বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৬৬ / ১৭৪ · ১৬,৫০১১৬,৬০০ / ১৭,৪৩৭

১৬,৫০১.
'পথে প্রবাসে' কার রচনা?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
• 'পথে প্রবাসে' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা — অন্নদাশঙ্কর রায়।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।
----------------------
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- অন্নদাশঙ্কর রায় একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- অন্নদাশঙ্কর রায় 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।

• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

• উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনী:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫০২.
গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস 'জাল' এর রচয়িতা কে?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. আবু ইসহাক
  3. আবদুল মানান সৈয়দ
  4. আবদুল কাদির
সঠিক উত্তর:
আবু ইসহাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
• আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস 'জাল'। 

• 'জাল' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস 'জাল'।
- উপন্যাসটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে রচিত।
- ১৯৫০ সালে সরকারি কর্মকর্তা থাকাকালীন সময়ে 'জাল নোট' এর কয়েকটা মামলার তদন্তের ভার পড়েছিলো লেখকের ওপর।
- সেই অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করেই তাঁর 'জাল' উপন্যাসটি রচিত।
=============== 
• আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক কথাসাহিত্যিক ও একজন অভিধান-প্রণেতা৷
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি'।
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।

• তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ:
- 'হারেম ও
- মহাপতঙ্গ।

• তাঁর রচিত একমাত্র নাটক:
- জয়ধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘জাল’ উপন্যাসের ভূমিকা; বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫০৩.
শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় কোন পত্রিকা সম্পাদনার করেন?
  1. ক) সন্দেশ
  2. খ) সাহিত্য পত্রিকা
  3. গ) বিচিত্রা
  4. ঘ) কল্লোল
সঠিক উত্তর:
ক) সন্দেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সন্দেশ
ব্যাখ্যা
শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায়ের জন্ম ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায়।
-  বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত  চলচ্চিত্রকার  সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।
- পিতার মৃত্যুর পর তিনি পিতৃপ্রতিষ্ঠিত সন্দেশ পত্রিকা পরিচালনা ও সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন। বিলেতে থাকা অবস্থায় তিনি এ পত্রিকার জন্য নিয়মিত গল্প, কবিতা ও নিজের আঁকা ছবি পাঠাতেন। 
- সুকুমার রায় প্রেসিডেন্সিতে ছাত্র থাকাকালে ‘ননসেন্স ক্লাব’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন, যার মুখপত্র ছিল সাড়ে-বত্রিশ-ভাজা।


উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫০৪.
'রুপজালাল' কোন জাতীয় রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) কাব্য
  4. ঘ) আত্মজীবনী
সঠিক উত্তর:
ঘ) আত্মজীবনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আত্মজীবনী
ব্যাখ্যা
- 'রুপজালাল' নওয়াব ফয়জুন্নেসার গদ্য ও কবিতায় আত্মজীবনীমূলক রচনা।  

• নবাব ফয়জুন্নেসা:
- জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি নবাব ফয়জুন্নেসা কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফয়জুন্নেসা জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন। 
- ফয়জুন্নেসার জনহিতৈষণার পুরস্কারস্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি 'নবাব' উপাধি লাভ করেন।
-  বান্ধব, ঢাকা প্রকাশ, মুসলমান বন্ধু, সুধাকর, ইসলাম প্রচারক প্রভৃত বাংলা পত্রপত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
- সাহিত্যিক হিসেবেও ফয়জুন্নেসার পরিচিতি রয়েছে।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা। এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনী স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫০৫.
‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
  2. খ) তারাচরণ শিকদার
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) দাউদ হায়দার
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• ‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটক:
‘চন্দ্রগুপ্ত’ (১৯১১) দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত জনপ্রিয় নাটক। গ্রিক-ভারতীয় সম্পর্কের ইতিহাসের একটি বিশেষ মুহূর্তকে এই নাটকের পটভূমি করা হয়েছে। এই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র চাণক্যের মধ্যে কাঠিন্য এবং কোমলতার বিপরীত সমাবেশ, দেশপ্রেমের উদ্দীপ্তি এবং ভাষার আড়ম্বর এই তিনদিক থেকে বাংলা নাটকের ইতিহাসে ‘চন্দ্রগুপ্ত’ বিশেষভাবে আলোচিত হয়।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩) কবি, নাট্যকার, গীতিকার। ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। 
• দ্বিজেন্দ্রলাল কৈশোরেই কাব্যচর্চা শুরু করেন। ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা (১ম ভাগ, ১৮৮২) এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়। ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।

দ্বিজেন্দ্রলালের উলে­খযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
• কাব্য:
- আর্য্যগাথা,
- আলেখ্য,
- ত্রিবেণী।

• নকশা-প্রহসন:
- একঘরে,
- সমাজ-বিভ্রাট ও কল্কি অবতার,
- ত্র্যহস্পর্শ,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- পুনর্জন্ম।

• পৌরাণিক নাটক:
- পাষাণী,
- সীতা,
- ভীষ্ম।

• সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,৫০৬.
'বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ অপাঠ্য' কে বলেছেন?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
• ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম। 
• ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
• ১৯৪৫-৪৯ সময়কালে তিনি স্টেটসম্যান পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। 
• সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম। ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। 
• বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান। তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।

⇒ মধ্যযুগে মঙ্গলকাব্যের বার বার পুনঃরচনা দেখে মধ্যযুগের উপর ভীষণ বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন আধুনিককালের কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।
⇒ তিনি বলেছিলেন 'বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ অপাঠ্য'।


তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি: কাব্যগ্রন্থ-
- তন্বী,
- অর্কেস্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- দশমী।

• গদ্যগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ ।

• এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫০৭.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস তাঁর কোন উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’ লাভ করেন?
  1. দোজখের ওম
  2. চিলেকোঠার সেপাই
  3. খোয়াবনামা
  4. খোঁয়ারি
সঠিক উত্তর:
খোয়াবনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খোয়াবনামা
ব্যাখ্যা
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৫) লাভ করেন। 

---------------------
• 'খোয়াবনামা' উপন্যাস:

আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের 'খোয়াবনামা' উপন্যাসে তেভাগা আন্দোলন, দেশবিভাগ, পলাশীর যুদ্ধ, সিপাহি বিদ্রোহ, ফকির বিদ্রোহ প্রভৃতি আন্দোলন-সংগ্রাম ঐতিহাসিক ঘটনার সংমিশ্রণ ঘটেছে।

বগুড়ার কাৎলাহার ও এর আশপাশের মানুষের কাহিনি রূপলাভ করেছে খোয়াবনামা উপন্যাসে। কাৎলাহার বিল ও তার পাশের গ্রাম গিরিরডাঙা, নিজগিরির ডাঙ্গা ও গোলাবাড়ি হাট প্রভৃতি স্থানের লোকায়ত চেতন-অবচেতন জগতের সঙ্গে ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ঘটনা উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে।

ভারত ভাগ হয়ে গঠিত হয় নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তান। পাকিস্তানি শাসকেরা নতুন আইন তৈরি করে। দেশবিভাগের পর ঘটে মানবিক বিপর্যয়। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানসের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি, সংগ্রাম, স্বপ্নভঙ্গ, গ্রামীণ ও শহুরে জীবনের রাজনৈতিক প্রতিঘাতও পাকিস্তানের সহযোগীদের চরিত্র উন্মোচনে লেখকের প্রগতিশীল মননের পরিচয় ফুটে উঠেছে।

তেভাগা প্রসঙ্গের রূপায়ণে ইলা মিত্রের সংগ্রামী জীবনের প্রসঙ্গ গ্রামের অশিক্ষিত মানুষের কথাবার্তায় উদাহরণ হিসেবে এসেছে। তমিজের বাবা, দাদা-পরদাদা, চেরাগ আলী, বাঘার মাঝি, কুলসুম, শরাফত ম-ল, কেরামত, ফুলজান, বৈকুণ্ঠের কাহিনি; অন্যদিকে দেশভাগ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশত্যাগ, রিফিউজি আগমন, তেভাগা আন্দোলনের বিবরণ, ৫৯টি পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'খোয়াবনামা' উপন্যাস।
১৬,৫০৮.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সাহিত্য সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারি' প্রকাশিত হয় কবে?
  1. ক) ১৯৫২ সালে
  2. খ) ১৯৫৩ সালে
  3. গ) ১৯৫৪ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৫ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৩ সালে
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সাহিত্য সংকলন- “একুশে ফেব্রুয়ারি” (মার্চ, ১৯৫৩) সম্পাদনা করেন হাসান হাফিজুর রহমান।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৩ সালে। 

- তাঁর সম্পাদনায় বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের “বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র” প্রকাশিত (১৯৮২-৮৩) হয়।      
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ: বিমুখ প্রান্তর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
১৬,৫০৯.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক কোনটি?
  1. শকুন্তলা
  2. ভদ্রার্জুন
  3. রাবণবধ
  4. শর্মিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
শর্মিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
শর্মিষ্ঠা নাটক: 
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক- শর্মিষ্ঠা। 
- তিনি মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনী অবলম্বনে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক। 
- এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার। 
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে নাটকটি প্রকাশিত ও একই সালের ৩রা সেপ্টেম্বর বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়। 
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- যযাতি, দেবযানি, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ। 

অন্যদিকে,
- বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থ - শকুন্তলা।
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম নাটক - ভদ্রার্জুন। ১৮৫২ সালে তারাচরণ শিকদারের ‘ভদ্রার্জুন’ নাটক প্রকাশিত হয়।
- 'রাবণ বধ' রচনা করেন গঙ্গেশকুমার চট্টোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১৬,৫১০.
‘অনলপ্রবাহ’ রচনা করেন -
  1. মোজাম্মেল হক
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
• 'অনল প্রবাহ' কাব্যগ্রন্থ:
- এটি তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ এবং প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে ব্রিটিশ সরকার তা বাজেয়াপ্ত করেছিল।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলোর মধ্যে: অনল প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্চ্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ, মরক্কো সংকটে উল্লেখযোগ্য।
-------------------- 
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী: 
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
- তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)।
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- অনল প্রবাহ, 
- আকাঙ্ক্ষা, 
- উচ্ছ্বাস, 
- উদ্বোধন, 
- নব উদ্দীপনা, 
- স্পেন বিজয় কাব্য, 
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী। 

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- রায়নন্দিনী, 
- তারাবাঈ, 
- ফিরোজা বেগম, 
- নূরুদ্দীন। 

তাঁর রচিত  প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন, 
- স্পেনীয় মুসলমান সভ্যতা। 

ভ্রমণ কাহিনী: 
 -তুরস্ক ভ্রমণ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫১১.
"তিলোত্তমা" চরিত্রটির স্রষ্টা কে? 
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

দুর্গেশনন্দিনী:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- দুর্গেশনন্দিনীর শব্দের অর্থ প্রধানের কন্যা।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা

উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- বীরেন্দ্র সিংহ,
- ওসমান,
- জগৎসিংহ,
- তিলোত্তমা,
- আয়েশা,
- বিমলা প্রমুখ।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৫১২.
১৯৪৪ এর দুর্ভিক্ষের ভিত্তিতে ফররুখ আহমদ রচিত কবিতা কোনটি?
  1. লাশ
  2. ডাহুক
  3. সাত সাগরের মাঝি
  4. পাঞ্জেরি
সঠিক উত্তর:
লাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাশ
ব্যাখ্যা

• "লাশ" কবিতা ও পটভূমি:
- ফররুখ আহমদের "লাশ" কবিতাটি ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে রচিত। এই কবিতায় কবি দুর্ভিক্ষের কারণে সৃষ্ট দুর্দশা ও অসহায় মানুষের করুণ পরিণতি ফুটিয়ে তুলেছেন। 'লাশ' কবিতাটি লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- কবিতাটি ফররুখ আহমদের 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।

লাশ
ফররুখ আহমদ
যেখানে প্রশস্ত পথ ঘুরে গেল মোড়,
কালো পিচ-ঢালা রঙে লাগে নাই ধূলির আঁচড়,
সেখানে পথের পাশে মুখ গুঁজে প'ড়ে আছে জমিনের 'পর;
সন্ধ্যার জনতা জানি কোনদিন রাখে না সে মৃতের খবর।

----------------------
ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে 'লাশ' কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৫১৩.
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী নিয়ে লেখা উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
  2. খ) ক্ষুধা ও আশা
  3. গ) কর্ণফুলী
  4. ঘ) ধানকন্যা
সঠিক উত্তর:
গ) কর্ণফুলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব।
- নগরজীবনের কৃত্রিমতা, রাজনীতিক সংগ্রাম, নিপীড়ন, প্রতারণা তিনি তাঁর কথাসাহিত্যের বিষয়বস্তু করেছেন।

• তার রচিত বিখ্যাত উপন্যাস কর্ণফুলী।
- উপন্যাসটির প্রকাশকাল - ১৯৬২ সাল।
- এই উপন্যাসে বিশেষ অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাপনের বর্ণনা রয়েছে।
- আলাউদ্দিন আল আজাদের 'কর্ণফুলী' পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস।
- আদিবাসী (ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী) রাঙামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবন যাপন ও প্রণয় উপন্যাসে বর্ণিত।
- ইসমাইল চোরাকারবারি, উচ্চাভিলাসী। সে আদিবাসি তরুণী রাঙালিমার প্রতি আকৃষ্ট হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০),
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন (১৯৬২),
- ক্ষুধা ও আশা (১৯৬৪),
- খসড়া কাগজ (১৯৮৬),
- স্বপ্নশিলা (১৯৯২),
- বিশৃঙ্খলা (১৯৯৭)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৫১৪.
গুপ্ত কবি কে?
  1. ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. গ) বিরারীলাল চক্রবর্তী
  4. ঘ) ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর
সঠিক উত্তর:
খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯) যুগসন্ধিক্ষণের কবি।
ছদ্মনাম : ভ্রমণকারী বন্ধু
উপাধি : যুগসন্ধিক্ষণের কবি, গুপ্ত কবি, সাংবাদিক কবি।
সম্পাদনা : সংবাদ প্রভাকর। এটি বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক। ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দে সপ্তাহিক হিসেবে যাত্রা করে এবং ১৮৩৯ খ্রিষ্টাব্দে দৈনিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। 
ঈশ্বরগুপ্তের সাহিত্যকর্ম : প্রবোধ প্রভাকর (১৮৫৮) এবং  হিত প্রভাকর (১৮৬১), এটি গদ্যে-পদ্যে লেখা গল্প। 
বিখ্যাত কবিতা : স্বদেশ, নীলকর, আনারস, পাঁঠা, তপসে মাছ, কে, বাঙালির মেয়ে। 

উৎস : রবীন্দ্র রচনাবলি, রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
১৬,৫১৫.
'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. ডি. এল. রায়
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' কবিতার রচয়িতা জীবনানন্দ দাশ।

এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে
জীবনানন্দ দাশ
এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে—সবচেয়ে সুন্দর করুণ :
সেখানে সবুজ ডাঙা ভ’রে আছে মধুকূপী ঘাসে অবিরল;
সেখানে গাছের নামঃ কাঁঠাল, অশ্বত্থ, বট, জারুল, হিজল;
সেখানে ভোরের মেঘে নাটার র’ঙের মতো জাগিছে অরুণ;
সেখানে বারুণী থাকে গঙ্গাসাগরের বুকে,—সেখানে বরুণ
কর্ণফুলী ধলেশ্বরী পদ্মা জলাঙ্গীরে দেয় অবিরল জল;
সেইখানে শঙ্খচিল পানের বনের মতো হাওয়ায় চঞ্চল,

সেইখানে লক্ষ্মীপেঁচা ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট, তরুণ;
সেখানে লেবুর শাখা নূয়ে থাকে অন্ধকারে ঘাসের উপর
সুদর্শন উড়ে যায় ঘরে তার অন্ধকার সন্ধ্যার বাতাসে;
সেখানে হলুদ শাড়ি লেগে থাকে রূপসীর শরীরের ’পর—
শঙ্খমালা নাম তারঃ এ-বিশাল পৃথিবীর কোনো নদী ঘাসে
তারে আর খুঁজে তুমি পাবে নাকো—বিশালাক্ষী দিয়েছিলো বর
তাই সে জন্মিছে নীল বাংলার ঘাস আর ধানের ভিতর।

"রূপসী বাংলা" কাব্যগ্রন্থ:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'। 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে। 
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের। বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু। 
- 'আবার আসিব ফিরে' রূপসী বাংলা কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।

জীবনানন্দ দাশ তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো: 
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ), 
- ধূসর পাণ্ডু লিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৫১৬.
'কায়েদে আজম' নাটকটির নাট্যকার কে?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আবুল মনসুর আহমদ
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মুতী
  4. ঘ) মামুনুর রশীদ
সঠিক উত্তর:
ক) আবুল ফজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা

আবুল ফজল: তিনি মূলত সাহিত্যিক৷ তিনি সাহিত্য সমাজের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলন গড়ে তোলেন।
উপন্যাস :
- চৌচির (১৯৩৪),
- প্রদীপ ও পতঙ্গ (১৩৪৭),
- রাঙ্গা প্রভাত (১৩৬৪)।
গল্পগ্রন্থ :
- মাটির পৃথিবী (১৩৪৭),
- মৃতের আত্মহত্যা (১৯৭৮);
নাটক :
- কায়েদে আজম (১৯৪৬),
- প্রগতি (১৯৪৮),
- স্বয়ম্বরা (১৯৬৬);
আত্মকাহিনী ও দিনলিপি :
- রেখাচিত্র (১৯৬৬)।
প্রবন্ধ :
- বিচিত্র কথা (১৩৪৭),
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি সাধনা (১৯৬১),
- সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবন (১৯৬৫),
- সমকালীন চিন্তা (১৯৭০),
- মানবতন্ত্র ((১৩৭৯)
- শুভবুদ্ধি (১৯৭৪),
- শেখ মুজিব তাঁকে যেমন দেখেছি (১৯৭৮),
- রবীন্দ্র প্রসঙ্গ (১৯৭৯)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৬,৫১৭.
দীনবন্ধু মিত্রের শ্রেষ্ঠ রচনা -
  1. নীলদর্পণ
  2. হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
  3. লীলাবতী
  4. জামাই বারিক
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা
দীনবন্ধু মিত্র
- নাট্যকার দীনবন্ধু মিত্র  ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।

দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
-  সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫১৮.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের একটি প্রবন্ধ?
  1. শিউলিমালা
  2. ব্যথার দান
  3. রিক্তের বেদন
  4. রুদ্র-মঙ্গল
সঠিক উত্তর:
রুদ্র-মঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুদ্র-মঙ্গল
ব্যাখ্যা

রুদ্র-মঙ্গল:
- 'রুদ্র-মঙ্গল' - কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'রুদ্রমঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থে মোট আটটি প্রবন্ধ রয়েছে।
- এগুলো হলো:
- রুদ্রমঙ্গল,
- আমার পথ,
- মোহররম,
- বিষবাণী,
- ক্ষুদিরামের মা,
- ধূমকেতুর পথ,
- মন্দির-মসজিদ,
- হিন্দু-মুসলমান।

অন্যদিকে
- ব্যথার দান ,রিক্তের বেদন ও শিউলিমালা এ তিনটিই হলো কাজী নজরুল ইসলামের গল্পগ্রন্থ।
- এগুলোর মধ্যে ব্যথার দান কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৬,৫১৯.
'পথের ডাক' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. ছোটগল্প
  3. নাটক
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা
• 'পথের ডাক' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি নাটক। 



-----------------

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

• তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

• তাঁর রচিত নাটক:
- দ্বীপান্তর,
- পথের ডাক,
- দুই পুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫২০.
'ঋষি' উপাধি লাভ করেন কোন সাহিত্যিক?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তিনি হিন্দু ধর্মনুরাগীদের থেকে 'ঋষি' উপাধি লাভ করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

অন্যদিকে, 
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে বলা হয় যুগ সন্ধিক্ষণের কবি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৬,৫২১.
কোন সাহিত্যিক 'মৈমনসিংহ গীতিকা'র পালা সংগ্রাহকারী দলে ছিলেন?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী 
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. মনসুর বয়াতি
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা

চন্দ্রকুমার দে যখন ময়মনসিংহ গীতিকার পালা সংগ্রাহ করছিলেন তখন সেই দলে জসীম উদ্‌দীন ও ছিলেন। 
---------------------------------
- জসীম উদ্‌দীন এম.এ. পড়ার সময় ড. দীনেশ চন্দ্র সেনের তত্ত্বাবধানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পল্লীগীতি সংগ্রাহক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
- তিনি এই পদে ১৯৩১ থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত কাজ করেন।
- এই সময়ে ড. সেনের সঙ্গে মিলিতভাবে ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা’ সংকলনে সহায়তা করেন। 
- তিনি ময়মনসিংহ গীতিকার পালা সংগ্রাহকারী হিসেবেও কাজ করেন। 
- প্রায় ১০,০০০ লোকগীতি সংগ্রহে পল্লীকবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
---------------------------
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থটির জন্য তাকে পল্লীকবি উপাধি দেয়া হয়।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাকে 'ডি-লিট' ডিগ্রি প্রদান করেন। 

• তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত কাব্য:
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- রাখালী,
- বালুচর প্রভৃতি।

• জসীম উদ্‌দীন রচিত বিখ্যাত নাটকগুলো হলো:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে, 
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মেয়ে,
- ওগো পুস্পধনু এবং
- আসমান সিংহ।

• জসীম উদ্‌দীন রচিত কবিতার সংকলন: সূচিয়িনী।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৬,৫২২.
মীর মশাররফ হোসেনের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  2. বিষাদ-সিন্ধু
  3. রত্নবতী
  4. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
সঠিক উত্তর:
রত্নবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রত্নবতী
ব্যাখ্যা
"রত্নবতী" উপন্যাস:
• মীর মশাররফ হোসেনের প্রথম উপন্যাস "রত্নবতী"। উপন্যাসটি ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত হয়। এটি বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ ও মুসলমান সাহিত্যিক রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও। 

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ:
• রত্নবর্তী উপন্যাসের মূল দুই চরিত্র রাজপুত্র সুকুমার ও মন্ত্রিপুত্র সুমন্ত। সুমন্ত বিদ্যাবুদ্ধিতে রাজতনয় অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ছিলেন। তারা দুইজন বাল্য কালাবধি যৌবনকাল পর্যন্ত একত্র ভোজন, একত্র শয়ন এবং একসঙ্গে খেলাধুলা করায় তাদের মধ্যে প্রণয়ের বিশেষ আধিক্য জন্মেছিল।

• একদিন সকালে ৰাগানে ঘুর গিয়ে রাজপুত্র মন্ত্রিপুত্রকে জিজ্ঞাসা করে, বন্ধু! বলো তো পৃথিবীতে ধন শ্রেষ্ঠ কি বিদ্যা শ্রেষ্ঠ? মন্ত্রিপুত্র বলেন, সে আর বলতে কি, ধন অপেক্ষা বিদ্যা সহস্র অংশে শ্রেষ্ঠ। রাজতনয় বলেন, এটা কখনই হতে পারে না। কারণ আমরা সচরাচর দেখি যে, ধনবানরা জগতের মধ্যে বিশেষ গণ্য এবং পূজনীয়। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাদানুবাদ হয়। অবশেষে লেখক মীর মশরারফ হোসেন বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে এ কথাই প্রমাণ করেছেন যে, ধন অপেক্ষা বিদ্যাই জগতের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।

অন্যদিকে, 
• বিষাদ-সিন্ধু (১৮৮৫-১৮৯১) মীর মশাররফ হোসেনের অমর কীর্তি। বিষাদ-সিন্ধু উপন্যাসে কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক কাহিনি বিবৃত হয়েছে। 

• আত্মজীবনীমূলক উপন্যাসোপম রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা (১৮৯০),
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী (১৮৯৯) সালে প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয়।

উৎস: "রত্নবতী" উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫২৩.
“যে কবিতা শুনতে জানে না, সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে।” কোন কবিতার চরণ?
  1. নিষিদ্ধ সম্পাদকীয় 
  2. আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
  3. কবিতা, তোমার দরজায়
  4. জন্মই আমার আজন্ম পাপ
সঠিক উত্তর:
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
ব্যাখ্যা

• “যে কবিতা শুনতে জানে না, সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে”- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার চরণ। 

• 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতা: 
• 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে কবিতা রয়েছে ৩৯টি কবিতা।

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- সাতনরী হার (প্রথম প্রকাশিত),
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- আমার সময়,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা: 
- 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি',
- 'মাগো, ওরা বলে' ইত্যাদি।

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি- কবিতা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল
তাঁর পিঠে রক্তজবার মত ক্ষত ছিল।
-------
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে ঝড়ের আর্তনাদ শুনবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে।
আমি উচ্চারিত সত্যের মতো
স্বপ্নের কথা বলছি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া, আমি কিংবদন্তির কথা বলছি- কবিতা।

১৬,৫২৪.
'বর্ষ-আবাহন' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 
  2. জীবনানন্দ দাশ 
  3. শামসুর রাহমান 
  4. বুদ্ধদেব বসু 
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ 
ব্যাখ্যা
• স্কুলে ছাত্রাবস্থায় জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।

• জীবনানন্দ দাশ:

- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম ছিল মিলু।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫২৫.
কোনটি বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাস?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. আলালের ঘরের দুলাল
  3. চোখের বালি
  4. কপালকুণ্ডলা
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা

"আলালের ঘরের দুলাল" উপন্যাস:
- আলালের ঘরের দুলাল বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম  “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৫২৬.
'নন্দিনী' চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন নাটকের অন্তর্গত?
  1. ডাকঘর
  2. বিসর্জন
  3. রক্তকরবী
  4. বৈকুন্ঠের খাতা
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
ব্যাখ্যা
'রক্তকরবী' নাটক: 
- 'রক্তকরবী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সাংকেতিক নাটক। ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে। 
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নন্দিনী ও 
- রঞ্জন। 

রবীন্দ্রনাথ রচিত অন্যান্য নাটক গুলো:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- তাসের দেশ,
- বৈকুন্ঠের খাতা
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- ডাকঘর,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা,
- নটীর পূজা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৫২৭.
'ঠাকুরমার ঝুলি' কী জাতীয় রচনার সংকলন?
  1. ক) রূপকথা
  2. খ) ছোটগল্প
  3. গ) গ্রাম্যগীতিকা
  4. ঘ) রূপকথা-উপকথা
সঠিক উত্তর:
ক) রূপকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রূপকথা
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে রূপকথার অন্যতম সংকলন ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ সংকলন করেন - দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার।
এটি প্রকাশিত হয়েছিলো- ১৯০৭ সালে।
এর পরবর্তী খন্ড- ‘ঠাকুরদাদার ঝুলি’ যা ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিলো।
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার - দৃষ্টিহীন ছদ্মনামে লিখতেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৫২৮.
'বঙ্গভাষা' কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
  2. বীরাঙ্গনা কাব্য
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশপদী কবিতাবলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশপদী কবিতাবলী
ব্যাখ্যা
'বঙ্গভাষা' কবিতা:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী' গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনেট।
- মাতৃভাষার প্রতি কবির সুগভীর হৃদয়াবেগ এই কবিতায় মার্জিত ও পরিশীলিত ভাবে প্রকাশ পেয়েছে। এখানে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অজস্র ঐশ্বর্য ও সম্ভাবনার কথা ব্যক্ত হয়েছে কবির নিপুণ বর্ণনায়।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫২৯.
নিচের কোনটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস?
  1. সফল স্বপ্ন
  2. শহরতলী
  3. অঙ্গুরীয় বিনিময়
  4. রজনী
সঠিক উত্তর:
শহরতলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহরতলী
ব্যাখ্যা
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস = শহরতলী।
------------------------------------------
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ভূদেব মুখোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- সফল স্বপ্ন, 
- অঙ্গুরীয় বিনিময়।
• বঙ্কিম চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: রজনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।মানি
১৬,৫৩০.
নিচের কোনটি কারা-সাহিত্য?
  1. আমি সৈনিক
  2. রাজবন্দীর জবানবন্দী
  3. পলাশী থেকে পাকিস্তান
  4. হ-য-ব-র-ল
সঠিক উত্তর:
রাজবন্দীর জবানবন্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজবন্দীর জবানবন্দী
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' কে কারা- সাহিত্য বলা হয়। 

• কারা- সাহিত্য:
- কারাগারে অন্তরীণ অবস্থায় রচিত সাহিত্য 'কারা- সাহিত্য' হিসেবে স্বীকৃত।
- তবে কারাগার থেকে বাইরে গিয়েও এ ধরনের লেখা হতে পারে।
- রচয়িতার জেলে জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
- কারাগারের সংকীর্ণ জীবনের বাইরে কল্পনার বিস্তার ঘটাবেন সত্য কিন্তু কারাজীবনের অভিজ্ঞতার ছাপ থাকবে তার রচনায়।
- অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যেমন কারাসাহিত্য লিখেছেন তেমনি অনেক শিল্পী ও সাহিত্যিক কারা সাহিত্য রচনা করেছেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম জেলে বসে লেখেন 'রাজবন্দীর জবানবন্দী, সত্যেন সেন লেখেন 'অভিশপ্ত নগরী' ও পাপের সন্তান'। 
- মুনীর চৌধুরীর 'কবর' কারা সাহিত্য হিসেবে গণ্য।
- শেখ মুজিবুর রহমানের 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বা 'কারাগারের রোজনামচা', মতিয়া চৌধুরীর 'দেয়াল দিয়ে ঘেরা' ইত্যাদিও এ ধারার গ্রন্থ।
-----------------------------
-----------------------------
আরো কিছু বিশেষ তথ্য:

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

• নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া
 
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ, 
- আমি সৈনিক।

অন্যদিকে, 
আবুল কালাম শামসুদ্দীন এর ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ'পলাশী থেকে পাকিস্তান'।
• শিশু-কিশোর গল্প 'হ-য-ব-র-ল' এর রচয়িতা- সুকুমার রায়। 

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫৩১.
'রাজর্ষি' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• "রাজর্ষি" উপন্যাস:
'রাজর্ষি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস। উপন্যাসটি মানবতা পক্ষে ধর্মীয় কুসংস্কার এর বিরুদ্ধে ।পরবর্তীতে এ উপন্যাস এর উপর ভিত্তি করে রচিত হয় তার বিখ্যাত নাটক "বিসর্জন" উপন্যাসটি বালক পত্রিকা কর্তৃক ১২৯৩ বঙ্গাব্দ (১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দ) প্রকাশিত হয়। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বালক অদ্যায় । জীবনস্মৃতি তে তার রাজর্ষি উপন্যাস রচনা সম্পর্কে বলেন-
ছবি ও গান এবং কড়ি ও কোমল এর মাঝখানে বালক নামে একখানি মাসিক পত্রিকা এক বৎসরের ওষধি গাছের মত ফল ফলাইয়া লীলাসম্বরণ করিল । ... দুই এক সংখ্যা বাহির হইবার পরে এক-দুইদিনের জন্য দেওঘরে রাজনারায়ণ বাবুকে দেখতে যাই । কলিকাতায ফিরিবার সময় রাত্রের গাড়িতে ভিড় ছিল; ভালো করিয়া ঘুম হৈতেছিল না-ঠিক চোখের উপরে আলো জ্বলিতেছিল। মনে করিলাম ঘুম যখন হইবে না তখন এই সুযোগে বালকের জন্য একটা গল্প লিখিয়া রাখি। গল্প ভাবিবার ব্যর্থ চেষ্টার টানে গল্প আসিল না, ঘুম আসিয়া পড়িল। স্বপ্ন দেখিলাম, কোন এক মন্দিরের সিঁড়ির রক্তচিহ্ন দেখিয়া একটি বালিকা অত্যন্ত করুন ব্যাকুলতায় তাহার বাপকে জিজ্ঞাসা করিতেছে- বাবা, একি! এ যে রক্ত! বালিকার এই কাতরতায় বাপ অত্যন্ত ব্যথিত হইয়া অথচ বাহিরে রাগের ভান করিয়া কোনমতে তার প্রশ্নটাকে চাপা দিতে চেষ্টা করিতেছে। জাগিয়া উঠিয়ায় মনে হইল এটি আমার স্বপনলব্ধ গল্প। এই স্বপ্নটির সঙ্গে ত্রিপুরার রাজা গোবিন্দমাণিক্য এর পুরাবৃত্ত মিশায়ে রাজর্ষি গল্প মাসে মাসে লিখিতে লিখিতে বালকে বাহির করিতে লাগিলাম। 

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো-
- ইন্দ্রনারায়ন,
- পুরোহিত বিল্বন,
- হাসি ও
- তাতা। 

উৎস: "রাজর্ষি" উপন্যাস।
১৬,৫৩২.
নিচের কোনটি কাজী মোতাহার হোসেন রচিত প্রবন্ধের সংকলন?
  1. সঞ্চিতা
  2. সঞ্চয়িতা
  3. সঞ্চয়ন 
  4. সঞ্চরণ
সঠিক উত্তর:
সঞ্চয়ন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্চয়ন 
ব্যাখ্যা

• 'সঞ্চয়ন' প্রবন্ধটির রচয়িতা - 'কাজী মোতাহার হোসেন'।

উল্লেখ্য,
- সঞ্চয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্য সংকলন এবং
- সঞ্চিতা - কাজী নজরুল ইসলামের কাব্য সংকলনের নাম।

কাজী মোতাহের হোসেন:
- 'শিখা' পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেছেন।
- তিনি ঢাকায় 'মুসলিম সাহিত্য- সমাজ' প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন।
- জাতীয় অধ্যাপক মর্যাদায় ভূষিত হন ১৯৮৫ সালে।
'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন।

তাঁর উলেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিতি,
- সে পথ লক্ষ্য করে,
- সিম্পোজিয়াম,
- গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস,
- আলোক বিজ্ঞান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,৫৩৩.
'একাত্তরের দিনগুলি' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. রাবিয়া খাতুন
  2. সেলিনা হোসেন
  3. আহমদ ছফা
  4. জাহানারা ইমাম
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
• একাত্তরের দিনগুলি:
- একাত্তরের দিনগুলি বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ।
- বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।
- তাঁর সর্বাধিক খ্যাতির কারণ দিনপঞ্জিরূপে লেখা তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ একাত্তরের দিনগুলি।

- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি পুত্র রুমী ও স্বামীকে হারান। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাস কেটেছে তাঁর একদিকে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও ত্রাসের মধ্য দিয়ে; অন্যদিকে মনের মধ্যে ছিল দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার স্বপ্ন। সেই দুঃসহ দিনগুলিতে প্রাত্যহিক ঘটনা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করার বৃত্তান্ত লিখেছিলেন তিনি নানা চিরকুটে, ছিন্ন পাতায়, গোপন ভঙ্গি ও সংকেতে।

- ১৯৮৬ সালে গ্রন্থরূপ পাওয়ার পর তা জনমনে বিপুল সাড়া জাগায়। বস্তুত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'।

উৎস: 'একাত্তরের দিনগুলি' গ্রন্থ।
১৬,৫৩৪.
'দিবারাত্রির কাব্য' কার লেখা উপন্যাস?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'দিবারাত্রির কাব্য' উপন্যাস:
- 'দিবারাত্রির কাব্য' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রধান চরিত্র- হেরম্ব ও আনন্দ প্রমুখ।

-----------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- বন্ধুদের সঙে বাজি ধরে তিনি রচনা করেন 'অতসীমামী' এবং পরবর্তীতে তা বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- মাত্র একুশ বছর বয়সে তাঁর বিখ্যাত 'দিবারাত্রির কাব্য' রচনা করেন।
- তিনি প্রায় অর্ধশতাধিক উপন্যাস ও দুশো চব্বিশটি গল্প তিনি রচনা করেছেন।
- পদ্মানদীর মাঝি ও পুতুলনাচের ইতিকথা  উপন্যাস দুটি তাঁর বিখ্যাত রচনা। এ দুটির মাধ্যমেই তিনি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পুতুল নাচের ইতিকথা,
- জননী,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- সোনার চেয়ে দামি,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- ইতিকথার পরের কথা,
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৫৩৫.
''কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?'' - পঙক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. কালীপ্রসন্ন ঘোষ
  2. শেখ ফজলুল করিম
  3. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. রজনীকান্ত সেন
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
"কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?" - পঙক্তিদ্বয় কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের 'সদ্ভাবশতক' কাব্যগ্রন্থের 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার:
- তিনি একজন সাহিত্যিক, সাংবাদিক ছিলেন।
- ১৮৩৪ সালের ১০ জুন খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক বৈদ্য পরিবারে তাঁর জন্ম।
- কৃষ্ণচন্দ্র ১৮৫৪ সালে বরিশালের কীর্তিপাশা বাংলা বিদ্যালয়ের প্রধান পণ্ডিতপদে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন।
- কৃষ্ণচন্দ্রের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সদ্ভাবশতক প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে। নীতি ও উপদেশমূলক এ কাব্যটি পারস্য কবি হাফিজ ও সাদীর কাব্যাদর্শে রচিত।
- বাল্যকালে তাঁর একটি ছদ্মনাম ছিল রামচন্দ্র দাস, সংক্ষেপে রাম।

কৃষ্ণচন্দ্র রচিত গ্রন্থ:
- রাসের ইতিবৃত্ত,
- মোহভোগ।

উৎস: 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না' কবিতা; বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৫৩৬.
‘আলোর পরশ' নামক ইতিহাস ভিত্তিক উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী আবুল হোসেন
  2. খ) আবুল হাশেম খান
  3. গ) মবিনউদ্দিন আহমদ
  4. ঘ) আকবর হোসেন
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল হাশেম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল হাশেম খান
ব্যাখ্যা
• আবুল হাশেম খান
- আবুল হাশেম খান (১৯০৯) ‘আলোর পরশ' নামক উপন্যাসের রচয়িতা।
- উপন্যাসটি ইতিহাস ভিত্তিক।
- এই উপন্যাসে কৃতিত্ব দেখানোর জন্য তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেছিলেন।

সূত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 
১৬,৫৩৭.
'সবুজপত্র' পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯০৯ সালে
  2. ১৯১৩ সালে
  3. ১৯১২ সালে
  4. ১৯১৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৪ সালে
ব্যাখ্যা

'সবুজপত্র' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - প্রমথ চৌধুরী।
 - ১৯১৪ সালে পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। 
- বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয় এবং তের বছর চলে। 
- এই পত্রিকার সাথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গভীর ভাবে জড়িত ছিলেন এবং এই পত্রিকা রবীন্দ্রনাথের চিন্তা এবং ভাষারীতির আধুনিকতা বিকাশে বিশেষ সহায়ক হয়েছিল।
- সবুজপত্র মাসিক পত্রিকা ছিল এবং এই পত্রিকার সম্পাদনার মাধ্যমে প্রমথ চৌধুরী প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ।

১৬,৫৩৮.
'বীরবল' ছদ্মনামে কে লিখতেন?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চোধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরী মূলত একজন প্রাবন্ধিক।
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তাকে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক বলা হয়।

• প্রমথ চৌধুরী প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫৩৯.
'কাবিলের বোন' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. আহসান হাবীব
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
'কাবিলের বোন' উপন্যাস:
- আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস - কাবিলের বোন।
- কাবিলের বোন উপন্যাসটি কবির সবচে’ দীর্ঘ কলেবরের উপন্যাস,পাঁচটি পর্বে বিন্যস্ত।
- এ উপন্যাসটিকে মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস বলা যায়,রাজনৈতিক উপন্যাস ও বলা যেতে পারে,যেখানে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্হান,নাগরিক পরিচয়ের সংকট, গণঅভ্যুথান,মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ছাত্র সমাজের নেতৃত্বের ভূমিকার বিমূর্ত প্রকাশ ঘটেছে।
- পাঠক এ লেখাটি পড়ে আবিষ্ট হবেন,নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় আবিষ্কার করবেন, ১০ নং বনগ্রাম লেনের সেই আবাসটি স্বচোখে হৃদয়ে আঁকতে বাধ্য হবেন।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র সৈয়দ আহমদ কাবিল ও রোকসানা, কাবিলের চাচী রওনক জাহান,আন্দালিব -মোমেনা,রাজনৈতিক অঙ্গনে দাপুটে আঞ্জুমান-মেধাবী নিশার সকলকে ঘিরেই আখ্যানটির আবর্তন।

আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৫৪০.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আত্মজৈবনিক গ্রন্থ A Story of My Time এর লেখক –
  1. ক) কাজী ইমদাদুল হক
  2. খ) মুহম্মদ জাফর ইকবাল
  3. গ) মনজুরুল হক
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
গ) মনজুরুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মনজুরুল হক
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আত্মজৈবনিক গ্রন্থ 'A Story of My Time'-এর লেখক মনজুরুল হক।

তথ্যসূত্র:- লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, জানুয়ারি ২০২৩।
১৬,৫৪১.
'রোহিণী, গোবিন্দলাল' কোন গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য চরিত্র?
  1. চরিত্রহীন
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. গৃহদাহ
  4. বিষবৃক্ষ
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকান্তের উইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা
• 'রোহিনী ও গোবিন্দলাল'- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাসের প্রধান দুটি চরিত্র।

• 'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাস: 
- রোহিনী, গোবিন্দলাল, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর 'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাসের চরিত্র।
- কৃষ্ণকান্তের উইল (১৮৭৮) বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস। 
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী 'রোহিনী'কে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। 
- উপন্যাসটি ১৮৭৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়
- উপন্যাসের চরিত্র: রোহিনী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর ইত্যাদি। 
 
তাঁর রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের চরিত্র:
- দুর্গেশনন্দিনী - চরিত্র- আয়েশা, তিলোত্তমা, 
- কপালকুণ্ডলা - চরিত্র- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার
- মৃণালিনী - চরিত্র- হেমচন্দ্র, মৃনালিনী, পশুপতি, মনোরমা।
- বিষবৃক্ষ - চরিত্র- কুন্দনন্দিনী,নগেন্দ্রনাথ। 
- কৃষ্ণকান্তের উইল - চরিত্র রোহিনী, ভ্রমর, গোবিন্দলাল। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫৪২.
'দুর্দিনের দিনলিপি' কার রচনা?
  1. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  2. আনোয়ার পাশা
  3. আবুল ফজল
  4. আহমদ ছফা
সঠিক উত্তর:
আবুল ফজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
• 'দুর্দিনের দিনলিপি' আবুল ফজল রচিত দিনলিপি।

• আবুল ফজল:

- ফজল আবুল ১৯০৩ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯৩০ সালে তিনি এর সম্পাদক হন।
- আবুল ফজল উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।

• তাঁর রচিত দিনলিপি:
- রেখাচিত্র,
- দুর্দিনের দিনলিপি প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫৪৩.
শহীদুল্লা কায়সারের অসমাপ্ত উপন্যাস কোনটি?
  1. সংশপ্তক
  2. দিগন্তে ফুলের আগুন
  3. সারেং বৌ
  4. কবে পোহাবে বিভাবরী
সঠিক উত্তর:
কবে পোহাবে বিভাবরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবে পোহাবে বিভাবরী
ব্যাখ্যা

• শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক। তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
 - তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২)এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

• স্মৃতিকথা: রাজবন্দীর রোজনামচা।
• ভ্রমণবৃত্তান্ত: পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,৫৪৪.
'সমুদ্রের স্বাদ' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত -
  1. উপন্যাস
  2. গল্প
  3. প্রবন্ধ
  4. কাব্য
সঠিক উত্তর:
গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্প
ব্যাখ্যা

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্প - সমুদ্রের স্বাদ।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৯০৮ সালে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে। 
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'জননী' (১৯৩৫)।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'অতসী মামী', 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
-  ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মা নদীর মাঝি,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- সোনার চেয়ে দামী,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- অমৃতস্য পুত্রা,
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প ইত্যাদি৷

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৫৪৫.
”আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে” এই পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. সুফিয়া কামাল
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

”আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে” এই পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।

- ঠাকুর বাড়ির অনুকূল পরিবেশে শৈশবেই রবীন্দ্রনাথের কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- ১৮৭৬ সালে পনের বছর বয়সে
 প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বনফুল'।
-  অতঃপর কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, শিশুসাহিত্য, ভ্রমণসাহিত্য, রম্যরচনা, সংগীত ইত্যাদি শাখায় রবীন্দ্রনাথ রেখে গেছেন তাঁর অসামান্য শিল্প-প্রতিভার স্বাক্ষর।

- ১৯০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়।' এ বিদ্যালয়ই পরবর্তীকালে 'বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়'-এ রূপলাভ করে।

- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' (১৯১১) কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- বাংলা কবিতাকে তিনিই প্রথম দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রসারিত করেন। বাংলা ছোটগল্পকে তিনিই বাংলা সাহি•

• রবীন্দ্রনাথ ঠকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৫৪৬.
'বহিপীর' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত কোন ধরণের নাটক?
  1. ধর্মীয়
  2. সামাজিক
  3. পৌরাণিক
  4. রাজনৈতিক
সঠিক উত্তর:
সামাজিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- 'বহিপীর' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত সামাজিক নাটক।  
- ১৯৫৫ সালে 'বহিপীর' রচিত 
- নাটকটি ১৯৬৫ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 
- বাংলাদেশ সরকারের ‘একুশে পদক’ (মরণোত্তর, ১৯৮৩) লাভ করেন। 
- ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত অন্যান্য নাটক: 
তরঙ্গভঙ্গ 
সুড়ঙ্গ 
উজানের মৃত 
 
[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
১৬,৫৪৭.
'নিমচাঁদ ও কেনারাম' দীনবন্ধু মিত্র রচিত কোন প্রহসনের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. জামাই বারিক
  2. সধবার একাদশী
  3. বিয়ে পাগল বুড়ো
  4. কমলে কামিনী
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা
• "সধবার একাদশী" প্রহসন:
- 'সধবার একাদশী' (১৮৬৬) দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন।

- ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল। এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনি নিয়ে নাটকটির রচিত।

- ‘সধবার একাদশী' প্রহসনে তৎকালীন ইয়ংবেঙ্গল দলের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছ। দেশীয় নব্যশিক্ষিতদের ইংরেজদের অনুকরণ ও সুরাপানে আসক্তের প্রতি ব্যঙ্গ করেই প্রহসনটি রচনা করা হয়েছে।

প্রহসনটি উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- নিমচাঁদ,
- কেনারাম,
- সৌদামিনী,
- গিন্নী,
- কাঞ্চন ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• দীনবন্ধু মিত্রের 'জামাই বারিক' প্রহসনটি সামাজিক বিষয়াবলম্বনে রচিত। উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কামিনী, বগলা, বিজাব্বল্লভ ইত্যাদি।

• 'কমলেকামিনী' (১৮৭৩) দীনবন্ধু মিত্রের সর্বশেষ নাটক। উল্লেখযোগ্য চরিত্র: রাজা, সমরকেতু, শশাঙ্কশেখর, গান্ধারী, সুশীলা, সুরবালা।

• দীনবন্ধু মিত্র রচিত 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' একটি প্রহসন। ১৮৭২ সালে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়। উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নসিরাম, রতা, রাজীব, রাজমণি, কেশব, বৈকুণ্ঠ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫৪৮.
নিচের কোনটি শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস?
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. মিনু
  3. পাখি
  4. ছবির রং
সঠিক উত্তর:
নেকড়ে অরণ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেকড়ে অরণ্য
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।

• তাঁর রচিত কয়েকটি উপন্যাস -
- ক্রীতদাসের হাসি;
- সমাগম;
- রাজা উপাখ্যান;
- দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
- পতঙ্গ পিঞ্জর;
- রাজসাক্ষী;
- জলাঙ্গী;
- পুরাতন খঞ্জর;
- বনি আদম;
- জননী;
- চৌরসন্ধি;

অন্যদিকে,
- ’মিনু’ গল্পের লেখক, বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়।
- ‘পাখি’ গল্পের লেখক, লীলা মজুমদার।
- ’ছবির রং’ গল্পের লেখক, হাসেম খান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, এবং সপ্তম ও ষষ্ঠ শ্রেণির আনন্দ পাঠ।
১৬,৫৪৯.
‘প্রথম প্রহর’, ‘বিমর্ষ রাত্রি’, ‘তৃষ্ণা’ , আগুন-পাখি’ গ্রন্থসমূহের রচয়িতা কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. শামসুদ্দিন আবুল কামাল
  4. আবুল মনসুর আহমেদ
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
হাসান আজিজুল হক:
-  হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ।
- হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

 তাঁর রচিত গল্প: 
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- পাতালে হাসপাতালে,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

 তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- প্রথম প্রহর,
- বিমর্ষ রাত্রি,
- তৃষ্ণা,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস :
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) প্রথম আলো, ১৬ নভেম্বর ২০২১।
১৬,৫৫০.
বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয় কোনটি?
  1. ভারতী
  2. বঙ্গদর্শন
  3. কল্লোল
  4. সংবাদ প্রভাকর
সঠিক উত্তর:
সংবাদ প্রভাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা
সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫৫১.
'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থের ইংরেজী অনুবাদের নাম কী?
  1. Song Offers
  2. Song Offering
  3. Song Offerings
  4. Song Offspring
সঠিক উত্তর:
Song Offerings
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Song Offerings
ব্যাখ্যা

'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থ:
- 'গীতাঞ্জলি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭টি গানের সংকলন (কাব্যগ্রন্থ)।
- গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০। গীতাঞ্জলির গানগুলো মূলত কবিতা। 
- গীতাঞ্জলি এর ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings (১৯১২)।
- Song Offerings এর ভূমিকা লেখেন ইংরেজ কবি W.B. Yeats। 
- Song Offerings এর জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নোবেল পুরষ্কার পান।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি, 
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপূট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৫৫২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গদ্য কাব্য কোনটি?
  1. ক) সোনার তরী
  2. খ) পুনশ্চ
  3. গ) বলাকা
  4. ঘ) ক্ষণিকা
সঠিক উত্তর:
খ) পুনশ্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পুনশ্চ
ব্যাখ্যা
• 'পুনশ্চ' (১৯৩২) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এটি তাঁর গদ্যছন্দে রচিত প্রথম ও সার্থক কাব্যগ্রন্থ।
উল্লেখযোগ্য কবিতা- ছেলেটা, শেষ চিঠি, ক্যামেলিয়া, সাধারণ মেয়ে, বাঁশি, খ্যাতি ইত্যাদি। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- মানসী
- সোনারতরী
- চিত্রা
- কল্পনা
- বলাকা
- পুনশ্চ
- সেঁজুতি
- শেষলেখা
- পূরবী
- চৈতালি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৫৫৩.
'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক -
  1. সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

সংবাদ প্রভাকর:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।

- ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- ১৮৩৯ সালে এটি বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি পত্রিকাটিতে সাহিত্যচর্চাও গুরুত্ব পায়।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও দীনবন্ধু মিত্রের প্রাথমিক রচনাসমূহ প্রথম প্রকাশিত হয় সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায়।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন এবং সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে,
- 'বঙ্গদর্শন' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় বিখ্যাত সাহিত্যপত্র।
- রবীন্দ্র- ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায় পত্রিকা- সাধনা।
- দীনবন্ধু মিত্র ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা নাটকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রূপকার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১৬,৫৫৪.
'আনোয়ারা' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. ক) কাজী এমদাদুল হক
  2. খ) মীর মশাররফ হোসেন
  3. গ) মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  4. ঘ) ইসমাইল হোসেন সিরাজী
সঠিক উত্তর:
গ) মোহাম্মদ নজিবর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত ‘আনোয়ারা’ (১৯১৪) উপন্যাস এক সময় মুসলিম-রচিত প্রথম সার্থক সামাজিক উপন্যাস হিসাবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে স্থান লাভ করে।
Source: dailysangram.com
১৬,৫৫৫.
'বন মানুষ' গল্পের লেখক কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী
  3. মোহাম্মদ লুৎফর রহমান
  4. আবু ইসহাক
সঠিক উত্তর:
আবু ইসহাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
• 'বন মানুষ' গল্পের লেখক আবু ইসহাক। 

• 'বন মানুষ':

- ভারত বিভাগের আগে ১৯৪৬ সালে এ অঞ্চলে ভয়াবহ হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা হয়েছিল।
- এ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পটভূমিতে 'বনমানুষ' গল্পটি লিখিত। এ গল্পের লেখক বনবিভাগে সামান্য বেতনে চাকরি করতেন।
- তিনি দ্বিগুণ বেতনে কলকাতায় চাকরি করতে আসেন। কলকাতায় এসে প্রথমে তাঁর নিজেকে সভ্য মানুষ মনে হতে থাকে।
- কিন্তু তিনি তখন সাম্প্রদায়িক হানাহানির মুখোমুখি হতে থাকেন।
- তিনি দেখেন এ শহরের মানুষেরা ধর্মের নামে পরস্পরকে নির্মমভাবে হত্যা করছে।
- বনের পশুপাখিরাও এ রকম পরস্পরকে হত্যা করে না।
- তখন লেখক আবার বনবিভাগের চাকরিতে ফিরেযাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
- লেখকের কাছে এ শহরের সভ্য মানুষের চেয়ে বনে বসবাসকারী অশিক্ষিত মূর্খ মানুষকে অধিক গ্রহণযোগ্য মনে হয়।
- 'বনমানুষ' গল্পটি সংকীর্ণ ধর্ম-পরিচয়মুক্ত মানবিক বোধসম্পন্ন চিন্তায় উদ্বুদ্ধ হতে সহায়তা করে; কারণ ধর্ম নিয়ে মানুষে সংঘাত মানুষ পরিচয়টিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
- কেননা জীব হিসেবে মানুষ অন্য সব প্রাণীর তুলনায় জ্ঞান, বুদ্ধি ও সৃষ্টিশীলতায় শ্রেষ্ঠ।

• আবু ইসহাক:

- তিনি ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'নবযুগ' পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া ও  বাংলা সাহিত্য পাঠ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
১৬,৫৫৬.
মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি? 
  1. সিন্দাবাদ
  2. সাত সাগরের মাঝি
  3. পাখির বাসা
  4. সিরাজাম মুনীরা
সঠিক উত্তর:
সাত সাগরের মাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাত সাগরের মাঝি
ব্যাখ্যা

• 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থ:
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি', যা ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এই কাব্যগ্রন্থে ১৯টি কবিতা রয়েছে, যার মধ্যে- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
- বইটি মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণের প্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এতে স্বপ্ন, সৌন্দর্যবোধ, আত্মধিক্কার, এবং নির্যাতিত মানুষের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। 
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।

---------------------
• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি। ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে 'লাশ' কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভকরেন।
- 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৫৫৭.
'বাঁধন হারা' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র -
  1. নুরুল হুদা
  2. আনোয়ার
  3. আনসার
  4. সাইফুদ্দিন
সঠিক উত্তর:
নুরুল হুদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নুরুল হুদা
ব্যাখ্যা
• 'বাঁধন-হারা':
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি মুসলিম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার সময় নজরুল এর দুটি নাম ঠিক করেন ‘বাধন-হারা ও 'তাহমিনা'।
- পরে ‘বাধন-হারা' নামেই গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।
- অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে - রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৫৫৮.
আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
  2. পদ্মা মেঘনা যমুনা
  3. পরিত্যক্ত স্বামী
  4. সংকর সংকীর্তন
সঠিক উত্তর:
পরিত্যক্ত স্বামী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিত্যক্ত স্বামী
ব্যাখ্যা

• আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত নয় -পরিত্যক্ত স্বামী।
- এটি তাঁর প্রথম উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

• আবু জাফর শামসুদ্দীন:

- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন  সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পরিত্যক্ত স্বামী' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

• আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।

• তাঁর রচিত অন্য উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, 
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- জীবন, 
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।

১৬,৫৫৯.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার রূপকথার লেখক হিসেবে কার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা লাভ করেন?
  1. ক) আবুল মনসুর আহমেদ
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার রূপকথার লেখক হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা লাভ করেন।
তিনি মূলত শিশুসাহিত্যিক ও লোকসংগ্রাহক ছিলেন।
শিশুতোষ কল্পকাহিনী হলো রূপকথা। যাকে ইংরেজিতে বলা হয় 'Fairy Tales'।
ঠাকুরমার ঝুলি দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের বাংলাদেশে প্রচলিত রূপকথার সংকলন। এর ভূমিকা লিখে দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। গ্রন্থটি জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৫৬০.
কোন প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম করার প্রস্তাব দেন?
  1. শিক্ষার ইতিকথা
  2. ভাষা শিক্ষা
  3. মাতৃভাষা
  4. শিক্ষার হেরফের
সঠিক উত্তর:
শিক্ষার হেরফের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষার হেরফের
ব্যাখ্যা
• ‘শিক্ষার হেরফের’: 
- শিক্ষার হেরফের প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম করার প্রস্তাব দেন।
- রাজশাহীতে অবস্থানকালে রবীন্দ্রনাথ ‘শিক্ষার হেরফের' শীর্ষক একখানা প্রবন্ধ রচনা করেন।
-------------------------- 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- তিনি অসংখ্য কবিতা, গান,  ছোটগল্প,  উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য,  নৃত্যনাট্য, ভ্রমণকাহিনী, চিঠিপত্র রচনা করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এই পরিবারের পূর্বপুরুষ পূর্ববঙ্গ থেকে ব্যবসায়ের সূত্রে কলকাতায় গিয়ে বসবাস শুরু করেন।
- বাংলাদেশের শাহজাদপুর,  পতিসর, কালিগ্রাম ও শিলাইদহে আসেন।
- তিনি ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ- 
- পঞ্চভূত,  
- বিচিত্র প্রবন্ধ, 
- সাহিত্য, 
- মানুষের ধর্ম।

• তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫৬১.
'মৃণ্ময়ী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন ছোটগল্পের চরিত্র?
  1. দেনাপাওনা
  2. নষ্টনীড়
  3. পোস্টমাস্টার
  4. সমাপ্তি
সঠিক উত্তর:
সমাপ্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাপ্তি
ব্যাখ্যা
•'সমাপ্তি' ছোটগল্প:
- 'সমাপ্তি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত একটি ছোটগল্প।
- 'মৃন্ময়ী' এই ছোটগল্পের চরিত্র।
- এই ছোটগল্পের বিখ্যাত উক্তি- 'শিশুরাজ্যে এই মেয়েটি একটি ছোটখাট বর্গির উপদ্রব বলিলেই হয়।'

অন্যদিকে,
- 'দেনাপাওনা' গল্পের নায়কা নিরূপমার।
- 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
- 'পোস্টমাস্টার' গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আরো কিছু ছোটগল্পের চরিত্র:
- 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
- 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
- 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
- 'পোস্টমাস্টার' গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৫৬২.
গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত ঐতিহাসিক নাটক কোনটি?
  1. ক) হীরার ফুল 
  2. খ) লক্ষ্মণ বর্জন
  3. গ) রামের বনবাস
  4. ঘ) অশোক
সঠিক উত্তর:
ঘ) অশোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অশোক
ব্যাখ্যা
গিরিশচন্দ্র ঘোষ, (১৮৪৪-১৯১২)  নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা।
• ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
• ১৮৭২ সালে তিনিই প্রথম বাংলা পেশাদার নাট্য কোম্পানি ন্যাশানাল থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেন।
• গিরিশচন্দ্র প্রায় চল্লিশটি নাটক রচনা করেছেন এবং ততোধিক সংখ্যক নাটক পরিচালনা করেছেন।
• ১৯১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এই মহান অভিনেতা ও নাট্যকার কলকাতায় পরলোক গমন করেন।

• পৌরাণিক নাটক
- রাবণবধ 
- সীতার বনবাস 
- সীতার বিদ্রোহ 
- লক্ষ্মণ বর্জন
- রামের বনবাস
- সীতাহরণ 
- পান্ডবের অজ্ঞাতবাস
-পাণ্ডব গৌরব 

রোমান্টিক নাটক
- মুকুলমুঞ্জরা
- আবু হোসেন

• ঐতিহাসিক নাটক
- সিরাজদ্দৌলা
- মীরকাশিম 
- ছত্রপতি শিবাজী 
- অশোক 

• কৌতুক নাটক
- হীরার ফুল 
- সপ্তমীতে বিসর্জন 
- বড়দিনের বখশিশ 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫৬৩.
'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'- সংলাপটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ফাগুনের দিনগুলো
  2. একুশের গল্প
  3. আগুনের পরশমণি
  4. আরেক ফাল্গুন
সঠিক উত্তর:
আরেক ফাল্গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরেক ফাল্গুন
ব্যাখ্যা
⇒ 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি রচনা করেন।
- ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।  
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন,
ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের সংলাপ।

• এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো:
- মুমিন, 
 -আসাদ, 
- রসুল, 
- সালমা।

জহির রায়হান রচিত উপন্যাস: 
- হাজার বছর ধরে,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- তৃষ্ণা,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫৬৪.
'দিকশূন্য ভট্টাচার্য' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
  2. মধুসূধন মজুমদার
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

অন্যদিকে,
• বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ক্বচিৎ প্রৌঢ়।
• মধুসূধন মজুমদারের ছদ্মনাম ছিলো- দৃষ্টিহীন।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো: অনিলা দেবী; অপরাজিতা দেবী; শ্রী চট্টোপাধ্যায়; অনুরূপা দেবী; পরশুরাম; শ্রীকান্ত শর্মা ও সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,৫৬৫.
‘পরশুরাম’ কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. রাজশেখর বসুর
  3. বিমল ঘোষ
  4. সমরেশ বসু
সঠিক উত্তর:
রাজশেখর বসুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজশেখর বসুর
ব্যাখ্যা
• রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম - পরশুরাম।

অন্যদিকে,
• কালীপ্রসন্ন সিংহের ছদ্মনাম - হুতুম পেঁচা।
• বিমল ঘোষের ছদ্মনাম - মৌমাছি।
• সমরেশ বসুর ছদ্মনাম - কালকূট ও ভ্রমর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৫৬৬.
'অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থের রচয়িতা?
  1. ক) মুহম্মদ এনামুল হক
  2. খ) মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. গ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) ড. আহম্মদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
গ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থের রচয়িতা- 'সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়'

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৮৯০ সালের ২৬শে অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন একজন বাঙালি ভাষাতাত্ত্বিক পণ্ডিত, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।  

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স 
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা 
- অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ 
- ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড লিটারেচর অফ মর্ডান ইন্ডিয়া 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৫৬৭.
“দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত ও পূর্বরাত্রি পূর্বদিন” উপন্যাস ত্রয় কার রচনা?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দিন
  2. শওকত আলী
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
শওকত আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত আলী
ব্যাখ্যা
• ‘দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত ও পূর্বরাত্রি পূর্বদিন’:
- দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত ও পূর্বরাত্রি পূর্বদিন গ্রন্থ তিনটি শওকত আলীর 'ত্রয়ী উপন্যাস' বলে স্বীকৃত।

- উপন্যাস তিনটিই বিশ শতকের সত্তর দশকের শেষদিকে ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বিচিত্রার পর পর কয়েক বছরের (১৯৭৬, ১৯৭৭, ১৯৭৮) ঈদ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় আরো অনেক পরে।

- ঢাকার এশিয়া পাবলিকেশন্স থেকে যে শওকত আলীর উপন্যাস শিরোনামে তিনটি খণ্ড (২০০০, ২০০১, ২০০৭ সালে) প্রকাশিত হয়েছে, তাতে রচনাকালের দিক বিবেচনায়ও এই তিন উপন্যাস সেখানে স্থান পায়নি। আবার তিনটি উপন্যাসই শুধু দক্ষিণায়নের দিন শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে ঢাকার প্রকাশনা সংস্থা বিদ্যাপ্রকাশ থেকে ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দে।

- এই ত্রয়ী উপন্যাসের মধ্যে আলাদা করে শুধু পূর্বরাত্রি পূর্বদিন প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল মুক্তধারা (ঢাকা) থেকে ১৯৮৬ সালে। লেখক গ্রন্থটি উৎসর্গ করেছিলেন কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসকে। উৎসর্গপত্রে শওকত আলী লিখেন, 'প্রিয় লেখক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আপনাকে'।

অন্যদিকে,
• ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা ও পঞ্চগ্রাম হলো তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাস।
• ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা ও সংকর সংকীর্তন হলো আবু জাফর শামসুদ্দিন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস

---------------------
• শওকত আলী:
- শওকত আলীর জন্ম ১৯৩৬ সালে দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে।
- একটি ছোট উপন্যাস ‘পিঙ্গল আকাশ’ (১৯৬৪) তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই। এর পর প্রকাশিত হয়েছে। দুটি ছােটগল্প সংকলন ও একটি উপন্যাস।
- শিশুকিশোরদের জন্যেও তিনি লিখে থাকেন। বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শওকত আলী বাঙলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে।

• শওকত আলী রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উওরের খেপ,
- বসত,
- হিসাবনিকাশ,
- দলিল,
- উত্তরের ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘দক্ষিণায়নের দিন’ উপন্যাসের ভূমিকা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫৬৮.
বাংলা ভাষায় অনূদিত নাটক কোনটি?
  1. কবর
  2. মুখরা রমণী বশীকরণ
  3. দণ্ডকারণ্য
  4. চিঠি
সঠিক উত্তর:
মুখরা রমণী বশীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুখরা রমণী বশীকরণ
ব্যাখ্যা
• 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নাটক:
- মুনীর চৌধুরী উইলিয়াম শেক্সপিয়রের The Taming of The Shrew (টেমিং অব দি শ্রু ) অনুবাদ করেন 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নামে (১৯৭০)। এটি পাঁচ অঙ্ক বিশিষ্ট কমেডি।
- পদুয়া নামক স্থানের এক ধনী ব্যাপ্তিস্তার দুই কন্যা ক্যাথেরিনা ও বিয়াঙ্কা। ক্যাথেরিনা খুবই মুখরা নারী, বিয়াঙ্কা সুন্দরী। ভেরােনা নামক স্থানের যুবক পেট্রুশিও ক্যাথেরিনার দর্প চূর্ণ করে তার পাণিগ্রহণ করে।
- মুনীর চৌধুরী নিজেই বলেছেন :কাহিনিটি স্থুল। কিন্তু এতে যে হাস্যরস আছে তা সতেজ, সরস ও উপভােগ্য।

উল্লেখ্য,
• কবর নাটক:
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত ‘Bury The Dead’ নাটকের অনুসরণে এদেশীয় ঘটনা ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে ‘কবর’ নাটকটি রচিত হয়েছে। সমাধি থেকে মানুষের আত্মার পুনরুত্থান ঘটে ‘Bury The Dead’ নাটকে, মূলত এই ঘটনার অনুকরণ ঘটে ‘কবর’ নাটকে। 
- Bury The Dead নাটকের অনুকরণ ঘটলেও ‘কবর’ অনুবাদ নাটক নয়।

----------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫৬৯.
সেলিনা হোসেনের রচনা কোনটি?
  1. একাত্তরের দিনগুলি
  2. একাত্তরের নিশান
  3. একাত্তরের ডায়েরী
  4. একাত্তরের ঢাকা
সঠিক উত্তর:
একাত্তরের ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একাত্তরের ঢাকা
ব্যাখ্যা
• সেলিনা হোসেনের রচনা - একাত্তরের ঢাকা
- এটি তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এটি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়।

সেলিনা হোসেন:
- তিনি ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূলবিষয় অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি।
- তিনি মুহাম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক (১৯৬৯), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮০), ফিলিপস্‌ পুরস্কার (১৯৮৮), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বদেশে পরবাসী,
- একাত্তরের ঢাকা,
- নির্ভয় করো হে,
- মুক্তো করো ভয়,
- ঘর গেরস্থির রাজনীতি।

অন্যদিকে, 
• জাহানারা ইমামের রচনা - একাত্তরের দিনগুলি।
• রাবেয়া খাতুনের রচনা - একাত্তরের নিশান।
• সুফিয়া কামালের রচনা - একাত্তরের ডায়েরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৫৭০.
"সব্যসাচী" কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. দেনা-পাওনা
  2. বড়দিদি
  3. পথের দাবী
  4. চরিত্রহীন
  5. কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
পথের দাবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথের দাবী
ব্যাখ্যা

'পথের দাবী' উপন্যাস:
- পথের দাবী (১৯২৬) একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। কাহিনীর পটভূমি ব্রহ্মদেশ। 
- এক গুপ্ত দলের নায়ক সব্যসাচী উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। 
- কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রসবিহারীবসুর ছায়াপাত ঘটেছে।  
- উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। 
- বঙ্গবানী পত্রিকার ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবি' ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৫৭১.
'ইঁদুর' গল্পগ্রন্থের লেখক কে?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. সুকুমার রায়
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সোমেন চন্দ
সঠিক উত্তর:
সোমেন চন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা

 • 'ইঁদুর' ছোটগল্প:
- জীবনের পরতে পরতে যে বাস্তবের অনুশীলন প্রতিনিয়ত আমরা চর্চা করে চলেছি, আমাদের শাণিত বোধ যেখানে আটপৌরে সমাজব্যবস্থার কাছে আনত সেখানে একটি ইঁদুরের সংগ্রাম সেই মানুষের বিরুদ্ধে।
- এরকম পটভূমিকায় সোমেন চন্দের এক অসাধারণ গল্প ইঁদুর।
- বাংলা ছোটগল্পের ধারায় 'ইঁদুর' খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ : জানিয়েছেন, 'ইঁদুর' গল্প পড়েই তিনি কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা লাভ করেন।

সোমেন চন্দ:

- তিনি ছিলেন মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ।
- ১৯২০ সালের ২৪ মে বালিয়া গ্রাম, পলাশ, নরসিংদীতে তাঁর জন্ম। তাঁর পূর্ণ নাম সোমেন্দ্র কুমার চন্দ।
- তিনি ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর বিখ্যাত ছোটগল্প 'ইঁদুর' পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ জানিয়েছেন, 'ইঁদুর' গল্প পড়েই তিনি কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা লাভ করেন।
- তিনি ৮ই মার্চ, ১৯৪২ সালে ফ্যাসিবাদ সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে নিহত হন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সংকেত ও অন্যান্য গল্প,
- বনস্পতি ও অন্যান্য গল্প,
- সোমেন চন্দের গল্পগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৬,৫৭২.
'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয় কাকে?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. মুহাম্মদ আবদুল হাই
  3.  ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  4. রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ
সঠিক উত্তর:
 ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন। তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।

- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযুক্ত হন।

- ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।

- তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।

- তাঁর সম্পাদিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান এক বিশেষ কীর্তি। মুহম্মদ আবদুল হাই-এর সঙ্গে তাঁর যুগ্ম-সম্পাদনায় রচিত Traditional Culture in East Pakistan (১৯৬১) একখানা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- "আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।"

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
-------------------
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে 'ভাষাচার্য' উপাধি দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৫৭৩.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের উপাধি ছিল-
  1. কবিরত্ন
  2. ছন্দোরাজ
  3. কলমগীর
  4. ত্রিবিক্রম বর্মণ
সঠিক উত্তর:
ছন্দোরাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছন্দোরাজ
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি 'ছন্দের জাদুকর' ও 'ছন্দোরাজ' উপাধিতে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা 'ছন্দ-সরস্বতী' প্রকাশিত হয়।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

• সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন। যেমন:
- নবকুমার,
- কবিরত্ন,
- অশীতিপর শর্মা,
- ত্রিবিক্রম বর্মণ,
- কলমগীর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫৭৪.
'ইন্দিরা' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত-
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. গল্প
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'ইন্দিরা' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস ইন্দিরা।
- ইন্দিরা ছোট উপন্যাস, অনেকে বলেন বড়ো গল্প।
- ১৮৭২ সালে 'বঙ্গদর্শনে' প্রথম প্রকাশিত হয়।
 - এই কাহিনিটি উত্তমপুরুষের বয়ানে রচিত।
- এটি কৌতুক-পরিহাসপূর্ণ উপভোগ্য কাহিনি।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- তিনি ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- তিনি ১৮৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- দুর্গেশনন্দনী, 
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ ইত্যাদি। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫৭৫.
টেকচাঁদ- কোন সাহিত্যিক ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. শামসুর রাহমান
  4. শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ মুজতবা আলী (১৯০৪-১৯৭৪) ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। 
শান্তিনিকেতনে অধ্যয়নকালে হস্তলিখিত বিশ্বভারতী পত্রিকায় তাঁর কয়েকটি লেখা প্রকাশিত হয়। তিনি বিভিন্ন ছদ্মনামে আনন্দবাজার, দেশ, সত্যযুগ, শনিবারের চিঠি, বসুমতী, হিন্দুস্থান স্ট্যান্ডার্ড প্রভৃতি পত্র-পত্রিকায় কলাম লিখতেন।

তাঁর ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- তিনি সত্যপীর,
- রায়পিথোরা,
- ওমর খৈয়াম,
- টেকচাঁদ,
- প্রিয়দর্শী ইত্যাদি ছদ্মনামে।

অন্যদিকে, 
- শামসুর রাহমান মুক্তিযুদ্ধকালে 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন।
-  প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
১৬,৫৭৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত নাটক -
  1. অচলায়তন
  2. রক্তকরবী
  3. ডাকঘর
  4. বাল্মীকি প্রতিভা
সঠিক উত্তর:
বাল্মীকি প্রতিভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাল্মীকি প্রতিভা
ব্যাখ্যা

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত নাটক - বাল্মীকি প্রতিভা।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৮১ সালে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কবিতা 'হিন্দুমেলার উপহার'।
- প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'কবি-কাহিনী'।
- প্রথম প্রকাশিত নাটক 'বাল্মীকি প্রতিভা'।
- প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম 'বউ ঠাকুরাণীর হাট’৷
- প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম 'ভিখারিণী'৷
- প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'বিবিধপ্রসঙ্গ'।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৫৭৭.
বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. পরিক্রমা
  2. বন্দীর বন্দনা
  3. মায়ামালঞ্চ
  4. হঠাৎ আলোর ঝলকানি
সঠিক উত্তর:
পরিক্রমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিক্রমা
ব্যাখ্যা
• "পরিক্রমা" বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত হয়। 

---------------
• বুদ্ধদেব বসু:

বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-১৯৭৪) ছিলেন সাহিত্যিক, সমালোচক ও সম্পাদক। ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে। 

ঢাকা থেকে প্রগতি (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে কবিতা (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম। কবিতাবিষয়ক কবিতা পত্রিকাটি তখন সাহিত্যিক মহলে উচ্চ প্রশংসা লাভ করে; রবীন্দ্রোত্তর কবিতা-আন্দোলনেও এর ভূমিকা স্বীকৃত।

• বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প গ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- বন্দীর বন্দনা,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক:
- মায়ামালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত প্রবন্ধ:
- হঠাৎ আলোর ঝলকানি,
- কালের পুতুল । 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৫৭৮.
হুমায়ুন কবির রচিত একমাত্র বাংলা উপন্যাস কোনটি?
  1. নদী ও নারী
  2. গণদেবতা
  3. আরোগ্য নিকেতন 
  4. দেয়াল 
সঠিক উত্তর:
নদী ও নারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদী ও নারী
ব্যাখ্যা

হুমায়ুন কবির:
- হুমায়ুন কবির ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি দার্শনিক, লেখক, কবি, রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ।
- হুমায়ুন কবির ১৯০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পূর্ণ নাম হুমায়ুন জহিরউদ্দিন আমির-ই-কবির।
- ১৯৬৯ সালের ১৮ আগস্ট হৃদরোগে তিনি মারা যান।

- হুমায়ুন কবিরের একমাত্র বাংলা উপন্যাস “নদী ও নারী”।
- এটি মূলত পদ্মা নদীর বিশালতা, চরভূমি এবং চরবাসীর জীবন, সম্পর্ক ও টিকে থাকার সংগ্রামকে কেন্দ্র করে লেখা।
- উপন্যাসটি প্রথমে ১৯৪৫ সালে ইংরেজিতে ‘Men and Rivers’ নামে প্রকাশিত হয়।
- পরে ১৯৫২ সালে “নদী ও নারী” নামে বাংলায় অনূদিত হয়।
- উপন্যাসে নতুন জেগে ওঠা চরভূমিতে মানুষের জীবন-সংগ্রাম, প্রেম, সম্পর্ক এবং প্রকৃতির সঙ্গে তাদের মিথস্ক্রিয়ার চিত্রণ করা হয়েছে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলী:
- নদী ও নারী (উপন্যাস);
- ইমানুয়েল কান্ট;
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব;
- বাংলার কাব্য (সমালোচনা গ্রন্থ)।
--------------------------------- 
অন্যদিকে,
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস- গণদেবতা, আরোগ্য নিকেতন। 
- হুমায়ূন আহমেদ রচিত সর্বশেষ উপন্যাস- দেয়াল। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৬,৫৭৯.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত 'নিষিদ্ধ লোবান' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) কাব্যনাট্য
  2. খ) নাটক
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
গ) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ শামসুল হক একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি সাহিত্যিক।
- তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
-------------
- 'নিষিদ্ধ লোবান' ও 'নীল দংশন' তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
- 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। চলচ্চিত্রটির নাম গেরিলা

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- গণনায়ক,
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন,
- বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুমপ দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী,
- আয়না বিবির পালা,
- স্তব্ধতার অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫৮০.
“এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি / নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার” - এই পঙ্‌ক্তি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া?
  1. পূর্বাভাস
  2. ছাড়পত্র
  3. মিঠেকড়া
  4. হরতাল
সঠিক উত্তর:
ছাড়পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাড়পত্র
ব্যাখ্যা

“এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি / নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার” - এই পঙক্তি ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া। 

ছাড়পত্র:
- ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থ এর সুকান্ত ভট্টাচার্য।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় কবির মৃত্যুর ৩ মাস পরে, ১৯৪৭ সালে।
- এটি বাংলা রাজনৈতিক কবিতার ইতিহাসে একটি স্মরণীয় গ্রন্থ।
- বিখ্যাত পঙক্তি: "এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি / নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার"। 

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- জন্ম: ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট, কলকাতা, মাতুলালয়।
- পৈতৃক নিবাস: ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়া।
- কাব্যে উচ্চারিত হয়েছে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা।
- মৃত্যু: মাত্র ২০ বছর ৯ মাস বয়সে, ১৩ মে ১৯৪৭।

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- ঘুম নেই,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৬,৫৮১.
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা কোনটি?
  1. যাত্রা
  2. মাধবীলতা
  3. পালামৌ
  4. কণ্ঠমালা
সঠিক উত্তর:
পালামৌ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পালামৌ
ব্যাখ্যা
⇒ পালামৌ:
- 'পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণামূলক ভ্রমণকাহিনী হচ্ছে 'পালামৌ'।
- এটি প্রথম বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এটি ছোট নাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু এবং মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- তিনি এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

⇒ সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা,
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৫৮২.
‘ফোকলাের' কথাটির উদ্ভাবক-
  1. ক) ডরসন
  2. খ) উইলিয়াম থমাস
  3. গ) হেনরি গ্লাস
  4. ঘ) উইলিয়াম কেরি
সঠিক উত্তর:
খ) উইলিয়াম থমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উইলিয়াম থমাস
ব্যাখ্যা
ফোকলাের (Folklore) কথাটির বাংলা প্রতিরূপ লােকসাহিত্য। ফোকলাের কথাটির উদ্ভাবক উইলিয়াম থমাস। ১৮৪৮ সালে সর্বপ্রথম লন্ডনে Folklore Society প্রতিষ্ঠিত হয়। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসিনা নাজিলা।
১৬,৫৮৩.
'বুলবুলিস্তান' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. ফররুখ আহমেদ
  3. আসকার ইবনে শাইখ
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
• গোলাম মোস্তফা:
- গোলাম মোস্তফা কবি ও লেখক।
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা গোলাম রববানী এবং পিতামহ কাজী গোলাম সরোয়ার দুজনেই ছিলেন লোককবি।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।

• তাঁর কাব্য:  
- রক্তরাগ,  
- খোশরোজ, 
- কাব্য-কাহিনী, 
- সাহারা,  
- হাসনেহেনা, 
- বুলবুলিস্তান,  
- তারানা-ই-পাকিস্তান, 
- বনিআদম,  
- গীতিসঞ্চালন ইত্যাদি ।

• তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে  রয়েছে:
- বিশ্বনবী (১৯৪২),
- ইসলাম ও কমিউনিজম (১৯৪৬),
- ইসলাম ও জেহাদ (১৯৪৭),
- আমার চিন্তাধারা (১৯৫২),
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি।

- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
- এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
- গোলাম মোস্তফার কাব্যের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো সহজ ও শিল্পসম্মত প্রকাশভঙ্গি এবং ছন্দোলালিত্য।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১৬,৫৮৪.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচনা নয় কোনটি?
  1. বীরাঙ্গনা কাব্য
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. শকুন্তলা
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
সঠিক উত্তর:
শকুন্তলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শকুন্তলা
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শকুন্তলা কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তলম নাটকের উপাখ্যান ভাগের বঙ্গানুবাদ, ১৮৫৪।

'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য: 
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য হলো মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত একটি বিখ্যাত কাব্য। 
- মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বন করে রচিত কাব্য ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’।
- ১৮৬০ সালের এই কাব্যটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 
- 'তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য' অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত মাইকেল মধূসূদন দত্তের প্রথম কাব্য। 

মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনী অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। 
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে। 
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি। 
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

'বীরাঙ্গনা কাব্য':
- 'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পত্রকাব্য।
- এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম।
- রোমান কাব্য ‘হেরোইদাইদ্স’ কাব্যের অনুসরণে ‘বীরাঙ্গনা’ কাব্যগ্রন্থটি বাংলায় রচিত।
- এই কাব্যে মোট ১১টি পত্র আছে।
- পৌরাণিক নারীরা মধুসূদনের হাতে যেন আধুনিক মানুষ হিসেবে পুনর্জাগরিত হয়ে নিজেদের প্রণয় কামনা ইত্যাদি প্রকাশ করেছে এই কাব্যে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫৮৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় 'চেনাকণ্ঠ' ছদ্মনামে পরিচিত ছিলেন-
  1. ক) হুমায়ুন আহমেদ
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালে সৈয়দ আলী আহসান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক হিসেবে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। এসময় তিনি 'চেনাকণ্ঠ' ছদ্মনামে পরিচিত ছিলেন।
১৬,৫৮৬.
আব্দুল কাদির কী ধরনের কবি হিসেবে পরিচিত? 
  1. ডিফেন্স অফ বেঙ্গল
  2. স্বভাব কবি
  3. ছন্দের জাদুকর
  4. ছান্দসিক কবি
সঠিক উত্তর:
ছান্দসিক কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছান্দসিক কবি
ব্যাখ্যা

• আব্দুল কাদির ছান্দসিক কবি হিসেবে পরিচিত।

• আবদুল কাদির:
- আবদুল কাদির (১৯০৬–১৯৮৪) ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, ছন্দবিদ ও সম্পাদক।
- তাঁর উপাধি ছিল ছান্দসিক কবি।
- কুমিল্লার আড়াইসিধা গ্রামে জন্ম নেওয়া এই সাহিত্যিক ১৯২৬ সালে ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজের মাধ্যমে গড়ে ওঠা বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন–এর অন্যতম সংগঠক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি সংগঠনের মুখপত্র ‘শিখা’ (১৯২৭) বার্ষিকীর প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
 - দিলরুবা;
- উত্তর বসন্ত;
- কবি নজরুল;
- ছন্দসমীক্ষণ;
- কাজী আবদুল ওদুদ;
- বাংলা ছন্দের ইতিবৃত্ত এবং 
- যুগকবি নজরুল।

উল্লেখ্য,
• গোবিন্দচন্দ্র দাস ছিলেন একজন বাঙালি স্বভাবধর্মী কবি।
- তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমসাময়িক কবিদের একজন হিসেবে পরিচিত এবং তাঁর জন্ম ও বাসস্থান ছিল ময়মনসিংহে।

• পাদ্রি লং - প্যারিচাঁদ মিত্রকে “ডিফেন্স অফ বেঙ্গল” উপাধি দেন।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল টেকচাঁদ ঠাকুর।
-বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস ‘আলালের ঘরের দুলাল’ (১৮৫৮) তাঁরই সৃষ্টি, যা বাংলা উপন্যাস ধারার পথিকৃৎ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।

• বাংলা সাহিত্যে “ছন্দের জাদুকর” হিসেবে পরিচিত কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে এই উপাধি দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- 'ছন্দের জাদুকর' নামে পরিচিত সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত-এর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো 'কাব্য-সঞ্চয়ন'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১৬,৫৮৭.
'কেউ কিছু বলতে পারে না' কোন নাটকের বাংলা অনুবাদ?
  1. The Importance of Being Earnest 
  2. You Never Can Tell
  3. The Admirable Crichton
  4. What Every Woman Knows
সঠিক উত্তর:
You Never Can Tell
উত্তর
সঠিক উত্তর:
You Never Can Tell
ব্যাখ্যা

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
 
নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এর মূল উপজীব্য),
- চিঠি (১৯৬৬), 
- কবর  (পূর্ববাংলার প্রথম প্রতিবাদী নাটক। নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন),
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য, 
- মানুষ (১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনী এর মূল উপজীব্য),
- নষ্ট ছেলে (রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাট),
- দণ্ডকারণ্য  (তিনটি নাটকের সমন্বয়। এতে দণ্ড, দণ্ডধর, দণ্ডকারণ্য),
- রাজার জন্মদিন। 
 
অনুবাদ নাটক: 
- কেউ কিছু বলতে পারে না (জর্জ বার্নার্ড শর You never can tell-এর বাংলা অনুবাদ),
- রূপার কৌটা (জন গলজ্‌ওয়র্দির The Silver Box-এর বাংলা অনুবাদ),
- মুখরা রমণী বশীকরণ  (উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের Taming of the Shrew-এর বাংলা অনুবাদ)। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,৫৮৮.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'খোয়াবনামা’ উপন্যাসের বিষয়বস্তু কী?
  1. সিপাহী বিদ্রোহ
  2. রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ
  3. ফকির সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  4. মুক্তিযুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
ফকির সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফকির সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মহাকাব্যোচিত উপন্যাস খোয়াবনামা (১৯৯৬)
উপন্যাসটির বিসষয়বস্তুতে বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবানালেখ্য সহ
- ফকির-সন্যাসী বিদ্রোহ,
- আসামের ভূমিকম্প,
- তেভাগা আন্দোলন,
- ১৯৪৩ সালের মন্বন্তর,
- পাকিস্তান আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এই উপন্যাসে নিখুঁতভাবে উপস্থিত করা হয়েছে।

- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত প্রথম উপন্যাস - চিলেকোঠার সেপাই।
- এই উপন্যাসের পটভূমি ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৭ সালে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৫৮৯.
'মেঘনাদবধ' কাব্যের কাহিনি কয়টি সর্গে বর্ণিত হয়েছে?
  1. ছয়টি
  2. সাতটি
  3. আটটি
  4. নয়টি
সঠিক উত্তর:
নয়টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নয়টি
ব্যাখ্যা
• 'মেঘনাদবধ কাব্য':
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণে'র কাহিনি অবলম্বনে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- এটা মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। কবি কাব্যের প্রথম দিকে বীররসের কথা বললেও এই কাব্যে করুণরসই প্রধান।
- ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক ও রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন রচনা করে এই স্বাধীনতা ভিলাষী কাব্য।
- নয় সর্গে সম্পূর্ণ 'মেঘনাদবধ কাব্যে' বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ থেকে মেঘনাদ-হত্যা, প্রমীলার চিতারোহণ পর্যন্ত মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত।

 রামায়ণের প্রাসঙ্গিক কাহিনিটি এরূপ-
অযােধ্যার রাজা দশরথের জ্যেষ্ঠপুত্র রামচন্দ্র স্ত্রী সীতা ও ছােটভাই লক্ষ্মণকে সাথে নিয়ে চৌদ্দ বছরের জন্য বনবাসে যান। বনবাসে গােদাবরী নদীর তীরে পঞ্চবটী বনে বসবাসকালে লঙ্কার রাজা রাবণের বােন শূর্পণখা বনে বেড়াতে এসে রামের রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে বিয়ের ইচ্ছা ব্যক্ত করে। রাম প্রত্যাখ্যান করে তাকে লক্ষ্মণের কাছে বিয়ের জন্য পাঠালে সেখানেও ব্যর্থ হয়। তখন শূৰ্পণখা রাগ করে সীতাকে খেয়ে ফেলতে চাইলে লক্ষ্মণ তার নাক কান কেটে তাড়িয়ে দেন। এই অপমানের কথা শূর্পণখা তার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়ােজিত দুই রাক্ষস সেনাপতি খর ও দূষণকে জানিয়ে প্রতিকার চায়। তখন রাক্ষস সেনাপতি রামকে আক্রমণ করে সসৈন্যে নিহত হয়। উদ্বিগ্ন শূর্পণখা লঙ্কায় ফিরে গিয়ে রাবণকে সব ঘটনা জানিয়ে সীতাকে হরণের জন্য উত্তেজিত করে। রাবণ ছদ্মবেশে কৌশলে সীতাকে হরণ করেন এবং লঙ্কায় এনে অশােকবনে বন্দী করে রাখেন। রাম স্ত্রীর উদ্ধারের জন্য বানররাজ সুগ্রীবের সাথে বন্ধুত্ব করে সাগরে সেতু তৈরি করে লঙ্কা আক্রমণ করেন। ভয়াবহ যুদ্ধে রাক্ষসবীরেরা একে একে রাম-লক্ষ্মণের হাতে নিহত হয়। রাবণ সবংশে নিহত হলে রাম সীতাকে উদ্ধার করেন। এই যুদ্ধের ঘটনাবলীর মধ্য থেকে রাবণপুত্র মেঘনাদের হত্যার কাহিনী নিয়ে 'মেঘনাদবধ' কাব্য রচিত হয়েছে।

• কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- রাবণ,
- মেঘনাদ,
- লক্ষ্মণ,
- রাম,
- প্রমীলা,
- বিভীষণ,
- সীতা,
- সরমা ইত্যাদি।

উৎস: মেঘনাদবধ কাব্য এবং এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৫৯০.
'রোহিণী' ও 'গোবিন্দলাল' বঙ্কিমচন্দ্রের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. কপালকুণ্ডলা
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. চরিত্রহীন
  4. বিষবৃক্ষ
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকান্তের উইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা

• 'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাস: 
- এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী রোহিনীকে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্ধে জড়িয়ে পড়েন।
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো: রোহিনী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর।

• তাঁর রচিত গুরুত্বপূর্ণ  উপন্যাস:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুন্ডলা,
- বিষবৃক্ষ,
- মৃণালিণী,
- রজনী,
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী,
- সীতারাম,
- কৃষ্ণকান্তের উইল।

• তাঁর রচিত গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস এবং চরিত্র সমূহ: 
- “দুর্গেশনন্দিনী” চরিত্র - আয়েশা, তিলোত্তমা।
- “কপালকুণ্ডলা” চরিত্র - কপালকুণ্ডলা, নবকুমার।
- “মৃণালিনী” চরিত্র - হেমচন্দ্র, মৃনালিনী, পশুপতি, মনোরমা।
- “বিষবৃক্ষ” চরিত্র - কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৫৯১.
‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের রচয়িতা - 
  1. আল মাহমুদ
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শহীদুল জহির
  4. আনিসুল হক
সঠিক উত্তর:
শহীদুল জহির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদুল জহির
ব্যাখ্যা
• ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ উপন্যাস:
- ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ উপন্যাসের রচয়িতা শহীদুল জহির।
- এটি একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
-  দর্শনের প্রয়োগ এবং কর্মের নতুনত্বের সাথে টানাগদ্যে রচিত ভিন্নমাত্রার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসটিকে অনেকে প্রবন্ধ ভেবে ভুল করেন।
-----------------------
• শহীদুল জহির:
- শহীদুল জহিরের জন্ম ১৯৫৩ সালে ঢাকায় নারিন্দার ভূতের গলিতে।
- গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলায়। 
- অ্যামেরিকান ইউনিভার্সিটি এবং কিছুদিন বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়া করেছেন।
- পেশায় সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন।

তাঁর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
• গল্পগ্রন্থ:
- ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য,
- আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু,
- পারাপার।

• উপন্যাস:
- সে রাতে পূর্ণিমা ছিল,
- মুখের দিকে দেখি,
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ উপন্যাস।
১৬,৫৯২.
'মৌসুমি ফুলের গান মোর কণ্ঠে জাগে নাকো আর
চারিদিকে শুনি হাহাকার।' - চরণদ্বয় কার লেখা?
  1. শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
  2. সেলিনা হোসেন
  3. শামসুর রাহমান
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• মৌসুমি ফুলের গান মোর কণ্ঠে জাগে নাকো আর
চারিদিকে শুনি হাহাকার। - চরণদ্বয় সুফিয়া কামালের লেখা।
- এটি তাঁর 'উদাত্ত পৃথিবী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'জাগো তবে অরণ্য কন্যারা' কবিতার চরণ।

জাগো তবে অরণ্য কন্যারা,
- সুফিয়া কামাল

মৌসুমি ফুলের গান মোর কণ্ঠে জাগে নাকো আর
চারিদিকে শুনি হাহাকার।
ফুলের ফসল নেই, নেই কারও কণ্ঠে আর গান
ক্ষুধার্ত ভয়ার্ত দৃষ্টি প্রাণহীন সব মুখ ম্লান ।
মাটি অরণ্যের পানে চায়
সেখানে ক্ষরিছে স্নেহ পল্লবের নিবিড় ছায়ায়।
জাগো তবে অরণ্য কন্যারা! জাগো আজি,
মর্মরে মর্মরে ওঠে বাজি
বৃক্ষের বক্ষের বহ্নিজ্বালা
মেলি লেলিহান শিখা তোমরা জাগিয়া ওঠো বলো।
কঙ্কণে তুলিয়া ছন্দ তান
জাগাও মুমূর্ষু ধরা-প্রান
ফুলের ফসল আনো, খাদ্য আনো ক্ষুধার্তের লাগি
আত্মার আনন্দ আনো, আনো যারা রহিয়াছে জাগি
তিমির প্রহর ভরি অতন্ত্র নয়ন, তার তরে
ছড়াও প্রভাত আলো তোমাদের মুঠি ভরে ভরে।

সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। 
- তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
- 'সওগাত' সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম ‘ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন’-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে ‘মহিলা সংগ্রাম পরিষদ’ (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; উদাত্ত পৃথিবী, সুফিয়া কামাল।
১৬,৫৯৩.
পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীনের জীবনকাল কোনটি?
  1. ১৮৯৯-১৯৭৬
  2. ১৯০০-১৯৭৪
  3. ১৮৮৯-১৯৪১
  4. ১৯০৩-১৯৭৬
সঠিক উত্তর:
১৯০৩-১৯৭৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯০৩-১৯৭৬
ব্যাখ্যা
• পল্লিকবি জসীম উদ্‌দীনের জীবনকাল - ১৯০৩-১৯৭৬।

• জসীম উদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত একমাত্র উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- যাঁদের দেখেছি (স্মৃতিকথা, ১৯৫২),
- 'ঠাকুর বাড়ির আঙিনায় (স্মৃতিকথা, ১৩৬৮),
- জীবন কথা (আত্মজীবনী, ১৯৬৪) ইত্যাদি।

 তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড় প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫৯৪.
কবি আল মাহমুদের 'সোনালি কাবিন' কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৭৬ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৮ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
ব্যাখ্যা
• 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্য গ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'
- সোনালী কাবিন কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালি কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত আছে। এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।

--------------------
• আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫৯৫.
বাংলা কাব্যের 'চিত্ররূপময়' কবি-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. জীবনানন্দ দাস
  3. শামসুর রহমান
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাস
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় বলেছেন। সুতরাং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় জীবনানন্দ দাশ চিত্ররূপময় কবি।

জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”
- “বনলতা সেন” তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। “বনলতা সেন” কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।

জীবনানন্দ দাশের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫৯৬.
নিচের কোন প্রহসনটি দীনবন্ধু মিত্রের রচিত?
  1. বৈকুণ্ঠের খাতা   
  2. আলীবাবা 
  3. যৎকিঞ্চিত 
  4. সধবার একাদশী
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা

• দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন হচ্ছে ‘সধবার একাদশী’। 

• ‘সধবার একাদশী’:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রহসন ‘সধবার একাদশী’ তৎকালীন কলকাতার উচ্চবিত্ত সমাজের ভণ্ডামি, মদ্যপান ও বেশ্যাসক্তির কুপ্রভাবকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরেছে। 
- সমাজের ধনী শ্রেণির নৈতিক অবক্ষয় ও তাদের ভোগবিলাসী জীবনের অসারতা এই প্রহসনের মূল বিষয়।
- বাংলা নাট্যসাহিত্যে এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রহসন হিসেবে স্বীকৃত।
- এই প্রহসনে বিধবার অন্ধ ধর্মাচার ও কুসংস্কারকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে।
----------------------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
- দীনবন্ধু মিত্র ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল গন্ধর্বনারায়ণ।
- ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধ চলাকালে তিনি কাছাড় অঞ্চলে ডাক বিভাগের দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করেন; এই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি দেয়।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা ও নাটক হলো ‘নীলদর্পণ’।

• দীনবন্ধু মিত্রের প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো,
- জামাই বারিক।

• দীনবন্ধু মিত্রের নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।
-----------------------------------------
অন্যদিকে, 
- বৈকুণ্ঠের খাতা প্রহসনটির রচয়িতা হচ্ছে- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
- আলীবাবা ও যৎকিঞ্চিত হচ্ছে কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত প্রহসন। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৬,৫৯৭.
"রাজবন্দীর চিঠি" গল্পটি কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ব্যথার দান
  2. শিউলিমালা
  3. রিক্তের বেদন
  4. যুগবাণী
সঠিক উত্তর:
ব্যথার দান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যথার দান
ব্যাখ্যা
'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ:
- 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ ছয়টি গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয় ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে।
- এটি নজরুলের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ; প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ তো বটেই।

'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- ব্যথার দান,
- হেনা,
- অতৃপ্ত কামনা,
- বাদল-বরিষণে,
- ঘুমের ঘোরে,
- রাজবন্দীর চিঠি
 
অন্যদিকে,
"যুগবাণী" কাজী নজরুল ইসলামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
কাজী নজরুল ইসলামের লেখা গল্পগ্রন্থ - শিউলিমালা, রিক্তের বেদন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৫৯৮.
বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার -
  1. মামুনুর রশীদ
  2. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  3. শহীদুল্লাহ কায়সার
  4. আবুল হোসেন
সঠিক উত্তর:
মামুনুর রশীদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা
মামুনুর রশীদ:
- মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান৷

তাঁর রচিত নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
আব্দুল মান্নান সৈয়দ:
- কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ- গবেষণা, জীবনী, নাটক/কাব্যনাটক, স্মৃতিকথা, অনুবাদ-কবিতা, সম্পাদনা- সব ধরনের গ্রন্থ রচনাতেই তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।

শহীদুল্লাহ কায়সার:
- তিনি একজন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক ছিলেন।

আবুল হোসেন:
- তিনি চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৫৯৯.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অগ্নিবীণা কাব্যের কোন কবিতা মুসলিম ঐতিহ্য সম্পর্কিত নয়?
  1. আগমনী
  2. কামাল পাশা
  3. খেয়াপারের তরণী
  4. কোরবানী
সঠিক উত্তর:
আগমনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগমনী
ব্যাখ্যা
• অগ্নি-বীণা কাব্যে ১২ টি কবিতা আছে। বিষয়বস্তুর জায়গা থেকে কবিতাগুলোকে ৪ ভাগে বিভক্ত করা যায়।
যেমন:
- ১. দ্রোহ, বিপ্লব ও আমিত্ব: প্রলয়োল্লাস, বিদ্রোহী, ধূমকেতু।
- ২. সময় ও যুদ্ধ: কামাল পাশা, আনোয়ার, রণভেরী, শাত-ইল-আরব।
- ৩. মুসলিম ঐতিহ্য: মোহররম, কোরবানী, খেয়াপারের তরণী।
- ৪. হিন্দু ঐতিহ্য: রক্তাম্বরধারিণী মা, আগমনী।

• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:

- কাজী নজরুল ইসলামের উদারনৈতিক ঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতিফলন বিশেষভাবে দেখা যায় 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থে।
- 'অগ্নিবীণা' তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ এবং এটি মূলত সামাজিক ও রাজনৈতিক দ্রোহ, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, মানবিক সাম্য ও উদারনৈতিক মানবতাবোধের স্বর তুলে ধরে।
- এই কাব্যগ্রন্থে তার বিখ্যাত কবিতা 'বিদ্রোহী' ও 'আগমনী' সহ বিভিন্ন কবিতা রয়েছে যেগুলি মানবতাবাদী ও উদারনৈতিক চেতনার সুস্পষ্ট নিদর্শন।
- এ কাব্যের ১২টি কবিতার মধ্যে সাতটি ইসলামী ঐতিহ্য, তিনটি বিশুদ্ধ হিন্দু ঐতিহ্য এবং দুটি কবিতা হিন্দু-মুসলিম উভয় ঐতিহ্যের মিশ্রণে রচিত।
- কবিতায় মুসলিম ঐতিহ্য ও জীবনবোধের প্রসঙ্গে খোদার আসন, আরশ ছেদিয়া, বোররাক, জিব্রাইল, হাবিয়া-দোযখ, প্রভৃতি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।
- অন্যদিকে, এই কাব্যের কবিতায় নটরাজ ধূর্জটি, হোমশিখা, জমদগ্নি, ইন্দ্রানী, কৃষ্ণ-কন্ঠ, ব্যোমকেশ, ইশান, শ্যাম, বিষ্ণু, পরশুরাম, বলরাম, ভৃগু প্রভৃতি শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কাজী নজরুলের সচেতন প্রয়াস লক্ষ করা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া, লাইভ এমসিকিউ লেকচার-১৪।
১৬,৬০০.
মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম কী?
  1. যুবনাশ্ব
  2. চিত্রগুপ্ত
  3. সুবচনী
  4. শম্ভু মিত্র
সঠিক উত্তর:
যুবনাশ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুবনাশ্ব
ব্যাখ্যা

• মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব

অন্যদিকে,
•  সুরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়' ছদ্মনামে লিখতেন - শম্ভু মিত্র।
• 'চিত্রগুপ্ত' ছদ্মনামে লিখতেন - সতীনাথ ভাদুড়ী।
• 'সুবচনী' ছদ্মনামে লিখতেন - সুভাষ মুখোপাধ্যায়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।