PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত
পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত
PrepBank · পাতা ৭ / ৩৮ · ৬০১–৭০০ / ৩,৭৪৭
উত্তর
ব্যাখ্যা
- বেগুনি বর্ণের আলোর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি।
দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ:
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ।
- এই তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর হচ্ছে 4×10-7 m থেকে 7×10-7 m মাত্র। এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়।
- এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়।
- এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর সবচেয়ে বেশি।
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম।
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি।
- লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- আলোর গতি শূন্য মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি এবং তা প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার।
উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- বাতাসে শব্দের বেগ তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতিক।
অর্থাৎ, v ∝ √T
এখানে তাপমাত্রা কিন্তু সেলসিয়াস তাপমাত্রা নয়। কেলভিন স্কেলে তাপমাত্রা।
- শব্দের বেগ বাতাসের চাপের ওপর নির্ভর করে না।
- তবে বাতাসের ঘনত্বের বর্গমূলের ওপর ব্যস্তানুপাতিকভাবে নির্ভর করে।
- তাই বাতাসে জলীয়বাষ্প থাকলে বাতাসের ঘনত্ব কমে যায়, সে জন্য শব্দের বেগ বেড়ে যায়।
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ।
- এটি মাধ্যমের স্থিতিস্থাপকতার ওপর নির্ভর করে।
- তরল এবং কঠিন পদার্থের প্রকৃতি বাতাস থেকে ভিন্ন এবং স্বাভাবিক কারণেই শব্দের বেগ সেখানে ভিন্ন।
- তরলে শব্দের বেগ বাতাস থেকে বেশি এবং কঠিন পদার্থে শব্দের বেগ তরল থেকেও বেশি।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি- ড. আমির হোসেন
উত্তর
ব্যাখ্যা
রোধ:
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় তাকে রোধ বলে।
- বর্তনীতে দুই প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়।
যথা-
১. স্থির রোধ:
- যে সকল রোধের মান নির্দিষ্ট অর্থাৎ মানের পরিবর্তন করা যায় না তাদেরকে স্থির রোধ বলে।
২. পরিবর্তনশীল রোধ:
- যে সকল রোধের মান প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন করা যায় তাদেরকে পরিবর্তনশীল রোধ বলে।
- বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ পরিবর্তন এবং বিভব পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তনশীল রোধের প্রয়োজন পড়ে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- ধূমকেতু হলো পাথর, বরফ ও ধূলিকণা তৈরি এক ধরনের মহাজাগতিক বস্তু।
- এই বস্তু মূলত সৌরজগতের একটি ছোট্ট অংশ, যেটি সূর্যকে কেন্দ্র করেই ঘোরে।
- মহাকাশে ধূমকেতুর সংখ্যা ৩ হাজার ৭৪৩টি।
- ক্ষণস্থায়ী ধূমকেতুর প্রতি ঘূর্ণনকাল ২০০ বছরের নিচে হয়, আর দীর্ঘস্থায়ী ধূমকেতুর ক্ষেত্রে সেটা ২০০ বছরেরও অধিক।
- হ্যালির ধূমকেতু হলো বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ধূমকেতু।
- ২০৬১ সালের ২৮ জুলাই আবার হ্যালির ধূমকেতুটি দেখা যাবে।
তথ্যসূত্র - সময় নিউজ,১৫ জানুয়ারী ২০২২।
উত্তর
ব্যাখ্যা
-কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়।
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়।
- এজন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি এবং
খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি।
স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি:
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়।
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি।
ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি:
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়।
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি।
উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- মৌলিক বলগুলো কাজ করে কণার আদান-প্রদানের মাধ্যমে। এই বলবাহী কণাগুলোই হচ্ছে বোসন।
- এদের স্পিন পূর্ণসংখ্যা 0, 1 ইত্যাদি।
- বোসন কণা পাউলির বর্জন নীতি মানে না।
- এদের আলাদা প্রতিকণা নেই। এরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিকণা।
- স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে বোসন কণাগুলো দুই ধরনের।
যথা:
১। গেজ বোসন ও
২। হিগস বোসন।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
মৌলিক বল:
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বরং অন্যান্য বল এ সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে।
মৌলিক বলগুলো হলো -
১. মহাকর্ষ বল (Gravitational Force),
২. তাড়িতচৌম্বক বল (Electromagnetic Force),
৩. সবল নিউক্লিয় বল (Strong Nuclear Force) এবং
৪. দুর্বল নিউক্লিয় বল (Weak Nuclear Force)।
সবল নিউক্লিয় বল:
- সবল নিউক্লিয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল।
- এটি তড়িৎ চৌম্বক বল থেকেও একশ গুণ বেশি শক্তিশালী। কিন্তু এটা খুবই অল্প দূরত্বে (10-15m) কাজ করে।
- পরমাণুর কেন্দ্রে যে নিউক্লিয়াস রয়েছে তার ভেতরকার প্রোটন এবং নিউট্রনের নিজেদের মাঝে এই প্রচণ্ড শক্তিশালী বল কাজ করে নিজেদের আটকে রাখে।
- প্রচণ্ড বলে আটকে থাকার কারণে এর মাঝে অনেক শক্তি জমা থাকে।
- তাই বড় নিউক্লিয়াসকে ভেঙে কিংবা ছোট নিউক্লিয়াসকে জোড়া দিয়ে এই বলের কারণে অনেক শক্তি তৈরি করা সম্ভব।
- নিউক্লিয়ার বোমা সে জন্য এত শক্তিশালী।
- সূর্য থেকে আলোর তাপও এই বল দিয়ে তৈরি হয়।
উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- কোনো বস্তু তার নিজস্ব রঙে দেখা যায়, কারণ নির্দিষ্ট রঙের বস্তুটি নিজের রঙ ছাড়া সকল রঙ শোষণ করে এবং নিজের রঙ প্রতিফলিত করে।
- তাই বস্তু তার নিজের রঙে দেখা যায়।
- সাতটি রঙের সমন্বয়ে সাদা রঙ হয়, সব রঙের অনুপস্থিতির জন্য কালো রঙ হয়।
- যে বস্তু আলোর সব রঙ প্রতিফলিত করে তা সাদা দেখায়।
- কোনো বস্তু যখন সমস্ত আলো শোষণ করে তখন তাকে কালো দেখায়।
যেমন- আলোর সকল বর্ণ প্রতিফলিত করে বলে বরফ সাদা দেখায়।
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির জন্য বিষুব রেখা অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান সবচেয়ে কম।
- মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান সবচেয়ে বেশি।
- বিষুবীয় অঞ্চল থেকে যত মেরু অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হওয়া যায় g-এর মান তত বাড়তে থাকে।
- ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন স্থানে g -এর মান বিভিন্ন বলে 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g -এর মানকে আদর্শ ধরা হয়।
- হিসাবের সুবিধার্থে আদর্শমান ধরা হয় 9.81 ms-2.
তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- একটি তরঙ্গের পর্যায়কাল T এবং কম্পাঙ্ক f হলে তরঙ্গের বেগ v হবে- v = f × λ ।
তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ও বেগের সম্পর্ক:
- তরঙ্গ সৃষ্টিকারী মাধ্যমের স্পন্দনশীল একটি কণা একটি পূর্ণ স্পন্দন হতে যে সময় লাগে, সেই সময়ে তরঙ্গ সামনের দিকে এগিয়ে যায়।
- তরঙ্গের অতিক্রান্ত এই দূরত্বই তরঙ্গ দৈর্ঘ্য (λ) ।
- আর পূর্ণ স্পন্দনের সময়কে বলা হয় পর্যায়কাল, এই পর্যায়কালকে T দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
অর্থাৎ, T সেকেন্ডে তরঙ্গে অতিক্রান্ত দূরত্ব λ ।
∴ এক সেকেন্ডে অতিক্রান্ত দূরত্ব হবে λ/T ।
- কোনো বস্তুর একক সময়ে অর্থাৎ 1 সেকেন্ডে অতিক্রান্ত দূরত্বকে বেগ বলে।
অতএব, তরঙ্গের বেগ, v = λ/T
বা, v = (1/T) × λ
∴ v = fλ [যেহেতু পর্যায়কাল T এবং কম্পাঙ্ক f হলে, f = 1/T] ।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতার অতিরিক্ত আওয়াজই শব্দ দূষণ।
- মানুষের শ্রবণযন্ত্রের স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা ১-৭৫ ডেসিবল।
- কিন্তু ৮৫ ডেসিবল অথবা তার অধিক হলে একজন মানুষ শ্রবণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে।
- শব্দ দূষণ প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট উভয় কারণেই হতে পারে।
- তবে মানবসৃষ্ট কারণই মুখ্য।
- শব্দ দূষণের ফলে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হয়।
- সাধারণত শহরাঞ্চলে পরিবেশগত এই সমস্যা অধিক হয়ে থাকে।
উৎস: ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
আলো:
- আলো একপ্রকার শক্তি।
- আলো একধরনের তড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ যা আমাদের চোখে দর্শনের অনুভূতি যোগায়।
- আলোর কণাকে ফোটন বলে।
- আলোর বেগ 3×108 ms-1 অর্থাৎ সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড প্রায়।
- দৃশ্যমান আলো সাতটি বর্ণের সমষ্টি। বেগুনী, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল।
উৎস: মাধ্যমকের পদার্থবিজ্ঞান বই।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- কারণ নদীর পানি প্রবাহিত হয় এবং এতে ঢেউ ও স্রোতের কারণে বাতাসের সংস্পর্শে বেশি আসে। ফলে পানি বাতাস থেকে বেশি পরিমাণে অক্সিজেন শোষণ করতে পারে।
- স্থির জলাশয়ের (যেমন পুকুর বা লেক) তুলনায় প্রবাহমান পানিতে গ্যাসের আদান-প্রদান বেশি কার্যকরভাবে ঘটে।
- পুকুরের পানি ও লেকের পানি স্থির থাকে, ফলে সেখানে অক্সিজেন কম মিশতে পারে।
- সাগরের পানি গভীরতা এবং লবণাক্ততার কারণে সাধারণত অক্সিজেনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হয়।
উৎস: [usgs.gov]
উত্তর
ব্যাখ্যা
ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- যে সব মৌল হতে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয় তাদেরকে তেজস্ক্রিয় মৌল বলে।
- ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল ১৮৯৬ সালে এক্সরে নিয়ে গবেষণা করার সময় একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রাকৃতিক ঘটনা আবিষ্কার করেন।
- তাঁর নামানুসারে এই রশ্মির নাম দেওয়া হয় বেকেরেল রশ্মি।
- পরবর্তীকালে মাদাম কুরি ও তাঁর স্বামী পিয়ের কুরি ব্যাপক গবেষণা চালিয়ে দেখতে পান যে রেডিয়াম, পােলােনিয়াম, থােরিয়াম, আক্টিনিয়াম প্রভৃতি ভারী মৌলের নিউক্লিয়াস থেকেও বেকেরেল রশ্মির মত একই ধরনের রশ্মি নির্গত হয়, যা এখন তেজস্ক্রিয় রশ্মি নামে পরিচিত।
ব্যবহার:
১. ক্যান্সার রােগ নিরাময়ের কাজে তেজস্ক্রিয়তার ব্যবহার করা হয়।
২. উন্নত বীজ তৈরির গবেষণায় তেজস্ক্রিয়তা সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
৩. ঘড়ির কাঁটায় তেজস্ক্রিয় থােরিয়ামের সাথে জিঙ্ক সালফাইড মিশিয়ে ঘড়ির কাঁটা ও নম্বরে প্রলেপ দেওয়া হয় ফলে এরা অন্ধকারে জ্বলজ্বল করে।
৪. তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ থেকে ফিশন প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত তাপ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে টারবাইন ও জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
৫. নির্মাণ বা উৎপাদন শিল্পে কাগজ, প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি বিভিন্ন বস্তুর পুরুত্ব, ঘনত্ব ও উপাদানের সঠিক পরিমাণ নির্ণয়ে আলফা ও বিটা রশ্মিকে ব্যবহার করা হয়।
** মহাকাশে যোগাযোগ স্থাপনে তেজস্ক্রিয়তার ব্যবহার হয় না।
উৎস- পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
ফ্যাদম হল দৈর্ঘ্য পরিমাপের একটি একক যা ৬ ফিট (১.৮২৮৮ মিটার) এর সমান, যা দীর্ঘদিন ধরে গভীরতার নটিক্যাল ইউনিট হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
ঐতিহাসিক ভাবে ইংরেজি ভাষাভাষী দেশগুলোতে সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপের ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত একটি একক।
Source: Britannica.com
উত্তর
ব্যাখ্যা
- ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিদ জর্জ লেমাইটার (George Lemaitre) প্রসারণশীল বিশ্ব সংক্রাড় তত্ত্ব প্রদান করেন যা হাবলের সূত্রের সাথে মিলে যায়।
- লেমাইটারকে বিগ ব্যাংগ মডেলের জনক বলা হয়ে থাকে।
- কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুর করে। এই তত্ত্বের নাম মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব বা বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব।
- বিগ ব্যাংগ বা মহাবিস্ফোরণ আমাদের পরিচিতি বিস্ফোরণ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক একটি ঘটনা।
- সাধারণ বিস্ফোরণ একটি নির্দিষ্ট স্থান বা কেন্দ্র থেকে শুরু করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- কিন্তু বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ একই সময় সকল স্থানে ঘটেছিল।
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাংগ বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির ‘শুর' বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়। অর্থাৎ বিগ ব্যাংগের পূর্বে কিছুই ছিল না।
- বিগ-ব্যাংগ সংঘটিত হয়েছিল সর্বত্র।
তথ্যসুত্র - পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- তাপ হলো বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে।
- তাপ শক্তির একটি রূপ।
- তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক।
- তাপের SI একক জুল (J)।
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি।
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে 1 ক্যালরি (Cal) ধরা হতো।
- 4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি 1 ক্যালরি তাপের সমতুল্য।
তাই, 1 ক্যালরি = 4.2 জুল।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- যে তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয় তাকে কুরি তাপমাত্রা বলে।
রিমেনেন্স:
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সারিয়ে নেওয়ার পর চৌম্বক পদার্থে যে চুম্বকায়ন মাত্রা অবশিষ্ট থাকে তাকে রিমেনেন্স বলে।
চৌম্বক ধারকত্ব:
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সরিয়ে নেওয়ার পরেও কোনো চৌম্বব পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে চৌম্বক ধারকতা বলে।
- ইস্পাত ও নরম লোহাকে একই সমপরিমাণ চুম্বকায়িত করে রেখে দিলে নরম লোহার চেয়ে ইস্পাতের ক্ষেত্রে চুম্বকত্ব হ্রাসের পরিমাণ কম।
চৌম্বক সহনশীলতা:
- চুম্বকত্ব হ্রাসের নিয়ামকসমূহ থাকা সত্ত্বেও কোনো চৌম্বক পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে ঐ পদার্থের চৌম্বক সহনশীলতা বলে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
ব্যাখ্যা
• হুইটস্টোন ব্রিজ মূলত রোধ (resistance) পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি একটি বৈদ্যুতিক সার্কিট যা চারটি রোধকে নির্দিষ্টভাবে সংযুক্ত করে গঠিত হয়, যাতে অজানা রোধের মান নির্ণয় করা যায়। যখন ব্রিজটি “সঠিকভাবে ভারসাম্য স্থিতিতে” থাকে, তখন কোন কারেন্ট বা বিভব পার্থক্য অনুভূত হয় না, এবং অজানা রোধকে সহজভাবে গণনা করা যায়। হুইটস্টোন ব্রিজের মূল ধারণা হলো, একটি পরিচিত রোধের সঙ্গে অজানা রোধকে তুলনা করা এবং ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় ব্রিজের গ্যাপ বা বিভব পার্থক্য শূন্য হয়। এটি বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ পরীক্ষায়, সঠিক রোধ নির্ধারণে এবং গবেষণায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং, হুইটস্টোন ব্রিজ রোধ পরিমাপের উপকরণ।
- উত্তর: ক) রোধ।
• হুইটস্টোন ব্রিজ (Wheatstone Bridge):
- হুইটস্টোন ব্রিজ হলো একটি বৈদ্যুতিক সার্কিট যা বৈদ্যুতিক প্রতিরোধ (Resistance) নির্ণয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়।
- এটি মূলত অজানা রোধকে পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়, যেখানে চারটি প্রতিরোধ একটি রোম্বাকৃতি (Diamond) আকারে সংযুক্ত থাকে।
- ব্রিজটি ভারসাম্য (Balance) হলে, কোন কারেন্ট ব্রাঞ্চে প্রবাহিত হয় না, এবং তখন অজানা রোধের মান সহজে নির্ণয় করা যায়।
- হুইটস্টোন ব্রিজ সরাসরি তড়িচ্চালক শক্তি, বিভব পার্থক্য বা প্রবাহ পরিমাপের জন্য নয়, বরং শুধুমাত্র রোধ নির্ণয়ের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
- এটি বৈদ্যুতিক পরিমাপ এবং পরীক্ষাগারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম।
সুতরাং, হুইটস্টোন ব্রিজ ব্যবহার করা হয়: ক) রোধ।
সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
উত্তর
ব্যাখ্যা
মানুষের কানের শ্রাব্য কম্পাঙ্কের সীমা ২০ থেকে ২০,০০০ হয়ে থাকে।
- এই সীমার মধ্যে কম্পাঙ্কের শব্দকে শ্রাব্য শব্দ বলে।
- কম্পাঙ্কের যে সীমার মধ্যে সৃষ্ট শব্দ মানুষ শুনতে পায় তাকে শ্রাব্যতার সীমা বলে।
- যে শব্দ শুনতে পাওয়া যায় না তাকে অশ্রাব্য শব্দ বলে। অশ্রাব্য শব্দের কম্পাঙ্ক ২০ হার্জের কম এবং ২০,০০০ হার্জের বেশি হয়। এ শব্দ কুকুর, বাদুড়, মাকড়সা ইত্যাদি প্রাণী শুনতে পায়।
সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• ১ মিলি মাইক্রোন = ১০-৬ × ১০−৩ m = ১০-৯m
• ১ অ্যাংস্ট্রম = ১০−১০m
• ১ অ্যাটো মিটার = ১০−১৮m
• ১ এক্সামিটার = ১০১৮m
সুতরাং, সর্বাপেক্ষা ছোট একক - অ্যাটোমিটার।
সূত্র- ব্রিটানিকা।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোফোন হল একটি পানির নিচের যন্ত্র যা সমস্ত দিক থেকে সমুদ্রের শব্দ সনাক্ত করে এবং রেকর্ড করে।
- অসংখ্য সামুদ্রিক জীব যোগাযোগ, প্রজনন এবং শিকার খোঁজার জন্য শব্দ ব্যবহার করে। যা হাইড্রোফোনের মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়।
আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র -
• সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র - ফ্যাদোমিটার৷
• আর্দ্রতা পরিমাপক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার।
• ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রের নাম সিসমোগ্রাফ।
• ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম রিখটার স্কেল।
• বায়ুর চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ব্যারোমিটার।
• পানির নিচে তেলের সঞ্চয় নির্ণায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার।
• রক্তচাপ মাপার যন্ত্র - স্ফিগমোম্যানোমিটার।
উৎস: ব্রিটানিকা।
উত্তর
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক তত্ত্ব:
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রকাশ করেন।
- তার আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়, এগুলো সকলই আপেক্ষিক।
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে স্থান, ভর ও সময় পরিবর্তন হয়। কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ। উচ্চ গতিশীল বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়। আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক তত্ত্ব বলা হয়।
- ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।
- মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়।
- আইনস্টাইন তার আপেক্ষিক তত্ত্বকে দু'ভাগে ভাগ করেন।
যথা- বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব এবং সার্বিক আপেক্ষিক তত্ত্ব।
বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য:
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই দুটি স্বীকার্য প্রদান করেন।
যথা-
• প্রথম স্বীকার্য:
- স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে।
• দ্বিতীয় স্বীকার্য:
- শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
আলোক তন্তুর ভিতরের দেয়ালে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে উজ্জ্বল আলো রোগীর দেহ গহব্বরে প্রবেশ করে।
এই আলো ক্ষতিগ্রস্থ অঙ্গকে আলোকিত করে। দ্বিতীয় আলোক তন্তু নলের ভিতর দিয়ে আলোর প্রতিফলিত অংশ একইভাবে ফিরে আসে। প্রতিফলিত
আলো অভিনেত্র লেন্সের মাধ্যমে চিকিৎসকের চোখে প্রবেশ করে। ফলে চিকিৎসক পরীক্ষণীয় অঙ্গের অভ্যন্তরে কী ঘটছে বা হচ্ছে-তা দেখতে পারেন।
এন্ডোসকপির মাধ্যমে চিকিৎসকগন শরীরের অভ্যন্তরে বিশেষ করে পাকস্থলীতে যে কোনো ধরনের অস্বস্থিবোধ, ক্ষত, প্রদাহ এবং অস্বাভাবিক কোষবৃদ্ধি পরীক্ষা করে থাকেন। পেটে ব্যাথা, গ্যাস্ট্রিক, আলসার, পরিপাকতন্ত্র, মূত্রনালী, স্ত্রী প্রজননতন্ত্র প্রভৃতির সমস্যার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ এন্ডোসকপি ব্যবহার নির্ধারণ করেন। এছাড়া পেটের আলসার নির্ণয়ে এন্ডোসকপি করা হয়।
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যেমন: লাল ও সবুজ রঙের সমন্বয়ে হলুদ রং সৃষ্টি হয়।
• রঙিন মনিটরে তিনটি মৌলিক রঙ। যথা- লাল, সবুজ এবং আসমানী বা নীল রং ব্যবহার করে সকল ধরনের ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়।
• সিআরটি মনিটর (CRT Monitor):
- ক্যাথোড রে টিউবযুক্ত মনিটরকে সিআরটি মনিটর বলা হয়।
- এ ধরনের মনিটরের পিছন দিকের ইলেকট্রন গান থাকে নির্গত ইলেকট্রন ফসফরাসের উপর আঘাত আনতে থাকে।
- রঙিন মনিটরে তিনটি মৌলিক রঙ প্রদর্শনের জন্য তিন ধরনের ইলেকট্রন গান থাকে।
- রঙ তিনটি হলো- লাল, নীল ও সবুজ।
উৎস: কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি-২, এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল)- নবম-দশম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• সঠিক উত্তর: গ) সিলিকন।
কারণ: সিলিকন সেমিকন্ডাক্টরের মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত, কারণ এটি সহজে পাওয়া যায়, তাপ সহনশীল এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইসে ব্যবহারযোগ্য।
অর্ধ-পরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর (Semiconductor):
- আধুনিক জগৎ এবং আধুনিক সভ্যতা পুরোটাই ইলেকট্রনিকসের উপরে ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং এই ইলেকট্রনিকসের জন্য যদি কোনো এক ধরনের পদার্থের বলা হয় তাহলে সেইই পদার্থটি হবে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর।
- যে সব পদার্থের তড়িৎ পরিবহণ ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি তাদেরকে বলা হয় অর্ধপরিবাহী পদার্থ।
অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে।
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি।
- সিলিকন হচ্ছে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টর পদার্থ।
- পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
অর্থাৎ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায়, আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব:
- বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব মূলত স্থির জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে সমবেগে গতিশীল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর কোনো ঘটনা বা কোনো ভৌত রাশির পরিমাপ সংক্রান্ত আলোচনা।
- ভর, সময়, দৈর্ঘ্য, বেগ ও শক্তির আপেক্ষিকতা ইত্যাদি বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য:
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুইটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের দুইটি স্বীকার্য প্রদান করেন।
যথা -
১। প্রথম স্বীকার্য:
- স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে।
২। দ্বিতীয় স্বীকার্য:
- শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যথা-
১। পরিবহন,
২। পরিচলন ও
৩। বিকিরণ।
• বিকিরণ পদ্ধতি:
- যে প্রক্রিয়ায় তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই অপেক্ষাকৃত উষ্ণতর স্থান থেকে শীতলতর স্থানে সঞ্চালিত হয় সেই প্রক্রিয়াকে তাপের বিকিরণ বলে।
- বিকিরণ পদ্ধতিতে যে তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকীর্ণ তাপ বলে।
- বিকীর্ণ তাপ শক্তি ও আলোক শক্তির মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- তাই সূর্য থেকে তাপ ও আলোক শক্তি তরঙ্গাকারে এক সাথে পৃথিবীতে পৌঁছায়।
• পরিচলন পদ্ধতি:
-কোনো পদার্থের অণুগুলি তাপ গ্রহণ করে, উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশের দিকে অণুগুলি চলাচলের মাধ্যমে তাপের সঞ্চালন ঘটায় এই পদ্ধতিকেই পরিচলন পদ্ধতি বলা হয়।
- তরল এবং বাষ্পীয় পদার্থের মধ্যে তাপ পরিচলন পদ্ধতির মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়।
• পরিবহন পদ্ধতি:
-যে পদ্ধতিতে পদার্থের অণুগুলি তাদের স্থান পরিবর্তন করে না, শুধুমাত্র অণুগুলি স্পন্দনের মাধ্যমে এক অণু পার্শ্ববর্তী অণুকে তাপ প্রদান করে। এভাবেই পদার্থের উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতম অংশের দিকে তাপ সঞ্চালিত হওয়াকে পরিবহন বলা হয়।
- কঠিন বস্তুতে পরিবহন পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালিত হয়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
পর্যায়বৃত্ত গতি (Periodic Motion):
- একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর যদি গতির পুনরাবৃত্তি হয়, তবে সেই গতিকে পর্যায়বৃত্ত গতি বলা হয়।
- যে সময়কাল পরপর এই পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাকে বলে এই গতির পর্যায়কাল।
- পর্যায়বৃত্ত গতিতে চলনশীল একটি বস্তুকণা তার গতিপথের প্রতিটি বিন্দুকে এক পর্যায়কাল পরপর একই বেগে অতিক্রম করে।
- আমাদের হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন পর্যায়বৃত্ত কারণ হৃৎপিণ্ডটি নির্দিষ্ট সময় পরপর একইভাবে স্পন্দিত হয়।
- পর্যায়বৃত্ত গতি বৃত্তাকার (ফ্যানের পাখা), উপবৃত্তাকার (সূর্যকে ঘিরে হ্যালির ধূমকেতুর কক্ষপথ), সরলরৈখিক (স্প্রিংয়ে ঝুলিয়ে রাখা দুলতে থাকা বস্তু) কিংবা অন্য যেকোনো আকৃতির পথে হতে পারে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
এমআরআই (MRI):
- এমআরআই এর অর্থ হচ্ছে ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইম্যাজিং (Magnetic Resonance Imaging)।
- এমআরআই যন্ত্রে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের কোনো স্থানের বা অঙ্গের বিস্তৃত প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়। নিউক্লিয় চৌম্বক অনুনাদের ভৌত এবং রাসায়নিক নীতির উপর ভিত্তি করে এমআরআই যন্ত্র কাজ করে। এই নীতি ব্যবহার করে কোনো অণুর প্রকৃতি সম্পর্কে তথ্য জানা যায়।
- এমআরআই একটি নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি।
- এই যন্ত্রে এক্সরে বা অন্য কোনো ধরনের বিকিরণ ব্যবহার করা হয় না।
- শরীরের যে অংশের এমআরআই স্ক্যান করা হয় সেখান থেকে প্রাপ্ত সংকেতকে একটি কম্পিউটারের সাহায্যে পরিবর্তিত করে সেই অংশের অত্যন্ত স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়। প্রত্যেকটি প্রতিবিম্ব শরীরের কোনো স্থানের এক একটি ফালির মতো কাজ করে। এভাবে অনেকগুলো প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়, যেগুলো শরীরের ঐ অংশের সকল বৈশিষ্ট্যকে ফুটিয়ে তুলে।
- পায়ের গোড়ালির মচকানো এবং পিঠের ব্যাথায় এমআরআই ব্যবহার করে জখমের বা আঘাতের তীব্রতা নিরূপণ করা হয়। ব্রেণ এবং মেরু রুজ্জুর বিস্তৃত প্রতিবিম্ব তৈরির জন্য এমআরআই হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
এরা তাপ এবং বিদ্যুৎ সুপরিবাহী।
যেমনঃ অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে রান্না করা সহজ এর তাপ সুপরিবাহীতার জন্য৷
অন্যদিকে অধাতু, ধাতুর মত চকচক করে না। এরা তাপ এবং বিদ্যুৎও পরিবহন করে না।
অধাতু (যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন) তাপ এবং বিদ্যুৎ কুপরিবাহী।
উৎসঃ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি
উত্তর
ব্যাখ্যা
পরিবাহিতা (Conductance):
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহ পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যের সমানুপাতিক।
অর্থাৎ, কোনো পরিবাহীর স্থির তাপমাত্রায় দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য V থাকা অবস্থায় এর ভিতর দিয়ে I পরিমাণ তড়িৎ প্রবাহ হলে ও'মের সূত্রানুসারে,
• I ∝ V
বা, I = GV; এখানে G একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক।
- একে পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা (conductance) বলে।
- তড়িৎ পরিবাহিতার একক সিমেন্স (Siemens), একে সংক্ষেপে S দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
- একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত বেশি তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তত বেশি। আবার একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত কম তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর রোধ তত বেশি।
- প্রকৃতপক্ষে কোনো পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তার রোধের মানের বিপরীত সংখ্যা।
- উপাদান, তাপমাত্রা এবং আকার আকৃতির উপর পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা নির্ভর করে।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে সকল পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা হ্রাস পায়।
- সকল ধাতুই উত্তম পরিবাহী কিন্তু একই আকার আকৃতির সকল ধাতুর তড়িৎ পরিবাহিতা সমান নয়।
যেমন- রূপার তড়িৎ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি, অপরদিকে জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদির তড়িৎ পরিবাহিতা সাধারণ তাপমাত্রায় খুবই কম।
অন্যদিকে,
- ও’ম → এটি রোধের (Resistance) একক।
- ভোল্ট → এটি ভোল্টেজ বা বিভব পার্থক্য এর একক।
- কুলম্ব → এটি আধানের (Charge) একক।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষ বল:
- মানুষ লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠতে পারে না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে কারণ পৃথিবী তাদেরকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে।
- মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তুকণা পরস্পরকে আকর্ষণ করে, এই আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে। এই ঘটনাকে (Phenomenon) বলে মহাকর্ষ।
- পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে।
- এই বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল।
উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
সমাধান:
এখানে,
কম্পাঙ্ক, f = 400 Hz = 400 s-1
তরঙ্গ দৈর্ঘ্য, λ = 0.8 m
তরঙ্গ বেগ, v = ?
আমরা জানি,
v = fλ
= 400 s-1 × 0.8 m
= 320 ms-1
উত্তর: 320 ms-1 ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- আবার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যদি দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে বড় হয় সেটাকে আমরা বলি ইনফ্রারেড, আরও বড় হলে মাইক্রোওয়েভ এবং আরও বড় হলে রেডিও ওয়েভ।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• প্রকৃতিতে ৪ ধরনের মৌলিক বল আছে।
• বল:
- যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় অথবা যা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে।
- বল সবসময় জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়া করে।
- প্রকৃতিতে চার ধরনের মৌলিক বল আছে।
যথা:- মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং সবল নিউক্লীয় বল।
১। মহাকর্ষ বল:
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল।
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে।
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে।
- এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই।
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে।
২. তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল:
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে।
৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল:
- দুর্বল নিউক্লীয় বলকে দুর্বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বক বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিওন গুণ) কিন্তু মোটেও মহাকর্ষ বল থেকে দুর্বল নয়।
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৮ m) কাজ করে।
৪। সবল নিউক্লীয় বল:
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৫ m) কাজ করে।
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়।
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- যেসব ভৌত রাশিকে শুধু মান দ্বারা সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায়, দিক নির্দেশের প্রয়োজন হয় না তাদের স্কেলার রাশি বলে।
যেমন- দৈর্ঘ্য, দ্রুতি, ভর, কাজ ইত্যাদি।
- শুধু মানের পরিবর্তন হলে স্কেলার রাশির পরিবর্তন হয়।
- স্কেলার রাশির যোগ, বিয়োগ, গুণ ইত্যাদি বীজগণিতের নিয়মে হয়।
- দুটি স্কেলার রাশির কোনোটির মান শূন্য না হলে এদের গুণফল শূন্য হয় না।
- দুটি স্কেলার রাশির গুণফলে সর্বদা একটি স্কেলার রাশি পাওয়া যায়।
ভেক্টর রাশি:
- যেসব ভৌত রাশিকে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করার জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয় তাদের ভেক্টর রাশি বলে।
যেমন- সরণ, বেগ, ত্বরণ, ওজন ইত্যাদি।
- শুধু মান অথবা শুধু দিক অথবা উভয়ের পরিবর্তন হলে ভেক্টর রাশির পরিবর্তন হয়।
- ভেক্টর রাশির যোগ, বিয়োগ, গুণ ইত্যাদি বীজগণিতের নিয়মে হয় না।
- দুটি ভেক্টর রাশির কোনো একটির মান শূন্য না হলেও এদের ভেক্টর গুণফল শূন্য হতে পারে।
- দুটি ভেক্টর রাশির গুণফল একটি ভেক্টর রাশি অথবা একটি স্কেলার রাশি হতে পারে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• তড়িৎ প্রবাহ বা বৈদ্যুতিক কারেন্ট পরিমাপ করার জন্য ব্যবহৃত একক হলো অ্যাম্পিয়ার। এটি বৈদ্যুতিক পরিবাহী মাধ্যমে ইলেকট্রনের প্রবাহের মাত্রা নির্দেশ করে। এক অ্যাম্পিয়ার কারেন্ট মানে হলো প্রতি সেকেন্ডে এক কুলম্ব চার্জ প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে, ওহম হল প্রতিরোধের একক, ভোল্ট হল বৈদ্যুতিক চাপের একক, এবং কুলম্ব হল চার্জের পরিমাণের একক। তাই বৈদ্যুতিক কারেন্ট পরিমাপের জন্য সঠিক একক হলো অ্যাম্পিয়ার।
• তড়িৎ প্রবাহ:
- তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপের একক হচ্ছে অ্যাম্পিয়ার।
- তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপের একক হলো অ্যাম্পিয়ার।
- যার প্রতীক হলো A
- তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপ করার জন্য অ্যামিটার নামক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।
অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- আধান বা চার্জের একক হলো কুলম্ব।
- তড়িৎ বিভব পার্থক্য পরিমাপের একক হলো ভোল্ট।
- রোধ পরিমাপের একক হলো ওহম।
উৎস: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- ভিন্ন ভৌগোলিক দূরত্বে কিছু ব্যক্তি অবস্থান করে টেলিযোগাযোগ সিস্টেমের মাধ্যমে সংযুক্ত থেকে কোন সভা অথবা সেমিনার অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়াকে বলা হয় টেলিকনফারেন্সিং।
- বিভিন্ন ধরনের টেলিকনফারেন্সিং ব্যবস্থা রয়েছে।
যেমন- পাবলিক কনফারেন্স, ক্লোজড কনফারেন্স এবং অনলি কনফারেন্স।
- টেলিকমিউনিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে দুই বা ততোধিক ভৌগোলিক অবস্থানে অডিও এবং ভিডিও এর যুগপৎ উভমুখী প্রক্রিয়ায় স্থানান্তর করার প্রক্রিয়াকে ভিডিও কনফারেন্সিং বলে।
উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
◉ কম্পাসে দিক নির্ণয়ের জন্য ছোট ও হালকা স্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়, যেটি পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের সাথে সমান্তরালভাবে অবস্থান করে।
স্থায়ী চুম্বক:
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে।
- চৌম্বক কম্পাস, মাইক্রোফোন, স্পিকার ইত্যাদিতে স্থায়ী চুম্বক ব্যব অহার করা হয়।
অস্থায়ী চুম্বক:
- চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়।
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে।
- মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফরমার ইত্যাদি তৈরিতে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়।
তড়িৎ চুম্বক:
- একটি বৃত্তাকার কুন্ডলী বা সলিনয়েডে তড়িৎ প্রবাহিত হলে এর মধ্যে চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি হয় এবং এটি একটি চুম্বকে পরিণত হয়।
- তড়িৎ প্রবাহের ফলে এ চুম্বক সৃষ্টি হয় বলে একে তড়িৎ চুম্বক বলে।
- কলিং বেলে তড়িৎ চুম্বক ব্যবহার করা হয়।
উৎস:
১। পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২। পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলন ছাড়াও তরঙ্গ সৃষ্টি হতে পারে। জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলনে সৃষ্ট তরঙ্গকে বলা হয় যান্ত্রিক তরঙ্গ।
- বিভিন্ন জড় পদার্থের কম্পন থেকে তা বিভিন্ন উপায়ে শব্দ সৃষ্টি হয়।
যেমন- পানির তরঙ্গ, শব্দ তরঙ্গ, ভূমি কম্পনের ফলে সৃষ্ট ভূ-তরঙ্গ ইত্যাদি যান্ত্রিক তরঙ্গ।
যান্ত্রিক তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য:
১. যান্ত্রিক ক্ষেত্রে তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন ঘটে।
২. এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তরঙ্গ সঞ্চারণের জন্য সময় প্রয়োজন হয়।
৩. মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের বা স্পন্দন গতির ফলে তরঙ্গ উৎপন্ন হয়।
৪. তরঙ্গ সৃষ্টি ও সঞ্চালনের জন্য অবিচ্ছিন্ন স্থিতিস্থাপক জড় মাধ্যম প্রয়োজন।
৫. তরঙ্গ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ বা স্থানান্তর করে।
৬. তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণাগুলোর স্পন্দনের দিক এবং তরঙ্গ সঞ্চারণের দিক এক নাও হতে পারে।
৭. তরঙ্গের কণাগুলোর বিভিন্ন বেগে স্পন্দিত হয়। স্পন্দনের বেগ পর্যায়ক্রমে কমে বাড়ে। কিন্তু তরঙ্গ সুষম বেগে সঞ্চারিত হয়, অর্থাৎ কণাগুলোর স্পন্দন গতি এবং তরঙ্গ বেগ এক নয়।
৮. মাধ্যমের কণাগুলো সাম্য অবস্থান থেকে উপর নিচে অথবা সামনে পেছনে স্পন্দিত হতে থাকে। মাধ্যমের মধ্য দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয় না।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- আলোর দ্রুতি শূন্যস্থানে সব সময় 3×108 ms-1 নির্দিষ্ট, কিন্তু শব্দের দ্রুতি সবসময় সমান নয়।
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1.
- তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়।
- বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেও শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়।
- হিসাব করে দেখা গেছে, প্রতি 1°C তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি প্রায় 0.6ms-1 পরিমাণ বেড়ে যায়।
- মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়।
- মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয়।
যেমন -
• বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1,
• পানি মাধ্যমে 1450 ms-1 এবং
• লোহার মধ্যে 5220 ms-1.
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম, তরল পদার্থের মধ্যে তা থেকে বেশি।
- কঠিন পদার্থের মধ্যে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে বেশি।
- বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম: বেগুনি < নীল < আসমানী < সবুজ < হলুদ < কমলা < লাল।
- এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসর 4×10-7m থেকে 7×10-7m মাত্র।
- এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়।
- আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হলে তার বিক্ষেপণ বেশি হয়।
- আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হলে তার বিক্ষেপণ কম হয়।
- লাল রঙের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি তাই এর বিক্ষেপণ কম।
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম।
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশী।
- লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।
উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
◉ ল্যাক্টোমিটার (Lactometer) হলো একটি বিশেষ যন্ত্র, যা দুধের বিশুদ্ধতা নির্ণয়ের জন্য দুধের ঘনত্ব (Density) পরিমাপে ব্যবহৃত হয়।
ল্যাক্টোমিটারের কাজ:
- দুধে পানি মেশানো হয়েছে কিনা তা নির্ণয় করা যায়।
- বিশুদ্ধ দুধের তুলনায় মিশ্রিত বা পাতলা দুধের ঘনত্ব কম হয়, যা ল্যাক্টোমিটারের মাধ্যমে চিহ্নিত করা সম্ভব।
- হাইড্রোমিটারের মতোই কাজ করে, তবে এটি বিশেষভাবে দুধের জন্য ডিজাইন করা।
আরো কিছু পরিমাপক যন্ত্র:
- উড়োজাহাজের গতি পরিমাপক যন্ত্র হলো - ট্যাকোমিটার।
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় এর যন্ত্র - ফ্যাদোমিটার।
- বায়ুর চাপ নির্ণয় এর যন্ত্র - ব্যারোমিটার।
- বায়ুর গতিবেগ নির্ণয় এর যন্ত্র - এনিমোমিটার।
- বায়ুর আর্দ্রতা নির্ণয়কারী যন্ত্র - হাইগ্রোমিটার।
- তরলের ঘনত্ব নির্ণয়কারী যন্ত্র - হাইড্রোমিটার।
- দুধের বিশুদ্ধতা নির্ণয় করতে ব্যবহৃত হয় - ল্যাক্টোমিটার।
- বৃষ্টির পরিমাণ হিসেব করতে ব্যবহৃত হয় - রেইনগেজ।
- মোটর গাড়ির গতি পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয় - ওডোমিটার।
উৎস: ব্রিটানিকা।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যেমন - লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি।
ফেরােচৌম্বক পদার্থের বৈশিষ্ট:
১) এরা চুম্বক দ্বারা খুব বেশি আকর্ষিত হয়।
২) এরা কঠিন এবং স্ফটিকাকারের হয়।
৩) এদের চৌম্বক ধারকত্ব ধর্ম রয়েছে।
৪) এদের নির্দিষ্ট কুরী বিন্দু রয়েছে। কুরী বিন্দুর ওপরে এর কোনাে চুম্বকত্ব থাকে না। যেমন: লোহার কুরি তাপমাত্রা ১০৪৩ K.
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান (২য় পত্র) বোর্ড বই।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যথা- উত্তল বা অভিসারী লেন্স এবং অবতল বা অপসারী লেন্স।
লেন্সের ক্ষমতা বলতে আলোকরশ্মিগুচ্ছকে অভিসারী বা অপসারী করার প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে। লেন্সের ক্ষমতার প্রচলিত একক হলো ডায়াপ্টার। এসআই একক হলো রেডিয়ান/মিটার। লেন্সের ক্ষমতার মান ধনাত্মক কিংবা ঋণাত্মক উভয় প্রকার হতে পারে। সিমেন্স, লাক্স এবং বেকরেল যথাক্রমে পরিবাহিতা, দীপন ক্ষমতা এবং তেজস্ক্রিয়তার একক।
(সূত্রঃ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী এবং এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
উত্তর
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা:
- অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াসগুলো কোনো এক ধরনের বিকিরণ করে স্থিতিশীল হওয়ার চেষ্টা করে এবং এই প্রক্রিয়াটাকে বলা হয় তেজস্ক্রিয়তা।
- নিউক্লিয়াসের ভেতর থেকে যে বিকিরণ বের হয়ে আসে তাকে বলে তেজস্ক্রিয় রশ্মি।
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা 82 অতিক্রম করলেই (পারমাণবিক সংখ্যা ৪2 থেকে বেশি) যে নিউক্লিয়াসগুলো তেজস্ক্রিয় হয়ে থাকে তা নয়, অন্য পরমাণুর নিউক্লিয়াসও তেজস্ক্রিয় হতে পারে।
- 1896 সালে হেনরি বেকেরেল (Henri Becquerel) প্রথম ইউরেনিয়াম থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মির অস্তিত্ব প্রমাণ করেন।
- পরবর্তীতে আরনেস্ট রাদারফোর্ড (Ernest Rutherford), পিয়ারে কুরি (Pierre Curie), মেরি কুরি (Marie Curie) এবং অন্যা বিজ্ঞানীরা অন্যান্য মৌলের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
- এটি বাইরের চাপ, তাপ, বৈদ্যুতিক বা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে কোনোভাবে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, কাজেই এটি একটি নিউক্লী ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া হয়।
- তেজস্ক্রিয়তার কারণে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়ে নিউক্লিয়াসের গঠন পরিবর্তিত হয়ে সেটিও ভিন্ন একটি মৌলে রূপান্তরিত হয়ে যেতে পারে।
- নিউক্লিয়াস থেকে যে তিনটি প্রধান তেজস্ক্রিয় রশ্মি বের হয়, সেগুলো হচ্ছে আলফা, বিটা এবং গামা রশ্মি।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
১ ওয়াট-ঘণ্টা = ১ ওয়াট x ১ ঘণ্টা
অনেক সময় ওয়াট ঘণ্টার পরিবর্তে কিলােওয়াট ঘণ্টাও ব্যবহার করা হয়।
এক কিলােওয়াট ঘণ্টা কতটুকু শক্তি সেটাও বের করা যায়।
১ কিলােওয়াট-ঘণ্টা = ১০০০ ওয়াট x ৩৬০০ সেকেন্ড
= ৩,৬০,০০০০ ওয়াট-সেকেন্ড
= ৩,৬০,০০০০ জুল
অর্থাৎ শক্তির এককে এটি ৩.৬ মেগা জুল।
অর্থাৎ,
১০০o ওয়াট-এর একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব ১ ঘন্টা চললে শক্তি ব্যয় হয় = ৩,৬০,০০০০ জুল
আন্তর্জাতিকভাবে, তড়িৎ সরবরাহকে কিলােওয়াট-ঘণ্টা এককে পরিমাপ করা হয়। এই একককে বাের্ড অব ট্রেড (BOT) ইউনিট বা সংক্ষেপে ইউনিট বলে। আমরা যে বিদ্যুৎ বিল পরিশােধ করি তা এই এককেই হিসাব করা হয়।
রেফারেন্সঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান
উত্তর
ব্যাখ্যা
• মহাবিশ্বের মৌলিক বলের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল বলটি হলো মহাকর্ষ বল (Gravitational Force)।
• প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে। যথা:
- মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং সবল নিউক্লীয় বল।
১। মহাকর্ষ বল:
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল।
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে।
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে।
এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই।
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে।
২. তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল:
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে।
৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল:
- দুর্বল নিউক্লীয় বল মহাবিশ্বের চারটি মৌলিক বলের মধ্যে দ্বিতীয় দুর্বলতম বল, যা মহাকর্ষ বলের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী কিন্তু সবল নিউক্লীয় ও তড়িৎচুম্বকীয় বলের চেয়ে দুর্বল।
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০- ১৮ m) কাজ করে।
৪। সবল নিউক্লীয় বল:
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০- ১৫ m) কাজ করে।
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়।
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• অণুর মলিকিউলার মুভমেন্ট বা অণুগুলোর চলাচল তাপের উপর নির্ভর করে। তাপমাত্রা যত বেশি, অণুগুলোর গতিশীলতা তত বেশি হয়। কিন্তু তাপমাত্রা অনেক কমে গেলে, অণুগুলোর চলাচল কমে আসে। তাপমাত্রার এমন একটি সীমা আছে যেখানে অণুগুলোর গতি প্রায় সম্পূর্ণ থেমে যায়। এই তাপমাত্রাকে শূন্যতম তাপমাত্রা বা অভিসম শূন্য (absolute zero) বলা হয়। অভিসম শূন্য হল -273°C বা 0 K, যা তাপমাত্রার তাত্ত্বিক ন্যূনতম সীমা। এ সময় অণুগুলোতে কোনো শক্তি থাকে না এবং তারা অচল থাকে। সুতরাং, অণুর মলিকিউলার মুভমেন্ট থেমে যায় -273°C তাপমাত্রায়।
- সঠিক উত্তর: ক) -273°C
• পরম শূন্য তাপমাত্রা:
- যে তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তনের বিলুপ্তি ঘটে অর্থাৎ আয়তন শূন্য হয়ে যায়, সে তাপমাত্রাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা বলে।
- পরম শূন্য তাপমাত্রা হলো - 273°C.
- পরম শূন্য তাপমাত্রা গ্যাসের প্রকৃতি ও চাপের উপর নির্ভর করে না।
- পরম শূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের স্থানান্তর গতি শূন্য হয়, গ্যাসের অণুসমূহের স্থানান্তরণ একেবারে স্তব্দ হয়ে যায়। এ সময় অণুসমূহ পরস্পরের খুবই নিকটে আসে, ফলে আয়তন খুবই কম হয়।
- পরম শূন্য তাপমাত্রায় কম্পন গতির জন্য পদার্থের যে শক্তি অবশিষ্ট থাকে, তাকে শূন্য বিন্দু শক্তি বলা হয়।
• অণুর মলিকিউলার মুভমেন্ট থামা (Absolute Zero):
- অণুর সমস্ত অভ্যন্তরীণ গতিশীলতা বা মলিকিউলার মুভমেন্ট থেমে যায় অত্যন্ত কম তাপমাত্রায়।
- এই তাপমাত্রাকে বলা হয় - অ্যাবসলিউট জিরো (Absolute Zero)।
- এটি তাত্ত্বিকভাবে -273°C বা 0 K তাপমাত্রায় ঘটে।
- এমন অবস্থায় অণুগুলি পুরোপুরি স্থির হয়ে যায়, এবং তাদের কাইনেটিক শক্তি শূন্যের সমান হয়।
- প্রকৃতপক্ষে, প্রাকৃতিকভাবে এই তাপমাত্রা পৌঁছানো সম্ভব নয়, তবে ল্যাবরেটরিতে খুব কাছাকাছি পৌঁছানো যায়।
উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে ঐ কণার বা তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে।
কম্পাঙ্ককে সাধারণত f দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
কম্পাঙ্কের একক হার্জ। সংক্ষেপে লেখা হয়, Hz.
1 Hz= 1s-1
উত্তর
ব্যাখ্যা
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে।
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়।
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
ক্ষমতা, P = (সম্পন্ন কাজ / প্রয়োজনীয় সময়)
বা, P = (বল সরণ)/ সময়
বা, P = বল × বেগ
∴ ক্ষমতা = বল × বেগ
বা, P = Fv
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা।
- ক্ষমতার এস. আই একক ওয়াট।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
কারণ ঘর্ষণের বিরুদ্ধে যে কাজ হয় তাই তাপে রূপান্তরিত হয় এবং এ উৎপাদিত তাপকে কোনো প্রকারেই কাজে রূপান্তরিত করা যায় না।
সূত্রঃ পদার্থ বিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• আইসোটোপ এবং এর ব্যবহার:
- আইসোটোপগুলো হলো একটি নির্দিষ্ট মৌলের রূপভেদ।
- বিভিন্ন ভরসংখ্যা বিশিষ্ট একই মৌলের পরমাণুকে ঐ মৌলের আইসোটোপ বলে।
- অর্থাৎ কোনো মৌলের আইসোটোপ সমূহে প্রোটনের সংখ্যা সমান থাকে, কিন্তু নিউট্রোনের সংখ্যা বিভিন্ন হয়।
- চিকিৎসা ক্ষেত্রে ‘পরমাণু চিকিৎসায়' তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
- তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ প্ৰধানত রোগ নির্ণয়ের এবং রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
- রোগীর শরীরে কোনো স্থানে বা অঙ্গে ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমারের উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের সাহায্যে শনাক্ত করা যায়।
- কোবাল্ট-60 (60Co) আইসোটোপ থেকে নির্গত শক্তিশালী গামা রশ্মি ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
- কোবাল্ট- 60 থেকে নির্গত গামা রশ্মির সাহায্যে অপারেশনের যন্ত্রপতি রোগ জীবাণুমুক্ত করা হয়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
বৃহস্পতি:
- সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বলে একে গ্রহরাজ বলা হয়।
- পৃথিবীর তুলনায় বৃহস্পতি প্রায় ১৩০০ জন বড়।
- সূর্য থেকে গড় দূরত্ব ৭৭ কোটি কিলোমিটার।
- বৃহস্পতির সূর্যের চারিদিকে একবার আবর্তন করতে সময় লাগে প্রায় ১২ বছর।
- বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলে হাইড্রোজেন, অ্যামোনিয়া, মিথেন এবং হিলিয়াম রয়েছে।
তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
পরিবাহী পদার্থ:
- ধাতব পরমাণুর কিছু ইলেকট্রন প্রায় মুক্ত অবস্থায় থাকে এবং সেগুলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে। সেজন্য সেগুলোকে পরিবাহী পদার্থ বলা হয়।
যেমন- সোনা, রূপা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম এগুলো সুপরিবাহী পদার্থ।
- পরিবাহী পদার্থ দিয়ে চার্জকে স্থানান্তর করা যায়, তবে সব সময় মনে রাখতে হবে এই স্থানান্তর হয় ইলেকট্রন দিয়ে, বিদ্যুতের প্রবাহ হয় ইলেকট্রন দিয়ে, নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন।
অপরিবাহী পদার্থ:
- যে পদার্থের ভেতর তড়িৎ বা বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য কোনো মুক্ত ইলেকট্রন নেই সেই পদার্থগুলো হচ্ছে বিদ্যুৎ অপরিবাহী বা অন্তরক পদার্থ।
যেমন- প্লাস্টিক, রাবার, কাঠ, কাচ এগুলো হচ্ছে অপরিবাহী পদার্থের উদাহরণ।
- মূলত অধাতুগুলো বিদ্যুৎ অপরিবাহী হয়।
অর্ধপরিবাহী পদার্থ:
- কিছু কিছু পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা সাধারণ তাপমাত্রায় পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি, তবে তাপমাত্রা বাড়ালে পরিবহন ক্ষমতা বেড়ে যায়, এই ধরনের পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে।
যেমন- সিলিকন বা জার্মেনিয়াম সেমিকন্ডাক্টরের উদাহরণ।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে।
- এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়।
কৃত্রিম চুম্বক:
কৃত্রিম চুম্বক দুই ধরনের হয়।
যথা-
১. অস্থায়ী বা কোমল চুম্বক এবং
২. স্থায়ী বা কঠিন চুম্বক।
অস্থায়ী চুম্বক:
- চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়।
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে।
- মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফরমার ইত্যাদি তৈরিতে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়।
স্থায়ী চুম্বক:
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে।
- স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়।
যথা- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক।
- টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• তেজস্ক্রিয় রশ্মি:
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।
যেমন- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি তেজস্ক্রিয় পরমাণু।
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল (Henry Becquerel) আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় "বেকেরেল রশ্মি"।
- পরবর্তিতে মাদাম কুরী (Madame Marie Curie) এবং তাঁর স্বামী পিয়ারে কুরী (Pierre Curie) নানা পদার্থের তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি (Radioactive rays) নামে পরিচিত।
তেজস্ক্রিয়তার প্রকারভেদ:
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার।
যথা- প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা ও কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা।
১। প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা:
- কোনো পদার্থ হতে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা বলে।
২। কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা:
- কৃত্রিম উপায়ে কোনো মৌলকে তেজস্ক্রিয় মৌলে পরিণত করলে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা বলে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• আল্ট্রাসনোগ্রাফি:
- শরীরের অভ্যন্তরীণ নরম পেশী বা টিস্যুর সমস্যা নির্ণয়ে আল্ট্রাসাউন্ডকে কাজে লাগিয়ে যে পরীক্ষা করা হয় তাকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি বলে।
- আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে উচ্চ কম্পাংকের শব্দের প্রতিফলন বা প্রতিধ্বনিকে কাজে লাগানো হয়।
- উচ্চ কম্পাংকের শব্দ যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশী থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়।
- রোগ নির্ণয়ে যে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয় সেই শব্দের কম্পাংক ১-১০ মেগাহার্টজ হয়ে থাকে।
- হৃদপিন্ডে অথবা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য নরম অঙ্গ যেমন- যকৃৎ, পিত্তথলি, প্রধানরক্ত নালী সমূহে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়।
- বিশেষত ভ্রুণের বৃদ্ধি, বৃদ্ধিপ্রাপ্ত ভ্রুণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের টিউমার সনাক্তকরণে।
- এক্সরের তুলনায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি অধিকতর নিরাপদ রোগ নির্ণয়ের কৌশল।
উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
হিগস বোসন (Higgs Boson):
- হিগস বোসন এর স্পিন 0, তবে এর ভর আছে।
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে।
- হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে।
- হিগস বোসন ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা।
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়।
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্থানান্তরিত হয়।
- হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্থানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে।
- এই হিগস বোসন কণাকে ঈশ্বর কণা (God's Particle) বলা হয়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনাে বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনাে বলের কোনাে রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনাে না কোনাে রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে।
এই মৌলিক বলগুলাে হলাে :
১. মহাকর্ষ বল (Gravitational force)
২. তাড়িতচৌম্বক বল (Electromagnetic force)
৩. সবল নিউক্লিয় বল (Strong Nuclear force)
৪. দুর্বল নিউক্লিয় বল (Weak Nuclear force)
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, ২য় পত্র, ১১শ-১২শ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন
উত্তর
ব্যাখ্যা
• ইঞ্জিনের দক্ষতা:
- ইঞ্জিনের দক্ষতা বলতে বোঝায়, একটি ইঞ্জিন কতটুকু কার্যকরভাবে প্রদত্ত শক্তিকে কাজে রূপান্তর করতে পারে।
- এটি সাধারণত শতকরা হার হিসাবে প্রকাশ করা হয়।
- ইঞ্জিন যত বেশি দক্ষ হবে, তত কম শক্তি অপচয় করে সে বেশি কাজ করতে পারবে।
• বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনের দক্ষতা বেশি হওয়ার কারণ:
→ শক্তির অপচয় কম:
- বৈদ্যুতিক মোটরগুলিতে জ্বালানি পোড়ানো হয় না, তাই তাপ শক্তির অপচয় হয় না।
→ কম ঘর্ষণ:
- এতে চলন্ত অংশ কম থাকে, ফলে ঘর্ষণ ও শক্তি ক্ষয় কম হয়।
→ উচ্চ দক্ষতা হার:
- আধুনিক বৈদ্যুতিক মোটরের দক্ষতা ৯০–৯৫% পর্যন্ত হতে পারে।
→ সরাসরি শক্তি রূপান্তর:
- বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন সরাসরি বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে, যেখানে অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিনগুলি প্রথমে জ্বালানি পোড়ানোর মাধ্যমে তাপ উৎপন্ন করে এবং তারপর সেই তাপকে কাজে লাগায়।
- এই কারণে বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনগুলির কর্মক্ষমতা বেশি হয়।
তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
- U.S. Department of Energy (DOE).
উত্তর
ব্যাখ্যা
C/5 = (F - 32)/9
⇒ 30/5 = (F - 32)/9
⇒ 6 = (F - 32)/9
⇒ F - 32 = 54
∴ F = 54 + 32
= 86°
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
ব্যাখ্যা
মানব চোখের বয়োবৃদ্ধির কারণে উপযোজন ক্ষমতা কমে যাওয়ার ফলে কাছের বস্তু দেখতে অসুবিধা। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটি প্রেজবিয়োপিয়া নামে পরিচিত।
সাধারণত বয়স চল্লিশ পার হলে এই সমস্যা দেখা দেয়। ছোট অক্ষর পড়তে অসুবিধা হয় তবে অপেক্ষাকৃত একটু দূরে ধরলে কিছুটা ভালো দেখা যায়।
বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষের চোখের পেশীর স্থিতিস্থাপকতা কমে যায় তখন এই সমস্যা দেখা যায়।
বাইফোকাল লেন্সের চশমা ব্যবহার করে এই ত্রুটি দূর করা যায়।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান-২য় পত্র বই (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি) ,ড. শাহজাহান তপন
উত্তর
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর দুর্বল তড়িৎ সংকেতকে বিবর্ধন করতে পারে এবং উচ্চগতিসম্পন্ন সুইচ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু 1924 সালে কোয়ান্টাম তত্ত্বের ধারণা ব্যবহার করে বিকিরণ সংক্রান্ত কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্ব প্রদান করেন। এজন্য বিজ্ঞানী বসুকে কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্বের জনক হিসেবে অভিহিত করা হয়, এবং তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একশ্রেণির মৌলিক কণাকে বোসন (Boson) নাম দেওয়া হয়। 1900 থেকে 1930 সাল পর্যন্ত এই সময়টিতে হাইজেনবার্গ, শ্রোডিঙ্গার, ডিরাকসহ অনেক বড় বড় বিজ্ঞানী মিলে পদার্থের কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেন।
-----------------------
বোসন (Boson):
- মৌলিক বলগুলো কাজ করে কণার আদান-প্রদানের মাধ্যমে। এই বলবাহী কণাগুলোই হচ্ছে বোসন।
- এদের স্পিন পূর্ণসংখ্যা 0, 1 ইত্যাদি।
- বোসন কণা পাউলির বর্জন নীতি মানে না।
- এদের আলাদা প্রতিকণা নেই।
- এরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিকণা।
- স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে বোসন কণাগুলো দুই ধরনের।
যথা-
(i) গেজ বোসন (Gauge Boson):
- এদের স্পিন হলো 1 ।
- এই কণাগুলো হলো- গণ্ডুওন (g), ফোটন (γ) এবং W ও Z বোসন।
• গণ্ডুণ্ডন: গণ্ডুওন কণা হলো সবল নিউক্লিয় বলবাহী কণা। এর নিশ্চল ভর শূন্য।
• ফোটন: এই কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। এর নিশ্চল ভর শূন্য।
• W ও Z বোসন: W+, W- এবং W0 এই তিনটি বোসন কণা দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক। এ কণাগুলোর ভর আছে।
(ii) হিগস বোসন (Higgs Boson):
- হিগস বোসন এর স্পিন 0, তবে এর ভর আছে।
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে। হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা।
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়।
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্তানান্তরিত হয়। হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্তানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে।
- এই হিগস বোসনই ঈশ্বর কণা (God's Particle) নামে পরিচিত।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- SATP হলো Standard Ambient Temperature & Pressure বা প্রমাণ বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা ও চাপ।
- এক্ষেত্রে তাপমাত্রাকে 25°C এবং চাপকে 1 atm বা 1.01 bar ধরা হয়।
- SATP তে গ্যাসের মোলার আয়তন 24.789 dm3।
STP:
- STP হলো Standard Temperature & Pressure বা প্রমাণ বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা ও চাপ।
- এক্ষেত্রে তাপমাত্রাকে 0°C এবং চাপকে 1 atm বা 1.01 bar ধরা হয়।
- STP তে গ্যাসের মোলার আয়তন 22.4 dm3।
উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- পদার্থ যেই অবস্থায় আছে চিরকাল সেই অবস্থায় থাকতে চাওয়ার যেই প্রবণতা, তাকে জড়তা বলে।
- জড়তা দুই প্রকার:
১। স্থিতি জড়তা:
- স্থির বস্তুর চিরকাল স্থির থাকতে চাওয়ার যেই ধর্ম বা প্রবণতা তাকে স্থিতি জড়তা বলে।
২। গতি জড়তা:
- গতিশীল বস্তুর চিরকাল স্থির থাকতে চাওয়ার যেই ধর্ম বা প্রবণতা তাকে স্থিতি জড়তা বলে।
গতিশীল গাড়ি হঠাৎ থেমে গেলে গাড়িতে বসা যাত্রী সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে বা হুমড়ি খেয়ে পড়ে। গাড়ি যখন গতিশীল ছিল তখন যাত্রীর শরীরের উপরের অংশ এবং নিচের অংশ উভয়ই গতিশীল ছিল। কিন্তু গাড়ি হঠাৎ থেমে যাওয়ায় গাড়ি সংলগ্ন শরীরের নিচের অংশ সর্বপ্রথম থেমে যায় বা স্থির হয়। কিন্তু উপরের অংশ তখনও গতিশীল থাকায় তা গতিশীলই থাকতে চায়। ফলে আরোহী বা যাত্রী সামনের দিকে ঝুঁকে পরে। এটি গতি জড়তা এর উদাহরণ।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব:
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাবনা করেন।
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোন উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেড়িয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেজ আকারে বের হয়।
- প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রং এর আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে, এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন।
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন।
- এই তত্ত্বের সাহায্যে কৃষ্ণবস্তু বিকিরণ, ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায়।
- কিন্তু আলোর বিচ্ছুরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন, সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না।
উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর বিক্রিয়ার জন্য তাপীয় নিউট্রন অর্থাৎ ধীর গতির নিউট্রন প্রয়োজন।
- অথচ এই বিক্রিয়ায় নির্গত নিউট্রনের শক্তি প্রায় 181MeV অর্থাৎ দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রন সেইজন্য এর গতি কমিয়ে তাপীয় নিউট্রন তৈরি করা প্রয়োজন।
- মডারেটরের কাজ হলো দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে আবার পরবর্তী বিভাজনে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মন্দন ঘটিয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত করে নিতে হয়।
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে পাঠালে উচ্চ গতির নিউট্রন মন্দীভূত হয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত হতে পারে, তাদের বলা হয় মডারেটর।
- বহুল প্রচলিত দুটি মডারেটর হলো- (i) ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড (D2O) এবং (ii) গ্রাফাইট।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• তড়িৎ চৌম্বক আবেশ বা ইলেকট্রোম্যাগনেটিজম আবিষ্কার করেছিলেন ইংরেজ বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডে। ফ্যারাডের পরীক্ষায় দেখা যায়, চলমান তড়িৎ প্রবাহ চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি করতে পারে, এবং পরিবর্তনশীল চৌম্বক ক্ষেত্র তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করতে পারে। এই আবিষ্কার আধুনিক বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির ভিত্তি স্থাপন করে।
- সঠিক উত্তর: ঘ) ফ্যারাডে।
• তড়িৎ চৌম্বক আবেশ:
- ওয়েরস্টেড (১৮২০) তড়িৎ প্রবাহে চৌম্বকীয় ক্রিয়া আবিস্কারের পর থেকেই বিজ্ঞানীদের মাথায় চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টির কথা চিন্তা করেন।
- তখন তিন দেশের তিন জন বিজ্ঞানী ইংল্যান্ডে মাইকেল ফ্যারাডে, আমেরিকাতে জোসেফ হেনরী এবং রাশিয়ায় এইচ. এফ. ই. লেনজ পৃথক পৃথক ভাবে এ বিষয়ের উপর গবেষণা করে সফলতা অর্জন করেন।
- কিন্তু মাইকেল ফ্যারাডে ১৮৩১ সালে সর্বপ্রথম তাঁর গবেষণালব্ধ ফলাফল প্রকাশ করেছিলেন।
- সেজন্য মাইকেল ফ্যারাডে তড়িৎ চৌম্বক আবেশের আবিষ্কারক হিসাবে পরিচিত।
- ফ্যারাডের পরীক্ষাগুলো থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, কোনো বদ্ধ কুণ্ডলী এবং কোনো চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আপেক্ষিক গতি থাকলে ঐ কুণ্ডলীতে
একটি আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাকে তড়িৎ চৌম্বক আবেশ বলে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- এই বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিমাপ করা যায় তাকে রাশি বলা হয়।
- যে সকল রাশি পরিমাপ করার জন্য অন্য রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় তাকে লব্ধ রাশি বলে।
- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি লব্ধ রাশির উদাহারণ।
মৌলিক রাশি,
- যে সকল রাশি পরিমাপ করার জন্য অন্য রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না তাকে মৌলিক রাশি বলে।
- যেমন সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি।
- বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়,তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা এবং পদার্থের পরিমাণ হলো মৌলিক রাশি।
তথ্যসূত্র - পদার্থিবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব:
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাবনা করেন।
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোন উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেড়িয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেজ আকারে বের হয়।
- প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রং এর আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্বনিম্ন মান আছে।
- এই সর্বনিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন।
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন।
- এই তত্ত্বের সাহায্যে কৃষ্ণবস্তু বিকিরণ, ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায়, কিন্তু আলোর বিচ্ছুরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন, সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না।
উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
ফ্যাক্স (Fax):
- বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার বেইন ১৮৪২ সালে ফ্যাক্স মেশিন আবিস্কার করেন।
- ফ্যাক্সের পুরো নাম হলো ফ্যাক্সিমিল।
- কোনো ডকুমেন্টকে হুবহু কপি করে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে প্রাপকের কাছে পাঠাতে ফ্যাক্স ব্যবহার করা হয়।
- প্রেরক যে ডকুমেন্ট যেমন দলিল, সার্টিফিকেট, ছবি, ডায়াগ্রাম ইত্যাদি প্রাপকের কাছে পাঠাতে চান সে ডকুমেন্ট তার ফ্যাক্স মেশিনের সাহায্যে হুবহু কপি তৎক্ষণাৎ প্রাপকের ফ্যাক্স মেশিনে পাঠাতে পারেন এবং প্রাপক তার মেশিন থেকে সেই ডকুমেন্টের প্রিন্ট কপি পেয়ে যান।
ফ্যাক্সের মূলনীতি:
- ফ্যাক্স মেশিন হলো মূলত টেলিফোন, স্ক্যানার, প্রিন্টার ও মোডেম সম্মিলিত একটি যন্ত্র। প্রেরক কোনো ডকুমেন্ট পাঠাতে চাইলে তিনি প্রথমে টোলফোনে ডায়াল করে প্রাপকের ফ্যাক্স মেশিনের সাথে টেলিফোন লাইনের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করেন। তারপর তার ডকুমেন্টটি ফ্যাক্স মেশিনে রাখলে ডকুমেন্টের যাবতীয় লেখা বা ছবি স্ক্যানারের মাধ্যমে ডিজিটাল ছবিতে রূপান্তর হয়। সেই ছবি মোডেমের সাহায্যে এনালগ সংকেতে রূপান্তর করে টেলিফোন লাইনের সাহায্যে প্রাপকের মোডেমে পাঠায়। প্রাপকের মোডেম সেই এনালগ সংকেতকে পুনরায় ডিজিটাল সংকেতে রূপান্তর করে ফ্যাক্স মেশিনের প্রিন্টারে পাঠায় এবং প্রিন্টারে সাহায্যে প্রেরকের পাঠানো ডকুমেন্টের হুবহু কপি প্রাপক পেয়ে যান।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ মাপার জন্য অ্যামিটার ব্যবহার করা হয়।
কোন পরিবাহকের যে কোন প্রস্থচ্ছেদ এর মধ্য দিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাকে তড়িৎ প্রবাহ বলে।
তড়িৎ প্রবাহ দুই রকম - এসি প্রবাহ এবং ডিসি প্রবাহ |
তড়িৎ প্রবাহের এস আই একক হল অ্যাম্পিয়ার, সংকেত A. এক অ্যাম্পিয়ার তড়িৎ প্রবাহ মানে কোনো পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে এক কুলম্ব আধানের চলাচল।
সূত্র: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান
উত্তর
ব্যাখ্যা
চৌম্বক ক্ষেত্র:
- কোনো তড়িৎবাহী তারের চতুর্দিকে যে অঞ্চল জুড়ে একটি চৌম্বক শলাকা বিক্ষেপ দেখায় তাকে ঐ তড়িৎবাহী তারের চৌম্বক ক্ষেত্র বলে।
- লম্বা সোজা পরিবাহীর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত করা হলে এর চারদিকে যে চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়, তা চুম্বক শলাকার সাহায্যে চৌম্বক ক্ষেত্র রেখা (বা চৌম্বক আবেশ রেখা) অঙ্কিত করে দেখানো যায়। রেখাগুলিকে চৌম্বক বলরেখাও বলা হয়ে থাকে।
- লম্বা সোজা পরিবাহীর জন্য কোনো বিন্দুতে চৌম্বক ক্ষেত্রের মান (১) পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহের সমানুপাতিক এবং (২) বিন্দু থেকে পরিবাহীর দূরত্বের ব্যস্তানুপাতিক।
- ক্রোয়েশিয়ার বিজ্ঞানী নিকোলা টেসলা এর নামানুসারে একে টেসলা (T) বলে।
- টেসলা হচ্ছে চৌম্বক ক্ষেত্রের এস.আই একক।
- এক চৌম্বকক্ষেত্র 1 কুলম্ব (C) আধান ক্ষেত্রের দিকের সাথে সমকোণে 1 ms-1 গতিশীল হলে 1 N বল অনুভব করে সেই চৌম্বকক্ষেত্রের মানকে 1 টেসলা বলে।
- কোনো চুম্বক অথবা একটি গতিশীল চার্জের, চতুর্দিকে যে অঞ্চল জুড়ে একটি চুম্বক শলাকা বিক্ষেপ দেখায় তাকে ঐ চুম্বক বা গতিশীল চার্জের চৌম্বক ক্ষেত্র বলে।
- একটি একক চার্জ একক বেগে চৌম্বক ক্ষেত্রের সাথে সমকোণে গতিশীল হলে যে বল লাভ করে তাই চৌম্বক ক্ষেত্রের মান।
- একটি চুম্বক শলাকাকে চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে স্থাপন করলে তার উত্তর মেরু যে দিক নির্দেশ করে, তাই চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক।
- তড়িৎবাহী তারের জন্য চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক ফ্লেমিঙের দক্ষিণ হস্ত নিয়ম দ্বারা নির্ণয় করা হয়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- পানির মধ্যে আন্দোলন সৃষ্টি করে তরঙ্গ উৎপন্ন হলে তরঙ্গ বৃত্তের আকারে পানির উপর বিস্তৃত হয়।
- একটু লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, বৃত্তের উপরস্থ পানি কণাগুলাে একবার উপরে উঠছে ও একবার নিচে নামছে বা তরঙ্গচূড়া (crest) ও তরঙ্গখাজ (trough) উৎপন্ন হচ্ছে।
- তরঙ্গচূড়ায় অবস্থিত সকল কণার দশা একই আবার তেমনি তরঙ্গখাজে অবস্থিত সকল কণার দশা সমান।
অর্থাৎ, কোনাে তরঙ্গের উপর অবস্থিত সমদশা সম্পন্ন কণাগুলাের গতিপথ (locus)-কে তরঙ্গমুখ বলে।
কম্পাঙ্ক:
- তরঙ্গের উপর অবস্থিত কোনো কম্পনশীল কণা একক সময়ে যতগুলো পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করে তাকে ঐ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক f বলে।
- কোনো কণা t সময়ে N সংখ্যক কম্পন সম্পন্ন করলে কম্পাঙ্ক f = N/t .
- কম্পাঙ্কের একক s-1। একে হার্জ (hertz) বলে। একে Hz দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
- কোনো কণা এক সেকেন্ডে একটি পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করলে তার কম্পাঙ্ককে এক হার্জ বলে।
বিস্তার (Amplitude):
- তরঙ্গের উপর অবস্থিত কোনো কম্পনশীল কণা স্থির বা সাম্যাবস্থান থেকে যে কোনো একদিকে সর্বাধিক যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে ঐ তরঙ্গের বিস্তার বলে।
তরঙ্গদৈর্ঘ্য (Wave length):
- তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কোনো কম্পনশীল কণার বা তরঙ্গের উপরস্থ কোনো কণার একটি কম্পন সম্পন্ন হতে যে সময় লাগে, সেই সময়ে তরঙ্গ যে দূরত্ব অতিক্রম করে
তাকে তরঙ্গদৈর্ঘ্য বলে।
- তরঙ্গের উপরে অবস্থিত পর পর দুটি সমদশা সম্পন্ন কণার দূরত্বই তরঙ্গদৈর্ঘ্য।
- তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে λ (ল্যামডা) দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- কোনো সিষ্টেমের বিশৃঙ্খলা সূচক পরিমাপকে এন্ট্রপি বলে।
- আমরা জানি, কোনো গ্যাসকে রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় সঙ্কুচিত করার সময় কিছু কাজ করা হয়। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- আবার রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় গ্যাসকে প্রসারিত হতে দিলে গ্যাসকে কিছু কাজ করতে হয়। অন্তর্নিহিত শক্তির দ্বারা গ্যাস এই কাজ করে। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও তাপমাত্রা উভয়েই হ্রাস পায়।
- বিজ্ঞানী ক্লসিয়াস তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় উপলব্ধি করেন যে, সমোষ্ণ প্রক্রিয়ায় যেমন তাপমাত্রা স্থির থাকে, রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়াও তেমনি কোনো একটি রাশি স্থির থাকে।
- ক্লসিয়াস এই রাশিটির নাম দেন এনট্রপি।
- রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় এনট্রপির কোনো পরিবর্তন হয় না।
- পৃথিবীর এনট্রপি ক্রমাগত বাড়ছে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- ধাতব পরমাণুর কিছু ইলেকট্রন প্রায় মুক্ত অবস্থায় থাকে এবং সেগুলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে। সেজন্য সেগুলোকে পরিবাহী পদার্থ বলা হয়।
যেমন- সোনা, রূপা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম এগুলো সুপরিবাহী পদার্থ।
- পরিবাহী পদার্থ দিয়ে চার্জকে স্থানান্তর করা যায়, তবে সব সময় মনে রাখতে হবে এই স্থানান্তর হয় ইলেকট্রন দিয়ে, বিদ্যুতের প্রবাহ হয় ইলেকট্রন দিয়ে, নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন।
অপরিবাহী পদার্থ:
- যে পদার্থের ভেতর তড়িৎ বা বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য কোনো মুক্ত ইলেকট্রন নেই সেই পদার্থগুলো হচ্ছে বিদ্যুৎ অপরিবাহী বা অন্তরক পদার্থ।
যেমন- প্লাস্টিক, রাবার, কাঠ, কাচ এগুলো হচ্ছে অপরিবাহী পদার্থের উদাহরণ।
- মূলত অধাতুগুলো বিদ্যুৎ অপরিবাহী হয়।
অর্ধপরিবাহী পদার্থ:
- কিছু কিছু পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা সাধারণ তাপমাত্রায় পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি, তবে তাপমাত্রা বাড়ালে পরিবহন ক্ষমতা বেড়ে যায়, এই ধরনের পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে।
যেমন- সিলিকন বা জার্মেনিয়াম সেমিকন্ডাক্টরের উদাহরণ।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
সবল নিউক্লিয় বল:
- সবল নিউক্লিয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল।
- এটি তড়িৎ চৌম্বক বল থেকেও একশ গুণ বেশি শক্তিশালী। কিন্তু এটা খুবই অল্প দূরত্বে (10-15 m) কাজ করে।
- পরমাণুর কেন্দ্রে যে নিউক্লিয়াস রয়েছে তার ভেতরকার প্রোটন এবং নিউট্রনের নিজেদের মাঝে এই প্রচণ্ড শক্তিশালী বল কাজ করে নিজেদের আটকে রাখে।
- প্রচণ্ড বলে আটকে থাকার কারণে এর মাঝে অনেক শক্তি জমা থাকে।
- তাই বড় নিউক্লিয়াসকে ভেঙে কিংবা ছোট নিউক্লিয়াসকে জোড়া দিয়ে এই বলের কারণে অনেক শক্তি তৈরি করা সম্ভব।
- নিউক্লিয়ার বোমা সে জন্য এত শক্তিশালী।
- সূর্য থেকে আলোর তাপও এই বল দিয়ে তৈরি হয়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
প্রতিসরণ (Refraction):
- এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে তীর্যকভাবে আপতিত আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
অর্থাৎ, দুটি স্বচ্ছ মাধ্যমের বিভেদ তলে আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
- বিভেদ তলের উপর আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত লম্বকে অভিলম্ব বলে।
- আপতন বিন্দুতে আপতিত রশ্মি ও অভিলম্বের মধ্যে সৃষ্ট কোণকে আপতন কোণ এবং প্রতিসরিত রশ্মি ও অভিলম্বের মধ্যে সৃষ্ট কোণকে প্রতিসরণ কোণ বলে।
প্রতিসরণের সূত্র:
- আলোর প্রতিসরণ দু'টি সূত্র মেনে চলে এদের প্রতিসরণের সূত্র বলে।
- ১৬২০ সালে বিজ্ঞানী স্নেল (Willebrord Snellius) সর্বপ্রথম এ সূত্র প্রকাশ করেন, তাই এ সূত্রটিকে স্নেলের সূত্রও বলা হয়।
যেমন-
(১) দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত রশ্মি, আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব এবং প্রতিসরিত রশ্মি একই সমতলে অবস্থান করে।
(২) এক জোড়া নির্দিষ্ট মাধ্যম এবং নির্দিষ্ট বর্ণের আলোর জন্য আপতন কোণের সাইন এবং প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাত সর্বদা ধ্রুব।
অর্থাৎ, sin i/sin r = একটি ধ্রুব (সংখ্যা)।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- বিশেষ কোনো প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত অনেকগুলি ইলেকট্রনিকস বর্তনীকে সমষ্টিগতভাবে ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি বলা হয়।
যেমন- কম্পিউটার, টেলিভিশন, রেডিও, ইলেকট্রনিকস ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি বহুল পরিচিত ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির উদাহরণ।
- বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ইলেকট্রনিকস পদ্ধতিসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. এনালগ পদ্ধতি (analogue system),
২. ডিজিটাল পদ্ধতি (digital system),
৩. মিশ্র পদ্ধতি (hybrid system)।
ডিজিটাল পদ্ধতি:
- ডিজিটাল সংকেত হলো বিচ্ছিন্ন তড়িৎ সংকেত।
- এই সংকেতের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মান আছে। এই দুই মানের মাঝে অন্য কোনো স্তর নাই। সময়ের সাথে এর মান হয় সর্বোচ্চ না হয় সর্বনিম্ন মানে পরিবর্তিত হয়। এই সংকেত চৌকো তরঙ্গের (square waves)।
- ডিজিটাল পদ্ধতিতে ক্রম-পরিবর্তনশীল এনালগ সংকেতের বদলে স্তর পরিবর্তনশীল সংকেত ব্যবহার করা হয়।
- ইলেকট্রনিকসের ডিজিটাল পদ্ধতির এই সংকেতকে ডিজিটাল বা বাইনারী (binary) সংকেত বলা হয়।
- দুটি পৃথক অবস্থায় কাজ করে এমন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে এই সংকেত পাওয়া যায়।
যেমন- ট্রানজিস্টারের সচল বা অন (on) এবং অচল বা অফ (off) অবস্থা দ্বারা দুটি পৃথক অবস্থা বোঝানো সম্ভব। প্রজ্জ্বলিত বাতি এবং নির্বাপিত বাতি অথবা টেপের চৌম্বকায়িত অবস্থা বা অচৌম্বকায়িত অবস্থা দিয়ে ডিজিটাল সংকেতের স্তর দুটিকে সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব।
- ডিজিটাল সংকেতের স্তর দুটিকে 0 এবং ১ (0 and 1), সত্য এবং মিথ্যা (true and false), কিম্বা উচ্চ এবং নিম্ন (high and low) দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
- ডিজিটাল ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি ডিজিটাল ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির জনপ্রিয় উদাহরণ।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- তাপ প্রয়োগে কঠিন পদার্থের মতো তরল পদার্থেরও প্রসারণ ঘটে।
- কঠিন পদার্থের সুনির্দিষ্ট আকার থাকায় এর বিভিন্ন প্রসারণ স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়। এর দৈর্ঘ্য, ক্ষেত্রফল এবং আয়তনের প্রসারণ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা সহজ হয়।
- কিন্তু তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন থাকলেও আকার বা দৈর্ঘ্য নেই।
- যে পাত্রে রাখা হয় সেই পাত্রের আকার ধারণ করে।
- তাপের প্রভাবে তরল পদার্থের আয়তনের পরিবর্তনই কেবল প্রতীয়মান হয়।
- তাই তরল পদার্থের প্রসারণ বলতে এর আয়তনের প্রসারণকেই বুঝায়।
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, একই পরিমাণ তাপ প্রয়োগে সম আয়তনের কঠিন পদার্থের তুলনায় তরল পদার্থের আয়তনের প্রসারণ বেশি হয়।
- আবার একই পরিমাণ তাপে বিভিন্ন প্রকার তরলের প্রসারণের পরিমাণও সমান হয় না।
- তাপে পদার্থের প্রসারণ পর্যবেক্ষণের জন্য ঐ পদার্থকে তাপ দিতে হয়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হয়েছে।
- এটি নির্মাণে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা করেছে রাশিয়া।
- রাশিয়ান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটম এতে কারিগরি সহায়তা করেছে। অপর রাশিয়ান কোম্পানি টিভিএল জয়েন্ট স্টক এতে জ্বালানি সরবরাহ করছে।
- তবে বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রকল্পে অর্থ সহায়তা করছে ভারত সরকার।
- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট।
- রূপপুর পরমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মূল জ্বালানি হলো ইউরেনিয়াম - ২৩৫ ।
উৎস: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ওয়েবসাইট এবং দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- সুপার বাষ্প হলো এমন একটি বাষ্প যা স্যাচুরেটেড (saturated) বাষ্পকে আরও উত্তপ্ত করে তৈরি করা হয়, যাতে তার তাপমাত্রা বাড়ে কিন্তু পানির ফোঁটা থাকে না।
- এর তাপমাত্রা সাধারণত 100°C-এর অনেক বেশি হয়ে থাকে এবং এটি খুবই উচ্চ শক্তির হয়ে থাকে।
- সুপার বাষ্পের অন্যতম ব্যবহার হলো সমুদ্রের তেল উত্তোলন (Offshore Oil Recovery)।
- সুপার বাষ্পকে ভূগর্ভে প্রবেশ করানো হয় যাতে সেখানে থাকা ভারী তেল গলে তরল আকারে সহজে পাম্প করা যায়।
- এটি বিশেষ করে "thermal enhanced oil recovery (EOR)" পদ্ধতির অধীনে ব্যবহৃত হয়।
উৎস: U.S. Department of Energy – Office of Fossil Energy and Carbon Management [লিঙ্ক]।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
- ডায়োডের ব্যবহারের কোন শেষ নেই।
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হচ্ছে Light Emitting Diode.
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে, আর রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• অর্ধপরিবাহী রেকটিফায়ার:
- অর্ধপরিবাহী রেকটিফায়ার হলো এমন একটি p-n জাংশন ভিত্তিক ডিভাইস, যা AC (Alternating Current) কে DC (Direct Current)-তে রূপান্তর করে। এটি মূলত একটি অর্ধপরিবাহী ডায়োড।
• p-n জাংশন হলো একটি অর্ধপরিবাহী উপাদান যেখানে p-টাইপ এবং n-টাইপ উপাদান একসাথে যুক্ত থাকে।
- এটি একমুখী বৈদ্যুতিক প্রবাহে সহায়তা করে, অর্থাৎ এটি একদিকে বিদ্যুৎ যেতে দেয়, আরেকদিকে দেয় না।
- এই বৈশিষ্ট্যটির জন্য p-n জাংশনকে রেকটিফায়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, বিশেষ করে ডায়োড আকারে। তাই এর অপর নাম অর্ধপরিবাহী রেকটিফায়ার।
• অর্ধপরিবাহী রেকটিফায়ারের বৈশিষ্ট্য:
→ একমুখী বিদ্যুৎ প্রবাহ:
- বিদ্যুৎ শুধু একদিকে প্রবাহিত হতে পারে (Forward Bias)।
- বিপরীত দিকে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে বাধা দেয় (Reverse Bias)।
→ গঠন:
- একটি p-টাইপ ও একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহী পদার্থ দিয়ে এটি গঠিত।
→ কাজের ধরন:
- এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।
তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- দুটি গোলকীয় অথবা একটি গোলকীয় এবং একটি সমতল পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ কোন স্বচ্ছ প্রতিসারক আলোক মাধ্যমকে লেন্স বলে।
- লেন্স প্রধানত দুই প্রকার।
যথা-
১। অভিসারী বা উত্তল লেন্স এবং
২। অপসারী বা অবতল লেন্স।
অভিসারী বা উত্তল লেন্স:
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয় তাকে অভিসারী লেন্স বলে।
- উত্তল লেন্সের অপর নাম অভিসারী লেন্স।
অপসারী বা অবতল লেন্স:
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে তাকে অপসারী লেন্স বলে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগের পরিবর্তন:
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, আলোর দ্রুতি শূন্যস্থানে সব সময় 3×108 ms-1 নির্দিষ্ট।
- কিন্তু শব্দের দ্রুতি সবসময় সমান নয়।
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1 ।
- তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়।
- বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেও শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়।
- হিসাব করে দেখা গেছে, প্রতি 1°C বা 1 K তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি প্রায় 0.6 ms-1 পরিমাণ বেড়ে যায়।
- মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়।
- মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয়।
যেমন-
• বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1,
• পানি মাধ্যমে 1450 ms-1 এবং
• লোহার মধ্যে 5220ms-1।
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম, তরল পদার্থের মধ্যে তা থেকে বেশি।
- কঠিন পদার্থের মধ্যে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে বেশি।
- বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- জগতের সৌন্দর্যের বড় একটা অংশ আসে বিভিন্ন রং থেকে।
- সবুজ পাতার মাঝে একটা লাল গোলাপ ফুল দেখাবে কুচকুচে কালো কিংবা লাল আলোতে সবুজ পাতাকে দেখাবে কুচকুচে কালো।
- বিষয়টা আসলে সহজ, সাধারণ দৃশ্যমান আলোতে (অনেক সময় বলে সাদা আলো), আসলে দৃশ্যমান সীমার মধ্যের সব তরঙ্গদৈর্ঘ্যই আলো থাকে, রং যেহেতু তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ওপর নির্ভর করে, তাই বলা যেতে পারে সেখানে সব রঙের আলো রয়েছে।
- যখন সবগুলো রং থাকে তখন সেখানে আলাদাভাবে কোনো রং দেখা যায় না, তখন আলোটাকে বলা হয় বর্ণহীন কিংবা সাদা আলো। এই আলোটা যখন একটা লাল গোলাপ ফুলে পড়ে, তখন গোলাপ ফুলটা লাল রং ছাড়া অন্য সবগুলো রং শোষণ করে নেয়। তাই যে আলোটা প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, সেখানে লাল ছাড়া আর কোনো রং থাকে না এবং গোলাপ ফুলটাকে মনে হয় লাল।
- ঠিক সে রকম সবুজ পাতাটাতে সব রং এসে পড়ে এবং পাতাটা সবুজ ছাড়া অন্য সব রং শোষণ করে নেয়, তখন যে রংটা প্রতিফলিত, হয় সেটাতে সবুজ ছাড়া অন্য কোনো রঙের আলো থাকে না বলে পাতাটাকে দেখায় সবুজ।
- যদি সম্পূর্ণ লাল আলোতে এই গোলাপ ফুল এবং পাতাটাকে দেখা হতো তাহলে ফুলটাকে ঠিকই লাল দেখা যেত কারণ এটা লাল রং শোষণ করে না কিন্তু পাতাটাকে তার সঠিক রঙে না দেখিয়ে দেখাবে কালো। কারণ পাতাটা লাল রংকে শোষণ করে ফেলবে এবং কোনো রঙের আলো প্রতিফলিত করবে না।
- ঠিক একই কারণে সবুজ আলোতে পাতাটা সবুজ দেখালেও সেই রঙের আলো গোলাপ ফুল পুরোপুরি শোষণ করে নেবে বলে গোলাপ ফুল থেকে প্রতিফলিত হওয়ার মতো কোনো রঙের আলো থাকবে না বলে সেটাকে দেখাবে কালো।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- সমন্বিত (Integrated Circuit) বর্তনী আবিষ্কারের ফলে বর্তমানে পার্সোনাল কম্পিউটারগুলোতে কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট এবং গাণিতিক/যুক্তি ইউনিটগুলো একই সংগে মাইক্রোপ্রসেসরে থাকে।
- ফলে আধুনিক কম্পিউটারে কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট বলতে মাইক্রোপ্রসেসরকেই বুঝায়।
- মাইক্রোপ্রসেসরের ক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্যের উপর কম্পিউটারের ক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্য নির্ভর করে।
- মাইক্রোপ্রসেসরের প্রধান কাজগুলো হলো-
১. ইনপুট ও আউটপুট অংশগুলোর সংগে কাজের সমন্বয় সাধন করা।
২. গাণিতিক/যুক্তির কাজ করা।
৩. কম্পিউটারের স্মৃতিতে সঞ্চিত প্রোগ্রাম নির্বাহ করা।
৪. স্মৃতি ও গাণিতিক/যুক্তি অংশের তথ্য প্রক্রিয়াকরণের কাজ এবং অন্যান্য অংশের সাথে তথ্য বিনিময়ের কাজ নিয়ন্ত্রণ করা।
- এই সমস্ত কাজ সম্পাদনের জন্য মাইক্রোপ্রসেসরের ভিতরে প্রয়োজনীয় বর্তনী থাকে।
- উপরে উল্লেখিত কাজগুলো সম্পাদনের জন্য মাইক্রোপ্রসেসরের ভিতরের সংগঠনকে আবার তিনভাগে ভাগ করা হয়।
১। নিয়ন্ত্রণ অংশ,
২। গাণিতিক/যুক্তি অংশ এবং
৩। স্মৃতি ।
উৎস: কম্পিউটার শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
১. উত্তল লেন্সকে আতশী কাঁচ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
২. উত্তল লেন্সের সাহায্যে আলোক রশ্মিকে একটি বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত করে আগুন জ্বালানোর কাজে ব্যবহৃত হয়।
৩. চশমা, ক্যামেরা, বিবর্ধক কাঁচ, অণুবীক্ষণ যন্ত্র, দূরবীক্ষণ যন্ত্র ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।
অবতল লেন্সের ব্যবহার:
১. চশমায় ব্যবহার করা হয়।
২. গ্যালিলিওর দূরবীক্ষণ যন্ত্রে ব্যবহার করা হয়।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
লোড শেডিং: যখন প্রয়োজনের তুলনায় উৎপাদন কম হয়, সে সময় কোনো কোনো সাবস্টেশনে গ্রাহকের চাহিদার
তুলনায় কম তড়িৎ শক্তি থাকায়, কিছু সময়ের জন্য বাধ্য হয়ে কিছু কিছু এলাকায় তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ রাখে। একে লোড
শেডিং বলে।
B.O.T বা B.T.U: তড়িৎ সরবরাহ প্রতিষ্ঠান কিলোওয়াট ঘন্ট (Kilowatt Hour বা kWh) তড়িৎ সরবরাহ প্রতিষ্ঠান কিলোওয়াট ঘন্ট এককে শক্তির পরিমাপ
করে। সারা বিশ্বে তড়িৎ সরবরাহ প্রতিষ্ঠান এ একক ব্যবহার করে। এজন্য এ একককে বোর্ড অব ট্রেড ইউনিট (B.O.T বা B.T.U) বলে। সংক্ষেপে একে শুধু ইউনিট (unit) বলে।
উৎস: এস.এস.সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
নিউটনের গতিসূত্রসমূহ:
- বিজ্ঞানী গ্যালিলিওর ধারণার উপর ভিত্তি করে স্যার আইজ্যাক নিউটন গতির সূত্রগুলো প্রতিষ্ঠা করেন।
- ভর, গতি এবং বলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে স্যার আইজাক নিউটন তিনটি সূত্র প্রকাশ করেন যা তাঁর অমর গ্রন্থ ন্যাচারালিস ফিলোসোফিয়া ম্যাথমেটিকাতে ১৬৮৭ খ্রিঃ প্রকাশিত হয়।
- এই সূত্র তিনটি নিউটনের গতিসূত্র নামে পরিচিত।
প্রথম সূত্র:
- "বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির অবস্থায় থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম বেগে সরল পথে চলতে থাকবে”।
অর্থাৎ, বাইরে থেকে বল ক্রিয়া না করলে (১) স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং (২) গতিশীল বস্তু সুষম গতিতে চলতে থাকবে।
- নিউটনের গতির প্রথম সূত্র বস্তুর জড়তা-ধর্ম বিবৃত করে এবং বলের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- স্থির বস্তু সর্বদাই স্থির থাকতে চায় এবং গতিশীল বস্তু সর্বদাই গতিশীল থাকতে চাওয়ার এই প্রবণতাকে জড়তা বলা হয়। এজন্য এই সূত্রকে জড়তার সূত্রও বলা হয়।
- যদি কোনো বস্তুর উপর বল প্রয়োগ না করা হয় তাহলে তার গতির পরিবর্তন বা স্থিতির পরিবর্তন হবে না।
অর্থাৎ, বল প্রয়োগ না করলে বস্তুর ত্বরণ শূন্য হয়।
দ্বিতীয় সূত্র:
- কোন বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যে দিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তন সেদিকেই ঘটে।
- যখন বস্তুর উপর বাহ্যিক লব্ধি বল প্রযুক্ত হয়।
- নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র হতে ভরবেগের পরিবর্তন, বলের অভিমুখ, বলের পরিমাপ, বল ও ত্বরণের মধ্যে সম্পর্ক এবং বলের একক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
তৃতীয় সূত্র:
- প্রত্যেক ক্রিয়ার একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- অপটিক্যাল ফাইবার হলো একটি খুব সরু কাঁচতন্তু।
- এটা মানুষের চুলের মতো চিকন এবং নমনীয়।
- আলোক রশ্মিকে বহনের কাজে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহৃত হয়।
- আলোক রশ্মি যখন এই কাঁচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে পুনঃপুন পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে।
- এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাঁচ অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত।
- সাধারণত ডাক্তার মানবদেহের ভিতরের কোনো অংশ (যেমন পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি দেখার জন্য) যে আলোক নলটি ব্যবহার করে এটি একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত।
- এছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো টেলিযোগাযোগ।
- এতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করার ফলে একই সাথে অনেকগুলো সংকেত প্রেরণ করা যায়।
- সংকেত যত দূরই যাক না কেন এর শক্তি হ্রাস পায় না।
উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• অভিকর্ষজ ত্বরণ:
- অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে ভূ-পৃষ্টে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ বা বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে।
একে g অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
• g এর বস্তু নিরপেক্ষ হলেও স্থান নিরপেক্ষ নয়। এর মান পৃথিবীর ব্যাসার্ধের উপর নির্ভর করে।
- ব্যাসার্ধ বেশি হলে g এর মান কম হয় এবং ব্যাসার্ধ কম হলে g এর মান বেশি হয়।
• বিষুব অঞ্চলে g এর মান কম কারণ সেখানে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বেশি ।
• অপরদিকে মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ কম হওয়ার কারনে g এর মান সেখানে বেশি হয় যা সর্বাধিক।
• সাধারনত g এর গড় মান হিসেবে 9.8 ms-2 ধরা হয়।
তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ.এস.সি. প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।