুন্তলা
সঠিক উত্তর:
ঘ) শকুন্তলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শকুন্তলা
ব্যাখ্যা
'শকুন্তলা' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুবাদ গ্রন্থ।
- প্রাচীন সংস্কৃত মহাকবি কালিদাসের 'অভিজ্ঞান শকুন্তলম' নাটক অবলম্বনে ১৮৫৪ খ্রিষ্টাব্দে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর একটি আখ্যান বা উপন্যাসোম  কাহিনী লিখে নাম দেন 'শকুন্তলা'। 

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৌলিক গ্রন্থসমূহ -  
- অতি অল্প হইল 
- আবার অতি অল্প হইল 
- ব্রজবিলাস 
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা 
- রত্নপরীক্ষা 

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অন্যান্য অনুবাদ গ্রন্থ-
- ভ্রান্তিবিলাস (শেক্সপিয়রের কমেডি অব এররস অনুসারে)
- বেতালপঞ্চবিংশতি (হিন্দি বৈতালপচ্চিসি এর বঙ্গানুবাদ)
- সীতার বনবাস (রামায়ণ অনুসারে) ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭৪৩.
শাহ আব্দুল করিম কার দর্শনে প্রভাবিত হয়েছিলেন?
  1. ক) লালন শাহ
  2. খ) হাসন রাজা
  3. গ) রাধারমণ দত্ত
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
শাহ আব্দুল করিম প্রথম জীবনে লালন শাহ্‌ এবং হাসন রাজার দর্শনে প্রভাবিত হয়েছিলেন। লালন ও হাসনের গানে যেখানে আধ্যাত্মিকতা প্রধান, সেখানে আব্দুল করিমের গানে প্রাধান্য পেয়েছে ইহজাগতিকতা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১,৭৪৪.
নিচের কোনটি আহসান হাবীবের রচনা নয়?
  1. অরণ্যে নীলিমা
  2. আলো ও ছায়া
  3. ছায়াহরিণ
  4. সারা দুপুর
সঠিক উত্তর:
আলো ও ছায়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলো ও ছায়া
ব্যাখ্যা
• 'আলো ও ছায়া'- আহসান হাবীবের রচনা নয়।
- এটি কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ।

উল্লেখ্য,
 'আলো ও ছায়া'- কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা গল্পগ্রন্থ।
---------------------- 

আহসান হাবীব:

- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬।

• আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারাদুপুর,
- আশায় বসতি।

• তাঁর উপন্যাস: 
- অরণ্যে নীলিমা,
- রানী খালের সাঁকো।
---------------------- 

• কামিনী রায়: 
- কবি ও সমাজকর্মী কামিনী রায় ১৮৬৪ সালে বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় (১৮৮৯) সালে;  হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৭৪৫.
‘আয়না’ গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আবুল মনসুর আহমদ
  3. গ) আনিসুজ্জামান
  4. ঘ) মানিক দত্ত
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
• আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮-১৯৭৯): সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সর্বাধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না
- ফুড কনফারেন্স।

তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- সত্যমিথ্যা
- জীবন ক্ষুধা ও
- আবে-হায়াৎ।

স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৪৬.
'নামহীন গোত্রহীন' এই গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. শওকত ওসমান
  3. আবু ইসহাক
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা

• ‘নামহীন গোত্রহীন’ গল্পগ্রন্থ:
- হাসান আজিজুল হক রচিত ‘নামহীন গোত্রহীন’ গল্পগ্রন্থটির প্রথম প্রকাশ ঘটে ১৯৭৫ সালে।
- সাতটি গল্পে সমন্বিত মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত গ্রন্থটির গল্পগুলিতে মানুষের বিপর্যয়ের চরম দুর্দশার চিত্রটি অঙ্কন করা হয়েছে, দেখানো হয়েছে পশ্চিম পাকিস্থানী সামরিক বাহিনীর বর্বরোচিত আচরণকে।

• হাসান আজিজুল হক:
- ১৯৩৯ সালে হাসান আজিজুল হক পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর অন্যান্য গল্পগ্রন্থ হলো:
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৭৪৭.
রবীন্দ্রনাথের শেষ মানভূমিক নাটক বলা হয় কোনটি কে?
  1. ডাকঘর
  2. প্রায়শ্চিত্ত
  3. বিসর্জন
  4. রক্তকরবী
সঠিক উত্তর:
প্রায়শ্চিত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায়শ্চিত্ত
ব্যাখ্যা

• 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বউ ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- এই নাটকেই ধনঞ্জয় বৈরাগী চরিত্রের আবির্ভাব। 
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানভূমিক নাটক। নাটকটি পঞ্চাঙ্কের।
- টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ 'পরিত্রাণ' নাটক। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।

'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ধনঞ্জয় বৈরাগী,
- সুরমা,
- উদয়াদিত্য,
- বিভা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
-------------------
• 'ডাকঘর' (১৯১২ খ্রিস্টাব্দ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাটক। নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো- মাধব দত্ত, 
অমল, সুধা। 

• 'বিসর্জন' (১৮৯১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক। 'রাজর্ষি' উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে 'বিসর্জন' নাটকটি রচিত হয়। এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জয়সিংহ, রঘুপতি, অর্পনা।

• 'রক্তকরবী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাংকেতিক নাটক। নাটকটি বাংলা ১৩৩০ সনের শিলং-এর শৈলবাসে রচিত। উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: নন্দিনী, রঞ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৭৪৮.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত 'কারাগারের রোজনামচা' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ২০১২
  2. ২০১৭
  3. ২০১৮
  4. ২০২০
সঠিক উত্তর:
২০১৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১৭
ব্যাখ্যা
কারাগারের রােজনামচা:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দিনলিপি গ্রন্থ হলো 'কারাগারের রোজনামচা'।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো 'কারাগারের রোজনামচা'।
- এটি ১৭ মার্চ, ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- এর নামকরণ করেন শেখ রেহেনা।
- এর প্রচ্ছদ ও নকশা করেন তারিক সুজাত।
- তবে প্রচ্ছদে ব্যবহৃত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন শিল্পী রাসেল কান্তি দাশ।

উল্লেখ্য,
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' ২০১২ সালে প্রকাশিত হয়।
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত 'আমার দেখা নয়াচীন' ২০২০ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: কারাগারের রােজনামচা, শেখ মুজিবুর রহমান।
১,৭৪৯.
প্রকাশকাল অনুযায়ী কোন পত্রিকাটি প্রথমে প্রকাশিত হয়েছে?
  1. সমকাল
  2. সাধনা
  3. সুধাকর
  4. স্বদেশ
সঠিক উত্তর:
সুধাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধাকর
ব্যাখ্যা
• প্রকাশকাল অনুযায়ী 'সুধাকর' পত্রিকাটি প্রথমে প্রকাশিত হয়েছে।
- এটি ১৮৮৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- শেখ আবদুর রহিম এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

অন্যদিকে,
• 'সমকাল' পত্রিকা ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- সিকান্‌দার আবু জাফর এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

• 'সাধনা' পত্রিকা ১৮৯১ সালে প্রকাশিত হয়।
- সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও পরবর্তীতে এটি সম্পাদনা করেন।

• 'স্বদেশ' পত্রিকা ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- আহমদ ছফা এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৫০.
বুদ্ধদেব বসুর 'বন্দীর বন্দনা' কোন জাতীয় রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
বুদ্ধদেব বসু:
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- ঢাকা থেকে 'প্রগতি' (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে 'কবিতা' (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়। 
- 'তপস্বী ও তরঙ্গিণী' নাটকের জন্য তিনি সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন।
- ১৯৭০ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কারে ভূষিত করে।
- এছাড়া 'স্বাগত বিদায়' কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ (১৯৭৪) লাভ করেন।
- ১৯৭৪ সালের ১৮ মার্চ কলকাতায় মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- যে আঁধার আলোর অধিক,
- মরচেপড়া পেরেকের গান,
- একদিন চিরদিন,
- স্বাগত বিদায় ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- হঠাৎ আলোর ঝলকানি,
- কালের পুতুল,
- সাহিত্যচর্চা,
- রবীন্দ্রনাথ: কথাসাহিত্য ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- মৌলিনাথ,
- রাত ভরে বৃষ্টি,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনের খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৭৫১.
'চলে মুসাফির' ভ্রমণকাহিনী মূলক গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. এস ওয়াজেদ আলী
সঠিক উত্তর:
জসীমউদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীমউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• 'চলে মুসাফির' ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা- জসীমউদ্‌দীন । 

• জসীমউদ্‌দীন রচিত ভ্রমণকাহিনী:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশ, 
- যে দেশে মানুষ বড়। 

অন্যদিকে, 
'সৈয়দ মুজতবা আলী' রচিত ভ্রমণকাহিনী হলো 'দেশে বিদেশে'।  
এস ওয়াজেদ আলী রচিত ভ্রমণকাহিনী হলো - 'মোটর যোগে রাঁচী সফর’। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১,৭৫২.
'স্বদেশ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন -
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. আহমদ ছফা
  3. অজিত দত্ত
  4. হুমায়ুন কবির
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘স্বদেশ’ প্রকাশিত হয়েছিল। মাত্র তিন সংখ্যা প্রকাশের পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।

আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- অলাতচক্র ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

আহমদ ছফার শিশুতোষ রচনা:
- দোলা আমার কনকচাঁপা,
- গো হাকিম ইত্যাদি।

কবিতা গ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- দুঃখের দিনের দোহা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৫৩.
কোন গ্রন্থটির রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলি?
  1. আশা-আকাঙ্ক্ষার সমর্থনে
  2. ভবিষ্যতের বাঙালি
  3. উন্নত জীবন
  4. সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
ভবিষ্যতের বাঙালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভবিষ্যতের বাঙালি
ব্যাখ্যা
• ‘ভবিষ্যতের বাঙালি’ প্রবন্ধ গ্রন্থটির রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলি।
- এই গ্রন্থে তিনি সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত দেশ গঠনের লক্ষ্যে হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

------------------------
• এস ওয়াজেদ আলি:
- এস ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।

ভ্রমণকাহিনী:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭৫৪.
নিচের কোন রচনাটি ভিন্নধর্মী?
  1. ক) পুতুল নিয়ে খেলা
  2. খ) অসমাপিকা
  3. গ) কালের শাসন
  4. ঘ) সত্যাসত্য
সঠিক উত্তর:
গ) কালের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কালের শাসন
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায় একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাসঃ
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি। 

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত কবিতাগুলো হলোঃ
রাখী,
কালের শাসন,
কামনা পঞ্চবিংশতি,
নূতন রাধা 
লিপি

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনীঃ
- পথে প্রবাসে ও
- ইউরোপের চিঠি।
১,৭৫৫.
নিচের কোনটি হুমায়ুন আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে
  2. চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া
  3. কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু
  4. কোনো খেদ নেই
সঠিক উত্তর:
কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু
ব্যাখ্যা

• 'কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু' কাব্যগ্রন্থ:
- 'কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু' হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 

- হুমায়ুন আজাদ প্রকাশিত এই কাব্যগ্রন্থে স্থান পেয়েছে এমন একগুচ্ছ কবিতা, যা সাম্প্রতিক কবিতার দূষণমুক্ত- নিবিড়, অন্তরঙ্গ, অমল এই কবিতারাশি, এবং এর ভাষা ভিন্ন, গভীর অনুভূতির ছোঁয়ায় যা পংক্তিতে পংক্তিতে আলোড়িত।

- হুমায়ুন আজাদের এই কবিতারাশিতে যা বড়ো হয়ে ধরা পড়েছে, তা হচ্ছে প্রাজ্ঞতা, যার বড়ো অভাব আমাদের কবিতায়। আমাদের কবিদের বয়স বাড়ে না, তারা প্রাজ্ঞ হন না, থেকে যাওয়ার চেষ্টা করেন উত্তেজিত যৌবনে; কিন্তু হুমায়ুন আজাদ এগিয়েছেন সামনের দিকে।

---------------------
হুমায়ুন আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে'
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি।

হুমায়ুন আজাদ রচিত উপন্যাস:
- আব্বুকে মনে পড়ে,
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল,
- সব কিছু ভেঙে পড়ে,
- শুভব্রত তার সম্পর্কিত সুসমাচার,
- রাজনীতিবিদগণ,
- কবি অথবা দণ্ডিত পুরুষ,
- পাক সার জমিন সাদ বাদ।

অন্যদিকে, 
রফিক আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ হলো-
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া, 
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে, 
- কোনো খেদ নেই। 

উৎস: 'কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু' কাব্যগ্রন্থ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৭৫৬.
ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন—
  1. ক) বিয়ে পাগলা বুড়ো
  2. খ) সধবার একাদশী
  3. গ) জামাই বারিক
  4. ঘ) কমলে কামিনী
সঠিক উত্তর:
খ) সধবার একাদশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা

- সমাজের প্রাচীনপন্থীদের ব্যঙ্গ করে দীনবন্ধু মিত্রের রচিত প্রহসন ‘বিয়ে পাগলা বুড়ো’।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন 'সধবার একাদশী'।
- 'জামাই বারিক' তাঁর হাস্যরসাত্মক নাটক।
- 'কমলে কামিনী' তাঁর সর্বশেষ নাটক।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৭৫৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর নিজের লেখা কয়টি নাটকে অভিনয় করেন?
  1. ১০টি
  2. ১২টি
  3. ১৩টি
  4. ১৬টি
সঠিক উত্তর:
১৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩টি
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর নিজের লেখা ১৩টি নাটকে অভিনয় করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
-  কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত। ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। 
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম অভিনয় ছিল জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের এমন কর্ম আর করব না নাটকে অলীকবাবুর ভূমিকায়।
- কবির শেষ বয়সের প্রায় সব নাটকই শান্তিনিকেতনে রচিত।
- বলাকা কাব্যের জীবনতত্ত্বকেই কবি রূপ দিয়েছেন ফাল্গুনী নাটকে।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক: 
- বিসর্জন,
- রাজ,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকবরী,
- তাসের দেশ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,৭৫৮.
'কাব্যসঞ্চয়ন' কার রচনা?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত (১৮৮২-১৯২২) কবি ও ছান্দসিক।
সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন।
যেমন - নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি হলো:
সবিতা (১৯০০), সন্ধিক্ষণ (১৯০৫), বেণু ও বীণা (১৯০৬), হোম শিখা (১৯০৭), ফুলের ফসল (১৯১১), কুহু ও কেকা (১৯১২), তুলির লিখন (১৯১৪), অভ্র-আবীর (১৯১৬), হসন্তিকা (১৯১৯), বেলা শেষের গান (১৯২৩), বিদায়-আরতি (১৯২৪), কাব্যসঞ্চয়ন (১৯৩০), শিশু-কবিতা (১৯৪৫) ইত্যাদি।
তাঁর অনুবাদ কাব্যগুলি হলো:
তীর্থরেণু (১৯১০), তীর্থ-সলিল (১৯১৮), মণিমঞ্জুষা (১৯১৫)৷
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
১,৭৫৯.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. সারেং বউ
  2. শঙ্খনীল কারাগার
  3. জলাঙ্গী
  4. নভেরা
সঠিক উত্তর:
জলাঙ্গী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলাঙ্গী
ব্যাখ্যা
'জলাঙ্গী':
- শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জলাঙ্গী'।
- স্বাধীন স্বদেশ প্রতিষ্ঠার দ্যোতক হিসেবে 'জলাঙ্গী' (১৯৭৪) উপন্যাসের মূল্য অপরিসীম।
- শওকত ওসমান রচিত এ উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে একজন মুক্তিযোদ্ধা ও তার প্রেমিকার ওপর নির্মম নির্যাতনের ঘটনা। এদের হাত-পা বেঁধে গলায় পাথর ঝুলিয়ে মেঘনা নদীতে ডুবিয়ে মারা হয়।
- এরা নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়েও মৃত্যুর আগ মুহূর্তে 'জয় বাংলা' তাদের অবিচলিত দেশপ্রেমকে মহিমান্বিত করেছে।

অন্যদিকে,
- সারেং বউ উপন্যাসে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের বিশ্বস্ত চিত্র আছে।
- বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের প্রথম রচিত উপন্যাস - শঙ্খনীল কারাগার।
- হাসনাত আবদুল হাই নভেরা আহমেদকে নিয়ে জীবনীমূলক উপন্যাস লিখেছেন।

• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ - শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নাম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস -
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি,

• শওকত ওসমান রচিত নাটক -
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ -
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৭৬০.
‘তবে যাও প্রতাপ, স্বর্গধামে'- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাস:
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত চন্দ্রশেখর (১৮৭৫) উপন্যাসটি প্রথমে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় ।
• প্রতাপ ও শৈবলিনীর বাল্যপ্রণয় এবং সেই প্রেমের করুণ পরিণতি এই উপন্যাসের প্রধান কাহিনি। প্রেম, দাম্পত্য আদর্শ, সমাজের শাসন, সতীত্ব ইত্যাদি এই কাহিনিতে বিশেষভাবে সমস্যায়িত হয়েছে।
• এই উপন্যাসের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ বঙ্কিমের নীতি ও প্রথানুগত্য। কেননা, লেখক এখানে ‘তবে যাও প্রতাপ, স্বর্গধামে' বলে নায়ককে পরলোকের পথ দেখিয়েছেন।
• উপন্যাসটির পটভূমি ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠা এবং মির কাসিমের সঙ্গে ইংরেজদের সংগ্রাম।
• ইতিহাসাশ্রয়ী ঘটনার সঙ্গে গার্হস্থ্য জীবনের কাহিনির রূপায়ণ ঘটেছে বলে মির কাসিম-দলনি বেগমের সঙ্গে চন্দ্রশেখর-প্রতাপ-শৈবলিনীর আখ্যান রচিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

--------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুটি তত্ত্বমূলক উপন্যাস হলো আনন্দমঠ ও দেবী চৌধুরাণী।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রবন্ধসমূহ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

• তাঁর অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৬১.
'জ্বলো চিতাবাঘ' গ্রন্থটির রচয়িতা -
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. শামসুর রাহমান
  3. আল মাহমুদ
  4. অন্নদাশংকর রায়
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
• 'জ্বলো চিতাবাঘ' গ্রন্থটির রচয়িতা - হুমায়ুন আজাদ
- এটি ১৯৮০ সালে প্রকাশিত একটি কাব্যগ্রন্থ।

হুমায়ুন আজাদ:
- তিনি ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল বিক্রমপুরের রাড়িখাল এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মূলত লেখক ও অধ্যাপক।
- ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'অলৌকিক ইস্টিমার'।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮৬) লাভ করেন।
- তিনি ২০০৪ সালের ১২ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- যতোই গভীরে যাই মধু, যতোই উপরে যাই নীল,
- আমি বেঁচেছিলাম অন্যদের সময়ে, 
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৬২.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. ক) ধুমকেতু
  2. খ) লাঙ্গল
  3. গ) সাম্যবাদী
  4. ঘ) নবযুগ
সঠিক উত্তর:
গ) সাম্যবাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা -
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯২৫ সালে প্রকাশিত ‘লাঙ্গল’ পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। 
- কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন 'দৈনিক নবযুগ'।

- 'সাম্যবাদী' (১৯২৩) পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী। 
- 'সাম্যবাদী' (১৯২৫) কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৬৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কতটি ছদ্মনামে লিখতেন?
  1. ৯টি 
  2. ৮টি 
  3. ৭টি 
  4. ৬টি 
সঠিক উত্তর:
৯টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯টি 
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনামে লিখতেন। এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীন কিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণী বিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস।

১,৭৬৪.
'বাংলাদেশ' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• 'বাংলাদেশ' কবিতাটি আমিয় চক্রবর্তী রচিত 'অনিঃশেষ' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে কবিতাটি।

• অমিয় চক্রবর্তী:
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।

• অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কবিতাবলী (প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ),
- উপহার,
- অনিঃশেষ
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেওয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৭৬৫.
কোন কবিতা রচনার জন্য কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যটি নিষিদ্ধ হয়েছিল?
  1. আনন্দময়ীর আগমনে
  2. বিদ্রোহী
  3. রক্তাম্বরধারিণী মা
  4. কাব্যটি নিষিদ্ধ হয়নি
সঠিক উত্তর:
কাব্যটি নিষিদ্ধ হয়নি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যটি নিষিদ্ধ হয়নি
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যটি নিষিদ্ধ হয়নি। 
-----------------
সাহিত্য সমালোচক শিশির কর 'নিষিদ্ধ গ্রন্থে বলেছেন - 
১৯২২ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত কাজী নজরুল ইসলামের মোট ৫টি গ্রন্থ নিষিদ্ধ হয়।
গ্রন্থগুলো হচ্ছে -
- যুগবাণী, 
- বিষের বাঁশি, 
- ভাঙ্গার গান, 
- প্রলয় শিখা ও
- চন্দ্রবিন্দু। 

• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ: 
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। কিন্তু প্রকাশিত গ্রন্থ হিসেবে দ্বিতীয়।
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- মোট বারটি কবিতার সমাহারে কলকাতার আর্য পাবলিশিং হাউস থেকে ১৯২২ সালের অক্টোবর মাসে 'অগ্নিবীণা' কাব্যটি প্রকাশিত হয়।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী, 
- ধূমকেতু, 
- কামাল পাশা, 
- আনোয়ার, 
- রণভেরী, 
- শাত-ইল-আরব, 
- খেয়াপারের তরণী, 
- কোরবানী, 
- মোহররম। 

উৎস: নিষিদ্ধ নজরুল, শিশির কর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ); বাংলাপিডিয়া।
১,৭৬৬.
শহীদুল্লা কায়সারের 'সারেং বৌ' কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. রম্য রচনা
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
সারেং বৌ:
- শহীদুল্লা কায়সারের প্রধান উপন্যাস 'সারেং বৌ' (১৯৬২)- এ মানুষ ও তাঁর অস্তিত্বের সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে। 
- 'সারেং বৌ' (১৯৬২) উপন্যাসে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের বিশ্বস্ত চিত্র আছে। 
- কদম সারেং সৎ বলে সহকর্মীদের মতো বাড়ি ও দালান করতে পারে নি। স্ত্রী নবিতুনকে নিয়ে আর্থিক কষ্টের মধ্যেও সুখে থাকে সে।
-  প্রকৃতির বিরুদ্ধতায় সারেং যখন দীর্ঘ দিন নিখোঁজ, সেই সময় যুবতী নবিতুনের উপর দারিদ্র্য ও লোলুপ সমাজপতিদের লোলুপতা নেমে আসে। 
- এই উপন্যাসে সব সংস্কার তুচ্ছ করে মানুষকে জয়ী দেখানো হয়েছে।

শহীদুল্লা কায়সার:
-  ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক। 
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
- পিতা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। 
- প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক জহির রায়হান তাঁর অনুজ। 
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ‘ইত্তেফাক’ পত্রিকায় শহীদুল্লা কায়সারের সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। 
- ১৯৫৮ সালে তিনি ‘সংবাদ’ পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।
- শহীদুল্লা কায়সার সাহিত্যকর্মের জন্য আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার বাসভবন থেকে তিনি অপহৃত হন এবং আর ফিরে আসেন নি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৭৬৭.
'নন্দিনী ও রঞ্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. বিসর্জন
  2. রক্তকরবী
  3. ডাকঘর
  4. বৈকুণ্ঠের খাতা
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
ব্যাখ্যা
• 'রক্তকরবী' নাটক: 
- 'রক্তকরবী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সাংকেতিক নাটক।
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে। 
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নন্দিনী ও 
- রঞ্জন। 

অন্যদিকে,
• 'বিসর্জন' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জয়সিংহ, রঘুপতি, অপর্ণা।
• 'ডাকঘর' নাটকের উল্ল্যেখযোগ্য চরিত্র: অমল, ঠাকুর্দা, সুধা, দৈওয়ালা ইত্যাদি।

• 'বৈকুণ্ঠের খাতা' (১৮৮৭) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জনপ্রিয় কৌতুক নাটক। এক আত্মভােলা সরল প্রকৃতির বৃদ্ধ এই কাহিনির কেন্দ্র। তাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের কৌতুকময় ঘটনা। সংলাপের দ্যুতি এবং আচরণের নাটকীয়তা নাটকটির জনপ্রিয়তার মূলে। নাটকটির কোনাে কোনাে চরিত্রে লেখকের আত্মীয়বন্ধুর চরিত্রের ছায়াপাত ঘটেছে।

-----------------
রবীন্দ্রনাথ রচিত অন্যান্য নাটক গুলো:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- তাসের দেশ,
- বৈকুন্ঠের খাতা
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- ডাকঘর,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা,
- নটীর পূজা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৬৮.
মৃত্যু পরবর্তী আবদুল কাদির রচিত প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) উত্তর বসন্ত
  2. খ) দিলরুবা
  3. গ) কবি নজরুল
  4. ঘ) লোকায়ত সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) লোকায়ত সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লোকায়ত সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• 'লোকায়ত সাহিত্য' প্রবন্ধ গ্রন্থের রচয়িতা আবদুল কাদির।
- এটি তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ। 
- এটি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে। 

আবদুল কাদির
- কবি, প্রাবন্ধিক, ছন্দ বিশারদ, সম্পাদক।
- ১৯০৬ সালের ১ জুন ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার আড়াইসিধা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক শিখা (১৯২৭) পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

তাঁর অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- বাংলা কাব্যের ইতিহাস,  
- কবি নজরুল,  
- কাজী আব্দুল ওদুদ। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- দিলরুবা (১৯৩৩), ও
- উত্তর বসন্ত (১৯৬৭)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৬৯.
চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত গ্রন্থ-
  1. ক) দীপ ও ধূপ
  2. খ) স্বপ্নসাধ
  3. গ) তোতা ইতিহাস
  4. ঘ) ছায়াময়ী
সঠিক উত্তর:
গ) তোতা ইতিহাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তোতা ইতিহাস
ব্যাখ্যা
চণ্ডীচরণ মুনশী ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙ্গালি লেখক এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাঙ্গলা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক।
তাঁর রচিত 'তোতা ইতিহাস' একটি উপাখ্যান যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।
'স্বপ্নসাধ' কাব্যের রচয়িতা হুমায়ুন কবির।
'দীপ ও ধূপ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কামিনী রায়।
'ছায়াময়ী' কাব্যের রচয়িতা হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৭০.
অযান্ত্রিক- এর রচিয়তা কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সুবোধ ঘোষ
  3. সমরেশ বসু
  4. নরেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
সুবোধ ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুবোধ ঘোষ
ব্যাখ্যা
- ‘অযান্ত্রিক’ সুবোধ ঘোষ রচিত একটি গল্প।
- বহুবিচিত্র চরিত্র ও অভিজ্ঞতার কোমল-মায়াময়-হৃদয়গ্রাহী গল্প লিখতেন সুবোধ ঘোষ।
- মানুষের সঙ্গে মানুষের এবং মানুষের সঙ্গে নিসর্গের বিবিধ অনুষঙ্গের সম্পর্ক নিয়ে অনেক লেখকই লিখেছেন; কিন্তু জড় পদার্থের সঙ্গেও যে মানুষের অপূর্ব সম্পর্ক তৈরি হতে পারে সেই বিষয়টি সাহিত্যে খুব সুলভ নয়। ‘অযান্ত্রিক’ এই গল্পটি সেই অদ্ভুত সম্পর্কের মনোগ্রাহী বিবরণ দিয়েছে।
- এই গল্পের কাহিনি অবলম্বনে একই নামে চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়।

সুবোধ ঘোষ রচিত অন্যন্য গল্পগুলো হলো:
- জতুগৃহ,
- পরশুরামের কুঠার,
- অযান্ত্রিক,
- সুন্দরম,
- কালপুরুষ,
- বারবধূ।

উৎস: কালের কণ্ঠ রিপোর্টস তারিখ: ২৯ অক্টোবর, ২০২০।
১,৭৭১.
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের রচনাকাল-
  1. ক) নবম থেকে দশম শতাব্দী
  2. খ) সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী
  3. গ) সপ্তম থেকে দশম শতাব্দী
  4. ঘ) দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী
সঠিক উত্তর:
খ) সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী
ব্যাখ্যা

- ধারণা করা হয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী কোন এক সময়ে চর্যাপদ রচিত হয়েছিল।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে ৬৫০-১২০০ (সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর) সালের মধ্যে রচিত।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে ৯৫০-১২০০ সালের (দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর) মধ্যে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১,৭৭২.
'শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে'- চরণটির রচয়িতা কে?
  1. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. যতীন্দ্র মোহন বাগচী
  4. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
মদনমোহন তর্কালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মদনমোহন তর্কালঙ্কার
ব্যাখ্যা
• 'শিশুগণ দেয় মন  নিজ নিজ পাঠে'- চরণটির রচয়িতা: 'মদনমোহন তর্কালঙ্কার'। 
-----------------
• মদনমোহন তর্কালঙ্কার: 
- মদনমোহন তর্কালঙ্কার কবি, সমাজসেবক।
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘চট্টোপাধ্যায়’ হলেও প্রাপ্ত উপাধি ‘তর্কালঙ্কার’ হিসেবেই তিনি সুপরিচিত। 
- মদনমোহন বিদ্যাসাগরের সহযোগিতায় ‘সংস্কৃত-যন্ত্র’ (১৮৪৭) নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন।
- সেখান থেকে ভারতচন্দ্রের  অন্নদামঙ্গল কাব্যটি সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হয়।

• তাঁর মৌলিক কাব্যগ্রন্থ: 
- রসতরঙ্গিণী, 
- বাসবদত্তা।

- তিন খণ্ডে প্রকাশিত তাঁর শিশু শিক্ষা শিশুদের উপযোগী একটি অনন্যসাধারণ গ্রন্থ;
- ‘পাখী সব করে রব রাতি পোহাইল’ এই বিখ্যাত উক্তিটি রচনা করেন তিনি।

- কবি-প্রতিভার জন্য  সংস্কৃত কলেজ থেকে তিনি ‘কাব্যরত্নাকর’ এবং পান্ডিত্যের জন্য ‘তর্কালঙ্কার’ উপাধি লাভ করেন।
- ১৮৫৮ সালের ৯ মার্চ  কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

পাখি-সব করে রব- কবিতা, 
– মদনমোহন তর্কালঙ্কার। 

পাখী-সব করে রব, রাতি পোহাইল।
কাননে কুসুমকলি, সকলি ফুটিল।।
রাখাল গরুর পাল, ল’য়ে যায় মাঠে।
শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে।।

ফুটিল মালতী ফুল, সৌরভ ছুটিল।
পরিমল লোভে অলি, আসিয়া জুটিল।।
গগনে উঠিল রবি, লোহিত বরণ।
আলোক পাইয়া লোক, পুলকিত মন।।

শীতল বাতাস বয়, জুড়ায় শরীর।
পাতায় পাতায় পড়ে, নিশির শিশির।।
উঠ শিশু মুখ ধোও, পর নিজ বেশ।
আপন পাঠেতে মন, করহ নিবেশ।।

উৎস: পাখি-সব করে রব- কবিতা, বাংলাপিডিয়া।
১,৭৭৩.
প্রেমেন্দ্র মিত্র কোন পত্রিকায় সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. ক) প্রগতি
  2. খ) পূর্বাশা
  3. গ) কবিতা
  4. ঘ) পরিচয়
সঠিক উত্তর:
গ) কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কবিতা
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনা সূত্রে সাথে যুক্ত ছিলেন।
- পত্রিকাটি  ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে। 
- এ পত্রিকায় শুধু কবিতা ও কবিতা বিষয়ক গদ্য ছাপা হতো।

• বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা- 
- প্রগতি (১৯২৭-১৯)
- কবিতা (১৩৪২-৪৭) 

• 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য - এই পত্রিকার জন্য তিনি স্মরনীয় হয়ে আছেন।
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা।
- এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৭৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধ 'পঞ্চভূত' কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. সাধনা
  2. ভারতী
  3. সবুজপত্র
  4. তত্ত্ববোধিনী
সঠিক উত্তর:
সাধনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধনা
ব্যাখ্যা
পঞ্চভূত:
১৮৯৭ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধগুলি সাধনা পত্রিকায় 'পঞ্চভূতের ডায়ারি' নামে ছাপা হয়।
ক্ষিতি, স্রোতস্বিনি, দীপ্তি, সমীর ও গগন এই পাঁচটি চরিত্রের মধ্যে আলোচনার রীতিতে মূলত তত্ত্ব বিষয়ক সমস্যার সরস ও গভীর বিশ্লেষণ।
- রঙ্গ-ব্যঙ্গ সাহিত্যের মধ্যেও কেউ কেউ ফেলেন ।
- আসলে রবীন্দ্রনাথের পরিবারের ৫ জন ব্যক্তির অভিজ্ঞতার আলোকে লিখিত হয়েছে।
- এটি ‘লেখক ভূতনাথ বাবু’ লেখক নামে সাধনা পত্রিকায় ‘পঞ্চভূতের ডায়েরি' নামে ছাপা হতো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৭৫.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনকাল কোনটি?
  1. ১৮২০ - ১৮৯১
  2. ১৮২৪ - ১৮৭৩
  3. ১৮৩৮ - ১৮৯৪
  4. ১৮৪৭ - ১৯১১
সঠিক উত্তর:
১৮২০ - ১৮৯১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮২০ - ১৮৯১
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনকাল - ১৮২০ - ১৮৯১

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

তাঁর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৭৭৬.
তোমার আমার ঘরই নাই,
তার আবার মানুষ’ - উক্তিটি 'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসে কে করেছেন?
  1. কিশোরের
  2. করমালীর
  3. মালো যুবক
  4. রামপ্রসাদের
সঠিক উত্তর:
করমালীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করমালীর
ব্যাখ্যা
‘তোমার আমার ঘরই নাই,
তার আবার মানুষ’ - উক্তিটি করমালীর।


• তিতাস একটি নদীর নাম:
- ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস। এটি প্রথম মাসিক ‘মোহাম্মদী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং লেখকের মৃত্যুর পর ১৯৫৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর সমাজের রীতিনীতি, ধর্ম-সংস্কার, উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- উপন্যাসটি ৪ খণ্ডে রচিত।
- উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, কিশোর, বাসন্তী ও করমালীর চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনি রূপ দিয়েছেন।
- উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র বাসন্তী এবং প্রধান পুরুষ চরিত্র কিশোর।
- ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক এর কাহিনি অবলম্বন করে একই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

• অদ্বৈত মল্লবমর্ণ:

- অদ্বৈত মল্লবমর্ণ ১৯১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গোকর্ণ গ্রামে মালো বংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন ঔপন্যাসিক।
- অদ্বৈত মল্লবর্মন ত্রিপুরা পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি 'নবশক্তি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- মোহাম্মদী পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন তিনি।

• উপন্যাসটির কিছু উক্তি:
• ‘তোমার আমার ঘরই নাই, তার আবার মানুষ।’- করমালীর উক্তি।
• ‘সে এখন পরের বাড়ির কাঁথা সিলাই করে, আর সে সুইয়ের ফোড় আমার বুকে আইয়া বিন্ধে।’- উক্তিটি করমালীর ।
• ‘হেই পুলা, তুই আমার নাওয়ে যাইবি? আমি খালে-বিলে জাল লইয়া ঘুরি, মাছ ধরি- মাছ বেচি, নাওয়ে রান্ধি-নাওয়ে খাই।’ উক্তিটি কিশোরের।
• ‘মনের মত মানুস পাইলাম না।’ উক্তিটি জনৈক মালো যুবক।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলো হলো:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১,৭৭৭.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা'র প্রভাব রয়েছে নিচের কোন প্রহসনে?
  1. এর উপায় কি
  2. টালা অভিনয়
  3. ফাঁস কাগজ
  4. কমলে কামিনী 
সঠিক উত্তর:
এর উপায় কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এর উপায় কি
ব্যাখ্যা

'এর উপায় কি' প্রহসন: 
- 'এর উপায় কি' মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন। 
- উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোক যে স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদ ও পতিতাবৃত্তিতে আকৃষ্ট হয়ে নানা ধরনের অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল-লেখক এই প্রহসনে সে রকম একটি ঘটনাই তুলে ধরেছেন। 
- এই প্রহসনে মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা'র প্রভাব রয়েছে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- রাধাকান্ত,
- স্ত্রী মুক্তকেশী,
- নয়নতারা,
- ইয়ার মদন প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৭৭৮.
'একালে আমাদের কাল' - গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. শহীদুল্লা কায়সার
  2. সেলিনা হোসেন
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. সুফিয়া কামাল
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

'একালে আমাদের কাল' আত্মজীবনীটির রচয়িতা - সুফিয়া কামাল

সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। 
- তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
- 'সওগাত' সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম ‘ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন’-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৭৭৯.
‘মোদের গরব মোদের আশা আ-মরি বাংলা ভাষা’ - এর রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. রামনিধি্ গুপ্ত
  4. অতুল প্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
অতুল প্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতুল প্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
- 'মোদের গরব মোদের আশা / আ-মরি বাঙলা ভাষা' - গানটির রচয়িতা: 'অতুলপ্রসাদ সেন'। 
- গানটি ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়বাদী আন্দোলনকারীদের মনে উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিল।

অতুলপ্রসাদ সেন:
- অতুলপ্রসাদ সেন ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি, গীতিকার ও গায়ক ছিলেন।
- তিনি সর্বপ্রথম বাংলা গানে ঠুমরি আমদানি করেন।
- 'মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা' তাঁর রচিত বিখ্যাত গান।
- 'কয়েকটি গান ও গীতিগুচ্ছ' তাঁর গানের সংকলন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,৭৮০.
জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ঝরা পালক
  2. বেলা অবেলা কালবেলা
  3. বাংলার রূপ
  4. মহাপৃথিবী
সঠিক উত্তর:
বাংলার রূপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলার রূপ
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ:
- বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিকা
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ রচিত সুপরিচিত কবিতা আদর্শ ছেলে (আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে/কথায় না বড় হয়ে কাজে বড়ো হবে) আজও শিশুশ্রেণির পাঠ্য।
- জীবনানন্দ দাশ ১৯৫৫ সালে কলকাতায় এক ট্রাম দুর্ঘটনায় আহত হন, পরে ২২ অক্টোবর মারা যান।
- তিনি ব্রহ্মবাদী' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম কাব্য- ঝরা পালক।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহা পৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির, 
- বেলা অবেলা কালবেলা(এটি তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়),
- রূপসী বাংলা (এটি তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়)।

উল্লেখ্য,
জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ নয় - বাংলার রূপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৮১.
‘মানচিত্র’- কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. খ) আবুল মনসুর
  3. গ) কাজী ইমদাদুল হক
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থঃ মানচিত্র, সাজঘর, শ্রেষ্ঠ কবিতা, চোখ, লেলিহান পাণ্ডুলিপি, সূর্য জ্বালার স্বপন। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
১,৭৮২.
বাংলা সাহিত্যে আধুনিক যুগের সূচনা কোন শতক থেকে?
  1. ক) বিংশ শতক
  2. খ) সতের শতক
  3. গ) আঠারো শতক
  4. ঘ) উনিশ শতক
সঠিক উত্তর:
ঘ) উনিশ শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উনিশ শতক
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনা হয় ১৮০১ সাল থেকে বা উনিশ শতক থেকে
১২০১ সাল বা তের শতক থেকে ১৮০০ বা আঠারো শতক পর্যন্ত হলো মধ্যযুগ। এর মধ্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল হলো অন্ধকার যুগ।
প্রাচীন যুগ ধরা হয় ৬৫০ থেকে ১২০০ সাল পর্যন্ত সময়কে।
মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সন্ধিক্ষণের কবি বলা হয় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে
(সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)

১,৭৮৩.
ফররুখ আহমদ-কে কি বলা হয়?
  1. নৌফেল ও হাতেম
  2. মুসলিম রেনেসাঁর কবি
  3. হাতেমতাই
  4. মুসলিম কবি 
সঠিক উত্তর:
মুসলিম রেনেসাঁর কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুসলিম রেনেসাঁর কবি
ব্যাখ্যা

• ফররুখ আহমদ:
- একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কবি। ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- ফররুখ আহমদ 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি' বা 'মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
- তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ।
- পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।
- হাতেমতায়ী কাহিনিকাব্যের জন্যে তিনি আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- পাখির বাসা গ্রন্থের জন্যে ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনিরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- হাতেমতায়ী,
- হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি।

• তাঁর শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- ছড়ার আসর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৭৮৪.
কোন যুগে বাংলা সাহিত্যে গদ্যসাহিত্যের উদ্ভব ঘটে?
  1. মধ্যযুগে
  2. আধুনিক যুগে
  3. প্রাচীন যুগে
  4. চর্যাযুগে
সঠিক উত্তর:
আধুনিক যুগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধুনিক যুগে
ব্যাখ্যা
আধুনিক যুগে বাংলা সাহিত্যের গদ্যসাহিত্যের উদ্ভব ঘটে।

- বাংলা সাহিত্যে আধুনিক যুগের আগে যে সাহিত্য রচিত হয়েছে তা ছিল মূলত কবিতা বা পদ্য নির্ভর।
- উনবিংশ শতাব্দী থেকে বাংলা সাহিত্যে মূলগত যে বৈশিষ্ট্য পরিদৃষ্ট হয় তা সূত্রাকারে লিপিবদ্ধ করা হলো:
১. গদ্যসাহিত্যের উদ্ভব
২. সাময়িকপত্রের আবির্ভাব
৩. নাট্যসাহিত্যের জন্ম
৪. প্রবন্ধ (চিন্তামূলক) সাহিত্যের সৃষ্টি ইত্যাদি।
- এ সময় প্রথাগত কবিতার বদলে কাব্যক্ষেত্রে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং পাশ্চাত্য প্রভাব অঙ্গীভূত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুল আলম।
১,৭৮৫.
‘গন্ধবণিক’ কী ধরনের রচনা?
  1. ক) নাটক
  2. খ) কবিতা
  3. গ) গল্প
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
গ) গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গল্প
ব্যাখ্যা

'গন্ধবণিক 'আল মাহমুদ রচিত গল্পগ্রন্থ। প্রকাশিত হয়, ১৯৮৬ সালে।

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৭৮৬.
গদ্য সাহিত্য প্রকৃতপক্ষে কোন যুগের সৃষ্টি?
  1. প্রাচীন যুগ
  2. অন্ধকার যুগ
  3. মধ্যযুগ
  4. আধুনিক যুগ
সঠিক উত্তর:
আধুনিক যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধুনিক যুগ
ব্যাখ্যা

• গদ্য সাহিত্য রচনার সূচনা:
- উনিশ শতকের (১৮০০-১৮৯৯) শুরুতে বাংলা ভাষার গদ্য সাহিত্য রচনা শুরু হয়।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনা হিসেবে ধরা হয়।
- ১৮০১ থেকে আধুনিক যুগের সূচনা হয়।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা, বাংলা বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং আধুনিক চিন্তার কারণে বাংলা সাহিত্যে আধুনিক ধারা তরান্বিত হয়। 
- কাব্য, ছড়া, পালা প্রাচীন ও মধ্যযুগের সৃষ্টি।
- কিন্তু নাটক, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ, গদ্য, সাময়িকপত্র আধুনিক যুগের সৃষ্টি।

উল্লেখ্য, 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়। 
- বাংলা গদ্যকে সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও বহুমুখী প্রকাশক্ষম করার প্রধান কৃতিত্ব ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের।
- এজন্য তাকে "বাংলা গদ্যের জনক" বলা হয়।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
- বাংলাপিডিয়া।

১,৭৮৭.
'অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন’ - কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. রাইফেল রোটি আওরাত
  2. যাত্রা
  3. জাহান্নম হইতে বিদায়
  4. নেকড়ে অরণ্য
সঠিক উত্তর:
রাইফেল রোটি আওরাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইফেল রোটি আওরাত
ব্যাখ্যা
'রাইফেল রােটি আওরাত' উপন্যাস:
- 'রাইফেল রােটি আওরাত' (১৯৭৩) আনােয়ার পাশা রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
- এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলাে হচ্ছে - ড. খালেক, ড. মালেক, ছাবেদ আলী, হাসমত, জামাল সাহেব প্রমুখ।
- উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধকালীন রচিত এবং ১৯৭৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,৭৮৮.
স্বৈরশাসনকে ব্যাঙ্গ করে সেলিম আল দীন রচিত নাটক কোনটি?
  1. মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
  2. নিমজ্জন
  3. হরগজ
  4. চাকা
সঠিক উত্তর:
মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
ব্যাখ্যা

• 'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি' নাটক:
- 'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি' নাটকটির রচয়িতা বাংলাদেশের অন্যতম নাট্যকার সেলিম আল দীন।
- প্রথমেই বলা দরকার রচনাকালে নাটকের নাম 'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি' থাকলেও কয়েক বছর পর নাট্যকার এর নাম থেকে 'ফ্যান্টাসি' শব্দটি বাদ দেন।
- স্বৈরশাসনকে ব্যাঙ্গ করে সেলিম আল দীন রচনা করেন 'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি' নাটকটি। এই নাটকে বিশ শতকের আশির দশকের স্বৈরশাসকের কবল থেকে দেশের কিছুই যে রক্ষিত হচ্ছিল না, সেই চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে।
- হাস্যরসের মাধ্যমে সেলিম আল দীন দেখিয়েছেন সেনা ও স্বৈরশাসকেরা দেশের প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে সঙ্গে শুভবোধ ও সংস্কৃতিকেও ধ্বংস করে।

---------------------
• সেলিম আল দীন:
- সেলিম আল দীন ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন। কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান, তাহিতি' ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়।
- একই বছর ডাকসু মঞ্চস্থ করে 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' এবং নাট্য প্রতিযোগিতাতেও নাটকটি প্রথম পুরস্কার পায়।
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৭৮৯.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) উপমহাদেশ
  2. খ) সূর্য তুমি সাথী
  3. গ) নিহত নক্ষত্র
  4. ঘ) জাগ্রত বাংলাদেশ
সঠিক উত্তর:
ঘ) জাগ্রত বাংলাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জাগ্রত বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
'জাগ্রত বাংলাদেশ' প্রবন্ধের রচয়িতা আহমদ ছফা। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম গ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালে।
তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধ- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস, বাঙালি মুসলমানের মন, শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য প্রবন্ধ, সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস ইত্যাদি।
সূর্য তুমি সাথী তাঁর প্রথম উপন্যাস। নিহত নক্ষত্র তাঁর রচিত গল্পসংগ্রহ এবং উপমহাদেশ উপন্যাসের রচয়িতা আল মাহমুদ।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১,৭৯০.
আলালি বা হুতোমি ভাষা বলা হয় কোন ভাষাকে ?
  1. ক) সাধু
  2. খ) চলিত
  3. গ) ইংরেজি
  4. ঘ) সংস্কৃত
সঠিক উত্তর:
খ) চলিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চলিত
ব্যাখ্যা
আলালি বা হুতোমি ভাষা বলা হয় - চলিত ভাষাকে।

প্যারীচাঁদের অনুসরণে বাংলা ভাষাকে আরও গণমুখী করেন কালীপ্রসন্ন সিংহ।
কলকাতা এবং তৎসংলগ্ন এলাকার মৌখিক ভাষাকে তিনি সার্থকভাবে তাঁর রচনায় প্রয়োগ করেন।
তাঁর ‘হুতোম প্যাচার নকশা’ (১৮৬২) উপন্যাসে ব্যবহৃত ভাষারীতি প্যারীচাঁদের ভাষার চেয়ে মার্জিততর।
এ গ্রন্থে চলিত ভাষায় সরস ব্যঙ্গবিদ্রূপের মাধ্যমে কলকাতার সমাজজীবন চিত্রিত হয়েছে।
স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের কারণে তাঁর ভাষা ‘হুতোমি ভাষা’ নামে পরিচিত, যা পরবর্তী শতকের গদ্যরচনায় বিশেষ প্রভাব ফেলে।

প্যারীচাঁদ মিত্রের কথ্যরীতিতে গদ্য-পদ্য রচনা, প্রচুর তদ্ভব এবং চলিত ফারসী শব্দের ব্যবহার এবং ক্রিয়া পদে সাধু ও কথ্য ভাষার মিশ্রণ তার গদ্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল। তাঁর লেখা বই আলালের ঘরে দুলাল এই গদ্যের ব্যবহার করা হয়েছিল যার জন্য এর নাম হয়ে যায় ‘আলালী ভাষা’। টেকচাঁদ ঠাকুর যেমন ‘আলালী’ ভাষায় ক্রিয়া পদের সাধু ও চলিত রূপের ব্যবহার করেছিলেন কালীপ্রসন্ন সিংহ প্রায় একই সময়ে লেখা হুতোম প্যাঁচার নকশায় তা করেন নি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৭৯১.
'কর্ণফুলী' উপন্যাস রচনা করে কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. আহসান হাবীব
  3. আবু ইসহাক
  4. আবু জাফর শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
'কর্ণফুলী' উপন্যাস:
- সাহিত্যিক আলাউদ্দিন আল আজাদের বিখ্যাত উপন্যাস কর্ণফুলী।
- তাঁর 'কর্ণফুলী' উপন্যাস পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস। উপন্যাসে চাকমা উপজাতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
- আদিবাসী রাঙ্গামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবন যাপন ও প্রণয় এ উপন্যাসে বর্ণিত।
- উপজাতীযর জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত চাকমাদের জীবন সংগ্রামের চিত্র এ উপন্যাসের উপজীব্য। এতে চাকমা ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক ছিলেন।
- জন্ম ৬ মে ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সসহ স্নাতক (১৯৫৩) ও স্নাতকোত্তর (১৯৫৪)।
-তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসটির বিষয়বস্ত্ত অবলম্বনে বসুন্ধরা নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সুভাষ দত্ত।

আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- কর্ণফুলী,
- শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন,
- ক্ষুধা ও আশা,
- শ্যামল ছায়ার সংবাদ।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৯২.
'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' উপন্যাসটি কার রচিত?
  1. ক) শওকত আলী
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) মীর মশাররফ হোসেন
  4. ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
গ) মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- লেখক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি এবং সেই সমাজভুক্ত মানুষগুলাের নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্ব ও হৃদয়হীন আচরণ তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- লেখক নিজেকে ‘ভেড়াকান্ত' নামে উল্লেখ করেছেন।
- তাছাড়া আলকাতরা সান্যাল, কটা পেস্কার, জয়ঢাক, ছিড়িয়া খাতুন, অরাজকপুর, নচ্ছারপুর, জমদ্বারগ্রাম ইত্যাদি নামচয়নের মধ্যেও লেখকের ব্যঙ্গের তীব্রতা লক্ষ করা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৭৯৩.
নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) শঙ্খনীল কারাগার
  2. খ) জোছনা ও জননীর গল্প
  3. গ) আগুনের পরশমণি
  4. ঘ) মাতাল তরণী
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাতাল তরণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাতাল তরণী
ব্যাখ্যা
‘মাতাল তরণী’ হুমায়ুন আজাদ রচিত প্রবন্ধ। [সূত্র: LiveMCQ লেকচার]
১,৭৯৪.
বাংলাদেশের রণসংগীতটি সর্বপ্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) জন্মভূমি
  2. খ) যুগবাণী
  3. গ) শিখা
  4. ঘ) দৈনিক নবযুগ
সঠিক উত্তর:
গ) শিখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শিখা
ব্যাখ্যা

- ঢাকার শিখা পত্রিকায় ১৯২৮ বার্ষিক সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশকালে এর শিরোনাম ছিল ‘নতুনের গান’। পরে এর নাম হয় চল চল চল।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৭৯৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যিক ছদ্মনাম কোনটি?
  1. সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
  2. অনুরূপা দেবী
  3. দিকশূণ্য ভট্টাচার্য
  4. পরশুরাম
সঠিক উত্তর:
দিকশূণ্য ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিকশূণ্য ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন। এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূণ্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা, 
- শ্রীমতি মধ্যমা।

অন্যদিকে, 
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৯৬.
Who has written the famous novel 'Pather Panchali'?
  1. ক) Satyjit Ray
  2. খ) Bibhutibhushan Bandyopadhyay
  3. গ) Chintha Lakshmi Smhaarachchi
  4. ঘ) K. Roy and Margaret Chatterjee
সঠিক উত্তর:
খ) Bibhutibhushan Bandyopadhyay
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Bibhutibhushan Bandyopadhyay
ব্যাখ্যা
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস পথের পাঁচালী।
এই উপন্যাসের দ্বিতীয় খন্ড অপরাজিত ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়।
পথের পাঁচালী উপন্যাস নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন সত্যজিৎ রায়।

প্রধান চরত্রিগুলো হলো :
- অপু
- সর্বজায়া
- হরিহর
- অপর্ণা

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১,৭৯৭.
'সোনালী কাবিন' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) হাসান হাফিজুর রহমান
  2. খ) আল-মাহমুদ
  3. গ) হুমায়ুন আজাদ
  4. ঘ) শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
খ) আল-মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আল-মাহমুদ
ব্যাখ্যা
'সোনালী কাবিন' কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ।

আল মাহমুদ(১৯৩৬ –২০১৯):
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মির আবদুল শুকুর আল মাহমুদ।
-  তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে দৈনিক গণকণ্ঠ (১৯৭২-১৯৭৪) পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- 'সোনালি কাবিন' তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর (১৯৬৩)
- কালের কলস (১৯৬৬)
 - সোনালী কাবিন (১৯৭৩)
- বখতিয়ারের ঘোড়া(১৯৮৪) 
- অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না(১৯৮০)
- পাখির কাছে ফুলের কাছে
- প্রেমের কবিতা

২০১৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ৮২ বছর বয়সে ঢাকার ধানমণ্ডির ইবনে সিনা হাসপাতা‌লে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৯৮.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ
  2. খ) সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  3. গ) বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত গ্রন্থঃ
- অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১,৭৯৯.
'মনীষা মঞ্জুষা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?  
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. মুহম্মদ এনামুল হক
  3. ড. মুহাম্মদ আবদুল হাই
  4. সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ এনামুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ এনামুল হক
ব্যাখ্যা

• 'মনীষা মঞ্জুষা' গ্রন্থ:
- 'মনীষা মঞ্জুষা' মুহম্মদ এনামুল হকের একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ, যেখানে সাহিত্য, সংস্কৃতি, দর্শন, এবং সমাজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
- গ্রন্থটিতে মুহম্মদ এনামুল হক বাংলা সাহিত্যের ঐতিহ্য, মধ্যযুগীয় সাহিত্য, ভাষার বিবর্তন, এবং সমসাময়িক সাহিত্যিক প্রবণতার উপর আলোকপাত করেছেন। এছাড়াও, বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ রয়েছে।

--------------------
• মুহম্মদ এনামুল হক:
- মুহম্মদ এনামুল হক ১৯০২ সালে বর্তমান চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য গবেষণায় অন্যতম প্রধান পন্ডিত ব্যক্তি।
- মুহম্মদ এনামুল হক মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য ও ইতিহাস এবং বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ বিষয়ে দুরূহ গবেষণা কর্মে বিশেষ অবদান রেখেছেন।
- ১৯২৯ হতে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি পেয়ে এনামুল হক অধ্যাপক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের অধীনে গবেষণা করেন।
- তাঁর গবেষণার বিষয়বস্তু ছিল 'History of Sufism in Bengal'।
- বাংলা একাডেমি তাঁর নামে 'মুহম্মদ এনামুল হক সাহিত্য পদক' প্রচলন করে।
- ১৯৮২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

মুহম্মদ এনামুল হক রচিত গ্রন্থ:
- আরাকান রাজসভায় বাঙ্গালা সাহিত্য,
- মনীষা মঞ্জুষা,
- ঝর্ণাধারা (১৯২৮, কবিতা সংকলন),
- বঙ্গে সূফী প্রভাব (১৯৩৫),
- ব্যাকরণ মঞ্জুরি (১৯৫২)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৮০০.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) চিলেকোঠার সেপাই
  2. খ) অন্য ঘরে অন্য স্বর
  3. গ) খোয়াবনামা
  4. ঘ) রাইফেল রোটি আওরাত
সঠিক উত্তর:
খ) অন্য ঘরে অন্য স্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অন্য ঘরে অন্য স্বর
ব্যাখ্যা
• কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ 'অন্য ঘরে অন্য স্বর'।
গ্রন্থটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থের গল্পগুলো ১৯৬৫ - ১৯৭৫ সালের মধ্যে রচিত।
এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য গল্প - নিরুদ্দেশ যাত্রা, উৎসব, ফেরারী, প্রতিশোধ, অন্য ঘরে অন্য স্বর ইত্যাদি।
তাঁর রচিত আরো কয়েকটি গল্পগ্রন্থ,-
-খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,-
- দোজখের ওম ইত্যাদি।

• অন্যদিকে, 
- 'চিলেকোঠার সেপাই', 'খোয়াবনামা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস' রচিত উপন্যাস। 
- 'রাইফেল রোটি আওরাত' আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।