বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৪৪ / ১৭৪ · ১৪,৩০১১৪,৪০০ / ১৭,৪৩৭

১৪,৩০১.
শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ-
  1. রৌদ্র করোটিতে
  2. বিধ্বস্ত নিলীমা
  3. নিরালোকে দিব্যরথ
  4. প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
সঠিক উত্তর:
প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
ব্যাখ্যা

• শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যের নাম - প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে।
- কাব্যটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।

• শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি শামসুর রহমানে জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৩০২.
দীনবন্ধু মিত্রের প্রহসন কোনটি?
  1. এর উপায় কি?
  2. বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  3. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  4. কিঞ্চিত জলযোগ
সঠিক উত্তর:
বিয়ে পাগলা বুড়ো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিয়ে পাগলা বুড়ো
ব্যাখ্যা

• বিয়ে পাগলা বুড়ো:
- এটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি প্রহসন।
- 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' মূলত এক ধরনের হাস্যরসাত্মক নাটক।
- বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন যে এই নাটক কোনো "জীবিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করিয়া লিখিত হইয়াছিল"।
- ১৮৭২ সালে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নসিরাম,
- রতা,
- রাজীব,
- রাজমণি,
- কেশব,
- বৈকুণ্ঠ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।
• ‘কিঞ্চিৎ জলযোগ’ প্রহসনটির রচয়িতা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর।
• 'এর উপায় কি?': মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন।

-------------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
• দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩) নাট্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
• দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• ‘নীলদর্পণ‘ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।

• 'নবীন তপস্বিনী' (১৮৬৩) দীনবন্ধু মিত্রের দ্বিতীয় নাটক। এতে যে দুটি ভিন্ন কাহিনি স্থান পেয়েছে তা পরিপূর্ণভাবে মিশ্রিত হয় নি। 'তে গ্রাম্যতা ও রুচিবিকল্পতা থাকলেও তা গুরুত্বপূর্ণ রচনা।

• 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' (১৮৬৬) বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লিখিত একটি প্রহসন। নামের মাধ্যমেই এর পরিচয় প্রকাশমান।

• দীনবন্ধু মিত্রের 'লীলাবতী' (১৮৬৭) নাটকটি রচনা হিসেবে সার্থকতা লাভ করতে পারেনি।

• 'কমলে কামিনী' (১৮৮৩) তাঁর শেষ রচনা। রোম্যান্টিক প্রণয়চিত্র হিসেবে এর গুরুত্ব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৩০৩.
'রক্তকরবী' কী?
  1. বুদ্ধদেব বসুর কাব্যগ্রন্থ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাটক
  3. কাজী নজরুল ইসলামের নাটক
  4. হাসান আজিজুল হকের উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাটক
ব্যাখ্যা
• 'রক্তকরবী' নাটক:
- রক্তকরবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাংকেতিক নাটক। নাটকটি বাংলা ১৩৩০ সনের শিলং-এর শৈলবাসে রচিত।
- তখন এর নামকরণ হয়েছিল যক্ষপুরী।
- ১৩৩০ সনের আশ্বিন মাসে যখন প্রবাসীতে প্রকাশিত হয় তখন এর নাম হয় রক্তকরবী।
- মানুষের অসীম লোভ কীভাবে জীবনের সব সৌন্দর্য ও স্বাভাবিকতাকে অস্বীকার করে মানুষকে নিছক যন্ত্র ও উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপকরণে পরিণত করেছে এবং এর ফলে তার বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদ কীরূপ ধারণ করেছে এরই প্রতিফলন ঘটেছে এ নাটকটিতে।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে।
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- নন্দিনী,
- রঞ্জন।

-------------------------------
রবীন্দ্রনাথ রচিত আরো নাটক:
- বিসর্জন
- রাজা
- অচলায়তন
- চিরকুমার সভা
- তাসের দেশ
- বৈকুন্ঠের খাতা
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত
- ডাকঘর
- বসন্ত
- চণ্ডালিকা
- নটীর পূজা

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৩০৪.
'উদাসীন পথিকের মনের কথা' -কোন জাতীয় রচনা?
  1. নাটক
  2. কাব্য
  3. আত্মজৈবনিক রচনা
  4. গীতিকবিতার সংকলন
সঠিক উত্তর:
আত্মজৈবনিক রচনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মজৈবনিক রচনা
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উদাসীন পথিকের মনের কথা:
• ‘উদাসীন পথিক' এই ছদ্মনামে মীর মশাররফ হোসেন ব্যক্তিগত জীবনের পটভূমিতে স্বীয় পারিবারিক ইতিহাস ও সমসাময়িক বাস্তব ঘটনার চিত্র তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
• “উদাসীন পথিকের মনের কথা” (১৮৯০) কে প্রকৃতপক্ষে উপন্যাস বা আত্মজীবনীমূলক রচনা এর কোনোটাই বলা যায় না। বরং বলতে হয়, গ্রন্থটি লেখকের আত্মজীবননির্ভর কতিপয় বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনার মিশেল উপন্যাসসুলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা।
• এতে লেখকের পারিবারিক ইতিবৃত্ত বর্ণনা এবং নিজের মাতা-পিতাকে যথেষ্ট শ্রদ্ধার সঙ্গে চিত্রিত হতে দেখা যায়। উদাসীন পথিকের মনের কথায় হিন্দু-মুসলমানের যে মিলন-কামনা আছে, তার গভীর তাৎপর্য স্বীকার করতে হয়।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৩০৫.
‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পে লেখক কোনটিকে প্রকাশ করতে চেয়েছেন?
  1. ভূতে বিশ্বাস
  2. মানুষের কুসংস্কার
  3. বিজ্ঞানের যুক্তিবাদিতা
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের প্রেক্ষাপট:
'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের মধ্যে বিরাজমান ভূতে বিশ্বাস ও কুসংস্কারকে অসার প্রমাণ করার প্রয়াস চালিয়েছেন। ১৯৪১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘মৌচাক’ পত্রিকায় প্রকাশিত এই কিশোর-উপযোগী গল্পে তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে কুসংস্কার মানুষের যুক্তি ও বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, এবং কিভাবে বিজ্ঞানচেতনা সেই কুসংস্কারকে ভেঙে দিয়ে সত্য প্রকাশ করতে পারে।

গল্পের মূল চরিত্র নগেন ভূতে বিশ্বাসী এবং অশরীরী শক্তির প্রতি আকৃষ্ট, যার ফলে সে বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত থাকে। অন্যদিকে, পরাশর ডাক্তার যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞানমনস্ক। তিনি তার বুদ্ধি ও বিজ্ঞানচেতনার মাধ্যমে নগেনের ভ্রান্ত বিশ্বাসকে প্রকাশ করে তার ভিত্তিহীনতা প্রমাণ করেন। এভাবে গল্পটি বিজ্ঞানবুদ্ধির জয় এবং কুসংস্কারাচ্ছন্নতার অন্তঃসারশূন্যতাকে প্রতিপন্ন করে।

-------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।
 
তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
• উপন্যাস:
- জননী, 
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি, 
- পুতুলনাচের ইতিকথা, 
- শহরতলী, 
 - চিহ্ন, 
- চতুষ্কোণ, 
- সার্বজনীন, 
- আরোগ্য ইত্যাদি। 
 
• ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প, 
- প্রাগৈতিহাসিক, 
- সরীসৃপ, 
- সমুদ্রের স্বাদ, 
- হলুদ পোড়া, 
- আজ কাল পরশুর গল্প, 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্প- অষ্টম শ্রেণি।
১৪,৩০৬.
শওকত আলীর ত্রয়ী উপন্যাসের প্রথম কাহিনী কোনটি? 
  1. পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
  2. দক্ষিণায়নের দিন
  3. কুলায় কালস্রোত
  4. আরেকটি স্বাধীন কাহিনী
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণায়নের দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণায়নের দিন
ব্যাখ্যা

শওকত আলী রচিত ত্রয়ীর প্রথম কাহিনী দক্ষিণায়নের দিন।
------------------------------------
• শওকত আলী:
- শওকত আলী (১৯৩৬-২০১৮) একজন খ্যাতিমান বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিক্ষক।
- তিনি মূলত মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সমাজ, রাজনীতি এবং মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট নিয়ে লিখেছেন।
- শওকত আলী বিংশ শতাব্দীর শেষভাগের একজন গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক ছিলেন।

- তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস:
• যাত্রা;
• ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’;
• ‘অপেক্ষা’।
-------------------------------------- 
ত্রয়ী উপন্যাস নিয়ে কিছু কথা:
- শওকত আলীর বিখ্যাত ত্রয়ী উপন্যাস হলো:
দক্ষিণায়নের দিন (১৯৮৫): ত্রয়ীর প্রথম কাহিনী, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে লেখা।
• কুলায় কালস্রোত (১৯৮৬): দ্বিতীয় কাহিনী, ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
• পূর্বরাত্রি পূর্বদিন (১৯৮৬): শেষ কাহিনী, গল্পের সমাপ্তি।

- এই তিনটি উপন্যাস মূলত রাজনৈতিক জীবন ও মানবিক সংকটকে কেন্দ্র করে রচিত।
- এই ত্রয়ী উপন্যাস শওকত আলীর সৃষ্টিশীলতার শীর্ষকর্ম হিসেবে বিবেচিত।
- এই ত্রয়ী যেন একটি বড় কাহিনীর তিনটি অংশ, যা সময়ের আবর্তে মানুষের জীবন, সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখায়।
- এখানে সময়কে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে দেখা যায়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
সংশ্লিষ্ট উপন্যাস;
বাংলাপিডিয়া।

১৪,৩০৭.
বন্দে আলী মিয়া রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. অনুরাগ
  2. ধরিত্রী
  3. কুঁচবরণ কন্যা
  4. অরণ্য গোধূলি
সঠিক উত্তর:
অরণ্য গোধূলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অরণ্য গোধূলি
ব্যাখ্যা
• বন্দে আলী মিয়া:
- তিনি একজন সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর ছিলেন।
- ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি পাবনার মজুমদার একাডেমী থেকে এন্ট্রান্স (১৯২৩) পাস করে কলকাতার ইন্ডিয়ান আর্ট একাডেমীতে চিত্রবিদ্যায় (১৯২৭) শিক্ষালাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে ,
- শেষ লগ্ন ,
- অরণ্য গোধূলি ,
- নীড়ভ্রষ্ট।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:

- ময়নামতির চর;
- অনুরাগ;
- পদ্মানদীর চর;
- মধুমতীর চর;
- ধরিত্রী;

• তাঁর রচিত শিশুতােষ গ্রন্থ:
- চোর জামাই;
- মৃগপরী;
- ডাইনী বউ;
- রূপকথা,
- কুঁচবরণ কন্যা ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৪,৩০৮.
কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কবিতার মূল বার্তা কী?
  1. জাতীয়তাবাদ
  2. শ্রমিক শ্রেণির জয়গান
  3. বৈষম্যহীন মানবসমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান
  4. মুসলিম জাগরণ 
সঠিক উত্তর:
বৈষম্যহীন মানবসমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈষম্যহীন মানবসমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান
ব্যাখ্যা
• 'সাম্যবাদী' কবিতার মূলভাব:
এই কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম বৈষম্যহীন অসাম্প্রদায়িক মানবসমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। কবির বিশ্বাস মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে পরিচিত হয়ে ওঠা সবচেয়ে সম্মানের। নজরুলের এ আদর্শ আজও প্রতিটি মানুষের জীবনপথের প্রেরণা। কিন্তু মানুষ সম্প্রদায়কে ব্যবহার করে রাজনীতি করে, দুর্বলকে শোষণ করে, এখনও একের বিরুদ্ধে অন্যকে উস্কে দেয়। এক জনের প্রতি অন্য জনকে বিমুখ করার ষড়যন্ত্র করে। নজরুল এ কবিতায় বলেছেন- "মানুষেরই মাঝে স্বর্গনরক মানুষেতে সুরাসুর।" নজরুল জোর দেন অন্তর ধর্মের ওপর। ধর্মগ্রন্থ পড়ে অর্জিত জ্ঞান যথার্থভাবে উপলব্ধি করতে প্রয়োজন মানবিকতাবোধ। কবি বলেছেন মানুষের হৃদয়ের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোন মন্দির কাবা নেই। কবি সকল মত, সকল পথের উপরে স্থান দিয়েছেন মানবিকতা। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, মুসলিম সকলকে একই মায়ের সন্তানের মতো ভেবেছেন। নজরুল মানবিক মেলবন্ধনের জন্য সংগীত রচনা করেছেন। বাণী ও সুরের মাধ্যমে মানবতার সুবাস ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন। নজরুল 'সাম্যবাদী' কবিতায় মন্দির, মসজিদ, গির্জা বা অন্যান্য তীর্থক্ষেত্রের মতো পবিত্র মনে করেছেন মানুষের হৃদয়কে। এ হৃদয় যদি পবিত্র থাকে, হৃদয়ে যদি কারো প্রতি হিংসা, বিদ্বেষ না থাকে, সকলের প্রতি সমদর্শিতা থাকে তাহলে পৃথিবী হবে সুখের আবাসস্থল। সাম্যবাদ মানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ বির্বিশেষে রাষ্ট্রের সকল মানুষের সমান অধিকার থাকা উচিত এ মতবাদ। কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর 'সাম্যবাদী' কবিতায় সব ধরনের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সাম্যবাদের বাণী প্রচার করেছেন।

উৎস: 'সাম্যবাদী' কবিতা; মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪,৩০৯.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ?
  1. ভাঙার গান
  2. ঝিঙে ফুল
  3. ফণি-মনসা
  4. চোখের চাতক
সঠিক উত্তর:
চোখের চাতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোখের চাতক
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ঝিঙে ফুল,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জিরা,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৩১০.
’শরৎ প্রতিভা’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. জাহানারা ইমাম
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়ন সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যু্ক্ত ছিলেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়, ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:-
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৩১১.
'জীবন আমার বোন' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. মুরাদ
  2. রঞ্জু
  3. খোকা
  4. ইয়াসিন
সঠিক উত্তর:
খোকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খোকা
ব্যাখ্যা
• জীবন আমার বোন:
- মাহমুদুল হকের বহুল পঠিত উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'।
- ‘জীবন আমার বোন’ উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে। এটি লেখকের তৃতীয় উপন্যাস।
- ‘জীবন আমার বোন’ দেশ-কালের সীমানা ছাড়িয়ে মানবজাতির স্বাধীনতা ও জীবনদর্শনের এক গভীর আলেখ্য। এটি মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত হলেও, এর দার্শনিক গভীরতা এটিকে একটি সর্বজনীন সাহিত্যকর্মে রূপান্তরিত করে।
- জাহেদুল কবির খোকা উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। 

উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো-
- রঞ্জু,
- মুরাদ,
- ইয়াসিন,
- রহমান,
- লুলু চৌধুরী। 

--------------
মাহমুদুল হকের রচিত উপন্যাস:
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- জীবন আমার বোন,
- কালো বরফ,
- খেলাঘর
- চিক্কোর কাবুক,
- মাঠির জাহাজ,
- অশরীরী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৩১২.
E.M. Millford বাংলা কোন কাব্যগ্রন্থটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন?
  1. ক) মা যে জননী কান্দে
  2. খ) নকশী কাঁথার মাঠ
  3. গ) রাখালী
  4. ঘ) সোজন বাদিয়ার ঘাট
সঠিক উত্তর:
খ) নকশী কাঁথার মাঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নকশী কাঁথার মাঠ
ব্যাখ্যা
• পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীনের 'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যটি E.M. Millford ইংরেজীতে 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- এটি ১৯২৯ সালে অনূদিত হয়।
- নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যোপন্যাসটি রূপাই ও সাজু নামক দুই গ্রামীণ যুবক-যুবতীর অবিনশ্বর প্রেমের করুণ কাহিনী। এই দুজনই ছিলেন বাস্তব চরিত্র।

• জসীমউদ্‌দীন:
- ১৯০৩ সালের ১ লা জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।
- ছাত্রাবস্থায় তাঁর “কবর” কবিতাটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য তালিকাভুক্ত হয়।
- ‘কবর’ কবিতাটি ‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- 'সুচয়িনী' জসীমউদ্‌দীনের নির্বাচিত কবিতার সংকলন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- জসীমউদ্দীন “জারীগান” ও “মুর্শীদা গান” নামক গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেছেন।
- তিনি ১৯৭৬ সালে ঢাকায় মারা যান। 

• তাঁর রচিত গাথা কাব্য:
- নক্সীকাঁথার মাঠ।
- সোজন বাদিয়ার ঘাট।
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনী:
- চলে মুসাফির।
- হলদে পরীর দেশ।
- যে দেশে মানুষ বড়।

 উৎস: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৩১৩.
কোনটি নির্মলেন্দু গুণের কাব্যগ্রন্থ?
  1. বাংলার মাটি বাংলার জল
  2. তবক দেওয়া পান
  3. চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া
  4. রৌদ্রে প্রতিধ্বনি
সঠিক উত্তর:
বাংলার মাটি বাংলার জল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলার মাটি বাংলার জল
ব্যাখ্যা
নির্মলেন্দু গুণ:
- ২১ জুন ১৯৪৫, কাশবন, নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাকনাম রতন।
- তিনি মূলত একজন কবি ছিলেন।
- তাকে বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয়।

তাঁর কাব্যগ্রন্থ গুলো:
• প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
• না প্রেমিক না বিপ্লবি,
বাঙলার মাটি বাংলার জ্বল,
• চাষাভূষার কাব্য,
• মুজিব লেলিন ইন্দিরা,
• হুলিয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৩১৪.
’ওঙ্কার’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. আহমদ ছফা
  3. শওকত ওসমান
  4. সেলিনা হোসেন
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
• ’ওঙ্কার’ উপন্যাসের রচয়িতা- আহমদ ছফা।
- এটি মূলত ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা।
- উপন্যাসটি প্রকাশ পায় ১৯৭৫ সালে।
--------------------------------------------------
• আহমদ ছফা:
- তিনি ছিলেন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন  চট্টগ্রাম জেলার  চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। 
-  ষাটের দশকে তাঁর সাহিত্য-জীবনের সূচনা হয়।
 
• আহমদ ছফার রচিত উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী ,
- উদ্ধার ,
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন,
- অলাতচক্র,
- ওঙ্কার,
- গাভীবৃত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- পুষ্পবৃক্ষ ও বিহঙ্গপুরাণ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৩১৫.
'লালসালু' উপন্যাসটির লেখক কে?
  1. মুনির চৌধুরী
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
‘লালসালু’ উপন্যাস:
• ‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
• এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।
• নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।
• ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে।
• তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
• 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
• ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির ‘লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মজিদ,
- খালেক ব্যাপারি,
- জমিলা,
- রহিমা,
- আমেনা,
- আক্কাস,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা।

-----------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ফেনি স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ‘ভোরের আলো’ নামে হাতে লেখ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৩১৬.
‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি নিজেকে কিসের নটরাজ বলেছেন?
  1. বিদ্রোহের
  2. নাট্যকারের
  3. মহা-প্রলয়ের
  4. গায়কের
সঠিক উত্তর:
মহা-প্রলয়ের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহা-প্রলয়ের
ব্যাখ্যা
•  'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি নিজেকে মহা-প্রলয়ের নটরাজ বলেছেন।

তিনি লিখেছেন- 

বল বীর -
আমি চির-উন্নত শির!
আমি চিরদুর্দ্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,
মহা-প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস,
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর!

------------------------
• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ‘বিদ্রোহী' কবিতার রচনাকাল: ১৯২১ সাল;  প্রকাশিত হয় ⎯ ২২ পৌষ, ১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'।
- এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বিদ্রোহী কবিতা, বাংলাপিডিয়া।
১৪,৩১৭.
'সাবিত্রী ও কিরণময়ী' শরৎচন্দ্রের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. শেষের পরিচয়
  2. চরিত্রহীন
  3. পণ্ডিতমশাই
  4. বড়দিদি
সঠিক উত্তর:
চরিত্রহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা
'চরিত্রহীন' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে।
- প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত।
- উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন।
- গল্পটিতে চারটি নারী চরিত্র রয়েছে।
- তার মধ্যে দুটি প্রধান চরিত্র: সাবিত্রী ও কিরণময়ী।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) শরৎ রচনাবলী।
১৪,৩১৮.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. সরীসৃপ
  2. শহরবাসের ইতিকথা
  3. সমুদ্রের স্বাদ
  4. মিহি ও মোটা কাহিনি
সঠিক উত্তর:
শহরবাসের ইতিকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহরবাসের ইতিকথা
ব্যাখ্যা
• 'শহরবাসের ইতিকথা':
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইতিকথা ট্রিলজির দ্বিতীয় পর্ব হলো 'শহরবাসের ইতিকথা' উপন্যাস।
- যারা লেখকের 'পুতুল নাচের ইতিকথা' পড়েছেন তারা নিশ্চয়ই শশীর শহরে বসবাস করার একটা সুপ্ত ইচ্ছার কথা জানতেন। শশীর শহরে বসবাসের গোপন ইচ্ছেটাকেই লেখক 'শহরবাসের ইতিকথা' উপন্যাসে পূর্ণ রূপ দিয়েছেন।

---------------------
• তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- মিহি ও মোটা কাহিনী,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পুতুল নাচের ইতিকথা,
- জননী,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- সোনার চেয়ে দামি,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- ইতিকথার পরের কথা,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'শহরবাসের ইতিকথা' উপন্যাস।
১৪,৩১৯.
'বিশ শতকের বাঙালী' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. আহমদ ছফা
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. আহমদ শরীফ
  4. বদরুদ্দীন ওমর
সঠিক উত্তর:
আহমদ শরীফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা

• 'বিশ শতকের বাঙালী' গ্রন্থের রচয়িতা আহমদ শরীফ। 
- এটি একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।  

• আহমদ শরীফ রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৩২০.
'উদ্যত সঙ্গীন' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা হলেন-
  1. ফররুখ আহমেদ
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. আবুল হোসেন
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
হাসান হাফিজুর রহমান কবি, সমালোচক ও গল্পকার হিসেবে খ্যাতিমান। 
- তিনি ১৪ই জুন ১৯৩২ সালে জামালপুর জেলার কুলকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ভাষা আন্দোলনের একজন অসাধারণ সংগঠক।
- ১৯৫৩ সালে তাঁর সম্পাদিত একুশে ফেব্রুয়ারি গ্রন্থটি বিস্ময়কর আলোড়ন সৃষ্টি করে।

মুক্তিযুদ্ধে তিনি ছিলেন অকুতোভয় এক সৈনিক। 
- ১৯৭৭ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের 'মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রকল্প'-এর তিনি ছিলেন প্রধান।
- তাঁর সম্পাদনায় ষোলো খণ্ডে 'বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ : দলিলপত্র' প্রকাশিত হয়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য :
- বিমুখ প্রান্তর,
- আর্ত-শব্দাবলি,
- অন্তিম শরের মতো,
- উদ্যত সঙ্গীন,
- শোকার্ত তরবারি,
- আমার ভেতরের বাঘ ইত্যাদি।

প্রবন্ধগ্রন্থ :
- আধুনিক কবি ও কবিতা, সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- গল্পগ্রন্থ : আরো দুটি মৃত্যু ইত্যাদি।

হাসান হাফিজুর রহমান লেখক সংঘ পুরস্কার, আদমজী পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন।
১৯৮৩ সালের ১লা এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

'অবাক সূর্যোদয়' কবিতাটির রচয়িতা হলেন হাসান হাফিজুর রহমান। 
 কবিতাটি কিশোর বন্দনারই গাথা। চমৎকার কিছু ছবি, ভাবনা আর প্রতীকের মধ্য দিয়ে কবি এখানে কিশোরদের জয়গান করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্য পাঠ, নবম দশম শ্রেণি।
১৪,৩২১.
কে মহাকাব্য রচয়িতা নন?
  1. ক) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. গ) নবীনচন্দ্র সেন
  4. ঘ) কায়কোবাদ 
সঠিক উত্তর:
খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য এবং কবির শ্রেষ্ঠ রচনা 'বৃত্রসংহার'। 

-নবীনচন্দ্র সেনের কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ 'রৈবতক (১৮৮৭)', 'কুরুক্ষেত্র (১৮৯৩)' ও 'প্রভাস (১৮৯৬)' কাব্যত্রয়।
- এগুলির নায়ক  কৃষ্ণ এবং এতে যথাক্রমে কৃষ্ণের আদি, মধ্য ও অন্তলীলা বর্ণিত হয়েছে।
- নবীনচন্দ্রের এই তিনটি কাব্যও মহাকাব্যের লক্ষণাক্রান্ত।
- কাহিনীর বিশালতা এবং বহুমুখী বৈচিত্র্যের কারণে গ্রন্থত্রয়ের কাব্যবন্ধন অনেকটা শিথিল ও দুর্বল।

কায়কোবাদ রচিত মহাকাব্য 'মহাশ্মশান'।
- তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে জয়-পরাজয় অপেক্ষা ধ্বংসের ভয়াবহতা প্রকট হওয়ায় এর নাম হয়েছে ‘মহাশ্মশান’।
- এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা এবং এর দ্বারাই তিনি মহাকবিরূপে খ্যাতি অর্জন করেন।

আধুনিক বাংলা সাহিত্যে গীতি কবিতার প্রবর্তক বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৩২২.
'অশ্রুমালা' কাব্যের কবি কে?
  1. ক) মীর মশাররফ হোসেন
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. ঘ) মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
খ) কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা

- কায়কোবাদ রচিত অশ্রুমালা একটি গীতিকাব্য, যা ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে তিনি প্রথম মহাকাব্য এবং সনেট রচয়িতা।
- তার প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- মহাশ্মশান তার বিখ্যাত মহাকাব্য যা ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)।

১৪,৩২৩.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. চেহারার চতুরঙ্গ
  2. আগুনের মেয়ে
  3. কাবিলের বোন
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

চেহারার চতুরঙ্গ, আগুনের মেয়ে, কাবিলের বোন তিনটি আল মাহমুদ কর্তৃক রচিত উপন্যাস।
- তার বিখ্যাত উপন্যাস ডাহুকী ও উপমহাদেশ।
- তার প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ সোনালী কাবিন।
- এছাড়াও তিনি লোক লোকান্তর, কালের কলস, বখতিয়ারের ঘোড়া, পাখির কাছে ফুলের কাছে নামক কাব্যগ্রন্থ গুলো রচনা করেন।

সূত্র: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১৪,৩২৪.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. উজানে মৃত্যু
  2. তরঙ্গভঙ্গ
  3. বহিপীর
  4. চাঁদের অমাবস্যা
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত উপন্যাস - চাঁদের অমাবস্যা।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:

- তিনি একজন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার ছিলেন।
- তিনি ১৯২২ সালে, ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহর এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু'।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৩২৫.
মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) কী চাহ শঙ্খচিল
  2. খ) অলাতচক্র
  3. গ) স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
  4. ঘ) পায়ের আওয়াজ পাওয়ার যায়
সঠিক উত্তর:
খ) অলাতচক্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অলাতচক্র
ব্যাখ্যা
⇒ 'অলাতচক্র' উপন্যাস: 
• 'অলাতচক্র' আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস। 
• ১৯৮৫ সালে তৎকালীন 'নিপুণ' নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রথম মুদ্রিত হয়। 
• এটি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক একটি উপন্যাস। 
• এই উপন্যাসে লেখক মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাইরের দেশগুলোর অংশগ্রহণকে সমালোচকের দৃষ্টিতে গ্রহণ করেছেন 
• এই উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: তায়েবা, জাহিদুল, দানিয়েল প্রমুখ। 

অন্যদিকে,
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক।
- 'কী চাহ শঙ্খচিল' মমতাজউদ্দিন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
- 'আর্তনাদ' ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শওকত ওসমান রচিত একটি উপন্যাস।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৪,৩২৬.
'জ্যৈষ্ঠের খররৌদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূন্য রোদন।' উক্তিটি কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সমাপ্তি
  2. হৈমন্তী
  3. দেনাপাওনা
  4. অপরিচিতা
সঠিক উত্তর:
হৈমন্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৈমন্তী
ব্যাখ্যা
'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- 'হৈমন্তী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির।
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।

গল্পের কিছু বিখ্যাত উক্তি-
- এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।
- জ্যৈষ্ঠের খররৌদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূন্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।
- আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৩২৭.
মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সুধাকর
  2. কোহিনুর
  3. সওগাত
  4. আজিজননেহার
সঠিক উত্তর:
আজিজননেহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজিজননেহার
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি ’আজিজননেহার’ ও ’হিতকরী’ নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'মাসিক সওগাত' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন। 
• 'কোহিনুর' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ রওশন আলী চৌধুরী।
• 'সুধাকর' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শেখ আব্দুর রহিম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৩২৮.
‘অসাধু সিদ্ধার্থ’ উপন্যাস কার লেখা?
  1. শওকত উসমান
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. সমরেশ বসু
  4. জগদীশ গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
জগদীশ গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জগদীশ গুপ্ত
ব্যাখ্যা

মনোবৈকল্য ও মনোবিশ্লেষণ এবং দুঃখময়তার লেখক জগদীশ গুপ্তের বিখ্যাত উপন্যাস অসাধু সিদ্ধার্থ এক সাধুর ভণ্ডামিকে তুলে ধরা হয়েছে।
তাঁর অন্যান্য উপন্যাস হলো :
রোমন্থন
লঘুগুরু
দুলালের দোলা
নিষেদের পটভূমিকায়
কলঙ্কিত তীর্থ

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৪,৩২৯.
'কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি'- পঙক্তিটির রচয়িতা-
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

- বাংলা সাহিত্যের কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী ছিলেন।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ- ছাড়পত্র, ঘুম নেই, পূর্বাভাস, মিঠেকড়া, অভিযান, হরতাল, গীতিগুচ্ছ (সঙ্গীত) ইত্যাদি।
- আঠারো বছর বয়স (ছাড়পত্র), রানার, এক যে ছিল, হে মহাজীবন (ছাড়পত্র) ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা।
- তাঁর 'হে মহাজীবন' কবিতাটি হলো-
''হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য ঝঙ্কার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!
প্রয়োজন নেই কবিতার স্নিগ্ধতা—
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়:
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল্‌সানো রুটি॥''
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৪,৩৩০.
শওকত আলী রচিত 'প্রদোষে প্রাকৃতজন' কোন ধরনের উপন্যাস? 
  1. ঐতিহাসিক 
  2. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 
  3. ভ্রমণকাহিনী 
  4. রোমান্সমূলক 
সঠিক উত্তর:
ঐতিহাসিক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐতিহাসিক 
ব্যাখ্যা
• প্রদোষে প্রাকৃতজন:
• শওকত আলীর ঐতিহাসিক উপন্যাস 'প্রদোষে প্রাকৃতজন' (১৯৮৪)।
এর পটভূমি দ্বাদশ শতকের প্রথম ভাগের বাংলা। ১২০৪ সালে তুর্কি সেনাপতি বখতিয়ার খিলজি লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাতের পটভূমিতে উপন্যাসটি রচিত হয়েছে।
- এ উপন্যাসে রাজা লক্ষ্মণ সেনের সময়ের সমাজ ও মানুষের দ্বন্দ্ব তুলে ধরা হয়েছে।

• শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- যাত্রা, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- উন্মূল বাসনা,
- লেলিহান স্বাদ,
- শুন হে লক্ষিন্দর,
- বাবা আপনে যান।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৩৩১.
কর্মজীবনে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদে চাকরি করেন কোন সাহিত্যিক?
  1. আল মাহমুদ
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. আবু ইসহাক
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
-  বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২৬ জুন ১৮৩৮ – ৮ এপ্রিল ১৮৯৪) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম হয় ১৯৪৮ সালে; বর্তমান উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নৈহাটি শহরের নিকটস্থ কাঁঠালপাড়া গ্রামে।
- তিনি বাংলা ভাষার আদি সাহিত্যপত্র বঙ্গদর্শনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- বঙ্কিম একসময় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন।

অন্যদিকে,
আল মাহমুদ- সাংবাদিকতার কাজ করেন।
প্রমথ চৌধুরী -  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কলেজে কিছুকাল অধ্যাপনা করেন এবং ঠাকুর এস্টেটের ম্যানেজার ছিলেন।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে আবু ইসহাক জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার উপ-পরিচালক হন। 

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৫২ সালে 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকায় কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্যিক জীবন শুরু করেন।
- ১৮৫৬ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা পুরাকালিক গল্প তথা মানস’ প্রকাশিত হয়।
- ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে বঙ্কিমচন্দ্র প্রকাশ করেন বঙ্গদর্শন নামের সাময়িক পত্রিকা।
- বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- তাঁকে বাংলা উপন‍্যাসের জনক বলা হয়।

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'।
- উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৪,৩৩২.
"সুরজিত নন্দী" - কোন সাহিত্যের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. পদ্মার পলিদ্বীপ
  2. নেমেসিস
  3. কুহেলিকা
  4. পুতুল নাচের ইতিকথা
সঠিক উত্তর:
নেমেসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেমেসিস
ব্যাখ্যা

• 'নেমেসিস' নাটক: 
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯ - ৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম- সুরজিত নন্দী। 

অন্যদিকে,
• আবু ইসহাক রচিত 'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাসের চরিত্র: ফজল, এরফান মাতব্বর, আরশেদ মোল্লা, জরিবা, রূপজান ইত্যাদি।
• কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস ‘কুহেলিকা’ (প্রকাশকাল: ১৯৩১ খ্রি.)-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো — জাহাঙ্গীর।
• 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস: শশী, কুসুম, গোপাল, সেনদিদি, যাদব পণ্ডিত ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৩৩৩.
বাংলাদেশের কোন স্থানটি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতির সাথে জড়িত?
  1. ক) চুরুলিয়া
  2. খ) দরিরামপুর
  3. গ) শান্তিডাঙ্গা
  4. ঘ) কালীগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
খ) দরিরামপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দরিরামপুর
ব্যাখ্যা
'দরিরামপুর'- বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতির সাথে জড়িত। 


- আসানসোল রুটির দোকানে কাজ করা অবস্থায় আসানসোল থানার দারোগা
কাজী রফিজউদ্দিন তাঁর গান শুনে মুগ্ধ হয়ে নিজের বাড়ি ময়মনসিংহের
কাজি সিমলা গ্রামে নিয়ে যান এবং দরিরামপুর স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি করিয়ে দেন ।

- ১৯১৪'র ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হলে কাজি সিমলা ত্যাগ করেন।
- পরে নিজের ইচ্ছায় শিয়ারশোল রাজস্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং
এখান থেকেই প্রি- টেস্ট পরীক্ষার সময় ৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টনে যোগ দেন (১৯১৭)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর। 
১৪,৩৩৪.
নিম্নোক্ত কোনটি দাউদ হায়দার - এর রচনা নয়?
  1. ক) জন্মই আমার আজন্ম পাপ
  2. খ) এই শাওনে এই পরবাসে
  3. গ) পাথরের পুঁথি
  4. ঘ) বিশ শতকের মেয়ে
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিশ শতকের মেয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিশ শতকের মেয়ে
ব্যাখ্যা

বিশ শতকের মেয়ে- নীলিমা ইব্রাহিমের একটি উপন্যাস।

অন্যদিকে, দাউদ হায়দারের গ্রন্থগুলো হলো-
- জন্মই আমার আজন্ম পাপ
- এই শাওনে এই পরবাসে
- পাথরের পুঁথি
- আমি ভালো আছি, তুমি

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪,৩৩৫.
‘তোরাব’ কোন নাটকের চরিত্র?
  1. নীলদর্পণ
  2. জোহরা
  3. সধবার একাদশী 
  4. আলালের ঘরের দুলাল 
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা

‘তোরাব’ চরিত্রটি দীনবন্ধু মিত্রের বিখ্যাত সামাজিক নাটক ‘নীলদর্পণ’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।

• ‘নীলদর্পণ':
-
নীলদর্পণ বাংলা নাট্যসাহিত্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও রাজনৈতিক দলিল হিসেবে স্বীকৃত।
- নাটকটির মূল বিষয়বস্তু হলো- ব্রিটিশ আমলে নীলকর সাহেবদের দ্বারা বাঙালি কৃষক ও সাধারণ মানুষের ওপর চালানো নির্মম অত্যাচার ও শোষণের করুণ চিত্র।
- নীল চাষকে কেন্দ্র করে নীলদর্পণ নাটকে কৃষকদের ওপর নীলকরদের জোরপূর্বক নীল চাষ চাপিয়ে দেওয়ার নির্মম বাস্তবতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
- এই চাষ আদায়ের জন্য কৃষকদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে জমি ও সম্পদ জোর করে দখল করে নেওয়া হতো।
- নাটকে গোলক বসুর পরিবারের করুণ পরিণতি দেখিয়ে বোঝানো হয়েছে, কীভাবে একসময়ের সচ্ছল কৃষক পরিবার নীলকরদের অত্যাচারে ধীরে ধীরে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে। 
- এই নাটকের একটি কেন্দ্রীয় চরিত্র হচ্ছে- তোরাব।
- এখানে তাকে শোষক জমিদার-পল্লীর প্রতিনিধি হিসেবে দেখানো হয়েছে।
--------------------------------- 
অন্যদিকে, 
• জোহরা চরিত্রটি হচ্ছে- মোজাম্মেক হকের জোহরা উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। 
• দীনবন্ধু মিত্রের সধবার একাদশী প্রহসনের চরিত্র হচ্ছে- নিমচাঁদ।
• প্যারীচাঁদ মিত্রের আলালের ঘরের দুলালের চরিত্রগুলো হচ্ছে- ঠকচাচা, মতিলাল, বাঞ্চারামবাবু।
-----------------------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
- দীনবন্ধু মিত্র ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল গন্ধর্বনারায়ণ।
- ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধ চলাকালে তিনি কাছাড় অঞ্চলে ডাক বিভাগের দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করেন; এই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি দেয়।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা ও নাটক হলো ‘নীলদর্পণ’।

• দীনবন্ধু মিত্রের প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো,
- জামাই বারিক।

• দীনবন্ধু মিত্রের নাটক:
- নীলদর্পণ,
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৪,৩৩৬.
'কঙ্কাবতী' - উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
• কঙ্কাবতী - উপন্যাস এর রচয়িতা - অন্নদাশঙ্কর রায়।
• 'কঙ্কাবতী'- বুদ্ধদেব বসুর রচিত কাব্যগ্রন্থ।

অন্নদাশঙ্কর রায়:

- অন্নদাশঙ্কর রায় একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি, লেখক এবং সেই সাথে বিশিষ্ট ছড়াকারও।
- তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন।
- পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি তাঁর রচিত দুইটি ভ্রমণকাহিনি।

• অন্নদাশঙ্কর রায়ের প্রথম কবিতাগ্রন্থ - রাখী (১৯৩২)।

তাঁর রচিত উপন্যাস গুলো:
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- অপসরণ,
- অজ্ঞাতবাস ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• তাঁর প্রথম উপন্যাস - অসমাপিকা (১৯৩০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৩৩৭.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'কবি' উপন্যাসে কোন সম্প্রদায়ের কথা বলা হয়েছে?
  1. ক) ধীবর
  2. খ) কামার
  3. গ) ডোম
  4. ঘ) কুমোর
সঠিক উত্তর:
গ) ডোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ডোম
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'কবি' (১৯৪১)।
- এটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। 
- এই উপন্যাসটি ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের  ''জীবন এতো ছোট ক্যানে? '' - সংলাপটি ক্ল্যাসিক মর্যাদা পেয়েছে। 

- কবি নামে হুমায়ুন আহমেদের একটি জনপ্রিয় উপন্যাস রয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৩৩৮.
'চণ্ডালিকা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত-
  1. রূপক নাটক
  2. সাংকেতিক নাটক
  3. রূপক ও সাংকেতিক নাটক
  4. নৃত্যনাট্য
সঠিক উত্তর:
নৃত্যনাট্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৃত্যনাট্য
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডালিকা' নাটক:
- চণ্ডালিকা (১৯৩৩) সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক।
- এর কথাবস্তু পালি শার্দুল-কর্ণাবদলা থেকে গৃহীত।
- ১৯৩৮ সালে রবীন্দ্রনাথ এই নাটকটিকে নৃত্যনাট্যে রূপ দেন।
- কথা ও সুরের সমন্বয়ে এটি রবীন্দ্রনাথের অন্যতম সৃষ্টি।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নৃত্যনাট্য:
- শ্যামা, 
- নটীর পূজা, 
- চণ্ডালিকা, 
- চিত্রাঙ্গদা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৩৩৯.
কবি জসীমউদ্‌দীনের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) যাদের দেখেছি
  2. খ) জীবন কথা
  3. গ) জীবন চরিত
  4. ঘ) আত্মকথা
সঠিক উত্তর:
খ) জীবন কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জীবন কথা
ব্যাখ্যা

- জীবন কথা (১৯৬৪) কবি জসীমউদ্‌দীন রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।
- যাদের দেখেছি - জসীমউদ্দীনের স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ।
- জীবন চরিত
(১৮৯১) ঈশ্বরচন্দ্র রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ। এটি বিদ্যাসাগরের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।
- আত্মকথা (১৯৭৮) মনসুর আহমেদ রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।
- জীবনস্মৃতি (১৯১২) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪,৩৪০.
সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের চিত্র অবলম্বনে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. পদ্মার পলিদ্বীপ
  2. সারেং বৌ
  3. উদাত্ত পৃথিবী
  4. মাটি আর অশ্রু
সঠিক উত্তর:
সারেং বৌ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সারেং বৌ
ব্যাখ্যা
• সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের চিত্র অবলম্বনে রচিত উপন্যাস: 'সারেং বৌ'।
------------------------
• 'সারেং বৌ' উপন্যাস নিয়ে আলোচনা:
- উপন্যাসটির রচয়িতা: শহীদুল্লা কায়সার। 
- এ উপন্যাসে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের বিশ্বস্ত চিত্র আছে।
- এছাড়াও পুরো উপন্যাস জুড়ে রয়েছে নবিতুনের সংগ্রামী জীবন কাহিনি।
- সারেং সৎ বলে সহকর্মীদের মত বাড়ি ও দালান করতে পারে নি।
- স্ত্রী নবিতুনকে নিয়ে আর্থিক কষ্টের মধ্যেও সে সুখে থাকে।
- প্রকৃতির বিরুদ্ধতায় সারেং যখন দীর্ঘদিন নিখোঁজ, সেই সময় যুবতী নবিতুনের উপর দারিদ্র‍্য ও লোলুপ সমাজপতিদের লোলুপতা নেমে আসে।
- দাম্পত্য আদর্শনিষ্ঠ বলে নবিতুন সবকিছুকে পরাজিত করতে পারে।
- এখানে একজন নারীর সংগ্রাম দেখানো হয়েছে, দেখানো হয়েছে সমাজের ঘৃণ্য মানসিকতা এবং কুসংস্কারের বিরুদ্ধে এক মায়ের সংগ্রাম।

- উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৭৮ সালে নির্মিত হয় চলচ্চিত্র ‘সারেং বৌ’।
- এই এপিকধর্মী কাহিনিচিত্রটি পরিচালনা করেন আবদুল্লাহ আল মামুন।
- ‘সারেং বৌ’ চলচ্চিত্রের ইংরেজি ট্যাগলাইন রাখা হয়েছিল ‘The Servivors’.
--------------------- 
শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা, 
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

স্মৃতিকথা:
রাজবন্দীর রোজনামচা। 

ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা রিপোর্ট।
১৪,৩৪১.
'নিমচাঁদ ও সৌদামিনী' চরিত্র দুটি সৃষ্টি করেছেন কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা

'সধবার একাদশী' নাটক:
- এই নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র। প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- সধবার একাদশী বিখ্যাত সামাজিক নাটক।
- উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
- এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনী নিয়ে নাটকটির রচিত।
- নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি।

• দীনবন্ধু মিত্র:
- ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।
- দীনবন্ধু মিত্র ১লা নভেম্বর ১৮৭৩ মৃত্যবরণ করেন।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল দর্পন,
- নবীন তপস্বিনী,
- লীলাবতী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৩৪২.
'নিমচাঁদ এবং কেনারাম' কোন নাটকের চরিত্র?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. সধবার একাদশী
  3. নীলদর্পন
  4. নুরুলদীনের সারাজীবন
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা

'সধবার একাদশী' নাটক:
- এই নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র। প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- সধবার একাদশী বিখ্যাত সামাজিক নাটক।
- উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
- এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনী নিয়ে নাটকটির রচিত।
- নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি।

দীনবন্ধু মিত্র:
- ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।
- দীনবন্ধু মিত্র ১লা নভেম্বর ১৮৭৩ মৃত্যবরণ করেন।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- লীলাবত,
- কমলে কামিনী।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৩৪৩.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম সাহিত্যকর্ম কোনটি?
  1. বড়দিদি
  2. শ্রীকান্ত
  3. মন্দির
  4. মেজদিদি
সঠিক উত্তর:
মন্দির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্দির
ব্যাখ্যা
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কথাশিল্পী।
১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)  ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের  প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'
তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

সাহিত্যকর্মে অসাধারণ অবদানের জন্য শরৎচন্দ্র কুন্তলীন পুরস্কার (১৯০৩), জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯২৩), বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সদস্যপদ (১৯৩৪) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিলিট উপাধি (১৯৩৬) লাভ করেন।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া]
১৪,৩৪৪.
নিচের কোনটি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হতো?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. সবুজপত্র
  3. ধূমকেতু
  4. শনিবারের চিঠি
সঠিক উত্তর:
শনিবারের চিঠি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শনিবারের চিঠি
ব্যাখ্যা
• 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।

- প্রথম প্রকাশ ১০ শ্রাবণ ১৩৩১ সন। আকার ডবল ক্রাউন, চব্বিশ পৃষ্ঠা এবং অনুরূপ আকারের খামে মোড়া। খামে চাবুক প্রহাররত এক বীর পুরুষের মূর্তি, সবুজ কালিতে ছাপা। যোগানন্দ দাস ছিলেন একাধারে উক্ত পত্রিকার প্রথম সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর। মূল্য প্রতি সংখ্যা এক আনা, বার্ষিক ডাকমাশুলসহ তিন টাকা।

- এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা। হাস্য-কৌতুক ও তীর্যক মন্তব্যের মাধ্যমে শনিবারের চিঠি ত্রিশ ও চল্লিশের দশকের বাংলা সাময়িকপত্রের ইতিহাসে বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। এরূপ মন্তব্য থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, প্রমথ চৌধুরী, কল্লোল গোষ্ঠীর কবিরা কেউই রেহাই পাননি।

- সমকালীন পত্র-পত্রিকায় এসব লেখকদের যে লেখাই প্রকাশ পেত, শনিবারের চিঠি গোষ্ঠীর মনোপুত না হলে প্যারোডি ও কার্টুনের মাধ্যমে তাদের লেখা নিয়ে রসিকতা করা হতো। এ রসিকতার সবচেয়ে বেশি শিকার হন কাজী নজরুল ইসলাম। এ পত্রিকার প্রথম সংখ্যাতেই ‘বিদ্রাহী’ কবিতার প্যারোডি প্রকাশিত হয় এবং প্রায় প্রতিটি সংখ্যাতেই তাঁর কোনো-না-কোনো কবিতা নিয়ে ব্যঙ্গ করা হতো।

- শনিবারের চিঠির প্রায় সব রচনা বেনামে প্রকাশিত হয়েছে। লেখকদের মধ্যে উলে­খযোগ্য ছিলেন-  অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রামানন্দ চট্টপাধ্যায়, সুনীতিকুমার চট্টপাধ্যায়, অশোক চট্টপাধ্যায়, সুবিমল রায়, মোহিতলাল মজুমদার, সজনীকান্ত দাস, যোগানন্দ দাস, নীরদচন্দ্র চৌধুরী প্রমুখ।

- ১৩৩৯ সনের শেষ দিকে এ পত্রিকার বৈশিষ্ট্য বদলে যায়। সাহিত্য-সৃষ্টির ব্যাপারে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে বিতর্ক হওয়ার পরে সজনীকান্ত দাসের বোধোদয় হয়। পত্রিকাটি ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ থেকে সৃজনশীল সাহিত্য রচনায় ব্যাপৃত হয়। এ নবজন্মের পর তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ও বলাইচাঁদ মুখ্যোপাধ্যায় নিয়মিত লেখক ছিলেন।


অন্যদিকে, 
-----------------
• "বঙ্গদর্শন" পত্রিকা:
১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়। পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।

• "সবুজপত্র'" পত্রিকা:
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়। ১৯২৭ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

• "ধূমকেতু" পত্রিকা:
- কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে অর্ধ- সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে 'ধূমকেতু' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- ব্রিটিশ বিরোধী রচনা এখানে ছাপা হতো। নজরুলের কবিতা 'আনন্দময়ীর আগমনে' পত্রিকায় প্রকাশ হলে কবিতা ও পত্রিকা উভয়ই ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করে। এজন্য নজরুলকে এক বছর কারাবাসও করতে হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর। 
১৪,৩৪৫.
মোজাম্মেল হক কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. মোসলেম ভারত
  2. লহরী
  3. শান্তিপুর
  4. সবকটি
সঠিক উত্তর:
সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবকটি
ব্যাখ্যা
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক : 
- তিনি কবি, সাংবাদিক। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধি লাভ করেন।
- তিনি মোজাম্মেল হক লহরী, মোসলেম ভারত ও শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।

তাঁর প্রকাশিত কাব্য গ্রন্থগুলোর নাম : 
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্বদর্শন , 
- হযরত মুহাম্মদ,
- জাতীয় ফোয়ারা।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো নাম : 
- জোহরা
- দরাফ খান গাজী।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর নাম : 
- ফেরদৌসী-চরিত
- মহর্ষি-মনসুর।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৩৪৬.
শুনতে পেলুম পোস্তা গিয়ে-
তোমার নাকি মেয়ের বিয়ে?
গঙ্গারামকে পাত্র পেলে?
জানতে চাও সে কেমন ছেলে?- কবিতার পঙক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. ক) সুনীতকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
গ) সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
• উল্লেখিত পঙক্তিগুলো সুকুমার রায় রচিত ‘সৎ পাত্র’ কবিতার। কবিতাটি কিছু অংশ হলো:

সৎ পাত্র

সুকুমার রায়

শুনতে পেলুম পোস্তা গিয়ে-
তোমার নাকি মেয়ের বিয়ে?
গঙ্গারামকে পাত্র পেলে?
জানতে চাও সে কেমন ছেলে?
মন্দ নয়, সে পাত্র ভালো-
রং যদিও বেজায় কালো;
তার উপরে মুখের গঠন
অনেকটা ঠিক প্যাঁচার মতন।
বিদ্যা বুদ্ধি? বলছি মশাই-
ধন্যি ছেলের অধ্যবসায়।
উনিশটি বার ম্যাচটিকে সে
ঘায়েল হয়ে থামল শেষে।

---------------
• সুকুমার রায় একজন শিশুসাহিত্যিক।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত  চলচ্চিত্রকার  সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।
- সুকুমার রায়ের প্রধান অবদান শিশু-কিশোর উপযোগী বিচিত্র সাহিত্যকর্ম।
- কবিতা, নাটক, গল্প, ছবি সবকিছুতেই তিনি সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ ও কৌতুকরস সঞ্চার করতে পারতেন।
- তাঁর কাব্যে হাস্যরসের সঙ্গে সমাজচেতনাও প্রতিফলিত হয়েছে। 
- সুকুমার রায় সিটি স্কুল থেকে প্রবেশিকা পাস করে  প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে রসায়নে অনার্সসহ বিএসসি (১৯১১) পাস করেন।

• সুকুমার রায়একাধিক গুণের অধিকারী ছিলেন।
- অল্প বয়স থেকেই তিনি পিতার অনুপ্রেরণায় মুখে মুখে ছড়া রচনা ও ছবি আঁকার সঙ্গে ফটোগ্রাফিরও চর্চা করতেন।
- কলেজ জীবনে তিনি ছোটদের হাসির নাটক রচনা এবং তাতে অভিনয় করতেন।
- তিনি শান্তিনিকেতনে একবার  রবীন্দ্রনাথ ও অবনীন্দ্রনাথের সঙ্গে গোড়ায় গলদ নাটকে অভিনয় করেছিলেন।
- স্বদেশী আন্দোলনের সময় তিনি বেশ কিছু গান রচনা করেন এবং নিজে সেগুলি গেয়েছেনও।

উৎস: ছড়া সমগ্র সুকুমার রায় এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৩৪৭.
"মহেন্দ্র এবং আশালতা" রবীন্দ্রনাথের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. চোখের বালি
  2. বউ ঠাকুরাণীর হাট
  3. শেষের কবিতা
  4. ঘরে-বাইরে
সঠিক উত্তর:
চোখের বালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোখের বালি
ব্যাখ্যা
'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রধান চরিত্র: বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্র’র স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৩৪৮.
'প্রিয় স্বাধীনতা' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. আহমদ ছফা
  4. সিকান্দার আবু জাফর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• 'প্রিয় স্বাধীনতা' কবিতাটির রচয়িতা - 'শামসুর রাহমান'। 
==============
⇒ শামসুর রাহমান:
- কবি, সাংবাদিক শামসুর রহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
- প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত 'সোনার বাংলা' পত্রিকায়। 
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য - "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
- তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
- যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- রােদ্র করােটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালােকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- শূন্যতায় তুমি শােকসভা,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- প্রেমের কবিতা,
- ইকারুসের আকাশ,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয় ইত্যাদি।
=================

প্রিয় স্বাধীনতা -কবিতা,
– শামসুর রাহমান।
মেঘনা নদী দেব পাড়ি
কল-অলা এক নায়ে।
আবার আমি যাব আমার
পাহাড়তলী গাঁয়ে।

গাছ-ঘেরা ঐ পুকুরপাড়ে
বসব বিকাল বেলা।
দু-চোখ ভরে দেখব কত
আলো-ছায়ার খেলা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, প্রিয় স্বাধীনতা -কবিতা, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৩৪৯.
বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও দেশবিভাগের মতো ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. কখনো আসে নি
  2. হাজার বছর ধরে 
  3. সূর্য দীঘল বাড়ী
  4. চিলেকোঠার সেপাই
সঠিক উত্তর:
সূর্য দীঘল বাড়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্য দীঘল বাড়ী
ব্যাখ্যা

'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো: 
- হাসু, 
- মায়মুন, 
- শাফি, 
- ডা. রমেশ চক্রবর্তী, 
- মোরল গদু ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• আবহমান বাংলার জীবন ও জনপদ 'হাজার বছর ধরে' (১৯৬৪) উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য। 
• 'চিলেকোঠার সেপাই' ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস।
• জহির রায়হান পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র 'কখনো আসে নি'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৩৫০.
সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে কোন পত্রিকাটির আত্মপ্রকাশ ঘটে?
  1. পরিচয়
  2. সাধনা
  3. কল্লোল
  4. পূর্বাশা
সঠিক উত্তর:
পরিচয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিচয়
ব্যাখ্যা
'পরিচয়' পত্রিকা:
• বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতার আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
• 'পরিচয়' পত্রিকাটি ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক হিসেবে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।
• ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
• 'কল্লোল' পত্রিকা বন্ধ হওয়ার পর বিষ্ণু দে-ও এই পত্রিকায় যোগ দেন। এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে একযুগ এখানে সংযুক্ত ছিলেন।

অন্যদিকে, 
- 'সাধনা' পত্রিকাটি ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- কল্লোল পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৩ সালে। পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - সঞ্জয় ভট্টাচার্য। এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা সৌমিত্র শেখর।
১৪,৩৫১.
আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. মহাপতঙ্গ
  2. হারেম
  3. জাল
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাল
ব্যাখ্যা

• আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস - জাল

আবু ইসহাক:
- তাঁর জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন সূর্য দীঘল বাড়ী।

আবু ইসহাক রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৩৫২.
'স্বপ্নের ফুল' গীতিনাট্যের রচয়িতা কে ছিলেন?
  1. ক) জসীম উদ্‌দীন
  2. খ) জহির রায়হান
  3. গ) কামিনী রায়
  4. ঘ) গিরিশ্চন্দ্র ঘোষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) গিরিশ্চন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গিরিশ্চন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
গিরিশ্চন্দ্র ঘোষ অভিনেতা ও প্রতিভাশালী নাট্যকার ১৮৪৪ সালে জন্মগ্রহন করেন। মৃত্যুবরণ করেন ১৯১২ সালে।
তাঁর রচিত গীতিনাট্যগুলো হলো।
-মণিমালা,
-স্বপ্নের ফুল,
-আবু হোসেন প্রভৃতি।
ঐতিহাসিক নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে,
-সিরাজদ্দৌলা,
-মীর কাসিম,
-ছত্রপতি শিবাজী প্রভৃতি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
১৪,৩৫৩.
'বনি আদম' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) শওকত আলী
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) দীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
গ) গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
রক্তরাগ, হাসনাহেনা, খোশরোজ, সাহারা, গুলিস্থান, বনি আদম কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা গোলাম মোস্তফা। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৪,৩৫৪.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পারিবারিক পদবি কী ছিল?
  1. বিদ্যাসাগর
  2. বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. মহামহোপাধ্যায়
  4. কুশারী
সঠিক উত্তর:
বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।
- তাঁর পৈতৃক পদবি ছিল-বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

অন্যদিকে, 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের  পরিবারের আসল পদবি ছিল- কুশারী।
•  হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধি ছিল- মহামহোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৩৫৫.
আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত প্রথম প্রকাশিত নাটক কোনটি?
  1. ক) কোকিলারা
  2. খ) এখনো ক্রীতদাস
  3. গ) শপথ
  4. ঘ) সুবচন নির্বাসনে
সঠিক উত্তর:
গ) শপথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শপথ
ব্যাখ্যা
আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ'। 
- নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ সালে। 
- প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী নাট্যকার আব্দুল্লাহ আল মামুন এর জন্ম ১৯৪৩ সালের ১২ই জুলাই। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কালো নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৩৫৬.
​'নবান্ন' নাটকের পটভূমি কী?
  1. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
  2. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
  3. ১৯৪৭ সালের দেশভাগ
  4. ১৯৪৪ সালের পঞ্চাশের মন্বন্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৪ সালের পঞ্চাশের মন্বন্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৪ সালের পঞ্চাশের মন্বন্তর
ব্যাখ্যা
'নবান্ন' নাটক:
- এটি বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক।
- ‘নবান্ন' (১৯৪৪) পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- তাই এই নাটকটিকে বাংলা নাট্য আন্দোলনের ইতিহাসে যুগান্তকারী বলা চলে।
- অনেকে দীনবন্ধুর 'নীল-দর্পণে'র সঙ্গে এর তুলনা করেছেন। এ নাটকটি ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ ১৯৪৪ সালে প্রথম অভিনয় করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৩৫৭.
‘বর্তমানের কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই--
  1. কবি
  2. নবী
  3. রবি
  4. ছবি
সঠিক উত্তর:
নবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবী
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নে উল্লেখিত কবিতাংশটুকু জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'আমার কৈফিয়ত' কবিতার অংশ বিশেষ। 
- কবিতাটি কবির সর্বহারা কাব্যগ্রন্থের অষ্টম কবিতা।
- এই কবিতায় কবি স্পষ্ট করে তাঁর বৈশিষ্ট্যের কথা ব্যক্ত করেছেন।

আমার কৈফিয়ৎ
-কাজী নজরুল ইসলাম
বর্তমানের কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই ‘নবী’,
কবি ও অকবি যাহা বলো মোরে মুখ বুঁজে তাই সই সবি!
কেহ বলে, ‘তুমি ভবিষ্যতে যে
ঠাঁই পাবে কবি ভবীর সাথে হে!
যেমন বেরোয় রবির হাতে সে চিরকেলে-বাণী কই কবি?’
দুষিছে সবাই, আমি তবু গাই শুধু প্রভাতের ভৈরবী!

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘আমার কৈফিয়ৎ’ কবিতা।


১৪,৩৫৮.
বাংলা সাহিত্যে বিজ্ঞান লেখক হিসেবে পরিচিত কে?
  1. ক) আবদুল কাদির
  2. খ) আবদুল্লাহ আল-মুতী
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. ঘ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল্লাহ আল-মুতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল্লাহ আল-মুতী
ব্যাখ্যা
• আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন একজন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক।
- মূলত বিজ্ঞান লেখক হিসেবে তিনি পরিচিত। 
- তিনি ‘মুকুল’ নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষা বিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম ‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে।’ 

• তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ সমূহ-
- এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে
- আবিষ্কারের নেশায়
- বিজ্ঞাব ও মানুষ
- সাগরের রহস্যপুরী
- তারার দেশের হাতছানি
- বিজ্ঞানের বিস্ময়
- শিক্ষা ও বিজ্ঞান ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৩৫৯.
নিচের কোনটি আত্মজীবনী?
  1. নানা চর্চা 
  2. বিন্দু বিসর্গ
  3. আলোছায়া
  4. দেবযান
সঠিক উত্তর:
বিন্দু বিসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিন্দু বিসর্গ
ব্যাখ্যা
• বিশিষ্ট  শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী ড. নীলিমা ইব্রাহিম রচিত উল্লেখ যোগ্য আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হচ্ছে - 'বিন্দু বিসর্গ'।
- তাঁর গ্রন্থবদ্ধ রচনাসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: গবেষণা শরৎ-প্রতিভা (১৯৬০), বাংলার কবি মধুসূদন (১৯৬১), ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক (১৯৬৪)
• অপশনে উল্লেখিত শব্দগুলোর মধ্যে -

- প্রমথ চৌধুরী হলেন বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক।
- ‘নানা চর্চা’ হচ্ছে ১৯৩২ সালে প্রকাশিত প্রমথ চৌধুরী রচিত একটি প্রবন্ধ গ্রন্থ।  
- প্রখ্যাত নাট্যকার নুরুল মোমেন রচিত একটি নাটক হচ্ছে - আলোছায়া।
- এটি একটি কমেডি নাটক।
- বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস হচ্ছে - দেবযান।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৩৬০.
'শরৎ প্রতিভা' গবেষণা প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  4. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর আত্মজীবিনীমূলক গ্রন্থ: 'বিন্দু বিসর্গ'।
 
• তাঁর প্রকাশিত প্রবন্ধ-গবেষণা: 
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক ইত্যাদি।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়া বন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।
 
• তাঁর নাটক: 
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদজ্বালা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৩৬১.
আনিসুজ্জামানের রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. কাল নিরবধি
  2. বাঙালী মুসলমানের মন
  3. আঠারো শতকের বাংলা চিঠি
  4. স্বরূপের সন্ধানে
সঠিক উত্তর:
বাঙালী মুসলমানের মন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঙালী মুসলমানের মন
ব্যাখ্যা
• 'বাঙালী মুসলমানের মন' প্রবন্ধগ্রন্থটি রচনা করেন - আহমদ ছফা। 

আনিসুজ্জামান:

- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। - এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পদক লাভ করেন।
- এছাড়াও ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করে ২০১৪ সালে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে, 
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি, 
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে, 
- কাল নিরবধি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৩৬২.
'রাজা যায় রাজা আসে' - কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. সরদার জয়েনউদ্দিন
  2. দাউদ হায়দার
  3. আবুল হাসান
  4. আবুল হোসেন
সঠিক উত্তর:
আবুল হাসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল হাসান
ব্যাখ্যা

'রাজা যায় রাজা আসে' কাব্যগ্রন্থ:
- 'রাজা যায় রাজা আসে' আবুল হাসান রচিত কাব্যগ্রন্থ। প্রথম প্রকাশ ডিসেম্বর ১৯৭২।
- উৎসর্গ পত্রে লেখক লিখেন- উৎসর্গ আমার মা, আমার মাতৃভূমির মতোই অসহায়।
- কাব্যগ্রন্থটিতে রয়েছে সমকালীন রাজনৈতিক চেতনা, মানবিক যন্ত্রণা ও আত্মবীক্ষণের দারুণ প্রকাশ।

এই কাব্যগ্রন্থের কয়েকটি উল্লেখ্যযোগ্য কবিতা:
- বনভূমির ছায়া;
- প্রত্যাবর্তনের সময়;
- স্বীকৃতি চাই;
- পাখি হয়ে যায় প্রাণ।

আবুল হাসান:

- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম - আবুল হোসেন মিয়া।
- 'আবুল হাসান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- তিনি একজন সৃষ্টিশীল কবি হিসেবে খ্যাত৷
- তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৩৬৩.
বাংলা সাহিত্যে যুগসন্ধিকালের কবি হিসেবে পরিচিত কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. বিষ্ণু দে
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

যুগসন্ধিক্ষণ:
- ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত যুগসন্ধিকাল।
- এটিকে অবক্ষয়ের যুগও বলা হয়।
- দ্বিতীয় অন্ধকার যুগ (১৭৬০ থেকে ১৮৩০ খ্রি.) ও বলা হয়।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যে যুগসন্ধিকালের কবি হিসেবে পরিচিত।
- কারণ, ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর মারা যাওয়ার পরে বাংলা সাহিত্যের কবিওয়ালা ও শায়েরদের আগমন ঘটে।

উল্লেখ্য,
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল 'ভ্রমণকারী বন্ধু'।
- তাঁর রচনার বিশেষত্ব ছিল ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ।
- প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৩৬৪.
‘জীবন ক্ষুধা' আবুল মনসুর আহমদ রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. ছোটগল্প
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• ‘জীবন ক্ষুধা' উপন্যাস:
- ‘জীবন ক্ষুধা' (১৯৫৫) পাকিস্তান আন্দোলন বিশেষত দেশ বিভাগের পটভূমিতে আবুল মনসুর আহমদ রচিত একটি উপন্যাস।
- হালিম হলো অন্যতম চরিত্র। যাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসের কাহিনি আবর্তিত।
- এই উপন্যাসে বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকের শিক্ষিত বাঙালি মুসলমানের মধ্যবিত্তের আত্মপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ও লালিত আদর্শের সঙ্গে বাস্তবতার দ্বন্দ্বের কথা বর্ণিত হয়েছে।

--------------------
• আবুল মনসুর আহমদ:
- আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮-১৯৭৯) একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও সাহিত্যিক।
- তাঁর জন্ম ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে।
- বিভিন্ন সময়েবিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

তাঁর বিখ্যাত বিদ্রুপাত্মক রচনা হচ্ছে:
- আয়না, 
- ফুড কনফারেন্স। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা, 
- জীবন ক্ষুধা,
- আবে-হায়াৎ।

তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর, 
- শের-ই-বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু, 
- এবং তাঁর আত্মচরিত হল আত্মকথা।

উৎস: ‘জীবন ক্ষুধা’ উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৪,৩৬৫.
ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ গঠন করেন -
  1. আল মাহমুদ
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. আবুল হুসেন
  4. আবুল হাসান
সঠিক উত্তর:
আবুল হুসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল হুসেন
ব্যাখ্যা
আবুল হুসেন: 
- আবুল হুসেন একজন প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
- আবুল হুসেন মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
- আবুল হুসেন ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।
- ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয় তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন।
- তিনি ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র শিখা সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও আবুল ফজল তাঁকে এ কাজে সাহায্য করেন।

তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- বাংলার বলশী,
- মুসলিম কালচার ও
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৪,৩৬৬.
'পাগলা দাশু' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. ছড়া
  2. গদ্য
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. গল্পসংকলন
সঠিক উত্তর:
গল্পসংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পসংকলন
ব্যাখ্যা
• 'পাগলা দাশু' গল্পসংকলন:
- 'পাগলা দাশু' সুকুমার রায় রচিত একটি গল্পসংকলন।
- 'পাগলা দাশু'র গল্পগুলো হাস্যরসে ভরা হলেও তা নিছক হাস্যরসের খোরাক নয় বরং এর মধ্যে রয়েছে তীক্ষ্ম বুদ্ধিদীপ্ত এবং সাবলীল ভাষায় রচিত মজার মজার কাহিনি। এ কাহিনিগুলোতে অনেক কঠিন প্রসঙ্গ খুব সহজ ভাবেই উঠে এসেছে যা একেবারেই উপেক্ষনীয় নয়। সেগুলো যেমনি রসের তেমনি অসম্ভব বুদ্ধিমত্তার।
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুকুমার রায়ের 'পাগলা দাশু'র প্রথম সংস্করণের ভূমিকা লিখেছিলেন।

গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ:
পাগলা দাশু মূলত সুকুমার রায় কর্তৃক সৃষ্ট একটি কাল্পনিক চরিত্র। দাশু স্কুল পড়ুয়া এক বালক। দাশুর পুরো নাম দাশরথি। সে খুব মেধাবী ছাত্র বিশেষ করে অঙ্কে তার মাথা খুব ভালো। সে যেমনি মেধাবী তেমনি বুদ্ধিদীপ্ত এক ছেলে। দাশু তার বুদ্ধি দিয়ে যেমন পূরণ করে তার ইচ্ছে তেমনি ঘটায় সব পাগলাটে কাণ্ড। দাশুর স্কুলের বন্ধু-বান্ধব ও শিক্ষকদের নিয়ে হাস্যরসে ভরা ব্যাঙ্গাত্মক কীর্তিগুলো নিয়েই রচিত মজার মজার কিছু গল্প। যেগুলো খুব সহজ ও সাবলীল ভাব ও ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন সুকুমার রায় তাঁর 'পাগলা দাশু' গল্পগ্রন্থে।

উৎস: 'পাগলা দাশু' গল্পগ্রন্থ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৩৬৭.
কায়কোবাদ রচিত 'অশ্রুমালা' কী ধরনের রচনা?
  1. ক) গীতিকাব্য
  2. খ) মহাকাব্য
  3. গ) কাব্যনাট্য
  4. ঘ) উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
ক) গীতিকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গীতিকাব্য
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদ রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ দুটি- 
গীতিকাব্য - অশ্রুমালা
মহাকাব্য - মহাশ্মশান। 

কায়কোবাদের খণ্ড কবিতাগ্রন্থ 'অশ্রুমালা'। 
- এই কাব্যগ্রন্থের মূল সুর প্রেম। 
- তবে প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণবোধও এ কাব্যে খুব লক্ষ করা যায়। 

- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)।
- তার প্রকৃত নাম- কাজেম আল কোরেশী। কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট এবং মহাকাব্য রচনা করেন।
- 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি একটি মহাকাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৩৬৮.
'আধ্যাত্মিকা' উপন্যাসের লেখক-
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  4. কাজী আব্দুল ওয়াদুদ
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
‘আধ্যাত্মিকা’ ১৮৮০ সালে প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত গ্রন্থ।
- এটি সংলাপপ্রধান গল্পমূলক রচনা এবং মূলত নীতিবিষয়ক গ্রন্থ।

• প্যারীচাঁদ মিত্র:
- প্যারীচাঁদ মিত্র ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী। তিনি ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর ছদ্মনাম 'টেকচাঁদ ঠাকুর'।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।
- কলকাতা পাবলিক লাইব্রেরির ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান হিসেবে ১৮৩৬ সালে প্যারীচাঁদ মিত্রের কর্মজীবন শুরু হয়।
- বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র।
- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদ মিত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব 'আলালের ঘরের দুলাল', যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।
- বাংলা- সাহিত্যেও তিনি একটি বিশেষ স্থান জুড়ে আছেন। তাঁরই চেষ্টায় অল্পশিক্ষিতা মহিলাদের উপযোগী একটি মাসিক-পত্রিকা বাংলা ভাষায় সর্ব্বপ্রথম প্রকাশিত হয়। নাম- 'মাসিক পত্রিকা'। প্রথম সংখ্যার প্রকাশকাল- ১৬ আগস্ট ১৮৫৪।
 
প্যারীচাঁদের রচিত বাংলা গ্রন্থের সংখ্যা নিতান্ত অল্প নয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়,
- রামারঞ্জিকা,
- কৃষি পাঠ,
- গীতাঙ্কুর,
- যৎকিঞ্চিৎ,
- অভেদী,
- ডেভিড হেয়ারের জীবন চরিত,
- এতদ্দেশীয় স্ত্রীলোকদিগের পূর্ব্বাবস্থা,
- আধ্যাত্মিকা,
- বামাতোষিণী।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৪,৩৬৯.
'বাংলার বলশী' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) আবুল হুসেন
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল হুসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল হুসেন
ব্যাখ্যা
আবুল হুসেন ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।
তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম - বাংলার বলশী, মুসলিম কালচার ও বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।
'বাংলার বলশী' গ্রন্থে তিনি কৃষকদের দুঃখ দুর্দশা চিহ্নিত করে তাদের মুক্তির পথ নির্দেশ করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৩৭০.
জীবনানন্দ দাশ কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৯০৩ সাল
  2. ১৮৬২ সাল
  3. ১৮৯৯ সাল
  4. ১৮৯৮ সাল
সঠিক উত্তর:
১৮৯৯ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৯৯ সাল
ব্যাখ্যা
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি বরিশালের এক ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার মা কুসুমকুমারী দাশ একজন মহিলা কবি।
- ১৪ অক্টোবর ১৯৫৪ সালে তিত ট্রাম দুর্ঘটনায় মৃত্যবরণ করেন।
- তাকে  রূপসী বাংলার কবি, ধূসরতার কবি , তিমির হননের কবি, নির্জনতম কবি (বুদ্ধদেব বসুর দেয়া নাম), চিত্ররূপময় কবি( রবীন্দ্রনাথের দেয়া নাম),শুদ্ধতম কবি বলে আখ্যায়িত করা হয়।
- তার ওপর গবেষনা করেছেন ক্লিনটন বি. সিলি।

• তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- রুপসী বাংলা,
- মহা পৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা, প্রভৃতি।

• তার উপন্যাসসমূহ:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ,
- কল্যাণী।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১৪,৩৭১.
ড. সুকুমার সেন বাংলা গদ্যরীতির কয়টি স্তর নির্দেশ করেছেন?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারটি
ব্যাখ্যা
• বাংলা গদ্যের উৎপত্তি:
- বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের পূর্বে সাহিত্যগুণসমৃদ্ধ কোন গদ্যরচনার অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় না।
- দৈনন্দিন জীবনে বাঙালির কথাবার্তায় চিরদিন গদ্যরীতি ব্যবহৃত হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত সাহিত্যে তার অনুপ্রবেশ ঘটেনি এবং এর লিখিত রূপ চিঠিপত্র, দলিলদস্তাবেজ, বৈষ্ণব কড়চা ও বিদেশি খ্রিষ্টানকর্তৃক লিখিত ধর্মবিষয়ক গ্রন্থের সঙ্কীর্ণ সীমানায় আবদ্ধ ছিল।
- ১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
- ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে নিতান্ত প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে ভাষাগত দিক থেকে গদ্যের উৎকর্ষসাধন মোটেই সম্ভবপর হয় নি।
- ইতস্তত বিক্ষিপ্ত কিছুসংখ্যক দৃষ্টান্ত অন্যত্র দৃষ্টিগোচর হলেও বাণিজ্যসম্ভারের পশ্চাতে খ্রিষ্টধর্মের পসার সাজিয়ে আগত পর্তুগিজ পাদ্রিদের হাতেই বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহারের সূত্রপাত হয়।

• ড. সুকুমার সেন বাংলা গদ্যরীতির চারটি স্তর নির্দেশ করেছেন। সে স্তরগুলোর পরিধি:
- প্রথম স্তর: সূচনা - ষোল শতক থেকে ১৮০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
- দ্বিতীয় স্তর: উন্মেষ - ১৮০০ (শ্রীরামপুর মিশন) থেকে ১৮৪৭ সালের (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের) পূর্ব পর্যন্ত ।
- তৃতীয় স্তর: অভ্যুদয় - ১৮৪৭ (বিদ্যাসাগর) থেকে ১৮৬৫ সালের (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের) পূর্ব পর্যন্ত
- চতুর্থ স্তর: পরিণতি - ১৮৬৫ (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৪,৩৭২.
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো /একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি।’- গানটি প্রথম কোন সংকলনে প্রকাশিত হয়?
  1. একুশের গান
  2. একুশে ফেব্রুয়ারী
  3. একুশের কথা
  4. অমর একুশে
সঠিক উত্তর:
একুশে ফেব্রুয়ারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একুশে ফেব্রুয়ারী
ব্যাখ্যা
• আবদুল গাফফার চৌধুরীর অমর-কর্ম হচ্ছে ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরণে রচিত (একুশের গান) শিরোনামের গান: আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো /একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি।
• হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘একুশে ফেব্রুয়ারী’ (১৯৫৩) সংকলন গ্রন্থে গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
• গানটির প্রথম সুরকার আবদুল লতিফ। সেই সুর পরিবর্তন করে আলতাফ মাহমুদ পরে এর সুরারোপ করেন। সেটি এখন বলবৎ আছে।
• ‘রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ বলতে বোঝানো হয়েছে- যে একুশে ফেব্রুয়ারিতে বহু মানুষের রক্ত ঝরেছে।

--------------------------
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'ডানপিটা শওকত'।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ 'কৃষ্ণপক্ষ'। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস গ্রন্থের নাম 'চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান'। 

• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

• গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৩৭৩.
বাংলা সাহিত্যে 'ছন্দের জাদুকর' কার উপাধি? 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- ১৯২২ সালের ২৫ জুন তাঁর মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। এগুলো হলো - ভানুসিংহ ঠাকুর, অকপটচন্দ্র ভাস্কর, আন্নাকালী পাকড়াশী, দিকশূন্য ভট্টাচার্য ইত্যাদি।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো: অনিলা দেবী; অপরাজিতা দেবী; শ্রী চট্টোপাধ্যায় ইত্যাদি।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিক,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৩৭৪.
‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাসটি কয়টি পর্বে রচিত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা

• ‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাস:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।
- গ্রন্থটি উপক্রমণিকা ও উপসংহারসহ মোট তেষট্টিটি 'প্রবাহ' অর্থাৎ অধ্যায় নিয়ে লিখিত।
- তন্মধ্যে 'মহরম পর্ব্বে' উপক্রমণিকা ও ছাব্বিশটি প্রবাহ, 'উদ্ধার পর্ব্বে' ত্রিশটি প্রবাহ, 'এজিদ-বধ পর্ব্বে' পাঁচটি প্রবাহ ও উপসংহার-অংশ রয়েছে।
- প্রথমত ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত স্পর্শকাতর কাহিনি সাধারণ মুসলিম পাঠকের কাছে এর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ।
- দ্বিতীয়ত 'বিষাদ-সিন্ধু'র জাদুকরী রচনাগুণের জন্যে সাহিত্যরসিকজনের কাছেও গ্রন্থটি আদরণীয়।
- জয়নাবের রূপে বিমোহিত এজিদ এবং এই রূপতৃষ্ণার পরিণামে বহু মানুষের বিপর্যয় ও ধ্বংসের যে কথকতা বর্ণিত হয়েছে তা গ্রন্থটিকে সর্বজনীন করে তুলেছে।
- 'বিষাদ-সিন্ধু'র কাহিনিতে অ্যান্টি-এস্টাব্লিশমেন্ট চেতনা মূলত মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য' থেকেই মীর মশাররফ হোসেন গ্রহণ করেছেন।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী'(১৮৬৯)। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমিদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৪,৩৭৫.
‘Song Offerings’ এর ভূমিকা লিখেছিলেন কে?
  1. Bernard Shaw
  2. W.B. Yeats
  3. Rudyard Kipling
  4. T.S. Eliot
সঠিক উত্তর:
W.B. Yeats
উত্তর
সঠিক উত্তর:
W.B. Yeats
ব্যাখ্যা
'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থ:
- 'গীতাঞ্জলি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭টি গানের সংকলন (কাব্যগ্রন্থ)।
- গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০। গীতাঞ্জলির গানগুলো মূলত কবিতা।
- গীতাঞ্জলি এর ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings (১৯১২)। Song Offerings এর ভূমিকা লেখেন ইংরেজ কবি W.B. Yeats।
- Song Offerings এর জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নোবেল পুরষ্কার পান।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী কাব্যগ্রন্থ এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার - ১০, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৩৭৬.
‘ঘরে-বাইরে’ কোন লেখকের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
ব্যাখ্যা

• ঘরে-বাইরে : 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস।
- ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমাক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কাহিনি সকরুণ, সিরিয়াস।

• এর উল্লেখযােগ্য চরিত্র-
- নিখিলেশ,
- বিমলা ও
- সন্দীপ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- বাংলা সাহিত্যের ছোটগল্পের জনক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

⇒ তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বৌ ঠাকুরাণীর হাট,
- প্রজাপতির নির্বন্ধ, 
- ঘরে বাইরে,
- চোখের বালি,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চতুরঙ্গ, 
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৪,৩৭৭.
মুক্তিযুদ্ধে বিজয় লাভের পূর্বেই কোন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসটি রচিত হয়েছিল?
  1. ক) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  2. খ) জন্ম যদি তব বঙ্গে
  3. গ) রাইফেল রোটি আওরাত
  4. ঘ) আমি বীরাঙ্গনা বলছি
সঠিক উত্তর:
গ) রাইফেল রোটি আওরাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাইফেল রোটি আওরাত
ব্যাখ্যা
আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
-  মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা প্রথম কয়েকটি উপন্যাসের মধ্যে এটি অন্যতম। 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে। 
- লেখক মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতার মাঝে অবস্থান করে এ উপন্যাসে লিখেছেন যুদ্ধকথা। 
- ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর তাকে হত্যা করে পাকিস্তানিরা। 
- শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকায় তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ আছে। 
- শহীদ হবার আগেই তিনি এ উপন্যাসটি লিখে যান। 

- সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' রচিত হয় ১লা মে  থেকে ১৩ জুন ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ।
'জন্ম যদি তব বঙ্গে' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৩৭৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. দুই বোন
  2. যোগাযোগ
  3. দেনাপাওনা
  4. মালঞ্চ
সঠিক উত্তর:
দেনাপাওনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেনাপাওনা
ব্যাখ্যা

• 'দেনাপাওনা' ছোটগল্প:
- 'দেনাপাওনা' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গল্পগুচ্ছ' থেকে সংকলিত হয়েছে।
- এ গল্পে তৎকালীন হিন্দু সমাজে পণপ্রথার কুফল সম্পর্কে জানা যায় এবং পণপ্রথার বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়াস উপলব্ধি করা যায়।
- লেখক গল্পটিতে যৌতুক নামক সামাজিক ব্যাধির এক নির্মম চিত্র তুলে ধরেছেন, যা যৌতুক গ্রহণকারীদের প্রতি ঘৃণার জন্ম দেয়।
- 'দেনাপাওনা' গল্পের নায়িকা- নিরূপমা।

------------------
তাঁর রচিত সামাজিক গল্প:
- দেনাপাওনা,
- দান প্রতিদান,
- হৈমন্তি,
- ছুটি,
- পোস্ট মাস্টার,
- কাবুলিওয়ালা ইত্যাদি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৩৭৯.
'নবকুমার' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. কপালকুণ্ডলা
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. চন্দ্রশেখর
  4. মৃণালিনী
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা
কপালকুণ্ডলা:
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় উপন্যাস।
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে।
- সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা।
- কপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্‌ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।
- কপালকুণ্ডলার এই সংলাপকে 'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ।' বলা হয় বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোম্যান্টিক সংলাপ।
- এই উপন্যাসের আর একটি উল্লেখযোগ্য বাক্য - ''তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?'
- প্রকৃতির সৌন্দর্য রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।
- গিরিশচন্দ্র ঘোষ এই উপন্যাসের একটি নাট্যরূপ দেন (১৮৭৩) এবং দামোদর মুখোপাধ্যায় এই উপন্যাসের একটি উপসংহার উপন্যাস রচনা করেন এবং নামকরণ করেন 'মৃন্ময়ী'।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬)।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। এটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- তিনি ১৮৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

অন্যদিকে,
• 'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাসের চরিত্র: রোহিণী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর ইত্যাদি।
• 'চন্দ্রশেখর' উপন্যাসের চরিত্র: চন্দ্রশেখর, প্রতাপ, শৈবলিনী ইত্যাদি।
• 'মৃণালিনী' উপন্যাসের চরিত্র: হেমচন্দ্র, মৃণালিনী, পশুপতি, মনোরমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৩৮০.
'সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে কালীপ্রসন্ন সিংহ পরিচিত।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার জোড়াসাকোয় ১৮৪০ সালে।
- 'হুতোমী বাংলা' ভাষা রীতি অনুসরণ করে তিনি সাহিত্য রচনা করেন।

কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ হলো:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা,
- সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৩৮১.
রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে সব্যসাচী লেখক বলা হয় কাকে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল। তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়। বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প গ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।
- হাওয়ার গান বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি কবিতা।

• বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৩৮২.
গোঁজলা গুঁই ছিলেন -
  1. ক) কবিগানের আদিকবি
  2. খ) মধ্যযুগের শেষ কবি
  3. গ) মঙ্গল কাব্যের আদি কবি
  4. ঘ) টপ্পা গানের রচয়িতা
সঠিক উত্তর:
ক) কবিগানের আদিকবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কবিগানের আদিকবি
ব্যাখ্যা
গোঁজলা গুঁই কবিওয়ালাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন।
- তিনি কবিগানের আদিগুরু বলে পরিচিত।
- কবি ঈশ্বর গুপ্তের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৭০৪ থেকে ১৭১৪ সালের মধ্যে জীবিত ছিলেন।
- তাঁর গান থেকেই ঈশ্বর গুপ্ত কবিগানের প্রথম সূচনা ধরেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক
১৪,৩৮৩.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. কল্লোল
  2. যুগবাণী
  3. অগ্নিবীণা
  4. দৈনিক নবযুগ
সঠিক উত্তর:
দৈনিক নবযুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈনিক নবযুগ
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা: 
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ।
--------------
• 'দৈনিক নবযুগ': 
- পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন। 
- দৈনিক নবযুগ পত্রিকা ১৯২০ সালের ১২ জুলাই প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটির মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফফর আহমদ ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক।
- পরে ১৯৪০ সালের অক্টোবর মাসে পত্রিকাটি পুনঃপ্রকাশিত হলে নজরুল এককভাবে এর সম্পাদক হন। 

কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা -
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 

অন্যদিকে,
- দীনেশরঞ্জন দাশ সম্পাদিত পত্রিকা- 'কল্লোল'।
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- যুগবাণী - তাঁর রচিত প্রথম প্রবন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

১৪,৩৮৪.
‘দেনাপাওনা’ ছোটগল্পটি কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. লিপিকা
  2. গল্পগুচ্ছ
  3. তিন সঙ্গী
  4. গল্পসল্প
সঠিক উত্তর:
গল্পগুচ্ছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগুচ্ছ
ব্যাখ্যা
⇒ দেনাপাওনা:
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগুচ্ছ থেকে ‘দেনাপাওনা’ গল্পটি সংকলিত হয়েছে।
• ‘দেনাপাওনা’ গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অত্যন্ত সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে সমাজের প্রচলিত যৌতুক প্রথার মর্মান্তিক রূপ উপস্থাপন করেছেন। যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভিন্ন মত গড়ে তুলতে গল্পটি সহায়ক।

• নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের রামসুন্দর পাঁচ পুত্র ও এক কন্যার জনক। আদরের কন্যার প্রতাপশালী রায়বাহাদুরের একমাত্র পুত্রের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের সময় পাত্রের পিতা দশ হাজার নগদ টাকাসহ অন্যান্য সামগ্রী যৌতুক হিসেবে দাবি করেন। কন্যার বাপ রাজি হন এবং বিয়ের সময় নগদ অর্থ বাকি পড়ে। শুরু হয় পিতা কন্যার ওপর মানসিক নির্যাতন। গল্পের নায়কা নিরূপমার আত্ম বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আমাদের সমাজের এই ভয়াবহ ব্যাধির কাহিনি।

উৎস: বাংলা সাহিত্য নবম-দশম শ্রেণি এবং ‘দেনাপাওনা’ ছোটগল্প রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১৪,৩৮৫.
‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প
  2. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  3. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা
  4. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচিত্র
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা:
- শহীদুল জহির রচিত 'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি ভিন্নমাত্রার উপন্যাস।
- উপন্যাসটি টানাগদ্যে লেখা। প্রবন্ধের বই বলে অনেকে ভুলও করতে পারেন।
- এতে গতানুগতিক উপন্যাসের স্বাদ নেই। নিরীক্ষা আছে। ম্যাজিক রিয়ালিজম বা জাদুবাস্তবতাসহ উত্তরাধুনিক চেতনার সংমিশ্রণ রয়েছে।
- উপন্যাসটি বাংলাদেশের বাংলা সাহিত্য়ে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের চেয়েও এতে দর্শনের প্রয়োগ ও কর্মের নতুনত্ব কারণে।

• শহীদুল জহির:
- ১৯৫৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রকৃত নাম মো. শহীদুল হক।
- তিনি ২০০৮ সালের ২৩ মার্চ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা,
- সে রাতে পূর্ণিমা ছিল,
- মুখের দিকে চেয়ে দেখি ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৩৮৬.
"বনফুলের কবিতা" কার লেখা?
  1. শামসুর রাহমান
  2. বন্দ্যে আলী মিয়া
  3. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  4. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
সঠিক উত্তর:
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৯ জুলাই বিহারের পূর্ণিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, কথাশিল্পী, নাট্যকার, প্রবন্ধকার।
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় কর্মজীবন শুরু করেন কলকাতার একটি বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে নিয়োগ লাভের মধ্য দিয়ে।
- স্কুলে পড়ার সময়ে তিনি ‘বনফুল’ ছদ্মনামে কবিতা রচনা করেন।
- সম্পাদনা করেন 'বিকাশ' (১৯১৫) নামে হাতে-লেখা একটি সাহিত্যপত্রিকা।
- তাঁর কবিতার প্রধান বিষয় নিসর্গ চেতনা, প্রেম ও আত্ম-উপলব্ধি।
- ১৯৭৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বনফুলের কবিতা,
- অঙ্গারপর্ণী,
- চতুর্দশী, 
- আহবনীয়,
- করকমলেষু,
- বনফুলের ব্যঙ্গ কবিতা,
- নতুন বাঁকে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তৃণখণ্ড,
- জঙ্গম (তিন খণ্ড),
- অগ্নি, 
- ডানা (তিন খণ্ড),
- স্থাবর,
- অগ্নীশ্বর,
- হাটেবাজারে,
- ত্রিবর্ণ,
- ভুবনসোম,
- প্রচ্ছন্ন মহিমা, 
- উদয় অস্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪,৩৮৭.
"আমি রোমান্টিক কবি নই, মার্ক্সিস্ট" - উক্তিটি কার?
  1. শামসুর রাহমান
  2. সমর সেন
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. মহাদেব সাহা
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
ব্যাখ্যা
সমর সেন:
- তিনি কবি ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- জন্ম ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (১৯৩৭) ও স্নাতকোত্তর (১৯৩৮) সম্পুর্ণ করেন। 
- মার্কসবাদী নেতা রাধারমণ মিত্র ও বঙ্কিম মুখোপাধ্যায়ের সান্নিধ্য লাভ করার ফলে সমর সেনের রাজনৈতিক মনন গঠিত হয়।
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’-এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যের নাম:
- কয়েকটি কবিতা, 
- গ্রহণ,
- নানা কথা,
- খোলা চিঠি,
- তিনপুরুষ ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৪,৩৮৮.
দীনবন্ধু মিত্র রচিত কোন প্রহসনে ইয়ংবেঙ্গল দলের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে?
  1. কমলে কামিনী
  2. সধবার একাদশী
  3. নবীন তপস্বিনী
  4. নীলদর্পণ
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা
• ‘সধবার একাদশী’ প্রহসন:
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত ‘সধবার একাদশী’ নামক প্রহসনে তৎকালীন ইয়ংবেঙ্গল দলের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে।
- গ্রন্থটি ১৮৬৬ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়
- প্রহসনটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘একই কি বলে সভ্যতা’ অনুসরণে রচিত।

-------------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
• দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩) নাট্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
• দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• ‘নীলদর্পণ‘ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
• 'নবীন তপস্বিনী' (১৮৬৩) দীনবন্ধু মিত্রের দ্বিতীয় নাটক। এতে যে দুটি ভিন্ন কাহিনি স্থান পেয়েছে তা পরিপূর্ণভাবে মিশ্রিত হয় নি। 'তে গ্রাম্যতা ও রুচিবিকল্পতা থাকলেও তা গুরুত্বপূর্ণ রচনা।
• 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' (১৮৬৬) বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লিখিত একটি প্রহসন। নামের মাধ্যমেই এর পরিচয় প্রকাশমান।
• দীনবন্ধু মিত্রের 'লীলাবতী' (১৮৬৭) নাটকটি রচনা হিসেবে সার্থকতা লাভ করতে পারে নি।
• 'কমলে কামিনী' (১৮৮৩) তাঁর শেষ রচনা। রোম্যান্টিক প্রণয়চিত্র হিসেবে এর গুরুত্ব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৩৮৯.
‘গীতাঞ্জলি’ কতটি গানের সংকলন?
  1. ১৫৭
  2. ১২০ 
  3. ১০০
  4. ১৫০ 
সঠিক উত্তর:
১৫৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫৭
ব্যাখ্যা

‘গীতাঞ্জলি’ ১৫৭ টি গানের সংকলন। 

 গীতাঞ্জলি:
- গীতাঞ্জলি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭ টি গানের সংকলন।
- গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- ১৯১২ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings প্রকাশিত হয়।
- Song Offerings - গ্রন্থের ভূমিকা লিখেছিলেন আইরিশ কবি ও নাট্যকার ইয়েটস্‌।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই এই গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- ইংরেজি অনুবাদ পরবর্তীতে সম্পাদনা করেন- ডব্লিউ বি. ইয়েটস্‌।
- ১৯১৩ সালে Song Offerings গ্রন্থের জন্য তিনি প্রথম এশীয় হিসাবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ব্রিটানিকা ও বাংলাপিডিয়া।

১৪,৩৯০.
বাইবেল অবলম্বনে লেখা উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) অভিশপ্ত নগরী
  2. খ) আলবেরুনী
  3. গ) সংশপ্তক
  4. ঘ) কোথাও কেউ নেই
সঠিক উত্তর:
ক) অভিশপ্ত নগরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অভিশপ্ত নগরী
ব্যাখ্যা
বাইবেল অবলম্বনে সত্যেন সেন “অভিশপ্ত নগরী” এবং “পাপের সন্তান” নামে দুটি উপন্যাস রচনা করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৪,৩৯১.
'বাংলাপিডিয়া' হচ্ছে—
  1. ক) উপন্যা
  2. খ) জাতীয় জ্ঞানকোষ
  3. গ) বাংলা কাব্য
  4. ঘ) মহাকাব্য
সঠিক উত্তর:
খ) জাতীয় জ্ঞানকোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জাতীয় জ্ঞানকোষ
ব্যাখ্যা

বাংলাপিডিয়া - বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ।
- এ জ্ঞানকোষে প্রায় ১৪৫০ জন পণ্ডিতের সৃজনশীল কাজের সমন্বয় ঘটেছে।
- বাংলাদেশের প্রাচীনতমকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের বর্ণনা বাংলাপিডিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া।

১৪,৩৯২.
"ভাষা মানুষের মুখ থেকে কলমের মুখে আসে, উল্টোটা করতে গেলে মুখে শুধু কালি পড়ে।" - কে বলেছেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ 
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী 
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• "ভাষা মানুষের মুখ থেকে কলমের মুখে আসে, উল্টোটা করতে গেলে মুখে শুধু কালি পড়ে।" উক্তিটি প্রমথ চৌধুরীর।

• প্রমথ চৌধুরী'র বিখ্যাত কিছু উক্তি:
- সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।
- ভাষা মানুষের মুখ থেকে কলমের মুখে আসে, উল্টোটা করতে গেলে মুখে শুধু কালিই পড়ে। (ভাষার কথা)।
- আনন্দের ধর্ম এই যে তা সংক্রামক।
- সাহিত্যে মানবত্মা খেলা করে এবং সেই খেলার আনন্দ উপভোগ করে।
- যে খেলার ভিতর আনন্দ নেই কিন্তু উপরি পাওনার আশা আছে, তার নাম খেলা নয়, জুয়াখেলা।
- যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।

১৪,৩৯৩.
কোনটি রশীদ হায়দার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. অন্ধ কথামালা
  2. যাত্রা
  3. এক যুবকের ছায়াপথ
  4. অদ্ভুত আঁধার এক
সঠিক উত্তর:
অন্ধ কথামালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্ধ কথামালা
ব্যাখ্যা
⇒ অন্ধ কথামালা:
রশীদ হায়দার রচিত ‘অন্ধ কথামালা’ (১৯৮২) উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস কাল পর্বের প্রেক্ষাপটে মৃত্যু-মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতীক্ষারত একজন মুক্তিযোদ্ধার দুর্বিসহ স্মৃতিকাতরতাক্রান্ত রুদ্ধশ্বাসের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা ও আবেগের রসায়নে ‘অন্ধ কথামালা’ উপন্যাসকে একটি পরিণততর সৃষ্টি বলা যায়।

রশীদ হায়দার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অন্য উপন্যাস হলো-
• ‘খাঁচা’ (১৯৭৫) উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্বের অবরুদ্ধ নগর জীবনের আলেখ্য।

অন্যদিকে,
- ‘যাত্রা’ শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- ‘এক যুবকের ছায়াপথ’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- ‘অদ্ভুত আঁধার এক’ শামসুর রহমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: খাঁচায় অন্ধ কথামালা উপন্যাস এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৪,৩৯৪.
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য কোনটি?
  1. অনল প্রবাহ
  2. নব উদ্দীপনা
  3. উদ্বোধন
  4. স্পেনবিজয় কাব্য
সঠিক উত্তর:
অনল প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনল প্রবাহ
ব্যাখ্যা
অনল প্রবাহ:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'- এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'ভারত ভিক্ষা', 'ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি। এগুলো হচ্ছে: অনল প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূচ্‌র্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ : ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর-আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।
- ১৯০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন বাংলা সরকার গ্রন্থটি বাজেয়াপ্ত করেন।
- ব্রিটিশ-বিরোধী বিদ্বেষ ও প্রচারণার অভিযোগে দুবছর কারাদণ্ড ভোগ করে ১৯১২ সালের ১৪ই মে তিনি কারামুক্ত হন। তাঁর রচিত 'কারা- কাহিনী' মূলত এ জেল-জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে রচিত।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- তিনি একাধারে লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা। 
- তিনি ১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্ম বলেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন। 
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী সিরাজগঞ্জে কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
- তিনি জমিদার ও মহাজন বিরোধী আন্দোলনে কৃষকদের সংগঠিত করেন। 
- তিনি ১৯৩১ সালের ১৭ই জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
 - অনল প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন, 
- নব উদ্দীপনা,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৩৯৫.
 'রাজলক্ষ্মী' কোন উপন্যাসের বিখ্যাত চরিত্র?
  1. চরিত্রহীন 
  2. দেনাপাওনা 
  3. শ্রীকান্ত 
  4. চোখের বালি 
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত 
ব্যাখ্যা
• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস। উপন্যাসটি চারটি খণ্ডে রচিত।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭)' শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশিত হয়।
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রী শ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র হচ্ছে- 'ইন্দ্রনাথ'।

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- শ্রীকান্ত,
- রাজলক্ষ্মী,
- অন্নদাদিদি,
- অভয়া,
- রোহিণী,
- কমললতা প্রমুখ

অন্যদিকে,
- চরিত্রহীন -- সতীশ, সাবিত্রী, দিবাকর, কিরণময়ী।
- পল্লীসমাজ -- রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।
- চোখের বালি - মহেন্দ্র, আশালতা, বিনোদিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
 
১৪,৩৯৬.
"উর্বশী ও আর্টেমিস" গ্রন্থটির রচয়িতা কে? 
  1. বুদ্ধদেব বসু 
  2. বিষ্ণু দে
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা

"উর্বশী ও আর্টেমিস" গ্রন্থটির রচয়িতা- বিষ্ণু দে। 
-------------------------------------------- 
• বিষ্ণু দে:
- বিষ্ণু দে ছিলেন একজন প্রখ্যাত কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী,
- তিনি ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- তাঁর শিক্ষা জীবন কেটেছে কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউট ও সংস্কৃত কলেজিয়েট স্কুলে।
- তিনি পঞ্চপান্ডব্দের মধ্যকার একজন। 

- ১৯২৩ সালে কল্লোল পত্রিকা প্রকাশের ফলে বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারা ও শিল্পচেতনার সূচনা হয়, যেখানে বিষ্ণু দে অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন।
- ১৯৩০ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হলে তিনি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের পরিচয় (১৯৩১) পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হন এবং ১৯৪৭ পর্যন্ত সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৪৮ সালে তিনি চঞ্চলকুমার চট্টোপাধ্যায়ের সহযোগিতায় সাহিত্যপত্র প্রকাশ করেন।
- তিনি ১৯৮২ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

- বিষ্ণু দে’র উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
• উর্বশী ও আর্টেমিস, 
• চোরাবালি,
• সাত ভাই চম্পা,
• রুচি ও প্রগতি, 
• সাহিত্যের ভবিষ্যৎ, 
• নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
• তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
• স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত,
• রবীন্দ্রনাথ ও শিল্পসাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা,
• মাইকেল রবীন্দ্রনাথ ও অন্যান্য জিজ্ঞাসা,
• In the Sun and the Rain,
• উত্তরে থাকো মৌন,
• সেকাল থেকে একাল, 
• আমার হূদয়ে বাঁচো। 
------------------------------------------------------- 
“উর্বশী ও আর্টেমিস” গ্রন্থ নিয়ে কিছু কথা: 
- বিষ্ণু দে রচিত “উর্বশী ও আর্টেমিস” একটি আধুনিক কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থটি প্রেম, নারীসত্তা ও মানুষের অন্তর্নিহিত কামনার সঙ্গে আধুনিক বাস্তবতার সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে। কবি এখানে পৌরাণিক ও প্রতীকি নারী চরিত্র—উর্বশী (কামনার প্রতীক) ও আর্টেমিস (কুমারী ও শিকারদেবী)—মাধ্যমে নারী ও প্রেমের দ্বান্দ্বিক রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন। গ্রন্থে আধুনিক প্রেম ও নারী, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের নারীসত্তার পার্থক্য এবং প্রথাগত ধারার বাইরে গিয়ে নতুন আঙ্গিক ও ভাষায় মানব জীবনের জটিলতা প্রকাশিত হয়েছে। এতে প্রায় ২৫টি কবিতা সংকলিত, যার মধ্যে ‘পলায়ন’, ‘কাব্যপ্রেম’, ‘উদ্যাপন’ ও ‘প্রেম’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৪,৩৯৭.
মানুষের জীবনকে দোতলা ঘরের সাথে তুলনা করা হয়েছে কোন প্রবন্ধে?
  1. সভ্যতা
  2. জীবন ও বৃক্ষ
  3. শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব
  4. সুখ
সঠিক উত্তর:
শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব
ব্যাখ্যা
⇒ ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধ:
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘সংস্কৃতি কথা’ গ্রন্থের ‘মনুষ্যত্ব’ শীর্ষক প্রবন্ধের অংশ বিশেষ। 'সংস্কৃতি কথা' তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক মানুষের জীবনকে দোতলা ঘরের সাথে তুলনা করেছেন।
- প্রবন্ধে বলা হয়েছে - "মানুষের জীবনকে একটি দোতলা ঘরের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। জীবসত্তা সেই ঘরের নিচের তলা, আর মানবসত্তা বা মনুষ্যত্ব উপরের তলা। জীবসত্তার ঘর থেকে মানবসত্তার উঠবার মই হচ্ছে শিক্ষা, শিক্ষাই আমাদের মানবসত্তার ঘরে নিয়ে যেতে পারে।"
- তিনি বলেছেন, যেখানে চিন্তার, বুদ্ধির ও আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই সেখানে মুক্তি নেই।

⇒ মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- আমাদের দৈন্য
-  আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৩৯৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক কমেডির নাম কী?
  1. ক) শর্মিষ্ঠা
  2. খ) পদ্মাবতী
  3. গ) কৃষ্ণকুমারী
  4. ঘ) মহুয়া
সঠিক উত্তর:
খ) পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্তের দ্বিতীয় নাটক ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক কমিডি পদ্মাবতী। এটি ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। এটি গ্রিক পুরাণের (Heroic Epistles) নিয়ে রচিত হয়েছে। ‘পদ্মাবতী’র দ্বিতীয় অঙ্কের দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ হিসেবে ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’-এ প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ ঘটান।

উৎস : রবীন্দ্র রচনাবলি, রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
১৪,৩৯৯.
'আমলকির মৌ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. রিজিয়া খান
  2. দিলারা হাশেম
  3. বিপ্রদাশ বড়ুয়া
  4. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
দিলারা হাশেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিলারা হাশেম
ব্যাখ্যা
• দিলারা হাশেম রচিত ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত হয় তার নারীবাদী উপন্যাস 'আমলকীর মৌ'।

• দিলারা হাশেম:

- একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী লেখক এবং বিখ্যাত ঔপন্যাসিক।
- তিনি ১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'ঘর মন জানালা' ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- যা পাঠক ও সমালোচক মহলে বিপুল সমাদর পায়।
- পরবর্তীতে গ্রন্থটি রুশ ও চীনা ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং ১৯৭৩ সালে এই উপন্যাস অবলম্বনে একই শিরোনামে একটি চলচ্চিত্র মুক্তি পায়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘর মন জানালা,
- একদা এবং অনন্ত,
- স্তব্ধতার কানে কানে,
- আমলকির মৌ,
- বাদামী বিকেলের গল্প,
- কাকতালীয়,
- মুরাল,
- শঙ্খ করাত,
- অনুক্ত পদাবলী,
- মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাসসমূহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪০০.
'রসকলি' ছোটগল্পের লেখক কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 

• তাঁর প্রসিদ্ধ  ছোটগল্প:
- রসকলি
- বেদেনী, 
- ডাকহরকরা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া।