বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৪৩ / ১৭৪ · ১৪,২০১১৪,৩০০ / ১৭,৪৩৭

১৪,২০১.
নিচের কোনটি অন্নদাশঙ্কর রায়ের ভ্রমনকাহিনি?
  1. য়ুরোপের চিঠি
  2. ইউরোপের চিঠি
  3. জাভার যাত্রী
  4. জাপান যাত্রী
সঠিক উত্তর:
ইউরোপের চিঠি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরোপের চিঠি
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায়:  
• উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।  
• ১৯০৪ সালের ১৫ই মার্চে ভারতের উড়িষ্যায় জন্ম।  
• কর্ম: নদীয়া জেলার ম্যাজিস্ট্রেট, কুমিল্লার জজ, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিচার বিভাগের সচিব পদে অবসরগ্রহণ করেন।  
• বাংলার পাশাপাশি উড়িয়া ভাষায় সাহিত্য রচনা করতেন। 
• তাঁর রচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য বীরবলী চমক ও গভীর মননশীলতা। 

⇒ তাঁর বিখ্যাত ভ্রমনকাহিনি:  
• পথে প্রবাসে ও  
• ইউরোপের চিঠি।  

⇒ তাঁর রচিত উপন্যাসের সংখ্যা ২২টি।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্যিক উপন্যাস তাঁর ছয় খন্ডে প্রকাশিত 'সত্যাসত্য' ছয়টি নামে প্রকাশিত হয় যথাক্রমে-
• যার যেথা দেশ, 
• অজ্ঞাতবাস, 
• কলঙ্কবতী, 
• দুঃখমোচন,  
• মর্ত্যের স্বর্গ, 
• অপসরণ। 
- ছয় খন্ডে রচিত 'সত্যাসত্য' বাংলায় মননশীল উপন্যাস রচনায় এক স্বতন্ত্র ধারা তৈরি করে।  

⇒ উল্লেখযোগ্য অন্যান্য উপন্যাস:  
• আগুন নিয়ে খেলা, 
• অসমাপিকা, 
• পুতুল নিয়ে খেলা, 
• বিশল্যকরণী।
⇒ তাঁর মৃত্যু ২৮ অক্টোবর ২০০২।   

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,২০২.
‘সতী’ ছোটগল্পের রচয়িতা কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ‘সতী’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি ছোটগল্প।

গল্পের সার-সংক্ষেপ:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের "সতী" গল্পটি মূলত নারীর আত্মমর্যাদা, সমাজের অমানবিকতা এবং ত্যাগের করুণ চিত্র তুলে ধরে। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র 'রামবউ' তার আত্মমর্যাদা রক্ষার জন্য নিজের জীবনকেও তুচ্ছভাবে গ্রহণ করে। এটি এক নারীর সাহসিকতা এবং তার জীবনসংগ্রামের কাহিনি।

------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত ছোটগল্পগুলো হলো:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

- রামের সুমতি,
- মেজদিদি,
- বিন্দুর ছেলে,
- ছবি ইত্যাদি তারঁ সুখপাঠ্য বড়গল্প।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- অরক্ষণীয়া,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- নিষ্কৃতি,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর; ‘সতী’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,২০৩.
'কঙ্কাবতী' কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
- ‘কঙ্কাবতী’ বুদ্ধদেব বসুর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের কবিতাগুলির রচনাকাল ১৯২৯-৩৪ এবং প্রধান বিষয় প্রেম।
- সংগীতময় ভাষা এবং উচ্চারণের সংক্ষেপের জন্য কাব্যগ্রন্থটি সমকালে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।

বুদ্ধদেব বসু:
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- ঢাকা থেকে 'প্রগতি' (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে 'কবিতা' (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- 'তপস্বী ও তরঙ্গিণী' নাটকের জন্য তিনি সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন।
- ১৯৭০ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কারে ভূষিত করে।
- এছাড়া 'স্বাগত বিদায়' কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ (১৯৭৪) লাভ করেন।
- ১৯৭৪ সালের ১৮ মার্চ কলকাতায় মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,২০৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘নিষ্ফলা কামনা’ একটি-
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) কবিতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কবিতা
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১)  কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক। মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত। ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।

‘মানসী’ (১৮৯০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যকলার পূর্ণপ্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ
তাই কবি বুদ্ধ দেব বসু ‘মানসী’ কাব্যকে রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব বলেছেন। এখানে বৃহৎ প্রকৃতির প্রভাব কবির আবেগওঅনুভূতির উপর ক্রিয়াশীল।
রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন,
“নূতন আবেষ্টনে এই কবিতাগুলি সহসা যেন নবদেহ ধারণ করল।”

- মানসীর কবিতাগুলো দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে অতীত জীবনের পিছুটানমূলক কবিতা, অন্যদিকে নবযৌবনের নিরুদ্ধ উদ্দীপনার খরদীপ্তি। ‘নিষ্ফলা কামনা’ এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা। এছাড়াও আছে-
• দুরন্ত আশা
• ভুলভাঙ্গা
• কুহুধ্বনি
• সুরদাসের প্রার্থনা
• মেঘদূত
• অহল্যার প্রতি
• আত্মসমর্পণ ইত্যাদি কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,২০৫.
'নদী ও নারী' উপন্যাসে লেখক কোন নদী তীরবর্তী মানুষের চিত্র অঙ্কন করেছেন?
  1. ক) করতোয়া
  2. খ) যমুনা
  3. গ) কর্ণফুলী
  4. ঘ) পদ্মা
সঠিক উত্তর:
ঘ) পদ্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পদ্মা
ব্যাখ্যা
'নদী ও নারী' উপন্যাসে লেখক হুমায়ুন কবির। 
- ১৯৪৫ সালে তাঁর নদী ও নারী উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- একই বছর Men and Rivers নামে এর একটি ইংরেজি সংস্করণও প্রকাশিত হয়।
- এ উপন্যাসে কবির পদ্মানদীর পরিবেশে বাঙালি মুসলমান সমাজজীবনের একটি নিখুঁত চিত্র উপস্থাপন করেছেন।
- ১৯৬৫ সালে ঢাকায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়িত হয়।
- একথা অবশ্য স্বীকার্য যে, হুমায়ুন কবিরের প্রধান পরিচিতি একজন প্রবন্ধকার রূপে।
-  তাঁর রচিত গ্রন্থসংখ্যা মোট ৪৫।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪,২০৬.
প্রথম বাংলা রঙ্গমঞ্চ ‘হিন্দু থিয়েটার’ কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৮৬১ সালে
  2. ১৮৩১ সালে
  3. ১৮০১ সালে
  4. ১৮৫২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৩১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৩১ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলা নাটকের উৎস ও বিকাশ:
- আঠারো শতকের শেষদিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়।
- বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে। বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে।
- কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।
- হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন।
- তিনি 'The Disguise' এবং 'Love is the best Doctor' নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান। এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।
- ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৪,২০৭.
'বাংলা ভাষার উৎপত্তি সপ্তম শতাব্দীতে' - এটি কে বলেছেন?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. সুকুমার সেন
  3. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  4. দীনেশ্চন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
• 'বাংলা ভাষার উৎপত্তি সপ্তম শতাব্দীতে' - এটি মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বলেছেন।

বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় 'অহমিয়া' ও 'ওড়িয়া'।
- ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।
- বাংলা ভাষা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য।
- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে।
- এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করতে হয়েছে, সেগুলো হলো:
ইন্দো-ইউরোপীয় → ইন্দো-ইরানীয় → ভারতীয় আর্য → প্রাকৃত → বাংলা।
- বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'।

বাংলা ভাষার উৎপত্তির সময়:
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বলেছেন - সপ্তম শতাব্দীতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি
- স্যার জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ার্সন, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়সহ অধিকাংশ পণ্ডিত বলেছেন - দশম শতাব্দীতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
১৪,২০৮.
গ্রন্থাকারে প্রকাশিত শওকত ওসমানের প্রথম পুস্তক কোনটি?
  1. ক্রীতদাসের হাসি
  2. জননী
  3. সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই
  4. পিঁজরাপোল
সঠিক উত্তর:
জননী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জননী
ব্যাখ্যা
• গ্রন্থাকারে প্রকাশিত শওকত ওসমানের প্রথম পুস্তক - জননী

• জননী:
- সন্তানের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য একজন মা (গোপনে) যে কোনো পথ অবলম্বন করতে পারে শওকত ওসমানের 'জননী' (১৯৬১) উপন্যাসে সে কথাই ব্যক্ত।
- পটভূমি পশ্চিমবঙ্গের মহেশডাঙ্গা। 
- দরিয়া-বিবি সেই পল্লি-জননী যে সন্তান মোনাদিকে আর্থিক সহায়তা দেবার জন্য ইয়াকুবের শয্যাসঙ্গিনী হয়। 
- ইয়াকুবের ঔরষে তার গর্ভে সন্তান এলে ওই গৰ্ভস্থ সন্তানকেও দরিয়া অসীম মমতায় সকল ভ্রূকুটি সহ্য করে নিরাপদে জন্মদানের মাধ্যমে আদর্শ জননীর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। 
- এই মূলকাহিনির পাশাপাশি উপন্যাসে এসেছে মুসলিম সমাজের শরিয়তি দ্বন্দ্ব, বিত্তবানের স্বার্থপরতা, গ্রামের দরিদ্র মানুষের পারস্পরিক ঝগড়া ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নিদর্শন।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: দরিয়া-বিবি, আজহার, মোনাদি, ইয়াকুব, চন্দ্রকোটাল প্রমুখ।

• শওকত ওসমান:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। 
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। 
- তিনি  বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, ফিলিপস পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি, 
- সমাগম, 
- চৌরসন্ধি, 
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাংগী।

• তাঁর রচিত গল্প:
- পিঁজরাপোল, 
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প,
- প্রস্তর ফলক, 
- উভশৃঙ্গ, 
- শ্রেষ্ঠ গল্প,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে,
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই,
- মুসলিম মানসের রূপান্তর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,২০৯.
'লালসালু' উপন্যাসটি ফরাসি অনুবাদ করেন কে?
  1. নিলুফার আহমেদ
  2. সেলিম আল দীন
  3. অ্যান মেরি
  4. ক্যাথরিন লিম
সঠিক উত্তর:
অ্যান মেরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যান মেরি
ব্যাখ্যা
'লালসালু' উপন্যাস:
- 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস। 'লালসালু' উপন্যাসটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে।
- এ উপন্যাসে গ্রামবাংলার এক চতুর ধর্মব্যবসায়ী ধর্মপ্রবণ মুসলিম সমাজে এক কল্পিত মাযারকে পুঁজি করে কীভাবে প্রতিষ্ঠা পায় এবং শেষে তাঁরই কিশোরী স্ত্রী জমিলা কীভাবে তাকে আশঙ্কাগ্রস্ত করে তোলে, তারই আলেখ্য চিত্রিত হয়েছে। স্বল্প পরিসরে গ্রামীণ পটভূমিকায় লেখক ধর্মান্ধতার স্বরূপ উন্মোচন করতে সক্ষম হন।
- প্যারিস থেকে ফরাসি অনুবাদ প্রকাশিত হয়। ফরাসি অনুবাদ করেন তাঁর পত্নী 'অ্যান মেরি'।
- ১৯৬৭ সালে লন্ডন থেকে ইংরেজি অনুবাদ (Tree Without Roots) প্রকাশিত হয়।
- পরে চেক ও জার্মান ভাষাও এর অনুবাদ হয়।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সহপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ)।
১৪,২১০.
‘পূর্বমেঘ’ সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক কে?
  1. মনোমোহন বসু
  2. জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
সঠিক উত্তর:
জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী
ব্যাখ্যা
‘পূর্বমেঘ’ পত্রিকা:
- ঢাকা থেকে নির্ভেজাল সাহিত্যপত্রিকা প্রকাশ ও তা টিকিয়ে রাখা যখন কষ্টকর ছিল, সে সময়েই রাজশাহি থেকে ‘পূর্বমেঘ’ (১৯৬০) নামে সাহিত্যপত্রিকা প্রকাশ হয় এবং এক দশকের বেশি সময় টিকে থাকে।
- বঙ্গাব্দের হিসেবে ১৩৬৭ থেকে ১৩৭৮ পর্যন্ত ‘পূর্বমেঘের’ আয়ুকাল।
- পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী ও মুস্তফা নূরউল ইসলাম এবং প্রকাশক ছিলেন এ. আর. মল্লিক।
- উচ্চমার্গীয় সাহিত্যালোচনার পাশাপাশি সৃজনশীল রচনার নমাদর ছিল এ পত্রিকায়।
- ঢাকা থেকে যেকালে ‘সমকাল’ (১৯৫৭) প্রকাশ হচ্ছে, ঠিক সে-কালেই রাজশাহী থেকে ‘পূর্বমেঘ’ প্রকাশ দেশে সাহিত্য চর্চার ইতিবাচক উত্তরণকে চিহ্নিত করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,২১১.
'মোদের গরব, মোদের আশা/ আ মরি বাংলা ভাষা'- গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) রজনীকান্ত সেন
  4. ঘ) অতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) অতুলপ্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
‘মোদের গরব, মোদের আশা/ আ মরি বাংলা ভাষা’- গানটির রচয়িতা- 'অতুলপ্রসাদ সেন'।  
- গানটিতে অতুলপ্রসাদের মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে।
- এ গান বাংলাদেশের  ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের মধ্যে অফুরন্ত প্রেরণা জুগিয়েছে। 

অতুলপ্রসাদ সেন 
- অতুলপ্রসাদ সেন ছিলেন একজন কবি, গীতিকার, গায়ক।
- তিনি ১৮৭১ সালে ঢাকায়  জন্মগ্রহণ করেন। 
- অতুল প্রসাদ সেন সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীত ভুবনে অনন্য স্থান দখল করে আছেন।
- তাঁর অপূর্ব সৃষ্টি, ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।’
- তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।
 -তাঁর লেখা গানের সংকলন - 'কয়েকটি গান ও গীতিপুঞ্জ'।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,২১২.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'মানুষ' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. অগ্নিবীণা
  2. ফণিমনসা
  3. বিষের বাঁশী
  4. সাম্যবাদী
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'মানুষ' কবিতাটি 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।

মানুষ- কবিতা,
কাজী নজরুল ইসলাম।

গাহি সাম্যের গান-
মানুষের চেয়ে বড়ো কিছু নাই,
নহে কিছু মহীয়ান!
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম জাতি,
সব দেশে, সবে কালে, ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি
(সংক্ষিপ্ত)

• 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটির উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ,
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী,
- নারী,
- রাজা-প্রজা,
- সাম্য,
- কুলিমজুর

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ।

১৪,২১৩.
আহমদ ছফার উপন্যাস-
  1. পালাবদল
  2. সূর্য তুমি সাথী
  3. অসমাপিকা
  4. পরিত্যক্ত স্বামী
সঠিক উত্তর:
সূর্য তুমি সাথী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্য তুমি সাথী
ব্যাখ্যা

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাসঃ
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার (উনসত্তরের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস),
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন,
- মরণবিলাস,
- গাভী বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ ইত্যাদি।
• অসমাপিকা উপন্যাসের রচয়িতা অন্নদাশঙ্কর রায়।
• পরিত্যক্ত স্বামী উপন্যাসের রচয়িতা আবু জাফর শামসুদ্দীন।
• পালাবদল অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,২১৪.
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মর্মবাণী
  2. কঙ্কাবতী
  3. হারানো অর্কিড
  4. দময়ন্তী
সঠিক উত্তর:
হারানো অর্কিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হারানো অর্কিড
ব্যাখ্যা

অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তীর জন্ম ১৯০১ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায়।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে অমিয় চক্রবর্তীর কবিতা, বাংলাদেশ।
- ‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি অনিঃশেষ’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। 

• অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- কবিতাবলী
- উপহার,
- অনিঃশেষ
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেওয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১৪,২১৫.
শিলাইদহ কুঠিবাড়ির সাথে রবীন্দ্রনাথের কোন সাহিত্যকর্মটি জড়িত?
  1. ক) সোনার তরী
  2. খ) ক্ষণিকা
  3. গ) নৈবেদ্য
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
শিলাইদহ কুঠিবাড়ি রবীন্দ্রস্মৃতি-বিজড়িত একটি ঐতিহাসিক স্থান। 
- ১৮০৭ সালে রামলোচন ঠাকুরের উইলসূত্রে রবীন্দ্রনাথের পিতামহ দ্বারকানাথ ঠাকুর এ জমিদারির মালিক হন। রবীন্দ্রনাথ জমিদারি দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়ে প্রথম শিলাইদহে আসেন ১৮৮৯ সালের। 
- এই কুঠিবাড়ি ও পদ্মা বোটে বসে রচিত হয় রবীন্দ্রসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফসল সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালী, কথা ও কাহিনী, ক্ষণিকা, নৈবেদ্য ও খেয়ার অধিকাংশ কবিতা, পদ্মাপর্বের গল্প, নাটক, উপন্যাস, পত্রাবলী এবং গীতাঞ্জলি ও গীতিমাল্যের গান।
- এখানে বসেই কবি ১৯১২ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ শুরু করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪,২১৬.
'কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই' কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শহীদ কাদরী
  4. রফিক আজাদ
সঠিক উত্তর:
শহীদ কাদরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা
• ‘কোথাও কোন ক্রন্দন নেই’ কাব্যগ্রন্থ:
- ‘কোথাও কোন ক্রন্দন নেই’ শহীদ কাদরী রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত ‘কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই’ কাব্য গ্রন্থটি তাদের একমাত্র ছেলে আদনান কাদরীকে উৎসর্গ করেছিলেন কবি শহীদ কাদরী। 

উল্লেখ্য,
• ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’ গ্রন্থটি শহীদ কাদরী তাঁর স্ত্রীকে উৎসর্গ করেছিলেন।

--------------------
• শহীদ কাদরী:
- তিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
- ১৯৪২ সালের ১৪ই আগস্ট, কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
- ২০১৬ সালের ২৮শে আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মারা যান।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উত্তরাধিকার,
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা (দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ),
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই,
- আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘কোথাও কোন ক্রন্দন নেই’ কাব্যগ্রন্থ।
১৪,২১৭.
'আনন্দের মৃত্যু' গল্পের রচয়িতা কে?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) আনিস চৌধুরী
  4. ঘ) দাউদ হায়দার
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

সৈয়দ শামসুল হক রচিত গল্পঃ তাস, শীত বিকেল, আনন্দের মৃত্যু, জলেশ্বরীর গল্পগুলো ইত্যাদি।
তার উপন্যাসঃ সীমানা ছাড়িয়ে, অনুপম দিন, এক মহিলার ছবি, নীল দংশন, খেলারাম খেলে যা, বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪,২১৮.
শওকত ওসমান কোন গ্রন্থের জন্য ফিলিপস পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ক্রীতদাসের হাসি
  2. সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই
  3. ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী
  4. আমলার মামলা
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী:
- এটি শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের জন্য তিনি ফিলিপস পুরস্কার (১৯৯১) লাভ করেন।

• শওকত ওসমান:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। 
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। 
- তিনি  বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, ফিলিপস পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন ।

তাঁর রচিত গল্প:
- পিঁজরাপোল, 
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প,
- প্রস্তর ফলক, 
- উভশৃঙ্গ, 
- শ্রেষ্ঠ গল্প,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে,
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী  ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,২১৯.
'প্রেমের সমাধি' উপন্যাস কে রচনা করেছেন?
  1. বদরুদ্দীন ওমর
  2. মামুনুর রশিদ
  3. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নজিবর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
• 'প্রেমের সমাধি' উপন্যাস মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচনা করেছেন।

• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:

- তিনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের চরবেলতৈল এ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন ঔপন্যাসিক।
- তাঁর জনপ্রিয় ও প্রথম উপন্যাস হচ্ছে আনোয়ারা। উপন্যাসটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি 'সাহিত্যরত্ন' উপাধি লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- প্রেমের সমাধি,
- পরিণাম,
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- দুনিয়া আর চাই না,
- গরীবের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,২২০.
'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেন কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. শামসুর রাহমান
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধকালে কবি শামসুর রাহমান 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।

• ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে কবি শামসুর রাহমান ‘বন্দী শিবির থেকে’ (১৯৭২) কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন।
- এই গ্রন্থের অধিকাংশ কবিতা মুক্তিযুদ্ধকালীন অবরুদ্ধ সময়ে রচিত।
- গ্রন্থটি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি উৎসর্গ করা হয়।
- মোট ৩৮ টি কবিতা রয়েছে, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’, ’স্বাধীনতা তুমি’।

অন্যদিকে,
• হাসান আজিজুল হক ও শওকত ওসমানের ছদ্মনাম ব্যবহারে কোনো সাহিত্য রচনা করেননি। 

• সৈয়দ মুজতবা আলীর অন্য ছদ্মনাম:
- মুসাফির,
- ওমর খৈয়াম,
- প্রিয়দর্শী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,২২১.
'উদীচী' সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ছিল- 
  1. সতীনাথ ভাদুড়ী
  2. সত্যেন সেন 
  3. রণেশ দাশগুপ্ত
  4. শহীদুল্লা কায়সার
সঠিক উত্তর:
সত্যেন সেন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন সেন 
ব্যাখ্যা

• 'উদীচী' সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ছিল- সত্যেন সেন।
----------------------------------------- 
• সত্যেন সেন:
- সত্যেন সেন ছিলেন একজন সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ।
- তিনি বিপ্লবী কথাশিল্পী হিসেবেও সমানভাবে পরিচিত। 
- তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন সেন ছিলেন রবীন্দ্রসঙ্গীত ও গণসঙ্গীতের সুকণ্ঠ গায়ক।
- তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন।
- এছাড়া তিনি মার্ক্সবাদে দীক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:

উপন্যাস:
- আলবেরুনী, 
- মা, অপরাজেয়, 
- ভোরের বিহঙ্গী,
- অভিশপ্ত নগরী,
- পদচিহ্ন,
- পাপের সন্তান,
- কুমারজীব,
- বিদ্রোহী কৈবর্ত,
- পুরুষমেধ,
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ

ইতিহাস ও গবেষণা বিষয়ক
- মহাবিদ্রোহের কাহিনী,
- বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম,
- মানবসভ্যতার ঊষালগ্নে,
- ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলমানদের ভূমিকা। 

শিশুসাহিত্য:
- পাতাবাহার,
- অভিযাত্রী

বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ:
- আমাদের এই পৃথিবী,
- এটমের কথা।
---------------------------------------------------- 
উদীচী সম্পর্কিত কিছু কথা:
- বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী (উদীচী) বাংলাদেশের বৃহত্তম সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ১৯৬৮ সালে সত্যেন সেন এর নেতৃত্বে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে সত্যেন সেন, রণেশ দাশগুপ্ত ও শহীদুল্লা কায়সারসহ একঝাঁক তরুণ সদস্য যোগদানের মাধ্যমে উদীচী'র কার্যক্রম শুরু হয়।
- জন্মলগ্ন থেকেই উদীচী অধিকার, স্বাধীনতা ও সাম্যের সমাজ গঠনের জন্য সংগ্রাম করেছে।
- ৬৮ থেকে ৭১ সালের মধ্যে উদীচী বাঙালির সার্বিক মুক্তির চেতনাকে ধারণ করে সাংস্কৃতিক সংগ্রাম পরিচালনা করে।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১৪,২২২.
ফররুখ আহমদ-এর 'মুহূর্তের কবিতা' কোন আঙ্গিকের সাহিত্যকর্ম?
  1. গীতিনাট্য
  2. এলিজি
  3. সনেট সংকলন
  4. কাহিনি কাব্য
সঠিক উত্তর:
সনেট সংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সনেট সংকলন
ব্যাখ্যা
• ইসলামী স্বাতন্ত্র্যবাদী কবি/ মুসলিম জাগরনের কবি ফররুখ আহমদের সনেট সংকলন - মুহূর্তের কবিতা।

• মুহূর্তের কবিতা:
- গ্রন্থটি ১৯৬৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এতে মোট ৯৩টি সনেট কবিতা রয়েছে যা শেক্সপীরিয়-পেত্রার্কীয় রীতিতে ৬৮ অক্ষর চরণ মাত্রায় রচিত।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: মুহূর্তের কবিতা, অশান্ত পৃথিবী, পরিচিতি, ধানের কবিতা ইত্যাদি। 

• ফররুখ আহমদ:  
- তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
 
• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি'
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
 
১৪,২২৩.
'অনিলা দেবী' ছদ্মনামটি কার?
  1. কামিনী রায়
  2. স্বর্ণকুমারী দেবী
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মহাশ্বেতা দেবী
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম — ‘অনিলা দেবী'।
- তিনি 'নারীর মূল্য' প্রবন্ধটি 'অনিলা দেবী' ছদ্মনামে যমুনা পত্রিকায় প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে,
• কামিনী রায় - এর ছদ্মনাম হচ্ছে — জনৈক বঙ্গমহিলা।
• মহাশ্বেতা দেবী - এর ছদ্মনাম হচ্ছে — সুমিত্রা দেবী।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত কিছু ছদ্মনাম হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- পরশুরাম;
- অনুরূপা দেবী;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,২২৪.
'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ কাব্যনাট্যটি কোন ঘটনার পদধ্বনি নির্দেশ করে?
  1. মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি
  2. মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধের পদধ্বনি
  3. রাজাকারদের আগমনের পদধ্বনি
  4. মুক্তিযোদ্ধাদের শত্রুদমনের পদধ্বনি
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি
ব্যাখ্যা
• 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়':
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য।
- কাব্যনাট্যটি রচিত হয়েছে ১৯৭৫ সালে। এটি বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

নাটকের চরিত্রগুলো হলো-
- মাতবর, 
- পীর সাহেব, 
- মাতবরের মেয়ে, 
- পাইক, 
- গ্রামবাসীগণ, 
- তরুণদল, 
- মুক্তিযোদ্ধাগণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কাব্যনাট্য।
১৪,২২৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বসুন্ধরা ও বর্ষাযাপন' কবিতা কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. মানসী 
  2. বলাকা 
  3. চিত্রা
  4. সোনার তরী
সঠিক উত্তর:
সোনার তরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনার তরী
ব্যাখ্যা

• 'সোনার তরী':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোনার তরী কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে লেখা হয়েছে।
 
এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো:
- সোনার তরী,
- বিম্ববতী,
- বর্ষাযাপন,
- সুপ্তোত্থিতা,
- হিং টিং ছট,
- বসুন্ধরা,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা।

----------------
রবীন্দ্রনাথ ঠকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া, উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ)।

১৪,২২৬.
ভানুমতী ও বনোয়ারী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ইছামতী
  2. দেবযান
  3. অপরাজিত
  4. আরণ্যক
সঠিক উত্তর:
আরণ্যক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরণ্যক
ব্যাখ্যা
‘আরণ্যক’ উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘আরণ্যক’।
- ভাগলপুরের নিকটবর্তী বনঞ্চলের নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন নিয়ে রচিত হয়েছে আরণ্যক উপন্যাস।
- প্রধান চরিত্র: ভানুমতী, বনোয়ারী, দোবরু, বুদ্ধু সিংহ।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি 'দীপক' (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'পথের পাঁচালী'। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 'অপরাজিত', পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ (১৯৫১) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালে ব্যারাকপুরের ঘাটশিলায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,২২৭.
”নৌফেল ও হাতেম” কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. শামসুর রহমান
  3. আল মাহমুদ
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
• ফররুখ আহমদ:
- একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী কবি।
- ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম। 
-  ফররুখ আহমদ 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি' বা 'মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
- তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ।
- পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি ,
- সিরাজাম মুনিরা ,
- নৌফেল ও হাতেম ,
- মুহূর্তের কবিতা ,
- হাতেমতায়ী ,
- হাবেদা মরুর কাহিনী, ইত্যাদি।

• তাঁর শিশুতোষ রচনা।
- পাখির বাসা ,
- হরফের ছড়া ,
- ছড়ার আসর , ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,২২৮.
মনসামঙ্গল কাব্যের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র নয় কোনটি?
  1. লখিন্দর
  2. বেহুলা
  3. ফুল্লরা
  4. সনকা
সঠিক উত্তর:
ফুল্লরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুল্লরা
ব্যাখ্যা

- মনসামঙ্গল কাব্যের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র নয় 'ফুল্লরা'। 
- এটি চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের অন্যতম চরিত্র। 

• মনসামঙ্গল' কাব্য:

- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
- 'কানা হরিদত্ত, বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, প্রমুখ ছিলেন 'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা।

• মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,২২৯.
'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) উইলিয়াম কেরী
  2. খ) রাজা রামমোহন রায়
  3. গ) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
খ) রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
গৌড়ীয় ব্যাকরণ বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা  ব্যাকরণ।
- রচয়িতা রাজা  রামমোহন রায়।
-  প্রকাশিত ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে।
- এটি তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ।
- এর আগে তিনি ইংরেজিতে Bengali Grammar in the English Language নামের একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন।

- গৌড়ীয় ব্যাকরণ রচিত হয় তৎকালীন স্কুল-বুক সোসাইটির অভিপ্রায়ে এবং ছাত্রদের পাঠোপযোগী করে। সর্বমোট বারোটি অধ্যায়ে এটি বিন্যস্ত। প্রথম অধ্যায়ে ধ্বনি, বর্ণ, উচ্চারণ, শব্দ, অক্ষর প্রভৃতি সম্পর্কে দৃষ্টান্তসহ আলোচনা করা হয়েছে। গ্রন্থে বাংলা ভাষার স্বকীয় উচ্চারণ-পদ্ধতি সম্পর্কে রামমোহন কিছু মৌলিক বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বাংলা ভাষার লিঙ্গ, প্রত্যয়, পদান্বয়, বাক্যরীতি, ছন্দ ইত্যাদি। মোটামুটিভাবে গৌড়ীয় ব্যাকরণে রয়েছে বাংলা ভাষার ধ্বনি ও রূপগত বৈশিষ্ট্যের বৈয়াকরণিক বিশ্লেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,২৩০.
‘জন্মভূমি রক্ষাহেতু কে ডরে মরিতে?
যে ডরে, ভীরু সে মূঢ়, শত ধিক তারে।’
- কথাটি কার?
  1. ক) রাম
  2. খ) লক্ষ্মণ
  3. গ) রাবণ
  4. ঘ) মেঘনাদ
সঠিক উত্তর:
গ) রাবণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাবণ
ব্যাখ্যা
মেঘনাদবধ কাব্যের নায়ক ও কেন্দ্রীয় চরিত্র রাবণের কথা এটি। ছেলে বীরবাহু মারা যাওয়ার ফলে তিনি শোককে শক্তিতে রূপান্তর করেন এবং দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করাকে বীরের ধর্ম হিসেবে মনে করেন।

উৎস : চর্যাপদ মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
১৪,২৩১.
'চলে মুসাফির' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা

চলে মুসাফির - জসীম উদ্‌দীনের উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনীগুলোর মধ্যে একটি।
---------------------------------------------------
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
-জসীম উদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়।
 -‘পল্লীকবি’ জসীম উদ্দীন বাংলা সাহিত্যে গ্রামীণ জীবনের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ, লোকসংস্কৃতি ও মানবিক অনুভূতিকে সহজ-সরল ভাষায় চিত্রিত করেছেন।
- তাঁর বিখ্যাত কাব্য ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ (১৯২৯) এক অনন্ত প্রেমকাহিনি, যেখানে রূপাই ও সাজুর বেদনার গল্প বোনা হয়েছে লোকজ চেতনায়।
- এই কাব্যর জন্যই তাঁকে “পল্লীকবি” উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

• তাছাড়া তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত কাব্য:
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- রাখালী,
- ভোর হইলো দোর খোলো, প্রভৃতি।

• জসীম উদ্দীনের উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনীগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশে, এবং
- যে দেশে মানুষ বড়।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রমণকাহিনী:
- যাত্রী,
- 'ইউরোপ প্রবাসীর পত্র।
• সৈয়দ মুজতবা আলীর ভ্রমণকাহিনী: দেশে-বিদেশে।
• অন্নদাশঙ্কর রায়ের ভ্রমণকাহিনী: পথে-প্রবাসে।
• মুহম্মদ আব্দুল হাই-এর ভ্রমণকাহিনী: বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৪,২৩২.
'নক্সী কাঁথার মাঠ' - কাব্যের ইংরেজি অনুবাদের নাম কী?
  1. The Tale of Nakshi Kantha
  2. The Field of Embroidered Quilt
  3. The Embroidered Sheet
  4. The Story of a Quilt
সঠিক উত্তর:
The Field of Embroidered Quilt
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The Field of Embroidered Quilt
ব্যাখ্যা
'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদদীনের বিখ্যাত কাহিনিকাব্য নক্সী কাঁথার মাঠ।
- ১৯২৯ সালে নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন E.M Milford. ইংরেজি অনুবাদের নাম - The Field of Embroidered Quilt.
- নক্সী কাঁথার মাঠ কাব্যোপন্যাসটি রূপাই ও সাজু নামক দুই গ্রামীণ যুবক-যুবতীর অবিনশ্বর প্রেমের করুণ কাহিনী।

জসীমউদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,২৩৩.
'কাঁটাতারের প্রজাপতি' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) নীলিমা ইব্রাহিম
  2. খ) রেজিয়া বেগম
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) রাবেয়া খাতুন
সঠিক উত্তর:
গ) সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• সেলিনা হোসেন একজন প্রখ্যাত নারী ঔপন্যাসিক।
• তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছ্বাস,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- আগষ্টের একরাত,
- খুন ও ভালোবাসা,
- কাঁটাতারের প্রজাপতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- অপেক্ষা,
- গেরিলা ও বীরাঙ্গনা,
- ঘুমকাতুরে ঈশ্বর,
- পূর্ণছবির মগ্নতা,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা,
- কালকেতু ও ফুল্লরা ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,২৩৪.
'একটি কালো মেয়ের কথা' - উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কী?
  1. নদীর তীরবর্তী গ্রামের মানুষের জীবনকথা
  2. স্বাধীনতা সংগ্রাম
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. দুর্ভিক্ষ
সঠিক উত্তর:
স্বাধীনতা সংগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাধীনতা সংগ্রাম
ব্যাখ্যা

'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখিত উপন্যাস ‘একটি কালো মেয়ের কথা’ রচনা করেছিলেন শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পী তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
- উপন্যাসের পট উন্মোচিত হয়েছে নাজমা নামের একটি কালো মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম কালে 'স্পাই' হিসেবে ধরা পড়া ডেভিড আর্মস্ট্রং-এর ভারতীয় পুলিশ-অফিসারের সামনে জবানবন্দি উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে।
- এই নাজমাই পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর তাঁবেদার এক পাঞ্জাবির বলাৎকারের শিকার হয়। নির্যাতিতা ও সন্তানহারা কালো মেয়ে নাজমা ১৯৭১-এর বাংলাদেশের প্রতিরূপক হয়ে উঠেছে উপন্যাসে।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,২৩৫.
‘আদিগন্ত’ সরদার জয়েনউদ্‌দীন রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. নাটক
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. ছোটগল্প
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'আদিগন্ত' উপন্যাস:
- 'আদিগন্ত' সরদার জয়েনউদ্‌দীন রচিত একটি উপন্যাস।
- প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ খিষ্টাব্দে।
- সরলা ও মেহের বয়াতির প্রেমের কাহিনি বর্ণানার ভেতর দিয়ে পল্লিসমাজের জটগুলো অনাবৃতভাবে এতে প্রকাশিত হয়েছে।

-----------------------------
• সরদার জয়েনউদ্‌দীন:

- সরদার জয়েনউদ্‌দীন মূলত কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
- ১৯১৮ সালে পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামের এক কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম।
- প্রকৃত নাম মুহম্মদ জয়েনউদ্‌দীন বিশ্বাস ।
- সরদার জয়েনউদ্‌দীন ছিলেন একজন জনপ্রিয় কথাশিল্পী।
- তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘নয়ন ঢুলি’ প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে এবং এর মাধ্যমেই তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- সরদার জয়েনউদ্‌দীনের রচনায় গণমানুষের কল্যাণ ও মুক্তিচিন্তার পাশাপাশি সমকালীন সমাজ ও রাজনীতিবিষয়ক ঘটনাবলিও প্রাধান্য পেয়েছে।
- ‘অনেক সূর্যের আশা’ উপন্যাস তাঁকে খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৭) এবং কথাসাহিত্যে আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আদিগন্ত,
- অনেক সূর্যের আশা,
- বেগম শেফালী মির্জা,
- রোদের ঢেউ।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- নয়ন ঢুলি,
- খরস্রোত,
- বেলা ব্যানার্জির প্রেম,
- অষ্টপ্রহর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,২৩৬.
'সর্বহারা' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. সিকান্‌দার আবু জাফর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. ফররুখ আহমদ
  4. আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
⇒ সর্বহারা:
- সর্বহারা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯২৬ খৃষ্টাব্দে এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সর্বহারা কাব্যগ্রন্থে মোট ১০ টি কবিতা রয়েছে।

কবিতাসমূহের তালিকা:
১. সর্বহারা,
২. কৃষাণের গান,
৩. শ্রমিকের গান,
৪. ধীবরদের গান,
৫. ছাত্রদলের গান,
৬. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার,
৭. ফরিয়াদ,
৮. আমার কৈফিয়ত,
৯. প্রার্থনা,
১০. গোকুল নাগ।
=============== 

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি। 

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা, 
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, সর্বহারা কাব্যগ্রন্থ, কাজী নজরুল ইসলাম।
১৪,২৩৭.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. অপসরণ
  2. কালের শাসন
  3. তারুণ্য
  4. মন পবন
সঠিক উত্তর:
অপসরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপসরণ
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস - অপসরণ

অপসরণ:
- অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস 'অপসরণ'।
- উপন্যাসটি ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ভারতবর্ষ থেকে ইউরোপ পর্যন্ত প্রসারিত পটভূমিতে রচিত এপিকধর্মী এই উপন্যাস ছয়টি তত্ত্বপ্রধান ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত তবে কিছুটা কৃত্রিম।

অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। 
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ। 

তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান কবিতা:
- রাখী,
- কালের শাসন,
- কামনা পঞ্চবিংশতি,
- নূতনা রাধা,
- লিপি,
- জার্নাল,
- ক্রীডো ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- যৌবন জ্বালা,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,২৩৮.
চলিত ভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) গোরা
  2. খ) ঘরে-বাইরে
  3. গ) শেষের কবিতা
  4. ঘ) যোগাযোগ
সঠিক উত্তর:
খ) ঘরে-বাইরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঘরে-বাইরে
ব্যাখ্যা
- চলিত ভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম উপন্যাস হচ্ছে ঘরে-বাইরে

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• ঘরে-বাইরে উপন্যাস: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস।
- ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমাক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ চরিত্র রয়েছে।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কাহিনী সকরুণ, সিরিয়াস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,২৩৯.
'নাট্যাচার্য' হিসাবে খ্যাত -
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সেলিম-আল-দীন
  4. মামুনুর রশীদ
সঠিক উত্তর:
সেলিম-আল-দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিম-আল-দীন
ব্যাখ্যা
সেলিম আল দীন:
- তিনি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা নাটকে নতুন ধারার প্রবর্তক নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন।
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান।
- ২০০৭ সালে একুশে পদকে ভূষিত করা হয় তাকে।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,২৪০.
"ও আমার দেশের মাটি, তোমার 'পরে ঠেকাই মাথা" গানটির কার রচনা?
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. জসীমউদ্দিন
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

''ও আমার দেশের মাটি, তোমার 'পরে ঠেকাই মাথা।
তোমাতে বিশ্বময়ীর, তোমাতে বিশ্বমায়ের আঁচল পাতা॥
তুমি মিশেছ মোর দেহের সনে,
তুমি মিলেছ মোর প্রাণে মনে,
তোমার ওই শ্যামলবরন কোমল মূর্তি মর্মে গাঁথা ॥
ওগো মা, তোমার কোলে জনম আমার, মরণ তোমার বুকে।''
গানটি রবীন্দ্রনাথের একটি দেশাত্মবোধক গান। গানটি রচনাকাল ১৯০৫ সাল এবং স্বরলিপিকার ইন্দিরা দেবী।
উৎসঃ গীতবিতান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

১৪,২৪১.
বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. বাংলা একাডেমি জার্নাল
  2. ধানশালিকের দেশ
  3. উত্তরাধিকার
  4. ঢাকা নিউজ
সঠিক উত্তর:
ঢাকা নিউজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা নিউজ
ব্যাখ্যা

• ঢাকা নিউজ:
- ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা।
- এটি ছিলো ইংরেজি ভাষার একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা যা ১৮৫৬ সালের ১৮ এপ্রিল আলেক্সান্ডার ফর্বেসের সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৮৬৯ সালে এর প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।
- এটি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত পত্রিকা নয়। 

• অন্যদিকে:
- বাংলা একাডেমি থেকে ছয়টি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। 

• বাংলা একাডেমি পত্রিকা:
- গবেষণামূলক ত্রৈমাসিক।
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উপর বিশেষ গুরুত্বসহ অন্যান্য বিষয়েও বাংলায় রচিত গবেষণামূলক প্রবন্ধ এতে প্রকাশিত হয়।

• উত্তরাধিকার:
- মাসিক পত্রিকা।
- এতে সৃজনশীল রচনা, যথা: গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক, গ্রন্থ-সমালোচনা ইত্যাদি মুদ্রিত হয়।

• ধানশালিকের দেশ:
- ত্রৈমাসিক কিশোর পত্রিকা।
- কিশোরোপযোগী গল্প, কবিতা, ছড়া ইত্যাদি এই পত্রিকায় মুদ্রিত হয়।

• বাংলা একাডেমি বিজ্ঞান পত্রিকা:
- ষাণ্মাসিক এই পত্রিকাটি বিজ্ঞান বিষয়ক রচনার সমন্বয়ে প্রকাশিত হয়।
- এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।

• বাংলা একাডেমি জার্নাল:
- ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত ষাণ্মাসিক পত্রিকা।
- বাংলা সাহিত্যের নির্বাচিত রচনা ইংরেজির অনুবাদ এবং বাংলা সাহিত্য ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইংরেজি ভাষায় রচিত মৌলিক রচনা এতে প্রকাশিত হয়।
- এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।

• বার্তা:
- একাডেমির কার্যক্রম ও যাবতীয় কর্মকাণ্ডের বিবরণ এতে উপস্থাপিত হয়ে থাকে।
- বর্তমানে এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।

সূত্র: বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।

১৪,২৪২.
বিখ্যাত 'হোসেন মিয়া' চরিত্রটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. পদ্মানদীর মাঝি
  2. আলালের ঘরের দুলাল
  3. লালসালু
  4. বরফ গলা নদী
সঠিক উত্তর:
পদ্মানদীর মাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মানদীর মাঝি
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- এই উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,২৪৩.
'তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?' কোন উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. কপালকুণ্ডলা
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল
  4.  বিষবৃক্ষ
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা

• 'কপালকুণ্ডলা':
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র নবকুমার।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র - কপালকুণ্ডলা, কাপালিক ইত্যাদি।

এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি:
- 'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ’ কপালকুণ্ডলা নবকুমারকে বলে।
- 'তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?'
- 'প্রদীপ নিবিয়া গেল।'

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,২৪৪.
"এখনও ক্রীতদাস" নাটকের নাট্যকার ছিলেন-
  1. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. আব্দুল্লাহ আল মুতী
  3. আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
• "এখনও ক্রীতদাস" নাটক :
- আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত "এখনো ক্রীতদাস" নাটকে ঢাকা শহরে 'গলাচিপা' বস্তির যুদ্ধাহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা বাক্কা মিয়ার পরিবারের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের নিম্নবর্গের মানুষের অসহায় জীবনযাপনের ইতিবৃত্ত। পুরুষতান্ত্রিক, পুঁজিতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীদের উপর নির্যাতনের চিহ্নও তুলে ধরা হয়েছে।

- সব সময় আলোয় ঝলমল করে নগর। চারদিকে যেন শুধু সুখ আর সুখ। কিন্তু আলোর নিচে তো অন্ধকার! নগরের সেই অন্ধকার বস্তি। এখানে মানবেতর জীবনযাপন করে অসংখ্য মানুষ। কীভাবে কাটে মানুষগুলোর দিন? তাঁদের কাহিনি নিয়েই নাটক এখনো ক্রীতদাস।

---------------------
• আবদুল্লাহ আল মামুন(১৯৪২-২০০৮) নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক, অভিনেতা। ১৯৪২ সালের ১৩ জুলাই জামালপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক:
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

আবদুল্লাহ আল মামুন ৭টি উপন্যাস রচনা ও প্রকাশ করেন, সেগুলো-
- মানব তোমার সারাজীবন,
- আহ্ দেবদাস,
- তাহাদের যৌবনকাল,
- হায় পার্বতী,
- এই চুনীলাল,
- গুন্ডাপান্ডার বাবা,
- খলনায়ক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; "এখনো ক্রীতদাস" নাটক।
১৪,২৪৫.
'আমি রোমান্টিক কবি নই, মার্কসিস্ট'। - বিখ্যাত উক্তিটি কোন কবির?
  1. মহাদেব সাহা
  2. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. সমর সেন
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
ব্যাখ্যা
• মার্কসিস্ট কবি হিসেবে সমর সেন (১৯১৬-৮৭) স্বল্প সময়ে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। 
'আমি রোমান্টিক কবি নই, মার্কসিস্ট'। - বিখ্যাত উক্তিটি কবি সমর সেন এর। 

সমর সেন:
- তিনি কবি ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- জন্ম ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (১৯৩৭) ও স্নাতকোত্তর (১৯৩৮) সম্পুর্ণ করেন। 
- মার্কসবাদী নেতা রাধারমণ মিত্র ও বঙ্কিম মুখোপাধ্যায়ের সান্নিধ্য লাভ করার ফলে সমর সেনের রাজনৈতিক মনন গঠিত হয়।
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’-এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যের নাম:
- কয়েকটি কবিতা, 
- গ্রহণ,
- নানা কথা,
- খোলা চিঠি,
- তিনপুরুষ ইত্যাদি

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৪,২৪৬.
'বেগম' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে?
  1. নূরজাহান বেগম
  2. সুফিয়া কামাল
  3. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  4. রিজিয়া খান
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• বেগম পত্রিকা:
- মহিলাদের প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘বেগম’। 
- ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ বিভক্ত হবার কিছুদিন আগে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বেগম পত্রিকা’।
- এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তৎকালীন সওগাত পত্রিকার সম্পাদক নাসির উদ্দিন।
- বেগম পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন কবি সুফিয়া কামাল।

• সুফিয়া কামাল:
- তিনি ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল কুমিল্লায়।
- কলকাতায় ১৯১৮ সালে বেগম রোকেয়ার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়।
- তাঁকে জননী সাহসিকা বলা হয়।
- তিনি মূলত কবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি 'বেগম' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

• কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া 
- মন ও জীবন
- উদাত্ত পৃথিবী
- অভিযাত্রিক 
- মোর যাদুদের সমাধি পরে
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা 

• শিশুতোষগ্রন্থ:
- ইতল বিতল
- নওল কিশোরের দরবারে 

• আত্মজীবনী
- একালে আমাদের কাল 

 ডায়েরি:
- একাত্তরের ডায়রী 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,২৪৭.
‘জাহাঙ্গীর’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. মৃত্যুক্ষুধা
  2. তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা
  3. বাঁধন-হারা
  4. কুহেলিকা
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
ব্যাখ্যা
• 'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

• এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম।

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাসসমূহ-
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা ও
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,২৪৮.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক রচনা নয় কোনটি?
  1. কবর
  2. আরেক ফাল্গুন
  3. যাপিত জীবন
  4. কী চাহ শঙ্খচিল
সঠিক উত্তর:
কী চাহ শঙ্খচিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কী চাহ শঙ্খচিল
ব্যাখ্যা

• ভাষা আন্দোলনভিত্তিক রচনা:
- কবর;
- আরেক ফাল্গুন;
- যাপিত জীবন।

অন্যদিকে,
'কী চাহ শঙ্খচিল' - মমতাজউদদীন আহমদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
--------------------------
বিস্তারিত আলোচনা:

• 'কবর' নাটক:
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।
- নাটকটি লেখক জেলে থাকা অবস্থায় রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে জেলের রাজবন্দিদের দ্বারা নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।
- নাটকটি ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'।
- চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা ইত্যাদি।
- এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।
- 'কবর' মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত প্রথম বাংলা নাটক।

• 'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেনের লেখা উপন্যাস 'যাপিত জীবন'।
- উপন্যাসের নায়ক জাফর জীবনের কথা বলে জীবনেরই বিনিময়ে।
- সেলিনা হোসেন জাফরের স্বচ্ছ প্রতীকচিত্রে বাঙালির শেকড় আর অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে তাঁর 'যাপিত জীবন'-এ ।
- জাফর প্রতিটি অণুমুহূর্তে ঘোষণা করে বেড়ায় তাঁর বাঙালি অস্তিত্ব। তাঁর শেকড়। নিজের মৃত্তিকারসে জারিত স্বকীয় বিকাশের সমস্ত প্রয়াস ভর করে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধি জাফরের মাঝে। জাফর বাঙালি কণ্ঠের বলিষ্ঠ উৎসারণ।

• 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটক:
- মমতাজউদদীন আহমদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
- ১৯৮৩-৮৪ সালে এসে 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকে মমতাজউদদীন আহমদ যেমন লিখলেন এক অনন্য প্রেম, স্বাধীনতা আর প্রতিবাদের কথা।
- যেখানে শঙ্খচিল আসলে হয়ে উঠলো সেই একাত্তরের শকুন।
- যে ছিল স্বাধীনতাকালীন সময়ের অশুভ শক্তি।
- যেখানে আমরা দেখি নাটকের প্রধান চরিত্র রৌশনারা হানাদারদের দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার আগেই সন্তানসম্ভবা হয়।
- আর লোভী স্বামী বীরাঙ্গনা স্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে হয় অর্থের মালিক।
- নাটকটির মাধ্যমে বোঝা যায় কতখানি আত্মত্যাগের বিনিময়ে এসেছে স্বাধীনতা, এসেছে বাংলার এই মুক্তি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,২৪৯.
‘মায়ামালঞ্চ’ বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি ____।
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
গ) নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নাটক
ব্যাখ্যা

মায়ামালঞ্চ বুদ্ধদেব বসুর একটি নাটক।
মায়ামালঞ্চ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
তাঁর রচিত নাটকগুলোর নাম:-
- মায়ামালঞ্চ
- তপস্বী ও তরঙ্গিণী
- কলকাতার ইলেকট্রা ও সত্যসন্ধ
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]

১৪,২৫০.
হাসান হাফিজুর রহমানের কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) আরো দুটি মৃত্যু
  2. খ) শিউলি
  3. গ) আর্ত শব্দাবলী
  4. ঘ) সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
সঠিক উত্তর:
গ) আর্ত শব্দাবলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আর্ত শব্দাবলী
ব্যাখ্যা
• ‘আর্ত শব্দাবলী' হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে।
• 'শিউলি' ২০০৬ সালে প্রকাশিত, হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস।
• 'আরো দুটি মৃত্যু' ১৯৭০ সালে প্রকাশিত, হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প।

অন্যদিকে,
১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, হুমায়ুন আজাদের কাব্যগ্রন্থ 'সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,২৫১.
সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  2. চট্টগ্রাম
  3. মুর্শিদাবাদ
  4. কোলকাতা
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্যাখ্যা
সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ:
- ১৮৬২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে এক সঙ্গীতপরিবারে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ।
- আলাউদ্দিন খাঁ'র ডাক নাম ছিল ‘আলম’।
- ১৯৩৫ সালে তিনি নৃত্যশিল্পী উদয়শঙ্করের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করেন।
- তিনিই ভারতীয় উপমহাদেশের রাগসঙ্গীতকে সর্বপ্রথম পাশ্চাত্যের শ্রোতাদের নিকট পরিচিত করান।
- তিনি নৃত্যাচার্য উদয়শঙ্কর পরিচালিত নৃত্যভিত্তিক ‘কল্পনা’ শীর্ষক একটি ক্ল্যাসিকধর্মী ছায়াছবিতে আবহসঙ্গীতে সরোদ পরিবেশন করেন।
- আলাউদ্দিন খাঁ সরোদে বিশেষত্ব অর্জন করেন।
- সহজাত প্রতিভাগুণে তিনি সরোদবাদনে ‘দিরি দিরি’ সুরক্ষেপণের পরিবর্তে ‘দারা দারা’ সুরক্ষেপণ-পদ্ধতি প্রবর্তন করেন।
- সেতারে সরোদের বাদনপ্রণালী প্রয়োগ করে সেতারবাদনেও তিনি আমূল পরিবর্তন আনেন।
- এভাবে তিনি সঙ্গীতজগতে এক নতুন ঘরানার প্রবর্তন করেন, যা ‘আলাউদ্দিন ঘরানা’ বা শ্রেণী ‘মাইহার ঘরানা’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- তিনি দেশিয় বাদ্যযন্ত্রের সমন্বয়ে অর্কেস্ট্রার স্টাইলে একটি যন্ত্রীদল গঠন করে নাম দেন ‘রামপুর স্ট্রিং ব্যান্ড’
- ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘খাঁ সাহেব’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- অতঃপর ভারত সরকার তাঁকে একে একে ‘সঙ্গীত নাটক আকাদেমী সম্মান’ (১৯৫২), ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৫৮) ও ‘পদ্মবিভূষণ’ (১৯৭১); বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬১) এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ‘ডক্টর অব ল’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯৫৪ সালে তিনি ভারত সরকার কর্তৃক প্রথম সঙ্গীত নাটক আকাদেমীর ফেলো নির্বাচিত হন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ্ মুসলিম হল তাঁকে আজীবন সদস্যপদ দান করে।
- তিনি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আমন্ত্রণে শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীতে আমন্ত্রিত অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
- ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ'র তালিমের গুণে তাঁর পুত্র সরোদশিল্পী ওস্তাদ আলী আকবর খান বিশ্ববিখ্যাত হয়েছেন। ভারত সরকার কর্তৃক ‘পদ্মভূষণ’ ও ‘পদ্মবিভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।
- তাঁর জামাতা সেতারশিল্পী পন্ডিত রবিশঙ্কর বিশ্বখ্যাত হয়েছেন এবং ভারত সরকার কর্তৃক ‘পদ্মভূষণ’, ‘পদ্মবিভূষণ, ও ‘ভারতরত্ন’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। 
- তিনি ১৯৭২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪,২৫২.
'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।'
এই বিখ্যাত কবিতার রচয়িতা -
  1. কামিনী রায়
  2. মদনমোহন তর্কালংকার
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা
'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।' - উক্তিটি 'আদর্শ ছেলে' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
- কবিতার রচয়িতা হলেন- কুসুমকুমারী দাশ।।

• কুসুমকুমারী দাশ:
- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম- পৌরাণিক আখ্যায়িকা।
- কুসুমকুমারী দাশ হলেন জীবনানন্দ দাশের মাতা।
- তাঁর কবিতা প্রকাশিত হত 'প্রবাসী, ব্রহ্মবাদী, মুকুল প্রভৃতি পত্রিকায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,২৫৩.
নিচের কোন লেখন কল্লোল গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন?
  1. ক) প্রমথ চৌধুরী
  2. খ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  3. গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
কল্লোল যুগের একটি প্রধান বৈশিষ্ট ছিল রবীন্দ্র বিরোধিতা।
- যে সময়ে কল্লোলের আবির্ভাব, তখন বাংলা সাহিত্যের সর্বকোণ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাবে প্রোজ্জ্বল।
- কল্লোল যুগের লেখকদের মূল লক্ষ্য ছিল রবীন্দ্র বৃত্তের বাইরে এসে সাহিত্যের একটি মৃত্তিকাসংলগ্ন জগৎ সৃষ্টি করা।
- মূলত বাংলা কবিতায় গদ্যধারার প্রবর্তন শুরু হয় কল্লোল যুগেই।
- সমকালীন ইংরেজি ও বিদেশী সাহিত্যের অনুসরণে বাংলা সাহিত্যের পাঠকরা পরিচিত হয় ন্যাচারালিজম, শারীরিক ভাবনা, জীবনসংগ্রাম, রাজনীতি, সমাজনীতি সহ নানা নতুন নতুন বিষয়ের সাথে।
- কার্ল মার্কস ও সিগমন ফ্রয়েডের চিন্তাধারার প্রভাবে সাহিত্যে এক নতুন রচনাশৈলী তৈরী হয়।
- এ যুগের শক্তিমান কথা-সাহিত্যিকদের হলেন জগদীশ গুপ্ত, বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়, বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়, প্রমথনাথ বিশী, মনোজ বসু, গোপাল হালদার, অন্নদাশঙ্কর রায়, প্রবোধকুমার সান্যাল, সুবোধ ঘোষ, গজেন্দ্রকুমার মিত্র সহ আরো অনেকে।
- কবিতার ক্ষেত্রে যাদের নাম কল্লোল যুগের শ্রেষ্ঠ নায়ক বিবেচনায় প্রচারিত, তাঁরা হলেন- কবি জীবনানন্দ দাশ, বুদ্ধদেব বসু, কাজী নজরুল ইসলাম, অমিয় চক্রবর্তী, অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, বিষ্ণু দে, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সঞ্জয় ভট্টাচর্য সহ অনেকের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং কবিতার ব্লগ।
১৪,২৫৪.
'ক্ষুধা প্রেম আগুন' উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. ক) নির্মলেন্দু গুণ
  2. খ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) আহমদ ছফা
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
'ক্ষুধা প্রেম আগুন' উপন্যাসটি লিখেছেন- 'আবদুল মান্নান সৈয়দ' 

 আবদুল মান্নান সৈয়দ
- আবদুল মান্নান সৈয়দ কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।]
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

• আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস-
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী, 
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর, 
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধাপ্রেম আগুন, 

তাঁর রচিত ছোটগল্প-
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা ইত্যাদি।

• 'স্মৃতির নোটবুক' আব্দুল মান্নান সৈয়দ রচিত স্মৃতিকথা।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,২৫৫.
জহির রায়হান রচিত উপন্যাস কোনটি? 
  1. শেষ বিকেলের মেয়ে
  2. কখনও আসেনি
  3. জীবন থেকে নেয়া 
  4. সঙ্গম
সঠিক উত্তর:
শেষ বিকেলের মেয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষ বিকেলের মেয়ে
ব্যাখ্যা

• শেষ বিকেলের মেয়ে:
- 'শেষ বিকেলের মেয়ে' উপন্যাস হিসেবে জহির রায়হানের প্রথম সৃষ্টি।
- প্রেমের উপাখ্যান হিসেবে উপন্যাসটির জুড়ি মেলা ভার।
- বাংলা সাহিত্যে যতগুলো প্রেমের উপাখ্যান রয়েছে তার মধ্যে 'শেষ বিকেলের মেয়ে' গ্রন্থটি সম্ভবত পাঠক প্রিয়তার শীর্ষের দিকেই অবস্থান করছে।

--------------------
• জহির রায়হান:

- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক। তিনি জহির রায়হান ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- ১৯৫৬ সালে জহির রায়হান চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন। ১৯৬১ সালে তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র 'কখনও আসেনি' মুক্তি পায়।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র 'সঙ্গম'
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি 'বাহানা'।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।

জহির রায়হানের অন্যান্য উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

তাঁর অন্যান্য পরিচালিত চলচ্চিত্র:
- কখনো আসেনি (প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র),
- সোনার কাজল (১৯৬২),
- কাঁচের দেয়াল (১৯৬৩),
- বেহুলা (১৯৬৬),
- জীবন থেকে নেয়া (১৯৭০),
- আনোয়ারা (১৯৬৭),
- সঙ্গম (১৯৬৪),
- বাহানা (১৯৬৫)।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,২৫৬.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস-
  1. ক) গাভী বিত্তান্ত
  2. খ) নদীবক্ষে
  3. গ) সূর্য তুমি সাথী
  4. ঘ) ওঙ্কার
সঠিক উত্তর:
ঘ) ওঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ওঙ্কার
ব্যাখ্যা

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাসঃ
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার,
- মরণবিলাস,
- গাভী বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- বিহঙ্গ পুরাণ,
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন।
• ওঙ্কার উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
• আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪,২৫৭.
'যীশু দাসগুপ্ত' ছদ্মনামে লিখতেন কোন সাহিত্যিক?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সমরেশ বসু
  3. সমরেশ মজুমদার
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
সমরেশ মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমরেশ মজুমদার
ব্যাখ্যা
• 'যীশু দাসগুপ্ত' ছদ্মনামে লিখতেন সমরেশ মজুমদার।
 
অন্যদিকে,
• সমরেশ বসুর ছদ্মনাম 'কালকূট।'
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতৃদত্ত 'প্রবোধকুমার'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ,ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,২৫৮.
পঞ্চতন্ত্র গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সত্যেন সেন
  2. আবুল ফজল
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সমরেশ বসু
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• পঞ্চতন্ত্র:
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র' (১৯৫২) দুই পর্বে বিভক্ত ব্যক্তিগত প্রবন্ধ সংকলন।
- প্রথম পর্বে ৩৪, দ্বিতীয় পর্বে ৩১, মোট ৬৫টি রচনার সংকলন।
- উল্লেখযোগ্য রচনা: বই কেনা, মোপাসাঁ, চেখফ্-রবীন্দ্রনাথ, বিদেশে, মেশেদিনী, অনুবাদ সাহিত্য, অর্থং অর্থং ইত্যাদি।
- এইসব প্রবন্ধ 'বসুমতী' ও 'দেশ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
- প্রবন্ধগুলোর মধ্যে মুজতবা আলীর বিশেষ ও সরস গদ্যশৈলীর পরিচয় মেলে। তাছাড়া বিচিত্র বিষয় প্রীতির নিদর্শন পাওয়া যায়।
- গ্রন্থটিকে রম্যসাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,২৫৯.
'বঙ্গদূত' পত্রিকাটির সম্পাদনা করেন কে?
  1. অক্ষয়কুমার দত্ত
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. নীলমণি হালদার
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
নীলমণি হালদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলমণি হালদার
ব্যাখ্যা

• নীলমণি হালদার — 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

• 'বঙ্গদূত' পত্রিকা:
- রামমোহন ও তাঁর অনুগামীদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে নীলমণি হালদার 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বঙ্গদূত ছিল সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় ১০ই মে, ১৮২৯ সালে।
- এটি সংস্কারবাদী প্রগতিমুখী চিন্তায় পরিচালিত হতো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,২৬০.
কোনটি বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. পরিক্রমা
  2. কঙ্কাবতী
  3. রেখাচিত্র
  4. তিথিডোর
সঠিক উত্তর:
রেখাচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেখাচিত্র
ব্যাখ্যা

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থ - রেখাচিত্র

বুদ্ধদেব বসু: 
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক। ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে। 
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- ঢাকা থেকে প্রগতি (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে কবিতা (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস: 
- তিথিডোর
- সাড়া, 
- সানন্দা, 
- লালমেঘ, 
- পরিক্রমা
- কালো হাওয়া, 
- নির্জন স্বাক্ষর, 
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- কঙ্কাবতী
- দময়ন্তী, 
- মর্মবাণী, 
- যে আঁধার আলোর অধিক।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক: 
- মায়া মালঞ্চ, 
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী, 
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,২৬১.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন রচিত এবং প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ-
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. জলাঙ্গী
  3. জাহান্নম হইতে বিদায়
  4. দুই সৈনিক
সঠিক উত্তর:
জাহান্নম হইতে বিদায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহান্নম হইতে বিদায়
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। 

• ‘জাহান্নম হইতে বিদায়’ উপন্যাস: 
- মুক্তিযুদ্ধকালীন পলায়ন-পর মধ্যবিত্তের চিত্র প্রকাশ পেয়েছে ‘জাহান্নম হইতে বিদায়’ উপন্যাসে ।
- শওকত ওসমানের 'জাহান্নম হইতে বিদায়' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বছর রচিত ও প্রকাশিত গ্রন্থ।
- ১৯৭১ সালে লেখক এই গ্রন্থ রচনা করেন। অবশ্য তখন তিনি কলকাতায় অবস্থান করছিলেন এবং তাই বইটি বের হয় কলকাতার আনন্দ পাবলিশার্স থেকে।
- এই উপন্যাসটি প্রকাশ পেলে তা পাঠ করে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি পাঠকসহ সেখানে অবস্থানকারী বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী শরণার্থী বাঙালিরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আশাবাদী হয়ে ওঠেন।
- উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র গাজী রহমানের অভিজ্ঞতায় শওকত ওসমান তুলে ধরেছেন যুদ্ধকালীন পাকিবর্বরতা।
- গাজী রহমান যুদ্ধকালের সাহসী মুক্তিযোদ্ধা নয়। বরং সে সময় নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পথে নামে সে।
- এক সময় দেশের সীমান্ত পেরিয়ে নিরাপদ বোধ করে নিজে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো: 
» জননী,
» ক্রীতদাসের হাসি,
» সমাগম,
» চৌরসন্ধি,
» রাজা উপাখ্যান,
» জাহান্নম হইতে বিদায়,
» দুই সৈনিক,
» নেকড়ে অরণ্য (১৯৭৩),
» পতঙ্গ পিঞ্জর,
» আর্তনাদ,
» রাজপুরুষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
⇒ 'নেকড়ে অরণ্য' (১৯৭৩) উপন্যাসে জায়েদা, তানিমা, সখিনা, রশীদা বিবি, আমোদিনী প্রমুখ নির্যাতিতা নারীরা যেন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সম্ভ্রম হারানো দুই লাখ মা-বোনের প্রতীক। এ উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে নারী নির্যাতনের মর্মন্তুদ কাহিনী। সিভিল সাপ্লাইয়ের গোডাউনে প্রায় একশ নারীকে ধরে এনে উলঙ্গ করে রেখেছিল হানাদাররা। এখানেই নির্যাতনের শিকার হয় পাঁচজন নারী। তাদের অতীত জীবনালেখ্য, তাদের বন্দি জীবনের মর্মন্তুদ ঘটনাকে তুলে ধরা হয়েছে উপন্যাসে।

⇒ 'দুই সৈনিক' (১৯৭৩) উপন্যাসে হানাদার বাহিনীর লালসায় বিপন্ন বাঙালি নারীর বিনষ্ট জীবনের অভিঘাত প্রতিবিম্বিত হয়েছে। হানাদার বাহিনীর নারী লোলুপতার ঘৃণ্য চেহারাকে ফুটিয়ে তুলেছেন দুই সৈনিক (১৯৭৩) উপন্যাসে। এ উপন্যাসে দুই সামরিক অফিসার পাকিস্তানের সমর্থক একজন মুসলিম লীগপন্থি চেয়ারম্যানের বাড়িতে পরম আতিথেয়তা লাভের পর তার কলেজপড়–য়া দুই মেয়েকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। নিজের চোখের সামনে মেয়েদের তুলে নিতে দেখে অসহায় বাবা তীব্র গ্লানিতে আত্মহত্যা করে।

⇒ স্বাধীন স্বদেশ প্রতিষ্ঠার দ্যোতক হিসেবে 'জলাঙ্গী' (১৯৭৪) উপন্যাসের মূল্য অপরিসীম। এ উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে একজন মুক্তিযোদ্ধা ও তার প্রেমিকার ওপর নির্মম নির্যাতনের ঘটনা। এদের হাত-পা বেঁধে গলায় পাথর ঝুলিয়ে মেঘনা নদীতে ডুবিয়ে মারা হয়। এরা নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়। মৃত্যুর আগ মুহূর্তে 'জয় বাংলা' তাদের অবিচলিত দেশপ্রেমকে মহিমান্বিত করেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার; ‘জাহান্নম হইতে বিদায়’ উপন্যাস।
১৪,২৬২.
ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত মুনীর চৌধুরী বিখ্যাত নাটক-
  1. পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য
  2. কবর
  3. দন্ডকারণ্য
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
সঠিক উত্তর:
কবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবর
ব্যাখ্যা
• মুনীর চৌধুরী :
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক, ভাষাবিজ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম, তাঁর পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলায়। 
- ১৯৬৫ সালে কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে টাইপরাইটারের জন্য নিজ নামে 'মুনীর অপটিমা' নামে উন্নতমানের কী-বোর্ড উদ্ভাবন হয়েছিলো মুনীর চৌধুরীর হাতেই।
- ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত তার বিখ্যাত নাটক - কবর।
- কবর রচনা করেন ঢাকা জেলে বসে।
-পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের পটভূমিকায় লেখা তাঁর মৌলিক নাটক রক্তাক্ত প্রান্তর এর (১৯৫৯)

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক : 
- কবর,
- দন্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য,
- চিঠি,

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য অনুবাদ নাটক : 
-  কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ,


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,২৬৩.
মৌলবাদীদের প্রবল চাপে মীর মশাররফ হোসেন তাঁর কোন গ্রন্থটি প্রত্যাহার করেন?
  1. টালা অভিনয়
  2. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  3. গো জীবন
  4. উদাসীন পথিকের মনের কথা
সঠিক উত্তর:
গো জীবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গো জীবন
ব্যাখ্যা
• ‘গো জীবন’ প্রবন্ধ:
- ‘গো জীবন’ (১৮৮৯) মীর মশাররফ হোসেনের একটি প্রবন্ধ পুস্তিকা।
- প্রবন্ধটির মূল বক্তব্য হলো, কৃষি নির্ভর অর্থনীতিতে যে কোন কারণেই হোক গো হত্যা অনুচিত।
- হিন্দু ও মুসলমান এই দুই ধর্মালম্বীদের ঐক্যবদ্ধ করার মানসেই মীর মশাররফ হোসেন এ প্রবন্ধ রচনা করেন।
- এ গ্রন্থের জন্য লেখককে মামলাতে জড়িয়ে পরতে হয়।
- অবশেষে মৌলবাদীদের প্রবল চাপের মুখে তিনি প্রবন্ধটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।

---------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,২৬৪.
বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক কোনটি?
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. নীলদর্পণ
  3. ভদ্রার্জুন
  4. শর্মিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা
নীলদর্পণ:
- 'নীলদর্পণ' (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্র রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- সমকালের নীলচাষ ও  নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন।  
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নীলদর্পণকে 'আঙ্কল টমস কেবিন'-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
- এটিই বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

দীনবন্ধু মিত্র: 
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে 'সংবাদ প্রভাকর', 'সংবাদ সাধুরঞ্জন' প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- 'নীলদর্পণ' তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে।

তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- নবীন তপস্বিনী,
- লীলাবতী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,২৬৫.
‘সধবার একাদশী’ নাটকটি কে রচনা করেন?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
'সধবার একাদশী' নাটক:
- এই নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র। প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- সধবার একাদশী বিখ্যাত সামাজিক নাটক। উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল। এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনী নিয়ে নাটকটির রচিত।
নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি।

দীনবন্ধু মিত্র:
- ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,২৬৬.
কোনটি সমর সেন রচিত গদ্যগ্রন্থ?
  1. ক) নানাকথা
  2. খ) খোলাচিঠি
  3. গ) তিন পুরুষ
  4. ঘ) বাবু বৃত্তান্ত
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাবু বৃত্তান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাবু বৃত্তান্ত
ব্যাখ্যা
সমর সেন রচিত গদ্যগ্রন্থ - বাবু বৃত্তান্ত

• সমর সেন ১৯১৬ সালে ১০ই অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।তাকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়। তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- কয়েকটি কবিতা
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা
- নানাকথা
- খোলাচিঠি
- সমর সেনের কবিতা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,২৬৭.
'রত্নবতী' কোন লেখকের প্রথম গ্রন্থ?
  1. কায়কোবাদ
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা

'রত্নবতী' উপন্যাস:
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত উপন্যাস রত্নবর্তী।
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রথম গ্রন্থের নাম হচ্ছে 'রত্নবর্তী'। এটি ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি মুসলিম সাহিত্যিকদের মধ্যে প্রথম কোন গ্রন্থ যা ঐতিহাসিকভাবে মূল্যবান।
- প্রকৃতপক্ষে এটি রূপকথা জাতীয় শিক্ষামূলক একটি দীর্ঘ গল্প।
- রাজপুত্র সুকুমার ও মন্ত্রীপুত্র সুমন্তের মধ্যে 'ধন বড় না বিদ্যা বড়'- এ বিতর্ক ও বিতর্কের সমাধানই 'রত্নবতী'র মূল বিষয়।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,২৬৮.
কাজী নজরুলের 'বিষের বাঁশি' কী ধরনের রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) কাব্যগ্রন্থ
  4. ঘ) গল্পগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
গ) কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ -
- অগ্নি - বীণা (প্রথম কাব্যগ্রন্থ)
- বিষের বাঁশি (প্রথম নিষিদ্ধকৃত কাব্যগ্রন্থ)
- ভাঙার গান
- সাম্যবাদী
- সর্বহারা
- ফণি - মনসা
- প্রলয় শিখা
- সন্ধ্যা
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১৪,২৬৯.
'রতন' চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন ছোটগল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. একরাত্রি
  2. পোস্টমাস্টার
  3. যোগাযোগ
  4. সমাপ্তি
সঠিক উত্তর:
পোস্টমাস্টার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোস্টমাস্টার
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ' পোস্টমাস্টার' ছোটগল্পের একটা বিখ্যাত চরিত্র - 'রতন'। 

• 'পোস্টমাস্টার' ছোটগল্প:  
- পোস্টমাস্টার ছোটগল্পটি রবীন্দ্রনাথের প্রথম দিককার ছোটগল্পগুলোর অন্যতম। 
- একটি স্বজনহারা নিঃসহায় গ্রাম্য বালিকার স্নেহালোলুপ হৃদয়ে আসন্ন স্নেহবিচ্যুতির আশঙ্কায় কী সকরুণ ভাবাবেগ উদ্বেলিত হয়েছে তা গল্পের শেষাংশে প্রতিফলিত হয়েছে এবং পাঠকের হৃদয়ে তা অনুরণিত হয়েছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে।
- এই ছোটগল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র রতন। 

--------------------------------------------------
• আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পের চরিত্র:  
- তাঁর 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- তাঁর 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- তাঁর 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'। 
- তাঁর 'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র: কুমুদিনী।

------------------ 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- তিনি অসংখ্য কবিতা, গান,  ছোটগল্প,  উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য,  নৃত্যনাট্য, ভ্রমণকাহিনী, চিঠিপত্র রচনা করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- বাংলাদেশের শাহজাদপুর,  পতিসর, কালিগ্রাম ও শিলাইদহে আসেন।
- তিনি ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল,
- রবিবার,
- শেষকথা,
- পোস্টমাস্টার, 
- ল্যাবরেটরি
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'পোস্টমাস্টার' ছোটগল্প ও রবীন্দ্র রচনা সমগ্র।
১৪,২৭০.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. একাত্তরের দিনগুলি
  2. বন্দি শিবির থেকে
  3. স্বাধীনতা তুমি
  4. স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
বন্দি শিবির থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্দি শিবির থেকে
ব্যাখ্যা
• 'বন্দি শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থ: 
- শামসুর রহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সেখান থাকাকালীন তিনি "মজলুম আদিব" ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় লিখতেন।
- এর অধিকাংশ কবিতা মুক্তিযুদ্ধকালে অবরুদ্ধ বাংলাদেশে এপ্রিল- ডিসেম্ভর, ১৯৭১ সময়ে রচিত। 
- তার লেখা “বন্দী শিবির থেকে” কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রচিত।
- কাব্যগ্রন্থের শুরুতে ‘পুর্বলেখ’ শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।

• এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা: 
- তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা,
- স্বাধীনতা তুমি, 
- মধুস্মৃতি,
- রক্তাক্ত প্রান্তরে ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
জাহানারা ইমাম এর স্মৃতিকথা - “একাত্তরের দিনগুলি”।
স্বাধীনতা তুমি - শামসুর রহমান এর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা।
স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা - মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,২৭১.
''বনের কাছে এই মিনতি, ফিরিয়ে দেবে ভাই/ আমার মায়ের গয়না নিয়ে ঘরকে যেতে চাই'' কবিতাংশটুকু আল মাহমুদের কোন বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. লোক লোকান্তর
  2. পাখির কাছে ফুলের কাছে
  3. কালের কলস
  4. সোনালী কাবিন
সঠিক উত্তর:
পাখির কাছে ফুলের কাছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাখির কাছে ফুলের কাছে
ব্যাখ্যা

• 'নোলক' কবিতা: 
আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে

হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে।

নদীর কাছে গিয়েছিলাম, আছে তোমার কাছে?

-হাত দিওনা আমার শরীর ভরা বোয়াল মাছে।

বললো কেঁদে তিতাস নদী হরিণবেড়ের বাঁকে

শাদা পালক বকরা যেথায় পাখ ছড়িয়ে থাকে।

জল ছাড়িয়ে দল হারিয়ে গেলাম বনের দিক

সবুজ বনের হরিণ টিয়ে করে রে ঝিকমিক।

বনের কাছে এই মিনতি, ফিরিয়ে দেবে ভাই,

আমার মায়ের গয়না নিয়ে ঘরকে যেতে চাই।

- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা আল মাহমুদ।
- এটি লেখকের'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কাব্যগ্রন্থের 'নোলক' কবিতার অন্তর্গত।

• আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা  ও বাংলাপিডিয়া।

১৪,২৭২.
‘কাহ্নপা’ চরিত্রটি পাওয়া যায় নিচের কোন সাহিত্যকর্মে?
  1. চর্যাপদ
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. নীল ময়ূরের যৌবন
  4. কাঁটাতারে প্রজাপতি
সঠিক উত্তর:
নীল ময়ূরের যৌবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীল ময়ূরের যৌবন
ব্যাখ্যা
সেলিনা হোসেন রচিত 'নীল ময়ূরের যৌবন' একটি জীবনীমূলক উপন্যাস।
- এর প্রকাশকাল - ১৯৮৩ সাল।
- এই উপন্যাসের বৃহৎ ক্যানভাস জুড়ে আছেন প্রাচীন যুগের কবিগণ। এই কবিগণ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম রূপ ব্যবহার করে তাঁদের গীত রচনা করেছেন।
- সেলিনা হোসেন উপন্যাসের বিষয় নির্বাচন করতে গিয়ে এমন মহান কবিদের নির্বাচন করেছেন যাঁদেরকে তিনি উপন্যাসে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র - কাহ্নপা
- কাহ্নপাকে গুরুত্ব দিতে গিয়েই অন্যান্য চরিত্র এসেছে স্বাভাবিকভাবেই। তাঁরাও কবি। তাঁদের দানও অসামান্য।
অন্যান্য চরিত্র: ডোম্বী, দেশাখ, শবরী, ভুসুকু আর কুক্কুরী পা।

সেলিনা হোসেন রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড
- জলোচ্ছাস
- পোকামাকড়ের ঘড়বসতি
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি
- কালকেতু ও ফুল্লুরা
- যুদ্ধ
- কাঠকয়লার ছবি ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও প্রথম আলো আর্কাইভ।

উল্লেখ্য, কাহ্নপা চর্যাপদের কবি।
১৪,২৭৩.
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কোন সাহিত্যকর্মটি বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত?
  1. রমজানের ঐ রোজার শেষে (গান)
  2. বিদ্রোহী (কবিতা)
  3. চল্‌ চল্‌ চল্‌ (কবিতা/গান)
  4. কারার ঐ লৌহ-কপাট (গান)
সঠিক উত্তর:
চল্‌ চল্‌ চল্‌ (কবিতা/গান)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চল্‌ চল্‌ চল্‌ (কবিতা/গান)
ব্যাখ্যা

• জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'চল্ চল্ চল্' কবিতার ২১ লাইন বাংলাদেশের রণসঙ্গীত হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত। 

 - দাদরা তালের এই সংগীতটি ১৯৭২ সালের ১৩ই জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের তৎকালীন মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকে বাংলাদেশের রণ-সংগীত হিসেবে নির্বাচন করা হয়।

-------------------
• রণসঙ্গীত:

- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের রচয়িতা।
- বাংলাদেশের রণসঙ্গীত হিসেবে 'চল্ চল্ চল্' কবিতার ২১ চরণ গৃহীত হয়েছে।
- রণসঙ্গীতটি 'নতুনের গান' শিরোনামে ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় ১৯২৮ (১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। পরে এর নাম হয় 'চল্ চল্ চল্'।
- নজরুলের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থে এই সঙ্গীত অন্তর্ভুক্ত আছে।

সঙ্গীতটির কিছু চরণ-
'চল্ চল্ চল্!/ ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণী-তল,/ অরুণ প্রাতের
তরুণ দল-

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থে এবং বাংলাপিডিয়া। 

১৪,২৭৪.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্প কোনটি?
  1. পদ্মরাগ
  2. পদ্মগোখরা
  3. পদ্মাপুরাণ
  4. পদ্মাবতী
সঠিক উত্তর:
পদ্মগোখরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মগোখরা
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মগোখরা':
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গল্প।
- 'পদ্মগোখরা' গল্পটি 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত।

• গল্পগ্রন্থ 'শিউলিমালা':
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্পগ্রন্থ - শিউলিমালা।
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের কার্তিকে (১৯৩১)।

'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- পদ্ম-গোখরো,
- জিনের বাদশা,
- অগ্নি-গিরি,
- শিউলিমালা।

------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর অন্য গল্পগ্রন্থ: 
- ব্যথার দান,
- শিউলিমালা, 
- রিক্তের বেদন।

অন্যদিকে,
• 'পদ্মাবতী' মহাকবি সৈয়দ আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
• ‘পদ্মাবতী' নাটকের রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
• 'পদ্মরাগ' বেগম রোকেয়া রচিত একটি উপন্যাস।
• 'পদ্মাপুরাণ' মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,২৭৫.
নিচের কোনটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা?
  1. ক) চিলেকোঠার সেপাই
  2. খ) খোয়াবনামা
  3. গ) জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
গ) জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল
ব্যাখ্যা
জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল আক্তারুজ্জামান রচিত এই সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে। এই গ্রন্থে পাঁচটি গল্প সংকলিত হয়েছে- প্রেমের গপ্পো, ফোঁড়া, জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল, কান্না, রেইনকোট। চিলেকোঠার সেপাই ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৪,২৭৬.
‘ইয়ংবেঙ্গল’ আন্দোলনের প্রবক্তা কে ছিলেন?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. ডেভিড হেয়ার
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা

হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- 'ইয়ংবেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,২৭৭.
'কৃষ্ণকুমারী' কী?
  1. ক) একটি উপন্যাস
  2. খ) একটি ছোটগল্প
  3. গ) একটি ট্র‍্যাজেডি নাটক
  4. ঘ) একটি কাব্য
সঠিক উত্তর:
গ) একটি ট্র‍্যাজেডি নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) একটি ট্র‍্যাজেডি নাটক
ব্যাখ্যা

- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক 'কৃষ্ণকুমারী'।
- এর রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- এই নাটকের কাহিনী উইলিয়াম টডের 'রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগ্রহীত।

- এই নাটকের উল্লেখযােগ্য চরিত্রঃ
- কৃষ্ণকুমারী,
- মনিকা,
- ভীম-সিংহ,
- জগৎসিংহ,
- ধনদাস প্রমুখ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪,২৭৮.
‘লালসালু’ উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদের নাম কী?
  1. The Silent Village
  2. The Red Cloth
  3. Tree Without Roots
  4. The River Cries
সঠিক উত্তর:
Tree Without Roots
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Tree Without Roots
ব্যাখ্যা

‘লালসালু’ উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদের নাম Tree Without Roots। 

লালসালু:
- লালসালু সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত একটি উপন্যাস।
- ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তবতা, সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা তুলে ধরা হয়েছে।
- নোয়াখালি থেকে মজিদ নামের কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি এলাকায় গিয়ে ধর্মের নামে মানুষের শোষণ করে।
- মূল বিষয়: ধর্মের ছদ্মবেশে স্বার্থপর চরিত্রদের চিত্রায়ন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপট।
- জমিলা উপন্যাসের বিদ্রোহী নারী ও প্রতিবাদের প্রতীক।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মজিদ, খালেক ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরের বাবা, হাসুনির মা।
- ধর্মব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য করে লেখক লিখেছেন: "খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।"
- উপন্যাসটি ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে Tree Without Roots (১৯৬৭)।
- ফরাসি অনুবাদ: Le Arbre Sans Mame (১৯৬১), অনুবাদ করেছেন তার স্ত্রী অ্যান মেরি।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:
- জন্ম: ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট, চট্টগ্রামের ষোলশহর, সৈয়দ বাড়িতে।
- তিনি একজন কথাসাহিত্যিক। 
- ছাত্রজীবনে ফেনী হাইস্কুলে সাহিত্যচর্চা শুরু এবং হাতে লেখা পত্রিকা ‘ভোরের আলো’ সম্পাদনা।
- প্রথম গল্প: ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’, প্রকাশিত হয় ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে।
- পুরস্কার: বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬১), আদমজি পুরস্কার (১৯৬৫), একুশে পদক (১৯৮৩, মরণোত্তর)।
- মৃত্যু: ১৯৭১ সালের ১০ অক্টোবর, প্যারিসে।

উপন্যাসসমূহ:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান। 

গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প। 

নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,২৭৯.
'কেরামতমঙ্গল' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সেলিম আল দীন
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) শামসুজ্জামান খান
  4. ঘ) সিরাজুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
ক) সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
'কেরামতমঙ্গল' সেলিম আল দীন রচিত একটি নাটক। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য নাটক হলো- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, সর্ব বিষয়ক গ্রন্থ ও অন্যান্য নাটক, মোনতাসির ফ্যান্টাসী, শকুন্তলা, বাসন, যৈবতী কন্যার মন, কীর্তনখোলা, চাকা, হরগজ, হাতহদাই, প্রাচ্য, নিমজ্জন, ধাবমান, স্বর্ণবোয়াল, পুত্র, বনপাংশুল ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৪,২৮০.
বিখ্যাত 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতাটি কবি কোন দেশে অবস্থানকালে রচনা করেন?
  1. ইতালি
  2. ফ্রান্স
  3. জাপান
  4. ইংল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
ফ্রান্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্রান্স
ব্যাখ্যা

'কপোতাক্ষ নদ' কবিতা:
- কপোতাক্ষ নদ' কবিতাটি মাইকেল মধুসুদন দত্তের 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী' কাব্য গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
- কবিতাটি সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা। এটি রচনা কালে কবি ফ্রান্সে অবস্থান করেছিলেন।
- এই কবিতার এর মূলভাব হলো স্মৃতিকাতরতা, এবং স্মৃতিকাতরতা যদি কেন্দ্রিক হলেও তা আসলে স্বদেশ প্রেমের সঙ্গে যুক্ত।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৪,২৮১.
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনায় মোট কয়টি দফা রয়েছে?
  1. ১২টি
  2. ১৫টি
  3. ২০টি
  4. ২৪টি
সঠিক উত্তর:
২০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০টি
ব্যাখ্যা

• ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার ২০ দফা:
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা সংকট নিরসনে একটি ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন।
- এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ইসরায়েল ও হামাস উভয় পক্ষই নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে বলে ট্রাম্প ঘোষণা করেন।
- পরিকল্পনাটির লক্ষ্য হলো যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, জিম্মি ও বন্দি বিনিময়, গাজার শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি স্থায়ী ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।

উল্লেখ্য,
এই ২০ দফা পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্যই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে “Board of Peace (বোর্ড অব পিস)” গঠনের প্রস্তাব করা হয়।
Board of Peace হলো ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনায় প্রস্তাবিত একটি আন্তর্জাতিক তদারকি ও সমন্বয়মূলক কাঠামো।
এর মূল লক্ষ্য হলো—
- যুদ্ধবিরতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তা নজরদারি করা।
- ইসরায়েল ও হামাস—উভয় পক্ষের চুক্তি পালনের বিষয়টি নিশ্চিত করা।
- জিম্মি ও বন্দি বিনিময়, মানবিক সহায়তা প্রবাহ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় সাধন।
- ভবিষ্যতে গাজার প্রশাসন টেকনোক্র্যাটদের হাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াকে সহজ ও বিশ্বাসযোগ্য করা।

উৎস: বিবিসি ও রয়টার্স।

১৪,২৮২.
মীর মশাররফ হোসেন কত খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৮৬১ সালে
  2. ১৮২০ সালে
  3. ১৮৪৭ সালে
  4. ১৮৭৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৪৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৪৭ সালে
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয়। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তার রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী'।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,২৮৩.
‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ গ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ উপন্যাস:
- হুমায়ুন আজাদ রচিত উপন্যাস ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’। উপন্যাসটি প্রথম বেরোয় দৈনিক ইত্তেফাক- এর ঈদ সংখ্যা ২০০৩-এ। বেরোনোর পর প্রগতিশীলেরা একে অভিনন্দিত করেন, আর মৌলবাদীরা মেতে ওঠে তার বিরুদ্ধে অক্রিমণে-উপন্যাসটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানায়। পুস্তকারে উপন্যাসটি পরিবর্ধিত হয়েছে।

- হুমায়ুন আজাদ এই উপন্যাসটি উৎসর্গ করেছিলেন '১৯৭১' সালকে; পাকিস্তানের জাতীয় সঙ্গীতের নামানুসারে এই উপন্যাসে বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে কটাক্ষ করা হয়েছে।

উপন্যাসের পটভূমি-
১৯৬০-এর দশকে বাংলাদেশে ছিল পাকিস্তানের উপনিবেশ। তখন একটি উর্দুগানের নিরন্তর ঝালাপালা হতো আমাদের কান, যার প্রথম পংক্তি ছিলো ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’। সামরিক শাসন আর উর্দু জাতীয় সঙ্গীতে বাঙলাদেশ ছিল পীড়িত। ১৯৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা সৃষ্টি করি একটি স্বাধীন দেশ; বাংলাদেশ। কিন্তু প্রতিক্রিয়াশীল অন্ধকারের শক্তিরাশি আমাদের সামনের দিকে এগোতে দেয়নি, বরং নিয়ে চলছে মধ্যযুগের দিকে; বাংলাদেশকে করে তুলছে একটি অপপাকিস্তান। মৌলবাদ এখন দিকে দিকে হিংস্ররূপ নিয়ে দেখা দিচ্ছে; ত্রাসে ও সন্ত্রাসে দেশকে আতঙ্কিত করে তুলছে। তারই এক ভয়াবহ ও শিল্পিত চিত্র রচিত হয়েছে হুমায়ুন আজাদের পাক সার জমিন সাদ বাদ উপন্যাসে।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-
উপন্যাসটির প্রধান নায়ক একটি কাল্পনিক ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলের  সদস্য থাকে যে একটি হিন্দু মেয়ের প্রেমে পড়ে উপন্যাসটির শেষের দিকে তাকে বিয়ে করে এবং ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলটি ত্যাগ করে।

উৎস: ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ উপন্যাস। 
১৪,২৮৪.
“আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বণ্টন”- কোন কবি বলেছেন?
  1. ক) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. খ) সমর সেন
  3. গ) জসীমউদ্‌দীন
  4. ঘ) আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

শ্রমিক সাম্যের মন্ত্রে কিরাতের উঠিয়াছে হাত
হিয়েনসাঙের দেশে শান্তি নামে দেখো প্রিয়তমা,
এশিয়ায় যারা আনে কর্মজীবী সাম্যের দাওয়াত
তাদের পোশাকে এসো এঁটে দিই বীরের তকোমা।
আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বণ্টন,
পরম স্বস্তির মন্ত্রে গেয়ে ওঠো শ্রেণীর উচ্ছেদ,
এমন প্রেমের বাক্য সাহসিনী করো উচ্চারণ
যেন না ঢুকতে পারে লোকধর্মে আর ভেদাভেদ।

- সোনালী কাবিন
- আল মাহমুদ 

১৪,২৮৫.
হাসান আজিজুল হকের সম্পাদিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. অতলের আঁধি
  2. অপ্রকাশের ভার
  3. অসীমান্তিক
  4. আগুনপাখি
সঠিক উত্তর:
অসীমান্তিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসীমান্তিক
ব্যাখ্যা
• হাসান আজিজুল হকের সম্পাদিত গ্রন্থ - অসীমান্তিক

আসীমান্তিক:
- বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরপূর্ব ভারতের মোট একষট্টি গল্পের সমাহারে হাসান আজিজুল হকের সম্পাদনায় 'আসীমান্তিক' বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ সালে।
- এই গ্রন্থে প্রকাশিত বইটি থেকে উঠে আসে তিনটি অঞ্চলের জীবনের পরিপূর্ণ দিক,যা পাঠকের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের উৎস। এই অর্থে বইটি অত্যন্ত মূল্যবান।
- এই গ্রন্থে ওই তিন অঞ্চলের গল্পের সমকালীন ধারাও স্পষ্ট হয়।

হাসান আজিজুল হক:
- তিনি ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন। 
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর গল্প ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বৃত্তায়ন,
- শিউলি,
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কথাসাহিত্যের কথকতা,
- অপ্রকাশের ভার,
- অতলের আঁধি,
- ছড়ানো ছিটানো,
- কথা লেখা কথা।

তাঁর রচিত সম্পাদনা:
- জি.সি. দেব রচনাবলী,
- অসীমান্তিক

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; আগুনপাখি, হাসান আজিজুল হক।
১৪,২৮৬.
'সনেট পঞ্চাশৎ' প্রমথ চৌধুরী রচিত-
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরী মূলত একজন প্রাবন্ধিক।
- তিনি ব্যক্তিগত জীবনে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা ইন্দিরা দেবীকে বিয়ে করেন।
- তাকে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- ১৯১৪ সালে মাসিক সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- পরবর্তীতে বীরবল' ছদ্মনামে সবুজপত্র পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। এ ছদ্মনাম থেকে পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ, 
- পদচারণ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- চার-ইয়ারি কথা।
- নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ।
- আহুতি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল-নুন-লাকড়ি।
- বীরবলের হালখাতা।
- নানাকথা।
- নানা চর্চা।
- রায়তের কথা।
- প্রবন্ধ সংগ্রহ (১ম খণ্ড-১৯৫২, ২য় খণ্ড-১৯৫৩)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,২৮৭.
নিচের কোনটি গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত নাটক?
  1. লীলাবতী
  2. আগমনী
  3. জামাই বারিক
  4. ষোড়শী
সঠিক উত্তর:
আগমনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগমনী
ব্যাখ্যা
গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের প্রভাবে তিনি প্রথমে গান ও কবিতা লিখতে শুরু করেন এবং পরে নাট্যমঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হলে নাটকও লিখতে থাকেন।
- ১৮৬৭ সালে বাগবাজার সখের যাত্রাদল-প্রযোজিত মধুসূদনের 'শর্মিষ্ঠা' নাটকের গীতিকার হিসেবে গিরিশচন্দ্র নাট্যজগতে প্রবেশ করেন।
- গিরিশচন্দ্র শেকসপীয়রের ম্যাকবেথ (১৮৯৩) নাটকের বাংলা অনুবাদ করেন এবং বঙ্কিমচন্দ্রের মৃণালিনী, বিষবৃক্ষ ও দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাস, মধুসূদনের  মেঘনাদবধ কাব্য ও নবীনচন্দ্রের পলাশীর যুদ্ধ কাব্যের নাট্যরূপ দেন।
- প্রেমভক্তি, স্বদেশপ্রেম ও সমকালীন সামাজিক সমস্যা গিরিশচন্দ্রের নাটকের বিষয়বস্তু।
-  তাঁর রচিত প্রথম মৌলিক নাটক আগমনী (১৮৭৭) গ্রেট ন্যাশনাল থিয়েটারে মঞ্চেই অভিনীত হয়।
- ১৯১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এ মহান অভিনেতা ও নাট্যকার কলকাতায় পরলোক গমন করেন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- আগমনী,
- অভিমন্যুবধ,
- সীতার বনবাস,
- সীতাহরণ,
- পাণ্ডবের অজ্ঞাতবাস,
- প্রফুল্ল
- বলিদান,
- সিরাজদ্দৌলা,
- মীরকাশিম,
- ছত্রপতি শিবাজী,
- শঙ্করাচার্য,
- বিল্বমঙ্গল ঠাকুর।
- তাঁর রচিত প্রহসন:
- যামিনী চন্দ্রমাহীনা,
- গোপন চুম্বন,
- ভোটমঙ্গল,
- বেল্লিক বাজার ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন 'সধবার একাদশী' 'জামাই বারিক'।
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত নাটক- 'লীলাবতী'।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত নাটক- ষোড়শী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া,  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,২৮৮.
'চিন্তাতরঙ্গিণী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) চণ্ডীচরণ মুনশী
  3. গ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. ঘ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় মূলত মহাকব্যের কবি ছিলেন।
তার রচিত মহাকাব্য - বৃত্রসংহার।

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো-
- বীরবাহু
- আশাকানন
- ছায়াময়ী
- দশমহাবিদ্যা
- চিত্তবিকাশ
- চিন্তাতরঙ্গিণী

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪,২৮৯.
বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র 'দিগদর্শন‌' ছিলো -
  1. ত্রৈমাসিক
  2. মাসিক
  3. সাপ্তাহিক
  4. বার্ষিক
সঠিক উত্তর:
মাসিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাসিক
ব্যাখ্যা
'দিগদর্শন' পত্রিকা:
- বঙ্গভূমিতে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িক পত্রিকা।
- দিগ্দর্শনের প্রথম সংখ্যাটি ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত হয়।
- এটি ছিল মাসিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটি শ্রীরামপুরের ব্যাপটিস্ট মিশন থেকে প্রকাশিত হয়।
-  বিখ্যাত খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক জোশুয়া মার্শম্যান এর পুত্র জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত মাসিক সাময়িকী ছিল।
- কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ গ্রন্থাগারে দিগ্দর্শনের কপিসমূহ সংরক্ষিত আছে।
 
উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,২৯০.
"ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই,
মাগো আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই?"- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন কবির রচনা?
  1. জসীম উদ্‌দীন 
  2. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  3. মদনমোহন তর্কালঙ্কার 
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
যতীন্দ্রমোহন বাগচী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যতীন্দ্রমোহন বাগচী
ব্যাখ্যা

• পঙ্‌ক্তিদ্বয় কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী রচিত 'কাজলা দিদি' কবিতার অন্তর্ভুক্ত। 

• যতীন্দ্রমোহন বাগচী:
- যতীন্দ্রমোহন বাগচী ছিলেন কবি, সম্পাদক। নদীয়া জেলার জমশেরপুর গ্রামে ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দের ২৭ নভেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস হুগলি জেলার বলাগড় গ্রামে।

- ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে তিনি কলকাতার ডাফ কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। পরে বিভিন্ন সময়ে তিনি বিচারপতি সারদাচরণ মিত্রের সচিব, নাটোরের মহারাজার সচিব, কলকাতা কর্পোরেশনের লাইসেন্স-ইন্সপেক্টর, এফ.এন গুপ্ত কোম্পানির ম্যানেজার প্রভৃতি পদে চাকরি করেন।

- যতীন্দ্রমোহন অল্প বয়স থেকেই কাব্যচর্চা শুরু করেন।  ভারতী, সাহিত্য প্রভৃতি বিখ্যাত পত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশিত হলে তিনি কবি হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।

- পরবর্তীকালে তিনি  মানসী পত্রিকার সম্পাদক (১৯০৯-১৯১৩), যমুনা পত্রিকার যুগ্ম-সম্পাদক (১৯২১-১৯২২) এবং পূর্বাচল পত্রিকার সম্পাদক ও স্বত্বাধিকারী (১৯৪৭-১৯৪৮) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

- যতীন্দ্রমোহন ছিলেন রবীন্দ্রোত্তর যুগের শক্তিমান কবিদের অন্যতম। পল্লিপ্রকৃতির সৌন্দর্য ও পল্লিজীবনের সুখ-দুঃখের কথা তিনি দক্ষতার সঙ্গে প্রকাশ করেন। ভাগ্যবিড়ম্বিত ও নিপীড়িত নারীদের কথা তিনি বিশেষ দরদের সঙ্গে প্রকাশ করেছেন। ‘কাজলাদিদি’ ও ‘অন্ধবন্ধু’ তাঁর এ ধরনের দুটি বিখ্যাত কবিতা।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- লেখা,
- রেখা,
- অপরাজিতা,
- নাগকেশর,
- জাগরণী,
- নীহারিকা,
- মহাভারতী) ইত্যাদি। 

-----------------------

কবিতার কিছু অংশ-

'কাজলা দিদি' কবিতা
- যতীন্দ্র মোহন বাগচী
বাঁশ-বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই,
মাগো আমার শোলক্-বলা কাজলা দিদি কই?
পুকুর ধারে লেবুর তলে,
থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে,
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই,
মাগো আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই?

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ‘কাজলা দিদি’ কবিতা।

১৪,২৯১.
আবুল হোসেন রচিত 'অরণ্যের ডাক' কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
'অরণ্যের ডাক' উপন্যাস:
- আবুল হোসেন অনূদিত উপন্যাস।
- মূল জ্যাক লণ্ডন রচিত 'দ্য কল অব দ্য ওয়াইল্ড'।
- জ্যাক লণ্ডনের প্রকৃত নাম জন গ্রিফিথ। আমেরিকান এই লেখকের বই আবুল হোসেন ১৯৫৪ সালে অনুবাদ করে প্রকাশ করেন।

আবুল হোসেন:

- তিনি ১৯২২ সালে খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পেশায় বাংলাদেশ সরকারের প্রাক্তন যুগ্ম সচিব ছিলেন।
- তবে তিনি কবি হিসেবেই পরিচিত।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- নব বসন্ত,
- হাওয়া তোমার কি দুঃসাহস,
- এখনও সময় আছে,
- রাজা রাজড়া ইত্যাদি।

তাঁর রচিত একমাত্র উপন্যাস:
- অরণ্যের ডাক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
১৪,২৯২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরে শব্দ ও ভাষা সংক্রান্ত গ্রন্থ কোনটি?
  1. বিশ্বপরিচয়
  2. শব্দতত্ত্ব
  3. ভাষাতত্ত্ব
  4. বর্ণপরিচয়
সঠিক উত্তর:
শব্দতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরে শব্দ ও ভাষা সংক্রান্ত গ্রন্থ: শব্দতত্ত্ব (১৯০৯)

অন্যদিকে,
• বিশ্বপরিচয়: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ 'বিশ্বপরিচয়' (১৯৩৭)।
 • 'বর্ণপরিচয়' গ্রন্থটির রচয়িতা- 'ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর'। 

উল্লেখ্য,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী ও চিঠিপত্র:
- জীবনস্মৃতি: ২৫ বছর পর্যন্ত ঘটনা আছে।
- চরিত্রপূজা।
- ছেলেবেলা ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিঠিপত্র:
- ছিন্নপত্র (১৯১২): ১৫৩টি পত্র আছে। প্রথম ৮টি শ্রীশচন্দ্র মজুমদারকে লেখা। পরবর্তী ১৪৫টি ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লেখা।
- ভানুসিংহের পত্রাবলী : রানু অধিকারীকে লেখা।
- পথে ও পথের প্রান্তে: নির্মলকুমারী মহলানবিশকে লেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,২৯৩.
‘বত্রিশ সিংহাসন’ কার লেখা?
  1. ক) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. খ) রামরাম বসু
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) রাজিব লোচন মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ক) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ১৮০২ সালে ‘বত্রিশ সিংহাসন’ রচনা করেন।
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার 
- তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে  ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে থাকার সময়ে তিনি বেশকিছু গ্রন্থ রচনা করেন।

সেগুলো হলো:

- বত্রিশ সিংহাসন 
- হিতোপদেশ
- রাজাবলী 
- প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮১৩ সালে লিখিত, কিন্তু ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত)।
- এছাড়া পরে ১৮১৭ সালে তিনি লেখেন বেদান্তচন্দ্রিকা।
- এসব গদ্য প্রায় সবই অনুবাদমূলক। তা সত্ত্বেও তাঁর রচনা-রীতির কারণে অনেকটা মৌলিক রূপ লাভ করেছে।

উৎস
: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,২৯৪.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে কত সালে বাংলা বিভাগ চালু হয়?
  1. ১৮০৫ সালে
  2. ১৮০২ সালে
  3. ১৮০১ সালে
  4. ১৮০০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮০১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০১ সালে
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ কর্মচারীদের দেশীয় ভাষা শিক্ষাদানের জন্য তৎকালীন ইংরেজশাসিত ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি কতৃক ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্রীরামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক বাংলায় অভিজ্ঞ উইলিয়াম কেরি।
- তিনি তাঁর অধীনস্ত দু জন পণ্ডিত এবং ছয়জন সহকারি পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন।
- ফোর্ট উইলিয়াম পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৪,২৯৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘হৈমন্তী’ ছোটগল্পটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়? 
  1. সওগাত
  2. সবুজপত্র 
  3. কোহিনূর 
  4. নবনূর
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র 
ব্যাখ্যা

• 'হৈমন্তী' গল্পটি নিয়ে কিছু কথা:
- 'হৈমন্তী' রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ'র অন্তর্ভুক্ত একটি ছোটগল্প। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হৈমন্তী গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদিত সবুজপত্র মাসিক পত্রিকায়।

- গল্পের প্রধান চরিত্র হলো: হৈমন্তী, তার স্বামী অপূর্ব, হৈমন্তীর বাবা এবং অপূর্বর বাবা-মা।
- হৈমন্তী মূলত বাঙালি সমাজে নারীর অবমাননা এবং বিবাহিত জীবনে তাদের অসহায়ত্ব ও আত্মমর্যাদার সংকটের গল্প।
- এখানে দেখা যায়, হৈমন্তীর মতো মুক্তচিন্তা ও উচ্চশিক্ষিত নারীও স্বামীর অমনোযোগ ও শ্বশুরবাড়ির দমনমূলক আচরণের কারণে ধীরে ধীরে নিজের সত্তা হারিয়ে ফেলে।
- গল্পে তৎকালীন সামাজিক প্রথা, শ্বশুরবাড়ির অন্যায় নিয়ম, স্বামী ও পরিবারের নিষ্ক্রিয়তা, নারীর আত্মমর্যাদা হরণের সমস্যা এবং সামাজিক ভণ্ডামি সবই স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
---------------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক তথা দার্শনিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হচ্ছেন ভারতবর্ষের আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ।
- তিনি একাধারে একজন সব্যসাচী লেখক, কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, সঙ্গীত রচয়িতা, গায়ক, অভিনেতা, শিক্ষাবীদ, চিত্রশিল্পী।
- কবির পরিবার ছিল- পিরালি ব্রাহ্মণ বংশের।
- মাত্র আট বছর বয়স থেকেই তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বিশ্বকবি উপাধিতে অবিহিত করা হয়। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ছোটগল্পের জনক ও বলা হয়। 

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কিছু ছোটগল্প:
- ভিখারিণী,
- দেনা-পাওনা,
- পোস্টমাস্টার,
- নষ্টনীড়,
- কাবুলিওয়ালা,
- ছুটি,
- হৈমন্তী,
- অতিথি,
- খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
- সুভা,
- সমাপ্তি,
- মহমায়া,
- শাস্তি,
- একরাত্রি, 
- ফেল,
- ব্যবধান।
-------------------------
অন্যদিকে,
• সওগাত - সচিত্র মাসিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- মোহাম্মদ নাসিরুদ্দিন।
• কোহিনূর - মাসিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন: এ.কে.এম মোহাম্মদ রওশন আলী চৌধুরী।
• নবনূর' মাসিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- সৈয়দ এমদাদ আলী। 

উৎস: 
'হৈমন্তী' গল্প; 
বাংলাপিডিয়া; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৪,২৯৬.
'হুলিয়া' কবিতা কার রচনা?
  1. ক) আবুল হাসান
  2. খ) আবুল হোসেন
  3. গ) মহাদেব সাহা
  4. ঘ) নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
'হুলিয়া' কবিতা নির্মলেন্দু গুণ এর রচনা।
তার আরেকটি কবিতা ‘স্বাধীনতা, এ শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’। যেখানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে কবিতার সাথে তুলনা করেছেন।
নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- চাষাভূষার কাব্য,
- দূর হ দুঃশাসন,
- ইসক্রা,
- মুজিব - লেনিন - ইন্দিরা,
- শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

রক্ত আর ফুলগুলি তার অনুবাদ কবিতা।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,২৯৭.
আহসান হাবীবের প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. আশায় বসতি
  2. রাত্রিশেষে
  3. সারাদুপুর
  4. ছায়া হরিণ
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষে
ব্যাখ্যা

• 'রাত্রিশেষে' কাব্যগ্রন্থ:
- কবি আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'রাত্রিশেষে'।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালের এপ্রিল মাসে; কলকাতার কমরেড পাবলিশার্স থেকে।  
- কাব্যগ্রন্থে চার ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত।
- এতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৮ টি। 

• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারাদুপুর,
- আশায় বসতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,২৯৮.
জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক ছোটগল্প কোনটি? 
  1. প্রথম বধ্যভূমি
  2. একুশের গল্প
  3. মৌন নয়
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
সঠিক উত্তর:
একুশের গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একুশের গল্প
ব্যাখ্যা

“একুশের গল্প” জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সার্থক ছোটগল্প।

“একুশের গল্প” 
- জহির রায়হান রচিত ‘একুশের গল্প’- এর পটভূমি হচ্ছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- জহির রায়হান 'একুশের গল্পে' এক তরুণের আত্মত্যাগের গল্প বলতে চেয়েছেন।
- গল্পে দেখা যায় যে, চার বছর আগে ১৯৫২ সালে হাইকোর্টের মোড়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পুলিশ তপুকে নিয়ে গিয়েছিল।
- দীর্ঘ চার বছর পর একটি কঙ্কালের মাথার খুলিতে গুলির ছিদ্র দেখে তার বন্ধু রাহাত বুঝতে পারে সেটিই তপু।
- কঙ্কালের মধ্যে তপুকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার এক ধরনের আকাঙ্ক্ষা জাগে রাহাতের মনে।
- কিন্তু আনন্দ ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গেই গভীর বেদনা ও হৃদয়ের রক্তক্ষরণের মতো যন্ত্রণা যুক্ত হয়।
- এই অনুভূতিগুলো সরাসরি না প্রকাশ করে লেখক ইঙ্গিত ও ব্যঞ্জনার মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। 

জহির রায়হান:
- জহির রায়হান (১৯৩৫–১৯৭২) ছিলেন বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক বহুমুখী প্রতিভা।
- তিনি ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সাংবাদিক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে অসাধারণ অবদান রেখে গেছেন।
- জহির রায়হান বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
- তাঁর লেখনী ও নির্মাণ বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সংগ্রামকে নতুন মাত্রায় তুলে ধরেছে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নিখোঁজ হন। 
- তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর উপন্যাসসমূহ:
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে (যার জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার পান),
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- তুলাসিন্ধু সেতুবন্ধ,
- অপূর্ব, ব্যারিকেড,
- ক্ষয়িষ্ণু,
- ডায়মন্ড নেকলেস ও
- আমি কেন সিরাজী।

• তাঁর গল্পগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- সোনার হরিণ,
- মহামৃত্যু,
- জন্মান্তর,
- ম্যাসাকার এবং
- মানুষের ঘরবাড়ি।

• তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্র:
- কখনও আসেনি,
- কাঁচের দেয়াল,
- জীবন থেকে নেয়া,
- বেহুলা,
- সঙ্গম।

• তাঁর পরিচালিত তথ্যচিত্র: স্টপ জেনোসাইড।
• সূর্য গ্রহণ: এটি জহির রায়হানের লেখা ভাষা আন্দোলনভিত্তিক গল্প।

অন্যদিকে,
• 'মৌন নয়': শওকত ওসমানের লেখা ভাষা আন্দোলনের পটভূমির গল্প।
• 'প্রথম বধ্যভূমি': রাবেয়া খাতুনের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটের গল্প।
• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর': মুনীর চৌধুরীর উল্লেখযোগ্য নাটক যা ১৭৬১ সালের পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৪,২৯৯.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) ভােরের নদীর মােহনায় জাগরণ
  2. খ) মানচিত্র
  3. গ) জেগে আছি
  4. ঘ) ধানকন্যা
সঠিক উত্তর:
খ) মানচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মানচিত্র
ব্যাখ্যা

আলাউদ্দিন আল আজাদ :
পেশায় মূলত অধ্যাপক। কিন্তু বিভিন্ন সরকারের সান্নিধ্য লাভ, এমন কি স্বৈরাচারী এরশাদের সময়ও সংস্কৃতি উপদেষ্টা। তবে মূলত পরিচিতি কবি হিসেবে। প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'জেগে আছি' (১৯৫০); গল্পগ্রন্থ।

কাব্যগ্রন্থ :
- মানচিত্র (১৯৬১),
- ভােরের নদীর মােহনায় জাগরণ (১৯৬২)।
স্মৃতিস্তম্ভ (স্মৃতির মিনার ভেঙ্গেছে তােমার ভয় কি বন্ধু-) কবিতাটি লিখার জন্য তিনি জনপ্রিয়। কবিতাটি মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি (১৯৫০),
- ধানকন্যা (১৯৫১),
- মৃগনাভি (১৯৫৩),
- অন্ধকার সিড়ি (১৯৫৬),
- যখন সৈকত (১৯৬৭),
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার (১৯৭৫),
- জীবনজমিন (১৯৮৮);

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪,৩০০.
'আচ্ছা সমুদ্র কত বড়-পদ্মার চেয়ে বড় বুঝি?'- উক্তিটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. দিবারাত্রির কাব্য
  2. সমুদ্রের স্বাদ
  3. পুতুলনাচের ইতিকথা
  4. পদ্মানদীর মাঝি
সঠিক উত্তর:
পদ্মানদীর মাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মানদীর মাঝি
ব্যাখ্যা
• ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- এই উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে।
- 'আচ্ছা সমুদ্র কত বড়-পদ্মার চেয়ে বড় বুঝি?' উপন্যাসে উক্তিটি যুগীর। 

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

-------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
• উপন্যাস:
- জননী, 
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি, 
- পুতুলনাচের ইতিকথা, 
- শহরতলী, 
- চিহ্ন, 
- চতুষ্কোণ, 
- সার্বজনীন, 
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

• ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প, 
- প্রাগৈতিহাসিক, 
- সরীসৃপ, 
- সমুদ্রের স্বাদ, 
- হলুদ পোড়া, 
- আজ কাল পরশুর গল্প, 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প, 
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।