বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন৩,৭৪৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / ৩৮ · ৭০১৮০০ / ৩,৭৪৭

৭০১.
কোন ধরনের ট্রান্সফর্মার বিদ্যুৎ পরিবহনে ব্যবহৃত হয়?
  1. স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার
  2. তাড়িত চৌম্বক ট্রান্সফরমার
  3. স্টেপ-ডাউন ট্রানফরমার
  4. আধুনিক ট্রান্সফরমার
সঠিক উত্তর:
স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার
ব্যাখ্যা

• বিদ্যুৎ পরিবহনে প্রধানত স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহার করা হয়। কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর তা লম্বা দূরত্বে প্রেরণ করার সময় ভোল্টেজ বাড়ানো প্রয়োজন যাতে বিদ্যুৎ পরিবহনের সময় শক্তি ক্ষয় কম হয়। স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার ভোল্টেজ বৃদ্ধি করে কারেন্ট কমিয়ে দেয়, ফলে পরিবহনের সময় তাপ ক্ষয় কমে। গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর আগে ভোল্টেজ কমানোর জন্য পরে স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমার ব্যবহার করা হয়।
- তাই বিদ্যুৎ পরিবহন ব্যবস্থায় স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

• ট্রান্সফরমার:
- ট্রান্সফরমার বা ট্রান্সফর্মার একটি স্থির বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম যার দ্বারা কোনাে পরিবর্তী তড়িৎ ব্যবস্থায় অপরিবর্তীত কম্পাঙ্কতে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎশক্তিকে ভােল্টেজের মান অনুযায়ী কমিয়ে বা বাড়িয়ে এক সার্কিট থেকে অন্য সার্কিটে স্থানান্তর করা যায়।
- এ.সি. (Alternating Current) ব্যবস্থায় কম ভােল্টেজকে বেশি ভােল্টেজে বা বেশি ভােল্টেজকে কম ভােল্টেজে রূপান্তর করার জন্য ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয়।
- কম থেকে বেশি ভােল্টেজে রূপান্তরের জন্য ব্যবহৃত ট্রান্সফর্মারকে ''স্টেপ-আপ ট্রান্সফর্মার'' বা ''উচ্চধাপী ট্রান্সফর্মার'' এবং বেশি থেকে কমভােল্টেজে রূপান্তরের জন্য ব্যবহৃত ট্রান্সফর্মারকে''স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমার'' বা ''নিম্নধাপী ট্রান্সফর্মার'' বলা হয়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান বই, নবম-দশম শ্রেণী।

৭০২.
যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয়, তাকে কী বলা হয়?
  1. পরম শূন্য তাপমাত্রা
  2. কুরি তাপমাত্রা
  3. রিমেনেন্স
  4. চৌম্বক সহনশীলতা
সঠিক উত্তর:
কুরি তাপমাত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুরি তাপমাত্রা
ব্যাখ্যা

• কুরি তাপমাত্রা বা কুরি বিন্দু: 
- যে তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয় তাকে কুরি তাপমাত্রা বলে। 

• রিমেনেন্স: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সারিয়ে নেওয়ার পর চৌম্বক পদার্থে যে চুম্বকায়ন মাত্রা অবশিষ্ট থাকে তাকে রিমেনেন্স বলে। 

• চৌম্বক ধারকত্ব: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সরিয়ে নেওয়ার পরেও কোনো চৌম্বব পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে চৌম্বক ধারকতা বলে। 
- ইস্পাত ও নরম লোহাকে একই সমপরিমাণ চুম্বকায়িত করে রেখে দিলে নরম লোহার চেয়ে ইস্পাতের ক্ষেত্রে চুম্বকত্ব হ্রাসের পরিমাণ কম। 

• চৌম্বক সহনশীলতা: 
- চুম্বকত্ব হ্রাসের নিয়ামকসমূহ থাকা সত্ত্বেও কোনো চৌম্বক পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে ঐ পদার্থের চৌম্বক সহনশীলতা বলে। 

• পরম শূন্য তাপমাত্রা:
- এটি হলো সর্বনিম্ন তাত্ত্বিক তাপমাত্রা (0 K বা - 273.15°C), যেখানে পদার্থের অণুগুলোর গতিশক্তি শূন্য হয়ে যায়। এর সাথে চুম্বকত্ব নষ্ট হওয়ার সরাসরি সম্পর্ক নেই।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৭০৩.
শক্তির সংরক্ষণশীলতার নীতি অনুযায়ী, শক্তি রূপান্তরের আগে ও পরে-
  1. শক্তির পরিমাণ বেড়ে যায়
  2. শক্তির পরিমাণ কমে যায়
  3. শক্তি হারিয়ে যায়
  4. শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে
সঠিক উত্তর:
শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা
শক্তির সংরক্ষণশীলতার নীতি (Principle of conservation of Energy): 
- পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রকার শক্তি রয়েছে। 
যেমন- আলোক শক্তি, তাপ শক্তি, সৌর শক্তি, রাসায়নিক শক্তি, পারমাণবিক শক্তি, বৈদ্যুতিক শক্তি, যান্ত্রিক শক্তি, শব্দ শক্তি ও চৌম্বক শক্তি। 
- যান্ত্রিক শক্তি আবার দুই ধরনের। 
যথা- গতি শক্তি ও বিভব শক্তি। 
- শক্তি নিয়ত এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হয়। 
যেমন- তাপ শক্তি থেকে আলোক শক্তি, গতি শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি, বিভব শক্তি থেকে গতি শক্তি ইত্যাদি। 
- শক্তির সৃষ্টি ও বিনাশ সম্ভব নয়। 
- কেবল এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তর হয় মাত্র। একে বলে শক্তির নিত্যতা বা সংরক্ষণশীলতা। 
- শক্তির নিত্যতাকে একটি সূত্র দিয়ে প্রকাশ করা হয়। একে বলা হয় শক্তির সংরক্ষণশীলতার নীতি। 
নীতিটি হল: 'শক্তির সৃষ্টি বা বিনাশ নেই। শক্তি কেবল এক রূপ থেকে অন্য এক বা একাধিক রূপে পরিবর্তিত হতে পারে। রূপান্তরের আগে ও পরে মোট শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে এবং মহাবিশ্বে মোট শক্তির পরিমাণ নির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয়'। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০৪.
কুকুরের শ্রাব্যতার পাল্লার শব্দেতর তরঙ্গ কোনটি?
  1. 04 Hz
  2. 64000 Hz
  3. 45 Hz
  4. 45000 Hz
সঠিক উত্তর:
04 Hz
উত্তর
সঠিক উত্তর:
04 Hz
ব্যাখ্যা
- কুকুরের শ্রাব্যতার পাল্লার শব্দেতর তরঙ্গ - 04 Hz

শ্রাব্যতার সীমা, শব্দেতর ও শব্দোত্তর তরঙ্গ: 
- শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন, কিন্তু কম্পন হলেই শব্দ শোনা যাবে তা কিন্তু নয়। 
- মানুষের শ্রবণ যন্ত্রের সীমাবদ্ধতা আছে। 
- মানুষ শ্রবণ ইন্দ্রিয় 20 Hz থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পারে। 
- তাই বলা হয় মানুষের শ্রাব্যতার সীমা 20 থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের মধ্যে। 
- এই সীমার নিচের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় শব্দেতর তরঙ্গ এবং উপরের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় শব্দোত্তর তরঙ্গ। 
- অবশ্য সবার শ্রাব্যতার পাল্লা সমান নয়। প্রাণিভেদে এর তারতম্য আছে। 
- কয়েকটি প্রাণীর গড় শ্রাব্যতার পাল্লা নিচের ছকে উল্লেখ করা হলো - 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০৫.
একটি কাচদণ্ডকে রেশম দ্বারা ঘষলে কী ঘটবে?
  1. ক) রেশম ও কাচদণ্ড উভয়ই ঋণাত্মক আধানে আহিত হবে
  2. খ) রেশম থেকে ইলেকট্রন কাচদণ্ডে যাবে
  3. গ) কাচদণ্ড থেকে ইলেকট্রন রেশমে যাবে
  4. ঘ) ইলেকট্রনের কোনো আদান-প্রদান হবে না
সঠিক উত্তর:
গ) কাচদণ্ড থেকে ইলেকট্রন রেশমে যাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাচদণ্ড থেকে ইলেকট্রন রেশমে যাবে
ব্যাখ্যা
- সাধারণ অবস্থায় পদার্থের পরমাণুতে ইলেকট্রন ও প্রোটন সংখ্যা সমান থাকে।
- তবে প্রত্যেক পরমাণুই প্রয়োজনের অতিরিক্ত ইলেকট্রনের প্রতি আকর্ষণ থাকে। ইলেকট্রনের প্রতি এই আসক্তি বিভিন্ন বস্তুতে বিভিন্ন রকম। তাই দুটি বস্তুকে যখন পরস্পরের সংস্পর্শে আনা হয়, তখন যে বস্তুর ইলেকট্রন আসক্তি বেশি সে বস্তুটি অপর বস্তুটি থেকে মুক্ত ইলেকট্রন সংগ্রহ করে ঋণাত্মক আধানে আহিত হয়।   

- সাধারণ অবস্থায় কাচদণ্ডের পরমাণুসমূহে প্রোটন এবং ইলেকট্রণের সংখ্যা সমান থাকায় তা তড়িৎ নিরপেক্ষ থাকে।  
- কাচদণ্ডকে রেশমের কাপড় দিয়ে ঘর্ষণের ফলে কাচদণ্ডের পরমাণুসমূহ থেকে কিছু সংখ্যক ইলেকট্রন বিচ্ছিন্ন হয়ে রেশমের কাপড়ের সাথে যুক্ত হয়।  
- রেশমের কাপড়ে ইলেকট্রন যুক্ত হওয়ায় এটি ঋণাত্মক তড়িতাহিত হয়।  
- অন্যদিকে কাচদণ্ডে ইলেকট্রন কমে যাওয়ায়, এতে ইলেকট্রনের সংখ্যার চেয়ে প্রোটনের সংখ্যা বেশি হয়, ফলে এটা ধনাত্মক তড়িতাহিত হয়। 

উৎস- এস.এস. সি পদার্থ বিজ্ঞান- ২য় পত্র (বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি)
৭০৬.
ডিজিটাল ইলেকট্রনিকসের সবচেয়ে বড় অবদান কোনটি? 
  1. ডিজিটাল ঘড়ি
  2. স্মার্ট টিভি
  3. মোবাইল ফোন
  4. কম্পিউটার
সঠিক উত্তর:
কম্পিউটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কম্পিউটার
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রনিকস: 
- ইলেকট্রনিকসের সবচেয়ে বড় অবদান হলো ডিজিটাল কম্পিউটার বা সংক্ষেপে শুধু কম্পিউটার। 
- কম্পিউটারে সকল তথ্যের আদান-প্রদান বা তথ্য প্রক্রিয়া করা হয় ডিজিটাল ইলেকট্রনিকস দিয়ে। 
- ইন্টারনেট বা কম্পিউটার নেটওয়ার্কেও ডিজিটাল ইলেকট্রনিকস ব্যবহার করে তথ্য আদান-প্রদান করা হয়। 
- শব্দ, ছবি বা ভিডিও ইত্যাদি সিগন্যাল শুরু হয় অ্যানালগ সিগন্যাল হিসেবে এবং ব্যবহারও হয় অ্যানালগ সিগন্যাল হিসেবে কিন্তু সেগুলো ডিজিটাল সিগন্যাল হিসেবে সংরক্ষণ প্রক্রিয়াকরণ বা প্রেরণ করা হয়। 
- অ্যানালগ সিগন্যালে খুব সহজেই নয়েজ (Noise) প্রবেশ করে সিগন্যালের গুণগত মান নষ্ট করতে পারে কিন্তু সেটি একবার ডিজিটাল সিগন্যালে পরিবর্তিত করে নিলে সেখানে Noise এত সহজে অনুপ্রবেশ করতে পারে না; কাজেই সিগন্যালের গুণগত মান অবিকৃত থাকে। 
- ডিজিটাল সিগন্যাল প্রক্রিয়া করার জন্য বিশেষ ধরনের আইসি (IC) তৈরি করা হয়, এই আইসিগুলো ধীরে ধীরে অনেক ক্ষমতাশালী হয়ে উঠছে। 
অর্থাৎ, অনেক কম সময়ে নির্ভুলভাবে অনেক বেশি পরিমাণ ডিজিটাল সিগন্যালে প্রক্রিয়া করতে পারে। 
- কাজেই যতই দিন যাচ্ছে ডিজিটাল প্রক্রিয়া করার বিষয়টি ততই সহজ হয়ে যাচ্ছে এবং এটি বলাই বাহুল্য নয় যে আমাদের চারপাশের জগৎটি একটি ডিজিটাল জগতে রূপান্তরিত হচ্ছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭০৭.
মানব চোখের লেন্স কোন ধরনের হয়ে থাকে? 
  1. অবতল
  2. সমতল
  3. দ্বি-অবতল
  4. দ্বি-উত্তল
সঠিক উত্তর:
দ্বি-উত্তল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বি-উত্তল
ব্যাখ্যা
- মানুষের চোখের গঠন এবং কার্যাবলী অনেকটা ক্যামেরার মতো। 
- মানব চোখের লেন্সটি উভ উত্তল বা দ্বি উত্তল। 
- চোখের আলোকসংবেদী অংশের নাম রেটিনা। 
- কোনো বস্তু হতে আলোক রশ্মি চোখের লেন্স দ্বারা প্রতিসরিত হয়ে রেটিনায় বিম্ব গঠন করে। 
- রেটিনায় গঠিত বিম্বটি হয় সদ, উল্টো ও খর্বিত। 
- রেটিনা আলোক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে পরিণত করে। 
- মানুষের চোখে রেটিনা ও চক্ষুলেন্সের মধ্যবর্তী স্থান ভিট্রিয়াস হিউমার নামক জেলী জাতীয় পদার্থ দ্বারা পূর্ণ থাকে। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০৮.
বলের একক -
  1. ক) জুল
  2. খ) নিউটন
  3. গ) বেকেরেল
  4. ঘ) ওয়াট
সঠিক উত্তর:
খ) নিউটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নিউটন
ব্যাখ্যা
- বলের একক - নিউটন। 
- ক্ষমতার একক - ওয়াট। 
- তেজস্ক্রিয়তার একক - বেকরেল।
- কাজের একক - জুল ।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই। 
৭০৯.
বলবিদ্যার সূত্র কয়টি?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
ব্যাখ্যা

নিউটনের বলবিদ্যার সূত্র তিনটি। যথা:

প্রথম সূত্র: বাইরে থেকে কোন বস্তুর উপর বল প্রয়োগ না করলে, স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু চিরকাল সমবেগে সরলরেখায় বা সরল পথে চলতে থাকে।
দ্বিতীয় সূত্র: কোন বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যে দিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তন সেদিকেই ঘটে।
তৃতীয় সূত্র: প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে৷

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান

৭১০.
শব্দের প্রতিফলন ঘটার জন্য ন্যূনতম দূরত্ব কত হতে হয়?
  1. 1.65 মি.
  2. 16.5 মি.
  3. 0.165 মি.
  4. 33 মি.
সঠিক উত্তর:
16.5 মি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
16.5 মি.
ব্যাখ্যা

• শব্দের প্রতিফলন (Reflection of Sound):
- যখন কোনো শব্দ তরঙ্গ কোনো কঠিন ও মসৃণ পৃষ্ঠে আঘাত করে ফিরে আসে, তখন সেই ঘটনাকে বলা হয় শব্দের প্রতিফলন।
- শব্দ প্রতিফলনের জন্য পৃষ্ঠটি হতে হবে কঠিন, মসৃণ ও সমতল (যেমন: দেওয়াল, পাহাড়, ভবন ইত্যাদি)।

- বায়ুতে শব্দের বেগ ৩৩০ মিটার প্রতি সেকেন্ড হলে, শব্দটি প্রতিফলিত দেয়ালে গিয়ে ফিরে আসার মোট সময় হবে ০.১ সেকেন্ড।
-  সুতরাং, 2d = v × t অনুযায়ী, 2d = 330 × 0.1 = 33, অর্থাৎ d = 16.5 মিটার।
-  তাই শব্দের প্রতিফলন ঘটার জন্য ন্যূনতম দূরত্ব হতে হবে ১৬.৫ মিটার।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।

৭১১.
ফেরোচৌম্বক পদার্থের মধ্যে বিদ্যমান অঞ্চলগুলোকে বলা হয় -
  1. ক) ক্রান্তীয় অঞ্চল
  2. খ) ডোমেইন
  3. গ) হোল
  4. ঘ) বিষুবীয় অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
খ) ডোমেইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ডোমেইন
ব্যাখ্যা
ফেরোচৌম্বক পদার্থের মধ্যে বিদ্যমান অঞ্চলগুলোকে ডোমেইন বলা হয়। 

- যে সকল পদার্থকে অসম চৌম্বক ক্ষেত্রে স্থাপন করলে পদার্থটি অপেক্ষাকৃত দুর্বলতর অঞ্চল হতে সবলতর অঞ্চলের দিকে তীব্রভাবে গতিশীল হয়, তাদের ফেরোচৌম্বক পদার্থ বলে।
- ফেরোচৌম্বক পদার্থ চুম্বক দ্বারা প্রবলভাবে আকৃষ্ট হয়।
- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট, ইস্পাত ইত্যাদি ফেরোচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ।
- ফেরো চৌম্বক পদার্থের ধর্মকে ফেরো চৌম্বকত্ব বলে।
- ফেরোচৌম্বকত্ব শুধুমাত্র কেলাসিত গঠন সম্বলিত কঠিন পদার্থেরই থাকতে পারে। 

- ফেরোচৌম্বক পদার্থের বৈশিষ্ট্যসমূহ- 
১. এরা চুম্বক দ্বারা খুব বেশি আকর্ষিত হয়।
২. এরা কঠিন এবং স্ফটিকাকারের হয়।
৩. এদের চৌম্বক ধারকত্ব ধর্ম রয়েছে।
৪. এদের নির্দিষ্ট কুরী বিন্দু রয়েছে।
৫. এদের চৌম্বকগ্রাহিতা বা প্রবণতা খুব বেশি এবং ধনাত্মক।
৬. এদের হিসটেরেসিস ধর্ম রয়েছে।

সূত্র: ১৬৩ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
৭১২.
নিচের কোন বিবৃতিটি গামা রশ্মির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ভুল?
  1. এর ভেদন ক্ষমতা খুব বেশি
  2. এটি একটি তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ
  3. এর ফোটনগুলোর শক্তি অনেক কম
  4. এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য খুব ছোট
সঠিক উত্তর:
এর ফোটনগুলোর শক্তি অনেক কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এর ফোটনগুলোর শক্তি অনেক কম
ব্যাখ্যা

গামা রশ্মির ফোটনগুলোর শক্তি অনেক বেশি। এর উচ্চ শক্তিই এর উচ্চ ভেদন ক্ষমতার কারণ। 

গামা রশ্মি (Gamma Ray):
- গামা রশ্মি হচ্ছে শক্তিশালী বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ।
- গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই (আধানহীন), কিন্তু শক্তিশালী হওয়ার কারণে এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব কম (কম্পন অনেক বেশি)।
- শক্তি বেশি বা কম হলেও এর বেগ সব সময়েই আলোর বেগের সমান।
- যখন কোনো নিউক্লিয়াস আলফা কণা কিংবা বিটা কণা বিকিরণ করে 'উত্তেজিত' অবস্থায় থাকে তখন বাড়তি শক্তি গামা রশ্মি হিসেবে বের করে এটি নিরুত্তেজ হয়।
- গামা রশ্মি চার্জহীন এবং ভরহীন কণা, তাই এর বিকিরণে নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা কিংবা নিউক্লিওন সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না।
- গামা রশ্মির যেহেতু চার্জ নেই তাই এটাকে বিদ্যুৎ কিংবা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না।
- চার্জ না থাকলেও এটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অণু-পরমাণুকে আয়নিত করতে পারে এবং সেখান থেকে গামা রশ্মির অস্তিত্বও বোঝা যায়।
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য খুব কম (প্রায় ১০- ১২ মিটারের নিচে), যা এর উচ্চ শক্তির একটি সূচক। 
- তরঙ্গদৈর্ঘ্য ও ফোটনের শক্তি একে অপরের বিপরীতানুপাতিক।
- গামা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা (Penetrating Power) অত্যন্ত বেশি। এটি কয়েক সেন্টিমিটার পুরু সীসার পাত বা কয়েক মিটার পুরু কংক্রিট ভেদ করতে পারে।
- গামা রশ্মিকে থামাতে সাধারণত কয়েক সেন্টিমিটার সিসার পুরু পাতের দরকার হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭১৩.
IC চিপ তৈরিতে মূলত ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) সিলিকা
  2. খ) সিলিকন
  3. গ) ক্রোমিয়াম
  4. ঘ) নিকেল
সঠিক উত্তর:
খ) সিলিকন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সিলিকন
ব্যাখ্যা
Integrated Circuit (IC) বা কম্পিউটার চিপ তৈরিতে সিলিকন ব্যবহার করা হয়।
মূলত IC অর্ধ-পরিবাহী উপাদানের ওপরে নির্মিত অতিক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক বর্তনী।

Source: Britannica
৭১৪.
পরিবাহী পদার্থের দৈর্ঘ্য দ্বিগুণ করা হলে, রোধের কীরূপ পরিবর্তন হবে?
  1. ক) দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে
  2. খ) দ্বিগুণ কমবে
  3. গ) চারগুণ বৃদ্ধি পাবে
  4. ঘ) চারগুণ কমবে
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে
ব্যাখ্যা
- রোধ হচ্ছে বিদ্যুৎ প্রবাহের বাধা, তাই কোনো পদার্থের দৈর্ঘ্য (L) যত বেশি হবে তার বাধা তত বেশি হবে অর্থাৎ রোধও বেশি হবে।
R ∝ L

- আবার সরু একটা পথ দিয়ে যত সহজে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারবে, চওড়া একটা পথ দিয়ে তার থেকে অনেক সহজে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারবে অর্থাৎ প্রস্থচ্ছেদ (A) যত বেশি হবে রোধ তত কম হবে।
R ∝ (1/A)

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি।
৭১৫.
হাবলের টেলিস্কোপ হল একটি-
  1. ক) এক্সরে টেলিস্কোপ
  2. খ) গামা-রে টেলিস্কোপ
  3. গ) অপটিক্যাল টেলিস্কোপ
  4. ঘ) রেডিও টেলিস্কোপ
সঠিক উত্তর:
গ) অপটিক্যাল টেলিস্কোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অপটিক্যাল টেলিস্কোপ
ব্যাখ্যা
রেডিও টেলিস্কোপঃ যে যন্ত্রের সাহায্যে তারকা, গ্যালাক্সি, কোয়াসার এবং অন্যান্য নভোমন্ডলীয় বস্তু থেকে প্রাকৃতিকভাবে নির্গত তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ (রেডিও তরঙ্গ) সনাক্ত ও পরিমাপ করে ঐ সব বস্তু সম্পর্কে অনুসন্ধান চালানো হয় , তাকে রেডিও টেলিস্কোপ বলে।

গামা রে টেলিস্কোপঃ গামা রে হচ্ছে সবচেয়ে ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্য অর্থাৎ বেশী কম্পাঙ্ক বিশিষ্ট। গামা-রে টেলিস্কোপে  গামা রশ্মির ব্যবহার করা হয়। 

এক্সরে টেলিস্কোপঃ মহাকাশে সংঘটিত বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক ঘটনা যেমন- নক্ষত্রের বিস্ফোরণ থেকে এক্সরে নির্গত হয়। এক্সরে র তরঙ্গ দৈর্ঘ্য অনেক ক্ষুদ্র বলে সাধারণ দর্পণ এক্ষেত্রে কাজ করে না । এক্সরে টেলিস্কোপ এসব রশ্মি পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে মহাজাগতিক ঘটনা সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে।

অপটিক্যাল টেলিস্কোপঃ এই টেলিস্কোপের সাহায্যে দৃশ্যমান আলোর সহায়তায় দৃশ্যমান আলো নিঃসরণকারী বা প্রতিফলনকারী বস্তু পর্যবেক্ষণ করা হয় । 

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৭১৬.
কোনো তরঙ্গে কণার সর্বাধিক স্থানচ্যুতি ও বিশ্রাম অবস্থার মধ্যে দূরত্বকে কী বলে?
  1. তরঙ্গদৈর্ঘ্য
  2. বিস্তার
  3. সময়কাল
  4. ফেজ পার্থক্য
সঠিক উত্তর:
বিস্তার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিস্তার
ব্যাখ্যা

• বিস্তার (Amplitude):
- মাধ্যমের কণার বিশ্রাম অবস্থান থেকে সর্বাধিক স্থানচ্যুতি পর্যন্ত দূরত্ব।
- তরঙ্গের শক্তি এবং তীব্রতা নির্ধারণ করে।
- জল ঢেউয়ের উচ্চতা, শব্দ তরঙ্গের চাপ ইত্যাদি বিস্তারের উদাহরণ।
- বিস্তার পরিবর্তন করলে তরঙ্গের শব্দ বা আলোতে তীব্রতা পরিবর্তিত হয়।

• তরঙ্গদৈর্ঘ্য (Wavelength):
- একই ফেজে থাকা দুটি বিন্দুর মধ্যে দূরত্ব (যেমন, শিখর থেকে পরবর্তী শিখর পর্যন্ত)।
- তরঙ্গদৈর্ঘ্য তরঙ্গের প্রকার (উদাহরণ: আলো, শব্দ) নির্ধারণ করে।

• সময়কাল (Time Period):
- এক সম্পূর্ণ কম্পনের জন্য প্রয়োজনীয় সময়।
- সময়কাল নির্ধারণ করে তরঙ্গের ফ্রিকোয়েন্সি।

• ফেজ পার্থক্য (Phase Difference):
- দুই বিন্দুর কম্পনের আপেক্ষিক অবস্থানের পার্থক্য।
- ফেজ পার্থক্য নির্ধারণ করে দুই তরঙ্গের সংযোজন বা বিঘ্নন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ- শ্রেণি।

৭১৭.
চোখে প্রবেশ করা আলোর প্রতিচ্ছবি চোখের কোন অংশে গঠিত হয়?
  1. কর্নিয়া
  2. রেটিনা
  3. লেন্স
  4. অপটিক স্নায়ু
সঠিক উত্তর:
রেটিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেটিনা
ব্যাখ্যা

• চোখে প্রবেশ করা আলোর প্রতিচ্ছবি রেটিনায় গঠিত হয়।

• চোখ: 
- স্বাভাবিক চোখের স্পষ্ট দর্শনের নিকটতম দূরত্ব ২৫ সে.মি.।
- স্বাভাবিক চোখের স্পষ্ট দর্শনের দূরতম দূরত্ব অসীম।
- দর্শানুভূতির স্থায়িত্বকাল (Persistence of Vision) ০.১ সেকেন্ড।
- লাল-বেগুনি আলোতে দর্শানুভূতি সবচেয়ে কম।
- সবুজ-হলুদ আলোতে দর্শানুভূতি সবচেয়ে বেশি।

• চোখের প্রধান অংশসমূহ ও তাদের ভূমিকা:
• কর্নিয়া (Cornea) আলো প্রবেশের প্রধান অংশ।
• লেন্স (Lens) আলোর প্রতিসরন ও ফোকাস নিশ্চিত করে।
রেটিনা (Retina) আলোর প্রতিচ্ছবি তৈরি করে।
• অপটিক স্নায়ু (Optic Nerve) রেটিনার সিগন্যাল মস্তিষ্কে পাঠায়।
• অ্যাকুয়াস হিউমার (Aqueous Humor) চোখের সামনের তরল পদার্থ।
• ভিট্রিয়াস হিউমার (Vitreous Humor) চোখের পেছনের জেলির মতো পদার।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী। পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭১৮.
পাহাড়ি রাস্তার বিপজ্জনক বাঁকে সমতল দর্পন কত ডিগ্রী কোণে স্থাপন করা হয়?
  1. ক) 30°
  2. খ) 45°
  3. গ) 60°
  4. ঘ) 90°
সঠিক উত্তর:
খ) 45°
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) 45°
ব্যাখ্যা

পাহাড়ি রাস্তা গুলো মাঝে মাঝে ৯০° ডিগ্রি কোণে বা তার কাছাকাছি পরিমাণে বেকে যায়।  এতে করে বাঁকের উভয় পাশ থেকে আগত গাড়ি গুলো একটা আরেকটা কে দেখতে পায় না। ফলে পাহাড়ি রাস্তার বাঁক গুলোতে মারাত্মক দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। 

এই সমস্যা দূর করতে ৯০ ডিগ্রি কোণের বাঁক গুলোতে ৪৫ ডিগ্রি কোণে সমতল দর্পন স্থাপন করা হয়। এর ফলে বাঁকের উভয় পাশের ড্রাইভার একে অপরকে দর্পনের সাহায্যে দেখতে পায়। তাই পাহাড়ি রাস্তায় দূর্ঘটনা এড়াতে বড় বড় সমতল দর্পন স্হাপন করা হয়।

 SOURCE: এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৭১৯.
পেরিস্কোপের প্রধান অংশ কোনটি?
  1. দুটি বৃত্তাকার লেন্স
  2. একটি ফোকাল লেন্স
  3. একটি বৃত্তাকার লেন্স ও একটি দর্পণ
  4. দুটি সমতল দর্পণ
সঠিক উত্তর:
দুটি সমতল দর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুটি সমতল দর্পণ
ব্যাখ্যা

- সাধারণত পেরিস্কোপ মূলত আলোর প্রতিফলনের সূত্র কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হয়। এতে একটি দীর্ঘ টিউব বা নলের দুই প্রান্তে দুটি সমতল দর্পণ একে অপরের সমান্তরালে এবং নলের দেয়ালের সাথে ৪৫° কোণে স্থাপন করা হয়। উপরের দর্পণে আলো প্রতিফলিত হয়ে নিচে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে এবং সেখান থেকে পুনরায় প্রতিফলিত হয়ে দর্শকের চোখে পৌঁছায়, যার ফলে সরাসরি দেখা যায় না এমন বস্তুও দেখা সম্ভব হয়

পেরিস্কোপ: 
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি করা হয়। 
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুইটি সমতল দর্পণের প্রয়োজন হয়।
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখতে পাই না তা এর মাধ্যমে দেখা যায়। 
- এটি তৈরি হয় সমকোণে দুবার বাঁকানো একটি লম্বা টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের দুটি ফালি স্থাপন করে। 
- ডুবোজাহাজ বা যুদ্ধের ট্যাংকে পেরিস্কোপের ব্যবহার অপরিহার্য। 
- পেরিস্কোপের সাহায্যে পানির তলায় ডুবে থাকা ডুবোজাহাজ থেকে পানির উপরিভাগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়।  

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৭২০.
মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ সর্বোচ্চ-
  1. ভূপৃষ্ঠে
  2. ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০০ মিটার গভীরে
  3. এভারেস্টের চূড়ায়
  4. ভূকেন্দ্রে
সঠিক উত্তর:
ভূপৃষ্ঠে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূপৃষ্ঠে
ব্যাখ্যা
• অভিকর্ষজ ত্বরণের মান:
- অভিকর্ষজ ত্বরণের মান ভূপৃষ্ঠে সর্বোচ্চ।
- ভূপৃষ্ঠ থেকে যত নিচে/উপরে যাওয়া যায় এর মান তত কমতে থাকে।
- এজন্য g এর মান পাহাড়ে বা খনির ভেতরে কম।
- মেরু অঞ্চলে g এর মান বিষুব অঞ্চলের চেয়ে বেশি।
- পৃথিবীর কেন্দ্রে এ এর মান শূন্য।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৭২১.
শব্দ দূষণ পরিমাপ করতে কোন একক ব্যবহার করা হয়?
  1. Nanometer
  2. Hertz
  3. Decibel
  4. Newton
সঠিক উত্তর:
Decibel
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Decibel
ব্যাখ্যা

• শব্দ দূষণ পরিমাপের জন্য সাধারণত ডেসিবেল (Decibel) একক ব্যবহার করা হয়। শব্দের তীব্রতা বা লাউডনেসকে ডেসিবেলে মাপা হয়। বেশি ডেসিবেলের শব্দ মানুষের কানের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং দীর্ঘ সময় ধরে শোনা হলে শুনার সমস্যা তৈরি করতে পারে। অন্য একক যেমন ন্যানোমিটার, হার্টজ বা নিউটন শব্দের দূষণ মাপার জন্য ব্যবহার হয় না। তাই শব্দ দূষণের মাত্রা বোঝাতে ডেসিবেল সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক।

শব্দদূষণ:
- মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতার উর্ধ্বে সৃষ্ট যে কোনো শব্দ যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ব্যাঘাত ঘটায় তাই হলো শব্দ দূষণ।
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক একক হচ্ছে ডেসিবল।
- শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবল হলেই সাধারণত মানুষ ঘুমাতে পারে না।
- ৮৫ ডেসিবল শ্রবণ শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুর করে এবং মাত্রা ১২০ ডেসিবল হলে কানে ব্যথা শুরু হয়।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)- এর মতে, সাধারণত ৬০ ডেসিবেল শব্দ একজন মানুষকে সাময়িকভাবে এবং ১০০ ডেসিবেল শব্দ পুরোপুরি বধির করে ফেলে।
- সুতরাং, ৬০ ডেসিবলের চেয়ে বেশি মাত্রার শব্দ শব্দদূষণ ঘটায়।

উৎস: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইট এবং পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২২.
এক্স রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কেমন? 
  1. আলোর চেয়ে অনেক ছোট
  2. আলোর চেয়ে অনেক বড়
  3. আল্ট্রাসনিক তরঙ্গের মতো
  4. আলোর সমান
সঠিক উত্তর:
আলোর চেয়ে অনেক ছোট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলোর চেয়ে অনেক ছোট
ব্যাখ্যা
এক্স-রশ্মির ধর্ম: 
- এক্স রশ্মি সরল পথে গমন করে। 
- এক্স রশ্মি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
- এক্স রশ্মির ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। 
- এক্স রশ্মি জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 
- এক্স রশ্মির তরঙ্গ তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
- এক্স রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
- এক্স রশ্মি আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
- এক্স রশ্মি আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটায়। 
- এক্স রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
- এক্স-রে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 
- এক্স-রে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই। 
- এক্স রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 
- এক্স অদৃশ্য রশ্মি, সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২৩.
কোনটিকে চুম্বকে পরিণত করা যায়?
  1. তামা
  2. ইস্পাত
  3. পিতল
  4. স্বর্ণ
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত
ব্যাখ্যা
• চৌম্বক পদার্থ:
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায়, তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে।
- বেশির ভাগ চৌম্বক পদার্থে লোহা থাকে তাই চৌম্বক পদার্থকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বা ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থও বলা হয়।
- ফেরো শব্দটির অর্থ লোহা।
- উদাহরণ: লোহা, ইস্পাত, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি।

• অচৌম্বক পদার্থ:
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় না, তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে।
- উদাহরণ: সোনা, রূপা, তামা, পিতল, অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা, টিন, কাঠ, কাগজ, প্লাস্টিক, রাবার ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭২৪.
টানা তারের ক্ষেত্রে টান (T) ও একক দৈর্ঘ্যের ভর (m) অপরিবর্তিত থাকলে কম্পাঙ্ক (f) তারের দৈর্ঘ্য (l)-এর সাথে কী সম্পর্কযুক্ত?
  1. দৈর্ঘ্যের সমানুপাতিক
  2. দৈর্ঘ্যের ব্যস্তানুপাতিক
  3. দৈর্ঘ্যের বর্গের সমানুপাতিক
  4. দৈর্ঘ্যের বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক
সঠিক উত্তর:
দৈর্ঘ্যের ব্যস্তানুপাতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈর্ঘ্যের ব্যস্তানুপাতিক
ব্যাখ্যা

• টান (T) ও একক দৈর্ঘ্যের ভর (m) অপরিবর্তিত থাকলে টানা তারের কম্পাঙ্ক তারের দৈর্ঘ্যের ব্যস্তানুপাতিক।

• টানা তারের আড় কম্পনের সূত্র:
- একটি তারকে দুই প্রান্তে দৃঢ়ভাবে বেঁধে নির্দিষ্ট বলে টান টান করে রাখা হয়।
- তারটিকে দৈর্ঘ্যের সাথে লম্বভাবে টেনে ছেড়ে দিলে আড় তরঙ্গ উৎপন্ন হয়।
- উৎপন্ন তরঙ্গ প্রান্তে প্রতিফলিত হয়ে স্থির তরঙ্গ সৃষ্টি করে।
- স্থির তরঙ্গের ফলে তারটি নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কে কাঁপতে থাকে।
- ফরাসী বিজ্ঞানী মার্সেন ১৬৩৬ সালে টানা তারের কম্পনের সূত্রসমূহ আবিষ্কার করেন।

• দৈর্ঘ্যের সূত্র:
- কোনো কম্পমান তারের টান (T) ও একক দৈর্ঘ্যের ভর (m) অপরিবর্তিত থাকলে কম্পাঙ্ক (f) তারের দৈর্ঘ্য (l)-এর ব্যস্তানুপাতিক। অর্থাৎ, f ∝ 1 / l যখন T ও m স্থির থাকে।
- তারের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পেলে কম্পাঙ্ক হ্রাস পায়।
- তারের দৈর্ঘ্য কমলে কম্পাঙ্ক বৃদ্ধি পায়। তাই ছোট তার তীক্ষ্ণ সুর এবং বড় তার গুরু সুর উৎপন্ন করে।

• টানের সূত্র:
- কোনো কম্পমান তারের দৈর্ঘ্য (l) স্থির থাকলে কম্পাঙ্ক (f) টান (T)-এর বর্গমূলের সমানুপাতিক।
অর্থাৎ, f ∝ √T যখন l ও m স্থির থাকে।

• ভরের সূত্র:
- দৈর্ঘ্য (l) ও টান (T) স্থির থাকলে কম্পাঙ্ক (f) প্রতি একক দৈর্ঘ্যের ভর (m)-এর বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক।
অর্থাৎ, f ∝ 1 / √m যখন l ও T স্থির থাকে।

উপর্যুক্ত তিনটি সূত্র একত্র করে পাওয়া যায়,


উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
2) Science Expert, Live Publications.

৭২৫.
গঠন ও প্রকৃতি অনুসারে জাংশন ট্রানজিস্টর কত প্রকার?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর
- ট্রানজিস্টরকে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার বলা যায়।
- ১৯৪৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বেল টেলিফোন ল্যাবরেটরির তিনজন গবেষক জে. বার্ডিন ( J. Bardeen ), ডবিণ্ঢউ ব্রাটেন (W. Brattain) ও ডবিউ সকলে (W. Shockley) ট্রানজিস্টর আবিষ্কার করেন।
- এই গুরত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য তিনজনকে ১৯৫৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার প্রদান করা হয়।
- ট্রানজিস্টর দুর্বল তড়িৎ সংকেতকে বিবর্ধন করতে পারে এবং উচ্চগতিসম্পন্ন সুইচ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

সংজ্ঞা: দুটি একই ধরনের অর্ধপরিবাহীর (n-টাইপ অথবা p-টাইপ) মাঝখানে এদের বিপরীত ধরনের (p-টাইপ অথবা n টাইপ) অর্ধপরিবাহী বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে যুক্ত করে যে যন্ত্র তৈরি করা হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলে।
সুতরাং একটি জাংশন ট্রানজিস্টর দুটি p-n জাংশনের সমন্বয়ে গঠিত।

গঠন ও প্রকৃতি অনুসারে জাংশন ট্রানজিস্টর দুই প্রকার:
(১) p-n-p ট্রানজিস্টর এবং
(২) n-p-n ট্রানজিস্টর। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২৬.
কোয়াসারের প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি নয়? 
  1. সৌরজগতের চেয়ে ছোট 
  2. দেখতে নক্ষত্রের মতো 
  3. লোহিত সরণ খুব বেশি 
  4. তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস
সঠিক উত্তর:
সৌরজগতের চেয়ে ছোট 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌরজগতের চেয়ে ছোট 
ব্যাখ্যা

- কোয়াসারের প্রধান বৈশিষ্ট্য নয়- সৌরজগতের চেয়ে ছোট। 

কোয়াসার (Quasar): 

- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু সম্ভবত কোয়সার। 
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। 
- একটি কোয়সারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি। অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি আমাদের সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো। 
- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান বঢ্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে। 
সুতরাং কোয়াসারের শক্তির উৎস বঢ্যাক হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে। 
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু। 
- তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উলেখযোগ্য হলো- কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, তাদের রং নীলাভ, কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস, কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২৭.
একটি সরল দোলককে পৃথিবীর কেন্দ্রে নিলে তার দোলনকাল কত হবে? 
  1. শূন্য
  2. অসীম
  3. ভূ-পৃষ্ঠ থেকে কম
  4. ভূ-পৃষ্ঠের সমান
সঠিক উত্তর:
অসীম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসীম
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য, তাই একটি সরল দোলককে পৃথিবীর কেন্দ্রে নিলে তার দোলনকাল অসীম হবে। 
- একটি পূর্ণ দোলন এর জন্য সরল দোলকের যে সময় লাগে তাকে দোলনকাল বলে। 
- দোলনকাল অভিকর্ষজ ত্বরণের বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২৮.
Who is the discoverer of the law governing the refraction of light?
  1. Willebrord
  2. Young
  3. Newton
  4. Galileo
  5. None of the above
সঠিক উত্তর:
Willebrord
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Willebrord
ব্যাখ্যা
প্রতিসরণ (Refraction): 
- এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে তীর্যকভাবে আপতিত আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে। 
অর্থাৎ, দুটি স্বচ্ছ মাধ্যমের বিভেদ তলে আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে। 
- বিভেদ তলের উপর আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত লম্বকে অভিলম্ব বলে। 
- আপতন বিন্দুতে আপতিত রশ্মি ও অভিলম্বের মধ্যে সৃষ্ট কোণকে আপতন কোণ এবং প্রতিসরিত রশ্মি ও অভিলম্বের মধ্যে সৃষ্ট কোণকে প্রতিসরণ কোণ বলে। 

প্রতিসরণের সূত্র: 
- আলোর প্রতিসরণ দু'টি সূত্র মেনে চলে এদের প্রতিসরণের সূত্র বলে। 
- ১৬২০ সালে বিজ্ঞানী স্নেল (Willebrord Snellius) সর্বপ্রথম এ সূত্র প্রকাশ করেন, তাই এ সূত্রটিকে স্নেলের সূত্রও বলা হয়। 

যেমন- 
(১) দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত রশ্মি, আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব এবং প্রতিসরিত রশ্মি একই সমতলে অবস্থান করে। 
(২) এক জোড়া নির্দিষ্ট মাধ্যম এবং নির্দিষ্ট বর্ণের আলোর জন্য আপতন কোণের সাইন এবং প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাত সর্বদা ধ্রুব। 
অর্থাৎ, sin i/sin r = একটি ধ্রুব (সংখ্যা)। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২৯.
9.8 N ওজনের কোনো বস্তুর চন্দ্রে ওজন কত?
  1. ক) 19.6N
  2. খ) 16N
  3. গ) 7.8N
  4. ঘ) 1.63N
সঠিক উত্তর:
ঘ) 1.63N
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) 1.63N
ব্যাখ্যা
চাঁদে কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর ছয় ভাগের এক ভাগ। 9.8 N ওজনের কোনো বস্তুর চাঁদে ওজন 9.8N/6 = 1.63N
৭৩০.
কোন যন্ত্রের সাহায্যে হিগের কণার অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়েছে?
  1. ক) ক্রলার ট্রান্সপোর্টার
  2. খ) লার্জ হ্যাড্রন কলাইডার
  3. গ) স্মল হ্যাড্রন কলাইডার
  4. ঘ) ন্যাশনাল ইগনিশন ফ্যাসিলিটি
সঠিক উত্তর:
খ) লার্জ হ্যাড্রন কলাইডার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লার্জ হ্যাড্রন কলাইডার
ব্যাখ্যা
লার্জ হ্যাড্রন কলাইডার যন্ত্রের সাহায্যে ২০১৩ সালে হিগসের কণার অস্তিত্ব ধরা পড়ে৷ এই কণাকে ঈশ্বর কণা বলে অভিহিত করা হয়।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৭৩১.
ক্যাথোড রশ্মি মূলত প্রবাহ কীসের প্রবাহ?
  1. ক) পজিট্রন
  2. খ) প্রোটন
  3. গ) নিউট্রন
  4. ঘ) ইলেকট্রন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইলেকট্রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা
- ক্যাথোড থেকে নির্গত এক প্রকার অতিক্ষুদ্র কণিকা নলের দেয়ালের গায়ে ধাক্কা খাওয়ার ফলে প্রতিপ্রভার সৃষ্টি হয়।
- ক্যাথোড থেকে নির্গত হয় বলেই এই অতিক্ষুদ্র কণিকার স্রোতকে ক্যাথোড রশ্মি বলে। 
- ক্যাথোড রশ্মি “ইলেকট্রন”- এর প্রবাহ ছাড়া অন্য কিছু নয় ।
- জার্মানীর বিজ্ঞানী প্রফেসর উইলিয়াম রঞ্জন (Wilhelm Roentgen) ক্ষরণ নলে ক্যাথোড রশ্মি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে আকস্মিক ভাবে এক্সরে আবিষ্কার করেন।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৭৩২.
নিচের কোন শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না?
  1. জলবিদ্যুৎ
  2. বায়োগ্যাস
  3. কয়লা
  4. ভূতাপীয় শক্তি
সঠিক উত্তর:
কয়লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কয়লা
ব্যাখ্যা
- 'কয়লা' একটি অনবায়নযোগ্য শক্তি, যার কারণে তা পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 

শক্তির উৎস: 

- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
i) নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস এবং 
ii) অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

নবায়নযোগ্য শক্তি: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ হলো - 
• সৌর শক্তি, 
• জলবিদ্যুৎ, 
• বায়ু বিদ্যুৎ, 
• বায়োগ্যাস, 
• ভূতাপীয় শক্তি। 

অনবায়নযোগ্য শক্তি: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনাবয়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ হলো - 
কয়লা
• খনিজ তেল, 
• প্রাকৃতিক গ্যাস, 
• নিউক্লিয় শক্তি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৩.
নিউক্লিয় বিক্রিয়ার সময় নিউক্লিয়াসকে আঘাত করা হয় সাধারণত কোনটি দ্বারা?
  1. প্রোটন
  2. ইলেকট্রন
  3. পজিট্রন
  4. নিউট্রন
সঠিক উত্তর:
নিউট্রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউট্রন
ব্যাখ্যা

- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার সময় নিউক্লিয়াসকে আঘাত করা হয় সাধারণত নিউট্রন দ্বারা।

- নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া:
- যে বিক্রিয়ায় কোনো মৌলের নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন ঘটে তাকে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া বলে।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পরমাণুর বা আয়নের সর্ববহিস্থ শক্তিস্তর থেকে ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে।
- নিউক্লিয়াসের কোনো পরিবর্তন হয় না।
- কিন্তু নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় পরমাণুর নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন ঘটে।

- নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া:
- যে নিউক্লিয়ার প্রক্রিয়ায় কোনো বড় এবং ভারী মৌলের নিউক্লিয়াস ভেঙে ছোট ছোট মৌলের নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া বলে।
- এর সাথে নিউট্রন আর প্রচুর (Fission) পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়।
- স্বল্পগতির নিউট্রন দিয়ে   23592U কে আঘাত করলে নিউক্লিয়াসটি প্রায় দুটি সমান অংশে বিভক্ত হয়ে   14156Ba ও  9236Kr এর নিউক্লিয়াস ও তিনটি নিউট্রন  10n  ও তার সাথে প্রচুর পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়।
 
উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

৭৩৪.
নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রে বলের মান কোন বিষয়গুলোর উপর নির্ভর করে? 
  1. মাধ্যমের ধরন ও তড়িৎ প্রবাহ
  2. কণাদ্বয়ের আয়তন ও তাপমাত্রা
  3. কণাদ্বয়ের আকার ও তাদের রঙ
  4. কণাদ্বয়ের ভর ও মধ্যবর্তী দূরত্ব
সঠিক উত্তর:
কণাদ্বয়ের ভর ও মধ্যবর্তী দূরত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণাদ্বয়ের ভর ও মধ্যবর্তী দূরত্ব
ব্যাখ্যা

মহাকর্ষ: 
- লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠা যায় না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে; এমনকি গাছের ফল মাটিতে পড়ে বা ক্রিকেট বলকে উপরের দিকে ছুড়ে দিলে মাটিতে পড়ে কারণ পৃথিবী সবকিছুকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
অর্থাৎ, পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। 
- শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র: 
- দুটি বস্তুকণার মধ্যকার এ আকর্ষণ বলের মান শুধু কণাদ্বয়ের ভর এবং এদের মধ্যকার দূরত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এদের প্রকৃতি কিংবা মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে না। 
- বস্তু কণাদ্বয়ের ভর বেশি হলে আকর্ষণ বলও বেশি হয় আর তাদের মধ্যে দূরত্ব বেশি হলে বল কম হয়। 
- এ আকর্ষণ সম্পর্কে নিউটনের একটি সূত্র আছে যা নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র নামে পরিচিত। 
সূত্র: 
- মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং এদের দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এ বল বস্তুকণাদ্বয়ের সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৭৩৫.
চৌম্বকক্ষেত্রে স্থাপিত কোনো চৌম্বক পদার্থের চৌম্বক আবেশ ও চৌম্বক তীব্রতার অনুপাতকে বলা হয় -
  1. চৌম্বক প্রাবল্য
  2. চৌম্বক প্রবেশ্যতা
  3. চৌম্বক গ্রাহিতা
  4. চৌম্বক প্রবণতা
সঠিক উত্তর:
চৌম্বক প্রবেশ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৌম্বক প্রবেশ্যতা
ব্যাখ্যা
♦ চৌম্বক প্রবেশ্যতা (Magnetic permeability): 
- চৌম্বকক্ষেত্রে স্থাপিত কোনো চৌম্বক পদার্থের চৌম্বক আবেশ (B) ও চৌম্বক তীব্রতা (H) এর অনুাতকে ঐ পদার্থের চৌম্বক প্রবশ্যেতা বলে।
- একে μ (মিউ) দ্বারা প্রকাশ করা হয় 

- এর একক TmA-1

♦ চৌম্বক প্রাবল্য (Magnetic Intensity): 
- চৌম্বকক্ষেত্রের কোনো চৌম্বক আবেশ এবং চৌম্বক প্রবেশ্যতার অনুপাতকে চৌম্বক প্রাবল্য বা তীব্রতা বলে ।
- একে H দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
এর একক Am-1

চৌম্বক গ্রাহিতা বা প্রবণতা (Magnetic susceptibiliby): 
- কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকায়ন তীব্রতা (I) এবং চৌম্বক তীব্রতা (H) এর অনুপাতকে চৌম্বক গ্রাহিতা বা প্রবণতা বলে । 
- এটি একটি এককবিহীন রাশি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৬.
নিচের কোন অবস্থায় ট্রান্সফরমার কাজ করবে না?
  1. যখন AC কারেন্ট প্রাইমারি কয়েলে দেওয়া হয়
  2. যখন কয়েল দুটি চৌম্বকীয় কোরের উপর আবৃত থাকে
  3. যখন DC কারেন্ট প্রাইমারি কয়েলে দেওয়া হয়
  4. যখন সেকেন্ডারি কয়েল লোডের সঙ্গে যুক্ত থাকে
সঠিক উত্তর:
যখন DC কারেন্ট প্রাইমারি কয়েলে দেওয়া হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যখন DC কারেন্ট প্রাইমারি কয়েলে দেওয়া হয়
ব্যাখ্যা

• ট্রান্সফরমার (Transformer):
- ট্রান্সফরমার হলো একটি ইলেকট্রিক ডিভাইস যা AC ভোল্টেজকে অন্য ভোল্টেজে রূপান্তর করতে ব্যবহৃত হয়।
- এর মূল উপাদান হলো দুটি কয়েল: প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি , যা সাধারণত একটি লৌহ বা ফেরাইট কোরের চারপাশে আবৃত থাকে।

• কাজের মূল নীতি:
- ট্রান্সফরমারের কাজ ফ্যারাডে’র ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ইন্ডাকশন-এর উপর নির্ভর করে।
- সেকেন্ডারি ভোল্টেজ তৈরি হয় প্রাইমারি কয়েলের পরিবর্তনশীল চৌম্বক ক্ষেত্র (dΦ/dt) থেকে।
- AC কারেন্ট প্রাইমারি কয়েলে পরিবর্তনশীল চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে, তাই ট্রান্সফরমার কাজ করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।

৭৩৭.
নিম্নের কোন উক্তিটি সত্য?
  1. ক) আইসোটোপে ভর সংখ্যা অভিন্ন হয়।
  2. খ) আলফা, বিটা, গামা তেজস্ক্রিয় রশ্মি।
  3. গ) নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
  4. ঘ) উপরের সবগুলো।
সঠিক উত্তর:
খ) আলফা, বিটা, গামা তেজস্ক্রিয় রশ্মি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আলফা, বিটা, গামা তেজস্ক্রিয় রশ্মি।
ব্যাখ্যা
আলফা রশ্মি (α-কণা), বিটা রশ্মি (β-কণা) ও গামা রশ্মি (γ-কণা) হলো তেজস্ক্রিয় রশ্মি।
এ সব রশ্মির বিকিরণের ফলেই নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে দুটি ভিন্ন প্রকৃতির নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। এরা হলোঃ
ক) নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া
খ) নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া 

- নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া সংঘঠিত হলে অনেক বেশি তাপ শক্তির উদ্ভব ঘটে। এ তাপকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

- নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়ায় কোনো মৌলের ভারী নিউক্লিয়াসকে উচ্চগতি সম্পন্ন নিউট্রন দ্বারা আঘাত করার ফলে দুটি ভিন্ন ভর ও পারমাণবিক সংখ্যা বিশিষ্ট নিউক্লিয়াসের সৃষ্টি হয়।
এ প্রক্রিয়াতে প্রচুর তাপের সৃষ্টি হয়। এ তাপকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

-  আইসোটোপ: যেসব মৌলের পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরমাণুর আইসোটোপ বলে। পারমাণবিক সংখ্যা বলতে মৌলের পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা বোঝায়।
৭৩৮.
নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. লোহা - চৌম্বক পদার্থ
  2. অ্যালুমিনিয়াম - অচৌম্বক পদার্থ
  3. নিকেল - চৌম্বক পদার্থ
  4. পারদ - চৌম্বক পদার্থ
সঠিক উত্তর:
পারদ - চৌম্বক পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারদ - চৌম্বক পদার্থ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) পারদ - চৌম্বক পদার্থ (কারণ পারদ একটি অচৌম্বক পদার্থ)

- পারদ একটি অচৌম্বক পদার্থ (বিশেষত ডায়াম্যাগনেটিক), তাই এটি চৌম্বক পদার্থ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা যায় না। 

অন্যদিকে, 
- লোহা, নিকেল এবং কোবাল্ট হলো ফেরোচৌম্বক পদার্থ, যার অর্থ এগুলো চুম্বক দ্বারা দৃঢ়ভাবে আকৃষ্ট হয় এবং চুম্বক ক্ষেত্রে রাখলে নিজেরাও চুম্বকে পরিণত হতে পারে।

- অ্যালুমিনিয়াম একটি প্যারাচৌম্বক পদার্থ, যা চুম্বক দ্বারা খুব কম পরিমাণে আকৃষ্ট হয়, তাই এটিকে প্রায়শই অচৌম্বক পদার্থের শ্রেণীভুক্ত করা হয়।

উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 

৭৩৯.
একটি গোলকের ব্যাসার্ধ r = 5.00 ± 0.02 cm. গোলকের আয়তনের শতকরা ত্রুটি কত হবে?
  1. 0.12%
  2. 0.6%
  3. 1.20%
  4. 3 %
সঠিক উত্তর:
1.20%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1.20%
ব্যাখ্যা

আমরা জানি,
গোলকের আয়তন, V = (4/3) πr2
অতএব, আয়তন V ব্যাসার্ধ r-এর ঘাত ৩ এর সমানুপাতিক।
V∝r3
আবার,         
ΔV/V = 3(Δr/r)
এখানে,
Δr = 0.02cm
r = 5cm
তাহলে,
ΔV/V = 3 × (0.02/5)
         = 3 × 0.004
         = 0.012

শতকরা ত্রুটি = 0.012 × 100
                     = 1.2%

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান , নবম-দশম শ্রেণি।

৭৪০.
আকাশ নীল কেন দেখা যায়? 
  1. বাতাসে অক্সিজেনের কারণে 
  2. বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বেশি থাকার কারণে 
  3. সূর্যের আলোতে নীল রঙের আধিক্য থাকার কারণে 
  4. বায়ুমণ্ডলের সূক্ষ্ম কণার কারণে নীল আলো বেশি ছড়ায় 
সঠিক উত্তর:
বায়ুমণ্ডলের সূক্ষ্ম কণার কারণে নীল আলো বেশি ছড়ায় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুমণ্ডলের সূক্ষ্ম কণার কারণে নীল আলো বেশি ছড়ায় 
ব্যাখ্যা

বিক্ষেপণ: 
- সূর্যের মধ্যে বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের সাত রঙের আলো আছে। 
- এক আলোক তরঙ্গ যখন অত্যন্ত ক্ষুদ্র কোনো কণার উপর পড়ে, তখন এ কণাগুলো আলোক তরঙ্গকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দেয়, আর এ ছড়িয়ে দেয়াকে আলোর বিক্ষেপন বলে। 
- আলোর বিক্ষেপন নির্ভর করে আলোক তরঙ্গদৈর্ঘ্যের উপর। 
- যে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম, তার বিক্ষেপণ তত বেশি। 
- নীল বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম তাই নীল আলোর বিক্ষেপণ বেশি হয়, ফলে আকাশ নীল দেখায়। 
- সূর্যরশ্মি যখন বায়ুমণ্ডলে সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও অণুতে আপতিত হয়, তখন নীল রঙ ও এর কাছাকাছি রঙগুলোর বিক্ষেপন বেশি হয়। ফলে বেগুনি, আসমানী ও নীল রঙের প্রাচুর্য্য ঘটায় বলে আকাশ নীল দেখায়

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৭৪১.
যে তাপ সঞ্চালন পদ্ধতিতে কোনো জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না, সেটি হলো- 
  1. পরিবাহীতা
  2. পরিবহন
  3. বিকিরণ
  4. পরিচলন 
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ
ব্যাখ্যা

- বিকিরণ এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে তাপ কোনো জড় মাধ্যম (কঠিন, তরল বা গ্যাসীয়) ছাড়াই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হতে পারে। এই পদ্ধতিতে তাপ তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গের আকারে প্রবাহিত হয়, যা শূন্যস্থানের মধ্য দিয়েও ভ্রমণ করতে পারে। যেমন— সূর্য থেকে তাপ বিকিরণ পদ্ধতিতে পৃথিবীতে আসে। 

তাপ সঞ্চালন: 
- তাপ বেশি তাপমাত্রার স্থান থেকে কম তাপমাত্রার স্থানে যেতে পারে, তাপের এই স্থান পরিবর্তনকে তাপ সঞ্চালন বলে। 
- তাপ সঞ্চালন তিন ভাবে হয়। 
যথা- পরিবহন, পরিচলন ও বিকিরণ। 

তাপ বিকিরণ: 
- পৃথিবীতে সূর্যই তাপের মূল উৎস। 
- সূর্য আর পৃথিবীর মাঝখানে প্রায় সবটুকুই ফাঁকা, কোনো বায়বীয় পদার্থও নেই। 
- সূর্য থেকে তাপ আসে বিকিরণের মাধ্যমে, যেখানে কোনো জড় মাধ্যম নেই, সেখানে তাপ বিকিরণের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। 
- আলো এক রকমের তরঙ্গ, যা কোনো মাধ্যম ছাড়া এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারে। 
- বিকিরণের সময় তাপ আলো বা বিদ্যুৎচুম্বকীয় তরঙ্গাকারে সঞ্চালিত হয়। আসলে মাধ্যম থাকুক বা না থাকুক, উত্তপ্ত বস্তু বিকিরণ পদ্ধতিতে তাপ নির্গত করে।
- কোনো পদার্থ তাপ বিকিরণ করলে তাকে বিকিরক বলে। আবার কোনো পদার্থ তাপ শোষণ করলে তাকে বলে শোষক। 
- কোনো পদার্থ তার তাপমাত্রার জন্য তাপ বিকিরণ বা শোষণ করলে তাকে তাপীয় বিকিরণ (Thermal radiation) বা তাপীয় শোষণ বলে। 
- বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে, কোনো পদার্থ ভালো তাপ বিকিরক হলে সেটি ভালো তাপ শোষকও হয়। তা না হলে একটি বিকিরক ক্রমাগত বেশি পরিমাণ তাপ বিকিরণ কার ক্রমশ শীতল হতে থাকবে এবং একটি শোষক ক্রমাগত বেশি পরিমাণ তাপ শোষণ করে ক্রমশ উত্তপ্ত হতে থাকবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৭৪২.
মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে বলা হয় -
  1. ক) পরমাণু
  2. খ) ইলেকট্রন
  3. গ) অণু
  4. ঘ) প্রোটন
সঠিক উত্তর:
ক) পরমাণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পরমাণু
ব্যাখ্যা

- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসয়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে পরমাণু বলে।
পরমাণুর বৈশিষ্ট্যসমূহ-
১. পরমাণু মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা বা একক।
২. সাধারণত পরমাণু স্বাধীনভাবে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না, তবে কিছু কিছু মৌলিক পদার্থের পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে। যেমন- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ইত্যাদি।
৩. পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে।
৪. একটি পরমাণুকে ভাঙলে ওই মৌলের আর কোন অস্তিত্বই থাকে না।

উৎস: রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৪৩.

তড়িৎ বর্তনীতে এ প্রতীক দ্বারা কী বুঝানো হয়?
  1. স্থির রোধ
  2. পরিবর্তনশীল রোধ 
  3. সংযোগহীন তার
  4. ভূ - সংযোগ ধারক
সঠিক উত্তর:
পরিবর্তনশীল রোধ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবর্তনশীল রোধ 
ব্যাখ্যা
পরিবর্তনশীল রোধ:

- তড়িৎ বর্তনীতে এ প্রতীক দ্বারা "পরিবর্তনশীল রোধ" বুঝানো হয়।
- পরিবর্তনশীল রোধকে রিওস্টেট-ও বলা হয়।
- যে রোধকে ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করা যায় তাকে পরিবর্তনশীল রোধ বলে।

এখানে, চিত্রটিতে ইলেকট্রিক সার্কিট বা তড়িৎ বর্তনীতে ব্যবহার করা প্রতীক চিহ্ন দেওয়া আছে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৪৪.
পানিতে শব্দের বেগের পরিমাণ কত?
  1. ক) 1339 m/s
  2. খ) 1493 m/s
  3. গ) 1639 m/s
  4. ঘ) 1254 m/s
সঠিক উত্তর:
খ) 1493 m/s
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) 1493 m/s
ব্যাখ্যা

পানিতে শব্দের বেগ ১৪৯৩ মি/সে।
বাতাসে শব্দের বেগ 330 মি/সে।

পানিতে শব্দের বেগ বাতাসে শব্দের বেগের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। কারণ, পানিতে কণাগুলো কাছাকাছি অবস্থান করে, কিন্তু, বাতাসে কণাগুলো পানির কণাগুলো থেকে বেশি দূরত্বে অবস্থান করে।

সুত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান।

৭৪৫.
বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রভাব কোনটির উপর কম হয়?
  1. প্রতিসরণ 
  2. বিচ্যুতি
  3. বিক্ষেপণ
  4. সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ: 
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় যা মূলত দৃশ্যমান বিকিরণ অথবা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ। 
- দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর 4×10-7 m থেকে 7×10-7 m মাত্র। এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়। 
- এই আলোর বিভিন্ন বর্ণকে বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়।
- আলোর বিভিন্ন বর্ণের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি। 
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম। 
- বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি। 
- লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৪৬.
'Nuclear Sizes/Length' পরিমাপের একক কোনটি?
  1. Angstrom
  2. Fermi
  3. Newton
  4. Tesla
সঠিক উত্তর:
Fermi
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Fermi
ব্যাখ্যা
• 'Nuclear Sizes/Length' পরিমাপের একক হচ্ছে Fermi.
→ 1 Fermi = 10-15m

এছাড়া,
- পারমানবিক ব্যাসার্ধ পরিমাপের একক Angstrom.
- বলের একক হচ্ছে নিউটন।
- চৌম্বক আবেশের একক টেসলা।

সূত্র:
1. University of Southampton [Link]
2. উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৭৪৭.
বৃষ্টির পানি বাতাসের মধ্য দিয়ে পড়ার সময় কোন ঘর্ষণের উৎপত্তি হয়?
  1. প্রবাহী ঘর্ষণ
  2. স্থিতি ঘর্ষণ
  3. আবর্ত ঘর্ষণ
  4. চল ঘর্ষণ
সঠিক উত্তর:
প্রবাহী ঘর্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবাহী ঘর্ষণ
ব্যাখ্যা
ঘর্ষণ ও ঘর্ষণ বল: 
- দু'টি বস্তু পরস্পরের সংস্পর্শে থেকে যদি একটির উপর দিয়ে অপরটি চলতে চেষ্টা করে, তবে বস্তু দু'টির স্পর্শ তলে একটি বাধার সৃষ্টি হয়। এ বাধাকে ঘর্ষণ বলে। 
- আর যে বল গতিশীল বস্তুটির গতির পথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে ঘর্ষণ বল বলে। 
- ঘর্ষণ সাধারণত চার প্রকার। 
যথা - 
১. স্থিতি ঘর্ষণ (Static friction), 
২. চল বা পিছলানো ঘর্ষণ (Sliding friction), 
৩. আবর্ত ঘর্ষণ (Rolling friction) এবং 
৪. প্রবাহী ঘর্ষণ (Fluid friction) । 

প্ৰবাহী ঘর্ষণ: 
- যখন কোনো বস্তু যেকোনো প্রবাহী পদার্থ যেমন- তরল বা বায়বীয় পদার্থের মধ্যে প্রবাহিত হয় বা গতিশীল থাকে বা যখন কোনো তরল বা বায়বীয় পদার্থের গতিপথে কোনো স্থির বস্তু রাখা হয়, তখন উভয়ের মধ্যে যে ঘর্ষণের সৃষ্টি হয়, তাকে প্রবাহী ঘর্ষণ বলে। 
- জাহাজ পানিতে চলার সময় একটি বাধা অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যায়, আবার পুকুরে সাঁতার কাটার সময় পুকুরের পানির মধ্য দিয়ে একটি বাঁধাকে অতিক্রম করে সামনের দিকে এগুতে হয়। আর এ বাঁধাই প্রবাহী ঘর্ষণ। 
- বৃষ্টির পানি বাতাসের মধ্য দিয়ে পড়ার সময় প্রবাহী ঘর্ষণের উৎপত্তি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭৪৮.
বায়ুর সাপেক্ষে হীরকের প্রতিসরণাঙ্ক কত?
  1. ক) 2.417
  2. খ) 1.447
  3. গ) 1.333
  4. ঘ) 1.306
সঠিক উত্তর:
ক) 2.417
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 2.417
ব্যাখ্যা
পরম প্রতিসরণাঙ্ক: 
- শূন্য মাধ্যমের সাপেক্ষে কোনো মাধ্যমের প্রতিসরণাঙ্ক ঐ মাধ্যমের পরম প্রতিসরণাঙ্ক। 
অর্থাৎ আলোক রশ্মি যখন শূন্য মাধ্যম থেকে অন্য কোনো মাধ্যমে প্রবেশ করে তখন শূন্য মাধ্যমের আপতন কোণের সাইন ও সেই মাধ্যমের প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাতকে ঐ মাধ্যমের পরম প্রতিসরণাঙ্ক বিবেচনা করা হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন শূন্য মাধ্যম থেকে কোনো বস্তু মাধ্যমে তীর্যকভাবে প্রবেশ করে তখন নির্দিষ্ট বর্ণের আলোর জন্য আপতন কোণের সাইন ও প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাতকে ঐ মাধ্যমের পরম প্রতিসরণাঙ্ক বলে। 
গাণিতিকভাবে শূন্য মাধ্যমে আপতন কোণ i এবং অন্য কোন মাধ্যম 'a' তে প্রতিসরণ কোণ r হলে, 'a' মাধ্যমের পরম প্রতিসরণাঙ্ক μa প্রতীক দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- সাধারণত বায়ু মাধ্যমের সাপেক্ষে কোনো মাধ্যমের প্রতিসরণাঙ্ককে ঐ মাধ্যমের পরম প্রতিসরণাঙ্ক হিসাবে ধরা হয়। 
- কাঁচের পরম প্রতিসরণাঙ্ক 1.5 বলতে বুঝায় যে শূন্য মাধ্যম বা বায়ু মাধ্যম থেকে আলোক রশ্মি তীর্যকভাবে কাঁচের মধ্যে প্রবেশ করলে আপতন কোণের সাইন এবং প্রতিসরণ কোণের সাইন-এর অনুপাত 1.5 হয়। 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪৯.
তড়িৎ প্রবাহের একক কোনটি?
  1. ক) সিমেন্স
  2. খ) কুলম্ব
  3. গ) ওহম
  4. ঘ) অ্যাম্পিয়ার
সঠিক উত্তর:
ঘ) অ্যাম্পিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অ্যাম্পিয়ার
ব্যাখ্যা
তড়িৎ প্রবাহের একক : তড়িৎ প্রবাহের একক হলো অ্যাম্পিয়ার। একে সাধারণত A দ্বারা প্রকাশ করা হয় ।

তড়িৎ প্রবাহের প্রকারভেদ :
তড়িৎ প্রবাহ দুই প্রকার— (ক) অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা সমপ্রবাহ বা একমুখী প্রবাহ (খ) পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা পরিবর্তী প্রবাহ

(ক) অপর্যায়বৃত্ত বা একমুখী বা ডিসি প্রবাহ: যখন সময়ের সাথে সাধারণত তড়িৎ প্রবাহের দিকের কোনো পরিবর্তন না ঘটে, অর্থাৎ যে তড়িৎ প্রবাহ সবসময় একই দিকে প্রবাহিত হয়, সেই প্রবাহকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। তড়িৎ কোষ বা ব্যাটারি থেকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ পাওয়া যায় । আবার ডিসি জেনারেটরের সাহায্যেও এই প্রকার তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করা যায়।
 
(খ) পর্যায়বৃত্ত বা এসি প্রবাহ: যখন নির্দিষ্ট সময় পরপর তড়িৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়, সেই তড়িৎ প্রবাহকে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। বর্তমান বিশ্বের সকল দেশের তড়িৎ প্রবাহই পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ। এর কারণ তুলনামূলকভাবে এটি উৎপন্ন ও সরবরাহ করা সহজ এবং সাশ্রয়ী। পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস জেনারেটর বা ডায়নামো দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে জেনারেটরের সাহায্যে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ উৎপন্ন করা হয়। পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের দিক পরিবর্তন দেশভেদে বিভিন্ন হয়। যেমন: বাংলাদেশে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে ৫০ বার, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সেকেন্ডে ৬০ বার দিক পরিবর্তন করে।

অন্যদিকে, 
- রোধের একক ওহম।
- পরিবাহিতার একক সিমেন্স।
- আধানের একক কুলম্ব।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৫০.
গ্যালিলিও কতটি সূত্র প্রস্তাব করেছেন পড়ন্ত বস্তুর জন্য?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা

• গ্যালিলিও গ্যালিলি পড়ন্ত বস্তুর গতির ওপর গবেষণা করেছিলেন এবং তিনি মূলত ৩টি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র বা নীতি প্রস্তাব করেছিলেন।

• সূত্রগুলো হচ্ছে:
- প্রথম সূত্র:
- স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে।

- দ্বিতীয় সূত্র:
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ঐ সময়ের সমানুপাতিক।
- অর্থাৎ v ∝ t.

- তৃতীয় সূত্র:
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক।
- অর্থাৎ, h ∝ t2

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।

৭৫১.
কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুযায়ী শক্তির ক্ষুদ্রতম প্যাকেটকে কী বলা হয়?
  1. নিউট্রন
  2. পজিট্রন 
  3. ফোটন
  4. মেসন 
সঠিক উত্তর:
ফোটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফোটন
ব্যাখ্যা

- কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুযায়ী, আলো বা অন্যান্য তড়িৎচ্চুম্বকীয় বিকিরণ শক্তির অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ হিসেবে না এসে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন প্যাকেটের আকারে নির্গত বা শোষিত হয়, এই ক্ষুদ্রতম শক্তির প্যাকেট বা গুচ্ছকে কোয়ান্টাম বলা হয়। যখন বিশেষভাবে আলোক শক্তির কথা বলা হয়, তখন এই কোয়ান্টামকে ফোটন নামে অভিহিত করা হয়। 

প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাবনা করেন।
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোন উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেড়িয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেজ আকারে বের হয়। প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রং এর আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে। এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন। এই তত্ত্বের সাহায্যে কৃষ্ণবস্তু বিকিরণ, ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায়। 
- কিন্তু আলোর বিচ্ছুরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন, সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৫২.
পানি যখন ফুটতে থাকে তার উষ্ণতার কি পরিবর্তন ঘটে?
  1. ক) বাড়তে থাকে
  2. খ) কমতে থাকে
  3. গ) একই থাকে
  4. ঘ) কম-বেশি হয়
সঠিক উত্তর:
গ) একই থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) একই থাকে
ব্যাখ্যা
পানি যখন ফুটতে থাকে তখন পানি আর পানি ফুটে যে বাষ্প তৈরি হয় উভয়ের ১০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড উষ্ণতা থাকে। পানি বাষ্পীভূত হওয়ার শুরু থেকে সম্পূর্ণ পানি বাষ্পীভূত হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রা/উষ্ণতা পরিবর্তিত হয় না।
৭৫৩.
কোনাে বস্তুর উপর এক নিউটন বল প্রয়ােগের ফলে যদি বলের দিকে বলের প্রয়ােগ বিন্দুর এক মিটার সরণ হয় তবে সম্পন্ন কাজের পরিমাণকে বলা হয়-
  1. ক) এক ওয়াট
  2. খ) এক নিউটন
  3. গ) এক জুল/সেকেন্ড
  4. ঘ) এক জুল
সঠিক উত্তর:
ঘ) এক জুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এক জুল
ব্যাখ্যা

কাজের একক = বল x সরণ এর একক।
যদি বল F = 1 N, সরণ S = 1 m এবং θ= 0° হয়, তাহলে W = 1J হবে।
1J = 1N m
কোনাে বস্তুর উপর এক নিউটন (N) বল প্রয়ােগের ফলে যদি বলের দিকে বলের প্রয়ােগ বিন্দুর এক মিটার (m) সরণ হয় তবে সম্পন্ন কাজের পরিমাণকে এক জুল (J) বলে।
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৭৫৪.
বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়? 
  1. আলোক শক্তিতে
  2. তড়িৎ শক্তিতে
  3. তাপ শক্তিতে 
  4. শব্দ শক্তিতে 
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ শক্তিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ শক্তিতে
ব্যাখ্যা

বায়ু শক্তি: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে বায়ু প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তাকে বায়ুকল বলে। 
- বায়ু প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে প্রাচীনকালের মানুষেরা কুয়া থেকে পানি তোলা, জাহাজ চালানো ইত্যাদি কাজ সম্পাদন করতো। 
- নৌকায় পাল তুলে আজও বায়ু শক্তিকে কাজে লাগানো হয়। 
- বর্তমানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে বায়ু কল কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৭৫৫.
স্পষ্ট দৃষ্টির ন্যূনতম দূরত্ব কত সেন্টিমিটার?
  1. ক) ২৬
  2. খ) ৩০
  3. গ) ২৫
  4. ঘ) ২০
সঠিক উত্তর:
গ) ২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২৫
ব্যাখ্যা
স্বাভাবিক চোখ ন্যূনতম যে দূরত্ব পর্যন্ত কোন একটা বস্তুকে স্পষ্ট ভাবে দেখতে পায় সে দূরত্বকে স্পষ্ট দৃষ্টির ন্যূনতম দূরত্ব বলে এবং স্পষ্ট দৃষ্টির ন্যূনতম দূরত্ব হচ্ছে 25 সেন্টিমিটার।
৭৫৬.
R1 এবং R2 ফিলামেন্ট রেজিষ্ট্যান্স এবং বাল্ব দু’টি যথাক্রমে 200w ও 100w এবং R1 এবং R2, এর মধ্যকার রিলেশন কি হবে যদি দুটি বাল্ব একই voltage এ চালিত হয়?
  1. R1 = 2R2
  2. R2 = 4R1
  3. R1 = 4R2
  4. R2 = 2R1
সঠিক উত্তর:
R2 = 2R1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
R2 = 2R1
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: R1 এবং R2 ফিলামেন্ট রেজিষ্ট্যান্স এবং বাল্ব দু’টি যথাক্রমে 200w ও 100w এবং R1 এবং R2, এর মধ্যকার রিলেশন কি হবে যদি দুটি বাল্ব একই voltage এ চালিত হয়?

সমাধান: 
P = V2/R

200 = V2/R1
100 = v2/R2

200/100 = (V2/R1)/( v2/R2)
⇒ 2 = R2/R1
⇒ R2 = 2R1
৭৫৭.
ফিউশন বিক্রিয়ায় কোনটি ঘটে?
  1. একটি পরমাণু ভেঙ্গে দুইটি পরমাণু তৈরি হয়
  2. একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে
  3. একটি নিউক্লিয়াস ভেঙ্গে প্রচণ্ড শক্তি সৃষ্টি হয়
  4. একাধিক পরমাণু ভেঙ্গে একাধিক পরমাণু গঠিত হয়
সঠিক উত্তর:
একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ায় একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে। 

• নিউক্লিয়ার ফিশন:
- নিউক্লিয়ার ফিশন হলো এমন একটি পারমাণবিক বিক্রিয়া, যেখানে একটি ভারী নিউক্লিয়াস (যেমন ইউরেনিয়াম-235 বা প্লুটোনিয়াম-239) দুটি বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াসে বিভক্ত হয় এবং এই প্রক্রিয়ায় নিউট্রন ও বিপুল শক্তি উৎপন্ন হয়।
• ব্যবহার:
- পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। 
- পারমাণবিক অস্ত্র (Atomic Bomb)। 

• নিউক্লিয়ার ফিউশন (Nuclear Fusion):
- নিউক্লিয়ার ফিউশন (Fusion) হলো এমন একটি পারমাণবিক বিক্রিয়া, যেখানে দুই বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াস তৈরি করে এবং এই প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়।

উদাহরণ:
সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রে প্রতিনিয়ত হাইড্রোজেন ফিউশন ঘটে, যার ফলে হিলিয়াম তৈরি হয় ও বিশাল শক্তি নির্গত হয়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
৭৫৮.
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রধানত কোন বিক্রিয়া ব্যবহৃত হয়?
  1. জারণ বিক্রিয়া
  2. নিউক্লিয় ফিউশন
  3. নিউক্লিয় ফিশন
  4. রাসায়নিক দহন
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিয় ফিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিয় ফিশন
ব্যাখ্যা

- পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শক্তির প্রধান উৎস হলো নিউক্লিয় ফিশন (Nuclear Fission) বিক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় একটি ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াসকে (যেমন: ইউরেনিয়াম-২৩৫) নিউট্রন দ্বারা আঘাত করে দুই বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াসে বিভক্ত করা হয়। এই বিভাজনের ফলে প্রচুর পরিমাণে তাপশক্তি নির্গত হয়, যা ব্যবহার করে পানি ফুটিয়ে বাষ্প তৈরি করা হয় এবং সেই বাষ্পের সাহায্যে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া: 

- নিউক্লিয় ফিউশন হল সেই প্রক্রিয়া যেখানে দুটি হালকা নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াস তৈরি করে। 
- এই বিক্রিয়াকে সংযোজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- ফিউশন বিক্রিয়ার ফলে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়, যা সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রের শক্তির মূল উৎস। 
- হাইড্রোজেন বোমার কার্যপ্রক্রিয়া নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে। 

নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়া: 
- নিউক্লিয় ফিশন হল এমন একটি পারমাণবিক প্রক্রিয়া যেখানে একটি ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে দুটি বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়। 
- একে বিয়োজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- এই বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়, যা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক অস্ত্র, বিশেষত পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৫৯.
কোনটি শক্তি?
  1. কয়লা
  2. গ্যাস
  3. তাপ
  4. উষ্ণতা
সঠিক উত্তর:
তাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপ
ব্যাখ্যা
তাপ: 
- এ মহাবিশ্বে যা কিছু আছে তাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
- একটি ভাগে আছে পদার্থ যাদের ওজন বা ভর আছে, জায়গা দখল করে এবং বল প্রয়োগে বাধা দেয়। 
- অন্যভাগে আছে শক্তি। এদের কোনো ওজন নেই, জায়গা দখল করে না বা বল প্রয়োগে কোনো বাধা দেয় না। এদের আমরা ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভব করতে পারি। 
- তাপ এমন এক ধরনের শক্তি। 
- পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের মধ্যে তাপকে কেবল ত্বক দ্বারা অনুভব করা যায়। 
- কোন কিছু ঠান্ডা না গরম তার পেছনে রয়েছে তাপ। তাপের কারণে কোন কিছুকে আমাদের ঠান্ডা বা গরম বোধ করি। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৭৬০.
নিচের কোনটিতে আলোর সমস্ত তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রতিফলিত হয়?
  1. কফি
  2. দুধ
  3. মধু
  4. চা
সঠিক উত্তর:
দুধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুধ
ব্যাখ্যা
দুধ আলোর সমস্ত তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রতিফলিত করে এবং এর প্রতিফলন বৈশিষ্ট্যের কারণে কোনো রঙ শোষণ করে না। দুধে উপস্থিত উপাদান যেমন কেসিন (casein), ক্যালসিয়াম কমপ্লেক্স এবং চর্বি সবই সাদা রঙের। এছাড়াও, দুধে পানির পরিমাণ (৮৭% পর্যন্ত) বর্ণহীন, যা দুধকে সম্পূর্ণ আলোকে প্রতিফলিত করতে এবং এটিকে একটি অস্বচ্ছ কাঠামো দিতে সহায়তা করে। অণুগুলো সব রং শুষে নিলে দুধ সাদা হতো না।

Source: ndtv.com
৭৬১.
নিচের কোনটি পানিবাহিত রোগ?
  1. টাইফয়েড
  2. ডায়রিয়া
  3. আমাশয়
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

পানিবাহিত রোগ:
- পানিবাহিত রোগ হলো সেইসব রোগ যা দূষিত পানি পান, ব্যবহার বা খাবারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
- এই রোগগুলো সাধারণত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, প্রোটোজোয়া ও অন্যান্য প্যাথোজেনের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়।
- পানিবাহিত রোগ এর মধ্যে অন্যতম হলো- কলেরা, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস-এ, ডায়রিয়া ও আমাশয় ইত্যাদি।
- পানিবাহিত রোগের কারণগুলো হচ্ছে -
- অপরিষ্কার পানি পান করা।
- দূষিত পানিতে রান্না/ফল ধোয়া।
- সঠিক স্যানিটেশন না থাকা।
- অপরিচ্ছন্ন নালা/ব্রিজের পানি ব্যবহার।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি।

৭৬২.
নিচের কোনটি মৌলিক রাশি?
  1. ত্বরণ
  2. বিভব
  3. বল
  4. তাপমাত্রা
সঠিক উত্তর:
তাপমাত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপমাত্রা
ব্যাখ্যা
ভৌত রাশি: 
- এই বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিমাপ করা যায়, তাকে রাশি বলা হয়। 
যেমন - একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায়। এখানে ভর একটি রাশি। 

মৌলিক রাশি: 
- যে সকল রাশির পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়। 
যেমন - সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি। 
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। 
যেমন- 
• দৈর্ঘ্য, 
• ভর, 
• সময়, 
• তাপমাত্রা, 
• তড়িৎপ্রবাহ, 
• দীপন তীব্রতা এবং 
• পদার্থের পরিমাণ। 

যৌগিক রাশি: 
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়। 
যেমন - বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। তাই বেগ মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল। 
- অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি। 
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়। 
যেমন - 
• বেগ, 
• ত্বরণ, 
• কাজ, 
• বল, 
• তাপ, 
• বিভব ইত্যাদি। 

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬৩.
অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহৃত হয় -
  1. মোটর তৈরিতে
  2. টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায়
  3. ক) ও খ) উভয়ই
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মোটর তৈরিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোটর তৈরিতে
ব্যাখ্যা
কৃত্রিম চুম্বকঃ কৃত্রিম চুম্বক দুই ধরনের হয়।
১. অস্থায়ী বা কোমল চুম্বক
২. স্থায়ী বা কঠিন চুম্বক
অস্থায়ী চুম্বকঃ চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়। চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে। মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি তৈরিতে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়।
স্থায়ী চুম্বকঃ চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক। টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৬৪.
প্রতি 1°C তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি কী পরিমাণ বেড়ে যায়?
  1. প্রায় 0.4 ms-1
  2. প্রায় 0.6 ms-1
  3. প্রায় 0.8 ms-1
  4. প্রায় 0.9 ms-1
সঠিক উত্তর:
প্রায় 0.6 ms-1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় 0.6 ms-1
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগের পরিবর্তন: 
- আলোর দ্রুতি শূন্যস্থানে সব সময় 3×108 ms-1 নির্দিষ্ট, কিন্তু শব্দের দ্রুতি সবসময় সমান নয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1 । 
- তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেও শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- হিসাব করে দেখা গেছে, প্রতি 1°C বা 1K তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি প্রায় 0.6 ms-1 পরিমাণ বেড়ে যায়। 
- মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়, মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তত বেশি হয়। 
যেমন- 
• বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
• পানি মাধ্যমে 1450 ms-1 এবং 
• লোহার মধ্যে 5220 ms-1 । 
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম, তরল পদার্থের মধ্যে তা থেকে বেশি। 
- কঠিন পদার্থের মধ্যে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে বেশি। 
- বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬৫.
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের উদাহরণ কোনটি?
  1. মরীচিকা
  2. হীরার ঔজ্জ্বল্য
  3. অপটিক্যাল ফাইবার
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

মরীচিকা, হীরার ঔজ্জ্বল্য, অপটিক্যাল ফাইবার সবগুলোই পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের উদাহরণ।

• পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection):

- পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection) হলো এমন একটি আলোকীয় ঘটনা যেখানে আলোকরশ্মি একটি মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে যাওয়ার সময় প্রতিসরিত না হয়ে সম্পূর্ণরূপে প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে।

পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের শর্ত:
১) আলোক রশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যেতে হবে।
২) আপতন কোণ সংকট কোণের থেকে বড় হতে হবে।

পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের উদাহরণ:
মরীচিকা, অপটিক্যাল ফাইবার, হীরার ঔজ্জ্বল্য ইত্যাদি।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৬৬.
একটি বস্তুকে টান টান করলে এর মধ্যে কোন শক্তি জমা থাকে?
  1. ক) গতি শক্তি
  2. খ) বিভব শক্তি
  3. গ) তাপ শক্তি
  4. ঘ) রাসায়নিক শক্তি
সঠিক উত্তর:
খ) বিভব শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিভব শক্তি
ব্যাখ্যা
বিভবশক্তিকে স্থিতিশক্তিও বলা হয়।
বিভবশক্তি হচ্ছে বস্তুর স্থিতিজনিত শক্তি। কোন বস্তু তার অবস্থা বা অবস্থানে স্থিতিশীল থাকার ফলে যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই বস্তুটির বিভশক্তির পরিমাপক।
আবার বস্তুও বিভিন্ন অংশের পরিবর্তনের ফলে বস্তু যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে বস্তুর বিভব শক্তি।

যেমন পানির ট্যাংকে রক্ষিত পানি এবং দেয়ালে ঝুলানো ছবি যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে এদের বিভবশক্তি। বিভবশক্তি যান্ত্রিক শক্তির একটি রূপ।

একইভাবে একটি বস্তুকে টান টান করলে এর মধ্যে বিভব শক্তি জমা থাকে।

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 
৭৬৭.
কাজ ও বলের একক যথাক্রমে-
  1. নিউটন ও মিটার
  2. জুল ও ডাইন
  3. ওয়াট ও পাউন্ড
  4. প্যাসকেল ও কিলোগ্রাম
সঠিক উত্তর:
জুল ও ডাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুল ও ডাইন
ব্যাখ্যা
SI পদ্ধতিতে কাজের একক জুল। SI পদ্ধতিতে বলের একক নিউটন। C.G.S পদ্ধতিতে বলের একক ডাইন।

• কাজের একক:
- বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কাজের একক পাওয়া যায়।
- বলের একক হচ্ছে নিউটন (N) এবং সরণর একক হচ্ছে মিটার (m)।
- অতএব, কাজের একক হবে নিউটন মিটার (Nm)।
- নিউটন মিটারকে জুল (J)বলা হয়।
- এটি কাজের আন্তর্জাতিক একক।
- কোন বস্তুর উপর এক নিউটন বল প্রয়োগ করা হলে যদি বস্তুটি বলের দিকে এক মিটার সরণের সৃষ্টি হয় তবে সম্পন্ন কাজ হবে এক জুল।

• বলের  এককসমূহ:
- ডাইন,
- নিউটন,
- পাউন্ডাল।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬৮.
ট্রান্সফরমারের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি? 
  1. এটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে।
  2. এটি পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে না।
  3. এটি উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে।
  4. এটি একটি কুন্ডলীতে থেকে অপর কুন্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করে।
সঠিক উত্তর:
এটি পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এটি পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে না।
ব্যাখ্যা
- ট্রান্সফরমারের বৈশিষ্ট্য হলো- ট্রান্সফরমার পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে। 

ট্রান্সফরমার: 
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র। 
- এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
- এখানে মূলতঃ দুটি কুন্ডলী থাকে। 
- কুন্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়। 
- একটি কুন্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুন্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ। 

- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। 
- ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। 
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়। 
যথা- 
১। স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও 
২। স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬৯.
পরম শূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তন কেমন হয়?
  1. শূন্য
  2. কম
  3. সর্বাধিক
  4. পরিবর্তনশীল
সঠিক উত্তর:
শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্য
ব্যাখ্যা

পরম শূন্য তাপমাত্রা:
- যে তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তনের বিলুপ্তি ঘটে অর্থাৎ আয়তন শূন্য হয়ে যায়, সে তাপমাত্রাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা বলে
- পরম শূন্য তাপমাত্রা হলো - 273°C.
- পরম শূন্য তাপমাত্রা গ্যাসের প্রকৃতি ও চাপের উপর নির্ভর করে না।
- পরম শূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের স্থানান্তর গতি শূন্য হয়, গ্যাসের অণুসমূহের স্থানান্তরণ একেবারে স্তব্দ হয়ে যায়। এ সময় অণুসমূহ পরস্পরের খুবই নিকটে আসে, ফলে আয়তন খুবই কম হয়।
- পরম শূন্য তাপমাত্রায় কম্পন গতির জন্য পদার্থের যে শক্তি অবশিষ্ট থাকে, তাকে শূন্য বিন্দু শক্তি বলা হয়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।

৭৭০.
AC-কে DC-তে রূপান্তর করে- 
  1. জেনারেটর
  2. ট্রান্সফরমার
  3. তড়িৎ মোটর
  4. রেকটিফায়ার
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার
ব্যাখ্যা
ডায়োড: 
- ডায়োড শব্দটি ‘ডাই’ এবং ‘ইলেক্ট্রোড’ এই দুইটি কথার সমন্নয়ে গঠিত। 
- দুই ইলেক্ট্রোড বিশিষ্ট্র ইলেক্ট্রনিকস কম্পোনেন্টই হলো ডায়োড। 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়, এই p-n জাংশনই হচ্ছে ডায়োড। 
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি (AC) প্রবাহকে ডিসি (DC) প্রবাহে রূপান্তর করে। 
- ডায়োডের দুইটা বর্তর্নী রয়েছে যার একটি অ্যানোড এবং অন্যটি ক্যাথোড। 
- সাধারণত অ্যানোডকে পজেটিভ বা ফরোয়ার্ড বেস টার্মিনাল এবং ক্যাথোডকে নেগেটিভ রিভার্স বেস টার্মিনাল বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭১.
১ কিলোগ্রাম কত পাউন্ডের সমান?
  1. ২.১০
  2. ২.১৫
  3. ২.২০
সঠিক উত্তর:
২.২০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২.২০
ব্যাখ্যা
• ১ কেজি  = ২.২০ পাউন্ড।

উল্লেখ্য,
- ১ কুইন্টাল = ১০০ কিলোগ্রাম।
- ১ মেট্রিক টন = ১০০০ কিলোগ্রাম। 
- ১০ কুইন্টাল = ১ মেট্রিক টন। 
- ১ পাউন্ড = ১৬ আউন্স।
- ১ মণ = ৩৭.৩২ কেজি।
- ১ মিটার = ৩৯.৩৭ ইঞ্চি। 
- ১ মিটার = ১০০ সে.মি.। 
- ১ ইঞ্চি = ২.৫৪ সেন্টিমিটার। 
- ১ মিটার = ১০০ সেন্টিমিটার। 
- ১ মিটার = ১০০০ মিলিমিটার। 
- ১ কিলোমিটার = ১০০০ মিটার। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
৭৭২.
সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্রের নাম-
  1. ক) সেক্সট্যান্ট
  2. খ) হাইড্রোমিটার
  3. গ) ম্যানোমিটার
  4. ঘ) সিসমোগ্রাফ
সঠিক উত্তর:
ক) সেক্সট্যান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সেক্সট্যান্ট
ব্যাখ্যা
সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্রের নাম সেক্সট্যান্ট। হাইড্রোমিটার এর সাহায্যে তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণয় করা হয়। ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম সিসমোগ্রাফ এবং গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম ম্যানোমিটার।
৭৭৩.
মোবাইল ফোন থেকে ডায়াল করলে সৃষ্ট বেতার তরঙ্গ কোথায় যায়?
  1. ক) টেলিফোন অফিস
  2. খ) প্রেরক টাওয়ার
  3. গ) গ্রাহক টাওয়ার
  4. ঘ) প্রেরক-গ্রাহক টাওয়ার
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রেরক-গ্রাহক টাওয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রেরক-গ্রাহক টাওয়ার
ব্যাখ্যা
যখন কোনো ব্যক্তি কোন মোবাইল থেকে ফোন করে, কলটি বেতার তরঙ্গ হিসেবে কোন প্রেরক-গ্রাহক টাওয়ারে যায়। এরপর কলটি তার বা মাইক্রোওয়েভ এর মাধ্যমে মোবাইল সুইচ স্টেশনে যায়। এ স্টেশন কলটিকে স্থানীয় টেলিফোন এক্সচেঞ্জে পাঠায়। সেখানে এটি প্রচলিত ফোন কল হয়ে গ্রাহকের নিকট যায়।
৭৭৪.
দূরের বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে আসতে কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়?
  1. স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার
  2. স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার
  3. এডাপ্টার
  4. ট্রান্সমিটার
সঠিক উত্তর:
স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার
ব্যাখ্যা
• বিদ্যুৎ পরিবহন:
- বৈদ্যুতিক তারের রোধ থাকে।
- যার ফলে বিদ্যুৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে বিদ্যুৎ সবটুকু না গিয়ে কিছু অংশ অপচয় হয়।
- ফলে দুরত্ব যত বেশি হয় রোধ তত বেশি হয়।
- এজন্য দূরের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে বিদ্যুৎ নিয়ে আনার জন্য ভোল্টেজ বাড়াতে হয়।
- ভোল্টেজ বাড়ানোর জন্য তাই স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহার করা হয়।

• স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার বিদ্যুৎ কেন্দ্রেই বসানো হয়, যা:
- ভোল্টেজ বাড়ায়,
- কারেন্ট কমায়,
- ফলে লাইন লস কম হয়,
- বিদ্যুৎ দূরে দূরে পৌঁছে দেওয়া যায় সহজে।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি পদার্থ বিজ্ঞান বই ও ব্রিটানিকা।
৭৭৫.
শূন্য স্থানে আলোর দ্রুতি কত?
  1. ক) ৪০০,০০০ কিমি/সে
  2. খ) ৩০০,০০০ কিমি/সে
  3. গ) ২৫০,০০০ কিমি/সে
  4. ঘ) ২০০,০০০ কিমি/সে
সঠিক উত্তর:
খ) ৩০০,০০০ কিমি/সে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩০০,০০০ কিমি/সে
ব্যাখ্যা
আলো:

- শূন্য স্থানে আলোর দ্রুতি ৩০০,০০০ কিমি/সে
- আলো এক প্রকার দৃশ্যমান শক্তি।
- বিশ্ব গঠনের পাঁচটি মৌলিক উপাদানের একটি আলো।
- আইজাক নিউটন ১৬৭৫ সালে আলোর কণা তত্ত্ব প্রদান করেন।
- ১৬৬০ সালে রবার্ট হুক আলোর তরঙ্গ তত্ত্ব প্রকাশ করেন।
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাবনা করেন। 
- আধুনিক তত্ত্ব অনুসারে আলোর তরঙ্গ এবং কণিকা উভয় ধর্মই বিদ্যমান।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান,এস.এস.সি. প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭৬.
আইসি'র আবিষ্কারক -
  1. প্রেসপার একার্ট
  2. জেক কেলবি
  3. চার্লস ব্যাবেজ
  4. ওয়াল্টার ব্রাটেইন
সঠিক উত্তর:
জেক কেলবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেক কেলবি
ব্যাখ্যা
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC):

• আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট।
• ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে।
• আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়।
• আইসি আবিষ্কারের সাথে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৭৭.
নিম্নের কোন অংশটিকে ট্রানজিস্টরের ‘বেস’ বলা হয়? 
  1. যেটি বেশি ডোপড
  2. যেখানে ধাতব সংযোগ নেই
  3. সবচেয়ে সরু অংশ
  4. সবচেয়ে চওড়া অংশ
সঠিক উত্তর:
সবচেয়ে সরু অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবচেয়ে সরু অংশ
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর (Transistor): 
- ট্রানজিস্টর হলো এমন একটি ব্যবস্থা যাতে দুটি চওড়া p-টাইপ কেলাসের মধ্যে একটি সরু n-টাইপ কেলাস যুক্ত থাকে অথবা দুটি চওড়া n-টাইপ কেলাসের মধ্যে একটি সরু p-টাইপ কেলাস যুক্ত থাকে। 
- প্রকৃত পক্ষে একটি অর্ধপরিবাহী খণ্ডের দুই প্রান্তে চওড়া করে তিনযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে p-টাইপ কেলাস এবং এদের মধ্যে সরু করে পাঁচযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে n-টাইপ কেলাস গঠনের মাধ্যমে p-n-p ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়। 
- আর একটি অর্ধপরিবাহী খণ্ডের দুই প্রান্তে চওড়া করে পাঁচযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে n-টাইপ কেলাস এবং এদের মধ্যে সরু করে তিনযোজী পরমাণু প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে n-টাইপ কেলাস গঠনের মাধ্যমে n-p-n ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়। 
- তাই একটি ট্রানজিস্টরকে দুটি ডায়োডকে পিঠাপিঠি (Back to back) যুক্ত বলে ধরা হয়। 
- ট্রানজিস্টরের মধ্যকার সরু অংশকে ট্রানজিস্টরের বেস (Base) বা ভূমি বলে। 
- প্রান্তের যে অংশের চওড়া অপর প্রান্তের চেয়ে তুলনামূলক কম এবং অপদ্রব্যের অনুপাত একটু বেশি তাকে এমিটার (Emiter) বা নিঃসারক বলে। 
- যে প্রান্তের চওড়া একটু বেশি এবং অপদ্রব্যের অনুপাত বেসের সমান তাকে কালেক্টর (Collector) বা সংগ্রাহক বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭৮.
১৮ কেজি ভরের বস্তুর ওজন চাদে কত নিউটন হবে?
  1. ক) ১৯.৪
  2. খ) ২৯.৪
  3. গ) ৩৯.৪
  4. ঘ) ৪৯.৪
সঠিক উত্তর:
খ) ২৯.৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২৯.৪
ব্যাখ্যা

চাঁদে অভিকর্ষ ত্বরনের মান পৃথিবীর পৃষ্ট হতে ৬ গুন কম।
আমরা জানি,
W = mg
= 18(g/6)
= 3g
= 3 X 9.8
= 29.4 নিউটন।

৭৭৯.
যদি ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা সমান হয়, তাহলে কী হয়? 
  1. ভোল্টেজ কমে যায়
  2. ভোল্টেজ দশ গুণ বাড়ে
  3. ভোল্টেজ দশ গুণ কমে
  4. প্রাইমারি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি ভোল্টেজের সমান হয়
সঠিক উত্তর:
প্রাইমারি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি ভোল্টেজের সমান হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাইমারি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি ভোল্টেজের সমান হয়
ব্যাখ্যা
ট্রান্সফরমার: 
- চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন হলে বিদ্যুৎ তৈরি হয়-এই নীতি ব্যবহার করে ট্রান্সফরমার তৈরি করা হয়। 
- তড়িচ্চালক শক্তি বা EMF পদ্ধতিতে সরাসরি বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই একটি কয়েল থেকে অন্য কয়েলে বিদ্যুৎ পাঠানোর প্রক্রিয়াকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ ব্যবহার করে AC বা পরিবর্তী তড়িৎ বিভব বৃদ্ধি বা কমানো হয়। 
- যে যন্ত্রের মাধ্যমে এই কাজ করা হয় তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- এই ট্রান্সফরমার দিয়ে অত্যন্ত চমকপ্রদ কিছু বিষয় করা যায়। 
- ট্রান্সফরমারের দুই পাশে কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা যদি সমান হয়, তাহলে বাম দিকে যে এসি ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হবে ডান দিকে ঠিক সেই এসি ভোল্টেজ ফেরত পাওয়া যাবে। 
- ডান দিকে প্যাঁচের সংখ্যা যদি দশ গুণ বেশি হয় তাহলে ভোল্টেজ দশ গুণ বেশি হবে। প্যাঁচের সংখ্যা যদি দশ গুণ কম হয় তাহলে ভোল্টেজ দশ গুণ কম হবে। 
- বাম দিকের কয়েল যেখানে এসি ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হয়, তার নাম প্রাইমারি কয়েল বা মুখ্য কুণ্ডলী এবং ডান দিকে যেখানে ভোল্টেজ আবিষ্ট হয় তার নাম সেকেন্ডারি কয়েল বা গৌণ কুণ্ডলী। 

স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার: 
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে বেড়ে যায়, তাকে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার বলে। 
- বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহার করে ভোল্টেজকে অনেক গুণ বাড়ানো হয়। 

স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার: 
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা কম হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে কমে যায় তাকে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৮০.
অভিকর্ষজ ত্বরণের পরিবর্তন ঘটার কারণ-
  1. আহ্নিক গতি
  2. বার্ষিক গতি
  3. অক্ষাংশ ক্রিয়া
  4. ক ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষজ ত্বরণ: অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর বেগ বৃদ্ধির হারই অভিকর্ষজ ত্বরণ।
- একে (g) দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- এর একক ms-2 ,

• বিভিন্ন স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান:
- ভূ-পৃষ্ঠ: 9.8 ms-2,
- পৃথিবীর কেন্দ্রে: 0 ms-2,
- মেরু অঞ্চল: 9.832 ms-2,
- বিষুবীয় অঞ্চল: 9.780 ms-2
 
• মূলত ৩ টি কারণে অভিকর্ষজ ত্বরণের পরিবর্তন ঘটে।

১. উচ্চতার ক্রিয়া,
২. অক্ষাংশ ক্রিয়া বা আকৃতি ক্রিয়া,  
৩. পৃথিবীর ঘূর্ণন ক্রিয়া বা পৃথিবীর আহ্নিক গতি ক্রিয়া।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান বই, নবম - দশম শ্রেণি। 
৭৮১.
কোন আলোর বিচ্যুতি ও প্রতিসরণ সবচেয়ে কম?
  1. নীল 
  2. লাল 
  3. বেগুনি 
  4. সবুজ 
সঠিক উত্তর:
লাল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাল 
ব্যাখ্যা

দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ: 
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ। 
- এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসর 4×10-7 m থেকে 7×10-7 m মাত্র। 
- এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়। 
- এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
- এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর সবচেয়ে বেশি। 
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম। 
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি। 
- লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৮২.
সমুদ্র পৃষ্ঠে বায়ুর স্বাভাবিক চাপ কত?
  1. ৭২ সেন্টিমিটার
  2. ৭৪ সেন্টিমিটার
  3. ৭৬ সেন্টিমিটার
  4. ৭৭ সেন্টিমিটার
সঠিক উত্তর:
৭৬ সেন্টিমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭৬ সেন্টিমিটার
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠের প্রতি একক জায়গায় বায়ুর গ্যাসের অনুগুলোর সংঘর্ষের ফলে প্রদত্ত বলই হলো বায়ুর চাপ।
- সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর স্বাভাবিক চাপ ৭৬ সেন্টিমিটার বা ৭৬০ মিলিমিটার বা ২৯.৯২ ইঞ্চি পারদ স্তম্ভের সমান। 
- আদর্শ অবস্থায় বায়ুমণ্ডলের চাপ ১০১৩.২৫ মিলিবার (১০১,৩২৫ প্যাসকেল) বা ৭৬০ পারদ মি.মি., ২৯.৯২ পারদ ইঞ্চি, বা ১৪.৬৯৬ পাউন্ড/ইঞ্চি
- এটিএম (atm) এককটি পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় বায়ুমণ্ডলীয় চাপের সমতুল্য অর্থাৎ পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠের বায়ুমণ্ডলীয় চাপ প্রায় ১ এটিএম। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৭৮৩.
ট্রানজিস্টর কী ধরনের যন্ত্র?
  1. শব্দ নিয়ন্ত্রক
  2. বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক
  3. আলোক নিয়ন্ত্রক
  4. চৌম্বক নিয়ন্ত্রক
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক
ব্যাখ্যা

ট্রানজিস্টর (Transistor) একটি বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র, যা বৈদ্যুতিক সংকেত (Electric Signal) প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে এবং পরিবর্ধক (Amplifier) ও সুইচ (Switch) হিসেবে কাজ করে।

ট্রানজিস্টর:
- ট্রানজিস্টর হলো তিন প্রান্ত (Terminal) বিশিষ্ট একটি ডিভাইস (Device)।
- ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে প্রথম এর আবিষ্কার হয়।
- আবিষ্কারের পর থেকেই ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক জগতে বিপ্লবের সৃষ্টি করেছে।
- ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির এটি একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
- বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক।
- সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন এবং হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে বলে একে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলে।
- ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৮৪.
যে শব্দের তরঙ্গের কম্পাঙ্ক 20 kHz থেকে বেশি, তাকে কী বলে?
  1. ক) শব্দতর তরঙ্গ
  2. খ) হার্টজ
  3. গ) শব্দোত্তর তরঙ্গ
  4. ঘ) ইনফ্রাসাউন্ড
সঠিক উত্তর:
গ) শব্দোত্তর তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শব্দোত্তর তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

20 Hz এর কম কম্পাঙ্ক বিশিষ্ঠ তরঙ্গকে বলে - শব্দতর তরঙ্গ বা ইনফ্রাসাউন্ড বলে।
আবার 20000 Hz বা 20 kHz এর বেশি কম্পাঙ্ক বিশিষ্ঠ শব্দকে শব্দোত্তর তরঙ্গ বা আলট্রাসাউন্ড বলে।
এই দুই ধরনের শব্দই মানুষ শুনতে পায় না।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীঃ পদার্থ বিজ্ঞান বই।

৭৮৫.
কোন তত্ত্ব থেকে E=mc2 সূত্র আবিষ্কৃত হয়?
  1. ক) বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব
  2. খ) আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব
  3. গ) সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব
  4. ঘ) ওয়েব পার্টিকেল ডুয়ালিটি তত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব
ব্যাখ্যা
- আপেক্ষিক তত্ত্ব মূলত দুইভাগে বিভক্ত, যথা- আপেক্ষিকতার সাধারণ বা সার্বিক তত্ত্ব এবং আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব।
- আপেক্ষিকতার সাধারণ বা সার্বিক তত্ত্ব পরস্পরের তুলনায় ঊর্ধ্ব বা নিম্নগতিশীল বস্তুসমূহ বা সিস্টেম নিয়ে আলোচনা করেছে। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সালে।
- পক্ষান্তরে আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব শুধু পরস্পরের তুলনায় সমগতিতে সঞ্চরণশীল বা অসঞ্চরণশীল বস্তু বা সিস্টেম নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
- এটি সাধারণ তত্ত্বের একটি বিশেষ রূপ। এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯০৫ সালে। 
- অইিনস্টাইনের স্পেশাল থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকে আলাের বেগ যে স্থির কিংবা গতিশীল সব মাধ্যমে সমান তা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।
- স্পেশাল থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকেই সর্বকালের সবচেয়ে চমকপ্রদ সূত্র E=mc2 বের হয়ে আসে, যেখানে দেখানাে হয় বস্তুর ভরকে শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, পদার্থ বিজ্ঞান।
৭৮৬.
একটি পাথর উপর থেকে ছেড়ে দিলে এটি ভূমি স্পর্শ করা পর্যন্ত শক্তির কী কী ধরণের পরিবর্তন ঘটে?
  1. ক) গতি শক্তি > বিভব শক্তি > শব্দ শক্তি
  2. খ) স্থিতি শক্তি > গতি শক্তি > শব্দ শক্তি
  3. গ) বিভব শক্তি > গতি শক্তি > শব্দ শক্তি ও তাপ শক্তি
  4. ঘ) গতি শক্তি > স্থিতি শক্তি > তাপ শক্তি
সঠিক উত্তর:
গ) বিভব শক্তি > গতি শক্তি > শব্দ শক্তি ও তাপ শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিভব শক্তি > গতি শক্তি > শব্দ শক্তি ও তাপ শক্তি
ব্যাখ্যা
একটি পাথর যখন উপরে স্থির অবস্থায় থাকে তখন এর মধ্যে বিভব শক্তি বা স্থিতি শক্তি জমা থাকে।
যখন পাথরটিকে ছেড়ে দেয়া হবে তখন অভিকর্ষজ বলের প্রভাবে বিভব শক্তি গতি শক্তিতে রুপান্তরিত হবে।
পাথরটি যখন ভূমিতে আঘাত করবে তখন আঘাতের ফলে যে স্থানে আঘাত করবে সেখানে তাপ শক্তি উৎপন্ন হবে এবং একই সাথে শব্দ শক্তি উৎপন্ন হবে।

সুতরাং, শক্তির পরিবর্তন হবে - বিভব শক্তি > গতি শক্তি > শব্দ শক্তি ও তাপ শক্তি 

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, নমব-দশম শ্রেণি
৭৮৭.
ব্যাটারিতে রাসায়নিক শক্তিকে কোন শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়?
  1. আলোক শক্তি
  2. তাপশক্তি
  3. যান্ত্রিক শক্তি
  4. বিদ্যুৎ শক্তি
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ শক্তি
ব্যাখ্যা

• শক্তির রূপান্তর (Energy Transformation/Conversion): 
- শক্তির রূপান্তর হলো এক ধরনের শক্তিকে অন্য রূপে পরিবর্তন করার প্রক্রিয়া, যেখানে শক্তির মোট পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে (শক্তির সংরক্ষণশীলতা নীতি অনুসারে) এবং এটি সৃষ্টি বা ধ্বংস হয় না; যেমন—রাসায়নিক শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি, বা বিদ্যুৎ শক্তি থেকে আলোক শক্তির উদাহরণ ইত্যাদি। 
- শক্তি রূপান্তরের উদাহরণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি রাসায়নিক শক্তি। 
- বাসায় রান্না করার জন্য যে গ্যাস ব্যবহার করা হয়, সেটা রাসায়নিক শক্তির তাপশক্তিতে রূপান্তরের উদাহরণ। সে কারণে বাসা-বাড়িতে বৈদ্যুতিক শক্তি সরবরাহ করার সাথে সাথে গ্যাসও সরবরাহ করা হয়।
- রাসায়নিক শক্তিকে তাপে রূপান্তর করার কারণে  আলোক শক্তিও পাওয়া যায়। মোমবাতির আলো তার একটা উদাহরণ।
- গ্যাস, পেট্রল, ডিজেল বা এ ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করে নানারকম ইঞ্জিনে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়। যদিও ভালো করে দেখলে দেখা যাবে রাসায়নিক শক্তি প্রথমে তাপশক্তি এবং সেই তাপশক্তি আবার যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হচ্ছে।
- আধুনিক প্রযুক্তির যুগে রাসায়নিক শক্তির রূপান্তরের সবচেয়ে বড় উদাহরণটি হচ্ছে ব্যাটারি, যেখানে এই শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। মোবাইল টেলিফোন থেকে শুরু করে গাড়ি কিংবা ঘড়ি থেকে মহাকাশযান এমন কোনো জায়গা খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে ব্যাটারি ব্যবহার করে রাসায়নিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়নি।
- রাসায়নিক শক্তির সবচেয়ে চমকপ্রদ উদাহরণ জীবন্ত প্রাণির শরীর, যেখানে খাদ্য থেকে রাসায়নিক শক্তি যান্ত্রিক কিংবা বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।

৭৮৮.
1 প্যাসকেল বলতে কী বোঝায়?
  1. 1 N বল 1 m2 ক্ষেত্রফলের উপর প্রয়োগ
  2. 1 kg বল 1 m2 ক্ষেত্রফলের উপর প্রয়োগ
  3. 10 N বল 1 m2 ক্ষেত্রফলের উপর প্রয়োগ
  4. 1 N বল 1 cm2 ক্ষেত্রফলের উপর প্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
1 N বল 1 m2 ক্ষেত্রফলের উপর প্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1 N বল 1 m2 ক্ষেত্রফলের উপর প্রয়োগ
ব্যাখ্যা

• প্যাসকেল:
- যদি কোনো পৃষ্ঠের একক ক্ষেত্রফলের ওপর লম্বভাবে ১ নিউটন বল প্রয়োগ করা হয়, তবে ঐ পৃষ্ঠে যে চাপের সৃষ্টি হয় তাকে ১ প্যাসকেল বলে।
- একক ক্ষেত্রফল মানে = 1 বর্গমিটার (1 m2).
সুতরাং,
1 প্যাসকেল (Pa) = 1 নিউটন (N) ÷ 1 বর্গমিটার (m2)
অর্থাৎ, 1 Pa = 1 N m-2.
- 1 নিউটন বল যদি 1 বর্গমিটার ক্ষেত্রফলের উপর প্রয়োগ করা হয়, তবে চাপ হবে ১ প্যাসকেল।

মাত্রা (Dimensional Formula):
[P] = [F]/[A] = [MLT-2]/[L2] = ML-1T-2.

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৮৯.
মোবাইলের ব্যাটারি চার্জ করতে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়, কারণ সেখানে-
  1. তড়িৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  2. তড়িৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  3. তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  4. তড়িৎ শক্তি চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
ব্যাখ্যা

• মোবাইলের ব্যাটারি চার্জ করার সময় মূলত তড়িৎ শক্তি (Electrical Energy) ব্যবহার করা হয়। ব্যাটারির ভিতরে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে এটি রাসায়নিক শক্তিতে (Chemical Energy) রূপান্তরিত হয়। ব্যাটারিতে থাকা রাসায়নিক পদার্থগুলো এই শক্তি জমা রাখে এবং পরে যখন মোবাইল ব্যবহার করা হয়, তখন ব্যাটারি থেকে বিদ্যুৎ তৈরি হয় যা ফোনের কাজ চালায়। তাই, মোবাইল চার্জ করার সময় তড়িৎ শক্তি সরাসরি যান্ত্রিক, আলোক বা চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয় না, বরং এটি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে সংরক্ষিত হয়। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো: গ) তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি (Electrical Energy): 
- শক্তির রূপান্তরের সবার আগে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তির কথা বলা হয় কারণ এই শক্তিকে সবচেয়ে সহজে অন্যান্য শক্তিতে রূপান্তর করা যায়।
- শুধু তা-ই নয় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বিদ্যুৎশক্তি সরবরাহ করা সবচেয়ে সহজ।
- দৈনন্দিন জীবনে বৈদ্যুতিক পাখা বা অন্যান্য মোটরে তড়িৎ বা বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায়।
(যদিও চৌম্বক শক্তি আসলে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি থেকে ভিন্ন কিছু নয়, তার পরেও মোটর বা বৈদ্যুতিক পাখার ভেতরে বিদ্যুৎশক্তিকে প্রথমে চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তর করে সেখান থেকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হতে হয়।) - বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি বা হিটারে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- বাল্ব, টিউবলাইট বা এলইডিতে তড়িৎশক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- শব্দশক্তি তৈরি করার জন্য সাধারণত কোনো কিছুকে কাঁপাতে হয় যা এক ধরনের যান্ত্রিক শক্তি। যেমন- স্পিকারে বিদ্যুৎশক্তি শব্দশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- মোবাইলে টেলিফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করা হয়, যেখানে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৯০.
Tachometer is used to measure -
  1. the evaporating capacity of the air
  2. determining longitude at sea
  3. wind speed and wind pressure
  4. the rotational speed of a rotating object
সঠিক উত্তর:
the rotational speed of a rotating object
উত্তর
সঠিক উত্তর:
the rotational speed of a rotating object
ব্যাখ্যা
ট্যাকোমিটার:
- কোনাে ঘূর্ণন যন্ত্রের গতি পরিমাপের জন্য যে যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাকে ট্যাকোমিটার (Techometer)।
- এটি সাধারণত রেভোলিউশনস পার মিনিট (RPM) হিসেবে গতি পরিমাপ করে।
- ট্যাকোমিটারের সাহায্যে উড়োজাহাজের গতি নির্ণয় করা যায়।

অন্যদিকে -
- অ্যানিমোমিটার: সাধারণত বায়ুর গতিবেগ মাপা হয় নট (knot) নামক একক দিয়ে। ১ নট = ১.৮২৫ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা। সাধারণত অ্যানিমোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে বায়ুর গতিবেগ পরিমাপ করা হয়।
- সময় নির্ণায়ক যন্ত্রটির নাম হচ্ছে ক্রনোমিটার। বিশেষ করে সমুদ্রে দ্রাঘিমাংশ নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- বাষ্পীভবনের হার মাপার যন্ত্র অ্যাটমোমিটার।

উৎস: Britannica.
৭৯১.
টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় কোন ধরনের চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়? 
  1. অস্থায়ী চুম্বক
  2. কোমল চুম্বক
  3. সিরামিক চুম্বক
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সিরামিক চুম্বক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরামিক চুম্বক
ব্যাখ্যা
চুম্বক: 
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। 
- এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়। 

কৃত্রিম চুম্বক: 
- কৃত্রিম চুম্বক দুই ধরনের হয়। 
যথা- 
১. অস্থায়ী বা কোমল চুম্বক: 
- চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়। 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে। 

২. স্থায়ী বা কঠিন চুম্বক: 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। 
- স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক। 
- টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৯২.
6N এবং 8N মানের দুটি বল লম্বভাবে ক্রিয়া করলে লব্ধির মান কত?
  1. 8 N
  2. 10 N
  3. 12 N
  4. 4 N
সঠিক উত্তর:
10 N
উত্তর
সঠিক উত্তর:
10 N
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: 6N এবং 8N মানের দুটি বল লম্বভাবে ক্রিয়া করলে লব্ধির মান কত?

সমাধান:
দুটি বল P ও Q লম্বভাবে ক্রিয়া (θ = 90°) করলে,
এদের লব্ধি, R2 = P2 + Q2 + 2PQcosθ
⇒ R2 = 62 + 82 + 2 × 6 × 8 × cos90°
⇒ R2 = 36 + 64 + 0
⇒ R2 = 100

∴ লব্ধির মান, R = √100
= 10 N
৭৯৩.
কৃষ্ণবিবরের গঠন বা মহাকর্ষিক প্রভাবের কারণে মূলত কোন কণা মুক্ত হতে পারে না? 
  1. প্রোটন 
  2. ফোটন 
  3. ইলেকট্রন 
  4. নিউট্রন 
সঠিক উত্তর:
ফোটন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফোটন 
ব্যাখ্যা

কৃষ্ণবিবর (Black hole): 
- ১৯৬৯ সালে জন হুইলার নামক জনৈক মার্কিন বিজ্ঞানী কৃষ্ণবিবর আবিষ্কার করেন। 
- তিন সৌর ভরের সমান বা বেশি ভরের নক্ষত্রের সুপার নোভা বিস্ফোরণের পর এর অন্তর্বস্তু অনির্দিষ্টভাবে সংকুচিত হতে থাকে। 
- সংকোচনের কারণে আয়তন প্রায় শূন্য এবং ঘনত্ব প্রায় অসীম হওয়ায় মহাকর্ষ ক্ষেত্র এমন প্রবল হয় যে, এ জাতীয় বস্তু থেকে এর মহাকর্ষকে কাটিয়ে কোনো প্রকার আলো বা সংকেতও বেরিয়ে আসতে পারে না, তাই বস্তুটিকে আর দেখা যায় না। নক্ষত্রের এই অবস্থাকে বলা হয় কৃষ্ণবিবর (Black hole)। 
- বাস্তবে g-এর মান এত বেশি হয় যে, এমনটি ফোটন কণাও এর পৃষ্ঠ থেকে মুক্ত হতে বা বেরিয়ে আসতে পারে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৯৪.
নিচের কোনটির উপর কাজের পরিমাণ নির্ভর করে?
  1. খাদ্য গ্রহণ
  2. বল এবং দূরত্ব
  3. শারীরিক সামর্থ্য
  4. বল ও সরণ
সঠিক উত্তর:
বল ও সরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বল ও সরণ
ব্যাখ্যা
• কাজের পরিমাণ নির্ভর করে বল ও সরণের উপর।

- বল প্রয়োগে বস্তু সরণ ঘটলে কাজ সম্পন্ন হয়।
- বল এবং সরণের গুণফল দ্বারা কাজের পরিমাপ করা হয়।
- অভিকর্ষের দিকে বস্তুর সরণ হলে বল দ্বারা কাজ সম্পন্ন হয়।
- অভিকর্ষের বিপরীতে সরণ হলে বলের বিরুদ্ধে কাজ সম্পন্ন হয়।
- কাজ করার সমার্থ্য হচ্ছে শক্তি।
- কাজ ও শক্তি পরস্পরের পরিপূরক।
- এদের উভয়ের একক এক ও অভিন্ন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯৫.
নদীর একপাশ থেকে গুণ টেনে নৌকাকে মাঝ নদীতে রেখেই সামনের দিকে নেয়া সম্ভব হয় কিভাবে?
  1. যথাযথভাবে হাল ঘুরিয়ে
  2. নদী স্রোতের সুকৌশল ব্যবহারে
  3. গুণ টানার সময় টানটি সামনের দিকে রেখে
  4. পাল ব্যবহার করে
সঠিক উত্তর:
যথাযথভাবে হাল ঘুরিয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যথাযথভাবে হাল ঘুরিয়ে
ব্যাখ্যা
• নদীর একপাশ থেকে গুণ টেনে নৌকাকে মাঝ নদীতে রেখেই সামনের দিকে নেয়া সম্ভব যথাযথভাবে হাল ঘুরিয়ে।

- বলের অনুভূমিক উপাংশ নৌকাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং উল্লম্ব উপাংশ নৌকাটিকে পাড়ের দিকে টানে।
- কিন্তু নৌকার হাল দ্বারা উল্লম্ব উপাংশ প্রতিহত করা হয়।
- গুণ যত লম্বা হয়, নৌকা তত তাড়াতাড়ি নৌকা সামনে এগিয়ে যায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৭৯৬.
"ভর ও শক্তি সমতুল্য”—কোন বিজ্ঞানীর উক্তি?
  1. নিউটন
  2. আইনস্টাইন
  3. গ্যালিলিও
  4. ফ্যারাডে
সঠিক উত্তর:
আইনস্টাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
ভরশক্তি সম্পর্ক:
- ভরশক্তি সম্পর্ককে E=mcসমীকরণ আকারে লেখা যায়।
- আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বের সাহায্যে একটি বিখ্যাত সম্পর্ক বের করেন।
- এটি হলো ভর ও শক্তির সম্পর্ক।

ভরকে শক্তিতে রূপান্তরের সম্পর্ক নিম্নোক্তভাবে লেখা যায়,
E = mc2
যেখানে,
E = মোট শক্তি,
m= বস্তুর ভর এবং
C = আলোর দ্রুতি।

- এই সমীকরণটি আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের অন্যতম ফসল যা হলো ভর শক্তির একটি রূপ । 
- "ভর ও শক্তি সমতুল্য”—উক্তিটি হচ্ছে আইনস্টাইনের।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র; একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন, মুহম্মদ আজিজ হাসান, ড. রানা চৌধুরী।
৭৯৭.
স্বাভাবিক কথোপকথনের ক্ষেত্রে শব্দের তীব্রতা লেভেল কত?
  1. 60 dB
  2. 40 dB
  3. 90 dB
  4. 120 dB
সঠিক উত্তর:
60 dB
উত্তর
সঠিক উত্তর:
60 dB
ব্যাখ্যা
- স্বাভাবিক কথোপকথনের ক্ষেত্রে শব্দের তীব্রতা লেভেল হলো- 60 dB

শব্দের তীব্রতার লেভেল: 
- একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত শব্দ শক্তির পরিমাণ ই হচ্ছে শব্দের তীব্রতা । 
- সাধারণ ক্ষেত্রে বাতাসের মধ্যে শ্রোতার অবস্থানের সাপেক্ষে তীব্রতা পরিমাপ করা হয়। 
- শব্দের তীব্রতার মূল একক W/m2 । 
- শব্দের তীব্রতা ও পরিমাপ আপেক্ষিক শ্রাব্যতার সর্বনিম্ন ধাপ থেকে শুরু হয়। এই সর্বনিম্ন তীব্রতাকে বলা হয় প্রমিত বা প্রমাণ তীব্রতা। এর মান 10-12 Wm-2 বেছে নেয়া হয়েছে। 
- এটি হচ্ছে 1000 Hz কম্পাঙ্কের একটি শব্দ তরঙ্গের তীব্রতা যাকে শ্রাব্যতার সূচনা সীমা হিসাবেও ধরা হয়। 


উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯৮.
উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র নিচের কোনটি?
  1. পাইরোমিটার
  2. থার্মোমিটার
  3. হাইগ্রোমিটার
  4. ম্যানোমিটার
সঠিক উত্তর:
পাইরোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাইরোমিটার
ব্যাখ্যা
পরিমাপক যন্ত্র:

- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র সিসমোগ্রাফ।
- ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপার যন্ত্র রিখটার স্কেল।
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ব্যারোমিটার।
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ম্যানোমিটার।
- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র হাইগ্রোমিটার।
- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র পাইরোমিটার।
- তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র থার্মোমিটার।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৭৯৯.
বৈদ্যুতিক চুলা থেকে যে বিকীর্ণ তাপ উৎপন্ন হয় তা কোন ধরনের রশ্মি?
  1. অবলোহিত রশ্মি
  2. রঞ্জন রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. অতিবেগুনি রশ্মি
সঠিক উত্তর:
অবলোহিত রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবলোহিত রশ্মি
ব্যাখ্যা
অবলোহিত রশ্মি: 
- দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গের চেয়ে বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ অবলোহিত বিকিরণ বা অবলোহিত রশ্মি। 
- বর্ণালির 10-6 m থেকে 10-3 m তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসর অবলোহিত বিকিরণের। 
- সূর্যের আলো থেকে আমারা যে তাপ পাই তা অবলোহিত বিকিরণ। 
- এছাড়া কাঠের আগুন, বৈদ্যুতিক চুলা, গ্যাস বা যে কোন জ্বালানি থেকে উৎপন্ন তাপ মাত্রই অবলোহিত রশ্মি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০০.
কোন পদার্থ সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ পরিবাহী?
  1. রুপা
  2. পাথর
  3. সোনা
  4. লোহা
সঠিক উত্তর:
রুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুপা
ব্যাখ্যা
পরিবাহিতা: 
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহ পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, কোনো পরিবাহীর স্থির তাপমাত্রায় দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য V থাকা অবস্থায় এর ভিতর দিয়ে I পরিমাণ তড়িৎ প্রবাহ হলে ও'মের সূত্রানুসারে, 
I ∝ V 
বা, I = GV 
এখানে, G একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক। 
- একে পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা (conductance) বলে। 
- পরিবাহীতায় একক সিমেন্স (Siemens)। একে সংক্ষেপে S দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত বেশি তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তত বেশি। 
- আবার একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত কম তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর রোধ তত বেশি। 
- প্রকৃতপক্ষে কোনো পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তার রোধের মানের বিপরীত সংখ্যা। 
- উপাদান, তাপমাত্রা এবং আকার আকৃতির উপর পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা নির্ভর করে। 
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে সকল পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা হ্রাস পায়। 
- সকল ধাতুই উত্তম পরিবাহী কিন্তু একই আকার আকৃতির সকল ধাতুর তড়িৎ পরিবাহিতা সমান নয়। 
যেমন- রূপার তড়িৎ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি। 
- অপরদিকে জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদির তড়িৎ পরিবাহিতা সাধারণ তাপমাত্রায় খুবই কম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।