বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৬৭ / ১৭৪ · ১৬,৬০১১৬,৭০০ / ১৭,৪৩৭

১৬,৬০১.
"যুবনাশ্ব' ছদ্মনামটি কোন লেখকের?
  1. বিমল মিত্র
  2. মণীশ ঘটক
  3. মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়
  4. চারুচন্দ্র চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
মণীশ ঘটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মণীশ ঘটক
ব্যাখ্যা
মণীশ ঘটক এর ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব

অন্যদিকে,
- মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - শংকর।
- চারুচন্দ্র চক্রবর্তী এর ছদ্মনাম - জরাসন্ধ।
- বিমল মিত্র এর ছদ্মনাম - জাবালি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৬০২.
'পঞ্চভূত' রবীন্দ্রনাথের কী জাতীয় রচনা?
  1. ক) অতিপ্রাকৃত ছোটগল্প
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
'পঞ্চভূত' (১৮৯৭) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধগুলি সাধনা পত্রিকায় 'পঞ্চভূতের ডায়রি' নামে ছাপা হয়। 
- ক্ষিতি, স্রোতস্বিনী, দীপ্তি, সমীর ও গগন এই পাঁচটি চরিত্রের মধ্যে দিয়ে আলোচনার রীতিতে মূলত তত্ত্ব বিষয়ক সমস্যার সরস ও গভীর বিশ্লেষণ। 
- পত্রিকায় প্রকাশের সময় লেখকের নাম ছাপা হতো: 'লেখক ভুতনাথ বাবু'  

তাঁর রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- মানুষের ধর্ম,
- কালান্তর,
- সভ্যতার সংকট ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৬০৩.
শ্রীচৈতন্যদেবের প্রকৃত নাম কী?
  1. নিমাই চক্রবর্তী
  2. বিশ্বম্ভর মিশ্র
  3. গৌরাঙ্গ
  4. বিশ্বম্ভর সেন
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
বিশ্বম্ভর মিশ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বম্ভর মিশ্র
ব্যাখ্যা
শ্রীচৈতন্যদেব:
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত।
- তাঁর পিতা জগন্নাথ মিশ্র সিলেট জেলার দক্ষিন গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।
- প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত। তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ থেকে রূপান্তরিত এক ধর্মবেত্তা, যিনি তাঁর স্বকীয় ভক্তির মাধ্যমে বাংলা ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,৬০৪.
'কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ' গানের সংকলনের রচয়িতা কে?
  1. অতুলপ্রসাদ সেন
  2. আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
অতুলপ্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
অতুলপ্রসাদ সেন:
- তিনি মূলত কবি, গীতিকার, গায়ক ছিলেন।
- তিনি ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুমরি আমদানি করেন।
- তিনি সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীত ভুবনে অনন্য স্থান দখল করে আছেন।
- তাঁর ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।’ গান ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকারীদের মনে উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিল।
- তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।

তাঁর গানের সংকলন:
- কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৬০৫.
স্বৈরশাসনকে ব্যঙ্গ করে সেলিম আল দীন রচিত নাটক কোনটি?
  1. মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
  2. হরগজ
  3. হাতহদাই
  4. ধাবমান
সঠিক উত্তর:
মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
ব্যাখ্যা
• স্বৈরশাসনকে ব্যঙ্গ করে সেলিম আল দীন রচনা করেন ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’ নাটকটি।
- হাস্যরসের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন সেনা ও স্বৈরশাসকেরা দেশের প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে সঙ্গে শুভবোধ ও সংস্কৃতিকেও ধ্বংস করে৷

------------------------
• সেলিম আল দীন:
- বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার হলেন সেলিম আল দীন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ।
- তিনি ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

• তাঁর রচিত নাটকগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ, নিমজ্জন,
- একটি মারমা রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,৬০৬.
"আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।" - লাইনটি কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. স্বাধীনতা এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো 
  2. ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯
  3. আসাদের শার্ট
  4. স্বাধীনতা তুমি
সঠিক উত্তর:
আসাদের শার্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসাদের শার্ট
ব্যাখ্যা

• আসাদের শার্ট:
- শহীদ আসাদ স্মরণে কবি শামসুর রাহমান লিখেছিলেন কালজয়ী কবিতা ‘আসাদের শার্ট’।
- ১৯৬৯ সালের ২০জানুয়ারি শামসুর রাহমান রচনা করেন ‘আসাদের শাট’র্ কবিতাটি।
- তাঁর লেখা ‘আসাদের শার্ট’ কবিতাটির পিছনে রয়েছে পুলিশের গুলিতে নিহত আসাদের শার্ট উঁচুতে তুলে ধরে প্রতিবাদী এক বিশাল মিছিলের মুখোমুখি হওয়া কবির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া।

তাতে কবি লিখেছিলেন -
''আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা
সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক;
আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।’'

-------------------------
• শামসুর রাহমান:
• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

• শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,৬০৭.
'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল হাসান
  2. খ) আবু ইসহাক
  3. গ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. ঘ) আবুল হাসান
সঠিক উত্তর:
খ) আবু ইসহাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।
 
• কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল,

গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৬০৮.
গোয়েন্দা কাহিনি অবলম্বনে আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস-
  1. চৌচির
  2. জাল
  3. জয়ধ্বনি
  4. মুক্তি
সঠিক উত্তর:
জাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাল
ব্যাখ্যা
• 'জাল' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস 'জাল'।
- এটি একটি ভিন্ন স্বাদের উপন্যাস, গতানুগতিক ডিটেকটিভ উপন্যাস নয়। তা' ছাড়া এর ভেতরে আছে অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রে আবু ইসহাকের উদ্ভাবিত কিছু মৌলিক পদ্ধতি।
- উপন্যাসটি ১৯৮৮ সালে 'আনন্দপত্র ঈদ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- কিছু পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জিনার পর এটি গ্রন্থকারে প্রকাশিত হলো নসাস ঢাকা থেকে।

• আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক কথাসাহিত্যিক ও একজন অভিধান-প্রণেতা৷
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি'।
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।

• তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ:
- 'হারেম ও
- মহাপতঙ্গ।

• তাঁর রচিত একমাত্র নাটক:
- জয়ধ্বনি।

অন্যদিকে,
•'চৌচির' উপন্যাসের রচয়িতা আবুল ফজল।
• 'মুক্তি' উপন্যাসের রচয়িতা আবু জাফর শামসুদ্দীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘জাল’ উপন্যাসের ভূমিকা; বাংলাপিডিয়া।
১৬,৬০৯.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে হুমায়ূন আহমেদ রচিত উপন্যাস?
  1. শঙ্খনীল কারাগার
  2. নন্দিত নরকে
  3. দুই দুয়ারী
  4. জোছনা ও জননীর গল্প
সঠিক উত্তর:
জোছনা ও জননীর গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জোছনা ও জননীর গল্প
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা হুমায়ূন আহমেদের  জনপ্রিয় উপন্যাস 'জোছনা ও জননীর গল্প'।
• উপন্যাসটির প্রথম সংস্করণ একুশে বই মেলাতে ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়।

⇒ হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২) বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে। 
- ছাত্রজীবনে লেখা 'নন্দিত নরকে' শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।
- ১৯৭২ সালে তিনি উপন্যাসটি রচনা করেন এবং সে বছরই উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- নন্দিত নরকে বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস 'শঙ্খনীল কারাগার' (১৯৭৩)। [প্রথম রচিত উপন্যাস; কিন্তু দ্বিতীয় প্রকাশিত]

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- শ্যামল ছায়,
- আগুনের পরশমণি,
- অনিল বাগচীর একদিন,
- জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৬১০.
জীবনানন্দ দাশের প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. কবি 
  2. কবিতার কথা 
  3. কবি কাহিনী 
  4. বেলা অবেলা কালবেলা 
সঠিক উত্তর:
কবিতার কথা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতার কথা 
ব্যাখ্যা
• 'কবিতার কথা' হচ্ছে জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধে তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি- 'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।'

অন্যদিকে,
• 'কবি' উপন্যাস:
'কবি' উপন্যাসটি রচনা করেছেন- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। এটি ১৯৪১ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে 'জীবন এত ছোট ক্যানে' সংলাপটি ক্লাসিক মর্যাদা পেয়েছে।

• জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ 'বেলা অবেলা কালবেলা' (১৯৬১)। এটি কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।
• কবি-কাহিনী হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্ত্তৃক রচিত একটি বাংলা কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৬১১.
হরচন্দ্র ঘোষের অনুবাদ নাটক কোনটি?
  1. বেণীসংহার
  2. ভানুমতী চিত্তবিলাস
  3. অভিজ্ঞান শকুন্তলা
  4. মালতীমাধব
সঠিক উত্তর:
ভানুমতী চিত্তবিলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভানুমতী চিত্তবিলাস
ব্যাখ্যা
• অনুবাদ নাটক বাংলা নাটকের বিকাশের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল। এই ক্ষেত্রে হরচন্দ্র ঘোষের অনুবাদ নাটকের কথা উল্লেখযোগ্য। তাঁর 'ভানুমতী চিত্তবিলাস' (১৮৫২) ও 'চারুমুখ চিত্তহারা' (১৮৬৪) যথাক্রমে সেক্সপীয়রের 'মার্চেন্ট অব ভেনিস' ও 'রোমিও জুলিয়েটে'র ভাবানুবাদ।

অন্যদিকে, 
• সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন। বেণীসংহার (১৮৫৬), রত্নাবলী (১৮৫৮), অভিজ্ঞান শকুন্তলা (১৮৬০) ও মালতীমাধব (১৮৬৭)-এই চারটি নাটক সংস্কৃত থেকে অনূদিত। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
১৬,৬১২.
' নারীজাতিবিষয়ক প্রস্তাব'- প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) কালীপ্রসন্ন ঘোষ
  2. খ) এস ওয়াজেদ আলী
  3. গ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. ঘ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
সঠিক উত্তর:
ক) কালীপ্রসন্ন ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কালীপ্রসন্ন ঘোষ
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা হলেন- কালীপ্রসন্ন ঘোষ

• কালীপ্রসন্ন ঘোষ:
- তিনি ১৮৪৩ সালের ২৩ জুলাই  ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে ভরাকর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন বাগ্মী, সাংবাদিক, লেখক, পন্ডিত। 
- তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয় ঢাকার ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত ‘ঢাকা শুভসাধিনী সভার’ মুখপত্র 'শুভসাধিনী' সম্পাদনার মাধ্যমে।
- কালীপ্রসন্ন ঘোষ দর্শন ও সমাজ সম্পর্কে অনেক মূল্যবান প্রবন্ধ ও গ্রন্থ রচনা করেন।

• তাঁর প্রবন্ধগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- প্রভাত-চিন্তা।
- নিভৃত-চিন্তা।
- নারীজাতিবিষয়ক প্রস্তাব।
- নিশীথ-চিন্তা। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে:
- ভ্রান্তিবিনোদ।
- প্রমোদলহরী।
- ভক্তির জয়।
- মা না মহাশক্তি।
- জানকীর অগ্নিপরীক্ষা।
- ছায়াদর্শন প্রভৃতি।
- এছাড়াও 'সঙ্গীতমঞ্জরী' নামে আধ্যাত্মিক সঙ্গীতসংগ্রহ এবং 'কোমল কবিতা' নামে শিশুপাঠ্য গ্রন্থও তিনি রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬,৬১৩.
‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রীচরণে অর্ঘ্য। ঋণশোধের জন্য নয়, ঋণস্বীকারের জন্য।’- উৎসর্গ পত্রটি কার রচনা?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর রচিত ‘তম্বী’ (১৯৩০) কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেছেন।
• ‘তম্বী’ উৎসর্গপত্রে লিখেছেন: ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রীচরণে অর্ঘ্য। ঋণশোধের জন্য নয়, ঋণস্বীকারের জন্য।’

⇒ সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
• ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।
• সুধীন্দ্রনাথ কর্মজীবনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও করেছেন। আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
⇒ কাব্যগ্রন্থ:  
• তন্বী,
• অর্কেস্ট্রা,
• ক্রন্দসী,
• উত্তরফাল্গুনী,
• সংবর্ত,
• দশমী।

⇒ প্রবন্ধগ্রন্থ:
• স্বগত,
• কুলায় ও কালপুরুষ।
এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা সৌমিত্র শেখর।
১৬,৬১৪.
আবুল মনসুর আহমদ জন্মগ্রহণ করেন-
  1. ক) রাজশাহী
  2. খ) পাবনা
  3. গ) ময়মনসিংহ
  4. ঘ) বরিশাল
সঠিক উত্তর:
গ) ময়মনসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

• ৩ সেপ্টেম্বর, ১৮৯৮ সালে আবুল মনসুর আহমদ ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তিনি মূলত সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
• তিনি যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী কর্মসূচির ২১ দফা প্রণয়নের অন্যতম একজন নেতা ছিলেন।
• তিনি যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্য মন্ত্রী ছিলেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৬,৬১৫.
'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনে' নেতৃত্ব দেন কে?
  1. মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  2. আবুল হুসেন
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. আবুল হাসান
সঠিক উত্তর:
আবুল হুসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল হুসেন
ব্যাখ্যা
আবুল হুসেন:
- তিনি প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৬ সালের ৬ জানুয়ারি যশোর জেলার পানিসারা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকায় যে 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয়' তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন।
- তিনি 'ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ' (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র 'শিখা' (১৯২৭-১৯৩১) সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।
- তিনি ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।
- কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ ও আবুল ফজল তাঁকে এ কাজে সাহায্য করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থের:
- বাংলার বলশী,
- মুসলিম কালচার ও
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,৬১৬.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লেখা নাটক কোনটি?
  1. কবর
  2. বহিপীর
  3. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  4. ওরা কদম আলী
সঠিক উত্তর:
বহিপীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহিপীর
ব্যাখ্যা
• 'বহিপীর' নাটক:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত নাটক 'বহিপীর' ১৯৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গড়ে উঠেছে বহিপীরের সর্বগ্রাসী স্বার্থ ও নতুন দিনের প্রতীক এক বালিকার বিদ্রোহের কাহিনীকে কেন্দ্র করে।
- নাটকের এই কেন্দ্রীয় চরিত্রটির নাম অনুসারেই নাটকের নামকরণ করা হয়েছে বহিপীর।
- এখানে ধর্মকে ভণ্ডবহিপীর ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- বহিপীর,
- তাহেরা,
- হাতেম,
- আমেনা,
- হাশেম।

-----------------------
অন্যদিকে,
• 'কবর' নাটকের রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী। 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
• সৈয়দ শামসুল হকের 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত একটি কাব্য নাটক।
• মামুনুর রশীদ রচিত নাটক হচ্ছে ওরা কদম আলী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৬১৭.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের পণ্ডিত ছিলেন না কে?
  1. রামরাম বসু
  2. গোকলনাথ শর্মা
  3. তারিণীচরণ মিত্র
  4. চণ্ডীচরণ মুন্‌শী
সঠিক উত্তর:
গোকলনাথ শর্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোকলনাথ শর্মা
ব্যাখ্যা

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয়‌ বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলােচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

প্রশ্নের অপশনগুলোর মধ্যে, গোকলনাথ শর্মা - ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত ছিলেন না। এখানে, 'গোকলনাথ' - নামের বানানটি ভুল। সঠিক নামের বানান হবে - গোলকনাথ শর্মা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,৬১৮.
‘নীড় সন্ধানী’ আনোয়ার পাশা রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধ-গবেষণা
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
⇒ ‘নীড় সন্ধানী’ উপন্যাস:
- ‘নীড় সন্ধানী’ আনোয়ার পাশা রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
• "আলো-বাতাস ও বৃক্ষ-ফলশোভিত এই সুন্দর পৃথিবীতে মানুষেরই বেঁচে থাকার জন্য কী অনন্ত আয়োজন। আর প্রত্যেকটি জীবনের মনেই কি অগাধ কামনা- আমি বাঁচব" আনোয়ার পাশার প্রথম নায়ক, 'নীড় সন্ধানী'র হাসান লিখেছিল এই কথা।

• আমি বাঁচব- এই অগাধ কামনা আনোয়ার পাশার প্রায় সকল নায়কেরই এবং নায়িকারও। তারা বাঁচতে চায়। বাঁচার জন্য গভীর ও বিচিত্র আয়োজন করে। উদ্যোগ নেয়। পরিশ্রম করে।

----------------------
⇒ আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক।
- তাঁর জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।
- তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার। 
- তাঁর সাহিত্যকর্মে গভীর দেশাত্মবোধ, মননশীলতা এবং প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনার পরিচয় পাওয়ার যায়।

• আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস: 
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

• গল্পগ্রন্থ: নিরুপায় হরিণী।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলতা উজ্জয়িনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৬১৯.
'সর্বদাই হুহু করে মন, বিশ্ব যেন মরুর মতন' - বিহারীলাল চক্রবর্তীর কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) স্বপ্নদর্শন
  2. খ) বঙ্গসুন্দরী
  3. গ) নিসর্গ সন্দর্শন
  4. ঘ) সারদা মঙ্গল
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গসুন্দরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গসুন্দরী
ব্যাখ্যা
• বাংলা কাব্যের 'ভোরের পাখি' বিহারীলাল চক্রবর্তী। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে গীতিকবিতা রচনা শিখিয়েছিলেন।
তার রচিত কিছু বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ -
- প্রেম বাহিনী
- সঙ্গীত শতক
- বঙ্গসুন্দরী
- নিসর্গ সন্দর্শন
- সারদামঙ্গল (শ্রেষ্ঠ কাব্য)

• বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ 'বঙ্গসুন্দরী'।
বিহারীলালের 'বঙ্গসুন্দরী' কবিতার কয়েকটি চরণ:
''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন,
চারদিকে ঝালাপালা,
উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা!
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।''

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৬২০.
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থটি কার?
  1. আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- সাতনরী হার (প্রথম প্রকাশিত),
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- আমার সময়,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতাঃ
- 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি',
- 'মাগো, ওরা বলে',
- কোন এক মাকে ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,৬২১.
'হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও' কোন পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন?
  1. দিগদর্শন
  2. সমাচার দর্পণ
  3. দি ইস্ট ইন্ডিয়ান
  4. জ্ঞানাণ্বেষণ
সঠিক উত্তর:
দি ইস্ট ইন্ডিয়ান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দি ইস্ট ইন্ডিয়ান
ব্যাখ্যা
• হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন

• হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- ডিরোজিওর পূর্ণ নাম- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- 'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৬২২.
কোন উপন্যাসটি প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত?
  1. আধ্যাত্নিকা
  2. কেয়াবন সঞ্চারিণী
  3. মৃণালিনী
  4. রাধারানী
সঠিক উত্তর:
আধ্যাত্নিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধ্যাত্নিকা
ব্যাখ্যা
• প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম "টেকচাঁদ ঠাকুর"।
- 'আলালের ঘরে দুলাল' প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ।

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায় (১৮৫৯),
- রামারঞ্জিকা (১৮৬০),
- কৃষিপাঠ (১৮৬১),
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত (১৮৭৮) এবং
- বামাতোষিণী (১৮৮১)।

• তাঁর উপন্যাস সমূহ:
- আলালের ঘরে দুলাল,
- আধ্যাত্নিকা,
- অভেদী।

অন্যদিকে, 
• নীলিমা ইব্রাহীম রচিত উপন্যাস: 
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়, ইত্যাদি।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,৬২৩.
“চতুষ্কোণ” উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. আহমদ ছফা
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. আল মাহমুদ
  4. আবু ইসহাক
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• “চতুষ্কোণ” উপন্যাস:
- 'চতুষ্কোণ' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়। 

- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা প্রথম থেকেই চলে সূক্ষ্ম মনস্তত্ত্বের রেখা ধ’রে। “চতুষ্কোণে” ও তাই হয়েছে;-বরং “চতুষ্কোণ”ই মানিকের শরীর-মনের সন্ধানের দ্বন্দ্ব ও দ্বন্দ্বোত্তরণের এক চূড়ান্ত নিদর্শন।

- বাস্তববাদিতা সত্ত্বেও, যৌনতার ব্যবহার সত্ত্বেও মানিক-যে অজনপ্রিয়, তার কারণ, তাঁর লক্ষ্য সব সময় ব্যক্তির এই ভিতরদেশে, মনস্তত্ত্বে, বস্তুবাদিতা বা যৌনতায় তা অবসান মানে না, বস্তুবাদিতা বা যৌনতার আভ্যন্তর এলাকায় চ’লে যায় সত্যের সন্ধানে।

উৎস: “চতুষ্কোণে” উপন্যাস।
১৬,৬২৪.
'নষ্টনীড়' ছোটগল্পের চরিত্র কোনটি?
  1. চারুলতা
  2. চন্দরা
  3. সুরবালা
  4. রতন
সঠিক উত্তর:
চারুলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারুলতা
ব্যাখ্যা

•''নষ্টনীড়' ছোটগল্প:
- 'নষ্টনীড়' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত একটি ছোটগল্প।
- 'চারুলতা' এই ছোটগল্পের চরিত্র।

---------------------------
অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আরো কিছু ছোটগল্পের চরিত্র:
- 'দেনাপাওনা' গল্পের নায়িকা- নিরূপমার।
- সমাপ্তি ছোটগল্পের চরিত্র- 'মৃন্ময়ী'।
- 'পোস্টমাস্টার' গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।
- 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
- 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৬২৫.
‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৭৬ সালে
  2. ১৯৮০ সালে
  3. ১৯৭৯ সালে
  4. ১৯৭৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা
'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'।
- মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি।
- হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
- উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে।
- আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।

সেলিনা হোসেন:
- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
- তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- তার রচিত উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছাস,
- পোকামাকড়ের ঘড়বসতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস।
১৬,৬২৬.
''আমি কবি হতে আসি নি। আমি নেতা হতে আসি নি। আমি প্রেম দিতে এসেছিলাম, প্রেম পেতে এসেছিলাম।''- উক্তিটি কার?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের 'যদি আর বাঁশী না বাজে' শীর্ষক অভিভাষণে ''আমি কবি হতে আসি নি। আমি নেতা হতে আসি নি। আমি প্রেম দিতে এসেছিলাম, প্রেম পেতে এসেছিলাম।'' উক্তিটি করেছেন।

• 'যদি আর বাঁশী না বাজে- অভিভাষণ', 
- কাজী নজরুল ইসলাম। 

যদি আর বাঁশী না বাজে, আমি কবি বলে বলছি নে, আমি আপনাদের ভালবাসা পেয়েছিলাম, সেই অধিকারে বলছি, আমায় আপনারা ক্ষমা করবেন। আমায় ভুলে যাবেন। বিশ্বাস করুন, আমি কবি হতে আসি নি। আমি নেতা হতে আসি নি। আমি প্রেম দিতে এসেছিলাম, প্রেম পেতে এসেছিলাম। সে প্রেম পেলাম না বলে আমি এই প্রেমহীন নিরস পৃথিবী হতে নিরব অভিমানে চিরদিনের জন্য বিদায় নিলাম। (সংক্ষেপিত)।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচনাসমগ্র:
উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা (বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপান্যাস),
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'যদি আর বাঁশী না বাজে- অভিভাষণ'।
১৬,৬২৭.
"কেন পান্থ, ক্ষান্ত হও, হেরি দীর্ঘ পথ/____ বিহনে পুরে কার মনোরথ"
  1. সাহস
  2. মনোবল
  3. উদ্যম
  4. পরিশ্রম
সঠিক উত্তর:
উদ্যম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্যম
ব্যাখ্যা
• "কেন পান্থ, ক্ষান্ত হও, হেরি দীর্ঘ পথ/উদ্যম বিহনে পুরে কার মনোরথ।" 

---------------------- 
কবিতা- দুঃখ বিনা সুখ হয় না (সম্ভাব শতক কাব্যগ্রন্থ থেকে)
কবি - কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার। 

কি কারণ, দীন। তব মলিন বদন?
যতন করহ লাভ হইবে রতন।
কেন পান্থ! ক্ষান্ত হও হেরে দীর্ঘ পথ?
উদ্যম বিহনে কার পূরে মনোরথ?
কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?
মনে ভেবে বিষম-ইন্দ্রিয়-রিপু-ভয়,
হাফেজ! বিমুখ কেন করিতে প্রণয়?
----------------------- 
• কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার:
- ১৮৩৪ সালের ১০ জুন বৃহত্তর খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক বৈদ্য পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক। 
- ১৮৬১ সালে 'ঢাকা প্রকাশ' প্রকাশিত হলে তিনি তার সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের নাম 'সদ্ভাবশতক'।
- ‘চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে’ তাঁর রচিত বিখ্যাত একটা পঙ্‌ক্তি।
- ১৯০৭ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- রাসের ইতিবৃত্ত,
- কৈবল্যতত্ত্ব,
- মোহভোগ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'সদ্ভাবশতক'- কাব্যগ্রন্থ, কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
১৬,৬২৮.
'দুর্দিনের যাত্রী' প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম 
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. আহমদ শরীফ
  4. আবুল ফজল
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম 
ব্যাখ্যা

• 'দুর্দিনের যাত্রী' কাজী নজরুল ইসলামের প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধে দেশপ্রেমের স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ: আমি সৈনিক; মোরা সবাই স্বাধীন সবাই রাজা; স্বাগত; তুবড়ি বাঁশির ডাক।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র-মঙ্গল,
- অন্যান্য প্রবন্ধ।

উল্লেখ্য,
• 'দুর্দিনের দিনলিপি' আবুল ফজল রচিত দিনলিপি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৬২৯.
'কমলাকান্ত' কোন সাহিত্যিকের ছদ্মনাম?
  1. ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) বর্তমান উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটি শহরের নিকটস্থ কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক এবং বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
• তিনি 'বাংলার স্কট' ও 'সাহিত্য সম্রাট' নামে পরিচিত।
• 'কমলাকান্ত' তাঁর ছদ্মনাম
• ‘দুর্গেশনন্দিনী’ (১৮৫৬) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস।
• 'বিষবৃক্ষ' তাঁর একটি সামাজিক উপন্যাস।
• বাংলা সাময়িকী সাহিত্যের প্রসারেও বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান অসামান্য। তাঁর সম্পাদিত  ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার মাধ্যমে একটি নতুন লেখকগোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৬৩০.
'হুরমতি' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. সারেং বৌ
  2. সংশপ্তক
  3. সূর্য দীঘল বাড়ী
  4. লালসালু
সঠিক উত্তর:
সংশপ্তক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংশপ্তক
ব্যাখ্যা
• 'সংশপ্তক' উপন্যাস:
- শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস- সংশপ্তক।
- সংশপ্তক শব্দটি মহাভারত থেকে নেওয়া হয়েছে।
- সংশপ্তক অর্থ হচ্ছে যে সৈনিকেরা জীবনমরণ পণ করে যুদ্ধে লড়ে।
- একে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।
- হিন্দু-মুসলিম সম্মিলিত জীবনযাপন, অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ এ উপন্যাসের বর্ণিত বিষয়।
- বিশ্বযুদ্ধ, দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি প্রাসঙ্গিকভাবে উপন্যাসে এসেছে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- হুরমতি,

- রাবেয়া খাতুন (রাবু),
- জাহেদ,
- সেকেন্দার,
- মালু,
- লেকু,
- রমজান,
- রামদয়াল ইত্যাদি।

অন্য অপশনের উপন্যাসগুলোর উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
• 'সারেং বৌ' উপন্যাস: কদম সারেং, নবীতুন।
• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস: জয়গুন, হাসু, মায়মুন।
• 'লালসালু' উপন্যাস: মজিদ, আমেনা এবং জমিলা।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৬৩১.
রবীন্দ্রনাথ ‘ভোরের পাখি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন কোন সাহিত্যিককে?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. খ) অতুলপ্রসাদ সেন
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী, (১৮৩৫-১৮৯৪) আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।

বিহারীলালের রচনাবলির মধ্যে
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বন্ধুবিয়োগ,
- প্রেমপ্রবাহিণী,
- নিসর্গসন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গসঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউলবিংশতি,
- সাধের আসন এবং
- ধূমকেতু  উল্লেখযোগ্য।

• সারদামঙ্গল কাব্য বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ। এর মাধ্যমেই তিনি উনিশ শতকের গীতিকবিদের গুরুস্থানীয় হয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ এ কাব্যটি পড়ে নানাভাবে প্রভাবিত হয়েছেন এবং বিহারীলালকে আখ্যায়িত করেছেন ‘ভোরের পাখি’ বলে।

• বিহারীলাল কাব্যচর্চার পাশাপাশি পত্রিকা সম্পাদনার কাজও করেছেন। তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা: পূর্ণিমা, সাহিত্য-সংক্রান্তি, অবোধবন্ধু প্রভৃতি। এসব পত্রিকায় অন্যদের রচনার পাশাপাশি তাঁর নিজের রচনাও প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া  ভারতী,  সোমপ্রকাশ, কল্পনা  প্রভৃতি পত্রিকায়ও তাঁর রচনা প্রকাশিত হয়েছে। বিহারীলাল ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬,৬৩২.
'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকাটি কার সম্পাদনায় কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. শেখ ফজলল করিম
  2. মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী
  3. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  4. মোহাম্মদ আকরম খাঁ
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আকরম খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আকরম খাঁ
ব্যাখ্যা
• 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা:
- মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা।
- ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ১৯২৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়।
- পরে আবার দুই বছর বন্ধ থাকার পর ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি ঢাকা থেকে পুনঃপ্রকাশিত হয় এবং ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকে।
- আকরম খাঁর পরে মুজিবুর রহমান খাঁ ও বদরুল আনাম খাঁ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, আখতারুল আলম, আ.ন.ম গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ প্রমুখ তরুণ সাংবাদিক-সাহিত্যিক এর সম্পাদনা-সহযোগীর দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬,৬৩৩.
'ইন্দ্রনাথ' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. শ্রীকান্ত
  2. পল্লীসমাজ
  3. পণ্ডিতমশাই
  4. পথের দাবী
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়। প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশ পায়। লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী।

অন্যদিকে, 
• 'পল্লীসমাজ' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।

• 'পণ্ডিতমশাই' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা একটি সামাজিক উপন্যাস, যা গ্রাম বাংলার পটভূমিতে রচিত। উপন্যাসটি মূলত বৃন্দাবন ও কুসুম নামের দুটি চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন ও অনিশ্চয়তাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। 

• 'পথের দাবী' উপন্যাসের মূল চরিত্রগুলির মধ্যে রয়েছেন- বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক, ভারতী ও সুমিত্রা, করুণাময়ী, বিনোদ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'পথের দাবী' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া। 

১৬,৬৩৪.
'হাঁসুলি বাঁকের উপকথা' উপন্যসের রচয়িতা কে? 
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর ছদ্মনাম - হাবু শর্মা।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৬৩৫.
‘চারুপাঠ’ কার সাহিত্যকর্ম?
  1. ক) অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
  2. খ) অক্ষয়কুমার দত্ত
  3. গ) অতুলপ্রসাদ সেন
  4. ঘ) অক্ষয়কুমার বড়াল
সঠিক উত্তর:
খ) অক্ষয়কুমার দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অক্ষয়কুমার দত্ত
ব্যাখ্যা

‘চারুপাঠ’ (শিশুপাঠ্য হিসেবে জনপ্রিয়) গ্রন্থটির রচয়িতা হল অক্ষয়কুমার দত্ত।
বাঙ্গালীদের মধ্যে তিনি ছিলেন প্রথম বিজ্ঞানমনস্ক লেখক।
তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ
- ভূগোল (১৮৪১)
- ধর্মনীতি (১৮৫৫)
- পদার্থবিদ্যা (১৮৫৬)।

১৬,৬৩৬.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসটি বাজেয়াপ্ত হয়েছিলো? 
  1. দেবদাস
  2. শ্রীকান্ত  
  3. পথের দাবী 
  4. রমা 
সঠিক উত্তর:
পথের দাবী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথের দাবী 
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পথের দাবি' রাজনৈতিক কারণে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিলো।

• 'পথের দাবী':
-
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পথের দাবি' ব্রিটিশ শাসনামলে লেখা একটি বিপ্লবী উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়েছিলো।
- এই উপন্যাসটি রচিত হয়েছে সব্যসাচী মল্লিক নামক এক বিপ্লবী নেতাকে নিয়ে।
- উপন্যাসের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে যে কিভাবে সব্যসাচী মল্লিকের নেতৃত্বে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে একটি গোপন বিপ্লবী দলের সংগ্রাম সংঘটিত হয়েছে।
- উপন্যাসটির বিপ্লবী বিষয়বস্তুর কারণে এটি ব্রিটিশ ভারতে নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছিল। 
-------------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনামগুলির মধ্যে প্রধান হল অনিলা দেবী। এছাড়াও, তিনি অমুরুপা দেবী, অপরাজিতা দেবী, শ্রী চট্টোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত আচার্য, শ্রী কান্ডশর্মা, সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় এবং পশুরাম ইত্যাদি নামেও লেখালেখি করতেন।
- তাকে অপরাজেয় কথাশিল্পী’ এবং ‘সাহিত্য সম্রাট’ নামক উপাধি দেয়া হয় তার সাহিত্যকর্মের জন্য।
----------------------------------------
অন্যদিকে,
• 'দেবদাস':
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'দেবদাস' একটি বিখ্যাত বাংলা প্রেমের উপন্যাস।
- এই উপন্যাসটি একটি ত্রিভুজ প্রেমের গল্প।
- দেবদাস'- উপন্যাসটি  দেবদাস, পার্বতী (পারু) এবং চন্দ্রমুখীর বিয়োগান্তক প্রেম কাহিনীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।
- দেবদাস হলো মূল চরিত্র।
- এই উপন্যাসে দেবদাস এর সাথে তার বাল্য কালের প্রেমিকা পার্বতীর সামাজিক কারণে মিলন সম্ভব হয় না। 
- একজন ব্যর্থ প্রেমিকের প্রতিচ্ছবি হয়ে দেবদাস বিচ্ছেদ এবং দুঃখের ভার বইতে না পেরে মদ্যপানে আসক্ত হয়ে মারা যান।

• 'শ্রীকান্ত':
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি মূলত শ্রীকান্তের ভবঘুরে জীবন, তার বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সামাজিক ও আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা।
- এটি চারটি খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র হল- শ্রীকান্ত।
- ইন্দ্রনাথ এই উপন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিল।
- উপন্যাসে ইন্দ্রনাথকে শ্রীকান্তের এক নির্ভীক ও দুঃসাহসপ্রবণ সঙ্গী হিসেবে দেখানো হয়েছে।

• 'রমা’:
- ‘রমা’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এক হৃদয়গ্রাহী বাংলা নাটক, যার কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে রমাকে উপস্থাপন করা হয়েছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৬,৬৩৭.
'ঘুম থেকে জেগে বোইশাখী ঝড়ে কুড়ায়েছি ঝরা আম' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা-
  1. ক) জসীমউদ্‌দীন
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) বন্দে আলী মিয়া
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
খ) সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
'ঘুম থেকে জেগে বোইশাখী ঝড়ে কুড়ায়েছি ঝরা আম'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা- সুফিয়া কামাল।
- লাইনটি কবি সুফিয়া কামালের 'পল্লী স্মৃতি' নামক কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 

পল্লী স্মৃতি – বেগম সুফিয়া কামাল
বহুদিন পরে মনে পড়ে আজি পল্লী ময়ের কোল,
ঝাউশাখে যেথা বনলতা বাঁধি হরষে খেয়েছি দোল
কুলের কাটার আঘাত লইয়া কাঁচা পাকা কুল খেয়ে,
অমৃতের স্বাদ যেন লভিয়াছি গাঁয়ের দুলালী মেয়ে
পৌষ পার্বণে পিঠা খেতে বসে খুশীতে বিষম খেয়ে,
আরো উল্লাস বাড়িয়াছে মনে মায়ের বকুনি পেয়ে।
চৈত্র নিশির চাঁদিমায় বসি‘ শুনিয়াছি রূপকথা,
মনে বাজিয়াছে সুয়ো দুয়োরাণী দুখিনি মায়ের ব্যথা।
তবু বলিয়াছি মার গলা ধরে, “মাগো, সেই কথা বল,
রাজার দুলালে পাষাণ করিতে ডাইনী করে কি ছল!
সাতশ‘ সাপের পাহারা কাটায়ে পাতালবাসিনী মেয়ে,
রাজার ছেলেরে বাঁচায়ে কি করে পৌঁছিল দেশে যেয়ে।”
কল্পপূরীর স্বপনের কাঠি বুলাইয়া শিশু চোখে
তন্দ্রদোলায় লয়ে যেত মোরে কোথা দূর ঘুমলোকে
ঘুম হতে জেগে বৈশাখী ঝড়ে কুড়ায়েছি ঝরা আম
খেলার সাথীরা কোথা আজ তারা? ভুলিয়াও গেছি নাম।
নববর্ষার জলে অবগাহি কভু পুলকিত মনে
গান গাহিয়াছি মল্লার রাগে বাদলের ধারা সনে;
শিশির সিক্ত শেফালী ফুলের ঘন সৌরভে মাতি‘
শারদ প্রভাতে সখীগন সাথে আনিয়াছি মালা গাঁথি‘।
পল্লী নদীর জলে ভাসাইয়া মোচার খেলার তরী,
কাঁদিয়া ফিরেছি সাঁঝের আলোতে পুতুল বিদায় করি‘।
আগামী দিনের আশা-ভরসার কত না মধুর ছবি
ফুঁটিয়া উঠেছে আঁখির পাতায় ডুবেছে যখন রবি।

উৎস: পল্লী স্মৃতি কবিতা – বেগম সুফিয়া কামাল। 
১৬,৬৩৮.
সিকান্দার আবু জাফর রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) কয়েকটি কবিতা
  2. খ) বেণু ও বীণা
  3. গ) তিমিরান্তিক
  4. ঘ) পদ্মিনী শঙ্খিনী
সঠিক উত্তর:
গ) তিমিরান্তিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তিমিরান্তিক
ব্যাখ্যা

সিকান্দার আবু জাফর (১৯১৯-১৯৭৫): সাহিত্যিক, সাংবাদিক।
- তিনি মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।

কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসন্ন শহর (১৯৬৫),
- তিমিরান্তিক (১৯৬৫),
- বৈরী বৃষ্টিতে (১৯৬৫),
- বৃশ্চিক-লগ্ন (১৯৭১),
- বাংলা ছাড়ো (১৯৭১)।

নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা (১৯৬৫),
- মহাকবি আলাউল (১৯৬৬)।

সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া।

১৬,৬৩৯.
কোনটি 'পথের পাঁচালী' উপন্যাসের চরিত্র নয়?
  1. দনুবানু
  2. ইন্দির ঠাকরুন
  3. সর্বজয়া
  4. দুর্গা
সঠিক উত্তর:
দনুবানু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দনুবানু
ব্যাখ্যা
'পথের পাঁচালী' উপন্যাস:
- ‘পথের পাঁচালী‘ উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- লেখকের বর্ণনাগুণে উপন্যাসটিতে পল্লীবাংলার নৈসর্গিক সৌন্দর্য জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
- অপরাজিত (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খণ্ড।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র গুলো হলো: অপু, দুর্গা, ইন্দির ঠাকরুন, হরিহর, সর্বজয়া প্রমুখ।

অন্যদিকে,
হুতোম প্যাঁচার নকশা উপন্যাসের চরিত্র - দনুবানু।

----------------
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়িা।
১৬,৬৪০.
'মেঘনাদবধ কাব্য' কার লেখা?
  1. বাল্মিকী
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. নবীনচন্দ্র সেন
  4. আব্দুল করিম
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘তিলোত্তমাসম্ভ ‘ কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৬,৬৪১.
'দিগদর্শন' - প্রথম সংখ্যাটি কত সালের প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮১৮ সালে
  2. ১৮২৮ সালে
  3. ১৮৩৮ সালে
  4. ১৮৪৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮১৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮১৮ সালে
ব্যাখ্যা

'দিগদর্শন' পত্রিকা:
- বঙ্গভূমিতে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িক পত্রিকা।
- দিগ্দর্শনের প্রথম সংখ্যাটি ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত হয়
- এটি ছিল মাসিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটি শ্রীরামপুরের ব্যাপটিস্ট মিশন থেকে প্রকাশিত হয়।
- বিখ্যাত খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক জোশুয়া মার্শম্যান এর পুত্র জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত মাসিক সাময়িকী ছিল।
- কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ গ্রন্থাগারে দিগ্দর্শনের কপিসমূহ সংরক্ষিত আছে।

​​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৬৪২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন দুটি উপন্যাসের চরিত্রদের মাঝে অন্ত্যমিল রয়েছে?
  1. দুইবোন ও শেষের কবিতা
  2. যোগাযোগ ও বৌঠাকুরাণীর হাট
  3. মালঞ্চ ও গোরা
  4. চার অধ্যায় ও করুণা
সঠিক উত্তর:
দুইবোন ও শেষের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুইবোন ও শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

⇒ “শেষের কবিতা” উপন্যাস:
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া অনুসারে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “শেষের কবিতা” একটি গীতিধর্মী উপন্যাস। তবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর অনুসারে শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।  

•“শেষের কবিতা” উপন্যাসটি সমন্বয়সুষমা ও কবিত্বমণ্ডিত বিশ্লেষণশক্তির দিক দিয়ে রবীন্দ্রনাথের পরবর্তী উপন্যাসগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠস্থান দাবি করতে পারে। বিষয়ের ঐক্য ও আলোচনার সমগ্রতায়, অবান্তর বস্তুর প্রায় সম্পূর্ণ বর্জনে অন্যান্য উপন্যাস থেকে ‘শেষের কবিতা’ যথেষ্ট উৎকর্ষ লাভ করেছে।

• কোনো পুরুষ বা নারীর পক্ষে এক সঙ্গে দুজনকে ভালোবাসা সম্ভব এবং সে ভালোবাসা এক পাত্রসম্পর্কিত (স্বামী/স্ত্রী), অপর পাত্র নিঃসম্পর্ক হতে পারে। এটিই শেষের কবিতা উপন্যাসের আখ্যানবস্তুর ভাববীজ।
• অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ চরিত্রের মাধ্যমে প্রেমের বিচিত্র বিকাশ দেখানো হয়েছে।

• ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের ভাষা যে কেবল কবিত্বময় তা নয়, উপন্যাসের বক্তব্যকে সুস্পষ্ট করার জন্য অনেক কবিতাও ব্যবহার করেছেন। উপন্যাসের কাঠামোগত এই অভিনবত্ব রবীন্দ্রনাথ খুব সার্থকতা সহকারে এ উপন্যাসে রূপায়িত করে তুলেছেন।

• উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যথা:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।

⇒ ‘দুইবোন’:
• দুইবোন (১৯৩৩) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ছোট উপন্যাস। ১৯৩২-৩৩ সালে ‘বিচিত্রা’ পত্রিকায় প্রকাশ হয়।
• আখ্যানস্ত্তর আভাস আছে উপন্যাসের প্রারম্ভেই: ‘মেয়েরা দুই জাতের কোনো কোনো পণ্ডিতের কাছে এমন একথা শুনেছি।
• উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: শর্মিলা, ঊর্মিলা ও শশাঙ্ক।
• শর্মিলার স্বামী শশাঙ্কের সঙ্গে ঊর্মিলার ঘনিষ্ঠতা তাদের সকলের জীবনে যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল তারই নাটকীয়তাময় রূপায়ণ এই উপন্যাসে। উপন্যাসটিতে পুরুষের পক্ষে দুই নারীকে দুইভাবে ভালোবাসার ফলে জটিলতার সৃষ্টি হয় আর নারীর পক্ষে সেই জটিলতার সমাধান দেখানো হয়েছে।

⇒ দুই উপন্যাসের কাহিনির পেক্ষিতে বলা যায়- ‘শেষর কবিতা’র অমিতের দুই নারীকে ভালোবাসার তত্ত্বের মতোই এখানে ঘটনা সংঘটিত হয়। ‘দুই বোনের’র চরিত্র শশাঙ্ক আর ‘শেষের কবিতা’র অমিত যেন জমজ চরিত্র।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৬,৬৪৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প কোনটি?
  1. রবিবার
  2. ল্যাবরেটরি
  3. ক্ষুধিত পাষাণ
  4. দেনা পাওনা
সঠিক উত্তর:
দেনা পাওনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেনা পাওনা
ব্যাখ্যা

• 'দেনা পাওনা' ছোটগল্প:
- 'দেনা পাওনা'  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প।
- এটি ১৮৯০ সালে 'হিতবাদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পণপ্রথা নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথের প্রসিদ্ধ গল্প 'দেনাপাওনা'।
- গল্পটির উপসংহারে রামসুন্দর মিত্রের আদরের কন্যা হতভাগ্যা নিরুপমার - মৃত্যু বর্ণিত হয়েছে এবং তার স্বামীর বিবাহের সংবাদ জানানো হয়েছে।

----------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প:
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প:
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৬,৬৪৪.
'বিশ্বনবী' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কায়কোবাদ
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা

'বিশ্বনবী' গ্রন্থের রচয়িতা হচ্ছে গোলাম মোস্তফা। 

বিশ্বনবী:
- ‘বিশ্বনবী’ রচয়িতা গোলাম মোস্তফা।
- এটি একটি গদ্যগ্রন্থ, যা রাসুলুল্লাহ (সা.) এর জীবনভিত্তিক।
- গ্রন্থটি ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয়।

গোলাম মোস্তফা:
- তিনি ১৮৯৭ সালে যশোর জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একজন কবি ও লেখক ছিলেন।
- ১৯৪৯ সালে পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে কাজ করেন।
- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।
- গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ, তবে প্রধান পরিচয় কবি হিসেবে।
- সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৬৪ সালে ঢকায় মৃত্যুবরণ করেন।

গোলাম মোস্তফার রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম। 

গোলাম মোস্তফার রচিত গদ্যগ্রন্থসমূহ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৬,৬৪৫.
‘বিশ্বনবী’ রসুলুল্লাহর জীবনীমূলক গদ্যগ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. ক) গিরিশচন্দ্র সেন
  2. খ) শহীদ আখন্দ
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) আসাদুল্লাহ আল-গালিব
সঠিক উত্তর:
গ) গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা (১৮৯৭-১৯৬৪): কবি ও লেখক। গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
কাব্যগ্রন্থঃ রক্তরাগ (১৯২৪), খোশরোজ (১৯২৯), কাব্য-কাহিনী (১৯৩২), সাহারা (১৯৩৬), হাস্নাহেনা (১৯৩৮), বুলবুলিস্তান (১৯৪৯), তারানা-ই-পাকিস্তান (১৯৫৬), বনিআদম (১৯৫৮), গীতিসঞ্চালন (১৯৬৮) ইত্যাদি তাঁর মৌলিক কাব্য এবং মুসাদ্দাস-ই-হালী (১৯৪১), কালামে ইকবাল (১৯৫৭), শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া (১৯৬০) অনুবাদকাব্য।
গদ্যগ্রন্থঃ বিশ্বনবী (১৯৪২), ইসলাম ও কমিউনিজম (১৯৪৬), ইসলাম ও জেহাদ (১৯৪৭), আমার চিন্তাধারা (১৯৫২), পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি প্রধান।
উপন্যাসঃ রূপের নেশা, ভাঙাবুক ও এক মন এক প্রাণ।
তিনি আল-কুরআনও (১৯৫৮) অনুবাদ করেন।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
১৬,৬৪৬.
কোনটি নীলিমা ইব্রাহিম রচিত উপন্যাস?
  1. বিশ শতকের মেয়ে
  2. যে অরণ্যে আলো নেই
  3. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  4. রোদ জ্বলা বিকেল
সঠিক উত্তর:
বিশ শতকের মেয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ শতকের মেয়ে
ব্যাখ্যা
⇒ ‘বিশ শতকের মেয়ে’ নিলিমা ইব্রাহীম রচিত উপন্যাস। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৮ সালে।

⇒ নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা প্রফুল্লকুমার রায়চৌধুরী এবং মাতা কুসুমকুমারী দেবী।
- তিনি ১৯৯৬ সালে রোকেয়া পদক এবং ২০০০ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• প্রবন্ধ গবেষণাগ্রন্থ:
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি (২ খণ্ড ১৯৯৬-৯৭)।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- বিন্দু বিসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,৬৪৭.
কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম কত বঙ্গাব্দে?
  1. ১২ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৫
  2. ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ 
  3. ১লা আষাঢ় ১৩০৭
  4. ২৪শে বৈশাখ ১২৮৮
সঠিক উত্তর:
১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ 
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দে। 

 কাজী নজরুল ইসলাম:
 - কাজী নজরুল ইসলাম ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
 - শৈশবে তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
 - পরবর্তীতে তিনি বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন।
 - ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান।
 - তাঁকে “বিদ্রোহী কবি” নামে অভিহিত করা হয়।
 - মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে তিনি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারান।
 - বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
 - তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১৬,৬৪৮.
ভাষা আন্দোলনকে নিয়ে লেখা প্রথম গবেষণামূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস
  2. ভাষার জন্য সংগ্রাম
  3. ভাষা আন্দোলন ও বাঙালী মানস
  4. পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি
সঠিক উত্তর:
পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি
ব্যাখ্যা

• 'পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি':
- 'পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি'  হলো বদরুদ্দীন উমর রচিত বাংলা ভাষা আন্দোলনের সামগ্রিক পটভূমি তথা সমকালীন রাজনৈতিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে তিন খণ্ডে প্রকাশিত বই।
- এটি বাংলা ভাষা আন্দোলন নিয়ে সবচেয়ে তথ্যবহুল সমাদৃত বাংলা বই এবং ভাষা আন্দোলনকে নিয়ে লেখা প্রথম গবেষণামূলক গ্রন্থ।

-----------------
• বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি 'সংস্কৃতি' সাময়িকী সম্পাদনা করেন।
- ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মারা যান। 

• তাঁর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৬,৬৪৯.
'কৃত্তিবাস ওঝা' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. মোহিতলাল মজুমদার
  2. সমরেশ বসু
  3. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  4. সতীনাথ ভাদুড়ী
সঠিক উত্তর:
মোহিতলাল মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহিতলাল মজুমদার
ব্যাখ্যা

• মোহিতলাল মজুমদার:
- মোহিতলাল মজুমদার ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও সাহিত্যসমালোচক।
- ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস হুগলির বলাগড়ে।
- পেশায় তিনি একজন অধ্যাপক ছিলেন।তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।
- তিনি তাঁর সমালোচনামূলক প্রবন্ধগুলিতে 'কৃত্তিবাস ওঝা', 'সব্যসাচী', 'শ্রী সত্যসুন্দর দাস' ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
- তিনি মৃত্যুবরণ করেন ২৬ জুলাই ১৯৫২ সালে।

অন্যদিকে, 
• নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক ছদ্মনাম- সুনন্দ।  
• সমরেশ বসুর ছদ্মনাম - কালকূট ও ভ্রমর।
• 'চিত্রগুপ্ত' ছদ্মনামে লিখতেন সতীনাথ ভাদুড়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,৬৫০.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. অসমাপিকা
  2. কামিনী কাঞ্চন
  3. মন পবন
  4. প্রকৃতির পরিহাস
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায়:
- একজন স্বনামধন্য ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি ও চিন্তাবিদ।
- আমেরিকার টেকসাসের বিদুষী তরুণী অ্যালিস ভার্জিনিয়া ওনডর্ফ ১৯৩০ সালে ভারতে আসেন ভারতীয় সঙ্গীত বিষয়ে গবেষণার জন্য।
- লেখক ভবানী মুখোপাধ্যায়ের মাধ্যমে অ্যালিসের সঙ্গে অন্নদাশঙ্করের পরিচয় ঘটে এবং পরে তাঁরা বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হন।
- তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদিৎ

তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- পথে প্রবাসে, 
- ইউরোপের চিঠি।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৬৫১.
“আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ
স্পধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি,
আঠারো বছর বয়সেই অহরহ
বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি।”- কবিতাংশ কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? 
  1. ছাড়পত্র
  2. পূর্বাভাস
  3. ঘুম নেই
  4. অভিযান
সঠিক উত্তর:
ছাড়পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাড়পত্র
ব্যাখ্যা

“আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ
স্পধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি,
আঠারো বছর বয়সেই অহরহ
বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি।”- কবিতাংশ “ছাড়পত্র” কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
-----------------------------------------------------
• আঠারো বছর বয়স
- সুকান্ত ভট্টাচার্য। 

"আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ
স্পধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি,
আঠারো বছর বয়সেই অহরহ
বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি।

আঠারো বছর বয়সের নেই ভয়
পদাঘাতে চায় ভাঙতে পাথর বাধা,
এ বয়সে কেউ মাথা নোয়াবার নয়-
আঠারো বছর বয়স জানে না কাঁদা।

এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য
বাষ্পের বেগে স্টিমারের মতো চলে,
প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য
সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে।"
------------------------------------------
• ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থ:
- ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের রচিত।
- এটি তার মৃত্যুর পর ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।

- এই কাব্যগ্রন্থটির উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলোর মধ্যে আছে:
- ‘আঠারো বছর বয়স’,
- ‘বোধন’,
- ‘মজুরদের ঝড়’,
- ‘ঠিকানা’,
- এবং ‘কলম’।
-----------------------------------------
"আঠারো বছর বয়স" কবিতা নিয়ে কিছু কথা: 
- "আঠারো বছর বয়স" কবিতাটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ছাড়পত্র কাব্যের অন্তর্ভুক্ত। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের আঠারো বছর বয়স কবিতায় বয়ঃসন্ধিকালের সাহস, সংবেদনশীলতা ও ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা তুলে ধরা হয়েছে।
- কবিতাটি এই বয়সকে এমন সময় হিসেবে দেখায়, যা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শেখায়, আত্মনির্ভরশীল করে এবং তরুণদের ত্যাগ ও দেশভক্তির জন্য অনুপ্রাণিত করে।
-------------------------
সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯৪৭ সালের ১৩ মে মাত্র ২০ বছর বয়সে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস:
"আঠারো বছর বয়স" কবিতা; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৬,৬৫২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মগ্রহণ করেন -
  1. ক) ৮ মে ১৮৬১ সাল
  2. খ) ৬ মে ১৮৬১ সাল
  3. গ) ৯ মে ১৮৬১ সাল
  4. ঘ) ৭ মে ১৮৬১ সাল
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৭ মে ১৮৬১ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৭ মে ১৮৬১ সাল
ব্যাখ্যা
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান।
- পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ১৯১৯ সালে তিনি ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী
- সোনার তরী
- চিত্রা
- চৈতালী
- কল্পনা
- ক্ষণিকা
- গীতাঞ্জলি
- পূরবী
- শেষলেখা
- বলাকা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- চোখের বালি
- গোরা
- যোগাযোগ
- চতুরঙ্গ
- ঘরে বাইরে
- চার অধ্যায়
- মালঞ্চ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,৬৫৩.
‘ছন্দোরাজ’ বলা হয় কাকে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. কায়কোবাদ
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,৬৫৪.
’কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ’- চরিত্র দুটি কোন উপন্যাসের?
  1. কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. বিষবৃক্ষ
  3. আনন্দমঠ
  4. সীতারাম
সঠিক উত্তর:
বিষবৃক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা
• বিষবৃক্ষ:
- ’বিষবৃক্ষ’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- বিষবৃক্ষ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৭৩ সালে।
- বিষবৃক্ষ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কুন্দনন্দিনী , নগেন্দ্রনাথ, হীরা , সূর্যমুখী। 
- বিষবৃক্ষ উপন্যাসটি ছিল সমসাময়িক বাঙালি হিন্দু সমাজের দুটি প্রধান সমস্যা - বিধবাবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রথা নিয়ে।
- এই উপন্যাসের পটভূমি বিধবাবিবাহ আইন পাশ হওয়ার সমসাময়িক কাল।
- এই উপন্যাসের নায়িকা বিধবা কুন্দনন্দিনীর চরিত্রটি বঙ্কিমচন্দ্রের কনিষ্ঠা কন্যার ছায়া অবলম্বনে রচিত হয় বলে জানা যায়।

অন্যদিকে,
- ’কৃষ্ণকান্তের উইল’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: রোহিণী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর।
---------------------------------------------
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একজন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক,।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। 
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৬৫৫.
’আরেফ আলী’ চরিত্রটি কোন উপন্যাসের?
  1. লালসালু
  2. কাঁদো নদী কাঁদো
  3. চাঁদের অমাবস্যা
  4. দি আগলি এশিয়ান
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
ব্যাখ্যা

•'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস: 
- এটি একটি মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা |
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ।
- ’আরেফ আলী’ চরিত্রটি উপন্যাসের একটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র।

•  সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ফেনি স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ‘ভোরের আলো’ নামে হাতে লেখ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- লালসালু।
- কাঁদো নদী কাঁদো।
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,৬৫৬.
'বিশ্বনবী' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ইয়াকুব আলী চৌধুরী
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
- 'বিশ্বনবী' গ্রন্থের রচয়িতা - গোলাম মোস্তফা।
- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
- এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।

গোলাম মোস্তফা:
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে তাঁর জন্ম।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনিআদম।

গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- আমার চিন্তাধারা,
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৬৫৭.
বাংলাদেশের কোন স্মৃতিবিজড়িত এলাকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারির জন্য ঘুরে বেড়ান?
  1. ক) সখিপুর
  2. খ) টুনির হাট
  3. গ) ব্যারিস্টার বাজার
  4. ঘ) কালিগ্রাম
সঠিক উত্তর:
ঘ) কালিগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কালিগ্রাম
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বাংলাদেশ: 
 - ১৮৯০ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি সত্যেন্দ্রনাথের সঙ্গে দ্বিতীয় বার বিলেত যান একমাসের জন্য।
- অক্টোবর মাসে ফিরে আসার পর পিতার আদেশে তাঁকে জমিদারি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়।
- এই দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্ম বিচিত্র পথ খুঁজে পায়।
- এতদিন তিনি যে কাব্য, নাটক আর উপন্যাস লিখেছেন, তার সবই ছিল ভাবমূলক এবং বিশুদ্ধ কল্পনার বস্ত্ত।
- এবার তিনি লোকজীবনের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পান এবং অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে দরিদ্র মানুষের সাধারণ জীবন পর্যবেক্ষণ করেন। কবি কল্পনার জগৎ থেকে নেমে আসেন বাস্তব পৃথিবীর প্রত্যক্ষ জীবনে।
- ফলে রচিত হয় বাংলা সাহিত্যের অপূর্ব সম্পদ গল্পগুচ্ছের  গল্পগুলি।
- এছাড়া উত্তর ও পূর্ববঙ্গের প্রকৃতি অপরূপ রূপে প্রতিভাত হয় তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লেখা পত্রে, যেগুলি ছিন্নপত্র ও ছিন্নপত্রাবলী নামে সংকলিত হয়।
- জীবনের এই পর্বে রবীন্দ্রনাথ জমিদারি তদারকি উপলক্ষে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান  শাহজাদপুর,  পতিসর, কালিগ্রাম ও শিলাইদহে ঘুরে বেড়ান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১৬,৬৫৮.
'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাসটির রচয়িতা-
  1. ক) মোতহের হোসেন চৌধুরী
  2. খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) বিভূতিভুষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, (১৮৯৮-১৯৭১) একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ। ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম।
• তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়। এছাড়া কালিকলম, বঙ্গশ্রী,  শনিবারের চিঠি,  প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। 
• প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি। বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের মাটি ও মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের জীবনচিত্র, স্বাধীনতা আন্দোলন, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ব্যক্তির মহিমা ও বিদ্রোহ, সামন্ততন্ত্র-ধনতন্ত্রের দ্বন্দ্বে ধনতন্ত্রের বিজয় ইত্যাদি তাঁর উপন্যাসের বিষয়বস্তু।

তারাশঙ্কর প্রায় দুইশত গ্রন্থ রচনা করেন সেগুলির মধ্যে:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- আরোগ্য নিকেতন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

- সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি’- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'একটি কালো মেয়ের কথা' - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত উপন্যাস।
- 'কালিন্দা' - নদীর বুকে উৎপন্ন চর কে কেন্দ্র করে তৈরি বিবাদ নিয়ে রচিত উপন্যাস।
- 'রসকলি' - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৬৫৯.
'কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই' - উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গল্প থেকে নেয়া?
  1. কাবুলিওয়ালা
  2. পোস্টমাস্টার
  3. নষ্টনীড়
  4. জীবিত ও মৃত
সঠিক উত্তর:
জীবিত ও মৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবিত ও মৃত
ব্যাখ্যা
'জীবিত ও মৃত':
- 'জীবিত ও মৃত' ১৮৯২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত একটি বাংলা ছোটগল্প।
- এটি রবীন্দ্রনাথের একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প। গল্পটি রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছে অন্তর্ভুক্ত আছে।
- গল্পটি সাহিত্যের দুটি অনন্য রূপকে একত্রিত করেছে: অতিপ্রাকৃত গল্প এবং ব্যঙ্গাত্মক উপমা । তবে এটি কোনো নিখুঁত অতিপ্রাকৃত গল্প নয়।
- গল্পটির প্রধান চরিত্র কাদম্বিনী। কাদম্বিনীর অস্তিত্ব অতিপ্রাকৃত। এতে জীবন এবং মৃত্যুর মধ্যে আটকে থাকার ধারণা চিত্রিত হয়েছে। সংক্ষেপে, এটি মৃত্যুর রহস্য নিয়ে কাজ করে।
- 'কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই'- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জীবিত ও মৃত' গল্প থেকে নেয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং জীবিত ও মৃত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১৬,৬৬০.
"অলীক মানুষ" উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
ব্যাখ্যা
• "অলীক মানুষ" উপন্যাস:
- "অলীক মানুষ" সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ রচিত একটি বিখ্যাত বাংলা উপন্যাস। এটি উনিশ-বিশ শতকের পটভূমিতে একটি মুসলিম পীর পরিবারের জীবন নিয়ে লেখা, যেখানে লৌকিক ও অলৌকিক ঘটনার মিশ্রণ ঘটেছে।
- উপন্যাসটি কোলাজ পদ্ধতিতে লেখা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ, মিথ ও কিংবদন্তী, এমনকি ব্যক্তিগত ডায়েরি ও সংবাদপত্রের কাটিংও ব্যবহার করা হয়েছে।
- এই উপন্যাসে বাঙালি হিন্দু-মুসলিম জীবনের একটি অনাবিষ্কৃত দিক তুলে ধরা হয়েছে।

‘অলীক মানুষ’ বইয়ের প্রাপ্ত পুরস্কার গুলির নাম ও সাল:
- ভুয়ালকা পুরস্কার - ১৯৯০। 
- বঙ্কিম স্মৃতি পুরস্কার - ১৯৯৪। 
- সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার - ১৯৯৪। 
- সুরমা চৌধুরী মেমোরিয়াল আন্তর্জাতিক সাহিত্য পুরস্কার - ২০০৮।

উৎস: "অলীক মানুষ" উপন্যাস।
১৬,৬৬১.
ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় কোন উপন্যাসটি রচিত?
  1. যোগাযোগ
  2. চার অধ্যায়
  3. গোরা
  4. মালঞ্চ
সঠিক উত্তর:
গোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোরা
ব্যাখ্যা

• গোরা উপন্যাস:
- গোরা (১৯১০)  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।
- উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো ‘ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়’।

---------------- 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবিপ্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- ১৮৭৬ সালে বনফুল কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো ধারাবাহিকভাবে ‘জ্ঞানাঙ্কুর’ ও ‘প্রতিবিম্ব’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। রবীন্দ্রনাথের বয়স তখন ১৫ বছর।
বনফুল ১৮৮০ সালে গ্রন্থাকারে তথা কাব্যগ্রন্থ হিসেবে প্রকাশিত হয়। তখন বয়স ছিল ১৯ বছর।
এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; গোরা উপন্যাস।

১৬,৬৬২.
'বন্দে মাতরম্' গানটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসে ধ্বনিত হয়েছে?
  1. যুগলাঙ্গুরীয়
  2. আনন্দমঠ
  3. রাজসিংহ
  4. বিষবৃক্ষ
সঠিক উত্তর:
আনন্দমঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনন্দমঠ
ব্যাখ্যা
• 'আনন্দমঠ' উপন্যাস:
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত 'আনন্দমঠ' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছে ১৮৮২ সালে।
- উপন্যাসটিতে প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে-  স্বদেশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি।
- এই উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় স্বদেশ বলতে বঙ্গভূমিকে, আর ধর্ম বলতে হিন্দু ধর্মকে বুঝিয়েছেন।

- নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত 'The Abbey of Bliss' (1907) এবং শ্রী অরবিন্দ 'Ananda Math' (1910) নামে উপন্যাসটির ইংরেজি অনুবাদ করেন। এটি মূলত বাস্তবানুগ রোমান্সধর্মী উপন্যাস।

- 'বন্দে মাতরম্' গান দ্বারা বুঝিয়েছেন ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের দীক্ষা। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এই গ্রন্থের 'বন্দে মাতরম্' গানটির ভূমিকা যেমন ঐতিহাসিক, তেমনি ঐতিহাসিক এই উপন্যাসের প্রভাব। এই গ্রন্থে রচিত গানের 'বন্দে মাতরম্' ধ্বনি পরবর্তীকালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীদের অত্যন্ত প্রিয় ও উদ্দীপক স্লোগান হিসেবে গৃহীত হয়।

- এই গ্রন্থ থেকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনায় স্বসম্প্রদায়প্রীতি লক্ষ করা যায়।

------------
• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৬৬৩.
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ-
  1. ক) এলো সে অবেলায়
  2. খ) নির্বাসিত নায়ক
  3. গ) অমৃত কুম্ভের সন্ধানে
  4. ঘ) সাতনরী হার
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাতনরী হার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাতনরী হার
ব্যাখ্যা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন একজন উচ্চপদস্থ সরকারি আমলা। তিনি বাংলাদেশ সরকারের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ- সাতনরী হার, আমি কিংবদন্তির কথা বলছি, মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ, কমলের চোখ, আমার সকল কথা ইত্যাদি।
আহমদ রফিকের কাব্যগ্রন্থ - নির্বাসিত নায়ক।
'অমৃত কুম্ভের সন্ধানে' উপন্যাসের রচয়িতা সমরেশ মজুমদার।
কবি শামসুর রাহমানের কাব্যগ্রন্থ 'এলো সে অবেলায়'।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৬,৬৬৪.
কোন উপন্যাসে ধীবর সমাজের নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রামের দু:খ-দুর্দশার সাধারণ কাহিনীকে তুলে ধরা হয়েছে‌?
  1. ক) সৌরভের কাছে পরাজিত
  2. খ) চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান
  3. গ) তিতাস একটি নদীর নাম
  4. ঘ) নিশুতি রাতের গাথা
সঠিক উত্তর:
গ) তিতাস একটি নদীর নাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তিতাস একটি নদীর নাম
ব্যাখ্যা

- তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসটির রচয়িতা অদ্বৈত মল্লবর্মণ।
- উপন্যাসটি ৪ খণ্ডে বিভক্ত।
- উপন্যাসটি মৎস্যজীবী মানুষের জীবন কাহিনী বা ধীবর সমাজের নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রামের দু:খ-দুর্দশার সাধারণ কাহিনীকে তুলে ধরা হয়েছে‌।
- ঋত্বিক ঘটকের পরিচালনায় ১৯৭৩ সালে উপন্যাসটিকে চলচ্চিত্রে রূপায়িত করা হয়।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৬,৬৬৫.
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম নিজেকে কার শিষ্য দাবি করেছেন?
  1. বিশ্বমিত্র
  2. পরশুরাম
  3. দুষ্মন্ত
  4. নটরাজ
সঠিক উত্তর:
বিশ্বমিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বমিত্র
ব্যাখ্যা
• 'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি নিজেকে 'বিশ্বমিত্রের' শিষ্য দাবি করেছেন।

তিনি লিখেছেন-
আমি ক্ষ্যাপা দুর্বাসা, বিশ্বামিত্র-শিষ্য,
আমি দাবানল-দাহ, দাহন করিব বিশ্ব।

• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ‘বিদ্রোহী' কবিতার রচনাকাল: ১৯২১ সাল; প্রকাশিত হয় ⎯ ২২ পৌষ, ১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. বিদ্রোহী কবিতা।
১৬,৬৬৬.
"প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে" - কোন ধরনের রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ 
  2. নাটক
  3. উপন্যাস 
  4. আত্মজীবনী 
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ 
ব্যাখ্যা

• শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম - প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে।
- কাব্যটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।

--------------------------
• শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি শামসুর রহমানে জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১৬,৬৬৭.
‘ওঙ্কার’ উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. স্বদেশী আন্দোলনের
  2. মুক্তিযুদ্ধের
  3. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের
  4. দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরবর্তী দুর্ভিক্ষের
সঠিক উত্তর:
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের
ব্যাখ্যা
• ‘ওঙ্কার’ উপন্যাস:
- ‘ওঙ্কার’ উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। 
- আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।
- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।

---------------------
• আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘স্বদেশ’ প্রকাশিত হয়েছিল। মাত্র তিন সংখ্যা প্রকাশের পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- অলাতচক্র ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

• আহমদ ছফার শিশুতোষ রচনা:
- দোলো আমার কনকচাঁপা,
- গো হাকিম ইত্যাদি।

• কবিতা গ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- দুঃখের দিনের দোহা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৬৬৮.
'নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুজ্জামান খান
  2. খ) সেলিনা হোসেন
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
খ) সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

- সেলিনা হোসেন একজন প্রখ্যাত নারী ঔপন্যাসিক।
- তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- তাঁর রচিত উপন্যাসঃ হাঙ্গর নদী গ্রেনেড, জলোচ্ছ্বাস, নীল ময়ূরের যৌবন, পোকা মাকড়ের ঘরবসতি, নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি, আগষ্টের একরাত, খুন ও ভালোবাসা, কাঁটাতারের প্রজাপতি, গায়ত্রী সন্ধ্যা, অপেক্ষা, গেরিলা ও বীরাঙ্গনা, ঘুমকাতুরে ঈশ্বর, পূর্ণছবির মগ্নতা, ভালোবাসা প্রীতিলতা, কালকেতু ও ফুল্লরা ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৬,৬৬৯.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের রচনা নয়?
  1. ক) সন্ধ্যা
  2. খ) নির্ঝর
  3. গ) রুদ্রমঙ্গল
  4. ঘ) সবগুলো রচনা
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো রচনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো রচনা
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- সন্ধ্যা,
- নির্ঝর, 

- ফনিমনসা,
- চক্রবাক,
- নতুন চাঁদ,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- পূবের হাওয়া,
- বিষের বাঁশি,
- ঝিঙে ফুল,
- দোলনচাঁপা,
- জিঞ্জির ইত্যাদি।

•  ‘রন্দ্রমঙ্গল’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৬৭০.
'অভিযাত্রিক' ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা কে?
  1. নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সুফিয়া কামাল
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'অভিযাত্রিক' ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনী:
- অভিযাত্রিক।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী (প্রথম উপন্যাস),
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- চাঁদের পাহাড়।

• তাঁর রচিত গল্পের বই:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- জন্ম ও মৃত্যু,
- কিন্নর দল,
- বিধু মাস্টার,
- রূপহলুদ,
- কুশল পাহাড়ী
- নবাগত ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- 'অভিযাত্রিক' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা সুফিয়া কামাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৬৭১.
‘আঠারো বছর বয়স’ বিখ্যাত কবিতাটি কার রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. শামসুর রহমান
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতা:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি তাঁর “ছাড়পত্র” কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- কবিতাটির স্তবক সংখ্যা আট। এবং কবিতাটি ৬ মাত্রায় মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার মূল বৈশিষ্ট্য- যৌবনের উদ্দীপনা, সাসিকতা এবং দুর্বার গতি।
- ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার শেষ পঙক্তি- ‘এদেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।’

--------------------
আঠারো বছর বয়স
- সুকান্ত ভট্টাচার্য

আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ
র্স্পধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি,
আঠারো বছর বয়সেই অহরহ
বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি।

----------------------
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ‘কিশোর কবি’ সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড.সৌমিত্র শেখর এবং ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতা।
১৬,৬৭২.
নাটকে ‘গৈরিশ ছন্দের’ প্রবর্তন করেন কে?
  1. গিরিশচন্দ্র সেন
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  4. চণ্ডীচরণ মুন্শী
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
• গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
• বাংলা নাটকের সমৃদ্ধসাধনে গিরিশচন্দ্র ঘোষের (১৮৪৪-১৯১২) অবদান অপরিসীম। যশস্বী অভিনেতা এবং প্রতিভাশালী নাট্যকারের যুগ্নবৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়ে তিনি পচাঁত্তরখানি সমাপ্ত ও চারখানি অসমাপ্ত নাটক প্রহসন রচনা করেন। এতে বাংলা নাটকের ইতিহাস যথেষ্ট সমৃদ্ধশালী হয়ে ওঠে এবং তিনি সে সময়কার সর্বাপেক্ষা প্রভাবশালী ও খ্যাতিসম্পন্ন নাট্যকার হিসেবে গৌরবময় আসন অলঙ্কৃত করতে সক্ষম হন।

• গিরিশচন্দ্রের প্রধান ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠা ছিল ‘নটগুরু’ হিসেবে।

• গিরিশচন্দ্র ঘোষের কোন কোন নাটকে তাঁর নিজের প্রবর্তিত ‘গৈরিশ ছন্দের’ ব্যবহার হয়েছে। এতে তিনি যথেষ্ট সার্থকতা অর্জন করেন। অভিনয়ে উপযোগী ভাষাসৃষ্টির উদ্দেশ্য এর পশ্চাতে কার্যকরী ছিল।

• গিরিশচন্দ্র ঘোষের অনুবর্তী নাট্যকারগণের ওপর এই ছন্দের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। পরবর্তীকালের ভক্তিমূলক পৌরাণিক নাটকের ক্ষেত্রেও তাঁর প্রভাব অনস্বীকার্য।

তাঁর গৈরিশ ছন্দের নমুনা:
যবে ধনু ধরি করে,
ঘোর সিংহনাদে প্রবেশ করেছি রণে-
যক্ষ রক্ষ গন্ধর্ব কিন্নর আদি চরাচর
কে কবে হয়েছে স্থির?
যদি যায় প্রাণ মাতঃ করগো কল্যাণ
সেই দর্পে সেই শরাসন করে
সেই রণক্ষেত্রে আনন্দ যথায় মম
হইব ধরণীশায়ী অনন্ত শয্যায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৬,৬৭৩.
নবীনচন্দ্র সেনের ত্রয়ী মহাকাব্যের অন্তর্ভূক্ত নয়-
  1. রৈবতক
  2. কুরুক্ষেত্র
  3. প্রভাস
  4. রঙ্গমতী
সঠিক উত্তর:
রঙ্গমতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রঙ্গমতী
ব্যাখ্যা

• নবীনচন্দ্র সেন চট্টগ্রামের নোয়াপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
• তিনি মূলত কবি ছিলেন।
• তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য 'পলাশীর যুদ্ধ'।
• এছাড়াও তাঁর রচিত কাব্য- অবকাশ রঞ্জিনী, রঙ্গমতী।
• তাঁর ত্রয়ী মহাকাব্য- 'রৈবতক', 'কুরুক্ষেত্র', 'প্রভাস'।
• মহাকাব্য ৩টির নায়ক কৃষ্ণ।
• রৈবতকে কৃষ্ণের আদি, কুরুক্ষেত্রে মধ্য ও প্রভাসে অন্তলীলার কাহিনী বর্ণিত।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৬,৬৭৪.
'পূর্বমেঘ' সাহিত্যপত্রিকাটি কোথা থেকে প্রকাশিত হতো?
  1. কুমিল্লা
  2. ঢাকা
  3. রাজশাহী
  4. কলকাতা
সঠিক উত্তর:
রাজশাহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজশাহী
ব্যাখ্যা
• 'পূর্বমেঘ' পত্রিকা:
- ঢাকা থেকে নির্ভেজাল সাহিত্যপত্রিকা প্রকাশ ও তা টিকিয়ে রাখা যখন কষ্টকর ছিল, সে সময়েই রাজশাহী থেকে 'পূর্বমেঘ' (১৯৬০) নামে সাহিত্যপত্রিকা প্রকাশ হয় এবং এক দশকের বেশি সময় টিকে থাকে।
- বঙ্গাব্দের হিসেবে ১৩৬৭ থেকে ১৩৭৮ পর্যন্ত 'পূর্বমেঘের' আয়ুকাল।
- পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী ও মুস্তফা নূরউল ইসলাম এবং প্রকাশক ছিলেন এ. আর. মল্লিক।
- উচ্চমার্গীয় সাহিত্যালোচনার পাশাপাশি সৃজনশীল রচনার নমাদর ছিল এ পত্রিকায়।
- ঢাকা থেকে যেকালে 'সমকাল' (১৯৫৭) প্রকাশ হচ্ছে, ঠিক সে-কালেই রাজশাহী থেকে 'পূর্বমেঘ' প্রকাশ দেশে সাহিত্য চর্চার ইতিবাচক উত্তরণকে চিহ্নিত করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৬,৬৭৫.
আবু জাফর শামসুদ্দিনের ছদ্মনাম কি ছিলো?
  1. ক) দৃষ্টিহীন
  2. খ) ক্বচিৎ প্রৌঢ়
  3. গ) অল্পদর্শী
  4. ঘ) সনাতন পাঠক
সঠিক উত্তর:
গ) অল্পদর্শী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অল্পদর্শী
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন  সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্ম। 
 
আবু জাফর শামসুদ্দিন অল্পদর্শী ছদ্মনামে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শিরোনামে দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় কলাম লিখতেন। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩),
- পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪),
- সংকর সংকীর্তন (১৯৮০),
- দেয়াল (১৯৮৫)

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
 
১৬,৬৭৬.
'পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী' উপনাসের রচয়িতা-
  1. ক) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. খ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) কুসুমকুমারী দাশ
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী, অ-তে অজগর, কলকাতা, ক্ষুধা প্রেম আগুন, কলকাতা, পোড়ামাটির কাজ, হে সংসার হে লতা। তাঁর রচিত ছোটগল্প- সত্যের মতো বদমাশ, চলো যাই পরোক্ষে, মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা, নেকড়ে হায়েনা, তিন পরী ইত্যাদি। প্রবন্ধ- বিবেচনা-পুনর্বিবেচনা, দশ দিগন্তের দ্রষ্টা, নির্বাচিত প্রবন্ধ, করতলে মহাদেশ, আমার বিশ্বাস।
১৬,৬৭৭.
জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - 
  1. বনলতা সেন
  2. রূপসী বাংলা
  3. ঝড়া পালক
  4. ধূসর পাণ্ডুলিপি
সঠিক উত্তর:
ঝড়া পালক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝড়া পালক
ব্যাখ্যা

'ঝরা পালক' কাব্যগ্রন্থ: 
- জীবনানন্দ দাশের কবিতায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যময় প্রকৃতি কাব্যময় হয়ে উঠেছে।
- কবি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝড়া পালক’। ১৯২৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম কাব্যগ্রন্থে জীবনানন্দ দাশ পঁয়ত্রিশটি কবিতা অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। 
- ঝরা পালক কাব্যগ্রন্থের ভূমিকায় জীবনানন্দ লিখেছেন- “ঝরা পালকের কতকগুলি কবিতা প্রবাসী, বঙ্গবাণী, কল্লোল, কালি-কলম, প্রগতি, বিজলি প্রভৃৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হইয়াছিলো। বাকিগুলি নূতন।”
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের অনুসরণ যেমন আছে, তেমনি আছে নতুন এক ভাষারীতি ও বাকপ্রতিমা রচনার চেষ্টা।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ), 
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,৬৭৮.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস-
  1. মরণবিলাস
  2. গাভী বিত্তান্ত
  3. ওঙ্কার
  4. নিহত নক্ষত্র
সঠিক উত্তর:
ওঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওঙ্কার
ব্যাখ্যা

• আহমদ ছফা ছিলেন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
• উনসত্তরের প্রেক্ষাপটে রচিত তাঁর উপন্যাস- ওঙ্কার।
• তাঁর রচিত এই উপন্যাসের নায়ক আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে।
• আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।
• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- সূর্য তুমি সাথী (প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস),
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন,
- মরণবিলাস,
- গাভী বিত্তান্ত (বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাস),
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৬,৬৭৯.
কোনটি নির্মলেন্দু গুণের অনুবাদ কবিতা?
  1. অন্তর্জাল
  2. তোহু
  3. হুলিয়া
  4. রূপজালাল
সঠিক উত্তর:
তোহু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোহু
ব্যাখ্যা

তোহু হচ্ছে নির্মলেন্দু গুণের একটি অনুবাদ কবিতা। 

নির্মলেন্দু গুণ 

- নির্মলেন্দু গুণের জন্ম ২১ জুন ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার কাশবনে।
- ডাকনাম: রতন।
- তিনি মূলত একজন কবি ছিলেন।
- তাঁকে বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয়।
- তাঁর কবিতায় প্রেম, বিপ্লব, গ্রামীণ মানুষের জীবন, সমাজ-বাস্তবতা ও রাজনৈতিক চেতনা প্রকাশ পেয়েছে।

উল্লেখযোগ্য রচনা:
কবিতা 

- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবি,
- চাষাভূষার কাব্য,
- মুজিব লেলিন ইন্দিরা,
- হুলিয়া প্রভৃতি।

অনুবাদ কবিতা 
- রক্ত আর ফুলগুলি,
- তোহু,
- রাজনৈতিক কবিতা।

ছোটগল্প
- অন্তর্জাল,
- আপনদলের মানুষ। 

উল্লেখ্য, রূপজালাল হচ্ছে নবাব ফয়জুন্নেসার একমাত্র গ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৬৮০.
'দু'হাতে দু আদিম পাথর' কাব্যগ্রন্থের কবি কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. ফররুখ আহমদ
  3. আহসান হাবীব
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• 'দু'হাতে দু আদিম পাথর' কাব্যগ্রন্থের কবি আহসান হাবীব। 
 -গ্রন্থটি ১৯৮০ সালে প্রকাশিত হয়।

---------------------
আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক। তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব আধুনিক কাব্যধারার কবি ছিলেন। তাঁর কাব্যচর্চার শুরু বাল্যকাল থেকেই। সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম লেখা একটি প্রবন্ধ 'ধর্ম' প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩৪ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'মায়ের কবর পাড়ে কিশোর' ছাপা হয় পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল ম্যাগাজিনে। তখন তিনি দশম শ্রেণীর ছাত্র। এভাবেই তাঁর সাহিত্যিক জীবনের শুরু।
- আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই 'রাত্রিশেষ' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭সালে।
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'। ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে 'সারা দুপুর' প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দুহাতে দু আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইতাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬,৬৮১.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পর্কে কোন বক্তব্যটি সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য?
  1. মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী
  2. নারী শিক্ষা প্রসারের অগ্রগামী
  3. আধুনিক যুগের লক্ষণাক্রান্ত
  4. মধ্যযুগের ভাবধারায় পুষ্ট
সঠিক উত্তর:
মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- তিনি 'সংবাদ প্রভাকর' ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৬,৬৮২.
'সাবিত্রী' চরিত্রটির স্রষ্টা?
  1. দাউদ হায়দার
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'সাবিত্রী' চরিত্রটির স্রষ্টা - দীনবন্ধু মিত্র

নীল-দর্পণ:
- 'নীল-দর্পণ' (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্র রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- সমকালের নীলচাষ ও  নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ' A Native' ছদ্মনামে নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন ও নাম দেন 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror' (1861) এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন।  
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নীল-দর্পণকে 'আঙ্কল টমস কেবিন'-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: গোলক বসু, নবীন মাধব, রাইচরণ, তোরাপ, সাবিত্রী, সরলতা, ক্ষেত্রমণি ইত্যাদি।
- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
- এটিই বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

উল্লেখ্য, 'সাবিত্রী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'চরিত্রহীন' উপন্যাসেরও চরিত্র।

দীনবন্ধু মিত্র: 
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে 'সংবাদ প্রভাকর', 'সংবাদ সাধুরঞ্জন' প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- 'নীল-দর্পণ' তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে।

তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- নবীন তপস্বিনী,
- লীলাবতী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,৬৮৩.
শওকত আলী রচিত 'যাত্রা' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক 
  3. ছোটগল্প 
  4. প্রবন্ধ সংকলন 
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• 'যাত্রা' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা ও সময় নিয়ে শওকত আলী রচিত উপন্যাস 'যাত্রা'। 'যাত্রা' উপন্যাসটি ১৯৭২ সালে রচিত হয়। তবে প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।

- "যাত্রা" উপন্যাসে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রির পর থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংসতা, ঢাকা শহরের গণহত্যা, প্রতিরোধ সংগ্রাম, এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।

- যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে দলে দলে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে; আবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছে। এ পলায়ন শুধু চেতনাগত নয়, মানসিকভাবেও পলায়ন। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন। একসময় প্রগতিশীল রাজনীতিক রায়হান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন কি নেবেন না- এ সংশয় ও দ্বিধায় শেষাবধি যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'যাত্রা' উপন্যাস।

১৬,৬৮৪.
"তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা"- কে লিখেছেন?
  1. আহমদ শরীফ
  2. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. আবুল মনসুর আহমদ
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ আবদুল হাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা

• মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ - তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা।
- ধ্বনি ও ভাষাবিজ্ঞানী অধ্যাপক মুহম্মদ আবদুল হাই (১৯১৯-১৯৬৯) ১৩৬৪'র ফাল্গুন-চেত্র সংখ্যা 'সমকাল' পত্রিকায় 'তোষামোদেরভাষা' এবং একই পত্রিকার ১৩৬৫'র জ্যৈষ্ঠ সংখ্যায় 'রাজনীতির ভাষা' শিরোনামে দুটি প্রবন্ধ লেখেন। প্রবন্ধ দুটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত তার 'তোষামোদ ওরাজনীতির ভাষা' গ্রইভুক্ত হয়। 

-----------------------------
• মুহম্মদ আবদুল হাই:
- মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।

• মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৬৮৫.
নিচের কোনটি প্রবন্ধের বই?
  1. ক) পল্লী-সমাজ
  2. খ) দিবারাত্রির কাব্য
  3. গ) কালান্তর
  4. ঘ) মৃত্যুক্ষুধা
সঠিক উত্তর:
গ) কালান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কালান্তর
ব্যাখ্যা
'কালান্তর' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধের সংকলন।

অন্যদিকে,
- 'পল্লী-সমাজ' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- 'দিবারাত্রির কাব্য' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- 'মৃত্যুক্ষুধা' কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৬৮৬.
রক্ষণশীল সমাজের ভণ্ডামি ও ধর্মপরায়ণতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা নীচতাকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরা হয়েছে কোন রচনায়?
  1. একেই কি বলে সভ্যতা
  2. সধবার একাদশী
  3. এর উপায় কি?
  4. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
সঠিক উত্তর:
বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
ব্যাখ্যা

• 'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' প্রহসন:
- এটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন। এটি ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রথমে এ প্রহসনের নাম ছিল 'ভগ্ন শিবমন্দির'।
- এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূলকাহিনি।
- রক্ষণশীল সমাজের ভণ্ডামি ও ধর্মপরায়ণতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা নীচতাকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ভক্তপ্রসাদ, গদাগর, পুঁটি, ফতেমা, ভগী প্রমুখ।

অন্যদিকে,
 •'একেই কি বলে সভ্যতা':  
 এটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।
- প্রহসনে তৎকালীন নব্যবঙ্গীয় সম্প্রদায়ের সুরাপান এবং ইংরেজ অনুকরণের প্রতি ব্যঙ্গ করা হয়েছে।

 • সধবার একাদশী:
- 'সধবার একাদশী' (১৮৬৬) দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন।
- ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।

 •'এর উপায় কি' প্রহসন:
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত একমাত্র প্রহসন।
- উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোক যে স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদ ও পতিতাবৃত্তিতে আকৃষ্ট হয়ে নানা ধরনের অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল-লেখক এই প্রহসনে সে রকম একটি ঘটনাই তুলে ধরেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৬,৬৮৭.
'অভাগীর স্বর্গ' গল্পটি রচনা করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. সুকুমার রায়
  4. সত্যজিৎ রায়
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'অভাগীর স্বর্গ' গল্প:
- এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত গল্প।
- সুকুমার সেন সম্পাদিত 'শরৎ সাহিত্যসমগ্র' গ্রন্থের প্রথম খণ্ড থেকে 'অভাগীর স্বর্গ' নামক গল্পটি সংকলন করা হয়েছে।
- 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অমানবিক জাতিভেদ প্রথা এবং জমিদারি ব্যবস্থার শোষণ-নির্যাতনের ছবি এঁকেছেন।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত গল্পসমূহ:
- বিলাসী,
- মেজদিদি,
- মহেশ,
- বিন্দুর ছেলে,
- অভাগীর স্বর্গ,
- স্বামী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৬৮৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন গ্রন্থে সর্বপ্রথম চলিতরীতির প্রবর্তন ঘটান?
  1. জাপান যাত্রী
  2. রাশিয়ার চিঠি
  3. য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
  4. জাভা যাত্রীর পত্র
সঠিক উত্তর:
য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
ব্যাখ্যা
• য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র (১৮৮১):
- 'যুরোপ প্রবাসীর পত্র' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম ভ্রমণকাহিনি।
- চলিত ভাষায় লেখা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বইয়েই সর্বপ্রথম চলিতরীতির প্রবর্তন হয়।

গ্রন্থের কাহিনি সংক্ষেপ:
১৮৭৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ইংল্যান্ড যান। সেখানে কিছুদিন ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে এবং পরে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজে তিনি পড়াশোনা করেন। তবে এ পড়াও সম্পূর্ণ হয়নি। দেড় বছর অবস্থানের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। এই দেড় বছর তিনি সে দেশের সমাজ ও জীবনকে গভীরভাবে নিরীক্ষণ করেন। এর প্রমাণ পাওয়া যায় ভারতীতে প্রকাশিত তাঁর যুরোপ-প্রবাসীর পত্রে (১৮৮১)।

---------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র,
- য়ুরোপ যাত্রীর ডায়েরী,
- পথের সঞ্চয়,
- জাপান যাত্রী,
- পশ্চিম যাত্রীর ডায়েরী,
- জাভা যাত্রীর পত্র,
- রাশিয়ার চিঠি,
- পারস্য যাত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৬৮৯.
'সিম্পোজিয়াম' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) কাজী মোতাহার হোসেন
  3. গ) গিরিষচন্দ্র ঘোষ
  4. ঘ) কুসুমকুমারী দাশ
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী মোতাহার হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা

কাজী মোতাহার হোসেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
তাঁর উলে­খযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন (১৯৩৭),
- নজরুল কাব্য পরিচিতি (১৯৫৫),
- সে পথ লক্ষ্য করে (১৯৫৮),
- সিম্পোজিয়াম (১৯৬৫),
- গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস (১৯৭০) এবং
- আলোক বিজ্ঞান (১৯৭৪)।

বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য কাজী মোতাহার হোসেন ১৯৬৬ সালে ‘বাংলা একাডেমী পুরষ্কার’ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৯ সালে ‘স্বাধীনতা পুরষ্কার’ লাভ করেন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১৬,৬৯০.
রবীন্দ্রোত্তর যুগের অন্যতম আধুনিক কবি যিনি রবীন্দ্রনাথ এর ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন, তিনি হলেন-
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) অমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) বিষ্ণু দে
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
খ) অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি - অমিয় চক্রবর্তী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন। যদিও রবীন্দ্র কাব্যধারার বাইরে কবিতা লিখে তিনি বিখ্যাত।
তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ- খসড়া, এক মুঠে, মাটির দেয়াল, অনিঃশেষ, অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

১৬,৬৯১.
ভাই গিরিশচন্দ্র সেন রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) তাপসমালা
  2. খ) সদ্ভাবশতক
  3. গ) তত্ত্বরত্নমালা
  4. ঘ) চারটি সাধ্বী মুসলমান নারী
সঠিক উত্তর:
খ) সদ্ভাবশতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সদ্ভাবশতক
ব্যাখ্যা
'সদ্ভাবশতক' (১৮৬১) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

বাংলা ভাষায় কুরআন শরীফের প্রথম সার্থক ও পূর্ণাঙ্গ অনুবাদক গিরিশ চন্দ্র সেন।
- ১৮৭১ সালে তিনি ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন এবং প্রচারব্রত গ্রহণ করে উত্তর ভারত, দক্ষিণ ভারত ও ব্রহ্মদেশ ভ্রমণ করেন। গুরু কেশবচন্দ্র সেনের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় তিনি ইসলামি সাহিত্য-সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন।
- শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের ফারসি ভাষায় রচিত তায্কেরাতুল আত্তলিয়ার ভাবাদর্শে তাঁর রচিত গ্রন্থ 'তাপসমালা'
- গিরিশচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য আরেকটি গ্রন্থ হলো 'তত্ত্বরত্নমালা' (১৯০৭)। এটি শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের মানতেকুত্তায়েব ও মওলানা জালালউদ্দীন রুমীর মসনবী শরীফ নামক প্রখ্যাত ফারসি গ্রন্থদ্বয় থেকে সংকলিত।
- তিনি মূল ফারসি গ্রন্থ থেকে গুলিস্তাঁ ও বুস্তাঁর হিতোপাখ্যানমালা, হাদিস বা মেসকাত্ মসাবিহ (১৮৯২-৯৮), দীউয়ান-ই-হাফিজ প্রভৃতি ধর্মগ্রন্থ, মহাপুরুষচরিত (১৮৮২-১৮৮৭), মহাপুরুষ মোহাম্মদ ও তৎপ্রবর্তিত এসলাম ধর্ম, এমাম হাসান ও হোসায়নের জীবনী (১৯১১), চারিজন ধর্মনেতা, চারটি সাধ্বী মুসলমান নারী, খলিফাবর্গ, সবমিলিয়ে ৪২টি পুস্তক বাংলা ভাষায় রচনা ও প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৬,৬৯২.
'সঞ্চয়ন' - গ্রন্থটি কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্য সংকলন
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. গল্পগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

• 'সঞ্চয়ন' প্রবন্ধটির রচয়িতা - 'কাজী মোতাহার হোসেন'।

উল্লেখ্য,
- সঞ্চয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্য সংকলন এবং
- সঞ্চিতা - কাজী নজরুল ইসলামের কাব্য সংকলনের নাম।

কাজী মোতাহের হোসেন:
- 'শিখা' পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেছেন।
- তিনি ঢাকায় 'মুসলিম সাহিত্য- সমাজ' প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন।
- জাতীয় অধ্যাপক মর্যাদায় ভূষিত হন ১৯৮৫ সালে।
'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন।

তাঁর উলেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিতি,
- সে পথ লক্ষ্য করে,
- সিম্পোজিয়াম,
- গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস,
- আলোক বিজ্ঞান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,৬৯৩.
"রূপ-নারানের কূলে, জেগে উঠিলাম;
জানিলাম এ জগৎ
স্বপ্ন নয়।"- পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'শেষলেখা' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থের নাম 'শেষলেখা'।
- 'শেষলেখা' (১৯৪১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পর প্রকাশিত শেষ কাব্যগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থের নামকরণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর করে যেতে পারেননি।
- এই কাব্যগ্রন্থের অধিকাংশ কবিতায় জীবনের শেষ কয়েক দিনের রচনা ।
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ভাববাদী দর্শনের মধ্যেও চরমভাবে ইহজগৎ প্রীতি প্রকাশিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ মোট ৫৬টি।

তিনি লিখেছেন:
"রূপ-নারানের কূলে, জেগে উঠিলাম;
জানিলাম এ জগৎ
স্বপ্ন নয়।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৬৯৪.
শহীদুল্লা কায়সারের অসমাপ্ত উপন্যাস কোনটি?
  1. কৃষ্ণচূড়া মেঘ
  2. কবে পোহাবে বিভাবরী
  3. দিগন্তে ফুলের আগুন
  4. সমুদ্র ও তৃষ্ণা
সঠিক উত্তর:
কবে পোহাবে বিভাবরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবে পোহাবে বিভাবরী
ব্যাখ্যা
শহীদুল্লা কায়সার:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক। 
-  ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
-  পিতা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। 
- প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক জহির রায়হান তাঁর অনুজ। 
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক 'ইত্তেফাক' পত্রিকায় শহীদুল্লা কায়সারের সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। 
- ১৯৫৮ সালে তিনি 'সংবাদ' পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।
- শহীদুল্লা কায়সার 'সারেং বৌ' উপন্যাসের জন্য আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার বাসভবন থেকে তিনি অপহৃত হন এবং আর ফিরে আসেন নি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,৬৯৫.
'ফুল কই শুধু অস্ত্রের উল্লাস' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রফিক আজাদ
  2. শহীদ কাদরী
  3. মহাদেব সাহা
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
মহাদেব সাহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাদেব সাহা
ব্যাখ্যা
'ফুল কই শুধু অস্ত্রের উল্লাস' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা মহাদেব সাহা।
কবি সাংবাদিক মহাদেব সাহার জন্ম ১৯৪৪ সালের ৫ আগস্ট সিরাজগঞ্জ জেলায়।
- তিনি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সহ-সম্পাদক ছিলেন। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- এই গৃহ এই সন্ন্যাস (১৯৭২)
- মানব এসেছি কাছে (১৯৭৩)
- কী সুন্দর অন্ধ (১৯৭৮)
- তোমার পায়ের শব্দ (১৯৮২)
- ফুল কই, শুধু অস্ত্রের উল্লাস (১৯৮৪)
- আমি ছিন্নভিন্ন (১৯৮৬)
- তোমার জন্য অন্ত্যমিল (১৯৯৬)
- ভুলি নাই তোমাকে রুমাল (১৯৯৬)
- অন্তহীন নৃত্যের মহড়া (১৯৯৭)

তাঁর রচিত প্রবন্ধ
আনন্দের মৃত্যু নেই (১৯৮৪)
মহাদেব সাহার কলাম (১৯৯২)
কবির দেশ ও অন্যান্য ভাবনা (১৯৯৯)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও সাহিত্য সাময়িকী।
১৬,৬৯৬.
'কুয়াশা' উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. নবীনচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
প্রেমেন্দ্র মিত্র: 
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কথাসাহিত্যিক, কবি, সাংবাদিক ও সম্পাদক। 
- তাঁর জন্ম কাশিতে ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। 
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন। 
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন। 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ: 
- পঞ্চশর, 
- বেনামী বন্দর, 
- পুতুল ও প্রতিমা, 
- অফুরন্ত, 
- ধূলিধূসর, 
- জলপায়রা, 
- মৃত্তিকা ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- পাঁক, 
- কুয়াশা
- মিছিল, 
- উপনয়ন, 
- আগামীকাল, 
- প্রতিশোধ, 
- প্রতিধ্বনি ফেরে, 
- অন্য এক নাম, 
- পা বাড়ালেই রাস্তা ইদ্যাদি। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- প্রথমা, 
- সম্রাট, 
- ফেরারী ফৌজ, 
- সাগর থেকে ফেরা, 
- হরিণ চিতা চিল, 
- এখনো মেঘ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৬৯৭.
‘কল্কি অবতার’ কার লেখা প্রহসন?
  1. ক) মীর মশাররফ হোসেন
  2. খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) দ্বীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
- ‘কল্কি অবতার’ প্রহসনটি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় লিখেছেন।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- বাংলা সাহিত্যে দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ছিলেন একাধারে কবি, নাট্যকার ও গীতিকার।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।  
- বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ১৯০৫ সালে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অসামান্য অবদান ছিল। 

• তাঁর রচিত প্রহসনগুলো হল:
- কল্কি অবতার।
- বিরহ।
- ত্র্যহস্পর্শ।
- প্রায়শ্চিত্ত।
- পুনর্জন্ম।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলো:
- ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’।
- ‘ধনধান্য পুষ্পে ভরা’ ইত্যাদি। 

• তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটকগুলো হল:
- তারাবাঈ।
- প্রতাপসিংহ।
- দুর্গাদাস।
- নূরজাহান।
- মেবার পতন।
- সাজাহান।
- চন্দ্রগুপ্ত।
- সিংহল বিজয়।

বাকি অপশনগুলো:
• মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন:
- এর উপায় কি?( ১ম প্রকাশ-১৮৭৫, ২য় প্রকাশ-১৮৯২)।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা।
- বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ।

• দ্বীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,৬৯৮.
'রক্তে আমার অনাদি অস্তি' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. এম আর আখতার মুকুল
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. দিলওয়ার
  4. সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
দিলওয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিলওয়ার
ব্যাখ্যা
• ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ দিলওয়ার রচিত কবিতা। 
---------------------
• দিলওয়ার:
- কবি দিলওয়ার ১৯৩৭ সালের ১লা জানুয়ারি সিলেটের সুমরা নদীর দক্ষিণে ভার্থখলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সিলেটের সাপ্তাহিক ‘যুগভেরী’ পত্রিকায় ১৯৪৯ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘সাইফুল্লাহ হে নজরুল’ ছাপা হয়।
- তাঁর প্রকৃত নাম ‘দিলওয়ার খান’। প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘জিজ্ঞাসা’ (১৯৫৩) দিলওয়ার খান নামেই লেখেন। এর পরে তিনি নামের শেষে ‘খান’ শব্দ বাদ দেন।
----------------
'রক্তে আমার অনাদি অস্তি' কবিতা:
- সাগরদুহিতা ও নদীমাতৃক বাংলাদেশের বন্দনাই কবিতাটির মূল আলোচ্য বিষয়।
- এই কবিতায় কবি পদ্মানদীর যৌবন কামনা করেছেন। যমুনা নদীর প্রেম কামনা করেছেন।
- কবিতাটি ১৯৮১ সালে সিলেট থেকে প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত কবিতা গ্রন্থগুলো হলো:
- জিজ্ঞাসা,
- ঐকতান,
- উদ্ভিন্ন উল্লাস।

• গানের বই:
- পূবাল হাওয়া,
- বাংলা তোমার আমার।

• শিশু-সাহিত্য:
- দিলওয়ারের শতছড়া,
- ছড়ায় অআ কখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৬৯৯.
দান্তের “ডিভাইন কমেডি” -কাব্যের অনুকরণে লেখা হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কাব্য নিচের কোনটি?
  1. ক) আশাকানন
  2. খ) বীরবাহু
  3. গ) বৃত্রসংহার
  4. ঘ) ছায়াময়ী
সঠিক উত্তর:
ঘ) ছায়াময়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ছায়াময়ী
ব্যাখ্যা
মধুসূদন দত্তের পর সবচেয়ে বিখ্যাত মহাকাব্য রচয়িতা - হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। তার রচিত কাব্যঃ চিন্তাতরঙ্গিণী, বীরবাহু, আশাকানন, ছায়াময়ী, দশমহাবিদ্যা, চিত্তবিকাশ ইত্যাদি। তার খন্ড কবিতার বই - জীবন -সঙ্গীত। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৬,৭০০.
"যে জীবন ফড়িংয়ের দোয়েলের মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা"- পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. আহসান হাবীব
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

• "যে জীবন ফড়িংয়ের দোয়েলের মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা"- চরণটির রচয়িতা জীবনানন্দ দাশ।
- এই চরণটি তাঁর 'আট বছর আগের একদিন'  কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ, ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা 'বর্ষ-আবাহন' ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- কবি হলেও তিনি অসংখ্য ছোটগল্প, কয়েকটি উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল মিলু।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ,
- কল্যাণী।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।