বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন৩,৭৪৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ৩৫ / ৩৮ · ৩,৪০১৩,৫০০ / ৩,৭৪৭

৩,৪০১.
ইলেকট্রনকে ত্বরান্বিত করে কোনো ধাতব পদার্থের উপর নিক্ষেপ করা হলে -
  1. ক) আলফা রশ্মি উৎপন্ন হয়
  2. খ) বিটা রশ্মি উৎপন্ন হয়
  3. গ) গামা রশ্মি উৎপন্ন হয়
  4. ঘ) এক্সরে উৎপন্ন হয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) এক্সরে উৎপন্ন হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এক্সরে উৎপন্ন হয়
ব্যাখ্যা
এক্সরে: 
কোন উপায়ে ইলেকট্রনকে ত্বরান্বিত করে সেই ত্বরান্বিত ইলেকট্রনগুলো কোনো ধাতব পদার্থের উপর নিক্ষেপ করা হলে ঐ পদার্থের ভিতরের ইলেকট্রন দ্বারা বিকর্ষিত হয়ে ত্বরান্বিত ইলেকট্রনগুলোর মন্দন হয় এবং গতি শক্তি হারায়।
এই হারানো গতি শক্তি E = hf আকারে রশ্মিতে পরিণত হয়। একে এক্সরে বলে।

এক্সরের একক হলো রন্টজেন। যে পরিমাণ বিকিরণের জন্য স্বাভাবিক চাপ ও তাপমাত্রায় এক মিলিলিটার বায়ুতে এক কুলম্ব আধান উৎপন্ন করতে পারে তাকে এক রন্টজেন বলে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩,৪০২.
সম্মুখী ঝোঁকের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. P-type ধনাত্মক প্রান্তে , N-type ঋণাত্মক প্রান্তে
  2. N-type ধনাত্মক প্রান্তে , P-type ঋণাত্মক প্রান্তে
  3. P-type, N-type উভয়ই ঋণাত্মক প্রান্তে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
P-type ধনাত্মক প্রান্তে , N-type ঋণাত্মক প্রান্তে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
P-type ধনাত্মক প্রান্তে , N-type ঋণাত্মক প্রান্তে
ব্যাখ্যা
সম্মুখী ঝোঁক:
- যখন জাংশনে বহিভোল্টেজ এমনভাবে প্রয়োগ করা হয় যাতে বিভব প্রাচীর হ্রাস পায় এবং বিদ্যুৎ প্রবাহ চালু হয় তখন একে সম্মুখী ঝোঁক প্রয়োগ করা বুঝায়।
- এক্ষেত্রে ব্যাটারীর ধনাত্মক প্রান্ত p-টাইপের প্রান্তের সাথে এবং ঋণাত্মক প্রাপ্ত n টাইপের প্রান্তের সাথে সংযোগ দেয়া হয়।
- যখন সম্মুখী ঝোঁক দ্বারা বিভব প্রাচীর অপসারিত হয়, জাংশনের রোধ তখন শূন্যে নেমে আসে।
- তখন p-n জাংশানে ও বহিঃস্থ বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্ঠি হয়।
- এই প্রবাহকে সম্মুখী প্রবাহ বলে।

বিমুখী ঝোঁক:
- যদি বহির্ভোল্টেজ এমনভাবে প্রয়োগ করা হয়, যাতে বিভব প্রাচীরের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় তবে এ ধরনের ঝোঁক প্রয়োগকে বলা হয় বিমুখী ঝোঁক প্রয়োগ বা বিপরীত বায়াসিং (Reverse biasing)।
- এক্ষেত্রে ব্যাটারীর ঋণাত্মক প্রান্ত p-টাইপের প্রান্তের সঙ্গে এবং ধনাত্মক প্রান্ত n-টাইপের প্রান্তের সঙ্গে সংযোগ দেয়া হয়।
- বিভব প্রাচীর বৃদ্ধির ফলে আধান বাহকের চলাচলে আরো অধিক বাধার সৃষ্টি হয়।
- অর্থাৎ রোধ অনেক বেড়ে যায় ফলে বর্তনীতে বিদ্যুৎ প্রবাহ হয় না।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪০৩.
নিচের প্রাণীগুলোর মধ্যে কোনটি সবচেয়ে বেশি কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পারে?
  1. মানুষ
  2. বিড়াল
  3. কুকুর
  4. বাদুড়
সঠিক উত্তর:
বাদুড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাদুড়
ব্যাখ্যা


সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪০৪.
নিচের কোনটি হিগস বোসনের সঠিক বৈশিষ্ট্য? 
  1. স্পিন আছে, ভর নেই
  2. স্পিন নেই, ভর আছে 
  3. স্পিন ও ভর উভয়ই আছে 
  4. স্পিন ও ভর উভয়ই নেই 
সঠিক উত্তর:
স্পিন নেই, ভর আছে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্পিন নেই, ভর আছে 
ব্যাখ্যা

হিগস বোসন (Higgs Boson): 
- হিগস বোসন এর স্পিন 0, তবে এর ভর আছে
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে। হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা। 
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়। 
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্তানান্তরিত হয়। হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্তানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে। 
- এই হিগস বোসনই ঈশ্বর কণা (God's Particle) নামে পরিচিত। 

 উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪০৫.
সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ প্রতি বর্গ সেন্টিমিটারে-
  1. ক) ১০ কিমি
  2. খ) ১০ নিউটন
  3. গ) ২৭ কিমি
  4. ঘ) ৫ কিমি
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ নিউটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ নিউটন
ব্যাখ্যা
সমুদ্রপৃষ্টে বায়ু চাপ ১০ নিউটন বা 10m/atm.
(m = meter, atm = atmosphere)
• যেহেতু পানির ঘনত্ব সমান তাই তলদেশের দিকে যেতে থাকলে চাপ একই হারে বাড়তে থাকে।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বাের্ড বই।
৩,৪০৬.
তড়িৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয় কোথায়?
  1. লাউড স্পীকারে
  2. মোবাইল ফোনে
  3. মাইক্রোফোনে
  4. বৈদ্যুতিক মোটরে
সঠিক উত্তর:
বৈদ্যুতিক মোটরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈদ্যুতিক মোটরে
ব্যাখ্যা
শক্তির রূপান্তর: 
⇒ মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। 
⇒ জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
⇒ লাউড স্পীকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা- বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
⇒ মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রুপান্তরিত হয়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪০৭.
কৃষ্ণবিবর হতে আলো বেরিয়ে আসতে না পারার কারণ কোনটি?
  1. এর মধ্যাকর্ষণ শক্তি অত্যন্ত বেশি
  2. এতে ভাসমান ধুলিকণা অত্যন্ত বেশি
  3. এর মহাকর্ষ শক্তি অত্যন্ত বেশি
  4. এদের কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
এর মহাকর্ষ শক্তি অত্যন্ত বেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এর মহাকর্ষ শক্তি অত্যন্ত বেশি
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণবিবর (Blackhole)
তিন সৌর ভরের সমান বা বেশি ভরের নক্ষত্রের সুপার নোভা বিস্ফোরণের পর এর অন্তর্বস্তু অনির্দিষ্টভাবে সংকুচিত হতে থাকে। সংকোচনের কারণে আয়তন প্রায় শূন্য এবং ঘনত্ব প্রায় অসীম হওয়ায় মহাকর্ষ ক্ষেত্র এমন প্রবল হয় যে, এ জাতীয় বস্তু থেকে এর মহাকর্ষকে কাটিয়ে কোনো প্রকার আলো বা সংকেতও বেরিয়ে আসতে পারে না। তাই বস্তুটিকে আর দেখা যায় না। নক্ষত্রের এই অবস্থাকে বলা হয় কৃষ্ণবিবর (Blackhole)। বাস্তবে g-এর মান এত বেশি হয় যে, ফোটন কণাও এর পৃষ্ঠ থেকে মুক্ত হতে বা বেরিয়ে আসতে পারে না।
১৯৬৯ সালে জন হুইলার নামক জনৈক মার্কিন বিজ্ঞানী কৃষ্ণবিবর আবিষ্কার করেন।

সুত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪০৮.
ওজনের একক কোনটি?
  1. ক) গ্রাম
  2. খ) কিলোগ্রাম
  3. গ) পাউন্ড
  4. ঘ) নিউটন
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিউটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিউটন
ব্যাখ্যা
আমরা জানি যে, কোনো বস্তুকে উপরের দিকে ছুড়ে দিলে ভূমিতে ফিরে আসে। এটা ঘটে বস্তুর ওজনের জন্য যা একে পৃথিবীর দিকে টানে। পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের কারণে এটা ফিরে আসে ।

কোনো বস্তুকে পৃথিবী যে বল দ্বারা তার কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে তাকে বস্তুর ওজন বলে। কোনো বস্তুর ভর m এবং পৃথিবীর কোনো স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণ g হলে ঐ স্থানে বস্তুর ওজন W হবে, W = mg
ওজনের একক হলো বলের একক অর্থাৎ নিউটন।
৩,৪০৯.
আলোক রশ্মি গমন পথে বাঁধা প্রাপ্ত হয়ে পূর্বের মাধ্যমে ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে কী বলে?
  1. ব্যতিচার
  2. অপসরণ
  3. প্রতিসরণ
  4. প্রতিফলন
সঠিক উত্তর:
প্রতিফলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিফলন
ব্যাখ্যা
প্রতিফলন: 
- কোনো আলোক রশ্মি কোনো স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় অন্য কোনো মাধ্যম দ্বারা বাঁধা প্রাপ্ত হলে দুই মাধ্যমের বিভেদতল থেকে প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে। আলোর এই ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে আলোর প্রতিফলন বলে। 
অর্থাৎ, আলোক রশ্মি গমন পথে বাঁধা প্রাপ্ত হয়ে পূর্বের মাধ্যমে ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে প্রতিফলন বলে। 
- যে বিভেদ তল থেকে আলো ফিরে আসে তাকে প্রতিফলক তল বা প্রতিফলক পৃষ্ঠ বলে। 
- আর পূর্ববর্তী মাধ্যমে ফিরে আসা আলোকে বলা হয় প্রতিফলিত আলো বা রশ্মি। 
- সাধারণত দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে যে পরিমাণ আলো এসে পড়ে সবসময় তা সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয় না। পতিত আলোর কতটুকু প্রতিফলিত হবে তা দুটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। 
যেমন- 
১. মাধ্যম দুটির প্রকৃতির উপর এবং 
২. আপতিত আলো প্রতিফলক তলের উপর কত কোণে আপতিত হয় তার পরিমাণের উপর। 

- প্রতিফলক তল যত বেশি মসৃণ হয় প্রতিফলন তত বেশি হয়। 
- আবার অস্বচ্ছ প্রতিফলকের চেয়ে স্বচ্ছ প্রতিফলকে প্রতিফলন কম হয়। 
যেমন- সাদা তলে আলোর প্রতিফলন বেশি হয়। কালো রঙের তলে আলোর প্রতিফলন হয় না বললেই চলে। 
- কাঁচ একটি আলোক স্বচ্ছ মাধ্যম। এর উপর আলো আংশিক প্রতিফলিত হয়। 
- আবার আলোক রশ্মি লম্বভাবে পড়লে খুব সামান্য প্রতিফলিত হয়। রশ্মি যত বেশি কোণে আপতিত হয় প্রতিফলনের পরিমাণও তত বেশি হয়। 
- প্রতিফলন তলের মসৃণতা অনুযায়ী প্রতিফলনকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন- ১. নিয়মিত প্রতিফলন এবং ২. ব্যাপ্ত প্রতিফলন। 

আলোর প্রতিফলনের সূত্র: 
- আলোর প্রতিফলন দু'টি সূত্র মেনে চলে, এদের প্রতিফলনের সূত্র বলে। 
- সূত্র দু'টি হলো - 
১. আপতিত রশ্মি, আপতন বিন্দুতে প্রতিফলকের উপর অংকিত অভিলম্ব এবং প্রতিফলিত রশ্মি একই সমতলে থাকে। 
২. আপতন কোণ এবং প্রতিফলন কোণ সর্বদা সমান হয়। 
অর্থাৎ, আপতন কোণ i এবং প্রতিফলন কোণ r হলে, ∠i = ∠r । 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪১০.
তড়িৎপ্রবাহ পরিমাপ করা হয় কোনটির সাহায্যে?
  1. ক) তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র
  2. খ) অ্যামিটার
  3. গ) ভোল্টমিটারের
  4. ঘ) ক্যালরিমিটার
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যামিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যামিটার
ব্যাখ্যা
- অ্যামিটার ব্যবহৃত হয় তড়িৎপ্রবাহ পরিমাপের জন্য।
- কোনো বস্তুতে উপস্থিত আধানের অস্তিত্ব নির্ণয় করা হয় তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে।
- বিভব পার্থক্য নির্ণয় করা হয় ভোল্টমিটারের সাহায্যে।
- তাপ পরিমাপক যন্ত্র হচ্ছে ক্যালরিমিটার। 

সূত্র: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, নবম-দশম শ্রেণি। 
৩,৪১১.
পানির অণু নিচের কোন ধরনের চুম্বকীয় পদার্থ?
  1. প্যারাচুম্বকীয় পদার্থ
  2. ডায়াচুম্বকীয় পদার্থ
  3. ফেরোচুম্বকীয় পদার্থ
  4. অ্যান্টি-ফেরোচুম্বকীয় পদার্থ
সঠিক উত্তর:
ডায়াচুম্বকীয় পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়াচুম্বকীয় পদার্থ
ব্যাখ্যা

• পানির অণু একটি ডায়াচৌম্বকীয় (Diamagnetic) পদার্থ কারণ এর পরমাণুগুলোতে থাকা সমস্ত ইলেকট্রন জোড়ায় জোড়ায় (paired) থাকে। যখন পানির অণুকে কোনো বাহ্যিক শক্তিশালী চুম্বক ক্ষেত্রের কাছে নেওয়া হয়, তখন এটি আকর্ষিত হওয়ার পরিবর্তে খুব সামান্য পরিমাণে বিকর্ষিত (repelled) হয়। এই দুর্বল বিকর্ষণ ধর্মই ডায়াচুম্বকত্বের বৈশিষ্ট্য।

• প্যারাচৌম্বক: 
- এ সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়। এদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি প্যারা চৌম্বক পদার্থ। 

• ডায়াচৌম্বক: 
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়। 
অর্থাৎ, সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- হাইড্রোজেন, পানির অণু (H2O), সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি ডায়া চৌম্বক পদার্থ। 

• ফেরোচৌম্বক: 
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়। এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি ফেরো চৌম্বক পদার্থ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪১২.
তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ -
  1. কমে
  2. বাড়ে
  3. একই থাকে
  4. তাপমাত্রার উপর নির্ভরশীল নয়।
সঠিক উত্তর:
কমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমে
ব্যাখ্যা
- তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমে। 
- ঠাণ্ডা পানি গরম পানির চেয়ে বেশি দ্রবীভূত অক্সিজেন ধরে রাখতে পারে।
-  শীতকালে এবং বসন্তের শুরুতে, যখন পানির তাপমাত্রা কম থাকে, তখন দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি থাকে।
- গ্রীষ্ম এবং শরত্কালে, যখন পানির তাপমাত্রা বেশি থাকে, তখন দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমান প্রায়ই কম থাকে।
- উষ্ণ পানি ঠান্ডা পানির তুলনায় কম দ্রবীভূত অক্সিজেন ধারণ করার কারণ অণুগুলি ঠান্ডা পানির তুলনায় দ্রুত গতিতে চলে এবং এর ফলে অক্সিজেন পানি থেকে বেরিয়ে যায়।
 
উৎস: www.usgs.gov/
৩,৪১৩.
সেলসিয়াস স্কেলে কোন স্থানের তাপমাত্রা 35 ডিগ্রী হলে ফারেনহাইট স্কেলে তাপমাত্রা কত হবে?
  1. 67 ডিগ্রী ফারেনহাইট
  2. 95 ডিগ্রী ফারেনহাইট
  3. 135 ডিগ্রী ফারেনহাইট
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
95 ডিগ্রী ফারেনহাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
95 ডিগ্রী ফারেনহাইট
ব্যাখ্যা
সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলের সম্পর্কঃ
C/5 = (F-32)/9
35/5 = (F-32)/9
বা, 7 = (F-32)/9
বা, (F-32) = 63
বা, F = 63+32
বা, F = 95
৩,৪১৪.
একটি ৩৫ নিউটন ওজনের গাছের গুড়ি পানিতে রাখায় তার ওজন ৩০ নিউটন অনুভূত হলো। গাছটি দ্বারা অপসারিত পানির ওজন কত হবে?
  1. ক) ৩৫ নিউটন
  2. খ) ৩০ নিউটন
  3. গ) ৫ নিউটন
  4. ঘ) গাছটি পানি অপসারণ করবে না।
সঠিক উত্তর:
গ) ৫ নিউটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৫ নিউটন
ব্যাখ্যা
আর্কিমিডিসের নীতি: বস্তুকে কোনো স্থির তরল বা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণ ডুবালে বস্তুটি কিছু ওজন হারায়, এই হারানো ওজন বস্তুটি দ্বারা অপসারিত তরল পদার্থের ওজনের সমান।

এখানে, 
গাছের প্রকৃত ওজন ৩৫ নিউটন 
পানিতে অনুভূত ওজন ৩০ নিউটন  
∴ গাছটির হারানো ওজন = (৩৫ - ৩০) নিউটন 
= ৫ নিউটন 

আমরা জানি,
পানিতে বস্তুর হারানো ওজন = বস্তু দ্বারা অপসারিত পানির ওজন 

∴ গাছটি দ্বারা অপসারিত পানির ওজন ৫ নিউটন হবে।
৩,৪১৫.
তরঙ্গ সঞ্চালনের সময় কোনো কণার একটি পূর্ণ কম্পন (স্পন্দন) সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে, তাকে কী বলে?
  1. কম্পাঙ্ক
  2. পর্যায়কাল
  3. বিস্তার
  4. তরঙ্গ দৈর্ঘ্য
সঠিক উত্তর:
পর্যায়কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্যায়কাল
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ: 
- জড় মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের ফলে সৃষ্ট যে পর্যাবৃত্ত আন্দোলন ঐ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চালিত করে কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলো স্থানান্তরিত হয় না সেই পর্যাবৃত্ত আন্দোলনকে তরঙ্গ বলে। 

তরঙ্গ দৈর্ঘ্য: 
- তরঙ্গ সঞ্চারকারী কোনো কণার একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন হতে যে সময় লাগে, সেই সময়ে তরঙ্গ যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বলে। 
- তরঙ্গের উপর পরপর দুটি সমদশা সম্পন্ন কণার মধ্যবর্তী দূরত্বই তরঙ্গ দৈর্ঘ্য। 
- তরঙ্গ দৈর্ঘ্যকে গ্রীক বর্ণ λ (ল্যামডা) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- পর পর দুটি তরঙ্গ শীর্ষ বা পরপর দুটি তরঙ্গ পাদের মধ্যবর্তী দূরত্বও একটি তরঙ্গ দৈর্ঘ্য। 

তরঙ্গ শীর্ষ ও তরঙ্গ পাদ: 
- তরঙ্গের সাম্যাবস্থান থেকে সর্বোচ্চ (ধনাত্মক) বিস্তারের বিন্দুটিকে তরঙ্গ শীর্ষ এবং সর্বনিম্ন (ঋণাত্মক) বিস্তারের বিন্দুটিকে তরঙ্গ পাদ বলা হয়। 
- অসংখ্য তরঙ্গ পাদ এবং তরঙ্গ শীর্ষ নিয়ে তরঙ্গ সৃষ্টি হয়। 

তরঙ্গ বেগ: 
- তরঙ্গ নির্দিষ্ট দিকে একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে ঐ তরঙ্গের বেগ বা সংক্ষেপে তরঙ্গ বেগ বলে। 
- তরঙ্গ বেগকে v দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 

পর্যায়কাল: 
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোন কণার একটি স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে ঐ তরঙ্গের পর্যায়কাল বলে। 
- পর্যায়কালকে T অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। পর্যায়কালের একক সেকেন্ড (s)। 

কম্পাঙ্ক: 
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে ঐ কণার বা তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে। 
- কম্পাঙ্ককে সাধারণত ƒ দ্বারা প্রকাশ করা হয়। কম্পাঙ্কের একক হার্জ (Hz)। 

বিস্তার: 
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা সাম্য অবস্থান থেকে যে কোনো একদিকে সর্বাধিক যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গের বিস্তার বলে। 

দশা: 
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণার যে কোনো মুহূর্তের গতির সম্যক অবস্থানকে তার দশা বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪১৬.
একটি নির্দিষ্ট ব্যাসের কৈশিক নলে পানি h উচ্চতা পর্যন্ত ওঠে। অপর কৈশিক নল নেওয়া হল যার ব্যাস পূর্বের নলের অর্ধেক। দ্বিতীয় নলে পানি যে উচ্চতা পর্যন্ত উঠবে তা হল-
  1. h
  2. 2h
  3. 1/2 h
  4. 1/4 h
সঠিক উত্তর:
2h
উত্তর
সঠিক উত্তর:
2h
ব্যাখ্যা

কৈশিক ক্রিয়া অনুযায়ী তরল যে উচ্চতায় উঠে, সেটির সমীকরণ
h = (2T cosθ) / (ρ g r)

যেখানে,
T = পৃষ্ঠটান ।
θ = সংস্পর্শ কোণ। 
ρ = পানির ঘনত্ব।
g = মধ্যাকর্ষণ বল।
r = কৈশিক নলের ব্যাসার্ধ।
অর্থাৎ, h ∝ 1/r
ধরি,
প্রথম নলের ব্যাস = 2r.
ব্যাসার্ধ = r, উচ্চতা = h
দ্বিতীয় নলের ব্যাস = (2r)/2 = r
ব্যাসার্ধ = r/2 
ব্যাসার্ধ অর্ধেক হলে উচ্চতা দ্বিগুণ হবে।
∴ দ্বিতীয় নলে পানি উঠবে = 2h.

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩,৪১৭.
তেজস্ক্রিয়তার কোন বৈশিষ্ট্যটি সত্য?
  1. এটি শুধুমাত্র তাপের দ্বারা পরিবর্তিত হয়
  2. এটি শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত
  3. এটি একটি নিউক্লীয় ঘটনা এবং বাইরের কোনো উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না
  4. এটি বাইরের চাপ, তাপ বা চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় 
সঠিক উত্তর:
এটি একটি নিউক্লীয় ঘটনা এবং বাইরের কোনো উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এটি একটি নিউক্লীয় ঘটনা এবং বাইরের কোনো উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না
ব্যাখ্যা

- তেজস্ক্রিয়তার সঠিক বৈশিষ্ট্যটি হছে 'এটি একটি নিউক্লীয় ঘটনা এবং বাইরের কোনো উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না'। 

তেজস্ক্রিয়তা: 
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে সেটাকে স্থিতিশীল রাখার জন্য নিউট্রনের সংখ্যাও বেড়ে যেতে থাকে, কিন্তু তারপরও নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা 82 অতিক্রম করার পর থেকে নিউক্লিয়াসগুলো অস্থিতিশীল হতে শুরু করে। এই অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াসগুলো কোনো এক ধরনের বিকিরণ করে স্থিতিশীল হওয়ার চেষ্টা করে এবং এই প্রক্রিয়াটাকে বলা হয় তেজস্ক্রিয়তা। 
- নিউক্লিয়াসের ভেতর থেকে যে বিকিরণ বের হয়ে আসে তাকে বলে তেজস্ক্রিয় রশ্মি। 
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা 82 অতিক্রম করলেই (পারমাণবিক সংখ্যা ৪2 থেকে বেশি) যে নিউক্লিয়াসগুলো তেজস্ক্রিয় হয়ে থাকে তা নয়, অন্য পরমাণুর নিউক্লিয়াসও তেজস্ক্রিয় হতে পারে। 
- একটি মৌলের বাহ্যিক ধর্ম, প্রকৃতি, এবং রাসায়নিক গুণাগুণ নির্ভর করে বাইরের ইলেকট্রনের শ্রেণিবিন্যাসের ওপর। 
- 1896 সালে হেনরি বেকেরেল (Henri Becquerel) প্রথম ইউরেনিয়াম থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মির অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। 
- পরবর্তীতে আরনেস্ট রাদারফোর্ড, পিয়ারে কুরি, মেরি কুরি এবং অন্যা বিজ্ঞানীরা অন্যান্য মৌলের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
- এটি বাইরের চাপ, তাপ, বৈদ্যুতিক বা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে কোনোভাবে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, কাজেই এটি একটি নিউক্লী ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তার কারণে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়ে নিউক্লিয়াসের গঠন পরিবর্তিত হয়ে সেটিও ভিন্ন একটি মৌলে রূপান্তরিত হয়ে যেতে পারে। 
- নিউক্লিয়াস থেকে যে তিনটি প্রধান তেজস্ক্রিয় রশ্মি বের হয়, সেগুলো হচ্ছে আলফা, বিটা এবং গামা রশ্মি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪১৮.
Which color of light has the longest wavelength?
  1. Blue
  2. Violet
  3. Yellow
  4. Orange
  5. Red
সঠিক উত্তর:
Red
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Red
ব্যাখ্যা
আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য:
- দৃশ্যমান আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম: বেগুনি < নীল < আসমানী < সবুজ < হলুদ < কমলা < লাল।
- আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হলে তার বিক্ষেপণ বেশি হয়।
- আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হলে তার বিক্ষেপণ কম হয়।
- লাল রঙের আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি তাই এর বিক্ষেপণ কম।
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম।
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশী।
- লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।

তথ্যসূত্র - পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৪১৯.
১ ফ্যাদম = ?
  1. ক) ২.৬ ফুট
  2. খ) ৩.৪ ফুট
  3. গ) ৫.২ ফুট
  4. ঘ) ৬ ফুট
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬ ফুট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬ ফুট
ব্যাখ্যা
১ ফ্যাদম = ৬ ফুট বা ১.৮৩ মিটার।
এই একক পানির গভীরতা পরিমাপে ব্যবহৃত হয়।
একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দুই হাত প্রসারিত করলে এক হাতের মধ্যাঙ্গুলির প্রান্ত থেকে অন্য হাতের মধ্যাঙ্গুলির প্রান্ত পর্যন্ত এক ফ্যাদম ধরা হয়।

সূত্র: ব্রিটানিকা [লিংক]
৩,৪২০.
ভেক্টর রাশির ধর্ম নয় কোনটি?
  1. ক) ভেক্টর রাশির মান ও দিক আছে।
  2. খ) দুটি ভেক্টর রাশির ভেক্টর গুণফল একটি ভেক্টর রাশি।
  3. গ) ভেক্টর রাশিকে উপাংশে বিভক্ত করা যায়।
  4. ঘ) দুটি ভেক্টর রাশির ভেক্টর গুণফল একটি স্কেলার রাশি।
সঠিক উত্তর:
ঘ) দুটি ভেক্টর রাশির ভেক্টর গুণফল একটি স্কেলার রাশি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দুটি ভেক্টর রাশির ভেক্টর গুণফল একটি স্কেলার রাশি।
ব্যাখ্যা
কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়। আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়।
এজন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি 
খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি। 

স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি:
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়।
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

 ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়।
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি।  

ভেক্টর রাশির ধর্ম (Properties of vector):

- ভেক্টর রাশিগুলো কিছু মৌলিক নিয়ম বা ধর্ম অনুসরণ করে। যেমন -
- ভেক্টর রাশির মান ও দিক আছে।
- সমজাতীয় ভেক্টরসমূহকে যোগ করা যায় কিন্তু ভিন্ন প্রকৃতির ভেক্টর যোগ করা যায় না।
- দুটি ভেক্টর রাশির ভেক্টর গুণফল একটি ভেক্টর রাশি।
- দুটি ভেক্টর রাশির স্কেলার গুণফল একটি স্কেলার রাশি।
- ভেক্টরের যোগ, বিয়োগ, গুণ সাধারণ গাণিতিক নিয়ম মেনে চলে না।
- ভেক্টর রাশিকে উপাংশে বিভক্ত করা যায়।
- ভেক্টর রাশির উদাহরণ সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল, কৌণিক ভরবেগ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪২১.
তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি বৃদ্ধি পেলে বাতাসে শব্দের বেগ কতটুকু বৃদ্ধি পায়?
  1. ক) ০.৩১ মিটার/সেকেন্ড
  2. খ) ০.৬০ মিটার/সেকেন্ড
  3. গ) ১.০ মিটার/সেকেন্ড
  4. ঘ) ০.৫ মিটার/সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
খ) ০.৬০ মিটার/সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ০.৬০ মিটার/সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের বেগও বাড়ে।
যেমন, পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস (0°) তাপমাত্রায় বাতাসে শব্দের গতি প্রতি সেকেন্ডে ৩৩১ মিটার।
কিন্তু প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে এর বেগ ০.৬ মিটার বৃদ্ধি পাবে।
শব্দের বেগ মাধ্যমের ঘনত্বের উপরও নির্ভর করে। যে মাধ্যমের ঘনত্ব বেশি সে মাধ্যমে শব্দের বেগও বেশি। ফলে পানিতে শব্দের বেগ ১৪৪০ মিটার/সেকেন্ড। কঠিন পদার্থ যেমন কাঠের মধ্যে শব্দের বেগ বায়ু অপেক্ষা ১২ গুণ বেশি। ইস্পাতে শব্দের বেগ বায়ুর চেয়ে ১৫ গুণ বেশি। সহজ কথায়, যে পদার্থের ঘনত্ব বেশি সে পদার্থে শব্দের বেগও বেশি।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।
৩,৪২২.
নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়া ব্যবহার করা হয়- 
  1. বায়ু টারবাইনে
  2. সৌর প্যানেলে
  3. সৌর ক্যালকুলেটরে
  4. পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে
ব্যাখ্যা
নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া: 
- নিউক্লিয় ফিউশন হল সেই প্রক্রিয়া যেখানে দুটি হালকা নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াস তৈরি করে। 
- এই বিক্রিয়াকে সংযোজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- ফিউশন বিক্রিয়ার ফলে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়, যা সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রের শক্তির মূল উৎস। 
- হাইড্রোজেন বোমার কার্যপ্রক্রিয়া নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে। 

নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়া: 
- নিউক্লিয় ফিশন হল এমন একটি পারমাণবিক প্রক্রিয়া যেখানে একটি ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে দুটি বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়। 
- একে বিয়োজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- এই বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়, যা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক অস্ত্র, বিশেষত পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪২৩.
রোধের এস আই একক কী? 
  1. ও'ম
  2. সিমেন্স
  3. ভোল্ট
  4. অ্যাম্পিয়ার
সঠিক উত্তর:
ও'ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ও'ম
ব্যাখ্যা
রোধ: 
- বিদ্যুৎ প্রবাহ তৈরি হয় ইলেকট্রনের প্রবাহের জন্য। 
- কোনো পরিবাহীর দুই প্রান্তে বিভব পার্থক্য থাকলে এই প্রবাহ শুরু হয়, এক্ষেত্রে ইলেকট্রন নিম্ন বিভব থেকে উচ্চ বিভবের দিকে প্রবাহিত হয়। 
- এই ইলেকট্রন স্রোত পরিবাহীর মধ্য দিয়ে চলার সময় পরিবাহীর অভ্যন্তরস্থ অণু-পরমাণুর সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ফলে এর গতি বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং বিদ্যুৎ প্রবাহও বিঘ্নিত হয়। পরিবাহীর এই বাধাদানের ধর্ম হলো রোধ। 
- রোধের এস আই একক হলো ও'ম। 
- কোনো পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য ১ ভোল্ট এবং এর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহ ১ অ্যাম্পিয়ার হলে, ঐ পরিবাহীর রোধ হবে ১ ও'ম। 

অন্যদিকে, 
- তড়িৎ প্রবাহের একক হচ্ছে- অ্যাম্পিয়ার। 
- তড়িৎ পরিবাহিতার একক হচ্ছে- সিমেন্স। 
- বিভব পার্থ্যকের একক হচ্ছে- ভোল্ট । 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৪২৪.
ট্রানজিস্টরের সাথে রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে যে সার্কিট তৈরি করা হয় তাকে কী বলে?
  1. IC
  2. RAM
  3. Processor
  4. Motherboard
সঠিক উত্তর:
IC
উত্তর
সঠিক উত্তর:
IC
ব্যাখ্যা
• ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC):
- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট।
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে।
- আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়।
- আইসি আবিষ্কারের সাথে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪২৫.
পরমশূন্য তাপমাত্রা কত?
  1. - ২৭৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  2. ২৭৩ কেলভিন
  3. - ২৭৩ কেলভিন
  4. শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
- ২৭৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
- ২৭৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
• পরমশূন্য তাপমাত্রা:
- যে তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তনের বিলুপ্তি ঘটে অর্থাৎ আয়তন শূন্য হয়ে যায়, সে তাপমাত্রাকে পরমশূন্য তাপমাত্রা বলে।
- পরমশূন্য তাপমাত্রা হলো: -২৭৩°C বা শূণ্য কেলভিন।
- পরমশূন্য তাপমাত্রা গ্যাসের প্রকৃতি ও চাপের উপর নির্ভর করে না।
- পরমশূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের স্থানান্তর গতি শূন্য হয়, গ্যাসের অণুসমূহের স্থানান্তরণ একেবারে স্তব্দ হয়ে যায়।
- এ সময় অণুসমূহ পরস্পরের খুবই নিকটে আসে, ফলে আয়তন খুবই কম হয়।
- পরমশূন্য তাপমাত্রায় কম্পন গতির জন্য পদার্থের যে শক্তি অবশিষ্ট থাকে, তাকে শূন্য বিন্দু শক্তি বলা হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি হাজারী নাগ।
৩,৪২৬.
পানিতে শব্দের বেগ কত?
  1. ক) 920 ms-1
  2. খ) 790 ms-1
  3. গ) 1140 ms-1
  4. ঘ) 1493 ms-1
সঠিক উত্তর:
ঘ) 1493 ms-1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) 1493 ms-1
ব্যাখ্যা

বাতাসের চেয়ে তরল পদার্থে শব্দের বেগ বেশি।
তরলের চেয়ে কঠিন পদার্থে শব্দের বেগ বেশি।
বাতাসে শব্দের বেগ ৩৩০ মি/সে,
পানিতে ১৪৯৩ মি/সে,
লােহাতে ৫১৩০ মি/সে এবং
হীরায় শব্দের বেগ ১২,০০০ মি/সে।
উৎসঃ নবম দশম শ্রেণীর পদার্থজ্ঞান বই, পৃষ্ঠা নং ২০৩

৩,৪২৭.
আপেক্ষিকতার নীতি অনুযায়ী, কোনো বস্তুর অবস্থান বা বেগ মূলত কীভাবে পরিমাপ করা হয়?
  1. শূন্য মাধ্যমে
  2. আলোর উৎসের সাপেক্ষে 
  3. স্থির বিন্দুর সাপেক্ষে
  4. প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে
সঠিক উত্তর:
প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে
ব্যাখ্যা

আপেক্ষিকতার নীতি: 
- যখন কোনো বস্তুর অবস্থান বা বেগ পরিমাপ করা হয় তখন কোনো স্থির বিন্দুকে প্রসঙ্গ কাঠামো হিসাবে বিবেচনা করা হয়। 
- ঐ প্রসঙ্গ কাঠামো সাপেক্ষে বস্তুটির রৈখিক দূরত্বকে তার অবস্থান বলা হয় এবং প্রসঙ্গ কাঠামো সাপেক্ষে বস্তুটির রৈখিক দ্রতিকে বেগ বলা হয়, কিন্তু এই মহাবিশ্বে কোনো কিছুই স্থির নয়। 
- সুতরাং পরম স্থির বলে কোনো অবস্থান পাওয়া সম্ভব নয় যাকে স্থির প্রসঙ্গ কাঠামো হিসাবে বিবেচনা করা যায়। তাই প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে যা পরিমাপ করা হয় তা পরম নয়। 
অর্থাৎ, সব সময় অবস্থান বা বেগকে আপেক্ষিকভাবে পরিমাপ করা হয়। 
- চিরায়ত বল বিদ্যার মতে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি।
- কিন্তু ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটান। তার তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়, এগুলো সকলই আপেক্ষিক। 
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে এদের পরিবর্তন হয়। কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ। 
- উচ্চ গতিশীল (আলোর কাছাকাছি বেগে) বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়, আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক বলা হয়। 
- পরমাণবিক ও নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞানে এই তত্ত্বের গুরত্ব অপরিসীম। 
- আইনস্টাইন তার আপেক্ষিক তত্ত্বে বলেন প্রাকৃতিক নিয়মাবলীর গাণিতিক সূত্রসমূহ সকল জড় কাঠামোতে অভিন্ন, এটাই আপেক্ষিকতার নীতি। 
- ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। 
- মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়। 

বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য: 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই দুটি স্বীকার্য প্রদান করেন। 
প্রথম স্বীকার্য: স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে। 
দ্বিতীয় স্বীকার্য: শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪২৮.
কোন বিজ্ঞানী পড়ন্ত বস্তুর সূত্র আবিষ্কার করেছিলেন? 
  1. আইজ্যাক নিউটন
  2. আলবার্ট আইনস্টাইন
  3. জোহান কেপলার
  4. গ্যালেলিও গ্যালিলাই
সঠিক উত্তর:
গ্যালেলিও গ্যালিলাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যালেলিও গ্যালিলাই
ব্যাখ্যা
পড়ন্ত বস্তুর সূত্রসমূহ: 
- কোন বস্তুকে উপর থেকে ছেড়ে দিলে অভিকর্ষের প্রভাবে মাটিতে পড়ে। 
- বাতাসের বা অন্য কোন বাঁধা দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে কেবল অভিকর্ষের প্রভাবে পড়ন্ত বস্তুকে বলা হয় মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তু। 
- ষোড়শ শতাব্দীতে ইটালীর বিখ্যাত গণিতবিদ ও বিজ্ঞানী গ্যালেলিও গ্যালিলাই পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কে তিনটি সূত্র দেন, এই সূত্রগুলোকে পড়ন্ত বস্তুর সূত্র বলা হয়। 
- এই সূত্রগুলো এখন সর্বজন গৃহীত সূত্র। 
- সূত্রগুলো নিম্নরূপ - 
প্রথম সূত্র: 
- স্থির অবস্থান এবং একই উচ্চতা থেকে বিনা বাঁধায় বা মুক্তভাবে পড়ন্ত সকল বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করে। 

দ্বিতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাঁধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে প্রাপ্ত বেগ ঐ সময়ের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, বস্তু t সময়ে v বেগ প্রাপ্ত হলে, v ∝ t  । 

তৃতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাঁধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, t সময়ে বস্তু h দূরত্ব অতিক্রম করলে, h ∝ t2  । 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪২৯.
ভূ-চুম্বকের উত্তর মেরু থাকে ভৌগলিক-
  1. উত্তর মেরুতে
  2. দক্ষিণ মেরুতে
  3. পূর্ব মেরুতে
  4. কেন্দ্রস্থলে
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ মেরুতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ মেরুতে
ব্যাখ্যা
• ভূ-চুম্বক:
- ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে রাণী এলিজাবেথের পারিবারিক চিকিৎসক ড. গিলবার্ট বিভিন্ন পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণ করেন যে পৃথিবী একটি চুম্বক।
- এই ভূ-চুম্বকের দক্ষিণ মেরু, ভৌগলিক উত্তর মেরু অর্থাৎ কানাডার উত্তর দিকে বুথিয়া উপদ্বীপে।
- উত্তর মেরু এন্টার্কটিকা মহাদেশের ভিক্টোরিয়া অঞ্চলে অর্থাৎ ভৌগলিক দক্ষিণ মেরুতে অবস্থিত।
- প্রকৃতপক্ষে ভূ-চুম্বকের দক্ষিণ মেরু ভৌগলিক উত্তর মেরু থেকে প্রায় ২৫০০ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং ভূ-চুম্বকের উত্তর মেরু ভৌগলিক দক্ষিণ মেরু থেকে প্রায় ২২০০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৪৩০.
তরলের মধ্যে বস্তুর চলাচলের ফলে যে ঘর্ষণ বল সৃষ্টি হয় তা মূলত কোন ধরনের ঘর্ষণ?
  1. স্থিতি ঘর্ষণ
  2. চল ঘর্ষণ
  3. আবর্ত ঘর্ষণ
  4. প্রবাহী ঘর্ষণ
সঠিক উত্তর:
প্রবাহী ঘর্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবাহী ঘর্ষণ
ব্যাখ্যা

• তরলের মধ্যে বস্তুর চলাচলের ফলে যে ঘর্ষণ বল সৃষ্টি হয় তাকে প্রবাহী ঘর্ষণ বলে।

• ঘর্ষণ:
- দুটি স্পর্শকৃত পৃষ্ঠের মধ্যে আপেক্ষিক গতির বিরোধী যে বল ক্রিয়া করে তাকে ঘর্ষণ বলে।
- ঘর্ষণ বল সর্বদা গতির বিপরীত দিকে ক্রিয়া করে।
- স্পর্শকৃত পৃষ্ঠের প্রকৃতি, মসৃণতা ও চাপের উপর ঘর্ষণের মান নির্ভর করে।
- ঘর্ষণ না থাকলে হাঁটা, বস্তু ধরা বা যানবাহন চলাচল সম্ভব হতো না।

• ঘর্ষণের প্রকারভেদ:
- স্থিতি ঘর্ষণ: কোনো বস্তু স্থির অবস্থায় থাকলে এবং তাকে সরানোর চেষ্টা করলে যে প্রতিরোধী বল ক্রিয়া করে।
- চল বা পিছলানো ঘর্ষণ: একটি বস্তু অন্য বস্তুর উপর দিয়ে স্লাইড বা পিছলে চললে যে ঘর্ষণ বল সৃষ্টি হয়।
- আবর্ত ঘর্ষণ: কোনো বস্তু গড়িয়ে চলার সময় যে ঘর্ষণ বল ক্রিয়া করে।
- প্রবাহী ঘর্ষণ: তরল বা বায়ুর মধ্যে বস্তুর চলাচলের ফলে যে প্রতিরোধমূলক ঘর্ষণ বল সৃষ্টি হয়।

• প্রবাহী ঘর্ষণের বৈশিষ্ট্য:
- এটি তরল বা গ্যাসের কণার সঙ্গে বস্তুর পারস্পরিক ক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন হয়।
- বস্তুর বেগ যত বেশি হয়, প্রবাহী ঘর্ষণ তত বৃদ্ধি পায়।
- বস্তুর আকৃতি ও তরলের ঘনত্ব প্রবাহী ঘর্ষণের মানকে প্রভাবিত করে।
- বিমান, জাহাজ ও সাবমেরিনের নকশায় প্রবাহী ঘর্ষণ কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

৩,৪৩১.
ট্রান্সফরমারের কাজ কী? 
  1. তাপ শক্তি উৎপাদন করা 
  2. বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা
  3. বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা
  4. উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করা
সঠিক উত্তর:
উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করা
ব্যাখ্যা
ট্রান্সফরমার (Transformer): 
- এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র, এটি পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে। 
- এখানে মূলত দুটি কুণ্ডলী থাকে। 
- কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়। 
- একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ। 
- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। 
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 

- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়। 
যথা- স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার। 
- একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের এক বাহুতে অন্তরিত তামার তার পেঁচিয়ে মুখ্য কুণ্ডলী এবং অপর বাহুতে একইভাবে অন্তরিত তামার তার পেঁচিয়ে গৌণ কুণ্ডলী তৈরি করা হয়।
- মুখ্য কুণ্ডলীতে পরিবর্তি তড়িচ্চালক শক্তি প্রয়োগ করলে কোরে চৌম্বক বলরেখার সৃষ্টি হয়। 
- যেহেতু কোরটি আয়তাকার সেহেতু চৌম্বক বলরেখাগুলো বদ্ধ হয় এবং যে পরিমাণ বলরেখা মুখ্য কুণ্ডলীর বাহুতে সৃষ্টি হয় সেই পরিমাণ বলরেখার গৌণ কুণ্ডলীর কোরের বাহু অতিক্রম করে। 
- ফলে পরিবর্তিত প্রবাহের কারণে মুখ্য কুণ্ডলীতে যে পরিমাণ বলরেখার পরিবর্তন ঘটে ঠিক সেই পরিমাণ বলরেখার পরিবর্তন গৌণ কুণ্ডলীতেও ঘটে। 
- স্টেপ আপ ট্রন্সফরমারে মুখ্য কুণ্ডলীর পাক সংখ্যার চেয়ে গৌণ কুণ্ডলীর পাক সংখ্যা বেশি থাকে। 
- অপরদিকে স্টেপ ডাউন ট্রন্সফরমারে মুখ্য কুণ্ডলীর পাক সংখ্যার চেয়ে গৌণ কুণ্ডলীর পাক সংখ্যা কম থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৩২.
"ভর এবং শক্তি একই সত্তার দ্বৈত প্রকাশ" - এই মতামত প্রথম প্রকাশ করেন কে?
  1. স্যার আইজ্যাক নিউটন
  2. আলবার্ট আইনস্টাইন
  3. এইচ. এ. লরেন্টজ
  4. শেলডন গ্ল্যাশো
সঠিক উত্তর:
আলবার্ট আইনস্টাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলবার্ট আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
- আপেক্ষিকতা তত্ত্বের যে দুটো গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের ওপর ভিত্তি করে আজকের নিউক্লীয় যুগের সূচনা হয়েছিলো তা হলো ভরের আপেক্ষিকতা অর্থাৎ গতির সাথে ভরের পরিবর্তন এবং ভরকে শক্তিতে রূপান্তর।
- আলবার্ট আইনস্টাইনের মতে ভর এবং শক্তির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
- এরা একই সত্ত্বার দ্বৈত প্রকাশ যা E= mc2 সমীকরণের মাধ্যমে গাণিতিকভাবে প্রকাশিত হয়। 
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৩,৪৩৩.
পাথরে পাথর ঘষলে কীভাবে শক্তির রূপান্তর হয়?
  1. যান্ত্রিক → তাপ ও আলোক
  2. যান্ত্রিক → তাপ
  3. গতি → তাপ
  4. গতি → শব্দ ও রাসায়নিক
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক → তাপ ও আলোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক → তাপ ও আলোক
ব্যাখ্যা
যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর: 
- হাত দিয়ে শরীরের অন্য কোনো অংশ ঘষলে গরম অনুভূত হয় ফলে যান্ত্রিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- বাঁশি বাজালে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- এক খন্ড পাথরের উপর একটি ধাতব দন্ড দ্বারা জোরে আঘাত করলে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বের হতে দেখা যায় এবং এক ধরনের শব্দেরও সৃষ্টি হয়। ধাতব দণ্ড ও পাথর খন্ডটি খানিকটা উত্তপ্ত হয়ে যান্ত্রিক শক্তি তাপ, শব্দ ও আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- ঢেঁকি দিয়ে ধান ভানার সময় এতে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ ও তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- একই ভাবে দোলনার ক্ষেত্রে স্থিতি ও গতিশক্তির রূপান্তর ঘটে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৩,৪৩৪.
বিটা কণিকার ক্ষেত্রে কোনটি সত্য?
  1. এরা ধনাত্বক চার্জ বহন করে
  2. ভেদন ক্ষমতা আলফা কণিকা অপেক্ষা কম
  3. সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয় না
  4. ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে
সঠিক উত্তর:
ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে
ব্যাখ্যা
বিটা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি:

- বিটা কণিকা খুব হালকা।
- এর ভর 9.1×10-31 kg.
- এরা ঋণাত্নক চার্জ বহন করে। এই চার্জের মান 1.6×10-19 C.
- তেজস্ক্রিয় বস্তু থেকে বিটা কণিকা প্রচন্ড বেগে নির্গত হয়।
- এই কণিকা তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
- এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে, তবে আলফা কণিকা অপেক্ষা কম ।
- এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে
- ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়।
- এর ভেদন ক্ষমতা আলফা কণিকা অপেক্ষা বেশী ।
- জিংক সালফাইডে বিটা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
- ধাতব প্লেটের মধ্যদিয়ে যাবার সময় বিটা কণিকাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়।
- আলফা কণিকা অপেক্ষা অনেক বেশী বিক্ষিপ্ত হয়।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৩৫.
বিদ্যুৎশক্তির বাণিজ্যিক একক কী?
  1. ওয়াট
  2. ওয়াট-ঘণ্টা
  3. জুল
  4. কিলোওয়াট-ঘণ্টা
সঠিক উত্তর:
কিলোওয়াট-ঘণ্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিলোওয়াট-ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
- বিদুৎশক্তির বাণিজ্যিক একক- কিলোওয়াট-ঘন্টা। 
- সাধারণত বিদ্যুৎ শক্তির বাণিজ্যিক হিসাবের জন্য কিলোয়াট-ঘন্টা একক ব্যবহৃত হয়। 
- এক কিলোয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কোন যন্ত্র এক ঘন্টা কাজ করলে যে শক্তি ব্যয় হয় তাকে এক কিলোয়াট-ঘন্টা বলে। 
- কোন পরিবাহীর  দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য পরিমাপ করা হয় ভোল্ট একক দ্বারা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান-১ম পত্র (বোর্ড বই), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৪৩৬.
সিনেমাস্কোপ প্রজেক্টারে কোন ধরনের লেন্স ব্যবহৃত হয়?
  1. উত্তল
  2. অবতল
  3. জুম
  4. সিলিনড্রিক্যাল
সঠিক উত্তর:
সিলিনড্রিক্যাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলিনড্রিক্যাল
ব্যাখ্যা
• সিনেমাক্সোপ (Cinemascope) প্রজেক্টরে সাধারণত অ্যানামর্ফিক লেন্স (Anamorphic Lens) - (সিলিনড্রিক্যাল লেন্স) ব্যবহার করা হয়।

• Cinemascope কী?
- Cinemascope হলো একটি ওয়াইডস্ক্রিন ফরম্যাট যা ১৯৫০-এর দশকে জনপ্রিয় হয়। এটি 35mm ফিল্ম ব্যবহার করে, কিন্তু চিত্রটিকে হরাইজন্টালি সংকুচিত (squeeze) করে রেকর্ড করা হয়।

- লেন্সের ভূমিকা:
- অ্যানামর্ফিক লেন্স ক্যামেরায় ব্যবহার করা হয় চিত্রটিকে সংকুচিত করে ধারণ করতে (সাধারণত 2:1 অনুপাতের সংকোচন)।

- প্রজেকশন টাইমে আবার একটি অ্যানামর্ফিক প্রজেকশন লেন্স ব্যবহার করে সংকুচিত চিত্রটিকে পুনরায় প্রসারিত করে সঠিক অনুপাত ও রেশিওতে স্ক্রিনে দেখানো হয়।
- ব্যবহার করা হয়:
- 1.5x বা 2x অ্যানামর্ফিক প্রজেকশন লেন্স, যা সংকুচিত চিত্রটিকে 2.35:1 বা 2.39:1 স্ক্রিন রেশিওতে পুনঃপ্রসারিত করে।
- সিনেমাক্সোপ প্রজেক্টরে অ্যানামর্ফিক প্রজেকশন লেন্স ব্যবহার করা হয়, যা সংকুচিত চিত্রকে পুনরায় প্রাকৃতিকভাবে স্ক্রিনে দেখায়।

সূত্র: widescreenmuseum [লিংক]
৩,৪৩৭.
টমাস আলফা এডিসন কোনটি আবিষ্কার করেন? 
  1. বিদ্যুৎ
  2. রকেট
  3. ফনোগ্রাফ
  4. ডায়নামো
সঠিক উত্তর:
ফনোগ্রাফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফনোগ্রাফ
ব্যাখ্যা
- টমাস আলফা এডিসন ফনোগ্রাফ এবং বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার করেন। 

অন্যদিকে, 
- মাইকেল ফ্যারাডে ডায়নামো আবিষ্কার করেন। 
- উইলিয়াম গিলবার্ট বিদ্যুৎ আবিষ্কার করেন। 
- ডব্লিউ কনগ্রিড রকেট আবিষ্কার করেন। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৪৩৮.
‘অলটিমিটার’ যন্ত্রের সাহায্যে কী পরিমাপ করা হয়?
  1. ক) উচ্চতা
  2. খ) বিদ্যুৎ প্রবাহ
  3. গ) শব্দের তীব্রতা
  4. ঘ) গ্যাসের চাপ
সঠিক উত্তর:
ক) উচ্চতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উচ্চতা
ব্যাখ্যা

উচ্চতা নির্ণয়ের যন্ত্র - অলটিমিটার
শব্দের তীব্রতা নির্ণায়ক যন্ত্র - অডিওমিটার
বিদ্যুৎ প্রবাহ মাপক যন্ত্র - অ্যামিটার
গ্যাসের চাপ নির্ণয়ক যন্ত্র - ম্যানােমিটার।

৩,৪৩৯.
তরল পদার্থের প্রসারণ বলতে মূলত কী বোঝায়? 
  1. দৈর্ঘ্যের প্রসারণ
  2. ক্ষেত্রফলের প্রসারণ
  3. আয়তনের প্রসারণ
  4. ভরের প্রসারণ
সঠিক উত্তর:
আয়তনের প্রসারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়তনের প্রসারণ
ব্যাখ্যা

• তরল পদার্থের প্রসারণ:
- তাপ প্রয়োগে কঠিন পদার্থের মতো তরল পদার্থেরও প্রসারণ ঘটে।
- কঠিন পদার্থের সুনির্দিষ্ট আকার থাকায় এর বিভিন্ন প্রসারণ স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়। এর দৈর্ঘ্য, ক্ষেত্রফল এবং আয়তনের প্রসারণ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা সহজ হয় ৷
- কিন্তু তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন থাকলেও আকার বা দৈৰ্ঘ্য নেই ।
- যে পাত্রে রাখা হয় সেই পাত্রের আকার ধারণ করে।
- তাপের প্রভাবে তরল পদার্থের আয়তনের পরিবর্তনই কেবল প্রতীয়মান হয়, তাই তরল পদার্থের প্রসারণ বলতে এর আয়তনের প্রসারণকেই বুঝায় ।
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, একই পরিমাণ তাপ প্রয়োগে সম আয়তনের কঠিন পদার্থের তুলনায় তরল পদার্থের আয়তনের প্রসারণ বেশি হয়।
- আবার একই পরিমাণ তাপে বিভিন্ন প্রকার তরলের প্রসারণের পরিমাণও সমান হয় না।
- তাপে পদার্থের প্রসারণ পর্যবেক্ষণের জন্য ঐ পদার্থকে তাপ দিতে হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।

৩,৪৪০.
লোহার টুকরো সলিনয়েডের ভেতরে রাখলে এবং সলিনয়েডে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে কী ঘটে?
  1. লোহা চৌম্বকত্ব হারিয়ে ফেলে
  2. চৌম্বক ক্ষেত্র উৎপন্ন হয় না
  3. লোহার চৌম্বক কণিকাগুলো এলোমেলো থাকে
  4. লোহার চৌম্বক কণিকাগুলো এক সারিতে সজ্জিত হয় 
সঠিক উত্তর:
লোহার চৌম্বক কণিকাগুলো এক সারিতে সজ্জিত হয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহার চৌম্বক কণিকাগুলো এক সারিতে সজ্জিত হয় 
ব্যাখ্যা

তাড়িতচুম্বক (Electromagnet): 
- শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করা যায়। তবে, যদি একটি লোহার টুকরো কয়েল বা সলিনয়েডের ভেতরে রাখা হয় এবং সলিনয়েড দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করা হয়, তাহলে অনেক শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়। 
- লোহা, কোবাল্ট এবং নিকেল এই ধাতুগুলোর চৌম্বকীয় ধর্ম রয়েছে। এদের ভেতর ছোট ছোট চৌম্বকের মতো অনেক কণিকা এলোমেলোভাবে থাকে। ফলে সাধারণ অবস্থায় লোহা চৌম্বক হিসেবে কাজ করে না। 
- কিন্তু যখন লোহার টুকরোটি বিদ্যুৎপ্রবাহিত সলিনয়েডের ভেতরে রাখা হয়, তখন ওই চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে লোহার অভ্যন্তরের ছোট ছোট চৌম্বক কণিকাগুলো এক সারিতে সজ্জিত হয়। ফলে লোহার নিজস্ব চৌম্বক ক্ষেত্র গঠিত হয় এবং এটি সলিনয়েডের চৌম্বক ক্ষেত্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে একটি শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে। 
- এইভাবে তৈরি হওয়া চুম্বককে বলা হয় তাড়িতচুম্বক। 
- যখন সলিনয়েডে বিদ্যুৎপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, তখন লোহার অভ্যন্তরের চৌম্বক কণিকাগুলো আবার এলোমেলো হয়ে পড়ে এবং চৌম্বকত্ব হারিয়ে যায়। 
- স্পিকারে বা এয়ারফোনে যে শব্দ শোনা যায় সেখানে তাড়িতচুম্বক ব্যবহার করা হয়। এখানে শব্দের কম্পন এবং তীব্রতার সমান বিদ্যুৎপ্রবাহ পাঠানো হয়, সেই বিদ্যুৎ একটা তাড়িতচুম্বক বা ইলেকট্রোম্যাগনেটের চৌম্বকত্ব শব্দের কম্পন বা তীব্রতার উপযোগী করে তৈরি করে সেটা একটা ডায়াফ্রামকে কাঁপায় এবং সেই ডায়াফ্রাম সঠিক শব্দ তৈরি করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪৪১.
বায়ু ও পানির সংস্পর্শে জাহাজ চলাচল করলে কোন ঘর্ষণের সৃষ্টি হয়?
  1. চল ঘর্ষণ
  2. প্রবাহী ঘর্ষণ
  3. স্থিতি ঘর্ষণ
  4. আবর্ত ঘর্ষণ
সঠিক উত্তর:
প্রবাহী ঘর্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবাহী ঘর্ষণ
ব্যাখ্যা
ঘর্ষণ ও ঘর্ষণ বল: 
- দু'টি বস্তু পরস্পরের সংস্পর্শে থেকে যদি একটির উপর দিয়ে অপরটি চলতে চেষ্টা করে, তবে বস্তু দু'টির স্পর্শ তলে একটি বাধার সৃষ্টি হয়। এ বাধাকে ঘর্ষণ বলে। 
- আর যে বল গতিশীল বস্তুটির গতির পথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে ঘর্ষণ বল বলে। 
- ঘর্ষণ সাধারণত চার প্রকার। 
যথা- 
১. স্থিতি ঘর্ষণ (Static friction), 
২. চল বা পিছলানো ঘর্ষণ (Sliding friction), 
৩. আবর্ত ঘর্ষণ (Rolling friction) এবং 
৪. প্রবাহী ঘর্ষণ (Fluid friction) । 

প্ৰবাহী ঘর্ষণ:
- যখন কোনো বস্তু যেকোনো প্রবাহী পদার্থ যেমন- তরল বা বায়বীয় পদার্থের মধ্যে প্রবাহিত হয় বা গতিশীল থাকে বা যখন কোনো তরল বা বায়বীয় পদার্থের গতিপথে কোনো স্থির বস্তু রাখা হয়, তখন উভয়ের মধ্যে যে ঘর্ষণের সৃষ্টি হয়, তাকে প্রবাহী ঘর্ষণ বলে। 
- জাহাজ পানিতে চলার সময় একটি বাধা অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যায়, আবার পুকুরে সাঁতার কাটার সময় পুকুরের পানির মধ্য দিয়ে একটি বাঁধাকে অতিক্রম করে সামনের দিকে এগুতে হয়। আর এ বাঁধাই প্রবাহী ঘর্ষণ। 
- বৃষ্টির পানি বাতাসের মধ্য দিয়ে পড়ার সময় প্রবাহী ঘর্ষণের উৎপত্তি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৪২.
যে বর্তনীর সাহায্যে A.C কে D.C তে রূপান্তর করা হয় তাকে কী বলা হয়?
  1. অ্যামিটার
  2. রেকটিফায়ার
  3. ট্রান্সফরমার
  4. ট্রানজিস্টর
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার
ব্যাখ্যা:
একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার: যে বর্তনীর সাহায্যে পরিবর্তী প্রবাহ (Alternating Current বা A.C.) কে একমুখী প্রবাহ (Direct Current বা D.C.)-এ রূপান্তর করা হয়, তাকে একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier) বলা হয়।
এটি মূলত ডায়োড ব্যবহার করে A.C.-এর নেগেটিভ অংশকে ইতিবাচক করে বা শুধু ইতিবাচক অংশকে ব্যবহার করে D.C. প্রবাহ তৈরি করে।

অন্য অপশনগুলো-
ক) অ্যামিটার: বর্তনীতে তড়িৎপ্রবাহ (কারেন্ট) পরিমাপ করার যন্ত্র, রূপান্তরের কোনো কাজ করে না।

গ) ট্রান্সফরমার: শুধুমাত্র A.C. ভোল্টেজকে বাড়ায় বা কমায়, কিন্তু A.C. কে D.C. তে রূপান্তর করে না।

ঘ) ট্রানজিস্টর: সুইচ, অ্যামপ্লিফায়ার বা অসিলেটর হিসেবে কাজ করে, সরাসরি A.C. কে D.C. তে রূপান্তর করে না।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৪৩.
ঢাকা বেতার কেন্দ্র মিডিয়াম ওয়েভে 630Hz এ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে। রেডিও তরঙ্গের বেগ 3 × 108 ms-1 হলে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কত হবে?
  1. ক) 476190 m
  2. খ) 476.19 m
  3. গ) 476190 cm
  4. ঘ) 476.19 cm
সঠিক উত্তর:
ক) 476190 m
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 476190 m
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ঢাকা বেতার কেন্দ্র মিডিয়াম ওয়েভে 630Hz এ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে। রেডিও তরঙ্গের বেগ 3 × 108 ms-1 হলে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কত হবে?

সমাধান:
কম্পাঙ্ক, f = 630 Hz 
তরঙ্গের বেগ, v = 3 × 108 ms-1
তরঙ্গ দৈর্ঘ্য λ

আমরা জানি, 
v = fλ
⇒ λ = v/f
= 3 × 108/630 
= 476190 m
৩,৪৪৪.
নিচের কোন মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম? 
  1. শূন্য মাধ্যমে
  2. পানি মাধ্যমে 
  3. বায়ু মাধ্যমে 
  4. কঠিন মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
বায়ু মাধ্যমে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ু মাধ্যমে 
ব্যাখ্যা
• শব্দের গতি বা দ্রুতি:
- শব্দ প্রতি সেকেন্ডে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে শব্দের গতি বা দ্রুতি বলে।
- কঠিন মাধ্যমে (যেমন- ইস্পাত, লোহা) শব্দ সবচেয়ে দ্রুত চলে।
- তরল মাধ্যমে (যেমন- পানি) তার চেয়ে ধীরে চলে।
- বায়বীয় মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম।
- শূন্য মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি শূন্য। এ মাধ্যমে শব্দের কোনো অস্তিত্ব নেই। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪৪৫.
কোনটির আবিষ্কার আধুনিক ইলেকট্রনিক্স এর সূচনা করে?
  1. রেডিও
  2. ট্রানজিস্টর
  3. ক্যাথোড রশ্মি
  4. তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
ট্রানজিস্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রানজিস্টর
ব্যাখ্যা
• ট্রানজিস্টর একটি আধা-পরিবাহী ডিভাইস যা ইলেকট্রনিক সিগন্যাল বুস্ট (amplify) বা সুইচ (switch) করতে ব্যবহৃত হয়। ট্রানজিস্টরের আবিষ্কারই আধুনিক ইলেকট্রনিক্সের সূচনা করে।
এটি আধুনিক ইলেকট্রনিক্সের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
⇒ ১৯৪৭ সালে আমেরিকার Bell Laboratories-এর বিজ্ঞানী John Bardeen, Walter Brattain এবং William Shockley ট্রানজিস্টর আবিষ্কার করেন। 1956 Physics Nobel Prize দেওয়া হয় Bardeen, Brattain, ও Shockley-কে ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য।
  এর আগে ইলেকট্রনিক ডিভাইসে ব্যবহৃত হত বিশালাকৃতির ভ্যাকুয়াম টিউব, যা ছিল ভারী ও অকার্যকর।

ট্রানজিস্টর এর প্রভাব:
⇒ কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, টিভি, রেডিওসহ প্রায় সব আধুনিক ডিভাইসে ট্রানজিস্টর ব্যবহার হয়।
⇒ এটি দিয়েই ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) এবং মাইক্রোপ্রসেসর তৈরির ভিত্তি স্থাপন হয়।
⇒ Digital Revolution বা তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লব সম্ভব হয় ট্রানজিস্টরের জন্যই। 

অন্যদিকে, 
রেডিও: এটি তথ্য পাঠানোর একটি মাধ্যম, তবে ইলেকট্রনিক্সের মূল ভিত্তি নয়।

ক্যাথোড রশ্মি: এটি একটি ইলেকট্রন রশ্মি, যা টিভি স্ক্রিন বা মনিটরে ব্যবহৃত হয়; এটি ইলেকট্রনিক্সের একটি ধাপ হলেও সূচনা নয়।

তরঙ্গ:
এটি যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ইলেকট্রনিক্সের যন্ত্রাংশ বা সার্কিট বোঝাতে তরঙ্গ ব্যাবহার করা হয় না।

তথ্যসূত্র:
-  ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান। 
-  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি – নবম-দশম শ্রেণি (NCTB)
-  San José State University, California. 
-   NobelPrize.org
৩,৪৪৬.
কোন রং বেশি দূর থেকে দেখা যায়?
  1. ক) সাদা
  2. খ) কালো
  3. গ) লাল
  4. ঘ) হলুদ
সঠিক উত্তর:
গ) লাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লাল
ব্যাখ্যা
• দূর থেকে আমরা লাল রং আগে দেখতে পাই।
- লাল রঙের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি এবং বিক্ষেপণ সবচেয়ে কম। তাই লাল রং বেশি দূর থেকে দেখা যায়।
- আলোর বিক্ষেপণ নির্ভর করে এর রং ও তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের উপর।
- আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি হলে তাঁর বিক্ষেপণ তত কম হয়।
- লাল রং বেশি দূর থেকে দেখা যায় তাই উঁচু টাওয়ারে লাল রং এর লাইট ব্যবহৃত হয় যাতে বিমান নিচ দিয়ে যাবার সময় অনেক দূর থেকে দেখা যায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৪৭.
নিম্নলিখিত কোন অঞ্চলে দিন এবং একই রাতের মধ্যে সর্বাধিক তাপমাত্রা তারতম্য পরিলক্ষিত হয়?
  1. উপকূলীয় এলাকা 
  2. দ্বীপ 
  3. মরুভূমি 
  4. উপদ্বীপ
সঠিক উত্তর:
মরুভূমি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরুভূমি 
ব্যাখ্যা

- মরুভূমিতে বাতাস খুবই শুষ্ক থাকে, জলীয় বাষ্প প্রায় থাকে না, মেঘও থাকে না।
- দিনের বেলা সূর্যের তাপ সরাসরি বালুতে পড়ে, বালি খুব তাড়াতাড়ি গরম হয়ে যায়, ফলে তাপমাত্রা ৪৫-৫০° সে. বা তার বেশিও হয়ে যায়।
- সূর্য ডুবে গেলে আকাশ থেকে তাপ বিকিরণে দ্রুত হারিয়ে যায় এবং রাতের মধ্যেই তাপমাত্রা ৫-১৫° সে. পর্যন্ত নেমে আসে।
- এই কারণে দিন-রাতের তাপমাত্রার তারতম্য মরুভূমিতে সবচেয়ে বেশি (৩০-৫০° সে. পর্যন্ত হতে পারে)।

অন্যান্য অপশন:
উপকূলীয় এলাকা: সমুদ্রের পানি তাপ ধরে রাখে, তাই তারতম্য খুব কম।
দ্বীপ: চারদিকে সমুদ্র থাকায় আবহাওয়া আরও মৃদু, তারতম্য খুবই কম।
উপদ্বীপ: কিছুটা সমুদ্রের প্রভাব থাকে, তাই মরুভূমির মতো এত বেশি তারতম্য হয় না।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৩,৪৪৮.
কোন যন্ত্রের মাধ্যমে যান্ত্রিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়? 
  1. মাইক্রোফোন 
  2. বৈদ্যুতিক মোটর 
  3.  জেনারেটর 
  4. লাউড স্পিকার 
সঠিক উত্তর:
 জেনারেটর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 জেনারেটর 
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর: 
- মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- লাউড স্পিকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৪৯.
যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার-
  1. প্রতিসরণ তত কম
  2. বিচ্যুতি তত কম
  3. বিক্ষেপণ তত কম
  4. সবগুলোই সঠিক
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই সঠিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই সঠিক
ব্যাখ্যা

তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালি:
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ।
- দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসর 4 × 10 - 7 মিটার থেকে 7 × 10- 7 মিটার।
- এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়।
এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়।
- এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর সবচেয়ে বেশি।
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম।
- দৃশ্যমান আলোর স্পেকট্রামে লাল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি।
- দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের কারণে লাল আলো কম বিক্ষিপ্ত হয় এবং বস্তুর পৃষ্ঠ থেকে সহজে প্রতিফলিত হয়।
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি।
- আর লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৫০.
মৌলিক রাশির সংখ্যা কত?
  1. ক) ৫টি
  2. খ) ৬টি
  3. গ) ৭টি
  4. ঘ) ৮টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৭টি
ব্যাখ্যা
ভৌত রাশি:

- মৌলিক রাশির সংখ্যা ৭টি।
- এই বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিমাপ করা যায় তাকে রাশি বলা হয়।
- যেসকল রাশি পরিমাপের জন্যে অন্য রাশির প্রয়োজন হয় না তাকে মৌলিক রাশি বলে।
- ৭টি মৌলিক রাশি হলো দৈর্ঘ্য, ভর, সময়,তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা এবং পদার্থের পরিমাণ।
- যেসকল রাশি পরিমাপের জন্যে অন্য রাশির প্রয়োজন হয় তাকে লব্ধ রাশি বলে।
- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি লব্ধ রাশির উদাহারণ। 

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৫১.
অপটিক্যাল ফাইবারে আলো কোন নীতি অনুসরণ করে? 
  1. পরোক্ষ প্রতিফলন 
  2. আলো বিভাজন 
  3. আলো শোষণ 
  4. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন 
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন 
ব্যাখ্যা

• অপটিক্যাল ফাইবার হলো একটি স্বচ্ছ কাচ বা প্লাস্টিকের তন্তু যা আলোর সংকেত বহন করে।
- ফাইবারের মূল ধারণা হলো লাইট সিগন্যালকে কোরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা, যাতে সঙ্কেত দূরত্বে কম ক্ষয় হয়।
- এটি সম্ভব হয় পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের (Total Internal Reflection) মাধ্যমে।
- কোরের প্রতিসরণাঙ্ক (n₁) ক্ল্যাডিংয়ের প্রতিসরণাঙ্ক (n₂) এর চেয়ে বেশি।
- আলো কোর-ক্ল্যাডিং সীমান্তে একটি নির্দিষ্ট কোণ (> critical angle) দিয়ে প্রতিফলিত হয় এবং ক্ল্যাডিংয়ে যায় না।

অপরদিকে, 
পরোক্ষ প্রতিফলন: সত্যি নয়, এটি আংশিক প্রতিফলনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
আলো বিভাজন: ফাইবারে সিগন্যাল বিভক্ত হয় না, বরং সঙ্কুচিত হয়।
আলো শোষণ: ক্ষয় বা হ্রাসের কারণ, আলো পরিবহন নীতি নয়।

তথ্যসূত্র: NCTB পদার্থবিজ্ঞান বই, Britannica: [লিংক]

৩,৪৫২.
প্রতি ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতির কী রকম পরিবর্তন হয়?
  1. 1.0 মিটার/ সেকেন্ড বাড়ে
  2. 0.8 মিটার/ সেকেন্ড কমে
  3. 0.6 মিটার/ সেকেন্ড বাড়ে
  4. একই থাকে
সঠিক উত্তর:
0.6 মিটার/ সেকেন্ড বাড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0.6 মিটার/ সেকেন্ড বাড়ে
ব্যাখ্যা
শব্দ:
• শব্দ এক প্রকার শক্তি যা অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গরূপে কানে পৌঁছে শ্রবণের অনুভূতি জন্মায়।
• বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়, বস্তুর কম্পন থেমে গেলে শব্দ তরঙ্গ থেমে যায়।

শব্দের বেগের পরিবর্তন: 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, আলোর দ্রুতি শূন্যস্থানে সব সময় 3×108 ms-1 
- কিন্তু শব্দের দ্রুতি সবসময় সমান নয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1 ( মিটার/ সেকেন্ড)। 
- তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেও শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- হিসাব করে দেখা গেছে, প্রতি 1°C বা 1 K তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি প্রায় 0.6 ms-1 পরিমাণ বেড়ে যায়। 
- মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়। 
- মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয়। 

যেমন- 
• বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
• পানি মাধ্যমে 1450 ms-1 এবং 
• লোহার মধ্যে 5220ms-1। 

- বায়বীয় পদার্থে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম, তরল পদার্থের মধ্যে তা থেকে বেশি। 
- কঠিন পদার্থের মধ্যে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে বেশি। 
- বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৫৩.
অপরিবাহী পদার্থ কোনটি? 
  1. তামা 
  2. প্লাস্টিক 
  3. সিলিকন 
  4. জার্মেনিয়াম 
সঠিক উত্তর:
প্লাস্টিক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লাস্টিক 
ব্যাখ্যা

অপরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে।
যেমন- কাঁচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 
- মূলত প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী।
- অপরিবাহীতে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না।

পরিবাহী: 
- যে সব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে।
যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি।
- মূলত সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী।
- পরিবাহীতে অনেক মুক্ত ইলেকট্রন থাকে।

অর্ধ-পরিবাহী: 
- যে সব পদার্থের তড়িৎ পরিবহণ ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি তাদেরকে বলা হয় অর্ধপরিবাহী পদার্থ।
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি।
অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে।
- পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
- এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায়, আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৫৪.
 পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করা হলে কোনটি ঘটে?
  1. রোধ বৃদ্ধি পায় 
  2. অন্তরকের ন্যায় আচরণ করে 
  3. রোধ হ্রাস পায় 
  4. রোধ একই থাকে 
সঠিক উত্তর:
রোধ বৃদ্ধি পায় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোধ বৃদ্ধি পায় 
ব্যাখ্যা

• তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায়। 

• পরিবাহী:
- যে সকল পদার্থের মধ্যদিয়ে সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে।
• উদাহরণ- তামা, রুপা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি

• পরিবাহীতে অনেক মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। পরিবাহীতে যোজনব্যান্ড এবং পরিবহণব্যান্ডের মাঝে শক্তি ব্যবধান থাকে না।
- এজন্য পরিবাহীর দু প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্য ঘটলেই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে।
- পরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ কম হয়। প্রায় 10-8 Ωm ক্রমের।

• তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে পরিবাহী পদার্থের বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা সাধারণত হ্রাস পায়।  
- সাধারণ পরিবাহী পদার্থের ক্ষেত্রে, তাপমাত্রা বাড়লে পরিবাহীর মধ্যস্থ পরমাণু এবং আয়নগুলির কম্পন বাড়ে।
- উক্ত কম্পনের ফলে পরিবাহীর মুক্ত ইলেকট্রনের সঙ্গে কম্পনরত পরমাণু সমূহের সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়, যা মুক্ত ইলেকট্রনের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। 
- এর ফলে রোধ বাড়ে এবং পরিবাহিতা কমে যায়।

অন্যদিকে,
অর্ধপরিবাহী পদার্থের ক্ষেত্রে, তাপমাত্রা বাড়লে কিছু ইলেক্ট্রন শক্তি অর্জন করে এবং মুক্ত হয়ে পরিবহনে অংশ নেয়, ফলে পরিবাহিতা বাড়ে এবং রোধ কমে যায়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৫৫.
তাড়িতচৌম্বক আবেশের আবিষ্কারক-
  1. টমাস আলভা এডিসন
  2. মাইকেল ফ্যারাডে
  3. আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল
  4. ম্যাক্সওয়েল
সঠিক উত্তর:
মাইকেল ফ্যারাডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল ফ্যারাডে
ব্যাখ্যা

• তাড়িতচৌম্বক আবেশের আবিষ্কারক 'মাইকেল ফ্যারাডে'।

• তাড়িতচৌম্বক আবেশ:
- ওয়েরস্টেড 1820 সালে তড়িৎ প্রবাহে চৌম্বকীয় ক্রিয়া আবিস্কারের পর থেকেই বিজ্ঞানীদের মাথা চিন্তা আসে যদি তড়িৎ প্রবাহের ফলে চুম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হতে পারে তবে কেন চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি হবে না?
- তিন দেশের তিনজন বিজ্ঞানী ইংল্যান্ডে মাইকেল ফ্যারাডে, আমেরিকাতে জোসেফ হেনরী এবং রাশিয়ায় এইচ. এফ. ই. লেন্‌জ পৃথক পৃথকভাবে এ বিষয়ের উপর গবেষণা করে সফলতা অর্জন করেন।
- কিন্তু মাইকেল ফ্যারাডে 1831 সালে সর্বপ্রথম তাঁর গবেষণালব্ধ ফলাফল প্রকাশ করেছিলেন।
- সেজন্য মাইকেল ফ্যারাডে তাড়িতচৌম্বক আবেশের আবিষ্কারক হিসাবে পরিচিত।
- ফ্যারাডের পরীক্ষাগুলো থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, কোনো বদ্ধ কুন্ডলী এবং কোনো চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আপেক্ষিক গতি থাকলে ঐ কুন্ডলীতে একটি আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাকে তাড়িতচৌম্বক আবেশ বলে।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- টমাস আলভা এডিসন ফনোগ্রাফ এবং বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার করেন।
- আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল টেলিফোন ও মাইক্রোফোন আবিষ্কার করেন।
- জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৫৬.
তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পদ্ধতি কে আবিষ্কার করেন? 
  1. জে.সি. বসু
  2. মার্কনী
  3. ম্যাক্সওয়েল 
  4. হেনরিখ হার্জ
সঠিক উত্তর:
মার্কনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মার্কনী
ব্যাখ্যা

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অবদান: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। 
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়। 
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। 
- পরবর্তীতে তিনি বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৫৭.
কাচকে হঠাৎ উত্তপ্ত করলে ফেটে যায় কিন্তু ধাতু ফাটে না কারণ কাঁচ তাপ-
  1. ক) অন্তরক
  2. খ) সুপরিবাহী
  3. গ) কুপরিবাহী
  4. ঘ) অর্ধ-পরিবাহী
সঠিক উত্তর:
গ) কুপরিবাহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কুপরিবাহী
ব্যাখ্যা
কাচকে হঠাৎ উত্তপ্ত করলে ফেটে যায় কিন্তু ধাতু ফাটে না কারণ কাঁচ তাপ কুপরিবাহী। 

- যে সব পদার্থ তাপ ভালো পরিবহন করতে পারে না তাদের কুপরিবাহী বলা হয়। 
যেমন- কাঠ, কাচ, পশম কাপড় ইত্যাদি তাপ কুপরিবাহী পদার্থের উদাহরণ। 

সূত্র: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৪৫৮.
বাংলাদেশে তড়িৎ-এর কম্পাঙ্ক প্রতি সেকেন্ডে ৪০ সাইকেল-এর তাৎপর্য কী?
  1. প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৪০ বার দিক বদলায়
  2. প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৪০ বার উঠানামা করে
  3. প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৪০ বার বন্ধ হয়
  4. প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৪০ একক দৈর্ঘ্য অতিক্রম করে
সঠিক উত্তর:
প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৪০ বার দিক বদলায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৪০ বার দিক বদলায়
ব্যাখ্যা
• যে প্রবাহ সময়ের সাথে সাথে দিক বা দশা পরিবর্তন করে তাকে দিক পরিবর্তী প্রবাহ বলে(A.C.)। বাংলাদেশের তড়িৎ-এর কম্পাঙ্ক প্রতি সেকেন্ডে ৪০ সাইকেল বলতে- প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৪০ বার দিক বদলায়।

• তড়িৎ প্রবাহ:
- দুটি ভিন্ন বিভবের ধাতব বস্তুকে যখন পরিবাহী তার দ্বারা যুক্ত করা হয় তখন তারের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়।
- যখন দুটি ভিন্ন বিভবের ধাতব বস্তুকে তার দ্বারা সংযুক্ত করা হয়, তখন নিম্ন বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তু থেকে ঋণাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রন উচ্চ বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত ধাতব বস্তুর মধ্যে বিভব পার্থক্য বর্তমান থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ঋণাত্মক আধানের এই প্রবাহ চলে।
- কোনোভাবে যদি ধাতব বস্তুদ্বয়ের মধ্যবর্তী বিভব পার্থক্য বজায় রাখা যায় তখন এই প্রবাহ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে।
- ঋণাত্মক আধান বা ইলেকট্রনের এই প্রবাহের জন্যই তড়িৎ প্রবাহিত হয়।
- মূলত কোনো পরিবাহীর যেকোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্য দিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাই হলো তড়িৎ প্রবাহ।
- প্রচলিত তড়িৎ প্রবাহের দিক ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিকে হয়।
- তড়িৎ প্রবাহের একক হলো অ্যাম্পিয়ার। একে সাধারণত A দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- প্রতি একক আধানকে তড়িৎক্ষেত্রের এক বিন্দু থেকে অন্য বিন্দুতে স্থানান্তর করতে সম্পন্ন কাজের পরিমাণ হলো ঐ বিন্দুর তড়িৎ বিভব পার্থক্য।
- দুটি বিন্দুর মধ্যে বিভব পার্থক্য না থাকলে তড়িৎ প্রবাহিত হবে না। ফলে কোনো আধান প্রবাহিত হবে না এবং কোনো কাজও সম্পন্ন হবে না।
- তড়িৎ প্রবাহ দুই প্রকার। যথা- অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা সমপ্রবাহ বা একমুখী প্রবাহ বা ডিসি প্রবাহ, পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা পরিবর্তী প্রবাহ বা এসি প্রবাহ।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৪৫৯.
বায়ু শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করার জন্য প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. হাইড্রো টারবাইন
  2. বায়ুকল
  3. ইলেকট্রিক মোটর
  4. সোলার সেল 
সঠিক উত্তর:
বায়ুকল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুকল
ব্যাখ্যা

- বায়ুকল (Windmill বা আধুনিক বায়ু টারবাইন) হলো এমন একটি যন্ত্র যা বায়ুর গতিশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে এবং পরবর্তীতে জেনারেটরের (বিদ্যুৎ জেনারেটর) মাধ্যমে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এটিই বায়ুশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উপাদান। 

বায়ু শক্তি: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে বায়ু প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বায়ু প্রবাহজনিত গতি শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তাকে বায়ুকল বলে। 
- বায়ু প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে প্রাচীনকালের মানুষেরা কুয়া থেকে পানি তোলা, জাহাজ চালানো ইত্যাদি কাজ সম্পাদন করতো। 
- নৌকায় পাল তুলে আজও বায়ু শক্তিকে কাজে লাগানো হয়। 
- বর্তমানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে বায়ু কল কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

অন্যদিকে, 
- হাইড্রো টারবাইন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহৃত হয়, যেখানে পানির প্রবাহ বা উচ্চতা থেকে প্রাপ্ত শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা হয়। 
- সোলার সেল সৌরশক্তি বা সূর্যালোককে সরাসরি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে (ফোটোভোলটাইক প্রভাব ব্যবহার করে)। 
- ইলেকট্রিক মোটর সাধারণত বিদ্যুৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে (যেমন পাখা ঘোরানো)। বায়ু শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জেনারেটর ব্যবহার করা হয়, মোটর নয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৬০.
পরিবাহিতার একক কোনটি?
  1. ওহম
  2. কুলম্ব
  3. সিমেন্স
  4. অ্যাম্পিয়ার
সঠিক উত্তর:
সিমেন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিমেন্স
ব্যাখ্যা
- রোধের একক ওহম।
- পরিবাহিতার একক সিমেন্স।
- আধানের একক কুলম্ব।
- তড়িৎ প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪৬১.
ট্রান্সফর্মার কোন নীতিতে কাজ করে?
  1. তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ
  2. ওহমের সূত্র
  3. জুলের তাপীয় প্রভাব
  4. ফ্যারাডের তড়িৎ বিশ্লেষণ
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ
ব্যাখ্যা
• তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ:
- একটি গতিশীল চুম্বক বা তড়িৎবাহী বর্তনীর সাহায্যে অন্য একটি বদ্ধ বর্তনীতে ক্ষণস্থায়ী তড়িচ্চালক শক্তি ও তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন হওয়ার পদ্ধতিকে তাড়িতচৌম্বকীয় আবেশ বা তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ বলে।

• রূপান্তরক বা ট্রান্সফর্মার (Transformer):
- যে যন্ত্রের সাহায্যে পর্যাবৃত্ত বা দিক পরিবর্তী উচ্চবিভবকে নিম্নবিভবে এবং নিম্নবিভবকে উচ্চবিভবে রূপান্তরিত করা যায় তাকে রূপান্তরক বা ট্রান্সফর্মার বলা হয়।

• তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ বা তাড়িতচৌম্বক আবেশের ওপর ভিত্তি করে ট্রান্সফর্মার তৈরি করা হয়। 

• ট্রান্সফর্মার সাধারণত দুই প্রকারের হয়।যথা-
- আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার: যে ট্রান্সফর্মার অল্প বিভবের অধিক তড়িৎপ্রবাহকে অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার বলা হয়। 

- অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার: যে ট্রান্সফর্মার অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহকে অল্প বিভবের অধিক তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার বলা হয়। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
৩,৪৬২.
তড়িৎ প্রবাহ যদি এক দিকেই প্রবাহিত হয়, তবে সেটাকে কী বলা হয়? 
  1. এসি প্রবাহ
  2. ডিসি প্রবাহ
  3. পরিবর্তী প্রবাহ
  4. পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
ডিসি প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিসি প্রবাহ
ব্যাখ্যা
তড়িৎ প্রবাহ: 
- দুটি ভিন্ন বিভবের ধাতব বস্তুকে যখন পরিবাহী তার দ্বারা যুক্ত করা হয় তখন তারের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। 
- যখন দুটি ভিন্ন বিভবের ধাতব বস্তুকে তার দ্বারা সংযুক্ত করা হয়, তখন নিম্ন বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তু থেকে ঋণাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রন উচ্চ বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত ধাতব বস্তুর মধ্যে বিভব পার্থক্য বর্তমান থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ঋণাত্মক আধানের এই প্রবাহ চলে। 
- কোনোভাবে যদি ধাতব বস্তুদ্বয়ের মধ্যবর্তী বিভব পার্থক্য বজায় রাখা যায় তখন এই প্রবাহ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে। 
- ঋণাত্মক আধান বা ইলেকট্রনের এই প্রবাহের জন্যই তড়িৎ প্রবাহিত হয়। 
- মূলত কোনো পরিবাহীর যেকোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্য দিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাই হলো তড়িৎ প্রবাহ। 
- প্রচলিত তড়িৎ প্রবাহের দিক ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিকে হয়। 
- তড়িৎ প্রবাহের একক হলো অ্যাম্পিয়ার। একে সাধারণত A দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- প্রতি একক আধানকে তড়িৎক্ষেত্রের এক বিন্দু থেকে অন্য বিন্দুতে স্থানান্তর করতে সম্পন্ন কাজের পরিমাণ হলো ঐ বিন্দুর তড়িৎ বিভব পার্থক্য। 
- দুটি বিন্দুর মধ্যে বিভব পার্থক্য না থাকলে তড়িৎ প্রবাহিত হবে না। ফলে কোনো আধান প্রবাহিত হবে না এবং কোনো কাজও সম্পন্ন হবে না। 

- তড়িৎ প্রবাহ দুই প্রকার। 
যথা-
(ক) অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা সমপ্রবাহ বা একমুখী প্রবাহ বা ডিসি প্রবাহ: 
- যখন সময়ের সাথে সাধারণত তড়িৎ প্রবাহের দিকের কোনো পরিবর্তন না ঘটে, অর্থাৎ যে তড়িৎ প্রবাহ সবসময় একই দিকে প্রবাহিত হয়, সেই প্রবাহকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- তড়িৎ কোষ বা ব্যাটারি থেকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ পাওয়া যায়। 
- আবার ডিসি জেনারেটরের সাহায্যেও এই প্রকার তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করা যায়। 

(খ) পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা পরিবর্তী প্রবাহ বা এসি প্রবাহ: 
- যখন নির্দিষ্ট সময় পরপর তড়িৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়, সেই তড়িৎ প্রবাহকে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- বর্তমান বিশ্বের সকল দেশের তড়িৎ প্রবাহই পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ। 
- এর কারণ তুলনামূলকভাবে এটি উৎপন্ন ও সরবরাহ করা সহজ এবং সাশ্রয়ী। 
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস জেনারেটর বা ডায়নামো। 
- দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে জেনারেটরের সাহায্যে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ উৎপন্ন করা হয়। 
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের দিক পরিবর্তন দেশভেদে বিভিন্ন হয়। 
যেমন- বাংলাদেশে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে পঞ্চাশবার এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সেকেন্ডে ষাটবার দিক পরিবর্তন করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৪৬৩.
দুটি আহিত কণা একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে, তাকে কী বলা হয়?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. দুর্বল নিউক্লীয় বল
  3. তড়িৎ চৌম্বক বল
  4. সবল নিউক্লীয় বল
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ চৌম্বক বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ চৌম্বক বল
ব্যাখ্যা

বল: 
- যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় অথবা যা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে। 
- বল সবসময় জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়া করে। 
- প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে। 
যথা:
 ১। মহাকর্ষ বল: 
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে। 
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে। 
- এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই। 
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে। 
 
২। তাড়িতচৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল: 
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে
 
৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল: 
- দুর্বল নিউক্লীয় বলকে দুর্বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বক বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিওন গুণ) কিন্তু মোটেও মহাকর্ষ বল থেকে দুর্বল নয়। 
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৮ m) কাজ করে। 
 
৪। সবল নিউক্লীয় বল: 
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৫ m) কাজ করে। 
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়। 
 
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪৬৪.
পরমাণুর সবচেয়ে বাইরের ইলেকট্রন কে বলা হয় -
  1. ক) মেসন
  2. খ) ইলেক্ট্রোলাইট
  3. গ) যোজনী
  4. ঘ) যোজন ইলেকট্রন
সঠিক উত্তর:
ঘ) যোজন ইলেকট্রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যোজন ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা
পরমাণুর সবচেয়ে বাইরের ইলেকট্রন কে যোজন ইলেকট্রন বলে।
যোজন ইলেকট্রনের শক্তির পাল্লা বা ব্যান্ড কে যোজন ব্যান্ড বলে। পরমাণুতে অবস্থিত মুক্ত যোজন ইলেকট্রন গুলো পরিবহনে অংশ নিলে তাদের পরিবাহী ইলেকট্রন বলে। পরিবাহী ইলেকট্রনের শক্তির পাল্লা বা ব্যান্ডকে পরিবাহী ব্যান্ড বলে।

পরিবাহী পদার্থে যোজন ব্যান্ড ও পরিবাহী ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি ব্যবধান থাকেই না , বরং উপরিলেপন ঘটে। ফলে পরিবাহীর দুই প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্যে তড়িৎ প্রবাহের সূচনা হয়।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান বই
৩,৪৬৫.
আলোক রশ্মির এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য এক স্বচ্ছ মাধ্যমে প্রবেশ করে দিক পরিবর্তন করাকে কি বলে?
  1. আলোর প্রতিফলন
  2. আলোর প্রতিসরণ
  3. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ
  4. সংকট কোণ
সঠিক উত্তর:
আলোর প্রতিসরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলোর প্রতিসরণ
ব্যাখ্যা
• প্রতিসরণ (Refraction): 
- কোনো সমসত্ব ও স্বচ্ছ মাধ্যমে আলো সরলরেখায় চলে। এর গতির কোন পরিবর্তন হয় না। 
- কিন্তু আলো যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে প্রবেশ করে তখন এর গমন পথ বেঁকে যায় (আলো লম্বভাবে মাধ্যম পরিবর্তন করলে দিক পরিবর্তন হয় না তবে বেগের পরিবর্তন হয়)। 
- এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে তীর্যকভাবে আপতিত আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে। 
- অর্থাৎ দুটি স্বচ্ছ মাধ্যমের বিভেদ তলে আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে। 
- বিভেদ তলের উপর আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত লম্বকে অভিলম্ব বলে। 
- আপতন বিন্দুতে আপতিত রশ্মি ও অভিলম্বের মধ্যে সৃষ্ট কোণকে আপতন কোণ এবং প্রতিসরিত রশ্মি ও অভিলম্বের মধ্যে সৃষ্ট কোণকে প্রতিসরণ কোণ বলে। 

• প্রতিসরণের সূত্র (Laws of Refraction): 
- আলোর প্রতিসরণ দু'টি সূত্র মেনে চলে এদের প্রতিসরণের সূত্র বলে। 
- সূত্র দু'টি হলো:
(১) দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত রশ্মি, আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব এবং প্রতিসরিত রশ্মি একই সমতলে অবস্থান করে। 
(২) এক জোড়া নির্দিষ্ট মাধ্যম এবং নির্দিষ্ট বর্ণের আলোর জন্য আপতন কোণের সাইন এবং প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাত সর্বদা ধ্রুব। 
অর্থাৎ, sin i/sin r = একটি ধ্রুব (সংখ্যা)। 
- প্রতিসরণের দ্বিতীয় সূত্রটি জার্মান বিজ্ঞানী স্নেলের নামানুসারে স্নেলের সূত্র নামে অভিহিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৬৬.
তড়িৎ বর্তনীতে তড়িৎযন্ত্র ও উপকরণসমূহ কয়ভাবে সংযুক্ত করা যায়?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
ক) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২
ব্যাখ্যা
সাধারণত তড়িৎ বর্তনীতে তড়িৎযন্ত্র ও উপকরণসমূহ ২ ভাবে সংযুক্ত করা যায়। ১. শ্রেণিসংযোগ বর্তনী ও ২. সমান্তরাল সংযোগ বর্তনী। [সূত্র: অষ্টম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই]
৩,৪৬৭.
ডায়াচৌম্বক পদার্থের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. চুম্বক ক্ষেত্রের দিকে মুখ করে দুর্বল চুম্বকায়ন সৃষ্টি করে
  2. শক্তিশালী চুম্বকায়ন দেখায় এবং ডোমেইন গঠন করে
  3. চুম্বকায়ন সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত 
  4. চুম্বক ক্ষেত্রের বিপরীতে দুর্বল চুম্বকায়ন সৃষ্টি করে
সঠিক উত্তর:
চুম্বক ক্ষেত্রের বিপরীতে দুর্বল চুম্বকায়ন সৃষ্টি করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুম্বক ক্ষেত্রের বিপরীতে দুর্বল চুম্বকায়ন সৃষ্টি করে
ব্যাখ্যা

- ডায়াচৌম্বক পদার্থের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে চুম্বক ক্ষেত্রের বিপরীতে দুর্বল চুম্বকায়ন সৃষ্টি করে। 

প্যারাচৌম্বক পদার্থ:  
- যে সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়, তাদেরকে প্যারাচৌম্বক পদার্থ বলে। যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, টিন ইত্যাদি। 
- প্যারাচৌম্বক পদার্থের অণু, পরমাণু, বা আয়নের স্থায়ী চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। এসব দ্বিপোল এক একটি স্বাধীন সত্ত্বা হিসেবে কাজ করে। কিন্তু সাধারণ তাপমাত্রায় তাপজনিত কম্পন বেশি হওয়ার ফলে এই দ্বিপোল গুলো এলোমেলোভাবে থাকে। ফলস্বরূপ পদার্থের কোন এক দিকে নীট চুম্বকায়ণ থাকে না। 

ডায়াচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায, তাদেরকে ডায়াচৌম্বক পদার্থ বলে। যেমন- হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইত্যাদি। 
অর্থাৎ, সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়, এদেরকে ডায়াচৌম্বক পদার্থ বলে। 
- ডায়াচৌম্বক পদার্থের পরমাণুমূহের কোন স্থায়ী চৌম্বক মোমেন্ট থাকে না। এসব পরমাণুতে ইলেকট্রনের কক্ষীয় ও স্পিন গতি থেকে চৌম্বক মোমেন্ট উৎপত্তি হয়। 
- এক জোড়া ইলেককট্রনের মধ্যে একটির মোমেন্ট অন্যটির সমান ও বিপরীত হলে, এদের নীট মোমেন্ট শূন্য হবে। যেহেতু ডায়াচৌম্বক পদার্থের পরমাণুতে এ রকম বহু সংখ্যক জোড়ার সমাহার সেহেতু পদার্থের পরমাণুতে কোনো দ্বিপোল থাকে না এবং কোন নীট মোমেন্টও থাকে না। 

ফেরোচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়, তাদেরকে ফেরোচৌম্বক পদার্থ বলে। যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি। 
- ফেরোচৌম্বক পদার্থের পরমাণু তথা অণুসমূহের প্রত্যেকের নীট্ চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। কিন্তু দ্বিপোলগুলো স্বাধীন সত্তা হিসেবে কাজ করে না, এই দ্বিপোলগুলো বিভিন্ন ডোমেইন-এ বিভক্ত থাকার ফলে সমষ্টিগতভাবে নীট মোমেন্ট শূন্য হয়। 
- ফেরোচৌম্বক পদার্থকে বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রে স্থাপন করলে বা চুম্বকের কাছে আনলে চৌম্বক ক্ষেত্রের দিকে কিছু কিছু ডোমেইনের আকার এক সময় বৃহৎ ডোমেইন গঠন করে এবং দ্বিপোলগুলো ক্ষেত্রের দিকে পদার্থটির চুম্বকায়ন ঘটে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩,৪৬৮.
কোনটি ওহমের সূত্র
  1. ক) I ∝ V
  2. খ) V ∝ C
  3. গ) V ∝ F
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ক) I ∝ V
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) I ∝ V
ব্যাখ্যা
নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোন পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বিদ্যুতের পরিমান পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যের সমানুপাতিক। বিভব পার্থক্য v এবং প্রবাহিত বিদ্যুতের পরিমান I হলে I ∝ V
৩,৪৬৯.
আইনস্টাইনের বিখ্যাত ভর-শক্তি সমীকরণ কোনটি? 
  1. E = m2c
  2. W = Fd
  3. E = mc2
  4. F = ma
সঠিক উত্তর:
E = mc2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
E = mc2
ব্যাখ্যা
ভর-শক্তি সম্পর্ক: 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো ভর-শক্তি সম্পর্ক। 
- চিরায়ত বলবিদ্যায় কোনো বস্তুর ভর ধ্রুব রাশি এবং শক্তি সর্বদাই নিত্য। চিরায়ত বলবিদ্যায় আরো ধরা হয় যে, ভর এবং শক্তি দুটি ভিন্ন সত্তা। 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বে চিরায়ত বলবিদ্যায় পুরাতন ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটে। এই তত্ত্বানুসারে ভর এবং শক্তি দুটি অভিন্ন সত্তা। 
- ভরকে সম্পূর্ণরূপে ধংস করা যায় এবং তা থেকে শক্তির উৎপন্ন হয়। 
অর্থাৎ, ভর সম্পূর্ণরূপে শক্তিতে রূপান্তর হয় এবং একই ভাবে শক্তিও উপযুক্ত পরিবেশ পেলে ভরে রূপান্তর হয়। 

সুতরাং, E = mc2, এটিই আইনস্টইনের বিখ্যাত ভর-শক্তি সমীকরণ। 
- এই সমীকরণ প্রমাণ করে, ভর ও শক্তি ভিন্ন সত্তার নয়, বরং একই সত্তার দুটি ভিন্নরূপ মাত্র। 
- নিউক্লিয় ফিশান ও ফিউশনের ফলে যে শক্তি পাওয়া যায় তা এই সমীকরণ দিয়ে সঠিক ভাবে পরিমাপ করা যায়। 
- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় তাও এই সমীকরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। 
অর্থাৎ, এই সমীকরণ মহাজগতিক সকল শক্তির ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৭০.
পালতোলা নৌকা সম্পূর্ণ অন্য দিকের বাতাসকেও এর সম্মুখ গতিতে ব্যবহার করতে পারে। কারণ-
  1. ক্রিয়ার বদলে প্রতিক্রিয়াটি ব্যবহৃত হয়
  2. সম্মুখ অভিমুখে বলের উপাংশটিকে কার্যকর রাখা হয়
  3. পালের দাড়িতে টানের নিয়ন্ত্রণ বিশেষ দিকে বাতাসকে কার্যকর করে
  4. পালের আকৃতিকে সুকৌশলে ব্যবহার করা যায়
সঠিক উত্তর:
সম্মুখ অভিমুখে বলের উপাংশটিকে কার্যকর রাখা হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্মুখ অভিমুখে বলের উপাংশটিকে কার্যকর রাখা হয়
ব্যাখ্যা
- যথাযথভাবে হাল ঘুরিয়ে বিপরীতমূখী বলকে নিষ্ক্রিয় করা গেলে নৌকা অন্যদিকের বাতাসকে সম্মুখ অভিমূখে বলের উপাংশটিকে কাজে লাগিয়ে তা নৌকার সম্মুখগতিতে ব্যাবহার করতে পারে।

- পৃথিবী পৃষ্ঠের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে বায়ু প্রবাহিত হয়।
- বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তাকে বায়ুকল বলে।
- বায়ু প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে প্রাচীনকালের মানুষেরা কুয়া থেকে পানি তোলা, জাহাজ চালানো ইত্যাদি কাজ সম্পাদন করতো।
- নৌকায় পাল তুলে আজও বায়ু শক্তিকে কাজে লাগানো হয়।
- পালতোলা নৌকাতে বাতাস দুইভাবে কাজ করে।
- একটি বলের অভিমূখে অন্যটি বলের বিপরীত।

উৎস:
১. ব্রিটানিকা।
২. পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৭১.
কোনটি স্কেলার রাশির উদাহরণ? 
  1. দৈর্ঘ্য
  2. ত্বরণ
  3. বেগ 
  4. বল 
সঠিক উত্তর:
দৈর্ঘ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈর্ঘ্য
ব্যাখ্যা

ভেক্টর: 
-কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়।
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এজন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি এবং  খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি। 

স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৭২.
সৌর সেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোন পদার্থ ব্যবহৃত হয়?
  1. সোনা
  2. তামা
  3. সিলিকন
  4. লোহা
সঠিক উত্তর:
সিলিকন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলিকন
ব্যাখ্যা
• সৌর কোষে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সিলিকন ব্যবহৃত হয়। 
 
• সৌর কোষ: 
- সৌর কোষ বা সৌর সেল হলো এক ধরনের ডিভাইস যা সূর্যের আলো (ফোটন) শোষণ করে এবং এটিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- সৌর সেল বা ফটোভোলটাইক কোষে সিলিকন (Si) ব্যবহৃত হয়, যা একটি অর্ধপরিবাহী (Semiconductor) পদার্থ।
- এটি সূর্যের আলোকে সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তর করে।

• সৌর সেলের কাজের পদ্ধতি:
- সূর্যের ফোটন সিলিকন পরমাণুতে আঘাত করে।
- ইলেকট্রন-হোল জোড় সৃষ্টি হয়।
- p-n জাংশনের বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র ইলেকট্রন প্রবাহ তৈরি করে।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
৩,৪৭৩.
লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার বড় হলে প্রতিবিম্বটি হবে-
  1. বিবর্ধিত
  2. খর্বিত
  3. সমান
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
বিবর্ধিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবর্ধিত
ব্যাখ্যা
রৈখিক বিবর্ধন: 
- সমতল দর্পণে বিম্বের আকার এবং আকৃতি লক্ষ্যবস্তুর আকার ও আকৃতির সমান হয়। কিন্তু গোলীয় দর্পণ এবং লেন্সের ক্ষেত্রে গঠিত প্রতিবিম্বের আকার লক্ষ্যবস্তুর সমান, ছোট বা বড় হয়। 
- প্রতিবিম্ব লক্ষ্যবস্তুর তুলনায় কতগুণ বড় বা ছোট সেই রাশিকে তার বিবর্ধন বলে। 
- কোনো বিস্তৃত বস্তুর বিবর্ধন পরিমাপের জন্য বিম্বের দৈর্ঘ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্যের অনুপাতকে ব্যবহার করা হয়। 
- তাই বিম্বের দৈর্ঘ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্যের অনুপাতকে রৈখিক বিবর্ধন বলে। 
ধরা যাক, কোনো লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্য L এবং প্রতিবিম্বের দৈর্ঘ্য Li । 
তাহলে, রৈখিক বিবর্ধন m = Li/Lo  । 
m > 1 হলে, প্রতিবিম্বটি বিবর্ধিত হবে। অর্থাৎ, লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার বড় হবে। 
m = 1 হলে, প্রতিবিম্বটি লক্ষ্যবস্তুর সমান হবে। অর্থাৎ, লক্ষ্যবস্তুর আকার ও প্রতিবিম্বের আকার সমান হবে। 
m < 1 হলে, প্রতিবিম্বটি খর্বিত হবে। অর্থাৎ, লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার ছোট হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৭৪.
"ওজন" এর এসআই একক হচ্ছে:
  1. আউন্স
  2. নিউটন
  3. পাউন্ড
  4. কেজি
সঠিক উত্তর:
নিউটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউটন
ব্যাখ্যা

• ওজন হলো একটি পদার্থের উপর গুরুত্বাকর্ষীয় শক্তির কারণে কার্যকর হওয়া বল। যেহেতু এটি একটি বল, তাই ওজনের পরিমাপও বলের এককে হয়। এস আই একক ব্যবস্থায় বলের একক হলো নিউটন (N)। একটি নিউটন হলো এমন বল যা ১ কেজি ভরের একটি পদার্থকে প্রতি সেকেন্ড² তে ১ মিটার ত্বরণ প্রদান করে। অন্য একক যেমন কেজি হলো ভরের একক, আউন্স এবং পাউন্ড হলো অন্য একক ব্যবস্থার ভর বা ওজন পরিমাপের একক। সুতরাং, ওজনের সঠিক এস আই একক হলো নিউটন, যা গুরুত্বাকর্ষীয় বলকে সঠিকভাবে প্রকাশ করে।

- সঠিক উত্তর: খ) নিউটন।

• নিউটন (Newton) হলো বলের এসআই একক, এবং যেহেতু ওজন হলো ভরের ওপর মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রয়োগ, তাই ওজনের এককও নিউটন।

• সূত্র: ওজন = ভর × মাধ্যাকর্ষণ ত্বরণ (W = m × g)
• যেখানে ভরের (m) একক কেজি (kg) এবং অভিকর্ষজ ত্বরণের (g) একক m/s2, তাই ওজনের (W) একক হয়  Kg·m/s2 = নিউটন।

• ভৌত রাশি ও তাদের SI একক:
- দৈর্ঘ্য - মিটার (m), 
- ভর - কিলোগ্রাম (kg), 
- সময় - সেকেন্ড (s), 
- তাপমাত্রা - কেলভিন (K), 
- বিদ্যুৎ প্রবাহ - অ্যাম্পিয়ার (A), 
- পদার্থের পরিমাণ - মোল (mol), 
- আলোক তীব্রতা - ক্যান্ডেলা (cd), 
- বল - নিউটন (N)।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৩,৪৭৫.
নিচের কোনটি প্রাকৃতিক ত্রিমাত্রিক পলিমার?
  1. লিগনিন
  2. টেরিলিন
  3. নাইলন
  4. টেফলন
সঠিক উত্তর:
লিগনিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিগনিন
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক পলিমার:
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে প্রাপ্ত পলিমার এ জাতীয় পলিমার।
- যেমন- প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, সেলুলোজ ইত্যাদি।
• লিগনিন হলো প্রাকৃতিক ত্রিমাত্রিক পলিমার।

কৃত্রিম পলিমার:
- পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত পলিমার সমূহ এ জাতীয় পলিমার।
- যেমন- পলিইথিলিন, পলিস্টারিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), নাইলন, টেফলন, টেরিলিন ইত্যাদি।
- গঠন ও তাপীয় বেশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে কৃত্রিম পলিমারকে আবার দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। যেমন-
• থার্মোপ্লাস্টিক।
• থার্মোসেটিং প্লাস্টিক।

সূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৭৬.
দুটি লম্বালম্বি শক্তির পরিমাণ ৫N এবং ৪N, তাদের লদ্ধি পরিমাণ কত?
  1. ক) ৩N
  2. খ) √১১N
  3. গ) √৪১N
  4. ঘ) ১N
সঠিক উত্তর:
গ) √৪১N
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) √৪১N
ব্যাখ্যা
লব্ধি = √(p2-q2)
= √[(5n)2+(4n)2]
= √(41n2)
=√41n
৩,৪৭৭.
ইউরেনিয়ামের আইসোটোপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অস্থিতবস্থায় থাকে-
  1. ক) U (233)
  2. খ) U (234)
  3. গ) U (235)
  4. ঘ) U (238)
সঠিক উত্তর:
ক) U (233)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) U (233)
ব্যাখ্যা
ইউরেনিয়ামের বিভিন্ন আইসোটোপের অর্ধায়ু:
233U = 1.592×105 years
234U = 2.454×105 years
235U = 7.037×108 years
236U = 2.342×107 years
238U = 4.468×109 years

উপরোক্ত তথ্য অনুযায়ী 233U এর অর্ধায়ু সবচেয়ে কম তাই এটি বেশি অস্থিতিশীল। কারন অর্ধায়ু কম হওয়ার কারনে এটি অন্য আইসোটোপগুলো থেকে তারাতারি ভেঙ্গে যায়।

উৎস: আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি এজেন্সি[Link]
৩,৪৭৮.
একটি সরলদোলককে পৃথিবীর কেন্দ্রে নিলে তার দোলনকাল কত হবে?
  1. ক) অসীম
  2. খ) স্লো হবে
  3. গ) ভূপৃষ্ঠের সমান
  4. ঘ) ভূপৃষ্ঠ থেকে কম
সঠিক উত্তর:
ক) অসীম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অসীম
ব্যাখ্যা
⇒ একটি ভারী আয়তনহীন বস্তুকণাকে ওজনহীন, নমনীয় এবং অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে।

কৌণিক বিস্তার অল্প হলে-
সরল দোলকের দোলনকাল, T = 2π √(L/g).
এখানে, t = দোলনকাল,
L= কার্যকরী দৈর্ঘ্য (সূতার দৈর্ঘ্য+দোলকপিন্ডের ব্যাসার্ধ),
g= অভিকর্ষজ ত্বরণ।

উপরের সূত্রমতে আমরা পাই,
১. সরল দোলকের দোলনকাল কাযকরী দৈর্ঘ্য ও অভিকর্ষজ ত্বরণের উপর নির্ভরশীল।
২. একটি সরল দোলককে পৃথিবীর কেন্দ্রে নিলে তার দোলনকাল অসীম হবে, কারণ পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য। এক্ষেত্রে দোলকঘড়ি চলবে না।
৩. গ্রীষ্মকালে দোলকঘড়ি ধিরে চলে। কারন, অধিক তাপমাত্রার জন্য দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য বাড়ে, ফলে দোলককাল বাড়ে এবং ঘড়ি ধিরে চলে।
৪. শীতকালে দোলকঘড়ি দ্রুত চলে। কারণ, কম তাপমাত্রায় দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য কমে, ফলে দোলককাল কমে এবং ঘড়ি দ্রুত চলে।
৫. দোলকঘড়ি বিষুবরেখা হতে মেরু অঞ্চলে নিলে ঘড়ি দ্রুত চলবে। কারণ, বিষুবরেখার চেয়ে মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি। ফলে দোলনকাল কমবে এবং ঘড়ি দ্রুত চলবে।
৬. দোলককে পাহাড়ের উপর নিয়ে গেলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান কম বলে দোলনকাল বাড়বে।
৭. কোন সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ বাড়বে, আর মাধ্যাকর্ষণ জনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ কমবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি
৩,৪৭৯.
নিচের কোনটির মধ্যে চার্জ নেই?
  1. প্রোটন
  2. এক্স-রে
  3. আলফা রশ্মি
  4. বিটা রশ্মি
সঠিক উত্তর:
এক্স-রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক্স-রে
ব্যাখ্যা
এক্সরের ধর্ম:
১। এক্সরে সরল পথে গমন করে।
২। এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না।
৩। এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ।
৪। এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট।
৫। এটি আলোর সমবেগে গমন করে।
৬। আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে।
৭। এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে।
৮। এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
৯। এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই।
১০। এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে।
১১। এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে।
১২। এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক।
১৩। এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৮০.
প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে কোনটি ব্যাখ্যা করা যায় না?
  1. ব্যতিচার
  2. অপবর্তন
  3. সমবর্তন
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাবনা করেন। 
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোন উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেড়িয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেজ আকারে বের হয়। 
- প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রং এর আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে। 
- এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন। 
- এই তত্ত্বের সাহায্যে কৃষ্ণবস্তু বিকিরণ, ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায়। 
- কিন্তু আলোর বিচ্ছুরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন, সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৮১.
Which temperature is equal on both Fahrenheit and Celsius scales?
  1. -40
  2. 0
  3. 32
  4. 212
  5. -22
সঠিক উত্তর:
-40
উত্তর
সঠিক উত্তর:
-40
ব্যাখ্যা
• সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেল:
- সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেলের মধ্যে সম্পর্ক হলো:
C/5 = (F - 32)/9 [C = সেলসিয়াস তাপমাত্রা, F = ফারেনহাইট তাপমাত্রা] 

এখন, 
সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেলের তাপমাত্রা সমান (x) হলে, 
x/৫ = (x - ৩২)/৯ 
Or, ৯x = ৫x - ১৬০ 
Or, ৪x = - ১৬০ 
Or, x = - ৪০ 
অর্থাৎ, - ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ফারেনহাট ও সেলসিয়াস স্কেলে সমান তাপমাত্রা নির্দেশ করে। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪৮২.
  1. ক)
  2. খ)
  3. গ)
  4. ঘ)
সঠিক উত্তর:
খ)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ)
ব্যাখ্যা


৩,৪৮৩.
প্রিজম ব্যবহার করে কোন ঘটনা বোঝানো যায় যা প্রকৃতিতে রংধনুর মাধ্যমে দেখা যায়? 
  1. আলোর প্রতিচ্ছায়া সৃষ্টি
  2. সাদা আলোতে রঙিন রশ্মির বিক্ষেপণ
  3. তাপ বিকিরণ
  4. আলোর ছায়া সৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
সাদা আলোতে রঙিন রশ্মির বিক্ষেপণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাদা আলোতে রঙিন রশ্মির বিক্ষেপণ
ব্যাখ্যা
রংধনু: 
- রংধনু তৈরি হয় পানির কণায় পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের ফলে। 
- প্রিজমের সাহায্যে সাদা আলোকে বিভিন্ন রঙে বিভক্ত করে দেখা সম্ভব, তবে প্রকৃতিতেও এই ঘটনা রংধনুর মাধ্যমে পরিলক্ষিত হয়। 
- বৃষ্টির পর রোদ উঠলে বাতাসে থাকা পানির কণায় সূর্যের আলো প্রতিসরণ, প্রতিফলন এবং পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন রঙে বিভক্ত হয়, ফলে রংধনুর রঙিন ব্যান্ড তৈরি হয়। 
- রংধনু সর্বদা সূর্যের বিপরীত দিকের আকাশে দেখা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪৮৪.
গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র কোনটি? 
  1. গ্রাডিমিটার
  2. ম্যানোমিটার
  3. ট্যাকোমিটার
  4. ক্রনোমিটার
সঠিক উত্তর:
ম্যানোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যানোমিটার
ব্যাখ্যা

গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক যন্ত্র: 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার।
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৩,৪৮৫.
Hygrometer is used to measure-
  1. relative humidity
  2. purity of milk
  3. specific gravity
  4. none of these
সঠিক উত্তর:
relative humidity
উত্তর
সঠিক উত্তর:
relative humidity
ব্যাখ্যা
পরিমাপক যন্ত্র:

- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র সিসমোগ্রাফ।
- ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপার যন্ত্র রিখটার স্কেল।
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ব্যারোমিটার।
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ম্যানোমিটার।
- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র হাইগ্রোমিটার।
- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র পাইরোমিটার।
- তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র থার্মোমিটার।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৩,৪৮৬.
নিচের কোনটি উর্ধ্বপাতিত হয়?
  1. ক) অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড
  2. খ) তুঁতে
  3. গ) কস্টিক সোডা
  4. ঘ) সালফিউরিক এসিড
সঠিক উত্তর:
ক) অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা
যে প্রক্রিয়ায় কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি গ্যাসীয় পদার্থে পরিণত হয় তাকে ঊর্ধ্বপাতন বলে।
নিশাদল, কর্পূর, আয়োডিন, ন্যাপথলিন, অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড, কঠিন কার্বন ডাই অক্সাইডের বেলায় এরকম হয়।
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
৩,৪৮৭.
২০ Ω মানের দুটি রোধ সমান্তরাল সন্নিবেশে যুক্ত করা হলে তুল্য রোধ কত হবে?
  1. ৪০ Ω
  2. ১/১০ Ω
  3. ১০ Ω
  4. ২০ Ω
সঠিক উত্তর:
১০ Ω
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ Ω
ব্যাখ্যা

রোধের সমান্তরাল সন্নিবেশঃ- কতগুলো রোধ যদি এমন ভাবে যুক্ত থাকে যেন সবগুলো রোধের এক প্রান্তগুলো এক
বিন্দুতে এবং অপর প্রান্তগুলো অপর এক বিন্দুতে একত্রে যুক্ত থাকে তাহলে এই সন্নিবেশকে রোধের সমান্তরাল সন্নিবেশ
বলে। সমান্তরাল সন্নিবেশে প্রতিটি রোধ ভিন্ন ভিন্ন তড়িৎ প্রবাহের পথ তৈরি করায় প্রতিটি রোধের মধ্য দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন
তড়িৎ প্রবাহ চলবে।

যদি n সংখ্যক রোধ সমান্তরাল সন্নিবেশে যুক্ত থাকে, তাহলে তুল্যরোধ



সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৩,৪৮৮.
ডায়োড মূলত কোন ধরনের যন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. রেকটিফায়ার
  2. ট্রান্সফরমার
  3. রেজিস্টর
  4. ট্রানজিস্টর
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার
ব্যাখ্যা

• ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে ব্যবহার হয়, অর্থাৎ এটি AC সিগনালকে DC-তে রূপান্তর করে।
সঠিক উত্তর: ক) রেকটিফায়ার। 

ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode. 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়। 
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪৮৯.
তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে কোন পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়?
  1. পরিবাহী
  2. অপরিবাহী
  3. অন্তরক
  4. অর্ধপরিবাহী
সঠিক উত্তর:
অর্ধপরিবাহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধপরিবাহী
ব্যাখ্যা

- অর্ধপরিবাহী (Semi-conductor) পদার্থের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে এর বিদ্যুৎ পরিবাহী ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

 পরিবাহী পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থে তার অণু-পরমাণু শক্ত করে নিজের জায়গায় বসে থাকে ফলে তাপমাত্রা বাড়লে তারা নিজের জায়গায় কাঁপাকাঁপি করতে পারে কিন্তু সেখান থেকে সরে অন্য জায়গায় চলে যায় না। ধাতব পরমাণুর কিছু ইলেকট্রন প্রায় মুক্ত অবস্থায় থাকে এবং সেগুলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে, সেগুলোকে পরিবাহী পদার্থ বলা হয়। 
যেমন- সোনা, রূপা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি। 
- পরিবাহী পদার্থ দিয়ে চার্জকে স্থানান্তর করা যায়, তবে এই স্থানান্তর হয় ইলেকট্রন দিয়ে, বিদ্যুতের প্রবাহ হয় ইলেকট্রন দিয়ে, নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন।

অপরিবাহী পদার্থ: 
- যে পদার্থের ভেতর তড়িৎ বা বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য কোনো মুক্ত ইলেকট্রন নেই সেই পদার্থগুলো হচ্ছে বিদ্যুৎ অপরিবাহী বা অন্তরক পদার্থ। 
যেমন- প্লাস্টিক, রাবার, কাঠ, কাচ ইত্যাদি। 
- মূলত অধাতুগুলো বিদ্যুৎ অপরিবাহী হয়। 

অর্ধপরিবাহী পদার্থ: 
- কিছু কিছু পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা সাধারণ তাপমাত্রায় পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি, তবে তাপমাত্রা বাড়ালে পরিবহন ক্ষমতা বেড়ে যায়। এই ধরনের পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
যেমন- সিলিকন বা জার্মেনিয়াম সেমিকন্ডাক্টরের উদাহরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪৯০.
শব্দ কীভাবে সৃষ্টি হয়?
  1. চৌম্বক ক্ষেত্রের মাধ্যমে
  2. বস্তুর কম্পনের মাধ্যমে
  3. তাপ উৎপাদনের মাধ্যমে
  4. আলো নির্গমনের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
বস্তুর কম্পনের মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বস্তুর কম্পনের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

- শব্দ হলো এক প্রকার শক্তি যা কোনো বস্তুর দ্রুত কম্পনের ফলে সৃষ্টি হয়। যখন কোনো বস্তু কম্পিত হয়, তখন তা তার চারপাশের মাধ্যমের (যেমন- বাতাস, পানি বা কঠিন পদার্থ) কণাগুলোকে আন্দোলিত করে। এই আন্দোলন তরঙ্গ আকারে আমাদের কানে পৌঁছালে আমরা শব্দ শুনতে পাই। কম্পন যত দীর্ঘস্থায়ী হয়, শব্দও ততক্ষণ শোনা যায়। 

শব্দ: 
- শব্দ এক প্রকার শক্তি।
- বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ সৃষ্টি হয়।
- শব্দ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন।
- জড় মাধ্যমের মধ্যে কোন বস্তুর কম্পন হলে মাধ্যমের কণাগুলো আন্দোলিত হয়ে তরঙ্গের সৃষ্টি করে।
- এই তরঙ্গ জড় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সঞ্চালিত হয়ে কানে প্রবেশ করে।
- কানের মধ্যে বিভিন্ন যান্ত্রিক কৌশলের মাধ্যমে মস্তিষ্কে শব্দের অনুভূতি সৃষ্টি হয়, তাই শব্দ শুনতে পাওয়া যায়।

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ এক ধরনের তরঙ্গ এবং এর কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। 
যেমন- 
১. শব্দ এক ধরনের যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 
২. কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ উৎপন্ন হয়, অর্থাৎ শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন। 
৩. শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
৪. শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতি (ঘনত্ব, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ইত্যাদি)-এর ওপর নির্ভরশীল। 
৫. শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
৬. শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন সম্ভব। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৯১.
রেলওয়ে স্টেশনে আগমনরত ইঞ্জিনে বাঁশি বাজাতে থাকলে প্লাটফরমে দাঁড়ানো ব্যক্তির কাছে বাঁশির কম্পনাঙ্ক- 
  1. আসলের সমান হবে
  2. আসলের চেয়ে বেশি হবে
  3. আসলের চেয়ে কম হবে
  4. আসল গতির সাথে সম্পর্কযুক্তভাবে কমে যাবে
সঠিক উত্তর:
আসলের চেয়ে বেশি হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসলের চেয়ে বেশি হবে
ব্যাখ্যা
- রেলওয়ে ষ্টেশনে আগমনরত ইঞ্জিনে বাঁশি বাজাতে থাকলে প্লাটফরমে দাঁড়ানো ব্যক্তির কাছে বাঁশির কম্পনাঙ্ক আসলের চেয়ে বেশি হবে। 
- শব্দের উৎস থেকে কম্পাঙ্ক যেদিকে যায়, শব্দের উৎস তথা ট্রেন সেদিকেই এগোতে থাকলে কম্পাঙ্কের ঘনত্ব বাড়ে, এতে শব্দের তীব্রতা বাড়ে। 
- এই ঘটনা ডপলার অ্যাফেক্ট দ্বারা বর্ণনা করা যায়। 
- শব্দের উৎস এবং শ্রোতার মধ্যে আপেক্ষিক গতির ফলে শ্রুত শব্দের কম্পাঙ্কের যে আপাত পরিবর্তন হয় তাকে ডপলার ক্রিয়া বলে। 
- ডপলার ক্রিয়া শব্দ বিজ্ঞানের অন্যতম একটি আলোচ্য বিষয়। 
- ১৮৪২ সালে অস্ট্রিয়ার পদার্থবিদ ডপলার এ সূত্র প্রদান করেন। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩,৪৯২.
নিচের কোনটি প্যারাচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ?
  1. লোহা
  2. হাইড্রোজেন
  3. সোডিয়াম
  4. নিকেল 
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম
ব্যাখ্যা

প্যারাচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়, তাদেরকে প্যারাচৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, টিন ইত্যাদি। 
- প্যারাচৌম্বক পদার্থের অণু, পরমাণু বা আয়নের স্থায়ী চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। এসব দ্বিপোল এক একটি স্বাধীন সত্ত্বা হিসেবে কাজ করে। 
- কিন্তু সাধারণ তাপমাত্রায় তাপজনিত কম্পন বেশি হওয়ার ফলে এই দ্বিপোলগুলো এলোমেলোভাবে থাকে। ফলস্বরূপ পদার্থের কোন এক দিকে নীট চুম্বকায়ণ থাকে না। 

অন্যদিকে,
- হাইড্রোজেন হচ্ছে ডায়াচৌম্বক পদার্থ। 
- লোহা, নিকেল হচ্ছে ফেরোচৌম্বক পদার্থ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৯৩.
ময়লা জামা-কাপড় পরিষ্কার করার জন্য কোন তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়? 
  1. শব্দেতর তরঙ্গ
  2. ভূ-কম্পীয় তরঙ্গ
  3. শব্দোত্তর তরঙ্গ
  4. তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
শব্দোত্তর তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দোত্তর তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
শব্দ শক্তির রূপান্তর: 
- কারখানার জীবাণু ধ্বংস করা কিংবা ময়লা জামাকাপড় পরিষ্কার করার জন্য 'শব্দোত্তর তরঙ্গ' ব্যবহার করা হয়। 
- এ ক্ষেত্রে শব্দ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- অনুনাদের সময় শব্দ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- আবার টেলিফোন ও রেডিওর প্রেরক যন্ত্রে শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে পরিণত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৯৪.
'পিকো' উপসর্গের মান কত?
  1. 10- 9
  2. 10- 12
  3. 10- 15
  4. 10- 18
সঠিক উত্তর:
10- 12
উত্তর
সঠিক উত্তর:
10- 12
ব্যাখ্যা
- 'পিকো' উপসর্গের মান হচ্ছে- 10-12  । 

এককের গুণিতক ও উপগুণিতক: 

- মৌলিক এককগুলোর গুণিতক ও উপগুণিতক ব্যবহৃত হয়। 
- বিজ্ঞানীরা এমন অনেক রাশি ব্যবহার করে থাকেন যেগুলোর মান খুব ছোট বা বড় হয়ে থাকে। 
যেমন- আলোর দ্রুতি প্রায় 30,00,00,000 ms-1 । 
- এই জাতীয় রাশির সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই পড়া, লেখা, বুঝা এবং মনে রাখা খুবই অসুবিধাজনক। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য 10 সংখ্যাটির ঘাত (power) ব্যবহার করা। তাহলে আলোর দ্রুতিকে লেখা যায় 3×108 ms- 1 । 


- কোনো সংখ্যাকে 10 এর যে কোন ঘাত এবং 1 থেকে 10 এর মধ্যে অবস্থিত অপর সংখ্যার গুণফল হিসেবে প্রকাশ করা হলে তাকে বৈজ্ঞানিক প্রতীক বলে।
যেমন 5800000 হল 5.8×106 এবং 0.0000000956 হল 9.56×10- 8
তাহলে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, এ প্রতীকে প্রকাশিত সংখ্যাটির 10 এর ধনাত্মক সূচক যত, দশমিক বিন্দুকে ডান দিকে তত ঘর সরালে মূল সংখ্যাটি পাওয়া যাবে। অনুরূপভঅবে 10 এর ঋণাত্মক সূচক যত, দশমিক বিন্দুকে বাম দিকে তত ঘর সরালে মূল সংখ্যাটি পাওয়া যাবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৯৫.
Battery ও Cell এর মধ্যে পার্থক্য কি?
  1. দুটি বা ততোধিক Battery একসাথে যুক্ত হয়ে Cell তৈরি হয়।
  2. দুই বা ততোধিক Cell একত্রে যুক্ত হয়ে Battery তৈরি হয়।
  3. Battery কে রিচার্জ করা গেলেও Cell কে রিচার্জ করা যায় না।
  4. Cell কে রিচার্জ করা গেলেও Battery কে রিচার্জ করা যায় না।
সঠিক উত্তর:
দুই বা ততোধিক Cell একত্রে যুক্ত হয়ে Battery তৈরি হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই বা ততোধিক Cell একত্রে যুক্ত হয়ে Battery তৈরি হয়।
ব্যাখ্যা
- দুই বা ততোধিক Cell কে একত্রিত করে একটি ব্যাটারি তৈরি করা হয়। 
- Cell এবং Battery উভয়কে রিচার্জ করে আবার ব্যবহার করা যায়।
- Cell হল ডিভাইসের একটি ইউনিট যা রাসায়নিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
- Battery হল Cell এর একটি কালেকশন যা রাসায়নিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
৩,৪৯৬.
ঘনত্বের SI একক কী?
  1. kg/m
  2. kg/m3
  3. N/m2
  4. m2/kg
সঠিক উত্তর:
kg/m3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
kg/m3
ব্যাখ্যা

- ঘনত্ব বলতে কোনো বস্তুর একক আয়তনের মধ্যে কতটুকু ভর আছে তা বোঝায়।
- গাণিতিকভাবে বলা যায়, ঘনত্ব (ρ) = ভর (m) ÷ আয়তন (V) অর্থাৎ, ρ = m / V.

SI পদ্ধতিতে:
- ভরের একক = কিলোগ্রাম (kg), আয়তনের একক = ঘনমিটার (m3). সুতরাং, ঘনত্বের একক = kg ÷ m³ = kg/m³ (কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার)।

- ভরের মাত্রাকে আয়তনের মাত্রা দিয়ে ভাগ করলে ঘনত্বের মাত্রা পাওয়া যায়।
- ঘনত্বের মাত্রা, [ρ] = ML-3.
- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৯৭.
সমান্তরাল সংযোগের কোন বর্তনীর রোধ 10, 10, 10 Ohm হলে তুল্যরোধ কত?
  1. ক) 30
  2. খ) 3.33
  3. গ) 10.55
  4. ঘ) 20
সঠিক উত্তর:
খ) 3.33
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) 3.33
ব্যাখ্যা
1/Rp= (1/R1)+(1/R2)+(1/R3)

সাধারণ ভাবে n সংখ্যক রোধের জন্য

              
সূত্র: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এইচএসসি প্রোগ্রাম
৩,৪৯৮.
আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্ব কে ব্যাখ্যা করেন?
  1. ক) আইজ্যাক নিউটন
  2. খ) আলবার্ট আইনস্টাইন
  3. গ) জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
  4. ঘ) ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
সঠিক উত্তর:
গ) জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
ব্যাখ্যা
দীপ্তিমান বস্তু থেকে কিভাবে আলো আমাদের চোখে আসে সে বিষয়ে চারটি তত্ত্ব রয়েছে:

১) নিউটনের কণিকা তত্ত্ব :
এই তত্ত্বে সাহায্যে ঋজুগতি প্রতিফলন, প্রতিসরণ ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু ব্যতিচার, সমবর্তন, অপবর্তন, বিচ্ছুরণ ব্যাখ্যা করা যায় না।

২) হাইগেনের তরঙ্গ তত্ত্ব :
এই তত্ত্বের সাহায্যে প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না।

৩) ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্ব :
এই তত্ত্বের সাহায্যে আলাের সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায় না।

৪) প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব :
এই তত্ত্বের সাহায্যে কৃষ্ণবস্তু বিকিরণ, ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু ব্যতিচার, অপবর্তন, সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না।

উৎস: ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান
৩,৪৯৯.
বায়ুমন্ডলের সবচেয়ে উপরের স্তরের নাম কি?
  1. ক) ট্রপোস্ফিয়ার
  2. খ) এক্সোস্ফিয়ার
  3. গ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
  4. ঘ) আয়নস্ফিয়ার
সঠিক উত্তর:
খ) এক্সোস্ফিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এক্সোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
- বায়ুমণ্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বশিষ্ট ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়।
বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে উপরের স্তরের নাম এক্সোমণ্ডল বা এক্সোস্ফিয়ার। 
যথাঃ
১. ট্রপোমণ্ডল,
২. স্ট্রাটোমণ্ডল,
৩. মেসোমণ্ডল,
৪. তাপমণ্ডল ও
৫. এক্সোমণ্ডল।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫০০.
একটি NPN ট্রানজিস্টরে, প্রধান চার্জ বাহক হলো- 
  1. হোল 
  2. ইলেকট্রন 
  3. প্রোটন
  4. আয়ন
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রন 
ব্যাখ্যা

- একটি NPN ট্রানজিস্টরে প্রধান চার্জ বাহক হলো ইলেকট্রন। NPN ট্রানজিস্টরে দুটি N-type সেমিকন্ডাক্টর স্তরের মাঝে একটি পাতলা P-type স্তর থাকে। যেহেতু N-type পদার্থে ইলেকট্রনের আধিক্য থাকে, তাই এই ট্রানজিস্টরে তড়িৎ প্রবাহের মূল দায়িত্ব পালন করে ইলেকট্রন। অপরদিকে, হোল হলো P-type এর প্রধান বাহক। 

ট্রানজিস্টর (Transistor): 
- ট্রানজিস্টর একটি ইংরেজি শব্দ। Transfer এবং Resistor এই দুটি পৃথক ইংরেজি শব্দের সমন্বয়ে Transistor শব্দটি গঠিত হয়েছে। 
- ট্রানজিস্টরকে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার বলা যায়। ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার ইলেকট্রনিক্স এর জগতে বিপণ্ড সংঘটিত করেছে। ১৯৪৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বেল টেলিফোন ল্যাবরেটরির তিনজন গবেষক জে. বার্ডিন, ডব্লিউ ব্রাটেন ও ডব্লিউ সক্লে ট্রানজিস্টর আবিষ্কার করেন। এই গুরত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য তিনজনকে ১৯৫৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার প্রদান করা হয়। 
- ট্রানজিস্টর দুর্বল তড়িৎ সংকেতকে বিবর্ধন করতে পারে এবং উচ্চগতিসম্পন্ন সুইচ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। 
- দুটি একই ধরনের অর্ধপরিবাহীর (n-টাইপ অথবা p-টাইপ) মাঝখানে এদের বিপরীত ধরনের (p-টাইপ অথবা n-টাইপ) অর্ধপরিবাহী বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে যুক্ত করে যে যন্ত্র বা কৌশল (Device) তৈরি করা হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলে।
- গঠন ও প্রকৃতি অনুসারে জাংশন ট্রানজিস্টর দুই প্রকার।
যথা- ১) p-n-p ট্রানজিস্টর এবং ২) n-p-n ট্রানজিস্টর। 

n-p-n ট্রানজিস্টরের কার্যক্রম: 
- n-p-n ট্রানজিস্টরকে কার্যকর করার জন্য এর দুটি জাংশনকে দু'ভাবে বায়াস করা হয়। নিচের চিত্রে ট্রানজিস্টরের এমিটার-বেস জাংশনে সম্মুখী বায়াস এবং কালেক্টর বেস জাংশনে বিমুখী বায়াস প্রয়োগ করা হয়েছে।


- এমিটার বেস জাংশনে সম্মুখী ঝোঁকে থাকায় এমিটার হতে প্রচুর মুক্ত ইলেকট্রন ব্যাপন ক্রিয়ার মাধ্যমে জাংশন ভেদ করে বেসের দিকে প্রবাহিত হয়। ফলে এমিটার প্রবাহ তৈরি করে। 
- ইলেকট্রনগুলো যখন p টাইপ বেসে প্রবেশ করে, তখন এগুলো সেখানকার হোলের সাথে মিলিত হতে চায়। কিন্তু বেস খুব পাতলা হওয়ার কারণে এবং হালকাভাবে ডোপিং এর ফলে খুব সামান্য পরিমাণ (5% এর কম) ইলেকট্রন হোলের সাথে মিলিত হয়। এরূপ মিলনের ফলে খুব সামান্য বেস প্রবাহ সৃষ্টি হয়, বাকী প্রায় 95% ইলেকট্রন বেস অঞ্চল ভেদ করে ধনাত্মক কালেক্টর ভোল্টেজের আর্কষণে কালেক্টর অঞ্চলে প্রবেশ করে এবং কালেক্টর প্রবাহ সৃষ্টি করে। এভাবে প্রায় সম্পূর্ণ এমিটার প্রবাহ কালেক্টর বর্তনীতে প্রবাহিত হয়। 
- কালেক্টর জাংশনে আগত ইলেকট্রন কালেক্টর প্রান্তে প্রযুক্ত ধনাত্মক বিভবেব আকর্ষণে কালেক্টর প্রবাহ বৃদ্ধি করে। প্রায় 5% ইলেকট্রন বেসে হোলের সাথে মিলিত হওয়ায় ফলে সামান্য পরিমান বেস প্রবাহ সৃষ্টি হয়, যার প্রেক্ষিতে কালেক্টর প্রবাহ এমিটার প্রবাহ অপেক্ষা সামান্য কম হয়। 
- এমিটার প্রবাহ বৃদ্ধি পেলে অধিক পরিমাণ ইলেকট্রন বেসে প্রবেশ করে, যা কালেক্টরের ধনাত্মক বিভব দ্বারা আকর্ষিত হয়। ফলে কালেক্টর প্রবাহ বৃদ্ধি পায়, এ প্রক্রিয়ার এমিটার প্রবাহ দ্বারা কালেক্টর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। 
- n-p-n ট্রানজিস্টরের ভেতরে তড়িৎপ্রবাহ হয় ইলেকট্রনের প্রবাহের জন্য এবং বর্তনীর সংযোগ তারের মধ্যেও তড়িৎ প্রবাহ ইলেকট্রনের জন্য হয়ে থাকে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।