বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৪৫ / ১৭৪ · ১৪,৪০১১৪,৫০০ / ১৭,৪৩৭

১৪,৪০১.
নিচের কোন সম্পর্কটি সঠিক নয়?
  1. কবিকণ্ঠহার - মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. রায়গুণাকর - ভারতচন্দ্র
  3. কাব্য সুধাকর - গোলাম মোস্তফা
  4. ছন্দের রাজা - সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
কবিকণ্ঠহার - মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিকণ্ঠহার - মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• ‘কবিকন্ঠহার’ মধ্যযুগের কবি 'বিদ্যাপতির' উপাধি ছিলো। 
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন - বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি। 
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন - মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য তিনি বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।

উল্লেখ্য, 
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল 'কবিকঙ্কন'।

• রাজা কৃষ্ণচন্দ্র কবি ভারতচন্দ্রকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধী দিয়েছেন। কবি ভারতচন্দ্র ছিলেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি।

• সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) উপাধি লাভ করেন। 

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত “ছন্দের জাদুকর” এবং 'ছন্দের রাজা” হিসেবে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি, বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪০২.
জীবনানন্দ দাশ এর জীবনকাল কোনটি?
  1. ১৮৯৯-১৯৫৪
  2. ১৮৯০-১৯৫২
  3. ১৮৮৯-১৯৫৪
  4. ১৮৯৯-১৯৪৪
সঠিক উত্তর:
১৮৯৯-১৯৫৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৯৯-১৯৫৪
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪):
- জীবনানন্দ দাশ, ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।

- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি। 
- পাশ্চাত্যের মডার্নিজম ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বঙ্গীয় সমাজের বিদগ্ধ মধ্যবিত্তের মনন ও চৈতন্যের সমন্বয় ঘটে ওই কাব্যান্দোলনে।

- ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- কবি হলেও তিনি অসংখ্য ছোটগল্প, কয়েকটি উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরাপালক প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
-  ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৪০৩.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবনী অবলম্বনে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) মধুসূদনজীবনী
  2. খ) শ্রীমধুসূদন
  3. গ) স্মরনে মধুসূদন
  4. ঘ) মধুসূদনচরিত
সঠিক উত্তর:
খ) শ্রীমধুসূদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শ্রীমধুসূদন
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবনী নিয়ে রচিত বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের নাটকের নাম হচ্ছে - শ্রীমধুসূদন

• লেখক হিসেবে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় হাজারেরও বেশি কবিতা, ৫৮৬টি ছোট গল্প, ৬০টি উপন্যাস, ৫টি নাটক, জীবনী ছাড়াও অসংখ্য প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তার রচনাবলীসমগ্র ২২ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে ।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম 'বনফুল'।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় নাটক রচনাতে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। প্রহসন, একাঙ্কিকা, চিত্রনাট্য, নাটিকা ছাড়াও তিনি বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনচরিত অবলম্বন করে নাটক রচনা করেন, যাতে পাওয়া যায় তাঁর সৃজনশীল প্রতিভার অপর একটি ভিন্ন রূপের পরিচয়।

• উনিশ শতকের দুই বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে নিয়ে লেখা তাঁর নাটক, শ্রীমধুসূদন (১৯৪০) ও বিদ্যাসাগর (১৯৪১)।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এ দুটি নাটকের মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে এঁদের ব্যাপকভাবে ও যথার্থরূপে পরিচিত করিয়ে দেন।
• বাংলা সাহিত্যে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়কে বলা যেতে পারে এ ধারার নাটক রচনার পথিকৃৎ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- বনফুলের গল্প,
- বিন্দুবিসর্গ ,
- অদৃশ্যলোকে ,
- তন্বী (১৯৪৯),
- অনুগামিনী (১৯৫৮),
- দূরবীণ,
- মণিহারী,
- বহুবর্ণ ,
- বনফুলের নতুন গল্প প্রভৃতি।

উৎস: সাহিত্যপাঠ একাদশ দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪০৪.
কোনটি প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ নয়?
  1. ক) নানাচর্চা
  2. খ) বীরবলের হালখাতা
  3. গ) নানাকথা
  4. ঘ) আহুতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) আহুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আহুতি
ব্যাখ্যা
'আহুতি' প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ।

বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম। পিতা দুর্গাদাস চৌধুরী ছিলেন জমিদার। প্রমথ চৌধুরী কলকাতার হেয়ার স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাস করেন। তারপর  প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে দর্শনে অনার্সসহ বিএ (১৮৮৯) এবং ইংরেজিতে এমএ (১৮৯০) পাস করেন। ১৮৯৩ সালে প্রমথ চৌধুরী বিলেত যান এবং ব্যারিস্টারি পাস করে দেশে ফিরে কলকাতা হাইকোর্টে আইন ব্যবসায়ে যোগদান করেন। অবশ্য এ ব্যবসায়ে তিনি বেশিদিন যুক্ত থাকেননি।

সাহিত্য ক্ষেত্রে প্রমথ চৌধুরীর প্রধান খ্যাতি মননশীল প্রবন্ধলেখক হিসেবে। তবে তিনি উচ্চমানের গল্প ও কবিতাও রচনা করেছেন। বাংলা সাহিত্যে তিনিই প্রথম বিদ্রূপাত্মক প্রবন্ধ রচনা করেন। বুদ্ধিদীপ্ত তির্যকভঙ্গি তাঁর গদ্য-পদ্য সব রচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য। শাণিত যুক্তি ও আলঙ্কারিক ভাষা প্রয়োগেও তিনি দক্ষ ছিলেন। তাঁর রচিত প্রবন্ধগুলো: 
- তেল নুন লকড়ি
- বীরবলের হালখাতা
- নানাকথা
 -আমাদের শিক্ষা
- রায়তের কথা
- নানাচর্চা
- প্রবন্ধ সংগ্রহ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১৪,৪০৫.
'বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি'র অন্যতম স্থপতি কে?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আনিসুজ্জামান
  3. গ) আহমদ শরীফ
  4. ঘ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি  বাঙালি মুসলমানদের একটি সাহিত্য সংগঠন। কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের (১৮৯৩) অনুপ্রেরণায় কয়েকজন উদীয়মান মুসলিম লেখক ১৯১১ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁরা হলেন -
মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী,
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্,
মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী,  
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক প্রমুখ।
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সমিতির সম্পাদক মনোনীত হন। একটি পরিচালক পরিষদ দ্বারা সমিতি পরিচালিত হতো।

১৯১৭-১৮ সালে পরিচালক পরিষদের সভাপতি পদে ছিলেন  আবদুল করিম, সহসভাপতি খান বাহাদুর  আহছানউল্লা ও  মোহাম্মদ আকরাম খাঁ, সম্পাদক মোজাম্মেল হক এবং ২৫জন সদস্য।

সাহিত্য সমিতি বত্রিশ বছরের ইতিহাসে মুসলিম জাতীয়তাবোধের বিকাশ সাধনের চেষ্টা করে। সমিতির মাসিক সভা ও বার্ষিক সম্মেলনের ব্যবস্থা ছিল। সমিতির উদ্যোগে মোট সাতটি সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।  ১৯৪৩ সালের ৮-৯ মে সমিতির সপ্তম ও শেষ বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা
(বৈশাখ ১৩২৫/ এপ্রিল ১৯১৮) ও সাহিত্যিক (অগ্রহায়ণ ১৩৩৩/ ডিসেম্বর ১৯২৬) নামে এর দুটি মুখপত্র ছিল।

(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১৪,৪০৬.
'রাতের সব তারাই আছে দিনের আলোর গভীরে।' উক্তিটি কার রচিত?
  1. ক) কামিনী রায়
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) নির্মলেন্দু গুণ
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'হঠাৎ দেখা' কবিতার চরণ- 'রাতের সব তারাই আছে দিনের আলোর গভীরে।' কবিতাটি কবিগুরু ২৪ জুন ১৯৩৬ সালে শান্তিনিকেতনে রচনা করেন।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১৪,৪০৭.
মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ’ কাব্যর উৎস কি ?
  1. ক) মহাভারত
  2. খ) রামায়ণ
  3. গ) ভগবৎ
  4. ঘ) ওডিসি
সঠিক উত্তর:
খ) রামায়ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রামায়ণ
ব্যাখ্যা

মেঘনাদবধ কাব্য কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত কর্তৃক অমিত্রাক্ষর ছন্দে লেখা একটি মহাকাব্য
- এটি ১৮৬১ সালে দুই খণ্ডে বই আকারে প্রকাশিত হয়।
- মেঘনাদবধ কাব্য হিন্দু মহাকাব্য রামায়ণ অবলম্বনে রচিত।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ হলো :
- তিলোত্তমা সম্ভব
- ব্রজাঙ্গনা
- বীরাঙ্গনা
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]

১৪,৪০৮.
“ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য” কোন কাব্যের উপজীব্য?
  1. ক) দিলরুবা-আব্দুল কাদির
  2. খ) সাত সাগরের মাঝি-ফররুখ আহমদ
  3. গ) নুরনামা-আব্দুল হাকিম
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) সাত সাগরের মাঝি-ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সাত সাগরের মাঝি-ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

'ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য' সাত সাগরের মাঝি কাব্যগ্রন্থের উপজীব্য।
'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা ফররুখ আহমদ।
এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪,৪০৯.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘ব্রজাঙ্গনা’ কাব্যটির বিষয়বস্তু কি?
  1. শিবের স্তুতি
  2. দেশপ্রেম
  3. রাধা কৃষ্ণের প্রেম
  4. রাধার বিরহ
সঠিক উত্তর:
রাধার বিরহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধার বিরহ
ব্যাখ্যা

মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর জন্ম ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে ।
- ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়।
- তাঁর ছদ্মনাম টিমোথি পেনপোয়েম
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক ‘শর্মিষ্ঠা' তিনি রচনা করেন ।
- তার সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত মেঘনাদবধ কাব্য নামক মহাকাব্য।

তাঁর রচিত নাটক ও প্রহসন
- শর্মিষ্ঠা নাটক (১৮৫৯)
- একেই কি বলে সভ্যতা? (১৮৬০)
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০)
- পদ্মাবতী নাটক (১৮৬০)
- কৃষ্ণকুমারী নাটক (১৮৬১)
- মায়া-কানন (১৮৭৪)

তাঁর রচিত কাব্য
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য (১৮৬০)
- মেঘনাদবধ কাব্য (১৮৬১)
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য (১৮৬১)
- বীরাঙ্গনা কাব্য (১৮৬২)
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী (১৮৬৫)

> মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘ব্রজাঙ্গনা’ কাব্যটির বিষয়বস্তু রাধার বিরহ
- ব্রজাঙ্গনা কাব্যের কবিতাগুলো Ode জাতীয় গীতি কবিতা।
- কবি কাব্যটিকে দুই খন্ডে বিভক্ত করে রচনা করার পরিকল্পনা করেছিলেন - বিরহ ও মিলন
- তবে মিলন খন্ডটি তিনি শেষ করে যেতে পারেন নি। তাই কাব্যটিতে এখন শুধু রাধার বিরহই রয়েছে।
- এজন্য রাধা সম্পর্কে মধুসূদন বলেছেন, রাধা হলেন - 'Poor Old Mrs. Radha of Braja' (ব্রজের হতভাগিনী নায়িকা রাধা)।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৪১০.
‘বাঁধন হারা' উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়?
  1. দৈনিক মোহাম্মদী
  2. ভারতবর্ষ
  3. দৈনিক নবযুগ
  4. মোসলেম ভারত
সঠিক উত্তর:
মোসলেম ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোসলেম ভারত
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা;
- মৃত্যুক্ষুধা;
- কুহেলিকা। 
 
• ‘বাঁধন হারা' উপন্যাস: 
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে মোট ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।
- অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে - রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৪১১.
'আমরা হিন্দু বা মুসলিম যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।' উক্তিটি কে করেছেন?
  1. ক) শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) ড. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• বহু ভাষাবিদ পণ্ডিত ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলাভাষা, বাংলা সাহিত্য, বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় একটি ভাষণে বলেছিলেন— ‘আমরা হিন্দু বা মুসলিম যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি। এটি কোনো আদর্শের কথা নয়, এটি একটি বাস্তব কথা। প্রকৃতি নিজের হাতে আমাদের চেহারায় ও ভাষায় বাঙালিত্বের এমন ছাপ দিয়েছেন যে, তা মালা-তিলক-টিকিতে কিংবা টুপি-লুঙ্গি-দাড়িতে ঢাকবার জো-টি নেই”।

সূত্র: বাংলাদেশে ও বিশ্ব পরিচয়, ৭ম শ্রেণি।
১৪,৪১২.
কোনটি সমসাময়িক বিপ্লবী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত একটি বিয়োগান্তক প্রেমের উপন্যাস?
  1. শেষের কবিতা
  2. চার অধ্যায়
  3. সূর্য দীঘল বাড়ি
  4. চোখের বালি
সঠিক উত্তর:
চার অধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার অধ্যায়
ব্যাখ্যা

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) কলকাতার জোড়াসাঁকোর এক ধনাঢ্য ও সংস্কৃতিবান পিরালী ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ছোট গল্পের জনক। তাঁকে বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয়।
- 'চার অধ্যায়' সমসাময়িক বিপ্লবী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত একটি বিয়োগান্তক প্রেমের উপন্যাস।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস চোখের বালি (১৯০৩)।
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মহেন্দ্র, আশা, বিহারী, বিনোদিনী ইত্যাদি।
- 'ঘরে-বাইরে' চলিত ভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম উপন্যাস।
- 'চতুরঙ্গ' সাধু ভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ উপন্যাস।

১৪,৪১৩.
''ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা,
ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ,
আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা।'' - পঙক্তিগুলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সেঁজুতি
  2. সোনার তরী
  3. বলাকা
  4. কবিকাহিনী
সঠিক উত্তর:
বলাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বলাকা
ব্যাখ্যা
'ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা,
ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ,
আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা।' 

• আলোচ্য পঙক্তিগুলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'বলাকা' কাব্যগ্রন্থের 'ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা' কবিতার অন্তর্গত।
- 'বলাকা' কাব্যগ্রন্থের প্রকাশকাল ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দ।
- এটি রবীন্দ্রনাথের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। 

কবিতাটি নিম্নরূপ- 
ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা - কবিতা,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর---বলাকা।

ওরে  নবীন, ওরে আমার কাঁচা,
     ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ,
     আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা। 
রক্ত আলোর মদে মাতাল ভোরে
আজকে যে যা বলে বলুক তোরে,
সকল তর্ক হেলায় তুচ্ছ ক'রে
     পুচ্ছটি তোর উচ্চে তুলে নাচা।
     আয় দুরন্ত, আয় রে আমার কাঁচা। (সংক্ষেপিত) 

• 'বলাকা' কাব্যের অন্তর্গত কয়েকটি জনপ্রিয় কবিতা:
- সন্ধ্যারাগে ঝিলিমিলি ঝিলমের স্রোতখানি বাঁকা,
- উৎসর্গ,
- ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা,
- মোর গান এরা সব শৈবালের দল,
- এইক্ষণে,
- যৌবন রে, তুই কি রবি সুখের খাঁচাতে।
----------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা,
- চৈতালী, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপুট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া এবং ‘বলাকা’ কাব্যগ্রন্থ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১৪,৪১৪.
হুমায়ূন আহমেদ নির্মিত শেষ চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. ঘেটুপুত্র কমলা
  2. আগুনের পরশমণি
  3. শ্যামল ছায়া
  4. শ্রাবণ মেঘের দিন
সঠিক উত্তর:
ঘেটুপুত্র কমলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘেটুপুত্র কমলা
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদ ও চলচ্চিত্র:
• হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২) কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক। হুমায়ূন আহমেদের জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।

• হুমায়ূন আহমেদ চলচ্চিত্র নির্মাণেও সার্থক তাঁর প্রথম ছবি 'আগুনের পরশমণি' (১৯৯৫) এবং শেষ চলচ্চিত্র 'ঘেটুপুত্র কমলা' (২০১২)।

• ৮৫তম অস্কার বাংলাদেশ কমিটি ৮৫তম একাডেমী অ্যাওয়ার্ড (অস্কার) প্রতিযোগিতার জন্য ঘেটুপুত্র কমলা ছবিটি মনোনীত করে। সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র উপহার দিয়ে হুমায়ূন আহমেদ মধ্যবিত্ত দর্শকদের হলমুখী করে তোলেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র 'শ্যামল ছায়া'  ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি অবলম্বনে নির্মিত। এটি ‘অস্কার একাডেমী পুরস্কার’-এর জন্য ‘সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র’ বিভাগে বাংলাদেশ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য নির্বাচিত হয়।

• অন্যান্য চলচ্চিত্র : শ্রাবণ মেঘের দিন (২০০০), দুই দুয়ারী (২০০১), চন্দ্রকথা (২০০৩), নয় নম্বর বিপদ সংকেত (২০০৭) এবং আমার আছে জল (২০০৮)।

• তাঁর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয় কয়েকটি চলচ্চিত্র। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত 'দূরত্ব' (২০০৬), সুভাষ দত্ত পরিচালিত 'আবদার', বেলাল আহমেদ পরিচালিত 'নন্দিত নরকে', আবু সাইদ পরিচালিত 'নিরন্তর', শাহ আলম কিরণ পরিচালিত 'সাজঘর '(২০০৭) এবং তৌকির আহমেদ নির্মিত 'দারুচিনি দ্বীপ'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪১৫.
"বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না দূরেও ঠেলিয়া দেয়" উক্তিটি কোন বিখ্যাত উপন্যাসে উদ্ধৃত হয়েছে?
  1. ক) দেবদাস
  2. খ) চরিত্রহীন
  3. গ) শ্রীকান্ত
  4. ঘ) বড়দিদি
সঠিক উত্তর:
গ) শ্রীকান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শ্রীকান্ত
ব্যাখ্যা
আলোচ্য উক্তিটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসে উদ্ধৃত হয়েছে।  
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশ পায়। 
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র - শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৪১৬.
লাহিনীপাড়া থেকে কোন পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়?
  1. হিতবাদী
  2. সুধাকর
  3. হিতকরী
  4. কালিকলম
সঠিক উত্তর:
হিতকরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিতকরী
ব্যাখ্যা
'হিতকরী' পত্রিকা:
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

অন্যদিকে,
- প্রেমেন্দ্র মিত্র সম্পাদিত পত্রিকার নাম - 'কালিকলম'
- শেখ আবদুর রহিম সম্পাদিত পত্রিকার নাম - সুধাকর।
- হিতবাদী - কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্য সম্পাদিত পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪১৭.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  2. কাবিলের বোন
  3. নূরলদীনের সারা জীবন
  4. খোয়াবনামা
সঠিক উত্তর:
কাবিলের বোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাবিলের বোন
ব্যাখ্যা
• 'কাবিলের বোন' উপন্যাস:
- 'কাবিলের বোন' আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ২০০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- যুক্ত ভারত ভেঙে পাকিস্তান এই শিকড় থেকে উপন্যাসের শুরু।
- এখানে এসেছে ভাষা আন্দোলন, বাঙালি-বিহারী ভাষাগত সমস্যা, উর্দুভাষী হলেই বিহারী মনে করা, আগরতলা মামলা, শেখ মুজিবের ৬দফা, ছাত্র আন্দোলন তথা বেশ ক'জন মানব- মানবীর প্রেম-ভালোবাসা, দুঃখ-কষ্ট, চাওয়া- পাওয়া নিয়ে যাপিত জীবনের বড় ক্যানভাসে মুক্তিযুদ্ধ। শেষ পর্যন্ত পাওয়া না পাওয়ার অসহনীয় কথামালার বিপুল আয়োজন।
- এই গ্রন্থে তিনি প্রমাণ করেছেন তিনি শুধু কবি আল মাহমুদ নন-তিনি জীবন থেকে নেয়া সময়ের সাহসী দ্রষ্টা ও স্রষ্টা।

অন্যদিকে,
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক
- নুরুলদীনের সারা জীবন - রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ নিয়ে রচিত। 

• ‘খোয়াবনাম’ মানবজীবনের সংগ্রামের পেক্ষাপটে আখতারুজ্জামান উলিয়াস রচিত উপন্যাস।

----------------------
• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘কাবিলের বোন' উপন্যাস।
১৪,৪১৮.
"কুমড়ো ফুলে ফুলে নুয়ে পড়েছে লতাটা, সজনে ডাঁটায় ভরে গেছে গাছটা" - পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. গ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. ঘ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
গ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
"কুমড়ো ফুলে ফুলে নুয়ে পড়েছে লতাটা, সজনে ডাঁটায় ভরে গেছে গাছটা" - পঙক্তিটির রচয়িতা আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ।

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (১৯৩৪-২০০১) রচিত উল্লেখযােগ্য কবিতা হলাে: 
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি ও
- কোন এক মাকে (কুমড়াে ফুলে ফুলে নুয়ে পড়েছে লতাটা)।

কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- কখনাে রং কখনাে সুর (১৯৭০),
- কমলের চোখ (১৯৭৪),
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি (১৯৯৩) ইত্যাদি৷

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪১৯.
বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ত্রয়ী উপন্যাস এর অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. সীতারাম
  2. দেবী চৌধুরানী
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. আনন্দমঠ
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা তথা মানস’। তাঁর রচিত প্রথম ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’।

বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ত্রয়ী উপন্যাসগুলো হলো:
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী ও
- সীতারাম।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৪২০.
দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাস প্রকাশিত হয় –
  1. ক) ১৮৬১ সালে
  2. খ) ১৮৬২ সালে
  3. গ) ১৮৬৩ সালে
  4. ঘ) ১৮৬৫ সালে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৮৬৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৮৬৫ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস হলো দুর্গেশনন্দিনী। এটির রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যা ১৮৬৫ সালে প্রকাশিত হয়। এটি একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ত্রয়ী উপন্যাস হলো আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরাণী এবং সীতারাম। কপালকুন্ডলা ১৮৬৬ সালে প্রকাশিত তার দ্বিতীয় উপন্যাস যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক রোমান্টিক উপন্যাস। Rajmohan's Wife (১৮৬৪) তার প্রথম উপন্যাস যা ইংরেজি ভাষা রচিত। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
১৪,৪২১.
“বিদ্যেবোঝাই বাবুমশাই চড়ি সখের বোটে মাঝিরে কন , বলতে পারিস সূর্যি কেন ওঠে”- এই উদ্ধৃতাংশটুকু কোন কবির রচনা?
  1. ক) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
গ) সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
সুকুমার রায় একজন বাঙালি শিশু সাহিত্যিক ও ভারতীয় সাহিত্যে 'ননসেন্স রাইমের' প্রবর্তক।
তিনি 'সন্দেশ' পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।

“বিদ্যেবোঝাই বাবুমশাই চড়ি সখের বোটে
মাঝিরে কন , বলতে পারিস সূর্যি কেন ওঠে- এই উদ্ধৃতাংশটুকু সুকুমার রায়ের ''ষোল আনাই মিছে'' কবিতা থেকে নেয়া।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মঃ
- আবোলতাবোল (ছড়াগ্রন্থ),
- হ-য-ব-র-ল,
- পাগলা দাশু,
- বহুরূপী,
- খাইখাই, ইত্যাদি।


[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
১৪,৪২২.
'জমিদার দর্পণ' নাটকের অত্যাচারী জমিদার চরিত্রের নাম কী?
  1. মোকাজন মিঞা
  2. হায়ওয়ান আলী
  3. রানাপ্রতাপ সিং
  4. নজিব-উদ-দোলা
সঠিক উত্তর:
হায়ওয়ান আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হায়ওয়ান আলী
ব্যাখ্যা
• জমিদার দর্পণ:
- 'জমিদার দর্পণ' মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি নাটক।
- নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্ত প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষন ও হত্যার কাহিনি এর মূল ঘটনা।
- 'জমিদার দর্পণ' উনিশ শতকের কৃষক শ্রেণির জীবনধারার উপর ভিত্তি করে রচিত ঐ শতাব্দের একটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম।

• মীর মোশাররফ হোসেন:
- জন্ম ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায়।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯)
- তাঁর অমর কীর্তি বিষাদ-সিন্ধু উপন্যাসে কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক কাহিনী বিবৃত হয়েছে।

এছাড়াও তাঁর অন্যান্য নাটক হলো-
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- জমিদার দর্পণ,
- টালা অভিনয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪২৩.
'হাঁসুলী বাঁকের উপকথা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  3. গ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
গ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'হাঁসুলী বাঁকের উপকথা'(১৯৪৭) উপন্যাসের রচয়িতা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
- উপন্যাসে বীরভুমের কাহার সম্প্রদায়ের জীবন, তাদের সংস্কৃতি, ধর্মবিশ্বাস, আচার-আচরণ, লোককথা আন্তরিকতার সাথে তুলে ধরা হয়েছে। 
--------------------
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়(১৮৯৮-১৯৭১):
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ। 
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়। এছাড়া কালিকলম, বঙ্গশ্রী,  শনিবারের চিঠি,  প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। 
- মানবচরিত্রের নানা জটিলতা ও নিগূঢ় রহস্য তাঁর উপন্যাসে জীবন্তভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
- তারাশঙ্কর প্রায় দুশ গ্রন্থ রচনা করেন।

সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- চৈতালী ঘূর্ণি (১৯৩২),
- ধাত্রীদেবতা (১৯৩৯),
- কালিন্দী (১৯৪০),
- গণদেবতা (১৯৪৩),
- পঞ্চগ্রাম (১৯৪৪),
- কবি (১৯৪৪),
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা (১৯৪৭),
- আরোগ্য নিকেতন (১৯৫৩) ইত্যাদি 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪২৪.
‘চক্ষুদান’ প্রহসনটির রচয়িতা কে?
  1. ক) রামনারায়ণ তর্করত্ন
  2. খ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
ক) রামনারায়ণ তর্করত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রামনারায়ণ তর্করত্ন
ব্যাখ্যা
‘চক্ষুদান’ প্রহসনটির রচয়িতা রামনারায়ণ তর্করত্ন। বাংলা মৌলিক নাটক রচয়িতা হিসেবেই রামনারায়ণের মুখ্য পরিচয়। বাংলা ভাষায় প্রথম বিধিবদ্ধ নাটক রচনার জন্য তিনি ‘নাটুকে রামনারায়ণ’ নামে পরিচিত ছিলেন। কুলীনকুলসবর্বস্ব (১৮৫৪) তাঁর প্রথম ও শ্রেষ্ঠ নাটক। [সূত্র: বাংলাপিডিয়া]
১৪,৪২৫.
'মেঘনাদবধ' কাব্যের নায়ক কে?
  1. রাবণ
  2. মেঘনাদ
  3. বিভীষণ
  4. রাম
সঠিক উত্তর:
রাবণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাবণ
ব্যাখ্যা
মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- এটি তাঁর রচিত দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ'র ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনী অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- কাব্যের ট্রাজেডি সৃজন হয়েছে নায়ক রাবণ চরিত্রকে অবলম্বন করে।
- নয় সর্গে রচিত 'মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪২৬.
কত সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়? 
  1. ১৮০০ সালে
  2. ১৮০১ সালে
  3. ১৮০৩ সালে
  4. ১৮০৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮০০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০০ সালে
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ: 
- লর্ড ওয়েলেসলি কর্তৃক ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। 
- ৪ঠা মে কলেজের প্রতিষ্ঠা দিবস হলেও ২৪শে নভেম্বর থেকে কলেজের কাজ শুরু হয়েছিল। 
- দেশীয় ভাষা শিক্ষা দিয়ে সিবিলিয়ানদের উপযুক্ত করে তোলার জন্যই ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠা। 
- এই কলেজে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্রীরামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক বাংলায় অভিজ্ঞ উইলিয়াম কেরি। 
- তিনি তাঁর অধীনস্ত দু জন পণ্ডিত এবং ছয় জন সহকারী পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। 
- তাঁদের প্রচেষ্টার ফলাফল দিয়েই বাংলা গদ্যের অনুশীলনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা নিরূপণ করা হয়। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৪,৪২৭.
নিচের কোনটি উইলিয়াম টডের 'রাজস্থান' নামক গ্রন্থের কাহিনি থেকে সংগৃহীত নাটক?
  1. শর্মিষ্ঠা 
  2. কৃষ্ণকুমারী
  3. পদ্মাবতী
  4. হেকটরবধ
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

কৃষ্ণকুমারী:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন।
- এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো : কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, ভীম- সিংহ, জগৎসিংহ, ধনদাস প্রমুখ।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।। 
-----------
উল্লেখ,
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনী অবলম্বনে ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক।
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য (১৮৬০) মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনীকে অবলম্বন করে রচিত। 
- মাইকেল মধুসূদন পদ্মাবতী নাটকটি গ্রীক পুরাণের প্রসিদ্ধ গল্প "Apple of Discord" এর ছায়া অবলম্বন করে রচনা করেন।
- হেকটরবধ (১৮৭১) হোমারের 'ইলিয়ড' মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত বঙ্গানুবাদ।
- বীরাঙ্গনা কাব্য (১৮৬২) রমান কবি পাবলিসাস ওভিডিয়াস ন্যাসো এর 'হেরোইদাইদ্‌স' কাব্যের অনুসরণে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'কৃষ্ণকুমারী' নাটক।

১৪,৪২৮.
‘মৌলিক মুখোশ’ কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. গল্প
  2. কবিতা
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতা
ব্যাখ্যা
দ্রোহ ও বিপ্লবের কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর কবিতাগ্রন্থ এটি।
তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ :
- উপদ্রত উপকূল
- ফিরে চাই স্বর্নগ্রাম
- মানুষের মানচিত্র
- দিয়েছিলে সকল আকাশ
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১৪,৪২৯.
বাংলা সাহিত্যে গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক কে ছিলেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

প্রমথ চৌধুরী:
- ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- তিনি বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক।
- সবুজপত্র পত্রিকা সম্পাদনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে চলিতরীতি প্রবর্তন করেন।
- প্রমথ চৌধুরী বাংলা সাহিত্যে বিদ্রূপাত্মক প্রবন্ধিক হিসেবে পরিচিত।
- ছোটোগল্প ও সনেট রচনাতেও হিসেবেও তার বিশিষ্ট অবদান রয়েছে।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদিত পত্রিকা সবুজপত্র।
- চলিত রীতিতে তার প্রথম গদ্যরচনা: বীরবলের হালখাতা।
- প্রমথ চৌধুরি উক্তি: ’সুশিক্ষিত লোক মানে স্বশিক্ষিত’।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:

- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- চার-ইয়ারি কথা।
- নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ।
- আহুতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৪,৪৩০.
‘কালিকলম’ কী ধরনের সাহিত্য পত্রিকা ছিল?
  1. সাপ্তাহিক
  2. মাসিক
  3. দৈনিক
  4. ত্রৈমাসিক
সঠিক উত্তর:
মাসিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাসিক
ব্যাখ্যা
• ‘কালিকলম’ পত্রিকা:
- কালিকলম সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
- প্রথম বছর সম্পাদক ছিলেন - প্রেমেন্দ্র মিত্র; দ্বিতীয় বছর সম্পাদক ছিলেন - শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও মুরলীধর বসু এবং চতুর্থ বছরে সম্পাদক - মুরলীধর বসু।
- প্রত্যেক মাসের ৩০ তারিখে এটি প্রকাশিত হতো। পত্রিকাটির মেয়াদকাল ছিল মাত্র চার বছর।
- সে-সময়ের বিশিষ্ট কবি-সাহিত্যিকগণ কালিকলম কাগজে লিখেছিলেন। পত্রিকাটিতে ছাপা হতো গল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ ও অনুবাদ। পত্রিকাটি পাঠকদের কাছে যাতে আকর্ষণীয় হয়, তার জন্য ‘সংগ্রহ’, ‘চয়নিকা’, ‘বিচিত্রা’, ‘অসংলগ্ন’, ‘চিত্র’ ও ‘সাহিত্যপ্রসঙ্গ’ নামে ফিচার বিভাগ ছিল।
- পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যার প্রথম রচনা ছিল শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক বড় গল্প ‘মহাযুদ্ধের ইতিহাস’। এ ছাড়া তিনি ‘দিদিমণি’ নামে আরেকটি গল্প লিখেছিলেন ছদ্মনামে।
- প্রেমেন্দ মিত্রের উপন্যাস ‘পাঁক’-এর দ্বিতীয় পর্ব ধারাবাহিকভাবে শুরু হয়েছিল কালিকলম-এর প্রথম সংখ্যা থেকে। এ ছাড়া তাঁর ‘মগেরমুল্লুক’ ও ‘মানুষের মানে চাই’ নামে কবিতা প্রকাশিত হয়।
- পত্রিকার দ্বিতীয় সংখ্যায় (জ্যৈষ্ঠ সংখ্যা) প্রকাশিত নজরুল ইসলামের ‘মাধবী প্রলাপ’ কবিতা নিয়ে রক্ষণশীল পাঠক সমাজে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এ কবিতায় দেহজ আবেদন ও অশ্লীল শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।

উল্লেখ্য,
• ঢাকা থেকে ২০০৪ সালে কালি ও কলম - নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪৩১.
‘ওরা কদম আলী’ নাটকটি কে লিখেছেন?
  1. ক) নজিবর রহমান
  2. খ) বদরুদ্দীন ওমর
  3. গ) মামুনুর রশিদ
  4. ঘ) মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
গ) মামুনুর রশিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মামুনুর রশিদ
ব্যাখ্যা
বিশিষ্ঠ নাট্যকার ও শিল্পী মামুনুর রশীদ রচিত উল্লেখযোগ্য নাটকঃ ওরা কদম আলী, ওরা আছে বলেই, মে দিবস, ইবলিশ, এখানে নোঙ্গর, গিনিপিগ, সমতট ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৪৩২.
'দি ফিল্ড অব এমব্রয়ডার্ড কুইল্ট' নামে জসীম উদ্‌দীনের কোন গ্রন্থটি ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে?
  1. বাঙালীর হাসির গল্প 
  2. ধানখেত
  3. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  4. নক্সী কাঁথার মাঠ
সঠিক উত্তর:
নক্সী কাঁথার মাঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নক্সী কাঁথার মাঠ
ব্যাখ্যা
•  নক্সী কাঁথার মাঠ কাব্যটি 'দি ফিল্ড অব এমব্রয়ডার্ড কুইল্ট' ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।

•  নক্সী কাঁথার মাঠ:
- 'নক্সী কাঁথার মাঠ' জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।

- 'নক্সীকাঁথার মাঠ' গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা। দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।

- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি; জসীম উদ্‌দীন তাকে অবলম্বন করেছেন। গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।
- ১৯৩৯ সালে E.M Milford, The Field of the Embroidered Quilt নামে এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।

উল্লেখ্য,
• 'বাঙালীর হাসির গল্প' গ্রন্থটি ফোক টেল্স অব ইষ্ট পাকিস্তান নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।

------------------
• জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪৩৩.
‘চাঁদের পাহাড়’ উপন্যাসে কোন মহাদেশের কাহিনী বর্ণিত আছে?
  1. ক) আফ্রিকা
  2. খ) এশিয়া
  3. গ) আমেরিকা
  4. ঘ) ইউরোপ
সঠিক উত্তর:
ক) আফ্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আফ্রিকা
ব্যাখ্যা
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'চাঁদের পাহাড়'।
- এই উপন্যাসে আফ্রিকা মহাদেশের কাহিনী বর্ণিত আছে।
- এটি বাংলা রোমাঞ্চকর একটি উপন্যাস। 
- 'শঙ্কর' নামক ভারতবর্ষের সাধারণ এক তরুণের আফ্রিকা মহাদেশ জয় করার কাহিনী এতে বর্ণিত আছে। 

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী, 
- অপরাজিত, 
- দৃষ্টিপ্রদীপ, 
- আরণ্যক, 
- বিপিনের সংসার, 
- অশনিসংকেত,
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনীঃ
- অভিযাত্রিক, 
- বনে পাহাড়ে, 
- হে অরণ্য কথা কও ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরিফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল, 
- পুঁইমাচা ইত্যাদি

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৪,৪৩৪.
'উপন্যাসের শিল্পরূপ' গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. রণেশ দাশগুপ্ত
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
রণেশ দাশগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রণেশ দাশগুপ্ত
ব্যাখ্যা
• 'উপন্যাসের শিল্পরূপ' গ্রন্থের রচয়িতা- 'রণেশ দাশগুপ্ত'। 

• রণেশ দাশগুপ্ত: 
- ভারতের আসাম প্রদেশের ডিব্রুগড় শহরে ১৯১২ সালের ১৫ জানুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সাপ্তাহিক সোনার বাংলা পত্রিকার সহকারী সম্পাদক নিযুক্ত হন। 
- ১৯৫৮ সালে ঢাকা পৌরসভার নির্বাচনে রণেশ দাশগুপ্ত কমিশনার নির্বাচিত হন। 

রণেশ দাশগুপ্ত রচিত প্রবন্ধগ্রন্থগুলো: 
- উপন্যাসের শিল্পরূপ,
- শিল্পীর স্বাধীনতার প্রশ্নে, 
-  আলো দিয়ে আলো জ্বালা,
- আয়ত দৃষ্টিতে আয়তরূপ,
- মুক্তিধারা,
- সাম্যবাদী উত্থান প্রত্যাশা: আত্মজিজ্ঞাসা। 

• 'উপন্যাসের শিল্পরূপ' গ্রন্থ আলোচনা: 
- প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ সালে। 
- ২৬ টি পরিচ্ছেদে বিভক্ত গ্রন্থটিতে উপন্যাসের উদ্ভব ও বিকাশ, আঙ্গিক ও গঠন বিষয় ও শৈলী, সর্বোপরি সমাজ পরিবর্তনের সঙ্গে উপন্যাসের সম্পর্ক প্রভৃতি বিষয় নিয়ে মার্কসীয় তত্ত্বের ভিত্তিতে আলোচনা করা হয়েছে। 
- পাকিস্তানি শাসনামলেই এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের রেফারেন্স গ্রন্থ হিসেবে গৃহিত হয়। 

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪৩৫.
'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনের এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তাের বিজয়কেতন।' - উক্তিটি কার?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে অর্ধ - সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে ‘ধূমকেতু' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সম্পাদক। ব্রিটিশ বিরােধী রচনা এখানে ছাপা হতাে।
- নজরুলের কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে' পত্রিকায় প্রকাশ হলে কবিতা ও পত্রিকা উভয়ই ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করে।
- এজন্য নজরুলকে এক বছর কারাবাসও করতে হয়।

রবীন্দ্রনাথ পত্রিকার সাফল্য কামনা করে লেখেন:

'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনের এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তাের বিজয়কেতন।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, লাইভ এমসিকিউ লেকচার -১৬।
১৪,৪৩৬.
'অপরাজিত' উপন্যাস কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'অপরাজিত' উপন্যাস
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত প্রথম উপন্যাস হলো পথের পাঁচালী (১৯২৯)।
- ‘অপরাজিত’ (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খণ্ড।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে মাসিক ‘প্রবাসী’তে প্রথম প্রকাশিত হয়। পুস্তকাকারে উপন্যাসটি দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।
- উপন্যাসটির প্রথমে নামকরণ করা হয়েছিল 'আলোক সারথী'।

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৪৩৭.
'নয়া খান্দান' নুরুল মোমেন রচিত কোন ধরনের নাটক?
  1. সমাজিক নাটক
  2. ঐতিহাসিক নাটক
  3. রাজৗনতিক নাটক
  4. কমেডি নাটক
সঠিক উত্তর:
কমেডি নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমেডি নাটক
ব্যাখ্যা
• 'নয়া খান্দান' নাটক:
- নাটকটি ১৯৬১ সালে রচিত, ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- বংশমর্যাদা ও এ নিয়ে আভিজাত্যের প্রতি শ্লেষ ব্যক্ত হয়েছে এ নাটকে।
- নাট্যকার দেখিয়েছেন- আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিতদের কাছে বংশমর্যাদার চেয়ে সুরুচিই বরং কাম্য। এ সুশিক্ষাই বর্তমান যুগের নতুন বা নয়া খান্দান (আভিজাত্য) হিসেবে পরিচিত।
- এটি একটি কমেডি নাটক।

------------------------
• নুরুল মোমেন:
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়। তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'।

• নুরুল মোমেন এর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রূপলেখা,
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

• তাঁর রচিত রম্যগ্রন্থগুলো হলো:
- বহুরূপা,
- নরসুন্দর,
- হিংটিং ছট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪৩৮.
কোনটি জসীম উদ্‌দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি?
  1. দেশে বিদেশে
  2. হলদে পরীর দেশে 
  3. ভল্‌গার তীরে
  4. ক ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
হলদে পরীর দেশে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হলদে পরীর দেশে 
ব্যাখ্যা

• জসীম উদ্‌দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি - হলদে পরীর দেশে। 

​অন্যদিকে,
- ​দেশে বিদেশে: সৈয়দ মুজতবা আলী।
- ​ভল্‌গার তীরে: নির্মলেন্দু গুণ। 

জসীম উদ্‌দীন:
- ১৯০৩ সালের ১লা জানুয়ারি, ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামের মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা আনসারউদ্দীন মোল্লা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক।
- তিনি ছিলেন প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী।
- ‘পল্লীকবি’ হিসেবে তাঁর বিশেষ ও স্বতন্ত্র পরিচিতি রয়েছে।

​তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নকশী কাঁথার মাঠ।
- সোজন বাদিয়ার ঘাট।
- মাটির কান্না।
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে।
- বালুচর।
- রাখালী (তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে)।
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়।
- বেদের মেয়ে।
- পল্লীবধূ।
- মধুমালা।
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস: ​বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৪৩৯.
'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুর রহমান
  2. খ) মহাদেব সাহা
  3. গ) নির্মলেন্দু গুণ
  4. ঘ) আবুল হাসান
সঠিক উত্তর:
গ) নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতাটির রচয়িতা- নির্মলেন্দু গুণ। 
- এটি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে নিয়ে লেখা কবিতা। 
- কবি এই ভাষণকে কবিতার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

নির্মলেন্দু গুণ 
- ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁকে বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয়। 

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
না প্রেমিক না বিপ্লবী,
চাষাভূষার কাব্য,
দূর হ দুঃশাসন,
ইসক্রা,
মুজিব - লেনিন - ইন্দিরা,
শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর। 
১৪,৪৪০.
'সংকল্প' সাময়িক পত্রিকাটির সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. মোহাম্মদ আকরাম খাঁ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. কাজী আবদুল ওদুদ
  4. এয়াকুব আলী চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
কাজী আবদুল ওদুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
• 'সংকল্প' পত্রিকা:
- কাজী আবদুল ওদুদের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে সংকল্প (১৩৬১) ও তরুণপত্র (১৩৭২) নামে দুটি সাময়িক পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল।
তিনি ছিলেন 'সংকল্প' পত্রিকার সম্পাদক।
- 'তরুণপত্র' পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি।

• কাজী আবদুল ওদুদ: 
- তাঁর জন্ম ১৮৯৪ সালের ২৬ এপ্রিল ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামে।
- ছাত্র অবস্থায়ই তাঁর একটি গল্পগ্রন্থ মীর পরিবার (১৯১৮) এবং উপন্যাস নদীবক্ষে (১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- ঢাকার মুসলিম সাহিত্য-সমাজের (১৯২৬) মুখপত্র শিখার প্রতিটি সংখ্যার পরিকল্পনা ও প্রকাশনায় আবুল হুসেনের সঙ্গে তাঁর সক্রিয় প্রয়াসপ্রযত্ন ছিল।
 - ১৯৭০ সালের ১৯ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

সমাজ ও সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ:
- শাশ্বতবঙ্গ (১৯৫১),
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ,
- নজরুল প্রতিভা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- আজাদ (উপন্যাস), 
- নদীবক্ষে (উপন্যাস), 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
১৪,৪৪১.
'আমি কোনো অভ্যাগত নই
খোদার কসম আমি ভিনদেশী পথিক নই
আমি কোনো আগন্তুক নই' কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? 
  1. ক) দু'হাতে দুই আদিম পাথর
  2. খ) আমি কোন আগন্তুক নই
  3. গ) বিদীর্ণ দর্পণে মুখ
  4. ঘ) মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
সঠিক উত্তর:
ক) দু'হাতে দুই আদিম পাথর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দু'হাতে দুই আদিম পাথর
ব্যাখ্যা
"আমি কোনো অভ্যাগত নই
খোদার কসম আমি ভিনদেশী পথিক নই
আমি কোনো আগন্তুক নই" কবি আহসান হাবীবের 'দু'হাতে দুই আদিম পাথর' (১৯৮০) কাব্যগ্রন্থের 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার অন্তর্গত। 

আহসান হাবীব (১৯১৭-১৯৮৫) রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ - 
- রাত্রিশেষ (১৯৪৭)
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো (১৯৭৬)
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর (১৯৮০)
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ (১৯৮৫)
- সারা দুপুর (১৯৬৪)
- ছায়া হরিণ (১৯৬২) ইত্যাদি। 

তাঁর উপন্যাস -
- অরণ্যে নীলিমা (১৯৬২)
- রানী খালের সাঁকো (১৯৬৫)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৪৪২.
"ধন ধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা"- গানটির রচয়িতা কে?
  1. অতুলপ্রসাদ সেন
  2. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. শেখ ফজলুল করিম
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• "ধন ধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা"- গানটির রচয়িতা 'দ্বিজেন্দ্রলাল রায়'।
- তাঁর রচিত ঐতিহাসিক 'সাজাহান' নাটকে এই গানটি পাওয়া যায়।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়: 

- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে ‘Lyrics of Ind’ (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণ-জাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধন ধান্য পুষ্প ভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ঐতিহাসিক নাটকগুলো হলো:
 - তারাবাঈ,
 - প্রতাপ সিংহ,
 - দুর্গাদাস,
 - নূরজাহান,
 - মেবার পতন,
 - সাজাহান,
 - চন্দ্রগুপ্ত,
 - সিংহলবিজয় ইত্যাদি।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটকগুলো হলো:
 - পরপারে,
 - বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৪৪৩.
‘চরিত্রহীন’ উপন্যাসের দুটি প্রধান নারী চরিত্র কোনগুলো?
  1. স্নিগ্ধা ও মীনাক্ষী
  2. স্বপনারা ও দীপ্তিময়ী
  3. কিরণমালা ও অনিতা
  4. সাবিত্রী ও কিরণময়ী
সঠিক উত্তর:
সাবিত্রী ও কিরণময়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাবিত্রী ও কিরণময়ী
ব্যাখ্যা

‘চরিত্রহীন’ উপন্যাসের দুটি প্রধান নারী চরিত্র হচ্ছে সাবিত্রী ও কিরণময়ী। 

চরিত্রহীন
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত চরিত্রহীন উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে।
- এটি প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারী-পুরুষের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে রচিত।
- উপন্যাসের নামেই এর মূল ভাব প্রকাশ পেয়েছে।
- গল্পটিতে মোট চারটি নারী চরিত্র আছে, যার মধ্যে দুটি প্রধান চরিত্র হলো সাবিত্রী এবং কিরণময়ী।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস বড়দিদি ১৯০৭ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম মন্দির, এবং এই গল্পের জন্য তিনি ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস পথের দাবী ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়, যা ব্রিটিশ সরকার দ্বারা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- পরিণীতা, 
- চন্দ্রনাথ, 
- দেবদাস, 
- চরিত্রহীন, 
- দেনা-পাওনা, 
- বড়দিদি, 
- বিরাজবৌ, 
- পণ্ডিতমশাই, 
- গৃহদাহ, 
- পথের দাবী, 
- শেষ প্রশ্ন, 
- শেষের পরিচয়, ইত্যাদি। 

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া। 

১৪,৪৪৪.
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) কলমের চোখ
  2. খ) পরিত্যক্ত স্বামী
  3. গ) আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
  4. ঘ) এলোমেলো
সঠিক উত্তর:
খ) পরিত্যক্ত স্বামী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পরিত্যক্ত স্বামী
ব্যাখ্যা
• আবু জাফর শামসুদ্দীন মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শিরোনামে দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় কলাম লিখতেন।
- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পরিত্যক্ত স্বামী' (১৯৪৭)। এটি তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্পও।
- আবু জাফর শামসুদ্দীন মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শিরোনামে দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় কলাম লিখতেন।

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৪৪৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'কাবুলিওয়ালা' ছোটগল্পের প্রধান চরিত্র কোনটি?
  1. মেহের আলি
  2. রহমত শেখ
  3. হবির খাঁ
  4. ইশা খাঁ
সঠিক উত্তর:
রহমত শেখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রহমত শেখ
ব্যাখ্যা

• 'কাবুলিওয়ালা' ছোটগল্প: 
- কাবুলিওয়ালা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- গল্পটি ১৮৯২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গল্পের প্রধান চরিত্র- রহমত শেখ। 

কাবুলিওয়ালা গল্পের সংক্ষিপ্ত সারাংশ:
রহমত শেখ একজন আফগানের কাবুল থেকে বাংলায় আগত ফল বিক্রেতা। ফল বিক্রি করতে সে কলকাতায় আসে। লেখকের পাঁচ বছরের ছোট্ট মেয়ে মিনির সঙ্গে তার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। মিনির সঙ্গে কথা বলতে বলতে রহমতের মনে পড়ে তার কাবুলে থাকা নিজের ছোট মেয়ের কথা। মিনিকে সে নিজের মেয়ের মতোই স্নেহ করে, ফল-বাদাম দেয়, আর দুজনের মধ্যে মধুর সম্পর্ক তৈরি হয়।

কিন্তু একদিন ঝগড়ার জেরে রহমত একজনকে ছুরি মেরে ফেলে। আদালতে সে অপরাধ স্বীকার করে, ফলে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়।কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার পর রহমত মিনির বাড়িতে যায়। ততদিনে মিনি বড় হয়ে গেছে- চৌদ্দ বছরের যুবতী, তার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। মিনি তাকে আর চিনতে পারে না। রহমত বুঝতে পারে, তার নিজের মেয়েও নিশ্চয়ই তাকে ভুলে গেছে। শেষে মিনির বাবা (লেখক) রহমতকে তার দেশে ফেরার টাকা দেন এবং তার মেয়ের জন্য একটা উপহার (মিনির হাতের ছাপসহ) পাঠান।

অন্যদিকে, 
• 'মেহের আলি' হচ্ছে 'ক্ষুধিত পাষাণ' ছোটগল্পের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র। 
• 'মুসলমানীর গল্প'র প্রধান চরিত্র হলো হবির খাঁ, যিনি একজন উদার, ধর্মপ্রাণ ও শ্রদ্ধেয় মুসলমান, যিনি জাতপাতের ঊর্ধ্বে উঠে বিপন্ন হিন্দু কন্যা কমলা-কে রক্ষা করেন, যা তৎকালীন ধর্মীয় সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথের একটি শক্তিশালী বার্তা ছিল।
• ইশা খাঁ 'মুকুট' ছোটগল্পের অন্তর্ভুক্ত একটি চরিত্র। 

উৎস: 'কাবুলিওয়ালা' ছোটগল্প; বাংলাপিডিয়া এবং 'ক্ষুধিত পাষাণ' ছোটগল্প। 

১৪,৪৪৬.
জাহানারা ইমাম রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. সাতটি তারার তিমির
  2. বুকের ভিতর আগুন
  3. ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস
  4. একাত্তরের দিনগুলি
সঠিক উত্তর:
সাতটি তারার তিমির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাতটি তারার তিমির
ব্যাখ্যা
• 'সাতটি তারার তিমির' কাব্যগ্রন্থটি জাহানারা ইমাম রচনা করেন নি।
- কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা - জীবনানন্দ দাশ।

• জাহানারা ইমাম:

- জাহানারা ইমাম 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- তিনি ১৯৯২ সালে 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি'র আহবায়ক হন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।

• তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪৪৭.
দীনবন্ধু মিত্র রচিত নাটক কোনটি?
  1. নীল দর্পণ
  2. জমিদার দর্পণ
  3. বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  4. রত্নাবতী
সঠিক উত্তর:
নীল দর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীল দর্পণ
ব্যাখ্যা
• দীনবন্ধু মিত্র:
- ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।
- দীনবন্ধু মিত্র ১লা নভেম্বর ১৮৭৩ মৃত্যবরণ করেন।

• দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল দর্পণ,
- নবীন তপস্বিনী,
- লীলাবত,
- কমলে কামিনী।

অন্যদিকে,
- জমিদার দর্পণ ও রত্নাবতী মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক।
- বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ মাইকেল মধুসূদন রচিত প্রহসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
১৪,৪৪৮.
শহীদুল্লা কায়সার রচিত মহাকাব্যিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) সারেং বৌ
  2. খ) সংশপ্তক
  3. গ) মহাশ্মশান
  4. ঘ) রক্তাক্ত প্রান্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সংশপ্তক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সংশপ্তক
ব্যাখ্যা
শহীদুল্লা কায়সার রচিত মহাকাব্যিক উপন্যাস 'সংশপ্তক' (১৯৬৫)।
- সংশপ্তক কথাটির অর্থ - যে সৈনিকেরা জীবনমরণ পণ করে যুদ্ধে লড়ে।
- লেখক এ ধরনের চেতনাকে ধারণ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্ববর্তী কাল থেকে বায়ান্নত ভাষা আন্দোলনের পূর্বকাল অবধি বাংলাদেশের সামাজিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ও রূপান্তর কে কেন্দ্র করে এই উপন্যাস রচনা করেছেন৷
- তাই একে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।
  
তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ 
- সংশপ্তক 
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়, 
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা, 
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৪৪৯.
ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক 'শব্দতত্ত্ব' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'শব্দতত্ত্ব':
- শব্দ ও ভাষা সংক্রান্ত ধ্বনিবিজ্ঞানের উপর লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গ্রন্থ হলো- 'শব্দতত্ত্ব'।
- 'শব্দতত্ত্ব' বইটিতে রবীন্দ্রনাথের প্রায় সারাজীবনের ভাষাচিন্তা, মতান্তর, বিশ্লেষণ-প্রবণতা, ধারণার বিবর্তন ইত্যাদি মুদ্রিত হয়ে আছে।
- মূলত এখানে বাংলাভাষার স্বভাব ও স্বাতন্ত্র্য আবিষ্কারের চেষ্টা করা হয়েছে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধগ্রন্থ হলো:
- কালান্তর,
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- শিক্ষা,
- সভ্যতার সংকট,
- মানুষের ধর্ম।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি  সাধনা, ভারতি, বঙ্গদর্শন পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য সংকলন সঞ্চয়িতা। 
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪৫০.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত বাংলাদেশের রণসঙ্গীতটি প্রথম কী নামে  প্রকাশিত হয়েছিলো?
  1. চল্ চল্‌ চল্‌
  2. জাগরণের গান
  3. নতুনের গান
  4. বিদ্রোহের গান
সঠিক উত্তর:
নতুনের গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নতুনের গান
ব্যাখ্যা

রণসঙ্গীত:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের রচয়িতা।
- রণসঙ্গীত হিসেবে মূল কবিতাটির ২১ চরণ গৃহীত।
- রণসঙ্গীতটি ‘নতুনের গান' শিরোনামে ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় ১৯২৮ (১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। পরে এর নাম হয় 'চল্ চল্‌ চল্‌'।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থে এই সঙ্গীতটি অন্তর্ভুক্ত আছে।

সঙ্গীতটির কিছু চরণ:
‘চল্ চল্ চল্!/ ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণী-তল,/ অরুণ প্রাতের
তরুণ দল-’

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।  বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ, কাজী নজরুল ইসলাম।

১৪,৪৫১.
কোনটি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. ক) কবি ও তিমি
  2. খ) উত্তরফাল্গুনী
  3. গ) মন ও জীবন
  4. ঘ) এখানে এখন
সঠিক উত্তর:
খ) উত্তরফাল্গুনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উত্তরফাল্গুনী
ব্যাখ্যা
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (৩০ অক্টোবর ১৯০১ - ২৫ জুন ১৯৬০) বাংলা ভাষার একজন প্রধান আধুনিক কবি।
- বিংশ শতকের ত্রিশ দশকের যে পাঁচ জন কবি বাংলা কবিতায় রবীন্দ্র প্রভাব কাটিয়ে আধুনিকতার সূচনা ঘটান তাদের মধ্যে সুধীন্দ্রনাথ অন্যতম।
- তাকে বাংলা কবিতায় 'ধ্রুপদী রীতির প্রবর্তক' বলা হয়।

সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ ছয়টি -
- তন্বী (১৯৩০),
- অর্কেষ্ট্রা (১৯৩৫),
- ক্রন্দসী (১৯৩৭),
- উত্তরফাল্গুনী (১৯৪০),
- সংবর্ত (১৯৫৩),
- দশমী (১৯৫৬)।

এছাড়াও তাঁর দুটি প্রবন্ধ গ্রন্থ আছে -
- স্বগত (১৯৩৮),
- কুলায় ও কালপুরুষ (১৯৫৭)।

তাঁর অনুবাদগ্রন্থ- প্রতিধ্বনি( ১৯৫৪)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৪৫২.
‘মুখরা রমণী বশীকরণ’ নাটকটি কোন বিদেশি নাটকের বাংলা অনুবাদ?
  1. Othello
  2. Macbeth
  3. The Taming of the Shrew
  4. The Comedy of Errors
সঠিক উত্তর:
The Taming of the Shrew
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The Taming of the Shrew
ব্যাখ্যা

'মুখরা রমণী বশীকরণ' নাটক:
- মুনীর চৌধুরী উইলিয়াম শেক্সপিয়রের The Taming of The Shrew (টেমিং অব দি শ্রু ) অনুবাদ করেন 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নামে (১৯৭০)। এটি পাঁচ অঙ্ক বিশিষ্ট কমেডি। ।
- পদুয়া নামক স্থানের এক ধনী ব্যাপ্তিস্তার দুই কন্যা ক্যাথেরিনা ও বিয়াঙ্কা। ক্যাথেরিনা খুবই মুখরা নারী, বিয়াঙ্কা সুন্দরী। ভেরােনা নামক স্থানের যুবক পেট্রুশিও ক্যাথেরিনার দর্প চূর্ণ করে তার পাণিগ্রহণ করে।
- মুনীর চৌধুরী নিজেই বলেছেন :কাহিনিটি স্থুল। কিন্তু এতে যে হাস্যরস আছে তা সতেজ, সরস ও উপভােগ্য।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৪৫৩.
উপমহাদেশের কোন কবি ব্রিটিশ বিরোধিতার কারণে সর্ব-প্রথম কারাবন্দী হন?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী: 
-  একজন কবি, কৃষক নেতা ও রাজনীতিবিদ।
-  তার জন্ম ১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই বর্তমান সিরাজগঞ্জের বাণীকুঞ্জে। 
-  আধুনিক চিন্তা-চেতনায় অগ্রসর করার জন্য মুসলিমদের মধ্যে বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষার প্রচলন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, নারীশিক্ষা আন্দোলন, কৃষক প্রজার দুর্দশামোচন ইত্যাদি বহুমুখী -  কর্মকাণ্ডে তিনি নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছিলেন।
-  তিনি হিন্দু-মুসলান সমতা নিয়ে অসংখ্য কাজ করেছেন।
-  ব্রিটিশ সরকার তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ৮২ বার ১৪৪ ধারা জারি করেছিল।
-  ১৯১৯ সালের দিকে মাসিক নূর নামে একটি পত্রিকা বের করেন। 
-  ১৯৩১ সালের ১৭ জুলাই মাত্র ৫১ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

♦♦ সাহিত্যকর্ম: 
- তাঁর প্রথম রচনা ‘অনল-প্রবাহ’ কাব্যগ্রন্থটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- উপমহাদেশের প্রথম কবি হিসেবে তিনি কারাবন্দী হন। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। 

- অনল প্রবাহে তিনি লিখেছিলেন—
‘আর ঘুমিও না নয়ন মেলিয়া
উঠরে মোসলেম উঠরে জাগিয়া,
আলস্য জড়তা পায়েতে ঠেলিয়া,
পূত বিভু নাম স্মরণ করি।’

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতাঞ্জলি’ গীতিকাব্যকে অনুসরণ করে সিরাজী রচনা করেছিলের ‘প্রেমাঞ্জলি’ গীতিকাব্য। 

♦ কাব্যগ্রন্থ: 
-  অনল-প্রবাহ, 
-  আকাঙ্ক্ষা, 
-  স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

♦ উপন্যাস: 
-  রায়নন্দিনী, 
-  তারাবাঈ, 
-  বঙ্কিম দুহিতা ইত্যাদি।

♦ সঙ্গীত গ্রন্থ: 
-  সঙ্গীত সঞ্জীবনী, 
-  প্রেমাঞ্জলি।

♦ প্রবন্ধ:
-  স্ত্রীশিক্ষা,
-  আদব কায়দা শিক্ষা ইত্যাদি।

♦ ভ্রমণ কাহিনী:
-  তুরস্ক ভ্রমণ।

তথ্যসূত্র - ১. বাংলাপিডিয়া,
২. ডেইলি স্টার বাংলা।
১৪,৪৫৪.
১৯৯৪ সালে যে প্রবন্ধকার বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন-
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. আহমদ শরীফ
  3. ওয়াকিল আহমদ
  4. আব্দুল মতিন খান
সঠিক উত্তর:
ওয়াকিল আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়াকিল আহমদ
ব্যাখ্যা
• ওয়াকিল আহমদ:
অধ্যাপক ওয়াকিল আহমেদের জন্ম ৫ এপ্রিল ১৯৪১ সালে।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
১. উনিশ শতকে বাঙালি মুসলমানের চিন্তা ও চেতনার ধারা (১৯৮৩),
২. বাংলার লোক-সংস্কৃতি (১৯৭৪, ৩য় সং ২০০৪),
৩. বাংলা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান (১৯৯৫, ৩য় সং),
৪. বাংলা সাহিত্যের পরাবৃত্ত (অখণ্ড, ১৯৯৭),
৫. মধ্যযুগে বাংলা কাব্যের রূপ ও ভাষা (১৯৯৪),
৬. বাংলার মুসলিম বুদ্ধিজীবী (১৯৮৫, ২০০২ ২য় সং),
৭. বাংলায় বিদেশী পর্যটক (১৯৯১, ২য় সং),
৮. প্রবাদ ও প্রবচন (১৯৯৪),
৯. ধাঁধা (১৯৯৫),
১০. মন্ত্র (১৯৯৫),
১১. ভাওয়াইয়া (১৯৯৫),
১২. ভাটিয়ালি গান (১৯৯৭),
১৩. সারিগান (১৯৯৮),
১৪. বাংলা লোকসাহিত্য: ছড়া (১৯৯৮),
১৫. বাউল গান (২০০০),
১৬. লোককলা প্রবন্ধাবলী (২০০১, ২য় সং ২০০৫)
১৭. লালন গীতি সমগ্র (২০০২, ২য় সং ২০০৫) ১
৮. বাংলার রেনেসাঁ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ (২০০৪),
১৯. বাংলা লোকসংগীতের ধারা (২০০৬),
২০. বাংলা লোকসাহিত্যের ধারা (২০০৭)। 

• সম্পাদক:
১. সাহিত্য পত্রিকা, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়;
২. বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি পত্রিকা;
৩. ইতিহাস, বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদ;
৪. লৌকিক বাংলা, বাংলাদেশ ফোকলোর পরিষদ, ঢাকা।

• পুরস্কার:
১. মনিরুদ্দিন রৌপ্যপদক (১৯৬২), কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়;
২. আবদুর রব চৌধুরী স্বর্ণপদক (১৯৮০), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়;
৩. ইতিহাস পরিষদ পুরস্কার (১৯৮৬), বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদ;
৪. সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৪), বাংলা একাডেমি;
৫. দীনেশচন্দ্র সেন স্মৃতি স্বর্ণপদক (২০০২) কলকাতা;
৬. একুশে পদক (২০০৪) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।


উৎস:‘লোককলা তত্ত্ব ও মতবাদ’ গ্রন্থ এবং বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
১৪,৪৫৫.
কল্লোল সাহিত্যগোষ্ঠীর লেখক ছিলেন-
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. বিষ্ণু দে
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
'কল্লোল' পত্রিকা ও কল্লোল সাহিত্যগোষ্ঠী:
• ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক ‘কল্লোল’ প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
• এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র সাহিত্যিক বলয় তৈরী হয়েছিল এবং ‘কল্লোল যুগ’ নামে আলাদা একটি যুগের সৃষ্টি হয়।
• কল্লোল যুগের একটি প্রধান বৈশিষ্ট ছিল রবীন্দ্র বিরোধিতা।
• যে সময়ে কল্লোলের আবির্ভাব, তখন বাংলা সাহিত্যের সর্বকোণ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাবে প্রোজ্জ্বল।
• কল্লোল যুগের লেখকদের মূল লক্ষ্য ছিল রবীন্দ্র বৃত্তের বাইরে এসে সাহিত্যর একটি মৃত্তিকাসংলগ্ন জগৎ সৃষ্টি করা।
• মূলত বাংলা কবিতায় গদ্যধারার প্রবর্তন শুরু হয় কল্লোল যুগেই।

• কবিতার ক্ষেত্রে যাদের নাম কল্লোল যুগের শ্রেষ্ঠ নায়ক বিবেচনায় প্রচারিত তারা হলেন কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু, অমিয় চক্রবর্তী, জীবনানন্দ দাশ, বিষ্ণু দে। এই পাঁচজন বিশিষ্ট কবিকে একসাথে বলা হয় বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপাণ্ডব। এ পঞ্চপাণ্ডবই ছিলেন মূলত কল্লোল যুগের কাণ্ডারি।

• তবে কাজী নজরুল ইসলাম, প্রেমেন্দ্র মিত্র, অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, সঞ্জয় ভট্টাচর্য, অবনীনাথ রায় প্রমুখ অনেকেরই ভূমিকা কোন অংশে খাটো করে দেখবার উপায় নেই।

-----------------------
• বিষ্ণু দে:

- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪৫৬.
“স্বপ্নসাধ” গ্রন্থটি কার লেখা?
  1. ক) ইব্রাহিম খাঁ
  2. খ) আবুল হাসান
  3. গ) হুমায়ুন কবীর
  4. ঘ) কাজী আব্দুল ওদুদ
সঠিক উত্তর:
গ) হুমায়ুন কবীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হুমায়ুন কবীর
ব্যাখ্যা

• হুমায়ুন কবির রাজনীতিবিদ, লেখক ও দার্শনিক ছিলেন।
• ১৯৪৫ সালে তাঁর 'নদী ও নারী' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
• একই বছর 'Men and Rivers' নামে এর একটি ইংরেজি সংস্করণও প্রকাশিত হয়।
• এ উপন্যাসে তিনি পদ্মা নদীর পরিবেশে বাঙালি মুসলমান সমাজজীবনের একটি নিখুঁত চিত্র উপস্থাপন করেছেন।
• ১৯৬৫ সালে ঢাকায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়িত হয়।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- স্বপ্নসাধ,
- সাথী ও
- অষ্টাদশী।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪,৪৫৭.
আবুল কালাম শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. পূর্বাশা
  2. দৈনিক আজাদ
  3. সমকাল
  4. কণ্ঠস্বর 
সঠিক উত্তর:
দৈনিক আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈনিক আজাদ
ব্যাখ্যা

• 'দৈনিক আজাদ' আবুল কালাম শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা।

আবুল কালাম শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা সমূহ:
- ​১৯২২ সালে মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক হিসেবে তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। 
​- পরে তিনি সাপ্তাহিক মোসলেম জগৎ, দি মুসলমান, দৈনিক সোলতান, মাসিক মোহাম্মদী প্রভৃতি পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- সওগাত পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে (১৯২৬) কর্মরত ছিলেন।
- দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে ১৯৩৬ সালে যোগ দেন এবং দীর্ঘ বাইশ বছর সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে,
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র 'সমকাল'।
- "কণ্ঠস্বর" পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪,৪৫৮.
ক্ষুদ্র জাতিগােষ্ঠী নিয়ে লেখা উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র'
  2. খ) ‘ক্ষুধা ও আশা’
  3. গ) ‘কর্ণফুলি’
  4. ঘ) ‘ধানকন্যা’
সঠিক উত্তর:
গ) ‘কর্ণফুলি’
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ‘কর্ণফুলি’
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদ:
বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব। নগরজীবনের কৃত্রিমতা, রাজনীতিক সংগ্রাম, নিপীড়ন, প্রতারণা তিনি তাঁর কথাসাহিত্যের বিষয়বস্তু করেছেন।

তার রচিত বিখ্যাত উপন্যাস কর্ণফুলী।
- উপন্যাসটির প্রকাশকাল - ১৯৬২ সাল।
- এই উপন্যাসে বিশেষ অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাপনের বর্ণনা রয়েছে।
কাহিনী সংক্ষেপ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদের 'কর্ণফুলী' পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস।
- আদিবাসি (ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী) রাঙামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবন যাপন ও প্রণয় উপন্যাসে বর্ণিত।
- ইসমাইল চোরাকারবারি, উচ্চাভিলাসী। সে আদিবাসি তরুণী রাঙালিমার প্রতি আকৃষ্ট হয়।

লেখকের অন্যান্য উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০),
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন (১৯৬২),
- ক্ষুধা ও আশা (১৯৬৪),
- খসড়া কাগজ (১৯৮৬),
- স্বপ্নশিলা (১৯৯২),
- বিশৃঙ্খলা (১৯৯৭)।

তার তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসটি 'বসুন্ধরা’ নামে চলচ্চিত্রায়িত হয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে (১৯৭৭ সালে
পুরস্কার পায়)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৪৫৯.
গিরিশচন্দ্র সেন ছিলেন-
  1. অনুবাদক ও নাট্যকার
  2. অনুবাদক ও ঔপন্যাসিক
  3. ধর্মবেত্তা ও কবি
  4. ধর্মবেত্তা ও অনুবাদক
সঠিক উত্তর:
ধর্মবেত্তা ও অনুবাদক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মবেত্তা ও অনুবাদক
ব্যাখ্যা
 • গিরিশচন্দ্র সেন:
- নরসিংদী জেলার পাঁচদোনা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ধর্মবেত্তা ও অনুবাদক।
- তিনি 'সুলভ সমাচার' ও 'বঙ্গবন্ধু' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক এবং 'মাসিক মহিলা' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- কেশবচন্দ্র সেন ও বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর প্রভাবে ১৮৭১ সালে তিনি ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন।
- কুরআনের বঙ্গানুবাদ বাংলা সাহিত্যে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- বাংলা ভাষায় প্রথম কুরআন শরীফের সার্থক ও পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন তিনি।
- সকলের নিকট তিনি ‘ভাই গিরিশচন্দ্র’ নামে পরিচিত ছিলেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
• তাপসমালা:
- গিরিশচন্দ্রের বিখ্যাত গ্রন্থ তাপসমালা।
- এটি ৯৬ জন ওলি-আউলিয়ার জীবনচরিত, যা শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের ফারসি ভাষায় রচিত তায্কেরাতুল আত্তলিয়ার ভাবাদর্শে রচিত।

• তত্ত্বরত্নমালা:
- গিরিশচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য আরেকটি গ্রন্থ হলো তত্ত্বরত্নমালা।
- এটি শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের মানতেকুত্তায়েব ও মওলানা জালালউদ্দীন রূমীর মসনবী শরীফ নামক প্রখ্যাত ফারসি গ্রন্থদ্বয় থেকে সংকলিত।
- এতে নীতিকথা ও শিক্ষণীয় বিষয় ছোট ছোট গল্পের আকারে রসাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

 এছাড়াও তিনি হাদিস-পূর্ব বিভাগ শিরোনামে মিশ্কাত শরীফের প্রায় অর্ধাংশের অনুবাদ প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪৬০.
নিচের কোনটি দাউদ হায়দার রচিত কাব্য?
  1. ক) মা যে জননী কান্দে
  2. খ) জন্মই আমার আজন্ম পাপ
  3. গ) ঝরা পালক
  4. ঘ) বিরহ বিলাপ
সঠিক উত্তর:
খ) জন্মই আমার আজন্ম পাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জন্মই আমার আজন্ম পাপ
ব্যাখ্যা
- কবি, লেখক ও সাংবাদিক দাউদ হায়দার রচিত কাব্য- জন্মই আমার আজন্ম পাপ

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- এই শাওনে এই পরবাসে।
- আমি ভাল আছি তুমি।
- পাথরের পুঁথি।

অন্যান্য অপশনগুলো:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত একটি কাব্য- ঝরা পালক।
- পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীন রচিত কাব্য- মা যে জননী কান্দে।
- কায়কোবাদ রচিত একটি কাব্য- বিরহ বিলাপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪৬১.
'জীবন-বন্দনা' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) নজরুল ইসলাম
  2. খ) গোলাম মোস্তফা
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
ক) নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
'জীবন-বন্দনা' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত। ''চলেছে চন্দ্র-মঙ্গল-গ্রহে স্বর্গে অসীমাকাশে, যারা জীবনের পসরা বহিয়া মৃত্যুর দ্বারে দ্বারে।''
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৪৬২.
‘আর কতদিন’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4. জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
'আর কতদিন' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজ ব্যবস্থার চিত্র পাওয়া যায় জহির রায়হান রচিত 'আর কতদিন' উপন্যাসে।
- যুদ্ধকালীন বাস্তবতা, লাঞ্ছিত মানবতার আর্তি, ও শান্তির স্বপক্ষে জোরালো আবেদন জানিয়ে, জহির রায়হানের 'আর কতদিন' উপন্যাসটি ১৯৭০ সালে প্রথম প্রকাশ পায়।
- গ্রন্থটির প্রকাশকাল ও ঘটনা বিন্যাসের আলোকে নবুঝতে পারা যায় যে মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজিক রাজনৈতিক আন্দোলন মুখর প্রেক্ষাপটে আসন্ন যুদ্ধের একটি ভয়াবহ সম্ভাবনা লেখপক মনে উদয় হয়েছিল।

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৪৬৩.
"পঞ্চভূত" গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

'পঞ্চভূত' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'পঞ্চভূত' (১৮৯৭) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরর চিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধগুলি সাধনা পত্রিকায় 'পঞ্চভূতের ডায়ারি' নামে ছাপা হয়।
- ক্ষিতি, স্রোতস্বিনী, দীপ্তি, সমীর ও গগন এই পাঁচটি চরিত্রের মধ্যে আলোচনার রীতিতে মূলত তত্ত্ব বিষয়ক সমস্যার সরস ও গভীর বিশ্লেষণ।
- পত্রিকায় প্রকাশের সময় লেখকের নাম ছাপা হতো: 'লেখক ভূতনাথ বাবু'।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশের সময় পত্রিকার কিছু অংশ বর্জিত হওয়ায় এর অন্তরঙ্গতা কমেছে। এই গ্রন্থের 'গদ্য ও পদ্য' প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ পদ্যচ্ছন্দের উৎপত্তি বিষয়ে যে মন্তব্য করেছেন, আধুনিক ভাষাবিজ্ঞান এখন সে কথাই বলছে।
-আসলে পঞ্চভূতের 'ডায়েরি'র মধ্যে সহজ সরল ভাষায় মনোহর ভঙ্গিতে অনেক গভীর কথা আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৪৬৪.
‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ কোন গ্রন্থের অনুসরণে লেখা হয়েছে?  
  1. বিষাদ সিন্ধু
  2. পদ্মা নদীর মাঝি
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. মহাশ্মশান
সঠিক উত্তর:
মহাশ্মশান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাশ্মশান
ব্যাখ্যা

• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’: 
- মুনীর চৌধুরীর উল্লেখযোগ্য নাটক ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ ১৭৬১ সালের পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- নাটকটি কায়কোবাদের ‘মহাশ্মশান’ কাব্য থেকে অনুপ্রাণিত।
- এই নাটকে তিনি যুদ্ধবিরোধী চেতনা, সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে মানবিক প্রেম এবং যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরেছেন।
- নাটকের মূল বার্তা হলো—যুদ্ধ কখনো প্রকৃত বিজয় আনে না;
- বরং এটি মানবজীবনের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি।
------------------------------------------
মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক, ভাষাবিজ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবী।
- তিনি তৎকালীন ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জ শহরে ২৭ নভেম্বর ১৯২৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তিনি পাকিস্তান সরকারের হাতে বন্দী হন।
- কারাগারে থাকাকালীনই তাঁর বিখ্যাত নাটক ‘কবর’ (১৯৫৩) রচনা করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী আল-বদর বাহিনী তাঁকে তাঁর বাড়ি থেকে অপহরণ করে এবং সেদিনই তাঁকে হত্যা করা হয়।

• মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১৪,৪৬৫.
কুলীন কুলসর্বস্ব নাটকটি কার লেখা?
  1. ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. খ) দীনবন্ধু মিত্র
  3. গ) রামনারায়ণ তর্করত্ন
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
গ) রামনারায়ণ তর্করত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রামনারায়ণ তর্করত্ন
ব্যাখ্যা
বাংলা মৌলিক নাটক রচয়িতা হিসেবেই রামনারায়ণের মুখ্য পরিচয়। বাংলা ভাষায় প্রথম বিধিবদ্ধ নাটক রচনার জন্য তিনি ‘নাটুকে রামনারায়ণ’ নামে পরিচিত ছিলেন। কুলীনকুলসবর্বস্ব (১৮৫৪) তাঁর প্রথম ও শ্রেষ্ঠ নাটক। এতে হিন্দুসমাজে বহুবিবাহ প্রথার কুফল সম্পর্কে বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
১৪,৪৬৬.
'জীবনক্ষুধা' উপন্যাসের রচয়িতা কে
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. আবদুল্লাহ আল মুতী
  4. আবদুল্লাহ আল মামুন
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'জীবনক্ষুধা' উপন্যাসের রচয়িতা আবুল মনসুর আহমদ।
- উপন্যাসটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত হয়। 

অন্যদিকে, 
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসে একদিকে মৃত্যু অন্যদিকে ক্ষুধার জ্বালা দেখানো হয়েছে।

-------------------
• আবুল মনসুর আহমদ:
- আবুল মনসুর আহমদ ছিলেন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও একজন সাহিত্যিক।
- তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে।
- তিনি দি মুসলমান পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন ১৯২৬ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত।
- আবুল মনসুর ১৯৩৮ সালের ডিসেম্বর মাসে দৈনিক কৃষক পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রূপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স,
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪৬৭.
”প্রিয়তমেষু” গ্রন্থের লেখক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. শহীদুল হক
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদ:
 - তিনি একাধারে কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে।
- শৈশবে হুমায়ূন আহমেদের নাম ছিল শামসুর রহমান।
- ১৯৭০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন শাস্ত্রে প্রথম শ্রেণিতে বিএসসি (সম্মান) এবং ১৯৭২ সালে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন।
- ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ময়মনসিংহ) প্রভাষক হিসেবে শুরু হয় হুমায়ূন আহমেদের কর্মজীবন।
- ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন।
- ছাত্রজীবনে লেখা নন্দিত নরকে শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।

• তার রচিত গ্রন্থ:
- নীল অপরাজিতা।
- প্রিয়তমেষু,
- ময়ূরাক্ষী,
- নিশিকাব্য,
- দূরে কোথাও, ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসঃ
- আগুনের পরশমণি,
- অনিল বাগচীর একদিন,
- সূর্যের দিন, শ্যামল ছায়া,
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- ১৯৭১ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- এই সব দিনরাত্রি,
- আমার আছে জল,
- নক্ষত্রের রাত,
- ফেরা,
- বহুব্রীহি,
- গৌরীপুর জংশন,
- শ্রাবণ মেঘের দিন,
- দুই দুয়ারী,
- কোথাও কেউ নেই,
- বৃষ্টি বিলাস,
- বাদশাহ নামদার,
- মেঘের ওপর বাড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪৬৮.
‘বকুলপুরের স্বাধীনতা’ মমতাজউদদীন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক -
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. গল্প
  4. দিনলিপি
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা
মমতাজউদদীন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কয়েকটি নাটক:
- বর্ণচোর,
- বকুলপুরের স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল,
- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ইত্যাদি।

মমতাজউদদীন আহমদ:
- মমতাজউদদীন আহমদ মূলত একজন বিখ্যাত নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধোত্তর সমাজ বাস্তবতাকে অবলম্বন করে রচিত হয়েছে তাঁর নাট্যভুবন। আঙ্গিকগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, বরং হাস্য-কৌতুকময় বিষয়বস্তুর মাধ্যমে জীবনের কোনো গভীরতর সত্যের সন্ধানই মমতাজউদদীন আহমদের নাট্যসাহিত্যের প্রধান প্রবণতা।

তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক:
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল,
- হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার,
- প্রেম,
- বিবাহ সুটকেস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪৬৯.
'মর্নিং নিউজ' পত্রিকার সাংবাদিকতার মধ্যদিয়ে চাকরি জীবন শুরু করেন কে?
  1. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. শামসুর রাহমান
  3. আহমদ ছফা
  4. ইমদাদুল হক মিলন
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান:
⇒ নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানা থেকে আরেকটু ভেতরে মেঘনাপাড়ের গ্রাম পাড়াতলী- কবি শামসুর রাহমানের পৈতৃক নিবাস। তবে জন্মেছিলেন ঢাকা শহরের ৪৬ নম্বর মাহুতটুলির বাড়িতে। দশ ভাইবোনের মধ্যে জ্যেষ্ঠ তিনি।

⇒ ১৯৪৮ সালে যখন তার বয়স মাত্র ১৯ বছর তখন মননের গহীন তলাটে কবিতার যে আবাদভূমি গড়ে উঠেছিল- তা কেবল উর্বরই হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে নলিনীকিশোর গুহের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় প্রথম কবিতা- তারপর দে ছুট। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় নি। এখন গদ্য-পদ্য মিলিয়ে তার গ্রন্থসংখ্যা প্রায় একশ'র কোঠা ছুঁই ছুঁই।

⇒ 'মর্নিং নিউজ'-এ সাংবাদিকতার মধ্যদিয়ে ১৯৫৭ সালে যে চাকরি জীবন শুরু করেছিলেন, একই পেশায় থেকে ১৯৮৭ সালে দৈনিক বাংলার সম্পাদক পদ থেকে তিনি চাকরিতে ইস্তফা দেন।
⇒ মূলত কবি হলেও সাহিত্যে তার কাজ বহুমাত্রিক। অনুবাদ সাহিত্য থেকে গদ্যের বিভিন্ন প্রশাখায় বিচরণ করেছেন তিনি।
⇒ 'মৈনাক' ছদ্মনামে কলামও লিখেছেন নিয়মিত। 

• তিনি একাধিক পুরস্কার ও উপাধিকে ভূষিত হন:
- পেয়েছেন আদমজী পুরস্কার (১৯৬৩), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৯), একুশে পদক (১৯৭৭)।
- সাংবাদিকতার জন্যে পেয়েছেন জাপানের মিৎসুবিশি পদক (১৯৯২), ভারতের আনন্দ পুরস্কার (১৯৯৪) ছাড়াও বহু পুরস্কারে ভূষিত কবি শামসুর রাহমান।
- ভারতের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডি লিট উপাধিতেও ভূষিত।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর: ‘কালের ধুলোয় লেখা’ শামসুর রাহমান।
১৪,৪৭০.
'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে।'- উক্তিটি কোন রচনার অন্তর্ভুক্ত?
  1. মৃত্যুক্ষুধা
  2. বাঁধন হারা
  3. কুহেলিকা
  4. অগ্নিবীণা
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
ব্যাখ্যা
• 'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্র:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪৭১.
বিবিসির বাংলা বিভাগ কতৃক জরিপকৃত সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালীর তালিকায় বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের স্থান কত?
  1. ক) ১ম
  2. খ) ২য়
  3. গ) ৩য়
  4. ঘ) ৪র্থ
সঠিক উত্তর:
গ) ৩য়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৩য়
ব্যাখ্যা

বিবিসির বাংলা বিভাগ কতৃক জরিপকৃত সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালীর তালিকায় কাজী নজরুলের স্থান - ৩য়। 
তালিকায় উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নাম হলোঃ
১ম - শেখ মুজিবুর রহমান
২য় - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৪র্থ - এ কে ফজলুল হক

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বিবিসি নিউজ বাংলা আর্কাইভ।

১৪,৪৭২.
কোন পত্রিকায় ‘মহাশ্মশান’ মহাকাব্য ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. সঞ্জীবনী
  2. কোহিনূর 
  3. ভারতবর্ষ
  4. বঙ্গদর্শন
সঠিক উত্তর:
কোহিনূর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোহিনূর 
ব্যাখ্যা

⇒ 'মহাশ্মশান' মহাকাব্য:
• কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান' ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
• কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
• পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
• কাব্যটি তিনটি খণ্ডে রচিত।
• প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ বিদ্যমান।

• মহাকাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- এব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম,
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ,
- লঙ্গ,
- রত্নজি,
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা,
- আহমদ শাহ্ আব্দালী।

• কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)।
- মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৪৭৩.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ত্রয়ী উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. ধাত্রীদেবতা
  2. কবি
  3. পঞ্চগ্রাম
  4. গণদেবতা
সঠিক উত্তর:
কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবি
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।
- এগুলো মূলত একই স্বরে বাঁধা।
- শিবনাথ নোমক এক ভারতীয় জাতীয়তাবাদ চরিত্রকে অবলম্বনে এ তিনটি উপন্যাস বিকাশিত হয়েছে।
-------------------------------------------
• 'কবি' একটি বহুল আলোচিত বাংলা উপন্যাস।

- এটির রচয়িতা বাংলাভাষার প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
- কাহিনীর বিবেচনায় এটি একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবক কবিরূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প 'রসকলি' সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪৭৪.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. আখ্যান মঞ্জরী
  2. শকুন্তলা
  3. ভ্রান্তিবিলাস
  4. বিশ্বপরিচয়
সঠিক উত্তর:
আখ্যান মঞ্জরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আখ্যান মঞ্জরী
ব্যাখ্যা
• 'আখ্যান মঞ্জরী' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক পদবী বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামেও স্বাক্ষর করতেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।
- তিনি প্রথম গদ্যে যতিচিহ বা বিরামচিহ্নের ব্যবহার শুরু করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতাল পঞ্চবিংশতি (১৮৪৭), এই গ্রন্থে তিনি প্রথম যতি বা বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কে ১৮৩৯ সালে কলকাতা'র সংস্কৃত কলেজ থেকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেওয়া হয়। অসাধারণ মেধার কারণে তাকে এই উপাধি দেওয়া হয়।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাসের,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ 'বিশ্বপরিচয়।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪৭৫.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত যশোর জেলার কোন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. মাঝাইল গ্রামে
  2. লাহিনীপাড়া গ্রামে
  3. তাম্বুলখানা গ্রামে
  4. সাগরদাঁড়ি গ্রামে
সঠিক উত্তর:
সাগরদাঁড়ি গ্রামে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাগরদাঁড়ি গ্রামে
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
-  তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন 'পদ্মাবতী' নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'।

তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো:
• নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৪৭৬.
কোনটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয়?
  1. আরগ্য নিকেতন
  2. হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
  3. কালিন্দী
  4. পরিণীতা
সঠিক উত্তর:
পরিণীতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিণীতা
ব্যাখ্যা
• 'পরিণীতা' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:

- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।
- ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অরণ্য বহ্নি
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী, 
- কবি,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪৭৭.
বেগম সুফিয়া কামাল রচিত কোন গ্রন্থে বেগম রোকেয়ার কথা উল্লেখ আছে? 
  1. সাঁঝের মায়া
  2. উদাত্ত পৃথিবী
  3. কেয়ার কাঁটা
  4. একালে আমাদের কাল 
  5. কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
একালে আমাদের কাল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একালে আমাদের কাল 
ব্যাখ্যা

• বেগম সুফিয়া কামালের আত্মজীবনীমূলক রচনা ‘একালে আমাদের কাল’-এ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের কথা উল্লেখ আছে। 

• ‘একালে আমাদের কাল’ নিয়ে কিছু কথা:
- ‘একালে আমাদের কাল’ হলো বিশিষ্ট বাঙালি কবি বেগম সুফিয়া কামাল-এর আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত এই স্মৃতিকথা গ্রন্থে তিনি তাঁর শৈশবের দিনগুলি, পারিবারিক জীবন এবং সমাজের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন।
- এছাড়া, সুফিয়া কামালের ‘একালে আমাদের কাল’ গ্রন্থে মূলত নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন-এর গভীর প্রভাব ও অনুপ্রেরণার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
- তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও নারী মুক্তি আন্দোলনে রোকেয়ার আদর্শ দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছেন এবং সেই প্রভাবকে বিশেষভাবে এই আত্মজীবনীর মধ্যে তুলে ধরেছেন।

----------------------
• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি কবি, লেখক, নারী অধিকার কর্মী এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- তিনি ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।
- কারণ তিনি কেবল সাহিত্যেই নয়, ভাষা আন্দোলন, নারীবাদী সংগ্রাম এবং সামাজিক উন্নয়নের কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
- নারী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তিনি নারীমুক্তি ও সমান অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন।

• তাঁর  উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- মন ও জীবন,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল,
- উদাত্ত পৃথিবী।

• তাঁর বিখ্যাত গল্প: ‘কেয়ার কাঁটা’। 
• স্মৃতিকথার ক্ষেত্রে কবির উল্লেখযোগ্য ডায়েরী- ‘একাত্তরের ডায়েরী’।

• কবি সুফিয়া কামালের শিশু সাহিত্যেও উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।
- তাঁর ‘ইতল বিতল’ এবং ‘নওল কিশোরের দরবারে’ গ্রন্থ দুটি শিশুদের জন্য রচিত ছড়া ও কবিতার সংকলন।
- গ্রন্থ দুইটি বাংলা শিশু সাহিত্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
- এসব রচনায় শিশুদের কল্পনা, আনন্দ ও মানসিক জগৎ অত্যন্ত সহজ ও প্রাণবন্তভাবে ফুটে উঠেছে।

• এ ছাড়া শিশুদের কেন্দ্র করে লেখা তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘আজিকার শিশু’ শিশু সাহিত্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি রচনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১৪,৪৭৮.
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসের প্রধান পুরুষ চরিত্রের নাম কি?
  1. ক) তিতাস
  2. খ) নারায়ণ
  3. গ) কিশোর
  4. ঘ) করমালীর
সঠিক উত্তর:
গ) কিশোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কিশোর
ব্যাখ্যা
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসের প্রধান পুরুষ চরিত্রের নাম- 'কিশোর'।

তিতাস একটি নদীর নাম
- উপন্যাসটির রচয়িতা- অদ্বৈত মল্লবর্মণ।  
- উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এ উপন্যাসে তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর ( জেলে ও মৎসজীবী) সমাজের রীতি- নীতি, ধর্ম- সংস্কার উৎসব ও জীবনযাপনের কাহিনি বর্ণিত। 
 - ঋত্বিক ঘোটক উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়ণ করেন ১৯৭৩ সালে। 
- উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনো মানুষ নয় একটি নদী, নাম 'তিতাস'।
- উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনী রূপ দিয়েছেন।

অদ্বৈত মল্লবর্মণ
- ১৯১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোকর্ণ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪৭৯.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্য -
  1. অগ্রদানী
  2. অভ্র-আবীর
  3. অহিংসা
  4. আরোগ্য
সঠিক উত্তর:
অভ্র-আবীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভ্র-আবীর
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্য - অভ্র-আবীর
- এটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। 
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি। 
-  বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত। 
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায়  ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা, 
- সন্ধিক্ষণ, 
- বেণু ও বীণা, 
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র-আবীর
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান, 
- বিদায় আরতি, 
- কাব্যসঞ্চয়ন।

অন্যদিকে,
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্প - অগ্রদানী।
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস - অহিংসা, আরোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪৮০.
মেঘনাদবধ কাব্যে প্রথম সর্গ কোনটি?
  1. অস্ত্রলাভ
  2. উদ্যোগ
  3. সমাগম
  4. অভিষেক
সঠিক উত্তর:
অভিষেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিষেক
ব্যাখ্যা

• মেঘনাদবধ কাব্যে প্রথম সর্গ- অভিষেক।

• মেঘনাদবধ কাব্য:

- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।

• মেঘনাদবধ কাব্যে ৯টি সর্গ রয়েছে:

- প্রথম সর্গ > অভিষেক।
- দ্বিতীয় সর্গ > অস্ত্রলাভ।
- তৃতীয় সর্গ > সমাগম।
- চতুর্থ সর্গ > অশোক বন।
- পঞ্চম সর্গ > উদ্যোগ।
- ষষ্ঠ সর্গ > বধ।
- সপ্তম সর্গ > শক্তিনির্ভেদ।
- অষ্টম সর্গ > প্রেতপুরী।
- নবম সর্গ > সংস্ক্রিয়া।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৪,৪৮১.
নিচের কোনটি ‘পথের পাঁচালি’ উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ইন্দির ঠাকরুন
  2. সর্বজয়া
  3. দুর্গা
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
'পথের পাঁচালী' উপন্যাস:
- ‘পথের পাঁচালী‘ উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- লেখকের বর্ণনাগুণে উপন্যাসটিতে পল্লীবাংলার নৈসর্গিক সৌন্দর্য জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
- অপরাজিত (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খণ্ড।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র গুলো হলো: অপু, দুর্গা, ইন্দির ঠাকরুন, হরিহর, সর্বজয়া প্রমুখ
 
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
 
তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- বিপিনের সংসার, 
- চাঁদের পাহাড়, 
- দম্পতি ইত্যাদি।
 
ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়িা।
১৪,৪৮২.
‘কুন্দনন্দিনী’ - কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. আনন্দমঠ
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. বিষবৃক্ষ
সঠিক উত্তর:
বিষবৃক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা

‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাস:
- 'বিষবৃক্ষ' (১৮৭৩) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসের কাহিনির সঙ্গে বিধবা বিবাহ, পুরুষের একাধিক বিবাহ, পুরুষের রূপতৃষ্ণা ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব, নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ প্রভৃতি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
- চরিত্রায়ণে, ঘটনা সংস্থানে এবং জীবনের কঠিন সমস্যার রূপায়ণে 'বিষবৃক্ষ' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- বাল্যবিধবা কুন্দনন্দিনীর প্রেম ও কামনার বিকাশকে তৎকালীন সমাজ যে প্রশ্রয় দেয় নি, এ উপন্যাস তার প্রমাণ।
- লেখকও মনে করেছেন, কুন্দনন্দিনীর কাহিনি পাঠ করার ফলে ঘরে ঘরে অমৃত ফলবে অর্থাৎ এ ধরনের প্রণয়াকাঙ্ক্ষা রহিত হবে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কী চেয়েছেন সেটি মুখ্য নয়। 'বিষবৃক্ষে' তিনি সমস্যার যে যথার্থ রূপায়ণ করতে পেরেছেন এটাই আসল।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ, হীরা, সূর্যমুখী ইত্যাদি।
- 'বিষবৃক্ষ' আজও শ্রেষ্ঠ উপন্যাসগুলোর একটি।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- রাজসিংহ,
- সীতারাম,
- দেবী চৌধুরাণী, 
- আনন্দমঠ,
- বিষবৃক্ষ,
- কপালকুণ্ডলা,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৪,৪৮৩.
আবুল ফজলের উপন্যাস নয়-
  1. চৌচির
  2. প্রদীপ ও পতঙ্গ
  3. রেখাচিত্র
  4. রাঙ্গা প্রভাত
সঠিক উত্তর:
রেখাচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেখাচিত্র
ব্যাখ্যা

• 'রেখাচিত্র' আবুল ফজলের দিনলিপি।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ এবং
- রাঙ্গা প্রভাত।
• তিনি শিখা পত্রিকার পঞ্চম সংখ্যার সম্পাদনা করেন।
• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থঃ
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪,৪৮৪.
টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে কার রচনায়?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. বিষ্ণু দে
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন। তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন। কাব্যভাবনা ও প্রকাশরীতিতে বুদ্ধিবৃত্তি ও মননশীলতাকে অঙ্গীকার করেই তিনি কবিতা লেখেন। তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।

---------------
• বিষ্ণু দে:
• বিষ্ণু দে ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী। ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম। 

• ১৯২৩ সালে 'কল্লোল' পত্রিকা প্রকাশের ফলে যে নতুন সাহিত্য উদ্যম ও ব্যতিক্রমী শিল্প চেতনার সৃষ্টি হয়, বিষ্ণু দে ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা। কিন্তু ১৯৩০ সালে কল্লোল পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেলে তিনি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের 'পরিচয়' (১৯৩১) পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হন এবং ১৯৪৭ পর্যন্ত এর সম্পাদক মন্ডলীর অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

• ১৯৪৮ সালে তিনি চঞ্চলকুমার চট্টোপাধ্যায়ের সহযোগিতায় 'সাহিত্যপত্র' প্রকাশ করেন। তিনি নিজেও নিরুক্ত নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন। বিষ্ণু দে কলকাতার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর সাহিত্য জীবন শুরু করেন। 

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪৮৫.
ফররুখ আহমদ কী হিসেবে পরিচিত?
  1. বিদ্রোহী কবি
  2. মুসলিম রেনেসাঁর কবি
  3. মার্ক্সবাদী কবি
  4. পল্লি কবি
সঠিক উত্তর:
মুসলিম রেনেসাঁর কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুসলিম রেনেসাঁর কবি
ব্যাখ্যা
 ফররুখ আহমদ:
- একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কবি।
- ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম। 
ফররুখ আহমদ 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি' বা 'মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
- তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ।
- পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।
- হাতেমতায়ী কাহিনিকাব্যের জন্যে তিনি আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- পাখির বাসা গ্রন্থের জন্যে ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি ,
- সিরাজাম মুনিরা ,
- নৌফেল ও হাতেম ,
- মুহূর্তের কবিতা ,
- হাতেমতায়ী ,
- হাবেদা মরুর কাহিনী, ইত্যাদি।

• তাঁর শিশুতোষ রচনা।
- পাখির বাসা ,
- হরফের ছড়া ,
- ছড়ার আসর , ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪৮৬.
ইসমাইল হোসেন সিরাজীর জন্মস্থান কোথায়?
  1. ক) রাজশাহী
  2. খ) রংপুর
  3. গ) কুষ্টিয়া
  4. ঘ) সিরাজগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিরাজগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিরাজগঞ্জ
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১৪,৪৮৭.
আবু ইসহাকের উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. সূর্য-দীঘল বাড়ী
  2. পদ্মার পলিদ্বীপ
  3. জাল
  4. মহাপতঙ্গ 
সঠিক উত্তর:
মহাপতঙ্গ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাপতঙ্গ 
ব্যাখ্যা

মহাপতঙ্গ আবু ইসহাকের উপন্যাস নয়।  এটি হচ্ছে একটি গল্পগ্রন্থ।

আবু ইসহাক
- আবু ইসহাক ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও অভিধান-প্রণেতা।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় তাঁর 'অভিশাপ' নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- তিনি সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান (২ খণ্ড: ১৯৯৩, ১৯৯৮) রচনা করে বাংলা কোষগ্রন্থের পরিধিকে সমৃদ্ধ করেন।
- সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন বিভিন্ন পুরস্কার:
  - বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৩)
  - সুন্দরবন সাহিত্য পদক (১৯৮১)
  - বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক (১৯৯০)
  - একুশে পদক (১৯৯৭)
  - স্বাধীনতা পদক (মরণোত্তর, ২০০৪)
  - শিশু একাডেমি পদক (মরণোত্তর, ২০০৬)
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল। 

গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৪,৪৮৮.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম নিষিদ্ধ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1.  যুগবাণী
  2. বিষের বাঁশী
  3. ভাঙার গান
  4. চন্দ্রবিন্দু
সঠিক উত্তর:
বিষের বাঁশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষের বাঁশী
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি:
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ নভেম্বর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

• উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্রমঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৪৮৯.
আহমদ ছফা রচিত 'অলাতচক্র' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কী?
  1. সিপাহী বিদ্রোহ
  2. একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
সঠিক উত্তর:
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
'অলাতচক্র' উপন্যাস:
- 'অলাতচক্র' আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- ১৯৮৫ সালে তৎকালীন 'নিপুণ' নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রথম মুদ্রিত হয়।
- এটি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক একটি উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে লেখক মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাইরের দেশগুলোর অংশগ্রহণকে সমালোচকের দৃষ্টিতে গ্রহণ করেছেন।
- এই উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: তায়েবা, জাহিদুল, দানিয়েল প্রমুখ।
------------------------------
• আহমদ ছফা:
- তিনি ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি 'উত্থানপর্ব' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি ২০০১ সালের ২৮ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- সূর্য তুমি সাথী, 
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন,
- মরণ বিলাস, 
- বিহঙ্গ পুরাণ। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- জাগ্রত বাংলাদেশ,
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস,
- যদ্যপি আমার গুরু।

• তাঁর রচিত কবিতা গ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- দুঃখের দিনের দোহা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- গো হাকিম,
- দোলো আমার কনকচাঁপা।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নিহত নক্ষত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪৯০.
''বেতের ফলের মতো'' বা ''পাখির নীড়ের মতো'' উপমাগুলো কে নির্মাণ করেছেন?
  1. সুকুমার রায়
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. জসীমউদ্‌দীন
  4. হুমায়ুন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ  'বেতের ফলের মতো' বা 'পাখির নীড়ের মতো' উপমাগুলো নির্মাণ করেছেন। 

• জীবনানন্দ দাশের উপমামণ্ডিত কবিতা: 
- জীবনানন্দ দাশের উপমামণ্ডিত একটি বিখ্যাত কবিতা হলো ‘বনলতা সেন’। 
- জীবনানন্দ তার কবিতায় ব্যবহার করলেন অসাধারণ সব উপমা, সে উপমার ভাষা যারা বুঝতে পারতেন; তারা তার কবিতায় বুদ হয়ে থাকতেন।
- তিনি লিখলেন—সোনার ডিমের মতো ফাল্গুনের চাঁদ, পাখির নীড়ের মতো চোখ, বেতের ফলের মতো ব্যথিত নীলাভ দু চোখ, বেবিলনের রানির ঘাড়ের উপর উজ্জ্বল চামড়ার শালের মতো জ্বলজ্বল করছিল বিশাল আকাশ, শিশিরের মতো সন্ধ্যা—এরকম আরও অসাধারণ তাক লাগানো মুগ্ধ হয়ে থাকার মতো শত শত উপমা।
- বনলতা সেন কবিতায় জীবনানন্দ ব্যবহার করলেন পাখির নীড়ের মতো চোখ। চোখের ভাষা দ্বারা মানুষ অনেক কিছু বুঝে নেয়।
- বনলতা সেনের পাখির নীড়ের মতো চোখ দ্বারা আশ্রয় বোঝানো হয়েছে। যে চোখে আছে আশ্রয়ের শপথ আর ভালোবাসা।

• জীবনানন্দ দাশ 'শঙ্খমালা' কবিতায় বেতের ফলের মতো  উপমা নির্মাণ করেছেন। 
----------------------------------------------------------- 
বনলতা সেন- কবিতা, 
হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন।

চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের ’পর
হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর,
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে , ‘এতোদিন কোথায় ছিলেন?’
পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।

----------------------------
শঙ্খমালা- কবিতা,
কান্তারের পথ ছেড়ে সন্ধ্যার আঁধারে
সে কে এক নারী এসে ডাকিল আমারে,
বলিল, তোমারে চাই: বেতের ফলের মতো নীলাভ ব্যথিত তোমার দুই চোখ
খুঁজেছি নক্ষত্রে আমি— কুয়াশার পাখ্‌নায়—
সন্ধ্যার নদীর জলে নামে যে-আলোক
জোনাকির দেহ হ‌তে— খুঁজেছি তোমাকে সেইখানে—
ধূসর পেঁচার মতো ডানা মেলে অঘ্রাণের অন্ধকারে
ধানসিড়ি বেয়ে-বেয়ে
সোনার সিঁড়ির মতো ধানে আর ধানে
তোমারে খুঁজেছি আমি নির্জন পেঁচার মতো প্রাণে।
দেখিলাম দেহ তার বিমর্ষ পাখির রঙে ভরা:
সন্ধ্যার আঁধারে ভিজে শিরীষের ডালে যেই পাখি দেয় ধরা—
বাঁকা চাঁদ থাকে যার মাথার উপর,
শিং-এর মতন বাঁকা নীল চাঁদ শোনে যার স্বর।

উৎস: শঙ্খমালা- কবিতা, বনলতা সেন- কবিতা।
১৪,৪৯১.
‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. ছোটগল্প
  3. নাটক
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত - উপন্যাস

আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্ম।

আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৪৯২.
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. ভারতী
  2. দিগদর্শন
  3. তত্ত্ববোধিনী
  4. বঙ্গদর্শন
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
• সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots: Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা,
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৪৯৩.
'ওরা কদম আলী' মামুনুর রশীদ রচিত-
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা

• ওরা কদম কদম আলী:
- ১৯৭৮ সালে 'ওরা কদম আলী' প্রকাশের মধ্য দিয়ে মামুনুর রশীদের আবির্ভাব ঘটে নাট্যকার হিসেবে।
- শোষিত-নিপীড়িত বঞ্চিত মানুষের জন্য নাটক লিখতে গিয়ে তিনি নাটকে নিয়ে এসেছেন প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ চেতনা।
- আর বঞ্চিত, শোষিত মানুষের শ্রেণিসংগ্রামের রূপকার হিসেবে মামুনুর রশীদের ‘ওরা কদম আলী' নাটক সমকালীন বাংলা নাট্য-সাহিত্যের ধারায় যুক্ত করেছেন বিশিষ্ট মাত্রা। গরিব ও মেহনতি মানুষের ব্যক্তিক প্রতিবাদ সামষ্টিক রূপ কীভাবে পরিগ্রহ করে কদম আলী নামের একটি বোবা চরিত্রের মধ্য দিয়ে এ নাটকে তা দেখানো হয়েছে।

• মামুনুর রশীদ:
- মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান৷

• তাঁর রচিত নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৪৯৪.
হুমায়ূন আহমেদের রাজনৈতিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) শ্যামল ছায়া
  2. খ) দেয়াল
  3. গ) শঙ্খনীল কারাগার
  4. ঘ) নন্দিত নরকে
সঠিক উত্তর:
খ) দেয়াল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দেয়াল
ব্যাখ্যা
• দেয়াল হুমায়ূন আহমেদের রাজনৈতিক উপন্যাস।
• এই উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক চরিত্র এবং ঘটনাবলী লেখক নিজের ভাষা ও কল্পনাপ্রসূত ঢঙে চিত্রায়িত করেছেন।
• এটি তাঁর রচিত সর্বশেষ উপন্যাস যা তাঁর মৃত্যুর এক বছর পর গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
• সূর্যের দিন ও শ্যামল ছায়া তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- এই সব দিনরাত্রি,
- নন্দিত নরকে,
- শঙ্খনীল কারাগার,
- আমার আছে জল,
- নক্ষত্রের রাত,
- ফেরা,
- বহুব্রীহি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪৯৫.
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর লেখা 'বাতাসে লাশের গন্ধ' কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম
  2. উপদ্রুত উপকূল
  3. মৌলিক মুখোশ
  4. একগ্লাস অন্ধকার
সঠিক উত্তর:
উপদ্রুত উপকূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপদ্রুত উপকূল
ব্যাখ্যা
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
- তিনি ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তিনি প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ; 'রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ' নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।

• 'উপদ্রুত উপকূল':
- ছাত্রজীবনেই তাঁর কাব্যগ্রন্থ 'উপদ্রুত উপকূল' প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত হয়।

এই কাব্যের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- অভিমানের খেয়া,
- আজীবন জন্মের ঘ্রানে,
- বাতাসে লাশের গন্ধ,
- অবরোধ চারিদিকে,
- প্রত্যাশার প্রতিশ্রুতি,
- জানালায় জেগে আছি,
- আমি সেই অভিমান,
- বিষবৃক্ষ ভালোবাসা,
- কৃষ্ণপক্ষে ফেরা ইত্যাদি।

- সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি 'মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার' লাভ করেন।
- ১৯৯১ সালের ২১ জুন ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম
- ছোবল,
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ,
- একগ্লাস অন্ধকার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৪৯৬.
'বাক্কা মিয়া' চরিত্রটি আবদুল্লাহ আল মামুন এর রচিত কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) শপথ
  2. খ) এখনো ক্রীতদাস
  3. গ) কোকিলারা
  4. ঘ) চারদিকে যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
খ) এখনো ক্রীতদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এখনো ক্রীতদাস
ব্যাখ্যা
• এখনো ক্রীতদাস:
- আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত এই নাটকে ঢাকা শহরে ‘গলাচিপা' বস্তির যুদ্ধাহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা বাক্কা মিয়ার পরিবারের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের নিম্নবর্গের মানুষের অসহায় জীবনযাপনের ইতিবৃত্ত।
- পুরুষতান্ত্রিক, পুঁজিতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীদের উপর নির্যাতনের চিহ্নও তুলে ধরা হয়েছে।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক:
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৪৯৭.
শনিবারের চিঠি পত্রিকাটি কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৪ সালে
  2. ১৯২৬ সালে
  3. ১৮৭২ সালে
  4. ১৮৪৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৪ সালে
ব্যাখ্যা
• 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকা:
-  শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা।
- প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।
- প্রথম প্রকাশিত হয়- ১৯২৪ সালে।
- পত্রিকাটি ১৯৩০-৪০ এর দশকে কলকাতা কেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্যের জগতে বেশ আলোড়ন তুলেছিলো।
- এই পত্রিকার সঙ্গে কল্লোল গোষ্ঠীর দ্বন্দ ছিলো আক্রমণাত্মক; তবে তৎকালীন সাহিত্যকে বিশেষভাবে পত্রিকাটি অনুপ্রাণিত করেছিল।
- পত্রিকার প্রাণপুরুষ ছিলেন সজনীকান্ত দাস।
- তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পত্রিকাটির প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন।
- এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৪৯৮.
'নতুন চাঁদ' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি-
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) গল্পগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
ক) কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
নতুন চাঁদ (১৯৩৯) কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- অগ্নি-বীণা, সঞ্চিতা, চিত্তনামা, মরুভাস্কর, সর্বহারা, ফণি-মনসা, চক্রবাক, সাম্যবাদী, ছায়ানট, পুবের হাওয়া, জিঞ্জির, বিষের বাঁশি, দোলনচাঁপা, চন্দ্রবিন্দু, সিন্ধু হিন্দোল ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৪,৪৯৯.
'শোকার্ত তরবারি' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. কায়কোবাদ
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা

• 'শোকার্ত তরবারি' কাব্যগ্রন্থ ও কবিতা:
- 'শোকার্ত তরবারি' হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- হাসান হাফিজুর রহমানের 'শোকার্ত তরবারি' কাব্যের সবগুলো কবিতাতেই মূলত গদ্যছন্দ ব্যবহৃত হয়েছে। হয়তো ছন্দহীন জীবন সময় কে ফুটিয়ে তুলতে কবি গদ্যছন্দের আশ্রয় নিয়েছেন।
- রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:এই কবিতা ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশের জাতীয় চেতনা গঠনে এক শক্তিশালী শিল্পরূপ। তরবারি এখানে নিপীড়িত বাঙালি জাতির সংগ্রামের প্রতীক — যারা কাঁদে, কিন্তু শেকল ভাঙতেও জানে।

---------------------
• হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান (১৯৩২ ১৯৮৩) বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, সাংবাদিক ও সমালোচক ছিলেন।
- ১৯৩২ সালের ১লা জুন জামালপুর শহরে তাঁর জন্ম।
- হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ: বিমুখ প্রান্তর।
 -তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সংকলন গ্রন্থ "একুশে ফেব্রুয়ারী"। এটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র' সম্পাদনা করেন।

হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারি,
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'শোকার্ত তরবারি' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৫০০.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত কর্তৃক নীলদর্পণ নাটকের অনুবাদের নাম কী ছিল?
  1. Nil Darpan, or The Indigo Planting Mirror
  2. The Indigo Mirror
  3. Nil Darpan, or The Indigo Revolt
  4. Nil Darpan, or Indigo Farming Tragedy
সঠিক উত্তর:
Nil Darpan, or The Indigo Planting Mirror
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Nil Darpan, or The Indigo Planting Mirror
ব্যাখ্যা

• 'নীলদর্পণ' নাটক:
- 'নীলদর্পণ' দীনবন্ধু মিত্রের শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনা।

- সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।

- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।

- নীলদর্পণ নাটকের ইংরেজি অনুবাদ করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। মধুসূদন দত্ত A Native ছদ্মনামে 'Nil Durpan, or The Indigo Planting Mirror' নামে অনুবাদ করেছিলেন এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে।

• বঙ্কিমচন্দ্র নীলদর্পণকে আঙ্কল টমস কেবিন-এর সঙ্গে তুলনা করেন। নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
• এটিই বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক। ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম  ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

• নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- গোলক বসু,
- নবীন মাধব,
- রাইচরণ,
- তোরাপ,
- সাবিত্রী,
- সরলতা,
- ক্ষেত্রমণি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।