বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন৩,৭৪৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / ৩৮ · ৫০১৬০০ / ৩,৭৪৭

৫০১.
কোন চুম্বকত্ব অপসারণের সাথে বিলুপ্ত হয়?
  1. স্থায়ী চুম্বক
  2. সিরামিক চুম্বক
  3. সংকর চুম্বক 
  4. অস্থায়ী চুম্বক 
সঠিক উত্তর:
অস্থায়ী চুম্বক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থায়ী চুম্বক 
ব্যাখ্যা

কৃত্রিম চুম্বক: 
- কৃত্রিম চুম্বক দুই ধরনের হয়। 
যথা- ১. অস্থায়ী বা কোমল চুম্বক এবং ২. স্থায়ী বা কঠিন চুম্বক।

অস্থায়ী চুম্বক: 
- চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়। 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে। 

স্থায়ী চুম্বক: 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। 
- স্থায়ী চুম্বক আবার দুই ধরনের হয়। 
যথা- ১। সংকর চুম্বক ও ২। সিরামিক চুম্বক। 
- টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫০২.
ডিজিটাল সংকেতের দুটি স্তর কী দ্বারা প্রকাশ করা হয়? 
  1. + এবং −
  2. S এবং P
  3. ০ এবং ১
  4. L এবং M
সঠিক উত্তর:
০ এবং ১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০ এবং ১
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি: 
- বিশেষ কোনো প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত অনেকগুলি ইলেকট্রনিকস বর্তনীকে সমষ্টিগতভাবে ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি বলা হয়। 
যেমন- কম্পিউটার, টেলিভিশন, রেডিও, ইলেকট্রনিকস ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি বহুল পরিচিত ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির উদাহরণ। 
- বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ইলেকট্রনিকস পদ্ধতিসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১. এনালগ পদ্ধতি (analogue system), 
২. ডিজিটাল পদ্ধতি (digital system) এবং 
৩. মিশ্র পদ্ধতি (hybrid system)। 

ডিজিটাল পদ্ধতি: 
- ডিজিটাল সংকেত হলো বিচ্ছিন্ন তড়িৎ সংকেত। 
- এই সংকেতের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মান আছে। এই দুই মানের মাঝে অন্য কোনো স্তর নাই। সময়ের সাথে এর মান হয় সর্বোচ্চ না হয় সর্বনিম্ন মানে পরিবর্তিত হয়, এই সংকেত চৌকো তরঙ্গের (square waves)। 
- ডিজিটাল পদ্ধতিতে ক্রম-পরিবর্তনশীল এনালগ সংকেতের বদলে স্তর পরিবর্তনশীল সংকেত ব্যবহার করা হয়। 
- ইলেকট্রনিকসের ডিজিটাল পদ্ধতির এই সংকেতকে ডিজিটাল বা বাইনারী (binary) সংকেত বলা হয়। 
- দুটি পৃথক অবস্থায় কাজ করে এমন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে এই সংকেত পাওয়া যায়। 
যেমন- ট্রানজিস্টারের সচল বা অন (on) এবং অচল বা অফ (off) অবস্থা দ্বারা দুটি পৃথক অবস্থা বোঝানো সম্ভব। প্রজ্জ্বলিত বাতি এবং নির্বাপিত বাতি অথবা টেপের চৌম্বকায়িত অবস্থা বা অচৌম্বকায়িত অবস্থা দিয়ে ডিজিটাল সংকেতের স্তর দুটিকে সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব। 
- ডিজিটাল সংকেতের স্তর দুটিকে 0 এবং ১ (0 and 1), সত্য এবং মিথ্যা (true and false), কিংবা উচ্চ এবং নিম্ন (high and low) দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- ডিজিটাল ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি ডিজিটাল ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির জনপ্রিয় উদাহরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৩.
কোন দুই রঙের মিশ্রনে বেগুনি রঙ তৈরি হয়?
  1. লাল ও আকাশী
  2. নীল ও সাদা
  3. সবুজ ও নীল
  4. সাদা ও আকাশী
সঠিক উত্তর:
লাল ও আকাশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাল ও আকাশী
ব্যাখ্যা
রং সম্পর্কিত জ্ঞান: 
- লাল, নীল, সবুজ এ তিনটি মূল বর্ণ। 
- মূল তিনটি বর্ণ থেকে যেকোন দুটি মিশালে যে রং হয় তাকে বলা হয় গৌণ বর্ণ। 
যেমন- 
লাল ও নীল (আকাশী) রং মিশালে বেগুনী
• হলুদ রং মিশালে সবুজ এবং 
• হলুদ ও লাল রং মিশালে কমলা রং হয়। 
- তাহলে বেগুনী, সবুজ, ও কমলা এ তিনটি গৌণ বর্ণ। 
- মূল ও গৌন বর্ণের নিজ নিজ প্রখরতা কমিয়ে হয় আকাশী, গোলাপী, সবুজ কলা পাতার রং, হালকা বেগুনী ও হাল্কা কমলা রং। 
- কিন্তু একটি মূল বর্ণ ও একটি গৌণ মিশালে সে বর্ণে দুটি বর্ণের সংমিশ্রণের আভা থাকবে। 
যেমন- 
•  লাল ও কমলা মিশালে লালচে কমলা, 
• লাল ও বেগুনী মিশালে লালচে-বেগুনী ও 
• নীল মিশালে নীল-বেগুনী রং হয়। 
- এগুলোকে বলা হয় প্রান্তিক রং। 
- যে রং দৃষ্টিতে প্রখর লাগে এবং গরম অনুভূতি দেয় তাকে বলা হয় উষ্ণ বর্ণ বা গরম রং। 
যেমন- গাঢ় হলুদ ইত্যাদি। 
- আবার যে রং দেখে ঠান্ডা বোধ হয় তাকে শীতল রং বলা হয়। 
যেমন - আকাশী, হালকা বেগুনী ইত্যাদি ঠান্ডা রং। 

উৎস: গার্হস্থ্য অর্থনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৪.
সর্বপ্রথম 'কৃষ্ণগহ্বর (Black Hole)' শব্দটি ব্যবহার করেন কে?
  1. গ্যালিলিও
  2. স্টিফেন হকিং
  3. জোহানেস কেপলার
  4. জন হুইলার
সঠিক উত্তর:
জন হুইলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন হুইলার
ব্যাখ্যা

• বিজ্ঞানী জন হুইলার সর্বপ্রথম 'কৃষ্ণগহ্বর' শব্দটি ব্যবহার করেন।

• কৃষ্ণগহ্বর:
- কৃষ্ণগহবর বা কৃষ্ণবিবরে মহাকর্ষজনিত আকর্ষণ থাকে প্রবল।
- কৃষ্ণবিবরের আয়তন সসীম। ঘনত্ব, ভর, অভিকর্ষজ ত্বরণ, মুক্তিবেগ প্রায় অসীম।
- একটি মিল্কীওয়েতে ১০০ মিলিয়নের বেশি ব্ল্যাকহোল থাকতে পারে।
- মহাকাশে কৃষ্ণগহব্বর থাকার কথা প্রথম ধারণা করেন - আলবার্ট আইনস্টাইন। ১৯১৬ সালে তিনি তাঁর general theory of relativity তে এই ধারণা তুলে ধরেন।
- আমেরিকান মহাকাশ বিজ্ঞানী জন হুইলার সর্বপ্রথম ১৯৬৭ সালে "black hole" শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনিই মূলত কৃষ্ণগহবরের আবিষ্কারক।
- ২০১৯ সালে প্রথম ব্ল্যাক হোলের ছবি তুলতে সক্ষম হয় Event Horizon Telescope (EHT).

উৎস: নাসা এবং ব্রিটানিকা।

৫০৫.
কোন তত্ত্বটি আলোক তড়িৎ ক্রিয়া (photoelectric effect) ব্যাখ্যা করে?
  1. তরঙ্গ তত্ত্ব
  2. কোয়ান্টাম তত্ত্ব 
  3. আইনস্টাইনের তত্ত্ব
  4. তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
কোয়ান্টাম তত্ত্ব 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোয়ান্টাম তত্ত্ব 
ব্যাখ্যা

কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন। 
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়। 
- প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে। 
- এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
- প্লাঙ্কের মতে কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ গুচ্ছ বান্ডিল বা প্যাকেট আকারে সংঘটিত হয়। 
- কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দীর্ঘ দিনের রহস্যময় আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন। 
- এতে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়। 

তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব: 
- এই তত্ত্ব অনুসারে গতিশীল তড়িৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্রের দ্রুত পর্যাবৃত্ত পরিবর্তনের ফলে দৃশ্য অদৃশ্য শক্তির বিকিরণ হয় এবং অনুপ্রস্থ তরঙ্গাকারে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- এর দৃশ্য তরঙ্গই আলো। 
- এর জন্য কোন মাধ্যম প্রয়োজন হয় না। 
- এই তত্ত্ব ফটো তড়িৎ প্রতিক্রিয়া, কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ বা ব্ল্যাক বডি রেডিয়েশনের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়। 

কণা তত্ত্ব: 
- এই তত্ত্বানুসারে আলো বস্তু কণা দ্বারা গঠিত, উৎস থেকে যা সব দিকে নিঃসৃত হয় এবং সরলরেখায় চলে। 
- এই তত্ত্ব আলোর বিচ্ছুরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি বৈশিষ্টের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়। 

তরঙ্গ তত্ত্ব: 
- আলো তরঙ্গাকারে ইথার নামের একটি কাল্পনিক মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সব দিকে নির্গত হয়। 
- তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিভিন্নতার জন্য আলোর বর্ণ বিভিন্ন হয়। 
- এই তত্ত্ব আলোর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা দিতে সমর্থ হলেও মাইকেলসন-মর্লির পরীক্ষায় ইথারের অস্তিত্ব নাই প্রমাণিত হওয়ায় এই তত্ত্ব বিতর্কিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০৬.
ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য কোন বিজ্ঞানীরা নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন? 
  1. নিউটন, জন বারডিন ও গ্যালিলিও
  2. ওয়াল্টার ব্রাটেইন, আইনস্টাইন ও ফ্রেমিং
  3. উইলিয়াম শকলি, ম্যারি কুরি ও পিয়েরে কুরি
  4. জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন ও উইলিয়াম শকলি
সঠিক উত্তর:
জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন ও উইলিয়াম শকলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন ও উইলিয়াম শকলি
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর (Transistor): 
- 1947 সালে বেল ল্যাবরেটরিতে প্রথম ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়। 
- এই ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন এবং উইলিয়াম শকলিকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। 
- এই ট্রানজিস্টর কত দ্রুত এবং কত ব্যাপকভাবে পুরো পৃথিবীকে পাল্টে দেবে সেটি তখনো কেউ অনুমান করতে পারেনি। 
- ট্রানজিস্টর ভ্যাকুয়াম টিউবের মতোই কাজ করতে পারে কিন্তু ভ্যাকুয়াম টিউবের তুলনায় এটি অতি ক্ষুদ্র এবং ওজন খুবই কম, এটি ব্যবহার করতে খুব অল্প বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়, এটি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য এবং সবচেয়ে বড় কথা এটি অনেক কম খরচে তৈরি করা সম্ভব। 
- কাজেই ট্রানজিস্টর খুব দ্রুত ভ্যাকুয়াম টিউবকে সরিয়ে তার স্থান দখল করে নিতে শুরু করল এবং পৃথিবীর মানুষ স্বল্প মূল্যে ট্রানজিস্টর ব্যবহার করে তৈরি নানা ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি পেতে শুরু করল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫০৭.
একটি বৈদ্যুতিক বাল্বের গায়ে 40W - 200V লেখা আছে বাল্বটির রোধ কত?
  1. 1000 Ohm
  2. 5 Ohm
  3. 1/5 Ohm
  4. 8000 Ohm
সঠিক উত্তর:
1000 Ohm
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1000 Ohm
ব্যাখ্যা
দেওয়া আছে,
- বিদ্যুৎ শক্তি (Power, P) = 40 W
- ভোল্টেজ (Voltage, V) = 200 V
- রোধ (Resistance, R) = ?

 আমরা জানি, 
P=V​2/R
⇒  R=V2/P
⇒ R=2002/40​=40000​/40=1000 Ω​

∴ রোধ (Resistance, R) =1000 Ω​

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫০৮.
কোন কণার মাধ্যমে কণার ভর ব্যাখ্যা করা হয়?
  1. ইলেকট্রন
  2. প্রোটন
  3. নিউট্রন
  4. হিগস বোসন
সঠিক উত্তর:
হিগস বোসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিগস বোসন
ব্যাখ্যা

• Standard Model অনুযায়ী কণাগুলোর ভর ব্যাখ্যা করার জন্য হিগস বোসন নামক বিশেষ কণার ধারণা দেওয়া হয়, যা ভরের উৎস হিসেবে কাজ করে।

• স্ট্যান্ডার্ড মডেল ও হিগস বোসন:
- আধুনিক প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্সের অগ্রগতির ফলে শক্তিশালী এক্সিলারেটর (Accelerator) তৈরি করা সম্ভব হয়েছে, যার মাধ্যমে কণাকে অত্যন্ত উচ্চ শক্তিতে ত্বরিত করা যায়।
- ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার গঠন ও আচরণ ব্যাখ্যার জন্য Standard Model ব্যবহৃত হয়।
- Standard Model অনুযায়ী মৌলিক কণার মাধ্যমে সকল পদার্থের গঠন ব্যাখ্যা করা হয়।
- এই মডেলে কণাগুলোর ভর ব্যাখ্যা করার জন্য হিগস বোসন (Higgs boson) নামক বিশেষ কণার ধারণা দেওয়া হয়।
- ২০১৩ সালে পরীক্ষামূলকভাবে হিগস বোসনের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়।
- আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে কণা পদার্থবিজ্ঞান (Particle Physics) একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা।
- কঠিন পদার্থবিজ্ঞান (Solid State Physics) অর্ধপরিবাহী পদার্থের ওপর গবেষণার ভিত্তি গড়ে তোলে, যা আধুনিক ইলেকট্রনিক্সের মূল ভিত্তি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৫০৯.
টেলিভিশনের রিমোট কন্ট্রোল থেকে কোন আলো বের হয়?
  1. ক) মাইক্রোওয়েভ
  2. খ) রেডিও ওয়েভ
  3. গ) ইনফ্রারেড আলো
  4. ঘ) আল্ট্রা ভায়োলেট আলো
সঠিক উত্তর:
গ) ইনফ্রারেড আলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইনফ্রারেড আলো
ব্যাখ্যা
ইনফ্রারেড আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি বলে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না।
- টেলিভিশনের রিমোট কন্ট্রোল করার ইউনিট থেকে ইনফ্রারেড আলো বের হয় বলে আমরা সেখান থেকে আলো বের হতে দেখি না।
- মোবাইল ক্যামেরায় ছবি তোলার জন্য সিসিডি নামক যে সংবেদনশীল আইসি ব্যবহার করা হয় সেগুলোর সাহায্যে দৃশ্যমান আলোর সাথে সাথে খানিকটা ইনফ্রারেড আলোও দেখা যায়।

ইনফ্রারেড
এটি এক ধরনের ওয়েভ যার ফ্রিকুয়েন্সী সীমা ৩০০ 300 GHz থেকে ৪০০ THz হয়ে থাকে। খুব কাছাকাছি অবস্থিত দুইটিডিভাইসের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইনফ্রারেড ব্যবহার করা হয়।
এ ধরনের যোগাযোগে দুই প্রান্তে ট্রান্সমিটার ওরিসিভার থাকে।
- টেলিভিশন, ভিসিআর এ ব্যবহৃত রিমোট কন্ট্রোলে, বিভিন্ন ডিভাইস যেমন- কী-বোর্ড, মাউস, প্রিন্টার ইত্যাদির ওয়্যারলেস কমিউনিকেশনে ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: নবম দশম শ্রেণীর পদার্থজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি-প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৫১০.
কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুযায়ী আলোর কণিকার নাম কী? 
  1. কোয়ার্ক
  2. নিউট্রন
  3. প্রোটন
  4. ফোটন
সঠিক উত্তর:
ফোটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফোটন
ব্যাখ্যা
কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাবনা করেন। 
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে বের হয়ে না, বরং ক্ষুদ্র শক্তির প্যাকেট বা গুচ্ছ আকারে নির্গত হয়। 
- প্রতি কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্বনিম্ন মান নির্দিষ্ট থাকে। এই সর্বনিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
- প্লাঙ্কের মতে, কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ আকারে সংঘটিত হয়। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করে আলোক তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন, যার ফলে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১১.
কোন ধরণের পদার্থে তাপমাত্রা বাড়ালে বিদ্যুৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়? 
  1. অর্ধপরিবাহী
  2. সুপরিবাহী
  3. অপরিবাহী
  4. পরিবাহী
সঠিক উত্তর:
অর্ধপরিবাহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধপরিবাহী
ব্যাখ্যা
পরিবাহী পদার্থ: 
- ধাতব পরমাণুর কিছু ইলেকট্রন প্রায় মুক্ত অবস্থায় থাকে এবং সেগুলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে, সেজন্য সেগুলোকে পরিবাহী পদার্থ বলা হয়। 
- সোনা, রূপা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম এগুলো সুপরিবাহী পদার্থ। 
- পরিবাহী পদার্থ দিয়ে চার্জকে স্থানান্তর করা যায়, তবে সব সময় মনে রাখতে হবে এই স্থানান্তর হয় ইলেকট্রন দিয়ে, বিদ্যুতের প্রবাহ হয় ইলেকট্রন দিয়ে, নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন। 

অপরিবাহী পদার্থ: 
- যে পদার্থের ভেতর তড়িৎ বা বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য কোনো মুক্ত ইলেকট্রন নেই সেই পদার্থগুলো হচ্ছে বিদ্যুৎ অপরিবাহী বা অন্তরক পদার্থ। 
- প্লাস্টিক, রাবার, কাঠ, কাচ এগুলো হচ্ছে অপরিবাহী পদার্থের উদাহরণ। 
- মূলত অধাতুগুলো বিদ্যুৎ অপরিবাহী হয়। 

অর্ধপরিবাহী পদার্থ: 
- কিছু কিছু পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা সাধারণ তাপমাত্রায় পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি, তবে তাপমাত্রা বাড়ালে পরিবহন ক্ষমতা বেড়ে যায়। এই ধরনের পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
- সিলিকন বা জার্মেনিয়াম সেমিকন্ডাক্টরের উদাহরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫১২.
নিউটনের প্রথম গতিসূত্র কী নির্দেশ করে?
  1. জড়তার ধারণা
  2. বল ও ভরের সম্পর্ক
  3. ভরবেগের সংরক্ষণ
  4. ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
জড়তার ধারণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জড়তার ধারণা
ব্যাখ্যা

• জড়তার ধারণা — নিউটনের প্রথম গতিসূত্র মূলত বস্তুর জড়তার ধারণা প্রদান করে।

• নিউটনের প্রথম গতিসূত্র:
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু স্থিরই থাকবে।
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে গতিশীল বস্তু সমবেগে সরলরেখায় চলতে থাকবে।
- কোনো বস্তু তার বর্তমান অবস্থা পরিবর্তন করতে চায় না। বস্তুর এই স্বাভাবিক প্রবণতাকে জড়তা বলা হয়।

• জড়তা:
- জড়তা বস্তুর একটি ধর্ম।
- জড়তার কারণে স্থির বস্তু স্থির থাকতে চায়।
- জড়তার কারণে গতিশীল বস্তু সমবেগে চলতে চায়।
- জড়তার পরিমাণ বস্তুর ভরের উপর নির্ভর করে।
- ভর যত বেশি, জড়তা তত বেশি।

• নিউটনের প্রথম সূত্র ও জড়তার সম্পর্ক:
- প্রথম গতিসূত্রকে জড়তার সূত্রও বলা হয়।
- বাহ্যিক বল না থাকলে বস্তুর অবস্থা অপরিবর্তিত থাকে।
- এই সূত্র থেকেই জড়তার ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়।

• অন্যান্য অপশন:
- বল ও ভরের সম্পর্ক → নিউটনের দ্বিতীয় গতিসূত্রে বল, ভর ও ত্বরণের সম্পর্ক নির্ধারিত হয়।
- ভরবেগের সংরক্ষণ → ভরবেগ সংরক্ষণ নীতি আলাদা নীতি, যা সংঘর্ষ ইত্যাদিতে প্রযোজ্য।
- ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া → নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র অনুযায়ী প্রত্যেক ক্রিয়ার বিপরীতে সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

৫১৩.
১ সি.সি. পানির ভর কত?
  1. ক) ১ গ্রাম
  2. খ) ১০ গ্রাম
  3. গ) ১০০ গ্রাম
  4. ঘ) ১০০০ গ্রাম
সঠিক উত্তর:
ক) ১ গ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১ গ্রাম
ব্যাখ্যা
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে।
- ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সর্বোচ্চ আর তা হলো১গ্রাম/সি.সি. বা ১০০০ কেজি/মিটার
- ১ সি.সি. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা
- ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫১৪.
স্যাটেলাইট কোন বলের কারণে ঘুরতে থাকে?
  1. অভিকর্ষজ ত্বরণ
  2. মাধ্যাকর্ষণ বল
  3. আপেক্ষিক বল
  4. সমান্তরাল বল
সঠিক উত্তর:
মাধ্যাকর্ষণ বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাধ্যাকর্ষণ বল
ব্যাখ্যা

• স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহগুলো ভূ-পৃষ্ঠের সমান্তরালে একটি নির্দিষ্ট গতিতে চালনা করা হয়।
• কিন্তু পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে ঐ গতি নিয়েই সে বৃত্তাকার পথে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।
• কারণ ঐ বলের প্রভাবে পৃথিবী তাকে কেন্দ্রের দিকে টানে তাই সে ঐ সমান্তরাল অবস্থায় থাকতে পারে না।

৫১৫.
লোহাতে শব্দের বেগ কত?
  1. ক) 5220 m/s 
  2. খ) 332 m/s
  3. গ) 1450 m/s
  4. ঘ) 5220 m/s2
সঠিক উত্তর:
ক) 5220 m/s 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 5220 m/s 
ব্যাখ্যা
মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়। মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয় । যেমন বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 m/s, পানি মাধ্যমে 1450 ms-1 এবং লোহার মধ্যে 5220 m/s
৫১৬.
শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ কত?
  1. কম
  2. শূন্য
  3. অসীম
  4. সর্বাধিক
সঠিক উত্তর:
শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্য
ব্যাখ্যা

- শব্দ হলো একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, যার চলাচলের জন্য অবশ্যই একটি জড় মাধ্যমের (যেমন: কঠিন, তরল বা গ্যাসীয়) প্রয়োজন হয়। যেহেতু শূন্য মাধ্যমে (Vacuum) কোনো অণু বা পরমাণু থাকে না যা তরঙ্গ সঞ্চালন করতে পারে, তাই শূন্য মাধ্যমে শব্দ সঞ্চালিত হতে পারে না। এই কারণেই শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ ০ মিটার/সেকেন্ড বা শূন্য হয়। 

শব্দ: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- শব্দ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ, কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক একই। 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে (যেমন: ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি) শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। 
- তরল পদার্থের মাধ্যমে (যেমন: পানি) শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। 
- বায়বীয় পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম এবং শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- শব্দের তীব্রতা অন্যান্য তরঙ্গের মতো তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হবে এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫১৭.
কোন ধরনের ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি থাকে? 
  1. স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার
  2. স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার
  3. সমান প্যাঁচসংখ্যার ট্রান্সফরমার
  4. ভোল্টেজ পরিবর্ধক ট্রান্সফরমার
সঠিক উত্তর:
স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার
ব্যাখ্যা
ট্রান্সফরমার: 
- চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন হলে বিদ্যুৎ তৈরি হয়-এই নীতি ব্যবহার করে ট্রান্সফরমার তৈরি করা হয়। 
- যে পদ্ধতিতে সরাসরি বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই একটি কয়েল থেকে অন্য কয়েলে বিদ্যুৎ পাঠানো যায়, সেই প্রক্রিয়াকে বলে ট্রান্সফরমার। 
- তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশের ব্যবহার করে AC বা পরিবর্তী তড়িৎ বিভব বৃদ্ধি বা কমানো হয়, যে যন্ত্রের মাধ্যমে এই কাজ করা হয় তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- এই ট্রান্সফরমার দিয়ে অত্যন্ত চমকপ্রদ কিছু বিষয় করা যায়। 
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে বেড়ে যায়, তাকে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার বলে। বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহার করে ভোল্টেজকে অনেক গুণ বাড়ানো হয়। 
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা কম হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে কমে যায় তাকে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫১৮.
নিউক্লিয়াস ফিশনযোগ্য - প্রমাণ করেন কোন বিজ্ঞানী?
  1. ক) ওটো হান ও স্ট্রেসম্যান
  2. খ) হেনরী ও লেঞ্জ
  3. গ) চন্দ্রশেখর ভেংকটারমন ও আব্দুস সালাম
  4. ঘ) জন এরিংটোন ও এনরিকো ফার্মি
সঠিক উত্তর:
ক) ওটো হান ও স্ট্রেসম্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ওটো হান ও স্ট্রেসম্যান
ব্যাখ্যা
- ১৯৩৮ সালে ওটো হান (১৮৭৯-১৯৬৮) ও স্ট্রেসম্যান (১৯০২-১৯৮০) প্রমাণ করেন যে, নিউক্লিয়াস ফিশনযোগ্য ।
- অর্থাৎ ফিশনের ফলে একটি বড় ভর সংখ্যা বিশিষ্ট নিউক্লিয়াস ভেঙ্গে প্রায় সমান ভর বিশিষ্ট দুটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং
প্রচুর শক্তি উৎপাদিত হয়।
- এই তত্ত্ব প্রয়োগ করে নিউক্লিয় বোমা ও নিউক্লিয় চুল্লীর উদ্ভাবন হয়। নিউক্লিয়াস বিভাজন থেকে যে শক্তি উৎপাদন হয়, সেই শক্তির পরিমাণ বিপুল ।
- এজন্য বর্তমান আধুনিক বিশ্ব নিউক্লিয় শক্তিকে শক্তির একটি প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচনা করছে।
- ম্যাক্স প্ল্যাংক (১৮৫৮-১৯৪৭) বিকিরণ সম্পর্কীত কোয়ান্টাম তত্ত্ব  আবিষ্কার করেন। 

উৎস: এস.এস.সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১৯.
MRI যন্ত্রে প্রধানত কোন দুটি প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়? 
  1. গামা রশ্মি ও এক্স-রে
  2. রেডিও তরঙ্গ ও আলোক তরঙ্গ
  3. এক্স-রে ও আল্ট্রাসাউন্ড
  4. শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র ও রেডিও তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র ও রেডিও তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র ও রেডিও তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

- এমআরআই (Magnetic Resonance Imaging) স্ক্যানার মানবদেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলির বিস্তারিত চিত্র তৈরি করতে দুটি প্রধান শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র ও রেডিও তরঙ্গ প্রযুক্তি ব্যবহার করে। শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র শরীরের হাইড্রোজেন পরমাণুর প্রোটনগুলোকে একটি নির্দিষ্ট বিন্যাসে সারিবদ্ধ করতে বাধ্য করে। আবার রেডিও তরঙ্গ যখন সারিবদ্ধ প্রোটনগুলোতে প্রয়োগ করা হয়, তখন তারা শক্তি শোষণ করে এবং পরবর্তীতে সেই শক্তি সংকেত হিসাবে নির্গত করে, এই সংকেতগুলো একটি কম্পিউটার দ্বারা প্রক্রিয়া করে বিস্তারিত ছবি তৈরি করা হয়। 

এমআরআই(MRI): 

- এমআরআই এর অর্থ হচ্ছে ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইম্যাজিং (Magnetic Resonance Imaging)।
- এমআরআই যন্ত্রে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের কোনো স্থানের বা অঙ্গের বিস্তৃত প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়। 
- নিউক্লিয় চৌম্বক অনুনাদের ভৌত এবং রাসায়নিক নীতির উপর ভিত্তি করে এমআরআই যন্ত্র কাজ করে। 
- এমআরআই একটি নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি। 
- এই যন্ত্রে এক্সরে বা অন্য কোনো ধরনের বিকিরণ ব্যবহার করা হয় না। 
- প্রত্যেকটি প্রতিবিম্ব শরীরের কোনো স্থানের এক একটি ফালির মতো কাজ করে। এভাবে অনেকগুলো প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়, যেগুলো শরীরের ঐ অংশের সকল বৈশিষ্ট্যকে ফুটিয়ে তুলে। 
- পায়ের গোড়ালির মচকানো এবং পিঠের ব্যাথায় এমআরআই ব্যবহার করে জখমের বা আঘাতের তীব্রতা নিরূপণ করা হয়। 
- ব্রেণ এবং মেরু রুজ্জুর বিস্তৃত প্রতিবিম্ব তৈরির জন্য এমআরআই হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

৫২০.
কিডনির পাথর শনাক্তকরণে কোন রশ্মি ব্যবহৃত হয়?
  1. রঞ্জনরশ্মি
  2. গামা রশ্মি
  3. আলফা রশ্মি
  4. বিটা রশ্মি
সঠিক উত্তর:
রঞ্জনরশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রঞ্জনরশ্মি
ব্যাখ্যা
• X-ray / রঞ্জনরশ্মি:
- এক্সরে হলো এক ধরনের তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ।
- এক্সরে এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10- 10 m এর কাছাকাছি।
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্সরে আবষ্কার করেন।
- হাড়ের ফাটল, দাতের ক্ষয় নির্ণয়, কিডনির পাথর শনাক্তকরণ, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি নির্ণয়ে এক্সরে/রঞ্জনরশ্মি ব্যবহার করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২১.
রুপার আপেক্ষিক রোধ কত?
  1. ক) 1.59 × 10-8 Ωm
  2. খ) 1.68 × 10-8 Ωm
  3. গ) 2.44 × 10-8 Ωm
  4. ঘ) 2.50 × 10-8 Ωm
সঠিক উত্তর:
ক) 1.59 × 10-8 Ωm
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 1.59 × 10-8 Ωm
ব্যাখ্যা

একক দৈর্ঘ্য এবং একক প্রস্থচ্ছেদ ক্ষেত্রফলবিশিষ্ট কোনো একটি পরিবাহী তার প্রস্থচ্ছেদের অভিলম্বভাবে বিদ্যুৎ প্রবাহে যে পরিমাণ বাধা প্রদান করে তাকে তার আপেক্ষিক রোধ বলে।
আপেক্ষিক রোধের একক ও'ম মিটার ( Ω-m)।

রুপার আপেক্ষিক রোধ 1.59 × 10-8 Ωm

সুত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান। 

৫২২.
What does Newton’s second law of motion state?
  1. Gravitational force effect
  2. Action-reaction principle
  3. Inertia of matter
  4. The principle of conservation of energy
  5. Relationship between force, mass, and acceleration
সঠিক উত্তর:
Relationship between force, mass, and acceleration
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Relationship between force, mass, and acceleration
ব্যাখ্যা

• নিউটনের গতির দ্বিতীয় সূত্রটি মূলত বল, ভর এবং ত্বরণের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে।

• নিউটনের প্রথম সূত্র:
- "বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং সমবেগে চলতে থাকা বস্তু চিরকাল সমবেগে চলতে থাকবে।"
- এই সূত্রটি স্যার আইজ্যাক নিউটন তার "ফিলোসফিয়া ন্যাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিকা" (1687) গ্রন্থে প্রস্তাব করেছিলেন।
- নিউটনের প্রথম সূত্রটি "জড়তার সূত্র" (Law of Inertia) নামে পরিচিত।

• নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র:
- এই সূত্র অনুযায়ী, কোনো বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার ওপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে প্রযুক্ত হয়, বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকে ঘটে।" 
- এটি থেকে আমরা বিখ্যাত গাণিতিক সমীকরণ F = ma পাই, যেখানে F হলো বল, m হলো ভর এবং a হলো ত্বরণ।

• নিউটনের তৃতীয় সূত্র:
- এই সূত্র অনুযায়ী, যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করে, তখন দ্বিতীয় বস্তুটিও প্রথম বস্তুর ওপর সমান ও বিপরীতমুখী বল প্রয়োগ করে।
- একে সংক্ষেপে 'ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া' সূত্র বলা হয়। গাণিতিকভাবে একে F1 = - F2 দ্বারা প্রকাশ করা হয়, যেখানে একটি বল ক্রিয়া এবং অন্যটি প্রতিক্রিয়া।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

৫২৩.
কোন রং বেশি দূর থেকে দেখা যায়?
  1. সাদা
  2. কালো
  3. হলুদ
  4. লাল
সঠিক উত্তর:
লাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাল
ব্যাখ্যা
- দূর থেকে আমরা লাল রং আগে দেখতে পাই। 
- লাল রঙের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি এবং বিক্ষেপণ সবচেয়ে কম। তাই লাল রং বেশি দূর থেকে দেখা যায়। 
- আলোর বিক্ষেপণ নির্ভর করে এর রং ও তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের উপর। 
- আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি হলে তাঁর বিক্ষেপণ তত কম হয়। 
- লাল রং বেশি দূর থেকে দেখা যায় তাই উঁচু টাওয়ারে লাল রং এর লাইট ব্যবহৃত হয় যাতে বিমান নিচ দিয়ে যাবার সময় অনেক দূর থেকে দেখা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২৪.
রোধের ক্ষেত্রে কয়টি সূত্র প্রযোজ্য?
  1. ক) সাতটি
  2. খ) দুইটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
খ) দুইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দুইটি
ব্যাখ্যা

কোনো পরিবাহীর রোধ এর তাপমাত্রা, উপাদান, দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। স্থির তাপমাত্রায় ও একই উপাদানে কোনো পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। সুতরাং তাপমাত্রা ও উপাদান অপরিবর্তিত থাকলে কোনো পরিবাহীর রোধের দুটি সূত্র প্রযোজ্য।

১) দৈর্ঘ্যের সূত্র:- তাপমাত্রা এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল অপরিবর্তিত থাকলে পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্যের সমানুপাতিক। পরিবাহীর রোধ R এবং দৈর্ঘ্য। হলে সূত্রানুসারে Rxl, যখন এর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল অপরিবর্তিত থাকে।
অর্থাৎ, স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহীর দৈর্ঘ্য যত বড় হবে রোধ তত বৃদ্ধি পাবে। যদি স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের 1m দৈর্ঘ্যে পরিবাহীর রোধ 10 Ω হয় তবে 10 m দৈর্ঘ্যে পরিবাহীর রোধ 100 Ω হবে।

২) প্রস্থচ্ছেদের সূত্র:- অন্যান্য ভৌত অবস্থা, তাপমাত্রা এবং দৈর্ঘ্য অপরিবর্তিত থাকলে পরিবাহীর রোধ-এর প্রস্থচ্ছেদের
ক্ষেত্রফলের ব্যস্তানুপাতিক।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৫২৫.
দিনের বেলা চাঁদ কেন সাদা দেখায়?
  1. চাঁদের নিজস্ব রঙ সবুজ হওয়ার কারণে
  2. দিনের হালকা নীল আলো চাঁদের নিজস্ব হলুদ রঙের সঙ্গে মিশে চাঁদ সাদা মনে হওয়ায়
  3. সূর্যোদয়ের কারণে চাঁদ লাল দেখায়
  4. রাতের অন্ধকারে চাঁদ সাদা দেখায়
সঠিক উত্তর:
দিনের হালকা নীল আলো চাঁদের নিজস্ব হলুদ রঙের সঙ্গে মিশে চাঁদ সাদা মনে হওয়ায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিনের হালকা নীল আলো চাঁদের নিজস্ব হলুদ রঙের সঙ্গে মিশে চাঁদ সাদা মনে হওয়ায়
ব্যাখ্যা

• দিনের বেলা চাঁদকে সাদা ও সন্ধ্যার পর হলুদ দেখায় কারণ দিনের হালকা নীল আলো চাঁদের নিজস্ব হলুদের সাথে মিশে যায় তাই সাদা মনে হয়।

• আলোর বিক্ষেপণ:
- যখন কোনো আলোক তরঙ্গ কোন ক্ষুদ্র কণিকার উপর পড়ে, তখন কণিকাগুলো আলোক তরঙ্গকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দেয়। একে বলা হয় আলোর বিক্ষেপণ।

- তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হলে বিক্ষেপণ বেশি আবার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি হলে/বিক্ষেপণ কম
- নীল আলোর বিক্ষেপণ বেশি বলে আকাশ ও সমুদ্র নীল দেখায়।
- লাল আলোর বিক্ষেপণ কম বলে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় আকাশ লাল দেখায়।
- নভোচারীরা আকাশের রং কালো দেখতে পায় কারণ আকাশে বায়ুমন্ডল নেই।
- বিপদ সংকেতে সবসময় লাল আলো ব্যবহার করা হয়।
- দিনের বেলা চাঁদকে সাদা ও সন্ধ্যার পর হলুদ দেখায় কারণ দিনের হালকা নীল আলো চাঁদের নিজস্ব হলুদের সাথে মিশে যায় তাই সাদা মনে হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫২৬.
উদ্ভিদের বৃদ্ধি মাপার জন্য জগদীশচন্দ্র বসু কোন যন্ত্র উদ্ভাবন করেছিলেন? 
  1. ক্রেস্কোগ্রাফ
  2. স্পেকট্রোমিটার
  3. ব্যারোমিটার
  4. টেলিস্কোপ
সঠিক উত্তর:
ক্রেস্কোগ্রাফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রেস্কোগ্রাফ
ব্যাখ্যা

• জগদীশচন্দ্র বসু উদ্ভিদবিদ্যা এবং পদার্থবিজ্ঞানের একজন প্রতিভাবান বিজ্ঞানী ছিলেন। তিনি উদ্ভিদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ এবং মাপার জন্য ক্রেস্কোগ্রাফ নামক একটি যন্ত্র উদ্ভাবন করেছিলেন। এই যন্ত্রটির সাহায্যে উদ্ভিদের অতি সূক্ষ্ম বৃদ্ধি নিরীক্ষণ করা সম্ভব ছিল, যা সাধারণ চোখ দিয়ে দেখা যেত না। ক্রেস্কোগ্রাফ উদ্ভিদের পাতার বৃদ্ধি, লতাপাতা বা শিকড়ের দৈর্ঘ্য ইত্যাদি সময়ের সাথে কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে তা নির্ভুলভাবে রেকর্ড করতে সাহায্য করত। বসুর এই উদ্ভাবন উদ্ভিদবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সৃষ্টি করে এবং উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও জীবনচক্রের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে নতুন দিশা দেখায়। ফলে এটি উদ্ভিদবিজ্ঞানের গবেষণাকে অনেক উন্নত ও সূক্ষ্ম পর্যায়ে নিয়ে যায়।

- উত্তর: ক) ক্রেস্কোগ্রাফ। 

জগদীশচন্দ্র বসুর অবদান: 
- আচার্য স্যার জগদীশচন্দ্র বসু একদিকে ছিলেন একজন প্রখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী; অন্যদিকে একজন সফল জীববিজ্ঞানী। 
- এই উপমহাদেশে তিনি ছিলেন প্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া একজন বিজ্ঞানী। জগদীশচন্দ্র বসুর পূর্বপুরুষেরা থাকতেন ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের রাঢ়িখাল গ্রামে।
- তার জন্ম হয় 1858 সালের 30 নভেম্বর, ময়মনসিংহে।
- তার বাবা ভগবানচন্দ্র বসু ফরিদপুর জেলার একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। তার লেখাপড়া শুরু হয় ফরিদপুরের গ্রামীণ বিদ্যালয়ে, পরে কলকাতায় হেয়ার স্কুল এবং সেন্ট জেভিয়ার স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা শেষ করেন। 1880 সালে বিএ পাস করার পর তিনি ইংল্যান্ড যান এবং 1880-1884 সালের ভেতরে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে অনার্সসহ বিএ এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। 
- 1885 সালে মাতৃভূমিতে ফিরে এসে প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন। সেই যুগে তার কলেজে গবেষণার তেমন কোনো সুযোগ ছিল না, তার পরও তিনি গবেষণার কাজ চালিয়ে যান। দিনের বেলায় তার নানারকম ব্যস্ততা ছিল। তাই গবেষণার কাজ করতেন রাতের বেলায়। 

- বৈদ্যুতিক তার ছাড়া কীভাবে দূরে রেডিও সংকেত পাঠানো যায় এ বিষয়ে তিনি অনেক গবেষণা করেন। 1895 সালে তিনি প্রথমবারের মতো বেতারে দূরবর্তী স্থানে রেডিও সংকেত পাঠিয়ে দেখান। 
- মাইক্রোওয়েভ গবেষণার ক্ষেত্রেও তার বড় অবদান আছে, তিনিই প্রথম বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণের তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে মিলিমিটার পর্যায়ে (প্রায় 5 মিলিমিটার) নামিয়ে আনতে সক্ষম হন। 
- আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রেডিও সংকেতকে শনাক্ত করার জন্য অর্ধপরিবাহী জংশন ব্যবহার করেন। এই আবিষ্কার পেটেন্ট করে বাণিজ্যিক সুবিধা নেওয়ার পরিবর্তে তিনি সেটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। 
- পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কারিগরি, প্রযুক্তিবিদ এবং পেশাজীবীদের প্রতিষ্ঠান "ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (IEEE)" তাঁকে রেডিও বিজ্ঞানের একজন জনক হিসেবে অভিহিত করেছে। 

- পরবর্তী সময়ে জগদীশচন্দ্র বসু উদ্ভিদ শারীরতত্ত্বের ওপর অনেক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেন। এর মাঝে উদ্ভিদের বৃদ্ধি রেকর্ড করার জন্য ক্রেস্কোগ্রাফ আবিষ্কার, খুব সূক্ষ্ম নড়াচড়া শনাক্ত এবং বিভিন্ন উদ্দীপকে সাড়া দেওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য। আগে ধারণা করা হতো উদ্দীপকের সাড়া দেওয়ার প্রকৃতি হচ্ছে রাসায়নিক, কিন্তু তিনি দেখিয়েছিলেন এটি আসলে বৈদ্যুতিক। 
- 1917 সালে উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করার জন্য তিনি কলকাতায় বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসু বাংলায় লেখা রচনাবলি 'অব্যক্ত' নামক গ্রন্থে সংকলিত করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য একটি গ্রন্থ হচ্ছে "Response in the living and nonliving". 
- 1937 সালের 23 নভেম্বর জ্ঞানতাপস আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু মৃত্যুবরণ করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫২৭.
নিচের কোন শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায়? 
  1. সৌর শক্তি 
  2. কয়লা 
  3. পেট্রোল 
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস 
সঠিক উত্তর:
সৌর শক্তি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌর শক্তি 
ব্যাখ্যা

- 'সৌর শক্তি' একটি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস, এই শক্তির উৎস স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায়। 

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- বর্তমানে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন এক শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং এর ফলে শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, পরমাণুর শক্তি, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল (পেট্রোল), নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫২৮.
বস্তুর 'দ্রুতি' কোন ধরণের রাশি?
  1. স্কেলার
  2. ভেক্টর
  3. মৌলিক
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
স্কেলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্কেলার
ব্যাখ্যা
স্কেলার রাশি
যেসব ভৌত রাশিকে শুধু মান দ্বারা সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায়, দিক নির্দেশের প্রয়োজন হয় না তাদের স্কেলার রাশি বলে।
যেমন—দৈর্ঘ্য, দ্রুতি, ভর, কাজ ইত্যাদি।

♦ শুধু মানের পরিবর্তন হলে স্কেলার রাশির পরিবর্তন হয়। 
♦ স্কেলার রাশির যোগ, বিয়োগ, গুণ ইত্যাদি বীজগণিতের নিয়মে হয়।
♦ দুটি স্কেলার রাশির কোনোটির মান শূন্য না হলে এদের গুণফল শূন্য হয় না।
♦ দুটি স্কেলার রাশির গুণফলে সর্বদা একটি স্কেলার রাশি পাওয়া যায়।

ভেক্টর রাশি

যেসব ভৌত রাশিকে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করার জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয় তাদের ভেক্টর রাশি বলে।
যেমন—সরণ, বেগ, ত্বরণ, ওজন ইত্যাদি।

♦ শুধু মান অথবা শুধু দিক অথবা উভয়ের পরিবর্তন হলে ভেক্টর রাশির পরিবর্তন হয়।
♦ ভেক্টর রাশির যোগ, বিয়োগ, গুণ ইত্যাদি বীজগণিতের নিয়মে হয় না।
♦ দুটি ভেক্টর রাশির কোনো একটির মান শূন্য না হলেও এদের ভেক্টর গুণফল শূন্য হতে পারে।
♦ দুটি ভেক্টর রাশির গুণফল একটি ভেক্টর রাশি অথবা একটি স্কেলার রাশি হতে পারে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি।
৫২৯.
তেজস্ক্রিয় মৌলের তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা নির্ভর করে- 
  1. চাপের উপর
  2. তাপমাত্রার উপর
  3. রাসায়নিক বিক্রিয়ার উপর
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity): 
- হেনরি বেকরেল 1896 সালে ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা আবিস্কার করেন। 
- পরবর্তিতে বিজ্ঞানী (মাদাম) মেরি কুরি থোরিয়াম মৌলেও ইউরেনিয়ামের মত ধর্ম দেখতে পান। পরবর্তিতে মেরি কুরি এবং পিয়েরে কুরি ইউরেনিয়াম আকরিক থেকে পোলোনিয়াম ও রেডিয়াম নিস্কাশন করেন। এদের তেজস্ক্রিয়তা কয়েক হাজার গুণ বেশি। 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ হতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরাম এক রহস্যময়ী কণা এবং রশ্মি নির্গত হয়, এই প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- কোনো অস্থায়ী নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিকিরণ নিঃসরণের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বা তেজস্ক্রিয় ক্ষয় বলে। 
- তেজস্ক্রিয় বিকিরণকে তেজস্ক্রিয় রশ্মি বলে। 
- তেজস্ক্রিয় মৌলের যে পরমাণুর তেজস্ক্রিয় ক্ষয় ঘটে তাকে জনক পরমাণু বলে। 
- নিউক্লিয়াসে থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হবার পর যে পরমাণুটি পড়ে থাকে তাকে দুহিতা পরমাণু বলে। 

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য: 
১। তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফূর্ত বিরামহীন ঘটনা। 
২। তেজস্ক্রিয় পদার্থের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটলেও তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা অপরিবর্তিত থাকে অর্থাৎ কোনো মৌলের যেকোনো যৌগের তেজস্ক্রিয় ধর্ম অভিন্ন। 
৩। এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। 
৪। তেজস্ক্রিয়তা তেজস্ক্রিয় পদার্থের তাপমাত্রা, চাপ, রাসায়নিক সংযোগ, আলো, তড়িৎক্ষেত্র, চৌম্বকক্ষেত্র ইত্যাদির উপর নির্ভর করে না। 
৫। তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তিস্থল পদার্থের নিউক্লিয়াসে। 
৬। তেজস্ক্রিয়তার বিকিরণ ধনাত্মক চার্জযুক্ত কণা, ঋণাত্মক চার্জযুক্ত কণা ও তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ প্রবাহের সমষ্টি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩০.
শব্দের তীব্রতা কোন বিষয়ের উপর নির্ভর করে? 
  1. উৎসের আকার
  2. উৎসের বিস্তার
  3. মাধ্যমের ঘনত্ব
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
শব্দের তীব্রতা: 
- শব্দ এক প্রকার তরঙ্গ। 
- শব্দের তীব্রতা বলতে বুঝি, শব্দ সঞ্চালনের পথে লম্বভাবে অবস্থিত একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রবাহিত শব্দ শক্তির পরিমাণ। 
- শব্দের তীব্রতা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর উপর নির্ভর করে- 

১। উৎসের বিস্তার: 
- শব্দ সৃষ্টিকারী বস্তুর কম্পনের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয়। 
- শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
- শব্দের তীব্রতা I এবং বিস্তার A হলে, I ∞ A2

২। উৎসের আকার: 
- উৎসের আকার বড় হলে শব্দ তরঙ্গ বেশি পরিমাণ শক্তি সঞ্চালিত রতে পারে ফলে তীব্রতা বেড়ে যায়। 

৩। উৎস থেকে শ্রোতার দূরত্ব: 
- উৎস ও শ্রোতার মধ্যবর্তী দূরত্ব যতো বাড়বে শব্দের তীব্রতা ততো কমে যাবে কারণ বেশি দূরত্ব অতিক্রম করার ফলে শব্দ তরঙ্গের শক্তি কমে যায়। 
- তীব্রতা দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক। 
- যদি তীব্রতা এবং দূরত্ব r হয় তাহলে, I ∞ 1/r2

৪। মাধ্যমের ঘনত্ব: 
- যে মাধ্যমের মধ্য দিয়ে শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালিত হবে তার ঘনত্ব বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয়। 

৫। মাধ্যমের বেগ: 
- মাধ্যমের বেগের দিকে শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালিত হলে শব্দের তীব্রতা বেড়ে যায় এবং বিপরীত দিকে সঞ্চালিত হলে শব্দের তীব্রতা কমে যায়। 

৬। অনুনাদী বস্তুর উপস্থিতি: 
- উৎসের কাছে কোনো অনুনাদী বস্তু থাকলে শব্দের তীব্রতা বেড়ে যায়। 
- একটি সুরশলাকাকে বাতাসে স্পন্দিত করলে যে শব্দ উৎপন্ন হয় টেবিল বা কোনো ফাঁপা কাঠের বাক্সের সাথে লাগিয়ে স্পন্দিত করলে শব্দের তীব্রতা অনেক বেড়ে যায়। 
- এক্ষেত্রে বেশি আয়তনের বায়ু কম্পিত হয় বলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৫৩১.
কোনটির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম?
  1. রেডিও ওয়েভ
  2. আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি
  3. এক্সরে রশ্মি
  4. ইনফ্রারেড রশ্মি
সঠিক উত্তর:
এক্সরে রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক্সরে রশ্মি
৫৩২.
বিটা কণিকার চার্জ কী? 
  1. নিরপেক্ষ চার্জ
  2. ধনাত্মক চার্জ
  3. ঋণাত্মক চার্জ
  4. কোনো চার্জ নেই
সঠিক উত্তর:
ঋণাত্মক চার্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঋণাত্মক চার্জ
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয়তা: 
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে। 
যেমন- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু। 
- স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন। তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় বেকেরেল রশ্মি। 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। 
যথা: প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা ও কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা। 

বিটা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি: 
১। বিটা কণিকা খুব হালকা। এরা ইলেকট্রন প্রবাহ। এর ভর 9.1×10-31 কেজি। 
২। বিটা কণিকা ঋণাত্মক চার্জ বহন করে। এই চার্জের মান - 1.6×10-19 কুলম্ব। 
৩। তেজস্ক্রিয় বস্তু থেকে বিটা কণিকা প্রচন্ড বেগে নির্গত হয়। এর বেগ প্রায় 0.9×108 ms-1 পর্যন্ত হয়ে থাকে। 
৪। এই কণিকা তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়। 
৫। এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে, তবে আলফা কণিকা অপেক্ষা কম। 
৬। এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে। 
৭। ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়। এর ভেদন ক্ষমতা আলফা কণিকা অপেক্ষা বেশি। 
৮। জিংক সালফাইডে বিটা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। 
৯। ধাতব প্লেটের মধ্যদিয়ে যাবার সময় বিটা কণিকাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়। আলফা কণিকা অপেক্ষা অনেক বেশি বিক্ষিপ্ত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩৩.
The wave theory of light was proposed by which of the following scientists?
  1. Erwin Schrödinger
  2. Max Planck
  3. Albert Einstein
  4. Robert Hooke
  5. Christiaan Huygens
সঠিক উত্তর:
Christiaan Huygens
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Christiaan Huygens
ব্যাখ্যা
• আলোর প্রকৃতি সম্পৰ্কীয় বিভিন্ন তত্ত্ব:
- আলোর তরঙ্গ তত্ত্ব প্রকাশ করেন হাইগেনস (Christiaan Huygens)।
- তরঙ্গ তত্ত্বানুসারে আলো তরঙ্গাকারে ইথার নামের একটি কাল্পনিক মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সব দিকে নির্গত হয়।
- কণা তত্ত্বানুসারে আলো বস্তু কণা দ্বারা গঠিত, উৎস থেকে যা সব দিকে নিঃসৃত হয় এবং সরলরেখায় চলে।
- আইজাক নিউটন ১৬৭৫ সালে আলোর কণা তত্ত্ব প্রদান করেন।
- তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব অনুসারে গতিশীল তড়িৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্রের দ্রুত পর্যাবৃত্ত পরিবর্তনের ফলে দৃশ্য অদৃশ্য শক্তির বিকিরণ হয় এবং অনুপ্রস্থ তরঙ্গাকারে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৪.
গাড়িতে ব্যবহৃত Odometer কী পরিমাপ করে?
  1. গতি
  2. দূরত্ব
  3. ফুয়েল
  4. তাপমাত্রা
সঠিক উত্তর:
দূরত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দূরত্ব
ব্যাখ্যা
• গাড়িতে ব্যবহৃত Odometer দূরত্ব পরিমাপ করে।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপক যন্ত্র:
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র - ট্যাকোমিটার।
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার।
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার।
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার।
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার।
- হাইড্রোমিটার তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র।
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র গ্রাডিমিটার।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, নবম ও দশম শ্রেণি।
২. ব্রিটানিকা।
৫৩৫.
নিচের কোন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি?
  1. বায়ু
  2. পানি
  3. ইস্পাত
  4. শূন্য
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত
ব্যাখ্যা

◉ শব্দের গতি মাধ্যমের ঘনত্ব এবং স্থিতিস্থাপকতার উপর নির্ভর করে। সাধারণত, কঠিন পদার্থে শব্দের গতি বেশি হয়, তরলে কম এবং গ্যাসে সবচেয়ে কম। ইস্পাত একটি কঠিন পদার্থ এবং এতে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি।

শব্দের বেগ:
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি হয়।
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ।
- তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- শব্দের বেগ কঠিন পদার্থে সবচেয়ে বেশি (যেমন- ইস্পাত, লোহা) হয়।
- তরল পদার্থের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম (যেমন- পানি) হয়।
- বায়বীয় পদার্থে সবচেয়ে কম।
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৩৬.
নিচের কোন প্রাণী শব্দেতর কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পায়?
  1. ক) হাতি
  2. খ) মানুষ
  3. গ) বাদুড়
  4. ঘ) কুকুর
সঠিক উত্তর:
ক) হাতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হাতি
ব্যাখ্যা
শব্দের কম্পাঙ্ক ২০Hz থেকে কম হলে সেটাকে শব্দেতর বা ইনফ্রাসাউন্ড বলে। এই কম্পনের শব্দ মানুষ শুনতে পায়না তবে কোনো কোনো জীব-জন্তু শুনতে পায়। হাতি এই কম্পনের শব্দ দ্বারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে কারণ হাতির শ্রাব্যতার সীমা ১৬Hz থেকে ১২,০০০Hz। মানুষের শ্রাব্যতার সীমা ২০Hz থেকে ২০,০০০Hz।
[সূত্রঃ ব্রিটানিকা]
৫৩৭.
নিম্নে উল্লিখিত কোন যন্ত্র বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে?
  1. জেনারেটর
  2. লাউড স্পিকার
  3. উইন্ডমিল
  4. মাইক্রোফোন
সঠিক উত্তর:
লাউড স্পিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাউড স্পিকার
ব্যাখ্যা

• উল্লিখিত যন্ত্রগুলির মধ্যে লাউড স্পিকার বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। লাউড স্পিকারের মূল কাজ হলো বিদ্যুৎ সংকেতকে যান্ত্রিক কম্পনের মাধ্যমে বায়ুর কণার কম্পন সৃষ্টি করা, যা মানুষের কানের কাছে শব্দ হিসেবে পৌঁছায়। যখন স্পিকারে বৈদ্যুতিক সিগন্যাল প্রবাহিত হয়, তখন এটি স্পিকারের কনাস বা ঝিল্লিকে আড়ম্বরপূর্ণভাবে কম্পিত করে। এই কম্পন বায়ুর মধ্যে তরঙ্গ আকারে ছড়িয়ে পড়ে এবং শ্রোতার কানে শব্দ হিসাবে শোনা যায়। অন্যদিকে, জেনারেটর বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, উইন্ডমিল যান্ত্রিক শক্তি উৎপাদন করে, এবং মাইক্রোফোন শব্দ শক্তিকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে। তাই স্পিকারই একমাত্র যন্ত্র যা বিদ্যুৎকে শব্দে রূপান্তরিত করে।

শক্তির রূপান্তর:
- লাউড স্পিকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩৮.
নিচের কোনটির মধ্যে চার্জ নেই?
  1. ক) গামা রশ্মি ও বিটা রশ্মি
  2. খ) আলফা রশ্মি ও এক্স-রে
  3. গ) এক্স-রে ও গামা রশ্মি
  4. ঘ) প্রোটন ও ইলেকট্রন
সঠিক উত্তর:
গ) এক্স-রে ও গামা রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এক্স-রে ও গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা
এক্স রশ্মির ধর্ম ও প্রকৃতিঃ
- এক্স-রশ্মি চার্জিত কোন কণার প্রবাহ নয়।

- এরা দৃশ্যমান আলোকের মতই তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ।
- দৃশ্যমান আলো ও এক্স-রশ্মির প্রধান পার্থক্য এদের তরঙ্গদৈর্ঘ্যে।
- দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য 7×10-7m  4 ×10-7m পর্যন্ত।
- এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10-8m থেকে 10-13m  পর্যন্ত।
- সাধারণ আলো বা দৃশ্যমান আলো অস্বচ্ছ পদার্থ ভেদ করতে পারে না।
- কিন্তু, এক্স-রশ্ম উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন। এটি চামড়া, মাংস ইত্যাদি ভেদ করে যেতে পারে।

গামা রশ্মির ধর্ম ও প্রকৃতিঃ
১। গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ।
২। এই রশ্মি আলোর ন্যায় বেগে গতিশীল।
৩। এর কোনো চার্জ ও ভর নাই।
৪। এই রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না।
৫। এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
৬। এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে তবে বিটা রশ্মি অপেক্ষা কম।
৭। জিংক সালফাইডে গামা রশ্মি প্রতিপ্রভ সৃষ্টি করে।
৮। গামা রশ্মির প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যাতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি সব আলোকীয় ধর্ম আছে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৯.
বৈদ্যুতিক মোটর তড়িৎ শক্তিকে নিচের কোন শক্তিতে রূপান্তর করে?
  1. তড়িচ্চৌম্বকীয় শক্তি
  2. যান্ত্রিক শক্তি
  3. রাসায়নিক শক্তি
  4. তাপ শক্তি
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক শক্তি
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর: 
- লাউড স্পীকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা- বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৪০.
বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন কে? 
  1. জন বেয়ার্ড
  2. জি. মার্কনী
  3. গ্রাহাম বেল
  4. ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
সঠিক উত্তর:
জি. মার্কনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জি. মার্কনী
ব্যাখ্যা
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। 
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়। 
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। 
- পরবর্তীতে বিজ্ঞানী জি. মার্কনী বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪১.
দুধের ঘনত্ব পরিমাপের যন্ত্রের নাম কী?
  1. হাইগ্রোমিটার
  2. ল্যাকটোমিটার
  3. পাইরোমিটার
  4. ক্রোনোমিটার
সঠিক উত্তর:
ল্যাকটোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল্যাকটোমিটার
ব্যাখ্যা
পরিমাপক যন্ত্র:
- দুধের ঘনত্ব পরিমাপের যন্ত্রের নাম ল্যাকটোমিটার।
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ের যন্ত্র ফ্যাদোমিটার।
- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র সিসমোগ্রাফ।
- ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপার যন্ত্র রিখটার স্কেল।
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ব্যারোমিটার।
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ম্যানোমিটার।
- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র হাইগ্রোমিটার।
- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র পাইরোমিটার।
- তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র থার্মোমিটার।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৫৪২.
কোন বিজ্ঞানীকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির জনক বলা হয়?
  1. হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড
  2. গ্যালিলিও গ্যালিলি
  3. আইজ্যাক নিউটন
  4. নিকোলাস কোপার্নিকাস
সঠিক উত্তর:
গ্যালিলিও গ্যালিলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যালিলিও গ্যালিলি
ব্যাখ্যা
ভৌত বিজ্ঞানে বিজ্ঞানীদের অবদান: 
- নিকোলাস কোপার্নিকাস একজন জ্যোর্তিবিজ্ঞানী ছিলেন। তিনিই প্রথম ধারণা দেন যে, পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে। 
- পরবর্তীতে জোহান কেল্লার গ্রহের গতি সম্পর্কিত সূত্র আবিস্কার করেন যা কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত। তিনি প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা পাল্টে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কল্পনা করেন। 
- গ্যালিলিও গ্যালিলিকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির জনক বলা হয়। তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে পরীক্ষণ এবং বিভিন্ন রাশির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল ভিত্তি। পরীক্ষালব্ধ ফলাফল ছাড়া কখনোই কোন ঘটনা গাণিতিকভাবে প্রমাণ করা যায় না। 
- আইজ্যাক নিউটন ছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের একজন। তিনি মহাকর্ষসূত্র, ব্যবকলন ক্যালকুলাসের নীতি প্রবর্তন করেন। এছাড়া তিনি আলোর কণাতত্ত্ব আবিষ্কার করেন। তিনি হচ্ছেন ক্ল্যাসিক্যাল মেকানিক্স এর জনক। 
- অষ্টাদশ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত আবিষ্কার ইউরোপে শিল্প বিপ্লব ঘটায়। 
- জেমস্ ওয়াটের বাষ্পীয় ইঞ্জিন শিল্প বিপ্লবে অগ্রণী ভূমিকা রাখে। 
- হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া আবিষ্কার করেন। 
- পরবর্তীতে মাইকেল ফ্যারাডে, হেনরী, লেঞ্জ প্রমূখ বিজ্ঞানীগণ চৌম্বকীয় ক্রিয়ার মাধ্যমে তড়িৎ প্রবাহ উৎপাদন করার তত্ত্ব আবিষ্কার করেন। এটি ছিল যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরের কৌশল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪৩.
কোন অবস্থায় প্রতিবিম্ব লক্ষ্যবস্তুর আকারের সমান হয়? 
  1. m = 1
  2. m < 1
  3. m > 1
  4. m = 0
সঠিক উত্তর:
m = 1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
m = 1
ব্যাখ্যা

রৈখিক বিবর্ধন: 
- সমতল দর্পণে বিম্বের আকার এবং আকৃতি লক্ষ্যবস্তুর আকার ও আকৃতির সমান হয়, কিন্তু গোলীয় দর্পণ এবং লেন্সের ক্ষেত্রে গঠিত প্রতিবিম্বের আকার লক্ষ্যবস্তুর সমান, ছোট বা বড় হয়।
- প্রতিবিম্ব লক্ষ্যবস্তুর তুলনায় কতগুণ বড় বা ছোট সেই রাশিকে তার বিবর্ধন বলে। 
- কোনো বিস্তৃত বস্তুর বিবর্ধন পরিমাপের জন্য বিম্বের দৈর্ঘ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্যের অনুপাতকে ব্যবহার করা হয়। 
- তাই বিম্বের দৈর্ঘ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্যের অনুপাতকে রৈখিক বিবর্ধন বলে। 
ধরা যাক, কোনো লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্য L এবং প্রতিবিম্বের দৈর্ঘ্য Li । 
তাহলে, রৈখিক বিবর্ধন m = Li/Lo  । 
• m > 1 হলে, প্রতিবিম্বটি বিবর্ধিত হবে। অর্থাৎ, লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার বড় হবে। 
m = 1 হলে, প্রতিবিম্বটি লক্ষ্যবস্তুর সমান হবে। অর্থাৎ, লক্ষ্যবস্তুর আকার ও প্রতিবিম্বের আকার সমান হবে। 
• m < 1 হলে, প্রতিবিম্বটি খর্বিত হবে। অর্থাৎ, লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার ছোট হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৪৪.
সর্বাপেক্ষা বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ হচ্ছে-
  1. ক) ইনফ্রারেড
  2. খ) রেডিও ওয়েভ
  3. গ) আল্ট্রা ভায়োলেট আলো
  4. ঘ) মাইক্রোওয়েভ
সঠিক উত্তর:
খ) রেডিও ওয়েভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রেডিও ওয়েভ
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যদি দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে ছোট হয় সেটাকে আমরা বলি আল্ট্রা ভায়োলেট আলো, আরো ছোট হলে এক্স-রে আরো ছোট হলে গামা রে- যেটা তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে বের হয়। আবার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যদি দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে বড় হয় সেটাকে আমরা বলি ইনফ্রারেড, আরো বড় হলে মাইক্রোওয়েভ এবং আরো বড় হলে রেডিও ওয়েভ।
সবচেয়ে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট আলোকে গামা রে বলে এবং সবচেয়ে বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট আলোকে রেডিও ওয়েভ বলে। 

[সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
৫৪৫.
সিলভারিং কী?
  1. কাচের ওপর ধাতুর প্রলেপ
  2. লোহার ওপর ধাতুর প্রলেপ
  3. টিনের ওপর ধাতুর প্রলেপ
  4. প্লাটিনামের ওপর ধাতুর প্রলেপ
সঠিক উত্তর:
কাচের ওপর ধাতুর প্রলেপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাচের ওপর ধাতুর প্রলেপ
ব্যাখ্যা
সিলভারিং:
- কাচের ওপর পারদ বা রূপার প্রলেপ লাগানোর প্রক্রিয়াকে সিলভারিং বলে।
- একে প্যারা লাগানোও বলা হয়।

উৎস: i) Britannica.
ii) পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৪৬.
বিদ্যুৎবাহী তারে পাখি বসলে সাধারণত বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয় না কারণ-
  1. ক) পাখির গায়ে বিদ্যুৎরোধী আবরণ থাকে
  2. খ) পাখির দেহের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় না
  3. গ) বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হলেও পাখি মরে না
  4. ঘ) মাটির সঙ্গে সংযোগ হয় না।
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাটির সঙ্গে সংযোগ হয় না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাটির সঙ্গে সংযোগ হয় না।
ব্যাখ্যা
- বিদ্যুৎবাহী তারে পাখি বসলে সাধারণত বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয় না কারণ মাটির সঙ্গে সংযোগ হয় না।
- বর্তনী সম্পূর্ণ করতে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জের সংযোগের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বিদ্যুৎবাহী তারে পাখি বসলে বর্তনী পূর্ণ হয় না বলে পাখি বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যায় না। 
- কিন্তু পাখিটি যদি অন্য তার স্পর্শ করে কিংবা ভূ - সংযুক্ত কোনো পরিবাহীর সংস্পর্শে আসে, তাহলে বর্তনী পূর্ণ হবে এবং এর ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ার ফলে পাখিটি মারা যাবে।

উৎস: সাধারন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
৫৪৭.
পৃথিবী থেকে উপরে উঠলে বস্তুর ওজন - 
  1. কমে
  2. বাড়ে
  3. স্থির থাকে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমে
ব্যাখ্যা
- কোন বস্তুকে পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে যে বলে আকর্ষণ করে, তাকে ঐ বস্তুর ওজন বলে। 
- পৃথিবী থেকে যতই উপরে উঠা যায় বস্তুর ওজন ততই কমতে থাকে। 
- এরূপে চাঁদে কোন বস্তুর ওজন পৃথিবীতে ঐ বস্তুর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) হয়। 
অর্থাৎ, পৃথিবীতে কোন বস্তুর ওজন ৬০ নিউটন হলে চাঁদে ঐ জিনিসের ওজন ১০ নিউটন হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৫৪৮.
বর্ষাকালে কাপড় দেরিতে শুকায়, এর প্রধান কারণ কী?
  1. বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কম থাকে
  2. আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকে
  3. বায়ুর তাপমাত্রা কম থাকে
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকে
ব্যাখ্যা
- বর্ষাকাল অপেক্ষা শীতকালে ভিজা কাপড় দ্রুত শুকায় ভিজা কাপড় শুকানো অর্থ কাপড়ের জলকণা বাষ্পায়নের মাধ্যমে উবে যাওয়া।
- বর্ষাকালে বাতাসের তাপমাত্রা বেশি হলেও আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকে।
- ফলে বাষ্পায়নের হার কমে যায়।
- অন্য দিকে শীত কালে বাতাসের তাপমাত্রা কম হলেও আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকে অর্থাৎ বাতাস শুকনো থাকে ফলে জলকণার দ্রুত বাষ্পায়ন হয় এবং ভেজা কাপড় দ্রুত শুকায়।

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪৯.
Corona loss কোনটির উপর নির্ভর করে না?
  1. Conductor Size
  2. Atmosphere
  3. Line voltage
  4. Height of the Conductor
সঠিক উত্তর:
Height of the Conductor
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Height of the Conductor
ব্যাখ্যা
- করোনা লস বলতে করোনা ডিসচার্জের কারণে উচ্চ-ভোল্টেজ ট্রান্সমিশন লাইনে যে বিদ্যুৎ ক্ষয় হয় তাকে বোঝায়।
- যখন একটি উচ্চ-ভোল্টেজ কন্ডাক্টরের চারপাশের বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র একটি নির্দিষ্ট প্রান্তিক সীমা অতিক্রম করে, তখন আশেপাশের বায়ু ভেঙ্গে এবং আয়নাইজ করতে পারে, যা করোনা নামক একটি উজ্জ্বল ডিসচার্জ তৈরি করতে পারে।
- এই করোনা ডিসচার্জে আলো, তাপ এবং শব্দ আকারে শক্তির ক্ষতির দিকে পরিচালিত করে।
- কন্ডাকটরের কাছাকাছি বায়ুর অণুগুলির আয়নকরণ এবং ভাঙ্গনের ফলে শক্তি অপচয় হয়, যার ফলে করোনার ক্ষতি হয়।

এট নির্ভর করে- 
- Voltage Level
- Conductor Shape
- Atmospheric Conditions
- Conductor Spacing
- Frequency
- Environmental Factors
- Conductor Material ইত্যাদির উপর। 
৫৫০.
পরিবাহী পদার্থকে তাপ দিলে এর রোধের কী ধরণের পরিবর্তন হয়?
  1. বৃদ্ধি পায়
  2. হ্রাস পায়
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
বৃদ্ধি পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা

- পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে এর তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

পরিবাহী:

- যে সব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে।
- যেমন-রুপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। মূলতঃ সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী।
-  পরিবাহীতে অনেক মুক্ত ইলেকট্রন থাকে।
- পরিবাহীর দুই প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্য ঘটালেই ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে।
- পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে এর তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫১.
একটি তড়িৎ মোটরের গতি এবং শক্তি বৃদ্ধি করা যায়-
  1. কুণ্ডলীর ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি কর।
  2. কুণ্ডলীর পাকসংখ্যা বৃদ্ধি করে।
  3. তড়িৎ প্রবাহের মান বৃদ্ধি করে।
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তড়িৎ মোটর: 
- তড়িৎবাহী তারের উপর চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তড়িৎ মোটর তৈরি করা হয়। 
- যে তড়িৎ যন্ত্র তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে তাকে তড়িৎ মোটর বলে। 
- ডি. সি মোটর ও এ. সি মোটর নামে দুই ধরনের মোটর তৈরি হয়। 
- একটি ডি.সি. মোটরের বিভিন্ন অংশের নাম নীচে দেয়া হলো- 
১। ক্ষেত্র চুম্বক, 
২। আর্মেচার, 
৩। কম্যুটেটর, 
৪। ব্রাশ এবং 
৫। বহিঃবর্তনী। 

- কুণ্ডলীতে বলরেখার পরিবর্তন হবার কারণে কিছু আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তির উদ্ভব হয়। 
- মোটরের গতি এবং শক্তি নিম্নোক্তভাবে বৃদ্ধি করা যায়। 
যথা- 
১। তড়িৎ প্রবাহের মান বৃদ্ধি করে। 
২। কুণ্ডলীর পাকসংখ্যা বৃদ্ধি করে। 
৩। শক্তিশালী চুম্বক ব্যবহার করে। 
৪। কুণ্ডলীর ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫২.
চুম্বক আবিষ্কৃত হয় কোন দেশে?
  1. ক) আমেরিকায়
  2. খ) ইংল্যান্ডে
  3. গ) গ্রীসে
  4. ঘ) তুরস্কে
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রীসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রীসে
ব্যাখ্যা

চুম্বক আবিষ্কৃত হয় গ্রীসে
যে সকল বস্তুর আকর্ষণ ও দিক নির্দেশক ধর্ম আছে তাদে কে চুম্বক বলে।

প্রাকৃতিক অবস্থায় পাওয়া চুম্বককে প্রাকৃতিক চুম্বক এবং মানুষের তৈরি চুম্বককে বলা হয় কৃত্রিম চুম্বক।

চুম্বক যাদের আকর্ষণ করে তাদের বলা চুম্বকীয় পদার্থ।

যে কোনো আকারের চুম্বকই হোক না কেন, চুম্বকের মাঝখান থেকে তার দুই প্রান্তে আকর্ষণ ক্ষমতা বেশি থাকে।

সূত্র: সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান, যুগান্তর পত্রিকা (ব্যাখ্যা)

৫৫৩.
Among these scientists, who first observed the magnetic effect of electric current?
  1. James Clerk Maxwell
  2. Michael Faraday
  3. Isaac Newton
  4. Albert Einstein
  5. Hans Christian Ørsted
সঠিক উত্তর:
Hans Christian Ørsted
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Hans Christian Ørsted
ব্যাখ্যা
তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া: 
- তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া আবিষ্কার করেন হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড। 
- কোনো পরিবাহীর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হলে এর চারপাশে একটি চৌম্বকক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়, একে তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া বলে। 
- ১৮২০ সালে তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া আবিষ্কৃত হয়। 
- তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া যান্ত্রিক বল উৎপন্ন করে। 
- বৈদ্যুতিক ফ্যান, মোটর ইত্যাদিতে চৌম্বক ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়। 
- কোনো তড়িৎবাহী তারের চতুর্দিকে যে অঞ্চল জুড়ে একটি চৌম্বক শলাকা বিক্ষেপ দেখায় তাকে ঐ তড়িৎবাহী তারের চৌম্বক ক্ষেত্র বলে। 
- একটি চুম্বক শলাকাকে চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে স্থাপন করলে তার উত্তর মেরু যে দিক নির্দেশ করে তাই চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৪.
একক সংক্রান্ত কোন তথ্যটি ভুল?
  1. ক) দীপন তীব্রতা- ক্যানডেলা
  2. খ) ক্ষমতা- ওয়াট
  3. গ) তড়িৎ তীব্রতা- ভোল্ট
  4. ঘ) পরিবাহিতা- সিমেন্স
সঠিক উত্তর:
গ) তড়িৎ তীব্রতা- ভোল্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তড়িৎ তীব্রতা- ভোল্ট
ব্যাখ্যা
তড়িৎ তীব্রতার একক- নিউটন/কুলম্ব। আরো কিছু একক হলোঃ দীপন তীব্রতা- ক্যানডেলা, দীপন (Illumination)- লাক্স, ক্ষমতা- ওয়াট, তড়িৎ বিভব- ভোল্ট, পরিবাহিতা- সিমেন্স, বল- নিউটন, ওজন- নিউটন, কাজ- জুল, শক্তি- জুল, তাপ- জুল।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৫৫.
ডিজেল সাইকেলের ইফিসিয়েন্সি বৃদ্ধি পায়-
  1. ক) Cut-off কমালে
  2. খ) Cut-off বাড়ালে
  3. গ) Cut-off ধ্রুব থাকলে
  4. ঘ) কম্প্রেশন অনুপাত কমালে
সঠিক উত্তর:
ক) Cut-off কমালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Cut-off কমালে
ব্যাখ্যা


এখানে, 

ηdiesel= ডিজেল ইঞ্জিনের দক্ষতা বা ইফিসিয়েন্সি।

α = Cut-off রেশিও। দহনের পূর্বে ও পরে আয়তনের অনুপাত।

CR = কম্প্রেশন রেশিও।

K = Cp/C

K এর  মান ধ্রুবক। তাই Cut-off রেশিও যদি কম হয় তাহলে ইফিসিয়েন্সি বেশি হবে।
৫৫৬.
স্থির তরঙ্গ সাধারণত কোন বাদ্যযন্ত্রের তারে দেখা যায়? 
  1. গীটার 
  2. ড্রাম 
  3. বাঁশি 
  4. তবলা 
সঠিক উত্তর:
গীটার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীটার 
ব্যাখ্যা

স্থির তরঙ্গ: 
- একই রকম দুটি অগ্রগামী তরঙ্গ বিপরীত দিক থেকে সমভাবে অগ্রসর হয়ে একে অপরের উপর আপতিত হলে যে তরঙ্গের উদ্ভব হয় তাকে স্থির তরঙ্গ বলে। 
- একটি তারের বা মোটা দড়ির এক প্রান্ত একটি দৃঢ় অবলম্বনে বেঁধে অন্য প্রান্ত ধরে উপর নিচে দোলালে একটি তরঙ্গ তার বেয়ে অগ্রসর হবে এবং বন্ধ প্রান্তে প্রতিফলিত হয়ে আবার ফিরে আসবে। এই প্রতিফলিত তরঙ্গ যখন নতুন অগ্রগামী তরঙ্গের উপর আপতিত হবে তখন স্থির তরঙ্গ উদ্ভব হবে। 
- এই তরঙ্গ তার বা দড়ি বেয়ে অগ্রসর না হয়ে বরং তার বা দড়ির ঐ অংশের মধ্যে উৎপন্ন ও লুপ্ত হবে। তরঙ্গের উদ্ভবের সময় দেখা যাবে তারের কোনো বিন্দুতে কোনো স্পন্দন নাই। 
- আবার কোনো কোনো বিন্দুতে সব সময় সর্বাধিক স্পন্দন হতে থাকবে। যে বিন্দুতে কোনো স্পন্দন নাই সে বিন্দুগুলোকে নিস্পন্দ বিন্দু (Node) এবং যে বিন্দুতে সব সময় সর্বাধিক স্পন্দন হয় সে বিন্দুগুলোকে সুস্পন্দ বিন্দু (Antinode) বলে। 
​- নিস্পন্দ ও সুস্পন্দ বিন্দুগুলোর অবস্থানগুলো সব সময় স্থির। 
- পরপর দুটো সুস্পন্দ বিন্দু বা দুটো নিস্পন্দ বিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্ব তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের অর্ধেক হয়। 
- গীটার, একতারা, সেতার ইত্যাদি বাদ্য যন্ত্রের তারে স্থির তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫৭.
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান ব্যবহার কোনটি?
  1. পরিবহন মাধ্যম হিসেবে
  2. রাসায়নিক গবেষণায়
  3. শিল্প কাঁচামাল হিসেবে
  4. রান্না ও জ্বালানি হিসেবে
সঠিক উত্তর:
রান্না ও জ্বালানি হিসেবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রান্না ও জ্বালানি হিসেবে
ব্যাখ্যা

প্রাকৃতিক গ্যাস: 
- প্রাকৃতিক গ্যাস শক্তির একটি পরিচিত উৎস। 
- বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের বহু ব্যবহার আছে। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার প্রধানত জ্বালানি হিসেবে, বাংলাদেশে রান্নার কাজে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। 
- এছাড়াও গ্যাসের সাহায্যে তাপশক্তি উৎপাদিত হয় এবং তা থেকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত হয় বিদ্যুৎ। 
- ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়, কূপ খনন করে ভূগর্ভ থেকে এ গ্যাস উত্তোলন করা হয়। 
- পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচন্ড তাপ ও চাপ এ ধরনের গ্যাস সৃষ্টির মূল কারণ। 

- পেট্রোলিয়াম কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস। 
- এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির এই উৎসসমূহ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, ফলে শক্তির বিকল্প উৎসের সন্ধান করা প্রয়োজন। 
- তাই পরিবেশ বান্ধব নবায়যোগ্য শক্তির যেমন- সৌরশক্তি, পানি প্রবাহ থেকে প্রাপ্ত শক্তি, জোয়ার-ভাটা শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি, বায়ু শক্তি, বায়োমাস ইত্যাদি ব্যপকভাবে ব্যবহার করা প্রয়োজন। এ উৎসগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সূর্যের উপর নির্ভরশীল। তাই যতদিন পৃথিবী সূর্যের আলো পেতে থাকবে ততদিন পর্যন্ত এ সকল উৎস থেকে শক্তির সরবরাহ সম্ভব হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫৮.
কোনটির সাহায্যে যন্ত্রের কার্যকর শক্তি এবং মোট প্রদত্ত শক্তির পরিমাপ হিসেব করা যায়? 
  1. কাজ
  2. চাপ
  3. ক্ষমতা
  4. কর্মদক্ষতা
সঠিক উত্তর:
কর্মদক্ষতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মদক্ষতা
ব্যাখ্যা
কর্মদক্ষতা: 
- যন্ত্রের কার্যকর শক্তি এবং মোট প্রদত্ত শক্তি হিসাব করে যন্ত্রের কর্মদক্ষতা পরিমাপ করা যায়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা হচ্ছে যন্ত্রটির কার্যকর শক্তি ও প্রদত্ত মোট শক্তির অনুপাত। 
- যন্ত্রের কর্মদক্ষতাকে η (ইটা) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- কর্মদক্ষতাকে শতকরায় প্রকাশ করা হয়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা 70% বলতে বোঝায় যন্ত্রটিতে 100 একক শক্তি সরবরাহ করলে তার 70 একক শক্তি কার্যকররূপে পাওয়া যায়, বাকী 30 একক শক্তি অপচয় হয়। 
∴ কর্মদক্ষতা, η = কার্যকর শক্তি/ মোট প্রদত্ত শক্তি 
= কার্যকর ক্ষমতা/ মোট প্রদত্ত ক্ষমতা 
= {(E1-E2)/E1} ×100% 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৯.
প্রিজমের মাধ্যমে আলো বিচ্ছুরিত হওয়ার কারণ-
  1. প্রতিফলন
  2. প্রতিসরণ কোণের পরিবর্তন
  3. আলোর বেগের ভিন্নতা
  4. আলোর মেরুকরণ
সঠিক উত্তর:
আলোর বেগের ভিন্নতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলোর বেগের ভিন্নতা
ব্যাখ্যা

• প্রিজম:
- প্রিজম হলো স্বচ্ছ কাচ বা প্লাস্টিকের তৈরি ত্রিভুজাকার অপটিক্যাল যন্ত্র, যার দুটি সমতল পৃষ্ঠ পরস্পরের সাথে একটি নির্দিষ্ট কোণে ঝোঁকানো থাকে।
- যখন সাদা আলো (বিভিন্ন রঙের সমষ্টি) প্রিজমে প্রবেশ করে, প্রতিটি রঙের জন্য প্রতিসরণ কোণ ভিন্ন হয়।
- বিভিন্ন রঙের আলোর বেগ ভিন্ন হয় কাঁচের মধ্যে। কাঁচের মধ্যে বেগ যত কম, প্রতিসরণ তত বেশি।
- নীল ও বেগুনি আলোর বেগ কাঁচে কম, তাই এগুলোর প্রতিসরণ বেশি।
- লাল আলোর বেগ বেশি হওয়ায় প্রতিসরণ কম।
- সাদা আলো প্রিজমের অপর প্রান্ত দিয়ে বের হওয়ার সময় বিভিন্ন রঙে ভেঙে যায়। এই ঘটনাকেই বিচ্ছুরণ (Dispersion) বলা হয়।

উৎস: Encyclopaedia Britannica. [লিংক]

৫৬০.
বাংলাদেশে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে কত বার দিক পরিবর্তন করে?
  1. ৫০ বার
  2. ৬০ বার
  3. ৮০ বার
  4. ১০০ বার
সঠিক উত্তর:
৫০ বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫০ বার
ব্যাখ্যা
তড়িৎ প্রবাহ: 
- দুটি ভিন্ন বিভবের ধাতব বস্তুকে যখন পরিবাহী তার দ্বারা যুক্ত করা হয় তখন তারের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। 
- যখন দুটি ভিন্ন বিভবের ধাতব বস্তুকে তার দ্বারা সংযুক্ত করা হয়, তখন নিম্ন বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তু থেকে ঋণাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রন উচ্চ বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত ধাতব বস্তুর মধ্যে বিভব পার্থক্য বর্তমান থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ঋণাত্মক আধানের এই প্রবাহ চলে। 
- কোনোভাবে যদি ধাতব বস্তুদ্বয়ের মধ্যবর্তী বিভব পার্থক্য বজায় রাখা যায় তখন এই প্রবাহ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে। 
- ঋণাত্মক আধান বা ইলেকট্রনের এই প্রবাহের জন্যই তড়িৎ প্রবাহিত হয়। 
- মূলত কোনো পরিবাহীর যেকোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্য দিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাই হলো তড়িৎ প্রবাহ। 
- প্রচলিত তড়িৎ প্রবাহের দিক ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিকে হয়। 
- তড়িৎ প্রবাহের একক হলো অ্যাম্পিয়ার। একে সাধারণত A দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- প্রতি একক আধানকে তড়িৎক্ষেত্রের এক বিন্দু থেকে অন্য বিন্দুতে স্থানান্তর করতে সম্পন্ন কাজের পরিমাণ হলো ঐ বিন্দুর তড়িৎ বিভব পার্থক্য।
- দুটি বিন্দুর মধ্যে বিভব পার্থক্য না থাকলে তড়িৎ প্রবাহিত হবে না। ফলে কোনো আধান প্রবাহিত হবে না এবং কোনো কাজও সম্পন্ন হবে না। 
- তড়িৎ প্রবাহ দুই প্রকার। যথা- 

(ক) অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা সমপ্রবাহ বা একমুখী প্রবাহ বা ডিসি প্রবাহ: 
- যখন সময়ের সাথে সাধারণত তড়িৎ প্রবাহের দিকের কোনো পরিবর্তন না ঘটে, অর্থাৎ যে তড়িৎ প্রবাহ সবসময় একই দিকে প্রবাহিত হয়, সেই প্রবাহকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- তড়িৎ কোষ বা ব্যাটারি থেকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ পাওয়া যায়। 
- আবার ডিসি জেনারেটরের সাহায্যেও এই প্রকার তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করা যায়। 

(খ) পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা পরিবর্তী প্রবাহ বা এসি প্রবাহ: 
- যখন নির্দিষ্ট সময় পরপর তড়িৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়, সেই তড়িৎ প্রবাহকে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- বর্তমান বিশ্বের সকল দেশের তড়িৎ প্রবাহই পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ। 
- এর কারণ তুলনামূলকভাবে এটি উৎপন্ন ও সরবরাহ করা সহজ এবং সাশ্রয়ী। 
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস জেনারেটর বা ডায়নামো। 
- দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে জেনারেটরের সাহায্যে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ উৎপন্ন করা হয়। 
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের দিক পরিবর্তন দেশভেদে বিভিন্ন হয়। 
যেমন- বাংলাদেশে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে পঞ্চাশবার এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সেকেন্ডে ষাটবার দিক পরিবর্তন করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৫৬১.
কোনটির আপেক্ষিক রোধ সবচেয়ে বেশি?
  1. বাতাস
  2. হীরা
  3. গ্রাফাইট
  4. তামা
সঠিক উত্তর:
বাতাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাতাস
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- ক) বাতাস

• আপেক্ষিক রোধ:

- নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় একক দৈর্ঘ্য ও একক প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলবিশিষ্ট কোনো পরিবাহীর রোধকে ঐ পরিবাহীর উপাদানের আপেক্ষিক রোধ (Resistivity) বা রোধাঙ্ক বলে।
- এটি পরিবাহীর উপাদানের মৌলিক ধর্ম, যা বিদ্যুৎ প্রবাহে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা নির্দেশ করে।
- একটা নির্দিষ্ট পদার্থের জন্য ρ হচ্ছে আপেক্ষিক রোধ এবং এর একক হচ্ছে Ω m.
- কয়েকটি পদার্থের আপেক্ষিক রোধ:


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৬২.
বৈদ্যুতিক পাখার গতি এক ধরনের -
  1. স্পন্দন গতি
  2. রৈখিক গতি
  3. পর্যায়বৃত্ত গতি
  4. উপবৃত্তাকার গতি
সঠিক উত্তর:
পর্যায়বৃত্ত গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্যায়বৃত্ত গতি
ব্যাখ্যা
পর্যাবৃত্ত গতি: 
- কোনো গতিশীল বস্তু যদি একই পথ বারবার অতিক্রম করে তাহলে সে গতিকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে। 
- ঘড়ির কাঁটার গতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সেকেন্ডের কাটাটি প্রতি এক মিনিটে একবার এর কেন্দ্র বিন্দুর চারদিকে ঘুরে আসে। 
- ঘড়ির কাঁটাটি বারবার একটি পথে ঘুরছে অর্থাৎ এর গতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এ ধরনের গতি হলো পর্যাবৃত্ত গতি। 
- বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় চারপাক দৌড়ের একজন প্রতিযোগী একই দিক থেকে চারবার অতিক্রম করে যা একটি পর্যাবৃত্ত গতি। 
- ঘড়ির কাঁটার গতি, পাকদৌড়ের গতি, বৈদ্যুতিক পাখার গতি হলো পর্যাবৃত্ত গতি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৫৬৩.
মাইকেল ফ্যারাডে আবিষ্কার করেন-
  1. ক) তেজস্ক্রিয়তা
  2. খ) ডিনামাইট
  3. গ) ডায়নামো
  4. ঘ) পারমাণবিক বোমা
সঠিক উত্তর:
গ) ডায়নামো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ডায়নামো
ব্যাখ্যা
যুক্তরাজ্যের বৈজ্ঞানিক মাইকেল ফ্যারাডে ডায়নামো আবিষ্কার করেন। আলফ্রেড নোবেল আবিষ্কার করেন ডিনামাইট; ওপেনহেইমার আবিষ্কার করেন পারমাণবিক বোমা; এবং তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করে হেনরি বেকেরেল। সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৫৬৪.
নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোনটি-
  1. প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. কয়লা
  3. খনিজ তেল
  4. সৌরতাপ
সঠিক উত্তর:
সৌরতাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌরতাপ
ব্যাখ্যা
• নবায়নযোগ্য জ্বালানি:
যেসব শক্তি বা জ্বালানি পুনরায় ব্যবহার করা যায় কিংবা যে সব শক্তি বা জ্বালানির উৎস ব্যবহারে নিঃশেষ হয়ে যায় না তাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা শক্তি বলে।

• নবায়নযোগ্য জ্বালানির উদাহরণ:
- পরমাণুর শক্তি,
- সৌরতাপ,
- বায়ু,
- জিওথার্মাল বা ভূ-তাপ শক্তি,
- জলবিদ্যুৎ,
- বায়োগ্যাস ইত্যাদি।

• অনবায়নযোগ্য জ্বালানি উদাহরণ:
- পেট্রোল,
- কয়লা,
- খনিজ তেল,
- প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৬৫.
আইনস্টাইনের দ্বিতীয় স্বীকার্য অনুযায়ী আলোর বেগের কোন বৈশিষ্ট্য সত্য?
  1. আলোর বেগ পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল
  2. আলোর বেগ নির্দিষ্ট জড় প্রেক্ষাপটের জন্য পরিবর্তনশীল
  3. আলোর বেগ আলোর উৎসের গতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়
  4. শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রেক্ষাপটের পর্যবেক্ষকের জন্য সমান
সঠিক উত্তর:
শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রেক্ষাপটের পর্যবেক্ষকের জন্য সমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রেক্ষাপটের পর্যবেক্ষকের জন্য সমান
ব্যাখ্যা

বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব:
- বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব মূলত স্থির জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে সমবেগে গতিশীল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর কোনো ঘটনা বা কোনো ভৌত রাশির পরিমাপ সংক্রান্ত আলোচনা।
- ভর, সময়, দৈর্ঘ্য, বেগ ও শক্তির আপেক্ষিকতা ইত্যাদি বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।

বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য:
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের এই দুইটি স্বীকার্য প্রদান করেন।
যথা -
প্রথম স্বীকার্য:
- স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে।

দ্বিতীয় স্বীকার্য:
- শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৬৬.
তড়িৎ বিশ্লেষণের ব্যাখ্যা প্রদান করেন কে?
  1. ক) ম্যাক্সপ্লাঙ্ক
  2. খ) কুলম্ব
  3. গ) আরহেনিয়াস
  4. ঘ) আইনস্টাইন
সঠিক উত্তর:
গ) আরহেনিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আরহেনিয়াস
ব্যাখ্যা

বিখ্যাত বিজ্ঞানী আরহেনিয়াস ১৮৮১ সালে প্রথম তড়িৎ বিশ্লেষণের ব্যাখ্যা দেন।
তিনি দেখিয়েছিলেন এসিড, ক্ষার বা লবণজাতীয় যৌগিক পদার্থকে তরলে দ্রবীভূত করলে সেগুলো আয়নায়িত হয়ে সম-পরিমাণ ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আধানে ভাগ হয়ে যায়।

উৎসঃ বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৬৭.
বায়োমাস শক্তি কী ধরনের শক্তি? 
  1. জীবাশ্ম জ্বালানি
  2. নবায়নযোগ্য শক্তি
  3. রাসায়নিক শক্তি
  4. পারমাণবিক শক্তি
সঠিক উত্তর:
নবায়নযোগ্য শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবায়নযোগ্য শক্তি
ব্যাখ্যা
বায়োমাস শক্তি: 
- বায়োমাস শক্তি একটি নবায়নযোগ্য শক্তি যে শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- সৌর শক্তি সবুজ গাছপালার সাহায্যে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে বায়োমাসরূপে গাছপালার বিভিন্ন অংশে মজুদ থাকে, এই বায়োমাস শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- মানুষসহ অনেক প্রাণী খাদ্য হিসেবে বায়োমাস গ্রহণ করে, এই বায়োমাস শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে জীবনের কর্মকান্ড সচল রাখে।
- বায়োমাস হচ্ছে শক্তির একটি বহুমুখী উৎস।
- গাছ-গাছালী, জ্বালানি কাঠ, কাঠের বর্জ্য, শস্য ধানের তুষ ও কুড়া, লতা-পাতা, পশু পাখির মল, বর্জ্য ইত্যাদি জৈব পদার্থ হচ্ছে বায়োমাস শক্তির উৎস।
- বায়োমাসের প্রধান উপাদান হচ্ছে কার্বন ও হাইড্রোজন।
- বায়োমাস থেকে বায়োগ্যাস এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।
- ২/৩ টি গরুর গোবর ব্যবহার করে ৪/৫ জনের একটি পরিবারের রান্না ও বাতি জ্বালানোর জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের উৎপাদন করা যায়।  

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬৮.
কোন তাপমাত্রায় ফারেনহাট ও সেলসিয়াস স্কেল সমান তাপমাত্রা নির্দেশ করে? 
  1. ০ ডিগ্রি 
  2. ৪ ডিগ্রি 
  3. - ৪০ ডিগ্রি
  4. ৪০ ডিগ্রি 
সঠিক উত্তর:
- ৪০ ডিগ্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
- ৪০ ডিগ্রি
ব্যাখ্যা

- সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেলের মধ্যে সম্পর্ক হলো- 
• C/5 = (F - 32)/9 [C = সেলসিয়াস তাপমাত্রা, F = ফারেনহাইট তাপমাত্রা] 

এখন, 
সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেলের তাপমাত্রা সমান (x) হলে,
x/৫ = (x - ৩২)/৯
Or, ৯x = ৫x - ১৬০
Or, ৪x = - ১৬০
Or, x = - ৪০
অর্থাৎ, - ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ফারেনহাট ও সেলসিয়াস স্কেলে সমান তাপমাত্রা নির্দেশ করে

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৬৯.
নিম্নের কোন ইলেকট্রনিক ডিভাইসে N-টাইপ সেমিকন্ডাক্টর ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) Inductor
  2. খ) Capacitor
  3. গ) Solar cell
  4. ঘ) Resistor
সঠিক উত্তর:
গ) Solar cell
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Solar cell
ব্যাখ্যা
- একটি সৌর কোষ হল এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস যা সিলিকনের মতো অর্ধপরিবাহী পদার্থ ব্যবহার করে সৌর শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে।  
-  সৌর কোষে মুক্ত ইলেকট্রনের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে এন-টাইপ সেমিকন্ডাক্টর ব্যবহৃত হয়। এর ফলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।  
- যখন সূর্যালোক সৌর কোষে আঘাত করে, তখন শক্তি সেমিকন্ডাক্টর উপাদান দ্বারা শোষিত হয় এবং সার্কিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ প্রবাহ তৈরি হয়।

উৎস : https://www.energy.gov, https://www.nrel.gov/
৫৭০.
নিচের কোনটি পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়?
  1. নিউক্লিয়ার ফিশন
  2. নিউক্লিয়ার ফিউশন
  3. তাপীয় বিক্রিয়া
  4. রাসায়নিক বিক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিয়ার ফিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিয়ার ফিশন
ব্যাখ্যা
নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া: 
- যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে এক বা একাধিক ভিন্ন মৌলের পরমাণু তৈরি করে তাকে নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া বলে। 
- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রে শক্তির উৎস হচ্ছে নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া। 
- নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া ব্যবহার করে হাইড্রোজেন বোমা তৈরি করা হয়। 

নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়া: 
- যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় একটি পারমাণু ভেঙ্গে একাধিক হালকা ভিন্ন মৌলের পরমাণু তৈরি করে তাকে ফিশন বিক্রিয়া বলে। 
- নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া ব্যবহার করে পারমাণবিক বোমা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৭১.
ট্যাকোমিটার কী?
  1. শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র
  2. মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র
  3. উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র
  4. গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র
সঠিক উত্তর:
উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তাপ পরিমাপক যন্ত্র- ক্যালরিমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র- ম্যানোমিটার। 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েসাইট।
৫৭২.
কোন প্রক্রিয়ায় এনট্রপির কোনো পরিবর্তন হয় না? 
  1. সমোষ্ণ প্রক্রিয়া 
  2. রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়া
  3. সমচাপ প্রক্রিয়া 
  4. অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া 
সঠিক উত্তর:
রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা

এনট্রপি: 
- কোনো সিষ্টেমের বিশৃঙ্খলা সূচক পরিমাপকে এন্ট্রপি বলে।
- আমরা জানি, কোনো গ্যাসকে রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় সঙ্কুচিত করার সময় কিছু কাজ করা হয়। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- আবার রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় গ্যাসকে প্রসারিত হতে দিলে গ্যাসকে কিছু কাজ করতে হয়। অন্তর্নিহিত শক্তির দ্বারা গ্যাস এই কাজ করে। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও তাপমাত্রা উভয়েই হ্রাস পায়।
- বিজ্ঞানী ক্লসিয়াস তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় উপলব্ধি করেন যে, সমোষ্ণ প্রক্রিয়ায় যেমন তাপমাত্রা স্থির থাকে, রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়াও তেমনি কোনো একটি রাশি স্থির থাকে।
- ক্লসিয়াস এই রাশিটির নাম দেন এনট্রপি।
- রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় এনট্রপির কোনো পরিবর্তন হয় না
- পৃথিবীর এনট্রপি ক্রমাগত বাড়ছে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।

৫৭৩.
গামা রশ্মির বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে কোনটি সত্য নয়?
  1. দৃশ্যমান আলোর চেয়ে শক্তি কম
  2. তরঙ্গদৈর্ঘ্য খুব ছোট
  3. এটি কম্পাঙ্ক বেশি রাখে
  4. এটি জীবনের জন্য ক্ষতিকর
সঠিক উত্তর:
দৃশ্যমান আলোর চেয়ে শক্তি কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৃশ্যমান আলোর চেয়ে শক্তি কম
ব্যাখ্যা

- গামা রশ্মি হলো তড়িৎচৌম্বকীয় বর্ণালীর সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ। এর শক্তি দৃশ্যমান আলোর শক্তির তুলনায় কয়েক হাজার গুণ বেশি হতে পারে। পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রানুসারে, বিকিরণের শক্তি তার কম্পাঙ্কের সমানুপাতিক এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ব্যস্তানুপাতিক। যেহেতু গামা রশ্মির কম্পাঙ্ক অনেক বেশি, তাই এর শক্তিও অনেক বেশি। 

গামা রশ্মি: 
- 10-11 m থেকে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের সকল বিকিরণ গামা রশ্মি বা γ-ray । 
- গামা রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ক্ষুদ্র হওয়ায় কম্পাঙ্ক সবচেয়ে বেশি, তাই শক্তিও বেশি। 
- দৃশ্যমান আলোর চেয়ে গামা রশ্মির শক্তি পঞ্চাশ হাজার গুণ বেশি। 
- তেজষ্ক্রিয় মৌলসমূহ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
- পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে যে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয় তার বেশির ভাগই গামা রশ্মি। 
- প্রাণী দেহের জন্য গামা রশ্মিটি অত্যন্ত ক্ষতিকর। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৭৪.
কোন স্থানে মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে সেখানে একটি সরল দোলকের দোলনকাল কতগুণ বাড়বে বা কমবে?
  1. ক) ৯ গুণ বাড়বে
  2. খ) ৯ গুণ কমবে
  3. গ) ৩ গুণ বাড়বে
  4. ঘ) ৩ গুণ কমবে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩ গুণ কমবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩ গুণ কমবে
ব্যাখ্যা
সরল দোলক: একটি ভারী আয়তনহীন বস্তু কণাকে ওজনহীন, নমনীয় ও অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে একটি উলম্ব তলে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে।

দোলনকাল মধ্যাকর্ষণ জনিত ত্বরণ এর বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতে পরিবর্তিত হয়।

সুতরাং,  মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে সেখানে একটি সরল দোলকের দোলনকাল ৩ গুণ কমবে
৫৭৫.
নিচের কোন রাশির মান সরাসরি মাপা যায় না কিন্তু মৌলিক রাশি থেকে নির্ণয় করা যায়? 
  1. বেগ
  2. দৈর্ঘ্য 
  3. ভর 
  4. সময় 
সঠিক উত্তর:
বেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগ
ব্যাখ্যা

- বেগ হলো একটি লব্ধ রাশি, যা সরাসরি মাপা যায় না, কিন্তু মৌলিক রাশি দৈর্ঘ্য এবং সময় থেকে নির্ণয় করা যায়। বেগকে দূরত্ব (দৈর্ঘ্য) এবং সময় দ্বারা ভাগ করে (বেগ = দূরত্ব / সময়) হিসাব করা হয়। 

রাশি: 

- বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিামাপ করা যায় তাকে রাশি বলা হয়। 
যেমন- একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায়, ভর একটি রাশি। আবার কাপড়ের দৈর্ঘ্য পরিমাপ করা যায় যেখানে দৈর্ঘ্য একটি রাশি। 

মৌলিক রাশি: 
- যে সকল রাশি পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, এ রাশিগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি। 
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা এবং পদার্থের পরিমাণ। 

লব্ধ বা যৌগিক রাশি: 
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ বা যৌগিক রাশি বলা হয়।
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়।  
যেমন- বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি। 
- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি লব্ধ রাশির উদাহারণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৭৬.
কোনটি সবচেয়ে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ?
  1. ক) আল্ট্রা ভায়োলেট
  2. খ) এক্স-রে
  3. গ) রেডিও ওয়েভ
  4. ঘ) গামা রে
সঠিক উত্তর:
ঘ) গামা রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গামা রে
ব্যাখ্যা

- তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যদি দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে ছোট হয় সেটাকে আমরা বলি আল্ট্রা ভায়োলেট আলো, আরও ছোট হলে এক্স-রে আরও ছোট হলে গামা রে- যেটা তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে বের হয়।
- আবার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যদি দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে বড় হয় সেটাকে আমরা বলি ইনফ্রারেড, আরও বড় হলে মাইক্রোওয়েভ এবং আরও বড় হলে রেডিও ওয়েভ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।

৫৭৭.
আকাশ নীল দেখায়, কারণ- 
  1. নীল রঙের বিক্ষেপণ বেশি হয়
  2. নীল রঙের বিক্ষেপণ কম হয়
  3. সূর্যরশ্মি সরাসরি নীল রঙের হওয়ায় 
  4. সব রঙ সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে 
সঠিক উত্তর:
নীল রঙের বিক্ষেপণ বেশি হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীল রঙের বিক্ষেপণ বেশি হয়
ব্যাখ্যা

বিক্ষেপণ: 
- সূর্যের মধ্যে বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সাত রঙের আলো আছে। 
- এক আলোক তরঙ্গ যখন অত্যন্ত ক্ষুদ্র কোনো কণার উপর পড়ে, তখন এ কণাগুলো আলোক তরঙ্গকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দেয়, আর এ ছড়িয়ে দেয়াকে আলোর বিক্ষেপণ বলে। 
- এই আলোর বিক্ষেপণ নির্ভর করে আলোক তরঙ্গদৈর্ঘ্যের উপর। 
- যে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম, তার বিক্ষেপণ তত বেশি। 
- নীল বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম তাই নীল আলোর বিক্ষেপণ বেশি হয়, ফলে আকাশ নীল দেখায়। 
- সূর্যরশ্মি যখন বায়ুমণ্ডলে সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও অণুতে আপতিত হয়, তখন নীল রঙ ও এর কাছাকাছি রঙগুলোর বিক্ষেপণ বেশি হয়। 
- ফলে বেগুনি, আসমানী ও নীল রঙের প্রাচুর্য্য ঘটায় বলে আকাশ নীল দেখায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৫৭৮.
নিম্নের কোনটি ফোটন কণার ধর্ম নয়? 
  1. তড়িৎ নিরপেক্ষ
  2. নিশ্চল ভর শূন্য
  3. নিউটনের বলবিদ্যার দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়
  4. আলোর সমবেগে চলে
সঠিক উত্তর:
নিউটনের বলবিদ্যার দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউটনের বলবিদ্যার দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়
ব্যাখ্যা
ফোটন কণা: 
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। 
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)। 
- প্রতিটি কোয়ান্টাম আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)। 

ফোটন কণার ধর্মসমূহ: 
১। প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ। 
২। শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে (C = 3×108 ms-1) চলাচল করে। কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না। 
৩। প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক। ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশি হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশি হয়। ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। 
৪ । নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৯.
এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি হলে এর ভেদন ক্ষমতা কী হয়? 
  1. অসীম হয়ে যায়
  2. বৃদ্ধি পায়
  3. কমে যায়
  4. অপরিবর্তিত থাকে
সঠিক উত্তর:
কমে যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমে যায়
ব্যাখ্যা
এক্সরে (X-ray): 
- ১৮৯৫ সালে জার্মান বিজ্ঞানী উইলিয়াম রঞ্জন ক্যাথোড রশ্মি নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে আকস্মিকভাবে এক্সরে আবিষ্কার করেন। 
- পরীক্ষার সময় তিনি দেখেন, ক্ষরণ নলে ক্যাথোড রশ্মি আপতিত হলে এক ধরনের অদৃশ্য রশ্মি নির্গত হয়, যা বেরিয়াম প্ল্যাটিনোসায়ানাইড প্রলেপযুক্ত পাতে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। এই রশ্মির প্রকৃতি অজানা থাকায় তিনি একে "এক্সরে" নামে অভিহিত করেন, যা পরবর্তীতে রঞ্জন রশ্মি নামে পরিচিত হয়। 
- গবেষণার মাধ্যমে তিনি দেখান যে, উচ্চগতিসম্পন্ন ইলেকট্রন ধাতুর প্রতিবন্ধকে আঘাত করলে তার গতিশক্তি এক্সরেতে রূপান্তরিত হয়। 

এক্সরের প্রকারভেদ: 
- এক্সরে দুই প্রকার।
যথা- 
১। কোমল এক্সরে: 
- এক্সরে যন্ত্রে তুলনামূলক কম বিভব প্রয়োগ করে যে এক্সরে পাওয়া যায় তাকে কোমল এক্সরে বলে। 
- কোমল এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তুলনামূলক বড়, ফলে ভেদন ক্ষমতাও তুলনামূলক কম। 

২। কঠিন এক্সরে: 
- এক্সরে যন্ত্রে তুলনামূলক বেশি বিভব প্রয়োগ করে যে এক্সরে পাওয়া যায় তাকে কঠিন এক্সরে বলে। 
- কঠিন এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তুলনামূলক ছোট ফলে ভেদন ক্ষমতাও তুলনামূলক বেশি। 

এক্সরের ধর্ম: 
১। এক্সরে সরল পথে গমন করে। 
২। এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। 
৩। এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
৪। এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
৫। এটি আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
৬ । আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে। 
৭। এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
৮। এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 
৯। এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই। 
১০। এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 
১১। এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
১২। এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। 
১৩। এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮০.
কুরি বিন্দু বলতে বুঝায় - 
  1. চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়া
  2. চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব অর্ধেক নষ্ট হয়ে যাওয়া
  3. চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব এক-চতুর্থাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়া
  4. চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব এক-তৃতীয়াংশ নষ্ট হয়ে যাওয়া
সঠিক উত্তর:
চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়া
ব্যাখ্যা
কুরি তাপমাত্রা বা কুরি বিন্দু: 
- যে তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয় তাকে কুরি তাপমাত্রা বা কুরি বিন্দু বলে। 

চৌম্বক ধারকত্ব: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সরিয়ে নেওয়ার পরেও কোনো চৌম্বব পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে চৌম্বক ধারকতা বলে। 
- ইস্পাত ও নরম লোহাকে একই সমপরিমাণ চুম্বকায়িত করে রেখে দিলে নরম লোহার চেয়ে ইস্পাতের ক্ষেত্রে চুম্বকত্ব হ্রাসের পরিমাণ কম। 

চৌম্বক সহনশীলতা: 
- চুম্বকত্ব হ্রাসের নিয়ামকসমূহ থাকা সত্ত্বেও কোনো চৌম্বক পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে ঐ পদার্থের চৌম্বক সহনশীলতা বলে। 

রিমেনেন্স: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সারিয়ে নেওয়ার পর চৌম্বক পদার্থে যে চুম্বকায়ন মাত্রা অবশিষ্ট থাকে তাকে রিমেনেন্স বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮১.
দৃশ্যমান আলোক বর্ণালির মাঝমাঝি তরঙ্গদৈর্ঘ্য কোন রঙের আলোর? 
  1. নীল 
  2. আসমানি 
  3. হলুদ
  4. সবুজ
সঠিক উত্তর:
সবুজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজ
ব্যাখ্যা
• দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ:
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয়, একে বলা হয় দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ।
- এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসীমা হচ্ছে 4×10-7m থেকে 7×10-7m মাত্র।
- এই পরিসীমার বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের জন্য আলোর বিভিন্ন রঙ দেখা যায়।
- এদের আসমানি, সবুজ, নীল, হলুদ, বেগুনি, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- দৃশ্যমান আলোর মধ্যে লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি।
- দৃশ্যমান আলোর মধ্যে মাঝমাঝি তরঙ্গদৈর্ঘ্যবিশিষ্ট আলো সবুজ।
- দৃশ্যমান আলোর মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৫৮২.
রোধের এস. আই একক কোনটি?
  1. ক) অ্যাম্পিয়ার
  2. খ) ও'ম
  3. গ) ভোল্ট
  4. ঘ) সিমেন্স
সঠিক উত্তর:
খ) ও'ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ও'ম
ব্যাখ্যা
এস. আই একক বা আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে :
- রোধের একক - ও'ম (Ω)।
যে পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য 1 ভোল্ট (V) হলে তার মধ্য দিয়ে 1 অ্যাম্পিয়ার (A) তড়িৎ প্রবাহ চলে সেই পরিবাহীর রোধকে 1 ও'ম (Ω) বলে। 
- তড়িৎ প্রবাহের একক - অ্যাম্পিয়ার (A)।
- বিভব পার্থক্যের একক - ভোল্ট (V)। 
- তড়িৎ পরিবাহিতার একক - সিমেন্স (S)। 

উৎস- উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থ বিজ্ঞান- ২য় পত্র বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৫৮৩.
নিচের কোনটি যৌগিক রাশি?
  1. সময়
  2. ত্বরণ
  3. ভর
  4. দৈর্ঘ্য
সঠিক উত্তর:
ত্বরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্বরণ
ব্যাখ্যা
ভৌত রাশি:
- এই বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিমাপ করা যায়, তাকে রাশি বলা হয়।
যেমন - একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায়। এখানে ভর একটি রাশি।

মৌলিক রাশি:
- যে সকল রাশির পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়।
যেমন - সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি।
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
যেমন-
• দৈর্ঘ্য,
• ভর,
• সময়,
• তাপমাত্রা,
• তড়িৎপ্রবাহ,
• দীপন তীব্রতা এবং
• পদার্থের পরিমাণ।

যৌগিক রাশি:
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়।
যেমন - বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। তাই বেগ মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল।
- অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি।
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়।
যেমন -
• বেগ,
• ত্বরণ,
• কাজ,
• বল,
• তাপ,
• বিভব ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮৪.
কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীতে ১২০ কেজি হলে চাঁদে ঐ বস্তুর ওজন কত হবে?
  1. ১০০ কেজি
  2. ২৪০ কেজি
  3. ৪০ কেজি
  4. ২০ কেজি
সঠিক উত্তর:
২০ কেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০ কেজি
ব্যাখ্যা
[লাইভ পরীক্ষার প্রশ্নে টাইপিং এর ভুল ছিল। ২০ এর পরিবর্তে ১২০ দেয়া ছিল। যেহেতু জব সল্যুশনের প্রশ্ন, তাই প্রশ্ন সংশোধন করে দেয়া হয়েছে।]

- স্থানভেদে কোনো বস্তুর ভরের কোনো পরিবর্তন হয় না। 
অর্থাৎ, পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ভর ১২০ কেজি হলে চাঁদে ঐ বস্তুর ভর হবে ১২০ কেজি। 
- কিন্তু স্থানভেদে কোনো বস্তুর ওজনের তারতম্য হতে পারে। 
আমরা জানি, 
ওজন= ভর x অভিকর্ষজ ত্বরণ 
পৃথিবীতে গড় অভিকর্ষজ ত্বরণ ধরা হয় ৯.৮ মি/সেকেন্ড। 
তাহলে পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ওজন ৯.৮ নিউটন হলে তার ভর হবে ১ কেজি। 
সুতরাং চাঁদেও সেই বস্তুর ভর হবে ১ কেজি। 

কিন্তু চাঁদের অভিকর্ষজ ত্বরণ পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৬ ভাগের ১ ভাগ। 
অর্থাৎ, পৃথিবী পৃষ্ঠে কোন বস্তুর ওজন ১২০ কেজি হলে চাঁদে ঐ বস্তুর ওজন হবে ২০ কেজি।

উৎস: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৯ সংস্করণ]।
৫৮৫.
Which phenomenon occurs if the temperature of a conductor is raised?
  1. The resistance increases
  2. It behaves like an insulator
  3. The resistance decreases
  4. The resistance remains constant
  5. The flow of electric current increases
সঠিক উত্তর:
The resistance increases
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The resistance increases
ব্যাখ্যা
• তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায়। 

• পরিবাহী:
- যে সকল পদার্থের মধ্যদিয়ে সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে।
• উদাহরণ- তামা, রুপা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি

• পরিবাহীতে অনেক মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। পরিবাহীতে যোজনব্যান্ড এবং পরিবহণব্যান্ডের মাঝে শক্তি ব্যবধান থাকে না।
- এজন্য পরিবাহীর দু প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্য ঘটলেই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে।
- পরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ কম হয়। প্রায় 10-8 Ωm ক্রমের।

• তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে পরিবাহী পদার্থের বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা সাধারণত হ্রাস পায়।  
- সাধারণ পরিবাহী পদার্থের ক্ষেত্রে, তাপমাত্রা বাড়লে পরিবাহীর মধ্যস্থ পরমাণু এবং আয়নগুলির কম্পন বাড়ে।
- উক্ত কম্পনের ফলে পরিবাহীর মুক্ত ইলেকট্রনের সঙ্গে কম্পনরত পরমাণু সমূহের সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়, যা মুক্ত ইলেকট্রনের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। 
- এর ফলে রোধ বাড়ে এবং পরিবাহিতা কমে যায়।

অন্যদিকে,
অর্ধপরিবাহী পদার্থের ক্ষেত্রে, তাপমাত্রা বাড়লে কিছু ইলেক্ট্রন শক্তি অর্জন করে এবং মুক্ত হয়ে পরিবহনে অংশ নেয়, ফলে পরিবাহিতা বাড়ে এবং রোধ কমে যায়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮৬.
গোলীয় দর্পণের বক্রতার ব্যাসার্ধ ফোকাস দূরত্বের-
  1. ক) অর্ধেক
  2. খ) দ্বিগুণ
  3. গ) সমান
  4. ঘ) চার গুণ
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিগুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিগুণ
ব্যাখ্যা

উত্তল দর্পণ এবং অবতল দর্পণ উভয় ক্ষেত্রেই দর্পণের ফোকাস দূরত্ব তার বক্রতার ব্যাসার্ধের অর্ধেক। অর্থাৎ ফোকাস দূরত্ব, f এবং বক্রতার ব্যাসার্ধ, r হলে, f=r/2
বা, r=2f
অর্থাৎ, বক্রতার ব্যাসার্ধ=২×ফোকাস দূরত্ব

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৫৮৭.
চুম্বক দ্বারা আকৃষ্ট হয় না-
  1. নিকেল
  2. আয়রন
  3. অ্যালুমিনিয়াম
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
• চৌম্বক পদার্থ:
- যে সকল পদার্থ চুম্বক দ্বারা প্রবলভাবে আকৃষ্ট হয়, তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি।
- এ সকল পদার্থকে সহজেই চুম্বকে পরিণত করা যায়।

• অচৌম্বক পদার্থ:
- যে সকল পদার্থ চুম্বক দ্বারা প্রভাবিত হয় না, তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন- কাঠ, কাঁচ, তামা, সোনা, রুপা ইত্যাদতসঃ

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
৫৮৮.
কোথায় সাঁতার কাটা সহজ? 
  1. সুইমিংপুলে
  2. পুকুরে
  3. নদীতে
  4. সাগরে
সঠিক উত্তর:
সাগরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাগরে
ব্যাখ্যা

⇒ সাগরে সাঁতার কাটা সহজ।

সাগরে সাঁতার কাটা সহজ:
- কোন প্রবাহী অর্থাৎ তরল বা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে নিমজ্জিত কোনো বস্তুর উপর তরল বা বায়বীয় পদার্থ লম্বভাবে যে ঊর্ধ্বমুখী বল প্রয়োগ করে তাকে প্লবতা বলে।
- সমুদ্রের পানিতে নানা রকম লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।
- যার কারণে সমুদ্রের পানির ঘনত্ব সাধারণ পানির থেকে বেশি হয়।
- ফলে সমুদ্রের পানির প্লবতা বেশি আর নদীর পানির প্লবতা কম।
- যেহেতু সমুদ্রের পানির প্লবতা বেশি, সেহেতু সমুদ্রের পানিতে সাতারুর শরীর হালকা বোধ হয়।
- ফলে সাঁতার কাটা অধিকতর সহজ হয়।

তথ্যসূত্র - পদার্থ বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৫৮৯.
পানির অণু একটি-
  1. প্যারাচৌম্বক
  2. ডায়াচৌম্বক
  3. ফেরােচৌম্বক
  4. অ্যান্টিফেরােচৌম্বক
সঠিক উত্তর:
ডায়াচৌম্বক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়াচৌম্বক
ব্যাখ্যা
- তামা, দস্তা, বিসমাথ, রূপা, সোনা, সীসা, পানি ইত্যাদি ডায়াচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ।
- অ্যালুমিনিয়াম, সোডিয়াম, এন্টিমনি, প্লাটিনাম, ম্যাঙ্গানিজ, ক্রোমিয়াম, তরল অক্সিজেন প্রভৃতি প্যারাচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ।
- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি হলো ফেরোচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৫৯০.
NASA কোন দেশের গবেষণা কেন্দ্র-
  1. রাশিয়া
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. যুক্তরাজ্য
  4. ভারত
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
• NASA:
- NASA এর পূর্ণরূপ হলো National Aeronautics and Space Administration.
- NASA হলো মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।
- নাসা'র সদরদপ্তর ওয়াশিংটন ডিসি তে অবস্থিত।
- এটি ১৯৫৮ সালের ১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল হলো এটির উৎক্ষেপণ কেন্দ্র।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট।
৫৯১.
অণুবীক্ষণ যন্ত্র কে আবিষ্কার করেন?
  1. ক) গ্যালিলিও
  2. খ) রবার্ট হুক
  3. গ) লিউয়েন হুক
  4. ঘ) মাইকেল ফ্যারাডে
সঠিক উত্তর:
গ) লিউয়েন হুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লিউয়েন হুক
ব্যাখ্যা
১৬৮৩ সালে ডাচ বিজ্ঞানী লিউয়েন হুক সর্বপ্রথম অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কার করেন এবং এই যন্ত্র ব্যবহার করে ব্যাকটেরিয়া, হাইড্রা, ভলভক্স ইত্যাদি আবিষ্কার করেন ।

- গ্যালিলিও টেলিস্কোপ ও থার্মোমিটার আবিষ্কার করেন।
- রবার্ট হুক প্রথম কোষপ্রাচীর আবিষ্কার করেন।
- মাইকেল ফ্যারাডে ডায়নামো ও তড়িৎ বিশ্লেষণের সূত্র আবিস্কার করেন।

সূত্র: ব্রিটানিকা
৫৯২.
আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে ব্যবহৃত শব্দের কম্পাঙ্ক কত?
  1. ০.০১-০১ মেগাহার্জ
  2. ০১-১০ মেগাহার্জ
  3. ১০-২০ মেগাহার্জ
  4. ২০-৩০ মেগাহার্জ
সঠিক উত্তর:
০১-১০ মেগাহার্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০১-১০ মেগাহার্জ
ব্যাখ্যা

আল্ট্রাসনোগ্রাফি: 
- আল্ট্রাসনোগ্রাফি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যা উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দের প্রতিফলনের উপর নির্ভরশীল। 
- উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশি থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়। 
- রোগ নির্ণয়ের জন্য যে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয় সেই শব্দের কম্পাঙ্ক 1-10 মেগাহার্টজ হয়ে থাকে। 
- আট্রাসনোগ্রাফির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার স্ত্রীরোগ এবং প্রসূতিবিজ্ঞানে লক্ষ্য করা যায়। 
- এর সাহায্যে ভ্রুণের আকার, পূর্ণতা, ভ্রুণের স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক অবস্থান জানা যায়। 
- প্রসূতিবিদ্যায় এটি একটি দ্রুত, নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য কৌশল। 
- আল্ট্রাসনোগ্রাফির সাহায্যে পিত্তপাথর, জড়ায়ুর টিউমার এবং অন্যান্য পেলভিক মাসের উপস্থিতিও শনাক্ত করা যায়। 
- এক্সরের তুলনায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি অধিকতর নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি, তবুও আল্ট্রাসাউন্ড খুব সীমিত সময়ের জন্য ব্যবহার করতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

৫৯৩.
কোন পদার্থটি বোতলে রেখে দিলে সম্পূর্ণ বোতল জুড়ে থাকবে?
  1. ক) পানি
  2. খ) চিনি
  3. গ) সেন্ট
  4. ঘ) দুধ
সঠিক উত্তর:
গ) সেন্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সেন্ট
ব্যাখ্যা
বায়বীয় পদার্থ সবসময়ই যে পাত্রে রাখা হয় সে পাত্রজুড়ে অবস্থান করে৷ অর্থাৎ, একই পরিমাণ গ্যাস যদি একটি বড় সিলিন্ডারে এবং আরেকটি ছোটো সিলিন্ডারে রাখা হয় তাহলে সেই গ্যাস পুরোটা জুড়ে থাকবে৷
প্রশ্নের প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে একমাত্র সেন্টই এই শর্ত পূরণ করতে পারে যেহেতু এটা গ্যাসীয় পদার্থ৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি
৫৯৪.
যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পে পরিণত হতে শুরু করে তাকে কী বলে?
  1. নিম্ন স্থির বিন্দু
  2. ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু
  3. ত্রৈধ বিন্দু
  4. বরফ বিন্দু
সঠিক উত্তর:
ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু
ব্যাখ্যা
ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু:
যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পের সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পে পরিণত হতে শুরু করে তাকে ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু বা স্টিম বিন্দু বলে। 


তাপীয় সমতা:
যে অবস্থায় তাপীয়ভাবে সংযুক্ত বস্তুগুলোর মধ্যে তাপের আদান-প্রদান ঘটে না, তাকে তাপীয় সমতা বলে।

• নিম্ন স্থির বিন্দু:
যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ বরফ পানির সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে, অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ গলতে শুরু করে তাকে নিম্ন স্থির বিন্দু বা বরফ বিন্দু বলে ।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯৫.
শক্তি পরিমাপের একক কোনটি?
  1. ক) ওয়াট
  2. খ) জুল
  3. গ) হর্স পাওয়ার
  4. ঘ) নিউটন
সঠিক উত্তর:
খ) জুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জুল
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
শক্তি ও কাজের পরিমাপের একক একই। এটি হলো জুল। কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুত শক্তি পরিমাপের একক।
ওয়াট, হর্স পাওয়ার প্রভৃতি হলো ক্ষমতা পরিমাপের একক।
নিউটন হলো বল পরিমাপের একক।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৫৯৬.
১ ক্যালরি =?
  1. ৪.২ জুল
  2. ৩.৮ জুল
  3. ১.২ জুল
  4. ০.২৪ জুল
সঠিক উত্তর:
৪.২ জুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪.২ জুল
ব্যাখ্যা
⇒ তাপ শক্তির একটি রূপ। তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। তাপের SI একক জুল (J)।
এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। ১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১°C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে ১ ক্যালরি (Cal) ধরা হতো। ৪.২ জুল যান্ত্রিক শক্তি ১ ক্যালরি তাপের সমতুল্য।
তাই, ১ ক্যালরি = ৪.২ জুল
∴ ১ জুল = (১/৪.২) ক্যালরি
= ০.২৪ ক্যালরি

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯৭.
তাপ সঞ্চালনের দ্রুততম প্রক্রিয়া কোনটি?
  1. ক) পরিবহন
  2. খ) পরিচলন
  3. গ) বিকিরণ
  4. ঘ) কোনটিই নয়।
সঠিক উত্তর:
গ) বিকিরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিকিরণ
ব্যাখ্যা
তাপ সঞ্চালন হয় তিন প্রক্রিয়ায়।
১) পরিবহন,
২) পরিচলন,
৩) বিকিরণ।
পরিবহন এবং পরিচলন প্রক্রিয়ায় তাপ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়, এবং এই দুই পদ্ধতিতে মাধ্যমকে উত্তপ্ত করে তাপ সঞ্চালন করতে হয়।
কিন্তু বিকিরণ পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালনে মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না। সূর্য থেকে তাপ পৃথিবীতে এভাবেই আসে।
তাই বলা যায় তাপ সঞ্চালনের দ্রুততম প্রক্রিয়া হচ্ছে বিকিরণ।
৫৯৮.
নিচের কোন মৌলটিকে চুম্বকে পরিণত করা যায়?
  1. Au
  2. Ni
  3. Zn
  4. Cu
সঠিক উত্তর:
Ni
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Ni
ব্যাখ্যা
চৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায়, তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 
- বেশির ভাগ চৌম্বক পদার্থে লোহা থাকে তাই চৌম্বক পদার্থকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বা ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থও বলা হয়। 
- ফেরো শব্দটির অর্থ লোহা। 
উদাহরণ: লোহা (Fe), ইস্পাত, নিকেল (Ni), কোবাল্ট (Co) ইত্যাদি। 

অচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় না, তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 
উদাহরণ: সোনা (Au), রূপা (Ag), তামা (Cu), পিতল, অ্যালুমিনিয়াম (Al), দস্তা (Zn), টিন (Sn), কাঠ, কাগজ, প্লাস্টিক, রাবার ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৯৯.
পোলোনিয়াম ও রেডিয়াম কে আবিষ্কার করেন? 
  1. ক) হেনরি বেকরেল 
  2. খ) মাদাম কুরী এবং পিয়ের কুরী
  3. গ) জাবির ইবনে হাইয়ান
  4. ঘ) বেঞ্জামিন লিস্ট
সঠিক উত্তর:
খ) মাদাম কুরী এবং পিয়ের কুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মাদাম কুরী এবং পিয়ের কুরী
ব্যাখ্যা
- 1896 খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকারেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
- মাদাম কুরী এবং পিয়ের কুরী পিচব্লেণ্ড থেকে পোলোনিয়াম এবং আরও পরে অত্যাধিক তেজস্ক্রিয় পদার্থ রেডিয়াম আবিষ্কার করেন।
- রসায়নের জনক জাবির ইবনে হাইয়ান। 

উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান
৬০০.
চশমা, ক্যামেরা ও অণুবীক্ষণ যন্ত্রে সাধারণত কোন লেন্স ব্যবহৃত হয়? 
  1. সমতল আয়না 
  2. উত্তল লেন্স
  3. অবতল লেন্স
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উত্তল লেন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তল লেন্স
ব্যাখ্যা

লেন্স: 
- দুটি গোলকীয় অথবা একটি গোলকীয় এবং একটি সমতল পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ কোন স্বচ্ছ প্রতিসারক আলোক মাধ্যমকে লেন্স বলে। 
- লেন্স প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা-
১। অভিসারী বা উত্তল লেন্স: 
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয় তাকে অভিসারী লেন্স বলে। 
উত্তল লেন্সের ব্যবহার: 
১. উত্তল লেন্সকে আতশী কাঁচ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
২. উত্তল লেন্সের সাহায্যে আলোক রশ্মিকে একটি বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত করে আগুন জ্বালানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। 
৩. চশমা, ক্যামেরা, বিবর্ধক কাঁচ, অণুবীক্ষণ যন্ত্র, দূরবীক্ষণ যন্ত্র ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়। 

২। অপসারী বা অবতল লেন্স: 
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে তাকে অপসারী লেন্স বলে। 
অবতল লেন্সের ব্যবহার: 
১. চশমায় ব্যবহার করা হয়। 
২. গ্যালিলিওর দূরবীক্ষণ যন্ত্রে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।